(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: -)
بلغة الأريب في مصطلح آثار الحبيب   (مرتضى الزبيدي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: بلغة الأريب في مصطلح آثار الحبيب

المؤلف: محمّد بن محمّد بن عبد الرزّاق الحسيني، أبو الفيض، الملقّب بمرتضى، الزَّبيدي (ت 1205هـ)

المحقق: عبد الفتاح أبو غدة

الناشر: مكتب المطبوعات الإسلامية - حلب

الطبعة: الثانية، 1408هـ

عدد الصفحات: 207

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বুলগাতুল আরিব ফি মুসতালাহি আসারিল হাবিব   (মর্তুজা আজ-জাবিদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


কিতাব: বুলগাতুল আরিব ফি মুসতালাহি আসারিল হাবিব

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-হুসাইনি, আবুল ফায়জ, উপাধি মর্তুজা, আজ-জাবিদি (মৃ. ১২০৫ হি.)

সম্পাদক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: মাকতাবুল মাতবুআত আল-ইসলামিয়্যাহ - আলেপ্পো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৭

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

الْحَمد لله على نعم تسلسل اتصالها فِي كل حِين وتواتر ترادف إفاضتها على كل آحَاد بِلَا حصر وَتَعْيِين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد ومولانا خَاتم النَّبِيين وَسيد الْمُرْسلين وقائد الغر المحجلين وعَلى آله الأكرمين وصحابته المبجلين وعَلى التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين

أما بعد فَهَذِهِ نبذة منيفة ومنحة شريفة ضمنتها بَيَان مَا اصْطلحَ عَلَيْهِ أهل الحَدِيث فِي الْقَدِيم والْحَدِيث جَعلتهَا تذكرة لنَفْسي وَلمن شَاءَ الله من الإخوان بعدِي رَجَاء أَن أنتظم فِي سلك خدمتهم وَأَن تشملني بركَة دعوتهم جمعتها من جموع كتب الْفَنّ وأوردت فِيهَا كل مستحسن وسميتها بلغَة الأريب فِي مصطلح آثَار الحبيب صلى الله عليه وسلم وَشرف ومجد وَعظم

وَقد سهلت فِيهَا الطَّرِيق على كل طَالب ويسرت فِي تنسيقها حَتَّى انْتهى إِلَيْهَا منَاط كل رَاغِب مَعَ اعترافي بِأَنِّي قصير الباع قصي الإطلاع وَإِنِّي لست من فرسَان هَذَا الميدان وَأَن لَيْسَ لي فِي حل عقدته يدان وعَلى الله توكلي وَبِه أستعين فِي أُمُور الدُّنْيَا وَالدّين وَهَذَا أَوَان الشُّرُوع فِي الْمَقْصُود بعون الْملك المعبود

فَاعْلَم أَن الْخَبَر إِن وصلت طرقه إِلَى رُتْبَة تعداد تحيل الْعَادة وُقُوع الْكَذِب مِنْهُم تواطؤا أَو اتِّفَاقًا بِلَا قصد مَعَ الاتصاف بذلك فِي كل طبقَة مصاحبا إِفَادَة الْعلم اليقيني الضَّرُورِيّ بِصِحَّة النِّسْبَة إِلَى قَائِل فمتواتر وَالصَّحِيح فِيهِ عدم التَّعْيِين وَمن عين فمنشؤه الِاسْتِدْلَال بِمَا جَاءَ فِيهِ ذكر ذَلِك الْعدَد

وَإِلَّا فآحاد وَيُوجب الْعَمَل بِهِ

فَإِن كَانَ بِوَاحِد فَقَط فَإِن وَقع التفرد فِي أَي مَوضِع كَانَ فَغَرِيب

وينقسم إِلَى صَحِيح وَغَيره وَكَذَلِكَ غَرِيب إِسْنَاد فَقَط وغريب متن وَإسْنَاد مَعًا وَلم يُوجد إِلَّا إِن اشْتهر ذَلِك الْوَاحِد ثمَّ روى عَنهُ كَثِيرُونَ كَحَدِيث إِنَّمَا (الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ)

وَذَلِكَ التفرد إِن وَقع فِي أصل السَّنَد ومداره ففرد مُطلق كَحَدِيث (النَّهْي عَن بيع الْوَلَاء وهبته) وَقد ينْفَرد بِهِ راو عَن ذَلِك المتفرد وَقد يسْتَمر فِي جَمِيع رُوَاته أَو أَكْثَرهم

أَو بِالنِّسْبَةِ إِلَى شخص معِين وَإِن كَانَ مَشْهُورا بطرِيق آخر ففرد نسبي ومعين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নিআমতসমূহের ধারা সর্বদা প্রবহমান এবং যাঁর অনুগ্রহের নিরবচ্ছিন্নতা কোনো সীমাবদ্ধতা বা নির্ধারণ ছাড়াই প্রতিটি একক সত্তার ওপর অব্যাহত। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক, শেষ নবী, রাসূলগণের সর্দার এবং কিয়ামতের দিন ওজুর প্রভাবে উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় অঙ্গবিশিষ্ট ব্যক্তিদের দলনেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর পরম সম্মানিত পরিবারবর্গ, মর্যাদাবান সাহাবীগণ এবং শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীনদের প্রতি।

অতঃপর, এটি একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সারসংক্ষেপ এবং এক সম্মানজনক উপহার, যাতে আমি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের প্রাচীন ও আধুনিক পরিভাষাগুলোর (اصطلح) বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি একে আমার নিজের জন্য এবং আমার পরবর্তী যে সকল দ্বীনি ভাই আল্লাহ চাহেন তাদের জন্য একটি স্মারক হিসেবে প্রস্তুত করেছি; এই আশায় যে, আমি যেন তাঁদের খিদমতের কাতারে শামিল হতে পারি এবং তাঁদের দোয়ার বরকত যেন আমাকেও স্পর্শ করে। আমি এই শাস্ত্রের বহু কিতাব থেকে এটি সংগ্রহ করেছি এবং এতে প্রত্যেক উত্তম বিষয় উল্লেখ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি ‘বুলগাতুল আরীব ফি মুসতালাহি আসারিল হাবিব’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আমি এতে প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষীর জন্য পথ সুগম করেছি এবং এর বিন্যাসকে এমন সহজ করেছি যে, তা প্রত্যেক আগ্রহী ব্যক্তির চূড়ান্ত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তবে আমি স্বীকার করছি যে, আমার সামর্থ্য খুবই সীমিত এবং জানাশোনা কম। আমি এই ময়দানের দক্ষ অশ্বারোহী নই এবং এই শাস্ত্রের গূঢ় রহস্য উন্মোচনের সামর্থ্য আমার নেই। আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সকল বিষয়ে আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। এখন মহান মাবুদ আল্লাহর সাহায্যে মূল উদ্দেশ্য শুরু করার মাহেন্দ্রক্ষণ।

জেনে রাখুন, সংবাদের (خبر) সূত্রগুলো যদি এমন সংখ্যায় পৌঁছে যা অভ্যাসগতভাবে তাদের মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিলে যাওয়া অসম্ভব করে দেয়, এবং প্রত্যেক স্তরে (طبقة) এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে এবং এর প্রবক্তার দিকে সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতার বিষয়ে অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, তবে তা মুতাওয়াতির (متواتر)। এর সংখ্যার ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকা। আর যারা সংখ্যা নির্দিষ্ট করেছেন, তাদের ভিত্তি হলো এমন সব দলিল যেখানে সেই বিশেষ সংখ্যার উল্লেখ এসেছে।

অন্যথায় তা আহাদ (آحاد) এবং এটি আমল করা ওয়াজিব করে।

যদি তা কেবল একজন দ্বারা বর্ণিত হয় এবং সূত্রের যেকোনো স্থানে একক বর্ণনা (تفرد) ঘটে, তবে তা গরিব (غريب)।

এটি সহিহ (صحيح) ও অন্যান্য প্রকারে বিভক্ত। একইভাবে এটি কেবল সূত্রের গরিব (غريب) এবং একইসাথে মতন (متن) ও সূত্রের গরিব (غريب) হতে পারে। এটি তখনই পাওয়া যায় যখন সেই একজন বর্ণনাকারী প্রসিদ্ধ হন এবং এরপর তাঁর থেকে বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী হাদিসটি বর্ণনা করেন, যেমন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি।

সেই একক বর্ণনা (تفرد) যদি সনদের মূলে ও তার আবর্তনস্থলে ঘটে, তবে তা ফরদ মুতলাক (فرد مطلق), যেমন: "ওলা (মুক্ত দাসের মীরাস) বিক্রয় ও দান করার নিষেধাজ্ঞা" সম্পর্কিত হাদিসটি। কখনো কখনো সেই একক বর্ণনাকারীর থেকে অন্য একজন বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করতে পারেন এবং এটি সমস্ত বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে বা অধিকাংশের ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকতে পারে।

অথবা যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাপেক্ষে একক বর্ণনা ঘটে, যদিও অন্য কোনো সূত্রে তা মশহুর (مشهور) হয়, তবে তা ফরদ নিসবী (فرد نسبي) এবং মুআইয়্যান (معين)।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
أَو بِاثْنَيْنِ فَقَط عَن اثْنَيْنِ فَقَط وَلَا أقل فعزيز سمي بِهِ لقلَّة وجوده أَو قوته

أَو بِأَكْثَرَ مِنْهُ فمشهور سمي بِهِ لوضوحه أَو اشتهاره على الْأَلْسِنَة سَوَاء وجد لَهُ سَنَد وَاحِد أَو لم يُوجد أصلا وَهُوَ المستفيض على رَأْي وَقيل غير ذَلِك

والآحاد بأقسامه الثَّلَاثَة مَقْبُول يجب الْعَمَل بِهِ ومردود لم يرجح صدق الْمخبر بِهِ

فَالْأول على أَرْبَعَة أَقسَام 1 فَإِن نَقله عدل بِأَن لم يكن فَاسِقًا وَلَا مَجْهُولا تَامّ الضَّبْط بِأَن لم يكن مغفلا أَو أخف مِنْهُ مُتَّصِل السَّنَد غير مُعَلل وَلَا شَاذ فَصَحِيح لذاته

