(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
نخبة الفكر - ط دار الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر (مطبوع ملحقا بكتاب سبل السلام)
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)
المحقق: عصام الصبابطي - عماد السيد
الناشر: دار الحديث - القاهرة
الطبعة: الخامسة، 1418 هـ - 1997 م
عدد الأجزاء: 1
تنبيه: المتن مشكول والزيادات [بين معكوفين] هي تعليقات منتخبة من الشرح، وليست من المتن
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নুখবাতুল ফিকার - দারুল হাদিস সংস্করণ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
কিতাব: নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (সুবুলুস সালাম কিতাবের পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত ৮৫২ হিজরী)
সম্পাদক: ইসাম আস-সাবাবিতি - ইমাদ আস-সাইয়্যিদ
প্রকাশক: দারুল হাদিস - কায়রো
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪১৮ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
সতর্কতা: মূল পাঠ (متن) হরকতযুক্ত এবং অতিরিক্ত অংশগুলো [তৃতীয় বন্ধনীর ভেতরে] মূল পাঠের ব্যাখ্যা থেকে নির্বাচিত টীকা মাত্র, এগুলো মূল পাঠের (متن) অন্তর্ভুক্ত নয়
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر (مطبوع ملحقا بكتاب سبل السلام) ]ـ
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (المتوفى: 852هـ)
الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت
عدد الأجزاء: 1
تنبيه: المتن مشكول والزيادات [بين معكوفين] هي تعليقات منتخبة من الشرح، وليست من المتن
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[নুখবাতুল ফিকার ফী মুসত্বলাহি আহলিল আসার (সুবুলুস সালাম কিতাবের পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত)]
লেখক: আবুল ফজল আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি)
প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি - বৈরুত
খণ্ড সংখ্যা: ১
সতর্কীকরণ: মূল পাঠ (متن) হরকতযুক্ত এবং [বন্ধনীভুক্ত] অতিরিক্ত অংশগুলো ব্যাখ্যা (شرح) থেকে নির্বাচিত টীকা, এগুলো মূল পাঠের (متن) অংশ নয়।
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢١)
مقدمةقال الإمام الحافظ: أحمد بن علي بن حجر العسقلاني - يرحمه الله تعالى -:
الحمد لله الذي لم يزل عليماً قديراً وصلى الله على سيدنا محمد الذي أرسله إلى الناس كافةً بشيراً ونذيراً، وعلى آل محمد وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن التصانيف في اصطلاح أهل الحديث قد كثرت، وبسطت واختصرت، فسألني بعض الإخوان أن ألخص له المهم من ذلك، فأجبته إلى سؤاله رجاء الاندراج في تلك المسالك.
ভূমিকাইমাম হাফেজ (الحافظ) আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাকে তিনি সমগ্র মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপরও অগণিত সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
হাদিসবেত্তাদের পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত রচনাবলি সংখ্যায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে কোনোটি বিস্তারিত আবার কোনোটি সংক্ষিপ্ত। তাই আমার কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাঁদের জন্য এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে সংকলন করি। সুতরাং আমি তাঁদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছি, এই মহৎ পথের পথিকদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায়।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢١)
الخبر إما أن يكون لهفأقول: الخبر إما أن يكون له:
* طرق بلا عدد معين.
* أو مع حصر بما فوق الاثنتين.
* أو بهما.
* أو بواحد.
فالأول: المتواتر المفيد للعلم اليقيني بشروطه [وهي عدد كثير أحالت العادة تواطؤهم على الكذاب رووا ذلك عن مثلهم من الابتداء إلى الانتهاء وكان مستند انتهائم الحسن وانضاف إلى ذلك أن يصحب خبرهم إفادة العلم لسامعه] .
والثاني: المشهور وهو المستفيض على رأي. [ويطلق المشهور على ما اشتهر على الألسنة]
والثالث: العزيز، وليس شرطاً للصحيح خلافاً لمن زعمه.
والرابع: الغريب.
وكلها - سوى الأول - آحاد.
وفيها المقبول [وهو ما يجب العمل به عند الجمهور] والمردود لتوقف الاستدلال بها على البحث عن أحوال رواتها دون الأول، وقد يقع فيها ما يفيد العلم النظري بالقرائن على المختار [كأن يخرج الخبر الشيخان في صحيحهما أو يكون مشهورا وله طرق متباينة سالمة من ضعف الرواة والعلل أو يكون مسلسلا بالأئمة الحفاظ المتقنين حيث لا يكون غريبا] .
খবর (সংবাদ) হয় হবেআমি বলছি: খবর (সংবাদ) এর সূত্রসমূহ হয় হবে:
* নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা ব্যতীত অসংখ্য পথ (طرق)।
* অথবা দুইয়ের অধিক সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
* অথবা দুইটিতে সীমাবদ্ধ।
* অথবা একটিতে সীমাবদ্ধ।
প্রথমটি হলো: মুতাওয়াতির (المتواتر), যা তার শর্তাবলী সাপেক্ষে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে [আর শর্তগুলো হলো: বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এত বেশি হওয়া যাতে অভ্যাসগতভাবে তাদের পক্ষে মিথ্যার (الكذب) ওপর একমত হওয়া অসম্ভব; তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করবেন এবং তাদের বর্ণনার শেষ পর্যায়ের ভিত্তি হবে ইন্দ্রিয়লব্ধ (الحس) বিষয়ের ওপর। এর সাথে অতিরিক্ত শর্ত হলো এই যে, তাদের সংবাদটি শ্রোতার মনে নিশ্চিত জ্ঞান সৃষ্টি করবে]।
দ্বিতীয়টি হলো: মাশহুর (المشهور), যা একটি মতানুসারে মুস্তাফিয (المستفيض) হিসেবেও পরিচিত। [মাশহুর (المشهور) শব্দটি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত বিষয়ের ওপরও প্রয়োগ করা হয়]।
তৃতীয়টি হলো: আযীয (العزيز); আর এটি সহিহ (الصحيح) হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়, যারা একে শর্ত হিসেবে দাবি করেছেন তাদের মতের বিপরীতে।
চতুর্থটি হলো: গারীব (الغريب)।
আর প্রথম প্রকার ব্যতীত এগুলোর সবগুলিই হলো আহাদ (آحاد)।
এগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য (المقبول) [যা জমহুর বা সংখ্যাধিক্য উলামার মতে আমল করা আবশ্যক] এবং প্রত্যাখ্যাত (المردود) উভয়ই রয়েছে; কারণ প্রথম প্রকার ব্যতীত এগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি বর্ণনাকারীদের অবস্থা অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল। তবে পছন্দনীয় মতানুসারে কখনো কখনো এগুলোর মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা আনুষঙ্গিক আলামতের (القرائن) ভিত্তিতে তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে [যেমন: শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাদের সহিহ গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অথবা সেটি মাশহুর (المشهور) এবং এর বহুমুখী সনদ রয়েছে যা বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা (ضعف الرواة) ও গোপন দোষত্রুটি (العلل) থেকে মুক্ত, অথবা এটি সুদক্ষ (المتقنين) হাফেজ (الحفاظ) ইমামদের মাধ্যমে পরম্পরাগত (مسلسلا) যেখানে তা গারীব (الغريب) নয়]।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٢)
أنواع الحديث
الغرابة* ثُمَّ الْغَرَابَةُ: إِمَّا أَنْ تَكُونَ فِي أَصْلِ السَّنَدِ، [طرفه الذي فيه الصحابي من أول التابعى] ، أَوْ لَا.
فالأول: الفرد المطلق.
والثاني: الفرد النسبي، ويقل إطلاق الفرد عليه [كما ان أكثر ما يطلقون الغريب على الفرد النسبي] .
وَخَبَرُ الْآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ، مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ: هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ،. [والمراد بالعدل من له ملكة تحمله على ملازمة التقوى والمروءة والمراد بالتقوى اجتناب الأعمال السيئة من شرك أو فسق أو بدعة والضبط ضبط صدر وهو أن يثبت ما سمعه بحيث يتمكن من استحضاره متى شاء وضبط كتاب وهو صيانته لديه منذ سمع فيه إلى أن يؤدى منه وقيد بالتام إشارة إلى المرتبة العليا في ذلك والمتصل ما سلم إسناده من سقوط فيه بحيث يكون كل من رجاله سمع ذلك المروى من شيخه والمعلل ما فيه علة خفية قادحة والشاذ ما يخالف فيه الراوى من هو ارجح منه]
وَتَتَفَاوَتُ رُتَبُهُ بِتَفَاوُتِ هَذِهِ الْأَوْصَافِ.
، وَمِنْ ثَمَّ قُدِّمَ صَحِيحُ الْبُخَارِيِّ، ثُمَّ مُسِلِمٍ، ثُمَّ شَرْطُهُمَا [المراد به رواتهما مع باقي شروط الصحيح] .
فَإِنْ خَفَّ الضَّبْطُ [مع بقية الشروط المتقدمة في الصحيح] : فَالْحَسَنُ لِذَاتِهِ، وَبِكَثْرَةِ طُرُقِهِ يُصَحَّحُ [فيسمى الصحيح لغيره] .
فَإِنْ جُمِعَا [كقول الترمذي حديث حسن صحيح] فَلِلتَّرَدُّدِ فِي النَّاقِلِ حَيْثُ التَّفَرُّدُ، وَإِلَّا فَبِاعْتِبَارِ إِسْنَادَيْنِ.
