(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: -)
الدراية في تخريج أحاديث الهداية   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب : الدراية في تخريج أحاديث الهداية

المؤلف : أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (المتوفى : 852هـ)

المحقق : السيد عبد الله هاشم اليماني المدني

الناشر : دار المعرفة - بيروت

عدد الأجزاء : 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ، ويمكن الانتقال للجزء والصفحة ورقم الحديث]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-দিরাইয়াহ ফি তাখরিজ আহাদিসিল হিদায়াহ   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


কিতাব : আল-দিরাইয়াহ ফি তাখরিজ আহাদিসিল হিদায়াহ

লেখক : আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু : ৮৫২ হিজরি)

তাহকিক : আস-সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ হাশিম আল-ইয়ামানি আল-মাদানি

প্রকাশক : দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা : ২

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ , এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরে যাতায়াত করা সম্ভব]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الدراية في تخريج أحاديث الهداية]ـ

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (المتوفى: 852هـ)

المحقق: السيد عبد الله هاشم اليماني المدني

الناشر: دار المعرفة - بيروت

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ويمكن الانتقال للجزء والصفحة ورقم الحديث]
[আল-হিদায়ার হাদিসসমূহের উৎস অনুসন্ধানে আদ-দিরায়াহ]

লেখক: আবুল ফজল আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: আস-সায়্যিদ আব্দুল্লাহ হাশিম আল-ইয়ামানি আল-মাদানি

প্রকাশক: দার আল-মা'রিফাহ - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর অনুযায়ী অনুসন্ধানের সুবিধা রয়েছে]
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب الدِّرَايَة فِي تَخْرِيج أَحَادِيث الْهِدَايَة كتاب الدِّرَايَة فِي تَخْرِيج أَحَادِيث الْهِدَايَة
আল-হিদায়া গ্রন্থের হাদিসসমূহের উৎস-সূত্র যাচাইকরণ বিষয়ক ‘আদ-দিরাইয়াহ’ কিতাব। আল-হিদায়া গ্রন্থের হাদিসসমূহের উৎস-সূত্র যাচাইকরণ বিষয়ক ‘আদ-দিরাইয়াহ’ কিতাব।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌مُقَدّمَة الْكتاب

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله عَلَى التَّوْفِيق إِلَى الْهِدَايَة وسلوك طَرِيق أهل الدِّرَايَة وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَله عَلَى ذَلِك فِي كل شَيْء آيَة وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي لَهُ فِي الشّرف أَعلَى غَايَة وَفِي السؤدد أقْصَى نِهَايَة صَلَّى الله عَلَيْهِ وَعَلَى آله وَصَحبه صَلَاة وَسلَامًا دائمين مَا استلزمت النِّهَايَة والبداية أما بعد فإنني لما لخصت تَخْرِيج الْأَحَادِيث الَّتِي تضمنها شرح الْوَجِيز للْإِمَام أبي الْقَاسِم الرَّافِعِيّ وَجَاء اختصاره جَامعا لمقاصد الأَصْل مَعَ مزِيد كثير كَانَ فِيمَا راجعت عَلَيْهِ تَخْرِيج أَحَادِيث الْهِدَايَة الْكتاب الآخر لينْتَفع بِهِ أهل مذْهبه كَمَا انْتفع أهل الْمَذْهَب فأجبته إِلَى طلبه وبادرت إِلَى وفْق رغبته فلخصته تلخيصا حسنا مُبينًا غير مخل من مَقَاصِد الأَصْل إِلَّا بِبَعْض مَا قد يُسْتَغْنَى عَنهُ وَالله الْمُسْتَعَان فِي الْأُمُور كلهَا لَا إِلَه إِلَّا هُوَ

وَهَذِه فهرسة كتبه الطَّهَارَة الصَّلَاة الْجَنَائِز الزَّكَاة الصَّوْم الْحَج النِّكَاح وتوابعه الْعتْق وتوابعه الْإِيمَان وَالنُّذُور الْحُدُود وَالسير وَفِيه الْجِزْيَة وَالْمُوَادَعَة والبغاة وَأَحْكَام الْمُرْتَدين واللقيط واللقطة والآبق والمفقود وَالشَّرِكَة الْوَقْف الْبيُوع الصّرْف الْحِوَالَة وَالْكَفَالَة الْقَضَاء والشهادات وَفِيه الْوكَالَة وَالدَّعْوَى وَالْإِقْرَار وَالصُّلْح الْمُضَاربَة والوديعة الْعَارِية الْهِبَة الْإِجَارَة الْمكَاتب الْوَلَاء الْإِكْرَاه الْحجر الْغَصْب الشُّفْعَة الْقِسْمَة الْمُزَارعَة الْمُسَاقَاة الذَّبَائِح الْأُضْحِية الْكَرَاهِيَة إحْيَاء الْموَات الْأَشْرِبَة الصَّيْد الرَّهْن الْجِنَايَات الدِّيات الْقسَامَة الْعُقُول الْوَصَايَا آخر الْكتاب
কিতাবের ভূমিকা

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, হিদায়াত লাভের তাওফিক এবং বিজ্ঞজনদের পথ অনুসরণের সুযোগ প্রদানের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং তাঁর অস্তিত্বের স্বপক্ষে প্রতিটি বস্তুর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি মর্যাদার সর্বোচ্চ শিখরে এবং নেতৃত্বের চরম সীমায় অধিষ্ঠিত। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর সর্বদা রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যতক্ষণ শুরু ও শেষের আবশ্যকতা বজায় থাকে। অতঃপর, যখন আমি ইমাম আবুল কাসিম আর-রাফিয়ি-র 'শারহুল ওয়াজিজ'-এ বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) সংক্ষেপ করলাম, যা মূল কিতাবের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণ করার পাশাপাশি অনেক নতুন সংযোজনকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে; তখন আমার নিকট 'হিদায়া' কিতাবের হাদিসসমূহের তাখরিজ সংক্ষেপ করার আবেদন করা হলো, যাতে সেই মাযহাবের অনুসারীরাও উপকৃত হতে পারে যেমনটি অন্য মাযহাবের অনুসারীরা হয়েছে। আমি তাঁর আবেদনে সাড়া দিলাম এবং তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূরণে তৎপর হলাম। আমি এটি উত্তম ও স্পষ্টভাবে সংক্ষেপ করেছি, যেখানে মূল কিতাবের উদ্দেশ্যসমূহের কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি, কেবল কিছু অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। সকল বিষয়ে আল্লাহই সাহায্যকারী, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

এটি কিতাবসমূহের সূচিপত্র: পবিত্রতা, সালাত, জানাযা, যাকাত, সিয়াম, হজ, বিবাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, দাসমুক্তি ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, কসম ও মানত, দণ্ডবিধি ও যুদ্ধাভিযান - এতে জিজিয়া, সন্ধি, বিদ্রোহী ও মুরতাদদের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, কুড়িয়ে পাওয়া শিশু, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, পলায়নকৃত দাস, নিখোঁজ ব্যক্তি, অংশীদারিত্ব, ওয়াকফ, ক্রয়-বিক্রয়, মুদ্রা বিনিময়, ঋণ স্থানান্তর ও জামিনদারিত্ব, বিচার ব্যবস্থা ও সাক্ষ্যদান - এতে প্রতিনিধিত্ব, দাবি, স্বীকৃতি ও সন্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, মুদারাবা, আমানত, ধার দেওয়া, দান, ইজারা, মুকাতাব, ওয়ালা, জবরদস্তি, নিষেধাজ্ঞা, জবরদখল, অগ্রক্রয়, বণ্টন, বর্গা চাষ, সেচ ব্যবস্থা, যবেহ, কুরবানি, অপছন্দনীয় বিষয়াবলি, অনাবাদি জমি আবাদ করা, পানীয় দ্রব্য, শিকার, বন্ধক, অপরাধ, রক্তপণ, কাসামা, রক্তপণ বহনকারী গোষ্ঠী, অসিয়ত, কিতাবের শেষ।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌كتاب الطَّهَارَة

 

قَوْله رَوَى الْمُغيرَة بن شُعْبَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَتَى سباطة قوم فَبَال قَائِما وَتَوَضَّأ وَمسح عَلَى ناصيته وخفيه انْتَهَى وَهَذَا منتزع من حديثين

1 - أما حَدِيث السباطة فَرَوَاهُ ابْن ماجة من طَرِيق شُعْبَة عَن عَاصِم هُوَ ابْن أبي النجُود عَن أبي وَائِل عَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أَتَى سباطة قوم فَبَال قَائِما قَالَ شُعْبَة قَالَ عَاصِم وَهَذَا الْأَعْمَش يرويهِ عَن أبي وَائِل عَن حُذَيْفَة وَمَا حفظه قَالَ شُعْبَة فَسَأَلت منصورا فَحَدَّثَنِيهِ عَن أبي وَائِل عَن حُذَيْفَة انْتَهَى

قلت قد وَافق عَاصِمًا عَلَيْهِ حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان كَمَا بَينته فِي شرح التِّرْمِذِيّ وَقَول عَاصِم إِن الْأَعْمَش مَا حفظه لَيْسَ بمقبول لموافقة مَنْصُور لَهُ وهما أحفظ من عَاصِم وَحَمَّاد لَكِن الَّذِي يظْهر أَن الحَدِيث عِنْد أبي وَائِل عَنْهُمَا مَعًا لِأَن فِي رِوَايَة الْأَعْمَش وَمَنْصُور زِيَادَة لَيست فِي رِوَايَة عَاصِم وَالله أعلم وَطَرِيق الْأَعْمَش مُتَّفق عَلَيْهِ وفيهَا ذكر مسح الْخُف عِنْد مُسلم

2 - وَأما حَدِيث الْمسْح عَلَى الناصية والخفين فَأخْرجهُ مُسلم من رِوَايَة عُرْوَة
পবিত্রতা অধ্যায়

 

তাঁর বক্তব্য: মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) একটি সম্প্রদায়ের আস্তাকুঁড়ের নিকট আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন এবং উযু করলেন ও তাঁর মাথার সম্মুখভাগ এবং মোজা দুটির উপর মাসাহ করলেন। সমাপ্ত। আর এটি দুটি হাদিস থেকে সংকলিত হয়েছে:

১ - আস্তাকুঁড় সংক্রান্ত হাদিসটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন শু'বা-এর সূত্রে আসিম (যিনি ইবনে আবু আন-নুজুদ) থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি সম্প্রদায়ের আস্তাকুঁড়ের নিকট আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। শু'বা বলেন, আসিম বলেছেন: "আর আমাশ এটি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, অথচ তিনি (আমাশ) এটি স্মরণ রাখতে পারেননি।" শু'বা বলেন, অতঃপর আমি মনসুরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে আবু ওয়াইল-এর সূত্রে হুযাইফা (রা.) থেকে হাদিসটি শোনালেন। সমাপ্ত।

আমি বলছি, আসিমের সাথে হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যেমনটি আমি শরহে তিরমিযীতে স্পষ্ট করেছি। আসিমের এই উক্তি যে, "আমাশ এটি স্মরণ রাখতে পারেননি"—তা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ মনসুর তাঁর (আমাশ) সাথে একমত হয়েছেন, আর তাঁরা উভয়ই আসিম ও হাম্মাদের তুলনায় অধিক প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হাফেজ। তবে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, হাদিসটি আবু ওয়াইল-এর নিকট তাঁদের (মুগীরা ও হুযাইফা) উভয়ের মাধ্যমেই বিদ্যমান ছিল। কারণ আমাশ ও মনসুরের বর্ণনায় এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা আসিমের বর্ণনায় নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমাশের বর্ণিত সূত্রটি সর্বসম্মত এবং মুসলিমে এতে মোজা মাসাহ করার উল্লেখ রয়েছে।

২ - আর মাথার সম্মুখভাগ এবং মোজা দুটির উপর মাসাহ করার হাদিসটি ইমাম মুসলিম উরওয়ার বর্ণনা থেকে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১২)
ابْن الْمُغيرَة عَن أَبِيه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ تَوَضَّأ وَمسح بناصيته وَعَلَى الْعِمَامَة وَعَلَى الْخُفَّيْنِ وَفِي الْمسْح عَلَى الْعِمَامَة أَحَادِيث مِنْهَا حَدِيث أنس رَأَيْت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يتَوَضَّأ وَعَلِيهِ عِمَامَة قطرية فَأدْخل يَده من تَحت الْعِمَامَة فَمسح مقدم رَأسه وَلم ينْقض الْعِمَامَة أخرجه أَبُو دَاوُد وَالْحَاكِم

ইবনুল মুগীরাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং তাঁর মাথার সম্মুখভাগের চুল (নাসিয়া), পাগড়ি ও মোজা দুটির ওপর মাসাহ করলেন। পাগড়ির ওপর মাসাহ করার বিষয়ে আরও অনেক হাদীস রয়েছে, তন্মধ্যে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি অন্যতম—তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওযু করতে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, তাঁর মাথায় একটি কাতরি পাগড়ি ছিল। তখন তিনি পাগড়ির নিচ দিয়ে তাঁর হাত প্রবেশ করালেন এবং মাথার সামনের অংশ মাসাহ করলেন, অথচ পাগড়িটি খুললেন না। এটি আবু দাউদ ও হাকীম বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
3 - حَدِيث إِذا اسْتَيْقَظَ أحدكُم من مَنَامه فَلَا يغمس يَده فِي الْإِنَاء حَتَّى يغسلهَا ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَا يدْرِي أَيْن باتت يَده أخرجه مُسلم من طَرِيق عبد الله بن شَقِيق عَن أبي هُرَيْرَة بِهَذَا إِلَّا أَنه قَالَ من نَومه وَأخرجه من رِوَايَة أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا بِلَفْظ إِذا قَامَ أحدكُم من اللَّيْل الحَدِيث وَأخرجه البُخَارِيّ من طَرِيق الْأَعْرَج عَنهُ بِلَفْظ إِذا اسْتَيْقَظَ أحدكُم من نَومه فليغسل يَده قبل أَن يدخلهَا فِي الْإِنَاء الحَدِيث ذكره بِلَفْظ الْأَمر بِالْغسْلِ وَلم يذكر الْعدَد وَأخرجه الْبَزَّار من طَرِيق ابْن سِيرِين عَن أبي هُرَيْرَة بِلَفْظ فَلَا يغمسن يَده فِي طهوره بِزِيَادَة نون التَّأْكِيد فِي يغمسن وَهِي مُوَافقَة لإيراد الأَصْل

وَفِي الْبَاب عَن جَابر أخرجه ابْن ماجة بِلَفْظ إِذا قَامَ أحدكُم من النّوم فَأَرَادَ أَن يتَوَضَّأ
৩ - হাদীস: "তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন পাত্রের মধ্যে তার হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধৌত করে; কারণ সে জানে না তার হাত কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে শাকিকের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে একইভাবে, তবে তিনি 'মানামিহি' (নিদ্রা) এর স্থলে 'নাওমিহি' (ঘুম) শব্দ উল্লেখ করেছেন। তিনি আবু সালেহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: "তোমাদের কেউ যখন রাতে জাগ্রত হয়..." হাদীসটি। আর বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ-এর সূত্রে তাঁর থেকে এই শব্দে: "তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত ধুয়ে নেয় তাকে পাত্রে প্রবেশ করানোর আগে..." হাদীসটি। তিনি এটি ধৌত করার নির্দেশের শব্দে উল্লেখ করেছেন এবং সংখ্যা (তিনবার) উল্লেখ করেননি। বাজ্জার এটি ইবনে সীরীনের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: "সে যেন অবশ্যই তার পবিত্রতার পানিতে হাত না ডুবায়।" এখানে 'ইয়াগমিসান্না' (অবশ্যই না ডুবায়) শব্দে তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক 'নুন' এর আধিক্য রয়েছে যা মূল ভাষ্যের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ।

এই অনুচ্ছেদে জাবির থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে ওঠে এবং ওজু করার ইচ্ছা পোষণ করে..."
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
فَلَا يدْخل يَده فِي وضوئِهِ حَتَّى يغسلهَا فَإِنَّهُ لَا يدْرِي أَيْن باتت يَده وَلَا عَلَى موضعهَا

4 - حَدِيث لَا وضوء لمن لم يسم الله تَعَالَى لم أَجِدهُ بِهَذَا اللَّفْظ وَرَوَى أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة وَالْحَاكِم من طَرِيق يَعْقُوب بن سَلمَة عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة رَفعه لَا صَلَاة لمن لَا وضوء لَهُ وَلَا وضوء لمن لم يذكر اسْم الله عَلَيْهِ وَوَقع فِي رِوَايَة الْحَاكِم يَعْقُوب ابْن أبي سَلمَة فَظَنهُ الْمَاجشون فصححه عَلَى شَرط مُسلم فَوَهم

