(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
خلاصة الأحكام   (النووي)

القسم: كتب السنة

الكتاب : خلاصة الأحكام في مهمات السنن وقواعد الإسلام

المؤلف : أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (المتوفى : 676هـ)

المحقق : حققه وخرج أحاديثه: حسين إسماعيل الجمل

الناشر : مؤسسة الرسالة - لبنان - بيروت

الطبعة : الاولى ، 1418هـ - 1997م

عدد الأجزاء : 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খুলাসাতুল আহকাম   (আন-নববী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব : খুলাসাতুল আহকাম ফি মুহিম্মাতিস সুনানি ওয়া কাওয়ায়িদিল ইসলাম

লেখক : আবু যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (মৃত্যু : ৬৭৬ হিজরি)

মুহাক্কিক : সম্পাদনা ও হাদিস বিশ্লেষণ করেছেন: হুসাইন ইসমাইল আল-জামাল

প্রকাশক : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - লেবানন - বৈরুত

সংস্করণ : প্রথম , ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা : ২

[কিতাবের নম্বর প্রদান মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[خلاصة الأحكام في مهمات السنن وقواعد الإسلام]ـ

المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (المتوفى: 676هـ)

المحقق: حققه وخرج أحاديثه: حسين إسماعيل الجمل

الناشر: مؤسسة الرسالة - لبنان - بيروت

الطبعة: الاولى، 1418هـ - 1997م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ويمكن الانتقال للجزء والصفحة ورقم الحديث]
ـ[সুন্নাহর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি এবং ইসলামের মূলনীতিসমূহের বিধি-বিধানের সারসংক্ষেপ]ـ

লেখক: আবু যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া বিন শরফ আন-নববী (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি)

তাহকীক ও হাদিস তাখরীজ করেছেন: হুসাইন ইসমাঈল আল-জামাল

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - লেবানন - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ, এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরে যাতায়াত করা সম্ভব]
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
يسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

قَالَ الشَّيْخ الْعَلامَة الْعَالم الْعَامِل الْوَرع الزَّاهِد الْحَافِظ محيي الدَّين أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بن شرف بن مري بن حسن بن حُسَيْن بن مُحَمَّد بن حزَام النَّوَوِيّ رحمه الله.

الْحَمد لله رب الْعَالمين وصلواته وَسَلَامه عَلَى سيدنَا مُحَمَّد خِيَار خلقه وَعَلَى سَائِر النَّبِيين وَآل كل وَسَائِر الصَّالِحين، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم َ وزاده فضلا وشرفا لَدَيْهِ.

أما بعد. .

فَإِنَّهُ يَنْبَغِي لكل أحد أَن يتخلق بأخلاق رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ويقتدي بأقواله وأفعاله وَتَقْرِيره فِي الْأَحْكَام والآداب وَسَائِر معالم الْإِسْلَام وَأَن يعْتَمد فِي ذَلِك مَا صَحَّ ويجتنب مَا ضعف وَلَا يغتر بمخالفي السّنَن الصَّحِيحَة وَلَا يُقَلّد معتمدي الْأَحَادِيث الضعيفة فَإِن الله سبحانه وتعالى قَالَ: (وَمَا أَتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا) ، وَقَالَ تَعَالَى (لقد كَانَ لكم فِي رَسُول الله أُسْوَة حَسَنَة) وَقَالَ تَعَالَى (قل إِن كُنْتُم تحبون الله فَاتبعُوني يحببكم الله وَيغْفر لكم ذنوبكم) .

فَهَذِهِ الْآيَات وَمَا فِي معناهن حث عَلَى اتِّبَاعه صلى الله عليه وسلم َ ونهانا عَن الابتداع والاختراع، وأمرنا الله سبحانه وتعالى عِنْد التَّنَازُع بِالرُّجُوعِ إِلَى الله وَالرَّسُول أَي الْكتاب وَالسّنة، وَهَذَا كُله فِي سنة صحت، أما مَا لم تصح فَكيف تكون سنة، وَكَيف يحكم عَلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَه أَو فعله من غير مسوغ لذَلِك، وَلَا تغترن بِكَثْرَة المتساهلين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

শাইখ, আল্লামা, বিদগ্ধ আলিম, আমলকারী, মুত্তাকী, যাহিদ, হাফিয মুহিউদ্দীন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ ইবনে মারী ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হিযাম আন-নাওয়াবী (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর, যিনি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, এবং সকল নবী, তাঁদের পরিবারবর্গ ও সকল পুণ্যবান বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর সান্নিধ্যে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন)।

অতঃপর...

নিশ্চয়ই প্রত্যেকের জন্য উচিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া এবং বিধান, আদব ও ইসলামের অন্যান্য নিদর্শনে তাঁর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতির অনুসরণ করা। আর এক্ষেত্রে যা সহীহ (বিশুদ্ধ) তার ওপর নির্ভর করা এবং যা যঈফ (দুর্বল) তা বর্জন করা আবশ্যক। সহীহ সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের দ্বারা প্ররোচিত হওয়া যাবে না এবং দুর্বল হাদীসের ওপর নির্ভরকারীদের অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো), আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ) এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন)।

এই আয়াতসমূহ এবং এই অর্থবোধক অন্যান্য আয়াতগুলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে এবং আমাদের নব উদ্ভাবন ও বিদআত থেকে নিষেধ করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মতভেদের সময় আমাদের আল্লাহ ও রাসূলের দিকে অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই সবকিছুই সেই সুন্নাহর ক্ষেত্রে যা সহীহ হয়েছে। কিন্তু যা সহীহ নয়, তা কীভাবে সুন্নাহ হতে পারে? আর কোনো বৈধ প্রমাণ ছাড়াই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেছেন বা করেছেন বলে কীভাবে ফয়সালা করা সম্ভব? অতএব, শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হবেন না।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬০)
فِي الْعَمَل، والاحتجاج فِي الْأَحْكَام بالأحاديث الضعيفة وَإِن كَانُوا مصنفين وأئمة فِي الْفِقْه وَغَيره، وَقد أَكْثرُوا من ذَلِك فِي كتبهمْ، وَلَو سئلوا عَن ذَلِك لأجابوا بِأَنَّهُ لَا يعْتَمد فِي ذَلِك الضَّعِيف، وَإِنَّمَا أَبَاحَ الْعلمَاء الْعَمَل بالضعيف فِي الْقَصَص وفضائل الْأَعْمَال الَّتِي لَيست فِيهَا مُخَالفَة لما تقرر فِي أصُول الشَّرْع مثل فضل التَّسْبِيح، وَسَائِر الْأَذْكَار، والحث عَلَى مَكَارِم الْأَخْلَاق، والزهد فِي الدُّنْيَا وَغير ذَلِك مِمَّا أُصُوله مَعْلُومَة مقررة.

وَقد استخرت الله الْكَرِيم الرءوف الرَّحِيم فِي جمع مُخْتَصر فِي الْأَحْكَام اعْتمد فِيهِ الصَّحِيح وَالْحسن وأفرد الضَّعِيف فِي أَوَاخِر الْأَبْوَاب تَنْبِيها عَلَى ضعفه لِئَلَّا يغتر بِهِ، وَاذْكُر فِيهِ إِن شَاءَ الله جملا متكاثرة هِيَ أصُول قَوَاعِد الْأَحْكَام وأضيفها إِلَى الْكتب الْمَشْهُورَة مُصَرحًا بِصِحَّتِهَا وحسنها، وأنبه عَلَى بعض خَفِي مَعَانِيهَا وَضبط لَفظهَا، فَمَا كَانَ فِي صحيحي البُخَارِيّ وَمُسلم أَو أَحدهمَا اقتصرت عَلَى إِضَافَته إِلَيْهِمَا أَو إِلَيْهِ لحُصُول الْمَقْصُود وَهُوَ بَيَان صِحَّته، فَإِنَّهُمَا صَحِيحَانِ بِإِجْمَاع الْمُسلمين، وَمَا كَانَ فِي غَيرهمَا ذكرت جمَاعَة مِمَّن رَوَاهُ من الْمَشْهُورين كَأبي دَاوُد، وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ، وَالدَّارَقُطْنِيّ، وَالْحَاكِم، وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهم من أَعْلَام الْحفاظ المصنفين، فَمَا كَانَ فِي صحيحي البُخَارِيّ وَمُسلم رحمهمَا الله قلت فِي آخِره: مُتَّفق عَلَيْهِ، فَإِن أتفق لَفْظهمَا اقتصرت عَلَى " مُتَّفق عَلَيْهِ " وَإِلَّا قلت: لَفظه لفُلَان، وَإِن زَاد أَحدهمَا أَو غَيرهمَا زِيَادَة فِيهِ نبهت عَلَيْهَا.

وَمَا اتّفق عَلَيْهِ أَبُو دَاوُد، وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ قلت فِي آخِره: " رَوَاهُ الثَّلَاثَة " وَمَا سُوَى هَذَا أصرح بإضافته.

