(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: -)
المحرر في الحديث - ت المرعشلي   (ابن عبد الهادي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المحرر في الحديث

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي (705 - 744 هـ)

المحقق: د. يوسف عبد الرحمن المرعشلي، محمد سليم إبراهيم سمارة، جمال حمدي الذهبي

الناشر: دار المعرفة - بيروت

الطبعة: الثالثة، 1421 هـ - 2000 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 ربيع الآخر 1444

আল-মুহাররার ফিল হাদিস - তাহকিক আল-মারআশলি   (ইবনে আবদিল হাদি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-মুহাররার ফিল হাদিস

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি আদ-দামেশকি আল-হানবালি (৭০৫ - ৭৪৪ হিজরি)

সম্পাদক: ড. ইউসুফ আব্দুর রহমান আল-মারআশলি, মুহাম্মাদ সালিম ইব্রাহিম সামারাহ, জামাল হামদি আদ-দাহাবি

প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বর)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ রবিউল আখির ১৪৪৪

(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٢٩)
‌‌8 - كتاب الأطعمة

757 - عن مالك عن إسماعيل بن أبي حكيم، عن عبيدة بن سفيان، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " كل ذي ناب من السباع فأكله حرام ".

 

758 - وعن ابن عباس قال: " نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كل ذي ناب من السباع، وعن كل ذي مخلب من الطير " رواهما مسلم.

 

759 - وعن جابر: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى يوم خيبر عن لحوم الحمر الأهلية، وأذن في لحوم الخيل " متفق عليه. وقال البخاري في بعض طرقه: " ورخص في لحوم الخيل ".

 

760 - وعن ابن عمر قال: " سأل رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر -
৮ - খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়

৭৫৭ - মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবু হাকিম থেকে, তিনি উবাইদাহ ইবনু সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "হিংস্র প্রাণীদের মধ্যে প্রত্যেক ছেদনদন্ত বিশিষ্ট প্রাণী ভক্ষণ করা হারাম।"

 

৭৫৮ - ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক ছেদনদন্ত বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী এবং প্রত্যেক নখরযুক্ত শিকারি পাখি ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন।" মুসলিম এই উভয়টি বর্ণনা করেছেন।

 

৭৫৯ - জাবির থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের দিন গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন এবং ঘোড়ার মাংসের অনুমতি দিয়েছেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। বুখারি তাঁর কোনো কোনো সূত্রে বলেছেন: "এবং তিনি ঘোড়ার মাংসের অনুমতি প্রদান করেছেন।"

 

৭৬০ - ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন যখন তিনি মিম্বারে ছিলেন -"
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٠)
عن أكل الضب؟ فقال: لا آكله ولا أحرمه " متفق عليه، ولم يقل البخاري: " على المنبر ".

 

761 - وعن عبد الله بن أبي أوفى قال: " غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سبع غزوات نأكل الجراد ".

 

762 - وعن أنس بن مالك قال: " مررنا فاستنفجنا أرنباً بمر الظهران فسعوا عليه فلغبوا. قال: فسعيت عليها حتى أدركتها، فأتيت بها أبا طلحة فذبحها فبعث بوركها وفخذيها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأتيت بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبله " متفق عليه، واللفظ لمسلم.

 

763 - وعن [ابن] أبي عمار قال: " قلت لجابر بن عبد الله: الضبع أصيْد هي؟ قال: نعم، قلت: آكلها؟ قال: نعم، قلت: قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم " رواه الإمام أحمد، وأبو يعلى، وهذا لفظه، وأبو
ঘুইসাঁপ খাওয়া সম্পর্কে? তিনি বললেন: "আমি এটি খাই না এবং এটি হারামও করি না।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, তবে ইমাম বুখারি "মিম্বরের ওপর" কথাটি উল্লেখ করেননি।

 

৭৬১ - আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং (সে সময়) আমরা পঙ্গপাল খেতাম।"

 

৭৬২ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা মাররুজ যাহরান নামক স্থানে একটি খরগোশকে তাড়া করলাম। লোকেরা সেটির পিছু ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তিনি বলেন: এরপর আমি সেটির পেছনে দৌড়ালাম এবং সেটিকে ধরে ফেললাম। আমি সেটিকে আবু তালহার নিকট নিয়ে আসলাম, তিনি সেটি জবাই করলেন। এরপর তিনি খরগোশটির কোমরের অংশ ও দুই উরু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পাঠালেন। আমি সেগুলো নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

 

৭৬৩ - ইবনে আবি আম্মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম: হায়না কি শিকারযোগ্য প্রাণী? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: আমি কি এটি খেতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।" এটি ইমাম আহমাদ এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, এটি তাঁরই শব্দবিন্যাস, এবং আবু...
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣١)
داود، والترمذي وصححه، والنسائي، وابن ماجه، وابن حبان، وصححه البخاري أيضاً.

 

764 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: " نهى رسول الله عن قتل أربع من الدواب: النملة، والنحلة، والهدهد، والصرد " رواه أحمد وأبو داود، وابن ماجه، وأبو حاتم البستي.

 

765 - وعن مجاهد عن ابن عمر قال: " نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أكل
আবু দাউদ, তিরমিযী এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান এবং ইমাম বুখারীও একে সহীহ বলেছেন।

 

৭৬৪ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার প্রকার প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করেছেন: পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ এবং সোরাদ পাখি।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং আবু হাতিম আল-বুসতী।

 

৭৬৫ - মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন...
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٢)
الجلاّلة وألبانها " رواه أبو داود وابن ماجه والترمذي (وحسنه، وقد روي مرسلاً).

 

766 - وعن عيسى بن نميلة الفزاري عن أبيه قال: " كنت عند ابن عمر فسئل عن أكل القنفذ، فتلى هذه الآية {قل لا أجد فيما أوحي إلي محرما على طاعم يطعمه} إلى آخر الآية، فقال شيخ عنده: سمعت أبا هريرة يقول: ذُكر عند النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: خبيثة من الخبائث؟ فقال ابن عمر: إن كان النبي صلى الله عليه وسلم قاله، فهو كما قال " رواه الإمام أحمد، وأبو داود، (وقال البيهقي (لم يرد إلا بهذا الإسناد، وفيه ضعف)).
জাল্লালাহ এবং তার দুধ।" এটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (এবং তিরমিজি একে হাসান বলেছেন, আর এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে)।

 

৭৬৬ - ঈসা ইবনে নুমাইলা আল-ফাজারি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি ইবনে উমরের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তাঁকে শজারু ভক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {বলুন, আমার নিকট যা ওহি করা হয়েছে তাতে আহারকারী যা আহার করে তার মধ্যে আমি কোনো হারাম বস্তু পাই না...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন তাঁর নিকট উপস্থিত জনৈক বৃদ্ধ বললেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শজারুর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন: 'এটি নিকৃষ্ট বস্তুসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নিকৃষ্ট বস্তু'। তখন ইবনে উমর বললেন: 'যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলে থাকেন, তবে তিনি যেমন বলেছেন বিষয়টি তেমনই'।" ইমাম আহমাদ এবং আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (এবং বায়হাকি বলেন: "এটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে এবং এতে দুর্বলতা রয়েছে")।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٣)
‌‌9 - كتاب النذور

767 - عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم " أنه نهى عن النذر، وقال إنه لا يأتي بخير وإنما يُستخرج به من البخيل " متفق عليه.

