(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: -)
الفرائد على مجمع الزوائد «ترجمة الرواة الذين لم يعرفهم الحافظ الهيثمي» القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الفرائد على مجمع الزوائد «ترجمة الرواة الذين لم يعرفهم الحافظ الهيثمي»
المؤلف: أبو عبد الله، خليل بن محمد بن عوض الله المطيري العربي
الناشر: دار الإمام البخاري، الدوحة - قطر
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 439
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435
মাজমাউজ যাওয়াইদ-এর ওপর আল-ফারাঈদ «হাফিয হাইসামি যে সকল বর্ণনাকারীকে চিনতে পারেননি তাদের জীবনী» বিভাগ: জীবনী ও তবাকাত
গ্রন্থ: মাজমাউজ যাওয়াইদ-এর ওপর আল-ফারাঈদ «হাফিয হাইসামি যে সকল বর্ণনাকারীকে চিনতে পারেননি তাদের জীবনী»
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ, খলিল বিন মুহাম্মাদ বিন আওয়াদুল্লাহ আল-মুতাইরি আল-আরাবি
প্রকাশক: দারুল ইমাম আল-বুখারি, দোহা - কাতার
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৯
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রজব ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١)
الفرائد على مجمع الزوائد
"ترجمة الرواة الذين لم يعرفهم الحافظ الهيثمي"
تأليف
خليل بن محمد العربي
دار الإمام البخاري
الدوحه - قطر
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ
"হাফিয আল-হাইসামি যে বর্ণনাকারীদের পরিচয় প্রদান করেননি, তাদের জীবনী"
রচনায়
খলীল বিন মুহাম্মাদ আল-আরাবী
দারুল ইমাম আল-বুখারী
দোহা - কাতার
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٣)
الفرائد على مجمع الزوائد
আল-ফারায়েদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٤)
رقم الإيداع بدار الكتب القطرية: 417/ 2008
الرقم الدولي (رمك): 7 - 6 - 708 - 99921
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
لدار الإمام البخاري
رجب 1429هـ-2008م
دار الإمام البخاري
للنشر والتوزيع
الدوحة -قطر طريق سلوى- بجوار دوار الغانم الجديد
ص. ب29000 - الهاتف:009744684848 - الفاكس:009744685588
www.albukhari.org
কাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে জমাদান নম্বর: ৪১৭/ ২০০৮
আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা (আইএসবিএন): ৭ - ৬ - ৭০৮ - ৯৯৯২১
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
দারুল ইমাম আল-বুখারীর জন্য
রজব ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
দারুল ইমাম আল-বুখারি
প্রকাশনা ও বিতরণ
দোহা - কাতার, সালওয়া রোড - নিউ আল-গানিম গোলচত্বরের পাশে
পো. বক্স: ২৯০০০ - টেলিফোন: ০০৯৭৪৪৬৮৪৮৪৮ - ফ্যাক্স: ০০৯৭৪৪৬৮৫৫৮৮
www.albukhari.org
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه ومن اتبع هداه بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فإني أقدم للقراء الكرام الطبعة الثانية من كتابي: "الفرائد على مجمع الزوائد"، وذلك بعد أن نفدت الطبعة الأولى منه من السوق.
وقد نال الكتاب -بفضل الله تعالى- ثناء واستحسان أهل العلم، ولا سيما المشتغلين بعلوم الحديث الشريف، والله أسأل -بأسمائه الحسنى، وصفاته العلى- أن يتقبل مني عملي، وأن يغفر لي زللي، إنه هو البر الرحيم.
وقد حرصت على أن تخرج هذه الطبعة منقحة ومصصحة مما شابها من بعض الأخطاء التي لحقتها في الطبعة الأولى.
والذي أود التنبيه عليه: أن هذه الطبعة هي الطبعة الشرعية الوحيدة لكتابي هذا، وأن أيَّ طبعة تصدر منه خلاف هذه الطبعة وما يلحقها من طبعات أخرى في المستقبل -إن شاء الله تعالى- والتي تصدر جميعًا عن دار الإمام البخاري للنشر والتوزيع بدولة قطر، فأي طبعة أخرى بخلاف ذلك تُعدُّ طبعة غير شرعية، ولا يجوز بيعها ولا شراؤها.
وصلى الله على نبينا محمَّد، وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
وكتبه
أبو عبد الله خليل بن عوض الله المطيري العربي
12/ 8/1428هـ
الموافق 25/ 8/ 2007 م
الدوحة- قطر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পথ অনুসরণ করবেন তাদের সকলের প্রতি।
অতঃপর:
আমি সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমার রচিত ‘আল-ফারাঈদ আলা মাজমাউজ যাওয়াইদ’ নামক বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করছি; বাজার থেকে এর প্রথম সংস্করণটি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর এটি প্রকাশ করা হলো।
আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে বইটি আলিমদের নিকট—বিশেষত যারা হাদিস শাস্ত্র নিয়ে কাজ করেন তাঁদের কাছে—প্রশংসা ও সমাদর লাভ করেছে। আমি আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির ওসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমার এই আমলটি কবুল করেন এবং আমার ভুলত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতি করুণাময়।
আমি এই সংস্করণটিকে পরিমার্জিত এবং প্রথম সংস্করণে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রয়ে যাওয়া ভুলত্রুটি থেকে সংশোধিত আকারে প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
যে বিষয়টি আমি বিশেষভাবে অবগত করতে চাই তা হলো: আমার এই বইটির একমাত্র বৈধ সংস্করণ হলো এটিই। কাতার রাষ্ট্রের ‘দারুল ইমাম বুখারি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ থেকে প্রকাশিত এই সংস্করণ এবং ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ এই প্রকাশনী থেকে এর যে সংস্করণগুলো আসবে, তা ব্যতীত অন্য যেকোনো সংস্করণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। আর সেগুলো ক্রয় বা বিক্রয় করা জায়েজ নয়।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের প্রতি অফুরন্ত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
আবু আবদুল্লাহ খলিল ইবনে আওয়াদুল্লাহ আল-মুতাইরি আল-আরাবি
১২/ ০৮/ ১৪২৮ হিজরি
মোতাবেক ২৫/ ০৮/ ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
দোহা- কাতার
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولىإنَّ الحمد لله، نحمده تعالى ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أَعمالنا.
مَنْ يهده الله فلا مُضلَّ له، ومَنْ يضللْ فلا هادي له.
وأشهد أنْ لا إلهَ إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد:
فهذا كتاب يشتمل على أكثر الرواة الذين لم يعرفهم الحافظ الهيثمي رحمه الله في كتابه المشهور: "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد" قمت فيه بتعريفهم اسمًا، ونسبة، وكنية، مع ذكر أهم وأشهر المصادر التي ترجمت لهم.
وتعود فكرة العمل في هذا الكتاب حينما كنت أعمل بأحد المكاتب المعنية بتحقيق التراث بمصر، وقد أسند إلى وقتها كتاب "المعجم الكبير" للإمام الطبراني رحمه الله كي أقوم بتعيين أسماء الرواة لا سيما أولئك الذين يذكرون في أسانيد المعجم بأسمائهم فقط دون ذكر باقي نسبتهم.
ولما كان "المعجم الكبير" أحد المصادر الستة لكتاب "مجمع الزوائد" كان الحافظ الهيثمي يتناول رواة "المعجم" -وغيره- بالكلام عليهم توثيقًا، وتجريحًا، وكان يصرّح في كثير منهم بعدم معرفته لهم، وكنت في الوقت نفسه أجد -بتوفيق من عند الله جل وعلا- لهؤلاء الرواة تراجم في أكثر من مصدر حديثي، وكثير منهم لهم من الشهرة ما لهم.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর মহিমা ঘোষণা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি।
আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর:
এটি এমন একটি গ্রন্থ যা সেই অধিকাংশ রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) অন্তর্ভুক্ত করে যাদেরকে হাফেজ হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ: "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ"-এ চিনতে পারেননি। এতে আমি তাঁদের নাম, বংশীয় পরিচয় এবং উপনামের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি এবং তাঁদের জীবনী সংবলিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ উৎসগ্রন্থগুলোর উল্লেখ করেছি।
এই গ্রন্থটি রচনার পরিকল্পনা তখন আসে যখন আমি মিশরে ইসলামী ঐতিহ্য (তুরাছ) সম্পাদনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। সে সময় ইমাম তাবারানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আল-মু'জামুল কাবীর" গ্রন্থটি আমার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল যাতে আমি রাবিদের নামগুলো নির্দিষ্ট করি, বিশেষ করে সেই সব রাবিদের যাদেরকে মু'জামের সনদগুলোতে শুধুমাত্র নামে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁদের বংশীয় পরিচয়ের বাকি অংশ উল্লেখ করা হয়নি।
যেহেতু "আল-মু'জামুল কাবীর" ছিল "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থের ছয়টি উৎসের একটি, তাই হাফেজ হাইসামি "মু'জাম" এবং অন্যান্য গ্রন্থের রাবিদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্যতা (তাওছীক) ও অযোগ্যতা (জারহ) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই তাঁদেরকে না চেনার কথা স্পষ্ট করে বলেছেন। অথচ একই সময়ে আমি—আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার তৌফিকে—একাধিক হাদিস বিষয়ক গ্রন্থে এই সব রাবিদের জীবনী খুঁজে পাচ্ছিলাম, যাদের মধ্যে অনেকেই বেশ প্রসিদ্ধ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٨)
وكنت أدوّن ذلك في كراس خاص، حتى كثر عدد الرواة فوق ما كنت أتخيله، مما جعلني أفكر جديًا بتصنيف كتاب مستقل يشتمل على كل من قال فيهم الحافظ الهيثمي: لم أجده، وما شابهه.
فقمت بعرض الفكرة على شيخنا المفضال الأستاذ المحدث محمَّد عمرو بن عبد اللطيف، فرحب بالفكرة ترحيبًا كبيرًا، وحثني على البدء في العمل فيه.
إلا أن هذه الفكرة ظلت أسر الحبس أكثر من عشر سنوات بسبب بعض الظروف الصعبة التي كنت أمر بها في هذه الفترة، ولكني كنت أتحيّن الفرصة من حين لآخر بالعمل فيه، حتى يسر الله لي التفرغ له، والتصدي لإنهائه.
وإنني بإنهاء هذا العمل أتوجه بالحمد والشكر لله رب العالمين، الذي وفقني لذلك، ثم أتوجه بالشكر الجزيل لشيخي الكريم محمَّد عمرو بن عبد اللطيف، الذي كان لحثه الدائم ونصحه لي بالعمل في هذا الكتاب وإنهائه الأثر الكبير في ذلك.
فجزاه الله عنا خير الجزاء.
هذا، وقد سميت الكتاب: "الفرائد على مجمع الزوائد"
والله أسأل أن يتقبله مني، وأن ينفع به المسلمين.
এবং আমি তা একটি বিশেষ খাতায় লিখে রাখতাম, এমনকি বর্ণনাকারীদের সংখ্যা আমার কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা আমাকে গুরুত্বের সাথে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলনের কথা ভাবতে বাধ্য করেছিল, যা এমন সকল বর্ণনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করবে যাদের সম্পর্কে হাফেজ আল-হাইসামি বলেছেন: "আমি তাকে খুঁজে পাইনি", এবং এই জাতীয় কথা।
অতঃপর আমি এই ধারণাটি আমাদের গুণী শাইখ, উস্তাদ আল-মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আমর ইবন আবদিল লতিফের নিকট পেশ করলাম। তিনি এই পরিকল্পনাটিকে বিপুলভাবে স্বাগত জানালেন এবং আমাকে এতে কাজ শুরু করতে উৎসাহিত করলেন।
তবে কিছু কঠিন পরিস্থিতির কারণে যা আমি এই সময়ে পার করছিলাম, এই ধারণাটি দশ বছরেরও বেশি সময় বন্দি অবস্থায় ছিল। কিন্তু আমি মাঝেমধ্যেই এতে কাজ করার সুযোগ খুঁজতাম, অবশেষে আল্লাহ আমার জন্য এর প্রতি অভিনিবেশ করা এবং এটি সম্পন্ন করার কাজ সহজ করে দিলেন।
এই কাজ সমাপ্তির মাধ্যমে আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে এর তাওফিক দিয়েছেন। অতঃপর আমি আমার শ্রদ্ধেয় শাইখ মুহাম্মদ আমর ইবন আবদিল লতিফকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যার নিরন্তর উৎসাহ এবং এই কিতাবটির কাজ করা ও তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আমাকে দেওয়া উপদেশের এক মহান প্রভাব এতে রয়েছে।
আল্লাহ তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি: "আল-ফারায়িদ আলা মাজমাউজ যাওয়াইদ"
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٩)
سبب تصنيف هذا الكتابوكان من دواعي عملي في هذا الكتاب أني وجدت كثيرًا من المشتغلين بعلم الحديث الشريف في هذا العصر يعتمدون على كلام الحافظ الهيثمي رحمه الله اعتماد كبيرًا، فمن قال فيه الهيثمي:
لا أعرفه، وما شابهه، سلَّموا لكلامه دون أدنى بحث أو تفتيش وراءه، ثم حكموا على الحديث بالضعف، وجعلوا ذلك سبب علته! والواقع خلاف ذلك، فكم من راوٍ قال عنه الهيثمي: لا أعرفه، أو لم أجد له ترجمة، وهو من مشاهير الرواة، وأكثر من قال فيهم ذلك هم من رواة "التهذيب"، على ما سيراه القارئ الكريم في كتابنا هذا.
