(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: -)
كتاب العلل الواقع بآخر جامع الترمذي - ت شاكر   (الترمذي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: العلل الصغير

المؤلف: محمد بن عيسى بن سَوْرة بن موسى بن الضحاك، الترمذي، أبو عيسى (ت 279هـ)

المحقق: أحمد محمد شاكر وآخرون

الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت

عدد الصفحات: 763

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাবুল ইলাল যা জামে আত-তিরমিযীর শেষে অবস্থিত - তাহকীক: শাকির   (তিরমিযী)

বিভাগ: হাদিসের ইলাল ও প্রশ্নাবলি


কিতাব: আল-ইলাল আস-সাগীর

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ বিন মুসা বিন আদ-দাহহাক، আত-তিরমিযী، আবু ঈসা (মৃত্যু ২৭৯ হিজরি)

গবেষক: আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির ও অন্যান্য

প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬৩

[কিতাবের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৩৬)
مُقَدّمَة قَالَ أَبُو عِيسَى جَمِيع مَا فِي هَذَا الْكتاب من الحَدِيث فَهُوَ مَعْمُول بِهِ وَقد أخد بِهِ بعض أهل الْعلم مَا خلا حديثين حَدِيث بن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم جمع بَين الظّهْر وَالْعصر بِالْمَدِينَةِ وَالْمغْرب وَالْعشَاء من غير خوف وَلَا سفر وَلَا مطر وَحَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِذا شرب الْخمر فاجلدوه فَإِن عَاد فِي الرَّابِعَة فَاقْتُلُوهُ وَقد بَينا عِلّة الْحَدِيثين جَمِيعًا فِي الْكتاب قَالَ وَمَا ذكرنَا فِي هَذَا الْكتاب من اخْتِيَار الْفُقَهَاء

‌‌(سَنَد أَقْوَال سُفْيَان الثَّوْريّ)

فَمَا كَانَ مِنْهُ من قَول سُفْيَان الثَّوْريّ فأكثره مَا حَدثنَا بِهِ مُحَمَّد بن عُثْمَان الْكُوفِي حَدثنَا عبيد الله بن مُوسَى عَن سُفْيَان وَمِنْه مَا حَدثنِي بِهِ أَبُو الْفضل مَكْتُوم بن الْعَبَّاس التِّرْمِذِيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن يُوسُف الْفرْيَابِيّ عَن سُفْيَان

‌‌(سَنَد أَقْوَال مَالك بن أنس)

وَمَا كَانَ فِيهِ من قَول مَالك بن أنس فأكثره مَا حَدثنَا بِهِ إِسْحَاق بن مُوسَى الْأنْصَارِيّ حَدثنَا معن بن عِيسَى الْقَزاز عَن مَالك بن أنس وَمَا كَانَ فِيهِ من أَبْوَاب الصَّوْم فَأخْبرنَا بِهِ أَبُو مُصعب الْمدنِي عَن مَالك بن أنس وَمِنْه مَا أخبرنَا بِهِ مُوسَى بن حزَام قَالَا حَدثنَا عبد الله بن مسلمة القعْنبِي عَن مَالك بن أنس

‌‌(سَنَد أَقْوَال بن الْمُبَارك)

وَمَا كَانَ فِيهِ من قَول بن الْمُبَارك فَهُوَ مَا حَدثنَا بِهِ أَحْمد بن عبد الْأَعْلَى عَن أَصْحَاب بن الْمُبَارك عَن بن الْمُبَارك وَمِنْه مَا رُوِيَ عَن بن وهب مُحَمَّد بن مُزَاحم عَن بن الْمُبَارك وَمِنْه مَا رُوِيَ عَن عَليّ بن الْحسن عَن عبد الله وَمِنْه مَا رُوِيَ عَن عَبْدَانِ عَن سُفْيَان بن عبد الْملك عَن بن الْمُبَارك ومه مَا رُوِيَ عَن حبَان بن مُوسَى عَن بن الْمُبَارك وَله رجال مُسلمُونَ سوى من ذكرنَا عَن بن الْمُبَارك
ভূমিকা: আবু ঈসা বলেন, এই কিতাবে যে সকল হাদিস রয়েছে তার প্রতিটিই আমলযোগ্য এবং ইলম অন্বেষণকারীগণের কেউ কেউ এগুলোর ওপর আমল করেছেন, কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত। প্রথমটি হলো ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় কোনো ভয়-ভীতি, সফর বা বৃষ্টি ছাড়াই জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই হাদিস যাতে তিনি বলেছেন: যদি কেউ মদ পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, আর যদি সে চতুর্থবার পুনরায় তা করে তবে তাকে হত্যা করো। আমরা কিতাবের ভেতরে এই উভয় হাদিসেরই ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণ (ইল্লাত) বর্ণনা করেছি। তিনি আরও বলেন: এই কিতাবে ফকিহগণের যে সকল পছন্দনীয় মতামত আমরা উল্লেখ করেছি...

‌‌(সুফিয়ান সাওরির উক্তিগুলোর সনদ)

সুফিয়ান সাওরির যে সকল উক্তি এতে রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে। আর কিছু বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফজল মাকতুম ইবনে আল-আব্বাস আত-তিরমিজি; তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে।

‌‌(মালিক ইবনে আনাসের উক্তিগুলোর সনদ)

মালিক ইবনে আনাসের যে সকল উক্তি এতে রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি মা'ন ইবনে ঈসা আল-কাযযাঝ থেকে, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে। আর সিয়াম অধ্যায়ে যা রয়েছে তা আবু মুসআব আল-মাদানি আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কিছু বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে হিযাম; তারা উভয়ে বলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কা'নাবি আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌(ইবনুল মুবারকের উক্তিগুলোর সনদ)

ইবনুল মুবারকের যে সকল উক্তি এতে রয়েছে, তা আহমদ ইবনে আবদিল আলা ইবনুল মুবারকের সহচরদের সূত্রে ইবনুল মুবারক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। কিছু বর্ণিত হয়েছে ইবনে ওয়াহাব ও মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম থেকে, তারা ইবনুল মুবারক থেকে। কিছু বর্ণিত হয়েছে আলী ইবনুল হাসান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে। কিছু বর্ণিত হয়েছে আবদান থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে আবদিল মালিক থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে। আর কিছু বর্ণিত হয়েছে হিব্বান ইবনে মুসা থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে। এছাড়াও ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনাকারী আরও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন যাদের নাম আমরা এখানে উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৩৭)
‌‌(سَنَد أَقْوَال الشَّافِعِي)

وَمَا كَانَ فِيهِ من قَول الشَّافِعِي فأكثره مَا أخبرنَا بِهِ الْحسن بن مُحَمَّد الزَّعْفَرَانِي عَن الشَّافِعِي وَمَا كَانَ من الْوضُوء وَالصَّلَاة فحدثنا بِهِ أَبُو الْوَلِيد الْمَكِّيّ عَن الشَّافِعِي وَمِنْه مَا حَدثنَا بِهِ أَبُو إِسْمَاعِيل التِّرْمِذِيّ حَدثنَا يُوسُف بن يحيى الْقرشِي الْبُوَيْطِيّ عَن الشَّافِعِي وَذكر مِنْهُ أَشْيَاء عَن الرّبيع عَن الشَّافِعِي وَقد أجَاز لنا الرّبيع ذَلِك وَكتب بِهِ إِلَيْنَا

‌‌(سَنَد أَقْوَال أَحْمد بن حَنْبَل وَإِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم)

وَمَا كَانَ من قَول أَحْمد بن حَنْبَل وَإِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم فَهُوَ مَا أخبرنَا بِهِ إِسْحَاق بن مَنْصُور عَن أَحْمد وَإِسْحَاق إِلَّا مَا فِي أَبْوَاب الْحَج والديات وَالْحُدُود فَإِنِّي لم أسمعهُ من إِسْحَاق بن مَنْصُور وَأَخْبرنِي بِهِ مُحَمَّد بن مُوسَى الْأَصَم عَن إِسْحَاق بن مَنْصُور عَن أَحْمد وَإِسْحَاق وَبَعض كَلَام إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم أخبرنَا بِهِ مُحَمَّد بن أَفْلح عَن إِسْحَاق وَقد بَينا هَذَا على وَجهه فِي الْكتاب الَّذِي فِيهِ الْمَوْقُوف
(ইমাম শাফিঈর উক্তিগুলোর সনদ)

এতে ইমাম শাফিঈর যে সকল উক্তি রয়েছে, তার অধিকাংশ আমাদের জানিয়েছেন হাসান ইবন মুহাম্মদ আয-যাফরানি, তিনি শাফিঈ থেকে। আর উযূ ও সালাত বিষয়ক যা রয়েছে, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আল-মাক্কি, তিনি শাফিঈ থেকে। এর মধ্যে কিছু অংশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসমাঈল আত-তিরমিযি, তিনি ইউসুফ ইবন ইয়াহইয়া আল-কুরাশি আল-বুওয়াইতি থেকে, তিনি শাফিঈ থেকে। আর তিনি এর কিছু বিষয় আর-রাবী‘ থেকে, তিনি শাফিঈ থেকে উল্লেখ করেছেন; আর-রাবী‘ আমাদের এর ইজাযত দিয়েছেন এবং তা লিখে পাঠিয়েছেন।

(আহমাদ ইবন হাম্বল ও ইসহাক ইবন ইবরাহিমের উক্তিগুলোর সনদ)

আহমাদ ইবন হাম্বল ও ইসহাক ইবন ইবরাহিমের যে সকল উক্তি এতে রয়েছে, সেগুলো আমাদের জানিয়েছেন ইসহাক ইবন মানসুর, তিনি আহমাদ ও ইসহাক থেকে; তবে হজ, দিয়াত ও হুদূদ অধ্যায়সমূহের বর্ণনাগুলো ব্যতীত, কারণ আমি তা ইসহাক ইবন মানসুর থেকে শুনিনি। বরং আমাকে তা জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন মুসা আল-আসাম, তিনি ইসহাক ইবন মানসুর থেকে, তিনি আহমাদ ও ইসহাক থেকে। আর ইসহাক ইবন ইবরাহিমের কিছু কথা আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আফলাহ, তিনি ইসহাক থেকে। আমরা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে সেই কিতাবে বর্ণনা করেছি যাতে মাওকুফ বর্ণনাগুলো স্থান পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৩৮)
‌‌(مصَادر ذكر الْعِلَل فِي الْأَحَادِيث وَالرِّجَال)

وَمَا كَانَ فِيهِ من ذكر الْعِلَل فِي الْأَحَادِيث وَالرِّجَال والتاريخ فَهُوَ مَا استخرجته من كتب التَّارِيخ وَأكْثر ذَلِك مَا ناظرت بِهِ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل وَمِنْه مَا ناظرت بِهِ عبد الله بن عبد الرَّحْمَن وَأَبا زرْعَة وَأكْثر ذَلِك عَن مُحَمَّد وَأَقل شَيْء فِيهِ عَن عبد الله وَأبي زرْعَة وَلم أر أحدا بالعراق وَلَا بخراسان فِي معنى الْعِلَل والتاريخ وَمَعْرِفَة الْأَسَانِيد كثير أحد أعلم من مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا حملنَا على مَا بَينا فِي هَذَا الْكتاب من قَول الْفُقَهَاء وَعلل الحَدِيث لأَنا سئلنا عَن هَذَا فَلم نفعله زَمَانا ثمَّ فَعَلْنَاهُ لما رجونا فِيهِ من مَنْفَعَة النَّاس لأَنا قد وجدنَا غير وَاحِد من الْأَئِمَّة تكلفوا من التصنيف مَا لم يسْبقُوا إِلَيْهِ مِنْهُم هِشَام بن حسان وَعبد الْملك بن عبد الْعَزِيز بن جريج وَسَعِيد بن أبي عرُوبَة وَمَالك بن أنس وَحَمَّاد بن سَلمَة وَعبد الله بن الْمُبَارك وَيحيى بن زَكَرِيَّا بن أبي زَائِدَة ووكيع بن الْجراح وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَغَيرهم من أهل الْعلم وَالْفضل صنفوا فَجعل الله فِي ذَلِك مَنْفَعَة كَثِيرَة فترجو لَهُم بذلك الثَّوَاب الجزيل عِنْد الله لما نفع الله بِهِ الْمُسلمين فبهم الْقدْوَة فِيمَا صنفوا وَقد عَابَ بعض من لَا يفهم على أهل الحَدِيث الْكَلَام فِي الرِّجَال وَقد وجدنَا غير وَاحِد من الْأَئِمَّة من التَّابِعين قد تكلمُوا فِي الرِّجَال مِنْهُم الْحسن الْبَصْرِيّ وطاووس تكلما فِي معبد الْجُهَنِيّ وَتكلم سعيد بن جُبَير فِي طلق بن حبيب وَتكلم إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ وعامر الشّعبِيّ فِي الْحَارِث الْأَعْوَر وَهَكَذَا رُوِيَ عَن أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ وَعبد الله بن عون وَسليمَان التَّيْمِيّ وَشعْبَة بن الْحجَّاج وسُفْيَان الثَّوْريّ وَمَالك بن أنس وَالْأَوْزَاعِيّ وَعبد الله بن الْمُبَارك وَيحيى بن سعيد الْقطَّان ووكيع بن الْجراح وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَغَيرهم من أهل الْعلم أَنهم تكلمُوا فِي الرِّجَال وضعفوا
(হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের ত্রুটি বর্ণনার উৎসসমূহ)

আর এই কিতাবে হাদিস, বর্ণনাকারী এবং ইতিহাসের যে সব ত্রুটি (ইলাল) উল্লেখ করা হয়েছে, তা আমি ইতিহাসের কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করেছি। এর অধিকাংশ হলো সেই সব বিষয় যা নিয়ে আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের সাথে আলোচনা করেছি। আর কিছু বিষয় আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান এবং আবু যুরআর সাথে আলোচনা করেছি। তবে এর অধিকাংশ মুহাম্মাদ থেকে প্রাপ্ত, আর আব্দুল্লাহ ও আবু যুরআ থেকে প্রাপ্ত অংশ খুবই নগণ্য। আমি ইরাক কিংবা খুরাসানে হাদিসের ত্রুটি (ইলাল), ইতিহাস এবং সনদ সম্পর্কে অভিজ্ঞদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক পারদর্শী কাউকে দেখিনি। আবু ঈসা বলেন: আমি এই কিতাবে ফকিহগণের মতামত এবং হাদিসের ত্রুটিসমূহ বর্ণনায় যা কিছু উপস্থাপন করেছি, তা করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে এই যে, আমাদেরকে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবত জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, কিন্তু আমি তা সম্পাদন করা থেকে বিরত ছিলাম। অতঃপর আমি তা সম্পাদন করেছি মানুষের উপকারের আশায়। কেননা আমি একাধিক ইমামকে এমন সব বিষয় সংকলন করতে দেখেছি যা তাদের পূর্বে আর কেউ করেনি। তাদের মধ্যে হিশাম বিন হাসান, আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ, সাঈদ বিন আবি আরুবা, মালিক বিন আনাস, হাম্মাদ বিন সালামা, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া বিন আবি যায়িদা, ওকি বিন জাররাহ, আব্দুর রহমান বিন মাহদি এবং ইলম ও ফযিলতের অধিকারী আরও অনেকে কিতাব সংকলন করেছেন এবং আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। মুসলিমদের উপকারের কারণে আমরা আল্লাহর কাছে তাদের জন্য মহা প্রতিদানের আশা করি। সুতরাং তাদের সংকলিত বিষয়াদির ক্ষেত্রে তারাই হলেন অনুসরণীয় আদর্শ। অবশ্য কতিপয় নির্বোধ ব্যক্তি বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার কারণে হাদিস বিশারদগণের (আহলুল হাদিস) নিন্দা করেছে। অথচ আমি তাবেয়িগণের মধ্য থেকে একাধিক ইমামকে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখেছি। তাদের মধ্যে হাসান বসরি এবং তাউস মা'বাদ আল-জুহানি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। সাঈদ বিন জুবাইর তালক বিন হাবিব সম্পর্কে এবং ইবরাহিম নাখয়ি ও আমির আশ-শা'বি হারিস আল-আওয়ার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। অনুরূপভাবে আইয়ুব সাখতিয়ানি, আব্দুল্লাহ বিন আউন, সুলাইমান আত-তাইমি, শু'বা বিন হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরি, মালিক বিন আনাস, আওযায়ি, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, ওকি বিন জাররাহ, আব্দুর রহমান বিন মাহদি এবং অন্যান্য ইলম অন্বেষণকারী বিদ্বানদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন এবং তাদেরকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৩৯)
‌‌(جَوَاز الحكم على الرِّجَال والأسانيد)

