(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: -)
الرفع والتكميل   (أبو الحسنات اللكنوي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الرفع والتكميل في الجرح والتعديل

المؤلف: محمد عبد الحي بن محمد عبد الحليم الأنصاري اللكنوي الهندي، أبو الحسنات (ت 1304هـ)

المحقق: عبد الفتاح أبو غدة

الناشر: مكتب المطبوعات الإسلامية - حلب

الطبعة: الثالثة، 1407هـ

عدد الصفحات: 432

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রাফ' ওয়াত তাকমীল   (আবুল হাসানাত আল-লাখনভী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আর-রাফ' ওয়াত তাকমীল ফীল জারহ ওয়াত তা'দীল

লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল হাই বিন মুহাম্মদ আব্দুল হালিম আল-আনসারী আল-লাখনভী আল-হিন্দি, আবুল হাসানাত (মৃ. ১৩০৪ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: মাকতাবুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ - আলেপ্পো

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
- الْحَمد الله الَّذِي بعث لهداية خلقه رسلًا وأنبياء وخصهم بمزيد التَّعْظِيم والتبجيل وَجعل من أَشْرَفهم وساد اتهمَ وأكملهم وَرُؤَسَائِهِمْ سيدنَا مُحَمَّدًا المنعوت بغاية التكريم والتفضيل وَجعل شَرِيعَته من بَين الشَّرَائِع السماوية مَوْصُوفَة باليسر والتسهيل وَنسخ بهَا جَمِيع الْأَدْيَان والملل وابطل بهَا شرك الْأَوْثَان والنحل أدماها إِلَى يَوْم التهويل فسبحانه من اله جلت قدرته وعظمت هيبته تَعَالَى عَمَّا يصفه الظَّالِمُونَ بِهِ من التَّشْبِيه والتجسيم والتعطيل وتنزه عَن التجانس والتشابه والتمثيل وَللَّه الْمثل الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَات العلى والطبقات السُّفْلى لَيْسَ كمثله شَيْء فِي الأولى وَالْأُخْرَى فِي أَوْصَاف التَّكْمِيل اشْهَدْ انه لَا إِلَه إِلَّا الله هُوَ وَحده لَا شريك لَهُ وَلَا ضد لَهُ وَلَا ند لَهُ وَلَا مُنَاقض لَهُ وَلَا معَارض لَهُ يُعَارضهُ فِي التَّدْبِير والتعميل احمده حمدا كثيرا على ان حفظ شَرِيعَة سيد أنبيائه من التَّغْيِير

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির হিদায়াতের জন্য রসূল ও নবীগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদেরকে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত করেছেন। তিনি তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, সরদার, পূর্ণাঙ্গতম ও প্রধান হিসেবে আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মনোনীত করেছেন, যিনি পরম সম্মান ও মর্যাদার বিশেষণে বিশেষায়িত। তিনি তাঁর শরীয়তকে আসমানী শরীয়তসমূহের মধ্যে সহজসাধ্যতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল দ্বীন ও আদর্শকে রহিত (نسخ) করেছেন। এর দ্বারা তিনি মূর্তিপূজা ও ভ্রান্ত মতবাদসমূহকে বাতিল করেছেন, যা কিয়ামতের মহা ভীতিপ্রদ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সুতরাং সেই ইলাহ্ পবিত্র, যাঁর কুদরত অতি মহান এবং যাঁর মহিমা অতি বিশাল। জালিমরা তাঁর প্রতি যে সাদৃশ্যারোপ (تشبيه), মূর্তরূপ দান (تجسيم) ও গুণাবলী অস্বীকারের (تعطيل) অপবাদ দেয়, তিনি তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে। তিনি সমজাতীয়তা, সাদৃশ্য ও উপমাপ্রদান থেকে পবিত্র। আকাশমন্ডলী এবং জমিনের সকল স্তরে আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ; ইহকাল ও পরকালের পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর ক্ষেত্রে তাঁর সদৃশ কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর কোনো বিরোধী বা সমকক্ষ নেই এবং তাঁর পরিচালনা ও কর্মপদ্ধতিতে বাধা দেওয়ার মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আমি তাঁর অশেষ প্রশংসা করছি এজন্য যে, তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ নবীর শরীয়তকে পরিবর্তন (تغيير) ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
- والتبديل وَبعث فِي أمته فضلاء ونقادا وكملاء وزهادا اهتموا بِحِفْظ آثَار نَبِيّهم وَاقْتَدوا باخبار شفيعهم وَتَكَلَّمُوا فِي مَرَاتِب الْجرْح وَالتَّعْدِيل والهمهم كَيْفيَّة رِوَايَة الْأَحَادِيث وَحملهَا والبحث عَن وَصلهَا وفصلها وَعَن حسنها وصحتها وضعفها وقوتها وَعَن نقد أسانيدها بِحسن التأصيل فَصَارَت الْأَحَادِيث المصطفية والْآثَار الشَّرْعِيَّة منقاة ومصفاة من كل مفْسدَة وتجهيل واشكره شكرا كَبِيرا على أَن وعد على رَأس كل مائَة من مئات هَذِه الْأمة بَان يبْعَث فِيهَا مِنْهَا م يجدد لَهَا دينهَا وَيُقِيم لَهَا طريقتها

...এবং বিকৃতি রোধে তিনি তাঁর উম্মতের মধ্যে একদল শ্রেষ্ঠ মনীষী, সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক, পূর্ণতাপ্রাপ্ত গুণীজন এবং দুনিয়াবিমুখ যাহিদদের প্রেরণ করেছেন, যারা তাঁদের নবীর রেখে যাওয়া নিদর্শনাবলি সংরক্ষণে মনোনিবেশ করেছেন এবং তাঁদের সুপারিশকারীর রেখে যাওয়া সংবাদসমূহের অনুসরণ করেছেন। তাঁরা সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (الجرح والتعديل)-এর স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের হাদিস বর্ণনার পদ্ধতি ও তা গ্রহণ করার নিয়ম এবং হাদিসের নিরবচ্ছিন্নতা (وصل) ও বিচ্ছিন্নতা (فصل) সম্পর্কে গবেষণার ইলহাম দান করেছেন। তদ্রূপ হাদিস হাসান (حسن), সহিহ (صحيح), দুর্বল (ضعيف) ও শক্তিশালী হওয়া এবং সুদৃঢ় মূলনীতির ভিত্তিতে সনদ (أسانيد) পর্যালোচনার জ্ঞান দান করেছেন। এর ফলে নির্বাচিত হাদিসসমূহ এবং শরয়ি নিদর্শনাবলি সকল প্রকার বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতা থেকে পরিশোধিত ও পরিচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছে। আর আমি আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে, তিনি এই উম্মতের প্রতি প্রত্যেক একশত বছরের মাথায় এমন কাউকে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যিনি তাঁদের জন্য দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং তাঁদের সঠিক পথকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৪৬)
- ويحفظها من مكايد أَصْحَاب التسويل واشهد أَن سيدنَا ومولانا مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله وَصفيه وخليله
- এবং তিনি একে প্ররোচনাকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসুল এবং তাঁর মনোনীত ও তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৪৭)
- ونجيه وحبيبه الَّذِي جَاءَنَا من عِنْد رَبنَا بالشريعة السهلة الْبَيْضَاء وهدانا إِلَى الطَّرِيقَة الْحَسَنَة الغراء جزاه الله عَنَّا خير الْجَزَاء فِي الِابْتِدَاء والانتهاء واوصله إِلَى أَعلَى دَرَجَات التَّفْضِيل اللَّهُمَّ صل عَلَيْهِ
এবং তাঁর নিভৃত প্রিয়পাত্র ও মাহবুবের প্রতি, যিনি আমাদের রবের পক্ষ থেকে আমাদের নিকট সহজ ও সমুজ্জ্বল শরিয়ত নিয়ে এসেছেন এবং আমাদের উত্তম (حسنة) ও দীপ্তিময় পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে শুরুতে ও শেষে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিন। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৪৮)
- صَلَاة تَامَّة زاكية دائمة شَامِلَة وعَلى جَمِيع أَصْحَابه وَأَتْبَاعه صَلَاة
- একটি পূর্ণাঙ্গ, পবিত্র, শাশ্বত ও সর্বব্যাপী রহমত এবং তাঁর সকল সাহাবী (أصحابه) ও অনুসারীদের (أتباعه) ওপরও বর্ষিত হোক রহমত।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৪৯)
- تنجينا من كل تهويل وتحفظنا من كل تنكيل وَبعد فَيَقُول الراجي عَفْو ربه الْقوي أَبُو الْحَسَنَات مُحَمَّد عبد الْحَيّ اللكنوي تجَاوز الله عَن ذَنبه الْجَلِيّ الْخَفي ابْن مَوْلَانَا الْحَاج الْحَافِظ مُحَمَّد بن عبد الْحَلِيم ادخله الله دَار النَّعيم هَذِه رِسَالَة رشيقة وعجالة أنيقة اسْمهَا يخبر عَن رسمها وفحواها يشْعر بمعناها اعني

