(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
بيان الوهم والإيهام في كتاب الأحكام   (ابن القطان)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: بيان الوهم والإيهام في كتاب الأحكام

(وهو بيان للأوهام الواقعة في كتاب الأحكام لعبد الحق الإشبيلي)

فائدة: [اشتهر أن المؤلف وضع كتابه على الأحكام الكبرى لعبد الحق، ورجح المحقق بالدراسة أنه وضعه على الأحكام الوسطى]

المؤلف: ابن القطان الفاسي، أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الملك (ت 628 هـ)

دراسة وتحقيق: د الحسين آيت سعيد

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراه، كلية الآداب، مراكش 1994 م بإشراف د فاروق حمادة

الناشر: دار طيبة، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 6 (4 وجزء للمقدمة وآخر للفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাবুল আহকামের ভুল ও বিভ্রান্তির বর্ণনা   (ইবনুল কাত্তান)

বিভাগ: হাদিস যাচাইকরণ ও সূত্র বিন্যাস

বই: কিতাবুল আহকামের ভুল ও বিভ্রান্তির বর্ণনা

(এটি আব্দুল হক আল-ইশবিলির কিতাবুল আহকামে সংঘটিত ভুলসমূহের একটি বর্ণনা)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: [এটি প্রসিদ্ধ যে লেখক তার বইটি আব্দুল হকের 'আল-আহকামুল কুবরা'র ওপর ভিত্তি করে লিখেছেন, তবে গবেষক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে তিনি এটি 'আল-আহকামুল উসতা'র ওপর ভিত্তি করে লিখেছেন]

লেখক: ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি, আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক (মৃত্যু ৬২৮ হি.)

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আল-হুসাইন আয়াত সাঈদ

সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস, সাহিত্য অনুষদ, মাররাকেশ ১৯৯৪ খ্রি., ড. ফারুক হামাদার তত্ত্বাবধানে

প্রকাশক: দার তাইবাহ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৭ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৬ (৪ খণ্ড এবং একটি খণ্ড ভূমিকার জন্য ও অন্যটি সূচিপত্রের জন্য)

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৮৭)
‌‌أ - تمهيد: في الغرض الأساسي من التحقيق:

إن الغرض الأساسي من تحقيق أي نص، هو رده لحالته الأولى التي وضعه عليها مؤلفه، أو قريبًا منها.

ولا شك أنه ليس كل نص يستحق التحقيق، كما أنه ليس كل ما تركه المتقدمون يستحق الإحياء.

والنصوص التي يجب إحياؤها من تراث المتقدمين، تخضع لمواصفات وشروط معينة، من كونها تحمل في طياتها عناصر حية، تسهم في حل المعضلات الحاضرة، أو تتميز بمنهج يسهم في تبلور المناهج وتأصيلها، إلى غير ذلك من الخصائص والاعتبارات التي تجعل عملية إحياء مخطوط ما ليس اعتباطًا.

وبعد ذلك، فإحياء النص نفسه يخضع لضوابط جد دقيقة، من جمع النسخ، والمقابلة بينها بعد ترتيبها من حيث الزمان، أو من حيث الجودة والإتقان.

ثم تبدأ عملية تحليل المادة وردها إلى أصول المؤلف التي نقل منها مقارنًا بين ما عنده وما في تلك الأصول.

وهذه العملية من أشق عمليات التحقيق، وأحوجها للتنبه والتيقظ الشديدين، حيث تجمع هذه العملية عمليات متعددة، من تصنيف مصادر المؤلف، واكتشاف منهجه، ومقارنة استنتاجاته باستنتاجات غيره، والوقوف على أوهامه المادية والمعنوية.

وكل هذا يحتاج لتصنيفه في جذاذات خاصة، بحيث يصبح المحقق يسجل كل شاردة وواردة، لإمكان الاستفادة منها في تحليل ظاهرة أو توصيل
ক - ভূমিকা: পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার মূল উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে:

যেকোনো পাঠ্য বা মূললিপি সম্পাদনার মূল উদ্দেশ্য হলো সেটিকে লেখক কর্তৃক প্রণীত আদি রূপে অথবা তার কাছাকাছি অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি পাঠ্যই সম্পাদনাযোগ্য নয়, যেমন পূর্ববর্তীরা যা কিছু রেখে গেছেন তার সবকিছুই পুনরুজ্জীবনের যোগ্য নয়।

পূর্বসূরিদের ঐতিহ্য থেকে যে সকল পাঠ্য পুনরুজ্জীবিত করা আবশ্যক, সেগুলো নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও শর্তের অনুসারী। যেমন, সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু জীবন্ত উপাদান থাকতে হবে যা বর্তমান সময়ের জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখে, অথবা সেটিতে এমন কোনো বিশেষ পদ্ধতি বিদ্যমান থাকবে যা গবেষণার পদ্ধতিসমূহকে সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ও বিবেচ্য বিষয় রয়েছে যা কোনো একটি পাণ্ডুলিপির পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়াটিকে উদ্দেশ্যহীন হতে দেয় না।

এরপর মূল পাঠ্যটি পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি অত্যন্ত সুক্ষ্ম কিছু নিয়ম-নীতির ওপর নির্ভরশীল। যেমন— পাণ্ডুলিপির অনুলিপিগুলো সংগ্রহ করা এবং রচনাকাল অথবা গুণমান ও নির্ভুলতার বিচারে সেগুলো বিন্যস্ত করার পর একে অপরের সাথে তুলনা করা।

অতঃপর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয় এবং লেখকের ব্যবহৃত মূল উৎসগুলোর সাথে সেটিকে মিলিয়ে দেখা হয়, যেখানে লেখকের উদ্ধৃতি ও উৎসগ্রন্থের পাঠের মধ্যে তুলনা করা হয়।

সম্পাদনার এই স্তরটি অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ এই প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো কাজ একত্রে সম্পাদন করতে হয়— যেমন লেখকের উৎসগ্রন্থগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা, তার কর্মপদ্ধতি উদ্ঘাটন করা, তার প্রাপ্ত সিদ্ধান্তগুলোর সাথে অন্যদের সিদ্ধান্তের তুলনা করা এবং তার বাহ্যিক ও ভাবার্থগত ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা।

এসব কিছুর জন্য বিশেষ নোট বা কার্ডে তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন, যাতে সম্পাদক ছোট-বড় প্রতিটি বিষয় নথিবদ্ধ করতে পারেন, যা পরবর্তীতে কোনো বিষয়ের বিশ্লেষণে বা তথ্য সরবরাহে কাজে লাগানো সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৮৮)
لنتيجة.

ولهذا ففن التحقيق أشق وأصعب من إنشاء كتاب وتأليفه، فقد تحرر من إنشائك أوراقًا، في وقت لا تطيق أن تحرر فيه من كلام غيرك ولو ورقة.

وهذا ما يفسر انكباب معظم الباحثين على التأليف الحر، بدل تحقيق كتب ذات قيمة، لعلمهم بمتطلبات شاقة ولازمة لذلك.

ويتلخص فن التحقيق في المنهج الذي سلكه المحقق، والنسخ التي حصل عليها، وقيمتها العلمية، وكيفية تعامله مع المادة، والعقبات التي واجهته أثناء التحقيق.

وهذا ما يسطر عادة في مقدمات التحقيق.

 

‌‌ب - النسخ المعتمدة في التحقيق:

اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسختين: إحداهما تركية، والأخرى مغربية.

جـ - وصف النسختين:

 

‌‌1 - النسخة التركية:

أ - هذه النسخة: توجد بخزانة الكتب بجامع المرحوم محرم أفندي، وتوجد منها نسخة بدار الكتب المصرية تحت الرقم (700)، وهذه هي التي توجد عندنا صورة منها.

وهي نسخة كاملة، ليس فيها أي نقص إلا في السفر الثاني، فيوجد فيها بياض في ثمان وستين ومائة ورقة، ومقداره إما سطر، وإما سطران، وإما نصف سطر في أواخر الأوراق.
ফলাফলের জন্য।

একারণেই তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার শিল্প একটি মৌলিক কিতাব রচনা ও সংকলন করার চেয়ে অধিকতর কষ্টসাধ্য ও কঠিন। কেননা আপনি আপনার নিজস্ব রচনার অনেক পৃষ্ঠা লিখে শেষ করতে পারেন এমন সময়ে, যখন অন্যের বক্তব্যের একটি পৃষ্ঠাও সম্পাদনা করার সামর্থ্য আপনার নাও হতে পারে।

আর এটিই অধিকাংশ গবেষকের মূল্যবান কিতাব সম্পাদনার পরিবর্তে স্বাধীনভাবে কিতাব রচনার প্রতি ঝুঁকে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে; যেহেতু তারা এর জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর ও আবশ্যকীয় শর্তাবলী সম্পর্কে অবগত।

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা শিল্পের সারকথা হলো—মুহাক্কিক (সম্পাদক) কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি, তাঁর সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিসমূহ ও সেগুলোর ইলমি মান, মূল পাঠের সাথে তাঁর ব্যবহারের ধরণ এবং সম্পাদনা চলাকালীন তিনি যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন।

আর এগুলোই সাধারণত তাহকীকের ভূমিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

 

‌‌খ - তাহকীকের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহ:

এই কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি: এর একটি তুর্কি এবং অন্যটি মরক্কান।

গ - পাণ্ডুলিপি দুটির বর্ণনা:

 

‌‌১ - তুর্কি পাণ্ডুলিপি:

ক - এই পাণ্ডুলিপিটি: এটি মরহুম মুহররম এফেন্দি জামে মসজিদের কুতুবখানায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং এর একটি কপি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ ৭০০ নম্বর ক্রমিকের অধীনে বিদ্যমান রয়েছে; আর এটিই সেই কপি যার একটি প্রতিলিপি আমাদের নিকট আছে।

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, এতে দ্বিতীয় খণ্ড ব্যতীত কোনো ত্রুটি নেই। এতে ১৬৮টি পৃষ্ঠায় কিছু শূন্যস্থান রয়েছে, যার পরিমাণ কখনও এক লাইন, কখনও দুই লাইন, আবার কখনও পৃষ্ঠার শেষাংশে অর্ধেক লাইন।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৮৯)
‌‌ب - خطها:

كتبت هذه النسخة بخط شرقي واضح، ويظهر أن كاتبها واحد إلا أنها كثيرة الأخطاء، بحيث لا يعتمد في أماكن الاشتباه ما فيها، وأحيانًا تكون دقيقة.

ويظهر أن ناسخها لم يكن عالمًا بهذا الفن، وإنما كان ناسخًا، والدليل على ذلك أن ما هو مشهور وواضح عند من يتعاطى ولو قسطًا أدنى من هذا الفن، يصحفه هذا الكاتب ويحرفه.

كما يظهر أنه لم يكن عالمًا بالعربية، فمثلًا نجده ينصب اسم إن وخبرها معًا، ويرفع اسم كان وخبرها معًا، ويكتب: عمرو بن شعيب، هكذا: عمر بن شعيب، وقد علقنا على كل ذلك في أماكنه.

 

‌‌ج - كمّها:

تقع هذه النسخة في سفرين: السفر الأول فيه ست وثمانون ومائتا ورقة، (286)، وكذلك السفر الثاني؛ فيكون مجموع ما تتكون منه: اثنتين وسبعين وخمسمائة ورقة، ويقابلها بالصفحات أربع وأربعون صفحة ومائة بعد الألف، (1144)، وفيها من النصوص المبحوثة - على حسب ترقيمنا - (2846) نصًا، وفي كل ورقة منها أحد وعشرون سطرًا تقريبًا.

 

‌‌د - تقويمها:

هذه النسخة عارية من أي سماعات، وفيها علامات تدل على أنها قوبلت على ما قوبل على أصول متقنة، كما أنها عارية عن تاريخ النسخ، وعمن نسخها، ولكنها في الغالب نسخت عن أصل مصحح ومقابل على أصول؛ لأن الأخطاء التي فيها نكاد نجزم بأن تسعين بالمائة منها من الناسخ، أو النساخ.
খ - এর লিপিশৈলী:

এই পাণ্ডুলিপিটি একটি স্পষ্ট প্রাচ্য লিপিতে লেখা হয়েছে। প্রতীয়মান হয় যে, এর লেখক একজনই ছিলেন; তবে এতে ভুলের পরিমাণ অনেক বেশি, যার ফলে সন্দেহপূর্ণ স্থানগুলোতে এর পাঠের ওপর নির্ভর করা যায় না, যদিও কখনও কখনও এটি নির্ভুল হয়।

আরও প্রতীয়মান হয় যে, এর অনুলিপিকার এই শিল্পে (পাণ্ডুলিপি অনুলিপিবিদ্যা) পারদর্শী ছিলেন না, বরং তিনি কেবল একজন সাধারণ অনুলিপিকারই ছিলেন। এর প্রমাণ হলো, এই শিল্পের সাথে সামান্যতম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছেও যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও স্পষ্ট, এই লেখক সেটিও ভুলভাবে পাঠ করেছেন এবং বিকৃত করেছেন।

তেমনিভাবে এটিও স্পষ্ট যে, তিনি আরবি ভাষায় দক্ষ ছিলেন না; উদাহরণস্বরূপ, আমরা দেখতে পাই যে তিনি 'ইন্না'-এর ইসম ও খবর উভয়কেই নসব (যবর) দিচ্ছেন এবং 'কানা'-এর ইসম ও খবর উভয়কেই রফ’ (পেশ) দিচ্ছেন। আবার তিনি 'আমর ইবনে শুআইব'-কে 'উমর ইবনে শুআইব' লিখছেন। আমরা এই সবকিছুর ওপর স্ব-স্ব স্থানে টীকা প্রদান করেছি।

 

গ - এর পরিমাণ:

এই পাণ্ডুলিপিটি দুই খণ্ডে বিভক্ত: প্রথম খণ্ডে দুইশত ছিয়াশি (২৮৬)টি পত্র রয়েছে এবং দ্বিতীয় খণ্ডেও অনুরূপ। ফলে এর মোট পত্র সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচশত বাহাত্তর (৫৭২)টি, যা পৃষ্ঠার হিসাবে এক হাজার একশত চুয়াল্লিশ (১১৪৪) পৃষ্ঠার সমান। আমাদের নম্বর অনুযায়ী এতে মোট দুই হাজার আটশত ছেচল্লিশ (২৮৪৬)টি পাঠ্য রয়েছে এবং এর প্রতিটি পত্রে প্রায় একুশটি করে লাইন আছে।

 

ঘ - এর মূল্যায়ন:

এই পাণ্ডুলিপিটি যেকোনো প্রকার শ্রবণ-সনদ (সামা'আত) থেকে মুক্ত। তবে এতে এমন কিছু চিহ্ন রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, এটি এমন একটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল যা আবার নিখুঁত মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে যাচাইকৃত ছিল। তেমনিভাবে এতে অনুলিপি করার তারিখ বা অনুলিপিকারীর নাম উল্লেখ নেই। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি একটি সংশোধিত এবং মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে যাচাইকৃত কোনো মূল কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে; কারণ এতে বিদ্যমান ভুলগুলোর মধ্যে নব্বই শতাংশই অনুলিপিকার বা অনুলিপিকারদের পক্ষ থেকে হয়েছে বলে আমরা প্রায় নিশ্চিত।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯০)
وكتب على أول ورقة منها:

"كتاب الوهم والإيهام الواقعين في كتاب الأحكام، تأليف الشيخ، الإمام، الهمام، أبو الحسن علي ابن الشيخ الفقيه الفاضل، أبي عبد الله محمد بن عبد الملك بن يحيى بن إبراهيم بن يحيى، المعروف بابن القطان، نفعنا الله به آمين.

وقف الله سبحانه وتعالى على طلبة العلم، ينتفعون به، ومقره بخزانة الكتب الكائنة بجامع المرحوم محرم أفندي، لا يباع ولا يرهن ولا يوهب، فمن بدله بعد ما سمعه، فإنما إثمه على الذين يبدلونه إن الله سميع عليم.

تحرير في شهر ذي الحجة 1205 هـ. من جامع محرم أفيض، الشهير بالكردي".

وأضيف رقم 700 حديث.

