(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: -)
كتاب بغداد   (ابن طيفور)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: كتاب بغداد

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن أبي طاهر ابن طيفور (ت 280 هـ)

المحقق: السيد عزت العطار الحسيني [ت 1376 هـ]

الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة / مصر

الطبعة: الثالثة، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 188

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাব বাগদাদ   (ইবনে তাইফুর)

বিভাগ: জীবনী ও ইতিহাস


গ্রন্থ: কিতাব বাগদাদ

লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আবি তাহের ইবনে তাইফুর (মৃত্যু: ২৮০ হিজরি)

গবেষক: সাইয়্যেদ ইজ্জত আল-আত্তার আল-হুসাইনি [মৃত্যু: ১৩৭৬ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খাঞ্জি - কায়রো / মিশর

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌(ذكر خلَافَة عبد اللَّهِ بن هَارُون الرشيد الْمَأْمُون)

 

قَالَ أَحْمد بن أبي طَاهِر: قد ذكرنَا من خبر مُحَمَّد، والمأمون وَمَا كَانَ من اخْتِلَافهمَا وَالْحَرب بَينهمَا إِلَى مَا ذَكرْنَاهُ من مقتل مُحَمَّد بن هَارُون، وَالْحَرب الَّتِي كَانَت بَين مُحَمَّد بن أبي خَالِد، وَعِيسَى بن مُحَمَّد، وَالْحسن بن سهل إِلَى مخرج أبي السَّرَايَا، وَذكر إِبْرَاهِيم ابْن الْمهْدي إِلَى آخر حربهم وانقضائها وَذَلِكَ فِي سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ.

وابتدأنا بِخَبَر شخوص الْمَأْمُون إِلَى بَغْدَاد من خرا سان وَمَا كَانَ من أخباره بِبَغْدَاد إِلَى وَقت شخوصه عَنْهَا ووفاته

ذكر جمَاعَة من الروَاة مِنْهُم: إِسْحَاق بن سُلَيْمَان الْهَاشِمِي، وَأَبُو حسان الزيَادي وَابْن شبانة الْمروزِي فِيمَا حملُوا من كتب التَّارِيخ وَاتَّفَقُوا جَمِيعًا عَلَيْهِ: إِن دُخُول الْمَأْمُون بَغْدَاد مُقَدّمَة من خُرَاسَان كَانَ فِي يَوْم السبت ارْتِفَاع النَّهَار لَا ربع عشرَة لَيْلَة بقيت من صفر سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ، وَكَانَ لِبَاسه ولباس أَصْحَابه جَمِيعًا أقبيتهم، وَقَلَانِسِهِمْ، وطراداتهم، وأعلامهم الخضرة.

قَالُوا: فَلَمَّا قدم نزل الرصافة، وَقد كَانَ قبل ذَلِك قدم إِلَى النهروان يَوْم السبت فَأَقَامَ بِهِ ثَمَانِيَة أَيَّام وَخرج إِلَيْهِ أهل بَيته، ووجوه أهل بَغْدَاد فَسَلمُوا عَلَيْهِ فَلَمَّا كَانَ يَوْم السبت الآخر دخل إِلَى بَغْدَاد، وَكَانَ قد كتب إِلَى طَاهِر بن الْحُسَيْن وَكَانَ بالرقة أَن يوافيه بالنهروان. فَقدم طَاهِر وَدخل عَلَيْهِ وَأمره أَن ينزل الخيزرانية هُوَ وأصحابة، ثمَّ أَنه تحول فَنزل قصره على شاطئ دجلة. وَأمر حميد بن عبد الحميد، وَعلي بن هِشَام وكل من كَانَ فِي عَسَاكِر هما أَن ينزلُوا فِي عسكره.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌(আবদুল্লাহ বিন হারুন আল-রশিদ আল-মামুনের খিলাফতের বিবরণ)

 

আহমদ বিন আবু তাহির বলেন: আমরা মুহাম্মদ এবং মামুনের সংবাদ, তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেছি মুহাম্মদ বিন হারুনের নিহত হওয়া পর্যন্ত। সেই সাথে মুহাম্মদ বিন আবু খালিদ, ঈসা বিন মুহাম্মদ এবং হাসান বিন সহলের মধ্যকার যুদ্ধ থেকে শুরু করে আবুস সারায়ার বহির্গমন এবং ইবরাহিম ইবনুল মাহদীর বিবরণ ও তাদের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি পর্যন্ত উল্লেখ করেছি; আর তা ছিল ২০৪ হিজরি সনে।

আমরা খোরাসান থেকে মামুনের বাগদাদে গমনের সংবাদ এবং বাগদাদে তাঁর অবস্থান থেকে শুরু করে সেখান থেকে তাঁর প্রস্থান ও মৃত্যু পর্যন্ত সংবাদসমূহ দিয়ে শুরু করছি।

একদল বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইসহাক বিন সুলাইমান আল-হাশিমী, আবু হাসসান আল-জিয়াদী এবং ইবনে শাবানা আল-মারওয়াযী। তাঁরা ইতিহাসের কিতাবসমূহে যা বর্ণনা করেছেন এবং যে বিষয়ে সকলে একমত হয়েছেন তা হলো: খোরাসান থেকে অগ্রবর্তী হয়ে মামুনের বাগদাদে প্রবেশ ছিল ২০৪ হিজরি সনের সফর মাসের চৌদ্দ দিন বাকি থাকতে শনিবার দিনের বেলা যখন সূর্য বেশ উপরে উঠেছিল। তাঁর এবং তাঁর সকল সঙ্গীর পরিধেয় বস্ত্র, টুপি, শিরস্ত্রাণ এবং পতাকা—সবই ছিল সবুজ রঙের।

তাঁরা বলেন: তিনি যখন পৌঁছালেন তখন রুসাফায় অবস্থান নিলেন। এর আগে তিনি শনিবার নাহারওয়ানে পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে আট দিন অবস্থান করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যগণ এবং বাগদাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর কাছে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁকে অভিবাদন জানান। অতঃপর পরবর্তী শনিবার তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন। তিনি রাক্কায় অবস্থানরত তাহির বিন আল-হুসাইনের কাছে লিখেছিলেন যেন তিনি নাহারওয়ানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর তাহির আগমন করলেন এবং তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে ও তার সঙ্গীদের আল-খায়যুরানিয়াহ-তে অবস্থান করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি স্থান পরিবর্তন করে দজলা নদীর তীরে অবস্থিত তাঁর প্রাসাদে অবস্থান নিলেন। তিনি হুমাইদ বিন আব্দুল হামিদ, আলী বিন হিশাম এবং তাদের সেনাবাহিনীতে যারা ছিল, সকলকে তাঁর নিজ সেনাশিবিরে অবস্থান করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
قَالُوا جَمِيعًا: فَكَانُوا يَخْتَلِفُونَ إِلَى الْمَأْمُون فِي كل يَوْم مُسلمين ولباسهم الثِّيَاب الْخضر، وَلم يكن أحد يدْخل عَلَيْهِ إِلَّا فِي خضرَة، وَلبس ذَلِك أهل بَغْدَاد أَجْمَعُونَ؛ وَكَانُوا يخرقون كل شَيْء رَأَوْهُ من السوَاد على أحد إِلَّا القلانس فَإِن الْوَاحِد بعد الْوَاحِد كَانَ يلبسهَا متخوفا ووجلا. فَأَما قبَاء أَو علم فَلم يكن أحد يجترئ أَن يلبس شَيْئا من ذَلِك، وَلَا يحملهُ. فَمَكَثُوا بذلك ثَمَانِيَة أَيَّام، وَتكلم فِيهَا بَنو هَاشم من ولد الْعَبَّاس خَاصَّة وَقَالُوا لَهُ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ تركت لِبَاس أهل بَيْتك ودولتهم ولبست الخضرة.

قَالُوا وَكتب إِلَيْهِ فِي ذَلِك قواد أهل خُرَاسَان وَتكلم فِي ذَلِك دون النَّاس جَمِيعًا لما قدم طَاهِر بن الْحُسَيْن فأظهر لَهُ الْإِجَابَة وَلما يفعل، وَلما رأى طاعتهم لَهُ فِي لِبَاس الخضرة وكراهتهم لَهَا جلس يَوْم السبت وَعَلِيهِ ثِيَاب خضر، فَلَمَّا اجْتَمعُوا عِنْده دَعَا بسواد فلبسه، ودعا بخلعة سَواد فكساها طَاهِر بن الْحُسَيْن، وخلع على عدَّة من قواده أقبية وقلانس سُودًا. فَلَمَّا خَرجُوا من عِنْده وَعَلَيْهِم السوَاد طرح سَائِر القواد الخضرة ولبسوا السوَاد.

وَقد كَانَ الْجند كتبُوا إِلَى الْمَأْمُون كتبا، وطرحوا رِقَاعًا فِي الْمَسْجِد يسألونه أَرْزَاقهم، وَكَانَ قد وعدهم أَن يعطيهم أرزاق سِتَّة أشهر وَيُحَاسب كل من أعطَاهُ حميد بن عبد الحميد من الْجند طَعَاما على مَا أَخذ وَيدْفَع إِلَيْهِم تَمام رزق سِتَّة أشهر على خواصهم الْمَعْرُوفَة.

قَالُوا: فَأَعْطَاهُمْ ذَلِك يَوْم الْخَمِيس لسبع بَقينَ من صفر فَتَوَلّى أعطاء أهل الْجَانِب الغرب حميد، وَوَعدهمْ أَن يعطيهم رزق شَهْرَيْن لتَمام سِتَّة أشهر إِذا فرغ من إعطائهم هَذِه الْأَرْبَعَة الْأَشْهر فرضوا بذلك.

قَالَ يحيى بن الْحسن: لبس الْمَأْمُون الخضرة بعد دُخُوله بَغْدَاد تِسْعَة وَعشْرين يَوْمًا ثمَّ مزقت.

قَالُوا جَمِيعًا: وَلم يزل أَمِير الْمُؤمنِينَ مُقيما بِبَغْدَاد فِي الرصافة حَتَّى بني منَازِل على شط دجلة عِنْد قصره الأول وَفِي بُسْتَان مُوسَى فَأَقَامَ فِيهِ.
তারা সকলে বললেন: লোকেরা প্রতিদিন সবুজ পোশাক পরিহিত অবস্থায় অভিবাদন জানাতে মামুনের কাছে আসা-যাওয়া করত। সবুজ পোশাক পরিধান করা ব্যতীত কেউ তার নিকট প্রবেশ করতে পারত না। বাগদাদের সকল অধিবাসীই তা পরিধান করেছিল। তারা কারও অঙ্গে কালো রঙের কোনো কিছু দেখলে তা ছিঁড়ে ফেলত, তবে টুপি ব্যতীত; কারণ কেউ কেউ অত্যন্ত ভীত ও শঙ্কিত অবস্থায় তা পরিধান করত। আর 'কাবা' (এক প্রকার বহির্বাস) বা বিশেষ কোনো প্রতীক পরিধান করার বা বহন করার সাহস কারো ছিল না। তারা এভাবে আট দিন অতিবাহিত করল। এ বিষয়ে বনু হাশেমের বিশেষ করে আব্বাসী বংশীয়রা তার সাথে কথা বললেন এবং তাকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি আপনার পরিবার ও রাষ্ট্রের পোশাক বর্জন করেছেন এবং সবুজ পোশাক পরিধান করেছেন।

তারা বললেন: এ বিষয়ে খুরাসানের সেনাপতিরা তাকে পত্র লিখলেন। যখন তাহির ইবনে হুসাইন আসলেন, তিনি অন্য সব মানুষের পরিবর্তে এ বিষয়ে কথা বললেন। মামুন তার কাছে সম্মতি প্রকাশ করলেন কিন্তু তখনও তা কার্যকর করেননি। যখন তিনি সবুজ পোশাকের প্রতি তাদের চরম অপছন্দ থাকা সত্ত্বেও তার প্রতি তাদের আনুগত্য দেখলেন, তখন তিনি শনিবার দিন সবুজ পোশাক পরিহিত অবস্থায় বসলেন। এরপর যখন তারা তার নিকট সমবেত হলেন, তিনি কালো পোশাক আনালেন এবং তা পরিধান করলেন। অতঃপর একটি কালো খেলাত (সম্মানসূচক পোশাক) আনিয়ে তাহির ইবনে হুসাইনকে পরিয়ে দিলেন এবং তার আরও কয়েকজন সেনাপতিকে কালো কাবা ও টুপি প্রদান করলেন। তারা যখন কালো পোশাক পরিহিত অবস্থায় তার নিকট থেকে বের হলেন, তখন অন্যান্য সকল সেনাপতি সবুজ পোশাক ত্যাগ করে কালো পোশাক পরিধান করলেন।

এদিকে সৈন্যরা মামুনের কাছে পত্র লিখেছিল এবং মসজিদের মধ্যে চিরকুট ফেলে রেখেছিল যাতে তারা তাদের বেতন-ভাতা প্রার্থনা করেছিল। তিনি তাদের ছয় মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হুমায়দ ইবনে আব্দুল হামিদ সৈন্যদের যে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছিলেন তা হিসাব করে কেটে রাখা হবে এবং তাদের পরিচিত পদমর্যাদা অনুযায়ী অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করে পূর্ণ ছয় মাসের বেতন প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তারা বললেন: সফর মাসের সাত দিন বাকি থাকতে বৃহস্পতিবার দিন তিনি তাদের তা প্রদান করলেন। পশ্চিম পার্শ্বের লোকদের বেতন বিতরণের দায়িত্ব হুমায়দ গ্রহণ করলেন। তিনি তাদের প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, এই চার মাসের বেতন দেওয়া শেষ হলে পূর্ণ ছয় মাস করার জন্য আরও দুই মাসের বেতন প্রদান করবেন। তারা এতে সন্তুষ্ট হলো।

ইয়াহইয়া ইবনে হাসান বলেন: বাগদাদে প্রবেশের পর মামুন উনত্রিশ দিন সবুজ পোশাক পরিধান করেছিলেন, এরপর তা বর্জন করা হয়।

তারা সকলে বললেন: আমিরুল মুমিনিন বাগদাদের রুসাফায় অবস্থান করতে থাকলেন যতক্ষণ না দজলা নদীর তীরে তার পূর্বতন প্রাসাদের নিকট এবং মুসার বাগানে নতুন আবাসস্থল নির্মাণ করা হলো। এরপর তিনি সেখানেই বসবাস শুরু করলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١١)
قَالُوا: وَلما كَانَ بعد دُخُول الْمَأْمُون بأيام وثب ابْن لإسحاق بن مُوسَى الْهَادِي يَوْم السبت لليلة بقيت من شهر ربيع الأول بِأَبِيهِ وَهُوَ الَّذِي كَانَ إِبْرَاهِيم بن الْمهْدي ولي عَهده من بعده هُوَ وَخصي لِأَبِيهِ إِسْحَاق بن مُوسَى فوجياه بسكين حَتَّى قتلاه، فأخذا فَأتي بهما الْمَأْمُون فَأمر بقتل الْخصي فَأَخذه عبد اللَّهِ بن مُوسَى فَقتله وَحبس الابْن. فَقَالَ أَخُوهُ إِسْحَاق: لَا نرضي حَتَّى يقتل مَعَ الْخصي. فَأمر بقتْله فَأَخذه عبد اللَّهِ بن مُوسَى فَضرب عُنُقه. وَكَانَ قَتله لَهما يَوْم الْأَحَد لَا نسلاخ شهر ربيع الآخر.

ذكر إِبْرَاهِيم بن الْعَبَّاس الْكَاتِب، عَن عَمْرو بن مسْعدَة، وحَدثني سهل بن عُثْمَان قَالَ: حَدثنِي الْحسن بن النُّعْمَان. . قَالَ: حَدثنِي أَحْمد بن أبي خَالِد الْأَحول قَالَ: لما قدمنَا من خُرَاسَان مَعَ الْمَأْمُون فصرنا فِي عقبَة حلوان وَكنت زميله قَالَ لي الْمَأْمُون يَا أَحْمد: إِنِّي أجد رَائِحَة الْعرَاق. قَالَ: فأجبته بِغَيْر جَوَابه وَقلت لَهُ: مَا اخلقه. فَقَالَ: لَيْسَ هَذَا جوابي وَلَكِنِّي أحسبك سَهَوْت أَو كنت مفكرا. قَالَ: قلت نعم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ. قَالَ: فيمَ فَكرت؟ قَالَ قلت: فَكرت فِي هجومنا على بَغْدَاد وَلَيْسَ مَعنا إِلَّا خَمْسُونَ ألف دِرْهَم مَعَ فتْنَة غلبت على قُلُوب النَّاس واستعذبوها فَكيف يكون حَالنَا إِن هاج هائج أَو تحرّك متحرك؟

قَالَ: فَأَطْرَقَ مَلِيًّا ثمَّ قَالَ: صدقت يَا أَحْمد مَا أحسن مَا فَكرت وَلَكِنِّي أخْبرك: النَّاس على طَبَقَات ثَلَاث فِي هَذِه الْمَدِينَة يَعْنِي بَغْدَاد: ظَالِم ومظلوم، وَلَا ظَالِم وَلَا مظلوم. فَأَما الظَّالِم فَلَيْسَ يتَوَقَّع إِلَّا عَفَوْنَا وإمساكنا، وَأما الْمَظْلُوم فَلَيْسَ يتَوَقَّع أَن ينصف إِلَّا بِنَا. وَمن كَانَ لَا ظَالِما وَلَا مَظْلُوما فبيته يَسعهُ. فوَاللَّه مَا كَانَ إِلَّا كَمَال قَالَ.

وَذكر إِسْمَاعِيل بن أبي مُحَمَّد اليزيدي قَالَ: كُنَّا مَعَ الْمَأْمُون منصرفة من خُرَاسَان إِلَى بَغْدَاد فَلَمَّا دخل قرماسين أَقَامَ بهَا أَيَّامًا فَقَالَ لَهُ أَصْحَابه: هَذَا منزل طيب فَلَو أَقمت بهَا أَيَّامًا حَتَّى يَأْتِيك خبر إِبْرَاهِيم بن الْمهْدي بِبَعْض مَا تحب. قَالَ: لَا وَالله قَالُوا: فأننا نتخوف أَن يكون دِمَاء فَتكون هَاهُنَا حَتَّى يقْضِي اللَّهِ من أمره مَا يقْضِي. قَالَ:
তারা বললেন: আল-মামুনের (বাগদাদে) প্রবেশের কয়েকদিন পর, শনিবার রবিউল আউয়াল মাসের একদিন বাকি থাকতে, ইসহাক ইবনে মুসা আল-হাদীর এক পুত্র তার পিতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই ইসহাকই ছিলেন সেই ব্যক্তি যাকে ইব্রাহিম ইবনুল মাহদী তার পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। সেই পুত্র এবং তার পিতা ইসহাক ইবনে মুসার এক খাসি (নপুংসক ভৃত্য) তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর তাদের ধরা হলো এবং আল-মামুনের কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি খাসিটিকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। ফলে আবদুল্লাহ ইবনে মুসা তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করলেন এবং পুত্রটিকে বন্দি করে রাখা হলো। তখন তার ভাই ইসহাক বললেন: খাসিটির সাথে তাকেও (পুত্রটিকে) হত্যা না করা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হব না। তখন তিনি তাকেও হত্যার নির্দেশ দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মুসা তাকে নিয়ে তার শিরচ্ছেদ করলেন। তাদের এই হত্যাকাণ্ড রবিউল আখের মাস শেষ হওয়ার দিন রবিবারে সংঘটিত হয়েছিল।

ইব্রাহিম ইবনে আব্বাস আল-কাতিব, আমর ইবনে মাসআদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সাহল ইবনে উসমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনুন নুমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন... তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আবি খালিদ আল-আহওয়াল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমরা আল-মামুনের সাথে খুরাসান থেকে আসলাম এবং হুলওয়ানের গিরিপথে পৌঁছালাম, তখন আমি তার সহযাত্রী ছিলাম। আল-মামুন আমাকে বললেন, "হে আহমদ! আমি ইরাকের ঘ্রাণ পাচ্ছি।" তিনি বললেন: আমি তার কথার যথাযথ উত্তর না দিয়ে বললাম, "তা হওয়ারই যোগ্য।" তিনি বললেন, "এটি আমার উত্তর নয়, তবে আমি মনে করি আপনি অমনোযোগী অথবা কোনো চিন্তায় মগ্ন ছিলেন।" আহমদ বললেন: আমি বললাম, "হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনীন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কী নিয়ে চিন্তা করছিলেন?" আহমদ বললেন: আমি বললাম, "আমি বাগদাদে আমাদের প্রবেশের কথা চিন্তা করছিলাম, অথচ আমাদের সাথে মাত্র পঞ্চাশ হাজার দিরহাম আছে; আর অন্যদিকে মানুষের অন্তরে ফিতনা প্রবল হয়ে আছে এবং তারা এতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় কোনো বিশৃঙ্খলাকারী যদি মাথাচাড়া দেয় বা কোনো আন্দোলন শুরু হয়, তবে আমাদের অবস্থা কী হবে?"

তিনি বললেন: তখন তিনি (আল-মামুন) কিছুক্ষণ নীরব থেকে মাথা নিচু করে থাকলেন, তারপর বললেন, "হে আহমদ! তুমি সত্য বলেছ, তুমি কতই না চমৎকার চিন্তা করেছ। তবে আমি তোমাকে অবহিত করছি যে, এই শহরের অর্থাৎ বাগদাদের মানুষ তিন স্তরের: জালেম (অত্যাচারী), মাজলুম (নিপীড়িত) এবং যারা জালেমও নয়, মাজলুমও নয়। জালেম তো কেবল আমাদের ক্ষমা ও সহনশীলতার প্রত্যাশা করে। আর মাজলুম কেবল আমাদের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করে। আর যে জালেমও নয়, মাজলুমও নয়, তার জন্য তার ঘরই যথেষ্ট। আল্লাহর কসম, বিষয়টি ঠিক তেমনই হয়েছিল যেমনটি তিনি বলেছিলেন।"

ইসমাইল ইবনে আবি মুহাম্মদ আল-ইয়াজিদি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমরা খুরাসান থেকে বাগদাদ ফেরার পথে আল-মামুনের সাথে ছিলাম। যখন তিনি কারমাসিনে প্রবেশ করলেন, সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করলেন। তখন তার সঙ্গীরা তাকে বলল, "এটি একটি মনোরম স্থান, আপনি যদি এখানে কয়েকদিন অবস্থান করতেন যতক্ষণ না ইব্রাহিম ইবনুল মাহদী সম্পর্কে আপনার পছন্দমতো কোনো সংবাদ আসে।" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর কসম।" তারা বলল, "আমরা রক্তপাতের ভয় করছি, তাই আপনি এখানে থাকুন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ফয়সালা পূর্ণ করেন।" তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
أتري إِن شم إِبْرَاهِيم ريحى يقدم على. لَا وَالله مَا ذَاك ظَنِّي بِهِ. قَالَ: وارتحل فَمَا بلغنَا حلوان حَتَّى جَاءَنَا الْخَبَر بِأَنَّهُ قد أختفي.

وَذكر عَمْرو بن مسْعدَة قَالَ: لما صَار الْمَأْمُون إِلَى الرّيّ منصرفة إِلَى الْعرَاق ذكر عَليّ بن صَالح صَاحب الْمُصَلِّي إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر بن سُلَيْمَان وَكَانَ لَهُ صديقا. فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ: رجل من أهلك ركب عَظِيمَة وَجَاء شَيْئا إدا، وَقد آمَنت الْأَحْمَر وَالْأسود فَأن رأى أَمِير الْمُؤمنِينَ أَن يَخُصُّهُ بِأَمَان يسمه بِهِ فَإِن عفوا اللَّهِ لَك بازاء عفوك عَنهُ. فَقَالَ: اللَّهُمَّ أَنْت شهيدي أَنِّي قد عَفَوْت عَن الْأَحْمَر وَالْأسود، وأعطيتهم أمانك وذمتك وخصصت بذلك إِبْرَاهِيم بن الْمهْدي وَإِسْمَاعِيل بن جَعْفَر وعممت النَّاس كلهم حَتَّى ابْن دُحَيْم الْمدنِي، وسعيدا الْخَطِيب. قَالَ: وَكَانَ ابْن دُحَيْم هَذَا يصعد مِنْبَر الْمَدِينَة وَلَا يدع من قَول الْقَبِيح شَيْئا إِلَّا ذكر بِهِ الْمَأْمُون.

وحَدثني الْفضل بن مُحَمَّد الْعلوِي قَالَ: لما قدم الْمَأْمُون تَلقاهُ عبد اللَّهِ بن الْعَبَّاس ابْن الْحسن بن عبيد اللَّهِ بن الْعَبَّاس بن عَليّ بن أبي طَالب فَقَالَ: جعل اللَّهِ قدومك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مِفْتَاح رَحْمَة لَك، وَلمن قدمت عَلَيْهِ من رعيتك، فقد اشرقت الْبِلَاد حِين حللت بهَا، وآنس اللَّهِ بقربك أَهلهَا، ونصبت الرّعية إِلَيْك أعينها، ومدت إِلَى اللَّهِ فِيك وَلَك أيديها، لتصيب من مقدمك عدلا يُحْيِيهَا، وَمن نيل يدك فضلا يغنيها.

وَذكر عَمْرو بن مسْعدَة قَالَ ك لما قدم الْمَأْمُون بَغْدَاد أهدي إِلَيْهِ الْفضل بن الرّبيع فص ياقوت لم ير مثله. قَالَ: واحب الْمَأْمُون الفص وَجعل يقلبه فِي يَده وَينظر إِلَى وبيصة، ويحوله من يَد إِلَى يَد وَقَالَ: مَا أَدْرِي مَتى رَأَيْت فصا أحسن من هَذَا؟ . قَالَ: وَأَنْشَأَ يحدث الْقَوْم الحَدِيث عَن فص كَانَ للمهدي وهبه للرشيد. فَقَالَ: كَانَ أَبُو مُسلم وَجه زِيَاد بن صَالح إِلَى الصين فَبعث إِلَيْهِ بِهَذَا الفص فَصَارَ إِلَى أبي الْعَبَّاس، فوهبه إِلَى عبد اللَّهِ بن عَليّ، فوهبه عبد اللَّهِ بن عَليّ للمهدي، فوهبه الْمهْدي للرشيد. فَبينا الرشيد يناظر يحيى بن خَالِد يَوْمًا فِي قَوس جلا هق إِذْ ندر الفص من يَده فكرر الْموضع فَلم ير لَهُ عين وَلَا أثر فأغتنم الرشيد لذهابه. فَقيل لَهُ أَن صَالحا
আপনি কি মনে করেন ইবরাহিম যদি আমার ঘ্রাণ পান তবে তিনি আমার নিকট আসবেন? না, আল্লাহর কসম, তাঁর প্রতি আমার এমন ধারণা নেই। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি যাত্রা করলেন এবং আমরা হুলওয়ান পৌঁছানোর আগেই আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তিনি আত্মগোপন করেছেন।

আমর ইবনে মুসয়াদা বর্ণনা করেছেন: মামুন যখন রায় থেকে ইরাকে প্রত্যাবর্তনের পথে ছিলেন, তখন নামাযের সাথী আলী ইবনে সালিহ তাঁর বন্ধু ইসমাঈল ইবনে জাফর ইবনে সুলাইমানের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার পরিবারের একজন ব্যক্তি এক গুরুতর অপরাধ করেছেন এবং অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছেন; অথচ আপনি লাল ও কালো সকল মানুষকে অভয় দান করেছেন। আমিরুল মুমিনিন যদি সমীচীন মনে করেন তবে তাকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে চিহ্নিত করতে পারেন, কেননা তাকে ক্ষমা করার বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য ক্ষমা অবধারিত হবে। মামুন বললেন: হে আল্লাহ! আপনি আমার সাক্ষী যে, আমি লাল ও কালো সকল মানুষকে ক্ষমা করেছি এবং তাদের আপনার নিরাপত্তা ও জিম্মাদারি দান করেছি। আমি বিশেষত ইবরাহিম ইবনুল মাহদি ও ইসমাঈল ইবনে জাফরকে এবং সাধারণভাবে ইবনে দুহাইম আল-মাদানি ও সাঈদ আল-খতিবসহ সকল মানুষকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছি। বর্ণনাকারী বলেন: এই ইবনে দুহাইম মদিনার মিম্বরে আরোহণ করতেন এবং মামুনের কুৎসা রচনায় কোনো কটু কথা বাকি রাখতেন না।

ফজল ইবনে মুহাম্মদ আল-আলাওয়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: মামুন যখন আসলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনুল হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহ আপনার এই আগমনকে আপনার জন্য এবং আপনার প্রজাদের জন্য রহমতের চাবিকাঠি করুন। আপনি যখন এখানে পদার্পণ করেছেন তখন এই জনপদ আলোকিত হয়েছে এবং আপনার সান্নিধ্যে এর অধিবাসীরা স্বস্তি পেয়েছে। প্রজারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে এবং আপনার কল্যাণের জন্য আল্লাহর নিকট হাত প্রসারিত করেছে, যেন আপনার আগমন থেকে তারা এমন ন্যায়বিচার পায় যা তাদের সঞ্জীবিত করবে এবং আপনার হাতের দান থেকে এমন অনুগ্রহ লাভ করে যা তাদের অভাবমুক্ত করবে।

আমর ইবনে মুসয়াদা উল্লেখ করেছেন: মামুন যখন বাগদাদে আসলেন, তখন ফজল ইবনে রাবি তাঁকে একটি ইয়াকুত পাথরের আংটির পাথর উপহার দিলেন যার সদৃশ আর দেখা যায়নি। মামুন পাথরটি পছন্দ করলেন এবং তা নিজের হাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এর উজ্জ্বলতা দেখতে লাগলেন। তিনি পাথরটি এক হাত থেকে অন্য হাতে নিতে নিতে বললেন: আমি জানি না এর চেয়ে সুন্দর পাথর আর কবে দেখেছি? বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি লোকজনের নিকট একটি পাথর সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন যা মাহদির ছিল এবং তিনি তা রশিদকে দিয়েছিলেন। তিনি বললেন: আবু মুসলিম যিয়াদ ইবনে সালিহকে চীনের দিকে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর কাছে এই পাথরটি পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর এটি আবুল আব্বাসের মালিকানায় আসে, তিনি তা আবদুল্লাহ ইবনে আলীকে দেন, আবদুল্লাহ ইবনে আলী তা মাহদিকে দেন এবং মাহদি তা রশিদকে দান করেন। একদিন রশিদ যখন ইয়াহইয়া ইবনে খালিদের সাথে ধনুক নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন হঠাৎ পাথরটি তাঁর হাত থেকে ছিটকে পড়ে যায়। তিনি সেই স্থানটি বারবার খুঁজলেন কিন্তু এর কোনো হদিস বা চিহ্ন পেলেন না। এর বিলুপ্তিতে রশিদ অত্যন্ত বিমর্ষ হলেন। তাঁকে বলা হলো যে সালিহ...
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
صَاحب الْمُصَلِّي اشْترى فصا من عون الْعَبَّادِيّ بِعشْرين ألف دِينَار لَيْسَ لأحد مثله فَوجه إِلَيْهِ فَبعث بِهِ. فَلَمَّا رَآهُ قَالَ: وَأَيْنَ هَذَا من فصي. قَالَ: ثمَّ قَالَ الْمَأْمُون: أما وَالله لأضعن من قدر هَذِه الْحِجَارَة الَّتِي لَا معنى لَهَا ورد الفص على الْفضل وَقَالَ لرَسُوله: قل لَهُ وهبت دولتك يَا أَبَا الْعَبَّاس. فَلَمَّا رَجَعَ الفص إِلَى الْفضل أغتم وَقَالَ لرجل من بطانته: أما إِنَّه لَا يعِيش من يَوْمه هَذَا إِلَّا أقل من سنة. فَمَا أَمْسَى الْمَأْمُون حَتَّى أَتَاهُ الْخَبَر بهَا. قَالَ: قَالَ: فَسكت عَنهُ وَلم يخبر بِهِ أحدا. قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ الْعَبَّاس بن الْمسيب وَكَانَ صَاحب شرطته ركب الْمَأْمُون فِي جنَازَته فَعرض لَهُ بعض أَوْلَاد الْفضل بن الرّبيع وَهُوَ بِبَاب الشَّام. فَدَعَا لَهُ وانتسب فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُون: أدن. فَدَنَا. ثمَّ قَالَ لَهُ: أدن. فَدَنَا. حَتَّى قرب من ركابه فأدني مِنْهُ رَأسه كَأَنَّهُ يسر إِلَيْهِ وَقَالَ: إعلم أَبَا الْعَبَّاس أَن الْوَقْت قد مضى. قَالَ: فَرجع الْفَتى إِلَى الْفضل فَأخْبرهُ. فَلم يزل على حذر مِنْهُ أَن يحقدها عَلَيْهِ.