الرّفْع والتكميل فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل

 

بَعَثَنِي على تأليفها مَا رَأَيْت من عُلَمَاء عصري وفضلاء دهري من ركوبهم على متن عمياء وخبطهم كخبط العشواء تراهم فِي بحث التَّعْدِيل وَالْجرْح من أَصْحَاب الْقرح فهم كالحبارى فِي الصحارى والسكارى فِي السحارى وَمَا ذَلِك إِلَّا لجهلهم بمسائل الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَعدم وصولهم إِلَى منَازِل الرّفْع والتكميل كم من فَاضل قد جرح الْأَسَانِيد الصَّحِيحَة وَكم من كَامِل صحّح الْأَسَانِيد الضعيفة يصححون الضعْف ويضعفون الْقوي وَلَا يَهْتَدُونَ إِلَى الصِّرَاط السوي تراهم قد ظنُّوا نقل الْجرْح وَالتَّعْدِيل من كتب نقاد الرِّجَال كتهذيب الْكَمَال لِلْحَافِظِ الْمزي وميزان الِاعْتِدَال للذهبي وتهذيب التَّهْذِيب وتقريب التَّهْذِيب وَالْمُغني وكامل ابْن عدي ولسان الْمِيزَان وَغَيرهَا من كتب أهل الشَّأْن أمرا يَسِيرا وَمَا
...যা আমাদের সকল বিভীষিকা থেকে মুক্তি দান করে এবং সকল প্রকার কঠোর শাস্তি থেকে রক্ষা করে। অতঃপর, তার শক্তিশালী প্রতিপালকের ক্ষমার প্রত্যাশী আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আব্দুল হাই লাখনভী—আল্লাহ তার প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন—বলছেন, তিনি মাওলানা আল-হাজ হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হালিমের পুত্র—আল্লাহ তাকে জান্নাতুল নাঈমে প্রবেশ করান। এটি একটি সুসংহত পুস্তিকা এবং চমৎকার সংক্ষিপ্ত সংকলন, যার নাম তার বাহ্যিক রূপ সম্পর্কে অবহিত করে এবং এর সারমর্ম তার অর্থকে ব্যক্ত করে; অর্থাৎ:

আর-রাফ' ওয়াত-তাকমিল ফিল জারহি ওয়াত-তা'দিল (الرفع والتكميل في الجرح والتعديل)

 

এটি রচনা করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে আমার যুগের আলেম এবং সমকালীন গুণীজনদের মাঝে দেখা এক প্রবণতা—তা হলো তাদের অন্ধ অনুকরণ এবং লক্ষ্যহীন পদচারণা। আপনি তাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (التعديل) এবং সমালোচনা (الجرح) সংক্রান্ত আলোচনায় বিভ্রান্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় দেখতে পাবেন; তারা যেন মরুভূমিতে পথহারা চাতক পাখির মতো অথবা শেষ রাতে মোহগ্রস্ত মাতাল। এটি কেবল সমালোচনা (الجرح) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (التعديل) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা এবং আর-রাফ' ওয়াত-তাকমিলের স্তরে পৌঁছাতে তাদের ব্যর্থতার কারণেই ঘটেছে। কত গুণী ব্যক্তি সহিহ (الصحيحة) সনদসমূহকে (الأسانيد) জরাগ্রস্ত বা ত্রুটিযুক্ত (جرح) করেছেন, আবার কত পূর্ণজ্ঞানী ব্যক্তি দুর্বল (الضعيفة) সনদসমূহকে (الأسانيد) সহিহ সাব্যস্ত (صحح) করেছেন। তারা দুর্বলকে (الضعف) সহিহ সাব্যস্ত করেন (يصححون) এবং শক্তিশালীকে (القوي) দুর্বল প্রতিপন্ন করেন (يضعفون), অথচ তারা সঠিক পথের দিশা পান না। আপনি তাদের দেখবেন যে তারা হাফেজ মিজ্জি-র তাহজিবুল কামাল, যাহাবির মিজানুল ইতিদাল, তাহজিবুত তাহজিব, তাকরিবুত তাহজিব, আল-মুগনি, ইবনে আদির আল-কামিল, লিসানুল মিজান এবং এ শাস্ত্রের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিতাবসমূহ থেকে বর্ণনাকারী (الرجال) বিশারদদের উদ্ধৃতি দিয়ে সমালোচনা (الجرح) ও নির্ভরযোগ্যতা (التعديل) বর্ণনা করাকে অত্যন্ত সহজ কাজ মনে করে থাকে, অথচ...
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫০)
- تركُوا فِي هَذَا الْبَاب قطميرا ونقيرا مَعَ جهلهم باصطلاحات أَئِمَّة التَّعْدِيل وَالْجرْح وَعدم فرقهم بَين الْجرْح الْمُبْهم وَالْجرْح الْغَيْر الْمُبْهم وَبَين مَا هُوَ مَقْبُول وَبَين مَا هُوَ غير مَقْبُول عِنْد حَملَة ألوية الشَّرْع وَبعد مداركهم عَن إِدْرَاك مَرَاتِب الْأَئِمَّة من معدلي الْأمة أَو مَا علمُوا أَن الدُّخُول فِي هَذِه المسالك الصعبة الَّتِي زلت فِيهَا إقدام الكملة أَمر عَظِيم لَا يَتَيَسَّر من كل حبر كريم فضلا عَمَّن يَتَّصِف بالسالك فِي أَوديَة الضلال والخابط فِي ظلماء الليال أَو مَا فهمو أَن لكل مقَام مقَال وَلكُل فن رجال وان جرح من هُوَ خَال عَنهُ فِي الْوَاقِع وتعديل من هُوَ مَجْرُوح فِي الْوَاقِع أَمر ذُو خطر لَا يَلِيق بِالْقيامِ بِهِ كل بشر فَأَرَدْت أَن اكْتُبْ فِي هَذَا الْبَاب رِسَالَة شافية وعجالة كَافِيَة تشْتَمل على علالة فَوَائِد الْمُتَقَدِّمين وسلالة فرائد الْمُتَأَخِّرين اذكر فِيهَا مسَائِل مُتَعَلقَة بِالْجرْحِ وَالتَّعْدِيل ومناهل مربوطة بأئمة الْجرْح وَالتَّعْدِيل لتَكون مفيدة وهادية إِلَى الطَّرِيقَة النقية الصافية فدونك كتابا يروي كل غليل ويشفي كل عليل يرشدك إِلَى سَوَاء

তারা এই বিষয়ে সামান্যতম জ্ঞানও অর্জন করতে পারেনি, অথচ তারা জরাহ ও তাদিল (الجرْح وَالتَّعْدِيل)-এর ইমামগণের পরিভাষা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তারা অস্পষ্ট সমালোচনা (الْجرْح الْمُبْهم) ও সুস্পষ্ট সমালোচনা (الْجرْح الْغَيْر الْمُبْهم)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না এবং শরীয়তের পতাকাবাহী বিশেষজ্ঞগণের নিকট কোনটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) আর কোনটি অগ্রহণযোগ্য (غير مقبول), সে বিষয়েও তাদের কোনো বোধোদয় নেই। উম্মতের মূল্যায়নকারী (معدلي) ইমামগণের স্তরসমূহ অনুধাবন করা তাদের বোধশক্তির অগম্য। তারা কি জানে না যে, এই কঠিন পথে প্রবেশ করা—যেখানে পূর্ণজ্ঞানীদের পদও স্খলিত হয়েছে—তা এক অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা প্রত্যেক বিদগ্ধ পণ্ডিতের পক্ষেও সহজসাধ্য নয়; বিশেষ করে সেই ব্যক্তির পক্ষে তো এটি মোটেও সম্ভব নয়, যে বিভ্রান্তির উপত্যকায় বিচরণকারী এবং ঘোর অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ানো পথিকের ন্যায়। তারা কি বুঝতে পারেনি যে, প্রত্যেক অবস্থানের জন্য উপযোগী বক্তব্য রয়েছে এবং প্রত্যেক শাস্ত্রের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি? আর বাস্তবে যিনি দোষমুক্ত তাকে অভিযুক্ত করা (جرح) এবং বাস্তবে যিনি অভিযুক্ত (مجروح), তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা (تعديل) একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, যা সম্পাদন করা প্রত্যেক মানুষের জন্য সমীচীন নয়।

