(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: -)
الديارات للشابشتي (الشابشتي)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الديارات
المؤلف: أبو الحسن علي بن محمد، المعروف بالشابشتي (ت 388هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 75
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আশ-শাবাশতি রচিত আদ-দীয়ারাত (আশ-শাবাশতি)
বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: আদ-দীয়ারাত
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ, আশ-শাবাশতি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৭৫
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১)
دير درمالسهذا الدير في رقة باب الشماسية ببغداد، قرب الدار التي بناها الديلمي أحمد بن بويه، بباب الشماسية. وموقعه أحسن موقع. وهو نزه كثير البساتين والأشجار. وبقربه أجمة قصب. وهو كبير، آهل برهبانه وقسانه والمتبتلين فيه. وهو من البقاع المعمورة بالقصف، والمقصود بالتنزه والشرب.وأعياد النصارى ببغداد، مقسومة على ديارات معروفة، منها أعياد الصوم: فالأحد الأول منه: عيد دير العاصية، وهو على ميل من سمالو.والأحد الثاني: دير الزريقية.والأحد الثالث: دير الزندورد.والأحد الرابع: دير درمالس هذا. وعيده أحسن عيد، يجتمع نصارى بغداد إليه، ولا يبقى أحد ممن يحب اللهو والخلاعة إلا تبعهم. ويقيم الناس فيه الأيام، ويطرقونه في غير الأعياد.ولأبي عبد الله بن حمدون النديم، فيه:يا دير درمالس ما أحسنك … ويا غزال الدير ما أفتنكلئن سكنت الدير يا سيدي … فإنّ في جوف الحشا مسكنكويحك يا قلب، أما تنتهي … عن شدة الوجد بمن أحزنكارفق به، بالله، يا سيدي … فإنه من حينه مكّنكوكان من خبر هذا الشعر، ما ذكره أحمد بن خالد الصريفيني، قال: كنا عند أبي عبد الله بن حمدون، في الوقت الذي نفاه فيه المتوكل. فتذاكرنا الديارات، وطيبها وحسنها في الأعياد، واجتماع الناس بها. فقال: قد، والله، شهيتني لحضور هذه المواضع، والتفرج فيها، والتسلي بها، فأي دير منها قد حضر عيده؟ قلت: دير درمالس، وغداً عيده! قال: فعلى بركة الله. فأعددت جميع ما يحتاج إليه ويصلح لمثله، وبكرنا إلى الدير، ونظرنا إلى اجتماع الناس وتعييدهم. وانصرف من انصرف، وأقمت معه في الدير ذلك اليوم ومن غده. وجلسنا منه مجلساً يشرف على تلك البساتين والمزارع. فشرب، وطابت نفسه وطرب، وحضره من أحداث الموضع من كان يقضي لنا الحاجة ويجيئنا بالطرفة والتحية. فشغف بهم، واستطاب وقته معهم، وقال الأبيات المتقدمة.وكان سبب نفي المتوكل له، أن الفتح بن خاقان، كان يعشق شاهك، خادم المتوكل، واشتهر الأمر فيه حتى بلغه. وله فيه أشعار، منها:أشاهك، ليلي مذ هجرت طويل … وعيني دماً بعد الدموع تسيلوبي منك، والرحمن، ما لا أطيقه … وليس إلى شكوى إليك سبيلأشاهك، لو يجزى المحبّ بودّه … جزيت، ولكن الوفاء قليلوكان أبو عبد الله، يسعى فيما يحبه الفتح، فعرف المتوكل الخبر، فاستدعى أبا عبد الله وقال له: إنما أردتك وأدنيتك لتنادمني، ليس لتقود على غلماني! فأنكر ذلك، وحلف يميناً حنث فيها، فطلق من كانت حرةً من نسائه، وأعتق من كانت مملوكة، ولزمه حج ثلاثين سنة، فكان يحج كل عام.قال: فأمر المتوكل بنفيه إلى تكريت، فأقام بها أياماً. ثم جاءه زرافة في الليل على البريد، فبلغه ذلك، فظن أنه يعني المتوكل لما شرب بالليل وسكر، أمر بقتله، فاستسلم لأمر الله. فلما دخل عليه، قال: جئت في شيء ما كنت أحب أن أجيء في مثله! قال: وما هو؟ قال: أمر أمير المؤمنين بقطع أذنك! وقال: قل له: لست أعاملك إلا كما يعامل الفتيان! فرأى ذلك أسهل مما ظنه من القتل. فقطع غضروف أذنه من خارج، ولم يستقصه، وجعله في كافور معه، وانصرف. وبقي منفياً. ثم حدر أبو عبد الله إلى بغداد، إلى منزله. فأقام به مدة. قال أبو عبد الله: فلقيت إسحق بن إبراهيم الموصلي، بعدما كف بصره. فسألني عن أخبار الناس والسلطان. فأخبرته ثم شكوت إليه غمي بقطع أذني. فجعل يسليني ويعزيني، ثم قال لي: من المتقدم اليوم عند أمير المؤمنين والخاص من ندمائه؟ فقلت له: محمد بن عمر البازيار. فقال لي: ومن هذا الرجل؟ وما مقدار أدبه وعلمه؟ فقلت: أما أدبه، فلا أدري، ولكني أخبرك بما سمعت منه منذ قريب: حضرنا الدار يوم عقد المتوكل لأولاده الثلاثة، فدخل مروان بن أبي الجنوب بن أبي حفصة، فأنشده قصيدته التي يقول فيها:بيضاء في وجناتها … وردٌ، فكيف لنا بشمه
দাইরে দরমালিসএই মঠটি বাগদাদের বাবুশ শামাসিয়ার রিক্কাহ নামক স্থানে অবস্থিত, যা দাইলামি আহমদ ইবনে বুওয়াইহ কর্তৃক বাবুশ শামাসিয়ায় নির্মিত প্রাসাদের সন্নিকটে। এর অবস্থান অত্যন্ত চমৎকার। এটি প্রচুর বাগান ও বৃক্ষশোভিত একটি মনোরম প্রমোদস্থল। এর পাশেই একটি নলখাগড়ার বন রয়েছে। মঠটি বেশ বিশাল এবং সন্ন্যাসী, যাজক ও সংসারবিরাগী ইবাদতকারীদের দ্বারা জনাকীর্ণ। এটি আনন্দ-উৎসবের জন্য সুপরিচিত স্থানগুলোর অন্যতম এবং ভ্রমণ ও পানাহারের উদ্দেশ্যে এখানে মানুষের সমাগম ঘটে।বাগদাদের খ্রিস্টানদের উৎসবগুলো নির্দিষ্ট কিছু মঠের মধ্যে বন্টিত। এর মধ্যে রোজার উৎসবসমূহ হলো: প্রথম রবিবার: দাইরে আসিয়ার উৎসব, যা সামালু থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত।দ্বিতীয় রবিবার: দাইরে যুরাইকিয়াহ।তৃতীয় রবিবার: দাইরে যানদাওয়ারদ।চতুর্থ রবিবার: এই দাইরে দরমালিস। এর উৎসবটি সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ হয়, বাগদাদের খ্রিস্টানরা এখানে সমবেত হয় এবং যারা আমোদ-প্রমোদ ও বিলাসিতা পছন্দ করে এমন কেউ-ই তাদের সঙ্গ থেকে পিছিয়ে থাকে না। মানুষ এখানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করে এবং উৎসবের দিনগুলো ছাড়াও এখানে যাতায়াত করে।আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হামদুন আন-নাদিম এই মঠ সম্পর্কে বলেছেন:হে দাইরে দরমালিস, তুমি কতই না সুন্দর! … আর হে মঠের হরিণশাবক, তুমি কতই না চিত্তাকর্ষক!হে আমার সাইয়্যিদ, আপনি যদি মঠেই বসবাস করেন, … তবে জেনে রাখুন আপনার আসল ঠিকানা তো আমার হৃদয়ের গহীনে।হায়রে আমার অন্তর! তুমি কি ক্ষান্ত হবে না … সেই সত্তার প্রতি তীব্র অনুরাগ থেকে, যে তোমাকে ব্যথিত করেছে?আল্লাহর দোহাই হে আমার সাইয়্যিদ, তার প্রতি সদয় হোন, … কেননা সে তো সেই মুহূর্তেই নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিয়েছে।এই কবিতাটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আহমদ ইবনে খালিদ আস-সারিফিনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হামদুনের কাছে ছিলাম যখন খলিফা মুতাওয়াক্কিল তাকে নির্বাসিত করেছিলেন। আমরা বিভিন্ন মঠ, সেগুলোর সৌন্দর্য এবং উৎসবের সময় মানুষের সমাগম নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, তোমরা এই স্থানগুলোতে উপস্থিত হওয়ার, সেখানে ঘুরে বেড়ানোর এবং মনকে প্রফুল্ল করার জন্য আমার মনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছ। এখন কোন মঠের উৎসবের সময়?" আমি বললাম: "দাইরে দরমালিস, আগামীকালই তার উৎসব!" তিনি বললেন: "তবে আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে চলো।" আমি যা কিছু প্রয়োজন ছিল সব প্রস্তুত করলাম এবং আমরা ভোরেই মঠে পৌঁছে গেলাম। সেখানে মানুষের ভিড় এবং উৎসব উদযাপন দেখলাম। কিছু লোক চলে গেল, কিন্তু আমি সেই দিন এবং তার পরের দিনও তার সাথে মঠে অবস্থান করলাম। আমরা বাগান ও শস্যক্ষেত্রের দিকে মুখ করা একটি জায়গায় বসলাম। তিনি পানাহার করলেন এবং তার মন প্রফুল্ল হলো। সেই স্থানের কিছু কিশোর আমাদের প্রয়োজন মেটাতে এবং বিভিন্ন উপহার ও অভিবাদন নিয়ে আসতে লাগল। তিনি তাদের প্রতি মুগ্ধ হলেন এবং তাদের সান্নিধ্যে সুন্দর সময় কাটালেন। তখনই তিনি উপরের কবিতাটি আবৃত্তি করেন।মুতাওয়াক্কিল কর্তৃক তাকে নির্বাসিত করার কারণ ছিল এই যে, ফাতহ ইবনে খাকান মুতাওয়াক্কিলের খাদেম শাহাককে ভালোবাসতেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে খলিফার কানে পৌঁছায়। তাকে নিয়ে ফাতহ-এর কিছু কবিতা ছিল, যার মধ্যে রয়েছে:হে শাহাক! তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে আমার রজনী দীর্ঘ হয়ে গেছে, … আর অশ্রু বিসর্জনের পর আমার চোখে এখন রক্ত ঝরছে।আর রহমানের শপথ, তোমার বিরহে আমি এমন বোঝা বইছি যা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই, … অথচ তোমার কাছে অভিযোগ করার কোনো পথও খোলা নেই।হে শাহাক! প্রেমিক যদি তার ভালোবাসার প্রতিদান পেত, … তবে তুমিও প্রতিদান পেতে; কিন্তু মানুষের মধ্যে বিশ্বস্ততা বড়ই কম।আবু আব্দুল্লাহ (ইবনে হামদুন) ফাতহ-এর এই ভালোবাসার কাজে সহযোগিতা করতেন। খলিফা মুতাওয়াক্কিল বিষয়টি জানতে পেরে আবু আব্দুল্লাহকে তলব করে বললেন: "আমি তোমাকে আমার সাহচর্যের জন্য কাছে টেনেছিলাম, আমার গোলামদের সাথে মধ্যস্থতা করার জন্য নয়!" তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেন এবং শপথ করলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার সেই শপথ ভঙ্গ হয়ে যায়, ফলে তার স্বাধীন স্ত্রীদের তালাক হয়ে যায় এবং দাসীদের মুক্ত করে দিতে হয়। তার ওপর ত্রিশ বছর হজ করা অবধারিত হয়ে যায়, তাই তিনি প্রতি বছর হজ করতেন।বর্ণনাকারী বলেন: মুতাওয়াক্কিল তাকে তিকরিত নামক স্থানে নির্বাসনের আদেশ দিলেন এবং তিনি সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর এক রাতে যরাফাহ ডাকযোগে তার কাছে আসলেন। ইবনে হামদুন যখন এটি জানতে পারলেন, তখন তিনি ভাবলেন মুতাওয়াক্কিল হয়তো রাতে মদ্যপ অবস্থায় তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন; তাই তিনি আল্লাহর ফায়সালার ওপর নিজেকে সঁপে দিলেন। যরাফাহ যখন তার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি এমন একটি আদেশ নিয়ে এসেছি যা আমি পছন্দ করি না!" ইবনে হামদুন জিজ্ঞেস করলেন: "তা কী?" তিনি বললেন: "আমিরুল মুমিনীন আপনার কান কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছেন!" এবং খলিফা বলেছেন: "তাকে বলো, আমি তোমার সাথে কেবল সেরকম আচরণই করছি যা যুবকরা একে অপরের সাথে করে থাকে!" ইবনে হামদুন এটিকে হত্যার চেয়ে সহজ মনে করলেন। অতঃপর যরাফাহ তার কানের বাইরের তরুণাস্থি কেটে ফেললেন, তবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করলেন না। এরপর তিনি সেটি তার সাথে থাকা কর্পূরের মধ্যে রাখলেন এবং ফিরে গেলেন। ইবনে হামদুন নির্বাসনেই রয়ে গেলেন। এরপর আবু আব্দুল্লাহকে বাগদাদে তার নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন। আবু আব্দুল্লাহ বলেন: দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর আমি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মাওসিলির সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে লোকজনের এবং সুলতানের সংবাদ জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাকে সব জানালাম এবং আমার কান কাটার দুঃখের কথা বললাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন। এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: "বর্তমানে আমিরুল মুমিনীনের কাছে কার মর্যাদা বেশি এবং তার বিশেষ সহচরদের মধ্যে অগ্রগণ্য কে?" আমি বললাম: "মুহাম্মদ ইবনে ওমর আল-বাযইয়ার।" তিনি বললেন: "এই লোকটি কে? তার আদব ও জ্ঞান কতটুকু?" আমি বললাম: "তার আদব সম্পর্কে আমি জানি না, তবে সম্প্রতি তার থেকে যা শুনেছি তা আপনাকে বলছি: মুতাওয়াক্কিল যখন তার তিন সন্তানের জন্য উত্তরাধিকারের অঙ্গীকারনামা তৈরি করেন, তখন আমরা রাজপ্রাসাদে উপস্থিত ছিলাম। মারওয়ান ইবনে আবি আল-জানুব ইবনে আবি হাফসা সেখানে প্রবেশ করে তার সেই কবিতাটি পাঠ করলেন যাতে তিনি বলেছিলেন:শ্বেতশুভ্রা এক ললনা যার গণ্ডদেশে ফুটে আছে … গোলাপ, তবে কীভাবে সম্ভব আমাদের পক্ষে তার ঘ্রাণ নেওয়া?
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২)
فسر المتوكل بذلك سروراً شديداً، وأمر، فنثر عليه بدرة دنانير، وأن تلقط وتطرح في حجره، وأمره بالجلوس، وعقد له على اليمامة والبحرين. فقال: يا أمير المؤمنين، ما رأيت كاليوم قط، ولا أرى، أبقاك الله ما دامت السموات والأرض! وقبل، قال له: فما تقول في أدبه؟ فقال: أأكثر من أن يقول كثير!. فقال لي إسحق: ويلك! جزعت على أذنك وغمك قطعها؟ ولم؟ حتى تسمع مثل هذا الكلام؟ ثم قال لي: ويلك! لو أن لك مكوك آذان، أيش كان ينفعك مع هؤلاء؟ قال: وأعاده المتوكل إلى خدمته. وكان إذا دعا به، قال على جهة المزاح: يا با عبيد.ولما رضي عنه، قال له: هل لك في جارية أهبها لك؟ فأكبر ذلك وأنكره. فوهب له جارية يقال لها صاحب، من جواريه، حسنة كاملة الأدب، إلا أن بعض الخدم رد السبطانة على فمها، وقد أرادت أن ترميه، فصدع إحدى ثنيتيها، فاسودت، فشانها ذلك عنده. وحمل معها كل ما كان لها: وكان شيئاً عظيماً كثيراً. فلما مات أبو عبد الله، تزوجت صاحب بعض العلويين. قال علي بن يحيى بن المنجم: فرأيته في النوم وهو يقول لي:أبا علي، ما ترى العجائبا … أصبح جسمي في التراب غائباواستبدلت صاحب بعدي صاحباولأبي عبد الله شعر جيد. ومن شعره يعاتب علي بن يحيى:من عذيري من أبي حسن … حين يجفوني ويصرمنيكان لي خلاً وكنت له … كامتزاج الرّوح بالبدنفوشى واش، فغيّره … وعليه كان يحسدنيإنما يزداد معرفةً … بودادي حين يفقدنيقال: واتصل بنجاح بن سلمة، إن أبا عبد الله بن حمدون، يذكره ويتنادر به بين يدي المتوكل. فلقيه نجاح يوماًن فقال له: يا أبا عبد الله: قد بلغني ذكرك لي بحضرة أمير المؤمنين بغير الجميل، ولم يخف علي قولك! أتحب أن أنهي إليه قولك إذا خلوت به: أتراني أحبه، وقد فعل بي ما فعل؟ والله، ما وضعت يدي على أذني إلا تجددت له بغضة في قلبي. فقال ابن حمدون: الطلاق له لازم إن كان قال هذا قط، وامرأته طالق إن ذكرتك بغير ما تحبه أبداً! قال: كان إبراهيم بن محمد بن مدبر، يلاعب أبا عبد الله بالنرد. فإذا غلبه شيئاً، دفعه إلى كردية المغنية، جارية محمد بن رجا. فغلبه يوماً عشرين ديناراً، فأخذها منه ودفعها إليها. فكتب إليه أبو عبد اله بعد ذلك:تقضي الحقوق بمالي … وأنت تعرف حاليإن دام هذا عليّ … أفقرتني وعيالي!وكان أبوه إبراهيم وأظن أنه الملقب بحمدون بن إسماعيل، ينادم المعتصم، ثم الواثق بعده. وكان يعابث المتوكل في ذلك الوقت. وجاءه مرة بحية في كمه، وأخرج رأسها تعريضاً بأمه شجاع، وكان ذلك يعجب الواثق.قال: فلما مات الواثق، نادم حمدون المتوكل. قال: فلما كان في بعض الأيام، أمر المتوكل بإحضار فريدة جارية أخيه الواثق، وكانت من الحسن والاحسان على ما لم ير مثله. وقال للخدم. إن لم تجيء فجيئوني برأسها! فأحضرت مكرهة، ودفع إليها عود، فغنت غناء يشبه الندبة والمرثية، فأسمعها، وأمرها أن تغني غيره. فبكت وغنت غناء شجياً بحزن. فزاد ذلك في طيب غنائها، فوجم حمدون للرقة التي تداخلته! فغضب المتوكل، ورأى أنه فعل ذلك بسبب أخيه الواثق حزناً عليه، وكان يبغض كل من مالي إليه! فأمر بنفيه إلى السند وضربه ثلثمائة سوط! فسأل أن يكون الضرب من فوق الثياب لضعفه عن ذلك، فأجيب إلى ذلك. وأقام منفياً ثلاث سنين. وتزوج المتوكل فريدة بعد ذلك، فولدت له ابنه أبا الحسن.قال: دعا إبراهيم جماعة من المغنين، فيهم جحظة وقاسم بن زرزر، وكان فيها عمه أبو محمد بن حمدون. فجعل إبراهيم يحاكي واحداً واحداً من المغنين. فقال له عمه: لا تحاك جحظة، ولا يكن بينك وبينه عمل! فلم يقبل، وحاكاه. فلم يزل جحظة يحتال في شيء يكتب فيه، إلى أن وجد رقعة، فكتب فيها:حصلت على حكاية من يغني، … فحاك لنا العجوز إذا تغنّتوحاك لنا لبيباً إذ أتاها … فأعطاها القمدّ كما تمنّتفقال له عمه: ألم أقل لك: عقرب، لا تقرب!
এতে মুতাওয়াক্কিল অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং আদেশ প্রদান করলেন; ফলে তার ওপর এক তোড়া স্বর্ণমুদ্রা ছিটানো হলো এবং তাকে তা কুড়িয়ে নিজের কোলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। তিনি তাকে বসতে বললেন এবং ইয়ামামা ও বাহরাইনের শাসনভার তার ওপর অর্পণ করলেন। তখন তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আজকের মতো দিন কখনো দেখিনি এবং দেখবও না। আকাশ ও পৃথিবী যতদিন বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহ আপনাকে ততদিন দীর্ঘজীবী করুন!" ইতিপূর্বে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তার আদব ও শিষ্টাচার সম্পর্কে তুমি কী বলো?" তিনি উত্তর দিলেন: "তিনি যা বলেন, তার চেয়েও কি বেশি কিছু বলার অবকাশ আছে?" ইসহাক আমাকে বললেন: "তোমার জন্য আক্ষেপ! তুমি কি তোমার কানের জন্য অস্থির হয়েছিলে এবং তা কেটে যাওয়ায় ব্যথিত হয়েছিলে? কেন? যতক্ষণ না তুমি এই ধরনের উচ্চাঙ্গের কথা শুনছ?" তারপর তিনি আমাকে বললেন: "তোমার জন্য দুর্ভোগ! তোমার যদি এক পাত্র ভর্তি কানও থাকত, তবে এই ব্যক্তিদের সংস্পর্শে তোমার কী লাভ হতো?" বর্ণনাকারী বলেন: মুতাওয়াক্কিল তাকে পুনরায় নিজের সেবায় ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যখন তাকে ডাকতেন, তখন কৌতুকবশত বলতেন: "হে আবু উবাইদ।"যখন তিনি তার ওপর সন্তুষ্ট হলেন, তখন তাকে বললেন: "তুমি কি চাও আমি তোমাকে একটি দাসী উপহার দিই?" তিনি একে অতিশয় বড় বিষয় মনে করলেন এবং বিনয়ের সাথে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তিনি তাকে 'সাহিব' নামক নিজের দাসীদের মধ্য থেকে একজন দান করলেন, যে ছিল পরম সুন্দরী ও পূর্ণ শিষ্টাচারসম্পন্ন। তবে জনৈক সেবক তার মুখে একটি নল (সাবতানা) ছুঁড়ে মেরেছিল, যখন সে তাকে কিছু ছুড়ে মারতে চেয়েছিল; এতে তার একটি সামনের দাঁত ভেঙে কালো হয়ে গিয়েছিল, যা তার দৃষ্টিতে তাকে কিছুটা খুঁতযুক্ত করে তুলেছিল। তার মালিকানাধীন যা কিছু ছিল, তার সবটুকুই তার সাথে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল; এবং তা ছিল পরিমাণে বিপুল ও মূল্যবান। যখন আবু আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করলেন, সাহিব জনৈক আলাওয়ীকে বিবাহ করেন। আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল মুনাজ্জিম বলেন: আমি তাকে স্বপ্নে দেখলাম এবং তিনি আমাকে বলছিলেন:হে আবু আলী, তুমি কি বিস্ময়কর কিছু দেখছ না? … আমার দেহ আজ মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে।আর সাহিব আমার পরে অন্য এক সাথীকে গ্রহণ করেছে।আবু আব্দুল্লাহর কিছু চমৎকার কবিতা রয়েছে। তার কবিতার মধ্যে একটি হলো আলী ইবনে ইয়াহইয়াকে অনুযোগ করে লেখা:কে আমাকে আবু হাসানের বিমুখতা থেকে রক্ষা করবে … যখন সে আমার সাথে রুক্ষ আচরণ করে এবং সম্পর্ক ছিন্ন করে?সে আমার এমন সুহৃদ ছিল এবং আমি তার জন্য এমন ছিলাম … যেমন দেহের সাথে প্রাণের নিবিড় সংমিশ্রণ।কিন্তু এক চোগলখোর কুৎসা রটনা করে তাকে বদলে দিল … এবং সে আমার প্রতি তাকে ঈর্ষান্বিত করে তুলল।সে আমার প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত মূল্য তখনই উপলব্ধি করবে … যখন সে আমাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।বর্ণিত আছে যে, নাজাহ ইবনে সালামার নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হামদুন মুতাওয়াক্কিলের সম্মুখে তাকে নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিদ্রূপ করেন। একদিন নাজাহর সাথে তার সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি আমিরুল মুমিনীনের দরবারে আমার সম্পর্কে অশোভন উক্তি করেছেন এবং আপনার উক্তি আমার অগোচরে থাকেনি! আপনি কি চান যে আমি যখন তার সাথে একান্তে অবস্থান করি তখন আপনার সেই কথাটি তাকে নিবেদন করি যে: আপনি কি মনে করেন আমি তাকে ভালোবাসি, অথচ তিনি আমার সাথে যা করার করেছেন? আল্লাহর কসম, আমি যখনই আমার কানের ওপর হাত রাখি, তখনই আমার হৃদয়ে তার প্রতি ঘৃণা নবায়িত হয়।" তখন ইবনে হামদুন বললেন: "যদি আমি কখনো এমনটি বলে থাকি তবে আমার ওপর তালাক অবধারিত, আর যদি কখনো আপনার সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আপনি অপছন্দ করেন, তবে আমার স্ত্রী তালাক!" বর্ণনা করা হয়েছে: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুদাব্বির আবু আব্দুল্লাহর সাথে পাশা খেলতেন। তিনি যখনই তার বিপরীতে কিছু জিততেন, তা মুহাম্মদ ইবনে রাজার দাসী কুর্দিয়া গায়িকাকে প্রদান করতেন। একদিন তিনি তার নিকট বিশ দিনার জিতলেন এবং তা তার নিকট থেকে গ্রহণ করে সেই গায়িকাকে দিয়ে দিলেন। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ তাকে লিখে পাঠিয়েছিলেন:আপনি আমার সম্পদ দিয়ে অন্যের হক আদায় করছেন … অথচ আপনি আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত।যদি আমার ওপর এই ধারা অব্যাহত থাকে … তবে আপনি আমাকে ও আমার পরিবারকে নিঃস্ব করে দেবেন!তার পিতা ইব্রাহিম—যিনি সম্ভবত হামদুন ইবনে ইসমাইল নামে পরিচিত ছিলেন—মু'তাসিমের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন, অতঃপর ওয়াসিকেরও সান্নিধ্য লাভ করেন। সেই সময় তিনি মুতাওয়াক্কিলের সাথে কৌতুক করতেন। একবার তিনি তার আস্তিনে একটি সাপ নিয়ে এলেন এবং ওয়াসিকের মাতা 'শুজা'র (যার অর্থ সাহসী বা এক প্রকার সাপ) প্রতি ইঙ্গিত করে সাপের মাথাটি বের করলেন, যা ওয়াসিককে অত্যন্ত আনন্দিত করেছিল।বর্ণনাকারী বলেন: ওয়াসিক যখন ইন্তেকাল করলেন, হামদুন মুতাওয়াক্কিলের ঘনিষ্ঠ সহচরে পরিণত হলেন। একদিন মুতাওয়াক্কিল তার ভ্রাতা ওয়াসিকের দাসী ফারিদাকে উপস্থিত করার আদেশ দিলেন, যে সৌন্দর্য ও গুণাবলীতে ছিল অতুলনীয়। তিনি সেবকদের বললেন: "সে যদি আসতে অসম্মতি জানায়, তবে তার মস্তক নিয়ে এসো!" তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও উপস্থিত করা হলো এবং তাকে একটি বাদ্যযন্ত্র (উদ) দেওয়া হলো। সে এমন এক গীতি পরিবেশন করল যা ছিল শোকগাথা বা বিলাপরূপী। তিনি তা শুনলেন এবং তাকে অন্য কোনো গান গাইতে নির্দেশ দিলেন। তখন সে ক্রন্দন করতে লাগল এবং পরম বিষাদে একটি করুণ গান গাইল। এতে তার গানের মাধুর্য আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। হামদুন তার প্রতি করুণায় ও কোমলতায় স্তব্ধ হয়ে গেলেন! এতে মুতাওয়াক্কিল রাগান্বিত হলেন এবং ধারণা করলেন যে, হামদুন তার ভ্রাতা ওয়াসিকের প্রতি শোকের বশবর্তী হয়ে এমনটি করছেন; আর তিনি এমন প্রত্যেককে ঘৃণা করতেন যারা ওয়াসিকের প্রতি অনুরাগী ছিল। তিনি তাকে সিন্ধু প্রদেশে নির্বাসিত করার এবং তিনশ কশাঘাত করার নির্দেশ দিলেন! হামদুন তার শারীরিক দুর্বলতার কারণে পরিহিত বস্ত্রের ওপর দিয়ে চাবুক মারার প্রার্থনা করলে তা মঞ্জুর করা হয়। তিনি তিন বছর নির্বাসিত জীবন অতিবাহিত করেন। অতঃপর মুতাওয়াক্কিল ফারিদাকে বিবাহ করেন এবং তার গর্ভে তার পুত্র আবু হাসানের জন্ম হয়।বর্ণিত আছে: ইব্রাহিম একদল গায়ককে আমন্ত্রণ জানালেন, যাদের মধ্যে জাহজা ও কাসিম ইবনে জারজার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখানে তার চাচা আবু মুহাম্মদ ইবনে হামদুনও উপস্থিত ছিলেন। ইব্রাহিম একে একে প্রত্যেক গায়কের অঙ্গভঙ্গি নকল করতে লাগলেন। তার চাচা তাকে বললেন: "জাহজাকে নকল করো না এবং তার সাথে কোনো বিবাদে জড়িয়ো না!" কিন্তু তিনি তা অগ্রাহ্য করে তাকে নকল করলেন। জাহজা তাকে বিদ্রূপ করে কিছু লেখার সুযোগ অন্বেষণ করতে লাগল, অবশেষে সে একটি চিরকুট পেল এবং তাতে লিখল:তুমি গায়কদের নকল করায় পারদর্শিতা অর্জন করেছ, … তবে সেই বৃদ্ধারও নকল করে দেখাও যখন সে গান গায়।আর সেই কামুক ব্যক্তিরও নকল করো যখন সে তার নিকট আসে … এবং তাকে তার আকাঙ্ক্ষিত বিশাল বস্তু (লিঙ্গ) প্রদান করে।তখন তার চাচা তাকে বললেন: "আমি কি তোমাকে বলিনি যে সে একটি বিচ্ছু, তার নিকটবর্তী হয়ো না!"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৩)
وحكى جحظة، عن إبراهيم بن القسم زرزر، إن لاكهكيفي كان حسن الغناء مجيداً، وكان يحسد إبراهيم بن أبي العبيس على غنائه وشجا صوته. فلما مات إبراهيم وكانت وفاته في أيام المكتفي، على لاكهكيفي والدموع في عيني. فقال: ما لك؟ قلت: مات إبراهيم! قال: بسلام! والله، لو لم يمت لقتلته!دير سمالووهذا الدير شرقي بغداد، بباب الشماسية، على نهر المهدي. وهناك أرحية للماء، وحوله بساتين وأشجار ونخل. والموضع نزه، حسن العمارة، آهل بمن يطرقه، وبمن فيه من رهبانه.وعيد الفصح ببغداد، فيه منظر عجيب. لأنه لا يبقى نصراني إلا حضر وتقرب فيه، ولا أحد من أهل الطرب واللهو من المسلمين إلا قصده للتنزه فيه. وهو أحد متنزهات بغداد المشهورة، ومواطن القصف المذكورة.ولمحمد بن عبد الملك الهاشمي، فيه:ولربّ يوم في سمالو تم لي … فيه السرور وغيّبت أحزانهوأخ يشوب حديثه بحلاوةٍ … يلتذّ رجع حديثه ندمانهصافي الرّحيق من المدام شرابة … والمحسنات من الأوانس شانهبكرت عليّ به الزيارة فاغتدى … طرباً إليّ وسرّني اتيانهفأمرت ساقينا وقلت له اسقنا … قد حان وقت شرابنا وأوانهفتلاعبت بعقولنا نشواته … وتوقّدت بخدودنا نيرانهحتى حسبت لنا البساط سفينةً … والدير ترقص حولنا حيطانهولخالد الكاتب، فيه:يا منزل القصف في سمالو … ما لي عن طيبك انتقالواهاً لأيامك الخوالي … والعيش صاف بها زلالتلك حياة النفوس حقاً … ولك ما دونها محالوهو أبو الهيثم خالد بن يزيد الكاتب. وكان مليح الشعر رقيقه، لا يقول إلا في الغزل، ولا يتجاوز الأربعة أبيات، ولا يزيد عليها. ولم يكن له شعر في مدح ولا هجاء.وذكر ميمون بن حماد، قال: دخل علي يوماً أبو عبد الله ابن الاعرابي، فقلت: يا أبا عبد الله، سمعت من شعر هذا الغليم شيئاً؟ قال: من هو؟ قلت: خالد بن يزيد. قال: لا، وإني لأحب ذلك! فصح به. فجاء حتى وقف. فقلت: أنشد أبا عبد الله شيئاً من شعرك. فقال: إنما أقول في شجون نفسي، لا أمدح ولا أهجو. فقلت: أنشده، فأنشده.أقول للسقم عد إلى بدني … حُباً لشيء يكون من سببكفقال ابن الاعرابي: حسبك يا غلام! فقد خيل إلي أن الرقة قد جمعت لك في هذا البيت.قال جحظة: حدثني خالد الكاتب، قال: كنت بدير سمالو، لم أشعر إلا ورسول إبراهيم ابن المهدي قد وافاني. فدخلت إليه، فإذا برجل أسود مشفراني قد غاص في الفراش، فاستجلسني، فجلست. فقال: أنشدني شيئاً من شعرك، فقلت: أيها الأمير، أنا غلام أقول في شجون نفسي، لا أكاد أمدح ولا أهجو. فقال: ذلك أشد لدواعي البلاء، فأنشدته:رأت منه عيني منظرين كما رأت … من البدر والشمس المضيئة بالأرضعشية حيّاني بوردٍ كأنه … خدودٌ أضيفت بعضهن إلى بعضوناولني كأساً كأن رضابها … دموعي لما صدّ عن مقلتي غمضيوولى وفعل السّكر في حركاته … من الراح، فعل الريح بالغصن الغضّفزحف، حتى صار في ثلثي المصلى. ثم قال: يا بني، شبه الناس الخدود بالورد، وشبهت أنت الورد بالخدود! زدني، فأنشدته:عاتبت نفسي في هوا … ك، فلم أجدها تقبلوأجبت داعيها إلي … ك، ولم أطع من يعذللا والذي جعل الوجو … هـ لحسن وجهك تمثللا قلت أن الصبر عن … ك من التصابي أجملفزحف، حتى صار خارج المصلى، ثم قال: زدني! فأنشدته:عش فحبّيك سريعاً قاتلي … والضنى إن لم تصلني واصليظفر الحبّ بقلبٍ دنف … بك والسقم بجسم ناحلفهما بين اكتئابِ وضنى … تركاني كالقضيب الذابلوبكى العاذل لي من رحمتي … فبكائي لبكاء العاذلفصاح وقال: يا بليق: كم لي معك من العين؟ قال: ستمائة وخمسون ديناراً، قال: اقسمها بيني وبينهن واجعل الكسر كاملاً للغلام.
জাহজা, ইব্রাহিম ইবনুল কাসিম যারযার হতে বর্ণনা করেছেন যে, লাকাহকাফি অত্যন্ত সুকণ্ঠী ও নিপুণ গায়ক ছিলেন। তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবিল আবাইসকে তার গায়নশৈলী ও কণ্ঠের করুণ সুরের জন্য ঈর্ষা করতেন। যখন ইব্রাহিম মারা গেলেন—আর তার মৃত্যু হয়েছিল আল-মুক্তাফির খেলাফতকালে—তখন আমি অশ্রুসিক্ত নয়নে লাকাহকাফির কাছে গেলাম। সে বলল: "তোমার কী হয়েছে?" আমি বললাম: "ইব্রাহিম মারা গেছে!" সে বলল: "শান্তিতে (বিদায় নিল)! আল্লাহর কসম, যদি সে না মারা যেত, তবে আমিই তাকে হত্যা করতাম!"দাইরে সামালুএই মঠটি বাগদাদের পূর্ব দিকে, বাবুল শাম্মাসিয়ার কাছে, মাহদী নদীর তীরে অবস্থিত। সেখানে জলকল (পানির চাকা) রয়েছে এবং এর চারপাশে বাগান, বৃক্ষরাজি ও খেজুর বাগান বিদ্যমান। স্থানটি অত্যন্ত মনোরম, এর স্থাপত্যশৈলী সুন্দর এবং দর্শনার্থী ও সেখানে বসবাসরত সন্ন্যাসীদের দ্বারা এটি জনবহুল।বাগদাদের ফাসাহ উৎসবে (ইস্টার) সেখানে এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। কেননা এমন কোনো খ্রিস্টান নেই যে সেখানে উপস্থিত হয়ে উপাসনা করে না, আর আনন্দ-বিনোদনে লিপ্ত মুসলমানদের মধ্য থেকেও এমন কেউ নেই যে সেখানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গমন করে না। এটি বাগদাদের অন্যতম প্রসিদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র এবং আমোদ-প্রমোদের সুপরিচিত স্থান হিসেবে গণ্য।মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-হাশেমী এই স্থান সম্পর্কে বলেছেন:সামালুতে আমার এমন কত দিন পূর্ণ হয়েছে … যেখানে আনন্দ বিরাজ করত এবং দুঃখগুলো অন্তর্হিত হতো।আর এমন এক বন্ধু, যার কথা মাধুর্যমণ্ডিত … যার কথার প্রতিধ্বনি তার সঙ্গীরা পরম তৃপ্তিতে উপভোগ করে।তার পানীয় হলো মদের স্বচ্ছ নির্যাস … আর রূপসী নারীরাই তার ভূষণ ও মর্যাদা।সে খুব ভোরে আমার সাথে সাক্ষাতে এল … সে আমার আগমনে প্রফুল্ল হলো এবং তার আসা আমাকে আনন্দিত করল।আমি আমাদের সাকিকে আদেশ দিয়ে বললাম, আমাদের পান করাও … আমাদের পান করার লগ্ন ও উপযুক্ত সময় উপস্থিত হয়েছে।তার নেশা আমাদের বিবেকের সাথে খেলা করল … আর আমাদের গালে যেন তার অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হলো।এমনকি আমি আমাদের গালিচাকে একটি জাহাজ মনে করলাম … আর মঠের দেয়ালগুলো যেন আমাদের চারপাশে নাচছিল।খালিদ আল-কাতিব এই স্থান সম্পর্কে বলেছেন:হে সামালুর প্রমোদভবন … তোমার স্নিগ্ধতা ছেড়ে চলে যাওয়ার উপায় আমার নেই।হায়! তোমার সেই অতীত দিনগুলোর জন্য আক্ষেপ … যখন সেখানে জীবন ছিল স্বচ্ছ ও নির্মল।ওটাই ছিল প্রকৃতপক্ষে প্রাণের জীবন … আর তা ছাড়া অন্য কিছু তো অসম্ভব।তিনি হলেন আবুল হাইসাম খালিদ ইবনে ইয়াযিদ আল-কাতিব। তার কবিতা ছিল ললিত ও সুকোমল। তিনি কেবল গজল (প্রেমমূলক কবিতা) রচনা করতেন এবং সাধারণত তার কবিতা চার চরণের বেশি হতো না। প্রশংসা বা কুৎসামূলক কোনো কবিতা তিনি রচনা করেননি।মাইমুন ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আরাবি আমার কাছে এলেন। আমি বললাম: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি এই ছেলেটির কোনো কবিতা শুনেছেন?" তিনি বললেন: "সে কে?" আমি বললাম: "খালিদ ইবনে ইয়াযিদ।" তিনি বললেন: "না, তবে আমি তা শুনতে পছন্দ করব!" তাকে ডাকা হলো। সে এসে সামনে দাঁড়াল। আমি বললাম: "আবু আব্দুল্লাহকে তোমার কিছু কবিতা শোনাও।" সে বলল: "আমি তো কেবল আমার প্রাণের দুঃখ-ব্যথা নিয়ে কবিতা বলি, আমি কারো প্রশংসা বা নিন্দা করি না।" আমি বললাম: "তাকেই শোনাও।" তখন সে আবৃত্তি করল:আমি রোগকে বলি, আমার শরীরে ফিরে এসো … তোমার কারণে ঘটে যাওয়া কোনো কিছুর প্রতি ভালোবাসার টানে।তখন ইবনুল আরাবি বললেন: "হে যুবক, তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট! আমার মনে হচ্ছে এই এক চরণের মধ্যেই সমস্ত সূক্ষ্ম অনুভূতি পুঞ্জীভূত হয়েছে।"জাহজা বলেন: খালিদ আল-কাতিব আমাকে বলেছেন: আমি দাইরে সামালুতে ছিলাম, হঠাৎ দেখলাম ইব্রাহিম ইবনুল মাহদীর দূত আমার কাছে এসেছে। আমি তার কাছে গেলাম, গিয়ে দেখি এক স্থুল ঠোঁটওয়ালা কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি বিছানায় গা এলিয়ে আছেন। তিনি আমাকে বসতে বললেন, আমি বসলাম। তিনি বললেন: "আমাকে তোমার কিছু কবিতা শোনাও।" আমি বললাম: "হে আমির, আমি এমন এক যুবক যে নিজের প্রাণের দুঃখ নিয়ে কবিতা বলি, কারো প্রশংসা বা নিন্দা আমি করি না বললেই চলে।" তিনি বললেন: "সেটি তো হৃদয়ের যন্ত্রণার কারণ হিসেবে আরও জোরালো।" তখন আমি তাকে শোনালাম:আমার চোখ তার মাঝে দুটি দৃশ্য দেখেছে, যেমনটা দেখেছে … পৃথিবীর বুকে পূর্ণিমা ও উজ্জ্বল সূর্যের প্রতিচ্ছবি।সেই সন্ধ্যায় সে আমাকে গোলাপ দিয়ে অভিবাদন জানাল, যা যেন … কতগুলো গাল, যেগুলো একে অপরের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়েছে।সে আমাকে একটি পানপাত্র দিল, যার পানীয় ছিল যেন … আমার অশ্রু, যখন বিরহে আমার চোখের ঘুম উবে গিয়েছিল।সে প্রস্থান করল, আর মদের নেশা তার চলনে এমন প্রভাব ফেলছিল … যেমন বসন্তের বাতাস কচি ডালের সাথে করে থাকে।তখন তিনি হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে এলেন, এমনকি জায়নামাজের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত চলে এলেন। তারপর বললেন: "হে বৎস, মানুষ গালকে গোলাপের সাথে তুলনা করে, আর তুমি গোলাপকে গালের সাথে তুলনা করলে! আমাকে আরও শোনাও।" তখন আমি শোনালাম:তোমার প্রেমে আমি নিজেকে তিরস্কার করেছি … কিন্তু দেখলাম মন তা গ্রহণ করছে না।তোমার দিকে আহবানকারীর ডাকে আমি সাড়া দিয়েছি … এবং নিন্দাকারীদের কোনো কথা শুনিনি।না, সেই সত্তার কসম, যিনি সমস্ত সৌন্দর্যকে … তোমার সুন্দর চেহারার অনুসারী করেছেন।আমি বলব না যে, তোমার থেকে ধৈর্য ধারণ করা … যৌবনের চপলতার চেয়ে অধিক সুন্দর।তখন তিনি হামাগুড়ি দিয়ে জায়নামাজের বাইরে চলে এলেন এবং বললেন: "আরও শোনাও!" আমি তাকে শোনালাম:তুমি বেঁচে থাকো, কারণ তোমার ভালোবাসাই আমাকে দ্রুত সংহার করছে … আর তুমি যদি দেখা না দাও, তবে জরা-ব্যাধিই হবে আমার চিরসাথী।তোমার কারণে ভালোবাসা এক রুগ্ন হৃদয়ে বিজয়ী হয়েছে … আর রোগ বিজয়ী হয়েছে এক কৃশকায় শরীরে।বিষণ্ণতা ও রোগ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে তারা … আমাকে একটি শুষ্ক ডালের মতো বিবর্ণ করে রেখে দিয়েছে।আমার প্রতি দয়া পরবশ হয়ে নিন্দাকারীও কেঁদে ফেলল … আর আমার কান্না ছিল সেই নিন্দাকারীর কান্নার কারণে।তখন তিনি চিৎকার করে বললেন: "হে বালিক! তোমার কাছে আমার কত নগদ অর্থ (দিনার) আছে?" সে বলল: "ছয়শ পঞ্চাশ দিনার।" তিনি বললেন: "তা আমার এবং তাদের মধ্যে ভাগ করে দাও, আর ভগ্নাংশটুকু পূর্ণ করে এই যুবককে দিয়ে দাও।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৪)
وذكر أحمد بن صدقة المغني، قال: اجتزت بخالد الكاتب يوماًن فقلت له: اعمل لي أبياتاً أغني فيها أمير المؤمنين، يعني المأمون. قال: فأي حظ لي في ذلك؟ تأخذ أنت الجائزة، وأحصل أنا على الاثم! فحلفت له، أنه إن وصلني بشيء، قاسمته إياه. فقال لي: أنت أنذل من ذاك! ولكن أذكره بي، فلعله يصلني بشيء. قلت: أفعل. فأنشدني:تقول سلا فمن المدنف … ومن عينه أبداً تذرفومن قلبه قلقٌ خافقٌ … عليك وأحشاؤه ترجففحفظت الشعر، وعملت فيه لحناً، وحضرنا عند المأمون من الغد مع المغنين. وكان بينه وبين بعض حظاياه هجرة. فوجهت إليه بتفاحة عنبر مكتوب عليها بالغالية: يا سيدي سلوت. وما علم الله أني عرفت شيئاً من الخبر. وانتهى الدور إلي وابتدأت أغني بشعر خالد. فلما غنيته إياه، احمر وجه المأمون وانقلبت عيناه، ودارتا في أم رأسه، وظهر الغضب في وجهه، وقال: لكم على حرمي أصحاب أخبار؟ فقمت إعظاماً لما شاهدت منه، وقلت: أعيذ أمير المؤمنين بالله أن يظن بعبده هذا الظن، وأنزه داره أن يكون لأحد عليها صاحب خبر! قال: فمن أين عرفت خبري مع جاريتي حين غنيت في معنى ما بيننا؟ فحلفت له أني لا أعرف شيئاً من ذلك، وحدثته حديثي مع خالد. فلما انتهيت إلى قوله: أنت أبذل من ذاك! قال: أشهد أنك كذاك، وأسفر وجهه. وقال: ما أعجب هذا الاتفاق! وأمر لي بخمسة آلاف درهم، ولخالد بمثلها.ومن مليح شعر خالد:كبد المستهام كيف تذوب … ما تقاسي من العيون القلوببدن المستهام كيف تراه … شجنٌ ما له سواه طبيبأين أين الرقاد يا مقلتي من … حرّ أحشائه عليه رقيبيا مكان الهوى خلوت من الصب … ر، فما للسلو فيك نصيبومن مليح شعره:ولم أدر ما جهد الهوى وبلاؤه … وشدته حتى وجدتك في قلبيأطاعك طرفي في فؤادي، فحازه … لطرفك حتى صار في قبضة الحبومن شعره، وفيه لحن:قد استعار الحسن من وجهه … والغصن الناعم من قدّهلقد تعاتبنا بأبصارنا … فيما جناه الخلف من وعدهحتى تجارحنا بتكرارنا … للّحظ في خدّي وفي خدّهوله أيضاً:ما على الغضبان لو كان رضي … ورثى لي من تمادي مرضيقال لي لما تشكّيت الهوى … إحمد الله كذا قُضيقلت: حاشى الله أن يقضي بذا … بل قضاه صاحب الوجه الوضيأنت شرّدت رقادي ظالماً … فاجعل الانصاف منه عوضيوله أيضاً:رحلتم، فكم من أنةٍ بعد زفرةٍ … مُبيّنةٍ للناس شوقي إليكموقد كنت اعتقت الجفون من البكا … فقد ردّها في الرق حزني عليكموله أيضاً:زراني في مورّدٍ مثل خدي … هـ وعقد فصوله الكافورليلةٌ لم يكن سوى قصر اللي … لة فيها عيبٌ ولا تقصيرقال جحظة: كنت يوماً عند عبد اله بن المعتز، فطلبت نعلي، فلم أجده. فجعلت أقول:يا قوم من لي بنعلي … أو في مصحّف نعلفسار هذا البيت حتى رواه الصبيان.قال: ودعاني عبيد الله يوماً، فأبطأت عنه، فكتب إلي:لا تهجر الأمراء من بعدوا على … فرس الح قيراطفكتب إليه جحظة:من كان خادم مثلكم فجواده … فرس الحفاء ودينه طسّوجقال جحظة: كنت أعشق جارية في القيان، يقال لها شروين. فسكرت عندي ليلةً، فخرئت في سطلي وحميديتي وانصرفت. فكتب إلي الهداهدي:قد زارني خلٌّ أسرّ به … حلو الشمائل راجح العقلفبحقّ شروين التي خرئت … في الطست والابريق والسطلإلا أتيت مبادراً عجلاً … وأرحت من نكد ومن مطلحتى أراك إذا سكرت وقد … شاركتها في ذلك الفعل!ولجحظة، إلى ابن طرخان يدعوه:لنا يا أخي زلةٌ وافره … وقدرٌ معجّلة حاضرهوما شئت من خبر طيب … ونادرة بعدها نادره