 

768 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من نذر نذراً لم يسمه فكفارته كفارة يمين، ومن نذر نذراً في معصية فكفارته كفارة يمين " رواه أبو داود، (وذكر أن وكيعاً وغيره رووه موقوفاً، وهو أصح، قاله أبو زرعة، وأبو حاتم).
৯ - মানত অধ্যায়

৭৬৭ - ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, "নিশ্চয়ই এটি কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং এর মাধ্যমে কৃপণের থেকে (সম্পদ) বের করে নেওয়া হয়।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

৭৬৮ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো মানত করল যার নাম সে উল্লেখ করেনি, তবে তার কাফফারা হলো কসমের কাফফারা। আর যে ব্যক্তি কোনো পাপ কাজে মানত করল, তবে তার কাফফারাও হলো কসমের কাফফারা।" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াকী ও অন্যান্যরা এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ; এ কথাটি আবু জুরআ ও আবু হাতিম বলেছেন)।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٤)
769 - وعن عقبة بن عامر قال: " نذَرتْ أختي أن تمشي [إلى بيت الله] حافية فأمرتني أن أستفتي لها رسول الله صلى الله عليه وسلم فأستفتَيْتُه؟ فقال: لتمش، ولتركب " متفق عليه. ولم يقل البخاري: " حافية ". وفي لفظ: " أن أخته نذرت أن تمشي حافية غير مختمرة، فسألتُ النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقال: إن الله عز وجل لا يصنع بشقاء أختك شيئاً! مُرها فلتختمر ولتركب، ولتصم ثلاثة أيام " رواه الإمام أحمد وهذا لفظه، وأبو داود، وابن ماجه، والنسائي، (والترمذي وحسنه).

 

770 - وعن ابن عباس قال: " استفتى سعد بن عبادة رسول الله صلى الله عليه وسلم في نذر كان على أمه توفيت قبل أن تقضيه؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فاقضه عنها " متفق عليه.
৭৬৯ - উকবাহ ইবন আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার বোন মানত করেছিলেন যে তিনি [আল্লাহর ঘরের দিকে] খালি পায়ে হেঁটে যাবেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন আমি যেন তাঁর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করি। সুতরাং আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সে যেন হেঁটে যায় এবং বাহনে চড়ে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তবে বুখারি "খালি পায়ে" শব্দটি উল্লেখ করেননি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "তাঁর বোন মানত করেছিলেন যে তিনি খালি পায়ে ও মাথার ওড়না ছাড়াই হেঁটে যাবেন। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমার বোনের নিজেকে কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে কিছুই করবেন না! তাকে নির্দেশ দাও সে যেন ওড়না পরিধান করে, বাহনে চড়ে এবং তিন দিন রোজা রাখে।" এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর শব্দ; এছাড়াও আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, নাসায়ি এবং তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন।

 

৭৭০ - ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সা'দ ইবন উবাদাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর মায়ের একটি মানত সম্পর্কে ফতোয়া চাইলেন যা তিনি পূর্ণ করার আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তাঁর পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٥)
771 - وعنه قال: " بينما النبي صلى الله عليه وسلم: يخطب إذ هو برجل قائم فسأل عنه؟ فقالوا: أبو إسرائيل نذر أن يقوم في الشمس، ولا يقعد، ولا يستظل، ولا يتكلم ويصوم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: مروه فليتكلم، وليستظل، وليقعد، وليتم صومه " رواه البخاري.

 

772 - وعن ثابت بن الضحاك قال: " نذر رجل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن ينحر إبلاً ببُوانة فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم: فقال: إني نذرت أن أنحر إبلاً ببُوانة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هل كان فيها وثن من أوثان الجاهلية يُعبد؟ قال: لا، قال: هل كان فيها عيد من أعيادهم؟ قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أوف بنذرك! فإنه لا وفاء لنذر في معصية الله، ولا في قطيعة رحم، ولا في ما لا يملك ابن آدم " رواه أبو داود، والطبراني (وهذا لفظه، ورجاله رجال
৭৭১ - তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষণ দিচ্ছিলেন, এমন সময় তিনি এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল: আবু ইসরাঈল মানত করেছে যে, সে রোদে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়ায় যাবে না, কথা বলবে না এবং রোজা রাখবে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তাকে নির্দেশ দাও সে যেন কথা বলে, ছায়ায় যায়, বসে এবং তার রোজা পূর্ণ করে।" ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৭৭২ - সাবিত ইবনে যাহহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এক ব্যক্তি বুওয়ানা নামক স্থানে উট জবেহ করার মানত করেছিল। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমি বুওয়ানায় উট জবেহ করার মানত করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সেখানে কি জাহিলিয়াতের মূর্তিসমূহের মধ্য হতে এমন কোনো মূর্তি ছিল যার উপাসনা করা হতো? সে বলল: না। তিনি বললেন: সেখানে কি তাদের উৎসবসমূহের কোনো উৎসব অনুষ্ঠিত হতো? সে বলল: না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার মানত পূর্ণ করো! কেননা আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো কাজে মানত পূরণ করা বৈধ নয়, আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্ষেত্রেও নয়, এবং বনী আদমের যা মালিকানাধীন নয় সে বিষয়েও কোনো মানত নেই।" আবু দাউদ ও তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (এটি তাঁর শব্দ চয়ন, এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী)।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٦)
الصحيحين).

 

773 - وعن جابر: " أن رجلاً قال يوم الفتح يا رسول الله إني نذرت إن فتح الله عليك مكة أن أصلي في بيت المقدس؟ فقال: صل هاهنا، فسأله؟ فقال: صل هاهنا، فسأله؟ فقال: شأنك إذاً " رواه الإمام أحمد (وهذا لفظه، وأبو داود، ورجاله رجال الصحيح)
সহীহাইন)।

 

৭৭৩ - জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "মক্কা বিজয়ের দিন জনৈক ব্যক্তি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছিলাম যে, আল্লাহ যদি আপনাকে মক্কা বিজয় দান করেন তবে আমি বায়তুল মাকদিসে সালাত আদায় করব। তিনি বললেন: এখানেই সালাত আদায় করো। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এখানেই সালাত আদায় করো। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তাহলে তোমার যা ইচ্ছা।" এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (এটি তাঁর শব্দবিন্যাস) এবং আবু দাউদও এটি বর্ণনা করেছেন; এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٧)
774 - وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام، والمسجد الأقصى، ومسجدي " متفق عليه، واللفظ للبخاري.
৭৭৪ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদ।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত), আর শব্দাবলী বুখারীর।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٣٩)
‌‌10 - كتاب الجهاد والسير

‌‌[1 - باب فرض الجهاد]

775 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من مات ولم يغز ولم يحدث نفسه بالغزو مات على شعبة من نفاق " رواه مسلم. وذكر عن ابن المبارك أنه قال: (فنرى أن ذلك كان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

 

776 - وعن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم " رواه أحمد، والدارمي، وأبو داود، والنسائي. (وإسناده على رسم مسلم).
১০ - জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান অধ্যায়

[১ - জিহাদের আবশ্যকতা পরিচ্ছেদ]

৭৭৫ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জিহাদ করল না এবং মনে মনে জিহাদের সংকল্পও করল না, সে নিফাকের (মুনাফিকি) একটি শাখার ওপর মৃত্যুবরণ করল।" ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আমরা মনে করি এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল।"

 

৭৭৬ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সম্পদ, তোমাদের প্রাণ এবং তোমাদের জিহ্বা দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।" ইমাম আহমাদ, দারেমি, আবু দাউদ এবং নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন। (এর সনদ ইমাম মুসলিমের মানদণ্ড অনুযায়ী)।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٠)
777 - وعن عبد الله بن عمرو قال: " جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يستأذنه في الجهاد؟ فقال: أحيٌّ والداك؟ قال: نعم، قال: ففيهما فجاهد " متفق عليه.

