(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: -)
أسماء الصحابة التي اتفق فيها البخاري ومسلم وما انفرد به كل واحد   (الدارقطني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أسماء الصحابة التي اتفق فيها محمد بن إسماعيل البخاري ومسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري رحمهما الله تعالي وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه

المؤلف: أبو الحسن علي بن عمر الدارقطني

نسخهما وعلق عليهما وقدم لهما: جابر بن عبد الله السريع

الناشر: دار العاصمة - الرياض

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442

সাহাবীদের নামসমূহ যাতে বুখারী ও মুসলিম একমত হয়েছেন এবং যাতে তাঁরা প্রত্যেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন   (আদ-দারাকুতনী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সাহাবীদের নামসমূহ যাতে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) একমত হয়েছেন এবং যা তাঁদের প্রত্যেকে নিজ সাথীকে ছাড়া এককভাবে বর্ণনা করেছেন

লেখক: আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনী

অনুলিপিকরণ, টীকা সংযোজন এবং ভূমিকা প্রদান: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সারী‘

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরী - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ যুল-কদ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১)
أسماء الصحابة التي اتفق فيها

محمد بن إسماعيل البخاري ومسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري

رحمهما الله تعالي وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه

تأليف

الإمام الحافظ أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني

رحمه الله تعالي

ويليها:

ذكر أسماء من اتفق

محمد بن إسماعيل البخاري ومسلم بن الحجاج على تصحيح الرواية عنه من الصحابة رضي الله عنهم

فأخرجا عنه في كتابيهما الموسوم كل واحد منهما بالصحيح

وذكر أسماء من انفرد كل واحد بإخراج حديثه دون الآخر

تأليف

الإمام الحافظ أبي الفتح محمد بن أحمد بن أبي الفوارس

رحمه الله تعالى

نسخهما، وعلق عليهما، وقدم لهما

جابر بن عبدالله السريع
সাহাবীদের সেই সব নাম যাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী

আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন; এবং যাতে তাঁদের প্রত্যেকে তাঁর সাথী ব্যতিরেকে একক ছিলেন

গ্রন্থনায়

ইমাম হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে ওমর আদ-দারাকুতনী

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

এবং এর সাথে রয়েছে:

সেই সব ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা যাঁদের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ সাহাবীদের মধ্য থেকে যাঁদের বর্ণনা সহীহ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে—আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন

অতঃপর তাঁরা তাঁদের সেই কিতাবদ্বয়ে তাঁদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর প্রত্যেকটি 'সহীহ' নামে অভিহিত

এবং সেই সব ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা যাঁদের হাদীস বর্ণনায় তাঁদের প্রত্যেকে অপরজন ব্যতিরেকে একক ছিলেন

গ্রন্থনায়

ইমাম হাফেজ আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবুল ফাওয়ারিস

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকরণ, টীকা সংযোজন এবং ভূমিকা প্রদান করেছেন

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সারী'
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
رسالة الإمام الحافظ أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني
ইমাম আল-হাফিয আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনী-এর রিসালাহ
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحابته أجمعين، أما بعد:

فقد اعتنى علماء الإسلام بالصحيحين عنايةً فائقةً، وتنوعت مؤلفاتُهم حولَهما، وكان للإمام الحافظ أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني المتوفى سنة 385 رحمه الله تعالى نصيبٌ من ذلك، فقد ألَّف في رجال الصحيحين وفي نقدهما عدةَ رسائلَ، منها:

1 - التَتَبُّع، في بيان ما أُخرج في الصحيحين أو أحدِهما وله علة.

2 - جزء فيه بيانُ أحاديث أودعها البخاري كتابَه الصحيح، وفيها علة.

3 - الإِلْزَامات، في ذكر أحاديثَ لم يخرجاها، وأخرجا نظائر لها، وأحاديثِ جماعة من الصحابة رُويت من وجوه لا مطعن فيها، ولم يخرجا منها شيئًا.

4 - ذكر الصحابة الذين صحت الرواية عنهم، وليسوا في الصحيحين.

5 - أسماء الصحابة التي اتفق فيها البخاري ومسلم، وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه.

6 - ذكر أسماء التابعين ومن بعدهم ممن صحت روايته من الثقات عند البخاري ومسلم، وذكراه في كتابيهما الصحيحين أو أحدِهما.

7 - ذكر أقوام أخرجهم البخاري ومسلم، وأخرجهم النسائي في كتاب الضعفاء، وهو الجزء المعروف بـ» سؤالات ابن بُكَير».

وبين يديك -أيها القارئ- الرسالة الخامسة من هذه الرسائل، مطبوعةً لأول مرة، وهي رسالة ألفها الدارقطني لحصر الصحابة والصحابيات الذين ورد ذكرهم في الصحيحين أو أحدهما، تكمِّل رسالته الأخرى التي ألفها في أسماء التابعين في الصحيحين، وينتظم بهما كتاب واحد يجمع رجال الصحيحين معًا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

ইসলামী স্কলারগণ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং এ দুটিকে ঘিরে তাঁদের রচনার বৈচিত্র্য ছিল অনেক। ইমাম হাফিয আবুল হাসান আলী বিন উমর আদ-দারাকুতনী (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এরও এতে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। তিনি সহীহাইনের রাবী এবং এগুলোর সমালোচনার বিষয়ে বেশ কিছু পুস্তিকা রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আত-তাতাব্বু: সহীহাইন অথবা এদের কোনো একটিতে বর্ণিত সেই হাদীসগুলোর বর্ণনায় যেগুলোতে ত্রুটি রয়েছে।

২ - একটি পুস্তিকা যাতে ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এমন হাদীসগুলোর বর্ণনা রয়েছে যেগুলোতে ত্রুটি আছে।

৩ - আল-ইলযামাত: এমন হাদীসসমূহের উল্লেখ যা তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেননি অথচ তাঁরা অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন; এবং সাহাবীদের একটি দলের এমন হাদীসসমূহ যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে অথচ তাঁরা এর কিছুই বর্ণনা করেননি।

৪ - সেই সকল সাহাবীদের উল্লেখ যাঁদের বর্ণনা সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে অথচ তাঁরা সহীহাইন-এ নেই।

৫ - ঐ সকল সাহাবীদের নাম যাঁদের বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম একমত হয়েছেন এবং যে সকল সাহাবীর বর্ণনায় তাঁরা একক ছিলেন।

৬ - ঐ সকল তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামের উল্লেখ যাঁদের হাদীস বুখারী ও মুসলিমের নিকট সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাঁরা তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে অথবা তার কোনো একটিতে তাঁদের উল্লেখ করেছেন।

৭ - ঐ সকল ব্যক্তিদের উল্লেখ যাঁদের বর্ণনা বুখারী ও মুসলিম গ্রহণ করেছেন অথচ ইমাম নাসাঈ তাঁদের ‘কিতাবুয যুআফা’ (দুর্বল বর্ণনাকারীদের গ্রন্থ)-তে উল্লেখ করেছেন। এটি ‘সুয়ালাত ইবনু বুকাইর’ নামে পরিচিত পুস্তিকা।

হে পাঠক! আপনার সামনে এই পুস্তিকাগুলোর মধ্য হতে পঞ্চম পুস্তিকাটি উপস্থাপিত, যা প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হয়েছে। এটি ইমাম আদ-দারাকুতনী কর্তৃক রচিত একটি পুস্তিকা যেখানে সহীহাইন অথবা এর কোনো একটিতে উল্লেখিত সাহাবী ও সাহাবীয়াদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি তাঁর অপর পুস্তিকা—যা তিনি সহীহাইনের তাবিঈদের নামের বিষয়ে রচনা করেছেন—তার পরিপূরক। এই দুইটির সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ গঠিত হয় যা সহীহাইনের রাবীগণকে একত্রে সংকলিত করে।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌التأليف في أسماء الصحابة المخرج لهم في الصحيحين:

لم أقف على من سبق الدارقطني إلى التأليف في هذا الموضوع، وإنما ألف العلماء فيه بعد الدارقطني، وأشهرهم تلميذاه: الحاكم أبو عبدالله المتوفى سنة 405، حيث أفرد فصلًا في كتابه: «المدخل إلى الصحيح» لذكر من أخرجهم البخاري ومسلم أو أحدُهما، ابتدأه بذكر الصحابة. وأبو الفتح بن أبي الفوارس المتوفى سنة 412، وله في ذلك رسالة خاصة، عنوانها: «ذكر أسماء من اتفق البخاري ومسلم على تصحيح الرواية عنه من الصحابة، فأخرجا عنه في كتابيهما الموسوم كل واحد منهما بالصحيح، وذكر أسماء من انفرد كل واحد بإخراج حديثه دون الآخر».

وألف أبو مسعود الدمشقي المتوفى سنة 401، وخلف الواسطي المتوفى بعد سنة 400: «أطراف الصحيحين»، وعقدا لكل صحابي مسندًا، بينا فيه أحاديثه بطرقها في الصحيحين.

وبنى على عملهما أبو عبدالله محمد بن أبي نصر الحميدي المتوفى سنة 488، في كتابه: «الجمع بين الصحيحين»، فاعتنى بالصحابة الذين لهم مسانيد في الصحيحين أو أحدِهما، وذَكَر في كل مسندٍ أحاديثَ صاحبه، وعَدَدَها، مميزًا ما اتفق عليه الشيخان منها، مما انفرد به أحدهما عن الآخر، واستفاد أيضًا من أبي بكر الإسماعيلي المتوفى سنة 371، وأبي بكر البَرْقاني المتوفى سنة 425، في مستخرجيهما على الصحيحين.

وأغلب من ألف في هذا الموضوع بعد ذلك اعتمدوا كتابَ الحميدي، فلخصوا ما فيه من الأسماء، وعَدَدَ ما روى كل صحابي، وزاد بعضهم: تراجمَ مختصرة لكل صحابي، وعددَ ما روى من الأحاديث عامةً، وذِكْرَ مَنْ أخرج له مِنْ أصحاب السنن الأربع.

ومن هؤلاء: أبو الفرج بن الجوزي المتوفى سنة 597، وله في ذلك عملان: أحدهما: بابٌ عقده في كتابه: «تلقيح فهوم أهل الأثر في عيون التاريخ والسير»، عنوانه: «أسماء الصحابة الذين أُخرج عنهم في الصحيحين، وعدد الأحاديث التي أُخرجت عنهم».
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ যে সাহাবীগণের হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাঁদের নাম বিষয়ক রচনাবলি:

ইমাম দারাকুতনীর পূর্বে এই বিষয়ে কেউ গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। মূলত উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ইমাম দারাকুতনীর পরেই গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন তাঁর দুই ছাত্র: হাকিম আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরী), তিনি তাঁর ‘আল-মাদখাল ইলাস সহীহ’ গ্রন্থে ইমাম বুখারী ও মুসলিম অথবা তাঁদের যেকোনো একজনের বর্ণিত বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন এবং তা সাহাবীগণের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। আর আবু আল-ফাতহ ইবনুল ফাওয়ারিস (মৃত্যু: ৪১২ হিজরী), এ বিষয়ে তাঁর একটি স্বতন্ত্র রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে, যার শিরোনাম হলো: ‘ঐ সকল সাহাবীর নামের উল্লেখ যাদের বর্ণনাকে সহীহ হিসেবে গ্রহণের ব্যাপারে বুখারী ও মুসলিম একমত হয়েছেন এবং তাঁরা উভয়েই তাঁদের সেই গ্রন্থে তাঁদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যার প্রত্যেকটিকে ‘সহীহ’ নামে অভিহিত করা হয়, এবং ঐ সকল সাহাবীর নামের উল্লেখ যাদের হাদীস বর্ণনায় তাঁরা প্রত্যেকে একক ছিলেন (অর্থাৎ অপরজন বর্ণনা করেননি)’।

আবু মাসউদ আদ-দামিশকী (মৃত্যু: ৪০১ হিজরী) এবং খালাফ আল-ওয়াসিতী (মৃত্যু: ৪০০ হিজরীর পরে) ‘আতরাফুস সহীহাইন’ রচনা করেছেন। তাঁরা সেখানে প্রত্যেক সাহাবীর জন্য একটি ‘মুসনাদ’ (হাদীস সংকলন) অধ্যায় বিন্যস্ত করেছেন, যেখানে তাঁরা সহীহাইনে বর্ণিত সেই সাহাবীর হাদীসসমূহ বিভিন্ন সূত্রসহ বর্ণনা করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদী (মৃত্যু: ৪৮৮ হিজরী) তাঁর ‘আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন’ গ্রন্থে তাঁদের কাজের ওপর ভিত্তি করেই অগ্রসর হয়েছেন। তিনি ঐ সকল সাহাবীর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন যাদের মুসনাদ সহীহাইন বা তার যেকোনো একটিতে রয়েছে। তিনি প্রতিটি মুসনাদে সংশ্লিষ্ট সাহাবীর হাদীসসমূহ এবং তার সংখ্যা উল্লেখ করেছেন; সেই সাথে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) যেগুলোতে একমত হয়েছেন এবং যেগুলোতে তাঁরা একে অপরের থেকে পৃথক ছিলেন সেগুলোকে আলাদা করে দেখিয়েছেন। এছাড়াও তিনি আবু বকর আল-ইসমাঈলী (মৃত্যু: ৩৭১ হিজরী) এবং আবু বকর আল-বারকানী (মৃত্যু: ৪২৫ হিজরী)-এর সহীহাইন ভিত্তিক ‘মুস্তাখরাজ’ গ্রন্থদ্বয় থেকেও উপকৃত হয়েছেন।

পরবর্তীতে যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের অধিকাংশ ইমাম হুমাইদীর গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। তারা সেই গ্রন্থের নামসমূহ এবং প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিটি সাহাবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী, তাদের বর্ণিত মোট হাদীস সংখ্যা এবং ‘সুনান’ চতুষ্টয়ের (চারটি প্রধান সুনান গ্রন্থ) রচয়িতাদের মধ্যে কারা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাও যুক্ত করেছেন।

এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরী)। এ বিষয়ে তাঁর দুটি কাজ রয়েছে: একটি হলো তাঁর ‘তালকীহ ফাহুম আহলিল আসার ফী উয়ুনিত তারিখ ওয়াস সিয়ার’ গ্রন্থে নির্ধারিত একটি পরিচ্ছেদ, যার শিরোনাম হলো: ‘সহীহাইনে যে সকল সাহাবীর হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাঁদের নাম এবং তাঁদের থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা’।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
والآخر: فصولٌ عقدها في كتابه: «المجتنى من المجتبى»(1)، بدأها بفصل عنوانه: «الإشارة إلى بعض أخبار العشرة»، ثم: «فصل في مسانيدهم»، ثم: «الإشارة إلى المشتهرين بالذكر من الصحابة بعد العشرة، وعدد مسانيدهم»، ثم: «الإشارة إلى أخبار المشتهرات بالذكر من الصحابيات، وذكر مسانيدهم»، بدأه بأزواج النبي صلى الله عليه وسلم، ثم بناته، وختم بفصل عنوانه: «ذكر اللواتي اشتهرن بالذكر من الصحابيات»، وترجم في كل فصل لمن فيه من الصحابة، وذكر عددَ ما رُوي عن كل واحد من الأحاديث إجمالًا، وعددَ ما أَخرج له البخاري ومسلم من ذلك.

