(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: -)
الغاية فى شرح الهداية فى علم الرواية   (السخاوي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الغاية في شرح الهداية في علم الرواية

المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد السخاوي (ت 902هـ)

المحقق: أبو عائش عبد المنعم إبراهيم

الناشر: مكتبة أولاد الشيخ للتراث

الطبعة: الأولى، 2001م

عدد الصفحات: 348

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-গায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ ফি ইলমির রিওয়ায়াহ   (আস-সাখাভী)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: আল-গায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ ফি ইলমির রিওয়ায়াহ

লেখক: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ আস-সাখাভী (মৃত্যু ৯০২ হিজরী)

সম্পাদক/গবেষক: আবু আইশা আব্দুল মোনয়েম ইবরাহিম

প্রকাশক: মাকতাবাতু আওলাদিশ শাইখ লিত-তুরাস

সংস্করণ: প্রথম, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌وَبِه نستعين

 

الْحَمد لله رَافع من أسْند أمره إِلَيْهِ بِصَحِيح وداده.

وخافض من خلا علمه عَن الْحسن وَانْقطع للْمُنكر بعناده. أَحْمَده حَيْثُ خصنا بالاتصال العالى بِلَا اضْطِرَاب فى إِسْنَاده، وفهمنا طرق السّنة فى طى نشرها بإرشاده، وأشكره رَجَاء الاندراج فى سلسلة أولى الْعَمَل الصَّالح الْمُوَافق لمراده وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله، وَحده لَا شريك لَهُ، الْعَزِيز الْفَرد، القاهر فَوق عباده.

وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، الماحى (لِلْخلقِ) الْموضع بِقُوَّة جهاده، والموضح لكل مُخْتَلف غَرِيب بجده واجتهاده. صلى الله وَسلم عَلَيْهِ وعَلى أَصْحَابه وتابعهم مِمَّن لم يُوصف بشذوذ وَلَا تَدْلِيس، باعتماده صلى الله عَلَيْهِ صَلَاة وَسلَامًا دائمين بدوام أماد الدَّهْر وأباده [] فَإِن الْكتاب الْمُسَمّى ب " الْهِدَايَة فى علم الرِّوَايَة " نظم الْعَلامَة الأثرى ابْن الجزرى، مِمَّن أحسن ناظمه فى ترتيبه وَوَضعه وتلخيصه وَجمعه؛ لكنه غير غنى عَن شرح يبين خفيه وَيقرب قصيه، فَلذَلِك التمس منى [عَلامَة] من أَخذ عَنى، وضع شرح عَلَيْهِ، يرجع فى وَقت قِرَاءَته وإقرائه إِلَيْهِ، لَيْسَ بطويل مُمل، وَلَا قصير مخل يتبصر بِهِ الطَّالِب الْمُبْتَدَأ، ويستمد مِنْهُ الْمُنْتَهى، عِنْد إِشَارَة المهتدى فأجبته لذَلِك طلبته، واستدللت بقرائن الصَّحِيحَة على إخلاص نِيَّته وسميته (الْغَايَة فى شرح الْهِدَايَة) نفع الله بذلك قارئه وسامعه وكاتبه وجامعه والناظر فِيهِ، والمقتبص من جواهره ولآليه، إِنَّه قريب مُجيب الدُّعَاء.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রতি সদ্ভাবের সহিহ (صحيح) বা বিশুদ্ধতার মাধ্যমে আপন বিষয় সোপর্দকারীকে উন্নত করেন।

আর তিনি তাকে অবনমিত করেন যার জ্ঞান হাসান (حسن) বা উত্তমতা বর্জিত এবং যে নিজের হঠকারিতার কারণে মুনকার (منكر) বা প্রত্যাখ্যাত বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়। আমি তাঁর প্রশংসা করি যেহেতু তিনি আমাদেরকে তাঁর সনদ (إسناد) বা বর্ণনাসূত্রে কোনো প্রকার ইজতিরাব (اضطراب) বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই উচ্চমানের (العالي) যোগসূত্র (الاتصال) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন এবং তাঁর নির্দেশনার মাধ্যমে সুন্নাহর প্রচার ও প্রসারের পথসমূহ আমাদের অনুধাবন করিয়েছেন। আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি তাঁর সন্তুষ্টির অনুগামী নেক আমলকারীদের সিলসিলা বা ধারায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি পরাক্রমশালী ও অনন্য, নিজ বান্দাদের ওপর প্রবল প্রতাপশালী।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল; যিনি স্বীয় জিহাদের শক্তির মাধ্যমে বাতিলকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ প্রচেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে সকল মুখতালিফ (مختلف) বা মতভেদপূর্ণ এবং গারিব (غريب) বা বিরল বিষয়সমূহকে সুস্পষ্ট করেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং তাঁদের অনুসারীগণের ওপর, যাঁদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে শায (شذوذ) বা ব্যতিক্রম এবং তদলিস (تدليس) বা তথ্যগোপনের দোষে অভিযুক্ত করা হয়নি; তাঁর ওপর চিরকালব্যাপী অবিরত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। [] নিশ্চয়ই "আল-হিদায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ" নামক গ্রন্থটি আল্লামা আসারি ইবনুল জাযারির এক অনন্য কাব্যগাথা। এর রচয়িতা এর বিন্যাস, উপস্থাপনা, সারসংক্ষেপ ও সংকলনে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু কিতাবটি এমন একটি শারহ বা ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী যা এর নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করবে এবং দূরহ বিষয়কে সহজবোধ্য করবে। তাই আমার কাছে ইলম বা শিক্ষা গ্রহণকারী এক বিজ্ঞ ব্যক্তি অনুরোধ জানালেন এর ওপর একটি শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার জন্য, যা এর পঠন ও পাঠদানের সময় সহায়ক হবে। এটি যেন বিরক্তিকর দীর্ঘ না হয় এবং অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তও না হয়; যার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী দিশা পাবে এবং উচ্চস্তরের গবেষকগণ এর থেকে উপাদান গ্রহণ করতে পারবে। তাই আমি তাঁর সে আবেদনে সাড়া দিলাম এবং তাঁর নিয়তের ইখলাসের ব্যাপারে সঠিক (الصحيحة) আলামতসমূহ দ্বারা আশ্বস্ত হলাম। আমি এর নাম রেখেছি "আল-গায়াহ ফি শারহিল হিদায়া"। আল্লাহ এর পাঠক, শ্রোতা, লেখক, সংকলক, পর্যালোচনাকারী এবং এর মণিমুক্তো থেকে জ্ঞান আহরণকারীদের এর দ্বারা উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে এবং দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٥٦)
‌‌مُقَدّمَة النَّاظِم

 

(1 - (ص) يَقُول راجى عَفْو ربه رؤوف … مُحَمَّد ابْن الجزرى السّلف)

 

(ش) عبر الْمُضَارع دون الْمَاضِي ليسلم من الِاعْتِرَاض بانه عِنْد وَضعه غير مقول وَإِن واجيب عَن فَاعله عَن النَّاظِم أَيْضا فى قَوْله الآتى رتبتها وزدتها ونظمتها [وراجى] اسْم فَاعل مَأْخُوذ من الرَّجَاء ضد الْخَوْف، وَهُوَ عَن بِمَعْنى التوقع وَالْأَصْل فِيمَا يُمكن يرتضى حُصُوله مَا فِيهِ مَسَرَّة، [الْعَفو] وَهُوَ التجاوز عَن الذَّنب وَترك الْعقَاب عَلَيْهِ وَأَصله المحو والطمس، وفى أَسْمَائِهِ تَعَالَى الْعَفو وَهُوَ من أبنية الْمُبَالغَة، يُقَال عَفا يعفوا عفوا، فَهُوَ عاف، وعفو [الرب] الْمَالِك، وَهُوَ الله سبحانه وتعالى، وَلَا يذكر لغيره إِلَّا مَعَ التقيد بِالْإِضَافَة، كرب الدَّار، وَرب الثَّوْب، وَرب النَّاقة، وَأما النهى الْوَارِد على أَن يَقُول الْمَمْلُوك لسَيِّده ربى مَعَ إِضَافَته، فَيحْتَمل أَن يكون للتنزيه أَو عَن الإبصار مِنْهُ، واتخاذ اسْتِعْمَاله عَادَة لَا عَن ذكره فى الْجُمْلَة لقَوْله تَعَالَى حِكَايَة عَن يُوسُف عليه السلام: {اذْكُرْنِي عِنْد رَبك} وَقَوله: {ارْجع إِلَى رَبك} ، وَقَوله عليه السلام إِن من أَشْرَاط السَّاعَة: " [أَن] تَلد [/ 4] الْأمة ربتها "
নাযিমের ভূমিকা

 

(১ - (মূল পাঠ) নিজ দয়ালু প্রতিপালকের ক্ষমার আশাপ্রার্থী … মুহাম্মদ ইবনে আল-জাযারি আল-সালাফি বলেন)

 

(ব্যাখ্যা) তিনি অতীত কালের পরিবর্তে বর্তমান কাল ব্যবহার করেছেন যাতে এই আপত্তি থেকে বেঁচে থাকা যায় যে, এটি রচনার সময় পঠিত বা উক্ত ছিল না। যদিও এর উত্তর খোদ নাযিমের পক্ষ থেকেই তার পরবর্তী কথা "আমি একে বিন্যস্ত করেছি, এতে বৃদ্ধি করেছি এবং একে ছন্দবদ্ধ করেছি"-এর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। [রাজী] শব্দটি 'রাজা' (আশা) থেকে গৃহীত একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য, যা ভীতির বিপরীত। আর এটি প্রত্যাশা করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূলত যা ঘটা সম্ভব এবং যার অর্জনে আনন্দ রয়েছে এমন কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে এটি বলা হয়। [আল-আফউ] এর অর্থ হলো পাপ মার্জনা করা এবং তার শাস্তি প্রদান বর্জন করা; এর মূল অর্থ হলো মুছে ফেলা এবং নিশ্চিহ্ন করা। মহান আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আল-আফউ' (অত্যধিক ক্ষমাশীল), যা আধিক্যবোধক রূপের অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়: 'আফা', 'ইয়া'ফু', 'আফওয়ান', সুতরাং তিনি হলেন 'আফিন' এবং 'আফউও'। [আর-রব] হলেন মালিক, আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাহ) হওয়া ব্যতিরেকে এটি অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না, যেমন: গৃহস্বামী, বস্ত্রের মালিক, উষ্ট্রের মালিক। আর কৃতদাস কর্তৃক তার মনিবকে সম্বন্ধযুক্ত করে 'আমার প্রতিপালক' (রব্বী) বলা সম্পর্কে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তার সম্ভাবনা রয়েছে শিষ্টাচার রক্ষার খাতিরে অথবা একে অভ্যাসে পরিণত করা থেকে বিরত রাখার জন্য; সামগ্রিকভাবে এর উল্লেখ নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। কেননা মহান আল্লাহ ইউসুফ আলাইহিস সালামের কথা বর্ণনা করে বলেছেন: {তোমার প্রতিপালকের নিকট আমার কথা উল্লেখ করো} এবং তাঁর বাণী: {তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যাও}। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলেছেন: "দাসী তার মালকিনকে [/ ৪] জন্ম দেবে।"
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٥٧)
وَيحْتَمل غير ذَلِك كَمَا بسط فى مَحَله على أَن بَعضهم خص بالتقييد مَا لَا تعبد عَلَيْهِ من سَائِر الْحَيَوَانَات والجمادات وَمِنْه الْأَمْثِلَة الَّتِي قدمتها لَكِن يخدش فِيهِ كل الْأَدِلَّة الْبَيِّنَة، بل قد قيل عَن نبى الله يُوسُف عليه السلام أَنه خاطبه على الْمُتَعَارف عِنْدهم وعَلى مَا كَانُوا يسمونه بِهِ،

[والروؤف] هُوَ الرَّحِيم بعباده العطوف عَلَيْهِم بألطافه، والرأفة فى الأَصْل أرق من الرَّحْمَة قَالَ فى " الصِّحَاح ": هِيَ أَشد الرَّحْمَة، قَالَ ابْن الْأَثِير وَلَا تكَاد تقع فى الْكَرَاهَة بِخِلَاف الرَّحْمَة فقد تقع فى الْكَرَاهَة للْمصْلحَة وَهُوَ فى النّظم كَرجل وَبِه قرئَ فى السَّبع قَالَ جرير:

(يرى للْمُسلمين عيه حَقًا … كَفعل الْوَالِد الرؤوف الرَّحِيم)

 

وَلَا يتزن بإشباعه، واختصاصه بِالذكر دون غَيره من أَسمَاء الْجلَال وَالْعَظَمَة هُوَ الْأَنْسَب وَإِن كَانَ ذَاك أبلغ،

[مُحَمَّد] هُوَ بدل من فَاعل يَقُول، وَهُوَ النَّاظِم ابْن الْجَزرِي، بِالرَّفْع وصف لَهُ، أَو بدل، وَهُوَ نِسْبَة لبلد مَعْرُوف يُقَال لَهُ: جَزِيرَة ابْن عمر بِبِلَاد الْمشرق، بِالْقربِ من بِلَاد الْموصل، فعلى هَذَا أثبت الْألف [/ 4] فى ابْن؛ لوُقُوعه بَين علم وَصفَة، أما إِذا وَقع بَين علمين فَلَا، و [السّلف]

بِفَتْح الْمُهْملَة وَاللَّام وفى آخرهَا فَاء نِسْبَة إِلَى السّلف لانتحال مَذْهَبهم وَنَقله، وَقد انتسب
আর এর বাইরে অন্য সম্ভাবনাও বিদ্যমান, যা যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সেই বিষয়গুলোর সীমাবদ্ধতা কেবল এমন জড়পদার্থ ও প্রাণীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন যাদের ওপর কোনো ইবাদত পালনের দায়বদ্ধতা নেই। এর মধ্যে সেই উদাহরণগুলোও অন্তর্ভুক্ত যা পূর্বে পেশ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সমস্ত সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দ্বারা আপত্তি বা বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়। বরং আল্লাহর নবী ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি তাদের নিকট প্রচলিত প্রথা এবং তারা তাঁকে যে নামে ডাকত সে অনুযায়ী তাঁদের সম্বোধন করেছিলেন।

[আর-রাউফ (الرؤوف)] তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অতিশয় দয়ালু এবং আপন অনুগ্রহে তাঁদের প্রতি স্নেহশীল। 'রা'ফাত' মূলত রহমত বা দয়ার চেয়েও সূক্ষ্মতর। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি দয়ার চরম বহিঃপ্রকাশ। ইবনে আল-আসির বলেন: অপ্রিয় বা কষ্টদায়ক বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি সচরাচর ঘটে না, যা রহমতের ক্ষেত্রে ভিন্ন; কারণ কল্যাণের উদ্দেশ্যে অনেক সময় অপ্রিয় বিষয়েও রহমত বা দয়ার প্রয়োগ হতে পারে। আর এটি কাব্যছন্দে 'রাজুল' শব্দের ওজনে ব্যবহৃত হয় এবং সাত কিরাতে এভাবেই পঠিত হয়েছে। জারির বলেছেন:

(তিনি মুসলমানদের জন্য তাঁর ওপর একটি অধিকার দেখেন … স্নেহশীল ও দয়ালু পিতার কর্মের ন্যায়)

 

এবং স্বরধ্বনি দীর্ঘ করার মাধ্যমে এটি ছন্দে ভারসাম্যপূর্ণ হয় না। মহান আল্লাহর অন্যান্য মহিমান্বিত নামের পরিবর্তে কেবল এই নামটির মাধ্যমেই বিশেষায়িত করা অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও অন্যটি অধিক অলঙ্কারপূর্ণ ছিল।

[মুহাম্মদ] এটি 'ইয়াকুলু' ক্রিয়ার কর্তার (ফায়েল) পরিপূরক বা বদল। তিনি হলেন কাব্য রচয়িতা ইবনে আল-জাজারি। পেশ যোগে এটি তাঁর বিশেষণ বা বদল হিসেবে এসেছে। এটি একটি সুপরিচিত শহরের নিসবত বা সম্বন্ধ যাকে প্রাচ্যের দেশসমূহে মুসিল শহরের নিকটবর্তী 'জাজিরাতে ইবনে উমর' বলা হয়। এই প্রেক্ষিতে 'ইবনে' শব্দে আলিফ বহাল রাখা হয়েছে; কারণ এটি একটি নাম ও বিশেষণের মাঝে অবস্থিত হয়েছে। তবে যখন এটি দুটি নামের মাঝে অবস্থান করে, তখন আলিফ থাকে না। এবং [আস-সালাফি (السلفي)]

সীন এবং লাম বর্ণে জবর এবং শেষে ফা বর্ণ যোগে এটি সালাফদের (السلف) প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ প্রকাশ করে। তাঁদের মাযহাব বা মতবাদ অনুসরণ ও বর্ণনা করার কারণে তিনি এই নিসবত গ্রহণ করেছেন। এবং তিনি সম্বন্ধযুক্ত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
لذَلِك من الروَاة جمَاعَة مِنْهُم من الْمُتَأَخِّرين الْأُسْتَاذ أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن عمر بن إِبْرَاهِيم الجعبري الخليلي، فَإِنَّهُ كَانَ يكْتب ذَلِك بِخَطِّهِ وَسُئِلَ عَنهُ فَقَالَ: نِسْبَة إِلَى طَرِيق السّلف سلفيا، بِضَم الْمُهْملَة، وسلفيا بِكَسْرِهَا أَيْضا، لَكِن مَعَ سُكُون اللَّام، وقاف بدل الْفَاء كَمَا بَين، وَلَا بَأْس بنبذة من أَخْبَار النَّاظِم، فَأَقُول: هُوَ الْعَلامَة شيخ الْقُرَّاء قاضى الْقَضَاء شمس الدّين أَبُو الْخَيْر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عَليّ بن يُوسُف الْعُمْرَى الدِّمَشْقِي ثمَّ الشِّيرَازِيّ الشَّافِعِي، عرف بِابْن الجزرى. كَانَ أَبوهُ تَاجِرًا، وَمكث أَرْبَعِينَ سنة لم يرْزق ولدا، وَحج وَشرب من مَاء زَمْزَم، وَسَأَلَ الله أَن يرزقه ولدا عَالما؛ فولد لَهُ النَّاظِم بعد صَلَاة التَّرَاوِيح من لَيْلَة السبت خَامِس عشر شهر رَمَضَان، سنة إِحْدَى وَخمسين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق، وَنَشَأ بهَا؛ فَسمع من أَصْحَاب الْفَخر ابْن البُخَارِيّ، وارتحل إِلَى مصر وَدخل إسكندرية، وبعلبك واليمن وَغَيرهَا [/ 5] حَتَّى وصل إِلَى بِلَاد الْعَجم وَالروم، وسمرقند، وشيراز، واعتنى بِالْحَدِيثِ وَكتب الطباق بِالْقِرَاءَةِ وفَاق فِيهَا، وَولى مشيخة الصلاحية بِبَيْت الْمُقَدّس وقتا، والتوقيع بِدِمَشْق ثمَّ الْقَضَاء؛ لكنه عزل قبل وُصُوله إِلَيْهَا، وَكَذَا ولى الْقَضَاء بشيراز، وَبنى بِكُل مِنْهُمَا للقراء مدرسة وَنشر علما وانتفع بِهِ فى الْآفَاق، خُصُوصا شيراز، وَالروم فى الْقرَاءَات والْحَدِيث، وسارت تصانيفه تقدم عِنْد الْمُلُوك وجاور بِكُل من الْحَرَمَيْنِ، وَأخذ عَنهُ أهلهما، وَقدم بِآخِرهِ الْقَاهِرَة فازدحم النَّاس أَيْضا عَلَيْهِ. وَأخذ عَنهُ الْأَعْيَان، وفى أَصْحَابنَا الْآن فَمن فَوْقهم غير وَاحِد مِمَّن أَخذ عَنهُ، وَلما دخل شَيخنَا الْيمن حدث عَنهُ بكتابه " الْحصن الْحصين " لتنافسهم فى تَحْصِيله واغتباطهم بِهِ حَتَّى انهم رُبمَا رووا كِتَابه " الْعدة " بِخمْس وسائط إِلَيْهِ، وَوَصفه شَيخنَا بِالْحِفْظِ، وَأَشَارَ إِلَى أَنه لم يكن لَهُ فى الْفِقْه بديل، فنه الَّذِي مهر فِيهِ الْقرَاءَات، مَعَ عمل فى الحَدِيث ونظم يسير وَخط دَقِيق مَعَ التَّقَدُّم فى السن، قَالَ: وَكَانَ مثريا وشكلا حسنا فصيحا بليغا. انْتَهَت إِلَيْهِ رئاسة علم [/ 6] الْقرَاءَات فى الممالك، انْتهى. وَمن تصانيفه: " النشر فى الْقرَاءَات الْعشْر "، و " طيبَة النشر فى الْقرَاءَات الْعشْر " و "

