(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: -)
المختصر في علم الأثر   (الكافيجي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المختصر في علم الأثر (مطبوع ضمن كتاب: رسالتان في المصطلح)

المؤلف: محمد بن سليمان بن سعد بن مسعود الرومي الحنفي محيي الدين، أبو عبد الله الكافِيَجي (ت 879هـ)

المحقق: علي زوين

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولى، 1407هـ

عدد الصفحات: 181

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুখতাসার ফি ইলমিল আসার   (আল-কাফিয়াজি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: আল-মুখতাসার ফি ইলমিল আসার (গ্রন্থটি নিমোক্ত বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত: রিসালাতানি ফিল মুসতালাহ)

লেখক: মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন সাদ বিন মাসউদ আল-রুমি আল-হানাফি মুহিউদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ আল-কাফিয়াজি (মৃ. ৮৭৯ হি.)

তাহকিককারী: আলী যুওয়াইন

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হি.

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

الْحَمد لله الَّذِي نزل أحسن الحَدِيث وفضله وَبَين أفضل السّنَن وفصله وَبعث فِي الأمِيِين رَسُولا مِنْهُم يَتْلُو آيَاته ويخرجهم من الظُّلُمَات إِلَى النُّور بِإِظْهَار حججه ومعجزاته صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَأَصْحَابه نُجُوم الْهِدَايَة فِي مَشَارِق التَّحْقِيق وبدور الدِراية فِي مطالع التَّوْفِيق مَا فرغ مرجوم بِنَجْم شهَاب ورفِع مكسور صِحَاح فِي كل حِسَاب

وَبعد:

فَإِن من أعظم الْعُلُوم على الْإِطْلَاق وأعلاها بِالِاسْتِحْقَاقِ عِلم الحَدِيث الباحث عَن أَقْوَال سيد الْمُرْسلين وأفعاله الكاشف عَن سيرته وأحواله الْحَاوِي على آثَار أَئِمَّة الْهدى وسماتهم الْمُشْتَمل على مَذَاهِب أَرْبَاب التقى وصفاتهم إِذْ بِهِ تعرف حقائق التَّنْزِيل وأنواره وَبِه تكشف دقائق التَّأْوِيل وأسراره. وَإِن الْأَئِمَّة الْكِرَام البررة قد صنفوا فِيهِ كتبا مُعْتَبرَة لَكِن لما ظهر تقاصر اللَّهُمَّ عَن فحص مَا دونوا وَعَن الإطلاع على مَا بينوا وَصَارَ قصارى أَمر النَّاس فِي هَذِه الْأَيَّام وَغَايَة الِاشْتِغَال بَين الْأَنَام أَن يحوموا حول المختصرات ويقتصروا على ظواهر الْعبارَات ألفت هَذَا الْمُخْتَصر فِي علم الْأَثر منبع الدُّرَر المتضمن لما يحْتَاج إِلَيْهِ على وَجه مُعْتَبر المشتل على مُقَدّمَة فِيهَا تصفية للفكر وعَلى بَابَيْنِ وخاتمة بهَا تدقيق للنَّظَر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বোত্তম হাদিস অবতীর্ণ করেছেন এবং তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; আর সর্বোত্তম সুন্নাহসমূহ বর্ণনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। এবং তিনি উম্মীদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন এবং তাঁর দলীল ও মুজিজাসমূহ প্রকাশের মাধ্যমে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সেইসব সাহাবীদের ওপর, যারা গবেষণার দিগন্তে হেদায়েতের নক্ষত্র এবং তৌফিকের উদয়স্থলে ইলমে দিরায়ার (الدراية) পূর্ণিমা; যতক্ষণ পর্যন্ত নক্ষত্র দ্বারা বিতাড়িত শয়তান ধ্বংস হতে থাকবে এবং প্রতিটি হিসেবে ভগ্নাংশকে সহিহ (صحاح) সংখ্যায় উন্নীত করা হবে।

অতঃপর:

নিশ্চিতভাবে জ্ঞানসমূহের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ এবং যোগ্যতার বিচারে সর্বোচ্চ হলো হাদিস বিজ্ঞান, যা রাসুলকুলের শিরোমণির বাণী ও কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করে, যা তাঁর সীরাত ও জীবনধারা উন্মোচন করে; যা হেদায়েতের ইমামগণের আছার (آثار) ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে এবং তাকওয়াবান ব্যক্তিবর্গের মাযহাব ও গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা এর মাধ্যমেই ওহীর বাস্তবতা ও নূরসমূহ জানা যায় এবং এর মাধ্যমেই তাফসীরের সূক্ষ্মতা ও রহস্যসমূহ উন্মোচিত হয়। আর নিশ্চয়ই সম্মানিত ও নেককার ইমামগণ এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছেন; কিন্তু যখন তাদের সংকলিত বিষয়সমূহ যাচাই এবং বর্ণিত বিষয়সমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে মানুষের অক্ষমতা প্রকাশ পেল, আর বর্তমান সময়ে মানুষের দৌড় এবং জনসাধারণের জ্ঞানচর্চার চূড়ান্ত সীমা হয়ে দাঁড়াল কেবল সংক্ষিপ্তসার (المختصرات) গ্রন্থগুলোর চারপাশে ঘুরপাক খাওয়া এবং বাক্যের বাহ্যিক অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা, তখন আমি ইলমে আছারের (الأثر) বিষয়ে এই সংক্ষিপ্তসার (المختصر) সংকলন করেছি—যা মুক্তার আধার এবং যা প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহকে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে ধারণ করে। এটি একটি ভূমিকা (مقدمة), যাতে রয়েছে চিন্তার স্বচ্ছতা; এবং দুটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের (خاتمة) ওপর مشتمل, যার মাধ্যমে গভীর অন্তর্দৃষ্টি অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٠)
راجياً من الله بِهِ الزلفى يَوْم الْحساب مبتغياً بذلك جميل الذِكرِ وجزيل الثَّوَاب إِنَّه هُوَ الرؤوف وَإِلَيْهِ المآب وَإنَّهُ هُوَ الْكَرِيم الْوَهَّاب

أما الْمُقدمَة

وَهِي مَا يتَوَقَّف عَلَيْهِ الشُّرُوع فِي الْعلم فَفِيهَا ثَلَاثَة أُمُور

الأول

فِي تَعْرِيف علم الحَدِيث وَمَا يتَعَلَّق بِهِ فَالْحَدِيث فِي اللُّغَة هُوَ الْخَبَر يُقَال على الْقَلِيل وَالْكثير وَالْمرَاد من الْخَبَر هَهُنَا هُوَ اللَّفْظ سَوَاء كَانَ مركبا أَو غَيره فَعلم من هَذَا فَسَاد قَول من قَالَ المُرَاد مِنْهُ هَهُنَا كَلَام يحْتَمل الصدْق وَالْكذب والْحَدِيث نقيض الْقَدِيم أَيْضا يُقَال أَخَذَنِي مَا قدم وَمَا حدث وَهَذَا أَعم من الأول لَكِن الْمُنَاسب لما نَحن بصدده هُوَ الأول فَظهر من هَذَا أَن الْأَعَمّ يجوز أَن يكون هُوَ الأَصْل فَيكون مَنْقُولًا إِلَى الْأَخَص نقل الدَّابَّة إِلَى ذَات القوائم الْأَرْبَع لتحَقّق معنى الْحُدُوث فِيهِ فَإِن مَعْنَاهُ هُوَ كَون شَيْء لم يكن

والْحَدِيث فِي الِاصْطِلَاح هُوَ خبرٌ نسب إِلَى الرَّسُول صلى الله عليه وسلم قولا أَو فعلا أَو سكُوتًا مِنْهُ عِنْد أَمر يعاينه

وَأما علم الحَدِيث فَهُوَ علم يقتدر بِهِ على معرفَة أَحْوَال أَقْوَال الرَّسُول وأفعاله على وَجه مَخْصُوص كالاتصال والإرسال وَنَحْوهمَا وَيُطلق أَيْضا على مَعْلُومَات وقواعد مَخْصُوصَة كَمَا تَقول فلَان يعلم علم الحَدِيث تُرِيدُ بِهِ معلوماته وقواعده وَتطلق أَيْضا على التَّصْدِيق بقواعده

ثمَّ إِن هَذَا الْفَنّ حسن مَقْبُول وَإنَّهُ واحب علمه كَسَائِر الْعُلُوم أما الأول فلاتفاق على حسنه وَقَوله وَمَا رَآهُ الْمُسلمُونَ حسنا فَهُوَ عِنْد الله
আল্লাহর নিকট এর মাধ্যমে হাশরের ময়দানে নৈকট্য লাভের আশা করছি, এর দ্বারা উত্তম চর্চা ও প্রচুর সওয়াব প্রত্যাশা করছি; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও মহাদাতা।

ভূমিকা প্রসঙ্গে

আর এটি এমন বিষয় যার ওপর কোনো শাস্ত্রের সূচনা নির্ভর করে। এতে তিনটি বিষয় রয়েছে।

প্রথম বিষয়

হাদিস বিজ্ঞানের সংজ্ঞা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। আভিধানিক অর্থে হাদিস হলো সংবাদ (الخبر), যা অল্প এবং অধিক—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর এখানে সংবাদ (الخبر) বলতে শব্দকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, চাই তা বাক্য হোক বা অন্য কিছু। এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির উক্তির অসারতা প্রমাণিত হলো যে বলেছে—এখানে এর দ্বারা এমন কথা উদ্দেশ্য যা সত্য বা মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে। 'হাদিস' শব্দটি সুপ্রাচীনের বিপরীত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়; যেমন বলা হয়, "আমার নিকট পুরাতন এবং নতুন বিষয়সমূহ এসেছে।" এই অর্থটি প্রথমটি অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, তবে আমরা যে বিষয়ে ব্যাপৃত আছি তার জন্য প্রথম অর্থটিই উপযুক্ত। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, ব্যাপক অর্থটিই মূল হওয়া সম্ভব, যা পরবর্তীতে বিশেষ অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে; যেমন 'দাব্বাহ' শব্দটি চতুস্পদ প্রাণীর জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। কারণ হাদিস শব্দের মধ্যে নতুনভাবে অস্তিত্বশীল হওয়ার অর্থ নিহিত রয়েছে, যার অর্থ হলো কোনো কিছুর এমন অস্তিত্ব লাভ যা পূর্বে ছিল না।

পারিভাষিক অর্থে হাদিস হলো এমন সংবাদ (الخبر) যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—চাই তা তাঁর কথা, কাজ বা তাঁর সম্মুখে সংঘটিত কোনো বিষয়ে তাঁর মৌনসম্মতি হোক।

আর হাদিস বিজ্ঞান হলো এমন এক শাস্ত্র যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজের অবস্থাগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে জানা যায়; যেমন সনদের সংযুক্ত থাকা (الاتصال) এবং বিচ্ছিন্নতা (الإرسال) ইত্যাদি। এটি বিশেষ কিছু তথ্য ও মূলনীতির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনি যখন বলেন—অমুক ব্যক্তি হাদিস বিজ্ঞান জানে, তখন আপনি এর দ্বারা তার লব্ধ জ্ঞান ও মূলনীতিগুলোকেই উদ্দেশ্য করেন। আবার এই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহের সত্যায়ন করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।

অতঃপর নিশ্চয়ই এই শাস্ত্রটি উত্তম ও গ্রহণযোগ্য এবং অন্যান্য ইলমের ন্যায় এটি অর্জন করাও আবশ্যক। প্রথমত, এটি উত্তম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে এবং এই বাণী অনুসারে: "মুসলমানগণ যা উত্তম মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম।"
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١١)
حسنٌ على أَنه يُسْتَفَاد مِنْهُ أَمر حسن وكل مَا هُوَ كَذَلِك فَهُوَ حسن وَأما الثَّانِي فَلِأَن ضبط الشَّرِيعَة وإتقانها لَا يتم إِلَّا بِهِ هَذَا ثمَّ إِنَّه من أشرف الْعُلُوم وأفضلها لِأَن حَدِيث الرَّسُول صلى الله عليه وسلم من جملَة أساس عُلُوم الْإِسْلَام وَالْأَحْكَام

رُوِيَ عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم إِنِّي خلفت فِيكُم شَيْئَيْنِ لن تضلوا أبدا مَا أَخَذْتُم بهما وعمِلتم بِمَا فيهمَا كتاب الله وسنتي

الْأَمر الثَّانِي

فِي شَأْن الْحَاجة إِلَيْهِ وَذَلِكَ لِأَن من الْأَحْكَام مَالا يتم بَيَانه إِلَّا بِالْحَدِيثِ وَلَا يتم الْوُقُوف عَلَيْهِ إِلَّا بِهَذَا الْفَنّ الشريف أَو لِأَن للْحَدِيث أصولاً وفروعا وأنواعاً وأقساماً لَيْسَ كل وَاحِد مِنْهَا مَعْلُوما بِالضَّرُورَةِ وَلَا مُمَيّزا بَعْضهَا عَن بعض كَذَلِك وَلَيْسَ الْعقل بِنَفسِهِ بكاف فِي ذَلِك وَلِهَذَا يعرض لَهُ التَّوَقُّف والغلط كثيرا فاحتيج فِي صون الذِّهْن عَن وُقُوع الْغَلَط فِيهِ وَفِي تَمْيِيز شَرط رعايته وَذَلِكَ الأَصْل هُوَ هَذَا الْفَنّ

تَنْبِيه فَائِدَته معرفَة السّنة على مَا يَنْبَغِي بِحَيْثُ يحصل بهما الإطلاع على مَعْنَاهَا المفضي إِلَى تَصْدِيق الرَّسُول صلى الله عليه وسلم فِي جَمِيع مَا جَاءَ بِهِ وَهُوَ وَسِيلَة إِلَى الْفَوْز بسعادة الدَّاريْنِ وَهُوَ غَايَته
এটি উত্তম (حسن) এ কারণে যে, তা থেকে উত্তম বিষয় অর্জিত হয় এবং যা কিছুই এমন তা উত্তম (حسن)। আর দ্বিতীয়ত, শরিয়ত সংরক্ষণ ও তার পূর্ণতা বিধান এটি ছাড়া সম্পন্ন হয় না। তদুপরি, এটি অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস ইসলামি জ্ঞান ও বিধানের মূল ভিত্তিগুলোর অংশ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: “আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে থাকবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।”

