(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: -)
النكت على مقدمة ابن الصلاح للزركشي   (بدر الدين الزركشي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: النكت على مقدمة ابن الصلاح

المؤلف: أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي الشافعي (ت 794هـ)

المحقق: د. زين العابدين بن محمد بلا فريج

الناشر: أضواء السلف - الرياض

الطبعة: الأولى، 1419هـ - 1998م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমাহ-র উপর আয-যারকাশীর টীকা   (বদরুদ্দীন আয-যারকাশী)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আন-নুকাআতু আ’লা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আয-যারকাশী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৯৪ হি.)

তাহকীক: ড. যাইনুল আবিদীন বিন মুহাম্মদ বালা ফরীজ

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم [وَبِه أستعين] (1) [وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ] (2) [وَسلم] (3)

 

[قَالَ شيخ الْإِسْلَام الشَّيْخ بدر الدّين مُحَمَّد بن بهادر (4) بن عبد الله الزَّرْكَشِيّ الشَّافِعِي الْمصْرِيّ تغمده الله تَعَالَى برحمته] (5)

الْحَمد لله الَّذِي أَعلَى (6) منار الْإِسْلَام بِالسنةِ وَرفع بهَا عَن الْقُلُوب الأكنة (7) وحرس سَمَّاهَا بجهابذة (8) الْحفاظ من الأمراد (9) (10) الْجنَّة (11) وَالصَّلَاة وَالسَّلَام
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি] (১) [এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন] (২) [এবং শান্তি বর্ষণ করুন] (৩)

 

[শাইখুল ইসলাম শাইখ বদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে বাহাদুর (৪) ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যারকাশী আশ-শাফিঈ আল-মিসরী (আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন) বলেছেন] (৫)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুন্নাহর মাধ্যমে ইসলামের মিনারকে সমুন্নত করেছেন (৬) এবং এর দ্বারা অন্তরসমূহ থেকে আবরণ অপসারিত করেছেন (৭) এবং বিজ্ঞ হাফেজদের (৮) মাধ্যমে একে (এর আকাশকে) বিদ্রোহী (৯) (১০) জিনদের (১১) উপদ্রব থেকে রক্ষা করেছেন; এবং সালাত ও সালাম...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮)
على سيدنَا مُحَمَّد أشرف الْخلق وَقَائِدهمْ إِلَى الْجنَّة وعَلى آله وَصَحبه الَّذين جعلهم الله أَمَنَة (1) للنَّاس ومنة أما بعد

فَلَمَّا كَانَت السّنة الْوَحْي الثَّانِي بعد الْمُتَشَابه المثاني (2) وَجب على كل ذِي [لب حفظهَا وَذكرهَا وَتَعْلِيمهَا ونشرها وَمن الْمعِين على ذَلِك] (3) معرفَة أوضاع أصطلح عَلَيْهَا حملتها ورسوم بَينهَا نقلتها [وَقد] (4) انتدبت (5) لجمع ذَلِك جمَاعَة وأجمعهم لَهُ (6) أَبُو عبد الله الْحَاكِم النَّيْسَابُورِي (7) وَأَبُو بكر
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং জান্নাতের অভিমুখে তাদের নেতা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি (সালাম বর্ষিত হোক), যাদেরকে আল্লাহ মানুষের জন্য নিরাপত্তা (১) ও অনুগ্রহস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর,

যেহেতু সুন্নাহ হলো আল-কুরআনের (২) পর দ্বিতীয় ওহি, তাই প্রত্যেক [বিবেকবান ব্যক্তির জন্য এটি সংরক্ষণ করা, স্মরণ করা, শিক্ষা দেওয়া ও প্রচার করা এবং এই কাজে সহায়ক বিষয়গুলোর মধ্যে] (৩) সেই পরিভাষাগুলো জানা যা হাদীস শাস্ত্রের বাহকগণ স্থির করেছেন এবং সেই নীতিমালাসমূহ চেনা যা বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন। আর [অবশ্যই] (৪) একদল আলিম এই বিষয়গুলো সংকলনের জন্য [অগ্রসর হয়েছেন] (৫), আর তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সর্বাধিক তথ্য সংগ্রহকারী হলেন (৬) আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাবুরি (৭) এবং আবু বকর...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৯)
[ابْن] (1) الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ (2) (3) وَأَبُو (مُحَمَّد) (4) الرامَهُرْمُزِي (5) (6) وَجَاء بعدهمْ الإِمَام أَبُو عَمْرو بن الصّلاح فَجمع مفرقهم وحقق طرقهم وأجلب بِكِتَابَة بَدَائِع الْعجب وأتى بالنكت (7) والنخب حَتَّى اسْتوْجبَ أَن يكْتب
[ইবন] (১) আল-খতিব আল-বাগদাদি (২) (৩) এবং আবু (মুহাম্মদ) (৪) আর-রামাহুরমুজি (৫) (৬)। তাঁদের পরবর্তীকালে আগমন করেন ইমাম আবু আমর ইবন আস-সালাহ; অতঃপর তিনি তাঁদের বিক্ষিপ্ত বিষয়সমূহকে একত্রিত করেন, তাঁদের পদ্ধতিসমূহ যাচাই করেন এবং স্বীয় রচনার মাধ্যমে বিস্ময়কর অভিনবত্ব নিয়ে আসেন। তিনি এমন সব সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয় ও সারনির্যাস পেশ করেছেন যে, তা লিপিবদ্ধ হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১০)
بذوب الذَّهَب وَالنَّاس كالمجمعين على أَنه لَا يُمكن وضع مثله وقصارى أَمرهم اختصاره من أَصله وَأَخْبرنِي شَيخنَا الْعَلامَة مغلطاي - رَحمَه الله تَعَالَى - أَن بعض طلبة الْعلم من المغاربة كَانَ يتَرَدَّد إِلَيْهِ ذكر لَهُ أَن الشَّيْخ شمس الدّين بن اللبان وضع عَلَيْهِ تأليفا سَمَّاهُ إصْلَاح كتاب ابْن الصّلاح وَأَنه تطلب ذَلِك دهره فَلم يجده ثمَّ شرع الشَّيْخ عَلَاء الدّين فِي التنكيت وَسَماهُ بِالِاسْمِ الْمَذْكُور لكنه لَا يشفي الغليل وَإِنَّمَا تكلم على الْقَلِيل فاستخرت الله تَعَالَى فِي تَعْلِيق عَلَيْهِ