 

‌‌هـ - عيوبها:

هذه النسخة فيها عيبان:

أحدهما: البياض الواقع في مكان واحد في السفر الأول بمقدار سطر، والواقع في السفر الثاني في 168 ورقة، وهذا البياض عالجناه بالطريقة الآتية:

‌‌1 - الرجوع للمصادر التي نقلت عن المؤلف، كتلخيص الحبير للحافظ ابن حجر، ونصب الراية للزيلعي، والميزان، واللسان، وغيرها ممن نقلت عن المؤلف باللفظ، أو المعنى، وبذلك ملأنا مجموعة من الفراغات التي فيها بياض، تارة باللفظ، وتارة بالمعنى.

‌‌2 - المصادر التي نقل منها المؤلف، كمصنفات الحديث ومصنفات الرجال، كالأحكام الوسطى، والجرح والتعديل لابن أبي حاتم، واستطعنا
এর প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে:

"কিতাবুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি আল-ওয়াকি'ইনি ফি কিতাবিল আহকাম (আহকাম গ্রন্থে সংঘটিত সংশয় ও বিভ্রান্তি নিরসন)। রচনায়: শায়খ, ইমাম, মহীয়ান আবু হাসান আলী ইবনে শায়খ আল-ফকিহ আল-ফাদিল আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদিল মালিক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াহইয়া, যিনি ইবনুল কাত্তান নামে পরিচিত। আল্লাহ আমাদের এর মাধ্যমে উপকৃত করুন, আমিন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য ইলম অন্বেষণকারীদের তরে ওয়াকফকৃত, যেন তারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এর অবস্থান মরহুম মুহররম আফেন্দির জামে মসজিদের কুতুবখানায় (লাইব্রেরি)। এটি বিক্রি করা যাবে না, বন্ধক রাখা যাবে না এবং দান করা যাবে না। আর যে ব্যক্তি তা শোনার পর পরিবর্তন করবে, তবে এর পাপ তাদেরই ওপর যারা তা পরিবর্তন করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

লিখিত হয়েছে জিলহজ মাস ১২০৫ হিজরিতে, মুহররম আফেন্দি জামে মসজিদ থেকে, যা আল-কুর্দি নামে পরিচিত।"

আর ৭০০টি হাদিসের নম্বর যুক্ত করা হয়েছে।

 

‌‌৫ - এর ত্রুটিসমূহ:

এই পাণ্ডুলিপিটিতে দুটি ত্রুটি রয়েছে:

প্রথমটি: প্রথম খণ্ডের এক স্থানে এক লাইন পরিমাণ শূন্যস্থান, এবং দ্বিতীয় খণ্ডের ১৬৮টি পৃষ্ঠায় বিদ্যমান শূন্যস্থান। এই শূন্যস্থানগুলো আমরা নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সমাধান করেছি:

‌‌১ - লেখকের উদ্ধৃতি প্রদানকারী মূল উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যেমন হাফেজ ইবনে হাজারের ‘তালখিসুল হাবির’, যাইলায়ির ‘নাসবুর রায়াহ’, ‘আল-মিজান’, ‘আল-লিসান’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ—যারা লেখক থেকে শব্দে শব্দে অথবা অর্থগতভাবে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এর মাধ্যমে আমরা একদল শূন্যস্থান পূরণ করেছি, কখনও মূল শব্দে আবার কখনও মর্মার্থের মাধ্যমে।

‌‌২ - যেসব উৎস থেকে লেখক নিজে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন হাদিস ও রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ; যেমন ‘আল-আহকামুল উসতা’, ইবনে আবি হাতিমের ‘আল-জারহ ওয়াত তা’দিল’। এর মাধ্যমে আমরা সক্ষম হয়েছি...
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯১)
أيضًا أن نملأ شيئًا ذا بال من هذا البياض من خلال هذه المصنفات.

‌‌3 - الاعتماد على سياق الكلام، إذ غالبًا ما يكون الممحو معروفًا من سابقه ولاحقه، وخاصة إذا عزي ذلك الكلام لكتاب معين، وفي هذه الحالة نصوغ العبارة التي يقتضيها السياق بأسلوبنا الخاص، فنجعلها بين قوسين، لتؤدي معنى ما أراده المؤلف، ولتكون متميزة حتى لا يظن أنها من الأصل، والذي شجعنا على هذه الطريقة أمران: أحدهما: وضوح السياق، وثانيهما: تجربة شخصية أثبتت لي نجاحها، فقد قمت بملأ فراغات من خلال السياق، ثم عثرت بعد ذلك على نص المؤلف نفسه، فوجدت ما خمنته يتفق مع كلام المؤلف في المعنى وفي بعض الألفاظ أيضًا، وقد اجتهدت قدر الإمكان في كل عبارة خمنتها قبل وضعها، وقلبتها على جميع وجوهها ثم وضعتها.

ومع ذلك فلا أدعي أن ذلك يمثل الأصل، ولكنه يسد الفراغ، ولذلك احتطت حيطة شديدة بجعل ذلك بين قوسين، حتى لا ينسب للمؤلف، بحيث لو لم أفعل، فلن يكتشف ذلك إلا أولو العلم.

ويبقى هناك فراغات - وهي قليلة - لا يُساعد على ملئها المصادر ولا السياق، بحيث يتعذر تخمين ما مُحي منها بصفة نهائية، وهذه نجعل في موطن الحذف منها نقطًا بين قوسين، ونشير في الهامش للمقدار المحذوف منها.

ومن الأمانة العلمية أن جميع الفراغات التي ملأتها، قد أشرت في الهوامش لكيفية ملئها.

وهذه العملية قد أخذت مني وقتًا طويلًا، لأنها تحتاج إلى كثرة التنقيب، والتفتيش عمن نقل المؤلف، أو عمن نقل عن المؤلف فإذا لم يوجد، فأحتاج إلى قراءة النص مرارًا، وتقليبه على جميع وجوهه، والتأني في تقدير ما يملأ الفراغات.
আরও এটি যে, এই সংকলনগুলোর মাধ্যমে এই শূন্যস্থানগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমরা পূরণ করতে পারি।

‌‌৩ - প্রসঙ্গের ওপর নির্ভর করা; কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা মুছে গেছে তা এর পূর্বাপর বক্তব্যের মাধ্যমে জানা সম্ভব হয়, বিশেষ করে যদি সেই বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়। এমতাবস্থায় আমরা প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী আমাদের নিজস্ব শৈলীতে বাক্যটি গঠন করি এবং সেটিকে বন্ধনীর মধ্যে রাখি, যাতে তা লেখকের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অর্থ প্রকাশ করে এবং স্বতন্ত্র থাকে যাতে একে মূল পাঠ বলে মনে না হয়। এই পদ্ধতিতে আমাদের উৎসাহিত করার পেছনে দুটি বিষয় রয়েছে: প্রথমটি হলো প্রসঙ্গের স্পষ্টতা, এবং দ্বিতীয়টি হলো একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যা আমার কাছে এর সার্থকতা প্রমাণ করেছে; আমি প্রসঙ্গের আলোকে কিছু শূন্যস্থান পূরণ করেছিলাম, পরবর্তীতে খোদ লেখকেরই মূল পাঠটি খুঁজে পাই এবং দেখি যে আমার অনুমান লেখকের বক্তব্যের অর্থের সাথে এবং এমনকি কিছু শব্দের সাথেও মিলে গেছে। আমি আমার পক্ষ থেকে অনুমিত প্রতিটি বাক্যের ক্ষেত্রে তা স্থাপন করার আগে সাধ্যমতো গবেষণা করেছি এবং এটিকে সম্ভাব্য সকল দিক থেকে বিবেচনা করে তারপর তা অন্তর্ভুক্ত করেছি।

তাসত্ত্বেও আমি দাবি করছি না যে তা হুবহু মূল পাঠেরই প্রতিনিধিত্ব করে, বরং এটি কেবল শূন্যস্থান পূরণ করে; তাই আমি বন্ধনী ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছি যাতে তা লেখকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না হয়; এমনভাবে যে যদি আমি তা না করতাম, তবে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা শনাক্ত করতে পারতেন না।

তবে কিছু শূন্যস্থান বাকি থেকে গেছে—যা সংখ্যায় খুবই সামান্য—যা পূরণে কোনো উৎস বা প্রসঙ্গ সহায়তা করছে না, যার ফলে সেখান থেকে কী মুছে গেছে তা চূড়ান্তভাবে অনুমান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে; এই অংশগুলোতে বিলুপ্ত স্থানে আমরা বন্ধনীর মধ্যে কয়েকটি বিন্দু ব্যবহার করেছি এবং পাদটীকায় বিলুপ্ত অংশের পরিমাণ নির্দেশ করেছি।

তাত্ত্বিক আমানতদারিতার দাবি হলো যে, আমি যতগুলো শূন্যস্থান পূরণ করেছি, তা কীভাবে পূরণ করা হয়েছে পাদটীকায় আমি তার উল্লেখ করেছি।

এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আমার দীর্ঘ সময় লেগেছে, কারণ এতে প্রয়োজন হয়েছে প্রচুর অনুসন্ধান এবং খোঁজাখুঁজি যে লেখক কার থেকে উদ্ধৃত করেছেন অথবা লেখকের থেকে কে উদ্ধৃত করেছেন। যদি তা পাওয়া না যায়, তবে আমাকে পাঠ্যটি বারবার পড়তে হয়েছে, সম্ভাব্য সকল দিক থেকে তা বিশ্লেষণ করতে হয়েছে এবং শূন্যস্থান পূরণের সংগতি নির্ধারণে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে কাজ করতে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯২)
ويعلم الله أن فراغًا واحدًا قد يشغلني أيامًا، وربما أسابيع، فتارة يفتح الله وأجد له حلًا، وتارة يستعصي تقدير أي شيء فيه، وتارة لا أجد بغيتي إلا بتتبع تخريج الحديث الذي وقع فيه المحو من جميع مصادره؛ فيلوح لي بعد هذه العملية المضنية ذلك المحو ومقداره.

العيب الثاني: عدم الترتيب: السفر الثاني من الكتاب الذي يبدأ من: باب ذكر أحاديث سكت عنها مصححًا لها وليست بصحيحة - أوراقه غير مرتبة، وترقيمها وإن كان متسلسلًا فهو لا يمثل الحقيقة، في غالب هذا السفر، ويرجع ذلك إلى أن الذين جمعوا الكتاب ورقموه، جمعوه كيفما اتفق، فنتج عن ذلك أن كان أوراق بجانب أخر لا صلة لها بها ويدل على ذلك أمور:

‌‌(1) انقطاع الصلة بين آخر لوحة، مع بداية التي تليها.

‌‌(2) كون الكلام مسترسلًا في حديث ما إلى آخر صفحة ما، ولم ينته بعد، ثم تجد في اللوحة الموالية كلامًا آخر، على حديث آخر، أو راو آخر لا علاقة له بما قبله.

‌‌(3) وجود التقديم والتأخير في الأحاديث المبحوثة، فتجد حديثًا - مثلًا - من كتاب العلم بعد حديث من كتاب الصلاة.

وتجد حديثًا من كتاب الجهاد، قبل حديث من كتاب الحج، مع العلم أن المؤلف نص على أن الأحاديث التي سيبحثها في باب الأحاديث المصححة بسكوته - وهو أول باب في السفر الثاني - سيرتبها على حسب كتب الفقه الموجودة في الأحكام الوسطى، فيبدأ بأحاديث كتاب الإيمان، ثم العلم، ثم الطهارة، ثم الصلاة، وهكذا …

فهذا كله أكد لي أن هذا السفر ترتيبه مشوش، ولابد من إعادته إلى
আল্লাহ জানেন যে, একটিমাত্র শূন্যস্থান আমাকে দিনের পর দিন, এমনকি সপ্তাহজুড়ে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। কখনো আল্লাহ পথ খুলে দেন এবং আমি এর কোনো সমাধান খুঁজে পাই, কখনো এতে কোনো কিছুরই আন্দাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, আবার কখনো আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে পাই না যতক্ষণ না সেই হাদীসের তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) এর সকল উৎস থেকে অনুসরণ করি যেখানে মুছা বা ঘষামাজা সংঘটিত হয়েছে; এরপর এই ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ার শেষে সেই মুছে যাওয়া অংশ এবং তার পরিমাণ আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় ত্রুটি: বিন্যাসের অভাব: গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড, যা শুরু হয়েছে: 'এমন হাদীসসমূহের উল্লেখ যেগুলোর ব্যাপারে তিনি মৌন থেকেছেন সেগুলোকে সহীহ সাব্যস্ত করে অথচ সেগুলো সহীহ নয়' - এই অধ্যায় থেকে; এর পৃষ্ঠাগুলো সুবিন্যস্ত নয়। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা যদিও ধারাবাহিক, তবুও এই খণ্ডের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করে না। এর কারণ হলো, যারা বইটি সংকলন ও নম্বর প্রদান করেছেন, তারা তা অগোছালোভাবে সম্পন্ন করেছেন। ফলে এমন হয়েছে যে, একটি পৃষ্ঠার পাশে অন্য এমন একটি পৃষ্ঠা চলে এসেছে যার সাথে পূর্বেরটির কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টির প্রমাণ হলো:

‌‌(১) এক পৃষ্ঠার শেষাংশের সাথে তার পরবর্তী পৃষ্ঠার শুরুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া।

‌‌(২) কোনো হাদীসের আলোচনা একটি পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত চলমান থাকা এবং তা তখনও শেষ না হওয়া, অথচ পরবর্তী পৃষ্ঠায় অন্য কোনো হাদীস বা অন্য কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে ভিন্ন কোনো আলোচনা পাওয়া যাওয়া যার সাথে পূর্বের আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই।

‌‌(৩) আলোচিত হাদীসসমূহের মধ্যে আগে-পিছে হওয়ার উপস্থিতি; উদাহরণস্বরূপ, সালাত অধ্যায়ের কোনো হাদীসের পরে ইলম অধ্যায়ের কোনো হাদীস পাওয়া যাওয়া।

এবং হজ্জ অধ্যায়ের হাদীসের আগে জিহাদ অধ্যায়ের হাদীস পাওয়া যাওয়া; অথচ লেখক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তার মৌনতার মাধ্যমে সহীহ সাব্যস্ত হাদীসসমূহের অধ্যায়ে - যা দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম অধ্যায় - তিনি হাদীসগুলোকে 'আল-আহকামুল উসতা'-তে বিদ্যমান ফিকহী কিতাবসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজাবেন। সেই হিসেবে তিনি ঈমান অধ্যায়ের হাদীস দিয়ে শুরু করবেন, এরপর ইলম, এরপর পবিত্রতা, এরপর সালাত, এভাবে...

এই সবকিছু আমার কাছে নিশ্চিত করেছে যে, এই খণ্ডের বিন্যাস বিশৃঙ্খল এবং একে অবশ্যই পুনরায় ফিরিয়ে নিতে হবে...
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৩)
أصله، وسلكت في ذلك الخطوات الآتية:

‌‌1 - قراءة هذا السفر من بدايته إلى نهايته، وعزل جميع اللوحات التي لا رابط يربطها بما قبلها، وما بعدها، وخاصة التي فيها بياض.

‌‌2 - الوقوف عند آخر كل لوحة لمعرفة ما تتناوله، ثم البحث عن تتمته في اللوحات الأخرى.

‌‌3 - مراعاة ترتيب أحاديث الباب على كتب الأصل الذي ينقل منه المؤلف.

‌‌4 - تخريج جميع الأحاديث الواقعة في أواخر اللوحات، من جميع مصادرها وهذه الطريقة ساعدتنا كثيرًا - وكذلك التي بعدها على اكتشاف اللوحات المنسجمة مع التي يظهر منها عدم الانسجام بما بعدها أو قبلها.

وفعلًا لما تلحق اللوحة الحقيقية بأختها، يلوح لك الانسجام في كلام المؤلف، والاسترسال فيما يقرره حتى ينهيه.

وهذه العملية - أعني ترتيب اللوحات وحده - قد أخذ مني وقتًا غير قصير، واستنفد جهدًا كثيرًا، يمكن أن يصدر فيه الإنسان مؤلفًا مستقلًا إذا تصدى للتأليف الحر.

وفي النهاية وصلنا إلى رد كل لوحة إلى أختها، فانسجم الكلام من بداية هذا السفر إلى نهايته، وكم غمرتنا فرحة هذا الإنجاز وإعانة الله على إتمامه.