وَإِنَّمَا حملهمْ على ذَلِك عندنَا وَالله أعلم النَّصِيحَة للْمُسلمين لَا ظن بهم أَنهم أَرَادوا الطعْن على النَّاس أَو الْغَيْبَة إِنَّمَا أَرَادوا عندنَا أَن يبينوا ضعف هَؤُلَاءِ لكَي يعرفوا لِأَن بَعضهم من الَّذين ضعفوا كَانَ صَاحب بدعو وَبَعْضهمْ كَانَ مُتَّهمًا فِي الحَدِيث وَبَعْضهمْ كَانُوا أَصْحَاب غَفلَة وَكَثْرَة خطأ فَأَرَادَ هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة أَن يبينوا أَحْوَالهم شَفَقَة على الدّين وتثبيتا لِأَن الشَّهَادَة فِي الدّين أَحَق أَن يثبت فِيهَا من الشَّهَادَة فِي الْحُقُوق وَالْأَمْوَال قَالَ وَأَخْبرنِي مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى بن سعيد الْقطَّان حَدثنِي أبي قَالَ سَأَلت سُفْيَان الثَّوْريّ وَشعْبَة وَمَالك بن أنس وسُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن الرجل تكون فِيهِ تُهْمَة أَو ضعف أشكت أَو أبين قَالُوا بَين حَدثنَا مُحَمَّد بن رَافع النَّيْسَابُورِي حَدثنَا يحيى بن آدم قَالَ قيل لأبي بكر بن عَيَّاش إِن أُنَاسًا يَجْلِسُونَ وَيجْلس إِلَيْهِم النَّاس وَلَا يستأهلون قَالَ فَقَالَ أَبُو بكر بن عَيَّاش كل من جلس جلس إِلَيْهِ النَّاس وَصَاحب السّنة إِذا مَاتَ أَحْيَا الله ذكره والمبتدع لَا يذكرهُ حَدثنَا مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحسن بن شَقِيق أخبرنَا النَّضر بن عبد الله الْأَصَم حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن زَكَرِيَّا عَن عَاصِم عَن بن سِيرِين قَالَ كَانَ فِي الزَّمن الأول لَا يسْأَلُون عَن الْإِسْنَاد فَلَمَّا وَقعت الْفِتْنَة سَأَلُوا عَن الْإِسْنَاد لكَي يَأْخُذُوا حَدِيث أهل السّنة ويدعوا حَدِيث أهل الْبدع حَدثنَا مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحسن قَالَ سَمِعت عَبْدَانِ يَقُول قَالَ عبد الله بن الْمُبَارك الْإِسْنَاد عِنْدِي من الدّين لَوْلَا الْإِسْنَاد لقَالَ من شَاءَ مَا شَاءَ فَإِذا قيل من حَدثَك بَقِي حَدثنَا مُحَمَّد بن عَليّ أخبرنَا حبَان بن مُوسَى قَالَ ذكر لعبد الله بن الْمُبَارك حَدِيث فَقَالَ تحْتَاج لهَذَا أر كَانَ من آجر قَالَ أَبُو عِيسَى يَعْنِي أَنه ضَعِيف إِسْنَاده حَدثنَا أَحْمد بن عَبدة حَدثنَا وهب بن زَمعَة عَن عبد الله بن الْمُبَارك أَنه ترك حَدِيث الْحسن بن عمَارَة وَالْحسن بن دِينَار وَإِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْأَسْلَمِيّ وَمُقَاتِل بن سُلَيْمَان وَعُثْمَان الْبري وروح بن مُسَافر وَأبي شيبَة الوَاسِطِيّ وَعَمْرو بن ثَابت وَأَيوب بن خوط وَأَيوب بن سُوَيْد ونضر بن طريف هُوَ أَبُو جُزْء وَالْحكم وحبِيب الحكم روى لَهُ حَدِيثا فِي كتاب الرفاق ثمَّ تَركه وَقَالَ حبيب لَا أَدْرِي قَالَ أَحْمد بن عَبدة وَسمعت عَبْدَانِ قَالَ كَانَ عبد الله بن الْمُبَارك قَرَأَ أَحَادِيث بكر بن خُنَيْس فَكَانَ أخيرا إِذا أَتَى عَلَيْهَا أعرض عَنْهَا وَكَانَ لَا يذكرهُ قَالَ أَحْمد حَدثنَا أَبُو وهب قَالَ سموا لعبد الله بن الْمُبَارك رجلا يتهم فِي الحَدِيث فَقَالَ لِأَن أقطع الطَّرِيق أحب إِلَيّ من أَن أحدث عَنهُ قَالَ أَخْبرنِي مُحَمَّد بن مُوسَى بن حزَام قَالَ سَمِعت يزِيد بن هَارُون يَقُول لَا يحل لأحد أَن يروي عَن سُلَيْمَان بن عَمْرو النَّخعِيّ الْكُوفِي حَدثنَا مَحْمُود بن غيلَان حَدثنَا أَبُو يحيى الْحمانِي قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة يَقُول مَا رَأَيْت أحدا أكذب من جَابر الْجعْفِيّ وَلَا أفضل من عَطاء بن أبي رَبَاح قَالَ أَبُو عِيسَى وَسمعت الْجَارُود يَقُول سَمِعت وكيعا يَقُول لَوْلَا جَابر الْجعْفِيّ لَكَانَ أهل الْكُوفَة بِغَيْر حَدِيث وَلَوْلَا حَمَّاد لَكَانَ أهل الْكُوفَة بِغَيْر فقه قَالَ أَبُو عِيسَى وَسمعت أَحْمد بن الْحسن يَقُول كُنَّا عِنْد أَحْمد بن حَنْبَل فَذكرُوا من تجب عَلَيْهِ الْجُمُعَة فَذكرُوا فِيهِ عَن بعض أهل الْعلم من التَّابِعين وَغَيرهم فَقلت فِيهِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَدِيث فَقَالَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قلت نعم حَدثنَا أَحْمد بن الْحسن حَدثنَا حجاج بن نصير حَدثنَا الْمُبَارك بن عباد عَن عبد الله بن سعيد المَقْبُري عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَة على من آواه اللَّيْل إِلَى أَهله قَالَ فَغَضب أَحْمد بن حَنْبَل وَقَالَ اسْتغْفر رَبك اسْتغْفر رَبك مرَّتَيْنِ قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا فعل هَذَا أَحْمد بن حَنْبَل لِأَنَّهُ لم يصدق هَذَا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لضعف إِسْنَاده لِأَنَّهُ لم يعرفهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالْحجاج بن نصير يضعف فِي الحَدِيث وَعبد الله بن سعيد المَقْبُري ضعفه يحيى بن سعيد الْقطَّان جدا فِي الحَدِيث قَالَ أَبُو عِيسَى فَكل من روى عَنهُ حَدِيث مِمَّن يتهم أَو يضعف لِغَفْلَتِه وَكَثْرَة خطئه وَلَا يعرف ذَلِك الحَدِيث إِلَّا من حَدِيثه فَلَا يحْتَج بِهِ وَقد روى غير وَاحِد من الْأَئِمَّة عَن الضُّعَفَاء وبنيوا أَحْوَالهم للنَّاس حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن الْمُنْذر الْبَاهِلِيّ حَدثنَا يعلى بن عبيد قَالَ لنا سُفْيَان الثَّوْريّ اتَّقوا الْكَلْبِيّ فَقيل لَهُ فَإنَّك تروي عَنهُ قَالَ أَنا أعرف صدقه من كذبه قَالَ وَأَخْبرنِي مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل حَدثنِي يحيى بن معِين حَدثنَا عَفَّان عَن أبي عوَانَة قَالَ لما مَاتَ الْحسن الْبَصْرِيّ اشْتهيت كَلَامه فتتبعته عَن أَصْحَاب الْحسن فَأتيت بِهِ أبان بن أبي عَيَّاش فقرأه عَليّ كُله عَن الْحسن فَمَا أستحل أَن أروي عَنهُ شَيْئا قَالَ أَبُو عِيسَى قد روى عَن أبان بن أبي عَيَّاش غير وَاحِد من الْأَئِمَّة وَإِن كَانَ فِيهِ من الضعْف والغفلة مَا وَصفه أَبُو عوَانَة وَغَيره فَلَا تعْتَبر بِرِوَايَة الثِّقَات عَن النَّاس لِأَنَّهُ يروي عَن أبي سِيرِين قَالَ إِن الرجل يحدثني فَمَا أَتَّهِمهُ وَلَكِن أتهم من فَوْقه وَقد روى غير وَاحِد عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ عَن عبد الله بن مَسْعُود أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يقنت فِي وتره قبل الرُّكُوع وروى أبان بن أبي عَيَّاش عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ عَن عَلْقَمَة عَن عبد الله بن مَسْعُود أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يقنت فِي وتره قبل الرُّكُوع هَكَذَا روى سُفْيَان الثَّوْريّ عَن أبان بن أبي عَيَّاش وروى بَعضهم عَن أبان بن أبي عَيَّاش بِهَذَا الْإِسْنَاد نَحْو هَذَا وَزَاد فِيهِ قَالَ عبد الله بن مَسْعُود وأخبرتني أُمِّي أَنَّهَا باتت عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فرأت النَّبِي صلى الله عليه وسلم قنت فِي وتره قبل الرُّكُوع قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَبَان بن أبي عَيَّاش وَإِن كَانَ قد وصف بِالْعبَادَة والإجتهاد فَهَذِهِ حَاله فِي الحَدِيث وَالْقَوْم كَانُوا أَصْحَاب حفظ فَرب رجل وَإِن كَانَ صَالحا لَا يُقيم الشَّهَادَة وَلَا يحفظها فَكل من كَانَ مُتَّهمًا فِي الحَدِيث بِالْكَذِبِ أَو كَانَ مغفلا يخطىء الْكثير فَالَّذِي اخْتَارَهُ أَكثر أهل الحَدِيث من الْأَئِمَّة أَن لَا يشْتَغل بالرواية عَنهُ أَلا ترى أَن عبد الله بن الْمُبَارك حدث عَن قوم من أهل الْعلم فَلَمَّا تبين لَهُ أَمرهم ترك الرِّوَايَة عَنْهُم أَخْبرنِي مُوسَى بن حزَام قَالَ سَمِعت صَالح بن عبد الله يَقُول كُنَّا عِنْد أبي مقَاتل السَّمرقَنْدِي فَجعل يروي عَن عون بن أبي شَدَّاد الْأَحَادِيث الطوَال الَّذِي كَانَ يروي فِي وَصِيَّة لُقْمَان وَقتل سعيد بن جُبَير وَمَا أشبه هَذِه الْأَحَادِيث فَقَالَ لَهُ بن أخي أبي مقَاتل يَا عَم لَا تقل حَدثنَا عون فَإنَّك لم تسمع هَذِه الْأَشْيَاء قَالَ يَا بني هُوَ كَلَام حسن
‌(রাবী এবং সনদের ওপর হুকুম প্রদানের বৈধতা)

