(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
المختصر في أصول الحديث = رسالة في أصول الحديث   (الجرجاني، الشريف)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: رسالة في أصول الحديث (مطبوع ضمن كتاب: رسالتان في المصطلح)

المؤلف: علي بن محمد بن علي الزين الشريف الجرجاني (ت 816هـ)

المحقق: علي زوين

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولى، 1407هـ

عدد الصفحات: 105

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি সংক্ষেপ = হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক পুস্তিকা   (আল-জোরজানি, আশ-শরিফ)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক পুস্তিকা (যা নিম্নোক্ত গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত: পরিভাষা বিষয়ক দুটি পুস্তিকা)

লেখক: আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আজ-জাইন আশ-শরিফ আল-জোরজানি (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক (المحقق): আলি জুওয়াইন

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٦٥)
هَذَا مُخْتَصر جَامع لمعْرِفَة علم الحَدِيث مُرَتّب على مُقَدّمَة ومقاصد

الْمُقدمَة فِي بَيَان أُصُوله واصطلاحاته

الْمَتْن هُوَ أَلْفَاظ الحَدِيث الَّتِي تقوم بهَا الْمَعْنى

والْحَدِيث أَعم من أَن يكون قَول الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أَو الصَّحَابِيّ أَو التَّابِعِيّ وفِعلهم وتقريرهم

والسند هُوَ رفع الحَدِيث إِلَى قَائِله وهما متقاربان فِي الْمَعْنى واعتماد الْحفاظ فِي صِحَة الحَدِيث وَضعه عَلَيْهِمَا

وَالْخَبَر الْمُتَوَاتر مَا بلغت رُوَاته فِي الْكَثْرَة مبلغا أحالت الْعَادة تواطؤهم على الْكَذِب

ويدوم هَذَا فَيكون أَوله كآخره ووسطه كطرفيه كالقرآن والصلوات الْخمس

ويدوم هَذَا فَيكون أَوله كآخرهِ ووسطه كطرفيه كالقرآن والصلوات الْخمس

قَالَ ابْن الصّلاح من سُئِلَ عَن إبراز مِثَال لذَلِك فِي الْأَحَادِيث أعياه طلبه
এটি হাদিস শাস্ত্র (علم الحَدِيث) সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত ও সংকলিত গ্রন্থ, যা একটি ভূমিকা ও মূল বিষয়াবলির (مقاصد) ওপর বিন্যস্ত।

ভূমিকাটি এর মূলনীতি (أصول) ও পরিভাষাগুলোর (اصطلاحات) বর্ণনায়।

মতন (المتن) হলো হাদিসের সেই শব্দাবলি যা দ্বারা অর্থ গঠিত হয়।

আর হাদিস হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবি বা তাবেয়ির কথা, কাজ ও মৌনসম্মতির (تقرير) চেয়েও ব্যাপক বিষয়।

এবং সনদ (السند) হলো হাদিসকে এর প্রবক্তা পর্যন্ত পৌঁছানো। এ দুটি অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও অবস্থা (وضع) নির্ণয়ে হাফেজদের (الحفاظ) নির্ভরতা এ দুটির ওপরই।

আর মুতাওয়াতির সংবাদ (الخبر المتواتر) হলো সেটি, যার বর্ণনাকারীদের সংখ্যা আধিক্যের এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্বভাবত তাদের সবার মিথ্যার (الكذب) ওপর একমত হওয়া অসম্ভব।

এটি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, ফলে এর শুরু এর শেষের মতো এবং এর মধ্যভাগ এর প্রান্তদ্বয়ের মতো হয়; যেমন—কুরআন এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।

এটি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, ফলে এর শুরু এর শেষের মতো এবং এর মধ্যভাগ এর প্রান্তদ্বয়ের মতো হয়; যেমন—কুরআন এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।

ইবনে সালাহ বলেন, হাদিসের মধ্যে এর কোনো উদাহরণ তুলে ধরার বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হবে, তার অনুসন্ধান তাকে ক্লান্ত করে দেবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٦٦)
وَحَدِيث إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ لَيْسَ من ذَلِك وَإِن نَقله عدد التَّوَاتُر وَأكْثر لِأَن ذَلِك طَرَأَ عَلَيْهِ فِي وسط إِسْنَاده نعم حَدِيث من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار نَقله من الصَّحَابَة الجم الْغَفِير قل هم أَرْبَعُونَ وَقيل اثْنَان وَسِتُّونَ وَفِيهِمْ الْعشْرَة المبشرة وَلم يزل الْعدَد على التوالي فِي ازدياد

এবং "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এর (মুতাওয়াতির হাদিসের) অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও এটি মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন; কারণ বর্ণনাকারীদের এই আধিক্য কেবল এর সনদের (إسناد) মধ্যবর্তী স্তরে ঘটেছে। তবে, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" হাদিসটি সাহাবীদের এক বিশাল দল বর্ণনা করেছেন; বলা হয় যে তারা সংখ্যায় চল্লিশ জন, মতান্তরে বাষট্টি জন, এবং তাদের মধ্যে আশারা মুবাশশারাও রয়েছেন। আর পরবর্তী স্তরগুলোতে বর্ণনাকারীদের এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধিই পেয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٦٧)
والآحاد مَا لم ينْتَه إِلَى الْمُتَوَاتر وَهُوَ مستفيض وَغَيره

قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ حصر الْأَحَادِيث يبعد إِمْكَانه غير أَن جمَاعَة بالغوا فِي تتبعها وحصروها قَالَ الإِمَام أَحْمد صَحَّ سَبْعمِائة ألف وَكسر وَقَالَ قد جمعت فِي الْمسند أَحَادِيث انتخبتها من أَكثر من سَبْعمِائة ألف وَخمسين ألفا فَمَا اختلفتم فِيهِ فَارْجِعُوا إِلَيْهِ وَمَا لم تَجدوا فِيهِ فَلَيْسَ بِحجَّة وَالْمرَاد بِهَذِهِ الْأَعْدَاد الطّرق لَا الْمُتُون
আর আহাদ (آحاد) হলো সেই হাদিস যা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছায়নি; আর এটি মুস্তাফিদ (مستفيض) এবং অন্যান্য প্রকারে বিভক্ত।

ইবনুল জাওজি বলেছেন যে, হাদিসসমূহের সংখ্যা নিরূপণ করা অসম্ভব মনে হয়, তবে একদল আলিম সেগুলো নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করেছেন এবং তা সীমাবদ্ধ করেছেন। ইমাম আহমদ বলেছেন, সাত লক্ষের কিছু বেশি হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, আমি মুসনাদ গ্রন্থে এমন সব হাদিস সংকলন করেছি যা আমি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক হাদিস থেকে নির্বাচন করেছি; সুতরাং তোমরা যে বিষয়ে মতপার্থক্য করবে তার সমাধানের জন্য এর দিকেই ফিরে এসো, আর যা তোমরা এতে পাবে না তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না। আর এই সংখ্যাগুলো দ্বারা বর্ণনার সূত্রসমূহ (طرق) বোঝানো হয়েছে, হাদিসের মূল পাঠ (متون) নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٦٨)
الْمَقَاصِد

اعْلَم أَن متن الحَدِيث نَفسه لَا يدْخل فِي الِاعْتِبَار إِلَّا نَادرا بل يكْتَسب صفة وخلافها وَبَين لَك أَو بِحَسب الْإِسْنَاد من الِاتِّصَال والانقطاع والإرسال وَالِاضْطِرَاب وَنَحْوهَا فَالْحَدِيث على هَذَا يَنْقَسِم إِلَى صَحِيح وَحسن وَضَعِيف هَذَا إِذا نظر إِلَى الْمَتْن وَأما إِذا نظر إِلَى أَوْصَاف الروَاة فَقيل ثِقَة عدل ضَابِط أَو غير ثِقَة أَو مُتَّهم أَو مَجْهُول أَو كذوب أَو نَحْو ذَلِك فَيكون الْبَحْث عَن الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَإِذا نظر إِلَى كَيْفيَّة أَخذهم وطرق تحملهم الحَدِيث كَانَ الْبَحْث عَن أَوْصَاف الطَّالِب وَإِذا بحث عَن أسمائهم ونسبهم كَانَ الْبَحْث عَن تعيينهم وتشخيص ذواتهم فالمقاصد مرتبَة على أَرْبَعَة أَبْوَاب -‌‌ الْبَاب الأول

فِي أَقسَام الحَدِيث وأنواعه

وَفِي ثَلَاث فُصُول

‌‌الْفَصْل الأول فِي الصَّحِيح هُوَ مَا اتَّصل سَنَده بِنَقْل الْعدْل
মূল লক্ষ্যসমূহ

জেনে রাখুন যে, হাদিসের মূলপাঠ (متن) স্বয়ং খুব কমই বিবেচনার (اعتبار) অন্তর্ভুক্ত হয়, বরং এটি সনদের (إسناد) অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), ইরসাল (إرسال), অসংগতি (اضطراب) ইত্যাদির নিরিখে কোনো বৈশিষ্ট্য বা তার বিপরীত রূপ লাভ করে এবং আপনার নিকট তা স্পষ্ট হয়। সুতরাং হাদিস এই ভিত্তিতে বিশুদ্ধ (صحيح), উত্তম (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) শ্রেণিতে বিভক্ত হয়। এটি হলো মূলপাঠের (متن) দিকের বিবেচনা। পক্ষান্তরে যখন বর্ণনাকারীদের গুণাবলির দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), ন্যায়পরায়ণ (عدل), প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) অথবা অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة), অভিযুক্ত (متهم), অজ্ঞাত (مجهول), চরম মিথ্যাবাদী (كذوب) বা অনুরূপ কিছু, তখন তা হয় জরাহ ও তাদিল (الجرْح وَالتَّعْدِيل) সংক্রান্ত আলোচনা। আর যখন তাদের হাদিস গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ (طرق تحمل) নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তা হয় শিক্ষার্থীর গুণাবলি সংক্রান্ত আলোচনা। আর যখন তাদের নাম ও বংশপরিচয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তা হয় তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিসত্তা সুনির্দিষ্টকরণ সংক্রান্ত আলোচনা। অতএব, মূল বিষয়গুলো চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত—‌‌প্রথম অধ্যায়