وَذكر عَن عَمْرو بن مسْعدَة قَالَ: اسْتقْبل الْمَأْمُون فِي منصرفة من خُرَاسَان الطالبيون بِبَعْض طَرِيقه وَاعْتَذَرُوا مِمَّا كَانَ مِنْهُم من الْخُرُوج. فَقَالَ الْمَأْمُون لمتكلمهم: كف واستمع مني. أولنا وأولكم مَا تَعْمَلُونَ، وآخرنا وآخركم إِلَى مَا ترَوْنَ، وتناسوا مَا بَين هذَيْن.

قَالَ ابْن أبي طَاهِر: لما دخل الْمَأْمُون مَدِينَة السَّلَام تَلَقَّتْهُ الْأَنْصَار فَقَالَت: الْحَمد لله الَّذِي شدّ بك الْحق وردك إِلَى دَارك مدفوعا عَنْك - مستجابا لنا فِيك - فَأَنت كَمَا قَالَ ابْن عمنَا حسان فِي ابْن عمك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ يَوْم دخل الْمَدِينَة:

(وَكُنَّا حِين تذكر مِنْك نعمي … يجل الْوَصْف عَن وصف الْمقَال)

 

(بِحَمْد اللَّهِ حِين حللت فِينَا … بنورك نجتلي ظلم الضلال)

 

(وَكنت كَرَامَة نزلت علينا … بِأَسْعَد طَائِر وبخير حَال)
সাহিবুল মুসাল্লি আউন আল-আব্বাদির নিকট থেকে বিশ হাজার দিনার মূল্যে একটি রত্ন পাথর ক্রয় করেন, যার সদৃশ কারো নিকট ছিল না। অতঃপর তিনি তা আল-মামুনের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। যখন মামুন সেটি দেখলেন, তখন বললেন: "আমার রত্ন পাথরের তুলনায় এর কীইবা মূল্য!" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মামুন বললেন: "আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই এই অর্থহীন পাথরগুলোর মর্যাদা হ্রাস করে দেব।" তিনি ফাদলের নিকট রত্নটি ফিরিয়ে দিলেন এবং তাঁর দূতকে বললেন: "তাঁকে বলো, হে আবু আব্বাস, আমি তোমার শাসনকাল তোমাকে দান করলাম।" যখন রত্নটি ফাদলের নিকট ফিরে এল, তখন তিনি অত্যন্ত বিষণ্ণ হলেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে বললেন: "নিশ্চয়ই সে আজকের পর এক বছরের কম সময় জীবিত থাকবে।" সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই মামুনের নিকট এই সংবাদ পৌঁছে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি এ ব্যাপারে নীরব থাকলেন এবং কাউকে কিছু জানালেন না। বর্ণনাকারী বলেন: যখন আল-মামুনের পুলিশ প্রধান আব্বাস ইবনুল মুসাইয়িব মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তিনি তাঁর জানাজায় গমনের জন্য সওয়ার হলেন। তিনি যখন 'বাবে শাম' (সিরিয়া তোরণ) এলাকায় ছিলেন, তখন ফাদল ইবনুর রবির এক পুত্র তাঁর সামনে উপস্থিত হলো। সে তাঁর জন্য দোয়া করল এবং নিজের বংশপরিচয় প্রদান করল। আল-মামুন তাকে বললেন: "নিকটে এসো।" সে নিকটে এল। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন: "নিকটে এসো।" সে আরও নিকটে এল, এমনকি তাঁর সওয়ারির রেকাবের নিকটবর্তী হলো। মামুন তার দিকে মাথা নিচু করলেন যেন তাকে কানে কানে কিছু বলছেন এবং বললেন: "হে আবু আব্বাস, জেনে রেখো যে সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।" বর্ণনাকারী বলেন: যুবকটি ফাদলের নিকট ফিরে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করল। এরপর থেকে তিনি মামুনের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতেন এই আশঙ্কায় যে, তিনি হয়তো তাঁর প্রতি মনে কোনো ক্ষোভ পোষণ করছেন।

আমর ইবনে মাসআদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: খোরাসান থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে আল-মামুন তালিবিদের (আলী রা.-এর বংশধর) মুখোমুখি হলেন। তারা ইতিপূর্বে তাদের পক্ষ থেকে কৃত বিদ্রোহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করল। আল-মামুন তাদের মুখপাত্রকে বললেন: "ক্ষান্ত হও এবং আমার কথা শোনো। আমাদের এবং তোমাদের প্রারম্ভ হলো তা-ই যা তোমরা করছ, আর আমাদের এবং তোমাদের সমাপ্তি হলো তা-ই যা তোমরা দেখছ; সুতরাং এই দুটির মধ্যবর্তী বিষয়গুলো বিস্মৃত হও।"

ইবনে আবি তাহির বলেন: আল-মামুন যখন মাদিনাতুস সালামে প্রবেশ করলেন, আনসারগণ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল এবং বলল: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আপনার মাধ্যমে সত্যকে সুসংহত করেছেন এবং আপনাকে সুরক্ষিত অবস্থায় আপনার আলয়ে ফিরিয়ে এনেছেন—আপনার কল্যাণে আমাদের প্রার্থনা কবুল হয়েছে—আপনি ঠিক তেমনই, যেমনটি আমাদের চাচাতো ভাই হাসসান আপনার চাচাতো ভাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেছিলেন যেদিন তিনি মদিনায় প্রবেশ করেছিলেন:

মদিনায় প্রবেশের দিন:

(যখন আপনার অনুগ্রহের কথা স্মরণে আসত … তখন তার মহিমা সকল বর্ণনার ঊর্ধ্বে থাকত)

 

(আল্লাহর প্রশংসায়, যখন আপনি আমাদের মাঝে পদার্পণ করলেন … আপনার জ্যোতির দ্বারা আমরা বিভ্রান্তির অন্ধকার বিদূরিত করি)

 

(এবং আপনি ছিলেন আমাদের ওপর অবতীর্ণ এক মহা সম্মান … পরম সৌভাগ্য ও সর্বোত্তম অবস্থায়)
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
قَالَ: أَبُو زَكَرِيَّاء يحيى بن الْحسن بن عبد الْحق: كَانَ قدوم الْمَأْمُون بَغْدَاد فِي النّصْف من ربيع الأول سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ، وَدخل بَغْدَاد من بَاب خُرَاسَان والحربة بَين يَدَيْهِ فِي يَد مُحَمَّد بن الْعَبَّاس بن الْمسيب بن زُهَيْر وَكَانَ خَليفَة لِأَبِيهِ على الحربة وَالْعَبَّاس بن الْمسيب بن زُهَيْر وَرَاء ابْنه، وَكَانَ منقرسا بَين يَدي الْمَأْمُون.

وَذكر يحيى بن الْحسن بن عبد الْخَالِق، عَن عَليّ بن أبي سعيد أَنه حَدثهُ قَالَ: لَقِي الْفضل بن الرّبيع طَاهِر بن الْحُسَيْن عِنْد دُخُول الْمَأْمُون بَغْدَاد فثني عنانه مَعَه وَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا الطّيب. مَا ثنيت عناني مَعَ أحد قطّ قبلك إِلَّا مَعَ خَليفَة ولي حَاجَة. قَالَ: مَا هِيَ؟ قَالَ: تكلم أَمِير الْمُؤمنِينَ فِي الرضاء عني وتعجل ذَلِك. قَالَ: فَمضى طَاهِر من فوره ذَلِك وكلم أَمِير الْمُؤمنِينَ فِيهِ فَأمره بِإِدْخَال الْفضل عَلَيْهِ قَالَ: فَقَالَ طَاهِر: فأدخلته حاسرا لَا سيف عَلَيْهِ، وَلَا طيلسان، وَلَا قلنسوة. فَلَمَّا توَسط الدَّار وثب الْمَأْمُون عَن عَرْشه فصلى رَكْعَتَيْنِ ثمَّ الْتفت إِلَيْهِ قبل أَن يسلم عَلَيْهِ بالخلافة. فَقَالَ: أَتَدْرِي لم صليت يَا فضل؟ . فَقَالَ: لَا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ. قَالَ: شكرا لله إِذْ رَزَقَنِي الْعَفو عَنْك، قد كلمني أَبُو الطّيب فِيك وَقد عَفَوْت عَنْك. قَالَ: فَقَالَ الْفضل: فلي حَاجَة يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ. قَالَ: مَا هِيَ؟ . قَالَ: الرضاء. قَالَ أجل لَا يكون الْعَفو إِلَّا مَعَ الرضاء. قَالَ: أُخْرَى يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ. قَالَ: مَا هِيَ؟ قَالَ: تجْعَل لي مرتبَة فِي الدَّار. قَالَ: عجلت يَا فضل أخرج فَخرج. قَالَ: وَقَالَ لَهُ يَوْمًا وَقد دخل عَلَيْهِ: أَخْبرنِي يَا فضل عَن شتمك إيَّايَ، ومقاماتك الَّتِي كنت تقوم بهَا على وتثلبني بهَا كَيفَ أمنت أَن أسْرع إِلَى غضبة من الغضبات فأفعل فعلا أندم عَلَيْهِ حِين لَا تَنْفَع الندامة. قَالَ. فأنشده لبَعض الشُّعَرَاء فِيهِ.

(صفوح عَن الأجرام حَتَّى كَأَنَّهُ … من الْعَفو لم يعرف من النَّاس مجر مَا)

 

(وَلَيْسَ يُبَالِي أَن يكون بِهِ الأذي … إِذا مَا الأذي لم يغش بالكره مُسلما)

 

قَالَ عبد اللَّهِ بن عَمْرو. حَدثنِي جَعْفَر بن الْمَأْمُون قَالَ: لما دخل الْمَأْمُون بَغْدَاد لقِيه الْفضل بن الرّبيع مَعَ طَاهِر فَلَمَّا رأى الْفضل نزل من قُبَّته وَكَانَ عديله على بن هِشَام وَمر يعدو حَتَّى سجد. فَقَالَ الْمَأْمُون: الْحَمد لله قَدِيما مَا كنت أسلم عَلَيْهِ
আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হক বলেছেন: ২০৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে মামুনের বাগদাদে আগমন ঘটে। তিনি খোরাসান তোরণ দিয়ে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং তাঁর সামনে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে মুসাইয়াব ইবনে জুহাইরের হাতে বর্শা ছিল। তিনি বর্শা বহনের দায়িত্বে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত ছিলেন। আব্বাস ইবনে মুসাইয়াব ইবনে জুহাইর তাঁর পুত্রের পেছনে ছিলেন এবং তিনি মামুনের সামনে গেঁটেবাতগ্রস্ত অবস্থায় পথ চলছিলেন।

ইয়াহইয়া ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল খালিক, আলী ইবনে আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলেছেন: মামুনের বাগদাদে প্রবেশের সময় ফজল ইবনে রাবী' তাহির ইবনে হুসাইনের সাথে দেখা করেন এবং তাঁর ঘোড়ার লাগাম ঘুরিয়ে তাঁর সাথে চলতে থাকেন। তিনি তাঁকে বললেন: "হে আবু তৈয়ব! আমি ইতিপূর্বে কখনো খলিফা ব্যতীত অন্য কারো সাথে এভাবে লাগাম ঘুরিয়ে চলিনি। আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে।" তিনি বললেন: "তা কী?" ফজল বললেন: "আমিরুল মুমিনিন যেন আমার ওপর সন্তুষ্ট হন, সেই মর্মে তাঁর সাথে কথা বলুন এবং এটি দ্রুত করুন।" তাহির তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে চলে গেলেন এবং আমিরুল মুমিনিনের সাথে তাঁর ব্যাপারে কথা বললেন। খলিফা তাঁকে ফজলকে ভেতরে নিয়ে আসার আদেশ দিলেন। তাহির বলেন: "আমি তাকে এমন অবস্থায় ভেতরে নিয়ে এলাম যে সে ছিল রিক্তবেশে, তার সাথে কোনো তলোয়ার ছিল না, কোনো চাদর (তাইলসান) ছিল না এবং কোনো টুপিও (কালানসুওয়াহ) ছিল না। যখন তিনি আঙিনার মাঝখানে পৌঁছালেন, মামুন তাঁর সিংহাসন থেকে দ্রুত নেমে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর ফজল তাঁকে খিলাফতের অভিবাদন জানানোর আগেই তিনি তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন: 'হে ফজল! তুমি কি জানো আমি কেন সালাত আদায় করলাম?' ফজল বললেন: 'না, হে আমিরুল মুমিনিন।' মামুন বললেন: 'আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম যে, তিনি আমাকে তোমাকে ক্ষমা করার তাওফিক দিয়েছেন। আবু তৈয়ব তোমার ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলেছে এবং আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।' ফজল বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, আমার একটি আবেদন আছে।' মামুন বললেন: 'তা কী?' ফজল বললেন: 'আপনার সন্তুষ্টি।' মামুন বললেন: 'হ্যাঁ, সন্তুষ্টি ব্যতীত প্রকৃত ক্ষমা হয় না।' ফজল বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, আরও একটি আবেদন আছে।' মামুন বললেন: 'তা কী?' ফজল বললেন: 'দরবারে আমার জন্য একটি বিশেষ অবস্থান বা মর্যাদা নির্ধারণ করে দিন।' মামুন বললেন: 'হে ফজল, তুমি বড্ড তাড়াহুড়ো করলে, এখন বেরিয়ে যাও।' সুতরাং তিনি বেরিয়ে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন: একদিন ফজল তাঁর কাছে প্রবেশ করলে মামুন তাঁকে বললেন: 'হে ফজল, আমাকে বলো তো, তুমি যে আমাকে গালি দিতে এবং আমার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করতে ও আমার কুৎসা রটনা করতে, তখন তুমি কীভাবে নির্ভয়ে ছিলে যে আমি হঠাৎ কোনো প্রচণ্ড ক্রোধের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করে বসব না যার জন্য অনুশোচনা করতে হবে, অথচ তখন সেই অনুশোচনা কোনো কাজে আসবে না?' তখন ফজল খলিফার প্রশংসায় একজন কবির কবিতা আবৃত্তি করলেন।

(অপরাধীদের প্রতি তিনি এমন ক্ষমাশীল যে, মনে হয় যেন তাঁর ক্ষমার আতিশয্যের কারণে তিনি মানুষের মাঝে কোনো অপরাধীকে চেনেনই না।)

 

(তিনি নিজের ওপর আসা কোনো কষ্টের পরোয়া করেন না, যতক্ষণ না সেই কষ্ট অপ্রীতিকরভাবে কোনো মুসলিমকে আচ্ছন্ন করে।)

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেছেন, জাফর ইবনে মামুন আমাকে বর্ণনা করেছেন যে: মামুন যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন, ফজল ইবনে রাবী' তাহিরের সাথে তাঁর সাথে দেখা করলেন। ফজল যখন মামুনকে দেখলেন, তিনি তাঁর হাওদা থেকে নিচে নেমে এলেন—তাঁর সাথে আলী ইবনে হিশামও ছিলেন—এবং তিনি দৌড়ে গিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। তখন মামুন বললেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর, অতীতে তো আমি তাঁকে সালামও দিতাম না।"
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
فَأَفْرَح برده فسبحان الَّذِي الهمني الصفح عَنهُ فَلذَلِك سجدت. قَالَ: فَقَالَ طَاهِر: فعجبت لسعة حلمه.

وَذكر زيد بن عَليّ بن الْحُسَيْن قَالَ: لما كَانَ فِي الْعِيد بعد قدوم الْمَأْمُون سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ والمأمون يتغدي وعَلى مائدته طَاهِر بن الْحُسَيْن، وَسَعِيد بن سلم، وَحميد بن عبد الحميد، وعَلى رَأسه سعيد الْخَطِيب وَهُوَ يقرظه وَيذكر مناقبه، ويصف سيرته ومجلسه إِذا أنهملت عينا الْمَأْمُون بالدموع فَرفع يَده عَن الطَّعَام فَأمْسك الْقَوْم حِين رَأَوْهُ بِتِلْكَ الْحَال حَتَّى إِذا كف قَالَ لَهُم: كلوا. قَالُوا: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَهل نسيغ طَعَاما، أَو شرابًا وَسَيِّدنَا بِهَذَا الْحَال. قَالَ: أما وَالله مَا ذَلِك من حدث، وَلَا لمكروه هَمَمْت بِهِ بِأحد وَلكنه جنس من أَجنَاس الشُّكْر لله لعظمته وَذكر نعْمَته الَّتِي أتمهَا على كَمَا أتمهَا على أَبَوي من قبل. أما ترَوْنَ ذَاك الَّذِي فِي صحن الدَّار يَعْنِي الْفضل بن الرّبيع. قَالَ: وَكَانَت الستور قد رفعت وَوضعت الموائد للنَّاس على مَرَاتِبهمْ وَكَانَ يجلس الْفضل مَعَ أَصْحَاب الحرس، وَكَانَ فِي أَيَّام الرشيد وحاله حَاله يراني بِوَجْه أعرف فِيهِ الْبغضَاء والشنآن، وَكَانَ لَهُ عِنْدِي كَالَّذي لي عِنْده، وَلَكِنِّي كنت ادارية خوفًا من سعايته، وحذرا من اكاذيبه، فَكنت إِذا سلمت عَلَيْهِ فَرد على أظل لذَلِك فَرحا، وَبِه مبتهجا وَكَانَ صَفوه إِلَى المخلوع فَحَمله على أَن أغراه بِي، وَدعَاهُ إِلَى قَتْلِي، وحرك الآخر مَا يُحَرك الْقَرَابَة وَالرحم الماسة فَقَالَ: أما الْقَتْل فَلَا اقتله وَلَكِنِّي اجْعَلْهُ بِحَيْثُ إِذا قَالَ لم يطع، وَإِذا دَعَا لم يجب فَكَانَ أحسن حالاتي عِنْده أَن وَجه مَعَ عَليّ بن عِيسَى قيد فضَّة بعد مَا تنازعنا فِي الْفضة وَالْحَدِيد ليقيدني بِهِ وَذهب عَنهُ قَول اللَّهِ جلّ وَعز: {ثمَّ من بغي عَلَيْهِ لينصرنه اللَّهِ} فَذَاك مَوْضِعه من الدَّار باخس مجالسها، وأدني مراتبها وَهَذَا الْخَطِيب على رَأْسِي وَكَانَ بالْأَمْس يقف على هَذَا الْمِنْبَر الَّذِي بإزائي مرّة، وعَلى الْمِنْبَر الغربي أُخْرَى فيزعم أَنِّي الْمَأْمُون وَلست بالمأمون. ثمَّ هُوَ السَّاعَة يقرظني تقريظة الْمَسِيح، ومحمدا
তাই আমি তার উত্তর পেয়ে আনন্দিত হলাম। সুতরাং সেই মহান সত্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি আমাকে তাকে ক্ষমা করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আর সেই কারণেই আমি সিজদাহ করেছি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাহির বললেন: আমি তার ধৈর্য ও সহনশীলতার ব্যাপকতা দেখে আশ্চর্যান্বিত হলাম।

যায়েদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দুই শত চার হিজরীতে আল-মামুনের আগমনের পর যখন ঈদ এলো, তখন মামুন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তার দস্তরখানে তাহির ইবনে আল-হুসাইন, সাঈদ ইবনে সালাম এবং হুমাইদ ইবনে আব্দুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। তার শিয়রে সাঈদ আল-খাতিব দাঁড়িয়ে তাঁর গুণকীর্তন করছিলেন, তাঁর মহৎ গুণাবলি বর্ণনা করছিলেন এবং তাঁর জীবনচরিত ও মজলিসের প্রশংসা করছিলেন। এমতাবস্থায় মামুনের দুই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি খাবার থেকে আল্লাহর দেওয়া হাত সরিয়ে নিলেন। তাকে এই অবস্থায় দেখে উপস্থিত লোকজনও খাওয়া থামিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত যখন তিনি শান্ত হলেন, তখন তাদের বললেন: আপনারা আহার করুন। তারা বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমাদের নেতাকে এই অবস্থায় দেখে আমরা কীভাবে আহার বা পানীয় গ্রহণ করতে পারি? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, কোনো নতুন অঘটনের কারণে এমনটা হয়নি, আর আমি কারো প্রতি কোনো অমঙ্গল করার ইচ্ছাও করিনি। বরং এটি আল্লাহর মহানুভবতার জন্য তাঁর প্রতি এক প্রকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর সেই নিয়ামতের স্মরণ যা তিনি আমার ওপর পূর্ণ করেছেন, যেমনটা তিনি ইতিপূর্বে আমার পিতৃপুরুষদের ওপর পূর্ণ করেছিলেন। তোমরা কি প্রাসাদের আঙিনায় তাকে দেখছ না? - অর্থাৎ ফজল ইবনে আল-রাবি'। বর্ণনাকারী বলেন: তখন পর্দাগুলো উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মানুষের পদমর্যাদা অনুযায়ী দস্তরখান বিছানো হয়েছিল। ফজল তখন প্রহরীদের সাথে বসে ছিলেন। রশীদের শাসনামলে যখন তিনি প্রভাবশালী ছিলেন, তখন তিনি আমার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকাতেন যাতে আমি ঘৃণা ও বিদ্বেষ দেখতে পেতাম। তার প্রতি আমার মনোভাবও ছিল তার মতো, কিন্তু আমি তার চোগলখুরির ভয়ে এবং মিথ্যার আশঙ্কায় তাকে মানিয়ে চলতাম। ফলে আমি যখন তাকে সালাম দিতাম আর তিনি উত্তর দিতেন, তখন আমি তাতে আনন্দিত ও প্রফুল্ল হতাম। তার একনিষ্ঠ আনুগত্য ছিল ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তির প্রতি, আর সে তাকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছিল এবং আমাকে হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিল। তখন অন্যজন আত্মীয়তার বন্ধন ও ঘনিষ্ঠ রক্তের টানে তাড়িত হয়ে বলেছিল: হত্যার কথা যদি বলো, তবে আমি তাকে হত্যা করব না, কিন্তু আমি তাকে এমন অবস্থায় রাখব যে, সে কথা বললে কেউ মানবে না এবং ডাকলে কেউ সাড়া দেবে না। তার কাছে আমার সেরা অবস্থা ছিল এই যে, যখন আমাদের মধ্যে রূপা ও লোহার ব্যাপারে বিতর্ক হয়েছিল, তখন সে আলী ইবনে ঈসার মাধ্যমে রূপার শিকল পাঠিয়েছিল আমাকে বন্দি করার জন্য। আর সে মহান আল্লাহর এই বাণীটি ভুলে গিয়েছিল: "অতঃপর যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন।" এখন প্রাসাদের সবচেয়ে তুচ্ছ ও নিম্নতম স্থানে তার বসার জায়গা হয়েছে। আর এই খতিব এখন আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ গতকালই সে আমার সামনের এই মিম্বরে একবার এবং পশ্চিমের মিম্বরে আরেকবার দাঁড়িয়ে দাবি করেছিল যে, আমিই মামুন কিন্তু আসলে আমি মামুন নই। অথচ এখন সে আমার এমন প্রশংসা করছে যেমনটা মসীহ ও মুহাম্মাদের করা হয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
عَلَيْهِمَا السَّلَام. قَالَ: فَقَالَ طَاهِر بن الْحُسَيْن يَا سيدنَا. فَمَا عندنَا فيهمَا، وَقد أباحك اللَّهِ أراقه دمائهما فحصنتهما بِالْعَفو والحلم. قَالَ: فعلت ذَلِك لموْضِع الْعَفو من اللَّهِ ثمَّ قَالَ: مدوا أَيْدِيكُم إِلَى طَعَامكُمْ قَالَ: فَأكل وأكلوا.

حَدثنَا أَحْمد بن إِسْحَاق بن برصوما. قَالَ: حَدثنِي أَيُّوب بن جَعْفَر بن سُلَيْمَان قَالَ: كُنَّا مَعَ الْمَأْمُون بعد مقدمه بَغْدَاد بأشهر يَوْمًا وَهُوَ رَاكب وَالْفضل بن الرّبيع وَاقِف لَهُ على مدرجته فرميناه بِأَبْصَارِنَا نَنْظُر مَا يكون مِنْهُ. قَالَ: فَمر طَاهِر وَمَعَهُ الحربة بَين يَدي الْمَأْمُون: فَنظر الْمَأْمُون إِلَى الْفضل بن الرّبيع وَصرف وَجهه عَنهُ. ثمَّ أقبل الْعَجم مَعَهم القسي والنشاب وطلع الْمَأْمُون ينظر إِلَى الْفضل بمؤخر عينه مصروفا عَنهُ وَجهه. قَالَ /: فَقَالَ: أُولَئِكَ الْعَجم كَأَنَّهُمْ يُرِيدُونَ أَن ينحوه بعنف فَأقبل الْمَأْمُون يَكفهمْ بِيَدِهِ وَوَجهه محول عَنهُ:

قَالَ أَحْمد بن إِسْحَاق. وحَدثني: بشر السَّلمَانِي. قَالَ: سَمِعت أَحْمد بن أبي خَالِد يَقُول: كَانَ الْمَأْمُون إِذا أمرنَا بِأَمْر فَظهر من أَحَدنَا فِيهِ تَقْصِير يَقُول: أَتَرَوْنَ أَنِّي لَا عرف رجلا ببابي لَو قلدته أموري كلهَا لقام بهَا. قَالَ بشر: فَقلت لِأَحْمَد ابْن أبي خَالِد: يَا أَبَا الْعَبَّاس من يَعْنِي؟ قَالَ: الْفضل بن الرّبيع.