এ কারণে বর্ণনাকারীগণের (الرواة) মধ্যে এমন একদল রয়েছেন, যাদের মধ্যে পরবর্তী যুগের আলিম উস্তাদ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন উমর বিন ইবরাহিম আল-জাবারী আল-খলীলী অন্যতম। তিনি নিজ হাতে তা লিখতেন এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বলতেন: সালাফদের পথের দিকে নিসবত করে 'সালাফি', সিন বর্ণে পেশ (যম্মাহ) দিয়ে; আবার সিনের নিচে যের (কাসরা) দিয়েও 'সিলফি' বলা হয়, তবে সেক্ষেত্রে লাম বর্ণে সুকুন হবে এবং 'ফা' এর বদলে 'কাফ' হবে যেমনটি তিনি স্পষ্ট করেছেন। আর এই গ্রন্থকারের (নাযিম) কিছু জীবনবৃত্তান্ত আলোচনা করাতে কোনো দোষ নেই। আমি বলছি: তিনি হলেন মহাজ্ঞানী আল্লামা, কারীগণের শায়খ, প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন আবু আল-খায়ের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইউসুফ আল-উমরি আদ-দিমাশকি, অতঃপর আশ-শিরাজি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনুল জাজারি নামে পরিচিত। তাঁর পিতা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দীর্ঘ চল্লিশ বছর অতিবাহিত হলেও তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। এরপর তিনি হজ পালন করেন এবং যমযমের পানি পান করেন ও আল্লাহর কাছে একজন আলিম সন্তানের দোয়া করেন। ফলে এই গ্রন্থকার (নাযিম) ৭৫১ হিজরি সালের ১৫ই রমজান শনিবার দিবাগত রাতে তারাবিহর নামাজের পর দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি ফখর ইবনুল বুখারীর শিষ্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং মিসর সফর করেন; তিনি আলেকজান্দ্রিয়া, বালবাক, ইয়েমেনসহ অন্যান্য স্থানেও গমন করেন [/ 5] এমনকি অনারব ভূখণ্ড, রোম, সমরকন্দ ও শিরাজ পর্যন্ত পৌঁছান। তিনি হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং হাদিস শ্রবণের সনদসমষ্টি (الطباق) লিখেছিলেন ও কিরাআত শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি কিছুকাল বায়তুল মুকাদ্দাসের সালাহিয়্যাহ মাদরাসার প্রধান হিসেবে এবং দামেস্কে রাজকীয় ফরমান লিখন ও পরবর্তীতে বিচারপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন; তবে সেখানে পৌঁছানোর পূর্বেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইভাবে তিনি শিরাজেও বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এ উভয় স্থানেই কারীগণের জন্য মাদরাসা নির্মাণ করেন এবং ইলম প্রচার করেন। সারা বিশ্বের মানুষ, বিশেষ করে শিরাজ ও রোমের অধিবাসীগণ কিরাআত ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি রাজদরবারগুলোতে সমাদৃত হতে থাকে। তিনি মক্কা ও মদিনা উভয় হারামে অবস্থান করেছেন এবং সেখানকার বাসিন্দারা তাঁর কাছ থেকে ইলম হাসিল করেছেন। শেষ জীবনে তিনি কায়রোতে আগমন করলে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। আমাদের বর্তমান সময়ের সাথীদের মধ্যে এবং তাঁদের চেয়েও উচ্চস্তরের অনেকের মধ্যে এমন একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা তাঁর কাছে ইলম গ্রহণ করেছেন। আমাদের শায়খ যখন ইয়েমেনে প্রবেশ করেন, তখন তিনি তাঁর নিকট থেকে তাঁর রচিত গ্রন্থ "আল-হিসন আল-হাসিন" হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন (حدث), কারণ এটি অর্জনে এবং এটি লাভে তাঁদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল। এমনকি তাঁরা কখনও কখনও তাঁর "আল-উদ্দাহ" কিতাবটি তাঁর পর্যন্ত পৌঁছাতে পাঁচটি মধ্যবর্তী সূত্রের (وسائط) মাধ্যমে বর্ণনা করতেন। আমাদের শায়খ তাঁকে প্রখর স্মৃতিশক্তি (الحفظ) সম্পন্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর কোনো বিকল্প ছিল না। তাঁর মূল পারদর্শিতার ক্ষেত্র ছিল কিরাআত শাস্ত্র, এর পাশাপাশি হাদিস চর্চা, সামান্য কাব্যচর্চা এবং বার্ধক্যে উপনীত হওয়া সত্ত্বেও সূক্ষ্ম হস্তাক্ষর তাঁর বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি (শায়খ) বলেন: তিনি সম্পদশালী ছিলেন এবং তাঁর অবয়ব ছিল অত্যন্ত সুন্দর, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল ও বাগ্মী। [/ 6] বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে কিরাআত শাস্ত্রের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আন-নাশর ফিল কিরাআতিল আশর" এবং "ত্বয়্যিবাতুন নাশর ফিল কিরাআতিল আশর" ও "

(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٥٩)
نظم فى ألف بَيت "، و " طَبَقَات الْقُرَّاء " أَجَاد فِيهَا، و " الْحصن فى كَلَام سيد الْمُرْسلين "، وَهُوَ فى غَايَة الِاخْتِصَار وَالْجمع، وَكَذَا من شُيُوخه ابْن أميلة، وَالصَّلَاح بن أبي عَمْرو، وَابْن الشيرجى، والمنجى، والعماد بن كثير، والكمال بن حبيب، وَغَيرهم. وَكَانَ يذكر أَن ابْن الخباز تلميذ النووى أجَاز لَهُ وَتكلم فى هَذَا لَكِن قَالَ شَيخنَا إِنَّه لَا يظنّ بِهِ.

وَبِالْجُمْلَةِ، فقد انْتفع النَّاس بِهِ وبتصانيفه. مَاتَ بشيراز فى ربيع الأول سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وثمان مائَة، وَدفن بداره الذى بناها هُنَاكَ بالقراء وعظمة الرزية بِمَوْتِهِ رَحْمَة الله وإيانا. آمين

 

(2 - (ص) الْحَمد لله على هدايته … إِلَى حَدِيث الْمُصْطَفى وسنته)

 

(ش) [الْحَمد] هُوَ الثَّنَاء بِاللِّسَانِ على الْجَمِيل من نعْمَة وَغَيرهَا، تَقول: حمدت الرجل على إنعامه، وحمدته على حسنه وشجاعته، وَهُوَ بِخِلَاف الشُّكْر لِأَنَّهُ على النِّعْمَة خَاصَّة، وَيكون بِالْقَلْبِ وَاللِّسَان [/ 7] ، والجوارح، وَهُوَ مَرْفُوع بِالِابْتِدَاءِ، أَو خبر
"এক হাজার পংক্তির কাব্য", এবং "তাবাকাতুল কুররা" যাতে তিনি বিশেষ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন, এবং "আল-হিসন ফি কালামি সায়্যিদিল মুরসালিন", যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সুসমন্বিত; একইভাবে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে উমাইলা, আস-সালাহ ইবনে আবি আমর, ইবনে আশ-শিরাজি, আল-মুনজি, আল-ইমাদ ইবনে কাসির, আল-কামাল ইবনে হাবিব এবং অন্যান্যরা। বর্ণিত আছে যে, ইমাম নববীর ছাত্র ইবনুল খাব্বাজ তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন; যদিও এ বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, তবে আমাদের শায়খ বলেছেন যে, তাঁর সম্পর্কে এমন (অসততার) ধারণা করা হয় না।

সারকথা, মানুষ তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর গ্রন্থাবলি দ্বারা উপকৃত হয়েছে। তিনি ৮৩৩ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে শিরাজ নগরে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানে তাঁর নির্মিত কারী নিবাসে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে এক বিরাট বিপর্যয় নেমে আসে; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমিন।

 

(২ - (মূল পাঠ) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর হেদায়েতের ওপর … মুস্তফা (সা.)-এর হাদিস ও সুন্নাহর দিকে।)

 

(ব্যাখ্যা) [আল-হামদ] হলো নেয়ামত বা অন্য কোনো সৌন্দর্যের জন্য মৌখিক প্রশংসা করা; আপনি যেমন বলেন: ‘আমি লোকটির প্রশংসা করেছি তাঁর অনুগ্রহের জন্য’, এবং ‘আমি তাঁর রূপ ও সাহসিকতার জন্য তাঁর প্রশংসা করেছি’। এটি ‘শুকর’ (কৃতজ্ঞতা) থেকে ভিন্ন; কেননা শুকর কেবল নেয়ামতের প্রেক্ষিতে হয় এবং তা অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের [/ 7] মাধ্যমে আদায় হয়। এটি মুবতাদা হওয়ার কারণে মারফু (مرفوع) হয়েছে অথবা এটি খবর।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٠)
الظّرْف الذى هُوَ لله، وَاللَّام للاختصاص. بِمَعْنى أَنه مُسْتَحقّ الْحَمد لما ترادف علينا من نعمه الَّتِي من جُمْلَتهَا الْهِدَايَة إِلَى الحَدِيث النَّبَوِيّ وَهُوَ فى تَعْلِيقه الْحَمد بِالنعَم مَعَ أَنه تَعَالَى مُسْتَحقّ الْحَمد لذاته مشير إِلَى أَن حمدنا لَا يكون إِلَّا شكرا إِذْ هُوَ لَا يَنْفَكّ عَن نعْمَة، ومتعلقه مَحْذُوف، أى ثَابت أَو مُسْتَقر، أَو نَحْو ذَلِك.

وَبَدَأَ النَّاظِم بِالْحَمْد تأسيا بِالْكتاب الْعَزِيز، وَعَملا بقوله [صلى الله عليه وسلم] : " كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِحَمْد الله فَهُوَ أقطع ". وَلَا يُقَال: أَنه لم يبْدَأ بِهِ لكَونه ثَانِي الأبيات لكَونه التَّعْرِيف بالقائل لَا يُنَافِيهِ، وَقد كتب [صلى الله عليه وسلم] فِيمَا يرْوى عَنهُ: " من مُحَمَّد رَسُول الله إِلَى فلَان: سَلام عَلَيْك فإنى أَحْمد الله إِلَيْك.
'লিল্লাহ' শব্দে যে আধেয়তা রয়েছে তা আল্লাহর জন্য নির্ধারিত, এবং সেখানে 'লাম' বর্ণটি নির্দিষ্টকরণের অর্থ প্রকাশ করে। এর মর্মার্থ হলো, তিনি যাবতীয় প্রশংসার উপযুক্ত; কারণ তাঁর নেয়ামতসমূহ ক্রমাগত আমাদের ওপর বর্ষিত হচ্ছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো নববী হাদিসের দিকে হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়া। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর নিজ সত্তাগত কারণেই প্রশংসার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রশংসাকে নেয়ামতের সাথে সংশ্লিষ্ট করার মাধ্যমে এ দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আমাদের প্রশংসা মূলত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ছাড়া আর কিছুই নয়; কেননা তা কোনো না কোনো নেয়ামত থেকে পৃথক নয়। আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট উহ্য পদটি হলো 'সাব্যস্ত' অথবা 'সুপ্রতিষ্ঠিত' অথবা এই জাতীয় কিছু।

গ্রন্থকার সম্মানিত কিতাব (কুরআন মাজিদ)-এর অনুসরণ করে এবং নবী কারিম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে প্রশংসা দ্বারা শুরু করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ বা বরকতহীন।" আর এ কথা বলা যাবে না যে, তিনি প্রশংসা দ্বারা শুরু করেননি যেহেতু এটি কবিতার দ্বিতীয় চরণে এসেছে; কারণ প্রারম্ভে প্রণেতার পরিচয় প্রদান করা প্রশংসার দ্বারা শুরু করার পরিপন্থী নয়। নবী কারিম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণিত পত্রে পাওয়া যায় যে, তিনি লিখেছেন: "আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে অমুকের প্রতি: তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি তোমার নিকট আল্লাহর প্রশংসা করছি।"
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦١)
و [الْهِدَايَة] الدّلَالَة إِلَى الْمَطْلُوب بِرِفْق وفى ذكره إِشَارَة لما لقب بِهِ النَّاظِم أرجوزته الَّتِي قرب فِيهَا كثيرا من اصْطِلَاح أهل الحَدِيث وَمن أَسْمَائِهِ الهادى، وَهُوَ الَّذِي بصر عباده طَرِيق مَعْرفَته حَتَّى أقرُّوا بربوبيته، وَهدى كل مَخْلُوق إِلَى مَا لَا [/ 8] بُد مِنْهُ فى بَقَائِهِ، ودوام وجوده.

[الحَدِيث] أَصله ضد الْقَدِيم، وفى الإصطلاح مَا أضيف إِلَى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] قولا أَو فعلا أَو تقريراً أَو صفة، حَتَّى الحركات والسكنات فى الْيَقَظَة وَالنَّوْم،

[والمصطفى] الْمُخْتَار بَين أَبنَاء جنسه، وَالْمرَاد بِهِ صَاحب الشَّرْع أَبُو الْقَاسِم مُحَمَّد [صلى الله عليه وسلم] إِذْ هُوَ خُلَاصَة خلق الله طرا، وأرفعهم فى الْعَالمين ذكرا وَقدرا،

، [السّنة] أَصْلهَا الطَّرِيقَة تَقول: فلَان على سنة فلَان، إِذا كَانَ تَابعا لطريقه، وَهِي هُنَا عبارَة عَمَّا صدر عَنهُ [صلى الله عليه وسلم] قولا، وفعلا وتقريرا، والعطف للْبَيَان إِن كَانَ الحَدِيث مرادفا للسّنة أَو للأخص على الْأَعَمّ إِن كَانَ الحَدِيث أَعم، وَكَذَا إِن أَرَادَ السّنة العلمية وَفِيه حسن المطلع الْمُؤَذّن بِالْمَقْصُودِ

 

(3 - (ص) صلى عَلَيْهِ رَبنَا وسلما … وزاده هِدَايَة وسلما)

 

(ش) قصد النَّاظِم الْإِخْبَار والإنشاء، ليَكُون فى الْإِنْشَاء مقتديا بِمَا روى فى بعض طرق الحَدِيث الْمَاضِي وَهُوَ " كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِحَمْد الله، وَالصَّلَاة على فَهُوَ أَبتر " أَي ممحوق من كل بركَة [/ 9]

[الصَّلَاة] من الله عز وجل على نبيه [صلى الله عليه وسلم] مَعْنَاهَا الثَّنَاء عَلَيْهِ عِنْد مَلَائكَته كَمَا فى الصَّحِيح - البُخَارِيّ - عَن أبي الْعَالِيَة قَالَ الْقشيرِي: هُوَ تشريف وَزِيَادَة تكرم.
এবং [হেদায়েত] এর অর্থ হলো কোমলতার সাথে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে পথপ্রদর্শন করা। এটি উল্লেখ করার মাধ্যমে রচয়িতা তাঁর সেই কাব্যগ্রন্থের (অরজুজা) দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যাতে তিনি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের অনেক পরিভাষা (اصطلاح) সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহর অন্যতম নাম হলো ‘আল-হাদী’ (পথপ্রদর্শক); আর তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর মারেফাত বা পরিচয় লাভের পথ দেখিয়েছেন, যার ফলে তারা তাঁর রবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বকে স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি প্রতিটি সৃষ্টিকে তাদের অস্তিত্বের স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতার জন্য যা কিছু [/ 8] আবশ্যক, সেই দিকে পরিচালিত করেছেন।

[হাদিস] এর আভিধানিক অর্থ হলো ‘পুরাতন’-এর বিপরীত। পরিভাষায় (اصطلاح) হাদিস বলা হয় এমন বিষয়কে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা গুণাবলির (صفة) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; এমনকি জাগ্রত বা নিদ্রাবস্থায় তাঁর নড়াচড়া ও স্থিরতাও এর অন্তর্ভুক্ত।

[এবং আল-মুস্তফা] এর অর্থ হলো স্বগোত্রীয়দের মধ্য হতে মনোনীত ব্যক্তি। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন শরিয়তপ্রণেতা আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); কেননা তিনি আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টির সারনির্যাস এবং বিশ্বজগতে মর্যাদা ও স্মরণের দিক থেকে তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

[সুন্নাহ] এর মূল অর্থ হলো পদ্ধতি বা পথ। বলা হয়ে থাকে: ‘অমুক ব্যক্তি অমুকের সুন্নাহর ওপর রয়েছে’, অর্থাৎ সে যখন তার পথের অনুসারী হয়। এখানে সুন্নাহ বলতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে (تقرير) বোঝানো হয়েছে। যদি হাদিস ও সুন্নাহ সমার্থক (مرادف) হয়, তবে এই সংযুক্তিটি ব্যাখ্যাত্মক (بَيَان) হিসেবে গণ্য হবে। আর হাদিস যদি সুন্নাহ অপেক্ষা ব্যাপকতর হয়, তবে এটি সাধারণের পর বিশেষের (الأخص على الأعم) সংযুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে, যদি তিনি আমলি সুন্নাহর উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তবে এটি একটি উত্তম সূচনা হিসেবে গণ্য হবে যা মূল বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিতবাহী।

 

(৩ - (মূল পাঠ) আমাদের রব তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন … এবং তাঁর হেদায়েত ও শান্তি বৃদ্ধি করুন।)

 

(ব্যাখ্যা) রচয়িতা সংবাদ প্রদান ও প্রার্থনা—উভয় উদ্দেশ্যই রেখেছেন, যাতে প্রার্থনার ক্ষেত্রে তিনি পূর্বে বর্ণিত হাদিসের কোনো কোনো সূত্রের (طرق) অনুসরণ করতে পারেন; আর তা হলো: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা ও আমার ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা ‘আবতার’ (লেজকাটা বা বরকতহীন)," অর্থাৎ তা যাবতীয় বরকত থেকে বিচ্যুত। [/ 9]

আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর [সালাত] বা দরুদ পাঠের অর্থ হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা, যেমনটি সহীহ বুখারী-তে আবু আল-আলিয়াহ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আল-কুশাইরী বলেন: এটি সম্মান প্রদর্শন ও মর্যাদা বৃদ্ধি করার নামান্তর।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٢)
[وَالسَّلَام] فى الأَصْل السَّلامَة، يُقَال: سلم يسلم سَلاما وسلامة، وَهُوَ من أَسْمَائِهِ تَعَالَى وَقيل للجنة: دَار السَّلَام، لِأَنَّهَا دَار السَّلَام من الْآفَات، وَجمع بَين الصَّلَاة وَالسَّلَام لتصحيح النووى بِكَرَاهَة إِفْرَاد إِحْدَاهمَا عَن الآخر وخصهما النَّاظِم فى بعض تصانيفه بِمَا يَقع فى الْكتب مثل: قَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] ، وَأمر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] . لكَونه حذف الرِّوَايَة، أما إِذا ذكر رجلا النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ: اللَّهُمَّ صل عَلَيْهِ مثلا، فَلَا أَحسب الْكَرَاهَة وَهُوَ حسن، لَكِن قيد شيخى عدمهَا بِمن لم يفعل ذَلِك ديدنا وَهُوَ أحسن وَقَوله [وزاده] إِن قصد بِهِ الْإِخْبَار فَقَط فَلَا كَلَام أَو مَعَ الْإِنْشَاء فيأتى استشكال دُعَاء الْقَارئ لَهُ [صلى الله عليه وسلم] بِزِيَادَة الشّرف مَعَ الْعلم بِكَمَالِهِ فى سَائِر أَنْوَاع الشّرف وَأجَاب عَنهُ شيخى بِمَا [/ 10] حَاصله إِن الداعى للمعلم الأول وَهُوَ الشَّارِع [صلى الله عليه وسلم] نَظِير جَمِيع ذَلِك فَزِيَادَة الشّرف بِالنّظرِ لهَذَا، فَإِن كَانَ شرفه مُسْتَقرًّا يعْنى وَفضل الله لَا يتناهى وَلَعَلَّ سلف الداعى مَا ورد فى القَوْل عِنْد رُؤْيَة الْكَعْبَة من قَول: " اللَّهُمَّ زد هَذَا الْبَيْت تَشْرِيفًا وتعظيما " فقد قَالُوا فى الصَّلَاة عَلَيْهِ ثَمَرَتهَا عَائِدَة على الْفَاعِل، ومؤذنة بالمحبة على أَنه يحْتَمل أَن يكون وزاده؛ بِمَعْنى فى أمته هدى وسلامة، وَيُؤَيِّدهُ أَنه وَقع فى بعض نسخ النّظم [وزادنا] وَهُوَ ظَاهر.

وفى [سلما] التَّجْنِيس التَّام، فَالْأول من السَّلَام، وَالثَّانِي من السَّلامَة.

