(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
التقريرات السنية شرح المنظومة البيقونية في مصطلح الحديث   (حسن بن محمد مشاط)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: التقريرات السنية شرح المنظومة البيقونية في مصطلح الحديث

المؤلف: حسن بن محمد المشاط المالكي (ت 1399هـ)

المحقق: فواز أحمد زمرلي

الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت - لبنان

الطبعة: الرابعة، 1417هـ - 1996م

عدد الصفحات: 121

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদিস   (হাসান বিন মুহাম্মদ মাশশাত)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: আত-তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদিস

লেখক: হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাশশাত আল-মালিকি (মৃ. ১৩৯৯ হি.)

সম্পাদক: ফাওয়াজ আহমদ জুমারলি

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

حمدا لمن نضر وُجُوه أهل الحَدِيث وَجعل مكانتهم عالية فِي الْقَدِيم والْحَدِيث وأصلي وَأسلم على سيدنَا مُحَمَّد مَرْفُوع الْمقَام وعَلى آله وَأَصْحَابه الَّذين عز بهم الاسلام

أما بعد فَهَذِهِ التقريرات السّنيَّة فِي شرح الْمَنْظُومَة البيقونية فِي مصطلح الحَدِيث دعت الْحَاجة إِلَى جمعهَا لناشئة الْعَصْر لَا سِيمَا ابناء مدرستنا الصولتية لتَكون لَهُم عونا فِي فهم مَا أشكل ومنهجا وَاضحا لما فَوْقهَا من المطول راجيا من الله تَعَالَى أَن يقرن ذَلِك بِالْقبُولِ ويجعله من الْعَمَل الْخَالِص الْموصل للمأمول وَمَا وجدت أَيهَا النَّاظر فِي ذَلِك من صَوَاب فَمن الله مجزل الْعَطاء أَو من خطأ فَمن قصوري وَأَنا الحري بالْخَطَأ

وَبِاللَّهِ اعتمادي وَإِلَيْهِ استنادى قَالَ النَّاظِم رَحمَه الله
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার জন্য, যিনি আহলুল হাদিসগণের মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করেছেন এবং প্রাচীন ও আধুনিক সর্বকালে তাঁদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন। আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর, যাঁর মর্যাদা সুউন্নত (مرفوع) এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যাঁদের মাধ্যমে ইসলাম শক্তিশালী হয়েছে।

অতঃপর, হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত 'মানযুমা আল-বাইকুনিয়া'-এর ব্যাখ্যা হিসেবে এই 'তাকরীরাত আস-সুন্নিয়্যাহ' নামক আলোচনাগুলো বর্তমান সময়ের নতুন প্রজন্মের জন্য, বিশেষ করে আমাদের মাদরাসা সওলাতিয়াহ-এর ছাত্রদের জন্য সংকলন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এটি যেন তাদের কাছে জটিল বিষয়গুলো বুঝতে সহায়ক হয় এবং এর পরবর্তী বিশদ (مطول) গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট পথনির্দেশক হয়। মহান আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যেন তিনি একে কবুলিয়াতের সাথে যুক্ত করেন এবং একে এমন একনিষ্ঠ আমল হিসেবে গ্রহণ করেন যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। হে পাঠক, এতে আপনি যা সঠিক পাবেন তা মহান দাতা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যা ভুল পাবেন তা আমার সীমাবদ্ধতার কারণে, আর আমিই ভুলের জন্য অধিক যোগ্য।

আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই প্রতি আমার নির্ভরতা। গ্রন্থকার (নাজিম), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, বলেন—
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

ابدأ منظومتى بدءا إضافيا بِالْحَمْد لله تَعَالَى اقْتِدَاء بِالْكتاب الْعَزِيز وَعَملا بقوله صلى الله عليه وسلم كل امْر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِالْحَمْد لله فَهُوَ أقطع رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَغَيره وَحسنه ابْن الصّلاح مُصَليا أَي أُصَلِّي حَال كوني مُصَليا فَهِيَ حَال مُؤَكدَة حذف عاملها أَي وَمُسلمًا على سيدنَا مُحَمَّد خير نَبِي أرسلا بِأَلف الاطلاق أَي أرسل لعُمُوم الْخلق وَبعد ابتدائي بالبسملة وَالْحَمْد وَالصَّلَاة فَأَقُول وَذي أَي الْمسَائِل الْآتِي ذكرهَا حَال كَونهَا من أَقسَام الحَدِيث عدَّة قدرهَا اثْنَان وَثَلَاثُونَ مِنْهَا مَا يخْتَص بِالْمَتْنِ كالمرفوع وَمِنْهَا مَا يخْتَص بالسند كالعالي والنازل وَمِنْهَا مَا يرجع لَهما كَالصَّحِيحِ وَالْحسن وَهُوَ علم بقواعد يعرف بهَا أَحْوَال السَّنَد والمتن من صِحَة وَحسن وَضعف

وموضوعه الرَّاوِي والمروي من حَيْثُ الْقبُول وَالرَّدّ

وَفَائِدَته معرفَة مَا يقبل وَمَا يرد

وَأَرَادَ بالاقسام مَا يَشْمَل الْأَنْوَاع لِأَن أَقسَام الحَدِيث محصورة فِي الثَّلَاثَة وَوجه الْحصْر أَن الحَدِيث إِمَّا أَن يشْتَمل من أَوْصَاف الْقبُول على أَعْلَاهَا فَالصَّحِيح أَو على أدناها فالحسن أَو لم يشْتَمل عَلَيْهِمَا فالضعيف

وكل وَاحِد من هَذِه الْأَقْسَام أَتَى أَي يَأْتِي فِي النّظم وَحده بِالدَّال الْمُشَدّدَة الْمَفْتُوحَة أَي مَعَ حَده وتعريفه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি মহান আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে আমার কাব্যগ্রন্থের আনুষঙ্গিক সূচনা করছি। এটি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের অনুসরণ এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর ওপর আমল করার লক্ষ্যে; তিনি বলেছেন: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা কল্যাণহীন।" এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুস সালাহ একে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আমি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠরত অবস্থায় এটি শুরু করছি, যিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। 'আলিফ আল-ইতলাক' যোগে 'আর্সালা' বলা হয়েছে, অর্থাৎ তাঁকে সমগ্র সৃষ্টির প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। বাসমালাহ, হামদ এবং দরুদ পাঠের মাধ্যমে সূচনার পর আমি বলছি: নিম্নে বর্ণিত মাসয়ালাসমূহ হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের অন্তর্গত যার সংখ্যা বত্রিশটি। এর মধ্যে কিছু প্রকার মতন (متن)-এর সাথে নির্দিষ্ট, যেমন: মারফু (مرفوع)। আবার কিছু প্রকার সনদ (سند)-এর সাথে নির্দিষ্ট, যেমন: সুউচ্চ সনদ (عالي) এবং নিম্ন সনদ (نازل)। আবার কিছু প্রকার সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن)। এটি এমন এক মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর অবস্থা যেমন—বিশুদ্ধতা (صحة), হাসান (حسن) হওয়া এবং দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

