(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
ثمرات النظر في علم الأثر القسم: علوم الحديث
الكتاب: ثمرات النظر في علم الأثر
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (ت 1182هـ)
المحقق: رائد بن صبري بن أبي علفة
الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع - الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1417هـ - 1996م
عدد الصفحات: 151
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
থামরাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
কিতাব: থামরাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাসানী, আল-কাহলানী অতঃপর আস-সানআনী, আবু ইবরাহিম, ইযযুদ্দীন, তার পূর্বপুরুষদের ন্যায় ‘আল-আমীর’ হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ১১৮২ হিজরি)
মুহাক্কিক (محقق): রায়েদ বিন সাবরি বিন আবি আলাফাহ
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ প্রকাশনা ও বিতরণ - রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مُقَدّمَة المُصَنّفبسم الله الرحمن الرحيم
حمدا لَك يَا واهب كل كَمَال وشكرا لَك يَا مانح الجزيل من النوال وَيَا فاتح الأقفال عَن أَبْوَاب كل إِشْكَال
وصلاتك وسلامك على من ختمت ببعثه سلسلة الْإِرْسَال وعَلى آله أَئِمَّة المعارف والعوارف خير آل
وَبعد فَإِنَّهُ لما من الله بمذاكرة مَعَ بعض الْأَعْلَام فِي شرح نخبة الْفِكر لِلْحَافِظِ الإِمَام الْعَلامَة الشهَاب أَحْمد بن عَليّ بن حجر أَفَاضَ الله عَلَيْهِ شآبيب الإنعام وأنزله بفضله بحبوحة دَار السَّلَام
গ্রন্থকারের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আপনারই প্রশংসা করি হে সকল পূর্ণতার দাতা, এবং আপনারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি হে অঢেল অনুগ্রহ প্রদানকারী, আর হে সকল জটিলতার বদ্ধ দুয়ার উন্মোচনকারী!
আপনার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে আপনি রিসালাতের ধারার (الإرسال) সমাপ্তি ঘটিয়েছেন; এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর, যাঁরা প্রজ্ঞা ও তত্ত্বজ্ঞানের ইমাম এবং সর্বোত্তম বংশধর।
অতঃপর, আল্লাহ যখন হাফিজ (الحافظ), ইমাম, আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণ করুন এবং নিজ কৃপায় তাঁকে জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন) বিরচিত নুখবাতুল ফিকার-এর ব্যাখ্যা নিয়ে কতিপয় বরেণ্য পণ্ডিতের সাথে শাস্ত্রীয় আলোচনার (مذاكرة) তাওফিক দান করলেন।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وانتهت إِلَى بحث الْجرْح وَالتَّعْدِيل عرضت عِنْد المذاكرة فروع ناشئة عَن ذَلِك التأصيل فَرغب ذَلِك الْقَلَم إِلَى تحريرها فِي الأوراق تحريرا للفظها وحفظا لمعناها وإبانة للحق النافع يَوْم يعنو كل نفس مَا عناها فَأخذت فِي رقم مَا وَقع ثمَّ اتَّصل بِهِ مَا هُوَ أرفع قدرا وأنفع وَالله أسأله أَن يخلص لوجهه الْأَعْمَال ويعيذنا من موبقات الْأَفْعَال والأقوال وسميته ثَمَرَات النّظر فِي علم الْأَثر
رِوَايَة صَاحب الْبِدْعَة المكفرة والمفسقة فَأَقُول قسم الْحَافِظ ابْن حجر رَحمَه الله تَعَالَى الْبِدْعَة فِي النخبة إِلَى قسمَيْنِ إِلَى مَا يكون بمكفر أَو بمفسق وَاخْتَارَ
যখন আলোচনাটি বর্ণনাকারীর দোষগুণ বিশ্লেষণ (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত পর্যালোচনায় এসে উপনীত হলো, তখন পারস্পরিক আলোচনার সময় সেই মূলনীতি থেকে উদ্ভূত কিছু শাখা-প্রশাখা উপস্থাপিত হলো। ফলে লেখনী সেগুলোকে কাগজে লিপিবদ্ধ করতে আগ্রহী হলো; যেন এর শব্দবিন্যাস সুসংহত হয়, অর্থ সংরক্ষিত থাকে এবং সেই কল্যাণকর সত্য প্রকাশিত হয় যা সেদিন উপকারে আসবে যেদিন প্রতিটি আত্মা তার কৃতকর্মের কারণে হীন ও অবনত হবে। অতঃপর যা উপস্থাপিত হয়েছিল তা আমি লিখতে শুরু করলাম, এরপর এর সাথে এমন কিছু যুক্ত হলো যা অধিকতর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও ফলপ্রসূ। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমলসমূহকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং আমাদেরকে ধ্বংসাত্মক কাজ ও কথা থেকে রক্ষা করেন। আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি ‘সামারাতুন নজর ফি ইলমিল আসার’।
কুফরি (مكفرة) ও ফাসিকি (مفسقة) পর্যায়ের বিদআতকারীর (صاحب البدعة) বর্ণনা (رواية) আমি বলছি, হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ‘নুখবাতুল ফিকার’ গ্রন্থে বিদআতকে (البدعة) দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন—যা কুফরি (مكفر) অথবা যা ফাসিকি (مفسق) পর্যায়ের; এবং তিনি মনোনীত (اختيار) করেছেন...
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فِي شرحها أَن الأول لَا يكون قادحا فِي الرَّاوِي إِلَّا إِذا كَانَ ردا لأمر مَعْلُوم من الدّين ضَرُورَة أَو عَكسه أَي إِثْبَاتًا لأمر مَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ أَنه لَيْسَ مِنْهُ
وَإِنَّمَا فسرنا الْعَكْس بِهَذَا لِأَن ذكر الِاعْتِقَاد لَا دخل لَهُ فِي كَون الْفِعْل بِدعَة فَلَا بُد من حمله على إِثْبَات أَمر ليقابل إِنْكَار أَمر فَيكون إلماما بالأمرين اللَّذين هما مرجع الْبِدْعَة ومنشؤها وهما
এর ব্যাখ্যায় (شرح) বলা হয়েছে যে, প্রথম বিষয়টি বর্ণনাকারীর (الراوي) জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত ত্রুটিযুক্তকারী (قادحًا) হবে না, যতক্ষণ না তা দ্বীনের অপরিহার্যভাবে জ্ঞাত (ضرورة) কোনো বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করা বা এর বিপরীত হয়; অর্থাৎ এমন কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত করা যা দ্বীনের অংশ নয় বলে অকাট্যভাবে (بالضرورة) পরিচিত।
আমরা 'বিপরীত' বিষয়টিকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছি কারণ কোনো কাজ বিদআত (بدعة) হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বাসের (اعتقاد) কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই একে কোনো বিষয় সাব্যস্ত করার অর্থে গ্রহণ করা আবশ্যক যাতে তা কোনো বিষয় অস্বীকার করার সমান্তরাল হয়। এর মাধ্যমে এমন দুটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটবে যা বিদআতের (بدعة) মূল উৎস ও কেন্দ্রবিন্দু; আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النَّقْص فِي الدّين وَالزِّيَادَة فِيهِ كَمَا صرح بذلك صَاحب الإيثار فَالْأول إِشَارَة إِلَى الثَّانِي وَالثَّانِي إِشَارَة إِلَى الأول
أَو هما إِلَّا إِذا كَانَ ردا لأمر مَعْلُوم
وَلَقَد وهم من فسر الْعَكْس بإنكار أَمر واعتقاد خِلَافه وزحلق الْعبارَة عَمَّا تفيده إِذْ لَا بُد من حمل الِاعْتِقَاد على إِثْبَات أَمر مجَازًا من بَاب إِطْلَاق السَّبَب على الْمُسَبّب وَكَانَ حق الْعبارَة أَن يَقُول أَو إِثْبَات غَيره أَي إِثْبَاتًا لأمر فِي الدّين مَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ أَنه لَيْسَ مِنْهُ قلت إِلَّا أَنه لَا يخفى أَنه من كَانَ بِهَذِهِ الصّفة فَهُوَ كَافِر لرده مَا علم من الدّين ضَرُورَة وإثباته مَا لَيْسَ مِنْهُ ضَرُورَة وكلا الْأَمريْنِ كفر وَإنَّهُ تَكْذِيب للشارع وتكذيبه فِي أَي أَمر علم من الدّين ضَرُورَة إثْبَاته أَو نَفْيه كفر فَهَذَا لَيْسَ من مَحل النزاع إِذْ النزاع فِي مُجَرّد الابتداع لَا فِي الْكَافِر الْكفْر الصَّرِيح فَلَا نزاع
দ্বীনের মধ্যে হ্রাস করা এবং তাতে বৃদ্ধি করা, যেমনটি আল-ইইসার গ্রন্থের লেখক স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; এক্ষেত্রে প্রথমটি দ্বিতীয়টির প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ এবং দ্বিতীয়টি প্রথমটির প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ।
অথবা উভয়টিই, তবে যদি তা কোনো সুপরিজ্ঞাত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে হয়।
আর যারা বিপরীত বিষয়টিকে কোনো বিষয় অস্বীকার করা এবং তার বিপরীতে বিশ্বাস পোষণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, তারা ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন এবং বাক্যটিকে তার যথাযথ অর্থ থেকে বিচ্যুত করেছেন। কেননা এখানে বিশ্বাস শব্দটিকে রূপকভাবে কোনো বিষয় সাব্যস্ত করার অর্থে গ্রহণ করা আবশ্যক, যা কারণকে কার্যের অর্থে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। বাক্যটির যথার্থ রূপ হওয়া উচিত ছিল— ‘অথবা অন্য কিছু সাব্যস্ত করা’, অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু সাব্যস্ত করা যা দ্বীনের অংশ নয় বলে অকাট্যভাবে পরিজ্ঞাত। আমি বলি, এটি সুস্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি এরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সে একজন কাফির (كافر); কারণ সে দ্বীনের অকাট্যভাবে জানা বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যা দ্বীনের অংশ নয় তাকে অকাট্যভাবে সাব্যস্ত করেছে। আর এই উভয় বিষয়ই কুফরি (كفر) এবং তা শরয়ি বিধানদাতার প্রতি মিথ্যা আরোপের শামিল। আর দ্বীনের অকাট্যভাবে সাব্যস্ত বা অস্বীকৃত কোনো বিষয়ে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা কুফরি (كفر)। সুতরাং এটি বিতর্কের বিষয় নয়; কেননা বিতর্ক কেবল বিদআত (ابتداع) প্রসঙ্গে, স্পষ্ট কুফরিতে (كفر) লিপ্ত কাফির (كافر) ব্যক্তির বিষয়ে নয়; ফলে এখানে কোনো বিরোধ নেই।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فِيهِ
