(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: -)
المدرج إلى المدرج   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المدرج إلى المدرج (مطبوع ضمن مجموعة رسائل في الحديث: المدرج الى المدرج للسيوطي، مسند المقلين عن الامراء والسلاطين لتمام الرازي)

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ)

حققها وقدم لها: صبحي البدري السامرائي [ت 1434 هـ]

الناشر: الدار السلفية - الكويت

عدد الصفحات: 47

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (হাদিস বিষয়ক পত্রাবলীর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত: সুয়ূতীর আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ, তাম্মাম আর-রাজীর মুসনাদুল মুকিল্লীন আনিল উমারা ওয়াস সালাতীন)

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

সম্পাদনা ও উপস্থাপনা: সুবহা আল-বাদরী আস-সামাররাঈ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]

প্রকাশক: আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ - কুয়েত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ١)
مَجْمُوعَة رسائل فِي الحَدِيث للسيوطي والرازي
আল-সুয়ূতী ও আল-রাজীর হাদিস বিষয়ক রিসালাসমূহের সংকলন
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ١٧)
مُقَدّمَة الْمُؤلف

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

الْحَمد لله الَّذِي نصب لدينا القويم أقوم مدرج وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد الَّذِي فتح بُنْيَانه كل بَاب وعَلى آله وَصَحبه وَمن هُوَ فِي زمرة التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان

هَذَا جُزْء لطيف سميته‌‌ المدرج إِلَى المدرج لخصته من تقريب الْمنْهَج بترتيب المدرج لشيخ الْإِسْلَام والحفاظ أبي الْفضل ابن حجر إِلَّا أَنِّي أقتصرت فِيهِ على مدرج الْمَتْن دون مدرج الْإِسْنَاد لِأَن الْعِنَايَة بتمييز كَلَام الروَاة من كَلَام النُّبُوَّة أهم وعوضته من مدرج الْإِسْنَاد زَوَائِد مهمة من مدرجات الْمُتُون خلى عَنْهَا كِتَابه وَهِي مسطورة فِي كتب النقاد وَالله الْمُوفق

1 - حَدِيث أبن مَسْعُود من مَاتَ وَهُوَ يُشْرك بِاللَّه شَيْئا دخل النَّار وَمن مَاتَ وَهُوَ لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا دخل الْجنَّة أخرجه خَ ن وهم فِيهِ أَحْمد بن عبد الْجَبَّار العطاردى وَالْمَرْفُوع مِنْهُ الْجُمْلَة الأولى فَقَط وَالثَّانيَِة مَوْقُوفَة كَذَا ميزه جمَاعَة من الروَاة مِنْهُم الْأَعْمَش أخرجه الشَّيْخَانِ وَالنَّسَائِيّ
লেখকের ভূমিকা

‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক কাম্য।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য দ্বীনের সঠিক পথকে এক সুদৃঢ় সোপান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবং দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁর ভিত্তিমূল স্থাপনের মাধ্যমে (হেদায়েতের) সকল দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরবৃন্দ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈনদের (تابعين) দলের প্রতি।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, আমি যার নামকরণ করেছি ‘আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ’। আমি এটি শায়খুল ইসলাম ও হাফিজুল হাদিস আবুল ফজল ইবনে হাজারের ‘তাকরিবুল মানহাজ বি-তারতিবিল মুদরাজ’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত করেছি। তবে এখানে আমি কেবল মতনের অনুপ্রবিষ্ট অংশ (مدرج المتن) বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং সনদের অনুপ্রবিষ্ট অংশ (مدرج الإسناد) বর্জন করেছি। কেননা বর্ণনাকারীদের (رواة) বক্তব্য থেকে নবুওয়াতের বাণীকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর সনদের অনুপ্রবিষ্ট অংশের পরিবর্তে আমি মতনের অনুপ্রবিষ্ট অংশসমূহের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক সংযোজন করেছি যা তাঁর কিতাবে ছিল না, অথচ সমালোচকদের (نقاد) কিতাবসমূহে তা লিপিবদ্ধ রয়েছে। আল্লাহই তাওফিক দাতা।

1 - ইবনে মাসউদের হাদিস: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও নাসাঈ। আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-আতারিদি এতে বিভ্রান্ত (وهم) হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল প্রথম বাক্যটিই রাসূলের প্রতি সম্পৃক্ত (مرفوع) এবং দ্বিতীয় বাক্যটি সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে সীমাবদ্ধ (موقوفة)। বর্ণনাকারীদের (رواة) একটি দল এভাবেই একে পৃথক করেছেন, যাদের মধ্যে আমাশ অন্যতম। এটি শাইখান (الشيخان) এবং নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - حَدِيث بسرة من مس ذكره أَو أنثييه أَو رفغيه فَليَتَوَضَّأ أخرجه الطَّبَرَانِيّ

وهم فِيهِ عبد الحميد بن جَعْفَر الْأنْصَارِيّ وَالْمَرْفُوع من مس ذكره فَليَتَوَضَّأ كَذَا أقتصر عَلَيْهِ سَائِر الروَاة أَخْرجُوهُ دون ذكر الْأُنْثَيَيْنِ وَالرَّفْع مدرج من قَول عُرْوَة بَينه حَمَّاد بن زيد وَأَيوب أخرجه أبن ماجة

3 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَسْبغُوا الْوضُوء ويل للاعقاب من النَّار

أخرجه أبن ماجة

وهم فِيهِ شَبابَة بن سوار وَأَبُو قطن وَالْمَرْفُوع مِنْهُ ويل إِلَى آخِره وصدره مدرج كَذَا ميزه سَائِر الروَاة مِنْهُم مُحَمَّد بن جَعْفَر أخرجه أَحْمد من طَرِيقه بِلَفْظ كَانَ أَبُو هُرَيْرَة يَأْتِي على النَّاس وهم يَتَوَضَّئُونَ فَيَقُول لَهُم أَسْبغُوا الْوضُوء فَإِنِّي سَمِعت أَبَا الْقَاسِم صلى الله عليه وسلم يَقُول ويل للاعقاب من النَّار
২ - বুসরাহ বর্ণিত হাদিস: "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ অথবা অন্ডকোষদ্বয় অথবা কুঁচকি স্পর্শ করে সে যেন অজু করে।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন।

এতে আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর আল-আনসারী ভুল করেছেন (وهم)। আর মারফু (مرفوع) হাদিসটি হলো: "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করে সে যেন অজু করে।" অন্যান্য রাবিগণ (رواة) এভাবেই সংক্ষেপ করেছেন; তাঁরা অন্ডকোষদ্বয় ও কুঁচকির উল্লেখ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। আর [উক্ত অংশটি] উরওয়াহ-এর উক্তি থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), যা হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং আইয়ুব স্পষ্ট করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ - আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস: "তোমরা পূর্ণাঙ্গরূপে অজু করো; আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ!"

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার এবং আবু কাতান এতে ভুল করেছেন (وهم)। এর মারফু (مرفوع) অংশটুকু হলো "দুর্ভোগ..." থেকে শেষ পর্যন্ত, আর এর প্রারম্ভিক অংশটি হলো প্রক্ষিপ্ত (مدرج)। অন্যান্য রাবিগণ (رواة) এভাবেই একে পৃথক করেছেন, যাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে জাফর অন্যতম। ইমাম আহমাদ তাঁর সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে: আবু হুরায়রা (রা.) লোকেদের নিকট আসতেন যখন তারা অজু করত, তখন তিনি তাদের বলতেন, "তোমরা পূর্ণাঙ্গরূপে অজু করো, কেননা আমি আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ!"
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ١٩)
4 - حَدِيث الْبَراء أَنه رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم حِين إفتتح الصَّلَاة رفع يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَى بهما إِلَى أُذُنَيْهِ ثمَّ لم يعد إِلَى شَيْء من ذَلِك حَتَّى فرغ من صلَاته أخرجه أَبُو دَاوُد وَالدَّارَقُطْنِيّ

قَوْله ثمَّ لم يعد مدرج من زِيَادَة يزِيد بن أبي زِيَاد نبه عَلَيْهِ أبن عُيَيْنَة أخرجه الشَّافِعِي فِي الْأُم وَقد سَمعه الْحفاظ مِنْهُ قَدِيما بِدُونِهَا هشيم وخَالِد بن الطَّحَّان وأبن أدريس عِنْد أبي دَاوُد والثورى وَشعْبَة وأسباط بن مُحَمَّد عِنْد أَحْمد
৪ - বারা (রা.) বর্ণিত হাদিস যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এমনকি তা তাঁর উভয় কান বরাবর পৌঁছাত, এরপর সালাত সমাপ্ত করা পর্যন্ত তিনি এর কোনো কিছুর পুনরাবৃত্তি করতেন না। এটি আবু দাউদ ও দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "এরপর আর পুনরাবৃত্তি করতেন না" অংশটি ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ-এর অতিরিক্ত (زيادة) বর্ণনা থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج); ইবনে উয়াইনাহ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ইমাম শাফিয়ি এটি আল-উম্ম গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। অথচ হাফেজগণ (الحفاظ) প্রাচীনকালে তাঁর নিকট থেকে এই অংশটি ছাড়াই হাদিসটি শ্রবণ করেছেন; যেমন—হুশাইম, খালিদ ইবনুত তাহহান এবং ইবনে ইদরিস (আবু দাউদের নিকট), এবং সাওরি, শু'বাহ ও আসবাত ইবনে মুহাম্মদ (আহমাদের নিকট)।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
5 - حَدِيث ابْن مَسْعُود أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَخذ بِيَدِهِ فَعلمه التَّشَهُّد التَّحِيَّات لله والصلوات الطَّيِّبَات السَّلَام عَلَيْك أَيهَا النَّبِي وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته السَّلَام علينا وعَلى عباد الله الصَّالِحين أشهد أَن لَا إِلَه أَلا الله وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله فَإِذا قلت ذَلِك فقد تمت صَلَاتك فَأن شِئْت فَقُمْ وَأَن شِئْت فَأقْعدَ أخرجه الدَّارمِيّ

وَقَوله فأذا قلت ذَلِك إِلَى أَخّرهُ مدرج من قَول أبن مَسْعُود وَلَيْسَ من الْمَرْفُوع بَينه شَبابَة بن سوار أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَعبد الرَّحْمَن بن ثَابت بن ثَوْبَان أخرجه أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط
৫ - ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিলেন: "সমস্ত সম্মানজনক অভিবাদন আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।" অতঃপর যখন তুমি এটি বললে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হলো; এখন তুমি চাইলে উঠতে পারো অথবা চাইলে বসে থাকতে পারো। এটি দারেমি বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর উক্তি "যখন তুমি এটি বললে" থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি ইবনে মাসউদের বক্তব্য থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج), এটি রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) কোনো বর্ণনা নয়। শাবাবাহ বিন সাওয়ার এটি স্পষ্ট করেছেন যা দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন; এবং আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান এটি বর্ণনা করেছেন যা আবু ইয়ালা এবং তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢١)
6 - حَدِيث الزُّهْرِيّ عَن إِبْنِ أكيمَة اللَّيْثِيّ عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أنصرف من صَلَاة جهر فِيهَا بالقراءه فَقَالَ هَل قَرَأَ معي أحد مِنْكُم آنِفا فَقَالَ رجل نعم يَا رَسُول الله

فَقَالَ أَنِّي أَقُول مَالِي أنازع الْقُرْآن فأنتهى النَّاس عَن القراءه مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيمَا جهر فِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءه من الصَّلَوَات حِين سمعُوا ذَلِك من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أخرجه أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

قَوْله فأنتهى النَّاس إِلَى أَخّرهُ مدرج من كَلَام الزهرى بَينه أبن عُيَيْنَة أخرجه أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة وَقَالَ أَبُو دَاوُد سَمِعت مُحَمَّد بن يحي بن فَارس يَقُول يَنْتَهِي حَدِيث ابْن أكيمَة إِلَى قَوْله مَالِي أنازع الْقُرْآن وَقَوله أنْتَهى النَّاس من كَلَام الزهرى
6 - জুহরী হতে বর্ণিত, তিনি ইবনে আকিমা আল-লায়সী থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন একটি সালাত শেষ করলেন যাতে তিনি উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে কি কেউ এইমাত্র আমার সাথে কিরাত পাঠ করেছ?" এক ব্যক্তি বলল, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল।"

তিনি বললেন, "আমি মনে মনে বলছিলাম, কি কারণে আমার সাথে কুরআনের কিরাতের ক্ষেত্রে বিবাদ (প্রতিযোগিতা) করা হচ্ছে?" ফলে মানুষ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে কিরাত পাঠ করা থেকে বিরত হলো সেই সালাতগুলোতে যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সা.) উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতেন, যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে এই কথা শুনতে পেলেন। এটি আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "অতঃপর মানুষ বিরত হলো..." শেষ পর্যন্ত অংশটি জুহরীর বক্তব্য থেকে সংযুক্ত (مدرج); ইবনে উয়াইনা এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন ফারিসকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে আকিমা-এর হাদিস "কেন আমার সাথে কুরআনের কিরাতের ক্ষেত্রে বিবাদ করা হচ্ছে" পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে, আর "মানুষ বিরত হলো" উক্তিটি জুহরীর নিজস্ব বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
7 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة من كَانَ مُصَليا بعد الْجُمُعَة فَليصل أَرْبعا فَإِن عجل بِهِ شَيْء فَليصل رَكْعَتَيْنِ فِي الْمَسْجِد وَرَكْعَتَيْنِ إِذا رَجَعَ

أخرجه مُسلم وأبن ماجة

وهم فِيهِ عبد الله بن أدريس الأودى وَالْمَرْفُوع مِنْهُ إِلَى قَوْله أَرْبعا وَالْبَاقِي مدرج من كَلَام أبي صَالح بَينه أَبُو خَيْثَمَة أخرجه أَبُو دَاوُد وَحَمَّاد بن سَلمَة أخرجه أبن حبَان وَنَصّ على أَن الإدراج من أبن أدريس

