(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
مقدمة في أصول الحديث (عبد الحق الدهلوي)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: مقدمة في أصول الحديث
المؤلف: عبد الحق بن سيف الدين بن سعد الله البخاري الدهلوي الحنفي (ت 1052هـ)
المحقق: سلمان الحسيني الندوي
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت - لبنان
الطبعة: الثانية، 1406هـ - 1986م
عدد الصفحات: 104
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক ভূমিকা (আব্দুল হক দেহলভি)
বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক ভূমিকা
লেখক: আব্দুল হক বিন সাইফুদ্দিন বিন সাদুল্লাহ আল-বুখারি আদ-দেহলভি আল-হানাফি (মৃত্যু ১০৫২ হিজরি)
তাহকিককারী (محقق): সালমান আল-হুসাইনি আন-নাদভি
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়া - বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الْفَصْل الأول فِي تَعْرِيف الحَدِيث وأنواعه تَعْرِيف مصطلح الحَدِيث اعْلَم أَن الحَدِيث فِي إصطلاح جُمْهُور الْمُحدثين يُطلق على قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَفعله وَتَقْرِيرهوَمعنى التَّقْرِير أَنه فعل أحد أَو قَالَ شَيْئا فِي حَضرته صلى الله عليه وسلم وَلم يُنكره وَلم يَنْهَهُ عَن ذَلِك بل سكت وَقرروَكَذَلِكَ يُطلق الحَدِيث على قَول الصَّحَابِيّ وَفعله وَتَقْرِيره وعَلى قَول التَّابِعِيّ وَفعله وَتَقْرِيره
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (مصطلح) সংজ্ঞা জেনে রাখুন যে, অধিকাংশ হাদিস বিশারদদের পরিভাষায় (اصطلاح) হাদিস শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতির (تقرير) ওপর প্রয়োগ করা হয়।মৌনসম্মতির (تقرير) অর্থ হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে কেউ কোনো কাজ করলে বা কোনো কথা বললে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেননি এবং তা থেকে নিষেধও করেননি; বরং তিনি নীরব থেকেছেন এবং তা অনুমোদন (تقرير) করেছেন।অনুরূপভাবে হাদিস শব্দটি সাহাবীর (صحابي) বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতির (تقرير) ওপর এবং তাবেয়ীর (تابعي) বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতির (تقرير) ওপরও প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
الْمَرْفُوع فَمَا انْتهى إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُقَال لَهُ الْمَرْفُوعالْمَوْقُوف وَمَا انْتهى إِلَى الصَّحَابِيّ يُقَال لَهُ الْمَوْقُوف كَمَا يُقَال قَالَ أَو فعل أَو قرر ابْن عَبَّاس أَو عَن ابْن عَبَّاس مَوْقُوفا أَو مَوْقُوف على ابْن عَبَّاسالْمَقْطُوع وَمَا انْتهى إِلَى التَّابِعِيّ يُقَال لَهُ الْمَقْطُوعالحَدِيث والأثر وَقد خصص بَعضهم الحَدِيث بالمرفوع وَالْمَوْقُوف إِذْ الْمَقْطُوع يُقَال لَهُ الْأَثر وَقد يُطلق الْأَثر على الْمَرْفُوع أَيْضا كَمَا يُقَال الْأَدْعِيَة المأثورة لما جَاءَ من الْأَدْعِيَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
মারফু (المرفوع) যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফু (المرفوع) বলা হয়।মাওকুফ (الموقوف) যা সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাওকুফ (الموقوف) বলা হয়। যেমন বলা হয়— ইবনে আব্বাস বলেছেন, অথবা করেছেন, অথবা সম্মতি দিয়েছেন; কিংবা ইবনে আব্বাস থেকে মাওকুফ (موقوفا) হিসেবে বর্ণিত, অথবা এটি ইবনে আব্বাসের ওপর মাওকুফ (موقوف)।মাকতু (المقطوع) আর যা তাবিঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু (المقطوع) বলা হয়।হাদিস ও আসার (الأثر) কেউ কেউ হাদিস শব্দটিকে মারফু (المرفوع) ও মাওকুফ (الموقوف)-এর সাথে নির্দিষ্ট করেছেন, কেননা মাকতু (المقطوع)-কে আসার (الأثر) বলা হয়। তবে আসার (الأثر) শব্দটি মারফু (المرفوع)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত দোয়াগুলোর ক্ষেত্রে আল-আদয়িয়াতুল মাসুরা (الأدعية المأثورة) (বর্ণিত দোয়া) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
والطَّحَاوِي سمى كِتَابه الْمُشْتَمل على بَيَان الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة وآثار الصَّحَابَة بشرح مَعَاني الْآثَار
এবং ইমাম ত্বহাবী নবীজী (সা.)-এর হাদিসসমূহ এবং সাহাবীগণের বর্ণনা (آثار) সংবলিত তাঁর কিতাবটির নামকরণ করেছেন শারহু মাআনিল আসার।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَقَالَ السخاوي إِن للطبراني كتابا مُسَمّى بتهذيب الْآثَار مَعَ أَنه مَخْصُوص بالمرفوع وَمَا ذكر فِيهِ من الْمَوْقُوف فبطريق التبع والتطفل
সাখাবী বলেন যে, তাবারানির ‘তহজীবুল আসার’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যদিও তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সম্পর্কিত (مرفوع) বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট; আর সেখানে সাহাবীগণের বক্তব্য (موقوف) সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা কেবল আনুষঙ্গিক ও পরোক্ষ বিষয় হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
الْخَبَر والْحَدِيث وَالْخَبَر والْحَدِيث فِي الْمَشْهُور بِمَعْنى وَاحِد وَبَعْضهمْ خص الحَدِيث بِمَا جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْخَبَر بِمَا جَاءَ عَن أَخْبَار الْمُلُوك والسلاطين وَالْأَيَّام الْمَاضِيَةوَلِهَذَا يُقَال لمن يشْتَغل بِالسنةِ مُحدث وَلمن يشْتَغل بالتواريخ أخباريالرّفْع قِسْمَانِ صَرِيح وحكمي وَالرَّفْع قد يكون صَرِيحًا وَقد يكون حكماالقولي الصَّرِيحأما صَرِيحًا فَفِي القولي كَقَوْل الصَّحَابِيّ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول كَذَا أَو كَقَوْلِه أَي الصَّحَابِيّ أَو قَول غَيره قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ كَذَاالْفعْلِيّ الصَّرِيح وَفِي الْفعْلِيّ كَقَوْل الصَّحَابِيّ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فعل كَذَا أَو عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه فعل كَذَا أَو عَن الصَّحَابِيّ أَو غَيره مَرْفُوعا أَو رَفعه أَنه فعل كَذَاالتقريري الصَّرِيح والتقريري أَن يَقُول الصَّحَابِيّ أَو غَيره فعل فلَان أَو أحد