وَإِذا كَانَ من هُوَ بِهَذِهِ الصّفة فقد جَاوز رُتْبَة الابتداع إِلَى أشر مِنْهُ وَأَنه لَا يرد من أهل ذَلِك الْقسم إِلَّا هَذَا عرفت أَنه لَا يرد أحد من أهل هَذَا الْقسم وَأَن كل مُبْتَدع مَقْبُول
وَأما مَا يكون ابتداعه بمفسق فقد اخْتَارَهُ لنَفسِهِ وَنَقله عَن الجماهير أَنه يقبل مَا لم يكن دَاعِيَة وَحِينَئِذٍ فَرده لأجل كَونه دَاعِيَة إِلَى بدعته لَا لأجل بدعته فَتحصل من هَذَا أَن كل مُبْتَدع مَقْبُول سَوَاء كَانَ بمكفر أَو بمفسق واستثناؤه لمن رد مَا علم فَاثْبتْ من الدّين ضَرُورَة أَو زَاد فِيهِ مَا لَيْسَ بضرورة لَيْسَ لأجل بدعته بل لرده وإثباته مَا لَيْسَ من الدّين ضَرُورَة وَكَذَا رد الداعية لأجل دَعوته لَا لأجل بدعته وَالْكل لَيْسَ من مَحل النزاع
এ বিষয়ে (فيه)
আর যখন কোনো ব্যক্তি এই গুণসম্পন্ন হয়, তখন সে বিদআত (ابتداع)-এর স্তর অতিক্রম করে তার চেয়েও মন্দ স্তরে পৌঁছে যায়। আর এই শ্রেণীর লোকদের মধ্য থেকে যদি কেবল একেই প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে আপনি জানলেন যে এই শ্রেণীর অন্য কাউকে প্রত্যাখ্যান করা হবে না এবং প্রত্যেক বিদআতকারী (مبتدع) গ্রহণযোগ্য (مقبول) হিসেবে বিবেচিত হবে।
আর যার বিদআত (ابتداع) পাপাচার সাব্যস্তকারী (مفسق) পর্যায়ের হয়, তার ক্ষেত্রে তিনি নিজের জন্য এই মতটি গ্রহণ করেছেন এবং জমহুর (جماهير) আলেমদের থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন যে, সে গ্রহণযোগ্য (مقبول), যতক্ষণ না সে বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) হয়। এমতাবস্থায় তাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) হওয়ার কারণে, কেবল তার বিদআতের কারণে নয়। সুতরাং এর দ্বারা সারসংক্ষেপ এই দাঁড়াল যে, প্রত্যেক বিদআতকারী (مبتدع)-ই গ্রহণযোগ্য (مقبول), চাই তা কুফরী সাব্যস্তকারী (مكفر) পর্যায়ের বিদআত হোক কিংবা পাপাচার সাব্যস্তকারী (مفسق) পর্যায়ের। আর যারা দ্বীনের অকাট্যভাবে প্রমাণিত (ضرورة) কোনো বিষয়কে অস্বীকার করে অথবা দ্বীনের আবশ্যকীয় নয় এমন কোনো বিষয়কে এতে যোগ করে, তাদের ক্ষেত্রে লেখকের এই ব্যতিক্রমী অবস্থানটি বিদআতের কারণে নয়; বরং দ্বীনের অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার বা সাব্যস্ত করার কারণে। একইভাবে, আহ্বানকারী (داعية)-কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তার আহ্বানের কারণে, কেবল বিদআতের কারণে নয়। আর এসবই বিতর্কের মূল বিষয়ের বহির্ভূত।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثمَّ لَا يخفى أَن الْحَافِظ وَأهل مذْهبه لَا يرَوْنَ التَّكْفِير بالتأويل
অতঃপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, হাফিজ (الحافظ) এবং তাঁর মতাদর্শের অনুসারীগণ ব্যাখ্যার (تأويل) কারণে কাফির সাব্যস্ত করাকে (تكفير) সমর্থন করেন না।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فَكَأَنَّهُ قسم الْبِدْعَة على رَأْي غَيره إِذْ لَا يرى كفر أحد من أهل الْقبْلَة والآتي بِمَا يكفره بِهِ من يرى كفر التَّأْوِيل مُبْتَدع وَاضح الْبِدْعَة كَمَا قَالَ ابْن الْحَاجِب وَمن لم يكفر فَهُوَ عِنْده وَاضح الْبِدْعَة انْتهى
مَسْأَلَة قبُول كَافِر التَّأْوِيل وفاسقه وَهَذِه هِيَ مَسْأَلَة قبُول كَافِر التَّأْوِيل وفاسقه وَقد نقل صَاحب العواصم إِجْمَاع الصَّحَابَة على قبُول فساق التَّأْوِيل من عشر طرق فِي كتبه الْأَرْبَعَة وَنقل أَدِلَّة غير الْإِجْمَاع وَاسِعَة إِذا عرفت هَذَا فَحق عبارَة النخبة أَن يُقَال ونقبل المبتدع مُطلقًا إِلَّا الداعية
وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان فِي تَرْجَمَة أبان بن تغلب مَا لَفظه
যেন তিনি অন্যের মতানুসারে বিদআতকে বিভক্ত করেছেন, যেহেতু তিনি আহলে কিবলার কাউকে কাফির মনে করেন না। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যার কারণে ব্যাখ্যাজনিত কুফরিতে বিশ্বাসী ব্যক্তি তাকে কাফির সাব্যস্ত করে, সে একজন সুস্পষ্ট বিদআতি (مبتدع), যেমনটি ইবনুল হাজিব বলেছেন। আর যিনি তাকে কাফির মনে করেন না, তার কাছেও সে একজন সুস্পষ্ট বিদআতি (مبتدع)। সমাপ্ত।
ব্যাখ্যাজনিত কাফির ও ফাসিক (فাসق) ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণের মাসআলা আর এটিই হলো ব্যাখ্যাজনিত কাফির ও ফাসিক (فাসق) ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণের মাসআলা। আল-আওয়াসিম গ্রন্থের লেখক তাঁর চারটি গ্রন্থে দশটি সূত্রের (طرق) মাধ্যমে ব্যাখ্যাজনিত ফাসিকদের (فাসق) বর্ণনা গ্রহণের বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের ইজমা (إجماع) বর্ণনা করেছেন এবং ইজমা (إجماع) ছাড়াও আরও ব্যাপক প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন। এটি যখন আপনি জানলেন, তখন নুখবার ইবারত বা পাঠ এমন হওয়া সংগত ছিল যে: "আমরা সাধারণভাবে বিদআতি (مبتدع) ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করব, কেবল আহ্বানকারী (داعية) ব্যতীত।"
ইমাম যাহাবি মিজান গ্রন্থে আবান ইবনে তাগলিবের জীবনী আলোচনায় যা বলেছেন তা হলো:
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْبِدْعَة على ضَرْبَيْنِ فبدعة صغرى كغلو التَّشَيُّع أَو كَانَ التَّشَيُّع بِلَا غلو وَلَا تحرق فَهَذَا كثير فِي التَّابِعين وتابعيهم مَعَ الدّين والورع والصدق فَلَو ذهب حَدِيث هَؤُلَاءِ لذهب جملَة من الْآثَار النَّبَوِيَّة وَهَذِه مفْسدَة بَيِّنَة
ثمَّ بِدعَة كبرى كالرفض الْكَامِل والغلو فِيهِ والحط على أبي بكر وَعمر رضي الله عنهما وَالدُّعَاء إِلَى ذَلِك فَهَذِهِ النَّوْع لَا يحْتَج بهم وَلَا كَرَامَة انْتهى
قلت هَذَا المثيل لأحد أَنْوَاع الابتداع وَإِلَّا فَمن الابتداع النصب بل هُوَ شَرّ من التَّشَيُّع لِأَنَّهُ التدين ببغض عَليّ رضي الله عنه كَمَا فِي الْقَامُوس فالأمران بِدعَة إِذْ الْوَاجِب وَالسّنة محبَّة كل مُؤمن بِلَا غلو فِي الْمحبَّة
أما وجوب محبَّة أهل الْإِيمَان فأدلته طافحة كَمَا فِي صَحِيح مُسلم مَرْفُوعا (لَا تدخلون الْجنَّة حَتَّى تؤمنوا وَلَا تؤمنوا حَتَّى تحَابوا) الحَدِيث
بل حصر صلى الله عليه وسلم الْإِيمَان فِي الْحبّ
বিদআত (بدعة) দুই প্রকার। ছোট বিদআত (بدعة صغرى) যেমন শিয়া মতবাদের চরমপন্থা (غلو التشيع), অথবা চরমপন্থা ও বিদ্বেষ বর্জিত সাধারণ শিয়া মতবাদ (التشيع)। তাবিঈ (التابعين) এবং তাদের পরবর্তী অনুসারীদের (تابعيهم) মধ্যে এ ধরণের বহু ব্যক্তি ছিলেন যারা একইসাথে দ্বীনদারী, পরহেজগারি এবং সত্যবাদিতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। যদি এই সকল ব্যক্তিদের বর্ণিত হাদিস বর্জন করা হতো, তবে নববি আসার (الآثار النبوية) বা হাদিসের এক বিশাল অংশ বিলুপ্ত হয়ে যেত, যা একটি স্পষ্ট বিপর্যয়।
অতঃপর বড় বিদআত (بدعة كبرى), যেমন পূর্ণাঙ্গ রাফয (الرفض) এবং এ বিষয়ে চরম বাড়াবাড়ি করা, আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মর্যাদাহানি করা এবং এগুলোর দিকে মানুষকে আহ্বান করা। এই শ্রেণীর বর্ণনাকারীদের বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় না (لا يحتج بهم) এবং তাদের কোনো সম্মান নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আমি বলি, এটি নব-উদ্ভাবনের (ابتداع) বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে একটি উদাহরণ মাত্র। অন্যথায় ‘নাসব’ (النصب) বা আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাও বিদআতের (ابتداع) অন্তর্ভুক্ত; বরং এটি শিয়া মতবাদের চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে যেমন বলা হয়েছে, এটি হলো আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকে ধর্মে পরিণত করা। সুতরাং এই উভয় বিষয়ই বিদআত (بدعة); কেননা ওয়াজিব এবং সুন্নাহ (سنة) হলো কোনো প্রকার চরমপন্থা (غلو) অবলম্বন না করে প্রত্যেক মুমিনকে ভালোবাসা।
মুমিনদের ভালোবাসার আবশ্যকতা সম্পর্কে অজস্র প্রমাণ রয়েছে, যেমন সহিহ মুসলিম গ্রন্থে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: (তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনবে, আর তোমরা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে) হাদিস।
বরং নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈমানকে ভালোবাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فِي الله كَمَا فِي حَدِيث (وَهل الْإِيمَان إِلَّا الْحبّ فِي الله)
الغلو فِي الدّين وَأما تَحْرِيم الغلو فِي كل أَمر من أُمُور الدّين فثابت كتابا وَسنة {لَا تغلوا فِي دينكُمْ} (إيَّاكُمْ والغلو فِي الدّين فَإِنَّمَا أهلك من كَانَ قبلكُمْ الغلو فِي الدّين) أخرجه أَحْمد وَالنَّسَائِيّ وَابْن
আল্লাহর পথে, যেমনটি হাদিসে এসেছে (ঈমান কি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসা ব্যতীত অন্য কিছু?)