وَزِيَادَةُ رَاوِيهِمَا [أي الصحيح والحسن] مَقْبُولَةٌ مَا لَمْ تَقَعْ مُنَافِيَةً لِـ[رواية] مَنْ هُوَ أَوْثَقُ.
فَإِنْ خُولِفَ بِأَرْجَحَ فَالرَّاجِحُ الْمَحْفُوظُ، وَمُقَابِلُهُ الشَّاذُّ، وَ [إن وقعت المخالفة له] مَعَ الضَّعْفِ فَالرَّاجِحُ الْمَعْرُوفُ، وَمُقَابِلُهُ الْمُنْكَرُ.
হাদিসের প্রকারভেদস্বতন্ত্রতা (الغرابة)* অতঃপর স্বতন্ত্রতা (الغرابة): তা হয় সনদের মূলে (أصل السند) হবে, [সনদের সেই প্রান্ত যেখানে তাবিঈর (تابعي) শুরু থেকে সাহাবি (صحابي) বিদ্যমান থাকেন], অথবা হবে না।
প্রথম প্রকারটি হলো: একক স্বতন্ত্র (الفرد المطلق)।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: আপেক্ষিক স্বতন্ত্র (الفرد النسبي), আর এর ওপর একক (الفرد) শব্দের প্রয়োগ কম হয় [যেমনটি তারা আপেক্ষিক স্বতন্ত্র (الفرد النسبي) এর ওপর স্বতন্ত্র (الغريب) শব্দের প্রয়োগ অধিক করে থাকেন]।
আর একক সংবাদ (خبر الآحاد) যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل), পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) বর্ণনাকারীর বর্ণনায় বর্ণিত, যার সনদ সংযুক্ত (متصل السند), যা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয় এবং ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) নয়: তা-ই হলো স্বয়ং সহিহ (الصحيح لذاته)। [ন্যায়পরায়ণ (عدل) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তি যার মধ্যে এমন এক স্বভাবজাত গুণ বিদ্যমান যা তাকে তাকওয়া (تقوى) ও শিষ্টাচার (مروءة) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে। তাকওয়া (تقوى) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক, ফাসেকী বা বিদআতের মতো মন্দ আমলসমূহ থেকে বেঁচে থাকা। আর স্মৃতিশক্তি (ضبط) বলতে স্মৃতিশক্তির দৃঢ়তা বুঝায় যা দুই প্রকার— অন্তরের হিফাজত (ضبط صدر): যা হলো যা শুনেছে তা এমনভাবে স্মৃতিতে গেঁথে নেওয়া যাতে যখনই ইচ্ছা তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়; এবং লিখিত হিফাজত (ضبط كتاب): যা হলো শোনার পর থেকে অন্যের কাছে বর্ণনা করা পর্যন্ত পাণ্ডুলিপিটি নিজের কাছে সংরক্ষিত রাখা। 'পূর্ণ' (تام) শব্দ দ্বারা এই গুণের সর্বোচ্চ স্তরের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সংযুক্ত (متصل) হলো যার সনদের কোনো স্তর থেকে বর্ণনাকারী পড়ে যায়নি, বরং প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার উস্তাদ থেকে সেই বর্ণনাটি সরাসরি শুনেছেন। ত্রুটিযুক্ত (معلل) হলো যাতে কোনো গোপন ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة) বিদ্যমান থাকে। আর ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) হলো যাতে একজন বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (ارجح) কোনো বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন।]
এই গুণাবলির তারতম্যের কারণে এর স্তরবিন্যাসেও পার্থক্য ঘটে।
এ কারণেই সহিহ বুখারিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, এরপর সহিহ মুসলিমকে, এরপর তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (شرطهما) বর্ণিত হাদিসকে [শর্তানুযায়ী বলতে উদ্দেশ্য হলো সহিহ হওয়ার অন্যান্য শর্তাবলির সাথে তাদের বর্ণনাকারীদের বিদ্যমান থাকা]।
যদি স্মৃতিশক্তি কিছুটা শিথিল (خف الضبط) হয় [সহিহ হাদিসের অন্যান্য পূর্বশর্ত বজায় থাকাবস্থায়]: তবে তা স্বয়ং হাসান (الحسن لذاته), এবং বর্ণনার একাধিক সূত্রের (كثرة طرقه) কারণে তাকে সহিহ হিসেবে গণ্য করা হয় [তখন একে অন্য কারণে সহিহ (الصحيح لغيره) বলা হয়]।
আর যদি উভয় পরিভাষা একত্রে ব্যবহৃত হয় [যেমন ইমাম তিরমিযীর উক্তি: হাসান সহিহ (حسن صحيح)], তবে তা বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে সংশয়ের কারণে হতে পারে যেখানে বর্ণনাটি একক (تفرد), অন্যথায় তা দুটি ভিন্ন সনদের (إسنادين) বিবেচনায় হয়ে থাকে।
উভয় প্রকারের (অর্থাৎ সহিহ ও হাসান) বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) কারো বর্ণনার বিপরীত হয়।
যদি অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা হয়, তবে অগ্রগণ্য বর্ণনাটিকে সংরক্ষিত (المحفوظ) বলা হয় এবং এর বিপরীতটিকে ব্যতিক্রমধর্মী (الشاذ) বলা হয়। আর [যদি বিরোধিতাটি ঘটে] দুর্বলতা (الضعف) থাকা সত্ত্বেও, তবে অগ্রগণ্যটিকে পরিচিত (المعروف) বলা হয় এবং এর বিপরীতটিকে অগ্রহণযোগ্য (المنكر) বলা হয়।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٢)
الفرد النسبي* وَالْفَرْدُ النِّسْبِيُّ: إِنْ وَافَقَهُ غَيْرُهُ فَهُوَ الْمُتَابِعُ [والمتابعة مختصة بكونها من رواية ذلك الصحابي] .
وَإِنْ وُجِدَ مَتْنٌ [يروى من حديث صحابى آخر] يُشْبِهُهُ فَهُوَ الشَّاهِدُ.
وَتَتَبُّعُ الطُّرُقِ [من الجوامع والمسانيد والأجزاء] لِذَلِكَ [الحديث الذي يظن انه فرد] هُوَ الِاعْتِبَارُ.
আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي)* এবং আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي): যদি অন্য কোনো বর্ণনাকারী তার সাথে একমত হন, তবে তা হলো সমর্থক (المتابع) [আর সমর্থন (المتابعة) বিষয়টি সেই সাহাবী (صحابي)-র বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট]।
আর যদি এমন কোনো মূল পাঠ (متن) পাওয়া যায় [যা অন্য কোনো সাহাবী (صحابي)-র হাদিস থেকে বর্ণিত] যা এর সদৃশ, তবে তাকে সাক্ষী (الشاهد) বলা হয়।
এবং সেই [হাদিস যা একক বলে ধারণা করা হচ্ছে] তার জন্য বিভিন্ন সূত্র [জাওয়ামি, মুসনাদসমূহ এবং আজজা থেকে] তালাশ করাকেই অনুসন্ধান (الاعتبار) বলা হয়।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٢)
المقبول* ثُمَّ الْمَقْبُولُ: إِنْ سَلِمَ مِنَ الْمُعَارَضَةِ فَهُوَ الْمُحْكَمُ.، وَإِنْ عُورِضَ بِمِثْلِهِ: فَإِنْ أَمْكَنَ الْجَمْعُ [بغير تعسف] فَمُخْتَلِفُ الْحَدِيثِ.
أَوْ لَا [يعني: وإن لم يمكن الجمع] وثَبَتَ الْمُتَأَخِّرُ [عرف بالتاريخ] فَهُوَ النَّاسِخُ، وَالْآخَرُ الْمَنْسُوخُ.
وَإِلَّا فَالتَّرْجِيحُ، ثُمَّ التَّوَقُّفُ.
গ্রহণযোগ্য (المقبول)* অতঃপর গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিস: যদি তা বিরোধ থেকে মুক্ত থাকে তবে তা সুপ্রতিষ্ঠিত (المحكم)। আর যদি সমপর্যায়ের কোনো হাদিসের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ হয়: এমতাবস্থায় যদি [জোরপূর্বক ব্যাখ্যা ছাড়াই] উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে তা মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث)।
অথবা যদি তা না হয় [অর্থাৎ: যদি সমন্বয় করা সম্ভব না হয়] এবং পরবর্তী হাদিসটি প্রমাণিত হয় [যা ইতিহাসের মাধ্যমে জানা যায়], তবে তা রহিতকারী (الناسخ) এবং অপরটি রহিত (المنسوخ)।
অন্যথায় প্রাধান্য (الترجيح) প্রদান করতে হবে, অতঃপর (তাও সম্ভব না হলে) সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত (التوقف) থাকতে হবে।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٢)
المردود* ثُمَّ الْمَرْدُودُ: إِمَّا أَنْ يَكُونَ لِسَقْطٍ [من إسناد] أَوْ طَعْنٍ [في راو] .
প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود)* অতঃপর প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود) হাদিস: হয় তা [সনদ (إسناد) থেকে] কোনো বর্ণনাকারী বিচ্যুত হওয়ার (سقط) কারণে হয়, অথবা [বর্ণনাকারীর (راو) বিষয়ে] কোনো সমালোচনার (طعن) কারণে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٢)
السقط* فَالسَّقْطُ: إِمَّا أَنْ يَكُونَ مِنْ مَبَادِئِ السَّنَدِ مِنْ [تصرف] أَوْ مِنْ آخِرِهِ بَعْدَ التَّابِعِيِّ، أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ.
