(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: -)
إيثار الحق على الخلق في رد الخلافات   (ابن الوزير)

القسم: العقيدة


الكتاب: إيثار الحق على الخلق في رد الخلافات إلى المذهب الحق من أصول التوحيد

المؤلف: ابن الوزير، محمد بن إبراهيم بن علي بن المرتضى بن المفضل الحسني القاسمي، أبو عبد الله، عز الدين اليمني (ت 840هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الثانية، 1987م

عدد الصفحات: 418

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433

সৃষ্টির ওপর সত্যকে প্রাধান্য দেওয়া: মতবিরোধ নিরসনে   (ইবনুল উযাইর)

বিভাগ: আক্বীদা


বই: তাওহীদের মূলনীতি থেকে সত্য মতাদর্শের দিকে মতবিরোধগুলো নিরসনের ক্ষেত্রে সৃষ্টির ওপর সত্যকে প্রাধান্য দেওয়া

লেখক: ইবনুল উযাইর, মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম বিন আলী বিন আল-মুরতাদা বিন আল-মুফাদদাল আল-হাসানী আল-কাসেমী, আবু আব্দুল্লাহ, ইজ্জুদ্দীন আল-ইয়ামানী (মৃত্যু: ৮৪০ হিজরি)

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ মহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين أكمل الْحَمد على جَمِيع هداياته ومعارفه وعطاياه وعوارفه وَأفضل صلى الله عليه وسلم وتحياته الطَّيِّبَات المباركات وإكرامه على رَسُوله وحبيبه وصفوته مُحَمَّد الْأمين خَاتم النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ الَّذِي جعل الله الذلة وَالصغَار على من خَالف أمره كَمَا ورد بِهِ الحَدِيث المتين وَالْقُرْآن الْمُبين حَيْثُ قَالَ رب الْعَالمين فِي بعض الْمُخَالفين لَهُ فِي الدّين {سينالهم غضب من رَبهم وذلة فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نجزي المفترين} وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم وعَلى أهل بَيته الطيبين الطاهرين وَرَضي الله عَن الصَّحَابَة أَجْمَعِينَ الصَّادِقين السَّابِقين وَالَّذين جاؤا من بعدهمْ من التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين

أما بعد فَإِنِّي نظرت إِلَى شدَّة الْخلاف وَاخْتِلَاف الْعُقَلَاء والأذكياء وَأهل الرياضات الْعَظِيمَة من الرهبان وَسَائِر أَجنَاس أهل الْأَدْيَان ثمَّ إِلَى مَا وَقع من ذَلِك بَين أهل الْإِسْلَام من أهل القوانين العلمية البرهانية وَأهل القوانين الرياضية الرهبانية وَأهل التفاسير والتآويل للآيات القرآنية وَأهل الْآثَار والأنظار فِي الْفُرُوع الظنية فَرَأَيْت اخْتِلَافا كَبِيرا وتعاديا نكيرا وتباعدا كثيرا سبق إِلَى ظن النَّاظر فِيهِ أَنه لَا طَرِيق لَهُ مَعَ سَعَة ذَلِك إِلَى تَمْيِيز المحق من الْمُبْطل والمصيب من الْمُخطئ بِالدَّلِيلِ الصَّحِيح لِأَن التَّمْيِيز الصَّحِيح لذَلِك لَا يحصل إِلَّا بعد بُلُوغ الْغَايَة القصوى فِي طرق جَمِيع هَذِه الطوائف حَتَّى يعْتَرف لَهُ بِالْإِمَامَةِ فِي كل فن من تِلْكَ الْفُنُون كل أَمَام بهَا وعارف

ويتقن علم كل فرقة مثل اتقان كل من أئمتهم لدعواهم وحقائقهم مُمَيّزا لمعارفهم ومزالقهم والعمر أقصر من أَن يَتَّسِع لذَلِك مَعَ تفريغه عَن
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; তাঁর সকল হিদায়াত, মা'রিফাত, দান ও অনুগ্রহের ওপর পূর্ণাঙ্গ প্রশংসা। এবং সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম, পবিত্র ও বরকতময় অভিবাদন এবং সম্মাননা বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল, প্রিয়জন ও মনোনীত বান্দা মুহাম্মদ আল-আমীনের ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের সর্বশেষ। আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওপর লাঞ্ছনা ও তুচ্ছতা অবধারিত করেছেন যে তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করে, যেমনটি সুদৃঢ় হাদিস এবং সুস্পষ্ট কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। যেখানে বিশ্বজগতের প্রতিপালক দীনের বিরোধিতাকারীদের একাংশ সম্পর্কে বলেছেন: {শীঘ্রই তাদের ওপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ক্রোধ এবং পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা আপতিত হবে; আর এভাবেই আমি মিথ্যা অপবাদকারীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।} এবং আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর ও তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন আহলে বায়তগণের ওপর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সত্যনিষ্ঠ অগ্রগামী সকল সাহাবীর ওপর এবং যারা নিষ্ঠার সাথে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণকারী হিসেবে আগমন করেছেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর, আমি যখন লক্ষ্য করলাম প্রখর মতভেদ এবং বুদ্ধিমান, মেধাবী ও কঠোর সাধনাশীল সংসারত্যাগী বৈরাগী সহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যকার অনৈক্য; এরপর ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে যা সংঘটিত হয়েছে—যুক্তিভিত্তিক বৈজ্ঞানিক মূলনীতির অনুসারী, সাধনা ও আত্মিক চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তি, কুরআনের আয়াতসমূহের তাফসীর ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় হাদিস ও ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের মাঝে; তখন আমি এক বিশাল মতভেদ, চরম শত্রুতা ও ব্যাপক দূরত্ব দেখতে পেলাম, যা একজন পর্যালোচনাকারীর মনে এমন ধারণা সৃষ্টি করে যে, এই বিশাল ব্যাপ্তির মাঝে সঠিক দলীল দ্বারা সত্যপন্থীকে মিথ্যাবাদী থেকে এবং সঠিক ব্যক্তিকে ভুলকারী থেকে পৃথক করার কোনো পথ তার জন্য অবশিষ্ট নেই। কেননা, এ বিষয়ে সঠিক পার্থক্য নিরূপণ কেবল তখনই সম্ভব, যখন এই সকল দলের পথ ও পদ্ধতির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানো যাবে, যাতে ঐ সকল বিষয়ের প্রতিটি ইমাম ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি তাকে প্রতিটি বিদ্যায় ইমাম হিসেবে স্বীকার করে নেয়। এবং সে প্রতিটি দলের জ্ঞান এমনভাবে আয়ত্ত করবে যেমনটি তাদের ইমামগণ তাদের দাবি ও তত্ত্বসমূহ আয়ত্ত করেছিলেন, যাতে তাদের জ্ঞানের উৎস ও পদস্খলনের জায়গাগুলো পৃথকভাবে চিনতে পারে। অথচ জীবন এতোটাই সংক্ষিপ্ত যে, অন্যান্য কাজ থেকে অবসর নিয়ে এসবের পেছনে ব্যয় করার মতো প্রশস্ততা এতে নেই।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১০)
الشواغل الْمُزَاحمَة لذَلِك تمّ الطّلب الشَّديد لَهُ فَكيف يَتَيَسَّر علم جَمِيع ذَلِك فِي أول أَوْقَات التَّكْلِيف مَعَ الشواغل الجمة وَالتَّقْصِير الْكثير من الأكابر المتصدرين للتعليم كَيفَ للمتعلمين الْمُقَصِّرِينَ على تلقن مَذَاهِب أسلافهم من غير الثِّقَات إِلَى الإهتمام بتحقيق أدلتهم الَّتِي تخصهم دع عَنْك الإهتمام بأدلة خصومهم وتحقيقها مَعَ شدَّة الإشكالات ودقتها ومعارضة الأذكياء والرهبان بَعضهم لبَعض فِي كل مِلَّة وكل فرقة وَمَعَ اسْتِمْرَار من ظَاهره الْفَهم والإنصاف من أهل الْإِسْلَام على ذَلِك الإختلاف فعظمت هَذِه الفكرة عِنْدِي واهتم لَهَا قلبِي لَوْلَا مَا عارضها من الْعلم الْيَقِين بل الضَّرُورِيّ بِمَا للأكثرين من العقائد الْبَاطِلَة ومعارضة الْحق الْوَاضِح بالشبه الساقطة وتعرف ذَلِك بمطالعة كتب الْملَل والنحل والأهواء والتجاهل فَنَظَرت فِي كَيْفيَّة النجَاة مَعَ ذَلِك مستمدا من الله تَعَالَى دَاعيا طَالبا رَاغِبًا رَاهِبًا وان الله تَعَالَى وَله الْحَمد وَالشُّكْر وَالثنَاء وفقني حِينَئِذٍ إِلَى أوضح الطّرق فِي علمي وأبعدها من الشّبَه والشكوك إِلَى معرفَة مَا تمس الضَّرُورَة إِلَى مَعْرفَته من الْحق الَّذِي تخَاف الْمضرَّة بجهله وَهُوَ الَّذِي جَاءَ الْإِسْلَام بِوُجُوب مَعْرفَته أَو أَمر بهَا أَو ندب إِلَيْهَا من الْكتاب وَالسّنة دون معرفَة مَا لم يدل عقل وَلَا سمع على وجوب مَعْرفَته وَلَا ثَبت فِي الشَّرِيعَة استحبابها وبترك هَذَا الْقسم يسهل الْأَمر ويهون الْخطب فَإِن الَّذِي وسع دَائِرَة المراء والضلال هُوَ الْبَحْث عَمَّا لَا يعلم وَالسَّعْي فِيمَا لَا يدْرك وَطول السّير وَالسَّعْي فِي الطَّرِيق الَّتِي لَا توصل إِلَى الْمَطْلُوب والإقتداء بِمن يظنّ فِيهِ الْإِصَابَة وَهُوَ مُخطئ والإشتغال بالبحث عَن الدقائق الَّتِي لَا طَرِيق إِلَى مَعْرفَتهَا وَلَا يُوصل الْبَحْث عَنْهَا إِلَى الْيَقِين وَلَا إِلَى الْوِفَاق وَلَا ظَهرت للخوض فِيهَا مَعَ طوله ثَمَرَة نافعة لَا بِالْيَقِينِ صادعة وَلَا للإفتراق جَامِعَة وَلَا رُوِيَ عَن أحد من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وَلَا صَحَّ عَن أحد من السّلف الْكِرَام

وَرُبمَا انْقَطع هَذَا الْعُمر الْقصير فِي تِلْكَ الطّرق الْبَعِيدَة قبل الْبلُوغ إِلَى الْمَقْصُود بهَا وَهُوَ معرفَة الْحق الْوَاجِب من الْبَاطِل المهلك وَمَعْرِفَة المحق من الْمُبْطل وَلَيْسَ الطّلب لكل علم بمحمود وَلَا كل مَطْلُوب بموجود أما الثَّانِيَة فوفاقية وَأما الأولى فعقلا وسمعا أما الْعقل فَإِنَّهُ لَا يحسن قطع
সেটির সাথে সাংঘর্ষিক ব্যস্ততাগুলোর কারণে তার জন্য তীব্র অনুসন্ধান আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় অসংখ্য ব্যস্ততা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য বড় বড় ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক অবহেলার মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার শুরুর সময়েই এই সবকিছুর জ্ঞান অর্জন করা কীভাবে সহজ হতে পারে? যারা নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের পূর্বসূরিদের মতবাদ শিখতেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেই সব ত্রুটিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের নিজস্ব দলীলসমূহ যাচাই করার প্রতি মনোযোগ দেওয়া কীভাবে সম্ভব? প্রতিপক্ষের দলীলসমূহ নিয়ে চিন্তা করা এবং সেগুলো যাচাই করার কথা তো বাদই দিলাম; অথচ সেখানে রয়েছে চরম ও সূক্ষ্ম সংশয়সমূহ এবং প্রত্যেক ধর্ম ও দলে বুদ্ধিমান ব্যক্তি ও ধর্মযাজকদের একে অপরের সাথে বিরোধ। আর মুসলিমদের মধ্যে যাদের মাঝে বাহ্যত বুঝ ও ইনসাফ দেখা যায়, তাদের মধ্যেও এই মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে। তাই এই চিন্তাটি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠল এবং আমার হৃদয় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হল; যদি না নিশ্চিত জ্ঞান—বরং আবশ্যকীয় জ্ঞান—এর মোকাবিলা করত যে, অধিকাংশ মানুষের আকীদা বাতিল এবং তারা সুস্পষ্ট সত্যকে তুচ্ছ সংশয়ের মাধ্যমে প্রতিহত করে। বিভিন্ন ধর্ম, উপদল ও কুপ্রবৃত্তির কিতাবসমূহ এবং অজ্ঞতার বিষয়গুলো পাঠ করার মাধ্যমে আপনি তা জানতে পারবেন। এমতাবস্থায় আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে, তাঁর নিকট প্রার্থনা করে, তাঁকে অন্বেষণ করে এবং তাঁর প্রতি আশা ও ভয় পোষণ করে মুক্তির উপায় সম্পর্কে চিন্তা করলাম। অতঃপর আল্লাহ তাআলা—তাঁরই সমস্ত প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও গুণকীর্তন—সে সময় আমাকে আমার জ্ঞান অনুযায়ী এমন এক স্পষ্টতম পথের তাওফীক দিলেন যা সংশয় ও সন্দেহ থেকে বহু দূরে। সেটি হলো সেই সত্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যা জানা অত্যন্ত জরুরি এবং যা না জানলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইসলাম কুরআন ও সুন্নাহ থেকে যা জানা আবশ্যক করেছে, অথবা যার আদেশ দিয়েছে কিংবা যার প্রতি উৎসাহিত করেছে, তা-ই এর অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে যার জ্ঞান অর্জনের আবশ্যকতা সম্পর্কে কোনো বিবেকপ্রসূত বা শ্রুত দলীল নেই এবং শরীয়তে যার মুস্তাহাব হওয়াও প্রমাণিত নয়, তা জানার প্রয়োজন নেই। এই অংশটি বর্জন করার মাধ্যমেই বিষয়টি সহজ হয় এবং সংকট লাঘব হয়। কেননা তর্ক-বিতর্ক ও গোমরাহীর পরিধিকে যা প্রশস্ত করেছে তা হলো এমন বিষয় নিয়ে গবেষণা করা যা জানা সম্ভব নয় এবং যা অনুধাবন করা যায় না তার পেছনে শ্রম দেওয়া, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং এমন পথে চেষ্টা করা যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় না। আর এমন ব্যক্তির অনুসরণ করা যাকে সঠিক পথপ্রাপ্ত মনে করা হয় অথচ সে ভুল পথে আছে; এবং এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত হওয়া যা জানার কোনো পথ নেই। এবং সে সকল বিষয়ে গবেষণা কোনো নিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছে দেয় না, না কোনো ঐকমত্য সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোতে নিমগ্ন থাকার পরও কোনো উপকারী ফল প্রকাশ পায়নি; যা না নিশ্চিত সত্যকে উন্মোচিত করে, আর না অনৈক্যকে দূর করে ঐক্যবদ্ধ করে। এছাড়া এটি নবীদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) কারো থেকেও বর্ণিত হয়নি এবং সম্মানিত সালাফদের কারো থেকেও সহীহভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই এই সংক্ষিপ্ত আয়ু ঐ সব সুদূর পথে শেষ হয়ে যায়; অথচ লক্ষ্য ছিল ধ্বংসাত্মক বাতিল থেকে আবশ্যকীয় সত্যকে চেনা এবং বাতিলপন্থী থেকে সত্যপন্থীকে আলাদা করা। আর সব ধরনের জ্ঞান অনুসন্ধান করা প্রশংসনীয় নয় এবং প্রত্যেক কাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়াও সম্ভব নয়। দ্বিতীয় বিষয়টি সর্বসম্মত, আর প্রথম বিষয়টি বিবেক ও শ্রুত দলীল উভয় দিক থেকেই প্রমাণিত। বিবেকের বিচারে এটি এ জন্য যে, কোনো বিষয়ের পেছনে সময় ব্যয় করা ভালো কাজ নয়...
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১১)
الْأَوْقَات فِي وزن الْحِجَارَة وَكيل التُّرَاب وَنَحْو ذَلِك مِمَّا لَا يُفِيد وَالْعلَّة أَنه عَبث وَلعب لَا يضر وَلَا ينفع فَكيف بِمَا يضر أَو لَا يُؤمن أَنه يضر وَقد ذكر نَحْو ذَلِك القَاضِي جَعْفَر رَحمَه الله تَعَالَى وَأما السّمع فقد قَالَ تَعَالَى فِي متعلمي السحر أَنهم يتعلمون مَا يضرهم وَلَا يَنْفَعهُمْ وَقَالَ تَعَالَى {فَلَمَّا جَاءَتْهُم رسلهم بِالْبَيِّنَاتِ فرحوا بِمَا عِنْدهم من الْعلم} صلى الله عليه وسلم وَالْآيَة تَقْتَضِي ذمّ علمهمْ وذمهم بِهِ

وَفِي الحَدِيث أَن من الْعلم جهلا قَالَ ابْن الْأَثِير فِي النِّهَايَة قيل فِي تَفْسِيره وَهُوَ أَن يتَعَلَّم مَا لايحتاج إِلَيْهِ كَالنُّجُومِ وعلوم الْأَوَائِل ويدع مَا هُوَ مُحْتَاج اليه فِي دينه من علم الْقُرْآن وَالسّنة وَقَالَ تَعَالَى {وَلَو جَعَلْنَاهُ ملكا لجعلناه رجلا وللبسنا عَلَيْهِم مَا يلبسُونَ} وَعلم آدم الاسماء دون الْمَلَائِكَة وآتانا من الْعلم قَلِيلا مَعَ قدرته على أَن يؤتينا كثيرا فَقَالَ فِي ذَلِك {وَمَا أُوتِيتُمْ من الْعلم إِلَّا قَلِيلا} يُوضحهُ قَول الْخضر لمُوسَى عليهما السلام مَا علمي وعلمك وَعلم جَمِيع الْخَلَائق فِي علم الله إِلَّا كَمَا أَخذ هَذَا الطَّائِر بمنقاره من هَذَا الْبَحْر وَقَالَ لمُوسَى أَنا على علم من علم الله لَا يَنْبَغِي لَك أَن تعلمه وَأَنت على علم من علم الله لَا يَنْبَغِي لي أَن أعمله فَدلَّ ذَلِك كُله على أَنه لَا يَنْبَغِي لعاقل أَن يتَعَرَّض لعلم مَا لم يعلمنَا الله وَرَسُوله ويتضح معقوله ومنقوله لقَوْل الْمَلَائِكَة عليهم السلام لَا علم لنا إِلَّا مَا علمتنا وَإِلَى ذَلِك الْإِشَارَة بقوله تَعَالَى {قل هاتوا برهانكم هَذَا ذكر من معي وَذكر من قبلي} وَهَذِه الْآيَة دَالَّة على أَن كتب الله لَا تَخْلُو من الْبَرَاهِين الْمُحْتَاج اليها فِي أَمر الدّين كَمَا سَيَأْتِي فِي هَذَا الْمُخْتَصر مستوعبا إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَفِي قَول الْمَلَائِكَة لَا علم لنا إِلَّا مَا علمتنا إِشَارَة إِلَى ذَلِك بل دلَالَة وَاضِحَة لأَنهم حِين قطعُوا على فَسَاد آدم مَعَ اخبار الله تَعَالَى لَهُم أَنه مستخلفه فِي الأَرْض إِنَّمَا أَتَوا من خوضهم فِيمَا لم يعلمهُمْ الله تَعَالَى إِذْ لَو كَانَ من تَعْلِيم الله مَا أخطأوا فِيهِ فَلَمَّا تبين لَهُم خطأهم نظرُوا من أَيْن جَاءَهُم الْخَطَأ على علو مَنْزِلَتهمْ فعرفوا أَنهم أخطأوا لما تعرضوا لعلم مَا لم يعلمهُمْ الله
পাথর ওজন করা, মাটি পরিমাপ করা এবং এ জাতীয় অকেজো কাজে সময় ব্যয় করা; এর কারণ হলো এগুলো বৃথা কাজ ও খেলতামাশা যা কোনো ক্ষতিও করে না, উপকারও করে না। তাহলে যা ক্ষতি করে অথবা যার ক্ষতির ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না, তার অবস্থা কী হবে? কাজী জাফর (রহমতুল্লাহি আলাইহি) অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। আর শ্রুত দলিলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ জাদু শিক্ষাকারীদের সম্পর্কে বলেছেন যে, তারা এমন বিষয় শেখে যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না। তিনি আরও বলেছেন, {যখন তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসলেন, তখন তারা তাদের নিকট যে জ্ঞান ছিল তা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করল।} সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এই আয়াতটি তাদের অর্জিত জ্ঞানের নিন্দা এবং সেই জ্ঞানের কারণে তাদের নিন্দিত হওয়ার দাবি রাখে।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, "নিশ্চয়ই কিছু জ্ঞান হলো অজ্ঞতা।" ইবনুল আসীর 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলেছেন, এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, তা হলো এমন বিষয় শেখা যার প্রয়োজন নেই—যেমন জ্যোতির্বিদ্যা ও পূর্ববর্তীদের দর্শন—এবং দ্বীনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় যেমন কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান বর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {যদি আমি তাকে ফেরেশতা বানাতাম, তবে তাকে মানুষের রূপেই পাঠাতাম এবং তারা যে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত আছে আমি তাদের সেই বিভ্রান্তিতেই রেখে দিতাম।} তিনি ফেরেশতাদের বাদ দিয়ে আদমকে নামসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের সামান্য জ্ঞান দান করেছেন, যদিও তিনি আমাদের অনেক জ্ঞান দিতে সক্ষম ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, {তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই প্রদান করা হয়েছে।} এর ব্যাখ্যা দেয় মূসার প্রতি খিজিরের (আলাইহিমাস সালাম) সেই উক্তি: "আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় আমার জ্ঞান, তোমার জ্ঞান এবং সমস্ত সৃষ্টির জ্ঞান কেবল ততটুকুই, যতটুকু এই পাখিটি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি নিয়েছে।" তিনি মূসাকে আরও বলেছিলেন, "আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক জ্ঞানের ওপর আছি যা তোমার জানার প্রয়োজন নেই, আর তুমি এমন এক জ্ঞানের ওপর আছ যা আমার জানার প্রয়োজন নেই।" এই সবকিছু প্রমাণ করে যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এমন বিষয় জানার চেষ্টা করা উচিত নয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের শেখাননি। এর যৌক্তিক ও উদ্ধৃতিমূলক বিষয়টি ফেরেশতাদের (আলাইহিমাস সালাম) বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, "আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।" আর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: {বলুন, তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো; এটিই আমার সাথীদের আলোচনা এবং আমার পূর্ববর্তীদের আলোচনা।} এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কিতাবসমূহ দ্বীনি বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি থেকে শূন্য নয়, যেমনটি এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপে বিস্তারিতভাবে আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

ফেরেশতাদের উক্তি "আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই"—এর মধ্যে সেদিকে ইঙ্গিত রয়েছে, বরং এটি একটি স্পষ্ট দলিল। কারণ, আল্লাহ যখন তাদের জানালেন যে তিনি পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করছেন, তখন আদমের ফাসাদ সৃষ্টি করার বিষয়ে তারা যে চূড়ান্ত মন্তব্য করেছিল, তা কেবল সেই বিষয়ে তাদের মগ্ন হওয়ার কারণে হয়েছিল যা আল্লাহ তাদের শেখাননি। কেননা যদি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে শেখানো হতো, তবে তারা ভুল করতেন না। যখন তাদের নিকট তাদের ভুল প্রকাশ পেল, তখন তারা উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও লক্ষ্য করলেন যে ভুলটি কোথা থেকে এল। তখন তারা বুঝতে পারলেন যে, তারা ভুল করেছেন কারণ তারা এমন বিষয় জানার চেষ্টা করেছিলেন যা আল্লাহ তাদের শেখাননি।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১২)
سُبْحَانَهُ فَقَالُوا حِينَئِذٍ {سُبْحَانَكَ لَا علم لنا إِلَّا مَا علمتنا} فَهَذَا وهم أَحَق الْخلق بِالْعلمِ والكشف للغائبات فَإِنَّهُم أنوار وعقول بِلَا شهوات حاجبة وَلَا أهواء غالبة وَلذَلِك ذمّ الله الَّذين فِي قُلُوبهم زيغ بابتغاء تَأْوِيل الْمُتَشَابه ومدح الراسخين بالإعتراف بِالْعَجزِ كَمَا هُوَ مَعْرُوف عَن عَليّ عليه السلام فِي أمالي السَّيِّد الامام أبي طَالب عليه السلام وَفِي نهج البلاغة على مَا سَيَأْتِي تَقْرِيره وَالْحجّة عَلَيْهِ وذم الْيَهُود على تعَاطِي مَا لم يعلمُوا فَقَالَ تَعَالَى {هَا أَنْتُم هَؤُلَاءِ حاججتم فِيمَا لكم بِهِ علم فَلم تحاجون فِيمَا لَيْسَ لكم بِهِ علم}

وَمن ذَلِك أَن الله تَعَالَى أرى رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمين يَوْم بدر الْكثير من الْمُشْركين قَلِيلا فِي الْمَنَام ثمَّ فِي الْيَقَظَة للْمصْلحَة وَاخْتلف لمن الضَّمِير فِي قَوْله تَعَالَى {يرونهم مثليهم رَأْي الْعين} وَقَالَ سُبْحَانَهُ فِي السَّاعَة {أكاد أخفيها لتجزى كل نفس بِمَا تسْعَى} أَي أُخْفِي علمهَا الْجملِي وَأما تعْيين وَقتهَا فقد أخفاه من الْخلق كَمَا قَالَ {ثقلت فِي السَّمَاوَات وَالْأَرْض لَا تَأْتيكُمْ إِلَّا بَغْتَة} وَكفى بذلك حجَّة صادعة على أَن الْمصلحَة لِلْخلقِ قد تعلق بِجَهْل بعض الْعُلُوم وَمِمَّا يُوضح ذَلِك قَول عِيسَى عليه السلام {ولأبين لكم بعض الَّذِي تختلفون فِيهِ} كَمَا ذكر فِي الْكَشَّاف وَلِأَن حِكْمَة الله وَحكمه الَّذِي لَا يغالب قد يَقْتَضِي ذَلِك عُمُوما كَمَا اقْتَضَت كتم الْآجَال على الاكثرين

وَجَاء فِي الحَدِيث الصَّحِيح أَن أبي بكر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أول رُؤْيا عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ أصبت بَعْضًا وأخطأت بَعْضًا فَسَأَلَهُ بَيَان مَا أصَاب فِيهِ وَمَا أَخطَأ فَأبى عَلَيْهِ فَقَالَ أَقْسَمت عَلَيْك الا مَا أَخْبَرتنِي فَقَالَ لَا تقسم فَهَذَا مَعَ اكرامه لَهُ وانه على خلق عَظِيم كَمَا قَالَ الله تَعَالَى فلولا أَن الْجَهْل بِبَعْض الْأُمُور قد يكون راجحا أَو وَاجِبا لما تخلف
তিনি পবিত্র, তখন তারা বলেছিল: "আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।" তারা হলো সৃষ্টির মধ্যে ইলম এবং অদৃশ্যের বিষয়সমূহ উন্মোচনের সর্বাধিক যোগ্য, কারণ তারা এমন নূর এবং আকল যাতে কোনো প্রতিবন্ধক লালসা বা প্রবল প্রবৃত্তি নেই। এই কারণেই আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে যারা মুতাশাবিহ আয়াতের অপব্যাখ্যা অনুসন্ধান করে, আর যারা সুদৃঢ় (রাসিখিন) তাদের প্রশংসা করেছেন নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করার কারণে। যেমনটি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে সাইয়্যিদ ইমাম আবু তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর 'আমালি'-তে এবং 'নাহজুল বালাগাহ'-তে, যা সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে এবং যার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপিত হবে। এবং আল্লাহ ইয়াহুদীদের নিন্দা করেছেন তাদের সেই বিষয়ে জড়িত হওয়ার কারণে যা তারা জানত না, অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা তো তারা যারা সে বিষয়ে বিতর্ক করেছিলে যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল, তবে এখন কেন সে বিষয়ে বিতর্ক করছ যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?"