দ্বীনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (الغلو) আর দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি (الغلو) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত: {তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না} (তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (الغلو) করা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির (الغلو) কারণেই ধ্বংস হয়েছে)। এটি আহমাদ, নাসায়ি এবং ইবনে [মাজাহ] বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مَاجَه وَالْحَاكِم
إِلَّا أَنه لَا يتَحَقَّق الغلو إِلَّا بِإِطْلَاق مَا لَا يحل إِطْلَاقه فِي المحبوب المغلو فِي حبه أَو فعل مَا لَا يحل فعله أَو ذكر الْغَيْر بِمَا لَا يحل لأَجله
وَأما زِيَادَة صُحْبَة الشَّخْص لبَعض أهل الْإِيمَان مَعَ محبته لَهُم جَمِيعًا فَهَذَا لَا إِثْم فِيهِ وَلَا قدح بِهِ وَإِن سمي غلوا وَقد كَانَ بعض الْمُؤمنِينَ عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أحب إِلَيْهِ من بعض واشتهر أَن أُسَامَة ابْن زيد رضي الله عنه حب رَسُول الله وَكَانَت عَائِشَة رضي الله عنها أحب نِسَائِهِ إِلَيْهِ
إِذا عرفت هَذَا فالشيعي الْمُطلق قد أَتَى بِالْوَاجِبِ من محبَّة هَذَا الْبَعْض من الْمُؤمنِينَ فَإِن كَانَ غاليا فقد ابتدع بالغلو وأثم إِن أفْضى
মাজা এবং আল-হাকিম
তবে বাড়াবাড়ি (الغلو) ততক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় না, যতক্ষণ না এমন কোনো বিষয় এমন কোনো প্রিয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়—যার প্রতি ভালোবাসায় অতিরঞ্জন করা হচ্ছে—যা প্রয়োগ করা বৈধ নয়, অথবা এমন কাজ করা যা করা বৈধ নয়, অথবা অপর ব্যক্তির ব্যাপারে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার খাতিরে করা বৈধ নয়।
আর সমস্ত মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করার সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু মুমিনের সাথে কোনো ব্যক্তির নিবিড় সাহচর্য বজায় রাখা—এতে কোনো পাপ নেই এবং এর দ্বারা কোনো ত্রুটি বা সমালোচনা (قدح) সাব্যস্ত হয় না, যদিও একে বাড়াবাড়ি (غلوا) নামে অভিহিত করা হয়। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কোনো কোনো মুমিন অন্যদের তুলনায় অধিক প্রিয় ছিলেন। এটি প্রসিদ্ধ যে, উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহর প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন।
যখন আপনি এটি অবগত হলেন, তখন সাধারণ শিয়া (الشيعي) সেই একদল মুমিনদের ভালোবাসার যে আবশ্যকতা (الواجب) রয়েছে তা পালন করেছে। তবে সে যদি চরমপন্থী (غاليا) হয়, তবে সে অতিরঞ্জনের (الغلو) মাধ্যমে বিদআতে লিপ্ত (ابتدع) হয়েছে এবং সে পাপী হবে যদি তা সীমা লঙ্ঘনের দিকে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بِهِ إِلَى مَا لَا يحل
وَأما مُجَرّد زِيَادَة الْمحبَّة والميل فَهُوَ إِذا صَحَّ أَنه غلو فَلَا إِثْم فِيهِ
أَقسَام التَّشَيُّع وَقد اتَّضَح لَك أَن الْحَافِظ الذَّهَبِيّ قسم التَّشَيُّع ثَلَاثَة أَقسَام
الأول تشيع بِلَا غلو وَهَذَا لَا كَلَام فِيهِ كَمَا أَفَادَهُ قَوْله أَو كَانَ التَّشَيُّع بِلَا غلو وَلَا تحرق
وَلَا يخفى أَنه صفة لَازِمَة لكل مُؤمن وَإِلَّا فَمَا تمّ إيمَانه إِذْ مِنْهُ مُوالَاة الْمُؤمنِينَ سِيمَا رَأْسهمْ وسابقهم إِلَيْهِ فَكيف يَقُول فول ذهب حَدِيث هَؤُلَاءِ يُرِيد الَّذين والوا عليا رضي الله عنه بِلَا غلو وَمَا الَّذِي يذهبه بعد وَصفه لَهُم بِالدّينِ والصدق والورع لَيْت شعري أيذهبه فعلهم لما وَجب من مُوالَاة أَمِير الْمُؤمنِينَ الَّذِي لَو أخلوا بِهِ لأخلوا بِوَاجِب وَكَانَ قادحا فيهم وَللَّه
এর মাধ্যমে এমন কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া যা বৈধ নয়
আর কেবল ভালোবাসা ও অনুরাগের আধিক্য, যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তা চরমপন্থা (غلو), তবে তাতে কোনো গুনাহ নেই
তাশায়্যু-এর প্রকারভেদ আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, হাফিজ যাহাবি তাশায়্যু-কে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন
প্রথম প্রকার হলো চরমপন্থা (غلو) বিহীন তাশায়্যু, আর এ বিষয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য নেই, যেমনটি তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়— "অথবা যদি তাশায়্যু হয় চরমপন্থা (غلو) ও বিদ্বেষমুক্ত"
এবং এটি অস্পষ্ট নয় যে, এটি প্রত্যেক মুমিনের জন্য একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, অন্যথায় তার ঈমান পূর্ণতা পাবে না; কেননা মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য পোষণ করা ঈমানেরই অংশ, বিশেষ করে তাদের শীর্ষস্থানীয় এবং ইসলামের পথে অগ্রগামীদের প্রতি। সুতরাং তিনি কীভাবে বলতে পারেন— "এদের হাদিস বিলুপ্ত বা পরিত্যক্ত হয়েছে?" এর দ্বারা তিনি তাদেরই উদ্দেশ্য করেছেন যারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে কোনো প্রকার চরমপন্থা (غلو) ছাড়াই ভালোবেসেছেন। আর তাদের দ্বীনদারি, সত্যবাদিতা (صدق) ও পরহেজগারি (ورع) গুণের বর্ণনার পর কোন বিষয়টি তাদের হাদিসকে অগ্রহণযোগ্য করে দেবে? হায়! আমি যদি জানতাম, আমীরুল মুমিনীনের প্রতি ওয়াজিব আনুগত্য ও ভালোবাসা পোষণ করার কারণেই কি তাদের হাদিস বাতিল হয়ে যাবে? অথচ তারা যদি এতে অবহেলা করত, তবে তারা একটি ওয়াজিব দায়িত্ব পালনেই অবহেলা করত এবং তা তাদের জন্য দোষের কারণ (قادح) হিসেবে গণ্য হতো। আর প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
در كثير من التَّابِعين وتابعيهم فقد أَتَوا بِالْوَاجِبِ ودخلوا تَحت قَوْله تَعَالَى {وَالَّذين جاؤوا من بعدهمْ يَقُولُونَ رَبنَا اغْفِر لنا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذين سبقُونَا بِالْإِيمَان وَلَا تجْعَل فِي قُلُوبنَا غلا للَّذين آمنُوا} وَتَحْت قَوْله تَعَالَى {وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان}
وَمن هَا هُنَا تعلم أَن القَوْل بِأَن مُطلق التَّشَيُّع بِدعَة لَيْسَ بِصَحِيح والقدح بِهِ بَاطِل وَلَا قدح بِهِ حَتَّى يُضَاف إِلَيْهِ الرَّفْض الْكَامِل وَسَب الشَّيْخَيْنِ رضي الله عنهما وَحِينَئِذٍ فالقدح فِيهِ بسب الصَّحَابِيّ لَا بِمُجَرَّد التَّشَيُّع
وَالْقسم الثَّانِي من غلا فِي التَّشَيُّع وأسلفنا لَك أَنه أَتَى بِوَاجِب وابتدع فِيهِ إِن سلم أَن مُجَرّد الغلو بِدعَة إِلَّا أَنَّهَا بِدعَة لم
অনেক তাবেয়ী এবং তাদের অনুসারীদের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারা তাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না} এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন।}
এখান থেকেই আপনি জানতে পারবেন যে, সাধারণ শিয়া মতবাদ (التشيع) একটি উদ্ভাবন (بدعة) - এই কথাটি সঠিক (صحيح) নয় এবং এর দ্বারা কোনো বর্ণনাকারীকে অভিযুক্ত করা বা তার সমালোচনা (القدح) করা অসার। বর্ণনাকারীর ওপর কোনো সমালোচনা (القدح) আপতিত হবে না যতক্ষণ না এর সাথে চরম রাফেজি মতবাদ (الرفض) এবং শায়খাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি গালিগালাজ যুক্ত হয়। এমতাবস্থায়, এই সমালোচনা (القدح) হবে সাহাবীকে গালি দেওয়ার কারণে, কেবল শিয়া মতাবলম্বী (التشيع) হওয়ার কারণে নয়।
আর দ্বিতীয় প্রকার হলো তারা, যারা শিয়া মতবাদের (التشيع) ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (الغلو) করেছে। আমি আপনার কাছে আগেই উল্লেখ করেছি যে, সে (একদিকে) আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করেছে আবার তাতে নতুন উদ্ভাবন (ابتدع) ঘটিয়েছে—যদি এটি মেনে নেওয়া হয় যে নিছক অতিরঞ্জন (الغلو) একটি উদ্ভাবন (بدعة)। তবে এটি এমন এক উদ্ভাবন (بدعة) যা...