8 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يرغب فِي قيام رَمَضَان من غير أَن يَأْمُرهُم فِيهِ بعزيمة وَيَقُول من قَامَ رَمَضَان أيمانا واحتسابا غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه فَتوفي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالْأَمر على ذَلِك ثمَّ كَانَ الْأَمر على ذَلِك فِي خلَافَة أبي بكر وَصدر من خلَافَة عمر أخرجه مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَالْبُخَارِيّ قَوْله فَتوفي إِلَى أَخّرهُ لَيْسَ من قَول أبي هُرَيْرَة بل هُوَ من قَول الزُّهْرِيّ بَينه مَالك أخرجه أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
7 - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: "যে ব্যক্তি জুমার নামাজের পর নামাজ পড়তে চায়, সে যেন চার রাকাত পড়ে। তবে যদি কোনো ব্যস্ততা থাকে, তবে যেন সে মসজিদে দুই রাকাত এবং (বাড়ি) ফিরে দুই রাকাত নামাজ পড়ে।"

এটি মুসলিম ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-আওদি ভ্রম করেছেন। এর মধ্যে "চার রাকাত" পর্যন্ত অংশটি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) এবং অবশিষ্ট অংশটুকু আবু সালেহের বক্তব্য যা হাদিসে মিশ্রিত (مدرج) হয়েছে। আবু খাইসামা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনে সালামাহও এটি বর্ণনা করেছেন যা ইবনে হিব্বান তার গ্রন্থে এনেছেন এবং তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রক্ষিপ্তকরণ বা মিশ্রণ (إدراج) ইবনে ইদ্রিস থেকে ঘটেছে।

8 - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের কিয়ামের (তারাবিহ) ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, তবে তিনি তা বাধ্যতামূলক করার আদেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব প্রাপ্তির আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করেন এবং বিষয়টি এই অবস্থায় বহাল ছিল। পরবর্তীতে আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতকালে এবং উমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রথমাংশেও বিষয়টি এভাবেই ছিল। এটি মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও বুখারি বর্ণনা করেছেন। তাঁর উক্তি "অতঃপর ইন্তেকাল করেন" থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিজস্ব কথা নয়, বরং তা ইমাম যুহরির কথা। মালিক এটি স্পষ্ট করেছেন যা আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
9 - حَدِيث زِيَاد بن سعد عَن أبن شهَاب عَن سَالم عَن أبن عمر أَنه كَانَ يمشي بَين يدى الْجِنَازَة وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان يَمْشُونَ أمامها أخرجه التِّرْمِذِيّ

قَوْله وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيْسَ من قَول أبن عمر بل مدرج من قَول أبن شهَاب بَينه معمر أخرجه التِّرْمِذِيّ وَنَصّ على أَنه مدرج النَّسَائِيّ فِي السّنَن

10 - حَدِيث ميمونه من صلى عَلَيْهِ أمة من النَّاس شفعوا فِيهِ قَالَ الْأمة الْأَرْبَعُونَ إِلَى الْمِائَة والعصبة عشر إِلَى أَرْبَعِينَ والنفر ثَلَاثَة إِلَى عشرَة أخرجه النَّسَائِيّ وَأحمد فِي الْمسند

قَوْله الْأمة إِلَى أَخّرهُ مدرج من كَلَام أبي الْمليح بَينه أَبُو عُبَيْدَة الْحداد أخرجه النَّسَائِيّ ويحي الْقطَّان أخرجه أَحْمد
9 - জিয়াদ ইবনে সা’দ কর্তৃক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি জানাজার সামনে পথ চলতেন; আর রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.) জানাজার সামনে পথ চলতেন। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন..."—এটি ইবনে উমরের বক্তব্য নয়, বরং এটি ইবনে শিহাবের উক্তি থেকে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রক্ষিপ্ত (مدرج) অংশ। মা’মার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যা তিরমিজি উদ্ধৃত করেছেন এবং নাসায়ি তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি প্রক্ষিপ্ত (مدرج) হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন।

10 - মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: যার ওপর মানুষের একটি উম্মাহ (দল) জানাজার সালাত আদায় করে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করা হয়। তিনি বলেন, উম্মাহ বলতে চল্লিশ থেকে একশ জন, 'আসাবাহ' বলতে দশ থেকে চল্লিশ জন এবং 'নাফার' বলতে তিন থেকে দশ জনকে বোঝায়। এটি নাসায়ি এবং আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "উম্মাহ..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটুকু আবুল মালিহ-এর কথার অন্তর্ভুক্ত প্রক্ষিপ্ত (مدرج) বিষয়। আবু উবাইদাহ আল-হাদ্দাদ এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যা নাসায়ি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যা আহমদ উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
11 - حَدِيث لَيْسَ الْمِسْكِين الَّذِي ترده التمرة وَالتَّمْرَتَانِ والأكلة وَالْأكْلَتَان وَلَكِن الْمِسْكِين الَّذِي لَيْسَ لَهُ مَا يَسْتَغْنِي بِهِ الَّذِي لَا يسْأَل وَلَا يعلم بحاجته فَيتَصَدَّق عَلَيْهِ فَذَاك المحروم

أخرجه أَبُو دَاوُد

وَقَوله فَذَاك المحروم مدرج من قَول الزُّهْرِيّ بَينه عبد الْأَعْلَى بن عبد الْأَعْلَى أخرجه النَّسَائِيّ

12 - حَدِيث أبي لَهِيعَة عَن يحيى بن سعيد سَمِعت السَّائِب بن يزِيد يَقُول صَحِبت سعد بن أبي وَقاص زَمَانا فَلم أسمعهُ يحدث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يفرق بَين مُجْتَمع وَلَا يجمع بَين متفرق فِي الصَّدَقَة والخليطان مَا إجتمع على الْفَحْل والراعي والحوض

لم يسمعهُ ابْن لَهِيعَة من يحيى بن سعيد إِنَّمَا كَانَ يرويهِ من كتاب إِلَيْهِ بَينه أَبُو الْأسود وكل شَيْء يحدث بِهِ ابْن لَهِيعَة عَن يحيى بن سعيد فَإِنَّمَا هُوَ كتاب كتب إِلَيْهِ أخرجه أَبُو عبيد فِي كتاب الْأَمْوَال

وَقَالَ سعيد ابْن أبي مَرْيَم لم يسمع ابْن لَهِيعَة من يحيى بن سعيد شَيْئا وَلَكِن كتب إِلَيْهِ يحيى وَكَانَ فِيمَا كتب هَذَا الحَدِيث يَعْنِي حَدِيث السَّائِب بن يزِيد صَحِبت سعد ابْن أبي وَقاص كَذَا وَكَذَا سنة فَلم أسمعهُ يحدث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَّا حَدِيثا وَاحِدًا وَكتب فِي عقبه على أَثَره لَا يفرق بَين مُجْتَمع إِلَى أَخّرهُ فَظن ابْن لَهِيعَة انه من حَدِيث سعد وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا الْكَلَام مُبْتَدأ من الْمسَائِل الَّتِي كتب بهَا إِلَيْهِ

وَقَالَ الْحُسَيْن بن حسان سَأَلت إِبْنِ معِين عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ بَاطِل إِنَّمَا هَذَا من قَول يحيى بن سعيد كَذَا حدث بِهِ لَيْث بن سعد وَغَيره

قَالَ الْخَطِيب وَقد روى سُلَيْمَان بن بِلَال وَحَمَّاد بن زيد عَن يحيى بن سعيد عَن السَّائِب بن يزِيد عَن سعد هَذَا الحَدِيث فَلم يذكرَا فصل الْجمع والتفريق وَلَا الخليطين

وَقَالَ أَبُو حَاتِم هَذَا الحَدِيث عِنْدِي بَاطِل وَلَا اعْلَم أحدا رَوَاهُ غير ابْن لَهِيعَة
১১ - হাদিস: "সেই ব্যক্তি মিসকিন নয় যাকে একটি বা দুটি খেজুর অথবা এক বা দুই লোকমা খাবার ফিরিয়ে দেয়; বরং প্রকৃত মিসকিন সে-ই যার স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মতো কোনো সম্পদ নেই, যে কারো কাছে ভিক্ষা চায় না এবং যার অভাব সম্পর্কেও জানা যায় না যে তাকে সদকা করা হবে; সেই ব্যক্তিই হলো বঞ্চিত।"

এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

আর "সেই ব্যক্তিই হলো বঞ্চিত" কথাটি যুহরীর উক্তি থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), যা আব্দুল আ'লা ইবনে আব্দুল আ'লা স্পষ্ট করেছেন; এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

১২ - ইবনে লাহিয়াহ-এর হাদিস, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি সায়েব ইবনে ইয়াজিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি দীর্ঘকাল সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সান্নিধ্যে ছিলাম, কিন্তু আমি তাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই হাদিসটি ছাড়া বর্ণনা করতে শুনিনি যে: "সদকার ক্ষেত্রে একত্রিত মাল পৃথক করা যাবে না এবং পৃথক মাল একত্রিত করা যাবে না; আর দুই অংশীদারের মাল তখনই গণ্য হবে যখন তারা প্রজননকারী পশু, রাখাল এবং পানির হাউজের ক্ষেত্রে একত্রিত থাকবে।"

ইবনে লাহিয়াহ এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে সরাসরি শোনেননি, বরং তিনি এটি তার কাছে প্রেরিত একটি কিতাব (চিঠি) থেকে বর্ণনা করতেন, যা আবু আল-আসওয়াদ স্পষ্ট করেছেন। আর ইবনে লাহিয়াহ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে যা কিছু বর্ণনা করেন, তা মূলত তার কাছে আসা কিতাব থেকেই। এটি আবু উবাইদ কিতাবুল আমওয়াল-এ বর্ণনা করেছেন।

সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম বলেছেন, ইবনে লাহিয়াহ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে কিছুই শোনেননি, বরং ইয়াহইয়া তাকে লিখে পাঠিয়েছিলেন। আর তিনি যা লিখেছিলেন তার মধ্যেই ছিল এই হাদিসটি, অর্থাৎ সায়েব ইবনে ইয়াজিদের হাদিস: "আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সান্নিধ্যে এত এত বছর ছিলাম এবং আমি তাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একটি হাদিস ছাড়া আর কিছু বর্ণনা করতে শুনিনি।" এরপর তিনি (ইয়াহইয়া) চিঠির শেষে তার পরপরই লিখেছিলেন: "একত্রিত মাল পৃথক করা যাবে না..." শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ইবনে লাহিয়াহ মনে করেছেন এটি সাদের বর্ণিত হাদিসের অংশ, অথচ এই কথাগুলো ছিল তাকে লিখে পাঠানো মাসআলাসমূহের প্রারম্ভিক নতুন অংশ মাত্র।

হুসাইন ইবনে হাসান বলেন, আমি ইবনে মাঈনকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি বাতিল (باطل)। মূলত এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের উক্তি; লায়স ইবনে সাদ ও অন্যরা এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

খতিব বলেন, সুলাইমান ইবনে বিলাল এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি সাদ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তারা "একত্রিত করা ও পৃথক করা" এবং "দুই অংশীদার" সংক্রান্ত অংশটুকু উল্লেখ করেননি।

আবু হাতিম বলেন, আমার মতে এই হাদিসটি বাতিল (باطل), এবং ইবনে লাহিয়াহ ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
13 - حَدِيث أبي امامة إنطلق بِرَجُل إِلَى بَاب الْجنَّة فَرفع رَأسه فَإِذا على بَاب الْجنَّة مَكْتُوب الصَّدَقَة بِعشْرَة أَمْثَالهَا وَالْقَرْض الْوَاحِد بِثمَانِيَة عشر لِأَن صَاحب الْقَرْض لَا يَأْتِيك إِلَّا وَهُوَ مُحْتَاج وَالصَّدَََقَة رُبمَا وضعت فِي غنى

قَوْله لِأَن صَاحب الْقَرْض إِلَى أَخّرهُ مدرج من كَلَام بعض الْفُقَهَاء بَينه مكي بن إِبْرَاهِيم

14 - حَدِيث ابْن عمر أَن بِلَالًا يُؤذن بلَيْل فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤذن ابْن أم مَكْتُوم قَالَ وَكَانَ ضريرا فَكَانَ يُؤذن لَهُ أذن فقد أَصبَحت

أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم

قَوْله وَكَانَ ضريرا مدرج من كَلَام سَالم أحْرجهُ مُسلم وَقيل من كَلَام الزُّهْرِيّ أخرجه مَالك

15 - حَدِيث ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خرج إِلَى مَكَّة عَام الْفَتْح فصَام حَتَّى بلغ الكديد ثمَّ أفطر فَأفْطر النَّاس فَكَانُوا يَأْخُذُونَ بالأحدث فالأحدث من أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أحْرجهُ الشَّيْخَانِ

وَقَوله فَكَانُوا يَأْخُذُونَ إِلَى أَخّرهُ لَيْسَ من قَول ابْن عَبَّاس بل مدرج من قَول الزُّهْرِيّ بَينه معمر أخرجه البُخَارِيّ وَابْن إِسْحَاق أخرجه أَحْمد وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة من طَرِيق ابْن عُيَيْنَة فَقَالَ لَا أَدْرِي هَل هُوَ من قَول ابْن عَبَّاس أَو من قَول عبيد الله أَو من قَول الزُّهْرِيّ
১৩ - আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত হাদিস: এক ব্যক্তিকে জান্নাতের দরজার দিকে নিয়ে যাওয়া হলো, সে তার মাথা উত্তোলন করল এবং দেখল জান্নাতের দরজায় লিখিত রয়েছে—সদকার সওয়াব দশ গুণ এবং ঋণের সওয়াব আঠারো গুণ। কারণ ঋণগ্রহীতা কেবলমাত্র অভাবগ্রস্ত অবস্থাতেই তোমার কাছে আসে, আর সদকা কখনো সচ্ছল ব্যক্তির হাতেও অর্পিত হয়।

তার উক্তি "কারণ ঋণগ্রহীতা..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি কয়েকজন ফকিহ-এর কথা থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), যা মাক্কি ইবনে ইব্রাহিম স্পষ্ট করেছেন।

১৪ - ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস যে, বিলাল রাতে আজান দেয়, সুতরাং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম আজান দেয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি দৃষ্টিহীন ব্যক্তি ছিলেন; তাকে বলা না পর্যন্ত তিনি আজান দিতেন না যে, আপনি আজান দিন, আপনি তো ভোর করে ফেলেছেন।

এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

তার উক্তি "তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন" অংশটি সালিমের বক্তব্য থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মতান্তরে এটি যুহরির বক্তব্য থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), যা মালিক বর্ণনা করেছেন।

১৫ - ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং রোজা রাখলেন। যখন তিনি আল-কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি রোজা ভাঙলেন এবং লোকেরাও রোজা ভাঙল। তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদেশের মধ্যে যা সর্বশেষ হতো, তারই অনুসরণ করত। শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং তার উক্তি "তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বশেষ..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি ইবনে আব্বাসের কথা নয়, বরং যুহরির কথা থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), যা মা’মার স্পষ্ট করেছেন এবং বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনা করেছেন যা আহমাদ সংকলন করেছেন। ইবনে খুজাইমা এটি ইবনে উয়াইনাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমি জানি না এটি ইবনে আব্বাসের উক্তি, নাকি উবাইদুল্লাহর উক্তি, নাকি যুহরির উক্তি।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
16 - حَدِيث ابْن عمر نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن بيع الثَّمَرَة حَتَّى يَبْدُو صَلَاحهَا وَكَانَ إِذا سُئِلَ عَن صَلَاحهَا قَالَ تذْهب عاهتها

أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم

والمسؤول والمجيب هُوَ ابْن عمر بَين ذَلِك غنْدر أخرجه مُسلم عَن إِبْرَاهِيم

17 - حَدِيث أنس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن بيع الثِّمَار حَتَّى تزهى فَقيل يَا رَسُول الله وَمَا تزهى قَالَ تحمر وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْت إِذا منع الله الثَّمَرَة فَبِمَ يَأْخُذ أحدكُم مَال أَخِيه

أخرجه الشَّيْخَانِ تفرد بِرَفْع الْجَمِيع مَالك وَلم يُتَابِعه أحد من أَصْحَاب حميد بل بينوا كلهم أَن قَوْله أَرَأَيْت إِلَى أَخّرهُ مَوْقُوف من كَلَام أنس مِنْهُم إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر

أخرجه الشَّيْخَانِ

وَنَصّ على أدراجه أَبُو حَاتِم وَأَبُو زرْعَة وَوهم مُحَمَّد بن عباد الْمَكِّيّ فروى عَن الدَّرَاورْدِي عَن حميد عَن أنس مَرْفُوعا أَن لم يثمرها الله فَبِمَ يسْتَحل أحدكُم مَال أَخِيه أخرجه مُسلم

وَهُوَ وهم فَاحش إِذْ أسقط الْمَرْفُوع وَرفع الْمَوْقُوف وَقد رَوَاهُ إِبْرَاهِيم بن حَمْزَة عَن الدَّرَاورْدِي على الصَّوَاب وَهُوَ أحفظ وأتقن من مُحَمَّد بن عباد

18 - حَدِيث نَافِع عَن ابْن عمر من إشترى نخلا وَقد أبرت فثمرها للْبَائِع إِلَّا أَن يشْتَرط المُشْتَرِي وَمن إشترى عبدا وَله مَال فَمَاله للْبَائِع إِلَّا أَن يشْتَرط المُشْتَرِي

أخرجه الْخَطِيب

وهم فِيهِ إِسْمَاعِيل بن زَكَرِيَّا الخلقاني وَأَبُو مُعَاوِيَة والهيثم بن عدى الطَّائِي لِأَن نَافِعًا إِنَّمَا رفع بيع النّخل خَاصَّة وروى بيع العَبْد عَن ابْن عمر عَن عمر مَوْقُوفا بَينه جمَاعَة مِنْهُم يحيى بن سعيد الْقطَّان أخرجه مُسلم
16 - ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফলের পরিপক্কতা প্রকাশ পাওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। যখন তাকে পরিপক্কতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হতো, তিনি বলতেন, তার আপদ দূর হওয়া।

এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এখানে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি ও উত্তরদাতা হলেন খোদ ইবনে উমর; যা গুন্দার স্পষ্ট করেছেন এবং মুসলিম এটি ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

17 - আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! পরিপক্ক হওয়া বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন, লাল হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বললেন, ‘তোমরা কি মনে করো যদি আল্লাহ ফল উৎপাদনে বাধা দেন, তবে তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের সম্পদ কীসের বিনিময়ে গ্রহণ করবে?’

এটি শায়খাইন বর্ণনা করেছেন। মালিক এই পূর্ণ হাদিসটিকে সরাসরি নবীজির বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা (برفع) করার ক্ষেত্রে একক (تفرد) হয়ে গেছেন। হুমাইদের সাথীদের মধ্যে আর কেউ তার অনুসরণ করেননি, বরং তারা সকলেই স্পষ্ট করেছেন যে, ‘তোমরা কি মনে করো...’ থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি আনাস (রা.)-এর নিজস্ব কথা বা স্থগিত (موقوف)। তাদের মধ্যে ইসমাইল বিন জাফরও রয়েছেন।

এটি শায়খাইন বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতিম এবং আবু জুরআ এটিকে প্রক্ষিপ্তকরণ (أدراجه) হিসেবে সুনির্দিষ্ট করেছেন। মুহাম্মদ বিন আব্বাদ আল-মাক্কি এক্ষেত্রে ভ্রম (وهم) করেছেন; তিনি দারাওয়ার্দির সূত্রে, হুমাইদ থেকে, আনাস (রা.)-এর মাধ্যমে নবীজির বক্তব্য হিসেবে সরাসরি (مَرْفُوعا) বর্ণনা করেছেন যে, ‘যদি আল্লাহ তা ফলবতী না করেন, তবে তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের মাল কীভাবে হালাল মনে করবে?’ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি গুরুতর ভ্রম (وهم) ; কারণ তিনি সরাসরি নবীজির বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত (المَرْفُوع) অংশটি বাদ দিয়েছেন এবং সাহাবির নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে স্থগিত (المَوْقُوف) অংশটিকে নবীজির বক্তব্য হিসেবে সরাসরি (رفع) বর্ণনা করেছেন। ইব্রাহিম বিন হামজা দারাওয়ার্দির সূত্রে এটি সঠিকরূপে বর্ণনা করেছেন। তিনি মুহাম্মদ বিন আব্বাদের তুলনায় অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) এবং অধিক সুসংহত (أتقن)।

18 - নাফে’র সূত্রে ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিস: যে ব্যক্তি পরাগায়নকৃত খেজুর গাছ ক্রয় করল, তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা শর্তারোপ করে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো দাস ক্রয় করল যার সম্পদ আছে, তবে তার সম্পদ বিক্রেতার হবে, যদি না ক্রেতা শর্তারোপ করে।

এটি আল-খাতিব বর্ণনা করেছেন।

ইসমাইল বিন জাকারিয়া আল-খালকানি, আবু মুয়াবিয়া এবং হাইসাম বিন আদি আত-তায়ি এতে ভ্রম (وهم) করেছেন। কারণ নাফে’ কেবল খেজুর গাছ বিক্রির অংশটি নবীজির বক্তব্য হিসেবে সরাসরি বর্ণনা (رفع) করেছেন। আর দাস বিক্রির বিষয়টি তিনি ইবনে উমরের সূত্রে উমর (রা.) থেকে স্থগিত (مَوْقُوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল-কাত্তানসহ একদল বর্ণনাকারী বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন; এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قَالَ الْخَطِيب نعم الرّفْع للقصتين جَمِيعًا ثَابت عَن سَالم عَن ابْن عمر أخرجه الشَّيْخَانِ

فَأَما عَن نَافِع فَالصَّحِيح من حَدِيثه رفع قصَّة النّخل ووقف قصَّة العَبْد وَقد رجح النَّسَائِيّ رِوَايَة نَافِع على رِوَايَة سَالم

19 - حَدِيث ابْن عمر نهى عَن بيع حَبل الحبلة وحبل الحبلة أَن تنْتج النَّاقة مَا فِي بَطنهَا ثمَّ تنْتج الَّذِي نتجت

أخرجه الشَّيْخَانِ وَالنَّسَائِيّ

التَّفْسِير مدرج من قَول نَافِع بَينه وَأَبُو سلمه مُوسَى بن إِسْمَاعِيل أخرجه مُسلم

20 - حَدِيث أبي سعيد الذَّهَب بِالذَّهَب مثلا بِمثل لَا يشق بعضهما على بعض وَالْفِضَّة بِالْفِضَّةِ مثلا بِمثل لَا فضل بَينهمَا وَلَا يُبَاع غَائِب بناجز أَنِّي أَخَاف عَلَيْكُم الرماء والرماء الرِّبَا أخرجه الأسماعيلي

قَوْله أَنِّي أَخَاف عَلَيْكُم الرماء مدرج لَيْسَ من كَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا هُوَ من قَول عمر وهم أَبُو معشر نجيح فأدرجه فِي حَدِيث أبي سعيد وَقد ميزه جمَاعَة مِنْهُم جرير بن حَازِم أخرجه مُسلم وَأَيوب أخرجه أَحْمد

قلت وَقَوله الرماء الرماء مدرج ثَان فَإِنَّهُ لَيْسَ من كَلَام عمر بل تَفْسِير من بعض الرواه أَو أدراج فِي أدراج
আল-খতিব বলেন, হ্যাঁ, উভয় ঘটনার ক্ষেত্রেই মারফু (الرفع) হওয়া সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে সালেম থেকে ইবনে উমরের সূত্রে; যা শাইখাইন বর্ণনা করেছেন।

আর নাফে-এর সূত্রে বর্ণিত তার হাদিসের মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) হলো খেজুর গাছের ঘটনাটিকে মারফু (رفع) করা এবং দাসের ঘটনাটিকে মাওকুফ (وقف) রাখা। ইমাম নাসায়ি সালেমের বর্ণনার বিপরীতে নাফে-এর বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

১৯ - ইবনে উমরের হাদিস: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'হাবালুল হাবালা' (গর্ভস্থ ভ্রূণের গর্ভস্থ সন্তান) ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আর 'হাবালুল হাবালা' হলো উষ্ট্রী তার গর্ভে যা আছে তা প্রসব করবে, অতপর সেই প্রসূত সন্তানটি বড় হয়ে পুনরায় গর্ভবতী হয়ে যা প্রসব করবে (তা বিক্রয় করা)।

এটি শাইখাইন এবং নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

এই ব্যাখ্যাটি নাফে-এর বক্তব্য থেকে সংযোজিত (مدرج); যা আবু সালামা মুসা ইবনে ইসমাইল স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

২০ - আবু সাঈদের হাদিস: সোনার বিনিময়ে সোনা সমান সমান হতে হবে, একটির ওপর অন্যটির আধিক্য থাকবে না। রুপার বিনিময়ে রুপা সমান সমান হতে হবে, উভয়ের মধ্যে কোনো কমবেশি হবে না। আর নগদ জিনিসের বিনিময়ে বাকিতে কোনো কিছু বিক্রয় করা যাবে না। আমি তোমাদের ব্যাপারে 'রিমা' (الرماء) এর ভয় করি; আর 'রিমা' হলো সুদ। এটি ইসমাইলি বর্ণনা করেছেন।

"আমি তোমাদের ব্যাপারে 'রিমা' এর ভয় করি"—এই অংশটুকু সংযোজিত (مدرج)। এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী নয়, বরং এটি উমরের কথা। আবু মাশার নাজিহ এখানে ভ্রম (وهم) করেছেন এবং একে আবু সাঈদের হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন। তবে একদল বর্ণনাকারী একে আলাদা করে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন জারির ইবনে হাজিম (যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন) এবং আইয়ুব (যা আহমদ বর্ণনা করেছেন)।

আমি বলছি, "রিমা হলো সুদ"—এই অংশটুকু হলো দ্বিতীয় পর্যায়ের সংযোজন (مدرج)। কারণ এটি উমরেরও কথা নয়, বরং কোনো কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা অথবা এটি সংযোজনের ভেতরে আরও একটি সংযোজন (إدراج)।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
21 - حَدِيث ابْن عمر من أعتق شركا لَهُ فِي عبد عتق مَا بَقِي فِي مَاله إِذا كَانَ لَهُ مَا يبلغ ثمن العَبْد

أخرجه أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ

قَوْله إِذا كَانَ لَهُ الخ مدرج من كَلَام الزُّهْرِيّ بَينه ابْن رَاهْوَيْةِ أخرجه أَبُو يعلى

وَرَوَاهُ الديري عَن عبد الرَّزَّاق فَقَالَ فِي آخِره لَا أَدْرِي

قَوْله إِذا كَانَ إِلَى آخِره فِي حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو شَيْء قَالَه الزُّهْرِيّ وَأخرجه أَحْمد عَن عبد الرَّزَّاق مُقْتَصرا على الْمَرْفُوع فَقَط

قَالَ الْخَطِيب كَانَ مُوسَى بن عقبَة يَقُول لِلزهْرِيِّ أفصل كلامك عَن كَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما كَانَ يحدث بِهِ فيخلطه بِكَلَامِهِ

22 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة من أعتق شخصا فِي مَمْلُوك فخلاصة مَا بَقِي مِنْهُ عَلَيْهِ فِي مَاله إِن كَانَ لَهُ مَال وَإِلَّا قوم قيمَة عبد فاستسعى فِيهَا غير مشقوق عَلَيْهِ

أخرجه أَبُو دَاوُد

وَذكر الأستسعاء مدرج من قَول قتاده بَينه أَبُو عبد الرَّحْمَن الْمقري عَن همام فَقَالَ فِي آخِره قَالَ همام وَكَانَ قَتَادَة يَقُول إِن لم يكن لَهُ مَال إستسعى وَجَمَاعَة من الروَاة إقتصروا على الْمَرْفُوع وَلم يذكرُوا الأستعساء
21 - ইবনে উমরের হাদিস: "যে ব্যক্তি কোনো দাসে তার মালিকানাধীন অংশ মুক্ত করে দেয়, তবে তার সম্পদের মাধ্যমে অবশিষ্ট অংশও মুক্ত হয়ে যাবে, যদি তার কাছে দাসের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ থাকে।"

এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

তার উক্তি "যদি তার কাছে থাকে..." ইত্যাদি অংশটি যুহরীর বক্তব্য থেকে সংমিশ্রিত (مدرج), যা ইবনে রাহওয়ীয়াহ স্পষ্ট করেছেন এবং আবু ইয়ালা তা বর্ণনা করেছেন।