فَالْأَوَّلُ: الْمُعَلَّقُ. [قال ابن الصلاح إن وقع الحذف في كتاب التزمت صحته كالبخاري فما أتى فيه بالجزم دل على انه ثبت إسناده عنده وإنما حذف لغرض من
⦗ص: 723⦘ الأغراض وما أتى فيه بغير الجزم ففيه مقال] .
وَالثَّانِي: هُوَ الْمُرْسَلُ.
وَالثَّالِثُ: إِنْ كَانَ بِاثْنَيْنِ فَصَاعِدًا مَعَ التَّوَالِي فَهُوَ الْمُعْضَلُ، وَإِلَّا فَالْمُنْقَطِعُ. ثُمَّ [إن السقط من الإسناد] قَدْ يَكُونُ وَاضِحًا أَوْ خَفِيًّا.
* فَالْأَوَّلُ: يُدْرَكُ بِعَدَمِ التَّلَاقِي، وَمِنْ ثَمَّ احْتِيجَ إِلَى التَّأْرِيخِ..
* والثاني: المدلس [سمى بذلك لكون الراوى لم يسم من حدثه واوهم سماعه للحديث ممن لم يحدثه به] ويرد بصيغة تحتمل [وقوع] اللقي: كعن، وقال [فإن وقع بصيغة صريحة لا تجوز فيها كان كذبا] ، وكذا المرسل الخفي، من معاصر لم يلق من حدث عنه [فالفرق بين المدلس والمرسل الخفى أن التدليس يختص بمن روى عمن لقاؤه إياه فأما إن عاصره ولم يعرف انه لقيه فهو المرسل الخفى] .
সনদবিচ্যুতি (السقط)* সনদবিচ্যুতি (السقط): এটি হয় সনদের শুরু থেকে হবে [কোনো পরিবর্তনের কারণে], অথবা তাবেয়ীর পরবর্তী সনদের শেষ অংশ থেকে হবে, অথবা অন্য কোনোভাবে হবে।
প্রথম প্রকারটি হলো: মুআল্লাক (المعلق)। [ইবনে আল-সালাহ বলেন, যদি কোনো কিতাবে এমন বিচ্যুতি ঘটে যা সহিহ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—যেমন সহিহ বুখারি—তবে সেখানে যা দৃঢ়তার সাথে বর্ণিত হয়েছে তা প্রমাণ করে যে, তার কাছে এর সনদ সাব্যস্ত হয়েছে এবং কেবল কোনো এক
⦗পৃষ্ঠা: ৭২৩⦘ বিশেষ উদ্দেশ্যে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। আর যা দৃঢ়তাহীনভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা পর্যালোচনার অবকাশ রাখে]।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: মুরসাল (المرسل)।
তৃতীয় প্রকারটি হলো: যদি পরপর দুইজন বা তার বেশি রাবী বাদ পড়ে তবে তা মুদাল (المعضل), অন্যথায় তা মুনকাতি (المنقطع)। এরপর, [সনদ থেকে রাবী বাদ পড়া] কখনও স্পষ্ট (واضح) হতে পারে আবার কখনও প্রচ্ছন্ন (خفيا) হতে পারে।
* প্রথম প্রকারটি: এটি রাবীদের মধ্যে পরস্পর সাক্ষাৎ না হওয়ার দ্বারা অনুধাবন করা যায়; আর এ কারণেই ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
* দ্বিতীয় প্রকারটি: মুদাল্লাস (المدلس) [এর নামকরণ এমন করা হয়েছে কারণ রাবী যার কাছ থেকে হাদিসটি শুনেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি এবং যার কাছ থেকে শোনেননি তার কাছ থেকে শোনার ভ্রম সৃষ্টি করেছেন]। এটি এমন শব্দে বর্ণিত হয় যাতে সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকে: যেমন ‘হতে’ এবং ‘বলেছেন’ [যদি এটি এমন কোনো স্পষ্ট শব্দে বর্ণিত হয় যা সেখানে প্রয়োগ করা বৈধ নয়, তবে তা মিথ্যা (كذبا) বলে গণ্য হবে]। অনুরূপভাবে মুরসালে খাফি (المرسل الخفي), যা এমন সমসাময়িক রাবীর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয় যার সাথে তিনি যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সাক্ষাৎ হয়নি। [মুদাল্লাস এবং মুরসালে খাফির মধ্যে পার্থক্য হলো, তাদলিছ (التدليس) কেবল তার সাথেই সংশ্লিষ্ট যার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে; আর যদি সমসাময়িক হয় কিন্তু সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানা না যায়, তবে সেটি মুরসালে খাফি (المرسل الخفي)]।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٣)
الطعن* ثُمَّ الطَّعْنُ: إِمَّا أَنْ يَكُونَ لِكَذِبِ الرَّاوِي، أَوْ تُهْمَتِهِ بِذَلِكَ، أَوْ فُحْشِ غَلَطِهِ، أَوْ غَفْلَتِهِ [عن الإتقان] ، أَوْ فِسْقِهِ، أَوْ وَهْمِهِ [بأن يروى على سبيل التوهم] ، أَوْ مُخَالَفَتِهِ [للثقات] ، أَوْ جَهَالَتِهِ، أَوْ بِدْعَتِهِ، أَوْ سُوءِ حِفْظِهِ [بأن يكون ليس غلطه أقل من إصابته] .
فَالْأَوَّلُ: الْمَوْضُوعُ
وَالثَّانِي: الْمَتْرُوكُ.
وَالثَّالِثُ: الْمُنْكَرُ عَلَى رَأْيٍ [من لا يشترط في المنكر قيد المخالفة] .
وَكَذَا الرَّابِعُ وَالْخَامِسُ.
আপত্তি (الطعن)অতঃপর রাবীর ওপর আপত্তি (الطعن): হয় তা রাবীর মিথ্যাচারের (كذب الراوي) কারণে হবে, অথবা তার মিথ্যাচারের অপবাদের (تهمة الكذب) কারণে, অথবা তার মারাত্মক ভুলের (فحش الغلط) কারণে, অথবা তার অসাবধানতার (غفلة) [নির্ভুলতার ব্যাপারে] কারণে, অথবা তার পাপাচারের (فسق) কারণে, অথবা তার বিভ্রমের (وهم) [এভাবে যে, সে ধারণার বশবর্তী হয়ে বর্ণনা করে] কারণে, অথবা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা (مخالفة) করার কারণে, অথবা তার পরিচয়হীনতার (جهالة) কারণে, অথবা তার বিদআতের (بدعة) কারণে, অথবা তার মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার (سوء الحفظ) [এভাবে যে, তার ভুল তার সঠিক বর্ণনার চেয়ে কম নয়] কারণে।
প্রথমটি হলো: জাল (موضوع)।
দ্বিতীয়টি হলো: পরিত্যক্ত (متروك)।
তৃতীয়টি হলো: প্রত্যাখ্যাত (منكر), কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে [যারা প্রত্যাখ্যাত (منكر) হওয়ার জন্য বিরোধিতার শর্তারোপ করেন না]।
তেমনিভাবে চতুর্থ এবং পঞ্চমটিও একই রূপ।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٣)
الوهم* ثُمَّ الْوَهْمُ: إِنِ اطُّلِعَ عَلَيْهِ بِالْقَرَائِنِ، وَجَمْعِ الطُّرُقِ: فَ [هو] الْمُعَلَّلُ.
বিভ্রান্তি (الوهم)* অতঃপর বিভ্রান্তি (الوهم): যদি পারিপার্শ্বিক নিদর্শন (القرائن) এবং বর্ণনার সূত্রসমূহ একত্রিকরণের (جمع الطرق) মাধ্যমে তা উদ্ঘাটিত হয়, তবে তা ত্রুটিযুক্ত (المعلل) হাদিস।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٣)
المخالفة*ثُمَّ الْمُخَالَفَةُ: إِنْ كَانَتْ بِتَغْيِيرِ السِّيَاقِ [سياق الإسناد] : فَمُدْرَجُ الْإِسْنَادِ.
أَوْ بِدَمْجِ مَوْقُوفٍ بِمَرْفُوعٍ: فَمُدْرَجُ الْمَتْنِ.
أَوْ بِتَقْدِيمٍ أَوْ تَأْخِيرٍ [في الأسماء كمرة بن كعب وكعب بن مرة] : فَالْمَقْلُوبُ.
أَوْ بِزِيَادَةِ رَاوٍ: فَالْمَزِيدُ فِي مُتَّصِلِ الْأَسَانِيدِ.
أَوْ بِإِبْدَالِهِ وَلَا مُرَجِّحَ: فَالْمُضْطَّرِبُ - وَقَدْ يَقَعُ الْإِبْدَالُ عَمْدًا امْتِحَانًا -
أَوْ بِتَغْيِيرٍ [حروف] مَعَ بَقَاءِ [صورة الخط في] لسِّيَاقِ: فَالْمُصَحَّفُ [في النقط] وَالْمُحَرَّفُ [في الشكل] .
وَلَا يَجُوزُ تَعَمُّدُ تَغْيِيرِ الْمَتْنِ بِالنَّقْصِ وَالْمُرَادِفِ إِلَّا لِعَالِمٍ بِمَا يُحِيلُ الْمَعَانِي [ومن ثم] فَإِنْ خَفِيَ الْمَعْنَى احْتِيجَ إِلَى شَرْحِ الْغَرِيبِ وَبَيَانِ الْمُشْكِلِ.