ثم بعد ذلك، وضعنا للوحات الأرقام الحقيقية التي ينبغي أن تحملها بجانب الأرقام الخطئية التي تحملها اللوحات، وغرضي من ذلك شيئان:

أحدهما: ترقيم نسختي الخاصة ترقيمًا حقيقيًا.
এর মূল উৎস, আর আমি এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করেছি:

‌‌১ - এই পাণ্ডুলিপিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করা এবং এমন সকল পৃষ্ঠা পৃথক করা যেগুলোর সাথে পূর্বাপরের কোনো যোগসূত্র নেই, বিশেষ করে যেগুলোতে খালি জায়গা বা শুভ্রতা রয়েছে।

‌‌২ - প্রতিটি পৃষ্ঠার শেষে বিরতি দেওয়া যাতে তা কী বিষয়বস্তু আলোচনা করছে তা অনুধাবন করা যায়, অতঃপর অন্য পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে এর অবশিষ্টাংশ বা পরিশিষ্ট অনুসন্ধান করা।

‌‌৩ - লেখক যে মূল উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেই মূল কিতাবসমূহের অধ্যায়ভিত্তিক হাদিসের বিন্যাসক্রমের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

‌‌৪ - পৃষ্ঠাগুলোর শেষে অবস্থিত সকল হাদিসের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করা; এই পদ্ধতিটি—এবং এর পরবর্তী পদ্ধতিটিও—আমাদেরকে এমন সব পৃষ্ঠা শনাক্ত করতে অনেক সাহায্য করেছে যা আপাতদৃষ্টিতে পূর্বাপর সামঞ্জস্যহীন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বস্তুত যখন প্রকৃত পৃষ্ঠাটি তার সংশ্লিষ্ট অংশের সাথে যুক্ত হয়, তখন লেখকের বক্তব্যে সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয় এবং তিনি যা বর্ণনা করছিলেন তার সাবলীল ধারাবাহিকতা সমাপ্তি পর্যন্ত বজায় থাকে।

এই প্রক্রিয়াটি—অর্থাৎ কেবল পৃষ্ঠাগুলোর বিন্যাস করতেই—আমার দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে এবং প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে; এই পরিমাণ পরিশ্রমে একজন মানুষ স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করতে চাইলে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ প্রকাশ করতে পারতেন।

অবশেষে আমরা প্রতিটি পৃষ্ঠাকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছি, ফলে এই গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বক্তব্যে সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এই সাফল্য অর্জনে এবং এটি সমাপ্ত করতে আল্লাহর যে সাহায্য পেয়েছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আপ্লুত।

অতঃপর, পৃষ্ঠাগুলোতে বিদ্যমান ভুল নম্বরগুলোর পাশে আমরা সেগুলোর সঠিক নম্বর প্রদান করেছি যা মূলত থাকা উচিত ছিল। এর পেছনে আমার উদ্দেশ্য ছিল দুটি:

তার একটি হলো: আমার নিজস্ব কপিটিকে যথাযথভাবে সংখ্যায়িত করা।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৪)
وثانيهما: إعانة من كانت عنده مصورة نسخة دار الكتب المصرية على ترقيمها لنفسه ترقيمًا حقيقيًا، إذ حينما أبين له اللوحات التي وقع فيها عدم الترتيب، يسهل عليه ترتيب نسخته.

وهذه خطة الترتيب مفصلة:

- الوجه الأول من اللوحة الثانية من المخطوط، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ثمان وخمسين إلى الوجه الأول من اللوحة الرابعة والستين.

- الوجه الأول من اللوحة أربع وستين، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ثمان وتسعين ومائة إلى الوجه الأول من اللوحة واحد ومائتين.

- الوجه الأول من اللوحة واحد ومائتين، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة اثنتين وثلاثين إلى الوجه الأول من اللوحة الأربعين.

- الوجه الأول من اللوحة الأربعين، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة واحد ومائتين إلى الوجه الأول من اللوحة اثنتي عشرة ومائتين.

- الوجه الأول من اللوحة (212)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة أربعين إلى الوجه الأول من اللوحة ثمان وخمسين.

- الوجه الأول من اللوحة (58)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة العاشرة، والوجه الأول من الحادية عشرة.

- الوجه الأول من اللوحة (11)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة الثانية وما بعدها إلى الوجه الأول من اللوحة العاشرة.

- الوجه الأول من اللوحة (10)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة الحادية عشرة إلى الوجه الأول من اللوحة الثانية والثلاثين.
এবং এর দ্বিতীয়টি হলো: যার নিকট মিসরীয় গ্রন্থাগার (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ)-এর অনুলিপি রয়েছে, তাকে নিজের জন্য সঠিক পদ্ধতিতে সংখ্যায়ন করতে সহায়তা করা। কেননা যখন আমি তার সামনে সেই ফলকগুলো স্পষ্ট করব যেগুলোতে বিন্যাসের ক্রম রক্ষিত হয়নি, তখন তার জন্য নিজের অনুলিপিটি সাজানো সহজ হবে।

আর এটি হলো বিন্যাসের বিস্তারিত পরিকল্পনা:

- পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো আটান্নতম ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে চৌষট্টিতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- চৌষট্টিতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত আটানব্বইতম ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে দুইশত একতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- দুইশত একতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো বত্রিশতম ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে চল্লিশতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- চল্লিশতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো দুইশত একতম ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে দুইশত বারোতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ২১২ নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো চল্লিশতম ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে আটান্নতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ৫৮ নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো দশম ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং একাদশ ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা।

- ১১ নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো দ্বিতীয় ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং এর পরবর্তী অংশ থেকে দশম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ১০ নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একাদশ ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে বত্রিশতম ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৫)
- الوجه الأول من اللوحة (32)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة الأربع والثمانين وما بعدها إلى الوجه الأول من اللوحة أربعين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (140)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة أربع وستين وما بعدها إلى الوجه الأول من اللوحة أربع وثمانين.

- الوجه الأول من اللوحة (84)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة أربعين ومائة إلى الوجه الأول من اللوحة ثلاث وستين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (163)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ثلاث وتسعين ومائة، والوجه الأول من أربع وتسعين ومائة.

- الوجه الأول من (194)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة خمس وستين ومائة، والوجه الأول من اللوحة ست وستين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (166)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ثمان وستين ومائة والوجه الأول من تسع وستين ومائة.

- الوجه الأول من (169)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة أربع وتسعين ومائة، والوجه الأول من خمس وتسعين ومائة.

- الوجه الأول من (195)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ثلاث وستين ومائة، إلى الوجه الأول من خمس وستين ومائة.

- الوجه الأول من (165)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة تسع وستين ومائة، والوجه الأول من اللوحة سبعين ومائة.

- الوجه الأول من (170)، يناسبه الوجه الثاني من تسعين ومائة إلى الوجه الأول من اللوحة ثلاث وتسعين ومائة.
- ফলক (৩২)-এর প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো চুরাশি নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং তার পরবর্তী অংশ থেকে একশত চল্লিশ নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ফলক (১৪০)-এর প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো চৌষট্টি নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং তার পরবর্তী অংশ থেকে চুরাশি নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ফলক (৮৪)-এর প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত চল্লিশ নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে একশত তেষট্টি নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ফলক (১৬৩)-এর প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত তিরানব্বই নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং একশত চুরানব্বই নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা।

- (১৯৪) নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত পঁয়ষট্টি নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং একশত ছেষট্টি নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা।

- ফলক (১৬৬)-এর প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত আটষট্টি নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং একশত ঊনসত্তর নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা।

- (১৬৯) নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত চুরানব্বই নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং একশত পঁচানব্বই নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা।

- (১৯৫) নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত তেষট্টি নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে একশত পঁয়ষট্টি নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- (১৬৫) নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত ঊনসত্তর নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং একশত সত্তর নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা।

- (১৭০) নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ হলো একশত নব্বই নম্বর ফলকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে একশত তিরানব্বই নম্বর ফলকের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৬)
- الوجه الأول من (193)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ست وستين ومائة وما بعدها إلى الوجه الأول من اللوحة ثمان وستين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (168)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة خمس وتسعين ومائة إلى الوجه الأول من اللوحة ثمان وتسعين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (198)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة ثمانين ومائة إلى الوجه الأول من اللوحة تسعين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (190) بناسبه الوجه الثاني من اللوحة سبعين ومائة إلى الوجه الأول من اللوحة ثمانين ومائة.

- الوجه الأول من اللوحة (180)، يناسبه الوجه الثاني من اللوحة اثنتي عشرة ومائتين.

ثم تسلسل الكتاب إلى نهايته، وعاد إلى أصله، وضم فيه كل نظير إلى نظيره، وجنس إلى جنسه، بعد عناء طويل ومشقة فادحة.

وأما السفر الأول فيقع فيه أيضًا عدم الترتيب في مواضع، ولكنها قليلة بالنسبة للسفر الثاني. وهذه مواطن الخلل في السفر الأول:

- يبدأ القلب وعدم الترتيب من الورقة (184) إلى (189).

- ثم من الورقة (235) إلى الورقة (238).

- ثم من الورقة (263) إلى الورقة (269).

 

‌‌2 - نسخة خزانة القرويين بفاس:

‌‌أ - وصفها:

هي نسخة نافعة، يوجد منها السفر الأول فحسب تحت الرقم (1606)،
- (১৯৩) নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ ১৬৬ নং পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা এবং তার পরবর্তী অংশ থেকে ১৬৮ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ১৬৮ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ ১৯৫ নং পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে ১৯৮ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ১৯৮ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ ১৮০ নং পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে ১৯০ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ১৯০ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ ১৭০ নং পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে ১৮০ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- ১৮০ নং পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা, এর সাথে সংগতিপূর্ণ ২১২ নং পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা।

অতঃপর গ্রন্থটি এর শেষ পর্যন্ত ক্রমানুযায়ী বিন্যস্ত হয়েছে এবং তার মূলে ফিরে এসেছে; দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং চরম পরিশ্রমের পর এতে প্রতিটি সদৃশ বিষয়কে তার সদৃশের সাথে এবং প্রতিটি বিষয়কে তার স্বজাতীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

আর প্রথম খণ্ডের ক্ষেত্রেও কিছু স্থানে বিন্যাসের বিশৃঙ্খলা রয়েছে, তবে দ্বিতীয় খণ্ডের তুলনায় তা সামান্য। প্রথম খণ্ডের ত্রুটিপূর্ণ স্থানগুলো হলো:

- পৃষ্ঠা ওলট-পালট এবং বিন্যাসের বিশৃঙ্খলা ১৮৪ নং পৃষ্ঠা থেকে ১৮৯ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত শুরু হয়েছে।

- অতঃপর ২৩৫ নং পৃষ্ঠা থেকে ২৩৮ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

- অতঃপর ২৬৩ নং পৃষ্ঠা থেকে ২৬৯ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

 

‌‌২ - ফাসের কারাউইন লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি:

‌‌ক - এর বর্ণনা:

এটি একটি উপকারী পাণ্ডুলিপি, যার শুধুমাত্র প্রথম খণ্ডটি ১৬০৬ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৭)
وأما السفر الثاني الذي يبتدئ من قول المؤلف: "باب ذكر أحاديث سكت عنها مصححًا لها وليست بصحيحة" فلا يوجد، وقد طوته يد الزمن مع ما طوت من مثل هذه النفائس.

وهذا النصف الموجود منها لا يوجد فيه محو، إلا في صفحة واحدة محي فيه مقدار سطر، وهي الصفحة الحاملة للرقم (209) في آخر سطر منها، وقد أصيب هذا السطر بالرطوبة، فتقطعت حروفه واختلطت، بحيث لا يمكن قراءتها، كما أنها نسخة مرتبة لا تقديم فيها ولا تأخير، ويوجد منها ميكروفيلم بالخزانة العامة بالرباط تحت رقم (1727).

 

‌‌ب - خطها:

كتبت بخط مغربي دقيق جدًّا تصعب قراءته أحيانًا إلا على المتمرس بالخطوط، ولم يراع فيها الكاتب قواعد الرسم، ولذلك لا يقرؤها إلا من عرف الخطوط القديمة.

وهذه نماذج من هذه الكتابة، فمثلًا: لا إله يكتبها: لا إلاه، وإملاء يكتبه: إملا، والغنائم يكتبها: الغنايم، وكلمة: ائتيه يكتبها: ايتيه، والمقرئ، يكتبها: المقري، وبئر يكتبها: بير، وإقامة الصلاة يكتبه: وإقامت، وماء يكتبه: ما، ورمضان يكتبه: رمضن، وإذا تلا يكتبه: إذا تلى، ولكن يكتبه: ولاكن. وهكذا لم يلتزم بقواعد الرسم حتى المعهودة عند المتقدمين.

وتقع هذه النسخة في خمس وخمسين وثلاثمائة صفحة، بالترقيم المكتبي، إذ رقموا كل صفحة على حدة.

 

‌‌ج - قيمتها:

هذه النسخة قوبلت على أصول مدققة ومتقنة، إذ تجد في حواشيها
আর দ্বিতীয় খণ্ডটি, যা লেখকের এই উক্তি দিয়ে শুরু হয়েছে: "এমন সব হাদিসের আলোচনার অধ্যায় যেগুলোর ব্যাপারে (অন্য কেউ) নীরব থেকে সেগুলোকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন অথচ সেগুলো সহিহ নয়", সেটি বর্তমান নেই। সময়ের আবর্তে সেটি হারিয়ে গেছে, যেমনটি এই জাতীয় আরও অনেক মূল্যবান রত্ন হারিয়ে গেছে।

বিদ্যমান এই অর্ধাংশের মধ্যে কোনো ঘষামাজা নেই, কেবল একটি পৃষ্ঠা ছাড়া যেখানে প্রায় এক লাইনের সমপরিমাণ জায়গা মুছে গেছে; আর সেটি হলো ২০৯ নম্বর পৃষ্ঠা, যার শেষ লাইনে এটি ঘটেছে। এই লাইনটি আর্দ্রতার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে এর অক্ষরগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং একে অপরের সাথে মিশে গেছে, যার দরুন এটি পড়া সম্ভব নয়। তদুপরি এটি একটি সুবিন্যস্ত পাণ্ডুলিপি যাতে কোনো আগে-পিছে বা বিশৃঙ্খলা নেই। রাবাতের 'খিজানাহ আম্মাহ' (পাবলিক লাইব্রেরি)-তে ১৭2৭ নম্বরের অধীনে এর একটি মাইক্রোফিল্ম সংরক্ষিত আছে।

 

‌‌খ - এর লিখনশৈলী:

এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাগরিবী লিপিতে লেখা হয়েছে যা হস্তলিপিতে পারদর্শী ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের পক্ষে পড়া মাঝে মাঝে কঠিন হয়ে পড়ে। এতে লেখক প্রচলিত লিখনরীতির নিয়মাবলি অনুসরণ করেননি, তাই প্রাচীন হস্তলিপি সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এটি পড়তে পারে না।

এই লিখনশৈলীর কিছু নমুনা হলো, যেমন: 'লা ইলাহা' তিনি লিখতেন: 'লা ইলাহা' (আলিফ যোগে), 'ইমলা' তিনি লিখতেন: 'ইমলা' (হামযা ছাড়া), 'আল-গানায়িম' তিনি লিখতেন: 'আল-গানায়িম' (হামযার বদলে ইয়া দিয়ে), 'ইতিহি' শব্দটিকে লিখতেন: 'ইতিহি' (হামযার বদলে ইয়া দিয়ে), 'আল-মুকরি' কে লিখতেন: 'আল-মুকরি' (শেষে ইয়া দিয়ে), 'বি'র' কে লিখতেন: 'বি'র' (হামযা ছাড়া), 'ইকামাতাস সালাহ' কে লিখতেন: 'ইকামাত' (শেষে লম্বা তা দিয়ে), 'মা' কে লিখতেন: 'মা' (হামযা ছাড়া), 'রমজান' কে লিখতেন: 'রমদন' (আলিফ ছাড়া), 'ইজা তলা' কে লিখতেন: 'ইজা তলা' (আলিফ মাকসুরা দিয়ে), এবং 'লাকিন' কে লিখতেন: 'লাকিন' (ওয়াও এবং আলিফ যোগে)। এভাবে তিনি এমনকি পূর্ববর্তীদের কাছে পরিচিত সাধারণ লিখনরীতিও মেনে চলেননি।

লাইব্রেরি নাম্বারিং অনুযায়ী এই পাণ্ডুলিপিটি তিনশত পঞ্চান্ন পৃষ্ঠার, যেহেতু তারা প্রতিটি পৃষ্ঠাকে আলাদাভাবে নম্বর প্রদান করেছেন।

 

‌‌গ - এর গুরুত্ব:

এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে, কারণ এর পার্শ্বটীকায় আপনি পাবেন...
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৮)
كلمات خرجت من وسطها وكتب عليها كلمة "صح" كما فيها علامات المقابلة.