দাইরি এটি আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শেষে বলেছেন: "আমি জানি না—"

তার উক্তি "যদি তার কাছে থাকে..." শেষ পর্যন্ত—এটি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের অংশ নাকি যুহরীর উক্তি? আহমদ এটি আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন যেখানে তিনি শুধুমাত্র রাসূলের সাথে সম্পর্কিত (مرفوع) অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

খতিব বলেন, মুসা ইবনে উকবা যুহরীকে বলতেন: "আপনার কথাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা থেকে আলাদা করুন," কারণ তিনি যখন বর্ণনা করতেন, তখন নিজের কথাকে তাঁর কথার সাথে মিশিয়ে ফেলতেন।

22 - আবু হুরায়রার হাদিস: "যে ব্যক্তি কোনো দাসের একটি অংশ মুক্ত করে, তবে তার সম্পদের মাধ্যমে অবশিষ্ট অংশটিও তার দায়িত্বে মুক্ত হবে যদি তার সম্পদ থাকে। অন্যথায় দাসের মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তাকে তা উপার্জনের সুযোগ (ইস্তিসআ) দেওয়া হবে যেন তার ওপর কষ্টকর না হয়।"

এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

'ইস্তিসআ' বা উপার্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা কাতাদাহর কথা থেকে সংমিশ্রিত (مدرج), যা আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি হাম্মাম থেকে বর্ণনা করে স্পষ্ট করেছেন। তিনি এর শেষে বলেছেন: হাম্মাম বলেছেন যে, কাতাদাহ বলতেন—"যদি তার সম্পদ না থাকে তবে সে উপার্জনের চেষ্টা (ইস্তিসআ) করবে।" একদল বর্ণনাকারী (الرواة) রাসূলের সাথে সম্পর্কিত (مرفوع) বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং তারা উপার্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
23 - حَدِيث ابْن عمر نهى عَن نِكَاح الشّغَار والشغار أَن يُزَوّج الرجل إبنته على أَن يُزَوجهُ الآخر إبنته وَلَيْسَ بَينهمَا صدَاق

أخرجه الشَّيْخَانِ

تَفْسِير الشّغَار لَيْسَ بمرفوع بل قَول مَالك بَينه إِبْنِ مهْدي والقعنبي ومحرز ابْن عون أخرجه أَحْمد وَنَافِع بَينه يحيى بن سعيد الْقطَّان عَن عبيد الله بن عمر قَالَ قلت لنافع مَا الشّغَار فَذكره أخرجه أَبُو دَاوُد وَحكى الْبَيْهَقِيّ فِي الْمعرفَة عَن الشَّافِعِي أَنه قَالَ تَفْسِير الشّغَار مَا أَدْرِي هَل هُوَ من النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو من قَول إِبْنِ عمر أَو من نَافِع أَو من مَالك قلت قَالَ فِي فتح الْبَارِي الَّذِي تحرر أَنه من قَول نَافِع

24 - حَدِيث ابْن عمر طلقت إمرأتي وَهِي حَائِض فَأتى عمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ مره فَلْيُرَاجِعهَا فَإِن طهرت فَلْيُطَلِّقهَا إِن شَاءَ فَقَالَ عمر يَا رَسُول الله أفيحتسب بِتِلْكَ التطليقة قَالَ نعم وَمن طَرِيق آخر قَالَ فيحتسب بالتطليقة قَالَ فَمه وأخرجهما الْخَطِيب وَقَالَ الأول وهم مَحْض وَالثَّانِي مدرج وَالصَّوَاب أَن الِاسْتِفْهَام من قَول ابْن سِيرِين وَالْجَوَاب من قَول ابْن عمر بَين ذَلِك جمَاعَة مِنْهُم مُحَمَّد بن جَعْفَر أخرجه مُسلم
23 - ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি শিগার বিয়ে নিষিদ্ধ করেছেন। শিগার হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যাকে অন্য ব্যক্তির সাথে এই শর্তে বিয়ে দেওয়া যে, অপর ব্যক্তিও তার কন্যাকে প্রথম ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেবে এবং তাদের উভয়ের মাঝে কোনো মোহরানা থাকবে না।

শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।

শিগার-এর এই ব্যাখ্যা মারফু (مرفوع) নয়, বরং এটি মালিকের উক্তি। ইবনে মাহদি, কানাবি এবং মুহরিজ ইবনে আউন এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ এটি উদ্ধৃত করেছেন। নাফি'র বর্ণনা থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি নাফিকে জিজ্ঞাসা করলাম, শিগার কী? তখন তিনি এটি উল্লেখ করলেন; আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। আল-বায়হাকি 'আল-মারিফা' গ্রন্থে ইমাম শাফিঈ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেছেন: শিগার-এর এই ব্যাখ্যাটি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, নাকি ইবনে উমর, নাফি অথবা ইমাম মালিকের উক্তি—তা আমি জানি না। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: 'ফাতহুল বারি'-তে বলা হয়েছে যে, এটি নাফি-এর উক্তি হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

24 - ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিস, আমি আমার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলাম। অতঃপর উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "তাকে নির্দেশ দাও যেন সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, অতঃপর সে পবিত্র হলে সে চাইলে তাকে তালাক দিতে পারে।" উমর জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সেই তালাকটি কি গণ্য হবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তবে কি তালাকটি গণ্য হবে? তিনি বললেন: "তবে আর কী?" খতিব আল-বাগদাদি উভয়টি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, প্রথমটি নিছক ভ্রম (وهم محض) এবং দ্বিতীয়টি মুদরাজ বা প্রক্ষিপ্ত (مدرج)। সঠিক বিষয় হলো এই যে, প্রশ্নটি ইবনে সিরিনের উক্তি এবং উত্তরটি ইবনে উমরের উক্তি; মুহাম্মদ ইবনে জাফরসহ একদল বর্ণনাকারী বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
25 - حَدِيث سهل بن سعد أَرَأَيْت رجلا وجد مَعَ إمرأته رجلا الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ فَكَانَت السّنة فيهمَا أَن يفرق بَين المتلاعنين وَكَانَت حَامِلا فَأنْكر حملهَا وَكَانَ إبنها يدعى إِلَيْهَا ثمَّ جرت السّنة فِي الْمِيرَاث أَن يَرِثهَا وترث مِنْهُ مَا فرض الله لَهَا أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَقَالَ هَكَذَا رَوَاهُ سُوَيْد بن سعيد عَن مَالك وَقَوله كَانَت حَامِلا إِلَى آخِره لَيْسَ فِي الموطأولا أعلم رَوَاهُ غير سُوَيْد وَأما قَوْله كَانَت السّنة فيهمَا أَن يفرق بَين المتلاعنين فَإِنَّهُ فِي الموطأمن قَول الزُّهْرِيّ مَفْصُولًا من حَدِيث سهل وَقد تَابع سويدا على إدراجه فِي حَدِيث سهل جمَاعَة مِنْهُم الْأَوْزَاعِيّ وفليح وحديثهما فِي البُخَارِيّ وَغَيره عَن الزُّهْرِيّ جمَاعَة مِنْهُم إِبْنِ جريج

أخرجه الشَّيْخَانِ

قَالَ شيخ الْإِسْلَام وَالزِّيَادَة الَّتِي استنكرها الدَّارَقُطْنِيّ بَين يُونُس بن يزِيد إِنَّهَا قَول سهل بن سعد أخرجه مُسلم

قلت فَهُوَ فِي المدرج فِي الْوسط كَمَا نَص عَلَيْهِ مُسلم

26 - حَدِيث أم زرع أخرجه مُسلم وَابْن حبَان

كُله مدرج مَوْقُوف على عَائِشَة وَالْمَرْفُوع مِنْهُ كنت لَك كَأبي زرع لأم زرع كَذَا بَينه عِيسَى بن يُونُس أخرجه الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيّ

قلت قَالَ فِي فتح الْبَارِي الْأَقْوَى رَفعه كُله فَإِن قَوْله كنت لَك كَأبي زرع لأم زرع يَقْتَضِي أَنه صلى الله عليه وسلم سمع الْقِصَّة وَعرفهَا فاقرها فَيكون كُله مَرْفُوعا من هَذِه الْحَيْثِيَّة
25 - সহল বিন সা'দ (রা.)-এর হাদিস: "আপনি কি মনে করেন যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে দেখে..." হাদিসটি শেষ পর্যন্ত, যেখানে বলা হয়েছে: "অতঃপর তাদের ক্ষেত্রে সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়েছে যে, লিআনকারীদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে।" সে গর্ভবতী ছিল এবং তিনি (স্বামী) তার গর্ভ অস্বীকার করেছিলেন। আর তার সন্তানকে মায়ের দিকেই সম্বন্ধ করা হতো। অতঃপর মিরাসের ক্ষেত্রে সুন্নাহ এভাবেই প্রচলিত হয়েছে যে, সে তার মায়ের উত্তরাধিকারী হবে এবং মা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী তার থেকে উত্তরাধিকারী হবে। এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: সুওয়াইদ বিন সাঈদ মালিক থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর তার উক্তি "সে গর্ভবতী ছিল..." শেষ পর্যন্ত—এটি মুয়াত্তায় নেই এবং আমি জানি না যে সুওয়াইদ ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন কি না। আর তাঁর কথা "লিআনকারীদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানোই তাদের ক্ষেত্রে সুন্নাহ..."—এটি মুয়াত্তায় যুহরীর বক্তব্য হিসেবে সহল-এর হাদিস থেকে পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। একদল বর্ণনাকারী সহল-এর হাদিসের ভেতরে একে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) করার ক্ষেত্রে সুওয়াইদ-এর অনুসরণ করেছেন, যাদের মধ্যে আওযায়ী ও ফুলইহ রয়েছেন। আর তাদের হাদিস বুখারীতে রয়েছে; এবং যুহরী থেকে আরও একদল এটি বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে ইবনে জুরাইজ অন্যতম।

এটি শায়খাইন বর্ণনা করেছেন।

শাইখুল ইসলাম বলেছেন: যে অতিরিক্ত অংশটিকে দারা কুতনী অগ্রহণযোগ্য মনে করেছেন, ইউনুস বিন ইয়াযিদ তা স্পষ্ট করেছেন যে এটি সহল বিন সা'দ-এর উক্তি। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: সুতরাং এটি হাদিসের মধ্যভাগে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) অংশের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি মুসলিম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

26 - উম্মে যারা'-এর হাদিস; এটি মুসলিম এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন।

এর পুরোটাই আয়েশা (রা.)-এর ওপর স্থগিত (موقوف) হিসেবে প্রক্ষিপ্ত (مدرج)। আর এর মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) অংশটি হলো: "উম্মে যারা'-এর নিকট আবু যারা' যেমন ছিল, আমি তোমার নিকট তেমন।" ঈসা বিন ইউনুস এভাবেই এটি স্পষ্ট করেছেন। এটি শায়খাইন এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে যে, এর পুরোটাই রাসূলুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হওয়া অধিক শক্তিশালী মত। কেননা তাঁর উক্তি "আমি তোমার নিকট আবু যারা'-এর মতো" এটি দাবি করে যে, তিনি (সা.) এই কিচ্ছাটি শুনেছেন এবং তা অবগত হয়ে মৌন সম্মতি প্রদান করেছেন। ফলে এই দৃষ্টিকোণ থেকে এর পুরোটাই রাসূলুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣١)
27 - حَدِيث ابْن عمر فان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن الْقُرْآن إِلَّا أَن يسْتَأْذن الرجل أَخَاهُ

أخرجه أَحْمد وَالْأَئِمَّة السِّتَّة من طرق

قَالَ الْخَطِيب الِاسْتِثْنَاء بالاستئذان من قَول ابْن عمر لَا مَرْفُوع بَينه آدم ابْن أبي اياس عَن شُعْبَة أخرجه البُخَارِيّ

وشبابة أخرجه الْخَطِيب رَوَاهُ عَاصِم بن عَليّ عَن شُعْبَة فَقَالَ أرى الاذن من قَول إِبْنِ عمر وَقَالَ مُسلم فِي رِوَايَته من طَرِيق غنْدر عَن شُعْبَة لَا أَدْرِي هَذِه الْكَلِمَة إِلَّا من كَلَام إِبْنِ عمر يَعْنِي الاسْتِئْذَان

وَرَوَاهُ مُسَدّد فِي مُسْنده عَن يحيى الْقطَّان عَن شُعْبَة وَقَالَ فِي أَخّرهُ لَا أَدْرِي فِي الحَدِيث أَو من قَول إِبْنِ عمر لَكِن رِوَايَة أَحْمد من طَرِيق عبد الْملك بن أبي عتبَة عَن جبلة بن سحيم عَن إِبْنِ عمر مَرْفُوعا إِذا أكل أحدكُم يَعْنِي مَعَ صَاحبه فَلَا يقرنن حَتَّى يستأمره يَعْنِي فِي التمرة وَرِوَايَة التِّرْمِذِيّ من طَرِيق الثَّوْريّ عَن جبلة عَن ابْن عمر نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يقرن بَين التمرتين حَتَّى يسْتَأْذن صَاحبه صَرِيحَة فِي رفع جَمِيعه

28 - حَدِيث أبي سعيد من لبس الْحَرِير فِي الدُّنْيَا لم يلْبسهُ فِي الْآخِرَة وَإِن دخل الْجنَّة لبسه أهل الْجنَّة غَيره أخرجه النَّسَائِيّ قَوْله وان دخل إِلَى آخِره مَوْقُوف من قَول أبي سعيد بَينه شَبابَة بن سَواد وَيحيى بن أبي بكير أخرجهُمَا النَّسَائِيّ
২৭ - ইবনে উমরের হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কি্বরা'ন (দুইটি খেজুর একসাথে খাওয়া) থেকে নিষেধ করেছেন, তবে কোনো ব্যক্তি যদি তার ভাইয়ের থেকে অনুমতি গ্রহণ করে।

এটি ইমাম আহমাদ এবং ছয়জন ইমাম (কুতুবুস সিত্তাহর সংকলকগণ) বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