আহমদ বিন সাদাকা নামক গায়ক উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমি খালিদ আল-কাতিবের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি তাকে বললাম, ‘আমার জন্য কিছু কবিতা লিখে দিন যা গেয়ে আমি আমিরুল মুমিনিন অর্থাৎ আল-মামুনকে শোনাব।’ তিনি বললেন, ‘তাতে আমার কী লাভ হবে? পুরস্কার তো আপনিই পাবেন, আর গোনাহর বোঝা আমার ঘাড়ে চাপবে!’ তখন আমি তাঁর কাছে শপথ করলাম যে, যদি তিনি আমাকে কোনো পুরস্কার দেন তবে আমি তা তাঁর সাথে ভাগ করে নেব। তিনি আমাকে বললেন, ‘আপনি তো তার চেয়েও হীন! তবে তাঁকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সম্ভবত তিনি আমাকে কিছু পাঠাবেন।’ আমি বললাম, ‘আমি তাই করব।’ তখন তিনি আমাকে আবৃত্তি করে শোনালেন:সে বলছে, সে ভুলে গেছে, তবে কে সেই রুগ্ন ব্যক্তি … আর কার চক্ষু থেকে সর্বদা অশ্রু ঝরে?আর কার হৃদয় তোমার জন্য উৎকণ্ঠায় স্পন্দিত হয় … আর যার অন্তর থরথর করে কাঁপে?আমি কবিতাটি মুখস্থ করলাম এবং তাতে সুরারোপ করলাম। পরদিন আমরা অন্যান্য গায়কদের সাথে আল-মামুনের দরবারে উপস্থিত হলাম। সে সময় তাঁর এবং তাঁর এক প্রিয়তমা দাসীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। আমি তাঁর কাছে আম্বর মিশ্রিত একটি আপেল পাঠিয়েছিলাম যাতে সুগন্ধি দিয়ে লেখা ছিল: ‘হে আমার মনিব, আপনি কি ভুলে গেলেন?’ আল্লাহর কসম, আমি সেই ঘটনার কিছুই জানতাম না। এরপর গাওয়ার পালা আমার কাছে এল এবং আমি খালিদের সেই কবিতাটি গাইতে শুরু করলাম। যখন আমি সেটি তাঁকে গেয়ে শোনালাম, আল-মামুনের চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে উঠল, তাঁর চক্ষুদ্বয় উল্টে মাথার তালুর দিকে ঘুরে গেল এবং তাঁর চেহারায় ক্রোধ ফুটে উঠল। তিনি বললেন, ‘আমার অন্তঃপুর কি তোমাদের সংবাদসংগ্রাহকদের কবজায়?’ তাঁর এই অবস্থা দেখে আমি সম্মানের সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বললাম, ‘আমি আমিরুল মুমিনিনের জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাতে তিনি তাঁর এই দাসের প্রতি এমন ধারণা না করেন। আর আপনার গৃহকে এ থেকে পবিত্র ঘোষণা করছি যে সেখানে কারো কোনো সংবাদসংগ্রাহক থাকবে!’ তিনি বললেন, ‘তবে তুমি আমার আর আমার দাসীর মধ্যকার খবর কীভাবে জানলে যখন তুমি আমাদের অবস্থার সাথে হুবহু মিলে যায় এমন কবিতা গাইলে?’ তখন আমি তাঁর কাছে কসম খেয়ে বললাম যে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না এবং খালিদের সাথে আমার যে কথোপকথন হয়েছিল তা বর্ণনা করলাম। যখন আমি খালিদের এই কথা পর্যন্ত পৌঁছালাম যে: ‘আপনি তো তার চেয়েও হীন!’ তিনি বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি আসলেই তেমন!’ তখন তাঁর চেহারা শান্ত হলো। তিনি বললেন, ‘এই কাকতালীয় ঘটনা কতই না বিস্ময়কর!’ তারপর তিনি আমাকে পাঁচ হাজার দিরহাম এবং খালিদকেও সমপরিমাণ অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিলেন।খালিদের চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:আকুল প্রেমিকের কলিজা কীভাবে গলে যায় … চক্ষুগুলো হৃদয়ের সাথে যা করে তা কতই না যন্ত্রণাদায়ক।প্রেমিকের দেহকে তুমি কেমন দেখছ? … এমন এক শোকাতুর অবস্থা যার কোনো চিকিৎসক নেই।নিদ্রা কোথায়? হে আমার চক্ষু! … যার অন্তরের দহনই তার ওপর প্রহরীর মতো।হে ভালোবাসার স্থান, তুমি ধৈর্যশূন্য হয়ে পড়েছ … তাই এখানে ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।তাঁর আরও কিছু চমৎকার কবিতা:আমি জানতাম না প্রেমের ক্লেশ ও পরীক্ষা কী … এবং এর তীব্রতা কতখানি, যতক্ষণ না আমি তোমাকে আমার হৃদয়ে পেলাম।আমার দৃষ্টি আমার হৃদয়ের ব্যাপারে তোমার অনুগত হয়েছে, তাই সে এটিকে … তোমার দৃষ্টির অধীন করে দিয়েছে, এমনকি এটি প্রেমের কবজায় বন্দি হয়েছে।তাঁর আরও কিছু কবিতা, যা গীতি হিসেবেও প্রচলিত:সে তার চেহারায় লাবণ্য ধার নিয়েছে … আর তার সুঠাম দেহ থেকে কোমল ডাল ধার করেছে।আমরা আমাদের দৃষ্টি দিয়ে একে অপরকে ভর্ৎসনা করেছি … প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে যা কিছু ঘটেছে তার জন্য।এমনকি আমরা একে অপরকে বারবার আহত করেছি … আমার গালে এবং তার গালে দৃষ্টি বিনিময়ের মাধ্যমে।তাঁর আরও কিছু কবিতা:ক্রুদ্ধ ব্যক্তির কী হতো যদি সে সন্তুষ্ট হতো … আর আমার দীর্ঘস্থায়ী পীড়ার জন্য আমার প্রতি করুণা করত।সে আমাকে বলল যখন আমি প্রেমের আর্তি জানালাম … ‘আল্লাহর প্রশংসা করো, এভাবেই নির্ধারিত হয়েছে।’আমি বললাম: ‘আল্লাহর পানাহ! তিনি এমন ফয়সালা করবেন না, … বরং উজ্জ্বল চেহারার অধিকারীই এটি নির্ধারণ করেছে।’তুমি অন্যায়ভাবে আমার ঘুম তাড়িয়ে দিয়েছ … সুতরাং ইনসাফকে তার স্থলাভিষিক্ত করো।তাঁর আরও কবিতা:তোমরা প্রস্থান করেছ, তাই দীর্ঘশ্বাসের পর কতই না হাহাকার … যা মানুষের কাছে তোমাদের প্রতি আমার ব্যাকুলতা প্রকাশ করছে।আমি আমার চক্ষুকে ক্রন্দন থেকে মুক্ত করেছিলাম, … কিন্তু তোমাদের বিরহ-বেদনা পুনরায় তাকে ক্রন্দনের দাসত্বে ফিরিয়ে এনেছে।তাঁর আরও কবিতা:সে আমার সাথে দেখা করতে এল গোলাপের মতো রক্তিম গাল নিয়ে … যার সুগন্ধি ছিল কর্পূরের মতো শুভ্র।সেই রাতটি কেবল সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণেই … ত্রুটিযুক্ত ছিল, এছাড়া সেখানে আর কোনো অপূর্ণতা ছিল না।জাহজা বলেন: একদিন আমি আবদুল্লাহ বিন আল-মুতাজ্জের কাছে ছিলাম, তখন আমি আমার জুতো খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। তখন আমি বলতে লাগলাম:হে লোকসকল, কে আমার জুতো ফিরিয়ে দেবে … কিংবা জুতোর বদলে অন্য কিছু?এই চরণটি এতই প্রসিদ্ধি লাভ করল যে শিশুরাও তা আবৃত্তি করত।তিনি আরও বলেন: একদিন উবাইদুল্লাহ আমাকে দাওয়াত দিলেন, কিন্তু আমার পৌঁছাতে দেরি হলো। তখন তিনি আমাকে লিখে পাঠালেন:আমিরদের পরিত্যাগ করো না যারা দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে … কীরাতের মতো দ্রুত ধাবিত হয়।তখন জাহজা তাকে লিখে পাঠালেন:আপনার মতো ব্যক্তির যে খাদেম, তার ঘোড়া তো … খালি পা, আর তার ধর্ম হলো অতি তুচ্ছ।জাহজা বলেন: আমি গায়িকাদের মধ্যে ‘শারবিন’ নামক এক দাসীর প্রেমে মত্ত ছিলাম। এক রাতে সে আমার কাছে মাতাল অবস্থায় ছিল এবং সে আমার বালতি ও জগের মধ্যে মলত্যাগ করে চলে গেল। তখন আল-হাদাহাদি আমাকে লিখে পাঠাল:আমার কাছে এমন এক বন্ধু এসেছে যাকে দেখে আমি আনন্দিত … যে অমায়িক স্বভাবের এবং প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত।সেই শারবিনের শপথ, যে মলত্যাগ করেছে … পাত্র, জগ এবং বালতির মধ্যে।তুমি দ্রুত চলে আসো … এবং কষ্ট ও দীর্ঘসূত্রতা থেকে স্বস্তি দাও।এমনকি আমি তোমাকে দেখতে চাই যখন তুমি মাতাল হবে … আর তুমিও তার মতো একই কাজ করবে!জাহজা ইবনে তারখানকে দাওয়াত দিয়ে বলেন:হে আমার ভাই, আমাদের কাছে প্রচুর উপাদেয় খাবার রয়েছে … এবং প্রস্তুত হাঁড়িও হাজির আছে।আর আপনি যা চান—সুন্দর আলাপ … এবং একের পর এক চমকপ্রদ কাহিনী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وراحٍ تريك إذا صفّقت … سنا البرق في الليلة الماطرهومحسنةٍ لم يخنها الصواب … وزامرةٍ أيما زامرهفايت ولو كنت يا ابن الكرام … وحاشاك من ذاك في الآخرهألست أدري أين الفؤاد مقيماً … يا مكان الفؤاد، أين الفؤاد؟دفعته الأحشاء عما يليها … فأذابته حرقةٌ واتقادوله:نأيت فلم ينأ عنه الضّنى … وعدت فعاد إلى نكسهوفارقه الصبر في يومه … لما فاته منك في أمسهومستوحشٍ آنسٍ بالبكاء … على قلبه وعلى انسهيرقّ هواه لأحشائه … ويرثي له الشوق من نفسهدير الثعالبوهذا الدير ببغداد، بالجانب الغربي منها، بالموضع المعروف بباب الحديد. وأهل بغداد يقصدونه ويتنزهون فيه، ولا يكاد يخلو من قاصد وطارق. وله عيد لا يتخلف عنه أحمد من النصارى والمسلمين.وباب الحديد، أعمر موضع ببغداد وأنزهه: لما فيه من البساتين والشجر والنخل والرياحين، ولتوسطه البلد وقربه من كل أحد. فليس يخلو من أهل البطالات، ولا يخل به أهل المتطرب واللذاذات. فمواطنه أبداً معمورة، وبقاعه بالمتنزهين مشحونة.وقد قالت الشعراء في الدير وباب الحديد وقبرونيا، فأكثروا، ووصفوا حسن تلك المواضع فأطنبوا.ولابن دهقانة الهاشمي، فيه:دير الثعالب مألف الضّلال … ومحلّ كل غزالةٍ وغزالكم ليلة أحييتها ومنادمي … فيها أثجّ مقطّع الأوصالسمحٌ يجود بروحه فإذا مضى … وقضى سمحت له وجدت بماليونعم دين ابن مريم دينه … غنجٌ يشوب مجونه بدلالسقّيته وشربت فضلة كأسه … فشربت من عذب المذاق زلالوابن دهقانة هذا، من ولد إبراهيم ب محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، ويعرف بأبي جعفر محمد بن عمر. وله شعر مليح. وذكر جحظة أنه أنشده:أحين قطعت لك الواصلين … وجدت عليك ولم أبخلغدرت وأظهرت لي جفوةً … وجرت عليّ ولم تعدل؟أأطمع في آخر من هواك … ولم ترع لي حرمة الأول؟وذكر جحظة، أنه كان والي البصرة في أيام الزنج، وأنه أخذ من الناجم بها ثلاثين ألف دينار، وسلم إليه البصرة. وكان جحظة يكثر المكث عنده ولا يغبه. قال: فتأخرت عنه في وقت من الأوقات، لعارض عرض لي، فوجه إي يدعوني، فكتبت إليه: أنا والله عليل!وليس بتزويق اللسان وصوغه … ولكنه قد خالط اللحم والدمافوجه إلي بخمسين ديناراً وخلعة، وقال: هذا يزيل العلة، فبحياتي إلا جئتني! فمضيت إليه.وذكر جحظة، أنه كان ينادم المعتمد والموفق، وكان عظيم الخلق، ثقيل الجسم، وكان إذا قام الخليفة ورجع، وقام الندماء، نام هو، وقال: هذا عوض القيام لما لم يكن يقدر عليه. وكان أكولاً، فكان يقول: قد أكلت حتى زمنت، وأريد آكل حتى أموت! ومن شعره:فلو أن في جزعي راحةً … لأصبحت أجزع من يجزعسأصبر جهدي على ما ترى … وإن عيل صبري، فما أصنع؟وللناشىء، يذكر باب الحديد وقبرونيا:ما جليدٌ يوم الندى بجليد … بعدت والمزار غير بعيدخبّرت عن ضميرها عبراتٌ … صرن عوناً على الفؤاد العميديا ليالي اللذّات بالله عودي … بين قبرونيا وباب الحديدبين تلك الربى وقد نسج الو … بل بكف الربيع ريط البرودخدّه ضدّ صدغه مثل ما الوع … د إذا ما اختبرت ضدّ الوعيدطلب الطبل طايلات من الزّم … ر وعاد السرور إذ عاد عوديومن رقيق شعره:لم أسل عنك ولم أخنك ولم يكن … في القلب مني للسلوّ مكانلكن رأيتك قد مللت مودّتي … فعلمت أنّ دواءك الهجراندير الجاثليق
এমন সুরা যা নাড়া দিলে তোমাকে দেখায় … বর্ষণমুখর রাতে বিদ্যুতের চমক।এবং এক নিপুণ গায়িকা যার সুরের সঠিকতা কখনো ক্ষুণ্ণ হয় না … আর এক বংশীবাদিকা, সে কী চমৎকার বংশীবাদিকা!হে সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান, তুমি চলে এসো যদিও … পরকালে যেন তুমি তা থেকে মুক্ত থাকো।আমি কি জানি না হৃদয় কোথায় অবস্থান করছে … হে হৃদয়ের স্থান, হৃদয় কোথায়?পঞ্জরাস্থি তাকে তার নিকটবর্তী স্থান থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে … ফলে দহন ও অগ্নিশিখা তাকে বিগলিত করেছে।তার আরও কবিতা:তুমি দূরে সরে গেলে, কিন্তু তার থেকে ক্লান্তি দূর হলো না … তুমি ফিরে এলে, আর সে তার পুরাতন রোগে ফিরে গেল।আজকের দিনে ধৈর্য তাকে ছেড়ে চলে গেছে … কারণ গতকাল সে তোমার থেকে যা হারিয়েছে।এক নিঃসঙ্গ ব্যক্তি যে ক্রন্দনের মাধ্যমে সান্ত্বনা পায় … নিজের হৃদয়ের জন্য এবং নিজের প্রিয় সঙ্গীর জন্য।তার প্রেম তার অন্তরের প্রতি সদয় হয় … এবং তার আকাঙ্ক্ষা নিজের পক্ষ থেকেই তার জন্য বিলাপ করে।দাইরুত সাআলিব (শৃগাল মঠ)এই মঠটি বাগদাদে অবস্থিত, এর পশ্চিম পার্শ্বে, বাবুল হাদিদ নামক স্থানে। বাগদাদবাসী সেখানে যাতায়াত করে এবং চিত্তবিনোদন করে, আর সেখানে কোনো না কোনো আগন্তুক বা পথিকের আনাগোনা সর্বদা থাকেই। সেখানে এমন এক উৎসব হয় যা খ্রিস্টান ও মুসলিমদের কেউই বাদ দেয় না।বাবুল হাদিদ বাগদাদের সবচেয়ে জনবহুল ও সুন্দরতম স্থান: কারণ সেখানে রয়েছে বাগান, বৃক্ষরাজি, খেজুর বাগান ও সুগন্ধি লতাগুল্ম এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় তা সবার নিকটবর্তী। তাই তা আমোদপ্রিয় ও বিলাসপ্রিয় মানুষদের থেকে কখনো শূন্য থাকে না। ফলে এর স্থানসমূহ সর্বদা আবাদ থাকে এবং এর প্রাঙ্গণ বিনোদনপ্রেমীদের দ্বারা পূর্ণ থাকে।কবিরা এই মঠ, বাবুল হাদিদ এবং কাবরুনিয়া সম্পর্কে অনেক কবিতা রচনা করেছেন এবং তারা সেই স্থানগুলোর সৌন্দর্যের বর্ণনায় অতিরঞ্জন করেছেন।ইবনে দেহকানা আল-হাশিমী এর বর্ণনায় বলেন:দাইরুত সাআলিব বিভ্রান্তদের মিলনস্থল … এবং প্রতিটি হরিণী ও হরিণের আবাস।কত রাত আমি এবং আমার পানসঙ্গী সেখানে যাপন করেছি … যেখানে আমি অবিরাম সুরা ঢালছিলাম।সে উদার, নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে; আর যখন সে বিদায় নেয় … তখন আমি আমার সম্পদ দিয়ে তার প্রতি বদান্যতা দেখাই।ইবনে মারইয়ামের ধর্ম কতই না চমৎকার ধর্ম … তাতে রয়েছে লাবণ্য যা চপলতাকে সোহাগের সাথে মিশিয়ে দেয়।আমি তাকে পান করালাম এবং তার পেয়ালার অবশিষ্টাংশ পান করলাম … ফলে আমি সুমিষ্ট স্বাদের স্বচ্ছ পানি পান করলাম।এই ইবনে দেহকানা হলেন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের বংশধর এবং তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন উমর নামে পরিচিত। তার চমৎকার কবিতা রয়েছে। জাহজা উল্লেখ করেছেন যে ইবনে দেহকানা তাকে এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:যখন আমি তোমার জন্য আপনজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম … তখন আমি তোমার ভালোবাসা খুঁজে পেলাম এবং কার্পণ্য করলাম না।তুমি প্রতারণা করলে এবং আমার প্রতি রুক্ষতা দেখালে … আর আমার ওপর জুলুম করলে কিন্তু ইনসাফ করলে না?আমি কি তোমার ভালোবাসার পর অন্য কারো প্রতি আকাঙ্ক্ষা করব … অথচ তুমি আমার প্রথম সম্মানেরও মর্যাদা দাওনি?জাহজা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জাঞ্জ বিদ্রোহের সময় বসরার গভর্নর ছিলেন এবং তিনি সেখানকার বিদ্রোহী নেতা থেকে ত্রিশ হাজার দিনার গ্রহণ করে তার কাছে বসরা সমর্পণ করেছিলেন। জাহজা তার কাছে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন এবং কখনো বিচ্ছিন্ন হতেন না। জাহজা বলেন: কোনো এক সময় একটি কারণে আমি তার কাছে যেতে দেরি করলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকার জন্য লোক পাঠালেন। আমি তাকে লিখে পাঠালাম: আল্লাহর কসম, আমি অসুস্থ!আর এটি জিহ্বার অলঙ্কার বা বানোয়াট কথা নয় … বরং তা রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে গেছে।তখন তিনি আমার কাছে পঞ্চাশটি দিনার ও একটি সম্মানসূচক পোশাক পাঠালেন এবং বললেন: এটি অসুস্থতা দূর করে দেবে, আমার জীবনের কসম! তুমি অবশ্যই আসবে! ফলে আমি তার কাছে গেলাম।জাহজা আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি খলিফা মুতামিদ ও মুওয়াফফাকের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি অত্যন্ত স্থূলকায় ও ভারী শরীরের অধিকারী ছিলেন। যখন খলিফা মজলিস থেকে উঠে যেতেন ও ফিরে আসতেন এবং অন্যান্য সহচররা সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যেত, তখন তিনি শুয়ে থাকতেন। তিনি বলতেন: এটি দাঁড়ানোর পরিবর্তে, যেহেতু আমি দাঁড়াতে সক্ষম নই। তিনি অত্যন্ত ভোজনরসিক ছিলেন এবং বলতেন: আমি খেতে খেতে পঙ্গু হয়ে গেছি, আর আমি আমৃত্যু খেয়ে যেতে চাই! তার কবিতা থেকে:যদি আমার বিলাপের মধ্যে কোনো স্বস্তি থাকত … তবে আমি জগতের সকল বিলাপকারীর চেয়ে বেশি বিলাপ করতাম।তুমি যা দেখছ তাতে আমি সাধ্যমতো ধৈর্য ধরব … আর যদি আমার ধৈর্য ফুরিয়ে যায়, তবে আমি কী করব?নাশি'র কবিতায় বাবুল হাদিদ ও কাবরুনিয়ার উল্লেখ:শিশিরের দিনে কোনো ধৈর্যশীলই ধৈর্যশীল থাকে না … তুমি দূরে সরে গেছ অথচ সাক্ষাতের স্থানটি দূরে নয়।অশ্রুরাশি তার মনের খবর দিয়ে দিয়েছে … যা ব্যথিত হৃদয়ের ওপর সহায়ক হয়ে উঠেছে।হে আনন্দের রজনীসমূহ! আল্লাহর দোহাই, তুমি ফিরে এসো … কাবরুনিয়া ও বাবুল হাদিদের মধ্যস্থলে।সেইসব টিলার মাঝে, যখন বসন্তের হাত … মুষলধারে বৃষ্টির মাধ্যমে শীতলতার চাদর বুনেছে।তার গাল তার অলকের বিপরীত, যেমন প্রতিশ্রুতি … পরখ করলে তা হুমকির বিপরীত হয়।ঢোল বংশীবাদনের দীর্ঘ সুর কামনা করেছে … আর আনন্দ ফিরে এসেছে যখন আমার বাদ্যযন্ত্র ফিরে এসেছে।তার সুকোমল কবিতা থেকে:আমি তোমাকে ভুলে যাইনি, তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি … আর আমার হৃদয়ে তোমাকে ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশ ছিল না।কিন্তু আমি দেখলাম যে তুমি আমার ভালোবাসায় ক্লান্ত হয়ে গেছ … তাই আমি বুঝতে পারলাম যে তোমার একমাত্র ওষুধ হলো বিচ্ছেদ।দাইরুল জাসালিক
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وهذا الدير، يقرب من باب الحديد، وهو دير كبير، حسن، نزه، تحدق به البساتين والأشجار والرياحين. وهو يوازي دير الثعالب في النزهة والطيب وعمارة الموضع، لأنهما في بقعة واحدة. وهو مقصود مطروق، لا يخلو من المتنزهين فيه والقاصدين له. وفيه رهبانه وفتيانه ومن يألف من أهل الخلاعة والبطالة.وقالت الشعراء فيه ووصفته. ولمحمد بن أبي أمية الكاتب فيه، وفيه لحن خفيف رمل:لهفي على قمرٍ في الدير مسجون … في صورة الانس، في مكر الشياطينوالله ما أبصرت عيني محاسنه … إلاّ خرجت له طوعاً من الدينوله في هذا الدير أيضاً:تذكرت دير الجاثليق وفتيةً … بهم تمّ لي فيه السرور وأسعفابهم طابت الدنيا وتم سرورها … وسالمني صرف الزمان وأنصفاألا ربّ يوم قد نعمت بظله … أبادر من لذات عيشي ما صفاأغازل فيه أدعج الطرف أهيفا … وأُسقى به مسكية الطعم قرقفافسقياً لأيام مضت لي بقربهم … لقد أوسعتني رأفةً وتعطفاوتعساً لأيام رمتني بينهم … ودهرٍ تقاضاني الذي كان أسلفاومحمد بن أمية هذا، أحد المتقدمين في الشعر، رقيق الطبع، حسن التصرف فيه، غريب المعاني. وأكثر شعره في الغزل. وكان هو وعلي أخوه يكتبان للفضل ابن الربيع. وهو عم أبي حشيشة الطنبوري.ومن مليح شعره:رأيتك حليتي دنيا ودين … حياةً للضّجيع وللقرينبدا لي بعدما سبقت يميني … بهجرك أن أكفّر عن يمينيوله:لم أسل عنك ولم أخنك ولم يكن … في القلب مني للسلو مكانلكن رأيتك قد مللت مودّتي … فعلمت أن دواءك الهجرانومن رقيق شعره:يا غريباً يبكي لكل غريب … لم يذق قبلها فراق حبيبعزّه الصبر فاستراح إلى الدّم … ع، وفي الدمع راحة للقلوبليت يوماً أراك فيه كما كن … ت قريباً، فأشتكي من قريبوله:رب يوم منك لا أنساه لي … أوجب الشكر وإن لم تفعلأقطع الدهر بظن حسنٍ … وأجلّى غمرةً ما تنجليوأرى الأيام لا تُدني الذي … أرتجي منك وتدني أجليكلما أمّلت يوماً صالحاً … عرض الهجران دون الأملومن نادر شعره:لأُقيمن مأتماً عن قريب … ليس بعد الفراق غير النحيبأظلمتني فيك الخطوب فلم أق … وعلى أن أردّ ظلم الخطوبربّ، ما أوجع الهوى للقلوب … لا ولا سيما فراق الحبيبلم أكن أعرف الفراق فأقدم … ت عليه غرّاً بلا تجريبوله أيضاً:اليوم أثكلني صبري فراقكم … كذاك أعظم شيء فقد معشوققد كنت في فسحةٍ من قبل بينكم … فاليوم صرت من الأحزان في ضيقواغتالني زمنٌ قد كنت آمنه … تعساً لغدرته من بعد توثيقإني على العهد لم أنقض مودّتكم … يا من يرى حسناً نقض المواثيقوله:ما ذاقت النفس على شهوةٍ … ألذّ من ودّ صديق أمينمن فاته ودّ أخٍ صالح … فذلك المغبون حقّ اليقينوله، وهو من مليح شعره:فيا شوق لا تنفد، ويا دمع فض وزد … ويا شوق راوح بين جنبٍ إلى جنبويا عاذلي لمني، ويا عابد افتني … عصيتكما حتى أغيّب في التربإذا كان ربّي عالماً بسريرتي … فما الناس في عيني بأعظم من ربيوله يصف روضة:في جنانٍ كأنما نشرت فو … ق ثراها حريرة خضراءأعين النرجس الجنيّ نجومٌ … واخضرار الرياض فيها سماءللثرى تحتها سباتٌ وللما … ء خريرٌ وللغصون غناءوله:فها أنا مغضٍ في رضاك وصابرٌ … على مثل مصقول الذبابين قاضبومنتزح عما كرهت وجاعلٌ … رضاك مثالاً بين عيني وحاجبيوله:
এই মঠটি বাব আল-হাদীদ (লোহার ফটক)-এর নিকটবর্তী। এটি একটি বিশাল, মনোরম ও চিত্তাকর্ষক মঠ, যা বাগান, বৃক্ষরাজি এবং সুগন্ধি লতাপাতা দ্বারা পরিবেষ্টিত। মনোরম পরিবেশ, সুবাস এবং স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এটি দাইর আল-সা’লিব-এর সমতুল্য, কারণ উভয়ই একই এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্য এবং পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াতে মুখরিত থাকে। এখানে মঠের সন্ন্যাসী ও যুবকদের পাশাপাশি আমোদ-প্রমোদপ্রিয় ও অলস ব্যক্তিদেরও দেখা মেলে।কবিগণ এই মঠ সম্পর্কে অনেক কবিতা রচনা করেছেন এবং এর বর্ণনা দিয়েছেন। লেখক মুহাম্মদ বিন আবি উমাইয়া এটি সম্পর্কে লিখেছেন, যার একটি হালকা রমল ছন্দ ও সুর রয়েছে:হায়! মঠে বন্দি সেই চাঁদের জন্য আমার আক্ষেপ … যে মানুষের অবয়বে শয়তানি কৌশলে পূর্ণ।আল্লাহর কসম, আমার চোখ যখনই তার সৌন্দর্য অবলোকন করেছে … তখনই আমি স্বেচ্ছায় ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছি।এই মঠ সম্পর্কে তিনি আরও লিখেছেন:আমি দাইর আল-জাসালিক এবং সেই যুবকদের কথা স্মরণ করি … যাদের সান্নিধ্যে আমার আনন্দ পূর্ণতা পেয়েছিল এবং তারা আমাকে সহায়তা করেছিল।তাদের কারণে দুনিয়া সুন্দর হয়েছিল এবং এর আনন্দ পূর্ণতা পেয়েছিল … আর কালচক্র আমার অনুকূলে ছিল এবং আমার প্রতি ন্যায়বিচার করেছিল।হায়, কত দিনই না আমি এর ছায়াতলে নেয়ামত ভোগ করেছি … জীবনের স্বচ্ছ আনন্দগুলো উপভোগ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়েছি।সেখানে আমি ডাগর চোখের সুঠাম দেহী প্রিয়তমার সাথে প্রণয় করেছি … এবং আমাকে কস্তুরীর স্বাদযুক্ত উৎকৃষ্ট সুরা পান করানো হয়েছে।তাদের সান্নিধ্যে কাটানো সেই দিনগুলোর প্রতি করুণাধারা বর্ষিত হোক … যা আমাকে মায়া ও মমতায় পূর্ণ করেছিল।আর ধ্বংস হোক সেই দিনগুলো যা আমাকে তাদের থেকে দূরে নিক্ষেপ করেছে … এবং সেই মহাকাল যা আমার পূর্বের সুখের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়েছে।এই মুহাম্মদ বিন উমাইয়া কবিতার জগতে অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন কোমল স্বভাবের, কাব্যিক অলংকারে দক্ষ এবং অদ্ভূত অর্থবহ ভাব প্রকাশে পারদর্শী। তাঁর অধিকাংশ কবিতা গজল বা প্রেমবিষয়ক। তিনি এবং তাঁর ভাই আলী—উভয়েই ফজল ইবনে রবির অধীনে লেখক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি আবু হাশিশা আল-তুনবুরীর চাচা ছিলেন।তাঁর চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম:আমি তোমাকে আমার ইহকাল ও পরকালের অলংকার হিসেবে দেখেছি … যা শয্যাসঙ্গী ও জীবনসঙ্গীর জন্য প্রাণের স্পন্দন।তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার যে শপথ আমি আগে করেছিলাম … এখন মনে হচ্ছে সেই শপথের কাফফারা আদায় করা উচিত।তাঁর আরও কবিতা:আমি তোমাকে ভুলে যাইনি এবং তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতাও করিনি … আর আমার হৃদয়ে তোমাকে ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশও ছিল না।কিন্তু আমি দেখলাম যে তুমি আমার ভালোবাসায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছ … তাই আমি বুঝতে পারলাম যে বিচ্ছেদই তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ ঔষধ।তাঁর আরও কিছু কোমল কবিতা:ওহে প্রবাসী, যে প্রতিটি বিরহকাতর ব্যক্তির জন্য কাঁদে … যে ইতিপূর্বে প্রিয়জনের বিচ্ছেদ অনুভব করেনি।ধৈর্য তাকে ছেড়ে চলে গেছে, তাই সে চোখের পানিতেই শান্তি খুঁজে নিয়েছে … আর চোখের পানিতেই হৃদয়ের প্রশান্তি নিহিত থাকে।আহা! যদি একটি দিন তোমাকে দেখতাম যখন তুমি … আমার নিকটবর্তী ছিলে, তবে তোমার কাছেই তোমার অভিযোগ করতাম।তাঁর আরও কবিতা:তোমার সাথে কাটানো অনেক দিনের স্মৃতি আমি ভুলতে পারি না … যা শুকরিয়া আদায় করাকে অনিবার্য করে তোলে—যদিও তুমি তা করনি।আমি সুধারণা নিয়ে মহাকাল অতিক্রম করি … এবং এমন ঘোর কাটানোর চেষ্টা করি যা কাটার নয়।আমি দেখছি যে দিনগুলো সেই জিনিসকে কাছে আনছে না যা আমি … তোমার কাছে প্রত্যাশা করি, বরং তা আমার মৃত্যুকে নিকটে নিয়ে আসছে।যখনই আমি একটি ভালো দিনের আশা করি … তখনই সেই আশার সামনে বিচ্ছেদ এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।তাঁর আরও কিছু বিরল কবিতা:আমি শীঘ্রই শোকের মাতম শুরু করব … কারণ বিচ্ছেদের পর বিলাপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।তোমার কারণে বিপদগুলো আমার প্রতি অবিচার করেছে … আর সেই বিপদের অবিচার প্রতিহত করার শক্তি আমার নেই।হে প্রভু! হৃদয়ের জন্য ভালোবাসা কতই না যন্ত্রণাদায়ক … বিশেষ করে প্রিয়জনের বিচ্ছেদ।আমি বিচ্ছেদ কী তা জানতাম না, তাই কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই … আমি এতে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলাম।তাঁর আরও কবিতা:আজ তোমাদের বিচ্ছেদ আমার ধৈর্যকে কেড়ে নিয়েছে … প্রিয়জনকে হারানোই তো সবচেয়ে বড় শোক।আগে তোমাদের মাঝে আমি স্বস্তিতে ছিলাম … কিন্তু আজ আমি শোকের সংকীর্ণতায় বন্দি হয়ে গেছি।যে সময়কে আমি নিরাপদ মনে করতাম, তা-ই আমাকে অতর্কিতে আঘাত করেছে … বিশ্বস্ততার পর এমন বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সময়ের প্রতি ধিক্কার।আমি আমার অঙ্গীকারে অটল আছি, তোমাদের প্রতি ভালোবাসা ছিন্ন করিনি … ওহে তুমি, যে অঙ্গীকার ভঙ্গ করাকে সুন্দর মনে কর।তাঁর আরও কবিতা:আত্মা তার কোনো লালসাতেই … একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর ভালোবাসার চেয়ে সুস্বাদু আর কিছু পায়নি।যে ব্যক্তি একজন সৎ ভাইয়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে … সেই প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত।তাঁর আরও কিছু চমৎকার কবিতা:হে প্রবল আকাঙ্ক্ষা, তুমি শেষ হয়ো না; হে অশ্রু, তুমি আরও প্রবাহিত হও … হে ব্যাকুলতা, তুমি আমার পাঁজরের এক পাশ থেকে অন্য পাশে বিচরণ করো।হে তিরস্কারকারী, আমাকে তিরস্কার করো; হে ইবাদতকারী, আমাকে ফতোয়া দাও … কবরে শায়িত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তোমাদের উভয়েরই অবাধ্য থাকব।যদি আমার প্রভু আমার অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হন … তবে মানুষের মর্যাদা আমার দৃষ্টিতে আমার প্রভুর চেয়ে বড় নয়।বাগানের বর্ণনায় তাঁর কবিতা:এমন এক উদ্যানে যেখানে মনে হয় যেন … মাটির উপরে সবুজ রেশম বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।সদ্য ফোটা নার্গিস ফুলের চোখগুলো যেন নক্ষত্র … আর উদ্যানে ছড়িয়ে থাকা সবুজ যেন আকাশ।এর নিচে মাটির গভীর প্রশান্তি, পানির … কলকল ধ্বনি এবং বৃক্ষশাখার মাঝে যেন সংগীত গুঞ্জরিত হচ্ছে।তাঁর আরও কবিতা:এই তো আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য চোখ বুজে আছি এবং ধৈর্য ধরছি … শাণিত ও ধারালো তরবারির মতো যন্ত্রণার ওপর।যা কিছু তুমি অপছন্দ করো তা থেকে আমি দূরে থাকছি এবং … তোমার সন্তুষ্টিকে আমার চোখ ও ভ্রুর মাঝে আদর্শ বানিয়ে রাখছি।তাঁর আরও কবিতা:
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৭)
كم فرحةٍ كانت وكم ترحة … تخرّصتها لي فيك الظنونإذا قلوبٌ أظهرت غير ما … تضمره أنبتك عنها العيونوله:يُصعّد في الحشا نفسا … ويسهر إن فتىً نعسايظلّ يعالج الزفرا … ت إن أغفى وإن جلساغذا بالشوق مهجته … وعلل نفسه بعسىمحبٌّ صيّر الشكوى إلى جلسائه أُنساوكان أبو بكر محمد بن القاسم الأنباري، يختم أماليه في مجالسه بمقطوع من شعر ابن أبي أمية، استحساناً له واستعذاباً لألفاظه، ويقرظه دائماً ويصفه.دير مديانوهذا الدير على نهر كرخايا ببغداد. وكرخايا نهر يشق من المحول الكبير ويمر على العباسية، ويشق الكرخ، ويصب في دجلة، وكان قديماً عامراً، والماء فيه جارياً، ثم انطم وانقطعت جريته بالبثوق التي انفتحت في الفرات.وهو دير حسن، نزه، حوله بساتين وعمارة، ويقصد للتنزه والشرب، ولا يخلو من قاصد وطارق، وهو من البقاع الحسنة النزهة. وللحسين بن الضحاك، فيه:حُثّ المدام فإن الكأس مترعة … مما يهيج دواعي الشوق أحياناإني طربت لرهبانٍ مجاوبةٍ … بالقدس بعد هدوّ الليل رهبانافاستنفرت شجناً مني ذكرت به … كرخ العراق وإخواناً وأشجانافقلت، والدمع في عيني مطردٌ … والشوق يقدح في الأحشاء نيرانا:يا دير مديان، لا عرّيت من سكن … ما هجت من سقم يا دير مدياناهل عند قسّك من علم فيخبرني … أن كيف يسعد وجه الصبر من باناسقياً ورعياً لكرخايا وساكنه … بين الجنينة والروحاء من كاناقال: كان أبو علي بن الرشيد، يلازم هذا الدير ويشرب فيه. وكان له قيان يحملهن إليه، ويقيم به الأيام، لا يفتر عزفاً وقصفاً، وكان شديد التهتك! وكان من يجاور الموضع يشكون ما يلقونه منه. فانتهى الخبر إلى إسحق بن إبراهيم الطاهري، وهو خليفة السلطان ببغداد. فوجه إليه يقبح له فعله، وينهاه عن المعاودة لمثله. فقال: وأي يد لاسحق علي؟ وأي أمر له فيّ؟ أتراه يمنعني من سماع جواري، والشرب بحيث أشتهي؟. فلما أتاه هذا القول منه أحفظه وتمهل، حتى إذا كان الليل، ركب إلى الموضع، وأحاط به من جميع جهاته، وأمر أن يفتح باب الدير، وينزل به على الحال التي هو عليها. فأنزل وهو سكران في ثياب مصبغة، وقد تضمخ بالخلوق، فقال له: سوءة لك! رجل من ولد الخلافة على مثل هذه الحال؟. ثم أر، ففرش بساط على باب الدير، وبطح عليه، وضربه عشرين درة، وقال: أن أمير المؤمنين لم يولني خلافته حتى أضيع الأمور وأهملها، ولا حتى أدعك وغيرك من أهل تعرونه وتفضحونه وتخرجون إلى ما خرجت إليه من التبذل والشهرة وهتك الحرمة وإخراجهن إلى الديارات والحانات. وفي تأديبك صيانة للخلافة، وردع لك ولغيرك عن هذه الفضيحة. ثم أمر بعماريات كانت معه، فأركب فيها مع حرمه، ورده إلى داره. فبلغ ذلك المعتصم، فكتب إليه يصوب رأيه وفعله، ويأمره أن لا يرخص لأحد من أهل بيته في مثله.
কত আনন্দ আর কত বিষাদ ছিল ... তোমার ব্যাপারে আমার ধারণাগুলো যা কল্পনা করেছিল।যদি অন্তরগুলো তার বিপরীতে প্রকাশ করে যা ... সে গোপন করে, তবে চোখগুলো তোমাকে সে খবর জানিয়ে দেবে।তাঁর আরও কবিতা:সে অন্তরের গভীরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ... আর বিনিদ্র থাকে যখন অন্য যুবকেরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়।সে সবসময় দীর্ঘশ্বাসের যাতনা সইতে থাকে ... হোক সে ঘুমন্ত বা জাগ্রত।সে আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে তার জীবনসত্তাকে পুষ্ট করেছে ... এবং নিজের মনকে 'হয়তো'র প্রবোধ দিয়েছে।এমন এক প্রেমিক যে তার সহচরদের কাছে অভিযোগ করাকেই পরম সান্ত্বনা বানিয়ে নিয়েছে।আবু বকর মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আনবারি তাঁর মজলিসগুলোতে তাঁর বক্তৃতার সমাপ্তি টানতেন ইবনে আবি উমাইয়ার কবিতার অংশবিশেষ দিয়ে, তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে এবং তার শব্দাবলির মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে; তিনি সবসময় এর প্রশংসা ও গুণগান করতেন।দায়রে মুদইয়ানএই মঠটি বাগদাদের কারখায়া নদীর তীরে অবস্থিত। কারখায়া একটি নদী যা বড় মুহাওয়্যাল থেকে উৎপন্ন হয়ে আব্বাসিয়া পার হয়ে কারখকে দ্বিখণ্ডিত করে দজলা নদীতে গিয়ে মিশেছে। প্রাচীনকালে এটি জনবহুল ছিল এবং এতে পানি প্রবাহিত হতো, অতঃপর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এবং ফোরাত নদীতে নতুন স্রোতধারা খুলে যাওয়ায় এর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।এটি একটি সুন্দর ও মনোরম মঠ, যার চারপাশে রয়েছে বাগান ও সুরম্য অট্টালিকা। ভ্রমণ ও পানের উদ্দেশ্যে মানুষ এখানে আসে এবং এখানে সর্বদা অভ্যাগত ও আগন্তুকদের ভিড় থাকে। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও স্বাস্থ্যকর স্থানগুলোর অন্যতম। হুসাইন বিন দাহহাক এখানে বলেছেন:মদ ঢালতে থাকো, কারণ পাত্রটি পূর্ণ ... যা কখনো কখনো আকাঙ্ক্ষার কারণগুলোকে উত্তেজিত করে।আমি সেই সন্ন্যাসীদের তানে আনন্দিত হয়েছি যারা ... রাতের নিস্তব্ধতার পর পবিত্র স্থানে পরস্পরকে সাড়া দিচ্ছিল।তারা আমার ভেতরে সেই বিষাদকে জাগিয়ে তুলেছে যার মাধ্যমে আমি স্মরণ করেছি ... ইরাকের কারখ এবং আমার ভাই ও দুঃখগুলোকে।তখন আমি বললাম, যখন আমার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল ... এবং আকাঙ্ক্ষা আমার অন্তরের গভীরে অগ্নি প্রজ্বলিত করছিল:হে দায়রে মুদইয়ান, তুমি যেন কখনো বাসিন্দা শূন্য না হও ... তুমি যে পীড়া জাগিয়েছ হে দায়রে মুদইয়ান!তোমার পাদ্রির কাছে কি এমন কোনো জ্ঞান আছে যা আমাকে জানাবে ... যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে তার ক্ষেত্রে ধৈর্যের মুখ কীভাবে সুখী হবে?কারখায়া এবং এর অধিবাসীদের জন্য বর্ষিত হোক অবারিত রহমত ও কল্যাণ ... জানিনা কে রয়েছে আল-জুনাইনা ও আর-রাওহার মধ্যস্থলে।বর্ণনাকারী বলেন: আবু আলী বিন আল-রশিদ এই মঠে পড়ে থাকতেন এবং সেখানে মদ্যপান করতেন। তাঁর সাথে গায়িকা দাসীরা থাকত যাদের তিনি সেখানে নিয়ে যেতেন এবং কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করতেন। তিনি বাদ্যযন্ত্র বাজানো এবং আমোদ-ফূর্তিতে কখনো ক্লান্ত হতেন না। তিনি অত্যন্ত বেহায়া ছিলেন! সেই স্থানের আশেপাশের বাসিন্দারা তাঁর দ্বারা কষ্ট পেয়ে অভিযোগ করত। এই খবর ইসহাক বিন ইব্রাহিম আত-তাহেরির কাছে পৌঁছাল, যিনি বাগদাদে সুলতানের প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে লোক পাঠালেন তাঁর এই কাজকে কুৎসিত অভিহিত করে এবং তাঁকে এর পুনরাবৃত্তি করতে নিষেধ করলেন। তখন তিনি (আবু আলী) বললেন: "আমার উপর ইসহাকের কী হাত আছে? আমার বিষয়ে তাঁর কী নির্দেশ থাকতে পারে? তিনি কি মনে করেন যে তিনি আমাকে দাসীদের গান শোনা এবং যেখানে খুশি সেখানে পান করা থেকে বিরত রাখবেন?" যখন তাঁর এই কথা ইসহাকের কাছে পৌঁছাল, তিনি প্রচণ্ড রাগান্বিত হলেন এবং ধৈর্য ধরলেন। অবশেষে যখন রাত হলো, তিনি সেই স্থানের দিকে যাত্রা করলেন এবং চারদিক থেকে তা ঘিরে ফেললেন। তিনি নির্দেশ দিলেন মঠের দরজা খুলে ফেলতে এবং তিনি যে অবস্থায় আছেন সেই অবস্থাতেই তাঁকে নিচে নামাতে। অতঃপর তাঁকে মত্ত অবস্থায় রঙ করা কাপড় পরা এবং সুগন্ধি মাখা অবস্থায় নিচে নামানো হলো। তিনি (ইসহাক) তাঁকে বললেন: "তোমার জন্য ধিক্কার! খেলাফত পরিবারের একজন লোক এই অবস্থায়?" তারপর তিনি আদেশ দিলেন, মঠের দরজায় একটি কার্পেট বিছানো হলো এবং তাঁকে সেখানে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে বিশটি বেত্রাঘাত করা হলো। তিনি বললেন: "আমিরুল মুমিনিন আমাকে তাঁর প্রতিনিধি বানাননি যাতে আমি বিষয়গুলো নষ্ট করি এবং অবহেলা করি, আর যাতে আমি তোমাকে এবং তোমার মতো অন্য রাজপরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দিই যারা তাঁকে কলঙ্কিত করছ, অপমানিত করছ এবং এমন নির্লজ্জতা, কুখ্যাতি ও পবিত্রতা লঙ্ঘনে লিপ্ত হচ্ছ এবং নারীদের মঠ ও সরাখানায় নিয়ে যাচ্ছ। তোমার এই শাস্তির মধ্যে খেলাফতের মর্যাদা রক্ষা এবং তোমার ও অন্যদের জন্য এই ধরনের নির্লজ্জ কাজ থেকে শিক্ষা রয়েছে।" তারপর তিনি তাঁর সাথে থাকা পালকির আদেশ দিলেন এবং তাঁর পরিবারসহ তাঁকে তাতে আরোহণ করিয়ে তাঁর বাড়িতে ফেরত পাঠালেন। এই খবর মুতাসিমের কাছে পৌঁছালে তিনি তাঁর অভিমত ও কাজকে সঠিক বলে পত্র লিখলেন এবং তাঁকে আদেশ দিলেন যেন তাঁর পরিবারের অন্য কাউকেও এই ধরনের কাজের সুযোগ না দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأم أبي على هذا، تعرف بشكل. وكان الرشيد قد اشتراها وصاحبةً لها تعرف بشذر في يوم واحد. فحملت شذر وولدت أم أبيها؛ فحسدتها شكل، وبلغ بها الحسد إلى أمر عظيم من العداوة؛ حتى اشتهر ذلك. وحملت شكل وولدت أبا علي. وماتت أماهما؛ وبقيت العداوة بين أبي علي وأم أبيها، حتى بلغ الأمر بها إلى أن تهاجيا بالأشعار، وشاع أمرهما في جميع آل الرشيد! فلما قتل الأمين، وورد المأمون إلى بغداد، جلس يوماً وعمه إبراهيم بن المهدي وأبو إسحق أخوه والعباس ابنه، وتذاكروا العداوة التي بين هذين. فقال: لقد سمعت بخبر عداوتهما بخراسان، ولقد هممت أن أصلح بينهما. ووجه فأحضر أم أبيها، وأقبل يعاتبها وهي مطرقة لا ترد جواباً. ثم أمر بإحضار أبي علي. فلما رأته أم أبيها، تنقبت وسترت وجهها. فقال المأمون: كنت مسفرةً، فلما حضر أخوك تنقبت؟ قالت: والله يا أمير المؤمنين، لسفوري بين يدي عبد الله بن طاهر وعلي بن هشام أوجب من سفوري لأبي علي! فوالله، ما هو لي بأخ ولا للرشيد بابن! وقد قال الله عز وجل في قريش: الذي أطعمهم من جوع وآمنهم من خوف. قال ابن عباس: آمنهم من البرص والجذام، وهو والله أبرص، وما هو إلا ابن فلان الفراش! فأمر المأمون أخاه أبا إسحق، فجلدها حداً. فقالت: سوءةً يا أمير المؤمنين أن تحد أختك لابن الفراش، وسننت على بنات الخلفاء الحد! فوالله، لقد ظننت أن أمره يستتر، فأما الآن فوالله ليتناقلنه الرواة وليتحدثن به إلى أن تقوم الساعة!. ونهضت فقال المأمون: قاتلها الله! فلو كانت رجلاً لكانت أقعد بالخلافة من كثير من الخلفاء! وقد أبا علي الصلاة على جنائز أولاد الخلفاء ليدرأ عنه العيب.ونرجع إلى ذكر إسحق بن إبراهيم، ونورد طرفاً من أخباره، في حزمه وضبطه، بقدر ما يليق بالكتاب.إسحق هذا، هو ابن أخي طاهر ابن الحسين، ويكنى أبا الحسن. وكان المأمون اصطنعه وولاه خلافة عبد الله بن طاهر بحضرته لما أخرج عبد الله إلى خراسان، وكان أشد الناس تقدماً عنده واختصاصاً به.فذكر عبد الله بن خرداذبه، أنه حضر مجلس المأمون يوماً، وقد عرض عليه أحمد بن أبي خالد رقاعاً، فيها رقعة قوم متظلمين من إسحق بن إبراهيم. فلما قرأها المأمون، أخذ القلم وكتب على ظهرها: ما في هؤلاء الأوباش إلا كل طاعن واش! إسحق غربي بيدي، ومن غرسته أنجب ولم يخلف، لا أعدي عليه أحداً. ثم كتب إلى إسحق رقعة، فيها: من مؤدب مشفق إلى حصيف متأدب. يا بني، من عز تواضع، ومن قدر عفا، ومن راعى أنصف، ومن راقب حذر. وعاقبة الدالة غير محمودة، والمؤمن كيس فطن. والسلام.وولي إسحق للمأمون، ثم للمعتصم، ثم للواثق، ثم للمتوكل. ومات في أيام المتوكل. فأقام محمداً ابنه مكانه، فلبث يسيراً ومات. فاستدعي محمد بن عبد الله بن طاهر من خراسان، ورد إليه ما كان إلى إسحق.وذكروا أن بعض ولد الرشيد وكان له موضع من النسب ومكان من المعرفة والأدب مرض ببغداد مرضاً طال، ولم يقدر على الركوب واشتهى التفرج والتنزه في الماء. فأراد أن يبني زلالاً يجلس فيه، فمنعه إسحق، وقال: هذا شيء لا نحب أن يعمل مثله إلا بأمر أمير المؤمنين وإذنه. فكتب إلى المعتصم يستأذنه في ذلك، فخرج الأمر إلى إسحق بإطلاقه له. فكتب إسحق: ورد عليّ كتاب من أمير المؤمنين بإطلاق بناء زلال لم يحد لي طوله ولا عرضه، فوقفت أمره إلى أن استطلع الرأي في ذلك. فكتب إليه يحمده على احتياطه، ويحد له ذرع الزلال.قال: لما انتق المعتصم على سر من رأى، كان الناس في يوم الموكب يغشون دار المأمون، ويقعدون فيها على سبيلهم في حياته إجلالاً للسلطان وتعظيماً لأمره. فانصرف محمد بن إسحق في يوم من الأيام الحارة، وقد أطال الركوب. واجتاز بدار المأمون، وقد فتل قلنسوته على رأسه مستتراً بها من الشمس، فبلغ أباه ذلك، فضربه معاقباً له على اجتيازه بباب الخليفة متبذلاً!