হাদিসের প্রকার ও শ্রেণিবিভাগ প্রসঙ্গে

এবং এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত।

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস প্রসঙ্গে এটি হলো এমন বিষয় যার সনদ (سند) ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন (اتصال) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٦٩)
الضَّابِط عَن مثله وَسلم عَن شذوذ وَعلة

ونعني بالمتصل مَا لم يكن مَقْطُوعًا بِأَيّ وجهٍ كَانَ وبالعدل من لم يكن مَسْتُور الْعَدَالَة وَلَا مجروحاً وبالضابط من يكون حَافِظًا متيقظاً وبالشذوذ مَا يرويهِ الثِّقَة مُخَالفا لرِوَايَة النَّاس ونحترز بِالْعِلَّةِ عَمَّا فِيهِ أسبابٌ خُفْيَة غامضة قادحة

وتتفاوت دَرَجَات الصَّحِيح بِحَسب قُوَّة شُرُوطه

وَأول من صنف فِي الصَّحِيح الْمُجَرّد الإِمَام البُخَارِيّ ثمَّ مُسلم وكتاباهما أصح الْكتب بعد كتاب الله الْعَزِيز
...নির্ভুলভাবে সংরক্ষণকারী (الضابط) কর্তৃক তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর নিকট থেকে বর্ণিত এবং যা বিচ্যুতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত।

আর অবিচ্ছিন্ন (المتصل) দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো যা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন (مقطوع) নয়। ন্যায়পরায়ণ (العدل) বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে যার সততা অপ্রকাশিত (مستور العدالة) নয় এবং যিনি সমালোচিত (مجروح) নন। নির্ভুলভাবে সংরক্ষণকারী (الضابط) হলেন তিনি যিনি প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী ও প্রখর সচেতন। বিচ্যুতি (الشذوذ) হলো যা কোনো নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেন। আর ত্রুটি (العلة) দ্বারা আমরা সেই বিষয় থেকে সতর্কতা অবলম্বন করি যাতে কোনো গোপন, অস্পষ্ট ও ক্ষতিকারক কারণ বিদ্যমান থাকে।

সহিহ (الصحيح)-এর স্তরসমূহ এর শর্তাবলির শক্তিশালী হওয়ার তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

আর সর্বপ্রথম কেবল সহিহ (الصحيح) হাদিস সংকলনে গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম বুখারি, অতঃপর ইমাম মুসলিম। মহান আল্লাহর কিতাবের পর তাঁদের গ্রন্থদ্বয় সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٠)
وَأما قَوْله الشافي مَا أعلم شَيْئا بعد كتاب الله تَعَالَى أصح من موطأ مَالك رحمه الله فَقبل وجود الْكِتَابَيْنِ

وَأَعْلَى أَقسَام الصَّحِيح مَا اتفقَا عَلَيْهِ ثمَّ مَا انْفَرد بِهِ البُخَارِيّ ثمَّ مَا انْفَرد بِهِ مُسلم ثمَّ مَا كَانَ على شَرطهمَا وَإِن لم يخرجَاهُ ثمَّ على شَرط البُخَارِيّ ثمَّ على شَرط مُسلم ثمَّ مَا صَححهُ غَيرهمَا من الْأَئِمَّة فَهَذِهِ سَبْعَة أَقسَام

وَمَا حذف سَنَده فيهمَا وَهُوَ كثير فِي تراجم البُخَارِيّ قَلِيل جدا فِي كتاب مُسلم فَمَا كَانَ بِصِيغَة الْجَزْم نَحْو قَالَ فلَان وَفعل وَأمر وروى وَذكر مَعْرُوفا فَهُوَ حكم بِصِحَّتِهِ وَمَا رُوِيَ من ذَلِك مَجْهُولا فَلَيْسَ
ইমাম শাফেঈর এই উক্তি: "আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর আমি ইমাম মালিকের মুয়াত্তা অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) কোনো কিছু জানি না"—এটি (বুখারি ও মুসলিমের) কিতাবদ্বয় অস্তিত্বে আসার আগের কথা।

সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো যেটির ওপর তাঁরা উভয়ে একমত হয়েছেন, এরপর যা বুখারি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, এরপর যা মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, এরপর যা তাঁদের উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী কিন্তু তাঁরা তা কিতাবে উল্লেখ করেননি, এরপর যা বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী, এরপর যা মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী এবং এরপর যা তাঁদের দু'জন ব্যতীত অন্য ইমামগণ সহিহ (صحيহ) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; এই হলো সাতটি স্তর।

আর এই কিতাবদ্বয়ে যেগুলোর সনদ (سند) উহ্য রাখা হয়েছে—যা বুখারির শিরোনামগুলোতে অধিক এবং মুসলিমের কিতাবে অত্যন্ত নগণ্য—সেগুলোর মধ্যে যা দৃঢ়তাসূচক (صيغة الجزم) শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: 'অমুক বলেছেন', 'করেছেন', 'আদেশ করেছেন', 'বর্ণনা করেছেন' বা 'উল্লেখ করেছেন' এবং তা যদি সুপরিচিত (معروف) হয়, তবে সেটি তার বিশুদ্ধতার (صحة) পক্ষে সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে। আর যা এর মধ্যে অজ্ঞাত (مجهول) শব্দে বর্ণিত হয়েছে, সেটি তেমন নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧١)
حكما بِصِحَّتِهِ وَلَكِن إِيرَاده فِي كتاب الصَّحِيح مشْعر بِصِحَّة أَصله وَأما قَول الْحَاكِم اخْتَار البُخَارِيّ وَمُسلم أَن لَا يذكرَا فِي كِتَابَيْهِمَا إِلَّا مَا روى الصَّحَابِيّ الْمَشْهُور عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَله راويان ثقتان فَأكْثر ثمَّ يرويهِ عَنهُ تَابِعِيّ مَشْهُور وَله أَيْضا راويان ثقتان فَأكْثر ثمَّ كَذَلِك فِي كل دَرَجَة فَفِيهِ بحث قَالَ الشَّيْخ مُحي الدّين النَّوَوِيّ لَيْسَ ذَلِك من شَرطهمَا لإخراجهما أَحَادِيث لَيْسَ لَهَا إِلَّا إِسْنَاد وَاحِد مِنْهَا حَدِيث إِنَّمَا الْأَعْمَال … ونظائره فِي الصَّحِيحَيْنِ كَثِيرَة وَقَالَ ابْن حبَان تفرد بِحَدِيث إِنَّمَا الْأَعْمَال أهل الْمَدِينَة وَلَيْسَ هُوَ عِنْد
এর সহিহ (صحيح) হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তবে কিতাবুস সহিহ-তে এর অন্তর্ভুক্তি এর মূলের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রকাশ করে। আর ইমাম হাকিমের যে উক্তি—'বুখারি ও মুসলিম তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে কেবল সেই হাদিসই উল্লেখ করার নীতি গ্রহণ করেছেন যা কোনো প্রসিদ্ধ (مشهور) সাহাবি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী বা ততোধিক বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাঁর থেকে কোনো প্রসিদ্ধ (مشهور) তাবেয়ি (تابعي) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকেও অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী বা ততোধিক বর্ণনা করেছেন, আর এভাবেই প্রতিটি স্তরে (একই ধারা বজায় ছিল)'—তা পর্যালোচনাসাপেক্ষ। শায়খ মহিউদ্দিন নববী বলেন, এটি তাঁদের শর্ত নয়; কারণ তাঁরা এমন কিছু হাদিস সংকলন করেছেন যেগুলোর মাত্র একটি সনদ (إسناد) রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো 'নিশ্চয়ই সকল আমল...' হাদিসটি … এবং সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইবনে হিব্বান বলেন, 'নিশ্চয়ই সকল আমল...' হাদিসটি বর্ণনায় মদিনাবাসীগণ একক সূত্র (تفرد) অবলম্বন করেছেন এবং এটি... এর নিকট নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٢)
أهل الْعرَاق وَلَا عِنْد أهل مَكَّة وَلَا الشَّام ومصر

وَرَاوِيه وَهُوَ يحيى بن سعيد الْقطَّان عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم عَن عَلْقَمَة عَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه هَكَذَا رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه مَعَ اخْتِلَاف فِي
না ইরাকবাসীদের নিকট, না মক্কাবাসীদের নিকট, আর না শাম ও মিসরবাসীদের নিকট।

আর এর বর্ণনাকারী (راوٍ) হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে; এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ, তবে কিছু পার্থক্য সহ...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٣)
الروَاة بعد يحيى يعرف بِالرُّجُوعِ إِلَى هَذِه الصِّحَاح

‌‌الْفَصْل الثَّانِي

فِي الْحسن
قَالَ التِّرْمِذِيّ هُوَ مَا لَا يكون فِي إِسْنَاده مُتَّهم وَلَا يكون شاذاً ويروى من غير وَجه نَحوه وَالْخطاب هُوَ مَا
ইয়াহইয়ার পরবর্তী বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় এই সহিহ গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে জানা যায়।