2 - أَو وجد الْقُصُور مَعَ كَثْرَة الطّرق فَصَحِيح لَا لذاته

ويتفاوت فِي الْقُوَّة بِاعْتِبَار ضبط رِجَاله وتحري مخرجيه وَمن ثمَّ قدم مَا أخرجه البُخَارِيّ ثمَّ مُسلم ثمَّ مَا اتفقَا عَلَيْهِ ثمَّ مَا انْفَرد بِهِ أَحدهمَا ثمَّ مَا على شَرطهمَا أَو أَحدهمَا ثمَّ مَا على شَرط غَيرهمَا

وَمِنْهَا كَرِوَايَة الشَّافِعِي عَن مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر وكرواية النَّخعِيّ عَن عَلْقَمَة عَن ابْن مَسْعُود وَتسَمى رُتْبَة عليا وَدون ذَلِك كَرِوَايَة حَمَّاد بن سَلمَة عَن ثَابت عَن أنس وَدون ذَلِك كسهيل عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة

3 - فَإِن قل الضَّبْط مَعَ وجود الْبَقِيَّة فَحسن لذاته يحْتَج بِهِ كَالصَّحِيحِ كَرِوَايَة عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده

4 - فَإِن قَامَت قرينَة ترجح جَانب قبُول مَا يتَوَقَّف فِيهِ فَهُوَ حسن لَا لذاته وَالْأول إِن اعتضد صَار صَحِيحا لغيره وَيُسمى الْحسن لشَيْء خَارج وَيعْمل بِهِ فِي فَضَائِل الْأَعْمَال كالضعيف بل أولى

وَأما فِي الْأَحْكَام فَإِن كثرت طرقه قيل وعضده اتِّصَال عمل أَو مُوَافقَة شَاهد صَحِيح أَو ظَاهر الْقُرْآن عمل بِهِ فِيهَا أَيْضا وَإِلَّا فَلَا

واجتماع حسن مَعَ الصَّحِيح إِمَّا للتعدد فِي النَّاقِل أَو بِاعْتِبَار إسنادين

وَتقبل زِيَادَة راويهما الْعدْل الضَّابِط على غَيره إِن لم يَقع تناف بَينهَا وَبَين رِوَايَة من لم يزدْ
অথবা মাত্র দুইজন থেকে মাত্র দুইজন বর্ণনা করলে এবং এর চেয়ে কম না হলে তাকে আযিয (عزيز) বলা হয়। এর বিরলতা অথবা এর শক্তির কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে।

অথবা এর চেয়ে বেশি বর্ণনাকারী হলে তাকে মশহুর (مشهور) বলা হয়। এর স্পষ্টতা অথবা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধির কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে, চাই এর একটিমাত্র সনদ (سند) পাওয়া যাক অথবা আদৌ না পাওয়া যাক। এক মত অনুযায়ী এটিই মুস্তাফিদ (المستفيض), তবে অন্য মতও রয়েছে।

আর সংবাদে ওয়াহিদ (الآحاد) তার তিনটি প্রকারসহ হয় গ্রহণযোগ্য (مقبول) যার ওপর আমল করা ওয়াজিব, অথবা প্রত্যাখ্যাত (مردود) যার সংবাদদাতার সত্যতা প্রবল বলে প্রতীয়মান হয় না।

প্রথম প্রকারটি চার ভাগে বিভক্ত: ১. যদি তা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি বর্ণনা করেন—যিনি পাপাচারী (فاسق) নন এবং অজ্ঞাত (مجهول) নন—যার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর (تام الضبط) অর্থাৎ তিনি অসতর্ক নন বা তার চেয়ে কম ত্রুটিযুক্তও নন, আর সনদটি অবিচ্ছিন্ন (متصل السند) হয় এবং এতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (معلل) ও কোনো ব্যতিক্রমী বিরোধিতা (شاذ) না থাকে, তবে সেটি সহিহ লি-যাতিহি (صحيح لذاته)।

2 - অথবা যদি বর্ণনাকারীর মাঝে কোনো ঘাটতি থাকে কিন্তু বর্ণনার অনেকগুলো পথ (طرق) পাওয়া যায়, তবে সেটি সহিহ লা লি-যাতিহি (صحيح لا لذاته)।

এর শক্তি বা মর্যাদার স্তর বর্ণনাকারীদের (رجال) স্মরণশক্তির প্রখরতা এবং সংকলনকারীদের নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাইয়ের বিচারে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এজন্যই যা সহিহ বুখারি সংকলন করেছেন তা অগ্রগণ্য, এরপর সহিহ মুসলিম, এরপর যা তাঁরা উভয়ই ঐক্যমত হয়ে বর্ণনা করেছেন, এরপর যা তাঁদের মধ্যে একজন এককভাবে বর্ণনা করেছেন, এরপর যা তাঁদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী অথবা তাঁদের একজনের শর্ত অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে, এরপর যা অন্যদের শর্ত অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে যেমন—ইমাম শাফিঈ, মালেক থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং নাফি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন; আবার নাখঈ, আলকামা থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। একে উচ্চমর্যাদার স্তর (رتبة عليا) বলা হয়। এর নিচের স্তরে রয়েছে হাম্মাদ ইবনে সালামা, সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তারও নিচে রয়েছে সুহাইল, তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

3 - যদি অন্যান্য সব বৈশিষ্ট্য ঠিক থাকে কিন্তু স্মরণশক্তি কিছুটা কম হয় (قل الضبط), তবে তাকে হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته) বলা হয়। সহিহ-এর মতো এটিও দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحْتَج بِهِ), যেমন আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

4 - যদি এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যা সংশয়যুক্ত বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতার দিককে প্রবল করে, তবে তাকে হাসান লা লি-যাতিহি (حسن لا لذاته) বলা হয়। আর প্রথম প্রকারটি (হাসান লি-যাতিহি) যদি অন্য বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, তবে তা সহিহ লি-গাইরিহি (صحيح لغيره) হয়ে যায়। একে কোনো বাহ্যিক বিষয়ের কারণে হাসান (الحسن لشَيْء خَارج) বলা হয়। আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে এর ওপর আমল করা হয়, যেমনটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রেও করা হয়, বরং এটি তার চেয়ে বেশি অগ্রাধিকারযোগ্য।

আর বিধানের ক্ষেত্রে যদি এর বর্ণনার পথ (طرق) অনেক হয় এবং এটি কোনো নিরবচ্ছিন্ন আমল, কোনো সহিহ শাহিদ (شاهد) অথবা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের অনুকূলে হওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, তবে এক্ষেত্রেও এর ওপর আমল করা হবে; অন্যথায় নয়।

হাসান (حسن) এবং সহিহ (صحيح) শব্দ দুটির একত্র হওয়া বর্ণনাকারীর সংখ্যার একাধিকতার কারণে হতে পারে অথবা দুটি সনদ (إسنادين) বিবেচনায় হতে পারে।

আর এই উভয় প্রকারের বর্ণনাকারী যদি ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (العدل الضابط) হন, তবে অন্যদের বর্ণনার তুলনায় তাদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) গ্রহণযোগ্য হবে, যদি সেই অতিরিক্ত অংশ এবং যারা এটি বৃদ্ধি করেননি তাদের বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য না থাকে।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯১)
وَإِلَّا فَإِن لزم من قبُول إِحْدَاهمَا رد الْأُخْرَى احْتِيجَ إِلَى التَّرْجِيح

فَإِن خُولِفَ بأرجح مِنْهُ وَأولى إِمَّا لمزيد الضَّبْط أَو كَثْرَة الْعدَد أَو نَحوه فَإِن كَانَ مَقْبُولًا فشاذ وَالرَّاجِح مَحْفُوظ

وَإِلَّا فمنكر وَالرَّاجِح مَعْرُوف

وَإِن سلم من الْمُعَارضَة فمحكم

وَإِلَّا فَإِن أمكن الْجمع بَينهمَا فيسمى مُخْتَلف الحَدِيث كَحَدِيث (لَا عدوى وَلَا طيرة) مَعَ حَدِيث (فر من المجذوم فرارك من الْأسد)

وَإِلَّا فَإِن عرف الآخر مِنْهُمَا إِمَّا بِالنَّصِّ أَو بتصريح الصَّحَابِيّ بِهِ أَو بالتاريخ فالأخير نَاسخ والمتقدم مَنْسُوخ

وَإِن لم يعرف فإمَّا أَن يرجح أَحدهمَا بمرجح إِن أمكن أَو يُوقف عَن الْعَمَل حَتَّى يظْهر مُرَجّح وَذَلِكَ الْفَرد النسبي إِن وَافقه غَيره فَهُوَ المتابع فَإِن حصل للراوي فمتابعة تَامَّة أَو لشيخه فَصَاعِدا فالقاصرة وَيُسْتَفَاد بهَا التقوية

أَو متن يشببه إِمَّا فِي اللَّفْظ وَالْمعْنَى أَو فِي الْمَعْنى فَقَط من رِوَايَة آخر فشاهد وَخص قوم الْمُتَابَعَة بِمَا حصل بِاللَّفْظِ وَالشَّاهِد بِمَا حصل بِالْمَعْنَى

وتتبع الطّرق من الْمُحدث لذَلِك الحَدِيث اعْتِبَار
অন্যথায়, যদি তাদের একটিকে গ্রহণ করলে অন্যটিকে বর্জন করা অনিবার্য হয়ে পড়ে, তবে অগ্রাধিকার (ترجيح) নির্ণয়ের প্রয়োজন হবে।

যদি কোনো বর্ণনা তার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য বর্ণনার বিপরীত হয়—তা বর্ণনাকারীর অধিক স্মরণশক্তির (ضبط) কারণে হোক কিংবা বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্য বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে—তবে সেই বর্ণনাটি যদি গ্রহণযোগ্য (مقبول) স্তরের হয়, তবে তাকে বিচ্যুত (شاذ) বলা হবে, আর এর বিপরীতে অগ্রগণ্য (راجح) হাদিসটিকে সংরক্ষিত (محفوظ) বলা হবে।

অন্যথায় (অর্থাৎ বর্ণনাকারী গ্রহণযোগ্য না হলে) তা অগ্রহণযোগ্য (منكر) হিসেবে গণ্য হবে, আর এর বিপরীতে অগ্রগণ্য বর্ণনাটি পরিচিত (معروف) হিসেবে অভিহিত হবে।

আর যদি হাদিসটি বিরোধপূর্ণ বর্ণনা থেকে মুক্ত থাকে, তবে তাকে সুদৃঢ় (محكم) বলা হয়।

