(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة المحتاج إلى أدلة المنهاج (ابن الملقن)
القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: تحفة المحتاج إلى أدلة المنهاج (على ترتيب المنهاج للنووي)
المؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (ت 804هـ)
المحقق: عبد الله بن سعاف اللحياني
الناشر: دار حراء - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1406
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ (ইবনুল মুলাক্কিন)
বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ (ইমাম নববীর মিনহাজ-এর বিন্যাস অনুযায়ী)
লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আল-মিসরী (মৃত্যু ৮০৪ হিজরী)
গবেষক: আবদুল্লাহ বিন সুআফ আল-লিহয়ানী
প্রকাশক: দার হিরা - মক্কাতুল মুকাররমা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[تحفة المحتاج إلى أدلة المنهاج]ـالمؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (المتوفى: 804هـ)المحقق: عبد الله بن سعاف اللحيانيالناشر: دار حراء - مكة المكرمةالطبعة: الأولى، 1406عدد الأجزاء: 2[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ويمكن الانتقال للجزء والصفحة ورقم الحديث]
[তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ]লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস ওমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আল-মিসরী (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরী)সম্পাদক: আবদুল্লাহ বিন সুআফ আল-লিহয়ানিপ্রকাশক: দার হেরা - মক্কা আল-মুকাররামাসংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরীখণ্ড সংখ্যা: ২[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে]
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১)
تحفة الْمُحْتَاج إِلَى أَدِلَّة الْمِنْهَاج
মিনহাজের দলীলসমূহের প্রতি অভাবীদের জন্য উপহার
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
مُقَدّمَة {رَبنَا آتنا من لَدُنْك رَحْمَة وهيئ لنا من أمرنَا رشدا} الْحَمد لله عَلَى إحسانه وإنعامه وإرشاده للْقِيَام بِالسنةِ وإلهامه وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله لَا شريك لَهُ شَهَادَة دائمه بدوامه وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله خَاتم رسله ومسك ختامه صَلَّى الله عَلَيْهِ وَعَلَى آله صَلَاة مقرونة بسلامه وبعد فَهَذَا مُخْتَصر فِي أَحَادِيث الْأَحْكَام ذُو إتقان وإحكام عديم الْمِثَال لم ينسج مثله عَلَى منوال شرطي أَن لَا أذكر فِيهِ إِلَّا حَدِيثا
ভূমিকা {হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের সকল বিষয়ে সঠিক পথের ব্যবস্থা করুন।} সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর অনুগ্রহ, নিয়ামত এবং সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য তাঁর নির্দেশনা ও প্রেরণা প্রদানের নিমিত্তে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; এমন সাক্ষ্য যা তাঁর চিরন্তন সত্তার ন্যায় চিরস্থায়ী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি রাসূলগণের সিলমোহর এবং তাঁদের সুগন্ধিময় সমাপ্তি। আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর, এটি বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের এক সংক্ষিপ্ত সংকলন, যা অত্যন্ত সুনিপুণ ও সুসংহত এবং যা অনন্য। এই ধারায় ইতিপূর্বে এর তুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি। আমার শর্ত হলো, আমি এতে কেবল সেই হাদিসই উল্লেখ করব...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
صَحِيحا أَو حسنا دون الضَّعِيف وَرُبمَا ذكرت شَيْئا مِنْهُ لشدَّة الْحَاجة إِلَيْهِ منبها عَلَى ضعفه مُشِيرا بِقَوْلِي مُتَّفق عَلَيْهِ لما رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم فِي صَحِيحهمَا وبقولي رَوَاهُ الْأَرْبَعَة لما رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه فِي سُنَنهمْ وبقولي رَوَاهُ الثَّلَاثَة لَهُم خلا ابْن مَاجَه وَمَا عدا ذَلِك أوضح من رَوَاهُ كالشافعي وَأحمد والدارمي فِي مسانيدهم وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَأبي عوَانَة فِي صحاحهم وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه وَالدَّارقطني وَالْبَيْهَقِيّ فِي سُنَنهمَا وَغَيرهم كَمَا ستراه وَاضحا إِن شَاءَ الله تَعَالَى وأقتصر فِيمَا أوردهُ من قسم الصَّحِيح وَالْحسن عَلَى الْأَصَح وَالْأَحْسَن مِمَّا رَوَى فِيهِ وَرُبمَا نبهت مَعَ الْأَصَح وَالْأَحْسَن عَلَى الصَّحِيح وَالْحسن كَمَا فعلت فِي أَوَائِل كتاب الطَّهَارَة حَيْثُ ذكرت حَدِيث هُوَ الطّهُور مَاؤُهُ الْحل ميتَته أَولا من حَدِيث جَابر ثمَّ عروته إِلَى رُوَاته الإِمَام أَحْمد وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان وَأَن ابْن السكن قَالَ إِنَّه أصح مَا رُوِيَ فِي الْبَاب ثمَّ قلت بعده وَهُوَ للأربعة من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَأَن التِّرْمِذِيّ وَغَيره صَححهُ وَكَذَا حَدِيث بِئْر بضَاعَة حَيْثُ أخرجته أَولا من حَدِيث سهل بن سعد السَّاعِدِيّ وعزوته إِلَى رِوَايَة قَاسم بن أصبغ ثمَّ قلت بعد ذَلِك وَهُوَ للثَّلَاثَة من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ وَأَنه صحّح وَحسن إِلَى غير ذَلِك من الْمَوَاضِع الْآتِيَةوَقد يخْطر للنَّاظِر فِي كتَابنَا هَذَا أَنه يجب تَقْدِيم رِوَايَة الْأَشْهر عَلَى غَيره فَليعلم إِنَّمَا فعلت ذَلِك لِأَن الأول أصح أَو أحسن من الثَّانِي فَتدبر