وَاعْلَم أَن سنَن أبي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ فِيهَا الصَّحِيح والضعيف، لَكِن ضعفها يسير، وَلِهَذَا قَالَ الْأَئِمَّة: أصُول الْإِسْلَام من كتب الحَدِيث خَمْسَة
আমল এবং বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, যদিও তারা ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের সংকলক এবং ইমাম ছিলেন এবং তারা তাদের কিতাবসমূহে এর প্রচুর ব্যবহার করেছেন। যদি তাদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে তারা উত্তর দিতেন যে, বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর নির্ভর করা হয় না। মূলত উলামায়ে কেরাম কেবল গল্প-কাহিনী এবং আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ বলেছেন, যেগুলোতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির কোনো বিরোধিতা নেই; যেমন: তাসবিহ ও অন্যান্য জিকিরের ফজিলত, উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান, দুনিয়াবিমুখতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যার মূল ভিত্তি সুপ্রসিদ্ধ ও সুপ্রতিষ্ঠিত।

আমি বিধি-বিধানের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন তৈরি করার জন্য মহান, দয়ালু ও পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি, যেখানে সহিহ ও হাসান হাদিসের ওপর নির্ভর করা হয়েছে এবং দুর্বল হাদিসগুলোকে অধ্যায়ের শেষে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে সেগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক করা যায় এবং কেউ যেন তা দেখে বিভ্রান্ত না হয়। এতে আমি ইনশাআল্লাহ বিধি-বিধানের মূলনীতি স্বরূপ প্রচুর হাদিস উল্লেখ করব এবং সেগুলো প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের উদ্ধৃতিসহ সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও মান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব। এছাড়া আমি হাদিসগুলোর কিছু সূক্ষ্ম অর্থ ও শব্দবিন্যাসের ব্যাপারেও আলোকপাত করব। যা বুখারি ও মুসলিম উভয় কিতাবে অথবা তাদের কোনো একটিতে রয়েছে, আমি কেবল তাদের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হব, কারণ এর মাধ্যমেই উদ্দেশ্য অর্থাৎ হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়ে যায়। কেননা মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী এই কিতাব দুটি বিশুদ্ধ। আর যা এই দুটি ব্যতীত অন্য কিতাবে রয়েছে, সেখানে আমি প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের একটি দলের কথা উল্লেখ করব, যেমন: আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, দারা কুতনি, হাকেম, বায়হাকি এবং অন্যান্য ইমাম ও সংকলক হাফেজগণ। যা বুখারি ও মুসলিম (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) উভয় কিতাবে রয়েছে, তার শেষে আমি বলব: 'সর্বসম্মত', যদি উভয়ের শব্দ একই হয় তবে আমি কেবল 'সর্বসম্মত' বলেই ক্ষান্ত হব, অন্যথায় বলব: 'শব্দগুলো অমুকের'। আর যদি তাদের কেউ বা অন্য কেউ তাতে কোনো অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেন, তবে আমি সে সম্পর্কেও অবগত করব।

আর আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি যে হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন, তার শেষে আমি বলব: 'তিনজন এটি বর্ণনা করেছেন'। এছাড়া অন্য হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে আমি স্পষ্টভাবে সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করব।

জেনে রাখুন যে, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়িতে সহিহ ও দুর্বল উভয় প্রকার হাদিস রয়েছে, তবে সেগুলোর দুর্বলতা সামান্য। এই কারণেই ইমামগণ বলেছেন: হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে ইসলামের মূল ভিত্তি হলো পাঁচটি...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬১)
الصحيحان، وَهَذِه الثَّلَاثَة، وَلَا يخرج عَن هَذِه الْخَمْسَة من الصَّحِيح وَالْحسن إِلَّا قَلِيل، وَقد صرح التِّرْمِذِيّ فِي أَكثر كتبه بِبَيَان الصَّحِيح، وَالْحسن، والضعيف، وأهمل بَيَان جمل مِنْهُ، وَقَالَ أَبُو دَاوُد، " جمعت فِي كتابي هَذَا الصَّحِيح وَمَا يُشبههُ ويقاربه، وَمَا كَانَ فِيهِ ضعف شَدِيد بَينته، وَمَا لم أذكر فِيهِ شَيْئا فَهُوَ صَالح، وَبَعضهَا أصح من بعض ". هَذَا لَفظه، وَمُقْتَضَاهُ أَن مَا أطلقهُ أَبُو دَاوُد فَهُوَ صَحِيح أَو حسن يحْتَج بِهِ، إِلَّا أَن يظْهر فِيهِ مَا يَقْتَضِي ضعفه.

وَقد التزمت فِي هَذَا الْمُخْتَصر أَن لَا أهمل بَيَان شَيْء من الْأَحَادِيث فِي الصِّحَّة وَالْحسن والضعف. وَالْحسن كَالصَّحِيحِ فِي جَوَاز الِاحْتِجَاج بِهِ فِي الْأَحْكَام، وَإِن كَانَ دونه، وَأما الضَّعِيف فأنبه عَلَيْهِ مُخْتَصرا جدا.

وَعَلَى الله الْكَرِيم اعتمادي وَإِلَيْهِ تفويضي واستنادي، حسبي الله وَنعم الْوَكِيل، لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعَزِيز الْحَكِيم.

عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ أبي حَفْص عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول: " إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لامرئ مَا نَوى، فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله،، فَهجرَته إِلَى الله وَرَسُوله، وَمن كَانَت هجرته إِلَى دنيا يُصِيبهَا أَو امْرَأَة ينْكِحهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ " مُتَّفق عَلَيْهِ.

رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي سَبْعَة مَوَاضِع، وَمُسلم فِي ": الْجِهَاد ".
সহীহাইন এবং এই তিনটি গ্রন্থ; সহীহ ও হাসান হাদীসের মধ্য থেকে এই পাঁচটি গ্রন্থের বাইরে খুব সামান্যই রয়েছে। ইমাম তিরমিযী তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থে সহীহ, হাসান ও যয়ীফ হাদীসসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর কিছু অংশ তিনি বর্ণনা করেননি। ইমাম আবু দাউদ বলেছেন, "আমি আমার এই কিতাবে সহীহ এবং যা তার সদৃশ ও নিকটবর্তী তা একত্রিত করেছি। যে হাদীসে চরম দুর্বলতা ছিল আমি তা স্পষ্ট করে দিয়েছি। আর যে হাদীস সম্পর্কে আমি কিছু উল্লেখ করিনি তা গ্রহণযোগ্য, তবে এগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ।" এটিই তাঁর বক্তব্য। এর দাবি হলো, ইমাম আবু দাউদ যে হাদীস সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তা সহীহ অথবা হাসান এবং দলীল হিসেবে গ্রহণীয়, যতক্ষণ না তাতে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তার দুর্বলতাকে আবশ্যক করে।

আমি এই সংক্ষিপ্ত সংকলনে হাদীসসমূহের সহীহ, হাসান ও যয়ীফ হওয়ার বর্ণনার কোনো কিছুই বাদ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিধানের ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্যতার দিক থেকে হাসান হাদীস সহীহর মতোই, যদিও তা মানের দিক থেকে কিছুটা নিচে। আর যয়ীফ হাদীসের ক্ষেত্রে আমি অত্যন্ত সংক্ষেপে সে সম্পর্কে সতর্ক করে দেব।

পরম দয়ালু আল্লাহর ওপরই আমার নির্ভরতা এবং তাঁর কাছেই আমার সমর্পণ ও আশ্রয়। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। মহা প্রতাপশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

আমীরুল মু'মিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয়েই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)।