وألف في هذا الموضوع أبو سعيد العلائي المتوفى سنة 761، كتابه: «كشف النقاب عما روى الشيخان للأصحاب»، ونص في مقدمته على أنه لخصه من كتاب الحميدي، وألف بعده يحيى بن أبي بكر العامري المتوفى سنة 893، كتابه: «الرياض المستطابة في جملة من روى في الصحيحين من الصحابة»، ترجم فيه لكل صحابي، وذكر عدد ما له في الصحيحين، والسنن الأربع.

واعتنى العلماء بهذا الموضوع ضمن كتبهم المؤلفة في رجال البخاري ومسلم، مثل أبي نصر الكَلَاباذي المتوفى سنة 398، في كتابه: «رجال البخاري»، وأبي بكر بن مَنْجُويه المتوفى سنة 428، في كتابه: «رجال مسلم»، وأبي الفضل بن طاهر المقدسي المتوفى سنة 507، في كتابه: «الجمع بين رجال الصحيحين»، وهو جَمْع بين كتابَي الكَلَاباذي وابن مَنْجُويه، وأبي

--------------------------------------------

(1) طبعه الدكتور علي بن حسين البواب، سنة 1409، بدار الفائز، معتمدًا نسختين، إحداهما محفوظة في مكتبة أحمد الثالث بتركيا، ضمن المجموع 588، تقع بين الورقات (167 - 225)، منسوخة سنة 632، مختلة الترتيب، مع عدم وجود سقط فيها، وعنها صورة في جامعة الإمام بالرقم 10438 ف، وعندي منها صورة.

এবং অন্যটি হলো: তাঁর গ্রন্থ «আল-মুজতানা মিনাল মুজতাবা»(১)-এ সন্নিবেশিত কিছু অধ্যায়। তিনি এটি শুরু করেছেন একটি পরিচ্ছেদ দিয়ে যার শিরোনাম: «দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী)-এর কিছু সংবাদের প্রতি ইঙ্গিত», তারপর: «তাদের মাসানীদ (হাদিস বর্ণনা) বিষয়ক পরিচ্ছেদ», তারপর: «দশজনের পরে সাহাবীদের মধ্যে যারা স্মরণে প্রসিদ্ধ তাদের প্রতি ইঙ্গিত এবং তাদের মাসানীদের সংখ্যা», তারপর: «নারী সাহাবীদের মধ্যে যারা স্মরণে প্রসিদ্ধ তাদের সংবাদের প্রতি ইঙ্গিত এবং তাদের মাসানীদের উল্লেখ»। এটি তিনি শুরু করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের দিয়ে, তারপর তাঁর কন্যাদের দিয়ে এবং সমাপ্ত করেছেন একটি পরিচ্ছেদ দিয়ে যার শিরোনাম: «নারী সাহাবীদের মধ্যে যারা স্মরণে প্রসিদ্ধ হয়েছেন তাদের আলোচনা»। তিনি প্রতিটি পরিচ্ছেদে সেখানে বর্ণিত সাহাবীদের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে বর্ণিত হাদিসের মোট সংখ্যা এবং তার মধ্যে বুখারী ও মুসলিম যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন।

এবং এই বিষয়ে আবু সাঈদ আল-আলাঈ (মৃত্যু ৭৬১ হি.) তাঁর গ্রন্থ: «কাশফুন নিকাব আম্মা রাওয়াশ শাইখানি লিল আসহাব» রচনা করেন। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি আল-হুমাইদীর গ্রন্থ থেকে সারসংক্ষেপ করেছেন। তাঁর পরে ইয়াহইয়া বিন আবু বকর আল-আমিরী (মৃত্যু ৮৯৩ হি.) তাঁর গ্রন্থ: «আর-রিয়াদুস মুস্তাতবাহ ফি জুমলাতি মান রাওয়া ফিস সহিহাইন মিনাস সাহাবাহ» রচনা করেন। এতে তিনি প্রত্যেক সাহাবীর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ও সুনান আরবাআ-তে (চারটি সুনান গ্রন্থে) তাদের বর্ণিত হাদিস সংখ্যা উল্লেখ করেছেন।

আর আলেমগণ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) নিয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের অধীনে এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন: আবু নাসর আল-কালাবাদি (মৃত্যু ৩৯৮ হি.) তাঁর গ্রন্থ: «রিজালুল বুখারী»-তে; আবু বকর বিন মানজুওয়াইহ (মৃত্যু ৪২৮ হি.) তাঁর গ্রন্থ: «রিজালু মুসলিম»-এ; এবং আবু ফাদল বিন তাহির আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৫০৭ হি.) তাঁর গ্রন্থ: «আল-জামউ বাইনা রিজালিস সহিহাইন»-এ, যা আল-কালাবাদি ও ইবনে মানজুওয়াইহ-এর গ্রন্থদ্বয়ের সংকলন; এবং আবু

--------------------------------------------

(১) ড. আলী বিন হুসাইন আল-বাওয়াব ১৪০৯ হিজরিতে 'দারুল ফাইজ' থেকে এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন। তিনি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, যার একটি তুরস্কের আহমদ আস-সালিস লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত, যার সংগ্রহ নম্বর ৫৮৮; এটি ১৬৭ থেকে ২২৫ পৃষ্ঠার মধ্যে অবস্থিত, যা ৬৩২ হিজরিতে প্রতিলিপি করা হয়েছে। এটি বিন্যাসে কিছুটা বিশৃঙ্খল হলেও এতে কোনো অংশ বাদ পড়েনি। ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর একটি অনুলিপি রয়েছে যার নম্বর ১০৪৩৮ ফা, এবং আমার কাছেও এর একটি অনুলিপি আছে।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
الوليد الباجي المتوفى سنة 474، في كتابه: «التعديل والتجريح لمن خرَّج له البخاري في الجامع الصحيح».

واعتنى بهذا الموضوع أيضًا عبدالغني المقدسي المتوفى سنة 600، ضمن كتابه: «الكمال في أسماء الرجال»، وهو في رجال الكتب الستة، وتلاه أبو الحجاج المِزِّي المتوفى سنة 742، فاعتنى بهذا الموضوع ضمن كتابيه: «تهذيب الكمال» و «تحفة الأشراف»، ثم استدرك على المِزِّي من ألف على كتابَيْه ممن جاء بعده، كالذهبي، والعراقي، ومُغْلطاي، وأبي زُرعة ابن العراقي، وابن حجر، وسِبْط ابن العَجَمي، والخزرجي وغيرهم، ونبهوا على أوهامه.

 

‌‌نسبة الرسالة للدارقطني، ونُسَخُها الخطية، وعنوانُها:

لم أقف على من نسب هذه الرسالة للدارقطني قبل فهارس المخطوطات المتأخرة التي نسبتها له اعتمادًا على ما في النسخ الخطية، لكني وقفت على نقول للعلماء منها، مصرحين بنسبة ما نقلوه إلى الدارقطني، منهم: ابن أبي الفوارس في رسالته في أسماء الصحابة في الصحيحين، وأبو الوليد الباجي في كتابه: «التعديل والتجريح»، وابن الجوزي في كتابيه: «تلقيح فهوم أهل الأثر»، و» المجتنى». وقد أشرت إلى هذه النقول في حواشي الرسالة.

واعتمدت في إخراج هذه الرسالة ست نسخ خطية، هذا بيان لها:

الأولى: (ت): تقع في أربع ورقات (187 أ - 190 ب) ضمن المجموع 2947 المحفوظ في مكتبة مغنيسيا الوطنية بتركيا، وهي الرسالة الخامسة عشرة فيه، منسوخة سنة 968، ولم يذكر فيها الناسخ. حصلت على صورة منها من موقع «وزارة الثقافة والسياحة التركية» على الشبكة العالمية بواسطة الشيخ عبد الله بن حمد المنصور جزاه الله خيرًا.

الثانية (س): تقع في ورقتين (35 ب - 37 أ) ضمن المجموع 620 المحفوظ في مكتبة سيرز التابعة للمكتبة السليمانية بتركيا، وهي الرسالة الخامسة فيه، ولم يذكر فيها تاريخ النسخ، ولا
আল-ওয়ালিদ আল-বাজি (মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ: 'আত-তা'দিল ওয়াত-তাজরিহ লি-মান খাররাজা লাহুল বুখারি ফিল জামিইস সহিহ'-তে।

এই বিষয়টি নিয়ে আব্দুল গানি আল-মাকদিসিও (মৃত্যু ৬০০ হিজরি) গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁর গ্রন্থ 'আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল'-এ, যা কুতুবে সিতাহ-র বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ। অতঃপর আবু হাজ্জাজ আল-মিযযি (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি) তাঁর অনুসরণ করেন এবং তাঁর দুটি গ্রন্থ 'তাহজিবুল কামাল' ও 'তুহফাতুল আশরাফ'-এ এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন। এরপর যারা আল-মিযযির পরে এসেছেন এবং তাঁর গ্রন্থ দুটির ওপর কাজ করেছেন, তারা তাঁর ভুল-ভ্রান্তিগুলো সংশোধন করেছেন; যেমন— আয-যাহাবি, আল-ইরাকি, মুগলতাই, আবু যুরআ ইবনুল ইরাকি, ইবনে হাজার, সিবত ইবনুল আজামি, আল-খাযরাজি এবং অন্যান্যগণ, এবং তারা তাঁর ভ্রমগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

 

‌‌আদ-দারা কুতনির প্রতি রিসালাটির নিসবত বা সম্বন্ধ, এর পাণ্ডুলিপি এবং এর শিরোনাম:

পরবর্তী যুগের পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলোতে পাণ্ডুলিপির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এটিকে আদ-দারা কুতনির দিকে নিসবত করা হয়েছে, তবে এর পূর্ববর্তী অন্য কেউ এই রিসালাটিকে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন বলে আমার জানা নেই। তবে আমি এ থেকে আলেমদের গৃহীত উদ্ধৃতি খুঁজে পেয়েছি, যেখানে তাঁরা উদ্ধৃত অংশগুলোকে স্পষ্টভাবে আদ-দারা কুতনির বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে আবিল ফাওয়ারিস তাঁর 'সহিহাইন'-এ সাহাবীদের নামের ওপর রচিত রিসালায়, আবু ওয়ালিদ আল-বাজি তাঁর গ্রন্থ 'আত-তা'দিল ওয়াত-তাজরিহ'-এ এবং ইবনুল জাওযি তাঁর 'তালকিহু ফুহুমি আহলিল আসার' ও 'আল-মুজতানা' গ্রন্থে। আমি এই রিসালাটির পাদটীকায় এসব উদ্ধৃতির কথা উল্লেখ করেছি।

এই রিসালাটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি ছয়টি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

প্রথম: (তা): তুরস্কের মাগনিসিয়া ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ২৯৪৭ নম্বর মজমুআর অন্তর্ভুক্ত চার পৃষ্ঠায় (১৮৭ ক - ১৯০ খ) এটি বিদ্যমান। এটি সেই সংকলনের ১৫তম রিসালা, যা ৯৬৮ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছিল, যদিও অনুলিপিকারের নাম উল্লিখিত নেই। আমি শেখ আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুরের মাধ্যমে (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) ইন্টারনেটে 'তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়' এর ওয়েবসাইট থেকে এর একটি কপি সংগ্রহ করেছি।

দ্বিতীয় (সিন): তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত সিয়েরয লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ৬২০ নম্বর মজমুআর অন্তর্ভুক্ত দুই পৃষ্ঠায় (৩৫ খ - ৩৭ ক) এটি বিদ্যমান। এটি সেই সংকলনের ৫ম রিসালা, এতে অনুলিপির তারিখ উল্লিখিত নেই, এবং ওজুদান...
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
الناسخ. حصلت على صورة منها بواسطة الأخ أبي عبدالله مؤيد بن محمد الطيب جزاه الله خيرًا.

الثالثة (ك): تقع في ثلاث ورقات ونصف الورقة (1 - 4) ضمن المجموع 801 المحفوظ في دار الكتب المصرية بالقاهرة، وهي الرسالة الأولى فيه، نسخها إسماعيل بن محمد المالكي العدوي، سنة ثمان وثمانين(1). أهدى لي صورة منها الأخ أبو حاتم المصري جزاه الله خيرًا.

الرابعة (ف): تقع في أربع ورقات ونصف الورقة (1 - 5) ضمن المجموع 1966 المحفوظ في مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية بالرياض، وهي الرسالة الأولى فيه، منسوخة في القرن الثالث عشر تقريبًا كما في بطاقة الفهرسة، ولم يذكر فيها الناسخ. حصلت على صورة منها من المركز نفسه جزى الله القائمين عليه خيرًا(2).

الخامسة (ي): تقع في ثلاث ورقات (241 ب - 244 أ) في آخر كتاب «تقييد المهمل وتمييز المشكل» لأبي علي الجياني المحفوظ بالرقم 2327 في مكتبة الأوقاف بالجامع الكبير بصنعاء، منسوخة سنة 695، ولم يذكر فيها الناسخ. حصلت على صورة منها من موقع «مركز ودود للمخطوطات» على الشبكة العالمية جزى الله القائمين عليه خيرًا.