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

হাসান (حسن) প্রসঙ্গে
ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি হলো এমন বিষয় যার সনদে (إسناد) কোনো অভিযুক্ত (متهم) ব্যক্তি নেই এবং তা শায (شاذ) নয়, আর এর অনুরূপ বর্ণনা একাধিক পথ (غير وجه) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর খাত্তাবি বলেন, এটি হলো যা
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٤)
عرف مخرجه واشتهر رِجَاله وَعَلِيهِ مدَار أَكثر الحَدِيث فالمنقطع وَنَحْوه مِمَّا لم يعرف مخرجه وَكَذَا المدلس إِذا لم يتَبَيَّن وَبَعض الْمُتَأَخِّرين هُوَ الَّذِي فِي هـ ضعف قريب مُحْتَمل وَيصْلح للْعَمَل بِهِ وَقَالَ ابْن الصّلاح هُوَ قِسْمَانِ أَحدهمَا مَا لم يخل رجال إِسْنَاده عَن مستورٍ غير مُغفل فِي رِوَايَته وَقد روى مِثله أَو نَحوه من وَجه آخر الثَّانِي مَا اشْتهر راويته بِالصّدقِ وَالْأَمَانَة وَقصر عَن دَرَجَة رجال الصِّحَاح حِفظاً وإتقاناً بحي فَلَا يعد مَا انْفَرد بِهِ مُنْكرا وَلَا بُد فِي الْقسمَيْنِ من سلامتهما عَن الشذوذ وَالتَّعْلِيل

قيل مَا ذكره بعض الْمُتَأَخِّرين مبنيٌ على أَن معرفَة الْحسن مَوْقُوفَة على معرفَة الصَّحِيح والضعيف لِأَنَّهُ وسط بَينهمَا فَقَوله قريب أَي قريب مخرجه إِلَى الصَّحِيح والضعيف مُحْتَمل كذبه لكَون رِجَاله مستورين وَالْفرق بَين حدي الصَّحِيح وَالْحسن أَن شَرَائِط الصَّحِيح مُعْتَبرَة فِي حد الْحسن أَن شَرَائِط الصَّحِيح مُعْتَبرَة فِي حد الْحسن لَكِن الْعَدَالَة فِي الصَّحِيح يَنْبَغِي أَن تكون ظَاهِرَة والإتقان كَامِلا وَلَيْسَ ذَلِك شرطا فِي الْحسن وَمن ثمَّ احْتَاجَ إِلَى قيد قَوْلنَا أَن يرْوى من غير وجهٍ مثله أَو نَحوه لينجبر بِهِ فَاعْلَم أَن الضَّعِيف هُوَ الَّذِي بعد عَن
এর উৎস পরিচিত এবং এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ, আর অধিকাংশ হাদিস এর ওপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হয়। সুতরাং বিচ্ছিন্ন (منقطع) এবং এই জাতীয় বর্ণনা যার উৎস জানা যায় না, তদ্রূপ প্রতারণামূলক (مدلس) বর্ণনাও যখন তার স্বরূপ স্পষ্ট হয় না (তা হাসান হিসেবে গণ্য নয়)। পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেমের মতে, এটি (হাসান) হলো এমন হাদিস যার মধ্যে নিকটবর্তী ও সহনীয় পর্যায়ের দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং যা আমলযোগ্য। ইবনুল সালাহ বলেছেন, এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো, যার সনদ বা সূত্রের (إسناد) বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো আবৃত বা পরিচিতিহীন (مستور) ব্যক্তি নেই যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অসতর্ক (مغفل), এবং এর সমজাতীয় বা কাছাকাছি বর্ণনা অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, যার বর্ণনাকারী সততা ও আমানতদারিতার জন্য প্রসিদ্ধ, কিন্তু মুখস্থশক্তি (حفظ) ও সঠিকতার (إتقان) ক্ষেত্রে সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্তরের নিচে; ফলে তিনি এককভাবে যা বর্ণনা করেন তাকে প্রত্যাখ্যাত (منكر) হিসেবে গণ্য করা হয় না। উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই সেগুলো প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম (شذوذ) এবং গোপন ত্রুটি (تعليل) থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক।

বলা হয়ে থাকে যে, পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম যা উল্লেখ করেছেন তা হাসান (حسن) হাদিসের পরিচয়কে সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) হাদিসের পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল করার ওপর ভিত্তি করে। কারণ এটি এই দুটির মাঝামাঝি পর্যায়। সুতরাং তার কথা ‘নিকটবর্তী’ এর অর্থ হলো, এর উৎস সহিহ (صحيح) এর কাছাকাছি, আর ‘সহনীয়’ এর অর্থ হলো এর মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেহেতু এর বর্ণনাকারীগণ আবৃত বা পরিচিতিহীন (مستور)। সহিহ (صحيহ) ও হাসান (حسن) এর সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য হলো, সহিহ (صحيح) এর শর্তাবলি হাসান (حسن) এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও বিবেচিত; কিন্তু সহিহ (صحيح) এর ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রকাশ্য হওয়া এবং সঠিকতা (إتقان) পূর্ণাঙ্গ হওয়া বাঞ্ছনীয়, যা হাসান (حسن) এর জন্য শর্ত নয়। আর এ কারণেই আমাদের এই কথার সীমাবদ্ধতার প্রয়োজন হয়েছে যে, ‘অনুরূপ বা কাছাকাছি স্তরের বর্ণনা অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হতে হবে’ যাতে এর মাধ্যমে তা ত্রুটিমুক্ত বা শক্তিশালী হয়। অতএব জেনে রাখুন যে, দুর্বল (ضعيف) হলো সেই বর্ণনা যা দূরবর্তী...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٥)
الصَّحِيح مخرجه وَاحْتمل الصدْق وَالْكذب أَو لَا يحْتَمل الصدْق أصلا كالموضوع

وَإِنَّمَا سمي حسنا لحسن الظَّن برواتهِ وَلَو قيل الْحسن هُوَ مُسْند من قرب من دَرَجَة الثِّقَة أَو مُرْسل ثِقَة وَرُوِيَ كِلَاهُمَا من وجهٍ وسلِم من شذوذٍ وَعلة لَكَانَ أجمع الْحُدُود أضبطها وأبعدها عَن التعقيد

ونعني بالمسند مَا اتَّصل إِسْنَاده إِلَى منتهاه وبالثقة من جمع بَين الْعَدَالَة والضبط والتنكير فِي ثِقَة للشيوع كَمَا سَيَأْتِي بَيَانه فِي نوع الْمُرْسل وَالْحسن حجَّة كَالصَّحِيحِ وَلذَلِك أدرج فِي الصَّحِيح قَالَ ابْن الصّلاح تَسْمِيَة محيي السنةِ فِي المصابيح السّنَن بالِسان تساهلٌ لِأَن فيهمَا الصِحاح والحِسان والضِعافوقول التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسنٌ صحيحٌ يُرِيد أَنه رُوِيَ بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا يَقْتَضِي الصِّحَّة وَالْآخر الْحسن أَو المُرَاد اللّغَوِيّ
সঠিক (صحيح) হাদিসের উৎস পরিচিত থাকে এবং তাতে সত্য ও মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে, অথবা একেবারেই সত্যের সম্ভাবনা থাকে না যেমন বানোয়াট (موضوع) হাদিস।

মূলত বর্ণনাকারীদের প্রতি সুধারণার কারণেই একে হাসান (حسن) নামকরণ করা হয়েছে। যদি বলা হতো যে, হাসান (حسن) হলো এমন মুসনাদ যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির স্তরের নিকটবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা, অথবা এটি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা এবং উভয়টিই অন্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং যা বিচ্যুতি (شذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত, তবে তা হতো অধিকতর সংক্ষবদ্ধ, নির্ভুল এবং জটিলতামুক্ত সংজ্ঞা।

আর মুসনাদ বলতে আমরা বুঝি যার সনদ শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন। আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে যিনি ন্যায়পরায়ণতা এবং স্মৃতিশক্তির প্রখরতা—উভয় গুণের অধিকারী। আর 'নির্ভরযোগ্য' (ثقة) শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে ব্যবহারের কারণ হলো এর ব্যাপকতা প্রকাশ করা, যেমনটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) প্রকারের আলোচনায় সামনে আসবে। হাসান (حسن) হাদিস সঠিক (صحيح) হাদিসের মতোই দলিল হিসেবে গণ্য, এ কারণেই একে সঠিক (صحيح) এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইবনুস সালাহ বলেছেন যে, মুহিউস সুন্নাহ কর্তৃক মাসাবিহ গ্রন্থে সুনান কিতাবসমূহকে হাসান (حسن) নামে অভিহিত করা এক প্রকার শিথিলতা, কারণ সেগুলোতে সঠিক (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) সব ধরণের হাদিসই রয়েছে। আর ইমাম তিরমিযীর 'হাদিসটি হাসান সঠিক (حسن صحيح)' উক্তির অর্থ হলো এটি দুটি সনদে বর্ণিত হয়েছে, যার একটি সঠিক (صحيح) হওয়ার দাবি রাখে এবং অন্যটি হাসান (حسن) হওয়ার; অথবা এর দ্বারা আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٦)
وَهُوَ مَا تميل إِلَيْهِ النَّفس وتستحسنه فالحسن إِذا رُوِيَ من وَجه آخر ترقى من الْحسن إِلَى الصَّحِيح لقُوته من الْجِهَتَيْنِ فيعتضد أَحدهمَا بِالْآخرِ ونعني بالترقي أَنه مُلْحق فِي الْقُوَّة بِالصَّحِيحِ لَا أَنه عينه وَأما الضَّعِيف فلِكذب رَاوِيه وفسقهِ لَا ينجبر بِتَعَدُّد طرفه كَمَا فِي حَدِيث طلب العِلم فَرِيضَة قَالَ الْبَيْهَقِيّ هَذَا حَدِيث مَشْهُور بَين النَّاس وَإِسْنَاده ضَعِيف وَقد رُوِيَ من أوجه كثيرةٍ كلهَا ضَعِيفَة