এর মধ্যে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বদরের দিন তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুসলিমদেরকে তাদের মঙ্গলের স্বার্থে স্বপ্নে এবং পরবর্তীতে জাগ্রত অবস্থায় বহু সংখ্যক মুশরিককে অল্প করে দেখিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলার বাণী "তারা তাদের চাক্ষুষ দেখছিল নিজেদের দ্বিগুণ" এতে সর্বনামটি কার দিকে ফিরেছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কিয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: "আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল পায়।" অর্থাৎ আমি এর সামগ্রিক জ্ঞানকে গোপন রাখি। আর এর সময় নির্ধারণের বিষয়টি তিনি সৃষ্টি থেকে গোপন রেখেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: "তা আসমান ও জমিনে একটি ভারী বিষয়, তা তোমাদের নিকট হঠাৎ করেই উপস্থিত হবে।" এটিই অকাট্য প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট যে, সৃষ্টির কল্যাণ কখনো কখনো কিছু জ্ঞান থেকে অজ্ঞ থাকার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর এই উক্তি: "যাতে আমি তোমাদের কাছে সেই বিষয়ের কিছু অংশ স্পষ্ট করে দিই যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ", যেমনটি কাশশাফে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহর হিকমত এবং তাঁর অজেয় ফয়সালা কখনো কখনো সাধারণভাবে এই বিষয়টি দাবি করে, যেমনটি তা অধিকাংশের নিকট থেকে মৃত্যুর সময়কাল গোপন রাখাকে আবশ্যক করেছে।

সহীহ হাদীসে এসেছে যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেন। তখন তিনি (রাসূল) তাকে বললেন: "তুমি কিছু অংশে সঠিক হয়েছ এবং কিছু অংশে ভুল করেছ।" অতঃপর তিনি তাকে যা সঠিক হয়েছে এবং যা ভুল হয়েছে তা বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করলেন, কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকার করলেন। তিনি (আবু বকর) বললেন: "আমি আপনার নিকট শপথ করে বলছি যে আপনি আমাকে তা অবশ্যই জানাবেন।" তিনি বললেন: "শপথ করো না।" এটি তাঁর (রাসূলের) প্রতি আবু বকরের সম্মান এবং আল্লাহর বাণী অনুযায়ী রাসূলের সুমহান চরিত্রের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ঘটেছে। সুতরাং যদি কিছু বিষয়ে অজ্ঞ থাকা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বা আবশ্যক না হতো, তবে তিনি এটি জানাতে অস্বীকৃতি জানাতেন না।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
عَن اخباره بعد هَذَا الالحاح الْكثير من هَذَا الصاحب الْكَبِير فَدلَّ على أَنه لَيْسَ فِي كل علم صَلَاح الْعباد وَأَن قَدرنَا أَنه يحصل من غير خطأ وَلَا تَعب وَلَا خطر فَكيف مَعَ خوف الْفَوْت والخطر الْعَظِيم والتعب الشَّديد بل هُوَ مَعَ تحقق ذَلِك فِي حق الْأَكْثَرين بالتجارب الضرورية

وَمن ذَلِك قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين رفع علم لَيْلَة الْقدر وَسُئِلَ عَنْهَا وَعَسَى أَن يكون خيرا لكم رَوَاهُ البُخَارِيّ وَقَوله فِي حَدِيث معَاذ دعهم يعملوا مُتَّفق على صِحَّته وشواهده جمة كَثِيرَة صَحِيحَة وَمن ذَلِك وَهُوَ أعظمه وأشهره قصَّة الْخضر ومُوسَى عليهما السلام وَهِي شافية كَافِيَة وَهِي صَرِيحَة فِي اخْتِلَاف الْمصَالح فِي الْعُلُوم وَمِنْه قَوْله تَعَالَى بعد حِكَايَة الإختلاف بَين دَاوُد وَسليمَان عليهما السلام {وكلا آتَيْنَا حكما وعلما}

وَذكر الشَّيْخ أَبُو الْقَاسِم الْبَلْخِي فِي مقالاته الْمَشْهُورَة الْعَامَّة فَقَالَ هَنِيئًا لَهُم السَّلامَة مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا وَفِي شعر الْعَلامَة ابْن أبي الْحَدِيد المعتزلي وَقد حكى كَثْرَة بَحثه فِي علم الْكَلَام حَتَّى قَالَ

(وأسائل الْملَل الَّتِي اخْتلفت … فِي الدّين حَتَّى عَابِد الوثن)

(وحسبت أَنِّي بَالغ أملي … فِيمَا طلبت ومبريء شجني)

(فاذا الَّذِي استكثرت مِنْهُ هُوَ … الْجَانِي على عظائم المحن)

(فضللت فِي تيه بِلَا علم … وغرقت فِي يم بِلَا سفن)

وَقَالَ الْفَخر الرَّازِيّ فِي ذَلِك

(الْعلم للرحمن جل جلاله … وسواه فِي جهلاته يتغمغم)

(مَا للتراب وللعلوم وَإِنَّمَا … يسْعَى ليعلم أَنه لَا يعلم)

وَقَالَ صَاحب نِهَايَة الاقدام

(قد طفت فِي تِلْكَ الْمعَاهد كلهَا … وسيرت طرفِي بَين تِلْكَ المعالم)

(فَلم أر إِلَّا وَاضِعا كف حائر … على ذقن أَو قارعا سنّ نادم)
এই মহান সঙ্গীর ব্যাপক পিড়াপিড়ির পরও তাঁর সংবাদ না দেওয়া একথাই প্রমাণ করে যে, প্রতিটি জ্ঞানের মধ্যেই বান্দাদের কল্যাণ নিহিত নয়। এমনকি যদি আমরা ধরেও নিই যে এটি কোনো ভুল, ক্লান্তি বা ঝুঁকি ছাড়াই অর্জিত হবে, তবুও কী অবস্থা হবে যখন এতে হারানোর ভয়, মহা বিপদ এবং চরম ক্লান্তির আশঙ্কা বিদ্যমান? বরং অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অপরিহার্য অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই এর বাস্তবতা প্রমাণিত হয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, যখন লাইলাতুল কদরের জ্ঞান তুলে নেওয়া হলো এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: "সম্ভবত এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।" এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন। আর মুয়াজ (রাযি.)-এর হাদিসে তাঁর উক্তি: "তাদেরকে আমল করতে দাও।" এটি সর্বসম্মতভাবে বিশুদ্ধ এবং এর অনেক বিশুদ্ধ সমর্থক বর্ণনা রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো—যা সবচেয়ে বড় ও প্রসিদ্ধ—খিজির ও মুসা আলাইহিমাস সালামের ঘটনা। এটি একটি পর্যাপ্ত সমাধান এবং এটি জ্ঞানের ক্ষেত্রে মাসলাহাত বা হিতৈষিতার পার্থক্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট। এর অন্তর্ভুক্ত হলো দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালামের মধ্যকার মতভেদের ঘটনার বর্ণনার পর মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাদের উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছি}।

শায়খ আবুল কাসিম আল-বালখি তাঁর প্রসিদ্ধ সাধারণ প্রবন্ধাবলীতে উল্লেখ করে বলেছেন: "তাদের জন্য নিরাপত্তা হোক" কথাটি দুই বা তিনবার বলেছেন। আল্লামা ইবন আবিল হাদিদ আল-মুতাজিলির কবিতায় ইলমুল কালাম নিয়ে তাঁর ব্যাপক গবেষণার কথা বর্ণিত হয়েছে, এমনকি তিনি বলেছেন:

(আমি ঐসব জাতিগোষ্ঠীকে জিজ্ঞাসা করেছি যারা দ্বীনের ব্যাপারে মতভেদ করেছে, এমনকি মূর্তিপূজারীদেরও … যারা মূর্তির উপাসনা করে)

(আমি ভেবেছিলাম যে আমি যা অন্বেষণ করছি তাতে আমার আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছাতে পারব … এবং আমার দুঃখ লাঘব করব)

(কিন্তু দেখা গেল যে বিষয়টিকে আমি অনেক বেশি কিছু মনে করেছিলাম, সেটিই ছিল … এক গভীর গর্ত যা বড় বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে)

(ফলে আমি জ্ঞানহীন এক গোলকধাঁধায় পথ হারিয়েছি … এবং জাহাজহীন এক সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছি)

ফখর আল-রাজি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

(প্রকৃত জ্ঞান কেবল পরম করুণাময় আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত, যাঁর মহিমা অতি মহান … আর তিনি ছাড়া অন্য সবাই আপন অজ্ঞতায় হাবুডুবু খাচ্ছে)

(মাটির মানুষের জ্ঞানের সাথে কী সম্পর্ক? সে তো কেবল … এইটুকু জানতে সচেষ্ট হয় যে, সে আসলে কিছুই জানে না)

নিহায়াতুল ইকদাম-এর লেখক বলেছেন:

(আমি সেই সকল বিদ্যাপীঠের সবগুলোতে পরিভ্রমণ করেছি … এবং আমার দৃষ্টিকে সেই সব নিদর্শনের মাঝে নিবদ্ধ করেছি)

(কিন্তু আমি সেখানে বিভ্রান্ত ব্যক্তির চিবুকে হাত রাখা … অথবা অনুতপ্ত ব্যক্তির দাঁত দিয়ে হাত কামড়ানো ছাড়া আর কিছুই দেখিনি)
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
فَهَذَا كَلَام سلاطين أَئِمَّة المعارف الْعَقْلِيَّة من فريقي الْملَّة الإسلامية وَسَيَأْتِي هَذَا مَبْسُوطا فِي مَوْضِعه

فَأَما بعض الطّلبَة من أَتبَاع أهل الْكَلَام الَّذين قلدوا فِي تِلْكَ الْقَوَاعِد وهم يحسبون أَنهم من الْمُحَقِّقين فهم أبلد وَأبْعد من أَن يعرفوا مَا أوجب اعْتِرَاف هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة بِالْجَهْلِ وَالْعجز وَإِنَّمَا هم بِمَنْزِلَة من سمع أَخْبَار الحروب والشجعان وَهَؤُلَاء الْأَئِمَّة بِمَنْزِلَة من مارس مقارعة الْأَبْطَال ومنازلة الأقران وَلَا يلْزم من التزهيد فِي طلب مَا لَا يحصل والاشتغال بِمَا يضر من عُلُوم الفلاسفة والمبتدعة التزهيد فِي الْعلم النافع وَسَيَأْتِي اشباع القَوْل فِي عظم فَضله والحث عَلَيْهِ بعد تَقْرِير صِحَّته وَالرَّدّ الشافي على من نَفَاهُ

وَمن هَا هُنَا أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَآله وَسلم بالإقتصاد فِي الْأُمُور وَقَالَ إِن المنبت لَا أَرضًا قطع وَلَا ظهرا أبقى وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ الله تَعَالَى معلما للأميين وَرَحْمَة للْعَالمين وَعلم بِالضَّرُورَةِ لَا بأخبار الْآحَاد إِن ذَلِك كَانَ خلقه وَدينه عِنْد الْعلمَاء النقاد فَتعين حِينَئِذٍ طلب الطَّرِيق الْقَرِيبَة الممكنة الَّتِي هِيَ فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا كَمَا نَص على ذَلِك فِي كِتَابه الْكَرِيم وَسنة رَسُوله عَلَيْهِ أفضل صلى الله عليه وسلم وَلَوْلَا مَا وَقع فِيهَا من التَّغْيِير لما احْتَاجَت إِلَى طلب وَلكنه قد وَقع فِيهَا التَّغْيِير كَمَا أخبر بذلك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيث الْمُتَّفق على صِحَّته عِنْد أهل النَّقْل وَفِيه تَفْسِير الْفطْرَة وتقريرها من الْمبلغ الْمُبين لما أنزل عَلَيْهِ من الْهدى والنور حَيْثُ قَالَ (كل مَوْلُود يُولد على الْفطْرَة وَإِنَّمَا أَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ ويمجسانه) وَفِي ذَلِك يَقُول أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام فِي ممادح ربه سبحانه وتعالى الَّتِي أودعها خطبه فِي محافل الْمُسلمين وَأما العارفين وَعلمهَا من حَضَره من خِيَار الْمُؤمنِينَ حَيْثُ قَالَ فِي محامد رب الْعَالمين لم يطلع الْعُقُول على تَحْدِيد صفته وَلم يحجبها عَن وَاجِب مَعْرفَته فَهُوَ الَّذِي يشْهد لَهُ أَعْلَام الْوُجُود على إِقْرَار قلب ذِي الْجُحُود وَقد جود فِي شَرحه ونصرته الْعَلامَة ابْن أبي الْحَدِيد وَعَزاهُ إِلَى قَاضِي الْقُضَاة وَفرق بَينه وَبَين قَول الجاحظ فَقَالَ أَنا مَا ادعينا فِي هَذَا الْمقَام إِلَّا أَن الْعلم بِإِثْبَات الصَّانِع هُوَ الضَّرُورِيّ والجاحظ
এটি ইসলামী মিল্লাতের উভয় দলের যৌক্তিক জ্ঞানবিজ্ঞানের ইমামদের সুলতানদের কথা এবং এর বিস্তারিত আলোচনা যথাযোগ্য স্থানে আসবে।

পক্ষান্তরে ইলমে কালামের অনুসারী কিছু ছাত্র, যারা ঐসব মূলনীতির অন্ধ অনুসরণ করেছে অথচ তারা নিজেদেরকে গবেষক মনে করে, তারা এতটাই স্থবির এবং সত্য থেকে দূরে যে, এই ইমামগণ কেন নিজেদের অজ্ঞতা ও অক্ষমতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন তা জানার ক্ষমতাও তাদের নেই। তারা মূলত সেই ব্যক্তির মতো যে যুদ্ধ ও বীরত্বের কাহিনী শুনেছে মাত্র, আর এই ইমামগণ হলেন সেই ব্যক্তিদের মতো যারা বীরদের সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং সমকক্ষদের সাথে মুকাবিলা করেছেন। যা অর্জিত হয় না তার অন্বেষণ থেকে নিরুৎসাহিত করা এবং দার্শনিক ও বিদআতিদের সেসব ক্ষতিকর বিজ্ঞানে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখার অর্থ এই নয় যে, উপকারী ইলম অর্জনে অনীহা তৈরি করা। শীঘ্রই এর মহান শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে এবং এর সত্যতা প্রমাণের পর এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং যারা একে অস্বীকার করে তাদের প্রতি মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে।

আর এখান থেকেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি বাহনকে অতিষ্ঠ করে ফেলে সে পথও অতিক্রম করতে পারে না এবং বাহনকেও অবশিষ্ট রাখে না। তিনি সেই সত্তা যাকে আল্লাহ তাআলা নিরক্ষরদের শিক্ষক এবং বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে মনোনীত করেছেন। বিজ্ঞ সমালোচক আলেমদের নিকট এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত, কোনো একক সংবাদ দ্বারা নয় যে, এটিই ছিল তাঁর চরিত্র ও দ্বীন। তখন সেই নিকটতম ও সম্ভবপর পথ অনুসন্ধান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা মূলত আল্লাহর ফিতরাত বা স্বভাবজাত ধর্ম, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। যদি এতে কোনো পরিবর্তন না ঘটত, তবে এটি অনুসন্ধানের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু এতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, যা হাদীস বিশারদদের নিকট সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত। সেখানে যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হেদায়েত ও নূর থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনাকারীর পক্ষ হতে ফিতরাতের ব্যাখ্যা ও স্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, "প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে।" এ বিষয়েই আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালাম তাঁর রবের (যিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত) প্রশংসায় বলেছেন যা তিনি মুসলিমদের মজলিসে এবং আরেফদের ইমামদের সামনে তাঁর ভাষণে উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর কাছে উপস্থিত শ্রেষ্ঠ মুমিনদের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বিশ্বজগতের রবের প্রশংসায় বলেছেন, "তিনি জ্ঞান-বুদ্ধিকে তাঁর গুণের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত করেননি, আবার তাকে তাঁর অত্যাবশ্যকীয় পরিচয় জানা থেকেও বঞ্চিত করেননি। তিনিই সেই সত্তা, যার অস্তিত্বের নিদর্শনসমূহ অস্বীকারকারীর অন্তরের স্বীকৃতির ওপর সাক্ষ্য দেয়।" আল্লামা ইবনে আবিল হাদীদ এর ব্যাখ্যা ও সমর্থনে চমৎকার আলোচনা করেছেন এবং একে প্রধান বিচারপতির দিকে নিসবত করেছেন এবং জাহিজের বক্তব্যের সাথে এর পার্থক্য করে বলেছেন, আমরা এই পর্যায়ে কেবল এটাই দাবি করেছি যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের জ্ঞান হলো একটি স্বত:সিদ্ধ জ্ঞান, আর জাহিজ...
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
ادّعى فِي جَمِيع المعارف أَنَّهَا ضَرُورِيَّة وَأَيْنَ أحد الْقَوْلَيْنِ من الآخر انْتهى كَلَام الشَّيْخ وَيدل عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {الم ذَلِك الْكتاب لَا ريب فِيهِ} وَقَوله {الم تَنْزِيل الْكتاب لَا ريب فِيهِ} وَقَوله تَعَالَى {قَالَت رسلهم أَفِي الله شكّ فاطر السَّمَاوَات وَالْأَرْض} وَلذَلِك كَانَ الْمُخْتَار فِي حَقِيقَة النّظر إِنَّه تَجْرِيد الْقلب عَن الغفلات لَا تَرْتِيب الْمُقدمَات كَمَا ذكره الشَّيْخ مُخْتَار المعتزلي فِي كِتَابه الْمُجْتَبى فَتَأمل ذَلِك

قلت وَبَيَان هَذِه الْجُمْلَة فِي أَمريْن أَحدهمَا بَيَان الْمُحْتَاج إِلَيْهِ من المعارف الإسلامية فِي الْأُصُول وَهِي سَبْعَة أُمُور كلهَا فطرية جلية كَمَا يَأْتِي وَعَلَيْهَا مدَار خلاف الْعَالمين أَجْمَعِينَ وَإِنَّمَا تدْرك بالفطرة قبل التَّغْيِير أَو مَعَ الشُّعُور بذلك التَّغْيِير فَإِن مداواته بعد الشُّعُور بِهِ سهلة وَذَلِكَ لِأَن البصيرة فِي المعلومات كالبصر فِي المحسوسات كِلَاهُمَا مخلوقان فِي الأَصْل على الْكَمَال مَا لم يغيرا فَمَتَى وَقع فيهمَا التَّغْيِير وَلم يشْعر بِهِ صَاحبه فحش جَهله وَخَطأَهُ وَمَتى شعر بذلك سهل علاجه واستداركه وَالْحكم عَلَيْهِ بِحكم العميان وَالله الْمُسْتَعَان الْأَمر الثَّانِي بَيَان أَن خوض جَمِيع الْمُتَكَلِّمين فِي عقائدهم الخلافية بَين الْفرق الإسلامية يتَوَقَّف دَائِما أَو غَالِبا على الْخَوْض فِي مُقَدمَات لتِلْك العقائد وَجَمِيع تِلْكَ الْمُقدمَات مُخْتَلف فِيهَا أَشد الِاخْتِلَاف بَين أذكياء الْعَالم وفحول علم المعقولات من عُلَمَاء الْإِسْلَام دع عَنْك غَيرهم وَمن شَرط الْمُقدمَات أَن تكون أجلى وَأَن لَا تكون بِالشَّكِّ والإختلاف أولى فَلْينْظر بإنصاف من كَانَ من أهل النّظر من عُلَمَاء الْكَلَام فِي تِلْكَ الْقَوَاعِد الدقيقة والمباحث العميقة والمعارضات الشَّدِيدَة والمناقشات اللطيفة فِي أَحْكَام الْقدَم وَمَتى يَصح من الله تَعَالَى إِيجَاد الْحَوَادِث وَمَا لزم كل خائض فِي ذَلِك حَتَّى الْتزم بعض شُيُوخ الْكَلَام نفي الْقُدْرَة على تَقْدِيم الْخلق عَن وقته وَبَعْضهمْ أَن الْحَوَادِث لَا نِهَايَة لَهَا فِي الِابْتِدَاء كَمَا لَا نِهَايَة لَهَا فِي الإنتهاء وَقَالَ جمهورهم أَنه قَادر فِي الْقدَم وَلَا يَصح مِنْهُ الْفِعْل فِيهِ مَعَ قدرته وَكَذَلِكَ اخْتلَافهمْ فِيمَا تعلق بِهِ الْعلم فِي الْقدَم وَفِي أَحْكَام الْوُجُود وَالْمَوْجُود وَهل هما شَيْء وَاحِد على
তিনি সকল জ্ঞানের ক্ষেত্রে দাবি করেছেন যে তা স্বতঃসিদ্ধ, আর এক মত অন্যটি থেকে কতই না দূরে! শেখের কথা এখানেই শেষ। আর মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ দেয়: "আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" এবং তাঁর বাণী: "আলিফ-লাম-মীম। এই কিতাবের অবতরণ, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" আরও মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের রাসূলগণ বলেছিলেন: আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে?" এই কারণেই তাত্ত্বিক অনুসন্ধানের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে পছন্দনীয় মত হলো যে, এটি অন্তরকে অসচেতনতা থেকে মুক্ত করা, ভূমিকা বা হেতুবাক্য সাজানো নয়; যেমনটি শেখ মুখতার আল-মুতাযিলি তাঁর 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

আমি বলি, এই সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল: প্রথমটি হলো, দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানের যে অংশটি প্রয়োজন তার বর্ণনা। এগুলো মোট সাতটি বিষয় এবং এর সবই সহজাত ও সুস্পষ্ট, যা সামনে আসবে। সকল বিশ্ববাসীর মতভেদ এগুলোর ওপরই আবর্তিত হয়। তবে বিকৃতির পূর্বে অথবা সেই বিকৃতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সাথে সাথে এগুলো সহজাত স্বভাবের মাধ্যমেই উপলব্ধ হয়। কারণ বিকৃতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পর তার চিকিৎসা সহজ। এর কারণ হলো, জ্ঞানীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির মতো। উভয়ই মূলে পূর্ণতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে যতক্ষণ না তাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়। যখন এ দুটির মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটে আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা বুঝতে না পারে, তখন তার অজ্ঞতা ও ভুল মারাত্মক আকার ধারণ করে। আর যখন সে তা বুঝতে পারে, তখন তার প্রতিকার ও সংশোধন সহজ হয়ে যায় এবং তার ওপর অন্ধের বিধান কার্যকর হয়। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো এর বর্ণনা যে, ইসলামি ফেরকাগুলোর মধ্যে মতভেদপূর্ণ আকিদাগত বিষয়ে সমস্ত কালাম শাস্ত্রবিদদের নিমগ্ন হওয়া সর্বদা বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই আকিদাহগুলোর ভূমিকার ওপর নির্ভর করে। আর সেই সকল ভূমিকার ব্যাপারে বিশ্বের মেধাবী ব্যক্তিবর্গ এবং ইসলামের যুক্তিবিদ্যা বিশারদ আলেমদের মধ্যে চরম মতভেদ রয়েছে, অন্যদের কথা তো বাদই দিলাম। অথচ ভূমিকার শর্ত হলো তা অধিকতর স্পষ্ট হওয়া এবং সন্দেহ ও মতভেদের ঊর্ধ্বে হওয়া। অতএব কালাম শাস্ত্রের আলেমদের মধ্যে যারা তাত্ত্বিক অনুসন্ধানের যোগ্য, তারা যেন ইনসাফের সাথে সেই সূক্ষ্ম নীতিমালা, গভীর আলোচনা, জোরালো আপত্তি এবং অনাদি হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম বিতর্কের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন; এবং কখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নশ্বর বিষয়াদির সৃষ্টি সঠিক হয় সে বিষয়েও। এই আলোচনায় নিমগ্ন প্রত্যেক ব্যক্তি যা অপরিহার্য করে নিয়েছেন তা লক্ষ্য করুন; এমনকি কালাম শাস্ত্রের কোনো কোনো শেখ সৃষ্টির নির্ধারিত সময়ের আগে তা সৃষ্টি করার ক্ষমতাকে অস্বীকার করা পর্যন্ত অবধারিত করে নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন যে, সূচনালগ্নে নশ্বর বিষয়াদির কোনো শেষ নেই, যেমনটি সমাপ্তির ক্ষেত্রেও কোনো শেষ নেই। তাদের অধিকাংশের মতে, তিনি অনাদিকাল থেকেই সক্ষম, কিন্তু সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও অনাদিকালে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া সঠিক নয়। একইভাবে অনাদিকালে জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং অস্তিত্ব ও বিদ্যমান সত্তা সংক্রান্ত বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাদের মতভেদ রয়েছে— যে এই দুটি কি একই বিষয় কি না...
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
التَّحْقِيق أَو بَينهمَا فرق دَقِيق وَفِي دَعْوَى أبي هَاشم وَأَصْحَابه أَن الثُّبُوت غير الْوُجُود حَتَّى جمعُوا بَين الثُّبُوت والعدم دون الْوُجُود والعدم وقضوا بِأَن الله تَعَالَى لَا يدْخل فِي قدرته سُبْحَانَهُ أَن يكون هُوَ الْمُثبت للأشياء الثَّابِتَة فِي الْعَدَم مَعَ قضائهم بِثُبُوت جَمِيع الْأَشْيَاء فِي الْعَدَم بِغَيْر مُؤثر وَإِنَّمَا تَفْسِير خلق الله للأشياء عِنْدهم أَن يكسبها بعد ثُبُوتهَا صفة الْوُجُود مَعَ مُخَالفَة جُمْهُور الْعُقَلَاء لَهُم فِي ذَلِك

وَفِي أدلتهم عَلَيْهِ كَمَا أوضحه صَاحبهمْ أَبُو الْحُسَيْن وَأَصْحَابه وأوضحوا أَيْضا مخالفتهم فِي اثبات الأكوان والإستدلال بهَا إِلَى أَمْثَال لذَلِك كَثِيرَة مِمَّا اشْتَمَلت عَلَيْهِ التَّذْكِرَة لِابْنِ متويه والملخص للرازي وَشَرحه والصحائف الإلهية لبَعض الْحَنَفِيَّة وَنَحْوهَا من جَوَامِع هَذَا الْفَنّ فعلى قدر مَا فِي تِلْكَ الْقَوَاعِد من الشكوك والإحتمالات تعرف ضعف مَا تفرع عَنْهَا

وَلَعَلَّ كثيرا من النظار الْمُتَأَخِّرين يعْتَرف بِأَنَّهَا محارات ومجاهل لَا هِدَايَة للعقول فِيهَا إِلَى الْيَقِين ثمَّ يعْتَقد أَن عقائده المبنية عَلَيْهَا صَحِيحَة قَطْعِيَّة وَهَذِه غَفلَة عَظِيمَة فَإِن الْفَرْع لَا يكون أقوى من الأَصْل لَا فِي عُلُوم السّمع وَلَا فِي عُلُوم الْعقل ثمَّ أَن الْمُتَكَلِّمين كثيرا مَا يقفون المعارف الجليلة الْوَاضِحَة على أَدِلَّة دقيقة خُفْيَة فيتولد من ذَلِك مفاسد مِنْهَا إِيجَاب مَا لَا يجب من الإستدلال وتكلفه وتكليفه الْمُسلمين وَمِنْهَا تَكْفِير من لَا يعرف ذَلِك أَو تأثيمه ومعاداته وَمَعَ ذَلِك تَحْرِيمه يُؤَدِّي إِلَى حرَام آخر وَهُوَ التَّفَرُّق الَّذِي نَص الْقُرْآن الْكَرِيم على النَّهْي عَنهُ وَمِنْهَا تَمْكِين أَعدَاء الْإِسْلَام من التشكيك على الْمُسلمين فِيهِ وَفِي أَمْثَاله وَمِنْهَا الإبتداع وتوسيع دائرته وَمَا أحسن قَول أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ عليه السلام فِي مثل ذَلِك الْعلم نُكْتَة يسيرَة كثرها أهل الْجَهْل