খতিব বলেন: অনুমতি চাওয়ার ব্যতিক্রমী অংশটি ইবনে উমরের নিজস্ব বক্তব্য, এটি মারফু (مرفوع) নয়। আদম ইবনে আবি ইয়াস এটি শু’বাহ থেকে বর্ণনা করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

শাবাবাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং খতিব তা উদ্ধৃত করেছেন। আসিম বিন আলী শু’বাহ থেকে এটি বর্ণনা করে বলেন: আমি মনে করি অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি ইবনে উমরের বক্তব্য। ইমাম মুসলিম তাঁর বর্ণনায় গুন্দার সূত্রে শু’বাহ থেকে বলেন: আমি জানি না এই শব্দগুলো ইবনে উমরের কথা কি না, অর্থাৎ অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি।

মুসাদ্দাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান সূত্রে শু’বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শেষে বলেছেন: আমি জানি না এটি হাদিসের অংশ নাকি ইবনে উমরের বক্তব্য। তবে আহমাদ-এর বর্ণনায় আব্দুল মালিক ইবনে আবি উতবাহ সূত্রে জাবাল্লাহ ইবনে সুহাইম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত: যখন তোমাদের কেউ (তার সঙ্গীর সাথে) আহার করে, সে যেন দুইটিকে একত্রে না মেলায় যতক্ষণ না সে তার অনুমতি নেয়—অর্থাৎ খেজুরের ক্ষেত্রে। তিরমিযীর বর্ণনায় সাওরী সূত্রে জাবাল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) দুইটি খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না সে তার সঙ্গীর অনুমতি নেয়; এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মারফু (مرفوع) হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট।

২৮ - আবু সাঈদের হাদিস: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমি বস্ত্র পরিধান করবে, সে আখেরাতে তা পরিধান করবে না; যদিও সে জান্নাতে প্রবেশ করে, তবুও জান্নাতবাসীরা তা পরিধান করলেও সে করবে না। এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। তাঁর উক্তি 'যদিও সে প্রবেশ করে...' থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি মাওকুফ (موقوف) এবং এটি আবু সাঈদের নিজস্ব বক্তব্য। শাবাবাহ ইবনে সাওয়াদ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর এটি বর্ণনা করেছেন এবং নাসায়ি তাঁদের উভয়ের বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
29 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة جَاءَ رجل فَقَالَ إِن إبني كَانَ عسيفا على هَذَا والعسيف الْأَجِير فزنى بامرأته الحَدِيث أخرجه البُخَارِيّ قلت العسيف الْأَجِير مدرج من قَول ابْن شهَاب

30 - حَدِيث أنس إِن قدح النَّبِي صلى الله عليه وسلم إنكسر فَاتخذ مَكَان الشّعب سلسلة من فضَّة أخرجه البُخَارِيّ قَالَ مُوسَى بن هَارُون الْحمال قَوْله فَاتخذ إِلَى أَخّرهُ هَذَا قَول ابْن سِيرِين يعْنى أَن انسا هُوَ الَّذِي جعل السلسلة

31 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة مَا من مَوْلُود إِلَّا يمسهُ الشَّيْطَان حِين يُولد فَيَسْتَهِل صَارِخًا من مسته إِلَّا مَرْيَم وإبنها فَإِن شِئْتُم فاقرأوا إِنِّي أُعِيذهَا الْآيَة الْآيَة 36 آل عمرَان أخرجه مُسَدّد فِي مُسْنده

قَوْله فَإِن شِئْتُم إِلَى آخِره مدرج من قَول أبي هُرَيْرَة ميزه جمَاعَة مِنْهُم عبد الرَّزَّاق أخرجه الشَّيْخَانِ
29 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: এক ব্যক্তি এসে বললেন, ‘আমার ছেলে এই ব্যক্তির নিকট আসীফ (শ্রমিক) হিসেবে কাজ করত—আর আসীফ হলো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত ব্যক্তি—অতঃপর সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে...’ হাদিসটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। আমি বলি: ‘আসীফ হলো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত ব্যক্তি’—এই অংশটুকু ইবনে শিহাবের উক্তি থেকে প্রক্ষিপ্ত বা মিশ্রিত (مدرج)।

30 - আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পেয়ালা ভেঙে গিয়েছিল, অতঃপর তিনি ফাটার স্থানে রূপার একটি শিকল লাগিয়েছিলেন। হাদিসটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। মুসা ইবনে হারুন আল-হাম্মাল বলেন: ‘তিনি লাগিয়েছিলেন...’ শেষ পর্যন্ত—এই অংশটুকু ইবনে সিরীনের উক্তি; অর্থাৎ আনাস (রা.)-ই সেই ব্যক্তি যিনি রূপার শিকলটি লাগিয়েছিলেন।

31 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: প্রত্যেক নবজাতক যখন জন্মগ্রহণ করে তখন শয়তান তাকে স্পর্শ করে, ফলে শয়তানের স্পর্শের কারণে সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে; তবে মারইয়াম ও তাঁর পুত্র এর ব্যতিক্রম। তোমরা চাইলে তিলাওয়াত করতে পারো—‘নিশ্চয়ই আমি তাকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি...’ (সূরা আল ইমরান: ৩৬)। মুসাদ্দাদ তাঁর মুসনাদ-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি: ‘তোমরা চাইলে...’ শেষ পর্যন্ত—এই অংশটুকু আবু হুরায়রার বক্তব্য থেকে প্রক্ষিপ্ত বা মিশ্রিত (مدرج)। আবদুর রাজ্জাকসহ একদল মুহাদ্দিস এই অংশটিকে পৃথক করে দেখিয়েছেন। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
32 - حَدِيث زر أَن إِبْنِ جرموز اسْتَأْذن عَليّ عَليّ فَقَالَ ائذنوا لَهُ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول بشر قَاتل ابْن صَفِيَّة بالنَّار إِن لكل نَبِي حواريا وأحواري الزبير أخرجه الْخَطِيب

وهم فِيهِ زيد بن أخزم لَان قَوْله بشر قَاتل ابْن صَفِيَّة بالنَّار فَهُوَ قَول عَليّ وَمَا بعد مَرْفُوع ميزه جمَاعَة مِنْهُم حَمَّاد بن سَلمَة وشيبان بن عبد الرَّحْمَن عَن عَاصِم عَن زر أخرجه أَحْمد وَكَذَا ورد من وَجه آخر مفصلا عَن عَليّ أخرجه ابْن رَاهَوَيْه وَأَبُو يعلي فِي مسنديهما

33 - حَدِيث سعد مَا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول لأحد يمشي على الأَرْض أَنه من أهل الْجنَّة إِلَّا لعبد الله بن سَلام وَفِيه نزلت هَذِه الْآيَة وَشهد شَاهد من بني إِسْرَائِيل على مثله أخرجه سمويه فِي فَوَائده والخطيب

قَوْله وَفِيه نزلت إِلَى أَخّرهُ لَيْسَ من كَلَام سعد بل هُوَ مدرج من قَول مَالك كَذَا رَوَاهُ عبد الله بن وهب عَنهُ فميزه

34 - حَدِيث عُثْمَان خَيركُمْ من تعلم الْقُرْآن وَعلمه وَفضل الْقُرْآن على سَائِر الْكَلَام كفضل الله على خلقه وَذَلِكَ أَنه مِنْهُ أخرجه الْخَطِيب الْمَرْفُوع مِنْهُ إِلَى قَوْله وَعلمه وَقَوله وَفضل الْقُرْآن إِلَى أَخّرهُ مدرج من كَلَام أبي عبد الرَّحْمَن السّلمِيّ ميزه جمَاعَة من الروَاة مِنْهُم ابْن رَاهْوَيْةِ وَأَبُو مَسْعُود وَأحمد بن الْفُرَات الرَّازِيّ وَيحيى بن أبي طَالب
32 - জির্র বর্ণিত হাদিস: ইবনে জুরমুজ আলী (রা.)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলে তিনি বললেন, তাকে অনুমতি দাও। আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি—সাফিয়্যার পুত্রের হত্যাকারীকে জাহান্নামের সংবাদ দাও। নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর একনিষ্ঠ সহচর থাকে এবং আমার একনিষ্ঠ সহচর হলো জুবাইর। এটি খতিব বর্ণনা করেছেন।

এতে যায়িদ বিন আখযাম ভুল করেছেন। কারণ ‘সাফিয়্যার পুত্রের হত্যাকারীকে জাহান্নামের সংবাদ দাও’—উক্তিটি আলীর নিজস্ব উক্তি। আর এর পরবর্তী অংশটুকু মারফূ (مرفوع)। একদল বর্ণনাকারী একে পৃথক করে দেখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং শায়বান বিন আব্দুর রহমান; তাঁরা আসিম থেকে, তিনি জির্র থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। একইভাবে অন্য সূত্রেও এটি আলী থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে রাহওয়াইহ ও আবু ইয়ালা তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে তা বর্ণনা করেছেন।

33 - সা’দ বর্ণিত হাদিস: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) দুনিয়াতে বিচরণকারী কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে ‘সে জান্নাতি’—এ কথা বলেছেন বলে আমি শুনিনি, কেবল আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ব্যতীত। আর তাঁর ব্যাপারেই এই আয়াত নাযিল হয়েছে—‘এবং বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী তার সদৃশ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিল...’। এটি সামুওয়াইহ তাঁর ফাওয়াইদ গ্রন্থে এবং খতিব বর্ণনা করেছেন।

‘তাঁর ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে’ থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি সা’দ-এর কথা নয়, বরং এটি ইমাম মালিকের বক্তব্য থেকে অনুপ্রবিষ্ট বা মুদরাজ (مدرج)। আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব তাঁর থেকে বর্ণনা করে একে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

34 - উসমান বর্ণিত হাদিস: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। আর সমস্ত বাণীর ওপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব; কেননা এটি তাঁর থেকেই আগত। এটি খতিব বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যে ‘শিক্ষা দেয়’ পর্যন্ত অংশটি মারফূ (مرفوع)। আর ‘কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব’ থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটুকু আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামীর কথা থেকে অনুপ্রবিষ্ট বা মুদরাজ (مدرج)। বর্ণনাকারীদের একটি দল একে পৃথক করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে রাহওয়াইহ, আবু মাসউদ, আহমাদ বিন আল-ফুরাত আর-রাযী এবং ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
35 - حَدِيث ابْن عمر نهى أَن يُسَافر بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرض الْعَدو مَخَافَة أَن يَنَالهُ الْعَدو أخرجه البُخَارِيّ وَأَبُو دَاوُد وإبن ماجة

قَوْله مَخَافَة أَن يَنَالهُ الْعَدو من كَلَام مَالك بَينه أَبُو مُصعب وإبن وهب وإبن الْقَاسِم عَن مَالك وَرَوَاهُ يحيى بن يحيى فاقتصر على الْمَرْفُوع فَقَط لَكِن رَوَاهُ أَيُّوب عَن نَافِع عَن ابْن عمر مَرْفُوعا بِتَمَامِهِ أخرجه مُسلم وَتَابعه الضَّحَّاك ابْن عُثْمَان الْحزَامِي وَاللَّيْث عَن نَافِع

36 - حَدِيث ابْن مَسْعُود تَعَاهَدُوا الْقُرْآن فَلَهو أَشد تقصيا من صُدُور الرِّجَال من النعم من عقلهَا وَلَا يقل أحدكُم نسيت كَيْت وَكَيْت بل هُوَ نسي أخرجه الدِّرَامِي وَأخرجه من وَجه آخر مَوْقُوفا كُله وَرفع كُله ووقف كُله خطا وَالصَّوَاب أَن الْمَرْفُوع مِنْهُ لَا يقل أحدكُم نسيت الخ وَأول الحَدِيث مَوْقُوف بَينه جمَاعَة مِنْهُم أَبُو مُعَاوِيَة أخرجه مُسلم وَعِيسَى بن يُونُس أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَقد رَوَاهُ مَنْصُور بن الْمُعْتَمِر وَالْحكم بن عبد الْملك عَن أبي وَائِل عَن إِبْنِ مَسْعُود مَرْفُوعا بِتَمَامِهِ أخرجه الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيّ

فَأَما الْأَعْمَش فَالصَّحِيح مِنْهُ إيقاف أَوله وَرفع قصَّة النسْيَان حسب
35 - ইবনে উমরের হাদিস: শত্রুর হাতে পড়ার আশঙ্কায় শত্রুর ভূখণ্ডে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে। এটি বুখারি, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "শত্রুর হাতে পড়ার আশঙ্কায়" এটি ইমাম মালিকের নিজস্ব কথা; যা আবু মুসআব, ইবনে ওয়াহাব এবং ইবনে আল-কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করার সময় স্পষ্ট করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি কেবল মারফু (مرفوع) অংশের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু আইয়ুব এটি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। দাহহাক ইবনে উসমান আল-হিযামি এবং আল-লাইস নাফি থেকে তাঁর অনুসরণ করেছেন।

36 - ইবনে মাসউদের হাদিস: "তোমরা কুরআনের চর্চা অব্যাহত রাখো, কেননা মানুষের অন্তর থেকে এটি রশি দিয়ে বাঁধা উট পালিয়ে যাওয়ার চেয়েও দ্রুতগতিতে হারিয়ে যায়। তোমাদের কেউ যেন না বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি, বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।" এটি দারেমি বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি ভিন্ন সূত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে মাওকুফ (موقوفا) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। এর সম্পূর্ণ অংশকে মারফু (رفع) করা কিংবা সম্পূর্ণ অংশকে মাওকুফ (وقف) হিসেবে গণ্য করা ভুল। সঠিক হলো যে, এর মারফু (مرفوع) অংশটি হলো— "তোমাদের কেউ যেন না বলে যে আমি ভুলে গেছি..." এবং হাদিসের প্রথমাংশ হলো মাওকুফ (موقوف)। একদল বর্ণনাকারী এটি স্পষ্ট করেছেন, যাদের মধ্যে আবু মুয়াবিয়া (যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন) এবং ঈসা ইবনে ইউনুস (যা বায়হাকি বর্ণনা করেছেন) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মনসুর ইবনে আল-মুতামির এবং আল-হাকাম ইবনে আব্দুল মালিক আবু ওয়াইল থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মারফু (مرفوعا) হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন; যা শায়খাইন এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