আবু আলীর মা এই নামে পরিচিত ছিলেন, এবং তিনি অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন। হারুনুর রশীদ তাকে এবং শাযর নামে পরিচিত তার এক সঙ্গিনীকে একই দিনে ক্রয় করেছিলেন। এরপর শাযর গর্ভবতী হন এবং উম্মে আবীহা জন্মগ্রহণ করেন। এতে শাকল তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন এবং সেই ঈর্ষা এক চরম শত্রুতায় রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শাকল গর্ভবতী হন এবং আবু আলীর জন্ম হয়। তাদের উভয়ের মা মারা যান; কিন্তু আবু আলী এবং উম্মে আবীহার মধ্যকার শত্রুতা বজায় থাকে। এমনকি তা এতদূর গড়ায় যে তারা একে অপরকে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখে আক্রমণ করতে শুরু করেন এবং তাদের এই ঘটনা হারুনুর রশীদের সমস্ত বংশধরদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়! যখন আমীন নিহত হন এবং মামুন বাগদাদে আসেন, তখন একদিন তিনি তাঁর চাচা ইবরাহীম বিন মাহদী, তাঁর ভাই আবু ইসহাক এবং তাঁর পুত্র আব্বাসকে নিয়ে বসেন এবং তারা এই দুইজনের মধ্যকার শত্রুতা নিয়ে আলোচনা করেন। মামুন বলেন: আমি খোরাসানে থাকতেই তাদের শত্রুতার খবর শুনেছিলাম এবং আমি তাদের মধ্যে মীমাংসা করার সংকল্প করেছি। তিনি লোক পাঠিয়ে উম্মে আবীহাকে উপস্থিত করালেন এবং তাকে তিরস্কার করতে লাগলেন, এমতাবস্থায় তিনি মাথা নিচু করে রইলেন এবং কোনো উত্তর দিলেন না। এরপর তিনি আবু আলীকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। উম্মে আবীহা যখন তাকে দেখলেন, তখন তিনি নেকাব দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললেন। মামুন বললেন: তুমি তো আগে মুখ খোলা রেখেছিলে, এখন তোমার ভাই আসার পর নেকাব পরলে কেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, হে আমীরুল মুমিনীন! আবদুল্লাহ বিন তাহের এবং আলী বিন হিশামের সামনে আমার মুখ খোলা রাখা আবু আলীর সামনে মুখ খোলার চেয়ে বেশি সংগত! আল্লাহর কসম, সে আমার ভাই নয় এবং রশীদের পুত্রও নয়! আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের সম্পর্কে বলেছেন: "যিনি তাদের ক্ষুধায় অন্ন দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।" ইবনে আব্বাস বলেন: "তিনি তাদের ধবল ও কুষ্ঠ রোগ থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।" আল্লাহর কসম, সে (আবু আলী) ধবল রোগী এবং সে অমুক বিছানাপত্র প্রস্তুতকারকের ছেলে ছাড়া আর কিছুই নয়! তখন মামুন তাঁর ভাই আবু ইসহাককে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তাকে অপবাদের নির্দিষ্ট দণ্ড (হদ) প্রদান করলেন। তখন তিনি বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, কতই না লজ্জার বিষয় যে, আপনি আপনার বোনকে একজন সাধারণ বিছানা প্রস্তুতকারকের ছেলের জন্য দণ্ড দিলেন এবং খলিফাদের কন্যাদের ওপর দণ্ড প্রদানের প্রথা চালু করলেন! আল্লাহর কসম, আমি মনে করেছিলাম যে তার এই বিষয়টি গোপন থাকবে, কিন্তু এখন আল্লাহর কসম, বর্ণনাকারীরা তা একের পর এক বর্ণনা করতে থাকবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ এ নিয়ে আলোচনা করবে! এরপর তিনি উঠে চলে গেলেন। মামুন বললেন: আল্লাহ তাকে বিনাশ করুন! সে যদি পুরুষ হতো, তবে সে অনেক খলিফার চেয়ে খিলাফতের জন্য বেশি যোগ্য হতো! আর আবু আলী নিজের ওপর থেকে অপবাদ দূর করার জন্য খলিফাদের সন্তানদের জানাজার নামাজ পড়ানো থেকে বিরত থাকতেন।এখন আমরা পুনরায় ইসহাক বিন ইবরাহীমের আলোচনায় ফিরে আসছি এবং তাঁর দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে কিছু তথ্য বর্ণনা করছি যা এই গ্রন্থের জন্য উপযুক্ত হবে।এই ইসহাক হলেন তাহের বিন হুসাইনের ভাতিজা এবং তাঁর উপনাম আবু হাসান। মামুন তাকে অত্যন্ত সমাদর করতেন এবং যখন আবদুল্লাহ বিন তাহেরকে খোরাসানে পাঠিয়েছিলেন, তখন মামুন নিজের উপস্থিতিতে তাকে আবদুল্লাহ বিন তাহেরের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেছিলেন। মামুনের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।আবদুল্লাহ বিন খুরদাদবিহ উল্লেখ করেছেন যে, একদিন তিনি মামুনের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। এমতাবস্থায় আহমদ বিন আবি খালিদ খলিফার কাছে কিছু অভিযোগপত্র পেশ করেন, যার মধ্যে ইসহাক বিন ইবরাহীমের বিরুদ্ধে একদল অভিযোগকারীর পত্র ছিল। মামুন যখন সেটি পাঠ করলেন, তখন কলম হাতে নিয়ে সেটির উল্টো পিঠে লিখে দিলেন: "এই অর্বাচীনদের প্রত্যেকেই কেবল নিন্দুক ও চোগলখোর! ইসহাক আমার হাতের একটি শাণিত তলোয়ার; আমি যা রোপণ করেছি তা শ্রেষ্ঠ ফলই দিয়েছে এবং কখনো বিফল হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আমি কাউকেই প্রশ্রয় দেব না।" এরপর তিনি ইসহাকের কাছে একটি পত্র লিখলেন যার বিষয়বস্তু ছিল: "একজন হিতাকাঙ্ক্ষী শিক্ষকের পক্ষ থেকে একজন বিচক্ষণ ও শিষ্ট ছাত্রের প্রতি। হে বৎস! যে ব্যক্তি মর্যাদা লাভ করে সে যেন বিনয়ী হয়, যে ক্ষমতা পায় সে যেন ক্ষমা করে, যে যত্নবান হয় সে যেন ইনসাফ করে এবং যে সতর্ক থাকে সে যেন সাবধান হয়। অহংকারের পরিণাম প্রশংসনীয় হয় না এবং মুমিন ব্যক্তি হয় বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। ইতি।"ইসহাক প্রথমে মামুনের অধীনে, এরপর মুতাসিম, এরপর ওয়াসিক এবং সবশেষে মুতাওয়াক্কিলের অধীনে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং অল্পকাল পরেই তিনি মারা যান। এরপর খোরাসান থেকে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন তাহেরকে ডেকে পাঠানো হয় এবং ইসহাকের দায়িত্বসমূহ তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়।বর্ণিত আছে যে, হারুনুর রশীদের বংশধরদের মধ্যে এক ব্যক্তি, যার উচ্চ বংশমর্যাদা এবং গভীর জ্ঞান ও শিষ্টাচার ছিল, তিনি বাগদাদে দীর্ঘকাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ঘোড়ায় চড়তে পারতেন না কিন্তু নৌপথে ভ্রমণ ও চিত্তবিনোদনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। তাই তিনি একটি প্রমোদ তরী নির্মাণ করতে চাইলেন যাতে তিনি বসতে পারেন। কিন্তু ইসহাক তাকে বাধা দিয়ে বললেন: "আমীরুল মুমিনীনের নির্দেশ ও অনুমতি ব্যতীত এ ধরনের কাজ করা আমাদের অভিপ্রায় নয়।" তখন ওই ব্যক্তি মুতাসিমের কাছে অনুমতি চেয়ে পত্র লিখলেন এবং মুতাসিমের পক্ষ থেকে ইসহাককে সেটি নির্মাণের অনুমতি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো। জবাবে ইসহাক লিখলেন: "আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে প্রমোদ তরী নির্মাণের অনুমতি সম্বলিত পত্র আমার কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু এতে এর দৈর্ঘ্য বা প্রস্থের কোনো সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আমি তাঁর কাজ স্থগিত রেখেছি।" তখন খলিফা তাঁর এই অতিরিক্ত সাবধানতার প্রশংসা করে তাকে পত্র লিখলেন এবং প্রমোদ তরীর পরিমাপ নির্দিষ্ট করে দিলেন।বর্ণনাকারী বলেন: যখন মুতাসিম সামাররা শহরে স্থানান্তরিত হলেন, তখন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের দিনে মানুষ মামুনের প্রাসাদে ভিড় করত এবং সুলতানের প্রতি সম্মান ও তাঁর আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাবশত মামুনের জীবদ্দশায় যেভাবে বসত, সেভাবেই সেখানে বসে থাকত। একদিন প্রচণ্ড গরমের সময় মুহাম্মদ বিন ইসহাক দীর্ঘ সময় অশ্বারোহণে ভ্রমণ করে ফিরছিলেন। তিনি যখন মামুনের প্রাসাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সূর্যের তাপ থেকে বাঁচার জন্য নিজের টুপিটি মাথার ওপর ঘুরিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর পিতা যখন এই খবর পেলেন, তখন খলিফার প্রাসাদের সামনে দিয়ে এভাবে অসংযত অবস্থায় চলাচলের কারণে তাকে শাস্তি প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وذكر عبد الله بن خرداذبه، أنه خرج يوماً من بين يدي المأمون في أثر إسحق بن إبراهيم، حتى إذا صار إلى الدهليز الثاني، وقف ووقف القواد والناس لوقوفه! ثم قال: أين خليفة علي بن صالح؟، وكان علي ذلك الوقت صاحب أمر الدار والموسوم بالحجبة. فأتي بخليفته، فضربه مائة مقرعة، ثم قال: الحبس!. ثم قال: هاتوا خليفة صاحب البريد. فأتي به، فضربه مائة مقرعة، ثم قال: الحبس!. ثم دعا بعلي بن صالح وبصاحب البريد، وقال لهما: تقلدان خلافتكما في دار الخليفة من يضيع الأمور ويهملها؟ كنتما بهذا الأدب أحق من هذين!. فقالا: وما كان من أمرهما الذي أنكرته، أيها الأمير؟ فقال: صاحب بريد يقعد في دار الخليفة، فيضحك ويقهقه، وصاحب الدار جالس لا ينكر؟ ثم خرج! قال: فكنت أدخل الدار بعدها، فلا أرى فيها ضاحكاً! قال: ودخل إسحق في يوم نوروز إلى المتوكل، والسماجة بين يديه. وعلى المتوكل ثوب وشي مثقل، وقد كثر أصحاب السماجة حتى قربوا منه للقط الدراهم التي تنثر عليهم، وجذبوا ذيله! فلما رأى إسحق ذلك، ولى مغضباً، وهو يقول: أف وتف! فما تغني حراستنا المملكه مع هذا التضييع!. ورآه المتوكل وقد ولى، فقال: ويلكم! ردوا أبا الحسين، فقد خرج مغضباً! فخرج الحجاب والخدم خلفه، فدخل وهو يسمع وصيفاً وزرافة كل مكروه، حتى وصل إلى المتوكل. فقال: ما أغضبك، ولم خرجت؟ فقال: يا أمير المؤمنين، عساك تتوهم أن هذا الملك ليس له من الأعداء مثل ما له من الأولياء! تجلس في مجلس يبتذلك فيه مثل هؤلاء الكلاب تجذبوا ذيلك، وكل واحد منهم متنكر بصورة منكرة، فما يؤمن أن يكون فيهم عدو قد احتسب نفسه ديانةً وله نية فاسدة وطوية ردية، فيثب بك! فمتى كان يستقال هذا، ولو أخليت الأرض منهم؟. فقال: يا أبا الحسين، لا تغضب! فوالله لا تراني على مثلها أبداً. وبني للمتوكل بعد ذلك مجلس مشرف، ينظر منه إلى السماجة.وذكر موسى بن صالح بن شيخ، أنه كلم إسحق بن إبراهيم في امرأة من أهله، وسأله النظر لها فقال: يا أبا محمد، من قصة هذه المرأة، ومن حالها، ومن بعلها، قال: فوالله إن زال يصفها حتى تحيرت.قال أبو البرق الشاعر: كان إسحق يجري علي أرزاقاً، فأنشدته يوماً، فسألني عن عيالي، وما احتاج إليه لهم، ثم قال لي: تحتاج عيالك في كل شهر من الدقيق كذا، ومن كذا كذا … فما زال يخبرني بشيء من أمر منزلي جهلته وعلمه هو! قال: وورد على إسحق كتاب من المعتصم، وهو جالس يشرب، ومعه محمد بن راشد الخناق، وكان خصيصاً به أثيراً عنده. فما فرغ من قراءة الكتاب حتى قال: سياط وعقابين وجلادين! فأحضر ذلك. فأمر بمحمد بن راشد، فأقيم من مجلسه وشق عنه ونصب في العقابين، وهو يقول: أيها الأمير، ما حالي؟ ما قصتي؟. فقال: الحق الجوهر الذي كان لفلان، من صفته كيت وكيت، تحضرنيه الساعة، وإلا أتيت على نفسك!. فذهب يتلكأ فقال: أوجعوا! فلما أحس بالضرب، قال: أنا أحضره أيها الأمير. قال: وحق أمير المؤمنين، لا برحت مكانك أو تحضره!. فأحضره لوقته. فلما رآه إسحق، سري عنه وأسفر وجهه وقال: هاتوا ثياباً، فأتي بخلعة، فألبسها. ورده إلى موضعه. وأجاب عن الكتاب، وأنفذ الحق لوقته إلى المعتصم. فقال محمد: أيها الأمير، ما أبعد ما بين الفعلين؟. فقال: ويحك! وفيت الخدمة والنصيحة، ووفيت المودة بعد ذلك حقها.وذكر أبو حشيشة الطنبوري، قال: كنت يوماً في منزلي، إذ طرق الباب صاحب بريد، وقال: أجب! فلما قال أجب، علمت أنه أمر عال. فلبست ثيابي، ومضيت معه حتى دخلنا دار إسحق بن إبراهيم. فعدل بي إلى ممر طويل فيه حجر متقابلة، تفوح من جميعها روائح الطعام. فأدخلت حجرة منها، وقدم إلي طعام في نهاية النظافة وطيب الرائحة، فأكلت. وجاؤوني بثلاثة أرطال، فشربت. وأحضروا لي صندوقاً فيه طنابير، فاخترت طنبوراً منها، وأصلحته على الطريقة، وأخرجت من الموضع إلى حجرة لم أر أحسن منها. وإذا في مجلسها رجلان جالسان، على أحدهما قباء ملحم وقلنسوة سمورية، وعلى الآخر ثياب خز؛ وستارة مضروبة فيه. فسلمت وأمرت بالجلوس، فجلست. فقال لي صاحب السمورية: غنّ! فغنيت:ما أُراني إلا سأهجر من لي … س يراني أقوى على الهجرانملّني واثقاً بحسن وفائي … ما أضرّ الوفاء بالانسان
আবদুল্লাহ ইবনে খুরদাদবাহ বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি খলিফা আল-মামুনের সামনে থেকে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের পিছু পিছু বেরিয়ে এলেন। যখন তিনি দ্বিতীয় বারান্দায় পৌঁছলেন, তখন ইসহাক দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাঁর দাঁড়ানোর কারণে সেনাপতি ও অন্যান্য মানুষও দাঁড়িয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: "আলী ইবনে সালেহের প্রতিনিধি কোথায়?" সেই সময় আলী ছিলেন প্রাসাদের শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এবং দ্বাররক্ষী হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রতিনিধিকে আনা হলে তিনি তাকে একশত চাবুক মারলেন এবং বললেন: "একে কারারুদ্ধ করো!" এরপর বললেন: "ডাক বিভাগের প্রধানের প্রতিনিধিকে নিয়ে এসো।" তাকে আনা হলে তিনি তাকেও একশত চাবুক মারলেন এবং বললেন: "একে কারারুদ্ধ করো!" এরপর তিনি আলী ইবনে সালেহ ও ডাক বিভাগের প্রধানকে ডাকলেন এবং তাঁদের বললেন: "তোমরা কি খলিফার প্রাসাদে তোমাদের প্রতিনিধি হিসেবে এমন সব লোককে নিযুক্ত করেছ যারা বিষয়গুলো নষ্ট করে এবং সেগুলোতে অবহেলা করে? এই শাসনের যোগ্য তোমাদের দুজনেরই হওয়া উচিত ছিল!" তাঁরা বললেন: "হে আমির! তাঁদের এমন কী অপরাধ যা আপনি অপছন্দ করেছেন?" তিনি বললেন: "ডাক বিভাগের প্রতিনিধি খলিফার প্রাসাদে বসে অট্টহাসি হাসছে আর প্রাসাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি তা দেখেও কোনো প্রতিবাদ করছে না?" এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে আমি যখনই সেই প্রাসাদে প্রবেশ করতাম, কাউকে হাসতে দেখতাম না।
তিনি আরও বলেন: একদিন নওরোজের দিনে ইসহাক খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের দরবারে প্রবেশ করলেন। খলিফার সামনে তখন ভাঁড় বা সং সেজে থাকা অভিনেতারা উপস্থিত ছিল। মুতাওয়াক্কিলের গায়ে তখন কারুকার্যখচিত ভারী রাজকীয় পোশাক ছিল। এই অভিনেতাদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, তারা খলিফার ওপর ছিটানো দিরহামগুলো কুড়ানোর জন্য তাঁর খুব কাছে চলে এল এবং এমনকি তাঁর পোশাকের আঁচল ধরে টান দিল! ইসহাক যখন তা দেখলেন, তখন রাগান্বিত হয়ে প্রস্থান করলেন এবং বলতে লাগলেন: "ধিক ও ধিক্কার! এই ধরনের চরম অবহেলার মধ্যে আমাদের এই সাম্রাজ্য রক্ষার প্রচেষ্টা কী কাজে আসবে?" মুতাওয়াক্কিল তাকে প্রস্থান করতে দেখে বললেন: "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! আবু আল-হুসাইনকে ফিরিয়ে আনো, কারণ সে রাগান্বিত হয়ে চলে গেছে!" তখন দ্বাররক্ষী ও সেবকরা তাঁর পিছু নিল। তিনি যখন ফিরে এলেন, তখন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াসিফ এবং যারাফাহকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করতে করতে খলিফার কাছে পৌঁছলেন। খলিফা বললেন: "কী তোমাকে রাগান্বিত করেছে এবং কেন তুমি চলে গিয়েছিলে?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি হয়তো ধারণা করছেন যে, এই সাম্রাজ্যের শত্রুরা তার বন্ধুদের সমান নয়! আপনি এমন এক মজলিশে বসে আছেন যেখানে এই কুকুরের মতো নীচ লোকগুলো আপনার সম্মানহানি করছে এবং আপনার কাপড়ের আঁচল ধরে টানছে। তাদের প্রত্যেকেই বীভৎস বেশে সজ্জিত। এমনও তো হতে পারে যে, তাদের মধ্যে এমন কোনো শত্রু আছে যে ধর্মীয় উগ্রতায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে অথবা যার কু-মতলব ও মন্দ উদ্দেশ্য রয়েছে এবং সে আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে! যদি জগত থেকে এদের নাম নিশানাও মুছে যেত, তবে কি এমন ঘটনাকে মেনে নেওয়া যেত?" তখন খলিফা বললেন: "হে আবু আল-হুসাইন! রাগ করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি আমাকে আর কখনও এমন অবস্থায় দেখবেন না।" এরপর মুতাওয়াক্কিলের জন্য একটি উঁচুতে অবস্থিত সুরক্ষিত কক্ষ নির্মাণ করা হলো, যেখান থেকে তিনি সেই অভিনেতাদের অভিনয় বা তামাশা দেখতেন।মুসা ইবনে সালেহ ইবনে শাইখ বর্ণনা করেন যে, তিনি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের সাথে তাঁর পরিবারের একজন মহিলার বিষয়ে কথা বলেছিলেন এবং তাঁর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ইসহাক বললেন: "হে আবু মুহাম্মদ, সেই মহিলার কাহিনী কী, তাঁর অবস্থা কেমন এবং তাঁর স্বামী কে?" বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি তাঁর অবস্থা এমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করতে শুরু করলেন যে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম।কবি আবু আল-বারক বলেন: ইসহাক আমাকে নিয়মিত ভাতা প্রদান করতেন। একদিন আমি তাঁকে কবিতা শুনালাম। তখন তিনি আমার পরিবার এবং তাঁদের কী কী প্রয়োজন তা জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন: "তোমার পরিবারের প্রতি মাসে এত পরিমাণ আটা এবং অন্যান্য এই এই জিনিসের প্রয়োজন হয়..."। তিনি আমার ঘরদোর সম্পর্কে এমন সব তথ্য দিচ্ছিলেন যা আমি নিজেও জানতাম না, অথচ তিনি জানতেন!
বর্ণনাকারী বলেন: ইসহাক যখন বসে মদ্যপান করছিলেন, তখন খলিফা আল-মুতাসিমের কাছ থেকে তাঁর কাছে একটি পত্র এল। তাঁর সাথে তখন মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ আল-খান্নাক ছিলেন, যিনি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি পত্রটি পড়া শেষ করেই বলে উঠলেন: "চাবুক, শাস্তিপ্রদানের মঞ্চ এবং জল্লাদদের উপস্থিত করো!" তা উপস্থিত করা হলো। এরপর তিনি মুহাম্মদ ইবনে রাশিদকে আদেশ দিলেন, ফলে তাকে মজলিশ থেকে ওঠানো হলো, তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হলো এবং শাস্তির মঞ্চে স্থাপন করা হলো। সে তখন বলছিল: "হে আমির! আমার দোষ কী? আমার ঘটনা কী?" তিনি বললেন: "অমুকের সেই রত্নটি, যার গুণাবলি এমন এবং এমন ছিল, তা এখনই আমার কাছে উপস্থিত করো, অন্যথায় তোমার প্রাণ সংহার করব!" সে ইতস্তত করতে লাগল। তখন তিনি বললেন: "একে কঠোর আঘাত করো!" যখন সে যন্ত্রণাদায়ক প্রহার অনুভব করল, তখন বলল: "হে আমির! আমি তা উপস্থিত করছি।" তিনি বললেন: "আমিরুল মুমিনীনের কসম! তুমি তা উপস্থিত না করা পর্যন্ত এখান থেকে নড়তে পারবে না!" ফলে সে তখনই তা উপস্থিত করল। ইসহাক যখন তা দেখলেন, তখন তাঁর দুশ্চিন্তা দূর হলো, মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হলো এবং তিনি বললেন: "পোশাক নিয়ে এসো।" এক জোড়া সম্মানসূচক রাজকীয় পোশাক আনা হলো এবং তিনি তাকে তা পরিধান করালেন। এরপর তাকে তার আগের মর্যাদাপূর্ণ স্থানে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি খলিফার পত্রের উত্তর লিখলেন এবং সেই রত্নটি তখনই আল-মুতাসিমের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তখন মুহাম্মদ বললেন: "হে আমির! আপনার এই দুই আচরণের মধ্যে কতই না ব্যবধান?" তিনি বললেন: "তোমার জন্য পরিতাপ! আমি আমার রাজকীয় দায়িত্ব ও আনুগত্যের হক আদায় করেছি এবং তারপর বন্ধুত্বের হকও পুরোপুরি পালন করেছি।"তানবুর বাদক আবু হাশিশাহ বর্ণনা করেন: আমি একদিন আমার বাড়িতে ছিলাম, এমতাবস্থায় ডাক বিভাগের একজন কর্মচারী দরজায় কড়া নাড়ল এবং বলল: "সাড়া দিন (চলুন)!" যখন সে বলল "সাড়া দিন", আমি বুঝলাম এটি কোনো উচ্চ পর্যায়ের রাজকীয় আদেশ। আমি আমার পোশাক পরে তাঁর সাথে রওনা হলাম এবং আমরা ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের প্রাসাদে প্রবেশ করলাম। সে আমাকে একটি দীর্ঘ বারান্দার দিকে নিয়ে গেল যেখানে সামনাসামনি অনেকগুলো কক্ষ ছিল। সব কক্ষ থেকেই অত্যন্ত সুস্বাদু খাবারের সুঘ্রাণ আসছিল। আমাকে এর একটি কক্ষে প্রবেশ করানো হলো এবং আমার সামনে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধযুক্ত খাবার পেশ করা হলো। আমি তৃপ্তিভরে খেলাম। এরপর তারা আমাকে তিন রতল পানীয় দিল এবং আমি তা পান করলাম। তারা আমার সামনে একটি বাক্স নিয়ে এল যাতে অনেকগুলো তানবুর ছিল। আমি সেখান থেকে একটি তানবুর পছন্দ করলাম এবং সুর মিলিয়ে তা ঠিক করলাম। এরপর আমাকে সেই জায়গা থেকে এমন একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো যার চেয়ে সুন্দর কক্ষ আমি আর দেখিনি। সেখানে মজলিশে দুইজন লোক বসে ছিলেন। তাঁদের একজনের গায়ে ছিল রেশমি কোট এবং মাথায় ছিল সযূরের চামড়ার টুপি; আর অন্যজনের গায়ে ছিল রেশমি পোশাক। সেখানে একটি পর্দা টাঙানো ছিল। আমি সালাম দিলাম এবং আমাকে বসার আদেশ দেওয়া হলে আমি বসলাম। সযূরের টুপি পরা ব্যক্তিটি আমাকে বললেন: "গান গাও!" তখন আমি গাইলাম:আমি তো নিজেকে দেখছি যে আমি তাকে ত্যাগ করব, যে আমাকে ত্যাগ করবে … সে আমাকে বিচ্ছেদ সহ্য করার সামর্থ্যবান হিসেবেই দেখবে।আমার অটুট বিশ্বস্ততার ওপর ভরসা করে সে আমাকে অবজ্ঞা করেছে … মানুষের প্রতি বিশ্বস্ততা কখনও কখনও তার জন্য কতটা ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়!
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১০)
فغنيته، فشرب رطلاً، ونقر الستارة وقال: غنوه! فغني الصوت أحسن غناء في الدنيا، وخلت أن البيت يرقص! فقال لي: كيف ترى؟ قلت: قد والله، يا مولاي، بغضوا إلي هذا الصوت وسمجوه في عيني. فضحك واستعادنيه ثلاث دفعات، يشرب في كل دفعة منها رطلاً. ثم قال: أتعرفني؟ قلت: لا! قال: أنا إسحق بن إبراهيم، وهذا محمد بن راشد الخناق. ووالله، لئن ظهر حديث هذا المجلس منك، لأضربنك ثلثمائة سوط! قم إذا شئت! فقمت من بين يديه، فلحقني الغلام بصرة فيها ثلثمائة دينار، فاجتهدت أن يأخذ منها شيئاً، فأبى! وذكر عمرو بن بانة، قال: وجه إلي إسحق بن إبراهيم في آخر النهار، فصرت إلى داره وأدخلت عليه، وهو جالس في طارمةٍ ملبسة بالخز، على دجلة، وقد انبسط القمر على الروشن وعلى دجلة، وهو من أحسن منظر رأيت قط! والمعينون جميعاً بين يديه، وبذل جالسة وراء مقطع في الطارمة. فلم يزل جالساً بموضعه، ونحن في يديه، إلى أن نودي بالفجر فقام وقمنا. وقال لنا الغلمان: انصرفوا! فنزلنا إلى الشط، ودعونا بسميرية، فجلسنا جميعاً، وقلت لهم: إن منزلي أقرب من منازلكم، فاجعلوا مقامكم اليوم عندي، ففعلوا. وحصلنا في المنزل، فطلبت فيه شيئاً يؤكل، فلم أجد! فأمرت بإحضار المائدة، فأحضرت فارغة، وطرحت في وسطها مائة درهم صحاحاً وقلت: يوجه كل واحد منكم، فيشتري له ما يريد. فما كان بأسرع من أن امتلأت بكل شيء! فأكلنا وشربنا، ومر لنا يوم طيب، وتفرقنا آخر النهار، وفي قلوبنا غصص مما فعله بنا إسحق، وما فاتنا من تلك الليلة الحسنة في ذلك الموضع الحسن! فمضيت بعد ذلك إلى بذل، وسألتها عن السبب فيما فعله، فقالت: قد سألته عن ذلك، فقال: ويحك! أنا أشتهي الشرب في مثل هذه الليلة منذ سنة، وأدافع نفسي به، فلما حصل لي جميع ما أريده وأشتهيه، أردت أن أري نفسي سلطاني عليها وقهري لها ومنعها مما تحبه، لئلا تقودني إلى ما تريد، ففعلت ما رأيت.وكان مع ذلك حسن المروءة، كريم النفس. فذكر أبو حشيشة، قال: دعاني في بعض الأيام، فصرت إليه وجلست أغنيه، وعليه دراعة خز خضراء لم أر أحسن منها قط. فجعلت أنظر إليها، وفطن بنظري، فدعا بالخازن وقال: كانوا جاؤونا منذ أيام بعشرة أثواب خز خضر، هذا أحدها، فجئني ببقيتها. فأحضر تسعة أثواب، يتجاوز حسنها كل وصف، فأعطانيها، فبعت من رذالها الثوب بمائة دينار! وقال: طرق أحمد بن يوسف الكاتب، إسحق بن إبراهيم، فقدم إليه كل شيء حسن من الأطعمة والآلة، وضربت الستائر، وأحضرت الفواكه والنبيذ، ومر يوم لم يكن مثله. ثم سأل أحمد أن يكون عنده من الغد، فقال أحمد: يفوتني الصيد. فأحضر جارية وغلاماً وفرساً لم ير أحسن منهم، وقال: هذا صيدك غداً. ثم تصنع له من الغد، فرأى أحمد شيئاً لم ير مثله قط.وقال له إسحق: أمس كان فتوة، واليوم مروة.وكان المأمون يصير إلى داره، فيقيم عنده الأيام هو وغلمانه وحشمه أنساً به وثقة بمكانه.واجتازت يوماً زبيدة في دجلة في حراقتها، فصعدت إلى دار إسحق لبعض حاجتها، فعرض عليها إسحق الطعام، فأمرت بإحضاره، فعجبت مما رأت ومما قدم. وقالت: والله ما كانت بي حاجة إليه، وإنما أردت أن أختبر مروءته، فوجدته أتم الناس مروءةً، هذا من غير تصنع لي ولا علم بمجيئي.دير أشمونيوأشموني، امرأة بني الدير على اسمها، ودفنت فيه. وهو بقطربل، غربي دجلة. وعيده اليوم الثالث من تشرين الأول، وهو من الأيام العظيمة ببغداد، يجتمع أهلها إليه كاجتماعهم إلى بعض أعيادهم، ولا يبقى أحد من أهل التطرب واللعب إلا خرج إليه، فمنهم في الطيارات ومنهم في الزبازب والسميريات، كل إنسان بحسب قدرته. ويتنافسون فيما يظهرونه هنالك من زيهم، ويباهون بما يعدونه لقصفهم، ويعمرون شطه وأكنافه وديره وحاناته. ويضرب لذوي البسطة منهم الخيم والفساطيط، وتعزف عليهم القيان. فيظل كل إنسان منهم مشغولاً بأمره، ومكباً على لهوه؛ فهو أعجب منظر وأطيب مشهد وأحسنه! وهناك أيضاً دير يسمى دير الجرجوث وحوله بساتين ومزارع، ومن ضاق به دير أشموني، عدل إليه.
আমি তাকে গান শোনালাম, তিনি এক রতল পান করলেন, পর্দার উপর টোকা দিলেন এবং বললেন: তোমরা এটি গাও! এরপর এমন চমৎকার সুরে গানটি গাওয়া হলো যে পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর গান আর নেই, আমার মনে হলো ঘরটি যেন নাচছে! তিনি আমাকে বললেন: তুমি কেমন দেখলে? আমি বললাম: আল্লাহর কসম, হে আমার মালিক, তারা আমার কাছে এই গানটিকে অপ্রিয় ও কুৎসিত করে তুলেছিল। তিনি হাসলেন এবং আমার কাছ থেকে তিনবার গানটি শুনলেন, প্রতিবার তিনি এক রতল করে পান করছিলেন। তারপর তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে চেনো? আমি বললাম: না! তিনি বললেন: আমি ইসহাক বিন ইব্রাহিম, আর এই হলো মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল-খান্নাক। আল্লাহর কসম, যদি এই মজলিসের কথা তোমার মাধ্যমে জানাজানি হয়, তবে আমি তোমাকে তিনশ চাবুক মারব! এখন চাইলে তুমি যেতে পারো। আমি তার সামনে থেকে উঠলাম, তখন একটি গোলাম আমার পিছু নিল যার হাতে একটি থলি ছিল যাতে তিনশ দিনার ছিল। আমি অনেক চেষ্টা করলাম সে যেন সেখান থেকে কিছু নেয়, কিন্তু সে অস্বীকার করল। আমর বিন বানাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দিনের শেষভাগে ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাকে ডেকে পাঠালেন, আমি তার বাড়িতে গেলাম এবং তার কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি দজলা নদীর তীরে রেশমি বস্ত্রে আবৃত একটি বারান্দায় বসে ছিলেন, দজলা নদী ও বাতায়নের উপর চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল, যা ছিল আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য। তার সামনে সকল পরিচারক উপস্থিত ছিল এবং বারান্দার একটি পর্দার আড়ালে বাযল বসে ছিল। তিনি নিজ স্থানে বসে থাকলেন এবং আমরা তার সামনে উপস্থিত ছিলাম যতক্ষণ না ফজরের আজান হলো। এরপর তিনি উঠলেন এবং আমরাও উঠলাম। গোলামরা আমাদের বলল: তোমরা বিদায় নাও। আমরা নদীর তীরে নামলাম এবং একটি সামিরিয়াহ নৌকা ডাকলাম। আমরা সবাই বসলাম এবং আমি তাদের বললাম: আমার ঘর আপনাদের ঘরগুলোর চেয়ে কাছে, তাই আজ আপনারা আমার এখানেই অবস্থান করুন। তারা রাজি হলেন। আমরা ঘরে পৌঁছলাম এবং আমি খাওয়ার কিছু খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না! আমি দস্তরখান আনার নির্দেশ দিলাম, সেটি খালি অবস্থায় আনা হলো। আমি এর মাঝখানে একশটি খাঁটি দিরহাম রাখলাম এবং বললেন: আপনারা প্রত্যেকে কাউকে পাঠান এবং যা ইচ্ছা কিনে আনুন। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছুতে দস্তরখান ভরে গেল! আমরা আহার করলাম ও পান করলাম, আমাদের দিনটি খুব ভালো কাটল এবং দিনের শেষে আমরা বিদায় নিলাম। তবে ইসহাক আমাদের সাথে যা করেছিলেন এবং সেই সুন্দর স্থানে সেই সুন্দর রাতটি যেভাবে হাতছাড়া হয়েছিল, সেজন্য আমাদের মনে আক্ষেপ রয়ে গেল। এরপর আমি বাযলের কাছে গেলাম এবং ইসহাক যা করেছিলেন তার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: আক্ষেপ তোমার জন্য! আমি এক বছর ধরে এইরকম এক রাতে পান করার আকাঙ্ক্ষা করছিলাম এবং নিজেকে তা থেকে বিরত রাখছিলাম। যখন আমার যা কিছু চাওয়ার ও আকাঙ্ক্ষার ছিল সব পেলাম, তখন আমি নিজেকে আমার নফসের ওপর আমার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ দেখাতে চেয়েছিলাম এবং নিজেকে প্রিয় জিনিস থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিলাম যাতে নফস আমাকে তার ইচ্ছামতো পরিচালিত করতে না পারে। তাই আমি যা দেখেছেন তা-ই করেছি।এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন অতিশয় সচ্চরিত্র ও উদারমনা। আবু হাশিশাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন তিনি আমাকে ডাকলেন, আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে গান শোনাতে লাগলাম। তার গায়ে ছিল সবুজ রেশমি একটি জুব্বা, আমি এর চেয়ে সুন্দর জুব্বা আর দেখিনি। আমি সেটির দিকে তাকাচ্ছিলাম, তিনি আমার দৃষ্টি খেয়াল করলেন এবং খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন: কয়েকদিন আগে আমাদের কাছে দশটি সবুজ রেশমি পোশাক এসেছিল, এটি তার একটি। বাকিগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো। নয়টি পোশাক আনা হলো যাদের সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। তিনি সেগুলো আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি সেগুলোর সাধারণ মানের একটি পোশাকও একশ দিনারে বিক্রি করেছিলাম। জনৈক লেখক আহমাদ বিন ইউসুফ এক রাতে ইসহাক বিন ইব্রাহিমের কাছে আসলেন। তিনি তার সামনে চমৎকার সব খাবার ও সরঞ্জাম পেশ করলেন, পর্দা টাঙানো হলো, ফলমূল ও পানীয় আনা হলো। দিনটি এমন ছিল যার কোনো তুলনা হয় না। এরপর তিনি আহমাদকে অনুরোধ করলেন পরের দিনও তার কাছে থাকতে। আহমাদ বললেন: এতে আমার শিকারের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। তখন তিনি একজন দাসী, একজন গোলাম এবং এমন একটি ঘোড়া নিয়ে আসলেন যার চেয়ে সুন্দর আর দেখা যায়নি। তিনি বললেন: এটিই আগামীকাল তোমার শিকার। পরদিন তিনি তার জন্য এমন আয়োজন করলেন যে আহমাদ ইতিপূর্বে এমন কিছু দেখেননি।ইসহাক তাকে বললেন: গতকাল ছিল বীরত্ব, আর আজ হলো সৌজন্য।খলিফা আল-মামুন তার বাড়িতে আসতেন এবং তার সাথে ঘনিষ্ঠতা ও তার মর্যাদার প্রতি আস্থার কারণে তার গোলাম ও অনুচরদের নিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করতেন।একদিন জুবায়দা তার প্রমোদতরীতে করে দজলা নদী অতিক্রম করছিলেন, তিনি কোনো এক প্রয়োজনে ইসহাকের বাড়িতে উঠলেন। ইসহাক তাকে খাবার পেশ করলেন এবং তিনি তা হাজির করার নির্দেশ দিলেন। তিনি যা দেখলেন এবং যা পরিবেশন করা হলো তাতে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমার এসবের কোনো প্রয়োজন ছিল না, আমি কেবল তার সৌজন্য পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম এবং তাকে পূর্ণ সৌজন্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে পেলাম, অথচ এটি আমার জন্য কোনো কৃত্রিম আয়োজন ছিল না এবং আমার আসার খবরও তার জানা ছিল না।আশমুনি মঠআশমুনি ছিলেন একজন নারী, যার নামে এই মঠটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। এটি দজলা নদীর পশ্চিমে কুতরাব্বুল নামক স্থানে অবস্থিত। প্রতি বছর ৩রা অক্টোবর এখানে উৎসব পালিত হয়, যা বাগদাদের বড় দিনগুলোর একটি। বাগদাদবাসী সেখানে এমনভাবে সমবেত হয় যেন এটি তাদের কোনো ঈদ। আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলায় মত্ত এমন কেউ বাকি থাকে না যে সেখানে যায় না। কেউ যায় দ্রুতগামী নৌকায়, কেউ জাবজাব বা সামিরিয়াহ নৌকায়—প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী। তারা সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদর্শনে প্রতিযোগিতা করে এবং তাদের আমোদ-ফূর্তির আয়োজনের গর্ব করে। তারা এর তীরবর্তী এলাকা, চারপাশ, মঠ এবং পানশালাগুলো মুখরিত করে তোলে। বিত্তশালীদের জন্য সেখানে তাবু ও শামিয়ানা খাটানো হয় এবং গায়িকারা তাদের সামনে গান পরিবেশন করে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে মগ্ন থাকে এবং আনন্দ-বিনোদনে ডুবে থাকে। এটি এক আশ্চর্যজনক ও মনোরম দৃশ্য! সেখানে জুরজুস মঠ নামে আরও একটি মঠ রয়েছে যার চারপাশে বাগান ও শস্যক্ষেত রয়েছে। যাদের জন্য আশমুনি মঠে জায়গা সংকুলান হয় না, তারা এই মঠের দিকে চলে যায়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال جحظة: خرجت في عيد من أعياد أشموني إلى قطربل، فلما وصلت إلى الشط، مددت عيني لأنظر موضعاً خالياً أصعد إليه، أو قوماً ظرافاً أنزل عليهم، فرأيت فتيين من أحسن الناس وجوهاً وأنظفهم لباساً، وأطرفهم آلة! فقدمت سميريتي نحوهما، وقلت: أتأذنون في الصعود إليكم؟ فقالوا: بالرحب والسعة! فصعدت وقلت: يا غلام، طنبوري ونبيذي! فقالا: أما الطنبور فنعم، وأما النبيذ فلا. فجلست مع أحسن الناس أخلاقاً وأملحهم عشرة. وأخذنا في أمرنا. ثم تناولت الطنبور، وغنيت بشعر لي:سقياً لأُشموني ولذاتها … والعيش فيما بين جناتهاسقياً لأيام مضت لي بها … ما بين شطّيها وحاناتهاإذا اصطباحي في بساتينها … وإذ غبوقي في دياراتهافنعر القوم، وشربوا بالأرطال وشربت، وطاب لنا الوقت إلى آخر النهار.ثم قلت لأحدهما: جعلت فداك، ما أرى في هذا الجمع أرق منكما طبعاً، ولا أرق نبيذاً. فقال لي مجيباً:شرابي رقيقٌ كما قد رأي … ت، ود بسهم بذباب يساطوأشار إلى القوم، ثم قال:فكيف أكون نظيراً لهم … أين لي بعقلك أم ذا ضراطثم قال: أزيدك؟ قلت: لا. ومر لنا أطيب يوم وأحسنه! قال محمد بن المؤمل الطائي: كنت مع أبي العتاهية في سميرية، ونحن سائرون إلى أشموني. فسمع غناء من بعض النواحي، فاستحسنه وطرب له. فقال لي: تحسن ترقص؟ قلت: نعم! فقال: قم بنا نرقص. قلت: نحن في سميرية، وأخاف أن نغرق! قال: وإن غرقنا نكون ماذا؟ أليس نكون شهداء الطرب؟ وللثرواني، فيه:إشرب على قرع النواقيس … في دير أشموني بتغليسلا تخف كأس الشرب، والليل في … حدّ نعيم لا ولا بوسإلا على قرع النواقيس … أو صوت قسّان وتشميسفإنما الشيء بأسبابه … ومحكم الوصف بتأسيسفهكذا فاشرب، وإلا فكن … مجاوراً بعض النواويسقال: كتب يحيى بن كامل إلى عبد الملك بن محمد الهاشمي في يوم أشموني:اليوم أشموني أبا الفضل … وهو عجيبٌ طيب الظلّوأنت لليوم صريعٌ فما … يصنع يحيى يا أبا الفضلفوجه إليه بما ركبه، وعرف الجماش الخبر، فكتب إليه:قولا لعبد الملك الماهر … ولابن عم المصطفى الطاهرأما ترى اليوم، وأحواله … تدعو إلى حثّك بالدائرعيدٌ وغيم زار في يومنا، … فقم بحقّ العيد والزائرواليوم أشموني، فبادر بنا، … تحثُّها في يومها الزاهرحبوت يحيى ثم أغفلتني … أحلت عن جماشك الشاعرفوجه إليه وأحضره. ومر لهم يوم طيب.ولأبي الشبل البرجمي، فيه:شهدت مواطن اللذات طرا … وجبت بقاعها بحراً وبرّافلم أر مثل أشموني محلاً … ألذّ لحاضريه ولا أسرّابه جيشان من خيل وسفن … أناخا في ذراه واستقراكأنهما زحوف وغىً ولكن … إلى اللذات ماكرّا وفراسلاحهما القواقز والقناني … وأكواسٌ تدور هلمّ جراوضربهما المثالث والمثاني … إذا ما الضرب في الحرب استحراوأسرهما ظباء الدّير طوعاً … إذا أسد الحروب أسرن قسرالقد جرّت لنا الهيجاء خيراً … إذا ما جرت الهيجاء شراوكان أبو الشبل هذا من الطياب، وله شعر مليح، وطبع رقيق. وكان منعكفاً على الشرب لا يفارقه ولا يوجد إلا سكران. وكان يتطرح في الديارات والحانات ومواطن اللهو، لا يغبها ولا يتأخر عنها.وكان بينه وبين محمود الوراق مودة، وكانا لا يفترقان. وذكر أبو الشبل، قال: صرت أنا ومحمود إلى قطربل، فدعونا الخمار، فقلنا: ايتنا ببنت عشر قد أنضجها الهجير. فجاءنا بها. فقلنا: اسقنا! فسقانا. فقلنا: اشرب واسقنا! فقال: أنا مسلم، وكان يهودياً قد أسلم. فقال لي محمود: قوم يكون الخمار عندهم مسلماً متحرجاً، وهم عند الخمار كفار، أترى لله فيهم حاجة؟.