অন্যথায়, যদি উভয় বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে তাকে ভিন্নার্থবোধক হাদিস (مختلف الحديث) বলা হয়। যেমন: ‘সংক্রামক ব্যাধি ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই’ সংক্রান্ত হাদিস এবং ‘কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে পলায়ন করো যেমন তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো’ সংক্রান্ত হাদিসের মধ্যে সমন্বয়।

অন্যথায়, যদি উভয় বর্ণনার মধ্যে পরবর্তী বর্ণনাটি চিহ্নিত করা যায়—তা স্পষ্ট পাঠের (نص) মাধ্যমে হোক, কিংবা সাহাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে, অথবা ইতিহাসের মাধ্যমে—তবে শেষেরটি হবে রহিতকারী (ناسخ) এবং পূর্বেরটি রহিত (منسوخ)।

যদি (পরবর্তী বর্ণনাটি) জানা না যায়, তবে সম্ভব হলে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দিতে হবে। নতুবা যতক্ষণ কোনো অগ্রাধিকার প্রদানের কারণ স্পষ্ট না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমল করা স্থগিত রাখতে হবে। আর সেই আপেক্ষিক একক (فرد نسبي) বর্ণনার যদি অন্য কোনো সমর্থক বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে তাকে অনুগামী (متابع) বলা হয়। যদি এই সমর্থন মূল বর্ণনাকারীর স্তরেই পাওয়া যায়, তবে তাকে পূর্ণ অনুগমন (متابعة تامة) বলা হয়; আর যদি তা তার উস্তাদ বা তার উপরের স্তরের কোনো বর্ণনাকারীর সূত্রে পাওয়া যায়, তবে তাকে অপূর্ণ অনুগমন (متابعة قاصرة) বলা হয়। এর মাধ্যমে হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

অথবা যদি অন্য কোনো বর্ণনাকারীর সূত্রে এমন কোনো মূলপাঠ পাওয়া যায় যা মূল হাদিসের শব্দের ও অর্থের দিক থেকে কিংবা কেবল অর্থের দিক থেকে সদৃশ, তবে তাকে সাক্ষী (شاهد) বলা হয়। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ অনুগমন (متابعة) শব্দটিকে কেবল শব্দের মিলের ক্ষেত্রে এবং সাক্ষী (شاهد) শব্দটিকে কেবল অর্থের মিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন।

আর মুহাদ্দিস কর্তৃক কোনো নির্দিষ্ট হাদিসের বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান করাকে পর্যালোচনা (اعتبار) বলা হয়।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯২)
وَالثَّانِي أَعنِي الْمَرْدُود

إِمَّا أَن يكون رده لحذف بعض رجال الْإِسْنَاد

فَإِن كَانَ من مبادىء السَّنَد من تصرف مُصَنف سَوَاء كَانَ السَّاقِط وَاحِدًا أَو أَكثر فمعلق وَكَذَا إِذا سقط كل رِجَاله فَحكمه فِي صَحِيح البُخَارِيّ إِن أَتَى بقال أَو روى دلّ على أَنه ثَبت عِنْده أَو بيذكر وَيُقَال فَفِيهِ مقَال وَأما فِي غير صَحِيحه فمردود لَا يقبل

أَو من آخر السَّنَد من بعد التَّابِعِيّ أَو غير ذَلِك بِلَا شَرط الأولية والآخرية فمرسل لَا يحْتَج بِهِ غير مَرَاسِيل ابْن الْمسيب عِنْد الشَّافِعِي للْجَهْل بِحَال السَّاقِط إِذْ يحْتَمل أَن يكون صحابيا أَو تابعيا وعَلى الثَّانِي ضَعِيفا أَو ثِقَة وعَلى الثَّانِيَة حمله من صَحَابِيّ أَو تَابِعِيّ وهلم جرا وَهَذَا أولى مِمَّا قيل إِن الْمُرْسل مَا سقط فِيهِ الصَّحَابِيّ إِذْ الصَّحَابَة كلهم عدُول

والخفي من الْمُرْسل مَا يرويهِ عَمَّن عاصره وَلم يعرف أَنه لقِيه

أَو من أثْنَاء الْإِسْنَاد فَوق اثْنَيْنِ فَصَاعِدا متواليا فمعضل وَإِن لم يكن ذَلِك على سَبِيل التوالي بل من موضِعين أَو أَكثر فمنقطع

وَذَلِكَ السقط إِن وضح فمدرك بِعَدَمِ التلاقي وَإِن خَفِي بِحَيْثُ لَا يُدْرِكهُ إِلَّا الحذاق فمدلس وَالْفَاعِل مُدَلّس وَحكمه إِن كَانَ ثِقَة
দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত (مردود)

কোনো বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হলো বর্ণনাপরম্পরার (إسناد) কোনো বর্ণনাকারীর বিলোপ (حذف)।

যদি সনদ (سند) এর শুরু থেকে সংকলকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাই এমন হয় যে, সেখান থেকে একজন বা তার অধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন, তবে তাকে ঝুলন্ত (معلق) বলা হয়। অনুরূপভাবে যদি সনদের সমস্ত বর্ণনাকারীই বাদ পড়েন (তবে সেটিও ঝুলন্ত)। এর বিধান হলো—সহীহ বুখারী-তে যদি 'তিনি বলেছেন' বা 'তিনি বর্ণনা করেছেন' (কর্তৃবাচ্যে) উল্লেখ থাকে, তবে তা নির্দেশ করে যে এটি তাঁর নিকট প্রমাণিত। আর যদি 'উল্লেখ করা হয়েছে' বা 'বলা হয়েছে' (কর্মবাচ্যে) থাকে, তবে তাতে সমালোচনা (مقال) রয়েছে। আর সহীহ বুখারী ছাড়া অন্য কিতাবে এ ধরনের বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত (مردود), যা গ্রহণযোগ্য নয়।

অথবা যদি সনদের শেষ প্রান্ত থেকে অর্থাৎ তাবেয়ী (تابعي)-এর পরবর্তী অংশ থেকে বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, অথবা এর বাইরে শুরু বা শেষের শর্ত ছাড়াই অন্য কোথাও থেকে বাদ পড়ে, তবে তা মুরসাল (مرسل)। ইমাম শাফেঈর নিকট ইবনুল মুসাইয়্যিব-এর মুরসাল (مراسيل) বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোনো মুরসাল বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ বাদ পড়া বর্ণনাকারীর অবস্থা অজ্ঞাত (جهل)। কেননা বাদ পড়া ব্যক্তি সাহাবী (صحابي) হতে পারেন অথবা তাবেয়ী (تابعي) হতে পারেন। আর দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী তিনি দুর্বল (ضعيف) হতে পারেন অথবা নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে পারেন। আবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (তাবেয়ীর ক্ষেত্রে) তিনি সাহাবী (صحابي) থেকে গ্রহণ করেছেন নাকি অন্য কোনো তাবেয়ী (تابعي) থেকে—এভাবে ধারা চলতেই থাকবে। আর এ ব্যাখ্যাটি সেই সংজ্ঞার চেয়ে উত্তম যাতে বলা হয়েছে যে, মুরসাল (مرسل) হলো যাতে সাহাবী (صحابي) বাদ পড়েছেন; কেননা সকল সাহাবী (صحابة) তো ন্যায়পরায়ণ (عدول)।

আর সুপ্ত মুরসাল (مرسل خفي) হলো—যা এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করা হয় যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত নয়।

অথবা যদি বর্ণনাপরম্পরার (إسناد) মাঝখান থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েন, তবে তাকে জটিল (معضل) বলা হয়। আর যদি তা ধারাবাহিকভাবে না হয়ে বরং দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে হয়, তবে তাকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়।

এই বাদ পড়া যদি স্পষ্ট হয় তবে তা সাক্ষাৎ না হওয়ার দ্বারা উপলব্ধি করা যায়। আর যদি তা এমন সূক্ষ্ম হয় যে কেবল বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা ছাড়া কেউ তা অনুধাবন করতে পারেন না, তবে তাকে প্রতারণামূলক (مدلس) বলা হয় এবং এর রূপকারকে প্রতারক (مدلس) বলা হয়। আর এর বিধান হলো, যদি বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন...
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
لم يقبل إِلَّا مَا صرح فِيهِ بِالتَّحْدِيثِ دون عَن وَقَالَ وَالْفرق بَينه وَبَين الْمُرْسل الْخَفي بالمعرفة وَعدمهَا

أَو يكون رده لطعن فِي الرَّاوِي

فَإِن كَانَ لكذب فِي الحَدِيث تعمدا فموضوع وَتحرم رِوَايَته إِلَّا ببيات حَاله قيل إِلَّا فِي مَوَاضِع مَخْصُوصَة

وَيعرف ذَلِك بِالْإِقْرَارِ والقرائن بِأَن يكون مناقضا للنَّص أَو السّنة أَو الْإِجْمَاع أَو صَرِيح الْعقل أَو يُؤْخَذ من حَال الرَّاوِي كَمَا وَقع لغياث بن إِبْرَاهِيم أَو بالإختراع من عِنْده أَو من غَيره إِمَّا بعض السّلف أَو قدماء الْحُكَمَاء أَو بعض الْإسْرَائِيلِيات إِمَّا لعدم الدّين أَو غَلَبَة الْجَهْل أَو فرط العصبية أَو يكون ذَلِك لتهمة الرَّاوِي بِالْكَذِبِ بمخالفته للقواعد الْمَعْلُومَة أَو عرف بِهِ فِي كَلَامه

وَإِن لم يظْهر فمتروك وَهُوَ دون الأول
(তাঁর বর্ণনা) ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না তিনি তাতে সরাসরি শ্রবণের শব্দ (التحديث) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবেন—'আন' (عن) এবং 'ক্বলা' (قال) শব্দ ব্যতিরেকে। আর এর এবং 'গোপন বিচ্ছিন্ন' (مرسل خفي) এর মধ্যকার পার্থক্য হলো (সাক্ষাৎ) জানা থাকা বা না থাকা।

অথবা হাদিস প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে বর্ণনাকারীর (راوٍ) ওপর কোনো আপত্তি বা অপবাদ (طعن)।

আর যদি তা হাদিসের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত মিথ্যার (كذب) কারণে হয়, তবে তা হলো 'বানোয়াট' (موضوع)। এর অবস্থা বর্ণনা করে দেওয়া ব্যতীত তা বর্ণনা করা হারাম; তবে কেউ কেউ বলেছেন—বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত।