দ্বিতীয় বিষয়

এর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে; আর তা হলো, বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার বর্ণনা হাদিস ব্যতীত পূর্ণ হয় না এবং এই মহান শাস্ত্র ব্যতীত তা অবগত হওয়া সম্ভব নয়। অথবা এ কারণে যে, হাদিসের রয়েছে মূলনীতি (أصول), শাখা-প্রশাখা (فروع), প্রকার (أنواع) ও বিভাগ (أقسام); যেগুলোর প্রতিটি আবশ্যিকভাবে জানা থাকে না এবং একইভাবে একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করাও সম্ভব নয়। আর এ ক্ষেত্রে কেবল বিবেক বুদ্ধি যথেষ্ট নয়; যে কারণে এতে প্রায়ই দ্বিধা ও ভুলের অবকাশ থাকে। তাই মনকে ভুল থেকে রক্ষা করতে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের শর্তাবলি পৃথক করতে একটি মূলনীতির প্রয়োজন ছিল, আর সেই মূলনীতিই হলো এই শাস্ত্র।

দ্রষ্টব্য: এর উপকারিতা হলো সুন্নাহকে যথাযথভাবে জানা, যার মাধ্যমে এর মর্মার্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনে (تصديق) উপনীত করে। আর এটি ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য লাভের মাধ্যম এবং এটাই এর লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٢)
الْأَمر الثَّالِث

فِي بَيَان مَفْهُوم مَوْضُوعه وَفِي تَصْدِيق موضوعية مَوْضُوعه

فموضوعه مَا يبْحَث فِيهِ من أعراضه الذاتية كأقوال الرَّسُول وأفعاله وَأما بَيَان موضوعية مَوْضُوعه فبأن نقُول إِن أَقْوَاله وأفعاله مَوْضُوع هَذَا الْفَنّ من حَيْثُ إِنَّهَا مُتَّصِلَة فِي مُسْنده إِلَيْهِ إِلَى غير ذَلِك من الْأَمر الَّتِي يبْحَث عَنْهَا فِيهِ وَإِنَّمَا قيدتها بِهَذِهِ الْحَيْثِيَّة لِأَنَّهَا دَاخِلَة إِن لم يُقيد بهَا تَحت مَوْضُوع الْأُصُول من حَيْثُ إِنَّهَا يُسْتَفَاد مِنْهَا الْأَحْكَام إِجْمَالا

وتندرج أَيْضا تَحت مَوْضُوعَات عُلُوم أخر بِحَسب اختلافات مُخْتَلفَة فَظهر من هَذَا فَسَاد قَول من قَالَ إِن مَوْضُوعه ذَات الرَّسُول صلى الله عليه وسلم من حَيْثُ إِنَّه رَسُول الله وَحده فَإِن المباحث الْوَاقِعَة فِي هَذَا الْفَنّ رَاجِعَة إِلَى أَقْوَاله وأفعاله لَا إِلَى ذَات الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَإِن كَانَت الْأَقْوَال وَالْأَفْعَال مُتَعَلقَة بِهِ أَلا ترى أَن مَوْضُوع الْفِقْه أَفعَال الْمُكَلّفين من حَيْثُ إِنَّهَا تحل وَتحرم لَا المكلفون وَإِن كَانَت أفعالهم قَائِمَة بهم

الْبَاب الأول

فِي مصطلحات الْمُحدثين

وَهِي جمع مصطلح من بَاب الافتعال قلبت تاؤها طاءاً وَأُرِيد بهَا هَهُنَا ألفاظٌ مَخْصُوصَة مَوْضُوعَة لمعان يمتاز بَعْضهَا عَن بعض بِاعْتِبَار قيد يميزه عَنهُ وَسبب إِطْلَاقهَا عَلَيْهَا هُوَ الِاتِّفَاق على وَضعهَا لتِلْك الْمعَانِي لتحصل عِنْد اسْتِعْمَالهَا مَعَ أداتها اصْطِلَاح الْمعَانِي وَدفع فَسَاد التباسها بَعْضهَا بِبَعْض
তৃতীয় বিষয়

এর আলোচ্য বিষয়ের (موضوع) ধারণা এবং এর আলোচ্য বিষয়ের বস্তুনিষ্ঠতা প্রমাণের বর্ণনায়

এর আলোচ্য বিষয় (موضوع) হলো তা-ই, যাতে এর মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়; যেমন রাসূলুল্লাহর বাণীসমূহ ও কার্যাবলি। আর এর আলোচ্য বিষয়ের বস্তুনিষ্ঠতার বর্ণনা হলো এই যে, আমরা বলব—তাঁর বাণীসমূহ ও কার্যাবলি হলো এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع), এই দিক থেকে যে তা তাঁর প্রতি নির্দেশিত সনদের (مسند) সাথে সম্পৃক্ত এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা এখানে আলোচিত হয়। আমি বিষয়টিকে এই প্রেক্ষিত দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছি এই কারণে যে, যদি এভাবে সীমাবদ্ধ করা না হতো তবে তা উসুলুল ফিকহ-এর আলোচ্য বিষয়ের (موضوع) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত, কারণ সেখান থেকেও সামগ্রিকভাবে বিধানসমূহ আহরণ করা হয়

তাছাড়া এটি বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতের ভিন্নতার কারণে অন্যান্য শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়ের (موضوع) অধীনেও দাখিল হয়। এখান থেকেই ওই ব্যক্তির বক্তব্যের অসারতা স্পষ্ট হয়, যে বলেছে যে এর আলোচ্য বিষয় (موضوع) হলো কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তা এই দিক থেকে যে তিনি আল্লাহর রাসূল। কেননা এই শাস্ত্রে যে সকল আলোচনা সংঘটিত হয় তা তাঁর বাণী ও কার্যাবলির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার দিকে নয়, যদিও কথা ও কাজ তাঁর সাথে সম্পৃক্ত। আপনি কি দেখেন না যে, ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع) হলো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলি—এই দিক থেকে যে তা হালাল নাকি হারাম হবে—খোদ মুকাল্লাফ ব্যক্তিরা নয়; যদিও তাদের কার্যাবলি তাদের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়

প্রথম অধ্যায়

হাদিস বিশারদগণের (محدثون) পরিভাষা (مصطلحات) প্রসঙ্গে

এটি 'মুসতালাহ' (مصطلح) শব্দের বহুবচন, যা 'ইফতিআল' (افتعال) বাব থেকে এসেছে, যার 'তা' (تاء) অক্ষরটি 'ত' (طاء) বর্ণে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিশেষ কিছু শব্দ যা নির্দিষ্ট কিছু অর্থের জন্য নির্ধারিত, যা কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে একে অপরের থেকে পৃথক হয়। এই শব্দগুলোকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো, এই অর্থগুলোর জন্য এগুলো নির্ধারণের ব্যাপারে ঐক্যমত (اتفاق) পোষণ করা হয়েছে, যাতে পরিভাষার (اصطلاح) প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থগুলো যথাযথভাবে অর্জিত হয় এবং একটির সাথে অন্যটির বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা দূর হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٣)
فَمن جملَة الْأَلْفَاظ المصطلحة الصَّحِيح وَهُوَ فِي اللُّغَة ضد السقيم نقل عِنْد أهل الحَدِيث إِلَى معنى آخر مُنَاسِب فَالصَّحِيح هُوَ مَا اتَّصل سَنَده إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم عدل ضَابِط عَن عدل مثله بِلَا شذوذ ضار وَلَا عِلّة قادحة

فَخرج عَنهُ الْمُنْقَطع والمرسل والضعيف والشاذ والمعلل وَالْمَوْقُوف كَحَدِيث بني الْإِسْلَام على خمس شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله وَإِقَامَة الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة وَالْحج وَصَوْم رَمَضَان

ثمَّ إِن الصَّحِيح مقول على مَا تحه بالتفاوت والتشكيك وَلذَلِك قَالُوا أقسامه سَبْعَة متفاوته

أَولهَا وَهُوَ أَعْلَاهَا مَا أخرجه الشَّيْخَانِ البُخَارِيّ وَمُسلم جَمِيعًا بِبَيَان شَرط الصِّحَّة وَهُوَ الْمُتَّفق عَلَيْهِ

وَالثَّانِي مَا انْفَرد بِهِ البُخَارِيّ

وَالثَّالِث مَا انْفَرد بِهِ مُسلم

وَالرَّابِع مَا صَحَّ على شَرطهمَا وَلم يخرجَاهُ

وَالْخَامِس مَا صَحَّ على شَرط البُخَارِيّ وَلم يُخرجهُ
পরিভাষাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো সহিহ (الصحيح), যা আভিধানিক অর্থে অসুস্থ বা ত্রুটিযুক্তের বিপরীত। হাদিস বিশারদগণের নিকট একে একটি যথাযথ পারিভাষিক অর্থে রূপান্তর করা হয়েছে। সুতরাং সহিহ (الصحيح) হলো ওই হাদিস যার সনদ (سند) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এমনভাবে নিরবচ্ছিন্ন (متصل) থাকে, যেখানে একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর নিকট থেকে বর্ণনা করেন, কোনো ক্ষতিকর বিচ্যুতি (شذوذ) এবং প্রভাব বিস্তারকারী ত্রুটি (علة) ছাড়াই।

এর ফলে বিচ্ছিন্ন (منقطع), মুরসাল (مرسل), দুর্বল (ضعيف), শায (شاذ), ত্রুটিপূর্ণ (معلل) এবং মাওকুফ (موقوف) হাদিসসমূহ এর সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়। যেমন: ‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পন্ন করা এবং রমজানের রোজা পালন করা।’

অতঃপর সহিহ (الصحيح) শব্দটি এর অন্তর্গত প্রকারভেদের ওপর তারতম্য ও স্তরের ভিত্তিতে প্রযোজ্য হয়। এই কারণেই তাঁরা বলেছেন যে, এর প্রকারভেদ সাতটি যা মর্যাদার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন।

প্রথম প্রকার—যা সর্বোচ্চ স্তরের—হলো যা শাইখাইন অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম উভয়েই সহিহ হওয়ার শর্ত বর্ণনাসহ সংকলন করেছেন; আর একেই মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) বলা হয়।

দ্বিতীয় প্রকার হলো যা কেবল বুখারি এককভাবে সংকলন করেছেন।

তৃতীয় প্রকার হলো যা কেবল মুসলিম এককভাবে সংকলন করেছেন।

চতুর্থ প্রকার হলো যা তাঁদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী সহিহ (صحيح) হয়েছে কিন্তু তাঁরা সেটি সংকলন করেননি।

পঞ্চম প্রকার হলো যা বুখারির শর্ত অনুযায়ী সহিহ (صحيح) হয়েছে কিন্তু তিনি সেটি সংকলন করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٤)
وَالسَّادِس مَا صَحَّ على شَرط مُسلم وَلم يُخرجهُ

وسابعها مَا صَححهُ غَيرهمَا وَلَيْسَ على شَرط وَاحِد مِنْهُمَا

فَهَذِهِ هِيَ الْأُمَّهَات

وَيدل على ذَلِك أَيْضا انقسامه إِلَى متواتر وآحاد

فالتواتر فِي اللُّغَة تتَابع أُمُور وَاحِدًا بعد وَاحِد بفترة من الْوتر قَالَ الله تَعَالَى (ثمَّ أرسلنَا رسلنَا تترى) .

فالمتواتر خبر جمَاعَة يُفِيد بِنَفسِهِ الْعلم بصدقه وَخبر الْوَاحِد هُوَ خبر لم ينْتَه إِلَى حدِ التَّوَاتُر سَوَاء كثرت رُوَاته أَو قلت

ثمَّ إِن تَقْسِيم الْبَغَوِيّ حَدِيث المصابيح إِلَى صِحَاح وَحسان تَقْسِيم يسْتَحق الْقبُول لَا الرَّد وغن كَانَ مُخَالفا لما اشْتهر عِنْدهم فَإِن ذَلِك اصْطِلَاح وَلَا مشاحة فِيهِ فَلهُ ذَلِك بل لكل أحدٍ إِن يصطلح على مَا يَشَاء وَلَا سِيمَا إِذا تضمن فَائِدَة لَا تتمّ إِلَّا بِهِ

وَهَهُنَا الْأَمر كَذَلِك فَإِنَّهُ قد قصد بذلك أَن يكون مَا أخرجه الشَّيْخَانِ أَو أَحدهمَا منتظماً فِي سلك على حِدة ممتازاً عَمَّا أخرجه غَيرهمَا من غير أَن يقْصد انحصار الْمخْرج فيهمَا سَوَاء كَانَ الْمخْرج مخرج الشَّيْخَيْنِ أَو أَحدهمَا أَو مخرج غَيرهَا بحث إِن الناظرين فِيهِ يحصلون مقاصدهم مِنْهُ كَمَا يُرِيدُونَ على أضبط
ষষ্ঠ স্তর হলো ঐ সমস্ত হাদিস যা ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) হয়েছে কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি।

এবং সপ্তম স্তর হলো ঐ সকল হাদিস যা তাঁদের (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত অন্য ইমামগণ সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং সেগুলো তাঁদের কারো শর্তানুযায়ী নয়।

এই হলো মূল ভিত্তি বা মৌলিক স্তরসমূহ।

এর ওপর ভিত্তি করেই হাদিসকে মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد) এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়।

ভাষাগতভাবে তাওয়াতুর (التواتر) অর্থ হলো একের পর এক নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে কোনো বিষয়ের ধারাবাহিক আগমন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসুলদের প্রেরণ করেছি।"

সুতরাং মুতাওয়াতির (متواتر) হলো এমন একদল লোকের বর্ণনা যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান দান করে। আর খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) হলো এমন সংবাদ যা মুতাওয়াতির (متواتر) এর পর্যায়ে পৌঁছেনি, চাই তার বর্ণনাকারী সংখ্যা অধিক হোক বা কম।