السادسة (هـ): تقع في ورقتين (157 أ - 158 ب) ضمن المجموع 2276 خ المحفوظ في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، وهي الرسالة الخامسة عشرة فيه، نسخها زين العابدين الآروي الشاه آبادي البهاري، سنة 1320. حصلت على صورة منها من

--------------------------------------------

(1) كذا جاء في آخر النسخة، ولعل المراد: بعد الألف، فاختصر الناسخ التاريخ، ونقل سزكين عن فهرس دار الكتب أنها منسوخة سنة 1060 هـ.

(2) وقد سقط منها في مصورتي الوجه (أ) من اللوحة الخامسة، وفيه نهاية النسخة، وكذلك وجدته ساقطًا من الفلم المحفوظ في المركز المصور عن النسخة الأصلية، ووقع مكانه ورقة فيها مجموعة أشعار، لا علاقة لها بالرسالة.

অনুলিপিকার। আমি এর একটি প্রতিলিপি ভাই আবু আব্দুল্লাহ মুআইয়িদ বিন মুহাম্মাদ আত-তায়্যিবের মাধ্যমে পেয়েছি, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

তৃতীয় (কাফ): এটি কায়রোতে অবস্থিত দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার ৮০১ নম্বর সংকলনের অধীনে সাড়ে তিন পৃষ্ঠায় (১ - ৪) বিদ্যমান। এটি উক্ত সংকলনের প্রথম রিসালাহ। এটি ৮৮ হিজরিতে(১) ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আল-মালিকি আল-আদাওয়ি অনুলিপি করেছেন। ভাই আবু হাতিম আল-মিসরি আমাকে এর একটি প্রতিলিপি উপহার দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

চতুর্থ (ফা): এটি রিয়াদে অবস্থিত কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এ সংরক্ষিত ১৯৬৬ নম্বর সংকলনের অধীনে সাড়ে চার পৃষ্ঠায় (১ - ৫) অবস্থিত। এটি উক্ত সংকলনের প্রথম রিসালাহ। ক্যাটালগ কার্ড অনুসারে এটি আনুমানিকভাবে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অনুলিপি করা হয়েছে, তবে এতে অনুলিপিকারের নাম উল্লেখ নেই। আমি স্বয়ং উক্ত কেন্দ্র থেকেই এর একটি প্রতিলিপি সংগ্রহ করেছি, আল্লাহ এর দায়িত্বশীলদের উত্তম প্রতিদান দিন(২)।

পঞ্চম (ইয়া): এটি সানায় অবস্থিত জামে কাবিরের ওয়াকফ লাইব্রেরিতে ২৩২৭ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আবু আলী আল-জিয়ানি রচিত «তাকয়ীদুল মুহমাল ওয়া তাময়ীযুল মুশকিল» বইটির শেষে তিন পৃষ্ঠায় (২৪১ খ - ২৪৪ ক) অবস্থিত। এটি ৬৯৫ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে, তবে এতে অনুলিপিকারের নাম উল্লেখ নেই। আমি ইন্টারনেটে অবস্থিত «ওয়াদুদ সেন্টার ফর ম্যানুস্ক্রিপ্টস» ওয়েবসাইট থেকে এর একটি প্রতিলিপি সংগ্রহ করেছি, আল্লাহ এর দায়িত্বশীলদের উত্তম প্রতিদান দিন।

ষষ্ঠ (হা): এটি রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত ২২৭৬ খ নম্বর সংকলনের অধীনে দুই পৃষ্ঠায় (১৫৭ ক - ১৫৮ খ) অবস্থিত। এটি উক্ত সংকলনের পঞ্চদশ রিসালাহ। এটি ১৩২০ হিজরিতে যয়নুল আবিদীন আল-আরওয়ি আশ-শাহ আবাদি আল-বিহারি অনুলিপি করেছেন। আমি এর একটি প্রতিলিপি সংগ্রহ করেছি

--------------------------------------------

(১) পান্ডুলিপির শেষে এভাবেই এসেছে, সম্ভবত এর অর্থ হলো: এক হাজারের পরে, অর্থাৎ অনুলিপিকার তারিখটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। সেজকিন দারুল কুতুবের ক্যাটালগ থেকে বর্ণনা করেছেন যে এটি ১০৬০ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে।

(২) আমার কাছে থাকা আলোকচিত্রের পঞ্চম পাতার (ক) অংশটি বাদ পড়ে গিয়েছে, যেখানে পান্ডুলিপির সমাপ্তি অংশ ছিল। একইভাবে আমি উক্ত কেন্দ্রে সংরক্ষিত মূল পান্ডুলিপি থেকে ধারণকৃত ফিল্মেও এটি বাদ পড়ে থাকতে দেখেছি। এর পরিবর্তে সেখানে একগুচ্ছ কবিতা সম্বলিত একটি পাতা পাওয়া গিয়েছে, যার সাথে এই রিসালাহর কোনো সম্পর্ক নেই।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
الجامعة نفسها جزى الله القائمين عليها خيرًا.

والنسختان الثانية والثالثة ذكرهما فؤاد سزكين في كتابه: «تاريخ التراث العربي» 1/ 422، 423، بالرقمين 17، 19، والرابعة ذكرها الشيخ نجم بن عبدالرحمن خلف في كتابه: «استدراكات على تاريخ التراث العربي في علم الحديث» ص 534، والخامسة ذكرها الشيخان رضا بو شامة وعبدالباري عبدالحميد في مراجع تحقيقهما لكتاب» الإيماء إلى أطراف أحاديث كتاب الموطأ «لأبي العباس الداني 5/ 563، والسادسة ذكرها أصحاب» الفهرس الشامل» 2/ 820، نقلًا عن فهرس المخطوطات والمصورات بجامعة الإمام 1/ 400(1).

وقد نص الدارقطني في مقدمة رسالته على عنوانها، فقال: «هذه أسماء الصحابة التي

--------------------------------------------

(1) ذكر الشيخ عبدالله الرحيلي في كتابه: «الإمام أبو الحسن الدارقطني وآثاره العلمية» ص 213، 214 لرسالة الدارقطني هذه نسخةً محفوظة في المكتبة الآصفية بالهند بالرقم (172 رجال)، ضمن كتابٍ عنوانه: «رجال البخاري ومسلم»، وقال: «هذا الكتاب يتجزأ إلى ثلاثة كتب»، وذكر أن أولها رسالة أسماء الصحابة هذه، وأن أول الرسالة جاء في النسخة هكذا: «الصحابة الذين أخرج لهم البخاري في صحيحه مما اعتنى به الحميدي ونبه عليه»، وأن آخرها: «ما حمر على عدده فذلك العدد في الصحيحين، وما لم يحمر ففي البخاري»، وقال: «ولم يظهر في النسخة المصورة عدد أصلًا»، ولم يزد على هذا. وتعقبه الشيخ خالد بن محمد باسمح في رسالته: «أحاديث أبي إسحاق السبيعي التي ذكر الدارقطني فيها اختلافًا في كتابه العلل»، فقال ص 137 عما نقله الرحيلي من أول الرسالة: «وهذا النص لا يمكن أن يكون للدارقطني، فالحميدي لم يخلق بعد»، ومن ثم شكك في صحة نسبة هذه الرسالة إلى الدارقطني، وجعلها ضمن» الكتب المنسوبة إليه وفي نسبتها نظر « .. وقد حصلت على صورة من هذه النسخة، فتبين أنها ليست للدارقطني، وإنما هي تجريد لأسماء الصحابة الذين ذكر الحميدي في كتابه:» الجمع بين الصحيحين «أن البخاري أخرج لهم، لم يُعرف من قام به، نقله الناسخ بين يدي رسالة أخرى للدارقطني، هي:» ذكر أسماء التابعين ومن بعدهم ممن صحت روايته من الثقات عند البخاري».

বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেই; আল্লাহ এর দায়িত্বশীলদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাণ্ডুলিপি দুটির কথা ফুয়াদ সেজগিন তার 'তারিখুত তুরাসিল আরাবি' (আরবি ঐতিহ্যের ইতিহাস) গ্রন্থের ১/৪২২, ৪২৩ পৃষ্ঠায় ১৭ ও ১৯ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ করেছেন। চতুর্থটির কথা শায়খ নাজমু ইবনে আবদুর রহমান খালাফ তার 'ইস্তিদরাকাত আলা তারিখিত তুরাসিল আরাবি ফি ইলমিল হাদিস' গ্রন্থের ৫৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। পঞ্চমটির কথা শায়খ রেদা বু শামাহ এবং শায়খ আবদুল বারি আবদুল হামিদ আবুল আব্বাস আদ-দানির 'আল-ইমা ইলা আতরাফি আহাদিসি কিতাবিল মুওয়াত্তা' গ্রন্থের তাহকিকের তথ্যসূত্রে ৫/৫৬৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। ষষ্ঠটির কথা 'আল-ফিহরিসুশ শামিল' গ্রন্থের সংকলকগণ ২/৮২০ পৃষ্ঠায় ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় এর পাণ্ডুলিপি ও অনুলিপির সূচিপত্র ১/৪০০ থেকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছেন(১)।

দারা কুতনি তার পুস্তিকার ভূমিকায় এর শিরোনাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "এটি সেই সব সাহাবীদের নাম যাদের...

--------------------------------------------

(১) শায়খ আবদুল্লাহ আর-রুহাইলি তার 'আল-ইমাম আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি ওয়া আসারুহু আল-ইলমিয়া' গ্রন্থের ২১৩, ২১৪ পৃষ্ঠায় দারা কুতনির এই পুস্তিকাটির ভারতের আসিফিয়া লাইব্রেরিতে (১৭২ রিজাল) নম্বরে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেছেন, যা 'রিজালুল বুখারি ওয়া মুসলিম' শিরোনামের একটি গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেছেন: "এই বইটি তিনটি অংশে বিভক্ত।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর প্রথমটি হলো সাহাবীদের নামের এই পুস্তিকাটি এবং পাণ্ডুলিপিতে পুস্তিকাটির শুরু এভাবে হয়েছে: "সেই সকল সাহাবী যাদের হাদিস ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং যাদের ব্যাপারে হুমায়দি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।" আর এর শেষে রয়েছে: "যাদের সংখ্যার ওপর লাল চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, সেই সংখ্যাটি উভয় সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান; আর যেটিতে লাল চিহ্ন নেই, সেটি কেবল বুখারি গ্রন্থে রয়েছে।" তিনি আরও বলেন: "ফটোকপি করা পাণ্ডুলিপিতে আদতে কোনো সংখ্যাই ফুটে ওঠেনি", এবং তিনি এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি। শায়খ খালিদ বিন মুহাম্মদ বা-সামাহ তার 'আহাদিসু আবি ইসহাক আস-সাবি'য়ি আল্লাতি যাকারাদ দারা কুতনি ফিহা ইখতিলাফান ফি কিতাবিহিল ইলাল' নামক গবেষণাপত্রের ১৩৭ পৃষ্ঠায় আর-রুহাইলির উদ্ধৃতিটির পর্যালোচনা করে বলেছেন: "এই পাঠ্যটি দারা কুতনির হওয়া সম্ভব নয়, কারণ হুমায়দি তখনও জন্মগ্রহণ করেননি।" ফলে তিনি এই পুস্তিকাটি দারা কুতনির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার শুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে 'তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত এমন বই যার সম্বন্ধের ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে' এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি এই পাণ্ডুলিপির একটি কপি সংগ্রহ করেছি এবং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এটি দারা কুতনির নয়; বরং এটি হলো হুমায়দি তার 'আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন' গ্রন্থে যে সকল সাহাবীদের কথা উল্লেখ করেছেন যে ইমাম বুখারি তাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাদের নামের একটি সংক্ষেপণ মাত্র। এর সংকলক কে তা জানা যায়নি, অনুলিপিকারক এটি দারা কুতনির অন্য একটি পুস্তিকা—'যিকরু আসমায়িত তাবিইন ওয়া মান বাদাহুম মিম্মান সাহহাত রিওয়ায়াতুহু মিনাস সিকাত ইনদাল বুখারি'—এর শুরুতে বসিয়ে দিয়েছেন।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
اتفق فيها محمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري رحمهما الله تعالى، وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه «، وأما العنوان في النسخ فجاء مختلفًا قليلًا، ففي (ت) و (س):» الجزء فيه ما اتفق عليه البخاري ومسلم رحمهما الله، وما انفرد به أحدهما عن الآخر، من أسماء الصحابة رضي الله عنهم أجمعين»، وفي (ك) و (ف): «هذه رسالة في أسماء الصحابة التي اتفق فيها البخاري ومسلم في صحيحيهما، وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه»، ولم يرد للرسالة عنوان في (ي) و (هـ)، وإنما ابتدأتا بكلام الدارقطني مباشرة.

وقد اعتمدت العنوان الذي ذكره الدارقطني في بداية الرسالة، لأنه هو الذي ارتضاه عنوانًا لها.

 

‌‌دراسة النسخ الخطية:

ليس من نسخ هذه الرسالة نسخةٌ ترقى أن تكون أصلًا معتمدًا، فكلها نسخ متأخرة، ولم تُبيَّن أصولُها التي نُسخت منها، وليس في واحدة منها إسناد إلى الدارقطني، وإنما تبتدئ جميعًا بـ «قال الدارقطني» -إلا ما في النسخة (ي)، وسيأتي-، وتشترك جميعها في كثرة التصحيفات والتحريفات التي تدل على أنها نسخ غير متقنة.

ووجدت تشابهًا في الصياغة والتصحيفات بين النسختين (ت) و (س)، كما وجدت تشابهًا بين النسختين (ك) و (ف)، حتى إن هناك حواشيَ متطابقةً مكتوبةٌ في النسختين (ك) و (ف) على غلافَيْهما، وفي صفحاتهما، مع وجود تشابه أحيانًا بين النسخة (ك) والنسختين (ت) و (س). أما (ي) و (هـ) فبينهما تشابه إلى حدٍ ما، وتختلفان عن البواقي.