 

(4 - (ص) وَبعد، أَن خير شئ يقتفا … بعد الْقُرْآن لحَدِيث المصطفا)

 

(ش) أما [بعد] وَهِي كَمَا قَالَ أَبُو إِسْحَاق الزّجاج وَغَيره مَبْنِيَّة على الضَّم لِأَنَّهَا من الظروف المقطوعة على الْإِضَافَة المنوى معنى مَا بعْدهَا، والإتيان بِمَا فى الْخطب والمراسلات مُسْتَحبّ، وَاخْتلف فى أول من قَالَهَا فَقيل: يَعْقُوب، وَقيل: لؤى، وَقيل: دَاوُد؛ وَأَنَّهَا فصل الْخطاب الذى أعطية، وَقيل: يعرب بن قحطان وَقيل [/ 11] كَعْب بن لؤى
[ওয়াস-সালাম] মূলগতভাবে এর অর্থ হলো নিরাপত্তা (السلامة)। বলা হয়ে থাকে: ‘সালামা ইয়াসলামু সালামান ওয়া সালামাতান’ (সে নিরাপদ হলো)। এটি মহান আল্লাহর পবিত্র নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। জান্নাতকে ‘দারুস সালাম’ বলা হয়েছে কারণ তা যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে নিরাপত্তার আবাস। ইমাম নববী দরুদ ও সালামের একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করে এককভাবে ব্যবহারের অপছন্দনীয়তা (كراهة) সাব্যস্ত করায় এখানে উভয়কে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রন্থকার তাঁর কিছু রচনায় কিতাবসমূহে যা বর্ণিত হয় সে ক্ষেত্রে এই দুটিকে নির্দিষ্ট করেছেন; যেমন: নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন অথবা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নির্দেশ দিয়েছেন—এর কারণ হলো তিনি এখানে বর্ণনা (رواية) বিলুপ্ত করেছেন। তবে যদি কোনো ব্যক্তি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নাম উল্লেখ করার পর উদাহরণস্বরূপ বলেন: ‘হে আল্লাহ! তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন’, তবে আমি একে অপছন্দনীয় (كراهة) মনে করি না এবং তা উত্তম (حسن)। তবে আমার উস্তাদ একে সেই ব্যক্তির জন্য বৈধতা দিয়েছেন যে একে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে না, আর এটিই অধিকতর সঠিক। লেখকের উক্তি [এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন], এর দ্বারা যদি কেবল সংবাদ প্রদান উদ্দেশ্য হয় তবে তাতে কোনো আপত্তির অবকাশ নেই। কিন্তু যদি এর দ্বারা দুআ উদ্দেশ্য হয়, তবে পাঠকের পক্ষ থেকে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর জন্য মর্যাদা বৃদ্ধির দুআ করার বিষয়টি জটিলতা তৈরি করে; কারণ এটি সুনিশ্চিত যে তিনি যাবতীয় মর্যাদার পূর্ণতা লাভ করেছেন। আমার উস্তাদ এর জবাবে যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: প্রথম শিক্ষক তথা স্বয়ং বিধানদাতা (الشارع) [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর জন্য দুআ করা এই সবকিছুরই অনুরূপ, তাই মর্যাদার আধিক্য এই দিক থেকেই বিবেচিত হবে। যদিও তাঁর মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত, তবুও আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো শেষ নেই। সম্ভবত দুআকারীর এই উক্তির ভিত্তি হলো কাবার দিকে তাকিয়ে যে দুআটি করা হয়: "হে আল্লাহ! এই গৃহের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন।" উলামাগণ দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এর সুফল দরুদ পাঠকারীর দিকেই ফিরে আসে এবং এটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া ‘ওয়া যাদাহু’ এর অর্থ হতে পারে—আল্লাহ তাঁর উম্মতের মধ্যে হেদায়েত ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করুন। এর সমর্থনে এটিও বলা যায় যে, কাব্যগ্রন্থের কিছু অনুলিপিতে ‘ওয়া যাদানাহ’ (এবং আমাদের বৃদ্ধি করুন) শব্দটি এসেছে, যা অত্যন্ত স্পষ্ট।

আর [সালমান] শব্দটিতে পূর্ণ যমক (تجنيس تام) অলঙ্কার রয়েছে; যার প্রথমটি সালাম (সালাম প্রদান) থেকে এবং দ্বিতীয়টি সালামাত (নিরাপত্তা) থেকে উৎপন্ন।

 

(৪ - (মূল কাব্য) আর অতঃপর, নিশ্চয়ই কুরআনের পর যা অনুসরণ করা হয় তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিষয় হলো মুস্তফা [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর হাদিস)

 

(ব্যাখ্যা) ‘আম্মা বাদু’ (بعد) সম্পর্কে আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজ এবং অন্যান্যগণ বলেছেন যে, এটি ‘যম্ম’ (পেশ) যোগে মবনী বা অপরিবর্তনীয় (مبني على الضم); কারণ এটি এমন এক প্রকারের অব্যয় (ظرف) যার পরবর্তী অংশ (ইযাফাত) বিলুপ্ত করা হয়েছে কিন্তু অর্থ বহাল রাখা হয়েছে। খুতবা ও চিঠিপত্রে এটি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। এটি সর্বপ্রথম কে বলেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কারো মতে ইয়াকুব (আ.), কারো মতে লুআই, কারো মতে দাউদ (আ.); আর এটিই সেই ‘ফাসলুল খিতাব’ (চূড়ান্ত ফয়সালা) যা তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল। আবার কারো মতে ইয়ারুব বিন কাহতান এবং কারো মতে কাব বিন লুআই।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
وَقيل: سحبان بن وَائِل وَقيل: قيس بن سَاعِدَة، وَورد فى كل من الْأَقْوَال مَا يشْهد لَهُ وَلَكِن قَالَ شيخى: إِن أشبههَا دَاوُد قَالَ: وَيجمع بَينه وَبَين غَيره بِأَنَّهُ بِالنِّسْبَةِ للأولية النهضة والبقية بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْعَرَب خَاصَّة ثمَّ يجمع بَينهمَا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْقَبَائِل.

و [الاقتفاء] الأتباع يُقَال: قفوته وقفيته واقتفيته أَي تَبعته واقتديت بِهِ.

و [الْقُرْآن] بِالْهَمْز، وَقد يحذف بعد نقل الْحَرَكَة لما قبله تَخْفِيفًا، وَهِي قِرَاءَة ابْن كثير وَبِه يتزن الْبَيْت وَهُوَ فى الأَصْل الْجمع وكل شَيْء جمعته فقد قرأته وسمى الْقُرْآن قُرْآنًا لِأَنَّهُ جمع الْقَصَص وَالْأَمر والنهى، والوعد والوعيد، والآيات والسور، بَعْضهَا إِلَى بعض وَهُوَ مصدر كالغفران والكفران.

وفى الِاصْطِلَاح: " اللَّفْظ الْمنزل على مُحَمَّد [صلى الله عليه وسلم] المعجز عَن الْإِتْيَان بِسُورَة من مثله الْمَنْقُول إِلَيْنَا نقلا متواترا بِلَا شُبْهَة وَهُوَ اسْم للنظم أَو الْمَعْنى "، وَقَوله: روينَا عَن وَكِيع قَالَ: سَمِعت سُفْيَان وَهُوَ الثَّوْريّ يَقُول: مَا أعلم على وَجه الأَرْض من الْأَعْمَال شَيْئا أفضل من طلب الحَدِيث [/ 12] وَلمن أَرَادَ بِهِ وَجه الله تَعَالَى إِن النَّاس يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ فى طَعَامه وشرابهم. وَعَن بشر بن الْحَارِث أَنه قَالَ: لَا أعلم على وَجه الأَرْض عملا أفضل من طلب الحَدِيث لمن اتَّقى الله وَحسنت نِيَّته فِيهِ. والْآثَار فى هَذَا الْمَعْنى كَثِيرَة.
বলা হয়েছে: (তিনি হলেন) সাহবান বিন ওয়ায়েল, আবার বলা হয়েছে: কায়েস বিন সায়েদাহ। প্রতিটি মতের স্বপক্ষেই এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা তার সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়, তবে আমার শায়খ বলেছেন: এদের মধ্যে দাউদ (আ.)-এর বিষয়টিই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন: তাঁর এবং অন্যদের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা যায় যে, তিনি ছিলেন প্রথম জাগরণের সাপেক্ষে অগ্রজ, আর বাকিরা ছিলেন বিশেষত আরবদের সাপেক্ষে; অতঃপর গোত্রসমূহের নিরিখে তাঁদের মাঝে সমন্বয় করা হবে।

আর [আল-ইকতিফা] অর্থ অনুসরণ করা। বলা হয়: ক্বাফাওতুহু, ক্বাফফাইতুহু এবং ইক্‌তাফাইতুহু অর্থাৎ আমি তাকে অনুসরণ করলাম এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম।

আর [আল-কুরআন] শব্দটি হামযাহ সহকারে গঠিত; কখনো উচ্চারণের সহজবোধ্যতার জন্য পূর্ববর্তী বর্ণের হরকত হস্তান্তরের মাধ্যমে হামযাহটি বিলুপ্ত করা হয়। এটি ইবনে কাসীরের কিরাআত এবং এর মাধ্যমেই কাব্যের পঙ্‌ক্তি ছন্দোবদ্ধ হয়। মূলত এর অর্থ হলো একত্র করা; আপনি যখন কোনো কিছু একত্র করেন, তখন বলা হয় 'ক্বারা'তাহু' (আপনি তা একত্র করেছেন)। কুরআনকে কুরআন নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি কিচ্ছা-কাহিনী, আদেশ-নিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী এবং আয়াত ও সূরাসমূহকে একটির সাথে অন্যটির সমন্বয় ঘটিয়েছে। এটি গুফরান ও কুফরান শব্দের মতো একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)।

পারিভাষিক সংজ্ঞায়: "মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর ওপর অবতীর্ণ সেই শব্দসমষ্টি, যা এর সদৃশ কোনো একটি সূরা নিয়ে আসার ক্ষেত্রে (মানুষকে) অক্ষমকারী, যা আমাদের কাছে কোনো সংশয়হীন ও ধারাবাহিকভাবে (متواترا) বর্ণিত হয়ে পৌঁছেছে এবং এটি শব্দবিন্যাস অথবা অর্থের সমষ্টির নাম।" তাঁর উক্তি: আমরা ওয়াকী থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে বলতে শুনেছি: যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাদিস অন্বেষণ করতে চায়, তাদের জন্য পৃথিবীর বুকে হাদিস অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ অন্য কোনো আমল আমার জানা নেই; কেননা মানুষ তাদের আহার ও পানীয়র ক্ষেত্রেও এর (হাদিসের) মুখাপেক্ষী হয়। আর বিশর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং হাদিস অন্বেষণে যার নিয়ত বিশুদ্ধ, তার জন্য পৃথিবীর বুকে হাদিস অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো কাজ আছে বলে আমার জানা নেই। এই মর্মে আরও অনেক বর্ণনা (آثار) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
[حَدِيث الْمُصْطَفى] لَا يخْتَص بأقواله بل استعملوه لأعم مِنْهَا وَمن الْفِعْل وَالتَّقْدِير كَمَا تقدم.

 

(5 - (ص) يحملهُ عدُول كل خلف … عَمَّن مضى من خلف وَسلف)

 

(ش) أَشَارَ النَّاظِم بذلك إِلَى مَا ورد من حَدِيث أُسَامَة بن زيد وَجَابِر بن سَمُرَة، وَابْن عمر وَابْن مَسْعُود وعَلى وَأبي أُمَامَة وَأبي هُرَيْرَة وَغَيرهم من الصَّحَابَة رضي الله عنهم عَنهُ [صلى الله عليه وسلم] أَنه قَالَ: " يحمل هَذَا الْعلم من كل خلف عَدو لَهُ ينفون عَنهُ تَحْرِيف الغالين وانتحال المبطلين وَتَأْويل الْجَاهِلين " وَهُوَ من جَمِيع طرقه ضَعِيف كَمَا صرح بِهِ الدَّارَقُطْنِيّ وَأَبُو نعيم وَابْن عبد الْبر لَكِن يُمكن أَن يتقوى بتعددها وَيكون حسنا كَمَا جزم بِهِ العلائي لَا سِيمَا وَيشْهد لَهُ كتاب عمر إِلَى أَبى [/ 13] مُوسَى رضي الله عنهما: " الْمُسلمُونَ عدُول بَعضهم على بعض إِلَّا مجلودا فى حد أَو مجربا عَلَيْهِ شَهَادَة زور أَو ظنينا فى وَلَاء أَو نسب "

وفى الْعِلَل للخلال أَن مهنا سَأَلَ أَحْمد عَن حَدِيث الْبَاب وَقَالَ لَهُ كَأَنَّهُ كَلَام مَوْضُوع؟ فَقَالَ: هُوَ صَحِيح وَتعقب ذَلِك ابْن الْقطَّان حَيْثُ قَالَ: قد خفى على أَحْمد من حَاله مَا علمه غَيره. انْتهى.

وَبِه تمسك ابْن عبد الْبر حَيْثُ قَالَ كل حَامِل علم مَعْرُوف الْعِنَايَة فَهُوَ عدل مَحْمُول فى أمره أبدا على الْعَدَالَة حَتَّى يتَبَيَّن جرحه وَكَذَا قَالَ ابْن الْمواق: أهل الْعلم محمولون على الْعَدَالَة
[মুস্তফা (সা.)-এর হাদিস] শুধুমাত্র তাঁর কথাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা একে তাঁর কথা অপেক্ষা ব্যাপকতর অর্থাৎ কাজ এবং মৌন সম্মতি (تقدير) বুঝাতেও ব্যবহার করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

(৫ - (মূল পাঠ) প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য (عدول) ব্যক্তিবর্গ এটি বহন করবেন … যারা অতীত হয়ে গেছেন এমন পরবর্তী ও পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকে)

 

(ব্যাখ্যা) গ্রন্থকার এর মাধ্যমে উসামা ইবনে যায়েদ, জাবির ইবনে সামুরা, ইবনে উমর, ইবনে মাসউদ, আলী, আবু উমামা, আবু হুরায়রা এবং অন্যান্য সাহাবী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য (عدل) ব্যক্তিবর্গ এই জ্ঞান বহন করবেন; তারা একে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবেন।" এটি এর সকল সূত্র (طرق) অনুযায়ী দুর্বল (ضعيف), যেমনটি দারা কুতনী, আবু নুয়াইম এবং ইবনে আব্দুল বার স্পষ্ট করেছেন। তবে এর একাধিক সূত্রের (طرق) কারণে এটি শক্তিশালী হওয়া সম্ভব এবং তা গ্রহণযোগ্য (حسنا) হতে পারে, যেমনটি আল-আলাই দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে আবু মুসা (রা.)-এর প্রতি উমর (রা.)-এর পত্র [/ ১৩] এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: "মুসলমানগণ একে অপরের প্রতি নির্ভরযোগ্য (عدول), তবে এমন ব্যক্তি ব্যতীত যাকে দণ্ডবিধির (حد) অধীনে বেত্রাঘাত করা হয়েছে, অথবা যার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, অথবা যার আনুগত্য (ولاء) বা বংশপরিচয় (نسب) সন্দেহযুক্ত।"

খিলালের আল-ইলাল গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, মুহান্না ইমাম আহমদকে এই অনুচ্ছেদের হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাকে বললেন, এটি কি বানোয়াট (موضوع) কথা মনে হচ্ছে না? তিনি বললেন: এটি বিশুদ্ধ (صحيح)। ইবনুল কাত্তান এর সমালোচনা করে বলেছেন: ইমাম আহমদের কাছে এর এমন কিছু অবস্থা গোপন ছিল যা অন্যরা জানতে পেরেছেন। সমাপ্ত।

আর ইবনে আব্দুল বার এর ওপরই নির্ভর করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ইলমের প্রতিটি বাহক যার নিষ্ঠা সুপরিচিত, সে নির্ভরযোগ্য (عدل); তার বিষয়টি সর্বদা বিশ্বস্ততার (عدالة) ওপর ন্যস্ত থাকবে যতক্ষণ না তার দোষত্রুটি (جرح) স্পষ্ট হয়। অনুরূপভাবে ইবনুল মাওয়াক বলেছেন: ইলমের অধিকারীগণ বিশ্বস্ততার (عدالة) ওপর ন্যস্ত।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
حَتَّى يظْهر مِنْهُم خلاف ذَلِك وَنَحْوه مَا روينَا عَن مُحَمَّد بن أَحْمد بن يَعْقُوب بن شيبَة قَالَ: " رَأَيْت رجلا قدم رجلا إِلَى إِسْمَاعِيل بن إِسْحَاق القَاضِي فَادّعى عَلَيْهِ دَعْوَى فَسَأَلَهُ الْمُدعى عَلَيْهِ، فَأنْكر، فَقَالَ للْمُدَّعى: أَلَك بَيِّنَة؟ ، قَالَ: نعم فلَان وَفُلَان، فَقَالَ: أما فلَان فَمن شُهُوده، وَأما فلَان فَلَيْسَ من شهودى، قَالَ: فيعرفه القَاضِي؟ قَالَ: نعم، قَالَ: بِمَاذَا؟ قَالَ: عرفه بكتب الحَدِيث قَالَ: فَكيف تعرفه فى كتبته الحَدِيث؟ قَالَ: مَا علمت إِلَّا خيرا، قَالَ: فَإِن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " يحمل هَذَا الْعلم من كل خلف عدوله "، وَمن عدله رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أولى مِمَّن عدلته أَنْت قَالَ: فهاته فقد قبلت شَهَادَته. وقوى الْحَافِظ أَبُو [/ 14] الْحجَّاج المزى مَا قَالَ ابْن عبد الْبر حَيْثُ قَالَ: " هُوَ فى زَمَاننَا مرضى بل رُبمَا يتَعَيَّن، وَكَذَا ابْن سيد النَّاس: لست أرى مَا قَالَ أَبُو عمر إِلَّا مرضيا قَالَ: وَلَو أَن مَسْتُور الْحَال فى دينهما تَعَارضا فى نقل خبر، وَأَحَدهمَا مَعْرُوف بِطَلَب الحَدِيث وكتابته وَالْآخر لَيْسَ كَذَلِك لكَانَتْ النَّاس إِلَى قبُول خبر الطَّالِب أميل وَلَا معنى لهَذِهِ الْمعرفَة إِلَّا مزية طلب الْعلم لَكِن سبقهما ابْن الصّلاح فتعقب ابْن عبد الْبر وَأَشَارَ إِلَى أَنه توسع. وأيده غَيره بِأَن قَوْله يحمل وَإِن كَانَ لَفظه لفظ الْخَبَر إِلَّا أَن مَعْنَاهُ الْأَمر لَا سِيمَا وفى بعض طرقه: " ليحمل هَذَا الْأَمر " بلام الْأَمر قَالَ: وَلَا يجوز أَن يكون خَبرا مَحْضا وَإِلَّا تطرق إِلَيْهِ الْخلف وَهُوَ محَال لِأَنَّهُ قد يحملهُ غير عدل فى الْوَاقِع وَحين إِذن فَلَا حجَّة فِيهِ وَوَافَقَ ابْن الصّلاح على ذَلِك ابْن أبي الدَّم وَقَالَ: إِنَّه قريب الإستمداد من مَذْهَب أبي حنيفَة فى أَن ظَاهر الْمُسلمين الْعَدَالَة وَقبُول شَهَادَة كل مُسلم مَجْهُول الْحَال إِلَى أَن يثبت جرحه قَالَ: وَهُوَ غير مرضى عندنَا لِخُرُوجِهِ عَن الِاحْتِيَاط وَيقرب مِنْهُ مَا ذهب إِلَيْهِ مَالك من قبُول شَهَادَة المتوسمين من أهل الْعَاقِلَة اعْتِمَادًا على ظَاهر أَحْوَالهم الْمُسْتَدلّ بهَا على الْعَدَالَة والصدق فِيمَا يشْهدُونَ بِهِ إِذا عرف هَذَا فالمعروف فى لفظ الحَدِيث يحمل " بِفَتْح التَّحْتَانِيَّة " وعدوله "

যতক্ষণ না তাদের পক্ষ থেকে এর বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়। অনুরূপ বিষয় আমরা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: "আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে অন্য এক ব্যক্তিকে বিচারক ইসমাইল ইবনে ইসহাকের নিকট নিয়ে এল এবং তার বিরুদ্ধে একটি দাবি উত্থাপন করল। অতঃপর বিবাদী তাকে প্রশ্ন করলে সে তা অস্বীকার করল। তখন বিচারক ফরিয়াদিকে বললেন: তোমার কাছে কি কোনো প্রমাণ (بينة) আছে? সে বলল: হ্যাঁ, অমুক এবং অমুক। বিচারক বললেন: অমুক তো আমার তালিকাভুক্ত সাক্ষী (شهود), কিন্তু অন্যজন তো আমার সাক্ষী (شهود) নয়। বর্ণনাকারী বলেন: বিচারক কি তাকে চিনতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বিচারক বললেন: কীসের মাধ্যমে? তিনি বললেন: হাদিসের পাণ্ডুলিপি রচনার মাধ্যমে তাকে চিনেছেন। বিচারক বললেন: হাদিস লেখায় তার অবস্থা তুমি কেমন জানো? তিনি বললেন: আমি তার সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না। বিচারক বললেন: নবি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: 'এই ইলমকে প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ (عدول) বহন করবে'। আর যাকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সে তোমার ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার চেয়ে অধিক উত্তম। এরপর তিনি বললেন: তাকে নিয়ে এসো, আমি তার সাক্ষ্য (شهادة) কবুল করলাম।"

হাফিজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি ইবনে আব্দুল বার যা বলেছেন তাকে শক্তিশালী বলে গণ্য করেছেন। যেখানে তিনি বলেছিলেন: "এটি আমাদের জামানায় সন্তোষজনক (مرضي), বরং কখনো কখনো তা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।" অনুরূপভাবে ইবনে সাইয়্যিদ আল-নাস বলেছেন: "আবু উমর যা বলেছেন তা সন্তোষজনক (مرضي) ছাড়া আর কিছু আমি দেখছি না।" তিনি আরও বলেন: "যদি দ্বীনের ক্ষেত্রে অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال) এমন দুইজন ব্যক্তি সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী হয়, যাদের একজন হাদিস অন্বেষণ ও তা লেখার জন্য পরিচিত এবং অন্যজন তেমন নয়, তবে মানুষ ওই অন্বেষণকারীর সংবাদ গ্রহণের দিকেই বেশি ঝুঁকবে। ইলম অন্বেষণের এই বিশেষ মর্যাদা ছাড়া এই পরিচিতির আর কোনো অর্থ নেই।" তবে ইবনে আস-সালাহ তাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন এবং ইবনে আব্দুল বারের মতের সমালোচনা করে ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি এক্ষেত্রে শিথিলতা (توسع) প্রদর্শন করেছেন।

অন্যান্যরা তাকে এই বলে সমর্থন করেছেন যে, 'ইয়াহমিলু' (বহন করবে) শব্দটি যদিও গঠনগত দিক থেকে সংবাদ (خبر), কিন্তু এর অর্থ হলো নির্দেশ (أمر)। বিশেষ করে এর কোনো কোনো সূত্রে 'লি-ইয়াহমিল' (অবশ্যই যেন বহন করে) আমর বা নির্দেশ (أمر) সূচক লাম সহযোগে এসেছে। তিনি বলেন: এটি নিছক সংবাদ (خبر) হওয়া জায়েজ নয়, অন্যথায় বাস্তবতার সাথে এর বৈপরীত্য দেখা দেবে, যা অসম্ভব; কারণ বাস্তবে অনেক সময় ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয় এমন ব্যক্তিও ইলম বহন করে থাকে। আর এমতাবস্থায় এর মধ্যে কোনো দলিল থাকবে না। ইবনে আবিদ দাম এ বিষয়ে ইবনে আস-সালাহর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের কাছাকাছি উৎসজাত, যেখানে বলা হয়েছে যে মুসলিমদের প্রকাশ্য অবস্থা হলো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال) প্রত্যেক মুসলিমের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা হবে যতক্ষণ না তার অযোগ্য ঘোষণা (جرح) প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন: এটি আমাদের নিকট সন্তোষজনক (مرضي) নয়, কারণ এতে সতর্কতার অভাব রয়েছে। ইমাম মালিক যে মত পোষণ করেছেন তা এর কাছাকাছি, যেখানে তিনি বাহ্যিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করার কথা বলেছেন, যা তাদের সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও সত্যবাদিতা (صدق) নির্দেশ করে। যখন এটি জানা গেল, তখন হাদিসের শব্দে সুপরিচিত হলো 'ইয়াহমিলু' (নিচের হরফ ইয়া-তে ফাতহা যোগে) এবং 'আদুলুহু'।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٦)
بِضَم الْعين [/ 15] وَاللَّام على أَنه جمع عدل وَنقل عَن رَحْله ابْن الصّلاح حِكَايَة عَن غَيره " ضم الْيَاء من " يحمل على أَنه فعل لما لم يسم فَاعله وَرفع الْمِيم من الْعلم وَفتح الْعين من عدوله وَآخره (ت) يعْنى مجرورة، وَالْمعْنَى أَن الْخلف هِيَ الْعُدُول وَمعنى أَنه عادله كَمَا يَقُول شكور بِمَعْنى شَاكر وَيكون الْهَاء للْمُبَالَغَة كَمَا يَقُول: رجل صبور، وَالْمعْنَى: أَن الْعلم يحمل عَن كل خلف كَامِل فى عَدَالَته ". انْتهى

وَهُوَ أَن هَذَا الْعلم دين فَانْظُر عَمَّن تَأْخُذ دينك.