গলিত স্বর্ণের দ্বারা; আর মানুষ যেন এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, এর সদৃশ কোনো কিছু তৈরি করা অসম্ভব এবং তাদের দৌড় কেবল এর মূল থেকে একে সংক্ষেপ করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। আমাদের শায়খ আল্লামা মুগলতাই—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—আমাকে জানিয়েছেন যে, মাগরিবের জনৈক ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থী, যে তাঁর নিকট আসা-যাওয়া করত, তাঁর নিকট উল্লেখ করেছিল যে শায়খ শামস উদ্দিন ইবনুল লাব্বান এর ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তার নাম রেখেছেন ‘ইসলাহ কিতাব ইবনুস সালাহ’। তিনি দীর্ঘকাল সেটি অনুসন্ধান করেছেন কিন্তু তা পাননি। এরপর শায়খ আলাউদ্দিন এর ওপর ‘তানকিত’ (সূক্ষ্ম টীকা) শুরু করেন এবং একে উল্লিখিত নামেই অভিহিত করেন, তবে তা তৃষ্ণা নিবারণকারী ছিল না, বরং তিনি কেবল সামান্য কিছু বিষয়ের ওপর আলোচনা করেছেন। অতঃপর আমি এর ওপর একটি টীকা লেখার বিষয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করলাম।

(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১১)
فائق الْجمع شائق السّمع يكون لمستغلقه كالفتح ولمستبهمه كالشرح وَهُوَ يشْتَمل على أَنْوَاع

الأول [بَيَان] مَا أشكل ضَبطه فِيهِ من الْأَسْمَاء والأنساب واللغات

الثَّانِي حل مَا يعْقد فهمه

الثَّالِث بَيَان قيوده واحترازاته فِي الرسوم والضوابط

الرَّابِع التَّعَرُّض لتتمات أُمُور مهمة أغفلها

الْخَامِس التَّنْبِيه على أَوْهَام وَقعت لَهُ فِي النَّقْل

السَّادِس اعتراضات وأسئلة لَا بُد مِنْهَا

السَّابِع مَا هُوَ الْأَصَح فِي أُمُور أطلقها

الثَّامِن أُمُور مُسْتَقلَّة هِيَ بِالذكر أهم مِمَّا ذكره

وقصدت بذلك الرُّجُوع إِلَيْهِ عِنْد أَوْقَات درسي ومراجعتي لنَفْسي
এটি একটি অনন্য সংকলন ও শ্রবণসুখকর; যা এর জটিল বিষয়গুলোর জন্য উন্মুক্তকারী চাবিকাঠি স্বরূপ এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর জন্য ব্যাখ্যা স্বরূপ। আর এটি কয়েক প্রকার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: [বর্ণনা] যে সকল নাম, বংশধারা এবং ভাষাগত শব্দের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দ্বিতীয়: যা বোঝা জটিল, তার সমাধান।

তৃতীয়: সংজ্ঞা ও নিয়মাবলির ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতাগুলোর বর্ণনা।

চতুর্থ: এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিপূরক আলোচনা, যা তিনি এড়িয়ে গেছেন।

পঞ্চম: বর্ণনা বা উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে তার যে সকল ভ্রম বা ভুল হয়েছে, সে সম্পর্কে সতর্ক করা।

ষষ্ঠ: এমন কিছু আপত্তি ও প্রশ্ন যা উত্থাপন করা অনিবার্য।

সপ্তম: তিনি যে সকল বিষয় নিঃশর্ত বা সাধারণভাবে ছেড়ে দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে কোনটি অধিকতর সঠিক তা নির্ধারণ।

অষ্টম: স্বতন্ত্র কিছু বিষয় যা উল্লেখ করা তার উল্লিখিত বিষয়গুলোর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আর এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো আমার পাঠদান ও ব্যক্তিগত পর্যালোচনার সময় এর সাহায্য নেওয়া।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَالله أسأَل أَن يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم مقرنا بالفوز لجنات النَّعيم بمنه وَكَرمه
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহ লাভের সফলতার সাথে যুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الصَّلَاة على ديباجة (1) الْكتاب

 

1 - (قَوْله) وَآل كل

وَلم يقل وآلهم تَحَرُّزًا من خلاف من منع إِضَافَته إِلَى الْمُضمر (2)

2 - (قَوْله) هَذَا (3 للدخول فِي غَرَض آخر وَنَظِيره فِي التَّخَلُّص قَوْله تَعَالَى {هَذَا وَإِن للطاغين لشر مآب} (3)
গ্রন্থের ভূমিকার (১) ওপর দরুদ

 

১ - (তাঁর বক্তব্য) "এবং প্রত্যেকের পরিবার-পরিজন"

তিনি "তাদের পরিবার-পরিজন" বলেননি, যাতে যারা শব্দটিকে সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা নিষেধ করেন, তাদের মতভেদ এড়িয়ে চলা যায়। (২)

২ - (তাঁর বক্তব্য) "এটি" (৩) অন্য একটি বিষয়ে প্রবেশের জন্য; এবং বিষয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এর দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এটি (তো শুনলে), আর নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম প্রত্যাবর্তনস্থল} (৩)
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَلَعَلَّ هَذَا السَّبَب فِي أَن المُصَنّف لم يذكر أما بعد وَإِن ورد أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولهَا فِي خطْبَة (1)

- (قَوْله) يُحِبهُ ذُكُور الرِّجَال وفحلوتهم (3 عَن الزُّهْرِيّ (2) روينَاهُ من طَرِيق
সম্ভবত এই কারণেই গ্রন্থকার 'আম্মা বা'দু' (অতঃপর) উল্লেখ করেননি, যদিও বর্ণিত হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর খুতবায় তা বলতেন (১)