والمقصود هنا: أنه لا ينبغي لمن تصدَّى لهذا العلم الشريف الاقتصار على كلام الحُفّاظ المتأخرين، ضاربًا بأقوال الأئمة المتقدمين، عرض الحائط ذاهلًا عن البحث في تصانيفهم؛ بل يجب العناية كل العناية بكتب الأصول، وأمهات كتب التراجم لأئمتنا المتقدمين؛ فإنهم كانوا بالعهد النبوي أقرب من غيرهم، ولطرق الحديث وعلله، ومشافهة المشايخ، وسبر أحوالهم أعلم ممن جاءوا من بعدهم.
طريقة عملي في هذا الكتاب:1 - يصرّح الحافظ الهيثمي في كتابه "المجمع" بأسماء الرواة تارة فيقول: "فيه فلان لم أعرفه"، وأخرى لا يصرح بشيء، ويكتفي بالقول: "وفي إسناده جماعة لم أعرفهم". ولا يسمي أحدًا منهم، فقمت -أولاً- بترجمة الرواة الذين صرّح بأسمائهم، ورتبتهم على حروف الهجاء، وجعلتهم القسم الأول من الكتاب مع عزو كل راوٍ إلى موضعه من "المجمع".
এই গ্রন্থটি রচনার কারণএই গ্রন্থটি রচনার অন্যতম কারণ হলো, আমি লক্ষ্য করেছি বর্তমান যুগে ইলমে হাদিসে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের অনেকেই হাফিজ আল-হায়সামি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেন। সুতরাং হায়সামি যার সম্পর্কে বলেছেন:
“আমি তাকে চিনি না” বা অনুরূপ কিছু, তারা এর পেছনে কোনো প্রকার অনুসন্ধান বা তদন্ত ছাড়াই তাঁর কথা মেনে নেন। অতঃপর তারা হাদিসটিকে ‘যয়িফ’ (দুর্বল) হিসেবে হুকুম প্রদান করেন এবং হায়সামির উক্ত বক্তব্যকেই হাদিসটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেন! অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। কত বর্ণনাকারী এমন আছেন যাদের সম্পর্কে হায়সামি বলেছেন: “আমি তাকে চিনি না” অথবা “আমি তার জীবনী খুঁজে পাইনি”, অথচ তারা প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। হায়সামি যাদের সম্পর্কে এমনটি বলেছেন, তাদের অধিকাংশই ‘আত-তাহজিব’ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, যা সম্মানীত পাঠক আমার এই গ্রন্থে দেখতে পাবেন।
এখানে উদ্দেশ্য হলো—যে ব্যক্তি এই মহান শাস্ত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তার জন্য পরবর্তী যুগের হাফিজগণের বক্তব্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা সমীচীন নয়; পূর্ববর্তী ইমামগণের বক্তব্যকে উপেক্ষা করে এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলিতে অনুসন্ধান করা থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয়। বরং পূর্ববর্তী ইমামগণের মূল গ্রন্থসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক মৌলিক গ্রন্থাবলির প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করা আবশ্যক। কেননা তাঁরা অন্যদের তুলনায় নবুওয়াতের যুগের নিকটবর্তী ছিলেন এবং হাদিসের সূত্রসমূহ, তার সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ, শাইখদের সাথে সরাসরি কথোপকথন ও তাঁদের অবস্থা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগে আগমনকারীদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী ছিলেন।
এই গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি:১ - হাফিজ আল-হায়সামি তাঁর ‘আল-মাজমা’ গ্রন্থে কখনো বর্ণনাকারীদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন; তিনি বলেন: “এতে অমুক ব্যক্তি আছে যাকে আমি চিনি না”। আবার কখনো তিনি কোনো নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন না, বরং এটুকু বলেই ক্ষান্ত হন: “এর সনদে এমন একদল লোক আছে যাদের আমি চিনি না”। তিনি তাদের কারো নাম উল্লেখ করেন না। তাই আমি—প্রথমত—ঐ সকল বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করেছি যাদের নাম তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এবং তাঁদেরকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। আমি একে গ্রন্থের প্রথম অংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে ‘আল-মাজমা’ গ্রন্থে তাঁর নিজ নিজ স্থানের সাথে সম্পৃক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وأما الرواة الذين أبهمهم، ولم يسم أحدًا منهم فقمت -ثانيًا- بترجمة جميع رواة السند، ورتبتهم على حسب مجيئهم في "المجمع" وجعلتهم قسمًا ثانيًا للكتاب.
2 - حرصت في كتابي هذا على الاختصار في سياق الترجمة، قدر المستطاع، فمتى وجدت صاحب الترجمة من رجال التهذيب، عزوته لـ"تهذيب الكمال" اللحافظ المزي رحمه الله دون غيره، إلا إذا كان هناك شيء مهم لم يذكره الحافظ المزي، من توثيق وتجريح، أو جمع وتفريق، وما شابه ذلك فسأذكره بعون الله تعالى.
وكذلك الحال إذا كان صاحب الترجمة في كتاب "لسان الميزان"، وقد استُوفيت ترجمته فيه، اقتصرت على العزو إليه دون غيره، إذ الغاية من كتابي هذا الوصول إلى معرفة الراوي دون الإسهاب في ذكر مصادر ترجمته.
3 - متى عزوت صاحب الترجمة لمصدر من كتب الرجال، وقلت: "وذكر له روايته عن فلان، أو: رواية فلان عنه" ثم قلت: "وهو الراوي عنه حديثه هذا" فالمراد بالحديث هنا هو ما أورده له الهيثمي في "المجمع".
4 - لعلي أذكر أقوامًا لم أجد فيهم جرحًا ولا تعديلًا، ولكن وقفت على شيء آخر غير ذلك، قد يكون مُعِيْنًا في الوقوف على ترجمته؛ كزيادة نسبة، أو ذكر كنية، أو نسبته لجده، أو زيادة ذكر راوٍ عنه، وما شابه ذلك.
وذلك مثل ترجمة: الأصم بن هرمز، طالب بن قرة، علي بن المبارك الصنعاني، محمَّد بن رجاء، أبي البكرات.
5 - صنعت مقدمة بيّنت فيها كيفية البحث عن ترجمة للراوي المراد معرفته، مبينًا فيها الأسباب التي تؤدي إلى عدم التوفيق في العثور على تراجم الرواة، والوقوف على مصادر ترجمته.
هذا، ولعلي أكون بهذا الكتاب قد وضعت بعض العناء عن إخواني الكرام -أهل الحديث- في البحث والتفتيش عن تراجم الرواة، ولا سيما أولئك المذكورين في كتاب "مجمع الزوائد".
আর যেসব বর্ণনাকারীদের তিনি অস্পষ্ট রেখেছেন এবং তাদের কারও নাম উল্লেখ করেননি, আমি -দ্বিতীয়ত- সনদের সকল বর্ণনাকারীর জীবনী সংকলন করেছি এবং 'আল-মাজমা' গ্রন্থে তাদের আগমনের ক্রম অনুযায়ী তাদের সাজিয়েছি এবং সেগুলোকে বইটির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছি।
২ - আমি আমার এই বইটিতে বর্ণনাকারীর জীবনীর বর্ণনায় যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। যখনই আমি কোনো বর্ণনাকারীকে 'আত-তাহজিব' এর অন্তর্ভুক্ত পেয়েছি, তখন তাকে হাফেজ আল-মিজ্জি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)-এর 'তাহজিবুল কামাল' গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; তবে হাফেজ আল-মিজ্জি যদি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উল্লেখ না করে থাকেন—যেমন নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (তাওসিক) বা ত্রুটি বর্ণনা (তাজরিহ), অথবা একাধিক ব্যক্তিকে একত্রিত করা বা পৃথক করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—তবে আল্লাহর সাহায্যে আমি তা উল্লেখ করেছি।
একইভাবে বর্ণনাকারীর জীবনী যদি 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থে থাকে এবং সেখানে তার জীবনী পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি শুধু সেই গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; কারণ আমার এই বইটির লক্ষ্য হলো বর্ণনাকারীর পরিচয় জানা, তার জীবনীর উৎসগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করা নয়।
৩ - যখনই আমি কোনো বর্ণনাকারীর জীবনী রিজাল শাস্ত্রের কোনো গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছি এবং বলেছি: "অমুক থেকে তার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, অথবা: তার থেকে অমুকের বর্ণনা উল্লেখ করেছেন" এরপর বলেছি: "এবং তিনিই তার থেকে এই হাদিসটি বর্ণনাকারী," তখন এখানে হাদিস বলতে উদ্দেশ্য হলো সেটিই, যা আল-হাইসামি 'আল-মাজমা' গ্রন্থে তার জন্য উল্লেখ করেছেন।
৪ - সম্ভবত আমি এমন কিছু ব্যক্তিবর্গের কথা উল্লেখ করব যাদের সম্পর্কে কোনো জারহ (ত্রুটি) বা তা'দিল (নির্ভরযোগ্যতা) পাইনি, কিন্তু তা ছাড়া অন্য কিছুর সন্ধান পেয়েছি যা তার জীবনী জানার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে; যেমন বংশপরম্পরায় অতিরিক্ত কোনো তথ্য, বা উপনাম (কুনিয়াত) উল্লেখ করা, অথবা তার দাদার দিকে সম্বন্ধ করা, কিংবা তার থেকে বর্ণনা করেছেন এমন অতিরিক্ত কোনো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
যেমন: আল-আসাম্ম বিন হুরমুজ, তালিব বিন কুররাহ, আলি বিন আল-মুবারক আস-সানআনি, মুহাম্মাদ বিন রাজা এবং আবুল বারাকাত-এর জীবনী।
৫ - আমি একটি ভূমিকা তৈরি করেছি যেখানে কাঙ্ক্ষিত বর্ণনাকারীর জীবনী খুঁজে বের করার পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। এতে বর্ণনাকারীদের জীবনী খুঁজে পেতে ব্যর্থ হওয়ার কারণসমূহ এবং তাদের জীবনীর উৎসগুলো জানার উপায় পরিষ্কার করা হয়েছে।
পরিশেষে, সম্ভবত এই বইটির মাধ্যমে আমি আমার সম্মানিত ভাইদের—হাদিস বিশারদগণের—বর্ণনাকারীদের জীবনী অনুসন্ধান ও গবেষণার কিছু কষ্ট লাঘব করতে সক্ষম হয়েছি, বিশেষ করে যারা 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١١)
سائلًا أرحم الراحمين أن يشملني برحمته، وأن يجعل هذا الكتاب في ميزان حسناتي، إنه نعم المولى ونعم النصير.
يا ناظرًا في الكتاب بعدي
… مجتنيًا من ثمار جهدي
بي افتقار إلى دعاءٍ
… تهديه لي في ظلام لحدي
أصبحت بعد الغنى فقيرًا
… وبعد جمع الجموع وحدي
وكتبه
خليل بن محمَّد بن عوض الله العربي
الدوحة - قطر
الاثنين: 14/ 6/ 1419هـ
الموافق: 5/ 10/ 1998 م
পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং এই কিতাবটিকে আমার নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
হে আমার পরে এই কিতাব পাঠকারী
… আমার প্রচেষ্টার ফল আহরণকারী
আমি সেই দোয়ার মুখাপেক্ষী
… যা তুমি আমার কবরের অন্ধকারে আমার প্রতি উপহার হিসেবে পাঠাবে
আমি সচ্ছলতার পর নিঃস্ব হয়েছি
… আর জনসমাবেশের পর আমি এখন একাকী
এটি লিখেছেন
খালিল বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদুল্লাহ আল-আরাবি
দোহা - কাতার
সোমবার: ১৪/ ০৬/ ১৪১৯ হিজরি
মোতাবেক: ০৫/ ১০/ ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٢)
كيفية البحث عن تراجم الرواةأولاً: التاكد من صحة اسم الراوي، وأنه لم يقع فيه تصحيف، أو تحريف، أو زيادة، أو سقط، أو قلب.
وهذه أمثلة لأغلب الأسماء التي وقع فيها تغيير من تصحيف، وتحريف، من كتاب "مجمع الزوائد" والتي لم يستطع الهيثمي بسببها الوقوف على تراجم لها.