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
تفض بصاحبها إِلَى كفر وَلَا فسق فَهُوَ غير مَرْدُود اتِّفَاقًا إِذْ قد قيل عِنْد الجماهير من أفضت بِهِ بدعته إِلَى أَحدهمَا كَمَا سلف آنِفا
الثَّالِث من أَقسَام التَّشَيُّع من غلا وَحط على الشَّيْخَيْنِ فَهَذَا قد أفْضى بِهِ غلوه إِلَى محرم قطعا وَهُوَ سباب الْمُسلم وَقد ثَبت عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَن سباب الْمُؤمن فسوق فَهَذَا فَاعل الْمحرم قطعا خَارج عَن حد الْعَدَالَة فَاسق تَصْرِيحًا فَاعل لكبيرة كَمَا يَأْتِي وتارك أَيْضا لواجب وَحِينَئِذٍ فَرده والقدح فِيهِ لَيْسَ لأجل مُطلق تشيعه وَهُوَ موالاته لعَلي رضي الله عنه بل لسبه الْمُسلم وَفعله الْمحرم فَعرفت أَن التَّشَيُّع الْمُطلق لَيْسَ بِصفة قدح وجرح من
যা তার অধিকারীকে কুফর (كفر) বা ফাসেকী (فسق) পর্যন্ত নিয়ে যায় না, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقا) প্রত্যাখ্যাত নয় (غير مردود)। কারণ জমহুর (الجماهير) আলিমদের নিকট বলা হয়েছে যে, যার বিদআত (بدعة) তাকে এই দুটির কোনো একটির দিকে ধাবিত করে, [সে প্রত্যাখ্যাত] যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
তাশাইয়ু (تشيع)-এর প্রকারভেদের মধ্যে তৃতীয়টি হলো: যে ব্যক্তি চরমপন্থা অবলম্বন করে (غلا) এবং শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-কে হেয় প্রতিপন্ন (حط) করে। এর ফলে তার এই চরমপন্থা (غلو) তাকে নিশ্চিতভাবেই একটি হারাম (محرم) বিষয়ের দিকে নিয়ে গেছে, আর তা হলো একজন মুসলিমকে গালি দেওয়া। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, "মুমিনকে গালি দেওয়া হলো ফাসেকী (فسوق)"। অতএব, এই ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই একটি হারাম (محرم) কাজ সম্পাদনকারী, সে ন্যায়নিষ্ঠতার (العدالة) সীমা বহির্ভূত এবং স্পষ্টভাবে একজন ফাসেক (فاسق)। সে একটি কবীরা গুনাহ (كبيرة) সম্পাদনকারী—যেমনটি সামনে আসবে—এবং একইসাথে একটি ওয়াজিব (واجب) বর্জনকারী। এমতাবস্থায়, তাকে প্রত্যাখ্যান (رد) করা এবং তার সমালোচনা (القدح) করা কেবল তার সাধারণ তাশাইয়ু (تشيع)-এর কারণে নয়—যা মূলত আলী রদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি আনুগত্য পোষণ করা—বরং একজন মুসলিমকে গালি দেওয়া এবং হারাম (محرم) কাজ করার কারণে। সুতরাং আপনি জানতে পারলেন যে, সাধারণ তাশাইয়ু (تشيع) কোনো দোষারোপ (قدح) বা জরাহ (جرح)-এর বৈশিষ্ট্য নয়।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
حَيْثُ هُوَ بل هُوَ صفة تَزْكِيَة لِأَنَّهُ لَا بُد لِلْمُؤمنِ من مُوالَاة أهل الْإِيمَان فَإِذا عرف بهَا صَارَت تَزْكِيَة فَإِذا وَقع فِي عباراتهم الْقدح بقَوْلهمْ فلَان شيعي فَهُوَ من الْقدح الْمُبْهم لَا يقبل حَتَّى يتَبَيَّن أَنه من النَّوْع القادح وَهُوَ غلو الرَّفْض
تَعْرِيف النصب وَأما النصب فَعرفت من رسمه عَن الْقَامُوس أَنه التدين ببغض عَليّ رضي الله عنه فالمتصف بِهِ مُبْتَدع شَرّ ابتداع أَيْضا فَاعل لمحرم تَارِك لواجب فَإِن محبَّة عَليّ رضي الله عنه مَأْمُور بهَا عُمُوما وخصوصا
أما الأول فَلِأَنَّهُ دَاخل فِي أدلته إِيجَاب محبَّة أهل الْإِيمَان
وَأما الْخَاصَّة فأحاديث لَا يَأْتِي عَلَيْهَا الْعد آمرة بحبه ومخبرة بِأَنَّهُ لَا يُحِبهُ إِلَّا مُؤمن وَلَا يبغضه إِلَّا مُنَافِق وَقد أودعنا الرَّوْضَة الندية شرح
যেখানে এটি বরং একটি প্রশংসা (تزكية) মূলক গুণ; কারণ একজন মুমিনের জন্য ঈমানদারদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা অপরিহার্য। সুতরাং যখন কেউ এর মাধ্যমে পরিচিত হয়, তখন তা প্রশংসায় (تزكية) পরিণত হয়। আর যদি তাদের বক্তব্যে কারো সম্পর্কে 'অমুক ব্যক্তি শিয়া (شيعي)' বলে সমালোচনা (القدح) করা হয়, তবে তা অস্পষ্ট সমালোচনা (القدح المبهم) হিসেবে গণ্য হবে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয় যতক্ষণ না এটি স্পষ্ট হয় যে তা সেই প্রকারের সমালোচনা যা বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে, আর তা হলো চরমপন্থী রাফেযী মতাদর্শ (غلو الرفض)।
নাসব-এর পরিচয় (تعريف النصب) আর নাসব (النصب) প্রসঙ্গে আল-কামুস গ্রন্থের সংজ্ঞা থেকে জানা যায় যে, এটি হলো আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকে দ্বীন বা ধর্মের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা। সুতরাং এই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি নিকৃষ্টতম বিদআতী (مبتدع), সে একটি হারাম (محرم) কার্যে লিপ্ত এবং একটি ওয়াজিব (واجب) বর্জনকারী। কেননা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ভালোবাসা সাধারণ এবং বিশেষ উভয়ভাবেই নির্দেশিত।
প্রথমত (সাধারণভাবে), কারণ তিনি ঈমানদারদের প্রতি ভালোবাসা পোষণের আবশ্যকতা সংক্রান্ত সাধারণ দলীলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত (বিশেষভাবে), এ বিষয়ে অসংখ্য হাদিস রয়েছে যা তাঁকে ভালোবাসার নির্দেশ দেয় এবং সংবাদ দেয় যে, মুমিন (مؤمن) ছাড়া তাঁকে কেউ ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক (منافق) ছাড়া তাঁকে কেউ ঘৃণা করবে না। আর আমরা আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহ গ্রন্থে এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
التُّحْفَة العلوية من ذَلِك شطرا من الْأَحَادِيث بِحَمْد الله معزوة إِلَى مَحَله مصححة ومحسنة فالناصبي أَتَى بِمحرم قطعا وَلم يَأْتِ بِالْوَاجِبِ الآخر من مُوالَاة سَائِر أهل الْإِيمَان كالصحابة إِذْ لَيْسَ من لَازمه محبَّة بَقِيَّة الصَّحَابَة وهب أَنه من لَازمه فَلَا يُخرجهُ عَن الْإِخْلَال بِوَاجِب محبَّة عَليّ رضي الله عنه وَفعله لمحرم من بغضه
فالشيعي الْمُطلق فِي رُتْبَة علية أَتَى بِالْوَاجِبِ وَترك الْمحرم والناصبي فِي أدنى رُتْبَة وأخفضها فَاعل للْمحرمِ وتارك للْوَاجِب فَإِن انْتهى نَصبه إِلَى إِطْلَاق لِسَانه بسب الْوَصِيّ رضي الله عنه فقد انْتَهَت بِهِ بدعته إِلَى الْفسق الصَّرِيح كَمَا انْتَهَت بالشيعي الساب بِدعَة غلوه إِلَى ذَلِك وَخير التَّشَيُّع تشيع من قَالَ
(أَنا شيعي لآل الْمُصْطَفى
… غير أَنِّي لَا أرى سبّ السّلف)
(أقصد الْإِجْمَاع فِي الدّين وَمن
… قصد الْإِجْمَاع لم يخْش التّلف)
(لي بنفسي شغل عَن كل من
… للهوى قرض قوما أَو قذف)
والشيعي إِن انضاف إِلَى حبه لعَلي رضي الله عنه بغض أحد من السّلف فقد سَاوَى مُطلق الناصبي فِي بغضه لبَعض أهل
আত-তুহফাতুল আলাবিয়্যাহ গ্রন্থে এই বিষয়ে আল্লাহ্র প্রশংসার সাথে হাদিসের একটি অংশ রয়েছে, যা যথাযথ উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (معزوة) করা হয়েছে এবং সহিহ সাব্যস্তকৃত (مصححة) ও হাসান সাব্যস্তকৃত (محسنة) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। মূলত নাসিবি (الناصبي) ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই একটি হারাম কাজ করল এবং সে অন্যান্য ঈমানদারদের সাথে—যেমন সাহাবিদের সাথে—বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার (موالاة) ন্যায় অপর ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় দায়িত্বটি পালন করল না; কেননা নাসিবি হওয়ার অনিবার্য ফল অন্য সাহাবিদের ভালোবাসা নয়। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এটি তার অনিবার্য ফল, তবুও তা তাকে আলী (রা.)-কে ভালোবাসার ওয়াজিব দায়িত্ব লঙ্ঘন করা এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণের ন্যায় হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে না।
পক্ষান্তরে, সাধারণ শিয়া (شيعي) এক উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত, কারণ সে ওয়াজিব পালন করেছে এবং হারাম বর্জন করেছে। অন্যদিকে নাসিবি (الناصبي) হলো সর্বনিম্ন ও নিকৃষ্ট স্তরে, কারণ সে হারামে লিপ্ত হয়েছে এবং ওয়াজিব পরিত্যাগ করেছে। অতঃপর যদি তার নাসিবি আকিদা বা 'নাসব' (نصب) তাকে ওয়াসি (الوصي) (আলী) (রা.)-কে গালি দেওয়ার পর্যায়ে নিয়ে যায়, তবে তার এই বিদাআত (بدعة) তাকে স্পষ্ট পাপাচারের (الفسق) স্তরে পৌঁছে দিল। ঠিক যেভাবে গালি প্রদানকারী শিয়ার চরমপন্থী (غلو) বিদাআত (بدعة) তাকে সেই একই পরিণতিতে পৌঁছে দেয়। আর সর্বোত্তম শিয়া মতাদর্শ হলো তার, যে বলে:
(আমি মুস্তাফার বংশধরদের অনুরাগী (شيعي)
… তবে আমি পূর্বসূরিদের গালি দেওয়া সমীচীন মনে করি না)