ولنذكر شَيْئا من ذَلِك نخرج بِهِ عَن التُّهْمَة بِدَعْوَى مَا لم يكن مِنْهُم فَنَقُول انا لَا نحتاج إِلَى دَلِيل على وجوب الله تَعَالَى بعد علمنَا بِالضَّرُورَةِ الفطرية أَنه الَّذِي أوجد الموجودات وَخلق العوالم ودبرها وَاسْتحق المحامد جَمِيعهَا والأسماء الْحسنى كلهَا وَأَنه على كل شَيْء قدير وَبِكُل شَيْء عليم خَبِير وَهَذَا هُوَ قَول الشَّيْخ أبي الْحُسَيْن وَأَصْحَابه وَأكْثر الْعُقَلَاء وجماهير الْأمة وَذهب الشَّيْخ أَبُو هَاشم الجبائي وَأَتْبَاعه إِلَى أَنا بعد علمنَا بذلك كُله نشك هَل هُوَ سُبْحَانَهُ مَوْجُود أَو مَعْدُوم بعد علمنَا بِأَنَّهُ موجد
আসল অনুসন্ধান বা এই দুয়ের মাঝে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। আবু হাশিম এবং তার অনুসারীদের এই দাবিতে যে, ‘সুভূত’ (স্থায়িত্ব বা সাব্যস্ত হওয়া) এবং ‘উজুদ’ (অস্তিত্ব) এক নয়; এমনকি তারা অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের (আদাম) মধ্যে সমন্বয় না করে সুভূত ও অনস্তিত্বের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তারা ফয়সালা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার কুদরতের আওতায় এটি পড়ে না যে তিনি অনস্তিত্বে সাব্যস্ত বস্তুসমূহের সাব্যস্তকারী (মুসবিত) হবেন। অথচ তারা ফয়সালা করেছেন যে, কোনো প্রভাবক ছাড়াই অনস্তিত্বে সকল বস্তু সাব্যস্ত থাকে। তাদের মতে আল্লাহর সৃষ্টির ব্যাখ্যা হলো—বস্তুসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি সেগুলোকে অস্তিত্বের গুণ দান করেন। অধিকাংশ বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তি এই বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেছেন।

এবং তাদের দলীলসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যেমনটি তাদের ইমাম আবুল হুসাইন ও তার অনুসারীরা ব্যাখ্যা করেছেন। তারা ‘আকওয়ান’ (অস্তিত্বশীল অবস্থা) সাব্যস্ত করা এবং এর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতাও স্পষ্ট করেছেন। ইবনে মাত্তাওয়াইহ-এর ‘আত-তাজকিরাহ’, রাজির ‘আল-মুলাখখাস’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং কোনো কোনো হানাফী আলেমের ‘আস-সাহাইফুল ইলাহিয়্যাহ’ ও এই শিল্পের অনুরূপ সংকলনসমূহে এ জাতীয় অনেক উদাহরণ রয়েছে। সুতরাং এই মূলনীতিগুলোতে যতটুকু সন্দেহ ও সংশয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তার ভিত্তিতেই এ থেকে নির্গত শাখা-প্রশাখাগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে জানা যায়।

সম্ভবত পরবর্তী যুগের অনেক গবেষকই স্বীকার করেন যে, এগুলো বিভ্রান্তিকর ও অজ্ঞাত পথ যেখানে বিবেক নিশ্চিত সত্যের দিশা পায় না। তবুও তারা বিশ্বাস করেন যে, এই ভিত্তিগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত তাদের আকিদাহসমূহ নির্ভুল ও অকাট্য। এটি এক বিরাট অসতর্কতা; কেননা শাখা কখনো মূলের চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না, তা শ্রুত বিদ্যায় হোক বা বুদ্ধিভিত্তিক বিদ্যায়। এরপর মুতাকাল্লিমগণ (ইলমে কালামের পণ্ডিতরা) অনেক সময় সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন জ্ঞানসমূহকে অতি সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল করে তোলেন। ফলে তা থেকে নানাবিধ অনিষ্টের জন্ম হয়। যার মধ্যে রয়েছে: যা আবশ্যক নয় এমন প্রমাণ উপস্থাপনাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করা এবং এর জন্য অহেতুক কষ্ট করা ও মুসলিমদের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া; যারা তা জানে না তাদেরকে কাফির ঘোষণা করা বা গুনাহগার সাব্যস্ত করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা। উপরন্তু একে হারাম সাব্যস্ত করা অন্য একটি হারামের দিকে ধাবিত করে, আর তা হলো দলাদলি ও বিভেদ, যা থেকে পবিত্র কুরআন সরাসরি নিষেধ করেছে। আরও রয়েছে ইসলামের শত্রুদেরকে মুসলিমদের মাঝে দ্বীন ও এ জাতীয় বিষয়ে সংশয় সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়া। আরেকটি হলো বিদআতের অনুপ্রবেশ ও এর পরিধি বিস্তৃত করা। এই প্রসঙ্গে আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী কতই না সুন্দর: “জ্ঞান ছিল একটি ক্ষুদ্র বিন্দু, মূর্খরা তাকে বর্ধিত করেছে।”

আমরা এই বিষয়ে কিছু উল্লেখ করব যাতে আমাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো দাবি করার অভিযোগ না আসে যা তাদের পক্ষ থেকে ছিল না। আমরা বলছি: আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের আবশ্যিকতার (উজুব) জন্য আমাদের কোনো দলীলের প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা ফিতরাতি বা সহজাতভাবে ও আবশ্যিকভাবে জানি যে, তিনিই বিদ্যমান বস্তুসমূহকে অস্তিত্ব দান করেছেন, জগতসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোর পরিচালনা করেছেন। সকল প্রশংসা এবং সকল আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ) তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল এবং সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত ও খবর রাখেন। এটিই হলো শায়খ আবুল হুসাইন ও তার অনুসারীদের কথা, এবং অধিকাংশ জ্ঞানী ও উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মত। অন্যদিকে শায়খ আবু হাশিম আল-জুব্বায়ী ও তার অনুসারীদের অভিমত হলো—এই সব কিছু জানার পরেও আমরা সন্দেহ পোষণ করি যে তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) অস্তিত্ববান নাকি অস্তিত্বহীন, যদিও আমরা জানি যে তিনিই অস্তিত্ব দানকারী।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
الموجودات ومدبرها القيوم بهَا وَأَنا بعد الْعلم بذلك وَمَعَهُ نحتاج إِلَى النّظر الدَّقِيق فِي دَلِيل يدل على أَن خالقنا الْكَامِل الْأَسْمَاء والنعوت غير مَعْدُوم وَلَا يكفينا الْعلم بِأَنَّهُ خالقنا ومدبرنا دَلِيلا على وجوده قطّ وغفلوا عَن كَون وجود الْخَالِق القيوم بخلقه أقوى فِي التَّعْرِيف بِوُجُودِهِ من الدَّلِيل الَّذِي يتكلفونه على ذَلِك فِي فطر الْعُقَلَاء وَأَنه إِن أمكن الشَّك فِي هَذِه الْفطْرَة أمكن الشَّك فِي دليلهم عَلَيْهَا إِذْ لَا يُمكن أَن يكون أقوى مِنْهَا بل هُوَ أخْفى بِغَيْر شكّ كَمَا يعلم ذَلِك من وقف على أدلتهم فِي ذَلِك وَقد كنت أوردتها هُنَا وَبَيَان مَا فِيهَا من الشكوك ثمَّ صنت ديباجة هَذَا الْمُخْتَصر من ذَلِك وَنَحْوه من علم الجدل وَرَأَيْت أَن أورد ذَلِك فِي فصل مُفْرد فِي آخر هَذَا الْمُخْتَصر إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَإِلَّا فَهِيَ فِي العواصم مَجْمُوعَة وَفِي كتب الْكَلَام مفرقة وَإِنَّمَا فعلت ذَلِك مَعًا ليسلم أَولا من كدورته أهل الاثر ثمَّ ينْتَفع ثَانِيًا بِالنّظرِ فِي الشكوك الْوَارِدَة عَلَيْهِ أهل الْكَلَام وَالنَّظَر إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَإِنَّمَا اضْطر أَبُو هَاشم وَأَتْبَاعه إِلَى ذَلِك لأَنهم جوزوا للمعدوم تحققا فِي الْخَارِج لَا فِي الذِّهْن على مَا حَقَّقَهُ الشَّيْخ مُخْتَار المعتزلي فِي كِتَابه الْمُجْتَبى فِي الْفَصْل الرَّابِع فِي صِفَات الله تَعَالَى

وَاعْلَم أَن كَثْرَة التعنت فِي النّظر تُؤدِّي إِلَى طلب تَحْصِيل الْحَاصِل والتشكيك فِيهِ وَقد جربنَا ذَلِك وتأثيره فِي الموسوسين فِي الطَّهَارَة وَفِي النِّيَّة وأمثالهما من الْأُمُور الضرورية فَإِذا صَحَّ مرض الْعُقُول فِي الضروريات بِسَبَب التعنت والغلو فِي تَحْصِيل الْحَاصِل فَكيف إِذا وَقع هَذَا السَّبَب فِي محارات الْعُقُول ودقائق الْكَلَام وتوهم المبتلي بالوسوسة أَنه لَا طَرِيق لَهُ إِلَى معرفَة الله تَعَالَى إِلَّا تِلْكَ الدقائق الْخفية وَالْقَوَاعِد الْمُخْتَلف فِيهَا بَين أذكياء الْبَريَّة وَمن أَمارَة عدم الْيَقِين فِيهَا اسْتِمْرَار الْخلاف بعد طول الْبَحْث من الأذكياء من أهل الْإِنْصَاف وَمن عُلَمَاء أهل الْإِسْلَام وَلَا تحسبن أَن الْعلَّة فِي ذَلِك وَقتهَا بل الْعلَّة عدم الطَّرِيق إِلَى مَعْرفَتهَا يُوضح هَذَانِ علم الْحساب والفلك وتسيير الشَّمْس وَالْقَمَر وَمَعْرِفَة أَوْقَات الكسوفيين من أدق الْعُلُوم وَمَعَ دقته فَإِن غالبه صَحِيح مُتَّفق عَلَيْهِ بَين العارفين لَهُ وَمَا كَانَ مِنْهُ خفِيا ظنيا فَهُوَ مَعْرُوف بذلك بَين أَهله وَعكس ذَلِك علم أَحْكَام النُّجُوم
অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহ এবং সেগুলোর পরিচালক, যিনি সেগুলোর ধারক (আল-কাইয়ুম); এবং আমরা এই জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এবং এর সাথেই এমন একটি প্রমাণের জন্য সূক্ষ্ম চিন্তার মুখাপেক্ষী হই যা নির্দেশ করে যে আমাদের স্রষ্টা—যাঁর নাম ও গুণাবলি পূর্ণাঙ্গ—তিনি অবিদ্যমান নন। আর তিনি যে আমাদের স্রষ্টা ও পরিচালক, এই জ্ঞানটিই তাঁর অস্তিত্বের দলিল হিসেবে আমাদের জন্য কখনোই যথেষ্ট হয় না। অথচ তারা এই বিষয়টি উপেক্ষা করেছে যে, সৃষ্টিজগতকে ধারণকারী স্রষ্টার অস্তিত্বের বিষয়টি বুদ্ধিমানদের স্বভাবজাত বুদ্ধিতে (ফিতরাত) তাঁর অস্তিত্বের পরিচায়ক হিসেবে সেই দলিলে চেয়েও বেশি শক্তিশালী, যা তারা কষ্ট করে তৈরি করার চেষ্টা করে। আর যদি এই স্বভাবজাত বুদ্ধিতে সন্দেহ করা সম্ভব হয়, তবে তাঁর অস্তিত্বের ব্যাপারে তাদের দলিলেও সন্দেহ করা সম্ভব হবে। কেননা তাদের সেই দলিল ফিতরাতের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হওয়া অসম্ভব, বরং কোনো সন্দেহ ছাড়াই তা আরও বেশি অস্পষ্ট। যেমনটি সেই ব্যক্তি জানতে পারবে যে এই বিষয়ে তাদের দলিলগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে। আমি সেগুলো এবং সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সংশয়সমূহ এখানে উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে আমি এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের সূচনালগ্নকে সেসব থেকে এবং অনুরূপ বিতর্কবিদ্যা থেকে পবিত্র রেখেছি। এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আল্লাহ তায়ালা চাইলে এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের শেষে একটি পৃথক পরিচ্ছেদে তা উল্লেখ করব। অন্যথায় সেগুলো 'আল-আওয়াসিম' গ্রন্থে সংগৃহীত রয়েছে এবং কালাম শাস্ত্রের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আমি এই কাজগুলো একত্রে এই জন্যই করেছি যাতে প্রথমে আহলে আসার (হাদিসের অনুসারীগণ) এর পঙ্কিলতা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে, অতঃপর আল্লাহ তায়ালা চাইলে আহলে কালাম ও চিন্তাবিদগণ এতে আপতিত সংশয়সমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। আবু হাশিম এবং তাঁর অনুসারীগণ এই পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন কারণ তারা অবিদ্যমান বস্তুর জন্য মনের বাইরে বাহ্যিক অস্তিত্বের বাস্তবতা স্বীকার করেছেন, যেমনটি শেখ মুখতার আল-মুতাজিলি তাঁর 'আল-মুজতাবা' কিতাবের চতুর্থ পরিচ্ছেদে আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনায় বিশ্লেষণ করেছেন।

জেনে রাখুন যে, তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি অর্জিত বিষয়কেই পুনরায় অর্জন করার চেষ্টার দিকে নিয়ে যায় এবং তাতে সংশয় সৃষ্টি করে। আমরা এটি এবং এর প্রভাব সেইসব ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখেছি যারা পবিত্রতা, নিয়ত এবং এই জাতীয় অন্যান্য জরুরি বিষয়গুলোতে আক্রান্ত। সুতরাং যদি অর্জিত বিষয় অর্জনের বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনের কারণে জরুরি বিষয়গুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাধি সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে এই কারণটি যখন বুদ্ধির অগম্য বিষয় এবং কালাম শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে ঘটে তখন কী অবস্থা হবে? তখন ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তি ধারণা করে নেয় যে, সেসব অস্পষ্ট সূক্ষ্ম বিষয় এবং সৃষ্টির মেধাবীদের মাঝে বিতর্কিত নিয়মকানুন ছাড়া আল্লাহ তায়ালাকে চেনার আর কোনো পথ তার কাছে নেই। সেসব বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস না থাকার একটি লক্ষণ হলো—ইনসাফপ্রিয় মেধাবী ব্যক্তি এবং মুসলিম আলেমদের দীর্ঘ গবেষণার পরেও মতবিরোধ অব্যাহত থাকা। আর আপনি মনে করবেন না যে এর কারণ সেই সময়কাল, বরং এর কারণ হলো তা জানার কোনো সুনির্দিষ্ট পথ না থাকা। এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে গণিত শাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান; আর সূর্য ও চন্দ্রের পরিভ্রমণ এবং সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় নির্ধারণ হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিজ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়া সত্ত্বেও এর অধিকাংশ বিষয়ই সঠিক এবং এ বিষয়ে জ্ঞানীদের মাঝে ঐকমত্য বিদ্যমান। আর এর মধ্যে যা কিছু অস্পষ্ট বা ধারণাপ্রসূত, তা বিশেষজ্ঞদের নিকট সেই হিসেবেই পরিচিত। আর এর বিপরীত হলো জ্যোতিষ শাস্ত্র।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
فِي حُدُوث الْحَوَادِث فَإِن غالبه بَاطِل لِأَنَّهَا لم تصح مِنْهُ الْمُقدمَات فَدلَّ الضعْف والإختلاف على ضعف الْقَوَاعِد لَا على دقتها وَلذَلِك لَا يخْتَلف أهل الْحساب الدَّقِيق فِي الْفَرَائِض وَقِسْمَة الْمَوَارِيث فِي المناسخات وَنَحْوهَا مَعَ دقته وَلذَلِك لَا تخْتَلف عُلَمَاء الْعَرَبيَّة والمعاني وَالْبَيَان فِي كل دَقِيق بل يتفقون حَيْثُ تكون الْمُقدمَات صَحِيحَة وَإِن دقَّتْ وَلَا يَخْتَلِفُونَ إِلَّا حَيْثُ تكون الْمُقدمَات ظنية بل المتكلمون فِي الْحَقِيقَة كَذَلِك لكِنهمْ إِنَّمَا يتفقون فِي أُمُور يسْتَغْنى فِي مَعْرفَتهَا عَن علم الْكَلَام وَعَن مَعْرفَتهَا فِي علم الْكَلَام ثمَّ يختصون من بَين أهل الْعُلُوم بِدَعْوَى الْقطع فِي مَوَاضِع الظنون وتركيب التعادي والتأثيم والتكفير على تِلْكَ الدَّعَاوَى إِلَّا أفرادا من أئمتهم وأذكيائهم توغلوا حَتَّى فَهموا أَنهم انْتَهوا إِلَى محارات مُنْتَهى الْعُقُول فِيهَا الْميل إِلَى إمارات ظنية فَرَجَعُوا إِلَى التَّسْلِيم وَترك التَّكْفِير كَمَا سَيَأْتِي بَيَان ذَلِك عَنْهُم ونصوصهم فِيهِ

وَمن العبر الجلية فِي هَذَا للمتأملين أَن أهل الدُّنْيَا الموصوفة بِأَنَّهَا لعب وَلَهو ومتاع قد اتقنوا مَوَازِين معرفَة الْحق من الْبَاطِل فِيمَا بَينهم وتمييز يسير الحيف فِي ذَلِك حَتَّى لَا يَسْتَطِيع أحد تَدْلِيس الْبَاطِل مَعَ وزنهم وتمييزهم لذَلِك بِتِلْكَ الموازين الموصلة إِلَى الْعلم الْيَقِين الْقَاطِع لَا مَكَان اللجاج وَالْخلاف من الْمُخَالفين فَلَو اسْتَطَاعَ أهل الْكَلَام أَن يضعوا فِي أُمُور الدّين المهمة مَوَازِين حق تميز الْحق من الْبَاطِل على وَجه وَاضح يقطع الْخلاف ويشفي الصُّدُور مثل مَوَازِين أهل الدُّنْيَا مَا كَرهُوا ذَلِك وهم لَا يتهمون بالتقصير فِي ذَلِك وَإِنَّمَا أَتَوا من أَنهم تركُوا الإعتماد على تعلم الْحق من الْكتاب الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه الَّذِي أنزلهُ من أنزل الْمِيزَان ليتعرف بِهِ الْحق بعد دلَالَة الإعجاز على صدقه كَمَا يعرف الْحق فِي الْأَمْوَال بالميزان بعد دلَالَة الْعقل على صِحَّته وَلذَلِك جَمعهمَا الله تَعَالَى فِي قَوْله {الله الَّذِي أنزل الْكتاب بِالْحَقِّ وَالْمِيزَان} أنزل الْكتاب لتعريف الْحق الديني وَالْمِيزَان لتعريف الْحق الدنيوي فَترك الْأَكْثَرُونَ الإعتماد عَلَيْهِ لما سَنذكرُهُ من الْأَسْبَاب الَّتِي ظَهرت فِي أعذار
নতুন বিষয়াদির আবির্ভাব প্রসঙ্গে; এর অধিকাংশ বিষয়ই ভিত্তিহীন, কেননা এর প্রারম্ভিক যুক্তিসমূহ সঠিক নয়। সুতরাং দুর্বলতা ও মতপার্থক্য মূলত নীতিমালার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে, এর সূক্ষ্মতাকে নয়। এ কারণেই সূক্ষ্ম গণনাবিদগণ উত্তরাধিকার আইন, মিরাস বণ্টন, মুনাসখাত এবং এ জাতীয় সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে কোনো মতপার্থক্য করেন না। ঠিক তেমনি আরবি ভাষা, মাআনি ও বয়ান শাস্ত্রের আলিমগণ প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন না; বরং যেখানে প্রারম্ভিক ভিত্তিগুলো সঠিক থাকে, সেখানে তারা একমত হন, যদিও তা অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়। তারা কেবল তখনই দ্বিমত করেন যখন প্রারম্ভিক ভিত্তিগুলো ধারণাভিত্তিক হয়। প্রকৃতপক্ষে ইলমে কালামের পণ্ডিতদের অবস্থাও তাই; কিন্তু তারা এমন সব বিষয়ে একমত হন যা জানার জন্য ইলমে কালামের প্রয়োজন হয় না এবং ইলমে কালামের মাধ্যমে সে সব বিষয়ে জানার মুখাপেক্ষিতা থাকে না। অতঃপর তারা অন্যান্য জ্ঞান শাখার আলিমদের বিপরীতে সংশয় ও ধারণার স্থানগুলোতে নিশ্চিত সত্যের দাবি করার ক্ষেত্রে এবং সেই সব দাবির ওপর ভিত্তি করে শত্রুতা তৈরি করা, গুনাহগার সাব্যস্ত করা ও কাফির ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য হয়ে থাকে। তবে তাদের কিছু ইমাম ও তীক্ষ্ণধী ব্যক্তিরা এর ব্যতিক্রম, যারা অত্যন্ত গভীরে প্রবেশ করেছিলেন। অবশেষে তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তারা এমন এক বিভ্রান্তিকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক সীমানার পরিসমাপ্তি ঘটে এবং কেবল ধারণাপ্রসূত নিদর্শনের দিকেই ঝোঁক সৃষ্টি হয়। ফলে তারা আত্মসমর্পণ এবং কাফির আখ্যা দেওয়া বর্জন করার পথে ফিরে আসেন, যেমনটি সামনে তাদের উদ্ধৃতি ও বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।

চিন্তাশীলদের জন্য এতে একটি প্রকাশ্য শিক্ষা এই যে, দুনিয়াদার মানুষ—যাদের দুনিয়াকে খেলাধুলা, অনর্থক আমোদ ও নশ্বর সামগ্রী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে—তারা নিজেদের মধ্যে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণের মানদণ্ডগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছে এবং এর মধ্যে সামান্যতম বিচ্যুতিকেও তারা পৃথক করতে পারে। ফলে তাদের সেই মানদণ্ডগুলোর মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা পরিমাপ ও পার্থক্য করার কারণে কেউ সেখানে মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দিতে পারে না; যা মূলত অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে বিরোধীদের বিতর্ক ও মতভেদের কোনো স্থান থাকে না। সুতরাং ইলমে কালামের অনুসারীরা যদি দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এমন কোনো হকের মানদণ্ড স্থাপন করতে সক্ষম হতো, যা দুনিয়াদারদের মানদণ্ডের মতো স্পষ্টভাবে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করে দিত, বিরোধ মিটিয়ে দিত এবং অন্তরকে প্রশান্ত করত, তবে তারা তা অপছন্দ করত না। আর এ বিষয়ে চেষ্টার ত্রুটির জন্য তাদেরকে অভিযুক্ত করা যাবে না। বরং তাদের এই পরিণতি হয়েছে এ কারণে যে, তারা সেই কিতাব থেকে সত্য অন্বেষণের নির্ভরতা ত্যাগ করেছে, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। যিনি জীবন যাপনের মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন, তিনিই এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে এর অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি এর সত্যতা নিশ্চিত করার পর এর মাধ্যমে সত্যকে চেনা যায়। যেমনটি সম্পদের ক্ষেত্রে সত্য ও সঠিকতা মানদণ্ডের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় যখন বিবেক তার সঠিকতা নির্দেশ করে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে উভয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন: "আল্লাহই সত্যসহ কিতাব এবং মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন।" তিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন ধর্মীয় সত্যগুলো জানানোর জন্য, আর মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন পার্থিব সত্যসমূহ নির্ণয়ের জন্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এর ওপর নির্ভরতা ত্যাগ করেছে সেই সব কারণবশত যা আমরা সামনে তাদের অজুহাতসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْمُخَالفين وان كَانَ السَّبَب الْأَكْبَر الَّذِي أخبر عَنهُ علام الغيوب حَيْثُ يَقُول {لقد جئناكم بِالْحَقِّ وَلَكِن أَكْثَرَكُم للحق كَارِهُون} وتعرضوا لما لَا يُمكن من ايضاح المحارات الَّتِي لَا تتضح وَالسير فِي الطّرق الَّتِي لَا توصل وَالْوَزْن بِالْمَوَازِينِ الَّتِي لم ينزلها الله تَعَالَى وَلَا علمتها رسله وَلَا اجْتمعت عَلَيْهَا عقول الْعُقَلَاء وفطن الأذكياء وَمَا خرج عَن ذَلِك كُله فَمن أَيْن لَهُ الوضوح حَتَّى يكون لَهُ ميزَان يُمَيّز بِهِ الْحق من الْبَاطِل عِنْد الدقة والخفاء والإختلاف الشَّديد فَتَأمل ذَلِك بإنصاف

وأعجب من كل عَجِيب تَكْفِير بَعضهم لبَعض بِسَبَب الإختلاف فِي هَذِه المحارات الخالية من ذَلِك كُله وَقد قَالَ الله تَعَالَى بعد الْأَمر بوفاء الْكَيْل وَالْوَزْن {لَا نكلف نفسا إِلَّا وسعهَا} مَعَ وضوح الْوَفَاء فيهمَا وامكان الإحتياط فَكيف حَيْثُ يدق ويتعذر فِيهِ الإحتياط لَكِن قد يُمكن أَن لَا يسامحوا فِي ذَلِك من جِهَة أَن الضَّرُورَة بل الْحَاجة لم تدع إِلَيْهِ كالوزن هَذَا مَعَ مَا فِي التَّكْفِير للمخطئ فِي هَذِه الدقائق من الْمفْسدَة وَذَلِكَ عدم جسرة النَّاظر على الْمُخَالفَة لِأَنَّهَا صَارَت مثل الرِّدَّة من الدّين وَلَوْلَا ذَلِك لاتضح كثير من الدقائق فَإِن أَوَائِل أهل علم الْكَلَام لابد أَن يقصروا كَمَا هُوَ الْعَادة الدائمة فِي كل من ابْتَدَأَ مَا لم يسْبق إِلَيْهِ فَلَمَّا كفرُوا الْمُخَالف كتم بَعضهم الْمُخَالفَة وتكلف بَعضهم الْمُوَافقَة بالتأويل الْبعيد وَفَسَد الاكثرون وَقد ذكر نَحْو هَذَا فِي دَلَائِل اعجاز الْقُرْآن أَنه أسلوب مُبْتَدأ جَاءَ على الْكَمَال فَحرق الْعَادَات بذلك على أَن فِي علم الْكَلَام من الْخطر مَا لَا يتَعَرَّض لَهُ حَازِم بعد مَعْرفَته وَذَلِكَ مَا ذكره السَّيِّد الْمُؤَيد بِاللَّه صلى الله عليه وسلم فانه ذكر فِي أَوَاخِر كِتَابه مَا ذكره فِي الزِّيَادَات مَا لَفظه

 

‌‌فصل فِيمَا يجب على الْعَاميّ والمستفتي

قَالَ صلى الله عليه وسلم وَالْأولَى عِنْدِي ترك الْخَوْض فِيمَا لَا تمس الْحَاجة إِلَى مَعْرفَته من علم الْكَلَام لِأَن الصَّحِيح من الْمَذْهَب أَن الْجَهْل قَبِيح وَيجوز أَن يصيره إِلَى حَالَة يسْتَحق صَاحبهَا الخلود فِي النَّار وَهَذَا غير مَأْمُون لَو نظر فِي مَسْأَلَة من الْكَلَام
বিরোধীদের নিয়ে, যদিও এর সবচেয়ে বড় কারণ সম্পর্কে অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা সংবাদ দিয়েছেন যেখানে তিনি বলেন {অবশ্যই আমি তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছি, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দকারী} এবং তারা এমন সব বিভ্রান্তিকর বিষয়কে স্পষ্ট করতে প্রয়াসী হয়েছে যা স্পষ্ট করা সম্ভব নয়, এমন পথে চলেছে যা গন্তব্যে পৌঁছায় না, এবং এমন মানদণ্ড দিয়ে পরিমাপ করেছে যা আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেননি, তাঁর রাসূলগণও শিখিয়ে দেননি, আর না কোনো বুদ্ধিমানের বুদ্ধি বা মেধাবীদের প্রজ্ঞা এতে একমত হয়েছে। যা এ সবকিছুর বাইরে, তার মাঝে স্পষ্টতা আসবে কোত্থেকে? যাতে তার এমন কোনো মানদণ্ড থাকে যা দিয়ে সূক্ষ্মতা, অস্পষ্টতা এবং চরম মতভেদের সময় সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা যায়। সুতরাং তুমি ন্যায়নিষ্ঠার সাথে তা অনুধাবন করো।