খবর (الخبر) এবং হাদিস প্রসিদ্ধ মতানুসারে খবর (الخبر) এবং হাদিস একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে কারো কারো মতে, হাদিস সেই বিষয়কে নির্দিষ্ট করে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবী এবং তাবিঈদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর খবর (الخبر) বলা হয় রাজা-বাদশাহদের সংবাদ এবং অতীতের দিনগুলোর ঘটনাবলিকে।এই কারণেই যারা সুন্নাহ চর্চায় নিয়োজিত থাকেন তাদের মুহাদ্দিস (محدث) বলা হয় এবং যারা ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেন তাদের আখবারি (أخباري) বলা হয়।মারফু (الرفع) দুই প্রকার: সুস্পষ্ট (صريح) এবং হুকমি (حكمي) মারফু (الرفع) কখনো সুস্পষ্ট (صريح) হয়, আবার কখনো হুকমি (حكمي) বা পরোক্ষ হয়।সুস্পষ্ট শাব্দিক (القولي الصريح) মারফুসুস্পষ্ট শাব্দিক (القولي الصريح) মারফুর উদাহরণ হলো যেমন সাহাবীর এই কথা: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি", অথবা সাহাবী কিংবা অন্য কারো উক্তি: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি এরূপ বলেছেন।সুস্পষ্ট কর্মগত (الفعلي الصريح) মারফু সুস্পষ্ট কর্মগত (الفعلي الصريح) মারফুর উদাহরণ হলো যেমন সাহাবীর এই কথা: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি", অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি এরূপ করেছেন, অথবা সাহাবী কিংবা অন্য কারো পক্ষ থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করা কিংবা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা (رفعه) যে তিনি এরূপ কাজ করেছেন।সুস্পষ্ট সমর্থনমূলক (التقريري الصريح) মারফু আর সমর্থনমূলক (التقريري) মারফু হলো সাহাবী বা অন্য কারো এই কথা যে, "অমুক ব্যক্তি বা কেউ একজন এরূপ কাজ করেছে (এবং নবীজি তা সমর্থন করেছেন)"।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
بِحَضْرَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَذَا وَلَا يذكر إِنْكَارهالقولي الْحكمِي وَأما حكما فكإخبار الصَّحَابِيّ الَّذِي لم يخبر عَن الْكتب الْمُتَقَدّمَة مَا لَا مجَال للِاجْتِهَاد فِيهِ عَن الْأَحْوَال الْمَاضِيَة كأخبار الْأَنْبِيَاء أَو الْآتِيَة كالملاحم والفتن وأهوال يَوْم الْقِيَامَة أَو عَن ترَتّب ثَوَاب مَخْصُوص أَو عِقَاب مَخْصُوص على فعل فَإِنَّهُ لَا سَبِيل إِلَيْهِ إِلَّا السماع عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلمالْفعْلِيّ الْحكمِي أَو يفعل الصَّحَابِيّ مَا لَا مجَال للِاجْتِهَاد فِيهِالتقريري الْحكمِي أَو يخبر الصَّحَابِيّ بِأَنَّهُم كَانُوا يَفْعَلُونَ كَذَا فِي زمَان النَّبِي صلى الله عليه وسلم لِأَن
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে এমনটি করা হয়েছে এবং তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অসম্মতি বর্ণিত হয়নি।কার্যত মৌখিক (القولي الْحكمِي) আর হুকমি (حكما) এর উদাহরণ হলো—সেই সাহাবীর সংবাদ প্রদান করা, যিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ থেকে বর্ণনা করেন না এবং যে বিষয়টি ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অবকাশ রাখে না। যেমন অতীত ঘটনাবলি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া, উদাহরণস্বরূপ আম্বিয়াগণের সংবাদ; অথবা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া, যেমন মহাযুদ্ধ (الملاحم), ফিতনা (الفتن) এবং কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা। অথবা কোনো আমলের বিনিময়ে বিশেষ সওয়াব বা বিশেষ শাস্তির ঘোষণা প্রদান করা। কেননা, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শ্রবণ (السماع) ব্যতীত এ সকল বিষয়ে জানার কোনো পথ নেই।কার্যত কর্মগত (الْفعْلِيّ الْحكمِي) অথবা সাহাবী এমন কোনো কাজ করা যাতে ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণার কোনো অবকাশ নেই।কার্যত মৌনসম্মতিমূলক (التقريري الْحكمِي) অথবা সাহাবী কর্তৃক সংবাদ প্রদান করা যে, তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এমনটি করতেন, কারণ...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
الظَّاهِر اطِّلَاعه صلى الله عليه وسلم على ذَلِك ونزول الْوَحْي بِهِأَو يَقُولُونَ من السّنة كَذَا لِأَن الظَّاهِر أَن السّنة سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ بَعضهم إِنَّه يحْتَمل سنة الصَّحَابَة وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين فَإِن السّنة تطلق عَلَيْهِ
বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত ওহী (وحي) অবতীর্ণ হয়েছিল।অথবা তাঁরা (সাহাবীগণ) বলেন, "সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত হলো এমন এমন"; কারণ বাহ্যত 'সুন্নাহ' (سنة) বলতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকেই (سنة) বোঝায়। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা সাহাবীগণের সুন্নাহ (سنة) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর (سنة) সম্ভাবনাও রয়েছে; কেননা 'সুন্নাহ' (سنة) শব্দটি তাঁদের রীতিনীতির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
الْفَصْل الثَّانِي فِي تَعْرِيف السَّنَد والمتن وعوارضهما السَّنَد السَّنَد طَرِيق الحَدِيث وَهُوَ رِجَاله الَّذين رَوَوْهُالْإِسْنَاد والإسناد بِمَعْنَاهُ وَقد يجيىء بِمَعْنى ذكر السَّنَد والحكاية عَن طَرِيق الْمَتْنالْمَتْن مَا انْتهى إِلَيْهِ الْإِسْنَاد
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সনদ (السند) ও মতন (المتن) এবং এগুলোর আনুষঙ্গিক বিষয়ের সংজ্ঞায় সনদ (السند) সনদ (السند) হলো হাদিসের পথ এবং এটি হচ্ছে সেই সকল বর্ণনাকারীগণ যারা এটি বর্ণনা করেছেন।ইসনাদ (الإسناد) ইসনাদ (الإسناد) সনদের অর্থেই ব্যবহৃত হয়; আবার কখনো সনদ (السند) উল্লেখ করা এবং মতনের (المتن) সূত্র বর্ণনা করার অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়।মতন (المتن) যেখানে ইসনাদ (الإسناد) গিয়ে শেষ হয় তাকেই মতন (المتن) বলে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤١)
الْمُتَّصِلفَإِن لم يسْقط راو من الْبَين فَالْحَدِيث مُتَّصِل وَيُسمى عدم السُّقُوط اتِّصَالًاالْمُنْقَطع وَإِن سقط وَاحِد أَو أَكثر فَالْحَدِيث مُنْقَطع وَهَذَا السُّقُوط انْقِطَاعالْمُعَلق والسقوط إِمَّا أَن يكون من أول السَّنَد وَيُسمى مُعَلّقا وَهَذَا الْإِسْقَاط تَعْلِيقا والساقط قد يكون وَاحِدًا وَقد يكون أَكثر وَقد يحذف السَّنَد كَمَا هُوَ عَادَة المصنفين يَقُولُونَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلمتعليقات البُخَارِيّ والتعليقات كَثِيرَة فِي تراجم صَحِيح البُخَارِيّ وَلها حكم الِاتِّصَال لِأَنَّهُ الْتزم فِي هَذَا الْكتاب أَن لَا يَأْتِي إِلَّا بِالصَّحِيحِ وَلكنهَا لَيست فِي مرتبَة مسانيده إِلَّا مَا ذكر مِنْهَا مُسْندًا فِي مَوضِع آخر من كِتَابه
