(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: -)
توجيه النظر إلى أصول الأثر   (طاهر الجزائري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: توجيه النظر إلى أصول الأثر

المؤلف: طاهر بن صالح (أو محمد صالح) ابن أحمد بن موهب، السمعوني الجزائري، ثم الدمشقيّ (ت 1338هـ)

المحقق: عبد الفتاح أبو غدة

الناشر: مكتبة المطبوعات الإسلامية - حلب

الطبعة: الأولى، 1416هـ - 1995م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাওজিহুন নজর ইলা উসুলিল আছর   (তাহের আল-জাযাইরি)

বিভাগ: উলূমুল হাদীস (হাদীস শাস্ত্র)


বই: তাওজিহুন নজর ইলা উসুলিল আছর

লেখক: তাহের বিন সালেহ (বা মুহাম্মদ সালেহ) ইবনে আহমাদ ইবনে মাওহাব, আস-সামুনি আল-জাযাইরি, অতঃপর আদ-দামেশকি (মৃ. ১৩৩৮ হি.)

তাহকীক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ - হালাব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله وَسَلام على عباده الَّذين اصْطفى

أما بعد فَهَذِهِ فُصُول جليلة الْمِقْدَار ينْتَفع بهَا الْمطَالع فِي كتب الحَدِيث وَكتب السّير وَالْأَخْبَار وأكثرها مَنْقُول من كتب أصُول الْفِقْه وأصول الحَدِيث

‌‌الْفَصْل الأول

عنوان

‌‌فِي بَيَان معنى الحَدِيث

 

الحَدِيث أَقْوَال النَّبِي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وَيدخل فِي أَفعاله تَقْرِيره وَهُوَ عدم إِنْكَاره لأمر رَآهُ أَو بلغه عَمَّن يكون منقادا للشَّرْع وَأما مَا يتَعَلَّق بِهِ عليه الصلاة والسلام من الْأَحْوَال فَإِن كَانَت اختيارية فَهِيَ دَاخِلَة فِي الْأَفْعَال وَإِن كَانَت غير اختيارية كالحلية لم تدخل فِيهِ إِذْ لَا يتَعَلَّق بهَا حكم يتَعَلَّق بِنَا وَهَذَا التَّعْرِيف هُوَ الْمَشْهُور عِنْد عُلَمَاء أصُول الْفِقْه وَهُوَ الْمُوَافق لفنهم

وَذهب بعض الْعلمَاء إِلَى إِدْخَال كل مَا يُضَاف إِلَى النَّبِي عليه الصلاة والسلام فِي الحَدِيث فَقَالَ فِي تَعْرِيفه علم الحَدِيث أَقْوَال النَّبِي عليه الصلاة والسلام وأفعاله وأحواله وَهَذَا التَّعْرِيف هُوَ الْمَشْهُور عِنْد عُلَمَاء الحَدِيث وَهُوَ الْمُوَافق لفنهم فَيدْخل فِي ذَلِك أَكثر مَا يذكر فِي كتب السِّيرَة كوقت ميلاده عليه الصلاة والسلام ومكانه وَنَحْو ذَلِك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এগুলো অত্যন্ত মর্যাদাশীল কিছু পরিচ্ছেদ, যা হাদিস, সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থের পাঠকদের জন্য ফলপ্রসূ হবে। এর অধিকাংশ বিষয় উসূলে ফিকহ এবং উসূলে হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত।

‌প্রথম পরিচ্ছেদ

শিরোনাম

‌হাদিসের মর্মার্থ বর্ণনায়

 

হাদিস হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী ও কর্মসমূহ। তাঁর কর্মের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর মৌনসম্মতি (তাকরীর); আর তা হলো এমন কোনো বিষয় যা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা শরয়ি বিধানের অনুসারী কারো পক্ষ থেকে তাঁর নিকট পৌঁছেছে, অথচ তিনি তা অস্বীকার করেননি। আর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি যদি ঐচ্ছিক হয়, তবে তা কর্মের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি তা অনৈচ্ছিক হয়, যেমন তাঁর শারীরিক অবয়ব, তবে তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; কেননা এর সাথে আমাদের জন্য প্রযোজ্য কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট নয়। উসূলে ফিকহের পণ্ডিতগণের নিকট এই সংজ্ঞাটিই প্রসিদ্ধ এবং এটি তাঁদের শাস্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কোনো কোনো আলেম নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত প্রতিটি বিষয়কেই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: ইলমে হাদিস হলো নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর বাণী, কর্ম ও অবস্থাসমূহ। হাদিস বিশারদগণের নিকট এই সংজ্ঞাটিই প্রসিদ্ধ এবং এটি তাঁদের শাস্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে সিরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত অধিকাংশ বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেমন নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর জন্মের সময়, স্থান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَقد رَأَيْت أَن أذكر هُنَا فَائِدَة تَنْفَع الْمطَالع فِي كثير من الْمَوَاضِع وَهِي أَن مثل هَذَا يعد من قبيل اخْتِلَاف الْعبارَات لَا اخْتِلَاف الاعتبارات وَهُوَ لَيْسَ من قبيل الِاخْتِلَاف فِي الْحَقِيقَة كَمَا يتوهمه الَّذين لَا يمعنون النّظر فَإِنَّهُم كلما رَأَوْا اخْتِلَافا فِي الْعبارَة عَن شَيْء مَا سَوَاء كَانَ فِي تَعْرِيف أَو تَقْسِيم أَو غير ذَلِك حكمُوا بِأَن هُنَاكَ اخْتِلَافا فِي الْحَقِيقَة وَإِن لم تكن تِلْكَ الْعبارَات مُخْتَلفَة فِي الْمَآل

وَقد نَشأ عَن ذَلِك أغلاط لَا تحصى سرى كثير مِنْهَا إِلَى أنَاس من الْعلمَاء الْأَعْلَام فَذكرُوا الِاخْتِلَاف فِي مَوَاضِع لَيْسَ فِيهَا اخْتِلَاف اعْتِمَادًا على من سبقهمْ إِلَى نَقله وَلم يخْطر فِي بالهم أَن الَّذين عولوا عَلَيْهِم قد نقلوا الْخلاف بِنَاء على فهمهم وَلم ينتبهوا إِلَى وهمهم وَكَثِيرًا مَا انتبهوا إِلَى ذَلِك بعد حِين فنبهوا عَلَيْهِ وَذَلِكَ عِنْد وقوفهم على الْعبارَات الَّتِي بنى الِاخْتِلَاف عَلَيْهَا النَّاقِل الأول وَقد حمل هَذَا الْأَمر كثرا مِنْهُم إِلَى فرط الحذر حِين النَّقْل

وَقد أَشَارَ إِلَى نَحْو مَا ذكرنَا الإِمَام تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن تَيْمِية فِي رسَالَته فِي قَوَاعِد التَّفْسِير فَقَالَ الْخلاف بَين السّلف فِي التَّفْسِير قَلِيل وغالب مَا يَصح عَنْهُم من الْخلاف يرجع إِلَى اخْتِلَاف تنوع لَا اخْتِلَاف تضَاد وَذَلِكَ صنفان

أَحدهمَا أَن يعبر وَاحِد مِنْهُم عَن المُرَاد بِعِبَارَة غير عبارَة صَاحبه تدل عل معنى فِي الْمُسَمّى غير الْمَعْنى الآخر مَعَ اتِّحَاد الْمُسَمّى كتفسير بَعضهم الصِّرَاط الْمُسْتَقيم بِالْقُرْآنِ أَي اتِّبَاعه وَتَفْسِير بَعضهم لَهُ بِالْإِسْلَامِ فالقولان متفقان لِأَن دين الْإِسْلَام هُوَ اتِّبَاع الْقُرْآن لَكِن كل مِنْهُمَا نبه على وصف غير وصف الآخر كَمَا أَن لفظ الصِّرَاط الْمُسْتَقيم يشْعر بِوَصْف ثَالِث
আমি এখানে একটি উপকারিতা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি যা পাঠককে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। তা হলো, এই ধরনের বিষয়গুলো মূলত অভিব্যক্তির পার্থক্য হিসেবে গণ্য হয়, তা তাৎপর্যের পার্থক্য নয়। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো মতবিরোধ নয়, যেমনটি তারা ধারণা করে যারা গভীর দৃষ্টিতে বিবেচনা করে না। কারণ যখনই তারা কোনো বিষয় সম্পর্কে অভিব্যক্তির ভিন্নতা দেখে—চাই তা সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে হোক কিংবা শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে বা অন্য কিছুতে—তারা সিদ্ধান্ত দিয়ে বসে যে সেখানে প্রকৃত কোনো মতভেদ রয়েছে, যদিও সেই অভিব্যক্তিগুলোর মূল গন্তব্য বা পরিণতি ভিন্ন নয়।

এর থেকে অসংখ্য ভুলের উৎপত্তি হয়েছে, যার অনেকগুলো প্রসিদ্ধ আলেমদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তারা এমন সব ক্ষেত্রে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে কোনো মতভেদ নেই; আর তা করেছেন তাদের পূর্বসূরিদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করে। তাদের মনে এটি উদিত হয়নি যে, তারা যাদের ওপর নির্ভর করেছেন তারা মূলত নিজেদের বুঝের ওপর ভিত্তি করে এই মতভেদ বর্ণনা করেছেন এবং তারা তাদের ভুল ধারণা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। অনেক সময় তারা পরবর্তীকালে বিষয়টি বুঝতে পেরে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন; আর তা হয়েছে যখন তারা সেই মূল অভিব্যক্তিগুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রথম বর্ণনাকারী মতভেদের দাবি তুলেছিলেন। এই বিষয়টি তাদের অনেককেই বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনে বাধ্য করেছে।

ইমাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ তার তাফসিরের মূলনীতি বিষয়ক পুস্তিকায় আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন: তাফসিরের ক্ষেত্রে সালাফদের মাঝে মতভেদ খুবই কম। তাদের থেকে যা সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার অধিকাংশ মূলত বৈচিত্র্যগত মতভেদ, তা কোনো বিপরীতমুখী বা সংঘর্ষিক মতভেদ নয়। এটি দুই প্রকার।

এর একটি হলো, তাদের মধ্যে একজন উদ্দেশ্যকৃত বিষয়টি এমন একটি অভিব্যক্তির মাধ্যমে ব্যক্ত করেন যা তার সাথীর অভিব্যক্তি থেকে ভিন্ন; এটি নামকৃত বিষয়টির একটি বিশেষ অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে যা অপর অর্থটি থেকে ভিন্ন, যদিও নামকৃত বিষয়টি অভিন্ন। যেমন তাদের কারো 'সিরাতুল মুস্তাকিম' (সরল পথ)-এর তাফসির কুরআন দ্বারা করা—অর্থাৎ কুরআনের অনুসরণ; আবার কারো এর তাফসির ইসলাম দ্বারা করা। এই উভয় বক্তব্যই মূলত এক ও অভিন্ন, কারণ ইসলাম ধর্মই হলো কুরআনের অনুসরণ। তবে তাদের প্রত্যেকেই অন্যজনের দেওয়া গুণের বাইরে ভিন্ন একটি গুণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনভাবে 'সিরাতুল মুস্তাকিম' শব্দটি একটি তৃতীয় গুণের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَكَذَلِكَ قَول من قَالَ هُوَ السّنة وَالْجَمَاعَة وَقَول من قَالَ هُوَ طَرِيق الْعُبُودِيَّة وَقَول من قَالَ هُوَ طَاعَة الله وَرَسُوله وأمثال ذَلِك فَهَؤُلَاءِ كلهم أشاروا إِلَى ذَات وَاحِدَة وَلَكِن وصفهَا كل مِنْهُم بِصفة من صفاتها

الثَّانِي أَن يذكر كل مِنْهُم من الِاسْم الْعَام بعض أَنْوَاعه على سَبِيل التَّمْثِيل وتنبيه المستمع على النَّوْع لَا على سَبِيل الْحَد المطابق للمحدود فِي عُمُومه وخصوصه مِثَاله مَا نقل فِي قَوْله تَعَالَى {ثمَّ أَوْرَثنَا الْكتاب الَّذين اصْطَفَيْنَا} الْآيَة فمعلوم أَن الظَّالِم لنَفسِهِ يتَنَاوَل المضيع للواجبات والمنتهك للحرمات والمقتصد يتَنَاوَل فَاعل الْوَاجِبَات وتارك الْمُحرمَات وَالسَّابِق يدْخل فِيهِ من سبق فتقرب بِالْحَسَنَاتِ مَعَ الْوَاجِبَات فالمقتصدون أَصْحَاب الْيَمين وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُولَئِكَ المقربون

ثمَّ إِن كلا مِنْهُم يذكر فِي هَذَا نوعا من أَنْوَاع الطَّاعَات كَقَوْل الْقَائِل السَّابِق الَّذِي يُصَلِّي فِي أول الْوَقْت والمقتصد الَّذِي يُصَلِّي فِي أَثْنَائِهِ والظالم لنَفسِهِ الَّذِي يُؤَخر الْعَصْر إِلَى الاصفرار أَو يَقُول السَّابِق المحسن بِالصَّدَقَةِ مَعَ الزَّكَاة والمقتصد الَّذِي يُؤَدِّي الزَّكَاة الْمَفْرُوضَة فَقَط والظالم مَانع الزَّكَاة

ثمَّ قَالَ وَمن أَقْوَال الْمَأْخُوذَة عَنْهُم ويجعلها بعض النَّاس اخْتِلَافا أَن يعبروا عَن الْمعَانِي بِأَلْفَاظ مُتَقَارِبَة كَمَا إِذا فسر بَعضهم {تبسل} بتحبس وَبَعْضهمْ بترتهن لِأَن كلا مِنْهُمَا قريب من الآخر اهـ

وَقَالَ بعض الْعلمَاء فِي كتاب ألفة فِي أصُول التَّفْسِير قد يحْكى عَن التَّابِعين عِبَارَات مُخْتَلفَة الْأَلْفَاظ فيظن من لَا فهم عِنْده أَن ذَلِك اخْتِلَاف مُحَقّق فيحكيه
একইভাবে যারা বলেন এটি হলো সুন্নাহ ও জামাত, যারা বলেন এটি হলো দাসত্বের পথ, এবং যারা বলেন এটি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং এই জাতীয় অন্যান্য উক্তি—তারা সকলে একই সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তবে তাদের প্রত্যেকে সেটিকে তার কোনো না কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়ত, তাদের প্রত্যেকে সাধারণ কোনো সংজ্ঞার মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ নির্দিষ্ট কিছু প্রকার উল্লেখ করেন যাতে শ্রোতাকে সেই প্রকার সম্পর্কে সতর্ক করা যায়, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদানের উদ্দেশ্যে নয় যা তার ব্যাপকতা ও বিশেষত্বের দিক থেকে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সাথে হুবহু মিলে যায়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি তাদের, যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি" (আয়াত)। এটি সর্বজনবিদিত যে, 'নিজের প্রতি অবিচারকারী' বলতে তাকে বোঝায় যে ওয়াজিবসমূহ নষ্ট করে এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলোতে লিপ্ত হয়; 'মধ্যপন্থী' বলতে তাকে বোঝায় যে ওয়াজিবসমূহ পালন করে এবং হারামসমূহ বর্জন করে; আর 'অগ্রগামী' এর অন্তর্ভুক্ত হলো সে, যে সৎকর্মের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনে অগ্রগামী হয়েছে ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি। সুতরাং মধ্যপন্থীরা হলো ডানদিকের দল, আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত।

অতঃপর তাদের প্রত্যেকে এখানে আনুগত্যের বিভিন্ন প্রকারের মধ্য থেকে কোনো একটি প্রকার উল্লেখ করেন। যেমন কেউ বলেন: 'অগ্রগামী' সে যে ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করে, 'মধ্যপন্থী' সে যে ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করে এবং 'নিজের প্রতি অবিচারকারী' সে যে আসরের সালাত সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অথবা কেউ বলেন: 'অগ্রগামী' সে যে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি দান-সদকা করার মাধ্যমে ইহসান করে, 'মধ্যপন্থী' সে যে কেবল ফরজ জাকাত প্রদান করে এবং 'অবিচারকারী' হলো জাকাত প্রদান না কারী।

অতঃপর তিনি বলেন: তাদের থেকে গৃহীত বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছুও রয়েছে যেগুলোকে কিছু মানুষ মতপার্থক্য মনে করে, অথচ তারা মূল অর্থগুলো প্রকাশ করতে কাছাকাছি শব্দ ব্যবহার করেন। যেমন তাদের কেউ 'তুবসাল' শব্দের ব্যাখ্যায় 'আবদ্ধ হওয়া' বলেছেন এবং কেউ 'বন্ধক হওয়া' বলেছেন, কারণ এগুলোর একটি অন্যটির কাছাকাছি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

উসুলুত তাফসীর বিষয়ে রচিত একটি গ্রন্থে কোনো কোনো আলেম বলেছেন: তাবেয়ীদের থেকে এমন কিছু উক্তি বর্ণিত হতে পারে যার শব্দসমূহ ভিন্ন ভিন্ন, ফলে যার সঠিক বোধশক্তি নেই সে ধারণা করে বসে যে এটি একটি প্রকৃত মতপার্থক্য এবং সেভাবেই তা বর্ণনা করে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪০)
أقوالا وَلَيْسَ كَذَلِك بل يكون كل وَاحِد مِنْهُم ذكر معنى من مَعَاني الْآيَة لكَونه أظهر عِنْده أَو أليق بِحَال السَّائِل وَقد يكون بَعضهم يخبر عَن الشَّيْء بلازمه وَنَظِيره وَالْآخر بثمرته ومقصوده وَالْكل يؤول إِلَى معنى وَاحِد غَالِبا اهـ

ولنرجع إِلَى الْمَقْصُود فَنَقُول قد عرفت أَن الحَدِيث مَا أضيف إِلَى النَّبِي عليه الصلاة والسلام فَيخْتَص بالمرفوع عِنْد الْإِطْلَاق وَلَا يُرَاد بِهِ الْمَوْقُوف إِلَّا بقرينه

وَأما الْخَبَر فَإِنَّهُ أَعم لِأَنَّهُ يُطلق على الْمَرْفُوع وَالْمَوْقُوف فَيشْمَل مَا أضيف إِلَى الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَعَلِيهِ يُسمى كل حَدِيث خَبرا وَلَا يُسمى كل خبر حَدِيثا

وَقد أطلق بعض الْعلمَاء الحَدِيث على الْمَرْفُوع وَالْمَوْقُوف فَيكون مرادفا للْخَبَر وَقد خص بَعضهم الحَدِيث بِمَا جَاءَ عَن النَّبِي عليه الصلاة والسلام وَالْخَبَر بِمَا جَاءَ عَن غَيره فَيكون مباينا للْخَبَر

وَأما الْأَثر فَإِنَّهُ مرادف للْخَبَر فيطلق على الْمَرْفُوع وَالْمَوْقُوف وفقهاء خُرَاسَان يسمون الْمَوْقُوف بالأثر وَالْمَرْفُوع بالْخبر