ইমাম বুখারী এটি সাতটি স্থানে এবং ইমাম মুসলিম "আল-জিহাদ" অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم (قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَامِل الْوَرع الزَّاهِد الْحَافِظ مُحي الدَّين أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بن شرف بن مري بن حسن بن حُسَيْن بن مُحَمَّد بن حزَام النَّوَوِيّ رحمه الله . الْحَمد لله رب الْعَالمين وصلواته وَسَلَامه عَلَى سيدنَا مُحَمَّد خير خلقه وَعَلَى سَائِر النَّبِيين وَآل كل وَسَائِر الصَّالِحين، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم َ وزاده فضلا وشرفا لَدَيْهِ. أما بعد. فَإِنَّهُ يَنْبَغِي لكل أحد أَن يتخلق بأخلاق رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ويقتدي بأقواله وأفعاله وَتَقْرِيره فِي الْأَحْكَام والآداب وَسَائِر معالم الْإِسْلَام وَأَن يعْتَمد فِي ذَلِك مَا صَحَّ ويجتنب مَا ضعف وَلَا يغتر بمخالفي السّنَن الصَّحِيحَة وَلَا يُقَلّد معتمدي الْأَحَادِيث الضعيفة فَإِن الله سبحانه وتعالى قَالَ: (وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا) وَقَالَ تَعَالَى: (لقد كَانَ لكم فِي رَسُول الله أُسْوَة حَسَنَة) وَقَالَ تَعَالَى: (قل إِن كُنْتُم تحبون الله فَاتبعُوني يحببكم الله وَيغْفر لكم ذنوبكم) . فَهَذِهِ الْآيَات وَمَا فِي معناهن حث عَلَى اتِّبَاعه صلى الله عليه وسلم َ ونهانا عَن الابتداع والاختراع، وأمرنا الله سبحانه وتعالى عِنْد التَّنَازُع بِالرُّجُوعِ إِلَى الله وَالرَّسُول أَي الْكتاب وَالسّنة، وَهَذَا كُله فِي سنة صحت، أما مَا لم تصح فَكيف تكون سنة، وَكَيف يحكم عَلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَه أَو فعله من غير مسوغ لذَلِك، وَلَا تغترن بِكَثْرَة المتساهلين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। (শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আমলকারী, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, হাফেজ মুহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররি ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হিজাম আন-নওয়াবী -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- বলেন: যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, এবং সকল নবীগণের ওপর, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারবর্গের ওপর ও সকল নেককার বান্দাদের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং তাঁর সান্নিধ্যে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করে দিন। অতঃপর: নিশ্চয়ই প্রত্যেকের জন্য উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া এবং বিধিবিধান, আদব ও ইসলামের অন্যান্য নিদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতির অনুসরণ করা। আর এ ক্ষেত্রে যা সহিহ (বিশুদ্ধ) তার ওপর নির্ভর করা এবং যা জয়িফ (দুর্বল) তা বর্জন করা উচিত। সহিহ সুন্নাহর বিরোধীদের দ্বারা প্রবঞ্চিত হওয়া যাবে না এবং যারা দুর্বল হাদিসের ওপর নির্ভর করে তাদের অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো)। তিনি আরও বলেছেন: (তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ)। তিনি আরও বলেছেন: (বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন)। এই আয়াতসমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বাণীগুলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করে এবং আমাদের বিদআত ও মনগড়া উদ্ভাবন থেকে নিষেধ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিরোধের সময় আমাদের আল্লাহ ও রাসূলের দিকে অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই সবই কেবল সেই সুন্নাহর ক্ষেত্রে যা সহিহ বলে প্রমাণিত। পক্ষান্তরে যা সহিহ নয়, তা কীভাবে সুন্নাহ হতে পারে? আর কোনো যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়া কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে এমন কোনো কথা বা কাজ সম্বন্ধ করা যেতে পারে যা তিনি বলেননি বা করেননি? সুতরাং শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের আধিক্য দেখে আপনি কখনো প্রতারিত হবেন না।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬০)
فِي الْعَمَل، والاحتجاج فِي الْأَحْكَام بالأحاديث الضعيفة وَإِن كَانُوا مصنفين وأئمة فِي الْفِقْه وَغَيره، وَقد أَكْثرُوا من ذَلِك فِي كتبهمْ، وَلَو سئلوا عَن ذَلِك لأجابوا بِأَنَّهُ لَا يعْتَمد فِي ذَلِك الضَّعِيف، وَإِنَّمَا أَبَاحَ الْعلمَاء [الْعَمَل بالضعيف فِي الْقَصَص وفضائل الْأَعْمَال الَّتِي لَيست فِيهَا مُخَالفَة لما تقرر فِي أصُول الشَّرْع مثل: فضل التَّسْبِيح، وَسَائِر الْأَذْكَار، والحث عَلَى مَكَارِم الْأَخْلَاق، والزهد فِي الدُّنْيَا، وَغير ذَلِك مِمَّا أُصُوله مَعْلُومَة مقررة. وَقد استخرت الله الْكَرِيم الرؤوف الرَّحِيم فِي جمع مُخْتَصر فِي الْأَحْكَام اعْتمد فِيهِ الصَّحِيح وَالْحسن وأفرد الضَّعِيف فِي أَوَاخِر الْأَبْوَاب تَنْبِيها عَلَى ضعفه لِئَلَّا يغتر بِهِ، وَاذْكُر فِيهِ إِن شَاءَ الله جملا متكاثرة [1 / أ] هِيَ أصُول قَوَاعِد الْأَحْكَام وأضيفها إِلَى الْكتب الْمَشْهُورَة مُصَرحًا بِصِحَّتِهَا وحسنها، وأنبه عَلَى بعض خَفِي مَعَانِيهَا وَضبط لَفظهَا، فَمَا كَانَ فِي صحيحي البُخَارِيّ وَمُسلم أَو أَحدهمَا اقتصرت عَلَى إِضَافَته إِلَيْهِمَا أَو غليه لحُصُول الْمَقْصُود وَهُوَ بَيَان صِحَّته، فَإِنَّهُمَا صَحِيحَانِ بِإِجْمَاع الْمُسلمين، وَمَا كَانَ فِي غَيرهمَا ذكرت جمَاعَة مِمَّن رَوَاهُ من الْمَشْهُورين كَأبي دَاوُد، وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ، وَالدَّارَقُطْنِيّ، وَالْحَاكِم، وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهم من أَعْلَام الْحفاظ المصنفين، فَمَا كَانَ فِي صحيحي البُخَارِيّ وَمُسلم رحمهمَا الله قلت فِي آخِره: مُتَّفق عَلَيْهِ، فَإِن اتّفق لَفْظهمَا اقتصرت عَلَى " مُتَّفق عَلَيْهِ "، وغلا قلت: لَفظه لفُلَان، وَإِن زَاد أَحدهمَا أوغيرهما زِيَادَة فِيهِ نبهت عَلَيْهَا. وَمَا اتّفق عَلَيْهِ أَبُو دَاوُد، وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ قلت فِي آخِره: " رَوَاهُ الثَّلَاثَة "، وَمَا سُوَى هَذَا أصرح بإضافته. وَاعْلَم أَن سنَن أبي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ فِيهَا الصَّحِيح وَالْحسن والضعيف، لَكِن ضعفها يسير، وَلِهَذَا قَالَ الْأَئِمَّة: أصُول الْإِسْلَام من كتب الحَدِيث خَمْسَة:
আমলের ক্ষেত্রে এবং বিধিবিধানের বিষয়ে দুর্বল হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করার ব্যাপারে—যদিও তারা ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের সংকলক এবং ইমাম ছিলেন, তবুও তারা তাদের কিতাবসমূহে এর প্রচুর ব্যবহার করেছেন। যদি তাদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে তারা উত্তর দিতেন যে, এ ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীসের ওপর নির্ভর করা হয় না। মূলত উলামায়ে কেরাম [গল্প-কিসসা এবং আমলের ফজিলত সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্বল হাদীসের ওপর আমল করা বৈধ রেখেছেন, যাতে শরীয়তের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির পরিপন্থী কিছু নেই; যেমন: তাসবীহ পাঠের ফজিলত, অন্যান্য জিকিরসমূহ, উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ যার মূল ভিত্তি সুপরিচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। আমি মহান, করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি বিধিবিধান বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সারসংকলন তৈরি করার ব্যাপারে, যেখানে আমি সহীহ ও হাসান হাদীসের ওপর নির্ভর করব এবং প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে দুর্বল হাদীসগুলোকে আলাদাভাবে উল্লেখ করব তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য, যাতে কেউ সেগুলোর দ্বারা প্রতারিত না হয়। আমি এতে ইনশাআল্লাহ অনেক বাক্য (হাদীস) উল্লেখ করব [১ / আ] যা বিধিবিধানের মূলনীতি হিসেবে গণ্য হবে। আমি এগুলোকে প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের দিকে সম্বন্ধ করব এবং তাদের বিশুদ্ধতা ও হাসান হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করব। আমি সেগুলোর কিছু সূক্ষ্ম অর্থ ও শব্দের সঠিক উচ্চারণ সম্পর্কেও সতর্ক করব। যা সহীহ বুখারী ও মুসলিম অথবা তাদের যেকোনো একজনের কিতাবে রয়েছে, আমি কেবল তাদের দিকেই তা নিসবত করব যাতে উদ্দেশ্য হাসিল হয়, আর তা হলো সেটির বিশুদ্ধতা বর্ণনা করা। কেননা মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারা উভয়ই সহীহ। আর যা এই দুই কিতাব ছাড়া অন্য কিতাবে রয়েছে, আমি সেগুলোর বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে একদল প্রসিদ্ধ ইমামের নাম উল্লেখ করব, যেমন—আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, দারা কুতনী, হাকিম, বায়হাকী এবং সংকলক হাফেজ ইমামগণের মধ্য থেকে অন্যান্যদের। বুখারী ও মুসলিম (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর কিতাবে যা রয়েছে, তার শেষে আমি বলব: "মুত্তাফাকুন আলাইহি" (সর্বসম্মত)। যদি তাদের শব্দাবলিও এক হয়, তবে কেবল "মুত্তাফাকুন আলাইহি" বলেই ক্ষান্ত হব, অন্যথায় বলব: "শব্দটি অমুকের"। আর যদি তাদের কেউ বা অন্য কেউ তাতে কোনো অংশ বৃদ্ধি করেন, তবে আমি সে সম্পর্কে সতর্ক করব। আর যে হাদীসের ব্যাপারে আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ একমত হয়েছেন, তার শেষে আমি বলব: "তিনজন এটি বর্ণনা করেছেন"। এ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে আমি স্পষ্টভাবে তার সম্বন্ধ উল্লেখ করব। জেনে রাখুন যে, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈর মধ্যে সহীহ, হাসান ও দুর্বল হাদীস রয়েছে, তবে সেগুলোর দুর্বলতা সামান্য। এই কারণেই ইমামগণ বলেছেন: হাদীসের কিতাবসমূহের মধ্যে ইসলামের মূল ভিত্তি হলো পাঁচটি:
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬১)
الصحيحان، وَهَذِه الثَّلَاثَة، وَلَا يخرج عَن هَذِه الْخَمْسَة من الصَّحِيح وَالْحسن إِلَّا قَلِيل. وَقد صرح التِّرْمِذِيّ فِي أَكثر كتبه بِبَيَان الصَّحِيح، وَالْحسن، والضعيف، وأهمل بَيَان جمل مِنْهُ. وَقَالَ أَبُو دَاوُد، " جمعت فِي كتابي هَذَا الصَّحِيح وَمَا يُشبههُ ويقاربه، وَمَا كَانَ فِيهِ ضعف شَدِيد بَينته، وَمَا لم أذكر فِيهِ شَيْئا فَهُوَ صَالح، وَبَعضهَا أصح من بعض ". هَذَا لَفظه، وَمُقْتَضَاهُ أَن مَا أطلقهُ أَبُو دَاوُد فَهُوَ صَحِيح أَو حسن يحْتَج بِهِ، إِلَّا أَن يظْهر فِيهِ مَا يَقْتَضِي ضعفه. وَقد التزمت فِي هَذَا الْمُخْتَصر أَن لَا أهمل بَيَان شَيْء من الْأَحَادِيث فِي الصِّحَّة وَالْحسن والضعف. وَالْحسن كَالصَّحِيحِ فِي جَوَاز الِاحْتِجَاج بِهِ فِي الْأَحْكَام، وَإِن كَانَ دونه، وَأما الضَّعِيف فأنبه عَلَيْهِ مُخْتَصرا جدا. وَعَلَى الله الْكَرِيم اعتمادي وَإِلَيْهِ تفويضي واستنادي، حسبي الله وَنعم الْوَكِيل، لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعَزِيز الْحَكِيم. عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ أبي حَفْص عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول: " إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لامرئ مَا نَوى، فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله، فَهجرَته إِلَى الله وَرَسُوله، وَمن كَانَت هجرته [1 / ب] إِلَى دنيا يُصِيبهَا أَو امْرَأَة ينْكِحهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ. ". " مُتَّفق عَلَيْهِ ". رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي سَبْعَة مَوَاضِع، وَمُسلم فِي " الْجِهَاد ".