আমাদের মতে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—তাঁদেরকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে মুসলিমদের প্রতি নসিহত (শুভকামনা)। আমাদের ধারণা অনুযায়ী, তাঁরা মানুষের নিন্দা করা বা গিবত করার ইচ্ছা করেননি। বরং তাঁরা আমাদের কাছে এই দুর্বলদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছেন যাতে তাদের চেনা যায়। কারণ যাদের দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের কেউ ছিল বিদআতী, কেউ হাদীসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত, আর কেউ ছিল গাফেল এবং অধিক ভুলকারী। তাই এই ইমামগণ দ্বীনের প্রতি মমতা ও তা সুদৃঢ় করার জন্য তাঁদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছেন। কারণ অধিকার ও সম্পদের সাক্ষ্যের তুলনায় দ্বীনের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান সুদৃঢ় হওয়ার অধিক হকদার। তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান সাওরী, শু'বাহ, মালিক বিন আনাস এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বা যে দুর্বল; আমি কি চুপ থাকব না কি বর্ণনা করে দেব? তাঁরা বললেন: বর্ণনা করে দিন। আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন রাফি আন-নাইসাবুরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন আদম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আইয়াশকে বলা হলো যে, কিছু লোক (শিখানোর জন্য) বসেছে এবং মানুষও তাদের কাছে বসছে, অথচ তারা এর যোগ্য নয়। তখন আবু বকর বিন আইয়াশ বললেন: যে কেউ বসলে মানুষ তার কাছে বসবেই। তবে সুন্নতের অনুসারী যখন মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্মরণকে জীবিত রাখেন; আর বিদআতীকে কেউ স্মরণ করে না। আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাসান বিন শাকীক বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে নাদর বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাম খবর দিয়েছেন, আমাদের কাছে ইসমাইল বিন জাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আসিম থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: প্রথম যুগে মানুষ সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত না। কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল, যাতে তারা আহলুস সুন্নাহর হাদীস গ্রহণ করতে পারে এবং আহলুল বিদআতের হাদীস বর্জন করতে পারে। আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক বলেছেন: আমার কাছে সনদ হলো দ্বীনের অংশ; যদি সনদ না থাকত তবে যার যা ইচ্ছা তা-ই বলত। কিন্তু যখন বলা হয়, "আপনার কাছে কে বর্ণনা করেছে?" তখন সে নিরুত্তর হয়ে যায়। আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হিব্বান বিন মূসা খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের কাছে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন, এর জন্য কি পোড়া ইট প্রয়োজন নাকি কাঁচা ইট? আবু ঈসা বলেন: অর্থাৎ এর সনদ দুর্বল। আমাদের কাছে আহমদ বিন আবদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ওয়াহাব বিন জামআ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুবারক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হাসান বিন আমারা, হাসান বিন দীনার, ইব্রাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আসলামী, মুকাতিল বিন সুলাইমান, উসমান আল-বাররী, রাওহ বিন মুসাফির, আবু শাইবাহ আল-ওয়াসিতী, আমর বিন সাবিত, আইয়ুব বিন খুত, আইয়ুব বিন সুওয়াইদ এবং নাদর বিন তারিফ—যিনি আবু জুয নামে পরিচিত—তাদের হাদীস বর্জন করেছেন। এবং হাকাম ও হাবীব আল-হাকাম—তার থেকে তিনি 'কিতাবুর রিফাক'-এ একটি হাদীস বর্ণনা করেছিলেন, এরপর তা বর্জন করেন। হাবীব সম্পর্কে তিনি বলেন: আমি জানি না। আহমদ বিন আবদাহ বলেন, আমি আবদানকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক বকর বিন খুনাইসের হাদীসগুলো পাঠ করতেন, কিন্তু শেষ বয়সে যখন সেগুলোর সম্মুখীন হতেন, তখন মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং তাঁর নাম উল্লেখ করতেন না। আহমদ বলেন, আমাদের কাছে আবু ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের কাছে এমন এক ব্যক্তির নাম নেওয়া হলো যাকে হাদীসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত করা হয়, তখন তিনি বললেন: হাদীস বর্ণনা করার চেয়ে আমার কাছে পথে ডাকাতি করাও অধিক পছন্দনীয়। তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ বিন মূসা বিন হিযাম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াযীদ বিন হারুনকে বলতে শুনেছি: কুফার সুলাইমান বিন আমর আন-নাখায়ী থেকে হাদীস বর্ণনা করা কারো জন্য বৈধ নয়। আমাদের কাছে মাহমুদ বিন গাইলান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু হানীফাকে বলতে শুনেছি: আমি জাবির আল-জু'ফীর চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী এবং আতা বিন আবি রাবাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি। আবু ঈসা বলেন: আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি অকী’কে বলতে শুনেছি: জাবির আল-জু'ফী না থাকলে কুফাবাসী হাদীসশূন্য থাকত, আর হাম্মাদ না থাকলে কুফাবাসী ফিকহশূন্য থাকত। আবু ঈসা বলেন: আমি আহমদ বিন হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা আহমদ বিন হাম্বলের কাছে ছিলাম, তখন তাঁরা জুমুআ কার ওপর ওয়াজিব সে সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাঁরা এ বিষয়ে তাবিঈন ও অন্যদের থেকে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করলেন। তখন আমি বললাম, এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস রয়েছে। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে? আমি বললাম: হ্যাঁ। আমাদের কাছে আহমদ বিন হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাজ্জাজ বিন নাসির বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুবারক বিন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার রাত কাটানোর আশ্রয় তার পরিবার পর্যন্ত বিস্তৃত, তার ওপর জুমুআ ওয়াজিব। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আহমদ বিন হাম্বল রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান (দুইবার)। আবু ঈসা বলেন: আহমদ বিন হাম্বল এমনটি এই কারণে করেছিলেন যে, সনদের দুর্বলতার কারণে তিনি একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত বলে বিশ্বাস করেননি। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর জানা ছিল না। আর হাজ্জাজ বিন নাসির হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল, এবং আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-মাকবুরীকে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান হাদীসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। আবু ঈসা বলেন: সুতরাং যার থেকেই কোনো হাদীস বর্ণিত হোক—যে অভিযুক্ত কিংবা নিজের উদাসীনতা ও অধিক ভুলের কারণে দুর্বল, এবং সেই হাদীসটি কেবল তাঁর মাধ্যমেই পরিচিত হয়—তবে তার মাধ্যমে দলিল প্রদান করা যাবে না। অনেক ইমাম দুর্বলদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং মানুষের কাছে তাঁদের অবস্থা বর্ণনা করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে ইব্রাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুনযির আল-বাহিলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইয়ালা বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান সাওরী আমাদের বলেছিলেন: তোমরা কালবী থেকে বেঁচে থেকো। তাঁকে বলা হলো: অথচ আপনি তো তার থেকে বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: আমি তার সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে পারি। তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল সংবাদ দিয়েছেন, আমার কাছে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি বলেন: হাসান বসরী যখন মারা গেলেন, তখন আমার তাঁর কথার প্রতি আগ্রহ জাগল। আমি হাসান বসরীর ছাত্রদের কাছ থেকে তাঁর কথাগুলো তালাশ করতে লাগলাম। এরপর আমি আবান বিন আবি আইয়াশের কাছে আসলাম, তিনি আমার সামনে হাসান বসরীর সূত্রে সব পাঠ করলেন। কিন্তু আমি তার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করা হালাল মনে করি না। আবু ঈসা বলেন: আবান বিন আবি আইয়াশ থেকে একাধিক ইমাম বর্ণনা করেছেন, যদিও তাঁর মধ্যে দুর্বলতা ও উদাসীনতা ছিল যেমনটি আবু আওয়ানা ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মানুষের থেকে বিশ্বস্তদের বর্ণনার কারণে ধোঁকায় পড়ো না। কারণ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করে, যাতে আমি তাকে অভিযুক্ত করি না, কিন্তু আমি তার উপরের স্তরের রাবীকে অভিযুক্ত করি। একাধিক বর্ণনাকারী ইব্রাহীম নাখায়ী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামাজে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন। আবার আবান বিন আবি আইয়াশ বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম নাখায়ী থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামাজে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন। এভাবেই সুফিয়ান সাওরী আবান বিন আবি আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ কেউ আবান বিন আবি আইয়াশ থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেছেন, "আমার মা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রাত কাটিয়েছেন এবং দেখেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামাজে রুকুর আগে কুনুত পড়েছেন।" আবু ঈসা বলেন: আবান বিন আবি আইয়াশ যদিও ইবাদত ও কঠোর সাধনার গুণে গুণান্বিত ছিলেন, কিন্তু হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা ছিল এরূপ। অথচ উম্মতের এই সম্প্রদায় ছিলেন প্রখর হেফজ বা মুখস্থ শক্তির অধিকারী। অনেক লোক আছেন যারা নেককার হওয়া সত্ত্বেও সাক্ষ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে পারেন না এবং তা মনে রাখতে পারেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি হাদীসের ক্ষেত্রে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত অথবা উদাসীনতার কারণে প্রচুর ভুল করেন, তাঁদের সম্পর্কে ইমামগণ ও অধিকাংশ হাদীস বিশারদগণ যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো—তাঁদের বর্ণনা নিয়ে ব্যস্ত হওয়া যাবে না। আপনি কি দেখছেন না যে, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক একদল আলেম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু যখন তাঁদের অবস্থা তাঁর কাছে স্পষ্ট হলো, তখন তিনি তাঁদের থেকে বর্ণনা করা বর্জন করলেন। আমাকে মূসা বিন হিযাম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি সালেহ বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আবু মুকাতিল আস-সামারকান্দীর কাছে ছিলাম। তিনি আউন বিন আবি শাদ্দাদ থেকে দীর্ঘ সব হাদীস বর্ণনা করতে লাগলেন—যা লুকমান-এর ওসিয়ত, সাঈদ বিন জুবায়েরের হত্যাকাণ্ড এবং এই জাতীয় হাদীস ছিল। তখন আবু মুকাতিলের ভাতিজা তাঁকে বলল: হে চাচা! 'আউন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন' এমন বলবেন না, কারণ আপনি এই বিষয়গুলো শোনেননি। তিনি বললেন: হে বৎস! এগুলো তো সুন্দর কথা।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৪৪)
‌‌(التَّضْعِيف من جِهَة الْحِفْظ)

وَقد تكلم بعض أهل الحَدِيث فِي قوم من جلة أهل الْعلم وضعفوهم من قبل حفظهم ووثقهم آخَرُونَ من الْأَئِمَّة بجلالتهم وَصدقهمْ وَإِن كَانُوا قد وهموا فِي بعض مَا رووا قد تكلم يحيى بن سعيد الْقطَّان فِي مُحَمَّد بن عَمْرو ثمَّ روى عَنهُ حَدثنَا أَبُو بكر عبد القدوس بن مُحَمَّد الْعَطَّار الْبَصْرِيّ حَدثنَا عَليّ بن الْمَدِينِيّ قَالَ سَأَلت يحيى بن سعيد عَن مُحَمَّد بن عَمْرو بن عَلْقَمَة قَالَ تُرِيدُ الْعَفو أَو تشدد فَقَالَ لَا بل أشدد قَالَ لَيْسَ هُوَ مِمَّن تُرِيدُ كَانَ يَقُول أشياخنا أَبُو سَلمَة وَيحيى بن عبد الرَّحْمَن بن حَاطِب قَالَ يحيى وَسَأَلت مَالك بن أنس عَن مُحَمَّد بن عَمْرو فَقَالَ فِيهِ نَحْو مَا قلت قَالَ عَليّ قَالَ يحيى وَمُحَمّد بن عَمْرو أَعلَى من سُهَيْل بن أبي صَالح وَهُوَ عِنْدِي فَوق عبد الرَّحْمَن بن حَرْمَلَة قَالَ عَليّ فَقلت ليحيى مَا رَأَيْت من عبد الرَّحْمَن بن حَرْمَلَة قَالَ لَو شِئْت أَن ألقنه لفَعَلت قلت كَانَ يلقن قَالَ نعم قَالَ عَليّ وَلم يرو يحيى عَن شريك وَلَا عَن أبي بكر بن عَيَّاش وَلَا عَن الرّبيع بن صبيح وَلَا عَن الْمُبَارك بن فضَالة قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِن كَانَ يحيى بن سعيد الْقطَّان قد ترك الرِّوَايَة عَن هَؤُلَاءِ فَلم يتْرك الرِّوَايَة عَنْهُم أَنه اتهمهم بِالْكَذِبِ وَلكنه تَركهم لحَال حفظهم ذكر عَن يحيى بن سعيد أَنه كَانَ إِذا رأى الرجل يحدث عَن حفظه مرّة هَكَذَا وَمرَّة هَكَذَا لَا يثبت على رِوَايَة وَاحِدَة تَركه وَقد حدث عَن هَؤُلَاءِ الَّذين تَركهم يحيى بن سعيد الْقطَّان عبد الله بن الْمُبَارك ووكيع بن الْجراح وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَغَيرهم من الْأَئِمَّة قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا تكلم بعض أهل الحَدِيث فِي سُهَيْل بن أبي صَالح وَمُحَمّد بن إِسْحَاق وَحَمَّاد بن سَلمَة وَمُحَمّد بن عجلَان وَأَشْبَاه هَؤُلَاءِ من الْأَئِمَّة إِنَّمَا تكلمُوا فيهم من قبل حفظهم فِي بعض مَا رووا وَقد حدث عَنْهُم الْأَئِمَّة حَدثنَا الْحسن بن عَليّ الْحلْوانِي أخبرنَا عَليّ بن الْمَدِينِيّ قَالَ قَالَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة كُنَّا نعد سُهَيْل بن أبي صَالح ثبتا فِي الحَدِيث حَدثنَا بن أبي عمر قَالَ قَالَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة كَانَ مُحَمَّد بن عجلَان ثِقَة مَأْمُونا فِي الحَدِيث قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا تكلم يحيى بن سعيد الْقطَّان عندنَا فِي رِوَايَة مُحَمَّد بن عجلَان عَن سعيد المَقْبُري أخبرنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله قَالَ قَالَ يحيى بن سعيد قَالَ مُحَمَّد بن عجلَان أَحَادِيث سعيد المَقْبُري بَعْضهَا سعيد عَن أبي هُرَيْرَة وَبَعضهَا سعيد عَن رجل عَن أبي هُرَيْرَة فاختلطت عَليّ فصيرتها عَن سعيد عَن أبي هُرَيْرَة فَإِنَّمَا تكلم يحيى بن سعيد عندنَا فِي بن عجلَان لهَذَا وَقد روى يحيى عَن بن عجلَان الْكثير قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا من تكلم فِي بن أبي ليلى إِنَّمَا تِلْكَ فِيهِ من قبل حفظه قَالَ عَليّ قَالَ يحيى بن سعيد الْقطَّان روى شُعْبَة عَن بن أبي ليلى عَن أَخِيه عِيسَى عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن أبي أَيُّوب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْعَطاء قَالَ يحيى ثمَّ لقِيت بن أبي ليلى فحدثنا عَن أَخِيه عِيسَى عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن عَليّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو عِيسَى ويروى عَن بن أبي ليلى نَحْو هَذَا غير شَيْء كَانَ يرْوى شَيْئا مرّة هَكَذَا وَمرَّة هَكَذَا يَعْنِي الْإِسْنَاد وَإِنَّمَا جَاءَ هَذَا من قبل حفظه وَأكْثر من مضى من أهل الْعلم كَانُوا لَا يَكْتُبُونَ وَمن كتب مِنْهُم إِنَّمَا كَانَ يكْتب لَهُم بعد السماع وَسمعت أَحْمد بن الْحسن يَقُول سَمِعت أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول بن أبي ليلى لَا يحْتَج بِهِ وَكَذَلِكَ من تكلم من أهل الْعلم فِي مجَالد بن سعيد وَعبد الله بن لَهِيعَة وَغَيرهم إِنَّمَا تكلمُوا فيهم من قبل حفظهم وَكَثْرَة خطئهم وَقد روى عَنْهُم غير وَاحِد من الْأَئِمَّة فَإِذا انْفَرد أحد من هَؤُلَاءِ بِحَدِيث وَلم يُتَابع عَلَيْهِ لم يحْتَج بِهِ كَمَا قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل بن أبي ليلى لَا يحْتَج بِهِ إِنَّمَا عَنى إِذا تفرد بالشَّيْء وَأَشد مَا يكون هَذَا إِذا لم يحفظ الْإِسْنَاد فَزَاد أَو نقص أَو غير الْإِسْنَاد أَو جَاءَ بِمَا يتَغَيَّر فِيهِ الْمَعْنى
(হিফজ বা মুখস্থশক্তির দিক থেকে দুর্বলতা সাব্যস্তকরণ)