সংযুক্ত (المتصل)যদি বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কেউ বাদ না পড়েন, তবে হাদিসটি সংযুক্ত (متصل) এবং বর্ণনাকারী বাদ না পড়াকে সংযোগ (اتصال) বলা হয়।বিচ্ছিন্ন (المنقطع) আর যদি একজন বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েন, তবে হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) এবং এই বাদ পড়াকে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বলা হয়।ঝুলন্ত (المعلق) আর বর্ণনাকারী বাদ পড়া যদি সনদের (سند) শুরু থেকে হয়, তবে তাকে ঝুলন্ত (معلق) বলা হয় এবং এই বাদ দেয়াকে ঝুলন্ত রাখা (تعليق) বলা হয়। বিলুপ্ত বর্ণনাকারী একজনও হতে পারেন আবার একাধিকও হতে পারেন। কখনও কখনও পুরো সনদ (سند) বিলুপ্ত করে দেয়া হয়, যেমনটি গ্রন্থকারদের অভ্যাস; তারা বলেন, "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন"।সহীহ বুখারীর ঝুলন্ত হাদিসসমূহ সহীহ বুখারী-র অধ্যায়সমূহের শিরোনামে (تراجم) ঝুলন্ত বর্ণনা (تعليقات) প্রচুর রয়েছে এবং এগুলো সংযোগের (اتصال) হুকুম রাখে। কারণ তিনি এই কিতাবে কেবল সহীহ (صحيح) হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সেগুলো তার মুসনাদ হাদিসগুলোর সমপর্যায়ের নয়, কেবল সেগুলো ব্যতীত যা তিনি তার কিতাবের অন্য কোনো স্থানে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
حكم التَّعْلِيق بِصِيغَة الْمَعْلُوم والمجهول وَقد يفرق فِيهَا بِأَن مَا ذكر بِصِيغَة الْجَزْم والمعلوم كَقَوْلِه قَالَ فلَان أَو ذكر فلَاندلّ على ثُبُوت إِسْنَاده عِنْده فَهُوَ صَحِيح قطعاوَمَا ذكره بِصِيغَة التمريض والمجهول قيل وَيُقَال وَذكر فَفِي صِحَّته عِنْده كَلَام وَلكنه لما أوردهُ فِي هَذَا الْكتاب كَانَ لَهُ أصل ثَابت وَلِهَذَا قَالُوا تعليقات البُخَارِيّ مُتَّصِلَة صَحِيحَةالْمُرْسل وَإِن كَانَ السُّقُوط من آخر السَّنَد فَإِن كَانَ بعد التَّابِعِيّ فَالْحَدِيث مُرْسل وَهَذَا الْفِعْل إرْسَال كَقَوْل التَّابِعِيّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلموَقد يجيئ الْمُرْسل والمنقطع بِمَعْنى والاصطلاح الأول أشهرحكم الْمُرْسل وَحكم الْمُرْسل التَّوَقُّف عِنْد جُمْهُور الْعلمَاء لِأَنَّهُ لَا يدرى أَن
কর্তৃবাচ্য (المعلوم) এবং কর্মবাচ্যের (المجهول) শব্দে মুয়াল্লাক (التعليق) বর্ণনার বিধান এ ক্ষেত্রে পার্থক্য করা হয় যে, যা সুনিশ্চিত (الجزم) এবং কর্তৃবাচ্যের (المعلوم) শব্দে বর্ণিত হয়েছে—যেমন তাঁর উক্তি: "অমুক বলেছেন" অথবা "অমুক উল্লেখ করেছেন"—তা তাঁর নিকট এর সনদের (إسناده) প্রামাণিকতার দলিল বহন করে, সুতরাং তা নিশ্চিতভাবে সহিহ (صحيح)।আর যা তিনি সংশয়বাচক (التمريض) এবং কর্মবাচ্যের (المجهول) শব্দে উল্লেখ করেছেন—যেমন "বলা হয়েছে", "বলা হয়" বা "উল্লিখিত হয়েছে"—সে ক্ষেত্রে তাঁর নিকট এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে কথা আছে। কিন্তু যেহেতু তিনি এটি এই কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তাই এর একটি সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে। এ কারণেই মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে, বুখারীর মুয়াল্লাক (تعليقات) বর্ণনাগুলো নিরবচ্ছিন্ন (متصلة) ও সহিহ (صحيحة)।মুরসাল (المرسل) আর যদি সনদের (السند) শেষ দিক থেকে রাবী বাদ পড়ে থাকে, অর্থাৎ যদি তা তাবিঈ (التابعي)-এর পরে হয়, তবে সেই হাদিসটি মুরসাল (مرسل)। আর এই প্রক্রিয়াটিকে ইর্সাল (إرسال) বলা হয়; যেমন তাবিঈ (التابعي)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন"।কখনও কখনও মুরসাল (المرسل) এবং বিচ্ছিন্ন (المنقطع) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রথম পরিভাষাটিই অধিক প্রসিদ্ধ।মুরসাল (المرسل) এর বিধান জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের নিকট মুরসাল (المرسل) এর বিধান হলো স্থগিত রাখা (التوقف); কারণ এটি জানা যায় না যে...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
السَّاقِط ثِقَة أَولا لِأَن التَّابِعِيّ قد يروي عَن التَّابِعِيّ وَفِي التَّابِعين ثِقَات وَغير ثِقَاتوَعند أبي حنيفَة وَمَالك الْمُرْسل مَقْبُول مُطلقًاوهم يَقُولُونَ إِنَّمَا أرْسلهُ لكَمَال الوثوق والاعتماد لِأَن الْكَلَام فِي الثِّقَة وَلَو لم يكن عِنْده صَحِيحا لم يُرْسِلهُ وَلم يقل قَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلموَعند الشَّافِعِي إِن اعتضد بِوَجْه آخر مُرْسل أَو مُسْند وَإِن كَانَ ضَعِيفا قبل وَعَن أَحْمد قَولَانِوَهَذَا كُله إِذا علم أَن عَادَة ذَلِك التَّابِعِيّ أَن لَا يُرْسل إِلَّا عَن الثِّقَات وَإِن كَانَت عَادَته أَن يُرْسل عَن الثِّقَات وَعَن غير الثِّقَات
বাদ পড়া বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) কি না—তা নিশ্চিত নয়; কারণ একজন তাবেয়ী (تابعي) অন্য একজন তাবেয়ী (تابعي) থেকে বর্ণনা করতে পারেন এবং তাবেয়ীদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও অনির্ভরযোগ্য (غير ثقات) উভয় প্রকার ব্যক্তিই রয়েছেন।ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের নিকট মুরসাল (مرسل) হাদিস নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য (مقبول)।তাঁরা বলেন, তিনি পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতার কারণেই তা মুরসাল (أرسله) করেছেন; যেহেতু আলোচনাটি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীকে নিয়ে, আর যদি তাঁর নিকট সেটি সহিহ (صحيح) না হতো, তবে তিনি তা মুরসাল (يرسله) করতেন না এবং 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন' বলতেন না।ইমাম শাফিঈর মতে, যদি তা অন্য কোনো মুরসাল (مرسل) বা মুসনাদ (مسند) সূত্রের মাধ্যমে সমর্থিত হয়, তবে সেটি দুর্বল (ضعيف) হলেও কবুল করা হবে। ইমাম আহমদ থেকে এ বিষয়ে দুটি মত বর্ণিত আছে।এই পুরো বিষয়টি তখন প্রযোজ্য যখন জানা যায় যে, সেই তাবেয়ীর (تابعي) অভ্যাস হলো নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে মুরসাল (يرسل) বর্ণনা না করা; কিন্তু যদি তাঁর অভ্যাস নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং অনির্ভরযোগ্য (غير ثقات) উভয় প্রকার বর্ণনাকারী থেকে মুরসাল (يرسل) বর্ণনা করা হয়ে থাকে [তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়]।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
