(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
الإلمام بأحاديث الأحكام القسم: كتب السنة
الكتاب: الإلمام بأحاديث الأحكام
المؤلف: تقي الدين أبو الفتح محمد بن علي بن وهب بن مطيع القشيري، المعروف بابن دقيق العيد (ت 702 هـ)
حقق نصوصه وخرج أحاديثه: حسين إسماعيل الجمل
الناشر: دار المعراج الدولية - دار ابن حزم - السعودية - الرياض / لبنان - بيروت
الطبعة: الثانية، 1423 هـ -2002 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম
লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুতি' আল-কুশাইরি, যিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭০২ হিজরি)
পাঠ্য সম্পাদন ও হাদিস তাখরিজ করেছেন: হোসেন ইসমাইল আল-জামাল
প্রকাশক: দারুল মেরাজ ইন্টারন্যাশনাল - দার ইবনে হাজম - সৌদি আরব - রিয়াদ / লেবানন - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الالمام بأحاديث الأحكام]ـ
المؤلف: تقي الدين أبو الفتح محمد بن علي بن وهب بن مطيع القشيري، المعروف بابن دقيق العيد (المتوفى: 702هـ)
المحقق: حقق نصوصة وخرح أحاديثه حسين إسماعيل الجمل
الناشر: دار المعراج الدولية - دار ابن حزم - السعودية - الرياض / لبنان - بيروت
الطبعة: الثانية، 1423هـ -2002م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম]
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুতি' আল-কুশায়রী, যিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৭০২ হিজরি)
মুহাক্কিক: মূল পাঠ্য সম্পাদনা ও হাদিসগুলো যাচাই করেছেন হুসাইন ইসমাইল আল-জামাল
প্রকাশক: দারুল মিরাজ ইন্টারন্যাশনাল - দারু ইবনু হাজম - সৌদি আরব - রিয়াদ / লেবানন - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر وأعن [بِخَير] )
قَالَ الشَّيْخ الْفَقِيه، الإِمَام الْعَالم، الْعَامِل المحدِّث، الْحَافِظ تَقِيّ الدَّين أَبُو الْفَتْح، مُحَمَّد بن الشَّيْخ [الْفَقِيه، الْأمة] ، الإِمَام الْعَالم، الْعَامِل الْوَرع، الزَّاهِد، مجد الدَّين، أَبُو الْحسن [عَلّي] ، بن وهب، بن مُطِيع الْقشيرِي [رحمه الله] ، [الْمَعْرُوف بِابْن دَقِيق الْعِيد] ، عَفا الله عَنهُ. آمين:
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং [কল্যাণের সাথে] সাহায্য করুন। )
ফকিহ শেখ, ইমাম, আলিম, আমলকারী মুহাদ্দিস, হাফিজ তাকিউদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে শেখ [ফকিহ, উম্মত], ইমাম, আলিম, পরহেজগার আমলকারী, যাহিদ, মাজদুদ্দীন আবুল হাসান [আলী] ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুতি' আল-কুশায়রী [আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন], [যিনি ইবনে দাকীকুল ঈদ হিসেবে পরিচিত], আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। আমিন — বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
(الْخطْبَة)الْحَمد لله منزل الشَّرَائِع وَالْأَحْكَام، ومفصل الْحَلَال وَالْحرَام، وَالْهَادِي من اتبع رضوانه سبل السَّلَام، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله [وَحده لَا شريك لَهُ] توحيداً؛ هُوَ فِي التَّقْرِير مُحكم النظام، وَفِي الْإِخْلَاص وافر الْأَقْسَام، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي أرْسلهُ رَحْمَة للأنام، فَعَلَيهِ مِنْهُ أفضل صلاةٍ وأكمل سَلام، ثمَّ عَلَى آله الطيبين الْكِرَام، وَأَصْحَابه نُجُوم الْهدى الْأَعْلَام. وَبعد؛ فَهَذَا مُخْتَصر فِي علم الحَدِيث، تَأَمَّلت مَقْصُوده تأملاً، وَلم أدعُ الْأَحَادِيث إِلَيْهِ الجَفَلا، وَلَا ألَوْتُ فِي وَضعه محرراً، وَلَا أبرزته كَيفَ اتّفق تهوراً، فَمن فهم مغزاه شدّ عَلَيْهِ يَد الضِّنانة، وأنزله من قلبه وتعظيمه الأعزين مَكَانا ومكانة وسميته: بِكِتَاب الْإِلْمَام بِأَحَادِيث الْأَحْكَام.
(খুতবা)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শরীয়ত ও বিধানসমূহ অবতীর্ণকারী, হালাল ও হারামকে বিশদভাবে বর্ণনাকারী এবং যে ব্যক্তি তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাকে শান্তির পথে পরিচালনাকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, [তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই]—এমন এক তাওহীদ; যা বর্ণনায় সুসংহত এবং একনিষ্ঠতায় পূর্ণাঙ্গ অংশের অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে তিনি সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তাঁর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণতম সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর তাঁর পবিত্র ও সম্মানিত পরিবারবর্গ এবং হিদায়াতের উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য তাঁর মহান সাহাবীগণের ওপরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর, এটি ইলমে হাদিসের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ। আমি এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনা করেছি এবং এতে হাদিসসমূহকে নির্বিচারে (যাচাই-বাছাইহীনভাবে) গ্রহণ করিনি। এর পাণ্ডুলিপি সুবিন্যস্ত করতে আমি কোনো চেষ্টার ত্রুটি করিনি এবং একে হঠকারিতাবশত অপরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করিনি। সুতরাং যে ব্যক্তি এর মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারবে, সে একে সযত্নে আঁকড়ে ধরবে এবং একে নিজের হৃদয়ে ও শ্রদ্ধাবোধে সর্বোচ্চ স্থান ও মর্যাদায় আসীন করবে। আমি এর নামকরণ করেছি: 'কিতাবুল ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম' (বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহের সম্যক জ্ঞান)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وشرطي فِيهِ أَن لَا أورد إِلَّا حَدِيث من وثَّقه إِمَام من مزكي رُوَاة الْأَخْبَار، وَكَانَ صَحِيحا عَلَى طَريقَة (بعض) أهل الحَدِيث / الْحفاظ، أَو أَئِمَّة الْفِقْه النظار، فَإِن لكل مِنْهُم مغزىً قَصده وسلكه، وطريقاً أعرض عَنهُ وَتَركه، وَفِي كل خير. وَالله تَعَالَى ينفع بِهِ دينا ودُنيا، ويجعله نورا يسْعَى بَين أَيْدِينَا، وَيفتح (فِيهِ) لدارسيه (فِيهِ) حفظا، ويبلغنا ببركته منزلَة من كرامته عظمى، إِنَّه الفتاح الْعَلِيم، الْغَنِيّ الْكَرِيم.