হাদীস বিশারদদের (আহলুল হাদীস) কেউ কেউ বড় মাপের একদল আলেম সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং তাঁদের মুখস্থশক্তির (হিফজ) কারণে তাঁদেরকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। আবার অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের মর্যাদা ও সত্যবাদিতার কারণে তাঁদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যদিও তাঁরা তাঁদের বর্ণিত কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান মুহাম্মদ ইবনে আমর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, তবে পুনরায় তাঁর থেকে বর্ণনাও করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আল-আত্তার আল-বাসরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল মাদীনী। তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলক্বামাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘আপনি কি শিথিলতা চান নাকি কঠোরতা?’ আমি বললাম, ‘না, বরং কঠোরতা’। তিনি বললেন, ‘তিনি তেমন (উন্নত মানের বর্ণনাকারী) নন যেমনটি আপনি চান। তিনি বলতেন আমাদের শাইখগণ হলেন আবু সালামাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাতিব।’ ইয়াহইয়া বলেন, আমি মালিক ইবনে আনাসকে মুহাম্মদ ইবনে আমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও তাই বললেন যা আমি বলেছি। আলী বলেন, ইয়াহইয়া বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর সুহাইল ইবনে আবি সালিহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং তিনি আমার নিকট আব্দুর রহমান ইবনে হারমালাহ থেকেও উত্তম। আলী বলেন, আমি ইয়াহইয়াকে বললাম, আপনি আব্দুর রহমান ইবনে হারমালার মাঝে কী দেখেছেন? তিনি বললেন, ‘আমি যদি তাঁকে কোনো কিছু শিখিয়ে দিতাম, তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন।’ আমি বললাম, ‘তাঁকে কি শিখিয়ে দেওয়া হতো?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। আলী বলেন, ইয়াহইয়া শরীক, আবু বকর ইবনে আইয়াশ, রাবী ইবনে সাবিহ এবং মুবারক ইবনে ফাদ্বালাহ থেকে বর্ণনা করেননি। আবু ঈসা বলেন: যদিও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এঁদের থেকে বর্ণনা করা বর্জন করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁদের মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করে বর্জন করেননি, বরং তাঁদের মুখস্থশক্তির অবস্থার কারণে বর্জন করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন দেখতেন কোনো ব্যক্তি মুখস্থ থেকে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে একবার একভাবে এবং অন্যবার অন্যভাবে বর্ণনা করছেন এবং একটি বর্ণনার ওপর স্থির থাকছেন না, তখন তিনি তাকে বর্জন করতেন। আর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান যাঁদের থেকে বর্ণনা বর্জন করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ওয়াকী ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এবং অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন: অনুরূপভাবে কোনো কোনো হাদীস বিশারদ সুহাইল ইবনে আবি সালিহ, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, মুহাম্মদ ইবনে আজলান এবং তাঁদের মতো ইমামদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন কেবলমাত্র তাঁদের বর্ণিত কিছু বিষয়ে তাঁদের মুখস্থশক্তির দুর্বলতার কারণে। অথচ ইমামগণ তাঁদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনুল মাদীনী। তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেছেন, ‘আমরা সুহাইল ইবনে আবি সালিহকে হাদীসে সুদৃঢ় মনে করতাম।’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উমর, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেছেন, ‘মুহাম্মদ ইবনে আজলান হাদীসে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত ছিলেন।’ আবু ঈসা বলেন: আমাদের মতে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান সাইদ আল-মাকবুরী থেকে মুহাম্মদ ইবনে আজলানের বর্ণনার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, তিনি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আজলান বলতেন, ‘সাইদ আল-মাকবুরীর হাদীসসমূহের কিছু সাইদ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবার কিছু সাইদ জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে বিষয়টি আমার নিকট ওলটপালট হয়ে গেছে, তাই আমি সবগুলোকে সাইদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে—এভাবে করে দিয়েছি।’ সুতরাং আমাদের মতে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আজলান সম্পর্কে একারণেই সমালোচনা করেছেন। অথচ ইয়াহইয়া ইবনে আজলান থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন: অনুরূপভাবে যারা ইবনে আবি লায়লা সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, তা কেবল তাঁর মুখস্থশক্তির দুর্বলতার কারণেই করেছেন। আলী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন, শুবা বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি তাঁর ভাই ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুদান সম্পর্কে। ইয়াহইয়া বলেন, অতঃপর আমি ইবনে আবি লায়লার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাদের নিকট তাঁর ভাই ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আলী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। আবু ঈসা বলেন: ইবনে আবি লায়লা থেকে এ জাতীয় একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে তিনি কখনো একভাবে আবার কখনো অন্যভাবে সনদ বর্ণনা করতেন। আর এটি কেবল তাঁর মুখস্থশক্তির কারণেই হতো। অতীতে অধিকাংশ আলেমই হাদীস লিখতেন না। আর তাঁদের মধ্যে যারা লিখতেন, তাঁরা কেবলমাত্র শোনার পর লিখতেন। আমি আহমাদ ইবনে হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে আবি লায়লার বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তদ্রূপ বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্যে যারা মুজালিদ ইবনে সাঈদ, আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া এবং অন্যদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, তাঁরা মূলত তাঁদের মুখস্থশক্তি এবং অধিক ভুলের কারণেই করেছেন। যদিও অনেক ইমাম তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যখন এঁদের কেউ কোনো হাদীস বর্ণনায় একক হয়ে যান এবং অন্য কেউ তাঁর অনুসরণ না করেন, তখন তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না। যেমনটি আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন যে, ইবনে আবি লায়লার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যখন তিনি কোনো বিষয়ে একক হয়ে যান। আর এটি সবথেকে গুরুতর হয় তখন, যখন তিনি সনদ হিফজ করতে না পেরে তাতে কিছু বৃদ্ধি করেন অথবা হ্রাস করেন কিংবা সনদ পরিবর্তন করে ফেলেন অথবা এমন কিছু বর্ণনা করেন যাতে অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৪৬)
‌‌(الرِّوَايَة بِالْمَعْنَى)

فَأَما من أَقَامَ الْإِسْنَاد وَحفظه وَغير اللَّفْظ فَإِن هَذَا وَاسع عِنْد أهل الْعلم إِذا لم يتَغَيَّر الْمَعْنى حَدثنَا مُحَمَّد بن بشار حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مهْدي حَدثنَا مُعَاوِيَة بن صَالح عَن الْعَلَاء بن الْحَارِث عَن مَكْحُول عَن وَاثِلَة بن الْأَسْقَع قَالَ إِذا حَدَّثْنَاكُمْ على الْمَعْنى فحسبكم حَدثنَا يحيى بن مُوسَى حَدثنَا عبد الرَّزَّاق أخبرنَا معمر عَن أَيُّوب عَن مُحَمَّد بن سِيرِين قَالَ كنت أسمع الحَدِيث من عشرَة اللَّفْظ مُخْتَلف وَالْمعْنَى وَاحِد حَدثنَا أَحْمد بن منيع حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله الْأنْصَارِيّ عَن بن عون قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ وَالْحسن وَالشعْبِيّ يأْتونَ بِالْحَدِيثِ على الْمعَانِي وَكَانَ الْقَاسِم بن مُحَمَّد وَمُحَمّد بن سِيرِين ورجاء بن حَيْوَة يعيدون الحَدِيث على حُرُوفه حَدثنَا عَليّ بن خشرم أخبرنَا حَفْص بن غياث عَن عَاصِم الْأَحول قَالَ قلت لأبي عُثْمَان النَّهْدِيّ إِنَّك تحدثنا بِالْحَدِيثِ ثمَّ تحدثنا بِهِ على غير مَا حَدَّثتنَا قَالَ عَلَيْك بِالسَّمَاعِ الأول حَدثنَا الْجَارُود حَدثنَا وَكِيع عَن الرّبيع بن صبيح عَن الْحسن قَالَ إِذا أصبت الْمَعْنى أَجزَاء حَدثنَا عَليّ بن حجر أخبرنَا عبد الله بن الْمُبَارك عَن سيف هُوَ بن سُلَيْمَان قَالَ سَمِعت مُجَاهدًا يَقُول أنقص من الحَدِيث إِن شِئْت وَلَا تزد فِيهِ حَدثنَا أَبُو عمار الْحُسَيْن بن حُرَيْث أخبرنَا زيد بن حباب عَن رجل قَالَ خرج إِلَيْنَا سُفْيَان الثَّوْريّ فَقَالَ إِن قلت لكم أَنا أحدثكُم كل مَا سَمِعت فَلَا تصدقوني إِنَّمَا هُوَ الْمَعْنى أخبرنَا الْحسن بن حُرَيْث قَالَ سَمِعت وكيعا يَقُول إِن لم يكون الْمَعْنى وَاسِعًا فقد هلك النَّاس قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا تفاضل أهل الْعلم بِالْحِفْظِ والإتقان والتثبت عِنْد السماع مَعَ أَنه لم يسلم من الْخَطَأ والغلط كَبِير أحد من الْأَئِمَّة مَعَ حفظهم
(মর্মার্থে বর্ণনা)

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সনদ যথাযথভাবে রক্ষা করেছে ও তা মুখস্থ রেখেছে কিন্তু শব্দ পরিবর্তন করেছে, তবে আলেমদের নিকট এটি প্রশস্ত বা অনুমোদিত যদি অর্থের কোনো পরিবর্তন না ঘটে। আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আলা ইবনুল হারিস থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা' থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা যখন তোমাদের নিকট মর্মার্থে (অর্থের ভিত্তিতে) বর্ণনা করি, তখন তোমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট।" আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি দশ জনের নিকট থেকে হাদীস শুনতাম, যাদের শব্দ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অর্থ এক হতো।" আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মানী' বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী থেকে, তিনি ইবনে আওন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইব্রাহিম আন-নাখায়ী, হাসান বছরী এবং শা'বী মর্মার্থে হাদীস বর্ণনা করতেন। আর কাসেম ইবনে মুহাম্মদ, মুহাম্মদ ইবনে সিরীন এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ হাদীস হুবহু শব্দে পুনরায় বর্ণনা করতেন।" আমাদের নিকট আলী ইবনে খাশরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি হাফস ইবনে গিয়াস থেকে, তিনি আসিম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আবু উসমান আন-নাহদীকে বললাম, আপনি আমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, তারপর আবার সেটি আমাদের কাছে ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, তুমি প্রথম শ্রবণের ওপর অটল থাকো।" আমাদের নিকট আল-জারুদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়াকী' থেকে, তিনি রাবী' ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি হাসান বছরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তুমি যদি মূল অর্থে পৌঁছাতে পারো তবে তা যথেষ্ট।" আমাদের নিকট আলী ইবনে হুজর বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি সাইফ (যিনি ইবনে সুলাইমান) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি, "তুমি চাইলে হাদীস থেকে শব্দ কমাতে পারো, কিন্তু তাতে কিছু বৃদ্ধি করো না।" আমাদের নিকট আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনে হুরাইস বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়েদ ইবনে হুবাব থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, "আমি যদি তোমাদের বলি যে আমি যা শুনেছি তার সবটুকুই তোমাদের কাছে বর্ণনা করছি, তবে তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো না। বরং এটি মূলত মর্মার্থেই বর্ণনা করা হয়।" হাসান ইবনে হুরাইস আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকী'কে বলতে শুনেছি, "যদি মর্মার্থে বর্ণনা করার বিষয়টি প্রশস্ত না হতো, তবে মানুষ ধ্বংস হয়ে যেত।" আবু ঈসা (তিরমিযী) বলেন, আলেমদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য নির্ধারিত হয় তাদের মুখস্থ শক্তি, প্রজ্ঞা এবং শ্রবণের সময় দৃঢ়তার ভিত্তিতে; যদিও বড় বড় ইমামগণ তাদের প্রখর স্মৃতিশক্তি থাকা সত্ত্বেও ভুল ও বিচ্যুতি থেকে প্রায় কেউই সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৪৮)
‌‌(تفاضل أهل الْعلم فِي الْحِفْظ)

حَدثنَا مُحَمَّد بن حميد الرَّازِيّ حَدثنَا جرير عَن عمَارَة بن الْقَعْقَاع قَالَ قَالَ لي إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ إِذا حَدَّثتنِي فَحَدثني عَن أبي زرْعَة بن عَمْرو بن جرير فَإِنَّهُ حَدثنِي مرّة بِحَدِيث ثمَّ سَأَلته بعد ذَلِك بسنين فَمَا أخرم مِنْهُ حرفا حَدثنَا أَبُو حَفْص عَن عَمْرو بن عَليّ حَدثنَا يحيى بن سعيد الْقطَّان عَن مُوسَى عَن مَنْصُور قَالَ قلت لإبراهم مَا لسالم بن أبي الْجَعْد أتم حَدِيثا مِنْك قَالَ لِأَنَّهُ كَانَ يكْتب حَدثنَا عبد الْجَبَّار بن الْعَلَاء بن عبد الْجَبَّار حَدثنَا سُفْيَان قَالَ قَالَ عبد الْملك بن عُمَيْر إِنِّي لأحدث بِالْحَدِيثِ فَمَا أدع مِنْهُ حرفا حَدثنَا الْحُسَيْن بن مهْدي الْبَصْرِيّ حَدثنَا عبد الرَّزَّاق أخبرنَا معمر قَالَ قَتَادَة مَا سَمِعت أذناي شَيْئا قطّ إِلَّا وعاه قلبِي حَدثنَا سعيد بن عبد الرَّحْمَن المَخْزُومِي حَدثنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن عَمْرو بن دِينَار قَالَ مَا رَأَيْت أحد أنص للْحَدِيث من الزُّهْرِيّ حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن سعيد الْجَوْهَرِي حَدثنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة قَالَ قَالَ أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ مَا علمت أحدا كَانَ أعلم بِحَدِيث أهل الْمَدِينَة بعد الزُّهْرِيّ من يحيى بن أبي كثير حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل حَدثنَا سُلَيْمَان بن حَرْب حَدثنَا حَمَّاد بن زيد قَالَ كَانَ بن عون يحدث فَإِذا حدثته عَن أَيُّوب بِخِلَافِهِ تَركه فَأَقُول قد سمعته فَيَقُول إِن أَيُّوب أعلمنَا بِحَدِيث مُحَمَّد بن سِيرِين حَدثنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله قَالَ قلت ليحيى بن سعيد أَيهمَا أثبت هِشَام الدستوَائي أم مسعر قَالَ مَا رَأَيْت مثل مسعر كَانَ مسعر من أثبت النَّاس حَدثنَا أَبُو بكر عبد القدوس بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنِي أَبُو الْوَلِيد قَالَ سَمِعت حَمَّاد بن زيد يَقُول مَا خالفني شُعْبَة فِي شَيْء إِلَّا تركته قَالَ قَالَ أَبُو بكر وحَدثني أَبُو الْوَلِيد قَالَ قَالَ لي حَمَّاد بن سَلمَة إِن أردْت الحَدِيث فَعَلَيْك بشعبة حَدثنَا عبد بن حميد حَدثنَا أَبُو دَاوُد قَالَ شُعْبَة مَا رويت عَن رجل حَدِيثا وَاحِدًا إِلَّا أَتَيْته أَكثر من مرّة وَالَّذِي رويت عَنهُ عشرَة أَحَادِيث أَتَيْته أَكثر من عشر مرار وَالَّذِي رويت عَنهُ خمسين حَدِيثا أَتَيْته أَكثر من خمسين مرّة وَالَّذِي رويت عَنهُ مائَة أَتَيْته أَكثر من مائَة مرّة إِلَّا حَيَّان الْبَارِقي فَإِنِّي سَمِعت مِنْهُ هَذِه الْأَحَادِيث ثمَّ عدت إِلَيْهِ فَوَجَدته قد مَاتَ حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل حَدثنَا عبد الله بن أبي الْأسود حَدثنَا بن مهْدي قَالَ سَمِعت سُفْيَان يَقُول شُعْبَة أَمِير الْمُؤمنِينَ فِي الحَدِيث حَدثنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله قَالَ سَمِعت يحيى بن سعيد يَقُول لَيْسَ أحد أحبي إِلَيّ من شُعْبَة وَلَا يعدله أحد عِنْدِي وَإِذا خَالفه سُفْيَان أخذت بقول سُفْيَان قَالَ عَليّ قلت ليحيى أَيهمَا أحفظ للأحاديث الطوَال سُفْيَان أَو شُعْبَة قَالَ كَانَ شُعْبَة أَمر فِيهَا قَالَ يحيى وَكَانَ شُعْبَة أعلم بِالرِّجَالِ فلَان عَن فلَان وَكَانَ سُفْيَان صَاحب أَبْوَاب حَدثنَا عَمْرو بن عَليّ قَالَ سَمِعت عبد الرَّحْمَن بن مهْدي يَقُول الْأَئِمَّة فِي الْأَحَادِيث أَرْبَعَة سُفْيَان الثَّوْريّ وَمَالك بن أنس وَالْأَوْزَاعِيّ وَحَمَّاد بن زيد حَدثنَا أَبُو عمار الْحُسَيْن بن حُرَيْث قَالَ سَمِعت وكيعا يَقُول قَالَ شُعْبَة سُفْيَان أحفظ مني مَا حَدثنِي سُفْيَان عَن شيخ بِشَيْء فَسَأَلته إِلَّا وجدته كَمَا حَدثنِي سَمِعت إِسْحَاق بن مُوسَى الْأنْصَارِيّ قَالَ سَمِعت معن بن عِيسَى الْقَزاز يَقُول كَانَ مَالك بن أنس يشدد فِي حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الْيَاء وَالتَّاء وَنَحْوهمَا حَدثنَا أَبُو عِيسَى حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن قريم الْأنْصَارِيّ قَاضِي الْمَدِينَة قَالَ مر مَالك بن أنس على أبي حَازِم وَهُوَ جَالس فجازه فَقيل لَهُ لم لم تجْلِس فَقَالَ إِنِّي لم أجد موضعا أَجْلِس فِيهِ وكرهت أَن آخذ حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَنا قَائِم حَدثنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله قَالَ قَالَ يحيى بن سعيد مَالك عَن سعيد بن الْمسيب أحب إِلَيّ من سُفْيَان الثَّوْريّ عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ قَالَ يحيى مَا فِي الْقَوْم أحد أصح حَدِيثا من مَالك بن أنس كَانَ مَالك إِمَامًا فِي الحَدِيث سَمِعت أَحْمد بن الْحسن يَقُول سَمِعت أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول مَا رَأَيْت بِعني مثل يحيى بن سعيد الْقطَّان قَالَ أَحْمد وَسُئِلَ أَحْمد بن حَنْبَل عَن وَكِيع وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي فَقَالَ أَحْمد وَكِيع أكبر فِي الْقلب وَعبد الرَّحْمَن إِمَام سَمِعت مُحَمَّد بن عَمْرو بن نَبهَان بن صَفْوَان الثَّقَفِيّ الْبَصْرِيّ يَقُول سَمِعت عَليّ بن الْمَدِينِيّ يَقُول لَو حَلَفت بَين الرُّكْن وَالْمقَام لحلفت أَنِّي لم أر أحدا أعلم من عبد الرَّحْمَن بن مهْدي قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْكَلَام فِي هَذِه وَالرِّوَايَة عَن أهل الْعلم تَكْثِير وَإِنَّمَا بَينا شَيْئا مِنْهُ على الإختصار ليستدل بِهِ على منَازِل أهل الْعلم وتفاضل بَعضهم على بعض فِي الْحِفْظ والإتقان وَمن تكلم فِيهِ من أهل الْعلم لأي شَيْء تكلم فِيهِ
(স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে জ্ঞানীদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব)

মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি জুরীর থেকে, তিনি আম্মারা ইবনুল কাকা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইব্রাহিম আন-নাখায়ি আমাকে বললেন, “যখন তুমি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করবে, তখন আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর-এর সূত্রে বর্ণনা করো। কারণ তিনি একবার আমাকে একটি হাদীস শুনিয়েছিলেন, এরপর বহু বছর পর আমি তাকে তা পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি তার একটি অক্ষরও কম-বেশি করেননি।” আবু হাফস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর ইবনে আলী থেকে, তিনি ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে, তিনি মূসা থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিমকে বললাম, “সালিম ইবনে আবিল জাদ কেন আপনার চেয়েও পূর্ণাঙ্গ হাদীস বর্ণনা করেন?” তিনি বললেন, “কারণ তিনি লিখে রাখতেন।” আব্দুল জব্বার ইবনুল আলা ইবনে আব্দুল জব্বার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সুফইয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের বলেছেন, “আমি যখন কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন তার একটি অক্ষরও বাদ দেই না।” হুসাইন ইবনে মাহদি আল-বাসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে বর্ণনা করেন যে, কাতাদাহ বলেছেন, “আমার দুই কান যা কিছু শুনেছে, আমার অন্তর তা পুরোপুরি ধারণ করে নিয়েছে।” সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখযুমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, “আমি যুহরী-এর চেয়ে নিখুঁতভাবে হাদীস বর্ণনাকারী আর কাউকে দেখিনি।” ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেন যে, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলেছেন, “যুহরী-এর পর ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর-এর চেয়ে মদিনাবাসীদের হাদীস সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ কাউকে আমি জানি না।” মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সুলাইমান ইবনে হারব থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আউন হাদীস বর্ণনা করতেন; এরপর যখন আমি আইয়ুবের সূত্রে তার বর্ণিত হাদীসের বিপরীত কোনো বর্ণনা দিতাম, তখন তিনি তা ত্যাগ করতেন। আমি বলতাম, ‘আমি তো এটি শুনেছি।’ তখন তিনি বলতেন, ‘মুহাম্মদ ইবনে সিরীন-এর হাদীসের ব্যাপারে আইয়ুব আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ।’ আবু বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদকে জিজ্ঞেস করলাম, “হিশাম আদ-দাওস্তুওয়ায়ি এবং মিসআর—এই দুইজনের মধ্যে কে অধিক নির্ভরযোগ্য?” তিনি বললেন, “আমি মিসআরের মতো কাউকে দেখিনি; মিসআর ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।” আবু বকর আব্দুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে বলতে শুনেছি, “শু’বাহ কোনো বিষয়ে আমার সাথে ভিন্নমত পোষণ করলে আমি আমার মতটি ছেড়ে দিতাম।” আবু বকর বলেন, আবুল ওয়ালিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাকে বলেছেন, “তুমি যদি হাদীস অন্বেষণ করতে চাও, তবে শু’বাহর সান্নিধ্য লাভ করো।” আব্দ ইবনে হুমাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, শু’বাহ বলেছেন, “আমি যে ব্যক্তির কাছ থেকে একটি মাত্র হাদীস বর্ণনা করেছি, তার কাছেও আমি একবারের বেশি গিয়েছি। যার কাছ থেকে দশটি হাদীস বর্ণনা করেছি, তার কাছে দশবারের বেশি গিয়েছি। যার কাছ থেকে পঞ্চাশটি হাদীস বর্ণনা করেছি, তার কাছে পঞ্চাশবারের বেশি গিয়েছি। আর যার কাছ থেকে একশটি হাদীস বর্ণনা করেছি, তার কাছে একশবারেরও বেশি গিয়েছি। কেবল হাইয়ান আল-বারিকী ছাড়া; কারণ আমি তার কাছ থেকে এই হাদীসগুলো শুনলাম, এরপর যখন পুনরায় তার কাছে ফিরে আসলাম, দেখলাম তিনি মারা গেছেন।” মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ থেকে, তিনি ইবনে মাহদি থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি সুফইয়ানকে বলতে শুনেছি, “শু’বাহ হলেন হাদীসের ক্ষেত্রে আমিরুল মুমিনীন।” আবু বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, “আমার কাছে শু’বাহর চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই এবং আমার দৃষ্টিতে কেউ তার সমকক্ষ নয়। তবে যখন সুফইয়ান তার বিরোধিতা করতেন, তখন আমি সুফইয়ানের কথা গ্রহণ করতাম।” আলী বলেন: আমি ইয়াহিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, “দীর্ঘ হাদীস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সুফইয়ান এবং শু’বাহর মধ্যে কে বেশি দক্ষ?” তিনি বললেন, “শু’বাহ এই ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী ছিলেন।” ইয়াহিয়া আরও বলেন, “রাবীদের বর্ণনাক্রম সম্পর্কে শু’বাহ অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন, আর সুফইয়ান ছিলেন বিভিন্ন অধ্যায়ভিত্তিক হাদীসের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ।” আমর ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদিকে বলতে শুনেছি, “হাদীসের ক্ষেত্রে ইমাম হলেন চারজন—সুফইয়ান আস-সাওরি, মালিক ইবনে আনাস, আওযায়ী এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ।” আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরাইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকী’কে বলতে শুনেছি যে শু’বাহ বলেছেন, “সুফইয়ান আমার চেয়েও অধিক শক্তিশালী স্মৃতিশক্তির অধিকারী। সুফইয়ান যখনই কোনো উস্তাদের সূত্রে আমাকে কোনো হাদীস শুনিয়েছেন এবং আমি সেটি যাচাই করেছি, তাকে ঠিক তেমনই পেয়েছি যেমনটি তিনি আমাকে শুনিয়েছিলেন।” আমি ইসহাক ইবনে মূসা আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মা’ন ইবনে ঈসা আল-কাযযাযকে বলতে শুনেছি, “মালিক ইবনে আনাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘ইয়া’ এবং ‘তা’ সহ অন্যান্য সূক্ষ্ম বিষয়েও অত্যন্ত কড়াকড়ি করতেন।” আবু ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরাইম আল-আনসারী (যিনি মদিনার বিচারক ছিলেন) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার মালিক ইবনে আনাস আবু হাজিমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি বসা ছিলেন। মালিক তাকে অতিক্রম করে চলে গেলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনি সেখানে বসলেন না কেন?” তিনি বললেন, “আমি বসার মতো উপযুক্ত কোনো জায়গা পাইনি, আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস গ্রহণ করা আমি অপছন্দ করি।” আবু বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন, “সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের সূত্রে বর্ণিত মালিকের হাদীস আমার কাছে ইব্রাহিম নাখায়ির সূত্রে বর্ণিত সুফইয়ান আস-সাওরির হাদীসের চেয়েও অধিক প্রিয়।” ইয়াহিয়া আরও বলেন, “এই জামাতের মধ্যে মালিক ইবনে আনাসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; মালিক ছিলেন হাদীসের ইমাম।” আমি আহমদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, “আমি নিজের চোখে ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি।” বর্ণনাকারী বলেন, আহমদ ইবনে হাম্বলকে ওয়াকী’ এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “ওয়াকী’র প্রতি হৃদয়ে সুউচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে, আর আব্দুর রহমান হলেন ইমাম।” আমি মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে নাবহান ইবনে সাফওয়ান আস-সাকাফি আল-বাসরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছি, “আমি যদি রুকন এবং মাকামের মাঝে দাঁড়িয়ে শপথ করি, তবে এই শপথই করব যে, আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদির চেয়ে বড় কোনো আলেম দেখিনি।” আবু ঈসা বলেন: এই বিষয়ে আলোচনা এবং আলেমদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো অনেক দীর্ঘ। আমরা এখানে সংক্ষেপে কিছু তুলে ধরেছি যাতে এর মাধ্যমে আলেমদের মর্যাদা এবং মুখস্থ ও নিখুঁতভাবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করা যায়; সেই সাথে আলেমগণ কারও সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করলে তা কেন করেছেন, সেটিও যেন স্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫১)
‌‌(الْقِرَاءَة على الْعَالم)

قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْقِرَاءَة على الْعَالم إِذا كَانَ يحفظ مَا يقْرَأ عَلَيْهِ أَو يمسك أَصله فِيمَا يقْرَأ عَلَيْهِ إِذا لم يحفظ هُوَ صَحِيح عِنْد أهل الحَدِيث مثل السماع حَدثنَا حُسَيْن بن مهْدي الْبَصْرِيّ حَدثنَا عبد الرَّزَّاق أخبرنَا بن جريج قَالَ قَرَأت على عَطاء بن أبي رَبَاح فَقلت لَهُ كَيفَ أَقُول فَقَالَ قد حَدثنَا سُوَيْد بن نصر أخبرنَا عَليّ بن الْحُسَيْن بن وَاقد عَن أبي عصمَة عَن يزِيد النَّحْوِيّ عَن عِكْرِمَة أَن نَفرا قدمُوا على بن عَبَّاس من أهل الطَّائِف يكْتب من كتبه فَجعل يقْرَأ عَلَيْهِم فَيقدم وَيُؤَخر فَقَالَ إِنِّي بلهت لهَذِهِ الْمُصِيبَة فاقرءوا عَليّ فَإِن إقراري بِهِ كقراءتي عَلَيْكُم
‌(আলেমের নিকট পাঠ করা)

আবু ঈসা বলেন, আলেমের নিকট পাঠ করা—যদি তিনি যা পাঠ করা হচ্ছে তা মুখস্থ রাখেন অথবা মুখস্থ না থাকলে যা পাঠ করা হচ্ছে তাতে নিজের মূল কপিটি ধরে রাখেন—হাদিস বিশারদগণের নিকট এটি শ্রবণের মতোই বিশুদ্ধ। হুসাইন ইবন মাহদী আল-বাসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতা ইবন আবী রাবাহর নিকট পাঠ করলাম এবং তাকে বললাম, আমি কীভাবে বলব? তখন তিনি বললেন— সুওয়াইদ ইবন নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন ওয়াকিদ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসমা থেকে, তিনি ইয়াযীদ আন-নাহবী থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন যে, তায়েফবাসী একদল লোক ইবন আব্বাসের নিকট তাঁর কিতাবসমূহ অনুলিপি করার জন্য আসল। তিনি তাদের নিকট পাঠ করতে শুরু করলেন, কিন্তু তিনি আগে-পিছে করে ফেলছিলেন। তখন তিনি বললেন, "আমি এই বিপদের কারণে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছি, তাই তোমরাই আমার নিকট পাঠ করো; কারণ এতে আমার স্বীকৃতি প্রদান করা তোমাদের নিকট আমার পাঠ করার মতোই।"
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫২)
‌‌(المناولة)

حَدثنَا سُوَيْد بن نصر أخبرنَا عَليّ بن الْحُسَيْن بن وَاقد عَن أَبِيه عَن مَنْصُور بن الْمُعْتَمِر قَالَ إِذا ناول الرجل كِتَابه آخر فَقَالَ ارو هَذَا عني فَلهُ أَن يرويهِ وَسمعت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل يَقُول سَأَلت أَبَا عَاصِم النَّبِيل عَن حَدِيث فَقَالَ اقْرَأ عَليّ فَأَحْبَبْت أَن يقْرَأ هُوَ فَقَالَ أَنْت لَا يُجِيز الْقِرَاءَة وَقد كَانَ سُفْيَان الثَّوْريّ وَمَالك بن أنس يجيزان الْقِرَاءَة