জাহজা বলেছেন: আমি আশমুনির এক উৎসবে কুতরুব্বুলের দিকে বের হলাম। যখন আমি তীরে পৌঁছলাম, তখন আমি এমন একটি নির্জন স্থান দেখার জন্য চোখ মেললাম যেখানে আমি উঠতে পারি, অথবা কোনো মার্জিত রুচির লোক খুঁজি যাদের কাছে আমি অবতরণ করতে পারি। তখন আমি এমন দুই যুবককে দেখলাম যাদের চেহারা অত্যন্ত সুন্দর, পোশাক অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং তাদের সরঞ্জামাদি অত্যন্ত চমৎকার! আমি আমার নৌকাটি তাদের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলাম এবং বললাম: আপনাদের নিকট আসার কি অনুমতি আছে? তারা বললেন: স্বাগতম এবং সুস্বাগতম! ফলে আমি উপরে উঠলাম এবং বললাম: হে বালক, আমার তানবুর এবং নাবিয নিয়ে এসো! তারা বললেন: তানবুর হতে পারে, কিন্তু নাবিয নয়। এরপর আমি সর্বাপেক্ষা সুন্দর চরিত্রের এবং চমৎকার সাহচর্যের অধিকারী ব্যক্তিদের সাথে বসলাম। আমরা আমাদের কাজে মগ্ন হলাম। এরপর আমি তানবুর হাতে নিলাম এবং আমার নিজের লেখা কবিতা গেয়ে শুনালাম:
আশমুনি এবং এর আনন্দের জন্য বারিবর্ষণ হোক … এবং এর উদ্যানরাজির মাঝে অতিবাহিত জীবনের জন্য।আশমুনিতে আমার অতিবাহিত দিনগুলোর জন্য বারিবর্ষণ হোক … এর দুই তীর এবং সরাবখানাগুলোর মাঝে।যখন ভোরবেলা আমি এর বাগানগুলোতে প্রভাতী পানীয় পান করতাম … এবং যখন সন্ধ্যাবেলা আমি এর মঠগুলোতে সান্ধ্যকালীন পানীয় পান করতাম।তখন লোকেরা উল্লাস করল এবং তারা প্রচুর পরিমাণে পান করল, আমিও পান করলাম এবং দিনের শেষ পর্যন্ত আমাদের সময়টা বেশ উপভোগ্য হলো।
এরপর আমি তাদের একজনকে বললাম: আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, এই সমাবেশে আপনাদের দুজনের চেয়ে কোমল স্বভাবের এবং আপনাদের নাবিযের চেয়ে স্বচ্ছ নাবিয আর দেখছি না। তখন তিনি আমাকে উত্তরে বললেন:আমার পানীয় অতি স্বচ্ছ যেমনটা তুমি দেখছ … আর মাছিদের হুল দিয়েও তাতে দাগ কাটা যায়।তিনি লোকদের দিকে ইশারা করলেন, তারপর বললেন:আমি কীভাবে তাদের সমকক্ষ হব … কোথায় পাব তোমার মতো বুদ্ধি আর কোথায় এই বাতকর্মকারীরা!এরপর তিনি বললেন: আমি কি আরও কিছু বলব? আমি বললাম: না। আমাদের দিনটি অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দরভাবে অতিবাহিত হলো! মুহাম্মাদ ইবনুল মুআম্মাল আত-তাঈ বলেছেন: আমি আবু আল-আতাহিয়ার সাথে এক নৌকায় ছিলাম এবং আমরা আশমুনির দিকে যাচ্ছিলাম। তিনি এক পাশ থেকে গান শুনতে পেলেন, তা তাঁর কাছে চমৎকার মনে হলো এবং তিনি এতে আন্দোলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন: তুমি কি ভালো নাচতে পারো? আমি বললাম: হ্যাঁ! তিনি বললেন: ওঠো, আমরা দুজনে নাচি। আমি বললাম: আমরা তো নৌকায় আছি, আমার ভয় হচ্ছে যে আমরা ডুবে যাব! তিনি বললেন: যদি আমরা ডুবেই যাই তাতে কী? আমরা কি আনন্দের শহীদ হব না? আর এই বিষয়ে আল-সারওয়ানির পঙক্তিমালা হলো:আশমুনির মঠে শেষ রাতে … গির্জার ঘণ্টার শব্দে পান করো।পানপাত্রকে ভয় করো না, যখন রাত থাকে … চরম সুখের সীমায়, নেই কোনো দুঃখ।শুধু গির্জার ঘণ্টা বাজানোর সময় … অথবা যাজকদের কন্ঠস্বর এবং ধর্মীয় আচারের সময়।কারণ প্রতিটি জিনিসের একটি কারণ থাকে … আর নিখুঁত বর্ণনা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।এভাবেই তুমি পান করো, অন্যথায় … কোনো সমাধিস্থলের প্রতিবেশী হয়ে যাও।বর্ণনাকারী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে কামিল আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাশিমির কাছে আশমুনির দিনে লিখেছিলেন:হে আবুল ফজল, আজ আশমুনির দিন … আর এটি এক অদ্ভুত ছায়াশীতল স্থান।আর তুমি আজ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছ, তবে … ইয়াহইয়া কী করবে হে আবুল ফজল?অতঃপর তিনি তার সওয়ারি পাঠিয়ে তাকে নিয়ে এলেন। আল-জাম্মাশ এই খবর জানতে পেরে তাকে লিখে পাঠালেন:দক্ষ আব্দুল মালিককে এবং … পবিত্র মুস্তফার বংশধরকে বলো।তুমি কি আজকের দিন এবং এর অবস্থা দেখছ না … যা তোমাকে পানপাত্রের চক্রে উৎসাহিত করছে।আজ উৎসব এবং মেঘ আজ আমাদের দিনে সাক্ষাৎ দিতে এসেছে … অতএব উৎসব এবং এই অভ্যাগতের হক আদায় করো।আজ আশমুনির দিন, অতএব আমাদের নিয়ে দ্রুত চলো … এর উজ্জ্বল দিনে একে উৎসাহিত করো।তুমি ইয়াহইয়াকে দান করলে কিন্তু আমাকে অবহেলা করলে … তোমার কবি জাম্মাশ থেকে কি মুখ ফিরিয়ে নিলে?তখন তিনি তার কাছে লোক পাঠিয়ে তাকে উপস্থিত করলেন। তাদের দিনটি খুব ভালোভাবে কাটল।
আবু আল-শিবল আল-বুরজুমির পঙক্তিমালা এই বিষয়ে:আমি সমস্ত আনন্দের স্থানের সাক্ষী হয়েছি … স্থলে ও জলে এর সকল প্রান্ত ভ্রমণ করেছি।কিন্তু আশমুনির মতো কোনো স্থান দেখিনি … যা উপস্থিতদের জন্য এত আনন্দদায়ক ও সুখকর।সেখানে অশ্বারোহী এবং নৌকার দুটি দল রয়েছে … যারা এর ছায়ায় অবস্থান নিয়েছে এবং থিতু হয়েছে।মনে হয় যেন তারা যুদ্ধের সৈন্যদল, কিন্তু … তারা কেবল আনন্দের জন্য আক্রমণ এবং পলায়ন করছে।তাদের অস্ত্র হলো পানপাত্র ও কুঁজা … আর সেই পাত্রগুলো যা ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে।তাদের আঘাত হলো বাদ্যযন্ত্রের সুরের মূর্ছনা … যখন যুদ্ধের ময়দানে আঘাত তীব্রতর হয়।তাদের হাতে বন্দীরা হলো মঠের সুন্দরী নারীরা যারা স্বেচ্ছায় ধরা দেয় … যখন যুদ্ধের সিংহরা বলপ্রয়োগে বন্দী করে।এই যুদ্ধ আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছে … যদিও সাধারণ যুদ্ধ অকল্যাণ বয়ে আনে।এই আবু আল-শিবল আমোদপ্রিয় লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর কবিতা ছিল চমৎকার এবং স্বভাব ছিল কোমল। তিনি পানে মগ্ন থাকতেন, কখনো তা ছাড়তেন না এবং মাতাল অবস্থা ছাড়া তাঁকে পাওয়া যেত না। তিনি বিভিন্ন মঠ, সরাবখানা এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন, কোনোটিই তিনি বাদ দিতেন না এবং কোনোটি থেকেই পিছিয়ে থাকতেন না।
তাঁর এবং মাহমুদ আল-ওয়াররাকের মাঝে গভীর বন্ধুত্ব ছিল এবং তাঁরা কখনো বিচ্ছিন্ন হতেন না। আবু আল-শিবল বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং মাহমুদ কুতরুব্বুলে গেলাম, আমরা মদ বিক্রেতাকে ডাকলাম এবং বললাম: আমাদের এমন এক সুরা দাও যাকে দীর্ঘ সময় পরিপক্ক করেছে। সে তা নিয়ে এল। আমরা বললাম: আমাদের পান করাও! সে আমাদের পান করাল। আমরা বললাম: তুমিও পান করো এবং আমাদেরও পান করাও! সে বলল: আমি মুসলিম। সে ছিল একজন ইহুদি যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তখন মাহমুদ আমাকে বলল: এমন এক জাতি যাদের মদ বিক্রেতা একজন ধর্মভীরু মুসলিম, আর তারা মদ বিক্রেতার কাছে কাফিরের মতো; তুমি কি মনে করো তাদের প্রতি আল্লাহর কোনো প্রয়োজন আছে?
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال: كان أبو الشبل يعابث خنساء قينة هشام الضرير النحوي، وكانت تقول الشعر؛ فعبث بها يوماً وأفرط، فغضبت وقالت: ليت شعري، بأي شيء تدل؟ أنا والله أشعر منك! ولئن شئت لأهجونك حتى أفضحك! فأقبل عليها، وقال:خنساء قد أفرطت علينا … فليس منها لنا مجيرتاهت بأشعارها علينا … كأنما ناكها جريرفخجلت حتى بان ذلك عليها وانقطعت عن جوابه.ولأبي الشبل في جارية سوداء كان يهواها، فعوتب عليها، وكان مولعاً بالسودان:غدت بطول الملام عاذلةٌ … تعذلني في السّواد والدّعجويحك، كيف السلوّ عن غرر … مقيّرات الوجوه كالسّبجيحملن بين الأفخاذ أسنمة … تطير أوبارها من الوهجلا عذّب الله مؤمناً بهم … غيري، ولا حان منهم فرجيفإنني بالسواد مبتهجٌ … ولست بالبيض جد مبتهجوله في جارية كان يحبها اسمها تبر:لم تنصفي يا سمّية الذهب … تتلف نفسي وأنت في لعبيا بنت عم المسك الذكي ومن … لولاك يُجتب ولم يطبناسبك المسك في السواد وفي الطي … ب، فأكرم بذاك من نسبدير سابروهذا الدير ببزوغى، وهي بين المزرفة والصالحية، في الجانب الغربي من دجلة. وهي عامرة، نزهة، كثيرة البساتين والفواكه والكروم والحانات والخمارين، معمورة بأهل التطرب والشرب، وهي موطن من مواطن الخلعاء.والدير حسن، عامر، لا يخلو من متنزه فيه ومتطرب إليه.وللحسين بن الضحاك، فيه:وعواتق باشرت بين حدائق … ففضضتهنّ وقد حسن صحاحاأتبعت وخزة تلك وخزة هذه … حتى شربت دماءهنّ جراحاأبرزتهن من الخدور حواسراً … وتركت صون حريمهنّ مباحافي دير سابر والصباح يلوح لي … فجمعت بدراً والصباح وراحافاذهب بظنّك كيف شئت، فكله … مما اقترفت تغطرساً وجماحاوكان الحسين بن الضحاك، من الأدباء الشعراء وأهل الخلاعة والمجون، وبالخليع يعرف. ونادم جماعة من خلفاء بني العباس، منهم: الأمين، والمعتصم، والواثق، والمتوكل. فأما المأمون، فإنه لم يدخل إليه ولم يختلط به، وذاك أنه رثى الأمين، فقال فيه:هلا بقيت لسدّ فاقتنا … فينا وكان لغيرك التلفقد كان فيك لمن مضى خلف … فاليوم أعوز بعدك الخلففلما ورد المأمون من خراسان إلى بغداد، أمر بأن تثبت له أسماء من يصلح لمنادمته من أهل الأدب، فأثبت له قوم ذكر فيهم الحسين بن الضحاك وكان من جلساء محمد المخلوع، فقرأ أسماءهم حتى بلغ إلى اسم حسين فقال: أليس القائل في محمد: وكان لغيرك التلف؟ والله، لا حاجة لي فيه ولا رأى وجهي إلا على قارعة الطريق! فلم يحظ طول أيام المأمون بشيء! وكان وقت خدمته المتوكل، ضعف كبراً، فكتب إليه يستعفيه من الخدمة، فقال:أسلفت أسلافك فيما مضى … من خدمتي إحدى وستيناكنت ابن عشرين وخمس فقد … وفّيت بضعاً وثمانيناإني لمعروف بضعف القوى … وإن تجلدت أحاييناوإن تحملت على كبرتي … خدمة أبناء الثلاثيناهدت قواي ووهت أعظمي … وصرت في العلّة عزّوناوخفت أن يعجل بي معجلٌ … إلى التي تعيي المداويناعزون هذا الذي ذكره، نديم كان للمعتصم، ثم نادم المتوكل.وذكر عزون هذا، قال: كمنا مع المعتصم في بعض متنزهاته. فاحتجنا أن نخوض نهراً، وكان معنا حسين بن الضحاك، فكاد أن يغرق. فقبض المعتصم على عضه، وحمله من السرج حتى عبر به النهر إشفاقاً عليه.وكان الحسين مستهتراً بالخدم جداً، ولم يقصر عن ذاك حتى مات.قال المتوكل: أنشدني حسين قوله:فلو شئت تيسرت … كما سميت يا يسرولا والله لا تبر … ح أو ينصرم الأمرفأمّا المنع والذم … وإما البذل والشكرفدعني من مواعيد … ك إذ حيّنك الدهرفقل: أيهما كان … فقال البذل والشكر
তিনি বললেন: আবু আল-শিবল অন্ধ ব্যাকরণবিদ হিশামের গায়িকা খানসার সাথে কৌতুক করতেন। খানসা কবিতা রচনা করতেন। একদিন তিনি তার সাথে কৌতুক করতে করতে সীমা ছাড়িয়ে গেলেন। এতে খানসা রাগান্বিত হয়ে বললেন: আমার জানা নেই, তুমি কিসের ভিত্তিতে দম্ভ করছ? আল্লাহর কসম, আমি তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কবি! আমি যদি চাই তবে তোমার নিন্দায় এমন কবিতা লিখব যা তোমাকে লাঞ্ছিত করবে! তখন তিনি তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন:
খানসা আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে … তার থেকে আমাদের উদ্ধার করার কেউ নেই।সে তার কবিতা নিয়ে আমাদের উপর দম্ভ করছে … যেন স্বয়ং জারির তার সাথে মিলিত হয়েছে।এতে তিনি লজ্জিত হলেন এবং তার চেহারায় তা ফুটে উঠল এবং তিনি উত্তর দেওয়া থেকে বিরত হলেন।আবু আল-শিবলের এক কৃষ্ণাঙ্গ দাসী ছিল যাকে তিনি ভালোবাসতেন। এই কারণে তাকে তিরস্কার করা হলে (যেহেতু তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি আসক্ত ছিলেন), তিনি বলেন: দীর্ঘ তিরস্কারের মাধ্যমে এক নিন্দাকারী ভোরে হাজির হলো … সে আমাকে কৃষ্ণবর্ণ ও গভীর কালো চোখের অধিকারিণীর প্রেমে তিরস্কার করছে।তোমার সর্বনাশ হোক! কীভাবে ভুলে থাকব সেই সুন্দরীদের কথা … যাদের মুখমণ্ডল আলকাতরার মতো উজ্জ্বল কালো।তারা উরুর মাঝে বহন করে মাংসল কুঁজ … উত্তাপে যাদের লোম উড়ে যায়।আল্লাহ আমার ছাড়া আর কোনো মুমিনকে তাদের দ্বারা কষ্ট না দিন … আর তাদের থেকে আমার মুক্তিও যেন না আসে।নিশ্চয়ই আমি কৃষ্ণবর্ণে অত্যন্ত আনন্দিত … আর শ্বেতবর্ণে আমি মোটেও আনন্দিত নই।তিবর (স্বর্ণ) নামক এক দাসী যাকে তিনি ভালোবাসতেন, তার সম্পর্কে তিনি বলেন:হে স্বর্ণের নামধারী, তুমি ইনসাফ করোনি … আমার প্রাণ শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ তুমি খেলায় মগ্ন।হে সুগন্ধি কস্তুরীর চাচার মেয়ে এবং সেই সত্তা … তুমি না থাকলে কস্তুরী আহরণ করা হতো না এবং তা সুগন্ধময় হতো না।কালো বর্ণে এবং সুগন্ধে কস্তুরীর সাথে তোমার বংশীয় মিল রয়েছে … সেই বংশ কতই না মর্যাদা সম্পন্ন!দায়র সাবিরএই মঠটি বাজুগায় অবস্থিত, যা মাজরাফা ও সালিহিয়্যার মাঝে দজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি অত্যন্ত জনবহুল, মনোরম, বাগান, ফলমূল, আঙুর বাগান, মদের দোকান ও সুরা বিক্রেতা সমৃদ্ধ। এটি আনন্দ-উল্লাস ও মদ্যপানে অভ্যস্ত লোকদের দ্বারা আবাদ ছিল এবং এটি বোহেমিয়ানদের অন্যতম আড্ডাস্থল।মঠটি সুন্দর ও আবাদ, সবসময়ই সেখানে প্রমোদভ্রমণকারী বা আমোদপ্রিয় মানুষের ভিড় লেগে থাকত।হুসাইন বিন আল-দহ্হাক এই মঠ সম্পর্কে বলেছেন:কত কুমারীকে আমি বাগানের মাঝে স্পর্শ করেছি … আমি তাদের কুমারিত্ব হরণ করেছি যখন তারা ছিল সুস্থ ও সুন্দর।আমি এর আঘাতের পর তার আঘাত অনুগামী করেছি … যতক্ষণ না আমি ক্ষতের রক্ত স্বরূপ শরাব পান করেছি।আমি তাদের পর্দা থেকে অনাবৃত অবস্থায় বের করে এনেছি … এবং তাদের গোপনীয়তার মর্যাদা লুণ্ঠন করেছি।দায়র সাবিরে যখন ভোর প্রকাশিত হচ্ছিল … তখন আমি পূর্ণিমা, প্রভাত ও মদকে একত্রিত করেছি।সুতরাং তোমার ধারণা অনুযায়ী যেদিকে ইচ্ছে যাও, এই সবই … আমার হঠকারিতা ও অবাধ্যতার ফসল।হুসাইন বিন আল-দহ্হাক ছিলেন প্রাজ্ঞ কবি ও সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ছিলেন উচ্ছৃঙ্খলতা ও তামাশায় মগ্ন। তিনি 'আল-খালি' (উচ্ছৃঙ্খল) নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি বনু আব্বাসের একদল খলিফার সহচর ছিলেন, যাদের মধ্যে আল-আমিন, আল-মু'তাসিম, আল-ওয়াসিক ও আল-মুতাওয়াক্কিল অন্যতম। আল-মামুনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন ছিল, কারণ তিনি তার দরবারে প্রবেশ করেননি এবং তার সাথে মেলামেশাও করেননি। এর কারণ হলো তিনি আল-আমিনের শোকগাথা লিখেছিলেন এবং তাতে বলেছিলেন:হায়! তুমি যদি আমাদের অভাব মেটানোর জন্য বেঁচে থাকতে … আর তোমার পরিবর্তে অন্য কেউ ধ্বংস হতো।তোমার মধ্যে পূর্বসূরিদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার গুণ ছিল … কিন্তু আজ তোমার পরে কোনো যোগ্য উত্তরসূরি পাওয়া দুষ্কর।যখন আল-মামুন খোরাসান থেকে বাগদাদে আসলেন, তখন তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তার কাছে সেইসব সাহিত্যিকদের নাম পেশ করা হয় যারা তার সহচর হওয়ার যোগ্য। তখন লোকেরা একদল ব্যক্তির নাম পেশ করল যাদের মধ্যে হুসাইন বিন আল-দহ্হাকের নামও ছিল। তিনি ক্ষমতাচ্যুত খলিফা মুহাম্মদের মজলিশি ছিলেন। মামুন নামগুলো পড়ছিলেন এবং যখন হুসাইনের নামে পৌঁছালেন, তখন বললেন: সে কি সেই ব্যক্তি নয় যে মুহাম্মদ সম্পর্কে বলেছিল: "তোমার পরিবর্তে অন্য কেউ ধ্বংস হতো"? আল্লাহর কসম, তার প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই এবং সে রাজপথ ছাড়া অন্য কোথাও আমার চেহারা দেখবে না! ফলে আল-মামুনের দীর্ঘ শাসনকালে তিনি রাজকীয় কোনো অনুগ্রহ লাভ করেননি। আল-মুতাওয়াক্কিলের খিদমতের সময় তিনি বার্ধক্যের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং খিদমত থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাকে লিখেন:আমি অতীতে তোমার পূর্বপুরুষদের খিদমতে … একষট্টি বছর কাটিয়েছি।আমি পঁচিশ বছরের যুবক ছিলাম এবং এখন … আশি বছরেরও বেশি বয়স পূর্ণ করেছি।আমি আমার শারীরিক শক্তি হ্রাসের জন্য সুপরিচিত … যদিও আমি মাঝে মাঝে ধৈর্য ধারণ করার ভান করি।আমি আমার বার্ধক্য সত্ত্বেও … ত্রিশোর্ধ্ব যুবকদের খিদমতের গুরুদায়িত্ব বহন করেছি।আমার শক্তি ভেঙে পড়েছে, হাড় দুর্বল হয়ে গেছে … এবং অসুস্থতায় আমি আজাউনের মতো হয়ে গেছি।আমি ভয় পাচ্ছি যে মৃত্যু দ্রুত আমাকে সেই পথে নিয়ে যাবে … যা চিকিৎসকদেরও অক্ষম করে দেয়।তিনি যে 'আজাউন' (عزون)-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি ছিলেন আল-মু'তাসিমের একজন সহচর, পরবর্তীতে তিনি আল-মুতাওয়াক্কিলেরও সহচর হন।এই আজাউন উল্লেখ করেছেন যে: আমরা আল-মু'তাসিমের সাথে তার কোনো এক প্রমোদভ্রমণে ছিলাম। আমাদের একটি নদী পার হওয়ার প্রয়োজন হলো। আমাদের সাথে হুসাইন বিন আল-দহ্হাকও ছিলেন। তিনি প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন। তখন আল-মু'তাসিম দয়াপরবশ হয়ে তার বাহু ধরলেন এবং ঘোড়ার জিন থেকে টেনে তুলে তাকে নদী পার করে দিলেন।হুসাইন কিশোর দাসদের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই অভ্যাস ছাড়েননি।আল-মুতাওয়াক্কিল বলেন: হুসাইন আমাকে তার এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:তুমি যদি চাইতে তবে তা সহজ হতো … যেমন তোমার নাম রাখা হয়েছে 'ইউসর' (সহজ)।আল্লাহর কসম, আমি সরব না … যতক্ষণ না এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।হয় প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা … অথবা দান ও কৃতজ্ঞতা।তোমার সেই প্রতিশ্রুতির কথা বাদ দাও … যখন সময় তোমার অনুকূলে ছিল।বল, কোনটি ঘটবে? তিনি বললেন: দান ও কৃতজ্ঞতা।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال أبو عبد الله بن حمدون: كنا عند المتوكل في يوم نوروز، والهدايا تعرض عليه، وفيها تماثيل من عنبر. وكان شفيع الخادم واقفاً، وعليه أقبية موردة ورداء مورد، وهو فيها من أحسن الناس وجهً. فجعل المتوكل يدفع إلى شفيع قطعةً قطعة من ذلك العنبر، ويقول: ادفعها إلى حسين، واغمز يده فيفعل ذلك. وكان آخر ما دفع إليه وردة حمراء حياه بها، فأنشأ يقول:وكالوردة البيضاء حيا بأحمر … من الورد يسعى في غلائل كالوردله عبثات عند كل تحية … بكفيه تستدعي الخليّ إلى الوجدتمنيت أن أُسقى بكفيه شربةً … تذكرني ما قد نسيت من العهدسقى الله دهراً لم أبت فيه ليلةً … من الدهر إلا من حبيب على وعدفأمره المتوكل أن يسقيه، وقال: قد أعطيناك أمنيتك.وكان حسين ينادم صالح بن الرشيد، فشرب معه مرة في متنزه بباري، وهي من أعمال كلواذا. وكان له هناك بستان حسن جليل وسوره باق إلى الآن وآثاره. وقال يصف البستان وصبوحهم فيه، وهي من مليح شعره:أما ناجاك بالنظر الفصيح … وإنّ إليك من قلب قريح؟فليتك حين تهجره ضراراً … مننت عليه بالقتل المريحبحسنك كان أول حسن ظني … أما ينهاك حسنك عن قبيح؟وما ينفكّ متّهماً لنصحي … بنفسي نفس متهم نصيحأحبّ الفيء من نخلات باري … وجوسقها المشيّد بالصفيحويعجبني تناوح أيكتيها … إليّ بريح حوذان وشيحولن أنسى مصارع للسكارى … ونادبة الحمام على الطلوحوكأس في يمين عقيد ملكٍ … تزين صفاته غرر المديحصريح مدامة هويت صريحاً … وهل تزري الصريحة بالصريحألا يا عمرو، هل لك في الصبوح … هلم إلى صفية كل روحفقام على تخاذل مقلتيه … وسلسل بالسنيح وبالبريحوأتبع سكرةً سلفت بأُخرى … وخلّى الصحو للّحز الشحيحوذكر عمرو بن بانة، قال: كنا عند صالح بن الرشيد في بستانه هذا، ومعنا الحسين بن الضحاك، وحولنا من النرجس أمر عظيم، وقد طلع القمر على الشجر والنور، ووقتنا من أحسن وقت رئي، وخادم لصالح كان يحبه يسقيه. فقال للحسين: قل في مجلسنا هذا شيئاً يتغنى به ابن بانة وأشار إلى الخادم، فقال:وصف البدر حسن وجهك حتى … خلت أني وما أراك أراكاوإذا ما تنفس النرجس الغ … ض توهمته نسيم نشاكاخدع للمنى تعللني في … ك بإشراق ذا وبهجة ذاكالأدومنّ ما حييت على الود … لهذا وذاك إذ حكياكاقال عمرو: فغنيت فيه. ومر لنا أطيب وقت وأحسنه! قال الحسين بن الضحاك: كنت جالساً في داري يوم وشك، وقد أفطر المأمون، وأمر الناس بالافطار. فجاءتني رقعة الحسن بن رجاء، يقول فيها:هززتك للصبوح وقد نهاني … أمير المؤمنين عن الصياموعندي من بنات الكرخ عشر … تطيب بها مصافحة المدامومن أمثالهن إذا انتشينا … نرانا نجتني ثمر الحرامفكنت أنت الجواب، فليس شيء … أحب إلي من حذف الكلامفوردت علي رقعته، وقد أرسل إلي محمد بن الحرث بن بسخنر غلاماً له، نظيف الوجه كان يتحظاه، ومعه ثلاثة غلمان أقران حسان الوجوه، ورقعة منشورة قد ختم أسفلها مثل المناشير، فيها:سر على اسم الله يا أح … سن من غصن لجينفي ثلاث من بني الرو … م إلى دار حسينأشخص الكهل إلى مو … لاك يا قرّة عينيأره العنف إن استع … صى وطالبه بدينودع اللفظ وخاطب … هـ بغمز الحاجبينواحذر الرجعة من وج … هك في خفّي حنينفمضيت مع غلام بن الحرث، وتركت المضي إلى الحسن.دير قوطا
আবু আবদুল্লাহ ইবনে হামদুন বলেন: আমরা নওরোজের দিনে আল-মুতাওয়াক্কিলের নিকট উপস্থিত ছিলাম। উপহারসমূহ তাঁর সম্মুখে পেশ করা হচ্ছিল, যার মধ্যে আম্বরের তৈরি কিছু প্রতিকৃতিও ছিল। শাফী' নামক খাদেম দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর পরিধানে ছিল গোলাপী রঙের আলখাল্লা এবং গোলাপী চাদর; তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুদর্শন চেহারার অধিকারী। আল-মুতাওয়াক্কিল সেই আম্বরের এক একটি টুকরো শাফী'কে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "এটি হুসাইনকে দাও এবং তার হাত টিপে দাও।" শাফী' তাই করছিলেন। সর্বশেষ যে জিনিসটি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তা ছিল একটি লাল গোলাপ, যা দিয়ে তিনি তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। তখন তিনি (হুসাইন) এই কবিতাটি পাঠ করলেন:শুভ্র গোলাপের ন্যায় সে রক্তিম গোলাপ দিয়ে অভিবাদন জানালো … সেই গোলাপের মাঝে সে গোলাপের ন্যায় পাতলা বসন পরে বিচরণ করছে।প্রতিটি অভিবাদনের সময় তার চঞ্চল চপলতা … তার দুই হাতের ইশারায় নিরাসক্ত হৃদয়কে অনুরাগের দিকে আহ্বান করে।আমি কামনা করেছিলাম যে তার দুই হাত থেকে এমন এক ঢোক পান করি … যা আমাকে সেই বিস্মৃত প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।আল্লাহ সেই সময়কে সিক্ত করুন, যখন আমার প্রতিটি রাত … অতিবাহিত হতো কেবল প্রেমাস্পদের মিলনের প্রতীক্ষায়।অতঃপর আল-মুতাওয়াক্কিল তাকে পান করানোর নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: "আমরা তোমার মনোবাসনা পূর্ণ করলাম।"হুসাইন সালিহ বিন আর-রশিদের সতীর্থ হিসেবে সময় অতিবাহিত করতেন। একবার তিনি তাঁর সাথে বারিতে অবস্থিত একটি বিনোদন কেন্দ্রে পানাহার করেন, যা কুলওয়াযার অন্তর্গত ছিল। সেখানে তাঁর একটি অতি সুন্দর ও বিশাল বাগান ছিল, যার প্রাচীর ও ধ্বংসাবশেষ আজও বিদ্যমান। বাগানের বর্ণনা এবং সেখানে তাঁদের প্রাতঃকালীন পানীয় গ্রহণের বর্ণনায় তিনি বলেন, যা তাঁর চমৎকার কবিতাগুলোর অন্যতম:সে কি তার স্পষ্ট দৃষ্টি দিয়ে তোমার সাথে সংলাপে লিপ্ত হয়নি … যখন একটি ব্যথিত হৃদয় তোমার দিকে নিবিষ্ট ছিল?হায়! তুমি যখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে বর্জন করলে … তখন যদি তাকে একটি আরামদায়ক মৃত্যু দিয়ে অনুগ্রহ করতে!তোমার সৌন্দর্যের কারণেই আমার ধারণা সুপ্রসন্ন হয়েছিল … তোমার সৌন্দর্য কি তোমাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে না?সে আমার উপদেশের ব্যাপারে সর্বদা সন্দেহ পোষণ করে … আমার প্রাণের কসম, সে এক সংশয়বাদী সৎ উপদেশদাতা।আমি বারির খেজুর গাছের ছায়া … এবং এর টিন দিয়ে নির্মিত সুউচ্চ প্রাসাদকে ভালোবাসি।এর কুঞ্জবনের হাওদাজ ও শিহ বৃক্ষের সুগন্ধযুক্ত বাতাসের … পরস্পর দোলা আমাকে বিমোহিত করে।আমি মাতালদের লুটিয়ে পড়ার স্থানগুলো কখনো ভুলব না … এবং তালহ বৃক্ষের উপর কপোতীর বিলাপকেও না।আর রাজকীয় গৌরবের অধিকারীর দক্ষিণ হস্তের সেই পানপাত্র … যার গুণাবলীকে অত্যুজ্জ্বল প্রশংসা অলঙ্কৃত করে।বিশুদ্ধ শরাব, যা আমি অকৃত্রিমভাবে ভালোবেসেছি … আর অকৃত্রিম কি কখনো অকৃত্রিমকে কলঙ্কিত করে?ওহে আমর! প্রাতঃকালীন পানীয় গ্রহণে তোমার কি কোনো আগ্রহ আছে? … এসো প্রতিটি আত্মার নির্মলতার দিকে।অতঃপর সে তার অবশ চোখের পলক নিয়ে উঠে দাঁড়ালো … এবং শুভ ও অশুভ লক্ষণকে শৃঙ্খলিত করল।সে পূর্ববর্তী মাতালতাকে পরবর্তী নেশা দিয়ে অনুসরণ করল … আর সচেতনতাকে কৃপণ ও সংকীর্ণমনাদের জন্য ছেড়ে দিল।আমর ইবনে বানাহ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমরা সালিহ বিন আর-রশিদের এই বাগানে উপস্থিত ছিলাম, আমাদের সাথে হুসাইন ইবনুল দাহহাকও ছিলেন। আমাদের চারপাশে প্রচুর নার্গিস ফুল ছিল। গাছের ওপর এবং ফুলের ওপর চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের সেই মুহূর্তটি ছিল দেখা সেরা সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। সালিহর এক প্রিয় খাদেম তাকে পান করাচ্ছিল। তিনি হুসাইনকে বললেন: "আমাদের এই মজলিসে এমন কিছু বলো যা ইবনে বানাহ গেয়ে শোনাবে" এবং তিনি খাদেমের দিকে ইশারা করলেন। তখন হুসাইন বললেন:পূর্ণিমার চাঁদ তোমার সুন্দর চেহারার বর্ণনা দিয়েছে, যার ফলে … আমার ধারণা হয়েছে যে আমি তোমাকে না দেখেও যেন দেখছি।আর যখন সতেজ নার্গিস ফুল সুবাস ছড়ায় … তখন আমি তাকে তোমার নিশ্বাসের সুগন্ধ বলে ভ্রম করি।এগুলো কামনার ছলনা যা আমাকে তোমার কথা ভেবে সান্ত্বনা দেয় … চাঁদের ঔজ্জ্বল্য আর ফুলের স্নিগ্ধতার মাধ্যমে।যতদিন বেঁচে থাকব আমি এদের প্রতি অনুরাগ বজায় রাখব … যেহেতু এরা তোমারই সাদৃশ্য বহন করে।আমর বলেন: আমি তাতে সুরারোপ করে গাইলাম। আমাদের সময়টি অত্যন্ত চমৎকার ও আনন্দদায়কভাবে কাটল! হুসাইন ইবনুল দাহহাক বলেন: আমি একদিন আমার ঘরে বসে ছিলাম, তখন আল-মামুন রোজা ভাঙার (ঈদের) ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং মানুষকে ইফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় হাসান বিন রাজার একটি চিরকুট আমার কাছে এল, যাতে লেখা ছিল:আমি তোমাকে প্রাতঃকালীন পানীয়ের জন্য অনুপ্রাণিত করেছি, যদিও … আমিরুল মুমিনিন আমাকে রোজা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।আমার কাছে কারখের দশজন সুন্দরী রমণী রয়েছে … যাদের সাহচর্যে শরাবের স্বাদ আনন্দদায়ক হয়।আমরা যখন নেশাগ্রস্ত হই, তখন তাদের মতো সঙ্গিনীরা থাকলে … মনে হয় যেন আমরা নিষিদ্ধ ফল আহরণ করছি।তুমিই ছিলে আমার এই আহ্বানের উত্তর, কারণ আমার কাছে … কথার সংক্ষেপ করার চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই।যখন তাঁর চিরকুট আমার কাছে পৌঁছাল, তখন মুহাম্মদ ইবনুল হারিস ইবনে বাখতুনুর তাঁর এক গোলামকে আমার কাছে পাঠালেন; সে ছিল অত্যন্ত সুদর্শন এবং তাঁর প্রিয়পাত্র। তার সাথে সমবয়সী আরও তিনজন সুন্দর চেহারার গোলাম ছিল। সাথে ছিল একটি খোলা পত্র যার নিচে পরোয়ানার মতো সীলমোহর ছিল, তাতে লেখা ছিল:আল্লাহর নামে যাত্রা করো হে রৌপ্য-শাখার … চেয়েও অধিক সুন্দর সত্তা।রোমান বংশোদ্ভূত তিন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে … হুসাইনের গৃহের দিকে চলো।সেই বৃদ্ধকে তোমার মনিবের কাছে নিয়ে এসো … হে আমার নয়নমণি।সে যদি অবাধ্যতা করে তবে কঠোরতা দেখাও … এবং তার কাছে দেনা দাবি করো।বাক্যালাপ বর্জন করো এবং তার সাথে … ভ্রূ-পল্লবের ইশারায় কথা বলো।সাবধান! তোমার চেহারা যেন ফিরে না আসে … ব্যর্থ মনোরথ হয়ে রিক্ত হস্তে।অতঃপর আমি ইবনুল হারিসের গোলামের সাথে চলে গেলাম এবং হাসানের কাছে যাওয়া বর্জন করলাম।দাইর ক্বুতা
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وهذا الدير بالبردان، على شاطىء دجلة. وبين البردان وبغداد بساتين متصلة ومتنزهات متتابعة. منها إلى بلشكر، ثم إلى المحمدية، ثم إلى الطولوني الصغير، ثم إلى الطولوني الكبير، ثم إلى البردان. كل ذلك بساتين وكروم وشجر ونخل.والبردان، من المواضع الحسنة، والبقاع النزهة والأماكن الموصوفة. وهي كثيرة الطراق والمتنزهين.وهذا الدير بها. وهو يجمع أحوالاً كثيرة، منها: عمارة البلد، وكثرة فواكهه، ووجود جميع ما يحتاج إليه فيه؛ ومنها أن الشراب هناك مبذول، والحانات كثيرة؛ ومنها أن في هذا الموضع ما يطلبه أهل البطالة والخلاعة من الوجوه الحسان، والبقاع الطيبة النزهة، فليس يكاد يخلو.ولعبد الله بن العباس بن الفضل بن الربيع، فيه:يا دير قوطا، لقد هيجت لي طربا … أزاح عن قلبي الأحزان والكرباكم ليلة فيك واصلت السرور بها … لما وصلت لها الأدوار والنخبافي فتية بذلوا في القصف ما ملكوا … وانفقوا في التصابي المال والنشباوشادن ما رأت عيني له شبهاً … في الناس، لا عجماً منهم ولا عرباًإذا بدا مقبلاً، ناديت: واطربا! … وإن مضى معرضاً، ناديت: واحربا!أقمت بالدير حتى صار لي وطناً … من أجله، ولبست المسح والصلباوصار شماسه لي صاحباً وأخاً … وصار قسيسه لي والداً وأباظبي، لواحظه في العاشقين ظبى … فمن دنا منه مغتراً، بها ضرباإن سمته الوصل أبدى جفوة ونبا … أو سمته العطف ولى معرضاً وأبىوإن شكوت إليه طول هجرته … وما ألاقيه من إبعاده قطباوالله، لو سامني نفسي سمحت بها … وما بخلت عليه بالذي طلباوكان عبد الله هذا، من الأدباء الظرفاء، وكان صاحب غزل ومجون، كثير التطرح في الديارات والحانات، والاتباع لأهل اللهو والخلاعة! وله شعر مليح يغنى فيه ويتغنى هو أيضاً فيه وفي غيره.وقال له محمد بن عبد الملك الزيات يوماً: أنشدني من شعرك. قال: وما قدر شعري، أيها الوزير؟ قال: ألست الذي يقول:وشادن رام، إذ مرّ … في الشعانين، قتلييقول لي: كيف أصبح … ت؟ كيف يصبح مثلي؟من يقول هذا، يقول ما مقدار شعري؟ قال: وكان عبد الله تعشق عساليج، جارية عمته رقية، فقالت له بذل الكبيرة: أرني عساليج، فإما عذرتك وإما عذلتك! قال: فدعاها إلى منزله، وحضرت بذل، فابتدت عساليج، فغنت:أأن خنتم بالغيب عهدي فما لكم … تدلون إدلال المقيم على العهدصلوا وافعلوا فعل المدلّ بوصله … وإلا، فصدوا وافعلوا فعل ذي الصدفأتت فيه بكل شيء حسن. فقال لبذل: كيف ترين يا ستي؟ فقطعت عساليج الغناء، وقالت: يا عبد الله، تشاور فيّ؟ فوالله ما شاورت فيك حين وددتك! فنعرت بذل وقالت: ايه! أحسنت والله يا صبية! ولو لم تحسني شيئاً ولا كانت فيك خصلة تحمد، لوجب أن تعشقي لهذه الكلمة؛ أحسنت والله؟ ثم قالت: أحسنت والله يا عبد الله، عذرتك! ومن شعر عبد الله:اسقني الراح، قد خلعت العذارا … وتحملت فيك قالاً وقيلااسقني طارد الهموم ولا تم … زج منه الغداة إلا قليلاومن شعره:يا حبذا يومي بالدالية … نشربها قفصيّةً صافيهمع كل قرم متلفٍ ماله … لم تبق في الدنيا له باقيهفخذ من الدنيا ولذاتها … فإنما نحن بها عاريهقال: وكتب عبد الله إلى صديق له يدعوه: جعلت فداك، أنا وقلم، وأنت أعلم! وكان عبد الله يعشق جارية نصرانية ويهيم بها. فله فيها:فتنتنا صورة في بيعة … فتن الله الذي صورّهازادها الناقش في تحسينها … أنه إذ صاغها نصّرهاوله فيه لحن.وكانت مصابيح، جارية الأحدب المقين، تغني بهذا الصوت، وتغني في كثير من شعره. وكانت أروى الناس له وأعرفهم بغنائه. وكانت موصوفة بالحسن والاحسان. وكان عبد الله يهواها.ومما غنت فيه من شعر عبد الله:
এই বারদান মঠটি দজলা নদীর তীরে অবস্থিত। বারদান ও বাগদাদের মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ অবিচ্ছিন্ন বাগান এবং পর্যায়ক্রমিক প্রমোদোদ্যান দ্বারা পরিবেষ্টিত। এর মধ্যবর্তী স্থানগুলো হলো বালশকর, তারপর আল-মুহাম্মাদিয়া, তারপর ছোট তুলুনি, তারপর বড় তুলুনি এবং সবশেষে বারদান। এই পুরো এলাকাই বাগান, দ্রাক্ষাকুঞ্জ, বৃক্ষরাজি এবং খেজুর গাছে ঘেরা।বারদান অত্যন্ত মনোরম এক স্থান, স্নিগ্ধ জনপদ এবং অত্যন্ত সুখ্যাত এলাকা। এখানে পথচারী এবং ভ্রমণপিপাসুদের প্রচুর আনাগোনা থাকে।এই মঠটি সেখানেই অবস্থিত। এটি বহুবিধ বৈশিষ্ট্যের আধার, যেমন: জনপদের সমৃদ্ধি, ফলের প্রাচুর্য এবং প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের সহজলভ্যতা। এছাড়া সেখানে শরাব অত্যন্ত সুলভ এবং পানশালার আধিক্য রয়েছে। এর পাশাপাশি এই স্থানে রূপবান ব্যক্তিদের সমাবেশ এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান, যা অলস ও আমোদপ্রিয় মানুষদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু; ফলে এই স্থানটি কখনোই লোকশূন্য থাকে না।আবদুল্লাহ ইবনে আল-আব্বাস ইবনে আল-ফজল ইবনে আল-রাবি এই মঠ সম্পর্কে বলেছেন:ওহে কূতা মঠ, তুমি আমার হৃদয়ে এমন এক উন্মাদনা জাগিয়েছ … যা আমার অন্তর থেকে সকল দুঃখ ও বেদনা দূর করে দিয়েছে।তোমার বুকে কত রাত আমি নিরবচ্ছিন্ন আনন্দে কাটিয়েছি … যখন সুরের মূর্ছনা আর সুরাপাত্রের আবর্তন আমাতে এসে পৌঁছেছিল।এমন একদল যুবকের মাঝে যারা আমোদ-প্রমোদে নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে … এবং যৌবনের চপলতায় অর্থ-সম্পদ ও প্রতিপত্তি ব্যয় করেছে।সেখানে ছিল এক কিশোর হরিণশাবক, যার সমতুল্য মানুষ আমি দেখিনি … অনারব কিংবা আরবদের মাঝেও নয়।সে যখন সম্মুখে আসত, আমি আনন্দে চিৎকার করে উঠতাম … আর সে যখন বিমুখ হয়ে চলে যেত, আমি শোকে আর্তনাদ করতাম।আমি এই মঠেই অবস্থান করলাম যতক্ষণ না এটি আমার আবাসস্থলে পরিণত হলো … তার খাতিরে আমি কম্বল ও ক্রুশ পরিধান করলাম।সেখানকার পরিচারক আমার সঙ্গী ও ভাই হয়ে গেল … আর সেখানকার পুরোহিত আমার পিতাতুল্য অভিভাবক হয়ে উঠল।সে এমন এক হরিণশাবক, যার দৃষ্টি প্রেমিকের হৃদয়ে তলোয়ারের মতো বিঁধে … যে কেউ মোহিত হয়ে তার কাছে যায়, সে এই দৃষ্টির আঘাতে আহত হয়।যদি আমি তার কাছে মিলন প্রার্থনা করি, সে বিমুখতা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করে … আর যদি দয়া ভিক্ষা করি, সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অস্বীকার করে।যদি তার কাছে দীর্ঘ বিচ্ছেদের অভিযোগ করি … এবং তার দূরত্বের কারণে আমি যা সহ্য করছি তা জানাই, সে ভ্রুকুটি করে।আল্লাহর কসম, সে যদি আমার প্রাণও চাইত, আমি তা বিলিয়ে দিতাম … সে যা চেয়েছে, তাতে আমি কার্পণ্য করতাম না।এই আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত রুচিশীল ও রসিক সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি প্রণয়গীতি ও আমোদ-প্রমোদে আসক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মঠ ও পানশালায় ঘুরে বেড়াতেন। তিনি ভোগবিলাসী ও আমোদপ্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করতেন। তাঁর বেশ চমৎকার কিছু কবিতা রয়েছে যার সুরারোপ করা হয়েছে এবং তিনি নিজেও সেই কবিতাগুলো ও অন্যান্য গীতি গাইতেন।মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-মালিক আল-যাইয়্যাত তাঁকে একদিন বললেন: আপনার কিছু কবিতা আমাকে শোনান। তিনি বললেন: হে উজির, আমার কবিতার মূল্যই বা কতটুকু? তিনি বললেন: আপনি কি সেই ব্যক্তি নন যে বলেছিল:এক কিশোর হরিণশাবক লক্ষ্যভেদ করেছিল, যখন সে … পাম রবিবার (শা'নিন) উৎসবে পথ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে আমাকে প্রায় হত্যাই করেছিল।সে আমাকে জিজ্ঞেস করে: তোমার সকাল কেমন কাটল? … আমার মতো মানুষের সকালই বা কেমন হতে পারে?যে ব্যক্তি এমন কথা বলতে পারে, সে কীভাবে বলে যে তার কবিতার মূল্য কতটুকু? বর্ণনাকারী বলেন: আবদুল্লাহ তাঁর ফুফু রুকাইয়্যার দাসী আসালীজের প্রেমে পড়েছিলেন। তখন বিখ্যাত গায়িকা বযল তাঁকে বললেন: আমাকে আসালীজকে দেখাও, হয় আমি তোমার পক্ষ নেব নতুবা তোমাকে তিরস্কার করব। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আবদুল্লাহ আসালীজকে তাঁর বাড়িতে দাওয়াত করলেন এবং বযলও সেখানে উপস্থিত হলেন। আসালীজ গান শুরু করলেন:তোমরা যদি অগোচরে আমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই করে থাকো, তবে কেন … প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারীর মতো দম্ভ প্রকাশ করছ?হয় সম্পর্ক বজায় রাখো এবং মিলনকামীর মতো আচরণ করো … অন্যথায় বিচ্ছেদ ঘটানো ব্যক্তির মতোই দূরত্ব বজায় রাখো।আসালীজ গানটিতে পূর্ণ মাধুর্য ঢেলে দিলেন। আবদুল্লাহ তখন বযলকে বললেন: হে আমার কর্ত্রী, আপনার কী মনে হয়? আসালীজ গান থামিয়ে বললেন: হে আবদুল্লাহ, আপনি কি আমার ব্যাপারে অন্যের পরামর্শ নিচ্ছেন? আল্লাহর কসম, আমি যখন আপনাকে ভালোবেসেছিলাম তখন তো কারও পরামর্শ নিইনি! তখন বযল চেঁচিয়ে উঠলেন এবং বললেন: সাবাস! আল্লাহর কসম হে কিশোরী, তুমি চমৎকার বলেছ! তোমার যদি আর কোনো গুণ নাও থাকত, তবুও কেবল এই একটি কথার জন্যই তোমাকে ভালোবাসা উচিত ছিল। আল্লাহর কসম, তুমি ঠিক বলেছ! তারপর বযল বললেন: আবদুল্লাহ, তুমি ঠিকই করেছ, আমি তোমাকে সমর্থন দিচ্ছি। আবদুল্লাহর কবিতার আরও কিছু অংশ:আমাকে শরাব পান করাও, আমি তো লজ্জার আবরণ ত্যাগ করেছি … আর তোমার কারণে লোকলজ্জা ও মানুষের সমালোচনা সহ্য করেছি।দুশ্চিন্তা দূরকারী শরাব আমাকে পান করাও এবং ভোরে … এতে সামান্যর বেশি পানি মিশিও না।তাঁর আরও কবিতা:দালিয়াতে কাটানো আমার দিনগুলো কতই না চমৎকার ছিল … সেখানে আমরা স্বচ্ছ কাফসি শরাব পান করতাম।এমন এক সর্দারের সাথে যে তার সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে … দুনিয়াতে যার কিছুই অবশিষ্ট নেই।অতএব এই দুনিয়া ও তার স্বাদ গ্রহণ করে নাও … কারণ আমরা এখানে কেবল স্বল্প সময়ের অতিথি মাত্র।বর্ণনাকারী বলেন: আবদুল্লাহ তাঁর এক বন্ধুকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে লিখেছিলেন: আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, আমি এবং আমার কলম (প্রস্তুত), আর আপনি তো সবই জানেন! আবদুল্লাহ এক খ্রিস্টান দাসীর প্রেমে পড়েছিলেন এবং তার বিরহে উন্মাদপ্রায় ছিলেন। তাকে নিয়ে তাঁর কবিতা:এক গির্জার প্রতিমূর্তি আমাদের মোহিত করেছে … আল্লাহ সেই সত্তাকে মুগ্ধ করুন যিনি এর রূপ দান করেছেন।চিত্রকর এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই কারণে যে … সে যখন এটি নির্মাণ করছিল, তখন তাকে খ্রিস্টান রূপ দিয়েছিল।এই কবিতার একটি সুরও রয়েছে।আল-আহদাব আল-মুকাইনের দাসী মাসাবিহ এই সুরে গান গাইতেন এবং আবদুল্লাহর অনেক কবিতায় সুর দিতেন। তিনি ছিলেন আবদুল্লাহর কবিতার প্রধান বর্ণনাকারী এবং তাঁর গান সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। তিনি তাঁর রূপ ও গুণের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং আবদুল্লাহ তাঁকে ভালোবাসতেন।আবদুল্লাহর যে সমস্ত কবিতা তিনি গেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ألا اصبحاني يوم الشعانين … من قهوة عتقت بكركينعند أُناس قلبي بهم كلفٌ … وإن تولوا ديناً سوى دينيولعبد الله في مصابيح، وكان قال هذا الشعر وغنى فيه وهي حاضرة، فأخذته عنه، وغنت فيه أيضاً متيم الهشامية.إني عشقت عدوةً … فسقى الاله عدوتيوفديتها بأقاربي … وبأسرتي وبجيرتيجدلت كجدل الخيزرا … ن وثنيّت فتثنّتواستيقنت أن الفؤا … د يحبها فأدلّتقال: وغاضب مصابيح عبد الله بن العباس في شيء بلغها عنه. فرام أن يترضاها، فأبت. فكتب إليها رقعة، يحلف فيها أنه ما أتى شيئاً مما أنكرته، ويدعو على من ظلم. فلم تجبه عن شيء مما كتبه، ووقعت تحت الدعاء: على الظالم. آمين ولم تزد على ذلك. فكتب إليها:أما سروري بالجوا … ب فليس يفنى ما بقيناوأسرُّ حرف فيه لي … آمين ربّ العالميناومن شعره:ذهبٌ في ذهب را … ح به غصن لجينفأتت قرة عين … بيدي قرّة عينقمر يحمل شمساً … مرحباً بالنّييرينالفا سكرين الفي … ن معاً مؤتلفينلا جرى بيني ولا بي … نهما طائر بينبل غنينا ما بقينا … أبداً معتنقينفي صبوح وغبوق … لم نبع نقداً بديندير مرجرجسهذا الدير بالمزرفة. وهو أحد الديارات والمواضع المقصودة. والمتنزهون من أهل بغداد يخرجون إليه دائماً في السميريات، لقربه وطيبه. وهو على شاطىء دجلة. والعروب بين يديه، والبساتين محدقة به، والحانات مجاورة له. وكل ما يحتاج إليه المتنزهون فحاضر فيه.والمزرفة، من أحسن البلاد عمارة، وأطيبها بقعة، وبها من البساتين ما ليس ببلد من البلدان.ولأبي جفنة القرشي فيه، وكان من الخلعاء ومدمني الشرب والمتطرحين في الديارات والحانات. ولم يكن يخلو من غلمان مرد، بعضهم يخدمه، وبعضهم يغنيه:ترنم الطير بعد عجمته … وانحسر البرد في أزمّتهوأقبل الورد والبهار إلى … زمان قصف يمشي برمتهما أطيب الوصل إن نجوت فما … يلسعني هجره بحمّتهومثل لون النجيع صافية … تذهب بالمرء فوق همتهنازعتها من سداؤه أبداً … في العشق والفسق مثل لحمتهفي دير مرجرجس وقد نفح ال … فجر علينا أرواح زهرتهأريد منه وليس يمنعني … من ذلك الشيء غير حشمتهوفي بميعاده وزورته … وكنت أوفى له بذمتهومن مليح شعره:ومعرّس طلب الصبوح وإنني … لفتىً يوافقني الصبوح بكوراوقرعت صافيةً بماء سحابة … فنتجن حين قرعتهن سرورافشربت ثم سقيته فكأنما … سبسبت فوق لهاته كافوراوفتىً يدير عليك في طرباته … خمراً تولّد في العظام فتوراوإذا رشفت شفتيك رضابها … كتب العقار بحسن وجهك نوراما زلت أشربها وأسقي صاحبي … حتى رأيت لسانه مكسورامما تخيّرت التجار ببابل … أو ما تعتّقه اليهود بسوراوله:ومزورّ وجهٍ لم ير الناس مثله … أدرت عليه الكأس لما تغضّبايؤاخذني إن رمت في الخد قبلة … ويعرض عني كلما قلت: مرحباولولا الذي يرتجّ تحت إزاره … لألسعته مني، إذ صد، عقرباأدرت عليه قهوة بابليةً … تريك حميّاها على الكاس كوكباإذا شجّها الساقي بماء تدرّعت … على المزج سربالاً من الدرّ مذهباوللنميري، فيه:نزلت بمرماجرجس خير منزل … ذكرت به أيّام لهو مضين ليتكنّفنا فيه السرور وحفنا … فمن أسفل يأتي السرور ومن عل