- (তাঁর বক্তব্য) পুরুষদের মধ্যে যারা পৌরুষদীপ্ত এবং শ্রেষ্ঠ তারা একে পছন্দ করে (৩) যুহরী থেকে (২) আমরা এটি একটি সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৫)
الدينَوَرِي فِي كتاب المجالسة فَقَالَ حَدثنَا عبد الله بن مُسلم بن قُتَيْبَة ثَنَا الرياشي عَن أبي يَعْقُوب الْخطابِيّ عَن عَمه قَالَ قَالَ ابْن شهَاب
আদ-দিনাওয়ারী 'কিতাবুল মুজালাসাহ' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রিয়াশী, তিনি আবু ইয়াকুব আল-খাত্তাবী থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইবনে শিহাব বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الزُّهْرِيّ والْحَدِيث ذكر يُحِبهُ ذُكُور الرِّجَال ويكرهه مؤنثوهم قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَرَادَ الزُّهْرِيّ أَن الحَدِيث أرفع الْعلم وأجله خطرا كَمَا أَن الذُّكُور أفضل من الْإِنَاث (وَإِلَيْهِ يمِيل الرِّجَال) وَأهل التَّمْيِيز مِنْهُم يحبونه وَلَيْسَ كالرأي السخيف الَّذِي يُحِبهُ سخفاء [الرِّجَال] فَضرب التَّذْكِير فِي التَّأْنِيث لذَلِك مثلا

وَكَذَلِكَ شبه ابْن مَسْعُود فَقَالَ هُوَ ذكر فذكروه أَي جليل خطير فأجلوه
যুহরি ও হাদিস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: হাদিস একটি পুরুষালি বিষয়, যা পুরুষ স্বভাবের ব্যক্তিরা পছন্দ করে এবং নারী স্বভাবের ব্যক্তিরা অপছন্দ করে। আবু মুহাম্মদ বলেন, যুহরি বুঝাতে চেয়েছেন যে হাদিস হলো ইলমের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতর এবং মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে মহান, যেমনভাবে পুরুষরা নারীদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ (এবং পুরুষরা এর প্রতিই অনুরাগী হয়)। তাদের মধ্যে যারা বিচক্ষণ ব্যক্তি তারা এটি পছন্দ করেন এবং এটি সেই অসার মতামতের মতো নয় যা নির্বোধ ব্যক্তিরা পছন্দ করে থাকে। তাই তিনি পুরুষত্ব ও নারীত্বকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন।

অনুরূপভাবে ইবনে মাসউদও সাদৃশ্য প্রদান করে বলেছেন: এটি পুরুষালি, তাই একে পুরুষালি হিসেবেই গণ্য করো; অর্থাৎ এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ, সুতরাং একে সম্মান করো।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৭)
بالتذكير وَنَحْوه الْقُرْآن فخم ففخموه انْتهى

وَأنْشد الإِمَام أَبُو الْحسن سعد الْخَيْر الْأنْصَارِيّ فِي كتاب شرف أَصْحَاب الحَدِيث لبَعْضهِم

(رحلت أطلب [أصل] الْعلم مُجْتَهدا … وزينة الْمَرْء فِي الدُّنْيَا الْأَحَادِيث)

(لَا يطْلب الْعلم إِلَّا بازل ذكر … وَلَيْسَ يبغضه إِلَّا المخانيث)

وَرَأَيْت بَعضهم ذكر فِي قَوْله الزُّهْرِيّ ذكر أَنه يرْوى بِكَسْر الذَّال وتسكين الْكَاف (ع 2) [ويروى بِفَتْحِهَا وَالْأول غَرِيب غير لَائِق بِاللَّفْظِ
পুংলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করা এবং তদ্রূপ বিষয়ের মাধ্যমে কুরআন মহিমান্বিত, সুতরাং তোমরা একে মহিমান্বিত করো। সমাপ্ত।

ইমাম আবুল হাসান সাদ আল-খাইর আল-আনসারী 'শরাফু আসহাবিল হাদিস' গ্রন্থে কারো কারো কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

(আমি কঠোর সাধনার সাথে ইলমের [মূল] অন্বেষণে সফর করেছি … আর দুনিয়াতে মানুষের অলঙ্কার হলো হাদিসসমূহ)

(পরিশ্রমী পুরুষ ব্যতীত কেউ ইলম অন্বেষণ করে না … আর নপুংসকরা ব্যতীত কেউ একে ঘৃণা করে না)

আমি দেখেছি তাদের কেউ কেউ যুহরীর উক্তি 'যিকর' সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, এটি 'যাল' বর্ণে কাসরা এবং 'কাফ' বর্ণে সুকুন যোগে বর্ণিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ২) [এবং তা ফাতহা যোগেও বর্ণিত হয়েছে; তবে প্রথমটি বিরল এবং শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَفِي قَول المُصَنّف - رَحمَه الله تَعَالَى - من أفضل الْعُلُوم مَا يشْعر بِأَن غَيره يُشَارِكهُ فِي الْأَفْضَلِيَّة وَقد أطلق غَيره أَفضَلِيَّة علم الحَدِيث كَمَا سَيَأْتِي فِي أول النَّوْع الثَّامِن وَالْعِشْرين

وَقَالَ حَفْص بن غياث وَقد قيل لَهُ أَلا تنظر إِلَى أَصْحَاب الحَدِيث وَمَا هم فِيهِ فَقَالَ هم خير أهل الدُّنْيَا وَقَالَ أَبُو بكر بن عَيَّاش إِنِّي لأرجو أَن يكون أَصْحَاب الحَدِيث خير النَّاس قَالَ الْحَاكِم أَبُو عبد الله الْحَافِظ صدقا جَمِيعًا كَيفَ [لَا] يكون كَذَلِك وَقد نبذوا الدُّنْيَا بأسرها وَرَاءَهُمْ وَجعلُوا
গ্রন্থকারের—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—উক্তি "সর্বোত্তম ইলমসমূহের অন্তর্ভুক্ত" থেকে এটি অনুভূত হয় যে, অন্য কোনো ইলমও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে এর অংশীদার। আবার অন্যান্যগণ হাদিস শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বকে নিঃশর্তভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি সামনে আটাশতম প্রকারের শুরুতে আসবে।