الخطأ
… الصواب
… الخطأ
… الصواب
إبراهيم
… أزهر
… عبد الحميد
… عبد المجيد
أحمد
… أحمر، حمار
… عبد الوهاب
… عبيد الله
إسحاق
… يحيى
… عبيد الله
… عبد الله
أسعد
… إسحاق
… عتبة
… عقبة، عمير
أمية
… بنية
… عمر
… عمرو، عمير
جابر
… حاتم
… عمرو
… عمر
بشر
… سبرة
… عمير
… عبيد
بن
… عن
… عدي
… يحيى
جبير
… جنين
… عن
… بن
حازم
… خازم
… عيسى
… يحيى
حسان
… غسان
… عياش
… عباد
حسن
… حبيب
… عيينة
… عنبسة
حطان
… خطاب
… القاسم
… الهيثم
زكوان
… داود
… محدر
… محرر
زيد
… بدر، يزيد
… محمد
… بحر
বর্ণনাকারীদের জীবনী অনুসন্ধান করার পদ্ধতিপ্রথমত: বর্ণনাকারীর নামের সঠিকতা নিশ্চিত করা; এবং এতে কোনো ধরনের নোকতার ভুল (তাসহিফ), অক্ষরের বিকৃতি (তাহরিফ), সংযোজন, বিয়োজন কিংবা ওলটপালট ঘটেনি তা নিশ্চিত করা।
এগুলো হলো 'মাজমাউজ যাওয়াইদ' গ্রন্থে তাসহিফ ও তাহরিফের কারণে পরিবর্তিত হওয়া অধিকাংশ নামের উদাহরণ, যেগুলোর কারণে আল-হাইসামি তাদের জীবনী খুঁজে পেতে সক্ষম হননি।
ভুল
… সঠিক
… ভুল
… সঠিক
ইব্রাহিম
… আজহার
… আব্দুল হামিদ
… আব্দুল মাজিদ
আহমাদ
… আহমার, হিমার
… আব্দুল ওয়াহহাব
… উবায়দুল্লাহ
ইসহাক
… ইয়াহইয়া
… উবায়দুল্লাহ
… আব্দুল্লাহ
আসআদ
… ইসহাক
… উতবাহ
… উকবাহ, উমায়র
উমাইয়াহ
… বুনাইয়াহ
… উমর
… আমর, উমায়র
জাবির
… হাতিম
… আমর
… উমর
বিশর
… সাবরাহ
… উমায়র
… উবায়েদ
বিন
… আন
… আদিয়্য
… ইয়াহইয়া
জুবায়ের
… জুনাইন
… আন
… বিন
হাজিম
… খাজিম
… ঈসা
… ইয়াহইয়া
হাসান
… গাসসান
… আইয়াশ
… আব্বাদ
হাসান
… হাবিব
… উয়াইনাহ
… আনবাসাহ
হিততান
… খাত্তাব
… আল-কাসিম
… আল-হাইসাম
জাকওয়ান
… দাউদ
… মুহাদ্দির
… মুহাররার
জায়েদ
… বদর, ইয়াজিদ
… মুহাম্মাদ
… বাহর
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الخطأ
… الصواب
… الخطأ
… الصواب
سعد
… سعيد (والعكس)
… مروان
… مرزوق
سلمة
… مسلم
… معتمر
… محمد
سميرة
… شميلة
… معلى
… محمد
شعبة
… شيبة
… مهدي
… مرة
شعيب
… شعبة
… وهب
… موهب
شهيد
… حبيب
… يحيى
… بحر، الجزار، جميل، محمد
عامر
… غابر
… يزيد
… ثوبر
عباس
… عياش
… يسار
… بشار
عبد الله
… عبيد الله
ومن أيسر السبل للتأكد من عدم وقوع تغيّر في اسم الراوي:
أ - البحث عنه في ترجمة شيخه في الرواة عنه.
ب- البحث عنه في شيوخ تلميذه الذي روي عنه.
ج- البحث عن حديثه في مصدر آخر بشرط أن يكون مرويًا بنفس السند، أو ببعضه، على أن يكون مذكورًا فيه.
وأنا أذكر هنا مثالاً تطبيقًا لما ذكرنا: جاء في الجزء الثالث -تجزئة الأصل -من كتاب: "التاريخ الكبير" (1) للإمام البخاري رحمه الله ما يلي:
"حدثنا علي بن يحيى، نا جابر بن إسماعيل مولى المودير، عن عبد الرحمن".
وهذا السند -من أوله إلى آخره- كله محرف، وبيانه كالآتي:
--------------------------------------------
ভুল
… সঠিক
… ভুল
… সঠিক
সা'দ
… সাঈদ (এবং এর বিপরীত)
… মারওয়ান
… মারযুক
সালামাহ
… মুসলিম
… মুতামির
… মুহাম্মাদ
সামীরাহ
… শুমাইলাহ
… মুআল্লা
… মুহাম্মাদ
শু'বাহ
… শাইবাহ
… মাহদী
… মুররাহ
শুআইব
… শু'বাহ
… ওয়াহাব
… মাওহাব
শাহীদ
… হাবীব
… ইয়াহইয়া
… বাহর, আল-জাযযার, জামীল, মুহাম্মাদ
আমির
… গাবির
… ইয়াযীদ
… সাউবার
আব্বাস
… আইয়াশ
… ইয়াসার
… বাশশার
আবদুল্লাহ
… উবাইদুল্লাহ
বর্ণনাকারীর নামে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার অন্যতম সহজ উপায় হলো:
ক- তার উস্তাদের জীবনবৃত্তান্তের অধীনে তার থেকে যারা বর্ণনা করেছেন (তিলমিয) তাদের মধ্যে তাকে অনুসন্ধান করা।
খ- তার ছাত্রের উস্তাদদের (শুয়ুখ) তালিকায় তাকে অনুসন্ধান করা।
গ- অন্য কোনো উৎসে তার বর্ণিত হাদিসটি অনুসন্ধান করা, তবে শর্ত হলো তা একই সনদে অথবা সনদের অংশবিশেষের মাধ্যমে বর্ণিত হতে হবে এবং সেখানে তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
আমরা যা উল্লেখ করেছি তার একটি প্রায়োগিক উদাহরণ এখানে তুলে ধরছি: ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর 'আত-তারীখুল কাবীর' (১) গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে (মূল পাণ্ডুলিপির বিভাজন অনুযায়ী) নিম্নোক্ত বর্ণনাটি এসেছে:
"আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাবির বিন ইসমাঈল মাওলা আল-মুদীর, তিনি আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন।"
এই সনদটি—এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—পুরোটাই বিকৃত (মুহাররাফ), যার ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٤)
1 - قوله: "حدثنا علي بن يحيى" تحريف، وصوابه: علي بن بحر، وهو ابن بري القطان، أبو الحسن البغدادي، روى عن حاتم بن إسماعيل -شيخه في هذا السند- على ما سيأتي بيانه (1).
2 - قوله: "جابر بن إسماعيل مولى المودير" تحريف أيضًا، وصوابه: حاتم بن إسماعيل، وهو أبو إسماعيل المدني، وقد جاء على الصواب عند ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" (2) لمَّا ذكر إسناد هذه الرواية في ترجمة غنام والد عبد الرحمن بن غنام.
3 - قوله: "مولى المودير" وجعلها المحقق نسبة لجابر بن إسماعيل، وهذا وهم شديد ناتج عن السقط في السند، وعدم الإتقان في قراءة المخطوط، فقوله: "المودير" تحريف، وصوابه: "المؤذن" وهذه النسبة لإسماعيل المؤذن، فصواب السند: "علي بن بكر، نا حاتم بن إسماعيل، عن إسماعيل المؤذن مولى عبد الرحمن بن غنام، عن عبد الرحمن".
هكذا جاء السند بتمامه على الصواب في "الإصابة" (3) للحافظ ابن حجر رحمه الله وببعضه عند ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" (4).
إلا أنه تجدر الإشارة للباحث بألا ينخدع بإتيان اسم الراوي في أكثر من مصدر بنفس الاسم، ولا سيما وأن هذه المصادر المتنوعة لمصنف واحد، وذلك أنه قد يهم ذلك المصنف نفسه في اسم هذا الراوي فيورده في تصانيفه كلها على الخطأ، وانظر مثالاً لذلك في ترجمة يونس بن بكير من هذا الكتاب.
ومسألة التغيير في اسم الراوي سواء كان من تصحيف، أو تحريف، أو قلب لم يسلم منها كثير من أئمة هذا الشأن؛ لأنها -كما قال الإمام عبد الغني
--------------------------------------------
১ - তাঁর বক্তব্য: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন ইয়াহইয়া" এটি একটি বিকৃতি, আর এর সঠিক রূপ হলো: আলী বিন বাহর; আর তিনি হলেন ইবনুল বাররি আল-কাত্তান, আবুল হাসান আল-বাগদাদী। তিনি হাতেম বিন ইসমাইল —যিনি এই সনদে তাঁর উস্তাদ— থেকে বর্ণনা করেছেন, যার বর্ণনা সামনে আসবে (১)।
২ - তাঁর বক্তব্য: "জাবের বিন ইসমাইল মাওলা আল-মুদির" এটিও একটি বিকৃতি, এর সঠিক রূপ হলো: হাতেম বিন ইসমাইল, আর তিনি হলেন আবু ইসমাইল আল-মাদানি। ইবনে আবি হাতেমের নিকট "আল-জারহু ওয়াত তা'দীল" (২) গ্রন্থে এটি সঠিকভাবে এসেছে যখন তিনি আব্দুর রহমান বিন গান্নামের পিতা গান্নামের জীবনীতে এই বর্ণনার সনদ উল্লেখ করেছেন।
৩ - তাঁর বক্তব্য: "মাওলা আল-মুদির" এবং মুহাক্কিক একে জাবের বিন ইসমাইলের নিসবত (সম্বন্ধ) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; এটি একটি মারাত্মক ভুল যা সনদে কোনো অংশ বাদ পড়া এবং পাণ্ডুলিপি পাঠে নিপুণতার অভাব থেকে তৈরি হয়েছে। সুতরাং তাঁর উক্তি "আল-মুদির" একটি বিকৃতি এবং এর সঠিক রূপ হলো: "আল-মুয়াযযিন"। আর এই নিসবতটি ইসমাইল আল-মুয়াযযিনের প্রতি। অতএব সনদের সঠিক রূপ হলো: "আলী বিন বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতেম বিন ইসমাইল, তিনি ইসমাইল আল-মুয়াযযিন থেকে, যিনি আব্দুর রহমান বিন গান্নামের মুক্তদাস, তিনি আব্দুর রহমান থেকে।"
এভাবেই হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আল-ইসাবাহ" (৩) গ্রন্থে সম্পূর্ণ সনদটি সঠিকভাবে এসেছে এবং এর কিয়দাংশ ইবনে আবি হাতেমের "আল-জারহু ওয়াত তা'দীল" (৪) গ্রন্থে এসেছে।
তবে গবেষকের জন্য এটি লক্ষ্য রাখা জরুরি যে, একই নামে একাধিক উৎসে রাবীর নাম দেখে যেন তিনি বিভ্রান্ত না হন, বিশেষ করে যখন এই বিভিন্ন উৎসগুলো একজন লেখকেরই হয়ে থাকে; কারণ এমন হতে পারে যে সেই লেখক নিজেই এই রাবীর নামের ব্যাপারে ভুল করেছেন এবং তাঁর সকল কিতাবেই তা ভুলভাবে উল্লেখ করেছেন। এই গ্রন্থের ইউনুস বিন বুকাইরের জীবনীতে এর একটি উদাহরণ দেখুন।
রাবীর নামের পরিবর্তনের বিষয়টি, চাই তা বর্ণবিভ্রাট (তাসহিফ), বিকৃতি (তাহরিফ) বা ওলটপালট (কালব) যাই হোক না কেন, এই শাস্ত্রের অনেক ইমামই তা থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি; কেননা এটি— যেমনটি ইমাম আব্দুল গনি বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الأزدي في مقدمة كتابه "المؤتلف"-: "شيء لا يدخله القياس، ولا قبله شيء، ولا بعده شيء يدل عليه".
ولهذا قال الإِمام أحمد رحمه الله: "ومن يعرى عن الخطأ والتصحيف؟ ".
ومن أعجب ما وقفت عليه في ذلك ما وقع للإمام أبي حاتم الرازي رحمه الله في كتابه "علل الحديث" (1) لما سأله ابنه عن حديث رواه محمَّد بن أبي موسى الأنطاكي، عن حجاج بن محمَّد، عن ابن جريج قال: أخبرني زياد بن حميد، عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "خير ما تداويتم به الحجامة
… " الحديث.
ثم قال ابن أبي حاتم: قال أبي: "زياد لا يدرى من هو، وإنما يروى هذا الحديث عن حميد، عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم".
قلت: والاسم تَصَحَّف هنا على الإِمام أبي حاتم رحمه الله وصوابه: زياد، عن حميد، عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم، فتصحفت "عن" إلى "بن" فلم يعرفه، وزياد هذا هو ابن سعد بن عبد الرحمن الخراساني، وثقه أبو حاتم نفسه (2).
وقد جاء الحديث على الصواب عند النسائي في "الكبرى" (3) من طريق ابن جريج قال: أخبرني زياد بن سعد، عن حميد الطويل به.
ثانيًا: وإذا تيقنا أن اسم هذا الراوي لم يقع فيه أي شكل من أشكال التغيير، وكان مذكورًا بكنيته، أو بنسبته، أو باسمه فقط دون ذكر باقي نسبه فتختلف طرق البحث عنه بحسب مجيئه في السند على نحو ما يأتي:
أ- كأن يروي -في هذا السند بعينه- عن شيخ مقل في رواية الحديث، فهذا الشيخ -في الغالب- الرواة عنه محصورون ومذكورون في ترجمته.