وَأما السّنة فَتطلق فِي الْأَكْثَر على مَا أضيف إِلَى النَّبِي عليه الصلاة والسلام من قَول أَو فعل أَو تَقْرِير فَهِيَ مرادفة للْحَدِيث عِنْد عُلَمَاء الْأُصُول وَهِي أَعم مِنْهُ عِنْد من خص الحَدِيث بِمَا أضيف إِلَى النَّبِي عليه الصلاة والسلام من قَول فَقَط وعَلى ذَلِك يحمل قَوْلهم اخْتلف فِي جَوَاز رِوَايَة الحَدِيث بِالْمَعْنَى فَيَنْبَغِي للطَّالِب أَن يعرف اخْتِلَاف الْعرف هُنَا ليأمن الزلل

وَبِمَا ذكرنَا من أَن بعض الْمُحدثين قد يُطلق الحَدِيث على الْمَرْفُوع وَالْمَوْقُوف يَزُول الْإِشْكَال الَّذِي يعرض لكثير من النَّاس عِنْدَمَا يحْكى لَهُم أَن فلَانا كَانَ يحفظ سبع مئة ألف حَدِيث صَحِيح فَإِنَّهُم مَعَ استبعادهم ذَلِك يَقُولُونَ أَيْن تِلْكَ الْأَحَادِيث وَلم لم تصل إِلَيْنَا وهلا نقل الْحفاظ وَلَو مِقْدَار عشرهَا وَكَيف سَاغَ لَهُم أَن يهملوا أَكثر مَا ثَبت عَنهُ عليه الصلاة والسلام مَعَ أَن مَا اشتهروا بِهِ من فرط الْعِنَايَة
বিভিন্ন উক্তি, তবে বিষয়টি তেমন নয়। বরং তাদের প্রত্যেকেই আয়াতের অর্থসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি অর্থ উল্লেখ করেছেন, কারণ সেটি তাঁদের নিকট অধিক স্পষ্ট ছিল অথবা প্রশ্নকারীর অবস্থার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কখনও তাঁদের কেউ কোনো বিষয়কে তার আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ বা অনুরূপ বিষয়ের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন, আবার অন্যজন তার ফলাফল বা উদ্দেশ্যের মাধ্যমে তা ব্যক্ত করেন। পরিণামে সাধারণত সবকিছুই একটি মূল অর্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। ইতি।

মূল বিষয়ের দিকে ফিরে এসে আমরা বলছি: আপনি জানতে পেরেছেন যে, নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা-ই হলো হাদিস। এটি সাধারণত 'মারফু' (নবী পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনা)-এর জন্য নির্দিষ্ট হয় এবং কোনো সূত্র বা প্রমাণ ছাড়া এর দ্বারা 'মাওকুফ' (সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনা) উদ্দেশ্য নেওয়া হয় না।

আর 'খবর' (সংবাদ) হলো হাদিসের চেয়েও ব্যাপকতর। কারণ এটি মারফু ও মাওকুফ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। ফলে সাহাবী ও তাবেয়ীদের দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, প্রত্যেক হাদিসকেই খবর বলা যায়, কিন্তু প্রত্যেক খবরকে হাদিস বলা যায় না।

কোনো কোনো আলেম মারফু ও মাওকুফ উভয়টিকেই হাদিস হিসেবে অভিহিত করেছেন, এমতাবস্থায় তা 'খবর'-এর সমার্থক হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ হাদিসকে নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং খবরকে অন্যদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন; এক্ষেত্রে হাদিস ও খবর পরস্পরের ভিন্ন অর্থবোধক হয়ে থাকে।

আর 'আসার' হলো খবরের সমার্থক, যা মারফু ও মাওকুফ উভয় বর্ণনার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। তবে খুরাসানের ফকিহগণ মাওকুফ বর্ণনাকে আসার এবং মারফু বর্ণনাকে খবর নামে অভিহিত করেন।

আর 'সুন্নাহ' অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ব্যবহৃত হয়। উসুলশাস্ত্রবিদদের নিকট এটি হাদিসের সমার্থক। তবে যারা হাদিসকে কেবল নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বাণীর (কথার) জন্য নির্দিষ্ট করেন, তাদের নিকট সুন্নাহ হলো হাদিসের চেয়েও ব্যাপক। তাঁদের এই উক্তিটি মূলত সেই সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে যে, 'অর্থের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করা জায়েজ কি না সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে'। সুতরাং শিক্ষার্থীর উচিত এখানে পরিভাষাগত ব্যবহারিক পার্থক্যগুলো জেনে নেওয়া, যাতে সে পদস্খলন থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।

আমরা যা উল্লেখ করেছি যে, কোনো কোনো মুহাদ্দিস মারফু ও মাওকুফ উভয় প্রকার বর্ণনাকেই হাদিস বলে অভিহিত করেন—তা জানলে সেই সংশয় দূর হয়ে যায় যা অনেকের মনে তখন উদিত হয় যখন তাদের বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি সাত লক্ষ সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। তারা এই বিষয়টিকে অসম্ভব মনে করার পাশাপাশি প্রশ্ন করে যে, সেই হাদিসগুলো কোথায়? সেগুলো কেন আমাদের কাছে পৌঁছাল না? হাফেজগণ (স্মৃতিধর আলেমগণ) কেন সেগুলোর অন্তত দশভাগের একভাগও বর্ণনা করলেন না? আর নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে প্রমাণিত অধিকাংশ হাদিস বর্জন করা তাঁদের জন্য কীভাবে সম্ভব হলো, অথচ তাঁরা তাঁদের চরম সতর্কতা ও যত্নের জন্য সুবিদিত?
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪১)
بِالْحَدِيثِ يَقْتَضِي أَن لَا يتْركُوا مَعَ الْإِمْكَان شَيْئا مِنْهُ

ولنذكر لَك شَيْئا مِمَّا رُوِيَ فِي قدر حفظ الْحفاظ نقل عَن الْأَمَام أَحْمد أَنه صَحَّ من الحَدِيث سبع مائَة ألف وَكسر وَهَذَا الْفَتى يَعْنِي أَبَا زرْعَة قد حفظ سبع مئة ألف قَالَ الْبَيْهَقِيّ أَرَادَ مَا صَحَّ من الْأَحَادِيث وأقوال الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ

وَقَالَ أَبُو بكر مُحَمَّد بن عمر الرَّازِيّ الْحَافِظ كَانَ أَبُو زرْعَة يحفظ سبع مئة ألف حَدِيث وَكَانَ يحفظ مئة وَأَرْبَعين ألفا فِي التَّفْسِير

وَنقل عَن البُخَارِيّ أَنه قَالَ أحفظ مئة ألف حَدِيث صَحِيح ومئتي ألف حَدِيث غير صَحِيح

وَنقل عَن مُسلم أَنه قَالَ صنفت هَذَا الْمسند الصَّحِيح من ثَلَاث مئة ألف حَدِيث مسموع

وَمِمَّا يرفع استغرابك لما نقل عَن أبي زرْعَة من أَنه كَانَ يحفظ مئة وَأَرْبَعين ألف حَدِيث فِي التَّفْسِير أَن {النَّعيم} فِي قَوْله تَعَالَى {ثمَّ لتسألن يَوْمئِذٍ عَن النَّعيم} قد ذكر الْمُفَسِّرُونَ فِيهِ عشرَة أَقْوَال كل قَول مِنْهَا يُسمى حَدِيثا فِي عرف من جعله بِالْمَعْنَى الْأَعَمّ وَأَن {الماعون} فِي قَوْله تَعَالَى {فويل للمصلين الَّذين هم عَن صلَاتهم ساهون الَّذين هم يراؤون وَيمْنَعُونَ الماعون} قد ذكرُوا فِيهِ سِتَّة أَقْوَال كل قَول مِنْهَا مَا عدا السَّادِس يعد حَدِيثا كَذَلِك
হাদিসের ক্ষেত্রে এটি দাবি করে যে, সক্ষমতা থাকা অবস্থায় তারা এর কোনো অংশই যেন পরিত্যাগ না করেন।

হাফেজদের মুখস্থ শক্তির প্রখরতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তার কিছু অংশ আমরা আপনার সমীপে উল্লেখ করব। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাত লক্ষাধিক হাদিস সহিহ হিসেবে প্রমাণিত। আর এই যুবক—অর্থাৎ আবু জুরআ—সাত লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছেন। বায়হাকি বলেন, তিনি (ইমাম আহমাদ) এর দ্বারা সহিহ হাদিসসমূহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণীসমূহ বুঝিয়েছেন।

হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-রাজি বলেন, আবু জুরআ সাত লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং তাফসিরের ক্ষেত্রে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন।

ইমাম বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখি।

ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি তিন লক্ষ শ্রুত হাদিস থেকে এই 'মুসনাদ আস-সহিহ' সংকলন করেছি।

আবু জুরআ তাফসিরের বিষয়ে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন—এই বর্ণনায় আপনার বিস্ময় দূর হতে পারে এই তথ্যের মাধ্যমে যে, মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে"—এখানে 'নেয়ামত' শব্দটির ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ দশটি অভিমত উল্লেখ করেছেন। যারা 'হাদিস' শব্দটিকে এর ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করেন, তাদের পরিভাষায় এই প্রতিটি অভিমতকেই এক একটি হাদিস বলা হয়। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ছোটখাটো সাহায্য দানে বিরত থাকে"—এখানে 'আল-মাউন' শব্দটির ব্যাখ্যায় তারা ছয়টি অভিমত উল্লেখ করেছেন; যার মধ্যে ষষ্ঠটি ব্যতীত প্রতিটি অভিমতকেই একইভাবে হাদিস হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪২)
قَالَ الْعَلامَة أَبُو الْفرج عبد الرَّحْمَن بن الْجَوْزِيّ فِي تَفْسِيره الْمُسَمّى ب زَاد الْمسير فِي تَفْسِير سُورَة التكاثر وللمفسرين فِي المُرَاد بالنعيم عشرَة أَقْوَال

أَحدهَا أَنه الْأَمْن وَالصِّحَّة رَوَاهُ ابْن مَسْعُود عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَتارَة يَأْتِي مَوْقُوفا عَلَيْهِ وَبِه قَالَ مُجَاهِد وَالشعْبِيّ

وَالثَّانِي أَنه المَاء الْبَارِد رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

وَالثَّالِث أَنه خبز الْبر وَالْمَاء العذب قَالَه أَبُو أُمَامَة

وَالرَّابِع أَنه ملاذ الْمَأْكُول والمشروب قَالَه جَابر بن عبد الله

وَالْخَامِس أَنه صِحَة الْأَبدَان والأسماع والأبصار قَالَه ابْن عَبَّاس وَقَالَ قَتَادَة هُوَ الْعَافِيَة

وَالسَّادِس أَنه الْغَدَاء وَالْعشَاء قَالَه الْحسن

وَالسَّابِع الصِّحَّة والفراغ قَالَه عِكْرِمَة

وَالثَّامِن كل شَيْء من لَذَّة الدُّنْيَا قَالَه مُجَاهِد

وَالتَّاسِع أَنه إنعام الله على الْخلق بإرسال مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم قَالَه الْقرظِيّ

والعاشر أَنه صنوف النعم قَالَه مقَاتل

وَالصَّحِيح أَنه عَام فِي كل نعيم وعام فِي جَمِيع الْخلق فالكافر يسْأَل توبيخا إِذْ لم يشْكر الْمُنعم وَلم يوحده وَالْمُؤمن يسْأَل عَن شكر النعم
আল্লামা আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনুল জাওজি তাঁর 'যাদুল মাসীর' নামক তাফসিরে সূরা আত-তাকাসুরের ব্যাখ্যায় বলেন, নিয়ামত (সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে মুফাসসিরদের দশটি মত রয়েছে।

প্রথমটি হলো: এটি হলো নিরাপত্তা ও সুস্থতা। ইবনে মাসউদ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; আবার কখনও এটি তাঁর (ইবনে মাসউদের) নিজস্ব উক্তি হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। মুজাহিদ ও শাবীও একই কথা বলেছেন।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি হলো ঠান্ডা পানি। আবু হুরায়রা এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়টি হলো: এটি হলো গমের রুটি ও সুপেয় পানি। আবু উমামাহ এটি বলেছেন।

চতুর্থটি হলো: এটি হলো পানাহারের স্বাদ। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ এটি বলেছেন।

পঞ্চমটি হলো: এটি হলো শরীর, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির সুস্থতা। ইবনে আব্বাস এটি বলেছেন; আর কাতাদা বলেছেন এটি হলো নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য।

ষষ্ঠটি হলো: এটি হলো সকাল ও রাতের আহার। হাসান এটি বলেছেন।

সপ্তমটি হলো: এটি সুস্থতা ও অবসর। ইকরিমা এটি বলেছেন।

অষ্টমটি হলো: দুনিয়ার প্রতিটি স্বাদ বা আনন্দদায়ক বস্তু। মুজাহিদ এটি বলেছেন।

নবমটি হলো: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণের মাধ্যমে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ। আল-কুরাজি এটি বলেছেন।

দশমটি হলো: এটি হলো বিভিন্ন প্রকারের নিয়ামত। মুকাতিল এটি বলেছেন।

সঠিক মত হলো, এটি সকল নিয়ামতের ক্ষেত্রে এবং সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যাপক। সুতরাং কাফিরকে তিরস্কার স্বরূপ প্রশ্ন করা হবে, কারণ সে নিয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় করেনি এবং তাঁকে এক বলে স্বীকার করেনি; আর মুমিনকে প্রশ্ন করা হবে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা বা শুকরিয়া আদায় সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَقَالَ فِي تَفْسِير سُورَة الدّين وَفِي {الماعون} سِتَّة أَقْوَال

أَحدهَا أَنه الإبرة وَالْمَاء وَالنَّار والفأس وَمَا يكون فِي الْبَيْت من هَذَا النَّحْو رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَإِلَى نَحْو هَذَا ذهب ابْن مَسْعُود وَابْن عَبَّاس فِي رِوَايَة وروى عَنهُ أَبُو صَالح أَنه قَالَ الماعون الْمَعْرُوف كُله حَتَّى ذكر الْقدر والقصعة والفأس وَقَالَ عِكْرِمَة لَيْسَ الويل لمن منع هَذَا وَإِنَّمَا الويل لمن جمعهن فراءى فِي صلَاته وسها عَنْهَا وَمنع هَذَا قَالَ الزّجاج والماعون فِي الْجَاهِلِيَّة كل مَا كَانَ فِيهِ مَنْفَعَة كالفأس وَالْقدر والدلو والقداحة وَنَحْو ذَلِك وَفِي الْإِسْلَام أَيْضا

وَالثَّانِي أَنه الزَّكَاة قَالَه عَليّ وَابْن عمر وَالْحسن وَعِكْرِمَة وَقَتَادَة

وَالثَّالِث أَنه الطَّاعَة قَالَه ابْن عَبَّاس فِي رِوَايَة

وَالرَّابِع المَال قَالَه سعيد بن الْمسيب وَالزهْرِيّ

وَالْخَامِس الْمَعْرُوف قَالَه مُحَمَّد بن كَعْب

وَالسَّادِس المَاء ذكره الْفراء عَن بعض الْعَرَب اهـ

هَذَا وَقد اعْترض بعض النَّاس على المؤلفين الَّذين ينقلون فِي الْمَسْأَلَة جَمِيع الْأَقْوَال الَّتِي وقفُوا عَلَيْهَا كَمَا فعله بعض عُلَمَاء التَّفْسِير وعلماء الْأُصُول وَمن نحا نحوهم وَذَلِكَ لجهلهم باخْتلَاف أغراض المصنفين ومقاصدهم ولتوهمهم أَن طَرِيق التَّأْلِيف يجب أَن لَا يُخَالف مَا تخيلوه فِي أذهانهم

وَقد أحببنا أَن نختم هَذَا الْفَصْل بِالْجَوَابِ عَن اعتراضهم فَنَقُول

إِن تِلْكَ الْأَقْوَال إِن كَانَت مُخْتَلفَة فِي الْمَآل عرف النَّاظر الْخلاف فِي الْمَسْأَلَة
তিনি সূরা আদ-দীনের তাফসিরে বলেছেন এবং 'মাউন' সম্পর্কে ছয়টি মত রয়েছে।

প্রথমটি হলো—এটি সুঁই, পানি, আগুন, কুঠার এবং ঘরে ব্যবহৃত এই জাতীয় দ্রব্য। আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ এবং এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাসও (রা.) এই মত পোষণ করেছেন। আবু সালিহ তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মাউন হলো যাবতীয় কল্যাণকর কাজ, এমনকি তিনি পাতিল, পেয়ালা এবং কুঠারের কথাও উল্লেখ করেছেন। ইকরিমাহ বলেছেন: ধ্বংস কেবল তাদের জন্য নয় যারা এগুলো প্রদানে বিরত থাকে, বরং ধ্বংস তাদের জন্য যারা এই সবগুলোকে একত্রিত করে—অর্থাৎ যারা তাদের সালাতে লোক দেখানো ভাব আনে, তা থেকে গাফেল থাকে এবং এগুলো (সাহায্য) দিতে অস্বীকার করে। আজ-জাজ্জাজ বলেছেন: জাহেলি যুগে 'মাউন' বলতে এমন সব জিনিসকে বোঝানো হতো যাতে উপকার রয়েছে, যেমন কুঠার, পাতিল, বালতি, চকমকি পাথর এবং এই জাতীয় বস্তু। ইসলামেও বিষয়টি তেমনই।

দ্বিতীয় মত: এটি হলো জাকাত। আলী, ইবনে উমর, হাসান, ইকরিমাহ এবং কাতাদাহ (রা.) এটি বলেছেন।

তৃতীয় মত: এটি হলো আনুগত্য। এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রা.) এটি বলেছেন।

চতুর্থ মত: এটি হলো সম্পদ। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং যুহরি এটি বলেছেন।

পঞ্চম মত: এটি হলো যাবতীয় সৎ কাজ বা কল্যাণ। মুহাম্মদ ইবনে কাব এটি বলেছেন।

ষষ্ঠ মত: এটি হলো পানি। আল-ফাররা কিছু আরবের উদ্ধৃতি দিয়ে এটি উল্লেখ করেছেন। (সমাপ্ত)

বিষয় হলো, কিছু লোক ঐসব লেখকদের ওপর আপত্তি তুলেছেন যারা কোনো বিষয়ে তাদের কাছে পৌঁছানো সকল মতামত উদ্ধৃত করেন, যেমনটি করেছেন কিছু তাফসিরবিদ, উসুলবিদ এবং তাদের পথানুসারীরা। এটি লেখকদের বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে এবং তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে যে, রচনার পদ্ধতি কেবল তাদের মনের কল্পনার অনুরূপ হতে হবে।