 

778 - وعن أبي سعيد الخدري: " أن رجلاً هاجر إلى النبي صلى الله عليه وسلم من اليمن فقال: هل لك أحد باليمن؟ قال: أبواي: قال: أذِنَا لك؟ قال: لا. قال: ارجع إليهما فاستأذنهما، فإن أذِنَا لك فجاهد، وإلا فبِرَّهما " رواه أحمد، وأبو داود، وابن حبان، والحاكم من رواية " دراج "، (وقد اختلفوا في توثيقه).
৭৭৭ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একজন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করতে আসল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: 'তোমার পিতামাতা কি জীবিত আছে?' সে বলল: 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন: 'তবে তাদের মাঝেই জিহাদ করো (অর্থাৎ তাদের সেবা করো)।'" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

৭৭৮ - আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত যে: "এক ব্যক্তি ইয়েমেন থেকে হিজরত করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: 'ইয়েমেনে কি তোমার কেউ আছে?' সে বলল: 'আমার পিতামাতা।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'তারা কি তোমাকে অনুমতি দিয়েছে?' সে বলল: 'না।' তিনি বললেন: 'তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করো। যদি তারা তোমাকে অনুমতি দেয় তবে জিহাদ করো, অন্যথায় তাদের সেবা করো'।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম 'দাররাজ'-এর বর্ণনা সূত্রে (যাঁর নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে পণ্ডিতগণ মতভেদ করেছেন)।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤١)
779 - وعن قيس بن أبي حازم، عن جرير قال: " بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم سرية إلى خثعم فاعتصم ناس منهم بالسجود فأسرع فيهم القتل، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فأمر لهم بنصف العقل، وقال: أنا بريء من كل مسلم يقيم بين ظهراني المشركين قالوا يا رسول الله ولم؟ قال: لا تراءى ناراهما " رواه أبو داود، والترمذي، والطبراني. ورواه النسائي، (والترمذي أيضا
৭৭৯ - কায়স বিন আবি হাযিম হতে বর্ণিত, তিনি জারির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাসআম গোত্রের অভিমুখে একটি অভিযানকারী সৈন্যদল প্রেরণ করেন। তখন তাদের কিছু লোক সিজদাহ করার মাধ্যমে আত্মরক্ষার চেষ্টা করল, কিন্তু তাদের মধ্যে দ্রুত হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি তাদের জন্য অর্ধেক রক্তপণ প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: আমি ঐ প্রত্যেক মুসলিমের সংশ্রব হতে মুক্ত, যে মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে। তারা আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল, কেন? তিনি বললেন: উভয়ের আগুন যেন একে অপরকে দেখতে না পায়।" এটি আবু দাউদ, তিরমিযী ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন। নাসায়ী এবং তিরমিযীও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٢)
مرسلا، وهو أصح، قاله البخاري، والدارقطني).

 

780 - وعن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " القتل في سبيل الله يكفر كل شيء إلا الدّين " رواه مسلم. وروى ابن أبي عاصم: " الشهادة تكفر كل شيء إلا الدّين، والغرق يكفر ذلك كله " في رواته من يجهل حاله.

 

781 - وعن البراء قال: " لما نزلت {لا يستوي القاعدون من المؤمنين} دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم زيدا فجاءه بكتف فكتبها، وشكا ابن أم مكتوم ضرارته، فنزلت: {لا يستوي القاعدون من المؤمنين غير أولي الضرر}. متفق عليه، واللفظ للبخاري.

 

782 - وعن ابن عون قال: " كتبت إلى نافع أسأله عن الدعاء قبل القتال؟ قال: فكتب إلي: إنما كان ذلك في أول الإسلام، قد أغار رسول الله صلى الله عليه وسلم على بني المصطلق وهم غارون وأنعامهم تسقى على الماء، فقتل
মুরসাল হিসেবে, আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ; ইমাম বুখারী ও দারা কুতনী এরূপই বলেছেন।)

 

৭৮০ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ঋণ ব্যতীত অন্য সবকিছুর কাফফারা হয়ে যায়।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি আসিম বর্ণনা করেছেন: "শাহাদাত ঋণ ব্যতীত সবকিছুর কাফফারা হয়, আর পানিতে ডুবে মৃত্যু হওয়া এই সবকিছুর কাফফারা হয়।" এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যার অবস্থা অজ্ঞাত।

 

৭৮১ - বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন "মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়" আয়াতটি নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জায়েদকে ডাকলেন। তিনি একটি পশুর কাঁধের হাড় নিয়ে আসলেন এবং সেটি লিখলেন। তখন ইবনে উম্মে মাকতুম তাঁর অন্ধত্বের কষ্টের কথা জানালেন, তখন নাযিল হলো: "অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত মুমিনদের মধ্যে যারা বসে থাকে তারা সমান নয়।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, এবং শব্দগুলো বুখারীর।

 

৭৮২ - ইবনে আউন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নাফে’র নিকট যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া সম্পর্কে জানতে চেয়ে লিখেছিলাম। তিনি আমাকে লিখে পাঠালেন যে, তা ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু মুসতালিকের ওপর আক্রমণ করেছিলেন যখন তারা অসতর্ক ছিল এবং তাদের গবাদি পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল, তখন তিনি হত্যা করেন...
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٣)
مقاتلتهم وسبى سبيهم وأصاب [يومئذ] جويرية بنت الحارث، قال: وحدثني هذا الحديث عبد الله ابن عمر، وكان في ذلك الجيش " متفق عليه، واللفظ لمسلم.

 

783 - وعن سليمان بن بريدة، عن أبيه قال: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أمّر أميرا على جيش، أو سرية، أوصاه في خاصته بتقوى الله، ومن معه من المسلمين خيرا، ثم قال: اغزوا بسم الله في سبيل الله، قاتلوا من كفر بالله، أغزوا ولا تغلو ولا تغدروا ولا تمثلوا ولا تقتلوا وليدا، وإذا لقيت عدوك من المشركين فادعهم إلى ثلاث خصال - أو خلال - فأيتهن ما أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، ثم ادعهم إلى الإسلام. فإن أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم ثم ادعهم إلى التحول من دارهم إلى دار المهاجرين وأخبرهم أنهم إن فعلوا ذلك فلهم ما للمهاجرين وعليهم ما على المهاجرين، فإن أبوا أن يتحولوا منها، فأخبرهم أنهم يكونون كأعراب المسلمين: يجري عليهم حكم الله الذي يجري على المؤمنين، ولا يكون لهم في الغنيمة والفيء شيء إلا أن يجاهدوا مع المسلمين، فإن أبوا فسلهم الجزية، فإن أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، فإن أبوا فاستعن بالله وقاتلهم وإذا حاصرت أهل حصن فأرادوك أن تجعل لهم ذمة الله وذمة نبيه فلا تجعل لهم ذمة الله و [لا] ذمة نبيه، ولكن اجعل لهم ذمتك
তাদের সাথে যুদ্ধ এবং তাদের বন্দীদের দাসত্বে আনয়ন; [সেদিন] তিনি জুওয়াইরিয়্যাহ বিনতে আল-হারিসকে লাভ করেন। তিনি বলেন: "আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, এবং তিনি ওই সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

 

৭৮৩ - এবং সুলায়মান ইবনে বুরাইদাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো সেনাবাহিনী বা ক্ষুদ্র দলের ওপর কোনো আমীর নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে বিশেষভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের এবং তার সাথে থাকা মুসলিমদের সাথে কল্যাণকর আচরণের অসিয়ত করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো; যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমরা যুদ্ধ করো এবং গণীমতের মালে খিয়ানত করো না, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না, বিকৃত (অঙ্গচ্ছেদ) করো না এবং কোনো শিশুকে হত্যা করো না। আর যখন তুমি মুশরিকদের মধ্য থেকে তোমার শত্রুর মোকাবিলা করবে, তখন তাদের তিনটি বিষয়ের —বা গুণের— দিকে আহ্বান জানাবে। তারা এর মধ্যে যেটিই গ্রহণ করবে, তুমি তা কবুল করে নেবে এবং তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নেবে। অতঃপর তাদের ইসলামের দিকে আহ্বান জানাবে; যদি তারা এতে সাড়া দেয় তবে তা কবুল করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। এরপর তাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে হিজরতকারীদের ভূখণ্ডের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার আহ্বান জানাবে এবং তাদের অবহিত করবে যে, যদি তারা তা করে তবে মুহাজিরদের জন্য যা অধিকার রয়েছে তাদের জন্যও তা থাকবে, আর মুহাজিরদের ওপর যা আবশ্যিক তাদের ওপরও তা আবশ্যিক হবে। কিন্তু তারা যদি হিজরত করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা সাধারণ মুসলিম বেদুঈনদের মতো গণ্য হবে; তাদের ওপর আল্লাহর সেই বিধান জারি হবে যা মুমিনদের ওপর জারি হয়, তবে গণীমত ও ফায়-এর মালের কোনো অংশ তারা পাবে না, যতক্ষণ না তারা মুসলিমদের সাথে জিহাদে শরিক হয়। যদি তারা (ইসলাম গ্রহণ করতে) অস্বীকার করে, তবে তাদের কাছে জিজিয়া প্রার্থনা করো; যদি তারা তাতে সাড়া দেয় তবে তা গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো। আর যদি তারা অস্বীকার করে, তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। আর যখন তুমি কোনো দুর্গের অধিবাসীদের অবরোধ করবে এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহর জিম্মা ও তাঁর নবীর জিম্মা কামনা করে, তবে তাদের জন্য আল্লাহর জিম্মা ও তাঁর নবীর জিম্মা নির্ধারণ করো না; বরং তাদের জন্য তোমার নিজের জিম্মা নির্ধারণ করো।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٤)
وذمة أصحابك، فإنكم إن تخفروا ذممكم وذمم أصحابكم أهون من أن تخفروا ذمة الله وذمة رسوله. وإذا حاصرت أهل حصن فأرادوك أن تنزلهم على حكم الله، فلا تنزلهم على حكم الله ولكن أنزلهم على حكمك، فإنك لا تدري أتصيب حكم الله فيهم أم لا " قال عبد الرحمن - هو ابن مهدي - هذا أو نحوه. رواه مسلم.