আর এটি এমন বিষয় যার প্রতি মন ধাবিত হয় এবং যাকে উত্তম মনে করে। সুতরাং কোনো উত্তম (حسن) হাদিস যখন অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হয়, তখন উভয় দিকের শক্তির কারণে তা উত্তম (حسن) স্তর থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) স্তরে উন্নীত হয় এবং একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে। আর উন্নীত হওয়া দ্বারা আমরা এটিই বোঝাতে চাই যে, এটি শক্তির বিচারে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত, এটি সরাসরি সেই (মূল) বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস নয়। পক্ষান্তরে, বর্ণনাকারীর মিথ্যাচার কিংবা পাপাচারের কারণে যে দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণিত হয়, তা একাধিক সূত্রের মাধ্যমেও সংশোধনযোগ্য হয় না; যেমনটি 'জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ' শীর্ষক হাদিসটির ক্ষেত্রে হয়েছে। ইমাম বায়হাকী বলেন, 'এটি মানুষের মাঝে একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস, তবে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); আর এটি অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল (ضعيف)।'

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٧)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

 

فِي الضَّعِيف
هُوَ مَا لَا يجْتَمع فِيهِ شُرُوط الصَّحِيح وَالْحسن وتتفاوت درجاته فِي الضعْف بِحَسب بعده من شُرُوط الصِّحَّة

وَيجوز عِنْد الْعلمَاء التساهل فِي إِسْنَاد الضَّعِيف دون الْمَوْضُوع وَرِوَايَته من غير بَيَان ضعِفه فِي المواعظ والقصص وفضائل الْأَعْمَال لَا فِي صِفَات الله وَأَحْكَام الْحَلَال وَالْحرَام قيل كَانَ من مَذْهَب النَّسَائِيّ أَن يخرج من كل من لم يجمع على تَركه وَأَبُو دَاوُد على رَأْي الرِّجَال وَعَن الشّعبِيّ مَا حَدثَك هَؤُلَاءِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَخذ بِهِ وَمَا قَالُوهُ برأيهم فألقه فِي الحش وَقَالَ الرَّأْي بِمَنْزِلَة الْميتَة إِذا اضطررت إِلَيْهَا أكلتهاوعن الشَّافِعِي رحمه الله مهما قلت من قَول أَو أصلت من اصل فِيهِ عَن رَسُول الله عليه السلام خلاف مَا قلت فَالْقَوْل مَا قَالَه صلى الله عليه وسلم وَهُوَ قولي وَجعل يردده
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 

দুর্বল (الضعيف) হাদিস প্রসঙ্গে
এটি এমন হাদিস যাতে সহিহ (الصحيح) এবং হাসান (الحسن)-এর শর্তাবলি পরিলক্ষিত হয় না; এবং সহিহ হওয়ার শর্তাবলি থেকে এর দূরত্বের পার্থক্যের ভিত্তিতে এর দুর্বলতার স্তরেও তারতম্য হয়ে থাকে।

আলেমদের নিকট জাল (الموضوع) হাদিস ব্যতীত দুর্বল (الضعيف) হাদিসের সনদ (إسناد) উপস্থাপনে শিথিলতা প্রদর্শন এবং এর দুর্বলতা বর্ণনা করা ব্যতিরেকেই ওয়াজ-নসিহত, গল্প-কাহিনী ও আমলের ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা বৈধ; তবে আল্লাহর গুণাবলি এবং হালাল ও হারামের বিধানের ক্ষেত্রে নয়। বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম নাসায়ি-এর নীতি ছিল এমন প্রত্যেক বর্ণনাকারী থেকে হাদিস গ্রহণ করা যাদের বর্জিত (تركه) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি; আর আবু দাউদ বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একই মত পোষণ করতেন। আশ-শাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণনা করবে তোমরা তা গ্রহণ করো, আর তারা তাদের নিজস্ব মত অনুযায়ী যা বলবে তা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করো।" তিনি বলেন, "নিজস্ব মত হলো মৃত পশুর তুল্য; যখন তুমি নিরুপায় হবে তখন তা ভক্ষণ করবে।" ইমাম শাফেয়ি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি যে কথাই বলি না কেন কিংবা কোনো মূলনীতি (اصل) সাব্যস্ত করি না কেন, সে বিষয়ে যদি আল্লাহর রাসুল আলাইহিস সালাম থেকে আমার কথার বিপরীত কিছু বর্ণিত থাকে, তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সেটিই গ্রহণযোগ্য এবং সেটিই আমার কথা।" তিনি এটি বারবার বলতে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٨)
وهههنا عدَّة عِبَارَات مِنْهَا مَا تشترك فِيهِ الْأَقْسَام الثَّلَاثَة أَعنِي الصَّحِيح وَالْحسن والضعيف وَمِنْهَا مَا يخْتَص بالضعيف فَمن الأول الْمسند هُوَ مَا اتَّصل سَنَده مَرْفُوعا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والمتصل هُوَ مَا اتَّصل سَنَده سَوَاء كَانَ مَرْفُوعا إِلَيْهِ صلى الله عليه وسلم أَو مَوْقُوفا وَالْمَرْفُوع هُوَ مَا أضيف إِلَى النَّبِي عليه السلام خَاصَّة من قَول أَو فعل أَو تَقْرِير سَوَاء كَانَ مُتَّصِلا أَو مُنْفَصِلا فالمتصل قد يكون مَرْفُوعا وَغير مَرْفُوع وَالْمَرْفُوع قد يكون مُتَّصِلا وَغير مُتَّصِل والمسند مُتَّصِل مَرْفُوع

والمعنعن هُوَ مَا يُقَال فِي سندهِ فلَان عَن فلَان وَالصَّحِيح أَنه متصلٌ إِذا أمكن اللِّقَاء مَعَ الْبَرَاءَة عَن التَّدْلِيس وَقد أودع فِي الصَّحِيحَيْنِ

قَالَ ابْن الصّلاح كثر فِي عصرنا وَمَا قاربه اسْتِعْمَال عَن فِي الْإِجَازَة وَإِذا قيل فلَان عَن رجلٍ عَن فلَان فَالْأَقْرَب أَنه منقطعٌ وَلَيْسَ بمرسل

এখানে বেশ কিছু পরিভাষা রয়েছে, যার কোনটি সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف)—এই তিন প্রকারের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, আর কোনটি কেবল দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সাথে খাস। প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো মুসনাদ; এটি এমন হাদিস যার সনদ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হিসেবে সংযুক্ত (متصل)। আর সংযুক্ত (متصل) হলো যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন, চাই তা মারফু (مرفوع) হোক কিংবা মাওকুফ (موقوف)। মারফু (مرفوع) হলো সেই বর্ণনা যা বিশেষভাবে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাঁর কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, চাই তা সংযুক্ত (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منفصل) হোক। সুতরাং সংযুক্ত (متصل) হাদিস কখনো মারফু (مرفوع) হয় আবার কখনো মারফু (مرفوع) হয় না; আর মারফু (مرفوع) হাদিস কখনো সংযুক্ত (متصل) হয় আবার কখনো সংযুক্ত (متصل) হয় না। তবে মুসনাদ হলো যা একইসাথে সংযুক্ত (متصل) এবং মারফু (مرفوع)।

মুআনআন (معنعن) হলো সেই হাদিস যার সনদে 'অমুক অমুক হতে'—এভাবে বলা হয়। সঠিক মত হলো, এটি সংযুক্ত (متصل) বলে গণ্য হবে যদি বর্ণনাকারীদের পরস্পরের সাক্ষাৎ সম্ভব হয় এবং তাদলিস (تدليس) থেকে মুক্ত থাকে। এই প্রকারের হাদিস সহীহাইন-এ সংকলিত হয়েছে।

ইবনুস সালাহ বলেন, আমাদের যুগে এবং এর নিকটবর্তী সময়ে ইজাজাহ (إجازة)-এর ক্ষেত্রে 'হতে' শব্দের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। আর যখন বলা হয় 'অমুক জনৈক ব্যক্তি হতে, তিনি অমুক হতে', তখন বিশুদ্ধতর মত হলো এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), এটি মুরসাল (مرسل) নয়।

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧٩)
وَالْمُعَلّق مَا حذِف من مبدأ إِسْنَاده واحدٌ فَأكْثر مَأْخُوذ من تَعْلِيق الْجِدَار وَالطَّلَاق لاشْتِرَاكهمَا فِي قطع الِاتِّصَال فالحذف إِمَّا أَن يكون فِي أول الْإِسْنَاد وَهُوَ الْمُعَلق أَو فِي وَسطه وَهُوَ الْمُنْقَطع أَو فِي آخِره وَهُوَ الْمُرْسل

وَالْبُخَارِيّ أَكثر من هَذَا النَّوْع فِي صَحِيحه وَلَيْسَ بخارجٍ من الصَّحِيح لكَون الحَدِيث مَعْرُوفا من جِهَة الثِقات الَّذين علِق عَنْهُم أَو لكَونه ذكره مُتَّصِلا فِي موضعٍ آخر من كِتَابه

والأفراد إِمَّا فرِد عَن جَمِيع الرواةِ أَو من جهةٍ نَحْو تفرد بِهِ أهل مَكَّة فَلَا يضعف إِلَّا أَن يُرَاد بِهِ تفرد واحدٍ مِنْهُم

