(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الحجة بضعف حديث من صلى ركعتين بعد الصبح فله أجر عمرة وحجة (أحمد شحاتة السكندري)
القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: الحجة بضعف حديث من صلى ركعتين بعد الصبح فله أجر عمرة وحجة
المؤلف: أحمد محمد شحاته الألفى السكندرى
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 18
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুবহে সাদিকের পর যে ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করে তার জন্য একটি উমরাহ ও একটি হজের সওয়াব রয়েছে—এই হাদিসটির দুর্বলতার প্রমাণ (আহমদ শাহাতা আল-ইসকান্দারি)
বিভাগ: হাদিসের দোষত্রুটি (ইলাল) ও প্রশ্নাবলী
বই: সুবহে সাদিকের পর যে ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করে তার জন্য একটি উমরাহ ও একটি হজের সওয়াব রয়েছে—এই হাদিসটির দুর্বলতার প্রমাণ
লেখক: আহমদ মুহাম্মদ শাহাতা আল-আলফি আল-ইসকান্দারি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ (الْحُجَّةُ بِضَعْفِ حَدِيثِ مَنْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الصُّبْحِ فَلَهُ أَجْرُ عُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ) ـبِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِالْحَمْدُ للهِ الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ، الَّذِى نَصَبَ فِى كُلِّ جِيلٍ طَائِفَةً لِيَتَفَقَّهُوا فِى الدِّينِ وَيَسْتَقْرِئُوا سَالِفَ الآثَارِ، وَهَيَّأَهُمْ لإِدْرَاكِ الصَّحِيحِ وَالضَّعِيفِ مِنَ السُّنَنِ وَالأَخْبَارِ، أُولَئِكَ الَّذِينَ تَنْجَلِى بِهِمُ الظُّلَمُ، وَتَنْكَشِفُ بِهِمُ الْغُمَمُ، وَيُهْتَدَى بِهِمْ عَلَى كَرِّ الدُّهُورِ وَالأَعْصَارِ. وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، شَهَادَةً دَلائِلُهَا مُشْرِقَةُ الأَنْوَارِ، وَنَتِيجَةُ اعْتِقَادِهَا مُبَايَنَةُ أَهْلِ الْعِنَادِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَالْكُفَّارِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدَاً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْمُجْتَبَى وَنَبِيُّهُ الْمُخْتَارِ.وَبَعْدُ..
ـ (ফজরের পর যে ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করে তার জন্য একটি উমরাহ ও একটি হজের সওয়াব রয়েছে—এই হাদিসের দুর্বলতা বিষয়ে প্রমাণ) ـপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা মহা পরাক্রমশালী অতি ক্ষমাশীল আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি যুগে একটি দলকে অধিষ্ঠিত করেছেন যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং পূর্ববর্তী নিদর্শনসমূহ অনুসন্ধান করতে পারে, আর তিনি তাদেরকে সুন্নাহ ও বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে বিশুদ্ধ ও দুর্বলসমূহ উপলব্ধি করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। এরাই তারা, যাদের মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভূত হয়, দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয় এবং কালের বিবর্তনে ও যুগের পরিক্রমায় যাদের মাধ্যমে সঠিক পথ প্রদর্শিত হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যার প্রমাণাদি সমুজ্জ্বল নূরের মতো উদ্ভাসিত এবং যার বিশ্বাসের ফলাফল হলো মুশরিক ও কাফেরদের মধ্য হতে অবাধ্যদের থেকে পৃথক হওয়া। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর মনোনীত রাসূল এবং নির্বাচিত নবী।অতঃপর..
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
مِنَ الْمُجْمَعِ عَلَيْهِ عِنْدَ عُلَمَاءِ الأَثَرِ أَنَّ مِنَ الأُمُورِ الْمُسْتَنْكَرَاتِ: تَتَبُّعَ الأَبَاطِيلِ وَالْمَوْضُوعَاتِ، وَتَطَلُّبَ الْغَرِائِبِ وَالْمُنْكَرَاتِ.وَقَدْ أَفْرَدَ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ فِي كِتَابِهِ «الْجَامِعُ لأَخْلاقِ الرَّاوِي» أَبْوَابَاً لِتَقْرِيرِ هَذَا الْمَطْلَبِ وَتَوْكِيدِهِ، مِنْهَا:بَابُ مَا يَنْبَغِي أَنُ يُصْدَفَ عَنِ الاشْتِغَالِ بِهِ فِي الانْتِقَاءِقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ: يَنْبَغِي لِلْمُنْتَخِبِ أَنْ يَقْصُدَ تَخَيُّرَ الأَسَانِيدِ الْعَالِيَةِ، وَالطُّرُقِ الْوَاضِحَةِ، وَالأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ، وَالرِّوَايَاتِ الْمُسْتَقِيمَةِ، وَلا يُذْهِبُ وَقْتَهُ فِي التُّرْهَاتِ مِنْ تَتَبُّعِ الأَبَاطِيلِ وَالْمَوْضُوعَاتِ، وَتَطَلُّبِ الْغَرِائِبِ وَالْمُنْكَرَاتِ.وَأَسْنَدَ عَنْ أَبِي يُوسُفَ الْقَاضِي قَالَ قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: مَنْ طَلَبَ الْمَالَ بِالْكِيمِيَاءِ أَفْلَسَ، وَمَنْ طَلَبَ الدِّينَ بِالْجِدَالِ تَزَنْدَقَ، وَمَنْ طَلَبَ غَرِيبَ الْحَدِيثِ كَذَبَ.وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْخَلِيلِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْعَمِّيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الْمُبَارَكِ يَقُولُ: فِي صَحِيحِ الْحَدِيثِ شُغْلٌ عَنْ سَقِيمِهِ.وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حِمْيَرٍ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ قَالَ: إِذَا حَمَلْتَ شَاذَّ الْعُلَمَاءِ حَمَلْتَ شَرَّاً كَثِيْرَاً.وَعَنْ التَّوَّزِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ يَقُولُ: مَنْ شَغَلَ نَفْسَهُ بِغَيْرِ الْمُهِمِّ أَضَرَّ بِالْمُهِمِّ.قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَالْغَرَائِبُ الَّتِي كَرِهَ الْعُلَمَاءُ الاشْتِغَالَ بِهَا، وَقَطْعَ الأَوْقَاتِ فِي طَلَبِهَا إِنَّمَا هِيَ مَا حَكَمَ أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ بِبُطْلانِهِ، لِكَوْنِ رُوَاتِهِ مِمَّنْ يَضَعُ الْحَدِيثَ، أَوْ يَدَّعِي السَّمَاعَ. فَأَمَّا مَا اسْتُغْرِبَ لِتَفَرُّدِ رَاوِيهِ بِهِ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الصِّدْقِ وَالأَمَانَةِ، فَذَلِكَ يَلْزَمُ كَتْبُهُ، وَيَجِبُ سَمَاعُهُ وَحِفْظُهُ.
আছার তথা হাদীস বিশারদ আলেমগণের নিকট সর্বসম্মত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, অত্যন্ত গর্হিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: বাতিল ও জাল বর্ণনার অনুসরণ করা, এবং বিরল ও আপত্তিকর বর্ণনা অন্বেষণ করা।খতীব বাগদাদী তাঁর ‘আল-জামি লি-আখলাকির রাবি’ গ্রন্থে এই বিষয়টি সাব্যস্ত ও সুনিশ্চিত করার জন্য পৃথক অধ্যায় রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:অধ্যায়: (হাদীস) নির্বাচনের ক্ষেত্রে যা নিয়ে ব্যস্ত হওয়া পরিহার করা উচিতআবু বকর আল-খতীব বলেন: হাদীস চয়নকারীর উচিত হবে উচ্চস্তরের সনদ, স্পষ্ট সূত্র, সহীহ হাদীস এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ চয়ন করার সংকল্প করা, এবং বাতিল ও জাল বর্ণনার অনুসরণ এবং বিরল ও আপত্তিকর বর্ণনা অন্বেষণ করার মতো নিরর্থক কাজে নিজের সময় নষ্ট না করা।তিনি কাজী আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আবু হানীফা বলেছেন: যে ব্যক্তি কিমিয়া (পরশপাথর বা রসায়ন) এর মাধ্যমে সম্পদ অন্বেষণ করবে সে দেউলিয়া হবে; যে ব্যক্তি তর্কের মাধ্যমে দ্বীন অন্বেষণ করবে সে যিনদীক হবে; আর যে ব্যক্তি বিরল হাদীস অন্বেষণ করবে সে মিথ্যারোপ করবে।আব্দুল্লাহ ইবনুল খলীল ইবনে ইবরাহীম আল-আম্মী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে: সহীহ হাদীস নিয়ে চর্চা করাই দুর্বল হাদীসের ব্যস্ততা থেকে বিমুখ রাখার জন্য যথেষ্ট।মুহাম্মদ ইবনে হিমইয়ার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম ইবনে আদহাম আমাকে বলেছেন: যদি তুমি আলেমদের শায (বিচ্ছিন্ন) মত গ্রহণ করো, তবে তুমি প্রভূত অকল্যাণ বহন করলে।তাওযী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু উবায়দাহকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি নিজেকে গুরুত্বহীন কাজে নিয়োজিত রাখে, সে গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষতি করে।আবু বকর আল-খতীব বলেন: যে সমস্ত বিরল বর্ণনা নিয়ে ব্যস্ত হওয়া এবং তা অন্বেষণে সময় ব্যয় করাকে আলেমগণ অপছন্দ করেছেন, তা কেবল সেই সকল বর্ণনা যার বাতিল হওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞরা ফয়সালা দিয়েছেন। কারণ এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে হাদীস জাল করে অথবা শ্রবণের মিথ্যা দাবি করে। পক্ষান্তরে যে হাদীসটি বিরল বলে গণ্য হয়েছে এর বর্ণনাকারীর একক হওয়ার কারণে, অথচ তিনি একজন সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যক্তি, তবে সেই হাদীসটি লিখে রাখা আবশ্যক এবং তা শ্রবণ ও মুখস্থ করা ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
وَبَابُ اسْتِحْبَابِ رِوَايَةِ الْمَشَاهِيْرِ وَالصُّدُوفِ عَنِ الْغَرَائِبِ وَالْمَنَاكِيْرِوَأَسْنَدَ عَنْ عَمْرِو بْنِ خَالِدٍ الْحَرَّانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ زُهَيْرَاً يَقُولُ لِعِيسَى بْنِ يُونُسَ: يَنْبَغِي لِلرِّجُلِ أَنْ يَدَعَ رِوَايَةَ غَرِيبِ الْحَدِيثِ، فَإِنِّي أَعْرِفُ رَجُلاً كَانَ يُصَلِّي فِي يَوْمِهِ مِئَةَ رَكْعَةٍ، مَا أَفْسَدَهُ عِنْدَ النَّاسِ إِلَاّ رِوَايَةُ غَرِيبِ الْحَدِيثِ.وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ التَّيْمِيِّ الْبَصْرِيِّ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ: شَرُّ الْعِلْمِ الْغَرِيبُ، وَخَيْرُ الْعِلْمِ الظَّاهِرُ الَّذِي قَدْ رَوَاهُ النَّاسِ.وَعَنْ حِبَّانَ بْنِ مُوسَى قَالَ سَمِعْتُ النَّضْرَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُولُ: أَفْضَلُ الْعِلْمِ الْمَشْهُورِ.وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّزَّاقِ يَقُولُ: كُنَّا نَرَى أَنَّ غَرِيبَ الْحَدِيثِ خَيْرٌ، فَإِذَا هُوَ شَرٌّ.قُلْتُ: وَهَذَا التَّقْرِيرُ عَظِيمُ النَّفْعِ لِمَنْ تَدَبَّرَ فَحْوَاهُ، وَفَهِمَ غَايَتَهُ وَمَرْمَاهُ، وَعَمِلَ بِدِلالَتِهِ وَمُقْتَضَاهُ. فَلْيَكُنْ هَذَا أَوَّلَ مَقَاصِدِ بَيَانِ نَكَارَةِ الْحَدِيثِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّهُ: مَنْ مَكَثَ فِي مُصَلاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتَا لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ.
প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণনা করা এবং বিরল ও অগ্রহণযোগ্য হাদিস থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব হওয়ার অধ্যায়আর আমর ইবনে খালিদ আল-হাররানি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি জুহাইরকে ঈসা ইবনে ইউনুসের উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি: মানুষের উচিত বিরল হাদিস বর্ণনা করা বর্জন করা। কারণ আমি এমন এক ব্যক্তিকে চিনি যিনি দিনে একশ রাকাত নামাজ পড়তেন, বিরল হাদিস বর্ণনাই তাকে মানুষের কাছে বিতর্কিত করে দিয়েছিল।এবং মুহাম্মদ ইবনে উমর আত-তাইমি আল-বাসরি থেকে বর্ণিত, আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: নিকৃষ্টতম জ্ঞান হলো বিরল জ্ঞান, আর সর্বোত্তম জ্ঞান হলো সুস্পষ্ট জ্ঞান যা মানুষ বর্ণনা করেছে।এবং হিব্বান ইবনে মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আন-নাদর ইবনে মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি: সর্বোত্তম জ্ঞান হলো প্রসিদ্ধ জ্ঞান।এবং আবদুর রহমান ইবনে বিশর ইবনে আল-হাকাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি: আমরা মনে করতাম বিরল হাদিস ভালো, কিন্তু পরে দেখা গেল তা মন্দ।আমি বলছি: এই আলোচনাটি সেই ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত উপকারী যে এর মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করে এবং এর নির্দেশনা ও দাবি অনুযায়ী আমল করে। সুতরাং সেই হাদিসের অগ্রহণযোগ্যতা বর্ণনার এটিই হোক প্রথম উদ্দেশ্য যাতে বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত নিজ নামাজের স্থানে অবস্থান করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়বে, তার জন্য একটি হজ ও ওমরাহর সওয়াবের ন্যায় সওয়াব হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْمَقْصِدُ الثَّانِي: بَيَانُ طُرُقِ الْحَدِيثِ وَرِوَايَاتِهِ[الْحَدِيثُ الأَوَّلُ] حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، وَلَهُ طُرُقٌ[الطَّرِيقُ الأُولَى] أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِيُّ عَنْهُقَالَ التِّرْمِذِيُّ (586) : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا أَبُو ظِلالٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ» . قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ» .وَأَخْرَجَهُ الْبَغَوِيُّ «شَرْحُ السُّنَّةِ» (710) قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ الضَّبِّيُّ نَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَرَّاحِيُّ نَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْمَحْبُوبِيُّ نَا أَبُو عِيسَى بِهِ.قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ قَالَ: وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْماَعِيلَ عَنْ أَبِي ظِلالٍ، فَقَالَ: هُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ. قَالَ مُحَمَّدٌ: وَاسْمُهُ هِلالٌ.قُلْتُ: بَلْ هُوَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ مُنْكَرٌ، لَمْ يَرْوِهِ عَنْ أَنَسٍ إِلَاّ أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِيُّ، وَلا يُحْتَمَلُ تَفَرُّدُهُ، فَهُوَ بَيِّنُ الأَمْرِ فِي الضُّعَفَاءِ.وَلِلْبُخَارِيِّ قَوْلٌ ثَانٍ بِتَضْعِيفِهِ، وَتَفْسِيْرِهِ عِلَّةِ ضَعْفِهِ بِرِوَايَتِهِ الْمَنَاكِيْرَ.قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ الْعُقَيْلِيُّ «الضُّعَفَاءُ» (4/345) : هِلالٌ أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِىُّ عَنْ أَنَسٍ، عِنْدَهُ مَنَاكِيْرُ. حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا الْعَبَّاسُ قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى قَالَ: أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِيُّ لَيْسَ بِشَيْءٍ. حَدَّثَنِي آدَمُ بْنُ مُوسَى قَالَ: سَمِعْتُ الْبُخَارِيَّ قَالَ: هِلالٌ أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِيُّ عَنْ أَنَسٍ، عِنْدَهُ مَنَاكِيْرُ. وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى قَالَ: أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِيُّ اسْمُهُ هِلالُ بْنُ كَثِيْرٍ لَيْسَ بِشَيْءٍ.وَقَالَ أبُو عُبَيْدٍ الآجُرِّيُّ «سُؤَالاتُهُ لأبِي دَاوُدَ» (التَّرْجَمَةُ 282) : سَأَلْتُ أَبَا دَاوُدَ عَنْهُ، فَلَمْ يَرْضَهُ، وَغَمَزَهُ.