তাই আমি এই বিষয়ে একটি নিরাময়কারী পুস্তিকা ও পর্যাপ্ত সংক্ষিপ্তসার রচনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, যা পূর্বসূরি (المتقدمين) আলেমদের উপকারের সারসংক্ষেপ এবং উত্তরসূরি (المتأخرين) আলেমদের বিরল ও শ্রেষ্ঠ গবেষণালব্ধ জ্ঞানের নির্যাস ধারণ করবে। এতে আমি জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ এবং জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামগণের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান-উৎসসমূহ উল্লেখ করব, যেন তা এই পরিচ্ছন্ন ও নির্মল পথের দিশারি এবং উপকারী হতে পারে। অতএব, আপনার সম্মুখে উপস্থিত এই গ্রন্থটি, যা প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসুর তৃষ্ণা মেটাবে এবং প্রত্যেক অসুস্থ অন্তরকে আরোগ্য দান করে আপনাকে সঠিক পথের দিশা দেবে।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫১)
- الطَّرِيق وينجيك من كل حريق ويعلمك مَا لم تكن تعلم ويفهمك مَا لم تكن تفهم وستقول بعد الإطلاع على مَا فِيهِ من كنوز الْفَوَائِد ودرر الفرائد هَذَا بَحر زاخر كم ترك الأول للْآخر وارجو من كل من ينْتَفع بِهِ أَن يَدْعُو لي بِحسن الخاتمة وَخير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وأسأل الله تَعَالَى أَن يقبله مَعَ سَائِر تصانيفه ويجعله لوجهه الْكَرِيم انه ذُو الْفضل الْعَظِيم زَان يجنب اقلامي من الْخَطَأ والخطل واقدامي من السَّهْو والزلل وان يحفظني من التوصيف بمجدد الاغلاط ومحدد الاشطاط آمين يَا رب الْعَالمين وَهَذِه الرسَالَة مرتبَة على مُقَدّمَة مُشْتَمِلَة على الْأُمُور المهمة ومراصد عديدة متضمنة على مَقَاصِد سديدة
- (এটি সেই) পথ যা আপনাকে যাবতীয় অগ্নিদহন থেকে রক্ষা করবে এবং আপনাকে তা শিক্ষা দেবে যা আপনি জানতেন না এবং এমন সব বিষয় অনুধাবন করাবে যা আপনি আগে বুঝতেন না। এতে বিদ্যমান উপকারের অমূল্য ভাণ্ডার এবং অনন্য মুক্তাসমূহ প্রত্যক্ষ করার পর আপনি বলবেন— "এটি এক উত্তাল সমুদ্র; পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!" যারা এর দ্বারা উপকৃত হবেন তাদের সকলের কাছে আমি আশা করি, তারা যেন আমার জন্য শুভ পরিণাম এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া করেন। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে আমার অন্যান্য রচনার ন্যায় কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান অনুগ্রহের অধিকারী। তিনি যেন আমার লেখনীকে ভুল ও অসারতা থেকে এবং আমার পদক্ষেপকে বিস্মৃতি ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং আমাকে ভুলের পুনরুজ্জীবনকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে অভিহিত হওয়া থেকে হিফাজত করেন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন। এই পুস্তিকাটি (رسالة) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি সংবলিত একটি ভূমিকা (مقدمة) এবং সঠিক উদ্দেশ্যসমূহ সংবলিত বেশ কিছু অধ্যায়ের (مراصد) সমন্বয়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫২)
-‌‌ الْمُقدمَة

 

فِيمَا يتَعَلَّق بِحكم جرح الروَاة وتعديلهم وَمَا يجب فِيهِ من التثبت والتحري لقَولهم وفعلهم وَمَا يحذر من الْمُبَادرَة إِلَى الْجرْح بِلَا ضَرُورَة وَمَا لَا يجوز من الْجرْح وَنَقله وَمَا يجوز مِنْهُ ولنذكر ذَلِك فِي‌‌ إيقاظات عديدة مُشْتَمِلَة على إيماضات سديدة

ايقاظ

 

- فِيمَا لَيْسَ بغيبة ذكر النَّوَوِيّ فِي رياض الصَّالِحين وَالْغَزالِيّ فِي إحْيَاء عُلُوم الدّين
-‌উপক্রমণিকা

 

বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تعديل) সংক্রান্ত বিধান এবং তাঁদের কথা ও কাজের ক্ষেত্রে সত্যতা নিশ্চিতকরণ ও নিবিড় অনুসন্ধানের আবশ্যকতা বিষয়ক। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে সমালোচনা (جرح) করার ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা হতে সতর্কতা এবং যে ধরনের সমালোচনা (جرح) ও তা বর্ণনা করা অবৈধ এবং যা বৈধ—সে প্রসঙ্গে। আমরা এই বিষয়গুলো সঠিক দিকনির্দেশনা (إيماض) সম্বলিত বহুবিধ সতর্কবার্তা (إيقاظ)-এর মাধ্যমে উল্লেখ করব।

সতর্কবার্তা (إيقاظ)

 

- যা গিবতের অন্তর্ভুক্ত নয়; ইমাম নববী রিয়াদুস সালিহীন এবং গাজালি ইহয়াউ উলুমিদ্দীন গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫৩)
- وَغَيرهمَا فِي غَيرهمَا أَن غيبَة الرجل حَيا وَمَيتًا تُبَاح لغَرَض شَرْعِي لَا يُمكن الْوُصُول إِلَيْهِ إِلَّا بهَا وَهِي سِتَّة

التظلم فَيجوز للمظلوم أَن يتظلم إِلَى السُّلْطَان وَالْقَاضِي وَغَيرهمَا مِمَّن لَهُ ولَايَة أَو قدرَة على إنصافه من ظلامه فَيَقُول فلَان ظَلَمَنِي كَذَا

الِاسْتِعَانَة على تَغْيِير الْمُنكر ورد العَاصِي إِلَى الصَّوَاب فَيَقُول لمن يَرْجُو مِنْهُ إِزَالَة الْمُنكر فلَان يفعل كَذَا فأزجره

الاستفتاء فَيَقُول للمفتي ظَلَمَنِي أبي بِكَذَا فَمَا سَبَب الْخَلَاص مِنْهُ

تحذير الْمُؤمنِينَ من الشَّرّ ونصيحتهم وَمن هَذَا الْبَاب الْمُشَاورَة فِي مصاهرة إِنْسَان أَو مشاركته أَو ايداعه أَو مُعَامَلَته أَو غير ذَلِك وَمِنْه جرح الشُّهُود عِنْد القَاضِي وجرح رَوَاهُ الحَدِيث وَهُوَ جَائِز بِالْإِجْمَاع بل وَاجِب للْحَاجة وَمِنْه مَا إِذا رأى متفقها يتَرَدَّد
এবং অন্যান্যদের বর্ণনায় অন্যান্য কিতাবসমূহেও এসেছে যে, কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার পরনিন্দা করা—চাই সে জীবিত হোক বা মৃত—এমন শরয়ী উদ্দেশ্যে বৈধ, যা অন্য কোনো উপায়ে হাসিল করা সম্ভব নয়; আর এই ক্ষেত্রগুলো হলো ছয়টি:

জুলুমের প্রতিকার চাওয়া: মজলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির জন্য সুলতান, বিচারক অথবা এমন কোনো ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সম্পন্ন ব্যক্তির নিকট অভিযোগ পেশ করা বৈধ, যিনি তাকে অত্যাচারীর পক্ষ থেকে ইনসাফ পাইয়ে দিতে সক্ষম। এমতাবস্থায় সে বলতে পারে, 'অমুক ব্যক্তি আমার ওপর এমন জুলুম করেছে'।

অন্যায় প্রতিরোধে সহায়তা লাভ এবং পাপাচারীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা: এমতাবস্থায় যার মাধ্যমে অন্যায় দূর হওয়ার আশা করা যায়, তাকে লক্ষ্য করে বলা যে, 'অমুক ব্যক্তি এই এই কাজ করছে, তাকে বাধা প্রদান করুন'।

ফতোয়া গ্রহণ: যেমন মুফতিকে বলা যে, 'আমার পিতা আমার ওপর এই জুলুম করেছেন, এমতাবস্থায় এর থেকে নিষ্কৃতির পথ কী?'