--------------------------------------------
আল-আযদি তাঁর 'আল-মু'তালিফ' কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "এটি এমন একটি বিষয় যেখানে কিয়াস (অনুমান) চলে না, এর আগে এমন কিছু নেই এবং এর পরে এমন কিছু নেই যা এর প্রতি নির্দেশ করে।"
এই কারণেই ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ভুল এবং তাসহিফ (শব্দ বিভ্রাট) থেকে কে মুক্ত?"
এ ব্যাপারে আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো ইমাম আবু হাতিম আর-রাজি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে তাঁর 'ইলালুল হাদিস' গ্রন্থে (১) যা ঘটেছে, যখন তাঁর পুত্র তাঁকে মুহাম্মদ বিন আবি মুসা আল-আনতাকি কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যা হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে যিয়াদ বিন হুমাইদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করো তার মধ্যে হিজামা (রক্তমোক্ষণ) হলো সর্বোত্তম..." (হাদিসের বাকি অংশ)।
অতঃপর ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমার পিতা বলেছেন: "যিয়াদ কে তা জানা নেই; মূলত এই হাদিসটি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে।"
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এখানে ইমাম আবু হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট নামটিতে তাসহিফ (লিখন বিভ্রাট) ঘটেছে এবং সঠিকটি হলো: যিয়াদ, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। এখানে 'আন' (থেকে) শব্দটি 'বিন' (পুত্র) শব্দে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি তাকে চিনতে পারেননি। আর এই যিয়াদ হলেন ইবনে সা'দ বিন আবদুর রহমান আল-খুরাসানি, যাকে আবু হাতিম নিজেই বিশ্বস্ত বলে অভিহিত করেছেন (২)।
হাদিসটি সঠিকরূপে নাসাঈ-এর 'আল-কুবরা'-তে বর্ণিত হয়েছে (৩) ইবনে জুরাইজের সূত্রে, তিনি বলেন: আমাকে যিয়াদ বিন সা'দ সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ আত-তাবিল থেকে... (অনুরূপ)।
দ্বিতীয়ত: যখন আমরা নিশ্চিত হই যে এই রাবির (বর্ণনাকারী) নামে কোনো ধরণের পরিবর্তন ঘটেনি এবং তাঁর উপনাম, তাঁর নিসবাত (সম্পৃক্ততা) অথবা কেবল তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর বংশলতিকার বাকি অংশ উল্লেখ না করেই, তখন সনদে তাঁর আসার ধরণ অনুযায়ী তাঁকে খোঁজার পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়, যা নিম্নরূপ:
ক- যেমন যদি তিনি এই সুনির্দিষ্ট সনদে এমন একজন শাইখ থেকে বর্ণনা করেন যার হাদিস বর্ণনা খুবই কম, তবে সাধারণত এই শাইখ থেকে বর্ণনাকারীরা সীমাবদ্ধ থাকে এবং তাঁর জীবনীগ্রন্থে তাঁদের নাম উল্লেখ থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ب- أو يكون اسمه، أو كنيته، أو نسبته من المتشابهات، فيجدر على الباحث هنا ألا يغفل عن البحث في المصنفات المعنية بالمتشابه، وهي كثيرة، ومنها: "المؤتلف والمختلف" للدراقطني، و"الإكمال" لابن ماكولا -وهو أجمع ما صُنِّف في ذلك- "المشتبه" للإمام الذهبي، و"توضيحه" لابن ناصر الدين الدمشقي، وغير ذلك الكثير.
ج- أو يذكر بكنيته فقط، فيتجه البحث وقتها في المصنفات الخاصة بكنى الرواة، ومنها: "كنى" البخاري، وابن أبي حاتم المذكورين في آخر كتابيهما، و"كنى" مسلم، وأبي أحمد الحاكم، والدولابي، وغيره.
د- أو يذكر بنسبته فقط، فيبحث عنه في كتب الأنساب، ومن أجمعها كتاب: "الأنساب" للسمعاني، على إعواز فيه كبير.
هـ - أو أن يكون منسوبًا لجده، وهنا ينبغي على الباحث أن يتفطن لذلك، فكم من محدّث كبير وقع له اسم راوٍ في سندٍ ما منسوبًا لجده فلم يعرفه.
وقد وجدت من إخواننا المشتغلين بعلم الحديث من ذلك الكثير، فتوفرت لي الهمَّة أن أجمع أسماء الرواة الذين يذكرون في الأسانيد منسوبين لأجدادهم دون ذكر آبائهم، وقد تحصل لي من ذلك الكثير، سواء من رواة التهذيب أو من غيره، وسوف أصدره -إن شاء الله تعالى- في مصنف مستقل باسم: "من نسب إلى جده من رواة الأحاديث".
و- إمعان النظر في رواة السند -عامة-، وفي شيخ هذا الراوي- محل البحث-، ومن روي عنه -خاصة-، وننظر إلى أي بلد، أو محلة ينتسبون إليها؛ فإن كان الإسناد شاميًا، فيجب البحث عنه في كتاب "تاريخ دمشق"، وإن كان بغداديًا، فيبحث عنه في "تاريخ بغداد"، وهكذا.
ولا سيما إن كان شيخ هذا الراوي معروفًا عنه باختصاص أهل محلة، أو بلدة معينة بالرواية عنه دون غيرهم.
খ- অথবা তার নাম, উপনাম, কিংবা বংশীয় পরিচয় বা নিসবত 'মুতাশাবিহ' (সদৃশ নামসমূহ) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এক্ষেত্রে গবেষকের জন্য সমীচীন হবে মুতাশাবিহ বিষয়ক রচিত গ্রন্থাবলিতে অনুসন্ধান করার ব্যাপারে গাফেল না হওয়া। আর এই বিষয়ের গ্রন্থ অনেক, যার মধ্যে অন্যতম হলো: আদ-দারা কুতনী রচিত "আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ", ইবনে মাকুলা রচিত "আল-ইকমাল" -যা এই বিষয়ে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মাঝে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ-, ইমাম আয-যাহাবী রচিত "আল-মুশতাবিহ" এবং ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকী রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "তাওদীহ", এ ছাড়াও আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
গ- অথবা তাকে কেবল তার উপনামের মাধ্যমে উল্লেখ করা। এমতাবস্থায় বর্ণনাকারীদের উপনাম বিষয়ক বিশেষায়িত গ্রন্থাবলিতে অনুসন্ধান করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: ইমাম বুখারী ও ইবনে আবী হাতিমের "কুনা" (যা তাদের উভয় কিতাবের শেষে বর্ণিত হয়েছে), এবং ইমাম মুসলিম, আবু আহমদ আল-হাকিম, আদ-দুলাবী প্রমুখের "কুনা" গ্রন্থসমূহ।
ঘ- অথবা তাকে কেবল তার নিসবত বা সম্বন্ধের মাধ্যমে উল্লেখ করা। এমতাবস্থায় বংশপরিচয় বিষয়ক গ্রন্থসমূহে তাকে খুঁজতে হবে। এই বিষয়ের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থসমূহের একটি হলো আস-সাম’আনী রচিত "আল-আনসাব", যদিও তাতে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ঙ- অথবা তাকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করা। এখানে গবেষকের অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত; কারণ অনেক বড় বড় মুহাদ্দিস এমন হয়েছেন যে, কোনো সনদে কোনো বর্ণনাকারীর নাম তার দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় পাওয়ার কারণে তিনি তাকে চিনতে পারেননি।
আমি হাদীস শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকা আমাদের ভাইদের মাঝে এমন ঘটনা প্রচুর দেখতে পেয়েছি। ফলে আমার মাঝে এই সংকল্প জাগ্রত হয়েছে যে, আমি ঐসব বর্ণনাকারীদের নাম একত্রিত করব যাদেরকে সনদে তাদের পিতার নাম উল্লেখ না করে সরাসরি দাদার দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করা হয়। আর এ বিষয়ে আমি অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি, চাই তা ‘তাহযীব’ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের থেকে হোক বা অন্যদের থেকে। ইনশাআল্লাহ তা’আলা অচিরেই আমি এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করব যার নাম হবে: "মান নুসিবা ইলা জাদ্দিহি মিন রুওয়াতিল আহাদীস" (হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা তাদের দাদার দিকে সম্বন্ধিত হয়েছেন)।
চ- সাধারণভাবে সনদের সকল বর্ণনাকারীর প্রতি এবং বিশেষভাবে গবেষণাধীন এই বর্ণনাকারীর উস্তাদ ও তার থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করা। এছাড়া তারা কোন শহর বা কোন জনপদের অধিবাসী তাও লক্ষ্য করতে হবে। যদি সনদটি সিরীয় (শামী) হয়, তবে তাকে "তারীখে দিমাশক" গ্রন্থে অনুসন্ধান করা আবশ্যক। আর যদি বাগদাদী হয়, তবে তাকে "তারীখে বাগদাদ" গ্রন্থে অনুসন্ধান করতে হবে; এভাবেই অন্যান্য শহর বা অঞ্চলের ক্ষেত্রেও করতে হবে।
বিশেষ করে যদি সেই বর্ণনাকারীর উস্তাদ এমন ব্যক্তি হন যিনি কেবল নির্দিষ্ট একটি জনপদ বা শহরের অধিবাসীদের কাছেই হাদীস বর্ণনার জন্য পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وكذلك الحال فيمن روي عنه، فلعله لم تكن له رحلة، واكتفى بالرواية عن أهل بلده، أو الواردين إليها فقط.
ز- معرفة سنة وفاة هذا الراوي، كأن يصرح أحد الرواة عنه بأنه روي عنه في سنة معينة، فيبحث عنه في المصنفات التي صنفت على السنين، مثل كتاب ابن زبر الربعي، والبغوي، وتاريخ الإسلام للذهبي.
ح- وإذا لم نستطع الوقوف على سنة وفاته أو ما قاربها، فيبحث عنه في طبقة الرواة عن شيخه، ومن المصنفات الخاصة بطبقات الرواة: "طبقات" ابن سعد، "طبقات" خليفة العصفري، "ثقات" ابن حبان، و"السير" للذهبي، وغير ذلك الكثير.
وذلك كأن يكون شيخ الراوي -محل البحث- من التابعين مثلًا فيبحث عنه في طبقة أتباع التابعين، وهكذا.
ومعرفة زمن وفاة الراوي وطبقته من الضروري بمكان، فلا يليق بالباحث مثلًا أن يبحث عن ترجمة لشيخ من شيوخ البيهقي أو الحاكم في تاريخ البخاري الكبير، أو "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم، وغيرهما من كتب المتقدمين.
وعليه، فيجب الإلمام بتاريخ وفيات أصحاب الكتب المصنفة في "الجرح والتعديل"، حتى لا يتطرق البحث فيها عن راوٍ في طبقه أقل من طبقة صاحب الكتاب المراد البحث فيه.
ط- أن يكون في السند أحد الرواة المشهورين الذين اهتم من جاء بعدهم بجمع مروياتهم في أجزاء خاصة بهم، وهي كثيرة جدًا، أذكر منها على سبيل المثال لا الحصر:
1 - جزء الحسن بن عرفة.
2 - من اسمه عطاء من أصحاب الحديث.
3 - جزء تسمية ما انتهى إلينا من الرواة عن سعيد بن منصور عاليًا لأبي نعيم الأصبهاني.
এবং যাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য, হতে পারে তিনি কোনো ইলমী সফর করেননি এবং তিনি কেবল নিজ শহরের অধিবাসী অথবা সেখানে আগন্তুকদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার ওপরই সন্তুষ্ট ছিলেন।
ছ- এই রাবীর মৃত্যুর সাল জানা; যেমন কোনো রাবী তার থেকে বর্ণনা করার সময় উল্লেখ করলেন যে তিনি অমুক নির্দিষ্ট সালে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন তাকে এমন সব সংকলন গ্রন্থে অনুসন্ধান করতে হবে যা বছর অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেমন: ইবনে জাবর আল-রাবঈ ও আল-বাগাওয়ীর কিতাব এবং আয-যাহাবীর "তারীখুল ইসলাম"।
জ- যদি আমরা তার মৃত্যুর সাল বা এর কাছাকাছি সময় জানতে না পারি, তবে তাকে তার শাইখের (শিক্ষক) থেকে বর্ণনা করা রাবীদের স্তরে (তাবাকাত) অনুসন্ধান করতে হবে। আর রাবীদের স্তর বিষয়ক বিশেষ গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ইবনে সা'দের "তাবাকাত", খলিফা আল-উসফুরীর "তাবাকাত", ইবনে হিব্বানের "থিকাত" এবং আয-যাহাবীর "আস-সিয়ার" সহ আরও অনেক।
আর তা এমনভাবে যে, গবেষণাধীন রাবীর শাইখ যদি উদাহরণস্বরূপ তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তাকে তাবে-তাবেঈদের স্তরে অনুসন্ধান করতে হবে, আর এভাবেই চলবে।
রাবীর মৃত্যুর সময় এবং তার স্তর (তাবাকাত) জানা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। কেননা, কোনো গবেষকের জন্য এটি সংগত নয় যে, তিনি ইমাম আল-বায়হাকী অথবা ইমাম আল-হাকিমের কোনো একজন শাইখের জীবনী ইমাম আল-বুখারীর "আত-তারীখুল কাবীর" অথবা ইবনে আবী হাতিমের "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" কিংবা পূর্ববর্তী উলামাদের অন্য কোনো কিতাবে তালাশ করবেন।
সে হিসেবে, "জারহ ওয়াত-তাদীল" বিষয়ক কিতাবসমূহের রচয়িতাদের মৃত্যুর সাল সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক, যাতে করে এমন কোনো রাবীর সন্ধান সেখানে না করা হয় যার স্তর কিতাবের লেখকের স্তরের চেয়েও পরবর্তী সময়ের।
ঝ- সনদে এমন কোনো প্রসিদ্ধ রাবী থাকা যাদের বর্ণনাগুলো পরবর্তীকালের আলেমগণ তাদের জন্য নিবেদিত বিশেষ 'জুয' (অংশ) হিসেবে সংকলন করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। এগুলো সংখ্যায় অনেক, উদাহরণস্বরূপ আমি কিছু উল্লেখ করছি:
১ - আল-হাসান বিন আরাফাহ-এর জুয।
২ - হাদীস বিশারদদের মধ্যে যাদের নাম আতা।
৩ - আবু নুআইম আল-আসফাহানী কর্তৃক সংকলিত সাঈদ বিন মানসুর থেকে উচ্চ সনদে বর্ণিত রাবীদের নামকরণ সংক্রান্ত জুয।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٨)
4 - جزء فيه أحاديث نافع بن أبي نعيم لأبي بكر المقرئ.
