(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: -)
البدر المنير في تخريج الأحاديث والأثار الواقعة في الشرح الكبير القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: البدر المنير في تخريج الأحاديث والأثار الواقعة في الشرح الكبير
المؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (ت 804هـ)
المحقق: مصطفى أبو الغيط وعبد الله بن سليمان وياسر بن كمال
الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع - الرياض-السعودية
الطبعة: الاولى، 1425هـ-2004م
عدد الأجزاء: 9
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আশ-শারহুল কাবীর-এ বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ বিষয়ক গ্রন্থ আল-বদরুল মুনীর বিভাগ: হাদিসের উৎস নির্ণয় (তাখরিজ) ও বিন্যাস (আত্বরাফ)
গ্রন্থ: আশ-শারহুল কাবীর-এ বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ বিষয়ক গ্রন্থ আল-বদরুল মুনীর
লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিয়ী আল-মিসরি (মৃত্যু ৮০৪ হিজরি)
সম্পাদক: মুস্তফা আবু আল-গায়ত, আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান এবং ইয়াসির বিন কামাল
প্রকাশক: দারুল হিজরাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৯
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[البدر المنير في تخريج الأحاديث والأثار الواقعة في الشرح الكبير]ـ
المؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (المتوفى: 804هـ)
المحقق: مصطفى أبو الغيط وعبد الله بن سليمان وياسر بن كمال
الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع - الرياض-السعودية
الطبعة: الاولى، 1425هـ-2004م
عدد الأجزاء: 9
[الكتاب مدقق إملائيا وترقيمه موافق للمطبوع]
[আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীস ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিল শারহিল কাবীর]
লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আল-মিসরী (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরী)
মুহাক্কিক: মুস্তফা আবু আল-গায়ত, আব্দুল্লাহ বিন সুলায়মান এবং ইয়াসির বিন কামাল
প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রকাশনা ও বিতরণ - রিয়াদ-সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরী-২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৯
[বইটি বানানগতভাবে নিরীক্ষিত এবং এর সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৫৫)
مُقَدّمَةبسم الله الرحمن الرحيم
(رَبنَا آتنا من لَدُنْك رَحْمَة وهيئ لنا من أمرنَا رشدا)
الْحَمد لله رَافع منار الْأَحْكَام، ومظهر دينه بأقوى (عُرًى) وإحكام، ومُشَيِّده بحفاظ جَهَابِذَة أَعْلَام، مستمرين مدى الدهور والأعوام.
نحمده عَلَى ذَلِكَ كُله وَعَلَى سَائِر الإنعام، ونشكره عَلَى أَن جعلنَا مِمَّن تَصَدَّى لجمع السّنَن الْكِرَام.
ونشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، شَهَادَة مستمرة عَلَى الدَّوَام، وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أفضل الْأَنَام، صلَّى الله عَلَيْهِ، وَعَلَى آله، وأصحابِه، وأزواجِه، وذرِّيَّاتِه، وَأَتْبَاعه الغُرِّ الْكِرَام.
وبعدُ:
فَإِن أولَى الْعُلُوم - بعد معرفَة كتاب الله - سنة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم؛ إِذْ هِيَ مبينَة للْكتاب الْعَزِيز، الَّذِي (لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد) .
وَلذَلِك أدلةٌ ظَاهِرَة، وبراهينُ متظاهرة:
قَالَ تَعَالَى: (وأنزلنا إِلَيْك الذّكر لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم) .
وَقَالَ: (وَمَا أنزلنَا عَلَيْك الْكتاب إِلَّا لتبين لَهُم الَّذِي اخْتلفُوا فِيهِ وَهدى وَرَحْمَة لقوم يُؤمنُونَ) .
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের এই বিষয়ের সঠিক পথ নির্ধারণ করে দিন।)
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিধানাবলির আলোকস্তম্ভকে সমুন্নত করেছেন, তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী সুদৃঢ় বন্ধন ও নিখুঁতভাবে প্রকাশ করেছেন এবং তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যুগের পর যুগ ও বছরের পর বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকা একনিষ্ঠ বিজ্ঞ পণ্ডিতদের হিফাযতের মাধ্যমে।
আমরা তাঁর প্রশংসা করি এসকল বিষয় এবং অন্যান্য সকল নিআমতের জন্য। আর আমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি যে, তিনি আমাদের সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা সম্মানিত সুন্নাহসমূহ সংগ্রহের কাজে আত্মনিয়োগ করেছে।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই—এই সাক্ষ্য যা চিরকাল বিদ্যমান থাকবে। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর সহধর্মিণীগণ, তাঁর বংশধরগণ এবং তাঁর সম্মানিত মহান অনুসারীদের উপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাব জানার পর সবচেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য ইলম হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ; কারণ তা হলো সেই মহাগ্রন্থের ব্যাখ্যাকারী, যার (সামনে থেকে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না, তা প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।)
আর এর সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও পরস্পর সংহতিপূর্ণ দলিলসমূহ বিদ্যমান:
মহান আল্লাহ বলেন: (আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে।)
তিনি আরও বলেন: (আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি কেবল একারণে যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের নিকট সুস্পষ্ট করবেন এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।)
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৫৬)
وَقَالَ عليه الصلاة والسلام فِي حَدِيث طَوِيل: «إنَّ مَا حَرَّم رسُولُ اللهِ كَمَا حَرَّم اللهُ عز وجل» .
حَدِيث صَحِيح من غير شكّ وَلَا مرية، أودعهُ الْأَئِمَّة: التِّرْمِذِيّ فِي «جَامعه» وحسَّنه، وَالْحَاكِم فِي «مُسْتَدْركه» وصحَّحه، وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالَ: إِسْنَاده صَحِيح.
هَذَا مَعَ اتِّفَاق أهل الْحل وَالْعقد عَلَى أَن من شَرط الْمُجْتَهد - من القَاضِي والمفتي - أَن يكون عالِمًا بِأَحَادِيث الْأَحْكَام، ليعرف بهَا الْحَلَال من الْحَرَام، وَالْخَاص من الْعَام، وَالْمُطلق من الْمُقَيد، والناسخ من الْمَنْسُوخ، وَشبه ذَلِكَ.
وَقد نَدَبَ الشَّارِع - عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام - إِلَى نقلهَا، وحَثَّهم عَلَى حفظهَا، وتبليغها (من) لم يشهدها، فَقَالَ فِي خطبَته (حجَّة) الْوَدَاع: «هَلْ بَلَّغْتُ؟ قَالُوا: نعم. قَالَ: فَلْيُبَلِّغ الشَّاهِدُ مِنْكُم الغَّائِبَ، فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سامع» .
حَدِيث صَحِيح بِاتِّفَاق (الْأَئِمَّة) ، أودعهُ الشَّيْخَانِ فِي (صَحِيحَيْهِمَا) .
এবং তিনি (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) একটি দীর্ঘ হাদিসে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা মহান আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মতোই।"
এটি কোনো প্রকার সন্দেহ ও সংশয়হীন একটি সহিহ হাদিস, যা ইমামগণ সংকলন করেছেন: তিরমিজি তাঁর "জামি" গ্রন্থে এবং একে হাসান বলেছেন, হাকেম তাঁর "মুস্তাদরাক" গ্রন্থে এবং একে সহিহ বলেছেন এবং বাইহাকি, আর তিনি বলেছেন: এর সনদ সহিহ।
এর পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বিশেষজ্ঞগণ (আহলে হাল্লি ওয়াল আকদ) এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, একজন মুজতাহিদের জন্য—চাই তিনি বিচারক হন বা মুফতি—শর্ত হলো তাকে বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে; যাতে তিনি সেগুলোর মাধ্যমে হালাল থেকে হারাম, সাধারণ থেকে বিশেষ, নিঃশর্ত থেকে শর্তযুক্ত, রহিতকারী থেকে রহিত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো চিনতে পারেন।
আর শরিয়ত প্রদাতা—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তা বর্ণনা করার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা মুখস্থ করার ও যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন: "আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: অতএব তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক সময় যার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।"
এটি ইমামগণের সর্বসম্মতিক্রমে একটি সহিহ হাদিস, শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের "সহিহ" গ্রন্থদ্বয়ে এটি সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৫৭)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم أَيْضا: «نَضَّرَ اللهُ امْرأ سمع مَقَالَتي، فَحَفِظَهَا، وَوَعَاهَا، فأَدَّاها إِلَى مَنْ (لَمْ) يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حاملِ فقه غيرِ فَقِيه، ورُبَّ حاملِ فقهٍ إِلَى من هُوَ أفقه مِنْهُ» .
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي «صَحِيحه» ، وَالْحَاكِم أَبُو عبد الله فِي «الْمُسْتَدْرك عَلَى الصَّحِيحَيْنِ» ، وَقَالَ: صَحِيح عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ.
وَقَالَ: « (بَلِّغُوا) عَنِّي وَلَو آيَة» .
رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي «صَحِيحه» .
وَقَالَ: «تَسْمَعُون وَيُسْمَع مِنْكُم، وَيُسْمَعُ مِمَّن (يسمع) مِنْكُم» .
رَوَاهُ أَبُو حَاتِم بن حبَان فِي «صَحِيحه» ، وَالْحَاكِم فِي «الْمُسْتَدْرك» ، وَقَالَ: صَحِيح عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ.
فامتثلت الصَّحَابَة حينئذٍ - الَّذين هم خير قُرُون هَذِه الْأمة، بِشَهَادَتِهِ عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام - فحفظوا عَنهُ أَحْوَاله (وأقواله) وأفعاله، امتثالًا لأَمره، وابتغاء ثَوَابه وأَجره.
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ করেছে ও হৃদয়ে ধারণ করেছে এবং যে তা (শোনেনি) তার নিকট তা পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ফিকহ বহনকারী এমন রয়েছে যে নিজে ফকিহ নয়, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা নিয়ে যায় যে তার চেয়ে অধিক ফকিহ।”
ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে এবং হাকেম আবু আব্দুল্লাহ তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ।
এবং তিনি বলেছেন: “(পৌঁছে দাও) আমার পক্ষ থেকে, যদিও তা একটি আয়াত হয়।”
বুখারী তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি বলেছেন: “তোমরা শুনছ, তোমাদের থেকেও শোনা হবে এবং যারা তোমাদের থেকে (শুনবে) তাদের থেকেও শোনা হবে।”
আবু হাতিম বিন হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ।
অতঃপর সাহাবীগণ—যাঁরা তাঁর (যাঁর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সাক্ষ্য অনুযায়ী এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম—তখন নির্দেশ পালন করলেন। ফলে তাঁরা তাঁর নির্দেশ পালনার্থে এবং সওয়াব ও প্রতিদান প্রাপ্তির আশায় তাঁর অবস্থা, (কথা) ও কার্যাবলি তাঁর নিকট থেকে সংরক্ষণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৫৮)
ثمَّ فعل ذَلِكَ بعدهمْ التابعون وتابعوهم، قبيلًا بعد قبيل، وجِيلًا بعد جيل، تلقوا ذَلِكَ عَنْهُم، واستفادوه مِنْهُم - رَضِيَ اللَّهُ عَنَّا وعنهم.
لَكِن دخل فِي ذَلِكَ قوم لَيْسُوا من أهل هَذَا الشَّأْن، وَلَا جَرْيَ لَهُم فِي هَذَا الميدان، فأخطئوا فِيمَا نقلوا وحَرَّفوا، وَرُبمَا وضعُوا، فَدخلت الآفة من هَذَا الْوَجْه، وَاخْتَلَطَ الصَّحِيح بالسقيم، والمجروح بالسليم، فَحِينَئِذٍ أَقَامَ الله سُبْحَانَهُ - وَله الْحَمد والمِنَّة - طَائِفَة كَبِيرَة من هَذِه الْأمة، هم نُجُوم للدِّين وعَلَمٌ للمسترشدين، فدوَّنوا التصانيف (المبتكرة) ، المبسوطة والمختصرة، ونظروا فِي رجالها - جرحا وتعديلًا، وانقطاعًا ووصلًا - بِالنّظرِ التَّام، وبذلوا وسعهم فِي ذَلِكَ، وَقَامُوا بِهِ أحسن قيام، أعظم الله أَجرهم، وَلَا خَيَّب سعينا وسعيهم.
وهم (مستمرون) عَلَى ذَلِكَ مدى الدهور والأعوام، من زَمَنه عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام إِلَى انْقِضَاء الدُّنْيَا والذهاب، بإخباره عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام حَيْثُ قَالَ: «لَا تَزَالُ طائفةٌ من أُمَّتي ظاهِرينَ عَلَى الحقِّ، لَا يَضُرُّهُم مَنْ خَذَلَهُم، حتَّى تَقُومَ السَّاعةُ» .
فَكَانَت هَذِه الطَّائِفَة كَمَا وَصفهم عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام فِي الْخَبَر الْمَرْوِيّ عَنهُ، (مُرْسلا من جِهَة إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن العذري) ، وَمُسْندًا من جِهَة أبي هُرَيْرَة، وَعبد الله بن عَمْرو - كَمَا
এরপর তাদের পরে তাবিঈগণ এবং তাদের অনুসারীগণ একের পর এক দল এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুরূপ কাজ করেছেন। তারা এটি তাদের থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের থেকে উপকৃত হয়েছেন - আল্লাহ আমাদের প্রতি এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
কিন্তু এতে এমন কিছু লোক প্রবেশ করল যারা এই শাস্ত্রের যোগ্য নয় এবং এই ময়দানে তাদের কোনো পদচারণা নেই। ফলে তারা যা বর্ণনা করেছে তাতে ভুল করেছে এবং বিকৃতি ঘটিয়েছে, আর সম্ভবত তারা জাল হাদিসও তৈরি করেছে। ফলে এই দিক থেকে ত্রুটি প্রবেশ করেছে এবং সঠিকের সাথে ত্রুটিযুক্ত এবং নির্ভরযোগ্যর সাথে অনির্ভরযোগ্য বিষয় মিশে গেছে। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা—সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই—এই উম্মতের মধ্য থেকে এক বিশাল দল দাঁড় করিয়ে দিলেন, যারা দ্বীনের নক্ষত্র এবং হেদায়েতপ্রত্যাশীদের জন্য দিশারি স্বরূপ। তারা মৌলিক গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছেন, যা বিস্তারিত এবং সংক্ষিপ্ত উভয় প্রকারের। তারা এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার মাধ্যমে তাদের দোষারোপ ও নির্ভরযোগ্যতা এবং সনদের বিচ্ছিন্নতা ও সংযুক্ততা যাচাই করেছেন। তারা এতে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং সর্বোত্তমভাবে তা আঞ্জাম দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের প্রতিদান বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের ও তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবেন না।
এবং তারা যুগ যুগ ধরে এর ওপর অবিচল রয়েছেন, তাঁর যুগ থেকে—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—পৃথিবীর সমাপ্তি ও বিনাশ পর্যন্ত। তাঁরই সংবাদের ভিত্তিতে—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—যেখানে তিনি বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সাহায্য ত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত সংঘটিত হয়।”
সুতরাং এই দলটি তেমনই ছিল যেমনটি তিনি তাদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—সেই বর্ণনায় যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে (ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান আল-উজরি থেকে মুরসাল হিসেবে এবং আবু হুরায়রা ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে মুসনাদ হিসেবে—যেমন...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৫৯)
رَوَاهُمَا الْعقيلِيّ.