وبعد دراسة النسخ تبين لي أنها فروع ترجع إلى أصلين مختلفين، فالنسختان (ي) و (هـ)

 

ترجعان إلى أصل واحد، والبواقي ترجع إلى أصل آخر، وكل أصل يختلف عن الآخر: زيادة
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশায়রি (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) যে বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের একক বর্ণনা যা অপরজন করেননি। আর পাণ্ডুলিপিগুলোতে শিরোনাম কিছুটা ভিন্নভাবে এসেছে। (তা) এবং (সিন) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘এটি সেই অংশ যাতে বুখারি ও মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) একমত হয়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) নামের মধ্য থেকে যা তাঁদের একজন অন্যজন থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন’। (কাফ) এবং (ফা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘এটি সাহাবিদের নামের ওপর একটি পুস্তিকা যাতে বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে একমত হয়েছেন এবং যা তাঁদের প্রত্যেকে অপরজন ছাড়া এককভাবে বর্ণনা করেছেন’। (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে পুস্তিকাটির কোনো শিরোনাম আসেনি, বরং তা সরাসরি দারাকুতনির বক্তব্য দিয়ে শুরু হয়েছে।

আমি সেই শিরোনামটি গ্রহণ করেছি যা দারাকুতনি পুস্তিকাটির শুরুতে উল্লেখ করেছেন, কারণ তিনি এটিকেই এর শিরোনাম হিসেবে পছন্দ করেছেন।

 

‌‌পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা:

এই পুস্তিকাটির পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এমন কোনো পাণ্ডুলিপি নেই যা একটি নির্ভরযোগ্য মূল পাঠ হওয়ার মর্যাদা রাখে। কারণ এগুলো সবই পরবর্তী সময়ের পাণ্ডুলিপি এবং এগুলোর মূল উৎস স্পষ্ট করা হয়নি যেখান থেকে এগুলো নকল করা হয়েছে। এগুলোর কোনোটিতেই দারাকুতনি পর্যন্ত কোনো সনদ নেই, বরং সবগুলোই ‘দারাকুতনি বলেছেন’ বাক্যটি দিয়ে শুরু হয়েছে—তবে (ইয়া) পাণ্ডুলিপিটি এর ব্যতিক্রম, যা সামনে আসবে—এবং এই সবগুলো পাণ্ডুলিপিতেই প্রচুর পরিমাণ শব্দগত বিকৃতি ও পরিবর্তনের মিল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এগুলো সুচারুরূপে সম্পাদিত পাণ্ডুলিপি নয়।

আমি (তা) এবং (সিন) পাণ্ডুলিপি দুটির শব্দবিন্যাস ও শব্দগত বিকৃতির মধ্যে সাদৃশ্য পেয়েছি। একইভাবে (কাফ) এবং (ফা) পাণ্ডুলিপি দুটির মধ্যেও সাদৃশ্য পেয়েছি, এমনকি (কাফ) ও (ফা) পাণ্ডুলিপি দুটির প্রচ্ছদে এবং পৃষ্ঠাগুলোতে হুবহু একই রকম টীকা লেখা রয়েছে। পাশাপাশি কখনো কখনো (কাফ) পাণ্ডুলিপির সাথে (তা) এবং (সিন) পাণ্ডুলিপি দুটির সাদৃশ্যও পাওয়া যায়। তবে (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপি দুটির মধ্যে একটি পর্যায় পর্যন্ত সাদৃশ্য থাকলেও তা অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে ভিন্ন।

পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনার পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এগুলো দুটি ভিন্ন মূল উৎসের শাখা। (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপি দুটি একটি মূল উৎসের দিকে ফিরে যায়, আর বাকিগুলো অন্য একটি মূল উৎসের দিকে ফিরে যায়। প্রতিটি মূল উৎসই অন্যটি থেকে ভিন্ন: অতিরিক্ত অংশ...
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
في أسماء الصحابة ونقصًا، واختلافًا في الترتيب بينها، وفي جعل بعض الصحابة مما اتفق فيه الشيخان أو انفرد به أحدهما عن الآخر.

فالأصل الذي نقلت منه النسختان (ي) و (هـ) جاءت فيه زيادة سبعة عشر اسمًا على الأصل الآخر، والأصل الآخر جاءت فيه زيادة اسم واحد على الأول، واختلف الأصلان في ثمانية أسماء، فجاءت في الأول فيما اتفقا فيه، وجاءت في الآخر فيما انفرد به أحدهما، وجاء فيهما اسم بعكس ذلك، وجاء اسم في أفراد البخاري في الأول، وفي أفراد مسلم في الآخر، واختلف الأصلان في ترتيب ثلاثة أسماء، مع الاتفاق على جعلهم في موضع واحد: فيما اتفقا فيه، أو فيما انفرد به أحدهما.

وهذا الاختلاف بين الأصلين يحتمل: أن يكون من الدارقطني نفسه، وأن يكون من الرواة. فقد يكون الدارقطني ألف الرسالة أولًا، فرويت عنه، ثم أعاد فيها النظر، واستدرك أشياء، فرويت عنه ثانيًا. وقد يكون أحد الرواة أصلح فيما رواه أشياء، وأضاف وعدل، فروي عنه ذلك على أنه من الدارقطني. وقد يكون الاختلاف لأمر آخر، لكنه لا يمكن أن يكون من النساخ، لأنه لا يحتمل ذلك، لتعدده، وتنوعه.

وأمام هذا الاختلاف بين الأصلين وجدت لكل واحد منهما ما يرجح الأخذ به:

فمما يرجح الأخذ بأصل (ي) و (هـ) أن النسخة اليمنية (ي) جاءت عليه، وفيها ميزتان تميزانها عن النسخ الأخرى: أن في بدايتها إسنادًا إلى الدارقطني، وأنها أقدم النسخ كتابة، حيث نسخت سنة 695.

والإسناد الذي في بداية (ي) جاء بعد البسملة هكذا: «أبو الحسن علي بن فهد، قرأت على أبا الفتح محمد بن أحمد بن أبي الفوارس، أخبركم أبو الحسن الدارقطني، قال: هذه أسماء الصحابة … ». وفوق الأخطاء اللغوية والتحريفات التي اشتمل عليها هذا الإسناد؛ فإن فيه إشكالًا، خلاصته: أن الراوي عن الدارقطني -وهو ابن أبي الفوارس، أحد الحفاظ
সাহাবীদের নামের ক্ষেত্রে কমবেশি হওয়া, সেগুলোর বিন্যাসে পার্থক্য থাকা এবং কিছু সাহাবীকে এমনভাবে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে যা শেখাইন (বুখারি ও মুসলিম) উভয়ে একমত হয়েছেন অথবা তাঁদের মধ্যে কোনো একজন এককভাবে বর্ণনা করেছেন—তাতে পার্থক্য বিদ্যমান।

যে মূল কপি থেকে (ইয়া) ও (হা) পাণ্ডুলিপি দুটি অনুলিপি করা হয়েছে, তাতে অন্য মূল কপির তুলনায় সতেরোটি নাম অতিরিক্ত রয়েছে। পক্ষান্তরে অন্য মূল কপিতে প্রথমটির তুলনায় একটি নাম বেশি এসেছে। আটটি নামের ক্ষেত্রে উভয় মূল কপির মধ্যে মতভেদ রয়েছে; প্রথমটিতে সেগুলো মুত্তাফাকুন আলাইহি (উভয় ইমাম একমত এমন) অধ্যায়ে এসেছে, আর অন্যটিতে সেগুলো এসেছে যেখানে তাঁদের একজন এককভাবে বর্ণনা করেছেন। উভয় কপিতে একটি নাম এর ঠিক উল্টোভাবে এসেছে। একটি নাম প্রথম কপিতে বুখারির একক বর্ণনার মধ্যে এসেছে, আর অন্যটিতে মুসলিমের একক বর্ণনার মধ্যে এসেছে। তিনটি নামের বিন্যাসের ক্ষেত্রেও উভয় মূল কপির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যদিও সেগুলোকে একই স্থানে রাখার ব্যাপারে উভয় কপি একমত: হয় মুত্তাফাকুন আলাইহি হিসেবে, অথবা তাঁদের কোনো একজনের একক বর্ণনা হিসেবে।

মূল কপি দুটির মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ হতে পারে স্বয়ং দারাকুতনী নিজে, অথবা বর্ণনাকারীবৃন্দ। সম্ভবত দারাকুতনী প্রথমে পুস্তিকাটি রচনা করেন এবং সেটি তাঁর থেকে বর্ণিত হয়; এরপর তিনি এটি পুনর্বিবেচনা করেন এবং কিছু বিষয় সংশোধন করেন, ফলে এটি দ্বিতীয়বার তাঁর থেকে বর্ণিত হয়। আবার এমনও হতে পারে যে, কোনো একজন বর্ণনাকারী তাঁর বর্ণিত কপিতে কিছু সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করেছেন, যা পরবর্তীতে দারাকুতনীর কাজ হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে। পার্থক্যের অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে, তবে এটি লিপিকারদের ভুল হওয়া সম্ভব নয়; কেননা এর আধিক্য ও বৈচিত্র্যের কারণে লিপিকারদের থেকে এমনটি হওয়া অসম্ভব।

এই দুই মূল কপির পার্থক্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি প্রত্যেকটির জন্য এমন কিছু বৈশিষ্ট্য পেয়েছি যা সেটিকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়:

(ইয়া) ও (হা) এর মূল কপিকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একটি অগ্রাধিকারমূলক দিক হলো, ইয়ামেনি পাণ্ডুলিপিটি (ইয়া) এই বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে লিখিত। এতে অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর তুলনায় দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান: এর শুরুতে দারাকুতনী পর্যন্ত একটি সনদ (সূত্রধারা) রয়েছে এবং এটি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন, যা ৬৯৫ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছিল।

(ইয়া) এর শুরুতে বিসমিল্লাহর পর সনদটি এভাবে এসেছে: «আবুল হাসান আলী বিন ফাহদ, আমি আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবুল ফাওয়ারিসের নিকট পড়েছি, তিনি বলেছেন: আবুল হাসান দারাকুতনী তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: এগুলো হলো সাহাবীদের নাম … »। এই সনদে থাকা ভাষাগত ত্রুটি ও বিকৃতি ছাড়াও এতে একটি তাত্ত্বিক সমস্যা রয়েছে, যার সারকথা হলো: দারাকুতনী থেকে বর্ণনাকারী—যিনি ইবনুল ফাওয়ারিস, প্রখ্যাত হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত—
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
من تلاميذ الدارقطني- قد ألف رسالة مشابهة لرسالة الدارقطني، وعزا فيها ثمانية أسماء إلى رسالة الدارقطني بقوله: «قال الشيخ أبو الحسن»، ومن بين الذين عزاهم إلى الدارقطني في أفراد مسلم: أبو حبة -ويقال: حية- البدري، مع أنه في النسخة (ي) المروية عن ابن أبي الفوارس عن الدارقطني مذكور فيما اتفقا فيه، فلو كانت تلك النسخة من روايته فعلًا لعزا أبا حبة البدري إلى ما اتفقا فيه، كما هو مثبت في تلك النسخة عنه، فهذا مما يشكك في هذا الإسناد.

وأمر آخر: هو أن في هذا الأصل صحابيين، ذُكِرا متبوعين بعبارة: «ذكره الحاكم»، وهذا ليس من كلام الدارقطني قطعًا، لأن المقصود بالحاكم أبو عبدالله ابن البيِّع، وهو أحد تلاميذ الدارقطني، وما ذُكر عنه موجود في كتابه: «المدخل إلى الصحيح»، ويبعد أن ينقل الدارقطني عن أحد تلاميذه شيئًا في رسالة صغيرة كهذه. وقد لاحظت أن أسماء الصحابة التي زادها هذا الأصل على الأصل الآخر مذكورة كلها عند الحاكم، فلعلها زيدت منه إضافة إلى ما عند الدارقطني، ثم أدخلها النساخ فيما بعد في صلب الرسالة. لكن الإشكال قائم فيمن تغير مكانهم بين الأصلين من المتفق عليه إلى ما انفرد به أحدهما، أو العكس، فهذا مما يصعب تغييره وإبقاء نسبته إلى الدارقطني، وليس للنساخ مجال في تغييره دون إشارة.

فهذان أمران يجعلان الأخذ بهذا الأصل غير متعين.

وتقدُّم تاريخ كتابة النسخة (ي) لا يكفي لتقديمها على بقية النسخ، لأنه تقدم بالنسبة للنسخ الأخرى، وأما الدارقطني فإن تاريخ النَسْخ متأخر عنه بأربعة قرون، هذا مع كون النسخة (ي) في شقها الأكبر -وهو كتاب «تقييد المهمل» الذي جاءت في آخره- كثيرةَ التصحيف والتحريف والسقط، كما ترى وصفها بذلك في مقدمة تحقيق الشيخين علي بن محمد العمران، ومحمد عزير شمس للكتاب، في 1/ 137.