ওহে, আমাকে পাম সানডে-র ভোরে পান করাও … কারকিনের সেই সুরা যা প্রাচীন করা হয়েছে।এমন এক কওমের কাছে যাদের প্রতি আমার হৃদয় আসক্ত … যদিও তারা আমার ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্ম অনুসরণ করে।মাসাবিহ-এর বিষয়ে আব্দুল্লাহর কিছু কবিতা ছিল; তিনি যখন এই কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন এবং গেয়েছিলেন, তখন মাসাবিহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি তার কাছ থেকে এটি শিখেছিলেন এবং মুতায়্যিম আল-হাশেমিয়াও এটি গেয়েছিলেন।আমি এক শত্রুনীকে ভালোবেসেছি … সুতরাং আল্লাহ যেন আমার সেই শত্রুনীকে সুধাপান করান।আমি তার জন্য উৎসর্গ করেছি আমার নিকটজনদের … আমার পরিবার এবং আমার প্রতিবেশীদের।সে বাঁশের কঞ্চির মতো সুঠাম দেহী … তাকে নোয়ানো হলে সে নুইয়ে পড়ে।সে নিশ্চিত হয়েছিল যে আমার হৃদয় … তাকেই ভালোবাসে, তাই সে মান-অভিমান করতে লাগল।তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আল-আব্বাস সম্পর্কে কোনো এক সংবাদ মাসাবিহ-এর কাছে পৌঁছালে সে তার ওপর রাগান্বিত হলো। আব্দুল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করতে চাইলেন, কিন্তু সে অস্বীকার করল। তখন তিনি তার কাছে একটি পত্র লিখলেন, যাতে তিনি শপথ করলেন যে সে যা অপছন্দ করে এমন কিছু তিনি করেননি এবং তিনি জালেমের ওপর বদদোয়া করলেন। সে তার চিঠির কোনো উত্তর দিল না, তবে দুআর নিচে লিখে দিল: ‘জালেমের ওপর (অভিশাপ হোক)। আমিন।’ সে এর বেশি কিছু লিখল না। তখন তিনি তাকে লিখলেন:তোমার উত্তরের কারণে আমার যে আনন্দ … তা আমরা যতদিন বেঁচে থাকব ফুরিয়ে যাবে না।আর সেখানে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় অক্ষরটি হলো … ‘আমিন রাব্বুল আলামিন’।তার আরও কিছু কবিতা:স্বর্ণের ভেতর স্বর্ণ যা নিয়ে এসেছে … রূপার এক ডাল।নয়ন জুড়ানো এক জন এলো … নয়ন জুড়ানো একজনের হাত ধরে।চন্দ্র যেন সূর্যকে বহন করছে … এই দুই জ্যোতিষ্কের প্রতি স্বাগতম।এক জোড়া মাতাল বন্ধু যেন … একত্রে মিলেমিশে আছে।আমার ও তাদের মাঝে যেন … বিচ্ছেদের কোনো অশুভ পাখি না ওড়ে।বরং আমরা যেন অবশিষ্ট জীবন … সর্বদা পরস্পর আলিঙ্গনবদ্ধ থাকি।প্রাতঃকালীন ও সান্ধ্যকালীন সুরাপানে … আমরা বাকিতে নগদের সওদা করিনি।মার জিরজিস মঠএই মঠটি মুজরাফায় অবস্থিত। এটি অন্যতম জনপ্রিয় মঠ ও দর্শনীয় স্থান। বাগদাদের প্রমোদভ্রমণকারীরা এর নৈকট্য ও মনোরম পরিবেশের কারণে সর্বদা সামিরিয়াত নৌকায় চড়ে সেখানে যাতায়াত করে। এটি দজলা নদীর তীরে অবস্থিত। এর সামনে খোলা প্রান্তর, চারপাশ বাগানে ঘেরা এবং এর পাশেই পানশালাসমূহ অবস্থিত। প্রমোদভ্রমণকারীদের যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই সেখানে বিদ্যমান।মুজরাফা হলো স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অন্যতম সুন্দর শহর এবং স্থানের দিক থেকে অত্যন্ত মনোরম। সেখানে এমন সব বাগান রয়েছে যা অন্য কোনো শহরে নেই।সেখানে আবু জাফনা আল-কুরাশিও উপস্থিত থাকতেন; তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিলাসী, মদ্যপানে আসক্ত এবং মঠ ও পানশালাগুলোতে পড়ে থাকতেন। তার সাথে সর্বদা কিছু কিশোর ভৃত্য থাকত, যাদের কেউ তার সেবা করত এবং কেউ তাকে গান শোনাত:পাখি তার অস্ফুট সুরের পর কলকাকলি শুরু করেছে … আর শীত তার লাগাম গুটিয়ে বিদায় নিয়েছে।গোলাপ ও বাহারি ফুল এমন এক আমোদ-প্রমোদের সময়ের দিকে … এগিয়ে এসেছে যা তার পূর্ণ মহিমায় চলছে।মিলন কতই না মধুর! যদি আমি রক্ষা পাই তবে তার … বিচ্ছেদ যেন আমাকে তার বিষ দিয়ে দংশন না করে।তাজা রক্তের রঙের ন্যায় স্বচ্ছ মদিরা … মানুষকে তার সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়।আমি এমন একজনের সাথে তা পান করেছি যার অস্তিত্ব … প্রেম ও পাপাচারের বুননে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।মার জিরজিস মঠে, যখন ভোর আমাদের ওপর … তার প্রস্ফুটিত পুষ্পের সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছিল।আমি তার কাছে যা চাই, তার লজ্জা ও সংকোচ ছাড়া … অন্য কিছুই আমাকে তা থেকে বিরত রাখতে পারে না।সে তার প্রতিশ্রুতি ও সাক্ষাৎ পূরণ করেছে … আর আমি তার দেওয়া আমানতের প্রতি অধিক অনুগত ছিলাম।তার চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:কতই না সরাইখানায় অবস্থানকারী প্রাতঃকালীন মদ্যপান প্রত্যাশা করে, আর আমি … তো সেই যুবক যে কাকডাকা ভোরে মদ্যপানে সম্মত হয়।আমি মেঘের জল দিয়ে স্বচ্ছ মদিরাকে আঘাত করলাম … ফলে যখন আমি সেগুলোকে আঘাত করলাম তখন তা আনন্দের জন্ম দিল।আমি পান করলাম অতঃপর তাকে পান করালাম, যেন আমি … তার আলজিহ্বার ওপর কর্পূর ঢেলে দিলাম।এমন এক যুবক যে তোমার আনন্দের মুহূর্তে এমন … সুরা পরিবেশন করে যা হাড়ের ভেতরে শিথিলতা তৈরি করে।যখন তুমি তার অধর থেকে লালারস চুষে নাও … তখন সেই সুরা তোমার সুন্দর মুখমণ্ডলে নূর লিখে দেয়।আমি নিজে পান করছিলাম এবং আমার সঙ্গীকে পান করাচ্ছিলাম … যতক্ষণ না দেখলাম তার জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে গেছে।ব্যাবিলনের বণিকদের বাছাইকৃত মদ্য হতে … অথবা সুরা-র ইহুদিদের কাছে যা প্রাচীনকাল থেকে সংরক্ষিত।তার আরও কবিতা:এক বিমুখ মুখচ্ছবি, যার মতো মানুষ দেখেনি … সে যখন রাগান্বিত হলো তখন আমি তার দিকে মদের পেয়ালা বাড়িয়ে দিলাম।আমি তার গণ্ডদেশে চুম্বনের ইচ্ছা করলে সে আমাকে পাকড়াও করে … আর আমি যখনই তাকে ‘স্বাগতম’ বলি সে মুখ ফিরিয়ে নেয়।তার ইজারের নিচে যা কম্পমান তা যদি না থাকত … তবে সে যখন বিমুখ হয়েছিল তখন আমি তাকে বৃশ্চিকের ন্যায় দংশন করতাম।আমি তাকে ব্যাবিলনীয় সুরা পান করালাম … যার তেজ পেয়ালার ওপর নক্ষত্রের মতো প্রতিভাত হয়।যখন সাকি তাতে পানি মেশায়, তখন তা মিশ্রণের ফলে … মুক্তাখচিত স্বর্ণালি পোশাক পরিধান করে।এই মঠ সম্পর্কে আল-নুমায়রির কবিতা:আমি মার জিরজিস-এ অবতীর্ণ হলাম যা সর্বোত্তম আবাস … সেখানে আমার ফেলে আসা আমোদ-প্রমোদের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।আনন্দ আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল এবং আমাদের ঘিরে রাখল … নিচ থেকে এবং ওপর থেকে আনন্দ আসতে লাগল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسالمت الأيام فيه وساعفت … وصارت صروف الحادثات بمعزليدير علينا الكأس ظبيٌ مقرطق … يحثّ بها كأساتها ليس يأتليفيا عيش ما أصفى، ويا لهو دم لنا، … ويا وافد اللذّات حيّيت فانزلوهو أبو الطيب، محمد بن القاسم النميري. وكان من أهل الأدب والفضل، مليح الشعر، رقيق الطبع. وكانت له حال ونعمة. وكان يكثر الشرب في الديارات والحانات، ويلذ له ذلك.وكان عبد الله بن المعتز، يأنس به ولا يفارقه، وكانت تجري بينهما مكاتبات ومناقضات في الشعر ومداعبات طيبة. ونحن نذكر منها: قال عبد الله بن المعتز: كتب إلي النميري يوماً، وقد دعوته:رأيتك تدعوني إلى الشرب معتماً … وتقطع عني الشرب والليل ممتعفأما شربت الراح ليلك كلّه … وإما شربت الراح والشمس تلمعفأيهما آثرت وفيت حقّه … وذاك الذي تهواه شرب مخلعقال: وكتبت إليه في يوم عيد، ولم يكن جاءني ذلك اليوم:بأبي، هلا حلا بعينك شيء … هو أسلاك، يا خليلي، بعديطعم كأسي مرٌّ، إذا لم تزرني … وهو حلوٌ، إذا رأيتك عنديفكتب إلي:سيدي أنت لم تردني فماذا … حيلتي إذ بليت منك بصدّيعلم الله ما أُقاسيه من شو … قي ومن حسرتي وغمي ببعديقال عبد الله، وكتبت إليه مرة أدعوه، فكتب إلي: عندي قوم، ولعلي أتخلص منهم. وعلق الوعد. فكتبت إليه:يا من يسوّف وعدي … لو شئت جئت بمرّهفاسقط علينا سقوطاً … ولا ترفرف لغدرهفإن ضبطت بساقي … ك بعد هذي المرّهلأحبسنّك عندي … على أذىً ومضرهقال عبد الله: وكتب إلي النميري في آخر شعبان:يا أبا العباس، قد ش … مّر شعبان إزارهومضى يسعى فما يل … حق إنسان غبارهفاغد نشرب صفوة الدّ … نّ ونسلبه وقارهوإذا ما ذكر العق … ل شربنا يا دكارهقال: وكتب إلي، وقد تأخر اجتماعنا:بكم الموت في الجماعة خيرٌ … من حياةٍ في وحشة وانفرادعرّفوني اجتماعهم يومهم ذا … واستبدّوا عليّ في الميعادوالحريري رأسهم وبحسبي … بالحريري رأس كلّ فسادإن رأى قينةً تحرك للعش … ق وأرخى جناحه للسفادوتصدى لها وحرّك عطفي … هـ وراقت لشهوة الأولادفاعتذرت إليه، وسألته المصير إلينا، فجاءنا.قال عبد الله: وكتب إلي:إذا غبت لم أُطلب، وإن جئت لم أصل … وللعتب أولى بي ولست بعاتبسأصبر للشوق المبرّح كارها … وأرقب يوماً صالحاً في العواقبوما كل من صاحبته مثل قاسم … فقسه وفكّر في سبيل الذواهبقال وكتب إلي في يوم خميس صمته:أبا العباس يا خير الأنام … تصوم، وليس ذا يوم الصيامفهل لك في مدام أخ ظريف … يساعد في الحلال وفي الحرام؟قال: كتب إلي النميري، يستبطىء رسولي ويعتذر من تأخره عني ويذكر أنه اشتغل بعمارة بستانه. فأجبته: أما ما ذكرت من تأخر رسولي عنك للسؤال عن خبرك في هذه الأيام والتفقد لك، فإني رأيتك قلبت قول القائل: خذ اللص من قبل أن يأخذك! وإلا، فما قصرت في السؤال عنك والبعثة إليك. ولكن ما أقول لمن نكس عليله فلم يعده؟ واشتاق إليه فم يزره؟ مشتغلاً بطروق الحانات والديارات، وركوب الزلالات، ومغازلة القيان، ومعاقرة ابنة الدنان، جامعاً بين طرفي نهاره بغبوق لا يهدأ سامره، وصبوح لا يفتر باكره، في عسكري لهو: واحد يخبط الماء بمجاذيفه، وآخر يقرع الأرض بخببه ووجيفه. وسألت عن خبري في هذه الأمطار، فما عسيت أن أقول في المنة الواجب لله تعالى الشكر عليها، إذ تخطتنا بعد أن سلت سيفها وخفنا حيفها.قال عبد الله: وكتب إلي النميري:أميرٌ كنت أرجوه لدهري … إذا ما ناب بالخطب الجليل
দিনগুলো তাতে আমার অনুগত ও সহায় হয়েছিল … আর ভাগ্যবিপর্যয়ের ঘটনাগুলো দূরে সরে গিয়েছিল।কানে দুল পরা এক হরিণশাবক আমাদের মাঝে পানপাত্র ঘুরিয়ে দিচ্ছিল … সে অবিরামভাবে পানপাত্রগুলো পূর্ণ করে দিচ্ছিল।হে জীবন, তুমি কতই না নির্মল! হে আমোদ-প্রমোদ, আমাদের জন্য স্থায়ী হও! … হে সুখের আগন্তুক, তোমাকে অভিবাদন, তুমি অবতরণ করো।তিনি হলেন আবু আল-তৈয়িব, মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-নুমাইরি। তিনি সাহিত্য ও ফযিলতের অধিকারী ছিলেন, তাঁর কবিতা ছিল চমৎকার এবং স্বভাব ছিল কোমল। তাঁর অবস্থা ও সম্পদ ছিল সচ্ছল। তিনি মঠ ও পানশালাগুলোতে প্রচুর পান করতেন এবং এতে আনন্দ পেতেন।عبدالله বিন আল-মু'তায তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁকে ছেড়ে থাকতেন না। তাঁদের মধ্যে পত্রবিনিময়, কাব্যিক বিতর্ক এবং সুন্দর কৌতুক চলত। আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করছি: আবদুল্লাহ বিন আল-মু'তায বলেন: আমি একদিন নুমাইরিকে দাওয়াত দিলে তিনি আমাকে লিখেছিলেন:আমি দেখলাম তুমি আমাকে অন্ধকারে পানের দাওয়াত দিচ্ছ … অথচ রাত যখন উপভোগ্য তখন তুমি আমার পান করা বন্ধ করে দিচ্ছ।হয় তুমি তোমার সারা রাত শরাব পান করো … না হয় যখন সূর্য চকচক করে তখন শরাব পান করো।তুমি এর মধ্যে যেটিকে পছন্দ করবে তার হক আদায় করো … আর তোমার সেই আকাঙ্ক্ষিত পান হলো বেপরোয়া মানুষের পানের মতো।তিনি বলেন: আমি তাকে ঈদের দিনে লিখেছিলাম, কারণ সেদিন তিনি আমার কাছে আসেননি:আমার পিতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক, তোমার চোখে কি অন্য কিছু মিষ্টি মনে হলো … যা তোমাকে আমার থেকে ভুলিয়ে রাখল, হে আমার বন্ধু?আমার পানপাত্রের স্বাদ তেতো হয়ে যায়, যখন তুমি আমার সাথে দেখা করো না … আর যখন আমি তোমাকে আমার কাছে দেখি, তখন তা মিষ্টি হয়ে যায়।তখন তিনি আমাকে লিখে পাঠালেন:আমার মণিভ, আপনি তো আমাকে চাননি, তাহলে আমার কী উপায় … যখন আমি আপনার পক্ষ থেকে বিমুখতায় আক্রান্ত হলাম?আল্লাহ জানেন আমি আমার এই দূরত্বের কারণে কী পরিমাণ আকাঙ্ক্ষা … আক্ষেপ ও দুঃখ সহ্য করছি।আবদুল্লাহ বলেন, আমি তাকে একবার দাওয়াত দিয়ে লিখেছিলাম, তখন তিনি আমাকে লিখেছিলেন: আমার কাছে একদল লোক আছে, সম্ভবত আমি তাদের থেকে মুক্তি পাব। তিনি ওয়াদাকে ঝুলিয়ে রাখলেন। তখন আমি তাকে লিখলাম:হে ব্যক্তি যে আমার ওয়াদাকে বিলম্বিত করছ … তুমি চাইলে একবারের জন্যও আসতে পারতে।তাই তুমি আমাদের ওপর হঠাৎ এসে পড়ো … আর বিশ্বাসভঙ্গের জন্য ডানা ঝাপটিও না।যদি এইবারের পর তোমাকে তোমার পায়ের নলার দ্বারা ধরতে পারি …তবে আমি তোমাকে কষ্ট ও ক্ষতির বিনিময়ে হলেও … আমার কাছে আটকে রাখব।আবদুল্লাহ বলেন: শাবান মাসের শেষে নুমাইরি আমাকে লিখেছিলেন:হে আবু আল-আব্বাস, শাবান মাস তার লুঙ্গি গুটিয়ে নিয়েছে …আর সে দ্রুত চলে যাচ্ছে যে তার ধূলিকণাও কেউ ধরতে পারছে না …তাই সকালেই এসো, আমরা মদের মটকার স্বচ্ছ পানীয় পান করি এবং এর গাম্ভীর্য কেড়ে নিই …আর যদি কখনো বিবেক-বুদ্ধির কথা মনে পড়ে, তবে আমরা তা স্মরণ করে পান করব …তিনি বলেন: তিনি আমাকে লিখেছিলেন যখন আমাদের সাক্ষাৎ বিলম্বিত হয়েছিল:তোমাদের সাথে জামাতে মৃত্যুও ভালো … একাকী ও নির্জনে বেঁচে থাকার চেয়ে।তারা তাদের আজকের সমাবেশের কথা আমাকে জানাল … এবং সাক্ষাতের সময়ের ব্যাপারে আমার সাথে একগুঁয়েমি করল।হারিরি হলো তাদের নেতা, আর আমার মতে … হারিরিই হলো সকল অনিষ্টের মূল।সে যদি কোনো গায়িকাকে প্রেমের ভঙ্গিতে নড়াচড়া করতে দেখে … তবে সে মিলনের আকাঙ্ক্ষায় নিজের ডানা মেলে দেয়।সে তার দিকে মনোযোগী হয় এবং নিজের কাঁধ দোলায় … আর এটি সন্তানদের কামনার জন্য সুন্দর মনে হয়।আমি তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলাম এবং তাঁকে আমাদের কাছে আসার অনুরোধ করলাম, ফলে তিনি আসলেন।আবদুল্লাহ বলেন: তিনি আমাকে লিখেছিলেন:আমি অনুপস্থিত থাকলে কেউ আমাকে খোঁজে না, আর আসলে আমি পৌঁছাতে পারি না … আমি অভিযোগ পাওয়ার যোগ্য অথচ আমি অভিযোগকারী নই।আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ধৈর্য ধারণ করব … এবং পরিণামে একটি ভালো দিনের অপেক্ষায় থাকব।তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব করেছ তাদের সবাই কাসিমের মতো নয় … তাই তাকে তুলনা করো এবং বিগত পথগুলোর কথা চিন্তা করো।তিনি বলেন, আমি এক বৃহস্পতিবার রোজা রেখেছিলাম, সেদিন তিনি আমাকে লিখেছিলেন:হে আবু আল-আব্বাস, হে সৃষ্টির সেরা … তুমি রোজা রেখেছ অথচ এটি রোজার দিন নয়।তোমার কি এমন এক রসিক ভাইয়ের শরাবের প্রতি আগ্রহ আছে … যে হালাল ও হারামে সাহায্য করে?তিনি বলেন: নুমাইরি আমাকে লিখেছিলেন, যেখানে তিনি আমার দূতের বিলম্বের অনুযোগ করেছিলেন এবং আমার কাছে আসতে দেরি হওয়ার ওজর পেশ করেছিলেন; আর উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি তাঁর বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন। আমি তাকে উত্তর দিয়েছিলাম: এই দিনগুলোতে তোমার খবর নেওয়ার এবং তোমার খোঁজ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার দূতের বিলম্বের বিষয়ে তুমি যা উল্লেখ করেছ, তাতে আমি দেখলাম তুমি সেই প্রবাদের মতো কথা বলছ: 'চোর তোমাকে ধরার আগে তুমি চোরকে ধরো!' অন্যথায়, তোমার খবর নেওয়া বা তোমার কাছে লোক পাঠানোর ব্যাপারে আমি কোনো কমতি করিনি। কিন্তু আমি তাকে কী বলব, যে নিজের অসুস্থ বন্ধুর যত্ন নেয় না? এবং যার প্রতি আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও তার সাথে দেখা করে না? বরং পানশালা ও মঠগুলোতে যাতায়াত করা, নৌকা ভ্রমণে মত্ত থাকা, গায়িকাদের সাথে প্রেমালাপ করা এবং মদের মটকার কন্যার সাথে সময় কাটানোতে ব্যস্ত থাকে; যে তার দিনের দুই প্রান্তকে সান্ধ্যকালীন পানে একত্র করে যার আড্ডা থামে না, এবং প্রভাতী পানে যার শুরু আলস্যহীন, আনন্দ-উল্লাসের এক বাহিনীর মধ্যে: যার একজন বৈঠা দিয়ে পানিতে আঘাত করছে, আর অন্যজন ঘোড়ার দ্রুত বা ধীর গতির পদধ্বনি দিয়ে মাটি কাঁপাচ্ছে। তুমি এই বৃষ্টির সময় আমার খবরের বিষয়ে জানতে চেয়েছ, তাই আল্লাহ তাআলার যে নেয়ামতের শোকর আদায় করা ওয়াজিব সে বিষয়ে আমি আর কী বলতে পারি, যখন তা তরবারি কোষমুক্ত করার পর আমাদের এড়িয়ে চলে গেছে এবং আমরা তার অবিচারের আশঙ্কা করেছিলাম।আবদুল্লাহ বলেন: নুমাইরি আমাকে লিখেছিলেন:তিনি এমন এক আমির ছিলেন যাঁকে আমি আমার সময়ের জন্য আশা করতাম … যখন কোনো মহান বিপদ আপতিত হতো।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مرضت، فلم يعدني من سقامي … وتاه عن العيادة والرسولوما بي حاجة تدعو إلى ما … أذلّ به لذي النبل المنيلولا لمتوّج بالملك يزهى … إذا ما كنت أقنع بالقليلفكتبت إليه رقعة، في أخرها:في كل يوم طاعة وعصيان … ومللٌ وملقٌ وهجرانخلائق كأنهمّ غيلانقال: ودعوته ليوم أسميته، فتأخر رسولي عنه، فكتب إلي:دعوتنا وبدا لك … نك في استه من وفى لكقال: وكتب إلي النميري:برّح بي الشوق إلى الشرب … مع سيّد يهرب من قربيولم أكن أعهده جافياً … فصار يجفوني بلا ذنبوالله، ما أعرف لي عنده … ذنباً، سوى الافراط في الحبوأنني ما سؤته ساعةً … في حاضر الجدّ ولا اللعبفكتب إليه:يا أيها الجافي ويستجفى … ليس تجنّيك من الظرفإنك والشوق إلينا كمن … يُؤمن بالله على حرفمحوت آثارك من ودّنا … غير أساطيرك في الصّحفوإن تجشمت لنا زورةً … يوماً، تحاملت على ضعفقال، وكتب إلي:أتيتك مسروراً فطاب لي الشّرب … ونالت مناها عندك العين والقلبفجارت عليّ الكأس حتى هجرتها … ثلاثة أيام كما استوجب الذّنبفكتبت إليه:علام هجرت الكأس إذ جار حكمها … ولا لهو إلا أن تكون، فما الذنبأدام لك الله السرور ودام لي … بك العيش والنّعماء واتصل القربقال عبدا لله: بعثت إلي النميري يوم جمعة رسولاً، وقلت له: إركب معنا إلى الصلاة، فوجده الرسول قد اصطبح. فقال له: قل له: أنا أصلي مذ صلاة الغداة. فكتبت إليه:يا من يصلي صلاةً … فيها لابليس طاعهإن كنت تقبل شكري … فالشكر في ذا رقاعه!قال: وكتبت إليه وقد اعتللت، فلم يعدني:الحمد لله حتى أنت تجفوني … بعد الصفاء جفاء ليس بالدّونقد كنت منتظراً هذا فجئت به … وليس خلقٌ على غدر بمأمونفكتب يعتذر بشغل له واعتلال مركبه. فكتبت إليه:لا تعتذر! قد عرفنا … ك سوف تفعل فعلكذكرت شغلاً، فهلاّ … جعلتني بعض شغلك؟أو لم يكن لك عيرٌ … فكت تركب نعلكقال: فكتب إلي:إن كنت أذنبت ذنباً … فقد وثقت بفضلكوقد أتيتك مشياً … كما قضيت بعدلكوجاءني ماشياً.قال النميري: كان عبد الله بن المعتز، يعيب العشق كثيراً، إلى أن صار يقول: هو طرف من الحمق، وإذا رأى منا مطرقاً أو مفكراً، اتهمه بهذا المعنى ويقول: وقعت يا فلان، وقل عقلك وسخفت! إلى أن رأيناه قد حدث به سهو شديد وفكر دائم، إلى أن كانت تبدر منه الأبيات في معنى العشق. فمرة يقول:أسر الحبّ أميرا … لم يكن قبل أسيرافارحموا ذلّ عزيزٍ … صار عبداً مستجيراومرة يقول:عقل المحبّ ساهي … في قلبه الدواهيفقلت: جعلني الله فداك! هذه أشياء قد كنت تعيب أمثالها منا، ونحن ننكرها الآن منك! فيرجع تصنعاً، ثم لا يلبث أن تبدر منه بادرة. فقال مرة:مكتوم يا أحسن خلق الله … لا تتركيني هكذا باللهثم تنفس، فقلت:قد ظفر العشق بعبد الله … وانهتك الستر بحمد اللهفقل له: سمّ لنا، بالله، … هذا الذي تهوى، بحق الله!فضحك وقال: لا، ولا كرامة، فكتبت إليه من غد:بكت عينه وشكا حرقةً … من الوجد في القلب ما تنطفيفقلت له: سيدي، ما الذي … أرى بك؟ قال: سقامٌ خفيفقلت: أعشقٌ؟ فقال: اقتصر … على ما تراه، أما تكتفي؟فكتب إلي:يا من يحدّث عنّي … بظنّ سمع وعينإن كنت تخطب سري … فارجع بخفّي حُنينفكتبت إليه:هيهات حظّك واللّ … هـ أن تبوح بعشقك
আমি অসুস্থ হলাম, কিন্তু সে আমার অসুস্থতায় আমাকে দেখতে এল না … এবং সে সেবা ও বার্তাবাহক পাঠানো থেকে বিমুখ রইল।
আমার এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা আমাকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করবে … যার দ্বারা আমি কোনো দানশীল মহানুভব ব্যক্তির কাছে নিজেকে হীন করব।
আর না কোনো মুকুটধারী রাজার কাছে যে দম্ভ করে … যখন আমি অল্পতেই তুষ্ট থাকি।
অতঃপর আমি তাকে একটি পত্র লিখলাম, যার শেষে ছিল:
প্রতিদিন আনুগত্য ও অবাধ্যতা … ক্লান্তি, তোষামোদ ও বিচ্ছেদ।
এমন স্বভাব যেন তারা প্রেতাত্মা।
তিনি বললেন: আমি তাকে একটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য দাওয়াত দিলাম, কিন্তু আমার বার্তাবাহক তার কাছে পৌঁছাতে দেরি করল, ফলে সে আমাকে লিখল:
আপনি আমাদের দাওয়াত দিলেন আর আপনার কাছে প্রকাশ পেল … যে আপনার সাথে ওয়াদা রক্ষা করেছে সে যেন তার পশ্চাদ্দেশেই আছে।
তিনি বললেন: নুমাইরি আমাকে লিখলেন:
পান করার আকাঙ্ক্ষা আমাকে ব্যাকুল করেছে … এমন এক নেতার সাথে যিনি আমার নৈকট্য থেকে পালিয়ে বেড়ান।
আমি তাকে রূঢ় হিসেবে জানতাম না … কিন্তু তিনি কোনো অপরাধ ছাড়াই আমার সাথে রূঢ় আচরণ করতে লাগলেন।
আল্লাহর কসম, তার কাছে আমার কোনো অপরাধ জানা নেই … ভালোবাসায় বাড়াবাড়ি করা ছাড়া।
আর আমি এক মুহূর্তের জন্যও তাকে কষ্ট দেইনি … না গুরুত্বের সাথে, না ঠাট্টা-তামাশায়।
অতঃপর তিনি তাকে লিখলেন:
হে রূঢ় ব্যক্তি যার সাথে রূঢ়তা করা হয় … তোমার এই অপবাদ দেওয়া কোনো সৌজন্যের অংশ নয়।
আমাদের প্রতি তোমার অনুরাগ যেন সেই ব্যক্তির মতো … যে আল্লাহর প্রতি দ্বিধার সাথে ঈমান এনেছে।
আমাদের ভালোবাসা থেকে তোমার চিহ্নসমূহ আমি মুছে ফেলেছি … কাগজে লেখা তোমার উপকথাগুলো ছাড়া।
আর তুমি যদি কোনোদিন আমাদের সাথে সাক্ষাতের কষ্ট স্বীকার করো … তবে তা দুর্বলতার সাথেই বহন করবে।
তিনি বললেন, তিনি আমাকে লিখলেন:
আমি আনন্দিত চিত্তে তোমার কাছে এলাম, ফলে পানীয় আমার কাছে তৃপ্তিকর হলো … আর তোমার কাছে চোখ ও হৃদয় তাদের আকাঙ্ক্ষা খুঁজে পেল।
কিন্তু পানপাত্র আমার ওপর এমন প্রভাব ফেলল যে আমি তা বর্জন করলাম … তিন দিন পর্যন্ত, যেমনটি অপরাধের প্রাপ্য ছিল।
অতঃপর আমি তাকে লিখলাম:
কেন তুমি পানপাত্র ত্যাগ করলে যখন তার প্রভাব প্রবল হলো … তুমি না থাকলে তো কোনো আনন্দই নেই, তবে অপরাধ কিসের?
আল্লাহ তোমার আনন্দ চিরস্থায়ী করুন, আর তোমার মাধ্যমে আমার জীবন … ও নিআমতসমূহ অব্যাহত থাকুক এবং নৈকট্য অটুট থাকুক।
আব্দুল্লাহ বললেন: আমি জুমার দিনে নুমাইরির কাছে একজন বার্তাবাহক পাঠালাম এবং তাকে বললাম: আমাদের সাথে সওয়ার হয়ে নামাজে চলো। বার্তাবাহক তাকে পেল যে সে সকাল বেলাতেই মদ্যপান করেছে। সে বলল: তাকে বলো: আমি সকালের নামাজ থেকেই নামাজ পড়ছি। তখন আমি তাকে লিখলাম:
হে ওই ব্যক্তি যে এমন নামাজ পড়ে … যাতে ইবলিসের আনুগত্য রয়েছে।
তুমি যদি আমার কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করো … তবে এই ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তো মূর্খতা!
তিনি বললেন: আমি অসুস্থ অবস্থায় তাকে লিখলাম, অথচ সে আমাকে দেখতে আসেনি:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, এমনকি তুমিও আমার সাথে রূঢ়তা করছ … নিবিড় বন্ধুত্বের পর এই রূঢ়তা সামান্য নয়।
আমি এরই অপেক্ষায় ছিলাম এবং তুমি তা-ই করলে … বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষেত্রে কোনো সৃষ্টিই নিরাপদ নয়।
অতঃপর সে তার ব্যস্ততা এবং তার সওয়ারি অসুস্থ হওয়ার অজুহাতে ক্ষমা চেয়ে লিখল। তখন আমি তাকে লিখলাম:
ওজর পেশ করো না! আমরা জেনে গেছি … যে তুমি তোমার স্বভাব অনুযায়ী কাজ করবে।
তুমি ব্যস্ততার কথা বললে, তবে কেন … আমাকে তোমার সেই ব্যস্ততার কিছুটা অংশ করলে না?
তোমার যদি কোনো সওয়ারি না-ই থাকত … তবে তো তুমি তোমার জুতোয় সওয়ার হয়ে আসতে পারতে।
তিনি বললেন: অতঃপর সে আমাকে লিখল:
আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি … فقد وثقت بفضلك
আর আমি আপনার কাছে হেঁটেই এসেছি … যেমনটি আপনি আপনার ইনসাফ দ্বারা ফয়সালা করেছেন।
এবং সে আমার কাছে হেঁটেই এল।
নুমাইরি বললেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতায প্রেমের খুব নিন্দা করতেন, এমনকি তিনি বলতেন: এটি বোকামির একটি অংশ। আমাদের কাউকে মাথা নিচু করে থাকতে বা চিন্তিত দেখলে তিনি এই অর্থেই সন্দেহ করতেন এবং বলতেন: ওহে অমুক, তুমি তো প্রেমে পড়েছ, তোমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং তুমি নির্বোধ হয়ে গেছ! শেষ পর্যন্ত আমরা তাকেই দেখলাম যে তার মধ্যে চরম অন্যমনস্কতা এবং নিরন্তর চিন্তা ভর করেছে, এমনকি তার থেকে প্রেমের অর্থবোধক কবিতা প্রকাশিত হতে লাগল। কখনো তিনি বলতেন:
প্রেম এমন এক আমিরকে বন্দী করেছে … যে ইতিপূর্বে কখনো বন্দী ছিল না।
অতএব এই সম্মানিত ব্যক্তির হীন অবস্থার প্রতি দয়া করো … যে আশ্রয়প্রার্থী দাসে পরিণত হয়েছে।
আর কখনো বলতেন:
প্রেমিকের বুদ্ধি বিভ্রমগ্রস্ত … তার হৃদয়ে মহা বিপদ।
আমি বললাম: আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! এগুলো তো এমন বিষয় যার জন্য আপনি আমাদের নিন্দা করতেন, আর আজ আমরা আপনার মধ্যে এগুলো অপছন্দ করছি! তখন তিনি কৃত্রিম গাম্ভীর্য অবলম্বন করতেন, কিন্তু পরক্ষণেই আবার তার থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেয়ে যেত। একবার তিনি বললেন:
হে মাকতূম! হে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ রূপবতী … আল্লাহর কসম, আমাকে এভাবে ফেলে রেখো না।
অতঃপর তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, তখন আমি বললাম:
প্রেম আব্দুল্লাহর ওপর বিজয়ী হয়েছে … আর আল্লাহর প্রশংসায় পর্দা উন্মোচিত হয়েছে।
তাকে বলো: আল্লাহর দোহাই, আমাদের কাছে নাম প্রকাশ করো … আল্লাহর কসম, তুমি কাকে ভালোবাসো!
তিনি হাসলেন এবং বললেন: না, কোনো সম্মান নেই। অতঃপর আমি পরদিন তাকে লিখলাম:
তার চক্ষু ক্রন্দন করল এবং সে দহনজ্বালার অভিযোগ করল … হৃদয়ের এমন অনুরাগ যা নির্বাপিত হয় না।
আমি তাকে বললাম: আমার মনিব, আমি আপনার মাঝে কী দেখছি? … তিনি বললেন: এক গোপন অসুস্থতা।
আমি বললাম: এটি কি প্রেম? তিনি বললেন: যা দেখছ … তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকো, এটুকুই কি যথেষ্ট নয়?
অতঃপর তিনি আমাকে লিখলেন:
ওহে যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে কথা বলো … দেখা ও শোনার ধারণার বশবর্তী হয়ে।
তুমি যদি আমার গোপন কথা জানতে চাও … তবে তুমি হুনায়নের চর্মপাদুকা নিয়েই ফিরে যাও।
অতঃপর আমি তাকে লিখলাম:
অসম্ভব! আল্লাহর কসম, তোমার ভাগ্যে নেই … যে তুমি তোমার প্রেমের কথা প্রকাশ করবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
دع عنك خُفي حنينٍ … واحرص على حلّ ريقكتعال نحتال فيما … تهوى برفقي ورفقكثم صرت إليه. فأخبرني بقصته، فسعيت له بلطف الحيلة، وأعانني بحزم الرأي، إلى أن فاز بالظفر وأدرك البغية.دير باشهراوهذا الدير على شاطىء دجلة، بين سامراء وبغداد. وهو دير حسن، عامر، نزه، كثير البساتين والكروم. وهو أحد المواضع المقصودة والديارات المشهورة. والمنحدرون من سر من رأى، والمصعدون إليها، ينزلونه. فمن جعله طريقاً، بات فيه وأقام به إن طاب له. ومن قصده، أقام الأيام في ألذ عيش وأطيبه، وأحسن مكان وأنزهه! ولأبي العيناء فيه، وكان نزله وأقام به أياماً، واستطابه، وقال فيه:نزلنا دير باشهرا … على قسيسه، ظُهراعلى دين أيسوع … فما أفتى وما أسرافأولى من جميل الفع … ل ما يستعبد الحراوسقّانا وروانا … من الصافية العذراوطاب الوقت في الدير … فرابطنا به عشراوسُقّينا به الشمس … وأُخدمنا به البدراوأحيت لذّة الكأس … ولكن قتّلت سكراونلنا كل ما نهوا … هـ من لذاتنا، جهراتصابينا، وغنّينا، … وأرغمنا به الدهرافنكنا، وتهتكنا، … ومثلي هتك الستراوقد ساعدنا ربّن … طوعاً منه، لا جبراجزاه الله عن خير … به قابلنا خيرافقد أوسعته شكرا … كما أوسعنا براوكان أبو العيناء من الطياب. وكان المتوكل يعجب بكلامه وسرعة جوابه ونوادره. وعمي على رأس أربعين سنة من عمره. ومما يدل على ذلك، قول أبي علي البصير، فيه:قد كنت خفت يد الزما … ن عليك إذ ذهب البصرلم أدر أنك بالعمى … تغنى ويفتقر البشروكان حسن الشعر، جيد العارضة، مليح الكتابة والترسل، خبيث اللسان في سب الناس والتعريض بهم.ونحن نذكر طرفاً من أخباره، بمقدار لا يخرج إلى الاطالة، ولا يخل بالشرط.قال المتوكل لأبي العيناء: ما أشد شيء مر عليك في ذهاب بصرك؟ قال: فوات رؤيتك يا أمير المؤمنين، مع إجماع الناس على جمالك.وقال له يوماً: يا محمد، إلى كم تمدح الناس وتذمهم؟ قال: ما أساءوا وأحسنوا.وقال له عبيد الله بن سليمان: قد أمرنا لك بشيء في هذا الوقت، فخذه واعذر. قال: لا أفعل، أيها الوزير! إذا كنت في النكبة تعتذر، وفي الدولة تعتذر، فتى لا تعتذر؟ وسأل صاعد بن مخلد كتاباً يكبه إلى مصر. فجعل يقول: إلى مصر يا أبا العيناء إلى مصر؟ فقال: وما استبعادك، أعزك الله، لي مصر؟ والله! لما في صناديقك أبعد علي مما في مصر! وخل إلى أبي الصقر، فقرب مجلسه وأدناه، فقال: أيها الوزير! تقريب الولي وحرمان العدو! ودخل عليه يوماً، فقال: ما أخرك عنا، أبا عبد الله؟ قال: سرق حماري! قال: وكيف سرق؟ قال: لم أكن مع اللص، فأعرف كيف سرقه! ثم جاءه بعد مدة، فقال: ما أخرك عنا أبا عبد الله؟ فقال: من العواري وذلة المكاري. فأمر له بخمسين ديناراً.قال: دخل أبو العيناء يوماً إلى محمد بن عبد الملك الزيات، فلم يرفع طرفه إليه، ولا كلمه! فقال: إن من حق نعمة الله عليك، لما أهلك له في الحال التي أنت عليها، أن تجعل البسطة لأهل الحاجة إليك خلقاً، فإن من أوحش انقبض عن المسئلة، وبكثرة السؤال مع النجح يدوم السرور، وبقضاء الحاجات تدوم النعم. فقال له محمد: إني أعرفك فضولياً كثير الكلام. ترى، إن طول لسانك يمنع من تأديبك إذ زللت؟ وأمر به إلى الحبس! فكتب إليه أبو العيناء من الحبس: قد علمت أن الحبس لم يكن لذنب تقدم إليك، ولكن أحببت أن تريني قدرتك علي، لأن كل جديد يستلذ. ولا بأس أن ترينا من عفوك ما أريتنا من قدرتك! فأمر بإطلاقه.فلقيه بعد مدة طويلة على الطريق، فحبس محمد دابته وقال: ما أراك أبا عبد الله تواصلنا بحسب انجائنا لك! فقال أبو العيناء: أما المعرفة بعنايتك فمتأكدة، ولكنني أحسب الذي جدد استبطاءك لي فراغ حبسك ممن فيه، فأردت أن تعمره بي!
হুনায়নের মোজা (বিফল মনোরথ হওয়া) ত্যাগ করো … আর তোমার তৃষ্ণা নিবারণের ব্যাপারে যত্নশীল হও।এসো, আমরা তোমার পছন্দের ব্যাপারে কৌশল অবলম্বন করি … আমার এবং তোমার কোমলতার সাথে।অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। সে আমাকে তার কাহিনী জানালো, তাই আমি তার জন্য সূক্ষ্ম কৌশলের চেষ্টা করলাম এবং সে আমাকে দৃঢ় মতামতের মাধ্যমে সাহায্য করল, অবশেষে সে বিজয় লাভ করল এবং উদ্দেশ্য হাসিল করল।বাশহরা মঠএই মঠটি দজলা নদীর তীরে সামাররা ও বাগদাদের মাঝখানে অবস্থিত। এটি একটি চমৎকার, আবাদকৃত, মনোরম মঠ, যেখানে অনেক বাগান ও আঙুর বাগান রয়েছে। এটি অন্যতম গন্তব্যস্থল এবং বিখ্যাত মঠগুলোর একটি। যারা সামাররা থেকে নিচে নামে এবং যারা সেখানে উঠে, তারা এখানে যাত্রাবিরতি করে। যারা একে পথ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা এখানে রাত কাটায় এবং ভালো লাগলে অবস্থান করে। আর যারা এখানে আসার ইচ্ছা নিয়ে আসে, তারা পরম উপভোগ্য ও উত্তম জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে এখানে দিন অতিবাহিত করে, এবং এটি অত্যন্ত সুন্দর ও নির্মল জায়গা! আবু আল-আইনা এখানে অবস্থান করেছিলেন এবং কয়েক দিন থেকেছিলেন, তিনি একে খুব পছন্দ করেছিলেন এবং এর সম্পর্কে বলেছিলেন:আমরা দুপুরে বাশহরা মঠে … এর পাদ্রীর কাছে অবতরণ করলাম।ঈসার ধর্মের ওপর … তিনি কোনো ফতোয়া দেননি এবং গোপনও করেননি।তিনি এমন সুন্দর আচরণ করলেন … যা স্বাধীন ব্যক্তিকে দাসে পরিণত করে।তিনি আমাদের পান করালেন এবং তৃপ্ত করলেন … নির্মল ও কুমারী পানীয় থেকে।মঠে সময়টি খুব ভালো কাটল … তাই আমরা সেখানে দশ দিন অবস্থান করলাম।সেখানে আমাদের সূর্য পান করানো হলো … এবং পূর্ণিমা দ্বারা আমাদের সেবা করা হলো।পানপাত্রের স্বাদ আমাদের জীবন দান করল … কিন্তু তা মাতাল করে আমাদের মেরে ফেলল।আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সব স্বাদ … প্রকাশ্যে উপভোগ করলাম।আমরা যৌবনসুলভ আচরণ করলাম, গান গাইলাম … এবং এর মাধ্যমে সময়কে বশীভূত করলাম।আমরা কামাচারে লিপ্ত হলাম, লজ্জা বিসর্জন দিলাম … আর আমার মতোই লোক পর্দা ছিন্ন করে।আমাদের প্রতিপালক আমাদের সাহায্য করেছেন … তাঁর ইচ্ছায়, বাধ্য হয়ে নয়।আল্লাহ তাকে সেই কল্যাণের প্রতিদান দিন … যার মাধ্যমে তিনি আমাদের সাথে কল্যাণের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।আমি তাকে প্রচুর কৃতজ্ঞতা জানালাম … যেমন তিনি আমাদের প্রতি প্রচুর সদাচরণ করেছেন।আবু আল-আইনা ছিলেন অত্যন্ত রসিক ও আনন্দপ্রিয় ব্যক্তি। আল-মুতাওয়াক্কিল তাঁর কথা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং হাস্যরসের প্রশংসা করতেন। তিনি চল্লিশ বছর বয়সে অন্ধ হয়ে যান। এ সম্পর্কে আবু আলী আল-বাসীরের উক্তি প্রমাণ বহন করে:যখন তোমার দৃষ্টি চলে গেল … তখন আমি তোমার ওপর কালের হাতের আক্রমণের ভয় পেয়েছিলাম।আমি জানতাম না যে তুমি অন্ধত্বের মাধ্যমে … ধনী হয়ে যাবে আর বাকি মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়বে।তিনি ভালো কবিতা লিখতেন, তাঁর বাচনভঙ্গি ছিল চমৎকার, লেখনী ও পত্ররচনার শৈলী ছিল সুন্দর; তবে মানুষের নিন্দা ও তাদের প্রতি বিদ্রূপ করার ক্ষেত্রে তাঁর জিহ্বা ছিল কটু।আমরা তাঁর খবরের কিছু অংশ উল্লেখ করব, যা খুব দীর্ঘ হবে না এবং আমাদের শর্তও লঙ্ঘন করবে না।আল-মুতাওয়াক্কিল আবু আল-আইনাকে বললেন: "তোমার দৃষ্টিশক্তি হারানোতে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় কী ছিল?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার রূপ দেখার সুযোগ হারানো, যদিও সমস্ত মানুষ আপনার সৌন্দর্যের ব্যাপারে একমত।"একদিন তিনি তাঁকে বললেন: "হে মুহাম্মদ, কতদিন তুমি মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা করতে থাকবে?" তিনি বললেন: "যতদিন তারা মন্দ ও ভালো কাজ করবে।"উবাইদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান তাঁকে বললেন: "আমরা আপনার জন্য এই মুহূর্তে কিছু দেওয়ার আদেশ দিয়েছি, তা গ্রহণ করুন এবং আমাদের ওজর কবুল করুন।" তিনি বললেন: "হে উজির, আমি তা করব না! যখন আপনি বিপদে থাকেন তখনো ওজর পেশ করেন, আর যখন ক্ষমতায় থাকেন তখনো ওজর পেশ করেন; তবে কখন আপনি ওজর পেশ করবেন না?" তিনি সা'িদ ইবনে মাখলাদ-এর কাছে মিশরে পাঠানোর জন্য একটি চিঠির অনুরোধ করলেন। সা'িদ বারবার বলতে লাগলেন: "মিশরে, হে আবু আল-আইনা? মিশরে?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, মিশরকে কেন আপনি এত দূরে মনে করছেন? আল্লাহর কসম! আপনার সিন্দুকগুলোতে যা আছে তা পাওয়া আমার কাছে মিশরে যা আছে তার চেয়েও বেশি সুদূরপরাহত!" তিনি আবু আস-সাকরের কাছে গেলেন, তিনি তাঁর আসন কাছে নিলেন এবং তাঁকে কাছে বসালেন। তিনি বললেন: "হে উজির! বন্ধুর নৈকট্য দান এবং শত্রুকে বঞ্চিত করা!" একদিন তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনার আসতে দেরি হলো কেন?" তিনি বললেন: "আমার গাধাটি চুরি হয়ে গেছে!" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কিভাবে চুরি হলো?" তিনি বললেন: "আমি তো চোরের সাথে ছিলাম না যে জানব সে কিভাবে চুরি করেছে!" কিছুকাল পরে তিনি আবার এলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনার আসতে দেরি হলো কেন?" তিনি বললেন: "ধারে নেওয়া পশু আর চালকের লাঞ্ছনার কারণে।" তখন তিনি তাকে পঞ্চাশ দিনার দেওয়ার আদেশ দিলেন।বর্ণনাকারী বলেন: একদিন আবু আল-আইনা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-জাইয়াতের কাছে গেলেন, কিন্তু তিনি তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকালেন না এবং কথাও বললেন না! তিনি বললেন: "আপনার বর্তমান অবস্থায় আল্লাহ আপনাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তার হক হলো, আপনার কাছে যারা অভাবী তাদের জন্য আপনার মহানুভবতাকে স্বভাবে পরিণত করা। কারণ যার মনে ভীতি জাগে সে প্রার্থনা থেকে বিরত থাকে, আর সাফল্যের সাথে বারবার প্রার্থনার মাধ্যমে আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমে নেয়ামত অব্যাহত থাকে।" মুহাম্মদ তাকে বললেন: "আমি তোমাকে একজন অনর্থক কথা বলা লোক হিসেবে জানি। তুমি কি মনে করো তোমার দীর্ঘ জিহ্বা তোমাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করবে যখন তুমি ভুল করবে?" এরপর তিনি তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন! আবু আল-আইনা কারাগার থেকে তাকে লিখলেন: "আমি জেনেছি যে এই বন্দিত্ব আগের কোনো অপরাধের জন্য নয়, বরং আপনি আমাকে আপনার ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছেন, কারণ প্রতিটি নতুন বিষয়ই আনন্দদায়ক। আপনি আমাদের যেমন আপনার ক্ষমতা দেখিয়েছেন, তেমনি আপনার ক্ষমা দেখাতেও কোনো বাধা নেই!" তখন তিনি তাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিলেন।দীর্ঘ সময় পর রাস্তায় তাঁর সাথে দেখা হলো, মুহাম্মদ তাঁর বাহন থামালেন এবং বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি তো দেখছি না যে আমরা আপনাকে মুক্তি দেওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন!" আবু আল-আইনা বললেন: "আপনার অনুগ্রহ সম্পর্কে তো আমার জানাই আছে, তবে আমি মনে করেছি যে আপনি আমাকে নিয়ে আপনার কারাগারটি আবার পূর্ণ করতে চাচ্ছেন কারণ হয়তো তা বর্তমানে বন্দিশূন্য হয়ে পড়েছে!"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال: ودخل يوماً على رجل قد عزل عن عمل كان يتولاه. فقال: لئن قبحت عليك النعمة، لقد حسنت بك النقمة! قال: ولم ذاك؟ قال: لأني سألتك أحقر من قدرك، فرددتني بأقبح من وجهك، ثم قال:قُل لزيد بن صاعدٍ … جاءك العزل في لطففاجرع الهمّ واصطبر … فعلى ربّك الخلفأنت أيضاً إذا ولي … ت فلا تُكثر الصلفقال: اجتاز ابن بدر بأبي العيناء وهو على بابه جالس. فقال: هذا منزلك أبا عبد الله؟ قال: نعم! فإن شئت أن ترى سوء أثرك فيه، فانزل! قال: ومر بدار عبد الله بن منصور يوماً وهو مريض وقد صح، فقال لغلامه: أي شيء خبر أبي محمد؟ قال: كما تحب! قال: فما لي لا أسمع الصراخ في الدار؟ قال: وذكر أبو العيناء ميمون بن إبراهيم، فقال: لو تأمل رجل أفعاله فاجتنبها، لاستغنى عن الآداب أن يطلبها! قال أبو العيناء: قال لي محمد بن مكرم: أما تعرفني؟ قلت: بلى، ولكن معرفة أرثي لك منها! وقال له محمد بن مكرم يوماً: يا أبا عبد الله، كل شيء لك من الناس حتى أولادك! وقال أبو العيناء: رأيت ابن مكرم، فرأيت بطنه بطن حبلى، ونفسه نفس ولهى، ومخاطه مخاط ثكلى، وفي استه الداهية العظمى! وقال له ابن مكرم يوماً: يا أبا عبد الله، هو ذا تصوم معنا في هذا الشهر شيئاً، وكان شهر رمضان. فقال: وتدعنا العجوز نصوم؟ قال رجل لعبيد الله بن سليمن: إن رأيت، أعزك الله، أن تخرج لي رزقاً. فقال: ممن الرجل ليخرج الرزق على قدر ذاك. قال من ولد آدم! قال أبو العيناء: احتفظ، أعزك الله، بهذا النسب، فقد انقطع أصله! قال: اجتمع الجاحظ وأبو العيناء عند الحسن بن وهب، فقال له الجاحظ: علمت أن محمد بن عبد الله أحسن من عمرو بن بحر، وأبو عبد الله أحسن من أبي عثمان. ولكن الجاحظ أحسن من أبي العيناء. فقال أبو العيناء: هيهات! جئت إلى ما يخفى من أمورنا، ففضلتني عليك فيه، وإلى ما يعرف، ففضلت نفسك فيه. إن أبا العيناء يدل على كنية، والجاحظ يدل على عاهة! والكنية وإن سمجت، أصلح من العاهة وإن فلحت! قال أبو العيناء: عشقتني امرأة بالبصرة من غير أن تراني، وإنما كانت تسمع عذوبة كلامي. فلما رأتني استقبحتني، وقالت قبحه الله، أهذا هو؟ فكتبت إليها:ونبّئتها، لما رأتني، تنكّرت … وقالت: دميمٌ، أحولٌ، ما له جسمفإن تنكري مني احولالاً فإنني … أديب، أريب، لا عييٌّ ولا فدمفوقعت في الرقعة: يا عاض بظر أمه، لديوان الرسائل أردتك؟ ولأبي العيناء، في علي بن الجهم:أراد عليٌّ أن يقول قصيدة … بمدح أمير المؤمنين، فأذّنافقلت له: لا تعجلن بإقامة … فلست على طهرٍ، فقال: ولا أناقال أبو العيناء: أتيت عبد الله بن داود الخريبي، فسألته أن يحدثني، فاستصغرني، وقال: إذهب فتحفظ القرآن. قلت: قد حفظته. قال: إقرأ من رأس ستين من يونس، فقرأت العشر. فقال: أحسنت، إذهب فتعلم الفرائض. قلت: قد حفظتها. قال: فأيهما أقرب إليك: عمك أو ابن أخيك؟ قلت: ابن أخي. قال ولم ذاك؟ قلت: لأن هذا من ولد أبي وهذا من ولد جدي. قال: أحسنت. إذهب فتعلم العربية. قلت: قد فعلت وتعلمت منها ما فيه كفاية. قال: فلم قال عمر بن الخطاب، يعني حين طعن: يا لله، يا للمسلمين. قلت: لن الأول استغاثة، والثاني نداء. فقال: لو كنت محدثاً أحداً في سنك، لحدثتك!