وَقَالَ مُحَمَّد بن إِسْحَاق: حَدثنِي رجل مِمَّن كَانَ يدْخل الدَّار ذهب عني اسْمه. قَالَ: لما أذن الْمَأْمُون للفضل بن الرّبيع فِي لبس السوَاد وَمنعه من الرّكُوب بِسيف حمائل. فَكَانَ يلبس سَيْفا بمعاليق. قَالَ: فَأَنا ذَات يَوْم فِي الدَّار إِذْ جَاءَ الْفضل فَوقف على الْبَاب الْخَارِج وَدخل عَليّ بن صَالح وَهُوَ الْحَاجِب فَقَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ الْفضل بن الرّبيع بِالْبَابِ، فِي أَي الْمَرَاتِب أنزلهُ؟ قَالَ: فِي أخسها. قَالَ: فَخرج إِلَيْهِ على مَاشِيا إِلَى الْبَاب الْخَارِج فَقَالَ: يَا أَبَا الْعَبَّاس: أنزل فَهَذِهِ مرتبتك. قَالَ: فَجَلَسَ وَجَلَست قَرِيبا مِنْهُ. وَقَامَ الْمَأْمُون فَدخل فَلم يمر بِالْفَضْلِ أحد من بني هَاشم والقواد إِلَّا جلس إِلَيْهِ فَكَانَ آخر من جَاءَ حميد الطوسي فَلم يزل الْفضل يحضر الدَّار كل اثْنَيْنِ وكل خَمِيس فيجلس على الْبسَاط فَإِذا انْصَرف النَّاس قعدوا لَهُ. فَأَنا ذَات يَوْم
তাদের উভয়ের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেন: তখন তাহির ইবনে আল-হুসাইন বললেন, হে আমাদের নেতা! তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের করণীয় কী, অথচ আল্লাহ আপনাকে তাদের রক্ত ঝরানোর অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু আপনি ক্ষমা ও সহনশীলতার মাধ্যমে তাদের সুরক্ষিত করেছেন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার মর্যাদার কারণেই তা করেছি। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের খাবারের দিকে তোমাদের হাত বাড়াও। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি খেলেন এবং তারাও আহার করল।

আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে বারসুমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনে জাফর ইবনে সুলাইমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মামুন বাগদাদে আসার কয়েকমাস পর একদিন আমরা তার সাথে ছিলাম। তিনি আরোহী অবস্থায় ছিলেন এবং আল-ফজল ইবনুর রবি তার চলার পথের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন আমরা গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিলাম তার থেকে কী ঘটে। তিনি বলেন: তখন তাহির তার হাতে একটি ছোট বর্শা নিয়ে মামুনের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন মামুন আল-ফজল ইবনুর রবির দিকে তাকালেন এবং তার থেকে নিজের চেহারা ফিরিয়ে নিলেন। এরপর অনারবরা তাদের ধনুক ও তীর নিয়ে এগিয়ে এল এবং মামুন তার চোখের কোণ দিয়ে ফজলের দিকে তাকাচ্ছিলেন অথচ তার চেহারা ছিল অন্যদিকে ফেরানো। তিনি বলেন: বর্ণনাকারী বলেন: ওই অনারবরা যেন তাকে রূঢ়ভাবে সরিয়ে দিতে চাচ্ছিল, তখন মামুন তার নিজের হাত দিয়ে তাদের বাধা দিতে লাগলেন, যদিও তার চেহারা তখনও তার দিক থেকে ফেরানো ছিল:

আহমাদ ইবনে ইসহাক বলেন, এবং বিশর আস-সালমানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে আবি খালিদকে বলতে শুনেছি: মামুন যখন আমাদের কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিতেন এবং আমাদের কারো পক্ষ থেকে তাতে ত্রুটি প্রকাশ পেত, তখন তিনি বলতেন: তোমরা কি মনে করো আমি আমার দরজায় এমন কোনো ব্যক্তিকে চিনি না, যাকে যদি আমি আমার সমস্ত বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করতাম তবে সে তা যথাযথভাবে পালন করত? বিশর বলেন: আমি আহমাদ ইবনে আবি খালিদকে বললাম: হে আবু আব্বাস! তিনি কাকে উদ্দেশ্য করেছেন? তিনি বললেন: আল-ফজল ইবনুর রবি।

এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন: আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি প্রাসাদে প্রবেশ করতেন, যার নাম আমি ভুলে গিয়েছি। তিনি বলেন: যখন মামুন আল-ফজল ইবনুর রবিকে কালো পোশাক পরিধানের অনুমতি দিলেন এবং তাকে কাঁধের ঝুলানো ফিতাযুক্ত তলোয়ার নিয়ে আরোহণ করতে নিষেধ করলেন, তখন তিনি ফিতাযুক্ত তলোয়ার ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন: একদিন আমি প্রাসাদে ছিলাম এমতাবস্থায় ফজল এলেন এবং বাইরের দরজায় দাঁড়ালেন। তখন দ্বাররক্ষী আলী ইবনে সালিহ ভেতরে প্রবেশ করে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আল-ফজল ইবনুর রবি দরজায় আছেন, আমি তাকে কোন মর্যাদার স্তরে রাখব? তিনি বললেন: সবচেয়ে নিম্নস্তরে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আলী পায়ে হেঁটে বাইরের দরজার দিকে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আবু আব্বাস! আপনি বসুন, এটাই আপনার নির্ধারিত স্থান। তিনি বলেন: এরপর তিনি বসলেন এবং আমিও তার কাছাকাছি বসলাম। মামুন উঠলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন। এরপর বনু হাশিম ও সেনাপতিদের মধ্যে যারাই ফজলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তারা সবাই তার কাছে বসছিলেন। সবশেষে যিনি এলেন তিনি হলেন হুমাইদ আল-তুসি। ফজল নিয়মিত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার প্রাসাদে উপস্থিত হতেন এবং গালিচার ওপর বসতেন, আর যখন লোকজন চলে যেত তখন তারা তার সম্মানে বসত। একদিন আমি সেখানে ছিলাম...
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
عِنْده إِذا جَاءَ السندي بن شاهك آخر من جَاءَ. فَقَالَ الْفضل بِيَدِهِ مَا الْخَبَر؟ . وَكَانَ السندي بن شاهك جَهورِي الصَّوْت لَا يقدر أَن يتَكَلَّم سرا. قَالَ: خبر عَجِيب قَالَ: مَا هُوَ؟ قَالَ: سمعته الْيَوْم قدم على بن أبي طَالب على الْعَبَّاس بن عبد الْمطلب وَمَا ظَنَنْت أَنِّي أعيش حَتَّى أسمع عباسيا يَقُول هَذَا. فَقَالَ لَهُ الْفضل: تعجب من هَذَا؟ هَذَا وَالله كَانَ قَول أَبِيه قبله.

قَالَ أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن إِسْحَاق: وَأول غضب الْمَأْمُون على الْفضل أَن الرشيد كَانَ أوصى الْفضل بن الرّبيع إِن حدث بِهِ حدث أَن يَجْعَل خزائنه، وأمواله وسلاحه، وَجَمِيع عَسْكَر إِلَى الْمَأْمُون، فَلَمَّا توفّي الرشيد حمل ذَلِك كُله إِلَى مُحَمَّد. وحَدثني الْحسن بن عبد الْخَالِق قَالَ: حَدثنِي مُحَمَّد بن أبي عَوْف وَكَانَ مُنْقَطِعًا إِلَى عَليّ بن صَالح قَالَ: حضرت عَليّ بن صَالح عَشِيَّة فِي أول مدْخل الْمَأْمُون بَغْدَاد فجَاء آذنه فَقَالَ لَهُ: بِالْبَابِ أَبُو الْقَاسِم اللهبي؛ وَمُحَمّد بن عبد اللَّهِ العثماني، وَمصْعَب ابْن عبد اللَّهِ الزبيرِي قَالَ: فأئذن لأبي الْقَاسِم اللهبي فَدخل فأجلسه فِي صدر مَجْلِسه. ثمَّ إِذن للعثماني والزبيري فَأقْعدَ العثماني عَن يَمِينه، والزبيري عَن يسَاره ثمَّ تحدثُوا فَذكرُوا الْفضل بن الرّبيع. فَقَالَ اللهبي: أحسن اللَّهِ جَزَاء الْفضل عَنَّا فقد كَانَ برا بِنَا، وَقَالَ العثماني: كَانَ وَالله مَا علمنَا قَضَاء لحوائجنا عَارِفًا بإقدارنا، مُوجبا لحقوقنا وَقَالَ الزبيرِي: لقد كَانَت يَده عندنَا وَعند آبَائِنَا. فَقَالَ عَليّ بن صَالح: أما إِذا ذكرْتُمْ ذَلِك فَأَنِّي كنت عِنْد أَمِير الْمُؤمنِينَ أعزه اللَّهِ أمس فَقَالَ لي يَا عَليّ: مَتى عَهْدك بصديقك؟ قَالَ: فَقلت أَطَالَ اللَّهِ بَقَاء أَمِير الْمُؤمنِينَ صديقي كثير فَعَن أَيهمْ يسألني أَمِير الْمُؤمنِينَ؟ قَالَ: عَن الْفضل بن الرّبيع. قَالَ: قلت أمس الأدني وجد عِلّة فِي يَوْمه فَأَتَيْته عَائِدًا. قَالَ: وَلم تأته إِلَّا فِي يَوْم علته؟ قَالَ قلت: كَذَا عودته. قَالَ: فَكَأَنِّي إِذا جلس الْآن وَجَلَست أَنْت وَسَعِيد بن سلم، وَعبد اللَّهِ بن مَالك وَجعل وسَادَة على رُكْبَتَيْهِ ثمَّ قَالَ: وَقد وضع يَدَيْهِ عَلَيْهَا قَالَ لي الْمَنْصُور وَقلت لَهُ فَأَما الرشيد فَلَا يحْتَاج إِلَى كَلَام فِيهِ قلت: أدني ذَلِك أمس مَا زَالَ يحدثنا عَن الْمَنْصُور
তাঁর কাছে তখন সিন্দী ইবনে শাহিক এলেন, যিনি সর্বশেষ আগন্তুক ছিলেন। ফজল তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, খবর কী? সিন্দী ইবনে শাহিক ছিলেন উচ্চকণ্ঠের অধিকারী, তিনি নিচুস্বরে কথা বলতে পারতেন না। তিনি বললেন: এক আশ্চর্যজনক সংবাদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেটা কী? তিনি বললেন: আজ আমি তাঁকে আলীকে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের ওপর অগ্রাধিকার দিতে শুনেছি। আমি ভাবিনি যে, কোনো আব্বাসী বংশীয় ব্যক্তিকে এমন কথা বলতে শোনার আগ পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব। ফজল তাঁকে বললেন: আপনি কি এতে বিস্ময় প্রকাশ করছেন? আল্লাহর কসম, এটি তাঁর পূর্বে তাঁর পিতারও অভিমত ছিল।

আবু জাফর আহমদ ইবনে ইসহাক বলেন: ফজলের প্রতি মামুনের রাগান্বিত হওয়ার প্রথম কারণ ছিল এই যে, হারুনুর রশীদ ফজল ইবনে রাবীকে অসিয়ত করেছিলেন যে, যদি তাঁর কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তিনি যেন তাঁর কোষাগার, সম্পদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং সমগ্র সেনাবাহিনী মামুনের হাতে সোপর্দ করেন। কিন্তু যখন রশীদ ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি সেসব কিছু মুহাম্মদের কাছে নিয়ে গেলেন। হাসান ইবনে আব্দুল খালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি আউফ আমাকে বর্ণনা করেছেন—যিনি আলী ইবনে সালেহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন—তিনি বলেন: মামুনের বাগদাদে প্রথম প্রবেশের সময় আমি এক সন্ধ্যায় আলী ইবনে সালেহের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর দ্বাররক্ষী এসে তাঁকে বলল: দরজায় আবুল কাসিম আল-লাহবী, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উসমানী এবং মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জুবাইরী উপস্থিত। তিনি বললেন: আবুল কাসিম আল-লাহবীকে অনুমতি দাও। তিনি প্রবেশ করলে তাঁকে মজলিসের প্রধান স্থানে বসালেন। এরপর উসমানী ও জুবাইরীকে অনুমতি দিলেন; তিনি উসমানীকে তাঁর ডান পাশে এবং জুবাইরীকে তাঁর বাম পাশে বসালেন। এরপর তাঁরা কথাবার্তা শুরু করলেন এবং ফজল ইবনে রাবীর কথা উল্লেখ করলেন। লাহবী বললেন: আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে ফজলকে উত্তম প্রতিদান দিন, তিনি আমাদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন। উসমানী বললেন: আল্লাহর কসম, আমাদের জানামতে তিনি আমাদের প্রয়োজন পূরণকারী, আমাদের পদমর্যাদা সম্পর্কে অবগত এবং আমাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট ছিলেন। জুবাইরী বললেন: আমাদের এবং আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রতি তাঁর হাত (অনুগ্রহ) ছিল। আলী ইবনে সালেহ বললেন: যেহেতু আপনারা তা উল্লেখ করলেন, তাই বলছি—গতকাল আমি আমিরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন)-এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে আলী, তোমার বন্ধুর সাথে তোমার শেষ কবে দেখা হয়েছে? আমি বললাম, আল্লাহ আমিরুল মুমিনীনের হায়াত বৃদ্ধি করুন, আমার তো অনেক বন্ধু আছে; আমিরুল মুমিনীন তাদের মধ্য থেকে কার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন? তিনি বললেন: ফজল ইবনে রাবী সম্পর্কে। আমি বললাম, গত পরশু তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন, তাই আমি তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন: তুমি কি কেবল তাঁর অসুস্থতার দিনেই তাঁর কাছে গিয়েছিলে? আমি বললাম: তাঁর অসুস্থতা দেখতে যাওয়াই রীতি। তিনি বললেন: যেন আমি এখন দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি বসতেন আর তুমি, সাঈদ ইবনে সালাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বসতে; তখন তিনি তাঁর হাঁটুর ওপর একটি বালিশ রাখতেন। এরপর তিনি বললেন—যখন তিনি বালিশটির ওপর তাঁর দুই হাত রেখেছিলেন—মানসুর আমাকে বলেছিলেন এবং আমি তাঁকে বলেছিলাম। আর রশীদের ব্যাপারে তো কোনো আলোচনারই প্রয়োজন নেই। আমি বললাম: এর মধ্যে নিকটতম বিষয় হলো এই যে, গতকাল তিনি আমাদের কাছে মানসুর সম্পর্কে কথা বলছিলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
أ

وَعَن مَكَانَهُ وَمَكَان أَبِيه مِنْهُ. قَالَ: فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُون: مَا أعجب أُمُور الْخُلَفَاء يَنْبُتُونَ الرجل ثمَّ يخطؤنه فَلَا يبقون غَايَة من الْأُمُور الا بلغوه إِيَّاهَا فِي مِقْدَار قريب. قَالَ ثمَّ أمسك وَأَمْسَكت ثمَّ قَالَ: يَا عَليّ كَأَنِّي فِي نَفسك السَّاعَة تَقول كَيفَ أخطيت الْفضل بن الرّبيع؟ نعم. كَانَ يدبر الْخَطَأ فَيَقَع صَوَابا، وَيبْعَث بالجيش الضَّعِيف فَيَقَع بِهِ النَّصْر وادبر أَنا فَيَقَع بِغَيْر ذَلِك، فَلَمَّا وقفت على البصيرة من أَمْرِي، وفكرت فِي نَفسِي، وعملت بالاحزم فِي ذَلِك ملت إِلَى الحزم فوردت الْعرَاق، وَإِن الْفضل ابْن الرّبيع بَقِيَّة الموَالِي فَلَا تخبره بذلك عني فَإِنِّي أكره أَن يبلغهُ عني مَا يسره.

وحَدثني يحيى بن الْحسن قَالَ: كَانَ على بن صَالح إِذا جَاءَهُ خبر يسره من قبل الْمَأْمُون فِي الْفضل قَالَ الخادمة يسر: قل لنجاح خَادِم الْفضل كَذَا. وَكَذَا. لِئَلَّا يَحْنَث إِن وَقعت يَمِين.

وحَدثني: يحيى بن الْحسن قَالَ: كَانَ الْفضل يَقُول فِي أَيَّام الْمَأْمُون: مَا بَقِي لي من عَقْلِي أحب إِلَيّ مِمَّا ذهب من مَالِي. قَالَ: وَأَخْبرنِي أَبُو الْحسن بن عبد الْخَالِق قَالَ: كَانَ الْفضل يَقُول: لَا يسود الرجل حَتَّى يشْتم، ويعرض، ويحلم. وحَدثني يحيى بن الْحسن قَالَ: رَأَيْت الْفضل بن الرّبيع وَقد دخل الْمَقْصُورَة يَوْم الْجُمُعَة أَيَّام الْمَأْمُون فَقدم دَابَّته حَيْثُ خرج فَوق مرتبته. فَقَالَ يَا غُلَام: أردد الدَّابَّة لست أركب من هَا هُنَا.

وحَدثني يحيى. قَالَ: حَدثنِي أَبُو الْحسن بن عبد الْخَالِق قَالَ: كنت عِنْد الْفضل ابْن الرّبيع ذَات عَشِيَّة فِي أَيَّام الْمَأْمُون وَهُوَ فِي منظرته الَّتِي تشرع إِلَى الميدان وَمَعَهُ فِي مجْلِس المنظرة امْرَأَة تحدثه لَا أدرى من هِيَ وَهُوَ مقبل عَلَيْهَا وَذَلِكَ فِي الدَّار الَّذِي حوله الْمَأْمُون إِلَيْهَا وَهِي دَار الْعَبَّاس ابْنه وَكَانَ يُؤَدِّي عَنْهَا ألفا فِي الشَّهْر إِذْ دخل عَلَيْهِ أَبُو حَلِيم خادمة فَقَالَ: أَبُو الْعَتَاهِيَة بِالْبَابِ. قَالَ: أدخلهُ. قَالَ: فَدخل فحادثه سَاعَة ثمَّ قَالَ لَهُ: يَا أَبَا إِسْحَاق فِي قَلْبك من عتبَة شَيْء؟ قَالَ ذهب ذَاك وَخرج قَالَ: فَبَقيت مِنْهُ بَاقِيَة؟ قَالَ لَا وَالله. قَالَ: فَهَذِهِ وَالله عتبَة. قَالَ: فَنظر إِلَيْهَا وَخرج
অ

এবং তাঁর ও তাঁর পিতার অবস্থানের ব্যাপারে। তিনি বলেন: তখন আল-মামুন তাঁকে বললেন: "খলিফাদের কার্যাবলী কতই না বিস্ময়কর! তাঁরা কোনো ব্যক্তিকে গড়ে তোলেন, এরপর তাকে ভুল পথে চালিত করেন; অতঃপর তাঁরা তাকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিষয়সমূহের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত হন না।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি নীরব হলেন এবং আমিও নীরব হলাম। তারপর তিনি বললেন: "হে আলী, আমার মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে তুমি মনে মনে বলছো যে, আমি ফজল ইবনুর রবি'র ব্যাপারে কীভাবে ভুল করলাম? হ্যাঁ, সে ভুলের পরিকল্পনা করত কিন্তু তা সঠিক হয়ে যেত; সে দুর্বল সেনাবাহিনী পাঠাত কিন্তু তার মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হত; আর আমি পরিকল্পনা করি কিন্তু তা অন্যরকম হয়ে যায়। অতঃপর যখন আমি আমার বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা অবগত হলাম এবং নিজের মনে চিন্তা করলাম, আর এ ব্যাপারে সর্বাধিক দৃঢ়তার সাথে কাজ করলাম, তখন আমি সংকল্পের দিকে ঝুঁকে পড়লাম এবং ইরাকে উপস্থিত হলাম। নিশ্চয়ই ফজল ইবনুর রবি প্রাচীন অনুগতদের অবশিষ্টাংশ। সুতরাং তাকে আমার পক্ষ থেকে এ কথা জানাবে না, কারণ আমি অপছন্দ করি যে আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু তার কাছে পৌঁছাক যা তাকে আনন্দিত করবে।"

ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে সালিহের কাছে যখন আল-মামুনের পক্ষ থেকে ফজলের ব্যাপারে কোনো আনন্দদায়ক সংবাদ আসত, তখন তিনি তাঁর সেবিকা ইউসরকে বলতেন: ফজলের সেবক নাজহকে অমুক অমুক কথা বলো; যাতে শপথ করে থাকলে তা ভঙ্গ না হয়।

ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফজল আল-মামুনের যুগে বলতেন: "আমার বুদ্ধিবৃত্তির যা অবশিষ্ট আছে তা আমার কাছে আমার হারানো সম্পদের চেয়ে বেশি প্রিয়।" তিনি বলেন: আবুল হাসান ইবনে আব্দুল খালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফজল বলতেন: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত নেতৃত্ব লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না তাকে গালি দেওয়া হয়, অবজ্ঞা করা হয় এবং সে ধৈর্য ধারণ করে।" ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফজল ইবনুর রবিকে আল-মামুনের আমলে জুমার দিনে মাকসুরায় প্রবেশ করতে দেখেছি। তিনি যখন বের হলেন তখন তাঁর সওয়ারিটিকে তাঁর মর্যাদার চেয়ে অগ্রবর্তী স্থানে আনা হলো। তখন তিনি বললেন: "হে বালক, সওয়ারিটিকে পিছিয়ে নাও, আমি এখান থেকে আরোহণ করব না।"

ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান ইবনে আব্দুল খালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মামুনের যুগে কোনো এক সন্ধ্যায় আমি ফজল ইবনুর রবি'র নিকট ছিলাম। তিনি তখন তাঁর সেই পর্যবেক্ষণ কক্ষে ছিলেন যা ময়দানের দিকে উন্মুক্ত ছিল। সেই মজলিসে তাঁর সাথে একজন নারী কথা বলছিলেন, আমি জানি না তিনি কে ছিলেন এবং ফজল তাঁর দিকে মনোযোগী ছিলেন। এটি ছিল সেই প্রাসাদে যেখানে আল-মামুন তাঁকে স্থানান্তরিত করেছিলেন, যা ছিল তাঁর পুত্র আব্বাসের প্রাসাদ এবং যার জন্য তিনি প্রতি মাসে এক হাজার মুদ্রা প্রদান করতেন। এমন সময় তাঁর সেবক আবু হালিম প্রবেশ করে বললেন: "আবু আল-আতাহিয়াহ দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন।" তিনি বললেন: "তাকে ভেতরে আসতে দাও।" বর্ণনাকারী বলেন: সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং কিছুক্ষণ তাঁর সাথে কথোপকথন করল। তারপর ফজল তাকে বললেন: "হে আবু ইসহাক, তোমার অন্তরে কি উতবাহ-এর প্রতি কোনো অনুরাগ অবশিষ্ট আছে?" সে বলল: "তা চলে গেছে এবং দূর হয়ে গেছে।" তিনি বললেন: "তার কি কোনো অবশিষ্টাংশ বাকি আছে?" সে বলল: "না, আল্লাহর কসম।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, ইনিই হলেন উতবাহ।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে তাঁর দিকে তাকাল এবং বেরিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
يعدو وَترك نَعْلَيْه.

حَدثنِي أَحْمد بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن مَيْمُون قَالَ: حَدثنِي أبي قَالَ: لما قدم الْمَأْمُون بَغْدَاد بعثت أم جَعْفَر إِلَى أبي الْعَتَاهِيَة أحب أَن تَقول أبياتا تعطف بهَا أَمِير الْمُؤمنِينَ على فَبعث إِلَيْهَا بِهَذِهِ الأبيات: -

(أَلا إِن ريب الدَّهْر يدني وَيبعد … وَيُؤْنس بالألاف طورا ويفقد)

 

(أَصَابَت لريب الدَّهْر مني يَدي يَدي … فَسلمت للأقدار وَالله أَحْمد)

 

(وَقلت لريب الدَّهْر إِن ذهبت يَد … فقد بقيت وَالله يَا دهر لي يَد)

 

(إِذا بَقِي الْمَأْمُون لي فالرشيد لي … ولي جَعْفَر لم يفقدا وَمُحَمّد)

قَالَ: فَبعثت بهَا لى الْمَأْمُون فَلَمَّا قَرَأَهَا بَكَى وَزَاد فِي ألطافها ورق لَهَا وَعطف عَلَيْهَا.

وَقَالَ أَصْحَاب التَّارِيخ: لما دخل الْمَأْمُون بَغْدَاد أَقَامَ بالرصافة إِلَى أَن بنى منزله على شط دجلة عِنْد قصره الأول فأنتقل إِلَيْهِ، وَكَانَ يسْأَل عَن أُمُور النَّاس وَمَا يصلحها، فَرفع إِلَيْهِ فِي شهر رَمَضَان أَن التُّجَّار يعتدون على ضعفاء النَّاس فِي الْكَيْل فَأمر بغفيز يسع ثَمَان مكاكيك سرد مُرْسل وصير فِي وَسطه عمودا وَسمي الملجم وَأمر التُّجَّار يعيروا مكاكيكهم عَلَيْهَا صغارها وكبارها فَفَعَلُوا ذَلِك وَرَضي النَّاس

قَالَ: وَلما كَانَ يَوْم الْفطر خرج فصلى بِالنَّاسِ فِي عيساباذ وعبأ الْجند تعبئة لم ير مثلهَا قبل ذَلِك لأحد من الْخُلَفَاء من إِظْهَار السِّلَاح وكثرته وَكَثْرَة الْجند وَلم يصل بِالنَّاسِ صَلَاة الْعِيد حَتَّى قرب نصف النَّهَار.

وَذكر: أَبُو حسان الزيَادي وَغَيره من أَصْحَاب الاخبار أَنه ولي مَكَّة وَالْمَدينَة فِي سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ عبد اللَّهِ بن الْحسن بن عبيد اللَّهِ بن الْعَبَّاس بن عَليّ بن أبي طَالب عِنْد قدومه بَغْدَاد. فَلَمَّا حضر الْمَوْسِم كتب إِلَيْهِ بِالْولَايَةِ على الْمَوْسِم وَأَن يُقيم الْحَج بِالنَّاسِ.
তিনি দৌড়াচ্ছিলেন এবং তার জুতোজোড়া ফেলে রেখেছিলেন।

আহমদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মাইমুন আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মামুন যখন বাগদাদে আসলেন, উম্মে জাফর আবু আল-আতাহিয়ার কাছে এই বার্তা পাঠালেন যে, আমি চাই আপনি এমন কিছু কবিতা বলবেন যার মাধ্যমে আমিরুল মুমিনীন আমার প্রতি সদয় হবেন। তখন তিনি তাকে এই কবিতাগুলো লিখে পাঠালেন: -

(জেনে রেখো, কালের আবর্তন কখনো কাছে আনে আবার কখনো দূরে সরিয়ে দেয় … কখনো প্রিয়জনদের সাথে অন্তরঙ্গতা দান করে, আবার কখনো তাদের বিচ্ছেদ ঘটায়।)

 

(কালের আবর্তনে আমার এক হাত আমার অন্য হাতের ওপর বিপদ ডেকে এনেছে … সুতরাং আমি তকদিরের ওপর সমর্পিত হলাম এবং আল্লাহর প্রশংসা করছি।)

 

(আমি কালের আবর্তনকে বললাম, যদি এক হাত চলেও যায় … হে কাল! আল্লাহর শপথ, আমার জন্য এখনো এক হাত অবশিষ্ট রয়েছে।)

 

(যদি মামুন আমার জন্য বেঁচে থাকেন, তবে রশীদও আমার জন্য আছেন … আর জাফর এবং মুহাম্মাদও হারিয়ে যাননি।)

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি এগুলো মামুনের কাছে পাঠালেন। যখন তিনি তা পড়লেন, তিনি কাঁদলেন এবং তার প্রতি দয়া বৃদ্ধি করলেন, তার জন্য তার মন নরম হলো এবং তিনি তার প্রতি সদয় হলেন।

ঐতিহাসিকগণ বলেন: মামুন যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন, তিনি রাসফায় অবস্থান করেন যতক্ষণ না দজলা নদীর তীরে তার প্রথম প্রাসাদের নিকট নিজের আবাস নির্মাণ করেন, এরপর তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হন। তিনি জনগণের অবস্থা এবং তাদের সংশোধনের বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন। রমজান মাসে তার কাছে অভিযোগ পেশ করা হলো যে, ব্যবসায়ীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে দুর্বল মানুষের ওপর জুলুম করছে। তখন তিনি একটি 'গাফিজ' (পরিমাপক) তৈরির নির্দেশ দিলেন যাতে আটটি 'মাক্কুক' ধরে। তিনি এর মাঝখানে একটি খুঁটি স্থাপন করলেন এবং এর নাম দিলেন 'মুলজাম'। তিনি ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিলেন তাদের ছোট-বড় সকল মাক্কুক যেন এর মাধ্যমে যাচাই করে নেয়। তারা তা করল এবং জনগণ সন্তুষ্ট হলো।

বর্ণনাকারী বলেন: যখন ঈদুল ফিতরের দিন এল, তিনি বের হলেন এবং ঈসাবাদে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি সেনাবাহিনীকে এমনভাবে সজ্জিত করেছিলেন যা ইতিপূর্বে আর কোনো খলিফার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি; অস্ত্রের প্রদর্শন, প্রাচুর্য এবং বিশাল সৈন্যবাহিনী ছিল অভাবনীয়। তিনি দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত লোকেদের নিয়ে ঈদের সালাত আদায় করেননি।

আবু হাসসান আল-জিয়াদি এবং অন্যান্য ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, দুইশত চার হিজরি সনে মামুন যখন বাগদাদে আসলেন, তখন তিনি মক্কা ও মদিনার দায়িত্ব অর্পণ করেন আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্বাস বিন আলী বিন আবু তালিবের ওপর। যখন হজের মৌসুম উপস্থিত হলো, তিনি তার কাছে হজের মৌসুমের দায়িত্ব দিয়ে এবং লোকেদের নিয়ে হজ আদায় করার জন্য নির্দেশনামা লিখে পাঠালেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
قَالُوا: وَلما دخلت سنة خمس وَمِائَتَيْنِ ولي أَمِير الْمُؤمنِينَ طَاهِر بن الْحُسَيْن الجزيرة وَالشّرط والجانبين وَكَانَ ذَلِك يَوْم الْأَحَد وَقعد طَاهِر للنَّاس من عين الْيَوْم الَّذِي ولي فِيهِ وَكَانَ يَوْم عَاشُورَاء.

فَحَدثني يحيى بن الْحسن بن عبد الْخَالِق قَالَ: لما انْقَضتْ سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ وعَلى شرطة الْمَأْمُون الْعَبَّاس بن الْمسيب بن زُهَيْر وَكَانَ منقرسا. فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُون: قد كَبرت وثقلت عَن حمل الحربة. قَالَ: فَهَذَا ابْني يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَكَاني وَهِي صناعتي وصناعة أبي. وَقد علمت أَن الرشيد يتبرك بِحمْل الحربة فِي يَد الْمسيب وَنحن أَهلهَا قَالَ: فقد رَأَيْت تَوْلِيَة طَاهِر. قَالَ: فَرَأى أَمِير الْمُؤمنِينَ أفضل وأصوب. قَالَ: فولي طَاهِر بن الْحُسَيْن.