قَالَ عبد الْحق: وَالْأول أحسن. ونَازَعَه ابْن الْقطَّان، وَفِيه وَقْفَة، فقد سُئل أَحْمد عَنهُ، فَقَالَ صَحِيح: «يَحْمِلُ هَذَا العِلْم مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُه، يَنْفُون عَنْه تَحْرِيف الغالين، وانْتِحَالَ المُبْطِلِيْن، وَتَأْوِيل الجاهِلِيْن» .
وَمَنَّ الله سبحانه وتعالى، وَله الْحَمد والمِنَّة - عَلَى هَذِه الطَّائِفَة بِالْحِفْظِ الوافر، كالبحر الزاخر.
وهاك نبذة من حَالهم، لتعرف قدرهم، واجتهادهم ومحلهم:قَالَ أَبُو زرْعَة: حُزِرَتْ كُتبُ الإِمام أَحْمد يَوْم مَاتَ، فبلغت [اثْنَي] عشر حملا و [عدلا] ، كل ذَلِكَ كَانَ يحفظه عَن ظهر قلب.
قَالَ: كَانَ يحفظُ ألفَ ألفَ حَدِيث. فَقيل لَهُ: وَمَا يدْريك؟ قَالَ: ذَاكَرْتُه فأخذتُ عَلَيْهِ الْأَبْوَاب.
وَقَالَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل: قَالَ لي أبي: خُذ أَي كتاب شِئْت من كتب وَكِيع، من المُصَنّف، فَإِن شِئْت تَسْأَلنِي عَن الْكَلَام حتَّى أخْبرك بِالْإِسْنَادِ، وَإِن شِئْت تَسْأَلنِي عَن الإِسناد حتَّى أخْبرك بالْكلَام.
وَحفظ الإِمَام الشَّافِعِي «الْمُوَطَّأ» فِي ثَلَاثَة أَيَّام، وَالْقُرْآن فِي سَبْعَة
আল-উকায়লী উভয়টি বর্ণনা করেছেন।
আবদুল হক বলেন: প্রথমটি অধিক উত্তম। ইবনুল কাত্তান এর বিরোধিতা করেছেন এবং এ বিষয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে; কেননা ইমাম আহমাদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এবং তিনি এটিকে সহীহ (বিশুদ্ধ) বলেছেন: "এই ইলমকে প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ বহন করবেন; তারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের ভুল ব্যাখ্যা দূর করবেন।"
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা—তাঁরই সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা—এই জামাআতের উপর উত্তাল সমুদ্রের ন্যায় প্রচুর মুখস্থশক্তি দান করে অনুগ্রহ করেছেন।
তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে এখানে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো, যাতে আপনি তাঁদের মর্যাদা, প্রচেষ্টা এবং অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন:আবু যুরআহ বলেন: ইমাম আহমাদ যেদিন মৃত্যুবরণ করেন সেদিন তাঁর কিতাবসমূহ পরিমাপ করা হয়েছিল, যা বারোটি উটের পিঠের বোঝার সমান হয়েছিল; আর এই সমস্ত কিছু তিনি মুখস্থ জানতেন।
তিনি বলেন: তিনি দশ লক্ষ হাদীস মুখস্থ জানতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি তা কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর সাথে জ্ঞানচর্চা করেছি এবং বিভিন্ন অধ্যায় ভিত্তিক তাঁর পরীক্ষা নিয়েছি।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছিলেন: তুমি ওয়াকীর 'আল-মুসান্নাফ' কিতাবসমূহের মধ্য থেকে তোমার ইচ্ছামতো যেকোনো কিতাব নাও। এরপর তুমি চাইলে আমাকে হাদীসের মূল পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো, আমি তোমাকে সেটির সনদ বলে দেব; আর যদি তুমি সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো, তবে আমি তোমাকে হাদীসের মূল পাঠ বলে দেব।
আর ইমাম শাফেয়ী তিন দিনে ‘আল-মুয়াত্তা’ এবং সাত দিনে পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬০)
أَيَّام، كَمَا نقل (عَن) الإِمام فَخر الدَّين الرَّازِيّ.
وَكَانَ يَحْيَى بن معِين (يَقُول) عَن الْأَثْرَم الْحَافِظ: إِن أحد أَبَوَيْهِ كَانَ جِنِّيًّا. يَعْنِي لقُوَّة حفظه.
وَهُوَ أحفظ من أبي زرْعَة، وأتقن. كَمَا قَالَه إِبْرَاهِيم الْأَصْفَهَانِي.
وَكَانَ أَحْمد بن نصر الخَفَّاف يذاكر بِمِائَة ألف حَدِيث.
وَكَانَ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه يملي سبعينَ ألف حديثٍ حفظا، وأملى مرّة أحد عشر ألف حديثٍ من حفظه، ثمَّ قَرَأَهَا مرّة أُخْرَى، فَمَا زَاد حرفا وَلَا نقص حرفا، وَقَالَ مرّة: أحفظ مَكَان مائَة ألف حَدِيث كَأَنِّي أنظر إِلَيْهَا، وأحفظ مِنْهَا سبعين ألف حَدِيث من ظهر قلبِي (صَحِيحَة) ، وأحفظ أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث مزوَّرة. فَقيل لَهُ فِي ذَلِكَ؟ قَالَ: لأجل إِذا مرَّ بِي مِنْهَا حَدِيث فِي الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة، فَلَيْتُهُ مِنْهَا فَلْيًا.
وَقَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ: مَا استَوْدَعْتُ أُذُنِي شَيْئا إلَّا حفظته، حتَّى أَمُرَّ بِكَلِمَة كَذَا - قَالَهَا - فأسد أُذُنِي، مَخَافَة أَن أحفظها.
وَفِي رِوَايَة عَنهُ: حتَّى أَمُرَّ بالحائك. يَعْنِي: فأسدّ أُذُنِي.
وَكَانَ أَبُو زرْعَة يحفظ سِتّمائَة ألف حَدِيث، كَمَا شهد لَهُ بذلك الإِمام أَحْمد، وَقَالَ فِي حَقه: مَا جَاوز الجسر أفضل مِنْهُ.
...দিন, যেমনটি ইমাম ফখরুদ্দীন আর-রাজী (থেকে) বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন হাফেজ আল-আছরাম সম্পর্কে (বলতেন): তার পিতা-মাতার একজন নিশ্চিতভাবে জিন ছিলেন। অর্থাৎ তার মুখস্থশক্তির প্রখরতার কারণে (তিনি এটি বলতেন)।
তিনি আবু যুরআর চেয়ে অধিক মুখস্থশক্তির অধিকারী এবং অধিকতর নিখুঁত ছিলেন। যেমনটি ইবরাহীম আল-ইসফাহানী বলেছেন।
আহমদ ইবনে নাসর আল-খাফফাফ এক লক্ষ হাদীস মুজাকারা (পরস্পর আলোচনা) করতেন।
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ মুখস্থ থেকে সত্তর হাজার হাদীস লিখিয়ে দিতেন, আর একবার তিনি তার মুখস্থ থেকে এগারো হাজার হাদীস লিখিয়ে দিয়েছিলেন, অতঃপর পুনরায় তা পাঠ করেন, তাতে তিনি একটি অক্ষরও বাড়াননি বা কমাননি। তিনি একবার বলেছিলেন: আমি এক লক্ষ হাদীসের স্থান এমনভাবে মুখস্থ রাখি যেন আমি সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। তার মধ্যে সত্তর হাজার (সহীহ) হাদীস আমার অন্তস্থ (মুখস্থ) রয়েছে। আর আমি চার হাজার জাল হাদীসও মুখস্থ রাখি। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: যেন সহীহ হাদীসসমূহের মধ্যে যখন এই (জাল) হাদীসগুলো থেকে কোনো একটি আমার সামনে আসে, তখন আমি যেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পৃথক করে ফেলতে পারি।
সুফিয়ান আস-সাওরী বলেন: আমার কানে এমন কিছু প্রবেশ করেনি যা আমি মুখস্থ করিনি। এমনকি আমি যখন এমন কোনো (অনর্থক) কথার পাশ দিয়ে যেতাম - যা তিনি উল্লেখ করেছিলেন - তখন আমি আমার কান বন্ধ করে রাখতাম এই ভয়ে যে, পাছে আমি সেটিও মুখস্থ করে ফেলি।
তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: এমনকি আমি যখন কোনো তাঁতির পাশ দিয়ে যেতাম। অর্থাৎ: (তখনও) আমি আমার কান বন্ধ করে রাখতাম।
আবু যুরআ ছয় লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখতেন, যেমনটি ইমাম আহমদ তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: (বাগদাদের) সেতুর ওপর দিয়ে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ অতিক্রম করেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬১)
وَحلف رجل بِالطَّلَاق أنَّ أَبَا زرْعَة يحفظ مِائَتي ألف حَدِيث، فَقَالَ أَبُو زرْعَة: لَا يَحْنَث.
وَقَالَ مرّة: أحفظ مِائَتي ألف حَدِيث كَمَا يحفظ الْإِنْسَان (قل هُوَ الله أحد (، وَفِي المذاكرة ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث.
وَقَالَ أَيْضا: فِي بَيْتِي مَا كتبته مُنْذُ (خمسين) سنة، وَلم أطالعه مُنْذُ كتبته، وَإِنِّي أعلم فِي أَي كتاب هُوَ، وَأي ورقة، وَأي (صفحة) ، وَفِي أَي سطر هُوَ، وَمَا سُمع أَو تُلي شَيْء من الْعلم إلَّا وَعَاه قلبِي، وَإِنِّي كنت أَمْشِي فِي سوق بَغْدَاد، فَأَسْمع من الغرف الْمُغَنِّيَات، فأضع أُصْبُعِي فِي أُذُنِي مَخَافَة أَن يَعِيَه قلبِي.
وَقَالَ البُخَارِيّ: أحفظ مائَة ألف حَدِيث صَحِيح، وأحفظ مِائَتي ألف حَدِيث غير صَحِيح.
وَقَالَ أَبُو أَحْمد بن عدي: سَمِعت عدَّة مَشَايِخ يحكون: أَن مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ قدم بَغْدَاد، فَسمع بِهِ أَصْحَاب الحَدِيث، واجتمعوا وعمدوا إِلَى مائَة حَدِيث، فقلبوا متونها وأسانيدها، وَجعلُوا متن هَذَا الْإِسْنَاد لإسناد آخر، وَإسْنَاد هَذَا الْمَتْن لمتن آخر، ودفعوها إِلَى عشرَة أنفس، فابْتَدَرَ رجل من الْعشْرَة، فَسَأَلَهُ عَن حَدِيث من تِلْكَ الْأَحَادِيث، فقَالَ: لَا أعرفهُ. فَسَأَلَهُ عَن آخر، فَقَالَ: لَا أعرفهُ. فَمَا زَالَ يلقِي عَلَيْهِ وَاحِدًا بعد واحدٍ حتَّى فرغ، وَالْبُخَارِيّ يَقُول: لَا أعرفهُ. وَكَانَ
এক ব্যক্তি তালাকের শপথ করে বলেছিলেন যে, আবু যুরআ দুই লক্ষ হাদীস মুখস্থ জানেন। তখন আবু যুরআ বলেছিলেন: সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।
তিনি একদা বলেছিলেন: আমি দুই লক্ষ হাদীস এমনভাবে মুখস্থ জানি যেভাবে মানুষ 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' মুখস্থ রাখে; আর জ্ঞানচর্চামূলক আলোচনার সময় তিন লক্ষ হাদীস (স্মরণ থাকে)।
তিনি আরও বলেছিলেন: আমার ঘরে এমন অনেক কিছু আছে যা আমি পঞ্চাশ বছর আগে লিখেছি এবং লেখার পর থেকে তা আর পুনরায় পাঠ করিনি; অথচ আমি জানি তা কোন কিতাবে, কোন পাতায়, কোন পৃষ্ঠায় এবং কোন লাইনে আছে। ইলমের যা কিছুই শোনা হয়েছে বা পাঠ করা হয়েছে, আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করে নিয়েছে। আমি যখন বাগদাদের বাজারে হাঁটতাম এবং উপরতলার কক্ষগুলো থেকে গায়িকাদের কণ্ঠস্বর শুনতাম, তখন আমি আমার কানে আঙুল দিয়ে রাখতাম এই ভয়ে যে, পাছে আমার অন্তর তা মুখস্থ করে ফেলে।
ইমাম বুখারী বলেছিলেন: আমি এক লক্ষ সহীহ হাদীস মুখস্থ জানি এবং দুই লক্ষ গায়রে সহীহ (অশুদ্ধ) হাদীস মুখস্থ জানি।
আবু আহমাদ ইবনে আদি বলেন: আমি একাধিক শায়খকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে: যখন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী বাগদাদে আসলেন, তখন হাদীস বিশারদগণ তাঁর আগমনের খবর পেয়ে একত্রিত হলেন। তাঁরা একশটি হাদীস নির্বাচন করে সেগুলোর মতন ও সনদ ওলটপালট করে দিলেন। তাঁরা এক সনদের মতন অন্য সনদে এবং এক মতন অন্য সনদে যুক্ত করে দিলেন। এরপর তাঁরা সেই হাদীসগুলো দশজন ব্যক্তির হাতে অর্পণ করলেন। সেই দশজনের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি অগ্রসর হয়ে তাঁকে ঐ হাদীসগুলোর মধ্য থেকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি উত্তর দিলেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর তিনি তাঁকে অন্য একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "আমি এটিও জানি না।" এভাবে একে একে তিনি সবগুলো হাদীস তাঁর সামনে পেশ করলেন এবং বুখারী বলতে থাকলেন: "আমি এটি জানি না।" এমতাবস্থায়...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬২)
بعض الْفُقَهَاء يَقُول: الرجل فهم. وَبَعْضهمْ يقْضِي عَلَيْهِ بِالْعَجزِ. ثمَّ انْتُدِبَ رجل آخر، فَسَأَلَهُ عَن الْأَحَادِيث وَهُوَ يَقُول فِي كل حَدِيث: لَا أعرفهُ. حتَّى فرغ من عشرته، ثمَّ الثَّالِث، ثمَّ الرَّابِع إِلَى تَمام الْعشْرَة، وَالْبُخَارِيّ لَا يزيدهم عَلَى: لَا أعرفهُ. فَلَمَّا فرغوا الْتفت البُخَارِيّ إِلَى الأول فَقَالَ: أما حَدِيثك الأول فَهُوَ كَذَا، و [حَدِيثك] الثَّانِي كَذَا، وَالثَّالِث كَذَا، وَالرَّابِع كَذَا، حتَّى أَتَى عَلَى تَمام الْعشْرَة، فَرد كل متنٍ إِلَى إسنادٍ، وكل إِسْنَاد إِلَى متنٍ، وَفعل بِالْآخرِ مثل ذَلِك، فَأَقرَّ النَّاس لَهُ بِالْحِفْظِ، وأذعنوا لَهُ بِالْفَضْلِ.
وَكَانَ البُخَارِيّ يخْتَلف إِلَى مَشَايِخ الْبَصْرَة وَلَا يكْتب، فَسَأَلُوهُ: لِمَ لَا تكْتب؟ فَقَرَأَ عَلَيْهِم جَمِيع مَا سمع من حفظه، وَكَانَ يزِيد عَلَى خَمْسَة عشر ألف حَدِيث.