এবং এতে আমার শর্ত হলো এই যে, আমি কেবল এমন হাদীসই উল্লেখ করব যাকে সংবাদ বর্ণনাকারীদের যাচাইকারী ইমামগণের মধ্য হতে কোনো ইমাম নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন; এবং যা (কিছু সংখ্যক) হাদীস বিশারদ / হাফেযগণের পদ্ধতি অনুযায়ী অথবা সূক্ষ্মদর্শী ফিকহশাস্ত্রের ইমামগণের পদ্ধতি অনুযায়ী সহীহ। কেননা তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব লক্ষ্য ছিল যা তারা অন্বেষণ করেছেন ও অনুসরণ করেছেন, এবং এমন পথ ছিল যা তারা এড়িয়ে গেছেন ও বর্জন করেছেন; আর প্রত্যেকটির মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা দ্বীন ও দুনিয়ার উপকার সাধন করুন, একে আমাদের সম্মুখে ধাবমান একটি নূর বানিয়ে দিন, এর পাঠকদের জন্য (এতে) মুখস্থ করার দ্বার উন্মুক্ত করে দিন এবং এর বরকতে আমাদের তাঁর মহান মর্যাদার স্তরে পৌঁছে দিন। নিশ্চয়ই তিনি পরম উন্মোচনকারী, সর্বজ্ঞ, অভাবমুক্ত ও পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فارغة
ফাঁকা
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
(كتاب الطَّهَارَة)(1) عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رجل إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] فَقَالَ: يَا رَسُول الله، إنّا نركَبُ الْبَحْر ونحمل مَعنا الْقَلِيل من المَاء فَإِن توضأنا بِهِ عطشنا، أفنتوضأ من مَاء الْبَحْر؟ فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " هُوَ الطَّهورُ ماؤهُ الحلُ ميتَته ". أخرجه الْأَرْبَعَة: أَبُو دَاوُد، وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ، وَابْن مَاجَه، وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ، وَأخرجه ابْن خُزَيْمَة فِي " صَحِيحه "، وَرجع ابْن مَنْدَه أَيْضا صِحَّته.
(2) وَعنهُ، عَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " لَا يبولنَّ أحدكُم فِي المَاء الدَّائِم ثمَّ يغْتَسل فِيهِ "
(পবিত্রতা অধ্যায়)(১) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সমুদ্র ভ্রমণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি; যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।" এটি চারজন ইমাম (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। ইবনে খুজাইমা তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মান্দাহও এর বিশুদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
(২) তাঁর থেকেই বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, এরপর তাতে গোসল করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫০)
أخرجه مُسلم. [وَهُوَ عِنْد البَاقِينَ بِمَعْنَاهُ] .
(3) وَرَوَى مُحَمَّد بن عجلَان، قَالَ: سمعتُ أبي يُحدِّث عَن أبي هُرَيْرَة، قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " لَا يبولنَّ أحدُكم فِي المَاء الدَّائِم، وَلَا يغْتَسل فِيهِ من الْجَنَابَة ". أخرجه أَبُو دَاوُد.
(4) وَرَوَى مُسلم من حَدِيث أبي السَّائِب، مولَى هِشَام بن زُهرة، أَنه سمع أَبَا هُرَيْرَة يَقُول: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " لَا يغْتَسل أحدكُم فِي المَاء الدَّائِم وَهُوَ جنُب " فَقَالَ: كَيفَ يفعل يَا أَبَا هُرَيْرَة؟ قَالَ: يتَنَاوَلهُ تناولاً.
(5) رَوَى سِماكُ بن حَرْب، عَن عِكْرِمَة، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ:
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। [অন্যান্য হাদিস সংকলকদের নিকট এটি সমার্থবোধক শব্দে বর্ণিত হয়েছে।] .
(৩) মুহাম্মদ বিন আজলান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে অবশ্যই প্রস্রাব না করে এবং তাতে অপবিত্রতা থেকে গোসল না করে।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(৪) ইমাম মুসলিম হিশাম বিন জুহরার মুক্তদাস আবু সাইব-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু হুরায়রা, তবে সে কীভাবে করবে? তিনি বললেন: সে তা অঞ্জলি ভরে (বাহির থেকে পানি তুলে) ব্যবহার করবে।
(৫) সিমাক বিন হারব ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
اغْتسل بعض أَزوَاج النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] فِي جَفْنَة فجَاء النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] ليتوضأ مِنْهَا أَو يغْتَسل، فَقَالَت لَهُ: يَا رَسُول الله، إِنِّي كنت جنبا، قَالَ: " إِن المَاء لَا يُجْنِب ". لفظ رِوَايَة أبي دَاوُد، وَأخرجه التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ.
(6) وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " إِذا وَقع الذُّبَاب فِي شراب أحدكُم فليغمسه (ثمَّ لينزعه) ، فَإِن فِي أحد جناحيه دَاء، وَالْآخر دَوَاء ". أخرجه البُخَارِيّ.
(7) وَعنهُ من رِوَايَة مُحَمَّد بن سِيرِين، قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " طهُور إِنَاء أحدكُم إِذا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْب أَن يغسلهُ سبع مراتٍ أولَاهُنَّ بالترابِ ". أخرجه مُسلم.
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কোনো এক স্ত্রী একটি বড় পাত্রে গোসল করেছিলেন। এরপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সেখান থেকে ওজু করতে বা গোসল করতে আসলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না।" এটি আবু দাউদের বর্ণনার শব্দ এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন ও সহিহ বলেছেন।
(৬) আবু হুরায়রা [রাযিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়ে, তবে সে যেন তা ডুবিয়ে দেয় (অতঃপর তা ফেলে দেয়), কারণ তার এক ডানায় রোগ আছে এবং অন্যটিতে আছে নিরাময়।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(৭) এবং তাঁর থেকেই মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয়, তখন তার পবিত্রতার উপায় হলো সেটিকে সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হতে হবে মাটি দিয়ে।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫২)
(8) وَفِي رِوَايَة عَلّي بن مُسهْر عِنْد مُسلم، عَن الْأَعْمَش، عَن أبي رزين [اسْمه مَسْعُود بن مَالك الْأَسدي الْكُوفِي] ، وَأبي صَالح، عَن أبي هُرَيْرَة، قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " إِذا وَلَغَ الْكَلْب فِي إِنَاء أحدكُم فَلْيُرقْهُ، ثمَّ ليغسله سبع مَرَّات ".
(9) وَرَوَى التِّرْمِذِيّ من حَدِيث الْمُعْتَمِر بن سُلَيْمَان، عَن أَيُّوب، عَن مُحَمَّد بن سِيرِين، عَن أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " يغسل الْإِنَاء إِذا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْب سبع مَرَّات أولَاهُنَّ أَو أخْراهن بِالتُّرَابِ، وَإِذا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّة غسل مرّة ". وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ وَقد اخْتلف فِي رَفعه.
(৮) এবং মুসলিমের নিকট আলী ইবনে মুশহিরের বর্ণনায়, আ'মাশ থেকে, তিনি আবু রাজিন [তাঁর নাম মাসউদ ইবনে মালিক আল-আসাদি আল-কুফি] ও আবু সালিহ থেকে, তাঁরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা ঢেলে ফেলে দেয়, অতঃপর তা সাতবার ধৌত করে।"
(৯) তিরমিযী মুতামির ইবনে সুলাইমানের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তা সাতবার ধৌত করা হবে, যার প্রথমবার অথবা শেষবার হবে মাটি দ্বারা; আর যদি তাতে বিড়াল মুখ দেয়, তবে একবার ধৌত করা হবে।" ইমাম তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন, তবে হাদীসটি মারফু হিসেবে বর্ণিত হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
(10) وَرَوَى مَالك من حَدِيث كَبْشَة - ابْنة كَعْب بن مَالك - وَكَانَت تَحت ابْن أبي قَتَادَة - أَن أَبَا قَتَادَة دخل عَلَيْهَا فَسَكَبت لَهُ وَضوءاً، فَجَاءَت هرة لتشرب مِنْهُ فأصغى لَهَا الْإِنَاء حَتَّى شربت، قَالَت كبشةُ: فرآني أنظر إِلَيْهِ فَقَالَ: أَتَعْجَبِينَ / يَا ابْنة أخي؟ قَالَت: قلت: نعم. فَقَالَ: إِن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " إِنَّهَا لَيست بِنَجس، إِنَّمَا هِيَ من الطوافين عَلَيْكُم أَو الطوافات ". وَأخرجه الْأَرْبَعَة وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حِبان فِي " صَحِيحَيْهِمَا ". وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ، وَأما ابْن مَنْده فَخَالف.