হাফস ইবনে গিয়াস বলেন—একদা তাঁকে বলা হলো, "আপনি কি হাদিস বিশারদগণ এবং তাঁরা যে বিষয়ের ওপর লিপ্ত আছেন তার প্রতি লক্ষ্য করবেন না?" তিনি বললেন: "তাঁরাই দুনিয়াবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" আবু বকর ইবনে আইয়াশ বলেন: "আমি অবশ্যই আশা রাখি যে, হাদিস বিশারদগণই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবেন।" হাফেজ আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেন: "তাঁরা উভয়েই সত্য বলেছেন। এমনটি কেন হবে না, অথচ তাঁরা তো সমগ্র দুনিয়াকে নিজেদের পেছনে নিক্ষেপ করেছেন এবং..."
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ১৯)
غذاءهم الْكِتَابَة وسمرهم الْمُعَارضَة واسترواحهم المذاكرة وخلوقهم المداد ونومهم السهاد فعقولهم بلذاذة السّنة غامرة وَقُلُوبهمْ بِالرِّضَا فِي الْأَحْوَال عامرة

وَقَالَ فِي الْمُسْتَدْرك على الصَّحِيحَيْنِ وَقد ذكر حَدِيث عَمْرو بن حزم فِي زَكَاة الْغنم - وَقد كَانَ إمامنا شُعْبَة يَقُول فِي حَدِيث عقبَة بن عَامر فِي الْوضُوء لِأَن يَصح لي مثل هَذَا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أحب إِلَيّ من نَفسِي وَمَالِي قَالَ (أ 2)
তাদের আহার্য হলো লিখন, তাদের নৈশকালীন কথোপকথন হলো পাণ্ডুলিপি তুলনা করা, তাদের প্রশান্তি হলো জ্ঞানচর্চা, তাদের সুগন্ধি হলো কালির ঘ্রাণ এবং তাদের নিদ্রা হলো বিনিদ্র রজনী; ফলে তাদের বুদ্ধি সুন্নাহর মাধুর্যে নিমজ্জিত এবং সকল অবস্থায় তাদের অন্তর সন্তুষ্টিতে পরিপূর্ণ।

এবং আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন গ্রন্থে তিনি বলেছেন—আর সেখানে তিনি বকরির যাকাত বিষয়ে আমর ইবনে হাযমের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন—যেখানে আমাদের ইমাম শুবা অজু সংক্রান্ত উকবা ইবনে আমিরের হাদিস সম্পর্কে বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার নিকট এই ধরণের একটি হাদিস সহীহ বলে সাব্যস্ত হওয়া আমার নিজের জীবন ও সম্পদের চেয়েও অধিক প্রিয়।" তিনি বলেন (আ ২)
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২০)
الْحَاكِم وَذَاكَ حَدِيث فِي صَلَاة التَّطَوُّع فَكيف بِهَذِهِ السّنَن الَّتِي (هِيَ قَوَاعِد الْإِسْلَام) وَقَالَ الرّبيع سَمِعت الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى يَقُول طلب الْعلم أفضل من صَلَاة النَّافِلَة قَالَ الرَّافِعِيّ
আল-হাকিম; আর সেটি ছিল নফল সালাত সম্পর্কিত একটি হাদীস। তবে এই সুন্নাহগুলোর (যা ইসলামের ভিত্তি) অবস্থা কী হবে? রাবি’ বলেন, আমি শাফিঈ (আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে বলতে শুনেছি যে, জ্ঞান অন্বেষণ করা নফল সালাতের চেয়ে উত্তম। আর-রাফিঈ বলেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২১)
فِي شرح الْمسند كَأَن المُرَاد طلب علم الْآثَار ليؤخذ بهَا وتتبع وَقد اشْتهر عَن الشَّافِعِي رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ علمك يتعداك وعملك لَا يتعداك

4 - (قَوْله) ويعنى بِهِ

قلت يعْنى من الْأَفْعَال اللَّازِمَة لبِنَاء الْمَفْعُول مِنْهُ وَكَذَلِكَ الْمَاضِي قَالَ فِي الْمُحكم يُقَال عناه الْأَمر واعتنى بِالْأَمر وعني قَالَ والعناية مَا يهم بِهِ الرجل هَذَا هُوَ الْمَشْهُور وعَلى هَذَا فَلَا يُؤْتى مِنْهُ بِصِيغَة أفعل (د 3) قَالَ
'মুসনাদ'-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য সম্ভবত আসার বা পূর্বসূরীদের বর্ণনা সংক্রান্ত ইলম অন্বেষণ করা যাতে তা গ্রহণ ও অনুসরণ করা যায়। ইমাম শাফিয়ী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে প্রসিদ্ধ আছে যে: "তোমার জ্ঞান অন্যকে অতিক্রম করে, কিন্তু তোমার আমল তোমাকে অতিক্রম করে না।"

৪ - (তাঁর উক্তি) "এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য"