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য: হাদিসের সূত্রসমূহ ও এর বর্ণনাগুলোর বিবরণ[প্রথম হাদিস] আনাস ইবনে মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, এবং এর একাধিক সূত্র রয়েছে[প্রথম সূত্র] আবু জিলাল আল-কাসমালী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেনতিরমিজি (৫৮৬) বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে মুআবিয়া আল-জুমাহি আল-বাসরি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবদুল আজিজ ইবনে মুসলিম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু জিলাল হাদিস বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালেক থেকে, তিনি বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করল, এরপর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করল, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়ল, তার জন্য একটি হজ ও ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব হবে»। তিনি বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «পূর্ণাঙ্গ, পূর্ণাঙ্গ, পূর্ণাঙ্গ»।আর বাগাভি একে ‘শারহুস সুন্নাহ’ (৭১০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান আদ-দাব্বি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা (তিরমিজি) এর মাধ্যমে।আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান গরিব। তিনি বলেন: আর আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে (বুখারি) আবু জিলাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: তিনি হাদিসের কাছাকাছি পর্যায়ের (মুকারিবুল হাদিস)। মুহাম্মদ (বুখারি) বলেন: তাঁর নাম হলো হিলাল।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বরং এটি একটি গরিব ও মুনকার হাদিস। এটি আনাস থেকে আবু জিলাল আল-কাসমালী ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি এবং তাঁর একক বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্বল বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তাঁর বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট।আর বুখারির দ্বিতীয় একটি উক্তি রয়েছে তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে, যেখানে তিনি তাঁর দুর্বলতার কারণ হিসেবে তাঁর মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করাকে উল্লেখ করেছেন।আবু জাফর আল-উখাইলি ‘আদ-দুয়াফা’ (৪/৩৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: হিলাল আবু জিলাল আল-কাসমালী আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর কাছে মুনকার হাদিস রয়েছে। আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্বাস হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহিয়াকে বলতে শুনেছি: আবু জিলাল আল-কাসমালী নির্ভরযোগ্য কেউ নন। আমার কাছে আদম ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি: হিলাল আবু জিলাল আল-কাসমালী আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর কাছে মুনকার হাদিস রয়েছে। এবং আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুআবিয়া ইবনে সালিহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহিয়াকে বলতে শুনেছি: আবু জিলাল আল-কাসমালীর নাম হলো হিলাল ইবনে কাসির, তিনি নির্ভরযোগ্য কেউ নন।আর আবু উবাইদ আল-আজুরি ‘সুআলাতুহু লি-আবি দাউদ’ (জীবনী নং ২৮২) গ্রন্থে বলেন: আমি আবু দাউদকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি তাঁকে পছন্দ করেননি এবং তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ «الْمَجْرُوحِينَ» (3/85) : «أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِىُّ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، وَاسْمُ أَبِيهِ سُوَيْدٌ الأَزْدِيُّ الأَحْمَرِيُّ، وَقَدْ قِيلَ: إِنَّهُ هِلالُ بْنُ أَبِى هِلالٍ. يَرْوِى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَوَى عَنْهُ جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِىُّ، وَمَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ. كَانَ شَيْخَاً مُغَفَّلاً، يَرْوِى عَنْ أَنَسٍ مَا لَيْسَ مِنْ حَدِيثِهِ، لا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ بِحَالٍ» .وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (7/119) : حدثَنَا ابْنُ حَمَّادٍ ثَنَا عَبَّاسٌ عَنْ يَحْيَى قَالَ: أَبُو ظِلالٍ هُوَ هِلالٌ الْقَسْمَلِيُّ ضَعِيفٌ لَيْسَ بِشَيْءٍ. قَالَ النَّسَائِيُّ: أَبُو ظِلالٍ الْقَسْمَلِيُّ ضَعِيفٌ.حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عِقَالٍ وَجَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ وَاللَّفْظُ لابْنِ عِقَالٍ قَالا: ثَنَا أبو جَعْفَرٍ النُّفَيْلِيُّ ثَنَا أبُو الدَّهْمَاءِ الْبَصْرِيُّ شَيْخُ صِدْقٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ نَحْوَاً مِنْ سَبْعِينَ سَنَةً عَنْ أَبِى ظِلالٍ الْقَسْمَلِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ للهِ لَوْحَاً مِنْ زَبَرْجَدَةٍ خَضْرَاءَ جُعِلَتْ تَحْتَ الْعَرْشِ: إِنِّي لا إِلَه إِلَاّ الله أَنَا أَرْحَمُ وَأَتَرَحَّمُ، خَلَقْتُ بِضْعَةَ عَشَرَ وَثَلاثَمِئَةِ خُلُقٍ، مَنْ جَاءَ بِخُلُقٍ مِنْهَا مَعَ شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» .وَذَكَرَ ابْنُ عَدِيٍّ جُمْلَةً مِنْ مَنَاكِيْرِهِ، ثُمَّ قَالَ: وَلأَبِي ظِلالٍ غَيْرُ مَا ذَكَرْتُ، وَعَامَّةُ مَا يَرْوِى مِمَّا لا يُتَابِعُهُ الثِّقَاتُ عَلَيْهِ.وَقَالَ أبو أَحْمَد الْحَاكِمُ كَمَا فِي «تَهْذِيبِ التَّهْذِيبِ» (11/85) : لَيْسَ بِالْقَوِيِّ عِنْدَهُمْ.وَضَعَّفَهُ كَذَلِكَ الذَّهَبِيُّ وَابْنُ حَجَرٍ.
ইবনে হিব্বান ‘আল-মাজরুহীন’ (৩/৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: “আবু জিলাল আল-কাসমালী বসরাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত, এবং তাঁর পিতার নাম সুওয়াইদ আল-আযদি আল-আহমারি। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি হলেন হিলাল ইবনে আবি হিলাল। তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন; তাঁর থেকে জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ী এবং মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন অসতর্ক শাইখ, তিনি আনাস থেকে এমন কিছু বর্ণনা করতেন যা তাঁর হাদিস নয়। কোনো অবস্থাতেই তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।” এবং আবু আহমদ ইবনে আদি ‘আল-কামিল’ (৭/১১৯) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্বাস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু জিলাল হলেন হিলাল আল-কাসমালী; তিনি দুর্বল, তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু নন। নাসাঈ বলেছেন: আবু জিলাল আল-কাসমালী দুর্বল। আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ ইবনে ইকাল এবং জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—শব্দগুলো ইবনে ইকালের—তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু জাফর আন-নুফাইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাহমা আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি একজন সত্যনিষ্ঠ শাইখ, আমি তাঁর নিকট থেকে প্রায় সত্তর বছর যাবৎ এটি শুনেছি—আবু জিলাল আল-কাসমালী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর একটি সবুজ পান্নার ফলক রয়েছে যা আরশের নিচে রাখা হয়েছে: আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আমি পরম করুণাময় এবং আমিই দয়া করি। আমি তিনশ তেরটির মতো সচ্চরিত্র সৃষ্টি করেছি। যে ব্যক্তি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’ এই সাক্ষ্যের সাথে এর মধ্য থেকে কোনো একটি সচ্চরিত্র নিয়ে আসবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” ইবনে আদি তাঁর কতিপয় প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: আবু জিলালের আরও বর্ণনা রয়েছে যা আমি উল্লেখ করিনি, এবং তাঁর অধিকাংশ বর্ণনাই এমন যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ সমর্থন করেন না। আবু আহমদ আল-হাকিম বলেছেন, যেমনটি ‘তাহযীবুত তাহযীব’ (১১/৮৫) গ্রন্থে রয়েছে: তিনি তাঁদের নিকট শক্তিশালী নন। একইভাবে যাহাবি এবং ইবনে হাজারও তাঁকে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
قُلْتُ: وَمِنْ أَنْكَرِ مَا رَوَى عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعَاً: «إِنَّ عَبْدَاً فِي جَهَنَّمَ يُنَادِي أَلْفَ سَنَةٍ: يَا حَنَّانُ يَا مَنَّانُ، فَيَقُولُ اللهُ عز وجل لِجِبْرِيلَ عليه السلام: اذْهَبْ، فَأْتِنِي بِعَبْدِي هَذَا، فَيَذْهَبُ جِبْرِيلُ عليه السلام، فَيَجِدُ أَهْلَ النَّارِ مُكِبِّينَ عَلَى وُجُوهِهِمْ يَبْكُونَ، فَيَرْجِعُ إِلَى رَبِّهِ عز وجل، فَيُخْبِرُهُ، فَيَقُولُ: ائْتِنِي بِهِ، فَإِنَّهُ فِي مَكَانِ كَذَا وَكَذَا، فَيَجِيءُ بِهِ، فَيُوقِفُهُ عَلَى رَبِّهِ عز وجل، فَيَقُولُ لَهُ: يَا عَبْدِي كَيْفَ وَجَدْتَ مَكَانَكَ، وَكَيْفَ وَجَدْتَ مَقِيلَكَ؟ ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ شَرَّ مَكَانٍ، وَشَرَّ مَقِيلٍ، فَيَقُولُ: رُدُّوا عَبْدِي فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، مَا كُنْتُ أَرْجُو إِذْ أَخْرَجْتَنِي مِنْهَا أَنْ تَرُدَّنِي فِيهَا، فَيَقُولُ: دَعُوا عَبْدِي» .أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ (3/230) ، وَابْنُ أَبِي الدُّنْيَا «حُسْنُ الظَّنِّ بِاللهِ» (110) ، وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ «التَّفْسِيْرُ» (15572) ، وَأَبُو يَعْلَى (4210) ، وَابْنُ خُزيْمَةَ «التَّوْحِيدُ وَإِثْبَاتُ صِفَاتِ الرَّبِّ» ، وَابْنُ حِبَّانَ «الْمَجْرُوحِينَ» (3/85) ، وَالْبَغَوِيُّ «شَرْحُ السُّنَّةِ» (4361) و «مَعَالِمُ التَّنْزِيلِ» ، وَابْنُ الْجَوْزِيُّ «الْمَوْضُوعَاتُ» (3/ 267) مِنْ طُرُقٍ عَنْ سَلَاّمِ بْنِ مِسْكِينٍ عَنْ أَبِي ظِلالٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ مرفوعاً بِنَحْوِهِ.رَوَاهُ عَنْ سَلَاّمِ بْنِ مِسْكِينٍ: الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى الأَشَيْبُ، وَشَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، وَأَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّمَّارُ، وَأَبُو النُّعْمَانِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ السَّدُوسِيُّ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَرَاهِيدِيُّ.قُلْتُ: وَهَذِهِ أَسَانِيدُ رِجَالُهَا ثِقَاتٌ كُلُّهُمْ، خَلا أَبَا ظِلالٍ الْقَسْمَلِيَّ، وَهُوَ الْمُتَّهَمُ بِهِ.قَالَ أَبُو الْفَرَجِ ابْنُ الْجَوْزِيِّ: «هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ بِصَحِيحٍ _ يَعْنِي مَوْضُوعَاً _. قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: أَبُو ظِلالٍ اسْمُهُ هِلالٌ لَيْسَ بِشَيْءٍ. وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: كَانَ مُغَفَّلاً يَرْوِى عَنْ أَنَسْ مَا لَيْسَ مِنْ حَدِيثِهِ، لا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ بِحَالٍ» .[تَنْبِيهٌ وَإِيْقَاظٌ] اقْتَصَرَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي «نَتَائِجِ الأَفْكَارِ» (1/318) عَلَى قَوْلِهِ: أَبُو ظِلالٍ، لَمْ أَرَ فِيهِ أَحْسَنَ مِمَّا نَقَلَ التِّرْمِذِيُّ عَن الْبُخَارِيِّ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْهُ، فَقَالَ: هُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ. وَقَدْ خُولِفَ فِي مَتْنِ الْحَدِيثِ، أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ (3667) ، وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الدُّعَاءِ (1766) مِنْ رِوَايَةِ مُوسَى بْنِ خَلَفٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ بِلَفْظِ: «لأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللهَ تَعَالَى مِنْ صَلاةِ الْغَدَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتِقَ أَرْبَعَةً مِنْ وَلَدِ إِسْماَعِيلَ» .قُلْتُ: وَزَادَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِهِ «وَلأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللهَ مِنْ صَلاةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَيَّ مَنْ أَنْ أَعْتِقَ أَرْبَعَةً» . وَقَدْ يُوهِمُ اقْتِصَارُ الْحَافِظِ عَلَى قَوْلِ الْبُخَارِيِّ فِي أَبِي ظِلالٍ أَنَّهُ يُقَوِّي أَمْرَهُ، وَيَتَغَاضَى عَنْ ضَعْفِهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ.فَقَدْ قَالَ فِي «فَتْحِ الْبَارِي» : وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْد الْجَمِيعِ، إِلَاّ أَنَّ الْبُخَارِيَّ قَالَ: إِنَّهُ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ.
আমি বলছি: আনাস (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত অত্যন্ত আপত্তিকর বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি হলো: "জাহান্নামে এক বান্দা এক হাজার বছর ধরে ডাকতে থাকবে: হে অতি দয়াবান, হে মহা অনুগ্রহকারী", তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল জিবরাঈল (আ.)-কে বলবেন: "যাও, আমার এই বান্দাকে নিয়ে আসো।" তখন জিবরাঈল (আ.) যাবেন এবং জাহান্নামীদের উপুড় হয়ে কাঁদতে দেখবেন। এরপর তিনি তাঁর প্রতিপালক আজ্জা ওয়া জালের কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে জানাবেন। তখন তিনি বলবেন: "তাকে নিয়ে আসো, সে অমুক অমুক স্থানে আছে।" অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে আসবেন এবং তাকে তাঁর প্রতিপালক আজ্জা ওয়া জালের সামনে দাঁড় করাবেন। তখন তিনি তাকে বলবেন: "হে আমার বান্দা! তোমার স্থানটি কেমন পেয়েছ এবং তোমার বিশ্রামস্থলটি কেমন পেয়েছ?" সে বলবে: "হে আমার প্রতিপালক! অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থান এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।" তখন তিনি বলবেন: "আমার বান্দাকে ফেরত নিয়ে যাও।" সে বলবে: "হে আমার প্রতিপালক! যখন আপনি আমাকে সেখান থেকে বের করেছেন, তখন আমি আশা করিনি যে আপনি আমাকে পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে দেবেন।" তখন তিনি বলবেন: "আমার বান্দাকে ছেড়ে দাও।"এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩/২৩০), ইবনুল আবিদ দুনইয়া 'হুসনুয যান্নি বিল্লাহ' (১১০), ইবনু আবি হাতিম 'আত-তাফসীর' (১৫৫৭২), আবু ইয়া'লা (৪২১০), ইবনু খুযাইমাহ 'আত-তাওহীদ ওয়া ইছবাতু সিফাতির রাব্ব', ইবনু হিব্বান 'আল-মাজরুহীন' (৩/৮৫), বাগাভী 'শারহুস সুন্নাহ' (৪৩৬১) ও 'মাআলিমুত তানযীল' এবং ইবনুল জাওযী 'আল-মাওদুআত' (৩/২৬৭) গ্রন্থে; বিভিন্ন সূত্রে সালাম ইবনে মিসকীন থেকে, তিনি আবু যিলাল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।সালাম ইবনে মিসকীন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব, শায়বান ইবনে ফাররুখ, আবু নাসর আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আযীয আত-তাম্মার, আবুল নুমান মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আস-সাদূসী এবং মুসলিম ইবনে ইবরাহীম আল-ফারাহীদী।আমি বলছি: এই সনদগুলোর রাবীরা সবাই নির্ভরযোগ্য, কেবল আবু যিলাল আল-কাসমালী ব্যতীত; আর সে-ই এই বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত।আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন: "এই হাদীসটি সহীহ নয়—অর্থাৎ এটি জাল। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: আবু যিলাল, যার নাম হিলাল, সে ধর্তব্য নয়। ইবনু হিব্বান বলেন: সে ছিল গাফেল, সে আনাস (রা.)-এর সূত্রে এমন সব হাদীস বর্ণনা করত যা তাঁর হাদীস নয়; কোনো অবস্থাতেই তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।"[সতর্কতা ও সচেতনতা] হাফেজ ইবনে হাজার 'নাতাইযুল আফকার' (১/৩১৮) গ্রন্থে শুধুমাত্র এটি উল্লেখ করেছেন যে: আবু যিলাল সম্পর্কে ইমাম বুখারী থেকে তিরমিযী যা বর্ণনা করেছেন, তার চেয়ে উত্তম আর কিছু আমি দেখিনি; যখন তাঁকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: সে হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি (মুকারিবুল হাদীস)। অথচ হাদীসের মূল পাঠের ক্ষেত্রে ভিন্নতা বর্ণিত হয়েছে। আবু দাউদ (৩৬৬৭) এবং তাবারানী 'আদ-দুআ' (১৭৬৬) গ্রন্থে মুসা ইবনে খালাফ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "ফজরের সালাত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরকারী সম্প্রদায়ের সাথে বসে থাকা আমার কাছে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরের চারজন গোলাম আজাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয়।"আমি বলছি: আবু দাউদ তাঁর বর্ণনায় এটিও বৃদ্ধি করেছেন যে: "আর আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরকারী সম্প্রদায়ের সাথে বসে থাকা আমার কাছে চারজন গোলাম আজাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয়।" হাফেজ ইবনে হাজার আবু যিলাল সম্পর্কে ইমাম বুখারীর বক্তব্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকায় এমন সংশয় হতে পারে যে, তিনি তার অবস্থাকে শক্তিশালী করছেন এবং তার দুর্বলতাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়।কেননা তিনি 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেছেন: সে সকলের নিকট দুর্বল, তবে ইমাম বুখারী বলেছেন যে সে হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি (মুকারিবুল হাদীস)।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[الطَّرِيقُ الثَّانِيَةُ] ثَوَّابَةُ بْنُ مَسْعُودٍ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْهُقَالَ الْبَيْهَقِيُّ «شُعَبِ الإِيْمانِ» (7/137/9761) : أَخْبَرَنَا أبُو نَصْرِ بْنُ قَتَادَةَ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَيُّوبَ الصِّبْغِىُّ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِىِّ بْنِ زِيَادٍ السَّرِيُّ نَا ابْنُ أَبِى أُوَيْسٍ نَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ ثَوَّابَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: تُوُفِّيَ ابْنُ لِعُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ، فَاشْتَدَّ حُزْنُهُ عَلَيْهِ حَتَّى اتَّخَذَ فِي دَارِهِ مَسْجِدَاً يَتَعَبَّدُ فِيهِ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «يَا عُثْمَانُ، إنَّ اللهَ عز وجل لَمْ يَكْتُبْ عَلَيْنَا الرَّهْبَانِيَّةَ، إِنَّمَا رَهْبَانِيَّةُ أُمَّتِي الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، يَا عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ، إِنَّ لِلْجَنَّةِ ثَمَانِيَةَ أَبْوَابٍ، ولِلنَّارِ سَبْعَةَ أَبْوَابٍ، فَمَا يَسُرُّكَ أَنْ لا تَأْتِيَ بَابَاً مِنْهَا إِلَاّ وَقَدْ وَجَدْتَ ابْنَكَ إِلَى جَنْبِكَ آخِذَاً بِحُجْزَتِكَ، يَسْتَشْفِعُ لَكَ إِلَى رَبِّكَ عز وجل» قَالَ: بَلَى، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلَنَا فِي فَرَطِنَا مَا لِعُثْمَانَ؟ ، قَالَ: «نَعَمْ، لِمَنْ صَبَرَ مِنْكُمْ وَاحْتَسَبَ» ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: «يَا عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ، مَنْ صَلَّى صَلاةَ الْفَجْرِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى مَطْلَعِ الشَّمْسِ كَانَ لَهُ فِي الْفِرْدَوْسِ سَبْعُونَ دَرَجَةً بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَرَكْضِ الْفَرَسِ الْجَوَادِ الْمُضَمَّرِ سَبْعِينَ سَنَةً، وَمَنْ صَلَّى الظُّهْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ فِي جَنَّاتٍ عَدْنٍ خَمْسُونَ دَرَجَةً بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَرَكْضِ الْفَرَسِ الْجَوَادِ الْمُضَمَّرِ خَمْسِينَ سَنَةً، وَمَنْ صَلَّى صَلاةَ الْعَصْرَ فِي جَمَاعَةٍ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ ثَمَانِيَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ كُلُّهُمْ رَبَّ بَيْتٍ أَعْتَقَهُمْ، وَمَنْ صَلَّى الْمَغْرِبَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَحَجَّةٍ مَبْرُورَةٍ وَعُمْرَةٍ مُتَقَبَّلَةٍ، وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ كَقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ» .وَأَخْرَجَهُ ابْنُ بَابَوَيْهِ الْقُمِّيُّ الرَّافِضِيُّ «الأَمَالِي» قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْمُتَوَكِّلِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللهِ الْكُوفِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبَرْمَكِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنِي ثَوَّابَةُ بْنُ مَسْعُودٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بِمِثْلِهِ.قُلْتُ: هَذَا إِسْنَادٌ وَاهٍ بِمَرَّةٍ، أَعْضَلَهُ ثَوَّابَةُ بْنُ مَسْعُودٍ فَلَمْ يَذْكُرْ مَنْ حَدَّثَهُ لِيُخْفِيَ أَمْرَهُ، وَهُوَ أَشْبَهُ بِمَنَاكِيْرِ يَزِيدَ بْنِ أَبَانَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ أَنَسٍ. وَثَوَّابَةُ بْنُ مَسْعُودٍ التَّنُوخِىُّ الْمِصْرِيُّ؛ قَالَ ابْنُ يُونُسَ فِي تَارِيْخِهِ: مُنْكَرُ الْحَدِيثِ، قَالَهُ الذَّهَبِيُّ.وَقَدْ قَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ «الْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلِ» (2/470/1912) : ثَوَّابَةُ بْنُ مَسْعُودٍ التَّنُوخِىُّ رَوَى عَنْ نُوحِ بْنِ ذَكْوَانَ وَشَدَّادِ بْنِ الْمِنْهَالِ. رَوَى عَنْهُ: ابْنُ وَهْبٍ.وقال فِي (4/331/1452) : شَدَّادُ بْنُ الْمِنْهَالِ رَوَى عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِىُّ. رَوَى عَنْهُ: ثَوَّابَةُ بْنُ مَسْعُودٍ شَيْخُ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَهْبٍ.