অতঃপর ইমাম বাগাভী তাঁর ‘মাসাবিহ’ গ্রন্থের হাদিসগুলোকে সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) এই দুই ভাগে যে বিন্যাস করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য এবং প্রত্যাখ্যাত নয়। যদিও এটি উলামায়ে কেরামের নিকট প্রসিদ্ধ নিয়মের পরিপন্থী, তথাপি এটি একটি পরিভাষা (اصطلاح) আর পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক চলে না। তাঁর এই অধিকার রয়েছে, বরং প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিভাষা (اصطلاح) নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে যদি তাতে এমন কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে যা অন্যভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়।

এখানে বিষয়টি ঠিক তেমনই। কেননা তিনি এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন যে, শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তাঁদের কোনো একজন যা বর্ণনা করেছেন তা যেন একটি স্বতন্ত্র সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে থাকে এবং অন্যদের বর্ণিত হাদিস থেকে পৃথক থাকে। এর উদ্দেশ্য বর্ণনাকে শুধুমাত্র তাঁদের দুজনের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং সেটি শাইখাইনের বর্ণনা হোক বা অন্যদের—এভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে যাতে পাঠকগণ অত্যন্ত সুচারুভাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٥)
وجهٍ وَأحسنه فَيكون ذَلِك أدعى وأعول علت مَا عَم فِيهِ من الطَّاعَة وَقد صرح فِيهِ بذلك وَيشْهد لما قُلْنَا قَوْله وَمَا كَانَ فِيهَا من ضَعِيف وغريب أَشرت إِلَيْهِ

ثمَّ إِنَّهَا إِذا قَالُوا هَذَا حَدِيث صحيحٌ فقد أَرَادوا بذلك أَن سَنَده مُتَّصِل ظَاهرا مَعَ سَائِر شُرُوطه إِلَّا أَنه مَقْطُوع بِهِ فِي نفس الْأَمر إِذْ يجوز أَن يكون راوية عدلا وَاحِدًا وَيجوز عَلَيْهِ الْخَطَأ وَالنِّسْيَان كَمَا أَنه يجوز أَن لَا يكون من الْأَخْبَار الَّتِي اجْتمعت الْأمة على تلقيها بِالْقبُولِ فَعلم من هَذَا فَسَاد قَول من قَالَ إِن خبر الْوَاحِد يُفِيد بِسنة الْعلم كَمَا علم مِنْهُ أَنه يجز أَن يكون مقطعوا بِهِ إِذا كَانَ متواتراً فَيكون المُرَاد من سلب الْقطع هَهُنَا سلب الْقطع إِذا لم يصل إِلَى حد التَّوَاتُر

وَكَذَا إِذا قَالُوا هَذَا حَدِيث غير صَحِيح فَالْمُرَاد بِهِ أَنه لم يَصح إِسْنَاده على الشَّرْط الْمُعْتَبر فِي الصِّحَّة لَا أَنه مَقْطُوع بِأَنَّهُ كذب فِي نفس الْأَمر لجَوَاز أَن يكون صَادِقا إِلَّا إِذا علم أَنه مَوْضُوع قطعا

فَعلم من هَذَا أَن وظيفتهم وأبحاثهم فِي أَمْثَال هَذَا إِنَّمَا هِيَ بِحَسب اعْتِبَار السَّنَد لَا بِحَسب نفس الْأَمر فَإِن ذَلِك صَعب مَعَ أَنه لَيْسَ بوظيفة الْمُحدث

وَمِنْهَا الْحسن وَهُوَ فِي اللُّغَة نقيض الْقَبِيح نقِل عَنهُ إِلَى معنى آخر فَاخْتلف فِيهِ على أَقْوَال أَصَحهَا هُوَ الَّذِي يكون رَاوِيه مَشْهُورا بِالصّدقِ وَالْأَمَانَة مَعَ قُصُور فِي حفظه وإتقانه أَو مَسْتُور الْحَال مَعَ أَن لَا يكون كثير الْخَطَأ وَلَا مُتَّهمًا بِالْكَذِبِ بحي لَا يكون فِيهِ عِلّة قادحة لَا
শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতি ও সর্বোত্তম উপায়, যাতে এটি আনুগত্যের কাজে অধিকতর সহায়ক ও নির্ভরযোগ্য হয়। তিনি এতে স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করেছেন এবং আমরা যা বলেছি তার সপক্ষে তাঁর এই উক্তিটি সাক্ষ্য দেয়: "এবং এর মধ্যে যা কিছু দুর্বল (ضعيف) ও দুর্লভ (غريب) ছিল, আমি তা নির্দেশ করেছি।"

অতঃপর, মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন: "এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস", তখন তাঁরা এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন যে, এর সনদটি দৃশ্যত অন্যান্য সকল শর্তাবলি সহ অবিচ্ছিন্ন (متصل), যদিও এটি বাস্তব ক্ষেত্রে অকাট্য নয়। কেননা এমন হতে পারে যে, বর্ণনাকারী একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ক্ষেত্রে ভুল বা বিস্মৃতি ঘটা সম্ভব। তদ্রূপ এমনও হতে পারে যে, এটি সেইসব সংবাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে। এ থেকে সেই ব্যক্তির মতের অসারতা স্পষ্ট হয় যে দাবি করে যে, একক বর্ণনা (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। এর থেকে আরও জানা যায় যে, এটি তখনই অকাট্য হওয়া সম্ভব যখন তা মুতাওয়াতির (متواتر) হবে। সুতরাং এখানে অকাট্যতা নাকচ করার অর্থ হলো সেই অকাট্যতাকে অস্বীকার করা যা মুতাওয়াতির (متواتر) এর পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

একইভাবে যখন তাঁরা বলেন: "এটি সহিহ (صحيহ) নয় এমন হাদিস", তখন এর অর্থ হলো—বিশুদ্ধতার জন্য বিবেচিত শর্তানুযায়ী এর সনদটি সহিহ (صحيহ) প্রমাণিত হয়নি; এর অর্থ এটি নয় যে, এটি বাস্তবে নিশ্চিতভাবেই মিথ্যা। কারণ এটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, যতক্ষণ না তা নিশ্চিতভাবে জাল (موضوع) হিসেবে প্রমাণিত হয়।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই জাতীয় বিষয়ে তাঁদের কর্মপরিধি ও গবেষণা কেবল সনদের বিবেচনার ভিত্তিতেই হয়ে থাকে, বাস্তব অবস্থার নিরিখে নয়। কারণ সেটি অত্যন্ত কঠিন এবং এটি মুহাদ্দিসের মৌলিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্তও নয়।

এর (হাদিসের প্রকারভেদের) মধ্যে অন্যতম হলো হাসান (حسن)। শাব্দিক অর্থে এটি 'কুশ্রী'-এর বিপরীত, যা পরবর্তীতে পারিভাষিক অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর সংজ্ঞা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম মতটি হলো: হাসান (حسن) সেই হাদিস যার বর্ণনাকারী সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্মরণশক্তি ও নির্ভুলতায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অথবা তিনি এমন এক জন যার অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال), তবে শর্ত হলো তিনি অধিক ভুলকারী নন এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নন, এবং তাতে কোনো দোষণীয় ত্রুটি (علة قادحة) নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٦)
إنكاز وشذوذ يضر فَخرج عَنهُ الصَّحِيح والضعيف وَبَعض الْمُعَلل والشاذ وَالْمُنكر كَحَدِيث لَوْلَا أَن أشق على أمتِي لأمرتهم بِالسِّوَاكِ عِنْد كل صَلَاة وَكَذَا مَا رَوَت عَائِشَة رضي الله عنها من أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا خرج من الْخَلَاء قَالَ غفرانك

فعلِم من هَذَا أَن النِّسْبَة بَين الْحسن وَالصَّحِيح نِسْبَة تبَاين كَمَا أَن بَينهمَا وَبَين الضَّعِيف كَذَلِك هَذَا وَأما عِنْد الْبَعْض فَالصَّحِيح أَعم كَمَا عِنْد الآخر أَن الْحسن أَعم وَلِهَذَا يُقَال هَذَا حَدِيث صَحِيح حسن وَحَدِيث حسن صَحِيح كَحَدِيث إِذا بَقِي نصف شعْبَان فَلَا تَصُومُوا قَالَ التِّرْمِذِيّ هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح
অগ্রহণযোগ্যতা (نکارة) এবং ক্ষতিকর বিচ্যুতি (شذوذ), যার ফলে এটি থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) এবং কিছু ত্রুটিপূর্ণ (معلل), বিচ্যুত (شاذ) ও অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস বাদ পড়ে গেছে। যেমন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম" শীর্ষক হাদিসটি। তদ্রূপ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন, "গুফরা-নাক" (হে আল্লাহ, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।

এ থেকে জানা গেল যে, উত্তম (حسن) এবং বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের পারস্পরিক সম্পর্ক হলো ভিন্নতা বা পার্থক্যের; যেমনটি তাদের উভয়ের সাথে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে কারও কারও মতে বিশুদ্ধ (صحيح) পরিভাষাটি অধিকতর ব্যাপক, আবার অন্যদের মতে উত্তম (حسن) পরিভাষাটি অধিকতর ব্যাপক। এ কারণেই বলা হয়: "এটি একটি বিশুদ্ধ-উত্তম (صحيح حسن) হাদিস" এবং "উত্তম-বিশুদ্ধ (حسن صحيح) হাদিস।" যেমন: "যখন শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা রোজা রেখো না" শীর্ষক হাদিসটি। তিরমিজি বলেছেন, এই হাদিসটি উত্তম-বিশুদ্ধ (حسن صحيح)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٧)
وَالْأَمر فِيهِ وَفِي أَمْثَاله سهل إِذا كل ذَلِك يرجع إِلَى الِاصْطِلَاح وَلَا مشاحة فِي لَكِن القَوْل الَّذِي قَدمته هُوَ الأولى هَذَا ثمَّ إِن الْحسن يسْتَعْمل فِي الْإِسْنَاد كَمَا يسْتَعْمل فِي الحَدِيث وَقَوْلهمْ هَذَا حَدِيث حسن إِسْنَاده أَعم تحققاً من قَوْلهم هَذَا حَدِيث حسنٌ فَإِن حسن الْإِسْنَاد قد يتَحَقَّق لثقة رِجَاله وَلَا يتَحَقَّق حسن الحَدِيث لوُجُود علية قادحة فِيهِ وَكَذَا الحاف فِي الصَّحِيح فَعلم من هَذَا أَنه مقول على مَا تَحْتَهُ بالتفاوت فِي التَّحْقِيق أَيْضا

وَمِنْهَا الضَّعِيف وَهُوَ لُغَة خلاف الْقوي وَاصْطِلَاحا هُوَ الَّذِي لم يبلغ دَرَجَته دَرَجَة الصَّحِيح وَلَا الْحسن مِثَاله م مَا رُوِيَ عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ كلوا البلح بِالتَّمْرِ فَإِن الشَّيْطَان إِذا رأى ذَلِك غاضه

وَقَالَ النَّسَائِيّ هَذَا حَدِيث مُنكر

وَالْمُنكر من أَقسَام الضَّعِيف وَمن أقسامه الْمَوْضُوع والمقلوب والمعلل وَقَالَ الْبَعْض يرتقي عدد أقسامه إِلَى خمسين قسما إِلَّا وَاحِدًا
এই বিষয়টি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোর হুকুম বেশ সহজ, কারণ এসবই পরিভাষা (اصطلاح) সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং এতে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। তবে আমি পূর্বে যে মতটি পেশ করেছি সেটিই অধিক উত্তম। এরপর কথা হলো, হাসান (حسن) শব্দটি যেমন হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তেমনি তা সনদ (إسناد)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। মুহাদ্দিসগণের উক্তি—'এটি হাসান সনদ বিশিষ্ট হাদিস (حسن إسناده)'—তাঁদের উক্তি—'এটি হাসান (حسن) হাদিস'—অপেক্ষা বাস্তবসম্মত হওয়ার দিক থেকে অধিক ব্যাপক। কারণ বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়ার কারণে অনেক সময় সনদের হাসান (حسن الإسناد) হওয়া সাব্যস্ত হয়, কিন্তু হাদিসের মধ্যে কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) বিদ্যমান থাকায় হাদিসটি হাসান (حسن) হওয়া সাব্যস্ত হয় না। সহিহ (صحيح)-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হলো যে, বাস্তবগত পার্থক্যের কারণে এর নিম্নোক্ত স্তরগুলোতেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

এর একটি প্রকার হলো দুর্বল (ضعيف)। শাব্দিক অর্থে এটি শক্তিশালী-এর বিপরীত। আর পরিভাষাগত (اصطلاحا) অর্থে এটি এমন হাদিস যা সহিহ (صحيح) কিংবা হাসান (حسن) এর স্তরে (درجة) পৌঁছাতে পারেনি। এর উদাহরণ হলো যা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা শুকনো খেজুরের সাথে কাঁচা খেজুর মিশিয়ে খাও, কেননা শয়তান যখন তা দেখে তখন রাগান্বিত হয়।"

নাসায়ি বলেন, "এটি একটি মুনকার (منكر) হাদিস।"

আর মুনকার (منكر) হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর অন্যান্য প্রকারের মধ্যে রয়েছে জাল (موضوع), মাকলুব (مقلوب) এবং মুআল্লাল (معلل)। কেউ কেউ বলেন যে, এর প্রকারভেদ উনপঞ্চাশটি পর্যন্ত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٨)
وَمن الضَّعِيف بعض الْأَحَادِيث الَّتِي رويت فِي فَضَائِل سور الْقُرْآن