আমি বলি, 'ইউ'না' (কর্মবাচ্য) শব্দটি সেই সকল লাজিম বা অকর্মক ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত যা কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং এর অতীতকালীন রূপের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: বলা হয়— 'আ-নাহুল আমর' (বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করেছে), 'ই'তানা বিল আমরি' (সে বিষয়টির প্রতি যত্ন নিয়েছে) এবং 'উনিয়া' (সে গুরুত্ব দিয়েছে)। তিনি বলেন, 'ইনা-ইয়াহ' বা যত্ন বলতে বোঝায় মানুষ যা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত বা ভ্রুক্ষেপশীল হয়; এটিই প্রসিদ্ধ মত। আর এই নিয়ম অনুযায়ী, এ থেকে 'আফ'আলা' ছাঁচে কোনো শব্দ গঠিত হয় না। (দ ৩) তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২২)
الْجَوْهَرِي وَإِذا أمرت [مِنْهُ] قلت لتعن بحاجتي وَالصَّوَاب أَنَّهُمَا لُغَتَانِ عني وعني وَمِمَّنْ حَكَاهُمَا صَاحب الغريبين قَالَ يُقَال عنيت بِأَمْرك فَأَنا معني لَك وعنيت بِأَمْرك أَيْضا فَأَنا عان وَقَالَ المطرزي فِي اليواقيت يُقَال
জাওহারি বলেন, আর আপনি যখন এ থেকে আদেশ করবেন তখন বলবেন "আমার প্রয়োজনের প্রতি যত্নবান হোন"। সঠিক কথা হলো যে, 'উনিয়া' এবং 'আনিয়া' উভয়টিই দুটি ভাষাগত রীতি। যারা এই উভয় রীতি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আল-গারিবাইন গ্রন্থের রচয়িতা অন্যতম। তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে, 'আমি তোমার বিষয়ে যত্নবান হয়েছি', সুতরাং আমি তোমার জন্য একজন যত্নশীল ব্যক্তি। আবার তোমার বিষয়ে 'আমি যত্নবান হয়েছি' এটাও বলা হয়, সেক্ষেত্রে আমি হলাম যত্নশীল। এবং মুতাররিজি আল-ইয়াওয়াকিত গ্রন্থে বলেছেন, বলা হয়...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৩)
عنيت بحاجتك وعنيت بحاجتك على بنية الْفَاعِل وهما لُغَتَانِ فصيحتان قَالَ وعنيت المبنية للْمَفْعُول أصح وَفِي الحَدِيث أَنه قَالَ لرجل لقد عني الله بك قَالَ ابْن الْأَعرَابِي أَي حفظ دينك

5 - (قَوْله) إِلَّا رذالتهم وسفلتهم

الرذالة بِضَم الرَّاء وَفتح الذَّال الْمُعْجَمَة هُوَ الرَّدِيء والرذل الدون الخسيس قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ فِي أساس البلاغة رجل رذل ومرذول وَهُوَ الدون فِي
আমি তোমার প্রয়োজনের প্রতি যত্নবান হয়েছি এবং আমি তোমার প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগী হয়েছি (কর্তৃবাচ্যের গঠনে), এই উভয়টিই আরবী ভাষার দুটি সাবলীল রূপ। তিনি বলেছেন, কর্মবাচ্যের গঠনটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: আল্লাহ তোমার প্রতি যত্নবান হয়েছেন। ইবনুল আ’রাবি বলেছেন, অর্থাৎ আল্লাহ তোমার দ্বীনকে হেফাযত করেছেন।

৫ - (তাঁর উক্তি) কেবল তাদের নিকৃষ্ট ও নিম্নস্তরের লোকেরা ছাড়া

'আর-রাযালাহ' শব্দটি 'রা' বর্ণে পেশ এবং নুক্তাযুক্ত 'যাল' বর্ণে যবর সহযোগে গঠিত, যার অর্থ হলো মন্দ বা নিকৃষ্ট। আর 'রাযল' অর্থ হলো হীন ও তুচ্ছ। যামাখশারী 'আসাসুল বালাগা' গ্রন্থে বলেছেন, 'রাযল' এবং 'মারযুল' ব্যক্তি হলো সেই যে হীন...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৪)
منظره وحالاته وَقد رذل رذولة ورذالة ورذل ورذل وَقوم أرذال والسفلة - بِفَتْح السِّين وَكسر الْفَاء - هم السقاط من النَّاس قَالَ الْجَوْهَرِي وَلَا يُقَال هُوَ سفلَة لِأَنَّهَا جمع والعامة تَقول رجل سفلَة من قوم سفل قَالَ ابْن السّكيت وَبَعض يُخَفف فَيَقُول سفلَة فينقل كسرة الْفَاء إِلَى السِّين وَكسر الْفَاء وَهُوَ اسْم جمع لَا وَاحِد لَهُ من لَفظه
তার বাহ্যিক রূপ ও অবস্থাসমূহ। সে হীনতা, নীচতা ও নিকৃষ্টতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং তারা হলো নিকৃষ্ট লোকসকল। আর 'আস-সিফলাহ'—সীন বর্ণে ফাতহাহ (জবর) এবং ফা বর্ণে কাসরাহ (জের) যোগে—তারা হলো মানুষের মধ্যে অধম ও প্রত্যাখ্যাত শ্রেণী। আল-জাওহারি বলেন, কাউকে এককভাবে 'সিফলাহ' বলা যাবে না, কারণ এটি একটি বহুবচন শব্দ। সাধারণ মানুষ বলে থাকে—'সুফল' গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হলো 'সিফলাহ'। ইবনুস সিক্কীত বলেন, কেউ কেউ একে সহজ করার জন্য 'সুফলাহ' বলে থাকেন; এতে ফা বর্ণের কাসরাহটিকে সীন বর্ণে স্থানান্তর করা হয় (এবং ফা বর্ণটি সাকিন হয়ে যায়)। এটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যার নিজস্ব শব্দমূল থেকে কোনো একবচন রূপ নেই।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৫)
6 - (قَوْله) لَا سِيمَا

قَالَ ثَعْلَب يلحنون فِيهِ لحنات يحذفون الْوَاو مِنْهُ وحرف النَّفْي ويحققون تاءه وَلَا يجوز اسْتِعْمَاله إِلَّا كَمَا جَاءَ فِي قَوْله وَلَا سِيمَا يَوْم بدارة جلجل
৬ - (তাঁর বক্তব্য) "লা সিয়াম্মা" (বিশেষ করে)

ছা’লাব বলেছেন, লোকেরা এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভাষাগত ভুল করে থাকে; তারা এটি থেকে ‘ওয়াও’ এবং না-বোধক অব্যয়টি বিলুপ্ত করে দেয় এবং এর ‘তা’ বর্ণটিকে ভুলভাবে উচ্চারণ করে। এটি কেবল সেভাবেই ব্যবহার করা বৈধ যেভাবে তাঁর এই উক্তিতে এসেছে: "আর বিশেষ করে দারাতে জুলজুলের সেই দিনটি।"
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৬)
لَكِن ذكر غَيره أَنَّهَا تخفف وتحذف الْوَاو كَقَوْلِه

( [فه] بِالْعُقُودِ وبالأيمان لَا سِيمَا … عقد (وَفَاء بِهِ) من أعظم القر)

