(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: -)
التحقيق في أحاديث الخلاف   (ابن الجوزي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: التحقيق في أحاديث الخلاف

المؤلف: أبو الفرج ابن محمد الجوزي (ت 597 هـ)

حققه وخرج أحاديثه: مسعد عبد الحميد محمد السعدني

علق على المسائل الفقهية واللغوية وألفاظ الأحاديث: محمد فارس

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মতপার্থক্যমূলক হাদিসসমূহের সূক্ষ্ম পর্যালোচনা   (ইবনুল জাওজি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: মতপার্থক্যমূলক হাদিসসমূহের সূক্ষ্ম পর্যালোচনা

লেখক: আবু আল-ফারাজ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)

সম্পাদনা ও হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন: মুসআদ আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ আস-সাদানি

ফিকহি ও ভাষাগত বিষয়াবলী এবং হাদিসের শব্দাবলির ওপর টীকা দিয়েছেন: মুহাম্মদ ফারিস

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الْكتاب: التَّحْقِيق فِي أَحَادِيث الْخلاف]ـ

الْمُؤلف: جمال الدَّين أَبُو الْفرج عَبْد الرَّحْمَنِ بْن عَلِيِّ بْن مُحَمَّد الْجَوْزِيّ (الْمُتَوفَّى: 597هـ)

الْمُحَقق: مسعد عبد الحميد مُحَمَّد السعدني

الناشر: دَار الْكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1415

عدد الْأَجْزَاء: 2

[ترقيم الْكتاب مُوَافق للمطبوع، وَيُمكن الِانْتِقَال للجزء والصفحة ورقم الحَدِيث]
—[গ্রন্থ: আত-তাহকিক ফি আহাদিসিল খিলাফ]—

লেখক: জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাওজি (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরি)

সম্পাদক: মুসআদ আব্দুল হামিদ মুহাম্মাদ আস-সাদানি

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরে সরাসরি যাওয়ার সুবিধা রয়েছে]
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة الْحَافِظ المتقن الْمُحَقق أَبُو الْفرج بن الْجَوْزِيّ رضي الله عنه وأرضاه وَجعل الْجنَّة منقلبه ومثواه

أَحْمَدُ اللَّهَ عَلَى الْإِنْعَامِ الْمُتَرَادِفِ وَأَشْكُرُهُ عَلَى الْإِكْرَامِ الْمُتَكَاثِفِ حَمْدًا يقوم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শেখ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, অত্যন্ত নিপুণ ও গবেষক পণ্ডিত আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও আবাসস্থল করুন) বলেন:

আমি আল্লাহর ক্রমাগত অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর অজস্র দাক্ষিণ্যের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি; এমন এক প্রশংসা যা যথাযথভাবে আদায় করে
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২২)
بشكر التالد والطارف وَشُكْرًا يَصْدُرُ مِنْ مُقِرٍّ بِالْفَضْلِ عَارِفٍ وَكَيْفَ لَا وَبَحْرُ فهمي يهمي وَكم فهم وَاقِف وبصر بصيرتي فِي الْعُلُوم يَنْفِي فِي نَقده الزائف وأصلي على أشرف رَاكب وملب وطائف مُحَمَّد الَّذِي شرع أحسن الشَّرَائِع ووظف أزين الْوَظَائِف وعَلى كل من صَحبه وَتَبعهُ خالفا لسالف

وَبعد فَهَذَا كتاب نذْكر فِيهِ مَذْهَبنَا فِي مسَائِل الْخلاف وَمذهب الخالف ونكشف عَنْ دَلِيلِ الْمَذْهَبَيْنِ مِنَ النَّقْل كشف مناصف لانميل لنا ولَا عَلَيْنَا فِيمَا نَقُولُ وَلَا نُجَازِفُ وسيحمدنا المطلع عَلَيْهِ إِنَّه كَانَ مُنْصِفًا وَالْوَاقِفُ وَيَعْلَمُ أَنَّا أَوْلَى بِالصَّحِيحِ مِنْ جَمِيعِ الطَّوَائِفِ والله الْمُوفق لأَرْشَد الطّرق وأهْدى الْمَعَارِفِ

-‌‌ فَصْلٌ

كَانَ السَّبَبُ فِي إِثَارَةِ الْعَزْمِ لِتَصْنِيفِ هَذَا الْكِتَابِ أَن جمَاعَة من إخْوَانِي ومشايخي فِي الْفِقْهِ كَانُوا يَسْأَلُونِي فِي زَمَنِ الصِّبَا جَمْعَ أَحَادِيثِ التَّعْلِيقِ وَبَيَان مَا صَحَّ مِنْهَا ومَا طعن فِيهِ وكنت أَتَوَانَى عَنْ هَذَا لِشَيْئَيْنِ أَحَدُهُمَا اشْتِغَالِي بِالطَّلَبِ وَالثَّانِي ظَنِّي أَنَّ مَا فِي التَّعَالِيقِ فِي ذَلِكَ يَكْفِي فَلَمَّا نَظَرْتُ فِي التَّعَالِيقِ رَأَيْتُ بِضَاعَةَ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ فِي الْحَدِيثِ
পুরনো ও নতুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং এমন এক কৃতজ্ঞতা যা অনুগ্রহ স্বীকারকারী অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পায়। আর কেনই বা হবে না, যেখানে আমার উপলব্ধির সমুদ্র বয়ে চলে অথচ কত মানুষের উপলব্ধিই না স্থবির হয়ে আছে, এবং ইলমসমূহের ক্ষেত্রে আমার অন্তর্দৃষ্টির পর্যবেক্ষণ তার সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ে ভুলসমূহকে অপসারিত করে। আমি দরুদ পাঠ করি সর্বোত্তম আরোহী, তালবিয়া পাঠকারী ও তওয়াফকারীর ওপর—অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যিনি সর্বোত্তম শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন এবং অতি সুন্দর আমলসমূহ নির্ধারণ করেছেন, এবং তাঁর সকল সাহাবী ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর যারা পূর্ববর্তীদের যোগ্য উত্তরসূরী।

অতঃপর, এটি এমন এক কিতাব যাতে আমরা মতভেদপূর্ণ মাসয়ালাগুলোতে আমাদের মাযহাব এবং বিরোধী পক্ষের মাযহাব উল্লেখ করব। আমরা উভয় মাযহাবের দলীলসমূহ শ্রুতিজাত বর্ণনা থেকে এমনভাবে উন্মোচিত করব যা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আমরা যা বলব তাতে নিজেদের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো পক্ষপাতিত্ব করব না এবং কোনো অতিরঞ্জন করব না। যে পাঠক এটি পর্যালোচনা করবেন, তিনি যদি ন্যায়নিষ্ঠ হন তবে তিনি আমাদের প্রশংসা করবেন এবং জানতে পারবেন যে, সকল দলের মধ্যে আমরাই সঠিক মতের অধিকতর নিকটবর্তী। আল্লাহই সঠিকতম পথের তাওফীকদাতা এবং হিদায়াতপূর্ণ জ্ঞানের পথপ্রদর্শক।

-‌‌পরিচ্ছেদ

এই কিতাব রচনার সংকল্প জাগ্রত হওয়ার কারণ এই ছিল যে, ফিকহ শাস্ত্রের একদল ভাই ও আমার উস্তাদগণ আমার শৈশবকালেই আমাকে 'তালীক' (ব্যাখ্যামূলক টীকা) সমূহের হাদিসগুলো সংকলন করতে এবং সেগুলোর মধ্যে কোনটি সহীহ আর কোনটির ব্যাপারে আপত্তি আছে তা বর্ণনা করতে অনুরোধ করতেন। আমি দুটি কারণে এ বিষয়ে বিলম্ব করতাম—এক হলো ইলম অর্জনে আমার ব্যস্ততা, আর দ্বিতীয়ত আমার ধারণা ছিল যে 'তালীক' সমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই যথেষ্ট। কিন্তু আমি যখন সেই 'তালীক' গুলোর দিকে তাকালাম, তখন দেখলাম হাদিসশাস্ত্রে অধিকাংশ ফকিহদের পুঁজি...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
مُزْجَاةً يُعَوِّلُ أَكْثَرُهُمْ عَلَى أَحَادِيثَ لَا تَصِحُّ وَيُعْرِضُ عَنِ الصِّحَاحِ وَيُقَلِّدُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فِيمَا يَنْقُلُ ثُمَّ قَدِ انْقَسَمَ الْمُتَأَخِّرُونَ ثَلَاثَةَ أَقْسَامٍ