[وَالْخلف] بِالتَّحْرِيكِ والسكون كل من يجِئ بعد من مضى إِلَّا أَنه بِالتَّحْرِيكِ فى الْخَيْر وَهُوَ المُرَاد هُنَا وبالتسكين فى الشَّرّ يُقَال: خلف صدق وَخلف سوء، ومعناهما جَمِيعًا الْقرن من النَّاس قَالَ الْخطابِيّ: وَمن رَوَاهُ بِسُكُون اللَّام فقد أَحَالهُ وَمن السّكُون: {خلف أضاعوا الصَّلَاة} وَقَول لبيد: " وَبقيت فى خلف كَجلْد الأجرب ".

و [السّلف] من تقدم بِالْمَوْتِ، وسمى الصَّدْر الأول من التَّابِعين السّلف الصَّالح.

فى الْبَيْت اسْتِعْمَال جناس الطباق الَّذِي هُوَ ذكر الشَّيْء وَمُقَابِله وَيُقَال لَهُ: جناس الْمُقَابلَة.

 

(6 - (ص) هاك فى علومه مُقَدّمَة … يكون لاصطلاحهم مفهمة)

 

(ش) [هَا] اسْم فعل مَعْنَاهُ: خُذ. علم الحَدِيث، قيل: " هُوَ معرفَة الْقَوَاعِد الْمعرفَة بِحَال الرَّاوِي والمروى، وَقيل: " الْقَوَاعِد إِلَى آخِره "

[والمقدمة] بِكَسْر الدَّال من قدم اللَّازِم بِمَعْنى تقدم، وَقد تفتح من قدم المتعدى، وَهِي هُنَا عبارَة عَن: مَقَاصِد عُلُوم الحَدِيث وأنواعه. [والاصطلاح] الِاتِّفَاق والتواطئ [/ 16] على الشَّيْء بِحَيْثُ يصير متعارفا عِنْد أهل ذَلِك الْفَنّ، وَهُوَ هُنَا على حذف مُضَاف أَي اصْطِلَاح أَهله وَقَوله: [مفهمة] أَي تعليمها إِلَّا أَنه أسْندهُ إِلَيْهَا لِأَنَّهَا مبدأ للتعليم.
আইন (عين) বর্ণে পেশ এবং লাম (লাম) বর্ণে পেশ [/ 15] সহকারে এটি 'আদল' (عدل) শব্দের বহুবচন। ইবনুস সালাহ অন্য একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ‘ইউহমালু’ (يحمل) শব্দটি কর্মবাচ্যের ক্রিয়া হিসেবে 'ইয়া' বর্ণে পেশ দিয়ে, 'ইলম' (علم) শব্দটিকে পেশ দিয়ে এবং 'আদুলিহি' (عدوله) শব্দের আইন বর্ণে জবর ও শেষ বর্ণে জের দিয়ে পড়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, পরবর্তী প্রজন্ম হলো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিবর্গ। ‘আদিল’ (عادل) অর্থে ‘আদুল’ (عدول) শব্দের ব্যবহার যেমন ‘শাকির’ (কৃতজ্ঞ) অর্থে ‘শাকূর’ বলা হয়। এখানে ‘হা’ বর্ণটি অতিশয়োক্তি বা গুরুত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি বলা হয় ‘সবূর’ ব্যক্তি। এর মর্মার্থ হলো: এই ইলম বা জ্ঞান প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পন্ন ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাহিত হবে। সমাপ্ত।

আর তা হলো, নিশ্চয় এই জ্ঞান হলো দ্বীন; সুতরাং লক্ষ্য করো তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।

[খালাফ/খালফ] শব্দটি হরকত (জবর) যুক্ত এবং সুকুন (জজম) যুক্ত—উভয়ভাবেই পড়া যায়। যারা গত হয়েছেন তাদের পরে যারা আসে তাদের সবাইকে এটি বোঝায়। তবে প্রশংসনীয় বা ভালোর ক্ষেত্রে এটি হরকত যুক্ত (খালাফ) হয় এবং এখানে এটিই উদ্দেশ্য। আর মন্দের ক্ষেত্রে এটি সুকুন যুক্ত (খালফ) হয়। বলা হয়ে থাকে: ‘খালাফু সিদকিন’ (উত্তম উত্তরসূরি) এবং ‘খালফু সূইন’ (মন্দ উত্তরসূরি)। উভয় শব্দের অর্থ হলো মানবগোষ্ঠীর এক একটি প্রজন্ম। আল-খাত্তাবি বলেছেন: যারা একে লাম বর্ণে সুকুন দিয়ে বর্ণনা করেছেন তারা অর্থ পরিবর্তন করে ফেলেছেন। সুকুন বা জজম যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো: {এমন উত্তরসূরি (خلف) যারা সালাত নষ্ট করেছে} এবং লাবীদের উক্তি: "আমি এমন এক উত্তরসূরির (خلف) মধ্যে রয়ে গেলাম যারা চুলকানিযুক্ত চামড়ার মতো।"

আর [সালাফ] হলো যারা মৃত্যুর মাধ্যমে অগ্রগামী হয়েছেন। তাবেয়ীদের প্রথম যুগকে ‘সালাফ সালেহ’ বা সৎ পূর্বসূরি বলা হয়।

এই পঙ্ক্তিতে ‘জিনাসে তিবাক’ (বিপরীতার্থক শব্দের অলংকার) ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত বিষয় উল্লেখ করাকে বোঝায়। একে ‘জিনাসে মুকাবালা’ও বলা হয়।

 

(৬ - (মূল) এই যে নাও তার জ্ঞানসমূহের এক ভূমিকা … যা তাদের পরিভাষার বোধগম্য হবে।)

 

(ব্যাখ্যা) [হা] এটি একটি ক্রিয়া বিশেষ্য যার অর্থ হলো: গ্রহণ করো। হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে: "এটি এমন কিছু নিয়ম-নীতি জানার নাম যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (راوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (مروي) অবস্থা জানা যায়।" আবার বলা হয়েছে: "নিয়ম-নীতিসমূহ..." শেষ পর্যন্ত।

[মুকাদ্দিমা] শব্দটি ‘কাদ্দামা’ (অকর্মক) থেকে ‘দাল’ বর্ণে জের যোগে হতে পারে যার অর্থ অগ্রগামী হওয়া। আবার এটি ‘কাদ্দামা’ (সকর্মক) থেকে ‘দাল’ বর্ণে জবর যোগেও হতে পারে। এখানে এটি হাদিস শাস্ত্রের উদ্দেশ্যসমূহ এবং এর প্রকারভেদের সংকলন। [পরিভাষা (اصطلاح)] হলো কোনো বিষয়ে একমত হওয়া বা ঐকমত্য পোষণ করা [/ 16] যাতে তা সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সুপরিচিত হয়ে ওঠে। এখানে এটি উহ্য বিশেষ্যের সাথে সম্পর্কিত, অর্থাৎ এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষা। আর লেখকের উক্তি: [মুফহিমাহ] এর অর্থ হলো তা শিক্ষা দেওয়া, তবে তিনি এটিকে ভূমিকার দিকে সম্বন্ধ করেছেন কারণ ভূমিকা হলো শিক্ষার সূচনা।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٧)
(7 - (ص) رتبتها أحسن مَا يرتب … وزدتها فَوَائِد تستعذب)

 

(ش) [التَّرْتِيب] لُغَة: جعل الشَّيْء فى مرتبته. وَاصْطِلَاحا: جعل الْأَشْيَاء المتعددة المتناسبة بِحَيْثُ يُطلق عَلَيْهَا اسْم الْوَاحِد، وَإِنَّمَا كَانَت تَرْتِيب هَذِه الْمُقدمَة أحسن، من أجل أَنه ابتدأها بآداب الطَّالِب، أَولا على النمط الطبيعي فى التَّعْلِيم، وَالْجُمْهُور تابعون فى ترتيبهم كتبهمْ كتاب ابْن الصّلاح، وَهُوَ لكَونه أَلْقَاهُ إملاء لم يحصل ترتيبه على الْوَضع الْمُنَاسب.

[وفوائد] جمع فَائِدَة وَهِي مَا يكون الشَّيْء بِهِ أحسن حَالا مِنْهُ بِغَيْرِهِ وصرفها للضَّرُورَة.

[والعذب] بِالْمُعْجَمَةِ الطّيب وفى الحَدِيث: " أَنه كَانَ يستعذب لَهُ المَاء واستعذبنا: أَي شربنا عذبا وأسقينا عذبا وَهِي هُنَا اسْتِعَارَة، ثمَّ إِنَّمَا أَتَى بِهِ النَّاظِم من زِيَادَته لم يميزه عَن كَلَامهم كَمَا فعل غَيره لعدم تقيده بِكِتَاب مَخْصُوص، وَاعْلَم أَن التراجم تخْتَلف النّسخ فِيهَا إِثْبَاتًا وحذفا، وَالظَّاهِر أَن النَّاظِم لم يثبتها كَمَا فعل مُسلم فى صَحِيحه وَإِنَّمَا هِيَ من تصرف بعض الْكتاب بِدَلِيل إهمالها فى أَمَاكِن مفتقرة إِلَيْهَا وَلذَلِك تصرفت فِيهَا بِالزِّيَادَةِ والتغيير.
(৭ - (মূল) আমি এটি সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বিন্যাস (ترتيب) করেছি … এবং এতে এমন কিছু নতুন জ্ঞানগর্ভ বিষয় (فوائد) যোগ করেছি যা উপাদেয় মনে হবে)

 

(ব্যাখ্যা) [বিন্যাস (الترتيب)] শাব্দিক অর্থ: কোনো বস্তুকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করা। আর পরিভাষায় (اصطلاحا): সুসামঞ্জস্যপূর্ণ একাধিক বিষয়কে এমনভাবে সাজানো যাতে সেগুলোকে একটি একক নামে অভিহিত করা যায়। এই ভূমিকাটির বিন্যাস (ترتيب) সর্বোত্তম হওয়ার কারণ হলো, তিনি শিক্ষার স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুযায়ী প্রথমে এটি শিক্ষার্থীর শিষ্টাচার (آداب) দিয়ে শুরু করেছেন। অধিকাংশ (جمهور) লেখক তাদের গ্রন্থ বিন্যাসের ক্ষেত্রে ইবনে আল-সালাহ-এর কিতাব অনুসরণ করেছেন। তবে ইবনে আল-সালাহ যেহেতু তা শ্রুতিলিখন (إملاء) হিসেবে প্রদান করেছিলেন, তাই তাঁর কিতাবের বিন্যাস যথাযথ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়নি।

[ফাওয়ায়িদ (فوائد)]: এটি 'ফায়দাহ' (উপকারিতা)-এর বহুবচন। এটি এমন বিষয়কে বোঝায় যা অন্য কিছুর উপস্থিতিতে কোনো বস্তুকে অধিকতর উন্নত করে তোলে। এখানে ছন্দের প্রয়োজনে শব্দটি ব্যাকরণিক নিয়মে ব্যবহার করা হয়েছে।

[আল-আদব (العذب)]: 'আইন' বর্ণ যোগে এর অর্থ হলো উত্তম বা সুস্বাদু। হাদিসে এসেছে: "তাঁর জন্য সুপেয় পানি সংগ্রহ করা হতো।" আমরা 'ইস্তাযবাবনা' বলি যখন আমরা সুপেয় পানি পান করি বা অন্যকে পান করাই। এখানে শব্দটি রূপক (استعارة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অতঃপর গ্রন্থকার (ناظم) তাঁর নিজস্ব যে বর্ধিত অংশগুলো সংযোজন করেছেন, সেগুলোকে তিনি অন্যদের বক্তব্যের থেকে পৃথক করে চিহ্নিত করেননি, যেমনটি অন্য অনেকে করেছেন। এর কারণ হলো তিনি কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের অনুকরণে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। জেনে রাখুন যে, পাণ্ডুলিপিভেদে শিরোনামসমূহ (تراجم) থাকা বা না থাকার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থকার এগুলো নিজে যুক্ত করেননি, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ মুসলিমে করেছিলেন। বরং এগুলো অনুলিপিকারদের পক্ষ থেকে সংযোজিত হয়েছে; যার প্রমাণ হলো এমন কিছু প্রয়োজনীয় স্থানে এগুলোর অনুপস্থিতি যেখানে এর একান্ত প্রয়োজন ছিল। একারণে আমি এতে পরিবর্ধন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কার করেছি।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٨)
(8 - (ص) نظمتها باسم الإِمَام العالمى … أَبى مُحَمَّد الْمقر السالمي)

 

(ش) [النّظم] فى اللُّغَة: الْجمع، وفى الِاصْطِلَاح: الْجمع على بَحر من البحور الْمَعْرُوفَة [/ 17] عِنْد أهل القريض قَالَ فى " الصِّحَاح ": " نظمت اللُّؤْلُؤ أَي جمعته فى السلك، والتنظيم مثله. وَمِنْه نظمت الشّعْر ونظمته، والنظام الْخَيط الذى ينظم بِهِ اللُّؤْلُؤ ونظم من لُؤْلُؤ " انْتهى.

و [السالمى] هَذَا هُوَ بليغا الظَّاهِرِيّ تَأمر وَعمل الاستادارية، والوزارة وَالْإِشَارَة وَغَيرهَا، وَولى نظر خانقاه سعيد السُّعَدَاء، والشيخونية، لَازم الِاشْتِغَال بِالْعلمِ وَأكْثر من سَماع الحَدِيث وَكِتَابَة الطباق، وَلكنه لم يفتح عَلَيْهِ بِشَيْء من ذَلِك سوى أَنه يَصُوم يَوْمًا بعد يَوْم وَيكثر التِّلَاوَة وَقيام اللَّيْل وَالذكر والصداقة مَعَ محبَّة الْعلمَاء والفضلاء، وَلَا يَخْلُو من محَاسِن إِلَّا أَنه كَانَ شَدِيد الْمُبَالغَة فى حب ابْن عربى وَأَضْرَابه من غير فهم لكلامهم وَقد بَالغ النَّاظِم فى وَصفه جَريا على عَادَة كثيرين فى رُؤَسَاء وقتهم، وَهُوَ الَّذِي أقدم ابْن أبي الْمجد من دمشق إِلَى الْقَاهِرَة حَتَّى حدث بِالصَّحِيحِ وَغَيره، وَكَانَ لجوجا مصمما على مَا يُرِيد وَلَو كَانَ فِيهِ تلاف روحه، وقاسى النَّاس مِنْهُ شدَّة وَآل أمره إِلَى أَن خنق وَهُوَ صَائِم فى رَمَضَان بعد عصر يَوْم الْجُمُعَة سنة إِحْدَى عشرَة وثماني مائَة، عفى الله تَعَالَى عَنهُ.
(৮ - (মূল কবিতা) আমি এটি বিশ্ববরেণ্য ইমাম … আবু মুহাম্মাদ আল-মুকার আস-সালিমী-এর নামে ছন্দবদ্ধ করেছি।)

 

(ব্যাখ্যা) [নাজম] অভিধানে এর অর্থ: একত্রিত করা। আর পরিভাষায় (اصطلاح): কাব্যবিশারদদের নিকট সুপরিচিত ছন্দসমূহের কোনো একটির ওপর ভিত্তি করে শব্দসমূহকে বিন্যস্ত করা। 'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমি মুক্তাগুলোকে গেঁথেছি অর্থাৎ সুতায় একত্রিত করেছি, 'তানজিম' শব্দটিও অনুরূপ। আর এখান থেকেই এসেছে: আমি কবিতা রচনা করেছি বা ছন্দবদ্ধ করেছি। আর 'নিজাম' হলো সেই সুতা যা দিয়ে মুক্তা গাঁথা হয় এবং যা মুক্তার মালায় পরিণত হয়।" সমাপ্ত।

এবং এই [আস-সালিমী] হলেন বালিগা আদ-জাহিরি। তিনি আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রাসাদ ব্যবস্থাপনা, উজির পদ ও অন্যান্য দপ্তরে কাজ করেছেন। তিনি সাঈদ আস-সুয়াদা এবং শাইখুনিয়া খানকাহর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইলম অর্জনে নিবিষ্ট থাকতেন এবং প্রচুর পরিমাণে হাদিস শ্রবণ (سماع) ও হাদিস শ্রবণের প্রমাণপত্র (طباق) লিপিবদ্ধ করতেন। তবে এসব বিষয়ে তার জন্য বিশেষ কোনো সাফল্যের দ্বার উন্মোচিত হয়নি; তবে তিনি একদিন অন্তর রোজা রাখতেন, অধিক তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, জিকির ও দান-সদকা করতেন এবং আলেম ও গুণীজনদের ভালোবাসতেন। তার মাঝে অনেক চারিত্রিক সৌন্দর্য বিদ্যমান ছিল, তবে তিনি ইবনে আরাবি ও তার সমমনাদের প্রতি অত্যন্ত বাড়াবাড়ি পর্যায়ের অনুরাগী ছিলেন, যদিও তাদের বক্তব্যের মর্ম তিনি অনুধাবন করতে পারতেন না। কবিতা রচয়িতা সমকালীন নেতৃবৃন্দের প্রশংসা করার প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তার বর্ণনায় অতিশয়োক্তি করেছেন। তিনিই ইবনে আবি আল-মাজদকে দামেস্ক থেকে কায়রোতে নিয়ে এসেছিলেন, যাতে তিনি সহিহ (صحيح) ও অন্যান্য কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করতে পারেন। তিনি অত্যন্ত জেদি এবং নিজের সংকল্পে অটল ছিলেন, যদিও তাতে জীবন নাশের ঝুঁকি থাকত। মানুষ তার কারণে কঠোরতা ভোগ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি এই হয়েছিল যে, ৮১১ হিজরির রমজান মাসের এক জুমাবারে আসরের পর রোজা রাখা অবস্থায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٦٩)
(9 - (ص) تَغْدُو إِلَى مصر من أَرض برحة … فهى إِلَى جنابه تحيتى)

 

(ش) [تغدوا] مُعْجمَة ثمَّ مُهْملَة من الغدو، وَهُوَ سير أول النَّهَار، وَلم يرد النَّاظِم إِلَّا مُطلق السّير.

[وبرحة] بِالْمُوَحَّدَةِ الْمَفْتُوحَة، بعْدهَا مُهْملَة سَاكِنة، ثمَّ حاء مُهْملَة، من البرح قَالَ فى " الْقَامُوس ": وَهُوَ الشدَّة، وَالشَّر، وَمَوْضِع بِالْيمن [فَيحْتَمل] أَن الْإِرْسَال كَانَ مِنْهُ أَو من مَكَان فِيهِ فتْنَة كبرصة من بِلَاد الرّوم، فقد أَقَامَ النَّاظِم عِنْد ملكهَا أبي يزِيد بن عُثْمَان من سنة ثَمَان وَتِسْعين إِلَى أَن قتل فى سنة خمس، وَكَذَلِكَ هُوَ فى بعض النّسخ وَالْأَمر فِيهِ سهل.

[والجناب] بِالْفَتْح الفناء، وَمَا قرب من محلّة الْقَوْم. [والتحية] : السَّلَام يُقَال: حياك الله أى سلم عَلَيْك وَهِي مفعلة من الْحَيَاة وَإِنَّمَا أدغمت لِاجْتِمَاع الْأَمْثَال.

‌‌آدَاب طَالب الحَدِيث

 

(10 - (ص) فَمن يُرِيد أَن يرى مُحدثا … فليعلمن من قبل أَن يحدثا)

 

(11 - كَيْفيَّة النَّقْل مَعَ السماع … وَمَا لمتنه من الْأَنْوَاع)

 

(ش) أَي فليعلمن بِقِرَاءَة هَذِه الْمُقدمَة أَو مَا يقوم مقَامهَا من مُقَدمَات الْفَنّ متفهما لذَلِك من أَهله الممارسين لَهُ كَيْفيَّة الْأَخْذ والتحمل وَكَيْفِيَّة السماع على مَا سيأتى تَفْصِيله.

وَسَائِر أَنْوَاع الحَدِيث وَهِي عِنْد ابْن الصّلاح خَمْسَة وَسِتُّونَ نوعا واحتوت " النخبة " الَّتِى لشَيْخِنَا مَعَ اختصارها على أَكثر من مائَة نوع.