ومما يرجح الأخذ بأصل (ت) و (س) و (ك) و (ف) أن نقول العلماء عن الدارقطني في
দারা কুতনী-র ছাত্রগণের মধ্যে একজন দারা কুতনী-র রিসালার অনুরূপ একটি রিসালা সংকলন করেছেন এবং সেখানে তিনি "শায়খ আবুল হাসান বলেছেন" বলে দারা কুতনী-র রিসালার দিকে আটটি নাম সম্বন্ধ করেছেন। মুসলিম-এর একক বর্ণনাকারীদের (আফরাদ) অন্তর্ভুক্ত যারা তিনি দারা কুতনী-র দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু হাব্বা—যাকে হাইয়্যাহ-ও বলা হয়—আল-বাদরী। অথচ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস কর্তৃক দারা কুতনী থেকে বর্ণিত (ইয়ামানী) পাণ্ডুলিপিতে তাকে উভয়ের ঐকমত্যপূর্ণ (মুত্তাফাকুন আলাইহি) বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং যদি এই পাণ্ডুলিপিটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর বর্ণনা হতো, তবে তিনি আবু হাব্বা আল-বাদরীকে তাদের ঐকমত্যপূর্ণ বর্ণনাকারীদের দিকেই সম্বন্ধ করতেন। আর এটিই এই সনদের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করে।

অন্য আরেকটি বিষয় হলো: এই মূল পাণ্ডুলিপিতে এমন দুজন সাহাবী রয়েছেন যাদের নামের পরে ‘হাকিম এটি উল্লেখ করেছেন’ বাক্যটি যুক্ত আছে। এটি নিশ্চিতভাবেই দারা কুতনী-র কথা নয়। কারণ ‘হাকিম’ বলতে এখানে আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বাইয়্যি-কে বোঝানো হয়েছে, যিনি স্বয়ং দারা কুতনী-র অন্যতম ছাত্র। আর তাঁর বরাত দিয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাঁর গ্রন্থ ‘আল-মাদখাল ইলাস সহীহ’-তে বিদ্যমান। আর দারা কুতনী তাঁর এমন একটি ছোট রিসালায় তাঁর কোনো ছাত্রের উদ্ধৃতি দিবেন—এটি অসম্ভব মনে হয়। আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই পাণ্ডুলিপিতে অন্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় যেসব সাহাবীর নাম অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে, তার সবগুলোই হাকিম-এর গ্রন্থে বিদ্যমান। সম্ভবত দারা কুতনী-র মূল বক্তব্যের সাথে এগুলো অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অনুলিপিকারগণ (নাসিখ) রিসালার মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। তবে সমস্যাটি থেকে যায় তাদের ব্যাপারে যাদের অবস্থান দুই পাণ্ডুলিপির মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে; অর্থাৎ যারা কোনোটিতে ঐকমত্যপূর্ণ বর্ণনাকারী হিসেবে ছিলেন অথচ অন্যটিতে একক বর্ণনাকারী হিসেবে উল্লিখিত হয়েছেন, অথবা এর বিপরীত হয়েছে। দারা কুতনী-র দিকে সম্বন্ধ অটুট রেখে এমন পরিবর্তন ঘটানো কঠিন কাজ এবং কোনো প্রকার ইঙ্গিত দেওয়া ছাড়া অনুলিপিকারদের পক্ষে এ ধরনের পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।

এই দুটি বিষয় এই পাণ্ডুলিপিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ না করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

(ইয়ামানী) পাণ্ডুলিপিটি রচনার প্রাচীন তারিখ এটিকে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ এটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় প্রাচীন হলেও দারা কুতনী-র সময়ের তুলনায় এই অনুলিপি করার সময়কাল প্রায় চার শতাব্দী পরের। এর পাশাপাশি, (ইয়ামানী) পাণ্ডুলিপির সিংহভাগ—যা মূলত ‘তাকয়িদুল মুহমাল’ নামক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত এবং যার শেষে এটি সংযোজিত হয়েছে—তাতে প্রচুর পরিমাণে শব্দ বিভ্রাট (তাসহিফ), বিকৃতি (তাহরিফ) এবং পাঠচ্যুতি (সাকাত) রয়েছে। যেমনটি শায়খ আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান এবং মুহাম্মদ উযাইর শামস-এর তাহকীককৃত উক্ত গ্রন্থের মুকাদ্দিমার প্রথম খণ্ডের ১৩৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

আর (তা), (সীন), (কাফ) ও (ফা) পাণ্ডুলিপিগুলোকে গ্রহণ করার যৌক্তিকতা এই যে, দারা কুতনী থেকে আলেমদের বর্ণনাগুলো...
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
هذه الرسالة -مما وقفت عليه- متوافقة معه، ومختلفة -في بعض المواضع- عن الأصل الأول، كما تراه في حواشي الرسالة عند ذكر «الحارث بن عوف أبي واقد الليثي، والرميصاء أم سليم، ولبابة الكبرى أم الفضل، وأبي حبة البدري، وأبي داود».

وقد جاء كلام الدارقطني في بعض كتبه الأخرى موافقًا أيضًا لهذا الأصل، مخالفًا للأصل الأول، فمن ذلك:

«سلمة بن يزيد الجعفي» ذكر في أصل (ي) و (هـ) فقط، وقد عده الدارقطني في الإلزامات ص 99 فيمن صحت أحاديثهم، ولم يخرَّج لهم شيء في الصحيحين.

و «حويطب بن عبدالعزى، وعبدالله بن عامر بن ربيعة، وعبدالله بن صفوان» ذكروا في أصل (ي) و (هـ) فقط، وقد ذكرهم الدارقطني في كتابه: «ذكر أسماء التابعين ومن بعدهم ممن صحت روايته من الثقات عند البخاري ومسلم» 1/ 120، و 1/ 189، 2/ 138، و 2/ 134، فهم عنده من التابعين، على أنه قد ذَكَر في هذا الكتاب غيرَهم ممن اجتمع عليهم الأصلان.

والجزم باعتماد أحد هذين الأصلين ليس بسهل، لغياب المرجحات القوية، لكني لِمَا سبق ذكره من وجود أمرين يشككان في الأخذ بأصل (ي) و (هـ)، اعتمدت في أسماء الصحابة أصلَ (ت) و (س) و (ك) و (ف)، فله ما يؤيده، وهو أقرب عندي إلى كونه من تأليف الدارقطني، وأثبتُّ في الحواشي ما في أصل (ي) و (هـ) من أسماء زائدةٍ أو مذكورةٍ في غير المواضع التي ذكرت فيها في الأصل المعتمد.

 

‌‌طريقة الدارقطني في رسالته:

قدم الدارقطني لرسالته مقدمةً تبين مضمونها، فقال: «هذه أسماء الصحابة التي اتفق فيها محمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري رحمهما الله تعالى،
এই রিসালাহটি—যা আমি অবগত হয়েছি—তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং কিছু স্থানে প্রথম মূল পাণ্ডুলিপি থেকে ভিন্নতর, যেমনটি আপনি রিসালাহর পাদটীকায় দেখতে পাবেন যখন ‘হারিস ইবনে আউফ আবু ওয়াকিদ আল-লাইসী, রুমাইসা উম্মু সুলাইম, লুবাবাহ আল-কুবরা উম্মুল ফাদল, আবু হাব্বাহ আল-বাদরী এবং আবু দাউদ’-এর উল্লেখ করা হয়েছে।

দারা কুতনীর বক্তব্য তাঁর অন্যান্য কিছু কিতাবেও এই পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রথম পাণ্ডুলিপির পরিপন্থী হিসেবে এসেছে। এর মধ্য থেকে:

‘সালামাহ ইবনে ইয়াযিদ আল-জু’ফী’ কেবল (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে। দারা কুতনী একে ‘আল-ইলযামাত’ ৯৯ পৃষ্ঠায় সেইসব ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করেছেন যাদের হাদীস সহীহ, কিন্তু সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ তাদের থেকে কিছুই সংকলিত হয়নি।

এবং ‘হুওয়াইতিব ইবনে আবদিল উযযা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান’ কেবল (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে। দারা কুতনী তাঁর কিতাব: ‘যিকর আসমাউত তাবিঈন ওয়া মান বা’দাহুম মিম্মান সাহহাত রিওয়ায়াতুহু মিনাস সিকাত ইনদাল বুখারী ওয়া মুসলিম’ ১/ ১২০, ১/ ১৮৯, ২/ ১৩৮ এবং ২/ ১৩৪-এ তাদের উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তারা তাঁর নিকট তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তিনি এই কিতাবে এমন অন্যদেরও উল্লেখ করেছেন যাদের বিষয়ে উভয় পাণ্ডুলিপি একমত হয়েছে।

জোরালো অগ্রাধিকারযোগ্য প্রমাণের অনুপস্থিতিতে এই দুটি পাণ্ডুলিপির কোনো একটির ওপর নিশ্চিতভাবে নির্ভর করা সহজ নয়। তবে পূর্বে উল্লিখিত (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপি গ্রহণের ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টিকারী দুটি বিষয়ের কারণে আমি সাহাবীদের নামের ক্ষেত্রে (তা), (সীন), (কাফ) এবং (ফা) পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। কেননা এর স্বপক্ষে সমর্থন রয়েছে এবং এটি আমার নিকট দারা কুতনীর সংকলন হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আর আমি (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে থাকা অতিরিক্ত নামসমূহ অথবা নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিতে যে স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে তার বাইরে অন্য স্থানে থাকা নামগুলো পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।

 

‌‌তাঁর রিসালায় দারা কুতনীর অনুসৃত পদ্ধতি:

দারা কুতনী তাঁর রিসালার শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছেন যা এর বিষয়বস্তুকে স্পষ্ট করে। তিনি বলেন: «এগুলো হলো সেই সকল সাহাবীদের নাম যাদের ব্যাপারে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী এবং মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী (রহিমাহুমুল্লাহ তা’আলা) একমত হয়েছেন,
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه». وختمها بقوله: «فهذه جملة ما خرجا جميعًا من حديث الصحابة من الرجال والنساء رضي الله عنهم، في كتابيهما جميعًا».

ورتب الأسماء على حروف المعجم، جاعلًا لكل حرف بابًا، وقدم من اسمه محمد، وهو محمد بن مسلمة وحده، وقدم في كل حرف من اتفقا فيه، ثم أفراد مسلم، ثم أفراد البخاري، وقد يخالف هذا الترتيب أحيانًا.

ومزج الرجال بالنساء، فلم يفرد لهن بابًا، وذكرهن غالبًا في آخر الفصل من كل حرف.

وعقد في آخر الرسالة بابًا لكنى الرجال، ثم أتبعه بآخر في كنى النساء.

وكرر في الكنى بعض من ذكرهم في الأسماء، وهم: أبو سعيد بن المعلى -وأشار إلى أنه تقدم-، وأم سليم، وأم عطية.

ووجدت الصحابة الذين ذكرهم الدارقطني في رسالته ثلاثة أنواع:

الأول: من له في الصحيحين أو أحدهما حديث مسند يرويه عن النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا هو الغالب.

الثاني: من له في الصحيحين أو أحدهما رواية عن الصحابة، أو أثر موقوف عليه من قوله أو فعله، وليس له فيهما أو في أحدهما حديث مسند يرويه عن النبي صلى الله عليه وسلم. منهم: أهبان بن أوس، وثعلبة بن أبي مالك، وعبدالله بن المسيب، وعمرو بن سلِمة.

الثالث: من له ذِكْرٌ في أحاديث الصحيحين أو أحدهما، في المتون أو الأسانيد، وليست تلك الأحاديث من مسنده ولا من روايته، ولا من قوله أو فعله، وليس له في الصحيحين أو أحدهما حديث مسند يرويه عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو عن الصحابة. منهم: إياس بن البكير، وسالم مولى أبي حذيفة، وعامر بن حذيفة أبو الجهم، وعاصم بن ثابت بن أبي الأقلح، وقدامة بن مظعون، وأم سليط.

فكل هؤلاء -فيما يظهر من تصرف الدارقطني- يشملهم عنده عنوان الرسالة
এবং যা তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর সাথীকে বাদ দিয়ে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি এই কথা বলে শেষ করেছেন: "সুতরাং এটি হলো সেই সব সাহাবীদের—পুরুষ ও নারী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—হাদিসের সমষ্টি যা তাঁরা উভয়ে মিলে তাঁদের কিতাবদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।"

তিনি নামসমূহকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন, প্রতিটি বর্ণের জন্য একটি করে অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন। যার নাম মুহাম্মদ তাকে তিনি অগ্রে রেখেছেন, আর তিনি হলেন এককভাবে মুহাম্মদ বিন মাসলামা। প্রতিটি বর্ণের ক্ষেত্রে তিনি প্রথমে তাঁদের দুজনেই যে বিষয়ে একমত হয়েছেন (উভয় গ্রন্থে আছে) তা এনেছেন, এরপর মুসলিমের একক বর্ণনা, অতঃপর বুখারীর একক বর্ণনা। কখনও কখনও তিনি এই বিন্যাসের ব্যতিক্রমও করেছেন।

তিনি পুরুষ ও নারীদের নাম মিশ্রিতভাবে উল্লেখ করেছেন, তাদের জন্য আলাদা কোনো অধ্যায় রাখেননি; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিটি বর্ণের পরিচ্ছেদের শেষে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি রিসালার শেষে পুরুষদের উপনামের জন্য একটি অধ্যায় তৈরি করেছেন, এরপর নারীদের উপনামের জন্য আরেকটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন।

তিনি উপনামের অধ্যায়ে এমন কিছু ব্যক্তিকে পুনরায় উল্লেখ করেছেন যাদের নাম তিনি পূর্বেই নামের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছিলেন, তাঁরা হলেন: আবু সাঈদ বিন আল-মুআল্লা—এবং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—উম্মে সুলাইম এবং উম্মে আতিয়্যাহ।

আমি দারা কুতনী কর্তৃক তাঁর রিসালায় বর্ণিত সাহাবীগণকে তিন প্রকারের পেয়েছি:

প্রথমত: যাঁদের সহীহাইন বা তাঁদের যেকোনো একটিতে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত মুসনাদ হাদিস রয়েছে, আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয়ত: যাঁদের সহীহাইন বা তাঁদের যেকোনো একটিতে সাহাবীদের থেকে বর্ণনা রয়েছে, অথবা তাঁদের কথা বা কাজ থেকে কোনো মাওকুফ আসার (বর্ণনা) রয়েছে, কিন্তু সহীহাইন বা তাঁদের কোনো একটিতে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত কোনো মুসনাদ হাদিস নেই। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: উহবান বিন আউস, সা'লাবা বিন আবি মালিক, আব্দুল্লাহ বিন আল-মুসাইয়্যিব এবং আমর বিন সালামা।

তৃতীয়ত: সহীহাইনের যেকোনো একটির হাদিসের মূল পাঠে অথবা সনদে যাঁদের উল্লেখ রয়েছে, অথচ সেই হাদিসগুলো তাঁদের মুসনাদ থেকে নয়, তাঁদের বর্ণনা থেকেও নয় এবং তাঁদের কথা বা কাজ থেকেও নয়; এমনকি সহীহাইন বা তাঁদের কোনো একটিতে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অথবা সাহাবীদের থেকে বর্ণিত কোনো মুসনাদ হাদিসও তাঁদের নেই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াস বিন আল-বুকাইর, আবু হুযাইফার মুক্তদাস সালিম, আমির বিন হুযাইফা আবু আল-জাহম, আসিম বিন সাবিত বিন আবি আল-আকলাহ, কুদামা বিন মাজউন এবং উম্মে সালীত।

সুতরাং দারা কুতনীর কর্মপদ্ধতি থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এই সকল ব্যক্তিই তাঁর নিকট তাঁর রিসালার শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومضمونها، وهو «الصحابة الذين أخرج لهم البخاري ومسلم أو أحدهما»، فلا بد على هذا من اجتماع شيئين: أن تكون الصحبة ثابتة -ولو من خارج الصحيحين-، وأن يخرِّج الشيخان أو أحدهما للصحابي بأي نوع من الأنواع السابقة.