فَحكمه التَّوَقُّف بالِاتِّفَاقِ كَذَا قيلوَفِيه تَفْصِيل أَزِيد من ذَلِك ذكره السخاوي فِي شرح الألفيةالمعضل وَإِن كَانَ السُّقُوط من أثْنَاء الْإِسْنَاد فَإِن كَانَ السَّاقِط اثْنَيْنِ متواليا يُسمى معضلا بِفَتْح الضَّادالْمُنْقَطع وَإِن كَانَ وَاحِدًا أَو أَكثر من غير مَوضِع وَاحِد يُسمى مُنْقَطِعًاوعَلى هَذَا يكون الْمُنْقَطع قسما من غير الْمُتَّصِلوَقد يُطلق الْمُنْقَطع بِمَعْنى غير الْمُتَّصِل مُطلقًا شَامِلًا لجَمِيع الْأَقْسَاموَبِهَذَا الْمَعْنى يَجْعَل مقسمًا أَي لَا يكون قسما وَاحِدًا بل يشْتَمل على جَمِيع أَقسَام الِانْقِطَاع
অতএব এর বিধান হলো সর্বসম্মতিক্রমে স্থগিত রাখা (التوقف), এমনই বলা হয়েছে।আর এতে এর চেয়েও অধিক বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে যা সাখাভি ‘শরহুল আলফিয়্যাহ’-তে উল্লেখ করেছেন।মুদাল (المعضل) আর যদি রাবির বিলুপ্তি সনদের (الإسناد) মাঝখান থেকে হয় এবং বিলুপ্ত রাবি ধারাবাহিকভাবে দুইজন হয়, তবে তাকে ‘দদ’ বর্ণে জবরসহ মুদাল (معضل) বলা হয়।মুনকাতি (المنقطع) আর যদি বিলুপ্ত রাবি একজন হয় অথবা ভিন্ন ভিন্ন একাধিক স্থান থেকে হয়, তবে তাকে মুনকাতি (منقطع) বলা হয়।আর এই নিয়ম অনুযায়ী মুনকাতি (المنقطع) হবে গাইরে মুত্তাসিল (غير المتصل) তথা অবিচ্ছিন্ন নয় এমন হাদিসের একটি প্রকার।আবার কখনও মুনকাতি (المنقطع) শব্দটি সাধারণভাবে গাইরে মুত্তাসিল (غير المتصل) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা বিচ্ছন্নতার সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে।এই অর্থে একে মূল বিভাজক (مقسم) হিসেবে গণ্য করা হয়, অর্থাৎ এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রকার নয় বরং বিচ্ছিন্নতার (الانقطاع) সকল প্রকারকে শামিল করে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
طَرِيق معرفَة الِانْقِطَاع وَيعرف الِانْقِطَاع وَسُقُوط الرَّاوِي بِمَعْرِِفَة عدم الملاقاة بَين الرَّاوِي والمروي عَنهُ إِمَّا بِعَدَمِ المعاصرة أَو عدم الِاجْتِمَاع وَالْإِجَازَة عَنهُ بِحكم علم التَّارِيخ الْمُبين لمواليد الروَاة ووفياتهم وَتَعْيِين أَوْقَات طَلَبهمْ وارتحالهموَبِهَذَا صَار علم التَّارِيخ أصلا وعمدة عِنْد الْمُحدثينالمدلس وَمن أَقسَام الْمُنْقَطع المدلس بِضَم الْمِيم وَفتح اللَّام الْمُشَدّدَة يُقَال لهَذَا الْفِعْل التَّدْلِيس ولفاعله مُدَلّس بِكَسْر اللَّامتَعْرِيف التَّدْلِيس اصْطِلَاحا وَصورته أَن لَا يُسمى الرَّاوِي شَيْخه الَّذِي سَمعه مِنْهُ بل يروي عَمَّن فَوْقه بِلَفْظ يُوهم السماع وَلَا يقطع كذبا كَمَا يَقُول عَن فلَان
বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) জানার পদ্ধতি বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) এবং বর্ণনাকারীর বাদ পড়া সম্পর্কে জানা যায় বর্ণনাকারী এবং যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে; হয় তারা সমসাময়িক না হওয়ার কারণে অথবা তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ এবং অনুমতি (إجازة) না থাকার কারণে। এটি ইতিহাস শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী জানা যায়, যা বর্ণনাকারীদের জন্ম, মৃত্যু এবং তাদের জ্ঞান অন্বেষণ ও সফরের সময়কাল সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয়।এই কারণেই ইতিহাস শাস্ত্র হাদিস শাস্ত্রবিশারদদের নিকট একটি মূল ভিত্তি ও স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।তাদলীসকৃত (مدلس) বিচ্ছিন্ন (منقطع) এর প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো তাদলীসকৃত (مدلس) — মীম বর্ণে পেশ এবং তাশদীদযুক্ত লাম বর্ণে জবরসহ। এই কর্মটিকে তাদলীস (تدليس) বলা হয় এবং এর কর্তাকে তাদলীসকারী (مدلس) — লাম বর্ণে যেরসহ — বলা হয়।পারিভাষিক অর্থে তাদলীস (تدليس)-এর সংজ্ঞা এর রূপ হলো— বর্ণনাকারী তার সেই শায়খের (শিক্ষকের) নাম উল্লেখ করবেন না যার থেকে তিনি শুনেছেন, বরং তিনি তার উপরের স্তরের কোনো বর্ণনাকারী থেকে এমন শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করবেন যা সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার ধারণা দেয়, অথচ তা নিশ্চিত মিথ্যা নয়; যেমন তিনি বলেন: ‘অমুক থেকে’ (عن فلان)।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
وَقَالَ فلَانتَعْرِيف التَّدْلِيس لُغَة والتدليس فِي اللُّغَة كتمان عيب السّلْعَة فِي البيعوَقد يُقَال إِنَّه مُشْتَقّ من الدلس وَهُوَ اخْتِلَاط الظلام واشتدادهوَجه التَّسْمِيَة بِهِ سمي بِهِ لاشْتِرَاكهمَا فِي الخفاءحكم المدلس قَالَ الشَّيْخ وَحكم من ثَبت عَنهُ التَّدْلِيس أَنه لَا يقبل مِنْهُ إِلَّا إِذا صرح بِالْحَدِيثِحكم التَّدْلِيس قَالَ الشمني التَّدْلِيس حرَام عِنْد الْأَئِمَّة رُوِيَ عَن وَكِيع أَنه
এবং অমুক ব্যক্তি বললেনআভিধানিক অর্থে তদলিস (التدليس)-এর সংজ্ঞা আভিধানিক অর্থে তদলিস (التدليس) হলো ক্রয়-বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি গোপন করা।বলা হয়ে থাকে যে, এটি ‘আদ-দালাস’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অন্ধকারের সংমিশ্রণ ও তার তীব্রতা।এই নামকরণের কারণ গোপনীয়তার ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য থাকার কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।মুদাল্লিস (المدلس)-এর বিধান শায়খ বলেন, যার পক্ষ থেকে তদলis (التدليس) প্রমাণিত হবে, তার বিধান হলো যে, তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না সে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে (صرح) শ্রবণের কথা উল্লেখ করে।তদলিস (التدليس)-এর বিধান আশ-শুমনি বলেন, ইমামগণের নিকট তদলিস (التدليس) নিষিদ্ধ বা হারাম (حرام); ওকি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
قَالَ لَا يحل تَدْلِيس الثَّوْب فَكيف بتدليس الحَدِيثوَبَالغ شُعْبَة فِي ذمهحكم رِوَايَة المدلس وَقد اخْتلف الْعلمَاء فِي قبُول رِوَايَة المدلس فَذهب فريق من أهل الحَدِيث وَالْفِقْه إِلَى أَن التَّدْلِيس جرح وَأَن من عرف بِهِ لَا يقبل حَدِيثه مُطلقًا وَقيل يقبل وَذهب الْجُمْهُور إِلَى قبُول تَدْلِيس من
তিনি বললেন, "পোশাকের দোষ গোপন করা (تدليس) বৈধ নয়, তাহলে হাদিসের ক্ষেত্রে তাদলিস (تدليس) করা কেমন হতে পারে?"এবং শু'বাহ্ এর নিন্দায় কঠোরতা আরোপ করেছেন।মুদাল্লিসের (مدلس) বর্ণনার বিধান মুদাল্লিসের (مدلس) বর্ণনা গ্রহণের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রবিদদের একটি দল অভিমত দিয়েছেন যে, তাদলিস (تدليس) হলো একটি সমালোচনা (جرح) এবং যে ব্যক্তি এর দ্বারা পরিচিত, তার হাদিস সাধারণভাবে কবুল করা হবে না। আবার বলা হয়েছে যে এটি গ্রহণযোগ্য। আর জমহুর বা সংখ্যাগুরু (جمهور) উলামায়ে কেরাম সেই ব্যক্তির তাদলিস (تدليس) কবুল করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন যিনি...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