মুমিনদের মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করা এবং তাদের সদুপদেশ প্রদান করা: এর অন্তর্ভুক্ত হলো বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, আমানত রাখা, লেনদেন কিংবা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা। এর আরও অন্তর্ভুক্ত হলো বিচারকের নিকট সাক্ষীদের ত্রুটি বর্ণনা (جرح) করা এবং হাদিস বর্ণনাকারীদের দোষ বর্ণনা (جرح) করা। আর এটি সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ, বরং প্রয়োজনের তাগিদে ওয়াজিব। এর মধ্যে আরও রয়েছে, যদি কেউ কোনো ফিকাহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীকে এমন কারো নিকট যাতায়াত করতে দেখে...
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫৬)
- إِلَى المبتدع أَو فَاسق يَأْخُذ عَنهُ الْعلم وَخَافَ أَن يتَضَرَّر المتفقه بذلك فنصحه بِبَيَان حَاله بِشَرْط أَن يَقْصِدهُ النصح وَلَا يحملهُ على ذَلِك الْحَسَد والاحتقار

أَن يكون مجاهرا بِفِسْقِهِ أَو بدعته فَيجوز ذكره بِمَا يُجَاهر بِهِ دون غَيره من الْعُيُوب

التَّعْرِيف كَأَن يكون الرجل مَعْرُوفا بِوَصْف يدل على عيب كالأعمش والأعرج والأصم والأعور والأحول وَغَيرهَا فَهَذِهِ سِتَّة أَسبَاب وَيلْحق بهَا غَيرهَا مِمَّا يناظها ويشابهها ودلائلها فِي كتب الحَدِيث مَشْهُورَة وَفِي كتب الْفَنّ مسطورة

‌‌ايقاظ فِي حُدُود الْجرْح الْجَائِز

 

لما كَانَ الْجرْح امرا صعبا فَأن فِيهِ حق الله مَعَ حق الْآدَمِيّ وَرُبمَا

বিদআতকারী (مبتدع) অথবা পাপাচারী (فاسق)-এর নিকট যদি কেউ জ্ঞান অর্জন করতে যায় এবং আশঙ্কা করা হয় যে, এর ফলে শিক্ষার্থীর ক্ষতি হবে, তবে তার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে উপদেশ প্রদান করা বৈধ; তবে শর্ত হলো, এর উদ্দেশ্য হতে হবে সদুপদেশ দান (نصح), এবং এটি যেন হিংসা বা অবজ্ঞাবশত না হয়।

যদি কেউ প্রকাশ্য পাপাচার (فسق) অথবা বিদআতে (بدعة) লিপ্ত হয়, তবে সে যে বিষয়টি প্রকাশ্যে করে তা উল্লেখ করা জায়েজ; কিন্তু তার অন্যান্য দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা যাবে না।

পরিচয় প্রদানের (تعريف) ক্ষেত্রে; যেমন কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো বিশেষণে পরিচিত হন যা আপাতদৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি নির্দেশ করে, যেমন: আমাশ (ঝাপসা দৃষ্টিসম্পন্ন), খোঁড়া, বধির, একচোখা, টেরা ইত্যাদি। এই হলো (গীবত জায়েজ হওয়ার) ছয়টি কারণ। এগুলোর সাথে সমজাতীয় ও সাদৃশ্যপূর্ণ অন্যান্য বিষয়গুলোও যুক্ত হবে। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি হাদিস গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রীয় কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

‌‌বৈধ জরাহ (جرح) বা সমালোচনার সীমানা প্রসঙ্গে সতর্কতা

 

যেহেতু জরাহ (جرح) বা সমালোচনা করা একটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়, কারণ এতে আল্লাহর হকের পাশাপাশি মানুষের হকও জড়িত থাকে, এবং কখনো...

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫৭)
- يُورث مَعَ قطع النّظر عَن الضَّرَر فِي الْآخِرَة ضَرَرا فِي الدُّنْيَا من المنافرة والمقت بَين النَّاس وانما جوز للضَّرُورَة الشَّرْعِيَّة حكمُوا بِأَنَّهُ لَا يجوز الْجرْح بِمَا فَوق الْحَاجة وَلَا الِاكْتِفَاء على نقل الْجرْح فَقَط فِيمَن وجد فِيهِ الْجرْح وَالتَّعْدِيل كِلَاهُمَا من النقاد وَلَا جرح من لَا يحْتَاج الى جرحه وَمنعُوا من جرح الْعلمَاء الَّذين لَا يحْتَاج اليهم فِي رِوَايَة الاحاديث بِلَا ضَرُورَة شَرْعِيَّة ولنذكر بعض عِبَارَات الْعلمَاء الدَّالَّة على مَا ذكرنَا قَالَ السخاوي فِي فتح المغيث بشرح الفيه الحَدِيث لَا يجوز التجريح بشيئين اذا حصل بِوَاحِد انْتهى وَقَالَ الذَّهَبِيّ

পরকালের ক্ষতির বিষয়টি বাদ দিলেও এটি দুনিয়াতে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি করে। মূলত শরয়ি প্রয়োজনের তাগিদেই একে বৈধ করা হয়েছে। আলেমগণ এই মর্মে ফয়সালা দিয়েছেন যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সমালোচনা (الجرح) করা বৈধ নয়। আর যার ব্যাপারে সমালোচকগণের (النقাদ) পক্ষ থেকে সমালোচনা (الجرح) এবং প্রশংসা (التعديل) উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে, তার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সমালোচনা (الجرح) বর্ণনা করাই যথেষ্ট নয়। অনুরূপভাবে, যার সমালোচনা (جرح) করার প্রয়োজন নেই, তার সমালোচনা করাও অনুচিত। আলেমগণ শরয়ি প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঐ সকল আলেমদের সমালোচনা (جرح) করতে নিষেধ করেছেন, যাদের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার স্বপক্ষে আলেমদের কিছু উক্তি এখানে তুলে ধরছি। সাখাভি 'ফাতহুল মুগিস বি-শারহি আলফিয়াতুল হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন: "যদি একটি বিষয় দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়, তবে দুটি বিষয় উল্লেখ করে দোষারোপ (التجريح) করা জায়েজ নয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এবং দাহাবি বলেছেন—

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫৮)
- فِي ميزَان الِاعْتِدَال كَذَلِك من تكلم فِيهِ من الْمُتَأَخِّرين لَا أورد مِنْهُم فِي هَذَا الْكتاب الا من تبين ضعفه واتضح امْرَهْ اذ الْعُمْدَة فِي زَمَاننَا لَيْسَ على الروَاة بل على الْمُحدثين

মিজানুল ইতিদাল গ্রন্থে একইভাবে পরবর্তী প্রজন্মের (المتأخرين) মধ্যে যাদের বিষয়ে সমালোচনা (تكلم فيه) করা হয়েছে, আমি এই গ্রন্থে তাদের মধ্য থেকে কেবল তাদেরই উল্লেখ করেছি যাদের দুর্বলতা (ضعف) সুস্পষ্ট হয়েছে এবং যাদের অবস্থা পরিষ্কার হয়েছে; কারণ আমাদের বর্তমান সময়ে নির্ভরতা বর্ণনাকারীদের (الرواة) ওপর নয়, বরং মুহাদ্দিসদের (المحدثين) ওপর।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৫৯)
- والمفيدين وَالَّذين عرفت عدالتهم وَصدقهمْ فِي ضبط اسماء السامعين
- এবং সেই সকল উপকারী পণ্ডিতগণ (المفيدين) এবং তাঁরা, যাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং শ্রোতাদের নাম যথাযথভাবে সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা (صدق) সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬০)
- ثمَّ من الْمَعْلُوم انه لَا بُد من صون الرَّاوِي وستره فالحد الْفَاصِل
- অতঃপর এটি সুবিদিত যে, বর্ণনাকারীর (راوي) মর্যাদা রক্ষা এবং তাঁর দোষ গোপন রাখা অপরিহার্য; সুতরাং চূড়ান্ত সীমারেখা (الحد الفاصل)
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬৪)
- بَين الْمُتَقَدّم والمتأخر هُوَ رَأس سنة ثَلَاث مئة انْتهى وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي رسَالَته الدوران الفلكي على ابْن الكركي عِنْد ذكر وُجُوه طعنة على معاصره السخاوي الثَّالِث انه الف تَارِيخا ملأَهُ بغيبة الْمُسلمين وَرمى فِيهِ عُلَمَاء الدّين باشياء اكثرها مِمَّا يكذب فِيهِ وَيَمِين فالفت المقامه الَّتِي سميتها الكاوي فِي تَارِيخ السخاوي نزهت فِيهَا اعراض النَّاس وهدمت مَا بناه فِي تَارِيخه الى الاساس انْتهى وَقَالَ السُّيُوطِيّ ايضا فِي رسَالَته الكاوي فِي تَارِيخ السخاوي الْغَرَض الان بَيَان خطئه فِيمَا ثلب بِهِ النَّاس وكشط مَا ضمنه فِي تَارِيخه بِالْقِيَاسِ فقد قَامَت الادلة فِي الْكتاب وَالسّنة على تَحْرِيم احتقار الْمُسلمين وَالتَّشْدِيد فِي غيبتهم بِمَا هُوَ صدق وَحقّ فضلا عَمَّا يكذب فِيهِ الْجَارِح وَيَمِين فان قَالَ لَا بُد من جرح الروَاة والنقلة وَذكر الْفَاسِق والمجروح من الحملة فَالْجَوَاب