সহীহ অথবা হাসান এবং যঈফকে বর্জন করেছি। তবে কখনো কখনো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তার কারণে আমি তা থেকে কিছু উল্লেখ করেছি এবং এর দুর্বলতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। আমার বক্তব্য ‘মুত্তাফাকুন আলাইহি’ দ্বারা বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা নির্দেশ করেছি। আর ‘রাওয়াহুল আরবাআহ’ দ্বারা আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ তাঁদের সুনান গ্রন্থসমূহে যা বর্ণনা করেছেন তা বুঝিয়েছি। এবং ‘রাওয়াহুছ ছালাছাহ’ দ্বারা ইবনে মাজাহ ব্যতীত তাঁদের অন্য তিনজনকে বুঝিয়েছি। এর বাইরে অন্যান্যদের ক্ষেত্রে কে বর্ণনা করেছেন তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি, যেমন শাফিঈ, আহমাদ ও দারেমী তাঁদের মুসনাদসমূহে; ইবনে খুযায়মাহ, ইবনে হিব্বান ও আবু আওয়ানাহ তাঁদের সহীহ গ্রন্থসমূহে; হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে; দারেকুতনী ও বায়হাকী তাঁদের সুনানদ্বয়ে এবং অন্যান্যরা, যেমনটি আপনি ইনশাআল্লাহ স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। আর সহীহ ও হাসান পর্যায়ভুক্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি সহীহ এবং সবচেয়ে উত্তম বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। কখনো কখনো সবচেয়ে বেশি সহীহ ও উত্তমের পাশাপাশি সহীহ ও হাসানের প্রতিও ভ্রূক্ষেপ করেছি, যেমনটি আমি পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরুতে করেছি। সেখানে আমি প্রথমে জাবির-এর সূত্রে বর্ণিত ‘এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত হালাল’ শীর্ষক হাদীসটি উল্লেখ করেছি, অতঃপর এর বর্ণনাকারী হিসেবে ইমাম আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বানের নাম উল্লেখ করেছি এবং ইবনুস সাকান একে এ অনুচ্ছেদের সবচেয়ে সহীহ বর্ণনা বলেছেন তা উল্লেখ করেছি। এরপর আমি বলেছি যে, আবু হুরায়রা-এর সূত্রে এটি চারজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী ও অন্যান্যরা একে সহীহ বলেছেন। অনুরূপভাবে ‘বি’রে বুদাআহ’ সংক্রান্ত হাদীসটির ক্ষেত্রেও আমি তা প্রথমে সাহল ইবনে সা’দ আস-সা’ঈদী-এর বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করে কাসেম ইবনে আসবাগ-এর বর্ণনার দিকে সম্বন্ধ করেছি। এরপর আমি বলেছি যে, এটি আবু সাঈদ খুদরী-এর সূত্রে তিনজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ ও হাসান বলা হয়েছে। সামনে এমন আরও উদাহরণ আসবে।আমাদের এই কিতাবের পাঠকের মনে হতে পারে যে, অধিক প্রসিদ্ধ বর্ণনাকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক ছিল; তবে তিনি যেন জেনে রাখেন যে, আমি এমনটি এই কারণে করেছি যে প্রথমটি দ্বিতীয়টির তুলনায় অধিক সহীহ কিংবা অধিক উত্তম। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
ذَلِك واعرف لما وَقع فِي هَذَا الْمُخْتَصر من الاعتناء والفحص حَقّهمَاوَقد استخرت الله سبحانه وتعالى فِي تَرْتِيب هَذَا الْمُخْتَصر الْمُبَارك عَلَى تَرْتِيب كتاب الْمِنْهَاج للعلامة مُحي الدَّين النَّوَوِيّ رضي الله عنه فِي الْمسَائِل والأبواب وخصصت هَذَا الْمُخْتَصر بِهِ لإكباب الطّلبَة فِي هَذِه الْأَزْمَان عَلَيْهِ وانتفاعهم بِمَا لَدَيْهِوَأَرْجُو أَنه واف بِكُل مَسْأَلَة ذكرهَا وَورد فِيهَا حَدِيث صَحِيح أَو حسن وَأما الْأَحَادِيث الضعيفة والْآثَار فَلم أتعرض لشَيْء مِنْهَا إِلَّا نَادرا نعم تعرضت لَهما فِي شرحي لَهُ الْمُسَمَّى بعمدة الْمُحْتَاج إِلَى كتاب الْمِنْهَاج فَإِذا لم تَجِد حَدِيثا عقب الْمَسْأَلَة فَذَلِك إِمَّا لعدمه أَو لضَعْفه أَو لذكره فِي مَوَاضِع أخر من الْبَاب اقْتَضَى الإختصار عدم إِعَادَته وَكَذَا إِذا كَانَ الحَدِيث يصلح للاستدلال بِهِ فِي عدَّة أَبْوَاب فَإِنِّي أذكرهُ فِي أَولهَا وَرُبمَا نبهت عَلَى تقدمه كَحَدِيث إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَحَدِيث رفع الْقَلَم عَن ثَلَاثَةوَمَا وَقع من الْأَحْكَام عَلَى سَبِيل الاستطراد فقد لَا ألتزم الِاسْتِدْلَال
সেটি জানুন এবং এই সংক্ষেপে (মুখতাসার) যে যত্ন ও অনুসন্ধান করা হয়েছে তা যথাযথভাবে উপলব্ধি করুন।আমি এই বরকতময় সংক্ষেপটি (মুখতাসার) মাসয়ালা ও অধ্যায় বিন্যাসের ক্ষেত্রে আল্লামা মুহিউদ্দীন নববী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানোর ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে ইস্তিখারা করেছি। আর আমি এই সংক্ষেপটির জন্য এই কিতাবটিকেই নির্দিষ্ট করেছি, কারণ বর্তমান সময়ের ছাত্ররা এই কিতাবের প্রতি অত্যন্ত নিবিষ্ট হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা উপকৃত হচ্ছে।আমি আশা করি যে, এটি তাঁর উল্লেখিত প্রতিটি মাসয়ালাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করবে যার সপক্ষে সহীহ অথবা হাসান হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর যঈফ হাদীস ও আছারসমূহের ব্যাপারে আমি বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো আলোচনা করিনি। তবে হ্যাঁ, ‘উমদাতুল মুহ্তাজ ইলা কিতাবিল মিনহাজ’ নামক আমার ব্যাখ্যাগ্রন্থে আমি উভয় বিষয়ে আলোচনা করেছি। সুতরাং যদি আপনি কোনো মাসয়ালার পর হাদীস না পান, তবে তার কারণ হতে পারে হাদীসটির অস্তিত্ব না থাকা, অথবা সেটি যঈফ হওয়া, অথবা অধ্যায়ের অন্য কোনো স্থানে তার উল্লেখ থাকা যা সংক্ষেপ করার প্রয়োজনে পুনরুক্তি না করতে বাধ্য করেছে। একইভাবে যদি কোনো হাদীস বিভিন্ন অধ্যায়ে দলিল হিসেবে উপস্থাপনের উপযুক্ত হয়, তবে আমি তা প্রথম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি এবং সম্ভবত তা আগে অতিবাহিত হওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছি; যেমন—‘নিশ্চয়ই আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ সংক্রান্ত হাদীস এবং ‘তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে’ সংক্রান্ত হাদীস।আর প্রসঙ্গক্রমে যে সকল বিধানের উল্লেখ এসেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি দলিল প্রদানের আবশ্যকতা বজায় রাখিনি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