পক্ষান্তরে আমাশের বর্ণনার ক্ষেত্রে সহিহ (الصحيح) হলো এর প্রথমাংশ মাওকুফ (إيقاف) রাখা এবং কেবল বিস্মৃতির বিষয়টি মারফু (رفع) করা।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
37 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة للْعَبد الْمَمْلُوك الصَّالح أَجْرَانِ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَوْلَا الْجِهَاد فِي سَبِيل الله وَالْحج وبر أُمِّي لَا حببت أَن أَمُوت وَأَنا مَمْلُوك

أخرجه البُخَارِيّ

قَوْله وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِلَى آخِره مدرج من قَول أبي هُرَيْرَة بَينه جمَاعَة مِنْهُم أَبُو صَفْوَان الْأمَوِي وإبن وهب أخرجه مُسلم وَسليمَان إِبْنِ بِلَال أخرجه البُخَارِيّ فِي الْأَدَب الْمُفْرد

38 - حَدِيث أبي جُحَيْفَة رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ الْحسن بن عَليّ يُشبههُ وأتى بِثَوْب من القصاب أَو يذهب بِهِ القصاب عَلَيْهِ مَكْتُوب صُورَة شَيْطَان فَرمى بِهِ وَقَالَ أعوذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم

أخرجه الْخَطِيب

وقصة الثَّوْب مدرجه لِأَن أَبَا جُحَيْفَة هُوَ الَّذِي أَتَى بِالثَّوْبِ فقد رَوَاهَا عَنهُ مُفْردَة إِبْرَاهِيم بن حميد الرواسِي أخرجه الْخَطِيب وَأخرجه الشَّيْخَانِ وَغَيرهمَا من طَرِيق الْمَرْفُوع فَقَط
37 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "সৎ ক্রীতদাসের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ এবং আমার মায়ের প্রতি সদাচরণ করার বাধ্যবাধকতা না থাকত, তবে আমি ক্রীতদাস হিসেবে মৃত্যুবরণ করাকে পছন্দ করতাম।"

এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।

তার উক্তি "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটুকু আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিজস্ব কথা যা হাদিসের সাথে সংযোজিত (مدرج)। একদল রাবি এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু সাফওয়ান আল-উমাবী এবং ইবনে ওয়াহাব (যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন) এবং সুলাইমান ইবনে বিলাল (যা বুখারি আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)।

38 - আবু জুহাইফা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি এবং হাসান ইবনে আলী (রা.) তাঁর সদৃশ ছিলেন। এমতাবস্থায় কসাইয়ের পক্ষ থেকে একটি কাপড় আনা হলো (অথবা কসাই কাপড়টি নিয়ে যাচ্ছিল) যাতে শয়তানের ছবি অঙ্কিত ছিল। তিনি সেটি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

এটি খতিব বাগদাদি বর্ণনা করেছেন।

কাপড় সংক্রান্ত ঘটনাটি সংযোজিত (مدرجة), কারণ আবু জুহাইফা নিজেই সেই ব্যক্তি যিনি কাপড়টি এনেছিলেন। ইব্রাহিম ইবনে হুমাইদ আর-রাওয়াসি তাঁর থেকে এটি স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন যা খতিব বাগদাদি সংকলন করেছেন। আর শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা এটি কেবল রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) অংশটুকুই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
39 - حَدِيث أم كُلْثُوم بنت عقبَة ابْن أبي معيط لَيْسَ الْكَاذِب الَّذِي يصلح بَين النَّاس فَيَقُول خيرا أَو ينمي خيرا وَلم أسمعهُ رخص فِي شَيْء من الْكَذِب إِلَّا فِي ثَلَاث فِي الْحَرْب وَفِي الْإِصْلَاح وَفِي حَدِيث الرجل امْرَأَته وَفِي حَدِيث الْمَرْأَة زَوجهَا أخرجه الْخَطِيب

قَالَ مُوسَى بن هَارُون الْحمال الْمَرْفُوع مِنْهُ أَوله وَقَوله وَلم أسمعهُ رخص إِلَى لآخره من قَول الزُّهْرِيّ وَقد ميزه يُونُس بن يزِيد أخرجه مُسلم

40 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة إِذا أقترب الزَّمَان لم تكد رُؤْيا الْمُؤمن تكذب وأصدقهم رُؤْيا أصدقهم حَدِيثا ورؤيا الْمُسلم جُزْء من سِتَّة وَأَرْبَعين جُزْءا من النُّبُوَّة والرؤيا ثَلَاثَة فرؤيا بشرى من الله ورؤيا من تخزين الشَّيْطَان ورؤيا مِمَّا يحدث الْمَرْء نَفسه فَإِذا رأى أحدكُم مَا يكره فَلَا يذكر وليقم فَليصل وَأحب الْقَيْد فِي النّوم وأكره الغل والقيد ثبات فِي الدّين

أخرجه الْخَطِيب

قَالَ الْخَطِيب الْمَتْن كُله مَرْفُوع إِلَّا ذكر الْقَيْد والغل فَإِنَّهُ قَول أبي هُرَيْرَة مدرج وَقد ميزه معمرا أخرجه مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَمِمَّنْ أَشَارَ إِلَى إدراجه البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَفِي بغية النقاد لِابْنِ الْمواق أَن عبد الْحق ذكر فِي الْأَحْكَام حَدِيث أبي هُرَيْرَة إِذا أقترب الزَّمَان الحَدِيث وَفِي آخِره وَمَا كَانَ من النُّبُوَّة فَإِنَّهُ لَا يكذب قَالَ وَقَوله وَمَا كَانَ من النُّبُوَّة فَإِنَّهُ لَا يكذب من قَول إِبْنِ سِيرِين غفل عَن بَيَانه عبد الْحق
৩৯ - উম্মে কুলসুম বিনতে উকবাহ ইবনে আবি মুআইত বর্ণিত হাদিস: "সে মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে মিমাংসা করে এবং ভালো কথা বলে অথবা উত্তম কথা প্রচার করে।" আর আমি তাঁকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে) যুদ্ধের ক্ষেত্রে, মিমাংসার ক্ষেত্রে এবং স্বামীর স্ত্রীর সাথে কথা বলা ও স্ত্রীর স্বামীর সাথে কথা বলা—এই তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যার কোনো অনুমতি দিতে শুনিনি। এটি খতিব বর্ণনা করেছেন।

মুসা ইবনে হারুন আল-হাম্মাল বলেন, এর প্রথম অংশটি রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) এবং 'আমি তাঁকে অনুমতি দিতে শুনিনি...' থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি যুহরীর উক্তি। ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ একে পৃথক করেছেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৪০ - আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস: "যখন সময় (কিয়ামত) নিকটবর্তী হবে, মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর তাদের মধ্যে যার কথা সবচেয়ে সত্য, তার স্বপ্নও সবচেয়ে সত্য হবে। মুসলিমের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। স্বপ্ন তিন প্রকার: আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের পক্ষ থেকে দেওয়া দুশ্চিন্তা এবং মানুষের নিজের মনের কল্পনা। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তা কারও কাছে ব্যক্ত না করে এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। আমি স্বপ্নে পায়ের শিকল (পছন্দ করি) এবং গলার শিকল অপছন্দ করি; আর পায়ের শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা।"

এটি খতিব বর্ণনা করেছেন।

খতিব বলেন, পায়ের শিকল ও গলার শিকলের উল্লেখ ব্যতীত মূল পাঠের (متن) সম্পূর্ণ অংশটি রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع)। কারণ সেটি আবু হুরায়রার উক্তি যা সংযোজিত (مدرج) হয়েছে। মা’মার একে পৃথক করেছেন। এটি মুসলিম ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই সংযোজনের (إدراج) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইবনুল মাওয়াকের বুগইয়াতুন নুক্কাদ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, আবদুল হক তাঁর আল-আহকাম গ্রন্থে আবু হুরায়রা বর্ণিত 'যখন সময় নিকটবর্তী হবে...' হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে রয়েছে: 'আর যা নবুয়তের অন্তর্ভুক্ত, তা মিথ্যা হতে পারে না।' তিনি (ইবনুল মাওয়াক) বলেন: 'আর যা নবুয়তের অন্তর্ভুক্ত, তা মিথ্যা হতে পারে না'—এই অংশটি ইবনে সিরিনের উক্তি, যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে আবদুল হক অসতর্ক ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
41 - حَدِيث أبي بكر الصّديق مَرْفُوعا يَا أَيهَا النَّاس إِنَّكُم تقرأون هَذِه الْآيَة وتضعونها غير مَا وَضعهَا الله يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا عَلَيْكُم أَنفسكُم الْآيَة وَأَن النَّاس إِذا رأو الْمُنكر فَلم يغيروه أوشك أَن يعمهم الله بِعَذَاب

أخرجه أَبُو يعلي

الْمَرْفُوع مِنْهُ أَن النَّاس إِذا رأو إِلَى آخِره وأوله مَوْقُوف من كَلَام أبي بكر كَذَا بَينه عَامَّة أَصْحَاب إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد مِنْهُم زُهَيْر بن مُعَاوِيَة أخرجه أَحْمد وَيزِيد بن هَارُون أخرجه أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ هَذَا مَا لخصته من كتاب شيخ الْإِسْلَام وعدتها أحد وَأَرْبَعُونَ حَدِيثا وَتركت مَا يتَعَلَّق بمدرج الْإِسْنَاد عدتهَا اثْنَان وَسَبْعُونَ حَدِيثا وَهَا أَنا أذيل الزِّيَادَات الَّتِي وعدت بهَا

42 - حَدِيث عَائِشَة كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا خرج من الْخَلَاء قَالَ غفرانك رَبنَا إِلَيْك الْمصير أخرجه ابْن خُزَيْمَة وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه وَقَالَ الْمَرْفُوع غفرانك فَقَط كَذَا أخرجه الْأَرْبَعَة قَالَ وَلم أجد هَذِه الزِّيَادَة إِلَّا فِي رِوَايَة ابْن خُزَيْمَة وَهُوَ إِمَام وَقد رَأَيْته فِي نُسْخَة قديمه لكتاب ابْن خُزَيْمَة لَيْسَ فِيهِ هَذِه الزِّيَادَة ثمَّ لحقت بِخَط آخر بحاشيته فالأشبه أَن تكون مُلْحقَة بكتابه من غير علمه ثمَّ أخرجه من وَجه آخر عَن ابْن خُزَيْمَة بِدُونِ هَذِه الزِّيَادَة قَالَ فصح بذلك بطلَان هَذِه الزِّيَادَة فِي الحَدِيث انْتهى كَلَام الْبَيْهَقِيّ
41 - আবু বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে বর্ণিত মারফূ (مرفوع) হাদিস: "হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করো এবং একে আল্লাহ যেখানে রেখেছেন তার পরিবর্তে অন্য স্থানে প্রয়োগ করো—'হে মুমিনগণ! তোমাদের নিজেদের ওপর তোমাদের দায়িত্ব অর্পিত' (আয়াত)। আর নিশ্চয়ই লোকেরা যখন অন্যায় দেখতে পায় কিন্তু তা পরিবর্তন করে না, তখন অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর আজাব দ্বারা পরিবেষ্টিত করবেন।"

এটি আবু ইয়া'লা বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্য হতে মারফূ (مرفوع) অংশটি হলো "নিশ্চয়ই লোকেরা যখন দেখবে..." থেকে শেষ পর্যন্ত, এবং এর প্রথমাংশ আবু বকর (রা.)-এর নিজস্ব উক্তি হিসেবে মাওকূফ (موقوف)। ইসমাইল ইবনে আবি খালিদের অধিকাংশ শাগরিদ এভাবেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন; তাদের মধ্যে যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া রয়েছেন যা আহমদ বর্ণনা করেছেন, এবং ইয়াযিদ ইবনে হারুন রয়েছেন যা আহমদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। এটি শায়খুল ইসলামের কিতাব থেকে আমার সংক্ষেপিত অংশ এবং এর মোট সংখ্যা একচল্লিশটি হাদিস। আর আমি সনাদে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) সংক্রান্ত হাদিসগুলো বাদ দিয়েছি যার সংখ্যা বাহাত্তরটি। এখন আমি সেই অতিরিক্ত অংশগুলোর (زيادة) পরিশিষ্ট প্রদান করছি যেগুলোর প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম।

42 - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন, "হে আমাদের রব! আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকেই ফিরে যেতে হবে।" ইবনে খুযাইমা এবং বাইহাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (বাইহাকী) বলেছেন: কেবল "গুফরা-নাকা" (ক্ষমা চাই) শব্দটুকুই মারফূ (مرفوع); চারজন (সুনান সংকলক) এভাবেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: ইবনে খুযাইমার বর্ণনা ব্যতীত এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) আমি আর কোথাও খুঁজে পাইনি; যদিও তিনি একজন ইমাম। আমি ইবনে খুযাইমার গ্রন্থের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি দেখেছি যেখানে এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) ছিল না, পরবর্তীতে এটি অন্য হাতের লেখায় পার্শ্বটীকায় যুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত যে, এটি তাঁর অজান্তেই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর তিনি অন্য একটি সূত্রে ইবনে খুযাইমা থেকে এই অতিরিক্ত অংশ (زيادة) ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এর দ্বারা হাদিসে এই অতিরিক্ত অংশের অসারতা (بطلان) প্রমাণিত হয়েছে। ইমাম বাইহাকীর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
43 - حَدِيث عَائِشَة فِي بَدْء الْوَحْي وَكَانَ يخلوا بِغَار حراء فَيَتَحَنَّث فِيهِ وَهُوَ التَّعَبُّد اللَّيَالِي ذَوَات الْعدَد أخرجه البُخَارِيّ قَوْله وَهُوَ التَّعَبُّد مدرج من تَفْسِير الزُّهْرِيّ ذكره شيخ الْإِسْلَام فِي فتح الْبَارِي

44 - حَدِيث عَائِشَة لما جَاءَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قتل زيد بن حَارِثَة وجعفر وإبن رَوَاحه جلس يعرف فِيهِ الْحزن وَأَنا أنظر من صائر الْبَاب شقّ الْبَاب فَأَتَاهُ رجل