এর আলোচ্য বিষয় হলো বর্ণনাকারী (راوي) এবং বর্ণিত বিষয় (مروي) - যা মূলত গ্রহণযোগ্যতা এবং বর্জনযোগ্যতার নিরিখে আলোচিত হয়।

এর উপকারিতা হলো কোনটি গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনীয় তা নিরূপণ করা।

এখানে 'আকসাম' বা প্রকারভেদ বলতে সকল শ্রেণীবিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ হাদিসের মূল প্রকার হলো তিনটি। এই সীমাবদ্ধতার যৌক্তিক কারণ হলো, হাদিস হয় গ্রহণের গুণাবলীর সর্বোচ্চ স্তরে থাকবে—যা সহিহ (صحيح); অথবা নিম্নস্তরে থাকবে—যা হাসান (حسن); আর যদি কোনোটিই বিদ্যমান না থাকে, তবে তা দুর্বল (ضعيف)।

এই প্রকারগুলোর প্রত্যেকটিই কাব্যে তাদের সংজ্ঞাসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে 'ওয়াহদাহু' শব্দটি দাল বর্ণে তাশদিদ ও জবর যোগে গঠিত, যার অর্থ হলো এর সংজ্ঞা ও পরিচয়সহ।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الحَدِيث الصَّحِيح

 

أَولهَا أَي الاقسام الصَّحِيح لذاته الْمجمع على صِحَّته عِنْدهم وَهُوَ أَي حد الصَّحِيح الْمَذْكُور مَا أَي متن اتَّصل اسناده أَي اسناد ذَلِك الْمَتْن بِأَن يكون قد رَوَاهُ كل من رِجَاله عَن شَيْخه من أول السَّنَد الى آخِره فَخرج الْمُرْسل والمنقطع والمعضل وَالْمُعَلّق الصَّادِر مِمَّن لم يشْتَرط الصحه

وَاعْلَم ان الاسناد هُوَ الاخبار عَن طَرِيق الْمَتْن كالسند وَقبل السَّنَد نفس الطَّرِيق وَلَا يُقَال لكل وَاحِد من رَوَاهُ الحَدِيث على انْفِرَاده سَنَد بل لسلسلة الرواه لِأَن السَّنَد يَتَّصِف بِمَا لايتصف بِمَا لَا يَتَّصِف بة الْوَاحِد من الِاتِّصَال والانقطاع وَنَحْوهمَا فاحفظ وَالْحَال انه ام يشذ أَو يعل بالبناءللمجهول فبهما أَي لم يدْخلهُ شذوذ وَلَا عله قادحه فِي صحه الحَدِيث والشذوذ مخالفه الثقه لمن هُوَ أوثق مِنْهُ وَلَا فرق بَين العله الظاهره كالفسق وَسُوء الْحِفْظ والخفيه كالوقف فِي الحَدِيث الْمَرْفُوع يرويهِ عدل فِي الروايه وَهُوَ الْمُسلم الْمُكَلف السَّالِم من الْفسق وصغائر الخسه فَخرج الْفَاسِق والمجهول عينا كحدثنا رجل أوحالا كحدثنا زيد وَلَا نَعْرِف صفته وَدخل رِوَايَة الْمَرْأَة وَرِوَايَة الرَّقِيق ضَابِط ضبط صدر وَهُوَ أَن يثبت مَا سَمعه بِحَيْثُ يتَمَكَّن من استحضاره مَتى شَاءَ أَو ضبط كتاب وَهُوَ صيانته عِنْده من يَوْم سمع مَا فِيهِ وَصَححهُ الى أَن يُؤَدِّي مِنْهُ عَن مثله يتَعَلَّق بيروي أَي يرويهِ عدل ضَابِط عَن عدل مثله من أول السَّنَد الى منتهاه وَهُوَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو الصَّحَابِيّ أَو التَّابِعِيّ فَدخل فِي الصَّحِيح الْمَرْفُوع وَالْمَوْقُوف والمقطوع مُعْتَمد بِفَتْح الْمِيم صفة لضابط فِي ضَبطه من صَدره لما يمليه وَنَقله من كِتَابه لما يرويهِ فَعلم أَن الصَّحِيح لذاته مَا جمع شُرُوطًا
বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস

 

প্রথমত প্রকারসমূহের মধ্যে স্বীয় সত্তাগতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح لذاته), যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাদের (হাদিস বিশারদদের) নিকট ঐকমত্য রয়েছে। আর তা অর্থাৎ উল্লেখিত বিশুদ্ধ (صحيح) এর সংজ্ঞা হলো সেই মূল পাঠ (متن), যার সনদ (إسناد) অর্থাৎ ঐ মূল পাঠের (متن) সূত্র পরম্পরা নিরবচ্ছিন্ন। আর তা হলো এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাদের উস্তাদ থেকে সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করবেন। ফলে এর থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل), বিচ্ছিন্ন (منقطع), সমস্যাকবলিত (معضل) এবং যে ব্যক্তি বিশুদ্ধতার শর্ত করেননি তার পক্ষ থেকে বর্ণিত ঝুলন্ত (معلق) হাদিসসমূহ বহির্ভূত হয়ে গেল।

জেনে রাখুন যে, সনদ (إسناد) হলো মূল পাঠের (متن) পথ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা, যেমনটি সনদ (سند)। আর বলা হয়েছে যে, সনদ (سند) হলো খোদ সেই পথটি। হাদিসের প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে পৃথকভাবে সনদ (سند) বলা হয় না, বরং বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতাকে বলা হয়। কারণ সনদ (سند) এমন বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত হয় যা একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেমন: নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ইত্যাদি। সুতরাং এটি মনে রাখুন। আর অবস্থা এই যে, তা বিচ্যুতিপূর্ণ (شذوذ) হবে না এবং ত্রুটিযুক্ত (يعل) হবে না (মাজহুল হিসেবে পঠিত), অর্থাৎ এতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) বা হাদিসের বিশুদ্ধতায় প্রভাব ফেলে এমন কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة) প্রবেশ করবে না। বিচ্যুতি (شذوذ) হলো একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কর্তৃক তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা। আর প্রকাশ্য ত্রুটি (علة), যেমন পাপাচার (فسق) ও মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ), এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة), যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিসের ক্ষেত্রে সাহাবী পর্যন্ত স্থগিত (وقف) হওয়া—এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি বর্ণনা করবেন বর্ণনার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি; যিনি হলেন একজন মুসলিম, বিবেকসম্পন্ন এবং পাপাচার (فسق) ও হীন চরিত্রের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় থেকে মুক্ত। এর ফলে পাপাচারী (فاسق) এবং সত্তাগতভাবে অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি—যেমন ‘আমাদের নিকট একজন লোক বর্ণনা করেছেন’—অথবা অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি—যেমন ‘আমাদের নিকট জায়েদ বর্ণনা করেছেন’ কিন্তু তার গুণাগুণ আমরা জানি না—তারা বহির্ভূত হয়ে গেল। আর এর মধ্যে নারী ও দাসের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হওয়ার দুটি রূপ রয়েছে—প্রথমত: অন্তরের হেফজ (ضبط صدر), আর তা হলো তিনি যা শুনেছেন তা এমনভাবে অন্তরে গেঁথে নেওয়া যাতে তিনি যখন ইচ্ছা তখন তা উপস্থিত করতে সক্ষম হন। অথবা কিতাবের হেফজ (ضبط كتاب), যা হলো তিনি যা শুনেছেন এবং সংশোধন করেছেন তা শ্রবণের দিন থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত তার কাছে সংরক্ষিত রাখা। ‘তার ন্যায় ব্যক্তির পক্ষ থেকে’ কথাটি বর্ণনা করার সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) ব্যক্তি তার ন্যায় অন্য একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করবেন। আর সেই শেষ প্রান্ত হলেন নবী (সা.), সাহাবী (صحابي) অথবা তাবেয়ী (تابعي)। ফলে বিশুদ্ধ (صحيح) এর সংজ্ঞার মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع), সাহাবী পর্যন্ত স্থগিত (موقوف) এবং তাবেয়ী পর্যন্ত ছিন্ন (مقطوع) হাদিস অন্তর্ভুক্ত হলো। নির্ভরযোগ্য (معتمد) শব্দটি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) ব্যক্তির গুণবাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; যা তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণিত বিষয়ের হেফজ এবং তাঁর কিতাব থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতাকে বোঝায়। অতএব জানা গেল যে, স্বীয় সত্তাগতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح لذاته) হলো তা-ই যা এসকল শর্তসমূহ পূরণ করে।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
خَمْسَة اتِّصَال السَّنَد والسلامة من الشذوذ والسلامة من الْعلَّة القادحة وَأَن يكون كل من رُوَاته عدل رِوَايَة وضابطا