পূর্ববর্তী (متقدم) এবং পরবর্তী (متأخر) আলেমদের মধ্যে বিভাজনরেখা হলো তিনশ হিজরি সনের শুরু; সমাপ্ত। আস-সুয়ুতি তার 'আদ-দাওরান আল-ফালাকি আলা ইবনিল কারাকি' নামক রিসালায় তার সমসাময়িক আস-সাখাভির সমালোচনার দিকগুলো উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: তৃতীয়ত, তিনি এমন এক ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তিনি মুসলিমদের পরনিন্দায় পরিপূর্ণ করেছেন এবং সেখানে দ্বীনের আলেমদের প্রতি এমন সব অপবাদ আরোপ করেছেন যার অধিকাংশই মিথ্যা ও মিথ্যা শপথের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমি 'আল-কাবি ফি তারিখিস সাখাভি' নামক মাকামাহ্ রচনা করেছি, যাতে আমি মানুষের সম্মান রক্ষা করেছি এবং তিনি তার ইতিহাস গ্রন্থে যা গড়েছিলেন তা ভিত্তি পর্যন্ত ধূলিসাৎ করে দিয়েছি; সমাপ্ত। আস-সুয়ুতি তার 'আল-কাবি ফি তারিখিস সাখাভি' নামক রিসালায় আরও বলেন: এখন উদ্দেশ্য হলো মানুষের মানহানি করার ক্ষেত্রে তার ভুলগুলো স্পষ্ট করা এবং অনুমানের ভিত্তিতে তিনি তার ইতিহাসে যা অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা অপসারিত করা। কেননা কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহ মুসলিমদের তুচ্ছজ্ঞান করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে এবং সত্য ও সঠিক প্রসঙ্গের ক্ষেত্রেও তাদের গিবত করার বিষয়ে কঠোরতাার নির্দেশ দিয়েছে; তাহলে সেই বিষয়ের অবস্থা কী হবে যাতে সমালোচনাদানকারী (جارح) মিথ্যাচার ও মিথ্যা শপথ করে! সুতরাং যদি বলা হয় যে, বর্ণনাকারীগণ (رواة) ও তথ্যবাহকদের সমালোচনা (جرح) করা এবং জ্ঞান বাহকদের মধ্যে যারা পাপাচারী (فاسق) ও সমালোচিত (مجروح) তাদের অবস্থা বর্ণনা করা আবশ্যক, তবে এর উত্তর হলো—

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬৫)
- اولا ان كثيرا مِمَّن جرحهم لَا رِوَايَة لَهُم فَالْوَاجِب فيهم شرعا ان يسكت عَن جرحهم ويهمله وَثَانِيا ان الْجرْح انما جوز فِي الصَّدْر حَيْثُ كَانَ الحَدِيث يُؤْخَذ من صُدُور الاحبار لَا من بطُون الاسفار فاحتيج اليه ضَرُورَة للذب عَن الاثار وَمَعْرِفَة المقبول والمردود من الاحاديث والاخبار واما الان فالعمدة على الْكتب الْمُدَوَّنَة غَايَة مَا فِي الْبَاب انهم شؤطوا لمن يذكر الان فِي سلسلة الاسناد تصونه وَثُبُوت سَمَاعه بِخَط من يصلح عَلَيْهِ الِاعْتِمَاد فاذا احْتِيجَ الان الى الْكَلَام فِي ذَلِك اكْتفي بَان يُقَال غير مصون اَوْ مَسْتُور وَبَيَان ان فِي سَمَاعه نوعا من التهور والزور واما مثل الائمة الاعلام ومشايخ الاسلام كالبلقيني والقاياتي والقلقشندي والمناوي وَمن سلك فِي جوادهم فاي وَجه للْكَلَام فيهم وَذكر مَا رماهم الشُّعَرَاء اهاجيهم انْتهى وَقَالَ السخاوي فِي فتح المغيث وَلذَا تعقب ابْن دَقِيق الْعِيد ابْن السَّمْعَانِيّ فِي ذكره بعض الشُّعَرَاء والقدح فِيهِ بقوله اذا لم يضْطَر فِيهِ الى الْقدح فِيهِ للرواية لم يجز وَنَحْوه قَول ابْن المرابط قد دونت الاخبار وَمَا بَقِي للتجريح فَائِدَة بل انقظعت على رَأس ارْبَعْ مئة انْتهى

প্রথমত, তিনি যাদের সমালোচনা (جرح) করেছেন তাদের অনেকেরই কোনো বর্ণনা (رواية) নেই; সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে শরয়ী বিধান হলো তাদের সমালোচনা (جرح) সম্পর্কে নীরব থাকা এবং তা উপেক্ষা করা। দ্বিতীয়ত, সমালোচনা (جرح) কেবল সেই প্রারম্ভিক যুগেই অনুমোদিত ছিল যখন হাদিস আলেমদের স্মৃতি থেকে গ্রহণ করা হতো, কিতাব থেকে নয়। ফলে আসার (آثار) সমূহের সুরক্ষা এবং হাদিস ও সংবাদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود) হাদিসসমূহকে চিহ্নিত করার অপরিহার্য প্রয়োজনে এর আবশ্যকতা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মূল নির্ভরতা হলো সংকলিত কিতাবসমূহের ওপর। এই বিষয়ের সর্বোচ্চ সীমা হলো এই যে, বর্তমানে সনদসূত্রের (سلسلة الاسناد) ধারায় যাদের নাম আসে, তাদের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরাম এই শর্তারোপ করেছেন যে, তারা যেন আত্মসংযমী হন এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হস্তাক্ষরে তাদের শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত থাকে। অতএব, বর্তমানে যদি এই প্রসঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন পড়ে, তবে এটুকুই যথেষ্ট যে, তাকে 'অসংরক্ষিত' অথবা 'অপ্রকাশিত' (مستور) বলা এবং এটি স্পষ্ট করা যে তার শ্রবণের (سماع) মধ্যে এক প্রকার হঠকারিতা ও মিথ্যার সংমিশ্রণ রয়েছে। আর বরেণ্য ইমামগণ এবং শাইখুল ইসলামগণ যেমন—আল-বুলকিনি, আল-কায়াতি, আল-কালকাশান্দি, আল-মুনাউয়ি এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাদের ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক কথা বলা এবং কবিরা তাদের প্রতি যে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা ছুঁড়ে মেরেছে তা উল্লেখ করার কী অবকাশ থাকতে পারে? (সমাপ্ত)। আল-সাখাবি ফাতহুল মুগিস গ্রন্থে বলেছেন: এই কারণেই ইবনে দাকিক আল-ইদ জনৈক কবির উল্লেখ ও তার প্রতি দোষারোপ (قدح) করার বিষয়ে ইবনে সামআনির সমালোচনা করে বলেছেন—'যদি বর্ণনার (رواية) প্রয়োজনে তার দোষারোপ (قدح) করার আবশ্যকতা না থাকে, তবে তা বৈধ নয়।' অনুরূপ বক্তব্য ইবনুল মুরাবিত-এর; তিনি বলেছেন: 'সংবাদসমূহ সংকলিত হয়ে গেছে এবং জারহ করার (تجريح) আর কোনো ফায়দা অবশিষ্ট নেই, বরং হিজরি চারশত বর্ষের প্রারম্ভেই এই ধারার সমাপ্তি ঘটেছে।' (সমাপ্ত)।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬৬)
- وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي مِيزَانه فِي تَرْجَمَة ابان من يزِيد الْعَطَّار قد اورده ايضا الْعَلامَة ابْن الْجَوْزِيّ فِي الضُّعَفَاء وَلم يذكر فِيهِ اقوال من وَثَّقَهُ وَهَذَا من عُيُوب كِتَابه يسْرد الْجرْح ويسكت عَن التوثيق انْتهى قلت هَذِه النُّصُوص لَعَلَّهَا لم تقرع صماخ افاضل عصرنا واماثل دَهْرنَا فان شيمتهم انهم حِين قصدهم بَيَان ضعف رِوَايَة ينقلون من كتب الْجرْح وَالتَّعْدِيل الْجرْح دون التَّعْدِيل فيوقعون الْعَوام فِي المغلطه لظنهم ان هَذَا الرواي عَار عَن تَعْدِيل الاجلة وَالْوَاجِب عَلَيْهِم ان ينقلوا الْجرْح وَالتَّعْدِيل كليهمَا ثمَّ يرجحوا حَسْبَمَا يلوح لَهُم احدهما ولعمري تِلْكَ شِيمَة مُحرمَة وخصلة مخرمَة وَمن عاداتهم السَّيئَة ايضا انهم كلما الفوا سفرا فِي تراجم الْفُضَلَاء

ইমাম আয-যাহাবি তাঁর 'মিযান' গ্রন্থে আবান ইবনে ইয়াযিদ আল-আত্তারের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন: আল্লামা ইবনুল জাওযিও তাঁকে 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে তিনি তাঁকে যারা নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন তাঁদের বক্তব্য উল্লেখ করেননি। আর এটি তাঁর কিতাবের অন্যতম ত্রুটি যে, তিনি কেবল সমালোচনা (الجرح) লিপিবদ্ধ করেন এবং নির্ভরযোগ্যতা (التوثيق) প্রদানের বিষয়ে নীরব থাকেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলি, এই বক্তব্যগুলো সম্ভবত আমাদের সময়ের বিদগ্ধজন এবং সমকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের কর্ণকুহরে পৌঁছেনি। কেননা তাঁদের স্বভাব এই যে, যখন তাঁরা কোনো বর্ণনার দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করতে চান, তখন তাঁরা জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে কেবল সমালোচনা (الجرح) টুকু গ্রহণ করেন এবং গুণগান (التعديل) বর্জন করেন। এর ফলে তাঁরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে নিপতিত করেন; কারণ সাধারণ মানুষ ধারণা করে যে, এই বর্ণনাকারী সম্ভবত বরেণ্য ইমামগণের পক্ষ থেকে কোনো গুণগান (تعديل) লাভ করেননি। অথচ তাঁদের ওপর আবশ্যক হলো সমালোচনা (الجرح) এবং গুণগান (التعديل) উভয়ই বর্ণনা করা, অতঃপর তাঁদের নিকট যেটি সঠিক মনে হয় সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া। আমার জীবনের শপথ! এটি একটি নিষিদ্ধ স্বভাব এবং মর্যাদাহানিকর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাঁদের আরও একটি মন্দ অভ্যাস হলো এই যে, যখনই তাঁরা বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করেন...