আর মুয়াল্লাক (معلق) হলো এমন বর্ণনা যার সনদ (إسناد)-এর শুরু থেকে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি দেয়ালের ঝুলন্ত বস্তু বা তালাকের ঝুলন্ত বিষয়ের (শর্তযুক্ত করা) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হিসেবে গৃহীত, কারণ উভয়ের মধ্যেই সংযোগ বিচ্ছিন্নতার (قطع الاتصال) বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। সুতরাং বর্ণনাকারী বাদ পড়া যদি সনদের শুরুতে হয় তবে তা মুয়াল্লাক (معلق), যদি মাঝখানে হয় তবে তা বিচ্ছিন্ন (منقطع), আর যদি শেষে হয় তবে তা মুরসাল (مرسل)।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এ প্রকারের বর্ণনা অধিক পরিমাণে ব্যবহার করেছেন। তবে এগুলো সহিহ (صحيح) এর গণ্ডি বহির্ভূত নয়, কারণ হাদিসটি সেই সকল নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের সূত্রে সুপরিচিত যাদের থেকে তিনি এটি ঝুলন্ত অবস্থায় বর্ণনা করেছেন, অথবা এ কারণে যে তিনি তাঁর কিতাবের অন্য কোনো স্থানে একে অবিচ্ছিন্ন (متصل) ভাবে উল্লেখ করেছেন।

আর একক বর্ণনা (أفراد) হয় সমস্ত বর্ণনাকারী থেকে পৃথক হতে পারে অথবা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের দিক থেকে হতে পারে, যেমন কেবল মক্কাবাসীদের মাধ্যমে এটি এককভাবে বর্ণিত হওয়া। এটি কেবল এ কারণেই দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত হয় না, যতক্ষণ না এর দ্বারা তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একজনের একক হওয়াকে বোঝানো হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٠)
والمدرج هُوَ مَا أدرج فِي الحَدِيث من كَلَام بعض الروَاة فيظن أَنه من الحَدِيث أَو أدرج متنان بِإِسْنَادَيْنِ كَرِوَايَة سعيد بن أبي مَرْيَم لَا تباغضوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تدابروا وَلَا تنافسوا أدرج ابْن أبي مَرْيَم فِيهِ
এবং প্রক্ষিপ্ত (المدرج) হলো তা, যা হাদিসের মধ্যে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (الرواة) বক্তব্য প্রক্ষিপ্ত করা হয়েছে, ফলে ধারণা করা হয় যে তা হাদিসের অংশ; অথবা দুইটি সনদ (إسنادين) সহকারে দুইটি মূল পাঠ (متنان) একত্রিত করা, যেমন সাঈদ বিন আবু মারইয়ামের বর্ণনা (رواية): 'তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না এবং একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো না'—ইবনে আবু মারইয়াম এতে [একটি অংশ] প্রক্ষিপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨١)
وَلَا تتنافسوا من متنٍ آخر أَو عِنْد الرَّاوِي طرفٌ من متنٍ واحدٍ بِسَنَد شيخ غير سَنَد الْمَتْن فيرويهما عَنهُ بسندٍ واحدٍ فَيصير الإسنادان فتدرج روايتهم على الِاتِّفَاق وَلَا يذكر الِاخْتِلَاف وتعمل كل واحدٍ من الثَّلَاثَة حرَام وَالْمَشْهُور مَا شاعه عِنْد أهل الحَدِيث خَاصَّة بِأَن نَقله رواةٌ كَثِيرُونَ نَحْو إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قنت شهرا يَدْعُو على جمَاعَة أَو اشْتهر عِنْدهم وَعند غَيرهم نَحْو إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ أَو عِنْد غَيرهم خَاصَّة

قَالَ الإِمَام أَحْمد قَوْله للسَّائِل حقٌ وَإِن جَاءَ على فرسٍ وَيَوْم نحركم يَوْم صومكم يدوران فِي الْأَسْوَاق وَلَا اصل لَهما فِي الِاعْتِبَار
এবং অন্য কোনো মূল পাঠ (متن) থেকে একে অপরের সাথে সংমিশ্রণ করা যাবে না, অথবা বর্ণনাকারীর (راوٍ) নিকট একটি মূল পাঠের (متن) অংশবিশেষ মূল পাঠের (متن) সনদের (سند) পরিবর্তে অন্য কোনো শাইখের সনদে (سند) বিদ্যমান থাকে, অতঃপর তিনি উভয়টি সেই শাইখ থেকে একটিমাত্র সনদ (سند) যোগে বর্ণনা করেন; ফলে দুটি সনদ (إسناد) এক হয়ে যায় এবং তাদের বর্ণনা (رواية) ঐকমত্যের ভিত্তিতে দাখিল করা হয় আর কোনো পার্থক্যের উল্লেখ করা হয় না। এই তিন প্রকারের প্রতিটি কাজই হারাম (حرام)। আর প্রসিদ্ধ (مشهور) হলো তা-ই যা বিশেষভাবে হাদিস বিশারদদের নিকট খ্যাতি লাভ করেছে এভাবে যে, তা অনেক বর্ণনাকারী (راوٍ) বর্ণনা করেছেন। যেমন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস কুনুত পড়ে একটি গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন। অথবা যা তাদের নিকট এবং অন্যদের নিকটও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; যেমন: ‘নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’। অথবা যা কেবল অন্যদের নিকট বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।

ইমাম আহমাদ বলেন: ‘সাহায্যপ্রার্থীর হক রয়েছে যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে’ এবং ‘তোমাদের কোরবানির দিনই তোমাদের রোজা শুরুর দিন’—এই কথা দুটি বাজারে বহুল প্রচলিত থাকলেও বিচার-বিশ্লেষণের বিচারে এগুলোর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٢)
والغريب والعزيز قيل الْغَرِيب كَحَدِيث الزُّهْرِيّ وأشباهه مِمَّن يجمع حَدِيث لعدالته وَضَبطه إِذا انْفَرد عَنْهُم بِالْحَدِيثِ رجلٌ سمِي غَرِيبا فَإِن رَوَاهُ عَنْهُم اثْنَان أَو ثَلَاثَة سمي عَزِيزًا وَإِن رَوَاهُ جمَاعَة سمي مَشْهُورا

والإفراد المضافة إِلَى الْبلدَانِ لَيْسَ بغريب والغريب إِمَّا صَحِيح كالأفراد المخرجة فِي الصَّحِيح أَو غير صَحِيح وَهُوَ الْأَغْلَب

والغريب أَيْضا إِمَّا غَرِيب إِسْنَادًا ومتناً وَهُوَ مَا يتفرد بِرِوَايَة مَتنه وَاحِد وإسناداً لَا متْنا كَحَدِيث يعرف مَتنه عَن جمَاعَة الصَّحَابَة إِذا انْفَرد بروايته وَاحِد عَن صَحَابِيّ آخر وَمِنْه قَول التِّرْمِذِيّ غَرِيب من هَذَا الْوَجْه وَلَا يُوجد مَا هُوَ غَرِيب متْنا لَا إِسْنَادًا إِلَّا إِذا
গরিব (غريب) ও আজিজ (عزيز) [প্রসঙ্গে] বলা হয়েছে যে, গরিব (غريب) হলো ইমাম জুহরি ও তাঁর মতো অন্যান্যদের হাদিসের ন্যায়, যাদের হাদিস তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও শব্দগত নির্ভুলতার (ضبط) কারণে সংকলন করা হয়। যখন তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনায় কোনো একজন ব্যক্তি একক হয়ে যান, তখন তাকে গরিব (غريب) বলা হয়। যদি তাঁদের থেকে দুইজন বা তিনজন তা বর্ণনা করেন, তবে তাকে আজিজ (عزيز) বলা হয়। আর যদি একদল বর্ণনাকারী তা বর্ণনা করেন, তবে তাকে মাশহুর (مشهور) বলা হয়।

বিভিন্ন শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত একক হাদিসসমূহ (إفراد) গরিব (غريب) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর গরিব (غريب) হাদিস কখনো সহিহ (صحيহ) হয়—যেমন সহিহ গ্রন্থসমূহে সংকলিত একক (أفراد) হাদিসগুলো—অথবা তা সহিহ (صحيح) নয় এমন হয়, আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

গরিব (غريب) হাদিস আবার কখনো সনদ ও মতন (إسنادًا ومتنًا) উভয় দিক থেকেই গরিব (غريب) হয়; আর এটি হলো সেই হাদিস যার মতন (متن) বর্ণনায় মাত্র একজন একক হয়ে যান। আবার কখনো কেবল সনদগতভাবে (إسنادًا) গরিব (غريب) হয়, মতনগতভাবে (متنًا) নয়; যেমন এমন হাদিস যার মতন (متন) একদল সাহাবির সূত্রে সুপরিচিত, কিন্তু কোনো একজন বর্ণনাকারী অন্য একজন সাহাবির সূত্রে তা বর্ণনায় একক হয়ে যান। ইমাম তিরমিজির এই উক্তি—"এই সূত্র থেকে এটি গরিব (غريب من هذا الوجه)"—এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। এমন কোনো হাদিস পাওয়া যায় না যা কেবল মতনগতভাবে (متنًا) গরিব (غريب) কিন্তু সনদগতভাবে (إسنادًا) নয়, তবে যদি...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٣)
اشْتهر الحَدِيث الْفَرد فَرَوَاهُ عَمَّن تفرد بِهِ جمَاعَة كَثِيرَة فَإِنَّهُ يصير غَرِيبا مَشْهُورا

وَأما حَدِيث إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ فَإِن إِسْنَاده متصِفٌ بالغرابة فِي طرفِه الأول ومتصفٌ بالشهرة فِي طرفه الآخر