আর এটি (অর্থাৎ বানোয়াট হওয়া) বর্ণনাকারীর স্বীকারোক্তি অথবা বিভিন্ন আলামতের (قرائن) মাধ্যমে জানা যায়; যেমন—তা কোনো সুনিশ্চিত পাঠ (نص), সুন্নাহ, ঐক্যমত্য (إجماع) অথবা স্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী হওয়া। অথবা বর্ণনাকারীর (راوٍ) অবস্থা থেকে তা গ্রহণ করা, যেমনটি গিয়াস ইবনে ইব্রাহিমের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। অথবা নিজের পক্ষ থেকে বা অন্য কারও পক্ষ থেকে তা উদ্ভাবন করা—চাই তা কোনো পূর্বসূরী (سلف), প্রাচীন দার্শনিক বা কোনো ইসরাঈলী বর্ণনা (إسرائيليات) থেকে নেওয়া হোক। এর কারণ হতে পারে দ্বীনদারির অভাব, অজ্ঞতার প্রভাব কিংবা চরম গোঁড়ামি। অথবা এটি হতে পারে বর্ণনাকারীর বিরুদ্ধে 'মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত' (تهمة بالكذب) হওয়ার কারণে—যা সুপরিচিত মূলনীতির বিপরীত বর্ণনা দেওয়ার মাধ্যমে অথবা তাঁর কথাবার্তায় মিথ্যার পরিচয়ের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়।

আর যদি তা (অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত মিথ্যা) প্রকাশ না পায়, তবে তাকে 'পরিত্যক্ত' (متروك) বলা হয়; যা প্রথম স্তরের (অর্থাৎ বানোয়াটের) চেয়ে কিছুটা নিচে।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
أَو فحش غلط أَو غَفلَة عَن الإتقان أَو فسق بِالْفِعْلِ أَو بالْقَوْل فمنكر

أَو وهم فَإِن اطلع عَلَيْهِ بعد مزِيد فحص من هُوَ أهل نقد هَذِه الصِّنَاعَة على قَادِح إِمَّا إلهاما مَحْضا أَو غير ذَلِك فمعلل إِمَّا صَحِيح الْمَتْن والإسناد أَو أَحدهمَا والقدح فِي أَحدهمَا قدح فِي الْكل

أَو مُخَالفَة بتغيير سِيَاق السَّنَد بِأَن يرْوى بمتنين مُخْتَلفين لَهما إسنادان بِوَاحِد أَو يروي أَحدهمَا وَيزِيد فِيهِ من الآخر مَا لَيْسَ فِي الأول وَنَحْو ذَلِك من الصُّور فمدرج السَّنَد

أَو بمدمج مَوْقُوف من كَلَام الصَّحَابِيّ بمرفوع من كَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم أول الحَدِيث أَو آخِره أَو وَسطه فمدرج الْمَتْن وَيعرف بتصريح الرَّاوِي وَغير ذَلِك

أَو بِتَقْدِيم وَتَأْخِير إِمَّا فِي الْإِسْنَاد أَو فِي الْمَتْن فمقلوب كرمة بن كَعْب وَكَعب بن مرّة وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه فِي السَّبْعَة الَّذين يظلهم الله فِي ظلّ عَرْشه (وَرجل تصدق بِصَدقَة فأخفاها حَتَّى لَا تعلم يَمِينه مَا تنْفق شِمَاله)

أَو بِزِيَاد راو فِي أثْنَاء الْإِسْنَاد فمزيد
অথবা অত্যধিক ভুল (فحش غلط), অথবা আয়ত্তকরণের ব্যাপারে অসতর্কতা (غفلة عن الإتقান), অথবা কর্ম বা কথার মাধ্যমে পাপাচার (فسق) থাকলে তা পরিত্যক্ত/অস্বীকৃত (منكر)।

অথবা বিভ্রম (وهم); অতঃপর যদি এই শাস্ত্রের সমালোচক হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি নিবিড় অনুসন্ধানের পর কোনো গোপন ত্রুটির (قادح) সন্ধান পান—তা নিছক অন্তপ্রেরণা (إلهام محض) হোক বা অন্য কোনো উপায়ে—তবে তা ত্রুটিযুক্ত (معلل)। এর মূল পাঠ (متن) ও সনদ (إسناد) উভয়ই সহিহ (صحيح) হতে পারে অথবা যেকোনো একটি; তবে কোনো একটির ত্রুটি মানেই পুরো হাদিসের ত্রুটি।

অথবা সনদের বিন্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধিতা (مخالفة); এভাবে যে, ভিন্ন ভিন্ন দুটি মূল পাঠকে—যাদের দুটি আলাদা সনদ রয়েছে—একটি মাত্র সনদে বর্ণনা করা, অথবা একটি বর্ণনা করে তাতে অন্যটি থেকে এমন কিছু বৃদ্ধি করা যা প্রথমটিতে ছিল না এবং এ জাতীয় রূপসমূহ; তবে একে সনদে অনুপ্রবেশকৃত (مدرج السند) বলা হয়।

অথবা হাদিসের শুরুতে, শেষে বা মাঝখানে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মারফু (مرفوع) বাণীর সাথে সাহাবীর কোনো মাওকুফ (موقوف) বাণীর সংমিশ্রণ ঘটানো; তবে তাকে মূল পাঠে অনুপ্রবেশকৃত (مدرج المتن) বলা হয়। এটি বর্ণনাকারীর (راوي) স্পষ্টোক্তি বা অন্য কোনো উপায়ে জানা যায়।

অথবা আগে-পিছে (تقديم وتأخير) করার মাধ্যমে, যা সনদে বা মূল পাঠে হতে পারে, তবে একে ওলট-পালট (مقلوب) বলা হয়। যেমন: মুররাহ বিন কাব-এর স্থলে 'কাব বিন মুররাহ' বলা। এবং সাত ব্যক্তি যাদের আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন—সংক্রান্ত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে: 'এবং এক ব্যক্তি দান করল এবং তা এতই গোপন রাখল যে, তার ডান হাত যা খরচ করে তা যেন তার বাম হাত জানতে না পারে'।

অথবা সনদের মাঝখানে কোনো বর্ণনাকারীর (راو) আধিক্য ঘটানো, তবে তাকে অতিরিক্ত (مزيد) বলা হয়।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
أَو بإبدال إِمَّا لراو أَو لفظ بآخر مَعَ عدم الْمُرَجح لإحدى الرِّوَايَتَيْنِ على الْأُخْرَى فمضطرب وَإِذا كَانَ أَحدهمَا مرجحا بِحِفْظ وَنَحْوه فالعمدة على الرَّاجِح

وَقد يَقع ذَلِك عمدا امتحانا وَهُوَ جَائِز بانتهاء الْحَاجة إِلَيْهِ

أَو بتغيير نقط إِمَّا فِي الْإِسْنَاد أَو الْمَتْن فمصحف كعتبة بن الندر بالنُّون وَالدَّال بِالْبَاء والذال وَحَدِيث (من صَامَ رَمَضَان وَاتبعهُ سِتا من شَوَّال) فَقَالَ شَيْئا من شَوَّال

أَو تَغْيِير شكل فمحرف كسليم بِالضَّمِّ بسليم بِالْفَتْح أَو عَكسه

وَالْأولَى إتْيَان الحَدِيث بِلَفْظِهِ أَو تَمَامه وَلَا يجوز إِبْدَاله بمرادف لَهُ أَو نَقصه إِلَّا لعالم بمدلولات الْأَلْفَاظ لأمنه من الْإِبْدَال بِمَا لَا يُطَابق إِلَّا فِيمَا تعبد بِلَفْظِهِ كالأذكار أَو من جَوَامِع الْكَلم

فَإِن كَانَ فِي معنى الحَدِيث خَفَاء إِمَّا أَن يكون اللَّفْظ مُسْتَعْملا بقلة لَكِن فِي مَدْلُوله دقة احْتِيجَ إِلَى مطالعة كتب الْغَرِيب ك النِّهَايَة وَالْفَائِق

أَو بِكَثْرَة مَعَ الدقة فِي مَدْلُوله احْتِيجَ إِلَى المؤلفات فِي الْمُشكل ك كتاب الطَّحَاوِيّ وَغَيره

অথবা কোনো রাবি কিংবা শব্দকে অন্য রাবি বা শব্দ দ্বারা পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি এমন হয় যে, কোনো একটি বর্ণনাকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই, তবে তাকে 'পরস্পর বিরোধী' (مضطرب) বলা হয়। আর যদি হিফজ (স্মৃতিশক্তি) বা অন্য কোনো কারণে কোনো একটি বর্ণনা প্রাধান্য পায়, তবে সেই প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) বর্ণনার ওপরই নির্ভর করা হবে।

কখনও কখনও পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করা হয় এবং প্রয়োজন শেষ হওয়া পর্যন্ত তা জায়েজ।

অথবা সনদে (إسناد) কিংবা মতনে (متن) নুকতার (বিন্দুর) পরিবর্তনের মাধ্যমে হলে তাকে 'বর্ণ-বিকৃত' (مصحف) বলা হয়। যেমন: ‘উতবাহ ইবনুন নাদার’ (عتبة بن الندر)-কে ‘নুন’ ও ‘দাল’-এর স্থলে ‘বা’ ও ‘যাল’ দিয়ে পড়া। অথবা যেমন সেই হাদিস— "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি (ستاً) রোজা রাখল"— যেখানে কেউ 'ছয়টি' (ستاً)-এর স্থলে 'কিছু' (شيئاً) বলল।

অথবা যদি হারাকাত (স্বরচিহ্ন) পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়, তবে তাকে 'স্বর-বিকৃত' (محرف) বলা হয়। যেমন: ‘সুলাইম’ (سليم)-কে পেশ (যম্মাহ) দিয়ে পড়ার পরিবর্তে যবর (ফাতহা) দিয়ে ‘সালাইম’ (سليم) পড়া অথবা এর বিপরীত।

হাদিস তার মূল শব্দেই পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করা উত্তম। শব্দের গভীর অর্থ ও প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য হাদিসকে তার সমার্থক শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করা কিংবা এর কোনো অংশ বাদ দেওয়া জায়েজ নয়; যাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ দ্বারা পরিবর্তনের ঝুঁকি না থাকে। তবে যেসব জিকির বা দুআ নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে আদায় করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত অথবা যেগুলো ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী), সেগুলোর ক্ষেত্রে শব্দ পরিবর্তন করা যাবে না।