عرف أَنه لَا يُدَلس إِلَّا عَن ثِقَة كَابْن عُيَيْنَة وَإِلَى رد من كَانَ يُدَلس عَن الضُّعَفَاء وَغَيرهم حَتَّى ينص على سَمَاعه بقوله سَمِعت أَو حَدثنَا أَو أخبرنَاأَسبَاب التَّدْلِيس والباعث على التَّدْلِيس قد يكون لبَعض النَّاس غَرَض فَاسد مثل إخفاء السماع من الشَّيْخ لصِغَر سنه أَو عدم شهرته وجاهه عِنْد النَّاستَدْلِيس الأكابر وَالَّذِي وَقع من بعض الأكابر لَيْسَ لمثل هَذَا بل من جِهَة وثوقهم بِصِحَّة الحَدِيث واستغناءا بشهرة الْحَالقَالَ الشمني يحْتَمل أَن يكون قد سمع الحَدِيث من جمَاعَة من
এটি সুপরিচিত যে, তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকেই তাদলীস (تدليس) করতেন, যেমন ইবনে উইয়ায়না; এবং তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত যারা দুর্বল (ضعيف) ও অন্যদের থেকে তাদলীস (تدليس) করতেন, যতক্ষণ না তারা 'আমি শুনেছি' (سمعت), 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) অথবা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) বলার মাধ্যমে নিজ কানে শোনার (سماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।তাদলীসের (تدليس) কারণসমূহ তাদলীসের (تدليس) প্ররোচনা কখনো কোনো ব্যক্তির অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে হতে পারে, যেমন শায়খের বয়স কম হওয়ার কারণে অথবা মানুষের নিকট তার প্রসিদ্ধি ও মর্যাদার অভাবের কারণে তার নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করার বিষয়টি গোপন করা।বড় বড় ইমামদের তাদলীস (تدليس) বড় বড় কিছু ইমামের পক্ষ থেকে যা সংঘটিত হয়েছে তা এই ধরণের কোনো কারণে নয়, বরং হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে তাদের আস্থার কারণে এবং বর্ণনাকারীর অবস্থা সুপরিচিত হওয়ার কারণে (নাম উল্লেখের) প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করায়।আল-শুমুননী বলেন, এটি সম্ভব যে তিনি একদল বর্ণনাকারী থেকে হাদিসটি শুনেছেন যারা...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
الثِّقَات وَعَن ذَلِك الرجل فاستغنى بِذكرِهِ عَن ذكر أحدهم أَو ذكر جَمِيعهم لتحققه بِصِحَّة الحَدِيث فِيهِ كَمَا يفعل الْمُرْسلالمضطرب وَإِن وَقع فِي إِسْنَاد أَو متن اخْتِلَاف من الروَاة بِتَقْدِيم أَو تَأْخِير أَو زِيَادَة أَو نُقْصَان أَو إِبْدَال راو مَكَان راو آخر أَو متن مَكَان متن أَو تَصْحِيف فِي أَسمَاء السَّنَد أَو أَجزَاء الْمَتْن أَو بِاخْتِصَار أَو حذف أَو مثل ذَلِك فَالْحَدِيث مُضْطَربحكم المضطرب من الرِّوَايَات فَإِن أمكن الْجمع فبها وَإِلَّا فالتوقفالمدرج وَإِن أدرج الرَّاوِي كَلَامه أَو كَلَام غَيره من صَحَابِيّ أَو تَابِعِيّ
নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ এবং ওই ব্যক্তি থেকে, ফলে তিনি তাঁদের কোনো একজনের নাম অথবা সকলের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে কেবল তাঁর নাম উল্লেখ করেই যথেষ্ট মনে করেছেন; কারণ হাদিসটি তাঁর নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত ছিল, যেভাবে বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।এলোমেলো (المضطرب) আর যদি সূত্রের (إسناد) মধ্যে অথবা মূল পাঠের (متন) মধ্যে বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে কোনো বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়—চাই তা শব্দ আগে বা পিছে করার মাধ্যমে হোক, কিংবা বৃদ্ধির মাধ্যমে, কিংবা কমানোর মাধ্যমে, অথবা এক বর্ণনাকারীর স্থলে অন্য বর্ণনাকারীকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে, অথবা এক পাঠের স্থলে অন্য পাঠ বসানোর মাধ্যমে, কিংবা সূত্রের (إسناد) নামসমূহে অথবা মূল পাঠের (متন) অংশে শব্দগত বিকৃতি (تصحيف) ঘটানোর মাধ্যমে, অথবা সংক্ষেপ করার মাধ্যমে, কিংবা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো কারণে—তবে সেই হাদিসটি এলোমেলো (مضطرب)।এলোমেলো (المضطرب) বর্ণনাসমূহের বিধান যদি এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয় তবে তা-ই করা হবে, অন্যথায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থগিত (التوقف) রাখতে হবে।প্রক্ষিপ্ত (المدرج) আর যদি বর্ণনাকারী তাঁর নিজের কথা অথবা অন্য কারো কথা—চাই তিনি সাহাবি (صحابي) হোন কিংবা তাবেয়ি (تابعي)—হাদিসের ভেতরে প্রবিষ্ট করে দেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
مثلا لغَرَض من الْأَغْرَاض كبيان اللُّغَة أَو تَفْسِير للمعنى أَو تَقْيِيد للمطلق أَو نَحْو ذَلِك فَالْحَدِيث مدرجتَنْبِيه الرِّوَايَة بِالْمَعْنَى وَهَذَا المبحث يجر إِلَى رِوَايَة الحَدِيث وَنَقله بِالْمَعْنَى وَفِيه اخْتِلَاففالأكثرون على أَنه جَائِز مِمَّن هُوَ عَالم بِالْعَرَبِيَّةِ وماهر فِي أساليب الْكَلَام وعارف بخواص التراكيب ومفهومات الْخطاب لِئَلَّا يُخطئ بِزِيَادَة ونقصانوَقيل جَائِز فِي مُفْرَدَات الْأَلْفَاظ دون المركباتوَقيل جَائِز لمن استحضر أَلْفَاظه حَتَّى يتَمَكَّن من التَّصَرُّف فِيهِوَقيل جَائِز لمن يحفظ مَعَاني الحَدِيث وَنسي ألفاظها للضَّرُورَة فِي تَحْصِيل الْأَحْكَام وَأما من استحضر الْأَلْفَاظ فَلَا يجوز لَهُ لعدم الضَّرُورَةوَهَذَا الْخلاف فِي الْجَوَاز وَعَدَمهرِوَايَة اللَّفْظ أولى أما أَوْلَوِيَّة رِوَايَة اللَّفْظ من غير تصرف فِيهَا فمتفق عَلَيْهِ لقَوْله صلى الله عليه وسلم (نضر الله امْرَءًا سمع مَقَالَتي فوعاها فأداها كَمَا سمع)