বুখারি ও মুসলিম (সহীহাইন), এবং এই তিনটি (অন্যান্য সুনান গ্রন্থ), আর সহীহ ও হাসান হাদীসের খুব অল্প অংশই এই পাঁচটি কিতাবের বাইরে রয়েছে। ইমাম তিরমিজি তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থে সহীহ, হাসান ও জয়ীফ (দুর্বল) হাদীসের বর্ণনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন। ইমাম আবু দাউদ বলেছেন, "আমি আমার এই কিতাবে সহীহ এবং যা তার অনুরূপ ও নিকটবর্তী তা একত্রিত করেছি। আর যাতে তীব্র দুর্বলতা রয়েছে তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি। আর যে হাদীস সম্পর্কে আমি কিছু উল্লেখ করিনি তা গ্রহণযোগ্য (সালিহ), তবে এগুলোর মধ্যে কিছু হাদীস অন্যগুলোর চেয়ে বেশি সহীহ।" এটি তাঁর বক্তব্য, যার দাবি হলো ইমাম আবু দাউদ যা বিনাবাক্যে উল্লেখ করেছেন তা সহীহ অথবা হাসান যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য, যদি না তাতে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তার দুর্বলতাকে আবশ্যক করে। আমি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি যে, হাদীসগুলোর সহীহ, হাসান ও জয়ীফ হওয়ার অবস্থা বর্ণনা করতে কোনো অবহেলা করব না। বিধানের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে গ্রহণের বৈধতার দিক থেকে হাসান হাদীস সহীহ হাদীসের মতোই, যদিও তা মর্যাদায় তার চেয়ে নিম্নস্তরের। আর দুর্বল হাদীস সম্পর্কে আমি অত্যন্ত সংক্ষেপে সতর্ক করে দেব। মহান আল্লাহর ওপরই আমার নির্ভরতা এবং তাঁর কাছেই আমার সকল কাজের সমর্পণ ও আশ্রয়। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহা প্রতাপশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (গুনাহ থেকে ফেরার) কোনো উপায় নেই এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই।

আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে [১/খ] দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যের জন্যই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। ইমাম বুখারি এটি সাতটি স্থানে এবং ইমাম মুসলিম 'জিহাদ' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬২)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌(كتاب الطَّهَارَة)

‌‌(بَاب الْمِيَاه)

‌‌1 - عَن أبي هُرَيْرَة عبد الرَّحْمَن بن صَخْر عَلَى الْأَصَح، من نَحْو ثَلَاثِينَ قولا، رضي الله عنه قَالَ: سَأَلَ رجل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ: يَا رَسُول الله: إِنَّا نركب الْبَحْر ونحمل مَعنا الْقَلِيل من المَاء فَإِن توضأنا بِهِ عطشنا أفنتوضأ بِمَاء الْبَحْر؟ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ: " هُوَ الطّهُور مَاؤُهُ الْحل ميتَته ". رَوَاهُ مَالك وَالثَّلَاثَة

‌‌2 - قَالَ التِّرْمِذِيّ: " حَدِيث حسن صَحِيح " وَرَفعه أَيْضا:

‌‌3 - عَلّي،

‌‌4 - وَابْن عمر،
(পবিত্রতা অধ্যায়)

(পানি বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

1 - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—যাঁর নাম সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে ‘আবদুর রহমান ইবনে সাখর’, তাঁর নাম সম্পর্কে বিদ্যমান প্রায় ত্রিশটি মতের মধ্যে এটিই অধিকতর সঠিক—তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে যাতায়াত করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি?" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" এটি ইমাম মালিক এবং তিন ইমাম (সুনান গ্রন্থকারত্রয়) বর্ণনা করেছেন।

2 - ইমাম তিরমিযী বলেন: "এটি হাসান সহীহ হাদীস।" হাদীসটি মারফূ হিসেবে আরও বর্ণিত হয়েছে:

3 - আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু,

4 - এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে,
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌5 - وَجَابِر رضي الله عنهم.

‌‌6 - وَعَن أبي سعيد، سعد بن مَالك بن سِنَان الْأنْصَارِيّ، الْخُدْرِيّ رَضِي الله
৫ - এবং জাবির (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

৬ - এবং আবু সাঈদ সা’দ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল-আনসারী আল-খুদরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৫)
عَنهُ قَالَ: قيل يَا رَسُول الله أتتوضأ من بِئْر بضَاعَة، وَهِي بِئْر يلقى فِيهَا الْحيض وَلُحُوم الْكلاب وَالنَّتن؟ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ: " المَاء طهُور، لَا يُنجسهُ شَيْء ".

‌‌7 - قَالَ التِّرْمِذِيّ: " حسن "، وَفِي بعض النّسخ: " حسن صَحِيح ". وَقَالَ الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل: " هُوَ صَحِيح ". وَكَذَا قَالَ آخَرُونَ، وَقَوْلهمْ مقدم عَلَى قَول الدَّارَقُطْنِيّ:

‌‌8 - " إِنَّه غير ثَابت ".

‌‌9 - وَعَن أبي عبد الرَّحْمَن عبد الله بن عمر قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ، وَهُوَ
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বুযাআহ কূপ থেকে ওযু করবেন? অথচ এটি এমন এক কূপ যাতে ঋতুকালীন রক্তযুক্ত নেকড়া, কুকুরের মাংস এবং দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ফেলা হয়। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না।"

‌‌৭ - ইমাম তিরমিযী বলেছেন: "হাসান", এবং কিছু পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "হাসান সহীহ"। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "এটি সহীহ"। অন্যান্যগণও অনুরূপ বলেছেন, আর তাঁদের বক্তব্য দারাকুতনীর এই উক্তির চেয়ে অগ্রগণ্য:

‌‌৮ - "নিশ্চয়ই এটি প্রমাণিত নয়।"

‌‌৯ - আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, এমতাবস্থায় যে তিনি...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৬)
يُسأل عَن المَاء يكون فِي الفلاة، وَمَا ينوبه من السبَاع وَالدَّوَاب، فَقَالَ: " إِذا كَانَ المَاء قُلَّتَيْنِ لم يحمل الْخبث ". رَوَاهُ الثَّلَاثَة، وَهُوَ صَحِيح صَححهُ الْحفاظ

‌‌10 - قَالَ الْحَاكِم: " صَحِيح عَلَى شَرط البُخَارِيّ وَمُسلم ".

‌‌11 - وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد وَغَيره: " إِذا كَانَ المَاء قُلَّتَيْنِ فَإِنَّهُ لَا ينجس ".

‌‌12 - قَالَ يَحْيَى بن معِين: " إِسْنَاده جيد ".