وَقَالَ يحيى: فَكتب طَاهِر إِلَى الْفضل بن الرّبيع وَكَانَ بَينهمَا صداقة: إِن فِي رَأْيك الْبركَة، وَفِي مشورتك الصَّوَاب فَإِن رَأَيْت تخْتَار لي رجلَيْنِ للجسر. فَكتب إِلَيْهِ: قد وجدتهما لَك وهما: خِيَار السندي بن يحيى وَعَيَّاش بن الْقَاسِم فولاهما الجسرين

قَالَ: وَكَانَ الْمَأْمُون فِي الْيَوْم الَّذِي ولي طَاهِرا فِيهِ الشرطة قد ولي جمَاعَة من الهاشميين كور الشأم كورة. كورة فَلم يتم لَاحَدَّ مِنْهُم شَيْء من ولَايَته حَتَّى انْقَضتْ السّنة.

قَالَ يحيى البوشنجي الْقصير حَاجِب ذِي اليمينين طَاهِر بن الْحُسَيْن قَالَ: لما ولي طَاهِر بن الْحُسَيْن الشرطة رفع إِلَيْهِ أَن فِي الْحَبْس رجلا تنصر فَأمر يحيى هَذَا أَن يحمل السَّيْف والنطع وَيَأْتِي بِهِ دَار أَمِير الْمُؤمنِينَ إِلَى مَجْلِسه، ثمَّ أَتَى دَار الْمُؤمنِينَ فَدَعَا بِالرجلِ فَقَالَ: يَا عَدو اللَّهِ تنصرت بعد الاسلام؟ قَالَ: اصلح اللَّهِ الْأَمِير وَالله مَا تنصرت وَمَا أَنا إِلَّا مُسلم ابْن مُسلم وَلَكِن حبست فِي كسَاء بِدِرْهَمَيْنِ سنتَيْن فَلَمَّا رَأَيْت أَمْرِي قد طَال وَلَيْسَ لي مُذَكّر يذكرنِي قلت إِنِّي مصر إِنِّي وَأَنت أَيهَا الْأَمِير مصراني وَهَذَا مصراني وَأَنا رجل من أَصْحَابك أَيهَا الْأَمِير. فَكبر طَاهِر وَدخل على الْمَأْمُون فَأخْبرهُ الْخَبَر وَأمر أَن يُوهب لَهُ ثلثمِائة دِرْهَم وَأَن يخلى سَبيله فَأمر طَاهِر بذلك.
তারা বলেন: যখন দুইশত পাঁচ হিজরি সন শুরু হলো, তখন আমিরুল মুমিনীন আল-জাজিরা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাজধানীর উভয় পার্শ্বের শাসনভার তাহির বিন আল-হুসাইনের হাতে অর্পণ করলেন। এটি ছিল রবিবার এবং তাহির যেদিন দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন সেদিন থেকেই জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য মজলিসে বসলেন, আর সেই দিনটি ছিল আশুরার দিন।

ইয়াহইয়া বিন আল-হাসান বিন আব্দুল খালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন দুইশত চার হিজরি সন সমাপ্ত হলো, তখন মামুনের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন আব্বাস বিন আল-মুসাইয়িব বিন জুহাইর। তিনি বাতরোগে আক্রান্ত ছিলেন। মামুন তাকে বললেন: "আপনি বৃদ্ধ হয়েছেন এবং আপনার শরীর বল্লম বহনের ভার সইতে অক্ষম হয়ে পড়েছে।" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমার পরিবর্তে এই যে আমার পুত্র উপস্থিত; এটি আমার এবং আমার পিতার পেশা। আপনি তো জানেন যে, খলিফা হারুনুর রশিদ আল-মুসাইয়িবের হাতে বল্লম বহন করাকে বরকতময় মনে করতেন এবং আমরাই এর প্রকৃত উত্তরসূরি।" মামুন বললেন: "তাহলে আমি তাহিরকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি বললেন: "আমিরুল মুমিনীন যা উত্তম ও সঠিক মনে করেন (তা-ই হোক)।" অতঃপর তাহির বিন আল-হুসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

ইয়াহইয়া বলেন: এরপর তাহির ফাদল বিন আর-রাবি'র কাছে একটি চিঠি লিখলেন—তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল: "আপনার সুচিন্তিত মতামতে বরকত রয়েছে এবং আপনার পরামর্শে রয়েছে সঠিক পথের দিশা। আপনি যদি আমার জন্য সেতুর নিরাপত্তার কার্যে দুইজন উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে দিতেন (তবে ভালো হতো)।" প্রত্যুত্তরে তিনি লিখলেন: "আমি আপনার জন্য দুইজনকে নির্বাচন করেছি, তারা হলেন—খিয়ার আস-সিন্দি বিন ইয়াহইয়া এবং আইয়াশ বিন আল-কাসিম।" ফলে তিনি তাদের উভয়কে দুই সেতুর দায়িত্ব প্রদান করলেন।

তিনি বলেন: মামুন যেদিন তাহিরকে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন, সেদিন তিনি হাশেমি বংশের একদল ব্যক্তিকে শামের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। কিন্তু বছর শেষ হওয়ার আগে তাদের কারো পক্ষেই তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

'যুল ইয়ামিনাইন' তাহির বিন আল-হুসাইনের দ্বাররক্ষী ইয়াহইয়া আল-বুশাঞ্জি আল-কাসির বর্ণনা করেন: তাহির বিন আল-হুসাইন যখন নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব নিলেন, তখন তার কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, কারাগারে এক ব্যক্তি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে। তিনি ইয়াহইয়াকে নির্দেশ দিলেন তলোয়ার ও প্রাণদণ্ড কার্যকরের চামড়ার মাদুর প্রস্তুত রাখতে এবং লোকটিকে আমিরুল মুমিনীনের প্রাসাদে তার মজলিসে উপস্থিত করতে। এরপর তিনি আমিরুল মুমিনীনের প্রাসাদে এসে লোকটিকে তলব করলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর শত্রু! ইসলামের পর তুই খ্রিস্টান হয়ে গেলি?" লোকটি আরজ করল: "আল্লাহ আমিরের মঙ্গল করুন! আল্লাহর কসম, আমি খ্রিস্টান হইনি। আমি একজন মুসলমানের সন্তান এবং নিজেও একজন মুসলমান। কিন্তু আমি মাত্র দুই দিরহামের একটি চাদরের দায়ে দুই বছর ধরে কারাগারে বন্দি আছি। যখন দেখলাম আমার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং আমার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মতো কেউ নেই, তখন আমি ফন্দি করে বললাম যে আমি মিশরীয়—যাতে অন্তত আমার প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়। হে আমির, আপনিও একজন মিশরীয়, আমিও মিশরীয় এবং আমি আপনারই একজন অনুসারী।" একথা শুনে তাহির উচ্চস্বরে তাকবির ধ্বনি দিলেন এবং খলিফা মামুনের কাছে গিয়ে বিষয়টি বর্ণনা করলেন। খলিফা তাকে তিনশত দিরহাম দান করার এবং মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাহির খলিফার নির্দেশ কার্যকর করলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
فَقَالَ الرجل: لَا وَالله أَيهَا الْأَمِير مَا أقدر أَن أَمْشِي فَادع لي بِحِمَار فَدَعَا لَهُ بِحِمَار وخلي سَبيله.

وَذكر أَبُو حسان الزيَادي: أَن الْعَبَّاس بن عبد اللَّهِ الْمَأْمُون قدم من خُرَاسَان فِي سنة خمس وَمِائَتَيْنِ وَكَانَ دُخُوله بَغْدَاد يَوْم الْخَمِيس لَا ربع عشرَة لَيْلَة بَقينَ من شعْبَان وَقدم مَعَه من خُرَاسَان مُوسَى وَعبد اللَّهِ ابْنا مُحَمَّد المخلوع فِي ذَلِك الْيَوْم واستقبله وُجُوه النَّاس من بني هَاشم والقواد حَتَّى دخل على أَمِير الْمُؤمنِينَ.

حَدثنَا أَبُو زَكَرِيَّاء يحيى بن الْحسن قَالَ: أَخْبرنِي مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن الْعَبَّاس ابْن مُحَمَّد قَالَ: دخل طَاهِر بن الْحُسَيْن على الْمَأْمُون وَعِنْده عبد اللَّهِ بن مُوسَى الْهَادِي فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُون: مرْحَبًا بك يَا ذَا اليمينين. فَقَالَ لَهُ عبد اللَّهِ بن مُوسَى: وَالله مَا جعله اللَّهِ أَهلا لعينين فَكيف يمينين. فَقَالَ لَهُ طَاهِر: لَكِن اللَّهِ جعل لامك زَوْجَيْنِ. قَالَ وَيلك تعيرني بخليفتين. قَالَ: فَأمر الْمَأْمُون بِعَبْد اللَّهِ بن مُوسَى فأقيم وَكَانَت أم عبد اللَّهِ أمة الْعَزِيز أم ولد مُوسَى الْهَادِي ثمَّ تزَوجهَا هَارُون الرشيد. قَالَ: وَقَالَ بعض أَصْحَاب الْمَأْمُون يَوْمًا فِي سنة خمس وَمِائَتَيْنِ وَقد خرج إِلَى منتزه لَهُ وَمَعَهُ طَاهِر بن الْحُسَيْن فَبينا هُوَ يسايره إِذْ قَالَ لَهُ يَا أَبَا الطّيب: مَا أطول صُحْبَة هَذَا البرذون لَك؟ قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ: بركَة الدَّابَّة طول صحبتهَا، وَقلة عَلفهَا قَالَ فَكيف سيره؟ . قَالَ سيره أَمَامه، وَسَوْطه عنانه وَمَا ضرب قطّ إِلَّا ظلما.

حَدثنِي الْفضل بن مُحَمَّد الْعلوِي قَالَ: قَالَ عبيد اللَّهِ بن الْحسن لِلْمَأْمُونِ لما دخل بَغْدَاد وطاهر يُسَايِر الْمَأْمُون، ملأك اللَّهِ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ النِّعْمَة - وَجعله مقدم سَلامَة، وأدام لَك الْعِزّ والسلامة - وَالْحَمْد لله الَّذِي تلاقا نَا عِنْد ظُهُور الْفِتْنَة وشمولها - وتراخي دَارنَا عَنْك واغترابها - بِذِي اليمينين صنيعتك - وسيفك المسلول على أهل معصيتك - فجمعنا على طَاعَتك - حَتَّى أَنا بِحَمْد اللَّهِ من عِنْد أخرانا كالنبال المطرورة نصالها - المقومة صعارها - إِن نقرتها حنت لَك وَإِن أزللتها - عَن كبد قوسك شكت عَدوك - فنسأل اللَّهِ أَن يحسن جزاءك - عَنَّا -
লোকটি বলল: "না, আল্লাহর কসম, হে আমির! আমি হাঁটতে সক্ষম নই, তাই আমার জন্য একটি গাধা আনিয়ে দিন।" অতঃপর তিনি তার জন্য একটি গাধা আনার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে ছেড়ে দিলেন।

আবু হাসান আল-জিয়াদি উল্লেখ করেছেন: আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ আল-মামুন ২০৫ হিজরি সনে খোরাসান থেকে আগমন করেন। বাগদাদে তার প্রবেশ ছিল শাবান মাসের চৌদ্দ দিন বাকি থাকতে (অর্থাৎ ১৬ই শাবান) বৃহস্পতিবার দিনে। সেদিন খোরাসান থেকে তার সাথে মুহাম্মদ আল-মাখলু’র (ক্ষমতাচ্যুত) দুই পুত্র মুসা ও আব্দুল্লাহও এসেছিলেন। বনু হাশিম ও সেনাপতিদের মধ্যকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আমিরুল মুমিনিনের দরবারে উপস্থিত হন।

আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: তাহির বিন আল-হুসাইন আল-মামুনের দরবারে প্রবেশ করলেন, তখন তার কাছে আব্দুল্লাহ বিন মুসা আল-হাদি উপস্থিত ছিলেন। আল-মামুন তাকে বললেন: "স্বাগতম হে যু-ইয়ামিনাইন (দুই ডান হাতধারী)।" তখন আব্দুল্লাহ বিন মুসা তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাকে দুই চোখের যোগ্য করেননি, তবে দুই ডান হাতের যোগ্য কীভাবে করলেন?" তাহির তাকে বললেন: "কিন্তু আল্লাহ তোমার মায়ের জন্য দুইজন স্বামী নির্ধারণ করেছিলেন।" তিনি (আব্দুল্লাহ) বললেন: "দুর্ভোগ তোমার! তুমি কি আমাকে দুজন খলিফার দোহাই দিয়ে খোটা দিচ্ছো?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল-মামুন আব্দুল্লাহ বিন মুসাকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আব্দুল্লাহর মা ছিলেন আমাতুল আজিজ, যিনি মুসা আল-হাদির উম্মু ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) ছিলেন, পরবর্তীতে হারুন আল-রশিদ তাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি বলেন: ২০৫ হিজরি সনের একদিন আল-মামুনের জনৈক সঙ্গী বর্ণনা করেছেন যে, খলিফা তার একটি প্রমোদ উদ্যানে বের হয়েছিলেন এবং তার সাথে তাহির বিন আল-হুসাইন ছিলেন। যখন তিনি তার পাশে পাশে চলছিলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "হে আবু তৈয়ব! এই ভারবাহী ঘোড়াটি কত দীর্ঘ সময় ধরে আপনার সঙ্গী?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! পশুর বরকত হলো তার দীর্ঘ সাহচর্য এবং তার অল্প খাদ্যের মধ্যে।" তিনি বললেন: "এর চলার গতি কেমন?" তিনি বললেন: "এর গতি তার সামনেই থাকে (অর্থাৎ দ্রুতগামী), এর লাগামই এর চাবুক, আর একে কখনও অন্যায়ভাবে ছাড়া প্রহার করা হয়নি।"

আল-ফযল বিন মুহাম্মদ আল-আলাবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওবায়দুল্লাহ বিন আল-হাসান বাগদাদে প্রবেশের সময় আল-মামুনকে বলেছিলেন—যখন তাহির আল-মামুনের পাশে চলছিলেন—"হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহ আপনাকে নেয়ামতে পরিপূর্ণ করুন, একে নিরাপত্তার সাথে পদার্পণ করার তাওফিক দিন এবং আপনার সম্মান ও নিরাপত্তা চিরস্থায়ী করুন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি ফিতনার প্রাদুর্ভাব ও তার ব্যাপকতার সময় এবং আপনার থেকে আমাদের আবাসের দূরত্ব ও প্রবাসকালীন সময়ে আপনার অনুগ্রহভাজন এবং আপনার অবাধ্যদের বিরুদ্ধে আপনার কোষমুক্ত তলোয়ার 'যু-ইয়ামিনাইন'-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করিয়েছেন। অতঃপর তিনি আমাদের আপনার আনুগত্যে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, যার ফলে আল্লাহর প্রশংসায় আমরা আমাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এমন সব তীক্ষ্ণ তীরের মতো হয়েছি যার ফলা সুতীক্ষ্ণ এবং যার বক্রতা সোজা করা হয়েছে; আপনি যদি তাতে টোকা দেন তবে তা আপনার প্রতি অনুরাগের সুরে সাড়া দেবে, আর যদি আপনি ধনুকের মধ্যভাগ থেকে তা নিক্ষেপ করেন তবে তা আপনার শত্রুকে বিদ্ধ করবে। সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।"
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وجزاؤه على مَا حفظ فِينَا - من غيبك - وَركب منا من منهجك وقصدك. قَالَ: وَقَالَ الْمَأْمُون لطاهر بن الْحُسَيْن يَا أَبَا الطّيب صف لي أَخْلَاق المخلوع. قَالَ: كَانَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَاسع الطَّرب، ضيق الْأَدَب، يُبِيح نَفسه مَا تعافاه همم ذَوي الأقدار، قَالَ: فَكيف كَانَت حروبة؟ قَالَ. كَانَ يجمع الْكَتَائِب ويفضها بِسوء التَّدْبِير. قَالَ: فَكيف كُنْتُم لَهُ؟ قَالَ: كُنَّا أسودا تبيت وَفِي أشداقها غلق النَّاكِثِينَ. وتصبح وَفِي صدورها قُلُوب المارقين. قَالَ: أما إِنَّه أول من يُؤْخَذ بدمه يَوْم الْقِيَامَة ثَلَاثَة لست أَنا وَلَا أَنْت رابعهم وَلَا خامسهم وهم: الْفضل بن الرّبيع، وَبكر بن الْمُعْتَمِر، والسندي بن شاهك هم وَالله ثأر أخي وَعِنْدهم دَمه.

وحَدثني مُحَمَّد بن عِيسَى كَاتب مُحَمَّد بن عبد اللَّهِ بن طَاهِر قَالَ: لما دخل الْمَأْمُون بَغْدَاد. ضمن لطاهر بن الْحُسَيْن قَضَاء كل مَا يسْأَله من حَاجَة فَمَا سَأَلَهُ حَاجَة لنَفسِهِ وَلَا لوَلَده وَلكنه وَلكنه سَأَلَهُ الْعَفو عَن الْمُجْرمين فِي الْفِتْنَة وإلحاقهم بِمَا كَانُوا عَلَيْهِ قبله فِي دواوينهم وطبقات عطائهم وَأَن يُضَاعف أجر الْمُحْسِنِينَ فَفعل ذَلِك، ثمَّ دَعَاهُ لرفع حَوَائِجه فَلم يسْأَله شَيْئا إِلَّا أقامة الدولة لأَهْلهَا ورد لِبَاس السوَاد، وإطراح الخضرة فَأَجَابَهُ إِلَى مَا سَأَلَ من ذَلِك. وَحدثنَا يحيى بن الْحسن قَالَ: حَدثنِي أَبُو زيد الحامض قَالَ: حَدثنِي حَمَّاد بن الْحسن قَالَ: حَدثنِي بشر بن غياث المريسي قَالَ: حضرت عبد اللَّهِ الْمَأْمُون أَنا، وثمامة، وَمُحَمّد ابْن أبي الْعَبَّاس، وَعلي بن الْهَيْثَم فتناظر وافي التَّشَيُّع فنصر مُحَمَّد بن أبي الْعَبَّاس الإمامية وَنصر عَليّ بن الْهَيْثَم الزيدية وَجرى الْكَلَام بَينهمَا إِلَى أَن قَالَ مُحَمَّد لعلى يَا نبطي مَا أَنْت وَالْكَلَام؟ . قَالَ فَقَالَ الْمَأْمُون - وَكَانَ مُتكئا فَجَلَسَ - الشتم عى، وَالْبذَاء لؤم إِنَّا قد أبحنا الْكَلَام وأظهرنا المقالات فَمن قَالَ بِالْحَقِّ حمدناه، وَمن جهل ذَلِك وقفناه وَمن جهل الْأَمريْنِ حكمنَا فِيهِ بِمَا يجب فأجعلا بَيْنكُمَا أصلا فَإِن الْكَلَام فروع فَإِذا أفتر عتم شَيْئا رجعتم إِلَى الْأُصُول قَالَ: فَأَنا نقُول لَا إِلَه إِلَّا اللَّهِ وَإِن مُحَمَّدًا رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ وأذكروا الْفَرَائِض والشرائع فِي الأسلام وتناظروا بعد ذَلِك. فَأَعَادَ مُحَمَّد لعلى بِمثل الْمقَالة الأولى فَقَالَ على: وَالله لَوْلَا جلالة مجلسة، وَمَا وهب اللَّهِ من خِلَافَته
এবং আমাদের মাঝে তোমার অদৃশ্যের যা তিনি রক্ষা করেছেন এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য যে পন্থা ও সংকল্প নির্ধারণ করেছেন, তার জন্য তাকে প্রতিদান দান করুন। তিনি বলেন: আল-মামুন তাহির ইবনুল হুসাইনকে বললেন, "হে আবু তৈয়ব, আমার কাছে পদচ্যুত ব্যক্তির (আল-আমিন) চরিত্রের বর্ণনা দাও।" তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, তিনি ছিলেন আমোদ-প্রমোদে মগ্ন এবং শিষ্টাচারে সংকীর্ণ; তিনি নিজেকে এমন সব কাজে লিপ্ত করতেন যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আত্মসম্মানবোধ পরিহার করে চলে।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তার যুদ্ধবিগ্রহ কেমন ছিল?" তিনি বললেন, "তিনি বাহিনী একত্রিত করতেন এবং কু-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা ছত্রভঙ্গ করে দিতেন।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমরা তার জন্য কেমন ছিলে?" তিনি বললেন, "আমরা ছিলাম এমন সিংহ যারা রাত অতিবাহিত করত এই অবস্থায় যে, তাদের চোয়ালে ছিল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদের রক্ত, আর সকাল করত এই অবস্থায় যে, তাদের বক্ষে ছিল ধর্মত্যাগীদের হৃদয়।" তিনি (আল-মামুন) বললেন, "জেনে রেখো, কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম তাদের কৃত রক্তের জন্য পাকড়াও করা হবে, আমি বা তুমি চতুর্থ বা পঞ্চম ব্যক্তি নই; তারা হলো: আল-ফজল ইবনুর রবি, বকর ইবনুল মুতামির এবং আল-সিন্দি ইবনে শাহাক। আল্লাহর কসম, তারাই আমার ভাইয়ের হত্যার মূল হোতা এবং তাদের কাছেই তার রক্তঋণ রয়েছে।"

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের লেখক মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আমাকে বলেছেন: আল-মামুন যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাহির ইবনুল হুসাইনকে তার সকল প্রার্থনা পূরণের অঙ্গীকার দিলেন। তাহির নিজের জন্য বা তার সন্তানের জন্য কোনো কিছুর আবেদন করলেন না; বরং তিনি ফিতনার (গৃহযুদ্ধ) অপরাধীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং তাদের পূর্বের দাপ্তরিক তালিকা ও ভাতার স্তরে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করলেন, আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দ্বিগুণ করার অনুরোধ জানালেন। তিনি তা পালন করলেন। এরপর তিনি পুনরায় তাকে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন পেশ করার জন্য আহ্বান জানালেন, কিন্তু তিনি যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং কালো পোশাক ফিরিয়ে আনা ও সবুজ পোশাক বর্জনের আবেদন ছাড়া আর কিছুই চাইলেন না। তিনি তার সেই সকল প্রার্থনা কবুল করলেন। ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাইদ আল-হামিদ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনুল হাসান আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে গিয়াস আল-মারিসি আমাকে বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ আল-মামুনের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, যেখানে আমার সাথে সুমামা, মুহাম্মদ ইবনে আবিল আব্বাস এবং আলী ইবনুল হাইসাম ছিলেন। তারা শিয়াবাদ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলেন। মুহাম্মদ ইবনে আবিল আব্বাস ইমামিয়া মতবাদের পক্ষ সমর্থন করলেন এবং আলী ইবনুল হাইসাম যাইদিয়া মতবাদের পক্ষ সমর্থন করলেন। তাদের মধ্যে বিতর্ক চলাকালে এক পর্যায়ে মুহাম্মদ আলীকে বললেন, "হে নবতী (গ্রাম্য), বিতর্কের সাথে তোমার কী সম্পর্ক?" তখন আল-মামুন—যিনি হেলান দিয়ে ছিলেন—সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, "গালিগালাজ হলো অক্ষমতা, আর অশ্লীলতা হলো নীচতা। আমরা আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করেছি এবং বিভিন্ন মতবাদ প্রকাশ করেছি। সুতরাং যে সত্য বলবে আমরা তার প্রশংসা করব, আর যে তা জানবে না তাকে আমরা থামিয়ে দেব; আর যে উভয় বিষয়ে অজ্ঞ থাকবে তার ব্যাপারে আমরা যথাযথ ফয়সালা করব। তোমরা তোমাদের মাঝে একটি মূলনীতি স্থির করো, কারণ আলোচনা হলো শাখা-প্রশাখার মতো। যখন তোমরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করবে, তখন মূলনীতির দিকে ফিরে যাবে।" তিনি বললেন, "আমরা বলি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।" ইসলামের ফরজ বিধান ও শরিয়তসমূহ স্মরণ করুন এবং এরপর বিতর্কে লিপ্ত হোন। মুহাম্মদ আলীর প্রতি পূর্বের কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন, তখন আলী বললেন: আল্লাহর কসম, যদি এই মজলিসের গাম্ভীর্য এবং আল্লাহ তাকে খিলাফতের যে মর্যাদা দান করেছেন তা না হতো...
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ورأفته، وَلَوْلَا مَا نهى عَنهُ لأعرقت جبينك وَبِحَسْبِكَ من جهلك غسلك الْمِنْبَر بِالْمَدِينَةِ. قَالَ: فَجَلَسَ الْمَأْمُون وَكَانَ مُتكئا فَقَالَ: وَمَا غسلك الْمِنْبَر التَّقْصِير مني فِي أَمرك أم لتقصير الْمَنْصُور كَانَ فِي أَمر أَبِيك لَوْلَا أَن الْخَلِيفَة إِذا وهب شَيْئا أستحي أَن يرجع فِيهِ لَكَانَ أقرب شَيْء بيني وَبَيْنك إِلَى الأَرْض رَأسك قُم وَإِيَّاك وَمَا عدت. قَالَ: فَخرج مُحَمَّد بن أبي الْعَبَّاس ومضي إِلَى طَاهِر بن الْحُسَيْن وَكَانَ زوج أُخْته فَقَالَ لَهُ كَانَ من قصتي كَيْت وَكَيْت وَكَانَ يَحْجُبهُ على النَّبِيذ فتح الْخَادِم، وياسر يتَوَلَّى الْخلْع وحسين يسْقِي، وَأَبُو مَرْيَم غُلَام سعيد الْجَوْهَرِي يتَخَلَّف فِي الْحَوَائِج، فَركب طَاهِر إِلَى الدَّار فَدخل فتح فَقَالَ: طَاهِر بِالْبَابِ. فَقَالَ إِنَّه لَيْسَ من أوقاته. إئذن لَهُ فَدخل طَاهِر فَسلم فَرد عليه السلام وَقَالَ: اسقوه رطلا فَأَخذه فِي يَده اليمني وَقَالَ لَهُ: أَجْلِس فَخرج وشربه، ثمَّ عَاد وَقد شرب الْمَأْمُون رطلا آخر فَقَالَ: اسقوه الثَّانِي. فَفعل كَفِعْلِهِ الأول. ثمَّ دخل فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُون أَجْلِس فَقَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لَيْسَ لصَاحب الشرطة أَن يجلس بَين يَدي سَيّده. قَالَ الْمَأْمُون ذَاك فِي مجْلِس الْعَامَّة فَأَما مجْلِس الْخَاصَّة فَطلق. قَالَ: وبكي الْمَأْمُون وتغرغرت عَيناهُ فَقَالَ لَهُ طَاهِر: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لم تبْكي لَا أبْكِي اللَّهِ عَيْنك، فو اللَّهِ لقد دَانَتْ لَك الْبِلَاد، وأذعن لَك الْعباد، وصرت إِلَى الْمحبَّة فِي كل أَمرك. فَقَالَ: أبْكِي لَا مر ذكره ذل وستره حزن، وَلنْ يَخْلُو أحد من شجن فَتكلم بحاجة إِن كَانَت لَك. قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ: مُحَمَّد [بن أبي الْعَبَّاس] أَخطَأ فأقله عثرته وَأَرْض عَنهُ. قَالَ: قد رضيت عَنهُ وَأمرت بصلته ورد مرتبته وَلَوْلَا أَنه لَيْسَ من أهل الْأنس لأحضرته. قَالَ: وَانْصَرف طَاهِر فَأعْلم ابْن أبي الْعَبَّاس ذَلِك ثمَّ دَعَا بهَارُون بن جيغويه فَقَالَ: إِن للْكتاب عشيرة وَإِن أهل خُرَاسَان يتعصب بَعضهم لبَعض فَخذ مَعَك ثَلَاثمِائَة ألف دِرْهَم فأعط الْحُسَيْن الْخَادِم مِائَتي ألف، وَأعْطِ كَاتبه مُحَمَّد بن هَارُون مائَة ألف وسله أَن يسْأَل الْمَأْمُون لم بكي؟ قَالَ: فَفعل ذَلِك. قَالَ: فَلَمَّا تغدى قَالَ يَا حُسَيْن: أسقني. قَالَ: لَا. وَالله لَا سقيتك أَو تَقول لي لم بَكَيْت حِين دخل عَلَيْك طَاهِر؟ قَالَ يَا حُسَيْن: وَكَيف عنيت بِهَذَا حَتَّى سَأَلتنِي عَنهُ؟ . قَالَ لغمي بذلك. قَالَ هُوَ أَمر إِن خرج من رَأسك

এবং তাঁর মমতা। তিনি যা নিষেধ করেছেন তা যদি না হতো, তবে আমি তোমার কপাল ঘর্মাক্ত করতাম (লজ্জিত করতাম)। তোমার মূর্খতার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে তুমি মদীনায় মিম্বর ধৌত করেছ। বর্ণনাকারী বলেন: আল-মামুন হেলান দিয়ে ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: তোমার মিম্বর ধৌত করার অর্থ কী? আমার পক্ষ থেকে তোমার বিষয়ে কি কোনো অবহেলা হয়েছে, নাকি তোমার পিতার বিষয়ে মনসুরের কোনো অবহেলা ছিল? যদি এমন না হতো যে খলিফা কোনো কিছু দান করলে তা ফিরিয়ে নিতে লজ্জা বোধ করেন, তবে আমার ও তোমার মাঝে সবচেয়ে নিকটবর্তী বস্তু হতো জমিনে পড়ে থাকা তোমার বিচ্ছিন্ন মাথাটি। ওঠো এবং সাবধান, পুনরায় এমন করো না।

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে আবুল আব্বাস বের হয়ে তাহির ইবনুল হুসাইনের নিকট গেলেন, যিনি তাঁর বোনের স্বামী ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: আমার সাথে এই এই ঘটনা ঘটেছে। সে সময় ফাতহ নামক খাদেম পাহারা দিচ্ছিল, ইয়াসির খেলাত প্রদানের দায়িত্বে ছিল, হুসাইন পানীয় পরিবেশন করছিল এবং সাঈদ আল-জাওহারির গোলাম আবু মারইয়াম প্রয়োজনীয় কাজ দেখাশোনা করছিল। অতঃপর তাহির সওয়ার হয়ে রাজপ্রাসাদে গেলেন। ফাতহ ভেতরে গিয়ে বলল: তাহির দরজায় উপস্থিত। আল-মামুন বললেন: এটি তো তাঁর আসার সময় নয়; তবুও তাঁকে অনুমতি দাও। তাহির প্রবেশ করে সালাম দিলেন। আল-মামুন সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: তাঁকে এক রতল পরিমাণ পানীয় দাও। তিনি তা ডান হাতে গ্রহণ করলেন। আল-মামুন তাঁকে বললেন: বসো। তিনি বের হয়ে তা পান করলেন এবং পুনরায় ফিরে এলেন। ইতিমধ্যে আল-মামুন আরও এক রতল পান করেছিলেন। তিনি বললেন: তাঁকে দ্বিতীয়বার পান করাও। তিনি পূর্বের ন্যায় করলেন।

অতঃপর তিনি ভেতরে প্রবেশ করলে আল-মামুন তাঁকে বললেন: বসো। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, পুলিশ প্রধানের জন্য তাঁর প্রভুর সামনে বসা শোভনীয় নয়। আল-মামুন বললেন: সেটি তো সাধারণ মজলিসের ক্ষেত্রে, কিন্তু বিশেষ মজলিসে তা অনুমোদিত। বর্ণনাকারী বলেন: আল-মামুন কেঁদে ফেললেন এবং তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। তখন তাহির তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কেন কাঁদছেন? আল্লাহ আপনার চোখকে ক্রন্দনমুক্ত রাখুন। আল্লাহর শপথ, সমস্ত দেশ আপনার অনুগত হয়েছে, প্রজারা আপনার বশ্যতা স্বীকার করেছে এবং আপনার প্রতিটি বিষয়ে মহব্বত ও প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বললেন: আমি এমন একটি বিষয়ের জন্য কাঁদছি যার উল্লেখ করা লাঞ্ছনাকর এবং যা গোপন রাখা বেদনাদায়ক; আর কেউই দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত নয়। তোমার যদি কোনো প্রয়োজন থাকে তবে বলো। তাহির বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, মুহাম্মদ ইবনে আবুল আব্বাস ভুল করেছে, আপনি তাঁর পদস্খলন ক্ষমা করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন। তিনি বললেন: আমি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হলাম এবং তাঁকে উপঢৌকন প্রদান ও তাঁর মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলাম। যদি সে সঙ্গ দেওয়ার অনুপযুক্ত না হতো, তবে আমি তাকে উপস্থিত করতাম।

বর্ণনাকারী বলেন: তাহির বিদায় নিয়ে ইবনে আবুল আব্বাসকে তা জানালেন। এরপর তিনি হারুন ইবনে জিগুওয়াহকে ডেকে বললেন: লেখকদের একটি বিশেষ সম্প্রদায় রয়েছে এবং খোরাসানবাসীরা একে অপরের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে; সুতরাং তুমি তোমার সাথে তিন লক্ষ দিরহাম নাও। হুসাইন খাদেমকে দুই লক্ষ দিরহাম দাও এবং তার লেখক মুহাম্মদ ইবনে হারুনকে এক লক্ষ দিরহাম দাও। আর তাকে অনুরোধ করো সে যেন আল-মামুনকে জিজ্ঞেস করে তিনি কেন কেঁদেছিলেন?

বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাই করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: যখন তিনি দুপুরের খাবার খেলেন, আল-মামুন বললেন: হে হুসাইন, আমাকে পানীয় দাও। সে বলল: না, আল্লাহর শপথ, আমি আপনাকে পান করাব না যতক্ষণ না আপনি আমাকে বলবেন তাহির আপনার কাছে আসার পর আপনি কেন কেঁদেছিলেন? তিনি বললেন: হে হুসাইন, এই বিষয়ে তোমার এত আগ্রহ কেন যে তুমি আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? সে বলল: আপনার সেই দুঃখের কারণে আমারও দুঃখবোধ হচ্ছে। তিনি বললেন: এটি এমন এক বিষয় যা যদি তোমার মুখ থেকে বের হয়—

(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
قتلتك. قَالَ يَا سَيِّدي وَمَتى أخرجت لَك سرا؟ . قَالَ: إِنِّي ذكرت مُحَمَّدًا أخي وَمَا ناله من الذلة فخنقتني الْعبْرَة فأسترحت إِلَى الْإِفَاضَة وَلنْ يفوت طَاهِر مني مَا يكره. قَالَ: فَأخْبر حُسَيْن طَاهِرا بذلك فَركب طَاهِر إِلَى أَحْمد بن أبي خَالِد فَقَالَ لَهُ: أَن الثَّنَاء مني لَيْسَ برخيص وَإِن الْمَعْرُوف عِنْدِي لَيْسَ بضائع، فغيبني عَن عينه. فَقَالَ لَهُ سأفعل فبكر على غَدا. قَالَ: وَركب ابْن أبي خَالِد إِلَى الْمَأْمُون فَلَمَّا فَلَمَّا دخل عَلَيْهِ قَالَ لَهُ مَا نمت اللَّيْلَة. فَقَالَ لَهُ: وَلم وَيحك. قَالَ: لِأَنَّك وليت غَسَّان خُرَاسَان وَهُوَ وَمن مَعَه أَكلَة رَأس فَأَخَاف أَن يخرج عَلَيْك خَارِجَة من التّرْك فتصطلمه. فَقَالَ: لقد فَكرت فِيمَا فَكرت فِيهِ. قَالَ: فَمن ترى؟ قَالَ: طَاهِر بن الْحُسَيْن قَالَ: وَيلك يَا أَحْمد هُوَ وَالله خَالع. قَالَ: أَنا الضَّامِن لَهُ. قَالَ لَهُ: فأنفذه قَالَ: فَدَعَا بطاهر من سَاعَته فَنزل فِي بُسْتَان خَلِيل بن هَاشم فَحصل إِلَيْهِ فِي كل يَوْم أَقَامَ فِيهِ مائَة ألف فَأَقَامَ شهرا فَحملت إِلَيْهِ عشرَة آلَاف ألف الَّتِي تحمل إِلَى صَاحب خُرَاسَان

قَالَ أَبُو حسان الزيَادي: وَكَانَ قد عقد لَهُ على خُرَاسَان وَالْجِبَال من حلوان إِلَى خُرَاسَان وَكَانَ شخوصه من بَغْدَاد يَوْم الْجُمُعَة لليلة بقيت من ذِي الْقعدَة سنة خمس وَمِائَتَيْنِ وَقد كَانَ عَسْكَر قبل ذَلِك بشهرين فَلم يزل مُقيما فِي عسكره. قَالَ أَبُو حسان وَكَانَ سَبَب ولَايَته فِيمَا أجمع النَّاس عَلَيْهِ أَن عبد الرَّحْمَن المطوعي [جمع جموعا بنيسابور لِيُقَاتل بهم الحرورية] بِغَيْر أَمر وَإِلَى خُرَاسَان فتخوفوا أَن يكون ذَلِك لأجل عمل عمله وَكَانَ غَسَّان بن عباد يتَوَلَّى خُرَاسَان من قبل الْحسن بن سهل وَهُوَ ابْن عَم الْفضل بن سهل. وَذكر أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن عَليّ بن طَاهِر عَن عَليّ بن هَارُون أَن طَاهِر ابْن الْحُسَيْن قبل خُرُوجه إِلَى خُرَاسَان وتوليته لَهَا نَدبه الْحسن بِهِ سهل لِلْخُرُوجِ إِلَى محاربة نصر بن شبث فَقَالَ حَارَبت خَليفَة وسقت الْخلَافَة [إِلَى خَليفَة] وأومر بِمثل هَذَا وَإِنَّمَا كَانَ يَنْبَغِي أَن توجه لهَذَا قائدا من قوادي فَكَانَ سَبَب المصارمة بَين طَاهِر وَالْحسن. قَالَ: وَخرج طَاهِر إِلَى خُرَاسَان لما تولاها وَهُوَ لَا يكلم الْحسن بن سهل فَقيل لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ: مَا كنت لأحل عقدَة عقدهَا لي فِي مصارمته.
আমি তোমাকে হত্যা করতাম। সে বলল, হে আমার মনিব! আমি কখন আপনার কোনো গোপন বিষয় ফাঁস করেছি? তিনি বললেন: আমি আমার ভাই মুহাম্মাদের কথা এবং তার যে লাঞ্ছনা হয়েছিল তা স্মরণ করলাম, ফলে কান্নায় আমার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এল এবং আমি অশ্রু বিসর্জনের মাধ্যমে স্বস্তি পেলাম; আর তাহির আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু পাবে না যা সে অপছন্দ করে। বর্ণনাকারী বলেন: হুসাইন তাহিরকে বিষয়টি জানালেন। তখন তাহির আহমদ বিন আবু খালিদের কাছে গিয়ে বললেন: আমার পক্ষ থেকে প্রশংসা সস্তা নয় এবং আমার কাছে কারো অনুগ্রহ বৃথা যায় না; সুতরাং আমাকে তার (খলিফার) দৃষ্টি থেকে দূরে সরিয়ে দিন। তিনি তাকে বললেন: আমি তা-ই করব, আগামীকাল ভোরে আমার কাছে এসো। বর্ণনাকারী বলেন: ইবনে আবু খালিদ আল-মামুনের কাছে সওয়ার হয়ে গেলেন। যখন তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, খলিফা তাঁকে বললেন: আমি আজ রাতে ঘুমাতে পারিনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কেন, হে আমিরুল মুমিনিন? খলিফা বললেন: কারণ তুমি গাসসানকে খুরাসানের দায়িত্ব দিয়েছ, অথচ সে এবং তার সঙ্গীরা তো কেবল উদরপূর্তিতে মগ্ন; আমি ভয় পাচ্ছি যে তুর্কিদের কোনো বিদ্রোহী দল তোমার বিরুদ্ধে বের হয়ে তোমাকে সমূলে বিনাশ করে দেবে। খলিফা বললেন: তুমি যা ভেবেছ, আমিও তা-ই ভেবেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে আপনি কাকে উপযুক্ত মনে করেন? খলিফা বললেন: তাহির ইবনুল হুসাইনকে। খলিফা বললেন: তোমার জন্য আফসোস হে আহমদ! আল্লাহর কসম, সে তো আনুগত্য ছিন্নকারী। তিনি বললেন: আমি তার জামিনদার হচ্ছি। খলিফা তাকে বললেন: তবে তাকে পাঠিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তৎক্ষণাৎ তাহিরকে ডেকে পাঠালেন। তাহির খলিল বিন হাশিমের বাগানে গিয়ে অবস্থান নিলেন। সেখানে অবস্থানকালে প্রতিদিন তিনি এক লক্ষ দিরহাম করে পেতেন। তিনি সেখানে এক মাস অবস্থান করেন। অতঃপর খুরাসানের শাসনকর্তাকে যে দশ লক্ষ মুদ্রা প্রদান করা হয়, তা তাকে প্রদান করা হলো।

আবু হাসান আল-যিয়াদি বলেন: তাকে খুরাসান এবং হালওয়ান থেকে খুরাসান পর্যন্ত জিবাল অঞ্চলের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। ২০৫ হিজরি সালের জিলকদ মাসের শেষ শুক্রবার তিনি বাগদাদ থেকে প্রস্থান করেন। এর দুই মাস আগে থেকেই তিনি সেনাদল গঠন করেছিলেন এবং নিজ ছাউনিতে অবস্থান করছিলেন। আবু হাসান বলেন: তাঁর গভর্নর হওয়ার কারণ সম্পর্কে সর্বজনসম্মত মত এই যে, আব্দুর রহমান আল-মুতাউয়ি নিশাপুরে হারুরিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কোনো নির্দেশ ছাড়াই এক বিশাল জনসমাবেশ করেছিলেন। খুরাসানের দায়িত্বশীলরা এতে ভীত হয়ে পড়েন যে, হয়তো এটি কোনো বিশেষ ষড়যন্ত্রের অংশ। তখন গাসসান বিন আব্বাদ হাসান বিন সাহলের পক্ষ থেকে খুরাসানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, যিনি ফজল বিন সাহলের চাচাতো ভাই ছিলেন। আবু আব্বাস মুহাম্মাদ বিন আলী বিন তাহির, আলী বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেন যে, তাহির ইবনুল হুসাইন খুরাসানে যাওয়ার এবং সেখানকার দায়িত্ব পাওয়ার আগে হাসান বিন সাহল তাকে নাসর বিন শাবাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তখন তাহির বললেন: আমি খলিফার পক্ষে যুদ্ধ করেছি এবং খেলাফতকে খলিফার হাতে পৌঁছে দিয়েছি, আর এখন আমাকে এই জাতীয় কাজের আদেশ দেওয়া হচ্ছে? অথচ আমার সাধারণ সেনাপতিদের মধ্য থেকেই কাউকে এই কাজের জন্য পাঠানো সমীচীন ছিল। এটিই ছিল তাহির ও হাসানের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততার কারণ। বর্ণনাকারী বলেন: তাহির যখন খুরাসানের দায়িত্ব পেয়ে সেখানে রওয়ানা হলেন, তখন তিনি হাসান বিন সাহলের সাথে কোনো কথা বলেননি। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: আমাদের সম্পর্কের তিক্ততার মাঝে তিনি আমার জন্য যে চুক্তির গিঁট বেঁধেছিলেন, আমি তা খুলতে চাই না।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌ذكر خُرُوج عبد اللَّهِ بن طَاهِر إِلَى مُضر لمحاربة نصر بن شبث واستخلافه إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم على مَدِينَة السَّلَام

 

حَدثنِي يحيى بن الْحسن بن عبد الْخَالِق قَالَ: لما كَانَ فِي شهر رَمَضَان من سنة خمس أوست دَعَا الْمَأْمُون عبد اللَّهِ بن طَاهِر فَلَمَّا دخل عَلَيْهِ قَالَ لَهُ يَا عبد اللَّهِ: إِنِّي استخير اللَّهِ مُنْذُ شهر وَأَرْجُو أَن يُخَيّر اللَّهِ لي، وَرَأَيْت الرجل يصف ابْنه ليطريه لرأيه فِيهِ وليرفعه ورأيتك فَوق مَا قَالَ أَبوك فِيك وَقد مَاتَ يحيى بن معَاذ واستخلف ابْنه أَحْمد بن يحيى وَلَيْسَ بِشَيْء، وَقد رَأَيْت توليتك مُضر ومحاربة نصر بن شبث. فَقَالَ: السّمع وَالطَّاعَة يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ، وَأَرْجُو أَن يَجْعَل اللَّهِ لأمير الْمُؤمنِينَ الْخيرَة وللمسلمين. قَالَ فعقد لَهُ. ثمَّ أَمر أَن تقطع حبال القصارين عَن طَرِيقه [وَتَنَحَّى] عَن الطرقات [المظال] لِئَلَّا يكون فِي طَرِيقه مَا يرد لِوَاءُهُ ثمَّ عقد لَهُ لِوَاء [مَكْتُوبًا] عَلَيْهِ بصفرة مَا يكْتب على الألوية وَزَاد فِيهِ الْمَأْمُون يَا مَنْصُور. وَخرج وَمَعَهُ النَّاس فَصَارَ إِلَى منزله ، وَلما كَانَ من غَد ركب إِلَيْهِ النَّاس وَركب الْفضل بن الرّبيع فَأَقَامَ عِنْده اللَّيْل. قَالَ: فَقَامَ الْفضل فَقَالَ عبد اللَّهِ: يَا أَبَا الْعَبَّاس قد تفضلت وأحسنت وَقد تقدم أبي وأخوك إِلَى أَن لَا أقطع أمرا دُونك، وَاحْتَاجَ أَن استطلع رَأْيك وأستضئ بمشورتك، فَإِن رَأَيْت أَن تقيم عِنْدِي إِلَى أَن نفطر فأفعل؟ قَالَ: فَقَالَ الْفضل: إِن لي حالات لَيْسَ يمكنني مَعهَا الْإِفْطَار هَهُنَا. قَالَ: إِن كنت تكره طَعَام أهل خُرَاسَان فَابْعَثْ إِلَى مطبخك يَأْتُوا بطعامك فَقَالَ لَهُ: إِن لي رَكْعَات بَين الْعشَاء وَالْعَتَمَة. قَالَ: فَفِي حفظ اللَّهِ قَالَ: وَخرج مَعَه إِلَى صحن دَاره يشاوره فِي خَالص أُمُوره.
নসর বিন শাবাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আব্দুল্লাহ বিন তাহিরের মুদারে গমন এবং মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) ইসহাক বিন ইবরাহিমকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করার বিবরণ

 

ইয়াহইয়া বিন হাসান বিন আব্দুল খালেক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন দুইশত পাঁচ কিংবা ছয় হিজরি সনের রমজান মাস উপস্থিত হলো, তখন আল-মামুন আব্দুল্লাহ বিন তাহিরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি যখন তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, হে আব্দুল্লাহ: আমি এক মাস যাবত আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করছি এবং আমি আশা করি আল্লাহ আমার জন্য উত্তমটিই নির্বাচন করবেন। আমি দেখেছি যে, মানুষ তার সন্তানের প্রশংসা করে যাতে নিজের মতানুসারে তাকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করতে পারে, কিন্তু আমি তোমাকে তোমার পিতার করা প্রশংসার চেয়েও উচ্চতর পেয়েছি। ইয়াহইয়া বিন মুয়ায ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর পুত্র আহমদ বিন ইয়াহইয়াকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, কিন্তু সে উল্লেখযোগ্য কেউ নয়। আমি তোমাকে মুদারের শাসনভার অর্পণ করার এবং নসর বিন শাবাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম; আমি আশা করি আল্লাহ আমিরুল মুমিনীনের জন্য এবং মুসলমানদের জন্য কল্যাণের ফয়সালা করবেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর জন্য সেনাপতিত্বের ঝাণ্ডা নির্ধারণ করলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তাঁর পথ থেকে ধোপাদের কাপড় শুকানোর দড়িগুলো কেটে ফেলা হয় এবং রাস্তা থেকে শামিয়ানাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে তাঁর পথে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে যা তাঁর ঝাণ্ডাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এরপর তিনি তাঁর জন্য একটি ঝাণ্ডা তৈরি করলেন যাতে হলুদ রঙে তা-ই লেখা ছিল যা সাধারণত ঝাণ্ডাসমূহে লেখা হয়ে থাকে এবং আল-মামুন তাতে অতিরিক্ত লিখলেন, "হে বিজয়ী"। তিনি বের হলেন এবং লোকজন তাঁর সাথে ছিল, অতঃপর তিনি স্বীয় বাসভবনে পৌঁছালেন। যখন পরদিন হলো, লোকজন সওয়ার হয়ে তাঁর নিকট এলো এবং ফযল বিন রাবীও সওয়ার হয়ে এলেন এবং তাঁর নিকট রাত অতিবাহিত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: ফযল যখন প্রস্থানের জন্য উঠে দাঁড়ালেন, তখন আব্দুল্লাহ বললেন: হে আবু আব্বাস, আপনি অত্যন্ত অনুগ্রহ ও সদাশয়তা প্রদর্শন করেছেন। ইতিপূর্বে আমার পিতা এবং আপনার ভাই ওসিয়ত করে গিয়েছেন যেন আমি আপনাকে ছাড়া কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করি। আমার প্রয়োজন আপনার অভিমত অবগত হওয়া এবং আপনার পরামর্শের আলোকে পথ চলা। আপনি যদি সমীচীন মনে করেন যে ইফতার পর্যন্ত আমার নিকট অবস্থান করবেন, তবে দয়া করে তা করুন। ফযল বললেন: আমার এমন কিছু অবস্থা বা ব্যস্ততা রয়েছে যার কারণে এখানে ইফতার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আব্দুল্লাহ বললেন: আপনি যদি খোরাসানবাসীদের খাবার অপছন্দ করেন, তবে আপনার বাবুর্চিখানায় লোক পাঠান যাতে তারা আপনার খাবার নিয়ে আসে। ফযল তাঁকে বললেন: মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে আমার কিছু রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। আব্দুল্লাহ বললেন: তবে আল্লাহর হিফাজতে (বিদায়) থাকুন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাঁর সাথে বাড়ির আঙিনা পর্যন্ত বের হলেন এবং তাঁর সাথে একান্ত বিষয়সমূহ নিয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
قَالَ وَكَانَ خُرُوج عبد اللَّهِ الصَّحِيح إِلَى مُضر لقِتَال نصر بن شبث بعد خُرُوج أَبِيه إِلَى خُرَاسَان بِسِتَّة أشهر وأستخلف إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم على بَغْدَاد والسندي ابْن يحيى على الْجَانِب الشَّرْقِي، وَعَيَّاش بن الْقَاسِم على الْجَانِب الغربي قَالَ: وَلما ولى طَاهِر ابْنه عبد اللَّهِ ديار ربيعَة كتب إِلَيْهِ كتابا نسخته: -

عَلَيْك بتقوى اللَّهِ وَحده، لَا شريك لَهُ، وخشيته ومراقبته، ومزايلة سخطه، وَحفظ رعيتك، وَلُزُوم مَا ألبسك اللَّهِ من الْعَافِيَة بِالذكر لمعادك وَمَا أَنْت صائر إِلَيْهِ وَمَوْقُوف عَلَيْهِ، ومسئوول عَنهُ، وَالْعَمَل فِي ذَلِك كُله بِمَا يَعْصِمك اللَّهِ، وينجيك يَوْم لِقَائِه من عَذَابه وأليم عِقَابه، فَإِن اللَّهِ قد أحسن إِلَيْك وواجب عَلَيْك الرأفة بِمن أسترعاك أَمرهم من عباده، وألزمك الْعدْل عَلَيْهِم، وَالْقِيَام بِحقِّهِ وحدوده فيهم، والذب عَنْهُم وَالدَّفْع عَن حريمهم وبيضتهم، والحقن لدمائهم، والأمن لسبلهم، وَإِدْخَال الرَّاحَة عَلَيْهِم فِي مَعَايشهمْ، ومؤاخذك بِمَا فرض عَلَيْك من ذَلِك وموقفك عَلَيْهِ وسائلك عَنهُ ومثيبك عَلَيْهِ بِمَا قدمت وأخرت، ففرغ لذَلِك فكرك، وعقلك، وبصرك ورؤيتك وَلَا يذهلك عَنهُ ذاهل، وَلَا يشغلك عَنهُ شاغل، فَإِنَّهُ رَأس أَمرك، وملاك شَأْنك، وَأول مَا يوفقك اللَّهِ بِهِ لرشدك. وَليكن أول مَا تلْزم بِهِ نَفسك، وتنسب إِلَيْهِ فعالك الْمُوَاظبَة على مَا أفترض اللَّهِ عَلَيْك من الصَّلَوَات الْخمس وَالْجَمَاعَة عَلَيْهَا بِالنَّاسِ قبلك فِي مواقيتها وعَلى سننها فِي إسباغ الْوضُوء لَهَا، وافتتاح ذكر اللَّهِ فِيهَا، وترتل فِي قراءتك وَتمكن فِي ركوعك وسجودك، وتشهدك ولتصدق فِيهَا لِرَبِّك نيتك، واحضض عَلَيْهَا جمَاعَة من مَعَك، وَتَحْت يدك، وادأب عَلَيْهَا فَإِنَّهَا كَمَا قَالَ اللَّهِ، تَأمر بِالْمَعْرُوفِ، وتنتهي عَن الْمُنكر، ثمَّ أتبع ذَلِك الْأَخْذ بسنن رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ والمثابرة على فَرَائِضه [خلائقه] واقتفاء آثَار السّلف الصَّالح من بعده، وَإِذا ورد عَلَيْك أَمر فَاسْتَعِنْ عَلَيْهِ باستخارة اللَّهِ وتقواه، وَلُزُوم مَا أنزل اللَّهِ فِي كِتَابه من أمره وَنَهْيه، وَحَلَاله وَحَرَامه، وائتمام مَا جَاءَت بِهِ الْآثَار عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -، ثمَّ قُم فِيهِ بِمَا يحِق لله عَلَيْك، وَلَا تمل عَن الْعدْل فِيمَا أَحْبَبْت أَو كرهت
তিনি বলেন, তাঁর পিতার খোরাসান অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার ছয় মাস পর নসর বিন শাবাসের সাথে যুদ্ধ করার জন্য মুদার অভিমুখে আবদুল্লাহর প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়। তিনি ইসহাক বিন ইবরাহিমকে বাগদাদে, সিন্দী ইবনে ইয়াহইয়াকে পূর্ব পাশে এবং আইয়াশ বিন কাসেমকে পশ্চিম পাশে স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি বলেন: যখন তাহের তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে দিয়ারে রাবিয়ার শাসনভার অর্পণ করলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে একটি পত্র লিখলেন, যার অনুলিপি নিম্নরূপ: -

একমাত্র আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা তোমার কর্তব্য, যাঁর কোনো শরীক নেই; তাঁকে ভয় করা, তাঁর পর্যবেক্ষণের কথা স্মরণে রাখা, তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে দূরে থাকা, তোমার প্রজাসাধারণের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং আল্লাহ তোমাকে যে নিরাপত্তা দান করেছেন তা আঁকড়ে ধরা। তোমার পরকাল, তুমি যেখানে ফিরে যাবে, যেখানে তোমাকে দাঁড়াতে হবে এবং যা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা সর্বদা স্মরণে রেখো। এসব ক্ষেত্রে এমন কাজ করো যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে তাঁর আজাব ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে তোমাকে মুক্তি দান করেন। কেননা আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং তাঁর যেসব বান্দার পরিচালনার দায়িত্ব তিনি তোমাকে দিয়েছেন, তাদের প্রতি দয়া করা, তাদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করা, তাদের মধ্যে আল্লাহর হক ও তাঁর বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করা, তাদের প্রতিরক্ষা করা, তাদের পরিবার ও ভূখণ্ড রক্ষা করা, তাদের রক্তপাত বন্ধ রাখা, তাদের পথসমূহ নিরাপদ করা এবং তাদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনয়ন করা তোমার ওপর আবশ্যক। এসব বিষয়ে তোমার ওপর যা ফরজ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি তোমাকে পাকড়াও করবেন, তোমাকে দাঁড় করাবেন, তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের কাজের ভিত্তিতে তোমাকে প্রতিদান দেবেন। অতএব এর জন্য তোমার চিন্তা, বুদ্ধি, দৃষ্টি ও দূরদর্শিতাকে নিবিষ্ট করো; কোনো বিচ্যুতি যেন তোমাকে এ থেকে গাফেল না করে এবং কোনো ব্যস্ততা যেন তোমাকে এ থেকে বিচ্যুত না করে। কারণ এটিই তোমার মূল কাজ, তোমার বিষয়ের সারকথা এবং প্রথম সেই বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথের তাওফিক দান করবেন। তুমি নিজের জন্য যা সর্বপ্রথম অপরিহার্য করবে এবং তোমার কার্যাবলিকে যার দিকে সম্বন্ধ করবে, তা হলো—আল্লাহ তোমার ওপর যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন তা সময়মতো জামাতের সাথে মানুষের ইমামতি করে যথাযথভাবে আদায় করা। এবং নামাজের সুন্নাতসমূহ অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে নামাজ শুরু করা, ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করা এবং রুকু, সেজদা ও তাশাহহুদ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা। এতে তোমার রবের জন্য তোমার নিয়তকে খাঁটি করো, তোমার সাথে এবং তোমার অধীনে যারা আছে তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করো এবং এতে অবিচল থাকো। কারণ আল্লাহ যেমনটি বলেছেন, নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহসমূহ অনুসরণ করো -‌‌এবং তাঁর নির্ধারিত বিধানসমূহ পালনে সচেষ্ট থাকো ও তাঁর পরবর্তী সলফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। যখন তোমার সামনে কোনো বিষয় আসবে, তখন আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা ও তাঁর তাকওয়ার মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আল্লাহর কিতাবে অবতীর্ণ তাঁর আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর অনুসরণ করো।- অতঃপর আল্লাহর প্রতি তোমার যা কর্তব্য তা পালন করো এবং তোমার পছন্দ বা অপছন্দের কোনো বিষয়েই ইনসাফ থেকে বিচ্যুত হয়ো না।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
لقريب من النَّاس أَو بعيد، وآثر الْفِقْه وَأَهله، وَالدّين وَحَمَلته، وَكتاب اللَّهِ والعاملين بِهِ فَإِن أفضل مَا تزين بِهِ الْمَرْء الْفِقْه فِي دين اللَّهِ والطلب لَهُ، والحث عَلَيْهِ، والمعرفة بِمَا يتَقرَّب فِيهِ مِنْهُ إِلَى اللَّهِ فَإِنَّهُ الدَّلِيل على الْخَيْر كُله، والقائد لَهُ والآمر بِهِ والناهي عَن الْمعاصِي والموبقات كلهَا، وَبهَا مَعَ توفيق اللَّهِ تزداد الْعباد معرفَة بِاللَّه تَعَالَى ذكره وإجلالا لَهُ، ودركا للدرجات الْعلي فِي الْمعَاد مَعَ مَا فِي ظُهُوره للنَّاس من التوقير لأمرك، والهيبة لسلطانك. والأنسة بك، والثقة بعدلك