উদাহরণস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যেমন আভিধানিক ভাষা বর্ণনা করা, অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করা, শর্তহীন বিষয়কে শর্তযুক্ত করা (تقييد للمطلق) অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো কারণে (হাদিসের মূল পাঠে কোনো শব্দ বা বাক্য সংযোজন করা হয়), তবে সেই হাদিসটি প্রক্ষিপ্ত (مدرج) বলে গণ্য হবে।সতর্কীকরণ (تنبيه) মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা (الرواية بالمعنى) এই আলোচনাটি হাদিসের বর্ণনা এবং তা মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা (الرواية بالمعنى) করার প্রসঙ্গের দিকে নিয়ে যায়, আর এ বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) রয়েছে।অধিকাংশ আলিমের মতে এটি বৈধ (جائز) এমন ব্যক্তির জন্য, যিনি আরবি ভাষায় পণ্ডিত, বাক্যরীতির শৈলীতে পারদর্শী এবং বাক্যের গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও সম্বোধনের মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত; যাতে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে ভুল না ঘটে।কেউ কেউ বলেছেন, এটি একক শব্দের ক্ষেত্রে বৈধ (جائز), বাক্যসমষ্টির ক্ষেত্রে নয়।আবার বলা হয়েছে, এটি সেই ব্যক্তির জন্য বৈধ (جائز) যার কাছে হাদিসের শব্দগুলো উপস্থিত আছে, যাতে সে তাতে যথাযথ পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হয়।আর কেউ কেউ বলেছেন, এটি সেই ব্যক্তির জন্য বৈধ (جائز) যে হাদিসের মর্মার্থ হিফজ রেখেছে কিন্তু তার শব্দাবলি ভুলে গেছে, বিধান আহরণ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের (ضرورة) খাতিরে। পক্ষান্তরে, যার শব্দাবলি স্মরণে আছে, তার জন্য এটি বৈধ (جائز) নয়, কারণ সেখানে কোনো আবশ্যকতা (ضرورة) নেই।এই মতভেদ (اختلاف) মূলত বৈধতা (جواز) এবং অবৈধতা নিয়ে।শব্দানুযায়ী বর্ণনা (رواية اللفظ) অধিকতর উত্তম (أولى) তবে কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই শব্দানুযায়ী বর্ণনা (رواية اللفظ) করা যে অধিকতর উত্তম (أولى), সে বিষয়ে সকলে সর্বসম্মত (متفق عليه); কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা সংরক্ষণ করেছে এবং ঠিক যেভাবে শুনেছে সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وَالنَّقْل بِالْمَعْنَى وَاقع فِي الْكتب السِّتَّة وَغَيرهَاالعنعنة والعنعنة رِوَايَة الحَدِيث بِلَفْظ عَن فلَان عَن فلَانالمعنعن والمعنعن حَدِيث رُوِيَ بطرِيق العنعنةشُرُوط العنعنة وَيشْتَرط فِي العنعنة المعاصرة عِنْد مُسلم واللقي عِنْد البُخَارِيّ وَالْأَخْذ عِنْد قوم آخَرين
এবং মূল ভাব বা অর্থের বর্ণনাকরণ (النقل بالمعنى) কুতুবুস সিত্তা ও অন্যান্য কিতাবসমূহে বিদ্যমান।আনআনা (العنعنة) আনআনা (العنعنة) হলো 'অমুক হতে অমুক' (عن فلان عن فلان) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করা।মুআনআন (المعنعن) মুআনআন (المعنعن) হলো এমন হাদিস যা আনআনা (العنعنة) পদ্ধতির মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।আনআনা-র শর্তাবলি (شروط العنعنة) আনআনা-র (العنعنة) ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের নিকট সমসাময়িকতা (المعاصرة), ইমাম বুখারীর নিকট সাক্ষাৎ (اللقي) এবং অন্য এক দলের নিকট সরাসরি গ্রহণ (الأخذ) শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
وَمُسلم رد على الْفَرِيقَيْنِ أَشد الرَّد وَبَالغ فِيهِوعنعنة المدلس غير مَقْبُولَةالْمسند وكل حَدِيث مَرْفُوع سَنَده مُتَّصِل فَهُوَ مُسْندهَذَا هُوَ الْمَشْهُور الْمُعْتَمد عَلَيْهِوَبَعْضهمْ يُسمى كل مُتَّصِل مُسْندًا وَإِن كَانَ مَوْقُوفا أَو مَقْطُوعًاوَبَعْضهمْ يُسمى الْمَرْفُوع مُسْندًا وَإِن كَانَ مُرْسلا أَو معضلا أَو مُنْقَطِعًا
এবং ইমাম মুসলিম উভয় দলের ওপর অত্যন্ত কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন।এবং মুদাল্লিসের (مدلس) ‘আনআনা’ বা ‘থেকে’ শব্দযোগে বর্ণিত (عنعنة) বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।মুসনাদ প্রত্যেক রসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিস যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل), তা-ই মুসনাদ।এটিই প্রসিদ্ধ এবং নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত।আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) বর্ণনাকে মুসনাদ নামে অভিহিত করেন, যদিও তা সাহাবীর উক্তি (موقوف) কিংবা তাবেয়ীর উক্তি (مقطوع) হয়।আবার তাঁদের কেউ কেউ রসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) বর্ণনাকেই মুসনাদ বলেন, যদিও তা বিচ্যুত (مرسل) বা জটিল বিচ্ছিন্ন (معضل) অথবা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
الْفَصْل الثَّالِث فِي الشاذ وَالْمُنكر والمعلل وَالِاعْتِبَار وَمن أَقسَام الحَدِيث الشاذ وَالْمُنكر والمعللالشاذ لُغَة والشاذ فِي اللُّغَة من تفرد من الْجَمَاعَة وَخرج مِنْهَاالشاذ اصْطِلَاحا وَفِي الِاصْطِلَاح مَا رُوِيَ مُخَالفا لما رَوَاهُ الثِّقَاتفَإِن لم يكن راوية ثِقَة فَهُوَ مَرْدُودوَإِن كَانَ ثِقَة فسبيله التَّرْجِيح بمزيد حفظ وَضبط أَو كَثْرَة عدد ووجوه أخر من الترجيحاتالْمَحْفُوظفالراجح يُسمى مَحْفُوظًا والمرجوح شاذا
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ব্যতিক্রমী (شاذ), অস্বীকৃত (منكر), ত্রুটিযুক্ত (معلل) এবং পর্যবেক্ষণ (اعتبار) প্রসঙ্গে হাদিসের প্রকারসমূহের মধ্যে রয়েছে ব্যতিক্রমী (شاذ), অস্বীকৃত (منكر) এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل)ব্যতিক্রমী (شاذ) শব্দের শাব্দিক অর্থ অভিধানে 'ব্যতিক্রমী' (شاذ) হলো সেই ব্যক্তি যে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী হয়ে যায় এবং জামাত থেকে বেরিয়ে যায়ব্যতিক্রমী (شاذ) শব্দের পারিভাষিক অর্থ আর পরিভাষায় যা নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) বর্ণনার বিপরীতে বর্ণিত হয় তা-ই শায বা ব্যতিক্রমী (شاذ)যদি বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) না হন, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)আর যদি তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তবে অধিকতর মুখস্থশক্তি (حفظ) ও প্রখরতা (ضبط) অথবা বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্য এবং প্রাধান্য দেওয়ার অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হবেসংরক্ষিত (محفوظ)অতঃপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত বর্ণনাটিকে সংরক্ষিত (محفوظ) বলা হয় এবং অপ্রধান বা দুর্বল বর্ণনাটিকে ব্যতিক্রমী (شاذ) বলা হয়
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
الْمُنكر وَالْمُنكر حَدِيث رَوَاهُ ضَعِيف مُخَالف لمن هُوَ أَضْعَف مِنْهُالْمَعْرُوف وَمُقَابِله الْمَعْرُوفحكم الْمَعْرُوف وَالْمُنكر والشاذ وَالْمَحْفُوظفالمعروف وَالْمُنكر كلا راويهما ضَعِيف وَأَحَدهمَا أَضْعَف من الآخروَفِي الشاذ وَالْمَحْفُوظ قوي أَحدهمَا أقوى من الآخروالشاذ وَالْمُنكر مرجوحان وَالْمَحْفُوظ وَالْمَعْرُوف راجحانتَعْرِيف آخر للشاذ وَبَعْضهمْ لم يشْتَرط فِي الشاذ وَالْمُنكر قيد الْمُخَالفَة لراو آخر قَوِيا كَانَ أَو ضَعِيفا وَقَالُوا الشاذ مَا رَوَاهُ الثِّقَة وَتفرد بِهِ وَلَا يُوجد لَهُ أصل مُوَافق ومعاضد