[দ্বিতীয় সূত্র] সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ, তার নিকট যিনি বর্ণনা করেছেন তার থেকেবায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ (৭/১৩৭/৯৭৬১) গ্রন্থে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর ইবন কাতাদাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন আইয়ুব আস-সিবগি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবন আলী ইবন যিয়াদ আস-সারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবি উওয়াইস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব, তিনি সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ থেকে, তিনি তার নিকট বর্ণনাকারী থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উসমান ইবন মাজউনের এক পুত্র মারা গেল, এতে তার শোক অত্যন্ত প্রবল হলো, এমনকি তিনি তার ঘরে একটি মসজিদ (ইবাদতখানা) তৈরি করলেন যাতে তিনি সেখানে ইবাদত করতে পারেন। এই সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: «হে উসমান, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের ওপর বৈরাগ্যবাদ লিখে দেননি, বরং আমার উম্মতের বৈরাগ্যবাদ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ করা। হে উসমান ইবন মাজউন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে এবং জাহান্নামের সাতটি দরজা। এটা কি তোমাকে আনন্দিত করে না যে, তুমি এর যে কোনো একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে গেলেই তোমার পুত্রকে তোমার পাশে পাবে, যে তোমার কোমর আঁকড়ে ধরে মহান রবের নিকট তোমার জন্য সুপারিশ করবে?» তিনি বললেন: অবশ্যই। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য কি আমাদের মৃত সন্তানদের ক্ষেত্রে উসমানের মতো সওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করবে এবং সওয়াবের আশা রাখবে তার জন্য এটি প্রযোজ্য।» অতঃপর তিনি তাকে বললেন: «হে উসমান ইবন মাজউন, যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকির করল, জান্নাতুল ফিরদাউসে তার জন্য সত্তরটি স্তর রয়েছে, যাদের প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো সত্তর বছর পর্যন্ত দ্রুতগামী প্রশিক্ষিত ঘোড়ার দৌড়ানোর সমপরিমাণ। আর যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে যোহরের সালাত আদায় করল, তার জন্য জান্নাতে আদনে পঞ্চাশটি স্তর রয়েছে, যাদের প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত দ্রুতগামী প্রশিক্ষিত ঘোড়ার দৌড়ানোর সমপরিমাণ। আর যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে আসরের সালাত আদায় করল, তার সওয়াব হলো ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরের আটজন দাসকে মুক্ত করার সমান যারা প্রত্যেকেই একেকটি পরিবারের কর্তা ছিল। আর যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করল, তা একটি কবুল হজ এবং কবুল হওয়া উমরার ন্যায়। আর যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ইশার সালাত আদায় করল, তার সওয়াব হলো লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমান।»রাফেযী ইবন বাবওয়াইহ আল-কুম্মী এটি তার ‘আল-আমালি’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবনুল মুতাওয়াক্কিল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আবি আব্দুল্লাহ আল-কুফি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বারমাকি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ, আনাস ইবন মালিক থেকে অনুরূপ।আমি বলছি: এটি অত্যন্ত দুর্বল একটি সনদ। সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ এটিকে অস্পষ্ট (মু'দাল) করেছেন, কারণ তিনি তার নিকট যিনি বর্ণনা করেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি যাতে তার পরিচয় গোপন থাকে, এটি ইয়াজিদ ইবন আবান আর-রাকাশী কর্তৃক আনাস থেকে বর্ণিত অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) বর্ণনাগুলোর সদৃশ। আর সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ আত-তানুখি আল-মিসরি সম্পর্কে ইবন ইউনুস তার ইতিহাসে বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদীস (যার হাদীস অগ্রহণযোগ্য), যা যাহাবী উল্লেখ করেছেন।ইবন আবি হাতিম ‘আল-জারহু ওয়াত তা’দীল’ (২/৪৭০/১৯১২) গ্রন্থে বলেছেন: সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ আত-তানুখি নুহ ইবন যাকওয়ান এবং শাদ্দাদ ইবনুল মিনহাল থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন ইবন ওয়াহাব।এবং তিনি (৪/৩৩১/১৪৫২) গ্রন্থে বলেছেন: শাদ্দাদ ইবনুল মিনহাল ইয়াজিদ আর-রাকাশী থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন সাওয়াবাহ ইবন মাসউদ, যিনি আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাবের শিক্ষক।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[الطَّرِيقُ الثَّالِثَةُ] ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ عَنْهُقَالَ الْبَيْهَقِيُّ «شُعَبِ الإِيْمانِ» (7/138/9762) : أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ أَنَا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْمُبَارَكِ نَا عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ نَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الَجَرَّاحِ الْقُهَسْتَانِيُّ نَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ عَنْ ضَرَّارِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: تُوُفِّيَ ابْنٌ لِعُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ، فَحَزِنَ عَلَيْهِ حُزْنَاً شَدِيدَاً، وَاتَّخَذَ فِي دَارِهِ مُصَلَّىً يَتَعَبَّدُ فِيهِ، وَغَابَ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم خمس عشرة ليلة، فَسَأَلَ عَنْهُ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرُوهُ أَنَّهُ مَاتَ لَهُ ابْنٌ، وَأَنَّهُ حَزِنَ عَلَيْهِ حُزْنَاً شَدِيدَاً، وَأَنَّهُ اتَّخَذَ فِي دَارِهِ مُصَلَّىً يَتَعَبَّدُ فِيهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ادْعُهْ لِي، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» ، فَلَمَّا أَتَاهُ قَالَ لَهُ: «يَا عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ، أَمَا تَرْضَى أَنَّ لِلْجَنَّةِ ثَمَانِيَةَ أَبْوَابٍ، وَلِلنَّارِ سَبْعَةَ أَبْوَابٍ، لا تَنْتَهِي إِلَى بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، إِلَاّ وَجَدْتَ ابْنَكَ قَائِمَاً عِنْدَهُ آخِذَاً بِحُجْزَتِكَ يَشْفَعُ لَكَ عِنْدَ رَبِّكَ» ، قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ: وَلَنَا فِي أَبْنَائِنَا مِثْلُ ذَلِكَ؟ ، قَالَ: «نَعَمْ، وَلِكُلِّ مَنْ احْتَسَبَ مِنْ أُمَّتِي» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عُثْمَانُ، هَلْ تَدْرِي مَا رَهْبَانِيَّةُ الإسلام! ، الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، يَا عُثْمَانُ؛ مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي الْجَمَاعَةِ، ثُمَّ ذَكَرَ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ كَانَتْ لَهُ كَحَجَّةٍ مَبْرُورَةٍ وَعُمْرَةٍ مُتَقَبَّلَة، وَمَنْ صَلَّى صَلاةَ الظُّهْرِ فِي جَمَاعَةٍ كَانَتْ لَهُ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ صَلاةً كُلُّهَا مِثْلُهَا وَسَبْعِينَ دَرَجَةً فِي الْفِرْدَوْسِ، وَمَنْ صَلَّى صَلاةَ الْعَصْرِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ ذَكَرَ اللهَ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ كَانَتْ لَهُ كَعِتْقِ ثَمَانِيَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ دِيَةُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ اثْنَا عَشَرَ أَلْفَاً، وَمَنْ صَلَّى صَلاةَ الْمَغْرِبِ فِي جَمَاعَةٍ كَانَتْ لَهُ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ صَلاةً كُلُّهَا مِثْلُهَا وَسَبْعِينَ دَرَجَةً فِي جَنَّةِ عَدْنٍ، وَمَنْ صَلَّى صَلاةَ الْعِشَاءِ فِي جَمَاعَةٍ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ» .قُلْتُ: هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ شِبْهُ الْمَوْضُوعِ، وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ جِدَّاً. فِيهِ ثَلاثَةٌ مِنَ الضُّعَفَاءِ: ضَرَّارُ بْنُ عَمْرٍو، وَبَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ، وَعَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ. وَأَشَدُّهُمْ ضَعْفَاً: ضَرَّارُ بْنُ عَمْرٍو الْمَلْطِيُّ.
[তৃতীয় পথ] সাবেত আল-বুনানি তার থেকে বর্ণনা করেছেনবাইহাকি 'শুআবুল ঈমান' (৭/১৩৮/৯৭৬২) গ্রন্থে বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তৈয়ব মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন আল-জাররাহ আল-কুহিস্তানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল খালেক বিন ইব্রাহিম বিন তাহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন তার পিতা থেকে, তিনি বকর বিন খুনাইস থেকে, তিনি দাররার বিন আমর থেকে, তিনি সাবেত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান বিন মাজউনের এক পুত্র ইন্তেকাল করল, ফলে তিনি তার জন্য অত্যন্ত শোকাতুর হলেন এবং নিজ বাড়িতে ইবাদত করার জন্য একটি সালাতের স্থান নির্ধারণ করলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে পনের রাত অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা সংবাদ দিল যে, তার এক পুত্র মারা গেছে এবং তিনি তার জন্য অত্যন্ত শোকাতুর হয়েছেন এবং নিজ বাড়িতে ইবাদত করার জন্য একটি সালাতের স্থান নির্ধারণ করেছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাকে আমার কাছে ডাকো এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" অতঃপর যখন তিনি আসলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "হে উসমান বিন মাজউন! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে এবং জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে; তুমি জান্নাতের যে দরজার কাছেই পৌঁছাবে, সেখানেই তোমার পুত্রকে দণ্ডায়মান অবস্থায় পাবে, যে তোমার কোমরের কাপড় ধরে তোমার রবের কাছে তোমার জন্য সুপারিশ করবে?" তিনি বললেন: "অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!" মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ বললেন: "আমাদের সন্তানদের ব্যাপারেও কি আমাদের জন্য এমন ফযিলত রয়েছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এবং আমার উম্মতের মধ্য থেকে যে কেউ নেকির আশায় ধৈর্য ধারণ করবে তাদের সকলের জন্যই।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উসমান! তুমি কি জানো ইসলামের বৈরাগ্যবাদ কী? আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। হে উসমান! যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে, অতঃপর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করে, তা তার জন্য একটি মকবুল হজ ও কবুল ওমরাহর সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে যোহরের সালাত আদায় করে, তার জন্য পঁচিশ ওয়াক্ত সালাতের নেকি হবে যেগুলোর প্রতিটিই তার সমতুল্য এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে সত্তরটি মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে আসরের সালাত আদায় করে, অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করে, তা তার জন্য ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের আটজন গোলামকে মুক্ত করার সমান হবে, যাদের প্রত্যেকের রক্তপণ হলো বারো হাজার। আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করে, তার জন্য পঁচিশ ওয়াক্ত সালাতের নেকি হবে যেগুলোর প্রতিটিই তার সমতুল্য এবং জান্নাতুল আদনে সত্তরটি মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করে, তার জন্য লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমান সওয়াব হবে।"আমি বলছি: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদীস যা প্রায় জাল হাদীসের সদৃশ, আর এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। এতে তিনজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন: দাররার বিন আমর, বকর বিন খুনাইস এবং আব্দুল খালেক বিন ইব্রাহিম বিন তাহমান। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্বল হলেন দাররার বিন আমর আল-মালতি।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (4/100) : ضَرَّارُ بْنُ عَمْرٍو، يُقَالُ: إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ مَلْطِيَةَ.حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعْدٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِى مَرْيَمَ قَالَ: سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ عَنْ ضَرَّارِ بْنِ عَمْرٍو فقَالَ: لَيْسَ بِشَيْءٍ، وَلا يُكْتَبُ حَدِيثُهُ. سَمِعْتُ ابْنَ حَمَّادٍ يَقُولُ: ضَرَّارُ بْنُ عَمْرٍو، رَوَى عَنْهُ الْحَكَمُ بْنُ عَمْرٍو فِيهِ نَظَرٌ.وَذَكَرَ مِنْ مَنَاكِيْرِهِ: عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَوْ أَنَّ آدَمَ وَمَنْ دُونَهُ مِنَ النَّاسِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ أَكَبَّهُمُ اللهُ فِي النَّارِ» .وَعَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ إِنَّهُ فِي النَّارِ فَهُوَ فِي النَّارِ، وَمَنْ قَالَ إِنَّهُ فِي الْجَنَّةِ فَهُوَ فِي النَّارِ» .قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: وَضَرَّارُ بْنُ عَمْرٍو هَذَا مُنْكَرُ الْحَدِيثِ، وَلَهُ غَيْرُ مَا ذَكَرْتُ.وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ «الْمَجْرُوحِينَ» (1/380) : ضَرَّارُ بْنُ عَمْرٍو الْمَلْطِيُّ، يَرْوِي عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِىِّ وَأَهْلِ الْبَصْرَةِ. رَوَى عَنْهُ النَّاسُ، مُنْكَرُ الْحَدِيثِ جِدَّاً، كَثِيْرُ الرِّوَايَةِ عَنِ الْمَشَاهِيْرِ بِالأَشْيَاءِ الْمَنَاكِيْرِ، فَلَمَّا غَلَبَ الْمَنَاكِيْرُ فِي أَخْبَارِهِ بَطَلَ الاحْتِجَاجُ بِآثَارِهِ.وَأَمَّا بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ، فَشَيْخٌ صَالِحٌ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ فِي نَفْسِهِ، لَكِنَّهُ يَرْوِي عَنِ أَقْوَامٍ ضُعَفَاءَ مَنَاكِيْرَ، فَضَعَّفُوه لِذَلِكَ.قَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ «الْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ» (2/384) : قَالَ أَبِي: كَانَ رَجُلاً صَالِحَاً غَزَّاءً، وَلَيْسَ بِقَوِيٍّ فِي الْحَدِيثِ، قُلْتُ: هُوَ مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ؟ ، قَالَ: لا يَبْلُغُ بِهِ التَّرْكَ.وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (2/25) : يُحَدِّثُ بِأَحَادِيثَ مَنَاكِيْرَ عَنْ قَوْمٍ لا بَأْسَ بِهِمْ، وَهُوَ فِي نَفْسِهِ رَجُلٌ صَالِحٌ، إِلَاّ أَنَّ الصَّالِحِينَ، يُشَبَّهُ عَلَيْهُمُ الْحَدِيثُ، وَرُبَّمَا حَدَّثُوا بِالتَّوَهُّمِ، وَحَدِيثُهُ فِي جُمْلَةِ حَدِيثِ الضُّعَفَاءِ، وَلَيْسَ مِمَّنْ يُحْتَجُّ بِحَدِيثِهِ.وَبَالَغَ ابْنُ حِبَّانَ فَاتَّهَمَهُ بِالْوَضْعِ، فَقَالَ «الْمَجْرُوحِينَ» (1/195) : يَرْوِي عَنِ الْبَصْرِيِّينَ وَالْكُوفِيِّينَ أَشْيَاءَ مَوْضُوعَةً يَسْبِقُ إِلَى الْقَلْبِ أَنَّهُ الْمُتَعَمِّدُ لَهَا.فَرَدَّهُ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ بِقَوْلِهِ «التَّقْرِيبُ» (1/126) : كُوفِيٌّ عَابِدٌ صَدُوقٌ لَهُ أَغْلاطٌ، أَفْرَطَ فِيهِ ابْنُ حِبَّانَ.