وَيَعْقُوب بن سَلمَة هُوَ اللَّيْثِيّ مَجْهُول الْحَال وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة أَيُّوب النجار عَن يَحْيَى بن أبي كثير عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة بِلَفْظ مَا تَوَضَّأ من لم يذكر اسْم الله عَلَيْهِ وَرِجَاله ثِقَات إِلَّا أَن أَيُّوب لم يسمعهُ من يَحْيَى فقد ثَبت عَنهُ أَنه قَالَ لم أسمع من يَحْيَى إِلَّا حَدِيثا وَاحِدًا وَفِي الْبَاب عَن أبي سعيد أخرجه ابْن ماجة وَالْحَاكِم من طَرِيق كثير بن زيد عَن ربيح بن عبد الرَّحْمَن بن أبي سعيد عَن أَبِيه عَن أبي سعيد بِاللَّفْظِ الأول وأسنده الْحَاكِم إِلَى الْأَثْرَم قَالَ سَأَلت أَحْمد عَن التَّسْمِيَة فِي الْوضُوء فَقَالَ أحسن مَا فِيهَا حَدِيث كثير ابْن زيد وَعَن سعيد بن زيد أخرجه التِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَالْحَاكِم من طَرِيق رَبَاح بن عبد الرَّحْمَن أَنه سمع جدته بنت سعيد بن زيد تحدث أَنَّهَا سَمِعت أَبَاهَا وَنقل التِّرْمِذِيّ عَن البُخَارِيّ أَنه قَالَ أحسن شَيْء فِي هَذَا حَدِيث رَبَاح وَعَن أَحْمد قَالَ لَا أعلم فِي هَذَا الْبَاب حَدِيثا لَهُ إِسْنَاد جيد

وَقَالَ ابْن أبي حَاتِم لَيْسَ عندنَا بِذَاكَ الصَّحِيح

وَعَن سهل بن سعد أخرجه ابْن ماجة من رِوَايَة عبد الْمُهَيْمِن بن عَبَّاس بن سهل عَن أَبِيه عَن جده وَعَن أبي
সুতরাং সে যেন ওযুর পানির পাত্রে তার হাত না ঢুকায় যতক্ষণ না তা ধৌত করে নেয়; কারণ সে জানে না তার হাতটি কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে এবং শরীরের কোন স্থানে (লেগেছিল)।

৪ - "যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওযু নেই" - এই হাদীসটি আমি এই শব্দমালার মাধ্যমে খুঁজে পাইনি। ইমাম আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও হাকেম ইয়াকুব ইবনে সালামাহর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: "যার ওযু নেই তার কোনো সালাত নেই, আর যে ওযুর শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি তার কোনো ওযু নেই।" হাকেমের বর্ণনায় "ইয়াকুব ইবনে আবি সালামাহ" এসেছে, তাই তিনি তাকে আল-মাজিশুন মনে করে ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী একে সহীহ বলে গণ্য করেছেন; কিন্তু এটি তাঁর ভুল ছিল।

আর ইয়াকুব ইবনে সালামাহ হলেন আল-লায়সী, যার অবস্থা অজ্ঞাত। দারা কুতনী আইয়ুব আন-নাজ্জারের বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি তার ওযু হয়নি।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে আইয়ুব এটি ইয়াহইয়ার কাছ থেকে সরাসরি শোনেননি। কেননা তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়ার কাছ থেকে মাত্র একটি হাদীস শুনেছি।" এই বিষয়ে আবু সাঈদ (রা.) থেকেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মাজাহ ও হাকেম কাসীর ইবনে যায়িদের সূত্রে রুবাঈহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে প্রথমোক্ত শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম আল-আছরামের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম আহমাদকে ওযুর সময় বিসমিল্লাহ বলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তিনি বললেন: "এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে কাসীর ইবনে যায়িদের হাদীসটিই সবচেয়ে উত্তম।" সাঈদ ইবনে যায়িদ (রা.) থেকেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও হাকেম রাবাহ ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর দাদী—যিনি সাঈদ ইবনে যায়িদের কন্যা—তাঁর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন। তিরমিযী ইমাম বুখারী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেছেন: "এই বিষয়ে রাবাহ বর্ণিত হাদীসটিই সর্বোত্তম।" আর ইমাম আহমাদ বলেছেন: "এই অধ্যায়ে এমন কোনো হাদীস আমার জানা নেই যার সনদ ‘জায়্যিদ’ বা উৎকৃষ্ট।"

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: "আমাদের নিকট এটি তেমন সহীহ নয়।"

সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মাজাহ আবদুল মুহায়মিন ইবনে আব্বাস ইবনে সাহলের বর্ণনায় তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে এবং আবু... থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
سُبْرَة أخرجه الطَّبَرَانِيّ من رِوَايَة عبد الله بن سُبْرَة عَن جده أبي سُبْرَة بِهِ

وَفِي هَذَا الْبَاب عَن أنس قَالَ طلب بعض أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وضُوءًا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ هَل مَعَ أحد مِنْكُم مَاء فَوضع يَده فِي المَاء وَقَالَ توضئوا بِسم الله الحَدِيث أخرجه ابْن خُزَيْمَة وَالنَّسَائِيّ ترْجم عَلَيْهِ النَّسَائِيّ ثمَّ الْبَيْهَقِيّ بَاب التسيمة عِنْد الْوضُوء

وَعَن عبد الله بن مَسْعُود سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول إِذا تطهر أحدكُم فليذكر اسْم الله فَإِنَّهُ يطهر جسده كُله الحَدِيث أخرجه الْبَيْهَقِيّ من طَرِيقه وَمن طَرِيق أبي هُرَيْرَة وَابْن عمر وأسانيدها ضَعِيفَة

وَعَن عَائِشَة كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا مس طهُورا سَمّى الله أخرجه الدراقطني وَإِسْنَاده ضَعِيف

ويعارض ذَلِك كُله حَدِيث رِفَاعَة بن رَافع فِي قصَّة الْمُسِيء صلَاته إِذا قُمْت فَتَوَضَّأ كَمَا أَمرك الله الحَدِيث وَلَيْسَ للتسمية فِي ذكر أخرجه أَصْحَاب السّنَن وَأَصله فِي الصَّحِيح من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِدُونِ هَذِه الزِّيَادَة

وَعَن المُهَاجر بن قنفذ قَالَ أتيت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَهُوَ يتَوَضَّأ فَسلمت عَلَيْهِ فَلم يرد عَلّي
সুবরাহ; তাবারানি এটি আবদুল্লাহ ইবনে সুবরাহ-এর বর্ণনায় তার দাদা আবু সুবরাহ থেকে এটি সংকলন করেছেন।

এই অনুচ্ছেদে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবী ওযুর পানি তালাশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাদের কারো কাছে কি পানি আছে?" এরপর তিনি পানির মধ্যে তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন, "আল্লাহর নামে ওযু করো।" (সম্পূর্ণ হাদীস)। এটি ইবনে খুজাইমাহ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ এবং এরপর বায়হাকী এর ওপর শিরোনাম দিয়েছেন: 'ওযুর সময় বিসমিল্লাহ বলা' অনুচ্ছেদ।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কেউ যখন পবিত্রতা অর্জন করে, সে যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে। কেননা এটি তার পুরো শরীরকে পবিত্র করে।" (সম্পূর্ণ হাদীস)। এটি বায়হাকী তাঁর সূত্রে এবং আবু হুরায়রা ও ইবনে উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তবে এগুলোর সনদসমূহ দুর্বল।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওযুর পানি স্পর্শ করতেন, তখন আল্লাহর নাম নিতেন। এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল।

আর এই সবগুলোর বিপরীতে রয়েছে রিফাআহ ইবনে রাফে (রা.)-এর বর্ণিত সেই ব্যক্তির হাদীস যে ভুলভাবে সালাত আদায় করছিল; সেখানে বলা হয়েছে: "যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন ওযু করবে যেভাবে আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।" (সম্পূর্ণ হাদীস)। সেখানে বিসমিল্লাহর কোনো উল্লেখ নেই। এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল অংশ সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসে এই অতিরিক্ত অংশটি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।

মুহাজির ইবনে কুনফুয (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম এমতাবস্থায় যে তিনি ওযু করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে উত্তর দিলেন না।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
فَلَمَّا فرغ قَالَ إِنَّه لم يَمْنعنِي أَن أرد عَلَيْك إِلَّا أَنِّي كنت عَلَى غير وضوء أخرجه أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان وَابْن خُزَيْمَة وَالْحَاكِم وَوجه الدّلَالَة مِنْهُ أَنه امْتنع من ذكر الله قبل الْوضُوء فَكيف يُوجب التَّسْمِيَة حِينَئِذٍ وَهِي من ذكر الله وفيهَا من التَّصْرِيح بذلك مَا لَيْسَ فِي السَّلَام

وَعَن ابْن عمر قَالَ مر النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَسلم عَلَيْهِ رجل فَلم يرد عَلَيْهِ حَتَّى ضرب بِيَدِهِ الْحَائِط فَتَيَمم ثمَّ قَالَ لَهُ إِنَّه لم يَمْنعنِي أَن أرد عَلَيْك إِلَّا أَنِّي لم أكن عَلَى طَهَارَة أخرجه أَبُو دَاوُد وَرجح وَقفه

وَعَن أبي الْجُهَيْم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أقبل من نَحْو بِئْر جمل فَلَقِيَهُ رجل فَسلم عَلَيْهِ فَلم يرد عَلَيْهِ حَتَّى أقبل عَلَى الْجِدَار فَمسح وَجهه وَيَديه ثمَّ رد عليه السلام أَخْرجَاهُ

وَعَن ابْن عمر قَالَ مر رجل وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَبُول فَسلم عَلَيْهِ فَلم يرد عَلَيْهِ أخرجه مُسلم وَلم يذكر فِيهِ التَّيَمُّم أخرجه الْبَزَّار من وَجه آخر فَقَالَ فِيهِ فَرد عَلَيْهِ وَقَالَ إِنَّمَا رددت عَلَيْك خشيَة أَن تَقول سلمت عَلَيْهِ فَلم يرد عَلّي فَإِذا رَأَيْتنِي هَكَذَا فَلَا تسلم عَلّي فَإِنِّي لَا أرد عَلَيْك وَفِي إِسْنَاده أَبُو بكر رجل من آل عمر قَالَ عبد الْحق هُوَ ابْن عمر بن عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن عمر قَالَ فِيمَا أعلمهُ وَتعقبه ابْن الْقطَّان وَقَالَ من أَيْن لَهُ أَنه هُوَ ورد عَلَيْهِ بِأَنَّهُ ورد مُصَرحًا بنسبه فِي مُسْند أبي الْعَبَّاس السراج وَله شَاهد من حَدِيث جَابر أخرجه الْبَزَّار أَيْضا وَابْن ماجة وَفِي الْبَاب حَدِيث ابْن عَبَّاس فِي قصَّة مبيته عِنْد خَالَته مَيْمُونَة وَوَصفه لصَلَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ بِاللَّيْلِ ووضوئه وَلَيْسَ فِيهِ أَنه سَمّى وَفِيه أَيْضا أَنه قَرَأَ أول مَا انتبه من النّوم خَوَاتِم سُورَة آل عمرَان

5 - حَدِيث أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ يواظب عَلَى السِّوَاك مُتَّفق عَلَيْهِ من حَدِيث حُذَيْفَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ إِذا قَامَ من النّوم يشوص فَاه بِالسِّوَاكِ وَعَن عَائِشَة قَالَت كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ إِذا دخل بَيته بَدَأَ بِالسِّوَاكِ أخرجه مُسلم وَلأبي دَاوُد من وَجه
যখন তিনি ফারেগ হলেন (শেষ করলেন), তিনি বললেন: "তোমার (সালামের) উত্তর দিতে আমাকে যা বাধা দিয়েছে তা হলো আমি ওজু অবস্থায় ছিলাম না।" এটি আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমাহ এবং হাকীম বর্ণনা করেছেন। এখান থেকে দলিল গ্রহণের দিকটি হলো, তিনি ওজুর পূর্বে আল্লাহর জিকির করা থেকে বিরত থেকেছেন; এমতাবস্থায় (ওজুর শুরুতে) তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা) কীভাবে ওয়াজিব হতে পারে, অথচ তাও আল্লাহর জিকিরের অন্তর্ভুক্ত? আর এতে আল্লাহর জিকিরের বিষয়টি সালামের চেয়েও স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে এক ব্যক্তি অতিক্রম করার সময় তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি তার উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না তিনি দেয়ালে নিজের হাত মারলেন এবং তায়াম্মুম করলেন। অতঃপর তাকে বললেন: "তোমার উত্তর দিতে আমাকে যা বাধা দিয়েছে তা হলো আমি পবিত্র অবস্থায় ছিলাম না।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে মাওকুফ হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

আবু জুহাইম (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বি'রে জামাল-এর দিক থেকে আসছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সালাম দিল। তিনি তার উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসেহ করলেন, অতঃপর সালামের উত্তর দিলেন। বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রস্রাব করছিলেন এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি অতিক্রম করার সময় তাঁকে সালাম দিল। তিনি তার উত্তর দেননি। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে তায়াম্মুমের কথা উল্লেখ করেননি। বাজ্জার এটি অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন, তাতে তিনি বলেছেন: অতঃপর তিনি উত্তর দিলেন এবং বললেন: "আমি তোমার উত্তর দিয়েছি এই আশঙ্কায় যে তুমি হয়তো বলবে, আমি তাকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। সুতরাং যখন তুমি আমাকে এই অবস্থায় দেখবে, তখন আমাকে সালাম দেবে না, কারণ আমি উত্তর দেব না।" এর সনদে আবু বকর নামক ওমরের বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি রয়েছেন। আবদুল হক বলেন: আমার জানামতে তিনি হলেন ইবনে ওমর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর। ইবনুল কাত্তান এর সমালোচনা করে বলেন: তিনি যে তিনিই, তার প্রমাণ কোথায়? এর জবাবে বলা হয়েছে যে, আবু আব্বাস সিরাজের মুসনাদে তাঁর বংশপরিচয় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। জাবের (রা.)-এর হাদিস থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যা বাজ্জার ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসও রয়েছে তাঁর খালা মায়মুনাহ (রা.)-এর ঘরে রাত্রিযাপনের ঘটনায়, যেখানে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাতের সালাত ও ওজুর বর্ণনা দিয়েছেন। তাতে তিনি তাসমিয়া পাঠ করেছেন এমন কথা নেই। তবে তাতে এটি আছে যে, তিনি ঘুম থেকে জেগে সর্বপ্রথম সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াতগুলো পাঠ করেছিলেন।

৫ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত মিসওয়াক করতেন মর্মে হাদিস। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, হুজাইফা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে নিজের মুখ পরিষ্কার করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ এটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
آخر عَنْهَا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ لَا يَسْتَيْقِظ من ليل أَو نَهَار إِلَّا تسوك قبل أَن يتَوَضَّأ

وَعَن ابْن عمر كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لَا ينَام إِلَّا والسواك عِنْده فَإِذا اسْتَيْقَظَ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ أخرجه أَحْمد وَالطَّيَالِسِي وَأَبُو يعْلى

وَعَن زيد بن خَالِد قَالَ مَا كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يخرج من بَيته لشَيْء من الصَّلَوَات حَتَّى يستاك أخرجه الطَّبَرَانِيّ

وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ ثمَّ ينْصَرف فيستاك أخرجه النَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَفِي الْبَاب حَدِيث عَائِشَة فِي استنانه صلى الله عليه وسلم َ فِي مرض وَفَاته بِالسِّوَاكِ الَّذِي كَانَ مَعَ عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر الصّديق مُتَّفق عَلَيْهِ

وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ لَوْلَا أَن أشق عَلَى أمتِي لأمرتهم بِالسِّوَاكِ مَعَ كل صَلَاة مُتَّفق عَلَيْهِ وَقَالَ مُسلم عِنْد كل صَلَاة وَفِي رِوَايَة للنسائي وَابْن خريمة وَالْحَاكِم عِنْد كل وضوء وعلقها البُخَارِيّ وَأخرجه أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ من حَدِيث زيد بن خَالِد وَفِيه قصَّة لزيد وَأخرجه ابْن عدي وَالْبَيْهَقِيّ عَن جَابر وَفِيه رفع هَذِه الْقِصَّة

6 - قَوْله رَوَى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ عِنْد فقد السِّوَاك يعالج بالإصبع لم أَجِدهُ من فعله وَإِنَّمَا جَاءَ من قَوْله فَأخْرج الْبَيْهَقِيّ عَن أنس مَرْفُوعا يجزىء من السِّوَاك
তাঁর (আয়েশা রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদীস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত বা দিনে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, ওযু করার পূর্বে মেসওয়াক করতেন।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট মেসওয়াক রাখা ব্যতীত ঘুমাতেন না। অতঃপর যখন তিনি জাগ্রত হতেন, মেসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন। এটি আহমাদ, তায়ালিসি এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন।