যদি হাদিসের অর্থে অস্পষ্টতা থাকে, অর্থাৎ শব্দটি অল্প ব্যবহৃত কিন্তু তার অর্থ অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়, তবে 'বিরল শব্দ' (غريب) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ যেমন আন-নিহায়াহ ও আল-ফাইক অধ্যয়ন করার প্রয়োজন পড়ে।

অথবা শব্দটি অধিক ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও যদি তার অর্থে জটিলতা থাকে, তবে ‘জটিল’ (مشكل) বিষয়ক রচনাবলি যেমন তাহাবির কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থের সাহায্য নিতে হয়।

(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
وَذَلِكَ الرَّد إِمَّا أَن يكون لجَهَالَة الرَّاوِي إِمَّا بِذكر نَعته الْخَفي من اسْم أَو كنية أَو لقب أَو صَنْعَة أَو حِرْفَة دون مَا اشْتهر بِهِ لغَرَض أَو قلَّة رِوَايَته بِأَن لم يرو عَنهُ إِلَّا وَاحِد وَقد صنف فِيهِ

أَو إِبْهَام اسْمه اختصارا من الرَّاوِي وَيعرف بوروده مُسَمّى من طَرِيق آخر أَو لفظ تعديله فمبهم وَلَا يقبل مَا لم يسم فَإِن سمي الرَّاوِي وَانْفَرَدَ عَنهُ بالراوية وَاحِد لم يرو عَنهُ غَيره فمجهول الْعين لَا يقبل أَيْضا إِلَّا إِذا كَانَ يوثقه غير من يتفرد عَنهُ وَكَذَا من يتفرد عَنهُ إِذا كَانَ أَهلا لذَلِك

وَإِن روى عَنهُ أَكثر وَلم يوثق وَلم يجرح بل سكت عَنهُ فمجهول الْحَال وَهُوَ المستور وَقد قبله جمَاعَة ورده الْجُمْهُور وَقيل بالتوقف وَهُوَ التَّحْقِيق

وَإِن كَانَ ذَلِك الرَّد لبدعة فالمبتدع إِن كفر فَوَاضِح أَنه لَا يقبل وَإِلَّا قبل وَإِلَّا لبطل كثير من الْأَحْكَام إِلَّا سَاب الشَّيْخَيْنِ والرافضة مُطلقًا مَا لم يكن دَاعِيَة إِلَى بدعته أَو مُوَافقَة مذْهبه واعتقاده وَإِلَّا رد للتُّهمَةِ وَهُوَ الْمُخْتَار

أَو لسوء حفظ فِي الرَّاوِي وَالْمرَاد بِهِ عدم التَّرْجِيح فِي جَانب إِصَابَته على خطئه فَإِن كَانَ ذَلِك لَازِما لَهُ فشاذ على رَأْي وَإِلَّا فَإِن طَرَأَ عَلَيْهِ لكبر أَو مرض أَو ذهَاب بصر أَو احتراف كتب فمختلط وَحكمه قبُول مَا قبله ورد مَا حدث بعده فَإِن لم يتَمَيَّز وقف
আর সেই প্রত্যাখ্যান বর্ণনাকারীর অজ্ঞাত পরিচয় (جهالة الراوي) হওয়ার কারণে হয়ে থাকে। এটি ঘটে তার নাম, কুনিয়া (উপনাম), লকব (উপাধি), পেশা বা বৃত্তির এমন কোনো অস্পষ্ট গুণাবলি উল্লেখ করার মাধ্যমে যা দ্বারা তিনি সুপরিচিত নন—কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য অথবা তার বর্ণনার স্বল্পতার কারণে, যেখানে তার থেকে মাত্র একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

অথবা বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে তার নাম অস্পষ্ট (إبهام) রাখা। এটি অন্য কোনো সূত্র থেকে তার নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে জানা যায় অথবা তার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের শব্দের (لفظ تعديله) মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং তিনি হলেন অস্পষ্ট (مبهم) বর্ণনাকারী; আর নাম উল্লেখ না করা পর্যন্ত তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না। যদি বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং তার থেকে মাত্র একজন ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা করেন, তবে তিনি হলেন সত্তাগতভাবে অজ্ঞাত (مجهول العين)। তাকেও গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না তাকে এমন কেউ নির্ভরযোগ্য (يوثقه) সাব্যস্ত করেন যিনি তার একক বর্ণনাকারী নন। অনুরূপভাবে, তার থেকে একক বর্ণনাকারী ব্যক্তি যদি নিজেই এ বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন হন (তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে)।

আর যদি তার থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেন কিন্তু তাকে নির্ভরযোগ্য (يوثق) সাব্যস্ত করা না হয় এবং দোষারোপও (يجرح) না করা হয়, বরং তার সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়, তবে তিনি বর্ণনার অবস্থার দিক থেকে অজ্ঞাত (مجهول الحال)। আর তিনিই হলেন মাসতুর (المستور)। একদল আলিম এটি গ্রহণ করেছেন এবং জমহুর (الجمهور) তথা অধিকাংশ আলিম এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার (التوقف) কথা বলা হয়েছে এবং এটিই সূক্ষ্মভাবে যাচাইকৃত মত (التحقيق)।

আর যদি সেই প্রত্যাখ্যান বিদআত (بدعة) এর কারণে হয়, তবে সেই বিদআতী (المبتدع) ব্যক্তি যদি তার বিদআতের কারণে কাফির (كفر) হয়ে যায়, তবে এটি স্পষ্ট যে তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না। অন্যথায় তা গ্রহণ করা হবে, নতুবা অনেক বিধানই বাতিল হয়ে যেত। তবে শাইখাইন (আবু বকর ও উমর রা.)-কে গালিদানকারী এবং রাফেজিদের (الرافضة) বর্ণনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যতক্ষণ না সে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) হয় অথবা বর্ণনাটি তার মতাদর্শ ও বিশ্বাসের অনুকূলে হয়। অন্যথায় অপবাদের (التهمة) আশঙ্কায় তা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং এটিই মনোনীত মত।

অথবা বর্ণনাকারীর মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার (سوء حفظ) কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সঠিক হওয়ার দিকটি ভুল হওয়ার ওপর প্রাধান্য না পাওয়া। যদি এটি তার চিরস্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়, তবে এক মতানুসারে তাকে বিচ্ছিন্ন (شاذ) বলা হয়। অন্যথায় যদি বার্ধক্য, অসুস্থতা, দৃষ্টিশক্তি হারানো বা কিতাবাদি নষ্ট হওয়ার কারণে এটি আকস্মিকভাবে ঘটে, তবে তাকে সংমিশ্রণকারী (مختلط) বলা হয়। এর বিধান হলো—স্মৃতি বিভ্রাটের পূর্বের বর্ণনাগুলো গ্রহণ করা হবে এবং পরের বর্ণনাগুলো প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর যদি কোনটি আগে আর কোনটি পরে তা পার্থক্য করা না যায়, তবে সিদ্ধান্ত স্থগিত (وقف) রাখতে হবে।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
والإسناد إِن انْتهى أَو إِلَى صَحَابِيّ وَهُوَ من لقِيه صلى الله عليه وسلم مُؤمنا وَمَات عَلَيْهِ وَإِن تخللت ردة إِن لم يكن أَخذه من غَيره صلى الله عليه وسلم مِمَّا لَا مجَال للِاجْتِهَاد فِيهِ وَلَا لَهُ تعلق بِبَيَان لُغَة أَو شرح غَرِيب فمرفوع

وَإِلَّا فموقوف أَو إِلَى تَابِعِيّ فَمن بعده فمقطوع ومنقطع وَيُقَال لَهُ أَيْضا الْأَثر والمسند فَإِن قل عدد رجال الْإِسْنَاد إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم انْتِهَاء فعلو مُطلق أَو إِلَى إِمَام من الْأَئِمَّة فعلو نسبي وَإِن وصل ذَلِك الْإِسْنَاد إِلَى شيخ مُصَنف من غير طَرِيقه فموافقة أَو شيخ شَيْخه فَصَاعِدا فبدل فَإِن اسْتَوَى بعد الشَّيْخ الْمُجْتَمع فِيهِ أَولا فواسطة بَينهمَا وَهُوَ الْأَقْوَى وَإِن سَاوَى عدد إِسْنَاده عدد إِسْنَاد أحد المصنفين فمساواة وَهُوَ مَعْدُوم

أَو سَاوَى تلميذ أحد المصنفين فمصافحة تجوزا وهما من قسم الْعُلُوّ الْمُطلق لَا النسبي كَمَا قيل

ويقابل الْعُلُوّ النُّزُول

أَو تشارك الرَّاوِي وَمن روى عَنهُ فِي أَمر مثل السن واللقي فرواية الأقران

أَو روى كل من القرينين عَن الآخر فمدبج وَهُوَ أخص
সনদ (إسنাদ) যদি কোনো সাহাবী (صحابي) পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়—যিনি ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও মাঝখানে ধর্মত্যাগ ঘটে থাকে—এবং যদি সাহাবী বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতিরেকে অন্য কারো থেকে গ্রহণ না করে থাকেন এবং বিষয়টি এমন হয় যাতে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর কোনো অবকাশ নেই এবং তার সাথে ভাষাগত ব্যাখ্যা বা কোনো দুর্বোধ্য শব্দের (غريب) ব্যাখ্যার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে তা মারফু (مرفوع)।

আর তা না হলে একে মাওকুফ (موقوف) বলা হয়। আর যদি সনদটি কোনো তাবেয়ি (تابعي) বা তার পরবর্তী কারো পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়, তবে তাকে মাকতু (مقطوع) ও মুনকাতি (منقطع) বলা হয়। একে আসর (الأثر) এবং মুসনাদও বলা হয়ে থাকে। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদের বর্ণনাকারীদের সংখ্যা কম হয়, তবে তাকে উলু মুতলাক (علو مطلق) বলা হয়, আর যদি কোনো ইমাম পর্যন্ত বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম হয়, তবে তা উলু নিসবি (علو نسبي)। আর যদি সেই সনদটি কোনো গ্রন্থকার (مصنف)-এর উস্তাদ পর্যন্ত তাঁর মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে পৌঁছায়, তবে তাকে মুওয়াফাকাত (موافقة) বলা হয়। অথবা যদি তাঁর উস্তাদের উস্তাদ বা তার উপরের স্তরে পৌঁছায়, তবে তাকে বাদাল (بدل) বলা হয়। যদি সেই সাধারণ উস্তাদ—যাতে উভয় সনদ মিলিত হয়েছে—তার পরবর্তী স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা সমান হয়, তবে তাদের মাঝে একটি মাধ্যম (واسطة) থাকে এবং এটিই অধিক শক্তিশালী। আর যদি বর্ণনাকারীর সংখ্যা কোনো গ্রন্থকারের সনদের বর্ণনাসংখ্যার সমান হয়, তবে তাকে মুসাওয়াত (مساواة) বলা হয়, যা বর্তমানে বিলুপ্ত।