والنوعان الأول والثاني يدخلان في مضمون الرسالة أصالةً، وهما المقصودان بتأليفها، أما النوع الثالث فلا يدخل إلا تبعًا، وليس هو من مقصود التأليف ههنا، وأظن الدارقطني لم يقصد استيعاب هذا النوع، فإن في متون أحاديث الصحيحين جماعة من الصحابة لم يذكرهم، منهم: زيد بن الدثنة، وخبيب بن عدي، والطفيل بن عمرو الدوسي، وعثمان بن مظعون، وهلال بن أمية، ومرارة بن الربيع، وحمزة بن عبدالمطلب، ومصعب بن عمير، وزيد بن حارثة، وسماك بن خرشة، وجليبيب، وعبدالله بن عمرو بن حرام الأنصاري، وغيرهم، وهذا بابه أعلام المتون، ولعل كتاب ابن حجر: «الإعلام بمن ذكر في البخاري من الأعلام» يتناول هذا النوع في صحيح البخاري خاصة.

 

‌‌الموازنة بين ما كتبه الدارقطني في هذه الرسالة وما كتبه الحاكم وابن أبي الفوارس والحميدي، وما كتبه الدارقطني في كتبه الأخرى مما له صلة بالموضوع:

وجدت فيما كتبه الحاكم وابن أبي الفوارس والحميدي في هذا الموضوع جماعةً من الصحابة لم يذكرهم الدارقطني:

فذكر الحاكم: خولة بنت قيس -وقد قيل: إنها خولة بنت ثامر التي ذكرها الدارقطني، ولم يذكرها الحاكم-، وسعد بن عبادة، وسليك الغطفاني، والضحاك بن سفيان الكلابي -وقد وهم بذكره الحاكم-، وعثمان بن طلحة.

وذكر ابن أبي الفوارس: بلال بن الحارث -وقد وهم بذكره-، وعبدالله بن حذافة،

 

ومحمد بن إياس بن البكير -وقال: «عن أبيه»، وقد ذكر أباه الدارقطني-.
এর বিষয়বস্তু হলো, "সেই সকল সাহাবী যাঁদের থেকে বুখারী ও মুসলিম অথবা তাঁদের কোনো একজন হাদিস বর্ণনা করেছেন"। এমতাবস্থায় দুটি বিষয় একত্রিত হওয়া আবশ্যক: সাহাবী হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া—চাই তা বুখারী ও মুসলিমের বাইরে থেকে হোক না কেন—এবং শায়খায়ন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কোনো একজন ওই সাহাবী থেকে পূর্বে উল্লেখিত যেকোনো পদ্ধতিতে হাদিস বর্ণনা করা।

প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারটি মূলত এই গ্রন্থ বা রিসালার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত এবং গ্রন্থটি রচনার মূল উদ্দেশ্যও এই দুটি প্রকার। তবে তৃতীয় প্রকারটি কেবল আনুষঙ্গিকভাবে এসেছে, এটি এখানে গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য নয়। আমার ধারণা, আদ-দারা কুতনী এই প্রকারটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করার ইচ্ছা করেননি। কারণ সহীহাইন-এর হাদিসের মতন বা মূল পাঠে এমন একদল সাহাবীর উল্লেখ রয়েছে যাঁদের তিনি আলোচনা করেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: যায়েদ ইবনুদ দাছিনাহ, খুবাইব ইবনে আদি, তুফাইল ইবনে আমর আদ-দাওসী, উসমান ইবনে মাজউন, হিলাল ইবনে উমাইয়াহ, মুরারাহ ইবনুর রবী‘, হামযাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, মুস‘আব ইবনে উমাইর, যায়েদ ইবনে হারিসাহ, সিমাক ইবনে খারাশাহ, জুলাইবীব, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম আল-আনসারী এবং অন্যান্যগণ। এই বিষয়টি 'আ'লামুল মুতূন' বা হাদিসের মূল পাঠে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত ইবনে হাজারের গ্রন্থ 'আল-ই'লাম বি-মান যুকিরা ফিল বুখারী মিনাল আ'লাম' বিশেষ করে সহীহ বুখারীর এই প্রকারটি নিয়ে আলোচনা করে।

 

‌‌আদ-দারা কুতনী এই রিসালায় যা লিখেছেন এবং আল-হাকিম, ইবনে আবিল ফাওয়ারিস ও আল-হুমায়দী যা লিখেছেন, তার মধ্যকার তুলনা; এবং আদ-দারা কুতনী তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে এই বিষয় সংশ্লিষ্ট যা লিখেছেন তার তুলনা:

আল-হাকিম, ইবনে আবিল ফাওয়ারিস এবং আল-হুমায়দী এই বিষয়ে যা লিখেছেন তাতে আমি এমন একদল সাহাবীকে পেয়েছি যাঁদের আদ-দারা কুতনী উল্লেখ করেননি:

আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন: খাওলাহ বিনতে কায়স—বলা হয়ে থাকে যে, তিনিই হলেন খাওলাহ বিনতে ছামির যাঁর কথা আদ-দারা কুতনী উল্লেখ করেছেন কিন্তু আল-হাকিম করেননি—, সা‘দ ইবনে উবাদাহ, সুলাইক আল-গাতাফানী, আদ-দাহহাক ইবনে সুফইয়ান আল-কিলাবী—যাঁর ব্যাপারে আল-হাকিম ভ্রম করেছেন—এবং উসমান ইবনে তালহা।

ইবনে আবিল ফাওয়ারিস উল্লেখ করেছেন: বিলাল ইবনুল হারিস—যাঁর ব্যাপারে তিনি ভ্রম করেছেন—এবং আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফাহ,

 

এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস ইবনুল বুকাঈর—তিনি বলেছেন: "তাঁর পিতা থেকে", অথচ তাঁর পিতার কথা আদ-দারা কুতনী উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وذكر الحميدي: سراقة بن مالك، وعبدالله بن حذافة، وعبدالله بن رواحة، ومحمد بن إياس بن البكير -ونبه على أنه تابعي، وأن لأبيه ذكرًا لا روايةً في البخاري، وقد ذكر أباه الدارقطني-.

ولم يستوعب الدارقطني التنبيه على المسانيد المبهمات، وقد ذكرها ابن أبي الفوارس والحميدي.

وأما الأسماء التي زيدت في أصل (ي) و (هـ) -وهي سبعة عشر اسمًا-، فقد ذكر الحاكم وابن أبي الفوارس والحميدي منها: خويلد بن عمرو أبا شريح العدوي، وعائذ بن عمرو المزني، وعمرو بن عبسة السلمي، وعبدالله بن سرجس، ومعمر بن عبدالله العدوي، ونفيعًا أبا بكرة الثقفي، وانفرد الحاكم بذكر: حويطب بن عبدالعزى، وسلمة بن يزيد الجعفي، والضحاك بن قيس الفهري، وعبدالله بن السعدي، وعبدالله بن عبدالأسد أبي سلمة، وعبدالله بن صفوان، وفاطمة بنت أبي حبيش، وأبي الشموس البلوي، وأبي لاس الخزاعي، وأم حبيبة بنت جحش. وانفردت النسخة (ي) من هذا الأصل بذكر: عبدالله بن عامر بن ربيعة، ولم يذكره واحد منهم.

وأما الأسماء التي اختلف فيها أصل (ي) و (هـ) وأصل (ت) و (س) و (ك) و (ف) -وهي عشرة أسماء-، فجاءت ستة منها عند ابن أبي الفوارس والحميدي(1) موافقة لما في أصل (ي) و (هـ)، وهي: الحارث بن عوف أبو واقد الليثي، والرميصاء أم سليم -في الموضع

--------------------------------------------

(1) لم يلتزم الحاكم في الفصل الذي عقده للصحابة في كتابه أن يميز من أخرج له الشيخان ممن أخرج له أحدهما، وإنما أشار إلى ذلك أحيانًا، لذلك لم أدخله في الموازنة هنا، ولم أجد عنده ما يخالف ما ذكره الدارقطني، إلا في» عائذ بن عمرو المزني «، فقد ذكره في أفراد مسلم، وهو من زيادات أصل (ي) و (هـ) فيما اتفقا فيه.

আল-হুমাইদি উল্লেখ করেছেন: সুরাকা বিন মালিক, আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাহ, আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা এবং মুহাম্মাদ বিন ইয়াস বিন আল-বুকাইর - এবং তিনি সতর্ক করেছেন যে তিনি একজন তাবিঈ, এবং তাঁর পিতার উল্লেখ বুখারিতে রয়েছে কিন্তু তাঁর কোনো বর্ণনা নেই, আর তাঁর পিতাকে আদ-দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন।

আদ-দারাকুতনি অস্পষ্ট মুসনাদসমূহের (আল-মাসানিদ আল-মুবহামাত) ব্যাপারে সতর্ক করার বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করেননি, তবে ইবনুল ফাওয়ারিস এবং আল-হুমাইদি তা উল্লেখ করেছেন।

আর (ইয়া) এবং (হা) মূল পাণ্ডুলিপিতে যে নামগুলো বৃদ্ধি করা হয়েছে - যা সতেরটি নাম - আল-হাকিম, ইবনুল ফাওয়ারিস এবং আল-হুমাইদি তাদের মধ্য থেকে উল্লেখ করেছেন: খুওয়াইলিদ বিন আমর আবু শুরাইহ আল-আদাওয়ি, আইজ বিন আমর আল-মুজানি, আমর বিন আবাসা আস-সুলামি, আব্দুল্লাহ বিন সারজিস, মা'মার বিন আব্দুল্লাহ আল-আদাওয়ি এবং নুফাই আবু বাকরা আস-সাকাফি। আর আল-হাকিম এককভাবে উল্লেখ করেছেন: হুওয়াইতিব বিন আবদিল উজ্জা, সালামাহ বিন ইয়াজিদ আল-জু'ফি, আদ-দাহহাক বিন কাইস আল-ফিহরি, আব্দুল্লাহ বিন আস-সাদি, আব্দুল্লাহ বিন আবদিল আসাদ আবু সালামাহ, আব্দুল্লাহ বিন সাফওয়ান, ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ, আবুল শুমুস আল-বালাউয়ি, আবু লাস আল-খুজায়ি এবং উম্মে হাবিবা বিনতে জাহশ। আর এই মূল পাণ্ডুলিপির (ইয়া) সংস্করণে এককভাবে আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়াহ-র নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁদের মধ্যে অন্য কেউ উল্লেখ করেননি।

আর সেই নামসমূহ যেগুলোতে (ইয়া) ও (হা) পাণ্ডুলিপি এবং (তা), (সিন), (কাফ) ও (ফা) পাণ্ডুলিপির মধ্যে মতভেদ রয়েছে - যা দশটি নাম - তাদের মধ্যে ছয়টি ইবনুল ফাওয়ারিস এবং আল-হুমাইদির নিকট(১) (ইয়া) ও (হা) পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে এসেছে, সেগুলো হলো: আল-হারিস বিন আউফ আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি, এবং আর-রুমাইসা উম্মে সুলাইম - এই স্থানে

--------------------------------------------

(১) আল-হাকিম তাঁর কিতাবে সাহাবীদের জন্য নির্ধারিত অধ্যায়ে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) যাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং যাদের হাদিস তাঁদের মধ্যে কেবল একজন বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে পার্থক্য করার নীতি সর্বদা বজায় রাখেননি, বরং মাঝে মাঝে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। এই কারণে আমি এখানে তুলনামূলক আলোচনায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করিনি। আর আদ-দারাকুতনি যা উল্লেখ করেছেন তাঁর বিপরীতে আমি আল-হাকিমের কাছে কিছুই পাইনি, কেবল 'আইজ বিন আমর আল-মুজানি'র ক্ষেত্রে ব্যতীত; কারণ তিনি তাকে মুসলিমে এককভাবে বর্ণিত বর্ণনাকারীদের (আফরাদ) মধ্যে উল্লেখ করেছেন, এবং এটি (ইয়া) ও (হা) পাণ্ডুলিপির সেই বৃদ্ধিকৃত অংশসমূহের অন্তর্ভুক্ত যাতে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২০)
الأول(1) -، وسعد بن معاذ، والصعب بن جثامة، وصهيب بن سنان، ولبابة أم الفضل. وجاءت ثلاثة أسماء منها عندهما موافقة لما في أصل (ت) و (س) و (ك) و (ف)، وهي: عبدالله بن يزيد الأنصاري(2)، وعمرو بن حريث، وعمرو بن الحارث بن المصطلق، وجاء «أبو حبة البدري» عند ابن أبي الفوارس وحده -معزوًا إلى الدارقطني- بموافقة ما في أصل (ت) و (س) و (ك) و (ف).

واتفق الأصلان على سبعة أسماء جاءت عند ابن أبي الفوارس والحميدي مخالفة لما عند الدارقطني، وهي: خولة بنت حكيم، وسودة بنت زمعة، وعبدالله بن زمعة، وأبو عبيدة عامر بن عبدالله، وفاطمة بنت قيس، ومحمود بن الربيع، والنعمان بن مقرن. وقد ذكرت عند كل واحد من هؤلاء في موضعه ما يوضح أمره.

وبيانهم في الجدول التالي:

--------------------------------------------

(1) ذكرها الدارقطني مرتين: في الأسماء وفي الكنى، فجاءت في الأسماء في الأصل الأول فيما اتفقا فيه، وفي الثاني في أفراد مسلم، وجاءت في الكنى في الأصلين فيما اتفقا فيه.

(2) هو مما انفردت به (هـ) مخالفة لـ (ت) و (س) و (ك) و (ف)، ولم يرد في (ي).