যায়েদ ইবনে খালিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেসওয়াক না করে কোনো সালাতের জন্য তাঁর ঘর থেকে বের হতেন না। এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে দুই দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন, এরপর ফিরে মেসওয়াক করতেন। এটি নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) এর হাদীসটিও রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অন্তিম রোগশয্যায় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর সিদ্দীকের নিকট থাকা মেসওয়াক দিয়ে মেসওয়াক করেছিলেন; এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সাথে মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে "প্রত্যেক সালাতের সময়"। নাসায়ি, ইবনে খুজাইমা ও হাকিমের এক বর্ণনায় রয়েছে "প্রত্যেক ওযুর সময়"; ইমাম বুখারী এটি তালীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি যায়েদ ইবনে খালিদের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে যায়েদ সম্পর্কিত একটি ঘটনা রয়েছে। ইবনে আদি ও বায়হাকি এটি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানেও এই ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে।

৬ - তাঁর বক্তব্য: "বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেসওয়াক না থাকলে আঙুল দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতেন" – আমি এটি তাঁর কর্ম হিসেবে (এমন কোনো বর্ণনা) পাইনি। বরং এটি তাঁর উক্তি হিসেবে এসেছে। ইমাম বায়হাকি আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, "আঙুল মেসওয়াকের বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে।"
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
الْأَصَابِع وَذكره من طرق ووهاها وَقد صحّح أَيْضا بعض طرقه وَرَوَى الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط عَن عَائِشَة قَالَت قلت يَا رَسُول الله الرجل يذهب فوه أيستاك قَالَ نعم قلت فَكيف يصنع قَالَ يدْخل إصبعه فِي فِيهِ وَإِسْنَاده ضَعِيف

7 - قَوْله أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فعل الْمَضْمَضَة والإستنشاق عَلَى الْمُوَاظبَة لم أره صَرِيحًا هَكَذَا وَكَأن ذَلِك مَأْخُوذ من أَن الَّذين وصفوا وضوءه لم يَخْتَلِفُوا فِي ذكر الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق

فَمن ذَلِك حَدِيث عبد الله بن زيد بن عَاصِم مُتَّفق عَلَيْهِ وَفِيه تمضمض واستنشق واستنثر وَكَذَا حَدِيث عُثْمَان لَكِن لَيْسَ فِيهِ استنثر وَمن ذَلِك حَدِيث ابْن عَبَّاس فِي البُخَارِيّ قَالَ فِيهِ فَأخذ غرفَة فَتَمَضْمَض بهَا واستنشق

وَحَدِيث الْمُغيرَة بن شُعْبَة نَحوه دون الغرفة كَذَلِك أوردهُ فِي كتاب اللبَاس

وَحَدِيث عَلّي عِنْد أَصْحَاب السّنَن بِلَفْظ تمضمض واستنثر

وَحَدِيث الْمِقْدَام بن معد يكرب فِيهِ ثمَّ تمضمض واستنشق ثَلَاثًا أخرجه أَبُو دَاوُد وَحَدِيث الرّبيع بنت معوذ أخرجه أَبُو دَاوُد وَفِيه ومضمض واستنشق مرّة

وَحَدِيث أبي مَالك الْأَشْعَرِيّ أخرجه الطَّبَرَانِيّ وَأحمد وَإِسْحَاق وَابْن أبي شيبَة وَفِيه ومضمض واستنشق

وَحَدِيث عَائِشَة وَأخرجه النَّسَائِيّ وَفِيه ذكر الْمَضْمَضَة والإستنشاق وَحَدِيث أبي بكر أخرجه الْبَزَّار وَفِيه ومضمض ثَلَاثًا واستنشق ثَلَاثًا
আঙুলসমূহ সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন। আবার কেউ কেউ এর কোনো কোনো সূত্রকে সহীহও বলেছেন। তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো ব্যক্তির মুখের সজীবতা চলে যায়, তবে সে কি মিসওয়াক করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে সে কীভাবে তা করবে? তিনি বললেন, সে তার আঙুল তার মুখে প্রবেশ করাবে। আর এর সনদ দুর্বল।

৭ - তাঁর বক্তব্য যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ওপর নিয়মিত আমল করতেন—আমি বিষয়টি স্পষ্টভাবে এভাবে কোথাও দেখিনি। মনে হচ্ছে এটি এভাবে গৃহীত হয়েছে যে, যারা তাঁর ওযুর বর্ণনা দিয়েছেন, তারা কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার বর্ণনায় কোনো মতভেদ করেননি।

এর মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসিমের হাদীসটি সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি), যাতে রয়েছে যে, তিনি কুলি করেছেন, নাকে পানি দিয়েছেন এবং নাক ঝেড়েছেন। অনুরূপ উসমানের হাদীসও, তবে তাতে নাক ঝাড়ার কথা নেই। এর মধ্যে আরও রয়েছে বুখারীতে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদীস, যাতে তিনি বলেছেন: তিনি এক অঞ্জলি পানি নিলেন, অতঃপর তা দ্বারা কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন।

এবং মুগীরা ইবনে শু’বাহর হাদীসটিও অনুরূপ, তবে তাতে এক অঞ্জলি পানির কথা নেই; এটি পোশাক পরিচ্ছেদ অধ্যায়ে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

সুনান গ্রন্থকারদের নিকট বর্ণিত আলীর হাদীসের শব্দ হলো—তিনি কুলি করেছেন এবং নাক ঝেড়েছেন।

মিকদাম ইবনে মাদি কারিবের হাদীসে রয়েছে: অতঃপর তিনি তিনবার কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন; এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর রুবায়্যি বিনতে মুআব্বিযের হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: তিনি একবার কুলি করেছেন এবং নাকে পানি দিয়েছেন।

আবু মালিক আল-আশআরীর হাদীসটি তাবারানি, আহমাদ, ইসহাক এবং ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, যাতে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার কথা রয়েছে।

আয়েশার হাদীসটি নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং এতে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার উল্লেখ আছে। আর আবু বকরের হাদীসটি বাযযার বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে যে, তিনি তিনবার কুলি করেছেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة أخرجه أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط من طَرِيق عَطاء عَنهُ وَفِيه تمضمض ثَلَاثًا واستنشق ثَلَاثًا

وَأخرجه أَبُو يعْلى من طَرِيق سعيد عَن أبي هُرَيْرَة بِلَفْظ ثمَّ تمضمض واستنثر

وَحَدِيث وَائِل بن حجر الْبَزَّار وَفِيه ضعف وَحَدِيث جُبَير بن نفير عَن أَبِيه أخرجه ابْن حبَان وَفِيه ثمَّ تمضمض واستنشق ثَلَاثًا وَحَدِيث أبي أُمَامَة أخرجه أَحْمد وَفِيه ضعف وَحَدِيث أنس أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَفِيه ومضمض ثَلَاث مَرَّات واستنشق ثَلَاث مَرَّات وَحَدِيث طَلْحَة بن مصرف بن عَمْرو عَن أَبِيه عَن جده أخرجه أَبُو دَاوُد وَالطَّبَرَانِيّ وَسَيَأْتِي بعد هَذَا وَحَدِيث أبي أَيُّوب أخرجه إِسْحَاق وَالطَّبَرَانِيّ وَفِيه وَكَانَ يتمضمض ويستنشق وَحَدِيث ابْن أبي أَوْفَى أخرجه أَبُو يعْلى وَفِيه ثمَّ تمضمض واستنشق ثَلَاثًا وَحَدِيث الْبَراء بن عَازِب أخرجه أَحْمد وَفِيه تمضمض واستنشق وَحَدِيث أبي كَاهِل أخرجه الطَّبَرَانِيّ وَابْن عدي وَفِيه تمضمض واستنشق ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَحَدِيث عبد الله بن أنيس أخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَفِيه ومضمض واستنشق ثَلَاثًا

‌‌فصل فِي الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق

8 - وَورد الْأَمر بهما فِي حَدِيث أخرجه الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق عمار بن أبي عمار عَن أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَمر بالمضمضة وَالِاسْتِنْشَاق وَرَوَى مُرْسلا وَهُوَ أَقْوَى
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি আহমদ এবং তাবারানি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে আতা-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে যে, তিনি তিনবার কুলি করেছেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়েছেন।

আবু ইয়ালা সাঈদ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ‘অতঃপর তিনি কুলি করেছেন এবং নাক পরিষ্কার করেছেন’।

ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.)-এর হাদিসটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন, তবে এতে দুর্বলতা রয়েছে। জুবাইর ইবনে নুফাইর তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা ইবনে হিব্বান সংকলন করেছেন এবং তাতে রয়েছে: ‘অতঃপর তিনি তিনবার কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’। আবু উমামাহ (রা.)-এর হাদিসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং এতে দুর্বলতা রয়েছে। আনাস (রা.)-এর হাদিসটি দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন এবং এতে রয়েছে: ‘তিনি তিনবার কুলি করেছেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়েছেন’। তালহা ইবনে মুসাররিফ ইবনে আমর তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি আবু দাউদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন, যা সামনে আসবে। আবু আইয়ুব (রা.)-এর হাদিসটি ইসহাক ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে যে, ‘তিনি কুলি করতেন ও নাকে পানি দিতেন’। ইবনে আবি আওফা (রা.)-এর হাদিসটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: ‘অতঃপর তিনি তিনবার কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’। বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর হাদিসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: ‘তিনি কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’। আবু কাহিল (রা.)-এর হাদিসটি তাবারানি ও ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনবার করে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার কথা রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.)-এর হাদিসটি তাবারানি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: ‘তিনি তিনবার কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’।

‌‌পরিচ্ছেদ: কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া প্রসঙ্গে

৮ - এই উভয়টি করার নির্দেশ এমন একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা বায়হাকি আম্মার ইবনে আবি আম্মারের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুলি করার ও নাকে পানি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং সেটিই অধিক শক্তিশালী।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২০)
وَقيل عَن عمَارَة عَن ابْن عَبَّاس أخرجه يَعْقُوب بن سُفْيَان ثمَّ الْبَيْهَقِيّ وَأخرج هُوَ وَالدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق عُرْوَة عَن عَائِشَة مَرْفُوعا الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق من الْوضُوء الَّذِي لَا بُد مِنْهُ وَفِي لفظ لَا يتم الصَّلَاة إِلَّا بِهِ وَرَوَى مُرْسلا وَهُوَ أَقْوَى

9 - قَوْله حَكَى عَن وضوء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أَنه تمضمض واستنشق ثَلَاثًا ثَلَاثًا أَخذ فِي كل مرّة مَاء جَدِيدا أَبُو دَاوُد من طَرِيق طَلْحَة بن مصرف عَن أَبِيه عَن جده قَالَ دخلت عَلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَهُوَ يتَوَضَّأ وَالْمَاء يسيل من وَجهه ولحيته عَلَى صَدره فرأيته يفصل بَين الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ من هَذَا الْوَجْه وَقَالَ عَن جده كَعْب ابْن عَمْرو أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ تَوَضَّأ فَمَضْمض ثَلَاثًا واستنشق ثَلَاثًا يَأْخُذ لكل وَاحِدَة مَاء جَدِيدا وَهَذَا أظهر فِي الْمَقْصُود وَهُوَ ضَعِيف

10 - حَدِيث الأذنان من الرَّأْس أَبُو دَاوُد من حَدِيث أبي أُمَامَة قَالَ تَوَضَّأ
এবং উমারাহ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন বলে বর্ণিত আছে। এটি ইয়াকুব বিন সুফিয়ান এবং পরবর্তীতে বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। তিনি (বায়হাকী) এবং দারাকুতনী উরওয়াহ হতে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়া ওযুর এমন অংশ যা ছাড়া গত্যান্তর নেই।" অন্য এক শব্দে এসেছে: "এটি ছাড়া সালাত পূর্ণ হয় না।" এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং সেটিই অধিক শক্তিশালী।

৯ - তাঁর কথা: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযু সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তিনবার কুলি করেছেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়েছেন, প্রতিবারই নতুন পানি নিয়েছেন। আবু দাউদ ত্বলহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি ওযু করছিলেন এবং তাঁর চেহারা ও দাড়ি থেকে পানি গড়িয়ে তাঁর বুকের ওপর পড়ছিল। তখন আমি তাঁকে কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার মধ্যে পৃথক করতে দেখেছি। তাবারানি এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর দাদা কাব ইবনে আমর থেকে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন, অতঃপর তিনবার কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিলেন এবং প্রত্যেকটির জন্য নতুন পানি নিলেন। উদ্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি অধিক স্পষ্ট, তবে এটি দুর্বল।

১০ - হাদিস: "কানদ্বয় মাথার অন্তর্ভুক্ত।" আবু দাউদ আবু উমামাহর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি ওযু করলেন...
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২১)
النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَغسل وَجهه ثَلَاثًا وَيَديه ثَلَاثًا وَمسح بِرَأْسِهِ وَقَالَ الأذانان من الرَّأْس وَأخرجه ابْن ماجة من هَذَا الْوَجْه بِلَفْظ الأذنان من الرَّأْس وَكَانَ يمسح رَأسه مرّة وَكَانَ يمسح الماقين وَأخرجه التِّرْمِذِيّ وَقَالَ قَالَ قُتَيْبَة قَالَ حَمَّاد لَا أَدْرِي هَذَا من قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَو من قَول أبي أُمَامَة وَقَالَ التِّرْمِذِيّ لَيْسَ إِسْنَاده بالقائم وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ رَفعه وهم وَأخرجه الطَّحَاوِيّ بِلَفْظ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ تَوَضَّأ فَمسح أُذُنَيْهِ مَعَ الرَّأْس وَقَالَ الأذنان من الرَّأْس

وَفِي الْبَاب عَن عبد الله بن زيد قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الأذنان من الرَّأْس أخرجه ابْن ماجة وَفِيه سُوَيْد بن سعيد وَقد اخْتَلَط وَعَن ابْن عَبَّاس مثله أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَاخْتلف فِي وَصله وإرساله وَالرَّاجِح إرْسَاله وَعَن أبي هُرَيْرَة مثله أخرجه ابْن ماجة وَالدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيقين ضعيفين وَعَن أبي مُوسَى أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَالطَّبَرَانِيّ وَعَن ابْن عمر أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيقين ضعيفين وَرجح لَهُ طَرِيقا مَوْقُوفَة وَأخرجه عَن أنس باسناد ضَعِيف وَعَن عَائِشَة وَرجح إرْسَاله وَفِي الْبَاب عَن ابْن عَبَّاس فِي صفة وضوء النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ فِيهِ ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ باطنهما بالسباحتين وظاهرهما بإبهاميه أخرجه النَّسَائِيّ وَابْن حبَان وَالْحَاكِم وَابْن خُزَيْمَة وَابْن مندة وَأَصله عِنْد البُخَارِيّ بِدُونِ ذكر الْأُذُنَيْنِ وَترْجم لَهُ النَّسَائِيّ مسح الْأُذُنَيْنِ مَعَ الرَّأْس وَأخرجه أَبُو دَاوُد من وَجه آخر وَفِيه ذكر الْوضُوء ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ فِيهِ وَمسح بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ مسحة وَاحِدَة وَعَن الرّبيع بنت معوذ أَنَّهَا رَأَتْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يتَوَضَّأ قَالَت فَمسح رَأسه مَا أقبل مِنْهُ وَمَا أدبر وصدغيه وَأُذُنَيْهِ مرّة وَاحِدَة أخرجه أَبُو دَاوُد وَالطَّبَرَانِيّ وَمسح أُذُنَيْهِ مَعَ مُؤخر رَأسه

وَفِي رِوَايَة ابْن ماجة مسح أُذُنَيْهِ فأدخلهما السبابتين
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং তাঁর দুই হাত তিনবার ধৌত করলেন এবং তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং বললেন, 'দুই কান মাথার অংশ।' ইবনে মাজাহ এই সূত্র থেকে 'দুই কান মাথার অংশ' শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী) তাঁর মাথা একবার মাসাহ করতেন এবং চোখের কোণদ্বয় মাসাহ করতেন। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, কুতাইবা বলেছেন যে হাম্মাদ বলেছেন, আমি জানি না এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি নাকি আবু উমামার উক্তি। তিরমিযী বলেছেন, এর সনদ শক্তিশালী নয়। দারাকুতনী বলেছেন, এর মারফূ বর্ণনা করাটি একটি ভ্রম। তহাবী এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করলেন এবং মাথার সাথে তাঁর দুই কান মাসাহ করলেন এবং বললেন, 'দুই কান মাথার অংশ'।