(11) وَعَن أنس بن مَالك قَالَ: جَاءَ أعرابيٌ فَبَال فِي طَائِفَة الْمَسْجِد فزجره النَّاس، فنهاهم النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] فَلَمَّا قضي بَوْله أَمر النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] بذنوبٍ من مَاء فأهريق عَلَيْهِ. فِي لفظ رِوَايَة البُخَارِيّ وَهُوَ مُتَّفق عَلَيْهِ.
(10) ইমাম মালিক কাবশাহ বিনতে কা'ব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন — যিনি ইবনে আবি কাতাদার স্ত্রী ছিলেন — যে আবু কাতাদা তার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তার ওযুর জন্য পানি ঢাললেন। এমতাবস্থায় একটি বিড়াল সেখান থেকে পান করতে আসলো, তখন তিনি তার জন্য পাত্রটি কাত করে ধরলেন যতক্ষণ না সে পান করল। কাবশাহ বলেন: তিনি আমাকে তার দিকে তাকাতে দেখলেন এবং বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্রী, তুমি কি এতে বিস্ময়বোধ করছ? তিনি বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র নয়, এটি তোমাদের আশেপাশে অত্যধিক বিচরণকারী বা বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত।" চারজন (সুনান গ্রন্থকারগণ), ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বান তাদের "সহীহ" গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন, আর ইবনে মান্দাহ এতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
(11) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য আরব আসলো এবং মসজিদের এক প্রান্তে প্রস্রাব করল, তখন লোকজন তাকে ধমক দিল। কিন্তু নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাদের নিষেধ করলেন। যখন সে তার প্রস্রাব সম্পন্ন করল, তখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এক বালতি পানি আনার আদেশ দিলেন এবং তা তার ওপর ঢেলে দেওয়া হলো। এটি বুখারীর বর্ণনার শব্দ এবং এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
(بَاب الْآنِية)(12) عَن مُعَاوِيَة بن سُوَيْد بن مقرّن قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى البَراءِ بن عَازِب فَسَمعته يَقُول: " أمرنَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] بِسَبْعٍ، ونهانا عَن سبعٍ: أمرنَا بعيادة الْمَرِيض، وَاتِّبَاع الْجِنَازَة، وتشْميت الْعَاطِس، وإبرار الْقسم أَو المُقْسم، وَنصر الْمَظْلُوم، وَإجَابَة الدَّاعِي، وإفشاء السَّلَام، ونهانا عَن خَوَاتِم أَو عَن تختُّم الذَّهَب، وَعَن شرب بالفضةِ، وَعَن المياثِرِ، والقسّيِ، وَعَن لبس الْحَرِير والاستبرق والديباج ". لفظُ رِوَايَة مُسلم، فِي بعض وجوهه.
(13) وَعَن عبد الرَّحْمَن بن أبي لَيْلَى، أَنهم كَانُوا عِنْد حُذَيْفَة بن الْيَمَان فَاسْتَسْقَى، فَسَقَاهُ مَجُوسِيّ، فَلَمَّا وضع الْقدح فِي يَده؛ رَمَى بِهِ
(পাত্রের পরিচ্ছেদ)(১২) মুআবিয়া ইবনে সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বারা ইবনে আযিবের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাকে বলতে শুনলাম: "রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদের সাতটি বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের আদেশ দিয়েছেন: অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাজার অনুসরণ করা, হাঁচিদাতার জবাব দেওয়া, কসম পূর্ণ করা বা কসমকারীকে কসম পূর্ণ করতে সাহায্য করা, মজলুমকে সাহায্য করা, আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং সালামের প্রসার ঘটানো। আর তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন: সোনার আংটি ব্যবহার করা বা সোনা পরিধান করা, রুপার পাত্রে পান করা, মিয়াসির (রেশমি গদি), কাসসি (এক প্রকার রেশমি বস্ত্র), এবং রেশম, ইস্তাবরাক (মোটা রেশম) ও দীবাজ (রেশমি কাপড়) পরিধান করা থেকে।" এটি মুসলিমের বর্ণনার শব্দাবলি, এর কোনো কোনো সূত্রে।
(১৩) আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান-এর নিকট ছিলেন, তখন তিনি পানি চাইলেন। এক অগ্নিপূজক (মজুসি) তাঁকে পানি পান করাল। অতঃপর সে যখন তাঁর হাতে পেয়ালাটি রাখল, তখন তিনি সেটি ছুড়ে ফেলে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَقَالَ: لَوْلَا أَنِّي نهيته غير مرّة وَلَا مرَّتَيْنِ، كَأَنَّهُ يَقُول: لم أفعل هَذَا، وَلَكِنِّي سَمِعت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] / يَقُول: " لَا تلبسوا الْحَرِير وَلَا الديباج، وَلَا تشْربُوا فِي آنِية الذَّهَب وَلَا الْفضة، وَلَا تَأْكُلُوا فِي صحافها، فَإِنَّهَا لَهُم فِي الدُّنْيَا وَلكم فِي الْآخِرَة ". مُتَّفق عَلَيْهِ. ولفظُ الْمَتْن للْبُخَارِيّ.
(14) وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " أيُّما إهَاب دُبِغَ فقد طهُر ". أَخْرجُوهُ إِلَّا البُخَارِيّ.