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬৭)
- ملأوه بِمَا يستنكف عَنهُ النبلاء فَذكرُوا فِيهِ المعايب والمثالب تَرْجَمَة من هُوَ عِنْدهم من الْمَجْرُوحين المقبوحين وان كَانَ جَامعا للمفاخر والمناقب وَهَذَا من اعظم المصائب تفْسد بِهِ ظنون الْعَوام وتسري بِهِ الاوهام فِي الاعلام وَمن عاداتهم الخبيثة انهم كلموا ناظروا وَاحِدًا من الافاضل فِي مسالة من الْمسَائِل توجهوا الى جرحه بافعاله الذاتية وَبَحَثُوا عَن اعماله العرضية وخلطوا الف كذبات بِصدق وَاحِد وفتحوا لِسَان الطعْن عَلَيْهِ بِحَيْثُ يتعجب مِنْهُ كل ساجد وغرضهم مِنْهُ اسكات مخاصمهم بالسب والشتم والنجاة من تعقب مقابلهم بِالتَّعَدِّي وَالظُّلم بِجعْل المناظرة مشاتمة والمباحثة مخاصمة وَقد نبهت على قبح هَذِه الْعَادَات باوضح الْحجَج والبينات فِي رسالتي تذكرة الراشد برد تبصرة النَّاقِد

‌‌ايقاظ - - فِي شَرط الْجَارِح والمعدل

يشْتَرط فِي الْجَارِح والمعدل الْعلم وَالتَّقوى والورع والصدق والتجنب عَن التعصب وَمَعْرِفَة اسباب الْجرْح والتزكية وَمن لَيْسَ كَذَلِك لَا يقبل مِنْهُ الْجرْح وَلَا التَّزْكِيَة
তারা এটিকে এমন সব বিষয় দ্বারা পূর্ণ করেছে যা সজ্জন ব্যক্তিরা পরিহার করেন। তারা এতে তাদের দৃষ্টিতে যারা সমালোচিত (مجروح) ও মন্দ সাব্যস্ত, তাদের জীবনীতে দোষ ও ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করেছে; যদিও সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব ও মহৎ গুণাবলির অধিকারী হন না কেন। এটি এক চরম বিপদ, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ধারণা কলুষিত হয় এবং বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তাদের একটি জঘন্য অভ্যাস হলো এই যে, তারা যখন কোনো মাসআলা নিয়ে কোনো বরেণ্য আলিমের সাথে আলোচনা বা বিতর্ক করে, তখন তারা তার ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমে তাকে সমালোচনা (جرح) করার দিকে মনোনিবেশ করে এবং তার গৌণ কার্যাবলি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়। তারা একটি সত্যের সাথে হাজারো মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায় এবং তার বিরুদ্ধে অপবাদের (طعن) এমন দুয়ার উন্মোচন করে যা দেখে প্রতিটি ইবাদতকারী ব্যক্তি বিস্মিত হয়। তাদের উদ্দেশ্য হলো গালিগালাজের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চুপ করিয়ে দেওয়া এবং সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের মাধ্যমে বিরোধিতাকারীর প্রভাব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া; যার ফলে তারা বিতর্ককে গালিগালাজে এবং আলোচনাকে বিবাদে রূপান্তর করে। আমি এই কদর্য অভ্যাসগুলোর ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে আমার রিসালা তাযকিরাতুর রাশিদ বি-রাদ্দি তাবসিরাতিন নাকিদ-এ সতর্ক করেছি।