এই অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়িদ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'দুই কান মাথার অংশ'। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ রয়েছেন, যিনি শেষ বয়সে বিভ্রান্তিতে (স্মৃতিভ্রমে) পড়েছিলেন। ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যা দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন; এটি মুত্তাসিল নাকি মুরসাল তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং অগ্রগণ্য মত হলো এটি মুরসাল। আবু হুরায়রা থেকে অনুরূপ বর্ণনা ইবনে মাজাহ ও দারাকুতনী দুটি দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু মুসা থেকে দারাকুতনী ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর থেকে দারাকুতনী দুটি দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর একটি মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) সূত্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি এটি আনাস থেকে একটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন এবং আয়েশা থেকেও বর্ণিত হয়েছে যার মুরসাল হওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে ইবনে আব্বাস থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অজুর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর মাথা ও দুই কান মাসাহ করলেন; কানের ভেতর ভাগ শাহাদাত আঙুল দিয়ে এবং কানের বহির্ভাগ দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে। এটি নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, ইবনে খুযাইমা ও ইবনে মানদাহ বর্ণনা করেছেন। এর মূল বর্ণনা বুখারীতে রয়েছে কান মাসাহ করার উল্লেখ ব্যতীত। নাসাঈ এর শিরোনাম দিয়েছেন 'মাথার সাথে দুই কান মাসাহ করা'। আবু দাউদ অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যাতে তিনবার করে অজুর উল্লেখ আছে এবং তাতে বলা হয়েছে: তিনি তাঁর মাথা ও দুই কান একবার মাসাহ করেছেন। রুবাইয়্যি বিনতে মুয়াউভিয থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অজু করতে দেখেছেন; তিনি বলেন, তিনি তাঁর মাথার সম্মুখভাগ ও পশ্চাৎভাগ, রগদ্বয় এবং দুই কান একবার মাসাহ করলেন। এটি আবু দাউদ ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে তিনি তাঁর মাথার পশ্চাৎভাগের সাথে দুই কান মাসাহ করেছেন।

ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তাঁর দুই কান মাসাহ করলেন এবং তাতে শাহাদাত আঙুলদ্বয় প্রবেশ করালেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২২)
وَخَالف إبهاميه إِلَى ظَاهر أُذُنَيْهِ فَمسح ظاهرهما وباطنهما وَفِي حَدِيث عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ وَأدْخل إصبعيه السباحتين فِي أُذُنَيْهِ وَمسح بإبهاميه عَلَى ظَاهر أُذُنَيْهِ وبالسباحتين بَاطِن أُذُنَيْهِ أخرجه الْأَرْبَعَة إِلَّا التِّرْمِذِيّ وَإِسْنَاده قوي

وَرَوَى مَالك وَالنَّسَائِيّ من حَدِيث عبد الله الصنَابحِي فِي فضل الْوضُوء قَالَ فِيهِ فَإِذا مسح رَأسه خرجت الْخَطَايَا من رَأسه حَتَّى تخرج من أُذُنَيْهِ قَالَ ابْن عبد الْبر هَذَا يدل عَلَى أَن مسح الْأُذُنَيْنِ مَعَ الرَّأْس لقَوْله فِي هَذَا الحَدِيث فَإِذا غسل وَجهه خرجت الْخَطَايَا من أشفار عَيْنَيْهِ ويعارض ذَلِك حَدِيث عَلّي فِي القَوْل فِي السُّجُود سجد وَجْهي للَّذي خلقه وصوره وشق سَمعه وبصره أخرجه مُسلم وَاسْتدلَّ بِهِ عَلَى أَن الْأُذُنَيْنِ من الْوَجْه وَهُوَ لأَصْحَاب السّنَن وَالْحَاكِم عَن عَائِشَة بِنَحْوِهِ

ووردت أَحَادِيث للتجديد مِنْهَا حَدِيث عبد الله بن زيد أَنه رَأَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يتَوَضَّأ فَأخذ لأذنيه مَاء خلاف المَاء الَّذِي أَخذ لرأسه أخرجه الْحَاكِم ثمَّ الْبَيْهَقِيّ وَعَن نمران بن جَارِيَة بن ظفر عَن أَبِيه ذكره عبد الْحق وَتعقبه ابْن الْقطَّان بِأَنَّهُ إِنَّمَا ورد بِلَفْظ خُذُوا للرأس مَاء جَدِيدا قلت وَهُوَ فِي الطَّبَرَانِيّ كَذَلِك

وَعَن ابْن عمر أَنه كَانَ إِذا تَوَضَّأ يَأْخُذ المَاء بإصبعيه لأذنيه أخرجه مَالك فِي الْمُوَطَّأ عَن نَافِع عَنهُ

11 - قَوْله رَوَى فِي تَخْلِيل اللِّحْيَة أَنه صلى الله عليه وسلم َ أمره جِبْرِيل عليه الصلاة والسلام بذلك ابْن أبي شيبَة وَابْن ماجة وَابْن عدي من حَدِيث أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ أَتَانِي جِبْرِيل فَقَالَ إِذا تَوَضَّأت فخلل لحيتك وَفِي إِسْنَاده ضعف شَدِيد وَلَفظ ابْن ماجة كَانَ إِذا تَوَضَّأ خلل لحيته وَلَكِن قد رَوَى أَبُو دَاوُد من وَجه آخر عَن أنس أَن النَّبِي
এবং তিনি তাঁর দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিকে কানের বাইরের দিকের সাথে বিপরীতভাবে নিতেন এবং কানের বাইরের ও ভেতরের অংশ মাসেহ করতেন। আমর ইবনে শুয়াইবের হাদিসে তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করলেন এবং তাঁর দুই তর্জনী আঙুল কানের ভেতরে প্রবেশ করালেন এবং তাঁর দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা কানের বাইরের অংশ এবং তর্জনী দ্বারা কানের ভেতরের অংশ মাসেহ করলেন। এটি তিরমিজি ব্যতীত চারজন (সুনান গ্রন্থকার) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ শক্তিশালী।

ইমাম মালেক ও নাসায়ি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে ওজুর ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি বলেছেন: অতঃপর যখন তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করেন, তখন তাঁর মাথা থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তাঁর দুই কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। ইবনে আবদিল বার বলেন: এটি প্রমাণ করে যে দুই কান মাসেহ করা মাথার সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ এই হাদিসে তিনি বলেছেন: যখন তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করেন, তখন তাঁর দুই চোখের পাপড়ি থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়। এর বিপরীতে সিজদার দোয়া সম্পর্কিত আলীর হাদিসটি রয়েছে: "আমার চেহারা তাঁর জন্য সিজদা করেছে যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, এর আকৃতি দান করেছেন এবং এর শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি বিদীর্ণ করেছেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে দুই কান মুখমণ্ডলের অংশ। এটি সুনান গ্রন্থকারগণ এবং হাকেম আয়েশা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(কানের জন্য) নতুন পানি নেয়ার ব্যাপারে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে জাইদের হাদিস অন্যতম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওজু করতে দেখেছেন। তখন তিনি কানের জন্য এমন পানি নিয়েছেন যা মাথার জন্য নেয়া পানির চেয়ে ভিন্ন ছিল। এটি হাকেম এবং অতঃপর বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। আর নিমরান ইবনে জারিয়া ইবনে জাফার থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি আবদুল হক উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে আল-কাত্তান এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, এটি মূলত "মাথার জন্য নতুন পানি গ্রহণ করো" এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তাবারানিতেও এটি এভাবেই আছে।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন ওজু করতেন তখন তাঁর দুই আঙুল দিয়ে কানের জন্য পানি নিতেন। মালেক তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থে নাফে থেকে তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

11 - তাঁর বক্তব্য: দাড়ি খিলাল করার ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে আদি আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, যখন আপনি ওজু করবেন তখন আপনার দাড়ি খিলাল করবেন।" এর সনদে প্রচণ্ড দুর্বলতা রয়েছে। আর ইবনে মাজাহর শব্দ হলো: "তিনি যখন ওজু করতেন তখন দাড়ি খিলাল করতেন।" তবে আবু দাউদ অন্য সূত্রে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী...
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ كَانَ إِذا تَوَضَّأ خلل لحيته وَقَالَ هَكَذَا أَمرنِي رَبِّي وَأخرجه الْبَزَّار وَالْحَاكِم من وَجه آخر عَن أنس قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا تَوَضَّأ يخلل لحيته

وَجَاء فِي تَخْلِيل اللِّحْيَة أَحَادِيث مِنْهَا حَدِيث عُثْمَان أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كَانَ يخلل لحيته أخرجه التِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَأحمد وَابْن حبَان وَابْن خُزَيْمَة وَالْحَاكِم قَالَ التِّرْمِذِيّ عَن البُخَارِيّ هُوَ أصح شَيْء فِي هَذَا الْبَاب وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حسن صَحِيح وَحَدِيث عمار رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يخلل لحيته أخرجه التِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَهُوَ مَعْلُول وَحَدِيث أنس تقدم قَرِيبا وَحَدِيث عَائِشَة أخرجه أَحْمد وَالْحَاكِم وَحَدِيث أبي أَيُّوب أخرجه ابْن ماجة وَحَدِيث ابْن عمر أخرجه ابْن ماجة بِلَفْظ ثمَّ شَبكَ لحيته بأصابعه من تحتهَا

وَحَدِيث ابْن عَبَّاس أخرجه الطَّبَرَانِيّ وَفِيه فِي صفة الْوضُوء ثمَّ خلل لحيته وَحَدِيث أبي أُمَامَة أخرجه ابْن أبي شيبَة وَالطَّبَرَانِيّ وَحَدِيث ابْن أبي أَوْفَى وَأبي الدَّرْدَاء وَكَعب ابْن مَالك وَأم سَلمَة أخرجهَا الطَّبَرَانِيّ وَحَدِيث أبي بكرَة أخرجه الْبَزَّار وَحَدِيث جَابر
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অজু করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন এবং বলতেন: "আমার রব আমাকে এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।" আল-বাযযার এবং আল-হাকিম অন্য একটি সূত্রে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি যখন অজু করতেন তখন তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।"

দাড়ি খিলাল করার বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে উসমান (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন। এটি তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমা এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি ইমাম বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই অধ্যায়ে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধতম হাদিস। তিরমিজি একে 'হাসান সহিহ' বলেছেন। আম্মার (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি।" এটি তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, তবে এটি ত্রুটিযুক্ত (মায়লুল)। আনাস (রা.)-এর হাদিসটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি আহমাদ এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন। আবু আইয়ুব (রা.)-এর হাদিসটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসটি ইবনে মাজাহ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে: "অতঃপর তিনি নিচ থেকে তাঁর আঙুলগুলো দাড়ির ভেতর প্রবেশ করিয়ে খিলাল করলেন।"

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন, যাতে অজুর বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর তিনি তাঁর দাড়ি খিলাল করলেন।" আবু উমামা (রা.)-এর হাদিসটি ইবনে আবি শায়বাহ এবং তাবারানি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি আওফা, আবু দারদা, কাব ইবনে মালিক এবং উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদিসগুলো তাবারানি বর্ণনা করেছেন। আবু বাকরা (রা.)-এর হাদিসটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং জাবির (রা.)-এর হাদিসটিও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
أخرجه ابْن عدي قَالَ ابْن أبي حَاتِم فِي الْعِلَل قَالَ سَمِعت أبي يَقُول لَا يثبت فِي تَخْلِيل اللِّحْيَة حَدِيث

12 - وَحَدِيث خللوا بَين أصابعكم قبل أَن يتخللها نَار جَهَنَّم الدَّارَقُطْنِيّ عَن أبي هُرَيْرَة بِلَفْظ خللوا أصابعكم لَا يتخللها النَّار يَوْم الْقِيَامَة وَإِسْنَاده واه جدا وَأخرجه من حَدِيث عَائِشَة نَحوه بِإِسْنَاد ضَعِيف أَيْضا وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ من حَدِيث وَاثِلَة بِلَفْظ من لم يخلل أَصَابِعه بِالْمَاءِ خللها الله بالنَّار يَوْم الْقِيَامَة وَورد فِي الْأَمر بتخليل الْأَصَابِع أَحَادِيث مِنْهَا حَدِيث لَقِيط بن صبرَة إِذا تَوَضَّأت فأسبغ الْوضُوء وخلل بَين الْأَصَابِع أخرجه الْأَرْبَعَة وَابْن حبَان وَالْحَاكِم وَعَن ابْن عَبَّاس رَفعه إِذا تَوَضَّأت فخلل بَين أَصَابِع يَديك ورجليك أخرجه التِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَعَن الْمُسْتَوْرد بن شَدَّاد قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا تَوَضَّأ دلك أَصَابِع رجلَيْهِ بِخِنْصرِهِ أخرجه الْأَرْبَعَة إِلَّا النَّسَائِيّ وَفِيه ابْن لَهِيعَة لَكِن أخرجه الْبَيْهَقِيّ فقرنه بالليث وَغَيره

وَقَوله رَوَى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه تَوَضَّأ مرّة مرّة وَقَالَ هَذَا وضوء لَا يقبل الله الصَّلَاة إِلَّا بِهِ وَتَوَضَّأ مرَّتَيْنِ مرَّتَيْنِ وَقَالَ هَذَا وضوء من يُضَاعف لَهُ الْأجر مرَّتَيْنِ وَتَوَضَّأ
এটি ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতেম 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, দাড়ি খিলাল করার বিষয়ে কোনো হাদিস সাব্যস্ত নয়।

১২ - এবং হাদিস: "তোমরা তোমাদের আঙুলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে খিলাল করো, যেন জাহান্নামের আগুন সেগুলোতে খিলাল না করে।" আদ-দারাকুতনি আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের আঙুলগুলো খিলাল করো, যাতে কিয়ামতের দিন আগুন সেগুলোকে খিলাল না করে।" আর এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। তিনি আয়েশা (রা.) থেকে অনুরূপ হাদিস দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। আত-তাবারানি ওয়াকিলাহ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি পানি দিয়ে তার আঙুলগুলো খিলাল করবে না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আগুন দিয়ে সেগুলো খিলাল করবেন।" আঙুল খিলাল করার আদেশের বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে লাকিত ইবনে সাবরাহ-এর হাদিসটি অন্যতম: "যখন তুমি অজু করবে, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করো এবং আঙুলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে খিলাল করো।" এটি চার ইমাম (সুনান সংকলক), ইবনে হিব্বান ও আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "যখন তুমি অজু করবে, তখন তোমার হাতের ও পায়ের আঙুলগুলোর মাঝে খিলাল করো।" এটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এবং আল-মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি যখন অজু করতেন তখন তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে পায়ের আঙুলগুলো ঘষতেন।" এটি নাসায়ি ব্যতীত বাকি তিন সুনান সংকলক বর্ণনা করেছেন। এর সনদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, তবে আল-বাইহাকি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাকে লাইস ও অন্যদের সাথে যুক্ত করেছেন।

এবং তাঁর উক্তি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একবার একবার করে অঙ্গ ধুয়ে অজু করেছেন এবং বলেছেন: "এটি এমন অজু যা ছাড়া আল্লাহ নামাজ কবুল করেন না।" এবং তিনি দুইবার দুইবার করে অঙ্গ ধুয়ে অজু করেছেন এবং বলেছেন: "এটি এমন ব্যক্তির অজু যার নেকি দ্বিগুণ করা হয়।" এবং তিনি অজু করেছেন...
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ هَذَا وضوئي ووضوء الْأَنْبِيَاء من قبلي فَمن زَاد عَلَى هَذَا أَو نقص فقد تعدى فِيهِ وظلم هُوَ مركب من حديثين

13 - فَالْأول أخرجه ابْن ماجة من حَدِيث أبي بن كَعْب أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ دَعَا بِمَاء فَتَوَضَّأ مرّة مرّة فَقَالَ هَذَا وَظِيفَة الْوضُوء أَو قَالَ وضوء من لم يتوضأه لم يقبل الله لَهُ صَلَاة ثمَّ تَوَضَّأ مرَّتَيْنِ مرَّتَيْنِ وَقَالَ هَذَا وضوء من تَوَضَّأ أعطَاهُ الله كِفْلَيْنِ من الْأجر ثمَّ تَوَضَّأ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ هَذَا وضوئي ووضوء الْمُرْسلين من قبلي وَإِسْنَاده ضَعِيف وَهُوَ من طَرِيق زيد بن الْحوَاري عَن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن عبيد بن عُمَيْر عَن أبي وَأخرجه ابْن ماجة أَيْضا من طَرِيق عبد الرَّحِيم بن زيد عَن أَبِيه عَن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن ابْن عمر كَذَلِك قَالَ وَقَالَ فِي الْمَتْن فِي الثِّنْتَيْنِ هَذَا وضوء الْقدر من الْوضُوء وَتَوَضَّأ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ هَذَا أَسْبغ الْوضُوء وَهُوَ وضوئي ووضوء خَلِيل الله إِبْرَاهِيم وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ من هَذَا الْوَجْه فَقَالَا فِي الثِّنْتَيْنِ هَذَا وضوء من أُوتِيَ أجره مرَّتَيْنِ وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط من وَجه آخر عَن عبد الرَّحْمَن بن زيد عَن أَبِيه عَن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن أَبِيه عَن جده قَالَ أَبُو زرْعَة الرَّازِيّ مُعَاوِيَة بن قُرَّة لم يلْحق ابْن عمر وَقَالَ أَبُو حَاتِم عبد الريحم بن زيد مَتْرُوك وَأَبوهُ ضَعِيف وَلَا يَصح هَذَا الحَدِيث قلت وَلِحَدِيث ابْن عمر طَرِيق أُخْرَى أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ ثمَّ الْبَيْهَقِيّ وَلَيْسَ فِيهِ إِلَّا الْمسيب بن وَاضح وَهُوَ صَدُوق كثير الْخَطَأ وَلَعَلَّه دخل عَلَيْهِ حَدِيث فِي حَدِيث وَرَوَى الدَّارَقُطْنِيّ فِي غرائب مَالك من طَرِيق سعيد بن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة وَزيد بن ثَابت نَحْو الأول تفرد بِهِ عَلّي بن الْحُسَيْن الشَّامي وَكَانَ ضَعِيفا