 

784 - وعن كعب بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم: " أنه كان إذا أراد غزوة ورّى بغيرها ".

 

785 - وعن جابر قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " الحرب خدعة " متفق عليهما.

 

786 - وعن عبد الله بن أبي أوفى: " أن النبي صلى الله عليه وسلم كان في بعض أيامه التي لقي فيها العدو ينتظر حتى إذا مالت الشمس قام فيهم، فقال: [يا] أيها الناس لا تتمنوا لقاء العدو اسألوا الله العافية، وإذا لقيتموهم فاصبروا واعلموا أن الجنة، تحت ظلال السيوف، ثم قام النبي صلى الله عليه وسلم فقال: اللهم منزل [الكتاب
...এবং তোমার সাথীদের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি; কেননা তোমরা যদি তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের সাথীদের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো, তবে তা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার চেয়ে কম গুরুতর। আর যখন তুমি কোনো দুর্গের অধিবাসীদের অবরোধ করবে এবং তারা চাইবে যে তুমি তাদের আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সাব্যস্ত করবে, তবে তুমি তাদের আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সাব্যস্ত করো না; বরং তাদের তোমার নিজের বিধান অনুযায়ী সাব্যস্ত করবে। কারণ তুমি জানো না যে তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে কি না।" আব্দুর রহমান (যিনি ইবনে মাহদী) বলেছেন—এই মর্মে বা এর অনুরূপ। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

৭৮৪ - এবং কাব ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তা অন্য কিছুর মাধ্যমে আড়াল বা অস্পষ্ট রাখতেন।

 

৭৮৫ - এবং জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যুদ্ধ হলো একটি কৌশল।" তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৭৮৬ - এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) হতে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোনো এক যুদ্ধে যখন শত্রুর মোকাবিলা করেছিলেন, তখন তিনি অপেক্ষা করলেন। যখন সূর্য হেলে পড়ল, তখন তিনি তাঁদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: [হে] লোকসকল! তোমরা শত্রুর সাথে যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা করো না, আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। কিন্তু যখন তোমরা তাদের সম্মুখীন হবে, তখন ধৈর্য ধারণ করো এবং জেনে রেখো যে, জান্নাত তলোয়ারের ছায়ার নিচে। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী [কিতাব]...
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٥)
ومجري] السحاب وهازم الأحزاب، اهزمهم وانصرنا عليهم " متفق عليه. واللفظ لمسلم.

 

787 - وعن قيس بن عبادة قال: " كان أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يكرهون الصوت عند القتال ".

 

788 - وعن أبي بردة عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثل ذلك - رواه أبو داود، والحاكم، (وقال: (على شرطهما)).

 

789 - وعن معقل بن يسار، أن عمر استعمل النعمان بن مقرن [فذكر الحديث] قال - يعني النعمان - " [ولكني] شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان إذا لم يقاتل أول النهار أخّر القتال حتى تزول الشمس وتهب الرياح وينزل النصر " رواه أحمد، وأبو داود.
...এবং মেঘমালা পরিচালনাকারী ও শত্রুবাহিনীর পরাজয়দানকারী! আপনি তাদের পরাজিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)। আর শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

 

৭৮৭ - কায়েস ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যুদ্ধের সময় উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করা অপছন্দ করতেন।"

 

৭৮৮ - আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন - এটি আবু দাউদ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন (এবং তিনি বলেছেন: "এটি তাদের [বুখারি ও মুসলিমের] শর্তানুযায়ী সহিহ")।

 

৭৮৯ - মা'কিল ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত যে, উমর (রা.) নু'মান ইবনে মুকাররিনকে নিযুক্ত করেছিলেন [অতঃপর হাদীসটি উল্লেখ করেন]। তিনি অর্থাৎ নু'মান বলেন: "কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলাম; তিনি যখন দিনের প্রথম ভাগে যুদ্ধ শুরু করতেন না, তখন সূর্য ঢলে পড়া, বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং আল্লাহর সাহায্য অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বিলম্বিত করতেন।" এটি আহমাদ এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٦)
790 - وعن معقل بن يسار: " أن النعمان بن مقرن قال: شهدت " - فذكره. رواه النسائي، والترمذي وصححه، والحاكم (وقال: (على شرطهما)).

 

791 - وعن الصعب بن جثامة قال: " سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن الذراري من المشركين يبيتون، فيصيبون من نسائهم وذراريهم؟ فقال: هم منهم " متفق عليه. زاد ابن حبان: " ثم نهى عن قتلهم يوم حنين ".

 

792 - وعن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت: " خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل بدر، فلما كان بحرة الوبرة أدركه رجل قد كان يذكر منه جرأة ونجدة ففرح أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حين رأوه، فلما أدركه قال لرسول الله: جئت لأتبعك وأصيب معك، قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: تؤمن بالله ورسوله؟ قال: لا! قال: فارجع
৭৯০ - মা'কিল ইবন ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয় নু'মান ইবন মুকাররিন (রা.) বলেছেন: আমি উপস্থিত ছিলাম..." - অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করলেন। এটি নাসায়ী ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) একে সহীহ বলেছেন। আর হাকীমও এটি বর্ণনা করেছেন (এবং তিনি বলেছেন: এটি তাঁদের (বুখারী ও মুসলিমের) শর্তানুযায়ী সহীহ)।

 

৭৯১ - সা'ব ইবন জাছছামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মুশরিকদের সেই সব সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যাদের ওপর রাতে আক্রমণ করা হয়, ফলে তাদের নারী ও সন্তানরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বললেন: তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর তিনি হুনাইনের যুদ্ধের দিন তাদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।"

 

৭৯২ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি যখন হাররাতুল ওয়াবরাহ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল যার সাহসিকতা ও বীরত্বের কথা চর্চিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাকে দেখে আনন্দিত হলেন। সে যখন তাঁর নিকট পৌঁছাল, তখন সে রাসূলুল্লাহকে বলল: আমি এসেছি আপনার অনুসরণ করতে এবং আপনার সাথে যুদ্ধে অংশ নিতে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখো? সে বলল: না! তিনি বললেন: তবে ফিরে যাও।"
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٧)
فلن أستعين بمشرك! قالت: ثم مضى حتى إذا كنا بالشجرة أدركه الرجل، فقال [له كما قال أول مرة، فقال] له النبي صلى الله عليه وسلم كما قال أول مرة - قال: لا - قال: فارجع فلن أستعين بمشرك، قال: ثم رجع فأدركه بالبيداء فقال له كما قال أول مرة: تؤمن بالله ورسوله؟ قال: نعم. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: فانطلق " رواه مسلم.

 

793 - وعن ابن عمر: " أن امرأة وجدت في بعض مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم مقتولة فأنكر رسول الله صلى الله عليه وسلم قتل النساء والصبيان " متفق عليه.