وَأخرج مُسلم الصَّحِيح من ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث مسموعة، كَمَا أقَرَّ بِهِ هُوَ فِيمَا نَقله ابْن نقطة عَنهُ بِإِسْنَادِهِ.
وَحفظ أَبُو دَاوُد - يَعْنِي: الطَّيَالِسِيّ - أَرْبَعِينَ ألف حَدِيث، وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي عشرَة آلَاف، وَكَانَا شربا البَلَاذُر لأجل الْحِفْظ، فجَذِمَ أَبُو دَاوُد، وبَرِصَ عبد الرَّحْمَن. وَقَالَ عمر بن شَبَّة: كتبُوا عَن أبي دَاوُد - يَعْنِي الطَّيَالِسِيّ - أَرْبَعِينَ ألف حديثٍ، وَلَيْسَ مَعَه كتاب.
وَقَالَ أَبُو دَاوُد - (يَعْنِي) - السجسْتانِي: كتبت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم -
কিছু ফকিহ বলছিলেন: এই লোকটি সমঝদার। আবার কেউ কেউ তার অক্ষমতার রায় দিচ্ছিলেন। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এগিয়ে এলেন এবং তাকে হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আর তিনি প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে বলছিলেন: আমি এটি জানি না। এভাবে দশজন পূর্ণ হলো, আর বুখারি 'আমি এটি জানি না' এর বেশি কিছু বলছিলেন না। যখন তারা শেষ করলেন, তখন বুখারি প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: আপনার প্রথম হাদিসটি ছিল এমন, দ্বিতীয়টি এমন, তৃতীয়টি এমন এবং চতুর্থটি এমন—এভাবে তিনি দশটি পূর্ণ করলেন। তিনি প্রতিটি মতনকে তার সঠিক সনদের দিকে এবং প্রতিটি সনদকে তার সঠিক মতনের দিকে ফিরিয়ে দিলেন। অন্যদের সাথেও তিনি অনুরূপ করলেন। ফলে মানুষ তার মুখস্থ শক্তির স্বীকৃতি দিল এবং তার শ্রেষ্ঠত্বের কাছে মাথা নত করল।
ইমাম বুখারি বসরার শায়খদের নিকট যাতায়াত করতেন অথচ কিছু লিখতেন না। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কেন লিখেন না? তখন তিনি যা কিছু শুনেছিলেন তার সবটুকুই নিজের স্মৃতি থেকে তাদের সামনে পাঠ করলেন। সেই হাদিসের সংখ্যা পনেরো হাজারেরও অধিক ছিল।
ইমাম মুসলিম তিন লক্ষ শ্রবণকৃত হাদিস থেকে তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থটি চয়ন করেছেন, যেমনটি ইবনে নুকতাহ তাঁর থেকে নিজ সনদে বর্ণিত বর্ণনায় স্বীকার করেছেন।
আবু দাউদ—অর্থাৎ তায়ালিসি—চল্লিশ হাজার হাদিস মুখস্থ করেছিলেন এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদি দশ হাজার হাদিস মুখস্থ করেছিলেন। তারা উভয়ে মুখস্থ শক্তি বৃদ্ধির জন্য 'বালাযুর' পান করেছিলেন; ফলে আবু দাউদ কুষ্ঠরোগে এবং আবদুর রহমান ধবল রোগে আক্রান্ত হন। উমর ইবনে শাব্বাহ বলেন: লোকেরা আবু দাউদ—অর্থাৎ তায়ালিসি—এর নিকট থেকে চল্লিশ হাজার হাদিস লিখে নিয়েছিল, অথচ তাঁর সাথে কোনো কিতাব ছিল না।
আবু দাউদ—অর্থাৎ সাজিস্তানি—বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে লিখেছি—
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৩)
خَمْسمِائَة ألف حَدِيث، انتخبت مِنْهَا مَا تضمنته السّنَن، جمعت (فِيهِ) أَرْبَعَة آلَاف وَثَمَانمِائَة حَدِيث.
وَكَانَ عبد الله ابْنه من الْحفاظ، أَمْلَى ثَلَاثِينَ ألف حَدِيث من حفظه، فَإِنَّهُ لَمَّا خرج إِلَى سجستان، اجْتمع إِلَيْهِ أَصْحَاب الحَدِيث، وسألوه أَن يُحَدِّثَهم فَأَبَى، وَقَالَ: لَيْسَ معي كتاب. فَقَالُوا: ابْن أبي دَاوُد وَكتاب! فأثاروه، فأملى عَلَيْهِم هَذَا الْقدر، ولَمَّا قَدِم بَغْدَاد قَالَ البغداديون: مَضَى يلْعَب بِالنَّاسِ، ثمَّ فَيَّجُوا فَيْجًا، (اكتروه) بِسِتَّة (دَنَانِير) إِلَى سجستان، فَكَتَبُوا بِهِ نُسْخَة، فَخَطَّئوه فِي سِتَّة أَحَادِيث، مِنْهَا ثَلَاثَة حَدَّث بهَا كَمَا حُدِّث، وَثَلَاثَة أخطأَ هُوَ فِيهَا رضي الله عنه.
ولمَّا مَاتَ صُلِّي عَلَيْهِ ثَمَانُون مرّة، فحُزِر الْجمع، فَزَاد عَلَى ثَلَاثمِائَة ألف.
وَقَالَ مَعْمَر: اجْتمعت أَنا وَشعْبَة وَالثَّوْري وَابْن جريج، فَقدم علينا شيخ، فأملى علينا أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث عَن ظهر قلب، فَمَا أَخطَأ إلَّا فِي موضِعين، لم يكن الْخَطَأ مِنَّا وَلَا مِنْهُ، إنَّما الْخَطَأ مِمَّن فَوْقه. وَكَانَ الرجل: طَلْحَة بن عَمْرو الْحَافِظ.
وَكَانَ عبد الله بن مُوسَى القَاضِي الْمَعْرُوف بعَبْدَان، يحفظ مائَة ألف حَدِيث. كَمَا قَالَ أَبُو عَلّي الْحَافِظ.
পাঁচ লক্ষ হাদিস; তা থেকে আমি সেগুলোকে নির্বাচন করেছি যা 'সুনান' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমি এতে চার হাজার আটশ হাদিস সংকলন করেছি।
আর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ হিফজকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নিজের স্মৃতিশক্তি থেকে ত্রিশ হাজার হাদিস ইমলা করিয়েছিলেন। কেননা তিনি যখন সিজিস্তানে গিয়েছিলেন, তখন হাদিস অন্বেষণকারীরা তাঁর নিকট সমবেত হয়ে হাদিস বর্ণনা করার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন এবং বলেন: "আমার কাছে কোনো কিতাব নেই।" তাঁরা বললেন: "আবু দাউদের পুত্র হয়েও কিতাবের কথা বলছেন!" তখন তাঁরা তাঁকে উৎসাহিত করলেন। ফলে তিনি তাঁদের নিকট এই পরিমাণ হাদিস ইমলা করান। তিনি যখন বাগদাদে আসলেন, তখন বাগদাদবাসীগণ বললেন: "তিনি লোকদের সাথে তামাশা করতে গিয়েছেন।" এরপর তাঁরা ছয় দিনার দিয়ে সিজিস্তানে একজন দূত ভাড়া করে পাঠালেন এবং সেখান থেকে একটি অনুলিপি আনিয়ে নিলেন। তাঁরা এতে মাত্র ছয়টি হাদিসে ভুল পেলেন। যার মধ্যে তিনটি হাদিস তিনি সেভাবেই বর্ণনা করেছিলেন যেভাবে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছিল, আর মাত্র তিনটি হাদিসে তিনি নিজে ভুল করেছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)।
যখন তিনি মারা যান, তাঁর জানাজা আশি বার পড়া হয়েছিল। উপস্থিত জনসমাগমের সংখ্যা অনুমান করা হয়েছিল তিন লক্ষাধিক।
মা'মার বলেন: আমি, শু'বাহ, সাওরী এবং ইবনে জুরাইজ একত্রিত হয়েছিলাম। তখন আমাদের কাছে একজন শায়খ আসলেন এবং মুখস্থ চার হাজার হাদিস আমাদের নিকট ইমলা করালেন। তিনি মাত্র দুটি স্থান ব্যতীত আর কোথাও ভুল করেননি। সেই ভুলটিও আমাদের পক্ষ থেকে ছিল না এবং তাঁর পক্ষ থেকেও ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর উপরের স্তরের বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে। আর সেই ব্যক্তি ছিলেন হাফিজ তালহা ইবনে আমর।
আর আবদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-কাদি, যিনি 'আবদান' নামে পরিচিত, এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। যেমনটি আবু আলী আল-হাফিজ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৪)
وَقَالَ الشَّعْبي: مَا كتبتُ سَوْدَاء فِي بَيْضَاء إلَّا وَأَنا أحفظها، وَلَا حدَّثني رجلٌ بحديثٍ فأحببتُ أَن يُعِيْدَه عليَّ.
وَقَالَ الزُّهْرِيّ: مَا استعدت حَدِيثا، وَلَا شَككت فِي حديثٍ، إلَّا حَدِيثا وَاحِدًا، فَسَأَلت صَاحِبي، فَإِذا هُوَ كَمَا حفظت.
وَقَالَ عبيد الله بن عمر القَوَارِيري: أَمْلَى عليَّ عبد الرَّحْمَن بن مهْدي عشْرين ألف حديثٍ حفظا.
وحدَّث أَبُو عبد الله عبد الرَّحْمَن بن أَحْمد بن عبد الله [الخُتُّلي] بِخَمْسِينَ ألف حديثٍ من حفظه.
ولَمَّا أَمْلَى جَعْفَر بن مُحَمَّد الفِرْيَابِي - الْحَافِظ الَّذِي طَاف الْبِلَاد شرقًا وغربًا - بِبَغْدَاد: كَانَ عدد المستملين ثَلَاثمِائَة وَسِتَّة عشر، وحُزِرَ الْجمع فَكَانُوا ثَلَاثِينَ ألفا، وَكَانَ الَّذين يَكْتُبُونَ (عَنهُ) نَحْو عشرَة آلَاف.
وَقَالَ هشيم: كنت أحفظ فِي الْمجْلس مائَة حَدِيث، وَلَو سُئلت عَنْهَا أجبْت.
وَقَالَ هِشَام بن مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ - صَاحب النَّسَب -:
আশ-শাবি বলেন: "আমি সাদা কাগজে কালো অক্ষরে যা-ই লিখেছি, তা আমার মুখস্থ ছিল। আর কোনো ব্যক্তি আমাকে কোনো হাদিস শুনিয়েছেন অথচ আমি চেয়েছি যে তিনি সেটি আমার কাছে পুনরায় বর্ণনা করুন—এমনটি কখনো ঘটেনি।"
আয-যুহরি বলেন: "আমি কখনো কোনো হাদিস পুনরাবৃত্তি করার অনুরোধ করিনি এবং কোনো হাদিস নিয়ে কখনো সংশয়ে পড়িনি—কেবল একটি হাদিস ছাড়া। অতঃপর আমি আমার সাথীকে জিজ্ঞাসা করলে দেখা গেল সেটি তেমনই ছিল যেমনটি আমি মুখস্থ করেছিলাম।"
উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারিরি বলেন: "আবদুর রহমান ইবনে মাহদি স্মৃতি থেকে বিশ হাজার হাদিস আমার কাছে শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করেছেন।"
আর আবু আব্দুল্লাহ আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ [আল-খুত্তালি] তাঁর স্মৃতি থেকে পঞ্চাশ হাজার হাদিস বর্ণনা করেছেন।
হাফেজ জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরিয়াবি—যিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশসমূহ ভ্রমণ করেছিলেন—যখন বাগদাদে হাদিস শ্রুতলিপি প্রদান করেন, তখন মুস্তামলিদের (যাঁরা উচ্চস্বরে হাদিস প্রচার করছিলেন) সংখ্যা ছিল তিনশত ষোলো জন। সমবেত জনতা অনুমান করা হয়েছিল ত্রিশ হাজার, এবং যারা তাঁর কাছ থেকে লিখে নিচ্ছিলেন তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় দশ হাজার।
হুশাইম বলেন: "আমি একেকটি মজলিসে একশত হাদিস মুখস্থ করে নিতাম। যদি আমাকে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে আমি তার যথাযথ উত্তর দিতাম।"
বংশবিদ্যা বিশারদ হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৫)
حفظت مَا لَمْ يحفظه أحد، و (نسيت) مَا لَمْ (ينسه) أحد: كَانَ لي عمّ يعاتبني عَلَى حفظ الْقُرْآن، فَدخلت بَيْتا، وَحلفت أَنِّي لَا أخرج مِنْهُ حتَّى أحفظ الْقُرْآن، فحفظته فِي ثَلَاثَة أَيَّام، وَنظرت يَوْمًا فِي الْمرْآة، فقبضت عَلَى لحيتي لآخذ مَا دون القبضة، فَأخذت مَا فَوق القبضة.
وَقَالَ يزِيد بن هَارُون: أحفظ ثَلَاثَة وَعشْرين ألف حَدِيث. وحدَّث بِبَغْدَاد، فَحُزِر مَجْلِسه تسعين ألفا. وَقَالَ أَحْمد بن أبي الطّيب: سَمِعت يزِيد بن هَارُون الْحَافِظ وَقيل لَهُ: إِن هَارُون الْمُسْتَمْلِي يُرِيد أَن يُدخل عَلَيْك فِي حَدِيثك، فَدخل هَارُون، فَقَالَ: يَا هَارُون، بَلغنِي أَنَّك تُرِيدُ (أَن) تدخل عليَّ فِي حَدِيثي، (فاجهد) جهدك، لَا رَعَى الله عَلَيْك إِن رَعيْت، أحفظ ثَلَاثَة وَعشْرين ألف حديثٍ، لَا أقامني الله إِن كنت لَا أقوم بحديثي.
وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن مُحَمَّد بن سعيد، الْمَعْرُوف بِابْن عقدَة - الَّذِي قَالَ فِي حَقه الدَّارَقُطْنِيّ: أجمع أهل الْكُوفَة أَنه لم يُرَ من زمن عبد الله بن مَسْعُود إِلَى زَمَنه أحفظ مِنْهُ -: أَنا (أُجِيب) فِي ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث، و (أذاكر) بِالْأَسَانِيدِ، وَبَعض الْمُتُون،
আমি এমন কিছু মুখস্থ করেছি যা কেউ মুখস্থ করেনি, এবং এমন কিছু ভুলে গিয়েছি যা কেউ ভুলেনি: আমার এক চাচা ছিলেন যিনি কুরআন মুখস্থ করার ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করতেন। ফলে আমি একটি ঘরে প্রবেশ করলাম এবং শপথ করলাম যে, কুরআন মুখস্থ না করা পর্যন্ত আমি সেখান থেকে বের হব না। এরপর আমি তিন দিনেই তা মুখস্থ করে ফেললাম। একদিন আমি আয়নার দিকে তাকালাম এবং এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কাটার জন্য দাড়ি ধরলাম, কিন্তু আমি এক মুষ্ঠির উপরের অংশই কেটে ফেললাম।
ইয়াজিদ বিন হারুন বলেছেন: আমি তেইশ হাজার হাদিস মুখস্থ জানি। তিনি বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখন তাঁর মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তির সংখ্যা নব্বই হাজার বলে অনুমান করা হয়েছিল। আহমাদ বিন আবু তৈয়ব বলেন: আমি হাফেজ ইয়াজিদ বিন হারুনকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে বলা হলো যে, হারুন আল-মুস্তামলি আপনার হাদিসের মধ্যে বিভ্রান্তি ঢোকাতে চায়—তখন হারুন প্রবেশ করলে তিনি বললেন: হে হারুন, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি আমার হাদিসে হস্তক্ষেপ করতে চাও। তুমি তোমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করো। তুমি যদি আমার প্রতি সদয় না হও, তবে আল্লাহও যেন তোমার প্রতি সদয় না হন। আমি তেইশ হাজার হাদিস মুখস্থ জানি; আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ না রাখেন যদি আমি আমার হাদিসের ব্যাপারে যথাযথভাবে না দাঁড়াই।
হাফেজ আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ, যিনি ইবনে উকদাহ নামে পরিচিত—যাঁর সম্পর্কে দারা কুতনী বলেছেন: কুফাবাসীরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের যুগ থেকে তাঁর যুগ পর্যন্ত তাঁর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখা যায়নি—তিনি বলেছেন: আমি তিন লক্ষ হাদিস সম্পর্কে উত্তর দিতে পারি এবং সনদ ও কিছু মূল পাঠ (মতন) নিয়ে আলোচনা করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
والمراسيل، والمقاطيع.