আর সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলোতে মতভেদের কারণে তাদের একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করা, যা এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। অথচ আল্লাহ তাআলা পরিমাপ ও ওজনে পূর্ণতা রক্ষা করার নির্দেশের পর বলেছেন {আমি কোনো আত্মাকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিই না} যদিও সে দুটির ক্ষেত্রে পূর্ণতা রক্ষা করা স্পষ্ট এবং সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব। তাহলে এমন বিষয়ে কী হবে যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং যেখানে সতর্কতা অবলম্বন করা অসম্ভব? তবে সম্ভবত এ ক্ষেত্রে তাদের ছাড় না দেওয়ার কারণ হলো এই যে, ওজনের মতো এখানে কোনো অপরিহার্যতা বা প্রয়োজন তাদের বাধ্য করেনি। এর সাথে এসকল সূক্ষ্ম বিষয়ে ভুলকারীকে কাফির বলার মাঝে যে অনিষ্ট রয়েছে তা হলো—গবেষকের মনে মতভেদের কোনো সাহস থাকে না, কারণ এটি দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি তা না হতো, তবে অনেক সূক্ষ্ম বিষয় স্পষ্ট হয়ে যেত। কারণ ইলমুল কালামের প্রাথমিক পণ্ডিতদের মাঝে অপূর্ণতা থাকা অনিবার্য, যেমনটি প্রত্যেক নতুন সূচনাকারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যাকে কেউ আগে অনুসরণ করেনি। কিন্তু যখন তারা বিরোধীদের কাফির ঘোষণা করল, তখন কেউ কেউ ভিন্নমত গোপন করল এবং কেউ কেউ দূরতম ব্যাখ্যার মাধ্যমে মিল রাখার বৃথা চেষ্টা করল, ফলে অধিকাংশ লোকই পথভ্রষ্ট হলো। দালাইলুল ইজায গ্রন্থে এ জাতীয় কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি একটি নবতর শৈলী যা পূর্ণাঙ্গরূপে এসেছে এবং এর মাধ্যমে প্রচলিত রীতিনীতিকে ছিন্ন করেছে। তবে ইলমুল কালামের মধ্যে এমন সব বিপদ রয়েছে যা জানার পর কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তি এর কাছে ঘেঁষবে না। আর এটিই আস-সায়্যিদ আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবের শেষে যা 'আয-যিয়াদাত'-এ বর্ণিত হয়েছে তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন:

 

‌‌সাধারণ মানুষ এবং ফতোয়া জিজ্ঞাসাকারীর ওপর যা আবশ্যক সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার মতে ইলমুল কালামের এমন বিষয়ে গভীর আলোচনা বর্জন করাই উত্তম যার জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন নেই। কেননা মাযহাবের সঠিক মত হলো মূর্খতা অত্যন্ত মন্দ বিষয়, আর এটি ব্যক্তিকে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে যেখানে সে জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তির উপযুক্ত হতে পারে। আর ইলমুল কালামের কোনো মাসআলায় গবেষণার সময় এ ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২০)
وَأَخْطَأ وَلَو لم يشْتَغل بهَا وَترك النّظر فِيهَا أَمن ذَلِك وَلَو أصَاب كَانَ مَا يسْتَحق من الثَّوَاب على الْإِصَابَة يَسِيرا والعاقل إِذا اخْتَار الحزم اخْتَار الاعراض عَنْهَا دون النّظر فِيهَا إِلَى آخر كَلَامه فِي ذَلِك وَأَرَادَ صلى الله عليه وسلم بِالْجَهْلِ الْقَبِيح الْجَهْل الاصطلاحي عِنْد أهل الْكَلَام وَهُوَ اعْتِقَاد الشَّيْء على خلاف مَا هُوَ عَلَيْهِ لَا الْجَهْل اللّغَوِيّ الَّذِي هُوَ التَّوَقُّف فِي مَوْضِعه فَهُوَ الَّذِي أَمر بِهِ وَحكم بنجاة صَاحبه وَمن عُيُوب علم الْكَلَام تعرضهم لما لَا نفع فِي الْخَوْض فِيهِ مَعَ عدم الامان من الْمضرَّة فِيهِ كالخوض فِي الرّوح وَالنَّفس وانهما شَيْء وَاحِد أَو شَيْئَانِ مُخْتَلِفَانِ فان أدلتهم فِي ذَلِك كُله ضَعِيفَة ظنية وَأحسن مَا يستدلون بِهِ فِي ذَلِك هُوَ التلازم وَلَيْسَ من الْأَدِلَّة القاطعة وَقد اخْتَار ابْن متويه وَالْحَاكِم مِنْهُم وَغَيرهمَا أَن الرّوح هُوَ النَّفس الْجَارِي بِفَتْح الْفَاء لأجل التلازم فوهموا وهما فَاحِشا فان الْجَنِين فِي بطن أمه لَا يتنفس بعد حَيَاته وَنفخ الرّوح فِيهِ بِالنَّصِّ والحس بل حَيَوَان المَاء لَا يتنفس فِيهِ وَلَو سلم لَهُم جَوَاز دوَام التلازم لم يكن حجَّة قَاطِعَة على اتِّحَاد النَّفس وَالروح فليحذر الْخَوْض فِي أَمْثَال ذَلِك لقَوْله تَعَالَى {وَلَا تقف مَا لَيْسَ لَك بِهِ علم} وَلما تقدم من كَلَام الْمُؤَيد بِاللَّه فِي ذَلِك وَقد وَافق الْمُؤَيد بِاللَّه على ذَلِك خلائق من أَئِمَّة العترة والامة كَمَا ذكره صَاحب الْجَامِع الْكَافِي عَن مُحَمَّد بن مَنْصُور فِي كتاب الْجُمْلَة والالفة وَحكى الْحَاكِم المعتزلي فِي مُخْتَصر لَهُ جلي فِي معرفَة الله أَن جَعْفَر بن مُبشر وجعفر بن حَرْب من أَئِمَّة الْكَلَام رجعا عَن الْخَوْض فِي دقيقه وَقد بَالغ الْغَزالِيّ فِي احياء عُلُوم الدّين وَلَا حَاجَة إِلَى التَّطْوِيل بِذكر ذَلِك وَهُوَ مَعْرُوف فِي موَاضعه

وَإِنِّي لما رَأَيْت طَرِيق النجَاة من علم الْكَلَام مِمَّا لَا يجْتَمع عَلَيْهَا أهل الْكَلَام دع غَيرهم ورأيتها ان كَانَت طَرِيقا صَحِيحَة فانها متوقفة وَلَا بُد على التَّحْقِيق فِيهِ والبحث العميق عَن الطَّائِفَة وخوافيه المودعة فِي علم اللَّطِيف الَّذِي تذكره ابْن متويه من مختصراته وجلياته وَمُلَخَّص الرَّازِيّ من موجزاته ومتوسطاته وأئمة أَهله أعي علم الْكَلَام فِي غَايَة المباعدة

এবং তিনি ভুল করেছেন। আর যদি তিনি এ নিয়ে ব্যস্ত না হতেন এবং এতে গভীর দৃষ্টিপাত করা বর্জন করতেন, তবে তিনি এ থেকে নিরাপদ থাকতেন। আর যদি তিনি সঠিকও হতেন, তবে সেই সঠিক হওয়ার কারণে প্রাপ্য সওয়াব হতো অতি সামান্য। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন সতর্ক পথ বেছে নেন, তখন তিনি এতে নিবিষ্ট না হয়ে বরং তা থেকে বিমুখ থাকাই পছন্দ করেন; এ বিষয়ে তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত এ কথাই পরিস্ফুট হয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'মন্দ মূর্খতা' বলতে ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের পরিভাষাগত মূর্খতা বুঝিয়েছেন; আর তা হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করা। এটি আভিধানিক মূর্খতা নয়, যা মূলত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন থাকা বা থেমে যাওয়া বুঝায়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই স্থগিত থাকারই নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর অনুসারীর নাজাতের ফয়সালা দিয়েছেন। ইলমুল কালামের ত্রুটিগুলোর মধ্যে একটি হলো এমন বিষয়ে লিপ্ত হওয়া যাতে গভীর আলোচনার কোনো উপকার নেই, অথচ তাতে ক্ষতির আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না। যেমন রূহ এবং নফসের রহস্য নিয়ে আলোচনা করা— যে এই দুটি কি একই বস্তু নাকি দুটি ভিন্ন ভিন্ন জিনিস। এ বিষয়ে তাদের সকল দলিলই দুর্বল ও ধারণানির্ভর। এ ক্ষেত্রে তারা সর্বাপেক্ষা উত্তম যে যুক্তি পেশ করে তা হলো অবিচ্ছেদ্যতা, যা কোনো অকাট্য দলিলের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইবনে মাতুওয়াইহ এবং আল-হাকিমসহ তাদের একদল পণ্ডিত এই মত গ্রহণ করেছেন যে, অবিচ্ছেদ্যতার কারণে রূহ হলো প্রবাহমান শ্বাস। তারা এক মারাত্মক বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন। কেননা অকাট্য বর্ণনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণ তার জীবন সঞ্চার ও তাতে রূহ ফুঁকে দেওয়ার পর শ্বাস গ্রহণ করে না। এমনকি জলজ প্রাণীও পানির নিচে শ্বাস নেয় না। আর যদি তাদের খাতিরে অবিচ্ছেদ্যতার স্থায়িত্ব মেনেও নেওয়া হয়, তবুও তা নফস ও রূহ অভিন্ন হওয়ার পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ হবে না। সুতরাং এ জাতীয় বিষয়ে গভীর আলোচনা থেকে সতর্ক থাকা উচিত; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না।" এছাড়া এ বিষয়ে আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহর পূর্বোল্লিখিত আলোচনার কারণেও সতর্কতা প্রয়োজন। আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহর এই মতের সাথে নবীবংশের এবং উম্মতের অসংখ্য ইমাম একমত পোষণ করেছেন, যেমনটি আল-জামি আল-কাফির লেখক মুহাম্মদ বিন মনসুরের সূত্রে কিতাবুল জুমলাহ ওয়াল উলফাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মুতাযিলা পণ্ডিত আল-হাকিম তাঁর একটি সুস্পষ্ট সংক্ষিপ্তসারে বর্ণনা করেছেন যে, ইলমুল কালামের দুই ইমাম জাফর বিন মুবাশির এবং জাফর বিন হারব কালাম শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে লিপ্ত হওয়া থেকে ফিরে এসেছিলেন। ইমাম গাজালী ইহয়াউ উলুমিদ্দীন গ্রন্থে এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা করেছেন, তাই এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করে দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই; এটি সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সুপরিচিত।

আর আমি যখন দেখলাম যে, ইলমুল কালাম থেকে নাজাতের পথের ব্যাপারে খোদ কালাম শাস্ত্রবিদরাই একমত হতে পারেন না, অন্যদের কথা তো দূরে থাক; এবং আমি দেখলাম যে, যদি এটি কোনো সঠিক পথ হয়েও থাকে, তবুও তা এই শাস্ত্রের নিগূঢ় রহস্য ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলির ওপর সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও গভীর গবেষণার ওপর নির্ভরশীল, যা ইবনে মাতুওয়াইহ তাঁর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থগুলোতে এবং রাজী তাঁর সারসংক্ষেপ ও মধ্যম মানের কিতাবগুলোতে 'ইলমুল লতিফ' শিরোনামে উল্লেখ করেছেন। আর এই শাস্ত্রের ইমামগণ—অর্থাৎ ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ—পরস্পর চরম অনৈক্যের মধ্যে অবস্থান করছেন।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২১)
والمنافاة حَتَّى أَن الشَّيْخ أَبَا الْحُسَيْن ذكر أَنه يَكْفِي فِي معرفَة بطلَان مَذَاهِب أَصْحَابه البهاشمة من الْمُعْتَزلَة مُجَرّد معرفَة مقاصدهم مَعَ أَنهم الْجَمِيع من أَئِمَّة الاعتزال هَذَا مَعَ وُقُوع كثير من أَئِمَّة الْكَلَام فِي الشَّك والحيرة

فَلَمَّا عرفت ذَلِك كُله علمت من غير شكّ صعوبة معرفَة طَرِيق النجَاة من هَذَا الْفَنّ على الاكثرين

وَقد ألهم الله تَعَالَى وَله الْحَمد وَالشُّكْر وَالثنَاء إِلَى أسهل طَرِيق وأخصره فِي علمي إِلَى الْيَقِين والنجاة ونصرة طَرِيق الصَّحَابَة وَالسَّلَف الَّتِي علم تقريرهم عَلَيْهَا بِالضَّرُورَةِ من الدّين وَهِي فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا وَإِنَّمَا عنيت فِي توضيحها وتجديدها بعد درسها ومداواة مَا قد وَقع من تَغْيِير المغيرين لَهَا كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ الحَدِيث فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم (فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ) كَمَا تقدم

وَبَيَان ذَلِك أَنِّي تَأَمَّلت جَمِيع الِاخْتِلَاف الْوَاقِع بَين النَّاس من الْملَل الكفرية وَالْفرق الاسلامية فَإِذا هُوَ على كثرته وتشعبه يرجع فِي الْجُمْلَة إِلَى سَبْعَة أَشْيَاء مدركها بالفطرة قريب بعون الله تَعَالَى بل هِيَ فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا

أَولهَا اثبات الْعُلُوم الضرورية الَّتِي يبتني الاسلام على ثُبُوتهَا وَثَانِيها ثُبُوت الرب عز وجل وَثَالِثهَا توحيده سبحانه وتعالى وَرَابِعهَا كَمَاله بأسمائه الْحسنى وخامسها ثُبُوت النبوات وصحتها فِي الْجُمْلَة وسادسها الايمان بجميعهم وَعدم التَّفْرِيق بَينهم وسابعها ترك الابتداع فِي دينهم بِالزِّيَادَةِ على مَا جاؤا بِهِ وَالنَّقْص مِنْهُ فاذا تَأَمَّلت هَذِه الْأُمُور السَّبْعَة بالفطرة الأولى السليمة من التَّغْيِير بالعادات والطوارئ الْمُغيرَات لم تشك أَن الْخطر الْمخوف من عِقَاب الْآخِرَة مَأْمُون فِي جَمِيعهَا وَأما السِّتَّة الأولى فمجموعها هُوَ دين الاسلام الَّذِي فطر الله عباده على مَعْرفَته وَالْخلاف فِي كل وَاحِد مِنْهَا كفر يجمع عَلَيْهِ والأدلة عَلَيْهَا جلية وفاقية بَين الْمُسلمين وَلَا يُمكن وجود أحوط مِنْهَا وَلَا أولى وَأَحْرَى كَمَا قَالَ تَعَالَى {فَمن أسلم فَأُولَئِك تحروا رشدا} وَأما السَّابِع وَهُوَ عدم الزِّيَادَة وَالنَّقْص فِي الدّين فَهُوَ
এবং বৈপরিত্য এত বেশি যে, শায়খ আবুল হুসাইন উল্লেখ করেছেন যে, তার সাথী মুতাজিলাদের বাহাশেমা গোষ্ঠীর মতাদর্শ বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানার জন্য কেবল তাদের উদ্দেশ্যগুলো জানাই যথেষ্ট, অথচ তারা সকলেই মুতাজিলা ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি ইলমুল কালামের অনেক ইমামেরই সংশয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে নিপতিত হওয়ার পাশাপাশি ঘটেছে।

যখন আপনি এই সব কিছু জানতে পারলেন, তখন কোনো সন্দেহ ছাড়াই বুঝতে পারলেন যে, এই শাস্ত্র থেকে অধিকাংশ মানুষের জন্য নাজাতের পথ খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন।

আল্লাহ তাআলা—যাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও গুণগান—আমাকে আমার জানামতে নিশ্চিত বিশ্বাস ও নাজাতের সবচেয়ে সহজ এবং সংক্ষিপ্ত পথের ইলহাম দান করেছেন। এটি হলো সাহাবী ও সালফে সালেহীনদের সেই পথের সাহায্যার্থে, যার ওপর তাদের অবিচল থাকার বিষয়টি দ্বীনের অকাট্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটিই হলো আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আমি কেবল এই পথটির বিলুপ্ত হওয়ার পর সেটিকে স্পষ্ট ও পুনরুজ্জীবিত করার এবং পরিবর্তনকারীদের দ্বারা সাধিত বিকৃতির চিকিৎসার ইচ্ছা করেছি, যেমনটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে: "তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান বানায়", যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, আমি কুফরি ধর্মসমূহ এবং ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমস্ত মতপার্থক্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি। এরপর দেখলাম যে, এর প্রাচুর্য ও শাখা-প্রশাখা থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে এটি সাতটি বিষয়ে ফিরে আসে, যা আল্লাহর সাহায্যে ফিতরাতের মাধ্যমে উপলব্ধি করা সহজ; বরং এগুলো আল্লাহর সেই ফিতরাত যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

প্রথমটি হলো সেই সকল অকাট্য জ্ঞান সাব্যস্ত করা যার ওপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। দ্বিতীয়টি হলো মহান ও পরাক্রমশালী রবের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা। তৃতীয়টি হলো তাঁর তাওহীদ বা একত্ববাদ। চতুর্থটি হলো তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর পরিপূর্ণতা সাব্যস্ত করা। পঞ্চমটি হলো সামগ্রিকভাবে নবুওয়াত ও এর সত্যতা সাব্যস্ত করা। ষষ্ঠটি হলো সকল নবীর ওপর ঈমান আনা এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করা। সপ্তমটি হলো নবীদের আনীত দ্বীনের মধ্যে কিছু বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে বিদআত সৃষ্টি করা ত্যাগ করা। সুতরাং আপনি যখন অভ্যাস বা বাহ্যিক পরিবর্তনকারী প্রভাবসমূহ থেকে মুক্ত সুস্থ ফিতরাতের মাধ্যমে এই সাতটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন আপনি এতে কোনো সন্দেহ করবেন না যে, আখেরাতের আযাবের ভয়ংকর বিপদ থেকে এই সবগুলো বিষয়েই নিরাপত্তা রয়েছে। আর প্রথম ছয়টি বিষয়ের সমষ্টিই হলো দ্বীন ইসলাম, যার জ্ঞানের ওপর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন। এর প্রত্যেকটির ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করা কুফরি হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে এবং এগুলোর দলীলসমূহ সুষ্পষ্ট ও মুসলমানদের মধ্যে সর্বসম্মত। এর চেয়ে বেশি নিরাপদ ও উত্তম পথ হওয়া সম্ভব নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতএব যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তারাই সঠিক পথ বেছে নিয়েছে।" আর সপ্তম বিষয়টি হলো দ্বীনের মধ্যে বাড়ানো বা কমানো বর্জন করা, আর সেটি হলো
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২২)
الْعِصْمَة من الْبدع المفرقة بَين الْمُسلمين وَهُوَ لَاحق بِمَا قبله فِي ثُبُوته فِي الْفطْرَة مَعَ اضطرار كَارِه الْبِدْعَة اليه لَكِن لَا يثبت فِيهِ التَّكْفِير غَالِبا كَمَا ياتي شَرحه فِي مَوْضِعه

وسر هَذَا الْكَلَام أَن الْعَذَاب الْأَكْبَر مخوف فِي الْمُخَالفَة لأحد هَذِه الْقَوَاعِد السَّبْعَة الجليلة وَالْعقل والسمع مجتمعان على حسن السَّعْي فِي دفع المضار المخوفة المجوزة التجويز لمستوى الطَّرفَيْنِ وَوُجُوب السَّعْي فِي دفع المضار الْمَطْلُوبَة وَوُجُوب السَّعْي فِي الِاحْتِيَاط فِي ذَلِك وَهَذَا مَعْلُوم فِي فطر الْعُقَلَاء وَمَعَ كَونه معقولا فقد ذكره الله تَعَالَى فِي كِتَابه الْمُبين وَذكر الْعُقَلَاء بِهِ إِن كَانُوا عَنهُ غافلين فَقَالَ فِي ذَلِك رب الْعَالمين {قل أَرَأَيْتُم إِن كَانَ من عِنْد الله ثمَّ كَفرْتُمْ بِهِ من أضلّ مِمَّن هُوَ فِي شقَاق بعيد} وَقَالَ عز وجل فِي آيَة أُخْرَى {قل أَرَأَيْتُم إِن كَانَ من عِنْد الله وكفرتم بِهِ وَشهد شَاهد من بني إِسْرَائِيل على مثله فَآمن وَاسْتَكْبَرْتُمْ إِن الله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين} وَقَالَ سُبْحَانَهُ حِكَايَة عَن خَلِيله إِبْرَاهِيم عليه السلام {وَكَيف أَخَاف مَا أشركتم وَلَا تخافون أَنكُمْ أشركتم بِاللَّه مَا لم ينزل بِهِ عَلَيْكُم سُلْطَانا فَأَي الْفَرِيقَيْنِ أَحَق بالأمن إِن كُنْتُم تعلمُونَ} {وَتلك حجتنا آتيناها إِبْرَاهِيم على قومه نرفع دَرَجَات من نشَاء إِن رَبك حَكِيم عليم} وَمِنْه مَا حَكَاهُ الله تَعَالَى عَن مُؤمن آل فِرْعَوْن من قَوْله {أَتقْتلونَ رجلا أَن يَقُول رَبِّي الله وَقد جَاءَكُم بِالْبَيِّنَاتِ من ربكُم وَإِن يَك كَاذِبًا فَعَلَيهِ كذبه وَإِن يَك صَادِقا يصبكم بعض الَّذِي يَعدكُم} وَفِي مَعْنَاهُ قَوْله تَعَالَى أَيْضا {وَيَا قوم مَا لي أدعوكم إِلَى النجَاة وتدعونني إِلَى النَّار} الْآيَات وَهُوَ بَين فِي هَذَا الْمَعْنى لِأَن السَّلامَة متحققة فِي الايمان والخطر مَأْمُون فِيهِ والمهالك مخوفة فِي مُخَالفَته وَقد أحسن كل الاحسان فِي دُعَاء قومه وَلذَلِك حكى الله تَعَالَى حسن احتجاجه عَلَيْهِم فَيَنْبَغِي تَأمله وَالِانْتِفَاع بِهِ وَلذَلِك أتبع الله الْبُرْهَان بالتخويف بِالْمَوْتِ الضَّرُورِيّ
মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী বিদআত থেকে সুরক্ষা; যা তার ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবের স্থিতিশীলতার দিক থেকে পূর্ববর্তী আলোচনার অনুগামী। বিদআত অপছন্দকারী ব্যক্তি এর প্রতি প্রলুব্ধ হতে বাধ্য হলেও, এতে সাধারণত তাকফির সাব্যস্ত হয় না, যেমনটি যথাস্থানে ব্যাখ্যা করা হবে।

এই আলোচনার রহস্য হলো, এই সাতটি মহান মূলনীতির কোনো একটির বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে বড় শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে। আর বুদ্ধি ও শ্রুতি উভয়ই এই বিষয়ে একমত যে, সম্ভাব্য ও আশঙ্কাজনক ক্ষতি দূর করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া প্রশংসনীয়, যেখানে উভয় পক্ষের সম্ভাবনা সমান থাকে। এছাড়া অনিষ্টকর ক্ষতিসমূহ প্রতিহত করার চেষ্টা করা এবং এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। এটি বুদ্ধিমানদের সহজাত প্রকৃতিতে স্বীকৃত। বিষয়টি বুদ্ধিগ্রাহ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবেও তা উল্লেখ করেছেন এবং বুদ্ধিমানরা যদি এ বিষয়ে গাফেল থাকে তবে তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রাব্বুল আলামীন বলেন, "বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তোমরা তাতে অবিশ্বাস কর, তবে তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হবে, যে ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে?" আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত অন্য আয়াতে বলেন, "বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তোমরা তাতে অবিশ্বাস কর, অথচ বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে আর তোমরা অহংকার করেছ? নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।" তিনি পবিত্র ও মহান, তাঁর খলীল ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কথা বর্ণনা করে বলেন, "তোমরা যাদের আল্লাহর সাথে শরীক করেছ, আমি তাদের কীভাবে ভয় করব? অথচ তোমরা ভয় করছ না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরীক করেছ যার কোনো প্রমাণ তিনি তোমাদের কাছে পাঠাননি। সুতরাং যদি তোমরা জানো তবে দুই দলের মধ্যে কোন্টি নিরাপত্তার অধিক হকদার?" "আর এটি ছিল আমার সেই প্রমাণ, যা আমি ইবরাহীমকে তার কওমের বিরুদ্ধে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। নিশ্চয়ই আপনার রব প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ।" এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ফিরআউনের পরিবারের সেই মুমিন ব্যক্তির কথা যা আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন, "তোমরা কি একজন লোককে এজন্য হত্যা করবে যে সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ', অথচ সে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের কাছে এসেছে? সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার মিথ্যার পরিণাম তার ওপরই পড়বে, আর যদি সে সত্যবাদী হয় তবে সে তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তার কিছু তো তোমাদের ওপর আপতিত হবেই।" আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মর্মার্থও অনুরূপ: "হে আমার কওম! আমার কী হলো যে, আমি তোমাদের মুক্তির দিকে ডাকছি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে ডাকছ?" - এই আয়াতসমূহ। এই অর্থের ক্ষেত্রে বিষয়টি সুস্পষ্ট, কারণ ঈমানের মধ্যে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত এবং বিপদ থেকে সুরক্ষা বিদ্যমান, পক্ষান্তরে এর বিরোধিতার মধ্যে ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি তাঁর কওমকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কল্যাণকামিতা প্রদর্শন করেছেন, আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের বিরুদ্ধে তাঁর চমৎকার যুক্তিনির্ভর বিতর্কের কথা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া উচিত। এ কারণেই আল্লাহ দলিলের পরপরই অনিবার্য মৃত্যুর ভয় প্রদর্শন করেছেন।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
والمعاد إِلَيْهِ النظري فِي قَوْله تَعَالَى {كَيفَ تكفرون بِاللَّه وكنتم أَمْوَاتًا فأحياكم ثمَّ يميتكم ثمَّ يُحْيِيكُمْ ثمَّ إِلَيْهِ ترجعون} فان الْكفْر مَعَ مَجْمُوع هَذِه الْأُمُور أنكر الْكفْر وأفحشه فان الْبَرَاهِين تَكْفِي العارفين والمخاوف توقظ نيام الغافلين وتلين قساوة العاتين الماردين وَمَعَ ذَلِك تقوى دواعي العارفين وتقاوم وساوس الشَّيَاطِين وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى {وماذا عَلَيْهِم لَو آمنُوا بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} وَهَذَا الْقدر أَعنِي الدُّخُول فِي الاسلام على جِهَة الِاحْتِيَاط من غير علم بِصِحَّتِهِ بالأدلة يحصل أدنى مَرَاتِب الاسلام عِنْد كثير من عُلَمَاء الاسلام كمن لَا يكفر المقلدين لأهل الْحق وَمن يَقُول المعارف ضَرُورِيَّة وَغَيرهم وحجتهم على ذَلِك أُمُور مِنْهَا تَقْرِير النَّبِي صلى الله عليه وسلم للعامة وَقبُول الشَّهَادَة مِنْهُم وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى {قَالَت الْأَعْرَاب آمنا قل لم تؤمنوا وَلَكِن قُولُوا أسلمنَا وَلما يدْخل الْإِيمَان فِي قُلُوبكُمْ وَإِن تطيعوا الله وَرَسُوله لَا يلتكم من أَعمالكُم شَيْئا إِن الله غَفُور رَحِيم} وَآخر الْآيَة حجَّة حَسَنَة على ذَلِك وَمِنْهَا مَا صَحَّ واشتهر وتواتر فِي أَحَادِيث الشَّفَاعَة من تَقْرِير إِيمَان الْمَشْفُوع لَهُم بمثاقيل الذَّر وَأدنى أدنى أدنى من ذَلِك أَلا ترى أَنَّك تخَاف الْعَذَاب على الْمُخَالفَة فِي كل وَاحِد من هَذِه السَّبْعَة الْأُمُور وَلَا تخَاف الْعَذَاب بالْقَوْل بِوَاحِد مِنْهَا وَلَا تَجِد أحوط مِنْهَا وَلَا أنجى فَحِينَئِذٍ علمت بالفطرة علما قَرِيبا جليا تطمئِن بِهِ الْقُلُوب وتؤمن مَعَه من الْمخوف الْأَعْظَم إِنَّه لَا يُمكن أَن يُوجد أصح وَلَا أنجى من المخاوف من دين الاسلام ومتابعة مُحَمَّد أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام صلى الله عليه وسلم