و [من] مَوْصُولَة وَالضَّمِير فى [مَتنه] للْحَدِيث والمتن هُوَ الْغَايَة الَّتِي انْتهى إِلَيْهَا الْإِسْنَاد.
(9 - (মূল) তুমি বারহা নামক ভূমি হতে মিসরের দিকে যাত্রা করছ … আর এটিই তাঁর সান্নিধ্যে আমার অভিবাদন)

 

(ব্যাখ্যা) [তাগদু] শব্দটি মু'জাম (নুক্তাযুক্ত বর্ণ) এবং এরপর মুহমাল (নুক্তাবিহীন বর্ণ) দিয়ে গঠিত, যা 'আল-গুদুউ' থেকে আগত। এর অর্থ হলো দিনের শুরুতে পথচলা। তবে এখানে কবি এর দ্বারা সাধারণভাবে যেকোনো সময় পথচলাই বুঝিয়েছেন।

[বারহা] শব্দটি জবরযুক্ত 'বা' (এক নুক্তাবিশিষ্ট), এরপর সাকিনযুক্ত 'রা' (নুক্তাবিহীন), এবং এরপর 'হা' (নুক্তাবিহীন) বর্ণযোগে গঠিত। এটি 'আল-বারহ্' থেকে উদ্ভূত। 'আল-কামুস'-এ বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তীব্রতা, অকল্যাণ বা ইয়েমেনের একটি স্থানের নাম। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই বার্তাটি সেখান থেকে পাঠানো হয়েছিল অথবা এমন কোনো স্থান থেকে যেখানে ফিতনা বিদ্যমান ছিল, যেমন রোম সাম্রাজ্যের বুরসা অঞ্চল। কবি সেখানকার বাদশাহ আবু ইয়াজিদ ইবনে উসমানের নিকট ৯৮ হিজরি থেকে শুরু করে ১০৫ হিজরিতে নিহত হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন। কিছু পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, আর বিষয়টি সহজবোধ্য।

[আল-জানাব] জবর দিয়ে গঠিত, এর অর্থ হলো আঙিনা বা কোনো জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলের নিকটবর্তী স্থান। [আল-তাহিইয়্যাহ]: সালাম বা অভিবাদন। বলা হয়ে থাকে: 'হায়্যাকাল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে শান্তিতে রাখুন। এটি 'হায়াত' (জীবন) শব্দ থেকে গঠিত একটি শব্দরূপ, যা সমজাতীয় বর্ণ একত্রে আসার কারণে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে।

‌‌হাদিস শিক্ষার্থীর আদবসমূহ

 

(10 - (মূল) সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাদ্দিস (محدث) হতে চায় … তার উচিত হাদিস বর্ণনা করার পূর্বেই ইলম অর্জন করা।)

 

(11 - শ্রবণের (السماع) সাথে বর্ণনা হস্তান্তরের পদ্ধতি … এবং এর মতনের (المتن) সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকারভেদসমূহ (أنواع))

 

(ব্যাখ্যা) অর্থাৎ, তার উচিত এই ভূমিকা পাঠের মাধ্যমে অথবা এই শাস্ত্রের অন্য কোনো ভূমিকার মাধ্যমে, যা এই বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুধাবন করবে, হাদিস গ্রহণ (الأخذ) ও ধারণ করার (التحمل) পদ্ধতি এবং শ্রবণ (السماع) করার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।

এবং হাদিসের অন্যান্য সকল প্রকার (أنواع), যা ইবনুস সালাহর মতে পঁয়ষট্টি প্রকার (نوع)। আর আমাদের শাইখের গ্রন্থ 'নুখবা', যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এতে একশ’রও বেশি প্রকার (نوع) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এখানে [মান] হলো অব্যয় এবং [মাতনিহি] শব্দের সর্বনামটি হাদিসের দিকে নির্দেশ করছে। আর মতন (المتن) হলো সেই প্রান্তসীমা যেখানে গিয়ে সনদ (الإسناد) শেষ হয়।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٠)
و [الْأَنْوَاع] جمع نوع، وَالْمرَاد هُنَا: الْقسم، وَكَذَا الصِّنْف إِذْ مَعْنَاهُمَا مُتَقَارب وَأكْثر الْمُحدثين وَكَذَا المُصَنّف لَا يُرَاعى اصْطِلَاح من فرق بَينهمَا، وَمَا وَقع فى بعض النّسخ من حذف الْيَاء من يرد على أَن من شَرْطِيَّة يخْتل بهَا الْوَزْن إِلَّا بِإِثْبَات اللَّام، أَو الْمُوَحدَة أَو أَن.

 

(12 - (ص) فأولا بعد خلوص نِيَّته … أهم مَا إِلَيْهِ صدق لهجته)

 

(ش) لما كَانَ الْإِخْلَاص أصل كل عمل لقَوْله تَعَالَى: {وَمَا أمروا إِلَّا ليعبدوا الله مُخلصين لَهُ الدّين} ، وَلقَوْله [صلى الله عليه وسلم] : " إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ ".

فينبغى أَن يكون أول مَا يبْدَأ بِهِ من يُرِيد الِاشْتِغَال بِالْحَدِيثِ النبوى قبل الشُّرُوع فى شَيْء مِنْهُ تَصْحِيح النِّيَّة فى طلبه لله تَعَالَى خَالِصا، والحذر من قصد التَّوَصُّل بِهِ إِلَى غَرَض من
এবং [আল-আনোয়া (الأنواع)] শব্দটি 'নাউ' (نوع) এর বহুবচন, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: প্রকার (القسم), অনুরূপভাবে শ্রেণি (الصنف); যেহেতু এই দুটির অর্থ পরস্পর নিকটবর্তী। অধিকাংশ হাদিস বিশারদ এবং তদ্রূপ গ্রন্থকারও সেই সকল ব্যক্তিদের পরিভাষা (اصطلاح) অনুসরণ করেন না যারা এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। কিছু পাণ্ডুলিপিতে (النسخ) 'ইয়ারিদ' (يرد) থেকে 'ইয়া' বিলুপ্ত হওয়া—এই শব্দটিকে শর্তবোধক (شرطية) হিসেবে গণ্য করার কারণে—কবিতার ছন্দের ভারসাম্য নষ্ট করে, যদি না 'লাম' অথবা 'মুওয়াহহাদাহ' (الموحدة) (এক নুকতাওয়ালা বর্ণ) অথবা 'আন' দ্বারা তা সাব্যস্ত করা হয়।

 

(১২ - (মূল) সুতরাং প্রথমত তার নিয়ত খাঁটি করার পর … তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার কথার সত্যতা)

 

(ব্যাখ্যা) যেহেতু ইখলাস বা একনিষ্ঠতা সকল আমলের মূল; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ (مخلصين) হয়ে", এবং রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।"

সুতরাং যে ব্যক্তি নববী হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করতে চায়, তার জন্য উচিত হলো এতে প্রবৃত্ত হওয়ার আগে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা এবং এর মাধ্যমে কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিলের আকাঙ্ক্ষা থেকে সতর্ক থাকা।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧١)
الْأَغْرَاض (الدنيونية) ويبتهل إِلَى الله تَعَالَى فى التَّوْفِيق والتيسير فقد روينَا عَن حَمَّاد بن سَلمَة أَنه قَالَ: " من طلب الحَدِيث لغير الله مكر بِهِ "، وَسَأَلَ أَبُو عَمْرو أبن نجيد أَبَا عَمْرو بن حمدَان - وكأنا من الصَّالِحين - بأى نِيَّة أكتب الحَدِيث؟ فَقَالَ ألستم تروون أَن عِنْد ذكر الصَّالِحين تتنزل الرَّحْمَة؟ قَالَ: نعم قَالَ: فَرَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] رَأس الصَّالِحين.

ثمَّ يَأْخُذ نَفسه بالآداب السّنيَّة، والأخلاق المرضية وأهم مَا يضمه إِلَى الْإِخْلَاص مِنْهَا [صدق اللهجة] لِأَن مبْنى هَذَا الْفَنّ عَلَيْهِ إِذْ هُوَ مُتَعَلق بالأخبار [واللهجة] بفتحتان وبتسكين الْهَاء أَيْضا: اللِّسَان. و [أَولا] مَنْصُوب على الظَّرْفِيَّة.

 

(13 - (ص) ثمَّ يُبَادر السماع العالى … مقدم الأولى من العوالى)

 

(ش) أَي [ثمَّ] بعد الْإِخْلَاص والصدق يُبَادر بِسَمَاع مَا عِنْد أرجح شُيُوخ بَلَده إِسْنَادًا، وعلما ودينا وشهرة، وَيقدم الْأَعْلَى فالأعلى من الحَدِيث، فالعلو سنة بَالِغَة.

قَالَ الإِمَام احْمَد: " طلب الْإِسْنَاد العالى سنة عَمَّن سلف " [/ 20] ، وَعَن ابْن معِين، وَقد قيل لَهُ فى مرض مَوته: مَا تشْتَهى؟ قَالَ: " بَيت خَال وَسَنَد عَال "، وَإِنَّمَا كَانَ الْعُلُوّ مرغوبا فِيهِ أقرب إِلَى الصِّحَّة وَقلة الْخَطَأ، لِأَنَّهُ مَا من راو من رجال الْإِسْنَاد إِلَّا وَالْخَطَأ جَائِز عَلَيْهِ، فَكلما كثرت الوسائط وَطَالَ السَّنَد كثرت مظان التجويز، وَكلما قلت قلت، فَإِن كَانَ فى النُّزُول مزية يست فى الْعُلُوّ كَأَن يكون رِجَاله أوثق
পার্থিব উদ্দেশ্যসমূহ থেকে (মুক্ত হয়ে) এবং আল্লাহ তাআলার নিকট তাওফিক ও সহজসাধ্যকরণের জন্য আকুল প্রার্থনা করবে। কেননা আমরা হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হাদিস অন্বেষণ করল, তার সাথে প্রতারণা করা হলো।" আবু আমর ইবনে নুজাইদ আবু আমর ইবনে হামদানকে—যাঁরা উভয়েই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—জিজ্ঞাসা করলেন: "আমি কোন নিয়তে হাদিস লিখব?" তিনি বললেন: "তোমরা কি বর্ণনা করো না যে, নেককারদের স্মরণের সময় রহমত নাজিল হয়?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: "তবে রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হলেন নেককারদের শিরোমণি।"

অতঃপর সে নিজেকে সুমহান আদব এবং পছন্দনীয় আখলাকের সাথে গড়ে তুলবে। ইখলাসের (إخلاص) সাথে সে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে যুক্ত করবে তা হলো কথার সত্যবাদিতা। কারণ এই শাস্ত্রের ভিত্তি এরই ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেহেতু এটি সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'আল-লাহজাহ' (اللهجة) শব্দটি হা (هـ) বর্ণের ফাতহাহ এবং সুকুন উভয় যোগেই পড়া যায়, যার অর্থ: জিহ্বা। আর 'আউয়ালান' (أولا) শব্দটি এখানে জরাফ বা সময়বাচক ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে মানসুব (منصوب) হয়েছে।

 

(১৩ - (মূল পাঠ) অতঃপর সে উচ্চ পর্যায়ের শ্রবণ (السماع العالي) বা শ্রবণের জন্য দ্রুত অগ্রসর হবে... উচ্চ পর্যায়ের সনদগুলোর (العوالي) মধ্যে অগ্রগণ্য বিষয়সমূহকে অগ্রাধিকার দিবে।)

 

(ব্যাখ্যা) অর্থাৎ, ইখলাস (إخلاص) ও সত্যবাদিতার পর সে নিজ শহরের শাইখদের মধ্যে সনদ (إسناد), ইলম, দ্বীনদারি ও প্রসিদ্ধির দিক থেকে যিনি সবচেয়ে অগ্রগণ্য, তাঁর থেকে হাদিস শোনার ব্যাপারে দ্রুততা অবলম্বন করবে। হাদিসের ক্ষেত্রে সে উচ্চতর থেকে উচ্চতর স্তরকে অগ্রাধিকার দেবে। কারণ উচ্চ সনদ (العلو) অন্বেষণ করা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নত।

ইমাম আহমাদ বলেছেন: "পূর্বসূরিদের থেকে উচ্চতর সনদ (الإسناد العالي) অন্বেষণ করা একটি সুন্নত।" ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বললেন: "একটি নির্জন ঘর এবং উচ্চতর সনদ (سند عال)।" উচ্চতর সনদকে (العلو) মূলত এই কারণেই পছন্দ করা হতো যে, এটি সঠিকতার (الصحة) নিকটবর্তী এবং ভুলের সম্ভাবনা কম। কারণ সনদের বর্ণনাকারীদের (رجال الإسناد) মধ্যে এমন কেউ নেই যার দ্বারা ভুল হওয়া অসম্ভব। ফলে মাধ্যম যত বৃদ্ধি পাবে এবং সনদ (السند) যত দীর্ঘ হবে, ভুলের সম্ভাবনাও তত বৃদ্ধি পাবে। আর মাধ্যম যত কমবে, ভুলের সম্ভাবনাও তত কমবে। তবে যদি নিম্নতর সনদে (النزول) এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে যা উচ্চতর সনদে (العلو) নেই, যেমন বর্ণনাকারীদের অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) হওয়া...
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٢)
[مِنْهُ] أَو أحفظ، أَو أفقه، أَو الِاتِّصَال فِيهِ أظهر، فَلَا تردد فى أَن النُّزُول حِينَئِذٍ أولى، وَأما من رجح النُّزُول مُطلقًا وَاحْتج بِأَن كَثْرَة الْبَحْث تقتضى الْمَشَقَّة فيعظم الْأجر فَذَلِك تَرْجِيح بِأَمْر أجنبى عَمَّا يتَعَلَّق بالتصحيح والتضعيف.

‌‌أَنْوَاع الْعُلُوّ

 

(14 - (ص) وَهُوَ خَمْسَة فالأعلى الأول … قرب الرَّسُول إِذْ هُوَ الْمعول)

 

(15 - ثمت قرب من إِمَام ذوى عمل … ثمت قرب بوفاق أَو بدل)

 

(16 - أَو التساوى أَو مصافحة من … ألف كالشيخين أَو ذوى السّنَن)

 

(17 - فبدل عَن شيخ فَشَيْخ وافقة … لكنه عَن شَيْخه مُوَافقَة)

 

(ش) لما فرغ من حضه على سَماع الْأَعْلَى فالأعلى أَشَارَ إِلَى أَنْوَاع الْعُلُوّ الْمَطْلُوب عِنْد أهل الحَدِيث، وَأَنَّهَا خَمْسَة: [الأول] وَهُوَ الأولى الْمعول عَلَيْهِ الْعُلُوّ الْمُطلق، وَهُوَ الْقرب من رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بِعَدَد قَلِيل بِالنِّسْبَةِ إِلَى سَنَد آخر يرد بِهِ ذَلِك الحَدِيث بِعَيْنِه بِعَدَد كثير أَو بِالنِّسْبَةِ لمُطلق الْأَسَانِيد فَإِن اتّفق أَن يكون سَنَده صَحِيحا [/ 21] كَانَ الْغَايَة القصوى، وَإِلَّا فصورة الْعُلُوّ فِيهِ مَوْجُودَة مَا لم يكن مَوْضُوعا فَهُوَ كَالْعدمِ، وَلذَلِك قَالَ الذَّهَبِيّ فى " مِيزَانه ": " مَتى رَأَيْت الْمُحدث يفرح بعوالى هدبة، ويعلى بن الأشبق، ومُوسَى الطَّوِيل، وَابْن أبي الدُّنْيَا، وَهَذَا الضَّرْب، فَاعْلَم أَنه عامى بعد " انْتهى.

وَقد وَقع لي بِحَمْد الله أَحَادِيث عشاريات شاركت فِيهَا شُيُوخنَا بل شيوخهم.

[الثَّانِي] [الْقرب من إِمَام] من أَئِمَّة الحَدِيث ذِي صفة علية كالحفظ، والفقة، والضبط
[তার চেয়ে] অথবা অধিক স্মৃতিধর (أحفظ), অথবা অধিক ফকীহ (أفقه), অথবা যার সূত্র পরম্পরা (الاتصال) অধিক স্পষ্ট, তবে সেক্ষেত্রে নিম্নমুখী ধারা (النزول) অগ্রাধিকারযোগ্য হওয়ার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। আর যারা সাধারণভাবে নিম্নমুখী ধারাকে (النزول) প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এই যুক্তি দিয়েছেন যে, অধিক অনুসন্ধানে অধিক পরিশ্রম হয় বিধায় সওয়াব বৃদ্ধি পায়, তবে তা সহিহকরণ (التصحيح) এবং দুর্বলকরণ (التضعيف) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন একটি ভিন্ন বিষয়।

‌‌উচ্চধারার প্রকারভেদ (أنواع العلو)

 

(১৪ - (মূল পাঠ) এটি পাঁচ প্রকার, যার মধ্যে প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ হলো... রাসূলুল্লাহর নৈকট্য, কেননা এটিই মূল ভিত্তি)

 

(১৫ - অতঃপর কর্মঠ ইমামের নৈকট্য... অতঃপর মুওয়াফাকাহ (وفاق) বা বাদাল (بدل) এর মাধ্যমে নৈকট্য)

 

(১৬ - অথবা সমতা (التساوى) বা মুসাফাহাহ (مصافحة) এর মাধ্যমে নৈকট্য... যা দুই ইমাম অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম অথবা সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকদের স্তরের ন্যায় উচ্চ পর্যায়ের)

 

(১৭ - আর বাদাল (بدل) হলো শাইখের শাইখের মাধ্যমে উচ্চ সূত্রে পৌঁছানো... কিন্তু শাইখের মাধ্যমে সমতা হলে তাকে মুওয়াফাকাহ (موافقة) বলা হয়)

 

(ব্যাখ্যা) যখন তিনি সর্বোচ্চ সূত্রের উচ্চধারা (الأعلى) শ্রবণের প্রতি উৎসাহিত করা শেষ করলেন, তখন তিনি হাদিস বিশারদদের নিকট কাম্য উচ্চধারার (العلو) প্রকারভেদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, আর তা হলো পাঁচটি: [প্রথম] যা সর্বোত্তম এবং যার ওপর নির্ভর করা হয়, তা হলো নিরঙ্কুশ উচ্চধারা (العلو المطلق); যা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সূত্রের তুলনায় অল্প সংখ্যক রাবির মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পর্যন্ত পৌঁছানো, যেখানে ওই একই হাদিস অন্য কোনো সূত্রে অধিক রাবির মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে অথবা তা সাধারণভাবে অন্য সব সনদের তুলনায় কম রাবি বিশিষ্ট। যদি সেই সনদটি সহিহ (صحيح) হয়, তবে তা চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায়, উচ্চধারার (العلو) বাহ্যিক রূপ তাতে বিদ্যমান থাকবে যতক্ষণ না সেটি জাল (موضوع) হয়; কেননা জাল (موضوع) হলে তা অস্তিত্বহীনের মতো গণ্য হবে। একারণেই ইমাম যাহাবী তাঁর মিজান গ্রন্থে বলেছেন: "যখন তুমি দেখবে কোনো মুহাদ্দিস হুদবাহ, ইয়ালা বিন আশবাক, মুসা আত-তুবিল, ইবনে আবিদ দুনইয়া এবং এই শ্রেণির রাবিদের থেকে বর্ণিত উচ্চ সূত্রের (عوالي) কারণে আনন্দিত হচ্ছে, তবে জেনে রেখো যে সে এখনো সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন (عامي) স্তরে রয়েছে।" সমাপ্ত।

আল্লাহর অশেষ রহমতে, আমার নিকট এমন কিছু দশ রাবি বিশিষ্ট হাদিস পৌঁছেছে যাতে আমি আমার উস্তাদদের, এমনকি তাঁদের উস্তাদদের স্তরেও শরিক হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি।

[দ্বিতীয়] [ইমামের নৈকট্য]: হাদিসের এমন কোনো ইমামের নৈকট্য লাভ করা যার সুউচ্চ গুণাবলি রয়েছে, যেমন—মুখস্থশক্তি (الحفظ), ফিকহ (الفقه) এবং নির্ভুলতা (الضبط)।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٣)
، والتصنيف، وَغَيرهَا من الصِّفَات الْمُقْتَضِيَة للترجيح كشعبة، وَالْأَعْمَش، وَمَالك، وسُفْيَان، وَالشَّافِعِيّ، وَنَحْوهم، وَإِن كثر الْعدَد مِنْهُ إِلَى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] وأعلا مَا يَقع بينى وَبَين هَؤُلَاءِ تِسْعَة أنفس.