عَلَيْهِ هُنَاكَ وأواخر دَلِيله إِلَى مَوْضِعه كَمَا فِي أغسال الْحَج الْمَذْكُورَة فِي بَاب الْجُمُعَة عَلَى سَبِيل الاستطرادفَمن تَأمل هَذَا الْمُخْتَصر حق التَّأَمُّل وجده وافيا لما ذكرته قَائِما بِمَا شرطته وسميته تحفة الْمُحْتَاج إِلَى أَدِلَّة الْمِنْهَاج وَالله أسأله أَن يعم النَّفْع بِهِ وبأمثاله فِي الْحَال والمآل إِنَّه لما يَشَاء فعال لَا رب سواهُ وَلَا نرجو إِلَّا إِيَّاه وحسبنا الله وَنعم الْوَكِيل وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم1 - عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لكل امريء مَا نَوى فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله فَهجرَته إِلَى الله وَرَسُوله وَمن كَانَت هجرته لدُنْيَا يُصِيبهَا أَو امْرَأَة ينْكِحهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ مُتَّفق عَلَى صِحَّته رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي سَبْعَة مَوَاضِع وَمُسلم فِي الْجِهَاد قَالَ ابْن مهْدي الْحَافِظ لَو صنفت كتابا لبدأت فِي أول كل بَاب مِنْهُ بِهَذَا الحَدِيث 1
সেখানে তার ওপর এবং এর দলিলের অবশিষ্টাংশকে তার স্বস্থানে রাখা হয়েছে, যেমনটি জুমার অধ্যায়ে প্রাসঙ্গিকভাবে হজ্জের গোসলসমূহের বর্ণনায় করা হয়েছে।অতঃপর যে ব্যক্তি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি যথাযথভাবে অনুধাবন করবে, সে একে আমার বর্ণিত বিষয়াবলির জন্য পর্যাপ্ত এবং আমার শর্তানুযায়ী সুপ্রতিষ্ঠিত পাবে। আমি এর নামকরণ করেছি 'তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ'। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এবং এর সদৃশ গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে উপকারকে ব্যাপক করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী। তিনি ছাড়া কোনো রব নেই এবং আমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো নিকট আশা রাখি না। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় এবং কোনো শক্তি নেই।১ - আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত্য রয়েছে। ইমাম বুখারী এটি সাতটি স্থানে এবং ইমাম মুসলিম জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে মাহদী বলেন: "আমি যদি কোনো গ্রন্থ রচনা করতাম, তবে তার প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে এই হাদিসটি যুক্ত করতাম।" ১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
كتاب الطَّهَارَة 2 - عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه وَهُوَ عبد الرَّحْمَن بن صَخْر قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا كبر فِي الصَّلَاة سكت هنيَّة قبل أَن يقْرَأ فَقلت يَا رَسُول الله بِأبي أَنْت وَأمي أَرَأَيْت سكوتك بَين التَّكْبِير وَالْقِرَاءَة مَا تَقول قَالَ أَقُول اللَّهُمَّ باعد بيني وَبَين خطاياي كَمَا باعدت بَين الْمشرق وَالْمغْرب اللَّهُمَّ نقني من خطاياي كَمَا ينقى الثَّوْب الْأَبْيَض من الدنس اللَّهُمَّ اغسلني من خطاياي بِمَاء الثَّلج وَالْبرد مُتَّفق عَلَيْهِ
পবিত্রতা অধ্যায় ২ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—আর তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে সাখর—তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাতে তাকবীর দিতেন, তখন কিরাআত শুরু করার পূর্বে কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী সময়ে আপনার এই যে নীরবতা, এতে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: আমি বলি, "হে আল্লাহ! আমার এবং আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন ব্যবধান তৈরি করে দিন, যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপসমূহকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধুয়ে দিন।" (বুখারী ও মুসলিম)।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
3 - وَعَن جَابر بن عبد الله رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ سُئِلَ عَن مَاء الْبَحْر فَقَالَ هوالطهور مَاؤُهُ الْحل ميتَته رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه وَصَححهُ ابْن حبَان وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو عَلّي بن السكن إِنَّه أصح مَا رَوَى فِي الْبَاب وَأخرجه فِي صحاحه وَهُوَ للأربعة من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبُخَارِيّ وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَابْن السكن
