(খণ্ড: ১)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المدونة (مالك بن أنس)
القسم: الفقه المالكي
الكتاب: المدونة
المؤلف: مالك بن أنس بن مالك بن عامر الأصبحي المدني (ت 179هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الأولى، 1415هـ - 1994م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুদাওওয়ানাহ (মালিক ইবন আনাস)
বিভাগ: মালিকী ফিকহ
গ্রন্থ: আল-মুদাওওয়ানাহ
লেখক: মালিক ইবন আনাস ইবন মালিক ইবন আমির আল-আসবাহি আল-মাদানি (মৃত্যু ১৭৯ হি.)
প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
[كِتَابُ الْوُضُوءِ] [مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ]ِ مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ قَالَ سَحْنُونٌ: قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ: أَرَأَيْتَ الْوُضُوءَ أَكَانَ مَالِكٌ يُوَقِّتُ فِيهِ وَاحِدَةً أَوْ اثْنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا؟قَالَ: لَا إلَّا مَا أَسْبَغَ، وَلَمْ يَكُنْ مَالِكٌ يُوَقِّتُ، وَقَدْ اخْتَلَفَتْ الْآثَارُ فِي التَّوْقِيتِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: لَمْ يَكُنْ مَالِكٌ يُوَقِّتُ فِي الْوُضُوءِ مَرَّةً وَلَا مَرَّتَيْنِ وَلَا ثَلَاثًا. وَقَالَ: إنَّمَا قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إذَا قُمْتُمْ إلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] فَلَمْ يُوَقِّتْ تبارك وتعالى وَاحِدَةً مِنْ ثَلَاثٍ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: مَا رَأَيْتُ عِنْدَ مَالِكٍ فِي الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ تَوْقِيتًا لَا وَاحِدَةً وَلَا اثْنَتَيْنِ وَلَا ثَلَاثًا، وَلَكِنَّهُ كَانَ يَقُولُ: يَتَوَضَّأُ أَوْ يَغْتَسِلُ وَيُسْبِغُهُمَا جَمِيعًا.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَسَنٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ يَحْيَى أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ أَبَا حَسَنٍ يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى: «هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: نَعَمْ، قَالَ: فَدَعَا عَبْدُ اللَّهِ بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ إلَى الْمَرْفِقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ بِهِمَا، بَدَأَ مِنْ مُقَدَّمِ رَأْسِهِ حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ بِهِمَا إلَى الْمَكَانِ الَّذِي مِنْهُ بَدَأَ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ» ، قَالَ مَالِكٌ: وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْنَا فِي ذَلِكَ وَأَعَمُّهُ عِنْدَنَا فِي مَسْحِ الرَّأْسِ هَذَا.قَالَ سَحْنُونٌ: وَذَكَرَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ اللَّيْثِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَخْبَرَهُ «أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا يَوْمًا
[অজুর অধ্যায়] [অজু সম্পর্কিত বর্ণনা]অজু সম্পর্কিত বর্ণনা। সাহনুন বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম: অজু সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ইমাম মালিক কি এতে একবার, দুবার বা তিনবার ধোয়ার কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতেন?তিনি বললেন: না, তবে যতটুকুতে অজু পূর্ণাঙ্গ হয় (ততটুকুই কাম্য)। ইমাম মালিক কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিতেন না, আর এ সংখ্যার বর্ণনায় হাদিস ও আসারেও ভিন্নতা রয়েছে।ইবনুল কাসিম বলেন: ইমাম মালিক অজুতে একবার, দুবার বা তিনবার ধোয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেননি। তিনি বলতেন: মহান আল্লাহ তাআলা তো কেবল এরশাদ করেছেন— {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} [সূরা আল-মায়েদা: ৬]। এখানে মহান আল্লাহ একবার কিংবা তিনবারের কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি।ইবনুল কাসিম বলেন: আমি ইমাম মালিকের কাছে গোসল বা অজুর ক্ষেত্রে একবার, দুবার বা তিনবারের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণের কথা শুনিনি; বরং তিনি বলতেন: সে অজু বা গোসল করবে এবং উভয়টিই পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পন্ন করবে।ইবনু ওয়াহাব মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমারা ইবনে আবি হাসান আল-মাজিনী থেকে, তিনি তার পিতা ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার পিতা আবু হাসানকে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসিম-কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী ছিলেন এবং আমর ইবনে ইয়াহইয়ার দাদা ছিলেন: «আপনি কি আমাকে দেখাতে পারবেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে অজু করতেন? আবদুল্লাহ বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আবদুল্লাহ অজুর পানি চাইলেন এবং নিজের দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং হাত দুটি দুবার করে ধুলেন। এরপর তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। এরপর কনুই পর্যন্ত হাত দুটি দুবার করে ধুলেন। এরপর হাত দিয়ে মাথা মাসাহ করলেন—তা সামনে থেকে পেছনে এবং পেছন থেকে সামনে আনলেন। তিনি মাথার সামনের অংশ থেকে শুরু করলেন এবং হাত দুটি ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, এরপর আবার হাত দুটি পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি দুই পা ধুলেন।» ইমাম মালিক বলেন: মাথা মাসাহ করার ক্ষেত্রে আব্দুল আজিজ ইবনে আবু সালামার বর্ণনাটি আমাদের নিকট এ বিষয়ে শোনা বর্ণনাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ।সাহনুন বলেন: ইবনু ওয়াহাব ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-লাইসি তাকে জানিয়েছেন যে, উসমান ইবনে আফফানের মুক্ত দাস হুমরান তাকে জানিয়েছেন যে, «একদিন উসমান ইবনে আফফান পানি চাইলেন...»
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
بِوَضُوءٍ، فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إلَى الْمَرْفِقِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى أَيْضًا إلَى الْمَرْفِقِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ وَأُذُنَيْهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إلَى الْكَعْبِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى إلَى الْكَعْبِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، وَأَخْبَرَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» .قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ وَكَانَ عُلَمَاؤُنَا بِالْمَدِينَةِ يَقُولُونَ: هَذَا الْوُضُوءُ أَسْبَغُ مَا تَوَضَّأَ بِهِ أَحَدٌ لِلصَّلَاةِ. قَالَ سَحْنُونٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زِيَادٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِوُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَرَاهُمْ مَرَّةً مَرَّةً فَجَعَلَ فِي يَدِهِ الْيُمْنَى ثُمَّ صَبَّ بِهَا عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى فَتَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً» . حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ عَلِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ إبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ رَأَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَتَوَضَّأُ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ.قَالَ سَحْنُونٌ عَنْ وَكِيعٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرٍ قَالَ: سَأَلْتُ الْحَسَنَ الْبَصْرِيَّ عَنْ الْوُضُوءِ فَقَالَ: يُجْزِيكَ مَرَّةٌ أَوْ مَرَّتَانِ أَوْ ثَلَاثٌ.قَالَ وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ الْجُعْفِيِّ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ: يُجْزِيكَ مَرَّةٌ إذَا أَسْبَغْتَ.قَالَ سَحْنُونٌ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ» [فِي الْوُضُوءِ بِمَاءِ الْخُبْزِ وَالنَّبِيذِ وَالْإِدَامِ]ِ وَالْمَاءِ الَّذِي يَقَعُ فِيهِ الْخُشَاشُ وَغَيْرِ ذَلِكَ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ الْمَاءِ الَّذِي يُبَلُّ فِيهِ الْخُبْزُ.قُلْتُ: فَمَا قَوْلُهُ فِي الْفُولِ وَالْعَدَسِ وَالْحِنْطَةِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ؟قَالَ: إنَّمَا سَأَلْنَاهُ عَنْ الْخُبْزِ وَهَذَا مِثْلُ الْخُبْزِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَأَخْبَرَنَا بَعْضُ أَصْحَابِنَا أَنَّ سَائِلًا سَأَلَ مَالِكًا عَنْ الْجِلْدِ يَقَعُ فِي الْمَاءِ فَيَخْرُجُ مَكَانَهُ أَوْ الثَّوْبِ هَلْ تَرَى بَأْسًا أَنْ يُتَوَضَّأَ بِذَلِكَ الْمَاءِ؟قَالَ: فَقَالَ مَالِكٌ: لَا أَرَى بِهِ بَأْسًا، قَالَ فَقَالَ لَهُ: فَمَا بَالُ الْخُبْزِ؟ فَقَالَ لَهُ مَالِكٌ: أَرَأَيْتَ إذَا أَخَذَ رَجُلٌ جِلْدًا فَأَنْقَعَهُ أَيَّامًا فِي مَاءٍ أَيَتَوَضَّأُ بِذَلِكَ الْمَاءِ وَقَدْ ابْتَلَّ الْجِلْدُ فِي ذَلِكَ الْمَاءِ؟ فَقَالَ: لَا، فَقَالَ مَالِكٌ: هَذَا مِثْلُ الْخُبْزِ وَلِكُلِّ شَيْءٍ وَجْهٌ. قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَتَوَضَّأُ بِشَيْءٍ مِنْ الْأَنْبِذَةِ وَلَا الْعَسَلِ الْمَمْزُوجِ بِالْمَاءِ، قَالَ: وَالتَّيَمُّمُ أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ ذَلِكَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ شَيْءٍ مِنْ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَلَا يَتَوَضَّأُ بِشَيْءٍ مِنْ أَبْوَالِ الْإِبِلِ وَلَا مِنْ أَلْبَانِهَا، قَالَ: وَلَكِنْ أَحَبُّ
ওযু করার পানি নিয়ে এলেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং দুই হাতের কবজি তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনবার তাঁর চেহারা ধৌত করলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর বাম হাতও কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা ও দুই কান মাসেহ করলেন। তারপর তাঁর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন এবং বাম পা-ও টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি আমাদের জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনের সাথে কোনো কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"ইবনে ওয়াহাব ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, মদিনায় আমাদের উলামায়ে কিরাম বলতেন: সালাতের জন্য কেউ যে ওযু করে, এটিই তার মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ওযু। সাহনুন আলী ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওযু সম্পর্কে জানাব না?" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং তাঁদেরকে একবার একবার করে (অঙ্গ ধৌত করে) দেখালেন। তিনি তাঁর ডান হাতে পানি নিলেন এবং তা বাম হাতের ওপর ঢাললেন, এভাবে তিনি একবার একবার করে ওযু করলেন। ওয়াকি' আলী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর কাছে ইব্রাহিম নাখয়ী থেকে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: এমন ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে দুবার দুবার করে ওযু করতে দেখেছেন।সাহনুন ওয়াকি' থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাসান বসরীকে ওযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: একবার, দুবার বা তিনবার ধৌত করা তোমার জন্য যথেষ্ট।ওয়াকি' সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির ইবনে ইয়াজিদ আল-জু'ফী থেকে, তিনি আল-শাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যদি তুমি পূর্ণাঙ্গরূপে অঙ্গসমূহ ভেজাও, তবে একবার ধৌত করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।সাহনুন ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আজলা পানি দিয়েই কুলি করেছেন এবং নাকে পানি দিয়েছেন।" [রুটি ভেজানো পানি, নাবিয ও সালুন মিশ্রিত পানি দ্বারা ওযু করার বিধান]এবং যে পানিতে কীটপতঙ্গ বা অন্য কিছু পড়ে (সে সম্পর্কে আলোচনা)। তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: যে পানিতে রুটি ভেজানো হয়েছে, তা দিয়ে ওযু করা যাবে না।আমি জিজ্ঞেস করলাম: শিম, মসুর ডাল, গম এবং এ জাতীয় জিনিসের ব্যাপারে তাঁর অভিমত কী?তিনি বললেন: আমরা তাঁকে রুটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আর এগুলোও রুটির মতোই।ইবনুল কাসিম বলেন: আমাদের কিছু সাথী আমাদের জানিয়েছেন যে, জনৈক প্রশ্নকারী ইমাম মালিককে এমন চামড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যা পানিতে পড়ার পর তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়া হয়েছে, অথবা কাপড় সম্পর্কে; আপনি কি সেই পানি দিয়ে ওযু করার মধ্যে কোনো দোষ মনে করেন?তিনি বলেন: ইমাম মালিক উত্তর দিলেন: আমি এতে কোনো দোষ দেখি না। তখন প্রশ্নকারী তাঁকে জিজ্ঞেস করল: তাহলে রুটির বিষয়টি কেন ভিন্ন? ইমাম মালিক তাকে বললেন: তোমার কী মনে হয়, যদি কোনো ব্যক্তি একটি চামড়া নিয়ে তা কয়েক দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখে, তবে কি সে সেই পানি দিয়ে ওযু করবে যখন চামড়াটি সেই পানিতে ভিজে গেছে? সে উত্তর দিল: না। তখন ইমাম মালিক বললেন: এটিও রুটির মতোই, আর প্রতিটি বিষয়ের একটি স্বতন্ত্র প্রেক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন: ইমাম মালিক আরও বলেছেন: কোনো প্রকার নাবিয বা মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে ওযু করা যাবে না। তিনি বলেন: এর চেয়ে তায়াম্মুম করা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: কোনো প্রকার খাদ্যদ্রব্য বা পানীয় মিশ্রিত পানি দিয়ে ওযু করা যাবে না। উটের মূত্র বা দুধ দিয়েও ওযু করা যাবে না। তিনি বলেন: তবে আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
إلَيَّ أَنْ يَتَمَضْمَضَ مِنْ اللَّبَنِ وَاللَّحْمِ وَيَغْسِلَ الْغُمَرَ إذَا أَرَادَ الصَّلَاةَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَتَوَضَّأُ بِمَاءٍ قَدْ تَوَضَّأَ بِهِ مَرَّةً وَلَا خَيْرَ فِيهِ.قُلْتُ: فَإِنْ أَصَابَ مَا قَدْ تَوَضَّأَ بِهِ مَرَّةً ثَوْبَ رَجُلٍ؟قَالَ: إنْ كَانَ الَّذِي تَوَضَّأَ بِهِ طَاهِرٌ فَإِنَّهُ لَا يُفْسِدُ عَلَيْهِ ثَوْبَهُ.قُلْتُ: فَلَوْ لَمْ يَجِدْ رَجُلٌ إلَّا مَاءً قَدْ تَوَضَّأَ بِهِ مَرَّةً أَيَتَيَمَّمُ أَمْ يَتَوَضَّأُ بِمَا قَدْ تَوَضَّأَ بِهِ مَرَّةً؟قَالَ: يَتَوَضَّأُ بِذَلِكَ الْمَاءِ الَّذِي قَدْ تَوَضَّأَ بِهِ مَرَّةً أَحَبُّ إلَيَّ إذَا كَانَ الَّذِي تَوَضَّأَ بِهِ طَاهِرًا.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي النُّخَاعَةِ وَالْبُصَاقِ وَالْمُخَاطِ يَقَعُ فِي الْمَاءِ، قَالَ: لَا بَأْسَ بِالْوُضُوءِ مِنْهُ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: كُلُّ مَا وَقَعَ مِنْ خُشَاشِ الْأَرْضِ فِي إنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ أَوْ فِي قِدْرٍ فِيهِ طَعَامٌ فَإِنَّهُ يَتَوَضَّأُ بِذَلِكَ الْمَاءِ وَيُؤْكَلُ مَا فِي الْقُدُورِ، وَخُشَاشُ الْأَرْضِ: الزُّنْبُورُ وَالْعَقْرَبُ وَالصِّرَارُ وَالْخُنْفُسَاءُ وَبَنَاتُ وَرْدَانَ وَمَا أَشْبَهَ هَذَا مِنْ الْأَشْيَاءِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: فِي بَنَاتِ وَرْدَانَ وَالْعَقْرَبِ وَالْخُنْفُسَاءِ وَخُشَاشِ الْأَرْضِ وَدَوَابِّ الْمَاءِ مِثْلِ السَّرَطَانِ وَالضِّفْدَعِ مَا مَاتَ مِنْ هَذَا فِي طَعَامٍ أَوْ شَرَابٍ فَإِنَّهُ لَا يُفْسِدُ الطَّعَامَ وَلَا الشَّرَابَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا أَرَى بَأْسًا بِأَبْوَالِ مَا يُؤْكَلُ كُلُّ لَحْمِهِ مِمَّا لَا يَأْكُلُ الْجِيَفَ وَأَرْوَاثَهَا إذَا أَصَابَ الثَّوْبَقَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَأَرَى أَنَّهُ إنْ وَقَعَ فِي الْمَاءِ فَإِنَّهُ لَا يُنَجِّسُهُ قَالَ: وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ حِيتَانٍ مُلِّحَتْ فَأُصِيبَتْ فِيهَا ضَفَادِعُ قَدْ مَاتَتْ، قَالَ: لَا أَرَى بِأَكْلِهَا بَأْسًا لِأَنَّ هَذَا مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ. [فِي الْوُضُوءِ بِسُؤْرِ الدَّوَابِّ وَالدَّجَاجِ وَالْكِلَابِ]ِ قَالَ وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ سُؤْرِ الْحِمَارِ وَالْبَغْلِ فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ.قُلْتُ: أَرَأَيْتَ إنْ أَصَابَ غَيْرَهُ؟قَالَ: هُوَ وَغَيْرُهُ سَوَاءٌ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِعَرَقِ الْبِرْذَوْنِ وَالْبَغْلِ وَالْحِمَارِ، قَالَ وَقَالَ مَالِكٌ: فِي الْإِنَاءِ يَكُونُ فِيهِ الْمَاءُ يَلَغُ فِيهِ الْكَلْبُ يَتَوَضَّأُ بِهِ رَجُلٌ؟قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: إنْ تَوَضَّأَ بِهِ وَصَلَّى أَجْزَأَهُ، قَالَ: وَلَمْ يَكُنْ يَرَى الْكَلْبَ كَغَيْرِهِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: إنْ شَرِبَ مِنْ الْإِنَاءِ مَا يَأْكُلُ الْجِيَفَ مَنْ الطَّيْرِ وَالسِّبَاعِ لَمْ يَتَوَضَّأْ بِهِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: إنْ وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إنَاءٍ فِيهِ لَبَنٌ فَلَا بَأْسَ بِأَنْ يُؤْكَلَ ذَلِكَ اللَّبَنُ.قُلْتُ: هَلْ كَانَ مَالِكٌ يَقُولُ يُغْسَلُ الْإِنَاءُ سَبْعَ مَرَّاتٍ إذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فِي اللَّبَنِ وَفِي الْمَاءِ؟قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: قَدْ جَاءَ هَذَا الْحَدِيثُ وَمَا أَدْرِي مَا حَقِيقَتُهُ، قَالَ: وَكَأَنَّهُ كَانَ يَرَى أَنَّ الْكَلْبَ كَأَنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ وَلَيْسَ كَغَيْرِهِ مِنْ السِّبَاعِ، وَكَانَ يَقُولُ: إنْ كَانَ يُغْسَلُ فَفِي الْمَاءِ وَحْدَهُ وَكَانَ يُضَعِّفُهُ، وَكَانَ يَقُولُ: لَا يُغْسَلُ مِنْ سَمْنٍ وَلَا لَبَنٍ وَيُؤْكَلُ مَا وَلَغَ فِيهِ مِنْ ذَلِكَ وَأَرَاهُ عَظِيمًا أَنْ يَعْمِدَ إلَى رِزْقٍ مِنْ رِزْقِ اللَّهِ فَيَلْقَى الْكَلْبَ وَلَغَ فِيهِ.قُلْتُ: أَرَأَيْتَ إنْ شَرِبَ مِنْ اللَّبَنِ مَا يَأْكُلُ الْجِيَفَ مِنْ الطَّيْرِ وَالسِّبَاعِ وَالدَّجَاجِ الَّتِي تَأْكُلُ النَّتِنَ أَيُؤْكَلُ اللَّبَنُ أَمْ لَا؟قَالَ:
আমার নিকট পছন্দনীয় হলো এই যে, দুধ ও গোশত খাওয়ার পর কুলি করা এবং সালাতের ইচ্ছা করলে হাতের তৈলাক্তভাব ধুয়ে নেওয়া।তিনি বলেন: মালিক (রহ.) বলেছেন, যে পানি দিয়ে একবার ওযু করা হয়েছে তা দিয়ে পুনরায় ওযু করা যাবে না এবং এতে কোনো কল্যাণ নেই।আমি বললাম: যদি একবার ওযুতে ব্যবহৃত পানি কোনো ব্যক্তির কাপড়ে লাগে?তিনি বললেন: যদি ওযু সম্পাদনকারী ব্যক্তি পবিত্র থাকেন, তবে সেই পানি তার কাপড় নষ্ট (নাপাক) করবে না।আমি বললাম: যদি কোনো ব্যক্তি একবার ব্যবহৃত ওযুর পানি ছাড়া অন্য কোনো পানি না পায়, তবে কি সে তায়াম্মুম করবে নাকি সেই ব্যবহৃত পানি দিয়েই ওযু করবে?তিনি বললেন: সেই ব্যবহৃত পানি দিয়ে ওযু করাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়, যদি ওযুকারী ব্যক্তি পবিত্র থেকে থাকেন।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) শ্লেষ্মা, থুতু এবং নাক থেকে নির্গত তরল (সর্দি) পানিতে পড়ার বিষয়ে বলেছেন যে, তা মিশ্রিত পানি দিয়ে ওযু করাতে কোনো দোষ নেই।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, মাটির ছোট ছোট পোকা-মাকড় যদি পানির পাত্রে বা খাবারের হাঁড়িতে পড়ে, তবে সেই পানি দিয়ে ওযু করা যাবে এবং হাঁড়ির খাবার খাওয়া যাবে। মাটির পোকা-মাকড় বলতে বোঝায়: ভীমরুল, বিচ্ছু, ঝিঁঝিঁ পোকা, গোবরে পোকা, তেলাপোকা এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রাণী।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) তেলাপোকা, বিচ্ছু, গোবরে পোকা, মাটির পোকা-মাকড় এবং জলজ প্রাণী যেমন কাঁকড়া ও ব্যাঙ সম্পর্কে বলেছেন যে, এদের মধ্যে কোনোটি যদি খাবার বা পানীয়তে মরে পড়ে থাকে, তবে তা খাবার বা পানীয়কে নষ্ট (নাপাক) করে না।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় এবং যারা মৃতদেহ ভক্ষণ করে না, তাদের মূত্র ও গোবর যদি কাপড়ে লাগে তবে তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।ইবনুল কাসিম (রহ.) বলেন: আমি মনে করি, এগুলো যদি পানিতে পড়ে তবে পানিকে অপবিত্র করবে না। তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.)-কে এমন লবণাক্ত মাছ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে মৃত ব্যাঙ পাওয়া গেছে। তিনি বললেন: এগুলো খেতে আমি কোনো দোষ দেখি না, কারণ এগুলো সমুদ্রের শিকারের অন্তর্ভুক্ত। [চতুষ্পদ জন্তু, মুরগি ও কুকুরের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করা প্রসঙ্গে]তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিক (রহ.)-কে গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই।আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন যদি এটি অন্য কিছুতে লাগে?তিনি বললেন: এটি এবং অন্য সবকিছু সমান।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, তুর্কি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার ঘামে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.)-কে এমন পানির পাত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে কুকুর মুখ দিয়েছে, সেই পানি দিয়ে কি কোনো ব্যক্তি ওযু করতে পারবে?তিনি বলেন: মালিক (রহ.) বলেছেন, যদি সে তা দিয়ে ওযু করে সালাত আদায় করে তবে তা যথেষ্ট হবে। তিনি বলেন: তিনি কুকুরকে অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর মতো মনে করতেন না।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, যদি মৃতদেহ ভক্ষণকারী কোনো পাখি বা হিংস্র প্রাণী পাত্রের পানি পান করে, তবে সেই পানি দিয়ে ওযু করা যাবে না।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, যদি কুকুর দুধের পাত্রে মুখ দেয়, তবে সেই দুধ খাওয়াতে কোনো বাধা নেই।আমি বললাম: ইমাম মালিক (রহ.) কি কুকুর পাত্রের পানি বা দুধে মুখ দিলে তা সাতবার ধোয়ার কথা বলতেন?তিনি বললেন: মালিক (রহ.) বলেছেন, এ সংক্রান্ত হাদিসটি এসেছে বটে, তবে এর প্রকৃত তাৎপর্য আমি জানি না। তিনি মনে করতেন কুকুর যেন ঘরেরই একজন বাসিন্দা, অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর মতো নয়। তিনি বলতেন: যদি ধৌত করা হয় তবে তা কেবল পানির পাত্রের ক্ষেত্রে, যদিও তিনি এই মতটিকে দুর্বল মনে করতেন। তিনি বলতেন: ঘি বা দুধের ক্ষেত্রে পাত্র ধোয়ার প্রয়োজন নেই এবং কুকুর মুখ দিলেও তা খাওয়া যাবে। তিনি আল্লাহর দেওয়া রিজিক নষ্ট করাকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করতেন যে, কুকুর মুখ দিয়েছে বলে তা ফেলে দেওয়া হবে।আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন যদি মৃতদেহ ভক্ষণকারী পাখি, হিংস্র প্রাণী বা নোংরা বস্তু খাওয়া মুরগি দুধ পান করে, তবে কি সেই দুধ খাওয়া যাবে?তিনি বললেন:
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
أَمَّا مَا تَيَقَّنْتَ أَنَّ فِي مِنْقَارِهِ قَذَرًا فَلَا يُؤْكَلُ، وَمَا لَمْ تَرَهُ فِي مِنْقَارِهِ فَلَا بَأْسَ بِهِ وَلَيْسَ هُوَ مِثْلَ الْمَاءِ لِأَنَّ الْمَاءَ يُطْرَحُ وَلَا يُتَوَضَّأُ بِهِ.قَالَ سَحْنُونٌ: أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَبُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ أَنَّهُمَا كَانَا يَقُولَانِ: لَا بَأْسَ أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ سُؤْرِ الْحَمِيرِ وَالْبِغَالِ وَغَيْرِهِمَا مِنْ الدَّوَابِّ. وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ مِثْلَهُ فِي الْحِمَارِ. وَقَالَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَرَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو الزِّنَادِ فِي الْحِمَارِ وَالْبَغْلِ مِثْلَهُ، وَتَلَا عَطَاءٌ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى: {وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً} [النحل: 8]وَقَالَهُ مَالِكٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ. قَالَ عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ عَنْ مَالِكٍ: فِي الَّذِي يَتَوَضَّأُ بِمَاءٍ قَدْ وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ ثُمَّ صَلَّى، قَالَ: لَا أَرَى عَلَيْهِ إعَادَةً وَإِنْ عَلِمَ فِي الْوَقْتِ وَلَا غَيْرِهِ.قَالَ عَلِيٌّ وَابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَالِكٍ: وَلَا يُعْجِبُنِي الْوُضُوءُ بِفَضْلِ الْكَلْبِ إذَا كَانَ الْمَاءُ قَلِيلًا، قَالَ: وَلَا بَأْسَ بِهِ إذَا كَانَ الْمَاءُ كَثِيرًا كَهَيْئَةِ الْحَوْضِ يَكُونُ فِيهِ مَاءٌ كَثِيرٌ أَوْ بَعْضُ مَا يَكُونُ فِيهِ مِنْ الْمَاءِ الْكَثِيرِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ: «إنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَدَ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ عَلَى حَوْضٍ فَخَرَجَ أَهْلُ الْحَوْضِ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إنَّ الْكِلَابَ وَالسِّبَاعَ تَلَغُ فِي هَذَا الْحَوْضِ، فَقَالَ: لَهَا مَا أَخَذَتْ فِي بُطُونِهَا وَلَنَا مَا بَقِيَ شَرَابًا وَطَهُورًا» .وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ قَالَ عُمَرُ: لَا تُخْبِرْنَا يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ فَإِنَّا نَرِدُ عَلَى السِّبَاعِ وَتَرِدُ عَلَيْنَا فَالْكَلْبُ أَيْسَرُ مُؤْنَةً مِنْ السِّبَاعِ، وَالْهِرُّ أَيْسَرُهُمَا لِأَنَّهُ مِمَّا يَتَّخِذُهُ النَّاسُ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِلُعَابِ الْكَلْبِ يُصِيبُ الثَّوْبَ وَقَالَهُ رَبِيعَةُ.وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ: لَا بَأْسَ إذَا اُضْطُرِرْتَ إلَى سُؤْرِ الْكَلْبِ أَنْ يُتَوَضَّأَ بِهِ، وَقَالَ مَالِكٌ: يُؤْكَلُ صَيْدُهُ فَكَيْفَ يُكْرَهُ لُعَابُهُ؟قُلْتُ: فَالدَّجَاجُ الْمُخَلَّاةُ الَّتِي تَأْكُلُ الْجِيَفَ إنْ شَرِبَتْ مَنْ إنَاءٍ فَتَوَضَّأَ بِهِ رَجُلٌ أَعَادَ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ فَإِنْ مَضَى فَلَا إعَادَةَ عَلَيْهِ قَالَ: نَعَمْ وَإِنْ كَانَتْ الدَّجَاجُ مَقْصُورَةً فَهِيَ بِمَنْزِلَةِ غَيْرِهَا مِنْ الْحَمَامِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ لَا بَأْسَ بِسُؤْرِهَا؟قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَقَدْ سَأَلْنَا مَالِكًا عَنْ الْخُبْزِ مِنْ سُؤْرِ الْفَأْرَةِ، قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ، قَالَ: فَقُلْنَا لَهُ: هَلْ يُغْسَلُ بَوْلُ الْفَأْرَةِ يُصِيبُ الثَّوْبَ؟قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَسَأَلْنَا مَالِكًا عَنْ الدَّجَاجِ وَالْإِوَزِّ تَشْرَبُ فِي الْإِنَاءِ أَيُتَوَضَّأُ بِهِ؟قَالَ: لَا إلَّا أَنْ تَكُونَ مَقْصُورَةً لَا تَصِلُ إلَى النَّتِنِ وَكَذَلِكَ الطَّيْرُ الَّتِي تَأْكُلُ الْجِيَفَ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَلَا أَرَى يَتَوَضَّأُ بِهِ وَإِنْ لَمْ يَجِدْ غَيْرَهُ وَلْيَتَيَمَّمْ إذَا عَلِمَ أَنَّهَا تَأْكُلُ النَّتِنَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَإِنْ كَانَتْ مَقْصُورَةً فَلَا بَأْسَ بِسُؤْرِهَا.قَالَ: وَسَأَلْتُ ابْنَ الْقَاسِمِ عَنْ خُرْءِ الطَّيْرِ وَالدَّجَاجِ الَّتِي لَيْسَتْ بِمُخَلَّاةٍ تَقَعُ فِي الْإِنَاءِ فِيهِ الْمَاءُ مَا قَوْلُ مَالِكٍ فِيهِ؟قَالَ: كُلُّ مَا لَا يُفْسِدُ الثَّوْبَ فَلَا يُفْسِدُ الْمَاءَ، وَأَنَّ
যে পাখির ঠোঁটে অপবিত্রতা লেগে থাকার বিষয়ে আপনি নিশ্চিত, তা খাওয়া যাবে না। আর যার ঠোঁটে অপবিত্রতা দেখেননি, তাতে কোনো সমস্যা নেই। এটি পানির মতো নয়; কারণ পানি (অপবিত্র হলে) ফেলে দেওয়া হয় এবং তা দিয়ে অজু করা যায় না।সাহনুন বলেন: ইবন ওয়াহব আমাকে আমর বিন আল-হারিস থেকে এবং তিনি ইয়াহইয়া বিন সাইদ ও বুকাইর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আশাজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলতেন: গাধা, খচ্চর এবং অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুর পানের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে কোনো ব্যক্তির অজু করাতে কোনো অসুবিধা নেই। ইবন শিহাব গাধার ক্ষেত্রে একই কথা বলেছেন। আতা বিন আবি রাবাহ, রাবিয়া বিন আবি আবদুর রহমান এবং আবুয যিনাদও গাধা ও খচ্চরের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন। আর আতা মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করেছেন: "আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকে তোমাদের আরোহণের জন্য এবং শোভার জন্য।" [আন-নাহল: ৮]ইবন ওয়াহবের বর্ণিত হাদিসে ইমাম মালিকও এটি বলেছেন। আলী বিন যিয়াদ মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি কুকুর মুখ দিয়েছে এমন পানি দিয়ে অজু করে নামাজ পড়েছে, তার ক্ষেত্রে তিনি বলেন: আমার মতে তাকে পুনরায় নামাজ পড়তে হবে না, চাই সে ওয়াক্তের ভেতরে জানুক কিংবা পরে।আলী এবং ইবন ওয়াহব মালিক থেকে বর্ণনা করেন: পানি যদি অল্প হয় তবে কুকুরের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে অজু করাকে আমি পছন্দ করি না। তিনি বলেন: তবে পানি যদি বেশি হয় যেমন বড় হাউজ যাতে প্রচুর পানি থাকে অথবা প্রচুর পানির অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।ইবন ওয়াহব ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর ও উমর (রা.)-কে সাথে নিয়ে একটি হাউজের কাছে এলেন। তখন হাউজওয়ালারা বেরিয়ে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! কুকুর ও হিংস্র প্রাণীরা এই হাউজে মুখ দিয়ে থাকে। তিনি বললেন: তারা যা পেটে নিয়েছে তা তাদের জন্য, আর যা অবশিষ্ট আছে তা আমাদের জন্য পানীয় ও পবিত্রতা।আব্দুর রহমান বিন যায়েদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে এই হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর উমর (রা.) বলেছিলেন: হে হাউজের মালিক! তুমি আমাদের কিছু বলো না, কারণ আমরা হিংস্র প্রাণীদের নিকট পানি নিতে আসি এবং ওরাও আমাদের কাছে আসে। সুতরাং কুকুরের বিষয়টি হিংস্র প্রাণীর চেয়েও সহজ, আর বিড়াল এই দুটির চেয়েও সহজ; কারণ তা মানুষ পুষে থাকে।ইবনুল কাসিম বলেন, মালিক বলেছেন: কাপড়ে কুকুরের লালা লাগলে তাতে কোনো সমস্যা নেই এবং রাবিয়াও একথাই বলেছেন।ইবন শিহাব বলেন: আপনি যদি নিরুপায় হন তবে কুকুরের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে অজু করাতে কোনো সমস্যা নেই। মালিক বলেন: তার শিকারকৃত পশু খাওয়া যায়, তবে তার লালা অপছন্দনীয় হবে কেন?আমি জিজ্ঞেস করলাম: যে মুরগি খোলা অবস্থায় চড়ে বেড়ায় এবং মৃত জীবজন্তু খায়, সে যদি কোনো পাত্র থেকে পানি পান করে এবং কোনো ব্যক্তি সেই পানি দিয়ে অজু করে নামাজ পড়ে, তবে ওয়াক্ত থাকাকালীন কি সে নামাজ পুনরায় পড়বে, আর ওয়াক্ত চলে গেলে কি পুনরায় পড়তে হবে না? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আর মুরগি যদি খাঁচায় আবদ্ধ থাকে তবে তা কবুতর বা অনুরুপ পাখিদের মতোই গণ্য হবে এবং তার পানের অবশিষ্ট পানিতে কোনো সমস্যা নেই?তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আমরা ইমাম মালিককে ইঁদুরের পানের অবশিষ্ট থেকে তৈরি রুটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন: আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: কাপড়ে ইঁদুরের প্রস্রাব লাগলে কি তা ধুতে হবে?তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আমরা মালিককে মুরগি এবং রাজহাঁস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে তারা যদি পাত্রে পানি পান করে, তবে কি তা দিয়ে অজু করা যাবে?তিনি বললেন: না, তবে সেগুলো যদি আবদ্ধ থাকে এবং দুর্গন্ধযুক্ত বা নাপাক কিছু পর্যন্ত না পৌঁছাতে পারে, তবে ভিন্ন কথা। আর মৃত জীবভোজী পাখিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।ইবনুল কাসিম বলেন: আমার মতে তা দিয়ে অজু করা যাবে না, এমনকি অন্য পানি না পেলেও; বরং যদি জানা থাকে যে সেই পাখি অপবিত্র বস্তু খায় তবে সে তায়াম্মুম করবে।তিনি বলেন: মালিক বলেছেন, যদি সেগুলো আবদ্ধ থাকে তবে তার পানের অবশিষ্ট পানিতে কোনো সমস্যা নেই।তিনি বলেন: আমি ইবনুল কাসিমকে পাখি ও আবদ্ধ মুরগির বিষ্ঠা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যা পানির পাত্রে পড়ে যায়, এ বিষয়ে মালিকের অভিমত কী?তিনি বললেন: যা কাপড় অপবিত্র করে না, তা পানিকেও অপবিত্র করে না। এবং যে...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
ابْنَ مَسْعُودٍ ذَرَقَ عَلَيْهِ طَائِرٌ فَنَفَضَهُ بِإِصْبَعِهِ مِنْ حَدِيثِ وَكِيعٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ فَضْلَ الدَّجَاجِ. قَالَ ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ فِي الْإِوَزِّ وَالدَّجَاجِ مِثْلَهُ. وَقَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ مِثْلَهُ.وَقَالَ مَالِكٌ: إذَا كَانَتْ بِمَكَانٍ تُصِيبُ فِيهِ الْأَذَى فَلَا خَيْرَ فِيهِ وَإِذَا كَانَتْ بِمَكَانٍ لَا تُصِيبُ فِيهِ الْأَذَى فَلَا بَأْسَ بِهِ.قَالَ وَكِيعٌ عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ: رَأَيْتُ طَائِرًا ذَرَقَ عَلَى سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَمَسَحَهُ عَنْهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ. [اسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ لِلْغَائِطِ وَالْبَوْلِ]قَالَ وَقَالَ مَالِكٌ: إنَّمَا الْحَدِيثُ الَّذِي جَاءَ «لَا تَسْتَقْبِلْ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ وَلَا لِبَوْلٍ» إنَّمَا يَعْنِي بِذَلِكَ فَيَافِيَ الْأَرْضِ وَلَمْ يَعْنِ بِذَلِكَ الْقُرَى وَالْمَدَائِنَ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ: أَرَأَيْتَ مَرَاحِيضَ تَكُونُ عَلَى السُّطُوحِ؟قَالَ: لَا بَأْسَ بِذَلِكَ وَلَمْ يَعْنِ بِالْحَدِيثِ هَذِهِ الْمَرَاحِيضَ.قُلْتُ: أَيُجَامِعُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ فِي قَوْلِ مَالِكٍ؟قَالَ: لَا أَحْفَظُ عَنْ مَالِكٍ فِيهِ شَيْئًا وَأَرَى أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ لِأَنَّهُ لَا يَرَى بِالْمَرَاحِيضِ بَأْسًا فِي الْمَدَائِنِ وَالْقُرَى وَإِنْ كَانَتْ مُسْتَقْبِلَةً الْقِبْلَةَ.قُلْتُ: كَانَ مَالِكٌ يَكْرَهُ اسْتِقْبَالَ الْقِبْلَةِ وَاسْتِدْبَارَهَا لِبَوْلٍ أَوْ لِغَائِطٍ فِي فَيَافِي الْأَرْضِ، قَالَ: نَعَمْ الِاسْتِقْبَالُ وَالِاسْتِدْبَارُ سَوَاءٌ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ رَافِعِ بْنِ إِسْحَاقَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ لِغَائِطٍ أَوْ لِبَوْلٍ فَلَا يَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ بِفَرْجِهِ وَلَا يَسْتَدْبِرُهَا» .قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَذَكَرَ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَدَنِيِّ يُحَدِّثُ عَنْ عِيسَى بْنِ أَبِي عِيسَى الْحَنَّاطِ عَنْ الشَّعْبِيِّ فِي اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ لِغَائِطٍ أَوْ لِبَوْلٍ، قَالَ: إنَّمَا ذَلِكَ فِي الْفَلَوَاتِ فَإِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا يُصَلُّونَ لَهُ مِنْ خَلْقِهِ فَأَمَّا حُشُوشُكُمْ هَذِهِ الَّتِي فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّهَا لَا قِبْلَةَ لَهَا. [الِاسْتِنْجَاءُ مِنْ الرِّيحِ وَالْغَائِطِ]ِ قَالَ وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يُسْتَنْجَى مِنْ الرِّيحِ وَلَكِنْ إنْ بَالَ أَوْ تَغَوَّطَ فَلْيَغْسِلْ مَخْرَجَ الْأَذَى وَحْدَهُ فَقَطْ إنْ بَالَ فَمَخْرَجُ الْبَوْلِ الْإِحْلِيلُ وَإِنْ تَغَوَّطَ فَمَخْرَجُ الْأَذَى فَقَطْ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ قُلْتُ لِمَالِكٍ: فَمَنْ تَغَوَّطَ فَاسْتَنْجَى بِالْحِجَارَةِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَلَمْ يَغْسِلْ مَا هُنَالِكَ بِالْمَاءِ حَتَّى صَلَّى؟قَالَ: تُجْزِئُهُ صَلَاتُهُ وَلْيَغْسِلْ مَا هُنَالِكَ بِالْمَاءِ فِيمَا يَسْتَقْبِلُ.قَالَ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَحْلَاءَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَتَوَضَّأُ بِالْمَاءِ وُضُوءًا لِمَا تَحْتَ إزَارِهِ، قَالَ مَالِكٌ: يُرِيدُ الِاسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ.قَالَ