আমরা তাদের আপত্তির জবাব দিয়ে এই অধ্যায়টি শেষ করতে চাই; সুতরাং আমরা বলি—

যদি এই মতামতগুলো পরিণতির দিক থেকে ভিন্ন হয়, তবে পাঠক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্য সম্পর্কে জানতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَفِي معرفَة الْخلاف فَائِدَة لَا تنكر وَكَثِيرًا مَا يستنبط من أمعن النّظر فِيهَا قولا آخر يُوَافق كل وَاحِد من الْأَقْوَال الْمَذْكُورَة من بعض الْوُجُوه وَكَثِيرًا مَا يكون أقوى من كل وَاحِد مِنْهَا وأقوم وَقد وَقع ذَلِك فِي مسَائِل لَا تحصى فِي عُلُوم شَتَّى

وَإِن كَانَت تِلْكَ الْأَقْوَال غير مُخْتَلفَة فِي الْمَآل كَانَ من توارد الْعبارَات الْمُخْتَلفَة على الشَّيْء الْوَاحِد وَفِي ذَلِك من رسوخ الْمَسْأَلَة فِي النَّفس ووضوح أمرهَا مَا لَا يكون فِي الْعبارَة الْوَاحِدَة على أَن بعض الْعبارَات رُبمَا كَانَ فِيهَا شَيْء من الْإِبْهَام أَو الْإِيهَام فيزول ذَلِك بغَيْرهَا وَقد يكون بَعْضهَا أقرب إِلَى فهم بعض الناظرين فكثيرا مَا تعرض عبارتان متحدتا الْمَعْنى لاثْنَيْنِ تكون إِحْدَاهمَا أقرب إِلَى فهم أَحدهمَا وَالْأُخْرَى أقرب إِلَى فهم الآخر وَهَذَا مشَاهد بالعيان لَا يحْتَاج إِلَى برهَان وَمن ثمَّ ترى بعض المؤلفين قد يأْتونَ بِعِبَارَة ثمَّ إِذا بدا لَهُم أَن بعض المطالعين رُبمَا لم يفهمها أَتَوا بِعِبَارَة أُخْرَى وأشاروا إِلَى ذَلِك

وَإِذا عرفت هَذَا تبين لَك أَن مثل هَؤُلَاءِ المعترضين مثل غر جال فِي الْأَسْوَاق فَصَارَ كلما رأى شَيْئا لم يشْعر بفائدته أَو لم تدع حَاجته إِلَيْهِ عد وجوده عَبَثا وسفه رَأْي عماله والراغبين فِيهِ وَكَانَ الأجدر بِهِ أَن يقبل على مَا يعنيه ويعرض عَمَّا لَا يعنيه

وَكَأن كثيرا مِنْهُم يظنّ أَن الِاعْتِرَاض على أَي وَجه كَانَ يدل على الْعلم والنباهة مَعَ انه كثيرا مَا يدل على الْجَهْل والبلاهة وَلَا نُرِيد بِمَا ذكرنَا سد بَاب الِاعْتِرَاض على المؤلفين والمؤلفات بل صد الَّذين بتعرضون لذَلِك ببادىء الرَّأْي لَا غير وَإِلَّا فالاعتراض إِذا كَانَ معقولا لَا يُنكر بل قد يحمد عَلَيْهِ صَاحبه ويشكر
মতভেদের জ্ঞান রাখার মধ্যে অনস্বীকার্য উপকারিতা রয়েছে। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তিনি প্রায়শই এমন এক নতুন অভিমত উদ্ভাবন করেন যা উল্লিখিত প্রতিটি মতের সাথে কোনো না কোনো দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; এবং অনেক ক্ষেত্রে তা প্রতিটি মতের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়। বিভিন্ন শাস্ত্রে অসংখ্য মাসআলায় এমনটি ঘটেছে।

আর যদি সেই অভিমতগুলো শেষ পর্যন্ত ভিন্ন না হয়, তবে তা একই বিষয়ের ওপর ভিন্ন ভিন্ন শব্দপ্রয়োগের সমাহার বলে গণ্য হয়। এর ফলে বিষয়টি অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয় এবং এমন স্পষ্টতা লাভ করে যা কেবল একটি শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাছাড়া, কোনো কোনো শব্দপ্রয়োগে কিছুটা অস্পষ্টতা বা সংশয় থাকতে পারে, যা অন্য শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে দূর হয়ে যায়। আবার কোনো কোনোটি কোনো পাঠকের বোধগম্যতার অধিক নিকটবর্তী হতে পারে। অনেক সময় একই অর্থবোধক দুটি বাক্য দুই ব্যক্তির সামনে উপস্থাপন করা হলে দেখা যায় যে, একটি বাক্য একজনের কাছে অধিক সহজবোধ্য এবং অন্যটি অন্যজনের কাছে। এটি প্রত্যক্ষ বাস্তব, যা প্রমাণের প্রয়োজন রাখে না। এ কারণেই দেখা যায় যে, কোনো কোনো লেখক একটি শব্দপ্রয়োগ করেন, অতঃপর যখন মনে করেন কোনো পাঠক হয়তো তা বুঝতে সক্ষম হবেন না, তখন অন্য একটি শব্দপ্রয়োগ করেন এবং সেদিকে ইশারা করে দেন।

আপনি যখন বিষয়টি জানলেন, তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এ জাতীয় আপত্তিকারীদের উদাহরণ হলো বাজারে বিচরণকারী এমন এক অনভিজ্ঞ ব্যক্তির মতো, যে যখনই এমন কিছু দেখে যার উপকারিতা সম্পর্কে সে অবগত নয় অথবা যেটির প্রয়োজনীয়তা তার নেই, তখনই সে তার অস্তিত্বকে অনর্থক মনে করে এবং এর প্রস্তুতকারক ও আগ্রহীদের সিদ্ধান্তকে মূর্খতা বলে গণ্য করে। অথচ তার জন্য অধিকতর সংগত ছিল নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়ে মনোনিবেশ করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে বিমুখ থাকা।

মনে হয় যেন তাদের অনেকেই ধারণা করে যে, যেকোনো প্রকারের আপত্তি উত্থাপন করা ইলম ও বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক; যদিও অনেক ক্ষেত্রে তা মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতারই প্রমাণ দেয়। আমরা যা উল্লেখ করলাম তার উদ্দেশ্য লেখক ও গ্রন্থাদির ওপর আপত্তির পথ রুদ্ধ করা নয়, বরং তাদের প্রতিহত করা যারা কেবল প্রাথমিক ধারণার বশবর্তী হয়ে বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তর্কে লিপ্ত হয়। অন্যথায়, আপত্তি যদি যৌক্তিক হয় তবে তা অস্বীকার করার কিছু নেই, বরং এর জন্য আপত্তিকারী প্রশংসিত ও কৃতজ্ঞতার পাত্র হন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

 

‌‌فِي سَبَب جمع الحَدِيث فِي الصُّحُف وَمَا يُنَاسب ذَلِك

 

كَانَت الصَّحَابَة رضي الله عنهم لَا يَكْتُبُونَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم غير الْقُرْآن أخرج مُسلم فِي صَحِيحه عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تكْتبُوا عني وَمن كتب عني غير الْقُرْآن فليمحه وَحَدثُوا عني فَلَا حرج وَمن كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار

قَالَ كثير من الْعلمَاء نَهَاهُم عَن كِتَابَة الحَدِيث خشيَة اخْتِلَاطه بِالْقُرْآنِ وَهَذَا لَا يُنَافِي جَوَاز كِتَابَته إِذا أَمن اللّبْس وَبِذَلِك يحصل الْجمع بَين هَذَا وَبَين قَوْله عليه الصلاة والسلام فِي مَرضه الَّذِي توفّي فِيهِ ايتوني بِكِتَاب أكتب لكم كتابا لَا تضلوا بعده وَقَوله اكتبوا لأبي شاه وَغير ذَلِك مِمَّا هُوَ مَعْرُوف عِنْد أهل الحَدِيث

وَلما توفّي النَّبِي عليه الصلاة والسلام بَادر الصَّحَابَة إِلَى جمع مَا كتب فِي عَهده فِي مَوضِع وَاحِد وَسموا ذَلِك الْمُصحف واقتصروا على ذَلِك وَلم يتجاوزوه إِلَى كِتَابَة الحَدِيث وَجمعه فِي مَوضِع وَاحِد كَمَا فعلوا بِالْقُرْآنِ لَكِن صرفُوا هممهم إِلَى نشره بطرِيق الرِّوَايَة إِمَّا بِنَفس الْأَلْفَاظ الَّتِي سمعوها مِنْهُ عليه الصلاة والسلام إِن بقيت فِي أذهانهم أَو بِمَا يُؤَدِّي مَعْنَاهَا إِن غَابَتْ عَنْهُم فَإِن الْمَقْصُود بِالْحَدِيثِ هُوَ الْمَعْنى وَلَا يتَعَلَّق فِي الْغَالِب حكم بالمبنى بِخِلَاف الْقُرْآن فَإِن لألفاظه مدخلًا فِي الإعجاز فَلَا يجوز إِبْدَال لفظ مِنْهُ بِلَفْظ آخر وَلَو كَانَ مرادفا لَهُ خشيَة النسْيَان مَعَ طول الزَّمَان فَوَجَبَ أَن يُقيد بِالْكِتَابَةِ وَلَا يكْتَفى فِيهِ بِالْحِفْظِ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

‌পাণ্ডুলিপিতে হাদিস সংকলনের কারণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গে

 

সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখতেন না। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা আমার থেকে (কুরআন ছাড়া অন্য কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত আমার থেকে কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তবে তোমরা আমার থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

অনেক আলেম বলেছেন, তিনি তাঁদের হাদিস লিখতে নিষেধ করেছিলেন কুরআনের সাথে তা মিশে যাওয়ার আশঙ্কায়। আর এটি কোনো বিভ্রান্তির সম্ভাবনা না থাকলে হাদিস লেখার বৈধতার পরিপন্থী নয়। এর মাধ্যমেই এই নিষেধাজ্ঞা এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ইন্তেকালের অসুস্থতার সময়কার বাণীর মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন, "তোমরা আমার কাছে কাগজ নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দেব যেন তোমরা এরপর পথভ্রষ্ট না হও।" এবং তাঁর বাণী, "আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও" এবং এছাড়া হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট পরিচিত আরও অন্যান্য বর্ণনা।

যখন নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁর যুগে লিখিত বিষয়গুলো এক স্থানে সংকলন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেন এবং তার নাম দিলেন 'মুসহাফ'। তাঁরা শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেন এবং কুরআনের মতো হাদিস এক স্থানে সংকলন ও লিপিবদ্ধ করার দিকে অগ্রসর হলেন না। বরং তাঁরা বর্ণনার মাধ্যমে হাদিস প্রচারে মনোনিবেশ করলেন; হয় সেই শব্দেই যা তাঁরা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন যদি তা তাঁদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত থাকে, অথবা অর্থের মাধ্যমে যা মূল উদ্দেশ্য পূরণ করে যদি শব্দ তাঁদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। কারণ হাদিসের মূল উদ্দেশ্য হলো এর অর্থ, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কাঠামোগত শব্দের সাথে কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট থাকে না। পক্ষান্তরে কুরআন এর বিপরীত; কেননা এর শব্দাবলি অলৌকিকতার অন্তর্ভুক্ত। তাই সময়ের আবর্তনে বিস্মৃতির আশঙ্কায় কুরআনের কোনো শব্দকে তার সমার্থক শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করাও বৈধ নয়। ফলে এটিকে লেখনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত করা আবশ্যক ছিল এবং কেবল মুখস্থ রাখার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট ছিল না।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৬)
قَالَ الإِمَام الْخطابِيّ فِي كِتَابه فِي إعجاز الْقُرْآن إِنَّمَا يقوم الْكَلَام بِهَذِهِ الْأَشْيَاء الثَّلَاثَة لفظ حَامِل وَمعنى قَائِم بِهِ ورباط لَهما ناظم وَإِذا تَأَمَّلت الْقُرْآن وجدت هَذِه الْأُمُور مِنْهُ فِي غَايَة الشّرف والفضيلة حَتَّى لَا ترى شَيْئا من الْأَلْفَاظ أفْصح وَلَا أجزل وَلَا أعذب من أَلْفَاظه وَلَا ترى نظما أحسن تأليفا وَأَشد تلاؤما وتشاكلا من نظمه

وَأما مَعَانِيه فَكل ذِي لب يشْهد لَهَا بالتقدم فِي أبوابه والترقي إِلَى أَعلَى درجاته وَقد تُوجد هَذِه الْفَضَائِل الثَّلَاث على التَّفَرُّق فِي أَنْوَاع الْكَلَام فَأَما أَن تُوجد مَجْمُوعَة فِي نوع وَاحِد مِنْهُ فَلم تُوجد إِلَّا فِي كَلَام الْعَلِيم الْقَدِير

فَخرج من هَذَا أَن الْقُرْآن إِنَّمَا صَار معجزا لِأَنَّهُ جَاءَ بأفصح الْأَلْفَاظ فِي أحسن نظم فِي التَّأْلِيف مضمنا أصح الْمعَانِي من تَوْحِيد الله تَعَالَى وتنزيه لَهُ فِي ذَاته وَصِفَاته وَدُعَاء إِلَى طَاعَته وَبَيَان لطريق عِبَادَته وَمن تَحْلِيل وَتَحْرِيم وحظر وَإِبَاحَة وَمن وعظ وتقويم وَأمر بِمَعْرُوف وَنهي عَن مُنكر وإرشاد إِلَى محَاسِن الْأَخْلَاق وزجر عَن مساويها وَاضِعا كل شَيْء مِنْهَا مَوْضِعه الَّذِي لَا يرى شَيْء أولى مِنْهُ

وَلَا يتَوَهَّم فِي صُورَة الْعقل أَمر أليق بِهِ مِنْهُ مودعا أَخْبَار الْقُرُون الْمَاضِيَة وَمَا نزل من مثلات الله بِمن مضى وعاند مِنْهُم منبئا عَن الكوائن المستقبلية فِي الْأَعْصَار الْآتِيَة من الزَّمَان جَامعا بَين الْحجَّة والمحتج لَهُ وَالدَّلِيل والمدلول عَلَيْهِ ليَكُون ذَلِك آكِد للُزُوم مَا دَعَا إِلَيْهِ وأنبأ عَن وجوب مَا أَمر بِهِ وَنهى عَنهُ

وَمَعْلُوم أَن الْإِتْيَان بِمثل هَذِه الْأُمُور وَالْجمع بَين أشتاتها حَتَّى تنتظم وتتسق أَمر تعجز عَنهُ قوى الْبشر وَلَا تبلغه قدرتهم فَانْقَطع الْخلق دونه وعجزوا عَن معارضته بِمثلِهِ أَو مناقضته فِي شكله اهـ
ইমাম খাত্তাবি তাঁর 'ইজাযুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: কথা মূলত তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়—একটি বাহক শব্দ, তাতে বিদ্যমান একটি অর্থ এবং এই দুটির মাঝে সমন্বয়কারী একটি সুসংগত যোগসূত্র। আর যখন আপনি কুরআন নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন আপনি এর মধ্যে এই বিষয়গুলোকে চরম মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে দেখতে পাবেন; এমনকি আপনি এর শব্দাবলীর চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল, শক্তিশালী বা মিষ্ট আর কোনো শব্দ দেখতে পাবেন না। এবং এর বাচনভঙ্গির চেয়ে উৎকৃষ্ট বিন্যাস এবং অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুসংগত কোনো রচনাশৈলী খুঁজে পাবেন না।

আর এর অর্থসমূহ সম্পর্কে যেকোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই এর প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব এবং সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হওয়ার সাক্ষ্য দেবেন। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন ধরনের কথার মাঝে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু একই সাথে এগুলো কোনো এক প্রকারের কথায় একত্রিত হওয়া কেবল সর্বজ্ঞাতা ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কালাম ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায়নি।

এ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, কুরআন মুজিযা বা অলৌকিক হওয়ার কারণ হলো এটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল শব্দাবলিতে এবং সর্বোত্তম রচনাশৈলীতে অবতীর্ণ হয়েছে, যা অত্যন্ত সঠিক ও নির্ভুল অর্থকে ধারণ করে আছে; যেমন—মহান আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ), তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা, তাঁর আনুগত্যের প্রতি আহ্বান এবং তাঁর ইবাদতের পদ্ধতির বর্ণনা। আরও রয়েছে হালাল-হারাম, নিষিদ্ধ ও বৈধতা, উপদেশ ও সংশোধন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, এবং উন্নত চরিত্রের প্রতি নির্দেশনা ও মন্দ কাজ থেকে সতর্কতা। এখানে প্রতিটি বিষয়কে এমন সুনির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে যে, তার চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কোনো স্থান হতে পারে না।

আর বিবেক-বুদ্ধির বিচারে এর চেয়ে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ আর কোনো বিষয় কল্পনা করা যায় না। এতে সংরক্ষিত আছে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ এবং অতীতে যারা অবাধ্যতা ও হঠকারিতা করেছিল তাদের ওপর আপতিত আল্লাহর শাস্তিসমূহ। এটি অনাগত ভবিষ্যতের ঘটনাবলির সংবাদ প্রদানকারী। এটি প্রমাণ ও প্রমাণের বিষয়বস্তু এবং দলিল ও যার ওপর দলিল দেওয়া হচ্ছে—এই সবকিছুর মাঝে এমন সমন্বয়কারী, যাতে এটি যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করেছে তার আবশ্যকতা এবং যে বিষয়গুলোর আদেশ ও নিষেধ করেছে তার গুরুত্ব পালনের ক্ষেত্রে অধিকতর সুদৃঢ় হয়।

এটি সুনিশ্চিত যে, এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং এগুলোর বিভিন্ন দিককে এমনভাবে সুসংগত ও সুবিন্যস্ত করা মানুষের শক্তির ঊর্ধ্বে এবং তাদের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে সৃষ্টিজগত এর সমকক্ষ হতে পিছিয়ে পড়েছে এবং তারা এর অনুরূপ কোনো কিছু নিয়ে আসার মাধ্যমে এর মোকাবিলা করতে বা এর সমতুল্য কিছু পেশ করতে অপারগ হয়েছে। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَقَالَ إِمَام الْمُتَكَلِّمين على طَريقَة السّلف تَقِيّ الدّين أَحْمد بن تَيْمِية فِي الرسَالَة الملقبة بالتسعينية وَهِي رِسَالَة تبلغ مجلدا كَبِيرا ألفها فِي الرَّد على الْمُتَكَلِّمين على طَريقَة الْخلف فِي مَسْأَلَة الْكَلَام فِي الْوَجْه الثَّالِث وَالسِّتِّينَ وَيجب أَن يعلم أصلان عظيمان