ثمَّ إِن درجاته تَتَفَاوَت فِي الضعْف كَمَا تَتَفَاوَت دَرَجَات الصَّحِيح فِي الْقُوَّة وَالْمرَاد من قَوْلهم هَذَا حَدِيث ضَعِيف من غير بَيَان وَجه الضعْف أَن إِسْنَاده ضَعِيف لَا أَن مَتنه ضَعِيف لاحْتِمَال أَن يَجِيء بِإِسْنَاد آخر صَحِيح أَلا يرى أَن حَدِيث لَا يَرث الْمُسلم الْكَافِر وَلَا الْكَافِر الْمُسلم حَدِيث صَحِيح الْمَتْن وَإِن كَانَ إِسْنَاده مُنْكرا

والمسند هُوَ مَأْخُوذ من قَوْلك أسندت غَيْرِي إِلَى شَيْء فَيُقَال فِي الِاصْطِلَاح على الثَّلَاثَة معَان بَعْضهَا أَعم من بعض قَالَ أَبُو بكر الْخَطِيب هُوَ الَّذِي اتَّصل إِسْنَاده من رَاوِيه إِلَى منتهاه سَوَاء رفع إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو لَا إِلَّا أَن الرّفْع أَكثر وَلِهَذَا قَالَ أَبُو عمر بن عبد الْبر الْمسند هُوَ الْمَرْفُوع إِلَى النَّبِي خَاصَّة سَوَاء كَانَ مُتَّصِلا أَو مُنْقَطِعًا وَقَالَ الْحَاكِم أَبُو عبد اله الْحَافِظ هُوَ الْمَرْفُوع الْمُتَّصِل إِلَى
দুর্বল (ضعيف)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআনের সূরাসমূহের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত কিছু হাদিস।

অতঃপর নিশ্চয়ই এর দুর্বলতার (الضعف) স্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, যেমনিভাবে শক্তির দিক থেকে সহিহ (صحيح)-এর স্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর দুর্বলতার কারণ বর্ণনা করা ব্যতীত "এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস" বলার উদ্দেশ্য হলো এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), এর মতন (متن) দুর্বল (ضعيف) হওয়া নয়; কারণ এটি অন্য কোনো সহিহ (صحيহ) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, "মুসলমান কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফির মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবে না" হাদিসটির মতন (متن) সহিহ (صحيح), যদিও এর সনদ (إسناد) মুনকার (منكر)।

মুসনাদ (المسند) শব্দটি "আমি অন্য কাউকে কোনো কিছুর সাথে হেলান দিলাম বা সম্বন্ধ করলাম" আপনার এই উক্তি থেকে গৃহীত। পরিভাষায় একে তিনটি অর্থে ব্যবহার করা হয়, যার একটি অন্যটির চেয়ে অধিক ব্যাপক। আবু বকর আল-খতিব বলেন, এটি হলো সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل), চাই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হোক বা না হোক; তবে নবীজি পর্যন্ত উন্নীত (الرفع) হওয়ার বিষয়টিই অধিক প্রচলিত। এজন্যই আবু ওমর ইবনে আবদিল বার বলেছেন, মুসনাদ (المسند) হলো বিশেষভাবে নবীজি পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হাদিস, চাই তা নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطع)। আর হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ বলেন, এটি হলো নবীজি পর্যন্ত মারফু (مرفوع) ও নিরবচ্ছিন্ন (متصل)...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١٩)
النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَحَدِيث الْمُسلم من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده وَالْمُهَاجِر من هجر مَا نهى الله عَنهُ

والمتصل والموصول هُوَ مَا اتَّصل إِسْنَاده إِلَى منتهاه سَوَاء كَانَ مَرْفُوعا إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو مَوْقُوفا على غَيره

مِثَال الْمُتَّصِل الْمَرْفُوع إِلَيْهِ قَوْله صلى الله عليه وسلم إِذا مَاتَ الْإِنْسَان انْقَطع عمله إِلَّا من ثَلَاث من صَدَقَة جَارِيَة أَو علم ينْتَفع بِهِ أَو ولد صَالح يَدْعُو لَهُ

وَمِثَال الْمُتَّصِل الْمَوْقُوف على غَيره نَحْو مَا رُوِيَ عَن عمر رضي الله عنه وَيدخل فِيهِ الصَّحِيح وَالْحسن والضعيف فَيكون أَعم والمتصل يُسَاوِي الْمسند بِالْمَعْنَى الْأَعَمّ وأعم من الْمسند بِالْمَعْنَى الْأَخَص

وَالْمَرْفُوع يُقَال عِنْدهم على مَعْنيين أَحدهمَا أَعم من الآخر وَهُوَ الَّذِي أضيف إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم سواءك أَن قولا أَو فعلا وَسَوَاء أَضَافَهُ إِلَيْهِ صَحَابِيّ أَو تَابِعِيّ أَو من بعدهمَا وَسَوَاء اتَّصل إِسْنَاده أَو لَا فَدخل فِيهِ الْمُتَّصِل والمرسل والمنقطع
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস যেমন: "মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করে।"

নিরবচ্ছিন্ন (متصل) ও সংযুক্ত (موصول) হলো সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন, চাই তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হোক কিংবা অন্য কারো ওপর মাওকুফ (موقوف) হোক।

মারফু (مرفوع) পর্যায়ের নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হাদিসের উদাহরণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "মানুষ যখন মারা যায় তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।"

আর অন্য কারো ওপর মাওকুফ (موقوف) পর্যায়ের নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হাদিসের উদাহরণ যেমন যা ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف) হাদিস অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তাই এটি অধিক ব্যাপক অর্থবোধক। আর নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হাদিস ব্যাপক অর্থে মুসনাদ-এর সমার্থক এবং বিশেষ অর্থে মুসনাদ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।

আর তাঁদের নিকট মারফু (مرفوع) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার একটি অন্যটির চেয়ে অধিক ব্যাপক। তা হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা কথা হোক বা কাজ, এবং তা তাঁর দিকে কোনো সাহাবী সম্বন্ধ করুন বা কোনো তাবেয়ী বা তাঁদের পরবর্তী কেউ, আর তার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন হোক বা না হোক। ফলে এর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন (متصل), মুরসাল (مرسل) এবং মুনকাতি (منقطع) হাদিস অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٠)
مِثَاله مَا رُوِيَ عَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة قَالَ كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقرعون بَابه بالأظافير

وَالثَّانِي من أخبر بِهِ الصَّحَابَة عَنهُ سَوَاء كَانَ قَولَانِ أَو فعلا كَحَدِيث تبلغ الْحِلْية من الْمُؤمن حَيْثُ يبلغ الْوضُوء وكما رُوِيَ عَن عَائِشَة رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَت كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي من اللَّيْل ثَلَاث عشرَة رَكْعَة مِنْهَا الْوتر وركعتا الْفجْر

هَذَا وَإِن الْمَرْفُوع بِالْمَعْنَى الأول أَعم مِنْهُ بِالْمَعْنَى الثَّانِي وَأَنه أخص من الْمسند بِالْمَعْنَى الأول ومساوٍ لَهُ بِالْمَعْنَى الثَّانِي وأعم مِنْهُ بِالْمَعْنَى الثَّالِث

وَأَن الْمَرْفُوع بِالْمَعْنَى الثَّانِي أخص من الْمسند بِأَيّ معنى كَانَ

وَالْمَشْهُور والمستفيض هُوَ مَا اشْتهر بالتواتر بعد الْقرن الأول كَحَدِيث الْإِيمَان وَالصَّلَاة وَالزَّكَاة وَالصَّوْم وَالْحج والمعراج وَالتَّوْبَة والشفاعة والقبر والحشر وكحديث لَا وضوء لمن لم يسم الله وكحديث بَرِيرَة

فَيكون آحَاد الأَصْل متواتر الْفَرْع فَيكون غير الْمُتَوَاتر وَغير آحَاد الأَصْل وَالْفرع

وَقيل هُوَ مَا اشْتهر بالتواتر مُطلقًا سَوَاء كَانَ متواتراً فِي جَمِيع الْقُرُون
এর উদাহরণ হলো যা মুগিরা ইবনে শু’বা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাঁর দরজায় নখ দিয়ে করাঘাত করতেন।

এবং দ্বিতীয়টি হলো যা সম্পর্কে সাহাবীগণ তাঁর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তা কথা হোক বা কাজ; যেমন হাদিস: "মুমিনের অলঙ্কার সেখানে পৌঁছাবে যেখানে ওজুর পানি পৌঁছায়।" এবং যেমন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে বিতর এবং ফজরের দুই রাকাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জেনে রাখা আবশ্যক যে, প্রথম অর্থের বিবেচনায় মারফু (مرفوع) দ্বিতীয় অর্থের তুলনায় ব্যাপকতর। আর এটি প্রথম অর্থের বিবেচনায় মুসনাদ (مسند) অপেক্ষা সংকুচিত, দ্বিতীয় অর্থের বিবেচনায় এর সমান এবং তৃতীয় অর্থের বিবেচনায় এর চেয়ে ব্যাপকতর।

আর দ্বিতীয় অর্থের বিবেচনায় মারফু (مرفوع) যেকোনো অর্থেই মুসনাদ (مسند) অপেক্ষা সংকুচিত।

মাশহুর (مشهور) এবং মুস্তাফিদ (مستفيض) হলো সেই হাদিস যা প্রথম শতাব্দীর পর মুতাওয়াতির (متواتر) হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; যেমন ঈমান, সালাত, জাকাত, রোজা, হজ, মেরাজ, তওবা, সুপারিশ, কবর এবং হাশর সংক্রান্ত হাদিস এবং যেমন এই হাদিস: "যে আল্লাহর নাম নিল না তার ওজু হবে না" এবং বারীরা সংক্রান্ত হাদিস।

ফলে এটি মূলের দিক থেকে আহাদ (آحاد) এবং শাখার দিক থেকে মুতাওয়াতির (متواتر) হয়। সুতরাং এটি নিরঙ্কুশ মুতাওয়াতির (متواتر) নয় এবং মূল ও শাখা উভয় দিক থেকে আহাদ (آحاد) এমনটিও নয়।

এবং বলা হয়েছে যে, এটি হলো যা সাধারণভাবে মুতাওয়াতির (تواتر) হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, চাই তা সকল শতাব্দীতেই মুতাওয়াতির (متواتر) হোক না কেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢١)
أَو فِي بَعْضهَا كَحَدِيث من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار فقد قيل رَاه اثْنَان وَسِتُّونَ صحابياً وَفِيهِمْ الْعشْرَة المبشرة وَقيل رَوَاهُ مِائَتَان وَلَا يعرف حَدِيث اجْتمع الْعشْرَة على رُوَاته وَلَا حَدِيث رَوَاهُ أَكثر من سِتِّينَ صحابياً غير هَذَا الحَدِيث

وكحديث إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ فَإِنَّهُ قد تَوَاتر بعد الْقرن الأول وَإِن لم يتواتر فِيهِ

فعلى هَذَا يكون أَعم من الْمُتَوَاتر لكنه مَا بَين الْآحَاد الأَصْل وَالْفرع أَيْضا

والعزيز والفرد مَا انْفَرد راو وَاحِد بروايته أَو بِرِوَايَة زِيَادَة كَحَدِيث النَّهْي عَن بيع الْوَلَاء وهبته تفرد بِهِ عبد الله بن دِينَار عَن ابْن عمر وكحديث فرض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زَكَاة الْفطر من رَمَضَان على كل حر أَو عبد ذكر أَو أُنْثَى من الْمُسلمين تفرد مَالك من الثِّقَات بِزِيَادَة قَوْله من الْمُسلمين

ثمَّ الْغَرِيب إِمَّا فَرد مُطلق وَإِمَّا فَرد نسبي كَحَدِيث شعب
অথবা সেগুলোর কোনো কোনো অংশে, যেমন এই হাদিস: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নিল।" বলা হয়ে থাকে যে এটি বাষট্টি জন সাহাবী (صحابي) বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন (العشرة المبشرة) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আবার বলা হয়েছে এটি দুইশত জন বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি ব্যতীত এমন কোনো হাদিস জানা নেই যেখানে বর্ণনাকারী হিসেবে উক্ত দশজনই একত্রিত হয়েছেন কিংবা ষাটের অধিক সাহাবী (صحابي) বর্ণনা করেছেন।

এবং যেমন "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি। এটি প্রথম শতাব্দীর পর মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও প্রথম শতাব্দীতে এটি মুতাওয়াতির (متواتر) ছিল না।

সুতরাং এই ভিত্তিতে এটি মুতাওয়াতির (متواتر) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, তবে এটি মূল ও শাখা উভয় দিক থেকেই আহাদ (آحاد) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।

এবং আজিজ (عزيز) ও ফারদ (فرد) হলো এমন বর্ণনা যা একজন বর্ণনাকারী এককভাবে (انفرد) বর্ণনা করেছেন অথবা কোনো অতিরিক্ত অংশ (زيادة) এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন 'ওয়ালা' (উত্তরাধিকারের অধিকার) বিক্রয় ও দান করা নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিসটি; এটি ইবনে উমর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে দিনার এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন। আবার যেমন রাসুলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক স্বাধীন বা কৃতদাস, পুরুষ বা নারী মুসলমানদের ওপর রমজানের জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন—এই হাদিসটিতে নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইমাম মালিক এককভাবে (تفرد) "মুসলমানদের মধ্য থেকে" শব্দটির অতিরিক্ত অংশ (زيادة) বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর গারিব (غريب) হাদিস হয় ফারদ মুতলাক (فرد مطلق) অথবা ফারদ নিসবি (فرد نسبي), যেমন শু'বার হাদিস
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٢)
الْإِيمَان تفرد بِهِ أَبُو صَالح عَن أبي هُرَيْرَة وكحديث مسح رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَأسه بِمَاء غير فضل يَده تفرد بِهِ أهل مصر

وَقد يُقَال أَيْضا الْغَرِيب إِمَّا غَرِيب متْنا وسنداً وَإِمَّا غَرِيب سنداً لَا متْنا وَإِمَّا غَرِيب متْنا كَحَدِيث إِن هَذَا الدّين متين فأوغل فِيهِ بِرِفْق
ঈমান (বিষয়ক হাদিসটি) আবু হুরায়রা থেকে আবু সালেহ এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন। এবং যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তাঁর হাতের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত নতুন পানি দ্বারা মাথা মাসেহ করার হাদিসটি, যা মিসরবাসীরা এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন।