মুনকার (المنكر) মুনকার (المنكر) হলো এমন হাদিস যা এমন একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যিনি তার চেয়েও অধিক দুর্বল কারো বিরোধিতা করেছেন।মারুফ (المعروف) আর এর বিপরীত হলো মারুফ (المعروف)।মারুফ (المعروف), মুনকার (المنكر), শাজ (الشاذ) এবং মাহফুজ (المحفوظ)-এর বিধানমারুফ (المعروف) ও মুনকার (المنكر)-এর ক্ষেত্রে উভয় বর্ণনাকারীই দুর্বল (ضعيف) এবং তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে অধিক দুর্বল।আর শাজ (الشاذ) ও মাহফুজ (المحفوظ)-এর ক্ষেত্রে উভয়ই শক্তিশালী, তবে তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।শাজ (الشاذ) ও মুনকার (المنكر) হলো অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) এবং মাহফুজ (المحفوظ) ও মারুফ (المعروف) হলো প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح)।শাজ (الشاذ)-এর অন্য একটি সংজ্ঞা তাদের মধ্যে কেউ কেউ শাজ (الشاذ) ও মুনকার (المنكر)-এর ক্ষেত্রে অন্য কোনো বর্ণনাকারীর—তিনি শক্তিশালী হোন বা দুর্বল—বিরোধিতার শর্তারোপ করেননি। তারা বলেন: শাজ (الشاذ) হলো যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর স্বপক্ষে কোনো অনুরূপ ও সমর্থক ভিত্তি পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
لَهُ وَهَذَا صَادِق على فَرد ثِقَة صَحِيحتَعْرِيف ثَالِث للشاذ وَبَعْضهمْ لم يعتبروا الثِّقَة وَلَا الْمُخَالفَةتَعْرِيف آخر للْمُنكر وَكَذَلِكَ الْمُنكر لم يخصوه بالصورة الْمَذْكُورَة وَسموا حَدِيث المطعون بفسق أَو فرط غَفلَة أَو كَثْرَة غلط مُنْكراوَهَذِه اصْطِلَاحَات لَا مشاحة فِيهَاالْمُعَلل والمعلل بِفَتْح اللَّام إِسْنَاد فِيهِ علل وَأَسْبَاب غامضة خُفْيَة قادحة فِي الصِّحَّة يتَنَبَّه لَهَا الحذاق المهرة من أهل هَذَا الشَّأْن كإرسال فِي الْمَوْصُول ووقف فِي الْمَرْفُوع وَنَحْو ذَلِكوَقد تقصر عبارَة الْمُعَلل عَن إِقَامَة الْحجَّة على دَعْوَاهُ كالصيرفي فِي نقد الدِّينَار وَالدِّرْهَم
এটি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির বর্ণিত সহিহ (صحيح) একক বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।শায (شاذ)-এর তৃতীয় সংজ্ঞা এবং তাঁদের কেউ কেউ নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) কিংবা (অন্যদের সাথে) বিরোধিতাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি।মুনকার (منكر)-এর অন্য একটি সংজ্ঞা একইভাবে তাঁরা মুনকার (منكر)-কে কেবল উল্লিখিত সুরত বা অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং ফাসিকি (فسق), চরম উদাসীনতা কিংবা প্রচুর ভুল করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাদিসকেও তাঁরা মুনকার (منكر) হিসেবে অভিহিত করেছেন।এগুলো হলো পারিভাষিক বিষয়, যাতে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই।মুআল্লাল (المعلل) আর মুআল্লাল (المعلل)—লাম (ل) অক্ষরে ফাতহাহ যোগে—হলো এমন একটি সনদ (إسناد), যাতে সূক্ষ্ম ও লুকায়িত কিছু ত্রুটি বা কারণ থাকে যা হাদিসের বিশুদ্ধতার (الصحة) পরিপন্থী। এই শাস্ত্রের দক্ষ ও নিপুণ বিশেষজ্ঞগণই কেবল তা অনুধাবন করতে পারেন; যেমন: সংযুক্ত (موصول) বর্ণনায় বিচ্ছিন্নতা (إرسال) কিংবা মারফু (مرفوع) হাদিসে ওয়াকফ (وقف) থাকা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।অনেক সময় ত্রুটি নির্ণয়কারী (المعلل) বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাঁর দাবির সপক্ষে দলিল উপস্থাপনে সংক্ষিপ্ত হতে পারে, যেমনটি দিনার ও দিরহাম যাচাইকারী মুদ্রা বিশারদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
المتابع وَإِذا روى راو حَدِيثا وروى راو آخر حَدِيثا مُوَافقا لَهُ يُسمى هَذَا الحَدِيث مُتَابعًا بِصِيغَة اسْم الْفَاعِلوَهَذَا معنى مَا يَقُول المحدثون تَابعه فلَان وَكَثِيرًا مَا يَقُول البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَيَقُولُونَ وَله متابعاتفَائِدَة الْمُتَابَعَة والمتابعة توجب التقوية والتأييدوَلَا يلْزم أَن يكون المتابع مُسَاوِيا فِي الْمرتبَة للْأَصْل وَإِن كَانَ دونه يصلح للمتابعةدَرَجَات الْمُتَابَعَة والمتابعة قد يكون فِي نفس الرَّاوِي وَقد يكون فِي شيخ فَوْقه وَالْأول أتم وأكمل من الثَّانِي لِأَن الوهن فِي أول الْإِسْنَاد أَكثر وأغلبمَتى يسْتَعْمل مثله والمتابع إِن وَافق الأَصْل فِي الْفظ وَالْمعْنَى يُقَال مثله
অনুবর্তী (متابع) যখন কোনো বর্ণনাকারী (راو) একটি হাদিস বর্ণনা করেন এবং অন্য একজন বর্ণনাকারী (راو) তার অনুরূপ একটি হাদিস বর্ণনা করেন, তখন এই হাদিসটিকে ইসমে ফায়েল-এর রূপে অনুবর্তী (متابع) বলা হয়।মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন ‘অমুক তার অনুবর্তন করেছেন’, তখন এটিই উদ্দেশ্য হয়। ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে প্রায়ই এটি উল্লেখ করেন এবং তারা বলেন ‘এর অনুবর্তনসমূহ (متابعات) রয়েছে’।অনুবর্তনের (متابعة) উপকারিতা অনুবর্তন (متابعة) হাদিস শক্তিশালীকরণ ও সমর্থনের দাবি রাখে।অনুবর্তী (متابع) বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক নয় যে, তা মূল বর্ণনার সমপর্যায়ের হতে হবে; বরং সেটি নিম্নমানের হলেও তা অনুবর্তনের (متابعة) জন্য উপযোগী হয়।অনুবর্তনের (متابعة) স্তরসমূহ অনুবর্তন (متابعة) কখনো খোদ বর্ণনাকারী (راو) এর ক্ষেত্রে হতে পারে, আবার কখনো তার উপরের স্তরের কোনো শায়খ (شيخ) এর ক্ষেত্রে হতে পারে। প্রথম প্রকারটি দ্বিতীয় প্রকার অপেক্ষা অধিক পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ, কারণ সূত্র (إسناد) এর শুরুর দিকের দুর্বলতা (وهن) অধিক ও প্রবল হয়ে থাকে।কখন 'এর অনুরূপ' (مثله) শব্দ ব্যবহৃত হয় অনুবর্তী (متابع) বর্ণনাটি যদি শব্দ ও অর্থের দিক থেকে মূল বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়, তবে তাকে 'এর অনুরূপ' (مثله) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
اسْتِعْمَال نَحوه وَإِن وَافق فِي الْمَعْنى دون اللَّفْظ يُقَال نَحوهشَرط الْمُتَابَعَة وَيشْتَرط فِي الْمُتَابَعَة أَن يكون الحديثان من صَحَابِيّ وَاحِدالشَّاهِد وَإِن كَانَا من صحابيين يُقَال لَهُ شَاهد كَمَا يُقَال لَهُ شَاهد من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَيُقَال لَهُ شَوَاهِد وَيشْهد بِهِ حَدِيث فلَانتَعْرِيف آخر للمتابع وَالشَّاهِد وَبَعْضهمْ يخصون الْمُتَابَعَة بالموافقة فِي اللَّفْظ وَالشَّاهِد فِي الْمَعْنى سَوَاء كَانَ من صَحَابِيّ وَاحِد أَو من صحابيينتَعْرِيف ثَالِث لَهما وَقد يُطلق الشَّاهِد والمتابع بِمَعْنى وَاحِد وَالْأَمر فِي ذَلِك بَينالِاعْتِبَار وتتبع طرق الحَدِيث وأسانيدها بِقصد معرفَة المتابع وَالشَّاهِد يُسمى الِاعْتِبَار