أَحدهمَا أَن الْقُرْآن لَهُ بِهَذَا اللَّفْظ وَالنّظم الْعَرَبِيّ اخْتِصَاص لَا يُمكن أَن يماثله فِي ذَلِك شَيْء أصلا أَعنِي خَاصَّة فِي اللَّفْظ وخاصة فِيمَا دلّ عَلَيْهِ من الْمَعْنى وَلِهَذَا لَو فسر الْقُرْآن أَو ترْجم فالتفسير والترجمة قد يَأْتِي بِأَصْل الْمَعْنى أَو بِمَا يقرب مِنْهُ وَأما الْإِتْيَان بِلَفْظ يبين الْمَعْنى كبيان لفظ الْقُرْآن فَهَذَا غير مُمكن أصلا وَلِهَذَا كَانَ أَئِمَّة الدّين على أَنه لَا يجوز أَن يقْرَأ بِغَيْر الْعَرَبيَّة لَا مَعَ الْقُدْرَة عَلَيْهَا وَلَا مَعَ الْعَجز عَنْهَا لِأَن ذَلِك يُخرجهُ عَن أَن يكون هُوَ الْقُرْآن الْمنزل وَلَكِن يجوز تَرْجَمته كَمَا يجوز تَفْسِيره وَإِن لم تجز قِرَاءَته بِأَلْفَاظ التَّفْسِير وَهِي إِلَيْهِ أقرب من أَلْفَاظ التَّرْجَمَة بِأَلْفَاظ أُخْرَى

الأَصْل الثَّانِي أَنه إِذا ترْجم أَو قرئَ بالترجمة فَلهُ معنى يخْتَص بِهِ لَا يماثله فِيهِ كَلَام أصلا وَمَعْنَاهُ أَشد مباينة لسَائِر مَعَاني الْكَلَام من مباينة لَفظه ونظمه لسَائِر اللَّفْظ وَالنّظم والإعجاز فِي مَعْنَاهُ أعظم بِكَثِير كثير من الإعجاز فِي لَفظه وَقَوله تَعَالَى {قل لَئِن اجْتمعت الْإِنْس وَالْجِنّ على أَن يَأْتُوا بِمثل هَذَا الْقُرْآن لَا يأْتونَ بِمثلِهِ وَلَو كَانَ بَعضهم لبَعض ظهيرا} يتَنَاوَل ذَلِك كُله انْتهى

هَذَا وَلم يزل أَمر الحَدِيث فِي عصر الصَّحَابَة وَأول عصر التَّابِعين على مَا ذكرنَا وَلما أفضت الْخلَافَة إِلَى من قَامَ بِحَقِّهَا عمر بن عبد الْعَزِيز أَمر بِكِتَابَة
এবং সালাফদের তরিকায় মুতাকাল্লিমগণের ইমাম তাকিউদ্দিন আহমদ ইবনে তাইমিয়াহ 'আত-তিসয়িনিইয়াহ' নামক রিসালায়—যা একটি বিশাল খণ্ড এবং কালাম বা বক্তব্য সংক্রান্ত বিষয়ে খালাফদের তরিকায় চলা মুতাকাল্লিমদের খণ্ডন করতে তিনি রচনা করেছেন—তার তেষট্টিতম পরিচ্ছেদে বলেছেন: "দুটি মহান মূলনীতি জানা আবশ্যক।"

প্রথমটি হলো, এই আরবি শব্দ ও বিন্যাসের মাধ্যমে কুরআনের এমন এক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার সাথে কোনো কিছুরই তুলনা করা সম্ভব নয়; অর্থাৎ বিশেষত শব্দের ক্ষেত্রে এবং বিশেষত তা যে অর্থের দিকে নির্দেশ করে তার ক্ষেত্রে। এই কারণেই যদি কুরআনের ব্যাখ্যা বা অনুবাদ করা হয়, তবে সেই ব্যাখ্যা ও অনুবাদ হয়তো মূল অর্থ অথবা তার কাছাকাছি কিছু প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু কুরআনের শব্দ যেভাবে অর্থকে স্পষ্ট করে, তেমন স্পষ্টকারী কোনো শব্দ নিয়ে আসা মোটেও সম্ভব নয়। এই কারণেই দ্বীনের ইমামগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, আরবি ব্যতিরেকে অন্য কোনো ভাষায় কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়, চাই তা করার সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক; কারণ তা কুরআনকে অবতীর্ণ কুরআন হওয়ার মর্যাদা থেকে বের করে দেয়। তবে এর অনুবাদ করা জায়েজ যেমন এর ব্যাখ্যা করা জায়েজ, যদিও ব্যাখ্যার শব্দ দিয়ে তা পাঠ করা জায়েজ নয়, অথচ ব্যাখ্যার শব্দগুলো অন্য ভাষার অনুবাদের শব্দের তুলনায় কুরআনের অধিক নিকটবর্তী।

দ্বিতীয় মূলনীতি হলো, যখন কুরআনের অনুবাদ করা হয় বা অনুবাদের মাধ্যমে তা পাঠ করা হয়, তখন এর এমন এক বিশেষ অর্থ থাকে যার সদৃশ কোনো কথা নেই। অন্যান্য কথার অর্থের সাথে এর অর্থের যে ভিন্নতা, তা শব্দ ও বিন্যাসের ভিন্নতার চেয়েও অনেক বেশি প্রখর। এর অর্থের অলৌকিকত্ব এর শব্দের অলৌকিকত্বের চেয়ে অনেক অনেক বেশি মহান। আর মহান আল্লাহর বাণী—"বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়"—এই সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করে। সমাপ্ত।

এই হলো বিষয়। আর সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীদের প্রাথমিক যুগে হাদীসের অবস্থা আমরা যেমন উল্লেখ করেছি তেমনই ছিল। এরপর যখন খিলাফতের দায়িত্ব এমন একজনের কাছে হস্তান্তরিত হলো যিনি তার যথাযথ হক আদায় করেছেন, অর্থাৎ উমর ইবনে আবদুল আজিজ, তখন তিনি তা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الحَدِيث وَكَانَت مبايعته بالخلافة فِي صفر سنة تسع وَتِسْعين ووفاته لخمس بَقينَ من رَجَب سنة إِحْدَى ومئة وعاش أَرْبَعِينَ سنة وأشهرا وَكَانَ مَوته بالسم فَإِن بني أُميَّة ظهر لَهُم أَنه إِن امتدت أَيَّامه أخرج الْأَمر من أَيْديهم وَلم يعْهَد بِهِ إِلَّا لمن يصلح لَهُ فعاجلوه

قَالَ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه فِي كتاب الْعلم وَكتب عمر بن عبد الْعَزِيز إِلَى أبي بكر بن حزم انْظُر مَا كَانَ من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فاكتبه فَإِنِّي خفت دروس الْعلم وَذَهَاب الْعلمَاء

وَأَبُو بكر هَذَا كَانَ نَائِب عمر بن عبد الْعَزِيز فِي الإمرة وَالْقَضَاء على الْمَدِينَة روى عَن السَّائِب بن يزِيد وَعباد بن تَمِيم وَعَمْرو بن سليم الزرقي وروى عَن خَالَته عمْرَة وَعَن خالدة ابْنة أنس وَلها صُحْبَة

قَالَ مَالك لم يكن أحد بِالْمَدِينَةِ عِنْده من علم الْقَضَاء مَا كَانَ عِنْد أبي بكر بن حزم وَكتب إِلَيْهِ عمر بن عبد الْعَزِيز أَن يكْتب لَهُ من الْعلم مَا عِنْد عمْرَة وَالقَاسِم فَكَتبهُ لَهُ وَأخذ عَنهُ معمر وَالْأَوْزَاعِيّ وَاللَّيْث وَمَالك وَابْن أبي ذِئْب وَابْن إِسْحَاق وَغَيرهم وَكَانَت وَفَاته فِيمَا قَالَه الْوَاقِدِيّ وَابْن سعد وَجَمَاعَة سنة عشْرين ومئة

وَأول من دون الحَدِيث بِأَمْر عمر بن عبد الْعَزِيز مُحَمَّد بن مُسلم بن عبيد الله بن عبد الله بن شهَاب الزُّهْرِيّ الْمدنِي أحد الْأَئِمَّة الْأَعْلَام وعالم أهل الْحجاز وَالشَّام

أَخذ عَن ابْن عمر وَسَهل بن سعد وَأنس بن مَالك ومحمود بن الرّبيع وَسَعِيد بن الْمسيب وَأبي أُمَامَة بن سهل وطبقتهم من صغَار الصَّحَابَة وكبار التَّابِعين
হাদিস। তাঁর খিলাফতের বাইয়াত হয়েছিল ৯৯ হিজরির সফর মাসে এবং তাঁর ইন্তেকাল হয় ১০১ হিজরির রজব মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে। তিনি চল্লিশ বছর কয়েক মাস জীবিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বিষক্রিয়ায়। কেননা বনু উমাইয়্যাহর নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, যদি তাঁর আয়ু দীর্ঘ হয়, তবে তিনি খিলাফতের বিষয়টিকে তাদের হাত থেকে বের করে দেবেন এবং তিনি কেবল তাঁর জন্যই অসিয়ত করবেন যে এর যোগ্য। তাই তারা তাঁর ব্যাপারে তড়িঘড়ি করে।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে 'কিতাবুল ইলম'-এ বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে হাজমের নিকট লিখেছিলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের মধ্যে যা আছে তা অনুসন্ধান করো এবং তা লিপিবদ্ধ করো। কারণ আমি ইলমের বিলুপ্তি এবং আলিমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।"

এই আবু বকর ছিলেন মদিনার শাসন ও বিচারকার্যে উমর ইবনে আবদুল আজিজের প্রতিনিধি। তিনি সায়িব ইবনে ইয়াজিদ, আব্বাদ ইবনে তামিম এবং আমর ইবনে সুলাইম আল-জুরকি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর খালা আমরাহ এবং খালিদাহ বিনতে আনাস থেকেও বর্ণনা করেছেন, যাঁর সাহচর্য ছিল।

ইমাম মালিক বলেন, মদিনায় বিচারকার্য সংক্রান্ত ইলমে আবু বকর ইবনে হাজমের সমকক্ষ কেউ ছিল না। উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁর নিকট লিখেছিলেন যেন তিনি আমরাহ এবং কাসিমের নিকট থাকা ইলম লিপিবদ্ধ করে তাঁর নিকট পাঠান; অতঃপর তিনি তা লিখে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর নিকট থেকে মা’মার, আওজায়ি, লাইস, মালিক, ইবনে আবু জিব, ইবনে ইসহাক এবং আরও অনেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন। ওয়াকিদি, ইবনে সাদ এবং একদল ঐতিহাসিকের মতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১২০ হিজরিতে।

উমর ইবনে আবদুল আজিজের নির্দেশে সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন করেন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি আল-মাদানি। তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং হিজাজ ও শামবাসীদের আলিম।

তিনি ইবনে উমর, সাহল ইবনে সাদ, আনাস ইবনে মালিক, মাহমুদ ইবনে রবি, সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব, আবু উমামাহ ইবনে সাহল এবং তাঁদের সমপর্যায়ের কনিষ্ঠ সাহাবী ও জ্যেষ্ঠ তাবেয়িদের নিকট থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَأخذ عَنهُ معمر وَالْأَوْزَاعِيّ وَاللَّيْث وَمَالك وَابْن أبي ذِئْب وَغَيرهم ولد سنة خمسين وَتُوفِّي سنة أَربع وَعشْرين ومئة

قَالَ عبد الرَّزَّاق سَمِعت معمرا يَقُول كُنَّا نرى أَنا قد أكثرنا عَن الزُّهْرِيّ حَتَّى قتل الْوَلِيد بن يزِيد فَإِذا الدفاتر قد حملت على الدَّوَابّ من خزائنه يَقُول من علم الزُّهْرِيّ

ثمَّ شاع التدوين فِي الطَّبَقَة الَّتِي تلِي طبقَة الزُّهْرِيّ ولوقوع ذَلِك فِي كثير من الْبِلَاد وشيوعه بَين النَّاس اعتبروه الأول فَقَالُوا كَانَت الْأَحَادِيث فِي عصر الصَّحَابَة وكبار التَّابِعين غير مدونة فَلَمَّا انتشرت الْعلمَاء فِي الْأَمْصَار وشاع الابتداع دونت ممزوجة بأقوال الصَّحَابَة وفتاوى التَّابِعين

وَأول من جمع ذَلِك ابْن جريح بِمَكَّة وَابْن إِسْحَاق أَو مَالك بِالْمَدِينَةِ وَالربيع بن صبيح أَو سعيد بن أبي عرُوبَة أَو حَمَّاد بن سَلمَة بِالْبَصْرَةِ وسُفْيَان الثَّوْريّ بِالْكُوفَةِ وَالْأَوْزَاعِيّ بِالشَّام وهشيم بواسط وَمعمر بِالْيمن وَجَرِير بن عبد الحميد بِالريِّ وَابْن الْمُبَارك بخراسان وَكَانَ هَؤُلَاءِ فِي عصر وَاحِد وَلَا يدْرِي أَيهمْ سبق قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر إِن مَا ذكر إِنَّمَا هُوَ بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْجمع فِي الْأَبْوَاب وَأما جمع حَدِيث إِلَى مثله فِي بَاب وَاحِد فقد سبق إِلَيْهِ الشّعبِيّ فَإِنَّهُ رُوِيَ عَنهُ أَنه قَالَ هَذَا بَاب من الطَّلَاق جسيم وسَاق فِيهِ أَحَادِيث اهـ

وتلا الْمَذْكُورين كثير من أهل عصرهم إِلَى أَن رأى بعض الْأَئِمَّة إِفْرَاد أَحَادِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَاصَّة وَذَلِكَ على رَأس المئتين فصنف عبيد الله بن مُوسَى الْعَبْسِي الْكُوفِي مُسْندًا وصنف مُسَدّد الْبَصْرِيّ مُسْندًا وصنف أَسد بن مُوسَى مُسْندًا وصنف نعيم بن حَمَّاد الْخُزَاعِيّ مُسْندًا
তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন মা'মার, আওযাঈ, লাইস, মালিক, ইবন আবি যিব এবং আরও অনেকে। তিনি পঞ্চাশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং একশত চব্বিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি মা'মারকে বলতে শুনেছি যে, আমরা মনে করতাম আমরা যুহরি থেকে অনেক বেশি হাদিস গ্রহণ করেছি, যতক্ষণ না ওয়ালিদ ইবন ইয়াজিদ নিহত হলেন। তখন তাঁর ভাণ্ডার থেকে পশুর পিঠে করে বহু দফতর বহন করে নিয়ে যাওয়া হলো; বলা হচ্ছিল যে এগুলো যুহরির অর্জিত জ্ঞান।

অতঃপর যুহরির পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সংকলন ও গ্রন্থবদ্ধ করার ব্যাপক প্রচলন ঘটে। অনেক দেশেই এর বাস্তবায়ন এবং মানুষের মধ্যে এর প্রসারের কারণে তারা এটিকে প্রথম পর্যায় হিসেবে গণ্য করেন। তাই তারা বলেন, সাহাবী এবং বড় তাবেয়ীদের যুগে হাদিসসমূহ গ্রন্থবদ্ধ ছিল না। অতঃপর যখন আলেমগণ বিভিন্ন শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়লেন এবং বিদআতের উদ্ভব ঘটল, তখন সাহাবীদের বাণী এবং তাবেয়ীদের ফাতোয়ার সাথে হাদিসগুলো মিলিয়ে সংকলন করা হলো।

আর সর্বপ্রথম এগুলো একত্রিত করেন মক্কায় ইবন জুরাইজ, মদিনায় ইবন ইসহাক অথবা মালিক, বসরায় রাবী ইবন সাবিহ অথবা সাঈদ ইবন আবি আরুবাহ অথবা হাম্মাদ ইবন সালামাহ, কুফায় সুফিয়ান সাওরি, শাম অঞ্চলে আওযাঈ, ওয়াসিতে হুশাইম, ইয়ামেনে মা'মার, রাই অঞ্চলে জারীর ইবন আবদুল হামীদ এবং খোরাসানে ইবনুল মুবারক। তাঁরা সবাই একই যুগের ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কে অগ্রগামী ছিলেন তা জানা যায় না। হাফেজ ইবন হাজার বলেন, এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অধ্যায়ভিত্তিক সংকলনের প্রেক্ষিতে। আর এক বিষয়ের হাদিসসমূহকে এক অধ্যায়ে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ইমাম শা'বী অগ্রণী ছিলেন। কারণ তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন, "এটি তালাক বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়" এবং তিনি এতে অনেকগুলো হাদিস উপস্থাপন করেছিলেন। সমাপ্ত।

উল্লেখিত ব্যক্তিদের পরে তাঁদের সমসাময়িক আরও অনেকেই এই ধারা অনুসরণ করেন, অবশেষে কিছু ইমাম কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসগুলোকে পৃথকভাবে সংকলন করার সিদ্ধান্ত নেন। আর এটি ছিল হিজরি দুইশত সালের শুরুর দিকের কথা। ফলে উবাইদুল্লাহ ইবন মুসা আল-আবসি আল-কুফি একটি 'মুসনাদ' গ্রন্থ সংকলন করেন, মুসাদ্দাদ আল-বাসরি একটি 'মুসনাদ' সংকলন করেন, আসাদ ইবন মুসা একটি 'মুসনাদ' সংকলন করেন এবং নুআইম ইবন হাম্মাদ আল-খুযাঈ একটি 'মুসনাদ' সংকলন করেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫০)
ثمَّ اقتفى الْحفاظ آثَارهم فصنف الإِمَام أَحْمد مُسْندًا وَكَذَلِكَ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه وَعُثْمَان بن أبي شيبَة وَغَيرهم

وَلم يزل التَّأْلِيف فِي الحَدِيث مُتَتَابِعًا إِلَى أَن ظهر الإِمَام البُخَارِيّ وبرع فِي علم الحَدِيث وَصَارَ لَهُ فِيهِ الْمنزلَة الَّتِي لَيْسَ فَوْقهَا منزلَة فَأَرَادَ أَن يجرد الصَّحِيح ويجعله فِي كتاب على حِدة ليخلص طَالب الحَدِيث من عناء الْبَحْث وَالسُّؤَال فألف كِتَابه الْمَشْهُور وَأورد فِيهِ مَا تبين لَهُ صِحَّته

وَكَانَت الْكتب قبله ممزوجا فِيهَا الصَّحِيح بِغَيْرِهِ بِحَيْثُ لَا يتَبَيَّن للنَّاظِر فِيهَا دَرَجَة الحَدِيث من الصِّحَّة إِلَّا بعد الْبَحْث عَن أَحْوَال رُوَاته وَغير ذَلِك مِمَّا هُوَ مَعْرُوف عِنْد أهل الحَدِيث فَإِن لم يكن لَهُ وقُوف على ذَلِك اضْطر إِلَى أَن يسْأَل أَئِمَّة الحَدِيث عَنهُ فَإِن لم يَتَيَسَّر لَهُ ذَلِك بَقِي ذَلِك الحَدِيث مَجْهُول الْحَال عِنْده