فلاحظت فِي هَذَا الْمُخْتَصر هَذِه الْأُمُور السَّبْعَة وأشبعت الْكَلَام فِيهَا ونصرتها بجهدي وَغَايَة مَا فِي قدرتي من الْعبارَات الْوَاضِحَة وَضرب الْأَمْثَال الْبَيِّنَة ثمَّ الْآيَات والْآثَار وَإِن تَكَلَّمت فِي نصرتها من عِنْدِي متميزة بأنفسها غير ملتبسة بكلامي فَمَا أَخْطَأت فِيهِ من كَلَامي وخالفها فعلى كل مُسلم رده واجتنابه ومتابعتها دونه فانما قصدي نصرتها لَا مخالفتها
আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে চিন্তাশীলদের জন্য তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি রয়েছে: {তোমরা কীভাবে আল্লাহর সাথে কুফরি করো, অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, এরপর তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন, পুনরায় তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর পুনরায় তোমাদের জীবিত করবেন, অবশেষে তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে}। নিশ্চয়ই এই সমস্ত বিষয়ের উপস্থিতিতে কুফরি করা হলো নিকৃষ্টতম ও জঘন্যতম কুফরি। কেননা প্রমাণাদি মারেফতপ্রাপ্তদের জন্য যথেষ্ট, আর ভীতিপ্রদর্শনসমূহ গাফেলদের নিদ্রা থেকে জাগ্রত করে এবং অবাধ্য বিদ্রোহীদের কঠোরতাকে নমনীয় করে। পাশাপাশি এগুলো আরিফদের আগ্রহকে শক্তিশালী করে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রতিরোধ করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনত?}। ইসলামের এই পরিমাণ—অর্থাৎ দলিলের মাধ্যমে সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ব্যতিরেকে কেবল সতর্কতামূলক পন্থায় ইসলামে প্রবেশ করা—ইসলামের আলেমদের অনেকের মতে ইসলামের সর্বনিম্ন স্তর অর্জিত হয়। যেমন তারা হকপন্থীদের মুকাল্লিদ বা অনুসারীদের কাফের মনে করেন না এবং যারা মারেফত বা জ্ঞানকে স্বতঃসিদ্ধ মনে করেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। এ বিষয়ে তাদের দলিল হলো কয়েকটি বিষয়: তার মধ্যে একটি হলো সাধারণ মানুষের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌন সম্মতি এবং তাদের থেকে শাহাদাহ গ্রহণ করা। অন্যটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মরুবাসী আরবরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং বলো—আমরা আত্মসমর্পণ করেছি; কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, তবে তিনি তোমাদের আমলের সওয়াব বিন্দুমাত্র লাঘব করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’}। আয়াতের শেষ অংশটি এ বিষয়ে একটি উত্তম দলিল। আরেকটি দলিল হলো শাফায়াত সংক্রান্ত বিশুদ্ধ, প্রসিদ্ধ এবং মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ, যেখানে শাফায়াতপ্রাপ্তদের জন্য অণু পরিমাণ এবং তার চেয়েও অতি সামান্য ঈমান থাকা সাব্যস্ত করা হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি এই সাতটি বিষয়ের প্রত্যেকটির বিরোধিতা করলে আজাবের ভয় করেন, অথচ এগুলোর কোনো একটির কথা বললে আজাবের ভয় করেন না? আর আপনি এর চেয়ে সতর্কতামূলক এবং এর চেয়ে অধিক নাজাতদায়ক আর কিছু পাবেন না। এমতাবস্থায় আপনি স্বভাবজাতভাবেই এমন এক নিকটবর্তী ও স্পষ্ট জ্ঞান লাভ করেছেন যার মাধ্যমে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় এবং যার মাধ্যমে মহাভীতি থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যায়। আর তা হলো—ইসলাম ধর্ম এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (যাঁর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) অনুসরণের চেয়ে অধিকতর সঠিক এবং ভীতিসমূহ থেকে মুক্তিদাতা অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়।

সুতরাং আমি এই সংক্ষিপ্ত কিতাবে এই সাতটি বিষয় লক্ষ রেখেছি এবং এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি আমার সাধ্যমতো এবং ক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত স্পষ্ট বাচনভঙ্গি, সুস্পষ্ট উদাহরণ এবং এরপর আয়াত ও আসার দ্বারা এগুলোর সপক্ষে সমর্থন জুগিয়েছি। আর আমি যদি নিজের পক্ষ থেকে এগুলোকে সমর্থন করার জন্য কিছু বলে থাকি, তবে সেগুলো স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকবে এবং আমার কথার সাথে মিশে যাবে না। সুতরাং আমার কথার মধ্যে যা কিছু ভুল হয়েছে এবং এগুলোর পরিপন্থী হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করা এবং তা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য; বরং আমার কথার পরিবর্তে এগুলোর অনুসরণ করা উচিত। কেননা আমার উদ্দেশ্য হলো এগুলোর সমর্থন করা, বিরোধিতা করা নয়।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
فَمَا أصبت فِيهِ فَمن الله سُبْحَانَهُ وَله فِيهِ الْمِنَّة وَالْحَمْد وَالشُّكْر وَالثنَاء وَمَا أَخْطَأت فِيهِ فالذنب مني وَعلي فِيهِ الْبَرَاءَة مِنْهُ وَالتَّوْبَة وَالِاسْتِغْفَار والتحذير وَأَشد الْكَرَاهَة لَا فرق بَين كَرَاهَة مَا صدر مني من الْبدع وَمَا صدر من غَيْرِي بل يجب أَن أكون أَشد كَرَاهِيَة لما صدر مني لِأَن الصَّادِر مني ذَنبي يضرني وأآخذ بِسَبَبِهِ وَالله تَعَالَى يسلمني من الْبدع والذنُوب وَيغْفر لي مَا أَخْطَأت فِيهِ إِنَّه وَاسع الْمَغْفِرَة وَالرَّحْمَة وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل لَكِن المحامي عَن السّنة الذاب عَن حماها كالمجاهد فِي سَبِيل الله تَعَالَى يعد للْجِهَاد مَا اسْتَطَاعَ من الْآلَات وَالْعدة وَالْقُوَّة كَمَا قَالَ الله سُبْحَانَهُ {وَأَعدُّوا لَهُم مَا اسْتَطَعْتُم من قُوَّة}

وَقد ثَبت فِي الصَّحِيح أَن جِبْرِيل عليه السلام كَانَ مَعَ حسان بن ثَابت يُؤَيّدهُ مَا نافح عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي أشعاره فَكَذَلِك من ذب عَن دينه وسنته من بعده إِيمَانًا بِهِ وحبا وَنصحا لَهُ ورجاء أَن يكون من الْخلف الصَّالح الَّذين قَالَ فيهم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يحمل هَذَا الْعلم من كل خلف عَدو لَهُ ينفون عَنهُ تَحْرِيف الغالين وانتحال المبطلين وَالْجهَاد بِاللِّسَانِ أحد أَنْوَاع الْجِهَاد وسبله فِي الحَدِيث (أفضل الْجِهَاد كلمة حق عِنْد سُلْطَان جَائِر) وَقد أحسن من قَالَ فِي هَذَا الْمَعْنى شعرًا

(جاهدت فِيك بِقَوْلِي يَوْم يخْتَصم الْأَبْطَال … أذفات سَيفي يَوْم يمتصع)

(إِن اللِّسَان لوصال إِلَى طرق … فِي الْحق لَا تهتديها الذبل السرع)

وَقد ذكر الْغَزالِيّ فِي المنقذ من الضلال أَن الطالبين لليقين ثَلَاث طوائف مِنْهُم أهل الرياضة للقلوب بتصفيتها بالاقبال على الله تَعَالَى وَترك مَا عداهُ والتخلق بالأخلاق الْمجمع على حسنها من الزّهْد وَالصَّبْر والتوكل وَالرِّضَا وَالْعَفو وَوضع النَّفس قلت إِلَى سَائِر مَا ذَكرُوهُ من أَخْلَاقهم وأحوالهم ومقاماتهم فِي عوارف المعارف وَغَيره وَهَذَا لَا يُمكن اكتسابه بالتصنيف إِنَّمَا هُوَ بِالْعَمَلِ فَمن عمل على مُوَافقَة السّنة وَاجْتنَاب الْبِدْعَة
এতে আমি যা সঠিক বলেছি তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তাঁর জন্যই এতে সকল অনুগ্রহ, প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও স্তুতি। আর আমি এতে যা ভুল করেছি, সেই অপরাধ আমার পক্ষ থেকে; আমার ওপর আবশ্যিক হলো তা থেকে বিমুখ হওয়া, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা, সতর্ক করা এবং তীব্র ঘৃণা পোষণ করা। আমার পক্ষ থেকে প্রকাশিত কোনো বিদআত এবং অন্যের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিদআতের প্রতি ঘৃণা পোষণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; বরং আমার পক্ষ থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতি আমার অধিকতর ঘৃণা থাকা উচিত, কারণ আমার থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে তা আমারই পাপ যা আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং যার কারণে আমি পাকড়াও হব। আল্লাহ তাআলা আমাকে বিদআত ও পাপসমূহ থেকে নিরাপদ রাখুন এবং আমি যা ভুল করেছি তা ক্ষমা করে দিন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমা ও রহমতে প্রশস্ত। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। তবে সুন্নাহর হিফাজতকারী এবং এর সীমানার প্রতিরক্ষা দানকারী মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মতো, যে জিহাদের জন্য তার সামর্থ্যানুযায়ী সরঞ্জাম ও শক্তি প্রস্তুত করে। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরা তাদের (মোকাবেলার) জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করো।"

সহিহ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম হাসসান বিন সাবিতের সাথে থাকতেন এবং তাকে সাহায্য করতেন যতক্ষণ তিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিরক্ষা করতেন। ঠিক তেমনিভাবে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান এনে, ভালোবাসা ও কল্যাণকামিতা নিয়ে তাঁর পর তাঁর দীন ও সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করবে, আর এই আশায় যে সে সেই নেককার উত্তরসূরিদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই এই ইলম বহন করবেন; তারা একে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবেন।" আর জবান দ্বারা জিহাদ হলো জিহাদের অন্যতম প্রকার ও পথ, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "অত্যাচারী শাসকের সামনে হকের কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ।" আর এ প্রসঙ্গে কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

(আমি আপনার জন্য আমার কথা দিয়ে জিহাদ করেছি সেদিন যখন বীরেরা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল … যা আমার তলোয়ারের তীক্ষ্ণতা যখন তা কোষমুক্ত করা হয়।)

(নিশ্চয়ই জবান সত্যের এমন পথে পৌঁছে যায় … যেখানে দ্রুতগামী বর্শাও পৌঁছাতে পারে না।)

ইমাম গাযালী 'আল-মুনকিয মিনাদ দলাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নিশ্চিত জ্ঞানের অন্বেষণকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো আত্মার সাধনা বা রিয়াজতকারীগণ, যারা আল্লাহর অভিমুখী হয়ে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু ত্যাগ করে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং সেসব উত্তম চরিত্র অর্জনের চেষ্টা করেন যার সৌন্দর্যের ব্যাপারে সকলে একমত, যেমন—যুহদ (সংসারবিরাগ), ধৈর্য, তাওয়াক্কুল, সন্তুষ্টি, ক্ষমা এবং বিনয়। আমি বলছি, 'আওয়ারিফুল মাআরিফ' ও অন্যান্য কিতাবে তাদের চরিত্র, অবস্থা ও মাকামসমূহ সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আর এটি কেবল রচনার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়, বরং তা আমলের মাধ্যমেই অর্জনযোগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত বর্জনের মাধ্যমে আমল করবে।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
كَانَ هَذَا الْمُخْتَصر وَأَمْثَاله من بداياته الَّتِي تعينه على مقْصده وتوصله إِلَى مُرَاده لأَنهم أَجمعُوا على أَن الشَّرِيعَة لمعارفهم كاللبن للزبد وَمن لَا لبن لَهُ لَا زبد لَهُ وَهَذِه الْمُقدمَة للشريعة وتصفية الْقُلُوب المشبهين بِاللَّبنِ والزبد بِمَنْزِلَة الرّوح الَّذِي لولاها لما كَانَ الْحَيَوَان وَلَا الزّبد وَلَا اللَّبن وَلكنهَا حَاصِلَة فِي الِابْتِدَاء بالفطرة من الله سُبْحَانَهُ وَله الْحَمد فَمن كملت فِيهِ وسلمت من التَّغْيِير لم يحْتَج إِلَى شَيْء من هَذَا وان نظر فِيهِ قوي مَا هُوَ عَلَيْهِ من الْفطْرَة بِمَنْزِلَة السَّقْي لما يشرب بعروقه من الْبَحْر فانه لَا يحْتَاج السَّقْي فان سقِِي زَاده قُوَّة وريا والطائفة الثَّانِيَة مِمَّن ذكر الْغَزالِيّ أهل التَّعْلِيم من الامامية وَغَيرهم فانهم زَعَمُوا أَن الْعُقُول لَا تفي بالمعرفة من غير تَعْلِيم الامام الْمَعْصُوم وَلذَلِك تَجِد طالبي المعارف النظرية الْعَقْلِيَّة يتعلمون ذَلِك من شيوخهم وَلَا يُمكن بالتجارب أَن يسْتَقلّ أحدهم بنظره وعقله من غير شيخ ثمَّ يَأْتِي بِتِلْكَ القوانين المتقنة مجودة سَالِمَة من المطاعن وَعِنْدهم أَن هَذَا من التجريبات الضروريات وَقد جود الْغَزالِيّ الرَّد عَلَيْهِم فِي المنقذ من الضلال وَكفى وشفى ثمَّ قَالَ وعَلى تَسْلِيم مَا ذَكرُوهُ فَنحْن نلتزمه وَلَا يضرنا لَكِن امامنا الْمَعْصُوم هُوَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَوته لَا يضرنا كَمَا أَن غيبَة امامهم لَا تضر عِنْدهم بل حَالنَا أولى فان امامنا الْمَعْصُوم مَاتَ صلى الله عليه وسلم بعد كَمَال التَّعْلِيم وامامهم غَابَ عَنْهُم قبل ذَلِك وَفِي هَذَا الْمُخْتَصر من التَّعْلِيم النَّبَوِيّ الصَّحِيح الْمُتَوَاتر وَالصَّحِيح الْمَشْهُور مَا لَا يُوجد فِي أَمْثَاله والطائفة الثَّالِثَة أهل النّظر وَقد جمعت فِي هَذَا الْمُخْتَصر صفوة أنظارهم وخلاصة أدلتهم ونقاوتها وقصدت تقويتها ورسوخ الْيَقِين فِيهَا بِجمع شواهدها وبراهينها الجلية الْقَرِيبَة الغاسلة لأدران الشكوك والريبة النَّازِلَة من أهل الايمان بِمَنْزِلَة المَاء القراح من العطشان الْمَشْهُورَة بَين أهل الْبَيْت الطيبين وَالصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَسَائِر السّلف الصَّالِحين الَّتِي لَا يجر الْخَوْض فِيهَا إِلَى شَيْء من الْبِدْعَة وَلَا المخاطرة فِي الدّين وَلَا يُمكن أَن يكون فِيهَا شَيْء غَيره أحوط مِنْهُ فِي علمي وَالله الْمُسْتَعَان والمستغاث وَالْهَادِي سُبْحَانَهُ لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل

وَاعْلَم أَنِّي بنيت هَذَا الْمُخْتَصر على بَيَان الْحق وَتَقْرِيره فِي هَذِه الْأُمُور السَّبْعَة لَا سواهَا وَمَا زَاد على ذَلِك من مواهب الله وعوارفه ومعارفه
এই সংক্ষিপ্ত সার ও এর অনুরূপ রচনাবলি হলো তাঁর সেই প্রাথমিক সোপান যা তাঁকে তাঁর লক্ষ্যের ওপর সাহায্য করে এবং তাঁকে তাঁর উদ্দেশের নিকট পৌঁছে দেয়। কারণ তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাঁদের অর্জিত জ্ঞানের জন্য শরীয়ত হলো মাখনের জন্য দুধের ন্যায়; যার কাছে দুধ নেই তার কাছে মাখনও নেই। আর শরীয়ত ও অন্তর পরিশুদ্ধির জন্য এই ভূমিকা—যাকে দুধ ও মাখনের সাথে তুলনা করা হয়েছে—তা রূহের ন্যায়; যা না থাকলে না প্রাণীর অস্তিত্ব থাকত, না মাখন বা দুধের। তবে তা সূচনালগ্ন থেকেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফিতরাত বা সহজাত স্বভাব হিসেবে অর্জিত হয়, এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। সুতরাং যার মধ্যে এটি পূর্ণতা পেয়েছে এবং পরিবর্তন থেকে নিরাপদ রয়েছে, তাঁর এগুলোর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। আর যদি সে এতে দৃষ্টিপাত করে, তবে তাঁর সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত বিষয় শক্তিশালী হয়; যা মূলত এমন পানি সেচ করার ন্যায় যে তাঁর শিকড় দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি পান করে; তাঁর যদিও পানি সেচ করার প্রয়োজন নেই, তবে সেচ করা হলে তা তাঁকে অধিক শক্তি ও পরিতৃপ্তি প্রদান করে। ইমাম গাজালি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় দলটি হলো ইমামিয়া ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে 'আহলে তালিম' (শিক্ষা অনুসারীগণ); তাঁরা দাবি করে যে, নিষ্পাপ ইমামের শিক্ষা ব্যতিরেকে বিচারবুদ্ধি জ্ঞান অর্জনে যথেষ্ট নয়। এই কারণে আপনি তত্ত্বীয় ও বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞান অন্বেষণকারীদের দেখবেন যে, তাঁরা তাঁদের শায়খদের কাছ থেকে তা শিখছে। অভিজ্ঞতার আলোকে এটি সম্ভব নয় যে, তাঁদের কেউ শায়খ ছাড়া নিজের বিচারবুদ্ধি ও চিন্তার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবে, অতঃপর সেই সুদৃঢ় ও ত্রুটিমুক্ত নিয়মাবলি নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করবে যা সব ধরণের সমালোচনা থেকে মুক্ত। তাঁদের মতে এটি অকাট্য অভিজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। ইমাম গাজালি 'আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল' গ্রন্থে তাঁদের চমৎকার খণ্ডন করেছেন এবং তা যথেষ্ট ও সন্তোষজনক হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: তাঁরা যা উল্লেখ করেছে তা যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও আমরা তা পালন করি এবং এতে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। তবে আমাদের নিষ্পাপ ইমাম হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য ক্ষতিকর নয় যেমনটি তাঁদের ইমামের অনুপস্থিতি তাঁদের নিকট ক্ষতিকর নয়। বরং আমাদের অবস্থাই অধিক শ্রেষ্ঠ; কেননা আমাদের নিষ্পাপ ইমাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষা পূর্ণ করার পর ইন্তেকাল করেছেন, অথচ তাঁদের ইমাম তাঁর আগেই তাঁদের নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এই সংক্ষিপ্ত সারে সহিহ মুতাওয়াতির এবং সহিহ মশহুর পর্যায়ের এমন নববীয় শিক্ষা রয়েছে যা এর অনুরূপ অন্যান্য কিতাবে পাওয়া যায় না। আর তৃতীয় দলটি হলো 'আহলে নজর' (চিন্তাশীল গোষ্ঠী)। আমি এই সংক্ষিপ্ত সারে তাঁদের চিন্তাধারার সারাংশ এবং তাঁদের দলীলসমূহের নির্যাস ও বিশুদ্ধ বিষয়গুলো একত্র করেছি। আমি সেগুলোকে শক্তিশালী করা এবং সেগুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনের সংকল্প করেছি তাঁদের সুস্পষ্ট ও নিকটবর্তী সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি সংগ্রহের মাধ্যমে, যা সন্দেহ ও সংশয়ের ময়লাকে ধুয়ে দেয়। ঈমানদারদের নিকট এটি তৃষ্ণার্তের জন্য স্বচ্ছ সুপেয় পানির ন্যায়। এটি পবিত্র আহলে বাইত, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং অন্যান্য সকল সালাফে সালেহীনের নিকট সুপরিচিত; যাতে নিমগ্ন হওয়া কোনো বিদআত কিংবা দ্বীনের কোনো ঝুঁকির দিকে নিয়ে যায় না। আমার জ্ঞানমতে এতে এমন কিছু থাকা সম্ভব নয় যার চেয়ে অন্য কিছু অধিক সতর্কতা অবলম্বনকারী হতে পারে। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল এবং তাঁরই নিকট প্রার্থনা করা হয়, তিনিই পথপ্রদর্শক, তিনি পবিত্র, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

জেনে রাখুন, আমি এই সংক্ষিপ্ত সারটি কেবল এই সাতটি বিষয়ে সত্যের বর্ণনা ও তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছি, অন্য কিছুর ওপর নয়। আর এর অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা আল্লাহর দান এবং তাঁরই পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা ও জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
وبدائع لطائفه فَلَيْسَ بمقصود لي الْكَلَام عَلَيْهِ وَلَا أَعتب على من خالفني فِي شَيْء مِنْهُ وَلَا يعاب التَّقْصِير فِيهِ فان التَّطْوِيل فِي الْأُمُور الْعَارِضَة يخرج عَن الْمَقْصُود كَمَا ذَلِك مَعْرُوف

وَإِنَّمَا قصرت الاهتمام على هَذِه الامور السَّبْعَة لِأَنَّهَا الْفطْرَة الَّتِي فطر الله النَّاس عَلَيْهَا كَمَا تطابق عَلَيْهِ الْقُرْآن وَالسّنة وَفِي ذَلِك دلَالَة على أَنَّهَا تَكْفِي الْعَاميّ كَمَا ذهب إِلَيْهِ أهل المعارف مَا لم تعرض لَهُ شُبْهَة قادحة فيتمكن من حلهَا على طَرِيق السّلف الْقَرِيبَة الجلية كَمَا نذكرهُ فِي هَذَا الْمُخْتَصر مَعَ الدُّعَاء واللجأ إِلَى الله تَعَالَى وَمَا أقرب نفع هَذَا مَعَ خلق الله الْقُلُوب على الْفطْرَة وَكَثْرَة مواد هدايته كَمَا ذكره فِي آيَة النُّور وَقَالَ الله تَعَالَى {إِن علينا للهدى} فأكد ذَلِك بمؤكدين اثْنَيْنِ كَمَا تَقول أَن زيدا لقائم وَقَالَ {وعَلى الله قصد السَّبِيل} هَذَا لِلْخلقِ عُمُوما وَلِلْمُؤْمنِينَ خُصُوصا {وَمن يُؤمن بِاللَّه يهد قلبه} إِلَى غير ذَلِك وَإِنَّمَا يُؤْتى أَكثر الْخلق من كفرهم بآيَات الله الْبَيِّنَة وبطلبهم غَيرهَا كَمَا قَالَ تَعَالَى {سل بني إِسْرَائِيل كم آتَيْنَاهُم من آيَة بَيِّنَة وَمن يُبدل نعْمَة الله من بعد مَا جَاءَتْهُ فَإِن الله شَدِيد الْعقَاب} فليحذر ذَلِك كل الحذر من عدم القنوع بِمَا قنع بِهِ السّلف من حجج الله تَعَالَى وياله من تخويف شَدِيد ووعيد عَظِيم

ثمَّ اعْلَم أَن هَذَا الْمُخْتَصر لَا يصلح إِلَّا لمن وضع لَهُ كَمَا أَن الدَّوَاء الْخَاص بألم خَاص لَا يصلح لكل ألم وَلَا لكل أَلِيم فَمن كَانَ يحْتَاج الْبسط إِلَّا الحوافل الْكِبَار من مصنفات المصنفين من أذكياء النظار وَقد يكون فِي هَذَا الْمُخْتَصر الاشارة إِلَى تِلْكَ الْكتب الحافلة والتنبيه عَلَيْهَا لمن يحْتَاج إِلَى ذَلِك وَالدَّال على الْخَيْر كفاعله وَلَكِن لكل مقَام مقَال وَلكُل مجَال رجال والكتب البسيطة فِي علم اللَّطِيف لَا تصلح لمن يخَاف عَلَيْهِ من السبه كَمَا أَن السباحة فِي لجج الْبحار لَا تصلح إِلَّا لأهل الرياضة التَّامَّة فِي ذَلِك بعد طول
এবং তার সূক্ষ্ম বিস্ময়সমূহ; এ নিয়ে আলোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। এতে আমার সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে আমি তাকে তিরস্কার করি না, আর এতে কোনো ত্রুটি থাকলেও তা দোষণীয় নয়। কেননা প্রাসঙ্গিক গৌণ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়, যা সর্বজনবিদিত।

আমি কেবল এই সাতটি বিষয়ের ওপরই গুরুত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছি, কারণ এগুলোই হলো সেই স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (ফিতরাত), যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহও এর সাথে সংগতিপূর্ণ। এতে এই প্রমাণ মেলে যে, একজন সাধারণ মানুষের জন্য এগুলোই যথেষ্ট—যেমনটি মারেফাত অর্জনকারী ব্যক্তিগণ মনে করেন—যতক্ষণ না তার মনে কোনো ক্ষতিকর সংশয় উদিত হয়। তখন সে সালাফদের সেই নিকটবর্তী ও সুস্পষ্ট পদ্ধতিতে তা নিরসন করতে সক্ষম হবে, যা আমরা এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকায় বর্ণনা করব। এর সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনাও জরুরি। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের অন্তরসমূহকে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করা এবং হিদায়াতের প্রচুর উপকরণ প্রদানের কারণে এর উপকারিতা কতই না নিকটবর্তী! যেমনটি তিনি নূর এর আয়াতে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই পথপ্রদর্শন করা আমারই দায়িত্ব।" এখানে তিনি দুটি তাকিদ দ্বারা বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন, যেমনটি বলা হয় ‘নিশ্চয়ই জায়েদ দণ্ডায়মান’। তিনি আরও বলেছেন, "সরল পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব আল্লাহরই।" এটি সাধারণভাবে সকল সৃষ্টির জন্য এবং বিশেষভাবে মুমিনদের জন্য: "আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হিদায়াত দান করেন" ইত্যাদি। অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করার কারণে এবং তা ব্যতীত অন্য কিছু অনুসন্ধান করার কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করো, আমি তাদের কত সুস্পষ্ট নিদর্শন দান করেছি। আর আল্লাহর নিয়ামত আসার পর যে ব্যক্তি তা পরিবর্তন করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।" অতএব, সালাফগণ আল্লাহর যে সকল দলীলের ওপর তুষ্ট ছিলেন, তাতে তুষ্ট না হওয়ার ব্যাপারে প্রত্যেকের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। এটি কতই না কঠোর ভীতিপ্রদর্শন এবং কতই না বড় হুঁশিয়ারি!