[الثَّالِث] الْقرب بِالنِّسْبَةِ إِلَى رِوَايَة الشَّيْخَيْنِ أَو أَصْحَاب السّنَن الْأَرْبَعَة بِحَيْثُ يكون الراوى لَو رَوَاهُ من طَرِيق أحد الْمَذْكُورين يَقع منزلا مِمَّا لَو رَوَاهُ من غير طريقهم، وَقد اعتنى الْحفاظ بالمستخرجات قصدا للعلو، واشتدت عناية الطّلبَة وَنَحْوهم من الْمُتَأَخِّرين بِهَذَا النَّوْع، حَتَّى غلب على كثير مِنْهُم بِحَيْثُ أهملوا الِاشْتِغَال بِمَا هُوَ أهم مِنْهُ لما يَقع لَهُم فى ذَلِك من الْمُوَافقَة، وَالْبدل، والمساواة، والمصافحة فَإِن الراوى إِذا اتّفق هُوَ وَالْوَاحد من الْمَذْكُورين فى شَيْخه فَهُوَ موافقه مِثَال: روى البخارى عَن قُتَيْبَة عَن مَالك، حَدثنَا. . فَلَو روينَاهُ من طَرِيق البخارى كَانَ بَيْننَا وَبَين قُتَيْبَة تِسْعَة وَلَو روينَا [/ 22] ذَلِك الحَدِيث بِعَيْنِه من طَرِيق أبي الْعَبَّاس السراج عَن قُتَيْبَة [مثلا] لَكَانَ بَيْننَا وَبَين قُتَيْبَة فِيهِ [ثَمَانِيَة] فقد حصلت لنا الْمُوَافقَة مَعَ البخارى فى شَيْخه بِعَيْنِه مَعَ علو الْإِسْنَاد على الْإِسْنَاد إِلَيْهِ، وَإِن اتّفق الراوى هُوَ وَالْوَاحد مِنْهُم فى شيخ شَيْخه فَهُوَ الْبَدَل كَمَا إِذا روى البخارى مثلا حَدِيثا عَن قُتَيْبَة عَن مَالك فَيَقَع لنا من حَدِيث القعنبى عَن مَالك، وَقد يُسمى الْبَدَل: مُوَافقَة بِالنِّسْبَةِ إِلَى شيخ شيخ ذَلِك المُصَنّف، وَهَذَا مُرَاد النَّاظِم بقوله [فبدل] أَي فالبدل: هُوَ مَا يَقع تَخْرِيجه لوَاحِد مِمَّن [ألف] من جُزْء شيخ شيخ لَهُ وَافقه الراوى على تَخْرِيجه من جِهَة الشَّيْخ الْأَعْلَى لَا بِوَاسِطَة ذَلِك الشَّيْخ الْأَدْنَى بل بِوَاسِطَة غَيره وتخريجه عَن شَيْخه أى شيخ شيخ من ألف مُوَافقَة، وَاعْلَم أَن أَكثر مَا يعتبرون الْمُوَافقَة وَالْبدل إِذا قاربا الْعُلُوّ وَإِلَّا فاسم الْمُوَافقَة وَالْبدل وَاقع بِدُونِهِ وَإِن كَانَ بَين الراوى والصحابى كَمَا بَين الْوَاحِد مِنْهُم
...এবং গ্রন্থ সংকলন ও অন্যান্য গুণাবলি যা প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার দাবি রাখে, যেমন শু'বাহ, আমাশ, মালিক, সুফিয়ান, শাফেয়ী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বর্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক হয়। আমার এবং তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ নয়জন ব্যক্তির ব্যবধান রয়েছে।

[তৃতীয়] শাইখাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) অথবা সুনান চতুষ্টয়ের রচয়িতাদের বর্ণনার তুলনায় নৈকট্য লাভ করা; বিষয়টি এমন যে, বর্ণনাকারী যদি উল্লিখিত ব্যক্তিদের কোনো একজনের সূত্র ধরে বর্ণনা করেন, তবে তা অন্য কোনো সূত্রে বর্ণনা করার চেয়ে নিম্নমানের (নাজিল) হবে। হাফেজগণ উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সনদ (علو) অর্জনের উদ্দেশ্যে মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। পরবর্তী যুগের ছাত্র ও জ্ঞানান্বেষীদের এই বিষয়ের প্রতি আগ্রহ এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তাদের অনেকে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর চর্চা বাদ দিয়ে এর পেছনেই মগ্ন থাকতেন। কারণ এর মাধ্যমে তারা সংগতি (موافقة), বিকল্প (بدل), সমতা (مساواة) এবং করমর্দন (مصافحة) লাভ করতেন। যখন কোনো বর্ণনাকারী এবং উল্লিখিত গ্রন্থকারদের কোনো একজন তাঁদের শাইখের (শিক্ষক) ক্ষেত্রে একীভূত হন, তখন সেটি সংগতি (موافقة)। উদাহরণস্বরূপ: ইমাম বুখারি কুতাইবা থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন—এমন কোনো হাদিস যদি আমরা ইমাম বুখারি-র সূত্রে বর্ণনা করি, তবে আমাদের ও কুতাইবার মাঝে নয়জন থাকবে। আর যদি আমরা সেই একই হাদিস (উদাহরণস্বরূপ) আবু আব্বাস আস-সাররাজ-এর সূত্রে কুতাইবা থেকে বর্ণনা করি, তবে আমাদের ও কুতাইবার মাঝে আটজন থাকবে। ফলে শাইখের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি-র সাথে আমাদের সংগতি (موافقة) অর্জিত হলো এবং তাঁর সনদের তুলনায় আমাদের সনদে উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সনদ (علو) حاصل হলো। আর যদি বর্ণনাকারী এবং তাঁদের কেউ শাইখের শাইখের (শিক্ষকের শিক্ষক) ক্ষেত্রে একীভূত হন, তবে তা বিকল্প (بدل)। যেমন ইমাম বুখারি কোনো হাদিস কুতাইবা থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করলেন; আর আমরা সেটি কানাবি-র সূত্রে মালিক থেকে পেলাম। কখনও কখনও শাইখের শাইখের ক্ষেত্রে সংগতিকে বিকল্প (بدل) হিসেবেও অভিহিত করা হয়। মূল গ্রন্থকারের এই উক্তির উদ্দেশ্যও এটিই যে—'অতঃপর বিকল্প (بدل)'; অর্থাৎ বিকল্প (بدل) হলো: কোনো গ্রন্থকারের সংকলিত হাদিস তাঁর শাইখের শাইখের কোনো অংশ থেকে বর্ণনা করা, যেখানে বর্ণনাকারী উচ্চতর শিক্ষক (الشيخ الأعلى)-এর মাধ্যমে মূল গ্রন্থকারের সাথে একমত হন, নিম্নতর শিক্ষক (الشيخ الأدنى)-এর মাধ্যমে নয় বরং অন্য কারো মাধ্যমে। আর তাঁর শাইখ অর্থাৎ গ্রন্থকারের শাইখের শাইখ থেকে বর্ণনা করা সংগতি (موافقة) হিসেবে গণ্য। জেনে রাখুন যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংগতি (موافقة) এবং বিকল্প (بدل) তখনই বিবেচনায় নেওয়া হয় যখন তা উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সনদের (علو) কাছাকাছি হয়; অন্যথায় উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সনদ (علو) ছাড়াও সংগতি (موافقة) ও বিকল্প (بدل)-এর অস্তিত্ব পাওয়া সম্ভব, এমনকি যদি বর্ণনাকারী ও সাহাবির মাঝে ব্যবধান তাঁদের মধ্যকার ব্যবধানের মতোই হয়।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٤)
وَبَين النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فِيهِ أحد عشر نفسا فَيَقَع [لنا] وَذَلِكَ الحَدِيث بِعَيْنِه بِإِسْنَاد آخر إِلَى النبى [صلى الله عليه وسلم] يَقع بَيْننَا [فِيهِ] وَبَين النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فِيهِ: أحد عشر نفسا فيساوى النسائى من حَيْثُ الْعدَد مَعَ قطع النّظر عَن مُلَاحظَة ذَلِك الْإِسْنَاد الْخَاص، وَلَكِن الْمُسَاوَاة مَعْدُومَة فى هَذِه الْأَزْمَان وَمَا قاربها بِالنِّسْبَةِ لأَصْحَاب الْكتب السِّتَّة وَمن فى طبقتهم، نعم يَقع لنا ذَلِك فِيمَن بعدهمْ كالبيهقي، والبغوى، فى " شرح السّنة " (24) ، وَنَحْوهمَا، وَإِن كَانَ بَين شيخ الراوى وَبَين الصحابى كَمَا بَين الْوَاحِد وَبَينه أى الْوَاحِد مِمَّن ألف كالشيخين أَو ذوى السّنَن، فَيكون الراوى كَأَنَّهُ صافحه تسمى: المصافحة، وَإِنَّمَا سميت بذلك لِأَن الْعَادة جرت فى الْغَالِب بَين من تلاقيا، وَنحن فى هَذِه الصُّورَة كأنا لاقينا النسائى فكأنا صافحناه، وهى مَعْدُومَة أَيْضا الْآن كالمساواة، وَهَذَا الْعُلُوّ تابعها لنزول فلولا نزُول النسائى لم يحصل لنا الْعُلُوّ.

وَقَوله: [ثمت] هِيَ لُغَة فى ثمَّ.

[بوفاق] أى مَعَ وفَاق، ثمَّ فى إِتْيَانه بكاف التَّشْبِيه إِشْعَار بِعَدَمِ امْتنَاع اسْتِعْمَاله فى غَيرهم كَمَا وَقع لبَعض الْأَئِمَّة فى مُسْند أَحْمد وَهُوَ مِمَّا لَا حرج فِيهِ وَلَكِن الْغَالِب فى اسْتِعْمَال المخرجين الِاقْتِصَار على " السته ".

وَقَوله: عَن [شَيْخه] وَقع فى بعض النّسخ عَن شيخهم بِالْجمعِ وَهُوَ قريب
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এবং আমাদের মাঝে সেখানে এগারোজন ব্যক্তি রয়েছেন। সেই একই হাদিস অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পর্যন্ত আমাদের নিকট পৌঁছেছে যেখানে আমাদের এবং নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মাঝে এগারোজন ব্যক্তি রয়েছেন। ফলে সেই বিশেষ সূত্রের প্রতি লক্ষ্য না করে কেবল সংখ্যার দিক থেকে তা ইমাম নাসায়ীর সমপর্যায়ের (مساواة) হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে এবং এর নিকটবর্তী সময়ে কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের (طبقة) ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে এই সমতা (مساواة) পাওয়া অসম্ভব। হ্যাঁ, তাঁদের পরবর্তী যারা রয়েছেন যেমন আল-বায়হাকী, আল-বাগাওয়ী (তাঁর কিতাব 'শারহুস সুন্নাহ'-তে) এবং তাঁদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য তা ঘটে থাকে। আর যদি বর্ণনাকারীর শায়খ এবং সাহাবীর (صحابي) মধ্যবর্তী সংখ্যা ততটুকুই হয় যতটুকু কোনো একজন গ্রন্থ সংকলক—যেমন শায়খাইন অথবা সুনান গ্রন্থসমূহের রচয়িতাগণ—এবং সেই সাহাবীর (صحابي) মাঝে রয়েছে, তবে বর্ণনাকারী যেন তাঁর সাথে মুসাফাহা করলেন; একে মুসাফাহা (مصافحة) বলা হয়। সাধারণত দু’জন ব্যক্তির সাক্ষাতের সময় যা ঘটে থাকে, সেই অভ্যাসের আলোকেই এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। আর এই অবস্থায় আমরা যেন ইমাম নাসায়ীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা করেছি। সমতা (مساواة)-র মতো এটিও বর্তমানে অনুপস্থিত। আর এই উচ্চস্তরের সনদ (علو) মূলত নিম্নস্তরের (نزول) অনুসারী; কারণ ইমাম নাসায়ীর সনদ যদি নিম্নস্তরের (نزول) না হতো, তবে আমরা এই উচ্চস্তরের সনদ (علو) লাভ করতাম না।

তাঁর বক্তব্য: [সুম্মাত] শব্দটি ‘সুম্মা’ এরই একটি ভাষাগত রূপ।

[বি-ওয়াফাক] অর্থাৎ সংগতি বা মিল থাকা। এরপর তাঁর 'কাফ' (তুলনাবোধক অক্ষর) ব্যবহার করা এই ইঙ্গিত দেয় যে, তাঁরা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, যেমনটি কোনো কোনো ইমাম মুসনাদে আহমাদ-এর ক্ষেত্রে করেছেন এবং এতে কোনো দোষ নেই। তবে হাদিস সংকলকদের পরিভাষায় সাধারণত ‘ছয়টি কিতাব’-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়।

তাঁর বক্তব্য: [তাঁর শায়খ থেকে]; কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে বহুবচন হিসেবে [তাঁদের শায়খ থেকে] এসেছে, যা অর্থগতভাবে কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٥)
(18 - (ص) ثمَّ تقدم الْوَفَاة ثما … قدم تأريخ السماع تما)

 

(ش) أى: [ثمَّ] بعد الْأَقْسَام الثَّلَاثَة [الْقسم الرَّابِع] من أَقسَام الْعُلُوّ، وَهُوَ الْعُلُوّ يتَقَدَّم الْوَفَاة أى وَفَاة الراوى سَوَاء كَانَ سَمَاعه مَعَ الْمُتَأَخر فِي الْوَفَاة فى آن وَاحِد أَو قبله بِحَيْثُ تتداخل مَعَ الْخَامِس [المُرَاد بالقسم الْخَامِس قسم تَقْدِيم السماع] وَكَذَا إِن كَانَ بعده فِيمَا يظْهر من إِطْلَاقهم لكَون الْمُتَقَدّم الْوَفَاة نقل الرِّوَايَة عَنهُ فيرغب فى تَحْصِيل مرويه مِثَاله: روايتنا عَن البخارى عَن أَصْحَاب الْبَهَاء أَبى الْبَقَاء مُحَمَّد بن عبد الْبر البسكي أعلا من روايتنا عَن عَائِشَة ابْنة مُحَمَّد بن عبد الهادى وَإِن اشْترك كل مِنْهُمَا فى الرِّوَايَة عَن الحجار لتقدم وَفَاة الْبَهَاء بن عبد الْبر البسكي، فَإِنَّهُ مَاتَ فى ربيع الآخر سنة سبع وَسبعين وَسَبْعمائة [24] ، وتأخرت وَفَاة عَائِشَة حَتَّى مَاتَت فى سنة سِتّ عشرَة وثمانى مائَة فبينهما نَحْو أَرْبَعِينَ سنة، ومثاله فى الْمُتَقَدِّمين: أَن مَا نرويه عَن خَمْسَة عَن الْبَيْهَقِيّ عَن الْحَاكِم أَعلَى من مَا نرويه عَن خَمْسَة عَن ابْن خلف عَن الْحَاكِم لتقدم وَفَاة الْبَيْهَقِيّ على ابْن خلف وَهَذَا بِنِسْبَة شيخ إِلَى شيخ وَأما الْعُلُوّ بتقدم وَفَاة شيخك فحده الْحَافِظ ابْن جوصا: بمضى خمسين سنة من وَفَاة الشَّيْخ، وَحده ابْن (مَنْدَه) بِثَلَاثِينَ سنة، وَقَالَ العراقى: إِن ظَاهر كَلَام ابْن مَنْدَه أَنه أَرَادَ إِذا مضى على إِسْنَاد كتاب أَو حَدِيث ثَلَاثُونَ سنة وَهُوَ فى تِلْكَ الْمدَّة لَا يَقع عَلَيْهِ أَعلَى من ذَلِك.

[وَالْخَامِس] الْعُلُوّ بتقدم السماع سَوَاء تقدّمت الْوَفَاة أم لَا، فَمن تقدم سَمَاعه من شيخ كَانَ أَعلَى مِمَّن سمع من ذَلِك الشَّيْخ نَفسه بعده قَالَ ابْن الصّلاح: وَكثير مِنْهُ يدْخل فى النَّوْع قبله وَمِنْه مَا لَا يدْخل بِأَن يسمع شخصان من شيخ، وَسَمَاع أَحدهمَا من سِتِّينَ سنة مثلا، وَالْآخر أَرْبَعِينَ (ويتساوى الْعدَد إِلَيْهِمَا فَالْأول أَعلَى) . انْتهى.

وفى عدم دُخُول هَذِه الصُّورَة نظر إِلَّا أَن توجه بِمَا إِذا تَأَخَّرت وَفَاة الْمُتَقَدّم السماع بعد
(১৮ - (মূল) তারপর মৃত্যুর অগ্রগামিতা (تقدم الوفاة), এরপর … শ্রবণের তারিখের অগ্রগামিতা (تقدم السماع))

 

(ব্যাখ্যা) অর্থাৎ: [তারপর] তিনটি প্রকারের পর উচ্চমর্যাদা (علو)-এর প্রকারসমূহের মধ্যে [চতুর্থ প্রকার] হলো মৃত্যুর অগ্রগামিতার (تقدم الوفاة) মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা (علو) অর্জন। অর্থাৎ বর্ণনাকারী (راوي)-এর মৃত্যু আগে হওয়া; চাই তার শ্রবণ (سماع) পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণকারীর সাথে একই সময়ে হোক অথবা তার পূর্বে হোক, যাতে এটি পঞ্চম প্রকারের সাথে মিলে যায় [পঞ্চম প্রকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শ্রবণের অগ্রগামিতার (تقديم السماع) প্রকার]। একইভাবে এটি যদি তার পরেও হয়, তবে তাদের পরিভাষা ব্যবহারের সাধারণ ধরণ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়। যেহেতু যার মৃত্যু আগে হয়েছে তার থেকে বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হয়, তাই তার বর্ণিত হাদিস অর্জনে অধিক আগ্রহী হওয়া যায়। এর উদাহরণ: আল-বুখারি থেকে বাহাউদ্দিন আবু আল-বাকা মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আল-বাসকি-এর সূত্রের আমাদের বর্ণনা (رواية) আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী-এর সূত্রের বর্ণনার চেয়ে উচ্চতর (أعلى), যদিও তারা উভয়েই আল-হাজ্জার থেকে বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে অংশীদার। এর কারণ হলো বাহাউদ্দিন বিন আব্দুল বার আল-বাসকি-এর মৃত্যুর অগ্রগামিতা (تقدم الوفاة); কারণ তিনি ৭৭৭ হিজরির রবিউস সানি মাসে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে আয়েশার মৃত্যু বিলম্বিত হয় এবং তিনি ৮১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, ফলে তাদের উভয়ের মাঝে প্রায় চল্লিশ বছরের ব্যবধান রয়েছে। পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: আল-হাকিম থেকে আল-বায়হাকি-এর মাধ্যমে পাঁচজন বর্ণনাকারীর সূত্রে আমরা যা বর্ণনা করি, তা ইবনে খালাফ-এর মাধ্যমে আল-হাকিম থেকে আসা পাঁচজন বর্ণনাকারীর সূত্রের চেয়ে উচ্চতর (أعلى)। কারণ ইবনে খালাফের তুলনায় আল-বায়হাকি-এর মৃত্যু আগে হয়েছিল। এটি একজন শায়খ (شيخ)-এর সাথে অন্য একজন শায়খ (شيخ)-এর তুলনামূলক বিষয়। তবে আপনার শায়খ (شيخ)-এর মৃত্যুর অগ্রগামিতার মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা (علو) অর্জনের সীমা হাফিজ (حافظ) ইবনে জুসা নির্ধারণ করেছেন শায়খ (شيخ)-এর মৃত্যুর পর পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হওয়াকে। ইবনে মানদাহ এর সীমা নির্ধারণ করেছেন ত্রিশ বছর। আল-ইরাকি বলেছেন: ইবনে মানদাহ-এর বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো তিনি বুঝিয়েছেন যখন কোনো কিতাব বা হাদিসের সনদ (إسناد)-এর ওপর ত্রিশ বছর অতিবাহিত হয় এবং ওই সময়ের মধ্যে তার চেয়ে উচ্চতর (أعلى) কোনো সনদ পাওয়া না যায়।

[পঞ্চম প্রকার] হলো শ্রবণের অগ্রগামিতার (تقدم السماع) মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা (علو); চাই মৃত্যু আগে হোক বা না হোক। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো শায়খ (شيخ) থেকে আগে শুনেছেন, তিনি সেই একই শায়খ (شيخ) থেকে পরবর্তীতে শ্রবণকারীর তুলনায় উচ্চতর (أعلى) বলে গণ্য হবেন। ইবনে আল-সালাহ বলেছেন: এর অনেক উদাহরণই পূর্ববর্তী প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা অন্তর্ভুক্ত হয় না। যেমন- দুজন ব্যক্তি একজন শায়খ (شيخ) থেকে শ্রবণ (سماع) করলেন; তাদের একজনের শ্রবণ (سماع) উদাহরণস্বরূপ ষাট বছর আগে এবং অন্যজনের চল্লিশ বছর আগে (এবং উভয়ের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর সংখ্যা সমান, এমতাবস্থায় প্রথমজনের বর্ণনা উচ্চতর (أعلى) হবে)। সমাপ্ত।

এই সুরতটি পূর্ববর্তী প্রকারের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে, তবে একে সেভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যদি শ্রবণের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ব্যক্তির মৃত্যু বিলম্বে হয়...
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٦)
ندوره، وَاعْلَم أَنه قد تنَازع فى تَرْجِيح الْمُتَقَدّم السماع إِذا لم يكن الشَّيْخ اخْتَلَط أَو خرف، بِأَنَّهُ رُبمَا كَانَ حِين تحديثه للمتأخر أتم ضبطا وإتقانا، وَقَوله: [تما] بِالْمُثَنَّاةِ أَي تمّ ذكر أَقسَام الْعُلُوّ وفيهَا وفى ثمَّ قبلهَا إستعمال الجناس الخطى وَالْألف فيهمَا للإطلاق.