واقتفى أثر الإِمَام البُخَارِيّ فِي ذَلِك الإِمَام مُسلم بن الْحجَّاج وَكَانَ من الآخذين عَنهُ والمستفيدين مِنْهُ فألف كِتَابه الْمَشْهُور

ولقب هَذَانِ الكتابان بالصحيحين فَعظم انْتِفَاع النَّاس بهما وَرَجَعُوا عِنْد الِاضْطِرَاب إِلَيْهِمَا وألفت بعدهمَا كتب لَا تحصى فَمن أَرَادَ الْبَحْث عَنْهَا فَليرْجع إِلَى مظان ذكرهَا

هَذَا وَقد توهم أنَاس مِمَّا ذكر آنِفا أَنه لم يُقيد فِي عصر الصَّحَابَة وأوائل عصر التَّابِعين بِالْكِتَابَةِ شَيْء غير الْكتاب الْعَزِيز وَلَيْسَ الْأَمر كَذَلِك فقد ذكر بعض الْحفاظ أَن زيد بن ثَابت ألف كتابا فِي علم الْفَرَائِض

وَذكر البُخَارِيّ فِي صَحِيحه أَن عبد الله بن عَمْرو كَانَ يكْتب الحَدِيث فَإِنَّهُ روى عَن أبي هُرَيْرَة أَنه قَالَ مَا من أحد من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ
অতঃপর হাফেজগণ তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। ফলে ইমাম আহমাদ একটি 'মুসনাদ' সংকলন করেন, তেমনিভাবে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, উসমান বিন আবু শাইবাহ এবং অন্যান্যরা।

হাদীস সংকলনের কাজ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ না ইমাম বুখারী আবির্ভূত হন এবং হাদীস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। হাদীস শাস্ত্রে তাঁর এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা তৈরি হলো যার উপরে আর কোনো মর্যাদা নেই। তিনি চাইলেন বিশুদ্ধ হাদীসসমূহকে পৃথক করতে এবং সেগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সন্নিবেশিত করতে, যাতে হাদীস অন্বেষণকারী ব্যক্তি অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। ফলে তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থটি সংকলন করেন এবং তাতে সেইসব হাদীসই উল্লেখ করেন যার বিশুদ্ধতা তাঁর নিকট স্পষ্ট হয়েছে।

তাঁর পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোতে সহীহ হাদীসের সাথে অন্য হাদীস এমনভাবে মিশ্রিত ছিল যে, পাঠকারীর নিকট হাদীসের বিশুদ্ধতার পর্যায় স্পষ্ট হতো না যতক্ষণ না বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং হাদীস বিশারদদের নিকট পরিচিত অন্যান্য বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা হতো। যদি কারো এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকতো, তবে সে হাদীস শাস্ত্রের ইমামদের নিকট জিজ্ঞাসা করতে বাধ্য হতো। আর যদি তা তার জন্য সহজসাধ্য না হতো, তবে সেই হাদীসটি তার কাছে অজ্ঞাতই থেকে যেত।

এ বিষয়ে ইমাম বুখারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ। তিনি তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনকারী ও উপকৃতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থটি সংকলন করেন।

এই গ্রন্থদ্বয় 'সহীহাইন' উপাধিতে ভূষিত হলো এবং এর মাধ্যমে মানুষের প্রভূত উপকার সাধিত হলো। কোনো বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিলে তারা এই গ্রন্থদ্বয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করত। তাঁদের পরে অসংখ্য কিতাব সংকলিত হয়েছে; যে ব্যক্তি সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে চায়, সে যেন সংশ্লিষ্ট উৎসগুলোর দিকে ফিরে যায়।

ইতিপূর্বে যা আলোচনা করা হয়েছে তা থেকে কিছু মানুষ এমন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেছে যে, সাহাবীগণের যুগে এবং তাবেয়ীগণের যুগের শুরুর দিকে মহান আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখনীর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। অনেক হাফেজে হাদীস উল্লেখ করেছেন যে, জায়েদ বিন সাবিত মিরাস বা ফারায়েজ শাস্ত্রে একটি কিতাব রচনা করেছিলেন।

ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর হাদীস লিখতেন। তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَسلم أَكثر حَدِيثا عَنهُ مني إِلَّا مَا كَانَ من عبد الله بن عَمْرو فَإِنَّهُ كَانَ يكْتب وَلَا أكتب

وَذكر مُسلم فِي صَحِيحه كتابا ألف فِي عهد ابْن عَبَّاس فِي قَضَاء عَليّ فَقَالَ حَدثنَا دَاوُد بن عَمْرو الضَّبِّيّ حَدثنَا نَافِع بن عمر عَن ابْن أبي مليكَة قَالَ كتبت إِلَى ابْن عَبَّاس أسأله أَن يكْتب لي كتابا ويخفي عني فَقَالَ ولد نَاصح أَنا أخْتَار لَهُ الْأُمُور اخْتِيَارا وأخفي عَنهُ قَالَ فَدَعَا بِقَضَاء عَليّ فَجعل يكْتب مِنْهُ أَشْيَاء ويمر بِهِ الشَّيْء فَيَقُول وَالله مَا قضى بِهَذَا عَليّ إِلَّا أَن يكون ضل

وَحدثنَا عَمْرو النَّاقِد حَدثنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن هِشَام بن حُجَيْر عَن طَاوس قَالَ أُتِي ابْن عَبَّاس بِكِتَاب فِيهِ قَضَاء عَليّ فمحاه إِلَّا قدر وَأَشَارَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة بذراعه

حَدثنَا حسن بن عَليّ الْحلْوانِي حَدثنَا يحيى بن آدم حَدثنَا ابْن إِدْرِيس عَن الْأَعْمَش عَن أبي إِسْحَاق قَالَ لما أَحْدَثُوا تِلْكَ الْأَشْيَاء بعد عَليّ عليه السلام قَالَ رجل من أَصْحَاب عَليّ قَاتلهم الله أَي علم أفسدوا

وَحدثنَا عَليّ بن خشرم أخبرنَا أَبُو بكر يَعْنِي ابْن عَيَّاش قَالَ سَمِعت الْمُغيرَة يَقُول لم يكن يصدق على عَليّ عليه السلام فِي الحَدِيث عَنهُ إِلَّا من أَصْحَاب عبد الله بن مَسْعُود اهـ
...তাঁর থেকে আমার চেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী আর কেউ ছিল না, কেবল আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ছাড়া; কারণ তিনি লিখতেন কিন্তু আমি লিখতাম না।

আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের যুগে আলীর বিচারকার্য সম্পর্কে সংকলিত একটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বী আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, নাফে ইবনে উমর আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে এই মর্মে পত্র লিখলাম যেন তিনি আমার জন্য একটি কিতাব লিখে দেন এবং কিছু বিষয় আমার থেকে গোপন রাখেন। তখন তিনি বললেন: ‘একজন হিতাকাঙ্ক্ষীর সন্তান, আমি তার জন্য বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বের সাথে বাছাই করব এবং (ভ্রান্ত বিষয়গুলো) তার থেকে গোপন রাখব।’ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আলীর ফয়সালা সম্বলিত কিতাবটি আনালেন এবং সেখান থেকে কিছু বিষয় লিখতে শুরু করলেন। আর যখন কোনো (সন্দেহজনক) বিষয় তাঁর সামনে আসত, তখন তিনি বলতেন: ‘আল্লাহর কসম, আলী কখনোই এমন ফয়সালা করেননি, করলে তিনি পথভ্রষ্ট হতেন।’

আমর আন-নাকিদ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম ইবনে হুজাইর থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসের নিকট একটি কিতাব আনা হলো যাতে আলীর ফয়সালাসমূহ লিপিবদ্ধ ছিল। তখন তিনি তা মুছে ফেললেন কেবল সামান্য পরিমাণ ছাড়া—বর্ণনাকারী সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা তাঁর হাত দিয়ে সেই সামান্য পরিমাণের ইঙ্গিত দিলেন।

হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ইদ্রিস আমাশ থেকে এবং তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন আলীর (আলাইহিস সালাম) পর লোকেরা নতুন সব (ভ্রান্ত) বিষয়ের উদ্ভব ঘটালো, তখন আলীর সাথীদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলল: ‘আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কত মহান জ্ঞানকে বিকৃত ও নষ্ট করে ফেলেছে!’

আলী ইবনে খাশরাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর অর্থাৎ ইবনে আইয়াশ আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি বলেন: আমি মুগিরাকে বলতে শুনেছি, আলীর (আলাইহিস সালাম) সূত্রে বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সাথীরা ছাড়া অন্য কারো বর্ণনাকে সত্য বলে গণ্য করা হতো না। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫২)
قَوْله ويخفي عني وأخفي عَنهُ هما بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَة وَقد ظن بَعضهم أَنَّهُمَا بِالْحَاء من الإحفاء بِمَعْنى الإلحاح أَو الِاسْتِقْصَاء وَجعل عَن بِمَعْنى على وَلَا يخفى مَا فِي ذَلِك من التعسف يُرِيد أَنه يكتم عَنهُ أَشْيَاء مِمَّا يخْشَى إِذا ظَهرت أَن يحصل مِنْهَا قيل وَقَالَ من النواصب والخوارج وناهيك بشوكتهما فِي ذَلِك الْعَصْر وبفرط ميلهما لمشاقة الإِمَام المرتضى فَاخْتَارَ عدم كِتَابَة ذَلِك دفا للمحذور مَعَ أَن هَذَا النَّوْع رُبمَا كَانَ مِمَّا لَا يلْزم السَّائِل مَعْرفَته وَإِن كَانَ مِمَّا يضْطَر إِلَيْهِ فَإِنَّهُ يُمكنهُ أَن يحصل عَلَيْهِ بطرِيق المشافهة

وَأَرَادَ بقوله وَالله مَا قضى عَليّ بِهَذَا إِلَّا أَن يكون ضل أَنه لم يقْض بِهِ لِأَنَّهُ لم يضل وَالظَّاهِر أَن الْكتاب الَّذِي محاه إِلَّا قدر ذِرَاع مِنْهُ كَانَ على هَيْئَة درج مستطيل

وَابْن أبي مليكَة الْمَذْكُور هُوَ عبد الله بن عبيد الله بن أبي مليكَة الْقرشِي التَّيْمِيّ الْمَكِّيّ قَاضِي مَكَّة فِي زمن ابْن الزبير وَكَانَ إِمَامًا فَقِيها فصيحا مفوها اتَّفقُوا على توثيقه روى عَنهُ ابْن جريح وَنَافِع بن عمر الجُمَحِي وَاللَّيْث بن سعد وَغَيرهم روى عَنهُ أَيُّوب قَالَ بَعَثَنِي ابْن الزبير على قَضَاء الطَّائِف فَكنت أسأَل ابْن عَبَّاس وَكَانَت وَفَاته سنه سبع عشرَة ومئة ووفاة ابْن عَبَّاس سنة ثَمَان وَسِتِّينَ

والمغيرة الْمَذْكُور هُوَ الْفَقِيه الْحَافِظ أَبُو هِشَام بن مقسم الضَّبِّيّ الْكُوفِي ولد أعمى وَكَانَ عجيبا فِي الذكاء قَالَ الذَّهَبِيّ فِي طَبَقَات الْحفاظ ضعف أَحْمد رِوَايَته عَن إِبْرَاهِيم فَقَط وَكَانَ عثمانيا وَيحمل على عَليّ بعض الْحمل وَقَالَ فِي الْمِيزَان إِمَام ثِقَة لَكِن لين أَحْمد بن حَنْبَل رِوَايَته عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ فَقَط مَعَ أَنَّهَا فِي الصَّحِيحَيْنِ وروى عَن أبي وَائِل وَالشعْبِيّ وَمُجاهد
তাঁর উক্তি "সে আমার নিকট গোপন করে এবং আমিও তার নিকট গোপন করি" শব্দদ্বয় বিন্দুযুক্ত 'খা' বর্ণ সহযোগে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে শব্দ দুটি 'হা' বর্ণ সহযোগে 'ইহফা' শব্দ থেকে উৎপন্ন যার অর্থ পিড়াপিড়ি করা বা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা এবং তারা 'আন' অব্যয়টিকে 'আলা' এর অর্থে গ্রহণ করেছেন। এতে যে কৃত্রিমতা ও জবরদস্তি রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তাঁর নিকট থেকে এমন কিছু বিষয় গোপন করেন যা প্রকাশ পেলে নওয়াসিব ও খাওয়ারিজদের পক্ষ থেকে নানা আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ তৈরি হওয়ার ভয় ছিল। সেই যুগে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং ইমাম মুরতাজার বিরোধিতা করার তীব্র প্রবণতা সম্পর্কে বলাই বাহুল্য। তাই তিনি সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোর জন্য তা না লেখাই পছন্দ করেছেন। তদুপরি এ ধরণের বিষয় হয়তো এমন ছিল যা প্রশ্নকারীর জানার প্রয়োজনীয়তা নেই, আর যদি তা জানার একান্ত প্রয়োজনও হতো, তবে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে তা জেনে নেওয়া সম্ভব ছিল।

এবং তাঁর উক্তি "আল্লাহর কসম, তিনি আমার ওপর এমন ফয়সালা করেননি যদি না তিনি পথভ্রষ্ট হতেন" এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, আল্লাহ এমন ফয়সালা করেননি কারণ তিনি পথভ্রষ্ট হন না। আর বাহ্যত সেই কিতাবটি, যা তিনি এক হাত পরিমাণ ব্যতীত অবশিষ্ট অংশ মুছে ফেলেছিলেন, তা ছিল একটি দীর্ঘ কাগজের কুণ্ডলীর ন্যায়।

উল্লিখিত ইবনে আবি মুলাইকা হলেন আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবি মুলাইকা আল-কুরাশি আত-তায়মি আল-মাক্কি, যিনি ইবনুল জুবায়েরের শাসনামলে মক্কার বিচারক ছিলেন। তিনি একজন ইমাম, ফকিহ এবং অত্যন্ত সুবক্তা ও বাগ্মী ছিলেন। তাঁর নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে জুরাইজ, নাফে বিন উমর আল-জুমাহি, লাইস বিন সাদ এবং অন্যান্যেরা বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইবনুল জুবায়ের আমাকে তায়েফের বিচারকার্যের জন্য পাঠিয়েছিলেন, তখন আমি ইবনে আব্বাসকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল একশ সতেরো হিজরিতে এবং ইবনে আব্বাসের মৃত্যু হয়েছিল আটষট্টি হিজরিতে।

উল্লিখিত মুগিরা হলেন ফকিহ ও হাফিজ আবু হিশাম বিন মিকসাম আদ-দব্বি আল-কুফি। তিনি জন্মান্ধ ছিলেন এবং অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। আয-যাহাবি 'তাবাকাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে বলেছেন যে, ইমাম আহমদ কেবল ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনাকে দুর্বল বলেছেন। তিনি উসমানি মতাদলম্বী ছিলেন এবং আলীর প্রতি কিছুটা কঠোরতা পোষণ করতেন। 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, তবে আহমদ বিন হাম্বল কেবল ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনাকে শিথিল বা দুর্বল বলেছেন, যদিও সেগুলো সহীহাইন-এ (বুখারি ও মুসলিম) রয়েছে। তিনি আবু ওয়ায়েল, আশ-শাবি এবং মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَقَالَ مُحَمَّد بن إِسْحَاق النديم فِي كتاب الفهرست فِي أثْنَاء وصف خزانَة للكتب رَآهَا فِي مَدِينَة الحديثة لم ير لأحد مثلهَا كَثْرَة وَرَأَيْت فِيهَا بخطوط الْإِمَامَيْنِ الْحسن وَالْحُسَيْن وَرَأَيْت عِنْده أمانات وعهودا بِخَط أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ عليه السلام وبخط غَيره من كتاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم

وَمن خطوط الْعلمَاء فِي النَّحْو واللغة مثل أبي عَمْرو بن الْعَلَاء وَأبي عَمْرو الشَّيْبَانِيّ والأصمعي وَابْن الْأَعرَابِي وسيبويه وَالْفراء وَالْكسَائِيّ

وَمن خطوط أَصْحَاب الحَدِيث مثل سُفْيَان بن عُيَيْنَة وسُفْيَان الثَّوْريّ وَالْأَوْزَاعِيّ وَغَيرهم

وَرَأَيْت مِمَّا يدل على أَن النَّحْو عَن أبي الْأسود مَا هَذِه حكايته وَهِي أَربع أوراق أحسبها من ورق الصين ترجمتها هَذِه فِيهَا كَلَام فِي الْفَاعِل وَالْمَفْعُول من أبي الْأسود رَحْمَة الله عَلَيْهِ بِخَط يحيى بن يعمر وَتَحْت هَذَا الْخط بِخَط عَتيق هَذَا خطّ عَلان النَّحْوِيّ وَتَحْته هَذَا خطّ النَّضر بن شُمَيْل اهـ

تَنْبِيه قد نقلنا آنِفا مَا ذكره الْعلمَاء الْأَعْلَام فِي طَرِيق الْجمع بَين الحَدِيث الَّذِي ورد فِي منع كِتَابَة مَا سوى الْقُرْآن وَالْأَحَادِيث الَّتِي وَردت فِي إجَازَة ذَلِك وَقد سلك ابْن قُتَيْبَة فِيهِ طَرِيقا آخر فَقَالَ فِي تَأْوِيل مُخْتَلف الحَدِيث وَهُوَ كتاب أَلفه فِي
মুহাম্মদ বিন ইসহাক আন-নাদিম তার 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে আল-হাদিসাহ শহরে দেখা একটি কুতুবখানার বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন যে, তিনি কারও কাছেই এর চেয়ে বিশাল কোনো সংগ্রহ দেখেননি। তিনি সেখানে দুই ইমাম হাসান ও হুসাইনের হস্তলিপি দেখেছেন। সেখানে তিনি আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম) এবং মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যান্য লেখকদের হস্তলিপিতে লিখিত আমানতনামা ও অঙ্গীকারনামাসমূহও প্রত্যক্ষ করেছেন।

আরও দেখেছেন নাহু (ব্যাকরণ) ও লুগাত (অভিধান) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের হস্তলিপি, যেমন: আবু আমর বিন আল-আলা, আবু আমর আশ-শায়বানী, আল-আসমায়ী, ইবনুল আরাবি, সিবওয়াইহ, আল-ফাররা এবং আল-কিসায়ী।

এবং মুহাদ্দিসগণের হস্তলিপি, যেমন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা, সুফিয়ান আস-সাওরি, আল-আওজায়ি এবং অন্যান্যদের।