الْقِسْمُ الْأَوَّلُ قَوْمٌ غَلَبَ عَلَيْهِم الكسل وَرَأَوا أَن فِي الْبَحْث تعبا وكلفة فتَعَجَّلُوا الرَّاحَةَ وَاقْتَنَعُوا بِمَا سَطَرَهُ غَيْرُهُمُ

وَالْقِسْمُ الثَّانِي قَوْمٌ لَمْ يَهْتَدُوا إِلَى أَمْكِنَةِ الْحَدِيثِ وَعَلِمُوا أَنَّهُ لَا بُدَّ مِنْ سُؤَالِ مَنْ يَعْلَمُ هَذَا فَاسْتَنْكَفُوا عَنْ ذَلِكَ

وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ قَوْمٌ مَقْصُودُهُمُ التَّوَسُّعُ فِي الْكَلَامِ طَلَبًا لِلتَّقَدُّمِ وَالرِّئَاسَةِ وَاشْتِغَالِهِمُ بِالْجَدَلِ وَالْقِيَاسِ وَلَا الْتِفَاتٌ لَهُمْ إِلَى الْحَدِيثِ لَا إِلَى تَصْحِيحِهِ وَلَا إِلَى الطَّعْنِ فِيهِ وَلَيْسَ هَذَا شَأْنُ مَنِ اسْتَظْهَرَ لِدِينِهِ وَطَلَبَ الْوَثِيقَةَ مِنْ أَمْرِهِ

وَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ الْأَكَابِرِ من الْفُقَهَاء وَيَقُول فِي تَصْنِيفِهِ عَنْ أَلْفَاظٍ قَدْ أُخْرِجَتْ فِي الصِّحَاحِ لَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ هَذِهِ الْأَلْفَاظَ وَيَرُدُّ الْحَدِيثَ الصَّحِيحَ وَيَقُولُ هَذَا لَا يعرف وإِنَّمَا هُوَ لَا يَعْرِفُهُ ثُمَّ رَأَيْتُهُ قَدِ اسْتَدَلَّ بِحَدِيثٍ زَعَمَ أَنَّ الْبُخَارِيَّ أَخْرَجَهُ وَلَيْسَ كَذَلِكَ ثُمَّ نَقَلَهُ عَنْهُ مُصَنِّفٌ آخَرُ كَمَا قَالَ تَقْلِيدًا لَهُ ثُمَّ اسْتَدَلَّ فِي مَسْأَلَةٍ فَقَالَ دَلِيلُنَا مَا رَوَى بَعْضُهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَذَا ورَأَيْت جُمْهُورَ مَشَايِخِنَا يَقُولُونَ فِي تَصَانِيفِهِمْ دَلِيلُنَا مَا رَوَى أَبُو بَكْرٍ الْخَلَّالُ بِإِسْنَادِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ودَلِيلُنَا مَا رَوَى أَبُو بَكْرٍ عبد الْعَزِيز بِإِسْنَادِهِ ودليلنا مَا رَوَى ابْنُ بَطَّةَ بِإِسْنَادِهِ وجُمْهُور تِلْكَ الْأَحَادِيثِ فِي الصِّحَاحِ وَفِي الْمُسْنَدِ وَفِي السّنَن غير أَنَّ السَّبَبَ فِي اقْتِنَاعِهِمْ بِهَذَا التَّكَاسُلِ عَن الْبَحْث

والْعجب مِمَّنْ لَيْسَ لَهُ شُغُلٌ سِوَى مَسَائِلِ الْخِلَافِ ثُمَّ قَدِ اقْتَصَرَ مِنْهَا فِي الْمُنَاظَرَةِ عَلَى خَمْسِينَ مَسْأَلَةً وَجُمْهُورُ هَذِهِ الْخَمْسِينَ لَا يَسْتَدِلُّ فِيهَا بِحَدِيثٍ فَمَا قَدْرُ الْبَاقِي حَتَّى يَتَكَاسَلَ عَنِ الْمُبَالَغَةِ فِي مَعْرِفَتِهِ

-‌‌ فَصْلٌ وَأَلْوَمُ عِنْدِي مِمَّنْ قَدْ لُمْتُهُ مِنَ الْفُقَهَاءِ جَمَاعَةٌ مِنْ كِبَارِ الْمُحَدِّثِينَ عَرَفُوا صَحِيحَ النَّقْلِ وَسَقِيمَهُ وَصَنَّفُوا فِي ذَلِكَ فَإِذَا جَاءَ حَدِيثٌ ضَعِيفٌ يُخَالِفُ مَذْهَبَهُمْ بَيَّنُوا وَجْهَ الطَّعْنِ فِيهِ وَإِنْ كَانَ مُوَافِقًا لِمَذْهَبِهِمْ سَكَتُوا عَنِ الطَّعْنِ فِيهِ وَهَذَا ينبيء عَنْ قِلَّةِ دِينٍ وَغَلَبَةِ هَوًى أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يُوسُفَ قَالَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ بِشْرَانَ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ الدَّارَقُطْنِيِّ قَالَ حَدثنَا أَحْمد ابْن مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّكُونِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ
তুচ্ছ পুঁজি; তাদের অধিকাংশ এমন সব হাদিসের ওপর নির্ভর করে যা সহিহ নয় এবং সহিহ হাদিসগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা যা বর্ণনা করে তাতে একে অপরকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে। এরপর পরবর্তী যুগের আলিমগণ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন।

প্রথম শ্রেণি: এমন এক দল যাদের ওপর অলসতা জয়ী হয়েছে। তারা মনে করেছে যে অনুসন্ধানের কাজে ক্লান্তি ও কষ্ট রয়েছে, তাই তারা আরাম-আয়েশের অন্বেষায় ত্বরান্বিত হয়েছে এবং অন্যেরা যা লিখেছে তাতেই তুষ্ট থেকেছে।

দ্বিতীয় শ্রেণি: এমন এক দল যারা হাদিসের উৎসস্থলগুলো সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পায়নি। তারা জানত যে যারা এ বিষয়ে জ্ঞানী তাদের জিজ্ঞাসা করা অপরিহার্য, কিন্তু তারা তা করতে লজ্জাবোধ বা অহংকার করেছে।

তৃতীয় শ্রেণি: এমন এক দল যাদের উদ্দেশ্য হলো শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের প্রত্যাশায় বাগ্মিতা প্রদর্শন করা এবং বিতর্ক ও কিয়াসের কাজে মগ্ন থাকা। হাদিসের প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই—না এর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে, না এর ত্রুটি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে। অথচ এটি এমন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য নয় যে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং স্বীয় বিষয়ের নির্ভরযোগ্যতা অনুসন্ধান করে।

আমি বড় বড় ফকিহদের কয়েকজনকে দেখেছি, যারা তাদের কিতাবে এমন সব শব্দের ব্যাপারে—যা সহিহ গ্রন্থগুলোতে সংকলিত হয়েছে—বলেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে এ ধরনের শব্দ বলা জায়েজ নয়’। এভাবে তারা সহিহ হাদিস প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে, ‘এটি অপরিচিত’। অথচ এটি আসলে তাঁর কাছেই অপরিচিত। এরপর আমি তাঁকে এমন একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করতে দেখেছি যা তিনি দাবি করেছেন যে ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন, অথচ বিষয়টি সেরকম নয়। এরপর অপর একজন লেখক তাঁর থেকে এটি এভাবেই নকল করেছেন অন্ধভাবে তাঁকে অনুকরণ করে। অতঃপর তিনি একটি মাসআলায় দলিল পেশ করে বললেন, ‘আমাদের দলিল হলো যা কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন।’ আমি আমাদের অধিকাংশ শায়খকে তাদের কিতাবে বলতে দেখেছি, ‘আমাদের দলিল হলো যা আবু বকর আল-খাল্লাল তাঁর সনদে রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন’, ‘আমাদের দলিল হলো যা আবু বকর আব্দুল আজিজ তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন’, এবং ‘আমাদের দলিল হলো যা ইবনে বাত্তাহ তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন’। অথচ সেই হাদিসগুলোর অধিকাংশ সহিহ গ্রন্থসমূহ, মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এই যে তারা এটুকুতেই তুষ্ট হয়েছেন, এর কারণ হলো গবেষণার কাজে অলসতা।

আর সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্ময় জাগে যার ইখতিলাফি (মতপার্থক্যপূর্ণ) মাসআলা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই, অথচ বিতর্কের আসরে সে এর মধ্য থেকে মাত্র পঞ্চাশটি মাসআলায় সীমাবদ্ধ থাকে। আর এই পঞ্চাশটি মাসআলার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে না। তাহলে অবশিষ্টগুলোর অবস্থা কী হবে যে সে তা জানার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় অলসতা করছে?