'নাহওয়াহু' (نحوه) এর ব্যবহার যদি হাদিসের অর্থগত মিল থাকে কিন্তু শাব্দিক মিল না থাকে, তবে তাকে 'তার অনুরূপ' (نحوه) বলা হয়।মুতাবাআত (متابعة) এর শর্ত মুতাবাআত (متابعة) এর ক্ষেত্রে শর্ত হলো উভয় হাদিস যেন একই সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়।শাহেদ (شاهد) আর যদি হাদিস দুটি দুইজন পৃথক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়, তবে তাকে শাহেদ (شاهد) বলা হয়; যেমন বলা হয়: এটি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসের একটি শাহেদ (شاهد)। তদ্রূপ এর জন্য 'শাওয়াহিদ' (شواهد) শব্দটিও ব্যবহৃত হয় এবং বলা হয় যে, অমুকের হাদিস এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য (يشهد) প্রদান করছে।মুতাবি' (متابع) ও শাহেদ (شاهد) এর ভিন্ন একটি সংজ্ঞা কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ শাব্দিক মিল থাকাকে মুতাবাআত (متابعة) এবং কেবল অর্থগত মিল থাকাকে শাহেদ (شاهد) হিসেবে নির্দিষ্ট করেন, চাই তা একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হোক বা দুইজন ভিন্ন সাহাবী থেকে।উভয়টির তৃতীয় একটি সংজ্ঞা কখনও কখনও শাহেদ (شاهد) ও মুতাবি' (متابع) একই অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।ইতিবার (اعتبار) মুতাবি' (متابع) এবং শাহেদ (شاهد) অবগত হওয়ার উদ্দেশ্যে হাদিসের বিভিন্ন সূত্র ও সনদসমূহ অনুসন্ধান করাকে ইতিবার (اعتبار) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
الْفَصْل الرَّابِع فِي الصَّحِيح وَالْحسن والضعيف وأصل أَقسَام الحَدِيث ثَلَاثَة فَالصَّحِيح أَعلَى مرتبَة والضعيف أدنى مرتبَة وَالْحسن متوسطوَسَائِر الْأَقْسَام الَّتِي ذكرت دَاخِلَة فِي هَذِه الثَّلَاثَةالصَّحِيح فَالصَّحِيح مَا يثبت بِنَقْل عدل تَامّ الضَّبْط غير مُعَلل وَلَا شَاذالصَّحِيح لذاته فَإِن كَانَ هَذِه الصِّفَات على وَجه الْكَمَال والتمام فَهُوَ صَحِيح لذاتهالصَّحِيح لغيره
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সহিহ (صحيح) হাসান (حسن) ও জয়িফ (ضعيف) প্রসঙ্গে আর হাদিসের মূল প্রকারভেদ তিনটি; তন্মধ্যে সহিহ (صحيح) সর্বোচ্চ স্তরের, জয়িফ (ضعيف) সর্বনিম্ন স্তরের এবং হাসান (حسن) মধ্যবর্তী স্তরের।উল্লিখিত অবশিষ্ট সকল প্রকারভেদ এই তিনটির অন্তর্ভুক্ত।সহিহ (صحيح) সুতরাং সহিহ (صحيح) হলো তা, যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, যা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয় এবং শায (شاذ) বা নিয়মবহির্ভূত নয়।সহিহ লি-যাতিহি (صحيح لذاته) যদি এই গুণাবলি পূর্ণতা ও পরিপূর্ণতার সাথে বিদ্যমান থাকে, তবে তা সহিহ লি-যাতিহি (صحيح لذاته)।সহিহ লি-গাইরিহি (صحيح لغيره)
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
وَإِن كَانَ فِيهِ نوع قُصُور وَوجد مَا يجْبر ذَلِك الْقُصُور من كَثْرَة الطّرق فَهُوَ الصَّحِيح لغيرهالْحسن لذاته وَإِن كَانَ لم يُوجد فَهُوَ الْحسن لذاتهالضَّعِيف وَمَا فقد فِيهِ الشَّرَائِط الْمُعْتَبرَة فِي الصَّحِيح كلا أَو بَعْضًا فَهُوَ الضَّعِيفالْحسن لغيره والضعيف إِن تعدد طرقه وانجبر ضعفه يُسمى حسنا لغيرهالنُّقْصَان الْمُعْتَبر فِي الْحسن وَظَاهر كَلَامهم أَنه يجوز أَن تكون جَمِيع الصِّفَات الْمَذْكُورَة فِي الصَّحِيح نَاقِصَة فِي الْحسن لَكِن التَّحْقِيق أَن النُّقْصَان الَّذِي اعْتبر فِي
আর যদি তাতে কোনো প্রকার ঘাটতি থাকে এবং সেই ঘাটতি পূরণ করার জন্য সূত্রের আধিক্য (كثرة الطرق) পাওয়া যায়, তবে তা লি-গাইরিহি সহিহ (الصحيح لغيره)।লি-যাতিহি হাসান (الحسن لذاته) আর যদি তা পাওয়া না যায়, তবে তা লি-যাতিহি হাসান (الحسن لذاته)।দুর্বল (الضعيف) এবং সহিহ (الصحيح) হওয়ার জন্য বিবেচিত শর্তাবলির সবটুকু অথবা কিছু অংশ যাতে অনুপস্থিত থাকে, তাকেই দুর্বল (الضعيف) বলা হয়।লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره) আর দুর্বল (الضعيف) হাদিসের যদি সূত্রের আধিক্য (تعدد طرقه) থাকে এবং তার দুর্বলতা দূরীভূত হয়, তবে তাকে লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره) বলা হয়।হাসান (الحسن) এর ক্ষেত্রে বিবেচিত ঘাটতি (النقصان) এবং তাদের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম হলো যে, সহিহ (الصحيح) হাদিসের মাঝে উল্লিখিত সকল গুণাবলি হাসান (الحسن) হাদিসে কিছুটা কম থাকা বৈধ, তবে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো যে, যে ঘাটতি (النقصان) বিবেচনা করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
الْحسن إِنَّمَا هُوَ بخفة الضَّبْط وَبَاقِي الصِّفَات بِحَالِهَا
হাসান (حسن) মূলত স্মৃতিরক্ষায় সামান্য শিথিলতা (خفة الضبط) থাকার কারণেই গণ্য হয় এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ একইভাবে অপরিবর্তিত থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦١)
الْفَصْل الْخَامِس فِي الْعَدَالَة ووجوه الطعْن الْمُتَعَلّقَة بهَا الْعَدَالَةوَالْعَدَالَة ملكة فِي الشَّخْص تحمله على مُلَازمَة التَّقْوَى والمروءةالتَّقْوَى وَالتَّقوى اجْتِنَاب الْأَعْمَال السَّيئَة من الشّرك وَالْفِسْق والبدعة وَفِي الاجتناب عَن الصَّغِيرَة خلافوَالْمُخْتَار عدم اشْتِرَاطه لِخُرُوجِهِ عَن الطَّاقَة إِلَّا الْإِصْرَار عَلَيْهَا لكَونه كَبِيرَة
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আপত্তিসমূহ (الطعن) প্রসঙ্গে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة)আর ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) হলো ব্যক্তির মধ্যকার এমন একটি চারিত্রিক গুণ (ملكة), যা তাকে তাকওয়া (التقوى) ও সৌজন্যবোধ (المروءة) বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।তাকওয়া (التقوى) আর তাকওয়া (التقوى) হলো শিরক (الشرك), পাপাচার (الفسق) ও বিদআত (البدعة) এর মতো মন্দ কাজগুলো পরিহার করা। তবে সগীরা গুনাহ (الصغيرة) বর্জন করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।আর পছন্দনীয় মত হলো এটি শর্ত হিসেবে গণ্য না করা; কারণ এটি মানুষের সাধ্যের অতীত, তবে সগীরা গুনাহর ওপর অবিচল থাকা (الإصرار) এর ব্যতিক্রম; কারণ তা কবীরা গুনাহ (كبيرة) হিসেবে গণ্য।