وَعَلَيْك بالاقتصاد فِي الْأُمُور كلهَا، فَلَيْسَ شَيْء أبين نفعا، وَلَا أحضر أمنا، وَلَا أجمع فضلا من الْقَصْد، وَالْقَصْد دَاعِيَة إِلَى الرشد دَلِيل على التَّوْفِيق، والتوفيق منقاد إِلَى السَّعَادَة. وقوام الدّين وَالسّنَن الهادية بالاقتصاد، فآثره فِي دنياك كلهَا، وَلَا تقصر فِي طلب الْآخِرَة، وَطلب الْأجر والأعمال الصَّالِحَة، وَالسّنَن الْمَعْرُوفَة، ومعالم الرشد، فَلَا غَايَة للاستكثار من الْبر وَالسَّعْي لَهُ إِذا كَانَ يطْلب بِهِ وَجه اللَّهِ ومرضاته، ومرافقة أوليائه فِي دَار كرامته، وَأعلم أَن الْقَصْد فِي شَأْن الدُّنْيَا يُورث الْعِزّ ويحصن من الذُّنُوب وَإنَّك لن تحوط نَفسك وَمن يليك، وَلَا تستصلح أمورك بِأَفْضَل مِنْهُ فأته وأهتد بِهِ تتمّ أمورك وتزد بِهِ مقدرتك، وَتصْلح بِهِ خاصتك وعامتك وَأحسن الظَّن بِاللَّه جلّ ذكره يستقم لَك رعيتك، وَالْتمس الْوَسِيلَة إِلَيْهِ فِي الْأُمُور كلهَا تستدم بِهِ بِالنعْمَةِ عَلَيْك، وَلَا تنهض أحدا من النَّاس فِيمَا تَوْلِيَة من عَمَلك قبل تكشف أمره بالتهمة، فَإِن إِيقَاع التهم بالبراء والظنون السَّيئَة بهم مأثم، وَأَجْعَل من شَأْنك حسن الظَّن بِأَصْحَابِك واطرد عَنْك سوء الظَّن بهم وأرفضه عَنْهُم، يعنك ذَلِك على أصطناعهم ورياضتهم، وَلَا يجدن عَدو الله الشَّيْطَان فِي أَمرك مغمزا فَإِنَّهُ إِنَّمَا يَكْتَفِي بِالْقَلِيلِ من وهنك فَيدْخل عَلَيْك من الْغم فِي سوء الظَّن مَا ينغصك لذاذة عيشك. وَأعلم أَنَّك تَجِد بِحسن الظَّن قُوَّة وراحة ، وتكفي بِهِ مَا أَحْبَبْت كِفَايَته من أمورك، وَتَدْعُو بِهِ النَّاس إِلَى محبتك، والاستقامة فِي الْأُمُور كلهَا لَك، وَلَا يمنعك حسن الظَّن بِأَصْحَابِك، والرأفة برعيتك أَن تسْتَعْمل الْمَسْأَلَة والبحث عَن أمورك والمباشرة لأمور الْأَوْلِيَاء، والحياطة للرعية، وَالنَّظَر فِيمَا يقيمها ويصلحها، بل
মানুষের নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী, তুমি ফিকহ ও এর অনুসারীদের, দ্বীন ও এর বাহকদের এবং আল্লাহর কিতাব ও তদানুযায়ী আমলকারীদের প্রাধান্য দাও। কেননা কোনো ব্যক্তির জন্য আল্লাহর দ্বীনের ফিকহ অর্জন, তা অন্বেষণ করা, তাতে উৎসাহিত করা এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় তা পরিজ্ঞাত হওয়ার চেয়ে উত্তম কোনো অলঙ্কার নেই। কারণ এটিই সকল কল্যাণের পথপ্রদর্শক, চালক ও নির্দেশক এবং সকল পাপাচার ও ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে নিবৃত্তকারী। এর মাধ্যমেই আল্লাহর তাওফিকে বান্দাগণ মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করে, তাঁর মহিমা অনুধাবন করে এবং পরকালে উচ্চ মর্যদা লাভ করে। পাশাপাশি মানুষের কাছে তোমার আদেশের মর্যাদা, তোমার শাসনের প্রতাপ, তোমার প্রতি তাদের হৃদ্যতা ও তোমার ইনসাফের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।

তুমি সকল বিষয়ে পরিমিতিবোধ অবলম্বন করো। কেননা পরিমিতিবোধের চেয়ে স্পষ্ট কোনো কল্যাণ, নিকটবর্তী কোনো নিরাপত্তা কিংবা পূর্ণতর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আর নেই। পরিমিতিবোধ সঠিক পথের দিশারি ও সফলতার প্রমাণস্বরূপ, আর সফলতা সৌভাগ্যের দিকে নিয়ে যায়। দ্বীনের স্থায়িত্ব ও হিদায়াতপূর্ণ সুন্নাহসমূহ পরিমিতিবোধের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং তোমার পার্থিব সকল বিষয়ে একে প্রাধান্য দাও। তবে আখিরাত অন্বেষণ, সওয়াব লাভ, নেক আমল, প্রচলিত সুন্নাতসমূহ ও সত্যের নিদর্শনসমূহ তালাশ করার ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা করো না। কেননা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর মহিমা অন্বেষণ এবং তাঁর সম্মানজনক আলয়ে তাঁর বন্ধুদের সাহচর্য লাভের উদ্দেশ্যে পুণ্যকর্মের আধিক্য ও এর প্রচেষ্টার কোনো সীমা নেই। জেনে রেখো যে, পার্থিব বিষয়ে পরিমিতিবোধ সম্মান বয়ে আনে এবং পাপ থেকে রক্ষা করে। তুমি নিজেকে ও তোমার অধীনস্থদের সুরক্ষা এবং তোমার কার্যাবলীর সংশোধনের জন্য এর চেয়ে উত্তম আর কিছু পাবে না। সুতরাং এটি গ্রহণ করো এবং এর দ্বারা পরিচালিত হও, তবেই তোমার কাজগুলো পূর্ণতা পাবে, তোমার সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে এবং তোমার আপনজন ও সাধারণ প্রজাদের অবস্থা সংশোধন হবে। আর মহান আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করো, তবেই তোমার প্রজারা তোমার প্রতি অনুগত থাকবে। সকল বিষয়ে তাঁর কাছেই অসীলা অন্বেষণ করো, তবেই তোমার ওপর তাঁর নেয়ামত স্থায়ী হবে। কোনো ব্যক্তিকে তার বিষয়ে তদন্ত করার আগে শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনো দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিও না। কারণ নিরপরাধ মানুষের ওপর অভিযোগ তোলা এবং তাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা পাপ। তোমার সহযোগীদের প্রতি সুধারণা রাখাকে অভ্যাসে পরিণত করো এবং তাদের প্রতি কুধারণা বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করো। এটি তাদের পরিগঠন ও প্রশিক্ষণে তোমাকে সাহায্য করবে। আল্লাহর শত্রু শয়তান যেন তোমার বিষয়ে কোনো ছিদ্র খুঁজে না পায়। কেননা সে তোমার সামান্য দুর্বলতাতেই সন্তুষ্ট থাকে এবং তোমার মনে কুধারণার মাধ্যমে এমন বিষণ্ণতা প্রবেশ করিয়ে দেয় যা তোমার জীবনের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। জেনে রেখো যে, সুধারণার মাধ্যমে তুমি শক্তি ও প্রশান্তি লাভ করবে। এর মাধ্যমে তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে এবং মানুষ তোমার প্রতি আকৃষ্ট হবে ও তোমার সকল কাজ সুশৃঙ্খল হবে। তবে সহযোগীদের প্রতি তোমার সুধারণা এবং প্রজাদের প্রতি তোমার দয়া যেন তোমাকে তোমার কার্যাবলীর অনুসন্ধান ও তদারকি করতে, দায়িত্বশীলদের কাজ তদারকি করতে, প্রজাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের অবস্থা সংশোধন ও উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি দিতে বাধা না দেয়। বরং...
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
لتكن الْمُبَاشرَة لأمور الْأَوْلِيَاء، والحياطة للرعية، وَالنَّظَر فِي حوائجهم، وَحمل مؤوناتهم آثر عنْدك وَأوجب إِلَيْك مِمَّا سوى ذَلِك؛ فَإِنَّهُ أقوم للدّين، وَأَحْيَا للسّنة وأخلص نيتك فِي جَمِيع هَذَا، وَتفرد بتقويم نَفسك تفرد من يعلم أَنه مسئول عَمَّا صنع، ومجزي بِمَا أحسن، ومأخوذ بِمَا أَسَاءَ، فَإِن اللَّهِ جعل الدّين حرْزا وَعزا، وَرفع من اتبعهُ وعززه فاسلك بِمن تسوسهم وترعاهم نهج الدّين وَطَرِيقَة الْهدى.

وأقم حُدُود أَصْحَاب الجرائم على قدر مَنَازِلهمْ وَمَا استحقوا، وَلَا تعطل ذَلِك وَلَا تهاون بِهِ، وَلَا تُؤخر عُقُوبَة أهل الْعقُوبَة فَإِن تفريطك فِي ذَلِك مِمَّا يفْسد عَلَيْك حسن ظَنك، وأعزم على أَمرك فِي ذَلِك بالسنن الْمَعْرُوفَة، وجانب الْبدع والشبهات يسلم لَك دينك، وتقم لَك مروتك، وَإِذا عَاهَدت عهدا أَقف بِهِ، وَإِذا وعدت بِالْخَيرِ فأنجزه وَاقْبَلْ الْحَسَنَة وانتفع بهَا وأغمض عَن عيب كل ذِي عيب من رعيتك، وَاشْدُدْ لسَانك عَن قَول الْكَذِب والزور، وَأبْغض أَهله، وأقص أهل النميمة فَإِن أول فَسَاد أَمرك فِي عَاجل الْأُمُور أجلهَا تقريب الكذبة وَأهل الجرأة على الْكَذِب لِأَن الْكَذِب رَأس المآثم، والزور [والنميمة خاتمتها لِأَن] صَاحب النميمة لَا يسلم لَهُ صَاحب، وَلَا يستقم لمطيعة أَمر، وأحبب أهل الصّلاح والصدق وأعن الاشراف بِالْحَقِّ، وواس الضُّعَفَاء، وصل الرَّحِم، وابتغ بذلك وَجه اللَّهِ، وَعزة أمره وَالْتمس فِيهِ ثَوَابه وَالدَّار الْآخِرَة مِنْهُ، واجتنب سوء الْأَهْوَاء والجور وأصرف عَنْهُمَا رَأْيك، وَأظْهر براءتك من ذَلِك لرعيتك، وأنعم بِالْعَدْلِ سياستهم وقم بِالْحَقِّ فيهم وبالمعرفة الَّتِي تَنْتَهِي بك إِلَى سَبِيل الْهدى. وأملك نَفسك عِنْد الْغَضَب وآثر الْوَقار والحلم، وَإِيَّاك والحدة، والطيرة والغرور فِيمَا أَنْت بسبيله، وَإِيَّاك تَقول إِنِّي مسلط أفعل مَا أَشَاء فَإِن ذَلِك سريع فِيك إِلَى نقص الرَّأْي، وَقلة الْيَقِين بِاللَّه وَحده لَا شريك لَهُ. أخْلص اللَّهِ لنا وَلَك النِّيَّة فِيهِ، وَالْيَقِين بِهِ.

وَأعلم أَن الْملك لله يُعْطِيهِ من يَشَاء، وينزعه مِمَّن يَشَاء، وَلنْ تَجِد تغير النِّعْمَة وحلول نقمة إِلَى أحد أسْرع مِنْهُ إِلَى حَملَة النِّعْمَة من أَصْحَاب السُّلْطَان، والمبسوط لَهُم
অধীনস্থদের কার্যাবলি সরাসরি পরিচালনা করা, প্রজাদের রক্ষণাবেক্ষণ করা, তাদের প্রয়োজনের দিকে নজর দেওয়া এবং তাদের দায়ভার বহন করা যেন আপনার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য ও আবশ্যিক হয়; কারণ এটি দ্বীনের জন্য অধিক সুপ্রতিষ্ঠিতকারী এবং সুন্নাহর জন্য অধিক পুনর্জীবনদানকারী। আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রে আপনার নিয়তকে খাঁটি করুন। নিজের সংশোধন ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে নিজেকে এমনভাবে একনিষ্ঠ করুন যেমনটি করেন সেই ব্যক্তি, যিনি জানেন যে তাকে তার কৃতকর্মের জন্য জিজ্ঞাসিত হতে হবে, উত্তম কাজের জন্য পুরস্কৃত হতে হবে এবং মন্দ কাজের জন্য পাকড়াও হতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্বীনকে এক সুরক্ষা ও সম্মানের মাধ্যম বানিয়েছেন এবং যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করে তাকে তিনি উচ্চমর্যাদা ও শক্তিশালী করেন। সুতরাং আপনি যাদের শাসন ও পরিচালনা করছেন, তাদের নিয়ে দ্বীনের পথ ও হিদায়াতের পথে চলুন।

অপরাধীদের ওপর তাদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অনুযায়ী হদ (দণ্ডবিধি) কায়েম করুন; এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বা অবহেলা করবেন না। আর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানে বিলম্ব করবেন না; কারণ এক্ষেত্রে আপনার শিথিলতা আপনার সম্পর্কে সুধারণাকে বিনষ্ট করবে। এ সকল বিষয়ে সুপরিচিত সুন্নাহ অনুযায়ী আপনার সিদ্ধান্তে অটল থাকুন এবং বিদআত ও সন্দেহযুক্ত বিষয়াবলি বর্জন করুন; তবেই আপনার দ্বীন নিরাপদ থাকবে এবং আপনার পৌরুষত্ব অটুট থাকবে। যখন কোনো অঙ্গীকার করবেন তখন তা পূর্ণ করবেন, যখন কল্যাণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন তা বাস্তবায়ন করবেন। কল্যাণকে গ্রহণ করবেন ও তার দ্বারা উপকৃত হবেন এবং আপনার প্রজাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক দোষী ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করবেন। মিথ্যা ও বানোয়াট কথা থেকে আপনার জিহ্বাকে কঠোরভাবে সংযত রাখুন, মিথ্যাবাদীদের ঘৃণা করুন এবং চোগলখোরদের দূরে সরিয়ে দিন। কারণ আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্যাবলিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রথম ও প্রধান কারণ হলো মিথ্যাবাদী এবং যারা মিথ্যা বলতে দুঃসাহস দেখায় তাদের নৈকট্য দান করা। কেননা মিথ্যা হলো সকল পাপের মূল। আর বানোয়াট কথা ও চোগলখোরি হলো এর শেষ পরিণতি; কারণ চোগলখোরের কাছে কোনো বন্ধুই নিরাপদ থাকে না এবং তার কথা মেনে চললে কোনো কাজই সুশৃঙ্খল থাকে না। নেককার ও সত্যবাদীদের ভালোবাসুন, হকের সাথে অভিজাতদের সহায়তা করুন, দুর্বলদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করুন এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখুন; আর এসবের মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা এবং তাঁর নির্দেশের মর্যাদা অন্বেষণ করুন এবং তাঁর নিকট সওয়াব ও পরকাল প্রার্থনা করুন। কুপ্রবৃত্তি ও জুলুম পরিহার করুন এবং এসব থেকে আপনার চিন্তাভাবনাকে সরিয়ে রাখুন। আপনার প্রজাদের কাছে এই জাতীয় বিষয় থেকে আপনার নির্দোষিতা প্রকাশ করুন। ন্যায়ের মাধ্যমে তাদের শাসনকাজ পরিচালনা করুন এবং তাদের মাঝে হকের ওপর ও এমন প্রজ্ঞার সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকুন যা আপনাকে হিদায়াতের পথে নিয়ে যায়। ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং গাম্ভীর্য ও সহনশীলতাকে প্রাধান্য দিন। আর আপনার কর্মপন্থা অনুসরণে কঠোরতা, অস্থিরতা ও অহংকার থেকে বেঁচে থাকুন। কখনও বলবেন না যে, "আমি তো ক্ষমতাসীন, আমি যা খুশি তাই করব"; কারণ এটি দ্রুত আপনার বিচারবুদ্ধির ত্রুটি এবং শরিকহীন একক আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসের অভাব তৈরি করবে। আল্লাহ আমাদের ও আপনার নিয়তকে তাঁর জন্য খাঁটি করুন এবং তাঁর প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস নসিব করুন।

জেনে রাখুন যে, রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা তা ছিনিয়ে নেন। আর ক্ষমতা ও নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের ওপর নেয়ামত পরিবর্তিত হওয়া এবং আল্লাহর শাস্তি নেমে আসা অন্য কারো তুলনায় অনেক বেশি দ্রুততর হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
فِي الدولة إِذا كفرُوا بِنِعْمَة اللَّهِ وإحسانه واستطالوا بِمَا آتَاهُم اللَّهِ من فَضله. ودع عَنْك شرة نَفسك ولتكن ذخائرك وكنوزك الَّتِي تذخر وتكنز الْبر وَالتَّقوى والمعدلة واستصلاح الرّعية وَعمارَة بِلَادهمْ، والتفقد لأمورهم، وَالْحِفْظ لدهمائهم، والإغاثة لملهوفهم.

وَأعلم أَن الْأَمْوَال إِذا كثرت وذخرت فِي الخزائن لَا تثمر، وَإِذا كَانَت فِي صَلَاح الرّعية وَإِعْطَاء حُقُوقهم، وكف المؤونة عَنْهُم نمت، وزكت، وصلحت بِهِ الْعَامَّة، وتزينت بِهِ الْوُلَاة، وطاب بِهِ الزَّمَان، وأعقب فِيهِ الْعِزّ والمنعة. فَلْيَكُن أَكثر خزائنك تَفْرِيق الْأَمْوَال فِي عمَارَة الْإِسْلَام وَأَهله، ووفر مِنْهُ على أَوْلِيَاء أَمِير الْمُؤمنِينَ قبلك حُقُوقهم، وأوف رعيتك من ذَلِك حصصهم، وتعهد مَا يصلح أُمُورهم ومعايشهم فَإنَّك إِذا فعلت ذَلِك قرت النِّعْمَة عَلَيْك، وأستوجبت الْمَزِيد من اللَّهِ. وَكنت بذلك على جباية خراجك وَجمع أَمْوَال رعيتك وعملك أقدر، وَكَانَ الْجمع لما شملهم من عدلك وإحسانك أسلس لطاعتك، وَأطيب أنفسا لكل مَا أردْت فأجهد نَفسك فِيمَا حددت لَك فِي هَذَا الْبَاب، ولتعظم خشيتك فِيهِ فَإِنَّمَا يبْقى من المَال مَا أنْفق فِي سَبِيل حَقه. وَأعرف للشاكرين شكرهم وأثبهم عَلَيْهِ، وأياك أَن تنسيك الدُّنْيَا وغرورها هول الْآخِرَة فتتهاون بِمَا يحِق عَلَيْك فَإِن التهاون يُورث التَّفْرِيط، والتفريط يُورث الْبَوَار، وَليكن عَمَلك لله وَفِيه تَعَالَى وأرج الثَّوَاب فَإِن اللَّهِ قد أَسْبغ عَلَيْك نعْمَته وَأظْهر عَلَيْك فَضله فاعتصم بالشكر وَعَلِيهِ فاعتمد يزدك اللَّهِ خيرا وإحسانا، فَإِن اللَّهِ يثيب بِقدر شكر الشَّاكِرِينَ، وسيرة الْمُحْسِنِينَ، وأقض الْحق فِيمَا حمل من النَّعيم وألبس من الْعَافِيَة والكرامة. وَلَا تحقرن ذَنبا، وَلَا تمايلن حَاسِدًا، وَلَا ترحمن فأجرا وَلَا تصلن كفورا، وَلَا تداهنن عدوا، وَلَا تصدقن نماما. وَلَا تأتمنن غدارا. وَلَا توالين فَاسِقًا، وَلَا تتبعن غاويا وَلَا تحمدن مرائيا، وَلَا تجفون أنسانا، وَلَا تردن سَائِلًا فَقِيرا، وَلَا تجيبن بَاطِلا وَلَا تلاحظن مضحكا، وَلَا تخلفن وَعدا وَلَا ترهبن فخرا، وَلَا تعملن غَضبا، وَلَا
রাষ্ট্রে যখন তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় এবং আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে যা দান করেছেন তা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করে। তুমি তোমার নফসের অনিষ্টতা ত্যাগ করো। আর তোমার সঞ্চিত সম্পদ ও ভাণ্ডার যেন হয় পুণ্য, তাকওয়া, ইনসাফ, প্রজাসাধারণের সংশোধন, তাদের জনপদ আবাদ করা, তাদের বিষয়াদি তদারকি করা, সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা এবং আর্তমানবতার আর্তনাদ শোনা।

জেনে রেখো, সম্পদ যখন অধিক হয় এবং রাজকোষে সঞ্চিত থাকে, তখন তা ফলপ্রসূ হয় না। কিন্তু যখন তা প্রজাসাধারণের কল্যাণে, তাদের অধিকার আদায়ে এবং তাদের কষ্ট লাঘবে ব্যয় করা হয়, তখন তা বৃদ্ধি পায়, পবিত্র হয় এবং এর মাধ্যমে জনসাধারণের অবস্থা সংশোধিত হয়। এর দ্বারা শাসকরা সুশোভিত হয়, সময় মনোরম হয় এবং তা সম্মান ও শক্তি বয়ে আনে। সুতরাং তোমার ভাণ্ডারের অধিকাংশ যেন ব্যয় হয় ইসলামের আবাদ ও তার অনুসারীদের তরে। আমীরুল মুমিনীনের নিকট তোমার পূর্বে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল তাদের হকসমূহ প্রদান করো এবং প্রজাদের পাওনা হিস্যা বুঝিয়ে দাও। তাদের বিষয়াদি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করো। কেননা তুমি যদি তা করো, তবে তোমার ওপর নেয়ামত স্থায়ী হবে এবং তুমি আল্লাহর নিকট থেকে অতিরিক্ত অনুগ্রহ লাভের যোগ্য হবে। এর ফলে তুমি তোমার খেরাজ আদায় এবং প্রজাদের নিকট থেকে সম্পদ সংগ্রহের কাজে অধিকতর সক্ষম হবে। তোমার ইনসাফ ও ইহসান যখন তাদের ঘিরে রাখবে, তখন তারা তোমার আনুগত্যে অধিকতর সহজপ্রবৃত্ত হবে এবং তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তাদের মন অধিক প্রফুল্ল থাকবে। অতএব, এ বিষয়ে আমি তোমার জন্য যা নির্ধারণ করে দিয়েছি তাতে সচেষ্ট হও এবং এতে আল্লাহর প্রতি তোমার ভয় যেন সুমহান হয়। কারণ সম্পদের কেবল সেটুকুই অবশিষ্ট থাকে, যা তার হকের পথে ব্যয় করা হয়। আর কৃতজ্ঞদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো এবং তাদের প্রতিদান দাও। সাবধান! দুনিয়া ও এর প্রতারণা যেন তোমাকে আখেরাতের ভয়াবহতা ভুলিয়ে না দেয়, যার ফলে তুমি তোমার ওপর অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা করো। কেননা অবহেলা শৈথিল্য ডেকে আনে এবং শৈথিল্য ধ্বংস অনিবার্য করে। তোমার আমল যেন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাঁরই কাছে সওয়াব প্রত্যাশা করো। কেননা আল্লাহ তোমার ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন এবং তোমার ওপর তাঁর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সুতরাং কৃতজ্ঞতাকে আঁকড়ে ধরো এবং তাঁর ওপরই ভরসা করো, আল্লাহ তোমার কল্যাণ ও অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেবেন। কেননা আল্লাহ কৃতজ্ঞদের কৃতজ্ঞতা এবং পুণ্যবানদের কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিদান দান করেন। তোমাকে যে নেয়ামত দান করা হয়েছে এবং সুস্থতা ও মর্যাদার যে পোশাক পরানো হয়েছে, তার হক আদায় করো। কোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করো না, কোনো হিংসুককে প্রশ্রয় দিও না, কোনো পাপাচারীর প্রতি দয়া করো না এবং কোনো অকৃতজ্ঞের সাথে সম্পর্ক রেখো না। শত্রুর সাথে তোষামোদ করো না এবং কোনো চোগলখোরকে বিশ্বাস করো না। কোনো প্রতারককে আমানতদার বানিও না। কোনো ফাসেককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, কোনো পথভ্রষ্টের অনুসরণ করো না এবং কোনো রিয়াকার বা লোকদেখানো ব্যক্তির প্রশংসা করো না। কোনো মানুষের সাথে রূঢ় আচরণ করো না, কোনো অভাবী যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দিও না, কোনো বাতিলের আহবানে সাড়া দিও না এবং কোনো বিদ্রূপকারীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করো না। ওয়াদা খেলাফ করো না, কোনো দম্ভ দেখে ভীত হয়ো না, রাগান্বিত অবস্থায় কোনো কাজ করো না এবং
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
تأتين بذخا، وَلَا تمشين مرحا، وَلَا تركبن سفها، وَلَا تفرطن فِي طلب الْآخِرَة وَلَا تدفع الأيامي عباسا، وَلَا تغمض عَن ظَالِم رهبة مِنْهُ ومحاباه، وَلَا تَطْلُبن ثَوَاب الْآخِرَة فِي الدُّنْيَا وَأكْثر مُشَاورَة الْفُقَهَاء، وَاسْتعْمل نَفسك بالحلم، وَخذ عَن أهل التجارب وَذَوي الْعقل والرأي وَالْحكمَة، وَلَا تدخلن فِي مشورتك أهل الدقة وَالْبخل، وَلَا تسمعن لَهُم قولا، فَإِن ضررهم أَكثر من منفعتهم، وَلَيْسَ شَيْء أسْرع فَسَادًا لما اسْتقْبلت فِي أَمر رعيتك من الشُّح، وَأعلم أَنَّك إِذا كنت حَرِيصًا كنت كثير الْأَخْذ، قَلِيل الْعَطِيَّة، وَإِذا كنت كَذَلِك لم يستقم لَك أَمرك إِلَّا قَلِيلا فَإِن رعيتك إِنَّمَا تعتقد على محبتك بالكف عَن أَمْوَالهم، وَترك الْجور عَلَيْهِم، ويدوم صفاء أوليائك لَك بالإفضال عَلَيْهِم، وَحسن الْعَطِيَّة لَهُم، وأجتنب الشُّح وَاعْلَم أَنه أول مَا عصى بِهِ الْإِنْسَان ربه وَإِن العَاصِي منزله خزي وَهُوَ قَول اللَّهِ عز وجل فِي كِتَابه: {وَمن يُوقَ شح نَفسه فَأُولَئِك هم المفلحون} فسهل طَرِيق الْجُود بِالْحَقِّ، وَاجعَل للْمُسلمين كلهم من نيتك حظا ونصيبا، وأيقن أَن الْجُود أفضل أَعمال الْعباد، وأعدد لنَفسك خلقا وَأَرْض بِهِ عملا ومذهبا، وتفقد أُمُور الْجند فِي دواوينهم ومكاتبهم، وأدرر عَلَيْهِم أَرْزَاقهم ووسع عَلَيْهِم فِي مَعَايشهمْ يذهب اللَّهِ بذلك فاقتهم، ويقوى لَك أَمرهم، وَيزِيد بِهِ قُلُوبهم فِي طَاعَتك وأمرك اخلاصا وانشراحا، وَحسب ذِي السُّلْطَان من السَّعَادَة أَن يكون على جنده ورعيته ذَا رَحْمَة فِي عدله، وحيطته، وإنصافه، وعنايته، وشفقته، وبره وتوسعته. فزايل مَكْرُوه أحد الْبَابَيْنِ بإستشعار فَضِيلَة الْبَاب الآخر، وَلُزُوم الْعلم بِهِ تلق إِن شَاءَ اللَّهِ نجاحا، وصلاحا، وفلاحا.