প্রথম(১) -, এবং সা'দ বিন মুআয, আস-সা'ব বিন জাছছামাহ, সুহাইব বিন সিনান এবং লুবাবাহ উম্মুল ফাদল। তাদের নিকট এর মধ্য হতে তিনটি নাম (ত), (স), (ক) এবং (ফ) এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিল রেখে এসেছে, সেগুলো হলো: আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল-আনসারী(২), আমর বিন হুরাইস এবং আমর বিন আল-হারিস বিন আল-মুস্তালিক। আর কেবল ইবনুল ফাওয়ারিসের নিকট ‘আবু হাব্বাহ আল-বাদরী’ নামটি এসেছে -দারাকুতনীর দিকে সম্বন্ধ করে- যা (ত), (স), (ক) এবং (ফ) এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর ইবনুল ফাওয়ারিস ও আল-হুমাইদীর নিকট দারাকুতনীর বর্ণনার বিপরীতে সাতটি নামের ক্ষেত্রে মূল পাণ্ডুলিপিদ্বয় ঐকমত্য পোষণ করেছে, সেগুলো হলো: খাওলাহ বিনতে হাকিম, সাওদাহ বিনতে জামআহ, আবদুল্লাহ বিন জামআহ, আবু উবাইদাহ আমির বিন আবদুল্লাহ, ফাতিমা বিনতে কাইস, মাহমুদ বিন আর-রাবী' এবং আন-নু'মান বিন মুকাররিন। আর তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ স্থানে আমি এমন বর্ণনা উল্লেখ করেছি যা তাদের অবস্থা স্পষ্ট করে।

এবং নিম্নের ছকে তাদের বিবরণ দেওয়া হলো:

--------------------------------------------

(১) দারাকুতনী এটি দুইবার উল্লেখ করেছেন: নামসমূহের অধ্যায়ে এবং উপনামসমূহের (কুনিয়াত) অধ্যায়ে। সুতরাং নামসমূহের ক্ষেত্রে প্রথম মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি এসেছে যাতে তারা উভয়ই একমত হয়েছেন, এবং দ্বিতীয়টিতে ইমাম মুসলিমের একক বর্ণনাসমূহের মধ্যে এসেছে। আর এটি উভয় মূল পাণ্ডুলিপিতে উপনামসমূহের ক্ষেত্রে এসেছে যাতে তারা উভয়ই একমত হয়েছেন।

(২) এটি ঐ সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা (হ) এককভাবে বর্ণনা করেছে (ত), (স), (ক) এবং (ফ)-এর বিপরীতে, এবং এটি (ই)-তে বর্ণিত হয়নি।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২১)
الاسم (ي، هـ) (ت، س، ك، ف) ابن أبي الفوارس الحميدي
أبو واقد الليثي خ م م خ م خ م
الرميصاء خ م م خ م خ م
سعد بن معاذ خ م خ خ
الصعب بن جثامة خ م م خ م خ م
صهيب بن سنان م خ م م م
أم الفضل لبابة خ م م خ م خ م
عبدالله بن يزيد خ م خ خ خ
عمرو بن حريث خ م م م م
عمرو بن الحارث خ م خ خ خ
أبو حبة البدري خ م م م ×
خولة بنت حكيم خ م م م
سودة بنت زمعة خ خ م خ
عبدالله بن زمعة خ خ م خ م
أبو عبيدة عامر بن عبد الله خ م م
فاطمة بنت قيس م خ م خ م
محمود بن الربيع خ م خ خ
النعمان بن مقرن خ م خ خ م

ووجدت الدارقطني ذكر: زيد بن الخطاب، وله في الصحيحين حديث مسند، ولم يذكره الحاكم ولا ابن أبي الفوارس ولا الحميدي.
নাম (ইয়া, হা) (তা, সিন, কাফ, ফা) ইবনে আবিল ফাওয়ারিস আল-হুমাইদী
আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী বুখারী ও মুসলিম মুসলিম বুখারী ও মুসলিম বুখারী ও মুসলিম
আল-রুমাইসা বুখারী ও মুসলিম মুসলিম বুখারী ও মুসলিম বুখারী ও মুসলিম
সাদ ইবনে মুআয বুখারী মুসলিম বুখারী বুখারী
আস-সাব ইবনে জাছছামা বুখারী ও মুসলিম মুসলিম বুখারী ও মুসলিম বুখারী ও মুসলিম
সুহাইব ইবনে সিনান মুসলিম বুখারী ও মুসলিম মুসলিম মুসলিম
উম্মুল ফজল লুবাবা বুখারী ও মুসলিম মুসলিম বুখারী ও মুসলিম বুখারী ও মুসলিম
আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ বুখারী ও মুসলিম বুখারী বুখারী বুখারী
আমর ইবনে হুরাইছ বুখারী ও মুসলিম মুসলিম মুসলিম মুসলিম
আমর ইবনুল হারিস বুখারী ও মুসলিম বুখারী বুখারী বুখারী
আবু হাব্বাহ আল-বাদরী বুখারী ও মুসলিম মুসলিম মুসলিম ×
খাওলা বিনতে হাকীম বুখারী ও মুসলিম মুসলিম মুসলিম
সাওদা বিনতে জামআ বুখারী বুখারী ও মুসলিম বুখারী
আব্দুল্লাহ ইবনে জামআ বুখারী বুখারী ও মুসলিম বুখারী ও মুসলিম
আবু উবাইদাহ আমির ইবনে আব্দুল্লাহ বুখারী মুসলিম মুসলিম
ফাতিমা বিনতে কায়স মুসলিম বুখারী ও মুসলিম বুখারী ও মুসলিম
মাহমুদ ইবনুর রাবী বুখারী ও মুসলিম বুখারী বুখারী
আন-নুমান ইবনে মুকাররিন বুখারী ও মুসলিম বুখারী বুখারী ও মুসলিম

এবং আমি দারা কুতনীকে উল্লেখ করতে দেখেছি: যায়েদ ইবনুল খাত্তাব, এবং সহীহদ্বয়ে তাঁর একটি মুসনাদ হাদীস রয়েছে, অথচ আল-হাকিম, ইবনে আবিল ফাওয়ারিস বা আল-হুমাইদী তাঁর কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২২)
وذكر أبا رجاء عمران بن ملحان العطاردي، وقال: «وهو مخضرم»، إشارة إلى عدم صحة صحبته، وله في البخاري حديث أسنده إلى زمان النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يذكره الحاكم ولا ابن أبي الفوارس، وذكره الحميدي منبهًا عليه.

وزاد الدارقطني أسماءً ذكرها بعض هؤلاء دون بعض:

فزاد على الحاكم: أسماء بنت أبي بكر، وإياس بن البكير، وثعلبة بن أبي مالك، والحكم ابن عمرو الغفاري، وحزن بن أبي وهب، وسنينًا أبا جميلة، وصفية بنت شيبة -على أنه رجح عدم صحبتها-، وعبدالله بن أبي أوفى، وعبدالله بن قيس أبا موسى الأشعري، وعتبة بن غزوان، وعمارة بن رويبة، وعبدالله بن المسيب، وعبدالله بن أنيس، وعامر بن حذيفة أبا الجهم، وأبا عامر الأشعري، وعامر بن عبدالله أبا عبيدة، وعمرو بن سلِمة الجرمي، وعاصم ابن ثابت بن أبي الأقلح، والعداء بن خالد، وقدامة بن مظعون، ومروان بن الحكم، والنعمان ابن مقرن، ونسيبة أم عطية، ووائل بن حجر، وأبا حبة البدري، وأم حرام بنت ملحان، وأم مبشر.

وزاد على ابن أبي الفوارس: بلال بن رباح، وعبدالرحمن بن أبزى، ومجالد بن مسعود.

وزاد على الحميدي(1): الأشعث بن قيس، وحسان بن ثابت، وسلِمة الجرمي والد عمرو، وعبدالرحمن بن أبزى، والعداء بن خالد، ومروان بن الحكم، ونوفل بن معاوية، وأبا حبة البدري.

--------------------------------------------

(1) لم أذكر إلا من لهم حديث مسند، لأنهم على شرط الحميدي، وأما من سواهم فليسوا على شرطه، وقد ذكر منهم الدارقطني: ثعلبة بن أبي مالك، وسالمًا مولى أبي حذيفة، وعبدالله بن المسيب، وعامر بن حذيفة أبا الجهم، وعاصم بن ثابت بن أبي الأقلح، وقدامة بن مظعون، وأم سليط، ولم يذكرهم الحميدي.

তিনি আবু রাজা ইমরান ইবনে মিলহান আল-উতারিদিকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «তিনি একজন মুখাদরাম», যা তাঁর সাহাবী হওয়া সাব্যস্ত না হওয়ার দিকে ইঙ্গিত দেয়। বুখারীতে তাঁর একটি হাদীস রয়েছে যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়কাল পর্যন্ত সম্পর্কিত করেছেন। হাকিম এবং ইবনুল ফাওয়ারিস তাঁকে উল্লেখ করেননি, তবে হুমাইদী তাঁকে সতর্কতাস্বরূপ উল্লেখ করেছেন।

আর দারাকুতনী এমন কিছু নাম বৃদ্ধি করেছেন যা তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরা করেননি:

তিনি হাকিমের ওপর অতিরিক্ত যোগ করেছেন: আসমা বিনতে আবু বকর, ইয়াস ইবনুল বুকাইর, সা'লাবা ইবনে আবু মালিক, হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারী, হাযন ইবনে আবু ওয়াহাব, সুনাইন আবু জামিলা, সাফিয়া বিনতে শায়বা -যদিও তিনি তাঁর সাহাবী না হওয়ার মতটিই প্রাধান্য দিয়েছেন-, আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা, আবদুল্লাহ ইবনে কায়স আবু মুসা আল-আশআরী, উতবা ইবনে গাযওয়ান, উমারা ইবনে রুইবা, আবদুল্লাহ ইবনুল মুসাইয়িব, আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস, আমির ইবনে হুযাইফা আবু জাহাম, আবু আমির আল-আশআরী, আমির ইবনে আবদুল্লাহ আবু উবাইদাহ, আমর ইবনে সালামা আল-জারমী, আসিম ইবনে সাবিত ইবনে আবিল আকলাহ, আদ্দা ইবনে খালিদ, কুদামা ইবনে মাজউন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম, নুমান ইবনে মুকাররিন, নুসাইবা উম্মে আতিয়্যাহ, ওয়াইল ইবনে হুজর, আবু হাব্বা আল-বাদরী, উম্মে হারাম বিনতে মিলহান এবং উম্মে মুবাশশির।

তিনি ইবনুল ফাওয়ারিসের ওপর অতিরিক্ত যোগ করেছেন: বিলাল ইবনে রাবাহ, আবদুর রহমান ইবনে আবযা এবং মুজালিদ ইবনে মাসউদ।

তিনি হুমাইদীর(১) ওপর অতিরিক্ত যোগ করেছেন: আশআস ইবনে কায়স, হাসসান ইবনে সাবিত, সালামা আল-জারমী (আমরের পিতা), আবদুর রহমান ইবনে আবযা, আদ্দা ইবনে খালিদ, মারওয়ান ইবনুল হাকাম, নাওফাল ইবনে মুয়াবিয়া এবং আবু হাব্বা আল-বাদরী।

--------------------------------------------

(১) আমি শুধুমাত্র তাঁদেরকেই উল্লেখ করেছি যাঁদের মুসনাদ হাদীস রয়েছে, কারণ তাঁরা হুমাইদীর শর্ত অনুযায়ী; আর এছাড়া অন্যরা তাঁর শর্ত অনুযায়ী নয়। দারাকুতনী তাঁদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন: সা'লাবা ইবনে আবু মালিক, আবু হুযাইফার মুক্তদাস সালিম, আবদুল্লাহ ইবনুল মুসাইয়িব, আমির ইবনে হুযাইফা আবু জাহাম, আসিম ইবনে সাবিত ইবনে আবিল আকলাহ, কুদামা ইবনে মাজউন এবং উম্মে সালীত; কিন্তু হুমাইদী তাঁদের উল্লেখ করেননি।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وذكر الدارقطني ثلاثة لم يذكرهم هؤلاء، ولم أجد لهم ذكرًا فيما عزاهم إليه: البراء بن مالك، وأبو داود(1)، ذكرهما في أفراد البخاري، وعبدالله بن ربيعة، ذكره في أفراد مسلم.

وبموازنة ما ذكره الدارقطني في هذه الرسالة بما ذكره في كتابه: «الإلزامات» وجدت كلامه متطابقًا فيهما، إذ ذكر فيهما ممن اتفقا فيه: المسيب بن حزن، وعتبان بن مالك، وعمرو بن عوف، ومالك بن صعصعة،، ومعيقيبًا. وممن انفرد به البخاري: مرداسًا الأسلمي، وزاهرًا والد مجزأة، وحزن بن أبي وهب، وعبدالله بن هشام، وعبدالله بن ثعلبة بن صعير، وعمرو بن تغلب، وخولة بنت ثامر، وسويد بن النعمان، وأبا سعيد بن المعلى، وسنينًا أبا جميلة، وشيبة بن عثمان، وأبا عبس بن جبر، وأم العلاء. وممن انفرد به مسلم: طارق بن أشيم والد أبي مالك الأشجعي، ومطيع بن الأسود، وزهير بن عمرو، وقبيصة بن المخارق، وسبرة بن معبد، وجدامة بنت وهب، وذؤيبًا والد قبيصة، والأغر المزني، وأبا رفاعة العدوي، ورافع بن عمرو الغفاري، وربيعة بن كعب الأسلمي، وقطبة بن مالك، ونافع بن عتبة، وأم مبشر.

كما ذكر الدارقطني في كتابه: «ذكر أسماء التابعين ومن بعدهم ممن صحت روايته من الثقات عند البخاري ومسلم» جماعةً ذكرهم في رسالته هذه، فذكر في رجال البخاري وفي رجال مسلم: صفية بنت شيبة، وأبا رجاء عمران بن ملحان العطاردي، وزينب بنت أم سلمة، وذكر في رجال البخاري وحده: ثعلبة ابن أبي مالك، وعبدالله بن يزيد الخطمي الأنصاري، ومحمود بن الربيع. وقد ذكرت عند كل واحد منهم في موضعه ما لعله يفسر هذا التكرار.

--------------------------------------------

(1) لم يذكر» أبو داود «في (ك) و (ي) و (هـ).