 

794 - وعن الحسن، عن سمرة قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اقتلوا شيوخ المشركين واستبقوا شرخهم " - رواه أحمد، وأبو داود، (والترمذي،
আমি কখনোই কোনো মুশরিকের সাহায্য নেব না! তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: তারপর তিনি পথ চলতে থাকলেন, অবশেষে যখন আমরা ‘শাজারা’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন সেই লোক তাঁর নাগাল পেল। সে তাঁকে তেমনই বলল যেমনটি সে প্রথমবার বলেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তেমনই উত্তর দিলেন যেমনটি তিনি প্রথমবার দিয়েছিলেন—তিনি জিজ্ঞেস করলেন: (তুমি কি ঈমান এনেছ?) সে বলল: না—তিনি বললেন: তবে ফিরে যাও, আমি কখনোই কোনো মুশরিকের সাহায্য নেব না। তিনি বলেন: এরপর সে ফিরে গেল এবং ‘বাইদা’ নামক স্থানে পুনরায় তাঁর দেখা পেল। তখন তিনি তাকে প্রথমবারের ন্যায় জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছ? সে বলল: হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তবে চলো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

৭৯৩ - এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক যুদ্ধে এক নারীকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও শিশুদের হত্যা করার বিষয়টিকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

৭৯৪ - এবং হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি সামুরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বৃদ্ধদের হত্যা করো এবং তাদের কিশোরদের জীবিত ছেড়ে দাও।" - এটি আহমদ, আবু দাউদ এবং (তিরমিজি) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٨)
وصححه). والشرخ: الشباب.

 

795 - وعن حارثة بن مضرب، عن علي قال: " تقدم - يعني عتبة بن ربيعة - وتبعه ابنه وأخوه فنادى: من يبارز! فانتدب له شباب من الأنصار فقال: من أنتم؟ فأخبروه، فقال: لا حاجة لنا فيكم! إنما أردنا بني عمنا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قم يا حمزة، قم يا علي، قم يا عبيدة بن الحارث فأقبل حمزة إلى عتبة وأقبلت إلى شيبة واختلف بين عبيدة والوليد ضربتان فأثخن كل واحد منهما صاحبه، ثم ملنا إلى الوليد فقتلناه واحتملنا عبيدة " رواه أحمد، وأبو داود وهذا لفظه. " وحارثة " وثقه ابن معين، وصحح الترمذي، وابن حبان حديثه لكن الذي في مغازي ابن إسحاق: " أن علينا قتل الوليد، وحمزة قتل شيبة، وأن عبيدة بارز عتبة "؟ فالله أعلم.

 

796 - وعن جابر بن عتيك أن نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: " من الغيرة ما يحب الله، ومنها ما يبغض الله: فأما التي يحبها الله عز وجل فالغيرة في الريبة، وأما
(এটি তিনি সহীহ বলেছেন)। আর শারখ অর্থ: যৌবন।

 

৭৯৫ - হারিসাহ বিন মুদাররিব থেকে বর্ণিত, আলী (রা.) বলেন: "উতবাহ বিন রাবী’আহ সামনে এগিয়ে এল এবং তার পিছু পিছু তার ছেলে ও ভাই এল। অতঃপর সে ডাক দিয়ে বলল: 'কে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আসবে!' তখন আনসারদের কয়েকজন যুবক তার আহ্বানে সাড়া দিল। সে জিজ্ঞেস করল: 'তোমরা কারা?' তারা তাকে নিজেদের পরিচয় দিল। সে বলল: 'তোমাদের সাথে আমাদের কোনো কাজ নেই! আমরা তো কেবল আমাদের বংশীয় ভাইদের (কুরাইশদের) চেয়েছি।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'দাঁড়াও হে হামযাহ, দাঁড়াও হে আলী, দাঁড়াও হে উবাইদাহ বিন আল-হারিস।' অতঃপর হামযাহ উতবাহর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং আমি শায়বাহর দিকে এগিয়ে গেলাম। আর উবাইদাহ ও আল-ওয়ালিদের মধ্যে দুটি আঘাত বিনিময় হলো এবং তাদের প্রত্যেকেই নিজ প্রতিপক্ষকে মারাত্মকভাবে আহত করল। এরপর আমরা আল-ওয়ালিদের ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করলাম এবং উবাইদাহকে বহন করে নিয়ে এলাম।" এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি আবু দাউদের শব্দ। "হারিসাহ"-কে ইবনে মাঈন নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান তার বর্ণিত হাদীসকে সহীহ বলেছেন। তবে ইবনে ইসহাকের 'মাগাযী' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: "আলী আল-ওয়ালিদকে হত্যা করেছিলেন, হামযাহ শায়বাহকে হত্যা করেছিলেন এবং উবাইদাহ উতবাহর সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করেছিলেন।" আল্লাহই ভালো জানেন।

 

৭৯৬ - জাবির বিন আতীক থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "এমন কিছু আত্মমর্যাদাবোধ বা ঈর্ষা (গাইরাহ) রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন, আবার এমন কিছু রয়েছে যা আল্লাহ অপছন্দ করেন। যে আত্মমর্যাদাবোধ আল্লাহ পছন্দ করেন তা হলো যা সন্দেহের ক্ষেত্রে উদ্রেক হয়, আর যা...
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٤٩)
[الغيرة] التي يبغضها الله فالغيرة في غير ريبة، وإن من الخيلاء ما يبغض الهه، ومنها ما يحب الله: فأما الخيلاء التي يحب الله فاختيال الرجل نفسه عند القتال واختياله عند الصدقة، وأما التي يبغض الله عز وجل: فاختياله في البغي والفخر " رواه أحمد، وأبو داود، والنسائي، وأبو حاتم البستي.

 

797 - وعن يزيد بن حبيب قال، حدثني أسلم أبو عمران - مولى لكندة - قال: " كنا بمدينة الروم فأخرجوا إلينا صفا عظيما من الروم وخرج إليه مثله أو أكثر - وعلى أهل مصر عقبة بن عامر صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمل رجل من المسلمين على صف الروم حتى دخل فيهم فصاح به الناس وقالوا: سبحان الله يلقي بيده إلى التهلكة!!! فقام أبو أيوب الأنصاري صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: إنكم تؤولون هذه الآية على هذا التأويل، وإنما نزلت هذه الآية فينا معاشر الأنصار: إنا لما أعز الله الإسلام وكثر ناصريه قلنا: يا رسول الله إن لنا أموالا فلو أقمنا في أموالنا فأصلحنا ما ضاع منها؟؟ فأنزل الله على نبيه صلى الله عليه وسلم يرد علينا ما قلنا - {وأنفقوا في سبيل الله ولا تلقوا بأيديكم إلى التهلكة} فكانت التهلكة الإقامة في أموالنا وإصلاحها وتركنا الغزو، قال: ما زال أبو أيوب شاخصا
[আত্মমর্যাদাবোধ] যা আল্লাহ ঘৃণা করেন তা হলো কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি ছাড়াই ঈর্ষা বা আত্মমর্যাদা প্রদর্শন করা। আর দম্ভের এমন কিছু প্রকার রয়েছে যা আল্লাহ ঘৃণা করেন এবং এমন কিছু রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন। যে দম্ভ আল্লাহ পছন্দ করেন তা হলো যুদ্ধের সময় কোনো ব্যক্তির নিজের দম্ভ প্রদর্শন এবং সদকা প্রদানের সময় দম্ভ। আর যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ঘৃণা করেন তা হলো সীমালঙ্ঘন ও অহংকারের ক্ষেত্রে দম্ভ প্রদর্শন করা।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী এবং আবু হাতিম আল-বুস্তি।

 