5 - مسانيد فراس بن يحيى لأبي نعيم الأصبهاني.
6 - جزء ما رواه أبو الزبير عن غير جابر.
7 - جزء فيه أحاديث أبي الشيخ الأصبهاني، انتقاء ابن مردويه.
ي- وكذلك الحال في كتب معاجم الشيوخ؛ كمعجم ابن الأعرابي، وابن المقرئ، ومشيخة ابن طهمان، وابن جميع الصيداوي، و"الأوسط" و"الصغير" للطبراني.
ثالثًا: أن يشترك راويان في الاسم، واسم الأب، وفي الرواية عن شيخ معيّن، وهذا من أصعب الأمور وأدقها في التمييز بين الرواة، وخاصة إن كان أحدهما ثقة، والآخر ضعيفًا، فكيف السبيل حينئذ للتمييز بينهما؟.
للإجابة عن هذا السؤال يجب اتباع ما يلي:
1 - النظر إلى الراوي عنهما، ومن خلال ذلك ستحل كثير من العقبات، وذلك:
* كأن يكون هذا الراوي معروفًا بالرواية عن أحدهما دون الآخر.
* أن يكون معروفًا بالرواية عن أهل بلدة معينة دون غيرها، ويكون أحد هذين الراويين ينسب إلى هذه البلدة.
* أن يكون معروفًا بالرواية عن الثقات فقط دون غيرهم.
إلا أن حلول هذه العقبات كلها قد تتعثر، وتتلاشى مع أدراج الرياح إذا وجدنا أن هذا الراوي يروي عن كل واحد منهما. ووقتها ستزداد المسألة صعوبة، وانظر في ذلك -على سبيل المثال-، ترجمة عبد الكريم الجزري من كتاب: "سير أعلام النبلاء" للحافظ الذهبي (6/ 83).
وأمثلة ذلك من الرواة وقعت لي كثيراً، وكنت أدوّن ما وقع لي من ذلك في كراس خاصة، وأخذها مني بعضهم لكي يصور له منها نسخة، ثم لما طلبتها منه ادعى فقدانها قبل أن يصورها، والله تعالى المستعان.
৪ - আবু বকর আল-মুকরির সংকলিত নাফে ইবনে আবি নুয়াইমের হাদিস সংবলিত একটি জুয (পুস্তিকা)।
৫ - আবু নুয়াইম আল-আসবাহানি সংকলিত ফিরাস ইবনে ইয়াহইয়ার মুসনাদসমূহ।
৬ - জাবির (রা.) ব্যতীত অন্যদের থেকে আবুয যুবায়র কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের জুয।
৭ - ইবনে মারদুওয়াইহ কর্তৃক নির্বাচিত আবুশ শায়খ আল-আসবাহানির হাদিস সংবলিত একটি জুয।
ই- অনুরূপভাবে মা'আজিমুশ শুয়ুখ (শিক্ষকদের অভিধান) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর অবস্থাও এমনই; যেমন: ইবনুল আ'রাবি ও ইবনুল মুকরির মু'জাম, ইবনে তাহমানের মাশইয়াখাহ, ইবনে জামি' আস-সাইদাবির মু'জাম এবং তাবারানির "আল-আওসাত" ও "আস-সগির"।
তৃতীয়ত: দুইজন বর্ণনাকারীর (রাবি) নাম, তাদের পিতার নাম এবং নির্দিষ্ট একজন শিক্ষকের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে মিল থাকা। বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম কঠিন ও সূক্ষ্ম একটি বিষয়, বিশেষ করে যদি তাদের একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং অন্যজন দুর্বল হন। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে পার্থক্য করার উপায় কী?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করা আবশ্যক:
১ - তাদের উভয়ের থেকে বর্ণনাকারী ছাত্রের দিকে লক্ষ্য করা; এর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হবে, যেমন:
* যেমন, এই বর্ণনাকারী (ছাত্র) তাদের একজনের থেকে বর্ণনা করার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়া, অন্যজনের থেকে নয়।
* অথবা তিনি কোনো নির্দিষ্ট শহরের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনা করার জন্য পরিচিত হওয়া এবং এই দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজন সেই শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া।
* অথবা তিনি কেবলমাত্র নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করার জন্য সুপরিচিত হওয়া।
তবে এই সমস্ত সমাধানই বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং বিফল হয়ে যেতে পারে যদি আমরা দেখতে পাই যে, এই বর্ণনাকারী (ছাত্র) তাদের উভয়ের থেকেই বর্ণনা করেন। সেক্ষেত্রে বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে পড়বে। উদাহরণস্বরূপ হাফেজ জাহাবির 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৬/৮৩) গ্রন্থে আব্দুল কারিম আল-জাযারির জীবনী দেখুন।
বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে এমন উদাহরণ আমার সামনে অনেক এসেছে এবং আমি সেগুলো একটি বিশেষ নোটখাতায় লিখে রাখতাম। কেউ একজন ফটোকপি করার জন্য সেটি আমার কাছ থেকে নিয়েছিলেন, কিন্তু পরে যখন আমি তা ফেরত চাইলাম, তিনি দাবি করলেন যে ফটোকপি করার আগেই সেটি হারিয়ে গেছে। আর আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্যস্থল।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وقد كنت تألمت كثيراً بسبب فقدان هذا الكراس، حيث إني لم أجد من العلماء السابقين مَنْ أفرد لهذا النوع من الرواة مصنفًا خاصًا لأهميته الكبرى، إلا بعض النماذج القليلة التي أتت إلينا، ومنها ما جاء في كتاب: "المعجم في مشتبه أسامي المحدثين" لأبي الفضل الهروي، وما أورده تاج الدين السبكي في "طبقاته" (10/ 406) عن الإمام المزي، والفصل الذي عقده الحافظ الذهبي في آخر ترجمة حماد بن زيد من كتابه: "السير" (7/ 464 - 466) ولكنها أبحاث قليلة، لا تشفي عليلًا.
2 - وإذا لم نستطع أن نميِّز أحد الراويين منهما بإحدى الطرق السابقة ننظر إلى صاحب التصنيف الذي أخرج هذه الرواية في مصنفه، فإن كان معروفًا عنه أنه أخرج لأحد هذين الراويين دون الآخر، أو أنه اشترط ألا يخرج في مصنفه إلا الثقات فقط دون غيرهم استطعنا التمييز بينهما.
3 - كثرة البحث والتفتيش عن إسناد هذه الرواية في مصدر آخر مخرج فيه، فلعله نسب فيه بشيء زائدٍ يكون دليلًا للتمييز بينهما.
4 - وأما إذا كان هذان الراويان ثقتين، أو ضعيفين بدرجة متقاربة في الضعف، فالخطب حينئذٍ سهل، حيث يمكن الحكم على الرواية بالصحة في حالة ثبوت ثقة كل واحد منهما، أو الضعف في حالة ضعفهما جميعًا.
رابعًا: أن يكون الراوي من نسل مشهور اعتنت كتب الأنساب بإيراد هذا النسل فيها، كأن يكون مثلًا من نسل مشاهير الصحابة رضي الله عنهم كالعشرة المبشرين بالجنة، وأهل البيت، والخلفاء من بني أُميّة، وبني العباس، وغيرهم، ومن أشهر الكتب في ذلك: "المعرفة" لابن قتيبة، و"طبقات" ابن سعد، و"طبقات" خليفة العصفري، و"جمهرة" ابن حزم، وغيرهم.
خامسًا: التأكد من عدم انقلاب اسم الراوي، وهذه المسألة وقع فيها بعض كبار أهل العلم حيث انقلب عليهم أسماء رواة، فلم يعرفوهم، ومنهم - على سبيل المثال-: ابن أبي حاتم الرازي رحمه الله، فقد ترجم في "الجرح
এই পুস্তিকাটি হারিয়ে যাওয়ার কারণে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলাম, কেননা আমি পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি এই ধরনের বর্ণনাকারীদের জন্য তাদের অধিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, কেবল আমাদের কাছে পৌঁছানো অল্প কিছু নমুনা ব্যতীত। তার মধ্যে রয়েছে: আবু আল-ফাদল আল-হারাবীর "আল-মু'জাম ফী মুশতাবিহি আসামী আল-মুহাদ্দিসীন" কিতাবে যা এসেছে, এবং তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর "তাবাকাত" (১০/৪০৬) গ্রন্থে ইমাম আল-মিযযী থেকে যা উল্লেখ করেছেন, এবং হাফেজ আয-যাহাবী তাঁর কিতাব "আস-সিয়ার" (৭/৪৬৪-৪৬৬)-এ হাম্মাদ ইবনে যায়েদের জীবনীর শেষে যে পরিচ্ছেদটি রচনা করেছেন; তবে এগুলো সামান্য গবেষণা মাত্র, যা কোনো পিপাসার্তের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
২ - আর যদি আমরা পূর্ববর্তী পদ্ধতিগুলোর কোনোটির মাধ্যমে উক্ত দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম না হই, তবে আমরা সেই গ্রন্থকারের দিকে লক্ষ্য করব যিনি তাঁর গ্রন্থে এই বর্ণনাটি সংকলন করেছেন; যদি তাঁর সম্পর্কে এমনটি জানা থাকে যে, তিনি এই দুই বর্ণনাকারীর কেবল একজনের থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করেন অন্যজনের থেকে নয়, অথবা তিনি যদি এই শর্তারোপ করে থাকেন যে তিনি তাঁর গ্রন্থে কেবল নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবীদের বর্ণনা ছাড়া অন্য কারো বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করবেন না, তবে আমরা এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
৩ - অন্য কোনো উৎসে যেখানে এই বর্ণনাটি সংকলিত হয়েছে, সেখানে এর সনদের ব্যাপারে অধিকতর অনুসন্ধান ও তদন্ত করা; হতে পারে সেখানে তাঁর নামের সাথে অতিরিক্ত কিছু যুক্ত হয়েছে যা তাদের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে দলিল হতে পারে।
৪ - আর যদি এই দুই বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য হন, অথবা উভয়েই দুর্বলতার কাছাকাছি স্তরের দুর্বল হন, তবে বিষয়টি তখন সহজ। এমতাবস্থায় প্রত্যেকের নির্ভরযোগ্যতা সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতে বর্ণনাটি সহীহ হওয়ার অথবা উভয়েই দুর্বল হওয়ার ভিত্তিতে যঈফ হওয়ার হুকুম দেওয়া সম্ভব।
চতুর্থত: বর্ণনাকারী যেন এমন কোনো প্রসিদ্ধ বংশের হন যার বর্ণনা নসবনামা বা বংশপরিচয় বিষয়ক গ্রন্থসমূহ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। যেমন তিনি যদি প্রসিদ্ধ সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের বংশধর হন, যেমন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন (আশারায়ে মুবাশশারা), আহলে বাইত, বনু উমাইয়া ও বনু আব্বাসের খলিফাগণ এবং অন্যান্যরা। এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইবনে কুতায়বার "আল-মা'রিফা", ইবনে সা'দের "তাবাকাত", খলিফা আল-উসফুরীর "তাবাকাত", ইবনে হাজমের "জামহারা" এবং অন্যান্য।
পঞ্চমত: বর্ণনাকারীর নাম উল্টে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এটি এমন একটি বিষয় যাতে অনেক বড় বড় আলেমও পতিত হয়েছেন, যেখানে বর্ণনাকারীদের নাম তাদের নিকট উল্টে গিয়েছিল ফলে তারা তাঁদের চিনতে পারেননি। উদাহরণস্বরূপ: ইবনে আবী হাতিম আল-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কথা বলা যায়, তিনি "আল-জারহ..." গ্রন্থে জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والتعديل" (6/ 103) لعمر بن حفص قاضي عمان، ونقل عن أبيه قوله فيه: "ليس بمعروف، وإسناده مجهول".
فتعقبه الحافظ ابن حجر رحمه الله في "اللسان" (5/ 291) بقوله: "وهذا مِمَّا انقلب اسمه على ابن أبي حاتم، والصواب أنه: حفص بن عمر، وهو ابن السائب المخزومي".