 

(19 - (ص) وَهَذِه جَمِيعهَا صورى … وهى عَن المتقن معنوى)

 

(ش) أى و [هَذِه] الْأَقْسَام فى الْعُلُوّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى غير المتقن الضَّابِط علوها صورى أما بِالنِّسْبَةِ إِلَى ذوى الإتقان والضبط فَعَلُوهَا وَلَو كَانَ الْعدَد أَكثر معنوى، فَلَو تَعَارضا: فضل علو الإتقان والضبط كَمَا روى عَن وَكِيع أَنه قَالَ: الْأَعْمَش أحب إِلَيْك، عَن أَبى وَائِل، عَن عبد الله أَو سُفْيَان، عَن مَنْصُور، عَن إِبْرَاهِيم، عَن عَلْقَمَة، عَن عبد الله؟ فَقلت الْأَعْمَش عَن أَبى وَائِل أقرب. فَقَالَ: الْأَعْمَش شيخ وَأَبُو وَائِل شيخ وسُفْيَان عَن مَنْصُور عَن إِبْرَاهِيم، عَن عَلْقَمَة، فَقِيه عَن فَقِيه وَنَحْوه عَن ابْن الْمُنْكَدر أَنه قَالَ: لَيْسَ جودة الحَدِيث قرب الْإِسْنَاد بل جودة الحَدِيث صِحَة الرِّجَال وَمَا أحسن قَول الْحَافِظ السلفى: لَيْسَ حسن الحَدِيث قرب الرِّجَال، عِنْد أَرْبَاب علمه النقاد، بل علو الحَدِيث بَين أولى الْحِفْظ والإتقان صِحَة الْإِسْنَاد، وَإِذا مَا تجمعَا فى حَدِيث فاغتنمه فَذَاك أقْصَى المُرَاد، وَقَول أَبى الْحسن بن الْمفضل الْحَافِظ:

(أَن الرِّوَايَة بالنزول عَن الثِّقَات الأعدلينا … خير من العالى عَن الْجُهَّال والمستضعفينا)
এর দুর্লভতা; জেনে রাখুন যে, যেক্ষেত্রে শায়খ বিভ্রান্তি (اختلاط) বা বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রমে পতিত হননি, সেক্ষেত্রে অগ্রজ শ্রবণকারীর (মুতাগাদ্দিম আল-সামা‘) প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ হতে পারে যে, অনুজকে হাদিস বর্ণনা করার সময় তাঁর নির্ভুলতা (ضبط) ও পারদর্শিতা (إتقان) অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ছিল। এবং তাঁর উক্তি: [তাম্মা] অর্থাৎ উচ্চতা (علو)-র প্রকারভেদসমূহের বর্ণনা পূর্ণ হয়েছে। এখানে এবং এর পূর্ববর্তী শব্দের ক্ষেত্রে 'জিনাস-এ-খাত্তি' বা লৈখিক সমরূপতা ব্যবহৃত হয়েছে এবং শব্দদ্বয়ের শেষে আলিফ যুক্ত হয়েছে ছন্দ মিলানোর জন্য।

 

(১৯ - (মূল পাঠ) আর এই সবগুলো হলো বাহ্যিক (صوري) … এবং পারদর্শী (متقন) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত হলে তা অর্থগত বা প্রকৃত (معنوي))

 

(ব্যাখ্যা) অর্থাৎ উচ্চতা (علو)-র এই প্রকারসমূহ এমন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে যে পারদর্শী (متقن) ও নির্ভুল (ضابط) নয়, তার উচ্চতা বাহ্যিক (صوري)। পক্ষান্তরে পারদর্শিতা ও নির্ভুলতার অধিকারীদের ক্ষেত্রে, বর্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক হলেও তাদের উচ্চতা হবে অর্থগত বা প্রকৃত (معنوي)। সুতরাং যদি উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তবে পারদর্শিতা ও নির্ভুলতাসম্পন্ন উচ্চতাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে; যেমনটি ওয়াকি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: “আপনার নিকট কোনটি অধিক প্রিয়? আমাশ, আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে; নাকি সুফিয়ান, মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে?” আমি বললাম, “আমাশ থেকে আবু ওয়াইলের সনদটি নিকটবর্তী বা সংক্ষিপ্ত।” তখন তিনি বললেন: “আমাশ একজন শায়খ এবং আবু ওয়াইল একজন শায়খ, কিন্তু সুফিয়ান-মানসুর-ইব্রাহিম-আলকামা-র সনদটি হলো একজন ফকিহ অন্য ফকিহ থেকে বর্ণনার ধারাবাহিকতা।” ইবনে আল-মুনকাদির থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “হাদিসের উৎকর্ষ সনদের (إسناد) নৈকট্যের মধ্যে নয়, বরং হাদিসের উৎকর্ষ হলো বর্ণনাকারীদের বিশুদ্ধতা (صحة)-র মধ্যে।” হাফেজ সিলাফি কতই না সুন্দর বলেছেন: “হাদিস বিশারদ সমালোচকদের নিকট হাদিসের সৌন্দর্য বর্ণনাকারীদের নৈকট্য বা সংক্ষিপ্ততার মধ্যে নয়। বরং হেফজ ও পারদর্শিতা (إتقان) সম্পন্ন ইমামদের নিকট হাদিসের উচ্চতা (علو) হলো সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد)। আর যখন কোনো হাদিসে এই উভয় বৈশিষ্ট্য (সংক্ষিপ্ততা ও বিশুদ্ধতা) একত্রিত হয়, তখন তাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করো, কারণ সেটিই হলো সর্বোচ্চ লক্ষ্য।” এবং হাফেজ আবুল হাসান ইবনুল মুফাদ্দাল-এর উক্তি:

(নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও অধিকতর ন্যায়পরায়ণ (أعدل) বর্ণনাকারীদের থেকে দীর্ঘ সনদে (نزুল) বর্ণনা করা … অজ্ঞ ও দুর্বল বিবেচিত (مستضعفين) বর্ণনাকারীদের থেকে সংক্ষিপ্ত বা উচ্চ সনদে (عالي) বর্ণনা করার চেয়ে উত্তম।)
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٧)
(20 - (ص) وَكتب السِّتَّة بَادر واسمعا … قبل الصَّحِيحَيْنِ وَبعد الأربعا)

 

(21 - الترمذى وَأَبا داودا … النسائى وفتى يزيدا)

 

(ش) وبادر لكتب أصُول الْإِسْلَام فاسمعها، وَقدم مِنْهَا سَماع الصَّحِيحَيْنِ وهما صَحِيح البخارى، وصحيح مُسلم لِأَنَّهُمَا أصح الْكتب بعد كتاب الله تَعَالَى، وَقدم أَولهمَا لكَونه على الْمُعْتَمد أرجحهما لتقدم مُصَنفه فى الْفَنّ، وَقدمه واختصاص صَحِيحه بمزيد الصِّفَات، وانتشار (26) علمه وَقيل مُسلم وَقيل: هما سوى، ثمَّ بعدهمَا اسْمَع باقى الْكتب السِّتَّة الْمشَار إِلَيْهَا وهى: " السّنَن " لأبى دَاوُد، و " الْجَامِع " للترمذى، و " السّنَن " للنسائى و " السّنَن " لأبى عبد الله مُحَمَّد بن يزِيد بن مَاجَه الة زوينى، وَقدم النَّاظِم " الترمذى " لضيق النّظم.

و [الصَّحِيحَيْنِ] مفعول.

و [الأربعا] مَعْطُوف عَلَيْهِ وَمَا بعده بِالنّصب بدل مِنْهُ، وَوجد فى بعض النّسخ بِالْجَرِّ وَيُوجه بإضمار كتاب، ثمَّ إِنَّه قد امتاز كل وَاحِد من هَذِه الْكتب بخصوصية، فالبخارى بِقُوَّة استنباطه، وَمُسلم بجمعه للطرق فى مَكَان وَاحِد على كَيْفيَّة حَسَنَة وَأَبُو دَاوُد بِكَثْرَة أَحَادِيث الْأَحْكَام، حَتَّى قيل: إِنَّه يكفى الْفَقِيه، والترمذى بِبَيَان الْمذَاهب وَالْحكم على الْأَحَادِيث وَالْإِشَارَة لما فى الْبَاب من الْأَحَادِيث، والنسائى بِالْإِشَارَةِ للعلل وَحسن إِيرَاده لَهَا، وَأما ابْن مَاجَه فَفِيهِ الضعْف كثيرا، بل، وَفِيه الْمَوْضُوع، وَلذَا توقف بَعضهم فِي الحاقه بهَا، وَقَالَ: لَو جعل بدله " مُسْند الدارمى " كَانَ أولى، فليحرص الطَّالِب على سَمَاعه، وليعلم أَنه على الْأَبْوَاب أَيْضا بِخِلَاف مَا أوهمته التَّسْمِيَة، وَكَذَا يهتم الطَّالِب بِسَمَاع " الْمُوَطَّأ " لمَالِك، و " مُسْند الشَّافِعِي "، وَهُوَ على الْأَبْوَاب أَيْضا التقطه بعض النيسابوريين من الْأُم
(20 - (মূল) ছয়টি কিতাব দ্রুত শ্রবণ করো … দুই সহিহর পূর্বে এবং চারটির পরে)

 

(21 - তিরমিজি ও আবু দাউদ … নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ)

 

(ব্যাখ্যা) ইসলামের মূল কিতাবগুলো শ্রবণের ব্যাপারে সচেষ্ট হও। সেগুলোর মধ্যে দুই সহিহ—অর্থাৎ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম শ্রবণকে অগ্রাধিকার দাও। কারণ মহান আল্লাহর কিতাবের পর এই দুটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ (صحيح) কিতাব। নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী এই দুইটির মধ্যে প্রথমটিকে অগ্রাধিকার দাও; কারণ এর সংকলক এই শিল্পে অধিক পারদর্শী এবং তাঁর সহিহ কিতাবটি অতিরিক্ত বিশেষ গুণাবলীতে ভূষিত ও তাঁর ইলম ব্যাপকভাবে প্রসারিত। কেউ কেউ মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ উভয়টিকে সমান বলেছেন। এরপর এই দুটির পরে উল্লেখিত অবশিষ্ট ছয়টি কিতাব শ্রবণ করো, সেগুলো হলো: আবু দাউদের সুনান, তিরমিজির জামে, নাসায়ির সুনান এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাজউনির সুনান। লেখক ছন্দের প্রয়োজনে "তিরমিজি" নামটি আগে উল্লেখ করেছেন।

এবং [সহিহাইন] শব্দটি এখানে কর্মপদ।

এবং [আরবাআ] শব্দটি এর ওপর সংযুক্ত এবং পরবর্তী অংশটি নসব অবস্থায় বদল হিসেবে এসেছে। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি জর অবস্থায় পাওয়া যায়, যা "কিতাব" শব্দটিকে উহ্য ধরে ব্যাখ্যা করা হয়। অতঃপর এই কিতাবগুলোর প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অনন্য। বুখারি তাঁর মাসআলা উদ্ভাবনের শক্তির কারণে, মুসলিম সুন্দর পদ্ধতিতে এক স্থানে হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ একত্রিত করার কারণে এবং আবু দাউদ বিধান সংক্রান্ত হাদিসের প্রাচুর্যের কারণে বিশিষ্ট—এমনকি বলা হয় যে, এটি একজন ফকিহর জন্য যথেষ্ট। তিরমিজি বিভিন্ন মাজহাবের বর্ণনা, হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের অন্যান্য হাদিসের দিকে ইশারা করার কারণে পরিচিত। নাসায়ি হাদিসের ত্রুটি (علل) এবং তা সুন্দরভাবে উপস্থাপনের কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আর ইবনে মাজাহ-এর ক্ষেত্রে বক্তব্য হলো, এতে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা অনেক বেশি, এমনকি জাল (موضوع) বর্ণনাও রয়েছে। এই কারণে কেউ কেউ একে এই কিতাবগুলোর সাথে যুক্ত করতে ইতস্তত করেছেন এবং বলেছেন: যদি এর পরিবর্তে মুসনাদ আদ-দারেমি রাখা হতো তবে তা উত্তম হতো। সুতরাং শিক্ষার্থীর উচিত এটি শ্রবণে আগ্রহী হওয়া এবং জেনে রাখা যে এটিও অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত—নামের কারণে যেন বিভ্রান্তি না হয়। একইভাবে শিক্ষার্থীর উচিত ইমাম মালিকের মুয়াত্তা এবং মুসনাদ আশ-শাফিঈ শ্রবণে গুরুত্ব দেওয়া। এটিও অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত এবং নিশাপুরের জনৈক ব্যক্তি এটি আল-উম্ম থেকে সংগ্রহ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٨)
(22 - (ص) ثمَّ المسانيد، وَخير مُسْند … عِنْد أولى الْحِفْظ كتاب أَحْمد)

 

(23 - وَالسّنَن الْأُخْرَى واوع مَا بقى … من كتب السّنة جمع البيهقى)

 

(ش) أى ثمَّ بعد انْتِهَاء الْكتب السِّتَّة يَأْخُذ فى سَماع المسانيد، وهى الَّتِى جمع فها حَدِيث كل صحابى على حِدة من غير الْتِزَام كَونهَا على الْحُرُوف ك " مُسْند أَحْمد "، ومسند " عبد " و " مُسْند الطاليسى "، و " أَبى يعلى "، وَنَحْوهَا عِنْد الْحَافِظ - وهم العارفون وَلَو لم يكن لَهُم حفظ ظَاهر -: " مُسْند أَحْمد " لكبره وَكَثْرَة مَا اجْتمع فِيهِ من الْأَحَادِيث، وَكَونه على الْمُعْتَمد لَيْسَ فِيهِ مَوْضُوع، وَكَذَا يحرص على سَماع بَاقِي السّنَن ك " السّنَن الْكُبْرَى " للنسائى، " و " سنَن الدارقطنى " و " البيهقى "، وهى أكبر كتب السّنَن مُطلقًا، وَإِن أوهم النّظم أَنه بِالنِّسْبَةِ لما طواه فاعلمه، وَكَذَا أوهم النّظم تَقْدِيم كتب المسانيد على " سنَن الْبَيْهَقِيّ "، وَالْأولَى كَمَا ذهب إِلَيْهِ ابْن الصّلاح خِلَافه وَلَا يُقَال قدمهَا لوُقُوع الْأَحَادِيث فِيهَا غَالِبا أَعلَى لكَونه لَو لوحظ لقدمت على الصَّحِيحَيْنِ، وَمَا مَعهَا بل الملاحظ كَونهَا على الْأَبْوَاب الذى هُوَ أَعم نفعا، نعم لَو قيل بِتَقْدِيم مَا فعل بعض الشُّيُوخ ينْفَرد بروايته إِمَّا مُطلقًا أَو بِخُصُوص كَونه أَعلَى كَمَا وَقع للزركشى الحنبلى فى " صَحِيح مُسلم " حَيْثُ انْفَرد بِسَمَاعِهِ من البيانى كَانَ حسنا، وَقَوله: [الْأُخْرَى] يحْتَمل أَن يكون أَرَادَ " الْكُبْرَى " للنسائى لكَون الصُّغْرَى هى أحد الْمَعْدُود فى السِّتَّة.

وَيحْتَمل أَن يكون أَرَادَ مُطلق كتب السّنَن، وَهُوَ الظَّاهِر، وَإِن كَانَت اللَّفْظَة كَمَا فى بعض النّسخ الْكُبْرَى بدل الْأُخْرَى فَهُوَ صَرِيح فِيهَا. [واوع] أى اجْمَعْ.
(২২ - (মূলপাঠ) অতঃপর মুসনাদসমূহ; আর সংরক্ষণকারীদের (حفظ) নিকট সর্বোত্তম মুসনাদ হলো আহমদের কিতাব।)

 

(২৩ - এবং অন্যান্য সুনানসমূহ; আর সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে যা অবশিষ্ট আছে তা সংগ্রহ করো … যেমন বাইহাকীর সংকলন।)

 

(টীকা) অর্থাৎ অতঃপর ছয়টি কিতাব শেষ হওয়ার পর মুসনাদসমূহ শ্রবণের (سماع) পর্যায় আসবে। মুসনাদ হলো সেই কিতাব যাতে প্রত্যেক সাহাবীর হাদিস পৃথকভাবে সংকলন করা হয়, যদিও সেগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকা আবশ্যক নয়; যেমন: "মুসনাদ আহমদ", "মুসনাদ আব্দ", "মুসনাদ তয়ালিসি", "আবু ইয়ালা" এবং হাফেজ (حافظ) — যারা মূলত শাস্ত্রীয় বিশেষজ্ঞ, যদিও তাদের বাহ্যিক মুখস্থ শক্তি প্রবল না-ও হয় — তাদের নিকট অনুরূপ অন্যান্য কিতাব। "মুসনাদ আহমদ" এর বিশালতা এবং এতে প্রচুর হাদিস একত্রিত হওয়ার কারণে এটি বিশেষ গুরুত্ববহ। এটি নির্ভরযোগ্য (المعتمد) ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণ এতে কোনো জাল (موضوع) হাদিস নেই। একইভাবে অন্যান্য সুনান শ্রবণেও (سماع) যত্নবান হতে হবে, যেমন নাসাঈর "সুনান আল-কুবরা", "সুনান আদ-দারা কুতনী" এবং "বাইহাকী"। আর বাইহাকী হলো সাধারণভাবে সুনান কিতাবগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ, যদিও মূল কবিতার শব্দ বিন্যাস থেকে এমন ধারণা হতে পারে যে এটি কেবল অবশিষ্ট কিতাবগুলোর সাপেক্ষে বড়, তাই বিষয়টি জেনে রাখা প্রয়োজন। একইভাবে কবিতার বিন্যাস থেকে মুসনাদসমূহকে "সুনান আল-বাইহাকী" এর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়, তবে ইবনুল সালাহ এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন এবং সেটিই উত্তম। এমনটি বলা যাবে না যে মুসনাদসমূহকে আগে আনা হয়েছে কারণ এগুলোর বর্ণনা উচ্চতর (أعلى) সনদের অধিকারী; কারণ এই মানদণ্ড বিবেচনা করলে মুসনাদসমূহকে সহিহাইন এবং তার পরবর্তী কিতাবগুলোর ওপরও প্রাধান্য দিতে হতো। বরং বিবেচ্য বিষয় হলো কিতাবগুলো অধ্যায় (أبواب) ভিত্তিক বিন্যস্ত হওয়া, যা অধিক উপকারী। হ্যাঁ, যদি কোনো শায়খ এককভাবে কোনো কিতাব বর্ণনা করেন, চাই তা সাধারণভাবে হোক বা উচ্চতর (أعلى) সনদের বিশেষত্বের কারণে — যেমনটি জারকাশি হাম্বলীর ক্ষেত্রে "সহিহ মুসলিম" এর বর্ণনায় ঘটেছিল, যেখানে তিনি বায়ানী থেকে শ্রবণের (سماع) ক্ষেত্রে একক ছিলেন — তবে তা আগে রাখা প্রশংসনীয়। কবির উক্তি: [অন্যান্য] দ্বারা সম্ভবত তিনি নাসাঈর "সুনান আল-কুবরা" বুঝিয়েছেন, কারণ "সুনান আল-সুগরা" ছয়টি প্রধান কিতাবের অন্তর্ভুক্ত। অথবা এর দ্বারা সাধারণভাবে সুনান গ্রন্থসমূহ উদ্দেশ্য হতে পারে এবং এটিই স্পষ্ট। তবে কিছু পাণ্ডুলিপিতে [অন্যান্য] শব্দের পরিবর্তে [আল-কুবরা] শব্দটি রয়েছে, যা সরাসরি সেই কিতাবকেই নির্দেশ করে। [সংগ্রহ করো] অর্থাৎ একত্রিত করো।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٧٩)
(24 - (ص) بعد هَذَا يسمع المعاجم … والطبرانى الْكَبِير أعظم)

 

(ش) : أى وَبعد انْتِهَاء المسانيد تسمع المعاجم وهى الْكتب المصنفة على حُرُوف المعجم فى شُيُوخ المُصَنّف ك " المعجم الْأَوْسَط "، و " الصَّغِير " للطبرانى، أَو فى أَسمَاء الصَّحَابَة ك " المعجم الْكَبِير " لَهُ أَيْضا، وَهُوَ أعظمها، وأوسعها، و " الْكَبِير " صفة للمعجم لَا للطبرانى.