‌‌(الْفرق بَين أخبرنَا وَحدثنَا)

حَدثنَا أَحْمد بن الْحُسَيْن حَدثنَا يحيى بن سُلَيْمَان الْجعْفِيّ الْبَصْرِيّ قَالَ قَالَ عبد الله بن وهب مَا قلت حَدثنَا فَهُوَ مَا سَمِعت مَعَ النَّاس وَمَا قلت حَدثنِي فَهُوَ مَا سَمِعت وحدي وَمَا قلت أخبرنَا فَهُوَ مَا قرئَ على الْعَالم وَأَنا شَاهد وَمَا قلت أَخْبرنِي فَهُوَ مَا قَرَأت على الْعَالم سَمِعت أَبَا مُوسَى مُحَمَّد بن الْمثنى يَقُول سَمِعت يحيى بن سعيد الْقطَّان يَقُول حَدثنَا وَأخْبرنَا وَاحِد قَالَ أَبُو عِيسَى كُنَّا عِنْد أبي مُصعب الْمَدِينِيّ فقرىء عَلَيْهِ بعض حَدِيثه فَقلت لَهُ كَيفَ تَقول فَقَالَ قل حَدثنَا أَبُو مُصعب

‌‌(الْإِجَازَة)

قَالَ أَبُو عِيسَى وَقد أجَاز بعض أهل الْعلم الْإِجَازَة إِذا أجَاز الْعَالم لأحد أَن يروي لأحد عَنهُ شَيْئا من حَدِيثه فَلهُ أَن يرْوى عَنهُ
(আল-মুনাতোয়ালাহ বা হস্তান্তরণ)

সুওয়াইদ ইবন নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন ওয়াকিদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি মানসুর ইবন আল-মুতামির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি তাঁর কিতাব অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করে বলেন, "এটি আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো", তবে তাঁর জন্য তা বর্ণনা করার অধিকার রয়েছে। আর আমি মুহাম্মদ ইবন ইসমাইলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আসিম আন-নাবিলকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "আমার নিকট পাঠ করো।" আমি চাচ্ছিলাম যে তিনি নিজেই পাঠ করুন। তখন তিনি বললেন, "তুমি কি (শিক্ষকের নিকট) পাঠ করাকে বৈধ মনে করো না? অথচ সুফিয়ান আস-সাওরি এবং মালিক ইবন আনাস পাঠ করাকে বৈধ মনে করতেন।"

(আখবারানা এবং হাদ্দাসানা-এর মধ্যে পার্থক্য)

আহমদ ইবন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সুলাইমান আল-জুফি আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব বলেছেন, "আমি যখন 'হাদ্দাসানা' (তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) বলি, তখন তার অর্থ হলো যা আমি লোকজনের সাথে উপস্থিত থেকে শুনেছি। আর যখন 'হাদ্দাসানি' (তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন) বলি, তখন তার অর্থ হলো যা আমি একাকী শুনেছি। আর যখন 'আখবারানা' (তিনি আমাদের অবহিত করেছেন) বলি, তখন তার অর্থ হলো যা আলিমের সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তখন উপস্থিত ছিলাম। আর যখন 'আখবারানি' (তিনি আমাকে অবহিত করেছেন) বলি, তখন তার অর্থ হলো যা আমি নিজেই আলিমের সামনে পাঠ করেছি।" আমি আবু মুসা মুহাম্মদ ইবন আল-মুসান্নাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, "'হাদ্দাসানা' এবং 'আখবারানা' একই কথা।" আবু ঈসা বলেন: আমরা আবু মুসআব আল-মাদিনির নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তাঁর কিছু হাদিস তাঁর সামনে পাঠ করা হলো। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, "আপনি (এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে) কীভাবে বলতে বলেন?" তিনি বললেন, "বলো, আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।"

(আল-ইজাজাহ বা অনুমতি প্রদান)

আবু ঈসা বলেন: ইলম অন্বেষণকারীদের কেউ কেউ 'ইজাজাহ' (অনুমতি)-কে বৈধ বলেছেন। যখন কোনো আলিম কাউকে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর হাদিসের কোনো অংশ বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেন, তবে তাঁর জন্য তা বর্ণনা করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫৩)
‌‌(كِتَابَة الحَدِيث)

حَدثنَا مَحْمُود بن غيلَان حَدثنَا وَكِيع عَن عمرَان بن حدير عَن أبي مجلز عَن بشير بن نهيك قَالَ كتبت كتابا عَن أبي هُرَيْرَة فَقَالَت أرويه عَنْك فَقَالَ نعم حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الوَاسِطِيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن الْحسن الوَاسِطِيّ عَن عَوْف الْأَعرَابِي قَالَ قَالَ رجل لِلْحسنِ عِنْدِي بعض حَدِيثك أرويه عَنْك قَالَ نعم قَالَ أَبُو عِيسَى وَمُحَمّد بن الْحسن إِنَّمَا يعرف بمحبوب بن الْحسن وَقد حدث عَنهُ غير وَاحِد من الْأَئِمَّة حَدثنَا الْجَارُود بن معَاذ حَدثنَا أنس بن عِيَاض عَن عبيد الله بن عمر قَالَ قَالَ أتيت الزُّهْرِيّ بِكِتَاب فَقلت هَذَا من حَدِيثك أرويه عَنْك قَالَ نعم حَدثنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله عَن يحيى بن سعيد قَالَ جَاءَ بن جريج إِلَى هِشَام بن عُرْوَة بِكِتَاب فَقَالَ هَذَا حَدِيثك أرويه عَنْك فَقَالَ نعم قَالَ يحيى فَقلت فِي نَفسِي لَا أَدْرِي أَيهمَا أعجب أمرا قَالَ عَليّ سَأَلت يحيى بن سعيد عَن حَدِيث بن جريج عَن عَطاء الْخُرَاسَانِي فَقَالَ ضَعِيف فَقلت إِنَّه يَقُول أَخْبرنِي فَقَالَ لَا شَيْء إِنَّمَا هُوَ كتاب دَفعه إِلَيْهِ قَالَ أَبُو عِيسَى والْحَدِيث إِذا كَانَ مُرْسلا فَإِنَّهُ لَا يَصح عِنْد أَكثر أهل الحَدِيث قد ضعفه غير وَاحِد مِنْهُم
(হাদিস লিখন)

মাহমুদ ইবনে গাইলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুদাইর থেকে, তিনি আবু মিজলাজ থেকে, তিনি বাশির ইবনে নাহিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবু হুরাইরা থেকে একটি কিতাব লিখেছিলাম, অতঃপর আমি বললাম, "আমি কি এটি আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি আওফ আল-আ'রাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি হাসানকে বললেন, "আমার নিকট আপনার বর্ণিত কিছু হাদিস রয়েছে, আমি কি তা আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আবু ঈসা বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান মূলত মাহবুব ইবনুল হাসান নামেই পরিচিত এবং তাঁর থেকে একাধিক ইমাম হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-জারুদ ইবনে মুয়াজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে ইয়াজ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জুহরি-র নিকট একটি কিতাব নিয়ে আসলাম এবং বললেন, "এটি আপনার বর্ণিত হাদিস, আমি কি তা আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আবু বকর আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ হিশাম ইবনে উরওয়ার নিকট একটি কিতাব নিয়ে আসলেন এবং বললেন, "এটি আপনার হাদিস, আমি কি তা আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" ইয়াহইয়া বলেন: আমি মনে মনে বললাম, "আমি জানি না তাদের দুজনের মধ্যে কার বিষয়টি বেশি আশ্চর্যজনক।" আলী বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে আতা আল-খুরাসানি থেকে বর্ণিত ইবনে জুরাইজের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, "(এটি) দুর্বল।" আমি বললাম, "তিনি তো বলছেন—'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন'!" তিনি বললেন, "এটি কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়, মূলত এটি একটি কিতাব ছিল যা তিনি তাকে প্রদান করেছিলেন।" আবু ঈসা বলেন: হাদিস যখন মুরসাল হয়, তখন অধিকাংশ হাদিস বিশারদের নিকট তা বিশুদ্ধ হয় না এবং তাঁদের একাধিক ব্যক্তি একে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫৪)
‌‌(الحَدِيث الْمُرْسل)

حَدثنَا عَليّ بن حجر أخبرنَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد عَن عتبَة بن أبي حَكِيم قَالَ سمع الزُّهْرِيّ إِسْحَاق بن عبد الله بن أبي فَرْوَة يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الزُّهْرِيّ قَاتلك الله يَا بن أبي فَرْوَة نجيئنا بِأَحَادِيث لَيست لَهَا خطم وَلَا أزمة حَدثنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله قَالَ قَالَ يحيى بن سعيد مرسلات مُجَاهِد أحب إِلَيّ من مرسلات عَطاء بن أبي رَبَاح بِكَثِير كَانَ عَطاء يَأْخُذ عَن كل ضرب قَالَ عَليّ قَالَ يحيى مرسلات سعيد بن جُبَير أحبي إِلَيّ من مرسلات عَطاء قلت ليحيى مرسلات مُجَاهِد أحب إِلَيْك أم مرسلات طَاوس قَالَ مَا أقربهما قَالَ عَليّ وَسمعت يحيى بن سعيد يَقُول مرسلات أبي إِسْحَاق عِنْدِي شبه لَا شَيْء وَالْأَعْمَش والتيمي وَيحيى بن أبي كثير ومرسلات بن عُيَيْنَة شبه الرّيح ثمَّ قَالَ إِي وَالله وسُفْيَان بن سعيد قلت ليحيى فمرسلات مَالك قَالَ هِيَ أحب إِلَيّ ثمَّ قَالَ يحيى لَيْسَ فِي الْقَوْم أحد أصح حَدِيثا من مَالك حَدثنَا سوار بن عبد الله الْعَنْبَري قَالَ سَمِعت يحيى بن سعيد الْقطَّان يَقُول مَا قَالَ الْحسن فِي حَدِيثه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَّا وجدنَا لَهُ أصلا إِلَّا حَدِيثا أَو حديثين قَالَ أَبُو عِيسَى وَمن ضعف الْمُرْسل فَإِنَّهُ ضعف من قبل أَن هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة حدثوا عَن الثِّقَات وَغير الثِّقَات فَإِذا روى أحدهم حَدِيثا وأرسله لَعَلَّه أَخذه عَن غير ثِقَة قد تكلم الْحسن الْبَصْرِيّ فِي معبد الْجُهَنِيّ ثمَّ روى عَنهُ حَدثنَا بشر بن معَاذ الْبَصْرِيّ حَدثنَا مَرْحُوم بن عبد الْعَزِيز الْعَطَّار حَدثنِي أبي وَعمي قَالَا سمعنَا الْحسن يَقُول إيَّاكُمْ ومعبد الْجُهَنِيّ فَإِنَّهُ ضال مضل قَالَ أَبُو عِيسَى ويروى عَن الشّعبِيّ حَدثنَا الْحَارِث الْأَعْوَر وَكَانَ كذابا وَقد حدث عَنهُ وَأكْثر الْفَرَائِض الَّتِي ترونها عَن عَليّ وَغَيره هِيَ عَنهُ وَقد قَالَ الشّعبِيّ الْحَارِث الْأَعْوَر عَلمنِي الْفَرَائِض وَكَانَ من أفرض النَّاس قَالَ وَسمعت مُحَمَّد بن بشار يَقُول سَمِعت عبد الرَّحْمَن بن مهْدي يَقُول أَلا تعْجبُونَ من سُفْيَان بن عُيَيْنَة لقد تركت لجَابِر الْجعْفِيّ بقوله لما حكى عَنهُ أَكثر من ألف حَدِيث ثمَّ هُوَ يحدث عَنهُ قَالَ مُحَمَّد بن بشار وَترك عبد الرَّحْمَن بن مهْدي حَدِيث جَابر الْجعْفِيّ وَقد احْتج بعض أهل الْعلم بالمرسل أَيْضا حَدثنَا أَبُو عُبَيْدَة بن أبي السّفر الْكُوفِي حَدثنَا سعيد بن عَامر عَن شُعْبَة عَن سُلَيْمَان الْأَعْمَش قَالَ قلت لإبراهم النَّخعِيّ أسْند لي عَن عبد الله بن مَسْعُود فَقَالَ إِبْرَاهِيم إِذا حدثتك عَن رجل عَن عبد الله فَهُوَ الَّذِي سميت وَإِذا قلت قَالَ عبد الله فَهُوَ عَن غير وَاحِد عَن عبد الله
(মুরসাল হাদীস)

আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওতবা ইবনে আবি হাকিম থেকে, তিনি বলেন: যুহরী ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ফারওয়াকে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন... তখন যুহরী বললেন, হে ইবনে আবি ফারওয়া, আল্লাহ তোমার বিনাশ করুন! তুমি আমাদের নিকট এমন সব হাদীস নিয়ে আসো যার কোনো লাগাম বা রশি নেই। আবু বকর আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন, মুজাহিদের মুরসাল বর্ণনাগুলো আতা ইবনে আবি রাবাহর মুরসাল বর্ণনাগুলোর চেয়ে আমার কাছে অনেক বেশি পছন্দনীয়। আতা সব ধরণের লোকের থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করতেন। আলী বলেন: ইয়াহইয়া বলেছেন, সাঈদ ইবনে জুবাইরের মুরসালগুলো আতার মুরসালগুলোর চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয়। আমি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, মুজাহিদের মুরসাল আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি তাউসের মুরসাল? তিনি বললেন, তারা একে অপরের কতই না কাছাকাছি। আলী বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: আবু ইসহাকের মুরসালগুলো আমার কাছে মূল্যহীন বস্তুর মতো; আমাশ, তাইমি, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর এবং ইবনে উয়াইনার মুরসালগুলো বাতাসের মতো (অসার)। এরপর তিনি বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর শপথ, সুফিয়ান ইবনে সাঈদের মুরসালও তদ্রূপ। আমি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে মালিকের মুরসালগুলো? তিনি বললেন, সেগুলো আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তারপর ইয়াহইয়া বললেন, তাদের মাঝে মালিকের চেয়ে অধিক সহীহ হাদীস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই। সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনবারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি: হাসান (বসরি) তাঁর বর্ণনায় যখনই "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন" বলতেন, আমরা তার কোনো না কোনো ভিত্তি খুঁজে পেতাম, কেবল একটি বা দুটি হাদীস ছাড়া। আবু ঈসা (তিরমিযী) বলেন: যারা মুরসাল বর্ণনাকে দুর্বল বলেছেন, তাঁরা একারণেই দুর্বল বলেছেন যে, এই ইমামগণ নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য সবার থেকেই বর্ণনা করতেন। সুতরাং যখন তাদের কেউ কোনো হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, হতে পারে তিনি তা কোনো অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। হাসান বসরী মাবাদ আল-জুহানী সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, আবার তার থেকে বর্ণনাও করেছেন। বিশর ইবনে মুয়ায আল-বসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারহুম ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা এবং চাচা আমাকে বলেছেন, তাঁরা হাসানকে বলতে শুনেছেন: তোমরা মাবাদ আল-জুহানী থেকে বেঁচে থাকো, কারণ সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী। আবু ঈসা বলেন: শাবী থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, হারিস আল-আওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; অথচ সে ছিল এক বড় মিথ্যাবাদী। শাবী তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) সংক্রান্ত আলী (রা.) ও অন্যদের থেকে আপনারা যেসব বর্ণনা দেখেন, তার অধিকাংশ তার মাধ্যমেই বর্ণিত। শাবী বলেছেন, হারিস আল-আওয়ার আমাকে ফারায়েজ শিখিয়েছেন এবং তিনি মানুষের মাঝে ফারায়েজ শাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে বাশারকে বলতে শুনেছি: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি, তোমরা কি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার ব্যাপারে বিস্মিত নও? আমি জাবির আল-জুফির থেকে বর্ণিত এক হাজারেরও বেশি হাদীস বর্জন করেছি যখন তিনি (সুফিয়ান) তার সম্পর্কে কিছু তথ্য বর্ণনা করলেন, অথচ তারপর তিনি নিজেই তার থেকে হাদীস বর্ণনা করছেন। মুহাম্মদ ইবনে বাশার বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী জাবির আল-জুফির হাদীস বর্জন করেছিলেন। কোনো কোনো আলেম মুরসাল বর্ণনা দ্বারা দলিলও পেশ করেছেন। আবু উবাইদাহ ইবনে আবিস সাফার আল-কুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আমির আমাদের নিকট শু'বা থেকে, তিনি সুলাইমান আল-আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাশ বলেন: আমি ইব্রাহিম নাখয়ীকে বললাম, আমার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে হাদীসের সনদ বর্ণনা করুন। তখন ইব্রাহিম বললেন, যখন আমি তোমার কাছে আব্দুল্লাহর সূত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করি, তবে সেটি কেবল ওই ব্যক্তির থেকেই বর্ণিত। কিন্তু যখন আমি সরাসরি বলি "আব্দুল্লাহ বলেছেন", তবে তা আব্দুল্লাহর থেকে একাধিক (নির্ভরযোগ্য) ব্যক্তির সূত্রে প্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫৬)
‌‌(الِاخْتِلَاف فِي تَضْعِيف الرِّجَال)