14 - والْحَدِيث الثَّانِي أخرجه أَصْحَاب السّنَن إِلَّا التِّرْمِذِيّ من طَرِيق عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده أَن رجلا أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ يَا رَسُول الله كَيفَ الطّهُور فَدَعَا بِمَاء فِي إِنَاء فَغسل كفيه ثَلَاثًا فَذكر صفة الْوضُوء ثَلَاثًا ثَلَاثًا إِلَّا الرَّأْس ثمَّ قَالَ هَكَذَا الْوضُوء فَمن زَاد عَلَى هَذَا أَو نقص فقد أَسَاءَ وظلم أَو ظلم وأساء وَفِي رِوَايَة ابْن ماجة فقد تعدى وظلم وللنسائي فقد أَسَاءَ وتعدى وظلم
আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, তিনি তিনবার তিনবার করে অঙ্গ ধৌত করলেন এবং বললেন, "এটিই আমার ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণের ওজু। সুতরাং যে ব্যক্তি এর ওপর বাড়াল অথবা এতে কম করল, সে সীমা লঙ্ঘন করল এবং জুলুম করল।" এটি দুটি হাদিসের সমন্বয়ে গঠিত।

১৩ - প্রথমটি ইবনে মাজাহ উবাই ইবনে কাবের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানি চাইলেন এবং একবার একবার করে ওজু করলেন। এরপর তিনি বললেন, "এটি ওজুর সেই অংশ যা ছাড়া ওজু হয় না, অথবা তিনি বললেন, এটি এমন ব্যক্তির ওজু যার ওজু ছাড়া আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না।" এরপর তিনি দুইবার দুইবার করে ওজু করলেন এবং বললেন, "এটি এমন ব্যক্তির ওজু যাকে আল্লাহ দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন।" এরপর তিনি তিনবার তিনবার করে ওজু করলেন এবং বললেন, "এটি আমার ওজু এবং আমার পূর্ববর্তী রাসুলগণের ওজু।" আর এর সনদ দুর্বল। এটি যায়েদ ইবনুল হাওয়ারি-এর সূত্রে মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি উবাই থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি আব্দুর রাহীম ইবনে যায়েদ-এর সূত্রে তার পিতা থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মূল পাঠে (মতনে) দুইবারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, "এটি ওজুর পরিমিত পদ্ধতি।" আর তিনি তিনবার তিনবার ওজু করলেন এবং বললেন, "এটি পূর্ণাঙ্গ ওজু এবং এটি আমার ওজু ও আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহিমের ওজু।" তাবারানি ও বায়হাকি এই সূত্র থেকেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা দুইবারের ক্ষেত্রে বলেছেন, "এটি এমন ব্যক্তির ওজু যাকে দুইবার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে।" তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে অন্য সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআ আর-রাজি বলেন, মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ ইবনে উমরের সাক্ষাৎ পাননি। আবু হাতিম বলেন, আব্দুর রাহীম ইবনে যায়েদ বর্জনীয় এবং তার পিতা দুর্বল, আর এই হাদিসটি সহিহ নয়। আমি বলি, ইবনে উমরের হাদিসের অন্য একটি সূত্র রয়েছে যা দারাকুতনি ও এরপর বায়হাকি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে মুসাইয়িব ইবনে ওয়াদিহ রয়েছেন, যিনি সত্যবাদী হলেও প্রচুর ভুল করতেন। সম্ভবত তার বর্ণনায় এক হাদিস অন্য হাদিসের সাথে মিশে গেছে। দারাকুতনি 'গারাইব মালিক' গ্রন্থে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব-এর সূত্রে আবু হুরায়রা ও জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে প্রথমটির অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি এককভাবে আলি ইবনুল হুসাইন আশ-শামি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল ছিলেন।

১৪ - আর দ্বিতীয় হাদিসটি তিরমিজি ব্যতীত সুনান গ্রন্থকারগণ আমর ইবনে শুআইব-এর সূত্রে তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! পবিত্রতা (ওজু) কীভাবে করতে হয়? তখন তিনি একটি পাত্রে পানি চাইলেন এবং তিনবার তাঁর দুই কবজি ধৌত করলেন। এরপর তিনি তিনবার তিনবার করে ওজুর পদ্ধতি উল্লেখ করলেন, তবে মাথা মাসাহ ব্যতীত। এরপর বললেন, "ওজু এভাবেই। যে ব্যক্তি এর ওপর বৃদ্ধি করল অথবা কম করল, সে মন্দ কাজ করল এবং জুলুম করল—অথবা জুলুম করল এবং মন্দ কাজ করল।" ইবনে মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে, "সে সীমা লঙ্ঘন করল এবং জুলুম করল।" আর নাসায়ির বর্ণনায় রয়েছে, "সে মন্দ কাজ করল, সীমা লঙ্ঘন করল এবং জুলুম করল।"
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
15 - قَوْله ويستوعب رَأسه بِالْمَسْحِ وَهُوَ السّنة كَأَنَّهُ يُشِير إِلَى حَدِيث عبد الله ابْن زيد فِي صفة الْوضُوء فَفِيهِ فَمسح رَأسه بيدَيْهِ وَأَقْبل بهما وَأدبر مرّة وَاحِدَة مُتَّفق عَلَيْهِ وَقَالَ ابْن مندة لم يذكر مسح جَمِيع الرَّأْس إِلَّا مَالك وَتعقب بِرِوَايَة ابْن وهب عَن مَالك وَيَحْيَى بن عبد الله بن سَالم جَمِيعًا عَن عَمْرو بن يَحْيَى بذلك أخرجه الطَّحَاوِيّ فَإِن ثَبت قَول ابْن مندة فَلَعَلَّ ابْن وهب حمل حَدِيث يَحْيَى عَلَى حَدِيث مَالك

وَأغْرب ابْن عُيَيْنَة فَقَالَ فِي رِوَايَة عَن عَمْرو بن يَحْيَى وَمسح بِرَأْسِهِ مرَّتَيْنِ قَالَ ابْن عبد الْبر تفرد بِهِ وَكَأَنَّهُ تَأَول قَوْله فَأقبل بهَا وَأدبر فَجعل ذَلِك مرَّتَيْنِ وَقد رَوَاهُ الْحميدِي عَن ابْن عُيَيْنَة قلت وَأخرج البُخَارِيّ من رِوَايَة فليح عَن عَمْرو بن يَحْيَى بِسَنَدِهِ فِي هَذَا الحَدِيث أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ تَوَضَّأ مرَّتَيْنِ مرَّتَيْنِ وَهَذَا يحْتَمل أَن يكون وَقع لفليح مَا وَقع لِابْنِ عُيَيْنَة لَكِن للمتن شَاهد من حَدِيث أبي هُرَيْرَة أخرجه ابْن حبَان

16 - حَدِيث أنس أَنه تَوَضَّأ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَمسح بِرَأْسِهِ مرّة وَاحِدَة وَقَالَ هَذَا وضوء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الطَّبَرَانِيّ فِي الأسط من طَرِيق رَاشد أبي مُحَمَّد الْحمانِي بِكَسْر الْحَاء الْمُهْملَة قَالَ رَأَيْت أنس بن مَالك رضي الله عنه بالزاوية فَقلت أَخْبرنِي عَن وضوء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَذكره مطولا وَجَاء عَن أنس رضي الله عنه مَا يُعَارضهُ أخرجه ابْن أبي شيبَة من رِوَايَة قَتَادَة عَن أنس أَنه كَانَ يمسح رَأسه ثَلَاثًا يَأْخُذ لكل مسحة مَاء جَدِيدا وَفِي الْبَاب عَن عبد الله بن زيد وَقد تقدم وَعَن عَلّي أخرجه أَصْحَاب السّنَن بِلَفْظ ثمَّ جعل يَده فِي الْإِنَاء فَمسح بِرَأْسِهِ مرّة وَاحِدَة وَأخرجه ابْن أبي شيبَة من وَجه آخر بِلَفْظ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ يتَوَضَّأ ثَلَاثًا ثَلَاثًا إِلَّا الْمسْح فَإِنَّهُ مرّة وَاحِدَة وَعَن ابْن عَبَّاس
১৫ - তাঁর বক্তব্য: "তিনি মাসাহ করার মাধ্যমে তাঁর পুরো মাথা পরিবেষ্টন করবেন এবং এটিই সুন্নাহ।" মনে হচ্ছে তিনি ওযুর বর্ণনা সংক্রান্ত আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ-এর হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করছেন। তাতে রয়েছে: "অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে মাথা মাসাহ করলেন এবং একবার হাত সামনে আনলেন ও পেছনে নিলেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন)। ইবনুল মানদাহ বলেন: "ইমাম মালেক ব্যতীত অন্য কেউ সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করার কথা উল্লেখ করেননি।" তবে ইবনে ওয়াহাব কর্তৃক মালেক এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালিম উভয়ের সূত্রে আমর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত দ্বারা এর প্রতিবাদ করা হয়েছে; যা ইমাম তাহাবী বর্ণনা করেছেন। যদি ইবনুল মানদাহর বক্তব্য সাব্যস্ত হয়, তবে সম্ভবত ইবনে ওয়াহাব ইয়াহইয়ার হাদীসটিকে মালেকের হাদীসের ওপর আরোপ করেছেন।

ইবনে উইয়াইনা একটি বিরল বর্ণনা দিয়েছেন; তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়ার সূত্রে এক বর্ণনায় বলেছেন: "এবং তিনি তাঁর মাথা দুইবার মাসাহ করেছেন।" ইবনে আব্দুল বার বলেন: "তিনি এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।" মনে হয় তিনি "হাত সামনে আনলেন ও পেছনে নিলেন" কথাটির ব্যাখ্যা করেছেন এবং একে দুইবার হিসেবে গণ্য করেছেন। হুমায়দী এটি ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইমাম বুখারি ফুলইহ-এর সূত্রে আমর ইবনে ইয়াহইয়ার রিওয়ায়াতে তাঁর সনদে এই হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুইবার দুইবার করে ওযু করেছেন। এটি সম্ভব যে ফুলইহর ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে যা ইবনে উইয়াইনার ক্ষেত্রে ঘটেছে, তবে এই পাঠের (মতন) স্বপক্ষে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি সাক্ষী হাদীস রয়েছে যা ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন।

১৬ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস: তিনি তিনবার তিনবার করে ওযু করেছেন এবং মাথা একবার মাসাহ করেছেন এবং বলেছেন: "এটিই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওযু।" তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে রাশিদ আবু মুহাম্মাদ আল-হিমমানী (হা বর্ণে কাসরা সহ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জাউইয়াহ নামক স্থানে দেখেছি, তখন আমি বললাম: আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওযু সম্পর্কে বলুন; অতঃপর তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করলেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এর বিপরীত বর্ণনাও এসেছে যা ইবনে আবি শায়বাহ কাতাদাহর সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর মাথা তিনবার মাসাহ করতেন এবং প্রতিবার মাসাহর জন্য নতুন পানি নিতেন। এই অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ-এর হাদীস রয়েছে যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যা সুনান গ্রন্থকারগণ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর তিনি পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং তাঁর মাথা একবার মাসাহ করলেন।" ইবনে আবি শায়বাহ অন্য সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসাহ ব্যতীত অন্য সব অঙ্গ তিনবার তিনবার ধৌত করে ওযু করতেন, আর মাসাহ ছিল একবার। এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَقد تقدم فِي أَحَادِيث الْأُذُنَيْنِ وَعَن عُثْمَان مُتَّفق عَلَيْهِ بِغَيْر ذكر عدد فِي الرَّأْس قَالَ أَبُو دَاوُد أَحَادِيث عُثْمَان الصِّحَاح كلهَا تدل عَلَى أَن مسح الرَّأْس مرّة فَإِنَّهُم ذكرُوا الْوضُوء ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالُوا مسح رَأسه لم يذكرُوا عددا انْتَهَى وَقد أخرج مُسلم من حَدِيث عُثْمَان أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ تَوَضَّأ ثَلَاثًا ثَلَاثًا فتمسك بِعُمُومِهِ من رَأَى تثليث الْمسْح وَلَا حجَّة فِيهِ وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق عمر بن عبد الرَّحْمَن بن سعد عَن جده عَن عُثْمَان بِلَفْظ وَمسح بِرَأْسِهِ مرّة وَاحِدَة وَعَن أبي كَاهِل قَالَ قلت يَا رَسُول الله كَيفَ نَتَوَضَّأ قَالَ فَذكر الحَدِيث وَفِيه وَمسح بِرَأْسِهِ وَلم يُوَقت أخرجه الطَّبَرَانِيّ

17 - قَوْله وَالَّذِي يرْوَى فِي التَّثْلِيث يَعْنِي بمسح الرَّأْس مَحْمُول عَلَى أَنه بِمَاء وَاحِد جَاءَ فِي تثليث الْمسْح أَحَادِيث مِنْهَا عَن عُثْمَان أخرجه أَصْحَاب السّنَن وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَزَّار وَالْبَيْهَقِيّ من طرق عَنهُ وَقد تقدم كَلَام أبي دَاوُد فِي ذَلِك قبل وَمِنْهَا عَن عَلّي أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة أبي حنيفَة عَن خَالِد بن عَلْقَمَة عَن عبد خير عَن عَلّي فِي صفة الْوضُوء قَالَ وَمسح رَأسه ثَلَاثًا قَالَ خَالفه الْحفاظ عَن خَالِد بن عَلْقَمَة فَقَالُوا وَمسح رَأسه مرّة وَأخرجه الْبَزَّار من طَرِيق أبي حَيَّة بن قيس عَن عَلّي وَفِيه وَمسح رَأسه ثَلَاثًا
কানের হাদিসসমূহে এবং উসমান (রা.) হতে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসে মাথায় কোনো সংখ্যার উল্লেখ ছাড়াই পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আবু দাউদ বলেছেন: উসমান (রা.) হতে বর্ণিত সহিহ হাদিসসমূহ একথাই নির্দেশ করে যে, মাথা মাসাহ একবার। কেননা তারা অজু তিনবার তিনবার করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ‘তিনি মাথা মাসাহ করেছেন’, সেখানে কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি। সমাপ্ত। আর মুসলিম উসমান (রা.)-এর হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার তিনবার অজু করেছেন। যারা তিনবার মাসাহ করার পক্ষপাতী তারা এর ব্যাপকতা দিয়ে দলিল পেশ করেন, তবে এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই। দারা কুতনী এটি উমর বিন আব্দুর রহমান বিন সা’দ-এর সূত্রে তাঁর দাদা হতে, তিনি উসমান (রা.) হতে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ‘এবং তিনি তাঁর মাথা একবার মাসাহ করলেন।’ আবু কাহিল (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কীভাবে অজু করব? তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন এবং তাতে রয়েছে: ‘এবং তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন’ কিন্তু কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

১৭ - তাঁর উক্তি: আর তিনবার করার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে—অর্থাৎ মাথা মাসাহ—তা এই অর্থে যে এটি একই পানি দিয়ে করা হয়েছে। তিনবার মাসাহ করা প্রসঙ্গে বেশ কিছু হাদিস এসেছে, তন্মধ্যে একটি উসমান (রা.) হতে বর্ণিত যা সুনান গ্রন্থকারগণ, দারা কুতনী, বাযযার এবং বাইহাকী বিভিন্ন সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আবু দাউদের বক্তব্য পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং তন্মধ্যে একটি আলী (রা.) হতে বর্ণিত, দারা কুতনী এটি আবু হানিফা থেকে, তিনি খালিদ বিন আলকামা থেকে, তিনি আব্দ খাইর থেকে, তিনি আলী (রা.) হতে অজুর পদ্ধতি বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: ‘এবং তিনি তাঁর মাথা তিনবার মাসাহ করলেন।’ তিনি (দারা কুতনী) বলেন: হাফেজগণ খালিদ বিন আলকামার বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করেছেন, তারা বলেছেন: ‘এবং তিনি তাঁর মাথা একবার মাসাহ করেছেন।’ বাযযার এটি আবু হাইয়্যাহ বিন কায়স-এর সূত্র ধরে আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন এবং এতে রয়েছে: ‘এবং তিনি তাঁর মাথা তিনবার মাসাহ করেছেন।’
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَإِسْنَاده مُتَقَارب وَهُوَ عِنْد التِّرْمِذِيّ بِلَفْظ مسح رَأسه مرّة وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي مُسْند الشاميين من طَرِيق عُثْمَان بن سعيد النَّخعِيّ عَن عَلّي بِلَفْظ وَمسح رَأسه ثَلَاثًا بِمَاء وَاحِد

18 - حَدِيث إِن الله يحب التَّيَامُن فِي كل شَيْء لم أَجِدهُ هَكَذَا وَإِنَّمَا الحَدِيث فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كَانَ يحب التَّيَامُن فِي كل شَيْء الحَدِيث وَفِي الْبَاب عَن أبي هُرَيْرَة رَفعه إِذا توضأتم فابدءوا بميامنكم أخرجه أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة وَصَححهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَفِي رِوَايَة الْبَيْهَقِيّ إِذا لبستم أَو توضأتم