৭৯৭ - ইয়াজিদ ইবনে হাবিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আসলাম আবু ইমরান—যিনি কিনদাহ গোত্রের মুক্ত দাস ছিলেন—আমাকে বলেছেন: "আমরা রোমীয়দের একটি শহরে ছিলাম। তখন রোমীয়রা আমাদের বিরুদ্ধে বিশাল এক বাহিনী বের করল এবং তাদের মোকাবিলায় সমসংখ্যক বা তার চেয়েও বেশি মুসলিম সৈন্য বের হলো। মিশরবাসীদের নেতৃত্বে ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী উকবা ইবনে আমির। অতঃপর মুসলিমদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি রোমীয়দের ব্যূহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাদের ভেতরে ঢুকে গেলেন। তখন লোকজন চিৎকার করে বলে উঠল: 'সুবহানাল্লাহ! সে নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে!!!' তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী দাঁড়িয়ে বললেন: 'তোমরা এই আয়াতের এরূপ ব্যাখ্যা করছ, অথচ এই আয়াতটি আমাদের আনসারদের প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে। যখন আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী করলেন এবং এর সাহায্যকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের অনেক ধন-সম্পদ রয়েছে; আমরা যদি এখন আমাদের সম্পদের কাছে অবস্থান করতাম এবং যা নষ্ট হয়েছে তা সংস্কার করতাম? তখন আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর আমাদের কথার প্রতিবাদে আয়াত নাযিল করলেন— {তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাত দ্বারা নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না}। সুতরাং 'ধ্বংস' ছিল আমাদের ধন-সম্পদের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকা এবং যুদ্ধ ত্যাগ করা।" বর্ণনাকারী বলেন: আবু আইয়ুব সর্বদা যুদ্ধের জন্য অটল ছিলেন।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٠)
في سبيل الله حتى دفن بأرض الروم " - رواه أبو يعلى الموصلي وهذا لفظه، وأبو داود، والنسائي، والترمذي وصححه، وابن حبان، والحاكم.

 

798 - وعن ابن عمر رضي الله عنهما: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قطع نخل بني النضير وحرق، ولها يقول حسان بن ثابت رضي الله تعالى عنه:

(وهان على سراة بني لؤي … حريق بالبويرة مستطير)

وفي ذلك نزلت {ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها} الآية " - متفق عليه.
"...আল্লাহর পথে, এমনকি তিনি রোমের ভূমিতে সমাহিত হন।" - এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা আল-মাউসিলি এবং এটি তাঁর শব্দচয়ন, এবং আবু দাউদ, আন-নাসায়ি, আত-তিরমিজি এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন, ইবনে হিব্বান এবং আল-হাকিম।

 

৭৯৮ - এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু নাদিরের খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলেছিলেন এবং জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, আর এ সম্পর্কে হাসসান ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন:

(আর বনু লুয়াইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে এটি তুচ্ছ মনে হলো... বুয়াইরাহ প্রান্তরের সেই ভয়াবহ লেলিহান আগুন)

আর এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয়েছে {তোমরা যে খেজুর গাছগুলো কেটেছ অথবা যেগুলো তাদের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ} আয়াতটি - এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥١)
799 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: " بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعث فقال لنا: إن لقيتم فلانا وفلانا - لرجلين من قريش - فحرقوهما بالنار، قال ثم أتينا نودعه حين أردنا الخروج فقال: إني كنت أمرتكم أن تحرقوا فلانا وفلانا بالنار، وإن النار لا يعذب بها إلا الله، فإن أخذتموهما فاقتلوهما " رواه البخاري.

 

800 - وعن عوف بن مالك قال: " قتل رجل من حمير رجلا من العدو فأراد سلبه فمنعه خالد بن الوليد، وكان واليا عليهم، فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم عوف بن مالك فأخبره فقال لخالد: ما منعك أن تعطيه سلبه؟ قال: استكثرته يا رسول الله، قال: ادفعه إليه، فمر خالد بعوف فجرّ بردائه، ثم قال: هل أنجزت لك ما ذكرت [لك] من رسول الله صلى الله عليه وسلم! فسمعه رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستغضب!! فقال: لا تعطه يا خالد [لا تعطه يا خالد]! هل أنتم تاركون لي أمرائي؟! إنما مثلكم ومثلهم كمثل رجل استرعى إبلا أو غنما فرعاها ثم تحين سقيها فأوردها حوضا فشرعت فيه فشربت صفوه وتركت كدره، فصفوه لكم، وكدره عليهم " رواه مسلم.

 

801 - وعن عوف بن مالك الأشجعي وخالد بن الوليد: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى بالسلب للقاتل ولم يخمس السلب " رواه أحمد، وأبو داود واللفظ
৭৯৯ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি অভিযানে পাঠালেন এবং আমাদের বললেন: 'যদি তোমরা কুরাইশ বংশীয় অমুক এবং অমুক ব্যক্তিকে পাও, তবে তাদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেল।' তিনি বলেন, এরপর যখন আমরা প্রস্থানের ইচ্ছা করলাম তখন তাঁর কাছে বিদায় নিতে আসলাম, তখন তিনি বললেন: 'আমি তোমাদের অমুক এবং অমুক ব্যক্তিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দিয়েছিলাম; কিন্তু নিশ্চয়ই আগুন দিয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ শাস্তি দেয় না। সুতরাং তোমরা যদি তাদের পাকড়াও করো, তবে তাদের হত্যা করো'।" বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৮০০ - আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হিমইয়ার গোত্রের এক ব্যক্তি শত্রুপক্ষের একজনকে হত্যা করল এবং তার ব্যবহার্য মালামাল (সালাব) গ্রহণ করতে চাইল, কিন্তু খালিদ ইবনে ওয়ালিদ তাকে বাধা দিলেন। আর তিনি তাদের উপর আমির ছিলেন। অতঃপর আউফ ইবনে মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি খালিদকে বললেন: 'তাকে তার মালামাল দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?' তিনি বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা অনেক বেশি মনে করেছিলাম।' তিনি বললেন: 'তাকে তা দিয়ে দাও।' অতঃপর খালিদ আউফের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আউফ তাঁর চাদর টেনে ধরলেন এবং বললেন: 'আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যা বলেছিলাম তা কি তোমার জন্য পূরণ করিনি?' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেয়ে রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: 'হে খালিদ! তাকে দিও না [হে খালিদ! তাকে দিও না]! তোমরা কি আমার জন্য আমার আমিরদের (সমালোচনা) ছেড়ে দেবে না?! নিশ্চয়ই তোমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যাকে উট বা বকরির রাখাল বানানো হয়েছে। সে সেগুলোকে চরাল, এরপর যখন তাদের পানি পান করানোর সময় হলো, তখন সেগুলোকে হাউজে নিয়ে আসল। অতঃপর সেগুলো তাতে নামল এবং তার স্বচ্ছ পানিটুকু পান করল আর ঘোলা পানিটুকু ছেড়ে দিল। সুতরাং স্বচ্ছ অংশটুকু তোমাদের জন্য এবং ঘোলা অংশটুকু তাদের ওপর'।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৮০১ - আউফ ইবনে মালিক আল-আশজায়ি এবং খালিদ ইবনে ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত ব্যক্তির পরিধেয় ও ব্যবহার্য মালামাল (সালাব) হত্যাকারীর পাওনা হিসেবে ফয়সালা করেছেন এবং তিনি সেই মালামাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) গ্রহণ করেননি।" আহমাদ ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো (আবু দাউদের)।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٢)
له. (وإسناده صحيح).