(15) وَعَن أبي ثَعْلَبَة الخُشَني رضي الله عنه، قَالَ: أتيت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] فَقلت: يَا رَسُول الله إِنَّا بِأَرْض أهل الْكتاب أفنأكل فِي آنيتهم؟ وبأرض صيد أصيد بقوسي، وأصيدُ بكلبي المُعلَّم وبكلبي الَّذِي لَيْسَ بمُعَلَّم؟ فَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] : " أما مَا ذكرْت أَنكُمْ بِأَرْض أهل الْكتاب فَلَا تَأْكُلُوا فِي آنيتهم إِلَّا أَن لَا تَجدوا بُداً، فَإِن لم تَجدوا بُداً فَاغْسِلُوا وكلوا، وَأما مَا ذكرت أَنكُمْ بِأَرْض صيد فَمَا صدت بقوسك فاذكر اسْم الله وكُلْ، وَمَا صدتَّ بكلبك المعلَّم فاذكر اسْم الله وكل، وَمَا صدت
এবং তিনি বললেন: যদি আমি তাকে একবার বা দুইবারের বেশি নিষেধ না করতাম—যেন তিনি বলছেন: আমি এটি করতাম না, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূলকে [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলতে শুনেছি: "তোমরা রেশম বা দিবায (উন্নত মানের রেশম) পরিধান করো না, এবং সোনা বা রুপার পাত্রে পান করো না, এবং তাদের থালাবাসনে আহার করো না। কেননা এগুলো তাদের জন্য ইহকালে এবং তোমাদের জন্য পরকালে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)। আর হাদিসের পাঠ বা শব্দগুলো বুখারীর।
(14) এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যেকোনো চামড়াকে যখন দাবাগাত (পরিশোধন) করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" এটি বুখারী ব্যতীত অন্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।
(15) এবং আবু ছালাবাহ আল-খুশানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলের [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নিকট এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আহলে কিতাবের ভূমিতে আছি, আমরা কি তাদের পাত্রে খাবার খেতে পারি? আর আমি এমন এক শিকারযোগ্য ভূমিতে আছি যেখানে আমি আমার ধনুক দিয়ে শিকার করি, আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিকারি কুকুর দিয়ে শিকার করি এবং এমন কুকুর দিয়েও শিকার করি যা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়? তখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "তুমি আহলে কিতাবদের ভূমিতে থাকার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছ, তোমরা তাদের পাত্রে খাবার খাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো বিকল্প পাও। আর যদি কোনো বিকল্প না পাও, তবে তা ধুয়ে নাও এবং আহার করো। আর শিকারি ভূমির ব্যাপারে যা উল্লেখ করেছ, তোমার ধনুক দ্বারা যা শিকার করবে তাতে আল্লাহর নাম নাও এবং খাও। আর তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে তাতে আল্লাহর নাম নাও এবং খাও। আর যা তুমি শিকার করেছ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
بكلبك الَّذِي لَيْسَ بمعلَّم فأدركت ذَكَاته فكلْه ". أخرجه البُخَارِيّ.
(16) وَثَبت من حَدِيث عمرَان بن حُصين، رضي الله عنه قَالَ كُنَّا فِي سفر مَعَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] . وَفِيه: ثمَّ نزل فَدَعَا بِالْوضُوءِ فَتَوَضَّأ، وَنُودِيَ بِالصَّلَاةِ فَصَلى بِالنَّاسِ، فَلَمَّا انْفَتل من صلَاته إِذا هُوَ بِرَجُل مُعتزل لم يُصلِّ مَعَ الْقَوْم، فَقَالَ: " مَا مَنعك يَا فلَان أَن تصلي مَعَ الْقَوْم "؟ قَالَ: أصابتني جَنَابَة وَلَا مَاء، قَالَ: " عَلَيْك بالصعيد فَإِنَّهُ يَكْفِيك ". ثمَّ سَار النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] ، فاشتكى النَّاس إِلَيْهِ من الْعَطش، فَنزل فَدَعَا فلَانا - كَانَ يُسَمِّيه أَبُو رَجَاء فنسيه عوفٌ - ودعا عليا فَقَالَ: " اذْهَبَا فابغيا المَاء "، فَانْطَلقَا فتلقيا امْرَأَة بَين مزادتين أَو سطيحتين من مَاء عَلَى بعير لَهَا، قَالَ: فَقَالَا لَهَا: أَيْن المَاء؟ فَقَالَت: عهدي بِالْمَاءِ أمس هَذِه السَّاعَة، ونفرنا خلوف. قَالَا لَهَا: انطلقي إِذا. وَفِيه: ودعا النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] بِإِنَاء فأفرغ فِيهِ من أَفْوَاه المزادتين أَو السطيحتين، وأوكأ أفواههما وَأطلق العزالي وَنُودِيَ فِي النَّاس أَن اسقوا واستقوا، فاستقى من سَقَى، واسقى / واستسقى من شَاءَ، وَكَانَ آخر ذَلِك: أَن أعطي الَّذِي أَصَابَته الْجَنَابَة إِنَاء من ذَلِك
"তোমার সেই কুকুরের মাধ্যমে (শিকার করো) যা প্রশিক্ষিত নয়, তবে তুমি যদি সেটির যবেহ করার সুযোগ পাও, তবে তা খাও।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(১৬) ইমরান ইবন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। আর তাতে বর্ণিত আছে: অতঃপর তিনি অবতরণ করলেন এবং ওযুর পানি চাইলেন ও ওযু করলেন। সালাতের জন্য আযান দেওয়া হলো এবং তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন দেখলেন এক ব্যক্তি পৃথক হয়ে আছে, সে লোকদের সাথে সালাত আদায় করেনি। তিনি বললেন: "হে অমুক! কিসে তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতে বাধা দিল?" সে বলল: "আমি অপবিত্র (জানাবাত) হয়ে পড়েছি এবং কোনো পানি নেই।" তিনি বললেন: "তুমি পবিত্র মাটি ব্যবহার করো, কারণ এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।" অতঃপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] চলতে থাকলেন, এরপর লোকজন তাঁর কাছে তৃষ্ণার অভিযোগ করল। তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং অমুককে ডাকলেন—আবু রাজা তাঁর নাম উল্লেখ করতেন কিন্তু আওফ তা ভুলে গেছেন—এবং আলীকে ডাকলেন। এরপর বললেন: "তোমরা দুজনে যাও এবং পানি অনুসন্ধান করো।" তারা দুজনে রওনা হলেন এবং এক মহিলার সাথে সাক্ষাৎ পেলেন যে তার উটের ওপর পিঠের দুই পাশে ঝোলানো দুটি বড় পানির মশক (বা ছোট মশক)-এর মাঝখানে বসে ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "পানি কোথায়?" সে বলল: "গতকাল এই সময়ে আমি পানির কাছে ছিলাম এবং আমাদের পুরুষরা পেছনে রয়ে গেছে।" তারা তাকে বললেন: "তাহলে চলো।" আর তাতে আছে: নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] একটি পাত্র চাইলেন এবং মশক দুটির মুখ থেকে তাতে পানি ঢাললেন। এরপর তিনি মশক দুটির মুখ বেঁধে দিলেন এবং নিচের নির্গমন মুখগুলো খুলে দিলেন। মানুষের মাঝে ঘোষণা দেওয়া হলো যে, "তোমরা নিজেরা পান করো এবং পানি সংগ্রহ করো।" ফলে যে পান করার সে পান করল এবং যে পশুকে পান করানোর বা পানি সংগ্রহ করার সে তা করল। এর সবশেষে সেই ব্যক্তিকে এক পাত্র পানি দেওয়া হলো যে অপবিত্র অবস্থায় ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
[المَاء] ، فَقَالَ: " اذْهَبْ فأفرِغْهُ عَلَيْك ". مُتَّفق عَلَيْهِ.
(17) وَعَن جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما قَالَ، قَالَ: رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " إِذا كَانَ جُنح اللَّيْل إِذا أمسيتم فكفُّوا صِبْيَانكُمْ فَإِن الشَّيَاطِين تَنْتَشِر حِينَئِذٍ، فَإِذا ذهب سَاعَة من اللَّيْل فخلّوهم، وَأَغْلقُوا الْأَبْوَاب، واذْكُرُوا اسْم الله فَإِن الشَّيَاطِين لَا تفتح بَابا مغلقاً، وأوكوا قربكم واذْكُرُوا اسْم الله، وخمِّروا آنيتكم واذْكُرُوا اسْم الله، وَلَو أَن تَعْرِضُوا عَلَيْهَا شَيْئا، وأطفئوا مصابيحكم ". رَوَاهُ البُخَارِيّ.