(আমি দ্বীনের ক্ষেত্রে ইজমা বা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করি, আর যে
… ইজমার পথ অনুসরণ করে সে ধ্বংসের আশঙ্কা করে না)
(আমি নিজের চিন্তায় এতটাই মগ্ন যে অন্য কারোর বিষয়ে ভাবার অবকাশ নেই
… যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কোনো কওমকে তুচ্ছজ্ঞান করে কিংবা অপবাদ দেয়)
আর শিয়া যদি আলী (রা.)-এর প্রতি তার ভালোবাসার পাশাপাশি পূর্বসূরিদের কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তবে সে কিছু আহল বা ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ পোষণের ক্ষেত্রে সাধারণ নাসিবির (الناصبي) সমতুল্য হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْإِيمَان فَإِن قلت هَل يقْدَح فِي دينه ببغضه لبَعض الْمُؤمنِينَ قلت البغض أَمر قلبِي لَا يطلع عَلَيْهِ فَإِن اطلع عَلَيْهِ كَمَا هُوَ الْمَفْرُوض هُنَا كَانَ قدحا إِذْ الْكَلَام فِي الناصبي وَلَا يعرف أَنه ناصبي إِلَّا بالاطلاع على بغضه لرأس أهل الْإِيمَان
فَمن عرف بِمثل هَذِه الْمعاصِي ردَّتْ رِوَايَته لِأَنَّهُ لَيْسَ بِعدْل على تَعْرِيف ابْن حجر للعدالة إِذْ قد حد فِي رسمها اللّغَوِيّ عدم الابتداع وَلَا يتم إِلَّا بخلو الْقلب عَن بغض أهل الْإِيمَان كَيفَ وَقد ثَبت أَن بغضه رضي الله عنه عَلامَة النِّفَاق
ঈমান। যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কিছু মুমিনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কি তার দীনি অবস্থানে কোনো সমালোচনা বা দোষ (قدح) তৈরি হয়? আমি বলব: বিদ্বেষ একটি অন্তরের বিষয় যা সাধারণত দৃষ্টিগোচর হয় না; তবে যদি সেটি প্রকাশ পায়—যেমনটি এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে—তবে তা ত্রুটি (قدح) হিসেবেই গণ্য হবে। কারণ এখানে আলোচনা হচ্ছে নাসিবী (ناصبي) সম্পর্কে, আর ঈমানদারদের প্রধান ব্যক্তিত্বের প্রতি বিদ্বেষের বিষয়টি জানা ছাড়া কারো নাসিবী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় না।
সুতরাং, যে ব্যক্তি এই ধরণের পাপাচারের দ্বারা পরিচিতি পায়, তার বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যাত (ردت) হবে; কারণ ইবনে হাজার প্রদত্ত ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞা অনুযায়ী সে ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়। কেননা তিনি এর সংজ্ঞায় বিদআত (ابتداع) থেকে মুক্ত থাকাকে একটি শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মুমিনদের প্রতি বিদ্বেষমুক্ত অন্তর ব্যতীত অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। অধিকন্তু, এটি তো সুপ্রমাণিত যে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফেকীর (نفاق) আলামত।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَبِهَذَا عرفت أَن الناصبي الْمُطلق خَارج عَن الْعَدَالَة فَإِن انضاف إِلَى نَصبه إِطْلَاق لِسَانه فِيمَن يبغضه فقد ازْدَادَ عَنْهَا بعدا والشيعي الْمُطلق مُحَقّق الْعَدَالَة وَإِن أبْغض وَسَب فَارق الْعَدَالَة وَحِينَئِذٍ يتَبَيَّن لَك أَنه كل التَّمْثِيل ببدعة النصب للابتداع الخارم للعدالة أولى إِذْ هُوَ على كل حَال بِدعَة قادحة بِخِلَاف التَّشَيُّع فالمطلق مِنْهُ لَيْسَ ببدعة بل فعله وَاجِب
وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي مُقَدّمَة الْفَتْح
التَّشَيُّع محبَّة عَليّ عليه السلام وتقديمه على الصَّحَابَة فَمن قدمه على أبي بكر وَعمر رضي الله عنهما فَهُوَ غال فِي التَّشَيُّع وَيُطلق عَلَيْهِ رَافِضِي وَإِلَّا فشيعي فَإِن انضاف إِلَى ذَلِك السب وَالتَّصْرِيح بالبغض فغال فِي الرَّفْض انْتهى كَلَامه
فقسم التَّشَيُّع أَيْضا ثَلَاثَة أَقسَام رفض وغلو فِي الرَّفْض وتشيع
فَالْأول انضاف إِلَى محبته لعَلي رضي الله عنه تَقْدِيمه على الشَّيْخَيْنِ وَالثَّانِي انضاف إِلَيْهَا بغض الشَّيْخَيْنِ والسب لَهما
এর দ্বারা আপনি জানতে পারলেন যে, সাধারণ নাসিবি (ناصبي) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর গণ্ডির বাইরে। যদি তার নাসিবত (نصب)-এর সাথে এমন ব্যক্তির প্রতি কটু ভাষা প্রয়োগ যুক্ত হয় যাকে সে ঘৃণা করে, তবে সে ন্যায়পরায়ণতা থেকে আরও দূরে ছিটকে পড়ল। পক্ষান্তরে সাধারণ শিয়া (شيعي) ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সুপ্রতিষ্ঠিত; কিন্তু সে যদি ঘৃণা পোষণ করে এবং গালিগালাজ করে তবে সে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থেকে বিচ্যুত হবে। এমতাবস্থায় আপনার কাছে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ন্যায়পরায়ণতা ক্ষুণ্ণকারী নব-উদ্ভাবন (ابتداع)-এর উদাহরণ হিসেবে নাসিবত (نصب)-এর নব-উদ্ভাবন (بدعة)-কে উপস্থাপন করাই অধিকতর সংগত। কারণ এটি সর্বাবস্থায় একটি ত্রুটিযুক্তকারী নব-উদ্ভাবন (بدعة قادحة); অপরদিকে শিয়াত্ব (تشيع)-এর বিষয়টি ভিন্ন, কেননা এর সাধারণ পর্যায়টি কোনো নব-উদ্ভাবন (بدعة) নয়, বরং তা করা ওয়াজিব।
হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ গ্রন্থে বলেছেন:
শিয়াত্ব (تشيع) হলো আলী (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁকে সাহাবীদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে আবু বকর ও ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ওপর প্রাধান্য দিল, সে শিয়াত্ব (تشيع)-এর ক্ষেত্রে চরমপন্থী (غال); তাকে রাফেজি (رافضي) বলা হয়, অন্যথায় সে শিয়া (شيعي)। যদি এর সাথে গালিগালাজ এবং স্পষ্ট ঘৃণা প্রকাশ যুক্ত হয়, তবে সে রাফেজি মতবাদের ক্ষেত্রে চরমপন্থী (غال في الرفض)। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
তিনি শিয়াত্ব (تشيع)-কেও তিন ভাগে ভাগ করেছেন: রাফেজি মতবাদ (رفض), রাফেজি মতবাদে চরমপন্থা (غلو في الرفض) এবং সাধারণ শিয়াত্ব (تشيع)।
প্রথমটি হলো আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ভালোবাসার সাথে শাইখাইন (শেখদ্বয়)-এর ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়া। আর দ্বিতীয়টি হলো এর সাথে শাইখাইন-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ এবং তাঁদেরকে গালি দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَالثَّالِث الْمُحب فَقَط وَهَذَا التَّقْسِيم وَقع فِي ذكره لبدعة التَّشَيُّع
وَأَقُول أما محبته مُطلقًا وَهُوَ الْقسم الثَّالِث فَإِنَّهُ شَرط فِي إِيمَان كل مُؤمن وَلَيْسَ من الْبِدْعَة فِي دبير وَلَا قبيل
وَهل الْإِيمَان إِلَّا الْحبّ فِي الله وَحِينَئِذٍ عرفت أَن كل مُؤمن شيعي
وَأما الساب فسب الْمُؤمن فسوق صحابيا كَانَ أَو غَيره إِلَّا أَن سباب الصَّحَابَة أعظم جرما لسوء أدبه مَعَ مصحوبه صلى الله عليه وسلم ولسابقتهم فِي الْإِسْلَام
وَقد عدوا سبّ الصَّحَابَة من الْكَبَائِر كَمَا يَأْتِي عَن الْفَرِيقَيْنِ الزيدية وَمن يُخَالف مَذْهَبهم
وَقد عرفت أَنه دلّ كَلَام الذَّهَبِيّ وَكَلَام الْحَافِظ ابْن حجر على أَن التَّشَيُّع بِكُل أقسامه بِدعَة وَلَا يخفى أَن مُطلق التَّشَيُّع
এবং তৃতীয় প্রকারটি হলো কেবল ভালোবাসা পোষণকারী; আর এই বিভাজনটি শিয়া মতবাদের বিদআত (بدعة) প্রসঙ্গে তাঁর আলোচনায় এসেছে।
আমি বলি, সাধারণভাবে তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা—যা তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত—তা প্রতিটি মুমিনের ঈমানের জন্য একটি শর্ত এবং তা কোনো বিচারেই বিদআতের (بدعة) অন্তর্ভুক্ত নয়।
আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ব্যতীত ঈমানই বা কী? এমতাবস্থায় আপনি বুঝতে পারলেন যে, প্রত্যেক মুমিনই শিয়া বা অনুসারী।
আর গালমন্দকারীর বিষয়ে কথা হলো—মুমিনকে গালি দেওয়া ফাসিকি (فسوق), তিনি সাহাবী হোন কিংবা অন্য কেউ। তবে সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া অপরাধ হিসেবে অনেক গুরুতর; কারণ এটি তাঁদের সঙ্গী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ এবং ইসলামে তাঁদের অগ্রগামিতার কারণে।
আর আলেমগণ সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়াকে কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটি জায়দিয়া এবং তাদের মতাদর্শের বিরোধীদের উভয় পক্ষ থেকে সামনে আসবে।
আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে, ইমাম যাহাবী এবং হাফিজ ইবনে হাজারের বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে যে, শিয়া মতবাদ বা তাশাইয়ু (التشيع) এর সকল প্রকারই বিদআত (بدعة); আর এটিও স্পষ্ট যে, সাধারণ শিয়া মতবাদ...