‌‌সতর্কীকরণ - - জারেহ (جارح) এবং মুয়াদদিল (معدل)-এর শর্তাবলি প্রসঙ্গে

জারেহ (جارح) এবং মুয়াদদিল (معدل)-এর জন্য জ্ঞান, তাকওয়া, পরহেযগারি, সত্যবাদিতা, পক্ষপাতিত্ব বর্জন এবং সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা বা সত্যয়ন (تزكية)-এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া শর্ত। যার মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান নেই, তার পক্ষ থেকে কোনো সমালোচনা (جرح) কিংবা প্রশংসা (تزكية) গ্রহণযোগ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬৮)
- قَالَ التَّاج السُّبْكِيّ من لَا يكون عَالما باسبابهما أَي الْجرْح وَالتَّعْدِيل لَا يقبلُونَ مِنْهُ لَا باطلاق وَلَا بتقييد انْتهى وَقَالَ الْبَدْر بن جمَاعه من لَا يكون عَالما بالاسباب لَا يقبل مِنْهُ جرح وَلَا تَعْدِيل لَا بالاطلاق وَلَا بالتقييد انْتهى وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي شرح نخبته ان صدر الْجرْح من غير عَارِف باسبابه لم يعْتَبر بِهِ وَقَالَ ايضا تقبل التَّزْكِيَة من عَارِف باسبابها لَا من غير عَارِف وَيَنْبَغِي ان لَا يقبل الْجرْح الا من عدل متيقظ انْتهى وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة ابي بكر الصّديق من كِتَابه تذكرة الْحفاظ
তাজ সুবকী বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দুটির কারণ অর্থাৎ জরাহ (الجرح) ও তায়দিল (التعديل) সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না, উলামাগণ তাঁর থেকে কোনো বক্তব্যই গ্রহণ করেন না; তা নিরঙ্কুশভাবে (إطلاق) হোক কিংবা শর্তযুক্তভাবে (تقييد)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) বদর ইবন জামা'আহ বলেছেন, যে ব্যক্তি কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত নন, তাঁর পক্ষ থেকে জরাহ (جرح) কিংবা তায়দিল (تعديل) কবুল করা হবে না; তা নিরঙ্কুশভাবে (إطلاق) হোক কিংবা শর্তযুক্তভাবে (تقييد)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) হাফিজ ইবন হাজার তাঁর শারহু নুখবাহ গ্রন্থে বলেছেন, যদি জরাহ (الجرح) এমন কারো পক্ষ থেকে প্রকাশ পায় যে এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত নয়, তবে তা আমলে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেছেন, তাজকিয়াহ বা চারিত্রিক শুদ্ধতা বর্ণনা (التزكية) কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই গ্রহণ করা হবে যিনি এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত, অনভিজ্ঞ কারো থেকে নয়। এবং জরাহ (الجرح) কেবল একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও সজাগ (متيقظ) ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো থেকে গ্রহণ করা সমীচীন নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) আয-যাহাবী তাঁর তাযকিরাতুল হুফফায গ্রন্থে আবু বকর সিদ্দীকের জীবনীতে বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৬৯)
- حق على الْمُحدث ان يتورع فِيمَا يؤدبه وان يسال اهل الْمعرفَة والورع ليعينوه على ايضاح مروياته وَلَا سَبِيل الى ان يصير الْعَارِف الَّذِي يُزكي نقلة الاخبار ويجرحهم جهيذا الا بادمان الطّلب والفحص عَن هَذَا الشان وَكَثْرَة المذاكرة والسهر والتيقظ والفهم مَعَ التَّقْوَى وَالدّين المتين والانصاف والتردد الى الْعلمَاء والاتقان والا تفعل فدع عَنْك الْكِتَابَة لست مِنْهَا وَلَو سودت وَجهك بالمداد فان انست من نَفسك فهما وصدقا ودينا وورعا والا فَلَا تفعل وان غلب عَلَيْك الْهوى والعصبية لرأي ولمذهب فبالله لَا تتعب وان عرفت انك مخلط مخبط مهمل لحدود الله فارحنا مِنْك انْتهى وَفِي فواتح الرحموت شرح مُسلم الثُّبُوت لَا بُد للمزاكي ان يكون عدلا عَارِفًا باسباب الْجرْح وَالتَّعْدِيل وان يكون منصفا ناصحا لَا ان يكون متعصبا ومعجبا بِنَفسِهِ فانه لَا اعْتِدَاد بقول المتعصب كَمَا
একজন হাদিস বর্ণনাকারীর (محدث) জন্য আবশ্যিক হলো তিনি যা শিক্ষা প্রদান করেন সে বিষয়ে পরহেজগার হওয়া এবং এ শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ও খোদাভীরু ব্যক্তিদের নিকট জিজ্ঞাসা করা, যাতে তারা তাকে তার বর্ণিত বিষয়সমূহ (مروياته) স্পষ্ট করতে সাহায্য করতে পারেন। আর সংবাদ (হাদিস) বাহকদের সত্যায়ন (تزكية) এবং তাদের ত্রুটি বর্ণনা (جرح) করার মতো পারদর্শী বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে ওঠার কোনো পথ নেই—ইলম অর্জনে গভীর মগ্নতা, এ বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ, অধিক হারে মুজাকারা (ইলমি আলোচনা), রাত্রি জাগরণ, সতর্কতা ও বোধশক্তির সাথে সাথে তাকওয়া, সুদৃঢ় দ্বীনদারি, ইনসাফ, উলামায়ে কেরামের সান্নিধ্য এবং নিখুঁত দক্ষতা অর্জন ব্যতীত। যদি তুমি তা করতে না পারো, তবে হাদিস লেখা বর্জন করো; তুমি এর উপযুক্ত নও, যদিও তুমি কালির দ্বারা তোমার মুখমণ্ডল কালো করে ফেলো। যদি তুমি নিজের মাঝে প্রজ্ঞা, সত্যবাদিতা, দ্বীনদারি ও পরহেজগারি অনুভব করো (তবেই এ কাজে অগ্রসর হও), অন্যথায় করো না। আর যদি তোমার ওপর প্রবৃত্তি এবং কোনো মত বা মাযহাবের প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রবল হয়, তবে আল্লাহর কসম, তুমি বৃথা শ্রম দিয়ো না। আর যদি তুমি জানো যে তুমি বিষয়বস্তু গুলিয়ে ফেলো (مخلط), নিয়মশৃঙ্খলহীন এবং আল্লাহর সীমাসমূহ লঙ্ঘনকারী, তবে আমাদের তোমার থেকে নিষ্কৃতি দাও। সমাপ্ত। আর মুসাল্লাম আস-সুবুত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাওয়াদিহুর রাহমুত-এ বর্ণিত হয়েছে: বর্ণনাকারীদের সত্যায়নকারীর (مزاكي) জন্য অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ (عدل) হওয়া এবং জারহ ও তা'দিলের (الجرح والتعديل - দোষারোপ ও গুণাবলি বর্ণনা) কারণসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হওয়া অপরিহার্য। সেইসাথে তাকে ইনসাফকারী ও হিতাকাঙ্ক্ষী হতে হবে; পক্ষপাতদুষ্ট এবং আত্মমুগ্ধ হওয়া চলবে না। কেননা, পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, যেমনটি...
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭০)
- قدح الدَّارَقُطْنِيّ فِي الامام الْهمام ابي حنيفَة رضي الله عنه بانه ضَعِيف فِي الحَدِيث واي شناعة فَوق هَذَا فانه امام ورع تَقِيّ نقي خَائفًا من الله وَله كرامات شهيرة فَبِأَي شَيْء تطرق اليه الضَّعِيف فَتَارَة يَقُولُونَ انه كَانَ مشتغلا بالفقه انْظُر بالانصاف أَي قبح فِيمَا قَالُوا بل الْفَقِيه اولى بَان يُؤْخَذ الحَدِيث مِنْهُ وَتارَة يَقُولُونَ انه لم يلاق ائمة الحَدِيث انما اخذ مَا اخذ من حَمَّاد وَهَذَا ايضا بَاطِل فانه روى عَن كثير من الائمة كالامام مُحَمَّد الباقر والاعمش وَغَيرهمَا مَعَ ان حمادا كَانَ وعَاء للْعلم فالاخذ مِنْهُ اغناه عَن الاخذ عَن غَيره وَهَذَا ايضا آيَة على ورعه وَكَمَال تقواه وَعلمه فانه لم

ইমাম দারা কুতনী মহান ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف)। এর চেয়ে জঘন্য অপবাদ আর কী হতে পারে? অথচ তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ, মুত্তাকী, পবিত্র ও আল্লাহভীরু ইমাম এবং তাঁর বহু সুপ্রসিদ্ধ কারামত রয়েছে। সুতরাং কোন বিষয়ের প্রেক্ষিতে তাঁর প্রতি দুর্বলতা (ضعيف) আরোপ করা হয়? কখনও তারা বলেন যে, তিনি ফিকহ চর্চায় নিমগ্ন ছিলেন। ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখুন, তাদের এই বক্তব্য কতটা জঘন্য! বরং একজন ফকিহ-ই হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর যোগ্য। আবার কখনও তারা বলেন যে, তিনি হাদিসের ইমামগণের সাথে সাক্ষাৎ করেননি, বরং তিনি কেবল হাম্মাদ থেকেই ইলম অর্জন করেছেন। তাদের এই দাবিও বাতিল (باطل); কারণ তিনি ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির, আ’মাশ এবং আরও অনেকের মতো বহু ইমাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া হাম্মাদ নিজেই ইলমের এক বিশাল আধার ছিলেন, ফলে তাঁর সান্নিধ্য অন্য কারও কাছ থেকে ইলম অর্জনের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছিল। এটিও তাঁর পরহেজগারি, তাকওয়ার পূর্ণতা এবং ইলমের একটি নিদর্শন; কেননা তিনি...

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭১)
- يكثر الاساتذه لِئَلَّا تتكثر الْحُقُوق فيخاف عَجزه عَن ايفائها وَتارَة يَقُولُونَ انه كَانَ من اصحاب الْقيَاس والرأي
  • তিনি উস্তাদদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন না যাতে হকসমূহ বৃদ্ধি না পায়, ফলে তিনি সেগুলো আদায়ে নিজের অক্ষমতার আশঙ্কা করেন; আর কখনও কখনও তারা বলেন যে, তিনি কিয়াস (القياس) এবং রায় (الرأي) পন্থীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭৩)
- وَكَانَ لَا يعْمل بِالْحَدِيثِ حَتَّى وضع ابي بكر بن ابي شيبَة فِي كِتَابه بَابا للرَّدّ عَلَيْهِ تَرْجَمَة بَاب الرَّد على ابي حنيفَة
- এবং তিনি হাদিস অনুযায়ী আমল করতেন না, যতক্ষণ না আবু বকর বিন আবি শায়বাহ তাঁর কিতাবে তাঁর প্রতি খণ্ডন (الرد) করার উদ্দেশ্যে একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেন, যার শিরোনাম (ترجمة) ছিল ‘আবু হানিফার প্রতি খণ্ডন (الرد على أبي حنيفة) বিষয়ক অধ্যায়’।
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭৪)
- وَهَذَا ايضا من التعصب كَيفَ وَقد قبل الْمَرَاسِيل

এবং এটিও এক প্রকার পক্ষপাতিত্ব (تعصب); এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ তিনি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছেন?

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭৬)
- وَقَالَ مَا جَاءَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فبالرأس وَالْعين وَمَا جَاءَ عَن اصحابه فَلَا اتركه وَلم يخصص بِالْقِيَاسِ عَام خبر الْوَاحِد فضلا عَن عَام الْكتاب وَلم يعْمل بالاخالة والمصالح الْمُرْسلَة وَالْعجب انهم طعنوا فِي هَذَا الامام مَعَ قبولهم الامام الشَّافِعِي رحمه الله وَقد قَالَ فِي اقوال الصَّحَابَة وَكَيف اتمسك بقول من لَو كنت فِي عصره لحاججته ورد الْمَرَاسِيل وخصص عَام الْكتاب بِالْقِيَاسِ وَعمل بالاخالة وَهل هَذَا الا بهت من هَؤُلَاءِ الطاعنين وَالْحق ان الاقوال الَّتِي صدرت عَنْهُم فِي حق الامام الْهمام كلهَا صدرت من التعصب لَا تسْتَحقّ ان يلْتَفت اليها وَلَا ينطفىء نور