وَاعْلَم أَن الْقَضَاء من اللَّهِ بِالْمَكَانِ الَّذِي لَيْسَ بِهِ شَيْء من الْأُمُور لِأَنَّهُ ميزَان اللَّهِ الَّذِي يعتدل عَلَيْهِ أَحْوَال الْجَمِيع فِي الأَرْض وبإقامة الْعدْل فِي الْقَضَاء وَالْعَمَل تصلح الرّعية، وتأمن السبل، وينتصف الْمَظْلُوم؛ وَيَأْخُذ النَّاس حُقُوقهم، وتحسن الْمَعيشَة وَيُؤَدِّي حق الطَّاعَة، ويرزق اللَّهِ الْعَافِيَة والسلامة، وَيقوم الدّين، وتجرى السّنَن

অহংকার প্রদর্শন করো না, দম্ভভরে পথ চলো না এবং মূর্খতাসুলভ কোনো কাজে লিপ্ত হয়ো না। আখিরাত অন্বেষণে শিথিলতা করো না এবং অভাবী ও নিঃস্বদের ভ্রুকুটি করে ফিরিয়ে দিও না। কোনো জালেমের ভয়ে বা তার প্রতি পক্ষপাতবশত তার থেকে চক্ষু বন্ধ করে থেকো না। দুনিয়ার মোহে আখিরাতের সওয়াব অন্বেষণ করো না এবং ফুকাহাদের সাথে অধিক পরিমাণে পরামর্শ করো। নিজেকে ধৈর্য ও সহনশীলতায় অভ্যস্ত করো। যারা অভিজ্ঞ, বুদ্ধিমান, বিজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাবান তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। তোমার পরামর্শ সভায় সংকীর্ণমনা ও কৃপণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করো না এবং তাদের কোনো কথা শোনো না; কারণ তাদের উপকার অপেক্ষা ক্ষতিই বেশি। তোমার প্রজাসাধারণের বিষয়াবলী পরিচালনার ক্ষেত্রে কৃপণতার চেয়ে দ্রুত অনিষ্টকারী আর কিছুই নেই। জেনে রেখো, তুমি যদি অতি লোভী হও তবে তুমি হবে অধিক গ্রহণকারী এবং সামান্য দানকারী। আর তুমি যদি এরূপ হও তবে তোমার শাসনব্যবস্থা খুব অল্প সময়ই সুদৃঢ় থাকবে। কেননা তোমার প্রজারা তোমার প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা পোষণ করবে কেবল তাদের সম্পদের প্রতি তোমার নির্লোভ মনোভাব এবং তাদের ওপর জুলুম বর্জন করার কারণেই। আর তোমার হিতাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিকতা তোমার প্রতি অটুট থাকবে তাদের ওপর তোমার অনুগ্রহ এবং উত্তম উপঢৌকনের মাধ্যমে। কৃপণতা বর্জন করো এবং জেনে রেখো, এটিই প্রথম পাপ যার মাধ্যমে মানুষ তার রবের নাফরমানি করেছে। আর নাফরমান ব্যক্তির আবাসস্থল হলো লাঞ্ছনা; যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: "যাদেরকে অন্তরের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।" সুতরাং হকের সাথে উদারতার পথ প্রশস্ত করো এবং তোমার নিয়তে সকল মুসলিমের জন্য অংশ ও বরাদ্দ রাখো। দৃঢ় বিশ্বাস রেখো যে, বদান্যতা হলো বান্দার সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। নিজের জন্য একে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গ্রহণ করো এবং একে নিজের কর্মপদ্ধতি ও আদর্শ হিসেবে পছন্দ করো। সৈন্যদের দপ্তরে ও কার্যালয়ে তাদের খবরাখবর নাও, তাদের জন্য পর্যাপ্ত রিযিকের ব্যবস্থা করো এবং তাদের জীবনযাত্রায় সচ্ছলতা আনো। এর ফলে আল্লাহ তাদের অভাব দূর করবেন, তোমার জন্য তাদের আনুগত্য সুসংহত হবে এবং তোমার নির্দেশের প্রতি তাদের অন্তরে ইখলাস ও প্রশান্তি বৃদ্ধি পাবে। একজন শাসকের সৌভাগ্যের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে তার সৈন্য ও প্রজাদের প্রতি ন্যায়বিচার, হেফাযত, ইনসাফ, যত্ন, মমতা, সদাচার ও উদারতার ক্ষেত্রে দয়ালু হবে। সুতরাং কোনো একটি মন্দ দিককে অপরটির শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের মাধ্যমে দূর করো এবং এর ওপর অবিচল থাকো, তবেই ইনশাআল্লাহ তুমি কামিয়াবি, কল্যাণ ও সফলতা লাভ করবে।

জেনে রেখো, আল্লাহর কাছে বিচারব্যবস্থার মর্যাদা এমন এক উচ্চতায় যেখানে অন্য কোনো বিষয় পৌঁছাতে পারে না। কারণ এটি আল্লাহর সেই মানদণ্ড যার ওপর পৃথিবীতে সকলের অবস্থা ভারসাম্য লাভ করে। বিচারকার্য ও কর্মে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রজাসাধারণের সংশোধন ঘটে, পথসমূহ নিরাপদ হয়, মজলুমের প্রতি সুবিচার করা হয়, মানুষ তাদের পাওনা অধিকার বুঝে পায়, জীবনমান উন্নত হয়, আনুগত্যের হক আদায় হয়, আল্লাহ আফিয়াত ও নিরাপত্তা দান করেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সুন্নাহসমূহ পরিচালিত হয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣١)
والشرائع. وعَلى مجاريها يتجز الْحق وَالْعدْل فِي الْقَضَاء. وَاشْتَدَّ فِي أَمر اللَّهِ، وتورع عَن النطف، وامض لإِقَامَة الْحُدُود، وأقلل العجلة، وَأبْعد من الضجر والقلق، وأقنع بالقسم، ولتسكن رِيحك، ويقر جدك، وانتفع بتجربتك وانتبه فِي صمتك وأسدد فِي منطقك، وأنصف الْخصم، وقف عِنْد الشُّبْهَة، وابلغ فِي الْحجَّة، وَلَا يأخذك فِي أحد من رعيتك مُحَابَاة، وَلَا محاماة وَلَا لومة لائم، وَتثبت وتأن، وراقب، وَانْظُر وتدبر وتفكر وَاعْتبر وتواضع لِرَبِّك وارأف بِجَمِيعِ الرّعية وسلط الْحق على نَفسك وَلَا تسرعن إِلَى سفك دم فَإِن الدِّمَاء من الله بمَكَان عَظِيم انتهاكا لَهَا بِغَيْر حَقّهَا وَأنْظر هَذَا الْخراج الَّذِي قد استقامت عَلَيْهِ

الرّعية وَجعله الله لِلْإِسْلَامِ عزا وَرَفعه ولأهله سَعَة ومنعة ولعدوه وعدوهم كبتا وغيظا، وَلأَهل الْكفْر من معاهدتهم ذلا وصغارا، فوزعه بَين أَصْحَابه بِالْحَقِّ وَالْعدْل والنسوية، والعموم فِيهِ. وَلَا ترفعن مِنْهُ شَيْئا عَن شرِيف لشرفه، وَلَا عَن غَنِي لغناه، وَلَا عَن كَاتب لَك، وَلَا أحد من خاصتك، وَلَا تأخذن مِنْهُ فَوق الِاحْتِمَال لَهُ، وَلَا تكلفن امرا فِيهِ شطط، واحمل النَّاس كلهم على أَمر الْحق، فَإِن ذَلِك أجمع لألفتهم والزم لرضى الْعَامَّة.

وَأعلم أَنَّك جعلت بولايتك خَازِنًا، وحافظا، وراعيا وَإِنَّمَا سمي أهل عَمَلك رعيتك لِأَنَّك راعيهم وقيمهم تَأْخُذ مِنْهُم مَا أعطوك من عفوهم ومقدرتهم، وتنفقه فِي قوام أَمرهم وصلاحهم، وتقويم أودهم فأستعمل عَلَيْهِم فِي كور عَمَلك ذَوي الرَّأْي وَالتَّدْبِير، والتجربة، والخبرة بِالْعَمَلِ، وَالْعلم بالسياسة والعفاف ووسع عَلَيْهِم فِي الرزق فَإِن ذَلِك من الْحُقُوق اللَّازِمَة لَك فِيمَا تقلدت وَأسْندَ إِلَيْك، وَلَا يشغلنك عَنهُ شاغل، وَلَا يصرفنك عَنهُ صَارف فَإنَّك مَتى آثَرته وَقمت فِيهِ بِالْوَاجِبِ استدعيت بِهِ زِيَادَة النِّعْمَة من رَبك، وَحسن الأحدوثة فِي عَمَلك وأحترزت الْمحبَّة من رعيتك وأعنت على الْإِصْلَاح فَدرت الْخيرَات ببلدك، وفشت الْعِمَارَة بناحيتك، وَظهر الخصب فِي كورك، فَكثر خراجك، وتوفرت أموالك، وقويت بذلك على ارتباط
এবং শরীয়তসমূহ। আর সেগুলোর পথেই বিচারের ক্ষেত্রে সত্য ও ন্যায় ইনসাফ বাস্তবায়িত হয়। আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে কঠোর হোন এবং যাবতীয় কলুষতা ও অসাধুতা থেকে বেঁচে থাকুন। হদসমূহ কায়েম করতে সচেষ্ট হোন, তাড়াহুড়ো কমিয়ে দিন, বিরক্তি ও অস্থিরতা থেকে দূরে থাকুন। বন্টনে তুষ্ট থাকুন, আপনার মেজাজকে শান্ত রাখুন, গাম্ভীর্য বজায় রাখুন। আপনার অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হোন, নীরবতায় সচেতন থাকুন এবং আপনার কথাবার্তায় সঠিক কথা বলুন। বিবাদমান পক্ষের প্রতি ন্যায়বিচার করুন, সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে থমকে দাঁড়ান এবং দলীল-প্রমাণে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছান। আপনার প্রজাদের কারো ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি বা কোনো নিন্দুকের নিন্দা যেন আপনাকে প্রভাবিত না করে। অটল থাকুন ও ধৈর্য ধারণ করুন, পর্যবেক্ষণ করুন, লক্ষ্য করুন, গভীরভাবে চিন্তা করুন, অনুধাবন করুন, শিক্ষা গ্রহণ করুন এবং আপনার রবের সামনে বিনয়ী হোন। সকল প্রজাসাধারণের প্রতি দয়াশীল হোন এবং নিজের প্রবৃত্তির ওপর সত্যকে বিজয়ী করুন। রক্তপাতে একদম তাড়াহুড়ো করবেন না, কারণ আল্লাহর কাছে অন্যায়ভাবে রক্তপাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আর এই খরাজ বা ভূমিরাজস্বের দিকে লক্ষ্য রাখুন যার ওপর

প্রজাকুল সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ একে ইসলামের জন্য সম্মান ও উচ্চমর্যাদার মাধ্যম এবং মুসলিমদের জন্য প্রাচুর্য ও নিরাপত্তার উৎস করেছেন। আর একে তাঁর ও তাদের শত্রুদের জন্য লাঞ্ছনা ও ক্ষোভের কারণ এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের জন্য অপমান ও হীনতার মাধ্যম করেছেন। সুতরাং এর প্রাপকদের মধ্যে সত্য, ন্যায়, সমতা ও ব্যাপকতার সাথে তা বন্টন করুন। কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে তার আভিজাত্যের কারণে, কোনো ধনীকে তার ধনবত্তার কারণে, আপনার কোনো লেখককে বা আপনার ঘনিষ্ঠদের কাউকেও এর থেকে রেহাই দেবেন না। আর কারো কাছ থেকে তার সহনসীমার অতিরিক্ত গ্রহণ করবেন না। কোনো বিষয়েই অন্যায্য বোঝা চাপাবেন না। সকল মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করুন, কারণ তা তাদের মধ্যে সংহতি স্থাপনের জন্য অধিক কার্যকর এবং সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টির জন্য অপরিহার্য।

জেনে রাখুন যে, আপনার এই শাসনের মাধ্যমে আপনাকে একজন কোষাধক্ষ্য, রক্ষক ও রাখাল (অভিভাবক) বানানো হয়েছে। আপনার কর্মক্ষেত্রের অধিবাসীদের 'প্রজা' বলা হয় কারণ আপনি তাদের রাখাল ও তত্ত্বাবধায়ক। তারা তাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী যা প্রদান করে আপনি তা গ্রহণ করেন এবং তাদের বিষয়াদির শৃঙ্খলা, কল্যাণ ও অভাব পূরণে তা ব্যয় করেন। সুতরাং আপনার কর্মক্ষেত্রের জেলাগুলোতে বিচক্ষণ, দূরদর্শী, অভিজ্ঞ, কর্মদক্ষ, রাজনীতিতে পারদর্শী এবং সচ্চরিত্রবান ব্যক্তিদের নিয়োগ দিন। তাদের জীবিকার প্রশস্ততা দান করুন, কারণ আপনি যে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তাতে এটি আপনার ওপর অর্পিত আবশ্যকীয় অধিকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কোনো ব্যস্ততা যেন আপনাকে এ থেকে বিমুখ না করে এবং কোনো বিচ্যুতি যেন আপনাকে এ থেকে সরিয়ে না দেয়। কেননা আপনি যখন একে প্রাধান্য দেবেন এবং এতে ওয়াজিব দায়িত্ব পালন করবেন, তখন এর মাধ্যমে আপনি আপনার রবের পক্ষ থেকে নেয়ামত বৃদ্ধি, আপনার কর্মক্ষেত্রে সুখ্যাতি এবং আপনার প্রজাদের ভালোবাসা অর্জন করবেন। আর আপনি সংস্কারের ক্ষেত্রে সাহায্যপ্রাপ্ত হবেন, ফলে আপনার দেশে কল্যাণ প্রবাহিত হবে, আপনার অঞ্চলে জনবসতি ও সমৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়বে, আপনার জেলাগুলোতে উর্বরতা প্রকাশ পাবে, আপনার খরাজ বৃদ্ধি পাবে, আপনার সম্পদ প্রচুর হবে এবং এর মাধ্যমে আপনি সুসম্পর্ক ও ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে শক্তিশালী হবেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
جندك، وإرضاء الْعَامَّة بِإِضَافَة الْعَطاء فيهم من نَفسك، وَكنت مَحْمُود السياسة، ومرضى الْعدْل فِي ذَلِك عِنْد عَدوك، وَكنت فِي أمورك كلهَا ذَا عدل وَقُوَّة، وَآله وعدة، فنافس فِي هَذَا وَلَا تقدم عَلَيْهِ شَيْئا تَجِد مغبة أَمرك إِن شَاءَ اللَّهِ. وَأَجْعَل فِي كل كورة من عَمَلك أَمينا يُخْبِرك أَخْبَار عمالك، وَيكْتب إِلَيْك بسيرهم وأعمالهم حَتَّى كَأَنَّك مَعَ كل عَامل فِي عمله معاين لأموره كلهَا، وَإِن أردْت أَن تَأمره بِأَمْر فَأنْظر فِي عواقب مَا أردْت من ذَلِك فَإِن رَأَيْت السَّلامَة فِيهِ والعافية ورجوت فِيهِ حسن الدفاع والنصح والصنع فأمضيه، وَإِلَّا فتوقف عَنهُ وراجع أهل الْبَصَر وَالْعلم بِهِ. ثمَّ خُذ فِيهِ عدته فَإِنَّهُ رُبمَا نظر الرجل إِلَى أَمر من أمره قد واتاه على مَا يهوى فقواه ذَلِك وَأَعْجَبهُ، وَإِن لم ينظر فِي عواقبه أهلكه وَنقض عَلَيْهِ أمره، فَاسْتعْمل الحزم فِي كل مَا أردْت، وباشره بعد عون الله بِالْقُوَّةِ، واكثر إستخارة رَبك فِي جَمِيع أمورك. وافرغ من عمل يَوْمك وَلَا تؤخره لغدك، وَأكْثر مُبَاشَرَته بِنَفْسِك فَإِن لغد أمورا وحوادث تلهيك عَن عمل يَوْمك الَّذِي أخرت؛ وَأعلم أَن الْيَوْم إِذا مضى ذهب بِمَا فِيهِ، وَإِذا أخرت عمله أجتمع عَلَيْك أُمُور يَوْمَيْنِ فيشغلك ذَلِك حَتَّى تعرض عَنهُ، وَإِذا أمضيت لكل يَوْم عمله أرحت نَفسك؛ وبدنك وأحكمت أُمُور سلطانك، وَانْظُر أَحْرَار النَّاس وَذَوي الشّرف مِنْهُم ثمَّ استيقن صفاء طويتهم وتهذيب مَوَدَّتهمْ لَك؛ ومظاهرتهم بالنصح والمخالصة على أَمرك؛ فأستصلحهم وَأحسن إِلَيْهِم. وتعاهد أهل الببوتات مِمَّن قد دخلت عَلَيْهِم الْحَاجة فَاحْتمل مؤونتهم وَأصْلح حَالهم، حَتَّى لَا يَجدوا لخلتهم مسا، وأفرد نَفسك للنَّظَر فِي أُمُور الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين، وَمن لَا يقدر على رفع مظلمته إِلَيْك؛ والمحتقر الَّذِي لَا علم لَهُ بِطَلَب حَقه فسل عَنهُ أُخْفِي مسَائِله /، ووكل بأمثاله أهل الصّلاح من رعيتك، ومرهم بِرَفْع حوائجهم وحالاتهم إِلَيْك لتنظر فِيهَا بِمَا يصلح اللَّهِ أَمرهم، وتعاهد ذَوي البأساء ويتاماهم وأراملهم وَاجعَل لَهُم أرزاقا من بَيت المَال إقتداء بأمير الْمُؤمنِينَ أعزه اللَّهِ فِي الْعَطف عَلَيْهِم والصلة لَهُم، ليصلح اللَّهِ بذلك عيشهم ويرزقك بِهِ بركَة وَزِيَادَة

আপনার সৈন্যবাহিনী এবং নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত দান প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের সন্তুষ্টি অর্জন; আপনি যেন প্রশংসিত নীতি এবং আপনার শত্রুর নিকট সন্তোষজনক ন্যায়বিচারের অধিকারী হন। আপনি আপনার সকল বিষয়ে ন্যায়বিচার, শক্তি, উপকরণ ও পর্যাপ্ত যুদ্ধসাজে সজ্জিত থাকুন। অতএব, আপনি এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করুন এবং এর ওপর অন্য কিছুকে অগ্রাধিকার দেবেন না, তবেই ইনশাআল্লাহ আপনি আপনার কর্মের শুভ পরিণাম লাভ করবেন। আপনি আপনার শাসনাধীন প্রতিটি জনপদে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি নিযুক্ত করুন, যে আপনাকে আপনার কর্মচারীদের সংবাদ প্রদান করবে এবং তাদের জীবনধারা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে লিখে পাঠাবে; যাতে আপনার মনে হয় যে আপনি প্রতিটি কর্মচারীর কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের সকল বিষয় সচক্ষে পর্যবেক্ষণ করছেন। আপনি যদি কাউকে কোনো নির্দেশ দিতে চান, তবে সেই কাজের পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করুন। যদি তাতে নিরাপত্তা ও কল্যাণ দেখতে পান এবং তাতে উত্তম প্রতিরক্ষা, সদুপদেশ ও সুনিপুণ কার্যসম্পাদনের আশা রাখেন, তবে তা কার্যকর করুন। অন্যথায় তা থেকে বিরত থাকুন এবং বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। কেননা, অনেক সময় মানুষ কোনো বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে যা তার প্রবৃত্তির অনুকূলে থাকে, ফলে তা তাকে শক্তিশালী ও মুগ্ধ করে; কিন্তু যদি সে এর পরিণাম নিয়ে না ভাবে, তবে তা তাকে ধ্বংস করে দেয় এবং তার কাজকে পণ্ড করে দেয়। অতএব, আপনি যা কিছু করতে চান তাতে বিচক্ষণতা অবলম্বন করুন এবং আল্লাহর সাহায্যের পর তা দৃঢ়তার সাথে সম্পাদন করুন। আর আপনার সকল বিষয়ে আপনার রবের নিকট অধিক পরিমাণে কল্যাণ প্রার্থনা করুন। আপনার প্রতিদিনের কাজ সেদিনই শেষ করুন এবং তা আগামীকালের জন্য ফেলে রাখবেন না। আপনি নিজেই অধিকাংশ কাজ সরাসরি তত্ত্বাবধান করুন; কারণ আগামীকালের জন্য এমন কিছু নতুন বিষয় ও ঘটনা রয়েছে যা আপনাকে আজকের সেই বিলম্বিত কাজ থেকে বিমুখ করে দেবে। জেনে রাখুন, একটি দিন যখন অতিবাহিত হয়, তখন তা তার মধ্যকার সব কিছু নিয়েই চলে যায়। আর যদি আপনি তার কাজ বিলম্বিত করেন, তবে আপনার ওপর দুই দিনের কাজ একত্রিত হয়ে যাবে, যা আপনাকে এতোটাই ব্যস্ত করে তুলবে যে আপনি তা থেকে বিমুখ হয়ে পড়বেন। আর যখন আপনি প্রত্যেক দিনের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করবেন, তখন আপনি আপনার মন ও শরীরকে প্রশান্তি দিতে পারবেন এবং আপনার রাজত্বের বিষয়াবলি সুসংহত হবে। আপনি স্বাধীনচেতা ও অভিজাত লোকদের প্রতি দৃষ্টি দিন, অতঃপর তাদের অন্তরের স্বচ্ছতা, আপনার প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং আপনার শাসনকার্যে তাদের সদুপদেশ ও একনিষ্ঠ সহযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন; এরপর তাদের সংশোধন করুন এবং তাদের প্রতি সদাচরণ করুন। আর সেই সব সম্ভ্রান্ত পরিবারের খোঁজখবর নিন যারা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েছে; তাদের ব্যয়ভার বহন করুন এবং তাদের অবস্থার উন্নতি সাধন করুন, যাতে তারা তাদের অভাবের যাতনা অনুভব না করে। আপনি দরিদ্র ও মিসকিনদের বিষয়াবলি এবং যারা আপনার নিকট তাদের অভিযোগ পৌঁছাতে অক্ষম, তাদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করুন। আর সেই অবহেলিত ব্যক্তি যার নিজের অধিকার আদায়ের কোনো জ্ঞান নেই, তার সম্পর্কে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে অনুসন্ধান করুন। এবং এই জাতীয় লোকদের জন্য আপনার প্রজাদের মধ্য থেকে সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান করুন। তাদেরকে নির্দেশ দিন যেন তারা এই অভাবীদের প্রয়োজন ও অবস্থা আপনার নিকট পেশ করে, যাতে আপনি তাদের বিষয়ে আল্লাহ যা কল্যাণকর মনে করেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করতে পারেন। আর দুর্দশাগ্রস্ত লোক, তাদের এতিম ও বিধবাদের খোঁজখবর নিন এবং তাদের জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা করুন; যেন তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সদাচরণ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আমীরুল মুমিনীনকে (আল্লাহ তাকে শক্তিশালী করুন) অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ যেন তাদের জীবনযাত্রা সহজ করে দেন এবং আপনাকে বরকত ও সমৃদ্ধি দান করেন।

(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَأجر للأضراء من بَيت المَال، وَقدم حَملَة الْقُرْآن مِنْهُم والحافظين لأكثره فِي الجراية على غَيرهم، وانصب لمرضى الْمُسلمين دورا تؤويهم، وقواما يرفقونهم؛ وأطباء يعالجون أسقامهم، وأسعفهم بشهواتهم مَا لم يؤد ذَلِك إِلَى سرف فِي بَيت المَال.

وَاعْلَم أَن النَّاس إِن أعْطوا حُقُوقهم، وَأفضل أمانيهم لم يرضهم ذَلِك، وَلم تطب أنفسهم دون رفع حوائجهم إِلَى ولاتهم طَمَعا فِي نيل الزِّيَادَة، وَفضل الترفق مِنْهُم؛ وَرُبمَا برمالمتصفح لأمور النَّاس بِكَثْرَة مَا يرد عَلَيْهِ ويشغل ذهنه وفكره مِنْهَا مَا يَنَالهُ بِهِ مؤونة ومشقة، وَلَيْسَ من يرغب فِي الْعدْل، وَيعرف محَاسِن أُمُوره فِي العاجل، وَفضل ثَوَاب الآجل كَالَّذي يسْتَقْبل مَا يقر بِهِ إِلَى اللَّهِ جلّ وَعز ويلتمس رَحمته بِهِ. وَأكْثر الْإِذْن للنَّاس عَلَيْك، وأبرز لَهُم وَجهك، وَسكن لَهُم أحراسك واخفض لَهُم جناحك، واظهر لَهُم بشرك، ولاين لَهُم فِي الْمَسْأَلَة والمنطق واعطف عَلَيْهِم بجودك وفضلك، وَإِذا أَعْطَيْت فاعط بسماحة وَطيب نفس والتماس للصنيعة وَالْأَجْر غير مكدر وَلَا منان؛ فَإِن الْعَطِيَّة على ذَلِك تِجَارَة مربحة إِن شَاءَ اللَّهِ.

وَاعْتبر بِمَا ترى من أُمُور الدُّنْيَا، وَمن مضى قبلك من أهل السُّلْطَان والرئاسة فِي الْقُرُون الخالية. والأمم البائدة. ثمَّ اعْتصمَ فِي أحوالك كلهَا بِأَمْر اللَّهِ، وَالْوُقُوف عِنْد محبته، وَالْعَمَل بِشَرِيعَتِهِ وسنته، وَإِقَامَة دينه وَكتابه، واجتنب مَا فَارق ذَلِك وَخَالفهُ ودعا إِلَى سخط اللَّهِ، وَأعرف مَا تجمع عمالك من الْأَمْوَال وينفقون مِنْهَا، وَلَا تجمع حَرَامًا وَلَا تنْفق إسرافا، وَأكْثر مجالسة الْعلمَاء ومشاورتهم ومخالطتهم وَليكن أكْرم دخلائك وخاصتك عَلَيْك من إِذا رأى عَيْبا فِيك لم يمنعهُ هيبتك من من إنهاء ذَلِك إِلَيْك فِي سر، وإعلامك مَا فِيهِ من النَّقْص فَإِن أُولَئِكَ أنصح أوليائك ومظاهريك. وَانْظُر عمالك الَّذين بحضرتك وكتابك فوقت لكل رجل مِنْهُم فِي كل يَوْم وقتا يدْخل عَلَيْك فِيهِ بكتبه ومؤامرته وَمَا عِنْده من حوائج عمالك وَأُمُور كورك ورعيتك، ثمَّ فرغ لما يُورِدهُ عَلَيْك من ذَلِك سَمعك وبصرك، وفهمك، وعقلك وَكرر النّظر إِلَيْهِ وَالتَّدْبِير لَهُ، فَمَا كَانَ مُوَافقا للحزم وَالْحق فأمضه واستخر اللَّهِ
তিনি বায়তুল মাল থেকে দৃষ্টিহীনদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করলেন। তাদের মধ্যে যারা কুরআনের বাহক (হাফেজ) এবং যারা এর অধিকাংশের হাফেজ, তাদেরকে ভাতার ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিলেন। মুসলিম রোগীদের জন্য তিনি এমন সব চিকিৎসালয় স্থাপন করলেন যা তাদের আশ্রয় দেবে এবং এমন সেবক নিযুক্ত করলেন যারা তাদের সাথে কোমল আচরণ করবে; আর চিকিৎসকগণ তাদের রোগের চিকিৎসা করবেন। তিনি তাদের প্রয়োজন ও বাসনা পূরণ করলেন যতক্ষণ না তা বায়তুল মালে অপচয়ের কারণ হয়।

জেনে রেখো, মানুষকে যদি তাদের অধিকার এবং তাদের সর্বোচ্চ প্রত্যাশাগুলো পূর্ণ করে দেওয়া হয়, তবুও তারা তাতে সন্তুষ্ট হবে না এবং তাদের অভাব ও অভিযোগগুলো তাদের শাসকদের কাছে পেশ করা ছাড়া তাদের মন শান্ত হবে না—অতিরিক্ত প্রাপ্তি এবং শাসকদের পক্ষ থেকে বিশেষ আনুকূল্য লাভের আশায়। মানুষের বিষয়াদি পর্যালোচনাকারীর কাছে যখন প্রচুর অভিযোগ আসে এবং তার মন ও চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন সে হয়তো মাঝে মাঝে বিরক্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু যে ব্যক্তি ন্যায়বিচারের প্রতি অনুরাগী এবং ইহকালে এর সুফল ও পরকালে এর মহৎ সওয়াব সম্পর্কে অবগত, সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যে আল্লাহ (যিনি প্রতাপান্বিত ও মহিমান্বিত)-র নৈকট্য লাভের বিষয়গুলোকে হাসিমুখে গ্রহণ করে এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত কামনা করে। জনগণের জন্য তোমার দ্বার অবারিত করো, তাদের সামনে তোমার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখো, তাদের জন্য তোমার রক্ষীদের কঠোরতা শিথিল করো, তাদের প্রতি বিনয়ী হও এবং তাদের সামনে তোমার প্রফুল্লতা প্রকাশ করো। প্রশ্ন ও কথোপকথনে তাদের সাথে কোমল হও এবং তোমার উদারতা ও অনুগ্রহ দ্বারা তাদের প্রতি সদয় হও। যখন তুমি কিছু দান করবে, তখন তা উদারতা ও প্রফুল্ল চিত্তে এবং কোনো প্রকার বিরক্তি বা খোটা দেওয়া ছাড়াই সওয়াব ও সদাচরণের আশায় করো। কারণ এভাবে দান করা আল্লাহ চাহেন তো একটি লাভজনক ব্যবসা।

দুনিয়ার বিষয়াদি এবং তোমার পূর্বে বিগত শতাব্দীর শাসক ও নেতৃবর্গ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। অতঃপর তোমার সকল অবস্থায় আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকো, তাঁর সন্তুষ্টির ওপর স্থির থাকো, তাঁর শরিয়ত ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করো এবং তাঁর দ্বীন ও কিতাব কায়েম করো। যা এর থেকে বিচ্যুত ও বিপরীত এবং আল্লাহর ক্রোধ উদ্রেককারী, তা থেকে বিরত থাকো। তোমার কর্মচারীরা কী পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহ করছে এবং কী ব্যয় করছে তা তদারকি করো; কোনো হারাম সম্পদ জমা করো না এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় করো না। আলেমদের মজলিসে অধিক সময় দাও, তাঁদের সাথে পরামর্শ করো এবং তাঁদের সাথে মেলামেশা করো। তোমার ঘনিষ্ঠজন ও বিশেষ পারিষদদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই যেন তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়, যে তোমার মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখলে তোমার প্রভাব-প্রতিপত্তির ভয়ে ভীত না হয়ে গোপনে তা তোমাকে অবহিত করে এবং তোমার দোষগুলো তোমাকে জানিয়ে দেয়। কারণ তারাই তোমার সবচেয়ে হিতৈষী বন্ধু ও সাহায্যকারী। তোমার নিকটস্থ আমিল ও লেখকদের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন একটি সময় নির্দিষ্ট করো, যখন সে তার নথিপত্র, পরামর্শ এবং তোমার অন্যান্য আমিলদের প্রয়োজন ও তোমার প্রদেশ ও প্রজাদের বিষয়াদি নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হবে। অতঃপর তারা তোমার নিকট যা পেশ করবে তার জন্য তোমার শ্রবণ, দর্শন, অনুধাবন ও বিবেককে নিবিষ্ট করো। সেই বিষয়গুলো বারবার পর্যালোচনা ও চিন্তা করো; এরপর যা বিচক্ষণতা ও সত্যের অনুকূল হবে তা বাস্তবায়ন করো এবং আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করো।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
فِيهِ وَمَا كَانَ مُخَالفا ذَلِك فاصرفه إِلَى التثبت فِيهِ، وَالْمَسْأَلَة عَنهُ، وَلَا تمنن على رعيتك وَلَا غَيرهم بِمَعْرُوف تَأتيه إِلَيْهِم، وَلَا تقبل من أحد مِنْهُم إِلَّا الْوَفَاء والاستقامة والعون فِي أُمُور أَمِير الْمُؤمنِينَ، وَلَا تصنعن الْمَعْرُوف إِلَّا على ذَلِك. وتفهم كتابي إِلَيْك وَأكْثر النّظر فِيهِ وَالْعَمَل بِهِ، واستعن بِاللَّه على جَمِيع أمورك واستخره فَإِن اللَّهِ جلّ وَعز مَعَ الصّلاح وَأَهله، وَليكن أعظم سيرتك، وَأعظم رغبتك مَا كَانَ لله جلّ وَعز رَضِي، ولدينه نظاما، ولأهله عزا وتمكينا، وللملة والذمة عدلا وصلاحا، وَأَنا أسأَل اللَّهِ أَن يحسن عونك، وتوفيقك، ورشدك، وكلاءتك. وَأَن ينزل عَلَيْك فَضله وَرَحمته بِتمَام فَضله عَلَيْك وكرامته لَك حَتَّى يجعلك أفضل أمثالك نَصِيبا، وأوفرهم حظا، وأسناهم ذكرا وأمرا، وَأَن يهْلك عَدوك، وَمن ناو أك وبغى عَلَيْك ويرزقك من رعيتك الْعَافِيَة، ويحجز الشَّيْطَان عَنْك ووساوسه حَتَّى يستعلى أَمرك بالعز وَالْقُوَّة والتوفيق إِنَّه قريب مُجيب.