ইবনে মাসউদ (রা.)-এর ওপর একটি পাখি বিষ্ঠা ত্যাগ করলে তিনি তা আঙুল দিয়ে ঝেড়ে ফেলেন। এটি ওয়াকি' এর সূত্রে সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন।ইবনে ওয়াহাব আমর ইবনুল হারিস থেকে এবং তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুরগির উচ্ছিষ্ট অপছন্দ করতেন। ইবনে লাহীয়াহ ইয়াযীদ ইবনে আবি হাবীব থেকে রাজহাঁস ও মুরগির ক্ষেত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। লাইস ইবনে সা'দও একই মত পোষণ করেছেন।ইমাম মালিক বলেন: যদি সেগুলো এমন জায়গায় থাকে যেখানে অপবিত্রতা স্পর্শ করে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর যদি এমন জায়গায় থাকে যেখানে অপবিত্রতা স্পর্শ করে না, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।ওয়াকি' হানজালা ইবনে আবি সুফইয়ান আল-জুমাহি থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি একটি পাখিকে সালিম ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর বিষ্ঠা ত্যাগ করতে দেখেছি, অতঃপর তিনি তা মুছে ফেলেন। এটি ইবনে ওয়াহাবের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে। [মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়া]বর্ণনাকারী বলেন, ইমাম মালিক বলেছেন: ‘মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করো না এবং পিঠও দিও না’ মর্মে যে হাদিসটি এসেছে, তা মূলত উন্মুক্ত প্রান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; জনপদ বা শহরের ক্ষেত্রে নয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: ছাদের ওপর নির্মিত শৌচাগারগুলোর ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই; হাদিসে এই শৌচাগারগুলোকে উদ্দেশ্য করা হয়নি।আমি বললাম: ইমাম মালিকের মতানুসারে, কোনো ব্যক্তি কি কিবলামুখী হয়ে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারে?তিনি বললেন: আমি এ বিষয়ে মালিক থেকে সরাসরি কিছু মুখস্থ রাখিনি (শুনি নি), তবে আমার মনে হয় এতে কোনো দোষ নেই; কারণ তিনি শহর ও জনপদে কিবলামুখী শৌচাগার ব্যবহারে কোনো অসুবিধা দেখেন না।আমি বললাম: ইমাম মালিক কি উন্মুক্ত ময়দানে মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়া বা কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিবলামুখী হওয়া এবং কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া উভয়ই সমান।ইবনে ওয়াহাব মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি রাফি' ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু আইয়ুবকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ মল বা মূত্র ত্যাগের জন্য যায়, সে যেন তার লজ্জাস্থান দিয়ে কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না দেয়।"ইবনে ওয়াহাব হামজা ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাদানির সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ঈসা ইবনে আবি ঈসা আল-হান্নাত থেকে, তিনি শাবী থেকে মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়ার বিষয়ে বর্ণনা করেন: তিনি বলেছেন, এটি কেবল উন্মুক্ত ময়দানের জন্য; কারণ সেখানে আল্লাহর এমন অনেক সৃষ্টি রয়েছে যারা তাঁর ইবাদত করে। পক্ষান্তরে তোমাদের ঘরবাড়িতে অবস্থিত এই শৌচাগারগুলোর কোনো কিবলা নেই (অর্থাৎ কিবলার বিধান এখানে নেই)। [বায়ু নির্গত হওয়া ও মলত্যাগের পর ইস্তিনজা করা]বর্ণনাকারী বলেন, মালিক বলেছেন: বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইস্তিনজা করতে হয় না। তবে কেউ যদি প্রস্রাব বা পায়খানা করে, তবে সে যেন কেবল অপবিত্রতা নির্গমনের স্থানটি ধুয়ে ফেলে। প্রস্রাব করলে মূত্রনালী এবং পায়খানা করলে কেবল মলদ্বার ধোওয়াই যথেষ্ট।ইবনুল কাসিম বলেন, আমি মালিককে জিজ্ঞেস করলাম: যদি কেউ মলত্যাগের পর পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করে অজু করে নেয় এবং পানি দিয়ে সেই স্থান ধৌত না করেই নামাজ পড়ে ফেলে?তিনি বললেন: তার নামাজ হয়ে যাবে, তবে ভবিষ্যতে সে যেন ওই স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়।মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে তাহলা থেকে, তিনি উসমান ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে তাঁর লুঙ্গির নিচের অংশের জন্য (অর্থাৎ ইস্তিনজার জন্য) পানি দিয়ে অজু করতে শুনেছেন। মালিক বলেন: এর অর্থ হলো পানি দিয়ে ইস্তিনজা করা।তিনি বলেন
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
ابْنُ وَهْبٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ قَاضِي عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ: «إنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ اتَّبَعَ النَّبِيَّ عليه السلام فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ حِينَ تَبَرَّزَ فَأَخَذَ الْإِدَاوَةَ مِنْهُ، وَقَالَ: تَأَخَّرَ عَنِّي فَفَعَلْتُ فَاسْتَنْجَى بِالْمَاءِ» .قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُهُ، وَقَالَتْ: إنَّهُ شِفَاءٌ مِنْ الْبَاسُورِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ التَّنُوخِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ فَسَمِعْتُهُمْ يَسْتَفْتُونَهُ عَنْ الِاسْتِنْجَاءِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: ثَلَاثَةُ أَحْجَارٍ فَقَالُوا: فَكَيْفَ بِالْمَاءِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هُوَ أَطْهَرُ وَأَطْيَبُ» . [الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ]فِي الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ قُلْتُ: فَهَلْ يُنْتَقَضُ وُضُوءُهُ إذَا غَسَلَ دُبُرَهُ فَمَسَّ الشَّرَجَ؟قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: لَا يُنْتَقَضُ وُضُوءُهُ مِنْ مَسِّ شَرَجٍ وَلَا رَفْعٍ وَلَا شَيْءٍ مِمَّا هُنَالِكَ إلَّا مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ وَحْدَهُ بِبَاطِنِ الْكَفِّ، فَإِنْ مَسَّهُ بِظَاهِرِ الْكَفِّ أَوْ الذِّرَاعِ فَلَا يُنْتَقَضُ وُضُوءُهُ.قُلْتُ: فَإِنْ مَسَّهُ بِبَاطِنِ الْأَصَابِعِ؟قَالَ: أَرَى بَاطِنَ الْأَصَابِعِ بِمَنْزِلَةِ بَاطِنِ الْكَفِّ، قَالَ لِأَنَّ مَالِكًا قَالَ لِي: إنَّ بَاطِنَ الْأَصَابِعِ وَبَاطِنَ الْكَفِّ بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ.قَالَ: وَبَلَغَنِي أَنَّ مَالِكًا قَالَ فِي مَسِّ الْمَرْأَةِ فَرْجَهَا إنَّهُ لَا وُضُوءَ عَلَيْهَا. وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فِي غُسْلِهِ مِنْ الْجَنَابَةِ قَالَ: يُعِيدُ وُضُوءَهُ إذَا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ مِنْ الْجَنَابَةِ إلَّا أَنْ يَكُونَ قَدْ أَمَرَّ يَدَيْهِ عَلَى مَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهُ فِي غُسْلِهِ فَأَرَى ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ وَعَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ وَابْنُ وَهْبٍ وَابْنُ نَافِعٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ: دَخَلْتُ عَلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَتَذَاكَرْنَا مَا يَكُونُ مِنْهُ الْوُضُوءُ، فَقَالَ مَرْوَانُ: وَمِنْ مَسِّ الذَّكَرِ الْوُضُوءُ؟ فَقَالَ عُرْوَةُ: مَا عَلِمْتُ ذَلِكَ، فَقَالَ مَرْوَانُ أَخْبَرَتْنِي بُسْرَةُ بِنْتُ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَقُولُ: «إذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ» .قَالَ عُرْوَةُ: ثُمَّ أَرْسَلَ مَرْوَانُ إلَى بُسْرَةَ رَسُولًا يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَأَتَاهُ عَنْهَا بِمِثْلِ الَّذِي قَالَ، وَقَالُوا كُلُّهُمْ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إذَا مَسَّ رَجُلٌ فَرْجَهُ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ، وَقَالُوا أَيْضًا عَنْ مَالِكٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَغْتَسِلُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ: مَا يُجْزِيكَ الْغُسْلُ مِنْ الْوُضُوءِ؟ قَالَ: بَلَى وَلَكِنِّي أَحْيَانًا أَمَسُّ ذَكَرِي فَأَتَوَضَّأُ.وَذَكَرُوا أَيْضًا عَنْ مَالِكٍ عَنْ إسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ الْمُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: الْوُضُوءُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ، وَذَكَرُوا أَيْضًا عَنْ مَالِكٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عُرْوَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ.
ইবনে ওয়াহাব লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু মা’শার থেকে, তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজের বিচারক মুহাম্মদ ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন: «নিশ্চয়ই মুগিরা ইবনে শু’বা তাবুক যুদ্ধের সময় নবী (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসরণ করেছিলেন এক পাত্র পানি নিয়ে যখন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে নির্জনে গিয়েছিলেন। তখন তিনি (নবীজি) তার থেকে পাত্রটি গ্রহণ করলেন এবং বললেন: আমার থেকে দূরে থাকো। ফলে আমি তাই করলাম এবং তিনি পানি দ্বারা ইস্তিনজা সম্পন্ন করলেন»।ইবনে ওয়াহাব মাসলামাহ ইবনে আলী থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করতেন এবং তিনি বলতেন: এটি অর্শ্বরোগের জন্য নিরাময় স্বরূপ।ইবনে ওয়াহাব আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আন’আম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে রাফে আত-তানুখী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা জিনদের রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আমি শুনতে পেলাম যে তারা তাঁর কাছে ইস্তিনজা সম্পর্কে ফতোয়া চাচ্ছে। তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম: তিনটি পাথর। তারা বলল: তাহলে পানির বিধান কী? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এটি অধিক পবিত্রকারী ও উত্তম»। [লিঙ্গ স্পর্শ করার কারণে অজু করা প্রসঙ্গে]লিঙ্গ স্পর্শ করার কারণে অজু করা প্রসঙ্গে আমি জিজ্ঞাসা করলাম: কোনো ব্যক্তি যদি তার মলদ্বার ধৌত করার সময় মলদ্বারের বেষ্টনী বা উপরিভাগ স্পর্শ করে, তবে কি তার অজু ভেঙে যাবে?তিনি বললেন: মালিক (র.) বলেছেন: মলদ্বারের উপরিভাগ বা উঁচু কোনো অংশ বা সেখানে থাকা অন্য কোনো কিছু স্পর্শ করলে অজু ভেঙে যাবে না। কেবল হাতের তালুর ভেতরের অংশ দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ করলে অজু ভাঙবে। আর যদি হাতের পিঠ বা বাহু দিয়ে তা স্পর্শ করে, তবে তার অজু ভাঙবে না।আমি জিজ্ঞাসা করলাম: যদি সে আঙুলের ভেতরের অংশ দিয়ে স্পর্শ করে?তিনি বললেন: আমি আঙুলের ভেতরের অংশকে হাতের তালুর ভেতরের অংশের স্থলাভিষিক্ত মনে করি। তিনি আরও বললেন যে, ইমাম মালিক আমাকে বলেছেন: আঙুলের ভেতরের অংশ এবং হাতের তালুর ভেতরের অংশ একই মর্যাদার বা একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।তিনি বললেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, মালিক (র.) মহিলার স্বীয় যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা সম্পর্কে বলেছেন যে, এতে তার ওপর অজু আবশ্যক হবে না। ইমাম মালিক সেই ব্যক্তি সম্পর্কেও বলেছেন যে জানাবাতের গোসলের সময় তার লিঙ্গ স্পর্শ করে, তিনি বলেছেন: সে গোসল শেষ করার পর পুনরায় অজু করবে। তবে যদি সে গোসলের সময় তার অজুর অঙ্গসমূহের ওপর হাত বুলিয়ে থাকে, তবে আমি মনে করি সেটি তার জন্য যথেষ্ট হবে।ইবনুল কাসিম, আলী ইবনে যিয়াদ, ইবনে ওয়াহাব এবং ইবনে নাফে ইমাম মালিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উরওয়া ইবনে যুবায়েরকে বলতে শুনেছেন: আমি মারওয়ান ইবনে হাকামের কাছে গেলাম এবং আমরা সে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম যাতে অজু আবশ্যক হয়। তখন মারওয়ান বললেন: লিঙ্গ স্পর্শ করলেও কি অজু করতে হবে? উরওয়া বললেন: এ সম্পর্কে আমি জানতাম না। তখন মারওয়ান বললেন, বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «তোমাদের কেউ যখন তার লিঙ্গ স্পর্শ করে, তখন সে যেন অজু করে»।উরওয়া বলেন: অতঃপর মারওয়ান বুসরাহর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য একজন দূত পাঠালেন। দূত তার পক্ষ থেকে মারওয়ানের পূর্বোক্ত কথার অনুরূপ উত্তর নিয়ে ফিরে এলেন। তারা সকলেই মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলতেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে, তখন তার ওপর অজু ওয়াজিব হয়। তারা মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা (ইবনে উমর) থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, তিনি গোসল করতেন এবং এরপর অজু করতেন। সালেম বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: গোসল কি অজুর জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিন্তু কখনো কখনো আমি আমার লিঙ্গ স্পর্শ করে ফেলি, তাই আমি অজু করি।তারা মালিক থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাদ (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেন যে তিনি বলতেন: লিঙ্গ স্পর্শ করার কারণে অজু আবশ্যক। তারা মালিক থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা উরওয়া থেকে আরও বর্ণনা করেন যে তিনি বলতেন: যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করল, তার ওপর অজু ওয়াজিব হলো।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٩)
[الْوُضُوءُ مِنْ النَّوْمِ]ِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ نَامَ فِي سُجُودِهِ فَاسْتَثْقَلَ نَوْمًا وَطَالَ ذَلِكَ أَنَّ وُضُوءَهُ مُنْتَقَضٌ. قَالَ: وَمَنْ نَامَ نَوْمًا خَفِيفًا - الْخَطِرَةَ وَنَحْوَهَا - لَمْ أَرَ وُضُوءَهُ مُنْتَقَضًا.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ نَامَ عَلَى دَابَّتِهِ قَالَ: إنْ طَالَ ذَلِكَ بِهِ انْتَقَضَ وُضُوءُهُ وَإِنْ كَانَ شَيْئًا خَفِيفًا فَهُوَ عَلَى وُضُوئِهِ.قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ: أَرَأَيْتَ إنْ نَامَ الَّذِي عَلَى دَابَّتِهِ قَدْرَ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ؟قَالَ: أَرَى أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ فِي مِثْلِ هَذَا وَهَذَا كَثِيرٌ، قَالَ: وَهُوَ عِنْدِي بِمَنْزِلَةِ الْقَاعِدِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ نَامَ وَهُوَ مُحْتَبٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ فَإِنَّ ذَلِكَ خَفِيفٌ وَلَا أَرَى عَلَيْهِ الْوُضُوءَ لِأَنَّ هَذَا لَا يَثْبُتُ، قَالَ: فَإِنْ نَامَ وَهُوَ جَالِسٌ بِلَا احْتِبَاءٍ؟قَالَ: هَذَا أَشَدُّ لِأَنَّ هَذَا يَثْبُتُ وَعَلَى هَذَا الْوُضُوءُ إنْ كَثُرَ ذَلِكَ وَطَالَ.قَالَ مَالِكٌ: عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ تَفْسِيرَ هَذِهِ الْآيَةِ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إذَا قُمْتُمْ إلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمْ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ} [المائدة: 6] إنَّ ذَلِكَ إذَا قُمْتُمْ مِنْ الْمَضَاجِعِ يَعْنِي النَّوْمَ.قَالَ مَالِكٌ: عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: إذَا نَامَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ فَلْيَتَوَضَّأْ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِي صَخْرٍ حُمَيْدِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ قُسَيْطٍ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ: لَيْسَ عَلَى الْمُجْتَبِي النَّائِمِ وَلَا عَلَى الْقَائِمِ النَّائِمِ وُضُوءٌ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَالَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَمُجَاهِدٌ: إنَّ الرَّجُلَ إذَا نَامَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: إنَّ السُّنَّةَ فِيمَنْ نَامَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ.قَالَ عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ إيَاسٍ الْجَرِيرِيِّ عَنْ أَبِي خَالِدِ بْنِ عَلَّاقٍ الْعَبْسِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: مَنْ اسْتَحَقَّ نَوْمًا فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ، قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَأَنَّ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَتْ فِي يَدِهِ مِرْوَحَةٌ وَهُوَ جَالِسٌ فَسَقَطَتْ مِنْ يَدِهِ الْمِرْوَحَةُ وَهُوَ نَاعِسٌ فَتَوَضَّأَ، وَقَالَ قَالَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ: مَنْ اسْتَثْقَلَ نَوْمًا فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ عَلَى أَيْ حَالٍ كَانَ. [سَلَسِ الْبَوْلِ وَالْمَذْيِ وَالدُّودِ وَالدَّمِ يَخْرُجُ مِنْ الدُّبُرِ]مَا جَاءَ فِي سَلَسِ الْبَوْلِ وَالْمَذْيِ وَالدُّودِ وَالدَّمِ يَخْرُجُ مِنْ الدُّبُرِ قَالَ: وَسَأَلْتُ ابْنَ الْقَاسِمِ عَنْ الذَّكَرِ يَخْرُجُ مِنْهُ الْمَذْيُ هَلْ عَلَى صَاحِبِهِ مِنْهُ الْوُضُوءُ؟قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: إنْ كَانَ ذَلِكَ مِنْ سَلَسٍ مِنْ بَرْدٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ قَدْ اسْتَنْكَحَهُ وَدَامَ بِهِ فَلَا
[নিদ্রার কারণে ওজু]তিনি বলেন: ইমাম মালিক (র.) বলেছেন: যে ব্যক্তি সিজদাবনত অবস্থায় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং সেই ঘুম যদি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার ওজু ভেঙে যাবে। তিনি বলেন: আর যে ব্যক্তি হালকা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়—যেমন ক্ষণিকের ঝিমুনি বা অনুরূপ কিছু—তবে আমি মনে করি না যে তার ওজু ভেঙেছে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (র.) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার সওয়ারির (বাহনের) পিঠে ঘুমিয়ে পড়েছে: যদি তার ঘুম দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তার ওজু ভেঙে যাবে, আর যদি তা সামান্য হয় তবে সে ওজু অবস্থাতেই থাকবে।তিনি বলেন: আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি বাহনের পিঠে বসা ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ের মতো দীর্ঘ সময় ঘুমায় তবে আপনার অভিমত কী?তিনি বললেন: আমি মনে করি এমন ক্ষেত্রে তাকে ওজু পুনরায় করতে হবে এবং এটি অনেক দীর্ঘ সময়। তিনি আরও বললেন: আমার নিকট সে উপবিষ্ট ব্যক্তির সমতুল্য।তিনি বলেন: ইমাম মালিক (র.) বলেছেন: জুমার দিনে কেউ যদি দুই হাত দিয়ে দুই পা জড়িয়ে (ইহতিবা অবস্থায়) বসা থাকা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে এবং অনুরূপ কিছু ঘটে, তবে তা হালকা ঘুম এবং আমি তার ওপর ওজু আবশ্যক মনে করি না; কারণ এই অবস্থায় শরীর স্থির থাকে না। তিনি বললেন: তাহলে যদি সে ইহতিবা ছাড়া সাধারণ বসা অবস্থায় ঘুমায়?তিনি বললেন: এটি অধিকতর গুরুতর, কারণ এই অবস্থায় শরীর স্থির থাকে এবং এর ওপর ওজু আবশ্যক হবে যদি ঘুম অধিক ও দীর্ঘ হয়।ইমাম মালিক (র.) জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এবং তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াতের ব্যাখ্যা—{হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথা মাসেহ কর এবং তোমাদের পা টাখনু পর্যন্ত (ধৌত কর); আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাক তবে পবিত্রতা অর্জন কর; আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আস কিংবা তোমরা নারীদের স্পর্শ কর, অতঃপর পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর; সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ কর} [আল-মায়েদাহ: ৬]—এর অর্থ হলো যখন তোমরা শয্যা থেকে উঠবে, অর্থাৎ নিদ্রা হতে।ইমাম মালিক (র.) জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ কাত হয়ে শোয়া অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে, তখন সে যেন পুনরায় ওজু করে।ইবনে ওয়াহাব (র.) হায়ওয়াহ ইবনে শুরাইহ থেকে, তিনি আবু সাখর হুমাইদ ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে কুসাইত থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: গুটিসুটি মেরে (ইহতিবা) বসা অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর এবং দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর ওজু আবশ্যক নয়।ইবনে ওয়াহাব (র.) বলেন যে আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং মুজাহিদ (র.) বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি রুকু বা সিজদা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে তবে তার ওপর ওজু আবশ্যক।ইবনে ওয়াহাব (র.) ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব (র.) থেকে বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি রুকু বা সিজদা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে তার ওপর ওজু আবশ্যক হওয়াটাই সুন্নাহর বিধান।আলী ইবনে জিয়াদ (র.) সুফিয়ান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াস আল-জারিরি থেকে, তিনি আবু খালিদ ইবনে আল্লাক আল-আবসি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়েছে, তার ওপর ওজু আবশ্যক হয়ে গেছে। ইবনে ওয়াহাব বলেন: রাবিআহ ইবনে আবি আবদুর রহমান যখন বসা অবস্থায় ছিলেন তখন তার হাতে একটি হাতপাখা ছিল, তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে তার হাত থেকে পাখাটি পড়ে গেলে তিনি ওজু করেন। তিনি আরও বলেন, ইবনে আবি সালামাহ বলেছেন: যার ঘুম গভীর হবে তার ওপর ওজু আবশ্যক, সে যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন। [মূত্র ঝরা, মযি নির্গত হওয়া, কৃমি এবং মলদ্বার দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া]মূত্র ঝরা, মযি নির্গত হওয়া, কৃমি এবং মলদ্বার দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে: তিনি বলেন, আমি ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম, লিঙ্গ থেকে মযি নির্গত হলে ব্যক্তির ওপর কি ওজু ওয়াজিব হবে?তিনি বললেন: ইমাম মালিক (র.) বলেছেন: যদি তা ঠান্ডাজনিত ধাতুদৌর্বল্য বা অনুরূপ কোনো অসুস্থতার কারণে হয় যা তাকে কাবু করে ফেলেছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে, তবে ওজু করতে হবে না।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