بل قَالَ السخاوي يجوز حذف النَّفْي مِنْهُ قِيَاسا على قَوْله تَعَالَى {تالله تفتأ} أَي لَا تفتؤ

وَيجوز فِي قَول المُصَنّف لَا سِيمَا الْفِقْه جر الْفِقْه على الْإِضَافَة وَمَا زَائِدَة وَرَفعه على أَنه خبر لمضمر مَحْذُوف وَمَا مَوْصُولَة أَي وَلَا مثل الَّذِي هُوَ الْفِقْه وَلَا يجوز النصب إِمَّا حَال أَو تَمْيِيز وَلَا يكونَانِ إِلَّا فِي النكرَة وَهُوَ هُنَا معرفَة
তবে অন্যজন উল্লেখ করেছেন যে, একে লঘু করা হয় এবং 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়, যেমন তাঁর উক্তি:

( [অতঃপর] অঙ্গীকার এবং কসমসমূহের মাধ্যমে, বিশেষ করে … চুক্তি (সেটির প্রতি অনুগত থাকা) অন্যতম মহান আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত)

বরং সাখাবী বলেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহর কসম, আপনি স্মরণ করা ছাড়বেন না} অর্থাৎ "আপনি স্মরণ করা ছাড়ছেন না"-এর সাথে কিয়াস করে এখান থেকে না-বোধক অব্যয় বিলুপ্ত করা বৈধ।

আর গ্রন্থকারের উক্তি "বিশেষ করে ফিকহ"-এর ক্ষেত্রে 'ফিকহ' শব্দটিকে ইদাফাতের (সম্বন্ধ) ভিত্তিতে জের প্রদান করা বৈধ এবং সেক্ষেত্রে 'মা' শব্দটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। আবার শব্দটিতে পেশ প্রদান করাও বৈধ এই ভিত্তিতে যে, এটি একটি উহ্য বিশেষ্যের খবর এবং তখন 'মা' শব্দটি মাওসুলাহ (সংযোজক সর্বনাম) হবে; অর্থাৎ "এমন বিষয়ের মতো নয় যা হলো ফিকহ"। তবে শব্দটিতে যবর প্রদান করা বৈধ নয়, চাই তা 'হাল' হিসেবে হোক বা 'তাময়ীয' হিসেবে, কারণ এই দুটি কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) ক্ষেত্রেই হতে পারে, অথচ শব্দটি এখানে নির্দিষ্ট বিশেষ্য (মারেফাহ)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَبِالثَّلَاثَةِ رُوِيَ الْبَيْت السَّابِق لِأَن مَا بعْدهَا نكرَة

7 -[ (قَوْله) عَظِيما عَظِيمَة جموع طلبته]

أما عَظِيما فنصبه لِأَنَّهُ خبر كَانَ وَأما عَظِيمَة فَفِي نَصبه وَجْهَان أَحدهمَا أَنه خبر ثَان لَكَانَ ثَانِيهمَا أَنه بدل مِمَّا قبله وساغ ذَلِك وَإِن كَانَ عَظِيمَة مؤنثا لِأَنَّهُ فِي الأَصْل مُذَكّر] واكتسب التَّأْنِيث مِمَّا بعده أَو لِأَنَّهُ جرى على غير من هُوَ لَهُ وجموع مَرْفُوع بعظيمة لِأَنَّهُ صفة مشبهة فَيعْمل عمل الْفِعْل وَأَصله مُعظم جموع حَملته وَلَقَد كَانَ شَأْن الحَدِيث فِيمَا مضى عَظِيما عَظِيمَة جموع طلبته رفيعة مقادير حفاظه وَحَمَلته

قلت وَهَذَا شَيْء كالمتواتر عِنْد من نظر تراجمهم وأحوالهم قَالَ أَبُو سعد
পূর্ববর্তী পঙ্ক্তিটি তিনভাবেই বর্ণিত হয়েছে কারণ এর পরবর্তী অংশটি অনির্দিষ্ট।

৭ -[ (তাঁর বক্তব্য) মহান, বিশাল তার অন্বেষণকারীদের দলগুলো]

আজীমান শব্দটির নসব হওয়ার কারণ হলো এটি কানা-এর খবর। আর আজীমাতান শব্দটির নসব হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে: প্রথমটি হলো এটি কানা-এর দ্বিতীয় খবর, দ্বিতীয়টি হলো এটি তার পূর্ববর্তী শব্দ থেকে বদল বা বিকল্প। এটি জায়েজ হয়েছে যদিও আজীমাতান শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ, কারণ এটি মূলত পুংলিঙ্গ ছিল এবং পরবর্তী শব্দ থেকে স্ত্রীলিঙ্গত্ব গ্রহণ করেছে অথবা এটি এমন কিছুর গুণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা মূলত তার নিজের নয়। আর জুমুউ শব্দটি আজীমাতান দ্বারা মারফু হয়েছে, কারণ এটি সিফাতে মুশাব্বাহা এবং তা ক্রিয়ার ন্যায় আমল করে। এর মূল হলো: এর বাহকদের দলগুলো মহান। নিশ্চয়ই অতীতে হাদিসের মর্যাদা ছিল সুমহান, এর অন্বেষণকারীদের দলগুলো ছিল বিশাল এবং এর সংরক্ষণকারী ও বাহকদের অবস্থান ছিল সুউচ্চ।

আমি বলি, যারা তাদের জীবনী ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন তাদের কাছে এটি মুতাওয়াতির বা সুনিশ্চিত বিষয়ের মতো। আবু সাদ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৮)
السَّمْعَانِيّ فِي أدب الاستملاء

حَدثنَا أَبُو مَنْصُور عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الطاهري بِبَغْدَاد أَنا أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ الْحَافِظ ثَنَا أَبُو مُحَمَّد الْخلال قَالَ ذكر أَبُو الْقَاسِم مَنْصُور ابْن جَعْفَر بن ملاعب أَن إِسْمَاعِيل بن عَليّ العاصمي حَدثهمْ ثَنَا
আস-সামআনী তার 'আদাবুল ইস্তিমলা' গ্রন্থে বলেন:

আবু মানসুর আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আত-তাহিরি বাগদাদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম মনসুর ইবনে জাফর ইবনে মুলা'ইব উল্লেখ করেছেন যে, ইসমাইল ইবনে আলী আল-আসিমী তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ২৯)
عمر بن حَفْص قَالَ وَجه المعتصم من يحزر مجْلِس عَاصِم بن عَليّ بن عَاصِم فِي رحبة النّخل الَّتِي فِي جَامع الرصافة قَالَ وَكَانَ عَاصِم بن عَليّ
উমর বিন হাফস বলেন, আল-মুতাসিম এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেছিলেন যে রুসাফা জামে মসজিদের খেজুর বাগান সংলগ্ন চত্বরে আসিম বিন আলি বিন আসিমের মজলিসে উপস্থিত লোকসংখ্যা নিরূপণ করবে। তিনি বলেন, আসিম বিন আলি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৩০)
يجلس على سطح المسقطات وينتشر النَّاس فِي الرحبة وَمَا يَليهَا فيعظم الْجمع جدا حَتَّى سمعته يَوْمًا يَقُول ثَنَا اللَّيْث بن سعد ويستعاد فَأَعَادَ أَربع عشرَة مرّة وَالنَّاس لَا يسمعُونَ قَالَ وَكَانَ هَارُون الْمُسْتَمْلِي يركب نَخْلَة معوجة ويستملي عَلَيْهَا فَبلغ المعتصم كَثْرَة الْجمع فَأمر من يحزرهم فَوجه بقطاعي الْغنم فحزروا الْمجْلس عشْرين ألفا وَمِائَة ألف ثمَّ روى أَن مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ كَانَ
তিনি উঁচু চত্বরের ছাদে বসতেন এবং প্রশস্ত প্রাঙ্গণ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানুষ ছড়িয়ে পড়ত। ফলে জনসমাগম অত্যন্ত বিশাল হয়ে যেত, এমনকি আমি একদিন তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: ‘আমাদের নিকট লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন’। তখন পুনরায় বলার অনুরোধ করা হলে তিনি তা চৌদ্দবার পুনরাবৃত্তি করেন, তবুও মানুষ (দূরত্বের কারণে) শুনতে পাচ্ছিল না। তিনি বলেন, হারুন আল-মুস্তামলি একটি বাঁকা খেজুর গাছের ওপর আরোহণ করতেন এবং সেখান থেকে শ্রুতিলিপি প্রদান করতেন। বিশাল জনসমাবেশের সংবাদ মুতাসিমের নিকট পৌঁছলে তিনি তাদের সংখ্যা নিরূপণের আদেশ দেন। অতঃপর তিনি মেষ গণনাকারীদের পাঠান এবং তারা মজলিসের লোকসংখ্যা এক লক্ষ বিশ হাজার বলে প্রাক্কলন করেন। এরপর বর্ণিত হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী ছিলেন—
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৩১)
يجلس بِبَغْدَاد ويجتمع فِي مَجْلِسه أَكثر من عشْرين ألفا وَقَالَ ابْن عدي كُنَّا نشْهد مجْلِس الْفرْيَابِيّ وَفِيه عشرَة آلَاف وَأكْثر قَالَ وبخط وَالِدي عد فِي مجْلِس السَّيِّد أبي الْحسن الْعلوِي ألف محبرة قَالَ فرحم الله تَعَالَى السّلف
তিনি বাগদাদে বসতেন এবং তাঁর মজলিসে বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ সমবেত হতো। ইবনে আদি বলেন: আমরা ফিরইয়াবীর মজলিসে উপস্থিত হতাম এবং সেখানে দশ হাজার বা তারও বেশি লোক থাকত। তিনি বলেন: আমার পিতার হস্তলিপিতে রয়েছে যে, সৈয়দ আবুল হাসান আল-আলাওয়ীর মজলিসে এক হাজার দোয়াত গণনা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: মহান আল্লাহ সালাফদের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الماضين كَانَ الْعلم مَطْلُوبا فِي زمانهم والرغبات متوافرة والجموع متكاثرة والآن خمدت ناره وَقل شراره وكسد سوقه حَتَّى سَمِعت أَبَا حَفْص عمر بن ظفر المغازلي - مذاكرة - يَقُول (أ 3) فَرغْنَا من إملاء الشَّيْخ أبي الْفضل بن يُوسُف فطلبنا محبرة نكتب مِنْهَا أسامي من حضر فَمَا وجدنَا انْتهى قلت فزماننا هَذَا الَّذِي كسد فِيهِ الْعلم وبار وَوَلَّتْ عساكره الأدبار فَكَأَنَّهُ برق تألق بالحمى ثمَّ انطوى مَكَانَهُ لم يلمع

وَأما مَا أَشَارَ إِلَيْهِ المُصَنّف من تَعْظِيم حَملته فَهُوَ أشهر من أَن يذكر قَالَ عَبْثَر بن
পূর্ববর্তীদের যুগে ইলম ছিল কাঙ্ক্ষিত, সেটির প্রতি আগ্রহ ছিল প্রচুর এবং শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ছিল বিপুল। আর বর্তমানে এর আগুন নিভে গেছে, এর স্ফুলিঙ্গ কমে গেছে এবং এর বাজার মন্দা হয়ে পড়েছে। এমনকি আমি আবু হাফস উমর ইবনে জাফর আল-মুগাজেলিকে আলোচনার মাধ্যমে বলতে শুনেছি (ক ৩) আমরা শায়খ আবুল ফজল ইবনে ইউসুফের ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) শেষ করলাম, এরপর উপস্থিতদের নাম লেখার জন্য একটি কালির পাত্র খুঁজলাম, কিন্তু কিছুই পেলাম না—সমাপ্ত। আমি বলি, আমাদের এই কাল তো এমন যাতে ইলম মন্দা হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়েছে, আর এর সৈন্যরা পিঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছে। এটি যেন এমন এক বিদ্যুৎ যা হিমা অঞ্চলে চমকে উঠেছিল, এরপর নিজ স্থানেই গুটিয়ে গেল আর পুনরায় চমকালো না।