অথবা যদি বর্ণনাসংখ্যা কোনো গ্রন্থকারের ছাত্রের বর্ণনাসংখ্যার সমান হয়, তবে তাকে রূপক অর্থে মুসাফাহাহ (مصافحة) বলা হয়। এই দুটি উলু মুতলাক (علو مطلق)-এর অন্তর্ভুক্ত, উলু নিসবি (علو نسبي)-এর নয়, যেমনটি বলা হয়ে থাকে।

আর উচ্চ সনদের (علو) বিপরীত হলো নিম্ন সনদ বা নুজুল (نزول)।

অথবা যদি বর্ণনাকারী (راوي) এবং যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তারা বয়স এবং সাক্ষাতের মতো বিষয়ে সমপর্যায়ের হয়, তবে তাকে সমসাময়িকদের বর্ণনা বা রিওয়ায়াতুল আকরান (رواية الأقران) বলা হয়।

আর যদি দুই সমসাময়িক ব্যক্তির প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন, তবে তাকে মুদাব্বাজ (مدبজ) বলা হয়, যা পূর্বোক্ত প্রকারের চেয়ে আরও বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
مِمَّا قبله كراوية أبي هُرَيْرَة عَن عَائِشَة رضي الله عنهما وَبِالْعَكْسِ

أَو روى عَمَّن هُوَ دونه فِي مرتبَة الآخذين عَنهُ فرواية أكَابِر عَن أصاغر كَرِوَايَة الزُّهْرِيّ عَن مَالك وَمِنْه رِوَايَة الْآبَاء عَن الْأَبْنَاء وَالصَّحَابَة عَن الأتباع كَرِوَايَة الْعَبَّاس عَن ابْنه الْفضل وَرِوَايَة العبادلة الْأَرْبَعَة عَن كَعْب الْأَحْبَار وَعكس ذَلِك كثير كَرِوَايَة عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده

وَإِن تقدم موت قرينين اشْتَركَا فِي الْأَخْذ عَن شيخ فسابق ولاحق كسماع الذَّهَبِيّ عَن التنوخي والتحديث عَنهُ وَمَات سنة ثَمَان وَأَرْبَعين وَسبع مئة وَآخر من مَاتَ من أَصْحَاب التنوخي الشهَاب الشاوي مَاتَ سنة أَربع وَثَمَانِينَ وثمان مئة
পূর্ববর্তী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমন আয়েশা (রা.) থেকে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা (رواية) এবং এর বিপরীত।

অথবা এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা (رواية) করা যিনি হাদিস গ্রহণকারীদের স্তরে তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের। এটি বড়দের ছোটদের থেকে বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر), যেমন ইমাম যুহরী কর্তৃক ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো পিতাদের সন্তানদের থেকে বর্ণনা (رواية الآباء عن الأبناء) এবং সাহাবীগণের অনুসারীদের থেকে বর্ণনা (رواية الصحابة عن الأتباع), যেমন আব্বাস (রা.) কর্তৃক তার পুত্র ফযল থেকে বর্ণনা এবং চার আব্দুল্লাহ (العبادلة الأربعة) কর্তৃক কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা। আর এর বিপরীতটি অধিক প্রচলিত, যেমন আমর ইবনে শুয়াইব কর্তৃক তার পিতা এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা।

আর যদি একই শায়খ (شيخ) থেকে হাদিস গ্রহণে অংশীদার হওয়া দুই সমসাময়িকের একজনের মৃত্যু আগে ঘটে, তবে তাকে অগ্রবর্তী ও অনুবর্তী (السابق واللاحق) বলা হয়। যেমন ইমাম যাহাবী কর্তৃক তানূখী থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) ও বর্ণনা (تحديث) করা; তিনি সাতশত আটচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তানূখীর ছাত্রদের মধ্যে সর্বশেষ যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি হলেন শিহাব আল-শাউয়ী, যিনি আটশত চুরাশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ২০০)
أَو اتّفق الروَاة فِي صِيغ الْأَدَاء وَغَيرهَا من الْحَالَات القولية أَو الفعلية فمسلسل إِمَّا فِي الْإِسْنَاد كُله كالمسلسل بالحفاظ أَو بِأخذ اللِّحْيَة أَو بِالْإِيمَان بِالْقدرِ وَغير ذَلِك

أَو فِي معظمه بتاريخ الرِّوَايَة كالمسلسل بالأولية لانتهائها إِلَى سُفْيَان على الصَّحِيح والمسلسل بالآخرية أَو بِزَمن الرِّوَايَة كالعيد وَالْخَمِيس أَو بمحلها كالملتزم النفيس أَو كَونه وَحده
অথবা যদি রাবীগণ হাদিস আদায়ের শব্দাবলী (صيغ الأداء) এবং অন্যান্য মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক অবস্থায় একমত হন, তবে তাকে পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل) বলা হয়। এটি হয় সম্পূর্ণ সনদ (إسناد) জুড়ে বিদ্যমান থাকে, যেমন হাফিজদের (حفاظ) মাধ্যমে পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل) হওয়া, অথবা দাড়ি ধরার মাধ্যমে কিংবা তাকদিরের প্রতি ঈমান আনার বিবৃতির মাধ্যমে এবং এ জাতীয় অন্য কিছু।

অথবা এটি বর্ণনার তারিখের অধিকাংশ স্তরে হয়, যেমন প্রথম হওয়ার দিক থেকে পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل بالأولية) হাদিস; কেননা সঠিক (صحيح) মতানুসারে এই ধারাটি সুফিয়ান পর্যন্ত পৌঁছে সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া শেষ হওয়ার দিক থেকে পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل بالآخرية) হাদিস, অথবা বর্ণনার সময়ের প্রেক্ষিতে যেমন ঈদ ও বৃহস্পতিবার, অথবা বর্ণনার স্থানের প্রেক্ষিতে যেমন মহিমান্বিত মুলতাযাম, কিংবা বর্ণনাকারী একাকী হওয়ার অবস্থা।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ২০১)
حِين التَّحَمُّل عَن شَيْخه الْعُمْدَة أَو بِصفة الرَّاوِي الحالية كَكَوْنِهِ معمرا أَو مصريا أَو يمنيا أَو شاميا أَو اسْمه مُحَمَّدًا أَو مِمَّن ذكر بكنيته أَو عينت نسبته

وَمن المسلسل بِالصّفةِ القولية قِرَاءَة الصَّفّ وَإِنِّي أحبك فَقل وبالصفة الفعلية كالكتابة بالمروي والمصافحة والمشابكة

وَمن المسلسل بِصِيغَة الرِّوَايَة كسمعت وقرأت وأنشدت

أَو اسْما فَقَط إِمَّا مَعَ اسْم الْأَب كالخليل بن أَحْمد سِتَّة أَو مَعَ الْجد كأحمد بن جَعْفَر بن حمدَان أَرْبَعَة

أَو مَعَ الكنية كَأبي بكر بن عَيَّاش ثَلَاثَة أَو مَعَ النِّسْبَة كالحنفي إِلَى الْمَذْهَب وَإِلَى الْقَبِيلَة فمتفق ومفترق

أَو اتّفقت أَو اتفقَا خطا لَا لفظا فمؤتلف ومختلف كسلام بِالتَّشْدِيدِ وَسَلام بِالتَّخْفِيفِ الْآبَاء خطا مَعَ اتِّفَاق الْأَسْمَاء كموسى بن عَليّ بِفَتْح الْعين ومُوسَى بن عَليّ بضَمهَا

أَو عَكسه كشريح وسريج بن النُّعْمَان فمتشابهة ويتبين باختصاص من الرَّاوِي وَإِلَّا فَيرجع إِلَى الْقَرَائِن وَالظَّن الْغَالِب
নির্ভরযোগ্য (عمدة) শায়খের নিকট হতে হাদিস গ্রহণ (تحمل) করার সময়কার অবস্থা অথবা বর্ণনাকারীর বর্তমান কোনো বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে; যেমন তাঁর দীর্ঘায়ু (معمر) হওয়া, অথবা মিসরীয়, ইয়েমেনি বা শামীয় হওয়া, কিংবা তাঁর নাম মুহাম্মদ হওয়া, অথবা যাঁদের উপনাম (كنية) উল্লেখ করা হয়েছে বা যাঁদের সম্বন্ধ (نسبة) নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আর বাচনিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (بالصفة القولية) পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আস-সাফ পাঠ করা এবং ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমি বলো...’ হাদিসটি। আর ক্রিয়াগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (بالصفة الفعلية) পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل) হাদিসের উদাহরণ হলো বর্ণিত বিষয়টি লিখে রাখা, করমর্দন (مصافحة) করা এবং আঙুলে আঙুল জড়ানো (مشابكة)।

আর বর্ণনার শব্দশৈলী অনুযায়ী (بصيغة الرواية) পরম্পরাবদ্ধ (مسلسل) হাদিস; যেমন: ‘আমি শুনেছি’ (سمعت), ‘আমি পড়েছি’ (قرأت) এবং ‘আমি আবৃত্তি করেছি’ (أنشدت)।

অথবা কেবল নামের ক্ষেত্রে (পরম্পরাবদ্ধ হওয়া), হয় পিতার নামের সাথে; যেমন: খলীল ইবনে আহমাদ (ছয়জন), অথবা দাদার নামের সাথে; যেমন: আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান (চারজন)।

অথবা উপনামের (كنية) সাথে; যেমন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ (তিনজন), অথবা সম্বন্ধের (نسبة) সাথে; যেমন: মাযহাব (مذهب) বা গোত্রের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত ‘হানাফী’। একে ‘একই নাম ভিন্ন ব্যক্তি’ (متفق ومفترق) বলা হয়।