[পানি], অতঃপর তিনি বললেন: "যাও এবং এটি তোমার ওপর ঢেলে দাও।" এটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত।
(১৭) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যখন রাতের আঁধার নেমে আসে অথবা যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও, তখন তোমাদের শিশুদের আটকে রাখো, কারণ শয়তানরা সে সময় ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু সময় পার হয়ে যায়, তখন তাদের ছেড়ে দাও এবং আল্লাহর নাম নিয়ে ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করো; কারণ শয়তান কোনো বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের পানির পাত্রের মুখ বেঁধে রাখো এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের খাদ্যপাত্রগুলো ঢেকে রাখো—যদিও তার ওপর সামান্য কোনো কিছু আড়াআড়িভাবে রেখে দাও না কেন। আর তোমরা তোমাদের প্রদীপগুলো নিভিয়ে দাও।" ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
(بَاب السِّوَاك)(18) عَن عَائِشَة رضي الله عنها، عَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " السِّوَاك مَطهرة للفم مرضاة للرب ". أخرجه النَّسَائِيّ، وَابْن حبَان، فِي " صَحِيحه "، وَأخرجه ابْن خُزَيْمَة بطرِيق أُخْرَى فِي " صَحِيحه "، وَالْحَاكِم فِي " الْمُسْتَدْرك ".
(19) وَأخرج مُسلم من حَدِيث الْمِقْدَام، وَهُوَ ابْن شُرَيْح، عَن أَبِيه، عَن عَائِشَة: " أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] كَانَ إِذا دخل بَيته يبْدَأ بِالسِّوَاكِ ".
(20) وَرَوَى جمَاعَة عَن مَالك، عَن ابْن شهَاب، عَن حُمَيد
(মিসওয়াক অধ্যায়)(১৮) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "মিসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।" এটি নাসাঈ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে খুজাইমাও অন্য সূত্রে তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে এবং হাকেম "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(১৯) মুসলিম মিকদামের সূত্রে—যিনি ইবনে শুরাইহ—তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন।"
(২০) একদল বর্ণনাকারী মালেক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
ابْن عبد الرَّحْمَن، عَن أبي هُرَيْرَة أَنه قَالَ: " لَوْلَا أَن يَشُقَّ عَلَى أمَّتِه لأمرهم بِالسِّوَاكِ مَعَ كل وضوء ".
(21) وَرَوَاهُ رَوْحُ بن عبَادَة، عَن مَالك بِسَنَدِهِ إِلَى أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " لَوْلَا أَن أشق عَلَى أمتِي لأمرتهم بِالسِّوَاكِ مَعَ كل وضوء ". رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي " صَحِيحه ".
(22) وَرَوَى مَالك، عَن أبي الزِّنَاد، عَن الْأَعْرَج، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " لَوْلَا أَن أشق عَلَى أمتِي لأمرتهم بِالسِّوَاكِ عِنْد كل صَلَاة ".
(23) وَعَن حُذَيْفَة " أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] كَانَ إِذا قَامَ من اللَّيْل / يشوص
ইবনে আবদুর রহমান আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যদি তাঁর উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে তিনি তাদের প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন।"
(২১) এবং রাওহ ইবনে উবাদাহ এটি মালিকের সূত্রে তাঁর সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" ইবনে খুজাইমা তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(২২) এবং মালিক আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।"
(২৩) এবং হুযায়ফা থেকে বর্ণিত যে, "নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন রাতে জাগ্রত হতেন, তখন তিনি (তাঁর মুখ মেসওয়াক দিয়ে) মাজতেন/ঘষতেন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فَاه بِالسِّوَاكِ. أَخْرجُوهُ إِلَّا التِّرْمِذِيّ. ويشوص بِمَعْنى يدلك. وَقيل: يغسل، وَقيل: يُنْقي.
(24) وَرَوَى مُسلم من حَدِيث أبي بردة، عَن أبي مُوسَى قَالَ: " دخلت عَلَى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] وطرف السِّوَاك عَلَى لِسَانه ".
(25) وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد بِلَفْظ: " أَتَيْنَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] نستحمله فرأيته يستاك عَلَى لِسَانه ".
(26) وَرَوَى مُسلم، (وَهُوَ مُتَّفق عَلَيْهِ) ، من رِوَايَة أبي هُرَيْرَة حَدِيثا (فِيهِ) : " وَالَّذِي نَفْس مُحَمَّد بِيَدِهِ، لخلوف فَم الصَّائِم أطيب عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة من ريح الْمسك ".
(27) وَرَوَى مُسلم من حَدِيث عَائِشَة، قَالَت: قَالَ رَسُول الله
মিছওয়াক দিয়ে মুখ (পরিষ্কার করলেন)। তিরমিযী ব্যতীত অন্য সকলে এটি বর্ণনা করেছেন। 'ইউশুসু' শব্দের অর্থ হলো ঘষা। কেউ বলেছেন: ধৌত করা, আবার কেউ বলেছেন: পরিচ্ছন্ন করা।
(২৪) ইমাম মুসলিম আবু বুরদাহ এর সূত্রে, আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং (দেখলাম) মিছওয়াকের প্রান্তভাগ তাঁর জিহ্বার ওপর রয়েছে।"
(২৫) আবু দাউদ এটি নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট বাহন প্রদানের অনুরোধ নিয়ে আসলাম, তখন আমি তাঁকে তাঁর জিহ্বার ওপর মিছওয়াক করতে দেখলাম।"
(২৬) ইমাম মুসলিম (এবং এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে রয়েছে: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, অবশ্যই রোযাদারের মুখের গন্ধ কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।"
(২৭) ইমাম মুসলিম আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬১)
[صلى الله عليه وسلم َ] : " عشرٌ من الْفطْرَة: قصّ الشَّارِب، وإعفاء اللِّحْيَة، والسواك واستنشاق المَاء، وَغسل البراجم، وتقليم الْأَظْفَار، ونتف الْإِبِط، وَحلق الْعَانَة، وانتقاص المَاء ". قَالَ زَكَرِيَّا: قَالَ مُصعب: ونسيت الْعَاشِرَة إِلَّا أَن تكون الْمَضْمَضَة، وَزَاد فِيهِ وَكِيع: انتقاص المَاء، يَعْنِي الِاسْتِنْجَاء.
(28) وَعَن أنس رضي الله عنه، قَالَ: " وُقّت لنا فِي قصّ الشَّارِب، وتقليم الْأَظْفَار، ونتف الْإِبِط، وَحلق الْعَانَة أَن لَا تتْرك أَكثر من أَرْبَعِينَ لَيْلَة ". أخرجه مُسلم.
(29) وَعَن ابْن عمر، " أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] نهَى عَن القزَع ". مُتَّفق عَلَيْهِ. (قَالَ عبيد الله قلت لنافع: مَا القزع؟ قَالَ: حلق بعض رَأس الصَّبِي، وَيتْرك بعض) . مُتَّفق عَلَيْهِ.