الحَدِيث أخرجه الشَّيْخَانِ

قَوْله شقّ الْبَاب تَفْسِير لقَوْله صائر الْبَاب قَالَ الْحَافِظ فِي فتح الْبَارِي الظَّاهِر أَنه من قَول عَائِشَة وَيحْتَمل أَن يكون من بعْدهَا قلت فعلى هَذَا الِاحْتِمَال هُوَ مدرج

45 - حَدِيث ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ على الْمِنْبَر وَذكر الصَّدَقَة وَالتَّعَفُّف عَن الْمَسْأَلَة الْيَد الْعليا خير من الْيَد السُّفْلى وَالْيَد الْعليا هِيَ المنفقة والسفلى هِيَ السائلة أخرجه الشَّيْخَانِ قَالَ أَبُو الْعَبَّاس الداني فِي أَطْرَاف الْمُوَطَّأ هَذَا التَّفْسِير أى وَالْيَد الْعليا إِلَى آخِره مدرج فِي الحَدِيث قَالَ فِي فتح الْبَارِي وَيُؤَيِّدهُ مَا أخرج العسكري فِي الصَّحَابَة عَن أبن عمر أَنه كتب إِلَى بشر بن مَرْوَان أَنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول الْيَد الْعليا خير من الْيَد السُّفْلى وَلَا أَحسب الْيَد السُّفْلى إِلَّا السائلة وَلَا الْعليا إِلَّا المعطية فَهَذَا يشْهد بِأَن التَّفْسِير من كَلَام إِبْنِ عمر وأدرج أبن شيبَة عَن إِبْنِ عمر قَالَ كُنَّا نتحدث أَن الْعليا هِيَ المنفقة لَكِن جزم إِبْنِ عبد البرانه من تَتِمَّة الْمَرْفُوع ويؤيدة أَحَادِيث مِنْهَا
43 - ওহীর সূচনা প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে ‘তাহান্নুছ’ করতেন, যার অর্থ হলো নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত ইবাদত করা। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথা: “যার অর্থ হলো ইবাদত করা” — এই অংশটুকু ইমাম যুহরীর ব্যাখ্যা থেকে সংযোজিত (مدرج)। শায়খুল ইসলাম ফাতহুল বারীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

44 - আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: যখন নবী (সা.)-এর নিকট যায়দ ইবনে হারিসাহ, জাফর এবং ইবনে রাওয়াহার শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বসলেন এবং তাঁর মাঝে দুঃখের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। আর আমি দরজার ছিদ্র — অর্থাৎ দরজার ফাঁক দিয়ে তা দেখছিলাম। অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এল...

হাদিসটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি “দরজার ফাঁক” হলো তাঁর অপর উক্তি “দরজার ছিদ্র” কথাটির ব্যাখ্যা। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন, বাহ্যত এটি আয়েশা (রা.)-এর উক্তি, তবে এটিও সম্ভব যে এটি তাঁর পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর উক্তি। আমি (লেখক) বলি: এই সম্ভাবনা অনুযায়ী এটি সংযোজিত (مدرج)।

45 - ইবনে উমরের হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে থাকা অবস্থায় সদকা এবং যাচনা করা থেকে পবিত্র থাকা নিয়ে আলোচনা করার সময় বললেন: “উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম; আর উঁচু হাত হলো দানকারী হাত এবং নিচু হাত হলো যাচনাকারী হাত।” এটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন। আবু আব্বাস আদ-দানি ‘আতরাফুল মুয়াত্তা’ গ্রন্থে বলেছেন: এই ব্যাখ্যাটি অর্থাৎ ‘উঁচু হাত হলো...’ থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি হাদিসে সংযোজিত (مدرج)। ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে: আসকারি ‘আস-সাহাবা’ গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে। ইবনে উমর বিশর ইবনে মারওয়ানের নিকট লিখেছিলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম; আর আমি নিচু হাতকে যাচনাকারী এবং উঁচু হাতকে দানকারী ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না।” এটি প্রমাণ করে যে, এই ব্যাখ্যাটি ইবনে উমরের নিজস্ব কথা। ইবনে শায়বাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করে এটি সংযোজন করেছেন (أدرج) যে তিনি বলেছেন: “আমরা বলাবলি করতাম যে উঁচু হাত হলো দানকারী হাত।” তবে ইবনে আবদিল বার নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে এটি মারফু (مرفوع) হাদিসেরই অংশ। একে সমর্থন করে এমন আরও কিছু হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে...
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
حَدِيث أبي دَاوُد الْأَيْدِي ثَلَاثَة فيد الله الْعليا وَيَد الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا وَيَد السَّائِل السُّفْلى وَحَدِيث يَد الْمُعْطى الْعليا أخرجه النَّسَائِيّ

46 - حَدِيث أبي سعيد أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن الْمُنَابذَة وَهِي طرح الرجل ثَوْبه بِالْبيعِ إِلَى الرجل قبل أَن يقبله أَو ينظر إِلَيْهِ وَنهى عَن الْمُلَامسَة وَالْمُلَامَسَة لمس الرجل الثَّوْب لَا ينظر إِلَيْهِ

أخرجه الشَّيْخَانِ

قَالَ فِي فتح الْبَارِي التَّفْسِير من قَول الصَّحَابِيّ وَفِي إِبْنِ ماجة من قَول سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَهُوَ خطأ من قَائِله

47 - حَدِيث إِبْنِ عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن الْمُزَابَنَة والمزابنة اشْتِرَاء التَّمْر بالثمر كَيْلا وَبيع الْكَرم بالزبيب كَيْلا

أخرجه الشَّيْخَانِ

قَالَ فِي فتح الْبَارِي

التَّفْسِير من قَول الصَّحَابِيّ

48 - حَدِيث أبي سعيد أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن الْمُزَابَنَة والمحاقلة والمزابنة إشتراء الثَّمر بِالتَّمْرِ فِي رُؤُوس النّخل والمحاقلة كِرَاء الأَرْض أخرجه الشَّيْخَانِ التَّفْسِير من قَول الصَّحَابَة
আবু দাউদের হাদিস: হাত তিন প্রকার—আল্লাহর হাত সবার উপরে, দাতার হাত তার পরেই এবং যাঞ্চাকারীর হাত সবার নিচে। আর 'দাতার হাত উপরে'—এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ী।

46 - আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'মুনাবাদাহ' নিষিদ্ধ করেছেন। আর তা হলো কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দিকে পণ্যটি গ্রহণ করার বা তা দেখার আগেই কাপড় ছুড়ে দেওয়া। আর তিনি 'মুলামাসাহ' নিষিদ্ধ করেছেন। আর 'মুলামাসাহ' হলো পণ্য না দেখে কেবল কোনো ব্যক্তির কাপড় স্পর্শ করা।

এটি বর্ণনা করেছেন শায়খাইন।

ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, এই ব্যাখ্যাটি সাহাবী (صحابي)-এর উক্তি থেকে সংগৃহীত। আর ইবনে মাজাহ-তে এটি সুফিয়ান বিন উয়ায়নার উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একটি ভুল (خطأ)।

47 - ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'মুজাবানাহ' নিষিদ্ধ করেছেন। 'মুজাবানাহ' হলো মেপে রাখা শুকনা খেজুরের বিনিময়ে গাছের কাঁচা খেজুর ক্রয় করা এবং মেপে রাখা কিসমিসের বিনিময়ে আঙুর বাগানের আঙুর মেপে বিক্রয় করা।

এটি বর্ণনা করেছেন শায়খাইন।

ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে:

এই ব্যাখ্যাটি সাহাবী (صحابي)-এর উক্তি থেকে সংগৃহীত।

48 - আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'মুজাবানাহ' ও 'মুহাকালাহ' নিষিদ্ধ করেছেন। 'মুজাবানাহ' হলো খেজুর গাছে থাকা অবস্থায় তা শুকনা খেজুরের বিনিময়ে ক্রয় করা এবং 'মুহাকালাহ' হলো জমি ইজারা দেওয়া। এটি বর্ণনা করেছেন শায়খাইন। এই ব্যাখ্যাটি সাহাবীগণের (صحابة) উক্তি থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
49 - حَدِيث عَائِشَة فِي الْهِجْرَة واستأجر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بكر رجلا من بني الديل هاديا خريتا الحَدِيث والخريت الماهر بالهداية وَقد غمس حلفا فِي آل الْعَاصِ بن وَائِل السَّهْمِي

الحَدِيث أخرجه الشَّيْخَانِ

قَوْله الخريت الماهر بالهداية مدرج من قَول الزُّهْرِيّ قَالَه فِي فتح الْبَارِي

50 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة وكلني رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِحِفْظ زَكَاة رَمَضَان فَأَتَانِي آتٍ فَجعل يحثو من الطَّعَام الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ لن يزَال عَلَيْك من الله حَافظ وَلَا يقربك شَيْطَان حَتَّى تصبح وَكَانُوا أحرص شَيْء على الْخَيْر فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أما أَنه قد صدقك وَهُوَ كذوب أخرجه البُخَارِيّ

قَوْله وَكَانُوا أحرص شَيْء على الْخَيْر قَالَ فِي فتح الْبَارِي كَأَنَّهُ مدرج من كَلَام بعض الروَاة

51 - حَدِيث إِبْنِ الزبير أَن رجلا من الْأَنْصَار خَاصم الزبير فِي شراج الْحرَّة الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ فَأمره بِالْمَعْرُوفِ وإسترعى لَهُ حَقه أخرجه البُخَارِيّ

قَالَ فِي فتح الْبَارِي كَانَ هَذَا الْكَلَام من قَول الزُّهْرِيّ فَإِنَّهُ كَانَت عَادَته أَن يصل بِالْحَدِيثِ مَا هُوَ من كَلَامه مَا يظْهر لَهُ من معنى الشَّرْح وَالِاحْتِمَال
49 - হিজরত প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর বনু আদ-দীল গোত্রের একজন ব্যক্তিকে দক্ষ পথপ্রদর্শক হিসেবে ভাড়া করেছিলেন... হাদিসটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "খিররিত হলো পথপ্রদর্শনে দক্ষ ব্যক্তি" কথাটি যুহরী-এর উক্তি থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج); এটি ফাতহুল বারী গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

50 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমজানের জাকাত হেফাজতের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তখন একজন আগন্তুক এসে অঞ্জলি ভরে খাবার নিতে শুরু করল... হাদিসের শেষ পর্যন্ত, যেখানে বলা হয়েছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তোমার নিকটবর্তী হতে পারবে না। আর তারা (সাহাবীগণ) কল্যাণের প্রতি সর্বাধিক আগ্রহী ছিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সাবধান! সে তোমার কাছে সত্য বলেছে, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী (كذوب)।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "আর তারা কল্যাণের প্রতি সর্বাধিক আগ্রহী ছিলেন" সম্পর্কে ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে যে, এটি সম্ভবত কোনো একজন বর্ণনাকারীর কথা থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج)।

51 - ইবনুল জুবায়ের (রা.) বর্ণিত হাদিস: জনৈক আনসারী ব্যক্তি হাররার নালা নিয়ে জুবায়ের (রা.)-এর সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল... পরিশেষে তিনি তাকে ন্যায়ের আদেশ দিলেন এবং তার হকের প্রতি লক্ষ্য রাখলেন। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই কথাটি যুহরী-এর উক্তি থেকে এসেছে, কেননা তাঁর অভ্যাস ছিল হাদিসের সাথে নিজের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য অর্থের অবতারণা করা।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٤١)
52 - حَدِيث عَائِشَة إِن الْمَلَائِكَة تنزل فِي الْعَنَان وَهُوَ السَّحَاب فَتذكر الْأَمر قضى فِي السَّمَاء

الحَدِيث أخرجه الشَّيْخَانِ قَوْله

وَهُوَ السَّحَاب مدرج قَالَه فِي فتح الْبَارِي

53 - حَدِيث ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن جنان ذَوَات الْبيُوت وَهِي العوامر

أخرجه البُخَارِيّ

قَوْله وَهِي العوامر مدرج من قَول الزُّهْرِيّ قَالَه فِي فتح الْبَارِي

54 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن مُوسَى كن رجلا حييا ستيرا الحَدِيث وَفِيه فو الله أَن بِالْحجرِ لندبا من أثر ضَرْبَة ثَلَاثًا أَو أَرْبعا أَو خمْسا فَذَلِك قَوْله يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِين آذوا مُوسَى الْآيَة

أخرجه الشَّيْخَانِ

قَوْله فو الله إِلَى آخِره مدرج من قَول أبي هُرَيْرَة قَالَه فِي فتح الْبَارِي

55 - حَدِيث لي خَمْسَة أَسمَاء أَنا مُحَمَّد الحَدِيث

أخرجه البُخَارِيّ

لَفْظَة خَمْسَة مدرجة وَأكْثر الرِّوَايَات لي أَسمَاء بِدُونِهَا وَقد بيّنت ذَلِك فِي أول شرح الْأَسْمَاء النَّبَوِيَّة
52 - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ‘আনান’ অর্থাৎ মেঘমালার মধ্যে অবতরণ করেন এবং তা হলো মেঘ; অতঃপর তাঁরা আসমানে ফয়সালাকৃত বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেন।

হাদিসটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। তাঁর উক্তি:

"আর তা হলো মেঘ" অংশটি শব্দ সংযোজিত (مدرج), এটি ফাতহুল বারিতে বলা হয়েছে।

53 - ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সা.) ঘরে বসবাসকারী সাপ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "আর সেগুলো হলো ঘরে বসবাসকারী সাপ" অংশটি ইমাম যুহরীর উক্তি থেকে শব্দ সংযোজিত (مدرج), এটি ফাতহুল বারিতে বলা হয়েছে।

54 - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: নিশ্চয়ই মূসা (আ.) ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল ও শরীর আবৃতকারী ব্যক্তি... হাদিসের শেষাংশে রয়েছে: "আল্লাহর কসম, পাথরের গায়ে তিন, চার বা পাঁচটি আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণীর উদ্দেশ্য: হে মুমিনগণ, তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল..." (আয়াত)।

এটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "আল্লাহর কসম..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর উক্তি থেকে শব্দ সংযোজিত (مدرج), এটি ফাতহুল বারিতে বলা হয়েছে।

55 - হাদিস: "আমার পাঁচটি নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মদ..." (পুরো হাদিস)।