৩ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, “এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।” এটি আহমাদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। হাফেয আবু আলী ইবনে আস-সাকান বলেছেন যে, এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে এটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং তিনি এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। আর এই হাদীসটি চারজন (সুনান গ্রন্থকার) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী, বুখারী, ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান ও ইবনে আস-সাকান একে সহীহ বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
4 - وَعَن سهل بن سعد رضي الله عنه قَالُوا يَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِنَّك تتوضأ من بِئْر بضَاعَة وفيهَا مَا يُنجي النَّاس والمحايض والخبث فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ المَاء لَا يُنجسهُ شَيْء رَوَاهُ قَاسم بن أصْبع وَقَالَ إِنَّه من أحسن شَيْء فِي بِئْر بضَاعَة وَقَالَ ابْن الْقطَّان إِنَّه حسن وَهُوَ للثَّلَاثَة من حَدِيث أبي سعيد سعد بن مَالك الْخُدْرِيّ وَحسنه التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ أَحْمد غَيره
৪ - সহল ইবনে সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি বুদআ'হ কূপের পানি থেকে ওযু করেন, অথচ তাতে মানুষের ফেলে দেওয়া আবর্জনা, মাসিকের কাপড় এবং অপবিত্র বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না। এটি কাসিম ইবনে আসবাগ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে বুদআ'হ কূপ সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বর্ণনা। ইবনুল কাত্তান বলেছেন এটি হাসান। এটি আবু সাঈদ সাদ ইবনে মালিক আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে সুনানের তিন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে; ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
5 - وَعَن عمرَان بن حُصَيْن رضي الله عنه فِي قصَّة مزادة المشركة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أعْطى للَّذي أَصَابَته الْجَنَابَة إِنَاء من ذَلِك فَقَالَ إذهب فأفرغه عَلَيْك مُتَّفق عَلَيْهِ6 - وَعَن أم قيس بنت مُحصن رضي الله عنها أَنَّهَا سَأَلت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ عَن دم الْحيض يكون فِي الثَّوْب قَالَ حكيه بضلع واغسليه بِمَاء وَسدر رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه صَححهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَقَالَ ابْن الْقطَّان إِسْنَاده فِي غَايَة الصِّحَّة وَلَا أعلم لَهُ عِلّة الضلع بِكَسْر الضَّاد الْعود قَالَ ابْن الْأَعرَابِي كَمَا نَقله صَاحب الْعباب والأزهري وَغَيرهمَا وَقَالَ صَاحب الإِمَام بِفَتْح الْمُهْملَة وَإِسْكَان اللَّام أَي الْحجر
৫ - ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মুশরিক মহিলার পানির মশকের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ব্যক্তিকে, যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছিল, সেই পানির একটি পাত্র দিলেন এবং বললেন, “যাও এবং এটি তোমার শরীরের ওপর ঢেলে দাও।” এটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত।৬ - উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কাপড়ে লেগে থাকা ঋতুস্রাবের রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, “তা একটি কাঠি দিয়ে খুঁটে ফেলো এবং পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধৌত করো।” এটি আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমাহ ও ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। ইবনে আল-কাত্তান বলেছেন, “এর বর্ণনা সূত্র অত্যন্ত বিশুদ্ধ এবং এতে কোনো ত্রুটি আছে বলে আমার জানা নেই।” ‘দিলউন’ শব্দটি (দাদ বর্ণে জের যোগে) অর্থ হলো কাঠ বা কাঠি, যেমনটি ইবনুল আরাবী বলেছেন এবং ‘আল-উবাব’ গ্রন্থের লেখক, আল-আজহারী ও অন্যান্যরা তা উল্লেখ করেছেন। আর ‘আল-ইমাম’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন, এটি (দাল বর্ণে জবর এবং লাম বর্ণে জজম যোগে) ‘দালউন’, যার অর্থ হলো পাথর।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
7 - وَعَن أَسمَاء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قَالَت جَاءَت امْرَأَة إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَت إحدانا يُصِيب ثوبها من دم الْحَيْضَة كَيفَ تصنع بِهِ فَقَالَ تَحْتَهُ ثمَّ تقرضه بِالْمَاءِ ثمَّ تنضحه ثمَّ تصلي فِيهِ مُتَّفق عَلَيْهِ8 - وَعَن أم هانىء رضي الله عنها أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ اغْتسل هُوَ ومَيْمُونَة من إِنَاء وَاحِد فِي قَصْعَة فِيهَا أثر الْعَجِين رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه بِإِسْنَاد عَلَى شَرط الصَّحِيح إِلَّا عبد الله بن عَامر الْأَشْعَرِيّ شيخ ابْن مَاجَه تفرد عَنهُ وَلَا أعرف حَاله فَإِن كَانَ هُوَ عبد الله بن براد الْأَشْعَرِيّ كَمَا نسبه ابْن مَاجَه مرّة أُخْرَى فَهُوَ من رجال الصَّحِيح
৭ - আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক নারী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমাদের কারো কাপড়ে ঋতুর রক্ত লাগলে সে কী করবে? তিনি বললেন: "সে যেন তা ঘষে ফেলে, তারপর পানি দিয়ে আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে কচলে নেয়, এরপর তাতে পানি ছিটিয়ে দেয়। অতঃপর সে তাতে সালাত আদায় করবে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)৮ - উম্মে হানী (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) একটি বড় পাত্র থেকে গোসল করেছিলেন যাতে ময়দার খামিরের চিহ্ন ছিল। নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এমন সনদে যা সহীহ হাদিসের শর্তানুযায়ী, তবে ইবনে মাজাহ-র শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আমির আল-আশআরী ব্যতীত; তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অবগত নই। তবে তিনি যদি আব্দুল্লাহ বিন বাররাদ আল-আশআরী হন, যেমনটি ইবনে মাজাহ অন্য এক স্থানে তাঁকে নিসবত করেছেন, তবে তিনি সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