قَالَ: وَلما عهد طَاهِر بن الْحُسَيْن إِلَى عبد اللَّهِ ابْنه هَذَا الْعَهْد تنازعه النَّاس وكتبوه وتدارسوه، وشاع أمره حَتَّى بلغ الْمَأْمُون فَدَعَا بِهِ وَقُرِئَ عَلَيْهِ وَقَالَ: مَا بقى أَبُو الطّيب شَيْئا من أَمر الدّين وَالدُّنْيَا، وَالتَّدْبِير والرأى، والسياسة وَإِصْلَاح الْملك، والرعية وَحفظ الْبيعَة، وَطَاعَة الْخُلَفَاء وتقويم الْخلَافَة إِلَّا وَقد أحكمه وَأوصى بِهِ وَتقدم فِيهِ. وَأمر أَن يكْتب بذلك إِلَى جَمِيع الْعمَّال فِي نواحي الْأَعْمَال. وَتوجه عبد اللَّهِ إِلَى عمله فَسَار بسيرته وَاتبع أمره وَعمل بِمَا عهد إِلَيْهِ.

وَذكر أَبُو حسان الزيَادي وَغَيره: أَن طَاهِرا لما تولى خُرَاسَان كَانَ خُرُوجه

من بَغْدَاد يَوْم الْأَحَد لليلة بقيت من ذِي الْقعدَة وَكَانَ عَسْكَر قبل ذَلِك بشهرين فَلم يزل مُقيما فِي عسكره حَتَّى خرج فِي هَذَا الْيَوْم، وَإِنَّمَا كَانَ سَبَب ولَايَته أَنه قتل عبد الرَّحْمَن المطوعي الحرورى بِغَيْر أَمر والى خُرَاسَان فتخوفوا أَن يكون لذَلِك أصل وَكَانَ وَالِي خُرَاسَان غَسَّان بن عباد ابْن عَم الْفضل بن سهل
এতে যা আছে এবং এর যা কিছু বিপরীত হবে, তা যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দিকে ফিরিয়ে নাও। তোমার প্রজাদের বা অন্য কারো প্রতি কোনো অনুগ্রহ করলে তার খোঁটা দিও না। আর আমীরুল মুমিনীনের কার্যাবলিতে আনুগত্য, সততা এবং সহযোগিতা ব্যতীত তাদের কারো থেকে অন্য কিছু গ্রহণ করো না এবং এই শর্ত ব্যতিরেকে কারো প্রতি অনুগ্রহ করো না। তোমার প্রতি লেখা আমার এই পত্রটি হৃদয়ঙ্গম করো এবং এটি অধিক পর্যালোচনাসহ তদনুযায়ী আমল করো। তোমার সকল কাজে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং তাঁর কাছে কল্যাণ ভিক্ষা করো; কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ পুণ্য ও পুণ্যবানদের সাথে থাকেন। তোমার সর্বোত্তম আদর্শ এবং তোমার সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা যেন হয় তা-ই, যাতে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে, যা তাঁর দ্বীনের জন্য শৃঙ্খলাস্বরূপ, তাঁর অনুসারীদের জন্য মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠা স্বরূপ এবং মিল্লাত ও জিম্মিদের জন্য ইনসাফ ও কল্যাণস্বরূপ। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি তোমার সাহায্য, তাওফীক, হেদায়াত ও রক্ষণাবেক্ষণকে সুন্দর করেন। তিনি যেন তোমার ওপর তাঁর করুণা ও রহমত বর্ষণ করেন এবং তোমার ওপর তাঁর অনুগ্রহ ও সম্মান পূর্ণ করেন, যাতে তিনি তোমাকে তোমার সমকক্ষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অংশীদার, অধিক ভাগ্যবান এবং সুউচ্চ খ্যাতি ও মর্যাদার অধিকারী করেন। তিনি যেন তোমার শত্রুকে এবং যে তোমার বিরোধিতা ও তোমার ওপর সীমালঙ্ঘন করে তাকে ধ্বংস করেন; তোমাকে তোমার প্রজাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দান করেন এবং শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থেকে তোমাকে রক্ষা করেন, যাতে তোমার কর্তৃত্ব মর্যাদা, শক্তি ও তাওফীকের সাথে সমুন্নত হয়। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে এবং প্রার্থনা কবুলকারী।

বর্ণনাকারী বলেন: যখন তাহির বিন আল-হুসাইন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর প্রতি এই অসিয়তনামা প্রদান করলেন, তখন মানুষ তা পাওয়ার জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করল, তারা এটি লিপিবদ্ধ করল এবং তা নিয়ে পাঠচক্র পরিচালনা করল। এর সুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়ল যে তা খলিফা আল-মামুনের নিকট পৌঁছাল। তিনি এটি তলব করলেন এবং তাঁর সামনে তা পাঠ করা হলো। তিনি বললেন: আবু তাইয়্যেব (তাহির) দ্বীন ও দুনিয়া, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞা, রাজনীতি ও রাজত্বের সংশোধন, প্রজা ও বায়আতের সুরক্ষা, খলিফাদের আনুগত্য এবং খেলাফতের সংস্কারের বিষয়ে এমন কিছুই বাকি রাখেননি যা তিনি সুদৃঢ়ভাবে বর্ণনা করেননি এবং সে বিষয়ে অসিয়ত ও নির্দেশনা প্রদান করেননি। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন সাম্রাজ্যের সকল অঞ্চলের কর্মকর্তাদের কাছে এই পত্রটি অনুলিপি করে পাঠানো হয়। আবদুল্লাহ তাঁর কর্মস্থলের দিকে যাত্রা করলেন এবং পিতার প্রদর্শিত পথ ও নির্দেশ অনুসরণ করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে লাগলেন।

আবু হাসসান আল-জিয়াদি ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে: তাহির যখন খুরাসানের শাসনভার লাভ করেন, তখন যিলকদ মাসের একদিন বাকি থাকতে রবিবার দিন তিনি বাগদাদ থেকে রওয়ানা হন। এর দুই মাস পূর্ব থেকেই তাঁর বাহিনী প্রস্তুত ছিল এবং রওয়ানা হওয়ার দিন পর্যন্ত তিনি তাঁর সেনাশিবিরে অবস্থান করছিলেন। তাঁর এই দায়িত্ব লাভের কারণ ছিল এই যে, তিনি খুরাসানের গভর্নরের নির্দেশ ব্যতিরেকেই আবদুর রহমান আল-মুতাউয়ি আল-হারুরিকে হত্যা করেছিলেন। এতে তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে এর কোনো গভীর ভিত্তি থাকতে পারে। তৎকালীন খুরাসানের গভর্নর ছিলেন ফজল বিন সহলের চাচাতো ভাই গাসসান বিন আব্বাদ।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَقَالَ مُحَمَّد بن مُوسَى الْخَوَارِزْمِيّ المنجم: عقد الْمَأْمُون لِوَاء ذِي اليمينين طَاهِر ابْن الْحُسَيْن على الغرب كُله بعد قدومه مَدِينَة السَّلَام بِشَهْر، وَكَانَ طَاهِر كلم الْمَأْمُون فِي لِبَاس الخضرة فطرحها بعد دُخُوله بَغْدَاد بِثمَانِيَة أَيَّام، وَلما تولى طَاهِر بِبَغْدَاد الشرطة لإحدى عشرَة لَيْلَة بقيت من ذِي الْقعدَة. ثمَّ ولى طَاهِر خُرَاسَان فِي سنة خمس وَمِائَتَيْنِ فِي ذِي الْقعدَة وَخرج طَلْحَة بن طَاهِر على مقدمته إِلَى خُرَاسَان؛ ثمَّ كَانَ خُرُوجه من بَغْدَاد إِلَى خُرَاسَان فِي ذِي الْحجَّة، وَكَانَ خُرُوج أبي الْعَبَّاس عبد اللَّهِ بن طَاهِر بعد خُرُوج طَاهِر إِلَى خُرَاسَان إِلَى الجزيرة لمحاربة نصر بن شبث الْعقيلِيّ، وَكَانَ ظفر عبد اللَّهِ بن طَاهِر بنصر بن شبث وادخاله مَدِينَة السَّلَام يَوْم الِاثْنَيْنِ لِلنِّصْفِ من رَجَب سنة تسع وَمِائَتَيْنِ.

قَالَ الْقَاسِم بن سعيد: سَمِعت الْفضل بن مَرْوَان يَقُول ركب طَاهِر بن الْحُسَيْن وَيحيى بن معَاذ، وَأحمد بن أبي خَالِد يَوْمًا من الْأَيَّام بعد دُخُول الْمَأْمُون بَغْدَاد حراقة وعصفت عَلَيْهِم الرّيح عصوفا شَدِيدا وَقد قربوا من دَار أبي إِسْحَاق فَقَالُوا: نخرج إِلَى أبي إِسْحَاق فَإِن الرّيح قد منعتنا من السّير. قَالَ: فَخَرجُوا إِلَى أبي إِسْحَاق فَقَامَتْ عَلَيْهِ الْقِيَامَة لمفاجأتهم اياه. قَالَ: وَلم يكن تغدى بعد فوظيفته على حَالهَا قَالَ الْفضل: فوجهت فِي الإزدياد، وَأمرت بطبق صَغِير فِيهِ رغيف أَو اثْنَان وفروج وَمَا أشبه ذَلِك فَوضع بَين أَيْديهم ليتشاغلوا بِهِ إِلَى أَن يدْرك مَا تقدّمت فِي تهيئته. قَالَ: فَقَالَ أَحْمد بن أبي خَالِد: لَيْسَ هَذَا وَقت طَعَام ارْفَعُوا هَذَا السَّاعَة. فَقَالَ طَاهِر: أما إِذْ كَانَ هَذَا لَيْسَ وَقت طَعَام لِأَحْمَد بن يزِيد فَلَيْسَ وَقت طعامنا نَحن إِلَّا بعد ثَلَاثَة أَيَّام. قَالَ: ثمَّ أدْرك الطَّعَام فَكَانَ الْأَمر جميلا جدا. وَبلغ الْمَأْمُون فَسَأَلَ أَبَا اسحاق عَنهُ. فَأخْبرهُ فَجعل يَقُول: لقد احتال الْفضل وملح طَاهِر.
জ্যোতির্বিজ্ঞানী মুহাম্মদ বিন মুসা আল-খাওয়ারিজমি বলেন: খলিফা আল-মামুন 'মদিনাতুস সালামে' (বাগদাদ) পৌঁছানোর এক মাস পর যুল-ইয়ামিনাইন তাহির ইবনে আল-হুসাইনকে সমগ্র পশ্চিম অঞ্চলের অধিপতি নিযুক্ত করেন। তাহির আল-মামুনের সাথে সবুজ পোশাক পরিধানের বিষয়ে কথা বলেছিলেন, তাই বাগদাদে প্রবেশের আট দিন পর তিনি তা পরিত্যাগ করেন। যখন তাহির বাগদাদের পুলিশের (শুরতাহ) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন যুল-কাদা মাসের এগারো রাত অবশিষ্ট ছিল। এরপর ২০৫ হিজরি সালের যুল-কাদা মাসে তাহির খোরাসানের গভর্নর নিযুক্ত হন এবং তালহা বিন তাহির তার অগ্রবর্তী বাহিনী নিয়ে খোরাসানের পথে বের হন। এরপর যুল-হিজ্জা মাসে বাগদাদ থেকে খোরাসানের উদ্দেশ্যে তার প্রস্থান ঘটে। তাহিরের খোরাসান যাত্রার পর আবু আব্বাস আবদুল্লাহ বিন তাহির জাজিরা অভিমুখে রওয়ানা হন নাসর বিন শাবাস আল-উকাইলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। নাসর বিন শাবাসের বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ বিন তাহিরের বিজয় এবং তাকে ২০৯ হিজরি সালের রজব মাসের মাঝামাঝি এক সোমবারে মদিনাতুস সালামে নিয়ে আসা হয়।

কাসিম বিন সাঈদ বলেন: আমি ফজল বিন মারওয়ানকে বলতে শুনেছি যে, আল-মামুন বাগদাদে প্রবেশের পর একদিন তাহির ইবনে আল-হুসাইন, ইয়াহইয়া বিন মুআয এবং আহমদ বিন আবি খালিদ একটি ছোট নৌকায় চড়ে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তাদের ওপর প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেল। তখন তারা আবু ইসহাকের বাড়ির কাছাকাছি ছিলেন। তারা বললেন: "আমরা আবু ইসহাকের বাড়িতে যাই, কারণ বাতাস আমাদের চলাচলে বাধা দিচ্ছে।" তিনি বলেন: তারা আবু ইসহাকের কাছে গেলেন, আর তাদের আকস্মিক আগমনে তিনি অত্যন্ত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। তিনি বলেন: তিনি তখনো দুপুরের খাবার খাননি, ফলে তার নির্ধারিত খাবার প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। ফজল বলেন: আমি আরও খাবারের ব্যবস্থা করতে পাঠালাম এবং একটি ছোট পাত্রে এক বা দুটি রুটি, একটি মুরগির বাচ্চা এবং এই জাতীয় কিছু আনার নির্দেশ দিলাম। এটি তাদের সামনে রাখা হলো যাতে আমি যা প্রস্তুতির আদেশ দিয়েছি তা তৈরি হওয়া পর্যন্ত তারা এটি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন। তিনি বলেন: তখন আহমদ বিন আবি খালিদ বললেন: "এটি খাবারের সময় নয়, এখনই এটি সরিয়ে ফেলুন।" তখন তাহির বললেন: "যদি এটি আহমদ বিন ইয়াযিদের জন্য খাবারের সময় না হয়, তবে আমাদের খাবারের সময় তো আসবে তিন দিন পর।" তিনি বলেন: এরপর মূল খাবার প্রস্তুত হলো এবং আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকার ছিল। আল-মামুন এ খবর পেয়ে আবু ইসহাককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। আবু ইসহাক তাকে সব জানালে তিনি বলতে লাগলেন: "ফজল বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছে আর তাহির চমৎকার রসবোধের পরিচয় দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
‌‌(سيرة الْمَأْمُون بِبَغْدَاد وطرائف من أخباره وأخبار أَصْحَابه، وقواده، وَكتابه، وحجابه)

 

قَالَ جَعْفَر بن مُحَمَّد الْأنمَاطِي: لما دخل الْمَأْمُون بَغْدَاد وقربها قراره وَأمر أَن يدْخل عَلَيْهِ من الْفُقَهَاء، والمتكلمين، وَأهل الْعلم جمَاعَة يختارهم لمجالسته ومحادثته وَكَانَ يقْعد فِي صدر نَهَاره على لبود فِي الشتَاء، وعَلى حصر فِي الصَّيف لَيْسَ مَعَهُمَا شَيْء من سَائِر الْفرش، وَيقْعد للمظالم فِي كل جُمُعَة مرَّتَيْنِ لَا يمْتَنع مِنْهُ أحد. قَالَ: واختير لَهُ من الْفُقَهَاء لمجالسته مائَة رجل فَمَا زَالَ يختارهم طبقَة بعد طبقَة حَتَّى حصل مِنْهُم عشرَة كَانَ أَحْمد بن أبي دَاوُد أحدهم، وَبشر المريسي. قَالَ جَعْفَر بن مُحَمَّد الْأنمَاطِي وَكنت أحدهم. قَالَ: فتغدينا يَوْمًا عِنْده فَظَنَنْت أَنه وضع على الْمَائِدَة أَكثر من ثَلَاثمِائَة لون فَكلما وضع لون نظر الْمَأْمُون إِلَيْهِ فَقَالَ: هَذَا يصلح لكذا وَهَذَا نَافِع لكذا. فَمن كَانَ مِنْكُم صَاحب بلغم ورطوبة فليجتنب هَذَا. وَمن كَانَ صَاحب صفراء فَليَأْكُل من هَذَا، وَمن غلبت عَلَيْهِ السَّوْدَاء فَليَأْكُل من هَذَا، وَمن أحب الزِّيَادَة فِي لَحْمه فَليَأْكُل من هَذَا /، وَمن كَانَ قَصده قلَّة الْغذَاء فليقتصر على هَذَا قَالَ: فوَاللَّه مَا زَالَت تِلْكَ حَاله فِي كل لون يقوم حَتَّى رفعت الموائد. قَالَ: فَقَالَ لَهُ يحيى بن اكثم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ: إِن خضنا فِي الطِّبّ كنت جالينوس فِي مَعْرفَته، أَو فِي النُّجُوم كنت هرمس فِي حسابه، أَو فِي الْفِقْه كنت على بن أبي طَالب صلوَات اللَّهِ عَلَيْهِ فِي علمه، أَو ذكر السخاء فَأَنت فَوق حَاتِم فِي جوده، أَو ذكرنَا صدق الحَدِيث كنت أَبَا ذَر فِي صدق لهجته، أَو الْكَرم كنت كَعْب بن مامة فِي إيثاره على نَفسه قَالَ: فسر بذلك الْكَلَام. وَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّد: إِن الْإِنْسَان إِنَّمَا فضل على غَيره من الْهَوَام بِفِعْلِهِ، وعقله، وتمييزه. وَلَوْلَا ذَلِك لم يكن لحم أطيب من لحم. وَلَا دم أطيب من دم.
(বাগদাদে আল-মামুনের জীবনী এবং তাঁর ও তাঁর সঙ্গী-সাথী, সেনাপতি, লেখক ও দ্বাররক্ষীদের সংবাদ ও চমকপ্রদ ঘটনাবলি)

 

জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-আনমাতি বলেন: আল-মামুন যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তাঁর আবাসস্থল স্থির করলেন, তখন তিনি তাঁর সাথে বসার ও আলোচনার জন্য একদল ফকিহ, মুতাকাল্লিম ও জ্ঞানীদের তাঁর কাছে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন যাদের তিনি নির্বাচন করেছিলেন। তিনি দিনের শুরুতে শীতকালে পশমি গালিচার ওপর এবং গ্রীষ্মকালে পাটির ওপর বসতেন; এ দুটির সাথে অন্য কোনো বিছানা থাকত না। তিনি প্রতি সপ্তাহে দুইবার বিচার কার্যের জন্য বসতেন, কেউ তাঁর কাছে যেতে বাধাগ্রস্ত হতো না। তিনি বলেন: তাঁর সাথে বসার জন্য ফকিহদের মধ্য থেকে একশ জন লোক নির্বাচন করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাদের মধ্য থেকে স্তরে স্তরে যাচাই-বাছাই করতে থাকেন যতক্ষণ না দশজন অবশিষ্ট রইল, যাদের মধ্যে আহমদ ইবনে আবি দাউদ এবং বিশর আল-মারিসি ছিলেন। জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-আনমাতি বলেন, আমিও তাদের একজন ছিলাম। তিনি বলেন: একদিন আমরা তাঁর কাছে দুপুরের খাবার খেলাম, আমার ধারণা হলো দস্তরখানে তিনশটিরও বেশি পদের খাবার রাখা হয়েছে। যখনই কোনো পদের খাবার রাখা হতো, মামুন সেটির দিকে তাকিয়ে বলতেন: এটি অমুক বিষয়ের জন্য উপযোগী এবং এটি অমুক বিষয়ের জন্য উপকারী। তোমাদের মধ্যে যার শ্লেষ্মা ও আর্দ্রতার সমস্যা আছে সে যেন এটি পরিহার করে। যার পিত্তের সমস্যা আছে সে যেন এটি খায়, আর যার ওপর কৃষ্ণপিত্ত প্রবল সে যেন এটি খায়। আর যে নিজের শরীরে মাংস বৃদ্ধি করতে পছন্দ করে সে যেন এটি খায় / এবং যার উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আহার সে যেন এতেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, দস্তরখান উঠিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি পদের খাবারের ক্ষেত্রেই তাঁর এই অবস্থা ছিল। তিনি বলেন: তখন ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম তাঁকে বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন: যদি আমরা চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করি তবে আপনি এর জ্ঞানে জালিনুস, অথবা জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে বললে আপনি এর গণনায় হার্মিস, অথবা ফিকহ নিয়ে বললে আপনি এর জ্ঞানে আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। যদি দানশীলতার কথা উল্লেখ করা হয় তবে আপনি হাতেমের দানশীলতারও ঊর্ধ্বে, অথবা আমরা সত্যবাদিতার কথা বললে আপনি সত্যভাষণে আবু জার, অথবা মহানুভবতার কথা বললে আপনি আত্মত্যাগে কাব ইবনে মামাহ্। তিনি বলেন: মামুন এই কথায় আনন্দিত হলেন এবং বললেন, হে আবু মুহাম্মদ: মানুষ মূলত তার কর্ম, বুদ্ধি এবং বিচারশক্তির মাধ্যমে অন্যান্য প্রাণীকুল থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। যদি তা না হতো, তবে কোনো মাংস অন্য কোনো মাংসের চেয়ে সুস্বাদু হতো না এবং কোনো রক্ত অন্য কোনো রক্তের চেয়ে উত্তম হতো না।
(খণ্ড: ১) কিতাবু বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
وَذكر لنا عبد اللَّهِ بن مُحَمَّد الْفَارِسِي، عَن ثُمَامَة بن اشرس قَالَ: لما قدم الْمَأْمُون من خُرَاسَان وَصَارَ إِلَى بَغْدَاد أَمر أَن يُسمى قوم من أهل الْأَدَب يجالسونه، ويؤامرونه فَذكر لَهُ جمَاعَة مِنْهُم: الْحُسَيْن بن الضَّحَّاك وَكَانَ من جلساء مُحَمَّد المخلوع فَقَرَأَ أَسْمَاءَهُم حَتَّى بلغ إِلَى اسْم الْحُسَيْن فَقَالَ: أَلَيْسَ الَّذِي يَقُول فِي المخلوع: -

(هلا بقيت لسد فاقتنا … فِينَا وَكَانَ لغيرك التّلف)

 

(فَلَقَد خلفت خلائفا سلفوا … ولسوف يعوز بعْدك الْخلف)

لَا حَاجَة لي بِهِ لَا يراني وَالله إِلَّا فِي الطَّرِيق، وَلم يُعَاقب الْحُسَيْن على مَا كَانَ مِنْهُ فِي هجائه لَهُ والتعريض بِهِ.

وَحدث مُحَمَّد بن عِيسَى، عَن عبد اللَّهِ بن طَاهِر قَالَ: كَانَ الْمَأْمُون إِذا أَمر أَصْحَابه أَن يعودوا للغداء وَالْمقَام قَالَ لبَعض غلمائه: أعلم الخباز أَنا قد أمرناهم بِالْعودِ. قَالَ: فَرَآهُمْ كَأَنَّهُمْ يعْجبُونَ من ذَلِك فَقَالَ: أظنكم أنكرتم مَا تَسْمَعُونَ؟ قَالُوا: نعم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لأَنا لَا نشك أَن كلما نحتاج إِلَيْهِ عتيد. قَالَ: يهيء لنا مَا يهيء فَيكون فَضله للغلمان فَإِذا احتبسناكم استغرقتم مَا يكون لَهُم فنأمرهم أَن يزدادوا مَا يفضل عَنَّا لَهُم.

قَالَ: وعاتب الْمَأْمُون الْمطلب بن عبد الله بن مَالك فَأَجَابَهُ الْمطلب بِالنَّفْيِ عَن نَفسه فَقَالَ: تَقول هَذَا وَأَنت أول كل فتْنَة وَآخِرهَا وَمن فعلك وفعلك. فَقَالَ لَهُ الْمطلب: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لَا يدعونك استبطاؤك نَفسك إِلَى كَثْرَة التجني على مِمَّا لعلى بَرِيء مِنْهُ. قَالَ: أسْتَغْفر اللَّهِ أرضيت؟ قَالَ نعم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ.

وَذكر عَن ثُمَامَة قَالَ: أرتد رجل من أهل خُرَاسَان فَأمر الْمَأْمُون بِحمْلِهِ إِلَى مَدِينَة السَّلَام فَلَمَّا أَدخل عَلَيْهِ أقبل بِوَجْهِهِ إِلَيْهِ ثمَّ قَالَ لَهُ: لِأَن أستحييك بِحَق وَاجِب أحب إِلَى من أَن أَقْتلك بِحَق، وَلِأَن أدفَع عَنْك بالتهمة وَقد كنت مُسلما بعد أَن كنت نَصْرَانِيّا وَكنت فِي الاسلام أفيح [مَكَانا] وأطول أَيَّامًا فاستوحشت مِمَّا كنت بِهِ آنسا ثمَّ لم تلبث أَن رجعت عَنَّا نافرا فخبرنا عَن الشَّيْء الَّذِي أوحشك من الشَّيْء الَّذِي
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুমামা ইবনে আশরাস থেকে, তিনি বলেন: যখন আল-মামুন খোরাসান থেকে ফিরে আসলেন এবং বাগদাদে উপনীত হলেন, তখন তিনি নির্দেশ দিলেন যেন একদল সাহিত্যিককে মনোনীত করা হয় যারা তাঁর মজলিসে বসবেন এবং তাঁর সাথে পরামর্শ করবেন। তাঁর নিকট তাদের একটি দলের নাম উল্লেখ করা হলো, যাদের মধ্যে আল-হুসাইন ইবনে দাহহাকও ছিলেন, যিনি ক্ষমতাচ্যুত মুহাম্মদ (আল-আমিন)-এর সঙ্গী ছিলেন। তিনি নামগুলো পড়তে থাকলেন যতক্ষণ না আল-হুসাইনের নামে পৌঁছালেন। তখন তিনি বললেন: "এ কি সেই ব্যক্তি নয় যে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তির প্রশংসায় বলেছিল: -

(কেন তুমি আমাদের অভাব মোচনের জন্য অবশিষ্ট রইলে না... আমাদের মাঝে, অথচ ধ্বংস তো তোমার পরিবর্তে অন্যের হওয়া উচিত ছিল)

 

(নিশ্চয়ই তুমি পূর্বসূরি খলিফাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছ... আর তোমার পরে নিশ্চয়ই যোগ্য উত্তরসূরির অভাব হবে)

তার প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কসম, পথে দেখা হওয়া ছাড়া সে যেন আমাকে আর না দেখে।" তবে আল-মামুন আল-হুসাইনকে তার সেই ব্যঙ্গোক্তি ও বিদ্রূপের জন্য কোনো শাস্তি দেননি।

মুহাম্মদ ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে তাহির থেকে, তিনি বলেন: আল-মামুন যখন তাঁর সাথীদের দুপুরের খাবারের জন্য ফিরে আসতে এবং অবস্থান করার নির্দেশ দিতেন, তখন তিনি তাঁর জনৈক ভৃত্যকে বলতেন: "রুটি প্রস্তুতকারীকে জানিয়ে দাও যে আমি তাদের ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাদের দেখলেন যেন তারা এতে বিস্মিত হচ্ছে। তখন তিনি বললেন: "আমার মনে হয় তোমরা যা শুনছ তা অপছন্দ করছ?" তারা বলল: "হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন, কারণ আমাদের যা প্রয়োজন তা যে প্রস্তুত আছে সে ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।" তিনি বললেন: "আমাদের জন্য যা তৈরি করা হয় তা তৈরি করা থাকে এবং তার অতিরিক্ত অংশ ভৃত্যদের জন্য নির্ধারিত থাকে। কিন্তু যখন আমি তোমাদের আটকে রাখি, তখন তোমরা তাদের অংশটুকু নিঃশেষ করে ফেলো; তাই আমি তাদেরকে নির্দেশ দেই যেন তারা আরও বেশি প্রস্তুত করে যাতে আমাদের খাওয়ার পর তাদের জন্য কিছু অবশিষ্ট থাকে।"

বর্ণনাকারী বলেন: আল-মামুন মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিককে তিরস্কার করলেন। মুত্তালিব নিজের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করে উত্তর দিলেন। আল-মামুন বললেন: "তুমি এ কথা বলছ, অথচ তুমিই প্রতিটি ফিতনার শুরু ও শেষ, এবং এসব তোমারই কর্মকাণ্ড।" মুত্তালিব তাঁকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার নিজের প্রতি আপনার অত্যধিক আস্থাই যেন আপনাকে আমার বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ করতে প্ররোচিত না করে যেখান থেকে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তুমি কি সন্তুষ্ট হয়েছ?" সে বলল: "হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন।"

সুমামা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: খোরাসানের জনৈক ব্যক্তি ধর্মত্যাগ করেছিল। আল-মামুন তাকে মদিনাতুস সালামে নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। যখন তাকে তাঁর সামনে উপস্থিত করা হলো, তিনি তার দিকে মনোযোগ দিলেন এবং বললেন: "তোমাকে কোনো যথাযথ কারণে জীবিত রাখা আমার কাছে তোমাকে কোনো যথাযথ কারণে হত্যা করার চেয়ে বেশি প্রিয়। আর কোনো অস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তোমাকে রক্ষা করাও আমার কাছে পছন্দনীয়। তুমি তো খ্রিস্টান থাকার পর মুসলিম হয়েছিলে এবং ইসলামে তুমি প্রশস্ত [অবস্থানে] ছিলে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলে। অতঃপর যে জিনিসের সাথে তুমি পরিচিত ছিলে তা থেকে কেন তুমি আতঙ্কিত হলে? তারপর বিলম্ব না করেই তুমি আমাদের থেকে বিমুখ হয়ে ফিরে গেলে। তাই আমাদের সেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করো যা তোমাকে সেই জিনিস থেকে আতঙ্কিত করেছে যা..."