‌‌فصل فِي الْأَحَادِيث الدَّالَّة عَلَى عدم التَّرْتِيب والموالاة فِي الْوضُوء وَالتَّيَمُّم مِنْهَا

حَدِيث عَلّي أخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي مُسْند الشاميين من طَرِيق عبد الْعَزِيز بن عبيد الله عَن عُثْمَان بن سعيد النَّخعِيّ عَن عَلّي أَنه قَالَ أَلا أريكم وضوء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قُلْنَا بلَى فَغسل كفيه وَوَجهه ثَلَاثًا وَيَديه إِلَى الْمرْفقين ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَمسح بِرَأْسِهِ ثَلَاثًا بِمَاء وَاحِد ومضمض واستنشق ثَلَاثًا ثَلَاثًا بِمَاء وَاحِد وَغسل رجلَيْهِ ثَلَاثًا

وَمِنْهَا حَدِيث عبد الله بن زيد الَّذِي أرِي النداء قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ تَوَضَّأ وَغسل وَجهه ثَلَاثًا وَيَديه مرَّتَيْنِ وَغسل رجلَيْهِ مرَّتَيْنِ وَمسح بِرَأْسِهِ مرَّتَيْنِ أخرجه النَّسَائِيّ من طَرِيق ابْن عُيَيْنَة عَن عَمْرو بن يَحْيَى عَن أَبِيه عَنهُ وَمِنْهَا حَدِيث الْمِقْدَام
এবং এর সনদ (সূত্র) কাছাকাছি পর্যায়ের। এটি তিরমিযী-তে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একবার মাথা মাসেহ করেছেন। আর তাবারানী এটি 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন'-এ উসমান ইবনে সাঈদ আন-নাখায়ীর সূত্রে আলী থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক পানি দিয়ে তিনবার মাথা মাসেহ করেছেন।

১৮ - একটি হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি কাজে ডান দিক পছন্দ করেন" - আমি একে এই শব্দে পাইনি। তবে হাদিসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আয়েশা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন—হাদিসটির শেষ পর্যন্ত। আর এ অধ্যায়ে আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "যখন তোমরা ওজু করবে, তখন তোমাদের ডান দিক থেকে শুরু করবে।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। বায়হাকীর বর্ণনায় রয়েছে: "যখন তোমরা পরিধান করবে অথবা ওজু করবে।"

‌‌পরিচ্ছেদ: ওজু ও তায়াম্মুমে ধারাবাহিকতা এবং বিরতিহীনতা জরুরি না হওয়ার স্বপক্ষে বর্ণিত হাদিসসমূহ

আলী বর্ণিত হাদিস: তাবারানী এটি 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন'-এ আব্দুল আজীজ ইবনে উবাইদুল্লাহর সূত্রে উসমান ইবনে সাঈদ আন-নাখায়ী থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী বললেন, "আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওজু দেখাব না?" আমরা বললাম, "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাতের কবজি এবং মুখমণ্ডল তিনবার ধুলেন, তাঁর দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিন তিনবার ধুলেন, এক পানি দিয়ে তাঁর মাথা তিনবার মাসেহ করলেন, এক পানি দিয়ে তিন তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং তাঁর দুই পা তিনবার ধুলেন।

এর মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ-এর হাদিসটিও রয়েছে, যাঁকে আযান দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওজু করতে দেখেছি; তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুলেন, তাঁর দুই হাত দুইবার ধুলেন, তাঁর দুই পা দুইবার ধুলেন এবং তাঁর মাথা দুইবার মাসেহ করলেন।" এটি নাসায়ী ইবনে উয়াইনার সূত্রে আমর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর (আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এর মধ্যে মিকদাম বর্ণিত হাদিসটিও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
بن معد يكرب قَالَ أَتَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ بِوضُوء فَتَوَضَّأ فَغسل كفيه ثَلَاثًا وَغسل وَجهه ثَلَاثًا ثمَّ غسل ذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا ثمَّ تمضمض واستنشق ثَلَاثًا ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ أخرجه أَبُو دَاوُد وَأخرج أَيْضا حَدِيث الرّبيع بنت معوذ وَفِيه تَقْدِيم غسل الْوَجْه عَلَى الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق وَمِنْهَا حَدِيث عُثْمَان فِي صفة الْوضُوء فَمَضْمض واستنشق ثمَّ غسل وَجهه ثَلَاثًا وَيَديه ثَلَاثًا وَرجلَيْهِ ثَلَاثًا ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَفِيه أَن عُثْمَان قَالَ لنفر من الصَّحَابَة أَكَذَلِك قَالُوا نعم

ويعارض ذَلِك فِي الْمُوَالَاة مَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من طَرِيق خَالِد بن معدان عَن بعض أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه صلى الله عليه وسلم َ رَأَى رجلا يُصَلِّي وَفِي قدمه لمْعَة لم يصبهَا المَاء فَأمره أَن يُعِيد الْوضُوء وَالصَّلَاة وَرِجَاله ثِقَات وَصَححهُ الْحَاكِم وغفل الْبَيْهَقِيّ فَقَالَ إِنَّه مُرْسل وَتعقب بِأَن إِبْهَام الصَّحَابِيّ لَا يصير الحَدِيث مُرْسلا

وَرَوَى مُسلم عَن جَابر قَالَ أَخْبرنِي عمر بن الْخطاب أَن رجلا تَوَضَّأ فَترك مَوضِع ظفر عَلَى قدمه فَأَبْصَرَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ ارْجع فَأحْسن وضوءك ثمَّ صلي

وَلأبي دَاوُد وَابْن ماجة من طَرِيق جرير بن حَازِم عَن قَتَادَة عَن أنس نَحوه قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَذَا رَوَاهُ جرير وَهُوَ ثِقَة وَرَوَاهُ الْوَازِع بن نَافِع من طَرِيق ابْن عمر فَقَالَ فِيهِ فَأَتمَّ
বিন মাদিকারিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওযুর পানি আনা হলো। তিনি ওযু করলেন; তিনবার তাঁর দুই হাতের কবজি ধুলেন, তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন, তারপর তাঁর দুই হাত (কনুইসহ) তিনবার তিনবার ধুলেন। এরপর তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং তাঁর মাথা ও কান মাসেহ করলেন। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। তিনি রুবাই বিনতে মুআউয়িযের হাদিসটিও বর্ণনা করেছেন, যাতে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার আগে মুখমণ্ডল ধোয়ার কথা উল্লেখ আছে। এগুলোর মধ্যে ওযুর বিবরণ সংক্রান্ত উসমানের হাদিসটিও রয়েছে; তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, তারপর তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন, তিনবার তাঁর হাত ধুলেন এবং তিনবার তাঁর পা ধুলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসেহ করলেন। এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এতে বর্ণিত আছে যে, উসমান একদল সাহাবীকে লক্ষ্য করে বললেন, "তা কি এভাবেই ছিল?" তাঁরা বললেন, "হ্যাঁ।"

বিরতিহীনভাবে ওযু করা বা ধারাবাহিকতা (মুওয়ালাত) রক্ষার ক্ষেত্রে এর বিপরীতে সেই হাদিসটি রয়েছে যা আবু দাউদ খালিদ বিন মা’দান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন যার পায়ের পাতায় একটি নখ পরিমাণ শুষ্ক স্থান ছিল যেখানে পানি পৌঁছায়নি। তখন তিনি তাকে ওযু ও সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিলেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন। বায়হাকী এ ব্যাপারে অসাবধানতাবশত একে 'মুরসাল' বলেছেন, তবে এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, সাহাবীর নাম উহ্য থাকা হাদিসকে 'মুরসাল' করে দেয় না।

ইমাম মুসলিম জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি ওযু করার সময় তার পায়ের পাতায় একটি নখ পরিমাণ স্থান বাদ রেখেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, "ফিরে যাও এবং তোমার ওযু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করো।" তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন।

আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-তে জারীর বিন হাযিম সূত্রে কাতাদা থেকে আনাস-এর অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। দারা কুতনী বলেন, জারীর এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য। ওয়াজি’ বিন নাফি’ এটি ইবনে উমর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে "অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করলেন" শব্দ ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
وضوءك ثمَّ سَاقه وَضعف الْوَازِع وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط

وَاسْتدلَّ عَلَى عدم وجوب التَّرْتِيب فِي التَّيَمُّم بِمَا أخرجه البُخَارِيّ من حَدِيث أبي مُوسَى أَنه قَالَ لعبد الله ألم تسمع قَول عمار لعمر بَعَثَنِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي حَاجَة فأجنبت فَلم أجد المَاء فتمرغت فِي الصَّعِيد كَمَا تمرغ الدَّابَّة فَذكرت ذَلِك للنَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيك أَن تصنع هَكَذَا وَضرب بكفه ضَرْبَة عَلَى الأَرْض ثمَّ نفضها ثمَّ مسح بهَا ظهر كَفه بِشمَالِهِ أَو ظهر شِمَاله بكفه ثمَّ مسح بهما وَجهه وَفِي رِوَايَة الْإِسْمَاعِيلِيّ أَن تضرب بيديك عَلَى الأَرْض ثمَّ تنفضها ثمَّ تمسح عَلَى شمالك بيمينك وَعَلَى يَمِينك بشمالك ثمَّ تمسح عَلَى وَجهك وَلأبي دَاوُد فَضرب بِيَدِهِ عَلَى الأَرْض فنفضها ثمَّ ضرب بِشمَالِهِ عَلَى يَمِينه وبيمينه عَلَى شِمَاله عَلَى الْكَفَّيْنِ ثمَّ مسح وَجهه

19 - حَدِيث سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ مَا الْحَدث فَقَالَ مَا يخرج من السَّبِيلَيْنِ لم أَجِدهُ

20 - حَدِيث أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قاء فَلم يتَوَضَّأ لم أَجِدهُ

21 - حَدِيث الْوضُوء من كل دم سَائل الدَّارَقُطْنِيّ من حَدِيث تَمِيم الدَّارِيّ وَفِيه ضعف وَانْقِطَاع وَمن حَدِيث زيد بن ثَابت أخرجه ابْن عدي فِي تَرْجَمَة أَحْمد بن الْفرج

22 - حَدِيث من قاء أَو رعف فِي صَلَاة فلينصرف وليتوضأ وليبن عَلَى
আপনার অজু, এরপর তিনি তা বর্ণনা করেছেন এবং আল-ওয়াজি'কে দুর্বল বলা হয়েছে, আর তাবারানি এটি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন।

তায়াম্মুমে ধারাবাহিকতা (তরতীব) ওয়াজিব না হওয়ার পক্ষে ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত আবু মুসা (রা.)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে, যেখানে তিনি আব্দুল্লাহকে বলেছিলেন, আপনি কি ওমরের প্রতি আম্মারের কথা শোনেননি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন, তারপর আমি অপবিত্র (জুনুবি) হয়ে পড়লাম কিন্তু পানি পেলাম না। তখন আমি পশুর মতো মাটিতে গড়াগড়ি করলাম। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এভাবেই করা যথেষ্ট ছিল’। এরপর তিনি তাঁর হাতের তালু দিয়ে মাটিতে একটি আঘাত করলেন, তারপর তা ঝেড়ে ফেললেন এবং তা দিয়ে তাঁর বাম হাত দ্বারা ডান হাতের পিঠ অথবা ডান হাত দ্বারা বাম হাতের পিঠ মাসাহ করলেন, অতঃপর তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। ইসমাঈলীর বর্ণনায় রয়েছে, ‘তুমি তোমার দুই হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করবে, এরপর তা ঝেড়ে ফেলবে, তারপর তোমার ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর এবং বাম হাত দিয়ে ডান হাতের ওপর মাসাহ করবে, এরপর তোমার মুখমণ্ডল মাসাহ করবে’। আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, তিনি তাঁর হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন এবং তা ঝেড়ে ফেললেন, এরপর বাম হাত দিয়ে ডান হাতের ওপর এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর অর্থাৎ উভয় হাতের কবজি পর্যন্ত মাসাহ করলেন, তারপর তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন।

১৯ - হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ‘হাদাস’ কী? তিনি বললেন, ‘যা দুই পথ (মল ও মূত্রদ্বার) দিয়ে বের হয়’। আমি এটি খুঁজে পাইনি।

২০ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বমি করেছিলেন কিন্তু অজু করেননি। আমি এটি খুঁজে পাইনি।

২১ - হাদিস: প্রত্যেক প্রবাহিত রক্ত থেকে অজু করা। দারা কুতনী তামীম আদ-দারী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। আর যায়েদ বিন সাবিত থেকে ইবনে আদি এটি আহমদ বিন আল-ফারাজের জীবনীতে বর্ণনা করেছেন।

২২ - হাদিস: যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে বমি করল কিংবা যার নাক দিয়ে রক্ত পড়ল, সে যেন ফিরে যায় এবং অজু করে (সালাতের অবশিষ্ট অংশ) পূর্ণ করে।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
صلَاته مَا لم يتَكَلَّم ابْن ماجة من حَدِيث عَائِشَة بِلَفْظ من أَصَابَهُ قيء أَو رُعَاف أَو قلس أَو مذي فلينصرف فَليَتَوَضَّأ ثمَّ ليبن عَلَى صلَاته وَهُوَ فِي ذَلِك لَا يتَكَلَّم وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ نَحوه وَفِي إِسْنَاده إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش وَرِوَايَته عَن غير الشاميين ضَعِيفَة وَهَذَا مِنْهَا فَإِنَّهُ عَن ابْن جريج فَقَالَ فِيهِ عَن ابْن أبي مليكَة عَنْهَا قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ والحفاظ يَقُولُونَ عَن ابْن جريج عَن أَبِيه مُرْسل ثمَّ سَاقه كَذَلِك وَسَاقه الْبَيْهَقِيّ كَذَلِك ثمَّ سَاق عَن أَحْمد نَحْو مَا قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ وَأخرجه ابْن عدي فَقَالَ إِسْمَاعِيل مرّة هَكَذَا وَمرَّة عَن ابْن جريج عَن أَبِيه عَن عَائِشَة

وَفِي الْبَاب عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَإِسْنَاده أَضْعَف من الأول وَأخرجه أَيْضا عَن ابْن عَبَّاس نَحوه وَفِي إِسْنَاده سُلَيْمَان بن أَرقم وَأخرجه ابْن عدي من وَجه آخر عَن ابْن عَبَّاس بِلَفْظ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا رعف فِي صلَاته تَوَضَّأ ثمَّ بنى عَلَى صلَاته وَرَوَى البُخَارِيّ من طَرِيق هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة فِي قصَّة الْمُسْتَحَاضَة وَفِيه قَالَ هِشَام قَالَ أبي ثمَّ توضئي لكل صَلَاة حَتَّى يَجِيء ذَلِك الْوَقْت وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ بِلَفْظ فاغسلي عَنْك الدَّم وتوضئي لكل صَلَاة ولأصحاب السّنَن الثَّلَاثَة وَصَححهُ
তাঁর সালাত যতক্ষণ না তিনি কথা বলেন। ইবনে মাজাহ আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন: "যার বমি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মুখ ভর্তি বমি অথবা মজি নির্গত হয়, সে যেন ফিরে যায় এবং অজু করে, অতঃপর তার সালাতের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করে; আর সে সময় যেন সে কথা না বলে।" আদ-দারা কুতনিও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে ইসমাইল বিন আইয়াশ রয়েছেন, আর শামী বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্যদের থেকে তাঁর বর্ণনা দুর্বল। এটিও সেই পর্যায়ের, কেননা এটি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত। তিনি এতে ইবনে আবু মুলাইকাহ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারা কুতনি বলেছেন যে, হাফেজগণ বলেন, এটি ইবনে জুরাইজ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। এরপর তিনি সেভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন। আল-বায়হাকিও একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি ইমাম আহমাদ থেকে আদ-দারা কুতনি যা বলেছেন তাঁর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি এটি বর্ণনা করে বলেছেন, ইসমাইল কখনো এভাবে বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো ইবনে জুরাইজ থেকে তাঁর পিতা হয়ে আয়িশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এ বিষয়ে আবু সাইদ আল-খুদরি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা আদ-দারা কুতনি বের করেছেন এবং এর সনদ প্রথমটির চেয়েও দুর্বল। তিনি অনুরূপ একটি বর্ণনা ইবনে আব্বাস থেকেও বের করেছেন, যার সনদে সুলাইমান বিন আরকাম রয়েছেন। ইবনে আদি অন্য একটি সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতরত অবস্থায় নাক দিয়ে রক্ত ঝরত, তখন তিনি অজু করতেন এবং তারপর তাঁর সালাতের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করতেন। বুখারি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে ইস্তিহাজাগ্রস্ত মহিলার ঘটনায় বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে: হিশাম বলেন, আমার পিতা বলেছেন, "অতঃপর তুমি প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করো, যতক্ষণ না সেই ওয়াক্ত আসে।" তিরমিজি এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তুমি তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলো এবং প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করো।" এটি তিন সুনান গ্রন্থকারের কাছেও রয়েছে এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم من حَدِيث أبي الدَّرْدَاء أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قاء فَتَوَضَّأ الحَدِيث وَفِيه تَصْدِيق ثَوْبَان لذَلِك قَالَ الْأَثْرَم قَالَ أَحْمد جوده حُسَيْن الْمعلم وَعَن سلمَان قَالَ رَأَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَقد سَالَ من أنفي دم فَقَالَ أحدث وضُوءًا أخرجه الْبَزَّار وَالدَّارَقُطْنِيّ وَفِيه من أتهم وَصَحَّ عَن أبن عمر أَنه كَانَ إِذا رعف رَجَعَ فَتَوَضَّأ وَلم يتَكَلَّم ثمَّ رَجَعَ وَبني عَلَى مَا قد صَلَّى أخرجه مَالك ثمَّ الشَّافِعِي عَنهُ وَأخرجه الشَّافِعِي عَنهُ وَأخرجه الشَّافِعِي من وَجه آخر عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يَقُول من أَصَابَهُ رُعَاف أَو مذي أَو قيء انْصَرف فَتَوَضَّأ ثمَّ رَجَعَ فَبَنَى وَأخرجه عبد الرازق نَحوه