أَرَى عَلَيْهِ الْوُضُوءَ، وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ مِنْ طُولِ عُزْبَةٍ أَوْ تَذَكُّرٍ فَخَرَجَ مِنْهُ أَوْ كَانَ إنَّمَا يَخْرُجُ مِنْهُ الْمَرَّةَ بَعْدَ الْمَرَّةِ فَأَرَى أَنْ يَنْصَرِفَ فَيَغْسِلَ مَا بِهِ وَيُعِيدَ الْوُضُوءَ.قُلْتُ: فَالدُّودُ يَخْرُجُ مِنْ الدُّبُرِ؟قَالَ: لَا شَيْءَ عَلَيْهِ عِنْدَ مَالِكٍ.وَقَالَ إبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ مِثْلَهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ أَشْهَبَ عَنْ شُعْبَةَ.قُلْتُ: فَإِنْ خَرَجَ مِنْ ذَكَرِهِ بَوْلٌ لَمْ يَتَعَمَّدْهُ؟قَالَ: عَلَيْهِ الْوُضُوءُ لِكُلِّ صَلَاةٍ إلَّا أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ شَيْئًا قَدْ اسْتَنْكَحَهُ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ الْوُضُوءَ لِكُلِّ صَلَاةٍ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي سَلَسِ الْبَوْلِ: إنْ أَذَاهُ الْوُضُوءُ وَاشْتَدَّ عَلَيْهِ الْبَرْدُ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ الْوُضُوءَ.قُلْتُ: فَإِنْ خَرَجَ مِنْ فَرْجِ الْمَرْأَةِ دَمٌ؟قَالَ: عَلَيْهَا الْغُسْلُ عِنْدَ مَالِكٍ إلَّا أَنْ تَكُونَ مُسْتَحَاضَةً فَعَلَيْهَا الْوُضُوءُ لِكُلِّ صَلَاةٍ.قَالَ: وَقَالَ لِي مَالِكٌ: الْمُسْتَحَاضَةُ وَالسَّلِسُ الْبَوْلِ يَتَوَضَّآنِ لِكُلِّ صَلَاةٍ أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُوجِبَ ذَلِكَ عَلَيْهِمَا وَأُحِبُّ أَنْ يَتَوَضَّأَ لِكُلِّ صَلَاةٍ.قَالَ: وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ الَّذِي يُصِيبُهُ الْمَذْيُ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ أَوْ فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ فَيَكْثُرُ ذَلِكَ عَلَيْهِ أَتَرَى أَنْ يَتَوَضَّأَ؟قَالَ: فَقَالَ مَالِكٌ: أَمَّا مَنْ كَانَ ذَلِكَ مِنْهُ مِنْ طُولِ عُزْبَةٍ أَوْ تَذَكُّرٍ فَإِنِّي أَرَى عَلَيْهِ أَنْ يَتَوَضَّأَ، وَأَمَّا مَنْ كَانَ ذَلِكَ مِنْهُ مِنْ اسْتِنْكَاحٍ قَدْ اسْتَنْكَحَهُ مِنْ إبْرِدَةٍ أَوْ غَيْرِهَا فَكَثُرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ وُضُوءًا، وَإِنْ كَانَ قَدْ أَيْقَنَ أَنَّهُ خَرَجَ ذَلِكَ مِنْهُ فَلْيَكُفَّ ذَلِكَ بِخِرْقَةٍ أَوْ بِشَيْءٍ وَلْيُصَلِّ وَلَا يُعِيدُ الْوُضُوءَ. قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَذْكُرُ قَوْلَ النَّاسِ فِي الْوُضُوءِ حَتَّى يَقْطُرَ أَوْ يَسِيلَ، قَالَ: فَسَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ: قَطْرًا قَطْرًا اسْتِنْكَارًا لِذَلِكَ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: فَهَلْ حَدَّ فِي هَذَا حَدًّا أَنَّهُ مَذْيٌ مَا لَمْ يَقْطُرْ أَوْ يَسِلْ؟قَالَ: مَا سَمِعْتُهُ حَدَّ لَنَا فِي هَذَا حَدًّا وَلَكِنَّهُ قَالَ: يَتَوَضَّأُ. قَالَ: وَقَدْ ذَكَرَ لَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: إنِّي لَأَجِدُهُ يَنْحَدِرُ مِنِّي مِثْلَ الْخُرَيْزَةِ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَغْسِلْ فَرْجَهُ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ قَالَ مَالِكٌ: يَعْنِي الْمَذْيَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعُمَرِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: إنِّي لَأَجِدُهُ يَنْحَدِرُ مِنِّي فِي الصَّلَاةِ عَلَى فَخِذِي كَخَرَزِ اللُّؤْلُؤِ فَمَا أَنْصَرِفُ حَتَّى أَقْضِيَ صَلَاتِي.قَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ الصَّلْتِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ عَنْ الْبَلَلِ أَجِدُهُ فَقَالَ سُلَيْمَانُ: انْضَحْ مَا تَحْتَ ثَوْبِكَ بِالْمَاءِ وَالْهُ عَنْهُ. قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ قَالَ فِي الرَّجُلِ يَجِدُ الْبِلَّةَ قَالَ: إذَا اسْتَبْرَيْتَ وَفَرَغْتَ فَارْشُشْ بِالْمَاءِ، وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّهُ قَالَ فِي الْمَذْيِ: إذَا تَوَضَّأْت فَانْضَحْ بِالْمَاءِ ثُمَّ قُلْ هُوَ الْمَاءُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ وَعَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ كَانَ يَسْلَسُ الْبَوْلُ مِنْهُ حِينَ كَبِرَ فَكَانَ يُدَارِي مَا غَلَبَ مِنْ ذَلِكَ وَمَا غَلَبَهُ لَمْ يَزِدْ عَلَى أَنْ يَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُصَلِّيَ.قَالَ مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ حَدَّثَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ: «أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَ أَنْ يَسْأَلَ لَهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَحَدِنَا يَخْرُجُ مِنْهُ الْمَذْيُ مَاذَا عَلَيْهِ؟ فَإِنَّ عِنْدِي ابْنَتَهُ وَأَنَا
আমি মনে করি তার ওপর অজু করা আবশ্যক। আর যদি তা দীর্ঘকাল অবিবাহিত থাকার কারণে কিংবা কামোদ্দীপক চিন্তার ফলে নির্গত হয়, অথবা যদি তা মাঝেমধ্যে বের হয়, তবে আমার অভিমত হলো সে নামাজ ছেড়ে ফিরে যাবে, সংশ্লিষ্ট স্থান ধৌত করবে এবং পুনরায় অজু করবে।আমি বললাম: যদি মলদ্বার দিয়ে কৃমি নির্গত হয়?তিনি বললেন: ইমাম মালেকের মতে এর কারণে তার ওপর কিছুই (অজু) আবশ্যক হবে না।আর ইব্রাহিম নাখঈও অনুরূপ কথা বলেছেন, যা ইবনে ওয়াহাব আশহাবের মাধ্যমে শু’বা থেকে বর্ণনা করেছেন।আমি বললাম: যদি তার লিঙ্গ দিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব নির্গত হয়?তিনি বললেন: তাকে প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করতে হবে; তবে যদি এটি এমন বিষয় হয় যা তার ওপর প্রবল হয়ে স্থায়ী রূপ নিয়েছে, তবে আমি মনে করি না যে তাকে প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করতে হবে।তিনি বললেন: ইমাম মালেক মূত্রাশয়ের শিথিলতা (সাসুল বাউল) সম্পর্কে বলেছেন: যদি অজু করা তার জন্য কষ্টদায়ক হয় এবং তীব্র শীত অনুভূত হয়, তবে আমি তার ওপর অজু করা আবশ্যক মনে করি না।আমি বললাম: যদি নারীর গুপ্তাঙ্গ দিয়ে রক্ত নির্গত হয়?তিনি বললেন: ইমাম মালেকের মতে তাকে গোসল করতে হবে; তবে সে যদি ইস্তিহাজাগ্রস্ত (অনিয়মিত রক্তস্রাব) হয়, তবে তাকে প্রতি নামাজের জন্য অজু করতে হবে।তিনি বললেন: ইমাম মালেক আমাকে বলেছেন: ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী এবং প্রস্রাব ঝরা রোগী প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করবে—এটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়, তবে আমি এটি তাদের ওপর আবশ্যক করছি না; তবুও আমি পছন্দ করি যে তারা যেন প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করে নেয়।তিনি বললেন: ইমাম মালেককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যার নামাজের ভেতরে বা বাইরে ‘মজি’ (এক প্রকার কামরস) নির্গত হয় এবং এর পরিমাণ অত্যধিক হয়ে থাকে—আপনি কি মনে করেন যে তাকে অজু করতে হবে?তিনি বললেন: ইমাম মালেক বলেন: যার এটি দীর্ঘকাল অবিবাহিত থাকা বা কামোদ্দীপক চিন্তার কারণে হয়, তার ওপর আমি অজু করা আবশ্যক মনে করি। কিন্তু যার এটি স্থায়ীরূপ নিয়েছে (ইস্তিনকাহ)—শৈত্যজনিত রোগ বা অন্য কোনো কারণে এবং তা অত্যধিক পরিমাণে নির্গত হয়, তবে আমি তার ওপর অজু আবশ্যক মনে করি না। এমনকি সে যদি নিশ্চিত হয় যে তা নির্গত হয়েছে, তবে সে যেন কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে তা আটকে রাখে এবং নামাজ পড়ে নেয়; তাকে অজু পুনরায় করতে হবে না। তিনি বলেন: আমি ইমাম মালেককে লোকদের একটি উক্তি উল্লেখ করতে শুনেছি যে, (মজি নির্গত হলে) অজু করতে হবে না যতক্ষণ না তা ফোঁটা আকারে পড়ে বা গড়িয়ে যায়। তিনি বলেন: আমি তাকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে ‘ফোঁটা ফোঁটা’ (অজু না করার শর্ত হিসেবে) বলতে শুনেছি। তিনি বললেন: আমি ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এর কোনো সীমা নির্ধারণ করেছেন যে, যতক্ষণ তা ফোঁটা আকারে না পড়বে বা গড়িয়ে না পড়বে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে ‘মজি’ (অজু ভঙ্গকারী) বলা হবে না?তিনি বললেন: আমি তাকে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করতে শুনিনি, বরং তিনি বলেছেন: তাকে অজু করতে হবে। তিনি বললেন: ইমাম মালেক জায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে তার পিতার বরাতে আমাদের কাছে উল্লেখ করেছেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আমি অনুভব করি যে আমার থেকে ছোট পুঁতির মতো কিছু একটা গড়িয়ে পড়ছে। তোমাদের মধ্যে কেউ যখন এমন অনুভব করবে, সে যেন তার গুপ্তাঙ্গ ধুয়ে নেয় এবং নামাজের ন্যায় অজু করে। ইমাম মালেক বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘মজি’।ইবনে ওয়াহাব উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-উমারি থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আমি নামাজের মধ্যে আমার উরুর ওপর মুক্তার দানার মতো কিছু একটা গড়িয়ে পড়তে অনুভব করি, কিন্তু আমি নামাজ শেষ না করে ফিরে যাই না।মালেক ইবনে আনাস সালত ইবনে জায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি সুলাইমান ইবনে ইয়াসারকে আমার অনুভূত আর্দ্রতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন সুলাইমান বললেন: তোমার কাপড়ের নিচের অংশে পানি ছিটিয়ে দাও এবং এ নিয়ে দুশ্চিন্তা পরিহার করো। ইবনে ওয়াহাব কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কোনো ব্যক্তির আর্দ্রতা অনুভব করার বিষয়ে বলেছেন: যখন তুমি পবিত্রতা অর্জন সম্পন্ন করবে, তখন পানি ছিটিয়ে দাও। আর ইবনে ওয়াহাব ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মজি সম্পর্কে বলেছেন: যখন তুমি অজু করবে, তখন (কাপড়ে) পানি ছিটিয়ে দেবে এবং বলবে যে এটি পানি।ইবনে ওয়াহাব ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ও আমর ইবনুল হারিস থেকে এবং তারা ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন বার্ধক্যে উপনীত হলেন, তখন তিনি মূত্রাশয়ের শিথিলতায় আক্রান্ত হন। তিনি এর অনিয়ন্ত্রিত অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতেন, আর যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকত সে জন্য তিনি নামাজের ন্যায় অজু করা ছাড়া অন্য কিছু করতেন না এবং এরপর নামাজ পড়তেন।ইমাম মালেক আবু নাদর থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে: আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু আদেশ করলেন যেন তার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আমাদের মধ্যে কারো যদি ‘মজি’ নির্গত হয়, তবে তার ওপর কী করণীয়? কেননা আমার ঘরে তাঁর কন্যা রয়েছেন এবং আমি...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢١)
اسْتَحْيِ أَنْ أَسْأَلَهُ، قَالَ الْمِقْدَادُ: فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: إذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَغْسِلْ فَرْجَهُ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ» .قَالَ عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ قَالَ مَالِكٌ: لَيْسَ عَلَى الرَّجُلِ غَسْلُ أُنْثَيَيْهِ مِنْ الْمَذْيِ عِنْدَ وُضُوئِهِ مِنْهُ إلَّا أَنْ يَخْشَى أَنْ يَكُونَ قَدْ أَصَابَ أُنْثَيَيْهِ مِنْهُ شَيْءٌ إنَّمَا عَلَيْهِ غَسْلُ ذَكَرِهِ، قَالَ مَالِكٌ: الْمَذْيُ عِنْدَنَا أَشَدُّ مِنْ الْوَدْيِ لِأَنَّ الْفَرْجَ يُغْسَلُ عِنْدَنَا مِنْ الْمَذْيِ، وَالْوَدْيُ عِنْدَنَا بِمَنْزِلَةِ الْبَوْلِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ نَافِعٍ قَالَ: سُئِلَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ الرَّجُلِ يَكُونُ بِهِ الْبَاسُورُ لَا يَزَالُ يَطْلُعُ مِنْهُ فَيَرُدُّهُ بِيَدِهِ، قَالَ: إذَا كَانَ ذَلِكَ لَازِمًا فِي كُلِّ حِينٍ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ إلَّا غَسْلُ يَدِهِ فَإِنْ كَثُرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَتَتَابَعَ لَمْ نَرَ عَلَيْهِ غَسْلَ يَدِهِ وَكَأَنَّ ذَلِكَ بَلَاءٌ نَزَلَ عَلَيْهِ فَيُعْذَرُ بِهِ بِمَنْزِلَةِ الْقُرْحَةِ. [وُضُوءِ الْمَجْنُونِ وَالسَّكْرَانِ وَالْمُغْمَى عَلَيْهِ إذَا أَفَاقُوا]فِي وُضُوءِ الْمَجْنُونِ وَالسَّكْرَانِ وَالْمُغْمَى عَلَيْهِ إذَا أَفَاقُوا قَالَ وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الْمَجْنُونِ يُخْنَقُ؟ قَالَ: أَرَى عَلَيْهِ الْوُضُوءَ إذَا أَفَاقَ.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: فَإِنْ خُنِقَ قَائِمًا أَوْ قَاعِدًا؟قَالَ: لَا أَحْفَظُ عَنْ مَالِكٍ فِيهِ شَيْئًا وَلَكِنِّي أَرَى أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ.قُلْتُ: فَمَنْ ذَهَبَ عَقْلُهُ مِنْ لَبَنٍ سَكِرَ مِنْهُ أَوْ نَبِيذٍ؟قَالَ: لَمْ أَسْأَلْ عَنْهُ مَالِكًا وَلَكِنْ فِيهِ الْوُضُوءُ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ مَنْ أُغْمِيَ عَلَيْهِ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ، قَالَ: فَقِيلَ لِمَالِكٍ: فَالْمَجْنُونُ أَعَلَيْهِ الْغُسْلُ إذَا أَفَاقَ؟قَالَ: لَا، وَلَكِنْ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ. قَالَ: وَكَانَ مَالِكٌ يَأْمُرُ مَنْ أَسْلَمَ مِنْ الْمُشْرِكِينَ بِالْغُسْلِ، قَالَ: وَقَدْ يَتَوَضَّأُ مَنْ هُوَ أَيْسَرُ شَأْنًا مِمَّنْ فَقَدَ عَقْلَهُ بِجُنُونٍ أَوْ بِإِغْمَاءٍ أَوْ بِسُكْرٍ وَهُوَ النَّائِمُ الَّذِي يَنَامُ سَاجِدًا أَوْ مُضْطَجِعًا لِقَوْلِ اللَّهِ تبارك وتعالى: {إذَا قُمْتُمْ إلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] وَقَدْ قَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ: إنَّمَا تَفْسِيرُ هَذِهِ الْآيَةِ: إذَا قُمْتُمْ إلَى الصَّلَاةِ مِنْ الْمَضَاجِعِ يَعْنِي مِنْ النَّوْمِ. [الْمُلَامَسَةِ وَالْقُبْلَةِ]مَا جَاءَ فِي الْمُلَامَسَةِ وَالْقُبْلَةِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْمَرْأَةِ تَمَسُّ ذَكَرَ الرَّجُلِ، قَالَ: إنْ كَانَتْ مَسَّتْهُ لِشَهْوَةٍ فَعَلَيْهَا الْوُضُوءُ وَإِنْ كَانَتْ مَسَّتْهُ لِغَيْرِ شَهْوَةٍ لِمَرَضٍ أَوْ نَحْوِهِ فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهَا، قَالَ: فَإِذَا مَسَّتْ الْمَرْأَةُ الرَّجُلَ لِلَّذَّةِ فَعَلَيْهَا الْوُضُوءُ، قَالَ: وَكَذَلِكَ إذَا مَسَّ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ بِيَدِهِ لِلَّذَّةِ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ مِنْ فَوْقِ ثَوْبٍ كَانَ أَوْ مِنْ تَحْتِهِ فَهُوَ بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ، قَالَ: وَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ قَالَ: وَالْمَرْأَةُ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ فِي هَذَا، قَالَ: وَإِنْ جَسَّهَا لِلَّذَّةِ فَلَمْ يُنْعِظْ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ.قُلْتُ لِابْنِ
আমি তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। মিকদাদ (রা.) বলেন: অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ যখন তা অনুভব করে, তখন সে যেন তার লিঙ্গ ধৌত করে এবং সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করে।"আলী ইবনে যিয়াদ বলেন, মালিক (রহ.) বলেছেন: মযী (উত্তেজনাজনিত নির্গত তরল) নির্গত হওয়ার কারণে ওযু করার সময় কোনো ব্যক্তির ওপর তার অণ্ডকোষদ্বয় ধৌত করা আবশ্যক নয়, যদি না সে আশঙ্কা করে যে তাতে কিছু লেগেছে; তার ওপর কেবল তার লিঙ্গ ধৌত করা আবশ্যক। মালিক (রহ.) বলেন: আমাদের নিকট মযীর বিধান ওয়াদী (প্রস্রাব পরবর্তী তরল) অপেক্ষা অধিক কঠোর; কারণ আমাদের মতে মযীর কারণে লিঙ্গ ধৌত করতে হয়, আর ওয়াদী আমাদের নিকট প্রস্রাবের সমতুল্য।ইবনে ওয়াহাব ওকবা ইবনে নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার অর্শ (পাইলস) রয়েছে যা প্রায়ই বের হয়ে আসে এবং সে তা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। তিনি বললেন: যদি তা সর্বদা হতে থাকে তবে তার ওপর কেবল হাত ধৌত করা ছাড়া আর কিছু আবশ্যক নয়। আর যদি তা তার জন্য অত্যধিক ও নিরন্তর হয়, তবে আমরা তার ওপর হাত ধৌত করাও আবশ্যক মনে করি না; যেন এটি তার ওপর আপতিত এক বিপদ, যার কারণে সে ক্ষতের ন্যায় ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে। [উন্মাদ, মদ্যপ এবং মূর্ছিত ব্যক্তি চেতনা ফিরে পেলে তাদের ওযুর বিধান]উন্মাদ, মদ্যপ এবং মূর্ছিত ব্যক্তি চেতনা ফিরে পেলে তাদের ওযুর প্রসঙ্গে। তিনি বলেন: আমি মালিক (রহ.)-কে এমন উন্মাদ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার খিঁচুনি বা মূর্ছা যাওয়ার রোগ হয়। তিনি বললেন: সে সুস্থ হলে তার ওপর ওযু করা আবশ্যক বলে আমি মনে করি।আমি ইবনুল কাসিমকে বললাম: যদি তার এই খিঁচুনি দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় হয়?তিনি বললেন: এই বিষয়ে মালিক (রহ.) থেকে আমার কিছু জানা নেই, তবে আমি মনে করি সে ওযু পুনরায় করবে।আমি বললাম: দুধ (গাজনকৃত) অথবা নাবীয পান করার কারণে যার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে (মাতাল হয়েছে), তার বিধান কী?তিনি বললেন: আমি মালিক (রহ.)-কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিনি, তবে এতে ওযু আবশ্যক।তিনি বলেন: মালিক (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মূর্ছিত হয় তার ওপর ওযু করা আবশ্যক। তিনি বলেন: মালিক (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, উন্মাদ ব্যক্তি সুস্থ হলে কি তার ওপর গোসল করা আবশ্যক?তিনি বললেন: না, বরং তার ওপর ওযু আবশ্যক। তিনি বলেন: মালিক (রহ.) মুশরিকদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করত তাদের গোসলের নির্দেশ দিতেন। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি উন্মাদনা, মূর্ছা যাওয়া বা মত্ততার কারণে জ্ঞান হারিয়েছে, তার চেয়েও সাধারণ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির ওপর ওযু আবশ্যক হয়; আর সে হলো ওই নিদ্রিত ব্যক্তি, যে সিজদাবনত অবস্থায় বা কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: "হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো।" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬]। যায়িদ ইবনে আসলাম বলেন: এই আয়াতের তাফসীর হলো: যখন তোমরা শয্যা থেকে অর্থাৎ ঘুম থেকে উঠে সালাতের জন্য দাঁড়াবে। [স্পর্শ করা ও চুম্বন করা]স্পর্শ করা ও চুম্বন করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: মালিক (রহ.) ওই নারী সম্পর্কে বলেছেন যে পুরুষের লিঙ্গ স্পর্শ করে: যদি সে কামভাবের সাথে স্পর্শ করে তবে তার ওপর ওযু আবশ্যক, আর যদি কামভাব ব্যতীত কোনো রোগ বা অন্য কারণে স্পর্শ করে তবে তার ওপর ওযু নেই। তিনি বলেন: যখন কোনো নারী কোনো পুরুষকে কামতৃপ্তির উদ্দেশ্যে স্পর্শ করে তখন তার ওপর ওযু আবশ্যক। তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে কোনো পুরুষ যদি কামতৃপ্তির উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে কোনো নারীকে স্পর্শ করে তবে তার ওপর ওযু আবশ্যক হবে, তা কাপড়ের ওপর দিয়ে হোক বা কাপড়ের নিচে—উভয়ই সমান। তিনি বলেন: তার ওপর ওযু ওয়াজিব। তিনি বলেন: এই ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতুল্য। তিনি বলেন: যদি সে কামতৃপ্তির উদ্দেশ্যে তাকে স্পর্শ করে কিন্তু তার লিঙ্গোত্থান না ঘটে, তবুও তার ওপর ওযু করা আবশ্যক।আমি ইবনুল [কাসিমকে] বললাম...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