ইবন আদি 'আল-কামিল' (৪/১০০) গ্রন্থে বলেন: দ্বিরার ইবন আমর, বলা হয় যে তিনি মালতিয়াহর অধিবাসী ছিলেন।আমাদের নিকট আলী ইবন আহমদ ইবন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন সা'দ অর্থাৎ ইবন আবু মারিয়াম, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবন মাঈনকে দ্বিরার ইবন আমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: "তিনি কিছুই নন, এবং তাঁর হাদিস লিখে রাখা যাবে না।" আমি ইবন হাম্মাদকে বলতে শুনেছি: দ্বিরার ইবন আমর, তাঁর থেকে হাকাম ইবন আমর বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।এবং তিনি তাঁর মুনকার বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখ করেছেন: ইয়াযিদ আল-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকল মানুষ একজন মুমিনের রক্তপাতে শরিক হতো, তবে আল্লাহ তাদের সবাইকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতেন।"এবং হাসান থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে সে জাহান্নামে, সে তো জাহান্নামেই আছে; আর যে ব্যক্তি বলে যে সে জান্নাতে, সেও জাহান্নামে যাবে।"ইবন আদি বলেন: আর এই দ্বিরার ইবন আমর হচ্ছেন 'মুনকারুল হাদিস', এবং আমার উল্লেখ করা হাদিসগুলো ছাড়াও তাঁর আরও বর্ণনা রয়েছে।ইবন হিব্বান 'আল-মাজরুহীন' (১/৩৮০) গ্রন্থে বলেন: দ্বিরার ইবন আমর আল-মালতি, তিনি ইয়াযিদ আল-রাকাশি ও বসরার অধিবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে লোকজন বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তিনি অত্যন্ত 'মুনকারুল হাদিস'। তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের বরাতে প্রচুর মুনকার বিষয় বর্ণনা করেন। যখন তাঁর বর্ণিত সংবাদের মধ্যে মুনকারের আধিক্য দেখা গেল, তখন তাঁর বর্ণিত বর্ণনাগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে গেল।আর বকর ইবন খুনাইস সম্পর্কে কথা হলো, তিনি ব্যক্তি হিসেবে একজন সৎ শাইখ ছিলেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে অনেক মুনকার হাদিস বর্ণনা করতেন, যার ফলে মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।ইবন আবু হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত তাদীল' (২/৩৮৪) গ্রন্থে বলেন: আমার পিতা বলেছেন: তিনি একজন সৎ ও জিহাদকারী ব্যক্তি ছিলেন, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি শক্তিশালী ছিলেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তিনি কি 'মাতরুকুল হাদিস' (পরিত্যক্ত)? তিনি বললেন: না, তিনি ত্যাগের পর্যায়ে পৌঁছাননি।ইবন আদি 'আল-কামিল' (২/২৫) গ্রন্থে বলেন: তিনি এমন বর্ণনাকারীদের থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করেন যারা নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে একজন সৎ মানুষ, তবে সৎ লোকেদের নিকট অনেক সময় হাদিস গোলমেলে হয়ে যায় এবং কখনো কখনো তাঁরা অনুমানের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা করে ফেলেন। তাঁর হাদিস দুর্বলদের হাদিসের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এমন ব্যক্তি নন যার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায়।ইবন হিব্বান কঠোরতা অবলম্বন করে তাঁকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি 'আল-মাজরুহীন' (১/১৯৫) গ্রন্থে বলেন: তিনি বসরা ও কুফার বর্ণনাকারীদের থেকে এমন সব জাল বিষয় বর্ণনা করেছেন, যা হৃদয়ে এই ধারণা দেয় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করেছেন।হাফিজ ইবন হাজার এটি খণ্ডন করে 'আত-তাকরিব' (১/১২৬) গ্রন্থে বলেন: তিনি কুফার একজন ইবাদতকারী ও সত্যবাদী ব্যক্তি ছিলেন, তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি ছিল। ইবন হিব্বান তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
[الْحَدِيثُ الثَّانِي] حَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه[الطَّرِيقُ الأُولَى] الْقَاسِمُ أبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْهُقَالَ الطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (8/178/7741) و «مُسْنَدُ الشَّامِيِّينَ» (885) : حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بن إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه قَال َ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى صَلاةَ الْغَدَاةِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، انْقَلَبَ بِأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ» .قُلْتُ: هَذَا مُنْكَرٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ، وَلَهُ عِلَّتَانِ:[الأُولَى] تَفَرُّدُ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِهَذَا الْمَتْنِ، مَعَ ضَعْفِهِ لِرِوَايَتِهِ الْمَنَاكِيْرَ عَنِ الْمَجَاهِيلِ، وَرُمِيَ بِالتَّدْلِيسِ (1) .قَالَ الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ الْمِزِّيُّ «تَهْذِيبُ الْكَمَالِ» (19/428/3838) : «عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيُّ، أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ، الْمَعْرُوفُ بِالطَّرَائِفِيِّ، وَإِنَّمَا قِيلَ لَهُ ذَلِكَ لأَنَّهُ كَانَ يَتَتَبَّعُ طَرَائِفَ الْحَدِيثِ. قَالَ الْبُخَارِيُّ: يَرْوِي عَنْ قَوْمٍ ضُعَفَاءِ.وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ: ذَكَرَهُ أَبِي عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ قَالَ: عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيُّ ثِقَةٌ. وَسَأَلْتُ أَبِي عَنْهُ، فَقَالَ: صَدُوقٌ وَأَنْكَرَ عَلَى الْبُخَارِيِّ إدْخَالَهُ فِي «كِتَابِ الضُّعَفَاءِ» ، يُشْبِهُ بَقِيَّةَ فِي رِوَايَتِهِ عَنِ الضُّعَفَاءِ. وَقَالَ الْحَاكِمُ أَبُو أَحْمَدَ: يُعْرَفُ بِالطَّرَائِفِيِّ وَإِنَّمَا لُقِّبَ بِذَلِكَ لأَنَّهُ كَانَ يَتَتَبَّعُ طَرَائِفَ الْحَدِيثِ، يَرْوِي عَنْ قَوْمٍ ضِعَافٍ، حَدِيثُهُ لَيْسَ بِالْقَائِمِ. وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ: سَمِعْتُ أَبَا عَرُوبَةَ يِنْسُبُهُ إِلَى الصِّدْقِ، وَقَالَ: لا بَأْسَ بِهِ، مُتَعَبَّدٌ، وَيُحَدِّثُ عَنْ قَوْمٍ مَجْهُولِينَ بِالْمَنَاكِيْرِ. وَقَالَ أَيْضَاً: سَمِعْتُ أَبَا عَرُوبَةَ يَقُولُ: كَانَ الطَّرَائِفِيُّ يَرْوِي عَنْ مَجْهُولِينَ، وَعِنْدَهُ عَجَائِبُ، وَهُوَ فِي الْجَزَرِيِّينَ كَبَقِيَّةَ فِي الشَّامِيِّينَ، لأَنَّ بَقِيَّةَ أَيْضَاً يَرْوِي عَنْ مَجْهُولِينَ، وَعِنْدَهُ عَجَائِبُ.قَالَ أَبُو أَحْمَدَ: وَصُورَةُ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ لا بَأْسَ بِهِ كَمَا قَالَ أَبُو عَرُوبَةَ إِلَاّ أَنَّهُ يُحَدِّثُ عَنْ قَوْمِ مَجْهُولِينَ بِعَجَائِبَ، وَتِلْكَ الْعَجَائِبُ مِنْ جِهَةِ الْمَجْهُولِينَ، وَهُوَ فِي أَهْلِ الْجَزِيرَةِ كَبِقَيَّةَ فِي أَهْلِ الشَّامِ، وَبَقِيَّةُ أَيْضَاً يُحَدِّثُ عَنْ مَجْهُولِينَ بِعَجَائِبَ، وَهُوَ فِي نَفْسِهِ لا بَأْسَ بِهِ، صَدُوقٌ، وَمَا يَقَعُ فِي حَدِيثِهِ مِنَ الانْكَارِ فَإِنَّمَا هُوَ مِنْ جِهَةِ مَنْ يَرْوِي عَنْهُمْ» .وَفَاتَ الْحَافِظَ الْمِزِّيَّ قَوْلُ ابْنِ حِبَّانَ «الْمَجْرُوحِينَ» عَنْهُ: «يَرْوِي عَنْ أَقْوَامٍ ضِعَافٍ أَشْيَاءَ يُدَلِّسُهَا عَنِ الثِّقَاتِ حَتَّى إِذَا سَمِعَهَا الْمُسْتَمِعُ لَمْ يَشُكَّ فِي وَضْعِهَا، فَلَمَّا كَثُرَ ذَلِكَ فِي أَخْبَارِهِ أُلْزِقَتْ بِهِ تَلِكَ الْمَوْضُوعَاتِ، وحمل على الناس فِي الجرح، فَلا يَجُوزُ عِنْدِيَ الاحْتِجَاجُ بِرِوَايَاتِهِ كُلِّهَا عَلَى حَالَةٍ مِنَ الأَحْوَالِ لِمَا غَلَبَ عَلَيْهَا مِنَ الْمَنَاكِيْرِ عَنِ الْمَشَاهِيْرِ، وَالْمَوْضُوعَاتِ عَنِ الثِّقَاتِ» .قُلْتُ: وَأَوْجَزُ الأَقْوَالِ وَأَعْدَلُهَا: قَوْلُ ابْنِ حَجَرٍ «التَّقْرِيبِ» (2/11) : صَدُوقٌ، أَكْثَرَ الرِّوَايَةَ عَنِ الضُّعَفَاءِ وَالْمَجَاهِيلِ، فَضُعِّفَ بِسَبَبِ ذَلِكِ. فَمِثْلُهُ لا يُحْتَجُّ بِهِ إِذَا تَفَرَّدَ، فَكَيْفَ إذَا خَالَفَ؟! ، وَبَيَانُهُ فِيمَا يَأْتِي.
--------------------------------------------
(1) تَرْجَمَةُ الطَّرَائِفِيِّ: التَّارِيْخُ الْكَبِيْرُ لِلْبُخَارِيِّ (6/238/2269) ، وَالْكُنَى لِمُسْلِمٍ (الْوَرَقَةُ 67) ، وَضُعَفَاءُ الْعُقَيْلِيِّ (3/207) ، والْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ لابْنِ أَبِي حَاتِمٍ (6/157/868) ، وَالْمَجْرُوحِينَ لابْنِ حِبَّانَ (2/96) ، وَالْكَامِلُ لابْنِ عَدِيٍّ (5/173) ، وَثِقَاتُ ابْنِ شَاهِينَ (التَّرْجَمَةُ 735) ، وَالأَنْسَابُ لِلسَّمْعَانِيِّ (8/227) ، وَضُعَفَاءُ ابْنِ الْجَوْزِيِّ (2/169) ، وَتَهْذِيبُ الْكَمَالِ (19/428) ، وَتَذْهِيبُ التَّهْذِيبِ (3/ الْوَرَقَةُ 32) ، وَدِيوَانُ الضُّعَفَاءِ (التَّرْجَمَةُ 2773) ، وَرِجَالُ ابْنِ مَاجَهْ (الْوَرَقَةُ 15) ، وَسِيَرُ أَعْلامِ الْنُبَلاءِ (9/426) ، وَالْعِبَرُ فِي خَبَرِ مَنْ عَبَرَ (1/340) ، وَالْكَاشِفُ (2/10/3718) ، وَالْمُغْنِي فِي الضُّعَفَاءِ (التَّرْجَمَةُ 4036) ، وَمِيزَانُ الاعْتِدَالِ (5/60/5538) ، وَنِهَايَةُ السُّولِ (الْوَرَقَةُ 237) ، وَالتَّبْيِينُ لأَسْمَاءِ الْمُدَلِّسِينَ (التَّرْجَمَةُ 52) ، وَتَهْذِيبُ التَّهْذِيبِ (7/134 - 135) ، وَتَقْرِيبُ التَّهْذِيبِ (2/11) ، وَطَبَقَاتُ الْمُدَلِّسِينَ (التَّرْجَمَةُ 146) ، وَلِسَانُ الْمِيزَانِ (7/302) ، وَخُلاصَةُ الْخَزْرَجِيِّ (التَّرْجَمَةُ 4763) .
[দ্বিতীয় হাদিস] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস[প্রথম সূত্র] আল-কাসিম আবু আবদুর রহমান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেনতাবারানি ‘আল-কাবীর’ (৮/১৭৮/৭৭৪১) এবং ‘মুসনাদুশ শামিয়্যীন’ (৮৮৫)-এ বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে ইসহাক আত-তুস্তারি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-মুগিরা ইবনে আবদুর রহমান আল-হাররানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবদুর রহমান, তিনি মূসা ইবনে আলী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, এরপর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করল, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করল, সে একটি হজ ও উমরার সওয়াব নিয়ে ফিরল।»আমি বলছি: এই সনদে এটি একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস, আর এর দুটি ত্রুটি রয়েছে:[প্রথমত] এই মতন (মূল পাঠ) বর্ণনায় উসমান ইবনে আবদুর রহমানের একক হয়ে যাওয়া, সাথে সাথে তিনি দুর্বল, কারণ তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদলীসের (সনদে তথ্য গোপন করা) অভিযোগ রয়েছে (১)।হাফেজ আবু হাজ্জাজ আল-মিযযি ‘তাহযীবুল কামাল’ (১৯/৪২৮/৩৮৩৮)-এ বলেছেন: «উসমান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুসলিম আল-হাররানি, আবু আবদুর রহমান—অন্যান্য নামও বলা হয়েছে—যিনি ‘তরাইফি’ নামে পরিচিত। তাঁকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো তিনি বিরল ও আজব (তরাইফ) হাদিসের অনুসন্ধান করতেন। ইমাম বুখারি বলেছেন: তিনি দুর্বল একদল লোক থেকে হাদিস বর্ণনা করেন।আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমার পিতা ইসহাক ইবনে মানসুরের বরাতে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: উসমান ইবনে আবদুর রহমান আত-তাইমি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে ইমাম বুখারি কর্তৃক তাঁকে ‘কিতাবুয যুয়াফা’ (দুর্বলদের তালিকা)-তে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি দুর্বলদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘বাকিয়্যাহ’র সদৃশ। হাকেম আবু আহমদ বলেছেন: তিনি তরাইফি নামে পরিচিত, আর তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি বিরল হাদিস খুঁজতেন। তিনি একদল দুর্বল লোক থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর হাদিস মজবুত নয়। আবু আহমদ ইবনে আদি বলেছেন: আমি আবু আরুবাহকে তাঁর সততার সাক্ষ্য দিতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ব্যক্তি; তবে তিনি অজ্ঞাত লোকদের থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন: আমি আবু আরুবাহকে বলতে শুনেছি: তরাইফি অজ্ঞাত লোকদের থেকে বর্ণনা করতেন এবং তাঁর কাছে আজব সব বর্ণনা থাকত। তিনি জাজিরাবাসীদের মধ্যে ঠিক তেমন যেমন শামবাসীদের মধ্যে বাকিয়্যাহ; কারণ বাকিয়্যাহও অজ্ঞাত লোকদের থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর কাছে আজব সব বর্ণনা রয়েছে।আবু আহমদ বলেন: উসমান ইবনে আবদুর রহমানের অবস্থা হলো এই যে, তিনি নিজে মন্দ নন যেমনটি আবু আরুবাহ বলেছেন, তবে তিনি অজ্ঞাত লোকদের থেকে আজব সব হাদিস বর্ণনা করেন। আর সেই আজব বর্ণনাগুলো সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেই এসেছে। তিনি জাজিরাবাসীদের মধ্যে বাকিয়্যাহর মতো, আর বাকিয়্যাহও অজ্ঞাত লোকদের থেকে আজব হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মন্দ নন, সত্যবাদী; তবে তাঁর হাদিসের মধ্যে যে মুনকার বা অগ্রহণযোগ্যতা পরিলক্ষিত হয়, তা মূলত সেই ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন।»হাফেজ মিযযি ইবন হিব্বানের ‘আল-মাজরুহীন’ গ্রন্থের সেই উক্তিটি উল্লেখ করতে ছেড়ে দিয়েছেন যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি দুর্বল লোকদের থেকে এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেন যেগুলোকে নির্ভরযোগ্যদের (সিকাহ) নামে তাদলীস করেন, ফলে কোনো শ্রোতা যখন তা শোনে, তখন তা যে জাল করা হয়েছে সে বিষয়ে তার মনে কোনো সন্দেহ থাকে না। যখন তাঁর বর্ণনায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটতে শুরু করল, তখন সেই জাল বর্ণনাগুলো তাঁর সাথে জড়িয়ে গেল এবং বর্ণনাকারী হিসেবে তিনি সমালোচিত হলেন। সুতরাং আমার মতে কোনো অবস্থাতেই তাঁর বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ নয়, কারণ নির্ভরযোগ্যদের সূত্রে তিনি প্রচুর পরিমাণে মুনকার ও জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন।»আমি বলছি: সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও ইনসাফপূর্ণ কথা হলো ইবনে হাজার ‘তাকরীব’ (২/১১)-এ যা বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে দুর্বল ও অজ্ঞাতদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, এ কারণেই তাঁকে দুর্বল বলা হয়েছে। সুতরাং তাঁর মতো বর্ণনাকারী যখন একক হয়ে যান, তখন তাঁর বর্ণনা দলিলযোগ্য হয় না, তাহলে যখন তিনি বিরোধিতা করেন তখন কীভাবে হবে?! এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
--------------------------------------------
(১) তরাইফির জীবনী: বুখারির ‘আত-তারিখুল কাবীর’ (৬/২৩৮/২২৬৯), মুসলিমের ‘আল-কুনা’ (পৃষ্ঠা ৬৭), উকাইলির ‘যুয়াফা’ (৩/২০৭), ইবনে আবি হাতিমের ‘আল-জারহ ওয়াত-তাদীল’ (৬/১৫৭/৮৬৮), ইবন হিব্বানের ‘আল-মাজরুহীন’ (২/৯৬), ইবনে আদির ‘আল-কামিল’ (৫/১৭৩), ইবনে শাহীনের ‘আস-সিকাত’ (জীবনী ৭৩৫), সামআনির ‘আল-আনসাব’ (৮/২২৭), ইবনুল জাওযির ‘যুয়াফা’ (২/১৬৯), ‘তাহযীবুল কামাল’ (১৯/৪২৮), ‘তাযহীবুত তাহযীব’ (৩/ পৃষ্ঠা ৩২), ‘দিওয়ানুয যুয়াফা’ (জীবনী ২৭৭৩), ইবনে মাজাহর রিজাল (পৃষ্ঠা ১৫), ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (৯/৪২৬), ‘আল-ইবার ফী খবর মান আবার’ (১/৩৪০), ‘আল-কাশিফ’ (২/১০/৩৭১৮), ‘আল-মুগনি ফীয যুয়াফা’ (জীবনী ৪০৩৬), ‘মিযানুল ইতিদাল’ (৫/৬০/৫৫৩৮), ‘নিহায়াতুস সুল’ (পৃষ্ঠা ২৩৭), ‘আত-তাবয়ীন লি আসমাইল মুদাল্লিসীন’ (জীবনী ৫২), ‘তাহযীবুত তাহযীব’ (৭/১৩৪ - ১৩৫), ‘তাকরীবুত তাহযীব’ (২/১১), ‘তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন’ (জীবনী ১৪৬), ‘লিসানুল মিযান’ (৭/৩০২), খাযরাজির ‘খুলাসাতুল খাযরাজি’ (জীবনী ৪৭৬৩)।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَنَزِيدُكَ إِيْضَاحَاً وَتَبْصِيْرَاً بِبَعْضِ مَعْنَى قَوْلِ ابْنِ حِبَّانَ عَنْهُ: «يَرْوِي عَنْ أَقْوَامٍ ضِعَافٍ أَشْيَاءَ يُدَلِّسُهَا عَنِ الثِّقَاتِ حَتَّى إِذَا سَمِعَهَا الْمُسْتَمِعُ لَمْ يَشُكَّ فِي وَضْعِهَا، فَلَمَّا كَثُرَ ذَلِكَ فِي أَخْبَارِهِ أُلْزِقَتْ بِهِ تَلِكَ الْمَوْضُوعَاتِ» ، فَإِنَّ مَنْ لَمْ يَسْبُرْ رِوَايَاتِ الطَّرَائِفِيِّ رُبَّمَا يَسْتَنْكِرُ قَوْلَهُ، وَلا يُدْرِكُ دِلالَتَهُ، وَيَصِفُ ابْنَ حِبَّانَ بِالْعَنَتِ وَالتَّشَدُّدِ. فَهَذِهِ ثُلاثِيَّةٌ مِنَ الْمَوْضُوعَاتِ بِهَذِهِ الْمَثَابَةِ مِنْ تَعْصِيبِ التُّهْمَةِ بِهِ دُونَ شُيُوخِهِ، لِجَهَالَتِهِمْ وَنَكَارَتِهِمْ:[1] قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ (2/85) : أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْعَبَّاسِ الطَّيَالِسِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُفَضَّلٍ الْحَرَّانِيُّ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ثَنَا تَمِيمُ بْنُ خَرْشَفٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا اغْرَوْرَقَتْ عَيْنٌ بِمَائِهَا إِلَاّ حَرَّمَ اللهُ عَلَى النَّارِ جَسَدَ صَاحِبِهَا، فَإِنَّ فَاضَتْ عَلَى جَسَدِ صَاحِبِهَا لَمْ يَرْهَقْ وَجْهَهُ قَتَرٌ وَلا ذِلَّةٌ، وَمَا مِنْ عَمَلٍ إِلَاّ وَلَهُ ثَوَابٌ إِلَاّ الدَّمْعَةَ، فَإِنَّهَا تُطْفِئُ بُحُورَ النَّارِ، وَلَوْ أَنَّ عَبْدَاً بَكَى فِي أُمَّةٍ لَرَحِمَ اللهُ تِلْكَ الأُمَّةَ بِبُكَاءِ ذَلِكَ الْعَبْدِ» .قَالَ أَبُو أَحْمَدَ: وَتَمِيمُ بْنُ خَرْشَفٍ هَذَا لا أَعْرِفْ لَهُ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ قَتَادَةَ، لَمْ يَرْوِهِ عَنْهُ غَيْرُهُ، وَهُوَ مُنْكَرٌ يَرْوِيهِ عَنْ تَمِيمٍ: عُثْمَانُ الطَّرَائِفِيُّ. وَسَمِعْتُ أَبَا عَرُوبَةَ يَقُولُ: عُثْمَانُ فِينَا كَبَقِيَّةَ فِي أَهْلِ الشَّامِ، بَقِيَّةُ يَرْوِي عَنِ الْمَجْهُولِينَ، وَكَذَلِكَ عُثْمَانُ يَرْوِي عَنِ الْمَجْهُولِينَ، وَتَمِيمٌ مَجْهُولٌ.[2] وَقَالَ (1/168) : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَاجِيَةَ الْحَرَّانِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُفَضَّلٍ ثَنَا عُثْمَانُ الطَّرَائِفِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ الشَّامِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أُطْعِمَ طَعَامٌ عَلَى مَائِدَةٍ، وَلا جُلِسَ عَلَيْهَا، وَفِيهَا اسْمِي إِلَاّ قُدِّسُوا كُلَّ يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ» .[3] وَقَالَ (1/168) : وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَاجِيَةَ الْحَرَّانِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُفَضَّلٍ ثَنَا عُثْمَانُ الطَّرَائِفِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ الشَّامِيُّ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ قَطُّ فِي مَشُورَةٍ، فِيهِمْ رَجُلٌ اسْمُهُ مُحَمَّدٌ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي مَشُورَتِهِمْ إِلَاّ لَمْ يُبَارَكْ لَهُمْ» .قَالَ أَبُو أَحْمَدَ: وَهَذَانِ الْحَدِيثَانِ لَيْسَا مَحْفُوظَيْنِ، وَأَحْمَدُ الشَّامِيُّ هَذَا هُوَ ابْنُ كِنَانَةَ يَرْوِي عَنْهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ. وَسَمِعْتُ أَبَا عَرُوبَةَ يَقُولُ: عُثْمَانُ الطَّرَائِفِيُّ يَرْوِي عَنْ مَجْهُولِينَ، وَعِنْدَهُ عَجَائِبُ، وَهُوَ فِي الْجَزَرِيِّينَ كَبَقِيَّةَ فِي الشَّامِيِّينَ، لأَنَّ بَقِيَّةَ أَيْضَاً يَرْوِي عَنْ مَجْهُولِينَ، وَعِنْدَهُ عَجَائِبُ.