-‌‌ অনুচ্ছেদ: আমি যে ফকিহদের নিন্দা করেছি, আমার নিকট তাদের চেয়েও অধিক নিন্দনীয় একদল বড় বড় মুহাদ্দিস, যারা বর্ণনার সহিহ ও দুর্বল দিকগুলো চিনতেন এবং এ বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন। কিন্তু যখন এমন কোনো দুর্বল হাদিস আসে যা তাদের মাজহাবের বিরোধী, তখন তারা তার ত্রুটির দিকগুলো স্পষ্ট করে দেন; আর যদি তা তাদের মাজহাবের অনুকূলে হয়, তবে সেটির ত্রুটির ব্যাপারে নীরব থাকেন। এটি মূলত দ্বীনদারির স্বল্পতা এবং প্রবৃত্তির প্রাবল্যেরই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন ইবনে আব্দুল খালিক, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল রহমান ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে বিশরান, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনে উমর ইবনে দারাকুতনি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকুনি, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে—
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ أَهْلُ الْعِلْمِ يَكْتُبُونَ مَا لَهُم ومَا عَلَيْهِم وأهل الْأَهْوَاءِ لَا يَكْتُبُونَ إِلَّا مَا لَهُمْ

وَهَذَا حِينَ شُرُوعِنَا فِيمَا انْتُدِبْنَا لَهُ مِنْ ذِكْرِ الْأَحَادِيثِ معرضين عَن الْعصبَة الَّتِي نَعْتَقِدُهَا فِي مِثْلِ هَذَا حَرَامًا وَلَوْ ذَكَرْنَا كُلَّ حَدِيثٍ بِجَمِيعِ طُرُقِهِ وَأَشْبَعْنَا الْكَلَامَ فِيهَا لَطَالَ وَمَلَّ وَإِنَّمَا هَذَا مَوْضُوعٌ لِلْفُقَهَاءِ وَغَرَضَهُمْ يَحْصُلُ مَعَ الِاخْتِصَارِ وَلِلْمُحَدِّثِينَ فِيهِ يَدٌ بِقَلِيلٍ مِنَ الْبَسْطِ والْأَسَانِيد وَالله الْمُوفق
আমি ওয়াকীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "ইলমের অধিকারীগণ তাদের স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে যায় এমন সব কিছুই লিপিবদ্ধ করেন, আর প্রবৃত্তিপূজারীরা কেবল তা-ই লিপিবদ্ধ করে যা তাদের স্বপক্ষে যায়।"

আর এটিই আমাদের সেই কাজ শুরু করার সময় যার জন্য আমরা নিয়োজিত হয়েছি—অর্থাৎ হাদিসসমূহ উল্লেখ করা; এক্ষেত্রে আমরা সেই পক্ষপাতমূলক গোঁড়ামি থেকে বিমুখ থাকব যা আমরা এ জাতীয় বিষয়ে হারাম বলে বিশ্বাস করি। যদি আমরা প্রতিটি হাদিস তার সকল সূত্রসহ উল্লেখ করতাম এবং সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতাম, তবে তা দীর্ঘায়িত হতো এবং বিরক্তির উদ্রেক করত। মূলত এটি ফকিহদের জন্য প্রণীত হয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য সংক্ষেপের মাধ্যমেই অর্জিত হয়; তবে মুহাদ্দিসদের জন্যও এতে সামান্য পরিসরে বিস্তারিত আলোচনা ও সনদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবদান রয়েছে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌كِتَابُ الطَّهَارَةِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

পবিত্রতা অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌مَسْأَلَةٌ الطَّهُورُ هُوَ الطَّاهِرُ فِي نَفْسِهِ الْمُطَهِّرُ لِغَيْرِهِ فَهُوَ مِنَ الْأَسْمَاءِ الْمُتَعَدِّيَةِ وَقَالَ الْحَنَفِيَّةُ هُوَ مِنَ الْأَسْمَاءِ اللَّازِمَةِ فَهُوَ بِمَعْنَى الطَّاهِرِ وَقَدِ اسْتَدَلَّ أَصْحَابُنَا فِي الْمَسْأَلَةِ بِحَدِيثَيْنِ
মাসআলা: 'তাহুর' হলো তা যা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। সুতরাং এটি সকর্মক বিশেষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর হানাফীগণ বলেন, এটি অকর্মক বিশেষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তাই এটি 'ত্বাহির' (পবিত্র) এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আমাদের সাথীবৃন্দ এই মাসআলায় দুটি হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ

‌‌1 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْأَوَّلِ بْنُ عِيسَى السِّجْزِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُظَفَّرُ الدَّاوُدِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمُّوَيْهِ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرَبْرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ سِنَانٍ قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ الْفَقِيرُ قَالَ أَنبأَنَا جَابر ابْن عَبْدِ اللَّهِ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أُعْطِيتُ خمْسا لم يُعْطهنَّ أحدا قبلي فَذكر منهى
প্রথম হাদিস

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা আস-সিজজি, তিনি বলেন, আমাদের খবর দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মুজাফ্ফর আদ-দাউদি, তিনি বলেন, আমাদের খবর দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্মুওয়াইহ, আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিবরি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-বুখারি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে সিনান, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হুশাইম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাইয়্যার, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াজিদ আল-ফাকির, তিনি বলেন, আমাদের খবর দিয়েছেন জাবির ইবনে আবদুল্লাহ যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি।” অতঃপর তিনি তা থেকে উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَجعلت لي الأَرْض مَسْجِدا وطهُورا هَذِهِ طَرِيقُ الْبُخَارِيِّ مِنَ الصَّحِيحِ

وَقَدْ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فُضِّلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ فَذَكَرَ مِنْهُنَّ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا

وَقَدْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ حُذَيْفَةَ

‌‌2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزَّاغُونِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا نَصْرُ بن الْحسن بن الْقَاسِم
এবং আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে। এটি সহীহ গ্রন্থ হতে বুখারীর বর্ণিত পথ।

ইমাম মুসলিম এটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে ছয়টি বিষয়ের মাধ্যমে অন্যান্য নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে।" অতঃপর তিনি সেগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন: "এবং আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।"

ইমাম মুসলিম এটি হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীস থেকেও বর্ণনা করেছেন।

২ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আয-যাগুনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, নাসর বিন হাসান বিন আল-কাসিম আমাদের অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الشاسي ح وَأَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن الْفضل الصاعدي قَالَا أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَمْرَوَيْهِ قَالَ أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنِ سُفْيَانَ قَالَ أَنْبَأَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ حُذَيفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلَاثٍ جعلت صُفُوفنَا كَصُفُوف الْمَلَائِكَة وجُعِلَتْ لَنَا الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدًا وجعلت تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُورًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ انْفَرَدَ بِإِخْرَاجِهِ مُسْلِمٌ

قَالَ أَصْحَابُنَا لَوْ أَرَادَ بِقَوْلِهِ طَهُورًا أَنَّهُ طَاهِرٌ لَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ فَضِيلَةٌ لِأَنَّ ذَلِكَ طَاهِرٌ فِي حَقِّ سَائِرِ الْأَنْبِيَاءِ

‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي

‌‌3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْكَرُوخِيُّ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو عَامر الْأَزْدِيّ وأبوبكر الْغُورَجِيُّ قَالَا أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَرَّاحِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْمَحْبُوبِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيّ وأخبرنَا سَعْدُ الْخَيْرِ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمْدٍ الدُّونِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْكَسَّارُ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السُّنِّيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَن أَحْمد ابْن شُعَيْبٍ النَّسَائِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ عَنْ مَالِكٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ مِنْ
আশ-শাসি (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফযল আস-সায়িদি, তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আবদুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আমরাওয়াইহ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশজায়ি থেকে, তিনি রিবয়ি থেকে, তিনি হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি বিষয়ে আমাদের অন্য মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে; আমাদের কাতারগুলোকে ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় করা হয়েছে, সমগ্র জমিনকে আমাদের জন্য সিজদাহগাহ (মসজিদ) করা হয়েছে এবং যখন আমরা পানি পাই না, তখন জমিনের মাটি আমাদের জন্য পবিত্রকারী করা হয়েছে।" এটি এককভাবে মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আমাদের সাথীগণ (আলেমগণ) বলেছেন, যদি তিনি 'পবিত্রকারী' (ত্বহুর) কথাটি দ্বারা কেবল 'পবিত্র' (ত্বাহির) হওয়া উদ্দেশ্য করতেন, তবে তাতে কোনো বিশেষ মর্যাদা থাকত না, কারণ তা তো অন্যান্য সকল নবীর ক্ষেত্রেও পবিত্র ছিল।

দ্বিতীয় হাদিস

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মালিক ইবনে আবিল কাসিম আল-কারুখি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির আল-আযদি ও আবু বকর আল-গুরাজি, তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আল-মাহবুবি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযি। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সা'দ আল-খাইর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে হামদ আদ-দুনি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-কাসসার, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুন্নি, তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি; তাঁরা বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কুতাইবা, মালেক থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
آلِ بَنِي الْأَزْرَقِ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّا نَرْكَبُ فِي الْبَحْرِ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ قَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

‌‌4 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عبد الله ابْن أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ قَالَ أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مِقْسَمٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْبَحْرِ هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

‌‌5 - قَالَ أَحْمد وحَدثنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ الزُّرَقِيِّ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي مَاءِ الْبَحْرِ هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

وَقَدْ رَوَيْنَاهُ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ
বনী আল-আযরাক পরিবারের সূত্রে বর্ণিত যে, মুগীরাহ ইবনে আবি বুরদাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরাইরাকে বলতে শুনেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমরা সমুদ্রে আরোহণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি, যদি আমরা তা দিয়ে ওজু করি তবে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব; এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওজু করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস।

‌‌৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন ইবনুল মুযহিব, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ইবনে জাফর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনে আবিয যিনাদ, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে হাযিম, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন: এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।

‌‌৫ - আহমাদ বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুর রহমান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মালিক, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ আয-যুরাকী থেকে, তিনি মুগীরাহ ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।

আর আমরা এটি আবু বকর সিদ্দীক, আলী ইবনে আবি তালিব, ইবনে আব্বাস এবং আমর ইবনে শুআইব থেকে তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রেও বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَاحْتِجَاجُ أَصْحَابِنَا مِنْهُ أَنَّهُ لَوْ أَرَادَ بالطَّهُورِ الطاهرُ لَمْ يَكُنْ جَوَابًا عَنِ السُّؤَالِ لِأَنَّ مِنَ الطَّاهِرَاتِ مَا يَجُوزُ التَّطَهُّرُ بِهِ ومَا لَا يَجُوزُ فَعُلِمَ أَنَّ الطَّهُورَ اسْمٌ يَخْتَصُّ بِمَا يُتَطَهَّرُ بِهِ

এবং এ বিষয়ে আমাদের সাথীদের যুক্তি হলো যে, যদি তিনি 'ত্বহুর' দ্বারা কেবল 'পবিত্র' উদ্দেশ্য নিতেন, তবে তা প্রশ্নের উত্তর হতো না। কেননা পবিত্র বস্তুসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ এবং এমন কিছু রয়েছে যা দ্বারা তা বৈধ নয়। ফলে জানা গেল যে, 'ত্বহুর' হলো এমন একটি নাম যা সেই বস্তুর জন্য নির্দিষ্ট যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়।

(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌مَسْأَلَةٌ لَا تَنْجُسُ الْقُلَّتَانِ بِوقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِمَا إِلَّا أَنْ تَكُونَ بولا وسوى الشَّافِعِي بن الأنجاس وهُوَ رِوَايَة لنا وقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ يَنْجُسُ كُلُّ مَا غَلَبَ عَلَى الظَّنِّ وُصُولُ النَّجَاسَةِ إِلَيْهِ فَإِنْ كَانَ دُونَ الْقُلَّتَيْنِ نَجِسَ بِكُلِّ حَالٍ وَقَالَ مَالِكٌ يُعْتَبَرُ تَغَيُّرُ الصِّفَاتِ لَنَا مَا

‌‌6 - أَخْبَرَنَا بِهِ ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدثنِي أبي ح وأَخْبَرَنَا الْكَرُوخِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَامر الْأَزْدِيّ وأَبُو بَكْرٍ الْغُورَجِيُّ قَالَا أَنْبَأَنَا الْجَرَّاحِيُ حَدَّثَنَا الْمَحْبُوبِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا هَنَّادٌ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُسْأَلُ عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلَاةِ مِنَ الْأَرْضِ ومَا ينوبه من السبَاع والدَّوَابّ فَقَالَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ
একটি মাসয়ালা: দুই কুল্লা পরিমাণ পানিতে নাপাকি পড়লে তা নাপাক হয় না, যদি না তা প্রস্রাব হয়। ইমাম শাফেয়ী সকল প্রকার নাপাকিকে সমান গণ্য করেছেন এবং এটি আমাদের মাযহাবের একটি বর্ণনা। ইমাম আবু হানিফা বলেন, যে পানির ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা হয় যে তাতে নাপাকি পৌঁছেছে, তা নাপাক হয়ে যাবে; আর যদি পানির পরিমাণ দুই কুল্লার কম হয়, তবে তা সর্বাবস্থায় নাপাক হবে। ইমাম মালেক বলেন, পানির গুণের পরিবর্তনই বিবেচ্য। আমাদের সপক্ষে দলিল হলো—

৬ - ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুযহিব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন জাফর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন। (সূত্র পরিবর্তন) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কারুখি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির আল-আযদি ও আবু বকর আল-গুরাজি, তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-জাররাহি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-মাহবুবি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হান্নাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদাহ, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আয-যুবায়ের থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর থেকে এবং তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে মরুপ্রান্তরের পানি এবং যেখানে হিংস্র পশুপাখি ও চতুষ্পদ জন্তুরা পানি পান করতে আসে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল—তখন তিনি বললেন: "যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, তখন তা (নাপাকি) বহন করে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الْخَبَثَ

‌‌7 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْأَوَّلِ قَالَ أَنبأَنَا الدَّاودِيّ أنبأناابن أَعْيَنَ قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خُزَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ بِأَرْضِ الفلاة ومَا يَنُوبُهُ مِنَ السِّبَاعِ وَالدَّوَابِّ فَقَالَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ
অপবিত্রতা

‌‌৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আউয়াল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদ-দাওয়ুদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আয়ুন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে খুজাইম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদ ইবনে হুমাইদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে কাসীর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মরুভূমির পানি এবং তাতে হিংস্র পশু ও জীবজন্তুর যাতায়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَإِنْ قِيلَ قَدِ اخْتُلِفَ عَلَى أَبِي أُسَامَةَ فَتَارَةً يَرْوِيهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَتَارَةً عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ
যদি বলা হয় যে, আবু উসামার বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ করা হয়েছে; কারণ কখনও তিনি এটি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন এবং কখনও মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَالْجَوَابُ أَنَّ الدَّارَقُطْنِيَّ قَالَ الْقَوْلَانِ صَحِيحَانِ عَنْ أَبِي أُسَامَةَ فَإِنَّ الْوَلِيدَ بْنَ كَثِيرٍ رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَكَانَ أَبُو أُسَامَةَ تَارَةً يُحَدِّثُ بِهِ عَنِ الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بن جَعْفَر وتَارَةً يُحَدِّثُ بِهِ عَنِ الْوَلِيدِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عَاصِمُ بْنُ الْمُنْذِرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَقَدْ صَحَّتِ الرِّوَايَتَانِ عَنْ عُبَيدِ اللَّهِ وَعَبْدِ اللَّهِ كِلاهُمَا عَنِ ابْنِ عُمَرَ