9 - وَعَن إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش حَدثنِي صَفْوَان بن عَمْرو وَعَن حسان بن أَزْهَر عَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ لَا تغتسلوا بِالْمَاءِ المشمس فَإِنَّهُ يُورث البرص رَوَاهُ الدَّارقطني وَهَذَا إِسْنَاد صَحِيح فَإِنَّهُ من رِوَايَة إِسْمَاعِيل عَن الشاميين وَتَابعه
৯ - এবং ইসমাঈল বিন আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাফওয়ান বিন আমর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন এবং হাসসান বিন আজহার থেকে বর্ণিত, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তোমরা রোদে উত্তপ্ত পানি দ্বারা গোসল করো না, কেননা তা শ্বেতী রোগের উদ্রেক করে। এটি আদ-দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ। কারণ এটি সিরীয় বর্ণনাকারীদের থেকে ইসমাঈলের বর্ণিত হাদীস এবং এটি সমর্থিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
الْمُغيرَة بن عبد القدوس عَن صَفْوَان فَذكره رَوَاهُ ابْن حبَان فِي ثقاته وهما عاضدان لرِوَايَة إِبْرَاهِيم بن يَحْيَى عَن صَدَقَة بن عبد الله عَن أبي الزبير عَن جَابر عَن عمر أَنه كَانَ يكره الإغتسال بِالْمَاءِ المشمس وَقَالَ أَنه يُورث البرص وَقد وثق إِبْرَاهِيم هَذَا الشَّافِعِي وَابْن جريج وَابْن عدي وَغَيرهم وَتركت الحَدِيث السائر لضَعْفه بل لوضعه10 - وَعَن عبد الله بن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ سُئِلَ عَن المَاء يكون بِأَرْض الفلاة وَمَا ينوبه من السبَاع وَالدَّوَاب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا بلغ المَاء قُلَّتَيْنِ لم يحمل الْخبث رَوَاهُ الْأَرْبَعَة وَصَححهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَابْن مَنْدَه والطَّحَاوِي وَالْحَاكِم وَزَاد إِنَّه عَلَى شَرط البُخَارِيّ وَمُسلم
মুগিরা বিন আব্দুল কুদ্দুস সাফওয়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তার 'আস-সিকাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এই দুটি বর্ণনা ইব্রাহিম বিন ইয়াহইয়া-র বর্ণনার সহায়ক, যা তিনি সাদাকা বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রৌদ্রে তপ্ত পানি দিয়ে গোসল করা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন যে এটি শ্বেতী রোগ সৃষ্টি করে। ইমাম শাফিঈ, ইবনে জুরাইজ, ইবনে আদি এবং অন্যান্যরা এই ইব্রাহিমকে নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। আমি প্রচলিত হাদিসটি এর দুর্বলতা, বরং জাল হওয়ার কারণে বর্জন করেছি।১০ - আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নির্জন প্রান্তরের পানি এবং সেখানে হিংস্র প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর যাতায়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।" এটি চারজন (সুনান সংকলক) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান, ইবনে মানদাহ, ত্বহাবী ও হাকেম একে সহীহ বলেছেন। হাকেম আরও যোগ করেছেন যে এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
11 - وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد وَابْن حبَان فَإِنَّهُ لَا ينجس قَالَ يَحْيَى بن معِين إسنادها جيد
১১ - এবং আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র হয় না।" ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "এর সনদ উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
12 - وَعنهُ أَيْضا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا بلغ المَاء قُلَّتَيْنِ من قلال هجر لم يُنجسهُ شَيْء رَوَاهُ ابْن عدي وَلَيْسَ فِي إِسْنَاده سُوَى الْمُغيرَة بن صقْلَابٍ تكلم فِيهِ بن عدي وَقَالَ أَبُو حَاتِم صَالح الحَدِيث وَقَالَ أَبُو زرْعَة لَا بَأْس بِهِ13 - وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا وَقع الذُّبَاب فِي شراب أحدكُم فليغمسه كُله ثمَّ لينزعه فَإِن فِي أحد جناحيه دَاء وَفِي الاخر شِفَاء رَوَاهُ البُخَارِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَأَنه يَتَّقِي بجناحيه الَّذِي فِيهِ الدَّاء
১২ - এবং তাঁর থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পানি যখন হাজর অঞ্চলের মটকাগুলোর মধ্য হতে দুই মটকা পরিমাণ হয়, তখন কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না।" এটি ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্রে মুগিরা বিন সাকলাব ব্যতীত (সমালোচিত) কেউ নেই। ইবনে আদি তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, তবে আবু হাতিম বলেছেন: "হাদীসটি গ্রহণযোগ্য (সালিহ)" এবং আবু যুরআহ বলেছেন: "এতে কোনো সমস্যা নেই।"১৩ - এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পানীয় বস্তুর মধ্যে মাছি পড়ে, তখন সে যেন তাকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দেয় এবং এরপর তা তুলে ফেলে দেয়। কারণ তার দুই ডানার একটিতে রয়েছে রোগ আর অন্যটিতে রয়েছে নিরাময়।" এটি বুখারী, আবু দাউদ, ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন। এবং মাছি (পড়ার সময়) তার সেই ডানাটি আগে দেয় যাতে রোগ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