আমরা তার সম্পর্কে ইবনে হিব্বানের বক্তব্যের মর্মের ব্যাপারে আপনার জন্য আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অন্তর্দৃষ্টি যোগ করছি: «তিনি দুর্বল একদল লোক থেকে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেন যা তিনি নির্ভরযোগ্যদের পক্ষ থেকে বলে তাদলীস (প্রতারণা) করেন, এমনকি শ্রবণকারী যখন তা শোনে তখন সেটির জাল হওয়ার ব্যাপারে তার কোনো সন্দেহ থাকে না। যখন তার বর্ণিত সংবাদসমূহে এ বিষয়টি অধিক পরিমাণে দেখা গেল, তখন সেই জাল বর্ণনাগুলো তার সাথে জুড়ে দেওয়া হলো»। বস্তুত, যে ব্যক্তি আল-তরাইফীর বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই করেনি সে সম্ভবত তার (ইবনে হিব্বানের) বক্তব্যকে অস্বীকার করবে এবং এর তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারবে না, আর ইবনে হিব্বানকে কঠোরতা ও অতিরঞ্জনের দোষে অভিযুক্ত করবে। আর এটি হলো সেই পর্যায়ের তিনটি জাল বর্ণনার সমষ্টি যার দোষ তার উস্তাদদের পরিবর্তে তার কাঁধেই বর্তায়, তাদের অজ্ঞতা ও অগ্রহণযোগ্যতার কারণে:[১] ইবনে আদি বলেন (২/৮৫): আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল আব্বাস আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুফাদদাল আল-হাররানী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আব্দুর রহমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তামীম ইবনে খারশাফ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো চোখই তার অশ্রুতে সিক্ত হয় না যদি না আল্লাহ তার অধিকারীর শরীরের জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন; যদি সেই অশ্রু তার শরীরের ওপর গড়িয়ে পড়ে তবে তার মুখমণ্ডলকে অন্ধকার বা লাঞ্ছনা আচ্ছন্ন করবে না। প্রতিটি আমলেরই সওয়াব রয়েছে কিন্তু চোখের অশ্রু ব্যতীত, কেননা তা আগুনের সমুদ্রকে নিভিয়ে দেয়। আর যদি কোনো উম্মতের মধ্যে একজন বান্দাও ক্রন্দন করে তবে সেই বান্দার ক্রন্দনের কারণে আল্লাহ সেই পুরো উম্মতের ওপর রহম করেন»।আবু আহমাদ বলেন: এই তামীম ইবনে খারশাফকে আমি কাতাদাহ থেকে এই হাদীসটি ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনায় চিনি না, আর কেউ তার থেকে এটি বর্ণনা করেনি। এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা যা তামীম থেকে উসমান আল-তরাইফী বর্ণনা করেছেন। আর আমি আবু আরুবাহকে বলতে শুনেছি: আমাদের মাঝে উসমান হলো শামবাসীদের মাঝে বাকিয়্যাহর মতো; বাকিয়্যাহ যেমন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করে, উসমানও তেমনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করে, আর তামীম একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।[২] তিনি (১/১৬৮) আরও বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে নাজিয়াহ আল-হাররানী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুফাদদাল, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসমান আল-তরাইফী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ আল-শামী, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এমন কোনো দস্তরখান নেই যাতে খাবার রাখা হয়েছে বা যেখানে বসা হয়েছে এবং তাতে আমার নাম রয়েছে, অথচ তাদের প্রতিদিন দুইবার করে পবিত্র করা হয় না»।[৩] তিনি (১/১৬৮) আরও বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে নাজিয়াহ আল-হাররানী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুফাদদাল, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসমান আল-তরাইফী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ আল-শামী, তিনি আবু তুফাইল থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখনই কোনো কওম কোনো পরামর্শের জন্য একত্রিত হয় এবং তাদের মধ্যে মুহাম্মাদ নামের কোনো ব্যক্তি থাকে অথচ তারা তাকে তাদের পরামর্শে অন্তর্ভুক্ত করে না, তবে তাদের জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয় না»।আবু আহমাদ বলেন: এই দুটি হাদীস সংরক্ষিত (সহীহ) নয়। আর এই আহমাদ আল-শামী হলেন ইবনে কিনানাহ যার থেকে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেন। আর আমি আবু আরুবাহকে বলতে শুনেছি: উসমান আল-তরাইফী অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করে এবং তার কাছে অদ্ভুত সব বর্ণনা রয়েছে। সে জাযীরাবাসীদের মাঝে শামবাসীদের মাঝে বাকিয়্যাহর মতো, কারণ বাকিয়্যাহও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করে এবং তার কাছে অদ্ভুত সব বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[الثَّانِيَةُ] مُخَالِفَتُهُ لأَثْبَاتِ أَصْحَابِ يَحْيَى الذِّمَّارِيِّ، إذْ يَرْوُونَهُ بِلَفْظِ «مَنْ مَشَى إِلَى صَلاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ، وَمَنْ مَشَى إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ» ، وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ الطَّرَائِفِيِّ، وَهُوَ مِنْ عُيُونِ حَدِيثِ يَحْيَى الذِّمَّارِيِّ، وَقَدْ جَوَّد مَتْنَهُ أَثْبَاتُ الشَّامِيِّينَ، وَمُتْقِنِي أَصْحَابِهِ.قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ (5/268) : حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ مَشَى إِلَى صَلاةٍ مَكْتُوبَةٍ وَهُوَ مُتَطَهِّرٌ كَانَ لَهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، وَمَنْ مَشَى إِلَى سُبْحَةِ الضُّحَى كَانَ لَهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ، وَصَلاةٌ عَلَى إِثْرِ صَلاةٍ لا لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ» .وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ (سُنَنِهِ / كِتَابُ الصَّلاةِ، بَابُ مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الْمَشْيِ إِلَى الصَّلاةِ /ح558) : حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ ثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرَاً إِلَى صَلاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لا يَنْصِبُهُ إِلَاّ إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ، وَصَلاةٌ عَلَى أَثَرِ صَلاةٍ لا لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ» .وَأَخْرَجَهُ كَذَلِكَ الطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (8/176/7734، 7735) عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ حُمَيْدٍ وَالْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، وَالْبَيْهَقِيُّ «الْكُبْرَى» (3/49، 63) عَنْ صَدَقَةَ بْنِ خَالِدٍ وَالْهَيْثَمِ بْنِ حُمَيْدٍ، وَالرُّويَانِيُّ «الْمُسْنَدُ» (1204) ، وَالْبَغَوِيُّ «شَرْحُ السُّنَّةِ» (472) كِلاهُمَا عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ حُمَيْدٍ، ثَلاثَتُهُمْ - الْهَيْثَمُ وَالْوَلِيدُ وَصَدَقَةُ - عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ بِمِثْلِهِ، إِلَاّ أَنَّهُمْ قَالُوا «مَنْ مَشَى» ، وَقَالَ صَدَقَةُ «لا يُنْهِضُهُ» .قُلْتُ: فَهَؤُلاءِ الأَرْبَعَةُ: إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، وَصَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، وَالْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ أَقْوَمُ بِحَدِيثِ يَحْيَى الذِّمَارِيِّ وَأَحْفَظُ لَهُ مِنَ الطَّرَائفِيِّ وَحْدَهُ، وَحَدِيثُهُمْ مَحْفُوظٌ مَشْهُورٌ، وَحَدِيثُهُ غَرِيبٌ مُنْكَرٌ.
[দ্বিতীয়ত] ইয়াহইয়া আদ-জিম্মারি-এর নির্ভরযোগ্য সাথীদের বর্ণনার সাথে তাঁর বৈপরীত্য, যেহেতু তাঁরা একে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ফরয নামাযের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যায়, তার প্রতিদান একজন হজ্জ পালনকারীর প্রতিদানের ন্যায়; আর যে ব্যক্তি চাশতের নামাযের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যায়, তার প্রতিদান একজন উমরা পালনকারীর প্রতিদানের ন্যায়।" এই বর্ণনাটি আত্ব-ত্বরাইফি-এর হাদীস অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ। এটি ইয়াহইয়া আদ-জিম্মারি-এর বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদীস। সিরীয় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ এবং তাঁর দক্ষ সাথীবৃন্দ এর মতনকে (মূল পাঠকে) অত্যন্ত নিখুঁত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।ইমাম আহমাদ (৫/২৬৮) বলেন: আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আল-কাসিম আবু আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ফরয নামাযের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যায়, তার জন্য ইহরাম পরিহিত হজ্জ পালনকারীর ন্যায় প্রতিদান রয়েছে। আর যে ব্যক্তি চাশতের নামাযের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যায়, তার জন্য উমরা পালনকারীর ন্যায় প্রতিদান রয়েছে। আর এক নামাযের পর অন্য নামায আদায় করা, যার মাঝখানে কোনো অসার কাজ করা হয়নি, তা 'ইল্লিয়্যিন'-এ লিপিবদ্ধ একটি আমল।"এবং আবু দাউদ (সুনান / কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: নামাযের উদ্দেশ্যে গমনের ফযীলত / হা. ৫৫৮) বলেন: আবু তাওবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হাইসাম ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আল-কাসিম আবু আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ফরয নামাযের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়, তার প্রতিদান ইহরাম পরিহিত হজ্জ পালনকারীর প্রতিদানের ন্যায়। আর যে ব্যক্তি চাশতের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হয়, যাকে কেবল এই উদ্দেশ্যই ঘর থেকে বের করেছে, তার প্রতিদান উমরা পালনকারীর প্রতিদানের ন্যায়। আর এক নামাযের পর অন্য নামায আদায় করা, যার মাঝখানে কোনো অসার কাজ করা হয়নি, তা 'ইল্লিয়্যিন'-এ লিপিবদ্ধ একটি আমল।"অনুরূপভাবে তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে (৮/১৭৬/৭৭৩৪, ৭৭৩৫) আল-হাইসাম ইবনে হুমাইদ ও আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, বায়হাকি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৩/৪৯, ৬৩) সাদাকাহ ইবনে খালিদ ও আল-হাইসাম ইবনে হুমাইদ থেকে, রুয়ানি 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে (১২০৪) এবং বাগাউয়ি 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে (৪৭২) বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই—অর্থাৎ রুয়ানি ও বাগাউয়ি—আল-হাইসাম ইবনে হুমাইদ থেকে এবং তারা তিনজনই—আল-হাইসাম, আল-ওয়ালিদ ও সাদাকাহ—ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। তবে তারা "যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে গেল" শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর সাদাকাহ বলেছেন "তাকে ঘর থেকে বের করেনি" (অর্থাৎ কেবল নামাযের উদ্দেশ্য ছাড়া)।আমি বলছি: এই চারজন বর্ণনাকারী—ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ, সাদাকাহ ইবনে খালিদ, আল-হাইসাম ইবনে হুমাইদ এবং আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম—ইয়াহইয়া আদ-জিম্মারি-এর হাদীস বর্ণনায় একা আত্ব-ত্বরাইফি-এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী এবং অধিক সংরক্ষণকারী। তাদের বর্ণিত হাদীসটি সংরক্ষিত ও সুপ্রসিদ্ধ, আর আত্ব-ত্বরাইফি-এর হাদীসটি অপরিচিত এবং প্রত্যাখ্যাত।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[الطَّرِيقُ الثَّانِيَةُ] الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ عَلَى أَلْوَانٍ عَنْهُ وَعَنْ عُتْبَةَ وَابْنِ عُمَرَقَالَ الطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (17/129) : حدثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ دُحَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبِي ثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَحْوَصِ بن حَكِيمٍ حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ الأَلْهَانِيُّ عَنْ عُتْبَةَ بن عَبْدٍ وَأَبِي أُمَامَةَ (ح) وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ مُوسَى شِيرَانُ الرَّامَهُرْمُزِيُّ ثَنَا رُزَيْقُ بن السَّخْتِ ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ الأَلْهَانِيُّ ثَنَا الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ غَابِرٍ أَنَّ أَبَا أُمَامَةَ، وَعُتْبَةَ بْنَ عَبْدٍ السُّلَمِيَّ حَدَّثَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ صَلَّى صَلاةَ الصُّبْحِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ ثَبَتَ فِي الْمَسْجِدِ يُسَبِّحُ اللهَ سُبْحَةَ الضُّحَى، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ وَمُعْتَمِرٍ، تَامَّاً لَهُ حَجَّتُهُ وَعُمْرَتُهُ» .وَأَخْرَجَهُ الْمَحَاملِيُّ «أَمَالِيهِ» (481/2) ، وَابْنُ شَاهِينَ «التَّرْغِيبُ فِي فَضَائِلِ الأَعْمَالِ» (116) كِلاهُمَا عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ الْقَاسِمِ، وَالدِّيِّنَوْرِىُّ «الْمُجَالَسَةُ وَجَوَاهِرُ الْعِلْمِ» (3089) عَنْ بِشْرِ بْنِ عُمَارَةَ، كِلاهُمَا عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ بِمِثْلِهِ.وَخَالَفَ ثَلاثَتَهُمْ الْمُحَارِبِيُّ، فَرَوَاهُ عَنِ الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ غَابِرٍ الأَلْهَانِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، فَلَمْ يَذْكُرْ عُتْبَةَ.قَالَ الطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (8/180/7663) : حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ ثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ ثَنَا الْمُحَارِبِيُّ عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ غَابِرٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَذَكَرَهُ مِثْلَهُ.وَخَالَفَ الأَرْبَعَةَ مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، فَرَوَاهُ عَنِ الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ غَابِرٍ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، وَزَادَ فِي مَتْنِهِ.فَقَدْ أَخْرَجَهُ الْمَحَاملِيُّ «أَمَالِيهِ» (481) : ثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى ثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ ثَنَا الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ غَابِرٍ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى صَلاةَ الصُّبْحِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ ثبت حَتَّى يُسَبِّحَ فِيهِ تَسْبِيحَةَ الضُّحَى، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أَوْ أَرْبَعَاً، كَانَ لَهُ مثل أَجْرِ حَاجٍّ وَمُعْتَمِرٍ، تَامٍّ لَهُ حَجُّهُ وَعُمْرَتُهُ» .وَخَالَفَ الْجَمِيعَ أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، فَجَعَلَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَاخْتُلِفَ عَلَيْهِ عَلَى وَجْهَيْنِ:[أَوَّلُهُمَا] قَالَ ابْنُ حِبَّانَ «الْمَجْرُوحِينَ» (1/176) : ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ، ثُمَّ جَلَسَ فِي مُصَلاهُ يَذْكُرُ اللهَ عز وجل حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ مِنَ الضُّحَى كَانَتْ لَهُ صَلاتُهُ تَعْدِلُ حَجَّةً وَعُمْرَةً مُتَقَبَّلَتَيْنِ» .[ثَانِيهِمَا] قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (1/415) : حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْقَطَّانُ ثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ ثَنَا أبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ بِمِثْلِهِ، لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ: خَالِدَ بْنَ مَعْدَانَ.قُلْتُ: فَهَذَا حَدِيثٌ مُضْطَرِبٌ، رَكَّبَهُ الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ الشَّامِيُّ عَلَى أَلْوَانٍ مُتَفَاوِتَةٍ مِنَ الأَسَانِيدِ، يَقْلِبُهَا كَيْفَ شَاءَ، فَمَرَّةً شَامِيَّاً، وَمَرَّةً مَدَنِيَّاً، وَمَرَّةً مُتَّصِلاً، وَمَرَّةً مُعْضَلاً، سَيْءُ الْحِفْظِ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ.قَالَ ابْنُ أبِي حَاتِمٍ «الْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ» (2/327) : أَخْبَرَنَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ قَالَ أَبِى: قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ: قِيلَ للأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ: مَا هَذِهِ الأَحَادِيثُ الَّتِى تُحَدِّثُ بِهَا عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم؟ ، قَالَ: لِمَ، أَلَيْسَ الْحَدِيثُ كُلُّهُ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم. وَأَخْبَرَنَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ قَالَ أَبِى: الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ لا يُرْوَى حَدِيثُهُ، يَرْفَعُ الأَحَادِيثَ إِلَى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم. ذَكَرَ أَبِي عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ قَالَ: الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمِ بْنِ عُمَيْرٍ لا شَيْءَ. وَسَمِعْتُ أَبِي رحمه الله يَقُولُ: الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ لَيْسَ بِقَوِيٍّ، مُنْكَرُ الْحَدِيثِ، وَكَانَ ابْنُ عُيَيْنَةَ يُقَدِّمُ الأَحْوَصَ عَلَى ثَوْرٍ فِي الْحَدِيثِ، فَغَلَطَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فِي تَقْدِيْمِ الأَحْوَصِ عَلَى ثَوْرٍ، ثَوْرٌ صَدُوقٌ، وَالأَحْوَصُ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ.