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الَّذِي هُوَ مُوالَاة عَليّ وَاجِب وفاعل الْوَاجِب لَا يكون مبتدعا
فَإِن قلت هَذَا كُله مَبْنِيّ على أَن قَول الْحَافِظ وتقديمه على الصَّحَابَة لَيْسَ من جملَة رسم التَّشَيُّع وَأي مَانع عَن جعله قيدا فيقيد أَن التَّشَيُّع محبَّة عَليّ رضي الله عنه مَعَ تَقْدِيمه على الصَّحَابَة فَلَا يتم أَن مُجَرّد محبته تشيع قلت يمْنَع عَنهُ أَنه إِن حمل لفظ الصَّحَابَة فِي كَلَامه فِي الرَّسْم على من عدا الشَّيْخَيْنِ لزم أَن من قدمه على أَي صَحَابِيّ وَلَو من الطُّلَقَاء أَو مِمَّن ثَبت لَهُ مُجَرّد اللِّقَاء يكون شِيعِيًّا لِأَن لفظ الصَّحَابَة للْجِنْس فَهُوَ فِي قُوَّة من قدمه على أَي صَحَابِيّ وَهَذَا لَا يَقُوله أحد فَإِنَّهُ من السَّابِقين الْأَوَّلين من الْعشْرَة الْمَشْهُود لَهُم بِالْجنَّةِ وهم مقدمون على غَيرهم بالنصوص
وَلِأَنَّهُ بالِاتِّفَاقِ لَيْسَ يُسمى الشيعي من قدم عليا على أَي فَرد من أَفْرَاد الصَّحَابَة أَو حمل على الشَّيْخَيْنِ فَقَط فَيكون التَّشَيُّع محبَّة عَليّ رضي الله عنه وتقديمه على الشَّيْخَيْنِ فَهَذَا بِعَيْنِه هُوَ الَّذِي أَفَادَهُ
যা হলো আলীর প্রতি আনুগত্য (موالاة) পোষণ করা, যা একটি ওয়াজিব (واجب) কাজ; আর ওয়াজিব পালনকারী কখনও বিদআতি (مبتدع) হতে পারে না।
যদি আপনি বলেন যে, এই সবকিছুর ভিত্তি হলো হাফিজ (الحافظ)-এর সেই বক্তব্য যে, তাঁকে (আলীকে) সাহাবীদের ওপর প্রধান্য দেওয়া শিয়া মতবাদের (التشيع) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়; তবে একে একটি শর্ত হিসেবে গণ্য করতে বাধা কোথায়? অর্থাৎ শিয়া মতবাদের (التشيع) সংজ্ঞা এভাবে সীমাবদ্ধ করা হবে যে, এটি হলো আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁকে সাহাবীদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া; ফলে কেবল ভালোবাসার কারণে শিয়া মতবাদ (تشيع) সাব্যস্ত হওয়া পূর্ণাঙ্গ হবে না। আমি বলব: এতে বাধা রয়েছে। কেননা সংজ্ঞার বর্ণনায় যদি 'সাহাবী' শব্দটি শাইখাইন ব্যতীত অন্য সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তবে আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি তাঁকে (আলীকে) যেকোনো সাহাবীর ওপর—হোক তিনি মুক্তপ্রাপ্তদের (الطلقاء) অন্তর্ভুক্ত অথবা এমন কেউ যাঁর কেবল সাক্ষাৎ লাভ সাব্যস্ত হয়েছে—প্রাধান্য দেবে, সে শিয়া (شيعي) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ 'সাহাবী' শব্দটি এখানে শ্রেণিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা যেকোনো সাহাবীর ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়ার সমতুল্য। অথচ এমন কথা কেউ বলে না। কেননা তিনি (আলী) হলেন প্রথম যুগের অগ্রগামীদের (السابقين الأولين) এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের (العشرة المشهود لهم بالجنة) অন্তর্ভুক্ত; আর তাঁরা দলিলাদির (النصوص) ভিত্তিতে অন্যদের ওপর অগ্রগণ্য।
আর এই কারণে যে, ঐকমত্য (الاتفاق) অনুযায়ী এমন ব্যক্তিকে শিয়া (الشيعي) বলা হয় না যে আলীকে সাহাবীদের যেকোনো ব্যক্তির ওপর প্রাধান্য দেয়। অথবা যদি এটি কেবল শাইখাইনের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে শিয়া মতবাদ (التشيع) হবে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁকে শাইখাইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া। আর মূলত এটিই তিনি ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪২)
بقوله فَمن قدمه على أبي بكر وَعمر فَهُوَ غال فَحِينَئِذٍ تدَاخل الْأَقْسَام وَلَا يَشْمَل كَلَامه وضابطه رسم التَّشَيُّع الْمُطلق أَو حمل على الْمَشَايِخ الثَّلَاثَة فَهَذَا الْإِشْكَال بَاقٍ إِذْ من قدمه على الثَّلَاثَة فقد قدمه على الشَّيْخَيْنِ مَعَ الْخلَل الَّذِي عَرفته أَيْضا
وَإِنَّمَا بلغت عِبَارَته إِلَى هَذَا الْخلَل على التقادير الْأَرْبَعَة بِسَبَب جعل قَوْله تَقْدِيمه على الصَّحَابَة قيدا تعين حملهَا على مَا تصح بِهِ وتفيد وَأَن قَوْله وتقديمه استئنافية وَالْوَاو للاستئناف قدمهَا إرهاصا لقَوْله فَمن قدمه على أبي بكر وَعمر وَأَن المُرَاد من الصَّحَابَة الشَّيْخَانِ ذكرهمَا أَلا إِجْمَالا ثمَّ ثَانِيًا تَفْصِيلًا وَأَن قَوْله
তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে যে, "যিনি তাঁকে আবু বকর ও উমরের ওপর প্রাধান্য দেন, তিনি হলেন চরমপন্থী (غال)"; এমতাবস্থায় বিভাগগুলো একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং তাঁর বক্তব্য ও এর মূলনীতি সাধারণ শিয়া মতবাদের (التشيع المطلق) সংজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করে না। অথবা যদি একে তিন শায়খের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে এই অস্পষ্টতা থেকেই যায়; কেননা যিনি তাঁকে তিনজনের ওপর প্রাধান্য দেন, তিনি তো দুই শায়খের ওপরও প্রাধান্য দিলেন, সাথে সেই ত্রুটিও বিদ্যমান যা আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন।
তাঁর বক্তব্য এই চারটি সম্ভাব্য সুরতের ক্ষেত্রে এই ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে এই কারণে যে, তাঁর কথা "সাহাবিদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়া"-কে একটি শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই একে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা আবশ্যক যাতে তা সঠিক ও অর্থবহ হয়; আর তা হলো— তাঁর বক্তব্য "এবং তাঁকে প্রাধান্য দেওয়া" অংশটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য (استئنافية) এবং এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি প্রারম্ভিক (للاستئناف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি এটি তাঁর পরবর্তী বক্তব্য "যিনি তাঁকে আবু বকর ও উমরের ওপর প্রাধান্য দেন" এর ভূমিকা হিসেবে আগে উল্লেখ করেছেন। আর এখানে "সাহাবি" বলতে দুই শায়খকেই বোঝানো হয়েছে; প্রথমে তাঁদেরকে সংক্ষিপ্তভাবে (إجمالا) উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে (تفصيلا)। আর তাঁর কথা...