ويظهر أنها قرأها عالم جليل فاهم لهذا الفن، فعلق عليها تعليقات كثيرة في حواشيها في تصويب آراء المؤلف، أو بيان الأخطاء، كما يعلق على الرجال الواردين فيها، ويضبط الكلمات الصعبة بالشكل.

ثم إنها دقيقة، وأخطاؤها قليلة جدًّا بالمقارنة مع النسخة المصرية، وفي حواشيها آراء وخلاصات لما هو مذكور في صلب المتن، وقلما تجد ورقة خالية من ذلك.

ولهذه الأسباب والخصائص جعلناها أصلًا، وجعلنا النسخة المصرية نسخة ثانية، وبهما معًا تأكدنا من سلامة النص، وتتراوح سطورها ما بين ثمانية وعشرين أو تسعة وعشرين سطرًا.

 

‌‌د - السماعات:

كتب على أول ورقة من هذه النسخة:

الحمد لله، ومما قيد على ظهر أول ورقة من الأصل المنتسخ هذا منه ما نصه: قابلت جميع هذا الكتاب بكتاب الشيخ الفقيه، الأجل، المقرئ، أبي الخطاب الذي قرأه على مؤلفه، وكتب له على ظهر الكتاب المذكور:

قرأ علي الشيخ، الفقيه، الأجل، المقرئ، أبو الخطاب عبد الرحمن ابن الشيخ الفقيه الأجل، المقرئ، أبي عمرو، ابن الشيخ الفقيه الأجل، المقرئ، أبي الحسن بن عبد الرحمن بن الطفيل، أدام الله توفيقه وكرامته - جميع هذا الكتاب: كتاب بيان الوهم والإيهام الواقعين في كتاب الأحكام، قراءة تحمل وتصحيح، أنا أمسك له الأصل الذي صححت فيه ما ألفت منه، منه، وفرغ منه يوم الجمعة، الثاني من صفر، سنة تسع وعشرة وستمائة، فإنه يرويه عني
শব্দগুলো তার মধ্য থেকে বের হয়েছে এবং তার উপর "সহিহ" (সঠিক) শব্দটি লেখা হয়েছে, যেমনটি এতে তুলনামূলক পাঠের (মুকাবালা) চিহ্নগুলো রয়েছে।

এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে, এই শাস্ত্রের বিজ্ঞ একজন মহান আলেম এটি পাঠ করেছেন; ফলে তিনি এর পার্শ্বটীকাগুলোতে লেখকের মতামত সংশোধন বা ভুল বর্ণনার ক্ষেত্রে অনেক মন্তব্য করেছেন। তেমনিভাবে তিনি এতে উল্লেখিত বর্ণনাকারীদের ওপরও মন্তব্য করেছেন এবং কঠিন শব্দগুলোর হরকত ঠিক করে দিয়েছেন।

তদুপরি এটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং মিশরীয় পাণ্ডুলিপির তুলনায় এর ভুল খুবই সামান্য। এর পার্শ্বটীকাগুলোতে মূল পাঠে যা উল্লেখ আছে তার মতামত ও সারসংক্ষেপ রয়েছে এবং আপনি খুব কম পৃষ্ঠাই পাবেন যা এ থেকে খালি।

এসব কারণ ও বৈশিষ্ট্যের ফলে আমরা একে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং মিশরীয় পাণ্ডুলিপিকে দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি হিসেবে নির্ধারণ করেছি। এই উভয়ের মাধ্যমে আমরা পাঠের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। এর প্রতিটি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা আটাশ থেকে ঊনত্রিশের মধ্যে।

 

‌‌ঘ - শ্রবণলিপি:

এই পাণ্ডুলিপির প্রথম পাতায় লেখা হয়েছে:

সকল প্রশংসা আল্লাহর। যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করা হয়েছে, তার প্রথম পাতার উল্টো পিঠে যা লিপিবদ্ধ আছে তার পাঠ নিম্নরূপ: আমি এই সম্পূর্ণ গ্রন্থটি মহান ফকিহ ও মুকরি শেখ আবু আল-খাত্তাবের পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যিনি এটি স্বয়ং লেখকের কাছে পাঠ করেছেন এবং উক্ত গ্রন্থের উল্টো পিঠে তাঁর জন্য লিখে দিয়েছেন:

আমার নিকট এই সম্পূর্ণ গ্রন্থটি পাঠ করেছেন মহান ফকিহ ও মুকরি শেখ আবু আল-খাত্তাব আবদুর রহমান ইবনে শেখ আল-ফকিহ আল-আজাল্ল আল-মুকরি আবু আমর ইবনে শেখ আল-ফকিহ আল-আজাল্ল আল-মুকরি আবু আল-হাসান বিন আবদুর রহমান বিন আল-তুফায়েল—আল্লাহ তাঁর তাওফিক ও মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন। গ্রন্থটি হলো: "কিতাবু বায়ানিল ওয়াহমি ওয়াল ইহানিল ওয়াকিআইনি ফি কিতাবিল আহকাম"। এটি ছিল শিক্ষা গ্রহণ ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে পাঠ। আমি তাঁর জন্য সেই মূল পাণ্ডুলিপিটি ধরেছিলাম যাতে আমি যা সংকলন করেছি তা সংশোধন করেছিলাম। এটি সম্পন্ন হয়েছে ৬১৯ হিজরির ২রা সফর, রোজ শুক্রবার। তিনি এটি আমার নিকট থেকে বর্ণনা করছেন।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪৯৯)
مستعينًا بالله سبحانه. . . ثم قال. . . وكتب … في التاريخ المذكور مؤلفه، علي بن محمد بن عبد الملك حامدًا الله سبحانه، ومصليًا على محمد نبيه، وعلى آله وأزواجه، رضي الله عنهم. انتهى ما وجدته.

ولدقة هذه النسخة وأهميتها، فقد جعلتها هي الأصل في تحقيق النصف الأول من هذا الكتاب، وجعلت النسخة التركية نسخة ثانية. وهذا لا يعني إهمالها، فقد اعتمدت أحيانًا ما فيها لثبوت أنه الصواب وأن ما في الفاسية خطأ، ولكن ذلك قليل.

وأما في النصف الثاني، فقد اعتمدت في التحقيق على النسخة التركية وحدها؛ ولذلك كان العمل في هذا القسم مضنيًا، حيث يستوجب تيقظًا وتتبعًا أكثر للوصول إلى تقويم النص وتصويبه.

وقد استغرق العمل - لهذا - في هذا النصف أكثر مما استغرق في النصف الأول للعلل التي ذكرنا أنها توجد في هذه النسخة، وأشير للنسخة الفاسية بحرف (ق) وللتركية بحرف (ت).

 

‌‌منهج التحقيق:

‌‌1 - قابلنا النسختين مع المنسوخ ثلاث مرات، حتى تأكدنا من سلامة النص وسلاسته، كما قابلناه بالأصول التي ينقل عنها المؤلف، والأصول التي نقلت عنه، فاطمأننا بذلك لسلامته.

‌‌2 - أثبتنا الفروق بين النسختين، بحيث جعلنا النسخة الفاسية نسخة أصلية، فما خالف ما فيها من النسخة المصرية، وضعناه في الحاشية، فإن كان خطأ نبهنا عليه وإن كان صوابًا أو محتملًا له، أثبتناه كما هو، وإذا تحقق أن ما في النسخة الفاسية هو الخطأ، وأن الصواب ما في المصرية، أثبتنا الصواب،
মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে... অতঃপর তিনি বললেন... এবং উল্লিখিত তারিখে এর লেখক আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক মহান আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর পত্নীগণের ওপর দরুদ পাঠ করে এটি লিখেছেন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। আমি যা পেয়েছি তা এখানেই সমাপ্ত।

এই পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতা ও গুরুত্বের কারণে আমি এই গ্রন্থের প্রথম অর্ধাংশের সম্পাদনার ক্ষেত্রে একেই মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং তুর্কি পাণ্ডুলিপিটিকে দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমি একে অবহেলা করেছি; বরং ক্ষেত্রবিশেষে আমি এতে যা রয়েছে তার ওপর নির্ভর করেছি, যখন এটি প্রমাণিত হয়েছে যে সেটিই সঠিক এবং ফাসি পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা ভুল, তবে এমনটি খুবই কম ঘটেছে।

আর দ্বিতীয় অর্ধাংশের ক্ষেত্রে আমি সম্পাদনার কাজে কেবল তুর্কি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি; এই কারণে এই অংশের কাজ অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য ছিল, কারণ মূল পাঠটি সংশোধন ও সুবিন্যস্ত করার জন্য এতে অধিক সতর্কতা ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন ছিল।

উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান যে সকল ত্রুটির কথা আমরা উল্লেখ করেছি সেগুলোর কারণে এই অর্ধাংশের কাজ সম্পন্ন করতে প্রথম অর্ধাংশের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে। আমি ফাসি পাণ্ডুলিপিকে (ক) বর্ণ দ্বারা এবং তুর্কি পাণ্ডুলিপিকে (ত) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

‌‌সম্পাদনা পদ্ধতি:

‌‌১ - আমরা পাণ্ডুলিপি দুটিকে অনুলিপির সাথে তিনবার মিলিয়ে দেখেছি, যতক্ষণ না পাঠের শুদ্ধতা ও সাবলীলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। পাশাপাশি লেখক যে সকল মূল উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং যে সকল মূল উৎস তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে সেগুলোর সাথেও আমরা মিলিয়ে দেখেছি। ফলে এর শুদ্ধতা সম্পর্কে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।

‌‌২ - আমরা পাণ্ডুলিপি দুটির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো লিপিবদ্ধ করেছি, এক্ষেত্রে ফাসি পাণ্ডুলিপিকে মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি। সুতরাং মিশরীয় পাণ্ডুলিপিতে যা এর বিপরীত ছিল তা আমরা টীকায় উল্লেখ করেছি। যদি তা ভুল হয় তবে আমরা সে বিষয়ে সতর্ক করেছি, আর যদি তা সঠিক বা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে তা সেভাবেই রেখেছি। আর যদি এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ফাসি পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা ভুল এবং মিশরীয় পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা সঠিক, তবে আমরা সঠিকটিই মূল পাঠে বহাল রেখেছি।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০০)
وأشرنا للخطأ في الهامش.

‌‌3 - رقمنا الكتاب ترقيمين: ترقيمًا عامًا، وترقيمًا خاصًّا.

فأما الترقيم العام، فوضعناه مسلسلًا للأحاديث التي ينقلها المؤلف ويبحثها، وبذلك استطعنا التغلب عليها ولَمُ أطرافها التي يوزعها فيها المؤلف، فبلغت تلك الأرقام بالتحديد خمسة وأربعين وثمانمائة وألفين رقم.

وأما الترقيم الخاص، فهو يختص بكل ورقة، وتتناول أرقامها الفروق بين النسخ، وتوضيح ما يمكن توضيحه، من شرح الغريب، والتعليق على كلام المؤلف، والتنبيه على ما في كلامه من عدم الحقيقة، أو اختصار، أو ما إلى ذلك.

‌‌4 - خرجت الأحاديث تخريجًا مسهبًا في القسم الثاني، وأطلت النفس فيها واختصرته جدًّا في القسم الأول؛ لأن المؤلف لم ينشغل فيه بعلل الأحاديث في الجملة فجاريناه في ذلك. فعزونا الأحاديث لمصادرها دون التفصيل فيها، وفصلنا الكلام على أحاديث القسم الثاني، فأسفر ذلك عن الحقائق الآتية:

أ - اكتشاف طرق جديدة لجملة من الأحاديث ادعى المؤلف أنها ليس لها إلا ما ذكر، وكذلك اكتشاف متابعات الجملة من الرواة، يقول المؤلف عنهم: إنهم انفردوا بما ذكر لهم.

ب - اكتشاف أخطاء وأوهام وقعت لأناس، واكتشاف تصحيفات وتحريفات في أمور جمة في كتب محققة؛ مما جعل الكتاب المحقق من غير المتخصصين لا يعتمد عليه في نظري.

جـ - تتبع المؤلف في كل شاذة وفاذة ذكرها، اللهم إلا ما فقدت مصادره، فأكتفي فيه بالمصادر التي نقلت عنه.
এবং আমরা পাদটীকায় ত্রুটিগুলো নির্দেশ করেছি।

‌‌৩ - আমরা গ্রন্থটির দুই ধরনের সংখ্যায়ন করেছি: সাধারণ সংখ্যায়ন এবং বিশেষ সংখ্যায়ন।

সাধারণ সংখ্যায়নের ক্ষেত্রে, লেখক যে সকল হাদিস উদ্ধৃত করেছেন এবং পর্যালোচনা করেছেন সেগুলোর জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি। এর মাধ্যমে আমরা সেই হাদিসগুলোর বিভিন্ন অংশ যা লেখক বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রেখেছিলেন, তা একত্রিত ও আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এই নম্বরগুলো সুনির্দিষ্টভাবে দুই হাজার আটশত পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আর বিশেষ সংখ্যায়নটি প্রতিটি পৃষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্ট। এর নম্বরগুলো পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পাঠান্তর, প্রয়োজনীয় বিষয় স্পষ্ট করা—যেমন দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান, লেখকের বক্তব্যের ওপর টীকা সংযোজন এবং তাঁর বক্তব্যে যদি কোনো সত্যের ব্যত্যয়, সংক্ষিপ্ততা বা এই জাতীয় কিছু থাকে তবে সে বিষয়ে সতর্ক করা ইত্যাদি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

‌‌৪ - আমি দ্বিতীয় অংশে হাদিসসমূহের বিস্তারিত তাখরিজ করেছি এবং এতে দীর্ঘ পরিসর নিয়ে কাজ করেছি; কিন্তু প্রথম অংশে তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছি। কারণ লেখক প্রথম অংশে সাধারণত হাদিসের ইল্লত বা নিগূঢ় ত্রুটি নিয়ে তেমন আলোচনা করেননি, তাই আমরাও সেই ক্ষেত্রে তাঁর অনুগামী হয়েছি। ফলে আমরা বিস্তারিত বিবরণ ছাড়াই হাদিসগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে নিস্পন্ন করেছি। তবে দ্বিতীয় অংশের হাদিসগুলোর ওপর আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যার ফলে নিম্নোক্ত সত্যগুলো উন্মোচিত হয়েছে:

ক - একগুচ্ছ হাদিসের নতুন কিছু সূত্র আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে লেখক দাবি করেছিলেন যে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া আর কোনো সূত্র নেই। অনুরূপভাবে একদল বর্ণনাকারীর মুতাবাআত (সহায়ক বর্ণনা) আবিষ্কৃত হয়েছে যাদের সম্পর্কে লেখক বলেছিলেন যে তাঁরা উক্ত বর্ণনায় একক।

খ - বিভিন্ন ব্যক্তির ভুলভ্রান্তি ও অলীক ধারণা চিহ্নিত হয়েছে এবং সম্পাদিত বইসমূহের বহু বিষয়ে শব্দগত ও অর্থগত বিকৃতি ধরা পড়েছে; যার ফলে আমার দৃষ্টিতে অ-বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সম্পাদিত কোনো গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য থাকে না।

গ - লেখকের উল্লেখিত প্রতিটি ছোট-বড় ও বিরল বিষয়েরই অনুসরণ করা হয়েছে; তবে ব্যতিক্রম শুধু ঐ সকল বিষয় যেগুলোর মূল উৎস হারিয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে আমি ঐ সকল উৎসের ওপরই নির্ভর করেছি যা মূল গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০১)
‌‌5 - نوه المؤلف بقيمة عمله في مقدمته بأنه ما نقل أبو محمد عبد الحق من كتاب إلا وهو بين يديه، ووقف على موضع نقله منه.