আর গ্রন্থকার ইলম বহনকারীদের সম্মানের ব্যাপারে যা ইঙ্গিত করেছেন, তা উল্লেখ করার চেয়েও অধিক প্রসিদ্ধ। আবসার ইবনে... বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْقَاسِم أشرفت أم ولد هَارُون الرشيد بالرقة ذَات يَوْم من الْقصر فرأت الغبرة قد ارْتَفَعت وَالنعال قد انْقَطَعت وانجفل النَّاس فَقَالَت مَا هَذَا قَالُوا عَالم من خُرَاسَان يُقَال لَهُ عبد الله بن الْمُبَارك قَالَت هَذَا وَالله الْملك لَا ملك هَارُون الَّذِي لَا يجمع النَّاس إِلَّا بِالسَّوْطِ والخشب

وروينا عَن الْحَافِظ عبد الْقَادِر الرهاوي فِي أربعينه
আল-কাসিম বর্ণনা করেন, একদিন হারুনুর রশিদের উম্মু ওয়ালাদ (সন্তানের জননী দাসী) রাক্কায় প্রাসাদ থেকে উঁকি দিলেন। তখন তিনি দেখলেন ধূলি উড়ছে, মানুষের ভিড়ে জুতো ছিঁড়ে যাচ্ছে এবং লোকজনের ঢল নেমেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এটি কী?" তারা বলল, "খুরাসানের একজন আলেম, যাঁকে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলা হয়।" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, এটিই প্রকৃত রাজত্ব; হারুনের রাজত্ব নয়, যে কেবল চাবুক ও লাঠির মাধ্যমেই মানুষকে সমবেত করতে পারে।"

আর আমরা হাফেজ আবদুল কাদির আর-রাহাবী থেকে তাঁর 'আরবাঈন' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
بِإِسْنَادِهِ إِلَى يحيى بن أَكْثَم قَالَ لي الرشيد مَا أنبل الْمَرَاتِب قلت مَا أَنْت فِيهِ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَ أفتعرف أجل مني قلت لَا قَالَ لكني أعرف رجلا فِي حَلقَة يَقُول حَدثنَا فلَان عَن فلَان عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قلت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ هَذَا خير مِنْك وَأَنت ابْن عَم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَولي عهد الْمُسلمين قَالَ نعم وَيلك هَذَا خير مني لِأَن اسْمه مقترن باسم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يَمُوت أبدا وَنحن نموت ونفنى وَالْعُلَمَاء باقون مَا بَقِي الدَّهْر

وَقَالَ الإِمَام أَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن فَارس
ইয়াহইয়া ইবনে আকসামের প্রতি তাঁর সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল-রশিদ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "মর্যাদার মধ্যে সবচেয়ে মহৎ কোনটি?" আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি বর্তমানে যে উচ্চাসনে রয়েছেন।" তিনি বললেন, "তুমি কি আমার চেয়েও মহান কাউকে চেনো?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "কিন্তু আমি এমন এক ব্যক্তিকে চিনি, যিনি ইলমি মজলিসে বসে বলছেন: আমাদের কাছে অমুক বর্ণনা করেছেন অমুক থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে..." আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন! এই ব্যক্তি কি আপনার চেয়েও উত্তম? অথচ আপনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতৃব্যপুত্র এবং মুসলিমদের খলিফা।" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তোমার জন্য আক্ষেপ! তিনি আমার চেয়েও উত্তম; কারণ তাঁর নাম আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে যুক্ত। তিনি কখনো বিস্মৃত হবেন না, অথচ আমরা মারা যাব এবং বিলীন হয়ে যাব। আর ওলামায়ে কেরাম কালজয়ী হিসেবে টিকে থাকবেন যতক্ষণ মহাকাল বিদ্যমান থাকবে।"

এবং ইমাম আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ লিয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
سَمِعت الْأُسْتَاذ أَبَا الْفضل مُحَمَّد بن العميد يَقُول مَا كنت أَظن أَن فِي الدُّنْيَا حلاوة ألذ من الرِّئَاسَة والوزارة الَّتِي أَنا فِيهَا حَتَّى شاهدت مذاكرة سُلَيْمَان بن أَحْمد الطَّبَرَانِيّ وَأبي بكر بن الجعابي بحضرتي فَكَانَ الطَّبَرَانِيّ يغلب ابْن الجعابي بِكَثْرَة حفظه (د 4) وَأَبُو بكر الجعابي يغلب الطَّبَرَانِيّ بفطنته وذكائه حَتَّى ارْتَفَعت أصواتهما وَلَا يكَاد أَحدهمَا يغلب صَاحبه فَقَالَ ابْن الجعابي عِنْدِي حَدِيث لَيْسَ فِي الدُّنْيَا إِلَّا عِنْدِي فَقَالَ هاته فَقَالَ حَدثنَا أَبُو خَليفَة ثَنَا سُلَيْمَان
আমি উস্তাদ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আল-আমীদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মনে করতাম না যে পৃথিবীতে নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্বের চেয়ে অধিক স্বাদযুক্ত কোনো মিষ্টতা আছে যার মধ্যে আমি রয়েছি, যতক্ষণ না আমি আমার উপস্থিতিতে সুলাইমান বিন আহমদ আত-তাবারানি এবং আবু বকর বিন আল-জিয়াবির ইলমি আলোচনা প্রত্যক্ষ করলাম। তাবারানি তাঁর মুখস্থবিদ্যার প্রাচুর্য দিয়ে ইবনুল জিয়াবির ওপর প্রবল হচ্ছিলেন (দ ৪) এবং আবু বকর আল-জিয়াবি তাঁর বিচক্ষণতা ও মেধা দিয়ে তাবারানির ওপর প্রবল হচ্ছিলেন; এমনকি তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গেল এবং তাঁদের কেউ অপরজনের ওপর প্রায় জয়ী হতে পারছিলেন না। তখন ইবনুল জিয়াবি বললেন, "আমার নিকট এমন একটি হাদিস আছে যা পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কারো নিকট নেই।" তিনি (তাবারানি) বললেন, "তা পেশ করো।" তিনি বললেন, "আমাদের নিকট আবু খালিফা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন..."