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
محبَّة عَليّ فَقَط هُوَ رسم مُطلق التَّشَيُّع وأيد هَذَا قَوْله وَإِلَّا فشيعي فَإِن مُرَاده وَألا يقدمهُ على الشَّيْخَيْنِ لدي بل يُحِبهُ فَقَط وَهَذَا هُوَ الْمُطلق
وأيده أَيْضا بِمَا عَرفْنَاهُ من تصرفاتهم فِي كتب الرِّجَال وَتسمع من كلامنا الْآتِي كثيرا من عباراتهم فِي ذَلِك وأيده قَول الْحَافِظ الذَّهَبِيّ فِي ضابطه أَو كَانَ التَّشَيُّع بِلَا غلو
فهذان الحافظان يوافقان أَن التَّشَيُّع أَقسَام ثَلَاثَة تشيع مُطلق هُوَ محبته رضي الله عنه فَقَط
ومحبته مَعَ تَقْدِيمه على الشَّيْخَيْنِ ومحبته مَعَ التَّقْدِيم والسب الأول شيعي وَالثَّانِي غال فِي التَّشَيُّع وَيُطلق عَلَيْهِ رَافِضِي الثَّالِث غال فِي الرَّفْض
هَذَا مفَاد كَلَام الحافظين وهما إِمَامًا الْفَنّ
কেবল আলী (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসাই হলো সাধারণ শিয়া মতবাদের (التشيع المطلق) সংজ্ঞা। তাঁর এই বক্তব্য একে সমর্থন করে যে, “অন্যথায় সে শিয়া (شيعي)”; কেননা তাঁর উদ্দেশ্য হলো, সে আলীকে আমার নিকট শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-এর ওপর প্রাধান্য দেবে না, বরং কেবল তাঁকে ভালোবাসবে। আর এটিই হলো সাধারণ (المطلق) স্তর।
একে আরও সমর্থন করে রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে (كتب الرجال) তাঁদের কর্মপন্থা থেকে আমরা যা জানতে পেরেছি তা। আমাদের পরবর্তী আলোচনায় আপনি এই সংক্রান্ত তাঁদের অনেক পরিভাষা শুনতে পাবেন। হাফেজ আল-জাহাবীর তাঁর নীতিমালায় প্রদত্ত এই উক্তিও একে সমর্থন করে: “অথবা শিয়া মতবাদ (التشيع) যদি অতিরঞ্জন (غلو) বর্জিত হয়”।
এই দুই হাফেজ একমত পোষণ করেছেন যে, শিয়া মতবাদ (التشيع) তিন প্রকার: সাধারণ শিয়া মতবাদ (تشيع مطلق), যা হলো কেবল তাঁর (রা.) প্রতি ভালোবাসা।
আর (দ্বিতীয় প্রকার হলো) শায়খাইনের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি ভালোবাসা; এবং (তৃতীয় প্রকার হলো) প্রাধান্য প্রদান ও গালি দেওয়ার সাথে ভালোবাসা। প্রথম প্রকারের ব্যক্তি হলো শিয়া (شيعي), দ্বিতীয় প্রকারের ব্যক্তি শিয়া মতবাদে অতিরঞ্জনকারী (غال في التشيع) এবং তাকে রাফেজি (رافضي) বলা হয়, আর তৃতীয় প্রকারের ব্যক্তি হলো রাফেজি মতবাদে অতিরঞ্জনকারী (غال في الرفض)।
এটিই দুই হাফেজের বক্তব্যের সারমর্ম, এবং তাঁরা এই শাস্ত্রের দুই ইমাম।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وعَلى كَلَامهمَا وَقع الْبَحْث فِي هَذِه الرسَالَة
حَقِيقَة الْبِدْعَة ثمَّ اعْلَم أَن الْبِدْعَة وحقيقتها الفعلية الْمُخَالفَة للسّنة وَلها تعاريف حاصلها مَا لم يكن على عَهده صلى الله عليه وسلم
وتنقسم إِلَى ثَلَاثَة أَنْوَاع لَا يَقْتَضِي كفرا وَلَا فسقا وَهِي الَّتِي قَالَ فِيهَا عمر رضي الله عنه فِي جمَاعَة التَّرَاوِيح نعمت
এবং তাদের উভয়ের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পুস্তিকার আলোচনাটি পরিচালিত হয়েছে।
বিদআতের (بدعة) প্রকৃত স্বরূপ অতঃপর জেনে রাখুন যে, বিদআত (بدعة) এবং এর বাস্তবিক স্বরূপ হলো সুন্নাহর (سنة) পরিপন্থী হওয়া। এর বিভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে যার সারকথা হলো—এমন বিষয় যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে বিদ্যমান ছিল না।
আর এটি তিন প্রকারে বিভক্ত; (প্রথম প্রকারটি) কুফর (كفر) কিংবা ফিসক (فسق) সাব্যস্ত করে না। এটি সেই বিষয় যা সম্পর্কে ওমর (রা.) তারাবিহর জামাত প্রসঙ্গে বলেছিলেন, "কতই না চমৎকার (نعمت)..."
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْبِدْعَة قَالَ الْمَنَاوِيّ فِي كِتَابه فِي التعاريف قد يكون من
বিদআত (بدعة); আল-মানাউয়ী তাঁর আত-তারিফ গ্রন্থে বলেছেন, এটি হতে পারে...
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْبِدْعَة مَا لَيْسَ بمكروه فتسمى بِدعَة مُبَاحَة وَهُوَ مَا يشْهد لحسنه أصل الشَّرْع واقتضته مصلحَة تنْدَفع بهَا مفْسدَة
والنوعان الْآخرَانِ مَا يؤول إِلَى أحد الْأَمريْنِ كَمَا عرفت
فَالْأولى لَا قدح بهَا اتِّفَاقًا وَلَا تخل بِالْعَدَالَةِ وَإِن دخلت فِي مُسَمّى الْبِدْعَة وشملها اشْتِرَاط فقدها فِي حُصُول الْعَدَالَة وَذَلِكَ لِأَنَّهُ لَا يَخْلُو عَنْهَا طَائِفَة بل يكَاد أَنه لَا يَخْلُو عَنْهَا فَرد إِلَّا فِي عصمَة الله وَإِن كَانَت عباراتهم فِي رسم الْعَدَالَة عَامَّة وَالْأَحَادِيث الْآتِيَة دَالَّة على أَنه لَا فرق بَين أَنْوَاعهَا إِلَّا أَنهم كَمَا عرفت قسموها هَذَا التَّقْسِيم وقسموها أَيْضا إِلَى مستحسنة وَغير مستحسنة وَمَا أَظن هَذَا التَّقْسِيم إِلَّا من جملَة الابتداع وَهَا هُنَا أبحاث تتَعَلَّق بكلامهم
اشْتِرَاط الْعَدَالَة فِي رسم الصَّحِيح وَالْحسن الأول أَنهم أخذُوا فِي رسم الصَّحِيح وَالْحسن عَدَالَة الرَّاوِي كَمَا سبق لِلْحَافِظِ فِي النخبة وَمثله فِي كتب صَاحب العواصم وَفِي جَمِيع كتب أصُول الحَدِيث وَفسّر الْحَافِظ الْعَدَالَة بِأَنَّهَا ملكة
যে বিদআত (بدعة) অপছন্দনীয় (مكروه) নয়, তাকে বৈধ বিদআত (بدعة مباحة) বলা হয়। এটি এমন বিষয় যার উত্তম হওয়ার স্বপক্ষে শরিয়তের মূলনীতি সাক্ষ্য দেয় এবং এমন জনস্বার্থের (مصلحة) দাবি রাখে যার মাধ্যমে কোনো অনিষ্ট (مفسدة) দূরীভূত হয়।
অপর দুই প্রকারের বিষয়বস্তুও পূর্বে যেমন জেনেছেন, তেমন এই দুইটির কোনো একটির দিকেই ফিরে যায়।
প্রথম প্রকারটি সর্বসম্মতভাবে নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না এবং তা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণকেও ব্যাহত করে না, যদিও তা বিদআতের (بدعة) অন্তর্ভুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অর্জনের শর্ত হিসেবে বিদআত থেকে মুক্ত থাকার যে নীতি রয়েছে তা এর ওপরও বর্তায়। এর কারণ হলো, কোনো দলই এ থেকে মুক্ত নয়, এমনকি আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষা ব্যতীত প্রায় কোনো ব্যক্তিই এ থেকে মুক্ত নয়। যদিও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য সাধারণ এবং পরবর্তী হাদিসসমূহ নির্দেশ করে যে এর প্রকারভেদসমূহের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই; তবে আপনি জানেন যে তারা বিষয়টিকে এভাবে ভাগ করেছেন এবং একে উত্তম (مستحسنة) ও অনুত্তম হিসেবেও বিভক্ত করেছেন। আমি মনে করি এই বিভাজনটিও বিদআতেরই (ابتداع) অন্তর্ভুক্ত এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু গবেষণা এখানে বিদ্যমান।
সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) এর সংজ্ঞায় ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) শর্ত হওয়া প্রথমত, তারা সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) এর সংজ্ঞায় বর্ণনাকারীর (راوي) ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) গ্রহণ করেছেন, যেমনটি হাফেজ 'নুখবাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে 'আওয়াসিম' এর লেখকের গ্রন্থসমূহে এবং হাদিস বিজ্ঞানের সকল মূলনীতি (أصول الحديث) গ্রন্থে এটি বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) একটি বিশেষ গুণ বা দক্ষতা (ملكة) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
تحمل على مُلَازمَة التَّقْوَى والمروءة
وَفسّر التَّقْوَى بِأَنَّهَا اجْتِنَاب الْأَعْمَال السَّيئَة من شرك أَو فسق أَو بِدعَة فَأفَاد أَن الْعَدَالَة شَرط للراوي
وَقد عرفت أَن ترك الْبِدْعَة من مَاهِيَّة الْعَدَالَة فالعدل لَا يكون عدلا إِلَّا باجتناب الْبِدْعَة بأنواعها
وَلَا يخفى أَن هَذَا يُنَاقض مَا قَرَّرَهُ الْحَافِظ من القَوْل بِقبُول المبتدع مناقضة ظَاهِرَة على أَن فِي رسم الْحَافِظ للتقوى قصورا فَإِنَّهَا اجْتِنَاب الْمُحرمَات والإتيان بالواجبات وَقد اقْتصر على الْفَصْل الأول من فَصلي رسمها
وَمِنْهُم من فَسرهَا بالاحتراز عَمَّا يذم شرعا وَهُوَ صَحِيح شَامِل للأمرين
إِن قلت أَخذهم الْفسق فِي رسم الْعَدَالَة فِيهِ أَيْضا إخلال فبأنهم قبلوا فَاسق التَّأْوِيل وَقد أخذُوا الْعَدَالَة لَهُ شرطا فِي الرَّاوِي وَأخذُوا عدم الْفسق فِي رسمها فالفاسق غير عدل قلت يتَعَيَّن حمل الْفسق فِي الرَّسْم على الْفسق الصَّرِيح لِأَنَّهُ الْمُتَبَادر عِنْد
যা তাকওয়া (تقوى) এবং মুরুআত (مروءة) এর ওপর অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