‌‌13 - وَقَالَ الْحَاكِم: " صَحِيح ".

‌‌14 - وَعَن أم هَانِئ، فَاخِتَة رضي الله عنها، قَالَت: " اغْتسل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ومَيْمُونَة
তাঁকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে) মরুপ্রান্তরে থাকা পানি এবং সেখানে হিংস্র জন্তু ও চতুষ্পদ প্রাণীর আনাগোনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "যখন পানি দুই কুল্লা (বিশাল মটকা) পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।" তিন ইমাম (আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহীহ; হাফেজগণ একে সহীহ বলে গণ্য করেছেন।

১০ - হাকেম বলেন: "এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।"

১১ - আবু দাউদ ও অন্যদের বর্ণনায় রয়েছে: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা নাপাক হয় না।"

১২ - ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "এর সনদ উত্তম।"

১৩ - হাকেম বলেন: "এটি সহীহ।"

১৪ - উম্মে হানি ফাখিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মায়মুনা গোসল করেছেন..."
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৭)
من إِنَاء وَاحِد، قَصْعَة فِيهَا أثر الْعَجِين " رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه بِإِسْنَاد صَحِيح.

‌‌15 - وَعَن أبي هُرَيْرَة، أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ: " إِذا وَقع الذُّبَاب فِي إِنَاء أحدكُم فليغمسه كُله، ثمَّ ليطرحه، فَإِن فِي أحد جناحيه شِفَاء وَفِي الآخر دَاء " رَوَاهُ البُخَارِيّ.

‌‌16 - وَزَاد أَبُو دَاوُد بِإِسْنَاد حسن: " وَإنَّهُ يتقَى جنَاحه الَّذِي فِيهِ الدَّاء "]

‌‌17 - وَعَن أبي عبد الله جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما، قَالَ: " مَرضت فعادني النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ، فوجدني قد أُغمي عَلّي فَتَوَضَّأ ثمَّ صب من وضوءه عَلّي فَأَفَقْت " مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌18 - وَعَن أم [2 / أ] عبد الله أَسمَاء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قَالَت: جَاءَت امْرَأَة إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَت: إحدانا يُصِيب ثوبها من دم الْحَيْضَة، كَيفَ تصنع بِهِ؟ قَالَ: " تحتّه، ثمَّ تقرصه بِالْمَاءِ، ثمَّ تنضحه، ثمَّ تصلي فِيهِ " مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌19 - وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد بِإِسْنَاد عَلَى شَرط الصَّحِيحَيْنِ: " إِذا أصَاب إحداكن الدَّم من الْحيض فلتقرضه، ثمَّ لتنضحه بِالْمَاءِ، ثمَّ لتصل "
একটি পাত্র থেকে, এমন একটি গামলা যাতে আটার অবশিষ্টাংশ ছিল।" নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

‌‌১৫ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পড়ে, তখন সে যেন তাকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দেয়, তারপর তা ফেলে দেয়; কারণ তার এক ডানায় আরোগ্য এবং অন্যটিতে রোগ রয়েছে।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌১৬ - আবু দাউদ একটি হাসান সনদে এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন: "আর সে (মাছিটি) তার সেই ডানা দিয়ে আত্মরক্ষা করে যাতে রোগ রয়েছে।"]

‌‌১৭ - আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি আমাকে অচেতন অবস্থায় পেলেন। অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং তাঁর অজুর পানি আমার ওপর ঢেলে দিলেন, ফলে আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

‌‌১৮ - উম্মু [২ / ক] আব্দুল্লাহ আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একজন নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন: আমাদের কারো কাপড়ে যদি ঋতুর রক্ত লাগে, তবে সে কী করবে? তিনি বললেন: "সে তা খুঁটে ফেলবে, এরপর পানি দিয়ে রগড়াবে, তারপর ধুয়ে ফেলবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

‌‌১৯ - আবু দাউদ-এর এক বর্ণনায় রয়েছে—যা বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ সনদে বর্ণিত—: "তোমাদের কারো (কাপড়ে) যখন ঋতুর রক্ত লাগে, তখন সে যেন তা রগড়ে ফেলে, এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে, তারপর সালাত আদায় করে।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌20 - وَفِي رِوَايَة لَهُ عَلَى شَرط البُخَارِيّ: " حتِّيه ثمَّ اقرصيه بِالْمَاءِ، ثمَّ انضحيه ".

‌‌21 - وَمثلهَا رِوَايَة التِّرْمِذِيّ،

‌‌22 - وَقَالَ: " حسن صَحِيح ".

‌‌(فصل فِي ضَعِيف الْبَاب)

‌‌23 - مِنْهُ حَدِيث عَائِشَة الْمَرْفُوع،
20 - এবং তাঁর নিকট ইমাম বুখারীর শর্তানুসারে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে রয়েছে: "তা খুঁটে ফেলুন, এরপর পানি দিয়ে কচলে ধুয়ে নিন, অতঃপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দিন।"

21 - এবং ইমাম তিরমিযীর বর্ণনাটিও অনুরূপ,

22 - এবং তিনি বলেছেন: "এটি হাসান সহীহ।"

(এই অধ্যায়ের দুর্বল হাদীস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

23 - এর অন্তর্ভুক্ত হলো আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদীসটি,
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌24 - وَأثر عمر فِي كَرَاهَة المَاء المشمس، وَلَيْسَ فِي المشمس شَيْء ثَابت.

‌‌25 - وَمِنْه الحَدِيث الْمَرْفُوع: " تَحت الْبَحْر نَار، وَتَحْت النَّار بَحر إِلَى سَبْعَة ".

‌‌26 - والأثر فِي النَّهْي عَن الطَّهَارَة بِمَاء زَمْزَم.

‌‌27 - وَحَدِيث: " المَاء طهُور لَا يُنجسهُ إِلَّا مَا غيّر طعمه، أَو لَونه، أَو رِيحه ".
24 - রোদে তপ্ত পানির অপছন্দনীয়তা সম্পর্কে উমরের আছর; আর রোদে তপ্ত পানির ব্যাপারে কোনো কিছুই (সহিহ হিসেবে) সাব্যস্ত নেই।

25 - এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মারফু হাদিস: "সমুদ্রের নিচে রয়েছে আগুন এবং আগুনের নিচে রয়েছে সমুদ্র, এভাবে সাতটি পর্যন্ত।"

26 - এবং জমজমের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বর্ণিত আছর।

27 - এবং হাদিস: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না; তবে যা এর স্বাদ, বর্ণ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তন করে দেয় (তা ব্যতীত)।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭০)
والضعف فِي الِاسْتِثْنَاء فَقَط، وأوله صَحِيح سبق.

‌‌28 - وَمِنْه حَدِيث سلمَان مَرْفُوع: " كل طَعَام وشراب وَقعت فِيهِ دَابَّة، لَيْسَ لَهَا
এবং দুর্বলতা কেবল ব্যতিক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর এর প্রথমাংশ সহিহ যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

‌‌২৮ - এবং এরই অন্তর্ভুক্ত সালমান থেকে বর্ণিত মারফূ হাদিস: "প্রত্যেক খাদ্য ও পানীয় যাতে এমন কোনো প্রাণী পতিত হয়েছে, যার নেই
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭১)
دم فَمَاتَتْ فَهُوَ الْحَلَال أكله، وشربه، ووضوؤه ".

‌‌29 - وَمن حَدِيث ابْن مَسْعُود فِي الْوضُوء بالنبيذ: " تَمْرَة طيبَة، وَمَاء طهُور " أَجمعُوا عَلَى ضعفه.

‌‌30 - وَمِنْه حَدِيث: " أَنه تَوَضَّأ فَمسح رَأسه بِفضل مَاء فِي يَده ".

‌‌31 - وَفِي رِوَايَة: " مسح رَأسه ببلل لحيته ".
রক্ত, ফলে সেটি মারা গেলে তা খাওয়া, পান করা এবং তা দিয়ে অজু করা হালাল।"

২৯ - এবং নবীয দ্বারা অজু করা সম্পর্কে ইবনে মাসউদের হাদিসে রয়েছে: "পবিত্র খেজুর এবং বিশুদ্ধ পানি।" এটি দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

৩০ - এবং এরই অন্তর্ভুক্ত একটি হাদিস: "নিশ্চয়ই তিনি অজু করেছেন, অতঃপর তাঁর হাতে থাকা অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন।"

৩১ - এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি তাঁর দাড়ির আর্দ্রতা দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌32 - وَفِي حَدِيث: " اغْتسل فَرَأَى لُمعة لم يصبهَا المَاء، فَأخذ شعرًا من يَده عَلَيْهِ مَاء، فأمرّه عَلَى ذَلِك الْموضع " كلهَا ضَعِيفَة.

‌‌33 - وَمِنْه مَوْقُوف عَلَى [أم هَانِئ] : " كرِهتْ الْوضُوء بِمَاء بل فِيهِ الْخبز ".