مِثَاله مَا رَوَاهُ البُخَارِيّ من طَرِيق الاعرج عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَوْلَا أَن اشق على أمتِي لامرتهم بِالسِّوَاكِ مَعَ كل صَلَاة

وَحكمه أَنه صَالح للاحتجاج بِهِ والاستشهاد بالِاتِّفَاقِ فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع كَمَا أَنه يجب الْعَمَل بِهِ بِالشُّرُوطِ
পাঁচটি [শর্ত]: সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند), শায বা বিচ্যুতি (الشذوذ) থেকে মুক্ত থাকা, ক্ষতিকর ত্রুটি (العلة القادحة) থেকে মুক্ত থাকা এবং বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকের বর্ণনায় ন্যায়পরায়ণ (عدل رواية) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হওয়া।

এর উদাহরণ হলো যা বুখারি আল-আরাজ সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যদি না আমি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য মনে করতাম, তবে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক সালাতের সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।"

এর বিধান হলো, এটি উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) ও সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করার (الاستشهاد) যোগ্য। যেমনটি নির্দিষ্ট শর্তানুসারে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الحَدِيث الْحسن

 

وَالْحسن أَي تَعْرِيفه الحَدِيث الْمَعْرُوف طرقا بِضَم فَسُكُون أَي
হাসান (حسن) হাদিস

 

আর হাসান (حسن), অর্থাৎ এর সংজ্ঞা হলো: এমন হাদিস যার বর্ণনাধারা (طرق) সুপরিচিত (معروف); (শব্দটি) পেশ (ضمة) ও সুকুন (سكون) যোগে (উচ্চারিত), অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
الْمَعْرُوف رُوَاته المخرجون لَهُ وَهَذَا كِنَايَة عَن اتِّصَال السَّنَد وَذَلِكَ كَأَن يكون الحَدِيث من رِوَايَة راو اشْتهر بِرِوَايَة أهل بَلَده كقتادة فِي الْبَصرِيين فَإِن حَدِيثهمْ اذا جَاءَ عَن قَتَادَة وَنَحْوه مِمَّن هُوَ بِمَنْزِلَتِهِ كَانَ مخرجه أَي رُوَاته معروفين لشهرة سلسلة قَتَادَة عِنْد الْمُحدثين

فَخرج الْمُرْسل والمنقطع والمعضل والمدلس قبل أَن يتَبَيَّن تدليسه فَإِنَّهُ لَا يدْرِي حِينَئِذٍ من سقط فَلَا يكون مُتَّصِلا

وغدت أَي صَارَت رِجَاله أَي مخرجوه غير مشتهرة بِالْعَدَالَةِ والضبط لاكا شتهار رجال الصَّحِيح اشتهرت بل اشتهارا أقل من ذَلِك

وَعلم من هَذَا أَن الْحسن يُشَارك الصَّحِيح فِي اتِّصَال سَنَده وعدالة رُوَاته وضبطهم وان لم يصلوا دَرَجَة رُوَاة الصَّحِيح

وَبَقِي من شَرط الصَّحِيح السَّلامَة من الشذوذ وَمن الْعلَّة

فالحد الْجَامِع لِلْحسنِ هُوَ مَا اتَّصل سَنَده بِنَقْل عدل ضَابِط قل ضَبطه قلَّة لَا تلْحقهُ بِحَال من يعد تفرده مُنْكرا وَسلم من الشذوذ وَمن الْعلَّة

فبقوله اتَّصل سَنَده دخل الصَّحِيح وبنقل عدل ضَابِط قل ضَبطه خرج
সুপরিচিত (المعروف) হলো এর সেই বর্ণনাকারীগণ (رواة) যারা এর উৎস বা নির্গমনকারী (المخرجون); আর এটি হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند) বুঝানোর একটি রূপক শব্দ। এটি এমন যে, যেমন হাদিসটি এমন একজন বর্ণনাকারীর (راو) বর্ণনা থেকে হওয়া যিনি নিজ শহরের অধিবাসীদের থেকে হাদিস বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ, যেমন বসরার অধিবাসীদের মধ্যে কাতাদাহ। সুতরাং তাদের বর্ণিত হাদিস যখন কাতাদাহ বা তার সমপর্যায়ের কারো থেকে বর্ণিত হয়, তখন তার উৎস (مخرج) অর্থাৎ তার বর্ণনাকারীগণ (رواة) সুপরিচিত হিসেবে গণ্য হন। কারণ হাদিস বিশারদদের (محدثين) নিকট কাতাদাহ-এর বর্ণনা সূত্র বা ধারা (سلسلة) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।

এর ফলে মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع), মু'দাল (معضل) এবং যে মুদাল্লাস (مدلس) এর তাদলিস (تدليس) স্পষ্ট হওয়ার পূর্বের অবস্থা—এগুলো বাদ পড়ে যায়। কেননা সেই মুহূর্তে জানা যায় না কে বর্ণনাসূত্র থেকে বাদ পড়েছে, তাই তা মুত্তাসিল (متصل) হিসেবে গণ্য হয় না।

আর এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) অর্থাৎ এর উৎসগণ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতার (ضبط) ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) এর বর্ণনাকারীদের (رجال) মতো অতটা প্রসিদ্ধ নন, বরং তাদের প্রসিদ্ধি তার চেয়ে কিছুটা কম।

এ থেকে জানা গেল যে, হাসান (حسن) হাদিস সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند), বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة رواته) এবং তাদের স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতার (ضبط) ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) এর সাথে অংশীদার, যদিও তারা সহিহ (صحيح) এর বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছেন না।

সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলির মধ্যে আর যা বাকি রইল তা হলো শায (شذوذ) ও ইল্লাত (علة) থেকে মুক্ত হওয়া।