তিনি বললেন: একদিন তিনি এমন এক ব্যক্তির কাছে প্রবেশ করলেন যাকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বললেন: "যদি নিয়ামত তোমার ওপর কুৎসিত হয়ে থাকে, তবে এই বিপদ তোমার ওপর সৌন্দর্য নিয়ে এসেছে!" সে বলল: "সেটা কেন?" তিনি বললেন: "কারণ আমি তোমার কাছে তোমার মর্যাদার চেয়েও নগণ্য কিছু চেয়েছিলাম, আর তুমি তোমার চেহারার চেয়েও কুৎসিতভাবে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলে।" তারপর তিনি বললেন:যায়েদ বিন সায়েদকে বলো … বরখাস্ত হওয়ার সংবাদ তোমার কাছে সদয়ভাবেই এসেছেচিন্তার ঘোট গিল এবং ধৈর্য ধরো … কেননা তোমার রবের পক্ষ থেকেই এর প্রতিদান রয়েছেতুমিও যখন কোনো দায়িত্ব লাভ করবে … তখন অধিক দম্ভ প্রদর্শন করো নাতিনি বললেন: ইবনে বদর আবু আল-আইনার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি তার দরজায় বসে ছিলেন। তিনি বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, এটি কি আপনার ঘর?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ! যদি আপনি এতে আপনার কর্মের মন্দ প্রভাব দেখতে চান, তবে ভেতরে আসুন!" তিনি বললেন: একদিন তিনি আবদুল্লাহ বিন মনসুরের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি তার ভৃত্যকে জিজ্ঞেস করলেন: "আবু মুহাম্মদের খবর কী?" সে বলল: "যেমনটি আপনি পছন্দ করেন!" তিনি বললেন: "তবে কেন আমি বাড়িতে কান্নাকাটির শব্দ শুনছি না?" তিনি বললেন: আবু আল-আইনা মায়মুন বিন ইব্রাহিমের কথা উল্লেখ করে বললেন: "যদি কোনো ব্যক্তি তার কার্যকলাপগুলো লক্ষ্য করত এবং সেগুলো পরিহার করত, তবে তার আদব-কায়দা শেখার প্রয়োজন হতো না!" আবু আল-আইনা বলেন: মুহাম্মদ বিন মাকরাম আমাকে বললেন: "তুমি কি আমাকে চেনো না?" আমি বললাম: "হ্যাঁ চিনি, তবে এমন চেনা যার জন্য আমি তোমার প্রতি সমবেদনা বোধ করি!" একদিন মুহাম্মদ বিন মাকরাম তাকে বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, মানুষের কাছে তোমার সবকিছুই আছে, এমনকি তোমার সন্তানরাও!" আবু আল-আইনা বলেন: "আমি ইবনে মাকরামকে দেখেছি, তার পেট গর্ভবতী নারীর পেটের মতো, তার দীর্ঘশ্বাস শোকাতুর হৃদয়ের মতো, তার সর্দি সন্তানহারা জননীর সর্দির মতো, আর তার পশ্চাদ্দেশ এক মহা বিপর্যয়!" একদিন ইবনে মাকরাম তাকে বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, এই মাসে কি আমাদের সাথে কিছু রোজা রাখবেন?" আর সেটি ছিল রমজান মাস। তিনি বললেন: "ঐ বৃদ্ধা কি আমাদের রোজা রাখতে দেবে?" এক ব্যক্তি উবাইদুল্লাহ বিন সুলাইমানকে বলল: "আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, যদি আপনি আমার জন্য কোনো জীবিকার ব্যবস্থা করতেন।" তিনি বললেন: "ব্যক্তিটি কোন বংশের যাতে সেই অনুযায়ী জীবিকা নির্ধারণ করা যায়?" সে বলল: "আদম সন্তানের বংশ থেকে!" আবু আল-আইনা বললেন: "আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, এই বংশটি ভালোমতো ধরে রাখুন, কারণ এর মূল তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে!" তিনি বললেন: আল-জাহিজ এবং আবু আল-আইনা হাসান বিন ওয়াহবের কাছে একত্রিত হলেন। আল-জাহিজ তাকে বললেন: "আমি জানতাম যে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আমর বিন বাহর অপেক্ষা সুন্দর এবং আবু আবদুল্লাহ আবু উসমান অপেক্ষা সুন্দর। কিন্তু জাহিজ আবু আল-আইনার চেয়েও সুন্দর।" তখন আবু আল-আইনা বললেন: "তা হতেই পারে না! আপনি আমাদের সেই বিষয়গুলোর দিকে গেলেন যা গোপন থাকে এবং সেখানে আমাকে আপনার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দিলেন, আর যা প্রকাশ্য সেখানে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব দিলেন। 'আবু আল-আইনা' তো একটি উপনাম নির্দেশ করে, কিন্তু 'জাহিজ' তো একটি শারীরিক ত্রুটি নির্দেশ করে! উপনাম কুৎসিত হলেও তা শারীরিক ত্রুটির চেয়ে উত্তম, যদিও সেই ত্রুটি প্রকাশ পেয়ে সফল হয়!" আবু আল-আইনা বলেন: বসরার এক নারী আমাকে না দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিল, কারণ সে কেবল আমার মিষ্টবাক্য শুনত। যখন সে আমাকে দেখল, তখন সে আমাকে কুৎসিত ভাবল এবং বলল: "আল্লাহ তাকে কুৎসিত করুন, এটিই কি সে?" তখন আমি তাকে লিখে পাঠালাম:যখন সে আমাকে দেখল, আমি তাকে জানালাম যে সে আমাকে অপছন্দ করেছে … এবং বলেছে: কুৎসিত, ট্যারা, তার কোনো দেহ নেইযদি তুমি আমার ট্যারা হওয়াকে অপছন্দ করো, তবে জেনে রাখো আমি … একজন পন্ডিত, বুদ্ধিমান, আমি বাকশক্তিহীন বা মূর্খ নইতখন সে চিঠির পিঠে লিখে দিল: "ওরে মায়ের যোনি কামড়ানো সন্তান, আমি কি তোকে চিঠিপত্র বিভাগ পরিচালনার জন্য চেয়েছিলাম?" আলী বিন জাহমের ব্যাপারে আবু আল-আইনা বলেন:আলী চাইলেন একটি কবিতা আবৃত্তি করতে … আমিরুল মুমিনীনের প্রশংসায়, এরপর তিনি আযান দিলেনআমি তাকে বললাম: নামায কায়েমে তাড়াহুড়ো করবেন না … কারণ আপনি পবিত্র নন। তিনি বললেন: আমিও নাআবু আল-আইনা বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবির কাছে গেলাম এবং তাকে হাদীস বর্ণনা করতে বললাম। তিনি আমাকে ছোট মনে করলেন এবং বললেন: "যাও, কুরআন মুখস্থ করো।" আমি বললাম: "আমি তা মুখস্থ করেছি।" তিনি বললেন: "ইউনুস সূরার ষাট আয়াত থেকে পড়ো।" আমি দশ আয়াত পড়লাম। তিনি বললেন: "চমৎকার, যাও ফরায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শেখো।" আমি বললাম: "আমি তাও মুখস্থ করেছি।" তিনি বললেন: "তবে তোমার নিকটাত্মীয় কে: তোমার চাচা নাকি তোমার ভাতিজা?" আমি বললাম: "আমার ভাতিজা।" তিনি বললেন: "তা কেন?" আমি বললাম: "কারণ ভাতিজা পিতার বংশধর আর চাচা দাদার বংশধর।" তিনি বললেন: "চমৎকার। যাও আরবী ভাষা শেখো।" আমি বললাম: "তাও করেছি এবং তা থেকে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করেছি।" তিনি বললেন: "তবে উমর ইবনুল খাত্তাব যখন আহত হয়েছিলেন তখন কেন বলেছিলেন: 'ইয়া আল্লাহু, ইয়া লাল-মুসলিমিন'?" আমি বললাম: "কারণ প্রথমটি সাহায্য প্রার্থনা আর দ্বিতীয়টি সম্বোধন।" তখন তিনি বললেন: "আমি যদি তোমার বয়সী কাউকে হাদীস বর্ণনা করতাম, তবে তোমাকেই করতাম!"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال أبو العيناء: دخلت على أبي أحمد عبيد الله بن عبد الله بن طاهر، وكان يوماً صائفاً، وقوم بين يديه يلعبون بالشطرنج. فقال: يا أبا عبد الله، إنا نلعب في ندب إلى أن يدرك طعامنا، ففي أي الحزبين تحب أن تكون؟ قلت: في حزب الأمير، أيده الله، فإنه أعلى وأبهى. فغلبنا! فقال أبو أحمد: يا أبا عبد الله، قد غلبنا! وقد أصابك بقسطك عشرون رطلاً ثلجاً. أحضره أيها الأمير. ووثبت، فصرت إلى أبي العباس بن ثوابة، فأقرأته السلام من أبي أحمد، وقلت له: إنه يتشوقك، وأراد أن يكتب إليك رقعة، فخاف مراوغتنك، فوجهني رسولاً، وحملني رسالة، ولسنا نفترق إلا بحضرته! فركب معي، وجئنا. فلما وقفت بين يديه، قلت: أيها الأمير، قد جئتك بجبل همذان ثلجاً، فاقتض منه ما قمرنا، والعب مع أصحابك في الباقي! فضحك حتى استلقى! وسأل ابن ثوابة عن القصة، فعرف الخبر، فلما وقف عليها، شتمني وانصرف! قال أبو العيناء: دخلت على المتوكل، ودعوت له، وكلمته. فاستحسن خطابي، وقال لي: بلغني أن فيك شراً! فقلت: يا أمير المؤمنين، إن يكن الشر ذكر المحسن بإحسانه، والمسيء بإساءته، فقد زكى الله جل وعز، وذم. فقال في التزكية: نعم العبد إنه أواب. وقال في الذم: هماز مشاء بنميم. مناع للخير معتد أثيم. عتل بعد ذلك زنيم. فذمه، تعالى اسمه. وقد قال الشاعر:إذا أنا بالمعروف لم أثن دائباً … ولم أشتم الجبس اللئيم المذمّماففيم عرفت الخير والشرّ باسمه … وشق لي الله المسامع والفماوإن كان الشر كفعل العقرب التي تلسع النبي والذمي بطبع لا يميز فقد صان الله عبدك عن ذلك.فقال لي: وبلغني أنك رافضي. فقلت: يا أمير المؤمنين، وكيف أكون رافضياً وبلدي البصرة، ومنشأي في مسجد جامعها، واستاذي الأصمعي، وجيراني باهلة. وليس يخلو الناس من إرادة دين أو دنيا. فإن أرادوا ديناً، فقد أجمع المسلمون على تقديم من أخروا وتأخير من قدموا. وإن أرادوا دنيا، فأنت وآباؤك أمراء المؤمنين، لا دين إلا بك ولا دنيا إلا معك. أبوك مستنزل العيث، وفي يديك خزائن الأرض، وأنا مولاك. فقال: إن ابن سعدان زعم ذلك فيك! فقلت: ومن ابن سعدان؟ والله ما يفرق ذاك بين الامام والمأموم والتابع والمتبوع، إنما ذاك حامل درة ومعلم صبية وآخذ على كتاب الله أجرة. فقال: لا تفعل لأنه مؤدب المؤيد. فقلت يا أمير المؤمنين، إنه لم يؤدبه حسبة وإنما أدبه بأجرة، فإذا أعطيته حقه قضيت ذمامه. فقام ابن سعدان فقال: يا أبا العيناء، لا، والله ما صدق أمير المؤمنين في شيء مما حكاه عني! ثم أقبل على المتوكل فقال: أي شيء أسهل عليك، يا أمير المؤمنين، من أن ينقضي مجلسك على ما تحب، ثم يخرج هذا فيقطعني! قال: فضحك المتوكل.فقال: كيف داري هذه؟ فقلت: رأيت الناس بنوا دورهم في الدنيا، وأنت جعلت الدنيا في دارك! فقال لي: ما تقول في عبيد الله بن يحيى؟ فقلت: العبد لله ولك، منقسم بين طاعته وخدمتك، يؤثر رضاك على كل فائدة، وما عاد بصلاح رعيتك على كل لذة.فقال: ما تقول في صاحب البريد ميمون بن إبراهيم؟ وكان عرف أني وجدت عليه في تقصير وقع بي منه، فقلت: يا أمير المؤمنين: يد تسرق، واست تضرط! هو مثل يهودي قد سرق نصف جزيته، فله إقدام بما أدى؛ ومعه إحجام لما بقى. إساءته طبيعة، وإحسانه تكلف! فقال: إني أريدك لمجالستي. فقلت: لا أطيق ذاك، ولا أقوى عليه. وما أقول هذا جهلاً بما لي في هذا المجلس من الشرف؛ ولكني رجل حجوب، والمحجوب تختلف إشارته ويخفى عليه إيماؤك، ويجوز علي أن أتكلم بكلام غضبان ووجهك راض، وبكلام راض ووجهك غضبان. ومتى لم أميز بين هذين، هلكت فأختار العافية على التعرض للبلاء. قال: صدقت! ولكن تلزمنا. قلت: لزوم الفرض الواجب. فوصلني بعشرة آلاف درهم.وقال لي يوماً، وقد دخلت إليه: يا محمد، ما بقي في المجلس أحد إلا اغتابك غيري، فقلت:إذا رضيت عني كرام عشيرتي … فلا زال غضباناً علي لئامهاوهو أبو عبد الله، محمد بن القاسم بن خلاد بن ياسر بن سليمان. وأصله من اليمامة من بني حنيفة أنفسهم. وكان مسكنه بالبصرة. ثم انتقل إلى بغداد، وانتجع سر من رأى، ولقي الموكل، وأقام بها
আবু আল-আইনা বলেন: আমি আবু আহমদ উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের নিকট উপস্থিত হলাম। দিনটি ছিল তপ্ত গ্রীষ্মের। তাঁর সামনে একদল লোক দাবা খেলছিল। তিনি বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, খাবার তৈরি হওয়া পর্যন্ত আমরা বাজিতে খেলছি। আপনি কোন পক্ষে থাকতে পছন্দ করেন? আমি বললাম: আমীরের পক্ষে, আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন; কারণ এটিই অধিকতর উচ্চ ও মহিমান্বিত। কিন্তু আমরা হেরে গেলাম! আবু আহমদ বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমরা তো হেরে গেছি! আপনার ভাগে বিশ রতল বরফ পড়েছে। হে আমীর, তা হাজির করুন। আমি দ্রুত উঠে আবু আব্বাস ইবনে সাওয়াবার নিকট গেলাম। তাঁকে আবু আহমদের পক্ষ থেকে সালাম জানালাম এবং বললাম: তিনি আপনার দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। তিনি আপনাকে চিরকুট লিখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আপনি এড়িয়ে যাবেন ভেবে ভয় পেলেন। তাই তিনি আমাকে দূত হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং একটি বার্তা দিয়েছেন। তাঁর উপস্থিত হওয়া ছাড়া আমরা পৃথক হচ্ছি না! তিনি আমার সাথে সওয়ার হলেন এবং আমরা উপস্থিত হলাম। যখন আমি তাঁর সামনে দাঁড়ালাম, তখন বললাম: হে আমীর, আমি আপনার নিকট হামাদানের বরফের পাহাড় নিয়ে এসেছি। আমরা যা হেরেছি তা এর থেকে উসুল করে নিন এবং অবশিষ্ট অংশ নিয়ে আপনার সঙ্গীদের সাথে খেলুন! তিনি হেসে লুটিয়ে পড়লেন! তিনি ইবনে সাওয়াবাকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বিষয়টি জানতে পারলেন। যখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন, তখন তিনি আমাকে গালি দিয়ে চলে গেলেন। আবু আল-আইনা বলেন: আমি মুতাওয়াক্কিলের দরবারে প্রবেশ করলাম, তাঁর জন্য দুআ করলাম এবং তাঁর সাথে কথা বললাম। তিনি আমার কথা পছন্দ করলেন এবং আমাকে বললেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে আপনার মধ্যে মন্দতা রয়েছে! আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন, যদি সৎকর্মশীলকে তার সততার কারণে এবং মন্দকারীকে তার মন্দের কারণে স্মরণ করা 'মন্দ' হয়, তবে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযাও প্রশংসা ও নিন্দা করেছেন। প্রশংসার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "কতই না চমৎকার বান্দা, নিশ্চয়ই সে অতিশয় আল্লাহ-অভিমুখী।" আর নিন্দার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "যে পশ্চাতে নিন্দা করে এবং চোগলখুরি করে বেড়ায়। যে কল্যাণে বাধা দেয়, সীমালঙ্ঘনকারী ও পাপিষ্ঠ। কঠোর স্বভাবের এবং তদুপরি জারজ।" আল্লাহ—তাঁর নাম সুমহান—এভাবেই তার নিন্দা করেছেন। কবি বলেছেন:
যদি আমি সুকৃতির নিরন্তর প্রশংসা না করি … আর যদি সেই নীচ ও নিন্দিত কৃপণকে তিরস্কার না করিতবে আমি কেন ভালো ও মন্দের পার্থক্য জানলাম … আর আল্লাহ কেনই বা আমার শ্রবণেন্দ্রিয় ও মুখ সৃষ্টি করলেন?আর যদি 'মন্দ' বিচ্ছুর মতো হয়, যা তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে নবী ও যিম্মীর মধ্যে পার্থক্য না করে দংশন করে, তবে আল্লাহ আপনার গোলামকে তা থেকে রক্ষা করেছেন।
অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: আমি জানতে পেরেছি আপনি একজন রাফেযী। আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কীভাবে রাফেযী হতে পারি যখন আমার শহর বসরা, আমার বেড়ে ওঠা এর জামে মসজিদে, আমার উস্তাদ আসমাঈ এবং আমার প্রতিবেশীরা বাহিলা গোত্রের? মানুষ হয় দ্বীন চায় নতুবা দুনিয়া। যদি তারা দ্বীন চায়, তবে মুসলমানরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন তাদের অগ্রগণ্য করার বিষয়ে যাদের অন্যরা পিছিয়ে দিয়েছে, এবং তাদের পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে যাদের অন্যরা অগ্রগণ্য করেছে। আর যদি তারা দুনিয়া চায়, তবে আপনি এবং আপনার পূর্বপুরুষরাই মুমিনদের আমীর; আপনি ছাড়া কোনো দ্বীন নেই এবং আপনার সঙ্গ ছাড়া কোনো দুনিয়া নেই। আপনার পিতা বৃষ্টির যাচনাকারী ছিলেন, আর আপনার হাতে জমিনের ধনভাণ্ডার, এবং আমি আপনার অনুগত। তিনি বললেন: ইবনে সা’দান আপনার সম্পর্কে এমনটাই ধারণা করেন! আমি বললাম: ইবনে সা’দান কে? আল্লাহর কসম, সে তো ইমাম ও মামুন (মুক্তাদী) এবং অনুসারী ও অনুসৃতের মধ্যে পার্থক্য করতে জানে না। সে তো কেবল লাঠিধারী, শিশুদের শিক্ষক এবং আল্লাহর কিতাব পড়িয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকারী। তিনি বললেন: এমন করবেন না, কারণ সে মুআইয়্যাদের শিক্ষক। আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন, সে তো সওয়াবের আশায় তাকে শিক্ষা দেয়নি, বরং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দিয়েছে। যখন আপনি তাকে তার পাওনা দিয়ে দিয়েছেন, তখন তার প্রতি আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। তখন ইবনে সা’দান দাঁড়িয়ে বললেন: হে আবু আল-আইনা, না, আল্লাহর কসম, আমীরুল মুমিনীন আমার পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার কোনোটিতেই তিনি সত্য বলেননি! অতঃপর তিনি মুতাওয়াক্কিলের দিকে ফিরে বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে এর চেয়ে সহজ আর কী হতে পারে যে আপনার মজলিস আপনার পছন্দমতো শেষ হবে, তারপর এ ব্যক্তি বের হয়ে আমাকে নাজেহাল করবে! বর্ণনাকারী বলেন: মুতাওয়াক্কিল হাসলেন।
তিনি বললেন: আমার এই ঘরটি কেমন? আমি বললাম: আমি দেখেছি মানুষ দুনিয়ার বুকে তাদের ঘর নির্মাণ করে, আর আপনি আপনার ঘরের ভেতর দুনিয়াকে নিয়ে এসেছেন! তিনি আমাকে বললেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? আমি বললাম: তিনি আল্লাহর এবং আপনার গোলাম, যিনি তাঁর আনুগত্য ও আপনার খিদমতের মাঝে বিভক্ত। তিনি প্রতিটি লাভের ওপর আপনার সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেন এবং প্রতিটি আনন্দের ওপর আপনার প্রজাদের কল্যাণকে প্রাধান্য দেন।
তিনি বললেন: ডাক বিভাগের প্রধান মাইমুন ইবনে ইব্রাহিম সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি জানতেন যে আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলাম কারণ তার পক্ষ থেকে আমার প্রতি কিছু অবহেলা হয়েছিল। আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন, চোর হাত এবং বায়ু নির্গতকারী গুহ্যদ্বার! সে সেই ইহুদির মতো যে তার জিজিয়ার অর্ধেক চুরি করেছে; যা আদায় করেছে তার জন্য তার সাহস আছে, আর যা অবশিষ্ট আছে তার জন্য তার সংকোচ আছে। তার মন্দ আচরণ স্বভাবজাত, আর তার ভালো কাজ কৃত্রিম! তিনি বললেন: আমি আপনাকে আমার সাহচর্যের জন্য চাই। আমি বললাম: আমি তার সামর্থ্য রাখি না এবং তার শক্তি আমার নেই। আর আমি এ কথা এই মজলিসে আমার যে মর্যাদা রয়েছে সে সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে বলছি না; বরং আমি একজন দৃষ্টিহীন মানুষ, আর দৃষ্টিহীনের সংকেত ভিন্ন হয় এবং আপনার ইশারা তার কাছে অস্পষ্ট থাকে। এমন হতে পারে যে আপনার চেহারা সন্তুষ্ট অথচ আমি রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলে ফেললাম, অথবা আপনার চেহারা রাগান্বিত অথচ আমি সন্তুষ্ট অবস্থায় কথা বললাম। যখন আমি এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব না, তখন আমি ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আমি বিপদে পড়ার চেয়ে নিরাপদ থাকাকেই শ্রেয় মনে করি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন! কিন্তু আপনি আমাদের সাথে থাকবেন। আমি বললাম: অপরিহার্য ফরযের মতো লেগে থাকব। অতঃপর তিনি আমাকে দশ হাজার দিরহাম প্রদান করলেন।
একদিন আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলে তিনি আমাকে বললেন: হে মুহাম্মদ, আমি ছাড়া এই মজলিসের সবাই আপনার গীবত করেছে। আমি বললাম:
যদি আমার গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তিরা আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন … তবে নীচ লোকেরা আমার ওপর সর্বদা রাগান্বিতই থাকুকতিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে খাল্লাদ ইবনে ইয়াসির ইবনে সুলাইমান। তাঁর আদি নিবাস ইয়ামামার বনু হানিফা গোত্রে। তাঁর বাসস্থান ছিল বসরায়। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদে স্থানান্তরিত হন এবং সামাররায় গমনাগমন করেন। তিনি মুতাওয়াক্কিলের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানেই অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وكان حسن الكتابة، بليغ الخطابة، مليح الشعر، طلق اللسان بالذم والاستبطاء، سريع الجواب، حاضر النادرة، لا يقام له.وقال المتوكل: اشتهى أنادم أبا العيناء لولا أنه ضرير! فبلغ ذلك أبا العيناء، فقال: إن أعفاني أمير المؤمنين من رؤية الأهلة،! ونظم اللآلىء واليواقيت، وقراءة نقوش الخواتيم، فإني أصلح له.وحجب محمد بن مكرم أبا العيناء، ثم كتب يعتذر منه. فكتب إليه أبو العيناء: تحجبني مشافهة وتعتذر إلي مكاتبة! وأخباره كثيرة، ولكنا أوردنا بمقدار ما يحتمله الكتاب، ويقتضيه الشرط، ولا يخرج قارئه إلى الملل.وكتب ابن مكرم إلى أبي العيناء: عندي سكباج ترعب المجنون، وحديث يطرب المحزون، وإخوانك المحازون؟ فلا تعلو علي واتون. فأجابه أبو العيناء: اخسئوا فيها ولا تكلمون.دير الخواتهذا الدير بعكبرا. وهو دير كبير عامر، يسكنه نساء مترهبات متبتلات فيه. وهو وسط البساتين والكروم، حسن الموقع، نزه الموضع. وعيده الأحد الأول من الصوم. يجتمع إليه كل من يقرب منه من النصارى والمسلمين، فيعيد هؤلاء، ويتنزه هؤلاء. وفي هذا العيد ليلة الماشوش، وهي ليلة تختلط فيها النساء بالرجال، فلا يرد أحد يده عن شيء، ولا يرد أحد أحداً عن شي. وهو من معادن الشراب، ومنازل القصف، ومواطن اللهو.وللناجم أبي عثمان، فيه:آح قلبي من الصّبابة آح … من جوارٍ مزيّنات ملاحوفتاة كأنها غصن بان … ذات وجه كمثل نور الصّباحأهل دير الخوات بالله ربي … هل على عاشق قضى من جناحوكان أبو عثمان هذا، راوية ابن الرومي. وهو مليح الشعر، رفقي الطبع، جيد المعاني في وصف الخمر والأغاني والغزل.ومن مليح شعره:أدر يا سلامة كأس العقار … وضاه بشدوك شدو القماريوخذها معتّقةً مُزّة … تصبّ على الليل ثوب النهارينازعها الخدّ جريالها … فيهديه للعين يوم الخمارومن مليح شعره:سلامة بن سعيدٍ … يجيد حثّ الرّاحإذا تغنّى زمرنا … عليه بالأقداحوله:ما نطقت عاتبٌ ومزهرها … إلا وهمنا باللهو والفرحلها غناء كالبرء في جسدٍ … أضناه طول السقام والترحتعبده الراح فهي ما نطقت … إبريقنا ساجد على القدحوله:ما نطقت عاتبٌ ومزهرها … إلاّ ظللنا بالرّاح نعملهاتطلب أوتارهما الهموم بأو … تار فما تستفيق تقتلهاوله، وفيه لحن:ما دعاني الشّوق إلا … أذرت العين دموعاإنما أبكي لأني … صرت للحبّ رضيعاأحسن الناس وأولى الن … اس بالحسن جميعاما أرى لي عن حبيبي … أبد الدّهر نزوعادير العلثوالعلث، قرية على شاطىء دجلة، في الجانب الشرقي منها، وبين يديها من دجلة موضع صعب، ضيق المجاز، كبير الحجارة، شديد الجرية، تجتاز فيه السفن بمشقة. وهذه المواضع تسمى الأبواب. وإذا وافت السفن إلى العلث، أرست بها، فلا يتهيأ لها الجواز إلا بهادٍ من أهلها يكترونه، فيمسك السكان ويتخلل بهم تلك المواضع، فلا يحطها حتى يتخلص منها.وهذا الدير راكب دجلة. وهو من أحسن الديارات موقعاً وأنزهها موضعاً، يقصد من كل بلد، ويطرقه كل أحد. ولا يكاد يخلو من منحدر ومصعد. ومن دخله لم يتجاوزه إلى غيره لطيبه ونزهته ووجود جميع ما يحتاج إليه بالعلث وبه.ولجحظة، فيه:أيها المالحان بالله جُدّا … واصلحا لي الشراع والسكانابلّغاني، هديتما، البردانا … وانزلا بي من الدنان دناناواعدلا بي إلى القبيصة فالزهر … اء، علّي أفرّج الأحزاناوإذا ما أقمت حولاً تماماً … فاقصدا بي إلى كروم أواناوانزلا بي إلى شرابٍ عتيق … عتّقته يهوده أزماناواحططا لي الشراع بالدير بالعل … ث، لعلي أعاشر الرهبانا
তিনি ছিলেন সুন্দর হস্তলিপি বিশারদ, সাবলীল বাগ্মী, চমৎকার কবি, নিন্দা ও ধীরতা প্রকাশে বাকপটু, দ্রুত প্রত্যুত্তর দিতে সক্ষম এবং কৌতুক ও চতুরতায় অদ্বিতীয়।মুতাওয়াক্কিল বলেছিলেন: "আমি আবুল আইনার সাথে বসে মজলিস করতে পছন্দ করতাম, যদি না তিনি অন্ধ হতেন!" এই কথা আবুল আইনার কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন: "আমীরুল মুমিনীন যদি আমাকে নতুন চাঁদ দেখা, মুক্তা ও ইয়াকুত গেঁথে সাজানো এবং আংটির খোদাই করা লেখা পড়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন, তবে আমি তাঁর জন্য উপযুক্ত সঙ্গী হব।"মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম আবুল আইনাকে দেখা করতে বাধা দেন, তারপর ক্ষমা চেয়ে তাকে চিঠি লেখেন। আবুল আইনা তাকে লিখে পাঠালেন: "সরাসরি সাক্ষাতে বাধা দাও আর চিঠিতে ক্ষমা প্রার্থনা করো!" তাঁর সম্পর্কে অনেক খবর রয়েছে, তবে আমরা কেবল ততটুকুই উল্লেখ করেছি যতটুকু এই গ্রন্থের জন্য সহনীয়, শর্ত অনুযায়ী আবশ্যক এবং পাঠকের জন্য বিরক্তিকর হবে না।ইবনে মাকরাম আবুল আইনার কাছে লিখলেন: "আমার কাছে এমন সিকবাজ (এক প্রকার খাবার) আছে যা উন্মাদকে বিমোহিত করে, এমন আলোচনা আছে যা দুঃখীকে আনন্দ দেয়, আর আছে আপনার ঘনিষ্ঠ ভাইয়েরা। তাই আমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখাবেন না এবং চলে আসুন।" আবুল আইনা উত্তরে লিখলেন: "তোমরা লাঞ্ছিত অবস্থায় সেখানে পড়ে থাকো এবং আমার সাথে কথা বলো না।"দাইরুল খাওয়াতিএই গির্জাটি উকবারায় অবস্থিত। এটি একটি বড় ও আবাদকৃত গির্জা, যেখানে সন্ন্যাসিনী মহিলারা ইবাদতে মগ্ন থাকেন। এটি বাগান ও আঙুর খেতের মাঝখানে অবস্থিত, এর অবস্থান অত্যন্ত মনোরম ও জায়গাটি চিত্তাকর্ষক। এর প্রধান উৎসব হলো রোজার প্রথম রবিবার। এর আশপাশে থাকা খ্রিস্টান ও মুসলিমরা সেখানে জমায়েত হয়; তারা সেখানে উৎসব পালন করে এবং আনন্দভ্রমণ করে। এই উৎসবে 'মাশুশ' রাত রয়েছে, এটি এমন এক রাত যখন নারী ও পুরুষরা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, কেউ কাউকে কোনো কিছু থেকে বাধা দেয় না এবং কেউ কারো থেকে বিরত থাকে না। এটি মদ্যপান, হুল্লোড় এবং আমোদ-প্রমোদের একটি কেন্দ্র।নাজিম আবু উসমান এই গির্জা সম্পর্কে বলেছেন:অনুরাগের ব্যথায় আমার হৃদয়ে হাহাকার … সুসজ্জিত সুন্দরী তরুণীদের বিরহেএক তরুণী যেন বানের ডাল … যার মুখমণ্ডল প্রভাতের আলোর মতো উজ্জ্বলহে দাইরুল খাওয়াতির অধিবাসীরা, আমার প্রভু আল্লাহর শপথ … একজন প্রেমিকের মৃত্যুর মুখে পড়লে কি কোনো গুনাহ আছে?এই আবু উসমান ছিলেন ইবনুর রুমীর বর্ণনাকারী। তিনি চমৎকার কবিতার রচয়িতা, নরম মেজাজের অধিকারী এবং মদ, গান ও প্রেমের বর্ণনায় তাঁর ভাবার্থ ছিল অত্যন্ত নিপুণ।তাঁর চমৎকার কবিতার অংশ:হে সালামাহ, মদের পেয়ালা ঘোরাও … আর তোমার সুরেলা কণ্ঠে ঘুঘুর ডাককে অনুকরণ করোপুরোনো ও কড়া মদ গ্রহণ করো … যা রাতের ওপর দিনের পোশাক ছড়িয়ে দেয়মদের লাল আভা গালের সাথে পাল্লা দেয় … আর মাতলামির দিনে তা চোখের তৃপ্তি যোগায়তাঁর আরও চমৎকার কবিতা:সালামাহ বিন সাঈদ … অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুরা পরিবেশন করেনতিনি যখন গান ধরেন, আমরা তখন … পেয়ালার আওয়াজে তাল মেলাইতাঁর আরও কবিতা:আতিব তার বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যখনই কথা বলে ওঠে … আমরা তখন আমোদ আর খুশিতে মেতে উঠিতার গান যেন সেই শরীরের আরোগ্য … যা দীর্ঘ রোগ আর শোকে জীর্ণ হয়েছেমদ তাকে পূজা করে, তাই সে যখন কথা বলে ওঠে … আমাদের পানপাত্রটি পেয়ালার ওপর সিজদাবনত হয়তাঁর আরও কবিতা:আতিব তার বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যখনই কথা বলে ওঠে … তখনই আমরা মদ্যপানে মত্ত হইতাদের সুরের মূর্ছনা দিয়ে দুঃখকে খোঁজা হয় … যতক্ষণ না দুঃখকে নিঃশেষ করে ফেলা হয়তাঁর সুর করা কবিতা:আবেগ যখনই আমাকে ডাক দেয় … চোখ তখন অশ্রু বিসর্জন দেয়আমি কেবল এজন্যই কাঁদি যে … আমি ভালোবাসার আশ্রয়ে লালিত এক শিশু হয়েছিসে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সৌন্দর্যের দিক থেকে … সমস্ত মানুষের চেয়ে অগ্রগণ্যআমি দেখি না যে আমার প্রেমিকা থেকে … অনন্তকালেও আমার কোনো বিচ্ছেদ ঘটবেদাইরুল আলসআলস হলো দজলা নদীর পূর্ব তীরের একটি গ্রাম। এর সম্মুখে দজলার একটি কঠিন স্থান রয়েছে, যেখানে পথ সংকীর্ণ, বড় বড় পাথর বিদ্যমান এবং স্রোত অত্যন্ত তীব্র; সেখান দিয়ে জাহাজ অত্যন্ত কষ্টে পার হয়। এই স্থানগুলোকে 'দ্বারসমূহ' বলা হয়। জাহাজগুলো যখন আলসে পৌঁছায়, তখন সেখানে নোঙর করে। স্থানীয় কোনো পথপ্রদর্শক ভাড়া করা ছাড়া পার হওয়া সম্ভব হয় না; তিনি হালের নিয়ন্ত্রণ ধরেন এবং ওই সংকীর্ণ পথগুলোর মাঝ দিয়ে তাদের নিয়ে যান, যতক্ষণ না নিরাপদ স্থানে পৌঁছান ততক্ষণ হাল ছাড়েন না।এই গির্জাটি দজলা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি অবস্থানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং অত্যন্ত মনোরম গির্জাগুলোর একটি। প্রতিটি দেশ থেকে লোকে এখানে আসে এবং সবাই এখানে যাত্রা বিরতি করে। এটি সর্বদা উজান বা ভাটির যাত্রীশূন্য থাকে না। যে ব্যক্তি এখানে প্রবেশ করে, এর পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের কারণে এবং প্রয়োজনীয় সকল কিছু আলস ও এই গির্জায় বিদ্যমান থাকায় সে অন্য কোথাও যেতে চায় না।জাহজা এই গির্জা সম্পর্কে বলেছেন:হে দুই নাবিক, আল্লাহর দোহাই, তোমরা দ্রুত চলো … আমার পাল ও হাল ঠিক করোহে পথপ্রাপ্তরা, আমাকে বারদান পৌঁছিয়ে দাও … এবং আমাকে মদের বড় বড় পাত্রের কাছে নিয়ে যাওআমাকে কুবাইসা ও জাহরার দিকে নিয়ে চলো … যাতে আমি আমার দুঃখগুলো দূর করতে পারিআর যদি আমি সেখানে পূর্ণ এক বছর কাটাই … তবে আমাকে আওয়ানার আঙুর বাগানের দিকে নিয়ে যেওআমাকে সেই পুরোনো সুরা পান করাও … যা ইহুদিরা দীর্ঘকাল ধরে সংরক্ষণ করেছেআর আলসের এই গির্জায় আমার পাল নামিয়ে দাও … যাতে আমি সন্ন্যাসীদের সাহচর্য লাভ করতে পারি
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وظباء يتلون سفراً من الان … جيل، باكرن، سحرة قربانالابسات من المسوح ثياباً … جعل الله تحتها أغصاناخفرات حتى إذا دارت الكأ … س، كشفن النّحور والصلبانارقّ حتى حسبته خدّ من أب … دلني من وصاله هجراناوللمعتمد:يا طول ليلي بفم الصّلح … أتبعت خسراني بالربحلهفي على دهر لنا قد مضى … بالقصر والقاطول والشلحبالدير بالعلث ورهبانه … بين الشعانين إلى الدّنحوكان للمعتمد شعر جيد وشعر غير موزون، وربما قال الأبيات، فيصح بعضها ويفسد باقيها. وكان يعطيه المغنين، فيعملون عليه ألحانا، فيغيب عيبه في التقطيع والألحان، إلا على خاصة الناس.قالت بدعة: كان المعتمد يوجه شعره إلى عريب لتصوغ له الألحان. فكانت تقول: ويلي! كم أغني في حروف ألف، با، تا، ثا؟ قال الصولي: أنشدني عبد الله بن المعتز من شعره الموزون:الحمد لله ربي … ملكت مالك قلبيفصرت مولى لملكي … وصار مولىً لحبيومن شعره، لما أكثر الموفق نقله، من مكان إلى مكان:ألفت التباعد والغربه … ففي كل يوم أطا تربهوفي كلّ يوم أرى حادثاً … يؤدي إلى كبدي كربهأمرّ الزمان لنا طعمه … فما إن نرى ساعةً عذبهوهذا شعر جيد صحيح في معناه.ومن شعره الموزون:بُليت بشادن كالبدر حسناً … يعذّبني بأنواع الجفاءولي عينان دمعهما غزيرٌ … ونومهما أقلّ من الوفاءوذكر الصولي، إن المكتفي أخرج إليهم مدارج مكتوبة بالذهب من شعر المعتمد. فكان فيها من الموزون:طال والله عذابي … واهتمامي واكتئابيبغزال من بني الأص … فر لا يعنيه ما بيأنا مغرىً بهواه … وهو مغرىً باجتنابيوإذا ما قلت: صلني … كان لا منه جوابيوكان فيها أيضاً:عجّل الحبّ بفرقه … فبقلبي منه حرقهمالكٌ بالحبّ رقي … وأنا ملك رقّهإنما يستروح الصبّ … إذا أظهر عشقهوللمعتمد، شعر غنت فيه شارية، في طريقة الرمل:تأنّيت بالحب دهراً طويلاً … فلم أر في الحب يوماً سروراومما غنت فيه من شعره:يا نفس، ويحك ما لك … أني لأُنكر حالكوله:أصبحت لا أملك دفعاً لما … أُسام من خسفٍ ومن ذلّهتمضي أُمور الناس دوني ولا … يشعر بي في ذكرها قلّهإذا اشتهيت الشيء ولّوا به … عني، وقالوا: ها هنا علّهقال: طلب المعتمد ثلثمائة دينار، يصل بها عريباً، وقد حضرت عنده، فلم توجد! فطلب مائتي دينار، فلم توجد..! فبكى، وقالأليس من العجائب أن مثلي … يرى ما قلّ ممتنعاً عليه؟وتؤخذ باسمه الدنيا جميعاً … وما من ذاك شيءٌ في يديه!إليه تُحمل الأموال طُراً … ويمنع بعض ما يجبى إليه!وكان، لما فوض الأمور إلى أخيه أبي أحمد، واستروح إلى كفايته للقيام بها، وتفريغه للهو والشرب واللعب، وترك النظر في شيء من أمر المملكة أو المسئلة عنه، طمع أبو أحمد، واستبد بالأمر، وغلب على المملكة. ورام المعتمد بعد ذلك تغيير الحال، فعزه وأعوزه وامتنع عليه وطمع الناس جميعاً فيه، إذ رأوه مغلوباً على أمره، ورأوا لا ضر ولا نفع في يده.