وَفِي الْمُوَطَّإِ عَن سعيد بن الْمسيب أَنه رعف وَهُوَ يُصَلِّي فَأَتَى حجرَة أم سَلمَة فَتَوَضَّأ ثمَّ رَجَعَ فَبَنَى عَلَى مَا قد صَلَّى وَرَوَى عبد الرازق من طَرِيق الْحَارِث وَعَاصِم فرقهما عَن عَلّي إِذا وجد أحدكُم رزا أَو رعافا أَو قيئا فلينصرف فَليَتَوَضَّأ فَإِن تكلم اسْتقْبل وَإِلَّا اعْتد بِمَا مَضَى وَمن طَرِيق سلمَان نَحوه ويعارض ذَلِك حَدِيث أنس احتجتم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَصَلى وَلم يتَوَضَّأ وَلم يزدْ عَلَى غسل محاجمه أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ بِإِسْنَاد ضَعِيف وَأخرج أَيْضا من حَدِيث ثَوْبَان أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قاء فدعاني بِوضُوء فَتَوَضَّأ فَقلت يَا رَسُول الله أفريضة الْوضُوء من القيئ قَالَ لَو كَانَ فَرِيضَة لوجدته فِي الْقُرْآن وسناده واه جدا وَرَوَى أَبُو دَاوُد وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان وَالدَّارَقُطْنِيّ من حَدِيث جَابر فِي قصَّة الْأنْصَارِيّ الَّذِي كَانَ يُصَلِّي فَرَمَاهُ رجل كَافِر بِسَهْم فَوَضعه فِيهِ فنزفه حَتَّى رَمَاه بِثَلَاثَة أسْهم ثمَّ ركع وَسجد فَلَمَّا رَأَى رَفِيقه مَا بِهِ من الدِّمَاء قَالَ أَلا أنبهتني أول مَا رَمَى قَالَ كنت فِي سُورَة أقرؤها فَلم أحب أَن أقطعها

23 - حَدِيث القلس حدث الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق زيد بن عَلّي بن الْحُسَيْن بن عَلّي عَن أَبِيه عَن جده بِهَذَا مَرْفُوعا وَفِيه سوار بن مُصعب وَهُوَ مَتْرُوك
তিরমিজি ও হাকেম আবু দিরদা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বমি করলেন, অতঃপর অজু করলেন। এই হাদিসে এর সপক্ষে সাওবান (রা.)-এর সমর্থন রয়েছে। আসরাম বলেন, আহমদ বলেছেন যে, হুসাইন আল-মুয়াল্লিম একে উত্তম (জায়্যিদ) বলেছেন। সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখলেন যে আমার নাক থেকে রক্ত ঝরছে, তখন তিনি বললেন: "নতুন করে অজু কর।" এটি বাজ্জার ও দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি অভিযুক্ত। ইবনে উমর (রা.) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত যে, যখন তাঁর নাক দিয়ে রক্ত ঝরত, তখন তিনি ফিরে যেতেন এবং অজু করতেন, আর কোনো কথা বলতেন না। এরপর ফিরে আসতেন এবং সালাতের যতটুকু আদায় করেছিলেন তার ওপর ভিত্তি করে বাকিটুকু সম্পন্ন করতেন। এটি মালেক এবং তাঁর থেকে শাফেয়ী বর্ণনা করেছেন। শাফেয়ী ইবনে উমর (রা.) থেকে অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: যার নাক দিয়ে রক্তপাত হয় কিংবা মজি (যৌন উত্তেজনায় নির্গত তরল) নির্গত হয় অথবা বমি হয়, সে যেন ফিরে গিয়ে অজু করে এবং পুনরায় ফিরে এসে (সালাতের অবশিষ্টাংশ) পূর্ণ করে। আবদুর রাজ্জাকও তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন।

মুয়াত্তায় সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে, সালাত আদায়কালে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করলে তিনি উম্মে সালামাহ (রা.)-এর কক্ষে গিয়ে অজু করেন, এরপর ফিরে এসে সালাতের ইতিপূর্বে আদায়কৃত অংশের ওপর ভিত্তি করে বাকিটুকু সম্পন্ন করেন। আবদুর রাজ্জাক হারেস ও আসেমের সূত্রে পৃথক পৃথকভাবে আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: "তোমাদের কেউ যদি পেট গুড়গুড় করা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া অথবা বমি অনুভব করে, তবে সে যেন ফিরে গিয়ে অজু করে। যদি সে কথা বলে ফেলে তবে পুনরায় সালাত শুরু করবে, অন্যথায় আগেরটুকুর ওপর ভিত্তি করবে।" সালমান (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এর বিপরীতে আনাস (রা.)-এর একটি হাদিস রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিঙা লাগালেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন এবং নতুন করে অজু করলেন না; বরং শিঙা লাগানোর স্থান ধৌত করার চেয়ে বেশি কিছু করেননি। এটি দারা কুতনি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাওবান (রা.)-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বমি করলেন, অতঃপর আমাকে অজু করার পানি আনতে বললেন এবং অজু করলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বমি করলে কি অজু করা ফরজ? তিনি বললেন: "যদি তা ফরজ হতো তবে তুমি তা কুরআনেই পেতে।" এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। আবু দাউদ, ইবনে খুজায়মাহ, ইবনে হিব্বান ও দারা কুতনি জাবের (রা.)-এর হাদিসে সেই আনসারী সাহাবীর ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যিনি সালাত আদায় করছিলেন এবং একজন কাফের ব্যক্তি তাঁকে তীরবিদ্ধ করেছিল। তিনি সেই তীর খুলে ফেলেন, এভাবে রক্ত ঝরতে থাকা অবস্থায় তিনি তিনটি তীরের আঘাত সহ্য করেন। এরপর তিনি রুকু ও সিজদাহ করেন। যখন তাঁর সঙ্গী তাঁর রক্ত দেখে বললেন, "প্রথম তীরের সময়ই কেন আমাকে জাগালেন না?" তিনি বললেন, "আমি একটি সূরা পাঠ করছিলাম, তাই তা মাঝপথে বন্ধ করা পছন্দ করিনি।"

২৩ - মুখভর্তি বমি সংক্রান্ত হাদিস: দারা কুতনি জায়েদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এর সনদে সিওয়ার ইবনে মুসআব রয়েছে, যিনি পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
24 - حَدِيث لَيْسَ فِي القطرة من الدَّم وضوء إِلَّا أَن يكون سَائِلًا الدَّارَقُطْنِيّ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة ضَعِيف

25 - قَوْله رَوَى عَن عَلّي حِين عد الْأَحْدَاث قَالَ أَو دسعة تملأ الْفَم لم أَجِدهُ وَفِي الْبَاب عَن أبي هُرَيْرَة رَفعه يُعَاد الْوضُوء من سبع الْبَوْل وَالدَّم والسائل والقيء وَمن دسعة تملأ الْفَم ونوم المضطجع وقهقهة الرجل فِي الصَّلَاة وَخُرُوج الدَّم أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَإِسْنَاده واه جدا

26 - حَدِيث لَا وضوء عَلَى من نَام قَاعِدا أَو رَاكِعا أَو سَاجِدا إِنَّمَا الْوضُوء عَلَى من نَام مُضْطَجعا فَإِنَّهُ إِذا نَام مُضْطَجعا استرخت مفاصله الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق أبي خَالِد عَن قَتَادَة عَن أبي الْعَالِيَة عَن ابْن عَبَّاس رَفعه لَا يجب الْوضُوء عَلَى من نَام جَالِسا أَو قَائِما أَو سَاجِدا حَتَّى يضع جنبه فَإِنَّهُ إِذا اضْطجع استرخت مفاصله وأصل الحَدِيث رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَأحمد وَابْن أبي سيبة وَالطَّبَرَانِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ من حَدِيث ابْن عَبَّاس بِلَفْظ إِن الْوضُوء لَا يجب إِلَّا عَلَى من نَام مُضْطَجعا فَإِنَّهُ إِذا اضْطجع استرخت مفاصله قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ تفرد بِهِ أَبُو خَالِد الدالاني وَلَا يَصح وَقَالَ التِّرْمِذِيّ رَوَاهُ سعيد بن أبي عرُوبَة عَن قَتَادَة مَوْقُوفا وَلَيْسَ فِيهِ أَبُو الْعَالِيَة

وَنقل فِي الْعِلَل عَن البُخَارِيّ لَا يعرف لأبي خَالِد سَماع عَن قَتَادَة وَقَالَ أَبُو دَاوُد إِنَّمَا الْوضُوء عَلَى من نَام مُضْطَجعا لم يروه إِلَّا الدالاني وَقَالَ فِي مَوضِع آخر لم يسمعهُ قَتَادَة من أبي الْعَالِيَة وَفِي الْبَاب عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده رَفعه لَيْسَ عَلّي من نَام قَائِما أَو قَاعِدا وضوء حَتَّى يضع جنبه إِلَى الأَرْض أخرجه ابْن عدي بِإِسْنَاد واه جدا وَأخرج أَيْضا عَن حُذَيْفَة قَالَ كنت جَالِسا أخفق فاحتضني رجل من خَلْفي فَإِذا هُوَ
২৪ - হাদিস: এক ফোঁটা রক্তে অজু নেই, যদি না তা প্রবাহিত হয়। আদ-দারাকুতনি এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; হাদিসটি দুর্বল।

২৫ - তাঁর উক্তি: আলি যখন অজু ভঙ্গের কারণসমূহ গণনা করছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, "অথবা মুখভর্তি উথলে ওঠা বমি।" আমি এটি খুঁজে পাইনি। এ বিষয়ে আবু হুরায়রা থেকে একটি মারফু হাদিস রয়েছে: "সাতটি কারণে অজু পুনরায় করতে হয়: প্রস্রাব, রক্ত, প্রবাহমান বস্তু, বমি, মুখভর্তি উদগার, শুয়ে ঘুমানো, নামাজে উচ্চস্বরে হাসা এবং রক্ত বের হওয়া।" এটি আল-বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল।

২৬ - হাদিস: বসা, রুকু বা সিজদারত অবস্থায় ঘুমালে অজু নেই; অজু কেবল তার ওপর যে শুয়ে ঘুমায়, কারণ যখন সে শুয়ে ঘুমায় তখন তার জোড়াগুলো ঢিলে হয়ে যায়। আল-বায়হাকি আবু খালিদ-এর সূত্রে কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "বসা, দাঁড়ানো বা সিজদারত অবস্থায় ঘুমালে অজু ওয়াজিব হয় না যতক্ষণ না সে তার পার্শ্বদেশ নিচে রাখে; কারণ সে যখন শুয়ে পড়ে, তার জোড়াগুলো ঢিলে হয়ে যায়।" হাদিসটির মূল বর্ণনা আবু দাউদ, তিরমিজি, আহমাদ, ইবনে আবি শায়বাহ, তাবারানি এবং আদ-দারাকুতনি ইবনে আব্বাস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই অজু কেবল তার ওপর ওয়াজিব হয় যে শুয়ে ঘুমায়; কেননা সে যখন শুয়ে পড়ে, তার জোড়াগুলো ঢিলে হয়ে যায়।" আদ-দারাকুতনি বলেছেন, আবু খালিদ আদ-দালানি এটি একাই বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহিহ নয়। তিরমিজি বলেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ এটি কাতাদাহ থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আবুল আলিয়াহ নেই।

আর 'আল-ইলাল'-এ ইমাম বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু খালিদ-এর কাতাদাহ থেকে হাদিস শোনার বিষয়টি পরিচিত নয়। আবু দাউদ বলেছেন, "শুয়ে ঘুমানো ব্যক্তির ওপরই কেবল অজু" - এই অংশটি কেবল আদ-দালানি বর্ণনা করেছেন। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন যে, কাতাদাহ আবুল আলিয়াহ থেকে এটি শোনেননি। এ প্রসঙ্গে আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় ঘুমালে কোনো ব্যক্তির ওপর অজু নেই যতক্ষণ না সে জমিনে তার পার্শ্বদেশ রাখে।" ইবনে আদি এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি হুজায়ফাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি বসা অবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম, তখন পেছন থেকে এক ব্যক্তি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, দেখা গেল তিনি..."
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقلت يَا رَسُول الله هَل وَجب عَلّي وضوء قَالَ لَا تضع جَنْبك إِلَى الأَرْض

وَفِي الْبَاب فِيمَا يتَعَلَّق بِنَقْض الْوضُوء بِالنَّوْمِ وَعدم ذَلِك حَدِيث عَلَى رَفعه وكاءالسه العينان فَمن نَام فَليَتَوَضَّأ أخرجه أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة وَأعله أَبُو زرْعَة الرَّازِيّ وَأَبُو حَاتِم بالانقطاع بَين عَلّي والتابعي وَعَن مُعَاوِيَة رفْعَة مثله وَزَاد فَإِذا نَامَتْ الْعين اسْتطْلقَ الوكاء أخرجه الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَإِسْنَاده ضَعِيف وَأخرجه ابْن عدي من وَجه آخر عَن مُعَاوِيَة مَوْقُوفا وَعَن أبي هُرَيْرَة رَفعه وَجب الْوضُوء عَلَى كل نَائِم إِلَّا من خَفق بِرَأْسِهِ خفقة أَو خفقتين أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ فِي الْعِلَل وَضَعفه وَعَن أنس قَالَ كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ينامون ثمَّ يصلونَ وَلَا يَتَوَضَّئُونَ أخرجه مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَفِي رِوَايَة ينتظرون الْعشَاء حَتَّى تخفق رُءُوسهم وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَفِي رِوَايَة قَالَ ابْن الْمُبَارك يَعْنِي وهم جالسون لَكِن رَوَاهُ الْبَزَّار وقاسم بن أصبغ بِلَفْظ ينتظرون الصَّلَاة فيضعون جنُوبهم فَمنهمْ من ينَام ثمَّ يَقُول إِلَى الصَّلَاة

وَفِي الصَّحِيح عَن ابْن عَبَّاس فِي صلَاته مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ بِاللَّيْلِ قَالَ فَجعلت إِذا أغفيت أَخذ بشحمة أُذُنِي الحَدِيث

27 - حَدِيث أَلا من ضحك مِنْكُم قهقهة فليعد الصَّلَاة الْوضُوء جَمِيعًا ابْن عدي من حَدِيث ابْن عمر رَفعه من ضحك فِي الصَّلَاة قهقهة فليعد الْوضُوء وَالصَّلَاة وَإِسْنَاده ضَعِيف وَهُوَ من رِوَايَة بَقِيَّة وَقد اضْطربَ فِيهِ كَمَا سَيَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَعَن جَابر قَالَ لنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من ضحك مِنْكُم فِي الصَّلَاة فَليَتَوَضَّأ ثمَّ ليعد الصَّلَاة أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق يزِيد بن سِنَان عَن الْأَعْمَش عَن أبي سُفْيَان عَنهُ وَقَالَ وهم فِي رَفعه فقد رَوَاهُ الثَّوْريّ ووكيع وَأَبُو مُعَاوِيَة وَغَيرهم من الْأَثْبَات عَن الْأَعْمَش مَوْقُوفا ثمَّ أخرجهَا وَزَاد فِي رِوَايَة إِنَّمَا قَالَ لَهُم ذَلِك حِين ضحكوا خلف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ انْتَهَى وَهَذَا يشْعر بِأَن الحَدِيث أصلا إِلَّا أَن جَابِرا أدعى الخصوصية وَقد رَوَى فِيهِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ওপর কি অজু ওয়াজিব হয়েছে? তিনি বললেন, "না, যতক্ষণ না তুমি তোমার পার্শ্বদেশ জমিনে রাখো।"