অতএব, হাসান (حسن) এর পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হলো: যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصال السند), যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابط) ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে অর্জিত যার নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) কিছুটা কম; তবে এই স্বল্পতা তাকে এমন অবস্থায় পৌঁছায় না যে তার একক বর্ণনা (تفرد) মুনকার (منكر) হিসেবে গণ্য হবে, এবং যা শায (شذوذ) ও ইল্লাত (علة) থেকে মুক্ত।

সুতরাং তাঁর 'সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصال السند)' এই উক্তির দ্বারা সহিহ (صحيহ) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং 'ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী যার স্মৃতিশক্তি (ضبط) কিছুটা কম' বলার দ্বারা (সহিহ) বহির্ভূত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
الصَّحِيح وَبِمَا بَقِي خرج الضَّعِيف

وَمَا ذكر هُوَ الْحسن لذاته مِثَاله لَوْلَا أَن أشق على أمتِي بِالنّظرِ لرِوَايَة مُحَمَّد بن عَمْرو بن عَلْقَمَة عَن أبي سَلمَة فَإِن مُحَمَّدًا مَشْهُور بِالصّدقِ لكنه لَيْسَ فِي غَايَة الْحِفْظ حَتَّى ضعفه بَعضهم لسوء حفظه وَوَثَّقَهُ بَعضهم لصدقه وجلالته

وَأما الْحسن لغيره فَهُوَ مَا فِي اسناده مَسْتُور لم تتحق أَهْلِيَّته غير أَنه لم يكن مغفلا وَلَا كثير الْخَطَأ فِيمَا يرويهِ وَلَا مُتَّهمًا بِالْكَذِبِ وَلَا ينْسب إِلَى مفسق آخر وتقوى بمتابع أَو شَاهد والمتابع مَا رُوِيَ بِاللَّفْظِ وَالشَّاهِد مَا رُوِيَ بِالْمَعْنَى نقصا مِثَاله مَا رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن هشيم عَن يزِيد عَن عبد
সহীহ (صحيح) এবং যা অবশিষ্ট রয়েছে তার মাধ্যমে দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়।

এবং পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته)। এর উদাহরণ হলো: "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম...", মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলকামা-এর বর্ণনার প্রেক্ষিতে, যা তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। কেননা মুহাম্মদ সত্যবাদিতার জন্য প্রসিদ্ধ হলেও তিনি হিফজ বা মুখস্থশক্তির (حفظ) সর্বোচ্চ স্তরে ছিলেন না, এমনকি কেউ কেউ তাকে তার দুর্বল স্মৃতিশক্তির (سوء حفظه) কারণে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্য কেউ তার সত্যবাদিতা ও মর্যাদার কারণে তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে গণ্য করেছেন।

আর হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) হলো এমন হাদিস যার সনদ (اسناده)-এ এমন কোনো অপ্রকাশিত (مستور) বর্ণনাকারী থাকে যার যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সে গাফেল বা অসতর্ক ছিল না, তার বর্ণিত হাদিসে ভুলের আধিক্য ছিল না, সে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهما بالكذب) ছিল না এবং অন্য কোনো পাপাচারের (مفسق) দিকেও তাকে সম্বন্ধ করা হয়নি। আর এই প্রকারটি মুতাবি (متابع) অথবা শাহিদ (شاهد)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। মুতাবি (متابع) হলো যা শব্দগতভাবে বর্ণিত হয় এবং শাহিদ (شاهد) হলো যা অর্থগতভাবে কিছুটা কমতিসহ বর্ণিত হয়। এর উদাহরণ হলো যা তিরমিজি হুশাইম থেকে, তিনি ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবদ... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
الرَّحْمَن عَن الْبَراء مَرْفُوعا إِنَّه حَقًا على الْمُسلمين أَن يغتسلوا يَوْم الْجُمُعَة الحَدِيث

فهشيم ضَعِيف لتدليسه لَكِن لما تَابعه أَبُو يحي التَّيْمِيّ كَانَ حسنا

وَحكم الْحسن أَنه يحْتَج بِهِ كَالصَّحِيحِ وَإِن كَانَ لَا يلْحق بِهِ رُتْبَة
আবদুর রহমান আল-বারা থেকে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "নিশ্চয়ই জুমার দিন গোসল করা মুসলমানদের ওপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য" — হাদিস।

সুতরাং হুশাইম তার তাদলীসের (تدليس) কারণে দুর্বল (ضعيف), কিন্তু যেহেতু আবু ইয়াহইয়া আত-তাইমি তার অনুসরণ (متابعة) করেছেন, তাই এটি হাসান (حسنا) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আর হাসান (حسن) হাদিসের বিধান হলো এটি সহিহ (صحيح) হাদিসের ন্যায় দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به), যদিও মর্যাদাগত দিক থেকে এটি সহিহ-এর সমপর্যায়ে পৌঁছে না।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الحَدِيث الضَّعِيف

وكل مَا عَن رُتْبَة الْحسن وَالصِّحَّة بِالْأولَى أَي وكل حَدِيث قصر وانحط عَن رتبتهما فَهُوَ الحَدِيث الضَّعِيف وَيُقَال لَهُ الْمَرْدُود لِأَنَّهُ لايحتج بِهِ فِي الاحكام الشَّرْعِيَّة وَهُوَ أقساما أَي بِالنّظرِ إِلَى أقسامه كثر أوصلها
দুর্বল (ضعيف) হাদিস

আর যা কিছু হাসান (حسن) এবং সহিহ (صحيح) এর স্তরের নিচে, অর্থাৎ যে হাদিস এই উভয় স্তরের মান থেকে বিচ্যুত বা নিচে অবস্থান করে, তা-ই হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিস। একে প্রত্যাখ্যাত (مردود) বলা হয়, কারণ শারীয়তের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এর দ্বারা দলিল পেশ করা হয় না। আর এটি বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত; অর্থাৎ এর প্রকারভেদের বিচারে তা অনেক, যা (মুহাদ্দিসগণ) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
بَعضهم إِلَى ثلثمِائة وَإِحْدَى وَثَمَانِينَ لَا طائل تحتهَا وتتفاوت درجاته فِي
তাদের কেউ কেউ তিনশত একাশি পর্যন্ত (পৌঁছেছেন), যার কোনো বিশেষ উপযোগিতা নেই এবং এর স্তরসমূহ (درجات) ভিন্ন ভিন্ন হয়...
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
الضعْف بِحَسب بعده عَن شُرُوط الصِّحَّة مِثَاله حَدِيث إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأ وَمسح على الجوربين لِأَنَّهُ يرْوى عَن أبي قيس الأودي فَائِدَة المُرَاد بالحكم على الحَدِيث بِالصِّحَّةِ وَنَحْوهَا إِنَّمَا هُوَ فِيمَا ظهر لائمة الحَدِيث عملا بِظَاهِر الاسناد لَا الْقطع بِالصِّحَّةِ فِي نفس الْأَمر لجَوَاز الْخَطَأ وَالنِّسْيَان على الثِّقَة والضبط والصدق على غَيره وَذَلِكَ فِي غير الْمُتَوَاتر أما الْمُتَوَاتر فَإِنَّهُ مَقْطُوع بِصِحَّتِهِ
দুর্বলতা (الضعف) নির্ধারিত হয় বিশুদ্ধতার শর্তাবলি (شروط الصحة) থেকে সেটির দূরত্বের পরিমাপ অনুযায়ী। এর উদাহরণ হলো সেই হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করলেন এবং মোজার ওপর মাসাহ করলেন; কারণ এটি আবু কাইস আল-আওদি থেকে বর্ণিত। বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো হাদিসের ওপর বিশুদ্ধ (صحيح) বা তদ্রূপ হুকুম প্রদানের অর্থ হলো, হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট সনদের (إسناد) বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে যা প্রকাশ পেয়েছে তা-ই; এর দ্বারা বাস্তব ক্ষেত্রে বিষয়টি অকাট্যভাবে বিশুদ্ধ হওয়া উদ্দেশ্য নয়। কারণ একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও ভুল ও বিস্মৃতি ঘটা সম্ভব, আবার অন্যদের ক্ষেত্রেও নির্ভুলতা (ضبط) ও সত্যবাদিতা (صدق) প্রকাশ পাওয়া সম্ভব। আর এটি মুতাওয়াতির (متواتر) নয় এমন হাদিসের ক্ষেত্রে; পক্ষান্তরে মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসের বিশুদ্ধতা অকাট্য ও সুনিশ্চিত।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الحَدِيث الْمَرْفُوع