الْقَاسِمِ: فَإِنْ قَبَّلَتْهُ الْمَرْأَةُ عَلَى غَيْرِ فِيهِ عَلَى جَبْهَتِهِ أَوْ ظَهْرِهِ أَوْ يَدِهِ أَتَكُونُ هِيَ الْمُلَامَسَةَ دُونَهُ فِي قَوْلِ مَالِكٍ؟قَالَ: نَعَمْ إلَّا أَنْ يَلْتَذَّ لِذَلِكَ الرَّجُلُ أَوْ يُنْعِظْ فَإِنْ الْتَذَّ لِذَلِكَ أَوْ أَنْعَظَ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ، قَالَ: فَإِنْ هُوَ لَامَسَهَا أَيْضًا أَوْ قَبَّلَهَا عَلَى غَيْرِ الْفَمِ وَالْتَذَّتْ هِيَ لِذَلِكَ فَعَلَيْهَا أَيْضًا الْوُضُوءُ وَإِنْ لَمْ تَلْتَذَّ لِذَلِكَ أَوْ تَشْتَهِي فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهَا.قَالَ مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: الْوُضُوءُ مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَمِنْ جَسِّهَا بِيَدِهِ، قَالَ مَالِكٌ: وَبَلَغَنِي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ الْوُضُوءُ.وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَعَائِشَةَ وَابْنِ شِهَابٍ وَرَبِيعَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ وَزَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ مِثْلُهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ.قَالَ عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ عَنْ سُفْيَانَ أَنَّ إبْرَاهِيمَ النَّخَعِيّ، كَانَ يَرَى فِي الْقُبْلَةِ الْوُضُوءَ. [الَّذِي يَشُكُّ فِي الْوُضُوءِ وَالْحَدَثِ]فِي الَّذِي يَشُكُّ فِي الْوُضُوءِ وَالْحَدَثِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَفِيمَنْ شَكَّ فِي بَعْضِ وُضُوئِهِ يَعْرِضُ لَهُ هَذَا كَثِيرًا قَالَ: يَمْضِي وَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ وَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الصَّلَاةِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ تَوَضَّأَ فَشَكَّ فِي الْحَدَثِ فَلَا يَدْرِي أَحْدَثَ بَعْدَ الْوُضُوءِ أَمْ لَا أَنَّهُ يُعِيدُ الْوُضُوءَ بِمَنْزِلَةِ مَنْ شَكَّ فِي صَلَاتِهِ فَلَا يَدْرِي أَثْلَاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا فَإِنَّهُ يُلْغِي الشَّكَّ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَقَوْلُ مَالِكٍ فِي الْوُضُوءِ مِثْلُ الصَّلَاةِ مَا شَكَّ فِيهِ مِنْ مَوَاضِعَ الْوُضُوءِ فَلَا يَتَيَقَّنُ أَنَّهُ غَسَلَهُ فَلْيُلْغِ ذَلِكَ وَلْيُعِدْ غَسْلَ ذَلِكَ الشَّيْءِ.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: أَرَأَيْتَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَيْقَنَ بِالْوُضُوءِ ثُمَّ شَكَّ بَعْدَ ذَلِكَ فَلَمْ يَدْرِ أَحْدَثَ أَمْ لَا وَهُوَ شَاكٌّ فِي الْحَدَثِ؟قَالَ: إنْ كَانَ ذَلِكَ يَسْتَنْكِحُهُ كَثِيرًا فَهُوَ عَلَى وُضُوئِهِ وَإِنْ كَانَ لَا يَسْتَنْكِحُهُ فَلْيُعِدْ وُضُوءَهُ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ، وَكَذَلِكَ كُلُّ مُسْتَنْكَحٍ مُبْتَلًى فِي الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ. [الْوُضُوءِ بِسُؤْرِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ وَالنَّصْرَانِيِّ]مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ بِسُؤْرِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ وَالنَّصْرَانِيِّ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِالْوُضُوءِ بِسُؤْرِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ وَفَضْلِ وُضُوئِهِمَا إذَا لَمْ يَكُنْ فِي أَيْدِيهِمَا نَجَسٌ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَتَوَضَّأُ بِسُؤْرِ النَّصْرَانِيِّ وَلَا بِمَا أَدْخَلَ يَدَهُ فِيهِ.قَالَ عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ عَنْ مَالِكٍ قَالَ فِي الْوُضُوءِ: مِنْ فَضْلِ غُسْلِ الْجُنُبِ وَشَرَابِهِ أَوْ الِاغْتِسَالِ بِهِ أَوْ شُرْبِهِ، قَالَ: فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِذَلِكَ كُلِّهِ، بَلَغَنَا «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ هُوَ وَعَائِشَةُ مِنْ إنَاءٍ وَاحِدٍ» ، قَالَ: وَفَضْلُ الْحَائِضِ عِنْدَنَا فِي ذَلِكَ بِمَنْزِلَةِ فَضْلِ الْجُنُبِ.قَالَ
ইবনুল কাসিম বলেন: যদি কোনো নারী তার স্বামীকে মুখ ব্যতীত অন্য কোথাও—যেমন কপালে, পিঠে বা হাতে চুম্বন করে—তবে ইমাম মালিকের মতে কেবল সেই নারীই কি স্পর্শকারী হিসেবে গণ্য হবে (যার ওজু ভাঙবে), পুরুষটি নয়?তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে যদি পুরুষটি এর ফলে আনন্দ অনুভব করে কিংবা তার লিঙ্গোত্থান ঘটে, তবে তার ওপর ওজু করা আবশ্যক। আর যদি সে আনন্দ লাভ করে বা কামোত্তেজনা অনুভব করে, তবে তার ওপর ওজু করা ওয়াজিব। তিনি আরও বলেন: যদি পুরুষটি তাকে (মুখ ব্যতীত অন্য স্থানে) স্পর্শ করে বা চুম্বন করে এবং নারীটি তাতে আনন্দ অনুভব করে, তবে তার ওপরও ওজু করা আবশ্যক। আর যদি সে আনন্দ বা কামভাব অনুভব না করে, তবে তার ওপর ওজু নেই।ইমাম মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (আবদুল্লাহ ইবনে উমর) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: পুরুষ তার স্ত্রীকে চুম্বন করলে এবং হাত দিয়ে তার দেহ স্পর্শ করলে ওজু করতে হবে। ইমাম মালিক বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও আমার কাছে এই মর্মে বর্ণনা পৌঁছেছে যে, তিনি বলতেন: স্ত্রীকে চুম্বন করার কারণে ওজু করা আবশ্যক।সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আয়েশা (রা.), ইবনে শিহাব, রাবিয়া, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে হুরমুজ, জায়েদ ইবনে আসলাম, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, মালিক ইবনে আনাস, লাইস ইবনে সাদ এবং আবদুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ থেকে ইবনে ওয়াহবের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।আলী ইবনে জিয়াদ সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, ইব্রাহিম নাখয়ি চুম্বন করার কারণে ওজু করা আবশ্যক মনে করতেন। [ওজু এবং অপবিত্রতা নিয়ে যার মনে সন্দেহ জাগে]ওজু এবং ওজু ভঙ্গের বিষয়ে যার সন্দেহ হয় সে সম্পর্কে তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার ওজুর কোনো অঙ্গ ধোয়ার বিষয়ে প্রায়শই সন্দেহ জাগে—তিনি বললেন: সে তার কাজ চালিয়ে যাবে (সন্দেহে কান দেবে না), তার ওপর নতুন করে কিছু করা আবশ্যক নয়; এটি নামাজের (ওয়াসওয়াসার) পর্যায়ের বিষয়।তিনি বলেন: ইমাম মালিক ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে ওজু করার পর ওজু ভাঙার বিষয়ে সংশয়ে ভোগে এবং জানে না যে ওজুর পর ওজু ভেঙেছে কি না—তার জন্য ওজু পুনরায় করা আবশ্যক। এটি সেই ব্যক্তির মতো যে তার নামাজে সন্দেহ করে যে সে তিন রাকাত পড়েছে না চার রাকাত; এমতাবস্থায় সে সন্দেহকে বর্জন করবে (এবং নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবে)।ইবনুল কাসিম বলেন: ওজুর ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের অভিমত নামাজের মতোই; ওজুর অঙ্গগুলোর মধ্যে কোনোটি ধোয়ার ব্যাপারে যদি কারো সন্দেহ হয় এবং সে নিশ্চিত হতে না পারে যে সে তা ধুয়েছি কি না, তবে সে যেন সেই সন্দেহ বর্জন করে এবং ওই অঙ্গটি পুনরায় ধৌত করে।আমি ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার অভিমত কী, যদি কেউ ওজু করার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে, কিন্তু এরপর তার মনে সন্দেহ জাগে এবং সে বুঝতে না পারে যে তার ওজু ভেঙেছে কি না; এমতাবস্থায় সে যদি ওজু ভঙ্গের বিষয়ে সংশয়ে থাকে (তবে তার করণীয় কী)?তিনি বললেন: যদি এই সন্দেহ তাকে প্রায়শই পেয়ে বসে (অর্থাৎ এটি যদি মানসিক ব্যাধি বা ওয়াসওয়াসার পর্যায়ে যায়), তবে সে তার ওজু অবস্থাতেই আছে বলে গণ্য হবে। আর যদি এটি নিয়মিত না ঘটে, তবে সে যেন পুনরায় ওজু করে নেয়। এটিই ইমাম মালিকের অভিমত। আর ওজু ও নামাজের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তিই এমন নিয়মিত সন্দেহে আক্রান্ত হন, তার হুকুম একই। [ঋতুবতী, জুনুব এবং খ্রিষ্টানের পানের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করা]ঋতুবতী নারী, জুনুব (অপবিত্র ব্যক্তি) এবং খ্রিষ্টানের পানের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করার অধ্যায়। তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: ঋতুবতী ও জুনুব ব্যক্তির পানের পর অবশিষ্ট পানি এবং তাদের ওজু করার পর বেঁচে যাওয়া পানি দিয়ে ওজু করায় কোনো সমস্যা নেই, যদি তাদের হাতে কোনো নাপাকি লেগে না থাকে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: খ্রিষ্টানের পানের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে কিংবা সে যাতে হাত ঢুকিয়েছে তা দিয়ে ওজু করা যাবে না।আলী ইবনে জিয়াদ ইমাম মালিক থেকে ওজু সম্পর্কে বর্ণনা করেন: জুনুব ব্যক্তির গোসল বা পান করার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুনরায় গোসল বা পান করা সম্পর্কে তিনি বলেছেন: এর সবটাতেই কোনো দোষ নেই। আমাদের কাছে বর্ণনা পৌঁছেছে যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আয়েশা (রা.) একই পাত্র থেকে গোসল করতেন।" তিনি আরও বলেন: আমাদের নিকট ঋতুবতী নারীর অবশিষ্ট পানির বিধান জুনুব ব্যক্তির অবশিষ্ট পানির বিধানের অনুরূপ।তিনি বলেন (ইমাম মালিক)...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: قَالَ نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّهُ كَانَ يَتَوَضَّأُ بِسُؤْرِ الْبَعِيرِ وَالْبَقَرَةِ وَالشَّاةِ وَالْبِرْذَوْنِ وَالْفَرَسِ وَالْحَائِضِ وَالْجُنُبِ. [مَا جَاءَ فِي تَنْكِيسِ الْوُضُوءِ]قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَمَّنْ نَكَّسَ وُضُوءَهُ فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ ثُمَّ وَجْهَهُ ثُمَّ صَلَّى، قَالَ: صَلَاتُهُ مُجْزِئَةٌ عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: أَتَرَى أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ؟قَالَ: ذَلِكَ أَحَبُّ إلَيَّ، قَالَ: وَلَا نَدْرِي مَا وُجُوبُهُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: بَلَغَنِي عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ وَنُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْمُجْمِرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: «إذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِمَيَامِنِهِ» .وَذَكَرَ وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُمَا قَالَا: مَا نُبَالِي بَدَأْنَا بِأَيْسَارِنَا أَوْ بِأَيْمَانِنَا. [مِنْ نَسِيَ الْمَضْمَضَةَ وَالِاسْتِنْشَاقَ وَمَسْحَ الْأُذُنَيْنِ وَمَنْ فَرَّقَ وُضُوءَهُ أَوْ غُسْلَهُ]فِيمَنْ نَسِيَ الْمَضْمَضَةَ وَالِاسْتِنْشَاقَ وَمَسْحَ الْأُذُنَيْنِ وَمَنْ فَرَّقَ وُضُوءَهُ أَوْ غُسْلَهُ مُتَعَمِّدًا أَوْ نَسِيَ بَعْضَهُ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ تَرَكَ أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَتَرَكَ غَسْلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى جَفَّ وُضُوءُهُ وَطَالَ ذَلِكَ، وَقَالَ: إنْ كَانَ تَرَكَ ذَلِكَ نَاسِيًا بَنَى عَلَى وُضُوئِهِ وَإِنْ تَطَاوَلَ ذَلِكَ، قَالَ: وَإِنْ كَانَ تَرَكَ ذَلِكَ عَامِدًا اسْتَأْنَفَ الْوُضُوءَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فَقَالَ: إنِّي اغْتَسَلْتُ مِنْ الْجَنَابَةِ وَنَسِيتُ أَنْ أَغْسِلَ رَأْسِي، قَالَ: فَأَمَرَ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْمَجْلِسِ أَنْ يَقُومَ مَعَهُ إلَى الْمَطْهَرَةِ فَيَصُبَّ عَلَى رَأْسِهِ دَلْوًا مِنْ مَاءٍ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَمَنْ تَرَكَ الْمَضْمَضَةَ وَالِاسْتِنْشَاقَ وَدَاخِلَ أُذُنَيْهِ فِي الْغُسْلَ مِنْ الْجَنَابَةِ حَتَّى صَلَّى، قَالَ: يَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ لِمَا يَسْتَقْبِلُ وَصَلَاتُهُ الَّتِي صَلَّى تَامَّةٌ، قَالَ: وَمَنْ تَرَكَ الْمَضْمَضَةَ وَالِاسْتِنْشَاقَ وَمَسْحَ دَاخِلِ الْأُذُنَيْنِ فِي الْغُسْلِ مِنْ الْجَنَابَةِ وَاَلَّذِي تَرَكَ ذَلِكَ فِي الْوُضُوءِ فَهُمَا سَوَاءٌ وَلْيَمْسَحْ دَاخِلَهُمَا فِيمَا يَسْتَقْبِلُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ: لَوْ نَسِيَهُ لَمْ يَكُنْ مِنْ الْوُضُوءِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: لَوْ نَسِيَ ذَلِكَ حَتَّى صَلَّى لَمْ يَقُلْ لَهُ عُدْ لِصَلَاتِكَ، وَلَمْ نَرَ أَنَّ ذَلِكَ يُنْقِصُ صَلَاتَهُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إنَّهُ لَا يُعِيدُ إلَّا مِمَّا ذَكَرَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَالَهُ مَالِكٌ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ مِثْلَهُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ رَبِيعَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إنَّ تَفْرِيقَ الْغُسْلِ مِمَّا يُكْرَهُ وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ
ইবনে ওয়াহাব বলেন: নাফি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উট, গরু, বকরি, তুর্কি ঘোড়া, সাধারণ ঘোড়া, ঋতুবতী নারী এবং জুনুবি (জানাবাতগ্রস্ত) ব্যক্তির ব্যবহৃত অবশিষ্ট পানি (জুটা) দিয়ে ওজু করতেন। [ওজুর ধারাবাহিকতা উল্টে ফেলার বর্ণনা]তিনি (ইবনুল কাসিম) বলেন: আমি ইমাম মালিককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে তার ওজুর ধারাবাহিকতা উল্টে ফেলেছে; অর্থাৎ সে তার হাত ধোয়ার আগে পা ধুয়ে ফেলেছে, তারপর মুখমণ্ডল ধুয়ে নামাজ পড়েছে। তিনি বললেন: তার নামাজ যথেষ্ট হবে। আমি তাকে বললাম: আপনি কি মনে করেন যে সে ওজু পুনরায় করবে?তিনি বললেন: সেটিই (ওজু পুনরায় করা) আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। তিনি আরও বললেন: আমরা এর আবশ্যকতা (ওয়াজিব হওয়া) সম্পর্কে জানি না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: সাইদ ইবনে আবি সাইদ আল-মাকবুরি এবং নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-মুজমির থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আবু হুরায়রা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ওজু করে, তখন সে যেন তার ডান দিক থেকে শুরু করে»।ওয়াকি ইবনুল জাররাহ আলী ইবনে আবি তালিব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমরা আমাদের বাম পাশ দিয়ে শুরু করলাম নাকি ডান পাশ দিয়ে, তাতে পরোয়া করি না। [কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া ও কান মাসেহ করতে ভুলে যাওয়া এবং ওজু বা গোসলের অঙ্গগুলো ধোয়ার মাঝে দীর্ঘ বিরতি দেওয়া প্রসঙ্গে]যে ব্যক্তি কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং কান মাসেহ করতে ভুলে যায় এবং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওজু বা গোসলের মাঝে বিরতি দেয় অথবা তার কিছু অংশ ভুলে যায়, সে প্রসঙ্গে: ইমাম মালিক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে ওজু করল এবং তার মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করল, তারপর মাথা মাসেহ করা এবং দুই পা ধোয়া ছেড়ে দিল যতক্ষণ না তার ওজুর অঙ্গগুলো শুকিয়ে গেল এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো: যদি সে তা ভুলে গিয়ে ছেড়ে থাকে, তবে সে তার ওজুর অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করবে, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। আর যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছেড়ে থাকে, তবে সে পুনরায় ওজু শুরু করবে।ইবনে ওয়াহাব ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে এবং তিনি আব্দুর রহমান ইবনে হারমালাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সাইদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে এসে বলল: আমি জানাবাতের গোসল করেছি কিন্তু মাথা ধুতে ভুলে গেছি। তিনি (সাইদ) মজলিসের এক ব্যক্তিকে তার সাথে পবিত্রতা অর্জনের স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন যাতে সে তার মাথায় এক বালতি পানি ঢেলে দেয়।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি জানাবাতের গোসলে কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং কানের ভেতরের অংশ ধোয়া ছেড়ে দেয় এবং নামাজ পড়ে ফেলে; সে পরবর্তী সময়ের জন্য কুলি করবে ও নাকে পানি দেবে, আর যে নামাজ সে পড়েছে তা পূর্ণাঙ্গ হবে। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি জানাবাতের গোসলে অথবা ওজুতে কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং কানের ভেতরের অংশ মাসেহ করা ছেড়ে দেয়, এ উভয় ক্ষেত্রই সমান; সে ভবিষ্যতের জন্য তার ভেতরের অংশ মাসেহ করে নেবে।ইবনে ওয়াহাব ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি রাবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যদি সে এটি ভুলে যায় তবে তা ওজুর (অপরিহার্য অংশ) হিসেবে গণ্য হবে না।ইবনে ওয়াহাব বলেন, লাইস ইবনে সাদ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ বলেছেন: যদি কেউ তা ভুলে গিয়ে নামাজ পড়ে ফেলে, তবে তাকে তোমার নামাজ পুনরায় পড় বলা হবে না; আমরা মনে করি না যে এতে তার নামাজ ত্রুটিপূর্ণ হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন, ইবনে শিহাব, আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন: আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য সে নামাজ পুনরায় পড়বে না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইমাম মালিক এবং লাইস ইবনে সাদও অনুরূপ বলেছেন।ইবনে ওয়াহাব ইউনুস থেকে এবং তিনি রাবিআ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: গোসলের অঙ্গগুলো ধোয়ার মাঝে বিরতি দেওয়া অপছন্দনীয় কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ছিল না...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