আদ-দারাকুতনী এমন তিনজনের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের কথা এরা উল্লেখ করেননি, আর তিনি যাদের দিকে তাঁদেরকে সম্পর্কিত করেছেন তাদের মধ্যেও আমি তাঁদের উল্লেখ পাইনি: আল-বারা বিন মালিক এবং আবু দাউদ(১), তিনি তাঁদেরকে বুখারীর একক বর্ণনাকারীদের (আফরাদ) মধ্যে উল্লেখ করেছেন, এবং আবদুল্লাহ বিন রাবিআহ, যাঁকে তিনি মুসলিমের একক বর্ণনাকারীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

এই পুস্তিকায় আদ-দারাকুতনী যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে তাঁর 'আল-ইলযামাত' গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্যের তুলনা করে আমি দেখতে পেয়েছি যে, উভয় স্থানেই তাঁর বক্তব্য অভিন্ন। কারণ তিনি উভয় গ্রন্থে তাঁদের উল্লেখ করেছেন যাদের ব্যাপারে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) একমত হয়েছেন: আল-মুসাইয়্যাব বিন হাযন, ইতবান বিন মালিক, আমর বিন আউফ, মালিক বিন সা'সা'আ এবং মুআইকীব। আর যাদের ক্ষেত্রে বুখারী একক ছিলেন: মিরদাস আল-আসলামী, মাজযাআ-র পিতা যাহির, হাযন বিন আবি ওয়াহাব, আবদুল্লাহ বিন হিশাম, আবদুল্লাহ বিন সা'লাবা বিন সুআইর, আমর বিন তাগলিব, খাওলা বিনতে সামির, সুওয়াইদ বিন নুমান, আবু সাঈদ বিন আল-মুআল্লা, সানীন আবু জামীলা, শাইবা বিন উসমান, আবু আবস বিন জাবর এবং উম্মুল আলা। আর যাদের ক্ষেত্রে মুসলিম একক ছিলেন: তারিক বিন আশইয়াম (আবু মালিক আল-আশজাঈ-র পিতা), মুতী' বিন আল-আসওয়াদ, যুহাইর বিন আমর, কাবীসা বিন আল-মুখারিক, সাবরা বিন মা'বাদ, জুদামা বিনতে ওয়াহাব, কাবীসার পিতা যুআইব, আল-আগার আল-মুযানী, আবু রিফা'আ আল-আদাবী, রাফি' বিন আমর আল-গিফারী, রাবিআ বিন কা'ব আল-আসলামী, কুতবা বিন মালিক, নাফি' বিন উতবা এবং উম্মু মুবাশশির।

অনুরূপভাবে আদ-দারাকুতনী তাঁর গ্রন্থ: 'যিকর আসমাউত তাবিঈন ওয়া মান বাদাহুম মিম্মান সাহহাত রিওয়ায়াতুহু মিনাস সিকাত ইনদাল বুখারী ওয়া মুসলিম'-এ এমন একদল ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন যাদেরকে তিনি এই পুস্তিকায়ও উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তিনি বুখারীর বর্ণনাকারী এবং মুসলিমের বর্ণনাকারী—উভয় শ্রেণীতে উল্লেখ করেছেন: সাফিয়্যা বিনতে শায়বা, আবু রাজা ইমরান বিন মিলহান আল-আতারিদী এবং যায়নব বিনতে উম্মু সালামাহ। আর কেবল বুখারীর বর্ণনাকারীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন: সা'লাবা ইবনে আবি মালিক, আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল-খাতমী আল-আনসারী এবং মাহমুদ বিন আল-রাবী। আমি তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থানে এমন কিছু উল্লেখ করেছি যা সম্ভবত এই পুনরাবৃত্তির ব্যাখ্যা প্রদান করবে।

--------------------------------------------

(১) (কাফ), (ইয়া) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিগুলোতে 'আবু দাউদ'-এর উল্লেখ নেই।

(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المنهج المتبع في إخراج الرسالة:

1 - اعتمدت في أسماء الصحابة ما جاء في أصل (ت) و (س) و (ك) و (ف)، وأثبت في الحواشي الأسماءَ الزائدة في أصل (ي) و (هـ) في أماكنها، ونبهت على كل اسم وقع فيه خلاف بين الأصلين، وذكرت مكان وروده في أصل (ي) و (هـ). وأما في صياغة العبارة فتخيرت الصواب من النسخ، وأثبت ما استصوبته من الزيادات فيها.

2 - قسمت الرسالة إلى فقرات، ورقمتها ترقيمًا متسلسلًا، وربطت كل رقم بحاشيةٍ، بينت فيها ما اختلفت فيه النسخ داخل كل فقرة.

3 - نبهت على من ذكرهم الدارقطني ممن ليس لهم مسانيد في الصحيحين أو أحدِهما، وإنما لهم روايات عن الصحابة، أو آثارٌ موقوفة عليهم، أو ذِكْرٌ في الأحاديث من دون رواية، أو ذَكَرهم الدارقطني فيما اتفقا فيه، وإنما أخرج لهم أحدهما، أو العكس.

4 - علقت على بعض المواضع بما يوضحها، وصوبت في الحواشي ما رأيت أنه خطأ في المتن.

وأسأل الله تعالى التوفيق في القول والعمل، إنه سميع مجيب.

 

حرر في 19 شوال 1430

jaberaddosary@hotmail.com
রিসালাটি সম্পাদনায় অনুসৃত পদ্ধতি:

১ - সাহাবায়ে কেরামের নামের ক্ষেত্রে আমি (ত), (স), (ক) এবং (ফ) পাণ্ডুলিপির মূল পাঠের ওপর নির্ভর করেছি এবং (ই) ও (হ) পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত অতিরিক্ত নামগুলো তাদের নিজ নিজ স্থানে টীকায় উল্লেখ করেছি। উভয় মূল পাঠের মধ্যে যে সকল নামে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে সে বিষয়ে আমি সতর্ক করেছি এবং (ই) ও (হ) পাণ্ডুলিপিতে সেগুলো যেখানে এসেছে তা উল্লেখ করেছি। আর বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে আমি পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে সঠিকটি বেছে নিয়েছি এবং সেখানে প্রাপ্ত যে সকল অতিরিক্ত অংশকে আমি সঠিক মনে করেছি তা বহাল রেখেছি।

২ - আমি রিসালাটিকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি। প্রতিটি নম্বরকে একটি টীকার সাথে যুক্ত করেছি, যেখানে প্রতিটি অনুচ্ছেদের অভ্যন্তরে পাণ্ডুলিপি সমূহের মধ্যকার ভিন্নতাগুলো স্পষ্ট করেছি।

৩ - ইমাম দারাকুতনী যাদের কথা উল্লেখ করেছেন অথচ সহীহাইন বা এর কোনো একটিতে যাদের কোনো মুসনাদ নেই, বরং সাহাবায়ে কেরাম থেকে কেবল তাদের বর্ণনা রয়েছে, অথবা তাঁদের ওপর মাওকুফ আছার রয়েছে, অথবা বর্ণনা ব্যতীত হাদীসে কেবল তাঁদের উল্লেখ রয়েছে, অথবা দারাকুতনী তাঁদের এমন ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যেখানে উভয় ইমাম একমত হয়েছেন বলে মনে হয় অথচ প্রকৃতপক্ষে তাঁদের হাদীস কেবল একজন সংকলন করেছেন অথবা এর বিপরীত ঘটেছে—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে আমি নির্দেশ প্রদান করেছি।

৪ - আমি কিছু স্থানে ব্যাখ্যামূলক মন্তব্য প্রদান করেছি এবং মূলপাঠে যা ভুল বলে মনে হয়েছে তা টীকায় সংশোধন করে দিয়েছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে তাওফীক প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

 

১৯ শাওয়াল ১৪৩০ হিজরীতে লিখিত

jaberaddosary@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌نماذج من صور النسخ الخطية
হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ছবির কিছু নমুনা
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الصفحتان الأولى والأخيرة من النسخة (ت)
পাণ্ডুলিপি (ত)-এর প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠাদ্বয়।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الصفحتان الأولى والأخيرة من النسخة (س)
(স) পাণ্ডুলিপির প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠাদ্বয়।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الصفحتان الأولى والأخيرة من النسخة (ك)
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠা দুটি।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الصفحتان الأولى والأخيرة من النسخة (ف) التي عندي
আমার নিকট সংরক্ষিত (ফ) পাণ্ডুলিপির প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা দুটি।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الصفحتان الأولى والأخيرة من النسخة (هـ)
(হ) পাণ্ডুলিপির প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠাদ্বয়।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الصفحتان الأولى والأخيرة من النسخة (ي)
পাণ্ডুলিপি (য়)-এর প্রথম ও শেষ দুই পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أسماء الصحابة التي اتفق فيها

محمد بن إسماعيل البُخَاري

ومسلم بن الحجاج بن مسلم القُشَيري

رحمهما الله تعالى

وما انفرد به كل واحد منهما دون صاحبه

 

تأليف

الإمام الحافظ

أبي الحسن علي بن عمر الدارَقطني

رحمه الله تعالى
সহাবীদের নামসমূহ যেগুলোতে তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন

মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী

এবং মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশাইরী

আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন

এবং যা তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর সাথীকে ছাড়া এককভাবে বর্ণনা করেছেন

 

রচনা

আল-ইমাম আল-হাফিয

আবি আল-হাসান আলী বিন উমর আদ-দারা কুতনী

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন
(খণ্ড: ১) আসমাউস সাহাবাহ আল্লাতি ইত্তাফাকা ফিহাল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়া মা ইনফারাাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

1 -(1) الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد، وعلى آله، وصحبه، وسلم.

2 -(2) قال الشيخ الحافظ أبو الحسن علي بن عمر الدارَقُطْني رحمه الله:

3 -(3) هذه أسماءُ الصحابة التي اتفق فيها محمد بن إسماعيل البُخَاري، ومسلم بن الحجاج بن مسلم القُشَيري رحمهما الله تعالى، وما انفرد به كلُّ واحد منهما دون صاحبه:

4 -(4) اتفقا في محمد بن مَسْلَمة رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) 1 - «الحمد لله رب العالمين» من ك، ف / «وصلى الله على سيدنا محمد» من ت، س، ك، ف / «وعلى آله وصحبه وسلم» من ف، وفي ك: «وآله وصحبه وسلم»، وفي ي: «وصلى الله على محمد النبي وآله وسلم».

(2) 2 - «الحافظ» من ك، ف، وفي هـ: «الإمام» / «رحمه الله» من ت، س، ك، ف، وفي ي: «أبو الحسن علي ابن فهد، قال: قرأت على أبا الفتح محمد بن أحمد بن أبي الفوارس: حدثكم أبو الحسن الدارقطني، قال». وقوله: «أبو الحسن علي بن فهد» لعل صوابه: أبو القاسم بن علي بن فهد، وهو عبدالواحد بن علي بن محمد بن فهد، أبو القاسم العلاف، آخر من روى عن ابن أبي الفوارس، توفي سنة 486. وقوله: «أبا» الوجه فيه أن يقال: أبي.

(3) 3 - «التي» في هـ: «الذين» / «البخاري» من ت، س، ك، ف / «بن مسلم» من س، ك، ف، وفي ت: «من مسلم» / «القشيري رحمهما الله» من ت، س، ك، ف / «تعالى» من ف / «دون صاحبه» في ي: «دون الآخر صـ صاحبه».

(4) 4 - «في» ليست في ي / «رضي الله عنه» من ت، س.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

১ -(১) সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

২ -(২) শাইখ হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

৩ -(৩) এগুলো হলো সেইসব সাহাবীর নাম যাদের ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) একমত হয়েছেন, এবং যা তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রন্থে তাঁর অপর সঙ্গীর উল্লেখ ব্যতিরেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন:<

৪ -(৪) তাঁরা মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) ১ - ‘সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য’ অংশটি ‘কাফ’ এবং ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে / ‘আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক’ অংশটি ‘তা’, ‘সিন’, ‘কাফ’ এবং ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে / ‘এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’ অংশটি ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, ‘কাফ’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’, এবং ‘ইয়া’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর’।

(২) ২ - ‘হাফেজ’ শব্দটি ‘কাফ’ ও ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, এবং ‘হা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘ইমাম’ / ‘আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন’ অংশটি ‘তা’, ‘সিন’, ‘কাফ’ ও ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, এবং ‘ইয়া’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘আবুল হাসান আলী ইবনে ফাহদ বলেছেন: আমি আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস-এর নিকট পাঠ করেছি: আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন’। আর তাঁর বক্তব্য: ‘আবুল হাসান আলী ইবনে ফাহদ’ সম্ভবত এর সঠিক পাঠ হবে: আবু কাসিম ইবনে আলী ইবনে ফাহদ; তিনি হলেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ফাহদ, আবু কাসিম আল-আল্লাফ, যিনি ইবনুল ফাওয়ারিসের নিকট থেকে সর্বশেষ বর্ণনাকারী, তিনি ৪৪৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। এবং তাঁর বক্তব্য: ‘আবা’, এর ব্যাকরণগত সঠিক রূপ হলো ‘আবি’ বলা।

(৩) ৩ - ‘যা’ শব্দটি ‘হা’ পাণ্ডুলিপিতে ‘যারা’ হিসেবে রয়েছে / ‘আল-বুখারী’ শব্দটি ‘তা’, ‘সিন’, ‘কাফ’ ও ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে / ‘ইবনে মুসলিম’ শব্দটি ‘সিন’, ‘কাফ’ ও ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, আর ‘তা’ পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘মিন মুসলিম’ / ‘আল-কুশাইরী, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন’ অংশটি ‘তা’, ‘সিন’, ‘কাফ’ ও ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে / ‘তাআলা’ (মহান) শব্দটি ‘ফা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে / ‘তাঁর সঙ্গী ব্যতিরেকে’ অংশটি ‘ইয়া’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘অপর জন ব্যতিরেকে—তাঁর সঙ্গী’।

(৪) ৪ - ‘ব্যাপারে’ শব্দটি ‘ইয়া’ পাণ্ডুলিপিতে নেই / ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ অংশটি ‘তা’ ও ‘সিন’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।