তিনি আরও বলেন: আমি এমন কিছু দেখেছি যা প্রমাণ করে যে নাহু শাস্ত্র আবুল আসওয়াদ থেকে শুরু হয়েছে; এর বিবরণ হলো—আমি চারটি কাগজ দেখেছি, আমার ধারণা সেগুলো চীনের কাগজ। এর শিরোনাম ছিল—এতে আবুল আসওয়াদ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর পক্ষ থেকে ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে যা ইয়াহইয়া বিন ইয়ামারের হস্তলিপিতে লিখিত। এই লেখার নিচে একটি প্রাচীন হস্তলিপিতে লেখা ছিল: "এটি নাহুবিদ আল্লানের হস্তলিপি" এবং তার নিচে লেখা ছিল: "এটি আন-নাজর বিন শুমাইলের হস্তলিপি"। (সমাপ্ত)

সতর্কবার্তা: কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞায় যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং এর অনুমতিতে যে সকল হাদিস এসেছে, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতিতে বরেণ্য আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। তবে ইবনে কুতায়বাহ এই ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি তার রচিত 'তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস' গ্রন্থে—যা তিনি রচনা করেছেন—বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৪)
الرَّد على الْمُتَكَلِّمين الَّذين أولعوا بثلب أهل الحَدِيث ورميهم بِحمْل الْكَذِب وَرِوَايَة المتناقض حَتَّى وَقع الِاخْتِلَاف وَكَثُرت النَّحْل وتقطعت العصم وتعادى الْمُسلمُونَ وأكفر بَعضهم بَعْضًا وَتعلق كل فريق مِنْهُم لمذهبه بِجِنْس من الحَدِيث

قَالُوا أَحَادِيث متناقضة قَالُوا رويتم عَن همام عَن زيد بن أسلم عَن عَطاء ين يسَار عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تكْتبُوا عني شَيْئا سوى الْقُرْآن فَمن كتب عني شَيْئا فليمحه

ثمَّ رويتم عَن ابْن جريح عَن عَطاء عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ قلت يَا رَسُول الله أقيد الْعلم قَالَ نعم قيل وَمَا تَقْيِيده قَالَ كِتَابَته

ورويتم عَن حَمَّاد بن سَلمَة عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده قَالَ قلت يَا رَسُول الله أكتب كل مَا أسمع مِنْك قَالَ نعم قلت فِي الرِّضَا وَالْغَضَب قَالَ نعم فَإِنِّي لَا أَقُول فِي ذَلِك إِلَّا الْحق

قَالُوا وَهَذَا تنَاقض وَاخْتِلَاف

قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَنحن نقُول إِن فِي هَذَا مَعْنيين

أَحدهمَا أَن يكون من مَنْسُوخ السّنة بِالسنةِ كَأَنَّهُ نهى فِي أول الْأَمر أَن يكْتب قَوْله ثمَّ رأى بعد لما علم أَن السّنَن تكْثر وتفوت الْحِفْظ أَن تكْتب وتقيد

وَالْمعْنَى الآخر أَن يكون خص بِهَذَا عبد الله بن عَمْرو لِأَنَّهُ كَانَ قَارِئًا للكتب الْمُتَقَدّمَة وَيكْتب بالسُّرْيَانيَّة والعربية وَكَانَ غَيره من الصَّحَابَة أُمِّيين لَا يكْتب مِنْهُم إِلَّا الْوَاحِد والاثنان وَإِذا كتب لم يتقن وَلم يصب التهجي فَلَمَّا خشِي عَلَيْهِم الْغَلَط فِيمَا يَكْتُبُونَ نَهَاهُم وَلما أَمن على عبد الله بن عَمْرو ذَلِك أذن لَهُ

قَالَ أَبُو مُحَمَّد حَدثنَا إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه قَالَ حَدثنَا وهب بن جرير عَن أَبِيه عَن يُونُس بن عبيد عَن الْحسن عَن عَمْرو بن تغلب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من أَشْرَاط السَّاعَة أَن يفِيض المَال وَيظْهر الْقَلَم ويفشو التُّجَّار
সেই সব কালামশাস্ত্রবিদদের (মুতাকাল্লিমিন) খণ্ডন, যারা আহলে হাদিসের সমালোচনা করতে এবং তাদের ওপর মিথ্যা আরোপ ও পরস্পরবিরোধী বর্ণনা করার অপবাদ দিতে মত্ত ছিল; যার ফলে মতভেদ দেখা দিয়েছে, ফেরকা বৃদ্ধি পেয়েছে, বন্ধন ছিন্ন হয়েছে, মুসলমানরা আপোসে শত্রুতায় লিপ্ত হয়েছে, একে অপরকে কাফির বলেছে এবং প্রতিটি দল তাদের নিজ নিজ মাযহাবের সপক্ষে নির্দিষ্ট প্রকারের হাদিসের ওপর নির্ভর করেছে।

তারা বলে: এগুলো পরস্পরবিরোধী হাদিস। তারা বলে: আপনারা হাম্মাম থেকে, তিনি যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না। আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।"

পুনরায় আপনারা ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি জ্ঞানকে শৃঙ্খলিত (সংরক্ষণ) করব? তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" জিজ্ঞেস করা হলো, এর শৃঙ্খল কী? তিনি বললেন, "তা লিখে রাখা।"

আপনারা আরও বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছ থেকে যা শুনি তার সবই কি লিখে রাখব? তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আমি বললাম, সন্তুষ্টি এবং রাগান্বিত—উভয় অবস্থায় কি? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, কেননা আমি উভয় অবস্থাতেই সত্য ছাড়া আর কিছুই বলি না।"

তারা বলে: এটি হলো বৈপরীত্য ও মতভেদ।

আবু মুহাম্মদ বলেন: আমরা এর উত্তরে বলি যে, এখানে দুটি বিষয় বা ব্যাখ্যা রয়েছে।

প্রথমটি হলো—এটি সুন্নাহর মাধ্যমে সুন্নাহ মানসুখ (রহিত) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি এমন যে, তিনি দাওয়াতের শুরুর দিকে তাঁর কথা লিখে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি দেখলেন যে সুন্নাহর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা মুখস্থ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, তখন তিনি তা লিখে রাখার ও সংরক্ষণের অনুমতি প্রদান করেন।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো—এটি আবদুল্লাহ বিন আমর-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কারণ তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ পাঠ করতেন এবং সুরিয়ানি ও আরবি—উভয় ভাষায় লিখতে পারতেন। পক্ষান্তরে অন্যান্য সাহাবীগণ ছিলেন উম্মী (নিরক্ষর); তাঁদের মধ্যে মাত্র এক-দুজন লিখতে জানতেন। তাঁরা যখন লিখতেন, তখন তাতে পারদর্শী ছিলেন না এবং বানানরীতিও সঠিকভাবে জানতেন না। ফলে তাঁরা যা লিখতেন তাতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তিনি তাঁদেরকে নিষেধ করেছিলেন। আর আবদুল্লাহ বিন আমরের ব্যাপারে যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে এমনটি ঘটবে না, তখন তাঁকে অনুমতি প্রদান করলেন।

আবু মুহাম্মদ বলেন: আমাদের কাছে ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ওয়াহাব বিন জারীর তার পিতা থেকে, তিনি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আমর বিন তাগলিব থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেবে, কলমের (লেখার) প্রসার ঘটবে এবং ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।"
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৫)
قَالَ عَمْرو إِن كُنَّا لنلتمس فِي الحواء الْعَظِيم الْكَاتِب فَمَا يُوجد وَيبِيع الرجل البيع فَيَقُول حَتَّى أَستَأْمر تَاجر بني فلَان
আমর বললেন, আমরা বিশাল জনবসতিতে একজন লেখকের অনুসন্ধান করতাম কিন্তু কাউকে পাওয়া যেত না। আর কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য বিক্রয় করত এবং বলত, যতক্ষণ না আমি অমুক গোত্রের ব্যবসায়ীর নিকট হতে পরামর্শ গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৬)
انْتهى كَلَامه وبمثله يعلم فِي مثل هَذَا الْمقَام مقَامه
তাঁর আলোচনা এখানেই সমাপ্ত হলো এবং এ ধরণের বক্তব্যের মাধ্যমেই এজাতীয় সুউচ্চ মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁর সুমহান অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

فِي تثبت السّلف فِي أَمر الحَدِيث خشيَة أَن يدْخل فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ

 

قد كَانَ للصحابة رضي الله عنهم عناية شَدِيدَة فِي معرفَة الحَدِيث وَفِي نَقله لمن لم يبلغهُ فقد ذكر البُخَارِيّ فِي صَحِيحه فِي كتاب الْعلم أَن جَابر بن عبد الله رَحل مسيرَة شهر إِلَى عبد الله بن أنيس فِي حَدِيث وَاحِد وروى عَن عمر بن الْخطاب أَنه قَالَ كنت أَنا وجار لي من الْأَنْصَار فِي بني أُميَّة بن زيد وَهِي من عوالي الْمَدِينَة وَكُنَّا نتناوب النُّزُول على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يَوْمًا وَأنزل يَوْمًا فَإِذا نزلت جِئْته بِخَبَر ذَلِك الْيَوْم من الْوَحْي وَغَيره وَإِذا نزل فعل مثل ذَلِك

ولشدة عنايتهم بِهِ أقلوا من الرِّوَايَة وأنكروا على من أَكثر مِنْهَا إِذْ الْإِكْثَار مَظَنَّة للخطأ وَالْخَطَأ فِي الحَدِيث عَظِيم الْخطر روى البُخَارِيّ عَن عبد الله بن الزبير أَنه قَالَ قلت للزبير إِنِّي لَا أسمعك تحدث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَمَا يحدث فلَان وَفُلَان فَقَالَ أما إِنِّي لم أفارقه وَلَكِن سمعته يَقُول من كذب عَليّ فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار وروى عَن أنس أَنه قَالَ إِنَّه ليمنعني أَن أحدثكُم حَدِيثا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من تعمد عَليّ كذبا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

হাদিসের বিষয়ে পূর্বসূরিদের (সালাফ) সতর্কতা প্রসঙ্গে, যাতে তাতে এমন কিছু অনুপ্রবেশ না করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়

 

সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) হাদিস জানা এবং তা যার কাছে পৌঁছেনি তার নিকট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের ইলম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ মাত্র একটি হাদিসের জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসের নিকট এক মাসের পথ সফর করেছিলেন। উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি এবং বনু উমাইয়া ইবনে জায়েদ গোত্রে বসবাসকারী আমার এক আনসারী প্রতিবেশী ছিলাম—যা মদীনার উঁচু জনপদগুলোর (আওয়ালি) অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমরা পর্যায়ক্রমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যেতাম; সে একদিন যেত এবং আমি একদিন যেতাম। যখন আমি যেতাম, তখন ঐ দিনের ওহী ও অন্যান্য খবর নিয়ে তার কাছে ফিরে আসতাম। আর যখন সে যেত, তখন সে-ও তদ্রূপ করত।

হাদিসের প্রতি তাদের অতি যত্নশীলতার কারণে তারা হাদিস বর্ণনা কম করতেন এবং যারা অত্যধিক বর্ণনা করত তাদের প্রতি আপত্তি জানাতেন; কেননা অধিক বর্ণনায় ভুলের সম্ভাবনা থাকে, আর হাদিসে ভুল হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইমাম বুখারী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি যুবায়েরকে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেভাবে হাদিস বর্ণনা করতে শুনি না যেভাবে অমুক অমুক ব্যক্তি বর্ণনা করে থাকেন। তিনি বললেন: শোনো, আমি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি— "যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমাকে তোমাদের নিকট অনেক হাদিস বর্ণনা করা থেকে যা বিরত রাখে তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী— "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৮)
وروى عَن أبي هُرَيْرَة أَنه قَالَ إِن النَّاس يَقُولُونَ أَكثر أَبُو هُرَيْرَة وَلَوْلَا آيتان فِي كتاب الله مَا حدثت حَدِيثا ثمَّ يَتْلُو {إِن الَّذين يكتمون مَا أنزلنَا من الْبَينَات وَالْهدى} - إِلَى قَوْله - {الرَّحِيم} إِن إِخْوَاننَا من الْمُهَاجِرين كَانَ يشغلهم الصفق فِي الْأَسْوَاق وَإِن إِخْوَاننَا من الْأَنْصَار كَانَ يشغلهم الْعَمَل فِي أَمْوَالهم وَإِن أَبَا هُرَيْرَة كَانَ يلْزم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لشبع بَطْنه ويحضر مَا لَا يحْضرُون ويحفظ مَا لَا يحفظون اهـ

وَإِنَّمَا اشْتَدَّ إنكارهم على أبي هُرَيْرَة لِأَنَّهُ صحب النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحوا من ثَلَاث سِنِين فَإِنَّهُ أسلم عَام خَيْبَر وأتى من الرِّوَايَة عَنهُ مَا لم يَأْتِ بِمثلِهِ من صَحبه من السَّابِقين الْأَوَّلين ذكر بَقِي بن مخلد أَنه روى خَمْسَة الآف حَدِيث وَثَلَاث مئة وَأَرْبَعَة وَسبعين حَدِيثا وَله فِي البُخَارِيّ أَربع مئة وَسِتَّة وَأَرْبَعُونَ حَدِيثا وَعمر بعده عليه السلام نَحوا من خمسين سنة وَكَانَت وَفَاته سنة تسع وَخمسين

قَالَ ابْن قُتَيْبَة فِي جَوَابه عَن طعن النظام فِي أبي هُرَيْرَة بإنكار بعض الصَّحَابَة عَلَيْهِ كَانَ عمر شَدِيد الْإِنْكَار على من أَكثر الرِّوَايَة أَو أَتَى بِخَبَر فِي الحكم لَا شَاهد لَهُ عَلَيْهِ وَكَانَ يَأْمُرهُم بِأَن يقلوا الرِّوَايَة يُرِيد بذلك أَن لَا يَتَّسِع النَّاس فِيهَا فيدخلها الشوب وَيَقَع التَّدْلِيس وَالْكذب من الْمُنَافِق والفاجر والأعرابي

وَكَانَ كثير من جلة الصَّحَابَة وَأهل الْخَاصَّة برَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَأبي بكر وَالزُّبَيْر وَأبي عُبَيْدَة وَالْعَبَّاس بن عبد الْمطلب يقلون الرِّوَايَة عَنهُ بل كَانَ بَعضهم لَا يكَاد يروي شَيْئا كسعيد بن زيد بن عَمْرو بن نفَيْل وَهُوَ أحد الْعشْرَة الْمَشْهُود لَهُم بِالْجنَّةِ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, লোকেরা বলে আবু হুরায়রা অনেক বেশি হাদিস বর্ণনা করে। যদি আল্লাহর কিতাবে দুটি আয়াত না থাকত, তবে আমি একটি হাদিসও বর্ণনা করতাম না। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন: "নিশ্চয় যারা গোপন করে যা আমি নাজিল করেছি স্পষ্ট প্রমাণসমূহ এবং হিদায়েত..." থেকে "পরম দয়ালু" পর্যন্ত। আমাদের মুহাজির ভাইরা বাজারে কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকতেন এবং আমাদের আনসার ভাইরা তাদের ধন-সম্পদ ও চাষাবাদে ব্যস্ত থাকতেন। আর আবু হুরায়রা তার পেটের ক্ষুধা নিবারণের বিনিময়ে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে লেগে থাকতেন; তিনি সেই মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতেন যেগুলোতে তারা উপস্থিত হতেন না এবং এমন সব বিষয় মুখস্থ রাখতেন যা তারা রাখতেন না। সমাপ্ত।

আবু হুরায়রার প্রতি তাদের আপত্তির তীব্রতার কারণ ছিল এই যে, তিনি মাত্র তিন বছরের মতো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে ছিলেন। কেননা তিনি খায়বরের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অথচ তিনি তাঁর থেকে এমন পরিমাণে বর্ণনা নিয়ে এসেছেন, যা প্রথম যুগের অগ্রবর্তী সাহাবীগণও নিয়ে আসেননি। বাকি ইবনে মাখলাদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি পাঁচ হাজার তিনশত চুয়াত্তরটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। বুখারি শরিফে তাঁর বর্ণিত চারশত ছেচল্লিশটি হাদিস রয়েছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর প্রায় পঞ্চাশ বছর জীবিত ছিলেন এবং উনষাট হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে নাজ্জামের অভিযোগের জবাবে ইবনে কুতায়বা বলেছেন যে, কিছু সাহাবীর তাঁর প্রতি আপত্তি প্রকাশের কারণ হলো, উমর (রা.) অধিক বর্ণনা প্রদানকারী বা এমন কোনো আইনি বিধানের খবর বর্ণনাকারীর প্রতি কঠোর ছিলেন যার কোনো সাক্ষী নেই। তিনি তাঁদেরকে কম হাদিস বর্ণনা করার নির্দেশ দিতেন। এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যেন মানুষ এর প্রসারে অতি উৎসাহী না হয়, ফলে এতে ভেজাল প্রবেশ করতে পারে এবং মুনাফিক, পাপাচারী ও গ্রাম্য বেদুইনদের পক্ষ থেকে প্রতারণা ও মিথ্যাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক বিশিষ্ট ও নিকটতম সাহাবী, যেমন আবু বকর, জুবায়ের, আবু উবাইদাহ এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.) তাঁর থেকে খুব কম বর্ণনা করতেন। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রায় কিছুই বর্ণনা করতেন না, যেমন সাঈদ ইবনে জাইদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রা.), যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَقَالَ عَليّ كنت إِذا سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا نَفَعَنِي الله بِمَا شَاءَ مِنْهُ وَإِذا حَدثنِي عَنهُ مُحدث اسْتَحْلَفته فَإِن حلف لي صدقته وَإِن أَبَا بكر حَدثنِي وَصدق أَبُو بكر وَذكر الحَدِيث

أفما ترى تَشْدِيد الْقَوْم فِي الحَدِيث وتوقي من أمسك كَرَاهِيَة التحريف أَو الزِّيَادَة فِي الرِّوَايَة أَو النُّقْصَان لأَنهم سَمِعُوهُ عليه السلام يَقُول من كذب عَليّ فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار وَهَكَذَا رُوِيَ عَن الزبير أَنه رَوَاهُ وَقَالَ أَرَاهُم يزِيدُونَ فِيهِ مُتَعَمدا وَالله مَا سمعته قَالَ مُتَعَمدا

وروى مطرف بن عبد الله أَن عمرَان بن حُصَيْن قَالَ وَالله إِن كنت لأرى أَنِّي لَو شِئْت لحدثت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْمَيْنِ مُتَتَابعين وَلَكِن بطأني عَن ذَلِك أَن رجَالًا من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سمعُوا كَمَا سَمِعت وشهدوا كَمَا شهِدت ويحدثون أَحَادِيث مَا هِيَ كَمَا يَقُولُونَ وأخاف أَن يشبه لي كَمَا شبه لَهُم فأعلمك أَنهم كَانُوا يغلطون لَا أَنهم كَانُوا يتعمدون