غُسْلًا حَتَّى يُتْبِعَ بَعْضُهُ بَعْضًا فَأَيُّمَا رَجُلٍ يُفَرِّقُ غُسْلَهُ مُتَحَرِّيًا لِذَلِكَ فَإِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِغُسْلٍ، وَقَالَ مَالِكٌ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ مِثْلَهُ. [مَسْحِ الرَّأْسِ]مَا جَاءَ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ قَالَ مَالِكٌ: الْمَرْأَةُ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ تَمْسَحُ عَلَى رَأْسِهَا كُلِّهَا وَإِنْ كَانَ مَعْقُوصًا فَلْتَمْسَحْ عَلَى ضَفْرِهَا وَلَا تَمْسَحُ عَلَى خِمَارٍ وَلَا غَيْرِهِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ وَيَسْتَأْنِفُ لَهُمَا الْمَاءَ وَكَذَلِكَ فَعَلَ ابْنُ عُمَرَ. قَالَ: وَقَدْ قَالَ لِي مَالِكٌ: فِي الْحِنَّاءِ تَكُونُ عَلَى الرَّأْسِ فَأَرَادَ صَاحِبُهُ أَنْ يَمْسَحَ عَلَى رَأْسِهِ فِي الْوُضُوءِ قَالَ: لَا يُجْزِئُهُ أَنْ يَمْسَحَ عَلَى الْحِنَّاءِ حَتَّى يَنْزِعَهَا فَيَمْسَحَ عَلَى شَعْرِهِ. قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: فِي الْمَرْأَةِ يَكُونُ لَهَا الشَّعْرُ الْمُرْخَى عَلَى خَدَّيْهَا مَنْ نَحْوِ الدَّلَّالِينَ أَنَّهَا تَمْسَحُ عَلَيْهِمَا بِالْمَاءِ وَرَأْسَهَا كُلَّهُ مُقَدَّمَهُ وَمُؤَخَّرَهُ، وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ أَيْضًا وَكَذَلِكَ الَّذِي لَهُ شَعْرٌ طَوِيلٌ مَنْ الرِّجَالِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ وَابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ عَلْقَمَةَ مَوْلَاةِ عَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّهَا كَانَتْ إذَا تَوَضَّأَتْ تُدْخِلُ يَدَهَا تَحْتَ الْوِقَايَةِ وَتَمْسَحُ بِرَأْسِهَا كُلِّهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: وَبَلَغَنِي عَنْ جُوَيْرِيَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَصَفِيَّةَ امْرَأَةِ ابْنِ عُمَرَ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَابْنِ شِهَابٍ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَنَافِعٍ مِثْلُ ذَلِكَ، وَقَالَ مَالِكٌ: فِي الْمَرْأَةِ تَمْسَحُ عَلَى خِمَارِهَا أَنَّهَا تُعِيدُ الصَّلَاةَ وَالْوُضُوءَ. [مَنْ عَجَزَهُ الْوُضُوءُ أَوْ نَسِيَ بَعْضَ وُضُوئِهِ أَوْ غُسْلِهِ]مَا جَاءَ فِيمَنْ عَجَزَهُ الْوُضُوءُ أَوْ نَسِيَ بَعْضَ وُضُوئِهِ أَوْ غُسْلِهِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ تَوَضَّأَ فَفَرَغَ مِنْ بَعْضِ الْوُضُوءِ وَبَقِيَ بَعْضُهُ فَقَامَ لِأَخْذِ الْمَاءِ فَقَالَ: إنْ كَانَ قَرِيبًا فَأَرَى أَنْ يَبْنِيَ عَلَى وُضُوئِهِ وَإِنْ تَطَاوَلَ ذَلِكَ وَتَبَاعَدَ أَخْذُهُ الْمَاءَ وَجَفَّ وُضُوءُهُ فَأَرَى أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ مِنْ أَوَّلِهِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: أَيُّمَا رَجُلٍ اغْتَسَلَ مَنْ جَنَابَةٍ أَوْ حَائِضٌ اغْتَسَلَتْ فَبَقِيَتْ لُمْعَةٌ مِنْ أَجْسَادِهِمَا لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ أَوْ تَوَضَّأَ فَبَقِيَتْ لُمْعَةٌ مِنْ مَوَاضِعِ الْوُضُوءِ حَتَّى صَلَّيَا وَمَضَى الْوَقْتُ، قَالَ: إنْ كَانَ إنَّمَا تَرَكَ اللُّمْعَةَ عَامِدًا أَعَادَ الَّذِي اغْتَسَلَ غُسْلَهُ وَاَلَّذِي تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ وَأَعَادُوا الصَّلَاةَ وَإِنْ كَانُوا إنَّمَا تَرَكُوا ذَلِكَ سَهْوًا فَلْيَغْسِلُوا تِلْكَ اللُّمْعَةَ وَلْيُعِيدُوا الصَّلَاةَ، فَإِنْ لَمْ يَغْسِلُوا ذَلِكَ حِينَ ذَكَرُوا ذَلِكَ فَلْيُعِيدُوا الْوُضُوءَ وَالْغُسْلَ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ.قَالَ سَحْنُونٌ وَقَالَ رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي تَبْعِيضِ الْغُسْلِ مِثْلَ ذَلِكَ.وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ فِي الَّذِي تَرَكَ رَأْسَهُ نَاسِيًا فِي الْغُسْلِ، مِثْلَ ذَلِكَ، وَقَالَ مَالِكٌ
একটি পূর্ণাঙ্গ গোসল হিসেবে গণ্য হবে, যতক্ষণ না এর এক অংশ অন্য অংশের অনুগামী হয়। অতএব, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিরতি দিয়ে গোসলের বিভিন্ন অংশের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়, তবে তা গোসল হিসেবে গণ্য হবে না। ইমাম মালিক এবং লাইস বিন সাদ রহ. অনুরূপ মত পোষণ করেছেন। [মাথা মাসেহ করা]মাথা মাসেহ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: ইমাম মালিক রহ. বলেছেন: মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমপর্যায়ভুক্ত; সে তার পুরো মাথা মাসেহ করবে। যদি তার চুল বিনুনি করা থাকে, তবে সে তার বেণীর ওপর দিয়ে মাসেহ করবে। তবে সে ওড়না বা অন্য কিছুর ওপর মাসেহ করবে না।তিনি বলেন: ইমাম মালিক রহ. বলেছেন: কান মাথার অংশভুক্ত। কানের জন্য নতুন করে পানি নিতে হবে। ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা অনুরূপই করতেন। তিনি বলেন: ইমাম মালিক রহ. আমাকে মাথায় লাগানো মেহেদি সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি কেউ ওজুর সময় মাথার ওপর মাসেহ করতে চায়; তবে তিনি বলেছেন: মেহেদির ওপর মাসেহ করা যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না তা তুলে ফেলা হয় এবং চুলের ওপর মাসেহ করা হয়। তিনি বলেন: ইমাম মালিক রহ. সেই নারী সম্পর্কে বলেছেন যার গালের ওপর অলকগুচ্ছ ঝুলে থাকে যে, সে সেগুলোর ওপর এবং পুরো মাথার সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশে পানি দিয়ে মাসেহ করবে। ইবনে ওয়াহাব রহ.ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর দীর্ঘ চুলবিশিষ্ট পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।ইবনে ওয়াহাব রহ. আমর বিন হারিস ও ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি বুকাইর বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার মুক্তদাসী উম্মে আলকামা থেকে এবং তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি যখন ওজু করতেন, তখন ওড়নার নিচে হাত প্রবেশ করিয়ে তার সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করতেন।ইবনে ওয়াহাব রহ. বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী জুয়াইরিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা, ইবনে ওমরের স্ত্রী সাফিয়া, সাঈদ বিন মুসাইয়িব, ইবনে শিহাব, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ এবং নাফে রহ. থেকে আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা পৌঁছেছে। ইমাম মালিক রহ. বলেছেন: যে নারী ওড়নার ওপর মাসেহ করবে, তাকে ওজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। [যার ওজু অসম্পূর্ণ থেকে যায় অথবা ওজু বা গোসলের কোনো অংশ ভুলে যায়]যার ওজু অসম্পূর্ণ থেকে যায় অথবা ওজু বা গোসলের কোনো অংশ ভুলে যায় সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: তিনি বলেন: ইমাম মালিক রহ. এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে ওজু শুরু করার পর কিছু অংশ শেষ করেছে এবং কিছু অংশ বাকি থাকাবস্থায় পানি সংগ্রহের জন্য দাঁড়িয়েছে; তিনি বলেন: যদি তা নিকটবর্তী সময়ে হয় তবে আমার অভিমত হলো সে তার ওজুর অবশিষ্টাংশ সম্পন্ন করবে। আর যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, পানি সংগ্রহ করতে বিলম্ব হয় এবং ওজুর অঙ্গগুলো শুকিয়ে যায়, তবে আমার মতে সে পুনরায় শুরু থেকে ওজু করবে।ইবনুল কাসিম রহ. বলেন: কোনো পুরুষ যদি জানাবাত থেকে গোসল করে অথবা কোনো ঋতুবর্তী নারী গোসল করে আর তাদের শরীরের কোনো একটি স্থান শুকনো থেকে যায় যেখানে পানি পৌঁছেনি, অথবা কেউ ওজু করল এবং ওজুর অঙ্গগুলোর কোনো স্থানে পানি পৌঁছাল না, এমনকি তারা নামাজ পড়ে ফেলল এবং সময় অতিবাহিত হয়ে গেল; তিনি বলেন: যদি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই স্থানটি ছেড়ে দিয়ে থাকে, তবে গোসলকারী তার গোসল এবং ওজুকারী তার ওজু পুনরায় করবে এবং তারা নামাজও পুনরায় পড়বে। আর যদি তারা ভুলবশত তা ছেড়ে দিয়ে থাকে, তবে তারা কেবল সেই শুকনো স্থানটি ধৌত করবে এবং নামাজ পুনরায় পড়বে। কিন্তু যখন তাদের মনে পড়বে তখন যদি তারা তা ধৌত না করে, তবে তাদের ওজু ও গোসল পুনরায় করতে হবে। এটিই ইমাম মালিক রহ.-এর অভিমত।সাহনুন রহ. বলেন: রাবিয়া বিন আবি আবদুর রহমান গোসলের অঙ্গগুলো পৃথকভাবে ধৌত করার ক্ষেত্রে অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন।ইবনুল মুসাইয়িব রহ. সেই ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ বলেছেন যে গোসলের সময় ভুলবশত মাথা ধৌত করা ছেড়ে দিয়েছে। এবং ইমাম মালিক রহ. বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٥)
فِي الَّذِي يَنْسَى أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ فَذَكَرَهُ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ وَفِي لِحْيَتِهِ بَلَلٌ، قَالَ: لَا يُجْزِئُهُ أَنْ يَمْسَحَ بِذَلِكَ الْبَلَلِ، قَالَ: وَلَكِنْ لِيَأْخُذْ الْمَاءَ لِرَأْسِهِ وَلْيَبْتَدِئْ الصَّلَاةَ بَعْدَمَا يَمْسَحُ بِرَأْسِهِ.قُلْتُ: فَهَلْ كَانَ مَالِكٌ يَأْمُرُ بِأَنْ يَغْسِلَ رِجْلَيْهِ بَعْدَمَا يَمْسَحُ بِرَأْسِهِ؟قَالَ: إنْ كَانَ نَاسِيًا وَخَفَّ وُضُوءُهُ فَلَا يَكُونُ عَلَيْهِ إلَّا مَسْحُ رَأْسِهِ. [فِي مَسْحِ الْوُضُوءِ بِالْمِنْدِيلِ]ِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِالْمَسْحِ بِالْمِنْدِيلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ، قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ عَنْ أَبِي مُعَاذٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ خِرْقَةٌ يَنْتَشِفُ بِهَا بَعْدَ الْوُضُوءِ» . [جَامِعُ الْوُضُوءِ وَتَحْرِيكُ اللِّحْيَةِ]ِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ كَانَ عَلَى وُضُوءٍ فَذَبَحَ فَلَا يَنْتَقِضُ لِذَلِكَ وُضُوءُهُ، وَقَالَ فِيمَنْ تَوَضَّأَ ثُمَّ حَلَقَ رَأْسَهُ: إنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَمْسَحَ رَأْسَهُ بِالْمَاءِ ثَانِيَةً.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ وَقَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ: هَذَا مِنْ لَحْنِ الْفِقْهِ، قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَذْكُرُ قَوْلَ النَّاسِ فِي الْوُضُوءِ حَتَّى يَقْطُرَ أَوْ يَسِيلَ، قَالَ فَسَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ: قَطْرًا قَطْرًا إنْكَارًا لِذَلِكَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَقَدْ كَانَ بَعْضُ مَنْ مَضَى يَتَوَضَّأُ بِثُلُثِ الْمُدِّ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: تُحَرَّكُ اللِّحْيَةُ فِي الْوُضُوءِ مِنْ غَيْرِ تَخْلِيلٍ قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: إنَّ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَ يُنْكِرُ تَخْلِيلَ اللِّحْيَةِ، وَقَالَ: يَكْفِيهَا مَا مَرَّ عَلَيْهَا مِنْ الْمَاءِ.وَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ: أَغْرِفُ مَا يَكْفِينِي مِنْ الْمَاءِ فَأَغْسِلُ بِهِ وَجْهِي وَأُمِرُّهُ عَلَى لِحْيَتِي، مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ.وَقَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: لَسْتُ مِنْ الَّذِينَ يُخَلِّلُونَ لِحَاهُمْ، وَقَالَ إبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ: يَكْفِيهَا مَا مَرَّ عَلَيْهَا مِنْ الْمَاءِ مِنْ حَدِيثِ وَكِيعٍ عَنْ الْفُضَيْلِ عَنْ مَنْصُورٍ.قَالَ وَكِيعٌ وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ: لَيْسَ مِنْ السُّنَّةِ غَسْلُ اللِّحْيَةِ وَأَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ لَمْ يَكُنْ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ عِنْدَ الْوُضُوءِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ عُمَرَ. [الْقَيْءِ وَالْحِجَامَةِ وَالْقَلْسِ وَالْوُضُوءِ مِنْهَا]مَا جَاءَ فِي الْقَيْءِ وَالْحِجَامَةِ وَالْقَلْسِ وَالْوُضُوءِ مِنْهَا قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: الْقَيْءُ قَيْآنِ أَمَّا مَا يَخْرُجُ بِمَنْزِلَةِ الطَّعَامِ فَكَانَ لَا يُرَى مَا أَصَابَ الْجَسَدَ مِنْ ذَلِكَ بِنَجَسٍ، وَمَا تَغَيَّرَ عَنْ حَالِ الطَّعَامِ فَأَصَابَ جَسَدَهُ أَوْ ثَوْبَهُ غَسَلَهُ قَالَ:
যে ব্যক্তি তার মাথা মাসাহ করতে ভুলে যায় এবং সালাত অবস্থায় তা স্মরণ হয় অথচ তার দাড়িতে আর্দ্রতা বিদ্যমান থাকে, সে সম্পর্কে তিনি (ইমাম মালিক) বলেন: ওই আর্দ্রতা দিয়ে মাসাহ করা তার জন্য যথেষ্ট হবে না। তিনি বলেন: বরং সে তার মাথার জন্য নতুন পানি গ্রহণ করবে এবং মাথা মাসাহ করার পর পুনরায় সালাত শুরু করবে।আমি জিজ্ঞেস করলাম: মালিক কি মাথা মাসাহ করার পর পুনরায় তার দুই পা ধোয়ার নির্দেশ দিতেন?তিনি বললেন: যদি সে বিস্মৃত হয়ে থাকে এবং তার ওযুর অঙ্গসমূহ তখনও আর্দ্র থাকে (শুকিয়ে না যায়), তবে তার ওপর কেবল মাথা মাসাহ করাই আবশ্যক হবে। [ওযুর পর রুমাল দিয়ে মোছা প্রসঙ্গে]তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: ওযুর পর রুমাল বা তোয়ালে দিয়ে মোছাতে কোনো দোষ নেই। ইবন ওয়াহাব জায়েদ বিন হুবাব থেকে, তিনি আবু মুয়ায থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কাপড় ছিল যা দিয়ে তিনি ওযুর পর অঙ্গসমূহ মুছতেন বা শুকাতেন।» [ওযু সংশ্লিষ্ট বিবিধ মাসয়ালা এবং দাড়ি নাড়াচাড়া করা]তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি ওযু অবস্থায় থাকে এবং কোনো পশু যবেহ করে, তবে তার কারণে তার ওযু নষ্ট হবে না। আর যে ব্যক্তি ওযু করার পর তার মাথা মুণ্ডন করে, তার সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তাকে পুনরায় মাথায় পানি দিয়ে মাসাহ করতে হবে না।ইবনুল কাসিম বলেন এবং আব্দুল আজিজ বিন আবি সালামা বলেছেন: এটি ফিকহ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বা গূঢ় বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন: আমি মালিককে ওযুর ক্ষেত্রে পানি টপকানো বা প্রবাহিত হওয়া সম্পর্কে মানুষের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি; তিনি এটি অস্বীকার করে বলতেন: সামান্য ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়াই যথেষ্ট।তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: পূর্ববর্তীদের মধ্যে কেউ কেউ মুদ-এর এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ পানি দিয়ে ওযু করতেন।তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: ওযুর সময় দাড়ি নাড়াচাড়া করা হবে, তবে খিলাল (আঙুল দিয়ে দাড়ির ভেতরে পানি প্রবেশ করানো) করা হবে না। ইবন ওয়াহাব বলেন: রাবিয়া বিন আবি আব্দুর রহমান দাড়ি খিলাল করা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: দাড়ির ওপর দিয়ে পানি বয়ে যাওয়াই যথেষ্ট।কাসিম বিন মুহাম্মদ বলতেন: আমি এক আজলা পানি নেই যা আমার জন্য যথেষ্ট হয়, তা দিয়ে আমার মুখমণ্ডল ধৌত করি এবং তা আমার দাড়ির ওপর দিয়ে চালিয়ে দেই। (ইবন ওয়াহাব, হাইওয়া বিন শুরাইহ এবং সুলাইমান বিন আবি যাইনাব বর্ণিত হাদিস থেকে)।ইবনুল কাসিম বলেন: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই যারা দাড়ি খিলাল করে। ইব্রাহিম নাখয়ি বলতেন: দাড়ির ওপর দিয়ে পানি বয়ে যাওয়াই এর জন্য যথেষ্ট। (ওয়াকি, ফুদাইল এবং মানসুর বর্ণিত হাদিস থেকে)।ওয়াকি বলেন এবং ইবন সিরিন বলেছেন: (অতিরিক্ত পানি দিয়ে) দাড়ি ধোয়া সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ইবন আব্বাস ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করতেন না। (ইবন ওয়াহাব এবং আব্দুল জাব্বার বিন উমর বর্ণিত হাদিস থেকে)। [বমি, শিঙা লাগানো এবং মুখভর্তি বমি ও এ থেকে ওযু করা প্রসঙ্গে]বমি, শিঙা লাগানো এবং মুখভর্তি বমি ও এ থেকে ওযুর বিধান সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: বমি দুই প্রকার; যা সাধারণ খাদ্যের ন্যায় নির্গত হয়, শরীর বা কাপড়ে লাগলে তিনি তাকে অপবিত্র মনে করতেন না। আর যা খাদ্যের অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে (দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে) নির্গত হয়, তা শরীর বা কাপড়ে লাগলে তিনি তা ধুয়ে ফেলার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٦)
وَقَالَ مَالِكٌ: فِي مَوْضِعِ الْمَحَاجِمِ قَالَ: يَغْسِلُهُ وَلَا يُجْزِيهِ أَنْ يَمْسَحَهُ، قَالَ مَالِكٌ: وَإِنْ مَسَحَ مَوْضِعَ الْمَحَاجِمِ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَغْسِلْ ذَلِكَ أَنَّهُ يُعِيدُ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ: أَنَّهُ كَانَ لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ الْقَيْءِ وَلَا يَرَى مِنْهُ الْوُضُوءَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَأَخْبَرَنِي رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَرَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبِي الزِّنَادِ وَزَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ مِثْلَهُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَبَلَغَنِي عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَمُجَاهِدٍ وَطَاوُسٍ وَرَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي الْقَلْسِ مِثْلُهُ، قَالَ مَالِكٌ: وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ يَقْلِسُ فِي الْمَسْجِدِ مِرَارًا فَلَا يَنْصَرِفُ حَتَّى يُصَلِّيَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَقَدْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ عَمْرٍو الْحَسَنُ فِي الْحِجَامَةِ يَغْسِلُ مَوْضِعَ الْمَحَاجِمِ فَقَطْ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فِي الْعِرْقِ يُقْطَعُ وَالْمَحَاجِمِ مِثْلَهُ.وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِي الْحِجَامَةِ مِثْلَهُ وَرَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ مِثْلَهُ. فِي الْقُرْحَةِ تَسِيلُ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: كُلُّ قُرْحَةٍ إذَا تَرَكَهَا صَاحِبُهَا لَمْ يَسِلْ مِنْهَا شَيْءٌ وَإِذَا نَكَأَهَا بِشَيْءٍ سَالَ مِنْهَا، فَإِنَّ تِلْكَ مَا سَالَ مِنْهَا يُغْسَلُ مِنْهُ الثَّوْبُ وَإِنْ سَالَ عَلَى جَسَدِهِ غَسَلَهُ إلَّا أَنْ يَكُونَ الشَّيْءُ الْيَسِيرُ مِثْلَ الدَّمِ الَّذِي يَفْتِلُهُ وَلَا يَنْصَرِفُ، وَمَا كَانَ مِنْ قُرْحَةٍ يَسِيلُ لَا يَجِفُّ وَهِيَ تَمْصُلُ فَإِنَّ تِلْكَ يُجْعَلُ عَلَيْهَا خِرْقَةٌ وَيُدَارِيهَا مَا اسْتَطَاعَ، وَإِنْ أَصَابَ ثَوْبَهُ لَمْ أَرَ بَأْسًا أَنْ يُصَلِّيَ بِهِ مَا لَمْ يَتَفَاحَشْ ذَلِكَ وَإِنْ تَفَاحَشَ ذَلِكَ فَأَحَبُّ إلَيَّ أَنْ يَغْسِلَهُ وَلَا يُصَلِّيَ بِهِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَالْقَيْحُ وَالصَّدِيدُ عِنْدَ مَالِكٍ بِمَنْزِلَةِ الدَّمِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ كَانَتْ بِهِ قُرْحَةٌ فَنَكَأَهَا فَسَالَ الدَّمُ أَوْ خَرَجَ الدَّمُ هُوَ نَفْسُهُ سَالَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْكَأَهَا، قَالَ: هَذَا يَقْطَعُ الصَّلَاةَ إنْ كَانَ الدَّمُ قَدْ سَالَ وَالْقَيْحُ فَيَغْسِلُ ذَلِكَ عَنْهُ وَلَا يَبْنِي وَيَسْتَأْنِفُ وَلَا يَبْنِي إلَّا فِي الرُّعَافِ وَحْدَهُ، قَالَ: إنْ كَانَ ذَلِكَ الدَّمُ الَّذِي خَرَجَ مِنْ هَذِهِ الْقُرْحَةِ دَمًا يَسِيرًا فَلْيَمْسَحْهُ وَلْيَفْتِلْهُ وَلْيَمْضِ عَلَى صَلَاتِهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: إنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ صَلَّى وَالْجُرْحُ يَثْعَبُ دَمًا، قَالَ يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ: أَمَّا الشَّيْءُ اللَّازِمُ مِنْ جُرْحٍ يَمْصُلُ أَوْ أَثَرِ بَرَاغِيثَ فَصَلِّ بِثَوْبِكَ، وَإِذَا تَفَاحَشَ مَنْظَرُهُ ذَلِكَ أَوْ تَغَيَّرَ رِيحُهُ فَاغْسِلْهُ وَلَيْسَ بِهِ بَأْسٌ مَا لَمْ يَتَفَاحَشْ مَنْظَرُهُ وَيَظْهَرُ رِيحُهُ مَا دُمْتَ تُدَارِي ذَلِكَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ يُونُسُ: قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِي الْجِرَاحِ يَمْصُلُ قَالَ: تُدَارِي مَا عَلَيْكَ مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ تُصَلِّي. قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ يُونُسُ قَالَ أَبُو الزِّنَادِ: أَمَّا الَّذِي لَا يَبْرَحُ فَلَا غَسْلَ فِيهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَدْ قَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ مِثْلَهُ فِي الدُّمَّلِ وَالْقُرْحَةِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: إنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ
ইমাম মালিক শিঙা লাগানোর স্থান সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সেই স্থানটি ধৌত করবেন, এবং তা কেবল মুছে ফেলা যথেষ্ট হবে না। মালিক বলেন: যদি কেউ শিঙা লাগানোর স্থানটি কেবল মুছে নিয়ে সালাত আদায় করে এবং ধৌত না করে, তবে সময়ের মধ্যে থাকলে তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।ইবন ওয়াহাব ইবন লাহিয়া থেকে, তিনি বুকায়র ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি বমি হওয়ার কারণে উযু করতেন না এবং বমি থেকে উযু করা আবশ্যক মনে করতেন না।ইবন ওয়াহাব বলেন: একদল বিজ্ঞ আলেম আমাকে আলী ইবন আবি তালিব, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ, রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমান, আবুয যিনাদ, যায়দ ইবন আসলাম এবং আবদুল আজীজ ইবন আবি সালামা থেকে অনুরূপ বর্ণনা শুনিয়েছেন।ইবন ওয়াহাব বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ, মুজাহিদ, তাউস এবং রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমান থেকে কালস (পেটের ওপর থেকে আসা তরল) সম্পর্কে আমার কাছে অনুরূপ বর্ণনা পৌঁছেছে। মালিক বলেন: আমি রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমানকে মাগরিবের পর মসজিদে কয়েকবার কালস করতে দেখেছি, কিন্তু তিনি সালাত আদায় না করে প্রস্থান করেননি।ইবন ওয়াহাব বলেন: ইবন আব্বাস, ইবন আমর এবং হাসান শিঙা লাগানো সম্পর্কে বলেছেন যে, শুধুমাত্র শিঙা লাগানোর স্থানটি ধৌত করলেই চলবে।ইবন ওয়াহাব বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ রক্তনালী কাটা পড়া এবং শিঙা লাগানো সম্পর্কেও একই কথা বলেছেন।ইবন শিহাব শিঙা লাগানো সম্পর্কে অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন এবং রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমানও অনুরূপ বলেছেন। প্রবাহিত ক্ষত সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেন: যে কোনো ক্ষত যদি এমনিতে ছেড়ে দিলে তা থেকে কিছুই প্রবাহিত হয় না, কিন্তু খোঁচা দিলে রক্ত বা তরল বের হয়, তবে তা থেকে যা প্রবাহিত হবে তার কারণে কাপড় ধৌত করতে হবে। আর যদি শরীরে প্রবাহিত হয় তবে শরীরও ধৌত করতে হবে, তবে তা যদি সামান্য পরিমাণ হয়—যেমন সামান্য রক্ত যা হাত দিয়ে কচলে ফেললে চলে যায় এবং সালাত ছাড়তে হয় না। আর যদি ক্ষত এমন হয় যা প্রতিনিয়ত ঝরতে থাকে, শুকায় না এবং রস চুইয়ে পড়ে, তবে তার ওপর একটি কাপড় বা পট্টি বেঁধে সাধ্যমতো সতর্ক থাকতে হবে। যদি কাপড়ে লেগে যায় তবে আমার মতে তা নিয়ে সালাত আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই যতক্ষণ না তা অতিমাত্রায় হয়। আর যদি তা অত্যধিক হয়, তবে আমার কাছে তা ধুয়ে ফেলাই পছন্দনীয় এবং সে অবস্থায় সালাত আদায় করা উচিত নয়।ইবনুল কাসিম বলেন: ইমাম মালিকের মতে পুঁজ এবং ক্ষত নিঃসৃত পচা পানি রক্তের সমতুল্য।তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার শরীরে ক্ষত আছে এবং সে তাতে খোঁচা দেওয়ার ফলে রক্ত বের হয়েছে, অথবা খোঁচা দেওয়া ছাড়াই নিজে নিজে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে; মালিক বলেন, যদি রক্ত বা পুঁজ প্রবাহিত হয় তবে তা সালাত ভঙ্গ করবে। সে তা ধুয়ে ফেলবে এবং সালাত নতুন করে শুরু করবে, মাঝখান থেকে শুরু করবে না; কারণ মাঝখান থেকে শুরু করার বিধান কেবল নাক দিয়ে রক্ত পড়ার (রুয়াফ) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন: যদি সেই ক্ষত থেকে বের হওয়া রক্ত সামান্য হয়, তবে তা মুছে ফেলবে বা কচলে ফেলবে এবং সালাত চালিয়ে যাবে।ইবন ওয়াহাব বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব সালাত আদায় করেছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ক্ষত থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। ইউনুস ইবন ইয়াযিদ রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: ক্ষত থেকে ক্রমাগত রস চুইয়ে পড়া অথবা মাছি-মশার কামড়ের দাগের ক্ষেত্রে তুমি সেই কাপড়েই সালাত আদায় করবে। তবে যদি এর দৃশ্য অত্যন্ত কুৎসিত হয়ে যায় অথবা এর গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা ধৌত করবে। যতক্ষণ না এর দৃশ্য বীভৎস হয় এবং গন্ধ প্রকাশ পায়, ততক্ষণ সাধ্যমতো সতর্ক থেকে সালাত আদায়ে কোনো ক্ষতি নেই।ইবন ওয়াহাব বলেন, ইউনুস বর্ণনা করেন: ইবন শিহাব রস চুইয়ে পড়া ক্ষত সম্পর্কে বলেছেন: তোমার ওপর লেগে থাকা অংশটুকুর ব্যাপারে সাধ্যমতো সতর্ক থাকবে এবং তারপর সালাত আদায় করবে। ইবন ওয়াহাব বলেন, ইউনুস বর্ণনা করেন, আবুয যিনাদ বলেছেন: যা স্থায়ীভাবে নিরাময় হয় না, তাতে ধৌত করা আবশ্যক নয়।ইবন ওয়াহাব বলেন: উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের এবং আতা ইবন আবি রাবাহ ফোড়া ও ক্ষত সম্পর্কে একই কথা বলেছেন।ইবন ওয়াহাব বলেন: নিশ্চয়ই আবু হুরায়রা
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
وَابْنَ الْمُسَيِّبِ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ كَانُوا يُخْرِجُونَ أَصَابِعَهُمْ مِنْ أُنُوفِهِمْ مُخْتَضِبَةً دَمًا فَيَفْتِلُونَهُ وَيَمْسَحُونَهُ ثُمَّ يُصَلُّونَ وَلَا يَتَوَضَّئُونَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَبَلَغَنِي أَنَّ ابْنَ الْمُسَيِّبِ وَعَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ وَرَبِيعَةَ وَمُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ فِيمَا يَخْرُجُ مِنْ الْفَمِ مِنْ الدَّمِ لَا يَرَوْنَ فِيهِ وُضُوءًا.وَقَالَ سَالِمٌ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ مِثْلَهُ. [الصَّلَاةِ وَالْوُضُوءِ وَالْوَطْءِ عَلَى أَرْوَاثِ الدَّوَابِّ]مَا جَاءَ فِي الصَّلَاةِ وَالْوُضُوءِ وَالْوَطْءِ عَلَى أَرْوَاثِ الدَّوَابِّ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ عليه السلام: «فِي الدِّرْعِ يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ» وَهَذَا فِي الْقِشْبِ الْيَابِسِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: كَانَ مَالِكٌ يَقُولُ: دَهْرَهُ فِي الرَّجُلِ يَطَأُ بِخُفِّهِ عَلَى أَرْوَاثِ الدَّوَابِّ ثُمَّ يَأْتِي الْمَسْجِدَ أَنَّهُ يَغْسِلُهُ وَلَا يُصَلِّي فِيهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهُ، ثُمَّ كَانَ آخِرَ مَا فَارَقْنَاهُ عَلَيْهِ أَنْ قَالَ: أَرْجُو أَنْ يَكُونَ وَاسِعًا، قَالَ: وَمَا كَانَ النَّاسُ يَتَحَفَّظُونَ هَذَا التَّحَفُّظَ.وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ وَطِئَ بِخُفَّيْهِ أَوْ بِنَعْلَيْهِ عَلَى دَمٍ أَوْ عَلَى عَذِرَةٍ قَالَ: لَا يُصَلِّي فِيهِ حَتَّى يَغْسِلَهُ، قَالَ: وَإِذَا وَطِئَ عَلَى أَرْوَاثِ الدَّوَابِّ وَأَبْوَالِهَا؟قَالَ: فَهَذَا يَدْلُكُهُ وَيُصَلِّي بِهِ وَهَذَا خَفِيفٌ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ نَبْهَانَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إلَى الْمَسْجِدِ فَإِنْ كَانَ لَيْلًا فَلْيَدْلُكْ نَعْلَيْهِ وَإِنْ كَانَ نَهَارًا فَلْيَنْظُرْ إلَى أَسْفَلِهِمَا» . قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَسَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ: نَكْرَهُ أَنْ يُصَلِّيَ بِبَوْلِ الْحَمِيرِ وَالْبِغَالِ وَالْخَيْلِ وَأَرْوَاثِهَا وَلَا نَكْرَهُ ذَلِكَ مِنْ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ، وَقَالَهُ ابْنُ شِهَابٍ وَعَطَاءٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ وَنَافِعٌ وَأَبُو الزِّنَادِ وَسَالِمٌ وَمُجَاهِدٌ فِي الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ.وَقَالَ مَالِكٌ: إنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ لَا يَرَوْنَ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ شَيْءٌ مِنْ أَبْوَالِ الْبَقَرِ وَالْإِبِلِ وَالْغَنَمِ وَإِنْ أَصَابَ ثَوْبَهُ فَلَا يَغْسِلُهُ، وَيَرَوْنَ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ شَيْءٌ مِنْ أَبْوَالِ الدَّوَابِّ: الْخَيْلِ وَالْبِغَالِ وَالْحَمِيرِ أَنْ يَغْسِلَهُ وَاَلَّذِي فَرَّقَ بَيْنَ ذَلِكَ أَنَّ تِلْكَ تُشْرَبُ أَلْبَانُهَا وَتُؤْكَلُ لُحُومُهَا، وَأَنَّ هَذِهِ لَا تُشْرَبُ أَلْبَانُهَا وَلَا تُؤْكَلُ لُحُومُهَا وَقَدْ سَأَلْتُ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَنْ هَذَا فَقَالُوا لِي هَذَا.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشُونَ حُفَاةً فَمَا وَطَئُوا عَلَيْهِ مِنْ قَشَبٍ رَطْبٍ غَسَلُوهُ وَمَا وَطَئُوا عَلَيْهِ مِنْ قَشَبٍ يَابِسٍ لَمْ يَغْسِلُوهُ.قَالَ وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «كُنَّا نَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَا يَتَوَضَّأُ مِنْ مَوْطِئٍ» قَالَ وَكِيعٌ عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُجَاشِعٍ التَّغْلِبِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ كُهَيْلٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَخُوضُ طِينَ الْمَطَرِ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَلَمْ يَغْسِلْ رِجْلَيْهِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِطِينِ الْمَطَرِ وَمَاءِ الْمَطَرِ الْمُسْتَنْقَعِ فِي السِّكَكِ وَالطُّرُقِ
ইবনে আল-মুসাইয়িব এবং সালিম ইবনে আবদুল্লাহ তাদের নাক থেকে রক্তরঞ্জিত অবস্থায় আঙুল বের করতেন, এরপর তা ঘষতেন ও মুছে ফেলতেন, তারপর সালাত আদায় করতেন কিন্তু ওযু করতেন না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে, ইবনে আল-মুসাইয়িব, আতা ইবনে আবি রাবাহ, রাবিআহ এবং মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী মুখ থেকে নির্গত রক্তের ব্যাপারে ওযু জরুরি মনে করতেন না।সালিম এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদও একই মত পোষণ করেছেন। [সালাত, ওযু এবং পশুর বিষ্ঠার ওপর পা রাখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]সালাত, ওযু এবং পশুর বিষ্ঠার ওপর পা রাখার বর্ণনায় তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন, নবী (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী—"নারীর দীর্ঘ ঝুলের কাপড়ের পরবর্তী অংশ তাকে পবিত্র করে দেয়"—এর অর্থ হলো শুষ্ক নাপাকির ক্ষেত্রে।ইবনুল কাসিম বলেন: ইমাম মালিক দীর্ঘকাল যাবত এই মত পোষণ করতেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার চামড়ার মোজা (খুফ) দিয়ে পশুর বিষ্ঠার ওপর পা রাখে এবং এরপর মসজিদে আসে, তবে সে তা ধৌত করবে এবং ধৌত করার আগে তাতে সালাত আদায় করবে না। এরপর তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আগমুহূর্তে তাঁর শেষ কথা ছিল যে, তিনি বলতেন: "আমি আশা করি এতে প্রশস্ততা (সহজতা) রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, মানুষ আগে এত বেশি কড়াকড়ি বা সতর্কতা অবলম্বন করত না।ইমাম মালিক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার চামড়ার মোজা বা জুতা দিয়ে রক্ত অথবা মানুষের মলের ওপর পা রাখে: সে তা ধৌত না করা পর্যন্ত তাতে সালাত আদায় করবে না। জিজ্ঞাসা করা হলো: যদি সে পশুর বিষ্ঠা বা প্রস্রাবের ওপর পা রাখে?তিনি বললেন: সে তা ঘষে পরিষ্কার করে ফেলবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে; এটি একটি সহজ বিষয়।ইবনে ওয়াহাব আল-হারিস ইবনে নাবহান থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন যদি রাত হয় তবে সে যেন তার জুতা ঘষে নেয়, আর যদি দিন হয় তবে যেন সে দুটির নিচের দিকে লক্ষ্য করে।" ইবনে ওয়াহাব বলেন, লাইস ইবনে সাদ বলেছেন এবং আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: আমরা গাধা, খচ্চর এবং ঘোড়ার প্রস্রাব ও বিষ্ঠা থেকে বেঁচে থাকাকে আবশ্যক মনে করি, তবে উট, গরু এবং বকরির ক্ষেত্রে তা মনে করি না। ইবনে শিহাব, আতা, আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম, নাফি, আবুয যিনাদ, সালিম এবং মুজাহিদও উট, গরু ও বকরির ক্ষেত্রে একই মত ব্যক্ত করেছেন।ইমাম মালিক বলেছেন: আলিমগণ গরু, উট ও বকরির প্রস্রাব কোনো ব্যক্তির শরীরে লাগলে তাকে অপবিত্র মনে করেন না; এমনকি যদি কাপড়েও লাগে তবে তা ধৌত করতে হবে না। তবে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার প্রস্রাব শরীরে লাগলে তা ধৌত করা আবশ্যক মনে করেন। এই পার্থক্যের কারণ হলো যেগুলোর দুধ পান করা হয় এবং গোশত খাওয়া হয় (সেগুলো পবিত্র), আর যেগুলোর দুধ পান করা হয় না এবং গোশতও খাওয়া হয় না (সেগুলো অপবিত্র)। আমি এ বিষয়ে কয়েকজন আলিমকে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা আমাকে এমনটিই বলেছিলেন।ইবনে ওয়াহাব উমর ইবনে কায়েস থেকে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ খালি পায়ে হাঁটতেন। তারা যদি কোনো আর্দ্র নাপাকির ওপর পা রাখতেন তবে তা ধৌত করতেন, আর যদি শুষ্ক নাপাকির ওপর পা রাখতেন তবে তা ধৌত করতেন না।ওয়াকি সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে মিহরান থেকে, তিনি শাকিক ইবনে সালামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হাঁটতাম, তিনি পথে কোনো কিছুর ওপর পা রাখার কারণে ওযু করতেন না।" ওয়াকি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুজাশী আত-তাগলিবি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি কুহাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে বৃষ্টির কাদার মধ্য দিয়ে হাঁটতে দেখেছি, এরপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলেন কিন্তু তাঁর পা ধৌত করেননি।"তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন, বৃষ্টির কাদা এবং গলি ও পথে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٨)
وَمَا أَصَابَ مِنْ ثَوْبٍ أَوْ خُفٍّ أَوْ نَعْلٍ أَوْ جَسَدٍ فَلَا بَأْسَ بِذَلِكَ، قَالَ: فَقُلْنَا لَهُ: إنَّهُ يَكُونُ فِيهِ أَرْوَاثُ الدَّوَابِّ وَأَبْوَالُهَا وَالْعَذِرَةُ، قَالَ: لَا بَأْسَ بِذَلِكَ مَا زَالَتْ الطُّرُقُ هَذَا فِيهَا وَكَانُوا يَخُوضُونَ الْمَطَرَ وَطِينَهُ وَيُصَلُّونَ وَلَا يَغْسِلُونَهُ. [الدَّمِ وَغَيْرِهِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ يُصَلِّي بِهِ الرَّجُلُ]فِي الدَّمِ وَغَيْرِهِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ يُصَلِّي بِهِ الرَّجُلُ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يُصَلِّيَ وَفِي ثَوْبِهِ دَمٌ يَسِيرٌ مَنْ دَمِ حَيْضَةِ أَوْ غَيْرِهِ فَيَرَاهُ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ قَالَ: يَمْضِي عَلَى صَلَاتِهِ وَلَا يُبَالِي أَلَّا يَنْزِعَهُ وَلَوْ نَزَعَهُ لَمْ أَرَ بِهِ بَأْسًا، وَإِنْ كَانَ دَمًا كَثِيرًا كَانَ دَمَ حَيْضَةٍ أَوْ غَيْرِهِ نَزَعَهُ وَاسْتَأْنَفَ الصَّلَاةَ مِنْ أَوَّلِهَا بِإِقَامَةٍ، وَلَا يَبْنِي عَلَى شَيْءٍ مِمَّا صَلَّى وَإِنْ رَأَى بَعْدَمَا فَرَغَ أَعَادَ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ وَالدَّمُ كُلُّهُ عِنْدِي سَوَاءٌ دَمُ الْحَيْضَةِ وَغَيْرُهُ، وَدَمُ الْحُوتِ عِنْدَ مَالِكٍ مِثْلُ جَمِيعِ الدَّمِ، قَالَ: وَيُغْسَلُ قَلِيلُ الدَّمِ وَكَثِيرُهُ مِنْ الدَّمِ كُلِّهِ وَإِنْ كَانَ دَمَ ذُبَابٍ رَأَيْتُ أَنْ يُغْسَلَ.قُلْتُ: فَإِنْ كَانَ فِي نَافِلَةٍ فَلَمَّا صَلَّى رَكْعَةً رَأَى فِي ثَوْبِهِ دَمًا كَثِيرًا أَيَقْطَعُ أَمْ يَمْضِي؟ فَإِنْ قَطَعَ أَيَكُونُ عَلَيْهِ قَضَاءٌ أَمْ لَا؟قَالَ: يَقْطَعُ وَلَا أَرَى عَلَيْهِ قَضَاءً إلَّا أَنْ يُحِبَّ أَنْ يُصَلِّيَ، قَالَ: فَقِيلَ لِمَالِكٍ: فَدَمُ الْبَرَاغِيثِ؟قَالَ: إنْ كَثُرَ ذَلِكَ وَانْتَشَرَ فَأَرَى أَنْ يَغْسِلَ، قَالَ: وَالْبَوْلُ وَالرَّجِيعُ وَالِاحْتِلَامُ وَالْمَذْيُ وَخَرْءُ الطَّيْرِ الَّتِي تَأْكُلُ الْجِيَفَ وَالدَّجَاجُ الَّتِي تَأْكُلُ النَّتِنَ فَإِنَّ قَلِيلَ خُرْئِهَا وَكَثِيرَهُ سَوَاءٌ، إنْ ذَكَرَ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ وَهُوَ فِي ثَوْبِهِ أَوْ إزَارِهِ نَزَعَ وَقَطَعَ الصَّلَاةَ وَاسْتَأْنَفَهَا مِنْ أَوَّلِهَا بِإِقَامَةٍ جَدِيدَةٍ كَانَ مَعَ الْإِمَامِ أَوْ وَحْدَهُ فَإِنْ صَلَّاهَا أَعَادَهَا مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ فَإِنْ ذَهَبَ الْوَقْتُ فَلَا إعَادَةَ عَلَيْهِ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ: فَإِنْ رَأَى فِي ثَوْبِهِ دَمًا مَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ فِي الصَّلَاةِ فَنَسِيَ حَتَّى دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ؟قَالَ: هُوَ مِثْلُ هَذَا كُلِّهِ يَفْعَلُ فِيهِ كَمَا يَفْعَلُ فِيمَا فَسَّرْتُ لَكَ فِي هَذَا، قَالَ: وَأَرْوَاثُ الدَّوَابِّ: الْخَيْلِ وَالْبِغَالِ وَالْحَمِيرِ أَرَى أَنْ يُفْعَلَ فِيهَا كَمَا يُفْعَلُ فِي الْبَوْلِ وَالرَّجِيعِ وَالْمَذْيِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ؟قَالَ: وَلَا بَأْسَ بِبَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ مِثْلِ الْبَعِيرِ وَالشَّاةِ وَالْبَقَرِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَيَجِفُّ فَيَحُتُّهُ قَالَ: لَا يُجْزِيهِ ذَلِكَ حَتَّى يَغْسِلَهُ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَمَنْ صَلَّى وَفِي جَسَدِهِ دَنَسٌ فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ مَنْ هُوَ فِي ثَوْبِهِ يَصْنَعُ بِهِ كَمَا يَصْنَعُ مَنْ صَلَّى وَفِي ثَوْبِهِ دَنَسٌ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي دَمِ الْبَرَاغِيثِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ مُتَفَرِّقًا قَالَ: إذَا تَفَاحَشَ ذَلِكَ غَسَلَهُ فَإِنْ كَانَ غَيْرَ مُتَفَاحِشٍ، فَلَا أَرَى بِهِ بَأْسًا، قَالَ مَالِكٌ: وَدَمُ الذُّبَابِ يُغْسَلُ، قَالَ: وَمَا رَأَيْتُ مَالِكًا يُفَرِّقُ بَيْنَ الدِّمَاءِ وَلَكِنَّهُ يَجْعَلُ دَمَ كُلِّ شَيْءٍ سَوَاءً، وَذَلِكَ أَنِّي كُنْتُ سَأَلْتُ ابْنَ الْقَاسِمِ عَنْ دَمِ الْقُرَادِ وَالسَّمَكِ وَالذُّبَابِ فَقَالَ: وَدَمُ السَّمَكِ أَيْضًا يُغْسَلُ.