 

وَمَا أضيف أَي الحَدِيث الَّذِي أَضَافَهُ صَحَابِيّ أَو تَابِعِيّ أَو من بعدهمَا للنَّبِي صلى الله عليه وسلم قولا كَانَ أَو فعلا وَمن الْفِعْل التَّقْرِير اتَّصل سَنَده أم لَا هُوَ الْمَرْفُوع فَدخل الْمُتَّصِل والمرسل والمنقطع والمعضل وَالْمُعَلّق وَخرج الْمَوْقُوف والمقطوع وَسمي بذلك لارْتِفَاع رتبته بإضافته للنَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
‌মারফূ (المرفوع) হাদিস

 

যা সম্বন্ধিত করা হয়েছে, অর্থাৎ যে হাদিস কোনো সাহাবী, তাবিঈ কিংবা তাঁদের পরবর্তী কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন—চাই তা উক্তি (قول) হোক বা কর্ম (فعل); আর কর্মের অন্তর্ভুক্ত হলো মৌনসম্মতি (التقرير)। এর সনদ নিরবচ্ছিন্ন হোক বা না হোক, তা-ই হলো মারফূ (المرفوع)। ফলে এর অধীনে নিরবচ্ছিন্ন (المتصل), মুরসাল (المرسل), বিচ্ছিন্ন (المنقطع), অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন (المعضل) এবং ঝুলন্ত (المعلق) হাদিস অন্তর্ভুক্ত হয়; আর এর থেকে স্থগিত (الموقوف) ও কর্তিত (المقطوع) হাদিস বাদ পড়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত করার কারণে এর উচ্চ মর্যাদার (সমুন্নত) দরুন একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الحَدِيث الْمَقْطُوع

 

وَمَا أَي الْمَتْن الَّذِي أضيف لتابع وَكَذَا من دونه قولا أَو فعلا حَيْثُ خلا عَن قرينَة الرّفْع وَالْوَقْف هُوَ الْمَقْطُوع وَهُوَ لَيْسَ بِحجَّة إِذْ ذَاك أما إِن كَانَ فِيهِ قرينَة تدل على الرّفْع فمرفوع حكما أَو قرينَة تدل على الْوَقْف فموقوف كَقَوْل الرَّاوِي عَن التَّابِعِيّ من السّنة كَذَا
মাকতু (مقطوع) হাদিস

 

এবং যা, অর্থাৎ সেই মতন (متن) যা কোনো তাবেয়ীর (تابعي) অথবা তার পরবর্তী স্তরের কারো দিকে কথা বা কাজ হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যা মারফু (رفع) বা মাওকুফ (وقف) হওয়ার আলামত থেকে মুক্ত, তা-ই হলো মাকতু (مقطوع)। এমতাবস্থায় এটি কোনো দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না। তবে যদি সেখানে এমন কোনো আলামত থাকে যা মারফু (رفع) হওয়ার নির্দেশ করে, তবে তা হুকুমগতভাবে মারফু (مرفوع حكما) হিসেবে গণ্য হবে; অথবা যদি মাওকুফ (وقف) হওয়ার আলামত থাকে তবে তা মাওকুফ (موقوف)। যেমন বর্ণনাকারীর কোনো তাবেয়ীর (تابعي) বরাতে এরূপ বলা যে: "সুন্নাহ হলো এই রকম"।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الحَدِيث الْمسند

 

والْحَدِيث الْمسند يعرف عِنْد الْحَاكِم بِأَنَّهُ الْمُتَّصِل الاسناد من
মুসনাদ (المسند) হাদিস

 

আর মুসনাদ (المسند) হাদিস ইমাম আল-হাকিমের নিকট এমন হাদিস হিসেবে পরিচিত যার সনদ (الإسناد) সংযুক্ত (المتصل) হয়... থেকে
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
راوية حَتَّى إِي إِلَى أَن يَنْتَهِي إِلَى الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم فَلَا يسْتَعْمل إِلَّا فِي الْمَرْفُوع والمتصل وَذَلِكَ كاسناد مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَوله وَلم يبن أَي وَالْحَال ان الاسناد لم يَنْقَطِع جملَة مُؤَكدَة لما قبلهَا
বর্ণনা পরম্পরা, এমনকি তা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। সুতরাং এটি কেবল উর্ধ্বমুখী (مرفوع) এবং সংযুক্ত (متصل) বর্ণনার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। আর তা যেমন মালিক কর্তৃক নাফে‘ হতে, তিনি ইবনে উমর হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত সনদের (إسنাদ) ন্যায়। আর তাঁর উক্তি "এবং বিচ্ছিন্ন হয়নি" অর্থাৎ অবস্থা এই যে সনদটি (إسنাদ) বিচ্ছিন্ন (انقطع) হয়নি; এটি মূলত পূর্ববর্তী বক্তব্যের একটি তাকিদ বা সুনিশ্চিতকারী বাক্য।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَحكمه الصِّحَّة أَو الْحسن وَالْحسن أَو الضعْف

فَائِدَة الِاتِّصَال بِنَقْل ثِقَة عَن ثِقَة إِلَى أَن يبلغ بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم مِمَّا اخْتصّت بِهِ هَذِه الامة المحمدية
আর এর বিধান হলো সহিহ (صحيح) অথবা হাসান (حسن), এবং হাসান (حسن) অথবা দুর্বল (ضعيف)।

একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছানোর যে অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) এর গুরুত্ব, তা এই মুহাম্মাদি উম্মতের এক অনন্য বিশেষত্ব।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الحَدِيث الْمُتَّصِل

 

وَمَا أَي والْحَدِيث الَّذِي بسمع أَي بِسَبَب سَماع كل راد من رُوَاته مِمَّن فَوْقه يتَّصل اسناده للمصطفى صلى الله عليه وسلم أَو لصَاحبه مَوْقُوفا عَلَيْهِ ف ذَلِك هُوَ الْمُتَّصِل وَيُقَال لَهُ أَيْضا الْمَوْصُول والمؤتصل