[দ্বিতীয় সূত্র] আল-আহওয়াস ইবন হাকিম তার থেকে বিভিন্ন সূত্রে এবং উতবাহ ও ইবন উমর থেকে বর্ণিত।তাবারানি তার ‘আল-কাবীর’ (১৭/১২৯) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবন দুহাইম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমার পিতা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মারওয়ান ইবন মুআবিয়া আল-আহওয়াস ইবন হাকিম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আবু আমির আল-আলহানি হাদিস বর্ণনা করেছেন উতবাহ ইবন আবদ ও আবু উমামাহ থেকে (সূত্রান্তর) এবং আমাদের নিকট সাহল ইবন মুসা শিরান আর-রামাহুরমুজি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রুযাইক ইবন আস-সাখত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ ইবনুল কাসিম আল-আলহানি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-আহওয়াস ইবন হাকিম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আব্দুল্লাহ ইবন গাবির হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আবু উমামাহ ও উতবাহ ইবন আবদ আস-সুলামি তার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করল, এরপর মসজিদে অবস্থান করে চাশতের (দুহা) নামাজ আদায় করল, সে একজন হজ ও ওমরাহ পালনকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে, তার হজ ও ওমরাহ পূর্ণাঙ্গ হবে»।আল-মাহামিলি তার ‘আমালি’ (২/৪৮১) গ্রন্থে এবং ইবন শাহিন তার ‘আত-তারগিব ফি ফাদায়িলিল আমাল’ (১১৬) গ্রন্থে উভয়েই আল-ওয়ালিদ ইবনুল কাসিম থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং আদ-দিনাওয়ারি তার ‘আল-মুজালাসাহ ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম’ (৩০৮৯) গ্রন্থে বিশর ইবন উমারাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়েই আল-আহওয়াস ইবন হাকিম থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।তবে আল-মুহারিবি এই তিনজনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন গাবির আল-আলহানি থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি উতবাহর কথা উল্লেখ করেননি।তাবারানি তার ‘আল-কাবীর’ (৮/১৮০/৭৬৬৩) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবন ইসহাক আত-তুস্তারি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাহল ইবন উসমান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-মুহারিবি আল-আহওয়াস ইবন হাকিম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন গাবির থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আবার মুহাম্মদ ইবন ফুদাইল এই চারজনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন গাবির থেকে, তিনি উতবাহ ইবন আবদ থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল পাঠে (মতন) কিছু অংশ বৃদ্ধি করেছেন।আল-মাহামিলি তার ‘আমালি’ (৪৮১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইউসুফ ইবন মুসা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবন ফুদাইল হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-আহওয়াস ইবন হাকিম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আব্দুল্লাহ ইবন গাবির উতবাহ ইবন আবদ আস-সুলামি থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করল, এরপর সেখানে অবস্থান করে চাশতের নামাজ আদায় করল এবং দুই বা চার রাকাত নামাজ পড়ল, সে একজন হজ ও ওমরাহ পালনকারীর সমান সওয়াব পাবে, তার হজ ও ওমরাহ পূর্ণাঙ্গ হবে»।আর আবু মুআবিয়া আদ-দারির সকলের বিরোধিতা করেছেন; তিনি একে ইবন উমরের বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রেও দুইটি ধরণ পাওয়া যায়:[প্রথমটি] ইবন হিব্বান তার ‘আল-মাজরুহীন’ (১/১৭৬) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট হাসান ইবন সুফিয়ান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ’লা আস-সানআনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুআবিয়া আল-আহওয়াস ইবন হাকিম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবন মা'দান থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত তার নামাজের জায়গায় বসে মহান আল্লাহর জিকির করল, এরপর চাশতের দুই রাকাত নামাজ পড়ল, তার এই নামাজ দুটি কবুলকৃত হজ ও ওমরাহর সমতুল্য হবে»।[দ্বিতীয়টি] ইবন আদি তার ‘আল-কামিল’ (১/৪১৫) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবন আব্দুল্লাহ আল-কাত্তান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুসা ইবন মারওয়ান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুআবিয়া আল-আহওয়াস ইবন হাকিম থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে এতে তিনি খালিদ ইবন মা'দানের কথা উল্লেখ করেননি।আমি বলছি: এটি একটি ইদতিরাবপূর্ণ (বিপর্যস্ত) হাদিস, যা শামি (সিরীয়) বর্ণনাকারী আল-আহওয়াস ইবন হাকিম বিভিন্ন ধরনের সনদে সাজিয়েছেন। তিনি এগুলোকে নিজের ইচ্ছামত পরিবর্তন করেছেন; কখনো শামি সূত্রে, কখনো মাদানি সূত্রে, কখনো মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে, আবার কখনো মু’দাল (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন দুর্বল স্মরণশক্তি সম্পন্ন এবং মুনকারুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)।ইবন আবু হাতিম তার ‘আল-জারহ ওয়াত-তাদিল’ (২/৩২৭) গ্রন্থে বলেছেন: সালেহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন: আবু বকর ইবন আইয়াশ বলেছেন: আল-আহওয়াস ইবন হাকিমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আপনি এগুলো কী ধরনের হাদিস বর্ণনা করছেন?» তিনি বললেন: «কেন, সব হাদিসই কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নয়?» সালেহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল আরও বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন: আল-আহওয়াস ইবন হাকিমের হাদিস বর্ণনা করা যাবে না, তিনি হাদিসগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (সংযুক্ত) করে দিতেন। আমার পিতা ইসহাক ইবন মনসুর থেকে এবং তিনি ইয়াহইয়া ইবন মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আল-আহওয়াস ইবন হাকিম ইবন উমাইর কিছুই নন। এবং আমি আমার পিতাকে (রাহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি: আল-আহওয়াস ইবন হাকিম শক্তিশালী নন, তিনি মুনকারুল হাদিস। ইবন উয়াইনাহ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-আহওয়াসকে সাওরের চেয়ে প্রাধান্য দিতেন; সাওরের ওপর আল-আহওয়াসকে প্রাধান্য দিয়ে ইবন উয়াইনাহ ভুল করেছেন। সাওর ছিলেন সত্যবাদী, আর আল-আহওয়াস হলেন মুনকারুল হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[الْحَدِيثُ الثَّالِثُ] حَدِيثُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنه[الطَّرِيقُ الأُولَى] مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْهُقَالَ الطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» و «الأَوْسَطُ» (5602) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَضْرَمِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْهَيَّاجِيُّ ثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوَفَّقٍ ثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ لَمْ يَقُمْ مِنْ مَجْلِسِهِ حَتَّى تُمْكِنَهُ الصَّلاةُ، وَقَالَ: «مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ، ثُمَّ جَلَسَ فِي مَجْلِسِهِ حَتَّى تُمْكِنَهُ الصَّلاةُ، كَانَتْ بِمَنْزِلَةِ عَمْرَةٍ وَحَجَّةٍ مُتَقَبَّلَتَيْنِ» .وَقَالَ: لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ إِلا الْفَضْلُ بْنُ مُوَفَّقٍ.قُلْتُ: وَهَذَا إِسْنَادٌ رِجَالُهُ ثِقَاتٌ كُلُّهُمْ خَلا الْفَضْلَ بْنَ مُوَفَّقٍ، وَهُوَ ابْنُ أَبِي الْمُتَئِّدِ أَبُو الْجَهْمِ الْكُوفِيُّ.قَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: سَأَلْتُ أَبِي عَنْهُ، فَقَالَ: كَانَ شَيْخَاً صَالِحَاً، ضَعِيفَ الْحَدِيثِ، وَكَانَ قَرَابَةً لابْنِ عُيَيْنَةَ، وَكَانَ يَرْوِي أحَادِيثَ مَوْضُوعَةً.قُلْتُ: لَيْسَ لأبِي الْجَهْمِ هَذَا فِي الْكُتُبِ السِّتَّةِ إِلَاّ حَدِيثَاً وَاحِدَاً عِنْدَ ابْنِ مَاجَهُ.قَالَ ابْنُ مَاجَهُ (778) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ ثَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْمُوَفَّقِ أَبُو الْجَهْمِ ثَنَا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى الصَّلاةِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ السَّائِلِينَ عَلَيْكَ، وَأَسْأَلُكَ بِحَقِّ مَمْشَايَ هَذَا، فَإِنِّي لَمْ أَخْرُجْ أَشَرَاً، وَلا بَطَرَاً، وَلا رِيَاءً، وَلا سُمْعَةً وَخَرَجْتُ اتِّقَاءَ سُخْطِكَ وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِكَ، فَأَسْأَلُكَ أَنْ تُعِيذَنِي مِنْ النَّارِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي، إِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَاّ أَنْتَ أَقْبَلَ اللهُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ وَاسْتَغْفَرَ لَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ مَلَكٍ» .قُلْتُ: وَلَمْ يَتَفَرَّدْ بِهَذَا أَبُو الْجَهْمِ، فَقَدْ رَوَاهُ كَذَلِكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحِ بْنِ مُسْلِمٍ الْعِجْلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، ويَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَرْبَعَتُهُمْ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ بِهِ. وَإنَّمَا الْمُتَّهَمُ بِهِ عَطِيَّةُ بْنُ سَعْدٍ الْعَوْفِيُّ، فَإِنَّهُ ضَعِيفٌ، وكَانَ شِيعِيَّاً، وَيُدَلِّسُ أَقْبَحَ التَّدْلِيسِ وَأَفْحَشَهُ.
--------------------------------------------
(1) تَرْجَمَةُ الْفَضْلِ بْنِ مُوَفَّقٍ: التَّارِيْخُ الْكَبِيْرُ لِلْبُخَارِيِّ (7/118/527) ، والْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ لابْنِ أَبِي حَاتِمٍ (7/68/387) ، وَضُعَفَاءُ ابْنِ الْجَوْزِيِّ (الْوَرَقَةُ 127) ، وَتَهْذِيبُ الْكَمَالِ (23/) ، وَتَذْهِيبُ التَّهْذِيبِ (3/ الْوَرَقَةُ 140) ، وَتَارِيْخُ الإِسْلامِ (الْوَرَقَةُ 147 أيا صوفيا 3007) ، وَدِيوَانُ الضُّعَفَاءِ (التَّرْجَمَةُ 3384) ، وَالْكَاشِفُ (2/123) ، وَالْمُغْنِي (2/ التَّرْجَمَةُ 4945) ، وَمِيزَانُ الاعْتِدَالِ (5/437) ، وَرِجَالُ ابْنِ مَاجَهْ (الْوَرَقَةُ 15) ، وَنِهَايَةُ السُّولِ (الْوَرَقَةُ 296) ، وَتَهْذِيبُ التَّهْذِيبِ (8/258) ، وَتَقْرِيبُ التَّهْذِيبِ (2/112) ، وَلِسَانُ الْمِيزَانِ (7/336) ، وخُلاصَةُ الْخَزْرَجِيِّ (2/ التَّرْجَمَةُ 729) .
[তৃতীয় হাদীস] আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস[প্রথম সূত্র] মালিক বিন মিগওয়াল, নাফে’র মাধ্যমে, তাঁর (ইবনে উমর) থেকেতাবারানি ‘আল-কাবীর’ ও ‘আল-আওসাত’ (৫৬০২)-এ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমর আল-হায়্যাজি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাদল বিন মুওয়াফ্ফাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন মিগওয়াল, তিনি নাফে’র মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন, যতক্ষণ না সালাত আদায়ের সুযোগ হতো ততক্ষণ তিনি নিজ বসার স্থান থেকে উঠতেন না। তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি সকালের সালাত আদায় করল, অতঃপর তার বসার স্থানে বসে থাকল যতক্ষণ না সালাত আদায়ের সুযোগ হলো, তা একটি কবুলকৃত উমরা ও কবুলকৃত হজ্জের সমতুল্য হবে।»তিনি (তাবারানি) বলেন: ফাদল বিন মুওয়াফ্ফাক ব্যতীত আর কেউ মালিক বিন মিগওয়াল থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি।আমি বলছি: এই সনদের বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), কেবল ফাদল বিন মুওয়াফ্ফাক ব্যতীত; আর তিনি হলেন ইবনে আবিল মুতাঈদ আবু জহম আল-কুফি।ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি একজন নেককার শায়খ ছিলেন, তবে হাদীস বর্ণনায় দুর্বল (যয়ীফ), তিনি ইবনে উয়াইনার আত্মীয় ছিলেন এবং তিনি জাল হাদীস বর্ণনা করতেন।আমি বলছি: কুতুবে সিত্তাহর মধ্যে এই আবু জহমের ইবনে মাজাহর একটি হাদীস ব্যতীত আর কোনো হাদীস নেই।ইবনে মাজাহ (৭৭৮) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন ইয়াজিদ বিন ইবরাহিম আত-তুস্তারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাদল বিন আল-মুওয়াফ্ফাক আবু জহম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদাইল বিন মারজুক, তিনি আতিয়্যাহর মাধ্যমে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সালাতের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হলো এবং বলল: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট যাঞ্চাকারীদের হকের উসিলায় এবং আমার এই পথচলার হকের উসিলায় প্রার্থনা করছি; কারণ আমি কোনো উদ্ধতপনা, অহংকার, লোকদেখানো বা সুখ্যাতির জন্য বের হইনি। আমি আপনার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি লাভের কামনায় বের হয়েছি। তাই আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন; কারণ আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।' (তখন) আল্লাহ তাঁর চেহারা নিয়ে তার দিকে অভিমুখী হন এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।»আমি বলছি: আবু জহম এই বর্ণনায় একা নন। আব্দুল্লাহ বিন সালিহ বিন মুসলিম আল-ইজলি, মুহাম্মদ বিন ফুদাইল, ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর এবং ইয়াজিদ বিন হারুন—এই চারজনই ফুদাইল বিন মারজুক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মূলত এর জন্য অভিযুক্ত হলেন আতিয়্যাহ বিন সা'দ আল-আওফি, কারণ তিনি দুর্বল, শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত জঘন্যভাবে তাদলীস করতেন।
--------------------------------------------
(১) ফাদল বিন মুওয়াফ্ফাকের জীবনী: বুখারীর তারিখুল কাবীর (৭/১১৮/৫২৭), ইবনে আবি হাতিমের আল-জারহু ওয়াত-তাদীল (৭/৬৮/৩৮৭), ইবনুল জাওযীর আদ-দুয়াফা (পত্র ১২৭), তাহযীবুল কামাল (২৩/...), তাযহীবুত তাহযীব (৩/ পত্র ১৪০), তারিখুল ইসলাম (পত্র ১৪৭ আয়া সোফিয়া ৩০০৭), দিওয়ানু দ-দুয়াফা (জীবনী ৩৩৮৪), আল-কাশিফ (২/১২৩), আল-মুগনি (২/ জীবনী ৪৯৪৫), মীযানুল ইতিদাল (৫/৪৩৭), রিজালু ইবনি মাজাহ (পত্র ১৫), নিহায়াতুস সূল (পত্র ২৯৬), তাহযীবুত তাহযীব (৮/২৫৮), তাকরীবুত তাহযীব (২/১১২), লিসানুল মীযান (৭/৩৩৬), খুলাসাতুল খাজরাজি (২/ জীবনী ৭২৯)।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[الطَّرِيقُ الثَّانِيَةُ] مِسْعَرٌ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْهُقَالَ أَبُو نُعَيْمٍ «حِلْيَةُ الأَوْلِيَاءِ» : حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ ثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ الْعَنْبَرِيُّ ثَنَا سَلْمُ بْنُ الْمُغِيْرَةِ ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ، ثُمَّ جَلَس فِي مَسْجِدِهِ حَتَّى يُصَلِّيَ الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ، كُتِبَتْ لَهُ حَجَّةٌ وَعُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَتَيْنِ» .وَقَالَ: تَفَرَّدَ بِهِ سَلْمٌ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ.وَأَخْرَجَهُ ابْنُ حَجَرٍ «نَتَائِجُ الأَفْكَارِ» (1/318) قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْفَضْلِ ابْنُ الْحُسَيْنِ يَعْنِي الْعِرَاقِيَّ أَخْبَرَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ ابْنُ الْقَيِّمِ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ ابْنُ الْبُخَارِيِّ أَنَا أحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ فِي كِتَابِهِ أَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ بِهِ.قُلْتُ: هَكَذَا سَاقَ إِسْنَادَهُ، فَلَمْ يَذْكُرْ: سَلْمُ بْنُ الْمُغِيْرَةِ.وَقَالَ الْحَافِظُ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، وَرِجَالُ هَذَا الإِسْنَادِ ثِقَاتٌ، لَكِنْ فِي سَمَاعِ خَالِدٍ مِنَ ابْنِ عُمَرَ نَظَرٌ.قُلْتُ: بَلْ ضَعِيفٌ بِمَرَّةٍ، وَقَدْ خَفِيَ أَمْرُهُ عَلَى الْحَافِظِ، وَلَمْ يَتَنَبَّهْ لِسَقَطِ سَلْمِ بْنِ الْمُغِيْرَةِ مِنَ الإِسْنَادِ.وَإِلَاّ، فَقَدْ قَالَ فِي «لِسَانِ الْمِيزَانِ» (3/65) : سَلْمُ بْنُ الْمُغِيْرَةِ أَبُو حَنِيفَةَ الأَسَدِيُّ عَنْ مَالِكٍ، وَعَنْهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْوَرَّاقُ، ضَعَّفَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ. وَقَالَ مَرَّةً: لَيْسَ بِالْقَوِيِّ. وَأَخْرَجَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي غَرَائِبِ مَالِكٍ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، وَعُمَرَ بْنِ الْوَلِيدِ الْوَاسِطِيِّ كِلاهُمَا عَنْ سَلْمِ بْنِ الْمُغِيْرَةِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ رَفَعَهُ: «مَنْ قَالَ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةً: لا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ الْمُبِينِ أَمِنَ مِنَ الْفَقْرِ» الْحَدِيثَ. وَأَخْرَجَهُ أَيْضَاً مِنْ طَرِيقِ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، وَمِنْ طَرِيقِ يَحْيَى بْنِ يُوسُفَ الزُّهْرِىِّ كُلُّهُمْ عَنْ مَالِكٍ، ثُمَّ قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: كُلُّ مَنْ رَوَاهُ عَنْ مَالِكٍ ضَعِيفٌ.وَعِلَّةٌ أُخْرَى قَادِحَةٌ سَكَتَ عَنْهُا الْحَافِظُ مَعَ عِلْمِهِ التَّامِّ بِهَا، فَقَدْ ذَكَرَ فِي «تَهْذِيبِ التَّهْذِيبِ» (9/120) : قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ فِي غَيْرِ حَدِيثِ الأَعْمَشِ مُضْطَرِبٌ لا يَحْفَظُهَا حِفْظَاً جَيِّدَاُ. وَقَالَ الدُّورِيُّ عَنِ ابْنِ مَعِينٍ: أَبُو مُعَاوِيَةَ ثَبْتٌ فِي الأَعْمَشِ، وَرَوَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ مَنَاكِيْرَ. وَقَالَ يَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ: كَانَ مِنَ الثِّقَاتِ وَرُبَّمَا دَلَّسَ. وَقَالَ ابْنُ خِرَاشٍ: صَدُوقٌ، وَهُوَ فِي الأَعْمَشِ ثِقَةٌ، وَفِي غَيْرِهِ فِيهِ اضْطِرَابٌ.وَقَالَ فِي «تَقْرِيبِهِ» (1/475) : أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ ثِقَةٌ أَحْفَظُ النَّاسِ لِحَدِيثِ الأَعْمَشِ، وَقَدْ يَهِمُ فِي حَدِيثِ غَيْرِهِ.وَمِمَّا دَلَّ عَلَى اضْطِرَابِ أبِي مُعَاوِيَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: الْوَجْهَانِ الْمَاضِي ذِكْرُهُمَا عَنْهُ فِي الْحَدِيثِ السَّابِقِ.