قَالَ ابْن عقدَة: وَدخل [البَرْدِيجي] الْكُوفَة، فَزعم أَنه أحفظ مِنَّا، فَقلت: لَا تُطَوِّل، نَتَقَدَّم إِلَى دكان وراق، وَنَضَع القَبَّان، ونزن من الْكتب مَا شئتَ، ثمَّ تُلْقَى (علينا) فنذكرها. فَبَقِيَ.
ولَمَّا انْتقل ابْن عقدَة إِلَى مَكَان آخر كَانَت كتبه سِتّمائَة حمل.
وَكَانَ إِسْمَاعِيل بن يُوسُف الدَّيْلَمي يحفظ أَرْبَعِينَ ألف حَدِيث، ويذاكر بسبعين ألف حَدِيث.
وَقَالَ الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ: قَالَ لي الأزْهَري: كنت أحضر عِنْد أبي عبد الله الْحُسَيْن بن أَحْمد بن (بكير) ، وَبَين يَدَيْهِ أَجزَاء (كبار) ، فَأنْظر بَعْضهَا، فَيَقُول لي: أَيّمَا أحبّ إِلَيْك، تذكر لي متن مَا تُرِيدُ من هَذِه الْأَحَادِيث حتَّى أخْبرك بِإِسْنَادِهِ؟ أَو تذكر لي إِسْنَاده حتَّى أخْبرك بمتنه؟ فَكنت أذكر لَهُ الْمُتُون فيخبرني بِالْأَسَانِيدِ من حفظه، وَفعلت هَذَا مرَارًا كَثِيرَة.
এবং মুরসাল ও মাকতু হাদিসসমূহ।
ইবনে উকদাহ বলেন: [আল-বারদিজি] কুফায় প্রবেশ করলেন এবং দাবি করলেন যে তিনি আমাদের চেয়ে অধিক মুখস্থবিদ। আমি বললাম: কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, আমরা একজন কাগজ বিক্রেতার দোকানে যাই এবং সেখানে দাঁড়িপাল্লা রাখি। এরপর আপনি যত ইচ্ছা কিতাব ওজন করুন, অতঃপর সেগুলো আমাদের সামনে পেশ করা হবে আর আমরা তা (স্মৃতি থেকে) উল্লেখ করব। তখন তিনি হতভম্ব হয়ে রয়ে গেলেন।
যখন ইবনে উকদাহ অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হলেন, তখন তার কিতাবসমূহ ছিল ছয়শ উটের বোঝার সমান।
ইসমাইল বিন ইউসুফ আদ-দাইলামি চল্লিশ হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং সত্তর হাজার হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন।
খতিব আল-বাগদাদি বলেন: আল-আযহারি আমাকে বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন (বুকাইর)-এর নিকট উপস্থিত হতাম, তখন তার সামনে বড় বড় হাদিসের সংকলন থাকত। আমি যখন সেগুলোর কোনোটির দিকে তাকাতাম, তিনি আমাকে বলতেন: আপনার কাছে কোনটি অধিক প্রিয়? আপনি কি এই হাদিসগুলোর মধ্য থেকে যেটির ইচ্ছা তার মতন আমাকে বলবেন যাতে আমি আপনাকে সেটির সনদ বলে দিতে পারি? অথবা আপনি আমাকে সেটির সনদ বলবেন যাতে আমি আপনাকে সেটির মতন বলে দিতে পারি? তখন আমি তাকে হাদিসের মতনগুলো বলতাম আর তিনি তার স্মৃতি থেকে আমাকে সেগুলোর সনদ বলে দিতেন। আমি এমনটি বহুবার করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৭)
قَالَ: وحُبِّب إليَّ الحَدِيث، حتَّى رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي النّوم، فَلم أقل: ادْع الله لي. وَإِنَّمَا قُلْتُ: يَا رَسُول الله، أَيّمَا أثبت فِي الحَدِيث، مَنْصُور أَو الْأَعْمَش؟ فَقَالَ: مَنْصُور. مَنْصُور.
وَقَالَ أَبُو حَفْص بن شاهين: صَلَّيْتُ خَلفه مرّة، فَافْتتحَ الصَّلَاة، ثمَّ قَالَ: نَا مُحَمَّد بن سُلَيْمَان لُوَيْن. فَقيل لَهُ: سُبْحَانَ الله! فَقَالَ: نَا شَيبَان بن فروخ (الأُبُلِّي) . فَقيل لَهُ: سُبْحَانَ الله! فَقَالَ: بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم.
وَقَالَ الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ: أَنا [بشرى] بن عبد الله الرُّومِي، قَالَ: سَمِعت أَبَا بكر أَحْمد بن جَعْفَر بن (سَلْم) يَقُول: لَمَّا قَدِم علينا
তিনি বলেন: হাদিস আমার নিকট এতই প্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল যে, আমি স্বপ্নে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম। তখন আমি বলিনি: ‘আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন।’ বরং আমি বলেছিলাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! হাদিসের বর্ণনায় মানসুর নাকি আমাশ—কে অধিক নির্ভরযোগ্য?’ তিনি বললেন: ‘মানসুর। মানসুর।’
আবু হাফস বিন শাহীন বলেন: আমি একবার তাঁর পেছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি সালাত শুরু করলেন, এরপর বললেন: ‘আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন সুলাইমান লুয়াইন বর্ণনা করেছেন।’ তাঁকে বলা হলো: ‘সুবহানাল্লাহ!’ তখন তিনি বললেন: ‘আমাদের নিকট শায়বান বিন ফাররুখ (আল-উবুল্লি) বর্ণনা করেছেন।’ তাঁকে আবারও বলা হলো: ‘সুবহানাল্লাহ!’ এরপর তিনি বললেন: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।’
আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [বুশরা] বিন আব্দুল্লাহ আর-রুমি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন (সালম)-কে বলতে শুনেছি: তিনি যখন আমাদের নিকট আসলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৮)
أَبُو مُسلم (الكَجِّي) أَمْلَى الحَدِيث فِي رحبة غَسَّان، وَكَانَ فِي مَجْلِسه (سَبْعَة) مستملين، يُبَلِّغ كل وَاحِد مِنْهُم صَاحبه الَّذِي يَلِيهِ، وَكتب النَّاس (عَنهُ) قِيَامًا بِأَيْدِيهِم المحابر، ثمَّ مُسِحَت الرَّحْبَة، وَحسب من حضر بمحبرة، فَبلغ ذَلِكَ نَيِّفًا وَأَرْبَعين ألف محبرة، سُوَى النَّظَّارة.
قَالَ ابْن (سَلْم) : وَبَلغنِي أَن أَبَا مُسلم كَانَ نَذَرَ أَن يتصدَّق إِذا حَدَّث بِعشْرَة آلَاف دِرْهَم.
وَقَالَ مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن سُلَيْمَان البَاغَنْدِي: أحفظُ ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم.
وَكَانَ الْحَافِظ أَبُو (الْحُسَيْن) عَاصِم بن عَلّي الوَاسِطِيّ يجلس عَلَى سطح المسقطات، ويركب مستمليه نَخْلَة، يستملي عَلَيْهَا. فَقَالَ يَوْمًا: نَا اللَّيْث بن (سعد) ، فَأَعَادَ أَربع عشرَة مرّة، وَالنَّاس لَا
আবু মুসলিম (আল-কাজ্জি) গাসসানের প্রশস্ত প্রাঙ্গণে হাদীস শ্রুতলিখন (ইমলা) করাতেন। তাঁর মজলিসে সাতজন মুস্তামলি (বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার লোক) ছিলেন, যাদের প্রত্যেকেই তাঁর পরবর্তী ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতেন। মানুষ দাঁড়িয়ে তাদের হাতে দোয়াত নিয়ে তাঁর থেকে হাদীস লিখছিল। অতঃপর সেই প্রাঙ্গণটি পরিমাপ করা হলো এবং কতজন দোয়াত নিয়ে উপস্থিত হয়েছে তা গণনা করা হলো; দেখা গেল দর্শক বা প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়াই দোয়াতের সংখ্যা চল্লিশ হাজারেরও কিছু বেশি।
ইবনে সালম বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু মুসলিম মানত করেছিলেন যে তিনি যখন হাদীস বর্ণনা করবেন তখন দশ হাজার দিরহাম সদকা করবেন।
মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-বাগান্দী বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হতে তিন লক্ষ হাদীস মুখস্থ রেখেছি।
হাফেজ আবু আল-হুসাইন আসিম বিন আলী আল-ওয়াসিতি মাসকাতাতের ছাদের উপরে বসতেন এবং তাঁর মুস্তামলি একটি খেজুর গাছে চড়ে সেখান থেকে বর্ণনা শুনিয়ে দিতেন। একদিন তিনি বললেন: "আমাদের নিকট লায়স বিন সাদ বর্ণনা করেছেন", অতঃপর তিনি এটি চৌদ্দবার পুনরাবৃত্তি করলেন, কিন্তু মানুষ তবুও...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৬৯)
يسمعُونَ، فحزر الْجمع، فَكَانُوا مائَة ألف وَعشْرين [ألفا] .
وَقَالَ أَبُو بكر مُحَمَّد بن مُسلم الجِعَابي: دخلت الرَّقَّة، وَكَانَ لي ثَمَّ قمطران كتب فأنفَذُت غلامي إِلَى ذَلِكَ الرجل الَّذِي كُتبي عِنْده، فَرجع الْغُلَام مغمومًا، فَقَالَ: ضَاعَت الْكتب. فَقلت: يَا بنيَّ، لَا تغتم، فَإِن فِيهَا (مِائَتي) ألف حديثٍ، لَا يُشْكَلُ عليَّ مِنْهَا حديثٌ، لَا إِسْنَادًا وَلَا متْنا.
وَكَانَ يُقَال: إِنَّه يحفظ مِائَتي ألف حَدِيث، ويجيب فِي مثلهَا.
وَقَالَ مرّة عَن نَفسه: أحفظ أَرْبَعمِائَة ألف حَدِيث، وأذاكر بستمائة ألف حَدِيث.
وَقَالَ أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن مُحَمَّد السَّمرقَنْدِي: سَمِعت أَبَا الْعَبَّاس جَعْفَر بن مُحَمَّد الْحَافِظ يَقُول: مَا رَأَيْت أحفظ من أبي عبد الله بن مَنْدَه، سَأَلته يَوْمًا: كم يكون سَماع (الشَّيْخ) ؟ فَقَالَ: يكون خَمْسَة آلَاف مَنًّا.
তারা শুনছিলেন, ফলে লোকসংখ্যা অনুমান করা হলো এবং তারা এক লক্ষ বিশ হাজার ছিলেন।
আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-জিআবি বলেন: আমি রাক্কাহ শহরে প্রবেশ করলাম, সেখানে আমার দুই ঝুড়ি কিতাব ছিল। আমি আমার গোলামকে সেই ব্যক্তির কাছে পাঠালাম যার কাছে আমার কিতাবগুলো ছিল। গোলামটি বিষণ্ণ হয়ে ফিরে এল এবং বলল: কিতাবগুলো হারিয়ে গেছে। আমি বললাম: হে বৎস, দুশ্চিন্তা করো না, কারণ তাতে দুই লক্ষ হাদিস ছিল, যার কোনো একটি হাদিস সম্পর্কেও আমার কোনো অস্পষ্টতা নেই, না সনদে আর না মতনে।
বলা হতো যে, তিনি দুই লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং সমপরিমাণ হাদিস সম্পর্কে উত্তর দিতে পারতেন।
তিনি একবার নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন: আমি চার লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখি এবং ছয় লক্ষ হাদিস নিয়ে আলোচনা করি।
আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আস-সামারকান্দি বলেন: আমি আবু আল-আব্বাস জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি: আমি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখিনি। আমি একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: শাইখের শ্রুত হাদিসের সংগ্রহ কী পরিমাণ হবে? তিনি বললেন: তা হবে পাঁচ হাজার মান্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭০)
وَقَالَ الجعابي: كنت بليد الْحِفْظ، فَقَالَ لي الْأَطِبَّاء: كُلِ الخَبزَ بالجُلَّاب. فأكلته أَرْبَعِينَ يَوْمًا بالغديات والعشيات، لَا آكل غَيره، فصفا ذهني، وصرت حَافِظًا، حتَّى صرت أحفظ فِي كل يَوْم (ثَلَاثمِائَة) حَدِيث.
وَقَالَ الْأَزْهَرِي: بَلغنِي أَن الدَّارَقُطْنِيّ حضر فِي حداثته مجْلِس إِسْمَاعِيل الصَفَّار، فَجعل ينْسَخ جُزْءا كَانَ مَعَه، وَإِسْمَاعِيل يملي، فَقَالَ (لَهُ) بعض الْحَاضِرين: لَا يصحّ سماعك وَأَنت تنسخ. فَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: فهمي للإِملاء غير فهمك. ثمَّ قَالَ: تحفظ كم أَمْلَى الشَّيْخ من حَدِيث إِلَى الْآن؟ فَقَالَ: لَا. فَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: أَمْلَى ثَمَانِيَة عشر حَدِيثا. فَعُدَّت الْأَحَادِيث فَكَانَ كَمَا قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ، ثمَّ قَالَ: الحَدِيث الأول عَن فلَان عَن فلَان، وَمَتنه كَذَا، و (الحَدِيث) الثَّانِي عَن فلَان عَن فلَان، وَمَتنه كَذَا. فَلم (يزل) يذكر أَسَانِيد الْأَحَادِيث ومتونها عَلَى ترتيبها فِي الإِملاء حتَّى أَتَى عَلَى آخرهَا؛ فتعجب النَّاس مِنْهُ.