এবং এমনটিও বলা হয়ে থাকে যে, বিরল (غريب) হাদিস কখনো মূলপাঠ (متن) ও সনদ (سند) উভয় দিক থেকেই বিরল (غريب) হয়, আবার কখনো কেবল সনদের (سند) দিক থেকে বিরল (غريب) হয় কিন্তু মূলপাঠের (متن) দিক থেকে নয়, আবার কখনো কেবল মূলপাঠের (متن) দিক থেকে বিরল (غريب) হয়; যেমন এই হাদিসটি: "নিশ্চয়ই এই দ্বীন অত্যন্ত সুদৃঢ়, সুতরাং এতে কোমলতার সাথে প্রবেশ করো।"
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٣)
وَلَا تبغض إِلَى نَفسك عبَادَة الله تفرد بِهِ مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن جَابر وَتفرد بِهِ من بَين الصَّحَابَة قَالُوا هَذَا غَرِيب غير صَحِيح وكحديث لَا يَبِيع حَاضر لبادٍ وَقد رَوَاهُ جمَاعَة من الصَّحَابَة لَكِن تفرد بِهِ الشَّافِعِي عَن مَالك وكحديث إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ فَإِنَّهُ غَرِيب الأَصْل ومشهور الْفَرْع

والقريب من الْغَرِيب الْعَزِيز هُوَ مَا انْفَرد بروايته اثْنَان أَو ثَلَاثَة بِلَا انْتِهَاء إِلَى حد الشُّهْرَة كَحَدِيث لَا يُؤمن أحدكُم حَتَّى أكون أحب إِلَيْهِ من وَالِده وَولده وَالنَّاس أَجْمَعِينَ
"আর তুমি আল্লাহর ইবাদতকে তোমার নিজের কাছে অপ্রিয় করো না।" মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির জাবির (রা.) থেকে এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন এবং সাহাবীদের মধ্যে এটি তাঁর (জাবির) একক বর্ণনা (تفرد)। তাঁরা বলেছেন, এটি বিরল (غريب) এবং সহিহ নয় (غير صحيح)। যেমন সেই হাদিস: "কোনো শহরবাসী যেন কোনো গ্রামবাসীর পক্ষে পণ্য বিক্রয় না করে।" এটি সাহাবীদের একটি দল বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইমাম শাফিঈ ইমাম মালিক থেকে এটি বর্ণনা করতে এককভাবে বর্ণনা (تفرد) হয়েছেন। এবং যেমন হাদিস: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" কেননা এটি মূলের দিক থেকে বিরল (غريب) এবং শাখার দিক থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور)।

বিরল (غريب)-এর নিকটবর্তী হলো আজিজ (عزيز); এটি হলো এমন বর্ণনা যা দুইজন অথবা তিনজন এককভাবে বর্ণনা (انفرد) করেছেন এবং তা প্রসিদ্ধির (الشهرة) পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেনি। যেমন হাদিস: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٤)
والشاذ قد اخْتلف فِيهِ فَقَالَ الشَّافِعِي هُوَ مَا رَوَاهُ الثِّقَة مُخَالفا لما رَوَاهُ النَّاس وَقَالَ الْبَعْض هُوَ مَا لَيْسَ لَهُ إِلَّا إِسْنَاد وَاحِد يسْتَند بِهِ شيخ ثِقَة كَانَ أَو غير ثِقَة كَمَا قَالَ الآخر هُوَ مَا انْفَرد بِهِ ثِقَة لَيْسَ لَهَا مَا يجْبر تفرده بِهِ كَحَدِيث كلوا البلح بِالتَّمْرِ

وَلأَجل ذَلِك الِاخْتِلَاف قيل الشاذ إِمَّا شَاذ صَحِيح وَإِمَّا شَاذ حسن وَإِمَّا شَاذ مُنكر مَوْجُود

تَنْبِيه يقرب من الشاذ زِيَادَة الثِّقَة كَحَدِيث جعلت لنا الأَرْض مَسْجِدا أَو جعلت تربَتهَا لنا طهُورا زِيَادَة بهَا
শায (الشاذ) হাদিসের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, এটি হলো সেই হাদিস যা কোনো নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী অন্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেন। কেউ কেউ বলেছেন, এটি হলো সেই হাদিস যার কেবল একটিই সনদ (إسناد) রয়েছে যার ওপর কোনো শাইখ বা উস্তাদ নির্ভর করেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হোন বা অনির্ভরযোগ্য। যেমনটি অন্যজন বলেছেন, এটি হলো তা যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তার এই একক বর্ণনার ঘাটতি পূরণ করার মতো অন্য কোনো সূত্র নেই; যেমন: ‘তোমরা শুকনা খেজুরের সাথে কাঁচা খেজুর ভক্ষণ করো’ হাদিসটি।

আর এই মতভেদের কারণেই বলা হয়েছে যে, শায (الشاذ) কখনো সহিহ (صحيح) শায হয়, কখনো হাসান (حسن) শায হয়, আবার কখনো বিদ্যমান মুনকার (منكر) শায হয়ে থাকে।

সতর্কীকরণ: শায (الشاذ) এর কাছাকাছি একটি বিষয় হলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة); যেমন: ‘আমাদের জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান করা হয়েছে’ অথবা ‘এর মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে’—এই অতিরিক্ত অংশসহ হাদিসটি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٥)
أَبُو مَالك سعد بن طَارق الْأَشْجَعِيّ وَسَائِر الرِّوَايَات لَفظهَا وَجعلت لنا الأَرْض مَسْجِدا أَو طهُورا

والمستتر هُوَ الحَدِيث الَّذِي لم يُقَابل برد وَلَا قبُول كبعض الْأَحَادِيث المروية فِي فَضَائِل الْأَعْمَال

وَالْمُنكر هُوَ الحَدِيث الَّذِي يتفرد بِهِ شخص وَلَا يعرف مَتنه عَن غير رَاوِيه من الْوَجْه الَّذِي رَوَاهُ وَلَا من وَجه وَهُوَ إِمَّا مَا خُولِفَ فِيهِ الثِّقَات أَو لَا بِشَرْط أَن لَيْسَ فِي رِوَايَة الثِّقَات يجْبر تفرده كَحَدِيث لَا يَرث الْمُسلم الْكَافِر وَلَا الْكَافِر الْمُسلم فَإِن مَالِكًا رَوَاهُ عَن الزُّهْرِيّ عَن عَليّ بن حُسَيْن عَن عمر بن عُثْمَان عَن أُسَامَة بن زيد عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
আবু মালিক সা'দ ইবন তারিক আল-আশজাঈ এবং অন্যান্য বর্ণনার শব্দ হলো: "পুরো জমিনকে আমাদের জন্য সিজদাহর স্থান অথবা পবিত্রকারী করা হয়েছে।"

অস্পষ্ট (المستتر) হলো সেই হাদিস যা প্রত্যাখ্যান (رد) বা গ্রহণ (قبول) কোনোটিরই মুখোমুখি হয়নি, যেমন ফজিলতপূর্ণ আমল সম্পর্কিত বর্ণিত কিছু হাদিস।

অস্বীকৃত (المنكر) হলো সেই হাদিস যা কোনো ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা করে এবং যার মূল পাঠ (متن) তার বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে জানা যায় না—না সেই সূত্রে যা সে বর্ণনা করেছে আর না অন্য কোনোভাবে। এটি হয় এমন যা নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের বিরোধিতাপূর্ণ, অথবা বিরোধিতা না থাকলেও শর্ত হলো নির্ভরযোগ্যদের বর্ণনায় এমন কিছু নেই যা তার এই একক বর্ণনাকে শক্তিশালী করে। যেমন: "মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না" হাদিসটি। ইমাম মালিক এটি যুহরি থেকে, তিনি আলী ইবন হুসাইন থেকে, তিনি উমর ইবন উসমান থেকে, তিনি উসামাহ ইবন যায়েদ থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٦)
وَخَالف غَيره من الثِّقَات لِأَنَّهُ قَالَ عمر بن عُثْمَان بِضَم الْعين وَغَيره يَقُول عَمْرو بن عُثْمَان بِفَتْح الْعين وَعمر عَمْرو كِلَاهُمَا من ولد عُثْمَان

وَصرح مُسلم صَاحب الصَّحِيح فِي كتاب التَّمْيِيز أَن غَيره من أَصْحَاب الزُّهْرِيّ قَالَ فِيهِ عَمْرو بن عُثْمَان بِفَتْح الْعين لَكِن لَا يخفى عَلَيْك أَن الْمُنكر هَهُنَا هُوَ السَّنَد لَا الْمَتْن فانه صَحِيح وَغير مُنكر بالِاتِّفَاقِ

وكحديث كلوا البلح بِالتَّمْرِ تفرد بِهِ أَبُو زُكَيْرٍ بِضَم الزَّاي الْمُعْجَمَة وَهُوَ شيخ صَالح غير أَنه لم يبلغ مبلغ من يحْتَمل تفرده

والمسلسل هُوَ مَا تَابع رجال سَنَده وَاحِدًا بعد وَاحِد على صفة واحدةٍ كالتسلسل بسمعت أَبُو بحدثني أَو بِغَيْر ذَلِك كَقَوْل الرَّاوِي سَمِعت فلَانا يَقُول سَمِعت فلَانا إِلَى آخر الْإِسْنَاد مثلا وَأظْهر فَوَائده وَزِيَادَة الضَّبْط وقلما يسلم عَن خلل فِي تسلسله وَقد يَنْقَطِع تسلسله فِي أَوَاخِر سَنَده كالمسلسل بِالْأولِ وَهُوَ الراحمون يرحمهم الرَّحْمَن ارحموا من فِي الأَرْض يَرْحَمكُمْ من فِي السَّمَاء فَإِن تسلسله بِهِ قد انْتهى فِيهِ
এবং তিনি অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন; কেননা তিনি ‘উমর ইবন উসমান’ (আইন বর্ণে পেশ যোগে) বলেছেন, অথচ অন্যরা বলেন ‘আমর ইবন উসমান’ (আইন বর্ণে জবর যোগে)। আর উমর ও আমর উভয়েই উসমানের সন্তান।

সহিহ-এর লেখক ইমাম মুসলিম কিতাবুত তায়মিজ-এ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যুহরীর অন্যান্য ছাত্রগণ এতে ‘আমর ইবন উসমান’ (আইন বর্ণে জবর যোগে) বলেছেন। তবে আপনার নিকট যেন এটি অস্পষ্ট না থাকে যে, এখানে প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়টি হলো সনদ (سند), মূলপাঠ (متন) নয়। কেননা এটি (মূলপাঠটি) সর্বসম্মতিক্রমে সহিহ (صحيح) এবং অপ্রত্যাখ্যাত।

যেমন ‘তোমরা শুকনা খেজুরের সাথে কাঁচা খেজুর খাও’ হাদিসটি; এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন আবু যুকাইর (যায় বর্ণে পেশ যোগে)। তিনি একজন নেককার শায়খ (شيخ صالح), তবে তিনি সেই স্তরে পৌঁছাননি যেখানে তার একক বর্ণনা (تفرد) গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

আর পর্যায়ক্রমিক (مسلسل) হলো সেই হাদিস যার সনদের (سند) বর্ণনাকারীগণ একের পর এক একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর সংগতিপূর্ণ থাকেন। যেমন ‘আমি শুনেছি’ বা ‘তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন’ শব্দগুলোর পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার, অথবা এর বাইরে অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য। যেমন বর্ণনাকারী (راوي) বলেন: ‘আমি অমুককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন আমি অমুককে বলতে শুনেছি...’ এভাবে সনদের (إسناد) শেষ পর্যন্ত। এর সবচেয়ে প্রকাশ্য উপকারিতা হলো বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা ও স্মৃতিশক্তি (ضبط) বৃদ্ধি পাওয়া। এ ধরনের হাদিসের পর্যায়ক্রমিক ধারা ত্রুটিমুক্ত হওয়া খুব বিরল। কখনো কখনো সনদের (سند) শেষ পর্যায়ে গিয়ে এই ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়া (ينقطع) লক্ষ্য করা যায়। যেমন ‘মুসালসাল বিল আউয়ালিয়্যাহ’ (প্রথমত্বের পর্যায়ক্রমিক হাদিস); আর তা হলো: ‘দয়াকারীদের ওপর পরম দয়াময় দয়া করেন; তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানওয়ালা তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ কেননা এর পর্যায়ক্রমিক ধারাটি এখানেই শেষ হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٧)
إِلَى سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَمن رَوَاهُ مسلسلاً بِهِ قد انْتهى فِيهِ إِلَى سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَمن رَوَاهُ مسلسلاً بِهِ إِلَى منتهاه فقد وهم

قلت أَنْشدني الْبَعْض فِي هَذَا الْمَعْنى قَالَ أَنْشدني ناظم هَذَا النّظم

الْحبّ فِيك مسلسل بِالْأولِ

فاحنن وَلَا تسمع ملا العذل … وَارْحَمْ عبد الله يَا من قد علا

من يرحم السُّفْلى يرحمه العلى

والمعنعن هُوَ مَا يرويهِ شخص عَن شَيْخه بِلَفْظَة عَن بِلَا تعرض للتحديث والإخبار وَالسَّمَاع نَحْو مَا روى مَالك عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن الله عز وجل لَا يقبض الْعلم انتزاعاً ينتزعه من الْعباد وَلَكِن يقبض الْعلم بِقَبض الْعلمَاء حَتَّى إِذا لم يبْق عَالم اتخذ النَّاس رُؤَسَاء جُهَّالًا فسئلوا فأفتوا بِغَيْر علم فضلوا وأضلوا
সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ পর্যন্ত; আর যারা এটি অনুক্রমিক (مسلسل) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্ণনাটি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ পর্যন্তই সমাপ্ত হয়েছে। আর যারা এটিকে এর শেষ সীমা পর্যন্ত অনুক্রমিক (مسلسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তারা ভ্রম (وهم) করেছেন।