তিনি তাকওয়া (تقوى)-র ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিরক (شرك), পাপাচার (فسق) অথবা বিদআত (بدعة)-এর মতো মন্দ কাজসমূহ পরিহার করার মাধ্যমে। ফলে তিনি বুঝিয়েছেন যে, ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) বর্ণনাকারী (راو)-র জন্য একটি শর্ত।
আপনি অবগত হয়েছেন যে, বিদআত (بدعة) বর্জন করা ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة)-র মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি সকল প্রকার বিদআত (بدعة) পরিহার করেন।
এটি গোপন নয় যে, বিষয়টি হাফিজ (حافظ) কর্তৃক বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তির বর্ণনা কবুল করার যে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন, তার সাথে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক। তাছাড়া হাফিজ (حافظ) তাকওয়া (تقوى)-র যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তাতে অপূর্ণতা রয়েছে; কেননা তাকওয়া (تقوى) হলো হারাম (محرمات) বর্জন করা এবং ওয়াজিব (واجبات) পালন করা। অথচ তিনি সংজ্ঞার দুটি অংশের মধ্যে কেবল প্রথম অংশের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন শরয়িভাবে নিন্দনীয় বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকা হিসেবে, যা সঠিক এবং উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
যদি আপনি বলেন যে, ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة)-র সংজ্ঞায় পাপাচার (فسق)-কে গ্রহণ করার মধ্যেও ত্রুটি রয়েছে, কারণ তারা ব্যাখ্যাজনিত পাপাচারী (فاسق التأويل)-র বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। অথচ তারা বর্ণনাকারী (راو)-র জন্য ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة)-কে শর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর সংজ্ঞায় পাপাচার (فسق) না থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; এমতাবস্থায় পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তি ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) হতে পারে না। আমি বলব: সংজ্ঞায় উল্লিখিত পাপাচার (فسق)-কে স্পষ্ট পাপাচার (الفسق الصريح)-এর ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক, কারণ সাধারণত এটিই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْإِطْلَاق وليندفع التَّنَاقُض
ذمّ المبتدعة المبحث الثَّانِي لَا يخفى مَا ورد فِي السّنة من الْأَحَادِيث الواسعة فِي ذمّ المبتدعة والوعيد الشَّديد لَهُم أخرج مُسلم وَابْن مَاجَه وَغَيرهمَا من حَدِيث جَابر قَالَ خَطَبنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَفِيه أما بعد فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله وَخير الْهدى هدي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل بِدعَة ضَلَالَة
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ من حَدِيث أنس مَرْفُوعا إِن الله حجب التَّوْبَة عَن كل صَاحب بِدعَة حَتَّى يدع بدعته قَالَ الْحَافِظ الْمُنْذِرِيّ إِسْنَاده حسن وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه أَيْضا وَابْن أبي حَاتِم فِي كتاب السّنة عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنه لَفظه أَبى الله تَعَالَى أَن
সাধারণ প্রয়োগ এবং বৈপরীত্য নিরসনের জন্য
বিদআতীদের (المبتدعة) নিন্দা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিদআতীদের (المبتدعة) নিন্দা এবং তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি সম্পর্কে সুন্নাহর ব্যাপক হাদিসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা কারো অজানা নয়। মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, যেখানে তিনি বলেন: "অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা।"
তাবারানি আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতীর তওবা কবুল হওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন, যতক্ষণ না সে তার বিদআত (بدعة) বর্জন করে।" হাফিজ মুনজিরি বলেন: এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। ইবনে মাজাহ এবং ইবনে আবি হাতিমও তাঁর 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার পাঠ হলো: "আল্লাহ তায়ালা অস্বীকার করেছেন যে..."
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
يقبل عمل صَاحب بِدعَة حَتَّى يدع بدعته وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه أَيْضا من حَدِيث حُذَيْفَة مَرْفُوعا وَلَفظه لَا يقبل الله تَعَالَى لصَاحب بِدعَة صوما وَلَا حجا وَلَا عمْرَة وَلَا جهادا وَلَا صرفا وَلَا عدلا وَيخرج من الْإِسْلَام كَمَا تخرج الشعرة من الْعَجِين
বিদআতকারীর (صاحب بدعة) আমল কবুল করা হয় না যতক্ষণ না সে তার বিদআত (بدعة) পরিত্যাগ করে। ইবনে মাজাহ-ও এটি হুযায়ফার সূত্রে রাসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দরূপ হলো: "আল্লাহ তাআলা কোনো বিদআতকারীর (صاحب بدعة) রোজা, হজ, উমরাহ, জিহাদ, আবশ্যিক ইবাদত (صرفا) এবং নফল ইবাদত (عدلا) কবুল করেন না; সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যায় যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুল বেরিয়ে আসে।"
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَفِي الزواجر لِابْنِ حجر الْأَخير أَنه صَحَّ لعن من أحدث حَدثا
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ مَا من أمة ابتدعت بعد نبيها بِدعَة إِلَّا أضاعت مثلهَا من السّنة وَقد صَحَّ حَدِيث سِتَّة لعنهم الله وكل نَبِي مجاب الدعْوَة
ইবনে হাজার আল-হায়তামীর ‘আয-যাওয়াজির’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দীনের মাঝে কোনো নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করে তাকে অভিশাপ দেওয়া সহিহ (صحيح) বলে সাব্যস্ত হয়েছে।
আত-তাবারানি বর্ণনা করেছেন (أخرج): কোনো জাতি তাদের নবীর পরে যখনই কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে, তারা তার সমপরিমাণ সুন্নাহ হারিয়ে ফেলে। আর নিশ্চয়ই ছয় ব্যক্তির ওপর আল্লাহর লানত এবং সকল নবীর দোয়া কবুল হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটি সহিহ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সামারাতুন নাযার ফী ইলমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَقد عد مِنْهُم تَارِك السّنة
قَالَ فِي الزواجر وَقد عد شيخ الْإِسْلَام الصّلاح العلائي فِي قَوَاعِده والجلال البُلْقِينِيّ وَغَيرهمَا الْبِدْعَة من الْكَبَائِر وَلَفظ الْجلَال البُلْقِينِيّ فِي تعداد الْكَبَائِر السَّادِسَة عشرَة الْبِدْعَة وَهِي المُرَاد بترك السّنة
إِذا عرفت هَذَا فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يَقُول قَائِل المبتدع عدل وَإِن ابتداعه لَا يخل بعدالته فَهَذَا رُجُوع عَن رسم الْعَدَالَة بِمَا ذكره فَهَذِهِ الْأَحَادِيث وأقوال الْعلمَاء منادية على أَن الابتداع من الْكَبَائِر وَقد رسموا الْكَبِيرَة بِمَا توعد عَلَيْهِ بِخُصُوصِهِ وَهُوَ صَادِق على الْبِدْعَة
وَمن هُنَا ينقدح لَك أَن من حذف الْبِدْعَة من رسم
তাদের মধ্যে সুন্নাত বর্জনকারীকেও গণ্য করা হয়েছে।
আয-যাওয়াজির গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, শায়খুল ইসলাম আস-সালাহ আল-আলাই তাঁর কাওয়ায়েদ গ্রন্থে এবং জালাল আল-বুলকিনী ও অন্যান্যগণ বিদআতকে (بدعة) কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। কবিরা গুনাহসমূহের তালিকায় আল-জালাল আল-বুলকিনীর ভাষ্যমতে ষোড়শ বিষয়টি হলো বিদআত (بدعة); আর সুন্নাত বর্জন বলতে মূলত এটিকেই বোঝানো হয়েছে।
আপনি যখন বিষয়টি অবগত হলেন, তখন এটি স্পষ্ট যে—হয়তো কোনো প্রবক্তা বলবেন বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل), এবং তার বিদআত (بدعة) তার ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) গুণের কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না। তবে এটি হবে বর্ণিত ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞা থেকে বিচ্যুতি। কারণ এই হাদিসসমূহ এবং উলামায়ে কেরামের বাণীসমূহ একথাই ঘোষণা করছে যে, বিদআতে লিপ্ত হওয়া (الابتداع) কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। তারা কবিরা গুনাহকে এমন কাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যার ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে শাস্তির হুঁশিয়ারি এসেছে; আর বিদআতের (بدعة) ক্ষেত্রেও এটি পূর্ণরূপে প্রযোজ্য।
আর এখান থেকেই আপনার নিকট এটি প্রতিভাত হবে যে, যারা সংজ্ঞায়ন থেকে বিদআতকে (بدعة) বাদ দিয়েছেন...