ثم نقل عن ابن عساكر قوله: "حديثه مستقيم، وقَلَبَ ابن أبي حاتم اسمه".
ومنهم أيضًا الحافظ أبو الحسن ابن القطان الفاسي، فقد قال في كتابه: "بيان الوهم والإيهام" (3/ 165) رقم (872): "صدقة بن عبيد؛ لا تعرف حاله".
فتعقَّبه ابن حجر في "اللسان" (4/ 188) بقوله: "قد انقلب عليه؛ وإنما هو عبيد بن صدقة، ولا بأس به".
وكذلك انظر ترجمة: عبد الله بن عبد الرحمن، وهشام بن حزام من كتابنا هذا.
سادسًا: التأكد من عدم سقط جزء من اسم الراوي من السند، فلعله يذكر باسم أبيه فقط فلا يعرف، وذلك مثل سعيد، جعفر، ومروان الذهلي من هذا الكتاب.
سابعًا: التأكد من خلو السند من أي راوٍ هالك يهم في ذكر رواة في السند ليس لهم وجود على الحقيقة.
وذلك مثل: الحارث بن سعد، الزبير بن هالة، من كتابنا هذا.
ثامنًا: التأكد من خلو السند من المدلِّسين، ولا سيما أولئك الذين يدلِّسون أسماء الشيوخ، وانظر مثال ذلك: ترجمة كادح بن رحمة من كتاب:
"تعليقات الدارقطني على المجروحين لابن حبان" (225 - 226) و"علل ابن أبي حاتم الرازي" (2/ 392) رقم (2686).
ওয়াত-তাদিল" (৬/ ১০৩) আম্মানের বিচারক উমর বিন হাফস সম্পর্কে, এবং তিনি তার পিতা থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি পরিচিত নন এবং তার সনদ অজ্ঞাত।"
অতঃপর হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) "আল-লিসান" (৫/ ২৯১) গ্রন্থে তার সমালোচনা করে বলেছেন: "এটি এমন একটি বিষয় যেখানে ইবনে আবি হাতিমের নিকট নাম উল্টে গিয়েছে; সঠিকটি হলো: হাফস বিন উমর, আর তিনি হলেন ইবনুল সায়িব আল-মাখজুমি।"
অতঃপর ইবনে আসাকির থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তার হাদিস সঠিক, তবে ইবনে আবি হাতিম তার নাম উল্টে ফেলেছেন।"
তাদের মধ্যে হাফিজ আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান আল-ফাসিও রয়েছেন। তিনি তার কিতাব "বায়ানুল ওয়াহাম ওয়াল ইহহাম" (৩/ ১৬৫) এর ৮৭২ নং ক্রমিকে বলেছেন: "সাদাকাহ বিন উবাইদ; তার অবস্থা জানা নেই।"
ইবনে হাজার "আল-লিসান" (৪/ ১৮৮) গ্রন্থে তার সংশোধনী দিয়ে বলেছেন: "তার নিকট নাম উল্টে গিয়েছে; প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন উবাইদ বিন সাদাকাহ, এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।"
একইভাবে আমাদের এই কিতাব থেকে আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান এবং হিশাম বিন হিজাম-এর জীবনী দেখুন।
ষষ্ঠত: সনদে বর্ণনাকারীর নামের কোনো অংশ বাদ পড়েনি কি না তা নিশ্চিত হওয়া। সম্ভবত তাকে কেবল তার পিতার নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে তিনি অপরিচিত রয়ে গেছেন। যেমন আমাদের এই কিতাবের সাঈদ, জাফর এবং মারওয়ান আদ-দুহলি।
সপ্তমত: সনদটি এমন কোনো চরম দুর্বল বর্ণনাকারী থেকে মুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া, যিনি সনদে এমন বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করার বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হন যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
যেমন আমাদের এই কিতাবের হারিস বিন সাদ এবং যুবাইর বিন হালাহ।
অষ্টমত: সনদটি মুদাল্লিসদের (পরিচয় গোপনকারী) থেকে মুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া, বিশেষ করে যারা তাদের শিক্ষকদের নাম অস্পষ্ট রেখে প্রতারণা করেন। এর উদাহরণ হিসেবে "কাদিহ বিন রাহমাহ"-এর জীবনী দেখুন এই কিতাবগুলো থেকে:
ইবনে হিব্বানের "আল-মাজরুহিন" গ্রন্থের ওপর "আদ-দারাকুতনির টীকা" (২২৫ - ২২৬) এবং ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির "ইলাল" (২/ ৩৯২) নম্বর (২৬৮৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢١)
تاسعًا: التأكد من عدم تطرق زيادة في اسم الراوي، سواء كان في أوله، أو وسطه، أو آخره، وانظر: محمَّد بن إبراهيم بن الوليد، وعمرو بن القاسم من هذا الكتاب. والله أعلم (1).
وثمة طرق أخرى في البحث عن تراجم الرواة، وإنما تتوقف معرفتها على إلمام الباحث، وخبرته الحديثية، والنية متجهة -إن شاء الله تعالى- لإفراد بحث خاص موشَع في ذلك.
والآن فلنشرع في بيان المقصود:
--------------------------------------------
নবমতঃ বর্ণনাকারীর নামের শুরুতে, মধ্যে বা শেষে কোনো অতিরিক্ত অংশ যেন যুক্ত না হয় তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে এই কিতাবের মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-ওয়ালিদ এবং আমর বিন আল-কাসিম এর আলোচনাটি দেখুন। আর আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভালো জানেন (১)।
বর্ণনাকারীদের জীবনী অনুসন্ধানের আরও অন্যান্য পদ্ধতি রয়েছে, তবে সেগুলোর জ্ঞান গবেষকের পাণ্ডিত্য এবং হাদিস শাস্ত্রীয় অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। আর আল্লাহ তাআলা চাইলে এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত গবেষণা করার ইচ্ছা রয়েছে।
এখন আমরা মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে শুরু করি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
القسم الأول من الكتاب
গ্রন্থের প্রথম অংশ
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
1 - إبراهيم بن إسحاققال (1): لم أعرفه.
قلت: هو إبراهيم بن الفضل أبو إسحاق، والذي يروي عنه إسرائيل بن يونس -وهو الراوي عنه هنا- ويقول: إبراهيم بن إسحاق.
ذكر ذلك البخاري في "تاريخه" (2)، وأبو أحمد الحاكم في "الكنى" (3)، وابن حبان في "المجروحين" (4)، وحرره ابن حجر في "لسان الميزان" (5).
وإبراهيم هذا منكر الحديث، من رجال "التهذيب" (6).
2 - إبراهيم بن إسماعيل بن أبي خليفةقال (7): لم أجد مَن ذكره.
قلت: الاسم تَصَحَّف عليه، وصوابه: إبراهيم بن إسماعيل بن أبي حبيبة، وهو الأشهلي، كما جاء عند الإِمام أحمد في "مسنده" (8) لما روى له حديثه هذا.
وإبراهيم من رجال "التهذيب" (9).
3 - إبراهيم بن أبي أسيدقال (10): لم أعرفه.
قلت: هو إبراهيم بن أبي أسيد البَرَّاد المديني، روى له البخاري في
--------------------------------------------
১ - ইবরাহিম বিন ইসহাকতিনি বলেছেন (১): আমি তাঁকে চিনি না।
আমি বলছি: তিনি হলেন ইবরাহিম বিন আল-ফাদল আবু ইসহাক, যাঁর থেকে ইসরাঈল বিন ইউনুস বর্ণনা করেন—এবং তিনিই এখানে তাঁর বর্ণনাকারী—এবং তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন ইসহাক।
ইমাম বুখারি এটি তাঁর "তারিখ" (২)-এ উল্লেখ করেছেন, আবু আহমদ আল-হাকিম "আল-কুনা" (৩)-তে, ইবন হিব্বান "আল-মাজরুহিন" (৪)-এ, এবং ইবন হাজার "লিসান আল-মিজান" (৫)-এ এটি সুবিন্যস্ত করেছেন।
আর এই ইবরাহিম হলেন মুনকারুল হাদিস (তাঁর বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য), তিনি "আত-তাহজিব" (৬)-এর অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাকারীদের অন্যতম।
২ - ইবরাহিম বিন ইসমাইল বিন আবি খলিফাতিনি বলেছেন (৭): আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
আমি বলছি: নামটিতে তাঁর বিভ্রান্তি (তাশহিফ) ঘটেছে, এর সঠিক রূপ হলো: ইবরাহিম বিন ইসমাইল বিন আবি হাবিবা, আর তিনি হলেন আল-আশহালি; যেমনটি ইমাম আহমদ তাঁর "মুসনাদ" (৮)-এ উল্লেখ করেছেন যখন তিনি তাঁর এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
আর ইবরাহিম হলেন "আত-তাহজিব" (৯)-এর অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাকারীদের অন্যতম।
৩ - ইবরাহিম বিন আবি আসিদতিনি বলেছেন (১০): আমি তাঁকে চিনি না।
আমি বলছি: তিনি হলেন ইবরাহিম বিন আবি আসিদ আল-বাররাদ আল-মাদিনি, ইমাম বুখারি তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
"الأدب المفرد"، وأبو داود في "سننه"، وترجم له الحافظ المزي في "تهذيبه" (1)، وذكر في ترجمته رواية أبي ضمرة عنه -وهو راوي حديثه هذا-.
4 - إبراهيم بن حَمَّاد بن أبي حازمقال (2): لم أر من ذكره.
قلت: هو المديني، كما جاء عند الطبراني في "الأوسط" (3)، ترجم له الحافظ ابن حجر في "اللسان" (4)، ونقل عن الدارقطني قوله فيه: وكان ضعيفًا.
وترجم له كذلك السخاوي في "التحفة اللطيفة" (5).
5 - إبراهيم بن خلف الرَّمليقال (6): لم أعرفه.
قلت: الراجح أن اسمه تَحَرَّف، وصوابه: إبراهيم بن محمَّد الرملي، وذلك:
1 - أنهما في نفس الطبقة.
2 - نص المزي (7) على رواية محمَّد بن الحسن بن قتيبة عنه -وهو راوي عنه حديثه هذا -وروايته عن أيوب بن سويد؛ وهو شيخه في هذا الحديث.
3 - أنه نزيل بيت المقدس، والرَّملة من بلاد فلسطين.
4 - رواية الطبراني لأحاديث أيوب بن سويد من طريقه (8).
وهذه أمور مجتمعة ترجِّح أنه هو إبراهيم بن محمَّد الرملي، وإن يكنه فهو من رجال "التهذيب" (9). والله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
'আল-আদাবুল মুফরাদ', এবং আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ, এবং হাফেজ মিযযী তাঁর 'তাহযীব' (১)-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন, এবং তাঁর জীবনীতে তাঁর থেকে আবু দামরার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন - আর তিনি (আবু দামরা) হলেন এই হাদিসের বর্ণনাকারী।
৪ - ইব্রাহিম বিন হাম্মাদ বিন আবু হাযেমতিনি (২) বলেছেন: আমি কাউকে দেখিনি যিনি তাঁকে উল্লেখ করেছেন।
আমি বলছি: তিনি মাদানী, যেমনটি তাবারানি 'আল-আওসাত' (৩)-এ উল্লেখ করেছেন, হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-লিসান' (৪)-এ তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে দারাকুতনীর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে: "তিনি দুর্বল ছিলেন।"
আর একইভাবে সাখাভী 'আত-তুহফাতুল লাতীফাহ' (৫)-এ তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন।
৫ - ইব্রাহিম বিন খালাফ আর-রামলিতিনি (৬) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।
আমি বলছি: বিশুদ্ধ মত হলো যে তাঁর নাম বিকৃত হয়েছে, আর সঠিকটি হলো: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আর-রামলি, আর তা এই কারণে:
১ - তাঁরা দুজনেই একই স্তরের (তাবাকার)।
২ - মিযযী (৭) মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন কুতাইবা কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন - এবং তিনি তাঁর থেকে এই হাদিসটির বর্ণনাকারী - এবং তাঁর আইয়ুব বিন সুয়াইদ থেকে বর্ণনার কথা; যিনি এই হাদিসে তাঁর শায়খ।
৩ - তিনি বায়তুল মাকদিসের বাসিন্দা ছিলেন, আর রামলা হলো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
৪ - তাবারানি তাঁর সূত্রের মাধ্যমে আইয়ুব বিন সুয়াইদের হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন (৮)।
আর এই বিষয়গুলো একত্রে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করে যে তিনিই ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আর-রামলি, আর যদি তিনি তাই হন তবে তিনি 'তাহযীব' (৯)-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
6 - إبراهيم بن زكريا العبدسيقال (1): لم أعرفه.
قلت: تناولته أغلب كتب الضعفاء بالترجمة، وانظر: "لسان الميزان" (2) لابن حجر؛ رحمه الله.
7 - إبراهيم بن سالم بن سلم الهُجَيميقال (3): لم أعرفه.
قلت: هو إبراهيم بن سالم بن سلم بن رشيد الهُجَيْمي البصري، وقد جاء اسمه في أكثر من مصدر على أوجه متعددة، فجاء في "الأوسط" (4): إبراهيم بن سالم بن رشيد الهجيمي البصري.