 

802 - وعن عبد الرحمن بن عوف قال: " بينما أنا واقف في الصف يوم بدر فنظرت عن يميني وشمالي، فإذا أنا بغلامين من الأنصار [حديثة] أسنانهما - تمنيت أن أكون بين أضلع منهما - فغمزني أحدهما فقال: يا عم هل تعرف أبا جهل؟ قلت: نعم، ما حاجتك إليه يا ابن أخي؟ قال: أخبرت أنه يسب رسول الله صلى الله عليه وسلم! والذي نفسي بيده لئن رأيته لا يفارق سوادي سواده حتى يموت الأعجل منا فتعجبت لذلك، فغمزني الآخر فقال لي مثلها، فلم أنشب أن نظرت إلى أبي جهل يجول في الناس فقلت: ألا إن هذا صاحبكما الذي سألتماني، فابتدراه بسيفيهما حتى قتلاه، ثم انصرفا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبراه، فقال: أيكما قتله؟ قال كل واحد منهما أنا قتلته، فقال: هل مسحتما سيفيكما؟ قال: لا، فنظر في السيفين فقال: كلاكما قتله، سلبه لمعاذ بن
তার জন্য। (এবং এর সনদ সহীহ)।

 

৮০২ - এবং আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বদর যুদ্ধের দিন যখন আমি সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন আমি আমার ডানে ও বামে তাকালাম। এমতাবস্থায় আমি আনসারদের দুইজন অল্পবয়স্ক কিশোরের মাঝে নিজেকে পেলাম—আমি কামনা করছিলাম যদি আমি তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ব্যক্তিদের মাঝে থাকতাম—তখন তাদের একজন আমাকে খোঁচা দিল এবং বলল: হে চাচা! আপনি কি আবু জাহলকে চেনেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তার সাথে তোমার কী কাজ? সে বলল: আমাকে জানানো হয়েছে যে, সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দেয়! সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি আমি তাকে দেখি তবে আমার সত্তা তার সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে নির্ধারিত সে মারা যায়। আমি এতে বিস্মিত হলাম। এরপর অন্যজনও আমাকে খোঁচা দিল এবং আমাকে অনুরূপ কথা বলল। কিছুক্ষণ পরই আমি আবু জাহলকে মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখলাম। তখন আমি বললাম: দেখ, এই সেই ব্যক্তি যার কথা তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলে। তখন তারা তাদের তলোয়ার নিয়ে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হলো এবং তাকে হত্যা করল। এরপর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে গিয়ে তাঁকে অবহিত করল। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? তাদের প্রত্যেকেই বলল: আমি তাকে হত্যা করেছি। তিনি বললেন: তোমরা কি তোমাদের তলোয়ার মুছে ফেলেছ? তারা বলল: না। তখন তিনি তলোয়ার দুটির দিকে তাকালেন এবং বললেন: তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। তার নিকট থেকে সংগৃহীত যুদ্ধের সরঞ্জাম (সালাব) মুয়ায বিন...
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٣)
عمرو بن الجموح، وكانا: معاذ بن عفراء ومعاذ بن عمرو بن الجموح ".

 

803 - وعن أنس قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من ينظر ما صنع أبو جهل؟ فانطلق ابن مسعود فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برد، فأخذ بلحيته وقال: أنت أبو جهل؟ قال: وهل فوق رجل قتله قومه أو [رجل] قتلتموه " متفق عليهما، واللفظ للبخاري.
আমর ইবনুল জামুহ; আর তারা দুজন ছিলেন: মুআয ইবনে আফরা এবং মুআয ইবনে আমর ইবনুল জামুহ।".

 

৮০৩ - আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আবু জাহেলের কী দশা হয়েছে তা কে দেখবে?" অতঃপর ইবনে মাসউদ (রা.) রওনা হলেন এবং তাকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, আফরার দুই পুত্র তাকে আঘাত করে মৃতপ্রায় করে ফেলেছে। তখন তিনি তার দাড়ি ধরলেন এবং বললেন: "তুমিই কি আবু জাহেল?" সে বলল: "যাকে তার নিজ জাতি হত্যা করেছে, তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদার আর কেউ আছে কি?" অথবা সে বলল: "[এমন ব্যক্তি] যাকে তোমরা হত্যা করেছ।" এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি বুখারীর।
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٤)
804 - وعن جبير بن مطعم، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في أسارى بدر: " لو كان المطعم بن عدي حيا ثم كلمني في هؤلاء النتنى لتركتهم له " رواه البخاري.

 

805 - وعن ابن عمر قال: " بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية وأنا فيهم، قبل نجد فغنموا إبلا كثيرة، فكانت سهمانهم اثنا عشر بعيرا - أو أحد عشر بعيرا [ونفلوا بعيرا بعيرا] " متفق عليه.

 

806 - وعن سعيد المقبري، عن يزيد بن هرمز قال: " كتب نجدة بن عامر [الحروري] إلى ابن عباس يسأله عن العبد والمرأة يحضران المغنم هل يقسم لهما؟ وعن قتل الولدان؟ وعن اليتيم متى ينقطع عنه اليتم؟ وعن ذوي القربى من هم؟ فقال ليزيد: اكتب إليه فلولا أن يقع في أحموقة ما كتبت إليه، اكتب: إنك كتبت تسألني عن المرأة والعبد يحضران المغنم، هل يقسم لهما بشيء، وإنه ليس لهما شيء إلا أن يحذيا وكتبت تسألني عن قتل الولدان: وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يقتلهم؟ وأنت فلا تقتلهم إلا أن تعلم منهم، ما علم صاحب موسى من الغلام الذي قتله، وكتبت تسألني عن اليتيم
৮০৪ - জুবাইর ইবনে মুতইম থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের বন্দীদের সম্পর্কে বলেছেন: "যদি মুতইম ইবনে আদি জীবিত থাকতো এবং সে আমার কাছে এই দুর্গন্ধযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সুপারিশ করতো, তবে আমি তার খাতিরে তাদের ছেড়ে দিতাম।" ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৮০৫ - ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজদের দিকে একটি সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন এবং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তারা প্রচুর উট গনিমত হিসেবে লাভ করে। ফলে তাদের প্রত্যেকের অংশে বারোটি উট পড়েছিল - অথবা এগারোটি উট [এবং অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে একটি করে উট প্রদান করা হয়েছিল]।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

৮০৬ - সাঈদ আল-মাকবুরি ইয়াজিদ ইবনে হুরমুজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নাজদাহ ইবনে আমির আল-হারুরি ইবনে আব্বাসের নিকট চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন যে, দাস ও নারী যদি গনিমতের যুদ্ধে উপস্থিত থাকে তবে কি তাদের জন্য অংশ বন্টন করা হবে? আরও জানতে চেয়েছিলেন শিশুদের হত্যা করা সম্পর্কে, এতিমের এতিমকাল কখন শেষ হয় সে সম্পর্কে এবং নিকটাত্মীয় কারা সে সম্পর্কে। ইবনে আব্বাস ইয়াজিদকে বললেন: তার নিকট উত্তর লিখে দাও; যদি সে কোনো মূর্খতায় নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকতো তবে আমি তাকে লিখতাম না। তুমি লেখো: তুমি নারী ও দাসের ব্যাপারে জানতে চেয়ে চিঠি লিখেছ যে তারা গনিমতের সময় উপস্থিত থাকলে তাদের কি কোনো অংশ বন্টন করা হবে; নিশ্চিতভাবেই তাদের জন্য (নির্ধারিত) কোনো অংশ নেই, তবে তাদের সামান্য কিছু উপহার প্রদান করা হবে। আর তুমি শিশুদের হত্যার ব্যাপারে লিখেছ; নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হত্যা করেননি। সুতরাং তুমিও তাদের হত্যা করো না, যতক্ষণ না তুমি তাদের সম্পর্কে তেমন কিছু অবগত হও যা মুসার সাথী সেই বালক সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন যাকে তিনি হত্যা করেছিলেন। আর তুমি এতিমের ব্যাপারে জানতে চেয়ে লিখেছ..."
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٥)
متى ينقطع عنه اسم اليتم: وإنه لا ينقطع عنه اسم اليتم حتى يبلغ ويؤنس منه رشد، وكتبت تسألني عن ذوي القربى [من هم] وإنا زعمنا أنا هم فأبى ذلك علينا قومنا " رواه مسلم.

 

807 - وعن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لغدوة في سبيل الله - أو روحة - خير من الدنيا وما فيها ".

 

808 - وعن ابن عمر قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إذا جمع [الله] الأولين والآخرين يوم القيامة يرفع لكل غادر لواء، فقيل هذه غدرة فلان بن فلان " متفق عليه.