তিনি বলেছেন, “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা শিরোধার্য; আর যা তাঁর সাহাবীদের থেকে এসেছে, তাও আমি বর্জন করি না।” তিনি কিয়াস (قياس) এর মাধ্যমে একক বর্ণনা (خبر الواحد) এর সাধারণ (عام) বিধানকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করেননি, কিতাবুল্লাহর সাধারণ (عام) বিধানকে তো করার প্রশ্নই আসে না। তিনি ইখালাহ (الاخالة) এবং জনকল্যাণ (المصالح المرسلة) অনুযায়ী আমল করেননি। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তারা এই ইমামের নিন্দা করেন অথচ তারা ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে গ্রহণ করেন; অথচ তিনি (ইমাম শাফিঈ) সাহাবীদের বক্তব্য সম্পর্কে বলেছেন, “আমি এমন ব্যক্তির বক্তব্যকে কীভাবে আঁকড়ে ধরব, যার সমসাময়িক হলে আমি তার সাথে বিতর্ক করতাম?” তিনি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কিতাবুল্লাহর সাধারণ (عام) বিধানকে কিয়াস (قياس) এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট (تخصيص) করেছেন এবং ইখালাহ (الاخالة) এর ওপর আমল করেছেন। এটি কি সেই সমালোচনাকারীদের পক্ষ থেকে অপবাদ ছাড়া আর কিছু? প্রকৃত সত্য এই যে, এই মহান ইমামের ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে যে সকল উক্তি প্রকাশিত হয়েছে, তার সবই গোঁড়ামি ও পক্ষপাতিত্ব থেকে উদ্ভূত; এগুলো মোটেও ভ্রুক্ষেপ করার যোগ্য নয় এবং এই নূর কখনো নির্বাপিত হবে না।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭৭)
- الله بافواههم فاحفظ وَتثبت انْتهى وَفِي تنوير الصحيفه بمناقب الامام ابي حنيفَة لَا تغتر الْخَطِيب فان عِنْده العصبية الزَّائِدَة على جمَاعَة من الْعلمَاء كابي حنيفَة وَاحْمَدْ وَبَعض اصحابه وتحامل عَلَيْهِم بِكُل وَجه وصنف فِيهِ بَعضهم السهْم الْمُصِيب فِي كبد الْخَطِيب واما ابْن الْجَوْزِيّ فقد
- আল্লাহ তাঁদের মুখের মাধ্যমে (সত্য প্রকাশ করেছেন), সুতরাং তা সংরক্ষণ করুন এবং যাচাই-বাছাই (تثبت) করুন। (উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। আর 'তানউয়ির আস-সাহীফাহ বি-মানাকিব আল-ইমাম আবি হানিফা' গ্রন্থে রয়েছে যে, খতিব (আল-বাগদাদি)-এর ব্যাপারে বিভ্রান্ত হবেন না; কারণ ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমদ এবং তাঁদের অনুসারীদের একদলের প্রতি তাঁর চরম গোঁড়ামি (العصبية) ছিল এবং তিনি সকল দিক থেকে তাঁদের প্রতি বিরূপ মনোভাব (تحامل) পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁদের কেউ কেউ 'আস-সাহম আল-মুসীব ফী কাবিদিল খতিব' নামক গ্রন্থ রচনা করেছেন। আর ইবনুল জাওযীর ব্যাপারে বলা যায় যে—
(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭৮)
- تَابع الْخَطِيب وَقد عجب سبطه مِنْهُ حَيْثُ قَالَ فِي مرْآة الزَّمَان وَلَيْسَ العجيب من الْخَطِيب فان طعن فِي جمَاعَة من الْعلمَاء وانما الْعجب من الْجد كَيفَ سلك اسلوبه وَجَاء بِمَا هُوَ اعظم انْتهى قلت الْحَاصِل انه اذا علم بالقرائن المقالية اَوْ الحالية ان الْجَارِح طعن على اُحْدُ بِسَبَب تعصب مِنْهُ عَلَيْهِ لَا يقبل مِنْهُ ذَلِك الْجرْح وان علم انه ذُو تعصب على جمع من الاكابر ارْتَفع الامان عَن جرحه وعد من اصحاب الْقرح وَسَيَأْتِي لهَذَا مزِيد بسط فِي المرصد الرَّابِع ان شَاءَ الله فانتظره مفتشا

তিনি আল-খতিবকে অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর দৌহিত্র এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন; যেখানে তিনি ‘মিরআতুয যামান’-এ বলেছেন: আল-খতিবের ক্ষেত্রে বিস্ময়ের কিছু নেই, কারণ তিনি একদল আলেমের সমালোচনা (طعن) করেছেন। বরং বিস্ময় তো দাদাজানের ব্যাপারে, কীভাবে তিনি তাঁর পথ অবলম্বন করলেন এবং এমন কিছু নিয়ে এলেন যা আরও গুরুতর। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলি, সারকথা হলো: যখন বাচনিক বা পারিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কোনো সমালোচনাকারী (الجارح) কারও প্রতি বিদ্বেষবশত তাঁর সমালোচনা (طعن) করেছেন, তখন তাঁর পক্ষ থেকে সেই সমালোচনা (الجرح) গ্রহণ করা হবে না। আর যদি জানা যায় যে, তিনি একদল মহান মনীষীর প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন, তবে তাঁর সমালোচনা (الجرح) থেকে নির্ভরযোগ্যতা অপসারিত হবে এবং তাঁকে ক্ষত সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে। ইনশাআল্লাহ, চতুর্থ পর্যবেক্ষণস্থলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে; অতএব তা অনুসন্ধিৎসু হয়ে প্রতীক্ষা করুন।

(খণ্ড: ১) আর-রাফউ ওয়াত-তাকমীল (পৃষ্ঠা: ৭৯)
-‌‌ المرصد الاول

 

‌‌فِيمَا يقبل من الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَمَا لَا يقبل مِنْهُمَا وتفصيل الْمُفَسّر والمبهم فيهمَا

 

اعْلَم ان التَّعْدِيل وَكَذَا الْجرْح قد يكون مُفَسرًا وَقد يكون مُبْهما فَالْأول مَا يذكر فِيهِ الْمعدل أَو الْجَارِح السَّبَب وَالثَّانِي مَا لَا يبين السَّبَب فِيهِ

وَاخْتلفُوا بَعْدَمَا اتَّفقُوا على قبُول الْجرْح وَالتَّعْدِيل الْمُفَسّرين بشروطهما الْمَذْكُورَة فِي مَوْضِعه وَقد مر ذكر بَعْضهَا وَسَيَأْتِي ذكر بَعْضهَا فِي قبُول الْجرْح الْمُبْهم وَالتَّعْدِيل الْمُبْهم على أَقْوَال

انه يقبل التَّعْدِيل من غير ذكر سَببه لِأَن أَسبَابه كَثِيرَة فيثقل ذكرهَا فان ذَلِك حوج الْمعدل إِلَى أَن يَقُول لَيْسَ يفعل كَذَا وَلَا كَذَا ويعد مَا يجب تَركه وَيفْعل كَذَا وَكَذَا فيعد مَا يجب عَلَيْهِ فعله واما الْجرْح
প্রথম পর্যবেক্ষণ (المرصد)

 

সমালোচনা (جرح) ও সচ্চরিত্রায়ন (تعديل)-এর মধ্য হতে যা গ্রহণযোগ্য ও যা অগ্রহণযোগ্য এবং এতদুভয়ের ক্ষেত্রে বিস্তারিত (مفسر) ও অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়ের বিবরণ প্রসঙ্গে

 

জেনে রাখুন যে, সচ্চরিত্রায়ন (تعدিল) এবং অনুরূপভাবে সমালোচনা (جرح) কখনো বিস্তারিত (مفسر) হতে পারে, আবার কখনো অস্পষ্ট (مبهم) হতে পারে। প্রথম প্রকারটি হলো যাতে সচ্চরিত্রায়নকারী (معدل) বা সমালোচনাকারী (جارح) কারণ উল্লেখ করেন; আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যাতে কারণ স্পষ্ট করা হয় না।

যথাযথ স্থানে বর্ণিত শর্তানুসারে বিস্তারিত (مفسر) সমালোচনা (جرح) ও বিস্তারিত (مفسر) সচ্চরিত্রায়ন (تعدিল) গ্রহণের ব্যাপারে একমত হওয়ার পর, অস্পষ্ট (مبهم) সমালোচনা (جرح) ও অস্পষ্ট (مبهم) সচ্চরিত্রায়ন (تعدিল) গ্রহণের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এর কিছু বিবরণ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং কিছু সামনে আসবে।

মতটি হলো: কারণ উল্লেখ করা ছাড়াই সচ্চরিত্রায়ন (تعديل) গ্রহণ করা হবে, কারণ এর কারণসমূহ অসংখ্য বিধায় সেগুলো উল্লেখ করা দুরূহ। কেননা এটি সচ্চরিত্রায়নকারীকে (معدل) একথার মুখাপেক্ষী করে তুলবে যে, সে বলবে—সে অমুক কাজ করে না, অমুক কাজ করে না এবং এভাবে বর্জনীয় বিষয়গুলো গণনা করবে; আর সে অমুক অমুক কাজ করে এবং এভাবে তার ওপর যা করা আবশ্যক তা গণনা করবে। পক্ষান্তরে সমালোচনা (جرح)-এর বিষয়টি...