والمصف قد يكون فِي الرَّاوِي حَدِيث شُعْبَة عَن الْعَوام بن مراجم بالراء وَالْجِيم صحفه يحيى بن معِين فَقَالَ مُزَاحم بالزاي والحاء مُهْملَة وَقد يكون فِي الحَدِيث كَقَوْلِه عَلَيْهِ السَّالِم من صَامَ رَمَضَان وَأتبعهُ سِتا من شَوَّال صحفه بَعضهم
একক (فرد) হাদিসটি যখন প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং যিনি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন তাঁর থেকে বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী তা বর্ণনা করেন, তখন তা 'অদ্ভুত-প্রসিদ্ধ' (غريب مشهور) হাদিসে রূপান্তরিত হয়।

আর "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটির সনদ (إسناد) এর প্রথমাংশ 'অদ্ভুত' (غرابة) এবং শেষাংশ 'প্রসিদ্ধি' (شهرة) গুণ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

আর শব্দ-বিভ্রাট (تصحيف) কখনো বর্ণনাকারীর (راوي) নামের ক্ষেত্রে হতে পারে; যেমন শু'বাহ কর্তৃক বর্ণিত 'আওয়াম ইবনে মুরাজিম' (যা 'র' এবং 'জ' বর্ণযোগে) এর হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনে মা'ঈন শব্দ-বিভ্রাট (تصحيف) করে 'মুযাহিম' (যা 'য' এবং নুকতাহীন 'হ' বর্ণযোগে) পাঠ করেছেন। আবার কখনো এটি হাদিসের মূল পাঠের মধ্যেও হতে পারে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা পালন করল", এখানে কোনো কোনো বর্ণনাকারী শব্দ-বিভ্রাট (تصحيف) ঘটিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٤)
فَقَالَ شَيْئا بالشين الْمُعْجَمَة

والمسلسل مَا تتَابع فِيهِ رجال الْإِسْنَاد إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عِنْد رِوَايَته على حالةٍ وَاحِدَة إِمَّا فِي الرَّاوِي أَو أخبرنَا فلَان وَالله قَالَ أخبرنَا فلانٌ وَالله. . إِلَى الْمُنْتَهى أَو فعلا كَحَدِيث التشبيك بِالْيَدِ أَو قولا وفعلاً كَمَا فِي الحَدِيث اللَّهُمَّ أعنيِي على ذِكرِك وشكرِك وحسنِ عبادتك وَفِي رِوَايَة أبي دَاوُد وَأحمد وَالنَّسَائِيّ قَالَ الرَّاوِي أَخذ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بيَدي فَقَالَ إِنِّي
তিনি নুকতাহযুক্ত 'শিন' (الشين المعجمة) সহযোগে 'শাইআন' (কিছু) শব্দটি বললেন।

আর পর্যায়ক্রমিক (المسلسل) হাদিস হলো সেটি, যাতে বর্ণনার সময় সনদের রাবিগণ (رجال الإسناد) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত একই অবস্থার ওপর ধারাবাহিকভাবে বহাল থাকেন। এটি বর্ণনাকারীর (الراوي) অবস্থার প্রেক্ষিতে হতে পারে, অথবা বর্ণনার শব্দের মাধ্যমে হতে পারে; যেমন— 'আল্লাহর শপথ, অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন', 'আল্লাহর শপথ, অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'—এভাবে শেষ পর্যন্ত। অথবা এটি কোনো কাজের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন হাতের আঙুলে আঙুল প্রবেশ করানোর (التشبيك) হাদিস। অথবা কথা ও কাজ উভয়টির সমন্বয়ে হতে পারে, যেমন এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: 'হে আল্লাহ! আপনার জিকির, শোকর এবং আপনার উত্তম ইবাদত পালনে আমাকে সাহায্য করুন'। আবু দাউদ, আহমদ এবং নাসায়ীর বর্ণনায় এসেছে, বর্ণনাকারী (الراوي) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, 'নিশ্চয় আমি...'
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٥)
لَأحبك فَقل اللَّهُمَّ أعنيِي … إِلَخ وَإِمَّا على صفةٍ كَحَدِيث الْفُقَهَاء فقيهٍ عَن فَقِيه البيِعان بِالْخِيَارِ مَا لم يَتَفَرَّقَا وَإِمَّا فِي الرِّوَايَة كالمسلسل بِاتِّفَاق أَسمَاء آبَائِهِم أَو كناهم أَو أنسابِهم أَو بلدانهم قَالَ الإِمَام النَّوَوِيّ رحمه الله وَأَنا أروي ثَلَاثَة أَحَادِيث مسلسلةٍ
আমি তোমাকে ভালোবাসি, সুতরাং বলো: হে আল্লাহ, আমাকে সাহায্য করুন … ইত্যাদি। আবার কখনও বর্ণনাকারীদের গুণের ভিত্তিতে (শৃঙ্খলিত হতে পারে), যেমন ফকিহগণের হাদিস: একজন ফকিহ (فقيه) অপর একজন ফকিহ (فقيه) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের ইখতিয়ার থাকে’। আবার কখনও বর্ণনার পদ্ধতির ক্ষেত্রে হতে পারে, যেমন সেই শৃঙ্খলিত (مسلسل) হাদিস যেখানে বর্ণনাকারীদের পিতার নামসমূহ, অথবা তাদের উপনাম (كنية), কিংবা তাদের বংশপরিচয় (نسب) অথবা তাদের আবাসস্থলের ঐক্য থাকে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি তিনটি শৃঙ্খলিত (مسلسل) হাদিস বর্ণনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٦)
بالدمشقيين وَالِاعْتِبَار هُوَ النّظر فِي حالِ الحديثِ هَل تفرد بِهِ رَاوِيه أم لَا وَهل هُوَ معروفٌ أَو لَا

وَالضَّرْب الثَّانِي مَا يخْتَص بالضعيف

الْمَوْقُوف هُوَ مُطلقًا مَا رُوِيَ عَن الصَّحَابِيّ من قَول أَو فعل مُتَّصِلا كَانَ أَو مُنْقَطِعًا وَهُوَ لَيْسَ بحجةٍ على الْأَصَح وَقد يسْتَعْمل فِي غير الصحابيِ مُقَيّدا نَحْو وَقفه معمر على همام وَوَقفه مَالك على نَافِع وَقَول الصحابيِ كُنَّا نفعله فِي زمن النبيِ صلى الله عليه وسلم مَرْفُوع لِأَن الظَّاهِر الِاطِّلَاع والتقرير وَكَذَا كَانَ أَصْحَابه عليه السلام يقرعون
দামেস্কবাসীদের মাধ্যমে; আর পর্যবেক্ষণ (الاعتبار) হলো হাদিসের অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করা যে, এর বর্ণনাকারী কি তা বর্ণনায় একক হয়েছেন (تفرد) কি না এবং তা পরিচিত (معروف) কি না।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যা দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট।

মাওকুফ (الموقوف) হলো সাধারণভাবে সাহাবী থেকে বর্ণিত কোনো কথা বা কাজ, চাই তা সংযুক্ত (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক। আর বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়। কখনো কখনো সাহাবী ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে এটি সীমাবদ্ধভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: মা'মার এটি হাম্মাম পর্যন্ত মাওকুফ করেছেন (وقفه) এবং মালিক এটি নাফে' পর্যন্ত মাওকুফ করেছেন (وقفه)। আর সাহাবীর উক্তি "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এটি করতাম" তা মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য; কারণ বাহ্যত এতে নবীর অবগতি ও মৌন সম্মতি (تقرير) প্রতীয়মান হয়। তদ্রূপ তাঁর (আলাইহিস সালাম) সাহাবীগণ করাঘাত করতেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٧)
بَابه بالأظافير مَرْفُوع فِي المعني وَتَفْسِير الصَّحَابِيّ موقوفٌ وَمَا كَانَ مِنْهُم قبيل سَبَب النُّزُول كَقَوْل جَابر كَانَت الْيَهُود تَقول كَذَا فَانْزِل الله سبحانه وتعالى كَذَا وَنَحْوه مرفوعٌ

الْمَقْطُوع مَا جَاءَ عَن التَّابِعين من أَقْوَالهم وأفعالهم مَوْقُوفا عَلَيْهِم وَلَيْسَ بِحجَّة

الْمُرْسل قَول التَّابِعِيّ قَالَ رَسُول الله كَذَا وَفعل كَذَا وَهُوَ الْمَعْرُوف فِي الْفِقْه وأصولهِ وَفِيه خلافٌ وللشافعيِ تفصيلٌ مَذْكُور فِي أصُول الْفِقْه
এর অধ্যায়টি সুস্পষ্ট। এটি অর্থের দিক থেকে রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع), আর সাহাবীর ব্যাখ্যা হলো সাহাবী পর্যন্ত স্থগিত (موقوف)। তবে তাদের পক্ষ থেকে যা নাজিলের প্রেক্ষাপট (سبب النزول) সংক্রান্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমন জাবের (রা.)-এর উক্তি: 'ইয়াহুদিরা এরূপ বলত, অতঃপর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এরূপ অবতীর্ণ করলেন...', এবং এই জাতীয় বর্ণনাগুলো রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে গণ্য।

বিচ্ছিন্ন (المقطوع) হলো তা, যা তাবেয়ীগণের কথা ও কাজ হিসেবে বর্ণিত এবং তাদের ওপরই স্থগিত (موقوف) থাকে। এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়।