وَقَالَ أَحْمد بن مَنْصُور: خرجت مَعَ أَحْمد بن حَنْبَل، وَيَحْيَى بن معِين، فَقَالَ يَحْيَى لِأَحْمَد: أُرِيد أختبر أَبَا نعيم. فَقَالَ: لَا تُرِد، الرجل ثِقَة. فَقَالَ: لَا بدّ لي. فَأخذ ورقة فَكتب فِيهَا ثَلَاثِينَ حَدِيثا من حَدِيث أبي نعيم، وَجعل عَلَى رَأس كل عشرَة مِنْهَا حَدِيثا لَيْسَ من حَدِيثه، ثمَّ جَاءُوا إِلَى أبي نعيم، فَقَرَأَ يَحْيَى عَلَيْهِ عشرَة، وَأَبُو نعيم
আল-জুয়াবি বলেছেন: আমার মুখস্থ করার ক্ষমতা খুব দুর্বল ছিল। তখন চিকিৎসকরা আমাকে বললেন: "শরবতের সাথে রুটি খান।" আমি চল্লিশ দিন সকাল-সন্ধ্যায় তা খেলাম এবং তা ছাড়া অন্য কিছু খেতাম না। ফলে আমার মেধা স্বচ্ছ হয়ে গেল এবং আমি প্রখর মুখস্থশক্তির অধিকারী হলাম, এমনকি আমি প্রতিদিন তিনশ হাদিস মুখস্থ করতাম।
আল-আযহারি বলেছেন: আমার নিকট পৌঁছেছে যে, আদ-দারা কুতনি তার শৈশবে ইসমাইল আস-সাফফারের মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি তার সাথে থাকা একটি পাণ্ডুলিপি নকল করতে শুরু করেন এবং ইসমাইল হাদিস পাঠ (ইমলা) করে দিচ্ছিলেন। তখন উপস্থিতদের কেউ তাকে বললেন: "আপনি নকল করছেন এমতাবস্থায় আপনার শ্রবণ সঠিক হবে না।" আদ-দারা কুতনি বললেন: "পাঠকৃত বিষয়ের প্রতি আমার উপলব্ধি আপনার উপলব্ধির মতো নয়।" অতঃপর তিনি বললেন: "আপনি কি বলতে পারবেন শাইখ এখন পর্যন্ত কতটি হাদিস পাঠ করেছেন?" তিনি বললেন: "না।" তখন আদ-দারা কুতনি বললেন: "তিনি আঠারোটি হাদিস পাঠ করেছেন।" এরপর হাদিসগুলো গণনা করা হলে দেখা গেল তা ঠিক আদ-দারা কুতনি যেমনটি বলেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "প্রথম হাদিসটি অমুক থেকে, অমুক থেকে বর্ণিত এবং এর মূল পাঠ হলো এই; আর দ্বিতীয় হাদিসটি অমুক থেকে, অমুক থেকে বর্ণিত এবং এর মূল পাঠ হলো এই।" এভাবে তিনি হাদিসের সনদ ও মতনসমূহ পাঠের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বর্ণনা করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেন; এতে মানুষ তাঁর স্মৃতিশক্তিতে বিস্মিত হলো।
আহমদ ইবনে মনসুর বলেছেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবনে মঈনের সাথে বের হলাম। ইয়াহইয়া আহমদকে বললেন: "আমি আবু নুয়াইমকে পরীক্ষা করতে চাই।" তিনি (আহমদ) বললেন: "আপনি এমনটি করবেন না, কারণ লোকটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।" তিনি (ইয়াহইয়া) বললেন: "আমাকে তা করতেই হবে।" এরপর তিনি একটি কাগজ নিলেন এবং তাতে আবু নুয়াইমের বর্ণিত হাদিসসমূহ থেকে ত্রিশটি হাদিস লিখলেন এবং প্রতি দশটি হাদিসের শুরুতে এমন একটি করে হাদিস ঢুকিয়ে দিলেন যা তার বর্ণিত হাদিস নয়। তারপর তারা আবু নুয়াইমের কাছে আসলেন এবং ইয়াহইয়া তার সামনে দশটি হাদিস পাঠ করলেন, এমতাবস্থায় আবু নুয়াইম...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭১)
سَاكِت، ثمَّ قَرَأَ الْحَادِي عشر، فَقَالَ أَبُو نعيم: لَيْسَ من حَدِيثي، اضْرِب عَلَيْهِ. ثمَّ قَرَأَ الْعشْرَة الثَّانِيَة، وَأَبُو نعيم سَاكِت، فَقَرَأَ الحَدِيث الثَّانِي، فَقَالَ: لَيْسَ من حَدِيثي، اضْرِب عَلَيْهِ. ثمَّ قَرَأَ الْعشْرَة الثَّالِثَة، وَأَبُو نعيم سَاكِت، ثمَّ قَرَأَ الحَدِيث الثَّالِث، فَتَغَيَّر أَبُو نعيم، وانقلبت عَيناهُ، وَأَقْبل عَلَى يَحْيَى فَقَالَ: أما هَذَا - وذراع أَحْمد بِيَدِهِ - فأورع من أَن يعْمل هَذَا، وَأما هَذَا - يُرِيدنِي - فَأَقل من أَن يفعل هَذَا، وَلَكِن هَذَا من فعلك يَا فَاعل، ثمَّ أخرج رجله، فرفس يَحْيَى، فَرَمَى بِهِ. فَقَالَ يَحْيَى: وَالله لرفسته أحبّ إليَّ من سَفَرِي.
وَكَانَ قَتَادَة بن دِعامة السَّدُوسي يسْأَل سعيد بن الْمسيب فيكثر، فَقَالَ لَهُ سعيد: كل مَا سَأَلتنِي عَنهُ تحفظ؟ فقَالَ: نعم، سَأَلتك عَن كَذَا وَكَذَا، فَقلت: كَذَا وَكَذَا. قَالَ سعيد: مَا ظَنَنْت أَن الله خلق مثلك.
وَكَانَ يَقُول: مَا سَمِعَتْ أذناي شَيْئا قطّ إلَّا وَعَاهُ قلبِي، وَمَا قُلْتُ لمحدثٍ قطّ: أَعِدْ عليَّ؛ فإنَّ إِعَادَة الحَدِيث تَذْهَبُ بنوره.
وَقَالَ أَبُو حَاتِم مُحَمَّد بن إِدْرِيس الرَّازِيّ - أحد الْأَئِمَّة الحفَّاظ، العارفين بعلل الحَدِيث، وَالْجرْح وَالتَّعْدِيل -: أَحْصَيْتُ أَنِّي مشيتُ عَلَى قَدَمَيَّ زِيَادَة عَلَى ألف فَرْسَخ. وَقلت عَلَى بَاب أبي الْوَلِيد الطَّيَالِسِيّ: من أَغْرَبَ عليَّ حَدِيْثًا مُسْندًا صَحِيحا، لم أسمع بِهِ؛ فَلهُ عليَّ (دِرْهَم) -
নীরব ছিলেন, এরপর তিনি এগারোতম হাদিসটি পাঠ করলেন। তখন আবু নুআইম বললেন: "এটি আমার বর্ণিত হাদিস নয়, এটি কেটে দাও।" এরপর তিনি দ্বিতীয় দশটি হাদিস পাঠ করলেন এবং আবু নুআইম নীরব ছিলেন। অতঃপর তিনি (দ্বিতীয় সেটের) দ্বিতীয় হাদিসটি পাঠ করলেন, তখন তিনি বললেন: "এটি আমার বর্ণিত হাদিস নয়, এটি কেটে দাও।" এরপর তিনি তৃতীয় দশটি হাদিস পাঠ করলেন এবং আবু নুআইম নীরব ছিলেন। এরপর তিনি (তৃতীয় সেটের) তৃতীয় হাদিসটি পাঠ করলেন, তখন আবু নুআইমের অবস্থার পরিবর্তন ঘটল এবং তাঁর চোখ দুটো উল্টে গেল। তিনি ইয়াহইয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বললেন: "এই ব্যক্তি তো —তিনি তখন আহমদের হাত ধরে ছিলেন— এমন কাজ করার চেয়ে অনেক বেশি মুত্তাকি। আর এই ব্যক্তি —অর্থাৎ আমি— সে তো এমন কাজ করার চেয়েও নগণ্য। বরং হে পাপিষ্ঠ! এটি তোমারই কাজ।" এরপর তিনি তাঁর পা বাড়িয়ে ইয়াহইয়াকে এক লাথি মারলেন এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন। তখন ইয়াহইয়া বললেন: "আল্লাহর কসম, তাঁর এই লাথিটি আমার কাছে আমার এই সফরের চেয়েও অধিক প্রিয়।"
কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদুসি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িবকে প্রচুর প্রশ্ন করতেন। একদা সাঈদ তাঁকে বললেন: "তুমি আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করেছ তা কি তোমার মুখস্থ আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমি আপনাকে এই এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি এবং আপনি এই এই উত্তর দিয়েছেন।" সাঈদ বললেন: "আমি কল্পনাও করিনি যে আল্লাহ তোমার মতো কাউকে সৃষ্টি করেছেন।"
তিনি বলতেন: "আমার দুই কান যা কিছু শুনেছে আমার অন্তর তা সর্বদা সংরক্ষণ করেছে। আর আমি কোনো হাদিস বর্ণনাকারীকে কক্ষনো বলিনি: 'আমার কাছে পুনরায় বর্ণনা করুন'; কেননা হাদিস পুনরাবৃত্তি করা তার জ্যোতি দূর করে দেয়।"
আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আর-রাজি —যিনি হাফেজ ইমামগণের অন্যতম এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি ও জারহ-তাদিল শাস্ত্রে অভিজ্ঞ— তিনি বলেছেন: "আমি হিসাব করে দেখেছি যে আমি নিজের দুই পায়ে এক হাজার ফারসাখেরও বেশি পথ হেঁটেছি। আর আমি আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসির দরজায় দাঁড়িয়ে বলেছিলাম: 'যে ব্যক্তি আমাকে এমন কোনো সহিহ মুসনাদ হাদিস শোনাতে পারবে যা আমার কাছে অপরিচিত, তবে তার জন্য আমার পক্ষ থেকে এক দিরহাম পুরস্কার রয়েছে'—"
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭২)
وَقد حضر أَبُو زرْعَة، وَإِنَّمَا كَانَ مرادي أَن يُلْقي إِلَيّ مَا لم أسمع، ليقول هُوَ عِنْد فلانٍ، فَأذْهب أسمع، ومرادي أَن أستخرج مِنْهُم مَا لَيْسَ عِنْدِي - (فَمَا تهَيَّأ) لأحد أَن يُغربَ عليَّ حَدِيثا.
وَكَانَ أَبُو يُوسُف يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم القَاضِي يحضر مجْلِس الحَدِيث فيحفظ خمسين وَسِتِّينَ حَدِيثا، فَيقوم فيمليها عَلَى النَّاس.
وَقَالَ ابْن الْأَخْضَر القَاضِي: سَمِعت أَبَا حَفْص بن شاهين - صَاحب «النَّاسِخ والمنسوخ فِي الحَدِيث» - يَوْمًا يَقُول: حسبت مَا اشتريتُ بِهِ الحبر إِلَى هَذَا الْوَقْت، فَكَانَ سَبْعمِائة دِرْهَم. قَالَ القَاضِي: وَكُنَّا نشتري الحبر أَرْبَعَة أَرْطَال بدرهم. قَالَ القَاضِي: وَقد مكث ابْن شاهين بعد ذَلِكَ يكْتب زَمنا.
وَجَاء عَن مُحَمَّد بن الْمسيب الأَرْغِيَاني أَنه قَالَ: كنت أَمْشِي بِمصْر وَفِي كُمي مائَة جُزْء، فِي كل جُزْء ألف حَدِيث.
আবু যুরআ উপস্থিত হয়েছিলেন; আমার উদ্দেশ্য ছিল তিনি আমাকে এমন কিছু শোনাবেন যা আমি শুনিনি, যাতে তিনি বলেন যে এটি অমুকের কাছে আছে, অতঃপর আমি গিয়ে তা শুনি। আমার উদ্দেশ্য ছিল তাদের নিকট থেকে এমন কিছু বের করে আনা যা আমার সংগ্রহে নেই। ফলে কারও পক্ষে আমার নিকট এমন কোনো হাদিস পেশ করা সম্ভব হয়নি যা আমার কাছে অপরিচিত।
কাযী আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম হাদিসের মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং পঞ্চাশ থেকে ষাটটি হাদিস মুখস্থ করে নিতেন; অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং সেগুলো মানুষের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করতেন।
কাযী ইবনুল আখদার বলেন: আমি একদিন ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল হাদিস’ গ্রন্থের রচয়িতা আবু হাফস ইবনে শাহীনকে বলতে শুনেছি: আমি এই সময় পর্যন্ত যে পরিমাণ কালি ক্রয় করেছি তার মূল্য হিসাব করেছি, তা ছিল সাতশত দিরহাম। কাযী বলেন: আমরা এক দিরহামে চার রতল কালি ক্রয় করতাম। কাযী আরও বলেন: এরপরও ইবনে শাহীন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লেখালেখি অব্যাহত রেখেছিলেন।
মুহাম্মদ ইবনুল মুসাইয়িব আল-আরগিয়ানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি যখন মিসরে চলাফেরা করতাম, তখন আমার আস্তিনে একশটি জুজ (পুস্তিকা) থাকত এবং প্রতিটি জুজে এক হাজার করে হাদিস লিপিবদ্ধ ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৩)
فصل
فَهَذِهِ نبذةٌ من أحوالِ هَؤُلَاءِ الْحفاظ، الَّذين تتنزل الرَّحْمَة بذكرهم، وَهِي مختصرة بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَا تَرَكْنَاهُ. ذكرتها لَك مَجْمُوعَة أَيهَا النَّاظر فِي هَذَا الْموضع؛ لتعرف مَنَازِلهمْ، وَمَا كَانُوا عَلَيْهِ، وَكَيف حَالهم فِي اجتهادهم فِي هَذَا الْعلم، والإِكباب عَلَيْهِ. فَلَعَلَّ ذَلِكَ يكون محركًا فِي المسارعة إِلَى تتبع أَثَرهم، وَالسير إِلَيْهِ، لَعَلَّك تصل إِلَى بعض بعض مَا وصلوا إِلَيْهِ، أَو إِلَى كلّه، ففضل الله وعطاؤه وَاسع، لَا زَالَ مُنْهَلًّا لَدَيْهِ.
ثمَّ وفَّق الله الْعَظِيم - وَله المِنَّة - هَؤُلَاءِ الحفَّاظ، الْأَئِمَّة النقَّاد إِلَى وُصُول مَا حفظوه إِلَيْنَا، وتقريب مَا تقلَّدوه علينا،
فصنَّفوا فِي ذَلِكَ مصنفات مبتكرة، مُطَوَّلَة ومختصرة.
وَاخْتلف الْعلمَاء فِي أول من صنَّف الْكتب عَلَى ثَلَاثَة أَقْوَال:
أَحدهَا: عبد الْملك بن جريج.
ثَانِيهَا: الرّبيع بن صَبِيح.
ثَالِثهَا: (سعيد) بن أبي عرُوبَة.
حَكَاهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي «جَامع المسانيد» .
وَاخْتلف فِي ذَلِكَ مقاصدهم، وتشعَّبت آراؤهم، وَكلهَا مَقَاصِد حَسَنَة، وأفعال مستحسنة.
فَمنهمْ من رَأَى أَن تدوينه عَلَى مسانيد الصَّحَابَة رضي الله عنهم أقرب إِلَى ضَبطه، فرتَّبه كَذَلِك، كالإِمام أَحْمد بن حَنْبَل فِي «مُسْنده» ، ونظرائه.