বৈপরীত্য (المخالفة)*অতঃপর বৈপরীত্য (المخالفة): যদি তা বিন্যাস পরিবর্তনের [সনদের (إسناد) বিন্যাস] মাধ্যমে হয়, তবে তা হলো অনুপ্রবেশিত সনদ (مدرج الإسناد)।
অথবা যদি সাহাবী পর্যন্ত স্থগিত (موقوف) বর্ণনাকে রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) বর্ণনার সাথে একীভূত করার মাধ্যমে হয়, তবে তা হলো অনুপ্রবেশিত মতন (مدرج المتن)।
অথবা যদি শব্দ আগে-পিছে করার [যেমন নামসমূহের ক্ষেত্রে মুররাহ ইবনে কাব এবং কাব ইবনে মুররাহ] মাধ্যমে হয়, তবে তা হলো ওলটপালটকৃত (المقلوب)।
অথবা যদি বর্ণনাকারী (راوي) বৃদ্ধির মাধ্যমে হয়, তবে তা হলো অবিচ্ছিন্ন সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (المزيد في متصل الأسانيد)।
অথবা তাকে (বর্ণনাকারীকে) পরিবর্তন করার মাধ্যমে হয় এবং সেখানে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো সূত্র না থাকে, তবে তা হলো অস্থিরতাযুক্ত (المضطرب) —আর কখনো কখনো বর্ণনাকারী পরিবর্তন পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবেও করা হয়ে থাকে—
অথবা যদি মূল বিন্যাস ঠিক রেখে [বর্ণের] পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়, তবে তা হলো লিপি-ভ্রান্ত (المصحف) [নুকতার ক্ষেত্রে] এবং আকৃতি-ভ্রান্ত (المحرف) [হরকতের ক্ষেত্রে]।
আর কোনো অংশ কমিয়ে বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে মতন (متن) পরিবর্তন করা বৈধ নয়; তবে সেই আলেমের জন্য বৈধ যিনি অর্থের পরিবর্তন ঘটায় এমন বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। [অতএব] যদি অর্থ অস্পষ্ট হয়, তবে বিরল শব্দের ব্যাখ্যা (شرح الغريب) এবং জটিল বিষয়ের বিশ্লেষণ (بيان المشكل)-এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٣)
الجهالة* ثُمَّ الْجَهَالَةُ: وَسَبَبُهَا أَنَّ الرَّاوِيَ قَدْ تَكْثُرُ نُعُوتُهُ [من اسم او كنية أو لقب أو حرفة الخ] فَيُذْكَرُ بِغَيْرِ مَا اشْتُهِرَ بِهِ لِغَرَضٍ، وَصَنَّفُوا فِيهِ الْمُوَضِّحَ.
وَقَدْ يَكُونُ مُقِلًّا فَلَا يَكْثُرُ الأَخْذُ عَنْهُ، وَصَنَّفُوا فِيهِ الوِحْدَانَ [وهو من لم يرو عنه إلا واحد] ، َوْ لَا يُسَمَّى اخْتِصارًا، وَفِيهِ المُبْهَمَاتُ، وَلَا يُُقْبَلُ المُبْهَمُ وَلَوْ أُبْهِمَ بِلَفْظِ التَّعْدِيلِ عَلَى الْأَصَّحِ.
فَإِنْ سُمِّيَ وَانْفَرَدَ وَاحِدٌ عَنْهُ فمَجْهُولُ الْعَيْنِ، أَوِ اثْنَانِ فَصَاعِدًا، وَلَمْ يُوَثَّقْ: فَمَجْهُولُ الحَالِ، وَهُوَ الْمَسْتُورُ.
ثُمَّ الْبِدْعَةُ: إِمَّا بِمُكَفِّرٍ، أَوْ بِمُفَسِّقٍ.
فَالْأَوَّلُ: لَا يَقْبَلُ صَاحِبَهَا الْجُمْهُورُ [والتحقيق أنه لا يرد كل مكفر ببدعته لأن كل طائفة تدعى أن مخالفيها مبتدعة وقد تبالغ فتكفر مخالفها فالمعتمد
⦗ص: 724⦘ أن الذي ترد روايته من أنكر أثرا متواترا من الشرع معلوما من الدين بالضرورة وكذا من اعتقد عكسه] .
والثاني: يقبل من لم يكن داعية إلى بدعته في الأصح، إلا إن روى ما يقوي بدعته فيرد على المختار، وبه صرح الجوزقاني شيخ النسائي.
পরিচয়হীনতা (الجهالة)* এরপর হলো পরিচয়হীনতা (الجهالة): এর কারণ হলো, বর্ণনাকারীর (الراوي) অনেক সময় একাধিক গুণাবলি বা পরিচয় থাকে [যেমন নাম, উপনাম (كنية), উপাধি (لقب) বা পেশা (حرفة) ইত্যাদি], ফলে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে তাকে এমন নামে উল্লেখ করা হয় যার দ্বারা তিনি প্রসিদ্ধ নন। উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে আল-মুওয়াদ্দিহ নামক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
আবার বর্ণনাকারী স্বল্প সংখ্যক হাদিস বর্ণনাকারী (مقل) হতে পারেন, ফলে তার নিকট থেকে বর্ণনার আধিক্য থাকে না। এ বিষয়ে তারা আল-উহদান নামক গ্রন্থ রচনা করেছেন [যিনি এমন বর্ণনাকারী যার থেকে মাত্র একজন হাদিস বর্ণনা করেছেন]। অথবা সংক্ষেপ করার জন্য (اختصارا) তার নাম উল্লেখ করা হয় না, একে অস্পষ্ট বর্ণনাকারী (المبهمات) সংক্রান্ত বিষয় বলা হয়। অধিকতর সঠিক মত (الأصح) অনুযায়ী অস্পষ্ট বর্ণনাকারীর (المبهم) বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তাকে নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনার (التعديل) শব্দ দ্বারা অস্পষ্ট রাখা হয়।
যদি বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং তার থেকে মাত্র একজন বর্ণনা করেন, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অজ্ঞাত (مجهول العين)। আর যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি তার থেকে বর্ণনা করেন কিন্তু তাকে নির্ভরযোগ্য (وثق) বলে অভিহিত করা না হয়, তবে তিনি হলেন অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول الحال), আর তিনিই হলেন মাস্তুর (المستور)।
এরপর হলো বিদআত (البدعة): এটি হয় কুফরি পর্যায়ের (مكفر), অথবা ফাসিকি পর্যায়ের (مفسق)।
প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে: জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিম এ ধরনের বিদআতে লিপ্ত ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করেন না। [গবেষণালব্ধ তথ্য হলো, বিদআতের কারণে কাফির আখ্যায়িত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে না। কারণ প্রতিটি দলই দাবি করে যে তাদের বিরোধীরা বিদআতি এবং অনেক সময় তারা বাড়াবাড়ি করে বিরোধীদের কাফির বলে দেয়। তাই নির্ভরযোগ্য কথা হলো
⦗ص: 724⦘ যে, যার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি শরিয়তের এমন কোনো মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনাকে অস্বীকার করেন যা দ্বীনের স্বতসিদ্ধ বিষয় (الدين بالضرورة) হিসেবে পরিচিত, অথবা যিনি এর বিপরীত বিশ্বাস পোষণ করেন]।
দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে: অধিকতর সঠিক মত (الأصح) অনুযায়ী যে ব্যক্তি তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) নন, তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। তবে তিনি যদি এমন কিছু বর্ণনা করেন যা তার বিদআতকে শক্তিশালী করে, তবে পছন্দনীয় মত (المختار) অনুযায়ী তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। ইমাম নাসায়ির উস্তাদ জাওযাকানি এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٤)
سوء الحفظ* ثُمَّ سُوءُ الْحِفْظِ: إِنْ كَانَ لَازِمًا [للراوى في جميع حالاته] فَهُوَ الشَّاذُّ عَلَى رَأْيٍ، أَوْ طَارِئًا فَالْمُُخْتَلِطُ، وَمَتَى تُوبِعَ سََيْئُّ الْحِفْظِ بِمُعْتَبَرٍ [كأن يكون فوقه أو مثله لا دونه] ، وَكَذَا الْمَسْتُورُ وَالْمُرْسَلُ، وَالْمُدلَّسُ: صَارَ حَدِيثُهُمْ حَسَنًا لَا لِذَاتِهِ، بَلْ بِ [اعتبار] الْمَجْمُوعِ.
স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ)* অতঃপর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ): যদি তা [বর্ণনাকারীর সকল অবস্থায়] স্থায়ী হয়, তবে একটি মতানুসারে তা শায (الشاذ); আর যদি তা আকস্মিক হয় তবে তা মুখতালিদ (المختلط)। যখন কোনো গ্রহণযোগ্য (معتبر) বর্ণনার দ্বারা স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) সম্পন্ন বর্ণনাকারীর অনুকূল বর্ণনা (متابعة) পাওয়া যায় [যেমন সেই সমর্থক বর্ণনাটি তার সমপর্যায়ের বা উচ্চপর্যায়ের হয়, নিম্নপর্যায়ের নয়], এবং অনুরূপভাবে মাসতুর (المستور), মুরসাল (المرسل) ও মুদাল্লাস (المدلس) বর্ণনার ক্ষেত্রেও; তখন তাদের হাদিস লি-যাতিহি হাসান (حسن لذاته) হিসেবে নয়, বরং সমষ্টিগত বিবেচনায় হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٤)
الاسناد* ثُمَّ الْإِسْنَادُ [وهو الطريق لموصلة إلى المتن والمتن هو غاية ما ينتهى إليه الإسناد من الكلام] : إِمَّا أَنْ يَنْتَهِيَ إِلَى النَّبيِّ -صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسِلَّمَ-، تَصْرِيحًا، أَوْ حُكْمًا: مِنْ قَوْلِهِ، أَوْ فِعْلِهِ، أَوْ تَقْرِيرِهِ.