[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]: "দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ ছাঁটা, দাড়ি লম্বা করা, মেসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, আঙুলের জোড়াগুলো ধৌত করা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করা এবং পানি ব্যবহার (ইস্তিনজা) করা।" জাকারিয়া বলেন, মুসআব বলেছেন: আমি দশম বিষয়টি ভুলে গিয়েছি, তবে সম্ভবত সেটি কুলি করা। ওয়াকী এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: পানি ব্যবহার করা অর্থাৎ ইস্তিনজা করা।
(২৮) আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করার ব্যাপারে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন তা চল্লিশ রাতের বেশি ছেড়ে না রাখি।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(২৯) ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] 'কাযা' (মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা ও কিছু অংশ রেখে দেওয়া) থেকে নিষেধ করেছেন। এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন। (উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি নাফি'কে বললাম: কাযা কী? তিনি বললেন: শিশুর মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়া)। এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬২)
(30) وَعَن أبي هُرَيْرَة، قَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " اختتن إِبْرَاهِيم (النَّبِي) [صلى الله عليه وسلم َ] وَهُوَ ابْن ثَمَانِينَ سنة بالقدوم ". مُتَّفق عَلَيْهِ.
(৩০) আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নবী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) আশি বছর বয়সে কাদুমের (এক প্রকার কুড়াল বা যন্ত্র) সাহায্যে খতনা করেছিলেন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয়ই এটি বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
(بَاب صفة الْوضُوء وفرائضه وسننه)(31) عَن حُمران مولَى عُثْمَان [بن عَفَّان] ، أَن عُثْمَان (بن عَفَّان) رضي الله عنه دَعَا بِوضُوء، فَتَوَضَّأ: فَغسل كفيه، ثَلَاث مَرَّات، ثمَّ تمضمض، [واستنثر، وَفِي نُسْخَة] ، واستنشق ثمَّ غسل وَجهه ثَلَاث مَرَّات، ثمَّ غسل يَده الْيُمْنَى إِلَى الْمرْفق ثَلَاث مَرَّات، ثمَّ غسل يَده الْيُسْرَى كَذَلِك، ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ، ثمَّ غسل رجله الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاث مَرَّات، ثمَّ غسل (رجله) الْيُسْرَى مثل ذَلِك، ثمَّ قَالَ: رَأَيْت النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] تَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا، ثمَّ قَالَ: قَالَ
(অধ্যায়: ওযুর পদ্ধতি, এর ফরয এবং সুন্নতসমূহ)(৩১) উসমান [ইবন আফফান]-এর মুক্তদাস হুমরান থেকে বর্ণিত যে, উসমান (ইবন আফফান) রাদিয়াল্লাহু আনহু ওযুর পানি চাইলেন এবং ওযু করলেন: তিনি তাঁর দুই হাতের কবজি তিনবার ধুইলেন, তারপর কুলি করলেন এবং [নাক পরিষ্কার করলেন, একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে] নাক দিয়ে পানি টেনে পরিষ্কার করলেন, এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুইলেন, তারপর তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন, অতঃপর বাম হাত একইভাবে ধুইলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, তারপর তাঁর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন, এরপর বাম (পা) একইভাবে ধুইলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি। তারপর তিনি বললেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " مَن تَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا، ثمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ لَا يحدِّث فيهمَا نَفسه، غُفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه ". قَالَ ابْن شهَاب: وَكَانَ عُلَمَاؤُنَا يَقُولُونَ: هَذَا أَسْبغ مَا يتَوَضَّأ بِهِ أحد للصَّلَاة. [مُتَّفق عَلَيْهِ وَاللَّفْظ لمُسلم] .
(32) وَعَن عبد الرَّحْمَن بن أبي لَيْلَى، قَالَ: رَأَيْت عليا تَوَضَّأ: " فَغسل وَجهه ثَلَاثًا، وَغسل ذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا، وَمسح بِرَأْسِهِ وَاحِدَة ". وَقَالَ: هَكَذَا تَوَضَّأ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] ". أخرجه أَبُو دَاوُد [وَرِجَاله احْتج بهم البُخَارِيّ] .
(33) وَرَوَى مَالك، من حَدِيث عبد الله بن زيد، (بن عَاصِم) فِي صفة وضوء رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " ثمَّ مسح رَأسه بيدَيْهِ فَأقبل بهما وَأدبر، بَدَأَ بِمقدم رَأسه، ثمَّ ذهب بهما إِلَى قَفاهُ، ثمَّ ردّهما حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَان الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ، ثمَّ غسل رجلَيْهِ ".
আল্লাহর রাসূল [তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক] বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনে কোনো (পার্থিব) কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" ইবনে শিহাব বলেন: "আমাদের আলেমগণ বলতেন: সালাতের জন্য কেউ যে ওযু করে, এটি তার মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ।" [বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমতে বর্ণিত এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের]।
(৩২) এবং আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলীকে ওযু করতে দেখেছি: "তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, তাঁর উভয় বাহু তিনবার ধৌত করলেন এবং তাঁর মাথা একবার মাসাহ করলেন।" এবং তিনি বললেন: "আল্লাহর রাসূল [তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক] এভাবেই ওযু করেছেন।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন [এবং এর বর্ণনাকারীগণ এমন যাদের মাধ্যমে বুখারী দলিল পেশ করেছেন]।
(৩৩) এবং মালিক, আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (ইবনে আসিম) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসূলের [তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক] ওযুর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: "অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, এবং হাত দুটি সামনে ও পিছনে নিলেন; তিনি মাথার অগ্রভাগ থেকে শুরু করলেন, এরপর হাত দুটিকে তাঁর ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, অতঃপর হাত দুটিকে ফিরিয়ে আনলেন যতক্ষণ না সেই স্থানে পৌঁছলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর দুই পা ধৌত করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
أَخْرجُوهُ من حَدِيث مَالك.
(34) وَفِي رِوَايَة خَالِد الوَاسِطِيّ فِي الحَدِيث: " ثمَّ أَدخل يَده فاستخرجها، فَمَضْمض واستنشق من كف وَاحِد، فَفعل ذَلِك ثَلَاثًا ". وَهِي فِي الصَّحِيح.
(35) وَفِي رِوَايَة وُهيب فِي هَذَا الحَدِيث: " فَمَضْمض (واستنشق) واستنثر من ثَلَاث غرفات ". [مُتَّفق عَلَيْهِ] .
(36) وَفِي رِوَايَة سُلَيْمَان بن بِلَال / فِي هَذَا الحَدِيث [أَيْضا] : " تمضمض، (واستنشق) ، (واستنثر) ، ثَلَاث مَرَّات من غرفَة وَاحِدَة ". أخرجهُمَا البُخَارِيّ.
তাঁরা এটি মালিকের হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(৩৪) আর এই হাদিসের খালিদ আল-ওয়াসিতির বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর তিনি তাঁর হাত প্রবেশ করালেন এবং তা বের করলেন, এরপর এক অঞ্জলি থেকে কুলি করলেন ও নাকে পানি নিলেন, তিনি এরূপ তিনবার করলেন।" এটি সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত।
(৩৫) আর এই হাদিসের উহাইবের বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি তিন আজলা থেকে কুলি করলেন, (নাকে পানি নিলেন) এবং নাক ঝাড়লেন।" [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।
(৩৬) আর সুলাইমান ইবনে বিলালের বর্ণনায় / এই হাদিসে [আরও] রয়েছে: "তিনি এক আজলা থেকে তিনবার কুলি করলেন, (নাকে পানি নিলেন) এবং (নাক ঝাড়লেন)।" ইমাম বুখারি এই উভয়টি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
(37) وَفِي رِوَايَة وَاسع بن حبَان: " وَمسح رَأسه بِمَاء غير فضل يَدَيْهِ، وَغسل رجلَيْهِ حَتَّى أنقاهما ". أخرجه مُسلم.