فَلَمَّا أخْبرهُم أَبُو هُرَيْرَة بِأَنَّهُ كَانَ ألزمهم لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم لخدمته وشبع بَطْنه وَكَانَ فَقِيرا معدما وَأَنه لم يكن ليشغله عَنهُ غرس الودي وَلَا الصفق بالأسواق يعرض بِأَنَّهُم كَانُوا يتصرفون فِي التِّجَارَات ويلزمون الضّيَاع فِي أَكثر الْأَوْقَات وَهُوَ ملازم لَهُ لَا يُفَارِقهُ فَعرف مَا لم يعرفوا وَحفظ مَا لم يحفظوا أَمْسكُوا عَنهُ

وَكَانَ مَعَ هَذَا يَقُول قَالَ صلى الله عليه وسلم كَذَا وأنما سَمعه من
আলী (রা.) বলেন, আমি যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে কোনো হাদীস শুনতাম, তখন আল্লাহ তা থেকে আমাকে যতটা ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ আমাকে কোনো হাদীস শোনাতেন, তখন আমি তাকে কসম দিতে বলতাম; যদি সে কসম কাটত, তবে আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। আর আবু বকর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন এবং আবু বকর সত্য বলেছেন—অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।

তবে কি আপনি হাদীসের ব্যাপারে এই লোকেদের কঠোরতা এবং যারা বর্ণনায় পরিবর্তন অথবা বাড়াবাড়ি বা কমতির ভয়ে চুপ থাকতেন তাদের সতর্কতা লক্ষ্য করছেন না? কারণ তারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।" যুবাইর (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে তিনি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমি দেখছি তারা এতে 'ইচ্ছাকৃতভাবে' শব্দটি যোগ করছে; আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে 'ইচ্ছাকৃতভাবে' বলতে শুনিনি।

মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেছেন: আল্লাহর কসম, আমি মনে করি যদি আমি চাইতাম তবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে টানা দুই দিন হাদীস বর্ণনা করতে পারতাম। কিন্তু যা আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছে তা হলো—আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোক তেমনটাই শুনেছেন যেমনটা আমি শুনেছি এবং তেমনটাই প্রত্যক্ষ করেছেন যেমনটা আমি করেছি, তবুও তারা এমন সব হাদীস বর্ণনা করেন যা তারা যেভাবে বলছেন ঠিক তেমন নয়। আমি ভয় পাই যে, তাদের কাছে যেমন অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আমার কাছেও তেমন অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতরাং আমি আপনাকে জানাচ্ছি যে, তারা ভুল করতেন, তারা ইচ্ছা করে এমনটা করতেন না।

অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) যখন তাঁদের জানালেন যে, তিনি তাঁর সেবার বিনিময়ে এবং কেবল পেট ভরে আহারের প্রত্যাশায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁদের চেয়েও বেশি নিবিড়ভাবে থাকতেন, এবং তিনি ছিলেন নিঃস্ব ও দরিদ্র; আর খেজুর চারা রোপণ করা বা বাজারে বেচাকেনা তাঁকে তাঁর সান্নিধ্য থেকে বিরত রাখত না—এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে তাঁরা (অন্য সাহাবীরা) ব্যবসায় ব্যস্ত থাকতেন এবং অধিকাংশ সময় জমিজমার কাজে লিপ্ত থাকতেন, যেখানে তিনি সর্বদা তাঁর সাথে থাকতেন ও কখনো তাঁকে ছেড়ে যেতেন না; ফলে তিনি এমন কিছু জেনেছেন যা তারা জানতেন না এবং এমন কিছু মুখস্থ করেছেন যা তারা মুখস্থ করেননি—তখন তারা তাঁর ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করলেন।

এ সত্ত্বেও তিনি বলতেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটা বলেছেন, অথচ তিনি তা শুনেছিলেন কেবল...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৬০)
الثِّقَة عِنْده فحكاه وَكَذَلِكَ كَانَ ابْن عَبَّاس يفعل وَغَيره من الصَّحَابَة وَلَيْسَ فِي هَذَا كذب بِحَمْد الله وَلَا على قَائِله إِن لم يفهمهُ السَّامع جنَاح إِن شَاءَ الله اهـ

وَقَالَ الْحَافِظ الذَّهَبِيّ فِي طَبَقَات الْحفاظ فِي تَرْجَمَة أبي بكر الصّديق كَانَ أول من احتاط فِي قبُول الْأَخْبَار فروى ابْن شهَاب عَن قبيصَة بن ذُؤَيْب أَن الْجدّة جَاءَت إِلَى أبي بكر تلتمس أَن تورث فَقَالَ مَا أجد لَك فِي كتاب الله شَيْئا وَمَا علمت أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذكر لَك شَيْئا ثمَّ سَأَلَ النَّاس فَقَامَ الْمُغيرَة فَقَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُعْطِيهَا السُّدس فَقَالَ لَهُ هَل مَعَك أحد فَشهد مُحَمَّد بن مسلمة بِمثل ذَلِك فأنفذه لَهَا أَبُو بكر رضي الله عنه

وَمن مَرَاسِيل ابْن أبي مليكَة أَن الصّديق جمع النَّاس بعد وَفَاة نَبِيّهم فَقَالَ إِنَّكُم تحدثون عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَحَادِيث تختلفون فِيهَا وَالنَّاس بعدكم أَشد اخْتِلَافا فَلَا تحدثُوا عَن رَسُول الله شَيْئا فَمن سألكم فَقولُوا بَيْننَا وَبَيْنكُم كتاب الله فاستحلوا حَلَاله وحرموا حرَامه

فَهَذَا الْمُرْسل يدلك على أَن مُرَاد الصّديق التثبت فِي الْأَخْبَار والتحري لَا سد بَاب الرِّوَايَة أَلا ترَاهُ لما نزل بِهِ أَمر الْجدّة وَلم يجده فِي الْكتاب كَيفَ سَأَلَ عَنهُ فِي السّنَن فَلَمَّا أخبرهُ الثِّقَة لم يكتف حَتَّى استظهر بِثِقَة آخر وَلم يقل حَسبنَا كتاب الله كَمَا تَقوله الْخَوَارِج

ثمَّ قَالَ فَحق على الْمُحدث أَن يتورع فِيمَا يُؤَدِّيه وَأَن يسْأَل أهل الْمعرفَة والورع ليعينوه على إِيضَاح مروياته وَلَا سَبِيل إِلَى أَن يصير الْعَارِف الَّذِي يُزكي نَقله الْأَخْبَار ويجرحهم جهبذا إِلَّا بإدمان الطّلب والفحص عَن الشَّأْن وَكَثْرَة المذاكرة والسهر والتيقظ والفهم مَعَ التَّقْوَى وَالدّين المتين والإنصاف والتردد إِلَى الْعلمَاء والتحري والإتقان وَإِلَّا تفعل
তাঁর নিকট বিশ্বস্ত ব্যক্তি, তাই তিনি তা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবীগণও এভাবেই করতেন। আল্লাহর প্রশংসায় এতে কোনো মিথ্যা নেই এবং বক্তার ওপর কোনো পাপ নেই যদি শ্রোতা তা বুঝতে না পারে, ইনশাআল্লাহ। সমাপ্ত।

হাফিজ আল-যাহাবী ‘তবাকাতুল হুফফাজ’-এ আবু বকর আস-সিদ্দিক-এর জীবনীতে বলেছেন, সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। ইবনে শিহাব কাবিদাহ ইবনে যুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন দাদী আবু বকর-এর কাছে মিরাসের (উত্তরাধিকার) অংশ চাইতে আসলেন। তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই পাচ্ছি না এবং আমি জানি না যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমার সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেছেন।” অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন। তখন মুগীরা দাঁড়িয়ে বললেন, “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করতেন।” আবু বকর তাকে বললেন, “তোমার সাথে কি আর কেউ আছে?” তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ একই সাক্ষ্য দিলেন। ফলে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তা কার্যকর করলেন।

ইবনে আবি মুলাইকার মুরসাল বর্ণনাগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের নবীর ইন্তেকালের পর লোকজনকে সমবেত করলেন এবং বললেন, “তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন সব হাদীস বর্ণনা করছ যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ, আর তোমাদের পরের লোকেরা আরও বেশি মতভেদে লিপ্ত হবে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর রাসূল থেকে কিছুই বর্ণনা করো না। যে ব্যক্তি তোমাদের জিজ্ঞেস করবে, তোমরা তাকে বলো, আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব বিদ্যমান; অতএব তোমরা এর হালালকে হালাল মানো এবং এর হারামকে হারাম মানো।”

এই মুরসাল বর্ণনাটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, সিদ্দীক-এর উদ্দেশ্য ছিল সংবাদের সত্যতা যাচাই ও সতর্কতা অবলম্বন করা, হাদীস বর্ণনার পথ রুদ্ধ করা নয়। আপনি কি দেখেন না, যখন তাঁর কাছে দাদীর বিষয়টি আসলো এবং তিনি কিতাবে তা পেলেন না, তখন কীভাবে তিনি সুন্নাহর মধ্যে তা অনুসন্ধান করলেন? যখন একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি তাকে সংবাদ দিলেন, তখন তিনি অন্য একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সুদৃঢ় না হওয়া পর্যন্ত তাতে তুষ্ট হননি। তিনি এমনটি বলেননি যে ‘আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট’, যেমনটি খাওয়ারিজরা বলে থাকে।

অতঃপর তিনি বললেন: হাদীস বর্ণনাকারীর (মুহাদ্দিস) জন্য আবশ্যক হলো সে যা বর্ণনা করে তাতে তাকওয়া অবলম্বন করা এবং জ্ঞান ও পরহেজগারী সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট হতে সাহায্য চাওয়া যাতে তারা তার বর্ণিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করতে পারেন। সংবাদ বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারী ও তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনাকারী বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে একজন বিচক্ষণ দক্ষ (জাহবায) হওয়া সম্ভব নয় যদি না তিনি নিরন্তর জ্ঞান অন্বেষণ ও বিষয়াদির সূক্ষ্ম অনুসন্ধান, অধিক হারে আলোচনা, বিনিদ্র রজনী যাপন, সতর্কতা ও প্রজ্ঞা অর্জনের পাশাপাশি তাকওয়া, সুদৃঢ় দ্বীনদারী, ন্যায়পরায়ণতা, ওলামাদের সংস্পর্শে যাতায়াত এবং চূড়ান্ত সতর্কতা ও নিপুণতা অবলম্বন করেন। আর যদি তা না করো...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৬১)
(فدع عَنْك الْكِتَابَة لست مِنْهَا … وَلَو سودت وَجهك بالمداد)

قَالَ الله عز وجل {فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ} فَإِن آنست يَا هَذَا من نَفسك فهما وصدقا ودينا وورعا وَإِلَّا فَلَا تتعن وَإِن غلب عَلَيْك الْهوى والعصبية لرأي أَو لمَذْهَب فبالله لَا تتعب

وَقَالَ فِي تَرْجَمَة أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر بن الْخطاب وَهُوَ الَّذِي سنّ للمحدثين التثبت فِي النَّقْل وَرُبمَا كَانَ يتَوَقَّف فِي خبر الْوَاحِد إِذا ارتاب روى الْجريرِي عَن أبي نَضرة عَن أبي سعيد أَن أَبَا مُوسَى سلم على عمر من وَرَاء الْبَاب ثَلَاث مَرَّات فَلم يُؤذن لَهُ فَرجع فَأرْسل عمر فِي أَثَره فَقَالَ لم رجعت قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِذا سلم أحدكُم ثَلَاثًا فَلم يجب فَليرْجع قَالَ لتَأْتِيني على ذَلِك بِبَيِّنَة أَو لَأَفْعَلَنَّ بك فجاءنا أَبُو مُوسَى منتقعا لَونه وَنحن جُلُوس فَقُلْنَا مَا شَأْنك فَأخْبرنَا وَقَالَ فَهَل سمع أحد مِنْكُم فَقُلْنَا نعم كلنا سَمعه فأرسلوا مَعَه رجل مِنْهُم حَتَّى أَتَى عمر فَأخْبرهُ

أحب عمر أَن يتَأَكَّد عِنْده خبر أبي مُوسَى بقول صَاحب آخر فَفِي هَذَا دَلِيل على أَن الْخَبَر إِذا رَوَاهُ ثقتان كَانَ أقوى وأرجح مِمَّا انْفَرد بِهِ وَاحِد وَفِي ذَلِك حث على تَكْثِير طرق الحَدِيث لكَي يرتقي عَن دَرَجَة الظَّن إِلَى دَرَجَة الْعلم إِذْ الْوَاحِد يجوز عَلَيْهِ النسْيَان وَالوهم وَلَا يكَاد يجوز ذَلِك على ثقتين لم يخالفهما أحد

وَقد كَانَ عمر من وجله من أَن يُخطئ الصاحب فِي حَدِيث رَسُول الله يَأْمُرهُم أَن يقلوا الرِّوَايَة عَن نَبِيّهم وَلِئَلَّا يتشاغل النَّاس بالأحاديث عَن حفظ الْقُرْآن
(সুতরাং লেখালেখি ছেড়ে দাও, তুমি এর উপযুক্ত নও ... এমনকি তুমি যদি কালির দ্বারা তোমার মুখ কালো করো তবুও।)

মহান আল্লাহ বলেছেন {তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো}। অতএব হে ব্যক্তি, তুমি যদি নিজের মধ্যে সঠিক বুঝ, সত্যবাদিতা, দ্বীনদারিতা ও পরহেজগারি অনুভব করো তবেই অগ্রসর হও, অন্যথায় নিজেকে কষ্টে ফেলো না। আর যদি তোমার ওপর কুপ্রবৃত্তি এবং কোনো মত বা মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব প্রবল হয়, তবে আল্লাহর শপথ! তুমি নিজেকে ক্লান্ত করো না।

এবং তিনি আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাবের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনিই মুহাদ্দিসগণের জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের নীতি প্রবর্তন করেছেন। কোনো একক ব্যক্তির বর্ণনায় সন্দেহ হলে অনেক সময় তিনি তাতে বিরতি নিতেন। জুরয়রী আবু নাদরা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু মূসা দরজার ওপাশ থেকে উমরকে তিনবার সালাম দিলেন। কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না, তাই তিনি ফিরে গেলেন। তখন উমর তার পেছনে লোক পাঠালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কেন ফিরে গেলে?" তিনি বললেন, "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যখন তোমাদের কেউ তিনবার সালাম দেয় এবং উত্তর না দেওয়া হয়, তখন যেন সে ফিরে যায়।" উমর বললেন, "তোমাকে এর স্বপক্ষে অবশ্যই প্রমাণ নিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় আমি তোমার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।" এরপর আবু মূসা অত্যন্ত বিবর্ণ মুখে আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা উপবিষ্ট ছিলাম। আমরা বললাম, "আপনার কী হয়েছে?" তিনি আমাদের বিষয়টি জানালেন এবং বললেন, "আপনাদের মধ্যে কি কেউ এটি শুনেছেন?" আমরা বললাম, "হ্যাঁ, আমরা সবাই এটি শুনেছি।" অতঃপর তারা তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে তার সাথে পাঠালেন এবং তিনি উমরের কাছে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন।

উমর চেয়েছিলেন অন্য একজন সাহাবীর উক্তির মাধ্যমে আবু মূসার বর্ণিত খবরটি নিশ্চিত হতে। এতে এ বিষয়ের প্রমাণ রয়েছে যে, সংবাদ যখন দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তখন তা কোনো এক ব্যক্তির একক বর্ণনার চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও অগ্রাধিকারযোগ্য হয়। আর এতে হাদীসের সূত্র সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহ রয়েছে যাতে তা ধারণার স্তর থেকে জ্ঞানের স্তরে উন্নীত হতে পারে। কেননা একজনের ক্ষেত্রে বিস্মরণ ও বিভ্রম ঘটা সম্ভব, কিন্তু দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা সচরাচর ঘটে না যখন অন্য কেউ তাদের বিরোধিতা না করে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনায় কোনো সাহাবীর ভুল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উমর তাদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা তাদের নবী থেকে বর্ণনা কম করেন, এবং যাতে মানুষ হাদীস নিয়ে মশগুল হয়ে কুরআন হিফজ করা থেকে বিমুখ না হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَقد روى شُعْبَة وَغَيره عَن بَيَان عَن الشّعبِيّ عَن قرظة بن كَعْب قَالَ لما سيرنا عمر إِلَى الْعرَاق مَشى مَعنا وَقَالَ أتردون لم شيعتكم قَالُوا نعم تكرمة لنا قَالَ وَمَعَ ذَلِك فَإِنَّكُم تأتون أهل قَرْيَة لَهُم دوِي بِالْقُرْآنِ كَدَوِيِّ النَّحْل فَلَا تصدوهم بالأحاديث فتشغلوهم جردوا الْقُرْآن وأقلوا الرِّوَايَة عَن رَسُول الله وَأَنا شريككم فَلَمَّا قدم قرظة قَالُوا حَدثنَا قَالَ نَهَانَا عمر

وروى الدَّرَاورْدِي عَن مُحَمَّد بن عَمْرو عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة وَقلت لَهُ أَكنت تحدث فِي زمَان عمر هَكَذَا قَالَ لَو كنت أحدث فِي زمَان عمر مثل مَا أحدثكُم لضربني بمخفقته

وَقَالَ فِي تَرْجَمَة أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب روى مَعْرُوف بن خَرَّبُوذ عَن أبي الطُّفَيْل عَن عَليّ قَالَ حدثوا النَّاس بِمَا يعْرفُونَ ودعوا مَا ينكون أتحبون أَن يكذب الله وَرَسُوله فقد زجر الإِمَام عَليّ عَن رِوَايَة الْمُنكر وحث على التحديث بالمشهور وَهَذَا أصل كَبِير فِي الْكَفّ عَن بَث الْأَشْيَاء الْوَاهِيَة والمنكرة من الْأَحَادِيث فِي الْفَضَائِل والعقائد وَالرَّقَائِق وَلَا سَبِيل إِلَى معرفَة هَذَا من هَذَا إِلَّا بالإمعان فِي معرفَة الرِّجَال

وَأخرج البُخَارِيّ هَذَا الْأَثر فِي صَحِيحه فَقَالَ بَاب من خص بِالْعلمِ قوما دون قوم كَرَاهِيَة أَن لَا يفهموا وَقَالَ عَليّ حدثوا النَّاس بِمَا يعْرفُونَ أتحبون أَن يكذب الله وَرَسُوله حَدثنَا عبيد الله بن مُوسَى عَن مَعْرُوف بن خَرَّبُوذ عَن أبي الطُّفَيْل عَن عَليّ بذلك