وفي "الصغير" (5): إبراهيم بن سلم (6) بن رشيد الهجيمي، وكذا جاء اسمه في "تهذيب الكمال" (7) في ترجمته شيخه عبد العزيز بن قيس.
وهذا التعدد في تسميته رَجَّح لنا أن إبراهيم بن سالم بن أخي العلاء، والمترجم في "كامل" ابن عدي (8) هو نفسه صاحب هذه الترجمة، حيث إن الحافظين الذهبي وابن حجر لمَّا ترجما له في "الميزان" (9) و"اللسان" (10) ذكراه بإبراهيم بن مسلم، ونقلا عن ابن عدي قوله فيه: منكر الحديث لا يعرف، وقول ابن عدي هذا أورده في ترجمته إبراهيم بن سالم.
فدل هذا أنه وقعت نسبته في "الكامل" لابن عدي في بعض نسخه منسوبًا لجده، والأُخرى ذكر اسم أبيه فيها. والله أعلم.
--------------------------------------------
৬ - ইবরাহীম বিন যাকারিয়া আল-আবদাসীতিনি (১) বলেছেন: আমি তাকে চিনি না।
আমি বলছি: দুর্বল বর্ণনাকারীদের ওপর রচিত অধিকাংশ জীবনী গ্রন্থে তার আলোচনা এসেছে; দেখুন: ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত "লিসানুল মীযান" (২)।
৭ - ইবরাহীম বিন সালিম বিন সালাম আল-হুজায়মীতিনি (৩) বলেছেন: আমি তাকে চিনি না।
আমি বলছি: তিনি হলেন ইবরাহীম বিন সালিম বিন সালাম বিন রশীদ আল-হুজায়মী আল-বাসরী। একাধিক উৎসে তার নাম বিভিন্নভাবে এসেছে। "আল-আওসাত" (৪)-এ এসেছে: ইবরাহীম বিন সালিম বিন রশীদ আল-হুজায়মী আল-বাসরী।
"আস-সাগীর" (৫)-এ এসেছে: ইবরাহীম বিন সালাম (৬) বিন রশীদ আল-হুজায়মী। একইভাবে "তাহযীবুল কামাল" (৭)-এ তার উস্তাদ আব্দুল আযীয বিন কায়স-এর জীবনীতে তার নাম এভাবেই এসেছে।
নামকরণের এই বৈচিত্র্য আমাদের কাছে এই মতটিকে প্রবল করেছে যে, ইবরাহীম বিন সালিম—যিনি আল-আলা-এর ভ্রাতুষ্পুত্র—এবং ইবনে আদী-র "কামিল" (৮) গ্রন্থে যার জীবনী বর্ণিত হয়েছে, তিনি মূলত একই ব্যক্তি। কেননা দুই হাফিয আয-যাহাবী এবং ইবনে হাজার যখন "মীযান" (৯) ও "লিসান" (১০)-এ তার জীবনী আলোচনা করেছেন, তখন তারা তাকে ইবরাহীম বিন মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আদী থেকে তার সম্পর্কে এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে: "সে মুনকারুল হাদীস, তাকে চেনা যায় না।" আর ইবনে আদীর এই উক্তিটি তিনি ইবরাহীম বিন সালিম-এর জীবনীতেই উল্লেখ করেছেন।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইবনে আদী-র "কামিল"-এর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে তার নিসবত তার দাদার দিকে করা হয়েছে, আবার কোনোটিতে তার পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
8 - إبراهيم بن صالح الشيرازيقال (1): لم أعرفه.
قلت: حَدَّث عنه الطبراني في "الصغير" (2)، وقال: حدثنا إبراهيم بن صالح الشيرازي بمكة سنة ثلاث وثمانين ومائتين، وفيها مات.
وترجم له الذهبي في "تاريخه" (3).
وذكره المزي فيمن روى عن حجاج بن نصير من "تهذيبه" (4).
ووقفت له على حديثين في "المختارة" للضياء المقدسي، وفي ذلك تحسين لأمره بعض الشيء (5).
9 - إبراهيم بن عبد الله بن مطيعقال (6): لم أعرفه.
قلت: قال الزبير بن بكار (7): وولد عبد الله بن مطيع: إبراهيم بن عبد الله، وكان من رجالهم، وأمه أم ولد.
وقال ابن القطان (8): لا تعرف له حال.
وقد وَثَّقه الهيثمي في موضع آخر في "المجمع" (9) في ضمن رواة إسناد مذكور فيه.
ثم إن الدارقطني روى له حديثه هذا في سننه (10)، وقال: "إسناده حسن". فتعقبه العلامة الألباني رحمه الله في "الإرواء" (11) بقوله: "كذا قال! وهو مردود
… " إلخ.
قلت: وتعقب العلَّامة الألباني على تحسين الدارقطني لإسناد هذا
--------------------------------------------
৮ - ইব্রাহিম বিন সালিহ আল-শিরাজিতিনি (১) বলেছেন: আমি তাকে চিনি না।
আমি বলছি: তাবারানি 'আস-সাগির' (২)-এ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইব্রাহিম বিন সালিহ আল-শিরাজি আমাদের কাছে মক্কায় দুইশত তিরাশি হিজরিতে বর্ণনা করেছেন এবং সেই বছরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আয-যাহাবি তার 'তারিখ' (৩)-এ তার জীবনী উল্লেখ করেছেন।
আল-মিযযি তার 'তাহযিব' (৪)-এ হাজ্জাজ বিন নুসাইর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে তাকে উল্লেখ করেছেন।
যিয়া আল-মাকদিসি-র 'আল-মুখতারা'-তে আমি তার বর্ণিত দুটি হাদিস পেয়েছি, যা তার অবস্থাকে কিছুটা উন্নত করার (নির্ভরযোগ্যতার সপক্ষে) ইঙ্গিত দেয় (৫)।
৯ - ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুতি'তিনি (৬) বলেছেন: আমি তাকে চিনি না।
আমি বলছি: যুবাইর বিন বাক্কার (৭) বলেছেন: আব্দুল্লাহ বিন মুতি'র সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন: ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ, তিনি তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তার মা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী মা)।
ইবনুল কাত্তান (৮) বলেছেন: তার (নির্ভরযোগ্যতার) অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।
আল-হাইসামি 'আল-মাজমা' (৯)-এর অন্য এক স্থানে একটি সনদের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
অতঃপর আদ-দারা কুতনি তার 'সুনান' (১০)-এ তার এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদ হাসান"। তখন আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-ইরওয়া' (১১)-তে তার সমালোচনা করে বলেছেন: "তিনি এমনটিই বলেছেন! অথচ তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য …" ইত্যাদি।
আমি বলছি: এই সনদের ব্যাপারে দারা কুতনির হাসান বলার ওপর আল্লামা আলবানীর সমালোচনা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الحديث ليس بسديد؛ لأن الدارقطني إذا أطلق على حديث ما في "سننه" أن إسناده حسن أو صحيح؛ فإنه يعني نكارة المتن، وتضعيف الحديث كلية.
ولهذا لما أورد الذهبي هذه الرواية في "الميزان" (1) قال: "هذا حديث منكر، أخرجه الدارقطني".
وقد جهَّل الحافظ ابن حجر في "الفتح" (2) ابن مطيع هذا.
10 - إبراهيم بن عتبة بن غزوانقال (3): لم أر من ذكره.
قلت: الراجح أن ذكر اسمه في السند على أنه من رواته من الأوهام؛ وذلك أن من ترجم لابنه عتبة لم يذكروا له روايته عن أبيه، بل ذكروا له روايته عن جده مباشرة، كما أوضحنا ذلك في ترجمة: عتبة بن إبراهيم بن عتبة بن غزوان.
وكذلك لم يذكر المزي في ترجمة: عتبة بن غزوان من "تهذيبه" (4) فيمن روى عنه رواية ابنه إبراهيم؛ بل ذكر رواية حفيده عتبة بن إبراهيم عنه. والله أعلم.
11 - إبراهيم بن عرعرةقال (5): لم أعرفه.
قلت: هو إبراهيم بن محمَّد بن عرعرة السامي، نسب عند الطبراني لجده؛ فلم يعرفه الهيثمي.
وإبراهيم هذا من رجال "التهذيب" (6).
--------------------------------------------
হাদিসটি সঠিক নয়; কারণ দারাকুতনি যখন তাঁর 'সুনান'-এ কোনো হাদিস সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে এর সনদ হাসান বা সহিহ, তখন তিনি এর দ্বারা মতনের (মূল পাঠ) মুনকার হওয়া বা হাদিসটি সামগ্রিকভাবে দুর্বল হওয়াকে বুঝিয়ে থাকেন।
আর এই কারণেই যাহাবি যখন 'মিজান' (১)-এ এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: "এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস, যা দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন।"
আর হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহ' (২)-এ এই ইবনে মুতি'-কে অপরিচিত (মাজহুল) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
১০ - ইব্রাহিম ইবনে উতবাহ ইবনে গাজওয়ানতিনি (৩) বলেছেন: আমি কাউকে দেখিনি যে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
আমি বলি: অধিকতর সঠিক বিষয় হলো যে, সনদে বর্ণনাকারী হিসেবে তাঁর নামের উল্লেখ থাকা একটি বিভ্রম (ওয়াহাম); কারণ যারা তাঁর ছেলে উতবাহর জীবনী লিখেছেন, তারা তাঁর পিতা থেকে তাঁর বর্ণনার কথা উল্লেখ করেননি, বরং তারা সরাসরি তাঁর দাদা থেকে তাঁর বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি আমরা 'উতবাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উতবাহ ইবনে গাজওয়ান'-এর জীবনীতে স্পষ্ট করেছি।
একইভাবে মিজ্জি তাঁর 'তহজিব' (৪)-এ 'উতবাহ ইবনে গাজওয়ান'-এর জীবনীতে তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে তাঁর ছেলে ইব্রাহিমের বর্ণনার কথা উল্লেখ করেননি; বরং তিনি তাঁর থেকে তাঁর নাতি উতবাহ ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
১১ - ইব্রাহিম ইবনে আরআরাহতিনি (৫) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।
আমি বলি: তিনি হলেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আরআরাহ আস-সামি, তাবারানির কাছে তাঁকে তাঁর দাদার সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে; ফলে হাইসামি তাঁকে চিনতে পারেননি।
আর এই ইব্রাহিম 'তহজিব' (৬)-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
12 - إبراهيم بن القاسم، عنه الإِمام أحمد بن حنبلقال (1): لم أعرفه.
قلت: صوابه: أزهر بن القاسم، هكذا جاء على الصواب عند الإمام أحمد في "مسنده" (2)، و"أطرافه" (3) لابن حجر العسقلاني.
وأزهر هذا هو أبو بكر الراسبي، البصري، من رجال "التهذيب" (4).
13 - إبراهيم بن محمَّد بن خالد بن الزبيرقال (5): لم أر من ترجمه.
قلت: لم أجد من يروي عن ابن المسيّب ممن اسمه إبراهيم بن محمَّد إلَّا إبراهيم بن محمَّد بن حاطب الجمحي، كما في ترجمة إبراهيم هذا من "تهذيب الكمال" (6).
وإن لم يكنه، فإن الراوي عنه هو عمر بن قيس سندل، وهو متروك الحديث؛ فلا يعتمد عليه في شيء من مروياته.
14 - إبراهيم بن محمَّد بن عثمان الحضرميقال (7): لم أعرفه.
قلت: ذكره ابن حبان في "الثقات" (8)، وذكر له روايته عن محمَّد بن فضيل؛ وهو شيخه في هذا الحديث.
15 - إبراهيم بن محمَّد بن عرق الحمصيقال (9): لم أعرفه.
قلت: أورده الذهبي في "الميزان" (10)، وقال: شيخ للطبراني غير معتمد، ثم أورد له حديثًا أخطأ فيه.
--------------------------------------------
১২ - ইবরাহীম বিন আল-কাসিম, তাঁর থেকে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেনতিনি (১) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।
আমি বলছি: এর সঠিকটি হলো: আযহার বিন আল-কাসিম; ইমাম আহমাদ তাঁর "মুসনাদ" (২) এবং ইবনে হাজার আসকালানির "আতরাফ" (৩)-এ এভাবেই সঠিকভাবে এসেছে।
আর এই আযহার হলেন আবু বকর আর-রাসিবি, আল-বাসরি; তিনি "আত-তাহযীব" (৪)-এর রাবীদের অন্তর্ভুক্ত।
১৩ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আজ-যুবাইরতিনি (৫) বলেছেন: আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন এমন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ নামে আমি ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিব আল-জুমাহি ব্যতীত আর কাউকে পাইনি, যেমনটি "তাহযীবুল কামাল" (৬)-এ এই ইবরাহীমের জীবনীতে এসেছে।
আর যদি তিনি সেই ব্যক্তি না হন, তবে তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হলেন উমর বিন কাইস সানদাল, আর তিনি পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস); তাই তাঁর কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যাবে না।
১৪ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-হাদরামিতিনি (৭) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।
আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁকে "আত-সিকাত" (৮)-এ উল্লেখ করেছেন এবং মুহাম্মাদ বিন ফুদাইল থেকে তাঁর বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন; আর তিনি এই হাদিসে তাঁর শায়খ।
১৫ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন ইরক আল-হিমসিতিনি (৯) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।
আমি বলছি: আয-যাহাবি তাঁকে "আল-মিজান" (১০)-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি তাবারানির একজন শায়খ, যিনি নির্ভরযোগ্য নন; এরপর তিনি তাঁর একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যাতে তিনি ভুল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وحكى ابن حجر (1) قول الذهبي في "اللسان"، ولم يزد شيئاً.