এরপর জেনে রাখুন যে, এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি কেবল তাদের জন্যই উপযোগী যাদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। যেমন একটি নির্দিষ্ট ব্যথার ঔষধ সব ব্যথার জন্য কিংবা সব রোগীর জন্য প্রযোজ্য হয় না। যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন, সে যেন বিজ্ঞ চিন্তাবিদদের রচিত বৃহৎ ও বিস্তৃত গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হয়। এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকায় সেই সব বৃহৎ গ্রন্থসমূহের প্রতি ইঙ্গিত এবং যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতে পারে। আর কল্যাণের পথপ্রদর্শনকারী ব্যক্তি তা সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পায়। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রের জন্য উপযোগী কথা রয়েছে এবং প্রত্যেক অঙ্গনের জন্য নির্দিষ্ট লোক রয়েছে। তত্ত্বজ্ঞানের বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ এমন ব্যক্তির জন্য উপযোগী নয় যার বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেমন সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে সাঁতার কাটা কেবল দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে পূর্ণ দক্ষতা অর্জনকারীদের জন্যই মানানসই।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
التجارب وَأَرْجُو إِن شَاءَ الله تَعَالَى أَن لَا يَخْلُو هَذَا الْمُخْتَصر من أحد الْمعَانِي الثَّمَانِية الَّتِي تصنف لَهَا الْعلمَاء بل من كل وَاحِد مِنْهَا وَهِي اختراع مَعْدُوم أَو جمع مفترق أَو تَكْمِيل نَاقص أَو تَفْصِيل مُجمل أَو تَهْذِيب مطول أَو تَرْتِيب مخلط أَو تعْيين مُبْهَم أَو تَبْيِين خطأ كَذَا عدهَا أَبُو حَيَّان وَتمكن الزِّيَادَة فِيهَا

وَإِنَّمَا جمعت هَذَا الْمُخْتَصر الْمُبَارك إِن شَاءَ الله تَعَالَى لمن صنفت لَهُم التصانيف وعنيت بهدايتهم الْعلمَاء وهم من جمع خَمْسَة أَوْصَاف معظمها الاخلاص والفهم والانصاف وَرَابِعهَا وَهُوَ أقلهَا وجودا فِي هَذِه الاعصار الْحِرْص على معرفَة الْحق من أَقْوَال الْمُخْتَلِفين وَشدَّة الدَّاعِي إِلَى ذَلِك الْحَامِل على الصَّبْر والطلب كثيرا وبذل الْجهد فِي النّظر على الانصاف ومفارقة العوائد وَطلب الاوابد فان الْحق فِي مثل هَذِه الاعصار قَلما يعرفهُ إِلَّا وَاحِدًا بعد وَاحِد وَإِذا عظم الْمَطْلُوب قل المساعد فان الْبدع قد كثرت وَكَثُرت الدعاة اليها والتعويل عَلَيْهَا وطالب الْحق الْيَوْم شَبيه بطلابه فِي أَيَّام الفترة وهم سلمَان الْفَارِسِي وَزيد بن عَمْرو بن نفَيْل وأضرابهما رحمهمَا الله تَعَالَى فانهم قدوة الطَّالِب للحق وَفِيهِمْ لَهُ أعظم أُسْوَة فانهم لما حرصوا على الْحق وبذلوا الْجهد فِي طلبه بَلغهُمْ الله إِلَيْهِ وأوقفهم عَلَيْهِ وفازوا من بَين العوالم الجمة فكم أدْرك الْحق طَالبه فِي زمن الفترة وَكم عمي عَنهُ الْمَطْلُوب لَهُ فِي زمن النُّبُوَّة فَاعْتبر بذلك واقتد بأولئك فان الْحق مَا زَالَ مصونا عَزِيزًا نفيسا كَرِيمًا لَا ينَال مَعَ الاضراب عَن طلبه وَعدم التشوف والتشوق إِلَى سَببه وَلَا يهجم على المبطلين المعرضين وَلَا يفاجئ أشباه الانعام الغافلين وَلَو كَانَ كَذَلِك مَا كَانَ على وَجه الأَرْض مُبْطل وَلَا جَاهِل وَلَا بطال وَلَا غافل وَقد أخبر الله تَعَالَى أَن ذَرْء جَهَنَّم هم الغافلون فانا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون مَا أعظم الْمُصَاب بالغفلة والمغتر بطول المهلة

وَمن أعجب الْعَجَائِب دَعْوَى المقلدين للمعارف وَدَعوى المتعصبين للانصاف وأمارة ذَلِك أَنَّك تَجِد العوالم الْكَثِيرَة فِي لطائف المعارف الْمُخْتَلف فِيهَا على رَأْي رجل وَاحِد من القدماء فِي الامصار العديدة والاعصار المديدة
পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আমি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আশা রাখি যে, এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি সেই আটটি বিষয়ের কোনো একটি থেকেও খালি থাকবে না যার জন্য আলেমগণ গ্রন্থ রচনা করেন, বরং এর প্রত্যেকটিই এতে বিদ্যমান থাকবে। আর সেগুলো হলো: অস্তিত্বহীন কিছুর উদ্ভাবন, অথবা বিক্ষিপ্ত বিষয়বস্তুর একত্রীকরণ, অথবা অপূর্ণ বিষয়কে পূর্ণতা প্রদান, অথবা সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা, অথবা দীর্ঘ বিষয়ের পরিমার্জন, অথবা এলোমেলো বিষয়ের সুবিন্যাস, অথবা অস্পষ্ট বিষয়কে নির্দিষ্টকরণ, অথবা ভুলের স্পষ্টীকরণ। আবু হাইয়ান এভাবেই এগুলো গণনা করেছেন এবং এতে বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আমি এই বরকতময় সংক্ষিপ্তসারটি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের জন্যই সংকলন করেছি যাদের উদ্দেশ্যে গ্রন্থসমূহ রচিত হয় এবং যাদের হেদায়াতের ব্যাপারে আলেমগণ গুরুত্বারোপ করেন। তারা এমন সব লোক যারা পাঁচটি গুণের অধিকারী, যেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো ইখলাস (নিষ্ঠা), প্রজ্ঞা এবং ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা)। আর চতুর্থটি—যা বর্তমান যুগে পাওয়া খুবই দুর্লভ—তাহলো মতভেদপূর্ণ বক্তব্যের মধ্য থেকে সত্যকে জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং এর প্রতি এমন তীব্র প্রেরণা যা অধিক ধৈর্য ও অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ করে, এবং ন্যায়নিষ্ঠভাবে পর্যালোচনায় পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করা, প্রচলিত প্রথা পরিহার করা এবং দুর্লভ সত্যের সন্ধান করা। কেননা বর্তমানের ন্যায় যুগগুলোতে সত্য কদাচিৎ একে একে ছাড়া আর কারো দ্বারা চেনা যায় না। আর উদ্দেশ্য যখন মহান হয়, তখন সাহায্যকারী কমে যায়। কেননা বিদআত বেড়ে গিয়েছে এবং এর দিকে আহ্বানকারী ও এর ওপর নির্ভরকারীও বহু হয়ে গেছে। বর্তমানে সত্যের অন্বেষণকারী সেই ফাতরাত (নবীহীন মধ্যবর্তী সময়) যুগের সত্য সন্ধানীদের সদৃশ, যেমন সালমান আল-ফারিসী ও যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল এবং তাদের সমজাতীয় ব্যক্তিগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করুন)। তারা সত্য সন্ধানীদের জন্য আদর্শ এবং তাদের মাঝে সত্য অন্বেষণকারীর জন্য রয়েছে সর্বোত্তম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কেননা যখন তারা সত্যের ব্যাপারে আগ্রহী হলেন এবং তা অন্বেষণে প্রচেষ্টা ব্যয় করলেন, তখন আল্লাহ তাদের সেই সত্য পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন এবং তা প্রত্যক্ষ করালেন; আর তারা বিশাল সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে সফল হলেন। ফাতরাত যুগে কত সত্য সন্ধানী সত্য লাভ করেছেন, আবার নবুওয়তের যুগেও কতজনের সামনে সত্য উদ্ভাসিত থাকা সত্ত্বেও তারা তা থেকে অন্ধ ছিল! সুতরাং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং তাদের অনুসরণ করো। কেননা সত্য সর্বদা সংরক্ষিত, দুষ্প্রাপ্য, মূল্যবান ও সম্মানিত; তা অন্বেষণে বিমুখতা এবং এর কারণগুলোর প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও অনুরাগের অভাব থাকলে লাভ করা যায় না। আর তা বাতিলপন্থীদের ওপর চড়াও হয় না এবং বিমুখ ও চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় গাফেলদের সামনে হঠাৎ হাজির হয় না। যদি তাই হতো, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো বাতিলপন্থী, জাহেল, অলস বা গাফেল থাকত না। আর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, জাহান্নামের ইন্ধন হলো তারাই যারা গাফেল। সুতরাং আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। উদাসীনতার মুসিবত কতই না মহান এবং দীর্ঘ অবকাশের ধোঁকায় পড়া ব্যক্তি কতই না ক্ষতিগ্রস্ত!

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো জ্ঞানের ক্ষেত্রে মুকাল্লিদদের (অন্ধ অনুসারী) দাবি এবং ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে গোঁড়াদের দাবি। এর লক্ষণ হলো, আপনি দেখতে পাবেন যে বিভিন্ন দেশ ও দীর্ঘ সময় ধরে সূক্ষ্ম ও মতভেদপূর্ণ জ্ঞানীয় বিষয়গুলোতে বিশাল জনগোষ্ঠী প্রাচীনকালের কেবল একজন ব্যক্তির মতামতের ওপর নির্ভর করে আছে।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَلَو كَانُوا فِي ترك التَّقْلِيد كالأوائل لاشتد اخْتلَافهمْ فِي الدقائق وَلم يتفقوا على كثرتهم وَطول أزمانهم وتباعد بلدانهم وَاخْتِلَاف فطنهم كَمَا قَضَت بذلك العوائد الْعَقْلِيَّة الدائمة وَلَو كَانَ الْجَامِع لفرقتهم مَعَ كثرتهم هُوَ الْوُقُوف على الْحَقَائِق فِي تِلْكَ الدقائق لكانوا أَكثر من مشايخهم الاقدمين علما وتحقيقا وانصافا وتجويدا لَكِن الْمَعْلُوم خلاف ذَلِك فاياك أَن تسلك هَذِه المسالك فان نشأة الانسان على مَا عَلَيْهِ أهل شارعه وبلده وجيرانه وأترابه صَنِيع أسقط النَّاس همة وأدناهم مرتبَة فَلم يعجز عَن ذَلِك صبيان النَّصَارَى وَالْيَهُود وَلَا ربات القدود والنهود المستغرقات فِي تمهيد المهود وَهَذِه هَذِه فأعطها حَقّهَا وَانْظُر لنَفسك وانج بهَا وطالع قصَّة سلمَان الْفَارِسِي وَأَضْرَابه وَانْظُر كَيفَ كَانَ صبرهم واعرف قدر مَا أَنْت طَالب فانك طَالب لأعلى الْمَرَاتِب قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا قدرُوا الله حق قدره} وَقَالَ فِي الْأُخْرَى {وسعى لَهَا سعيها} وَقَالَ {خُذُوا مَا آتيناكم بِقُوَّة واذْكُرُوا مَا فِيهِ} وَلَيْسَ فِي الْوُجُود بأسره أعز وَلَا أفضل من الْإِيمَان بِاللَّه وَكتبه وَرُسُله ومتابعتهم وَمَعْرِفَة مَا جاؤا بِهِ فَلَا تطلب ذَلِك أَهْون الطّلب فَإِنِّي أرى الْأَكْثَرين لَا يرضون بِالْغبنِ وَالنَّقْص فِي بيع بعض السّلع وَأرى طَالب الأرباح الدُّنْيَوِيَّة يطْلبهَا أَشد الطّلب من أبعد الأقطار بأشق الْأَسْفَار وَأما طَالب الكيمياء والسيمياء فَإِنَّهُ يبْذل فِي طلبهما مَا دون الرّوح بل يرتكب بعض الأخطار والمتالف الْكِبَار مَعَ أدنى تَجْوِيز للسلامة بل عدم التجويز أَيْضا عِنْد ملكة هَوَاهُ لَهُ وَغَلَبَة ظَنّه بِأَنَّهُ يدْرك مَا أَرَادَ ويبلغ مَا قَصده ويصل إِلَى مَا إِلَيْهِ سعى وَلكم من منفق غضارة عمره ونضارة شبابه وَأَبَان أَيَّامه فِي ذَلِك

وَإِنَّمَا طولت القَوْل فِي هَذَا لِأَنِّي علمت بالتجربة الضرورية فِي نَفسِي وغيري أَن أَكثر جهل الْحَقَائِق إِنَّمَا سَببه عدم الاهتمام بتعرفها على الْإِنْصَاف لَا عدم الْفَهم فَإِن الله وَله الْحَمد قد أكمل الْحجَّة بالتمكين من الْفَهم وَإِنَّمَا أَتَى الْأَكْثَر من التَّقْصِير فِي الإهتمام أَلا ترى أَن المهتمين بمقاصد المنطقيين
তারা যদি পূর্ববর্তীদের মতো তাকলিদ বর্জন করত, তবে সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে তাদের মতপার্থক্য তীব্র হতো এবং তাদের বিপুল সংখ্যা, দীর্ঘ সময়কাল, দেশসমূহের দূরত্ব ও মেধার ভিন্নতা সত্ত্বেও তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারত না, যেমনটি চিরন্তন বুদ্ধিবৃত্তিক রীতিসমূহ নির্ধারণ করে থাকে। যদি তাদের এই সংখ্যাধিক্য সত্ত্বেও তাদের বিভক্তির মাঝে ঐক্যের যোগসূত্র হতো সেই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর গূঢ় রহস্য অবগত হওয়া, তবে তারা তাদের প্রাচীন উস্তাদদের তুলনায় জ্ঞান, গবেষণা, ন্যায়পরায়ণতা ও উৎকর্ষের দিক থেকে অনেক বেশি অগ্রগামী হতো। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। সুতরাং সাবধান! আপনি যেন এই পথে চলবেন না। কেননা কোনো মানুষের তার নিজ সমাজ, দেশ, প্রতিবেশী ও সমবয়সীদের রীতির ওপর বেড়ে ওঠা হলো সংকল্পহীন ও হীনস্তরের মানুষের কাজ। এই কাজে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের শিশুরাও অক্ষম নয়, এমনকি দোলনা প্রস্তুতকারক রূপবতী নারীরাও এতে পিছিয়ে নেই। এটিই প্রকৃত বিষয়, তাই এর গুরুত্ব উপলব্ধি করুন। নিজের প্রতি দৃষ্টি দিন, নিজেকে রক্ষা করুন এবং সালমান আল-ফারসি ও তাঁর সমগোত্রীয়দের কাহিনী অধ্যয়ন করুন; দেখুন তাঁদের ধৈর্য কেমন ছিল এবং আপনি যা অন্বেষণ করছেন তার মর্যাদা উপলব্ধি করুন। কারণ আপনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অন্বেষী। আল্লাহ তাআলা বলেন, {তারা আল্লাহকে তাঁর যথাযথ মর্যাদা দেয়নি}। তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন, {এবং যে এর জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালায়}। তিনি আরও বলেছেন, {আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ করো}। সমগ্র অস্তিত্বের মধ্যে আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান আনয়ন করা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন তা জানার চেয়ে অধিক মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই। সুতরাং একে তুচ্ছভাবে অন্বেষণ করবেন না। কেননা আমি দেখি যে, অধিকাংশ মানুষ সাধারণ পণ্য কেনাবেচায় সামান্য লোকসান বা ঘাটতি মেনে নিতে রাজি হয় না। আমি দেখি পার্থিব মুনাফার অন্বেষণকারী ব্যক্তি দুর্গম সফরের মাধ্যমে সুদূরপ্রান্ত থেকে তা তালাশ করে। আর যারা কিমিয়া ও সিমিয়ার অন্বেষণকারী, তারা তা অন্বেষণে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে, বরং ধ্বংসের ঝুঁকি জেনেও বড় বড় বিপদের সম্মুখীন হয়; এমনকি নিরাপত্তার সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও, কিংবা কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় ও নিজের লক্ষ্যের বিষয়ে প্রবল ধারণার বশবর্তী হয়ে নিরাপত্তার পরোয়া না করেই সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। কত মানুষই না তাদের আয়ুর শ্রেষ্ঠ সময়, যৌবনের দীপ্তি ও জীবনের সোনালী দিনগুলো এতে ব্যয় করেছে।

আমি এই বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ করেছি কারণ আমি নিজের ও অন্যদের অপরিহার্য অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জেনেছি যে, প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অধিকাংশ অজ্ঞতার কারণ হলো ন্যায়নিষ্ঠার সাথে তা জানার গুরুত্ব না দেওয়া, বোঝার অক্ষমতা নয়। কেননা আল্লাহ—সমস্ত প্রশংসা তাঁরই—বোঝার সক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে তাঁর প্রমাণ পূর্ণ করেছেন। অধিকাংশ মানুষের বিচ্যুতি মূলত গুরুত্ব প্রদানের অবহেলার কারণেই ঘটে। আপনি কি দেখেন না যে, যারা যুক্তিবিদদের লক্ষ্যসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করে...
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
والمتكلمين يفهمونها وَإِن دقَّتْ مَعَ الصَّبْر وَطول الطّلب فَكيف لَا يفهم طَالب الْحق مَقَاصِد الْأَنْبِيَاء وَالْمُرْسلِينَ وَالسَّلَف الصَّالِحين مَعَ الاهتمام بذلك وبذل الْجهد فِي طلبه وَحسن الْقَصْد ولطف أرْحم الرَّاحِمِينَ لمن هُوَ كَذَلِك بالنصوص والاتفاق وَلَا يَنْبَغِي أَن يصغي إِلَى من يصده عَن كتب الله وَمَا أنزل فِيهَا من الْهدى والنور رَحْمَة للْمُؤْمِنين ونعمة على الشَّاكِرِينَ

وليحذر كل الحذر من زخرفتهم للعبارات فِي ذَلِك وترغيبهم بأنواع المرغبات فِي تِلْكَ المسالك وليعتبر فِي ذَلِك بقوله تَعَالَى لرَسُوله الْمَعْصُوم صلى الله عليه وسلم {وَإِن كَادُوا لَيَفْتِنُونَك عَن الَّذِي أَوْحَينَا إِلَيْك لتفتري علينا غَيره وَإِذا لاتخذوك خَلِيلًا وَلَوْلَا أَن ثَبَّتْنَاك لقد كدت تركن إِلَيْهِم شَيْئا قَلِيلا إِذا لأذقناك ضعف الْحَيَاة وَضعف الْمَمَات ثمَّ لَا تَجِد لَك علينا نَصِيرًا} ويالها من موعظة موقظة لمن كَانَ لَهُ قلب أَو ألْقى السّمع وَهُوَ شَهِيد كَمَا قَالَ سبحانه وتعالى ولتعرف أهل الزيغ بذلك وَأهل الْحق بحلافه فَإِنَّهُم كَمَا وَصفهم رَبهم عز وجل فِي قَوْله {وَيرى الَّذين أُوتُوا الْعلم الَّذِي أنزل إِلَيْك من رَبك هُوَ الْحق وَيهْدِي إِلَى صِرَاط الْعَزِيز الحميد} وَلَا يَنْبَغِي أَن يستوحش الظافر بِالْحَقِّ من كَثْرَة الْمُخَالفين لَهُ كَمَا لَا يستوحش الزَّاهِد من كَثْرَة الراغبين وَلَا المتقي من كَثْرَة العاصين وَلَا الذاكر من كثر الغافلين بل يَنْبَغِي مِنْهُ أَن يستعظم الْمِنَّة باختصاصه بذلك مَعَ كَثْرَة الْجَاهِلين لَهُ الغافلين عَنهُ وليوطن نَفسه على ذَلِك فقد صَحَّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (إِن هَذَا الدّين بدا غَرِيبا وَسَيَعُودُ غَرِيبا كَمَا بَدَأَ فطوبى للغرباء) رَوَاهُ مُسلم فِي الصَّحِيح من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من حَدِيث ابْن مَسْعُود وَقَالَ هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَعبد الله بن أَحْمد من حَدِيث أنس وروى البُخَارِيّ نَحوه بِغَيْر لَفظه من حَدِيث ابْن عمر وَعَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب عَلَيْهِ أفضل السَّلَام عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (طلب الْحق غربَة) رَوَاهُ الْحَافِظ الْأنْصَارِيّ فِي أول كِتَابه منَازِل السائرين إِلَى الله من حَدِيث جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّادِق عَن أَبِيه عَن جده وَقَالَ هَذَا حَدِيث
কালামশাস্ত্রবিদগণ তা বুঝতে পারেন যদিও তা সূক্ষ্ম হয়, ধৈর্য এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে। তাহলে সত্যের অন্বেষণকারী কেন নবী ও রাসূলগণের এবং সালাফে সালেহীন বা পূর্ববর্তী পুণ্যবানদের উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে পারবেন না, যখন তিনি এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, তা অন্বেষণে প্রচেষ্টা ব্যয় করেন, সৎ উদ্দেশ্য পোষণ করেন এবং পরম দয়ালু আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করেন যা দালীলিক প্রমাণ ও ঐকমত্য দ্বারা স্বীকৃত? আর এমন ব্যক্তির কথায় কান দেওয়া উচিত নয় যে তাকে আল্লাহর কিতাবসমূহ এবং মুমিনদের জন্য রহমত ও কৃতজ্ঞদের জন্য নিআমতস্বরূপ অবতীর্ণ হেদায়াত ও নূর থেকে বিমুখ করে।

এবং তাকে ঐসব বিষয়ে তাদের বাকচাতুর্য এবং সেই পথে বিভিন্ন প্রকার প্রলোভন সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আর তাকে এ বিষয়ে মহান আল্লাহর তাঁর নিষ্পাপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বাণীর মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হবে: "তারা তোমাকে ওহী থেকে বিচ্যুত করার জন্য প্রায় প্রলুব্ধ করেছিল যাতে তুমি আমার নামে অন্য কিছু উদ্ভাবন করো। তখন তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত। আমি তোমাকে অবিচল না রাখলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকেই পড়তে। তখন আমি তোমাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ ও পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম; এরপর তুমি আমার বিরুদ্ধে কোনো সাহায্যকারী পেতে না।" যার হৃদয় আছে অথবা যে উপস্থিত মনে শ্রবণ করে, তার জন্য এটি কী এক জাগ্রতকারী উপদেশ! যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন। এর মাধ্যমে পথভ্রষ্টদের এবং এর বিপরীতে সত্যপন্থীদের চেনা যায়; কারণ তারা তেমনই যেমন তাদের রব মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে বর্ণনা করেছেন: "যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা দেখে যে, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা-ই সত্য এবং তা মহাপরাক্রমশালী, চির প্রশংসিত আল্লাহর পথে পরিচালিত করে।" আর সত্যে জয়ী ব্যক্তির জন্য বিরোধীদের আধিক্য দেখে বিচলিত হওয়া উচিত নয়, যেমন দুনিয়াত্যাগী ব্যক্তি দুনিয়ালোভীদের আধিক্য দেখে বিচলিত হন না, মুত্তাকী ব্যক্তি পাপীদের আধিক্য দেখে বা যিকিরকারী ব্যক্তি গাফেলদের আধিক্য দেখে বিচলিত হন না। বরং বিপুল সংখ্যক অজ্ঞ ও বিমুখদের মাঝে তাকে বিশেষভাবে এই নিআমত দান করার জন্য আল্লাহর অনুগ্রহকে অনেক বড় মনে করা উচিত। এবং এ বিষয়ে নিজের মনকে প্রস্তুত রাখা উচিত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই দ্বীন অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং অচিরেই তা আবার অপরিচিত হয়ে যাবে যেমন তা শুরু হয়েছিল; সুতরাং অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।" এটি মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী এটি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহীহ হাদীস। ইবনে মাজাহ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ এটি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। বুখারী এর সমার্থবোধক অন্য শব্দে ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাম বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সত্য অনুসন্ধান করা এক প্রকার প্রবাস জীবন বা একাকীত্ব।" হাফেজ আনসারী তাঁর আল্লাহর দিকে বিচরণকারীদের স্তরসমূহ নামক কিতাবের শুরুতে জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এই হাদীসটি
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
غَرِيب لم أكتبه عَالِيا إِلَّا من رِوَايَة عَلان وَلذَلِك شَوَاهِد قَوِيَّة عَن تِسْعَة من الصَّحَابَة ذكرهَا الهيثمي فِي مجمع الزَّوَائِد فنسأل الله أَن يرحم غربتنا فِي الْحق وَيهْدِي ضالنا وَلَا يردنا من أَبْوَاب رجائه ودعائه وَطَلَبه محرومين إِنَّه مُجيب الداعين وهادي المهتدين وأرحم الرَّاحِمِينَ

فَإِن قيل قد دلّ السّمع كتابا وَسنة على أَن دين الاسلام هُوَ الْفطْرَة المخلوقة وَطلب ذَلِك هُوَ تَحْصِيل الْحَاصِل فَمَا هَذَا التهويل

قلت لِأَنَّهُ قد اشْتَدَّ تغييرها وصلاحها بعد شدَّة التَّغْيِير عسير فَهِيَ كالعافية والتغيير كالأمراض الَّتِي اخترنا أَسبَابهَا فاشتدت وتمكنت حَتَّى عسر علاجها وَهَذَا الْمُخْتَصر وَأَمْثَاله كأدوية تَنْفَع من لم يستحكم عَلَيْهِ التَّغْيِير دون من استحكم عَلَيْهِ وَلَا يحتاجها الْمعَافى وَيدل على ذَلِك حَدِيث حزَام بن حَكِيم ابْن حزَام عَن أَبِيه وَعَمه أَن الْعِبَادَة فِي صدر الاسلام أفضل من الْعلم وَأَن الْعلم فِي آخر الْأَمر أفضل من الْعِبَادَة كَمَا سَيَأْتِي قُوَّة اسنادها وموافقتها فِي الْمَعْنى للنَّظَر الْعقلِيّ ياتيان فِي بَيَان فضل الْعلم النافع وخامسها وَهُوَ اصعبها الْمُشَاركَة فِي الْعلم أَو فِي التَّمْيِيز والفهم لأهل الطَّبَقَة الْوُسْطَى وَمن يقاربهم فِي الْمنزلَة حَتَّى يتَمَكَّن بذلك من مَعْرفَته مِقْدَار مَا يقف فِي هَذَا الْمُخْتَصر من الْفَوَائِد من غير تَقْلِيد فيرغب فِيهِ أَو يزهد حِين يقيس على مَا يألف ويعهد لِأَنَّهُ لَا يعرف مِقْدَار الشَّيْء إِلَّا ذُو بَصِيرَة يعرف أَن لَهُ أجناسا كَثِيرَة فيقيسها إِلَيْهِ أَو يقيسه إِلَيْهَا فيفضلها عَلَيْهِ ويفضله عَلَيْهَا وذكي الْقلب يتَمَكَّن من ذَلِك وَإِن لم يسْلك تِلْكَ المسالك لَكِن بِكَثْرَة الْمَسْأَلَة لأهل المعارف والمقايسة بَين المصنفات لعارف عَارِف وَإِلَّا كَانَ الْوَاقِف عَلَيْهِ مثل من لَا يعرف الْجَوَاهِر الثمينة والفصوص النفيسة يجد فصا عَظِيم الْمِقْدَار فيضيعه أَو يَبِيعهُ بِثمن نزر فقد بيع يُوسُف الصّديق بذلك حِين لم يُوقف لَهُ على قدر فَإِن عرضت لطَالب الْحق محنة لم يتطير بِطَلَب الْحق فَيكون من الَّذين يعْبدُونَ الله على حرف وليثق بِقرب الْفرج ويتوكل على الله كَمَا قَالَ تَعَالَى {فتوكل على الله إِنَّك على الْحق الْمُبين} وَعلم وأيقن أَن الله مَعَ الصابرين وَمَعَ الصَّادِقين
এটি একটি গরিব (একক সূত্রীয়) বর্ণনা, আমি এটি আল্লানের বর্ণনা ব্যতীত উচ্চ সনদে লিখিনি। তবে এর সপক্ষে নয়জন সাহাবী থেকে শক্তিশালী সাক্ষ্য রয়েছে, যা হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ উল্লেখ করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন হকের পথে আমাদের একাকীত্বের প্রতি দয়া করেন, আমাদের মধ্যে পথভ্রষ্টদের হিদায়াত দান করেন এবং তাঁর আশা, প্রার্থনা ও অন্বেষণের দুয়ার হতে আমাদের বঞ্চিত করে ফিরিয়ে না দেন। নিশ্চয়ই তিনি আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দানকারী, হিদায়াতপ্রাপ্তদের পথপ্রদর্শক এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

যদি বলা হয় যে, শ্রুত প্রমাণ অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহ নির্দেশ করেছে যে ইসলাম ধর্মই হলো সৃষ্ট ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি), আর তা অন্বেষণ করা তো অর্জিত বিষয়কেই পুনরায় অর্জন করার নামান্তর; তবে এই ভীতির সঞ্চার বা বাড়িয়ে বলার কারণ কী?