(قَالَ الْحَاكِم: أول من صنَّف الْمسند عَلَى [تراجم الرِّجَال] :
পরিচ্ছেদ
এই হলো ঐসব হাদীস সংরক্ষণকারীগণের জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যাঁদের স্মরণে রহমত নাযিল হয়; আর আমরা যা বর্জন করেছি তার তুলনায় এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। হে পাঠক, আমি এখানে এগুলো আপনার জন্য সংগৃহীত আকারে উল্লেখ করেছি; যাতে আপনি তাঁদের মর্যাদা, তাঁদের অনুসৃত পথ এবং এই ইলমের প্রতি তাঁদের মেহনত ও একনিষ্ঠতা সম্পর্কে জানতে পারেন। সম্ভবত এটি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে এবং সেদিকে ধাবিত হতে উদ্দীপনা জোগাবে। এর ফলে হতে পারে আপনি তাঁদের অর্জিত বিষয়ের সামান্য কিছু অংশ বা পূর্ণ অংশই অর্জন করতে পারবেন। কেননা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দান অত্যন্ত প্রশস্ত এবং তা সর্বদা তাঁর নিকট থেকে বর্ষিত হয়।
অতঃপর মহান আল্লাহ—যিনি সকল অনুগ্রহের মালিক—এই সকল হাফিয ও সমালোচক ইমামগণকে তাঁদের মুখস্থকৃত জ্ঞান আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এবং তাঁদের অর্জিত আমানত আমাদের নিকট সহজসাধ্য করতে তাওফীক দান করেছেন।
ফলস্বরূপ তাঁরা এ বিষয়ে অত্যন্ত অভিনব গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন, যা বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত উভয় প্রকারের।
সর্বপ্রথম কে হাদীসের গ্রন্থ সংকলন করেছেন সে বিষয়ে উলামায়ে কিরামের মাঝে তিনটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: আবদুল মালিক ইবনে জুরাইজ।
দ্বিতীয়টি: রাবি ইবনে সবিহ।
তৃতীয়টি: সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ।
ইবনুল জাওযী এটি তাঁর ‘জামি’উল মাসানিদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
এ ক্ষেত্রে তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল এবং তাঁদের মতামতও বৈচিত্র্যময় ছিল; তবে এর সবই ছিল মহৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রশংসনীয় কর্ম।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেছেন যে, সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মুসনাদ অনুযায়ী হাদীস লিপিবদ্ধ করা এর সংরক্ষণের অধিকতর নিকটবর্তী। তাই তাঁরা সেভাবেই গ্রন্থ সজ্জিত করেছেন; যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে করেছেন এবং তাঁর সমমনা অন্যান্য ইমামগণ।
(আল-হাকিম বলেন: বর্ণনাকারীদের নামের ক্রমানুসারে সর্বপ্রথম যিনি মুসনাদ সংকলন করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৪)
عبيد الله بن مُوسَى العَبْسي، وَأَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ) .
وَمِنْهُم من رَأَى أَن تدوينه عَلَى تَرْتِيب أَبْوَاب الْفِقْه أسْرع لتنَاوله، فرتَّبه كَذَلِك.
وَقيل: أول من فعل ذَلِكَ الرّبيع بن صبِيح. وَقيل: مَالك بن أنس فِي «موطئِهِ» وَبِه جزم الإِمام الرَّافِعِيّ فِي «أَمَالِيهِ» .
ثمَّ مِنْ بعدهمْ جمع كَبِير، وجمٌّ غفير، كَعبد الرَّزَّاق، وَابْن أبي شيبَة، وَغَيرهمَا.
وهلم جرًّا إِلَى زمن الإِمامين، الحافظين، الناقدين: أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ، وَأبي الْحُسَيْن مُسلم بن (الْحجَّاج) الْقشيرِي، فصنفا كِتَابَيْهِمَا الصَّحِيحَيْنِ، والتزما ألَّا يوردا فيهمَا إلَّا حَدِيثا صَحِيحا، وتلقَّتهما الْأمة بِالْقبُولِ.
ثمَّ ألَّف جمَاعَة فِي زمنهما كتبا أُخر عَلَى الْأَبْوَاب، من غير الْتِزَام فِيهَا مَا التزماه، فَلم تلتحق بهَا، كسنن أبي دَاوُد سُلَيْمَان بن الْأَشْعَث السجسْتانِي، وجامع أبي عِيسَى مُحَمَّد بن سَوْرة التِّرْمِذِيّ (الضَّرِير) ، وَسنَن أبي عبد الرَّحْمَن النَّسَائِيّ، وَسنَن أبي عبد الله بن مَاجَه الْقزْوِينِي.
وألَّف جمَاعَة أُخر كتبا كَذَلِك: فبعضهم شَرط أَن يكون مُصَنفه مُخرَّجًا عَلَى أَحَادِيث الصَّحِيحَيْنِ أَو أَحدهمَا، ككتاب أبي نعيم،
উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি এবং আবু দাউদ আত-তায়ালিসি)।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেছেন যে, ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সংকলন করা এটি আয়ত্ত করার জন্য দ্রুততর পদ্ধতি, তাই তারা সেভাবেই একে বিন্যস্ত করেছেন।
বলা হয়: সর্বপ্রথম এটি করেছেন রাবি ইবনে সাবিহ। আবার বলা হয়: মালিক ইবনে আনাস তাঁর ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে; এবং ইমাম রাফিঈ তাঁর ‘আমালি’ গ্রন্থে এই ব্যাপারে দৃঢ় মত প্রকাশ করেছেন।
এরপর তাঁদের পরবর্তীকালে এক বিশাল ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী সংকলন করেছেন, যেমন আব্দুর রাজ্জাক, ইবনে আবি শাইবা এবং আরও অনেকে।
আর এই ধারা চলতে থাকে দুই ইমাম, দুই হাফিজ ও দুই সমালোচক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরির যুগ পর্যন্ত। তাঁরা তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয় রচনা করেন এবং এই প্রতিশ্রুতি দেন যে, তাঁরা তাতে কেবল সহিহ হাদিসই উল্লেখ করবেন; আর উম্মাহ তা কবুল করে নিয়েছে।
এরপর তাঁদের সমসাময়িক একদল আলেম অধ্যায় অনুযায়ী আরও কিতাব রচনা করেন, তবে তাঁরা তাতে সেই শর্তারোপ করেননি যা ওই দুই ইমাম করেছিলেন। ফলে সেগুলো সহিহাইন-এর সমমর্যাদায় পৌঁছেনি; যেমন আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আল-আশআস আস-সিজিস্তানির ‘সুনান’, আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে সাওরা আত-তিরমিজির (যিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন) ‘জামি’, আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীর ‘সুনান’ এবং আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ আল-কাজভিনির ‘সুনান’।
এবং অন্য আরও একদল একইভাবে কিতাব রচনা করেছেন: তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শর্ত করেছেন যে, তাঁদের সংকলিত গ্রন্থটি সহিহাইন বা এই দুইটির যেকোনো একটির হাদিসের ওপর ভিত্তি করে (তাখরিজকৃত) হবে, যেমন আবু নুআইমের কিতাব।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৫)
وَالْبرْقَانِي، والإسماعيلي، وَأبي عَوَانَة.
وَبَعْضهمْ شَرط أَن يسْتَدرك مَا أهمله الشَّيْخَانِ فِي «صَحِيحَيْهِمَا» ، كَمَا فعل الْحَاكِم أَبُو عبد الله فِي الْكتاب الَّذِي سَمَّاه ب «الْمُسْتَدْرك عَلَى الصَّحِيحَيْنِ» .
وَبَعْضهمْ شَرط فِي مُصَنفه الصِّحَّة مُطلقًا، لَا عَلَى رأيٍ، بل عَلَى رَأْيهمْ، كصحيح إِمَام الْأَئِمَّة، أبي بكر مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن خُزَيْمَة، وصحيح أبي حَاتِم بن حبَان، الْمُسَمَّى ب «التقاسيم والأنواع» ، وَهَذَا لم يرتبه مُصَنفه عَلَى التَّرْتِيب الْمَذْكُور، وَإِنَّمَا رتَّبه عَلَى ترتيبٍ خَاص بديع.
(وَبَعْضهمْ لم يَشْتَرِطْ) شَرْطًا، وإنَّما أودعا فِي تصانيفهما الصَّحِيح والضعيف، مبينين ذَلِكَ، ك «سنَن أبي الْحسن الدَّارَقُطْنِيّ) ، و «السّنَن الْكَبِير» لِلْحَافِظِ أبي بكر الْبَيْهَقِيّ، المرتَّب عَلَى تَرْتِيب «الْمَبْسُوط» الَّذِي صنَّفه عَلَى تَرْتِيب (مُخْتَصر) الْمُزنِيّ.
هَذَا كُله كَانَ (عَلَى) رَأْي السّلف الأول، يذكرُونَ الْأَحَادِيث بِالْأَسَانِيدِ فِي هَذِه التصانيف، إذْ عَلَيْهِ المُعَوَّل.
وَأما الْمُتَأَخّرُونَ، فاقتصروا عَلَى إِيرَاد الْأَحَادِيث فِي تصانيفهم بِدُونِ الْإِسْنَاد، مقتصرين عَلَى الْعزو إِلَى الْأَئِمَّة الأُوَل -[إلاّ أفرادًا] من ذَلِكَ وآحادًا -: كأحكام عبد الْحق «الْكُبْرَى» ، و «الصُّغْرَى» و «الْوُسْطَى» .
আল-বারকানি, আল-ইসমাঈলি এবং আবু আওয়ানা।
এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ শর্তারোপ করেছেন যে, তাঁরা এমন হাদিসসমূহ পরিমার্জন বা সংযোজন করবেন যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের 'সহিহ' গ্রন্থদ্বয়ে বাদ দিয়েছেন; যেমনটি করেছেন হাকিম আবু আব্দুল্লাহ তাঁর সেই গ্রন্থে, যার নাম তিনি রেখেছেন 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন'।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের সংকলিত গ্রন্থে সাধারণভাবে বিশুদ্ধতার (সহিহ হওয়ার) শর্তারোপ করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো মতানুসারে নয় বরং তাঁদের নিজস্ব মত অনুযায়ী। যেমন: ইমামুল আইম্মাহ আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ-এর 'সহিহ', এবং আবু হাতিম বিন হিব্বানের 'সহিহ', যা 'আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া' নামে পরিচিত। এটি এর লেখক উল্লিখিত প্রচলিত বিন্যাস অনুযায়ী সাজাননি, বরং তিনি একে একটি চমৎকার বিশেষ বিন্যাসে সাজিয়েছেন।
(এবং তাদের কেউ কেউ) কোনো শর্তারোপ করেননি, বরং তাঁরা তাঁদের সংকলনে সহিহ ও জয়িফ (দুর্বল) উভয় প্রকার হাদিসই সন্নিবেশ করেছেন এবং তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। যেমন: আবু হাসান আদ-দারাকুতনির 'সুনান' এবং হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকির 'আস-সুনান আল-কবীর', যা 'আল-মাবসুত'-এর বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত হয়েছে, এবং সেটি আবার সাজানো হয়েছিল (ইমাম) আল-মুজনির 'মুখতাসার'-এর বিন্যাস অনুযায়ী।
এ সবই ছিল আদি সালাফদের কর্মপন্থা; তাঁরা এই সংকলনগুলোতে হাদিসসমূহ সনদসহ উল্লেখ করতেন, কারণ এর ওপরই মূল নির্ভরতা।
আর পরবর্তীকালের আলেমগণ তাঁদের সংকলনে সনদ বাদ দিয়ে শুধু হাদিস বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং তাঁরা কেবল পূর্ববর্তী ইমামদের দিকে হাদিসগুলোকে সম্বন্ধ করার ওপর নির্ভর করেছেন—তবে এর হাতেগোনা কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে—যেমন: আব্দুল হকের 'আল-আহকাম আল-কুবরা', 'আস-সুগরা' এবং 'আল-উসতা'।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৬)
وَعَلَى «الْوُسْطَى» اعتراضات لِلْحَافِظِ أبي الْحسن بن الْقطَّان، وَمَا أَكثر نَفعه. وَعَن بَعْضهَا أجوبة لبَعض الْمُتَأَخِّرين.
وَأَحْكَام (الْحَافِظ) أبي عبد الله مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد، الْمَعْرُوف ب «الضياء الْمَقْدِسِي» ، وَلم يتمم كِتَابه، وصل فِيهِ إِلَى أثْنَاء الْجِهَاد، وَهُوَ أكثُرها نفعا.
وَأَحْكَام الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ الْمَقْدِسِي: «الْكُبْرَى» ، و «الصُّغْرَى» .
وَأَحْكَام الْحَافِظ مجد الدَّين عبد السَّلَام ابْن تَيْمِية، الْمُسَمَّى ب «المُنْتَقَى» ، وَهُوَ كاسمه، وَمَا أحْسنه، لَوْلَا إِطْلَاقه فِي كثير من الْأَحَادِيث الْعزو إِلَى (كتب) الْأَئِمَّة دون التحسين والتضعيف، يَقُول مثلا: (رَوَاهُ أَحْمد) ، رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد. وَيكون الحَدِيث ضَعِيفا، وَأَشد من ذَلِكَ: كَون الحَدِيث فِي «جَامع التِّرْمِذِيّ» مُبَيَّنًا ضعفه، فيعزيه إِلَيْهِ من غير بَيَان ضعفه.
وَيَنْبَغِي لِلْحَافِظِ جمع هَذِه الْمَوَاضِع، وكتبها عَلَى حَوَاشِي هَذَا الْكتاب، أَو جمعهَا فِي مُصَنف لتكمل فَائِدَة الْكتاب الْمَذْكُور. وَقد شَرَعْتُ فِي كَتْبِ ذَلِكَ عَلَى حَوَاشِي نُسْخَتي، وَأَرْجُو إِتْمَامه.
وَأَحْكَام الْحَافِظ محب الدَّين الطَّبَرِيّ - نزيل مَكَّة، شرَّفها الله تَعَالَى - وَهُوَ أبسطها وأطولها.
وَأَحْكَام بَقِيَّة الْمُجْتَهدين فِي هَذَا الْفَنّ: تَقِيّ الدَّين أبي الْفَتْح الْقشيرِي، الْمُسَمَّى ب «الْإِلْمَام» ، وشَرَطَ فِيهِ - كَمَا قَالَ فِي خطبَته - أَن لَا
এবং 'আল-উসতা'-এর ওপর হাফিজ আবুল হাসান বিন আল-কাত্তানের কিছু আপত্তি রয়েছে, যা অত্যন্ত উপকারী। আর তার কয়েকটির উত্তর দিয়েছেন পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম।
এবং (হাফিজ) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ, যিনি 'আয-যিয়া আল-মাকদিসি' নামে পরিচিত, তাঁর রচিত 'আহকাম'। তিনি তাঁর কিতাবটি সম্পন্ন করতে পারেননি, জিহাদ অধ্যায়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন; এটি এ বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারী।
এবং হাফিজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির 'আহকাম': 'আল-কুবরা' ও 'আস-সুগরা'।
এবং হাফিজ মাজদুদ্দীন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আহকাম', যার নাম 'আল-মুনতাকা'। এটি তার নামের মতোই চমৎকার সংকলন, এবং এটি কতই না উত্তম হতো, যদি তিনি অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে ইমামদের গ্রন্থের দিকে কেবল সম্বন্ধ করেই ক্ষান্ত না হতেন এবং হাদিসটি উন্নত না দুর্বল—তা উল্লেখ করতেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন: 'এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন', 'দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন', 'আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন'। অথচ হাদিসটি হয়তো দুর্বল। আর এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো: হাদিসটি হয়তো 'জামে তিরমিযী'-তে রয়েছে এবং সেখানে তার দুর্বলতা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তিনি হাদিসটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন অথচ তার দুর্বলতা উল্লেখ করেননি।
কোনো হাফিজের উচিত এই স্থানগুলো একত্রিত করা এবং এই কিতাবের টীকায় তা লিখে রাখা, অথবা একটি স্বতন্ত্র সংকলনে তা জমা করা, যাতে উল্লিখিত কিতাবটির উপকারিতা পূর্ণতা পায়। আমি আমার কপির টীকায় তা লেখা শুরু করেছি এবং আশা করি তা সম্পন্ন করতে পারব।
এবং হাফিজ মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারির 'আহকাম'—যিনি মক্কায় বসবাস করতেন, আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন—আর এটি এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত এবং দীর্ঘতম।
এবং এই শাস্ত্রের অন্যান্য মুজতাহিদগণের 'আহকাম': তাকিউদ্দীন আবুল ফাতহ আল-কুশাইরির গ্রন্থ, যার নাম 'আল-ইলমাম'। তিনি এতে শর্তারোপ করেছেন—যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন—যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৭)
يُخرج إلَّا حَدِيثا قد صحَّحه أحدٌ من الْأَئِمَّة، أَو زَكَّى (رُواته) واحدٌ مِنْهُم، وإنْ كَانَ غَيره قد ضعَّفه.