আমি বলছি, কেউ কেউ এই বিষয়ে আমাকে পঙ্ক্তি শুনিয়েছেন; তিনি বলেছেন, এই কবিতার রচয়িতা আমাকে শুনিয়েছেন:

আপনার প্রতি ভালোবাসা আদি হতে অনুক্রমিক (مسلسل) ধারায় বহমান

সুতরাং সদয় হোন এবং নিন্দুকদের তিরস্কার শুনবেন না … আর হে সমুন্নত সত্তা, আল্লাহর বান্দার প্রতি দয়া করুন

যে ব্যক্তি নিচের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করে, মহান সত্তা তার প্রতি দয়া করেন

আর মুআনআন (المعنعن) হলো তা, যা কোনো ব্যক্তি তার শায়খের নিকট থেকে সরাসরি বর্ণনা (تحديث), সংবাদ প্রদান (إخبار) বা শ্রবণের (سماع) সুস্পষ্ট উল্লেখ ছাড়াই 'থেকে' (عن) শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করেন। যেমন: ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে, তিনি বলেন— আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের অন্তর থেকে টেনে বের করে ইলম (জ্ঞান) তুলে নেবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমেই তিনি ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে, আর তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٨)
هَذَا ثمَّ إِنَّهُم قد اخْتلفُوا فِي أَن إِمْكَان اللِّقَاء هَل يَكْفِي فِيهِ أم لَا فَقَالَ بعض الْمُحَقِّقين يَكْفِي فِيهِ إِمْكَان اللِّقَاء وَادّعى مُسلم فِي مُقَدّمَة صَحِيحه الْإِجْمَاع على ذَلِك وَقَالَ البُخَارِيّ وَأَبُو بكر الصَّيْرَفِي لَا يَكْفِي فِيهِ إِمْكَان اللِّقَاء بل لَا بُد من ثُبُوت اللِّقَاء وَهُوَ الْأَصَح عِنْد الْمُتَأَخِّرين وَقَالَ أَبُو المظفر السَّمْعَانِيّ بل لَا بُد مَعَ ذَلِك من طول صحبته لَهُ وَقَالَ أَبُو عمر الْمقري لَا يَكْفِي فِيهِ هَذَا الْقدر بل لَا بُد مَعَه من أَن يكون الرَّاوِي مَعْرُوفا بالرواية عَنهُ

والمرسل مقول على معَان فَنَقُول هُوَ مَا رَفعه التَّابِعِيّ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم سَوَاء كَانَ من كبار التَّابِعين أَو من صغارهم كسعيد بن الْمسيب وَالزهْرِيّ وَسَوَاء كَانَ الْمَرْفُوع قولا أَو فعلا صورته أَن يَقُول التَّابِعِيّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَذَا أَو فعل كَذَا أَو فعل بِحَضْرَتِهِ كَذَا أَو نَحْو ذَلِك

وَقيل هُوَ مَا رَفعه التَّابِعِيّ الْكَبِير إِلَيْهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم

এরপর, বর্ণনাকারীদের মাঝে সাক্ষাতের সম্ভাবনা (إمكان اللقاء) কি যথেষ্ট কি না, এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। জনৈক গবেষক আলেম (المحققين) বলেছেন যে, সাক্ষাতের সম্ভাবনা (إمكان اللقاء) থাকাই যথেষ্ট এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ এর ভূমিকায় এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (الإجماع) দাবি করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম বুখারি এবং আবু বকর আস-সাইরাফি বলেছেন যে, কেবল সাক্ষাতের সম্ভাবনা (إمكان اللقاء) যথেষ্ট নয়, বরং সাক্ষাত প্রমাণিত হওয়া (ثبوت اللقاء) আবশ্যক। আর পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) নিকট এটিই অধিক বিশুদ্ধ (الأصح) মত। আবু মুজাফ্ফর আস-সামআনি বলেছেন যে, এর পাশাপাশি দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে থাকাও আবশ্যক। আবু উমর আল-মুকরি বলেছেন যে, কেবল এই পরিমাণও যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে বর্ণনাকারী (الراوي) তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সুপরিচিত (معروفا بالرواية عنه) হতে হবে।

আর বিচ্ছিন্ন (مرسل) পরিভাষাটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। আমরা বলি—তা হলো যা একজন তাবেয়ি (التابعي) নবী (সা.) এর দিকে সম্পর্কিত (رفعه) করেছেন, চাই তিনি প্রবীণ তাবেয়ি (كبار التابعين) হন কিংবা নবীন (صغارهم); যেমন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও আয-যুহরি। চাই সেই মারফু (المرفوع) বর্ণনাটি কথা (قولا) হোক বা কাজ (فعلا) হোক। এর স্বরূপ হলো তাবেয়ি বলবেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন বলেছেন, কিংবা এমন করেছেন, অথবা তাঁর উপস্থিতিতে এমন করা হয়েছে, অথবা এই জাতীয় কিছু।

আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, বিচ্ছিন্ন (مرسل) হলো যা কেবল প্রবীণ তাবেয়ি (التابعي الكبير) নবী (সা.) এর দিকে সম্পর্কিত (رفعه) করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢٩)
وَكِلَاهُمَا شَائِع عِنْد أهل الحَدِيث، إِلَّا أَن الأول أشهر.

وَقيل: هُوَ مَا رَفعه التَّابِعِيّ وَمن بعده إِلَيْهِ عليه الصلاة والسلام وَهَذَا هُوَ الْمَعْرُوف فِي الْفِقْه وَالْأُصُول.

هَذَا، ثمَّ إِن مَا يرويهِ الصَّحَابَة الْأَحْدَاث وَلم يسمعوه من النَّبِي عليه الصلاة والسلام كالحسن بن عَليّ وَابْن عَبَّاس وَابْن الزبير وَأنس بن مَالك وَنَحْوهم، فَالْأَصَحّ أَنه لَا يُسمى مُرْسلا، بل هُوَ كالمتصل فِي الحكم لِأَن الظَّاهِر رِوَايَة أَمْثَال هَؤُلَاءِ عَن الصَّحَابَة، والجهالة بالصحابة لَيست بقادحة، لِأَن الصَّحَابَة كلهم عدُول.

فعلهم من هَذَا مَا رَفعه كبار الصَّحَابَة إِلَيْهِ _ عليه الصلاة والسلام _ لَا يُسمى مُرْسلا: عِنْدهم بِالطَّرِيقِ الأولى، وَإِن وَقع ذَلِك عِنْد أهل الْأُصُول، وَلِهَذَا يُقَال: مَا رَفعه الصَّحَابِيّ إِلَيْهِ عليه الصلاة والسلام مَحْمُول على السماع، ثمَّ عَن بعض الْأَحَادِيث: " لَا نِكَاح إِلَّا بولِي " … . .
এবং হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট উভয়টিই প্রচলিত, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ।

এবং বলা হয়েছে: এটি হলো তা, যা তাবিঈ (تابعي) এবং তাঁর পরবর্তীগণ সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন; আর ফিকহ ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এটিই সুপরিচিত।

অতঃপর, অল্পবয়স্ক সাহাবীগণ যা বর্ণনা করেছেন অথচ তাঁরা তা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনেননি—যেমন হাসান বিন আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, আনাস বিন মালিক এবং তাঁদের মতো অন্যান্যগণ—অধিকতর সঠিক (الأصح) মত হলো সেটিকে মুরসাল (مرسل) বলা হবে না; বরং এটি হুকুমের দিক থেকে অবিচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য। কারণ বাহ্যত এ ধরণের ব্যক্তিবর্গ অন্যান্য সাহাবীদের থেকেই বর্ণনা করে থাকেন। আর সাহাবীদের অজ্ঞাত থাকা (جهالة) কোনো ত্রুটি নয়, কেননা সাহাবীগণের সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)।

সুতরাং তাঁদের মতে, প্রবীণ সাহাবীগণ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, তাকে মুরসাল (مرسل) না বলা অগ্রাধিকারযোগ্য; যদিও উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) নিকট তা ঘটে থাকে। এই কারণেই বলা হয়: সাহাবী যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত করেন, তা সরাসরি শ্রবণকৃত (سماع) হিসেবেই গণ্য হবে। এরপর কিছু হাদিস সম্পর্কে বলা হয়েছে: "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই" … . .
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٠)
و (الْمُعَلق) : هُوَ مَا حذف فِيهِ بعض رِجَاله من أول إِسْنَاده، سَوَاء كَانَ الْمَحْذُوف وَاحِدًا أَو مُتَعَددًا، كَقَوْل نَافِع: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَذَا، وكقول مَالك: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَذَا.

قَالَ تَقِيّ الدّين بن الصّلاح، وَلم أجد لفظ (التَّعْلِيق) مُسْتَعْملا فِيمَا سقط فِيهِ بعض رجال الْإِسْنَاد من وَسطه أَو من آخِره.

قلت: يحمل هَذَا على أَنه لم يجده مُسْتَعْملا فِيمَا ذكره عِنْد الْأَكْثَر، فَإِن شرذمة قد استعملته فِيمَا حذف فِيهِ كل رجال إِسْنَاده، كَقَوْل الرَّاوِي: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَذَا وَكَذَا.

وَقد صرح بهَا فِي كِتَابه أَيْضا.

وَقد اسْتعْمل الْبَعْض الآخر الْمُعَلق: فِيمَا حذف فِيهِ بعض رِجَاله من غير أول سَنَده، كَحَدِيث اللَّيْث فِي التميم، فَإِن مُسلما صَاحب الصَّحِيح قَالَ: وروى اللَّيْث بن سعد. وَلم يُوصل مُسلم إِسْنَاده إِلَى اللَّيْث. وَقد أسْندهُ
এবং ঝুলন্ত (معلق) হাদিস হলো তা, যার সনদের (إسناد) শুরু থেকে এক বা একাধিক বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চাই সেই কর্তনকৃত ব্যক্তি একজন হোক বা একাধিক; যেমন নাফে‘-এর উক্তি: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন’, এবং মালিকের উক্তি: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন’।

তাকিউদ্দীন ইবনে আস-সালাহ বলেন, আমি তালীক (تعليق) পরিভাষাটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে দেখিনি যেখানে সনদের (إسناد) মধ্যভাগ বা শেষভাগ থেকে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি এভাবে বোঝা উচিত যে, তিনি অধিকাংশের নিকট উল্লিখিত অর্থে এর ব্যবহার পাননি। তবে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী একে এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যেখানে সনদের (إسناد) সকল বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন বর্ণনাকারীর (راوي) উক্তি: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ এরূপ বলেছেন’।

তিনি তার কিতাবেও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

আবার কেউ কেউ ঝুলন্ত (معلق) শব্দটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যেখানে সনদের (سند) শুরু ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে কিছু বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে; যেমন তায়াম্মুম সম্পর্কে লাইস-এর হাদিস। কেননা সহীহ মুসলিম-এর রচয়িতা মুসলিম বলেছেন: ‘লাইস বিন সাদ বর্ণনা করেছেন’। আর মুসলিম লাইস পর্যন্ত তার সনদ (إسناد) সংযুক্ত করেননি। যদিও তিনি এটি অন্য জায়গায় সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣١)
البُخَارِيّ عَن يحيى بن بكير عَن اللَّيْث بن سعد عَن جَعْفَر إِلَى آخِره.

وَالْحَاصِل أَن أَمْثَال مَا ذكر اصْطِلَاحَات لَا حجر مِنْهَا.

و (الْمَقْطُوع) : هُوَ مَا أضيف إِلَى تَابِعِيّ مَوْقُوفا عَلَيْهِ، سَوَاء كَانَ قَوْله أَو فعله، كَقَوْل الرَّاوِي: قَالَ الزُّهْرِيّ كَذَا أَو فعل كَذَا.

وَقد اسْتعْمل الْبَعْض الْمُنْقَطع فِي القَوْل الْمَوْقُوف على التَّابِعِيّ أَيْضا

و (الْمُنْقَطع) مقول على معَان: فَقَالَ جمع من الْمُحدثين وَأكْثر الْفُقَهَاء هُوَ كل مَا لَا يتَّصل إِسْنَاده على أَي وَجه كَانَ انْقِطَاعه، كَحَدِيث " إِن وليتموها أَبَا بكر فقوي، أَمِين لَا تَأْخُذهُ فِي الله لومة لائم، وَإِن وليتموها عليا فهاد مهْدي يقيمكم على صِرَاط مُسْتَقِيم " فَإِن صورته صُورَة الْمُتَّصِل لكنه مُنْقَطع معنى، فَإِن الثَّوْريّ رَوَاهُ عَن أبي إِسْحَاق، وَبَين الثَّوْريّ وَأبي إِسْحَاق شريك، فَيكون الْمُنْقَطع بِهَذَا الْمَعْنى
বুখারি ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি জাফর থেকে—এভাবে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

সারকথা হলো, এই জাতীয় বিষয়গুলো হলো পারিভাষিক পরিভাষা (اصطلاحات), যা গ্রহণে কোনো বাধা নেই।

আর ‘মাকতু’ (المقطوع): তা হলো যা কোনো ‘তাবেয়ি’ (تابعي)-এর দিকে ‘মাওকুফ’ (موقوفا) বা স্থগিত হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, চাই তা তাঁর কথা হোক বা কাজ; যেমন বর্ণনাকারীর উক্তি: ‘জুহরি এমন বলেছেন’ অথবা ‘তিনি এমন করেছেন’।

কেউ কেউ কোনো তাবেয়ির ওপর ‘মাওকুফ’ (الموقوف) বা স্থগিত বাণীর ক্ষেত্রেও ‘মুনকাতি’ (المنقطع) বা বিচ্ছিন্ন শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

আর ‘মুনকাতি’ (المنقطع) বা বিচ্ছিন্ন শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: একদল ‘মুহাদ্দিস’ (المحدثين) এবং অধিকাংশ ‘ফকিহ’ (الفقهاء) বলেছেন, এটি হলো এমন প্রতিটি বর্ণনা যার ‘সনদ’ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন নয়, বিচ্ছিন্নতা যেভাবেই হোক না কেন; যেমন হাদিস: “যদি তোমরা আবু বকরকে নেতা বানাও, তবে দেখবে তিনি শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করেন না। আর যদি আলীকে নেতা বানাও, তবে দেখবে তিনি হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াতকারী, তিনি তোমাদের সরল পথে পরিচালিত করবেন।” কেননা বাহ্যিকভাবে এর রূপ ‘মুত্তাসিল’ (المتصل) বা নিরবচ্ছিন্ন মনে হলেও এটি অর্থগতভাবে ‘মুনকাতি’ (منقطع) বা বিচ্ছিন্ন; কারণ সাওরি এটি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ সাওরি ও আবু ইসহাকের মাঝে ‘শারিক’ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। সুতরাং এই অর্থে এটি ‘মুনকাতি’ (المنقطع) বা বিচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٢)
مُسَاوِيا للمرسل بِالْمَعْنَى الثَّالِث، وَيكون أَعم من الْمُنْقَطع، وَلِهَذَا قَالَ ابْن الصّلاح: المعضل: لقب لنَوْع خَاص من الْمُنْقَطع.