قَالَ أَبُو عِيسَى وَقد اخْتلف الْأَئِمَّة من أهل الْعلم فِي تَضْعِيف الرِّجَال كَمَا اخْتلفُوا فِي سوى ذَلِك من الْعلم ذكر عَن شُعْبَة أَنه ضعف أَبَا الزبير الْمَكِّيّ وَعبد الْملك بن أبي سُلَيْمَان وَحَكِيم بن جُبَير وَترك الرِّوَايَة عَنْهُم ثمَّ حدث شُعْبَة عَمَّن هُوَ دون هَؤُلَاءِ فِي الْحِفْظ وَالْعَدَالَة حدث عَن جَابر الْجعْفِيّ وَإِبْرَاهِيم بن مُسلم الهجري وَمُحَمّد بن عبيد الله الْعَرْزَمِي وَغير وَاحِد مِمَّن يضعفون فِي الحَدِيث حَدثنَا مُحَمَّد بن عَمْرو بن نَبهَان بن صَفْوَان الْبَصْرِيّ حَدثنَا أُميَّة بن خَالِد قَالَ قلت لشعبة تدع عبد الْملك بن أبي سُلَيْمَان ونحدث عَن مُحَمَّد بن عبيد الله الْعَرْزَمِي قَالَ نعم قَالَ أَبُو عِيسَى وَقد كَانَ شُعْبَة حدث عَن عبد الْملك بن أبي سُلَيْمَان ثمَّ تَركه وَيُقَال إِنَّمَا تَركه لما تفرد بِالْحَدِيثِ الَّذِي روى عَن عَطاء بن أبي رَبَاح عَن جَابر بن عبد الله عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الرجل أَحَق بشفعته ينْتَظر بِهِ وَإِن كَانَ غَائِبا إِذا كَانَ طريقهما وَاحِدًا وَقد ثَبت عَن غير وَاحِد من الْأَئِمَّة وَحَدثُوا عَن أبي الزبير وَعبد الْملك بن أبي سُلَيْمَان وَحَكِيم بن جُبَير حَدثنَا أَحْمد بن منيع حَدثنَا هِشَام حَدثنَا حجاج وَابْن أبي ليلى عَن عَطاء بن أبي رَبَاح قَالَ كُنَّا إِذا خرجنَا من عِنْد جَابر بن عبد الله تَذَاكرنَا حَدِيثه وَكَانَ أَبُو الزبير أحفظنا للْحَدِيث حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى بن أبي عمر الْمَكِّيّ حَدثنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة قَالَ قَالَ أَبُو الزبير كَانَ عَطاء يقدمني إِلَى جَابر بن عبد الله أحفظ لَهُم الحدي حَدثنَا بن أبي عمر حَدثنَا سُفْيَان قَالَ سَمِعت أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ يَقُول حَدثنِي أَبُو الزبير وَأَبُو الزبير وَأَبُو الزبير قَالَ سُفْيَان بِيَدِهِ يقبضهَا قَالَ أَبُو عِيسَى إِنَّمَا يَعْنِي بِهِ الإتقان وَالْحِفْظ ويروى عَن عبد الله بن الْمُبَارك قَالَ كَانَ سُفْيَان الثَّوْريّ يَقُول كَانَ عبد الْملك بن أبي سُلَيْمَان ميزانا فِي الْعلم حَدثنَا أَبُو بكر عَن عَليّ بن عبد الله قَالَ سَأَلت يحيى بن سعيد عَن حَكِيم بن جُبَير فَقَالَ تَركه شُعْبَة من أجل الحَدِيث الَّذِي روى فِي الصَّدَقَة يَعْنِي حَدِيث عبد الله بن مَسْعُود عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من سَأَلَ النَّاس وَله مَا يُغْنِيه كَانَ يَوْم الْقِيَامَة خموشا فِي وَجهه قيل يَا رَسُول الله وَمَا يُغْنِيه قَالَ خَمْسُونَ درهما أَو قيمتهَا من الذَّهَب قَالَ عَليّ قَالَ يحيى وَقد حدث عَن حَكِيم بن جُبَير سُفْيَان الثَّوْريّ وزائدة قَالَ عَليّ وَلم ير يحيى بحَديثه بَأْسا حَدثنَا مَحْمُود بن غيلَان حَدثنَا يحيى بن آدم عَن سُفْيَان الثَّوْريّ عَن حَكِيم بن جُبَير بِحَدِيث الصَّدَقَة قَالَ يحيى بن آدم قَالَ عبد الله بن عُثْمَان صَاحب شُعْبَة لِسُفْيَان الثَّوْريّ لَو غير حَكِيم حدث بِهَذَا فَقَالَ لَهُ سُفْيَان وَمَا لحكيم لَا يحدث عَنهُ شُعْبَة قَالَ نعم فَقَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ سَمِعت زبيدا يحدث بِهَذَا عَن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن يزِيد
(বর্ণনাকারীদের দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়ে মতভেদ)

আবু ঈসা বলেন: ইলম অন্বেষণকারী ইমামগণ বর্ণনাকারীদের দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেও মতভেদ করেছেন, যেমনটি তারা ইলমের অন্যান্য বিষয়েও মতভেদ করেছেন। শু'বা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবু যুবাইর আল-মাক্কী, আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান এবং হাকিম ইবনে জুবায়েরকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের থেকে বর্ণনা ত্যাগ করেছেন। অথচ শু'বা এমন ব্যক্তিদের থেকেও হাদিস বর্ণনা করেছেন যারা হাদিস মুখস্থ রাখা এবং ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে এদের চেয়েও নিম্নস্তরের ছিলেন। তিনি জাবির আল-জু'ফী, ইব্রাহিম ইবনে মুসলিম আল-হিজরী, মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আরযামী এবং এমন একাধিক ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল মনে করা হয়। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে নাবহান ইবনে সাফওয়ান আল-বাসরি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি উমাইয়া ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাকে বললাম, আপনি আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমানকে বর্জন করছেন অথচ মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আরযামী থেকে হাদিস বর্ণনা করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু ঈসা বলেন: শু'বা আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, পরবর্তীতে তিনি তা বর্জন করেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি তাকে কেবল সেই হাদিসের কারণে বর্জন করেছিলেন যা তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ব্যক্তি তার শুবআ (অংশীদারিত্বের অধিকার) পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক হকদার, তার জন্য অপেক্ষা করা হবে যদিও সে অনুপস্থিত থাকে, যদি তাদের উভয়ের পথ অভিন্ন হয়।" অথচ একাধিক ইমামের নিকট সত্যতা সাব্যস্ত হয়েছে এবং তারা আবু যুবাইর, আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান এবং হাকিম ইবনে জুবায়ের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনে মানী' আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম থেকে, তিনি হাজ্জাজ ও ইবনুল আবি লায়লা থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা যখন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট থেকে বের হতাম, তখন আমরা তার হাদিসগুলো নিয়ে পরস্পর আলোচনা করতাম এবং আমাদের মধ্যে আবু যুবাইর হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর আল-মাক্কী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু যুবাইর বলেছেন: আতা আমাকে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট এগিয়ে দিতেন কারণ আমি তাদের তুলনায় হাদিস বেশি মুখস্থ রাখতাম। ইবনে আবি উমর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর, এবং আবু যুবাইর, এবং আবু যুবাইর। সুফিয়ান তার হাত দিয়ে তা মুষ্টিবদ্ধ করে দেখালেন। আবু ঈসা বলেন: এর মাধ্যমে তিনি তার প্রজ্ঞা এবং মুখস্থ রাখার দৃঢ়তা বুঝিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি বলতেন, আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান ছিলেন ইলমের ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড স্বরূপ। আবু বকর আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে হাকিম ইবনে জুবায়ের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, শু'বা তাকে সদকা সম্পর্কিত ওই হাদিসের কারণে বর্জন করেছেন, অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস: "যে ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাতল অথচ তার নিকট স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মতো সম্পদ আছে, কিয়ামতের দিন সে তার চেহারায় ক্ষতচিহ্ন নিয়ে উপস্থিত হবে।" জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরিমাণ কী? তিনি বললেন, "পঞ্চাশ দিরহাম অথবা সমমূল্যের স্বর্ণ।" আলী বলেন: ইয়াহইয়া বলেছেন যে, হাকিম ইবনে জুবায়ের থেকে সুফিয়ান আস-সাওরি এবং যাইদাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। আলী বলেন: ইয়াহইয়া তার হাদিসে কোনো সমস্যা দেখতেন না। মাহমুদ ইবনে গাইলান আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আদম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি হাকিম ইবনে জুবায়ের থেকে সদকা সংক্রান্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আদম বলেন: শু'বার সাথী আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান সুফিয়ান আস-সাওরিকে বললেন, যদি হাকিম ছাড়া অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করত! সুফিয়ান তাকে বললেন, হাকিমের কী হয়েছে যে শু'বা তার থেকে বর্ণনা করেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সুফিয়ান আস-সাওরি বললেন, আমি যুবাইদকে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫৮)
‌‌(مَعَاني الِاصْطِلَاح لِلتِّرْمِذِي)

قَالَ أَبُو عِيسَى وَمَا ذكرنَا فِي هَذَا الْكتاب حَدِيث حسن فَإِنَّمَا أردنَا بِهِ حسن إِسْنَاده عندنَا كل حَدِيث يرْوى لَا يكون فِي إِسْنَاده من يتهم بِالْكَذِبِ وَلَا يكون الحَدِيث شاذا ويروى من غير وَجه نَحْو ذَاك فَهُوَ عندنَا حَدِيث حسن وَمَا ذكرنَا فِي هَذَا الْكتاب حَدِيث غَرِيب فَإِن أهل الحَدِيث يستغربون الحَدِيث لمعان رب حَدِيث يكون غَرِيبا لَا يرْوى إِلَّا من وَجه وَاحِد مثل مَا حدث حَمَّاد بن سَلمَة عَن أبي العشراء عَن أَبِيه قَالَ قلت يَا رَسُول الله أما تكون الذَّكَاة إِلَّا فِي الْحلق واللبة فَقَالَ لَو طعنت فِي فَخذهَا أَجْزَأَ عَنْك فَهَذَا حَدِيث تفرد بِهِ حَمَّاد بن سَلمَة عَن أبي العشراء وَلَا يعرف لأبي العشراء عَن أَبِيه إِلَّا هَذَا الحَدِيث وَإِن كَانَ هَذَا الحَدِيث مَشْهُورا عِنْد أهل الْعلم وَإِنَّمَا اشْتهر من حَدِيث حَمَّاد بن سَلمَة لَا يعرف إِلَّا من حَدِيثه فيشتهر الحَدِيث لِكَثْرَة من روى عَنهُ مثل مَا روى عبد الله بن دِينَار عَن بن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن بيع الْوَلَاء وَعَن هِبته وَهَذَا حَدِيث لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث عبد الله بن دِينَار رَوَاهُ عَنهُ عبيد الله بن عمر وَشعْبَة وسُفْيَان الثَّوْريّ وَمَالك بن أنس وَابْن عُيَيْنَة وَغير وَاحِد من الْأَئِمَّة وروى يحيى بن سليم هَذَا الحَدِيث عَن عبيد الله بن عمر عَن نَافِع عَن بن عمر فَوَهم فِيهِ يحيى بن سليم وَالصَّحِيح هُوَ عبيد الله بن عمر عَن عبد الله بن دِينَار عَن بن عمر هَكَذَا روى عبد الْوَهَّاب الثَّقَفِيّ وَعبد الله بن نمير عَن عبيد الله بن عمر عَن عبد الله بن دِينَار عَن بن عمر وروى المؤمل هَذَا الحَدِيث عَن شُعْبَة فَقَالَ شُعْبَة لَوَدِدْت أَن عبد الله بن دِينَار أذن لي حَتَّى كنت أقوم إِلَيْهِ فَأقبل بِرَأْسِهِ
(তিরমিযীর পরিভাষাগুলোর অর্থসমূহ)