‌‌(بَاب الْأَوَانِي)

‌‌34 - عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ: تُصدِّق [عَلَى مولاة لميمونة بِشَاة فَمَاتَتْ فَمر] بهَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ: " هلاّ أَخَذْتُم [إهابها فدبغتموه فانتفعتم بِهِ؟] فَقَالُوا: إِنَّهَا ميتَة. فَقَالَ: " إِنَّمَا حُرّم [أكلهَا " مُتَّفق عَلَيْهِ.
‌‌৩২ - এবং একটি হাদিসে রয়েছে: "তিনি গোসল করলেন, অতঃপর শরীরের একটি শুকনা স্থান দেখতে পেলেন যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তখন তিনি তাঁর হাতের ভেজা চুল নিয়ে সেই স্থানের উপর বুলিয়ে দিলেন।" এই সবকটি বর্ণনা দুর্বল।

‌‌৩৩ - এবং এরই অন্তর্ভুক্ত উম্মে হানির ওপর মাউকুফ একটি বর্ণনা: "তিনি এমন পানি দিয়ে অজু করা অপছন্দ করতেন যাতে রুটি ভেজানো হয়েছে।"

‌‌(পাত্রসমূহ বিষয়ক অধ্যায়)

‌‌৩৪ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মাইমুনার এক আযাদকৃত দাসীকে একটি বকরি সদকা করা হয়েছিল, যা পরে মারা যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: "তোমরা কেন এর চামড়াটি নিলে না? সেটি পাকা করে নিলে তো তোমরা তা দ্বারা উপকৃত হতে পারতে।" তারা বলল: "এটি তো মৃত পশু।" তিনি বললেন: "কেবল এর ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌35 - وَفِي رِوَايَة لمُسلم عَن مَيْمُونَة؛ وَقَالَ: " أَلا أَخَذْتُم إهابها فاستمتعتم بِهِ [1 / ب] "]

‌‌36 - وَعنهُ، سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول: " إِذا دُبغ الإهاب فقد طهر " رَوَاهُ مُسلم.

‌‌37 - وَفِي رِوَايَة التِّرْمِذِيّ: " أَيّمَا إهَاب دُبغ فقد طهر ".

‌‌38 - وَقَالَ: " حَدِيث حسن صَحِيح ".

‌‌39 - وَعَن سَوْدَة رضي الله عنها، قَالَت: " مَاتَت لنا شَاة، فدبغنا مَسْكها، ثمَّ مَا زلنا ننبذ فِيهِ حَتَّى صَار شنّا " رَوَاهُ البُخَارِيّ [2 / ب] .

‌‌40 - وَعَن عَائِشَة رضي الله عنها: " أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَمر أَن يُستمتع بجلود الْميتَة إِذا
৩৫ - এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: "তোমরা কেন এর চামড়াটি গ্রহণ করলে না, যাতে তোমরা তা থেকে উপকৃত হতে পারতে? [১ / খ]"

৩৬ - তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যখন চামড়া পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৩৭ - এবং তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: "যেকোনো চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।"

৩৮ - এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহীহ।"

৩৯ - এবং সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদের একটি বকরি মারা গেল, তখন আমরা সেটির চামড়া পাকা করলাম। এরপর আমরা তাতে পানীয় প্রস্তুত করতে থাকলাম যতক্ষণ না সেটি একটি পুরনো মশকে পরিণত হলো।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন [২ / খ]।

৪০ - এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত পশুর চামড়া দ্বারা উপকার গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যখন তা (পাকা করা হয়)"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৪)
دُبغت " حَدِيث حسن، رَوَاهُ مَالك، وَأَبُو دَاوُد، والنّسائي وَآخَرُونَ بأسانيد حَسَنَة

‌‌41 - وَعَن ابْن عَبَّاس، أَرَادَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَن يتَوَضَّأ من سقاء، فَقيل لَهُ: إِنَّه ميتَة فَقَالَ: " دباغه يذهب بخبثه أَو نجسه، أَو رجسه " رَوَاهُ الْحَاكِم،

‌‌42 - وَقَالَ: " هُوَ صَحِيح ".

‌‌43 - وَالْبَيْهَقِيّ،
পাকা করা হয়েছে।" এটি হাসান হাদিস; ইমাম মালিক, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং অন্যান্যরা হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌41 - এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মশক থেকে অযু করতে চাইলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: এটি মৃত পশুর (চামড়া)। তখন তিনি বললেন: "চামড়া পাকা করা এর নোংরামি বা এর নাপাকি বা এর অপবিত্রতা দূর করে দেয়।" এটি হাকীম বর্ণনা করেছেন,

‌‌42 - এবং তিনি বলেছেন: "এটি সহীহ।"

‌‌43 - এবং বায়হাকী।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৫)
‌‌44 - وَقَالَ: " إِسْنَاده صَحِيح ".

‌‌45 - وَأما حَدِيث عبد الله بن عُكيْم قَالَ: " أَتَانَا كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قبل مَوته بِشَهْر أَن لَا تنتفعوا من الْميتَة بإهاب، وَلَا عصب " فَرَوَاهُ الثَّلَاثَة.

‌‌46 - قَالَ التِّرْمِذِيّ: " حَدِيث حسن ".

‌‌47 - قَالَ: وَكَانَ أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول بِهِ، ثمَّ تَركه لمّا اضْطَرَبُوا فِي إِسْنَاده.

‌‌48 - وَرَوَى هَذَا: " قبل مَوته بِشَهْر ".
৪৪ - এবং তিনি বলেছেন: "এর সনদ সহীহ।"

‌৪৫ - আর আব্দুল্লাহ বিন উকাইম বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর এক মাস পূর্বে আমাদের নিকট তাঁর পত্র এল যে, তোমরা মৃত জন্তুর চামড়া বা স্নায়ু থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না।" এটি (ইমাম) তিনজন বর্ণনা করেছেন।

‌৪৬ - তিরমিযী বলেছেন: "হাদীসটি হাসান।"

‌৪৭ - তিনি বলেছেন: আহমাদ বিন হাম্বল এটি গ্রহণ করতেন, অতঃপর যখন এর সনদে বিশৃঙ্খলা দেখা দিল, তখন তিনি তা বর্জন করেন।

‌৪৮ - এবং এটি বর্ণিত হয়েছে: "তাঁর মৃত্যুর এক মাস পূর্বে।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌49 - وَرَوَى: " بشهرين ".

‌‌50 - وَرَوَى: " بِأَرْبَعِينَ لَيْلَة ".

‌‌51 - قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَآخَرُونَ: " هُوَ مُرْسل، وَلَا صُحْبَة لِابْنِ عُكيم ".

‌‌52 - قَالَ الْخطابِيّ: " علله عَامَّة الْعلمَاء لعدم صُحْبَة ابْن عكيم، وعللوه أَيْضا بِأَنَّهُ مُضْطَرب، وَعَن مشيخة مجهولين، وَلِأَن الإهاب الْجلد قبل الدّباغ عِنْد جُمْهُور أهل اللُّغَة ".

‌‌53 - وَعَن مَيْمُونَة رضي الله عنها قَالَت: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي شَاة ميّتة: " لَو
৪৯ - এবং বর্ণিত হয়েছে: "দুই মাসের"।

৫০ - এবং বর্ণিত হয়েছে: "চল্লিশ রাতের"।

৫১ - বায়হাকী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: "এটি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্র), আর ইবনে উকাইমের সাহচর্য (সাহাবী হওয়া) প্রমাণিত নয়"।

৫২ - খাত্তাবী বলেছেন: "সাধারণ আলেমগণ ইবনে উকাইমের সাহচর্য না থাকার কারণে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন। তাঁরা একে আরও ত্রুটিযুক্ত বলেছেন কারণ এটি মুজতারিব (অসংলগ্ন), এটি অজ্ঞাত শিক্ষকদের থেকে বর্ণিত এবং অধিকাংশ ভাষাবিদদের মতে 'ইহাব' হলো দাবাগাত (চামড়া পাকানো) করার পূর্বের চামড়া"।

৫৩ - মায়মুনাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি মৃত ছাগল সম্পর্কে বলেছেন: "যদি
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৭)
أَخَذْتُم إهابها "، فَقَالُوا: إِنَّهَا ميتَة. فَقَالَ: " يطهرها المَاء والقرَظ ". حَدِيث حسن] ، وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد، وَالنَّسَائِيّ بِإِسْنَادَيْنِ [حسنين.

‌‌54 - وَرَوَى الْبَيْهَقِيّ مَعْنَاهُ من رِوَايَة] ابْن عَبَّاس. وَقَوْلهمْ فِي [فِي كتب الْفِقْه: الشِّث والقرَظ، بَاطِل لَا أصل] لَهُ.

‌‌(بَاب)

‌‌55 -[عَن مُعَاوِيَة رضي الله عنه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ: " لَا تركبوا الخزّ]
"তোমরা যদি এর চামড়াটি গ্রহণ করতে", তারা বলল: "নিশ্চয়ই এটি মৃত জন্তু।" তিনি বললেন: "পানি এবং কারায একে পবিত্র করে।" হাসান হাদিস] , এবং ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ এটি দুটি [হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৫৪ - এবং বায়হাকী এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন বর্ণনা] থেকে ইবনে আব্বাসের। আর ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে [ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে: শিত ও কারায, তা বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি] নেই।

‌‌(পরিচ্ছেদ)

‌‌৫৫ - [মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা খায এর ওপর আরোহণ করো না"]
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৮)
وَلَا النمار " [حسن، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد بِإِسْنَاد حسن

‌‌56 - وَعَن أبي هُرَيْرَة عَن] النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ [2 / أ] : " لَا تصْحَب الْمَلَائِكَة رفْقَة فِيهَا جلد نمر " حسن، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد بِإِسْنَاد حسن.