فَدخل الْمَرْفُوع كَمَا لَك عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالْمَوْقُوف كَمَا لَك عَن نَافِع عَن ابْن عمر
সংযুক্ত (المتصل) হাদিস

 

এবং তা, অর্থাৎ সেই হাদিস যার প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতনের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে যার সনদ (ইসনদ) নিরবচ্ছিন্নভাবে নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত অথবা কোনো সাহাবী পর্যন্ত মাওকুফ (موقوف) হিসেবে পৌঁছেছে, তবে তা-ই হলো সংযুক্ত (المتصل) হাদিস। একে আল-মাউসুল (الموصول) এবং আল-মুত্তাসিল (المؤتصل)-ও বলা হয়।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মারফু (المرفوع) হাদিস, যেমন: মালিক—নাফে' থেকে—ইবনে উমর থেকে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (বর্ণিত হাদিস); এবং মাওকুফ (الموقوف) হাদিস, যেমন: মালিক—নাফে' থেকে—ইবনে উমর থেকে (বর্ণিত হাদিস)।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَخرج بِقَيْد الِاتِّصَال الْمُرْسل والمنقطع وَالْمُعَلّق والمعضل ومعنعن الاسناد قبل تبين سَمَاعه

وبقيد السماع خرج اتِّصَال السَّنَد بِغَيْر السماع كاتصاله بِالْإِجَازَةِ كَأَن يَقُول أجازني فلَان قَالَ أجازني فلَان

وَعلم الْمسند أخص من الْمُتَّصِل فَكل مُسْند مُتَّصِل وَلَا عكس وَحكمه كسابقه
আর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال)-র শর্তের মাধ্যমে মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع), মুআল্লাক (معلق), মুদাল (معضل) এবং শ্রবণ (سماع) স্পষ্ট হওয়ার পূর্বের মুআনআন (معنعن) সনদসমূহ বাদ পড়ে যায়।

আর শ্রবণ (سماع)-এর শর্তের মাধ্যমে শ্রবণ ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) বাদ পড়ে যায়, যেমন অনুমতি (إجازة)-র মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন হওয়া; যেমন কেউ বলা: "অমুক আমাকে অনুমতি (إجازة) দিয়েছেন, তিনি বলেন অমুক আমাকে অনুমতি (إجازة) দিয়েছেন।"

এতে প্রতীয়মান হয় যে, মুসনাদ (مسند) শব্দটি মুত্তাসিল (متصل) অপেক্ষা অধিকতর বিশেষ। সুতরাং প্রত্যেক মুসনাদ (مسند)-ই মুত্তাসিল (متصل), কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়। আর এর বিধান (حكم) পূর্বোক্তটির মতোই।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الحَدِيث المسلسل

 

مسلسل من التسلسل وَهُوَ لُغَة التَّتَابُع وَاصْطِلَاحا قِسْمَانِ الأول حَدِيث اتّفقت رِجَاله على وصف الروَاة كَمَا أَشَارَ اليه بقوله قل فِي رسمه
মুসালসাল (المسلسل) হাদিস

 

মুসালসাল (مسلسل) শব্দটি ‘তাসালসুল’ (تسلسل) থেকে গৃহীত, আভিধানিক (لغة) অর্থে যার মানে হলো ধারাবাহিকতা (التتابع)। পারিভাষিকভাবে (اصطلاحا) এটি দুই প্রকার (قسمان); প্রথম প্রকারটি হলো এমন হাদিস যার বর্ণনাকারীগণ (رجال) রাবিদের (رواة) গুণাবলির বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যেমনটি তিনি এর সংজ্ঞায় (رسمه) ‘বলো’ শব্দটির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
بِاعْتِبَار الروَاة مَا على وصف وَاحِد اتى بِهِ رُوَاته سَوَاء كَانَ الْوَصْف قوليا مثل أما وَالله أنبأني بقلب الْهمزَة الثَّانِيَة ألفا واما بتَخْفِيف الْمِيم بِمَنْزِلَة أَلا الاستفتاحية الْفَتى ثمَّ يَقُول الاخر مثل ذَلِك

مِثَاله قَوْله صلى الله عليه وسلم لِمعَاذ رضي الله عنه إِنِّي أحبك فَقل فِي دبر كل صَلَاة اللَّهُمَّ اعني على ذكرك وشكرك وَحسن عبادتك فَإِنَّهُ مسلسل بقول كل من رُوَاته إِنِّي أحبك الخ

أَو فعليا كَحَدِيث أبي هُرَيْرَة شَبكَ بيَدي أَبُو الْقَاسِم صلى الله صلى الله عليه وسلم خلق الله الأَرْض يَوْم السبت

فَإِنَّهُ مسلسل بتشبيك كل مِنْهُم بيد من رَوَاهُ عَنهُ

كَذَاك من الْفعْلِيّ اذا قَالَ قد حَدَّثَنِيهِ قَائِما ثمَّ يفعل الآخر مثل ذَلِك أَو قَالَ بعد أَن حَدثنِي الحَدِيث تبسما فَإِن كلا من الْقيام والتبسم وصف فعلي وَقد يجْتَمع الْوَصْف القولي والفعلي مَعًا كَحَدِيث أنس رضي الله عنه مَرْفُوعا لَا يجد العَبْد حلاوة الايمان حَتَّى يُؤمن بِالْقدرِ خَيره وشره حلوه ومره قَالَ وَقبض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على لحيته وَقَالَ آمَنت بِالْقدرِ
বর্ণনাকারীদের (رواة) প্রেক্ষিতে (ধারাবাহিক হাদিস) হলো এমন বিষয় যা বর্ণনাকারীরা একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সাথে বর্ণনা করেন। সেই বৈশিষ্ট্যটি মৌখিক (قولي) হতে পারে; যেমন— "আল্লাহর কসম, সেই যুবক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন" (এখানে সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হামজাকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে উচ্চারণ করা অথবা 'আম্মা' এর মিমকে হালকা করে প্রারম্ভিক 'আলা' এর ন্যায় পড়া), এরপর পরবর্তী বর্ণনাকারীও অনুরূপ বলেন।

এর উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলা বাণী: "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমি প্রত্যেক সালাতের শেষে বলবে— হে আল্লাহ! আপনার জিকির, শুকরিয়া এবং উত্তম ইবাদতে আমাকে সাহায্য করুন।" এটি একটি ধারাবাহিক (مسلسل) হাদিস, কেননা এর প্রত্যেক বর্ণনাকারীই বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালোবাসি..." ইত্যাদি।

অথবা বৈশিষ্ট্যটি কর্মগত (فعلي) হতে পারে, যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস: "আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাতের আঙুলের সাথে তাঁর আঙুল মেলালেন (মুশাবাকাহ করলেন) এবং বললেন: আল্লাহ তাআলা শনিবার দিন জমিন সৃষ্টি করেছেন।"

কেননা এটি এমন ধারাবাহিক (مسلسل) হাদিস যেখানে প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর উস্তাদের (যাঁর থেকে তিনি হাদিসটি শুনেছেন) হাতের আঙুলের সাথে আঙুল মিলিয়েছেন।