অথবা যদি নামগুলো লিখনশৈলীতে এক হয় কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন হয়, তবে তাকে ‘একই লিপি ভিন্ন উচ্চারণ’ (مؤتلف ومختلف) বলা হয়। যেমন: তাশদীদসহ (تشديد) ‘সাল্লাম’ এবং তাশদীদহীন (تخفيف) ‘সালাম’। আবার বর্ণনাকারীদের নাম এক হওয়ার সাথে সাথে পিতাদের নাম কেবল লিখনশৈলীতে এক হওয়া; যেমন: ‘মুসা ইবনে আলী’ (আঈন অক্ষরে ফাতহাহ বা জবরসহ) এবং ‘মুসা ইবনে উলায়্যি’ (আঈন অক্ষরে যম্মাহ বা পেশসহ)।

অথবা এর বিপরীত হওয়া; যেমন: ‘শুরাইহ’ এবং ‘সুরাইজ ইবনে নুমান’। একে ‘সদৃশ্য’ (متشابهة) বলা হয়। এটি বর্ণনাকারীর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, অন্যথায় পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) এবং প্রবল ধারণার (ظن غالب) ওপর নির্ভর করা হয়।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ২০২)
وَإِن جحد الشَّيْخ مَرْوِيّ راو عَنهُ جزما رد ذَلِك الْخَبَر أَو احْتِمَالا قبل حملا على نسيانه

وصيغ الْأَدَاء الَّتِي يرْوى بهَا الحَدِيث سَمِعت وحَدثني لما تحمل من لفظ الشَّيْخ وَالْأول أصرح وَالثَّانِي إِذا جمع فَمَعَ غَيره أَو للتعظيم وَقد يُطلق على الْإِجَازَة تدليسا

وَأَخْبرنِي وقرأت للقارىء على الشَّيْخ بِنَفسِهِ وَالْأول إِن جمع فكقرىء عَلَيْهِ وَأَنا أسمع

وَعَن وَأخْبرنَا على قَول للإجازة مُطلقًا وقرىء عَلَيْهِ وَأَنا أسمع بِشَرْط المشافهة وأنبأ إِذا كتب بهَا إِلَيْهِ من بلد وَيجوز اسْتِعْمَال الْإِخْبَار فِيهَا مُقَيّدا بقوله إجَازَة أَو مشافهة أَو كِتَابَة أَو إِذْنا وَنَحْو ذَلِك ومطلقا عِنْد قوم

وَأَرْفَع أَنْوَاع الْإِجَازَة الْمُقَارنَة للمناولة لما فِيهَا من التَّعْيِين وشرطت لَهَا وللوجادة وَالْوَصِيَّة والإعلام فَلَا تصح الرِّوَايَة فِي هَذِه الصُّور إِلَّا إِذا اقترنت بهَا

وَمِمَّا يتَعَيَّن معرفَة طَبَقَات الراوة وبلدانهم للأمن من الِاشْتِبَاه وأحوالهم تعديلا وتجريحا وجهالة ومراتبهما ليعرف من يرد حَدِيثه مِمَّن يعْتَبر

وَأَرْفَع مَرَاتِب التَّعْدِيل الْوَصْف بِصِيغَة الْمُبَالغَة كأوثق
যদি শাইখ তাঁর থেকে কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণিত (مروي) বিষয়কে নিশ্চিতভাবে অস্বীকার করেন, তবে সেই সংবাদটি (الخبر) প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে; আর যদি অস্বীকারটি সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে হয়, তবে তা শাইখের বিস্মৃতি হিসেবে ধরে নিয়ে গ্রহণ করা হবে।

হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আদায়ের শব্দসমূহ (صيغ الأداء) হলো 'আমি শুনেছি' (سمعت) এবং 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثني), যা শাইখের সরাসরি উচ্চারণ থেকে গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে প্রথমটি অধিক স্পষ্ট (أصرح)। দ্বিতীয় শব্দটি যদি বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা অন্যের উপস্থিতিতে বর্ণনার ক্ষেত্রে অথবা সম্মান প্রদর্শনের (تعظيم) জন্য হয়ে থাকে। কখনো কখনো এটি ইজাজতের (الإجازة) ক্ষেত্রে প্রতারণামূলকভাবে (تدليسا) ব্যবহৃত হয়।

'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني) এবং 'আমি পাঠ করেছি' (قرأت) শব্দগুলো শাইখের সামনে পাঠক কর্তৃক স্বয়ং পাঠ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। প্রথম শব্দটি যদি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়, তবে তা 'তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম' (قرىء عليه وأنا أسمع) এর ন্যায়।

'হতে' (عن) এবং 'তিনি আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) শব্দগুলো একটি মত অনুযায়ী সাধারণভাবে ইজাজতের (الإجازة) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর 'তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম' (قرىء عليه وأنا أسمع) শব্দগুলো সরাসরি মৌখিক কথোপকথন (المشافهة) হওয়ার শর্তে ব্যবহৃত হয়। 'তিনি সংবাদ দিয়েছেন' (أنبأ) শব্দটি ব্যবহৃত হয় যখন কোনো শহর থেকে লিখে পাঠানো হয়। এই ক্ষেত্রে 'সংবাদ প্রদান' (الإخبار) শব্দটি ইজাজত (إجازة), মৌখিক (مشافهة), লিখিত (كتابة), অনুমতি (إذنا) বা এই জাতীয় শব্দের সাথে শর্তযুক্ত করে ব্যবহার করা জায়েজ। আবার একদল আলিমের মতে এটি সাধারণভাবে (مطلقا) ব্যবহার করাও বৈধ।

ইজাজতের (الإجازة) প্রকারসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো মুনাওয়ালার (المناولة) সাথে সংশ্লিষ্ট ইজাজত, কারণ এতে সুনির্দিষ্টকরণ (التعيين) বিদ্যমান। উইজাদাহ (الوجادة), ওসিয়ত (الوصية) এবং ইলাম (الإعلام) এর ক্ষেত্রেও ইজাজতকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; সুতরাং এই পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে বর্ণনা (الرواية) ততক্ষণ সঠিক (تصح) হবে না যতক্ষণ না এর সাথে ইজাজত যুক্ত থাকে।

বর্ণনাকারীদের (الرواة) স্তর (طبقات) এবং তাঁদের দেশ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অত্যাবশ্যক যাতে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি (الاشتباه) তৈরি না হয়। সেই সাথে তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা (تعديلا), ত্রুটিপূর্ণতা (تجريحا) এবং পরিচয়হীনতা (جهالة) ও এগুলোর স্তরসমূহ সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা জরুরি, যাতে কার হাদিস প্রত্যাখ্যান (يرد) করা হবে এবং কার হাদিস গ্রহণযোগ্য (يعتبر) হিসেবে বিবেচিত হবে তা জানা যায়।

নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণের (التعديل) সর্বোচ্চ স্তর হলো আতিশয্যবোধক শব্দ (صيغة المبالغة) দ্বারা গুণান্বিত করা, যেমন 'সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য' (أوثق)।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ২০৩)
النَّاس أثبت النَّاس إِلَيْهِ الْمُنْتَهى فِي التثبت والمكرر كثقة ثَبت أَو ثِقَة حَافظ أَو ثِقَة حجَّة أَو ثِقَة متقن وَنَحْو ذَلِك

ويليها لَيْسَ بِهِ بَأْس لَا بَأْس بِهِ صَدُوق مَأْمُون خِيَار

ويليها مَحَله الصدْق رُوِيَ عَنهُ شيخ يرْوى حَدِيثه يعْتَبر بِهِ وسط صَالح الحَدِيث مقارب الحَدِيث جيد الحَدِيث حسن الحَدِيث

ويليها صُوَيْلِح صَدُوق إِن شَاءَ الله تَعَالَى أَرْجُو أَنه لَا بَأْس بِهِ

وأسوأ مَرَاتِب التجريح ركن الْكَذِب كَذَّاب وَضاع دجال يكذب يضع

ويليها مُتَّهم بِالْكَذِبِ أَو بِالْوَضْعِ سَاقِط هَالك ذَاهِب مَتْرُوك تَرَكُوهُ فِيهِ نظر سكتوا عَنهُ لَا يعْتَبر بِهِ لَيْسَ بِثِقَة غير ثِقَة وَلَا مَأْمُون

ويليها مَرْدُود الحَدِيث ضَعِيف جدا واه بِمرَّة مطروح آرم بِهِ لَيْسَ بِشَيْء لَا يُسَاوِي شَيْئا

ويليها ضَعِيف مُنكر الحَدِيث مُضْطَرب الحَدِيث ضَعَّفُوهُ لَا يحْتَج بِهِ

ويليها فِيهِ مقَال لَيْسَ بِذَاكَ لَيْسَ بِالْقَوِيّ لَيْسَ بعمدة فِيهِ خلف مطعون فِيهِ سيء الْحِفْظ لين تكلمُوا فِيهِ فِيهِ أدنى مقَال
মানুষের মধ্যে তিনি সবচেয়ে সুদৃঢ়, নির্ভরযোগ্যতার চূড়ান্ত শিখর; এবং দ্বিত্ব শব্দাবলি যেমন: নির্ভরযোগ্য সুদৃঢ় (ثقة ثبت), অথবা নির্ভরযোগ্য হাফিজ (ثقة حافظ), অথবা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (ثقة حجة), অথবা নির্ভরযোগ্য পারদর্শী (ثقة متقن) এবং এই জাতীয় শব্দ।

এরপর রয়েছে: তাতে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس), তার মধ্যে কোনো দোষ নেই (لا بأس به), সত্যবাদী (صدوق), বিশ্বস্ত (مأمون), মনোনীত (خيار)।

এরপর রয়েছে: তার অবস্থান হলো সত্যবাদিতায় (محله الصدق), তার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (روي عنه), শায়খ (شيخ), তার হাদিস বর্ণনা করা হয় (يروى حديثه), তাকে বিবেচনার যোগ্য মনে করা হয় (يعتبر به), মধ্যম মানের (وسط), হাদিসে নেককার (صالح الحديث), হাদিসে নিকটবর্তী (مقارب الحديث), হাদিসে উত্তম (جيد الحديث), হাদিসে হাসান (حسن الحديث)।

এরপর রয়েছে: কিছুটা নেককার (صويلح), ইনশাআল্লাহ সত্যবাদী (صدوق إن شاء الله تعالى), আমি আশা করি তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (أرجو أنه لا بأس به)।