[দ্বিতীয় পথ] খালিদ ইবনে মা’দান থেকে মিস’আর, তাঁর সূত্রেআবু নুআইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনুল আব্বাস আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-আনবারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালম ইবনুল মুগীরাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর, তিনি মিস’আর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, অতঃপর তার নামাজ পড়ার স্থানে বসে থাকল যতক্ষণ না সে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, তার জন্য কবুল হওয়া একটি হজ ও একটি উমরার সওয়াব লিখে দেওয়া হয়।»তিনি (আবু নুআইম) বলেন: সালম এককভাবে আবু মুয়াবিয়া থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।ইবনে হাজার এটি ‘নাতাইজুল আফকার’ (১/৩১৮) গ্রন্থে সংকলন করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফদল ইবনুল হুসাইন অর্থাৎ আল-ইরাকী, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনুল কায়্যিম, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান ইবনুল বুখারী, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাইমী তাঁর কিতাবে, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম তাঁর উক্ত সনদে।আমি বলছি: তিনি এভাবে সনদটি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি সালম ইবনুল মুগীরাহ-এর নাম উল্লেখ করেননি।হাফিজ বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান, এবং এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে ইবনে উমর থেকে খালিদের শোনার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে।আমি বলছি: বরং এটি অত্যন্ত দুর্বল, এবং হাফিজের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে, তিনি সনদ থেকে সালম ইবনুল মুগীরাহ-এর বাদ পড়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেননি।তা না হলে, তিনি নিজেই ‘লিসানুল মিজান’ (৩/৬৫) গ্রন্থে বলেছেন: সালম ইবনুল মুগীরাহ আবু হানিফা আল-আসাদী, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেন, এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সাঈদ আল-ওয়াররাক; দারা কুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। তিনি একবার বলেছেন: সে শক্তিশালী নয়। দারা কুতনী ‘গারাইবে মালিক’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সাঈদ এবং উমর ইবনুল ওয়ালীদ আল-ওয়াসিতী—উভয়ের পথ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে সালম ইবনুল মুগীরাহ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি দিনে একশ বার বলবে: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল মালিকুল হাক্কুল মুবীন" (চিরঞ্জীব সত্য ও সুস্পষ্ট মালিক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই), সে দারিদ্র্য থেকে নিরাপদ থাকবে» হাদিসটি শেষ পর্যন্ত। তিনি এটি ফদল ইবনুল আব্বাসের পথ থেকেও এবং ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ আজ-জুহরীর পথ থেকেও বের করেছেন, তাঁরা সকলেই মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর দারা কুতনী বলেছেন: যারা মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছে তারা সকলেই দুর্বল।অন্য একটি ত্রুটি যা হাদিসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং হাফিজ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। কেননা তিনি ‘তহজীবুত তহজীব’ (৯/১২০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর আমাশের হাদিস ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল, তিনি সেগুলো ভালোভাবে মুখস্থ রাখতেন না। আদ-দুরী ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে অনেক মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তবে মাঝেমধ্যে তাদলীস করতেন। ইবনে খিরাশ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, আমাশের ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে।তিনি তাঁর ‘তাকরীব’ (১/৪৭৫) গ্রন্থে বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর নির্ভরযোগ্য, আমাশের হাদিসের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফিজ, তবে তিনি অন্যদের হাদিসে মাঝেমধ্যে ভুল করেন।এই হাদিসে আবু মুয়াবিয়ার বিশৃঙ্খলার অন্যতম প্রমাণ হলো: পূর্ববর্তী হাদিসে তাঁর থেকে বর্ণিত উপরে উল্লিখিত দুই ধরণের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[الْحَدِيثُ الرَّابِعُ] حَدِيثُ عَائِشَةَ رضي الله عنها[الطَّرِيقُ الأولَى] هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْهَاأَخْرَجَهُ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (1/337) مِنْ طَرِيقِ أبِي حُذَيْفَةَ إِسْحَاقَ بْنِ بِشْرٍ الْبُخَارِيِّ ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ وَحَّدَ اللهَ فِي مَجْلِسِهِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ غَفَرَ لَهُ اللهُ عز وجل مَا سَلَفَهُ، وَأَعْطَاهُ اللهُ أَجْرَ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ، وَكَانَ ذَلِكَ أَسْرَعَ ثَوَابَاً، وَأَكْثَرَ مَغْنَمَاً» .قُلْتُ: وَهَذَا مَوْضُوعٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ بِلا شَكٍّ. أَبُو حُذَيْفَةَ إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ الْبُخَارِيُّ كَذَّابٌ أَشِرُّ.قَالَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ «الْمِيزَانُ» (1/335) : «صَاحِبُ كِتَابِ الْمُبْتَدَأِ تَرَكُوهُ، وَكَذَّبَهُ عَلِىُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ. وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: كَانَ يَضَعُ الْحَدِيثَ عَلَى الثِّقَاتِ، لا يَحِلُّ كَتْبُ حَدِيثِهِ إِلَاّ عَلَى جِهَةِ التَّعَجُّبِ. وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: كَذَّابٌ مَتْرُوكٌ.قُلْتُ: يَرْوِي الْعَظَائِمَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، وَابْنِ جُرَيْجٍ، وَالثَّوْرِيِّ» .وَزَادَ ابْنُ حَجَرٍ «لِسَانُ الْمِيزَانِ» : «وَقَالَ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ: أَبُو حُذَيْفَةَ تَرَكَ النَّاسُ حَدِيثَهُ. وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ: كَذَّابٌ. وَقَالَ النَّقَّاشُ: يَضَعُ الْحَدِيثِ. وَقَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ: أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّهُ كَذَّابٌ. وَقَالَ الْخَلِيلِيُّ فِي الإِرْشَادِ: اتُّهِمَ بِوَضْعِ الْحَدِيثِ. وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: أَحَادِيثُهُ مُنْكَرَةٌ إِمَّا إِسْنَادَاً وَإِمَّا مَتْنَاً لا يُتَابِعُهُ عَلَيْهَا أَحَدٌ. وَقَالَ الْخَطِيبُ: كَانَ غَيْرَ ثِقَةٍ. وَقَالَ الْعُقَيْلِيُّ: مَجْهُولٌ حَدَّثَ بِمَنَاكِيْرَ لَيْسَ لَهَا أَصْلٌ. وَقَالَ الأَزْدِيُّ: مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ سَاقِطٌ رُمِيَ بِالْكَذِبِ» .
[চতুর্থ হাদিস] আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস[প্রথম সূত্র] হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকেএটি ইবনে আদি তাঁর 'আল-কামিল' (১/৩৩৭) গ্রন্থে আবু হুযাইফা ইসহাক ইবনে বিশর আল-বুখারি-এর সূত্রে সংকলন করেছেন। তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে ফজরের সালাত আদায় করল, অতঃপর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত তার নিজ আসনে বসে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করল, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং তাকে একটি হজ ও উমরার সওয়াব দান করেন। আর এটি ছিল দ্রুততম প্রতিদান এবং অধিকতর লাভজনক।"আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই সনদে এটি নিঃসন্দেহে জাল (মাওজু)। আবু হুযাইফা ইসহাক ইবনে বিশর আল-বুখারি একজন চরম মিথ্যুক ও দাম্ভিক।হাফেজ আয-যাহাবি 'আল-মিজান' (১/৩৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি 'কিতাবুল মুবতাদা'-এর লেখক, মুহাদ্দিসগণ তাকে বর্জন করেছেন এবং আলি ইবনুল মাদিনি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে হাদিস জাল করত, বিস্ময় প্রকাশের উদ্দেশ্য ছাড়া তার হাদিস লিখে রাখা বৈধ নয়। আদ-দারা কুতনি বলেছেন: সে একজন মিথ্যুক ও বর্জনীয়।"আমি বলছি: "সে ইবনে ইসহাক, ইবনে জুরাইজ এবং আস-সাওরি থেকে ভয়াবহ সব (মনগড়া) বর্ণনা পেশ করত।"ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থে আরও যোগ করেছেন: "মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেছেন: আবু হুযাইফার হাদিস মানুষ বর্জন করেছে। আবু বকর ইবনে আবি শায়বা বলেছেন: সে একজন মিথ্যুক। আন-নাক্কাশ বলেছেন: সে হাদিস জাল করত। ইবনুল জাওজি 'আল-মাওজুআত' গ্রন্থে বলেছেন: সকলে একমত পোষণ করেছেন যে সে একজন মিথ্যুক। আল-খালিলি 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে বলেছেন: তার বিরুদ্ধে হাদিস জাল করার অভিযোগ রয়েছে। ইবনে আদি বলেছেন: তার হাদিসগুলো সনদ অথবা মতন (মূল পাঠ) উভয় দিক থেকেই মুনকার (অগ্রহণযোগ্য), এগুলোতে কেউ তার অনুসরণ করে না। আল-খাতিব বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য ছিল না। আল-উকাইলি বলেছেন: সে একজন অপরিচিত ব্যক্তি, সে এমন সব ভিত্তিহীন অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেছে যার কোনো উৎস নেই। আল-আযদি বলেছেন: হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সে বর্জনীয় ও নিপতিত, তাকে মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[الطَّرِيقُ الثَّانِيَةُ] عَمْرَةُ بِنْتُ أَرْطَأَةَ الْعَدَوِيَّةُ عَنْهَاأَخْرَجَهُ أَبُو يَعْلَى «مُسْنَدُهُ» (4365) ، وَعَنْهُ ابْنُ السُّنِّيِّ «عَمَلُ الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» (144) : ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ ثَنَا طَيِّبُ بْنُ سَلْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَةَ تَقُولُ سَمِعْتُ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةُ تَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ أَوْ قَالَ الْغَدَاةَ، فَقَعَدَ فِي مَقْعَدِهِ، فَلَمْ يَلْغُ بِشَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا، يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى يُصَلِّيَ الضُّحَى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ لا ذَنْبَ لَهُ» .وَخَالَفَ أَبَا يَعْلَى عَلَى مَتْنِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمَّار الْبَصْرِيُّ، فَقَالَ «غَفَرَ اللهُ لَهُ ذُنُوبَهِ» .قَالَ الطَّبَرَانِيُّ «الأَوْسَطُ» (5940) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمَّارُ ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ ثَنَا الطَّيِّبُ بْنُ سَلْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَةَ تَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةُ تَقُولُ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ، وَقَعَدَ فِي مُصَلاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ غَفَرَ اللهُ لَهُ ذُنُوبَهِ» .وَبِهَذَا الإِسْنَادِ (5941) عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنِينَ، تَهَادَيْنَ، وَلَوْ بِفِرْسَنِ شَاةٍ، فَإِنَّهُ يُثْبِتُ الْمَوَدَّةَ، وَيُذْهِبُ الضَّغَائِنَ» .وَقَالَ أَبُو الْقَاسِمِ: لَمْ يَرْوِ هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ أَرْطَأَةَ وَهِيَ الْعَدَوِيَّةُ الْبَصْرِيَّةُ، وَلَيْسَتْ بِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِلَاّ الطَّيِّبُ بْنُ سَلْمَانَ الْمُؤَدِّبُ، وَيُكْنَى أَبَا حُذَيْفَةَ بَصْرِيٌّ ثِقَةٌ.قُلْتُ: فَهَذِهِ ثَلاثُ فَوَائِدَ لِلطَّبَرَانِيِّ أَبَانَتْ:[أَوَّلاً] خَطَأَ مَنْ سَلَكَ الْجَادَّةَ مِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ، فَتَوَهَّمَ أَنَّهَا عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ الأَنْصَارِيَّةُ الْمَدَنِيَّةُ رَاوِيَةُ عَائِشَةَ. وَإِنَّمَا هِيَ عَمْرَةُ بِنْتُ أَرْطَأَةَ الْعَدَوِيَّةَ الطَّاحِيَّةُ الْبَصْرِيَّةُ.قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ «فَضَائِلُ الصَّحَابَةِ» (1/501/817) و «فَضَائِلُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ» (141) : ثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَدَوِيُّ حَوْثرَةُ بْنُ أَشْرَسَ بْنِ عَوْنِ قَالَ: نَا جَعْفَرُ بْنُ كَيْسَانَ أَبُو مَعْرُوفٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ أَرْطَأَةَ الْعَدَوِيَّةَ قَالَتْ: خَرَجْتُ مَعَ عَائِشَةَ سَنَةَ قُتِلَ عُثْمَانُ إِلَى مَكَّةَ، فَمَرَرْنَا بِالْمَدِينَةِ، وَرَأَيْنَا الْمُصْحَفَ الَّذِي قُتِلَ وَهُوَ فِي حِجْرِهِ، فَكَانَتْ أَوَّلُ قَطْرَةً قُطِرَتْ مِنْ دَمِهِ عَلَى هَذِهِ الآيَةِ «فَسَيْكَفِيكَهُمُ اللهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ» ، قَالَتْ عَمْرَةُ: فَمَا مَاتَ مِنْهُمْ رَجُلٌ سَوِيَّاً.[ثَانِيَاً] تَوْثِيقَ الطَّيِّبِ بْنِ سَلْمَانَ الْمُؤَدِّبِ الْبَصْرِيِّ. فَقَدْ أَوْرَدَهُ ابْنُ أبِي حَاتِمٍ فِي «الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ» (4/497/2191) ، فَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ جَرْحَاً وَلا تَعْدِيلاً، حَيْثُ قَالَ: طَيِّبُ بْنُ سَلْمَانَ رَوَى عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ. رَوَى عَنْهُ: بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو أَحْمَدَ الْعَسْكَرِىُّ. وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي «الثِّقَاتِ» (6/493) قَالَ: الطَّيِّبُ بْنُ سَلْمَان يَرْوِي عَنْ عَمْرَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ اتِّبَاعِ النِّسَاءِ الْجَنَائِزَ، وَقَالَ: «لَيْسَ لَهُنَّ فِي ذَلِكَ أَجْرٌ» . ثَنَاهُ السَّخْتِيَانِيّ قالُ: ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ ثَنَا الطَّيِّبُ بْنُ سَلْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَةَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ بِهِ.وَأَمَّا قَوْلُ الدَّارَقُطْنِيِّ عَنْهُ: بَصْرِيٌّ ضَعِيفٌ، فَفِيهِ نَظَرٌ، فَإِنَّ مِقْدَارَ مَا يَرْوِيهِ بِهَذَا الإِسْنَادِ عَشَرَةُ أَحَادِيثَ، لَيْسَ فِيهَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ، إِلَاّ حَدِيثَهُ هَذَا، وَهُوَ مُتَعَقَّبٌ بِمَا يَلَي.[ثَالِثَاً] الاخْتِلافُ عَلَى لَفْظِ الْحَدِيثِ، فَقَالَ أبِي يَعْلَى «خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ لا ذَنْبَ لَهُ» ، وَقَالَ التَّمَّارِ «غَفَرَ اللهُ لَهُ ذُنُوبَهِ» . وَإِنْ كَانَ أَبُو يَعْلَى أَوْثَقَ وَأَثْبَتَ مِنَ التَّمَّارِ، لَكِنْ لَفْظُ التَّمَّارِ أَشْبَهُ بِالصَّوَابِ، وَأَوْفَقُ لِلأُصُولِ.[إيْضَاحٌ وَتَنْبِيهٌ] ذَكَرَاهُ فِي «الْمِيزَانِ» (3/473) و «اللِّسَانِ» (3/214) : طَيِّبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وفِي نُسْخَةٍ مُصَحَّحَةٍ مِنَ «الْمِيزَانِ» : ابْنُ سَلْمَانَ، وَهُوَ الصَّوَابُ كَمَا فِي الْمَصَادِرِ السَّابِقَةِ آنِفَاً.