وأنا أقول أيضًا: إن كتب المؤلف التي ينقل منها، وقفت على نقوله منها إلا في النادر، وإذا صح له أن يقول: إنه رجع إلى كتب ما رآها أبو محمد ولا عرج عليها؛ فإنه يصح لي أن أقول: قد رجعت في هذا التحقيق إلى مصادر لم يذكر عنها المؤلف شيئًا، ولا نقل عنها حرفًا واحدًا، ولا أدري ألم تكن لديه -وهو الغالب - أم كان قد استغنى عنها بغيرها؟

‌‌6 - درست رجال إسناد كل حديث، ولم أخرج حديثًا إلا واطلعت على ترجمة كل راو من رواته، مما أفادني في الاستدراك على المؤلف عللًا أخرى في الأسانيد لم يذكرها، وهي مبثوثة في ثنايا هذا البحث في أماكنها.

‌‌7 - صدرت كل حديث بالحكم الذي يستحقه المتوصل إليه بعد دراسة كل حديث، وقد وافقت في جل هذه الأحكام أحكام من تقدمني، وخالفت في بعض المواضع لملاحظ ودواعي ذكرتها في أماكنها، ولا أدعي عصمتي فيها من الخلل، ولكني اجتهدت حسب قواعد الفن وأصوله، وحسبي ذلك.

‌‌8 - خالفت المؤلف في حكمه على كل حديث بمفرده، فتبعت الجمهور في الحكم للمجموع، ولذلك حسنت وصححت أحاديث كثيرة بمجموع طرقها.

‌‌9 - قومت النص تقويمًا كاملًا، ورددت كل نص أورده المؤلف إلى أصوله التي نقله منها إلا في النادر الذي فقدت أصوله، فاضطررت فيه إلى النقل عمن نقل عن تلك الأصول.

‌‌10 - صيغ التحديث والإخبار، كانت مختصرة في المخطوطين معًا،
৫ - লেখক তাঁর কাজের গুরুত্বের কথা তাঁর ভূমিকায় এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক যে কিতাব থেকেই উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তা লেখকের নিকট বিদ্যমান ছিল এবং তিনি উদ্ধৃতি প্রদানের স্থানটি নিজে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

আমিও একইভাবে বলছি: লেখক যে কিতাবগুলো থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত আমি তাঁর সেই উদ্ধৃতিগুলো মূল কিতাব থেকে মিলিয়ে দেখেছি। আর যদি তাঁর পক্ষ থেকে এটি বলা সঠিক হয় যে, তিনি এমন সব কিতাবের শরণাপন্ন হয়েছেন যা আবু মুহাম্মদ দেখেননি এবং যার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি; তবে আমার পক্ষেও এটি বলা সঠিক হবে যে: আমি এই গবেষণায় (তাহকীক) এমন কিছু উৎসের শরণাপন্ন হয়েছি যে সম্পর্কে লেখক কিছুই উল্লেখ করেননি এবং তা থেকে একটি অক্ষরও উদ্ধৃত করেননি। আমি জানি না সেগুলো কি তাঁর কাছে ছিল না—যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি—নাকি তিনি অন্য কিতাবের উপস্থিতিতে সেগুলোর প্রয়োজনবোধ করেননি?

৬ - আমি প্রতিটি হাদিসের সনদের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) নিয়ে অধ্যয়ন করেছি এবং এমন কোনো হাদিস চয়ন করিনি যার প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনী (তারজামা) আমি পর্যালোচনা করিনি। এটি আমাকে লেখকের ওপর সনদের এমন কিছু ইল্লত (ত্রুটি) শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে যা তিনি উল্লেখ করেননি, আর সেগুলো এই গবেষণার পরতে পরতে যথাস্থানে ছড়িয়ে রয়েছে।

৭ - প্রতিটি হাদিস পর্যালোচনার পর যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, সেই অনুযায়ী প্রতিটি হাদিসের শুরুতে তার উপযুক্ত বিধান (হুকুম) উল্লেখ করেছি। অধিকাংশ হুকুমের ক্ষেত্রে আমি আমার পূর্ববর্তীদের হুকুমের সাথে একমত হয়েছি এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সংগত কারণে ভিন্নমত পোষণ করেছি যা যথাস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি এসবে ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার দাবি করি না, তবে আমি এই শাস্ত্রের নিয়ম ও মূলনীতি অনুযায়ী যথাসাধ্য চেষ্টা (ইজতিহাদ) করেছি, আর আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

৮ - প্রতিটি হাদিসের ওপর এককভাবে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমি লেখকের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছি। আমি সমষ্টিগত হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে জুমহুর (অধিকাংশ আলেম)-এর অনুসরণ করেছি। এই কারণে আমি অনেক হাদিসকে তার সকল সূত্রের সমষ্টির (মাজমু’উত তুরুক) ভিত্তিতে 'হাসান' ও 'সহিহ' সাব্যস্ত করেছি।

৯ - আমি মূল পাঠ্যটিকে (নস) পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদন করেছি এবং লেখক কর্তৃক উদ্ধৃত প্রতিটি নসকে তার মূল উৎসে ফিরিয়ে নিয়েছি যেখান থেকে তিনি তা উদ্ধৃত করেছিলেন; কেবল সেই বিরল ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত যার মূল উৎস হারিয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে যারা সেই মূল উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তাদের থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করতে আমি বাধ্য হয়েছি।

১০ - হাদিস বর্ণনা ও সংবাদের শব্দসমূহ (সিগা), উভয় পাণ্ডুলিপিতেই সংক্ষিপ্ত আকারে ছিল,
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০২)
فأتممت الصيغة، سواء كانت: حدثنا، أو أخبرنا، أو أنبأنا، رغبة في تسهيل عبارة الكتاب.

‌‌11 - كل ما يخالف قواعد الرسم في المخطوطين، كتبته وفق قواعد الرسم الحديثة.

‌‌12 - إذا اتضح لي أن ما في المخطوطين خطأ محض، أكتب الصواب وأضع الخطأ في الهامش.

‌‌13 - وضعت لكل نسخة رمزًا خاصًّا بها، فالنسخة المصرية أشير إليها بحرف (ت)، والنسخة الفاسية أشير إليها بحرف (ق).

 

‌‌العقبات التي واجهتني أثناء التحقيق:

لا أضمر أني في بداية الأمر كنت تهيبت هذا الكتاب، لا خوفًا من مادته المسطرة، ولكن من طوله وتشعبه، الذي علمت بأنه سيكلفني شيئًا غير قليل من الوقت، والتنقيب، والمال، ولكن حرص أستاذي وشيخي المشرف على هذا البحث، في الاستمرار فيه، وتوجيهاته التي تعتبر زادًا لي في الطريق، دفعتني للمضي فيه قدمًا، فكانت عاقبته خيرًا، وسأوجز هذه العقبات فيما يلي:

‌‌1 - من حيث الوقت، أخذ مني هذا البحث ما لا يقل عن ثنتي عشرة ساعة في اليوم، أربع سنين، لا أعرف فيها قرًا ولا حرًا، وفي القيظ الشديد الذي يتمتع الناس بنسيم الشواطئ، ورياح الآصال، كنت أخوض لججه، وأكتشف شواطئه، مما جعلني أحذف من قاموسي مواعيد الأسفار والزيارات حتى لأهلي وإخواني، مما عوتبت عليه وتجرعت مرارته أحيانًا بالسكوت؛ لأنهم
আমি পরিভাষাগুলো পূর্ণ করেছি, তা 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন), 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) অথবা 'আম্বানা' (আমাদের অবহিত করেছেন) যেটাই হোক না কেন, যেন কিতাবের বর্ণনা সহজবোধ্য হয়।

‌‌১১ - পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে লেখনী পদ্ধতির যে সকল বিষয় নিয়মের পরিপন্থী ছিল, আমি তা আধুনিক লেখনী পদ্ধতি অনুযায়ী লিখেছি।

‌‌১২ - পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের কোনো অংশ যদি আমার নিকট সুস্পষ্ট ভুল বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তবে আমি সঠিকটি লিখেছি এবং ভুলটিকে টীকায় উল্লেখ করেছি।

‌‌১৩ - আমি প্রতিটি সংস্করণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংকেত নির্ধারণ করেছি; মিশরীয় পাণ্ডুলিপিটিকে (ت) অক্ষর দ্বারা এবং ফাসি পাণ্ডুলিপিটিকে (ق) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

‌‌সম্পাদনার সময় আমি যে সকল বাধার সম্মুখীন হয়েছি:

আমি এটা গোপন করছি না যে, শুরুর দিকে এই কিতাবটি নিয়ে আমি কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম; তবে তা এর লিখিত বিষয়বস্তুর ভয়ে নয়, বরং এর দীর্ঘতা এবং শাখা-প্রশাখার আধিক্যের কারণে। আমি জানতাম যে, এটি আমার নিকট থেকে প্রচুর সময়, গবেষণা এবং অর্থ ব্যয় দাবি করবে। কিন্তু আমার এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক উস্তাদ ও শাইখের আগ্রহ এবং এই কাজে অবিচল থাকার প্রেরণা, আর তাঁর দিকনির্দেশনাগুলো—যা আমার চলার পথে পাথেয় হিসেবে বিবেচিত—আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। ফলে এর শেষটা কল্যাণকর হয়েছে। আমি নিচে সংক্ষেপে সেই বাধাগুলোর বর্ণনা দিচ্ছি:

‌‌১ - সময়ের দিক থেকে বলতে গেলে, এই গবেষণাটি চার বছর ধরে দৈনিক কমপক্ষে বারো ঘণ্টা করে সময় নিয়েছে। এই সময়ে আমি শীত বা গ্রীষ্মের পার্থক্য বুঝিনি। প্রচণ্ড দাবদাহে যখন মানুষ সমুদ্র সৈকতের স্নিগ্ধ বাতাস আর বিকেলের মন্দ পবনে আনন্দ উপভোগ করত, তখন আমি এই ইলমি সাগরের গভীরে অবগাহন করতাম এবং এর কূল-কিনারার সন্ধানে মগ্ন থাকতাম। এর ফলে আমার জীবন থেকে সফর এবং সাক্ষাতের সময়গুলো বাদ দিতে হয়েছে, এমনকি আমার পরিবার ও ভাইদের ক্ষেত্রেও। এই কারণে আমাকে অনেক তিরস্কারও সইতে হয়েছে, যার তিক্ততা কখনো কখনো আমি নীরবে হজম করেছি; কারণ তারা...
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০৩)
لا يفهمون ما أنا فيه، وأحيانًا بالاعتذار إليهم، وبأني سأعوض ما قصرت فيه، إلا أني أرى عيونًا كثيرة ترنو إلي بنظرات غير المعجبين بهذا الانزواء، حتى من طلبة العلم الذين أجد فيهم من يحاول تثبيطي، ولا أجد ما أتمثل إلا قول القائل:

سارت مشرقة وسرت مغربًا … شتان بين مشرق ومغرب

‌‌2 - ومن حيث الاستعداد، فقد اقتنيت ما أمكن اقتناؤه من المصادر اللازمة لتحقيق هذا الكتاب ما بين مطبوع ومخطوط، وما زلت ناقبًا عما لم أجده منها، ولم تبق مكتبة عامة في بلدنا إلا ولجتها، فأحيانًا أحصل على بغيتي، وأحيانًا أخفق في ذلك، وكانت التجربة مريرة، حيث أدركت احتكار الكتب من طرف بعض المسئولين في هذه المكاتب، وقد سافرت خارج الوطن لهذا الهم الوحيد فوجدت بعض بغيتي، ولم أجد بعضها الآخر، كما استعنت بكل من عرفته ممن يعاني ما أعاني، وقد اقتنيت من الخارج أكثر مما اقتنيت من الداخل، وفيما اقتنيته من الخارج بعض ما في الداخل الذي لم أتوصل إليه لأسباب يعرفها كل باحث.

وباجتماع أمهات المصادر المطبوعة والمخطوطة لدي، استطعت أن أقطع أشواطًا بعيدة في هذا البحث، فلولا توفرها بين يدي لما استطعت أن أفعل شيئًا.

‌‌3 - كان الحديث الواحد، قد يأخذ مني أيامًا، باحثًا عنه، لامًا لطرقه، ملخصًا ومرتبًا لكل ما قيل فيه، مما جعلني أحيانًا أجد نفسي لا أبعد كثيرًا حيث كنت.

‌‌4 - قيامي بجميع الأعمال وسائلها وغاياتها، من البحث عن النص أولًا،
তারা বুঝতে পারছে না আমি কিসের মধ্যে আছি, এবং কখনও কখনও তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলি যে, আমি যে ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছি তার ক্ষতিপূরণ করে দেব। তবুও আমি অনেক চোখ দেখি যা আমার প্রতি এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যারা এই নির্জনবাসকে পছন্দ করছে না, এমনকি ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্য থেকেও, যাদের মধ্যে আমি এমন কাউকে পাই যে আমাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে। আর আমি এই পঙ্ক্তিটি ছাড়া অন্য কোনো উদাহরণ খুঁজে পাই না:

সে চলল পূর্ব দিকে আর আমি চললাম পশ্চিম দিকে … পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে কতই না ব্যবধান

‌‌২ - প্রস্তুতির দিক থেকে, আমি এই কিতাবটি তাহকীক করার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসগুলোর মধ্য থেকে মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি যা কিছু সম্ভব সংগ্রহ করেছি। আমি এখনও সেই সবের সন্ধান করছি যা আমি খুঁজে পাইনি। আমাদের দেশের এমন কোনো গণগ্রন্থাগার বাকি নেই যেখানে আমি প্রবেশ করিনি। কখনও আমি আমার কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছি, আবার কখনও তাতে ব্যর্থ হয়েছি। অভিজ্ঞতাটি ছিল তিক্ত, যেখানে আমি এই গ্রন্থাগারগুলোর কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বই কুক্ষিগত করে রাখার বিষয়টি উপলব্ধি করেছি। আমি এই একটিমাত্র চিন্তায় দেশের বাইরে সফর করেছি এবং সেখানে আমার কিছু উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, আর কিছু হয়নি। এছাড়া আমি এমন প্রত্যেকের সাহায্য নিয়েছি যাকে আমি চিনি এবং যে আমার মতোই সমস্যার সম্মুখীন। আমি দেশের ভেতর থেকে যা সংগ্রহ করেছি, তার চেয়ে বেশি বিদেশ থেকে সংগ্রহ করেছি। এমনকি দেশের ভেতরে যা আমি সংগ্রহ করতে পারিনি (এমন কিছু কারণবশত যা প্রত্যেক গবেষকই জানেন), তার কিছু অংশও আমি বিদেশ থেকে সংগ্রহ করেছি।

আমার কাছে মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি পর্যায়ের মৌলিক উৎসসমূহ একত্রিত হওয়ার কারণে আমি এই গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। এগুলো আমার হাতের কাছে না থাকলে আমি কিছুই করতে পারতাম না।

‌‌৩ - একটি মাত্র হাদিস নিয়ে কখনও কখনও আমার কয়েক দিন লেগে যেত—তা অনুসন্ধান করতে, তার সূত্রগুলো একত্রিত করতে এবং তার সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা সংক্ষেপ ও বিন্যস্ত করতে। এর ফলে কখনও কখনও আমি নিজেকে আগের অবস্থার চেয়ে খুব একটা অগ্রসর দেখতে পেতাম না।

‌‌৪ - সমস্ত কাজ—তার মাধ্যম ও লক্ষ্যসহ—সম্পাদন করা; প্রথমত মূল পাঠ্যটি (নস) অনুসন্ধান করা থেকে শুরু করে,
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০৪)
حيث يتم اكتشاف مواضعه، ثم البحث عن علله وأحكامه ثانيًا، فلو كان هناك من يقرب لي المادة، كأن يهيئ لي - على الأقل - مصادر النص لكنت أنهيت الكتاب منذ مدة.

‌‌5 - الوسائل البدائية التي ما زلنا نستعملها إلى الآن، من جذاذات، وممحاة، ومكشطة، هي أيضًا تثبطنا كثيرًا، فلو كنت أملك الحاسوب الذي أسجل فيه كل شيء، وأمحي ما أريد، وأقدم وأؤخر، لربحنا من وقتنا شيئًا ذا بال.

‌‌6 - أحَلْتُ في كل حديث ذكره المؤلف في عدة أماكن، على جميع أرقامه حتى يتمكن من يرغب في تكوين نظرة كاملة عنها في جميع أماكنها من ذلك، ولم أتغلب على هذه الإحالات، إلا بالفهارس التي أخذت وقتًا غير يسير.