وَقيل هُوَ مَا سقط من رُوَاته شخص وَاحِد غير الصَّحَابِيّ، فَيكون الْمُنْقَطع - بِهَذَا الْمَعْنى - غير المعضل: هُوَ بِفَتْح الضَّاد من: أعضله الْأَمر، (لَا من: أعضل الْأَمر) .

فَصَارَ شَأْن الْمَرْوِيّ مُشكلا فِي كَونه حَدِيثا مروياً عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.

و (المعضل) : هُوَ مت يسْقط فِيهِ اثْنَان فَصَاعِدا على أَي وَجه كَانَ، كَحَدِيث " للمملوك طَعَامه وَكسوته بِالْمَعْرُوفِ وَلَا يُكَلف من الْعَمَل إِلَّا مَا يُطيق "، فَإِن مَالك بن أنس أعضله فِي كتاب الْمُوَطَّأ حَيْثُ رَوَاهُ عَن أبي هُرَيْرَة، وَبَينه وَبَين أبي هُرَيْرَة - رضى الله عَنْهُمَا - مُحَمَّد بن عجلَان وَأَبوهُ.

و (المدلس) : هُوَ مَا حصل اشْتِبَاه فِي إِسْنَاده أَو فِي رِجَاله، فَالْأول: أ، يروي الرَّاوِي عَمَّن لقِيه مَا لم يسمعهُ مِنْهُ موهما أَنه سَمعه مِنْهُ، أَو عَمَّن عاصره وَلم يَله موهماً أَنه لقِيه وسَمعه مِنْهُ. وَالثَّانِي: أَن يروي عَن شيخ حَدِيثا سَمعه مِنْهُ إِلَّا أَنه لَا يذكرهُ باسمه الْمَشْهُور لغَرَض من الْأَغْرَاض، بل بِغَيْر مَشْهُور
এটি তৃতীয় অর্থের ভিত্তিতে 'বিচ্ছিন্ন (مرسل)' এর সমার্থক এবং 'সূত্রচ্যুত (منقطع)' এর তুলনায় ব্যাপকতর। একারণেই ইবনুস সালাহ বলেছেন: 'সমস্যাসংকুল (معضل)' হলো 'সূত্রচ্যুত (منقطع)' এর একটি বিশেষ প্রকারের উপাধি।

কারো মতে, এটি (সূত্রচ্যুত) হলো সেই হাদিস যার বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে সাহাবী (صحابي) ব্যতীত অন্য একজন ব্যক্তি বাদ পড়েছেন। এমতাবস্থায় এই অর্থে 'সূত্রচ্যুত (منقطع)' এবং 'সমস্যাসংকুল (معضل)' অভিন্ন নয়। এটি 'দদ' বর্ণে ফাতহাহ যোগে 'আদদলাহুল আমর' (বিষয়টি অসাধ্য হওয়া) থেকে নিষ্পন্ন (এটি 'আদদলাল আমর' থেকে নয়)।

ফলে বর্ণিত বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস হওয়ার ক্ষেত্রে সংশয়যুক্ত হয়ে পড়ে।

আর 'সমস্যাসংকুল (معضل)' হলো সেটি, যার সনদ থেকে যে কোনোভাবে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন। যেমন হাদিস: "অধীনস্থ দাসের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাকে তার সাধ্যের অতীত কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।" মালিক ইবনে আনাস মুওয়াত্তা গ্রন্থে একে 'সমস্যাসংকুল (معضل)' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁর এবং আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাঝে মুহাম্মদ ইবনে আজলান ও তাঁর পিতা (এই দুই বর্ণনাকারী) রয়েছেন।

এবং 'প্রতারণামূলক (مدلس)' হলো সেটি, যার সনদ (إسناد) অথবা বর্ণনাকারীদের মাঝে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথম প্রকার হলো: বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যার সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়েছে, অথচ তিনি তাঁর থেকে তা সরাসরি শ্রবণ করেননি, কিন্তু এমনভাবে বর্ণনা করেন যাতে ধারণা হয় যে তিনি তা সরাসরি শুনেছেন। অথবা এমন সমসাময়িক ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেন যার সাথে তাঁর দেখা হয়নি, কিন্তু এমনভাবে বর্ণনা করেন যাতে ধারণা হয় যে তাঁর সাথে দেখা হয়েছে এবং তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শুনেছেন। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: তিনি কোনো শিক্ষকের নিকট থেকে কোনো হাদিস সরাসরি শ্রবণ করেছেন, কিন্তু কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে তাকে তাঁর প্রসিদ্ধ নামে উল্লেখ না করে বরং অপ্রসিদ্ধ নামে উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٣)
كنسبة أَو كنيته أَو غير ذَلِك.

وَأما المدلس تَدْلِيس التَّسْوِيَة فَلَيْسَ خَارِجا عَن الْقسمَيْنِ الْمَذْكُورين فِي التَّحْقِيق، وَإِن عده بعض الْمُتَأَخِّرين قسما ثَالِثا نظرا إِلَى الظَّاهِر. وَصورته أَن يروي حَدِيثا عَن ثِقَة، وَذَلِكَ الثِّقَة عَن ضَعِيف فَيسْقط الضَّعِيف من الْبَين ويروي الحَدِيث عَن شَيْخه الثِّقَة عَن الثِّقَة بِلَفْظ مُحْتَمل فَيرى كل رجال الْإِسْنَاد ثِقَات.

وَكَانَ الْوَلِيد بن مُسلم يفعل ذَلِك كثيرا، وَكَذَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد، روى بَقِيَّة بن الْوَلِيد عَن أبي وهب الْأَسدي عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَا تحمدوا إِسْلَام الْمَرْء حَتَّى تعرفوا عقدَة رَأْيه " وَقد ذكر بَقِيَّة عبيد الله بن عَمْرو، وَبَين نَافِع (وَعبيد الله) إِسْحَاق بن أبي فَرْوَة على مَا رَوَاهُ أَبُو حَاتِم.
যেমন কোনো নিসবাহ (সম্বন্ধ), উপনাম কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছু।

আর 'তাদলিসে তাসবিয়াহ' (تدليس التسوية) করা তাদলিসকারী (المدلس) প্রকৃতপক্ষে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের বিচারে বর্ণিত দুই প্রকারের বাইরে নন, যদিও পরবর্তীকালের কোনো কোনো আলিম বাহ্যিক অবস্থার প্রেক্ষিতে একে তৃতীয় একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন। এর পদ্ধতি হলো—তাদলিসকারী কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, আর সেই নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি জনৈক দুর্বল (ضعيف) রাবি থেকে বর্ণনা করেছিলেন; এমতাবস্থায় তাদলিসকারী মধ্যখান থেকে সেই দুর্বল (ضعيف) রাবিকে বাদ দিয়ে দেন এবং হাদিসটি তার নির্ভরযোগ্য (ثقة) শায়খ থেকে সরাসরি পরবর্তী নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির বরাতে এমন দ্ব্যর্থবোধক শব্দে বর্ণনা করেন যাতে মনে হয় তারা একে অপরের থেকে সরাসরি শুনেছেন। ফলে সনদের (الإسناد) সকল রাবিকেই নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলে মনে হয়।

ওয়ালিদ বিন মুসলিম এই কাজটি প্রচুর পরিমাণে করতেন, অনুরূপ বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদও। বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আবু ওয়াহাব আল-আসাদি থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা কোনো ব্যক্তির ইসলামের প্রশংসা করো না যতক্ষণ না তার বিবেকের পরিপক্কতা সম্পর্কে জানতে পারো।" বাকিয়্যাহ উবাইদুল্লাহ বিন আমরের কথা উল্লেখ করেছেন; অথচ আবু হাতিমের বর্ণনা অনুযায়ী নাফি ও উবাইদুল্লাহর মাঝে ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহ বিদ্যমান ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٤)
هَذَا، ثمَّ إِن مَا وَقع مدلساً ب (عَن) فِي الْكتب الصَّحِيحَة مَحْمُول على ثُبُوت سَمَاعه من جِهَة أُخْرَى.

و (الْمُعَلل) : هُوَ مَا اطلع فِيهِ على عِلّة قادحة وَظَاهره السَّلامَة مِنْهَا.

وَهُوَ إِمَّا مُعَلل إِسْنَاده، أَو مُعَلل مَتنه، أَو كِلَاهُمَا، كَحَدِيث " البيعان بِالْخِيَارِ " فَإِن يعلى بن عبيد الله قد روى هَذَا الحَدِيث عَن سُفْيَان الثَّوْريّ عَن عَمْرو بن دِينَار عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فقد دخلت عَن سُفْيَان الثَّوْريّ عَن سَنَده، فَإِن غَيره من أَصْحَاب سُفْيَان رَوَوْهُ عَن سُفْيَان عَن عبد الله بن دِينَار عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم، فَوَهم يعلى بن عبيد الله وَعدل بن عبد الله بن دِينَار إِلَى عَمْرو بن دِينَار، مَعَ أ، كليهمَا ثِقَة، فَيكون سَنَده معلولاً من جِهَة قَوْله: عَن عَمْرو بن دِينَار، والمتن صَحِيحا على كل حَال.

وَمِثَال الْعلَّة القادحة فِي الْمَتْن مَا رُوِيَ فِي حَدِيث أنس من اللَّفْظ الْمُصَرّح بِنَفْي قِرَاءَة (بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم) ، فَإِن قَوْله: " فَكَانُوا يستفتحون الْقِرَاءَة بِالْحَمْد بِاللَّه رب الْعَالمين " لم يتَعَرَّض لذكر الْبَسْمَلَة أصلا، لَا بِالنَّفْيِ، وَلَا بالإثبات، لَكِن الرَّاوِي قد فهم من قَوْله: " وَكَانُوا يستفتحون بِالْحَمْد ".
এরপর কথা হলো, সহিহ গ্রন্থসমূহে 'আন' (عن) শব্দযোগে যে সকল তাদলিসকৃত (مدلسا) বর্ণনা এসেছে, তা অন্য কোনো সূত্রে শ্রবণ সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়েছে।

আর ত্রুটিযুক্ত (المعلل) হাদিস হলো: যার মধ্যে এমন ক্ষতিকর সূক্ষ্ম দোষ (علة) পরিলক্ষিত হয় যার বাহ্যিক দিকটি সেই দোষ থেকে মুক্ত মনে হয়।

আর এটি হয় সনদের ত্রুটিযুক্ত (معلل إسناده), অথবা মতন বা মূল পাঠের ত্রুটিযুক্ত (معلل متنه), অথবা উভয়ই। যেমন— "ক্রেতা ও বিক্রেতার (চুক্তি বাতিলের) ইখতিয়ার রয়েছে" শীর্ষক হাদিসটি। ইয়াকলা ইবনে উবাইদুল্লাহ এই হাদিসটি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। এখানে সুফিয়ান সাওরির সূত্রে (ভ্রম) প্রবেশ করেছে। কারণ সুফিয়ানের অন্যান্য সহচরগণ এটি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইয়াকলা ইবনে উবাইদুল্লাহ এখানে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে দিনারের পরিবর্তে আমর ইবনে দিনারের দিকে পরিবর্তন করে ফেলেছেন, যদিও তারা উভয়েই নির্ভরযোগ্য (ثقة)। অতএব, "আমর ইবনে দিনার থেকে" এই উক্তির দিক থেকে এর সনদটি ত্রুটিযুক্ত (معلول) হবে, তবে হাদিসের মতন (متن) সব অবস্থাতেই বিশুদ্ধ (صحيح)।

আর মতন বা মূল পাঠে (متن) ক্ষতিকর ত্রুটির (علة قادحة) উদাহরণ হলো আনাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত সেই শব্দগুলো, যেখানে স্পষ্টভাবে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করাকে নাকচ করা হয়েছে। কারণ তার উক্তি— "তারা 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' পাঠের মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন"—এতে মূলত বিসমিল্লাহর আলোচনাটি মোটেও আসেনি, নাকচ করার অর্থেও নয়, আবার সাব্যস্ত করার অর্থেও নয়। কিন্তু বর্ণনাকারী তার "তারা আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন" এই কথা থেকে (নাকচ করার বিষয়টি) বুঝে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٥)
أَنهم كَانُوا لَا يبسملون، فَرَوَاهُ على حسب مَا فهمه، وَأَخْطَأ فِيهِ لِأَن مَعْنَاهُ أَن السُّورَة الَّتِي يستفتحون بهَا من السُّورَة هِيَ الْفَاتِحَة وَلَا تعرض فه لذكر الْبَسْمَلَة أصلا كَمَا ترى، وَقد ثَبت عَن أنس أَنه سُئِلَ عَن الِافْتِتَاح بالبسملة فَذكر أَنه لَا يحفظ فِيهِ شَيْئا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالتَّحْقِيق أَن الْبَسْمَلَة إِن ثَبت أَنَّهَا جُزْء من الْفَاتِحَة فقد علم قطعا أَنه أَخطَأ فِيمَا رَوَاهُ، وَإِلَّا فَلَا سَبِيل إِلَى الْقطع بخطأه فِي ذَلِك

وَمِثَال الثَّالِث الْمُعَلل بِالْإِرْسَال وَالْوَقْف.