(38) وَرَوَى عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده، أَن رجلا أَتَى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] فَقَالَ: يَا رَسُول الله، كَيفَ الطّهُور؟ فَدَعَا بِمَاء فِي إِنَاء فَغسل كفيه ثَلَاثًا، ثمَّ غسل وَجهه ثَلَاثًا، ثمَّ غسل ذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا، ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ، فَأدْخل إصبعيه السباحتين فِي أُذُنَيْهِ، وَمسح بإبهاميه عَلَى ظَاهر أُذُنَيْهِ، وبالسباحتين بَاطِن أُذُنَيْهِ، ثمَّ غسل رجلَيْهِ ثَلَاثًا، [ثَلَاثًا] ثمَّ قَالَ: " هَكَذَا الْوضُوء، فَمن زَاد عَلَى هَذَا أَو نقص فقد أَسَاءَ وظلم، أَو ظلم وأساء ". أخرجه أَبُو دَاوُد، وَإِسْنَاده صَحِيح إِلَى عَمْرو، فَمن يحْتَج بنسخة
(37) এবং ওয়াসি' ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি তাঁর দুই হাতের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত নতুন পানি দিয়ে তাঁর মাথা মাসেহ করলেন এবং তাঁর দুই পা ধৌত করলেন যতক্ষণ না সেগুলো পূর্ণরূপে পরিষ্কার হলো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(38) আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল, পবিত্রতা (অজু) কীভাবে অর্জন করতে হয়? তখন তিনি একটি পাত্রে পানি আনালেন এবং তাঁর দুই হাতের কবজি তিনবার ধৌত করলেন, অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, তারপর তাঁর দুই হাত (কনুইসহ) তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসেহ করলেন এবং তাঁর দুই তর্জনী আঙুল কানের ছিদ্রে প্রবেশ করালেন ও তাঁর দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের পিঠ (বাইরের অংশ) এবং দুই তর্জনী দিয়ে কানের ভেতর ভাগ মাসেহ করলেন, অতঃপর তাঁর দুই পা তিনবার ধৌত করলেন, [তিনবার] এরপর বললেন: "অজু এইভাবেই। সুতরাং যে ব্যক্তি এর ওপর বৃদ্ধি করল অথবা হ্রাস করল, সে মন্দ কাজ করল ও জুলুম করল, অথবা জুলুম করল ও মন্দ কাজ করল।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং আমর পর্যন্ত এর সনদ সহীহ, সুতরাং যারা এই পাণ্ডুলিপি দ্বারা দলিল গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده فَهُوَ عِنْده صَحِيح.
(39) وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " إِذا اسْتَيْقَظَ أحدكُم (من نَومه) فليُفْرغْ عَلَى يَده ثَلَاث مَرَّات قبل أَن يدْخل يَده فِي إنائه، فَإِنَّهُ لَا يدْرِي فِيمَا باتت يَده ".
(40) وَعنهُ، من رِوَايَة همَّام بن مُنَبّه، فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " إِذا تَوَضَّأ أحدكُم فليستنشق بمنخريه من المَاء ثمَّ لينتثر ". أخرجهُمَا مُسلم.
(41) وَعَن عَاصِم بن لَقِيط بن صبرَة، عَن أَبِيه قَالَ: قلت: يَا رَسُول الله، أَخْبرنِي عَن الْوضُوء؟ قَالَ: " أَسْبغ الْوضُوء، وَبَالغ فِي
আমর ইবন শুআইব, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে (বর্ণিত); সুতরাং তা তাঁর নিকট সহীহ।
(৩৯) এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন (তার ঘুম থেকে) জেগে ওঠে, সে যেন তার পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তার হাতের ওপর তিনবার পানি ঢালে; কারণ সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।"
(৪০) এবং তাঁর থেকে, হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ-এর বর্ণনায়, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ওযু করে, সে যেন তার নাসিকারন্ধ্র দিয়ে পানি টেনে নেয়, অতঃপর তা ঝেড়ে ফেলে।" ইমাম মুসলিম উভয়টি বর্ণনা করেছেন।
(৪১) এবং আসিম ইবন লাকীত ইবন সাবরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে ওযু সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "পূর্ণরূপে ওযু করো এবং অতিরঞ্জিত করো (ভালোভাবে করো)..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
الِاسْتِنْشَاق إِلَّا أَن تكون صَائِما ". أخرجهُمَا النَّسَائِيّ، وَالتِّرْمِذِيّ وصححهما ابْن خُزَيْمَة فِي " صَحِيحه ".
(42) وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد مطولا وَفِيه: " أَسْبغ الْوضُوء، وخلِّلْ بَين الْأَصَابِع ".
(43) وَعَن ابْن عَبَّاس /: " أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] تَوَضَّأ مرّة مرّة ". أخرجه البُخَارِيّ.
(44) وَعَن عُثْمَان " أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] كَانَ يخلل لحيته ". أخرجه التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ، وَغَيره يُخَالِفهُ فِي التَّصْحِيح.
নাকে পানি পৌঁছে দেওয়া (প্রবলভাবে), তবে তুমি রোজা অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা।" নাসায়ী ও তিরমিযী উভয় এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুযায়মাহ তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
(42) এবং আবু দাউদ এটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "অজু পূর্ণাঙ্গভাবে করো এবং আঙুলসমূহের মাঝে খিলাল করো।"
(43) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে: "নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] একবার একবার করে (অঙ্গ ধুয়ে) অজু করেছেন।" বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।
(44) উসমান থেকে বর্ণিত যে: "নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন, তবে অন্যগণ এর বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) ব্যাপারে তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
(45) وَعَن سِنَان بن ربيعَة، عَن شهر بن حَوْشَب، عَن أبي أُمَامَة أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] قَالَ: " الأذنان من الرَّأْس، وَكَانَ يمسح رَأسه مرّة، وَيمْسَح المأقين ". أخرجه ابْن ماجة. وَسنَان بن ربيعَة أخرج لَهُ البُخَارِيّ، وَشهر بن حَوْشَب وَثَّقَهُ أَحْمد وَيَحْيَى، وَتكلم فِيهِ غَيرهمَا.
(46) وَرَوَى حبيب بن زيد، عَن عباد بن تَمِيم، عَن عَمه قَالَ: " رَأَيْت النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] تَوَضَّأ، فَجعل يدلك (ذِرَاعَيْهِ) ".
(45) সিনান ইবনে রাবিয়াহ হতে বর্ণিত, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব হতে, তিনি আবু উমামাহ হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "উভয় কান মাথার অন্তর্ভুক্ত, আর তিনি এক বার তাঁর মাথা মাসেহ করতেন এবং চোখের কোণদ্বয় মাসেহ করতেন।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। সিনান ইবনে রাবিয়াহ-এর হাদিস বুখারী বর্ণনা করেছেন, আর শাহর ইবনে হাওশাবকে আহমাদ ও ইয়াহইয়া নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে অন্য অনেকে তাঁর সমালোচনা করেছেন।
(46) হাবীব ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে তামীম হতে, তিনি তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আমি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে ওজু করতে দেখেছি, তিনি তাঁর (উভয় বাহু) ডলছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭০)
أخرجه أَبُو حَاتِم بن حبَان فِي " صَحِيحه " وَذكر حبيباً فِي كتاب " الثِّقَات ". وَقَالَ أَبُو حَاتِم الرَّازِيّ: هُوَ صَالح.