[দ্বিতীয় সূত্র] আমরাহ বিনতে আরতাআহ আল-আদাবিয়্যাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেনএটি আবু ইয়ালা তাঁর ‘মুসনাদ’ (৪৩৬৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর মাধ্যমে ইবনুস সুন্নি তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ (১৪৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট শায়বান ইবনে ফাররুখ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট তাইয়্যিব ইবনে সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমরাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি ফজরের বা তিনি বলেছেন ভোরের নামাজ পড়ল, অতঃপর নিজের বসার স্থানে বসে থাকল এবং পার্থিব কোনো বিষয়ে লিপ্ত হলো না, বরং আল্লাহর জিকির করতে থাকল যতক্ষণ না সে চাশতের চার রাকাত নামাজ পড়ল, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন, তার কোনো গুনাহ থাকবে না।”মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাম্মার আল-বাসরি হাদিসের পাঠের (মতন) ক্ষেত্রে আবু ইয়ালার বিরোধিতা করেছেন, তিনি (সেখানে) বলেছেন: “আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।”তাবারানি তাঁর ‘আল-আওসাত’ (৫৯৪০) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শায়বান ইবনে ফাররুখ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট তাইয়্যিব ইবনে সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমরাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ভোরের নামাজ পড়ল এবং সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত তার নামাজের স্থানে বসে থাকল, অতঃপর চার রাকাত নামাজ পড়ল, আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।”এবং এই একই সনদে (৫৯৪১) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “হে মুমিন নারীগণ! তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, যদিও তা বকরির পায়ের খুর হয় না কেন। কেননা তা ভালোবাসা সুদৃঢ় করে এবং অন্তরের বিদ্বেষ দূর করে।”আবুল কাসিম (তাবারানি) বলেছেন: আমরাহ বিনতে আরতাআহ (যিনি আল-আদাবিয়্যাহ আল-বাসরিয়্যাহ, আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান নন) থেকে এই হাদিস দুটি তাইয়্যিব ইবনে সালমান আল-মুয়াদ্দীব ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি। তাঁর উপনাম হলো আবু হুজায়ফা, তিনি বসরার অধিবাসী এবং নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তাবারানির পক্ষ থেকে এখানে তিনটি শিক্ষণীয় বিষয় স্পষ্ট হয়েছে:[প্রথমত] পরবর্তীকালের মধ্যে যারা প্রচলিত ধারায় চলে ভুল করেছেন, তারা ধারণা করেছেন যে তিনি হলেন আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান ইবনে সাদ ইবনে জুরারাহ আল-আনসারিয়্যাহ আল-মাদানিয়্যাহ, যিনি আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাকারী। অথচ তিনি হলেন আমরাহ বিনতে আরতাআহ আল-আদাবিয়্যাহ আত-তাহিয়্যাহ আল-বাসরিয়্যাহ।আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ‘ফাদায়িলুস সাহাবাহ’ (১/৫০১/৮১৭) এবং ‘ফাদায়িলু উসমান ইবনে আফফান’ (১৪১) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট আবু আমির আল-আদাবি হাউসারাহ ইবনে আশরাস ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মারুফ জাফর ইবনে কায়সান আমরাহ বিনতে আরতাআহ আল-আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান (রা.) যখন নিহত হন সেই বছর আমি আয়েশা (রা.)-এর সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। তখন আমরা মদিনা অতিক্রম করি এবং সেই কুরআন মাজিদটি দেখি যার ওপর থাকা অবস্থায় তিনি শহীদ হয়েছিলেন এবং সেটি তাঁর কোলের ওপর ছিল। তাঁর রক্ত থেকে ঝরে পড়া প্রথম ফোঁটাটি এই আয়াতের ওপর পড়েছিল: “অতঃপর তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।” আমরাহ বলেন: (উসমানের হত্যাকারীদের) মধ্যে কোনো মানুষই স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেনি।[দ্বিতীয়ত] বাসরিয় মুয়াদ্দীব তাইয়্যিব ইবনে সালমানের নির্ভরযোগ্যতা। ইবনে আবি হাতিম তাকে ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’ (৪/৪৯৭/২১৯১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তাঁর ব্যাপারে কোনো জারহ বা তাদিল উল্লেখ করেননি। সেখানে তিনি বলেছেন: তাইয়্যিব ইবনে সালমান মুয়াজাহ আল-আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মুহাম্মাদ আবু আহমদ আল-আসকারি। আর ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আত-সিকাত’ (৬/৪৯৩) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: তাইয়্যিব ইবনে সালমান আমরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের জানাজার পিছু নিতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: “এতে তাদের জন্য কোনো সওয়াব নেই।” এটি আমাদের নিকট সাখতিয়ানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শায়বান ইবনে ফাররুখ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট তাইয়্যিব ইবনে সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমরাহ থেকে শুনেছি এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে এটি শুনেছেন।তাঁর সম্পর্কে দারাকুতনির উক্তি: “তিনি বসরার একজন দুর্বল বর্ণনাকারী” – এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কেননা এই সনদে তিনি বড়জোড় দশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে এই হাদিসটি ছাড়া আর কোনোটিই মুনকার (অস্বাভাবিক) নয়; আর এর পর্যালোচনা নিচে আসছে।[তৃতীয়ত] হাদিসের শব্দের ভিন্নতা। আবু ইয়ালা বলেছেন: “সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন, তার কোনো গুনাহ থাকবে না।” আর আত-তাম্মার বলেছেন: “আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” যদিও আবু ইয়ালা আত-তাম্মারের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য ও দৃঢ় স্মৃতির অধিকারী, কিন্তু আত-তাম্মারের বর্ণিত শব্দগুলোই সঠিক হওয়ার কাছাকাছি এবং মৌলিক নীতিমালার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।[ব্যাখ্যা ও সতর্কতা] তাঁরা ‘আল-মিজান’ (৩/৪৭৩) এবং ‘আল-লিসান’ (৩/২১৪) গ্রন্থে তাঁকে ‘তাইয়্যিব ইবনে সুলায়মান’ নামে উল্লেখ করেছেন; তবে ‘আল-মিজান’-এর একটি সংশোধিত পাণ্ডুলিপিতে ‘ইবনে সালমান’ রয়েছে, আর ইতিপূর্বে উল্লিখিত উৎসগুলোর ভাষ্যমতে এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১)
আল-হুজ্জাহ বি-দইফি হাদীসি মান সল্লা রাকআতাইনি বাদাস সুবহি ফালাহু আজরু উমরাতিন ওয়া হাজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[فَائِدَةٌ عَزِيزَةٌ] عِدَّةُ مَنْ رَوَى عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ مِمَّنْ يُسَمَّيْنَ عَمْرَةٌ سَبْعَةٌ:فَأَمَّا الأُولَى وَالثَّانِيَةُ فَهُمَا الْمَاضِيَتَانِ.[الثَّالِثَةُ] عَمْرَةُ بِنْتُ حَيَّانَ السَّهْمِيَّةُ.قَالَ الدَّارِمِيُّ (1163) : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ قَالَ حَدَّثَتْنِى حَبِيبَةُ بِنْتُ حَمَّادٍ قَالَتْ: حَدَّثَتْنِى عَمْرَةُ بِنْتُ حَيَّانَ السَّهْمِيَّةُ قَالَتْ: قَالَتْ لِى عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ: أَمَا تَسْتَطِيعُ إِحْدَاكُنَّ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ حَيْضِهَا أَنْ تُدَخِّنَ شَيْئاً مِنْ قُسْطٍ، فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئاً مِنْ آسٍ، فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئاً مِنْ نَوَىً، فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئاً مِنْ مِلْحٍ.[الرَّابِعَةُ] عَمْرَةُ بِنْتُ قَيْسٍ الْعَدَوِيَّةُ.قَالَ الإمَامُ أَحْمَدُ (6/82) : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ كَيْسَانَ قَالَ: حَدَّثَتْنِي عَمْرَةُ بِنْتُ قَيْسٍ الْعَدَوِيَّةُ قَالَتْ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «الْفَارُّ مِنْ الطَّاعُونِ كَالْفَارِّ مِنْ الزَّحْفِ» .وَأَخْرَجَهُ كَذَلِكَ ابْنُ سَعْدٍ «الطَّبَقَاتُ» (8/490) عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ «الْمُسْنَدُ» (1403) عَنْ يَزِيدَ وَعَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ، كِلاهُمَا عَنْ جَعْفَرِ بْنِ كَيْسَانَ أبِي مَعْرُوفٍ الْمُؤَذِّنِ الْبَصْرِيِّ بِهِ.[الْخَامِسَةُ] عَمْرَةُ عَمَّةُ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ.قَالَ أَبُو دَاوُدَ (3712) : حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ قَالَ سَمِعْتُ شَبِيبَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ يُحَدِّثُ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ قَالَ: حَدَّثَتْنِي عَمَّتِي عَمْرَةُ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: أَنَّهَا كَانَتْ تَنْبِذُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُدْوَةً، فَإِذَا كَانَ مِنْ الْعَشِيِّ، فَتَعَشَّى شَرِبَ عَلَى عَشَائِهِ، وَإِنْ فَضَلَ شَيْءٌ صَبَبْتُهُ، أَوْ فَرَّغْتُهُ، ثُمَّ تَنْبِذُ لَهُ بِاللَّيْلِ، فَإِذَا أَصْبَحَ تَغَدَّى، فَشَرِبَ عَلَى غَدَائِهِ، قَالَتْ: يُغْسَلُ السِّقَاءُ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً، فَقَالَ لَهَا أَبِي: مَرَّتَيْنِ فِي يَوْمٍ؟ ، قَالَتْ: نَعَمْ.قَالَ الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ الْمِزِّيُّ «تَهْذِيبُ الْكَمَالِ» : ذَكَرَ أَبُو الْقَاسِمِ ابْنُ عَسَاكِرَ هَذَا الْحَدِيثَ فِي «الأَطْرَافِ» فِي تَرْجَمَةِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ، وَذَلِكَ وَهْمٌ، وَاللهُ أَعْلَمُ.[السَّادِسَةُ] عَمْرَةُ أُمُّ أَسِيدِ بْنِ طَارِقٍ.قَالَ الْبُخَارِيُّ «التَّارِيْخُ الكبيرُ» (2/15/1537) : أَسِيدُ بْنُ طَارِقٍ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ، يُعَدُّ فِي الْبَصْرِيِّينَ، رَوَى عَنْهُ عِمْرَانُ بْنُ الْجَارُودِ.وَقَالَ (6/428/2878) : عِمْرَانُ بْنُ الْجَارُودِ مِنْ بَنِى الْحَارِثِ بْنِ عَبَّادٍ. سَمِعَ أَسِيدَ بْنَ طَارِقٍ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ عائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا تَقُولُ: كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ، سَمِعَ مِنْهُ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبَصْرِيُّ.وَذَكَرَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ هَاتَيْنِ التَّرْجَمَتَيْنِ بِمِثْلِهِمَا فِي «الْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ» (2/317/1199) و (6/295/1639) ، وَابْنُ حِبَّانَ بِنَحْوِهِمَا فِي «الثِّقَاتِ» (6/72/6781) و (8/498/14649) .وَزَادَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: أَسِيدُ بْنُ طَارِقٍ مَجْهُولٌ.[السَّابِعَةُ] عَمْرَةُ أُمُّ الْقَلُوصِ الْغَاضِرِيَّةُ.قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ «السُّنَنُ» (1/125/6) : حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَنَّاطُ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِى إِسْرَائِيلَ ثَنَا الْمُتَوَكِّلُ بْنُ الْفُضَيْلِ عَنْ أُمِّ الْقَلُوصِ عَمْرَةَ الْغَاضِرِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَرَى عَلَى الثَّوْبِ جَنَابَةً، وَلَا الأَرْضِ جَنَابَةً، وَلَا يُجْنِبُ الرَّجُلُ الرَّجُلَ.قَالَ أَبُو الْحَسَنِ: لَا يَثْبُتُ هَذَا، أُمُّ الْقَلُوصِ لَا تَثْبُتُ بِهَا حُجَّةٌ.
[একটি দামী ফায়দা] উম্মুল মুমিনীন আয়িশা থেকে বর্ণনা করেছেন এমন নারীদের মধ্যে যাদের নাম 'আমরাহ' তাদের সংখ্যা সাত জন:প্রথম এবং দ্বিতীয় জন হলেন সেই দুজন যারা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছেন।[তৃতীয় জন] আমরাহ বিনতে হাইয়ান আস-সাহমিয়্যাহ।আদ-দারিমি (১১৬৩) বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আল-মিনহাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন হাবিবা বিনতে হাম্মাদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমরাহ বিনতে হাইয়ান আস-সাহমিয়্যাহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন উম্মুল মুমিনীন আয়িশা আমাকে বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মাসিক থেকে পবিত্র হয়, তখন সে কি সামান্য কুস্ত (সুগন্ধি কাঠ) দিয়ে ধূপ নিতে পারে না? যদি তা না পায় তবে যেন সামান্য 'আস' (সুগন্ধি উদ্ভিদ) ব্যবহার করে, যদি তাও না পায় তবে যেন সামান্য খেজুরের আঁটি ব্যবহার করে, আর যদি তাও না পায় তবে যেন সামান্য লবণ ব্যবহার করে।[চতুর্থ জন] আমরাহ বিনতে কায়েস আল-আদাবিয়্যাহ।ইমাম আহমাদ (৬/৮২) বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন ইসহাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জাফর বিন কায়সান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমরাহ বিনতে কায়েস আল-আদাবিয়্যাহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি আয়িশাকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মহামারী থেকে পলায়নকারী ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারীর মতো।»ইবনে সাদও 'আত-তাবাকাত' (৮/৪৯০) গ্রন্থে ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ইসহাক বিন রাহুওয়াইহ 'আল-মুসনাদ' (১৪০৩) গ্রন্থে ইয়াজিদ ও আবদুস সামাদ বিন আব্দুল ওয়ারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই আবু মারুফ আল-মুয়াজ্জিন আল-বাসরী জাফর বিন কায়সান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।[পঞ্চম জন] আমরাহ, যিনি মুকাতিল বিন হাইয়ানের ফুফু।আবু দাউদ (৩৭১২) বলেছেন: মুসাদ্দাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-মু'তামির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি শাবিব বিন আব্দুল মালিককে মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন আমার ফুফু আমরাহ আমাকে আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে হাদিস শুনিয়েছেন: তিনি (আয়িশা) সকাল বেলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য পানীয় (নাবিজ) তৈরি করতেন, এরপর যখন সন্ধ্যা হতো এবং তিনি রাতের খাবার খেতেন তখন সেই খাবারের সাথে তা পান করতেন। যদি কিছু অবশিষ্ট থাকত তবে আমি তা ঢেলে দিতাম বা খালি করতাম। এরপর তিনি রাতের বেলা তাঁর জন্য পানীয় তৈরি করতেন, যখন সকাল হতো তিনি সকালের খাবার খেতেন এবং সেই খাবারের সাথে তা পান করতেন। তিনি বলেন: সকালে ও সন্ধ্যায় পানির পাত্র ধৌত করা হতো। তখন আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: দিনে দুইবার? তিনি বললেন: হ্যাঁ।হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি 'তাহজিবুল কামাল' গ্রন্থে বলেছেন: আবুল কাসেম ইবনে আসাকির এই হাদিসটি 'আল-আতরাফ' গ্রন্থে আয়িশা থেকে আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমানের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, আর এটি একটি ভুল (ওয়াহম), আল্লাহ ভালো জানেন।[ষষ্ঠ জন] আমরাহ, যিনি উসাইদ বিন তারিকের মা।বুখারি 'আত-তারিখুল কবির' (২/১৫/১৫৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: উসাইদ বিন তারিক তাঁর মা আমরাহ থেকে এবং তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁকে বসরার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাঁর থেকে ইমরান বিন আল-জারুদ বর্ণনা করেছেন।এবং তিনি (৬/৪২৮/২৮৭৮) বলেছেন: ইমরান বিন আল-জারুদ বনু হারিস বিন আব্বাদ বংশের। তিনি উসাইদ বিন তারিক থেকে এবং তিনি তাঁর মা আমরাহ থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতে শুনেছি: প্রত্যেক মাদকদ্রব্যই মদ। তাঁর থেকে মুসা বিন ইসমাইল আল-বাসরি শুনেছেন।ইবনে আবি হাতিম এই দুটি জীবনী তাঁর 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল' (২/৩১৭/১১৯৯) ও (৬/২৯৫/১৬৩৯) গ্রন্থে একইভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হিব্বানও তাঁর 'আস-সিকাত' (৬/৭২/৬৭৮১) ও (৮/৪৯৮/১৪৬৪৯) গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।ইবনে আবি হাতিম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: উসাইদ বিন তারিক মাজহুল (অপরিচিত)।[সপ্তম জন] আমরাহ উম্মুল কালুস আল-গাদিরিয়্যাহ।আদ-দারাকুতনি 'আস-সুনান' (১/১২৫/৬) গ্রন্থে বলেছেন: আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-হান্নাত আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইসহাক বিন আবি ইসরাইল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-মুতাওয়াক্কিল বিন আল-ফুদাইল আমাদের উম্মুল কালুস আমরাহ আল-গাদিরিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আয়িশা থেকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাপড়ের অপবিত্রতা (জানাবাত) বা জমির অপবিত্রতা মনে করতেন না এবং এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে অপবিত্র করে না।আবু আল-হাসান বলেছেন: এটি প্রমাণিত নয়, উম্মুল কালুসের বর্ণনা দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হয় না।