وَقد يُطلق الْمُعَلل على مَا لَيْسَ فِيهِ عِلّة قادحة، كالحديث الْمُرْسل الَّذِي أسْندهُ الثِّقَة الضَّابِط، وَلِهَذَا قَالَ بَعضهم: من أَقسَام الصَّحِيح مَا هُوَ صَحِيح مَعْلُول، كَمَا قَالَ الآخر: من الصَّحِيح مَا هُوَ صَحِيح شَاذ، وَيُطلق (الْمَعْلُول) على مَا يُطلق عَلَيْهِ (الْمُعَلل) عِنْدهم، فَإِن غرضهم بَيَان طرق أَدَاء الْمَعْنى بِأَيّ وَجه كَانَ، لَا بَيَان اللُّغَة على سَبِيل النَّقْل عَن أَهلهَا، أَلا ترى أَنهم يَقُولُونَ من جملَة طَرِيق الْأَخْذ والتحمل الوجادة مَعَ ا، امولدة، وَنَظِير ذَلِك أَكثر من أَن يُحْصى، كالمعربات، والمولدات وَأكْثر عِبَارَات المؤلفين، فَإِذن لَا يضرهم عدم ثُبُوت ذَلِك عِنْد أهل اللُّغَة.

و (الْمُخْتَصر) : هُوَ مَا ذكر بعضه وَطرح بعضه عِنْد الرِّوَايَة، كَمَا روى حُذَيْفَة بن الْيَمَان قَالَ: " كنت مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَبَال وَتَوَضَّأ وَمسح على خفيه " فَإِنَّهُ مُخْتَصر من حَدِيث مطول.
তারা বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন না; ফলে তিনি এটি তার অনুধাবন অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন এবং এতে ভুল করেছেন। কারণ এর অর্থ হলো যে সূরাটি দিয়ে তারা নামাজ শুরু করতেন তা হলো সূরা ফাতিহা এবং আপনি যেমন দেখছেন, এতে বিসমিল্লাহর উল্লেখের ব্যাপারে মূলত কোনো আলোচনা করা হয়নি। আনাস (রা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তাকে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে নামাজ শুরু করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মর্মে আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে তিনি কোনো কিছু স্মরণ করতে পারছেন না। প্রকৃত গবেষণা হলো, যদি বিসমিল্লাহ ফাতিহার অংশ হওয়া প্রমাণিত হয়, তবে অকাট্যভাবে জানা গেল যে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তাতে ভুল করেছেন; অন্যথায় তার বর্ণনায় ভুলের ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো পথ নেই।

তৃতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো সেই ত্রুটিপূর্ণ (معلل) বর্ণনা যা বিচ্ছিন্নতা (إرسال) এবং স্থগিতকরণের (وقف) কারণে ত্রুটিযুক্ত হয়েছে।

কখনও কখনও ত্রুটিপূর্ণ (معلل) শব্দটি এমন বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যাতে কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) নেই; যেমন সেই বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুসংরক্ষণকারী (ضابط) বর্ণনাকারী ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। এ কারণেই তাদের কেউ কেউ বলেছেন: সহিহ (صحيح) প্রকারের মধ্যে এমন হাদিস রয়েছে যা সহিহ (صحيহ) হওয়া সত্ত্বেও ত্রুটিযুক্ত (معلول)। যেমন অন্য একজন বলেছেন: সহিহ (صحيহ) এর মধ্যে এমন হাদিস রয়েছে যা সহিহ (صحيহ) হওয়া সত্ত্বেও ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ)। তাদের পরিভাষায় ‘মালুল’ (معلول) শব্দটি সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয় যে অর্থে ত্রুটিপূর্ণ (معلل) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো যেকোনো পন্থায় অর্থ প্রকাশের বিষয়টি বর্ণনা করা, ভাষা বিশেষজ্ঞদের থেকে বর্ণনা করার মাধ্যমে আভিধানিক বিশুদ্ধতা বিশ্লেষণ করা নয়। আপনি কি দেখেন না যে, তারা হাদিস গ্রহণ ও ধারণের পদ্ধতির মধ্যে প্রাপ্তি (وجادة)-কেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও এটি একটি পরবর্তী উদ্ভাবিত শব্দ? এর উদাহরণ অগণিত, যেমন আরবিকৃত শব্দ (معربات), নবসৃষ্ট পরিভাষা (مولدات) এবং গ্রন্থকারদের ব্যবহৃত অধিকাংশ শব্দচয়ন। সুতরাং ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিকট তা প্রমাণিত না হওয়া তাদের (মুহাদ্দিসদের) পরিভাষার জন্য কোনো ক্ষতির কারণ নয়।

আর সংক্ষিপ্ত (مختصر) হলো: বর্ণনার (رواية) সময় যেটির কিছু অংশ উল্লেখ করা হয় এবং কিছু অংশ বর্জন করা হয়। যেমন হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী (সা.)-এর সাথে ছিলাম, অতঃপর তিনি প্রস্রাব করলেন, অজু করলেন এবং নিজের মোজাদ্বয়ের ওপর মাসাহ করলেন।" এটি মূলত একটি দীর্ঘ হাদিসের সংক্ষিপ্ত (مختصر) রূপ।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٦)
فَاخْتلف فِي ذَلِك، فَالصَّحِيح أَن الِاخْتِصَار يجوز للْعَالم الْعَارِف، بِحَيْثُ أَن مَا اخْتَصَرَهُ لَا يكون مختل الْبَيَان بترك مَا تَركه، وَيكون مَا تَركه متميزاً عَمَّا اخْتَصَرَهُ غير مُتَعَلق بِهِ، فيكونان بِمَنْزِلَة خبرين منفصلين.

وَالأَصَح - أَيْضا - أَن الرواي يجوز لَهُ أَن يروي مَا سَمعه بِاللَّفْظِ دون الْمَعْنى إِذا كَانَ عَالما بمدلات الْأَلْفَاظ ومقاصدها، خَبِيرا بِمَا يحِيل مَعَانِيهَا، بَصيرًا بمقادير التَّفَاوُت بَينهَا.

حُكيَ أَن رجلا قَالَ: يَا رَسُول الله إِنِّي أسمع مِنْك الحَدِيث لَا أَسْتَطِيع أَن أؤذيه كَمَا أسمع مِنْك، نزي حرفا، أَو ننقص حرفا، فَقَالَ: " إِذا لم تحلوا حاماً وَلم تحروموا حَلَالا وأصبتهم الْمَعْنى فَلَا بَأْس " فَذكر ذَلِك لِلْحسنِ فَقَالَ: لَوْلَا هَذَا مَا حَدثنَا.

ثمَّ إِن مَا تضمنته بطُون الْكتب والأوراق، فقد قيل فِيهِ لَيْسَ لأحد أَن يُغير لفظ شَيْء من كتاب مُصَنف وَيثبت بدله فِيهِ لفظا بِمَعْنَاهُ، فَإِنَّهُ لَا يملك تَغْيِير تصنيع غَيره، على أَن الْمَعْنى الباغعث على الرُّخْصَة فِي الرِّوَايَة بِالْمَعْنَى غير مَوْجُودَة هَهُنَا.

و (المقلوب) : هُوَ مَا اشْتهر عَن راو ثمَّ جعل عَن راو آخر فِي طبقته ليصبر غَرِيبا مرغوباً فِيهِ، كَمَا أَن الحَدِيث الْمَشْهُور عَن سَالم جعل عَن نَافِع
এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, একজন প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ আলেমের জন্য হাদিস সংক্ষেপ করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো তিনি যা সংক্ষেপ করছেন তা যেন বর্জিত অংশের কারণে অস্পষ্ট হয়ে না যায় এবং যা বর্জন করা হয়েছে তা যেন সংক্ষেপকৃত অংশ থেকে স্বতন্ত্র ও সম্পর্কহীন হয়, যাতে সেগুলো দুটি পৃথক সংবাদের পর্যায়ভুক্ত হতে পারে।

অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত এও যে—বর্ণনাকারীর জন্য তিনি যা শুনেছেন তা শব্দের পরিবর্তে অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করা জায়েজ, যদি তিনি শব্দের অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হন, শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায় এমন বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হন এবং শব্দগুলোর মধ্যকার সূক্ষ্ম তারতম্যের ব্যাপারে বিচক্ষণ হন।

বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট থেকে হাদিস শুনি কিন্তু যেভাবে আপনার নিকট থেকে শুনি ঠিক সেভাবে তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হই না; আমরা হয়তো একটি অক্ষর বাড়িয়ে ফেলি অথবা একটি অক্ষর কমিয়ে ফেলি।" তিনি বললেন: "যতক্ষণ না তোমরা হারামকে হালাল করছ এবং হালালকে হারাম করছ এবং তোমরা সঠিক অর্থটি পৌঁছে দিচ্ছ, ততক্ষণ এতে কোনো অসুবিধা নেই।" বিষয়টি হাসান বসরীর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: "যদি এটি না হতো, তবে আমরা হাদিস বর্ণনা করতাম না।"

অতঃপর কিতাব ও পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, কোনো সংকলিত কিতাবের কোনো শব্দের পরিবর্তন করে সেখানে সমার্থক অন্য কোনো শব্দ প্রতিস্থাপন করার অধিকার কারো নেই। কেননা অন্যের সংকলন বা রচনা পরিবর্তন করার অধিকার তার নেই; তদুপরি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (الرواية بالمعنى) করার অনুমতির পেছনে যে কারণ ছিল, তা এখানে বিদ্যমান নেই।

এবং উল্টানো বা বিবর্তিত (المقلوب): এটি এমন হাদিস যা একজন বর্ণনাকারীর সূত্রে প্রসিদ্ধ, কিন্তু পরবর্তীতে তা তাঁর সমপর্যায়ের অন্য একজন বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করা হয় যেন তা বিরল বা অপরিচিত (غريب) ও আকর্ষণীয় মনে হয়; যেমন সালিমের সূত্রে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিসটিকে নাফে'র সূত্রে বর্ণিত হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣٧)
للاستغراب، وَقد يُؤْخَذ سَنَد مَتنه فَيجْعَل على متن آخر وَيجْعَل مَتنه بِإِسْنَاد آخر لغَرَض من الْأَغْرَاض. رُوِيَ أَن البُخَارِيّ قدم بَغْدَاد فَسمع بِهِ أَصْحَاب الحَدِيث فَاجْتمع قبل مَجْلِسه قوم مِنْهُم وعمدوا إِلَى مائَة حَدِيث فقبلوا متونها وأسانيدها، وَجعلُوا متن هَذَا الْإِسْنَاد لإسناد آخر، وَإسْنَاد هَذَا الْمَتْن لمتن آخر، ثمَّ حَضَرُوا مَجْلِسه وألقوها عَلَيْهِ، فَلَمَّا فرغوا من إِلْقَاء تِلْكَ الْأَحَادِيث المقلوبة الْتفت إِلَيْهِم فَرد كل متن إِلَى إِسْنَاده، وكل إِسْنَاد إِلَى مَتنه، فأقروا لَهُ بِالْحِفْظِ وأذعنوا لَهُ بِالْفَضْلِ.

وَمن أَقسَام المقلوب: مَا انْقَلب على رِوَايَة وَلَك يقْصد قلبه، كَحَدِيث " إِذا أُقِيمَت الصَّلَاة فَلَا تقوموا حَتَّى تروني " فَإِنَّهُ حَدِيث مَشْهُور عَن يحيى ابْن أبي كثير عَن عبد الله بن أبي قَتَادَة عَن أَبِيه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَوَهم جرير ابْن حَازِم وَجعله عَن ثَابت البناتي عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
বিস্ময় বা চমৎকারিত্ব সৃষ্টির (للاستغراب) লক্ষ্যে কখনো কখনো কোনো হাদিসের মূল পাঠের (متن) সনদ (إسناد) নিয়ে অন্য একটি মূল পাঠের (متن) সাথে জুড়ে দেওয়া হয় এবং তার মূল পাঠটিকে (متن) অন্য একটি সনদের (إسناد) মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে। বর্ণিত আছে যে, ইমাম বুখারি যখন বাগদাদে আগমন করলেন, তখন হাদিস বিশারদগণ তাঁর আগমনের কথা জানতে পেরে তাঁর মজলিস শুরু হওয়ার আগে একটি দল গঠন করলেন। তারা একশত হাদিস নির্বাচন করে সেগুলোর মূল পাঠ (متن) ও সনদসমূহকে (إسناد) ওলটপালট করে দিলেন; তারা এই সনদের (إسناد) মূল পাঠকে (متن) অন্য একটি সনদের (إسناد) জন্য এবং এই মূল পাঠের (متن) সনদকে (إسناد) অন্য একটি মূল পাঠের (متن) জন্য নির্ধারণ করলেন। এরপর তারা তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়ে সেগুলো তাঁর সামনে পেশ করলেন। যখন তারা সেই ওলটপালট করা (مقلوب) হাদিসগুলো উপস্থাপন শেষ করলেন, তখন তিনি তাদের দিকে ফিরে প্রতিটি মূল পাঠকে (متن) তার সঠিক সনদের (إسناد) দিকে এবং প্রতিটি সনদকে (إسناد) তার সঠিক মূল পাঠের (متن) দিকে ফিরিয়ে দিলেন। ফলে তারা তাঁর প্রখর মুখস্থশক্তির (حفظ) স্বীকৃতি প্রদান করল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি নতি স্বীকার করল।

উল্টানো (مقلوب) হাদিসের প্রকারভেদসমূহের মধ্যে রয়েছে: যা বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ওলটপালট হয়ে যায় অথচ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেননি। যেমন: "যখন নামাজের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না" শীর্ষক হাদিসটি। এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদা হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন—এই সূত্রে একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস। কিন্তু জারির ইবনে হাযিম ভ্রম (وهم) বশত একে সাবিত আল-বুনানি হতে, তিনি আনাস হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।