‌‌7 - حاولت أن أجمع في كل حديث ما قيل عنه، حتى يأخذ القارئ عنه فكرة شاملة في موضوع واحد، وقد عانيت كثيرًا في جمع هذه الأقوال من مئات المصادر التي وزعت فيها وترتيبها، ولو قدر للسنة أن تخدم بهذا النمط، لانتهينا منذ زمن من كثير من الاختلافات التي يستلزمها الأخذ برأي دون الاطلاع على الآراء الأخرى.

‌‌8 - كل حديث ذكره المؤلف في كتابه وقفت عليه في الأحكام الوسطى لعبد الحق، وقابلت ما فيه بما يقول المؤلف، وأثبت في كل حديث حديث بالهامش رقم الصفحة والجزء الذي يقع فيه ذلك الحديث في الأحكام الوسطى، تيسيرًا على من يريد الرجوع إليه للمقابلة.

هذا، وقد قمت بهذا أولًا على مخطوط الوسطى المحفوظ بمكتبة ابن يوسف، وعليه اعتمدت في جميع الكتاب، ثم ظهر الأحكام الوسطى أخيرًا
যেখানে এর স্থানসমূহ শনাক্ত করা হয়, তারপর দ্বিতীয়ত এর ইল্লত (সুক্ষ্ম ত্রুটি) ও বিধানসমূহ নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। যদি এমন কেউ থাকত যে আমার কাছে তথ্য-উপাদানগুলো সহজলভ্য করে দিত, যেমন—অন্তত যদি সে মূল পাঠের উৎসগুলো প্রস্তুত করে দিত—তবে আমি অনেক আগেই বইটি সমাপ্ত করতে পারতাম।

‌‌৫ - যেসব সেকেলে সরঞ্জাম আমরা এখনও ব্যবহার করছি—যেমন চিরকুট, ইরেজার এবং স্ক্র্যাপার—সেগুলোও আমাদের অনেক নিরুৎসাহিত করে। যদি আমার কাছে একটি কম্পিউটার থাকত যাতে আমি সবকিছু লিপিবদ্ধ করতে পারতাম, যা ইচ্ছা মুছে দিতে পারতাম এবং আগে-পিছে করতে পারতাম, তবে আমাদের সময়ের অনেকটা সাশ্রয় হতো।

‌‌৬ - লেখক যেসব হাদিস একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন, আমি তার প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে সবকটি নম্বরের উদ্ধৃতি দিয়েছি, যাতে কেউ যদি সব জায়গায় সেগুলো সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে চায়, তবে সে তা করতে পারে। আর এই উদ্ধৃতিগুলোর কাজ সম্পন্ন করা সূচিপত্র ছাড়া সম্ভব ছিল না, যা তৈরি করতে অনেক সময় লেগেছে।

‌‌৭ - আমি প্রতিটি হাদিস সম্পর্কে যা যা বলা হয়েছে তা একত্রিত করার চেষ্টা করেছি, যাতে পাঠক সে সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারেন। শত শত উৎস থেকে এই বক্তব্যগুলো সংগ্রহ ও বিন্যাস করতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যদি সুন্নাহর খিদমত এই পদ্ধতিতে করা সম্ভব হতো, তবে অন্য মতামতগুলো না জেনে কেবল একটি মত গ্রহণ করার ফলে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়, তা থেকে আমরা অনেক আগেই মুক্তি পেতাম।

‌‌৮ - লেখক তার গ্রন্থে যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলো আব্দুল হকের 'আল-আহকামুল উসতা'-তে অনুসন্ধান করেছি এবং সেখানে যা আছে তার সাথে লেখকের বক্তব্যের তুলনা করেছি। যারা মূল গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখতে চান, তাদের সুবিধার্থে আমি প্রতিটি হাদিসের পাদটীকায় 'আল-আহকামুল উসতা'-র খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করে দিয়েছি।

উল্লেখ্য যে, আমি এই কাজটি প্রথমে ইবনে ইউসুফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত 'আল-উসতা'-র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করেছি এবং পুরো গ্রন্থে সেটির ওপরই নির্ভর করেছি। পরবর্তীতে 'আল-আহকামুল উসতা' (মুদ্রিত আকারে) প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০৫)
في السوق بنشر الشيخ عبد المجيد السلفي، والشيخ صبحي السامرائي، فدعاني ذلك إلى أن رقمت النصف الأخير من الكتاب على هذا المطبوع، والنصف الأول على المخطوط المذكور وما وجدته ساقطًا من المطبوع - والسقط فيه كثير - أشير بكلمة المخطوط إلى رقم وصفحة من المخطوط.

هذا، ولا أدعي لعملي هذا السلامة من الهفوات، ولا العصمة من العثرات، فما كان فيه من صواب فمن الله وحده، وما كان من خطأ، فمني ومن الشيطان، وأستغفر الله منه.

فيا أخي القارئ، فإن لم يسعفني عملي في نيل المأرب، فأسعفني أنت بحسن الدعوة، والنظر بعين الرضا لهذا العمل، وإصلاح خلله؛ فالتقصير حاصل، واللب مشوش، والفهم كليل، والتحصيل قليل، فلولا التعين، لما ولجنا هذا المولج، ولا عرجنا هذا المنعرج، ولكن محبة النبوة، وتتبع دُرَرها، والهيام بما ينسب لها، أدخلنا هذا المدخل، بعد فقدان أهله، وموت نوابغه، وإخلاد الناس إلى هجره، ورجاء أن ندخل في قوله صلى الله عليه وسلم فداه أبي وأمي -: "المرء مع من أحب". وآمل من كل مطلع أن يرنو لهذا العمل بقول الشاعر:

وعين الرضا عن كل عيب كليلة … كما أن عين السخط تبدي المساويا

وإذ أنسى، فإني لن أنسى ثلة من الإخوة الذين تجمعني معهم محبة الإيمان، وكلمة التقوى، وصداقة العلم، وهم قد سهروا معي في مسيرتي مع هذا الكتاب، وتحملوا معي همومه، وتمنوا أن يروه يرى النور يومًا ما، وكل منهم قد ساعد بما آتاه الله، وأنفق مما رزقه الله، ولم يضنوا علي بوقت ولا مال، حتى قام هذا العمل على ساقه، واستوى عوده ومساقه، ولا أذكرهم جميعهم بأسمائهم؛ لأن فيهم من يحب أن لا يعرف، ويحب أن يدخر عمله ليوم
বাজারে শেখ আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি এবং শেখ সুবহি আস-সামাররাঈ কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণটি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে যেন আমি বইটির শেষ অর্ধাংশ এই মুদ্রিত সংস্করণের ভিত্তিতে এবং প্রথম অর্ধাংশ উল্লিখিত পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সংখ্যায়ন করি। আর মুদ্রিত সংস্করণে যা কিছু বাদ পড়েছে—সেখানে বাদ পড়া অংশের পরিমাণ অনেক—সেগুলোকে আমি 'পাণ্ডুলিপি' শব্দের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপির নম্বর ও পৃষ্ঠার দিকে ইশারা করেছি।

এ তো হলো বিষয়; তবে আমি আমার এই কাজের ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি করি না, আর পদস্খলন থেকে নিষ্পাপ হওয়ারও দাবি করি না। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি এ জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

হে পাঠক ভাই! আমার এই কাজ যদি উদ্দেশ্য হাসিলে আমাকে সাহায্য করতে না-ও পারে, তবে আপনি আমাকে আপনার নেক দুআ, এই কাজের প্রতি সন্তুষ্টির দৃষ্টি প্রদান এবং এর ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে সাহায্য করুন। কারণ অপূর্ণতা তো থাকবেই, চিন্তা বিক্ষিপ্ত, বোধশক্তি ক্ষীণ এবং জ্ঞান অর্জন সামান্য। যদি একান্ত প্রয়োজন না হতো, তবে আমরা এই পথে প্রবেশ করতাম না এবং এই বাঁকে আসতাম না। কিন্তু নবুওয়াতের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর রত্নরাজির অন্বেষণ এবং তাঁর সাথে সম্পৃক্ত বিষয়ের প্রতি অনুরাগের কারণেই আমরা এই পথে প্রবেশ করেছি—বিশেষত এর উপযুক্ত ব্যক্তিদের হারিয়ে যাওয়ার পর, মেধাবীদের মৃত্যুর পর এবং মানুষের একে বর্জন করার প্রবণতার পর। আর আশা রাখি যে, আমি যেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক) এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারি: "ব্যক্তি তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।" আমি প্রত্যেক পাঠকের কাছে আশা রাখি যে, তিনি কবির এই পঙক্তি অনুযায়ী এই কাজের দিকে তাকাবেন:

সন্তুষ্টির চোখ সমস্ত দোষের ক্ষেত্রে অন্ধ হয়ে থাকে … যেমন অসন্তুষ্টির চোখ মন্দগুলো প্রকাশ করে দেয়

আমি যদি ভুলেও যাই, তবে আমি সেই একদল ভাইকে ভুলব না যাদের সাথে আমার ঈমানের ভালোবাসা, তাকওয়ার বাণী এবং ইলমি বন্ধুত্ব বিদ্যমান। তারা এই কিতাবটি নিয়ে আমার পথচলায় আমার সাথে রাত জেগেছেন, আমার সাথে এর চিন্তাগুলো বহন করেছেন এবং স্বপ্ন দেখেছেন যে এটি কোনো একদিন আলোর মুখ দেখবে। তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহ তাদের যা দিয়েছেন তা দিয়ে সাহায্য করেছেন এবং আল্লাহ তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করেছেন; তারা সময় বা অর্থ কোনো কিছুতেই আমার প্রতি কার্পণ্য করেননি, যতক্ষণ না এই কাজ স্বীয় পায়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর ভিত্তি ও গতিপথ সুসংহত হয়েছে। আমি তাদের সকলের নাম উল্লেখ করছি না; কারণ তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা পরিচিত হওয়া পছন্দ করেন না এবং যারা চান তাদের কাজকে সেই দিনের জন্য জমা রাখতে।
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫০৬)
تشيب فيه الولدان، ويتفرد بالحكم فيه الملك الديان.

وأخص بالذكر منهم الشاب النبيه، والألمعي الوديع، الأستاذ محمد أولاد عتُّو، الذي قابل معي النسخ كلها مرارًا.

والأستاذ جمال سطيري، الذي كان يضحي براحته في سبيل تصحيح هذا الكتاب.

والأستاذ عبد اللطيف ماسح، الذي كتب على الحاسوب النصف الأول من هذا الكتاب، وعاني معي فيه إلى حد أنه ضحى بمصالحه الشخصية في سبيل إنجازه.

كما أخص بالذكر أم يونس التي ضحت بكل غال ونفيس في سبيل إنجاز هذه المعلمة.

وكذلك أشكر الأخوة الذين ضحوا معي في ترتيب الفهارس، ومراجعتها، وتحريرها النهائي.

ومن لم أذكرهم أكثر ممن ذكرتهم، فكلهم لا أستطيع أن أؤدي لهم حقوقهم، فقد طوقوا عنقي بالمنن، وهل أستطيع أداءها؟!.

أرجو من العلي القدير أن يثيبهم، وأن يجزل لهم العطاء، وأن يرزقنا وإياهم مقعد صدق عند مليك مقتدر، مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين، والصديقين، والشهداء، والصالحين، وحسن أولئك رفيقًا.

 

وكتب

الدكتور الحسين آيت سعيد زين الدين

حامدًا، ومصليًا

يوم الخميس 17 شوال 1416 هـ

الموافق 7/ 3 / 1996 م

بمدينة مراكش المحروسة.

***
যেই দিনে শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং বিচারকার্য একচ্ছত্রভাবে রাজাধিরাজ মহান বিচারকের অধীনে থাকবে।

তাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি প্রখর মেধাবী ও নম্র যুবক উস্তাদ মুহাম্মদ আওলাদ আত্তু-কে, যিনি বারবার আমার সাথে সমস্ত পাণ্ডুলিপিগুলো মিলিয়ে দেখেছেন।

আর উস্তাদ জামাল সুতাইরি-কে, যিনি এই কিতাবটির সংশোধনের পথে নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়েছেন।

আর উস্তাদ আবদুল লতিফ মাসিহ্-কে, যিনি এই কিতাবটির প্রথমার্ধ কম্পিউটারে কম্পোজ করেছেন এবং এতে আমার সাথে এতটাই মেহনত করেছেন যে, এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থও বিসর্জন দিয়েছেন।

আমি আরও বিশেষভাবে উম্মু ইউনুস-এর কথা উল্লেখ করছি, যিনি এই জ্ঞানকোষটি সম্পন্ন করার পথে তাঁর মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করেছেন।

একইভাবে আমি সেই ভাইদের কৃতজ্ঞতা জানাই যারা সূচিপত্র সাজাতে, সেগুলো পুনর্বার দেখতে এবং চূড়ান্ত সম্পাদনায় আমার সাথে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

আমি যাদের নাম উল্লেখ করিনি তাদের সংখ্যা যাদের উল্লেখ করেছি তাদের চেয়েও বেশি; আমি তাদের সবার যথাযথ হক আদায় করতে সক্ষম নই, কেননা তারা তাদের অনুগ্রহের বন্ধনে আমাকে আবদ্ধ করেছেন; আর আমি কি তা পরিশোধ করার ক্ষমতা রাখি?!

আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাদেরকে পুরস্কৃত করেন, তাদেরকে প্রচুর প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের ও তাদেরকে মহাসম্মানিত ও সর্বক্ষমতাময় অধিপতির নিকট সত্যের আসনে স্থান দান করেন—সেই ব্যক্তিদের সাথে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলদের সাথে; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার!

 

লিখেছেন

ডক্টর আল-হুসাইন আইত সাইদ জাইন উদ্দীন

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠান্তে

বৃহস্পতিবার, ১৭ই শাওয়াল ১৪১৬ হিজরি

মোতাবেক ৭/ ৩ / ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

সংরক্ষিত শহর মারাক্কেশ-এ।

***
(খণ্ড: ১) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
بيان الوهم والإيهام في كتاب الأحكام   (ابن القطان)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: بيان الوهم والإيهام في كتاب الأحكام

(وهو بيان للأوهام الواقعة في كتاب الأحكام لعبد الحق الإشبيلي)

فائدة: [اشتهر أن المؤلف وضع كتابه على الأحكام الكبرى لعبد الحق، ورجح المحقق بالدراسة أنه وضعه على الأحكام الوسطى]

المؤلف: ابن القطان الفاسي، أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الملك (ت 628 هـ)

دراسة وتحقيق: د الحسين آيت سعيد

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراه، كلية الآداب، مراكش 1994 م بإشراف د فاروق حمادة

الناشر: دار طيبة، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 6 (4 وجزء للمقدمة وآخر للفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাবুল আহকামের ভুলভ্রান্তি ও সংশয়সমূহের বর্ণনা   (ইবনুল কাত্তান)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ

গ্রন্থ: কিতাবুল আহকামের ভুলভ্রান্তি ও সংশয়সমূহের বর্ণনা

(এটি আব্দুল হক আল-ইশবিলী রচিত কিতাবুল আহকাম গ্রন্থে বিদ্যমান ভুলভ্রান্তিসমূহের বর্ণনা)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: [এটি প্রসিদ্ধ যে লেখক আব্দুল হকের 'আল-আহকামুল কুবরা' গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে কিতাবটি রচনা করেছেন, তবে গবেষক পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাধান্য দিয়েছেন যে তিনি এটি 'আল-আহকামুল উসতা' গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন]

লেখক: ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি, আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক (মৃত্যু ৬২৮ হিজরি)

পর্যালোচনা ও সম্পাদনা: ড. আল-হুসাইন আইত সাঈদ

সম্পাদনার মূল উৎস: পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, কলা অনুষদ, মাররাকেশ ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ, ড. ফারুক হামাদার তত্ত্বাবধানে

প্রকাশক: দার তাইয়িবা, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৬ (মূল ৪ খণ্ড এবং একটি খণ্ড ভূমিকার জন্য ও অন্যটি সূচিপত্রের জন্য)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ، الفقيه، المحدث، العالم، الأوحد، أبو الحسن: علي بن الشيخ، الفقيه، المرحوم أبي عبد الله، محمد بن عبد الملك بن يحيى المعروف بابن القطان رحمه الله ورضي عنه -:

الحمد لله كما يحق له ويجب، والصلاة والتسليم على محمد نبيه المصطفى المنتخب.