أَوْ إِلَى الصَّحَابِيِّ كَذَلِكَ وَهُوَ: مَنْ لَقِيَ النَّبيَّ -صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَعَلَى آَلِهِ وَسَلَّمَ- مُؤْمِنًا بِهِ، وَمَاتَ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَلَوْ تَخَلَّلَتْ رِدَّةٌ فِي الْأَصَحِّ [لا خفاء في رجحان رتبة من لازمه صلى الله عليه وسلم وقاتل معه أو قتل تحت رايته على من لم يلازمه أو لم (1 / 231) يحضر معه مشهدا أو على من كلمه يسيرا أو ماشاه قليلا أو رآه على بعد أو في حل الطفولية وإن كان شرف الصحبة حاصلا للجميع ومن ليس له منهم سماع منه فحديثه مرسل من حيث الرواية ويعرف كون الشخص صحابيا بالتواتر أو الاستفاضة أو الشهة أو باخبار بعض الصحابة أو بعض ثقات التابعين أو باخباره عن نفسه بأنه صحابى إذا كان دعواه ذلك تدخل تحت الإمكان] .
أَوْ إِلَى التَّاَّبِعِيِّ: وَهُوَ مَنْ لَقِيَ الصَّحَابِيَّ كَذَلِكَ. .
فَالْأَوَّلُ: الْمَرْفُوع ُ، وَالثَّانِي: الْمَوْقُوفُ، وَالثَّالِثُ: الْمَقْطُوعُ ُ، وَمَنْ دُونَ التَّابِعِيِّ فِيهِ مِثْلُهُ.
وَيُقَالُ لِلأَخِيرَيْنِ: الْأَثَرُ.
وَالْمُسْنَدُ: مَرْفُوعُ صَحَابِيٍّ بِسَنَدٍ ظَاهِرُهُ الْاتِّصَالُ.
فَإِنْ قَلَّ عَدَدُهُ [أي عدد رجال السند] : َإِمَّا أَنْ يَنْتَهِيَ إِلَى النَّبِيِّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آَلِهِ وَسَلَّمَ-، أَوْ إِلَى إِمَامٍ ذِي صِفَةٍ عَلِيَّةٍ [كالحفظ والفقه والضبط والتصنيف] كَشُعْبَةَ [ومالك والشافعي والثوري والبخارى ومسلم ونحوهم] .
فَالْأَوَّلُ: الْعُلُوُّ الْمُطْلَقُ.
وَالثَّانِي: النِّسْبِيُّ.
وَفِيهِ الْمُوَافَقَةُ: وَهِيَ الْوُصُولُ إِلَى شَيْخِ أَحَدِ الْمُصَنِّفِينَ مِنْ غَيْرِ طَرِيقِهِ.
وَفِيهِ الْبَدَلُ: وَهُوَ الْوُصُولُ إِلَى شَيْخِ شَيْخِهِ كَذَلِكَ.
وَفِيهِ الْمُسَاوَاةُ: وَهِيَ اسْتِوَاءُ عَدَدِ الْإِسْنَادِ مِنَ الرَّاوِي إِلَى آَخِرِهِ [آخر
⦗ص: 725⦘ الإسناد] ، مَعَ إِسْنَادِ أَحَدِ الْمُصنِّفِينَ.
وفيه المصافحة: وهي الاستواء مع تلميذ ذلك المصنف [على الوجه المشروح في المساواة] .
ويقابل العلو بأقسامه النزول.
فَإِنْ تَشَارَكَ الرَّاوِي وَمَنْ رَوَى عَنْهُ فِي السِّنِّ وَاللُّقِيّ [الأخذ عن المشايخ] فَهُوَ [رواية] الْأَقْرَانُ.
كُلٌّ مِنْهُمَا عَنِ الْآَخَرِ: فَالْمُدْبَجُ، وَإِنْ رَوَى عَمَّنْ دُونَهُ [في السن أو في المقدار] : فَالْأَكَابِرُ عَنِ الْأَصَاغِرِ، وَمِنْهُ الْآَبَاءُ عَنِ الْأَبْنَاءِ [والصحابة عن التابعين والشيخ عن تلميذه] ، وَفِي عَكْسِهِ كَثْرَةٌ، وَمِنْهُ مَنْ رَوَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ. .
وَإِنِ اشْتَرَكَ اثْنَانِ عَنْ شَيْخٍ، وَتَقدَّمَ مَوْتُ أَحَدِهِمَا، فَهُوَ: السَّابِقُ وَاللَّاحِقُ ُ.
وَإِنْ رَوَى عَنْ اثْنَيْنِ مُتَّفِقِي الْاسْمِ [أو مع اسم الأب أو مع الجد أو مع النسبة] ولم يتميزا، وَلَمْ يَتَمَيْزَا، فَبِاخْتِصَاصِهِ بِأَحَدِهِمَا يَتَبَيْنُ الْمُهْمَلُ.
وَإِنْ جَحَدَ مَرْوِيّهِ جَزْمًا: رُدَّ، أَوْ احْتَمَالًا: قُبِلَ فِي الْأَصَحِّ.
وفيه: من حدث ونسي.
وَإِنِ اتَّفَقَ الرُّوَاةُ فِي صِيَغِ الْأَدَاءِ [كسمعت فلانا قال سمعت فلانا الخ] َوْ غَيْرَهَا مِنَ الْحَالَاتِ [كسمعت فلانا يقول أشهد بالله لقد حدثنى فلان الخ] ، فَهُوَ الْمُسَلْسَلُ.
সনদ (الإسناد)* অতঃপর সনদ (الإسناد) [যা মতন পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম; আর মতন (المتن) হলো কথা বা বক্তব্যের শেষ প্রান্ত যেখানে সনদ গিয়ে পৌঁছেছে]: তা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে (حكما) পৌঁছাবে: তাঁর কথা, কাজ কিংবা মৌনসম্মতি থেকে।
অথবা একইভাবে সাহাবি (الصحابي) পর্যন্ত পৌঁছাবে; তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন মুমিন অবস্থায় এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও অধিক সঠিক (الأصح) মতানুযায়ী মাঝে মুরতাদ হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে [যিনি দীর্ঘকাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন অথবা তাঁর পতাকাতলে শহীদ হয়েছেন, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা ওই ব্যক্তির ওপর অনস্বীকার্য যিনি দীর্ঘকাল সান্নিধ্যে ছিলেন না, কিংবা কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি, অথবা তাঁর সাথে সামান্য কথা বলেছেন, কিংবা অল্পক্ষণ সাথে চলেছেন অথবা দূর থেকে তাকে দেখেছেন কিংবা শৈশব অবস্থায় তাকে দেখেছেন; যদিও সাহচর্য লাভের সম্মান সকলের জন্যই অর্জিত। আর তাঁদের মধ্যে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সরাসরি কোনো হাদিস শোনেননি, বর্ণনার দিক থেকে তাঁদের হাদিস বিচ্ছিন্ন (مرسل)। কোনো ব্যক্তি সাহাবি হওয়ার বিষয়টি মুতাওয়াতির (التواتر) বর্ণনা, প্রসিদ্ধি (الاستفاضة), খ্যাতি (الشهرة), কোনো সাহাবির সংবাদ দান অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقات) তাবিঈর সংবাদ দান কিংবা তার নিজের দাবির মাধ্যমে জানা যায়—যদি তার সেই দাবিটি সম্ভবপর হওয়ার আওতাভুক্ত হয়]।
অথবা তাবিঈ (التابعي) পর্যন্ত পৌঁছাবে: আর তিনি হলেন ওই ব্যক্তি যিনি একইভাবে সাহাবির সাক্ষাৎ লাভ করেছেন।
প্রথম প্রকারটি হলো: মারফু (المرفوع), দ্বিতীয়টি: মাওকুফ (الموقوف), এবং তৃতীয়টি: মাকতু (المقطوع); আর তাবিঈর পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই পরিভাষা ব্যবহৃত হয়।
শেষোক্ত দুই প্রকারকে আসাড় (الأثر) বলা হয়।
আর মুসনাদ হলো: সাহাবির এমন মারফু (مرفوع) হাদিস যা বাহ্যিকভাবে অবিচ্ছিন্ন (الاتصال) সনদে বর্ণিত।
যদি বর্ণনাকারীর সংখ্যা [অর্থাৎ সনদের রাবিদের সংখ্যা] কম হয়, তবে তা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাবে, অথবা উচ্চগুণসম্পন্ন [যেমন মুখস্থশক্তি, ফিকহ, আত্মস্থকরণ (الضبط) ও গ্রন্থ রচনার দক্ষতা] কোনো ইমাম পর্যন্ত পৌঁছাবে; যেমন শু'বা [এবং মালিক, শাফিঈ, সাওরি, বুখারি, মুসলিম ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ]।
প্রথম প্রকারটি হলো: উলুউ মুতলাক (العلو المطلق) বা নিরঙ্কুশ উচ্চ সনদ।
আর দ্বিতীয়টি: নিসবি (النسبي) বা আপেক্ষিক উচ্চ সনদ।
এতে মুওয়াফাকাহ (الموافقة) রয়েছে: আর তা হলো কোনো একজন গ্রন্থকারের উস্তাদ পর্যন্ত তাঁর মাধ্যম ছাড়া ভিন্ন সূত্রে পৌঁছানো।
এতে বাদাল (البدل) রয়েছে: আর তা হলো একইভাবে গ্রন্থকারের উস্তাদের উস্তাদ পর্যন্ত পৌঁছানো।
এতে মুসাওয়াত (المساواة) রয়েছে: আর তা হলো রাবি থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত [সনদের শেষ
⦗পৃষ্ঠা: ৭২৫⦘ প্রান্ত] রাবি সংখ্যা কোনো একজন গ্রন্থকারের সনদের রাবি সংখ্যার সমান হওয়া।
এতে মুসাফাহাহ (المصافحة) রয়েছে: আর তা হলো ওই গ্রন্থকারের ছাত্রের সনদের রাবি সংখ্যার সাথে সমান হওয়া [মুসাওয়াত-এর ব্যাখ্যায় যেভাবে বর্ণিত হয়েছে]।
উলুউ (العلو)-এর সকল প্রকারের বিপরীতে রয়েছে নুযুল (النزول) বা নিম্ন সনদ।
যদি রাবি এবং যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন, উভয়ে বয়স এবং সাক্ষাতের ক্ষেত্রে [উস্তাদদের থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে] অংশীদার হন, তবে তা হলো সমসাময়িকদের বর্ণনা (الأقران)।
যদি তাদের প্রত্যেকে একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন, তবে তা হলো মুদাব্বাজ (المدبج)। আর যদি রাবি নিজের থেকে ছোট [বয়সে বা মর্যাদায়] কারো থেকে বর্ণনা করেন, তবে তা হলো ছোটদের থেকে বড়দের বর্ণনা (الأكابر عن الأصاغر); এর অন্তর্ভুক্ত হলো সন্তানদের থেকে পিতাদের বর্ণনা [এবং তাবিঈদের থেকে সাহাবিদের বর্ণনা বা উস্তাদের থেকে তাঁর ছাত্রের বর্ণনা]। এর বিপরীতে অর্থাৎ পিতাদের থেকে সন্তানদের বর্ণনা বহুল প্রচলিত; আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করা।