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

"পাঁচটি" শব্দটি শব্দ সংযোজিত (مدرجة); অধিকাংশ বর্ণনা (روايات)-এ এটি ব্যতিরেকে "আমার নামসমূহ রয়েছে" হিসেবে এসেছে। আমি এটি আসমাউন নববিয়্যাহ-এর শারহ বা ব্যাখ্যার শুরুতে স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
56 - حَدِيث كَعْب بن مَالك فِي قصَّة تخلفه عَن تَبُوك وَفِيه والمسلمون مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كثير وَلَا يجمعهُمْ كتاب حَافظ يُرِيد الدِّيوَان

أخرجه الشَّيْخَانِ

قَوْله يُرِيد الدِّيوَان مدرج من كَلَام الزُّهْرِيّ قَالَه فِي فتح الْبَارِي

57 - حَدِيث أبي سعيد يدعى نوح يَوْم الْقِيَامَة فَيَقُول هَل بلغت الحَدِيث وَفِيه فَذَلِك قَوْله جَعَلْنَاكُمْ أمة وسطا الْآيَة

وَالْوسط الْعدْل

أخرجه البُخَارِيّ

زعم بَعضهم أَن قَوْله الْوسط مدرج من كَلَام بعض الروَاة قَالَ فِي فتح الْبَارِي وَهُوَ وهم بل هُوَ من نفس الْخَبَر

58 - حَدِيث عَليّ فِي قصَّة الخَنْدَق حسرنا على الصَّلَاة الْوُسْطَى صَلَاة الْعَصْر أخرجه مُسلم

قلت مَا زَالَ يختلج فِي ضميري قَدِيما أَن قَوْله صَلَاة الْعَصْر مدرج لَيْسَ بمرفوع أدرجه بعض الروَاة تَفْسِيرا وَيُؤَيّد ذَلِك أُمُور أَحدهَا اخْتِلَاف الصَّحَابَة فِي الصَّلَاة الْوُسْطَى كَمَا أخرجه ابْن جرير عَن سعيد ابْن الْمسيب قَالَ كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مُخْتَلفين فِي الصَّلَاة الْوُسْطَى هَكَذَا وَشَبك بَين أَصَابِعه وَلَو كَانَ عَددهمْ فِي ذَلِك نَص عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لرجعوا إِلَيْهِ وَلم يَخْتَلِفُوا الثَّانِي أَن عليا راوى الحَدِيث ورد عَنهُ أَن الصَّلَاة الْوُسْطَى صَلَاة الصُّبْح أخرجه مَالك فِي الوطأوورد عَنهُ أَنَّهَا الظّهْر أخرجه إِبْنِ الْمُنْذر
৫৬ - কাব ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস, তাঁর তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘটনা প্রসঙ্গে। এতে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে মুসলিমগণ সংখ্যায় অনেক ছিলেন এবং কোনো সংরক্ষিত কিতাব বা রেজিস্টার তাদের একত্র করত না", এখানে 'দিওয়ান' (রেজিস্টার) বোঝানো হয়েছে।

শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "তিনি দিওয়ান বা রেজিস্টার বুঝিয়েছেন" অংশটি জুহরি-এর বক্তব্য থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج)। ফাতহুল বারী গ্রন্থে এটি বলা হয়েছে।

৫৭ - আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিস: কিয়ামতের দিন নূহ (আ.)-কে ডাকা হবে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) জিজ্ঞাসা করবেন, "তুমি কি (বার্তা) পৌঁছে দিয়েছ?"—এই হাদিস। এতে রয়েছে: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি"—এই আয়াত।

আর 'ওয়াসাত' (وسط) অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণ (عدل)।

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, 'ওয়াসাত' কথাটি জনৈক বর্ণনাকারীর বক্তব্য থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج)। ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটি একটি ভুল ধারণা; বরং এটি মূল সংবাদের (হাদিসের) অংশ।

৫৮ - খন্দকের যুদ্ধের ঘটনা নিয়ে আলী (রা.)-এর হাদিস: "আমাদেরকে সালাতুল উসতা অর্থাৎ আসরের সালাত থেকে বিরত রাখা হয়েছে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আমি বলি, আমার অন্তরে দীর্ঘকাল যাবৎ এই সংশয় জাগছিল যে, 'আসরের সালাত' কথাটি প্রক্ষিপ্ত (مدرج), এটি মারফু (مرفوع) নয়; কোনো কোনো বর্ণনাকারী ব্যাখ্যার খাতিরে এটি প্রক্ষিপ্ত করেছেন। বিষয়টি বেশ কিছু কারণ দ্বারা সমর্থিত। প্রথমত, সালাতুল উসতা সম্পর্কে সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ থাকা। যেমনটি ইবনে জারীর সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ সালাতুল উসতা সম্পর্কে এভাবে মতভেদ করতেন"—এই বলে তিনি নিজের আঙুলগুলো একে অপরের মধ্যে প্রবেশ করালেন (জট পাকালেন)। যদি এ বিষয়ে তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) থাকত, তবে তারা অবশ্যই সেদিকে প্রত্যাবর্তন করতেন এবং মতভেদ করতেন না। দ্বিতীয়ত, এই হাদিসের বর্ণনাকারী আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সালাতুল উসতা হলো ফজরের সালাত। ইমাম মালিক এটি মুয়াত্তা-এ বর্ণনা করেছেন। আবার তাঁর থেকে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, এটি যোহরের সালাত; যা ইবনুল মুনজির বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
فِي تَفْسِيره وَلَو كَانَ عِنْده عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا صَلَاة الْعَصْر لم يعدل عَنهُ الثَّالِث أَن البُخَارِيّ فِي صَحِيحه روى الحَدِيث بِلَفْظ عَن صَلَاة الْوُسْطَى فَقَط وَلم يقل صَلَاة الْعَصْر ثمَّ رَوَاهُ مُسلم من وَجه أخر عَن عَليّ بِلَفْظ حسرنا عَن الصَّلَاة الْوُسْطَى يَعْنِي الْعَصْر وَهَذَا صَرِيح فِيمَا فهمته وَللَّه الْحَمد

59 - حَدِيث جَابر كُنَّا نعزل وَالْقُرْآن ينزل وَلَو كَانَ حَرَامًا لنزل فِيهِ أخرجه البُخَارِيّ

قَوْله لَو كَانَ الخ مدرج من قَول سُفْيَان كَمَا صرح بِهِ أخرجه مُسلم قَالَه فِي فتح الْبَارِي

60 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة لَا فرع وَلَا عتيرة وَالْفرع أول النِّتَاج كَانَ ينْتج لَهُم كَانُوا يذبحونه لطواغيتهم وَالْعَتِيرَة فِي رَجَب

أخرجه البُخَارِيّ

قَوْله وَالْفرع إِلَى آخِره مدرج من قَول سعيد بن الْمسيب كَمَا صرح بِهِ فِي رِوَايَة أبي دَاوُد وَفِي سنَن أبي قُرَّة أَنه من الزُّهْرِيّ

61 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة إِذا إنتعل أحدكُم فليبدأ بِالْيَمِينِ وَإِذا نزع فليبدأ بالشمال لتكن الْيَمين أَولهمَا تنعل آحرها تنْزع

أخرجه الشَّيْخَانِ

قَوْله لتكن الْيَمين إِلَى آخِره قيل أَنه مدرج قَالَه فِي فتح الْبَارِي
তার তাফসিরে; আর যদি তার কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই মর্মে বর্ণনা থাকত যে, সেটি আসর সালাত, তবে তিনি তা থেকে বিমুখ হতেন না। তৃতীয়ত, ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে হাদিসটি কেবল 'সালাতুল উসতা' শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং 'আসর সালাত' বলেননি। অতঃপর ইমাম মুসলিম আলীর (রা.) সূত্রে অন্য একটি দিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'আমাদেরকে সালাতুল উসতা অর্থাৎ আসর থেকে বিরত রাখা হয়েছে'। আমি যা বুঝেছি সে বিষয়ে এটি সুস্পষ্ট (صريح), আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

59 - জাবির (রা.)-এর হাদিস: "আমরা আজল করতাম যখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল; যদি তা হারাম (حرام) হতো, তবে সে বিষয়ে অবতীর্ণ হতো।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর কথা "যদি তা হতো..." ইত্যাদি অংশটি সুফিয়ানের উক্তি থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج), যেমনটি ইমাম মুসলিম বর্ণিত বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ফাতহুল বারীতে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

60 - আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস: "কোনো ফার' নেই এবং কোনো আতীরাহ নেই।" ফার' হলো পশুর প্রথম বাচ্চা যা তাদের জন্মাত এবং তারা তা তাদের মূর্তিদের উদ্দেশ্যে জবাই করত। আর আতীরাহ হলো রজব মাসে জবাইকৃত পশু।

ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর কথা "ফার' থেকে শেষ পর্যন্ত" অংশটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের উক্তি থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج), যেমনটি আবু দাউদের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আর সুনান আবি কুররাহ-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি যুহরির উক্তি।

61 - আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস: "তোমাদের কেউ যখন জুতা পরিধান করবে তখন যেন ডান পা দিয়ে শুরু করে, আর যখন খুলবে তখন যেন বাম পা দিয়ে শুরু করে; যাতে ডান পা পরিধানের ক্ষেত্রে প্রথম হয় এবং খোলার ক্ষেত্রে শেষ হয়।"

শাইখাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর কথা "ডান পা যেন হয়..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি অনুপ্রবিষ্ট (مدرج)। ফাতহুল বারীতে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
62 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة عَلَيْكُم بلباس الصُّوف تَجِدُونَ حلاوة الْإِيمَان فِي قُلُوبكُمْ وَعَلَيْكُم بلباس الصُّوف تعرفُون فِيهِ الْآخِرَة فَإِن النّظر فِي الصُّوف يُورث فِي الْقلب التفكر والتفكر يُورث الْحِكْمَة وَالْحكمَة تجْرِي فِي الْجوف مجْرى الدَّم فَمن كثر تفكره قل طعمه وكل لِسَانه وَمن قل تفكره كثر طعمه وَعظم بَطْنه وقسي قلبه وَالْقلب القاسي بعيد عَن الله بعيد من الْجنَّة قريب من النَّار

أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان وَقَالَ أَن الْمَرْفُوع مِنْهُ عَلَيْكُم بلباس الصُّوف تَجِدُونَ حلاوة الْإِيمَان فِي قُلُوبكُمْ فَقَط وَالْبَاقِي زِيَادَة مُنكرَة قَالَ وَيُشبه أَن تكون من كَلَام بعض الروَاة فَالْحق بِالْحَدِيثِ وَالله أعلم وَقد أخرج الْمَرْفُوع مِنْهُ فَقَط الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه من غير زِيَادَة

63 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة ينشيء الله السَّحَاب ثمَّ ينزل فِيهِ المَاء فَلَا شَيْء أحسن من ضحكه وَلَا شَيْء أحسن من مَنْطِقه ومنطقه الرَّعْد وضحكه الْبَرْق

أخرجه ابْن مردوية فِي تَفْسِيره

قَوْله ومنطقه الرَّعْد وضحكه الْبَرْق مدرج فقد أخرج أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الْمَطَر وَأَبُو الشَّيْخ فِي كتاب العظمة عَن أبي ذَر الْغِفَارِيّ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول أَن الله ينشيء السَّحَاب فينطق أحسن النُّطْق ويضحك أحسن الضحك قَالَ إِبْرَاهِيم بن سعد الْمنطق الرَّعْد والضحك الْبَرْق
62 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "তোমরা পশমি বস্ত্র পরিধান করো, এতে তোমরা তোমাদের অন্তরে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে। তোমরা পশমি বস্ত্র পরিধান করো, এর মাধ্যমে তোমরা পরকালকে অনুধাবন করতে পারবে। কেননা পশমের বস্ত্রের দিকে দৃষ্টিপাত করা হৃদয়ে চিন্তাশীলতার উদ্রেক করে, আর চিন্তাশীলতা প্রজ্ঞা নিয়ে আসে। আর প্রজ্ঞা শরীরের অভ্যন্তরে রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হয়। সুতরাং যার চিন্তাশীলতা বৃদ্ধি পায়, তার আহার কমে যায় এবং জিহ্বা সংযত হয়; আর যার চিন্তাশীলতা হ্রাস পায়, তার আহার বৃদ্ধি পায়, উদর বড় হয় এবং অন্তর কঠোর হয়ে যায়। আর কঠোর অন্তর আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী।"

বায়হাকি এটি শুআবুল ইমান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এর মধ্য থেকে শুধুমাত্র "তোমরা পশমি বস্ত্র পরিধান করো, এতে তোমরা তোমাদের অন্তরে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে" অংশটুকুই মারফু (المرفوع) এবং অবশিষ্ট অংশটুকু আপত্তিকর অতিরিক্ত অংশ (زيادة منكرة)। তিনি বলেছেন, সম্ভবত এটি কোনো বর্ণনাকারীর নিজস্ব উক্তি যা হাদিসের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। হাকেম তার মুসতাদরাক গ্রন্থে কোনো অতিরিক্ত অংশ ছাড়াই কেবল মারফু (المرفوع) অংশটুকু বর্ণনা করেছেন।

63 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "আল্লাহ মেঘমালা সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাতে পানি বর্ষণ করেন। তাঁর হাসির চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই এবং তাঁর বাক্যের চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই; তাঁর বাক্য হলো মেঘের গর্জন এবং হাসি হলো বিজলি চমক।"

ইবনে মারদুইয়াহ এটি তাঁর তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "তাঁর বাক্য হলো মেঘের গর্জন এবং হাসি হলো বিজলি চমক" অংশটি অনুপ্রবেশিত (مدرج)। কেননা ইমাম আহমাদ ও ইবনে আবিদ দুনইয়া কিতাবুল মাতার গ্রন্থে এবং আবুশ শেখ কিতাবুল আজমা গ্রন্থে আবু যর আল-গিফারি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ মেঘমালা সৃষ্টি করেন, অতঃপর তা অতি সুন্দর বাক্য বলে এবং অতি সুন্দর হাসি হাসে।" ইব্রাহিম ইবনে সাদ বলেন, বাক্য হলো মেঘের গর্জন এবং হাসি হলো বিজলি চমক।