অনুরূপভাবে কর্মগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হলো যখন কেউ বলেন, "তিনি দাঁড়িয়ে আমাকে এটি শুনিয়েছেন," এরপর পরবর্তী বর্ণনাকারীও অনুরূপ করেন; অথবা হাদিসটি বর্ণনা করার পর মুচকি হাসলেন। কেননা দাঁড়িয়ে থাকা এবং মুচকি হাসা উভয়ই কর্মগত (فعلي) বৈশিষ্ট্য। আবার কখনো মৌখিক ও কর্মগত বৈশিষ্ট্য উভয়টি একত্রে যুক্ত হতে পারে; যেমন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত রাসুল পর্যন্ত উন্নত (مرفوع) হাদিস: "বান্দা ততক্ষণ ঈমানের স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না সে তাকদিরের ভালো-মন্দ এবং তিক্ত-মধুর হওয়ার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।" বর্ণনাকারী বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়ি মোবারক ধরলেন এবং বললেন, "আমি তাকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করলাম।"
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
فَإِنَّهُ مسلسل بِقَبض كل مِنْهُم على لحيته مَعَ قَوْله آمَنت بِالْقدرِ

وَالْقسم الثَّانِي مَا اتّفقت رِجَاله على وصف للتحمل كسمعت فلَانا أَو على امْر مُتَعَلق بِزَمن الرِّوَايَة أَو مَكَانهَا أَو نَحْو ذَلِك

فَائِدَة من فَضِيلَة المسلسل اشتماله على مزِيد الضَّبْط من الروَاة

وَاعْلَم أَنه أفضل مسلسل مَا دلّ على اتِّصَال السماع وَعدم التَّدْلِيس

وقلما يسلم المسلسل من ضعف يحصل فِي وَصفه لَا فِي أصل الحَدِيث فَإِن الاقسام الثَّلَاثَة تجْرِي فِيهِ قَالَ الْحَافِظ اصح مسلسل يرْوى فِي الدُّنْيَا المسلسل بِقِرَاءَة سُورَة الصَّفّ
কারণ এটি এমন একটি অনুক্রমিক (مسلسل) বর্ণনা যেখানে প্রত্যেক বর্ণনাকারী নিজ দাড়ি মুঠো করে ধরার সাথে সাথে "আমি তাকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করলাম" কথাটি বলেছেন।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো সেটি, যেখানে বর্ণনাকারীবৃন্দ হাদিস গ্রহণের পদ্ধতির (تحمل) কোনো একটি গুণের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যেমন—"আমি অমুককে বলতে শুনেছি" বলা; অথবা বর্ণনার সময়, স্থান বা এই জাতীয় কোনো অবস্থার ওপর তারা একমত হয়েছেন।

একটি বিশেষ তথ্য: অনুক্রমিক (مسلسل) বর্ণনার একটি ফযীলত হলো এটি বর্ণনাকারীদের অধিকতর মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতা (ضبط) নিশ্চিত করে।

জেনে রাখুন, সর্বোত্তম অনুক্রমিক (مسلسل) বর্ণনা সেটিই, যা শ্রবণের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السماع) এবং বর্ণনায় তথ্য গোপন করার (تدليس) অনুপস্থিতির ওপর প্রমাণ পেশ করে।

খুব কম অনুক্রমিক (مسلسل) বর্ণনাই দুর্বলতা (ضعف) থেকে মুক্ত থাকে; তবে এই দুর্বলতা মূলত এর বর্ণনার বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, মূল হাদিসের ক্ষেত্রে নয়। কেননা হাদিসের তিনটি প্রকারই এতে প্রযোজ্য হয়। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "পৃথিবীতে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) অনুক্রমিক (مسلسل) বর্ণনা হলো সূরা আস-সাফ পাঠের অনুক্রমিক হাদিসটি।"
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الحَدِيث الْعَزِيز

 

عَزِيز بِلَا تَنْوِين للضَّرُورَة من عز يعز بِفَتْح عين الْمُضَارع بِمَعْنى
আজিজ (عزيز) হাদিস

 

আজিজ (عزيز) শব্দটি প্রয়োজনে (للضرورة) তানউইন (تنوين) ব্যতিরেকে মুদারে (المضارع)-এর আইন (عين) অক্ষরে ফাতহাহ (فتح) সহ আজ্জা ইয়া-আজ্জু (عز يعز) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩১)
قوي سمي بذلك لكَونه تقوى بمجيئه من طَرِيق أُخْرَى أَو بِكَسْر الْعين بِمَعْنى قل لقلَّة وجوده وَقد عرفه بقوله هُوَ مَرْوِيّ بِحَذْف الْيَاء لفظا للوزن اثْنَيْنِ اَوْ ثَلَاثَة وَلَو من طبقَة وَاحِدَة من طبقاته فَخرج بالاثنين الْغَرِيب لِأَنَّهُ مَرْوِيّ وَاحِد وَبِالثَّلَاثَةِ الْمَشْهُور
শক্তিশালী (قوي); এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অন্য একটি সূত্র (طريق) থেকে আসার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। অথবা এটি 'আইন' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে (عَزَّ-يَعِزُّ) গঠিত, যার অর্থ বিরল হওয়া (قل), যেহেতু এর অস্তিত্ব খুবই কম। তিনি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এই বলে যে, এটি দুইজন অথবা তিনজন দ্বারা বর্ণিত (مروي) — এখানে ছন্দের কারণে উচ্চারণে 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়েছে — যদিও তা হাদিসের স্তরসমূহের (طبقات) কোনো একটি স্তরেও (طبقة) হয়। সুতরাং 'দুইজন' উল্লেখ করার মাধ্যমে একাকী (غريب) হাদিসটি সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল, কারণ সেটি মাত্র একজন দ্বারা বর্ণিত (مروي); আর 'তিনজন' উল্লেখ করার মাধ্যমে প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসটি পৃথক হলো।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الحَدِيث الْمَشْهُور

 

مَشْهُور باسقاط التَّنْوِين مَرْوِيّ فَوق مَا مَا زَائِدَة ثَلَاثَة أَي هُوَ الحَدِيث
প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস

 

তানউইন বিলোপসহ ‘মাশহুর’ (مشهور) হলো তিনের অধিক—এখানে ‘মা’ শব্দটি অতিরিক্ত—বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত; অর্থাৎ এটিই সেই হাদিস।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الَّذِي رَوَاهُ مَا زَاد على الثَّلَاثَة فمفهومه أَن مَا رَوَاهُ الثَّلَاثَة لَيْسَ مَشْهُورا وَقد صرح بتسميته عَزِيزًا وَهُوَ خلاف الْمعول عَلَيْهِ الَّذِي ذكره الْحَافِظ فِي النخبة من أَن الْعَزِيز مَا رَوَاهُ اثْنَان فَقَط وَالْمَشْهُور مَا رَوَاهُ ثَلَاثَة فَأكْثر والغريب مَا رَوَاهُ وَاحِد