যদি দুই ব্যক্তি একই উস্তাদ থেকে হাদিস শ্রবণে অংশীদার হন এবং তাদের একজনের মৃত্যু আগে হয়, তবে তা হলো আস-সাবিক ওয়াল লাহিক (السابق واللاحق)।
যদি এমন দুই ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করা হয় যাদের নাম অভিন্ন [অথবা পিতার নাম, দাদার নাম বা নিসবত অভিন্ন] এবং তাদের আলাদা করা না যায়, তবে তাদের একজনের সাথে বিশেষ সম্পর্কের মাধ্যমে অস্পষ্ট বর্ণনাকারীকে (المهمل) চিহ্নিত করা যায়।
যদি উস্তাদ তাঁর বর্ণিত হাদিসকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد) হবে; আর যদি অস্বীকার করার সম্ভাবনা থাকে তবে অধিক সঠিক (الأصح) মতানুযায়ী তা কবুল (قبول) করা হবে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'মান হাদ্দাসা ওয়া নাসিয়া' (যে বর্ণনা করার পর ভুলে গেছে)।
যদি রাবিগণ হাদিস বর্ণনার শব্দমালার ক্ষেত্রে [যেমন 'আমি অমুককে বলতে শুনেছি, তিনি অমুককে বলতে শুনেছেন' ইত্যাদি] অথবা বর্ণনার অন্যান্য অবস্থার ক্ষেত্রে [যেমন 'আমি অমুককে বলতে শুনেছি, আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি যে অমুক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন' ইত্যাদি] একমত হন, তবে তাকে মুসালসাল (المسلسل) বলা হয়।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٥)
صيغ الأداء* وَصِيَغُ الْأَدَاءِ: سَمِعْتُ وَحَدَّثَنِي، ثُمَّ أَخْبَرَنِي، وَقَرَأْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ قُرِئَ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، ثُمَّ أَنْبَأَنِي، ثُمَّ نَاوَلَنِي، ثُمَّ شَافَهَنِي. ثُمَّ كَتَبَ إِلَيَّ، ثُمَّ عَنْ، وَنَحْوَهَا. [من الصيغ المحتملة للسماع والإجازة ولعدم السماع أيضا هذا مثل قال وذكر وروى] .
فَالْأَوَّلْانِ [سمعت وحدثنى] : لِمَنْ سَمِعَ وَحْدَهُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ، فَإِنْ جَمَعَ فَمَعَ غَيْرِهِ [وقد تكون النون للعظمة لكن بقلة] ، (1 / 232) وأولها: وَأَوَّلُهَا: أَصْرَحُهَا وَأَرْفَعُهَا [مقدارا ما يقع] فِي الْإِمْلَاءِ
وَالثَّالِثُ [أخبرني] ، وَالرَّابِعُ [قرأت] : لِمَنْ قَرَأَ بِنَفْسِهِ، فَإِنْ جَمَعَ: فَكَالْخَامِسِ.
وَالْإِنْبَاءُ: بِمَعْنَى الْإِخْبَارُ.
إِلّا فِي عُرْفِ الْمُتَأَخِرِينَ فَهُوَ لِلْإِجَازَةِ كَعَنْ، وَعَنْعَنَةُ الْمُعَاصِرِ مَحْمُولَةٌ عَلَى السَّمَاعِ إِلَّا مِنْ مُدَلِّسٍ وَقِيلَ: يُشْتَرَطُ ثُبُوتُ لِقَائِهِمَا -وَلَوْ مَرَّةً-، وَهُوَ الْمُخْتَارُ، وَأَطْلَقُوا الْمُشَافَهَةَ فِي الْإِجَازَةِ الْمُتَلَّفَظُ بِهَا، و [كذا] المُكَاتَبَةُ فِي الْإِجَازَةِ الْمَكْتُوبِ بِهَا، وَاشْتَرَطُوا فِي صِحَّةِ الْمُنَاوَلَةِ اقْتِرَانُهَا بِالْإِذْنِ بِالرِّوَايَةِ، وَهِيَ أَرْفَعُ أَنْوَاعِ الْإِجَازَةِ.
وكذا اشترطوا الإذن في الوجادة، والوصية بالكتاب وفي الإعلام [أن يعلم الشيخ أحد الطلبة بأننى أروى الكتاب الفلانى عن فلان] ، وإلا فلا عبرة بذلك كالإجازة العامة، وللمجهول وللمعدوم على الأصح في جميع ذلك.
বর্ণনা বা গ্রহণের শব্দসমূহ (صيغ الأداء)* বর্ণনা বা গ্রহণের শব্দসমূহ (صيغ الأداء) হলো: 'আমি শুনেছি' (سمعت) এবং 'তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন' (حدثني), এরপর 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني), 'আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি' (قرأت عليه), এরপর 'তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম' (قرئ عليه وأنا أسمع), এরপর 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أنبأني), এরপর 'তিনি আমাকে অর্পণ করেছেন' (ناولني), এরপর 'তিনি মৌখিকভাবে আমার সাথে কথা বলেছেন' (شافههني)। এরপর 'তিনি আমার কাছে লিখেছেন' (كتب إلي), এরপর 'হতে' (عن) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। [এগুলো শ্রবণ (سماع) ও অনুমতি (إجازة) উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী শব্দ, আবার সরাসরি শ্রবণ না হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে, যেমন: তিনি বলেছেন (قال), তিনি উল্লেখ করেছেন (ذكر) এবং তিনি বর্ণনা করেছেন (روى)]।
প্রথম দুটি শব্দ ['আমি শুনেছি' (سمعت) এবং 'তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন' (حدثني)]: সেই ব্যক্তির জন্য যে শাইখের কণ্ঠ থেকে একাকী শুনেছে। আর যদি বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করে তবে তা অন্যের সাথে শোনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য [কখনো 'নুন' (আমরা) বর্ণটি মহিমা প্রকাশের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে তবে তা বিরল], (১/২৩২) আর এগুলোর মধ্যে প্রথমটি: শ্রুতিলিখন (إملاء) এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট এবং সর্বোচ্চ স্তরের [মর্যাদার দিক থেকে যা ঘটে থাকে]।
তৃতীয় শব্দ ['তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرনি)] এবং চতুর্থ শব্দ ['আমি পাঠ করেছি' (قرأت)]: সেই ব্যক্তির জন্য যে নিজে পাঠ করেছে। যদি বহুবচন ব্যবহার করে, তবে তা পঞ্চম শব্দের ন্যায় হবে।
সংবাদ প্রদান (إنباء) শব্দটি অবহিতকরণ (إخبار) অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
তবে পরবর্তী যুগের আলেমদের পরিভাষায় এটি অনুমতি (إجازة) প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেমন 'হতে' (عن) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সমসাময়িক রাবীর 'হতে' শব্দযোগে বর্ণনা (عنعنة) সরাসরি শ্রবণের (سماع) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যদি না রাবী তাদলীসকারী (مدلس) হন। কেউ কেউ বলেছেন: অন্তত একবার হলেও তাঁদের উভয়ের সাক্ষাৎ সাব্যস্ত হওয়া শর্ত, আর এটিই পছন্দনীয় মত। আলেমগণ মুখে উচ্চারিত অনুমতির ক্ষেত্রে মৌখিক অনুমতি (مشافهة) শব্দটি এবং একইভাবে লিখিত অনুমতির ক্ষেত্রে লিখিত বর্ণনা (مكاتبة) শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা অর্পণ (مناولة) এর বিশুদ্ধতার জন্য বর্ণনার অনুমতির (إذن بالرواية) শর্তারোপ করেছেন, আর এটি অনুমতির (إجازة) প্রকারসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর।
একইভাবে তাঁরা পান্ডুলিপি প্রাপ্তি (وجادة), কিতাব বিষয়ে অসিয়ত (وصية) এবং অবহিতকরণ (إعلام) [অর্থাৎ শাইখ কোনো ছাত্রকে অবহিত করবেন যে, আমি অমুক কিতাবটি অমুকের নিকট থেকে বর্ণনা করি] এর ক্ষেত্রেও অনুমতির শর্ত দিয়েছেন। অন্যথায় এগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, যেমনটি সাধারণ অনুমতি (إجازة عامة), অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির জন্য অনুমতি এবং অবিদ্যমান (معدوم) ব্যক্তির জন্য অনুমতির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; আর এটিই সবগুলোর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম মত।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٥)
الرواة* ثُمَّ الرُّوَاةُ إَنِ اتَّفَقَتْ أَسْمَاؤُهُمْ، وَأَسْمَاءُ آَبَائِهِمْ فَصَاعِدًا، وَاخْتُلِفَتْ أَشْخَاصُهُمْ: فَهُوَ الْمُتَّفِقُ وَالْمُفْتَرِقُ، وَإِنِ اتَّفَقَتِ الْأَسْمَاءُ خَطًا، وَاخْتَلَفَتْ نُطْقًا: فَهُوَ الْمُؤْتَلِفُ وَالْمُخْتَلِفُ ُ.