বিচ্ছিন্ন (المرسل) হলো তাবেয়ীর এই উক্তি যে, 'আল্লাহর রাসূল এরূপ বলেছেন' বা 'এরূপ করেছেন'। ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে এটিই সুপরিচিত সংজ্ঞা। এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ (خلاف) রয়েছে এবং ইমাম শাফেয়ীর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে যা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٨)
المنقطِع مَا لم يتَّصل إِسْنَاده بأيِ وجهٍ كَانَ سَوَاء ترِك ذِكر الرَّاوِي من أول الْإِسْنَاد أَو وسطِه أَو آخِره إِلَّا أَن الْغَالِب اسْتِعْمَاله فِيمَن دون التابعيِ عَن الصحابيِ كمالك عَن ابْن عمر

المعضل بِفَتْح الضَّاد وَهُوَ مَا سقط من إِسْنَاده اثْنَان فَصَاعِدا كَقَوْل مَالك قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَول الشَّافِعِي قَالَ ابْن عمر كَذَا

الشاذ وَالْمُنكر الشاذ مَا رَوَاهُ الثِّقَة مُخَالفا لما رَوَاهُ النَّاس قَالَ ابْن الصّلاح فِيهِ تَفْصِيل فَمَا خَالف مفرده أحفظ مِنْهُ وأضبط فشاذٌ مردودٌ وَإِن لم يُخَالف وَهُوَ عدلٌ ضابطٌ فصحيحٌ وَإِن رَوَاهُ غير ضابطٍ لَكِن لَا يبعد عَن درجةِ الضابطِ فحسنٌ وَإِن بعد فمنكرٌ

وَيفهم من قولِه احفظ وأضبط على صِيغَة التَّفْضِيل أَن الْمُخَالف إِن كَانَ مِثله لَا يكون مردودا وَقد علِم من هَذَا التَّقْسِيم أَن الْمُنكر مَا هُوَ الْمُعَلل مَا فِيهِ أسبابٌ خفيةٌ غامضةٌ قادحةٌ وَالظَّاهِر السَّلامَة
বিচ্ছিন্ন (منقطع) হলো সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) কোনোভাবেই সংযুক্ত নয়; চাই বর্ণনাকারীর (راوي) উল্লেখ সনদের শুরু থেকে বাদ পড়ুক অথবা মাঝখান থেকে কিংবা শেষ থেকে। তবে এর সাধারণ ব্যবহার হলো তাবেয়ি (تابعي)-এর নিচের স্তরের কোনো বর্ণনাকারী কর্তৃক সাহাবি (صحابي) থেকে বর্ণনা করা, যেমন মালিক কর্তৃক ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করা।

জটিল (معضل) হলো (দ’দ বর্ণে ফাতহাহ যোগে) এমন হাদিস যার সনদ (إسناد) থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়েছে। যেমন মালিকের উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন" এবং শাফিয়ির উক্তি: "ইবনে উমর এমন বলেছেন"।

ব্যতিক্রম (شاذ) এবং অস্বীকৃত (منكر); ব্যতিক্রম (شاذ) হলো যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অন্য লোকদের বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেন। ইবনুস সালাহ বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে: সুতরাং যা একক বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিক মুখস্থবিদ ও অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির বিপরীতে বর্ণনা করেন তা প্রত্যাখ্যাত (مردود) ব্যতিক্রম (شاذ)। আর যদি বিরোধিতা না থাকে এবং বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হন তবে তা বিশুদ্ধ (صحيح)। আর যদি তিনি পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) না হন কিন্তু স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হওয়ার স্তর থেকে খুব দূরেও না হন তবে তা উত্তম (حسن)। আর যদি বেশি দূরে হন তবে তা অস্বীকৃত (منكر)।

তাঁর ‘অধিক মুখস্থবিদ’ ও ‘অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন’—এই আধিক্যবাচক শব্দরূপ থেকে বোঝা যায় যে, বিরোধিতাকারী যদি তাঁর সমপর্যায়ের হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে না। এই বিভাজন থেকে আরও জানা গেল যে অস্বীকৃত (منكر) বিষয়টি আসলে কী। আর ত্রুটিযুক্ত (معلل) হলো যাতে এমন কিছু সূক্ষ্ম ও গোপন ত্রুটি বিদ্যমান থাকে যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অথচ বাহ্যিকভাবে হাদিসটি ত্রুটিমুক্ত মনে হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨٩)
ويستعان على إِدْرَاكهَا بتفردِ ومخالفةِ غيرهِ لَهُ مَعَ قَرَائِن تنبه الْعَارِف على إرْسَال فِي الْمَوْصُول أَو قفٍ فِي الْمَرْفُوع أَو دخولِ حديثٍ فِي حَدِيث أَو وهمِ واهمٍ بِحَيْثُ يغلب على ظَنّه ذَلِك فَيحكم بِهِ أَو يتَرَدَّد فَيتَوَقَّف وكل ذَلِك مانعٌ عَن الحكمِ بِصِحَّة مَا وجِد ذَلِك فِيهِ وَحَدِيث يعلى بن عبيد عَن الثَّوْريّ عَن عَمْرو بن دِينَار عَن النبيِ صلى الله عليه وسلم البيعان بِالْخِيَارِ إِسْنَاده متصلٌ عَن العدلِ الضَّابِط وَهُوَ معللٌ والمتنن صحيحٌ لِأَن عَمْرو بن دِينَار وضِع مَوضِع أَخِيه عبد الله

আর এই (ত্রুটি) অনুধাবনের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর একক হওয়া (تفرد) এবং অন্যদের সাথে তার বিরোধিতার (مخالفة) মাধ্যমে সাহায্য নেওয়া হয়। এর সাথে এমন কিছু আলামত (قرائن) থাকে যা বিশেষজ্ঞকে সংযুক্ত (موصول) বর্ণনার মধ্যে মুরসাল হওয়া (إرسال) অথবা মারফু (مرفوع) বর্ণনার মধ্যে মাওকুফ হওয়া (وقف), কিংবা এক হাদিসের ভেতরে অন্য হাদিসের প্রবেশ অথবা কোনো বর্ণনাকারীর বিভ্রম (وهم) সম্পর্কে সচেতন করে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিশেষজ্ঞের নিকট তা প্রবল ধারণায় রূপ নেয়, ফলে তিনি সে অনুযায়ী হুকুম প্রদান করেন অথবা তিনি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বিরত থাকেন। আর এর প্রতিটি বিষয়ই কোনো হাদিসকে বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। ইয়ালা ইবনে উবাইদ কর্তৃক সাওরি থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: 'ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার রয়েছে'—এর একটি উদাহরণ। এই হাদিসের সনদ (إسناد) ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীদের সূত্রে সংযুক্ত (متصل), কিন্তু এটি ত্রুটিযুক্ত (معلل)। তবে এর মতন (متن) বা মূল পাঠটি বিশুদ্ধ (صحيح); কারণ এখানে আমর ইবনে দিনার নামটি তার ভাই আবদুল্লাহর স্থানে বসে গেছে।

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٩٠)
ابْن دِينَار هَكَذَا رَوَاهُ الْأَئِمَّة من أَصْحَاب الصُّورِي عَنهُ فَوَهم يعلى وَقد يُطلق اسْم الْعلَّة على الْكَذِب والغفلة وَسُوء الْحِفْظ وَنَحْوهَا وَبَعْضهمْ أطلق على مُخَالفَة لَا تقدح كإرسال مَا وَصله الثِّقَة الضَّابِط حَتَّى قَالَ من الصَّحِيح مَا هُوَ صحيحٌ مُعَلل كَمَا قَالَ آخر من الصَّحِيح مَا هُوَ صَحِيح شاذٌ وَيدخل فِي هَذَا حَدِيث يعلى بن عبيد الله البيعان بِالْخِيَارِ

المدلس مَا أُخْفِي عَيبه إِمَّا فِي الْإِسْنَاد وَهُوَ أَن يروي عَمَّن لقِيه أَو عاصره مَا لم يسمعهُ مِنْهُ على سَبِيل يُوهم أَنه سَمعه مِنْهُ مِمَّن حَقه أَن لَا يَقُول حَدثنَا بل يَقُول قَالَ فلَان أَو عَن فلانٍ وَنَحْوه

وَرُبمَا لم يسْقط المدلِس شيخ لَكِن يسْقط من بعده رجلا ضَعِيفا أَو صَغِير السنِ يحسن الحَدِيث بذلك كفِعل الْأَعْمَش وَالثَّوْري وَغَيرهمَا وَهُوَ مَكْرُوه جدا وَذمَّة أَكثر الْعلمَاء وَاخْتلف فِي
ইবনে দিনার; এভাবেই আস-সুরি-এর অনুসারী ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে ইয়া'লা ভ্রান্তি বা বিভ্রান্তিতে (وهم) পড়েছেন। কখনও কখনও ত্রুটি (علة) শব্দটি মিথ্যা (كذب), অসতর্কতা (غفلة), মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ কেউ একে এমন বিরোধিতার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছেন যা বর্ণনার বিশুদ্ধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না; যেমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী কর্তৃক একটি মুত্তাসিল হাদিসকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করা (إرسال)। এমনকি জনৈক বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, সহিহ হাদিসের মাঝে এমনটিও রয়েছে যা ত্রুটিযুক্ত সহিহ (صحيح معلل), যেমনটি অন্যজন বলেছেন যে, সহিহ হাদিসের মাঝে এমনটিও রয়েছে যা শায বা বিরল সহিহ (صحيح شاذ)। ইয়া'লা ইবনে উবাইদুল্লাহ বর্ণিত "ক্রেতা ও বিক্রেতার ক্রয়-বিক্রয় চূড়ান্ত করার আগে এখতিয়ার রয়েছে" সংক্রান্ত হাদিসটি এর অন্তর্ভুক্ত।