وبعد: فإن أبا محمد عبد الحق بن عبد الرحمن الأزدي، ثم الإشبيلي - رحمة الله عليه - قد خلد في كتابه الذي جمع فيه أحاديث [أحكام] أفعال المكلفين علماً نافعاً، وأجراً قائما، زكا به عمله، ونجح فيه سعيه، وظهر عليه ما صلح فيه من نيته، وصح من طويته فلذلك شاع الكتاب المذكور وانتشر، وتلقي بالقبول، وحق له ذلك، لجودة تصنيفه، وبراعة تأليفه واقتصاده وجودة اختياره، فلقد أحسن فيه ما شاء وأبدع فوق ما أراد، وأربى على الغاية وزاد، ودل منه على حفظ وإتقان، وعلم، وفهم، واطلاع، واتساع، فلذلك لا تجد أحداً ينتمي إلى نوع من أنواع العلوم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ, ফকিহ, মুহাদ্দিস, আলেম, অনন্য ব্যক্তিত্ব আবুল হাসান: আলী বিন শায়খ, ফকিহ, মরহুম আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন ইয়াহইয়া, যিনি ইবনুল কাত্তান নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তাঁর প্রাপ্য এবং তাঁর জন্য আবশ্যক; আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর।

অতঃপর: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান আল-আজদি, অতঃপর আল-ইশবিলি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর সেই কিতাবে—যাতে তিনি মুকাল্লাফদের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের) আমলসমূহের [বিধান সংক্রান্ত] হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন—একটি উপকারী জ্ঞান এবং এক চিরস্থায়ী সওয়াব অমর করে রেখে গেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর আমল পরিশুদ্ধ হয়েছে, তাঁর প্রচেষ্টা সফল হয়েছে এবং এতে তাঁর নিয়তের বিশুদ্ধতা ও অন্তরের স্বচ্ছতা প্রকাশ পেয়েছে। এ কারণেই উল্লিখিত কিতাবটি প্রসিদ্ধি ও ব্যাপকতা লাভ করেছে এবং তা কবুলিয়তের মর্যাদা পেয়েছে। আর এটি এর যোগ্যও বটে; কারণ এর বিন্যাস ছিল উৎকৃষ্ট, রচনা ছিল শৈল্পিক ও পরিমিত এবং চয়ন ছিল চমৎকার। তিনি এতে আপন ইচ্ছামতো সর্বোত্তম কাজ করেছেন, তাঁর উদ্দেশ্যের চাইতেও বেশি সৃজনশীলতা দেখিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি তাঁর হেফজ (স্মৃতিশক্তি), পারদর্শিতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পাণ্ডিত্য ও গভীর অবগতির প্রমাণ দিয়েছেন। এ কারণেই আপনি এমন কাউকে পাবেন না, যিনি কোনো জ্ঞানচর্চার সাথে সম্পৃক্ত...
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮)
الشرعية، إلا والكتاب المذكور عنده، أو نفسه متعلقة به.

قد حداهم حسن تأليفه إلى الإكباب عليه وإيثاره وخاصة من لا يشارك في طلبه بشيء من النظر في علم الحديث، من فقهاء، ومتكلمين، وأصوليين، فإنهم الذين قد قنعوا به، ولم يبتغوا سواه، حتى لربما جر عليهم جهالات:

[منهاٍ] اعتقاد أحدهم أنه لو نظر في كتب الحديث نظر أهله، فرواها وتفقد أسانيدها، وتعرف أحوال رواتها فعلم بذلك صحة الصحيح، وسقم السقيم وحسن الحسن، فاته كثير مما احتوى عليه الكتاب المذكور من مشتت الأحاديث، التي لا يحتوي عليها إلا ما يتعذر على الأكثر من الناس جمعه.

وهذا ممن اعتقده غلط، بل إتقان كتاب من كتب الحديث، وتعرفه كما يجب، يحصل له أكثر مما يحصل له الكتاب المذكور من صناعة النقل فإنه ما من حديث يبحث عنه حق البحث، إلا ويجتمع له من أطرافه - وضم ما في معناه إليه، والتنبه لما يعارضه في جميع ما يقتضيه أو بعضه، أو ما يعاضده ومعرفة أحوال نقلته وتواريخهم - ما يفتح له في الألف من الأحاديث.

وكذلك يجر عليهم أيضاً اعتقاد أن ما ذكره من عند البخاري مثلاً لا بد فيه من البخاري وما علم أنه ربما يكون عند جميعهم، وما ذكره من عند أبي داود،
শরয়ি (বিষয়াবলি), তবে উল্লিখিত কিতাবটি তার নিকট থাকে অথবা তার সত্তা এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।

এর চমৎকার বিন্যাস শৈলী তাদেরকে এর প্রতি ঝুঁকে পড়তে এবং একে প্রাধান্য দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে, বিশেষ করে যারা ইলমে হাদিসের গবেষণায় সম্পৃক্ত নন—যেমন ফকিহ, মুতাকাল্লিম এবং উসুলবিদগণ। কেননা তাঁরাই এতে পরিতুষ্ট হয়েছেন এবং এটি ছাড়া অন্য কিছু অনুসন্ধান করেননি, এমনকি এটি তাদের অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতার দিকেও টেনে নিয়েছে:

[তার মধ্যে একটি হলো] তাদের কারো এই বিশ্বাস যে, সে যদি হাদিসের কিতাবসমূহে এর বিশেষজ্ঞদের ন্যায় দৃষ্টি দিত, সেগুলো বর্ণনা করত, এর সনদসমূহ যাচাই করত এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জানত—যদ্বারা সহিহ হাদিসের বিশুদ্ধতা, জয়িফ হাদিসের ত্রুটি এবং হাসান হাদিসের মান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়—তবে উক্ত কিতাবে বিদ্যমান সেই সব বিক্ষিপ্ত বহু হাদিস তার হাতছাড়া হয়ে যেত, যা এমন সব সংকলন ছাড়া পাওয়া দুষ্কর যা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সংগ্রহ করা অসম্ভব।

আর যারাই এমন বিশ্বাস পোষণ করে তাদের এই ধারণা ভুল। বরং হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি কিতাব আয়ত্ত করা এবং তা যথাযথভাবে জানা বর্ণনার শাস্ত্রীয় বিদ্যায় তার জন্য উক্ত কিতাবের চেয়েও অধিক ফলদায়ক। কেননা এমন কোনো হাদিস নেই যা নিয়ে যথাযথ গবেষণা করা হয়, আর তার বিভিন্ন সূত্র একত্রিত করা হয়—এবং এর সমার্থবোধক বর্ণনাগুলোকে এর সাথে যুক্ত করা হয়, আর এর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক দাবি যা কিছুর পরিপন্থী সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয় অথবা যা একে সমর্থন করে তা দেখা হয়, এবং এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানা হয়—তবে তা তার জন্য হাজারো হাদিসের দ্বার উন্মোচন করে দেয়।

অনুরূপভাবে এটি তাদেরকে এই বিশ্বাসের দিকেও নিয়ে যায় যে, উদাহরণস্বরূপ তিনি ইমাম বুখারি থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা অবশ্যই বুখারিতে থাকতে হবে; অথচ তিনি জানেন না যে এটি হয়তো তাদের সবার নিকটই বিদ্যমান রয়েছে। আবার তিনি যা আবু দাউদ থেকে উল্লেখ করেছেন,
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৯)
ربما ليس هو عند الترمذي، أو النسائي، ولذلك ذكره من عند أبي داود وما علم أنه ربما لم يخل منه كتاب [أيضاً].

وكذلك [أيضا] يجر عليهم تحصيل الأحاديث مشتتة غاية التشتت بحيث يتعرض للغلط في نسبتها إلى مواضعها بأدنى غيبة عنها ولذلك ما ترى المشتغلين به، الآخذين أنفسهم بحفظه، ينسبون إلى مسلم ما ليس عنده أو إلى غيره ما لم يذكر كذلك، وربما شعر أحدهم بأنه بذلك مدلس كتدليس من يروي ما لم يسمع عمن قد روى عنه، من حيث يوهم قوله: ذكر مسلم أو البخاري كذا، أنه قد رأى ذلك في موضعه، ونقله من حيث ذكر، فيتحرج من ذلك أحدهم فيحوجه ذلك إلى أن يقول ذكره عبد الحق، فيحصل من ذلك في مثل ما يحصل فيه من يذكر من النحو مسألة وهي في كتاب سيبويه فيقول: ذكرها المهدوي في التحصيل أو مكي في الهداية أو يذكر مسألة من الفقه، هي في أمهات كتبه، فينسبها إلى متأخري الناقلين منها بخلاف ما يتحصل الأمر عليه في نفس قارئ كتاب مسلم، أو أبى داود مثلاً، فإنه يعلم الأبواب مرتبة مصنفة، وأطرافها من غيره وما عليها من زيادات، أو معارضات، أو معاضدات، مرتبة عليها في
সম্ভবত এটি তিরমিযী বা নাসাঈর নিকট নেই, তাই তিনি এটি আবু দাউদের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন; অথচ তিনি জানতেন না যে সম্ভবত কোনো গ্রন্থই [আরও] এটি থেকে মুক্ত নয়।

অনুরূপভাবে [আরও], এটি তাদের নিকট হাদীস সংগ্রহের বিষয়টিকে অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত করে দেয়, যার ফলে সামান্য অসাবধানতায় হাদীসগুলোকে তাদের মূল উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই কারণেই আপনি যারা এই শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত এবং যারা এটি মুখস্থ করার দায়িত্ব নিয়েছেন, তাদের দেখবেন যে—তারা ইমাম মুসলিমের দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ করেন যা তাঁর নিকট নেই, অথবা অন্যের দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ করেন যা তিনি সেভাবে উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তাদের কেউ কেউ অনুভব করেন যে, এর মাধ্যমে তারা ‘মুদাল্লিস’ (তথ্য গোপনকারী) হিসেবে গণ্য হচ্ছেন; যেমনটি সেই ব্যক্তির ‘তাদলীস’ যে এমন ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করে যার কাছ থেকে সে সরাসরি শোনেনি। কারণ তার এই উক্তি—‘মুসলিম বা বুখারী এমনটি উল্লেখ করেছেন’—এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, সে যেন তা মূল স্থানেই দেখেছে এবং যেখান থেকে উল্লেখ করা হয়েছে সেখান থেকেই তা উদ্ধৃত করেছে। ফলে তাদের কেউ কেউ এতে সংকুচিত বোধ করেন, যা তাকে বলতে বাধ্য করে যে, ‘আবদুল হক এটি উল্লেখ করেছেন’। এর ফলে অবস্থা অনেকটা সেই ব্যক্তির মতো হয়ে দাঁড়ায়, যে নাহুর (ব্যাকরণ) কোনো মাসআলা উল্লেখ করছে যা সীবওয়াইহ-এর কিতাবে বিদ্যমান, অথচ সে বলছে: ‘মাহদাবী এটি আত-তাহসীল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন’ অথবা ‘মাক্কী এটি আল-হিদায়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন’। অথবা ফিকহের কোনো মাসআলা উল্লেখ করে যা এর মৌলিক গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান, কিন্তু সে তা পরবর্তী যুগের কোনো বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধ করে। অথচ সহীহ মুসলিম বা সুনানে আবু দাউদ পাঠকারীর অবস্থা এর বিপরীত হয়; কারণ সে সুবিন্যস্ত ও শ্রেণীবদ্ধ অধ্যায়সমূহ সম্পর্কে জানে এবং অন্যদের থেকে এর সূত্রসমূহ (আতরাফ) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বর্ণনা, বৈপরীত্য কিংবা সমর্থনমূলক বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হয়, যা সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো থাকে।
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১০)
خاطره بحيث لا يختل ولا يتثبج إلا في الندرة.

والذي يحصل من علم صحة هذا الذي وصفناه للمزاول، أكثر وأبين مما وصفنا منه، فالكتاب المذكور من حيث حسنه وكثرة ما فيه، قد جر الإعراض عن النظر الصحيح، والترتيب الأولى، من تحصيل الشيء من معدنه، وأخذه من حيث أخذه هو وغيره.

هذا على تقدير سلامته من اختلال نقل، أو إغفال، أو خطأ، في نظر أهل هذا الشأن.

فأما والأمر على هذا، فقد يجب أن يكون نظر من يقرؤه وبحثه أكثر وأكبر من بحث من يقرأ أصلاً من الأصول، لا كما يصنعه كثير ممن أكب عليه: من اعتمادهم على ما نقل، وتقليدهم إياه فيما رأى وذهب إليه من تصحيح أو تسقيم، وقد يعمم بعضهم هذه القضية في جميع نظر المحدث، ويقول: إنه كله تقليد، وإن غاية ما ينتهي إليه الناظر بنظرهم تقليد معدل أو مجرح، فهو كتقليد مصحح أو مضعف للحديث.

وهذا ممن يقوله خطأ بل ينتهي الأمر بالمحدث إلى ما هو الحق من قبول الرواية ورد الرأي فهو لا يقلد من صحح ولا من ضعف، كما لا يقلد من حرم ولا من حلل، فإنها في العلمين مسائل مجتهدة، لكنه يقبل من رواية
তাঁর স্মৃতিতে এমনভাবে সংরক্ষিত থাকে যাতে খুব দুর্লভ ক্ষেত্র ব্যতীত তাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয় না।

আর আমরা যা বর্ণনা করেছি তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে চর্চাকারীর অর্জিত জ্ঞান আমাদের বর্ণনার চেয়েও অধিক ও স্পষ্টতর। সুতরাং উল্লিখিত গ্রন্থটি তার সৌন্দর্য ও বিষয়বস্তুর আধিক্যের কারণে সঠিক অনুসন্ধান এবং কোনো বিষয়কে তার মূল উৎস থেকে আহরণ করা ও লেখক এবং অন্যরা যেখান থেকে তা গ্রহণ করেছেন সেখান থেকে তা গ্রহণ করার মতো অগ্রাধিকারযোগ্য বিন্যাস থেকে বিমুখ করে তুলেছে।

এটি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্ণনাগত ত্রুটি, অবহেলা বা ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার অনুমানের ভিত্তিতে।

কিন্তু বিষয়টি যেহেতু এরূপ, তাই যে ব্যক্তি এটি পড়বে তার পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান কোনো মূল উৎস পাঠকারীর অনুসন্ধানের চেয়েও অধিক ও গভীর হওয়া আবশ্যক। যারা এর ওপর ঝুঁকে পড়েছে তাদের অনেকের কাজের মতো নয়—যারা যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে এবং হাদীস বিশুদ্ধ বা অশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে লেখকের মত ও সিদ্ধান্তের অন্ধ অনুসরণ করে। এমনকি কেউ কেউ এই বিষয়টিকে মুহাদ্দিসগণের সমস্ত মতামতের ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করে এবং বলে: এটি পুরোপুরিই তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ; তাদের মতে একজন গবেষকের শেষ গন্তব্য হলো কোনো বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বা অযোগ্য ঘোষণাকারীর অন্ধ অনুসরণ করা, যা হাদীস বিশুদ্ধকারী বা দুর্বল ঘোষণাকারীর অন্ধ অনুসরণের মতো।

যারা এটি বলে তারা ভুলের মধ্যে রয়েছে; বরং মুহাদ্দিসের বিষয়টি হকের দিকেই ধাবিত হয় যা হলো বর্ণনা গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত মতামত প্রত্যাখ্যান করা। সুতরাং তিনি হাদীস বিশুদ্ধকারী বা দুর্বল ঘোষণাকারীর অন্ধ অনুসরণ করেন না, যেমনটি তিনি কোনো বিষয়কে হারাম বা হালাল ঘোষণাকারীর অন্ধ অনুসরণ করেন না। কেননা উভয় শাস্ত্রেই এগুলো গবেষণালব্ধ বিষয়, তবে তিনি বর্ণনা থেকে গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১১)
العدل الناقل له من أحوال من روى عنه الحديث، ما يحصل عنده الثقة بنقله، أو عكس ذلك.

ونقلهم لذلك إما مفصلاً وإما مجملا، بلفظ مصطلح عليه، كألفاظ التعديل والتجريح، فإنهم قد تواضعوا عليها بدلاً من التطوف على جزئيات الأحوال، وتأديتها على التفصيل.