وَإِنِ اتَّفَقَتِ الْأَسْمَاءُ وَاخْتَلَفَتِ الْآَبَاءُ، أَوْ بِالْعَكْسِ: فَهُوَ الْمُتَشَابِهُ، وَكَذَا إِنْ وَقَعَ ذَلِكَ
⦗ص: 726⦘ الْاتِّفَاقُ فِي الْاسْمِ وَاسْمِ الْأَبِ، والْاِخْتِلَافُ فِي النِّسْبَةِ، وَيَتَرَكَّبُ مِنْهُ وَمِمَّا قَبْلَهُ أَنْوَاعُ: مِنْهَا أَنْ يَحْصُلَ الْاِتِّفَاقُ أَوْ الْاِشْتِبَاهُ إِلَّا فِي حَرْفٍ أَوْ حَرْفَيْن [كمحمد بن سنان ومحمد بن سيار وعبد الله بن زيد وعبد الله بن يزيد] .
أَوْ بِالتَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ [كالأسود بن يزيد ويزيد بن الأسود وأيوب بن سيار وأيوب بن يسار] .
বর্ণনাকারী (الرواة)* অতঃপর বর্ণনাকারীদের (الرواة) নাম, তাদের পিতাদের নাম এবং তদুর্ধ্ব স্তরের নামগুলো যদি অভিন্ন হয়, কিন্তু তাদের ব্যক্তিসত্তা ভিন্ন হয়: তবে সেটি অভিন্ন ও স্বতন্ত্র (المتفق والمفترق)। আর যদি নামসমূহ লিখনরীতিতে এক হয় এবং উচ্চারণে ভিন্ন হয়: তবে সেটি সদৃশ ও ভিন্নতর (المؤتلف والمختلف)।
আর যদি বর্ণনাকারীদের নামগুলো এক হয় এবং পিতাদের নাম ভিন্ন হয়, অথবা এর বিপরীত হয়: তবে সেটি সমরূপ (المتشابه)। অনুরূপভাবে, যদি নাম এবং পিতার নামের ক্ষেত্রে
⦗পৃষ্ঠা: ৭২৬⦘ ঐ অভিন্নতা পাওয়া যায়, কিন্তু নিসবত বা সম্পর্কের (النسبة) ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকে [তবেও সেটি সমরূপ (المتشابه)]। এটি এবং এর পূর্ববর্তী প্রকারগুলো থেকে আরও কিছু প্রকার গঠিত হয়: যার মধ্যে রয়েছে এমন হওয়া যে, একটি বা দুটি অক্ষর ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে নামের মিল বা সাদৃশ্য থাকা [যেমন: মুহাম্মদ বিন সিনান ও মুহাম্মদ বিন সাইয়্যার এবং আবদুল্লাহ বিন যায়েদ ও আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ]।
অথবা নামের অগ্র-পশ্চাৎ হওয়ার মাধ্যমে বা এই জাতীয় কোনো কারণে ভিন্নতা হওয়া [যেমন: আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ ও ইয়াযিদ বিন আসওয়াদ এবং আইয়ুব বিন সাইয়্যার ও আইয়ুব বিন ইয়াসার]।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٦)
خاتمةوَمِنَ الْمُهِمِّ: مَعْرِفَةُ طَبَقَاتِ الرُّوَاةِ [الطبقة في اصطلاحهم عبارة عن جماعة اشتركوا في السن ولقاء المشايخ] وَمَوَالِيدِهِمْ، وَوَفِيَاتِهِمْ، وَبُلْدَانِهِمْ، وَأَحْوَالِهِمْ تَعْدِيلًا وَتَجْرِيحًا وَجَهَالَةً.
وَمرَاتِبُ الْجَرْحِ: وَأَسْوَؤُهَا الْوَصْفُ بِأَفْعَلَ، كَأَكْذَبِ النَّاسِ، ثُمَّ دَجَّالٍ، أَوْ وَضَّاعٍ، أَوْ كَذَّابٍ.
وَأَسْهَلُهَا: لَيْنٌ، أَوْ سَيِّئُ الْحِفْظِ، أَوْ فِيهِ مَقَالٌ.
وَمرَاتِبُ التَّعْدِيلِ: وَأَرْفَعُهَا الْوَصْفُ بَأَفْعَلَ: كَأَوْثَقِ النَّاسِ، ثُمَّ مَا تَأكَدَ بِصِفَةٍ أَوْ صِفَتَيْنِ كَثِقَةٍ ثِقَةٍ، أَوْ ثِقَةٍ حَافِظٍ وَأَدْنَاهَا مَا أَشْعَرَ بِالْقُرْبِ مِنْ أَسْهَلِ التَّجْرِيحِ: كَشَيْخٍ، وَتُقْبَلُُ التَّزْكِيَةُ مِنْ عَارِفٍ بَأَسْبَابِهَا، وَلَوْ مِنْ وَاحِدٍ عَلَى الْأَصَحِّ.
وَالْجَرْحُ مُقَدَّمٌ عَلَى التَّعْدِيلِ إِنْ صَدَرَ مُبَيِنًا مِنْ عَارِفٍ بِأْسْبَابِهِ، فَإِنْ خَلَا عَنِ التَّعْدِيلِ قُبِلَ مُجْمَلًا عَلَى الْمُخْتَارِ.
উপসংহার (خاتمة)এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে: বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ (طبقات الرواة) [তাদের পরিভাষায় স্তর (الطبقة) বলতে এমন একদল সমষ্টিকে বোঝায় যারা বয়সে এবং উস্তাদগণের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের] এবং তাদের জন্মকাল, মৃত্যুসন, দেশ এবং তাদের অবস্থা—নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تعديل), সমালোচনা (تجريح) এবং পরিচয়হীনতা (جهالة) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।
সমালোচনার স্তরসমূহ (مراتب الجرح): এর মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো অতিশয়বাচক শব্দ দ্বারা গুণান্বিত করা, যেমন: ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী’ (أكذب الناس); এরপর ‘চরম প্রতারক’ (دجال), অথবা ‘হাদিস জালকারী’ (وضاع), অথবা ‘চরম মিথ্যাবাদী’ (كذاب)।
আর এর মধ্যে সবচেয়ে নমনীয় শব্দ হলো: ‘শিথিল’ (لين), অথবা ‘স্মৃতিশক্তি দুর্বল’ (سيئ الحفظ), অথবা ‘তার ব্যাপারে আপত্তি আছে’ (فيه مقال)।
আর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের স্তরসমূহ (مراتب التعديل): এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো অতিশয়বাচক শব্দ দ্বারা গুণান্বিত করা, যেমন: ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য’ (أوثق الناس); এরপর যা একটি বা দুটি গুণ দ্বারা সুনিশ্চিত করা হয়েছে, যেমন: ‘নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য’ (ثقة ثقة), অথবা ‘নির্ভরযোগ্য হাফেজ’ (ثقة حافظ); আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো যা সমালোচনার সবচেয়ে নমনীয় স্তরের কাছাকাছি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যেমন: ‘শাইখ’ (شيخ)। আর নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تزكية) এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য হবে যিনি এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত, যদিও বিশুদ্ধ মত (الأصح) অনুযায়ী তিনি একজন ব্যক্তি হলেও তা গৃহীত হবে।
আর সমালোচনা (الجرح) নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের (التعديل) ওপর প্রাধান্য পাবে—যদি তা এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। তবে যদি কোনো বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে প্রশংসামূলক কোনো বর্ণনা না থাকে, তবে মনোনীত মত (المختار) অনুযায়ী অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত (مجمل) সমালোচনাও গ্রহণযোগ্য হবে।
(খণ্ড: ٤)
নুখবাতুল ফিকার - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧٢٦)
فصل معرفة الكنى وغيرهاوَمِنَ الْمُهِمِّ مَعْرِفَةُ كُنَى الْمُسَمِّينَ، وَأَسْمَاءِ الْمُكَنِّينَ، وَمَنِ اسْمُهُ كُنْيَتُهُ، وَمَنِ اخْتُلِفَ فِي كُنْيَتِهِ، وَمَنْ كَثُرَتْ كُنَاهُ أَوْ نُعُوتُهُ، وَمَنْ وَافَقَتْ كُنْيَتُهُ اسْمَ أَبِيهِ [كأبي إسحاق إبراهيم بن إسحاق] .