 

(25 - (ص) وَبعد ذَا الْأَجْزَاء وهى وَحدهَا … بِكَثْرَة لَا تَسْتَطِيع عدهَا)

 

(26 - وَبَعضهَا فى كل وَقت ينْفَرد … بِهِ جمَاعَة إِلَيْهِ تستند)

 

(ش) : أى وَبعد هَذِه يسمع الْأَجْزَاء، وَلَيْسَت مرتبَة على الْأَبْوَاب، وَلَا على المسانيد ك " جُزْء الْأنْصَارِيّ "، و " جُزْء ابْن عَرَفَة "، و " وجزء أَبى الجهم "، و " جُزْء البطاقة "، و " جُزْء البيتوتة "، و " جُزْء بيى " وهى كَثِيرَة لَا ينْحَصر عدهَا وَيقدم مِنْهَا الْأَعْلَى فالأعلى، وَذَلِكَ لَا يميزه إِلَّا النبهاء من الطّلبَة وَمَا أَكثر مَا يَقع فِيهَا من الْفَوَائِد وَقَوله

[بَعْضهَا إِلَى آخِره] يعْنى أَنه يُوجد فى كل وَقت من ينْفَرد بِبَعْض الْأَجْزَاء كَمَا وَقع للواسطى فى عدَّة أَجزَاء سَمعهَا على الميدومى، (وللزبد لى) فى " جُزْء ابْن حذلم " سَمعه على العواضى، ولعائشة الكنانية فى " جُزْء ابْن بَشرَان "، " والفوائد الغيلانيات "، وَنَحْو ذَلِك، وَإِن كَانَ ظَاهر عبارَة النَّاظِم تقتضى أَن بعض الْأَجْزَاء ينْفَرد بِهِ جمَاعَة، ثمَّ إِنَّه لَا
(24 - (মূল পাঠ) এরপর মু'জামসমূহ (المعاجم) শ্রবণ করবে … এবং তাবারানির আল-মু'জাম আল-কবীর হলো সর্বশ্রেষ্ঠ)

 

(ব্যাখ্যা) : অর্থাৎ মুসনাদসমূহ শেষ হওয়ার পর মু'জামসমূহ (المعاجم) শ্রবণ করতে হয়। এগুলো হলো সেই সকল কিতাব যা গ্রন্থকারের উস্তাদগণের নামের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে রচিত, যেমন তাবারানির 'আল-মু'জাম আল-আওসাত' এবং 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'; অথবা যা সাহাবীদের নামের বিন্যাসে রচিত, যেমন তাবারানির 'আল-মু'জাম আল-কবীর'। এটি (আল-কবীর) এগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা বিস্তৃত। আর 'আল-কবীর' শব্দটি মু'জামের বিশেষণ, তাবারানির নয়।

 

(25 - (মূল পাঠ) এরপর জুযসমূহ (الأجزاء), যা স্বতন্ত্রভাবে … সংখ্যায় এত অধিক যে তুমি তা গণনা করতে পারবে না)

 

(26 - এগুলোর কতকাংশ সর্বদাই এমন থাকে যে … একদল লোক তা বর্ণনায় একক (ينفرد) হয়ে থাকে, যাদের উপর নির্ভর করা হয়)

 

(ব্যাখ্যা) : অর্থাৎ এগুলোর পর জুযসমূহ (الأجزاء) শ্রবণ করতে হয়। এগুলো অধ্যায় অনুযায়ী বা মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত নয়, যেমন 'জুয আল-আনসারি', 'জুয ইবনে আরাফাহ', 'জুয আবি আল-জাহম', 'জুয আল-বিতা কাহ', 'জুয আল-বাইতুতা' এবং 'জুয বিয়ী'। এগুলোর সংখ্যা অগণিত যা গণনা করা সম্ভব নয়। এগুলোর মধ্য থেকে উচ্চতর (الأعلى) সনদ সম্পন্ন বিষয়গুলোকে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দিতে হয়। মেধাবী ছাত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ এর পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে না। এগুলোর মধ্যে কত যে জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা নিহিত রয়েছে! আর গ্রন্থকারের উক্তি:

[এগুলোর কতকাংশ... শেষ পর্যন্ত] অর্থাৎ প্রতি যুগে এমন কাউকে পাওয়া যায় যারা কিছু নির্দিষ্ট জুয (الأجزاء) বর্ণনায় একক (ينفرد) হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। যেমনটি ওয়াসিতি-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে বেশ কিছু জুযের বর্ণনায় যা তিনি মাইদুমি থেকে শ্রবণ করেছেন। এবং (যুবাইদি-এর ক্ষেত্রে) 'জুয ইবনে হাযলাম' এর বর্ণনায় যা তিনি আওয়াজি থেকে শ্রবণ করেছেন। এবং আয়িশা আল-কানানিয়্যাহ-এর ক্ষেত্রে 'জুয ইবনে বাশরান' ও 'আল-ফাওয়ায়িদ আল-গাইলানিয়্যাত' এবং এ জাতীয় অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে। যদিও মূল রচয়িতার বাহ্যিক ভাষ্য এই দাবি করে যে, কিছু জুয বর্ণনায় একদল লোক একক (ينفرد) হয়ে থাকে, অতঃপর এটি আর...
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٨٠)
اخْتِصَاص لذَلِك بالأجزاء بل يُوجد فى بعض الْكتب وَالْمَسَانِيد أَيْضا كَمَا أَشرت إِلَيْهِ أَولا كَمَا أَنه لَا اخْتِصَاص فى تحمل مَا ذكر بِالسَّمَاعِ إِنَّمَا الْقَصْد تَحْصِيله كَيفَ اتّفق سَمَاعا وَقِرَاءَة على أَنه لَا يمْتَنع تَسْمِيَة من قَرَأَ سَامِعًا كَمَا اسْتَعْملهُ النووى فِيمَا قرأته بِخَطِّهِ، وَحِينَئِذٍ فالتعبير بِالسَّمَاعِ أشمل، وَأبْعد عَن توهم اخْتِصَاص ذَلِك بِالْقِرَاءَةِ أَن لَو عبر بهَا

وَاعْلَم أَن كل مَا ذكرته من الاجزاء والمعاجم وَالْمَسَانِيد والكتب، وَقعت لى بأسانيد ساويت فِيهَا مُعظم شيوخى إِلَّا البخارى، والدارمى، وعبدا، فَللَّه الْفضل

 

‌‌الْوَقْت الذى فِيهِ السماع والطلب واستحباب الرحلة وَعدم اشْتِرَاط التأهل حِين التَّحَمُّل وَغير ذَلِك

 

(27 - (ص) يحضر الصّبيان بعد يولدوا … مجَالِس الحَدِيث كى يقتدوا)

 

(28 - وَبعد تَمْيِيز يُقَال: سمعُوا … آخر خمس، وَالأَصَح أَن يعوا)

 

(ش) : أى: ويحضر الصغار بعد الْولادَة قبل بُلُوغ سنّ الْفَهم مجَالِس الحَدِيث؛ رَجَاء لبَقَاء سلسلة الْإِسْنَاد وقصدا لاعتياد الْخَيْر، والتبرك، وَيكْتب لَهُم أَنهم حَضَرُوا سَوَاء كَانَ الصَّغِير ابْن يَوْم أَو ابْن سنة إِلَى أَن يبلغ سنّ السماع،

وَاخْتلف أَئِمَّتنَا فى الزَّمَان الذى يَصح فِيهِ سَماع الصبى؟ فَقَالَ القاضى عِيَاض: حدد أهل الصَّنْعَة فى ذَلِك خمس سِنِين وَهُوَ سنّ مَحْمُود ابْن الرّبيع، الذى ترْجم البخارى فِيهِ بَاب: " مَتى يَصح سَماع الصَّغِير " وَقيل: كَانَ ابْن أَربع، أَو خمس. وَهَذَا وَإِن كَانَ هُوَ المستقر عَلَيْهِ الْعَمَل أعنى التسميع لِابْنِ خمس فَالْأَصَحّ أَنه يعْتَبر كل صَغِير بِحَالهِ فَمَتَى كَانَ فهما
এই বিষয়টি কেবল জুজ (أجزاء) সমূহের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি কিছু কিতাব এবং মুসনাদসমূহেও পাওয়া যায়, যেমনটি আমি পূর্বে ইশারা করেছি। অনুরূপভাবে, বর্ণিত বিষয়গুলো আহরণের (تحمل) ক্ষেত্রেও কেবল শ্রবণের (سماع) সাথে নির্দিষ্ট নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো যেকোনো উপায়ে তা অর্জন করা—চাই তা শ্রবণ (سماع) বা পাঠের (قراءة) মাধ্যমে হোক। উপরন্তু, যিনি পাঠ করেন তাকে শ্রবণকারী (سامع) হিসেবে অভিহিত করতে কোনো বাধা নেই, যেমনটি ইমাম নববী তাঁর স্বহস্তে লিখিত নথিতে ব্যবহার করেছেন। এমতাবস্থায় 'শ্রবণ' (سماع) শব্দটির মাধ্যমে ব্যক্ত করা অধিক ব্যাপক এবং এটি কেবল পাঠের (قراءة) সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখে, যদি সেই শব্দ (কিরাত) দ্বারা ব্যক্ত করা হতো।

জেনে রাখুন যে, আমি যে সকল জুজ (أجزاء), মু'জাম, মুসনাদ এবং কিতাবসমূহের কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো আমি এমন সব সনদ (أسانيد) সহ লাভ করেছি যেখানে আমি আমার অধিকাংশ শায়খের সমপর্যায়ভুক্ত হয়েছি; তবে বুখারি, দারেমি এবং আব্দ (ইবনে হুমাইদ)-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে। সকল অনুগ্রহ আল্লাহরই।

 

‌‌শ্রবণ (سماع) ও অন্বেষণের (طلب) সময়কাল, ইলম অর্জনে সফরের (رحلة) মুস্তাহাব হওয়া, আহরণের (تحمل) সময় যোগ্য হওয়া শর্ত না হওয়া এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

 

(২৭ - (মূল পাঠ) শিশুদের জন্মের পর হাদিসের মজলিসে উপস্থিত করা হবে... যাতে তারা বড়দের অনুসরণ করে)

 

(২৮ - এবং অনুধাবনের (تمييز) পর বলা হবে: তারা শ্রবণ (سمعوا) করেছে... পাঁচ বছর পূর্ণ হলে; তবে বিশুদ্ধতর মত (الأصح) হলো যখন তারা বুঝতে সক্ষম হয়)

 

(ব্যাখ্যা) : অর্থাৎ: শিশুদের জন্মের পর এবং বুঝজ্ঞান হওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পূর্বেই হাদিসের মজলিসে উপস্থিত করা হবে; এর উদ্দেশ্য হলো সনদ-পরম্পরা (سلسلة الإسنাদ) রক্ষা করা, কল্যাণে অভ্যস্ত হওয়া এবং বরকত অর্জন (تبرك) করা। তাদের জন্য লিখে রাখা হবে যে তারা উপস্থিত ছিল, চাই সেই শিশু একদিনের হোক বা এক বছরের হোক, যতক্ষণ না সে শ্রবণের (سماع) বয়সে পৌঁছায়।

শিশুর শ্রবণ (سماع) কখন সঠিক (يصح) হয় সে বিষয়ে আমাদের ইমামগণ মতভেদ করেছেন। কাজী আইয়ায বলেছেন: এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ (أهل الصنعة) এর সময়সীমা পাঁচ বছর নির্ধারণ করেছেন। এটি মাহমুদ ইবনে রাবী (রা.)-এর বয়স, যার ব্যাপারে ইমাম বুখারি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: "কখন শিশুর শ্রবণ (سماع) সঠিক (يصح) হয়?" বলা হয়েছে: তখন তাঁর বয়স ছিল চার বা পাঁচ বছর। যদিও পাঁচ বছর বয়সের শিশুর জন্য শ্রবণের (تسميع) বিষয়টি আমলযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবুও বিশুদ্ধতর মত (الأصح) হলো প্রতিটি শিশুর অবস্থা অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে; সুতরাং যখনই সে বোধসম্পন্ন হবে...
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٨١)
للخطاب ورد الْجَواب صححنا سَمَاعه، وَإِن كَانَ لَهُ دون خمس، وَإِن لم يكن كَذَلِك لم يَصح، وَإِن كَانَ ابْن خمسين، وَحَدِيث مَحْمُود (30) لَا يُنَافِيهِ لكَونه يدل على ثُبُوته لمن هُوَ فى سنه، أَو فَوْقه وَلم يُمَيّز تَمْيِيزه وَلِهَذَا كَانَ الولى العراقى - وناهيك بورعه وتثبيته - يَقُول فِيمَا شَاهد قِرَاءَته وَهُوَ ابْن ثَلَاث: وَأَنا فى الثَّالِثَة: سمع فهم بل ذكر بعض المؤرخين أَن صَبيا حمل على الْمَأْمُون ابْن أَربع سِنِين وَقد قَرَأَ الْقُرْآن وَنظر فى الرآي غير أَنه كَانَ إِذا جَاع بَكَى وَأَصَح مِنْهُ قَول ابْن العراقى كَمَا قرآته بِخَطِّهِ عَن الْمُحب ابْن الهائم أَنه اسْتكْمل الْقُرْآن حفظا مُبينًا بِحَيْثُ تذكر لَهُ الْآيَة وَيسْأل عَمَّا قبلهَا فيجيب مَعَ حفظ " عُمْدَة الْأَحْكَام " وَجُمْلَة من " الكافية "، و " الشافية " وكل ذَلِك وَقد اسْتكْمل خمس سِنِين. وَأما قَول سُفْيَان بن عُيَيْنَة: قَرَأت الْقُرْآن وَأَنا ابْن أَربع سِنِين، وكتبت الحَدِيث، وَأَنا ابْن سبع سِنِين. فَذَلِك مُحْتَمل وَهل الْمُعْتَبر فى التَّمْيِيز والفهم الْقُوَّة أَو الْفِعْل؟ الْمُعْتَبر: الأول، وَقد سُئِلَ شَيخنَا عَن رجل لَا يعرف بالعربى كلمة، فَأمر بِإِثْبَات سَمَاعه، وَكَذَا حَكَاهُ النَّاظِم عَن ابْن رَافع، وَابْن كثير، وَابْن الْمُحب الطبرى.

وَقَوله: [كى يقتدوا] كَذَا فى بعض النّسخ أى يكْتب أَسمَاؤُهُم بالحضور وَوَقع فى بَعْضهَا [كى يفردوا] وَالْمعْنَى لَعَلَّ أَن يعيشوا فينفردوا بالرواية عَن ذَلِك الشَّيْخ.

وَقَوله: [وَعند تَمْيِيز] أى وَعند بُلُوغ الصبى السن الَّذِي يُمَيّز فِيهِ غَالِبا.

وَقَوله: [لَيست] للتمريض بل مَعْنَاهَا ثبتَتْ أَو يكْتب أَو نَحْو ذَلِك [/ 31] .
সম্বোধনের উত্তর দিতে সক্ষম হলে আমরা তার শ্রবণ (سماع) বিশুদ্ধ (صحيح) বলে গণ্য করি, যদিও তার বয়স পাঁচ বছরের কম হয়। আর যদি সে অনুরূপ (সক্ষম) না হয়, তবে তা বিশুদ্ধ (صحيح) হবে না, যদিও তার বয়স পঞ্চাশ বছর হয়। মাহমুদের হাদিস (৩০) এর পরিপন্থী নয়; কারণ এটি প্রমাণ করে যে, শ্রবণ সাব্যস্ত হয় এমন ব্যক্তির জন্য যে তার সমবয়সী বা তার চেয়ে বড়, কিন্তু তার মতো প্রজ্ঞা (تمييز) অর্জন করেনি। এই কারণেই ওলী আল-ইরাকি — যার পরহেযগারি ও দৃঢ়তা (تثبيت) সর্বজনবিদিত — তার তিন বছর বয়সের পঠন প্রত্যক্ষ করার বিষয়ে বলতেন: "আমি তিন বছর বয়সে ছিলাম; শুনেছি এবং বুঝেছি।" বরং কোনো কোনো ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন যে, চার বছর বয়সী এক বালককে আল-মামুনের নিকট আনা হয়েছিল যে কুরআন পাঠ করেছিল এবং ফিকহী মতামতের বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছিল, তবে সে ক্ষুধার্ত হলে কাঁদত। এর চেয়েও বিশুদ্ধতর (أصح) হলো ইবনুল ইরাকির বক্তব্য, যা আমি তার স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে আল-মুহিব ইবনুল হাইম সম্পর্কে পড়েছি যে, সে স্পষ্টভাবে হিফজ করার মাধ্যমে কুরআন সম্পন্ন করেছিল, এমনকি তাকে কোনো আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে এবং তার আগের আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে উত্তর দিতে পারত। এর সাথে সে "উমদাতুল আহকাম" এবং "কাফিয়া" ও "শাফিয়া"-এর একাংশ মুখস্থ করেছিল, আর এ সবই যখন তার বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছিল। আর সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়নার উক্তি: "আমি চার বছর বয়সে কুরআন পাঠ করেছি এবং সাত বছর বয়সে হাদিস লিখেছি" — তা সম্ভবপর। আর প্রজ্ঞা (تمييز) ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে কোনটি ধর্তব্য — যোগ্যতা নাকি প্রকৃত কার্য সম্পাদন? ধর্তব্য হলো প্রথমটি (যোগ্যতা)। আর আমাদের শাইখকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আরবি ভাষার একটি শব্দও বোঝে না, তিনি তার শ্রবণ (سماع) সাব্যস্ত করার আদেশ দিয়েছিলেন। একইভাবে নাযিম (কবিতাকার) ইবনে রাফে', ইবনে কাসির এবং ইবনুল মুহিব আত-তাবারী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং তার উক্তি: [যাতে তারা অনুসরণ করে] — কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, অর্থাৎ উপস্থিতির তালিকায় তাদের নাম লেখা হবে। আবার কোনোটিতে [যাতে তারা অনন্য হয়] শব্দ রয়েছে, যার অর্থ হলো সম্ভবত তারা দীর্ঘজীবী হবে এবং সেই শাইখ থেকে বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে অনন্য বা একক (ينفردوا) হবে।

এবং তার উক্তি: [এবং প্রজ্ঞার সময়] — অর্থাৎ শিশু সাধারণত যে বয়সে প্রজ্ঞা (تمييز) অর্জন করে।

এবং তার উক্তি: [নয়] শব্দটি দুর্বলতা প্রকাশের (تمريض) জন্য ব্যবহৃত হয়নি, বরং এর অর্থ হলো সাব্যস্ত হয়েছে বা লেখা হবে অথবা এই জাতীয় কিছু [/ ৩১]।
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٨٢)
(29 - (ص) وَعِنْدهم يَصح التَّحَمُّل … لَو كَافِرًا أَو بعد ذَا تأهل)

 

(30 - ففى الصَّحِيح عَن جُبَير مطعم … سَماع طور وَهُوَ غير مُسلم)

 

(ش) وَعند أهل الحَدِيث يَصح التَّحَمُّل قبل الْإِسْلَام بِلَا خلاف، فَإِن أسلم أدّى، لما فى الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث جُبَير بن مطعم - رضى الله عَنهُ - قَالَ: " سَمِعت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم]- يعْنى حِين قدم عَلَيْهِ فى أُسَارَى بدر - يقْرَأ فى الْمغرب بِالطورِ ".

وفى رِوَايَة: " فَلَمَّا بلغ هَذِه الْآيَة: {أَن خلقُوا من غير شَيْء أم هم الْخَالِقُونَ أم خلقُوا السَّمَوَات وَالْأَرْض بل لَا يوقنون أم عِنْدهم خَزَائِن رَبك أم هم المصيطرون} ، كَاد قلبى أَن يطير وفى رِوَايَة البخارى: " وَذَلِكَ أول مَا وقر الْإِيمَان فى قلبى، ثمَّ إِنَّه أسلم بعد ذَلِك قبل الْفَتْح وَأَدَّاهُ، وَوَقع فى درس ابْن تَيْمِية أَن صَبيا من الْيَهُود سمع
(২৯ - (মূল পাঠ) আর তাঁদের নিকট হাদিস গ্রহণ (التحمل) সঠিক (يصح) হিসেবে গণ্য হয় … এমনকি কাফির থাকা অবস্থায় হলেও, যদি পরবর্তীতে সে যোগ্যতা অর্জন করে)

 

(৩০ - কেননা সহিহ গ্রন্থে জুবাইর ইবনে মুতইম থেকে বর্ণিত … তিনি অমুসলিম থাকা অবস্থায় তূর সূরা পাঠ শুনেছিলেন)

 

(ব্যাখ্যা) মুহাদ্দিসগণের নিকট ইসলাম গ্রহণের পূর্বে হাদিস গ্রহণ (التحمل) কোনো মতভেদ ছাড়াই সঠিক (يصح)। অতঃপর যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তা বর্ণনা (الأداء) করবে। যেমনটি সহিহাইন-এ জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে—অর্থাৎ যখন তিনি বদর যুদ্ধের বন্দীদের বিষয়ে তাঁর নিকট এসেছিলেন—মাগরিবের নামাজে সূরা তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি।"

অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে না। নাকি তাদের কাছে তোমার রবের ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে? নাকি তারা এর নিয়ন্ত্রক?}, তখন আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।" আর বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: "এবং এটিই ছিল প্রথমবার যখন আমার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছিল।" এরপর তিনি মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তা বর্ণনা (الأداء) করেন। আর ইবনে তাইমিয়্যাহর পাঠদানে এটি বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ইহুদি বালক শুনেছিল...
(খণ্ড: ১) আল গায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ (পৃষ্ঠা: ٨٣)
شَيْئا من الحَدِيث، فَكتب بعض الطّلبَة أُسَمِّهِ فى الطَّبَقَة فَأنْكر عَلَيْهِ، وَسُئِلَ عَنهُ ابْن تَيْمِية فَأَجَازَهُ، وَلم يُخَالِفهُ أحد من أهل عصره، وَاتفقَ أَن ذَلِك الصبى أسلم بعد بُلُوغه وَأدّى، فَسَمِعُوا مِنْهُ. ويلتحق بالكافر الصبى وَالْفَاسِق من بَاب أولى.

وَالْحَاصِل أَن التَّحَمُّل لَا يشْتَرط فِيهِ كَمَال الْأَهْلِيَّة، إِنَّمَا يشْتَرط ذَلِك عِنْد الآداء، على أَنه قد منع قوم رِوَايَة من سمع قبل بُلُوغه. ورد عَلَيْهِم براوية الْحسن، وَالْحُسَيْن، وَابْن الزبير، وَابْن عَبَّاس، واضرابهم، فَإِن النَّاس قبلوها من غير فرق بَين مَا تَحملُوهُ قبل الْبلُوغ أَو بعده وَبِهَذَا فِيمَا [/ 32] قيل، يدْفع القَوْل بِأَن إِحْضَار الْأَطْفَال للتبرك واعتياد
হাদিসের কিছু অংশ (শ্রবণ করেছিলেন), তখন জনৈক শিক্ষার্থী উপস্থিতির তালিকায় (الطبقة) তার নাম লিখে দিলে এক ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করলেন। এ বিষয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অনুমোদন (أجاز) করেন এবং তার সমসাময়িক কেউ এর বিরোধিতা করেননি। আর এটিই ঘটেছিল যে, সেই শিশুটি (صبى) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার (بلوغ) পর ইসলাম গ্রহণ করে এবং হাদিস বর্ণনা (أداء) করে, তখন তারা তার থেকে শ্রবণ করেন। আর অবিশ্বাসী (كافر) ব্যক্তির হুকুমের সাথে শিশু (صبى) এবং পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তি অধিকতর সঙ্গত কারণেই যুক্ত হবে।

সারকথা হলো, হাদিস গ্রহণ (تحمل)-এর জন্য পূর্ণ যোগ্যতা (كمال الأهلية) থাকা শর্ত নয়, বরং এটি কেবল হাদিস বর্ণনা (أداء)-এর সময় শর্ত। যদিও একদল আলেম ওই ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) করতে নিষেধ করেছেন যে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার (بلوغ) পূর্বে শ্রবণ করেছে। কিন্তু হাসান, হুসাইন, ইবনে যুবায়ের, ইবনে আব্বাস এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বর্ণনার মাধ্যমে তাদের এই মত খণ্ডন করা হয়েছে। কেননা মানুষ তাদের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার (بلوغ) পূর্বে হাদিস গ্রহণ (تحمل) করেছেন নাকি পরে—তাতে কোনো পার্থক্য করেননি। আর এর মাধ্যমেই—যেমনটি বলা হয়েছে [/ ৩২]—সেই দাবিটি নাকচ হয়ে যায় যে, শিশুদের উপস্থিত করা কেবল বরকত লাভ এবং অভ্যস্ত হওয়ার জন্য।