এবং হরিণীরা ইঞ্জিলের একটি পুস্তিকা পাঠ করছে … প্রাতঃকালে, তারা ঊষালগ্নে নৈবেদ্য নিবেদন করল।পশমের মোটা কাপড় পরিহিতা … আল্লাহ যার নিচে ডালপালা (সুষম দেহ) তৈরি করেছেন।তারা লজ্জাবতী, যতক্ষণ না পাত্র আবর্তিত হয় … তারা উন্মোচিত করল তাদের কণ্ঠদেশ ও ক্রুশসমূহ।তা এতটাই সূক্ষ্ম হয়ে গেল যে আমি একে সেই ব্যক্তির গাল বলে ভ্রম করলাম … যে মিলনের পরিবর্তে আমাকে বিরহ উপহার দিয়েছে।আল-মুতামিদের জন্য:হে ফাম্মুস সলহে আমার রাতের দৈর্ঘ্য কত দীর্ঘ … আমি আমার ক্ষতির পেছনে লাভের অনুসরণ করেছি।আমার আফসোস সেই সময়ের জন্য যা আমাদের অতিবাহিত হয়েছে … আল-কাসর, আল-কাতুল এবং আশ-শালহে।আদ-দাইর, আল-আলস এবং সেখানকার সন্ন্যাসীদের সাথে … পাম সানডে থেকে এপিফ্যানি পর্যন্ত।আল-মুতামিদের কিছু কবিতা ভালো ছিল এবং কিছু মাত্রাবিহীন ছিল। অনেক সময় তিনি কিছু পঙ্ক্তি বলতেন, যার কিছু সঠিক হতো এবং বাকিগুলো ত্রুটিপূর্ণ হতো। তিনি এগুলো গায়কদের দিতেন, আর তারা সেগুলোর ওপর সুরারোপ করত। ফলে তার ছন্দের ত্রুটিগুলো সুর ও তালের কারণে ঢাকা পড়ে যেত, কেবল বিশেষজ্ঞ বিদগ্ধজন ছাড়া তা কারও ধরা পড়ত না।বিদআহ বলেন: আল-মুতামিদ তার কবিতাগুলো আরীবের কাছে পাঠাতেন যাতে তিনি সুরারোপ করতে পারেন। তখন তিনি বলতেন: হায় আমার দুর্ভোগ! আমি আর কতকাল আলিফ, বা, তা, সা অক্ষরের ওপর গান গাইব? আস-সুলি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুতাজ আমাকে তার ছন্দোবদ্ধ কবিতা থেকে শুনিয়েছেন:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার রব … আমি আমার হৃদয়ের মালিকের মালিক হয়েছি।ফলে আমি আমার রাজত্বের অধিপতি হয়েছি … আর সে আমার ভালোবাসার অনুগত হয়েছে।তার কবিতা থেকে, যখন আল-মুওয়াফফাক তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বারবার স্থানান্তর করছিলেন:আমি দূরত্ব ও প্রবাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছি … ফলে প্রতিদিন আমি নতুন মাটি মাড়াই করি।প্রতিদিন আমি নতুন কোনো ঘটনা দেখি … যা আমার হৃদয়ে কষ্ট বয়ে আনে।সময়ের স্বাদ আমাদের কাছে তিক্ত হয়ে গেছে … আমরা একটি মুহূর্তও মিষ্টতা দেখি না।এটি অর্থের দিক থেকে একটি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ও সঠিক কবিতা।তার ছন্দোবদ্ধ কবিতা থেকে:আমি পূর্ণিমার চাঁদের মতো সুন্দর এক কিশোরের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি … যে আমাকে নানা প্রকার নিষ্ঠুরতায় কষ্ট দেয়।আমার দুটি চোখ আছে যাদের অশ্রু প্রচুর … আর তাদের ঘুম বিশ্বস্ততার চেয়েও কম।আস-সুলি উল্লেখ করেছেন যে, আল-মুকতাফি তাদের জন্য আল-মুতামিদের কবিতার সোনালি হরফে লেখা পাণ্ডুলিপি বের করেছিলেন। তাতে ছন্দোবদ্ধ কবিতার মধ্যে ছিল:আল্লাহর কসম, দীর্ঘ হয়েছে আমার আজাব … আমার দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা।বনী আসফার (রোমান) এক হরিণ শাবকের কারণে … যে আমার অবস্থার কোনো পরোয়া করে না।আমি তার প্রেমে মত্ত … আর সে আমাকে এড়িয়ে চলতে মত্ত।যখন আমি বলি: আমার সাথে মিলিত হও … তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসে না।তাতে আরও ছিল:ভালোবাসা বিচ্ছেদকে ত্বরান্বিত করেছে … ফলে তার জন্য আমার হৃদয়ে দহন রয়েছে।ভালোবাসার কারণে সে আমার দাসত্বের মালিক … আর আমি তার দাসত্বের অধিকারী।প্রেমিক তখনই প্রশান্তি পায় … যখন সে তার প্রেম প্রকাশ করে।আল-মুতামিদের একটি কবিতা আছে যা শারিয়া 'রামল' ছন্দে গেয়েছিলেন:আমি দীর্ঘকাল ভালোবাসার সাথে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি … কিন্তু ভালোবাসায় একদিনও সুখ দেখিনি।তার কবিতার মধ্যে শারিয়া যা গেয়েছেন:হে নফস, তোমার দুর্ভোগ, তোমার কী হয়েছে … আমি তো তোমার অবস্থা চিনতে পারছি না।তার আরও কবিতা:আমি এখন সেই লাঞ্ছনা ও অপমান প্রতিরোধের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি … যা আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।মানুষের যাবতীয় বিষয় আমাকে ছাড়াই চলে যায় … আর তাদের আলোচনায় আমার অস্তিত্ব অনুভূত হয় না।আমি যখন কোনো কিছু আকাঙ্ক্ষা করি, তারা তা নিয়ে চলে যায় … আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং বলে: এখানে সমস্যা আছে।বর্ণিত আছে: আল-মুতামিদ তিনশ দিনার চেয়েছিলেন আরীবকে উপহার দেওয়ার জন্য, যখন তিনি তার কাছে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তা পাওয়া গেল না! এরপর তিনি দুইশ দিনার চাইলেন, তাও পাওয়া গেল না..! তখন তিনি কাঁদলেন এবং বললেন:এটা কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে আমার মতো ব্যক্তি … সামান্য কিছু যা তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে তা দেখছে?সমস্ত দুনিয়া তার নামে গ্রহণ করা হয় … অথচ তার হাতে তার কিছুই নেই!সমস্ত সম্পদ তারই দিকে বহন করে আনা হয় … অথচ তার কাছে যা সংগৃহীত হয় তার কিছু অংশ তাকে দিতে বাধা দেওয়া হয়!যখন তিনি যাবতীয় বিষয় তার ভাই আবু আহমদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন এবং শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে আমোদ-প্রমোদ ও পানাহারে মগ্ন হয়েছিলেন এবং রাজ্যের কোনো বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া বা প্রশ্ন করা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন আবু আহমদ উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠেন এবং একচ্ছত্র ক্ষমতা দখল করেন ও রাজ্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। এরপর আল-মুতামিদ অবস্থার পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আবু আহমদ তাকে পর্যুদস্ত ও নিঃস্ব করে দিলেন এবং তার অবাধ্য হলেন। ফলে সমস্ত মানুষ তার প্রতি লোভাতুর হয়ে উঠল, কারণ তারা তাকে তার নিজের বিষয়ে পরাজিত অবস্থায় দেখল এবং দেখল যে তার হাতে কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وذكر إسحق بن روح، أن مفلحاً وجهه إلى المعتمد، وقال: قل له: قد سمعت هزاراً جارية أمير المؤمنين، فأعجبتني وأحببت أن أملكها؛ ورأيت بدراً الجلنار فأعجبني، فأحببت أن أملكه. فليوجه بهما أمير المؤمنين إلي. فأديت الرسالة إلى المعتمد بعد أن استأذنته فيها. فلما سمعها غضب وخرق ثيابه وقال: هكذا يفعل العبيد بالموالي، يغصبونهم على حرمهم وغلمانهم؟ وتكلم بأشياء عظيمة، فخرجنا، فردنا وقد سكن، ثم قال: مثل أبي صالح لا يرد عن طلبته. قد أمرت بحمل هزار مع كسوتها وفرشها وجواريها وجميع ما لها. فأما بدر الجلنار فقد وقع على خدمتنا وله منا موضع. فقل له يسعفنا بتركه. فعدت إلى مفلح فأخبرته بطرف من الأول وبالآخر. وكان على الخروج إلى البصرة لحرب صاحب الزنج. فقال: يا أبا إسحق، قد حصلت هزار، وإذا رجعنا من هذه الحرب، أخذنا بدراً الجلنار منه، شاء أم أبى. فخرج، فأصابه سهم فمات.وكان المعتمد من أسمح آل العباس، وكان يمثل بينه وبين المستمعين ويقال ما ولي أسمح منهما. وكان جيد التدبير، فهماً بالأمور. فلما قوض أمره وغلب على رأيه، نقصت حاله عند الناس.قال محمد بن عبيد الله بن يحيى بن خاقان: بعث بي أبي إلى المعتمد في شيء، فقال لي اجلس. فاستعظمت ذاك، فرد الأمر علي، فاعتذر بأنه لا يجوز لي. فقال لي: يا محمد، إن أدبك في القبول مني خير من أدبك في خلافي.قال: ظلم بعض أسباب موسى بن بغا محمد بن علي الكاتب المعروف بباذنجانة، فلما مات موسى، هجاه، فقال:مات قسّ الدير موسى … لعن الرحمن موسىفلقد كان ضعيفاً … في تُقى الله خسيسافسروري مطلقٌ والحز … ن قد صار حبيسافبلغ هذا الشعر المعتمد، فنقضه فقال:مات خير الناس موسى … رحم الرحمن موسىفلقد كان جليلاً … عالي القدر رئيساأطلق الحزن وخلّى … فرحي وقفاً حبيساومن شعره المرذول، قوله:مالي وهذا الهوى مالي … لو أمكنني افتديته بماليوهذا الحبيب ما يواصلني … فأن مع هجرانه في قتالبدا لي على ما أرى فيحبه … وكنت والله ما بدا ليوله من هذا الفن:من قال إني أعشق لو صوّروا … الحب لكان رجلاً أحمقأدور السطوح فلا أراه … كأنني سنّورٌ أبلقتمنيت من شوقي إليه … أن أطلع عليه فأكون لقلقهوى الناس مجتمعٌ عندي … وهواهم عليهم مُفرّققال: فكت الراضي بخطه، تحت هذه الأبيات:لم يقل ذا الشعر إلا … جاهلٌ بالشعر أحمقأو مصابٌ ذو جنونٍ … ضائع الفكرة أبلقومن شعره:عجبت من هذا الحب لا … يجارى به المحبوبأراك يا ظالم لا تريدني … هذا والله هوىً مقلوبأنت في حسنك يوسف … وأنا في ضرّي يعقوبلست أعني يعقوب الصفّار … أنت الصفار مصلوبوله:عشقت إنساناً بكسكر … وجهه كالقمر الأزهرفلما شكوت إليه هواه … طأطأ رأسه وفكّرهو الذهب الابريز في حسنه … وهو الياقوت الأحمرمن دلّني عليه فله عندي … كل ما تمنى وقدّرلما ظننته بيدي حاصلاً … لا شك تركني وشمّرقال: ودخل يوماً الجوسق، فرأى طائراً، فصاده. فقال الموفق: ما رأيت أحسن منه، فهبه لي يا أمير المؤمنين، فأعطاه إياه. فلما حصل في يده، أفلت وجعل يصفق بجناحيه ويطير، فضحك المعتمد ضحكاً شديداً، وقال:دخلت يوما الجوسقا … فاصطدت طيراً أبلقاأخذه مني الموفّقا … فحين أخذه صفقاوطار منه فرقاقال: ولما شخص أبو أحمد إلى البصرة والجيش معه، وبقي المعتمد بسر من رأى، قال:مهمّ مهم مهم مهم … وأمرٌ فظيع وأمرٌ صُرمأيحسن أن تذهبوا كلّكم … أقعد في البيت كنّي حرم
ইসহাক বিন রূহ বর্ণনা করেন যে, মুফলিহ তাকে আল-মু'তামিদের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: তাকে বল যে, আমি আমিরুল মুমিনিনের দাসী হাজারকে শুনেছি, সে আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে এবং আমি তাকে নিজের মালিকানায় পেতে চাই। আর আমি বদর আল-জুলনারকে দেখেছি, সেও আমার পছন্দ হয়েছে, আমি তাকেও নিজের করতে চাই। সুতরাং আমিরুল মুমিনিন যেন তাদের দুজনকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন। আমি আল-মু'তামিদের অনুমতি নিয়ে তার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিলাম। যখন তিনি তা শুনলেন, তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: "দাসরা কি তাদের মনিবদের সাথে এমন আচরণ করে যে তারা তাদের অন্তঃপুর এবং খাদেমদের ওপর জবরদস্তি করে?" তিনি অনেক কঠোর কথা বললেন, ফলে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসলাম। এরপর তিনি শান্ত হয়ে আমাদের পুনরায় ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: "আবু সালেহ-র মতো মানুষের আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। আমি হাজারকে তার পোশাক, আসবাবপত্র, দাসী এবং তার যা কিছু সম্পদ আছে সবসহ পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। তবে বদর আল-জুলনারের বিষয়টি হলো, সে আমাদের সেবায় নিয়োজিত এবং আমাদের কাছে তার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। সুতরাং তাকে বল যেন সে তাকে আমাদের কাছে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের অনুরোধ রক্ষা করে।" আমি মুফলিহের কাছে ফিরে আসলাম এবং তাকে আগের ঘটনার কিছু অংশ এবং শেষের সিদ্ধান্তটি জানালাম। তখন তিনি জাঞ্জ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বসরার দিকে রওনা হচ্ছিলেন। তিনি বললেন: "হে আবু ইসহাক, হাজারকে তো পাওয়া গেল, আর যখন আমরা এই যুদ্ধ থেকে ফিরে আসব, তখন বদর আল-জুলনারকেও তার কাছ থেকে নিয়ে নেব, সে চাক আর না চাক।" এরপর তিনি বের হলেন এবং যুদ্ধে একটি তীরের আঘাতে মৃত্যুবরণ করলেন।আল-মু'তামিদ আব্বাসীয় বংশের সবচেয়ে দানশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার এবং আল-মুসতামিন-এর মধ্যে তুলনা করা হতো এবং বলা হতো যে, তাদের দুজনের চেয়ে বেশি দানশীল আর কেউ শাসনক্ষমতায় আসেনি। তিনি সুদক্ষ পরিচালক এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি বুঝতে পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু যখন তার ক্ষমতা সংকুচিত করা হলো এবং তার মতামতের ওপর অন্যরা প্রাধান্য বিস্তার করল, তখন মানুষের কাছে তার প্রভাব কমে গেল।মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন খাকান বলেন: আমার পিতা আমাকে কোনো একটি প্রয়োজনে আল-মু'তামিদের কাছে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন: "বসো"। আমি তা অত্যন্ত বড় বিষয় মনে করলাম (সম্মানবশত বসতে ইতস্তত করলাম), তখন তিনি পুনরায় আদেশ করলেন। আমি ওজর পেশ করলাম যে, বসাটা আমার জন্য সমীচীন নয়। তখন তিনি আমাকে বললেন: "হে মুহাম্মদ, আমার আদেশ মেনে নেওয়া তোমার জন্য আমার অবাধ্য হওয়ার শিষ্টাচারের চেয়েও উত্তম শিষ্টাচার।"তিনি বলেন: মুসা বিন বাগহার কিছু অনুসারী 'বাধানজানাহ' নামে পরিচিত লেখক মুহাম্মদ বিন আলি কাতিবের প্রতি জুলুম করেছিল। যখন মুসা মারা গেল, সে তাকে বিদ্রূপ করে কবিতা বলল:গির্জার পাদ্রি মুসা মারা গেছে … রহমান মুসার ওপর লানত দিনসে ছিল অত্যন্ত দুর্বল … এবং আল্লাহর তাকওয়ার ক্ষেত্রে অতি নগণ্যআমার আনন্দ এখন অবাধ আর শোক … এখন অবরুদ্ধ হয়েছেএই কবিতা আল-মু'তামিদের কাছে পৌঁছালে তিনি তা খণ্ডন করে বললেন:মানুষের মধ্যে সেরা ব্যক্তি মুসা মারা গেছেন … রহমান মুসার ওপর রহম করুনকারণ তিনি ছিলেন মহান … উচ্চ মর্যাদাশীল এবং প্রধান নেতাতিনি শোককে মুক্ত করে দিয়েছেন এবং আমার … আনন্দকে চিরস্থায়ী করে দিয়েছেনতার সাধারণ মানের কিছু কবিতা হলো:আমার কী হলো যে এই প্রেম আমার … যদি সম্ভব হতো তবে আমি নিজের সম্পদ দিয়ে এর মুক্তিপণ দিতামএই প্রিয়তম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে না … আমি তার বিচ্ছেদে যেন এক যুদ্ধের মধ্যে আছিআমি যা দেখছি তার প্রতি আমার প্রেম জেগেছে … আল্লাহর কসম, আগে আমার এমনটি মনে হয়নিএই ধারায় তার আরও কিছু কবিতা:কে বলে যে আমি প্রেমে পড়েছি? যদি তারা ভালোবাসাকে … চিত্রায়িত করত তবে সেটি একটি নির্বোধ লোক হতোআমি ছাদে ছাদে ঘুরি কিন্তু তাকে দেখি না … যেন আমি একটি চিত্রবিচিত্র বিড়ালতার প্রতি ব্যাকুলতায় আমি কামনা করি … যদি আমি তার ওপর দিয়ে উড়ে যেতে পারতাম এবং একটি সারস পাখি হতামমানুষের ভালোবাসা আমার কাছে পুঞ্জীভূত হয়েছে … অথচ তাদের ভালোবাসা তাদের মাঝে ছড়িয়ে আছেবর্ণনাকারী বলেন: আল-রাদি এই কবিতাগুলোর নিচে নিজ হাতে লিখেছিলেন:এই কবিতা কেবল সেই বলতে পারে যে … কাব্য সম্পর্কে অজ্ঞ এবং নির্বোধঅথবা এমন কোনো পাগল … যার চিন্তাভ্রান্তি আছে এবং যে বোধহীনতার আরও কিছু কবিতা:আমি এই প্রেম দেখে বিস্মিত হই যা … প্রিয়তমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়হে জালেম, আমি দেখছি তুমি আমাকে চাও না … আল্লাহর কসম, এ তো এক উল্টো প্রেমতুমি তোমার সৌন্দর্যে ইউসুফ … আর আমি আমার কষ্টে ইয়াকুবআমি ইয়াকুব সাফ্ফারকে বোঝাচ্ছি না … বরং তুমিই সেই সাফ্ফার যে ক্রুশবিদ্ধতার আরও কবিতা:কাস্কারে আমি এক মানুষের প্রেমে পড়েছি … যার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল চন্দ্রের মতোযখন আমি তার কাছে আমার প্রেমের কথা জানালাম … সে মাথা নিচু করল এবং চিন্তা করতে লাগলসৌন্দর্যে সে খাঁটি সোনা … এবং সে লাল ইয়াকুত মণিযে আমাকে তার সন্ধান দেবে, তার জন্য আমার কাছে থাকবে … যা সে কামনা করবে এবং নির্ধারণ করবেযখন আমি ভাবলাম সে আমার হাতে ধরা দিয়েছে … কোনো সন্দেহ নেই যে সে আমাকে ত্যাগ করে সটকে পড়েছেবর্ণনাকারী বলেন: একদিন তিনি প্রাসাদে প্রবেশ করলেন এবং একটি পাখি দেখে সেটি শিকার করলেন। আল-মুয়াফফাক বললেন: আমি এর চেয়ে সুন্দর পাখি আর দেখিনি, হে আমিরুল মুমিনিন, এটি আমাকে উপহার দিন। তিনি তাকে সেটি দিয়ে দিলেন। যখন সেটি তার হাতে গেল, সেটি ফস্কে গেল এবং ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে গেল। আল-মু'তামিদ অট্টহাসি হাসলেন এবং বললেন:একদিন আমি প্রাসাদে প্রবেশ করলাম … এবং একটি চিত্রবিচিত্র পাখি ধরলামআল-মুয়াফফাক সেটি আমার কাছ থেকে নিলেন … যখনই তিনি তা ধরলেন, সেটি ডানা ঝাপটালএবং ভয়ে তার হাত থেকে উড়ে গেলবর্ণনাকারী বলেন: আবু আহমদ যখন সৈন্যবাহিনীসহ বসরার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং আল-মু'তামিদ সামাররায় রয়ে গেলেন, তখন তিনি বললেন:অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় … এক ভয়াবহ ব্যাপার এবং এক কঠিন সিদ্ধান্তএটা কি ভালো দেখায় যে তোমরা সবাই চলে যাবে … আর আমি অন্দরমহলের নারীর মতো ঘরে বসে থাকব?
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ويمضي الأمير أبو أحمدٍ … ويضرب بالطبل كردم كدمقال: وخرجت بثرة على قدم بدر غلامه، فأخبر بذلك، فاغتم. فلما كان بعد عتمة، خرج إلى حجرته عائداً له، وقال:عدته بعد العتم … لعلةٍ حادثة على القدممضيت أمشي في الظلم … وحدي فلا خلقٌ علموله:رمضان أتاك بخزم مقر … فاقعدن خلف بابكنّ وتكسرلنيتن ببستان سرهك فيه … يأكل اللحم بارداً حين يشطروالرثيثا والجند معه دقوقا … والطلعلع وقشر البيض الأحمردير العذارىوهذا الدير أسفل الحظيرة، على شاطىء دجلة. وهو دير حسن عامر، حوله البساتين والكروم، وفيه جميع ما يحتاج إليه. ولا يخلو من متنزه يقصده للشرب واللعب. وهو من الديارات الحسنة، وبقعته من البقاع المستطابة.وإنما سمي بدير العذارى، لأنه فيه جوار متبتلات عذارى، هن سكانه وقطانه، فسمي الدير بهن.وذكر يموت بن المزرع، عن الجاحظ، قال: حدثني ابن فرج الثعلبي، أن قوماً من بني ثعلب، أرادوا قطع الطريف على مال السلطان فأتتهم المعانية، فأعلمتهم أن السلطان قد نذر بهم، فساروا ثم أزمعوا على الاستخفاء وقع حوافر الخيل في طلبهم. فلما أمنوا وجاوزتهم الخيل، خلا كل واحد منهم بجارية هي عنده عذراء، فإذا القس قد فرغ منهم، فقال بعضهم في ذلك:وألوط من راهبٍ يّدعي … بأن النساء عليه حراميحرّم بيضاء ممكورةً … ويغنيه في البضع عنها غلامإذا ما مشى غض من طرفه … وفي الدير بالليل منه عرامودير العذارى فضوحٌ لهنّ … وعند اللصوص حديث تماموببغداد أيضاً دير يعرف بدير العذارى في قطيعة النصارى على نهر الدجاج. وسمي بذلك لأن لهم صوم ثلاثة قبل الصوم الكبير، يسمى صوم العذارى. فإذا انقضى الصوم اجتمعوا إلى هذا الدير فتعبدوا وتقربوا. وهو دير حسن طيب.ولابن المعتز في دير العذارى المقدم ذكره:خليلي قم حتى نموت من السكر … بحانة خمار مماتاً بلا قبرونشرب من كرخيةٍ ذهبيةٍ … ونصفح عن ذنب الحوادث والدهرألا ربّ أيام مضين حميدةً … بدير العذارى والصوامع والقصروكم من ليال مسعدات لذي الهوى … جسرت على اللذات فيهن بالجسرخليلي فلا تطلب فلاحي وخلّني … فما لي على لمتني فيه من صبرولبعضهم، فيه:قام عذري في ظبي دير النصارى … حين أبصرت عاشقيه حيارىفتنةٌ عمّت الخلائق واستو … لت على مسلميهم والنصارىقال: ولما خرج عبيد الله بن عبد الله بن طاهر من بغداد إلى سر من رأى، وكان المعتز استدعاه، نزل هذا الدير، فأقام به يومين واستطابه وشرب فيه، ثم قال هذه الأبيات:ما ترى طيب وقتنا يا سعيد … زمنٌ ضاحكٌ وروض نضيدورياضٌ كأنهنّ برودٌ … كل يوم لهن صبغ جديدوكأن الشقيق فيها عشيق … وكأن البهار صبٌّ عميدوكأن الغصون ميلاً قدودٌ … وكأن النوار فيها عقودوكأن الثمار والورق الخض … ر ثيابٌ من تحتهنّ نهودفاسقنيها راحاً تريح من اله … م وتبدي سرورنا وتعيدواحثث الكأس يا سعيد فقد حثّ … ك نايٌ لها وجرك عودوافترع عذرةً اللذاذات في دي … ر العذارى، فعلّها لا تعودوعبيد الله من أحسن الناس أدباً وشعراً وتصرفاً في سائر العلوم، مع كرم نفس وحسن خلق.ولما وصل عبيد الله في سفرته المذكورة إلى المعتز، أمره بالمقام عنده في ذلك اليوم، فأقام. قال عبيد الله: فأرسل المعتز إلى شارية أن تخرج، فتعاللت عليه، فقال: عندي من يحب أن يسمعك وأحب لك وله ذلك، ولا بد من حضورك. فخرجت فجلست خلف الستارة، ثم قالت: لولا الزائر ما جئنا. فأول صوت غنته:غشيت المنازل بالأنعم … كمنعرج الوشم في المعصمثم غنت بعده:
আমির আবু আহমদ চলছেন … এবং তিনি তবলায় 'করদম কদম' শব্দে আঘাত করছেন।তিনি বললেন: তার গোলাম বদরের পায়ে একটি ফোড়া হয়েছিল। তাকে সে সম্পর্কে জানানো হলে তিনি ব্যথিত হলেন। যখন রাত গভীর হলো, তিনি তাকে দেখতে তার কামরায় বের হলেন এবং বললেন:আমি রাতের অন্ধকারের পর তাকে দেখতে গেলাম … পায়ের ওপর ঘটে যাওয়া একটি অসুস্থতার কারণে।আমি অন্ধকারে হাঁটতে থাকলাম … একাকী, কোনো সৃষ্টিই তা জানতে পারল না।তার আরও কিছু পঙ্ক্তি:রমজান তোমার কাছে এসেছে একটি নির্দিষ্ট বন্ধন নিয়ে … তাই তোমরা তোমাদের দরজার পেছনে বসো এবং বিনীত হও।আমি অবশ্যই সারহাক উদ্যানে রাত কাটাব যেখানে তিনি … ঠান্ডা মাংস খাবেন যখন তা ভাগ করা হবে।আর রছিছা ও জুন্দ তার সাথে পিষ্ট করা অবস্থায় … এবং তাললা ও লাল ডিমের খোসা।দাইরুল আজারা (কুমারী মঠ)এই মঠটি হাজিরা-এর নিচে, দজলা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি একটি সুন্দর ও আবাদি মঠ, যার চারপাশে বাগান ও আঙুর বাগান রয়েছে এবং এতে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই আছে। এটি প্রমোদ ভ্রমণকারীদের থেকে খালি থাকে না যারা পানাহার ও আমোদ-প্রমোদের জন্য এখানে আসে। এটি চমৎকার মঠগুলোর অন্যতম এবং এর ভূমি মনোরম স্থানগুলোর অন্তর্ভুক্ত।একে দাইরুল আজারা (কুমারী মঠ) বলা হয় কারণ সেখানে সংসারত্যাগী কুমারী দাসীরা থাকত, তারা এর বাসিন্দা ও অবস্থানকারী ছিল, তাই তাদের নামানুসারেই মঠটির নামকরণ করা হয়েছে।ইয়ামুত বিন আল-মাজরা আল-জাহিজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে ফারাজ আস-সা’লাবি আমাকে বলেছেন যে, বনু সা’লাবের একদল লোক সুলতানের মালামাল ছিনতাই করতে চেয়েছিল। তখন গোয়েন্দারা তাদের কাছে এসে জানালো যে, সুলতান তাদের সম্পর্কে সতর্ক হয়েছেন। তারা যাত্রা করল এবং এরপর তাদের সন্ধানে ঘোড়ার খুরের শব্দ থেকে আত্মগোপন করার সংকল্প করল। যখন তারা নিরাপদ হলো এবং ঘোড়াগুলো তাদের অতিক্রম করে গেল, তখন তাদের প্রত্যেকে এমন এক দাসীর সাথে নির্জনে মিলিত হলো যে তার কাছে কুমারী ছিল। যখন পাদ্রি তাদের থেকে অবসর নিলেন, তখন তাদের কেউ এ সম্পর্কে বললেন:সেই সন্ন্যাসীর চেয়েও বেশি কামাসক্ত যে দাবি করে … যে নারীরা তার জন্য হারাম।সে সুন্দরী গৌরবর্ণা নারীকে হারাম করে … অথচ সঙ্গমে তার পরিবর্তে একটি বালকই তাকে সন্তুষ্ট করে।যখন সে হাঁটে, তখন সে তার দৃষ্টি অবনত রাখে … অথচ রাতে মঠের ভেতরে তার মধ্যে উদ্ধত আচরণ প্রকাশ পায়।আর দাইরুল আজারা তাদের জন্য কলঙ্কজনক … এবং চোরদের কাছে এর গল্প পূর্ণাঙ্গ।বাগদাদেও একটি মঠ আছে যা নাসারা পল্লীতে নহরুদ দাজাজ (মুরগি নদী) এর তীরে দাইরুল আজারা নামে পরিচিত। এর এরূপ নামকরণের কারণ হলো, তাদের বড় রোজার আগে তিনদিনের একটি রোজা আছে, যাকে কুমারীদের রোজা বলা হয়। যখন সেই রোজা শেষ হয়, তারা এই মঠে সমবেত হয় এবং ইবাদত ও উপাসনা করে। এটি একটি সুন্দর ও মনোরম মঠ।পূর্বে উল্লেখিত দাইরুল আজারা সম্পর্কে ইবনে আল-মু’তাজ বলেন:হে আমার বন্ধু, ওঠো যেন আমরা নেশায় মরে যাই … মদের দোকানে এমন এক মৃত্যু যার কোনো কবর নেই।আমরা কারখিয়া নামক সোনালি মদ পান করব … এবং বিপদাপদ ও কালের অপরাধ ক্ষমা করে দেব।হায়, দাইরুল আজারা, মঠসমূহ এবং প্রাসাদে … কতই না প্রশংসিত দিন অতিক্রান্ত হয়েছে।প্রেমিকের জন্য কত সুখের রজনী সেখানে অতিবাহিত হয়েছে … যেখানে আমি সাহসের সাথে সেতু দিয়ে আনন্দে মেতেছি।হে বন্ধু, তুমি আমার সাফল্য খুঁজো না এবং আমাকে ছেড়ে দাও … কারণ এতে আমার ধৈর্য ধরার আর কোনো শক্তি নেই।এ সম্পর্কে অন্য কেউ বলেছেন:খ্রিস্টান মঠের হরিণসদৃশ সেই রূপসীর জন্য আমার ওজর প্রতিষ্ঠিত হলো … যখন আমি তার প্রেমিকদের দিশেহারা দেখলাম।এটি এমন এক ফিতনা যা সকল সৃষ্টিকে গ্রাস করেছে এবং … মুসলমান ও খ্রিস্টানদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে।তিনি বলেন: ওবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন তাহের যখন বাগদাদ থেকে সামররা (সুররা মান রাআ)-তে যাওয়ার জন্য বের হলেন—আর আল-মু’তাজ তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন—তখন তিনি এই মঠে অবস্থান করলেন। তিনি সেখানে দুই দিন থাকলেন এবং একে মনোরম মনে করলেন ও সেখানে পানাহার করলেন। অতঃপর তিনি এই পঙ্ক্তিগুলো বললেন:হে সাঈদ, তুমি কি আমাদের সময়ের মাধুর্য দেখছো না … হাস্যোজ্জ্বল সময় এবং সুশোভিত উদ্যান।উদ্যানগুলো যেন চাদর … যার প্রতিটি দিনের জন্য রয়েছে নতুন রং।মনে হয় যেন রক্তিম ফুলগুলো সেখানে প্রেমিক … আর বাহার ফুলগুলো যেন বিরহী আশেক।যেন নুইয়ে পড়া ডালগুলো সুঠাম দেহ … আর সেখানকার ফুলগুলো যেন কণ্ঠহার।যেন ফলগুলো এবং সবুজ পাতাগুলো … এমন পোশাক যার নিচে উন্নত স্তন লুকায়িত।সুতরাং আমাকে সেই সুরা পান করাও যা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয় … এবং আমাদের আনন্দকে প্রকাশ করে ও বারবার ফিরিয়ে আনে।হে সাঈদ, পেয়ালা দ্রুত চালাও, কারণ … বংশীবাদন তোমাকে তাগিদ দিচ্ছে এবং বীণার সুর তোমাকে টানছে।আর দাইরুল আজারাতে আনন্দের কুমারিত্ব হরণ করো … কারণ হয়তো তা আর ফিরে আসবে না।ওবায়দুল্লাহ শিষ্টাচার, কবিতা এবং অন্যান্য জ্ঞানে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সেইসাথে তিনি ছিলেন দানশীল ও সচ্চরিত্রের অধিকারী।ওবায়দুল্লাহ যখন তার উল্লিখিত সফরে আল-মু’তাজের কাছে পৌঁছালেন, তিনি তাকে সেদিন তার কাছে অবস্থানের নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি অবস্থান করলেন। ওবায়দুল্লাহ বলেন: তখন আল-মু’তাজ শারিয়ার কাছে লোক পাঠালেন যেন সে বেরিয়ে আসে, কিন্তু সে অসুস্থতার অজুহাত দেখাল। তখন তিনি বললেন: আমার কাছে এমন একজন আছে যে তোমার গান শুনতে পছন্দ করে এবং আমি তোমার ও তার জন্য এটি পছন্দ করি, তাই তোমার উপস্থিতি আবশ্যক। ফলে সে বের হয়ে পর্দার অন্তরালে বসল, অতঃপর বলল: এই মেহমান না থাকলে আমি আসতাম না। সে প্রথম যে সুরে গান গেয়েছিল তা হলো:তুমি সেইসব বসতিকে নেয়ামত দ্বারা আবৃত করেছো … যেন হাতের কব্জিতে উল্কির বক্ররেখা।এরপর সে গান গাইল:
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لقد راعني للبين صوت حمامةٍ … على غصن بانٍ جاوبتها حمائمفقال لي المعتز: كيف تسمع؟ قلت: أسمع شيئاً حظ العجب منه أكثر من حد الطرب. فاستحسن هذا الكلام مني. ثم أسمعني زمر زنام الزامر، وقد ضعف وأرعش وأزمنه النقرس. وأراني الآلة التي عملها أحمد بن موسى المهندس من صفر يرسل فيها الماء فيسمع لها زمر السرناي. ثم أدخلني إلى شباك، وأمر أن يجمع بين السبع والفيل، فرأيتهما كيف يتواثبان، ثم قال لي: أذكر أني أريتك اليوم أشياء طريفة. قلت: نعم يا سيدي. قال: أيها أظرف عندك؟ قلت: غناء شارية. فقال لي: صدقت! قال جحظة: دخلت على عبيد الله بن عبد الله بن طاهر يوماً، فجاءه مشيخة، فأمرهم بالجلوس عن يمينه. وجاء كهول، فأمرهم بالجلوس عن شماله. ودخل أحداث فوقفوا بين يديه ولم يأمرهم بالجلوس. فسألته عنهم، فقال: هؤلاء بني، وأومأ إلى الشيوخ، وهؤلاء بنوهم وأومأ إلى الكهول، وهؤلاء بنوهم وأومأ إلى الأحداث. قلت: بنوك لأم أو لأمهات شنى؟ قال: أم جميعهم شاجي، وأنشد:زرعت وشاجي بيننا في شبيبتي … غراس الهوى فاعتم بالثمر العذبفشاب بنو شاجي لظهري وأدركوا … وشاب بنوهم وهي مالكة قلبيقال: وهي معي مذ سبعون سنة. وكان بعض المنجمين حكم بموته قبلها، فماتت قبله، فقال:فيا عجباً مني وممن رعيته … بأوكد أسباب الهوى ورعانيوكنت أُرجّي أن أكون فداءه … فلما أتى وقت الحمام فدانيوذكر ابن قدامة قال: حضرت جنازة شاجي، فلما انصرفنا، دخلت مع عبيد الله مساعداً له ومؤنساً، وهو مطرق ودموعه تجري على خديه، فلم أر باكياً أحسن منه. ثم رفع رأسه وأقبل علينا، فقال:يميناً بأني لو بليت بفقدها … وبي نبض عرقٍ للحياة وللنكسلأوشكت قتل النفس عند فراقها … ولكنها مات وقد ذهبت نفسيقال: ثم حضرت معه لزيارة قبرها، فلما هم بالانصراف، قال:من زار دار أحبةٍ لحياتهم … ولما يؤمّل من لقاء يقدرفليأت دار أحبةٍ سكنوا البلى … كرماً وحفظاً واللقاء المحشرقال: ومات ابن لعبيد الله من شاجي، فزار قبره، ثم أنشد:أيا مجمع الأحباب بعد تفرقٍ … أراك قريباً والتلاقي شاسعافيا عجباً أني أزورك مكرهاً … وفيك الأُلى أهوى وأجفوك طائعاقال الصولي: لما ماتت شاجي، جزع عليها عبيد الله الجزع الذي لم ير مثله. فرثاها جماعة من الأدباء، ورثاها عبيد الله بعدة قصائد. فكان أحسن ما مر بي في ذلك، رسالة لعبد الله بن المعتز إليه وجوابها من عبيد الله بن عبد الله. وكانت نسخة التعزية: اتصل بي، أعزك الله، خبر المصيبة. فوالله لقد أشركني الهم بها معك، وألمني منها ما ألمك. فصبراً يا أخي على حكم القدر، ونهضاً من عثرة الجزع، وثباتاً للمحنة، وشكراً لمفيد النعمة بتقديم الحرم وتحصيل الأجر على حسن الصبر وإن كانت:جليلة حظٍ من عفاف ومن تُقىً … وقمريّةً في ذروة الغصن تسجعتولت ولو لم تطعم الأرض غيرها … كفتها ولكن لا أرى الأرض تشبعوقد أطال لله إمتاعك بها منذ وهبها لك، وجعل فقده لمثوبتك التي هي أكبر منها إذ ارتجعها منك. ومثلك، أيدك الله، لا يحض على حفظ دينه، لأنك تعلمه وترغب فيه وتسارع إليه. لكن المصائب ربما عصفت بالجازع حتى يذكر أو يذكر، فيراجع الرضا بحكم من لا يجور، ويسبق الصبر على المصيبة مختاراً، للسلوة التي لا بد من أن يصير إليها اضطراراً. ورب خيرة مرة، وحميد في مكروه، وهو الدهر الذي نعرفه ولا تؤتى من غرةٍ به. هذه سجيته وبهذا تقدمت سيرته كذلك حتى يرث الله الأرض ومن عليها وهو خير الوارثين. ولولا علة عائقة عن لقائك، أعزك الله، لصرت إليك بدلاً من كل كتاب ورسول، وقضيت بذلك حقك ورأيته من واجبك. ورب حاضر لم يحضر وده، وغائب لم يغب غمه عنا. وأعظم الله أجرك، وأجزل ثوابك، ودل على سبيل العزاء قلبك، وكفاك مكارهك، ووفقك لما يوافقك، ورحم التي توفيت، وجعل ما اتصلت به من الآخرة خيراً مما انقطعت عنه من الدنيا، وإنا لله وإنا إليه راجعون.