 

809 - وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث إلى بني لحيان ليخرج من كل رجلين رجل، ثم قال للقاعد: أيكم خلف
কখন তার থেকে পিতৃহীনতার (এতিম) নাম বিলুপ্ত হয়: আর নিশ্চয়ই তার থেকে এতিম নাম ততক্ষণ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয় না যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং তার মাঝে বিচক্ষণতা প্রতীয়মান হয়। আর আপনি আমাকে নিকটাত্মীয়দের [তারা কারা] সম্পর্কে লিখে জিজ্ঞাসা করেছেন, আর আমরা দাবি করেছি যে আমরাই তারা, কিন্তু আমাদের সম্প্রদায় আমাদের প্রতি তা অস্বীকার করেছে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

807 - আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর পথে একটি সকাল - অথবা একটি বিকাল - অতিবাহিত করা দুনিয়া এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম।"

 

808 - ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কিয়ামতের দিন [আল্লাহ] পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন, তখন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।" বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

809 - আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু লিহইয়ানের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন যেন প্রতি দুই ব্যক্তির মধ্য থেকে একজন বের হয়, তারপর তিনি ঘরে অবস্থানকারীর উদ্দেশ্যে বললেন: তোমাদের মধ্যে যে কেউ স্থলাভিষিক্ত হয়ে (আল্লাহর পথে গমনকারীর) পরিবার-পরিজনের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবে..."
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٦)
الخارج في أهله وماله بخير كان له مثل نصف أجر الخارج " رواه مسلم.

 

810 - وعن أبي موسى قال: " سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يقاتل شجاعة ويقاتل حمية، ويقاتل رياء، أي ذلك في سبيل الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله ".

 

811 - وعن ابن عباس قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح - فتح مكة - " لا هجرة ولكن جهاد ونية، وإذا استنفرتم فانفروا " متفق عليهما.

 

812 - وعن عبد الله بن السعدي - رجل من بني مالك بن حنبل -: " أنه قدم على النبي صلى الله عليه وسلم في ناس من أصحابه فقالوا له: احفظ رحالنا، [ثم تدخل] وكان أصغر القوم - فقضى لهم حاجتهم، ثم قالوا له: ادخل! فدخل، فقال: حاجتك؟ قال: حاجتي تحدثني أنقضت الهجرة
যে ব্যক্তি (যোদ্ধার) পরিবার ও সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করে ফিরে আসে, সে (যোদ্ধার) অর্ধেক সওয়াব পাবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

৮১০ - আবু মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, বীরত্ব বা আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে এবং লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে।"

 

৮১১ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন: "(মক্কা বিজয়ের পর) আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।" এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন।

 

৮১২ - আবদুল্লাহ ইবনে সা'দী (রা.) — যিনি বনু মালিক ইবনে হানবাল গোত্রের একজন লোক ছিলেন — থেকে বর্ণিত: "তিনি একদল সাথীর সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। তারা তাকে বললেন: আমাদের আসবাবপত্র পাহারা দাও, [তারপর তুমি প্রবেশ করো]। তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রয়োজন পূরণ করলেন। এরপর তারা তাকে বললেন: (এখন তুমি) প্রবেশ করো! তখন তিনি প্রবেশ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমার প্রয়োজন কী? তিনি বললেন: আমার প্রয়োজন হলো আপনি আমাকে বলবেন, হিজরত কি শেষ হয়ে গেছে?"
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٧)
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: حاجتك خير من حوائجهم، لا تنقطع الهجرة ما قوتل العدو " رواه الإمام أحمد وهذا لفظه، والنسائي، وابن حبان، (وقد اختلف في إسناده).

 

813 - وعن أبي موسى رضي الله تعالى عنه قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " فكوا العاني - أي الأسير - وأطعموا الجائع، وعودوا المريض " رواه البخاري.

 

814 - وعن علي رضي الله عنه قال: " بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا والزبير والمقداد، فقال: انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমার প্রয়োজন তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অধিক উত্তম; হিজরত ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চলতে থাকবে।" এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর শব্দ চয়ন, এছাড়া নাসায়ী ও ইবনে হিব্বানও এটি বর্ণনা করেছেন (এর সানাদ বা বর্ণনা সূত্র নিয়ে মতভেদ রয়েছে)।

 

৮১৩ - আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বন্দীদের মুক্ত করো, ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও এবং অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করো।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

 

৮১৪ - আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে, যুবাইর এবং মিকদাদকে পাঠালেন এবং বললেন: তোমরা যাত্রা করো যতক্ষণ না রওযা-এ খাক নামক স্থানে পৌঁছাও, সেখানে একজন উষ্ট্রারোহী নারী রয়েছে যার কাছে..."
(খণ্ড: ٢) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - তাহকীক আল-মারআশলী (পৃষ্ঠা: ٤٥٨)
كتاب فخذوا منها، فانطلقنا تعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة، فإذا نحن بالظعينة قلنا [لها]: أخرجي الكتاب! قالت: ما معي كتاب! فقلنا: لتخرجن [الكتاب] أو لنلقين الثياب! قال فأخرجته من عقاصها، فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا فيه: من حاطب بن [أبي] بلتعة - إلى ناس [بمكة] من المشركين - يخبرهم ببعض أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال [رسول الله صلى الله عليه وسلم]: يا حاطب ما هذا؟ قال: يا رسول الله لا تعجل علي إني كنت امرءا ملصقا في قريش [- يقول: كنت حليفا -] ولم أكن من أنفسها، وكان من معك من المهاجرين [من لهم بها قرابات] يحمون أهاليهم وأموالهم، فأحببت إذ فاتني ذلك من النسب فيهم أن أتخذ عندهم يدا يحمون قرابتي، ولم أفعله ارتدادا عن ديني! ولا رضا بالكفر بعد الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أما إنه قد صدقكم؟ فقال عمر: يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق! فقال: إنه قد شهد بدرا، وما يدريك لعل الله اطلع على [من شهد] بدرا، قال: اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم. فأنزل الله [السورة]: {يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء تلقون إليهم بالمودة} إلى قوله: {فقد ضل سواء السبيل} " متفق عليه، واللفظ للبخاري.

চিঠিটি নিয়ে নাও। অতঃপর আমাদের ঘোড়াগুলো আমাদের দ্রুত নিয়ে চলল যতক্ষণ না আমরা রওযাহ নামক স্থানে পৌঁছলাম। সেখানে আমরা উষ্ট্রারোহী এক মহিলার দেখা পেলাম। আমরা বললাম: চিঠিটি বের করো! তিনি বললেন: আমার নিকট কোনো চিঠি নেই! আমরা বললাম: হয় তুমি অবশ্যই চিঠিটি বের করবে, অন্যথায় আমরা অবশ্যই তোমার পোশাক তল্লাশি করব! রাবী বলেন: তখন তিনি তার চুলের বিনুনি থেকে তা বের করে দিলেন। এরপর আমরা তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। দেখা গেল তাতে লেখা আছে: হাতিব ইবনে আবি বালতাআ-এর পক্ষ থেকে মক্কার কিছু মুশরিকদের প্রতি—যাতে তিনি তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে হাতিব, এটা কী? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না। আমি কুরাইশদের সাথে লেগে থাকা (আশ্রিত) একজন ব্যক্তি ছিলাম—অর্থাৎ তিনি একজন মিত্র ছিলেন—তাদের মূল বংশোদ্ভূত কেউ ছিলাম না। আপনার সাথে থাকা মুহাজিরগণের মক্কায় এমন আত্মীয়-স্বজন রয়েছে যারা তাদের পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করে। তাই আমি চেয়েছিলাম যেহেতু তাদের সাথে আমার কোনো বংশীয় সম্পর্ক নেই, তাই আমি তাদের প্রতি এমন কোনো অনুগ্রহ করি যার বিনিময়ে তারা আমার আত্মীয়-স্বজনকে রক্ষা করবে। আমি দ্বীন ত্যাগ করার কারণে কিংবা ইসলামের পর কুফরের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে এটি করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: শোনো, সে তোমাদের কাছে সত্য বলেছে। উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে অনুমতি দিন আমি এই মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই! তিনি বললেন: সে তো বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিল। তুমি কী জানো, সম্ভবত আল্লাহ বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: 'তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি'। অতঃপর আল্লাহ নাযিল করলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তোমরা তাদের প্রতি ভালোবাসার বার্তা পাঠাও...} শেষ পর্যন্ত {সে অবশ্যই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে}। এটি বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তবে শব্দাবলি বুখারীর।