وَأما كِتَابه «الإِمام» : فَهُوَ للْمُسلمين إِمَام، وَلِهَذَا الْفَنّ زِمَام، لَا نَظِير لَهُ، لَو تمَّ جَاءَ فِي خَمْسَة وَعشْرين مجلدًا، كَمَا قَالَ الْحَافِظ أَبُو عبد الله الذَّهَبِيّ فِي كِتَابه «سير النبلاء» . وَهُوَ حقيق بذلك؛ فقد رَأَيْت من أوَّلِه إِلَى أثْنَاء كتاب الصَّلَاة فِي الْكَلَام عَلَى رفع الْيَدَيْنِ فِي ثَلَاث مجلداتٍ ضخماتٍ، وَنقل (الذَّهَبِيّ) فِي الْكتاب الْمَذْكُور، عَن شَيخنَا قطب الدَّين (عبد الْكَرِيم) الْحلَبِي - رَحْمَة الله عَلَيْهِ - أنَّه كَمَّل تسويد هَذَا الْكتاب. وَكَذَلِكَ سمعته من بعض مَشَايِخنَا، يَحْكِي عَن الهمذاني عَن المُصَنّف أَنه أكمله.
وَالْمَوْجُود بِأَيْدِينَا مِنْهُ متواليًا مَا قَدَّمْتُه، وَقطعَة من الْحَج وَالزَّكَاة. وَلَو بُيِّض هَذَا الْكتاب، وَخرج إِلَى النَّاس، لاستغني بِهِ عَن كل كتاب صُنِّف فِي نَوعه، أَو بقيت مسودته. وَيُقَال: إِن بَعضهم أَفْسَدَ قِطْعَة مِنْهُ حسدًا. فَلَا حول وَلَا قُوَّة إلَّا بِاللَّه العليّ الْعَظِيم.
هَذَا كَلَامهم فِيمَا يتَعَلَّق بمتن الحَدِيث. وَأما متعلقاته:
فَأمر غَرِيبه:
...তিনি কেবল এমন হাদিসই উদ্ধৃত করেন যা ইমামগণের কেউ সহিহ বলেছেন অথবা তাদের কেউ এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপন্ন করেছেন, যদিও অন্য কেউ তা দুর্বল বলেছেন।
আর তাঁর কিতাব ‘আল-ইমাম’: এটি মুসলমানদের জন্য এক অনুসরণীয় পথপ্রদর্শক এবং এই শাস্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য মূলনীতি, যার কোনো নজির নেই। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাহাবি তাঁর ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন—এটি পূর্ণতা পেলে পঁচিশ খণ্ডে সমাপ্ত হতো। আর এটি এর যোগ্যও বটে; আমি এর শুরু থেকে সালাত অধ্যায়ের হাত তোলা (রাফউল ইয়াদাইন) সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যভাগ পর্যন্ত তিনটি বিশাল খণ্ড দেখেছি। দাহাবি উক্ত গ্রন্থে আমাদের শায়খ কুতুবুদ্দিন আব্দুল কারিম আল-হালাবি—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই গ্রন্থের খসড়া পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছিলেন। একইভাবে আমি আমাদের কিছু শায়খের নিকট থেকে শুনেছি, তিনি হামদানি থেকে এবং তিনি গ্রন্থকারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তিনি এটি পূর্ণ করেছিলেন।
বর্তমানে আমাদের হাতে ধারাবাহিকভাবে এর যে অংশটুকু বিদ্যমান তা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি, এছাড়া হজ ও জাকাত অধ্যায়ের কিছু অংশ রয়েছে। যদি এই কিতাবটি চূড়ান্তভাবে পরিমার্জিত হয়ে মানুষের কাছে প্রকাশিত হতো, তবে এই বিষয়ের ওপর রচিত অন্য সকল কিতাব থেকে এটি অমুখাপেক্ষী করে দিত, অথবা অন্তত যদি এর খসড়া পাণ্ডুলিপিটিও টিকে থাকত। বলা হয়ে থাকে যে, হিংসাবশত কেউ কেউ এর একটি অংশ নষ্ট করে ফেলেছে। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
হাদিসের মূল পাঠ (মতন) সংক্রান্ত তাদের আলোচনা এটুকুই। আর এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়সমূহ:
এর কঠিন শব্দাবলি (গরিব) সংক্রান্ত বিষয়টি হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৮)
أفرده بالتصنيف: أَبُو عُبَيْدَة معمر بن المثنَّى، وتلميذه أَبُو عبيد الْقَاسِم بن سَلام، وَالنضْر بن شُمَيْل، والهروي، وَابْن الْأَثِير، وَغَيرهم.
وَأمر أَسمَاء رُوَاته جرحا وتعديلًا:
وَأول من تكلَّم فِي ذَلِكَ: شُعْبَة، ثمَّ تبعه يَحْيَى بن سعيد القطَّان، ثمَّ أَحْمد بن حَنْبَل، وَيَحْيَى بن معِين. كَمَا قَالَه صَالح بن مُحَمَّد الْبَغْدَادِيّ - فأفرده بالتصنيف: يَحْيَى بن معِين - وَهُوَ أول من وضع كتابا فِي ذَلِكَ - ثمَّ البُخَارِيّ، ثمَّ أَبُو زرْعَة، وَأَبُو حَاتِم، وَالنَّسَائِيّ.
وَمن بعدهمْ: كالعُقَيْلي، والأزدي، وَابْن حبَان.
قَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدَّين فِي كِتَابه «الاقتراح» : أَعْرَاض الْمُسلمين حُفْرَة من حفر النَّار، وَقَفَ عَلَى شَفِيْرِها طَائِفَتَانِ من النَّاس: المحدثون والحكام. قَالَ: وَكَانَ شيخ شُيُوخنَا الْحَافِظ أَبُو الْحسن الْمَقْدِسِي يَقُول فِي الرجل الَّذِي يخرج عَنهُ فِي الصَّحِيح: هَذَا جَازَ القنطرة. يَعْنِي بذلك: أَنه لَا (يلْتَفت) إِلَى مَا قيل فِيهِ.
قَالَ الشَّيْخ: وَهَكَذَا (نعتقد، و) بِهِ نقُول، وَلَا نخرج عَنهُ إلَّا ببيانٍ (شافٍ) ، وَحجَّة ظَاهِرَة.
وَأمر صحابته أفرده بالتصنيف:
أَبُو نعيم وَأَبُو مُوسَى الأصبهانيان، وَابْن قَانِع، وَابْن عبد الْبر، وَابْن الْأَثِير، وَغَيرهم.
وَكَذَلِكَ فعلوا - قَدَّس الله أَرْوَاحهم، ونَوَّر ضرائحهم - بباقي
এটি নিয়ে পৃথকভাবে গ্রন্থ রচনা করেছেন: আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না, তাঁর ছাত্র আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম, আন-নাদর ইবনে শুমাইল, আল-হারাউয়ি, ইবনুল আসির এবং আরও অনেকে।
আর এর বর্ণনাকারীদের নামের জারহ ও তা’দিল (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার) সংক্রান্ত বিষয়:
এ বিষয়ে সর্বপ্রথম কথা বলেছেন শু’বাহ, অতঃপর তাঁর অনুসরণ করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, এরপর আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন। যেমনটি সালেহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি বলেছেন—অতঃপর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এটি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন—আর তিনিই সর্বপ্রথম এ বিষয়ে কোনো কিতাব রচনা করেন—এরপর বুখারি, এরপর আবু জুর’আহ, আবু হাতিম এবং নাসাঈ।
এবং তাঁদের পরবর্তীগণ: যেমন উকাইলি, আজদি এবং ইবনে হিব্বান।
শাইখ তাকিউদ্দীন তাঁর ‘আল-ইকতিরাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: মুসলিমদের সম্মান জাহান্নামের গর্তগুলোর মধ্যে একটি গর্ত, যার কিনারে দুই শ্রেণির মানুষ দাঁড়িয়ে আছে: মুহাদ্দিসগণ এবং বিচারকগণ। তিনি বলেন: আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ হাফিজ আবুল হাসান আল-মাকদিসি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলতেন যার হাদিস ‘সহিহ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে: “তিনি পুল পার হয়ে গেছেন।” এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: তাঁর ব্যাপারে যা কিছু বলা হয়েছে সেদিকে আর দৃষ্টিপাত করা হবে না।
শাইখ বলেন: আমরাও এরূপই বিশ্বাস করি এবং এটিই বলি; পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ ব্যতীত আমরা এর থেকে বিচ্যুত হই না।
আর তাঁর সাহাবীগণের বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থ রচনা করেছেন:
আবু নুআইম ও আবু মুসা আল-আসফাহানিদ্বয়, ইবনে কানি’, ইবনে আব্দুল বারর, ইবনুল আসির এবং আরও অনেকে।
আর তাঁরা এভাবেই করেছেন—আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁদের কবরগুলোকে আলোকিত করুন—অবশিষ্ট...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭৯)
أَنْوَاعه، وفنونه الزَّائِدَة عَلَى السِّتين نوعا، أَنْجَحَ الله قصدهم، وَلَا خَيَّبَ سعينا وسعيهم، فَلَقَد بذلوا جهدهمْ فِيمَا صنَّفوه، وأتعبوا فِكْرَهُم فِيمَا وضعوه وحرَّروه، وَلم يبْق هِمَّةُ أكثرِ الْفُضَلَاء (من) الْمُتَأَخِّرين إلَّا النّظر فِيمَا هَذَّبُوه، والاقتباس مِمَّا قَيَّدوه وضبطوه، ولعمري إنَّ ذَلِكَ (الْيَوْم) لمن أشرفِ المطالب، وأعظمِ الْمَقَاصِد.
وَكنت مِمَّن أَنعمَ الله سبحانه وتعالى، وَله الْحَمد والمِنَّة - عَلَيْهِ محبَّة الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة، خُصُوصا هَذَا الْعلم الشريف، فَكنت أُعلِّق فَوَائده، وأَضبط شوارده، وأُقيِّد أوابده، وأَسمع عاليه ونازله، كاشفًا عَن فنونه، باحثًا عَن علومه، (أَعنِي) : صَحِيحه، وَحسنه، وضعيفه، ومتصله، ومرسله، ومنقطعه، ومعضله، ومقلوبه، ومشهوره، وغريبه، وعزيزه، ومنكره، و (معروفه) ، وآحاده، ومتواتره، وأفراده، وشاذه، ومعلله، ومدرجه، ومبينه، ومختلفه، وموضوعه، إِلَى غير ذَلِكَ من معرفَة حَال أسانيده جرحا وتعديلًا، وأنسابًا وتاريخًا، وصدقًا وتدليسًا، واعتبارًا ومتابعةً، ووصلًا وإرسالًا، ووقفًا وانقطاعًا، وَزِيَادَة الثِّقَات، وَمَا خُولف فِيهِ الْأَثْبَات، وَمَعْرِفَة الصَّحَابَة، وتابعيهم، وتابعي التَّابِعين رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ.
ويَسَّر الله - تَعَالَى - لنا - سُبْحَانَهُ، وَله الْحَمد والْمنَّة - من الْكتب الَّتِي يحْتَاج إِلَيْهَا طَالب هَذَا الْفَنّ: زِيَادَة عَلَى مائَة تأليف، كَمَا سأعدها لَك فِي آخر الْخطْبَة. وأحببت أَن أشتغل بِكِتَابَة الحَدِيث النَّبَوِيّ - عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام، وَأعظم التَّحِيَّة والإِكرام - رَجَاء شَفَاعَته (فيَّ)
এর প্রকারভেদ এবং এর শাখা-প্রশাখা যা ষাটেরও অধিক প্রকারে বিন্যস্ত, আল্লাহ তাঁদের উদ্দেশ্য সফল করুন এবং আমাদের ও তাঁদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ না করুন। তাঁরা যা সংকলন করেছেন তাতে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং যা রচনা ও পরিমার্জন করেছেন তাতে নিজেদের চিন্তাশক্তিকে খাটিয়েছেন। পরবর্তী যুগের অধিকাংশ গুণীজনের সংকল্প কেবল তাঁদের পরিমার্জিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা এবং তাঁদের লিপিবদ্ধ ও সুসংবদ্ধ বিষয়গুলো থেকে নির্যাস গ্রহণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমার জীবনের শপথ! বর্তমান সময়ে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ অন্বেষণ এবং মহান লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদের ওপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা—যাঁকে যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করি—শরয়ি ইলমের প্রতি ভালোবাসা দান করে অনুগ্রহ করেছেন, বিশেষ করে এই মহিমান্বিত ইলমের প্রতি। তাই আমি এর শিক্ষণীয় বিষয়গুলো টুকে রাখতাম, এর দুর্লভ বিষয়গুলো সংকলন করতাম, এর বিরল বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতাম এবং এর উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের সনদগুলো শ্রবণ করতাম। আমি এর বিভিন্ন শাখা উন্মোচন করতাম এবং এর ইলমসমূহ নিয়ে গবেষণা করতাম; অর্থাৎ: এর সহিহ, হাসান, জয়িফ, মুত্তাসিল, মুরসাল, মুনকাতি, মুদাল, মাকলুব, মাশহুর, গারিব, আজিজ, মুনকার, মারুফ, আহাদ, মুতাওয়াতির, আফরাদ, শায, মুআল্লাল, মুদরাজ, মুবাইয়্যান, মুখতালিফ এবং মাওজু হাদিসসমূহ সম্পর্কে। এ ছাড়া এর সনদসমূহের অবস্থা জানা, যেমন: জেরা ও তাদিল, বংশপরিচয় ও ইতিহাস, সত্যবাদিতা ও তাদলিস, ইতিবার ও মুতাবাআত, ওয়াসল ও ইরসাল, ওয়াকফ ও ইনকিতা, নির্ভরযোগ্য রাবিদের অতিরিক্ত বর্ণনা, শক্তিশালী রাবিদের বিপরীতে বর্ণিত বর্ণনা এবং সাহাবী, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িদের (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পরিচয় লাভ করা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা—যাঁরই যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ—আমাদের জন্য এই বিষয়ের শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কিতাবসমূহ থেকে শতাধিক গ্রন্থ সহজলভ্য করে দিয়েছেন, যা আমি এই ভূমিকার শেষে আপনার নিকট বিস্তারিত তুলে ধরব। আর আমি নবী করীম—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম এবং মহান সম্মান ও শ্রদ্ধা বর্ষিত হোক—এর হাদিস লিখনে ব্যাপৃত থাকতে পছন্দ করেছি, আমার জন্য তাঁর শাফায়াতের আশায়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৮০)
يَوْم الْقِيَامَة، يَوْم الهول والملامة، وثواب الله الْكَرِيم، وفضله العميم، وَقد قَالَ عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه فِيمَا (روينَا عَنهُ) : «اغْدُ عَالما أَو مُتَعَلِّمًا، وَلَا تَغْدُ الثَّالِثَة فَتَهْلِك» .