فَإِنْ قِيلَ فَقَدْ رُوِيَ بِالشَّكِّ قُلَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا

‌‌8 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمد قَالَ حَدثنِي أبي وقَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ الْمُنْذِرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ الْمَاءُ قَدْرَ قُلَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ قَالَ وَكِيعٌ الْقلَّةُ الْجَرَّةُ
উত্তর হলো, দারা কুতনী বলেছেন যে আবু উসামা থেকে উভয় বক্তব্যই সহীহ। কেননা অলিদ ইবনে কাসীর এটি মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে জুবায়ের এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ—উভয়ের মাধ্যমেই আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে আবু উসামা কখনো অলিদ ইবনে কাসীরের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর থেকে এটি বর্ণনা করতেন, আবার কখনো অলিদের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ থেকে এটি বর্ণনা করতেন। আর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর এটি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সূত্রে তাঁর পিতা (ইবনে উমর) থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আসিম ইবনে মুনযির এটি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে উবায়দুল্লাহ ও আবদুল্লাহ—উভয়ের মাধ্যমেই ইবনে উমর থেকে বর্ণনা দুটি সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

যদি বলা হয় যে, এটি 'দুই মটকা অথবা তিন মটকা'—এভাবে সংশয়যুক্ত শব্দে বর্ণিত হয়েছে?

৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুযহিব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে মালিক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা হাদীস শুনিয়েছেন এবং বলেছেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ওকী', তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আসিম ইবনে মুনযিরের সূত্রে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন পানির পরিমাণ দুই মটকা অথবা তিন মটকা হয়, তখন কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না।" ওকী' বলেন: কুল্লা বলতে বড় কলস বা মটকা বোঝায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌9 - أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ بِشْرَانَ قَالَ أَنْبَأَنَا الدَّارَقُطْنِيُّ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بن الصَّباح حَدثنَا يزِيد بِهِ هَارُونَ قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ الْمُنْذِرِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ قُلْنَا قَدِ اخْتُلِفَ عَنْ حَمَّادٍ فَرَوَى عَنْهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ وَهُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ وَكَامِلُ بْنُ طَلْحَةَ فَقَالُوا قُلَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا وَرَوَى عَنهُ عَفَّان ويَعْقُوب بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ وَبِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ وَالْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ ومُوسَى بن إِسْمَاعِيل وعبيد اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَيْشِيُّ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ وَلَمْ يَقُولُوا ثَلَاثًا واخْتلف عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ فَرَوى عَنْهُ ابْنُ الصَّبَّاحِ بِالشَّكِّ وَرَوَى عَنْهُ أَبُو مَسْعُودٍ بِغَيْرِ شَكٍّ فَوَجَبَ الْعَمَلُ عَلَى قَوْلِ مَنْ لَمْ يَشُكَّ فَإِنْ قِيلَ فَقَد رُوِيَ أَرْبَعِينَ قُلَّةً

‌‌10 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ خَيْرُونَ قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ قَالَ أَنْبَأَنَا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنِ عَدِيٍّ أَنْبَأَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ أَرْبَعِينَ قُلَّةً فَإِنَّهُ لَا يحمل الْخبث والْجَواب أَن هَذَا لَا يرويهِ مَرْفُوعا غير
‌‌৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন আবদিল খালিক, আমাদের অবহিত করেছেন আবু তাহির ইবন ইউসুফ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর ইবন বিশরান, তিনি বলেন যে আদ-দারা কুতনী আমাদের অবহিত করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন আস-সাব্বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবন হারুন, তিনি বলেন যে হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের আসিম ইবনুল মুনযির ইবনুল জুবাইর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর আমার নিকট তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “পানি যখন দুই বা তিন কুল্লাহ (মটকা) পরিমাণ হয়, তখন কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না।” আমরা বলি যে, হাম্মাদ থেকে বর্ণনায় মতভেদ ঘটেছে; ইবরাহীম ইবনুল হাজ্জাজ, হুদবাহ ইবন খালিদ এবং কামিল ইবন তালহাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা “দুই বা তিন কুল্লাহ” বলেছেন। অন্যদিকে আফফান, ইয়াকুব ইবন ইসহাক আল-হাদরামী, বিশর ইবনুল সারী, আল-আলা ইবন আবদিল জাব্বার, মুসা ইবন ইসমাঈল এবং উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-আইশী বর্ণনা করেছেন যে “পানি যখন দুই কুল্লাহ হয়” এবং তারা “তিন” কথাটি বলেননি। আবার ইয়াযিদ ইবন হারুন থেকেও বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে; ইবন আস-সাব্বাহ তার থেকে সন্দেহের সাথে বর্ণনা করেছেন, আর আবু মাসউদ তার থেকে কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। অতএব, যিনি সন্দেহ করেননি তার বর্ণনার ওপর আমল করা আবশ্যক। যদি বলা হয় যে, “চল্লিশ কুল্লাহ” বর্ণিত হয়েছে—

‌‌১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আবদিল মালিক ইবন খাইরুন, তিনি বলেন যে ইসমাঈল ইবন মাসআদাহ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন যে হামযাহ ইবন ইউসুফ আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আহমাদ ইবন আদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা আমাদের অবহিত করেছেন, সুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবন আব্দুল্লাহ আল-উমারী আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে এবং তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পানি যখন চল্লিশ কুল্লাহ পরিমাণ পৌঁছায়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।” এর উত্তর হলো, এটি মারফু হিসেবে অন্য কেউ বর্ণনা করেননি...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْقَاسِمُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ الْقَاسِمُ لَيْسَ هُوَ عِنْدِي بِشَيْءٍ كَانَ يَكْذِبُ وَيَضَعُ الْحَدِيثَ تَرَكَ النَّاس حَدِيثه وقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ هُوَ كَذَّاب خَبِيث وقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ لَا يُسَاوِي شَيْئا وقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ كَانَ ضَعِيفًا كَثِيرَ الْخَطَأِ وَوهم فِي إِسْنَاده وخَالفه رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَعْمَرٌ فَرَوَوْهُ عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا

وَرَوَاهُ أَيُّوبُ السِّخِتْيَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ مِنْ قَوْلِهِ لَمْ يُجَاوِزْ بِهِ وَقَدْ رَوَاهُ
আল-কাসিম। আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, আল-কাসিম আমার নিকট কিছুই নয়; সে মিথ্যা বলত এবং হাদিস জাল করত, তাই মানুষ তার হাদিস বর্জন করেছে। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন, সে একজন নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী। আবু হাতিম আর-রাজি বলেন, সে পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস)। আবু জুরআ বলেন, সে কোনো কিছুরই যোগ্য নয়। আদ-দারাকুতনি বলেন, সে দুর্বল ছিল, প্রচুর ভুল করত এবং তার সনদে বিভ্রান্তি (অহম) ছিল। রাওহ ইবনুল কাসিম, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং মা'মার তার বিরোধিতা করেছেন; তারা এটি ইবনুল মুনকাদির থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে 'মাওকুফ' (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি এটি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদিরের নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি একে (নবী পর্যন্ত) পৌঁছাননি; এবং এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ أَرْبَعِينَ لَمْ يَحْمِلْ خَبَثًا وَخَالَفَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ فَرَوَوْهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالُوا أَرْبَعِينَ غَرْبًا وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ أَرْبَعِينَ دَلْوًا احْتَجَّ أَصْحَابُ مَالِكٍ بِأَحَادِيثَ

‌‌الْأَوَّلِ

11 أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ وَهَذَا مَتْرُوكُ الظَّاهِرِ بِمَا إِذَا تَغَيَّرَ

‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي

12 أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو طاهرقال أنبأناابن بِشْرَانَ حَدَّثَنَا الدَّارَقُطْنِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْجُرْجَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْحَرَشِيُّ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّمَيْرِيُّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ.
আবদুর রহমান ইবনে আবু হুরায়রা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: পানি যখন চল্লিশ (পরিমাণ) হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না। তবে একাধিক বর্ণনাকারী তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: চল্লিশ ‘গারব’ (বৃহৎ বালতি)। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: চল্লিশ ‘দালউ’ (বালতি)। ইমাম মালিকের অনুসারীগণ বেশ কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

‌‌প্রথমটি

১১. ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের অবহিত করেছেন, আহমদ ইবনে জাফর আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, অকি' আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না।” তবে পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হাদিসের এই বাহ্যিক অর্থটি পরিত্যক্ত।

‌‌দ্বিতীয় হাদিস

১২. আবুল হুসাইন ইবনে আবদুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহির আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে বিশরান আমাদের অবহিত করেছেন, দারা কুতনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-হাররানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আহমদ আল-জুবজানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হারাশি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ফুদাইল ইবনে সুলাইমান আন-নুমাইরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪০)
النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ فُضَيْلُ بن سُلَيْمَان لَيْسَ بِثِقَة

‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثُ

13 أَخْبَرَنَا ابْنُ يُوسُفَ أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ بِشْرَانَ أَنْبَأَنَا الدَّارَقُطْنِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْبَزَّازُ قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ سِرَاجٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو شُرَحْبِيلَ عِيسَى بْنُ خَالِدٍ أَنْبَأَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا رِشْدِينُ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَاءُ طَهُورٌ إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ أَوْ طَعْمِهِ هَذَا لَا يَصِحُّ أَمَّا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ فَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ لَا يُحْتَجُّ بِهِ وكَانَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ لَا يَرْضَاهُ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করতে পারে না।" ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "ফুযাইল ইবনে সুলাইমান নির্ভরযোগ্য নন।"

তৃতীয় হাদিস

১৩. ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আদ-দারা কুতনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-বাযযায আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আলী বিন সিরাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু শুরাহবিল ঈসা বিন খালিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মারওয়ান বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রিশদিন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন রাশিদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পানি পবিত্র, তবে যার ঘ্রাণ অথবা স্বাদের ওপর অন্য কিছু প্রবল হয়ে যায় তা ব্যতীত।" এটি সহিহ নয়। মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: "তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না" এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَأَمَّا رِشْدِينُ فَهُوَ ابْنُ سَعْدٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينِ لَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ يُحَدِّثُ بِالْمَنَاكِيرِ عَنِ الثِّقَاتِ وَفِيهِ غَفْلَةٌ وَقَالَ النَّسَائِيُّ مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ وَقَالَ أَبُو حَاتِم ابْن حِبَّانَ الْحَافِظُ كَانَ يَقْرَأُ كُلَّ مَا وَقَعَ إِلَيْهِ سَوَاءً كَانَ مِنْ حَدِيثِهِ أَوْ لَمْ يَكُنْ

‌‌الْحَدِيثُ الرَّابِعُ

14 أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ أَبِي الْفَرَجِ أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَنْبَأَنَا ابْنُ بِشْرَانَ حَدَّثَنَا الدَّارَقُطْنِيُّ حَدَّثَنَا دَعْلَجٌ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْغَضِيضِيُّ حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يُنَجِّسُ الْمَاءَ شَيْءٌ إِلا مَا غَيَّرَ رِيحَهُ أَوْ طَعْمَهُ قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ لَمْ يَرْفَعْهُ غير رشدين وَمُعَاوِيَة ابْن صَالِحٍ وَلَيْسَ بِالْقَوِيِّ وَخَالَفَهُ الْأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ فَرَوَاهُ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ مُرْسَلًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ عَنِ الْأَحْوَصِ عَنْ رَاشِدٍ قَوْلَهُ لَمْ يُجَاوِزْ بِهِ رَاشِدًا
আর রুশদিন হলেন ইবনে সাদ। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, "তিনি কিছুই নন।" আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেন এবং তার মধ্যে অসাবধানতা রয়েছে।" নাসাঈ বলেছেন, "তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী।" হাফিজ আবু হাতিম ইবনে হিব্বান বলেছেন, "তার কাছে যা-ই আসত তিনি তা-ই পাঠ করতেন, চাই তা তার (সংগৃহীত) হাদিস হোক বা না হোক।"

চতুর্থ হাদিস

১৪. আবু আল-হুসাইন ইবনে আবি আল-ফারাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে বিশরান আমাদের জানিয়েছেন, আদ-দারাকুতনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, দালাজ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আলি আল-আব্বার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-গাদিদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, রুশদিন ইবনে সাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুআবিয়া ইবনে সলিহ থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না, কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণ অথবা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয়।" আদ-দারাকুতনি বলেছেন, রুশদিন এবং মুআবিয়া ইবনে সলিহ ছাড়া অন্য কেউ একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি এবং তিনি (রুশদিন) শক্তিশালী নন। আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম তার বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবু উসামা আল-আহওয়াস থেকে রাশিদের বক্তব্য হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং রাশিদকে অতিক্রম করে একে আর কারো সাথে সম্পৃক্ত করেননি।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقَدْ ذَكَرْنَا الْقَدَحَ فِي رِشْدِينَ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ

‌‌الْحَدِيثُ الْخَامِسُ

15 أَخْبَرَنَا الْكَرُوخِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَامِرٍ الْأَزْدِيُّ وَأَبُو بَكْرٍ الْغُورَجِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْمَحْبُوبِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا هَنَّادٌ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافع بن خَدِيجَة عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَلُحُومُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الْمَاءَ طهُور لَا يُنجسهُ شَيْء وقد رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ أَبِي أُسَامَةَ فَقَالُوا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَرَوَاهُ سَلِيطُ بْنُ أَيُّوبَ فَقَالَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافع وقَالَ مَرَّةً عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عبد الرَّحْمَن بن رَافع ورَوَاهُ يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ فَقَدِ اضْطَرَبُوا فِيهِ ورَوَاهُ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ وَالْحَدِيثُ غَيْرُ ثَابِتٍ وَقَدْ ذَكَرَ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ فِي كِتَابِ الشَّافِي عَنْ أَحْمَدَ أَنَّهُ قَالَ حَدِيثُ بِئْرِ بُضَاعَةَ صَحِيحٌ

احْتَجَّ أَصْحَابُ الشَّافِعِي بِمَا
আমরা ইতিপূর্বেই রুশদিন এবং মুয়াবিয়া ইবনে সালেহর বর্ণনার ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করেছি।

‌‌পঞ্চম হাদিস

১৫. আল-কারুখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আমির আল-আযদি এবং আবু বকর আল-গুরাজি আমাদের জানিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিজি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হান্নাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, ওয়ালিদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে ইবনে খাদিজ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি বুদাআহ কূপের পানি দিয়ে অজু করব? অথচ এটি এমন এক কূপ যাতে ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধময় আবর্জনা নিক্ষিপ্ত হয়। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" একদল বর্ণনাকারী আবু উসামা থেকে এটি বর্ণনা করার সময় "উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ" বলেছেন। সালিত ইবনে আইয়ুব এটি বর্ণনা করে বলেছেন "আব্দুর রহমান ইবনে রাফে" থেকে; আবার কখনো বলেছেন "উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফে" থেকে। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম এটি বর্ণনা করে বলেছেন "উবায়দুল্লাহ" থেকে, তিনি তার পিতা থেকে। সুতরাং তারা এর বর্ণনাসূত্রে অসংগতি (ইজতিরাব) করেছেন। আর আল-মাকবুরি এটি আবু হুরায়রা সূত্রে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনি বলেছেন, হাদিসটি সাব্যস্ত নয়। তবে আবু বকর আব্দুল আজিজ তার 'কিতাবুশ শাফি' গ্রন্থে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: বুদাআহ কূপের হাদিসটি সহিহ।

শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারীরা যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌16 - أَخْبَرَنَا الْكَرُوخِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا الْأَزْدِيُّ وَالْغُورَجِيُّ قَالَا أَنْبَأَنَا الْجَرَّاحِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا الْمَحْبُوبِيُّ حَدَّثَنَا التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْنُ غَيْلَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبَّهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَبُولَّنَ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي لَفْظِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَفِي لَفْظِهِ ثُمَ يَغْتَسِلُ مِنْهُ

وَوَجْهُ حُجَّتِهِمْ أَنَّهُ لَوْ كَانَ فِيهِ نَجَاسَة غير الْبَوْلُ مَنَعَتْ فَالْبَوْلُ كَذَلِكَ

‌‌مَسْأَلَةٌ إِذَا تَغَيَّرَ الْمَاءُ بِشَيْءٍ مِنَ الطَّاهِرَاتِ تَغَيُّرًا يُزِيلُ عَنْهُ اسْمَ الْإِطْلَاقِ لَمْ يَرْفَعِ الْحَدَثَ خِلَافًا لِأَبِي حَنِيفَةَ احْتَجَّ الْخَصْمُ بِحَدِيثَيْنِ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কারুখি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আজদি ও আল-গুরজি, তারা উভয়ে বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-জাররাহি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মাহবুবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আত-তিরমিজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু গায়লান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, মা'মার হতে, তিনি হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা হতে অজু করে।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দ হলো: "অতঃপর তাতে গোসল করে।" ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দ হলো: "অতঃপর তা হতে গোসল করে।"

তাদের যুক্তির ধরন হলো যে, যদি পানিতে প্রস্রাব ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্রতা থাকত তবে তা পানির পবিত্রতা অর্জনে বাধা প্রদান করত, সুতরাং প্রস্রাবও তদ্রূপ (অর্থাৎ তা বাধা প্রদান করবে)।

মাসআলা: যদি কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পানির পরিবর্তন এমনভাবে ঘটে যা পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা নামকে (মুতলাক পানি) বিলুপ্ত করে দেয়, তবে তা দ্বারা অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হবে না; যা ইমাম আবু হানিফার মতের পরিপন্থী। প্রতিপক্ষ দুটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ أَنْبَأَنَا هِشَامٌ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ تُوُفِّيَتْ إِحْدَى بَنَاتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اغْسِلْنَهَا بِسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الْأَخِيرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ

‌‌17 - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ
ইবনুল হুসাইন আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন জাফর আমাদের অবহিত করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক আল-আযরাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম হাফসা থেকে এবং তিনি উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যাদের একজন ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি বললেন, "তোমরা তাকে বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও এবং শেষবারে কর্পূর অথবা সামান্য কিছু কর্পূর ব্যবহার করো।"

‌‌১৭ - আহমাদ বলেন, আব্দুল মালিক বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম বিন নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু আবি নাজিহ থেকে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَتْ اغْتَسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ومَيْمُونَة مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ قَصْعَةٍ فِيهَا أَثَرُ الْعَجِينِ

‌‌18 - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَتْ جِيءَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجَفْنَةٍ فِيهَا مَاءٌ فِيهِ أَثَرُ الْعَجِينِ فَاغْتَسَلَ

حَدِيثُ أُمِّ عَطِيَةَ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَحَدِيثُ أُمِّ هَانِئٍ لَا يَثْبُتُ وَقَدْ رَوَى الدَّارَقُطْنِيُّ أَنَّ أُمَّ هَانِئٍ كَرِهَتْ أَنْ يُتَوَضَّأُ بِالْمَاءِ الَّذِي يُبَلُّ فِيهِ الْخُبْزُ ثُمَّ لَيْسَ فِي الْحَدِيثَيْنِ حُجَّةٌ لِأَنَّهُ لَيْسَ فيهمَا ذكر التَّغْيِير

‌‌مَسْأَلَةٌ الْمَاءُ الْمُسْتَعْمَلُ فِي رَفْعِ الْحَدَثِ طَاهِرٌ وَقَالَ أَصْحَابُ أَبِي حَنِيفَةَ
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মায়মুনা একই পাত্র—একটি বড় পেয়ালা—থেকে গোসল করেছেন যাতে আটার অবশিষ্টাংশ ছিল।

‌‌১৮ - আহমদ বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি উম্মে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে একটি বড় পাত্র আনা হলো যাতে পানি ছিল এবং তাতে আটার চিহ্ন ছিল, অতঃপর তিনি গোসল করলেন।

উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসটি সহীহায়নে (বুখারি ও মুসলিম) রয়েছে, আর উম্মে হানির হাদিসটি প্রমাণিত নয়। দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে হানি এমন পানি দিয়ে অজু করা অপছন্দ করতেন যাতে রুটি ভিজানো হয়েছে। অধিকন্তু, এই দুই হাদিসে কোনো দলিল নেই, কারণ এ দুটিতে পানির (গুণের) পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ নেই।

‌‌মাসআলা: হাদাস (অশুচিতা) দূরীকরণে ব্যবহৃত পানি পবিত্র। আর আবু হানিফার অনুসারীগণ বলেছেন
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
نَجِسٌ لَنَا مَا

‌‌19 - أَخْبَرَنَا بِهِ ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَنْبَأَنَا الْقَطِيعِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالْأَبْطَحِ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ لَهُ فَخَرَجَ بِلَالٌ بِفَضْلِ وُضُوئِهِ فَبَيْنَ نَاضِحٍ وَنَائِلٍ

‌‌20 - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَكِيمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ يَقُولُ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ فَضْلَ وُضُوئِهِ أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ

‌‌مَسْأَلَةٌ لَا يَجُوزُ لِلرَّجُلِ أَنْ يَتَوَضَّأَ بِفَضْلِ وُضُوءِ الْمَرْأَةِ إِذا خلت بِالْمَاءِ خلافًا لَهُم لنا ثَلَاثَة أَحَادِيث

‌‌الأول

‌‌21 - أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَاجِبٍ يُحَدِّثُ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ وُضُوءِ الْمَرْأَةِ قَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَاسْمُ أَبِي حَاجِبٍ سَوَادَةُ بْنُ عَاصِمٍ
আমাদের নিকট নাপাক যা...

‌‌১৯ - ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন ইবনুল মুদহিব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন আল-কাতিয়ী আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন সুফিয়ান আমাদের নিকট আওন ইবনে আবি জুহাইফা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবতাহ নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর একটি চামড়ার তাঁবুর মধ্যে ছিলেন। এরপর বিলাল তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বের হলেন; তখন কেউ তা ছিটানো অবস্থায় পাচ্ছিল আর কেউ সরাসরি কিছু অংশ লাভ করছিল।

‌‌২০ - আহমদ বলেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন শু’বাহ আমাদের নিকট হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জুহাইফাকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন, তখন মানুষ তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি গ্রহণ করতে শুরু করল। তাঁরা উভয়ই এটি তাঁদের সহীহ গ্রন্থে (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।

‌‌মাসয়ালা: কোনো পুরুষের জন্য কোনো মহিলার ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয নয় যখন সে পানি নিয়ে নির্জনে থাকে; যা তাদের (ভিন্ন মতাবলম্বীদের) মতের পরিপন্থী। আমাদের সপক্ষে তিনটি হাদীস রয়েছে।

‌‌প্রথম হাদীস

‌‌২১ - হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে আলী আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর ইবনে মালিক আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন শু’বাহ আমাদের নিকট আসেম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আবু হাজিবকে আল-হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো পুরুষের জন্য কোনো মহিলার ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করতে নিষেধ করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আর আবু হাজিবের নাম হলো সাওয়াদাহ ইবনে আসেম।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي

‌‌22 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَن الرواسِي قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَوْدِيِّ عَنْ حُمَيْدٍ الْحِمْيَرِيِّ قَالَ لَقِيتُ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَغْتَسِلُ الرَّجُلُ مِنْ فَضْلِ امْرَأَتِهِ وَلَا تَغْتَسِلُ بِفَضْلِهِ

‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثُ

‌‌23 - أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرٍ بْنُ يُوسُفَ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ بِشْرَانَ قَالَ حَدَّثَنَا الدَّارَقُطْنِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد بن سعيد الْمقري قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسٍ أَنّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَغْتَسِلَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةُ بِفَضْلِ الرَّجُلِ وَلَكِنْ يَشْرَعَانِ جَمِيعًا
দ্বিতীয় হাদিস

২২ - ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইবনুল মুযহিব আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেছেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-রাওয়াসি আমাদের বলেছেন, জুহাইর দাউদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আউদি থেকে এবং তিনি হুমাইদ আল-হিমইয়ারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পুরুষ যেন তার স্ত্রীর ব্যবহৃত উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে গোসল না করে এবং নারীও যেন তার (পুরুষের) ব্যবহৃত উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে গোসল না করে।

তৃতীয় হাদিস

২৩ - ইবনে আবদুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু তাহের ইবনে ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর ইবনে বিশরান আমাদের জানিয়েছেন, আদ-দারা কুতনী আমাদের বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মুকরি আমাদের বলেছেন, আবু হাতিম আর-রাজি আমাদের বলেছেন, মুআল্লা ইবনে আসাদ আমাদের বলেছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আল-মুখতার আসিম আল-আহওয়াল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো পুরুষকে নারীর ব্যবহৃত উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে এবং নারীকে পুরুষের ব্যবহৃত উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে গোসল করতে নিষেধ করেছেন; বরং তারা উভয়ে একত্রে পানি গ্রহণ করবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
اعْتَرَضُوا عَلَى هَذِهِ الْأَحَادِيثِ

أَمَّا الأول فقد قَالَ البُخَارِيّ لاأرى حَدِيثَ سَوَادَةَ عَنِ الْحَكَمِ يَصِحُّ وأما الثَّانِي وَالثَّالِثُ فَلَا يُمْكِنُ الْعَمَلُ بِمُطْلَقِهِ لِأَنَّهُ يَجُوزُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَتَوَضَّأَ بِمَا خَلَا بِهِ الرَّجُلُ والْجَواب أَمَّا قَوْلُ الْبُخَارِيِّ فَظَنٌّ لَمْ يذكر عَلَيْهِ دَلِيلا وأما الِاعْتِرَاضُ الثَّانِي فَقَدْ حَكَى شَيْخُنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الزَّاغُونِيِّ عَنْ أَصْحَابِنَا الْمَنْعَ وَإِنْ سَلَّمْنَا عَلَى الْمَشْهُورِ قُلْنَا هَذَا عَامٌّ دَخَلَهُ التَّخْصِيصُ بِالْإِجْمَاعِ أَوْ بِدَلِيلٍ أَمَّا حُجَّتُهُمْ

‌‌24 - فَأَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَتْ مِنْ جَنَابَةٍ فَاغْتَسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَوْ تَوَضَّأَ مِنْ فَضْلِهَا

‌‌25 - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ حَدَّثَنَا الثَّوْرِيُّ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اسْتَحَمَّتْ مِنْ جَنَابَةٍ فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأَ مِنْ فَضْلِهَا فَقَالَتْ إِنِي اغْتَسَلْتُ مِنْهُ فَقَالَ إِنَّ الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ

‌‌26 - قَالَ أَحْمَدُ وَحَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شَرِيكُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمَونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أَجْنَبْتُ أَنَا ورَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاغْتَسَلْتُ مِنْ جَفْنَةٍ فَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَغْتَسِلَ مِنْهَا فَقَلْتُ إِنِّي قَدِ اغْتَسَلْتُ مِنْهَا قَالَ إِنَّ الْمَاءَ لَيْسَ عَلَيهِ جَنَابَةٌ أَوْ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ فَاغْتَسَلَ مِنْهُ قَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَجَابَ أَصْحَابُنَا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ بِأَنَّهُ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ مَعَ الْمُشَاهَدَةِ أَوِ الْمُشَارَكَةِ فَيَجْمَعُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ حُجَّتِنَا
তারা এই হাদিসগুলোর ওপর আপত্তি করেছেন।

প্রথমটির ব্যাপারে বুখারী বলেছেন, আমি সাওয়াদাহ-এর মাধ্যমে হাকাম থেকে বর্ণিত হাদিসটিকে সহীহ মনে করি না। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির ক্ষেত্রে এর সাধারণ অর্থের ওপর আমল করা সম্ভব নয়, কারণ পুরুষের একাকী ব্যবহার করা অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীর ওজু করা জায়েজ। এর উত্তর হলো, বুখারীর বক্তব্য একটি ধারণা মাত্র, যার স্বপক্ষে তিনি কোনো দলিল উল্লেখ করেননি। আর দ্বিতীয় আপত্তির ব্যাপারে আমাদের শাইখ আবুল হাসান ইবনুল যাগুনী আমাদের ইমামদের পক্ষ থেকে এর নিষিদ্ধতার কথা বর্ণনা করেছেন। আর যদি আমরা প্রসিদ্ধ মতটি মেনেও নেই, তবে আমরা বলব যে এটি একটি সাধারণ বক্তব্য যা ইজমা বা অন্য কোনো দলিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তাদের দলিল হলো:

‌‌24 - ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর বিন মালিক আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের জানিয়েছেন, ওকী' সুফিয়ান থেকে, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে জনৈক স্ত্রী জানাবাত থেকে গোসল করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অবশিষ্ট পানি থেকে গোসল বা ওজু করলেন।

‌‌25 - আহমাদ বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, সাওরী সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে জনৈক স্ত্রী জানাবাত থেকে গোসল করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অবশিষ্ট পানি থেকে ওজু করতে আসলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তো তা থেকে গোসল করেছি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই নাপাক করে না।

‌‌26 - আহমাদ বলেন, হাশিম বিন কাসিম আমাদের জানিয়েছেন, শারীক সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী মায়মুনা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় ছিলাম। আমি একটি বড় পাত্র থেকে গোসল করলাম এবং কিছু পানি অবশিষ্ট রয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে গোসল করতে আসলেন। আমি বললাম, আমি তো তা দিয়ে গোসল করেছি। তিনি বললেন, পানির কোনো জানাবাত নেই অথবা পানিকে কোনো কিছুই নাপাক করে না। এরপর তিনি তা দিয়ে গোসল করলেন। তিরমিযী বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আমাদের ইমামগণ এই হাদিসের উত্তর দিয়েছেন যে, সম্ভাবনা রয়েছে এটি প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ বা অংশীদারিত্বের অবস্থায় ছিল, আর এভাবে এই হাদিস এবং আমাদের দলিলের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌مَسْأَلَةٌ لَا يَجُوزُ إِزَالَةُ النَّجَاسَةِ بِمَائِعٍ غَيْرِ الْمَاءِ وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ يَجُوزُ وَحُجَّتُنَا أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِاسْتِعْمَالِ الْمَاءِ

‌‌27 - أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بن عبد الله ابْن أَبِي طَلْحَةَ عَنْ عَمِّهِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ رَسُول الله صلى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ مِنَ الْقَوْمِ قُمْ فَائْتِنَا بِدَلْوٍ مِنَ الْمَاءِ فَشُنِّهُ عَلَيهِ فَأَتَى بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَشَنَّهُ عَلَيْهِ
মাসআলা: পানি ব্যতীত অন্য কোনো তরল পদার্থ দ্বারা অপবিত্রতা দূর করা জায়েজ নয়। আবু হানিফা বলেন, তা জায়েজ। আমাদের দলিল হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

২৭ - হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী ইবনুল মুজহিব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর ইবনে মালিক আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, বাহয আমাদের বলেছেন, ইকরিমা ইবনে আম্মার আমাদের বলেছেন, ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা তাঁর চাচা আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় জনৈক বেদুইন এসে মসজিদে প্রস্রাব করে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলের এক ব্যক্তিকে বললেন, "দাঁড়াও এবং এক বালতি পানি নিয়ে এসো এবং তা সেটির ওপর ঢেলে দাও।" অতঃপর সে এক বালতি পানি নিয়ে এল এবং তা তার ওপর ঢেলে দিল।