فكما كان يحصل لنا من نقل العدل إذا قال لنا: إن فلانا كان ورعاً، حافظا، فهما، عالما، أن فلانا المذكور مقبول الرواية، مرجح جانب صدقه على جانب كذبه، فكذلك يحصل لنا ذلك، إذا قال لفظاً من الألفاظ المصطلح عليها.

ولبيان هذا المعنى والانفصال عما يتعرض به عليه مواضعه.

ولما كان الحال على ما وصفت - من احتواء الكتاب المذكور على ما لا يعصم منه أحد، ولا سيما من جمع جمعه، وأكثر إكثاره، وكفى المرء نبلا أن تعد معايبه - تجردت لذكر المعثور عليه من ذلك، فذكرته مفيداً به وممثلا لما لم أعثر عليه من نوعه، إذ الإحاطة متعذرة.

وانحصر لي ذلك في أمرين: وهما نقله ونظره، أما نقله فأبواب، منها:

‌‌1 - باب ذكر الزيادة في الأسانيد
একজন বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনাকারীদের এমন সব অবস্থা বর্ণনা করেন, যার মাধ্যমে তার বর্ণনার প্রতি আস্থা তৈরি হয়, অথবা এর বিপরীতটা ঘটে।

এবং তাদের এই বর্ণনা হয় বিস্তারিত অথবা সংক্ষিপ্ত আকারে, কোনো পারিভাষিক শব্দের মাধ্যমে। যেমন—তাদিল (প্রশংসা) ও তাজরিহ (ত্রুটি বর্ণনা) সংক্রান্ত শব্দাবলী। কেননা তারা অবস্থার খুঁটিনাটি বর্ণনার পরিবর্তে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার স্থলে এই পরিভাষাগুলোর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

সুতরাং একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির বর্ণনা থেকে আমরা যেভাবে জানতে পারি যে, যখন তিনি আমাদের বলেন: "অমুক ব্যক্তি ছিলেন পরহেজগার, হাফেজ, প্রজ্ঞাবান ও আলেম," তখন উক্ত ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় এবং তার মিথ্যার দিকের চেয়ে সত্যের দিকটি প্রাধান্য পায়; ঠিক তেমনিভাবে আমাদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয় যখন তিনি পারিভাষিক শব্দগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি শব্দ উচ্চারণ করেন।

এবং এই অর্থটি স্পষ্ট করার জন্য এবং এর উপর যেসব আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে তা নিরসনের জন্য এর নির্দিষ্ট স্থানসমূহ রয়েছে।

আর বিষয়টি যখন আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি ঠিক তেমনই—অর্থাৎ উল্লিখিত কিতাবটি এমন কিছু বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে কেউ সংরক্ষিত নয়, বিশেষ করে যিনি এতো বিশাল সংগ্রহ করেছেন এবং এতো আধিক্য ঘটিয়েছেন; আর একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায়—তাই আমি সেখানে যা কিছু পেয়েছি তা উল্লেখ করার জন্য ব্রতী হয়েছি। আমি তা উল্লেখ করেছি ফায়দা স্বরূপ এবং সে জাতীয় যা কিছু আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি সেগুলোর উদাহরণ হিসেবে, কারণ পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টন করা অসম্ভব।

আর আমার নিকট বিষয়টি দুটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে: তার বর্ণনা এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি। বর্ণনার ক্ষেত্রে কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো:

‌‌১ - সনদসমূহে অতিরিক্ত বর্ণনার আলোচনা সংক্রান্ত অধ্যায়।
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌2 - باب ذكر النقص من الأسانيد

‌‌3 - باب نسبة الأحاديث إلى غير رواتها

‌‌4 - باب ذكر أحاديث، يوردها من موضع عن راو، ثم يردفها زيادة أو حديثا، من موضع آخر، موهما أنها عن ذلك الراوي، أو بذلك الإسناد، أو في تلك القصة، أو في ذلك الموضع، وليس كذلك

‌‌5 - باب ذكر أحاديث، يظن من عطفها على أخر، أو إردافها إياها أنها مثلها في مقتضياتها، وليست كذلك

‌‌6 - باب أشياء مفترقة تغيرت في نقله أو بعده عما هي عليه

‌‌7 - باب ذكر رواة تغيرت أسماؤهم، أو أنسابهم، عما هي عليه

‌‌8 - باب ذكر أحاديث أوردها ولم أجد لها ذكرا، أو عزاها إلى مواضع ليست هي فيها، أو ليست كما ذكر

‌‌9 - باب ذكر أحاديث أوردها على أنها مرفوعة، وهي موقوفة أو مشكوك في رفعها

‌‌10 - باب ذكر ما جاء موقوفا، وهو في الموضع الذي نقله منه مرفوع

‌‌11 - باب ذكر أحاديث أغفل نسبتها إلى المواضع التي أخرجها منها

‌‌12 - باب ذكر أحاديث أبعد النجعة في إيرادها، ومتناولها أقرب وأشهر.

وها هنا انتهى القسم الأول الراجع إلى نقله، فإن جميع هذه الأبواب
২ - সনদসমূহের ঘাটতি উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

৩ - হাদিসসমূহকে তাদের বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্যদের দিকে সম্বন্ধ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

৪ - এমন হাদিসসমূহের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা তিনি এক স্থান থেকে কোনো বর্ণনাকারীর সূত্রে উল্লেখ করেন, অতঃপর অন্য স্থান থেকে কোনো অতিরিক্ত অংশ বা হাদিস তার সাথে জুড়ে দেন; যা এ ধারণা দেয় যে, এটি ওই বর্ণনাকারী থেকেই বর্ণিত, অথবা ওই সনদে বর্ণিত, অথবা ওই কিসসায় বর্ণিত, অথবা ওই স্থানে বর্ণিত, অথচ বিষয়টি তেমন নয়

৫ - এমন হাদিসসমূহের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা অন্য হাদিসের সাথে সংযুক্তি বা অনুবর্তিতার কারণে ধারণা করা হয় যে এটি তার মর্মার্থের অনুরূপ, অথচ বিষয়টি তেমন নয়

৬ - বিভিন্ন বিবিধ বিষয় সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা তার বর্ণনায় বা তার পরবর্তী সময়ে মূল অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে

৭ - এমন বর্ণনাকারীদের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যাদের নাম বা বংশপরিচয় মূল অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে

৮ - এমন হাদিসসমূহের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা তিনি বর্ণনা করেছেন কিন্তু আমি তার কোনো উল্লেখ পাইনি, অথবা তিনি সেগুলোকে এমন স্থানের দিকে সম্বন্ধ করেছেন যেখানে সেগুলো নেই, অথবা সেগুলো তেমন নয় যেমন তিনি উল্লেখ করেছেন

৯ - এমন হাদিসসমূহের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অথচ সেগুলো মাওকুফ অথবা সেগুলো মারফু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে

১০ - যা মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তার উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, অথচ যে স্থান থেকে তিনি এটি গ্রহণ করেছেন সেখানে তা মারফু হিসেবে রয়েছে

১১ - এমন হাদিসসমূহের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যেগুলোকে তিনি যে উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন তার দিকে সম্বন্ধ করতে অবহেলা করেছেন বা বাদ দিয়েছেন

১২ - এমন হাদিসসমূহের উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি দূরবর্তী উৎস বেছে নিয়েছেন, অথচ তার উৎস অনেক নিকটবর্তী ও প্রসিদ্ধ ছিল।

আর এখানেই তার বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রথম অংশ সমাপ্ত হলো; কেননা এই সকল পরিচ্ছেদসমূহ...
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
أوهام، إما منه، وإما ممن بعده.

فأما ما يرجع إلى نظره فمنه:

‌‌1 - باب ذكر أحاديث، أوردها على أنها متصلة، وهي منقطعة، أو مشكوك في اتصالها

‌‌2 - باب ذكر أحاديث ردها بالانقطاع وهي متصلة

‌‌3 - باب ذكر أحاديث، ذكرها على أنها مرسلة لا عيب لها سوى الإرسال، وهي معتلة بغيره، ولم يبين ذلك منها

‌‌4 - باب ذكر أحاديث أعلها برجال، وفيها من هو مثلهم، أو أضعف، أو مجهول لا يعرف

‌‌5 - باب ذكر أحاديث أعلها بما ليس بعلة، وترك ذكر عللها

‌‌6 - باب ذكر أحاديث، أعلها ولم يبين من أسانيدها مواضع العلل

‌‌7 - باب ذكر أحاديث سكت عنها مصححا لها، وليست بصحيحة

‌‌8 - باب ذكر أحاديث سكت عنها، وقد ذكر أسانيدها أو قطعا منها، ولم يبين من أمرها شيئا

‌‌9 - باب ذكر أحاديث، أتبعها منه كلاما يقضى ظاهره بتصحيحها، وليست بصحيحة

‌‌10 - باب ذكر أحاديث، أتبعها منه كلاماً لا يبين منه مذهبه فيها، فنبين أحوالها، من صحة، أو سقم، أو حسن

‌‌11 - باب ذكر أحاديث أوردها على أنها صحيحة أو حسنة، وهي ضعيفة من تلك الطرق، صحيحة أو حسنة من غيرها
ভুলভ্রান্তি, যা হয় তাঁর পক্ষ থেকে, অথবা তাঁর পরবর্তী কারো পক্ষ থেকে।

আর যা তাঁর পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যা তিনি মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ সেগুলো মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) অথবা সেগুলোর সূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে

‌‌২ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যা তিনি সূত্র বিচ্ছিন্ন হওয়ার (ইনকিতা) কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন, অথচ সেগুলো মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন)

‌‌৩ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোকে তিনি মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর মধ্যে ইরসাল (সূত্রহীনতা) ব্যতীত অন্য কোনো ত্রুটি নেই বলে গণ্য করেছেন, অথচ সেগুলো অন্য কোনো কারণে ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল), যা তিনি সেখানে স্পষ্ট করেননি

‌‌৪ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোকে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বর্ণনাকারীর কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, অথচ সেগুলোর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যারা তাদের সমপর্যায়ের, অথবা তাদের চেয়েও দুর্বল, কিংবা এমন মাজহুল (অপরিচিত) যাকে চেনা যায় না

‌‌৫ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোকে তিনি এমন বিষয়ের মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন যা মূলত কোনো ইল্লত (ত্রুটি) নয়, এবং সেগুলোর প্রকৃত ত্রুটিগুলো উল্লেখ করা বর্জন করেছেন

‌‌৬ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোকে তিনি ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন কিন্তু সেগুলোর সনদের কোথায় ত্রুটি রয়েছে তা স্পষ্ট করেননি

‌‌৭ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোর ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ থেকে সেগুলোকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন, অথচ সেগুলো সহিহ নয়

‌‌৮ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোর ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ থেকেছেন এবং সেগুলোর সনদসমূহ অথবা সনদের অংশবিশেষ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেগুলোর অবস্থা সম্পর্কে কিছুই স্পষ্ট করেননি

‌‌৯ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোর পরে তিনি এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন যার বাহ্যিক দিক সেগুলোকে সহিহ হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করে, অথচ সেগুলো সহিহ নয়

‌‌১০ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোর পরে তিনি এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন যা থেকে সে বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয় না; সুতরাং আমরা সেগুলোর সহিহ, সাকিম (ত্রুটিযুক্ত) বা হাসান হওয়ার অবস্থা স্পষ্ট করব

‌‌১১ - সেই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, যেগুলোকে তিনি সহিহ অথবা হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ সেই নির্দিষ্ট সূত্রগুলো থেকে সেগুলো যয়িফ (দুর্বল), যদিও অন্য কোনো সূত্র থেকে সেগুলো সহিহ অথবা হাসান
(খণ্ড: ২) বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি ফী কিতাবিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌12 - باب ذكر أحاديث ضعفها من الطرق التي أوردها منها وهي ضعيفة منها، صحيحة أو حسنة من طرق أخر

‌‌13 - باب ذكر أحاديث ضعفها، وهي صحيحة أو حسنة، وما أعلها به ليس بعلة

‌‌14 - باب ذكر أحاديث ضعفها، ولم يبين بماذا؟ وضعفها إنما هو الانقطاع أو توهمه

‌‌15 - باب ذكر أمور جميلة من أحوال رجال يجب اعتبارها، فأغفل ذلك أو تناقض فيه

‌‌16 - باب ذكر رجال لم يعرفهم، وهم ثقات، أو ضعاف، أو مختلف فيهم

‌‌17 - باب ذكر أحاديث، عرف ببعض رواتها، فأخطأ في التعريف بهم

‌‌18 - باب ذكر رجال ضعفهم بما لا يستحقون، وأشياء ذكرها من غيره محتاجة إلى التعقب

‌‌19 - باب ذكر أحاديث، أغفل منها زيادات مفسرة، أو مكملة، أو متممة

‌‌20 - باب ذكر المصنفين الذين أخرج عنهم في كتابه ما أخرج: من حديث، أو تعليل، أو تجريح، أو تعديل

‌‌21 - باب ذكر مضمن هذا الكتاب على نسق التصنيف.

فهذا هو القسم الراجع إلى نظره، ما عدا البابين الأخيرين.

فجميع هذا القسم، إيهام منه لصحة سقيم، أو لسقم صحيح، أو
১২ - সেই সব হাদিসের আলোচনার অধ্যায় যেগুলোকে তিনি তার উল্লিখিত সূত্রসমূহের কারণে দুর্বল বলেছেন এবং সেগুলো সেই সূত্রে দুর্বলই, তবে অন্যান্য সূত্রে সেগুলো সহিহ বা হাসান।

১৩ - সেই সব হাদিসের আলোচনার অধ্যায় যেগুলোকে তিনি দুর্বল বলেছেন, অথচ সেগুলো সহিহ বা হাসান; আর তিনি যেটিকে ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা আসলে কোনো ত্রুটি নয়।

১৪ - সেই সব হাদিসের আলোচনার অধ্যায় যেগুলোকে তিনি দুর্বল বলেছেন কিন্তু কেন তা স্পষ্ট করেননি; আর সেগুলোর দুর্বলতা মূলত বর্ণনাসূত্রের বিচ্ছিন্নতা অথবা বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কার কারণে।

১৫ - বর্ণনাকারীদের অবস্থাসমূহের মধ্য থেকে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনার অধ্যায় যা বিবেচনা করা আবশ্যক, অথচ তিনি সে বিষয়ে গাফিলতি করেছেন অথবা তাতে স্ববিরোধিতা করেছেন।

১৬ - এমন সব বর্ণনাকারীর আলোচনার অধ্যায় যাদেরকে তিনি চিনতে পারেননি, অথচ তারা নির্ভরযোগ্য, অথবা দুর্বল, কিংবা তাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

১৭ - সেই সব হাদিসের আলোচনার অধ্যায় যেগুলোর কিছু বর্ণনাকারীর পরিচয় তিনি দিয়েছেন, কিন্তু তাদের পরিচয় প্রদানে তিনি ভুল করেছেন।

১৮ - এমন সব বর্ণনাকারীর আলোচনার অধ্যায় যাদেরকে তিনি অহেতুক দুর্বল বলেছেন এবং এমন সব বিষয় যা তিনি অন্যের থেকে উল্লেখ করেছেন যা পুনরীক্ষণ করা প্রয়োজন।

১৯ - সেই সব হাদিসের আলোচনার অধ্যায় যেগুলোতে তিনি ব্যাখ্যাসূচক, পরিপূরক বা সমাপ্তিসূচক অতিরিক্ত অংশসমূহ উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন।

২০ - সেই সব গ্রন্থকারের আলোচনার অধ্যায় যাদের থেকে তিনি তার গ্রন্থে হাদিস, ত্রুটি বিশ্লেষণ, জেরা বা তাদিল (সমালোচনা বা প্রশংসা) উদ্ধৃত করেছেন।

২১ - শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু আলোচনার অধ্যায়।

শেষোক্ত অধ্যায় দুটি ব্যতীত এই পুরো অংশটিই তার পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট।

এই পুরো অংশটিই হচ্ছে তার পক্ষ থেকে কোনো দুর্বল হাদিসকে সহিহ মনে করার ভ্রান্তি অথবা সহিহ হাদিসকে দুর্বল মনে করার বিভ্রান্তি কিংবা...