বিচ্ছেদের কারণে একটি ঘুঘুর ডাক আমাকে আতঙ্কিত করেছে … একটি বান গাছের ডালে অন্য ঘুঘুগুলো তাকে সাড়া দিচ্ছে।আল-মু'তায আমাকে বললেন: তোমার কাছে কেমন লাগছে? আমি বললাম: আমি এমন কিছু শুনছি যার প্রতি বিস্ময়ের ভাগ আমোদ-প্রমোদের হদ অপেক্ষা বেশি। তিনি আমার এই কথাটি পছন্দ করলেন। তারপর তিনি আমাকে যুনাম বংশীয় বংশীবাদকের বাঁশি শোনালেন, তখন সে দুর্বল ও কম্পিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিনের গেঁটে বাতে আক্রান্ত হয়েছিল। তিনি আমাকে সেই যন্ত্রটি দেখালেন যা প্রকৌশলী আহমদ বিন মুসা পিতল দিয়ে তৈরি করেছিলেন, তাতে পানি প্রবাহিত হলে সানাইয়ের মতো আওয়াজ পাওয়া যেত। অতঃপর তিনি আমাকে একটি জানালার কাছে নিয়ে গেলেন এবং সিংহ ও হাতিকে একত্রিত করার আদেশ দিলেন। আমি দেখলাম তারা একে অপরের ওপর কীভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তারপর তিনি আমাকে বললেন: মনে করো আমি আজ তোমাকে কিছু চমৎকার জিনিস দেখিয়েছি। আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আমার মনিব। তিনি বললেন: তোমার কাছে কোনটি বেশি চমৎকার লেগেছে? আমি বললাম: শারিয়ার গান। তিনি আমাকে বললেন: তুমি সত্য বলেছ! জাহযা বলেন: একদিন আমি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহিরের কাছে গেলাম। তখন কিছু বৃদ্ধ লোক তাঁর কাছে এলেন, তিনি তাঁদের তাঁর ডান পাশে বসার নির্দেশ দিলেন। এরপর কিছু মধ্যবয়সী লোক এলেন, তিনি তাঁদের বাম পাশে বসার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর কিছু যুবক প্রবেশ করল, তারা তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে রইল এবং তিনি তাঁদের বসার আদেশ দিলেন না। আমি তাঁদের সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এঁরা আমার পুত্র (বৃদ্ধদের দিকে ইঙ্গিত করে), আর এঁরা তাঁদের পুত্র (মধ্যবয়সীদের দিকে ইঙ্গিত করে), আর এঁরা তাঁদের পুত্র (যুবকদের দিকে ইঙ্গিত করে)। আমি বললাম: আপনার সন্তানরা কি এক মায়ের গর্ভজাত না ভিন্ন ভিন্ন মায়ের? তিনি বললেন: তাঁদের সবার মা হলো শাজি। এবং তিনি আবৃত্তি করলেন:আমি ও শাজি আমাদের যৌবনে আমাদের মাঝে … ভালোবাসার চারা রোপণ করেছিলাম, যা মিষ্টি ফলে সুশোভিত হয়েছে।শজির গর্ভজাত আমার পিঠের হাড় থেকে আসা সন্তানেরা বৃদ্ধ হয়েছে এবং তাদের সময় পূর্ণ হয়েছে … আর তাদের সন্তানরাও বৃদ্ধ হয়েছে, অথচ সে (শাজি) আজও আমার হৃদয়ের অধিকারিণী।তিনি বললেন: সে সত্তর বছর যাবৎ আমার সাথে আছে। কিছু জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে তিনি (উবায়দুল্লাহ) তার আগে মারা যাবেন, কিন্তু সে তাঁর আগেই মারা গেল। তখন তিনি বললেন:আমার এবং তার প্রতি বড় বিস্ময় যাকে আমি লালন করেছি … ভালোবাসার সুদৃঢ় বন্ধনে এবং সেও আমাকে আগলে রেখেছে।আমি আশা করেছিলাম যে আমি তার জন্য উৎসর্গিত হব … কিন্তু যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, সে-ই নিজেকে আমার জন্য উৎসর্গ করে দিল।ইবনে কুদামা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি শাজির জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। যখন আমরা ফিরে এলাম, আমি উবায়দুল্লাহর সাথে তাঁকে সান্ত্বনা ও সঙ্গ দেওয়ার জন্য প্রবেশ করলাম। তিনি মাথা নিচু করে ছিলেন এবং তাঁর গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর রোদনকারী আর দেখিনি। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন:কসম করে বলছি, যদি আমি তাকে হারানোর কষ্টে পতিত হতাম … আর আমার মাঝে জীবন ও স্পন্দনের কোনো শিরা অবশিষ্ট থাকত।তবে তার বিচ্ছেদে আমি নিজেকে প্রায় হত্যাই করে ফেলতাম … কিন্তু সে এমন অবস্থায় মারা গেছে যখন আমার প্রাণ আগেই চলে গিয়েছিল।তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাঁর সাথে তার কবর জিয়ারতে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি ফিরে আসার ইচ্ছা করলেন, তখন বললেন:যে ব্যক্তি তার প্রিয়জনদের জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের ঘরে সাক্ষাৎ করতে যায় … এবং সাক্ষাতের যে আশা পূরণ হতে পারে।সে যেন সেই প্রিয়জনদের ঘরে আসে যারা জরাজীর্ণতায় বাস করছে … সম্মান ও স্মৃতির খাতিরে, আর সাক্ষাত তো হবে হাশরের ময়দানে।বর্ণনাকারী বলেন: শাজির গর্ভজাত উবায়দুল্লাহর এক পুত্র মারা গেল। তিনি তার কবর জিয়ারত করলেন এবং আবৃত্তি করলেন:হে বিচ্ছেদের পর প্রিয়জনদের মিলনস্থল … আমি তোমাকে নিকটে দেখছি অথচ সাক্ষাৎ অতি দূরবর্তী।কী আশ্চর্য যে, আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও তোমার কাছে আসছি … অথচ তোমার মাঝেই তারা আছে যাদের আমি ভালোবাসি, আর আমি স্বেচ্ছায় তোমাকে এড়িয়ে চলছি।আস-সুলি বলেন: যখন শাজি মারা গেল, উবায়দুল্লাহ তাঁর জন্য এমন শোকাতুর হলেন যার নজির দেখা যায়নি। একদল সাহিত্যিক তাঁর বিয়োগে শোকগাথা রচনা করলেন এবং উবায়দুল্লাহ নিজেও বেশ কিছু কবিতা রচনা করলেন। এ বিষয়ে আমার কাছে যা সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে তা হলো আব্দুল্লাহ বিন আল-মু'তাযের প্রেরিত একটি শোকবার্তা এবং উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে তার উত্তর। শোকবার্তার কপিটি ছিল নিম্নরূপ: আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, শোকের খবরটি আমার কাছে পৌঁছেছে। আল্লাহর কসম, তার জন্য দুশ্চিন্তা আমাকে আপনার সাথে অংশীদার করেছে এবং আপনাকে যা কষ্ট দিয়েছে তা আমাকেও ব্যথিত করেছে। সুতরাং হে আমার ভাই, তাকদীরের ফয়সালার ওপর ধৈর্য ধরুন, শোকের স্খলন থেকে উঠে দাঁড়ান, পরীক্ষার মুখে অবিচল থাকুন এবং নেয়ামত দানকারীর কৃতজ্ঞতা আদায় করুন আল্লাহর মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে এবং উত্তম ধৈর্যের সওয়াব হাসিলের মাধ্যমে, যদিও সে ছিল:পবিত্রতা ও তাকওয়ার অধিকারী এক মহীয়সী নারী … এবং বৃক্ষশাখার চূড়ায় কূজনকারী এক কপোতী।সে চলে গেছে; পৃথিবী যদি সে ছাড়া আর কাউকে ভক্ষণ না করত … তবে সেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু আমি দেখছি না যে পৃথিবী কখনো তৃপ্ত হয়।আল্লাহ দীর্ঘকাল আপনাকে তার মাধ্যমে আনন্দ দান করেছেন যখন থেকে তিনি তাকে আপনাকে দান করেছিলেন। আর তাকে আপনার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে তিনি তার বিয়োগকে আপনার সওয়াবের মাধ্যম করেছেন যা তার চেয়েও বড়। আপনার মতো ব্যক্তিকে, আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন, দ্বীন রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজন নেই, কারণ আপনি তা জানেন, তাতে আগ্রহী এবং সেদিকে ধাবমান। কিন্তু বিপদাপদ শোকাতুর ব্যক্তিকে কখনো কখনো এমনভাবে বিচলিত করে যে তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে হয় বা সে নিজেই স্মরণে ফিরে আসে; তখন সে সেই সত্তার ফয়সালায় সন্তুষ্টিতে ফিরে আসে যিনি কারো প্রতি জুলুম করেন না। আর বিপদে স্বেচ্ছায় সেই ধৈর্যের দিকে ধাবিত হয় যা অবশেষে তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও গ্রহণ করতে হতো। অনেক সময় তিক্ততার মাঝেই কল্যাণ থাকে এবং অপছন্দনীয় বিষয়ের মাঝেই প্রশংসা নিহিত থাকে। আর এটাই হলো সেই মহাকাল যাকে আমরা চিনি এবং যার প্রতারণা থেকে কেউ নিরাপদ নয়। এটাই তার স্বভাব এবং এভাবেই তার ধারা চলে আসছে, যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী। যদি আপনার সাথে সাক্ষাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকত, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, তবে আমি কোনো পত্র বা বাহকের পরিবর্তে নিজেই আপনার কাছে যেতাম। এর মাধ্যমে আমি আপনার হক আদায় করতাম এবং একে আপনার প্রতি আমার দায়িত্ব মনে করতাম। অনেক উপস্থিত ব্যক্তি আছে যার ভালোবাসা উপস্থিত নেই, আবার অনেক অনুপস্থিত ব্যক্তি আছে যার দুঃখ আমাদের ছেড়ে যায়নি। আল্লাহ আপনার সওয়াব বৃদ্ধি করুন, আপনার প্রতিদানকে মহান করুন, আপনার অন্তরকে ধৈর্যের পথ প্রদর্শন করুন, আপনার অপছন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে আপনাকে রক্ষা করুন এবং আপনার জন্য যা কল্যাণকর সেদিকে আপনাকে তৌফিক দিন। আর যিনি ইন্তেকাল করেছেন তাঁর ওপর রহম করুন, পরকালের যার সাথে তিনি মিলিত হয়েছেন তাকে ইহকাল থেকে যা বিচ্ছিন্ন হয়েছে তার চেয়ে উত্তম করুন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فأجابه عبيد الله بن عبد الله: أطال الله بقاء السيد المؤمل للدنيا والدين، وابن السادة المنعمين، والخلفاء الراشدين، والآباء المنتجبين، وزاد الله السيد تشريفاً وتفضيلاً، وأدام له العز والسعادة والكرامة والغبطة والسلامة، وجدد له النعم الظاهرة والمنن المترادفة، وجعلني من كل سوء ومكروه فداه، وقدمني إلى كل مرهوب ومحذور قبله.وصل كتاب السيد، أطال الله بقاءه، مملوءاً بالبر والفضل والانعام والتطول وفرائد الأدب وجوامع المحاسن. فتلقيته بحقه من الاعظام والشكر والمعرفة بعلو قدره وارتفاع درجته وارتقاء رتبته في حسن التأليف واتفاق المعاني وجليل الصواب وجميل الخطاب. ولقد رفع الله الأدب والعلم ونواظر أهلهما بالسيد، أيده الله بعنايته وقدرته. فأما المشاركة فمعهودة من تفضله، حتى لو قلت أن التعزية بهذه المصيبة التي لحقتني لو شوفوه بها وعزى عنها جرى الأمر مجراه ووضع القصد في أحق مقاصده. وأما الصبر فهو الذي لا بد منه اضطراراً أو اختياراً.إذا ما أصابت ذا حياةٍ مصيبة … فقابلها منه التحمل والصبرفما بعدت من أن تحوّل نعمةً … يحق عليها الحمد لله والشكروأما الجزع، فما أصاب وأوجع وألم وروع، فلا محيد عنه. وإذا لم يتعد العين والقلب إلى البدن واللسان فخطبه أسهل، وشكر المولى المخفف للمحن والمتمم للنعم، المفزع في النوائب والعصمة في المصائب. ولو كان طول الامتاع، أعز الله السيد، يسلى لا يسلو عنه إلا لمن ساعده ووهى عقده لما عمل عليه مميز نظار، ولو كان على أشد المضض وأمر الغصص ولوعة الأبد ودوام الكمد، وأقول:أسرّ أمور الدهر صار أغمّها … وكل جديد صار بعدك باليافأعجب من شهدٍ تحوّل علقماً … ومن ضاحكٍ لم يعد أن ظل باكياوأما السلوة، أعز الله السيد، فليست من فعل الأحرار المخلصين لا في محيا ولا في ممات، إنما هو اغتنام الاحتساب واتصال الأكساب والعياذ بالله من فقد العزاء وفقد أجره. وبالله يا سيدي، إن الشخص لخاشع وإن الطرف لدامع وإن القلب لحران موجع. ولقد صادفت هذه الحال بدناً ما فيه عضو صحيح، أسقام متطاولة ومصيبة موصولة بما بقي من الزمن.وبينا الفتى يبكي ويندب شجوه … ومألوفه إذ صار يبكى ويندبوأما ما ذكره السيد، جعلني الله فداه، من أمر العلة التي لا كانت ولا سمع لها بذكر أبداً، فإنه لولاها لكان وكان مما لا ينطلق بذكره اللسان. وأنا أعيذه بالله العظيم الذي فضله بكل خلق كريم من تعنيف الفعل الذي لا يجزي أدناه أقصى الشكر ففيما سلف من المخاطبة والمشاركة ما يبلغ أقصى منازل الشرف، وحاول أعلى مآثر الفخر؛ وأنا أفاوض السيد، أطال الله بقاءه، الشيء بعد الشيء، مما نطق به الحزن، وأبثه إياه. فمن ذلك:وقعت على الأحباب والترب دونهم … بنفسي وجوهٌ تحت تلك المقابرومثل لي ما نال من حسنها البلى … فسبحان ربّي عالماً بالسرائرثم بعث إليه بعدة قصائد قالها فيها.قال: ولما اختلت حال عبيد الله، بعث إليه المعتضد يسأله أن يفسح لشاجي في زيارته، فشق ذلك عليه، واحتج بأنها عليلة ومختلة الهيئة. فلج في طلبها حتى ظهر منه تهديد له. فبعث بها إليه. فذكر عنها أنها قالت: احتقرت نفسي حين دخلت على جواريه، لما رأيت عليهن من حليهن وحللهن، وحقرنني هن أيضاً حتى غنيت وغنين، فانتقل إعظامي لهن إلي منهن. فلما خرجت، حمل معها المعتضد عشرة آلاف درهم وكسوة وطيب. فجاءت شاجي وعبيد الله واله. فلما رآها سري عنه، ثم قال لها: هل رأيت شيئاً لم تري مثله عندنا فاستحسنته؟ فقالت: لا والله، إلا عوداً من عود، وذلك أنه محفور لا مبني، فاستطرفته. قال جحظة: فما قولك فيمن يدخل دار الخلافة فلا يمد عينه لشيء يستحسنه فيها إلا عوداً.قال: وكان مما صنعته وغنته ذلك اليوم للمعتضدماذا استعار الحسن من وجهه … والغصن الناعم من قدّهلقد تعاتبنا بأبصارنا … فيما جناه الخلف من وعدهحتى تجارحنا بتكرارنا … للّحظ في قلبي وفي خدهفأدرك الثأر وأدركته … وسرني بالصدّ عن صدهوكان مما غنته أيضاً:
ওবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ তাকে উত্তর দিলেন: আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও দ্বীনের জন্য আশার স্থল, অনুগ্রহকারী মহান ব্যক্তিদের সন্তান, খোলাফায়ে রাশেদীনের বংশধর এবং মনোনীত পিতৃপুরুষদের উত্তরসূরি এই মহোদয়ের জীবন দীর্ঘায়িত করুন। আল্লাহ তাআলা এই মহোদয়ের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তার জন্য প্রতাপ, সৌভাগ্য, সম্মান, ঈর্ষণীয় অবস্থা ও নিরাপত্তা চিরস্থায়ী করুন। তিনি তার জন্য প্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ এবং নিরবচ্ছিন্ন অনুগ্রহসমূহ নবায়ন করুন। তিনি আমাকে তার জন্য সকল মন্দ ও অপ্রীতিকর বিষয় থেকে উৎসর্গিত করুন এবং সকল ভীতি ও আশঙ্কার স্থলে তার পরিবর্তে আমাকে অগ্রবর্তী করুন।আল্লাহ মহোদয়ের হায়াত বৃদ্ধি করুন, তার পত্রটি পৌঁছেছে যা কল্যাণ, শ্রেষ্ঠত্ব, দান-সদকা, অনুগ্রহ, সাহিত্যের মনিমুক্তো এবং সৌন্দর্যের সারসংক্ষেপে পরিপূর্ণ। আমি একে যথোচিত সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং তার উচ্চ মর্যাদা, উন্নত অবস্থান এবং উত্তম রচনাশৈলী, অর্থের সামঞ্জস্য, যথাযথ সঠিকতা ও চমৎকার সম্বোধনের ক্ষেত্রে তার উচ্চ পদমর্যাদার স্বীকৃতির সাথে গ্রহণ করেছি। আল্লাহ তাআলা এই মহোদয়ের মাধ্যমে সাহিত্য, জ্ঞান এবং এগুলোর আহলে বা সমঝদারদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, আল্লাহ তাকে তার বিশেষ সাহায্য ও কুদরতের মাধ্যমে সমর্থন দান করুন। সহমর্মিতার বিষয়টি তো তার অনুগ্রহ থেকে পূর্ব-পরিচিত, এমনকি যদি আমি বলি যে, আমার ওপর আপতিত এই বিপদে যে শোকপ্রকাশ তার মাধ্যমে হয়েছে, যদি তিনি সরাসরি তা করতেন এবং এর জন্য শোক জানাতেন, তবে বিষয়টি তার যথাযথ স্থানেই ঘটত এবং উদ্দেশ্যটি তার সঠিক লক্ষ্যেই নিপতিত হতো। আর ধৈর্যের বিষয়টি এমন, যা নিরুপায় হয়ে হোক বা স্বেচ্ছায় হোক, ধারণ করতেই হয়।যখনই কোনো জীবিত সত্তার ওপর কোনো বিপদ আপতিত হয় … তখন সহনশীলতা ও ধৈর্য দিয়েই তার মোকাবিলা করতে হয়তবে তা অচিরেই এমন এক নিয়ামতে রূপান্তরিত হওয়া থেকে দূরে নয় … যার ওপর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক হয়ে পড়েআর অস্থিরতার কথা যদি বলি, তবে যা কিছু আপতিত হয়েছে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যন্ত্রণাদায়ক ও ভীতিপ্রদ; তা থেকে পলায়নের কোনো পথ নেই। যদি তা চোখ ও হৃদয় অতিক্রম করে শরীর ও জিহ্বা পর্যন্ত না পৌঁছায়, তবে সেই বিপদ হালকা হয়। কৃতজ্ঞতা সেই মহান রবের প্রতি যিনি বিপদসমূহ লাঘব করেন, নিয়ামতসমূহ পূর্ণ করেন, যিনি দুর্যোগের আশ্রয়স্থল এবং বিপদে সুরক্ষাদানকারী। হে আল্লাহ, মহোদয়কে সম্মানিত করুন, যদি দীর্ঘ ভোগবিলাস শোক ভুলিয়ে দিত—তবে তা কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই সম্ভব হতো যাকে তার ভাগ্য সহায়তা করেছে এবং যার বন্ধন শিথিল হয়ে গেছে—তবে কোনো বিচক্ষণ পর্যালোচনাকারী এর ওপর আমল করত না। যদিও তা চরম জ্বালা, তিক্ত কণ্ঠরোধকারী বেদনা, চিরস্থায়ী দহন এবং নিরন্তর বিষণ্ণতার ওপর হতো। আমি বলি:যুগের আনন্দদায়ক বিষয়গুলো অত্যন্ত দুঃখের বিষয়ে পরিণত হয়েছে … আর তোমার পর প্রতিটি নতুন বিষয়ই জীর্ণ হয়ে গেছেআমি বিস্মিত হই সেই মধু দেখে যা তিক্ত রসে পরিণত হয়েছে … আর সেই হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তি দেখে যে কেবল ক্রন্দনরতই রয়ে গেলআর সান্ত্বনা বা ভুলে যাওয়ার বিষয়টি, আল্লাহ মহোদয়কে সম্মানিত করুন, এটি জীবনে বা মরণে কোনো নিষ্ঠাবান স্বাধীন মানুষের কাজ নয়। এটি তো কেবল সওয়াবের প্রত্যাশাকে লুফে নেওয়া এবং নেক আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। শোক এবং এর সওয়াব হারিয়ে ফেলা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহর কসম, হে আমার সরদার! ব্যক্তিটি অত্যন্ত বিনীত, চোখ অশ্রুসজল এবং হৃদয় ব্যথিত ও যন্ত্রণাকাতর। এই অবস্থাটি এমন এক শরীরের ওপর আপতিত হয়েছে যার কোনো অঙ্গই সুস্থ নেই; দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং অবশিষ্ট জীবনের সাথে মিশে থাকা বিপদ।এক যুবক যখন তার দুঃখের জন্য কাঁদছে ও বিলাপ করছে … এবং তার প্রিয়জনও তখন কাঁদছে ও বিলাপ করছেআর মহোদয় সেই রোগের যে কথা উল্লেখ করেছেন—আল্লাহ আমাকে তার জন্য উৎসর্গ করুন—যা কখনও ছিল না এবং যার কথা কখনও শোনাও যায়নি; যদি তা না হতো তবে এমন কিছু হতো যা জিহ্বা উচ্চারণ করতে সক্ষম নয়। আমি তাকে সেই মহান আল্লাহর আশ্রয়ে রাখছি, যিনি তাকে প্রতিটি মহৎ চরিত্রের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, সেই কর্মের কঠোরতা থেকে যার সামান্যতম অংশও চরম কৃতজ্ঞতার দ্বারা আদায় করা সম্ভব নয়। ইতিপূর্বেকার সম্বোধন ও সহমর্মিতার মধ্যে সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর উপাদান রয়েছে এবং তা গৌরবের উচ্চতম নিদর্শন অর্জনের চেষ্টা করেছে। আমি মহোদয়ের সাথে—আল্লাহ তার জীবন দীর্ঘায়িত করুন—একে একে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি যা শোকের ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে এবং আমি তা তাকে প্রদান করছি। এর মধ্যে রয়েছে:আমি প্রিয়জনদের কবরে উপস্থিত হয়েছি আর তাদের ওপর তখন মাটি … আমার জীবন উৎসর্গ হোক সেই সব মুখমণ্ডলের জন্য যারা এখন ওই কবরগুলোর নিচেতাদের সৌন্দর্যের যে জীর্ণ দশা হয়েছে তা আমার সামনে মূর্ত হয়ে উঠল … অতএব পবিত্রতা সেই রবের, যিনি অন্তরের রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবগতঅতঃপর তিনি তার কাছে বেশ কিছু কাসিদা পাঠালেন যা তিনি এই বিষয়ে রচনা করেছিলেন।বর্ণনাকারী বলেন: যখন ওবায়দুল্লাহর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ল, তখন মুতাযিদ তার কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তিনি যেন ‘শাজি’কে তার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেন। এটি ওবায়দুল্লাহর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর মনে হলো এবং তিনি ওজর পেশ করলেন যে সে অসুস্থ এবং তার বেশভূষা অগোছালো। কিন্তু মুতাযিদ তাকে পাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন এমনকি তার পক্ষ থেকে হুমকির ভাব প্রকাশ পেল। তখন ওবায়দুল্লাহ তাকে মুতাযিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। শাজি তার সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: আমি যখন তার দাসীদের কাছে প্রবেশ করলাম তখন নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে করছিলাম, কারণ তাদের পরনে যে অলঙ্কার ও পোশাক ছিল তা আমি দেখেছিলাম। তারাও আমাকে তুচ্ছ জ্ঞান করছিল, যতক্ষণ না আমি গান গাইলাম এবং তারাও গাইল; তখন তাদের প্রতি আমার যে সম্ভ্রমবোধ ছিল তা তাদের থেকে আমার দিকে স্থানান্তরিত হলো। যখন তিনি বিদায় নিলেন, মুতাযিদ তার সাথে দশ হাজার দিরহাম, পোশাক এবং সুগন্ধি পাঠিয়ে দিলেন। শাজি ওবায়দুল্লাহর কাছে ফিরে এলেন যখন তিনি শোকাচ্ছন্ন ছিলেন। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তার বিষণ্ণতা দূর হলো। এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি সেখানে এমন কিছু দেখেছ যা আমাদের এখানে দেখনি এবং তোমার কাছে তা ভালো লেগেছে? সে বলল: আল্লাহর কসম, না; কেবল চন্দন কাঠের তৈরি একটি বাদ্যযন্ত্র (উূদ) ছাড়া, কারণ সেটি খোদাই করা ছিল, জোড়া লাগানো নয়, তাই সেটি আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। জাহযা বলেন: সেই ব্যক্তির সম্পর্কে তোমার অভিমত কী, যে খলিফার প্রাসাদে প্রবেশ করে অথচ কোনো জিনিসের প্রতি চোখ তুলে তাকায় না যা তার কাছে ভালো লাগে, কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র ছাড়া!বর্ণনাকারী বলেন: সেদিন তিনি মুতাযিদের জন্য যা রচনা করেছিলেন এবং গেয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল:সৌন্দর্য তার মুখমণ্ডল থেকে কী ধার করেছে … আর কোমল ডালটি তার দেহসৌষ্ঠব থেকে কী নিয়েছে?আমরা আমাদের চোখের ইশারায় একে অপরকে অনুযোগ করেছি … প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে যা ঘটেছে সে বিষয়েএমনকি আমরা আমাদের বারবার দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে পরস্পরকে আহত করেছি … যা আমার হৃদয়ে এবং তার গণ্ডদেশে আঘাত হেনেছেফলে সে প্রতিশোধ গ্রহণ করল এবং আমিও প্রতিশোধ নিলাম … আর তার বিমুখতা থেকে বিমুখ হওয়ার মাধ্যমে সে আমাকে আনন্দিত করলতিনি আরও যা গেয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল:
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هو الدهر لا يعطيك إلا تعلّةً … ولا يأخذ الموهوب إلا تغشّماعزاءً إذا ما فات مطلب هالكٍ … وصبراً إذا كان التصبّر أحزماقال أبو علي محمد بن العلاء الشجري: لما تقلد عبيد الله بن سليمان الوزارة للمعتضد، دفع عبيد الله بن عبد الله بن طاهر إلي رقعة، سألني عرضها على عبيد الله بن سليمان، فكان فيها:أبي دهرنا إسعافنا في نفوسنا … وأسعفنا فيمن نجلّ ونعظمفقلت له: نعماك فيهم أتمّها … ودع أمرنا، إن المهم المقدّمفاستحسن عبيد الله بن سليمان ما كتب به، وقال: أما ترى كيف تلطف لشكوى حاله؟ ثم أخذ جميع رقاعه فوقع له فيها بجميع ما أحب.قال: وقال أبو العيناء يوماً لعبيد الله أسكت أيها الأمير أم أقول؟ قال: إن سكت كفيت، وإن قلت أصغي إليك، وإنك لتقر منا إذا احتجنا إليك، وتبعد عنا إذا احتجت إلينا.ومن شعره، قوله:لعمري لئن حدثت نفسي أنني … أفوتك أن الرأي مني لعازبلأنك مني بالمكان المحيط بي … من الأرض أني استنهضتني المذاهبذكر أبو علي الأوارجي، أن أبا بكر محمد بن السري السراج النحوي، كان يحب جارية من القيان، فأنفق عليها مالاً جزيلاً. فلما ورد المكتفي من الرقة، خرج الناس ينظرون إليه. فخرجت أنا وهو وأبو القاسم عبد الله الموصلي، فجلسنا على روشن دار ابن جهشيار لنراه. فلما وافى ونظرنا إليه استحسناه كلنا. وكان أبو بكر بن السراج واجداً على هذه الجارية ومغاضباً لها. فقال: قد حضرني شيء، فاكتب، فكتبت:قايست بين جمالها وفعالها … فإذا الملاحة بالخيانة لا تفيوالله لا كلمتها ولو أنها … كالشمس أو كالبدر أو كالمكتفىثم مضى للحديث مدة طويلة. وكان أبو عبد الله محمد بن إسمعيل زنجي الكاتب، يهوى قينة، وهو إذ ذاك يكتب لأبي العباس ابن الفرات فكان يحدثه بحديثه معها ولا يحتشمه، وكان اجتماعها معه في كل يوم جمعة، لأنه كان يوم نوبته في داره.قال أبو علي: فحدثني زنجي، قال: غدوت يوم سبت على أبي العباس ابن الفرات، فقال لي: ما كان من خبرك أمس؟ فحدثته باجتماعنا، فقال لي: فما كان صوتك؟ فقلت:قايست بين جمالها وفعالهافقال لي أبو العباس: لمن هذا الشعر؟ قلت: لعبد الله بن المعتز. ثم ركب أبو العباس بن الفرات إلى الوزير القاسم بن عبيد الله، فحدثه بهذا الحديث، وأنشده الشعر، وسار معه إلى الثريا، ثم انصرف عنه جلس في ديوانه. فلما علم أنه قد قرب انصرافه، خرج فتلقاه، فلما لقيه، حدثه أنه انشد المكتفي الشعر وأنه سأله عن قائله، فعرفه أنه لعبيد الله بن عبد الله ابن طاهر. قال: فأمرني أن أحمل إليه ألف دينار. فقلت: إنما قلت لك أن الشعر لعبد الله بن المعتز، فنسبته إلى ابن طاهر. فقال: والله، ما وقع لي إلا أنك قلت إنه لعبيد الله. وهذا رزق رزقه الله عبيد الله، لا حيلة لأحد فيه. قال زنجي: فلما انصرف أبو العباس، حدثني بهذا الحديث وقال: خذ أنت الدنانير وامض بها إلى عبيد الله وقل له: هذا رزق بعثه الله إليك من حيث لم تحتسب! فحملت إليه الدنانير وحدثته الحديث، فحمد الله وشكر أبا العباس، فكان هذا من الاتفاق العجيب! وكان عبيد الله يقول: من صحب السلطان وخدمه، احتاج أن يدخل أعمى ويخرج أخرس.ومن شعره، قوله:إذا أنت لم تفضل على ذي مودة … وكنت وإياه بمنزلةٍ سوافلا تك ذا تيهٍ عليه فإنما … يعاقب بالذنب الفتى لا على الرضاوقال أيضاً:ألا إن قلبي منك بعد الذي مضى … لملآن من أمرين يختلفانهوى منك يتلوه أذىً لك والأذى … عدو الهوى لن يوجدا بمكانوقال أيضاً:كفاك عن الدنيا الدنيّة مخبراً … غنى باخليها وافتقار كرامهاوإن رجال النفع تحت مداسها … وإن رجال الضر فوق سنامهاوقال أيضاً:وقالوا: غداً ينأى فما أنت صانع … فما هو إلا أن تفيض المدامعبلى زفراتٌ بينهن تنفّسٌ … يقطّعن قلبي والهموم النوازع
এই কালচক্র, সে তোমাকে বাহানা ব্যতীত কিছু দেয় না … এবং সে দান করা বস্তুকে জবরদস্তি ব্যতীত ফিরিয়ে নেয় না।সান্ত্বনা নাও যখন কোনো বিনাশশীল চাওয়া হারিয়ে যায় … আর ধৈর্য ধরো যখন ধৈর্যধারণই সবচেয়ে সংকল্পবদ্ধ কাজ হয়।আবু আলী মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-শাজারী বলেন: যখন উবায়দুল্লাহ বিন সুলাইমান মুতাদিদ-এর উজিরের পদ লাভ করলেন, তখন উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহির আমাকে একটি চিরকুট দিলেন এবং তা উবায়দুল্লাহ বিন সুলাইমানের কাছে পেশ করতে বললেন। তাতে লেখা ছিল:আমাদের কালচক্র আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছে … কিন্তু আমরা যাদের শ্রদ্ধা করি ও বড় মনে করি, তাদের বিষয়ে আমাদের সাহায্য করেছে।তাই আমি তাকে বললাম: তাদের প্রতি আপনার অনুগ্রহ পূর্ণ করুন … আর আমাদের বিষয় ছেড়ে দিন, কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।উবায়দুল্লাহ বিন সুলাইমান যা লেখা হয়েছে তা পছন্দ করলেন এবং বললেন: তুমি কি দেখছ না সে কত নমনীয়ভাবে নিজের অবস্থার অভিযোগ পেশ করেছে? এরপর তিনি তার সকল চিরকুট গ্রহণ করলেন এবং সে যা চেয়েছিল তার সবগুলোতে তার পক্ষে স্বাক্ষর করে দিলেন।তিনি বলেন: একদিন আবু আল-আইনা উবায়দুল্লাহকে বললেন, হে আমির, আমি কি চুপ থাকব নাকি বলব? তিনি বললেন: যদি তুমি চুপ থাকো তবে তা যথেষ্ট, আর যদি বলো তবে আমি তোমার প্রতি মনোযোগ দেব। তুমি আমাদের নিকটবর্তী হও যখন আমাদের তোমার প্রয়োজন হয়, আর আমাদের থেকে দূরে সরে যাও যখন তোমার আমাদের প্রয়োজন হয়।তার কবিতার মধ্যে এটিও রয়েছে:আমার জীবনের কসম, আমি যদি মনে মনে চিন্তা করি যে আমি আপনাকে এড়িয়ে যাব … তবে আমার সে বুদ্ধি হবে ভ্রষ্ট।কারণ আপনি আমার চারপাশে এমনভাবে পরিবেষ্টিত যেমন ভূমি আমাকে পরিবেষ্টন করে আছে … যেদিকেই আমি যাত্রা করি না কেন।আবু আলী আল-আওয়ারজি উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাকরণবিদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-সাররি আল-সাররাজ একজন গায়িকা দাসীকে ভালোবাসতেন এবং তার পিছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। যখন আল-মুক্তাফি রাক্কা থেকে ফিরে এলেন, তখন লোকজন তাকে দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ল। আমি, তিনি এবং আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ আল-মাওসিলি বের হলাম এবং আমরা তাকে দেখার জন্য ইবনে জাহশিয়ার-এর ঘরের বারান্দায় বসলাম। তিনি যখন আসলেন এবং আমরা তাকে দেখলাম, আমরা সবাই তার প্রশংসা করলাম। আবু বকর বিন আল-সাররাজ ওই দাসীর ওপর ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত ছিলেন। তিনি বললেন: আমার মাথায় কিছু এসেছে, লেখো। আমি লিখলাম:আমি তার সৌন্দর্য এবং তার আচরণের মধ্যে তুলনা করলাম … দেখলাম তার লাবণ্য তার বিশ্বাসঘাতকতার তুলনায় যথেষ্ট নয়।আল্লাহর কসম, আমি তার সাথে কথা বলব না, যদিও সে … সূর্যের মতো হয়, কিংবা পূর্ণিমার চাঁদের মতো, কিংবা স্বয়ং আল-মুক্তাফির মতো হয়।এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো। লেখক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল জুনজি এক গায়িকাকে ভালোবাসতেন। তখন তিনি আবুল আব্বাস ইবনুল ফুরাতের অধীনে লিখতেন। তিনি তার সাথে তার কাহিনীগুলো আবুল আব্বাসের কাছে নির্দ্বিধায় বলতেন। প্রতি জুমুয়াবার তাদের মিলন হতো, কারণ সেটি ছিল তার ঘরে তার পালার দিন।আবু আলী বলেন: জুনজি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন শনিবার সকালে আমি আবুল আব্বাস ইবনুল ফুরাতের কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: গতকাল তোমার খবর কী ছিল? আমি আমাদের মিলনের কথা তাকে বললাম। তিনি বললেন: তোমার গান (কবিতা) কী ছিল? আমি বললাম:আমি তার সৌন্দর্য এবং তার আচরণের মধ্যে তুলনা করলামআবুল আব্বাস আমাকে বললেন: এই কবিতা কার? আমি বললাম: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতাযের। এরপর আবুল আব্বাস ইবনুল ফুরাত উজির কাসিম বিন উবায়দুল্লাহর কাছে সওয়ার হয়ে গেলেন এবং তাকে এই কাহিনী শোনালেন ও কবিতাটি পাঠ করলেন। তিনি তার সাথে সুরাইয়া পর্যন্ত গেলেন, এরপর ফিরে এসে নিজ দপ্তরে বসলেন। যখন তিনি জানতে পারলেন যে তার ফেরার সময় নিকটবর্তী, তখন তিনি বেরিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। সাক্ষাতের পর তিনি তাকে জানালেন যে, তিনি খলিফা আল-মুক্তাফিকে কবিতাটি শুনিয়েছেন এবং খলিফা এর রচয়িতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। তখন তিনি খলিফাকে জানিয়েছেন যে এটি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহিরের কবিতা। তিনি বললেন: খলিফা আমাকে আদেশ দিয়েছেন যেন আমি তার কাছে এক হাজার দিনার পৌঁছে দিই। আমি বললাম: আমি তো আপনাকে বলেছিলাম যে কবিতাটি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতাযের, কিন্তু আপনি তা ইবনে তাহিরের দিকে সম্বন্ধ করলেন! তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমার মনে কেবল এটাই ছিল যে তুমি উবায়দুল্লাহর কথা বলেছ। আর এটি একটি রিজিক যা আল্লাহ উবায়দুল্লাহকে দান করেছেন, এতে কারো কোনো হাত নেই। জুনজি বলেন: আবুল আব্বাস যখন ফিরে এলেন, আমাকে এই কাহিনী শোনালেন এবং বললেন: তুমি এই দিনারগুলো নাও এবং উবায়দুল্লাহর কাছে যাও। তাকে বলো: এটি এমন এক রিজিক যা আল্লাহ আপনার কাছে পাঠিয়েছেন যেখান থেকে আপনি কল্পনাও করেননি! আমি তার কাছে দিনারগুলো নিয়ে গেলাম এবং ঘটনাটি তাকে বললাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং আবুল আব্বাসকে ধন্যবাদ দিলেন। এটি ছিল এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা! উবায়দুল্লাহ বলতেন: যে ব্যক্তি সুলতানের সান্নিধ্যে থাকে এবং তার সেবা করে, তাকে অন্ধ হয়ে প্রবেশ করতে হয় এবং বোবা হয়ে বের হতে হয়।তার কবিতার মধ্যে এটিও রয়েছে:যদি তুমি কোনো বন্ধুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন না করো … এবং তুমি ও সে সমান মর্যাদায় থাকো।তবে তার ওপর অহংকার করো না, কারণ … যুবককে তার অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়, সন্তুষ্টির জন্য নয়।তিনি আরও বলেন:জেনে রাখো, যা অতীত হয়েছে তার পর তোমার কারণে আমার অন্তর … দুটি ভিন্ন বিষয়ে পরিপূর্ণ।তোমার প্রতি ভালোবাসা যার পেছনে আসে তোমার পক্ষ থেকে কষ্ট; আর কষ্ট হলো … ভালোবাসার শত্রু, এই দুটি এক স্থানে থাকতে পারে না।তিনি আরও বলেন:এই নীচ দুনিয়ার সংবাদ পেতে তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে … এখানকার কৃপণরা ধনী এবং সম্মানীরা দরিদ্র।উপকারি মানুষরা এর পদতলে পিষ্ট … আর ক্ষতিকারক মানুষরা এর চূড়ায় আসীন।তিনি আরও বলেন:তারা বলল, কাল সে দূরে চলে যাবে, তুমি কী করবে? … আমি বললাম, কেবল অশ্রু বিসর্জন দেওয়া ছাড়া আর কী আছে!হ্যাঁ, দীর্ঘশ্বাস যার মাঝে নিশ্বাস আছে … যা আমার অন্তরকে এবং যন্ত্রণাদায়ক দুশ্চিন্তাগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وذل وإطراقٌ وفكر وحسرةٌ … وأعظم منها ما تجنّ الأضالعقال عبد الله بن المعتز: كتبت إلى عبيد الله بن عبد الله بن طاهر حين ولي ابنه خلافة يونس على شرط بغداد:فرحت بما أضعافه دون قدركم … وقلت عسى قد هب من نومه الدهرفترجع فينا دولة طاهرية … كما بدأت والأمر من بعده الأمرعسى الله، إن الله ليس بغافلٍ … ولا بد من يسر إذا ما انتهى العسرفأجابه عبيد الله بن عبد الله:فنحن لكم إن مسّنا ضيم جفوةٍ … ومنا على لأوائها الصبر والعذرفإن رجعت من نعمة الله دولةٌ … إلينا، فمنّا عندها الحمد والشكرولعبيد الله شعر كثير وأخبار طريفة، اخترنا منها ما يليق بغرض الكتاب ولا يخرج إلى حد الاطالة.وكانت وفاة عبيد الله بن عبد الله بن طاهر ليلة السبت، لاثنتي عشرة ليلة خلت من شوال سنة ثلثمائة. ولما توفي، وجهت شغب والدة المقتدر بالله بأم موسى القهرمانة إلى ولده وحرمه فعزتهم عنه، وكفنته بكفن حظيري، وتصدقت في جنازته بألف دينار وألف درهم، وقامت بجميع أمورهم.وأما أخوه محمد بن عبد الله بن طاهر، فكان كريماً سرياً جواداً سمحاً حسن الأخلاق مع أدب وحسن معرفة وافتنان في سائر العلوم، وضبط وسياسة وتقدم في التدبير. وكان المتوكل استدعاه من خراسان لما مات إسحق بن إبراهيم الطاهري ومحمد ابنه، وولاه خلافته ببغداد، فأقر أخاه طاهر بن عبد الله على خراسان، وكان أكبر أخوته.ذكر الشاه بن ميكال، أن بعض البزازين، عرض على محمد بن عبد الله بن طاهر ثوبي وشي، فعرفهما وعلم أنهما من ثيابه، فأحضر إبراهيم بن هارون النصراني قهرمانه، فأمره أن يحضر الثوبين اللذين من صفتهما كيت وكيت، فذكر أنه لا يعرفهما، وأنه رجع إلى الاحصاء، فلم يجدهما فيه، ورجع إلى الديوان فوجدهما ثابتين فيه، أبتيعا بألف وخمسمائة دينار. قال: فسألت عن الخبر، فأخبرت أن الكاتب في الخزانة باعهما وأسقط من الاحصاء عددهما. فأمر بحبس الكاتب. وقال لابراهيم: ويلك! تستكتب من يقدم هذا الاقدام؟ فحلف أنه ما وقف على مثل هذه الحال منه ولا عرف له مثل هذه الزلة. فقال: إن كان الأمر كذلك فليطلق، وأمر له بخمسمائة دينار، وقال له: تعفف بهذه، فإني أظن الخلة حملتك على ذلك، ورد الثوبين على التاجر وأطلقه.قال: وكنا يوماً عند إسحق بن إبراهيم بن مصعب، فقدمت المائدة، وكن قد تقدم بعمل هريسة، فقدمت إليه الهريسة، فنظر إليها، فرأى شعرة، فأومأ إلى بعض غلمانه بشيء لم نفهمه. فما لبث أن جاء بطيفورية عليها مكبة، فوضعها ورفع المكبة، فإذا يد الطباخ بدمها في الطيفورية. فرفعنا أيدينا، وتنغص أكلنا مما ورد علينا، وقمنا وليس منا أحد ينتفع بنفسه.ثم اجتمعنا بعد ذلك بدهر على مائدة محمد بن عبد الله بن طاهر، وكان قد تقدم بإصلاح لون اشتهاه، فعمل له، وجاء به الطباخ بنفسه حرصاً على التقرب من قلبه. فلما قرب منه، عثر لعجلته، فأفلت الطيفورية على محمد، فصارت ثيابه وما تحته من فرش آية، فقام للوقت، فغير ثيابه واغتسل وعاد إلينا بوجه طلق لم يؤثر فيه ما جرى، وجلس على المائدة، ثم قال: علي بفلان الطباخ، فجيء به وهو لا يشك في حلول النقمة. فقال له: أحسبنا قد رعناك، أنت حر لوجه الله جل وعز. وفلانة الجارية لك وقد زوجتكما، وأمر له بصلة وكسوة. فأقبلنا بالدعاء له، وتعجبنا من فعله وذكرنا فعل إسحق.قال: كان ابن أبي فنن، ويكنى أبا عبد الرحمن شاعراً مطبوعاً، وكانت له ضيعة في قطيعة محمد بن عبد الله بن طاهر. فكان الحاشر يصير إليه فيؤذيه، وربما أشخصه، فكتب إلى محمد يشكو الحاشر وما يلقى منه من الاعنات:أبني حسين أنني … أصبحت في كنف الأميرولنا معايش في قطي … عته على الماء النميروبنيت بيتاً وسطه … سميته بيت السرورفإذا جلست إزاءه … وشربت من حلب العصيرقلت العفا لما روي … ت على الخورنق والسّديرلولا تردد حاشرٍ … كالكلب في يوم مطيرغادٍ علي ورائح … يصل الرواح إلى البكور
হীনতা, মস্তক অবনত রাখা, চিন্তা এবং আক্ষেপ … আর তার চেয়েও গুরুতর হলো তা, যা পাঁজরের হাড়ের নিচে লুকায়িত আছে।আবদুল্লাহ ইবনুল মুতায বর্ণনা করেন: আমি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের নিকট পত্র লিখলাম, যখন তার পুত্র বাগদাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ইউনুসের স্থলাভিষিক্ত হলেন:আমি আনন্দিত হয়েছি এমন কিছুতে যার বহুগুণও আপনাদের মর্যাদার তুলনায় নগণ্য … এবং আমি বললাম: হয়তো কালচক্র তার নিদ্রা থেকে জেগে উঠেছে।ফলে আমাদের মাঝে তাহিরী শাসন পুনরায় ফিরে আসবে … যেভাবে তা শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তী সকল বিষয় তাদের অধীনেই থাকবে।হয়তো আল্লাহ—নিশ্চয় আল্লাহ গাফেল (বিস্মৃত) নন … আর কষ্টের সমাপ্তিতে স্বাচ্ছন্দ্য অবধারিত।উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ তাকে উত্তর দিলেন:যদি রুক্ষতার কোনো অবিচার আমাদের স্পর্শ করে তবে আমরা আপনাদেরই … আর এর কঠোরতায় আমাদের পক্ষ থেকে ধৈর্য ও ওজর পেশ করা হবে।অতঃপর আল্লাহর নিয়ামতে যদি কোনো রাষ্ট্র আমাদের নিকট ফিরে আসে … তবে তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে হামদ (প্রশংসা) ও শোকর (কৃতজ্ঞতা) থাকবে।উবায়দুল্লাহর প্রচুর কবিতা এবং চমকপ্রদ ঘটনাবলী রয়েছে, আমরা তার মধ্য থেকে সেই অংশটুকু চয়ন করেছি যা এই কিতাবের উদ্দেশ্যের সাথে মানানসই এবং দীর্ঘ হবে না।উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের মৃত্যু হয়েছিল শনিবার রাতে, তিনশ হিজরী সনের শাওয়াল মাসের বারো রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, আল-মুকতাদির বিল্লাহর মাতা শাগাব, উম্মে মুসা কাহরামানাকে তার সন্তান ও পরিবারের নিকট প্রেরণ করলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দিলেন। তিনি তাকে হাযীরী কাপড়ে কাফন দিলেন এবং তার জানাজায় এক হাজার দিনার ও এক হাজার দিরহাম সদকা করলেন এবং তাদের সকল বিষয়ের তদারকি করলেন।আর তার ভাই মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহির ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত, অভিজাত, দানবীর, উদার এবং সচ্চরিত্রবান। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন আদব ও উত্তম জ্ঞানের অধিকারী এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী। এছাড়া শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজনীতি এবং ব্যবস্থাপনায় তিনি ছিলেন অগ্রগামী। যখন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আত-তাহিরী এবং তার পুত্র মুহাম্মদ মৃত্যুবরণ করেন, তখন খলিফা মুতাওয়াক্কিল তাকে খোরাসান থেকে তলব করেন এবং তাকে বাগদাদের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। তিনি তার ভাই তাহির ইবনে আবদুল্লাহকে খোরাসানের দায়িত্বে বহাল রাখেন, যিনি ছিলেন তার ভাইদের মধ্যে বড়।শাহ ইবনে মিকাল বর্ণনা করেন যে, জনৈক বস্ত্র ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের নিকট দুই টুকরো কারুকাজ করা রেশমি বস্ত্র প্রদর্শন করল। তিনি তা চিনে ফেললেন এবং বুঝতে পারলেন যে এগুলো তারই পোশাক। তিনি তার তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম ইবনে হারুন নাসরানিকে তলব করলেন এবং তাকে নির্দেশ দিলেন সেই দুই টুকরো বস্ত্র নিয়ে আসতে যার বর্ণনা অমুক অমুক। সে জানালো যে সে এগুলো চিনতে পারছে না এবং সে হিসাবের খাতা পরীক্ষা করল কিন্তু সেখানে পেল না। পরে দিওয়ান (দপ্তর) পরীক্ষা করে দেখল সেখানে এগুলো লিপিবদ্ধ আছে এবং তা পনেরোশো দিনারে কেনা হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন: আমি ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারলাম যে, ভাণ্ডারের লেখক (কেরানি) তা বিক্রি করে দিয়েছিল এবং হিসাব থেকে সংখ্যাটি বাদ দিয়েছিল। তিনি লেখককে বন্দী করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর ইব্রাহিমকে বললেন: ধিক তোমাকে! তুমি এমন ব্যক্তিকে লেখক নিযুক্ত করেছ যে এই দুঃসাহস দেখায়? সে কসম খেয়ে বলল যে সে কখনো তার এই অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেনি এবং তার এমন কোনো পদস্খলনও আগে দেখেনি। তখন তিনি বললেন: যদি তাই হয় তবে তাকে মুক্ত করে দাও। আর তার জন্য পাঁচশ দিনারের নির্দেশ দিলেন এবং তাকে বললেন: এর মাধ্যমে তুমি অভাবমুক্ত হও, কারণ আমি মনে করি অভাবই তোমাকে এমনটি করতে প্ররোচিত করেছে। তিনি বস্ত্র দুটি ব্যবসায়ীর কাছে ফেরত দিলেন এবং তাকে ছেড়ে দিলেন।তিনি বর্ণনা করেন: একদিন আমরা ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুসয়াবের নিকট ছিলাম। দস্তরখান বিছানো হলো। পূর্বে হারীসা (এক প্রকার খাদ্য) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার সামনে হারীসা পেশ করা হলো। তিনি তার দিকে তাকালেন এবং একটি চুল দেখতে পেলেন। তখন তিনি তার জনৈক ভৃত্যের দিকে এমন এক ইশারা করলেন যা আমরা বুঝলাম না। কিছুক্ষণ পরেই সে একটি বড় পাত্র নিয়ে এল যা ঢাকা ছিল। সে তা রাখল এবং ঢাকনা তুলল। দেখা গেল পাত্রের ভেতরে রাঁধুনীর রক্তমাখা কাটা হাত পড়ে আছে। আমরা আমাদের হাত গুটিয়ে নিলাম এবং যা ঘটল তাতে আমাদের খাওয়া বিস্বাদ হয়ে গেল। আমরা সেখান থেকে এমনভাবে উঠে আসলাম যে আমাদের কেউ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল না।দীর্ঘদিন পর আমরা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের দস্তরখানে একত্রিত হলাম। তিনি তার পছন্দের একটি খাবার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেটি তৈরি করা হলো এবং রাঁধুনী নিজে তার সান্নিধ্য লাভের আশায় তা নিয়ে এল। যখন সে তার নিকটবর্তী হলো, দ্রুততার কারণে সে হোঁচট খেল এবং পাত্রটি মুহাম্মদের ওপর উল্টে পড়ল। এতে তার পোশাক এবং নিচের বিছানা একাকার হয়ে গেল। তিনি তৎক্ষণাৎ উঠে গেলেন, পোশাক পরিবর্তন করলেন, গোসল করলেন এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখে আমাদের মাঝে ফিরে এলেন, যা ঘটেছে তার কোনো চিহ্নও তার মাঝে ছিল না। তিনি দস্তরখানে বসলেন এবং বললেন: অমুক রাঁধুনীকে আমার কাছে নিয়ে আসো। তাকে আনা হলো, আর সে তখন কোনো এক কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় নিশ্চিত ছিল। তিনি তাকে বললেন: আমার মনে হয় আমরা তোমাকে ভীত করে দিয়েছি; তুমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত। আর অমুক দাসী তোমার জন্য এবং তোমাদের বিবাহ দিয়ে দিলাম। তিনি তার জন্য অনুদান ও পোশাকের নির্দেশ দিলেন। আমরা তার জন্য দোয়া করতে লাগলাম এবং তার এই আচরণে আশ্চর্য হয়ে ইসহাকের সেই আচরণের কথা স্মরণ করলাম।তিনি বলেন: ইবনে আবি ফুনান, যার উপনাম ছিল আবু আবদুর রহমান, তিনি ছিলেন একজন সহজাত কবি। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের জায়গিরের মধ্যে তার একটি জমি ছিল। কর আদায়কারী তার কাছে এসে তাকে কষ্ট দিত এবং কখনো কখনো তাকে সেখান থেকে বের করে দিত। তিনি কর আদায়কারী এবং তার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কষ্টের অভিযোগ জানিয়ে মুহাম্মদের নিকট লিখলেন:হে হুসাইনের বংশধর! আমি তো … আমীরের আশ্রয়ে সকাল যাপন করি।স্বচ্ছ পানির পাশে আপনার … জায়গিরে আমাদের জীবন ও জীবিকা।আমি তার মাঝে একটি ঘর নির্মাণ করেছি … এবং তার নাম দিয়েছি সুখনিকেতন।যখন আমি তার সামনে বসি … এবং আঙ্গুরের নির্যাস পান করি;তৃপ্ত হওয়ার পর আমি বলি, ধ্বংস হোক … খাওয়ারনাক ও সাদীর রাজপ্রাসাদ।যদি না বারবার সেই কর আদায়কারীর আগমন ঘটত … যে কি না বৃষ্টির দিনে কুকুরের ন্যায় বিরক্তিকর।সে সকাল ও সন্ধ্যায় আমার নিকট আসে … এবং তার বিকেলের আসা প্রভাতের আসার সাথে মিলে যায়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়ারাত লিশ শাবাশতী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فإذا بدا لي وجهه … أُخرجت صفراً من سروريفهل الأمير بجوده … من قبح طلعته مجيري؟فلما قرأ محمد الأبيات، وقع تحتها: قد أجراك أبا عبد الرحمن، وأمرنا باحتمال خراجك، وكان مبلغه ثمانية آلاف درهم، ووجه إليه بألف دينار، وحلف عليه أن يقبلها، وكان ابن أبي فنن لا يقبل من أحد شيئاً، وكان حسن الحال مستقلاً.ولمحمد بن عبد الله من الأفعال الكريمة ما يطول الشرح بذكرها، وفيما ذكرنا كفاية.ومن مليح شعره، قوله:قالت بناظرها أقبل، فقلت لهما … بالدمع: لبيك يا سمعي ويا بصريحتى إذا علمت أن قد كلفت بها … أومت إلي بدمع غير مستتريا كاتمي خيفة الواشي محبّته … إني وعيشك أقراه من النظرقولي بطرفك ما تهوين أعرفه … واستنطقي ناظري يخبرك بالخبروكان مولد محمد بن عبد الله سنة تسع ومائتين، في الليلة التي فتحت في صبيحتها كيسوم، وفيها ولد عبيد الله بن يحيى بن خاقان وأحمد بن إسرائيل والحسن بن مخلد وكلهم ولي الوزارة.ومات محمد يوم السبت لثلاث عشرة ليلة خلت من ذي القعدة، سنة ثلاث وخمسين ومائتين، وسنة أربع وأربعون سنة. وكانت وفاته من بثرة خرجت في حلقه. وتوفي والقمر في الكسوف، وكان يقول: إذا تم الكسوف وبدأ في الانجلاء مت، فكان كذلك. واستخلف أخاه عبيد الله فأقره المعتز، ووجه إليه بالخلع مع مفلح خليفة باكياك. وكان طاهر بن محمد نازعه الأمر وأعانه مواليه والعامة حتى جاءت الرسل والخلع، فاستقر الأمر لعبيد الله.ولابن الرومي، يرثي محمد بن عبد الله بن طاهر:بات الأمير وبات بدر سمائنا … هذا يودعنا وهذا يكسفقمرٌ رأى قمراً يجود بنفسه … فبكى أخاه أخٌ مؤاس منصففتكت به الأيام وهي عليمة … أن سوف يتلف منه ما لا يخلفوقال فيه:وسألت عنه، فقيل: بات لما به … قلت: الندى لا شك مات لما بهوكأنا....... … .......... بهفلمن أصون مدامعي من بعده … ولمن ترى تنهلّ من أسبابهلصوابه، لخطابه، لجوابه، … لشبابه، للغرّ من آدابهولعبيد الله أخيه، فيه.كسيف البدر والأمير جميعاً … فانجلى البدر والأمير عميدعاود البدر نوره لتجلي … هـ ونور الأمير ما لا يعودوقال:ذكرت أخي من غير نسيان ذكره … ولكنها حالٌ تزيد وتنقصعلى حسب أخلاق الزمان وأنه … ليصحبني عيشٌ عليه منغّصولما مات محمد بن عبد الله بن طاهر، اشتد وجد المعتز عليه، وكان يرى أن الأتراك يهابونه من أجله ولمكانه، فقال فيه:ذهبت بهجة الخلافة عنّا … حين أضحى محمد في القبورعن قليل تكون أحداث دهرٍ … من سنا نارها يشب السّعير
যখনই তার মুখমণ্ডল আমার সামনে প্রতিভাত হয় … আমার সমস্ত আনন্দ বিলীন হয়ে যায়।তবে কি আমির তার বদান্যতা দিয়ে … এই দ্বাররক্ষীর কুৎসিত চেহারা থেকে আমাকে মুক্তি দেবেন?মুহাম্মদ যখন কবিতাগুলো পড়লেন, তিনি এর নিচে লিখে দিলেন: হে আবু আবদুর রহমান, আমি আপনাকে নিরাপত্তা দান করলাম এবং আপনার ভূমিরাজস্ব (খরাজ) বহনের নির্দেশ দিলাম, যার পরিমাণ ছিল আট হাজার দিরহাম। আর তিনি তার নিকট এক হাজার দিনার পাঠালেন এবং তা গ্রহণ করার জন্য তাকে কসম দিলেন। ইবনে আবি ফুনান কারো কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করতেন না, তিনি সচ্ছল ও স্বাবলম্বী ছিলেন।মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর এমন অনেক মহানুভব কীর্তি রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।তার চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে তার এই বাণী:সে তার চোখের ইশারায় বলল ‘এসো’, তখন আমি অশ্রুসজল চোখে তাদের বললাম … আমি উপস্থিত, হে আমার শ্রবণ ও দৃষ্টি!এমনকি যখন সে জানল যে আমি তার প্রেমে মগ্ন হয়েছি … তখন সে আমার দিকে এমন অশ্রু দিয়ে ইশারা করল যা গোপন ছিল না।হে চোগলখোরের ভয়ে নিজের ভালোবাসা গোপনকারী! … তোমার জীবনের কসম, আমি তা তোমার চোখের দৃষ্টি থেকেই পড়ে ফেলি।তোমার চোখ দিয়ে যা চাও তা বলো, আমি তা বুঝতে পারব … আর আমার চোখকে কথা বলতে দাও, সে তোমাকে সব খবর জানিয়ে দেবে।মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর জন্ম হয়েছিল দুইশত নয় হিজরি সনে, এমন এক রাতে যার পরদিন সকালে কাইসুম বিজিত হয়েছিল। সেই বছর ওবায়দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খাকান, আহমাদ ইবনে ইসরাইল এবং হাসান ইবনে মাখলাদও জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তারা সকলেই উজিরের পদ লাভ করেছিলেন।মুহাম্মদ দুইশত তিপ্পান্ন হিজরি সনের তেরোই জিলকদ শনিবার ইন্তেকাল করেন, তখন তার বয়স হয়েছিল চুয়াল্লিশ বছর। তার মৃত্যু হয়েছিল গলার ভেতরে হওয়া একটি ফোঁড়ার কারণে। তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন চন্দ্রগ্রহণ চলছিল। তিনি বলতেন: যখন গ্রহণ পূর্ণ হবে এবং তা কাটতে শুরু করবে তখন আমি মারা যাব; আর তা-ই হয়েছিল। তিনি তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং আল-মুতাজ তাকে সেই পদে বহাল রাখেন। তার নিকট মুফলিহ খলিফাহ বাকইয়াক-এর মাধ্যমে রাজকীয় সম্মানসূচক পোশাক পাঠানো হয়েছিল। তাহির ইবনে মুহাম্মদ তার সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব করেছিলেন এবং তার দাস ও সাধারণ মানুষ তাকে সাহায্য করেছিল, অবশেষে যখন দূত ও রাজকীয় পোশাক এল, তখন ওবায়দুল্লাহর শাসন স্থিতিশীল হলো।ইবনুর রুমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের শোকগাথায় বলেছেন:আমিরও রাত কাটালেন আর আমাদের আকাশের পূর্ণিমাও রাত কাটাল … ইনি আমাদের বিদায় জানাচ্ছেন আর ওটি গ্রহণগ্রস্ত হচ্ছে।এক চাঁদ অন্য এক চাঁদকে প্রাণ দিতে দেখল … ফলে এক সহানুভূতিশীল ও ন্যায়পরায়ণ ভাই তার ভাইয়ের জন্য বিলাপ করল।কালচক্র তাকে আঘাত করল এই জেনে … যে তার মাঝে এমন কিছু ধ্বংস হবে যার কোনো বিকল্প নেই।তিনি তার সম্পর্কে আরো বলেন:আমি তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম, তখন বলা হলো: তিনি তার যন্ত্রণায় রাত কাটিয়েছেন … আমি বললাম: নিঃসন্দেহে তার অবস্থার কারণেই বদান্যতা আজ মৃত।আর আমরা যেন … তার কারণে।তার পর আমি কার জন্য আমার চোখের জল বাঁচিয়ে রাখব … আর কার শোকে তুমি এই অশ্রু বিসর্জন হতে দেখবে?তার সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য, তার বক্তৃতার জন্য, তার উত্তরের জন্য, … তার যৌবনের জন্য এবং তার উজ্জ্বল শিষ্টাচারের জন্য।তার ভাই ওবায়দুল্লাহ তার সম্পর্কে বলেন:পূর্ণিমা এবং আমির উভয়েই একসাথে গ্রহণগ্রস্ত হলেন … তারপর চাঁদের গ্রহণ কেটে গেল, কিন্তু আমির চিরবিদায় নিলেন।চাঁদের গ্রহণ কেটে যাওয়ায় তার আলো ফিরে এল … কিন্তু আমিরের আলো আর ফিরে আসার নয়।তিনি বলেন:আমি আমার ভাইকে তাকে ভুলে না গিয়েই স্মরণ করেছি … কিন্তু এটি এমন এক অবস্থা যা বাড়ে এবং কমে।কালের স্বভাব অনুযায়ী; আর আমার জীবন … এমন এক অবস্থায় কাটছে যা বিষাদময়।যখন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহির ইন্তেকাল করলেন, তখন আল-মুতাজ তার জন্য অত্যন্ত শোকাতুর হলেন। তিনি মনে করতেন যে, মুহাম্মদের কারণেই এবং তার প্রভাবের দরুন তুর্কিরা তাকে ভয় পায়। তাই তিনি তার সম্পর্কে বললেন:খিলাফতের উজ্জ্বলতা আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে … যখন মুহাম্মদ কবরের বাসিন্দা হয়েছেন।অচিরেই কালের এমন সব ঘটনা ঘটবে … যার আগুনের শিখা থেকে লেলিহান অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হবে।