এই অনুচ্ছেদে ঘুম দ্বারা অজু ভঙ্গ হওয়া বা না হওয়া সংক্রান্ত আলী (রা.) থেকে একটি মারফু হাদিস রয়েছে: "চক্ষুদ্বয় হলো মলদ্বারের বন্ধনী, সুতরাং যে ব্যক্তি ঘুমাল সে যেন অজু করে।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআ আর-রাজি এবং আবু হাতেম এটি আলী (রা.) ও তাবেয়ির মাঝে বিচ্ছিন্নতার কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। মুয়াবিয়া (রা.) থেকেও অনুরূপ মারফু হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে বর্ধিত অংশ রয়েছে: "যখন চক্ষুদ্বয় ঘুমিয়ে পড়ে, তখন বন্ধনী ঢিলে হয়ে যায়।" এটি তাবারানি ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল। ইবনে আদি এটি মুয়াবিয়া (রা.) থেকে অন্য সূত্রে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: "প্রত্যেক ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর অজু ওয়াজিব, তবে যার মাথা একবার বা দুবার ঝুলে পড়েছে তার ওপর নয়।" এটি দারাকুতনি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ ঘুমাতেন, তারপর তারা সালাত আদায় করতেন কিন্তু অজু করতেন না।" এটি মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এক বর্ণনায় রয়েছে: "তারা এশার সালাতের জন্য অপেক্ষা করতেন এমনকি তাদের মাথা ঝুলে পড়ত।" এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মুবারক বলেন, অর্থাৎ তারা বসা অবস্থায় থাকতেন। কিন্তু বাজ্জার ও কাসিম বিন আসবাগ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তারা সালাতের অপেক্ষা করতেন এবং তাদের পার্শ্বদেশ জমিনে রাখতেন, এরপর তাদের কেউ ঘুমাতেন এবং পরে সালাতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন।"

সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তার রাতের সালাত সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমি যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হতাম, তিনি আমার কানের লতি ধরতেন।" (পুরো হাদিস)।

২৭ - হাদিস: "সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে উচ্চস্বরে অট্টহাসি দেয়, সে যেন সালাত ও অজু উভয়টি পুনরায় করে।" ইবনে আদি এটি ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে অট্টহাসি দেয়, সে যেন অজু ও সালাত পুনরায় করে।" এর সনদ দুর্বল এবং এটি বাকিয়্যাহ এর বর্ণনা। এতে অসংলগ্নতা রয়েছে যা সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে সালাতের মধ্যে হাসবে সে যেন অজু করে এবং পুনরায় সালাত আদায় করে।" দারাকুতনি এটি ইয়াজিদ বিন সিনান-আমাশ-আবু সুফিয়ান সূত্রে জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করাটা ভুল, কারণ সওরি, ওয়াকি, আবু মুয়াবিয়া এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আমাশ থেকে এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এটি বর্ণনা করে অন্য রেওয়ায়েতে অতিরিক্ত অংশ এনেছেন যে, "তিনি তাদের এই কথাটি তখনই বলেছিলেন যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে হেসেছিল।" সমাপ্ত। এটি এ কথারই ইঙ্গিত দেয় যে হাদিসটির একটি ভিত্তি রয়েছে, তবে জাবির (রা.) একে ওই ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট মনে করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ বিষয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
مُرْسلا وَقيل عَنهُ وَأشهر شَيْء فِي الْبَاب حَدِيث أبي الْعَالِيَة وَلَا يَصح ذَلِك لِأَنَّهُ من رِوَايَة الْمسيب بن شريك عَن الْأَعْمَش وَالْمُسَيب مَتْرُوك وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق يزِيد ابْن أبي خَالِد عَن أبي سُفْيَان عَن جَابر رَفعه الضحك ينْقض الصَّلَاة وَلَا ينْقض الْوضُوء وَإِسْنَاده ضَعِيف وَالصَّحِيح عَن جَابر من قَوْله وَرَوَى الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير من طَرِيق ثَابت ابْن مُحَمَّد الزَّاهِد عَن الثَّوْريّ عَن أبي الزبير عَن جَابر رَفعه لَا يقطع الصَّلَاة الكشر وَلَكِن يقطعهَا القهقهة قَالَ لم يرفعهُ عَن سُفْيَان إِلَّا ثَابت وَرَوَاهُ عبد الرَّزَّاق عَن الثَّوْريّ مَوْقُوفا وَأخرجه ابْن عدي وَقَالَ لَعَلَّه كَانَ عِنْد الثَّوْريّ عَن الْعَزْرَمِي عَن أبي الزبير فَشبه عَلَى ثَابت وَأخرجه ابْن حبَان فِي الضُّعَفَاء من طَرِيق ابْن أبي لَيْلَى عَن أبي الزبير عَن جَابر رَفعه إِذا ضحك الرجل فِي صلَاته فَعَلَيهِ الْوضُوء وَالصَّلَاة وَإِذا تَبَسم فَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَابْن أبي لَيْلَى ضَعِيف وَله شَاهد أخرجه أَبُو يعْلى وَالطَّبَرَانِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق الْوَازِع بن نَافِع عَن أبي سَلمَة عَن جَابر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ يُصَلِّي باصحابه الْعَصْر فَتَبَسَّمَ فِي الصَّلَاة الحَدِيث والوازع ضَعِيف

وَأشهر شَيْء فِي الْبَاب حَدِيث أبي الْعَالِيَة وَقد رَوَى عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ مُرْسلا وَقيل عَنهُ وَعَن أبي مُوسَى قَالَ بَيْنَمَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يُصَلِّي بِالنَّاسِ إِذْ دخل رجل فتردى فِي حُفْرَة كَانَت فِي الْمَسْجِد وَكَانَ فِي بَصَره ضَرَر فَضَحِك كثير من الْقَوْم وهم فِي الصَّلَاة فَأمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من ضحك أَن يُعِيد الوضو وَيُعِيد الصَّلَاة أخرجه الطَّبَرَانِيّ من طَرِيق مهْدي بن مَيْمُون عَن هِشَام بن حسان عَن حَفْصَة بنت سِيرِين عَن أبي الْعَالِيَة بِهَذَا وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق خَالِد بن عبد الله عَن هِشَام بن حسان بِهِ لَكِن قَالَ فِيهِ عَن
মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর থেকে অন্য বর্ণনাও রয়েছে। এই বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো আবুল আলিয়াহর হাদিস, তবে তা সহিহ নয়। কারণ এটি আমাশ থেকে মুসাইয়িব ইবনে শারিকের বর্ণনা এবং মুসাইয়িব হলো মাতরুক (পরিত্যাজ্য)। দারা কুতনি ইয়াজিদ ইবনে আবি খালিদ সূত্রে আবু সুফিয়ান থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: "হাসি নামাজ ভঙ্গ করে, কিন্তু ওজু ভঙ্গ করে না।" এর সনদ দুর্বল। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত মাওকুফ বর্ণনাটিই সহিহ। তাবারানি তাঁর 'আল-মুজামুস সাগির'-এ সাবিত ইবনে মুহাম্মদ আল-জাহিদ সূত্রে সাওরি থেকে এবং তিনি আবু যুবায়ের থেকে ও তিনি জাবির (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "মুচকি হাসি (কাশার) নামাজ নষ্ট করে না, তবে অট্টহাসি (কাহকাহাহ) নামাজ নষ্ট করে।" তিনি বলেছেন, সুফিয়ান থেকে সাবিত ছাড়া অন্য কেউ একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। আব্দুর রাজ্জাক সাওরি থেকে একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: সম্ভবত সাওরি এটি আজরামি সূত্রে আবু যুবায়ের থেকে পেয়েছিলেন, যা সাবিতের কাছে সংশয় তৈরি করেছে। ইবনে হিব্বান 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে ইবনে আবি লায়লা সূত্রে আবু যুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি নামাজে হাসে, তবে তাকে ওজু ও নামাজ পুনরায় করতে হবে; আর যদি মুচকি হাসে তবে তার ওপর কিছু বর্তাবে না।" ইবনে আবি লায়লা একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। এর একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) আবু ইয়ালা, তাবারানি ও দারা কুতনি ওয়াজি ইবনে নাফি সূত্রে আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের নিয়ে আসরের নামাজ পড়ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি নামাজে মুচকি হাসলেন... (পুরো হাদিসটি)। তবে ওয়াজি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী।

এই বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো আবুল আলিয়াহর হাদিস। এটি তাঁর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর (আবুল আলিয়াহ) সূত্রে এবং আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন লোকদের নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এবং মসজিদে থাকা একটি গর্তে পড়ে গেল। সেই ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা ছিল। এতে জামাতে থাকা অনেক লোক নামাজরত অবস্থায় হেসে ফেলল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যারা হেসেছিল তাদের ওজু ও নামাজ পুনরায় করার আদেশ দিলেন। তাবারানি এটি মাহদি ইবনে মাইমুন সূত্রে হিশাম ইবনে হাসান থেকে, তিনি হাফসা বিনতে সিরিন থেকে এবং তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনি এটি খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ সূত্রে হিশাম ইবনে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাতে বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া (পৃষ্ঠা: ৩৬)
رجل من الْأَنْصَار بدل أبي مُوسَى وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ خَالفه خَمْسَة حفاظ أثبات عَن هِشَام لم يذكرُوا فِيهِ أَبَا مُوسَى وَلَا غَيره ثمَّ أخرجه من طَرِيق أَيُّوب وخَالِد الْحذاء ومطر الْوراق كلهم عَن حَفْصَة عَن أبي الْعَالِيَة مُرْسلا

وَقَالَ عبد الرَّزَّاق أخبرنَا معمر عَن قَتَادَة عَن أبي الْعَالِيَة أَن أَعْمَى تردى فِي بِئْر وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم َ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ فَضَحِك بَعضهم فَأمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ من كَانَ ضحك مِنْهُم أَن يُعِيد الْوضُوء وَيُعِيد الصَّلَاة وَهَكَذَا أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق أبي عوَانَة بن سعيد ابْن أبي عرُوبَة وَسَعِيد بن بشير عَن قَتَادَة وَأغْرب دَاوُد بن المجسر فَرَوَاهُ عَن أَيُّوب ابْن خوط عَن قَتَادَة عَن أنس أخرجه الدَّارقطني وَقَالَ دَاوُد وَأَيوب ضعيفان ثمَّ أخرجه من طَرِيق عبد الرَّحْمَن بن عمر بن جبلة عَن سَلام بن أبي مُطِيع عَن قَتَادَة كَذَلِك وَعبد الرَّحْمَن واه قَالَ وَالصَّحِيح عَن قَتَادَة عَن أبي الْعَالِيَة

وَفِي الْبَاب عَن أبي هُرَيْرَة أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَابْن عدي من طَرِيق عبد الْعَزِيز بن الْحصين عَن الْحسن عَنهُ رَفعه إِذا قهقه أعَاد الْوضُوء وَالصَّلَاة وَعبد الْعَزِيز مَتْرُوك والراوي عَنهُ أَضْعَف مِنْهُ وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من طَرِيق سُلَيْمَان بن أَرقم عَن الْحسن عَن أنس وَضعف رِوَايَة وَقَالَ رَوَاهُ الْحفاظ من هَذَا الْوَجْه لَيْسَ فِيهِ أنس وَأخرجه أَيْضا من طَرِيق مُحَمَّد بن إِسْحَاق حَدثنِي الْحسن بن دِينَار عَن الْحسن عَن أبي الْمليح بن أُسَامَة عَن أَبِيه قَالَ بَينا نَحن نصلي خلف النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ الحَدِيث قَالَ ابْن إِسْحَاق وحَدثني الْحسن ابْن عمَارَة عَن خَالِد الْحذاء عَن أبي الْمليح عَن أبي مثله قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ الْحسن بن دِينَار وَالْحسن بن عمَارَة ضعيفان وَإِنَّمَا الْمَحْفُوظ عَن الْحسن مُرْسل وَإِنَّمَا رَوَاهُ خَالِد الْحذاء عَن حَفْصَة عَن ابي الْعَالِيَة قَالَ وَقَالَ إِسْحَاق مرّة عَن الْحسن بن دِينَار عَن قَتَادَة عَن أبي الْمليح عَن أَبِيه وَقَتَادَة إِنَّمَا رَوَاهُ عَن أبي الْعَالِيَة كَمَا تقدم ومرسل الْحسن أخرجه الشَّافِعِي من طَرِيق معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن سُلَيْمَان بن أَرقم عَن الْحسن عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ

وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة يُونُس عَن الزُّهْرِيّ كَذَلِك وَسليمَان مَتْرُوك وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ أَيْضا من طَرِيق عَمْرو بن عبيد عَن الْحسن عَن عمرَان بن حُصَيْن بِلَفْظ من ضحك فِي الصَّلَاة قرقرة فليعد الْوضُوء وَالصَّلَاة وَعَمْرو مَتْرُوك وَقد أخرجه ابْن عدي من طَرِيق بَقِيَّة عَن مُحَمَّد الْخُزَاعِيّ عَن الْحسن كَذَلِك قَالَ وَمُحَمّد مَجْهُول قَالَ ويروي عَن مُحَمَّد بن رَاشد عَن الْحسن وَهُوَ مَجْهُول أَيْضا وَأخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من رِوَايَة أبي حنيفَة عَن مَنْصُور بن زَاذَان
আবু মুসার পরিবর্তে আনসারদের এক ব্যক্তি। আদ-দারাকুতনি বলেন, হিশাম থেকে বর্ণনাকারী পাঁচজন নির্ভরযোগ্য হাফিজ তার বিরোধিতা করেছেন, তারা সেখানে আবু মুসা বা অন্য কারো কথা উল্লেখ করেননি। এরপর তিনি এটি আইয়ুব, খালিদ আল-হাজ্জা এবং মাতার আল-ওয়াররাক-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাদের সবাই হাফসা থেকে এবং তিনি আবুল আলিয়া থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মা’মার কাতাদা থেকে এবং তিনি আবুল আলিয়া থেকে আমাদের জানিয়েছেন যে, এক অন্ধ ব্যক্তি কূপে পড়ে গিয়েছিল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ হেসে ফেললেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মধ্যে যারা হেসেছিলেন, তাদের ওজু এবং সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিলেন। একইভাবে আদ-দারাকুতনি এটি আবু আওয়ানা, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা এবং সাঈদ ইবনে বশিরের সূত্রে কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। দাউদ ইবনে আল-মুজাসসার একটি বিরল বর্ণনা করেছেন যেখানে তিনি আইয়ুব ইবনে খুত থেকে, তিনি কাতাদা থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি এটি বর্ণনা করে বলেছেন: দাউদ এবং আইয়ুব উভয়েই দুর্বল। এরপর তিনি এটি আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে জাবালা থেকে, তিনি সালাম ইবনে আবি মুতি’ থেকে এবং তিনি কাতাদা থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রহমান অত্যন্ত দুর্বল। তিনি বলেন: কাতাদা থেকে আবুল আলিয়ার বর্ণনাটিই সঠিক।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে। এটি আদ-দারাকুতনি এবং ইবনে আদি আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যদি কেউ অট্টহাসি দেয়, তবে সে যেন ওজু এবং সালাত পুনরায় আদায় করে।" আব্দুল আজিজ মাতরুক (পরিত্যাজ্য) এবং তার থেকে বর্ণনাকারী তার চেয়েও দুর্বল। আদ-দারাকুতনি এটি সুলাইমান ইবনে আরকাম থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এই বর্ণনাটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি বলেন: হাফিজগণ এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যাতে আনাস (রা.)-এর উল্লেখ নেই। তিনি এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সূত্র থেকেও বর্ণনা করেছেন: হাসান ইবনে দিনার আমাকে হাসান থেকে, তিনি আবুল মালিহ ইবনে উসামা থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে সালাত আদায় করছিলাম... (হাদিসটি উল্লেখ করেছেন)। ইবনে ইসহাক বলেন, হাসান ইবনে উমারা আমাকে খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি বলেন: হাসান ইবনে দিনার এবং হাসান ইবনে উমারা উভয়েই দুর্বল। হাসান থেকে মূলত যা সংরক্ষিত তা হলো মুরসাল বর্ণনা। আর খালিদ আল-হাজ্জা এটি হাফসা থেকে এবং তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইসহাক একবার হাসান ইবনে দিনার থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ কাতাদা এটি আবুল আলিয়া থেকেই বর্ণনা করেছেন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। হাসানের মুরসাল বর্ণনাটি ইমাম শাফিঈ মা’মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে আরকাম থেকে এবং তিনি হাসান থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আদ-দারাকুতনি এটি ইউনুসের সূত্রে জুহরি থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সুলাইমান মাতরুক। আদ-দারাকুতনি এটি আমর ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে অট্টহাসি দেয়, সে যেন ওজু ও সালাত পুনরায় আদায় করে।" আমর মাতরুক। ইবনে আদি এটি বাকিয়্যা-এর সূত্র থেকে মুহাম্মদ আল-খুজাই থেকে এবং তিনি হাসান থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ মাজহুল (অজ্ঞাত)। তিনি আরও বলেন, এটি মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ থেকে হাসান সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনিও মাজহুল। আদ-দারাকুতনি এটি আবু হানিফার বর্ণনা থেকে মানসুর ইবনে জাযান সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।