وأخرج حديثه الضياء في "المختارة" (2).
16 - إبراهيم بن محمد الهلاليقال (3) لا أعرفه.
قلت: هو إبراهيم بن محمَّد بن الحارث بن ميمون أبو إسحاق الهلالي، المعروف بابن نائلة، ونائلة اسم أُمّه.
يروي عنه الطبراني وينسبه لأوجه عِدَّة، فمنها: إبراهيم بن محمَّد الهلالي (4)، وإبراهيم بن محمَّد بن الحارث الهلالي (5)، وإبراهيم ابن نائلة (6)، وإبراهيم ابن نائلة الأصبهاني (7)، وكلها مسميات عدة لراوٍ واحد، واسمه كاملاً كما قدمنا في أول الترجمة.
وقد ذكره السمعاني في "الأنساب" (8)، وذكر نسبه كاملاً، ثم قال: أحد الثقات.
وكذلك ترجم له أبو الشيخ في "طبقاته" (9)، وأبو نعيم في "تاريخه" (10).
17 - إبراهيم بن معاوية بن ذكوان القيصرانيقال (11): لم أعرفه.
قلت: صواب نسبته القيسراني، أورده السمعاني في "الأنساب" (12)، وقال: من مشاهير المحدثين.
--------------------------------------------
এবং ইবনে হাজার (১) "আল-লিসান" গ্রন্থে আয-যাহাবীর উক্তিটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাতে নতুন কিছুই যোগ করেননি।
এবং আদ-দিয়া "আল-মুখতারা" (২) গ্রন্থে তাঁর হাদীসটি সংকলন করেছেন।
১৬ - ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ আল-হিলালীতিনি (৩) বলেন, আমি তাঁকে চিনি না।
আমি বলি: তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস ইবনে মাইমুন আবু ইসহাক আল-হিলালী, যিনি ইবনে নাইলা নামে পরিচিত, আর নাইলা তাঁর মায়ের নাম।
আত-তাবারানী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে বিভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ আল-হিলালী (৪), ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস আল-হিলালী (৫), ইবরাহীম ইবনে নাইলা (৬), এবং ইবরাহীম ইবনে নাইলা আল-আসফাহানী (৭)। এই সবগুলোই একজন বর্ণনাকারীর বিভিন্ন নাম, আর তাঁর পূর্ণ নাম তা-ই যা আমরা জীবনীর শুরুতে উল্লেখ করেছি।
আস-সামআনী "আল-আনসাব" (৮) গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর পূর্ণ বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছেন, এরপর বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্যতম।
একইভাবে আবুশ শাইখ তাঁর "তাবাকাত" (৯) গ্রন্থে এবং আবু নুআইম তাঁর "তারিখ" (১০) গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন।
১৭ - ইবরাহীম ইবনে মুআবিয়া ইবনে জাকওয়ান আল-কাইসারানীতিনি (১১) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনিনি।
আমি বলি: তাঁর সঠিক নিসবত হলো আল-কাইসারানী। আস-সামআনী "আল-আনসাব" (১২) গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
18 - إبراهيم بن يزيد المصريقال (1): لم أعرفه.
قلت: هو إبراهيم بن يزيد بن مرّة بن شرحبيل بن حمية أبو خزيمة، الرعيني الثاتي المصري.
ذكره ابن ماكولا (2)، والسمعاني في "الأنساب" (3)، والكندي في "الولاة والقضاة" (4)، وأثنى عليه.
ثم وجدت ابن عدي ترجم في "كامله" (5) لإبراهيم بن يزيد المدني، وأورد فيه قول ابن معين: إبراهيم بن يزيد المدني ضعيف.
ثم أورد له حديثًا من نفس طريق حديث الطبراني (6) من رواية جرير بن حازم، عن إبراهيم، عن يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير، عن عقبة بن عامر. فذكر حديثًا آخر مرفوعًا.
وتبعه في ذلك الحافظ الذهبي في "الميزان" (7).
وأنا أعد ذلك من الأوهام التي وقع فيها ابن عدي؛ حيث إن إبراهيم الثاتي معروف بروايته عن يزيد بن أبي حبيب، وكل من ترجم له ذكر روايته عنه.
فوهم ابن عدي فأورد حديث إبراهيم الثاتي في ترجمة إبراهيم المدني، وهما اثنان بلا شك؛ وذلك:
1 - أنه لم ينسبه أحد ممن ترجم له من المصريين للمدني، وذلك مثل: ابن عبد الحكم في "فتوح مصر" (8)، والكندي في "الولاة والقضاة" (9)، وهما من أعلم الناس بالمصريين. وكذلك ابن يونس في "تاريخه" (10)، وهو أعلمهم على الإطلاق بالمصريين.
--------------------------------------------
১৮ - ইব্রাহীম ইবন ইয়াযীদ আল-মিসরীতিনি (১) বলেছেন: আমি তাঁকে চিনি না।
আমি বলছি: তিনি হলেন ইব্রাহীম ইবন ইয়াযীদ ইবন মুররাহ ইবন শারাহবীল ইবন হামিয়াহ আবু খুযাইমাহ, আর-রুআইনী আস-সাতি আল-মিসরী।
ইবন মাকূলা (২), "আল-আনসাব" (৩) গ্রন্থে সামআনী এবং "আল-উলাত ওয়াল কুদাত" (৪) গ্রন্থে কিন্দি তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর প্রশংসা করেছেন।
অতঃপর আমি ইবন আদীকে তাঁর "আল-কামিল" (৫) গ্রন্থে ইব্রাহীম ইবন ইয়াযীদ আল-মাদানীর জীবনী আলোচনা করতে দেখেছি, এবং সেখানে তিনি ইবন মাঈনের এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: ইব্রাহীম ইবন ইয়াযীদ আল-মাদানী যয়ীফ।
এরপর তিনি তাঁর জন্য তাবারানীর (৬) হাদীসের একই সূত্রে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যা জারীর ইবন হাযিম হতে, তিনি ইব্রাহীম হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবন আবি হাবীব হতে, তিনি আবুল খাইর হতে, তিনি উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। এভাবে তিনি অন্য একটি মরফূ হাদীস উল্লেখ করেছেন।
আর হাফিয যাহাবী "আল-মিযান" (৭) গ্রন্থে এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন।
আমি এটিকে ইবন আদীর করা ভুলগুলোর অন্তর্ভুক্ত মনে করি; কারণ ইব্রাহীম আস-সাতি ইয়াযীদ ইবন আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সুপরিচিত, এবং তাঁর জীবনী যারা লিখেছেন তারা প্রত্যেকেই তাঁর থেকে তাঁর বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং ইবন আদী ভুল করেছেন এবং ইব্রাহীম আল-মাদানীর জীবনীতে ইব্রাহীম আস-সাতির হাদীস উল্লেখ করেছেন, অথচ নিঃসন্দেহে তাঁরা দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি; আর তা এই কারণে:
১ - তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এমন মিসরীয়দের কেউই তাঁকে মাদানীর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেননি, যেমন: "ফুতুহ মিসর" (৮) গ্রন্থে ইবন আব্দুল হাকাম এবং "আল-উলাত ওয়াল কুদাত" (৯) গ্রন্থে কিন্দি; আর তাঁরা উভয়েই মিসরীয়দের সম্পর্কে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। অনুরূপভাবে ইবন ইউনুস তাঁর "তারিখ" (১০) গ্রন্থে, অথচ তিনি মিসরীয়দের সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফারাইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ (তারজামাতুর রুওয়াতিল্লাযিনা লাম ইয়ারিফহুমুল হাফিয আল-হাইতামী)
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
2 - لم يرد في كلام ابن معين ما يفهم منه بأنه يروي عن يزيد بن أبي حبيب، أو رواية جرير بن حازم عنه.
وهذا على خلاف صنيع الإِمام المزي رحمه الله حيث أثبت أن الثاتي هو نفسه الذي يروي عنه جرير بن حازم، كما في "تهذيب الكمال" (1).
3 - وقد فرّق بين الثاتي والمدني كل من الحافظين: العراقي في "الذيل على الميزان" (2)، وابن حجر في "اللسان" (3)، وأوردا في ترجمة الثاتي عن الخطيب في "المتفق" عن الجعابي قوله: لا أعلم أحدًا حدث عنه غير جرير بن حازم. أهـ.
وبذلك يتضح وهم ابن عدي، ومن بعده الذهبي في جعل قول ابن معين في الراوي عن يزيد بن أبي حبيب، والذي يروي عنه جرير بن حازم.
والصواب أن تضعيف ابن معين في إبراهيم المدني لا في الثاتي كما بيناه آنفًا.
هذا، ثم وجدت أبا حاتم الرازي رحمه الله -قال- كما في "الجرح والتعديل" (4) -: إبراهيم بن يزيد المرادي، وهو مغربي، أبو خزيمة، صاحب ربيعة الرأي، سكن مصر، روى عنه معاوية بن صالح. أهـ.
ثم روى عن إسحاق بن منصور، عن ابن معين قوله: أبو خزيمة ثقة. أهـ.
وأنا لا أدري هل قول ابن معين هذا هو في صاحب الترجمة أم أنه في غيره؟ وذلك؛ لأنه لم ينص مَن ترجم للثاتي أنه مرادي.
وأما قول أبي حاتم بأنه: مغربي، فهذا دليل صريح على التفرقة بينهما؛ لأن ثات -وهو ما ينسب إليها صاحب الترجمة- قبيلة من حمير، وهي من أصول القبائل؛ نزلت أقصى اليمن.
قاله ابن عبد الحكم، وابن يونس، والسمعاني، في المصادر السابق ذكرها لهم.
--------------------------------------------
২ - ইবনে মুঈনের বক্তব্যে এমন কিছু পাওয়া যায় না যা থেকে বোঝা যায় যে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, অথবা জারির বিন হাজিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
এটি ইমাম মিযযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপন্থার বিপরীত, যেহেতু তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, আস-সাতিই হলেন সেই ব্যক্তি যার থেকে জারির বিন হাজিম বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "তাহযিবুল কামাল" (১)-এ বর্ণিত হয়েছে।
৩ - হাফেজ ইরাকি "আয-যাইল আলাল মিজান" (২) গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার "আল-লিসান" (৩) গ্রন্থে আস-সাতি এবং আল-মাদানির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা আস-সাতির জীবনীতে আল-খাতিব থেকে "আল-মুত্তাফিক" গ্রন্থে আল-জা'আবির এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: "জারির বিন হাজিম ছাড়া অন্য কেউ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।" সমাপ্ত।
এর মাধ্যমে ইবনে আদি এবং তাঁর পরবর্তী যাহাবীর ভ্রান্তি স্পষ্ট হয়, যারা ইবনে মুঈনের উক্তিকে ইয়াজিদ বিন আবু হাবিবের সেই রাবির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যার থেকে জারির বিন হাজিম বর্ণনা করেছেন।
সঠিক কথা হলো, ইবনে মুঈন কর্তৃক দুর্বল সাব্যস্তকরণ ইবরাহিম আল-মাদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আস-সাতির ক্ষেত্রে নয়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি।
এর পাশাপাশি আমি আবু হাতিম আর-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে দেখেছি - যেমনটি "আল-জারহু ওয়াত তা'দীল" (৪) গ্রন্থে রয়েছে -: "ইবরাহিম বিন ইয়াজিদ আল-মুরাদি, তিনি একজন মাগরিবী, উপনাম আবু খুযাইমাহ, রাবি'আতুত রায়-এর সঙ্গী, তিনি মিসরে বসবাস করতেন, তাঁর থেকে মুয়াবিয়া বিন সালেহ বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।
অতঃপর তিনি ইসহাক বিন মানসুর থেকে, তিনি ইবনে মুঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "আবু খুযাইমাহ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।" সমাপ্ত।
আমি জানি না ইবনে মুঈনের এই উক্তিটি কি জীবনীর মূল ব্যক্তি (আস-সাতি) সম্পর্কে নাকি অন্য কারো সম্পর্কে? কারণ, যারা আস-সাতির জীবনী লিখেছেন তাদের কেউ তাকে মুরাদি বলে উল্লেখ করেননি।
আর আবু হাতিমের তাঁকে "মাগরিবী" বলাটা উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ; কারণ "সাত" - যার দিকে আলোচিত ব্যক্তি সম্বন্ধিত - হিমইয়ার গোত্রের একটি শাখা, যা মূল গোত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা ইয়েমেনের দূরবর্তী প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছিল।
এটি ইবনে আব্দুল হাকাম, ইবনে ইউনুস এবং সামআনী তাদের পূর্বে উল্লেখিত উৎসগুলোতে বলেছেন।
--------------------------------------------