আবু ঈসা বলেন, আমরা এই কিতাবে যে 'হাসান হাদিস' উল্লেখ করেছি, তা দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের নিকট সেটির সনদের হাসান হওয়া। যে কোনো হাদিস যা বর্ণিত হয়েছে এবং তার সনদে এমন কেউ নেই যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে, আর হাদিসটি শায (বিচ্ছিন্ন) নয় এবং এটি অনুরূপভাবে অন্য কোনো সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে সেটি আমাদের নিকট 'হাসান হাদিস'। আর আমরা এই কিতাবে যে 'গারীব হাদিস' উল্লেখ করেছি, মূলত মুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন কারণে কোনো হাদিসকে গারীব হিসেবে গণ্য করেন। অনেক সময় কোনো হাদিস কেবল এক সূত্র থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণে গারীব হয়; যেমন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আবু আল-উশারা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! জবেহ কি কেবল কণ্ঠনালী ও সিনার উপরিভাগেই সীমাবদ্ধ? তিনি বললেন: যদি তুমি তার উরুতেও আঘাত করো (রক্ত প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে), তবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। এই হাদিসটি বর্ণনায় হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আবু আল-উশারা থেকে একক হয়ে গেছেন। আর আবু আল-উশারার নিকট থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এই একটি হাদিস ছাড়া আর কিছু জানা যায় না, যদিও ইলমের ধারকদের নিকট এই হাদিসটি প্রসিদ্ধ। এটি মূলত হাম্মাদ ইবনে সালামাহর বর্ণনার মাধ্যমেই প্রসিদ্ধ হয়েছে এবং কেবল তাঁর সূত্রেই এটি পরিচিত। কোনো হাদিস মূলত তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের আধিক্যের কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করে; যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'ওয়ালা' (মুক্ত দাসের উত্তরাধিকার সত্ত্ব) বিক্রয় করা এবং তা দান করা থেকে নিষেধ করেছেন। এই হাদিসটি আমরা কেবল আব্দুল্লাহ ইবনে দিনারের সূত্রেই জানি। তাঁর থেকে উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর, শু'বাহ, সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, ইবনে উয়াইনাহ এবং একাধিক ইমাম বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম এই হাদিসটি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যা ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমের একটি ভুল। সঠিক বর্ণনা হলো: উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে। এভাবেই আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী এবং আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। মুআম্মাল এই হাদিসটি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। শু'বাহ বলেন: আমার বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার আমাকে অনুমতি দিতেন, তবে আমি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর কপালে চুম্বন করতাম।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৫৯)
‌‌(غرابة الْإِسْنَاد)

قَالَ أَبُو عِيسَى وَرب حَدِيث إِنَّمَا يستغرب لزِيَادَة تكون فِي الحَدِيث وَإِنَّمَا تصح إِذا كَانَت الزِّيَادَة مِمَّن يعْتَمد على حفظه مثل مَا روى مَالك بن أنس عَن نَافِع عَن بن عمر قَالَ فرض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زَكَاة الْفطر من رَمَضَان على كل حر أَو عبد ذكر أَو أُنْثَى من الْمُسلمين صَاعا من تمر وصاعا من شعير قَالَ وَزَاد مَالك فِي هَذَا الحَدِيث من الْمُسلمين روى أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ وَعبيد الله بن عمر وَغير وَاحِد من الْأَئِمَّة هَذَا الحَدِيث عَن نَافِع عَن بن عمر وَلم يذكرُوا فِيهِ من الْمُسلمين وَقد روى بَعضهم عَن نَافِع مثل رِوَايَة مَالك مِمَّن لَا يعْتَمد على حفظه وَقد أَخذ غير وَاحِد من الْأَئِمَّة بِحَدِيث مَالك وَاحْتَجُّوا بِهِ مِنْهُم الشَّافِعِي وَأحمد بن حَنْبَل قَالَا إِذا كَانَ للرجل عبيد غير مُسلمين لم يؤد عَنْهُم صَدَقَة الْفطر واحتجا بِحَدِيث مَالك فَإِذا أَرَادَ حَافظ مِمَّن يعْتَمد على حفظه قبل ذَلِك مِنْهُ وَرب حَدِيث يرْوى من أوجه كَثِيرَة وَإِنَّمَا يستغرب لحَال الْإِسْنَاد حَدثنَا أَبُو كريب وَأَبُو هِشَام الرِّفَاعِي وَأَبُو السَّائِب وَالْحُسَيْن بن الْأسود قَالُوا حَدثنَا أَبُو أُسَامَة عَن يزِيد بن عبد الله بن أبي بردة عَن جده أبي بردة عَن أبي مُوسَى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الْكَافِر يَأْكُل فِي سَبْعَة أمعاء وَالْمُؤمن يَأْكُل فِي معي وَاحِد قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيث غَرِيب من هَذَا الْوَجْه من قبل إِسْنَاده وَقد روى من غير وَجه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم هَذَا وَإِنَّمَا يستغرب من حَدِيث أبي مُوسَى سَأَلت مَحْمُود بن غيلَان عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ هَذَا حَدِيث أبي كريب عَن أبي أُسَامَة وَسَأَلت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ هَذَا حَدِيث أبي كريب عَن أبي أُسَامَة لم نعرفه إِلَّا من حَدِيث أبي كريب عَن أبي أُسَامَة فَقلت لَهُ حَدثنَا غير وَاحِد عَن أبي أُسَامَة بِهَذَا فَجعل يتعجب وَقَالَ مَا علمت أَن أحدا حدث هَذَا غير أبي كريب وَقَالَ مُحَمَّد كُنَّا نرى أَن أَبَا كريب أَخذ هَذَا الحَدِيث عَن أبي أُسَامَة فِي المذاكرة حَدثنَا عبد الله بن أبي زِيَاد وَغير وَاحِد قَالُوا حَدثنَا شَبابَة بن سوار حَدثنَا شُعْبَة عَن بكير بن عَطاء عَن عبد الرَّحْمَن بن يعمر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نهى عَن الدُّبَّاء والمزفت قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيث غَرِيب من قبل إِسْنَاده لَا نعلم أحدا حدث بِهِ عَن شُعْبَة غير شَبابَة وَقد روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من أوجه كَثِيرَة أَنه نهى أَن ينتبذ فِي الدُّبَّاء والمزفت وَحَدِيث شَبابَة إِنَّمَا يستغرب لِأَنَّهُ تفرد بِهِ عَن شُعْبَة وَقد روى شُعْبَة وسُفْيَان الثَّوْريّ بِهَذَا الْإِسْنَاد عَن بكير بن عَطاء عَن عبد الرَّحْمَن بن يعمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ الْحَج عَرَفَة فَهَذَا الحَدِيث الْمَعْرُوف عِنْد أهل الحَدِيث بِهَذَا الْإِسْنَاد حَدثنَا مُحَمَّد بن بشار حَدثنَا معَاذ بن هِشَام حَدثنِي أبي عَن يحيى بن أبي كثير حَدثنِي أَبُو مُزَاحم أَنه سمع أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من تبع جَنَازَة فصلى عَلَيْهَا فَلهُ قِيرَاط وَمن تبعها حَتَّى يقْضى قَضَاؤُهَا فَلهُ قيراطان قَالُوا يَا رَسُول الله مَا القيراطان قَالَ أصغرهما مثل أحد حَدثنَا عبد الله بن عبد الرَّحْمَن أخبرنَا مَرْوَان بن مُحَمَّد عَن مُعَاوِيَة بن سَلام حَدثنِي يحيى بن أبي كثير حَدثنَا أَبُو مُزَاحم سمع أَبَا هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من تبع جَنَازَة فَلهُ قِيرَاط فَذكر نَحوه بِمَعْنَاهُ قَالَ عبد الله وَأخْبرنَا مَرْوَان عَن مُعَاوِيَة بن سَلام قَالَ قَالَ يحيى وحَدثني أَبُو سعيد مولى الْمهرِي عَن حَمْزَة بن سفينة عَن السَّائِب سمع عَائِشَة رضي الله عنها عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحوه قلت لأبي مُحَمَّد عبد الله بن عبد الرَّحْمَن مَا الَّذِي استغربوا من حَدِيثك بالعراق قَالَ حَدِيث السَّائِب عَن عَائِشَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذكر هَذَا الحَدِيث وَسمعت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل يحدث بِهَذَا الحَدِيث عَن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيث قد روى من غير وَجه عَن عَائِشَة رضي الله عنها عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا يستغرب هَذَا الحَدِيث لحَال إِسْنَاده لرِوَايَة السَّائِب عَن عَائِشَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَدثنَا أَبُو حَفْص عَمْرو بن عَليّ حَدثنَا يحيى بن سعيد الْقطَّان حَدثنَا الْمُغيرَة بن أبي قُرَّة السدُوسِي قَالَ سَمِعت أنس بن مَالك رضي الله عنه يَقُول قَالَ رجل يَا رَسُول الله أعقلها وَأَتَوَكَّل أَو أطلقها وَأَتَوَكَّل قَالَ اعقلها وتوكل قَالَ عَمْرو بن عَليّ قَالَ يحيى بن سعيد هَذَا عِنْدِي حَدِيث مُنكر قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيث غَرِيب من هَذَا الْوَجْه لَا نعرفه من حَدِيث أنس بن مَالك إِلَّا من هَذَا الْوَجْه وَقد روى عَن عَمْرو بن أُميَّة الضمرِي عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْو هَذَا
(সনদের বিরলতা)

আবু ঈসা বলেন, অনেক সময় কোনো হাদীসকে বিরল (গরীব) বলা হয় হাদীসের মধ্যে কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকার কারণে। এই অতিরিক্ত অংশ তখনই সঠিক বলে গণ্য হয় যখন তা এমন কোনো রাবীর পক্ষ থেকে আসে যাঁর মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর করা যায়। যেমন মালিক ইবনে আনাস নাফে’র সূত্রে ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের মধ্য থেকে প্রত্যেক স্বাধীন বা দাস, পুরুষ বা নারীর ওপর রমজানের সদকাতুল ফিতর এক সা’ খেজুর ও এক সা’ যব ফরয করেছেন। তিনি (আবু ঈসা) বলেন: মালিক এই হাদীসে ‘মুসলিমদের মধ্য থেকে’ অংশটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব সাখতিয়ানী, উবায়দুল্লাহ ইবনে ওমর এবং ইমামদের মধ্য থেকে আরও অনেকে এই হাদীসটি নাফে’র সূত্রে ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা এতে ‘মুসলিমদের মধ্য থেকে’ অংশটি উল্লেখ করেননি। অথচ তাঁদের কেউ কেউ নাফে’র সূত্রে মালিকের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনাও করেছেন এমন সব রাবীর থেকে যাঁদের মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর করা যায় না। তবে অনেক ইমামই মালিকের হাদীসটি গ্রহণ করেছেন এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তাঁদের মধ্যে শাফেঈ এবং আহমদ ইবনে হাম্বলও রয়েছেন। তাঁরা বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তির অমুসলিম দাস থাকে, তবে তাদের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না; এবং তাঁরা ইমাম মালিকের হাদীসটিকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। সুতরাং যখন মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভরশীল কোনো হাফেয রাবী কোনো কিছু বৃদ্ধি করেন, তা তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করা হয়। অনেক সময় একটি হাদীস অনেকগুলো দিক থেকে বর্ণিত হয়, কিন্তু সনদের অবস্থার কারণে তা বিরল (গরীব) হয়ে যায়। আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আবু হিশাম আর-রিফায়ি, আবুস সায়িব এবং হুসাইন ইবনুল আসওয়াদ; তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কাফির সাতটি অন্ত্রে আহার করে, আর মুমিন আহার করে একটি অন্ত্রে।" আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি এই দিক থেকে অর্থাৎ এর সনদের বিচারে বিরল (গরীব)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদীসটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, তবে আবু মুসার হাদীস হিসেবে এটি বিরল। আমি মাহমুদ ইবনে গাইলানকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এটি আবু উসামার সূত্রে আবু কুরাইবের বর্ণনা। আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও বলেন: এটি আবু উসামার সূত্রে আবু কুরাইবের বর্ণনা; আবু উসামার সূত্রে আবু কুরাইবের বর্ণনা ছাড়া আমরা এটি জানি না। আমি তাঁকে বললাম: আমাদের কাছে অনেকে আবু উসামার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করতে শুরু করলেন এবং বললেন: আমি জানতাম না যে আবু কুরাইব ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ (বুখারী) আরও বললেন: আমাদের ধারণা ছিল আবু কুরাইব সম্ভবত আলোচনার মজলিসে আবু উসামার কাছ থেকে এই হাদীসটি গ্রহণ করেছিলেন। আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যিয়াদ এবং আরও অনেকে; তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার, তিনি শু’বা থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে আতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়ামুর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কদুর পাত্র (দুব্বা) এবং আলকাতরা মাখানো পাত্র (মুযাফফাত) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি এর সনদের বিচারে বিরল (গরীব)। শাবাবাহ ছাড়া আর কেউ শু’বা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। যদিও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনেক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কদুর পাত্র ও আলকাতরা মাখানো পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। শাবাবাহর হাদীসটি বিরল হওয়ার কারণ হলো তিনি এটি শু’বা থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। অথচ শু’বা এবং সুফিয়ান সাওরী এই সনদে বুকাইর ইবনে আতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "হজ হলো আরাফাহ।" হাদীস বিশারদদের নিকট এই সনদে এই হাদীসটিই সুপরিচিত। আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশার, তিনি মুয়ায ইবনে হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু মুযাহিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জানাজার অনুগমন করে এবং জানাজার সালাত আদায় করে, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সাথে থাকে, তার জন্য দুই কিরাত রয়েছে।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! দুই কিরাত কী? তিনি বললেন: "তাদের মধ্যে ছোটটি ওহুদ পাহাড়ের সমান।" আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান, তিনি মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালাম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু মুযাহিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জানাজার অনুগমন করে, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব রয়েছে"—এরপর তিনি অনুরূপ অর্থসহ হাদীসটি উল্লেখ করেন। আব্দুল্লাহ বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন মারওয়ান মুয়াবিয়া ইবনে সালাম থেকে, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বলেছেন এবং আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মেহরিদের আযাদকৃত দাস আবু সাঈদ, তিনি হামযাহ ইবনে সাফীনা থেকে, তিনি সায়েব থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলাম: ইরাকে আপনার বর্ণিত কোন হাদীসটিকে তারা বিরল বা গরীব মনে করত? তিনি বললেন: আয়েশার সূত্রে সায়েবের বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই হাদীসটি। আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকেও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমানের সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনেছি। আবু ঈসা বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদীসটি অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। মূলত সনদের অবস্থার কারণে এটি বিরল হয়েছে, কারণ এটি সায়েব আয়েশা থেকে এবং আয়েশা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাফস আমর ইবনে আলী, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে আবি কুররাহ আস-সাদুসী থেকে; তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি উট বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করব, নাকি ছেড়ে দিয়ে তাওয়াক্কুল করব? তিনি বললেন: "আগে উট বাঁধো, তারপর তাওয়াক্কুল করো।" আমর ইবনে আলী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন, এই হাদীসটি আমার নিকট মুনকার (অস্বীকৃত)। আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি এই দিক থেকে বিরল (গরীব)। আনাস ইবনে মালিকের হাদীস হিসেবে আমরা এটি এই সূত্র ছাড়া অন্য কোনোভাবে চিনি না। তবে আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দুমারী থেকেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিউত তিরমিযী - তাহকীক শাকের (পৃষ্ঠা: ৭৬৩)
خَاتِمَة وَقد وَضعنَا هَذَا الْكتاب على الإختصار لما رجونا فِيهِ من الْمَنْفَعَة نسْأَل الله الْمَنْفَعَة بِمَا فِيهِ وَأَن لَا يَجعله علينا وبالا برحمته آمين
উপসংহার: আমরা এই গ্রন্থটি সংক্ষিপ্তাকারে সংকলন করেছি এ প্রত্যাশায় যে, এর মাধ্যমে উপকার সাধিত হবে। আমরা আল্লাহর নিকট এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদির মাধ্যমে উপকার প্রার্থনা করছি এবং (প্রার্থনা করছি) তিনি যেন তাঁর রহমতে একে আমাদের জন্য অকল্যাণকর না করেন। আমীন।