14 - وَعَن أبي أُمَامَة صدى بن عجلَان الْبَاهِلِيّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ المَاء لَا يُنجسهُ شَيْء إِلَّا مَا غلب عَلَى رِيحه وطعمه ولونه رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَفِي إِسْنَاده رشدين بن سعد وَقد ضَعَّفُوهُ لَكِن قَالَ أَحْمد مرّة أَرْجُو أَنه صَالح الحَدِيث
১৪ - আবু উমামাহ সুদা ইবনে আজলান আল-বাহিলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করতে পারে না, কেবল সেই বস্তু ব্যতীত যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ এবং রঙের ওপর প্রবল হয়ে যায়।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্রে রুশদিন ইবনে সাদ রয়েছেন, যাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন; তবে ইমাম আহমাদ একবার বলেছেন: "আমি আশা করি তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (সালিহ)।"
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
151515 15 - عَن الْحسن رضي الله عنه قَالَ حفظت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ دع مَا يريبك إِلَى مَا لَا يريبك رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان وَالْحَاكِم قَالَ التِّرْمِذِيّ حسن صَحِيح وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد16 - وَعَن أبي قَتَادَة الْحَارِث بن ربعي أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ فِي الْهِرَّة إِنَّهَا لَيست بِنَجس إِنَّهَا من الطوافين عَلَيْكُم والطوافات رَوَاهُ مَالك وَالْأَرْبَعَة وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَخَالف ابْن مَنْدَه فأعله بِمَا بَان وهنه
১৫ - হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুখস্থ করেছি— "যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করে তা ত্যাগ করে যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হও।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান ও হাকেম। তিরমিযী একে হাসান সহীহ বলেছেন এবং হাকেম একে সহীহুল ইসনাদ (সনদ সহীহ) বলেছেন।১৬ - আর আবু কাতাদা আল-হারিস ইবনে রিবঈ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিড়াল সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র নয়; এটি তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী ও বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত।" এটি মালিক ও সুনান চতুষ্টয় বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী, ইবনে খুযায়মাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম ও বায়হাকী একে সহীহ বলেছেন। তবে ইবনে মান্দাহ এর বিরোধিতা করেছেন এবং একে এমন ত্রুটি দ্বারা দোষযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন যার দুর্বলতা সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
فصل17 - عَن حُذَيْفَة بن الْيَمَان قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَقُول لَا تلبسوا الْحَرِير وَلَا الديباج وَلَا تشْربُوا فِي آنِية الذَّهَب وَالْفِضَّة فَإِنَّهَا لَهُم فِي الدُّنْيَا وَلكم فِي الاخرة مُتَّفق عَلَيْهِ18 - وَعَن عَاصِم الْأَحول قَالَ رَأَيْت قدح رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عِنْد أنس بن مَالك قد انصدع فسلسله بِفِضَّة قَالَ أنس لقد سقيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي هَذَا الْقدح أَكثر من كَذَا وَكَذَا رَوَاهُ البُخَارِيّ
পরিচ্ছেদ১৭ - হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা রেশম ও দিবায পরিধান করো না এবং সোনা ও রুপার পাত্রে পান করো না; কারণ এগুলো দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)১৮ - আসেম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস বিন মালিকের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি পেয়ালা দেখেছি যা ফেটে গিয়েছিল, তখন তিনি সেটি রুপার শিকল দিয়ে জোড়া লাগিয়েছিলেন। আনাস বলেন, আমি এই পেয়ালায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এতো এতো বারের চেয়েও বেশি পান করিয়েছি। (বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন)
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
19 - عَن أبي أُمَامَة صدى بن عجلَان رضي الله عنه قَالَ كَانَت قبيعة سيف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من فضَّة رَوَاهُ النَّسَائِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح
১৯ - আবু উমামা সুদী ইবনে আজলান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তরবারির হাতলের অগ্রভাগ ছিল রূপার তৈরি। নাসাঈ এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
- بَاب أَسبَاب الْحَدث-20 - عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ لَا وضوء إِلَّا من صَوت أَو ريح رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حسن صَحِيح21 - وَعَن عَلّي كرم الله وَجهه قَالَ كنت رجلا مذاء فَاسْتَحْيَيْت أَن أسأَل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ لمَكَان ابْنَته فأمت الْمِقْدَاد بن الْأسود فَسَأَلَهُ فَقَالَ يغسل ذكره وَيتَوَضَّأ مُتَّفق عَلَيْهِ
ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহের অধ্যায়- ২০ - আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: শব্দ বা গন্ধ (নির্গত হওয়া) ব্যতীত ওযূ নেই। এটি ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) একে হাসান সহীহ বলেছেন। ২১ - এবং আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি অধিক মযী নির্গত হওয়া ব্যক্তি ছিলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যার অবস্থানের কারণে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পাচ্ছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদকে নির্দেশ প্রদান করলাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: সে যেন তার লিঙ্গ ধৌত করে এবং ওযূ করে। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
22 - وَعنهُ أَيْضا رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ العينان وكاء السه فَمن نَام فَليَتَوَضَّأ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَفِي إِسْنَاد مقَال لَكِن ذكره ابْن السكن فِي سنَنه الصِّحَاح المأثورة
২২ - তাঁর থেকেও বর্ণিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "চক্ষুদ্বয় হলো মলদ্বারের বন্ধনী; সুতরাং যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ে, সে যেন ওযু করে।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে সমালোচনা রয়েছে, তবে ইবনুস সাকান তাঁর ‘সুনানে সিহাহ আল-মা’সুরা’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
23 - وَعَن أنس رضي الله عنه قَالَ كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ينامون ثمَّ يصلونَ وَلَا يتوضؤون رَوَاهُ مُسلم زَاد أَبُو دَاوُد حَتَّى تخفق رؤوسهم وَأَن ذَلِك عَلَى عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ وَرِجَال إِسْنَاده كلهم ثِقَات24 - وَعَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت فقدت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لَيْلَة من الْفراش فالتمسته فَوَقَعت يَدي عَلَى بطن قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَسْجِد وهما منصوبتان وَهُوَ يَقُول اللَّهُمَّ أعوذ برضاك من سخطك وبمعافاتك من عُقُوبَتك وَأَعُوذ بك مِنْك لَا أحصي ثَنَاء عَلَيْك أَنْت كَمَا أثنيت عَلَى نَفسك رَوَاهُ مُسلم
23 - আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ ঘুমাতেন, অতঃপর (উঠে) সালাত আদায় করতেন কিন্তু তারা অজু করতেন না। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ এতে বর্ধিত করেছেন যে, এমনকি তাদের মাথা (তন্দ্রায়) ঝুঁকে পড়ত এবং এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ছিল। এর সনদের বর্ণনাকারীগণ সকলে নির্ভরযোগ্য।24 - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিছানায় না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে শুরু করলাম। তখন আমার হাত তাঁর দুই পায়ের তালুর ওপর পড়ল, এমতাবস্থায় যে তিনি মসজিদে (সালাতরত) ছিলেন এবং তাঁর পা দুটি খাড়া করা ছিল। তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির অসিলায় আপনার অসন্তুষ্টি হতে আশ্রয় চাই এবং আপনার ক্ষমার অসিলায় আপনার শাস্তি হতে আশ্রয় চাই। আর আমি আপনার নিকট আপনারই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারব না; আপনি ঠিক তেমনই, যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
25 - وَعَن بسرة بنت صَفْوَان رضي الله عنها قَالَت سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول من مس ذكره فَليَتَوَضَّأ رَوَاهُ الْأَرْبَعَة بِإِسْنَاد ثَابت لَا مطْعن فِيهِ وَصَححهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان وَالدَّارقطني وَالْحَاكِم وَقَالَ إِنَّه عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ وَقَالَ البُخَارِيّ إِنَّه أصح شَيْء فِي الْبَابقَالَ ابْن حبَان وَغَيره وَخبر طلق فِي عدم النَّقْض بِهِ مَنْسُوخ
২৫ - বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি নিজের লিঙ্গ স্পর্শ করবে, সে যেন ওযু করে।" এটি চারজন (সুনান গ্রন্থকার) এমন এক সুদৃঢ় সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো ত্রুটি বা সমালোচনার অবকাশ নেই। আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, দারা কুতনী ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং হাকিম বলেছেন যে এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ। আর বুখারী বলেছেন যে, এই বিষয়ে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনা।ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা বলেছেন, (লিঙ্গ স্পর্শে ওযু) ভঙ্গ না হওয়ার ব্যাপারে তালকের বর্ণিত হাদিসটি রহিত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
26 - وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ إِذا أَفْضَى أحدكُم إِلَى فرجه بِيَدِهِ وَلَيْسَ بَينهمَا ستر وَلَا حجاب فَليَتَوَضَّأ رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه قَالَ احتجاجنا فِيهِ بِنَافِع بن أبي نعيم دون يزِيد بن عبد الْملك النَّوْفَلِي وَقَالَ فِي كتاب وصف الصَّلَاة بِالسنةِ هَذَا حَدِيث سَنَده عدُول نقلته
২৬ - আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ তার হাত দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করে এবং তাদের উভয়ের মাঝে কোনো পর্দা বা আবরণ না থাকে, তবে সে যেন ওযু করে।” এটি ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: “এতে আমাদের দলিল হচ্ছে নাফি বিন আবি নুআইম, ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিক আন-নাওফালি নয়।” এবং তিনি ‘ওয়াসফুস সালাতি বিস সুন্নাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: “এটি এমন একটি হাদিস যার সনদ ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীদের সমন্বয়ে গঠিত; আমি এটি উদ্ধৃত করেছি।”