মুদাল্লাস (المدلس) হলো সেই হাদিস যার দোষ বা ত্রুটি গোপন করা হয়েছে। হয় তা সনদের (الإسناد) ক্ষেত্রে, আর তা হলো বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করবেন যার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে (لقيه) অথবা তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন (عاصره), কিন্তু তাঁর নিকট থেকে হাদিসটি শোনেননি (لم يسمعه)—এমন পদ্ধতিতে যা এই বিভ্রম সৃষ্টি করে (يوهم) যে তিনি তা সরাসরি তাঁর নিকট থেকেই শুনেছেন। এক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর পক্ষে "আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন" (حدثنا) বলা উচিত নয়, বরং তিনি বলেন "অমুক বলেছেন" (قال فلان) অথবা "অমুক থেকে বর্ণিত" (عن فلان) এবং এই জাতীয় শব্দাবলি।

কখনও কখনও তাদলীসকারী (المدلس) তাঁর সরাসরি উস্তাদকে বাদ দেন না, বরং তাঁর পরবর্তী কোনো দুর্বল (ضعيف) বা অল্পবয়স্ক বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়ে দেন যাতে এর মাধ্যমে হাদিসটি সুন্দর বা উন্নত (يحسن) দেখায়; যেমনটি আমাশ, সাওরী এবং অন্যান্যরা করেছেন। এটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় (مكروه) এবং অধিকাংশ আলেম এর নিন্দা করেছেন। আর এর হুকুমের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٩١)
قبُول رِوَايَته وَالأَصَح التَّفْصِيل فَمَا رَوَاهُ بلفظٍ مُحْتَمل لم يبن فِيهِ السماع فَحكمه حكم المرسلِ وأنواعه وَمَا رَوَاهُ بلفظٍ مُبين للاتصال كسمعت وَأخْبرنَا وَحدثنَا وأشباهها فَهُوَ مُحْتَج بِهِ

وَإِمَّا فِي الشُّيُوخ وَهُوَ أَن يروي عَن شيخ حَدِيثا سمِعه فيسميه أَو يكنيه أَو ينْسبهُ أَو يصفه بِمَا لَا يعرف بِهِ كَيْلا يعرف وَأمره أخف لَكِن فِيهِ تَضْييع للمروي عَنهُ وتوعير لطريق معرفَة حَاله وَالْكَرَاهَة بِحَسب الْغَرَض الْحَاصِل نَحْو أَن يكون كثير الرِّوَايَة عَنهُ فَلَا يجب الْإِكْثَار من واحدٍ على صُورَة واحدةٍ وَقد يحملهُ عَلَيْهِ كَون شَيْخه الَّذِي سمِعه غير ثقةٍ أَو اصغر مِنْهُ أَو غير ذَلِك

المضطرِب مَا اخْتلفت الرِّوَايَة فِيهِ فَمَا اخْتلفت الرِّوَايَتَانِ
তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা; সুতরাং তিনি যা সম্ভাবনাযুক্ত শব্দ (لفظ محتمل) দিয়ে বর্ণনা করেছেন, যাতে সরাসরি শ্রবণ (سماع) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়, তার বিধান মুরসাল (مرسل) ও তার প্রকারসমূহের বিধানের মতোই। আর তিনি যা নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) প্রকাশকারী স্পষ্ট শব্দ—যেমন: 'আমি শুনেছি', 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন', 'তিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন' এবং এই জাতীয় শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন, তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (محتج به)।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো উস্তাদদের ক্ষেত্রে তাদলিস (تدليس الشيوخ); আর তা হলো কোনো উস্তাদ থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করা যা তিনি শুনেছেন, অতঃপর তাকে এমন নাম, উপনাম, বংশপরিচয় বা গুণাবলিতে উল্লেখ করা যার মাধ্যমে তিনি পরিচিত নন, যাতে তাকে শনাক্ত করা না যায়। এর বিষয়টি তুলনামূলক হালকা, তবে এতে যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাকে অস্পষ্ট করে ফেলা এবং তার অবস্থা জানার পথকে কঠিন করে তোলার বিষয় রয়েছে। এর অপছন্দনীয়তা (كراهة) উদ্দেশ্য অনুযায়ী হয়ে থাকে; যেমন—উক্ত উস্তাদ থেকে অধিক বর্ণনা থাকা, তাই একজনের থেকে একইরূপে বারবার বর্ণনা করা সমীচীন মনে না করা। আবার কখনও এর কারণ হতে পারে যে, যার থেকে তিনি শুনেছেন সেই উস্তাদ অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة), অথবা বয়সে তার চেয়ে ছোট, কিংবা অন্য কোনো কারণ।

মুদতারিব (অস্থির/বিপর্যস্ত) (مضطرب) হলো ওই হাদিস যাতে বর্ণনায় ভিন্নতা দেখা দেয়; অর্থাৎ যাতে দুটি বর্ণনা পরস্পর বিরোধী হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٩٢)
إِن ترجحت إحداهم على الْأُخْرَى بِوَجْه نَحْو أَن يكو راويها أحفظ أَو أَكثر صُحْبَة للمروي عَنهُ فَالْحكم للراجح فَلَا يكون حِينَئِذٍ مضطرباً إِلَّا فمضطر بالمقلوب هُوَ نَحْو حَدِيث مَشْهُور عَن سَالم جعل عَن نَافِع ليصير بذلك غَرِيبا مرغوبا فِيهِ

وَحَدِيث البُخَارِيّ حِين قدم بَغْدَاد وامتحان الشُّيُوخ إِيَّاه بقلب الْأَسَانِيد مَشْهُور

الْمَوْضُوع الْخَبَر إِمَّا أَن يجب تَصْدِيقه وَهُوَ مَا نَص الْأَئِمَّة على صِحَّته وَإِمَّا أَن يجب تَكْذِيبه وَهُوَ مَا نصوا على وَضعه أَو يتَوَقَّف فِيهِ لاحْتِمَاله الصدْق وَالْكذب كَسَائِر الْأَخْبَار
যদি কোনো একটি বর্ণনা অন্যটির ওপর কোনোভাবে প্রাধান্য পায়, যেমন বর্ণনাকারী যদি অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) হন অথবা যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে অধিক সাহচর্যের অধিকারী হন, তবে অগ্রগণ্য বর্ণনার ভিত্তিতেই ফয়সালা হবে; এমতাবস্থায় হাদিসটি বিভ্রান্ত বা বিশৃঙ্খল (مضطربا) বলে গণ্য হবে না। আর ওলটপালট করা বা পরিবর্তিত (المقلوب) বর্ণনা হলো এমন, যেমন সালেমের সূত্রে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসকে নাফে'র সূত্রে চালিয়ে দেওয়া, যাতে করে তা বিরল (غريبا) ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ইমাম বুখারী যখন বাগদাদে আগমন করেন, তখন শাইখগণ কর্তৃক সনদসমূহ (الأسانيد) ওলটপালট করার মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা করার ঘটনাটি প্রসিদ্ধ (مشهور)।

জাল (الموضوع) সংবাদ বা বর্ণনা (الخبر) হয় এমন হবে যা সত্য বলে বিশ্বাস করা আবশ্যক—আর তা হলো সেই বর্ণনা যার বিশুদ্ধতা (صحته) সম্পর্কে ইমামগণ সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন; অথবা তা মিথ্যা সাব্যস্ত করা আবশ্যক হবে—যা তারা জাল বা বানোয়াট হওয়া (وضعه) সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন; অথবা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে, কারণ অন্যান্য সাধারণ সংবাদের ন্যায় এতে সত্য বা মিথ্যা উভয় বিষয়ের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী উসূলিল হাদীস = রিসালা ফী উসূলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٩٣)
وَلَا تحل رِوَايَة الْمَوْضُوع للْعَالم بِحَالَة فِي أَي معنى كَانَ إِلَّا مَقْرُونا بِبَيَان الْوَضع وَيعرف بِإِقْرَار وَاضعه أَو بركاكة أَلْفَاظه أَو بِالْوُقُوفِ على غلطه كَمَا وَقع للثابت بن مُوسَى الزَّاهِد فِي حَدِيث من كثرت صلَاته بِاللَّيْلِ حسن وَجهه بِالنَّهَارِ قيل كَانَ شيخ يحدث فِي جمَاعَة فَدخل رجل حسن الْوَجْه فَقَالَ الشَّيْخ فِي أثْنَاء حَدِيثه من كثرت الخ فَوَقع لِثَابِت أَنه من الحَدِيث فَرَوَاهُ

জাল (موضوع) হাদিস বর্ণনা (رواية) করা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়, চাই তা যে কোনো অর্থেই হোক না কেন, যদি না এর জাল হওয়ার (الوضع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এটি (হাদিস জাল হওয়া) শনাক্ত করা যায় এর জালকারীর (واضع) স্বীকারোক্তির মাধ্যমে, অথবা এর শব্দবিন্যাসের দুর্বলতার মাধ্যমে, অথবা এর ভুল শনাক্ত করার মাধ্যমে। যেমনটি ঘটেছিল সাবিত ইবনে মুসা আজ-জাহিদের ক্ষেত্রে—‘যার রাতের সালাত অধিক হয়, দিনে তার চেহারা সুন্দর হয়’ এই হাদিসটির বর্ণনায়। বলা হয়ে থাকে যে, জনৈক শায়খ একটি জামাতে হাদিস বর্ণনা করছিলেন, এমতাবস্থায় একজন সুশ্রী ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। শায়খ তার হাদিস বর্ণনার ফাঁকে বলে উঠলেন, ‘যার রাতের সালাত...’ ইত্যাদি। এতে সাবিতের নিকট বিভ্রান্তি ঘটে যে এটি হাদিসেরই অংশ এবং তিনি তা বর্ণনা করেন।