مِثَال الْعَزِيز حَدِيث الشَّيْخَيْنِ عَن أنس رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يُؤمن أحدكُم حَتَّى أكون أحب اليه من وَلَده ووالده وَالنَّاس أَجْمَعِينَ رَوَاهُ عَن أنس قَتَادَة وَعبد الْعَزِيز بن صُهَيْب وَرَوَاهُ عَن قَتَادَة
যা তিনজনের অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, তার মর্মার্থ হলো যা তিনজন বর্ণনা করেছেন তা মাশহুর (مشهور) নয়। তিনি একে আজিজ (عزيز) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা সেই নির্ভরযোগ্য মতের পরিপন্থী যা হাফেজ (ইবনে হাজার) 'নুখবাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেই মতানুসারে আজিজ (عزيز) হলো যা কেবল দুজন বর্ণনা করেছেন, মাশহুর (مشهور) হলো যা তিনজন বা ততোধিক বর্ণনা করেছেন এবং গরিব (غريب) হলো যা কেবল একজন বর্ণনা করেছেন।

আজিজ (عزيز)-এর উদাহরণ হলো শায়খাইন কর্তৃক আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" এটি আনাস (রা.) থেকে কাতাদাহ ও আব্দুল আজিজ বিন সুহাইব বর্ণনা করেছেন এবং কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৬)
شُعْبَة وَسَعِيد وَرَوَاهُ عَن عبد الْعَزِيز اسماعيل بن علية وَعبد الْوَارِث وَرَوَاهُ عَن كل جمَاعَة وَمِثَال الْمَشْهُور حَدِيث إِن الله لَا يقبض الْعلم انتزاعا ينتزعه من الْعباد وَلَكِن يقبض الْعلمَاء حَتَّى إِذا لم يبْق عَالم اتخذ النَّاس رُؤَسَاء جُهَّالًا فسئلوا فأفتوا بِغَيْر علم فضلوا وأضلوا

وحكمهما الصِّحَّة أَو الْحسن أَو الضعْف
শু’বাহ ও সাঈদ; এবং ইসমাইল বিন উলইয়্যাহ ও আব্দুল ওয়ারিস এটি আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক একটি দল (جماعة) এটি বর্ণনা করেছেন। প্রসিদ্ধ (مشهور) এর উদাহরণ হলো সেই হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে সরাসরি কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান তুলে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই জ্ঞান তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"

আর এই দুটির বিধান (حكم) হলো সহিহ (صحة), হাসান (حسن) অথবা দুর্বল (ضعف)।
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الحَدِيث المعنعن

 

مُعَنْعَن بِفَتْح الْعَينَيْنِ هُوَ الحَدِيث الَّذِي رُوِيَ بِلَفْظ عَن من غير بَيَان للتحديث أَو الْأَخْبَار أَو السماع وَاكْتفى النَّاظِم عَن تَعْرِيفه بالمثال فَقَالَ كعن سعيد وَعَن كرم

وَحكمه عِنْد الْجُمْهُور الِاتِّصَال بِشَرْطَيْنِ سَلامَة معنعنة من التَّدْلِيس وَثُبُوت ملاقاته لمن روى بعن عِنْد البُخَارِيّ فِي جَامِعَة وَاكْتفى مُسلم أَي فِي
মুআনআন (معنعن) হাদিস

 

মুআনআন (معنعن) শব্দটিতে উভয় ‘আইন’ বর্ণে ফাতহাহ (জবর) হবে। এটি ওই হাদিস যা সরাসরি হাদিস বর্ণনা (تحديث), সংবাদ প্রদান (إخبار) বা শ্রবণের (سماع) কোনো বর্ণনা ছাড়াই কেবল ‘আন’ (عن) শব্দযোগে বর্ণিত হয়েছে। নাযিম (কবিতা রচয়িতা) এর সংজ্ঞা প্রদানের পরিবর্তে উদাহরণের ওপর নির্ভর করে বলেছেন: ‘যেমন সাঈদ হতে (عن سعيد) এবং কারাম হতে (عن كرم)’।

জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু ওলামায়ে কেরামের নিকট এটি অবিচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে: বর্ণনাকারীর আনআনা (عنعنة) তাদলিস (تدليس) থেকে মুক্ত হওয়া এবং ইমাম বুখারি তাঁর জামে (সহিহ বুখারি) গ্রন্থে যাঁর থেকে ‘আন’ শব্দযোগে বর্ণনা করা হয়েছে তাঁর সাথে বর্ণনাকারীর সাক্ষাৎ সাব্যস্ত হওয়া। আর ইমাম মুসলিম কেবল অর্থাৎ...
(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৮)
صَحِيحه عَن الشَّرْط الثَّانِي بِثُبُوت كَونهمَا فِي عصر وَاحِد وَمثله الحَدِيث المؤنن وَهُوَ مَا رُوِيَ بِلَفْظ أَن كحدثنا فلَان أَن فلَانا قَالَ كَذَا

তাঁর সহীহ গ্রন্থে দ্বিতীয় শর্তের পরিবর্তে উভয়ে একই যুগে বিদ্যমান থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়াকেই যথেষ্ট গণ্য করা হয়েছে এবং মুআন্নান (مؤنن) হাদিসও এর অনুরূপ; আর এটি হলো ঐ হাদিস যা 'আন্না' (أن) শব্দের মাধ্যমে বর্ণিত হয়, যেমন: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে (أن) অমুক ব্যক্তি এমন কথা বলেছেন'।

(খণ্ড: ১) আত তাকরীরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الحَدِيث الْمُبْهم

 

ومبهم من الحَدِيث أَي حَده هُوَ مَا أَي حَدِيث فِيهِ راو لم يسم أَي لم يذكر باسمه بل أبهم وأخفى سَوَاء كَانَ رجلا أَو امْرَأَة فِي الْمَتْن والاسناد مِثَاله فِي الْمَتْن حَدِيث عَائِشَة أَن امْرَأَة سَأَلت النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن غسلهَا من الْمَحِيض قَالَ خذي فرْصَة من مسك فتطهري بهَا الحَدِيث وَاسم هَذِه الْمَرْأَة أَسمَاء بنت شكل على صَحِيح والفرصة بِكَسْر الْفَاء قِطْعَة من صوف وَنَحْوه ومثاله
অস্পষ্ট (مبهم) হাদিস

 

হাদিসের মধ্যে অস্পষ্ট (مبهم) এর সংজ্ঞা হলো এমন হাদিস যাতে এমন একজন বর্ণনাকারী (راو) রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি; অর্থাৎ তাকে নাম ধরে উল্লেখ করা হয়নি বরং অস্পষ্ট ও প্রচ্ছন্ন রাখা হয়েছে, চাই তিনি পুরুষ হোন বা নারী এবং তা হাদিসের মূল পাঠ (متن) কিংবা সনদ (إسناد) যে কোনো স্থানেই হোক না কেন। মূল পাঠের (متن) উদাহরণ হলো আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস যে, এক নারী নবী (সা.)-কে তাঁর ঋতুস্রাব পরবর্তী গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি (সা.) বললেন: "এক টুকরো কস্তুরীমাখা কাপড় নাও এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো।" (হাদিসটি পূর্ণ)। বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এই নারীর নাম হলো আসমা বিনতে শাকাল। আর 'ফিরসাহ' (فرصة) শব্দটি ফা অক্ষরে কাসরা বা জের সহকারে, যার অর্থ হলো পশম বা এই জাতীয় জিনিসের টুকরো। আর এর উদাহরণ হলো...