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
27 - وَعَن عَلّي كرم الله وَجهه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ مِفْتَاح الصَّلَاة الطّهُور وتحريمها التَّكْبِير وتحليلها التَّسْلِيم رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَقَالَ مَشْهُور وَقَالَ التِّرْمِذِيّ هَذَا الحَدِيث أصح شَيْء فِي الْبَاب وَأحسن
27 - আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, তার তাহরীমা (নামাজে প্রবেশ) হলো তাকবীর এবং তার তাহলীল (নামাজ থেকে বের হওয়া) হলো সালাম। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও হাকীম; তিনি (হাকীম) একে মশহুর বলেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, এই অধ্যায়ে এটিই সবচেয়ে সহীহ ও উত্তম হাদীস।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
28 - وَفِي رِوَايَة للْحَاكِم بِإِسْنَاد صَحِيح عَلَى شَرط مُسلم مِفْتَاح الصَّلَاة الْوضُوء29 - وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الطّواف بِالْبَيْتِ صَلَاة إِلَّا أَن الله قد أحل لكم فِيهِ الْكَلَام فَمن تكلم فَلَا يتَكَلَّم إِلَّا بِخَير رَوَاهُ الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه من حَدِيث سُفْيَان الثَّوْريّ عَن عَطاء ابْن السَّائِب عَن طَاوُوس عَن ابْن عَبَّاس بِهِ
28 - এবং হাকিমের এক বর্ণনায় ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে: ‘সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা (ওজু)।’29 - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘বায়তুল্লাহর তাওয়াফ হলো সালাতের ন্যায়, তবে আল্লাহ এতে তোমাদের জন্য কথা বলা বৈধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কথা বলবে, সে যেন কেবল কল্যাণকর কথাই বলে।’ হাকিম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ সুফিয়ান আস-সাওরী, আতা ইবনুস সাইব, তাউস ও ইবনে আব্বাসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
وسُفْيَان الثَّوْريّ سمع من عَطاء قبل الِاخْتِلَاط كَمَا نَص عَلَيْهِ الإِمَام أَحْمد وَغَيره لَا جرم قَالَ الْحَاكِم إثره هَذَا حَدِيث صَحِيح الْإِسْنَاد وَقد أوقفهُ جمَاعَة30 - وَرَوَاهُ فِي كتاب التَّفْسِير من مُسْتَدْركه من حَدِيث الْقَاسِم ابْن أبي أَيُّوب عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الطّواف بِمَنْزِلَة الصَّلَاة إِلَّا أَن الله قد أحل فِيهِ الْمنطق فَمن نطق فَلَا ينْطق إِلَّا بِخَير ثمَّ قَالَ هَذَا حَدِيث صَحِيح عَلَى شَرط مُسلم
সুফিয়ান সাওরী (আতা এর) স্মৃতিভ্রম হওয়ার পূর্বে তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন, যেমনটি ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম হাকিম এর পরেই বলেছেন এটি সহীহ সনদ বিশিষ্ট একটি হাদিস, যদিও একদল বর্ণনাকারী একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।৩০ - এবং তিনি এটি তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থের তাফসীর অধ্যায়ে কাসিম ইবনে আবু আইয়ুব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তাওয়াফ সালাতের সমপর্যায়ভুক্ত, তবে আল্লাহ এতে কথা বলা হালাল করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কথা বলবে, সে যেন উত্তম কথা ব্যতীত অন্য কিছু না বলে।" এরপর তিনি (ইমাম হাকিম) বলেছেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী একটি সহীহ হাদিস।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
وَالقَاسِم هَذَا ثِقَة كَمَا قَالَه أَبُو دَاوُد وَغَيره31 - وَعَن أبي بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم عَن أَبِيه عَن جده أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كتب إِلَى أهل الْيمن بِكِتَاب فِيهِ الْفَرَائِض وَالسّنَن والديات وَفِيه وَلَا يمس الْقُرْآن إِلَّا طَاهِر رَوَاهُ ابْن حبَان وَالْحَاكِم وَقَالَ إِسْنَاده عَلَى شَرط الصَّحِيح وَسَيَأْتِي هَذَا الْكتاب بِطُولِهِ فِي الدِّيات إِن شَاءَ الله تَعَالَى
এবং এই কাসিম নির্ভরযোগ্য, যেমনটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বলেছেন।৩১ - এবং আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামেনবাসীদের নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে ফরায়েজ, সুন্নাত এবং রক্তপণ সংক্রান্ত বিধান ছিল এবং তাতে ছিল: ‘পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে’। এটি ইবনে হিব্বান ও হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকিম) বলেছেন যে, এর সনদ সহীহ-এর শর্তানুযায়ী। আর ইনশাআল্লাহ তাআলা, রক্তপণ (দিয়াত) অধ্যায়ে এই পত্রটি বিস্তারিতভাবে আসবে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
32 - وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا وجد احدكم فِي بَطْنه شَيْئا فأشكل عَلَيْهِ أخرج مِنْهُ شَيْء أم لَا فَلَا يخْرجن من الْمَسْجِد حَتَّى يسمع صَوتا أَو يجد ريحًا رَوَاهُ مُسلم
৩২ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি তার পেটে কিছু অনুভব করে এবং তার নিকট অস্পষ্ট হয়ে যায় যে, তার থেকে কিছু বের হয়েছে কি না, তবে সে যেন মসজিদ থেকে বের না হয় যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো ঘ্রাণ পায়।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।