وَفِي «المعجم الْكَبِير» للطبراني من حَدِيث عَطاء بن مُسلم، عَن خَالِد الحَذَّاء، عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي [بكرَة] ، عَن أَبِيه، قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: «اغْدُ عَالما، أَو مُتَعَلِّمًا، أَو مستمعًا، أَو مُحِبًّا، وَلَا تكن الْخَامِسَة فتهلك» ، قَالَ: يَعْنِي بالخامسة: المُبْغِض.
ورجاءَ وُصُول هَذَا (الْعلم) الشريف إِلَى ذهني الركود، وقريحتي الَّتِي قَلَّ أَن تجود، وامتثالًا لقَوْل الْعلمَاء أولي الْفضل والتفضيل: التصنيف أحد (طريقَي) التَّحْصِيل.
وَلَا شكّ وَلَا مرية أَن أهم أَنْوَاعه - قبل الْخَوْض فِي فهمه -: معرفَة صَحِيحه من سقيمه، قَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدَّين فِي كِتَابه «الاقتراح» : نَحن نرَى أَن [من] أهم عُلُوم الحَدِيث: مَا يُؤَدِّي إِلَى معرفَة صَحِيح الحَدِيث.
কিয়ামত দিবস, ভয় ও ভর্ৎসনার দিন; এবং দয়ালু আল্লাহর সওয়াব ও তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের প্রত্যাশায়। আর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তুমি আলেম অথবা শিক্ষার্থী হিসেবে সকাল অতিবাহিত করো, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি হয়ো না, অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।"
তাবারানির 'আল-মু'জাম আল-কাবীর'-এ আতা ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি খালিদ আল-হাদ্দা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরা থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তুমি আলেম হও, অথবা শিক্ষার্থী হও, অথবা শ্রোতা হও, অথবা অনুরাগী হও; কিন্তু পঞ্চম ব্যক্তি হয়ো না, নতুবা তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: পঞ্চম ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—বিদ্বেষী ব্যক্তি।
এই মহান ইলম আমার স্থবির মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আশায় এবং আমার এমন স্বল্প-উর্বর প্রতিভার জাগরণে যা সচরাচর কিছু দান করে না, এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অধিকারী আলেমগণের বাণীর অনুসরণে (যে বাণীটি হলো): গ্রন্থ সংকলন ইলম অর্জনের দুই পদ্ধতির অন্যতম।
এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই যে, ইলম অনুধাবনে নিমগ্ন হওয়ার আগে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো—এর বিশুদ্ধ (সহিহ) ও অশুদ্ধের (সাকিম) পার্থক্য নিরূপণ করা। শেখ তাকিউদ্দিন তাঁর 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আমরা মনে করি হাদিস বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্যতম হলো: যা হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৮১)
فَبَقيت زَمنا مُتَحَيِّرًا فِيمَ أكتبه، وَمَا أعلِّقه وأصنِّفه، إِلَى أَن خار الله سبحانه وتعالى والخيرة بِيَدِهِ، كَمَا قَالَ فِي كِتَابه: (مَا كَانَ لَهُم الْخيرَة) ، وَله الْحَمد والمنَّة - بتأليف كتاب نَفِيس، لم أُسْبَقْ إِلَى وَضعه، وَلم يُنسج عَلَى منواله وَجمعه، وَأهل زَمَاننَا وَغَيرهم (شديدو) الْحَاجة إِلَيْهِ، وكل الْمذَاهب تعتمد فِي الِاسْتِدْلَال عَلَيْهِ، وَهُوَ: أَن أتكلَّم عَلَى الْأَحَادِيث (والْآثَار الْوَاقِعَة) فِي «الْفَتْح الْعَزِيز (فِي) شرح الْوَجِيز» ، وَهُوَ الشَّرْح الْكَبِير الَّذِي صنَّفه إِمَام الملَّة والدِّين، أَبُو الْقَاسِم عبد الْكَرِيم ابْن الإِمام أبي الْفضل مُحَمَّد بن عبد الْكَرِيم الرَّافِعِيّ، قدَّس الله روحه ونوَّر ضريحه، فَإِنَّهُ كتاب لم يصنف فِي الْمَذْهَب عَلَى مثل أسلوبه، وَلم يجمع أحد سلف كجمعه، فِي ترتيبه وتنقيحه وتهذيبه، ومرجع فقهائنا فِي كل الأقطار - الْيَوْم - فِي الْفَتْوَى، والتدريس، والتصنيف إِلَيْهِ، واعتمادهم فِي هَذِه الْأُمُور عَلَيْهِ.
لكنه - أَجْزَل الله مثوبته - مَشَى فِي هَذَا الشَّرْح الْمَذْكُور عَلَى طَريقَة الْفُقَهَاء الخُلَّص، فِي ذكر الْأَحَادِيث الضعيفة والموضوعات، والمنكرة والواهيات، وَالَّتِي لَا تعرف أصلا فِي كتاب حَدِيث، لَا قديم وَلَا حَدِيث، فِي معرض الِاسْتِدْلَال، من غير بَيَان ضَعِيف من صَحِيح، وسليم من جريح.
وَهُوَ رحمه الله إِمَام فِي الْفَنّ الْمَذْكُور، وَأحد فرسانه، كَمَا سَيَأْتِي إيضاحه فِي تَرْجَمته. فتوكلت - حينئذٍ - عَلَى الله سبحانه وتعالى فِي
ফলস্বরূপ আমি দীর্ঘকাল এই দ্বিধায় ছিলাম যে আমি কী লিখব এবং কীসের টীকা বা সংকলন প্রস্তুত করব। অবশেষে মহান আল্লাহ আমার জন্য কল্যাণ নির্বাচন করলেন—আর সকল কল্যাণ আল্লাহর হাতেই, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন: (তাদের কোনো এখতিয়ার ছিল না)। আর সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই—একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে, যার বিন্যাস ও সংকলনের ক্ষেত্রে আমার পূর্বে কেউ অগ্রণী হয়নি এবং যার শৈলীতে ইতিপূর্বে কিছু রচিত হয়নি। আমাদের সমকালীন এবং অন্যান্যরা এর প্রতি অত্যন্ত মুখাপেক্ষী, এবং সকল মাযহাবই দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করে। আর তা হলো: ‘আল-ফাতহুল আযীয ফী শারহিল ওয়াজীয়’ গ্রন্থে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহ নিয়ে আলোচনা করা। এটি সেই ‘শারহুল কাবীর’ যা মিল্লাত ও দ্বীনের ইমাম, আবুল কাসিম আব্দুল কারীম ইবনুল ইমাম আবিল ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আর-রাফিঈ সংকলন করেছেন; আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরে আলোকিত করুন। কেননা এটি এমন এক কিতাব যা মাযহাবের ভেতর এর ন্যায় অনন্য শৈলীতে রচিত হয়নি এবং পূর্বসূরীদের কেউ এর বিন্যাস, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও পরিমার্জনের মতো সংকলন করেননি। বর্তমানে সকল জনপদে ফতোয়া প্রদান, শিক্ষাদান এবং গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এটিই আমাদের ফকীহদের প্রধান রেফারেন্স এবং এই সকল বিষয়ে তাঁদের নির্ভরতা এরই ওপর।
কিন্তু তিনি—আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—উল্লিখিত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে খাঁটি ফকীহদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; অর্থাৎ দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে যঈফ (দুর্বল), মাওযূ (বানোয়াট), মুনকার ও অতি দুর্বল হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন, এমনকি এমন সব বর্ণনাও এনেছেন যার কোনো মূল ভিত্তি প্রাচীন বা আধুনিক কোনো হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় না। অথচ তিনি সহীহ থেকে যঈফ কিংবা ত্রুটিমুক্ত থেকে ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনার পার্থক্য নিরূপণ করেননি।
অথচ তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লিখিত বিদ্যায় একজন ইমাম এবং এর অন্যতম বিশেষজ্ঞ, যেমনটি তাঁর জীবনী আলোচনায় অচিরেই স্পষ্ট হবে। এমতাবস্থায় আমি মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করলাম...
(খণ্ড: ১)
আল-বাদরুল মুনীর ফী তাখরীজিল আহাদীসি ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কাবীর
(পৃষ্ঠা: ২৮২)
ذَلِكَ، وسَأَلْتُه التوفيقَ فِي القولِ والعملِ، والعصمة من الْخَطَأ والخَطَل.
وَكنت عزمت عَلَى أَن أرتِّب أَحَادِيث وآثار الْكتاب الْمَذْكُور عَلَى مسانيد الصَّحَابَة، فأذكر الصَّحَابِيّ وعدة مَا رَوَى من الْأَحَادِيث، وَمَا لَهُ من الْآثَار، فثنيت الْعَنَان عَن ذَلِكَ، لوَجْهَيْنِ:
أَحدهمَا: أَن الإِمام الرَّافِعِيّ رضي الله عنه فِي كثير من المواطن لَا يذكر إلَّا نَفْس الحَدِيث، ويحذف الرَّاوِي، إذْ هُوَ مَوضِع الْحَاجة، فَلَا يَهْتَدِي طَالب الحَدِيث إِلَيْهِ؛ لِأَنَّهُ لَا يعرف مظنته.
الثَّانِي: أَن ذَلِكَ يعسر عَلَى الْفَقِيه، فإنَّه يَسْتَدْعِي معرفَة جَمِيع الْأَحَادِيث والْآثَار الْوَاقِعَة فِي شرح الرَّافِعِيّ، واستحضارها - وَهِي زَائِدَة عَلَى أَرْبَعَة آلَاف بمكررها - وَرُبمَا عسر ذَلِكَ عَلَيْهِم.
فرتبته عَلَى تَرْتِيب «شرح الرَّافِعِيّ» ، لَا أُغَيِّر مِنْهُ شَيْئا بِتَقْدِيم وَلَا بِتَأْخِير، فأَذكر كل بَاب وَمَا تضمَّنه من الْأَحَادِيث والْآثَار.
فَمَتَى طلب الطَّالِب حَدِيثا أَو أثرا فِي «كتاب الطَّهَارَة» مِنْهُ، فَزِعَ إِلَى كتاب الطَّهَارَة من هَذَا التَّأْلِيف، أَو فِي «كتاب الصَّلَاة» فَزِعَ إِلَى كتاب الصَّلَاة مِنْهُ، وَهَكَذَا أَولا فَأول، عَلَى التَّرْتِيب وَالْوَلَاء، إِلَى آخر الْكتاب - إِن شَاءَ الله تَعَالَى ذَلِكَ وقَدَّره - مُعْزِيًا إِلَى الْأُصُول الْمخْرج مِنْهَا:
فَإِن كَانَ الحَدِيث أَو الْأَثر فِي صحيحي الإِمامين: أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ وَأبي الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج القُشَيْري، أَو أحدِهِما: اكتفيت بعزوه إِلَيْهِمَا، أَو إِلَيْهِ، وَلَا أُعَرِّجُ عَلَى من رَوَاهُ غَيرهمَا من بَاقِي (أَصْحَاب) الْكتب الستَّة، وَالْمَسَانِيد، والصحاح؛ لِأَنَّهُ لَا فَائِدَة فِي الإِطالة بذلك - وَإِن كَانَ الْحَافِظ مجد الدَّين عبد السَّلَام
সেই বিষয়ে, এবং আমি তাঁর কাছে কথা ও কাজে তাওফিক এবং ভুল ও ভ্রান্তি থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করেছি।
আমি সংকল্প করেছিলাম যে, উল্লিখিত গ্রন্থের হাদিস ও আছারগুলোকে (সাহাবীদের বাণী ও কর্ম) সাহাবীদের মুসনাদ অনুযায়ী সাজাব; যেখানে সাহাবীর নাম এবং তিনি কতটি হাদিস বর্ণনা করেছেন ও তাঁর থেকে কী কী আছার বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করব। কিন্তু আমি দুটি কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছি:
প্রথমত: ইমাম রাফেয়ি (রা.) অনেক স্থানে কেবল হাদিসের মূল পাঠ উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনাকারীর নাম বাদ দিয়েছেন, অথচ সেটাই ছিল প্রয়োজনের জায়গা। ফলে হাদিস অন্বেষণকারী সেই হাদিসটি খুঁজে পায় না; কারণ সে এর সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে অবগত থাকে না।
দ্বিতীয়ত: এটি ফকিহ বা আইনজ্ঞদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কেননা এর জন্য রাফেয়ির শরহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থে আসা সকল হাদিস ও আছার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং সেগুলো স্মরণে রাখা প্রয়োজন—যা পুনরাবৃত্তিসহ চার হাজারেরও বেশি—আর এটি তাদের জন্য অনেক সময় কষ্টসাধ্য হতে পারে।
তাই আমি একে ‘শারহে রাফেয়ি’-এর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি; কোনো কিছু আগে-পিছে না করে কোনো পরিবর্তন করিনি। ফলে আমি প্রতিটি অধ্যায় এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত হাদিস ও আছারগুলো উল্লেখ করেছি।
সুতরাং যখন কোনো শিক্ষার্থী এতে ‘কিতাবুত তাহারাত’ (পবিত্রতা অধ্যায়) থেকে কোনো হাদিস বা আছার খুঁজবে, তখন সে এই সংকলনের কিতাবুত তাহারাতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। অথবা যদি ‘কিতাবুস সালাত’ (নামাজ অধ্যায়) থেকে খোঁজে, তবে এর কিতাবুস সালাতের দিকেই ফিরে যাবে। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বইয়ের শেষ পর্যন্ত চলবে—যদি আল্লাহ তাআলা তা চান এবং নির্ধারণ করেন—পাশাপাশি মূল উৎসগ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে যেখান থেকে এগুলো সংকলিত হয়েছে:
সুতরাং হাদিস বা আছার যদি দুই ইমামের সহিহ গ্রন্থে থাকে: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরি, অথবা তাঁদের কোনো একজনের গ্রন্থে; তবে আমি তাঁদের উভয়ের বা তাঁর দিকে উদ্ধৃতি প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছি। কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রধান গ্রন্থ), মুসনাদ ও অন্যান্য সহিহ গ্রন্থসমূহের বাকি সংকলকদের উদ্ধৃতি দেওয়ার দিকে আমি যাইনি; কারণ এতে বৃথা দীর্ঘসূত্রতা ছাড়া আর কোনো ফায়দা নেই—যদিও হাফেজ মাজদুদ্দিন আব্দুস সালাম...