(47) وَرَوَى مُسلم من حَدِيث نعيم بن عبد الله المجْمر قَالَ: رَأَيْت أَبَا هُرَيْرَة يتَوَضَّأ: فَغسل وَجهه فأسبع الْوضُوء، ثمَّ غسل يَده الْيُمْنَى حَتَّى أشرع فِي الْعَضُد، ثمَّ (غسل) يَده الْيُسْرَى حَتَّى أشرع فِي الْعَضُد، ثمَّ مسح رَأسه، ثمَّ غسل رجله الْيُمْنَى حَتَّى أشرع فِي السَّاق، ثمَّ غسل رجله الْيُسْرَى حَتَّى أشرع فِي السَّاق، ثمَّ قَالَ: (هَكَذَا) رَأَيْت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] ، يتَوَضَّأ [للصَّلَاة] وَقَالَ: قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] : " أَنْتُم الغر المحجلون يَوْم الْقِيَامَة [من إسباغ الْوضُوء] فَمن اسْتَطَاعَ مِنْكُم فليطل غرته وتحجيله ".
(48) وَفِي رِوَايَة: " فَغسل وَجهه وَيَديه، حَتَّى كَاد يبلغ
আবু হাতিম বিন হিব্বান এটি তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাবীবকে "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেছেন: তিনি সালেহ (সৎ)।
(47) ইমাম মুসলিম নুআইম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুজমির বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে অজু করতে দেখেছি: তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন এবং উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করলেন, অতঃপর তাঁর ডান হাত ধুলেন এমনকি বাহু পর্যন্ত পৌঁছালেন, তারপর তাঁর বাম হাত ধুলেন এমনকি বাহু পর্যন্ত পৌঁছালেন, তারপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, অতঃপর তাঁর ডান পা ধুলেন এমনকি নলা পর্যন্ত পৌঁছালেন, এরপর তাঁর বাম পা ধুলেন এমনকি নলা পর্যন্ত পৌঁছালেন, তারপর তিনি বললেন: (এভাবেই) আমি আল্লাহর রাসূলকে [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের জন্য অজু করতে দেখেছি। এবং তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "ওজুর পূর্ণাঙ্গতার কারণে কিয়ামতের দিন তোমরা উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট হয়ে উপস্থিত হবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার সেই উজ্জ্বলতা দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।"
(48) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধুলেন, এমনকি প্রায় পৌঁছালেন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭১)
الْمَنْكِبَيْنِ، ثمَّ غسل رجلَيْهِ حَتَّى رفع إِلَى السَّاقَيْن ".
(49) وَفِي رِوَايَة أبي حَازِم، قَالَ: كنتُ خلف أبي هُرَيْرَة وَهُوَ يتَوَضَّأ للصَّلَاة، فَكَانَ يمد يَده حَتَّى يبلغ إبطه ". الحَدِيث
(50) وَعَن عَائِشَة قَالَت: " إِن كَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] لَيُحِب التَّيَمُّن / فِي طهوره إِذا تطهر، وَفِي ترجله إِذا ترجل، وَفِي انتعاله إِذا انتعل ". مُتَّفق عَلَيْهِ، وَاللَّفْظ للْبُخَارِيّ.
(51) وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم َ] : " تَوَضَّأ فَمسح بناصيته وَعَلَى الْعِمَامَة، وَعَلَى الْخُفَّيْنِ ". رَوَاهُ مُسلم من جِهَة ابْن الْمُغيرَة، عَن أَبِيه.
(52) وَعند الطَّحَاوِيّ، من حَدِيث شهر بن حَوْشَب، عَن أبي أُمَامَة: " أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] تَوَضَّأ فَمسح أُذُنَيْهِ مَعَ الرَّأْس، وَقَالَ:
উভয় কাঁধ পর্যন্ত, অতঃপর তিনি তাঁর উভয় পা ধৌত করলেন এমনকি নলা পর্যন্ত (পানি) পৌঁছালেন।
(৪৯) আবু হাজিমের বর্ণনায় তিনি বলেন: "আমি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর পেছনে ছিলাম যখন তিনি সালাতের জন্য ওযু করছিলেন, তিনি তাঁর হাত দীর্ঘ করছিলেন এমনকি তা বগল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল।" হাদীস।
(৫০) আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর পবিত্রতা অর্জনে যখন তিনি পবিত্র হতেন, চুল আঁচড়াতে যখন তিনি আঁচড়াতেন এবং জুতা পরিধানে যখন তিনি পরিধান করতেন, ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, শব্দ বিন্যাস বুখারীর।
(৫১) মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ওযু করলেন এবং তাঁর মাথার সম্মুখভাগ (নাসিয়া), পাগড়ি ও মোজাদ্বয়ের ওপর মাসাহ করলেন। ইমাম মুসলিম এটি ইবনুল মুগীরা হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(৫২) ইমাম তহাবীর নিকট শাহর ইবনে হাওশাব-এর হাদীসে আবু উমামাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ওযু করলেন এবং মাথার সাথে তাঁর দুই কান মাসাহ করলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদীসিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭২)
" الأذنان من الرَّأْس ". وَشهر تقدم.
(53) وَرَوَى الْبَيْهَقِيّ من حَدِيث عبد الله بن زيد أَنه رَأَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم َ] يتَوَضَّأ: " فَأخذ لصماخيه مَاء خلاف المَاء الَّذِي أَخذ لرأسه ". وَقَالَ بعد إِخْرَاجه: وَهَذَا إِسْنَاد صَحِيح [وَهُوَ عَلَى شَرط مُسلم] .
(54) وَفِي حَدِيث عَمْرو بن عبسة، الطَّوِيل، عِنْد الدَّارَقُطْنِيّ: " مَا (من) مِنْكُم أحد يقرب وضوءه فيمضمض، ويستنشق فينثر إِلَّا خرجت خَطَايَا وَجهه، وَفِيه، وخياشيمه ".
"দুই কান মাথার অন্তর্ভুক্ত।" এবং এর প্রসিদ্ধি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(৫৩) ইমাম বায়হাকী আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ-এর বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওযু করতে দেখেছেন: "অতঃপর তিনি তাঁর উভয় কানের ছিদ্রে ব্যবহারের জন্য মাথার জন্য নেওয়া পানির পরিবর্তে ভিন্ন পানি গ্রহণ করলেন।" এবং তিনি এটি সংকলনের পর বলেছেন: "এই সনদটি সহীহ [এবং এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী]।"
(৫৪) আর ইমাম দারাকুতনী কর্তৃক বর্ণিত আমর ইবনে আবাসা-এর দীর্ঘ হাদীসে রয়েছে: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ওযুর পানি নিকটবর্তী করে, অতঃপর কুলি করে এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝেড়ে ফেলে, তবে তার মুখমণ্ডল, মুখ ও নাসারন্ধ্রের পাপসমূহ বের হয়ে যায়।"