‌‌57 - وَعَن أبي الْمليح، عَن أَبِيه، " أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ نهَى عَن جُلُود السبَاع " رَوَاهُ الثَّلَاثَة بأسانيد صَحِيحَة.
এবং চিতাবাঘের চামড়াও নয়" [হাসান, আবু দাউদ এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন]

‌‌৫৬ - এবং আবু হুরায়রা (রা.) হতে, নবী] (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে [২ / ক]: "ফেরেশতাগণ এমন কোনো দলের সঙ্গী হন না যাতে চিতাবাঘের চামড়া থাকে।" হাসান, আবু দাউদ এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৫৭ - আবুল মালিহ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।" এটি তিন ইমাম সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৯)
‌‌58 - وَفِي رِوَايَة التِّرْمِذِيّ: " نهَى عَن جُلُود السبَاع أَن تُفترش ". قَالَ أَصْحَابنَا: سَبَب النَّهْي عَن جُلُود السبَاع أَن شعرهَا لَا يطهر بالدباغ عَلَى الْمَذْهَب الصَّحِيح.

‌‌(فصل فِي ضعيفه)

‌‌59 - مِنْهُ، عَن عَائِشَة مَرْفُوع: " اسْتَمْتعُوا [3 / أ] بجلود الْميتَة إِذا دُبغت بِتُرَاب، أَو ملح، أَو رماد، أَو مَا كَانَ، بعد أَن يرد صَلَاحه " ضعّفه ابْن عدي، وَآخَرُونَ.

‌‌(بَاب تَحْرِيم اسْتِعْمَال إِنَاء الذَّهَب وَالْفِضَّة عَلَى الرجل وَالْمَرْأَة، وَجَوَاز التضبيب الْيَسِير بِالْفِضَّةِ)

‌‌60 - عَن أم سَلمَة، هِنْد رضي الله عنها أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ: " الَّذِي يشرب فِي آنِية الْفضة إِنَّمَا يجرجر فِي بَطْنه نَار جَهَنَّم " مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌61 - وَفِي رِوَايَة لمُسلم: " إِن الَّذِي يَأْكُل أَو يشرب فِي آنِية الْفضة وَالذَّهَب ".

‌‌62 - وَفِي رِوَايَة لَهُ: " من شرب فِي إِنَاء ذهب، أَو فضَّة، فَإِنَّمَا يجرجر فِي بَطْنه نَارا من جَهَنَّم ".
৫৮ - এবং তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি হিংস্র পশুর চামড়া বিছানা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।" আমাদের সাথীরা (ফকিহগণ) বলেছেন: হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহারের এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো, সঠিক মাযহাব অনুযায়ী দাবাঘত (চামড়া প্রক্রিয়াজাত) করার মাধ্যমে এর পশম পবিত্র হয় না।

(দুর্বল হাদিস বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

৫৯ - এর অন্তর্ভুক্ত, আয়েশা (রা.) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: "তোমরা মৃত পশুর চামড়া ব্যবহার করো যখন তা মাটি, লবণ, ছাই বা যা কিছু দ্বারা হোক না কেন দাবাঘত করা হয়, এর উপযোগিতা ফিরে আসার পর।" ইবনে আদী ও অন্যান্যরা একে দুর্বল বলেছেন।

(পুরুষ ও মহিলার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম হওয়া এবং রৌপ্য দ্বারা সামান্য মেরামত বা জোড়া লাগানোর বৈধতা বিষয়ক অধ্যায়)

৬০ - উম্মে সালামাহ হিন্দ (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন ঢকঢক করে গিলছে।" এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়েই বর্ণনা করেছেন।

৬১ - এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি স্বর্ণ ও রূপার পাত্রে আহার করে বা পান করে।"

৬২ - এবং তাঁর অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি স্বর্ণ বা রূপার পাত্রে পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন গড়গড় শব্দে প্রবেশ করায়।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮০)
‌‌63 - وَعَن الْبَراء بن عَازِب رضي الله عنهما قَالَ: " أمرنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ بِسبع، ونهانا عَن سبع: أمرنَا بعيادة الْمَرْضَى، وَاتِّبَاع الْجِنَازَة، وتشميت الْعَاطِس، وَإجَابَة الدَّاعِي، وإفشاء السَّلَام، وَنصر الْمَظْلُوم، وإبرار الْمقسم، ونهانا عَن خَوَاتِيم الذَّهَب، وَعَن الشّرْب فِي الْفضة، أَو قَالَ: آنِية الْفضة، وَعَن المياثر والقسي، وَعَن [لبس الْحَرِير، والديباج] ، والإستبرق " مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌64 - وَفِي رِوَايَة لمُسلم: [" وإنشاد الضال "] بدل: " إبرار الْمقسم ".

‌‌65 - وَفِي رِوَايَة لَهُ: " وَعَن الشّرْب [فِي الْفضة فَإِنَّهُ من شرب فِيهَا فِي الدُّنْيَا] لم يشرب فِيهَا فِي الْآخِرَة ".

‌‌66 - و [فِي رِوَايَة لَهما: " رد السَّلَام " بدل: " إفشاء السَّلَام "] .

‌‌67 - وَعَن حُذَيْفَة بن الْيَمَان رضي الله عنهما قَالَ: " نَهَانَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ [عَن الْحَرِير، والديباج، وَالشرب فِي آنِية الذَّهَب وَالْفِضَّة [2 / ب]] ، وَقَالَ: " هن لَهُم فِي الدُّنْيَا وَهن لكم فِي الْآخِرَة " مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌68 - وَفِي رِوَايَة: " لَا تلبسوا الْحَرِير وَلَا الديباج، وَلَا تشْربُوا فِي آنِية الذَّهَب
‌৬৩ - বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সাতটি বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় হতে নিষেধ করেছেন। আমাদের আদেশ দিয়েছেন: অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করতে, জানাজার অনুসরণ করতে, হাঁচিদাতার দুআ দিতে (অর্থাৎ ইয়ারহামুকাল্লাহ বলতে), আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিতে, সালাম প্রচার করতে, মজলুমকে সাহায্য করতে এবং শপথকারীর শপথ পূর্ণ করতে। আর আমাদের নিষেধ করেছেন: স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, রূপার পাত্রে পান করতে — অথবা তিনি বলেছেন: রূপার পাত্রসমূহ — এবং মিয়াছির (রেশমি গদি), কাসসি (এক প্রকার রেশমি কাপড়), এবং [রেশম, দিবায] ও ইস্তাবরাক (মোটা ও পাতলা রেশমি কাপড়) পরিধান করতে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।

‌‌৬৪ - মুসলিমের এক বর্ণনায় "ইবরারুল মুকসিম" (শপথকারীর শপথ পূর্ণ করা)-এর স্থলে ["হারানো বস্তু খুঁজে পেতে সাহায্য করা"] কথাটি রয়েছে।

‌‌৬৫ - তাঁর (মুসলিমের) অপর এক বর্ণনায় আছে: "আর রূপার পাত্রে পান করা সম্পর্কে [নিষেধ করেছেন, কারণ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তাতে পান করবে], সে আখিরাতে তাতে পান করবে না।"

‌‌৬৬ - এবং [তাঁদের উভয়ের এক বর্ণনায়: "সালাম প্রচার করা"-এর পরিবর্তে "সালামের উত্তর দেওয়া" শব্দ এসেছে]।

‌‌৬৭ - হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের [রেশম ও দিবায পরিধান করতে এবং স্বর্ণ ও রূপার পাত্রে পান করতে [২ / খ]] নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: 'এগুলো দুনিয়াতে তাদের (কাফিরদের) জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য'।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

‌‌৬৮ - এক বর্ণনায় আছে: "তোমরা রেশম ও দিবায পরিধান করো না এবং স্বর্ণের পাত্রে পান করো না...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮১)
وَالْفِضَّة، وَلَا تَأْكُلُوا فِي صحافها، فَإِنَّهَا لَهُم فِي الدُّنْيَا " هَذَا لفظ روايتي البُخَارِيّ وَمُسلم.

‌‌69 - زَاد البُخَارِيّ: " وَلنَا فِي الْآخِرَة ".

‌‌70 - وَعَن أنس رضي الله عنه: " أَن قدح رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ انْكَسَرَ فَجعل مَكَان الشّعب سلسلة من فضَّة " رَوَاهُ البُخَارِيّ.

‌‌71 - وَأَشَارَ الْبَيْهَقِيّ إِلَى أَن الَّذِي جعل السلسلة هُوَ أنس.