قَالَ شرَّاح هَذَا الْأَثر إِنَّمَا قَالَ الإِمَام ذَلِك لِأَن الْإِنْسَان إِذا سمع مَا لَا يفهمهُ أَو مَا لَا يتَصَوَّر إِمْكَانه اعْتقد استحالته جهلا فَلَا يصدق بِوُجُودِهِ فَإِذا
শুবাহ এবং অন্যরা বায়ান থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি কারাযাহ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন উমর আমাদের ইরাকের দিকে পাঠালেন, তিনি আমাদের সাথে কিছুটা পথ হাঁটলেন এবং বললেন: "তোমরা কি জানো কেন আমি তোমাদের এগিয়ে দিতে এসেছি?" তারা বলল: "হ্যাঁ, আমাদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য।" তিনি বললেন: "এর সাথে আরও একটি কারণ আছে; তোমরা এমন এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে যাচ্ছ যাদের মাঝে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো কুরআনের গুঞ্জন ধ্বনিত হয়। সুতরাং তোমরা তাদেরকে হাদিস শুনিয়ে কুরআন থেকে বিমুখ করো না এবং তাদেরকে অন্য কাজে ব্যস্ত করে দিও না। তোমরা কুরআনকে অন্য সবকিছু থেকে আলাদা ও নির্ভেজাল রাখো এবং রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা কমিয়ে দাও, আর আমি এই কাজে তোমাদের অংশীদার।" অতঃপর কারাযাহ যখন সেখানে পৌঁছালেন, লোকেরা বলল: "আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করুন।" তিনি বললেন: "উমর আমাদের এটি করতে নিষেধ করেছেন।"

দারাওয়ার্দী মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি তাকে বললাম, "আপনি কি উমরের যুগেও এভাবে হাদিস বর্ণনা করতেন?" তিনি বললেন, "আমি যদি উমরের যুগে তোমাদের কাছে এখন যেভাবে বর্ণনা করছি সেভাবে বর্ণনা করতাম, তবে তিনি আমাকে তাঁর চাবুক দিয়ে আঘাত করতেন।"

আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে, মারুফ ইবনে খাররাবুয আবু তুফাইল থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "মানুষের কাছে তা-ই বর্ণনা করো যা তারা চিনতে পারে এবং যা তারা প্রত্যাখ্যান করে তা বর্জন করো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?" ইমাম আলী অপরিচিত বা বর্জনীয় বিষয় বর্ণনা থেকে সতর্ক করেছেন এবং প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার উৎসাহ দিয়েছেন। ফযীলত, আকীদা এবং আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে হাদিসের দুর্বল ও বর্জনীয় বিষয়গুলো প্রচার থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে এটি একটি বড় মূলনীতি। আর বর্ণনাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন ছাড়া একটি থেকে অন্যটি পৃথক করার কোনো পথ নেই।

বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: "অনুচ্ছেদ: যারা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে জ্ঞান দান করেন অন্যদের বাদ দিয়ে, এই ভয়ে যে তারা হয়তো বুঝতে পারবে না।" আর আলী বলেছেন: "মানুষের কাছে তা-ই বর্ণনা করো যা তারা চিনতে পারে। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?" উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের কাছে মারুফ ইবনে খাররাবুয থেকে, তিনি আবু তুফাইল থেকে, তিনি আলী থেকে এই সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

এই বর্ণনার ব্যাখ্যাকারীগণ বলেছেন, ইমাম আলী এটি একারণেই বলেছেন যে, মানুষ যখন এমন কিছু শোনে যা সে বোঝে না অথবা যার সম্ভাব্যতা সে কল্পনা করতে পারে না, তখন অজ্ঞতাবশত সে বিষয়টিকে অসম্ভব বলে মনে করে এবং এর অস্তিত্ব বিশ্বাস করে না। অতঃপর
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৬৩)
أسْند إِلَى الله تَعَالَى أَو رَسُوله لزم ذَلِك الْمَحْذُور ويكذب بِفَتْح الذَّال على صِيغَة الْمَجْهُول وَهَذَا الْإِسْنَاد من عوالي الْمُؤلف لِأَنَّهُ يلْتَحق بالثلاثيات من جِهَة أَن الرَّاوِي الثَّالِث وَهُوَ أَبُو الطُّفَيْل عَامر بن وَاثِلَة من الصَّحَابَة وَكَانَ آخِرهم موتا وَأخر الْمُؤلف هُنَا السَّنَد عَن الْمَتْن ليميز بَين طَريقَة إِسْنَاد الحَدِيث وَإسْنَاد الْأَثر أَو لضعف الْإِسْنَاد بِسَبَب ابْن خَرَّبُوذ أَو للتفنن وَبَيَان الْجَوَاز وَمن ثمَّ وَقع فِي بعض النّسخ مقدما وَقد سقط هَذَا الْأَثر كُله من رِوَايَة الْكشميهني اهـ

وروى مُسلم فِي صَحِيحه عَن عبد الله بن مَسْعُود أَنه قَالَ مَا أَنْت بمحدث قوما حَدِيثا لَا تبلغه عُقُولهمْ إِلَّا كَانَ لبَعْضهِم فتْنَة

تَنْبِيه وَقد فهم من هذَيْن الأثرين أَن الْمُحدث يجب عَلَيْهِ أَن يُرَاعِي حَال من يُحَدِّثهُمْ فَإِذا كَانَ فِيمَا ثَبت عِنْده مَا لَا تصل إِلَيْهِ أفهامهم وَجب عَلَيْهِ ترك تحديثهم بِهِ دفعا للضَّرَر فَلَيْسَ كل حَدِيث يجب نشره لجَمِيع النَّاس كَمَا يتوهمه الأغمار فقد روى البُخَارِيّ عَن أبي هُرَيْرَة أَنه قَالَ حفظت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وعاءين فَأَما أَحدهمَا فبثثته وَأما الآخر فَلَو بثثتة قطع هَذَا البلعوم

قَالُوا أَرَادَ بالوعاء الأول الْأَحَادِيث الَّتِي لم ير ضَرَرا فِي بثها فبثها وَأَرَادَ بالوعاء الثَّانِي الْأَحَادِيث الْمُتَعَلّقَة بِبَيَان أُمَرَاء الْجور وذمهم فقد رُوِيَ عَنهُ أَنه قَالَ لَو شِئْت أَن أسميهم بِأَسْمَائِهِمْ وَكَانَ لَا يُصَرح بذلك خوفًا على نَفسه مِنْهُم

وَقَالَ بعض الصُّوفِيَّة أَرَادَ بِهِ الْأَحَادِيث الْمُتَعَلّقَة بالأسرار الربانية الَّتِي لَا يُدْرِكهَا إِلَّا أَرْبَاب الْقُلُوب

وَفِي كَون المُرَاد بِهِ هَذَا فِيهِ نظر لِأَنَّهُ لَو كَانَ كَذَلِك لما وسع أَبَا هُرَيْرَة كِتْمَانه من جَمِيع النَّاس بل كَانَ أظهره لبَعض الْخَواص مِنْهُم
যদি মহান আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের সাথে সম্বন্ধ করা হয়, তবে উক্ত নিষিদ্ধ বিষয়টি অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর 'ইউকাযযাবু' শব্দটি 'যাল' অক্ষরে ফাতহা দিয়ে কর্মবাচ্যের রূপে পঠিত হবে। এই সনদটি লেখকের উচ্চ পর্যায়ের (আওয়ালী) সনদের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি 'সুলাসিয়াত' (তিন ব্যক্তির সনদ) এর অন্তর্ভুক্ত হয় এই দিক থেকে যে, তৃতীয় বর্ণনাকারী তথা আবু তুফাইল আমির ইবনে ওয়াসিলা একজন সাহাবী এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী সাহাবী। লেখক এখানে মতন-এর পরে সনদ উল্লেখ করেছেন যাতে হাদিসের সনদ এবং আসারের সনদের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য করা যায়, অথবা ইবনে খাররাবুযের কারণে সনদের দুর্বলতার কারণে, কিংবা বৈচিত্র্য আনয়ন ও বৈধতা প্রকাশের জন্য। এ কারণে কিছু পাণ্ডুলিপিতে এটি আগে এসেছে। কুশমিহানির বর্ণনা থেকে এই পুরো আসারটি বাদ পড়েছে। সমাপ্ত।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তুমি যখন কোনো কওমের নিকট এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করো যা তাদের বুদ্ধি ধারণ করতে পারে না, তখন তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনার কারণ হয়।"

সতর্কতা: এই দুটি আসার থেকে বোঝা গেল যে, মুহাদ্দিসের জন্য আবশ্যক হলো যাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করছেন তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা। সুতরাং তাঁর নিকট প্রমাণিত কোনো বিষয় যদি এমন হয় যা তাদের বোধগম্য নয়, তবে ক্ষতি এড়ানোর জন্য তাদের কাছে তা বর্ণনা করা ত্যাগ করা ওয়াজিব। মূর্খরা যেমন ধারণা করে, তেমনটি নয় যে সব হাদিসই সকল মানুষের নিকট প্রচার করা আবশ্যক। ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে দুটি পাত্র (জ্ঞানভাণ্ডার) মুখস্থ করেছি। তার মধ্যে একটি আমি প্রচার করেছি, আর অন্যটি যদি আমি প্রচার করতাম তবে এই কণ্ঠনালীটি কেটে ফেলা হতো।"

আলেমগণ বলেন: তিনি প্রথম পাত্র দ্বারা ঐ সকল হাদিস বুঝিয়েছেন যা প্রচারে তিনি কোনো ক্ষতি দেখেননি, তাই তিনি তা প্রচার করেছেন। আর দ্বিতীয় পাত্র দ্বারা তিনি জালেম শাসকদের পরিচয় ও তাদের নিন্দা সম্পর্কিত হাদিসসমূহ বুঝিয়েছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "আমি যদি চাইতাম তবে তাদের নাম ধরে নাম ধরে বলতে পারতাম।" কিন্তু তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তার খাতিরে তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতেন না।

কোনো কোনো সূফী বলেছেন: তিনি এর দ্বারা ঐ সকল হাদিস বুঝিয়েছেন যা রব্বানী রহস্যের সাথে সম্পর্কিত, যা কেবল আধ্যাত্মিক সাধকরাই উপলব্ধি করতে পারেন।

কিন্তু এই ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আপত্তি রয়েছে; কেননা বিষয়টি যদি তেমনই হতো, তবে আবু হুরায়রার জন্য তা সকল মানুষের কাছে গোপন রাখা বৈধ হতো না, বরং তিনি অন্তত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট তা প্রকাশ করতেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৬৪)
على أَن الَّذِي كتمه أَبُو هُرَيْرَة لَو كَانَ مِمَّا يتَعَلَّق بِالدّينِ لَكَانَ غَايَته أَن يكون بِمَنْزِلَة الْمُتَشَابه والمتشابه مَوْجُود فِي الْكتاب الْعَزِيز وَهُوَ يُتْلَى على النَّاس كلهم فِي كل حِين وَقد روى أَبُو هُرَيْرَة كثيرا من الْأَحَادِيث المتشابهة

أخرج مُسلم عَنهُ فِي بَاب صَلَاة اللَّيْل أَنه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ينزل رَبنَا تبارك وتعالى كل لَيْلَة إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا حِين يبْقى ثلث اللَّيْل الآخر فَيَقُول من يدعوني فأستجيب لَهُ وَمن يسألني فَأعْطِيه وَمن يستغفرني فَأغْفِر لَهُ

وَأخرج عَنهُ فِي بَاب رُؤْيَة الْمُؤمنِينَ رَبهم فِي الْآخِرَة أَنه قَالَ إِن نَاسا قَالُوا لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم هَل نرى رَبنَا يَوْم الْقِيَامَة فَقَالَ هَل تضَارونَ فِي الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر قَالُوا لَا يَا رَسُول الله قَالَ هَل تضَارونَ فِي الشَّمْس لَيْسَ دونهَا سَحَاب قَالُوا لَا قَالَ فَإِنَّكُم تَرَوْنَهُ كَذَلِك

يجمع الله النَّاس يَوْم الْقِيَامَة فَيَقُول من كَانَ يعبد شَيْئا فليتبعه فَيتبع من كَانَ يعبد الشَّمْس الشَّمْس وَيتبع من كَانَ يعبد الْقَمَر الْقَمَر وَيتبع من كَانَ يعبد الطواغيت الطواغيت وَتبقى هَذِه الْأمة فِيهَا منافقوها فيأتيهم الله فِي صُورَة غير الصُّورَة الَّتِي يعْرفُونَ فَيَقُول أَنا ربكُم فَيَقُولُونَ نَعُوذ بِاللَّه مِنْك هَذَا مَكَاننَا حَتَّى يأتينا رَبنَا فَإِذا جَاءَ رَبنَا عَرفْنَاهُ فيأتيهم الله فِي صورته الَّتِي يعْرفُونَ فَيَقُول أَنا ربكُم فَيَقُولُونَ أَنْت رَبنَا فيتبعونه الحَدِيث

وَأخرج عَنهُ فِي كتاب الْجنَّة أَنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خلق الله عز وجل آدم على صورته طوله سِتُّونَ ذِرَاعا فَلَمَّا خلقَة قَالَ اذْهَبْ
আবু হুরায়রা (রাযি.) যা গোপন করেছিলেন, তা যদি দ্বীন সংক্রান্ত কোনো বিষয় হতো, তবে তার চূড়ান্ত পর্যায় হতো এই যে তা মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট অর্থবোধক) পর্যায়ের হতো। আর মুতাশাবিহ তো মহাগ্রন্থ আল-কুরআনেই বিদ্যমান রয়েছে এবং তা সর্বদাই সকল মানুষের সামনে তিলাওয়াত করা হয়। আর আবু হুরায়রা (রাযি.) নিজেই অনেক মুতাশাবিহ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে রাতের সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি বলেন, কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?

এবং তিনি তাঁর থেকে আখিরাতে মুমিনদের স্বীয় রবকে দর্শন অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যে, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন কি আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন, পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো কষ্ট হয়? তারা বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোনো কষ্ট হয়? তারা বলল, না। তিনি বললেন, তবে নিশ্চয়ই তোমরা তাঁকে এভাবেই দেখতে পাবে।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষকে সমবেত করবেন এবং বলবেন, যে যার ইবাদত করত সে যেন তার অনুসরণ করে। অতঃপর যে সূর্যের ইবাদত করত সে সূর্যের অনুসরণ করবে, যে চাঁদের ইবাদত করত সে চাঁদের অনুসরণ করবে এবং যারা তাগুতের ইবাদত করত তারা তাগুতের অনুসরণ করবে। আর এই উম্মত অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের মধ্যে মুনাফিকরাও থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তাদের কাছে এমন এক আকৃতিতে আসবেন যা তাদের পরিচিত নয় এবং বলবেন, আমি তোমাদের রব। তারা বলবে, আমরা আপনার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আমাদের রব আমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব। যখন আমাদের রব আসবেন তখন আমরা তাঁকে চিনে নেব। অতঃপর আল্লাহ তাদের কাছে তাঁর সেই আকৃতিতে আসবেন যা তারা চেনে এবং বলবেন, আমি তোমাদের রব। তারা বলবে, আপনিই আমাদের রব। অতঃপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে— (হাদীসের অবশিষ্টাংশ)।

এবং জান্নাত অধ্যায়ে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন, যাও।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন নাযার ইলা উসূলিল আসার (পৃষ্ঠা: ৬৫)
فَسلم على أُولَئِكَ النَّفر وهم نفر من الْمَلَائِكَة جُلُوس فاستمع مَا يحيونك بِهِ فَإِنَّهَا تحيتك وتحية ذريتك قَالَ فَذهب فَقَالَ السَّلَام عَلَيْكُم فَقَالُوا السَّلَام عَلَيْك وَرَحْمَة الله فزادوه وَرَحْمَة الله قَالَ فَكل من يدْخل الْجنَّة على صُورَة آدم وَطوله سِتُّونَ ذِرَاعا فَلم يزل الْخلق ينقص بعده حَتَّى الْآن

وروى مَالك عَن أبي الزِّنَاد عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لما قضى الله الْخلق كتب عِنْده فَوق عَرْشه إِن رَحْمَتي سبقت غَضَبي اهـ

هَذَا وَمن الْغَرِيب مَا يروي عَن ابْن الْقَاسِم أَنه قَالَ سَأَلت مَالِكًا عَمَّن يحدث الحَدِيث إِن الله خلق آدم على صورته والْحَدِيث إِن الله يكْشف عَن سَاقه يَوْم الْقِيَامَة وَإنَّهُ يدْخل فِي النَّار يَده حَتَّى يخرج من أَرَادَ فَأنْكر ذَلِك إنكارا شَدِيدا وَنهى أَن يتحدث بِهِ أحد

قَالَ تَقِيّ الدّين فِي التسعينية هَذَانِ الحديثان كَانَ اللَّيْث بن سعد يحدث بهما فَالْأول حَدِيث الصُّورَة حدث بِهِ عَن ابْن عجلَان وَالثَّانِي هُوَ فِي حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ الطَّوِيل وَهَذَا الحَدِيث قد أَخْرجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث اللَّيْث وَالْأول قد أَخْرجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث غَيره
অতঃপর সেই দলটিকে সালাম দিন—তাঁরা উপবিষ্ট একদল ফেরেশতা—এবং তাঁরা আপনাকে কী অভিবাদন জানান তা শ্রবণ করুন, কারণ এটিই আপনার ও আপনার বংশধরদের অভিবাদন। তিনি (আদম) গেলেন এবং বললেন: আসসালামু আলাইকুম। তাঁরা বললেন: আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তাঁরা 'ওয়া রাহমাতুল্লাহ' অংশটুকু বৃদ্ধি করলেন। তিনি বললেন: যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদমের আকৃতিতে হবে, যার উচ্চতা ছিল ষাট হাত। এরপর থেকে সৃষ্টির উচ্চতা বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।

ইমাম মালেক আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত নির্ধারণ করলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে তাঁর আরশের উপর লিখে রাখলেন যে, নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য পেয়েছে। সমাপ্ত।

এটি ছাড়াও ইবনুল কাসিম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অদ্ভুত, তিনি বলেছেন: আমি ইমাম মালেককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে এই হাদিস বর্ণনা করে যে—নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, এবং এই হাদিস যে—নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর পায়ের গোছা উন্মুক্ত করবেন এবং তিনি জাহান্নামে তাঁর হাত প্রবেশ করাবেন যাতে তিনি যাকে ইচ্ছা বের করে আনতে পারেন। তিনি (ইমাম মালেক) এটি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং কাউকে এই বিষয়ে বর্ণনা করতে নিষেধ করলেন।

তাকিউদ্দিন 'আত-তিসঈনিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: লাইস ইবনে সাদ এই দুটি হাদিস বর্ণনা করতেন। প্রথমটি হলো 'আকৃতি' সংক্রান্ত হাদিস যা ইবনে আজলান থেকে বর্ণিত। দ্বিতীয়টি আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিসটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থে লাইসের বর্ণনা থেকে সংকলন করেছেন এবং প্রথম হাদিসটি তাঁরা অন্য রাবির বর্ণনা থেকে তাঁদের সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।