আমি বলব: কারণ সেই ফিতরাতের বিকৃতি অত্যন্ত প্রকট হয়েছে, আর চরম বিকৃতির পর তার সংস্কার সাধন কঠিন। ফিতরাত হলো সুস্থতার মতো, আর বিকৃতি হলো সেই সব রোগের মতো যার কারণসমূহ আমরা নিজেরাই বেছে নিয়েছি, ফলে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং বদ্ধমূল হয়ে গেছে, এমনকি তার চিকিৎসা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো সেই ওষুধের মতো যা তাদের উপকারে আসে যাদের ওপর বিকৃতি এখনও প্রবল হয়ে জেঁকে বসেনি, কিন্তু যাদের ওপর তা প্রবল হয়ে জেঁকে বসেছে তাদের ক্ষেত্রে নয়; আর সুস্থ ব্যক্তির তো এর প্রয়োজনই নেই। হিজাম বিন হাকিম ইবন হিজাম তাঁর পিতা ও চাচার সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি এর প্রমাণ দেয় যে, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ইলমের চেয়ে ইবাদত শ্রেষ্ঠ ছিল, আর শেষ জমানায় ইবাদতের চেয়ে ইলম শ্রেষ্ঠ; যেমনটি সামনে আসবে। এর সনদের শক্তি এবং যৌক্তিক চিন্তার সাথে এর অর্থগত সামঞ্জস্যের বিষয়টি উপকারী ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার অধ্যায়ে আসবে। পঞ্চম বিষয়টি—যা সবচাইতে কঠিন—তাহলো মধ্যম স্তরের লোক বা তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের জ্ঞান অথবা বিচারবুদ্ধি ও উপলব্ধিতে অংশীদার হওয়া, যাতে করে তারা অন্ধ অনুসরণ ছাড়াই এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে বিদ্যমান উপযোগিতার পরিমাণ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। ফলে তারা এতে আগ্রহী হবে অথবা বিমুখ হবে যখন তারা একে তাদের পরিচিত ও অভ্যস্ত বিষয়ের সাথে তুলনা করবে। কারণ কোনো জিনিসের প্রকৃত মান কেবল সেই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিই বুঝতে পারে যে জানে যে এর বহু প্রকার রয়েছে, অতঃপর সে সেটিকে এগুলোর সাথে তুলনা করে বা এগুলোকে সেটির সাথে তুলনা করে এবং কোনোটিকে কোনোটির ওপর প্রাধান্য দেয়। তীক্ষ্ণ হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি এতে সক্ষম হতে পারে যদিও সে নির্দিষ্ট পথগুলো পাড়ি না দেয়, তবে তা হতে হবে তত্ত্বজ্ঞানীদের অধিক জিজ্ঞাসার মাধ্যমে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রচিত গ্রন্থাবলির তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে। অন্যথায় এই গ্রন্থের পাঠক সেই ব্যক্তির মতো হবে যে মূল্যবান রত্ন ও দামি মণি-মুক্তা চেনে না; সে এক বিশাল মূল্যের মণি খুঁজে পায় কিন্তু তা হারিয়ে ফেলে অথবা সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দেয়। ইউসুফ সিদ্দিককেও সেভাবেই বিক্রি করা হয়েছিল যখন তাঁর প্রকৃত মর্যাদা অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং সত্য অন্বেষণকারীর ওপর যদি কোনো বিপদ নেমে আসে, তবে সে যেন সত্য অন্বেষণের কারণে কুলক্ষণ গ্রহণ না করে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয় যারা আল্লাহর ইবাদত করে এক কিনারায় দাঁড়িয়ে। বরং সে যেন সংকট মুক্তির নিকটবর্তিতার ওপর আস্থা রাখে এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন, "সুতরাং আপনি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সুস্পষ্ট হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত।" আর সে যেন জানে ও বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ ধৈর্যশীল ও সত্যবাদীদের সাথে রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَأَن الله نَاصِر من ينصره وذاكر من يذكرهُ وَأَن سر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي هَذِه الْأُمُور عَائِد على متبعيه وَنَصره شَامِل لناصريه وَلم أقصد بِهَذَا الْمُخْتَصر هِدَايَة أهل الْيَقِين التَّام من الْأَوْلِيَاء الْكِرَام أهل الْكَمَال فِي المعارف من الْعلمَاء الاعلام وَلَا هِدَايَة أَئِمَّة الْكفْر المعاندين لأهل الاسلام أما أهل الْكَمَال فِي الْعلم الَّذين بلغُوا مرتبَة الامامة الْكُبْرَى فِي علمي الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول وَأهل الْيَقِين التَّام من الْأَوْلِيَاء الْكِرَام نفع الله بهم فَإِن مهْدي هَذَا الْمُخْتَصر إِلَى معارفهم كمهدي الحشف إِلَى هجرأ ونجران بل كمهدي الحضيض إِلَى أهل الدّرّ والعقيان وَإِن كَانَ قد ينزل عِنْد بَعضهم منزلَة فَاكِهَة الْبَادِيَة الطرية الْبَريَّة الَّتِي هِيَ من العلاجات الحضرية بريه فَإِنَّهَا قد تعجب أهل الْحَاضِرَة وَإِن كَانَت عَمَّا لديهم فِي النفاسة قَاصِرَة وَأما أَئِمَّة الْكفْر والسفه والتعلق بمذاهب الفلسفة فهم كمن استحكم الدَّاء عَلَيْهِ فَلَا تَنْفَعهُ الْأَدْوِيَة النافعة فالداعي لَهُم إِلَى حق حقائق الْإِيمَان وَإِن جَاءَ بأعظم برهَان فِي الْيَأْس مِنْهُم وَعدم الطمع فيهم كالداعي للعميان إِلَى النُّور وللأموات إِلَى الْخُرُوج من الْقُبُور وَكَيف الطمع فِي هِدَايَة قوم قد أَقَامَ رَبهم عَلَيْهِم الْحجَّة مرَارًا أَولهَا بخلقهم على الْفطْرَة وَثَانِيها بطول المهلة وَثَالِثهَا ببعثه الرُّسُل بالمعجزات الباهرة والآيات الظَّاهِرَة إِلَى غير ذَلِك من تَجْدِيد الدَّلَائِل بِخلق الْمَخْلُوقَات الْمشَاهد حدوثها من الْغَمَام والأمطار وَالْحَيَوَان وَالْأَشْجَار فجحدوا الْجَمِيع وَكَفرُوا الْكفْر الفظيع مَعَ إِيمَانهم بأبطل البواطل الَّتِي لَا يتَصَوَّر الْإِيمَان بِمِثْلِهَا من عَاقل حَتَّى قَالَ الله تَعَالَى فيهم {وَلَو أننا نزلنَا إِلَيْهِم الْمَلَائِكَة وكلمهم الْمَوْتَى وحشرنا عَلَيْهِم كل شَيْء قبلا مَا كَانُوا ليؤمنوا إِلَّا أَن يَشَاء الله} وَقَالَ تَعَالَى فيهم {قتل الْإِنْسَان مَا أكفره} الْآيَات وَقَالَ تَعَالَى {فَبِأَي حَدِيث بعده يُؤمنُونَ} ثمَّ أخبر عَنْهُم علام الغيوب أَنهم يجادلون فِي الْقِيَامَة بعد بَعثهمْ وعلمهم الضَّرُورِيّ بِصِحَّة الربوبية فيجحدون الْحق حَتَّى تشهد عَلَيْهِم جُلُودهمْ ثمَّ يَقُولُونَ بعد ذَلِك لم شهدتم علينا وَلذَلِك لم نؤمر

আর আল্লাহ তাকেই সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে এবং তাকেই স্মরণ করেন যে তাঁকে স্মরণ করে। এই বিষয়গুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গূঢ় রহস্য তাঁর অনুসারীদের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে এবং তাঁর সাহায্য তাঁর সাহায্যকারীদের জন্য ব্যাপক। এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য মহান ওলীগণের মধ্য থেকে যারা পূর্ণ নিশ্চয়তা (ইয়াকীন) অর্জন করেছেন এবং প্রখ্যাত আলেমদের মধ্য থেকে যারা মারেফাত বা তাত্ত্বিক জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেছেন, তাদের পথ প্রদর্শন করা নয়; আর ইসলামপন্থীদের সাথে শত্রুতা পোষণকারী কুফরের ইমামদের পথ প্রদর্শন করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। পক্ষান্তরে জ্ঞানের ক্ষেত্রে যারা পূর্ণতা অর্জন করেছেন, যারা যৌক্তিক ও শ্রুত উভয় বিদ্যায় শ্রেষ্ঠ ইমামতের স্তরে পৌঁছেছেন এবং সম্মানিত ওলীদের মধ্য থেকে যারা পূর্ণ ইয়াকীনের অধিকারী—আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন—তাদের প্রজ্ঞার ভাণ্ডারে এই সংক্ষিপ্ত রচনাটি উপহার হিসেবে পেশ করা যেন হজর বা নাজরানে নিম্নমানের শুকনা খেজুর পাঠানোর নামান্তর; বরং মুক্তা ও খাঁটি স্বর্ণের অধিকারীদের কাছে নর্দমার কাদা উপহার দেওয়ার মতো। তবে এটি তাদের কারও কাছে মরুভূমির টাটকা বন্য ফলের মতো হতে পারে, যা শহরের চিকিৎসায় রোগমুক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়; ফলে তা শহরের মানুষের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে, যদিও তা তাদের কাছে থাকা উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহের তুলনায় মর্যাদায় নগণ্য। আর কুফর, মূর্খতা ও দর্শনের মতবাদের সাথে সম্পৃক্ত ইমামদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যার ওপর ব্যাধি প্রবল হয়ে চেপে বসেছে, ফলে কোনো উপকারী ওষুধই তার কাজে আসে না। তাই তাদের ঈমানের প্রকৃত সত্যের দিকে আহ্বানকারী—সে যত বড় প্রমাণই উপস্থাপন করুক না কেন—তাদের ব্যাপারে নিরাশ হওয়া এবং তাদের সুপথপ্রাপ্তির আশা না করাই স্বাভাবিক; এটি যেন অন্ধকে আলোর দিকে ডাকা এবং মৃতকে কবর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আহ্বান করার মতো। এমন সম্প্রদায়ের হিদায়াতের আশা কীভাবে করা যায়, যাদের ওপর তাদের প্রতিপালক বারবার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন; প্রথমত তাদের ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবের ওপর সৃষ্টির মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত দীর্ঘ সময় অবকাশ দেওয়ার মাধ্যমে, এবং তৃতীয়ত সুস্পষ্ট মুজিজা ও উজ্জ্বল নিদর্শনসহ রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে। এছাড়াও মেঘমালা, বৃষ্টি, জীবজন্তু ও বৃক্ষরাজির মতো দৃশ্যমান সৃষ্টিজগত সৃজনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রমাণাদি নবায়ন করার মাধ্যমেও তিনি তা করেছেন। কিন্তু তারা সব কিছুই অস্বীকার করেছে এবং চরম পর্যায়ের কুফরী অবলম্বন করেছে, অথচ তারা এমন সব চরম ভিত্তিহীন বাতুলতায় বিশ্বাস করে যা কোনো বুদ্ধিমান মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব। এমনকি আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদের নাজিল করতাম, আর মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত এবং আমি সব কিছুকে তাদের সামনে সমবেত করতাম, তবুও তারা বিশ্বাস স্থাপন করত না, যদি না আল্লাহ চাইতেন।" আর তিনি তাদের সম্পর্কে আরও বলেছেন: "মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ!" (অনুরূপ আরও আয়াতসমূহ), এবং তিনি বলেছেন: "অতঃপর তারা এর পরে আর কোন বাণীর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে?" অতঃপর অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, পুনরুত্থানের পর এবং রুবুবিয়্যাহ বা আল্লাহর প্রভুত্বের সত্যতা সম্পর্কে অকাট্য জ্ঞান লাভের পরেও তারা কিয়ামতের দিন বিতণ্ডায় লিপ্ত হবে। তারা সত্যকে অস্বীকার করবে, এমনকি তাদের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। এরপর তারা বলবে, "তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?" আর এই কারণেই আমাদের আদেশ দেওয়া হয়নি...

(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩২)
بِإِقَامَة الْحجَّة عَلَيْهِم لِأَن الله قد أَقَامَهَا وَإِنَّمَا أمرنَا بجهادهم ودعائهم قبل قبل الْجِهَاد على خلاف فِي الدُّعَاء قبل الْجِهَاد مَوْضِعه كتب الْفِقْه الفرعية وَلَا قصدت بِهَذَا الْمُخْتَصر تفهيم من لَيْسَ يفهم فَأَكُون كمستولد الْعَقِيم أَو مقوم ظلّ مَا لَيْسَ بِمُسْتَقِيم وَكَيف يقوم الظل وَالْعود أَعْوَج وَإِنَّمَا قصدت نفع الأوساط وامتثال أَمر الله تَعَالَى فقد أَمر الله تَعَالَى بالمعاونة على الْبر وَالتَّقوى وَصَحَّ التَّرْغِيب فِي الدُّعَاء إِلَى الْحق وَالْخَيْر وَإِن الدَّاعِي إِلَى ذَلِك يُؤْتى مثل أجور من اتبعهُ وَمن أَحْيَا نفسا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاس جَمِيعًا وَإِن من أَمر بالصلاح ابْتِغَاء مرضات الله وَإِن لم يطع فَسَوف يؤتيه الله أجرا عَظِيما وَفِي حَدِيث أنس عَنهُ صلى الله عليه وسلم (مَا من رجل ينعش بِلِسَانِهِ حَقًا يعْمل بِهِ إِلَّا جرى عَلَيْهِ أجره إِلَى يَوْم الْقِيَامَة ثمَّ وفاه الله ثَوَابه يَوْم الْقِيَامَة) رَوَاهُ أَحْمد وَسَنَده جيد وَهُوَ من مُسْند أنس من جَامع المسانيد بل قد أنزل الله سبحانه وتعالى سُورَة الْعَصْر وَقصر السَّلامَة من الخسر على الَّذين آمنُوا وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصبرِ وَمن أحسن قولا مِمَّن دَعَا إِلَى الله وَعمل صَالحا وَقَالَ إِنَّنِي من الْمُسلمين ثمَّ إِنِّي غير مُدع للعصمة من الْخَطَأ والمناقضة وَلَا أَدعِي ذَلِك من هُوَ أجل مني وأكمل وَأعلم وَأفهم من جَمِيع الْعلمَاء بل الْعُقَلَاء وَقد قَالَ تَعَالَى فِي الْقُرْآن الْكَرِيم {وَلَو كَانَ من عِنْد غير الله لوجدوا فِيهِ اخْتِلَافا كثيرا} فَدلَّ على لُزُوم ذَلِك لما كَانَ من عِنْد غير الله فَمن وجد خطأ فلينبه عَلَيْهِ مأجورا وَالْقَصْد المعاونة على الْخَيْر وفْق الله الْجَمِيع على مَا يحب ويرضى

وَاعْلَم أَنِّي رَأَيْت المصنفين فِي علم العقيدة الدِّينِيَّة قد سلكوا مَسْلَك سَبِيل مصنفي كتب الْمذَاهب الَّتِي ينتصر فِيهَا المُصَنّف لمَذْهَب وَاحِد فِي الْقوي والضعيف والدقيق والجلي وَلم يسْلك أحد مِنْهُم مَسْلَك مصنفي كتب الْإِسْلَام الَّتِي تذكر فِيهَا مَذَاهِب أهل الْملَّة الإسلامية وَيُقَوِّي فِيهَا مَا قوته الدَّلَائِل البرهانية سَوَاء كَانَ لقريب أَو بعيد أَو صديق أَو بغيض وَكتب العقائد أَحَق بسلوك هَذَا المسلك من كتب الْفُرُوع فَأَما كَون الْحق فِيهَا
তাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করার মাধ্যমে, কারণ আল্লাহ তাআলা তা ইতিপূর্বেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন; আর জিহাদের পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও তাদের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে। তবে জিহাদের পূর্বে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে যে মতভেদ রয়েছে, তার স্থান হলো ফিকহের শাখাগত গ্রন্থসমূহ। আর এই সংক্ষিপ্ত সার রচনার মাধ্যমে আমি এমন কাউকে বোঝানোর ইচ্ছা করিনি যে বোঝে না, অন্যথায় আমি বন্ধ্যা থেকে সন্তান কামনাকারী অথবা বাঁকা জিনিসের ছায়াকে সোজা করতে চেষ্টাকারীর মতো হতাম। আর কাঠ যখন বাঁকা, তখন তার ছায়া কীভাবে সোজা হবে? বরং আমার উদ্দেশ্য হলো মধ্যম সারির জ্ঞানপিপাসুদের উপকার করা এবং মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করা। কেননা আল্লাহ তাআলা পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সত্য ও কল্যাণের দিকে আহ্বান জানানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করে সহীহ বর্ণনা এসেছে এবং এর দিকে আহ্বানকারীকে তার অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমস্ত মানুষকে রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সংশোধনের নির্দেশ দেয়, যদিও তার কথা মানা না হয়, তবুও আল্লাহ তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার জিহ্বা দ্বারা কোনো সত্যকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং সেই অনুযায়ী আমল করা হয়, কিয়ামত পর্যন্ত তার সওয়াব জারি থাকবে, এরপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে পূর্ণ প্রতিদান দান করবেন।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ উত্তম। এটি জামেউল মাসানিদ-এর মুসনাদে আনাস থেকে নেওয়া। বরং মহান আল্লাহ সূরা আল-আসর নাযিল করেছেন এবং যারা ঈমান এনেছে, সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে, তারা ছাড়া আর সবার জন্য ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকাকে অসম্ভব করেছেন। আর তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে যে, "আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।" এরপর কথা হলো, আমি ভুল বা স্ববিরোধিতা থেকে নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করছি না। এমনকি সকল আলেম এবং জ্ঞানীদের মধ্যে যারা আমার চেয়েও অনেক মহান, কামেল, অভিজ্ঞ ও সমঝদার, তারাও এমন দাবি করেননি। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন: "যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত।" সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়, তাতে মতভেদ থাকা অনিবার্য। তাই কেউ কোনো ভুল পেলে সওয়াবের আশায় তা যেন সংশোধন করে দেয়। উদ্দেশ্য হলো কল্যাণের পথে একে অপরকে সহযোগিতা করা। আল্লাহ সকলকে তাঁর প্রিয় ও সন্তুষ্টির কাজে তাওফীক দান করুন।

জেনে রাখুন, আমি ধর্মীয় আকিদা শাস্ত্রের লেখকদের দেখেছি যে, তারা মাযহাবের কিতাব রচয়িতাদের পথ অনুসরণ করেছেন, যেখানে লেখক একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের শক্তিশালী, দুর্বল, সূক্ষ্ম ও প্রকাশ্য সবকিছুর পক্ষেই ওকালতি করেন। তাদের মধ্যে কেউ সেই সকল ইসলামী কিতাব রচয়িতাদের পথ অবলম্বন করেননি, যাতে ইসলামী উম্মাহর বিভিন্ন মাযহাবের কথা উল্লেখ করা হয় এবং অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে যা শক্তিশালী প্রমাণিত হয় তাকেই শক্তিশালী বলা হয়; চাই সেটি নিকটবর্তী বা দূরবর্তী হোক, কিংবা বন্ধু বা শত্রুর হোক। অথচ শাখাগত ফিকহী কিতাবের তুলনায় আকিদার কিতাবসমূহে এই নীতি অনুসরণ করা অধিক যুক্তিযুক্ত। আর সত্যের বিষয়টি হলো...
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مَعَ وَاحِد فَصَحِيح وَلَكِن لَا يسْتَلْزم أَن يكون الصَّوَاب فِي جَمِيع الْمَوَاضِع المتفرقة قد اجْتمع لبَعض الْفرق إِلَّا مَا حصل فِيهِ أحد الاجماعات القاطعة من الْأَئِمَّة والعترة فَيجب التَّرْجِيح لَهُ والنصرة فاستخرت الله تَعَالَى وقصدت احياء هَذِه السّنة الْميتَة الَّتِي هِيَ ترك العصبية

وَلذَلِك سميته إِيثَار الْحق على الْخلق جعله الله اسْما مُوَافقا لمسماه ولفظا مطابقا لمعناه وجدير أَن يكون فِيهِ مَا يسْتَدرك عَليّ فَإِن كل أسلوب ابتدئ لَا يكمل إِلَّا بمعاونة جمَاعَة وتتابعهم عَلَيْهِ وتكميل الْمُتَأَخر لما أهمل الْمُتَقَدّم وَلذَلِك كَانَت أَوَائِل كل علم وأسلوب قَليلَة أَو نَاقِصَة فليبسط الْعذر الْوَاقِف على مَا يسْتَدرك فِيهِ لما كَانَ أسلوبا غَرِيبا بِالنِّسْبَةِ إِلَى هَذِه الازمنة الْمُتَأَخِّرَة

وَاعْلَم أَنه لَيْسَ بِصَرْف الاكثرين عَن هَذِه الطَّرِيقَة إِلَّا أحد أُمُور أَولهَا عدم الْحِرْص وَقُوَّة الدَّاعِي إِلَى هَذَا كَمَا تقدم مَبْسُوطا قَرِيبا فِي الْوَصْف الرَّابِع من صِفَات من تصنف لَهُم التصانيف وَثَانِيها الْخَوْف من شَرّ الأشرار مَعَ الترخيص فِي التقية باجماع الْأمة فقد أثنى الله على مُؤمن آل فِرْعَوْن مَعَ كتم إيمَانه وَسميت بِهِ سُورَة الْمُؤمن وَصَحَّ أَمر عمار بن يَاسر بذلك وَتَقْرِيره عَلَيْهِ وَنزلت فِيهِ {إِلَّا من أكره وَقَلبه مطمئن بِالْإِيمَان} وَقد قيل من عرف الْخلق جدير أَن يتحامى وَلَكِن من عرف الْحق فعسير أَن يتعامى وَالَّذين آمنُوا أَشد حبا لله وَثَالِثهَا خوف الشذوذ من الجماهير والإنفراد من الْمَشَاهِير وَهَذَا يحْتَاج إِلَى نظر فَإِن كَانَ جُمْهُور السّلف القدماء مَعَ القَوْل الشاذ الْمُتَأَخر فَلَا يبالى بذلك الشذوذ فقد شهِدت الْأَخْبَار الجمة الصَّحِيحَة بِأَن الدّين سيعود غَرِيبا كَمَا بَدَأَ وَكَذَلِكَ كَانَ الْحق فِي أَوَاخِر أهل الْكتاب فِي شذوذ من الصَّالِحين كَمَا شهد بذلك حَدِيث سلمَان الْفَارِسِي حَتَّى قَالَت طَائِفَة إِن إِجْمَاع الْمُتَأَخِّرين لَيْسَ بِحجَّة وَإِنَّمَا الْحجَّة إِجْمَاع الصَّحَابَة لما ورد فِي الْأَحَادِيث من ذمّ أهل الْمُتَأَخر حَكَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ وَإِن كَانَت الشُّهْرَة لِلْقَوْلِ فِي الْمُتَأَخِّرين وَهُوَ لَا يعرف عَن أحد من السّلف أَو يذكر شذوذ عَن بَعضهم فهده عَن الْبدع وَإِيَّاهَا
একজনের সাথে থাকাটা সঠিক হতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে সঠিকতা কোনো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে একত্রিত হয়েছে, কেবল সেই ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত যেখানে ইমামগণ এবং নবীবংশের পক্ষ থেকে কোনো অকাট্য ঐক্যমত অর্জিত হয়েছে। এমতাবস্থায় সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সমর্থন করা আবশ্যক। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং এই মৃত সুন্নতকে পুনর্জীবিত করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, যা হলো গোঁড়ামি বর্জন করা।

আর এই কারণেই আমি এর নাম দিয়েছি সৃষ্টির ঊর্ধ্বে সত্যকে প্রাধান্য দান। আল্লাহ যেন এই নামটিকে এর বিষয়বস্তুর সাথে সংগতিপূর্ণ এবং শব্দটিকে এর অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেন। এটা স্বাভাবিক যে এতে এমন কিছু থাকতে পারে যা সংশোধনের দাবি রাখে; কারণ যেকোনো নতুন পদ্ধতির সূচনা একদল লোকের সহযোগিতা এবং তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়, যেখানে পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের বাদ পড়া বিষয়গুলো পূর্ণ করেন। এই কারণেই প্রতিটি জ্ঞান ও পদ্ধতির প্রাথমিক অবস্থা ছিল স্বল্প বা অসম্পূর্ণ। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এতে কোনো ত্রুটি বা সংশোধনের অবকাশ পান, তবে তিনি যেন তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন, কারণ বর্তমানের এই পরবর্তী জামানাগুলোর তুলনায় এটি একটি বিরল পদ্ধতি।

জেনে রাখুন যে, অধিকাংশ মানুষকে এই পথ থেকে বিমুখ করার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে: প্রথমত, আগ্রহের অভাব এবং এর প্রতি জোরালো স্পৃহা না থাকা, যেমনটি ইতিপূর্বে যাদের জন্য গ্রন্থ রচনা করা হয় তাদের চতুর্থ বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দুষ্টদের অনিষ্টের ভয়, যদিও উম্মতের ঐক্যমত অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে আত্মগোপন করার অনুমতি রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের বংশের সেই মুমিনের প্রশংসা করেছেন যিনি তার ঈমান গোপন রেখেছিলেন এবং তার নামে ‘সূরা মুমিন’ নামকরণ করা হয়েছে। আম্মার ইবনে ইয়াসিরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রমাণিত এবং সমর্থিত হয়েছে, আর তার ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে: “তবে তার জন্য নয় যাকে বাধ্য করা হয় অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল থাকে”। বলা হয়ে থাকে, যে সৃষ্টিজগতকে চিনেছে তার জন্য সতর্ক হওয়া সমীচীন, কিন্তু যে সত্যকে চিনেছে তার পক্ষে অন্ধ সেজে থাকা অত্যন্ত কঠিন। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত প্রবল।

তৃতীয়ত, জনসাধারণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ভয় এবং খ্যাতিমান ব্যক্তিদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। বিষয়টি গভীরভাবে দেখার দাবি রাখে; কারণ প্রাচীন পূর্বসূরিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যদি পরবর্তীকালের কোনো বিচ্ছিন্ন মতের বিপরীতে থাকেন, তবে সেই বিচ্ছিন্নতাকে পরোয়া করার প্রয়োজন নেই। বহু নির্ভরযোগ্য সংবাদ সাক্ষ্য দেয় যে, ধর্ম যেভাবে শুরু হয়েছিল ঠিক সেভাবেই আবার অপরিচিত হয়ে ফিরে আসবে। একইভাবে আহলে কিতাবদের শেষ যুগে সত্য কেবল স্বল্পসংখ্যক নেককার লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেমনটি সালমান ফারসির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এমনকি একদল আলিম বলেছেন যে, পরবর্তীকালের লোকেদের ঐক্যমত কোনো দলিল নয়, বরং দলিল হলো কেবল সাহাবীদের ঐক্যমত; কারণ হাদিসে পরবর্তীকালের লোকেদের নিন্দা বর্ণিত হয়েছে, যা ইবনে জারীর তাবারী বর্ণনা করেছেন। আর যদি পরবর্তীকালের কোনো মত প্রসিদ্ধ হয় যা পূর্বসূরিদের কারো থেকে জানা যায় না অথবা তাদের কারো থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়, তবে তা বিদআত হিসেবে গণ্য এবং তা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌فصل

يَنْبَغِي من كل مُكَلّف أَن يطْرَح العصبية ويصحح النِّيَّة وَيسْتَعْمل النّظر بالفطرة الَّتِي فطر الله النَّاس عَلَيْهَا وَلَا يقدم عَلَيْهَا مَا لقنه أهل مذْهبه فَإِنَّهُ إِذا نظر كَذَلِك فِي كل أَمريْن متضادين فِيمَا يحْتَاج إِلَيْهِ يجد تَرْجِيح الْحق مِنْهُمَا على الْبَاطِل بَينا لَا يدْفع مكشوفا لَا يتقنع فاقسم الْأُمُور أَولا إِلَى قسمَيْنِ قسم لَا يحْتَاج إِلَى مَعْرفَته فِي الدّين الَّذِي تسئل عَنهُ فِي الْآخِرَة كعلم الْفلك ودقائقه وَعلم الطبائع وَعلم الطِّبّ وَعلم الفراسة الدَّالَّة على الْأَخْلَاق الْبَاطِنَة وَعلم النُّجُوم وَعلم السحر وَعلم الطلسمات وَعلم السيمياء وَعلم الكيمياء وَعلم الرياضة وَعلم الفلاحة وَعلم الهندسة وَعلم المرايا المحرقة وَعلم المساحة وَعلم الْهَيْئَة وَعلم الارصاد وَعلم الْحساب وَعلم الشّعْر وَعلم الْعرُوض وَعلم تجويد الْكِتَابَة وقوانينها وَعلم اللَّطِيف وَعلم الزيجات من الْفلك والتقاويم إِلَى سَائِر مَا ذكر من عُلُوم الأذكياء وَأهل الرياضات وَقد صنفت كتب فِي ذكر أعداد الْعُلُوم وأسمائها فبلغت مبلغا كثيرا وَمن أحسن من صنف فِي ذَلِك الشَّيْخ مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن ساعد الْأنْصَارِيّ فانه صنف فِي ذَلِك كتابا مُفِيدا سَمَّاهُ ارشاد القاصد إِلَى أَسْنَى الْمَقَاصِد وَذكر من هَذِه الْفُنُون الَّتِي لم يرد الشَّرْع بِوُجُوب مَعْرفَتهَا وَلَا ندب إِلَيْهَا قدر أَرْبَعِينَ فَنًّا أَو تزيد من هَذِه الْعُلُوم وَإِنَّمَا أَشرت إِلَيْهَا ونبهتك عَلَيْهَا لتعرف سهولة مَا بَقِي عَلَيْك بعد تَركهَا وتيقن صدق قَول الله عز وجل {يُرِيد الله بكم الْيُسْر وَلَا يُرِيد بكم الْعسر} وتحمد الْحَمد تَعَالَى على ذَلِك وأنفعها علم الطِّبّ وَعلم اللَّطِيف أما علم الطِّبّ فنفعه بَين لَكِن التَّوَكُّل أفضل مِنْهُ بِالنَّصِّ الْمُتَّفق على صِحَّته وَالْأَجْر فِي الْأَلَم
পরিচ্ছেদ

প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) উচিত গোঁড়ামি পরিহার করা, নিয়তকে শুদ্ধ করা এবং সেই স্বভাবজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করা, যার উপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর তার উপর নিজের মাযহাবের লোকদের শেখানো বিষয়কে প্রাধান্য না দেওয়া। কারণ সে যদি প্রয়োজনীয় প্রতিটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের ক্ষেত্রে এভাবে লক্ষ্য করে, তবে সে সত্যকে বাতিলের ওপর এমন স্পষ্টভাবে প্রবল হতে দেখবে যা অনস্বীকার্য এবং যা অনাবৃত ও প্রকাশ্য। সুতরাং বিষয়গুলোকে প্রথমে দুই ভাগে ভাগ করুন। প্রথম ভাগ হলো এমন সব বিষয়, যা দ্বীনের ক্ষেত্রে জানার প্রয়োজন নেই এবং যে সম্পর্কে আখিরাতে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না; যেমন: জ্যোতির্বিজ্ঞান ও এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, চিকিৎসা শাস্ত্র, অভ্যন্তরীণ চরিত্র নির্দেশক মুখাবয়ব দর্শন বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, যাদুবিদ্যা, তিলিসমাতি বিদ্যা, সিমিয়া (বর্ণ রহস্য) বিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা, শরীরচর্চা বা আধ্যাত্মিক সাধনা বিদ্যা, কৃষিবিদ্যা, জ্যামিতি, দাহক আয়না সংক্রান্ত বিদ্যা, ভূমি জরিপ বিদ্যা, মহাকাশ বিজ্ঞান, পর্যবেক্ষণ বিদ্যা, গণিত শাস্ত্র, কবিতা শাস্ত্র, ছন্দ শাস্ত্র, লিপি শৈলী ও তার নিয়মাবলি, সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিদ্যা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পঞ্জিকা সংক্রান্ত সারণী বিদ্যা সহ বুদ্ধিমান ও সাধকদের বর্ণিত অন্যান্য সকল জ্ঞান। বিজ্ঞানের সংখ্যা ও নাম উল্লেখ করে অনেক কিতাব লেখা হয়েছে এবং তা এক বিশাল সংখ্যায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে যারা কিতাব লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলেন শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সায়েদ আল-আনসারী। তিনি এ বিষয়ে একটি উপকারী কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "ইরশাদুল কাসিদ ইলা আসনা আল-মাকাসিদ"। তিনি এমন প্রায় চল্লিশটি বা তারও বেশি বিদ্যা বা বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা জানার ব্যাপারে শরীয়ত কোনো আবশ্যকতা প্রদান করেনি এবং তার প্রতি উৎসাহিতও করেনি। আমি কেবল এগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি এবং আপনাকে সতর্ক করেছি যাতে আপনি বুঝতে পারেন যে, এগুলো বর্জন করার পর আপনার জন্য যা অবশিষ্ট থাকে তা কতটা সহজ। এবং যাতে আপনি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করেন যে: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না।" আর এজন্য আপনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করুন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী হলো চিকিৎসা শাস্ত্র ও সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিদ্যা। চিকিৎসা শাস্ত্রের উপকারিতা তো স্পষ্ট, তবে সহীহ ও সর্বসম্মত বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা (তাওয়াক্কুল) এর চেয়ে উত্তম, আর শারীরিক যাতনাতেও পুণ্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩৫)
لمن صَبر عَظِيم وَأعظم مصائب الدُّنْيَا الْمَوْت والطب لَا يمْنَع مِنْهُ وَهُوَ مهون لما دونه كَمَا قيل فِي ذَلِك الْمَعْنى شعرًا

(سَلِي عَن الْعَيْش أَنا لَا ندوم لَهُ … وهون الْمَوْت مَا نلقى من الْعِلَل)

لَكِن الصَّبْر قَلِيل فنسأل الله الْعَافِيَة وَلَا بَأْس بتَعَلُّم الْجَلِيّ من الطِّبّ

وَأما علم اللَّطِيف فَهُوَ أساس علم الْكَلَام وَتَحْقِيق بعض فَوَائده يكْشف عوار كثير من الْبدع كَمَا تَأتي إِلَيْهِ الْإِشَارَة

وَالْقسم الثَّانِي من الْعلم مَا يحْتَاج إِلَيْهِ فِي الدّين وَهُوَ قِسْمَانِ قسم لم يخْتَلف فِي حسنه مثل النُّصُوص فِي الحَدِيث وَالْإِجْمَاع من تَفْسِير الْإِسْلَام وَالْإِيمَان الْوَاجِب على الْجَمِيع دون مَا عداهُ وَعلم الزّهْد بِمَا اشْتَمَلت عَلَيْهِ كتبه مِمَّا أجمع عَلَيْهِ دون مَا اخْتلف فِيهِ وَمن أنفس كتبه رياض الصَّالِحين للنووي لاقتصاره على الحَدِيث الْقوي وأنفس مِنْهُ التَّرْهِيب وَالتَّرْغِيب لِلْمُنْذِرِيِّ وَنَحْوهمَا من الْكتب الخالية من الْبدع فَهَذَا الْقسم الأول لَا نتعرض لذكره فِي هَذَا الْمُخْتَصر لعدم الاشكال فِيهِ وَإِنَّمَا نتعرض لإيضاح مَا فِيهِ اشكال بأقرب الطّرق أَو أبعدها من الشّبَه وَمن هَذَا الْقسم كتب الْفُرُوع الَّتِي كل مُجْتَهد فِيهَا مُصِيب أَو مأجور وَكتب الْعَرَبيَّة وَنَحْو ذَلِك إِذْ لَا يُمكن رفع الإختلاف فِيمَا اخْتلف فِي مثله مُوسَى وَالْخضر وَسليمَان وَدَاوُد واختصم فِي مثله الْمَلأ الْأَعْلَى لِأَنَّهُ مُرَاد الله بِالْإِجْمَاع وَالْقسم الثَّانِي الْمُخْتَلف فِيهِ اخْتِلَافا تخَاف مضرته فِي الْآخِرَة فَمَا كَانَ لَا يجب شرعا
ধৈর্য ধারণকারীর জন্য রয়েছে মহান প্রতিদান। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো মৃত্যু, আর চিকিৎসাবিজ্ঞান একে রোধ করতে পারে না। মৃত্যু তার পরবর্তী বিপদসমূহকে তুচ্ছ করে দেয়, যেমনটি এই মর্মে কবিতায় বলা হয়েছে:

(জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, আমরা এতে চিরকাল থাকব না … আর মৃত্যু আমরা যে সকল রোগের সম্মুখীন হই সেগুলোকে তুচ্ছ করে দিয়েছে)

কিন্তু ধৈর্য অত্যন্ত কম, তাই আমরা আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুস্পষ্ট বিষয়গুলো শিক্ষা করাতে কোনো দোষ নেই।

আর সূক্ষ্ম জ্ঞান হলো ইলমুল কালামের ভিত্তি। এর কিছু উপকারিতা যাচাই করলে অনেক বিদআতের দোষ-ত্রুটি উন্মোচিত হয়, যেমনটি সামনে ইঙ্গিত করা হবে।

জ্ঞানের দ্বিতীয় প্রকার হলো যা দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। এটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগ হলো যার উৎকর্ষতা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, যেমন হাদীসের সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ এবং ইসলাম ও ঈমানের সেই ব্যাখ্যা যা সকলের ওপর ওয়াজিব—এর বাইরে অন্য কিছু নয়—তার ওপর ঐক্যমত্য। এবং যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) সংক্রান্ত জ্ঞান, যা এই বিষয়ক কিতাবগুলোতে সর্বসম্মত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো নয়। এই বিষয়ের সবচেয়ে মূল্যবান কিতাবগুলোর মধ্যে একটি হলো নববীর 'রিয়াদুস সালেহীন', কারণ তিনি এতে কেবল শক্তিশালী হাদীসসমূহ চয়ন করেছেন। এর চেয়েও মূল্যবান হলো মুনযিরীর 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' এবং বিদআত মুক্ত এ জাতীয় অন্যান্য কিতাবসমূহ। এই প্রথম ভাগটি নিয়ে আমরা এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে আলোচনা করব না, কারণ এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। বরং আমরা সেই সব বিষয় স্পষ্ট করার চেষ্টা করব যাতে অস্পষ্টতা রয়েছে, সংশয় থেকে নিকটতম বা দূরতম উপায়ের মাধ্যমে। এই ভাগের অন্তর্ভুক্ত হলো ফুরু (শাখা-প্রশাখা) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ, যাতে প্রত্যেক মুজতাহিদ সঠিক অবস্থানে থাকেন অথবা সওয়াবপ্রাপ্ত হন। আরও রয়েছে আরবি ভাষা ও এ জাতীয় অন্যান্য কিতাবসমূহ। কারণ, এমন বিষয়ে মতভেদ দূর করা সম্ভব নয় যে বিষয়ে মূসা ও খিজির এবং সুলাইমান ও দাউদ মতভেদ করেছেন এবং যে বিষয়ে উচ্চতর ফেরেশতামণ্ডলী বিতর্ক করেছেন। কেননা ঐক্যমত্য অনুযায়ী এটিই আল্লাহর উদ্দেশ্য। আর দ্বিতীয় ভাগটি হলো যাতে এমন মতভেদ রয়েছে যার ক্ষতির আশঙ্কা আখেরাতে বিদ্যমান। সুতরাং যা শরয়িভাবে ওয়াজিব নয়...
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْخَوْض فِيهِ مَعَ عظم الْخطر فِي الْخَوْض فِيهِ فَاضْرب عَنهُ وطالب من دعَاك إِلَيْهِ بِالدَّلِيلِ الْوَاضِح على الْوُجُوب وَأعْرض مَا أورد عَلَيْك فِيهِ من الْأَدِلَّة على النصحاء والأذكياء من الْعلمَاء حَتَّى تعرف الْوُجُوب يَقِينا من غير تَقْلِيد ثمَّ حرر النِّيَّة الصَّحِيحَة بعد ذَلِك فِي معرفَة الْحق وَمَا أوجب الله مَعْرفَته طَاعَة لله لَا لمباهاة وَلَا مراآة وَلَا مماراة ثمَّ اسْتَعِنْ بِاللَّه واستغث بِهِ وَانْظُر فِي الخلوات خالطا للنَّظَر بِالدُّعَاءِ والتضرع والاستعاذة من الْفِتَن فَإنَّك ترى بذلك من العون والسهولة مَا وعد الله بِهِ الداعين لَهُ الراجعين إِلَيْهِ فَإِن الله تَعَالَى إِذا أوجب أمرا أعَان عَلَيْهِ من أَرَادَ الْأَدِلَّة بنية صَحِيحَة كَمَا ثَبت عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى {إِن يكن مِنْكُم عشرُون صَابِرُونَ يغلبوا مِائَتَيْنِ} وَإنَّهُ قَالَ لَو صَبَرُوا عَلَيْهَا لطوقوها فَلَمَّا نقص من تكليفهم نقص من صبرهم رَوَاهُ البُخَارِيّ وَله شَوَاهِد وَالْعقل يشْهد لذَلِك أَيْضا وَمِنْه كَلَام معَاذ رضي الله عنه حِين احْتضرَ رَوَاهُ الْحَاكِم فِي الْفِتَن عَن يزِيد بن عميرَة عَنهُ وَسَيَأْتِي وَلَا تستعن فِي ذَلِك إِلَّا بِمن يوثق بورعه ونصحه وتقواه وَمَا أقلهم وَلَكِن أستعن بِالنّظرِ فِي تآليف الْعلمَاء الحافلة الجامعة لأدلة الْفرق فَإِن لم تَجِد كتابا كافلا جَامعا لأدلة الْفرق طالعت الْمَسْأَلَة فِي كتب الْفرق وَرَأَيْت حجَّة كل فرقة فِي كتبهمْ لَا فِي كتب خصومهم الَّذين يسمون أَدِلَّة من خالفهم شبها ويوردونها غير مستوفاة ويجيبون عَنْهَا بأجوبة مُحْتَملَة للنقض وَلَا يذكرُونَ مَا يرد على أجوبتهم وَهَذَا عِنْد الإضطرار إِلَى ذَلِك وَمن الْقَوَاعِد المقربة لَك إِلَى النجَاة أَن تنظر كل قَوْلَيْنِ مُخْتَلفين يخَاف الْكفْر وَالْعَذَاب الأخروي فِي أَحدهمَا دون الآخر فابعد عَنهُ واحذره أَلا تراك تخَاف الْكفْر فِي جحد الْعُلُوم لَا فِي ثُبُوتهَا وَفِي جحد الرب لَا فِي الْإِيمَان وَفِي جحد النبوات لَا فِي إِثْبَاتهَا وَفِي التَّفْرِيق بَين الرُّسُل كَمَا فعلت الْيَهُود وَالنَّصَارَى لَا فِي الْإِيمَان بجميعهم وَفِي عدم الْإِيمَان بِمَا جَاءَ بِهِ الْقُرْآن وَالسّنة لِأَن خلاف السّمع الْمَعْلُوم كفر اجماعا لَا فِي خلاف الْعقل الْمَعْلُوم لِأَنَّهُ لَيْسَ كفرا بِالْإِجْمَاع فاعرف هَذِه الْقَاعِدَة

وَاعْلَم أَن الْفطْرَة الَّتِي خلق الله لَك تدْرك الْقوي من الضَّعِيف فِي تِلْكَ
এতে লিপ্ত হওয়া এবং এতে লিপ্ত হওয়ার মাঝে বিদ্যমান ভয়াবহ বিপদ সত্ত্বেও, তুমি তা থেকে বিমুখ থাকো এবং যে তোমাকে এর দিকে আহ্বান করে তার কাছে এর আবশ্যিকতার স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল দাবি করো। তোমার নিকট উপস্থাপিত দলিলসমূহ বিজ্ঞ ও হিতাকাঙ্ক্ষী আলেমদের কাছে পেশ করো যাতে তুমি অন্ধ অনুকরণ ব্যতীত নিশ্চিতভাবে এর আবশ্যকতা সম্পর্কে জানতে পারো। এরপর আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে সত্য এবং আল্লাহ যা জানা ওয়াজিব করেছেন তা জানার ক্ষেত্রে সহিহ নিয়ত বা সংকল্প স্থির করো; লোক দেখানো, অহংকার কিংবা বিতণ্ডার জন্য নয়। অতঃপর আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো, তাঁর কাছে আরজি জানাও এবং নির্জনে চিন্তা-গবেষণা করো—যেখানে তোমার চিন্তার সাথে দোয়া, কাকুতি-মিনতি ও ফিতনা থেকে পানাহ চাওয়ার সংমিশ্রণ থাকবে। এর মাধ্যমে তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন সাহায্য ও সহজসাধ্যতা লাভ করবে যা তিনি তাঁর কাছে দোয়া ও প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য ওয়াদা করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কাজ আবশ্যক করেন, তখন তিনি সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করেন যে সঠিক নিয়তে দলিল অন্বেষণ করে। যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে প্রমাণিত হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে বিশ জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে।" তিনি বলেন, যদি তারা এতে ধৈর্য ধারণ করত তবে তারা তাতে শক্তিশালী হতো, কিন্তু যখন তাদের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হলো, তখন তাদের ধৈর্যও হ্রাস পেল। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং এর সপক্ষে আরও বহু প্রমাণ রয়েছে, এমনকি বিবেকও এর সাক্ষ্য দেয়। মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর মৃত্যুশয্যাকালীন কথাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত যা হাকেম বর্ণনা করেছেন। আর এই বিষয়ে পরহেজগারিতা, হিতাকাঙ্ক্ষা ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সাহায্য নিও না—যদিও এমন লোক খুবই কম। তবে তুমি বিভিন্ন ফিরকার দলিল সংবলিত আলেমদের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে সাহায্য নিতে পারো। যদি তুমি সকল ফিরকার দলিল সংবলিত কোনো একক কিতাব না পাও, তবে প্রত্যেকটি ফিরকার নিজস্ব কিতাব থেকে সংশ্লিষ্ট মাসয়ালাটি পাঠ করো এবং তাদের দলিলগুলো তাদের কিতাব থেকেই দেখো, তাদের বিরোধীদের কিতাব থেকে নয়। কারণ বিরোধীরা বিরুদ্ধবাদীদের দলিলসমূহকে 'সংশয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং সেগুলো অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করে, আর এমন সব উত্তর দেয় যা খণ্ডনযোগ্য, অথচ তারা নিজেদের উত্তরের ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো উল্লেখ করে না। নিরুপায় হয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম একটি পদ্ধতি। মুক্তির নিকটবর্তী হওয়ার একটি মূলনীতি হলো, যখন তুমি দুটি ভিন্ন মত দেখবে যার একটির ক্ষেত্রে কুফর ও পরকালীন আজাবের আশঙ্কা থাকে এবং অন্যটির ক্ষেত্রে থাকে না, তখন ভীতিযুক্ত বিষয়টি থেকে দূরে থাকো এবং সতর্ক হও। তুমি কি দেখছ না যে, তুমি কোনো সত্য অস্বীকার করার ক্ষেত্রে কুফরের ভয় পাও, তা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নয়? রবের অস্তিত্ব অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ভয় পাও, তাঁর ওপর ইমান আনার ক্ষেত্রে নয়? নবুওয়াত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ভয় পাও, তা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নয়? রাসুলদের মাঝে বিভাজন করার ক্ষেত্রে ভয় পাও—যেমনটি ইহুদি ও খ্রিস্টানরা করেছে—কিন্তু তাঁদের সকলের ওপর ইমান আনার ক্ষেত্রে নয়? কুরআন ও সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে তাতে ইমান না আনার ক্ষেত্রে ভয় পাও; কারণ অকাট্য শ্রুত দলিলের বিরোধিতা করা সর্বসম্মতিক্রমে কুফর, কিন্তু অকাট্য বিবেকপ্রসূত বিষয়ের বিরোধিতা করা সর্বসম্মতিক্রমে কুফর নয়। সুতরাং এই মূলনীতিটি জেনে রাখো।

জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাকে যে ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন, তা এগুলোর মধ্য থেকে সবল ও দুর্বল বিষয়কে অনুধাবন করতে পারে।
(খণ্ড: ১) ঈসারুল হাক্কি আলাল খালকি ফী রাদ্দিল খিলাফাত (পৃষ্ঠা: ৩৭)
المباحث وَإِن كثرت إِلَّا مَا دق وغمض جدا كَمَا أَن عَيْنك المبصرة تدْرك جَمِيع المبصرات وَإِن كثرت فَمَا دق على فطرتك فِي الْعُلُوم تركته لَا سِيمَا مَعَ دقته الشّبَه الْمُعَارضَة لَهُ وَلم تكلّف فِيهِ مَا لم تعلم مثل مَا إِن دق على بَصرك من المرئيات تركته كبعض الْأَهِلّة فِي أَوَائِل الشُّهُور سِيمَا مَعَ القتر والغيم

الْبَاب الأول إِثْبَات الْعُلُوم

 

فَأول شَيْء اخْتلف الْخلق فِيهِ اثبات الْعُلُوم فِي الْجُمْلَة عقلا مَعَ اجْتِمَاع الشَّرَائِع على ثُبُوتهَا فَانْظُر هَل يخفي عَلَيْك الصَّوَاب فِي ذَلِك فَإِن طوائف من الفلاسفة والاتحادية من الصُّوفِيَّة أَنْكَرُوا صِحَة الْعُلُوم أما الفلاسفة فَرَأَوْا الْبَصَر الصَّحِيح يُخطئ لعوارض نادرة فِي مَوَاضِع كرؤية النَّجْم سَاكِنا وَهُوَ يَتَحَرَّك قطعا بِدَلِيل انْتِقَاله وَكَذَلِكَ رُؤْيَة الظل سَاكِنا ورؤية الْمُسْتَقيم فِي المَاء أَعْوَج ورؤية الْأَحول الْوَاحِد اثْنَيْنِ ورؤية الْقَائِم فَوق المَاء منكوسا فِي المَاء ورؤية السحر وَالنَّوْم والكشف وَالْمَرَض وَإِن كَانَ فِي رُؤْيَة النّوم والكشف صَحِيح وباطل وَالصَّحِيح مِنْهُمَا قد يحْتَاج التَّأْوِيل وَلَا يكون على ظَاهره بِكُل حَال وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى {وَلَكِن شبه لَهُم} فَالَّذِينَ قصدُوا قتل عِيسَى عليه السلام رَأَوْا مثله فاعتقدوا أَنه هُوَ وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {وَإِذ يريكموهم إِذْ التقيتم فِي أعينكُم قَلِيلا ويقللكم فِي أَعينهم ليقضي الله أمرا كَانَ مَفْعُولا}

وَالْجَوَاب أَنا نعلم بِالضَّرُورَةِ أَن هَذِه الْأَشْيَاء كَانَت لعوارض تخْتَص بِهَذِهِ الْمَوَاضِع وَنَحْوهَا وَلَا يقْدَح ذَلِك فِي جملَة الرُّؤْيَة وجميعها وَلَا يُمكن أَن نشك لذَلِك فِي وجودنا وَوُجُود الْعَالم وشروق النيرات وَإِنَّهَا تجْرِي فَوْقنَا وتضيئنا وَإِن الْأَعْمَى فَاقِد لهَذِهِ النِّعْمَة والأليم مُخَالف للمعافى وَلَا يُمكن دفع شبههم إِلَّا بوجدان هَذَا الْعلم الْمَخْلُوق فِينَا نعْمَة علينا من الله لَا بتحرير دَلِيل لِأَن الدَّلِيل إِنَّمَا يصبح بعد تَسْلِيم الْعُلُوم الضرورية بل نقُول
গবেষণার বিষয়সমূহ যদিও সংখ্যায় অনেক হয়, তবে যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট তা ব্যতীত; ঠিক যেমন আপনার দৃষ্টিসম্পন্ন চোখ সমস্ত দৃশ্যমান বস্তুকে প্রত্যক্ষ করে যদিও সেগুলো অনেক হয়। সুতরাং বিজ্ঞানের যে বিষয়গুলো আপনার স্বভাবজাত বুদ্ধির কাছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম মনে হয় তা আপনি বর্জন করুন, বিশেষ করে সেই সূক্ষ্মতার সাথে যদি তার বিরোধী কোনো সংশয় যুক্ত থাকে। আপনাকে এমন বিষয়ের ভার দেওয়া হয়নি যা আপনি জানেন না, ঠিক যেমন কোনো দৃশ্যমান বস্তু যদি আপনার দৃষ্টির জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয় তবে আপনি তা বর্জন করেন; যেমন মাসের শুরুতে সরু একফালি চাঁদ, বিশেষ করে যখন ধুলোবালি ও মেঘ থাকে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: জ্ঞানসমূহের প্রমাণ

 

সৃষ্টিজগত সর্বপ্রথম যে বিষয়ে মতভেদ করেছে তা হলো সামগ্রিকভাবে যুক্তির আলোকে জ্ঞানের বাস্তবতা প্রমাণ করা, যদিও সমস্ত শরীয়ত এগুলোর প্রমাণের ব্যাপারে একমত। অতএব দেখুন, এ বিষয়ে সঠিক বিষয়টি আপনার কাছে অস্পষ্ট থাকে কি না। কারণ একদল দার্শনিক এবং সূফীদের মধ্য থেকে ইত্তিহাদিয়্যাহ গোষ্ঠী জ্ঞানের সঠিকতাকে অস্বীকার করেছে। দার্শনিকদের কথা হলো, তারা মনে করেন সুস্থ দৃষ্টিশক্তিও কিছু বিরল পরিস্থিতির কারণে ভুল করে থাকে; যেমন নক্ষত্রকে স্থির দেখা অথচ তার স্থানান্তরের প্রমাণ দ্বারা এটি নিশ্চিতভাবে গতিশীল। তদ্রূপ ছায়াকে স্থির দেখা, পানির ভেতর সোজা জিনিসকে বাঁকা দেখা, টেরা চোখের মানুষের একটিকে দুটি দেখা, পানির উপরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি পানির নিচে উল্টো দেখা এবং যাদু, নিদ্রা, কাশফ (অতীন্দ্রিয় প্রকাশ) ও অসুস্থতার সময়কার দৃশ্যসমূহ। যদিও নিদ্রাকালীন স্বপ্ন ও কাশফের মধ্যে সত্য এবং মিথ্যা উভয়ই রয়েছে, আর সত্য বিষয়টির ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে এবং তা সব অবস্থায় তার আক্ষরিক অর্থে থাকে না। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "কিন্তু তাদের কাছে এটি সাদৃশ্যপূর্ণ করা হয়েছিল"। সুতরাং যারা ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার সংকল্প করেছিল, তারা তাঁর সদৃশ একজনকে দেখেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে তিনি তিনিই। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: "আর স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলে, তখন তিনি তোমাদের চোখে তাদের সংখ্যা অল্প করে দেখিয়েছিলেন এবং তাদের চোখে তোমাদের সংখ্যা অল্প করে দেখিয়েছিলেন, যাতে আল্লাহ এমন এক কাজ সম্পন্ন করেন যা কার্যকর হওয়ারই ছিল।"

এর উত্তর হলো, আমরা স্বতঃসিদ্ধভাবে জানি যে, এই বিষয়গুলো এমন কিছু পরিস্থিতির কারণে ঘটেছিল যা সেই বিশেষ ক্ষেত্রগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি সামগ্রিকভাবে দেখার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। এর কারণে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব, জগতের অস্তিত্ব, উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কসমূহের উদয় এবং আমাদের উপর দিয়ে সেগুলোর পরিভ্রমণ ও আমাদের আলোকিত করার বিষয়ে সন্দেহ করতে পারি না। তদ্রূপ অন্ধ ব্যক্তি যে এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত এবং ব্যথিত ব্যক্তি যে সুস্থ ব্যক্তি থেকে পৃথক—এসব বিষয়েও সন্দেহ করা যায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের মাঝে নেয়ামত হিসেবে সৃষ্টি করা এই জ্ঞানের অনুভূতি ব্যতীত তাদের সংশয়গুলো দূর করা সম্ভব নয়, কোনো দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে নয়। কারণ দলিল তখনই গ্রহণযোগ্য হয় যখন স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানসমূহকে স্বীকার করে নেওয়া হয়। বরং আমরা বলি