‌‌(فصل فِي ضعيفه)

‌‌72 - فِيهِ مَرْفُوع: " من شرب فِي إِنَاء ذهب أَو فضَّة، أَو إِنَاء فِيهِ شَيْء من ذَلِك فَإِنَّمَا يجرجر فِي بَطْنه نَار جنهم " ضَعِيف.

‌‌73 - قَالَ الْبَيْهَقِيّ: الْمَشْهُور عَن ابْن عمر مَوْقُوف، أَنه كَانَ لَا يشرب فِي قدح فِيهِ حَلقَة فضَّة، وَلَا ضبة فضَّة.
এবং রূপা, এবং তোমরা তাদের পাত্রে আহার করো না, কারণ নিশ্চয়ই তা দুনিয়াতে তাদের জন্য।" এটি বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনার শব্দ।

‌‌৬৯ - বুখারি আরও বর্ণনা করেছেন: "এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।"

‌‌৭০ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেয়ালাটি ভেঙে গিয়েছিল, ফলে তিনি ফাটলের স্থানে রূপার একটি শিকল লাগিয়েছিলেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

‌‌৭১ - বায়হাকি ইঙ্গিত করেছেন যে, যিনি শিকলটি লাগিয়েছিলেন তিনি ছিলেন আনাস।

‌‌(এর দুর্বল হাদিসসমূহের পরিচ্ছেদ)

‌‌৭২ - এতে মারফু হাদিসে রয়েছে: "যে ব্যক্তি সোনা বা রূপার পাত্রে পান করবে, অথবা এমন পাত্রে যাতে এগুলোর কোনো অংশ রয়েছে, সে কেবল তার পেটে জাহান্নামের আগুন ঢালছে।" এটি দুর্বল।

‌‌৭৩ - বায়হাকি বলেন: ইবনে উমর থেকে মাওকুফ হিসেবে প্রসিদ্ধ যে, তিনি এমন পেয়ালায় পান করতেন না যাতে রূপার আংটা বা রূপার তালি (মেরামতকারী ধাতব পাত) থাকত।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮২)
‌‌(بَاب جَوَاز الطَّهَارَة من آنِية الْمُشْركين وَالشرب، وَغَيرهمَا)

‌‌74 - عَن عمرَان بن حُصَيْن رضي الله عنهما أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ دَعَا بِإِنَاء، ففرغ فِيهِ من أَفْوَاه [3 / ب] مزادتي الْمَرْأَة المشركة، وأوكى أفواههما، وَأطلق العزالى، وَنُودِيَ فِي النَّاس اسقوا واستقوا، فسقى من شَاءَ، واستقى من شَاءَ، وَكَانَ آخر ذَلِك أَن أعْطى الَّذِي أَصَابَته الْجَنَابَة إِنَاء من مَاء قَالَ: " اذْهَبْ فأفرغه عَلَيْك " مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌75 - وَعَن جَابر رضي الله عنه: " كُنَّا نغزو مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ [فنصيب من آنِية] الْمُشْركين وأسقيتهم فنستمتع بهَا، وَلَا يعيب ذَلِك عَلَيْهِم " [صَحِيح، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد.

‌‌76 - وَعَن أسلم] " أَن عمر رضي الله عنه تَوَضَّأ من مَاء [نَصْرَانِيَّة فِي جرة نَصْرَانِيَّة " صَحِيح] رَوَاهُ الشَّافِعِي وَالْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح.

‌‌(بَاب اسْتِحْبَاب غسلهَا)

‌‌77 - عَن أبي ثَعْلَبَة رضي الله عنه قَالَ قلت: يَا رَسُول الله إِنَّا بِأَرْض قوم أهل كتاب، أفنأكل [فِي آنيتهم؟ وبأرض صيد أصيد] بقوسي وبكلبي الَّذِي
(মুশরিকদের পাত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন, পান করা এবং অন্য সব ব্যবহারের বৈধতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

৭৪ - ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পাত্র চাইলেন, এরপর তিনি একজন মুশরিক মহিলার দুটি মশক [৩ / খ] থেকে সেই পাত্রে পানি ঢাললেন। তিনি মশক দুটির মুখ বেঁধে দিলেন এবং নিচের নির্গমন মুখ দুটি খুলে দিলেন। অতঃপর মানুষের মাঝে ঘোষণা করা হলো— তোমরা পান করো এবং পানি সংগ্রহ করো। ফলে যার ইচ্ছা সে পান করল এবং যার ইচ্ছা সে সংগ্রহ করল। সবশেষে তিনি সেই ব্যক্তিকে, যার ওপর জানাবাত (অপবিত্রতা) ছিল, এক পাত্র পানি দিলেন এবং বললেন: "যাও, এটি তোমার নিজের ওপর ঢেলে নাও (গোসল করো)।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয়ই এটি বর্ণনা করেছেন)।

৭৫ - জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম, [তখন আমরা মুশরিকদের পাত্র] এবং তাদের পানির চামড়াগুলো লাভ করতাম এবং সেগুলো ব্যবহার করতাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাদের সেই ব্যবহারের বিষয়টিকে দোষণীয় মনে করতেন না।" [এটি সহীহ, আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।]

৭৬ - আসলাম থেকে বর্ণিত] "যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন খ্রিস্টান মহিলার মটকা থেকে তার (ঐ মহিলার) পানি দ্বারা ওযু করেছিলেন।" এটি সহীহ, ইমাম শাফিঈ ও বাইহাকী এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

(পাত্রসমূহ ধৌত করার মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

৭৭ - আবু সা’লাবাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এক ভূখণ্ডে বসবাস করি, আমরা কি [তাদের পাত্রে আহার করব? আর আমি এমন এক শিকারযোগ্য ভূমিতে আছি যেখানে আমি] আমার ধনুক এবং আমার সেই কুকুর দ্বারা শিকার করি যা...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮৩)
لَيْسَ بمعلم [3 / أ] وبكلبي الْمعلم، فَمَا يصلح لي؟ قَالَ: " أما مَا ذكرت، يَعْنِي من آنِية أهل الْكتاب، فَإِن وجدْتُم غَيرهَا فَلَا تَأْكُلُوا فِيهَا، وَإِن لم تَجدوا فاغسلوها، وكلوا فِيهَا " ثمَّ ذكر حكم الصَّيْد. مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌78 - وَفِي رِوَايَة للْبُخَارِيّ: " لَا تَأْكُلُوا فِي آنيتهم، إِلَّا أَن لَا تَجدوا بدا، فَإِن لم تَجدوا فاغسلوها وكلوا ".

‌‌79 - وَفِي رِوَايَة أبي دَاوُد؛ قَالَ: " إِنَّا نجاور أهل الْكتاب وهم يطبخون فِي قدورهم الْخِنْزِير وَيَشْرَبُونَ فِي آنيتهم الْخمر " فَذكره.

‌‌(بَاب السِّوَاك)

‌‌80 - أَبُو هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ: " لَوْلَا أَن أشق عَلَى أمتِي، أَو عَلَى النَّاس لأمرتهم بِالسِّوَاكِ مَعَ كل صَلَاة ".

‌‌81 - وَفِي رِوَايَة: " عِنْد كل صَلَاة ". مُتَّفق عَلَيْهِ.

‌‌82 - وَفِي رِوَايَة صححها ابْن خُزَيْمَة وَالْحَاكِم، وَذكرهَا البُخَارِيّ فِي " صَحِيحه " فِي كتاب الصّيام تَعْلِيقا: " مَعَ كل وضوء ".
(শিকারি পশু) প্রশিক্ষিত নয় [৩ / ক] এবং আমার প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা (শিকার), তবে আমার জন্য কোনটি বৈধ? তিনি বললেন: "তুমি আহলে কিতাবদের পাত্র সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছ, অর্থাৎ যদি তোমরা অন্য কোনো পাত্র পাও তবে সেগুলোতে খেয়ো না। আর যদি অন্য কিছু না পাও তবে সেগুলো ধুয়ে নাও এবং তাতে আহার করো।" অতঃপর তিনি শিকারের বিধান উল্লেখ করলেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি।

‌‌৭৮ - এবং বুখারির এক বর্ণনায় রয়েছে: "তোমরা তাদের পাত্রে আহার করো না, যদি না তোমরা নিরুপায় হও। যদি অন্য কিছু না পাও তবে সেগুলো ধুয়ে নাও এবং আহার করো।"

‌‌৭৯ - এবং আবু দাউদের এক বর্ণনায় রয়েছে; তিনি বললেন: "আমরা আহলে কিতাবদের প্রতিবেশী, তারা তাদের ডেকচিতে শূকরের মাংস রান্না করে এবং তাদের পাত্রে মদ পান করে।" অতঃপর তিনি সেটি উল্লেখ করলেন।

‌‌(মিসওয়াক অধ্যায়)

‌‌৮০ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যদি আমার উম্মতের ওপর অথবা মানুষের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক সালাতের সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।"

‌‌৮১ - এবং অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "প্রত্যেক সালাতের সময়।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

‌‌৮২ - এবং ইবনে খুজাইমা ও হাকেম যে বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন এবং বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে রোজা অধ্যায়ে তালীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে: "প্রত্যেক ওজুর সাথে।"