আর জারহ বা সমালোচনার (تجريح) সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তর হলো: মিথ্যার স্তম্ভ (ركن الكذب), চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), জালকারী (وضاع), দাজ্জাল বা চরম প্রতারক (دجال), সে মিথ্যা বলে (يكذب), সে জাল করে (يضع)।

এরপর রয়েছে: মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) অথবা হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত (بالوضع), বর্জিত (ساقط), ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك), গুরুত্বহীন (ذاهب), পরিত্যক্ত (متروك), মুহাদ্দিসগণ তাকে বর্জন করেছেন (تركوه), তার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ রয়েছে (فيه نظر), তারা তার ব্যাপারে নীরব থেকেছেন (سكتوا عنه), তাকে বিবেচনার যোগ্য মনে করা হয় না (لا يعتبر به), নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بثقة), অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة), এবং বিশ্বস্ত নয় (ولا مأمون)।

এরপর রয়েছে: প্রত্যাখ্যাত হাদিস (مردود الحديث), অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), পুরোপুরি ভিত্তিহীন (واه بمرة), নিক্ষিপ্ত (مطروح), তা ছুড়ে ফেলো (ارم به), সে কিছুই নয় (ليس بشيء), সে কোনো কিছুর সমতুল্য নয় (لا يساوي شيئا)।

এরপর রয়েছে: দুর্বল (ضعيف), মুনকার হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث), হাদিসে ওলটপালটকারী (مضطرب الحديث), তারা তাকে দুর্বল বলেছেন (ضعفوه), তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না (لا يحتج به)।

এরপর রয়েছে: তার ব্যাপারে কথা আছে (فيه مقال), সে তেমন নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بذاك), সে শক্তিশালী নয় (ليس بالقوي), সে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নয় (ليس بعمدة), তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে (فيه خلف), সমালোচিত (مطعون فيه), মুখস্থ শক্তিতে দুর্বল (سيء الحفظ), শিথিল (لين), তারা তার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন (تكلموا فيه), তার ব্যাপারে সামান্য কথা আছে (فيه أدنى مقال)।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ২০৪)
ويثبتان بقول وَاحِد على الصَّحِيح وَإِن اجْتمعَا فِي شخص فالجرح مقدم بِشُرُوط وَإِن تعدد الْمعدل

وَمَعْرِفَة الْأَسْمَاء الْمُجَرَّدَة والكنى بِجَمِيعِ أَنْوَاعهَا وَهِي ثَلَاثَة عشر والألقاب وأسبابها كالأعمش والأعرج والضال والانتساب إِلَى وَطن أَو حِرْفَة أَو صناعَة كالخياط وَالْبَزَّاز والمنسوب إِلَى غير أَبِيه كالمقداد بن الْأسود وَإِسْمَاعِيل بن علية وَمن وَافق اسْمه اسْم أَبِيه وجده كالحسن بن الْحسن بن الْحسن بن عَليّ بن أبي طَالب أَو اسْم شَيْخه وَشَيخ شَيْخه كَرِوَايَة عمرَان الْقصير عَن عمرَان بن رَجَاء عَن عمرَان بن حُصَيْن اَوْ اسْم راوية وَشَيْخه كالبخاري بَين مُسلمين
বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী এই উভয়টি (জরাহ ও তাদীল) একজন ব্যক্তির বক্তব্যের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। যদি কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই উভয় বিষয় একত্রিত হয়, তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে জরাহ বা সমালোচনা (الجرح) অগ্রগণ্য হবে, যদিও প্রশংসা প্রদানকারীর (المعدل) সংখ্যা অধিক হয়।

আর একক নামসমূহ এবং সকল প্রকার উপনাম (الكنى) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা তেরো প্রকার; এবং উপাধি (الألقاب) ও সেগুলোর কারণসমূহ সম্পর্কে জানা, যেমন: আমাশ (الأعمش), আরাজ (الأعرج) এবং পথভ্রষ্ট বা বিস্মৃত (الضال); আর স্বদেশ, পেশা বা কারিগরি শিল্পের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া, যেমন: দর্জি (الخياط) এবং কাপড় বিক্রেতা (البزاز); আর যারা পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যেমন: মিকদাদ বিন আসওয়াদ এবং ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ; এবং যার নাম তার পিতা ও দাদার নামের সাথে মিলে যায়, যেমন: হাসান বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব; অথবা যার নাম তার শায়খ এবং শায়খের শায়খের নামের অনুরূপ, যেমন: ইমরান আল-কাসীর-এর বর্ণনা ইমরান বিন রাজা থেকে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন থেকে; অথবা বর্ণনাকারী ও তার শায়খের নামের মিল থাকা, যেমন: দুই মুসলিমের মাঝে বুখারি।
(খণ্ড: ১) বুলগাতুল আরীব ফী মুসতালাহি আসারিল হাবীব (পৃষ্ঠা: ২০৭)
والموالي من أَعلَى وأسفل بِالرّقِّ أَو الْحلف أَو بِالْإِسْلَامِ وَالإِخْوَة وَالْأَخَوَات سَوَاء ثَلَاثَة أَو أَرْبَعَة

آدَاب الشَّيْخ والطالب مِنْهَا مَا يَشْتَرِكَانِ فِيهِ كتصحيح النِّيَّة والتطهر من أغراض الدُّنْيَا وتحسين الْخلق

وَمِنْهَا مَا ينْفَرد بِهِ أَحدهمَا

فالشيخ فِي الإسماع إِذا احْتِيجَ إِلَيْهِ والإرشاد إِلَى من هُوَ أولى مِنْهُ وَعدم التحديث قَائِما وَلَا عجلا وَلَا فِي الطَّرِيق

والطالب فِي توقير الشَّيْخ وإرشاد الْغَيْر لما سَمعه وَعدم ترك الاستفادة لحياء أَو تكبر وَكِتَابَة مَا سمع والاعتناء بالتقييد والضبط والمذاكرة بالمحفوظة

وَسن التَّحَمُّل وَوَقته بِالنِّسْبَةِ إِلَى السماع التَّمْيِيز وَيحصل غَالِبا باستكمال خمس وَمَا دونه فحضور وَسن الْأَدَاء وَلَا حد لَهُ بل مَتى تأهل لذَلِك فَقيل خَمْسُونَ وَلَا يُنكر عِنْد الْأَرْبَعين وَإِذا كَانَ بارعا فَمَا بَين عشْرين وَثَلَاثِينَ أَو عشرُون

وَكِتَابَة الحَدِيث ومقابلته مَعَ نَفسه أَو مَعَ شَيْخه أَو مَعَ ثِقَة غَيره

وسماعه من أصل شَيْخه أَو فرع قوبل عَلَيْهِ وتصنيفه مَعَ مُرَاعَاة التَّرْتِيب وتبيين اخْتِلَاف النقلَة إِذا تأهل وأسبابه وَترجع تِلْكَ الْأَنْوَاع كلهَا إِلَى النَّقْل فَليرْجع إِلَى مؤلفاتها المبسوطة ليحصل الْوُقُوف على حقائقها وَالله أعلم
উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের মুক্তদাস (الموالي), যারা দাসত্ব, মৈত্রীবন্ধন অথবা ইসলামের মাধ্যমে মুক্ত হয়েছে; এবং তিন বা চার জন সমান সংখ্যক ভাই ও বোন সম্পর্কে আলোচনা।

শায়খ এবং ছাত্রের আদবসমূহ; তার মধ্যে কিছু বিষয় উভয়ই পালন করবেন, যেমন—নিয়ত সংশোধন করা (تصحيح النية), পার্থিব উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত থাকা এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়া।

আর কিছু আদব রয়েছে যা কেবল তাদের কোনো একজনের জন্য নির্দিষ্ট।

শায়খের আদব হলো—প্রয়োজন দেখা দিলে হাদিস শোনানো, নিজের চেয়ে অধিক যোগ্য ব্যক্তির প্রতি নির্দেশ করা এবং দাঁড়িয়ে, তাড়াহুড়ো করে কিংবা পথিমধ্যে হাদিস বর্ণনা না করা।

আর ছাত্রের আদব হলো—শায়খকে যথাযথ সম্মান করা, যা শুনেছে সেদিকে অন্যকে পথনির্দেশ করা, লজ্জা বা অহংকারের বশবর্তী হয়ে জ্ঞান অর্জন (استفادة) ত্যাগ না করা, যা শুনেছে তা লিপিবদ্ধ করা এবং লিখে রাখা (تقييد), আত্মস্থ করা (ضبط) ও মুখস্থ বিষয়ের পুনরালোচনার (مذاكرة) প্রতি যত্নবান হওয়া।

হাদিস গ্রহণ করার (تحمل) বয়স এবং শ্রবণের (سماع) সময় হলো—বিচক্ষণতা (تمييز) অর্জন করা; যা সাধারণত পাঁচ বছর পূর্ণ হলে অর্জিত হয়। আর এর চেয়ে কম বয়সে কেবল উপস্থিতি (حضور) হিসেবে গণ্য হবে। হাদিস বর্ণনা করার (أداء) বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই; বরং যখনই কেউ এর যোগ্যতা অর্জন করবে। কারো মতে এটি পঞ্চাশ বছর, তবে চল্লিশ বছর বয়সেও একে অস্বীকার করা হয় না। আর যদি কেউ অত্যন্ত মেধাবী হয়, তবে বিশ থেকে ত্রিশ বছর অথবা বিশ বছর বয়সেও হতে পারে।

হাদিস লিপিবদ্ধ করা এবং তা নিজের পাণ্ডুলিপির সাথে অথবা শায়খের পাণ্ডুলিপির সাথে কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة)।

আর শায়খের মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে শোনা অথবা এমন কোনো অনুলিপি (فرع) থেকে শোনা যা মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। যোগ্যতা অর্জিত হলে বিন্যাস রক্ষা করে হাদিস সংকলন (تصنيف) করা এবং বর্ণনাকারীদের মতভেদ ও তার কারণসমূহ স্পষ্ট করা। এই সকল প্রকারই বর্ণনার (نقل) সাথে সম্পৃক্ত; সুতরাং এগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগতির জন্য এ বিষয়ক বিস্তারিত গ্রন্থাবলীর দিকে প্রত্যাবর্তন করা উচিত। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।