أَوْ بِالْعَكْسِ [كإسحاق بن ابي إسحاق] ، أَوْ كُنْيتُهُ كُنْيَةُ زَوْجَتِهِ [كأبي أيوب وأم أيوب] ، وَمَنْ نُسِبَ إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، أَوْ إِلَى أُمِّهِ، أَوْ إِلَى غَيْرِ مَا يَسْبِقُ إِلَى الْفَهْمِ [كالحداد نسب إلى الحدادة لأنه كان يجالس الحدادين] ، وَمَنِ اتَّفَقَ اسْمُهُ وَاسْمُ أَبِيهِ وَجَدِّهِ، أَوْ [اسمه و] اسْمُ شَيْخِهِ وَشَيْخِ شَيْخِهِ فَصَاعِدًا
وَمَنِ اتَّفَقَ اسْمُ شَيْخِهِ وَالرَّاوِي عَنْهُ [كالبخاري روى عن مسلم بن إبراهيم وروى عنه مسلم بن الحجاج] .
وَمَعْرِفَةُ الْأَسْمَاءِ الْمُجَرَّدَةِ وَالْمُفْرَدَةِ [التي لم يسم بها إلا واحد] ، وَالْكُنَى [المجردة] ، وَالْأَلْقَابِ، وَالْأَنْسَابِ، وَتَقَعُ إِلَى الْقَبَائِلَ وَالْأَوْطَانِ، بِلَادًا، أَوْ ضَيَاعًا أَوْ سِكَكًا، أَوْ مُجَاوِرَةً. وَإِلَى الصَّنائِعَ وَالْحِرَفِ، وَيَقَعُ فِيهَا الْاتِّفَاقُ وَالْاشْتَبَاهُ كَالْأَسْمَاءِ، وَقَدْ تَقَعُ أَلْقَابًا. [كخالد بن محمد القطواني كان كوفيا ويلقب القطواني وكان يغضب منها] .
وَمَعْرِفَةُ أَسْبَابِ ذَلِكَ، وَمَعْرِفَةُ الْمَوَالِي مِنْ أَعْلَى، وَمِنْ أَسْفَلِ، بِالرِّقِ، أَوْ بِالْحَلِفِ [أو بالاسلام] ، وَمَعْرِفَةُ الْإِخْوَةِ وَالْأَخَوَاتِ.
وَمَعْرِفَةُ آَدَابِ الشَّيْخِ وَالطَّالِبِ، وَسِنِّ التَّحَمُّلِ وَالْأَدَاءِ [الأصح اعتبار سن التحمل بالتمييز وسن الأداء يقدر بالاحتياج والتأهيل
⦗ص: 727⦘ لذلك] ، وَصِفَةِ كِتَابَةِ الْحَدِيثِ وَعَرْضِهِ، وَسَمَاعِهِ، وَإِسْمَاعِهِ، والرِّحْلَةِ فِيهِ، وَتَصْنِيفِهِ، إِمَّا عَلَى الْمَسَانِيدِ، أَوْ الْأَبْوَابِ، أَوْ الْعِلَلِ [فيذكر المتن وطرقه وبيان اختلاف نقلته] ، أَوْ الْأَطْرَافِ [فيذكر طرف الحديث الدال على بقيته ويجمع أسانيده إما مستوعبا وإما مقيدا بكتب مخصوصة] .
وَمَعْرِفَةُ سَبَبِ الْحَدِيثِ، وَقَدْ صَنَّفَ فِيِهِ بَعْضُ شُيُوخِ القَاضِي أبِي يَعْلَى بْنِ الْفَرَّاءِ، وصَنَّفُوا فِي غَالِبِ هَذِهِ الْأَنْوَاعِ.
وَهِيَ نَقْلٌ مَحْضٌ، ظَاهِرةُ التَّعْرِيفِ، مُسْتَغْنِيَةٌ عَنِ التَّمْثِيلِ، وَحَصْرُهَا مُتَعَسِّرٌ، فَلْتُرَاجِعْ لَهَا مَبْسُوطَاتِهَا.
وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ وَالْهَادِي، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ. .
পরিচ্ছেদ: কুনিয়া (الكنى) ও অন্যান্য বিষয়াবলি পরিচিতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের কুনিয়া (الكنى) বা উপনাম জানা, যাদের কুনিয়া (الكنى) উল্লেখ করা হয়েছে তাদের নাম জানা, যাদের নামই তাদের কুনিয়া (الكنى), যাদের কুনিয়া (الكنى) নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যাদের কুনিয়া (الكنى) বা গুণবাচক উপাধি (النعوت) অধিক, এবং যার কুনিয়া (الكنى) তার পিতার নামের সাথে মিল রয়েছে [যেমন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে ইসহাক]।
অথবা এর বিপরীত [যেমন ইসহাক ইবনে আবি ইসহাক], অথবা যার কুনিয়া (الكنى) তার স্ত্রীর কুনিয়ার (الكنى) অনুরূপ [যেমন আবু আইয়ুব ও উম্মে আইয়ুব], এবং যাকে তার পিতা ছাড়া অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, অথবা তার মায়ের দিকে, অথবা এমন কিছুর দিকে যা সাধারণভাবে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না [যেমন আল-হাদ্দাদ, তাকে কামারশালার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে কারণ তিনি কামারদের সাথে বসতেন], এবং যার নাম, তার পিতার নাম ও তার দাদার নাম একই, অথবা যার নাম, তার শাইখের (الشيخ) নাম ও তার শাইখের শাইখের নাম একইভাবে ওপরের দিকে চলতে থাকে।
এবং যার শাইখের (الشيخ) নাম ও তার থেকে বর্ণনাকারীর (الراوي) নাম একই [যেমন ইমাম বুখারি মুসলিম ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন]।
এবং সাধারণ ও একক নামসমূহ [যা কেবল একজনই ব্যবহার করেছেন] জানা, স্বতন্ত্র কুনিয়া (الكنى), উপাধি (الألقاب), এবং বংশপরিচয় বা নিসবাত (الأنساب) জানা। এই নিসবাত গোত্র, স্বদেশ, শহর, গ্রাম, গলি বা প্রতিবেশের দিকে হতে পারে। আবার পেশা ও কারুশিল্পের দিকেও হতে পারে। নামগুলোর মতো এগুলোতেও মিল ও সাদৃশ্য দেখা দিতে পারে, এবং কখনো এগুলো উপাধি (الألقاب) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। [যেমন খালিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাতওয়ানি, তিনি কুফাবাসী ছিলেন এবং তাকে 'আল-কাতওয়ানি' উপাধিতে ডাকা হতো, যা তিনি অপছন্দ করতেন]।
এবং এগুলোর কারণ জানা। এছাড়া উচ্চতর ও নিম্নতর দিক থেকে মুক্তদাস (الموالي) হওয়া সম্পর্কে জানা, যা দাসত্বমোচন, চুক্তিবদ্ধ হওয়া [বা ইসলাম গ্রহণ]-এর মাধ্যমে হতে পারে। এবং ভাই ও বোনদের পরিচয় জানা।
এবং শাইখ (الشيخ) ও ছাত্রের আদব বা শিষ্টাচার জানা, হাদিস গ্রহণ (التحمل) ও প্রদানের (الأداء) বয়স জানা [সঠিক মত হলো হাদিস গ্রহণের বয়স বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার (التمييز) ওপর নির্ভরশীল এবং প্রদানের বয়স প্রয়োজন ও যোগ্যতার ওপর নির্ধারিত হয়
⦗পৃষ্ঠা: ৭২৭⦘], হাদিস লেখার পদ্ধতি, তা পেশ করে মিলিয়ে দেখা (العرض), শোনা (السماع) ও শোনানোর (الإسماع) পদ্ধতি, হাদিসের জন্য সফর (الرحلة) করা এবং হাদিস সংকলন করার নিয়ম জানা। সংকলন হতে পারে মুসনাদ ভিত্তিক, অথবা অধ্যায় ভিত্তিক, অথবা ত্রুটি (العلل) ভিত্তিক [যেখানে মূল পাঠ (المتن) এবং এর সূত্রসমূহ ও বর্ণনাকারীদের মতভেদের বিবরণ থাকে], অথবা আতরাফ (الأطراف) ভিত্তিক [যেখানে হাদিসের এমন কিছু অংশ উল্লেখ করা হয় যা অবশিষ্ট অংশের নির্দেশক এবং এর সনদসমূহকে (الأسانيد) হয় বিস্তারিতভাবে না হয় নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের আলোকে সংকলন করা হয়]।
এবং হাদিসের প্রেক্ষাপট (السبب) জানা। এ বিষয়ে কাজি আবু ইয়ালা ইবনুল ফাররার জনৈক উস্তাদ গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ ধরনের অধিকাংশ বিষয়ের ওপরই আলেমগণ কিতাব রচনা করেছেন।
এগুলো মূলত বিশুদ্ধ বর্ণনা যা সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত এবং উদাহরণের মুখাপেক্ষী নয়। এগুলোর ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা দুরূহ, তাই বিস্তারিত বর্ণনার জন্য এর বিস্তৃত কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা উচিত।
আল্লাহই তাওফিকদাতা ও পথপ্রদর্শক, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।