কাপড়, চামড়ার মোজা, জুতো কিংবা শরীরে যা কিছু (রাস্তার কাদা থেকে) লাগে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বললেন: আমরা তাঁকে বললাম যে, এতে তো পশুর মল-মূত্র ও অপবিত্রতা মিশে থাকে। তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, রাস্তাঘাট সর্বদাই এমন ছিল। তাঁরা বৃষ্টির পানি ও কাদার মধ্য দিয়ে চলাচল করতেন এবং সেই অবস্থায় নামাজ পড়তেন, কিন্তু তা ধুয়ে ফেলতেন না। [কাপড়ে রক্ত বা অন্য কিছু লেগে থাকা অবস্থায় ব্যক্তির নামাজ পড়া প্রসঙ্গে]কাপড়ে রক্ত বা অন্য কিছু লেগে থাকা অবস্থায় ব্যক্তির নামাজ পড়া প্রসঙ্গে: তিনি বলেন, ইমাম মালিক সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন যে নামাজ পড়ছে অথচ তার কাপড়ে সামান্য পরিমাণ ঋতুস্রাবের রক্ত বা অন্য কোনো রক্ত লেগে আছে এবং নামাজের মধ্যেই সে তা দেখতে পায়। ইমাম মালিক বলেন: সে তার নামাজ চালিয়ে যাবে এবং তা খুলে ফেলার ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ করবে না। তবে সে যদি তা খুলে ফেলে, তবে আমি তাতে কোনো দোষ দেখি না। আর যদি রক্তের পরিমাণ বেশি হয়—তা ঋতুস্রাবের রক্ত হোক বা অন্য কিছু—তবে সে তা খুলে ফেলবে এবং পুনরায় ইকামতের সাথে শুরু থেকে নামাজ শুরু করবে। সে ইতিপূর্বে পড়া নামাজের অংশের ওপর ভিত্তি করবে না। আর যদি নামাজ শেষ করার পর সে তা দেখতে পায়, তবে ওয়াক্ত থাকা পর্যন্ত সে নামাজ পুনরায় পড়বে। আমার নিকট সব রক্তই সমান, তা ঋতুস্রাবের হোক বা অন্য কিছু। ইমাম মালিকের মতে মাছের রক্তও অন্যান্য সকল রক্তের ন্যায়। তিনি বলেন: রক্তের পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি, সকল রক্তই ধুয়ে ফেলতে হবে; এমনকি মাছির রক্ত হলেও আমি তা ধুয়ে ফেলার মত দিই।আমি বললাম: যদি সে নফল নামাজে থাকে এবং এক রাকাত পড়ার পর কাপড়ে প্রচুর রক্ত দেখতে পায়, তবে সে কি নামাজ ছেড়ে দেবে নাকি চালিয়ে যাবে? আর সে যদি নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে কি তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হবে?তিনি বললেন: সে নামাজ ছেড়ে দেবে, তবে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক বলে আমি মনে করি না, যদি না সে নিজ থেকে তা পড়তে চায়। তিনি বলেন: ইমাম মালিককে ছারপোকার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।তিনি বললেন: যদি তা পরিমাণে অনেক হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে, তবে আমি তা ধুয়ে ফেলার মত দিই। তিনি বলেন: মূত্র, মানুষের মল, স্বপ্নদোষজনিত বীর্যপাত, মযি (উত্তেজনার ফলে নির্গত রস), মৃতভোজী পাখির বিষ্ঠা এবং অপবিত্র জিনিস খাওয়া মুরগির বিষ্ঠার পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি—উভয়ই সমান (অপবিত্র)। নামাজের মধ্যে থাকা অবস্থায় যদি তার কাপড়ে বা লুঙ্গিতে এগুলোর কথা মনে পড়ে, তবে সে তা খুলে ফেলবে এবং নামাজ ছেড়ে দিয়ে ইকামতের সাথে নতুন করে শুরু থেকে নামাজ পড়বে, চাই সে ইমামের সাথে থাকুক বা একাকী। আর যদি সে তা নিয়ে নামাজ পড়ে ফেলে, তবে ওয়াক্ত থাকা পর্যন্ত সে নামাজ পুনরায় পড়বে। ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়ে গেলে তাকে আর পুনরায় পড়তে হবে না। তিনি বলেন: আমি তাঁকে বললাম: যদি সে নামাজে প্রবেশের আগেই কাপড়ে রক্ত দেখে থাকে কিন্তু ভুলে গিয়ে নামাজ শুরু করে দেয় (তবে তার বিধান কী)?তিনি বললেন: এটিও আগের সবকিছুর মতোই; আমি আপনার নিকট যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি সে অনুযায়ীই সে আমল করবে। তিনি বলেন: পশুর মল—যেমন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা—এর ক্ষেত্রেও আমি সেরকমই করার মত দিই যেমনটা কাপড়ে মূত্র, মল বা মযি লাগলে করা হয়।তিনি বলেন: যেসব পশুর গোশত খাওয়া যায়—যেমন উট, ভেড়া ও গরু—তাদের মূত্রে কোনো সমস্যা নেই।তিনি বলেন: কাপড়ে বীর্য লাগার পর তা শুকিয়ে গেলে ঘষে তুলে ফেলার ব্যাপারে ইমাম মালিক বলেছেন: ধৌত করা ব্যতীত শুধু ঘষে ফেলা যথেষ্ট নয়।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি শরীরে অপবিত্রতা নিয়ে নামাজ পড়ে, তার হুকুম কাপড়ে অপবিত্রতা নিয়ে নামাজ পড়া ব্যক্তির মতোই; কাপড়ে অপবিত্রতা থাকলে যা করতে হয়, সে-ও তাই করবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক কাপড়ে ছড়িয়ে থাকা ছারপোকার রক্ত সম্পর্কে বলেছেন: যদি তা অতিরিক্ত মাত্রায় হয় তবে তা ধুয়ে ফেলবে, আর যদি তা অতিরিক্ত না হয় তবে আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। ইমাম মালিক আরও বলেন: মাছির রক্ত ধুয়ে ফেলতে হবে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি ইমাম মালিককে বিভিন্ন রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে দেখিনি, বরং তিনি সব রক্তকেই সমান গণ্য করতেন। এ কারণেই আমি ইবনুল কাসিমকে উকুন, মাছ ও মাছির রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: মাছের রক্তও ধুয়ে ফেলতে হবে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٩)
قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الثَّوْبِ يَكُونُ فِيهِ النَّجَسُ قَالَ: لَا يُطَهِّرُهُ شَيْءٌ إلَّا الْمَاءُ وَكَذَلِكَ، قَالَ: فَقُلْتُ لِمَالِكٍ: فَالْقَطْرَةُ مِنْ الدَّمِ تَكُونُ فِي الثَّوْبِ أَيَمُجُّهُ بِفِيهِ أَيْ يَقْلَعُهُ مِنْ ثَوْبِهِ وَيَنْزِعُهُ؟قَالَ: يَكْرَهُهُ لِثَوْبِهِ وَيُدْخِلُهُ فِي فِيهِ فَكَرِهَ ذَلِكَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الثَّوْبِ يُصِيبُهُ الْبَوْلُ أَوْ الِاحْتِلَامُ فَيُخْطِئُ مَوْضِعَهُ وَلَا يَعْرِفُهُ قَالَ: يَغْسِلُهُ كُلَّهُ.قُلْتُ لَهُ: فَإِنْ عَرَفَ تِلْكَ النَّاحِيَةَ؟قَالَ: يَغْسِلُ تِلْكَ النَّاحِيَةَ مِنْهُ.قُلْتُ: فَإِنْ شَكَّ فَلَمْ يَسْتَيْقِنْ أَصَابَهُ أَوْ لَمْ يُصِبْهُ؟قَالَ: يَنْضَحُهُ بِالْمَاءِ وَلَا يَغْسِلُهُ وَذَكَرَ النَّضْحَ، فَقَالَ: هُوَ الشَّأْنُ وَهُوَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ، قَالَ: وَهُوَ طَهُورٌ وَلِكُلِّ مَا شَكَّ فِيهِ.قُلْتُ: أَرَأَيْتَ مَا تَطَايَرَ عَلِيِّ مِنْ الْبَوْلِ قَدْرَ رُءُوسِ الْإِبَرِ هَلْ تَحْفَظُ مِنْ مَالِكٍ فِيهِ شَيْئًا؟قَالَ: أَمَّا هَذَا بِعَيْنِهِ مِثْلُ رُءُوسِ الْإِبَرِ فَلَا وَلَكِنَّ قَوْلَ مَالِكٍ: يُغْسَلُ قَلِيلُ الْبَوْلِ وَكَثِيرُهُ.قَالَ سَحْنُونٌ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: بَلَغَنَا «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ فِي ثَوْبِهِ دَمًا فِي الصَّلَاةِ فَانْصَرَفَ» .قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ: الْقَيْحُ بِمَنْزِلَةِ الدَّمِ فِي الثَّوْبِ وَهُوَ نَجِسٌ.وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ مِثْلَهُ: يَغْسِلُهُ بِالْمَاءِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ «أَنَّ خَوْلَةَ بِنْتَ يَسَارٍ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ إنْ لَمْ يَخْرُجْ الدَّمُ مِنْ الثَّوْبِ؟ قَالَ: يَكْفِيكِ الْمَاءُ وَلَا يَضُرُّكِ أَثَرُهُ» .قَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ غَسَلَ الِاحْتِلَامَ مِنْ ثَوْبِهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ فِيمَنْ أَصَابَ ثَوْبَهُ بَوْلٌ أَوْ رَجِيعٌ أَوْ سَاقَهُ أَوْ بَعْضَ جَسَدِهِ حَتَّى صَلَّى وَفَرَغَ قَالَ: إنْ كَانَ مِمَّا يَكُونُ مِنْ النَّاسِ فَإِنَّهُ يُعِيدُ صَلَاتَهُ وَإِنْ كَانَ قَدْ فَاتَ الْوَقْتُ فَلَا يُعِيدُ.وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِيمَنْ صَلَّى بِثَوْبٍ فِيهِ احْتِلَامٌ مِثْلَ قَوْلِ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيُونُسَ، وَقَالَ رَبِيعَةُ فِي دَمِ الْبَرَاغِيثِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ: إذَا تَفَاحَشَتْ مَنْظَرَتُهُ أَوْ تَغَيَّرَ رِيحُهُ فَاغْسِلْهُ وَلَا بَأْسَ بِهِ مَا لَمْ يَتَفَاحَشْ مَنْظَرُهُ وَيُظْهِرُهُ رِيحُهُ فَلَا بَأْسَ مَا دُمْتَ تُدَارِي ذَلِكَ.قَالَ وَكِيعٌ عَنْ أَفْلَحَ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: عَرَّسْنَا مَعَ ابْنِ عُمَرَ بِالْأَبْوَاءِ ثُمَّ سِرْنَا حِينَ صَلَّيْنَا الْفَجْرَ حَتَّى ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَقُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: إنِّي صَلَّيْتُ فِي إزَارِي وَفِيهِ احْتِلَامٌ وَلَمْ أَغْسِلْهُ، فَوَقَفَ عَلِيَّ ابْنُ عُمَرَ فَقَالَ: انْزِلْ فَاطْرَحْ إزَارَكَ وَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ وَأَقِمْ الصَّلَاةَ ثُمَّ صَلِّ الْفَجْرَ فَفَعَلْتُ.قَالَ سَحْنُونٌ: وَإِنَّمَا ذَكَرْتُ هَذَا حُجَّةً عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ لَا يُعِيدُ فِي الْوَقْتِ، وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَأَبُو هُرَيْرَةَ فِي الثَّوْبِ تُصِيبُهُ الْجَنَابَةُ فَلَا يُعْرَفُ مَوْضِعُهَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ كُلُّهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ. [الْمَسْحِ عَلَى الْجَبَائِرِ وَالظُّفُرِ الْمَكْسِيِّ]فِي الْمَسْحِ عَلَى الْجَبَائِرِ وَالظُّفُرِ الْمَكْسِيِّ قَالَ: وَسَأَلْتُ ابْنَ الْقَاسِمِ عَنْ الْمَسْحِ عَلَى الْجَبَائِرِ فَقَالَ: قَالَ مَالِكٌ: يَمْسَحُ عَلَيْهَا،
তিনি বললেন: ইমাম মালিক কাপড়ে লেগে থাকা অপবিত্রতা সম্পর্কে বলেছেন: পানি ছাড়া অন্য কোনো কিছু তা পবিত্র করতে পারে না। তিনি আরও বললেন: আমি ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম, কাপড়ে যদি রক্তের ফোঁটা লাগে তবে কি মুখ দিয়ে চুষে বা টেনে তা কাপড় থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা যাবে?
তিনি বললেন: তিনি (ইমাম মালিক) কাপড়ের জন্য এটি অপছন্দ করেছেন এবং তা মুখে প্রবেশ করানোও অপছন্দ করেছেন।
তিনি বললেন: ইমাম মালিক সেই কাপড় সম্পর্কে বলেছেন যাতে প্রস্রাব বা স্বপ্নদোষের বীর্য লেগেছে কিন্তু এর সঠিক স্থানটি চিহ্নিত করা যাচ্ছে না; তিনি বলেছেন: পুরো কাপড়টিই ধুয়ে ফেলতে হবে।
আমি তাকে বললাম: যদি সে ওই নির্দিষ্ট দিকটি চিনতে পারে?
তিনি বললেন: তবে সে কাপড়ের কেবল ওই অংশটিই ধুয়ে ফেলবে।
আমি বললাম: যদি সে সন্দেহ পোষণ করে কিন্তু নিশ্চিত হতে না পারে যে, অপবিত্রতা লেগেছে কি না?
তিনি বললেন: তবে সে সেখানে পানি ছিটিয়ে দেবে কিন্তু ধোবে না। তিনি পানি ছিটানোর কথা উল্লেখ করে বললেন: এটিই নিয়ম এবং মানুষের অনুসৃত পদ্ধতি। তিনি আরও বললেন: এটি পবিত্রকারী এবং এমন সব বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য যাতে সন্দেহ তৈরি হয়।
আমি বললাম: প্রস্রাবের ক্ষুদ্র ছিটেফোঁটা যা সুঁইয়ের মাথার মতো শরীরে বা কাপড়ে এসে পড়ে, সে সম্পর্কে ইমাম মালিকের কোনো বক্তব্য কি আপনার জানা আছে?
তিনি বললেন: সুনির্দিষ্টভাবে এই সুঁইয়ের মাথার মতো ক্ষুদ্র ছিটেফোঁটা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য নেই, তবে ইমাম মালিকের সাধারণ অভিমত হলো: প্রস্রাব অল্প হোক বা বেশি, তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
সাহনুন ইবন ওয়াহাব থেকে, তিনি ইউনুস ইবন ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়রত অবস্থায় তাঁর কাপড়ে রক্ত দেখতে পেলেন এবং সালাত ছেড়ে ফিরে গেলেন।"
ইবন ওয়াহাব বলেন এবং ইবন শিহাব বলেছেন: কাপড়ে লাগা পুঁজের বিধান রক্তের মতোই এবং তা অপবিত্র।
মুজাহিদ এবং লাইস ইবন সাদ-ও অনুরুপ কথা বলেছেন যে, তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ইবন ওয়াহাব ইবন লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি হাবিব থেকে, তিনি ঈসা ইবন তালহা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, খাওলা বিনতে ইয়াসার আরজ করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! যদি কাপড় থেকে রক্তের দাগ দূর না হয় তবে কী হবে? তিনি বললেন: তোমার জন্য পানিই যথেষ্ট, রক্তের দাগের অবশিষ্টাংশ তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।"
ইমাম মালিক ইবন আনাস হিশাম ইবন উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন আবদুর রহমান ইবন হাতিব থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর কাপড় থেকে স্বপ্নদোষের বীর্য ধুয়ে ফেলেছিলেন।
ইবন ওয়াহাব লাইস ইবন সাদ থেকে, তিনি রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার কাপড়ে, পায়ে বা শরীরের কোনো অংশে প্রস্রাব বা বিষ্ঠা লেগেছে এবং সে সেভাবেই সালাত শেষ করেছে: যদি তা মানুষের নির্গত অপবিত্রতা হয়, তবে সে পুনরায় সালাত আদায় করবে। তবে যদি সালাতের ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে আর পুনরায় পড়তে হবে না।
ইবন শিহাব স্বপ্নদোষযুক্ত কাপড়ে সালাত আদায়কারীর ক্ষেত্রে রাবিয়া ইবন আবি আবদুর রহমান এবং ইউনুসের মতো একই মত পোষণ করেছেন। রাবিয়া মাছির (বা ক্ষুদ্র কীটের) রক্ত সম্পর্কে বলেছেন: যদি এর আধিক্য দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ে অথবা এর গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা ধুয়ে ফেলো। আর যতক্ষণ পর্যন্ত এটি অত্যধিক না হয় এবং এর গন্ধ প্রকাশ না পায়, ততক্ষণ এতে কোনো দোষ নেই যতক্ষণ তুমি তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করো।
ওয়াকি আফলাহ ইবন হুমাইদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা ইবন উমরের সাথে 'আবওয়া' নামক স্থানে রাত্রিযাপন করলাম। এরপর ফজর পড়ে যাত্রা শুরু করলাম এবং রোদ চড়ে গেল। তখন আমি ইবন উমরকে বললাম: আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রে সালাত আদায় করেছি অথচ তাতে স্বপ্নদোষের বীর্য ছিল যা আমি ধুইনি। তখন ইবন উমর আমার কাছে দাঁড়িয়ে বললেন: সওয়ারি থেকে নামো, তোমার ওই বস্ত্রটি খুলে ফেলো, এরপর দুই রাকাত (সুন্নত) পড়ে সালাতের ইকামত দাও এবং পুনরায় ফজর সালাত আদায় করো। আমি তা-ই করলাম।
সাহনুন বলেন: যারা মনে করেন ওয়াক্ত থাকাকালীন পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না, তাদের বিপক্ষে দলিল হিসেবে আমি এটি উল্লেখ করেছি। ইবন ওয়াহাবের হাদিসে এসেছে, ইবন উমর এবং আবু হুরায়রা জানাবাত বা বীর্য লেগে থাকা কাপড় সম্পর্কে বলেছেন—যার স্থান নির্দিষ্ট করে জানা নেই—পুরো কাপড়টিই ধুয়ে ফেলতে হবে।
[জখমের পট্টি এবং ফাটা নখের ওপর মাসাহ করা]জখমের পট্টি এবং ফাটা নখের ওপর মাসাহ করার বিষয়ে তিনি বলেন: আমি ইবনুল কাসিমকে জখমের পট্টির ওপর মাসাহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: ইমাম মালিক বলেছেন: সে এগুলোর ওপর মাসাহ করবে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٠)
قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: فَأَرَى إنْ هُوَ تَرَكَ الْمَسْحَ عَلَى الْجَبَائِرِ أَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ أَبَدًا.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا جُنُبًا أَصَابَهُ كَسْرٌ أَوْ شَجَّةٌ وَكَانَ يَنْكُبُ عَنْهَا الْمَاءَ لِمَوْضِعِ الْجَبَائِرِ فَإِنَّهُ إذَا صَحَّ ذَلِكَ كَانَ عَلَيْهِ أَنْ يَغْسِلَ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ الَّذِي كَانَتْ عَلَيْهِ الْجَبَائِرُ أَوْ الشَّجَّةُ.قُلْتُ: فَإِنْ صَحَّ وَلَمْ يَغْسِلْ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ حَتَّى صَلَّى صَلَاةً أَوْ صَلَوَاتٍ؟قَالَ: إنْ كَانَ فِي مَوْضِعٍ لَا يُصِيبُهُ الْوُضُوءُ إنَّمَا هُوَ فِي الْمَنْكِبِ أَوْ الظَّهْرِ، فَأَرَى أَنْ يُعِيدَ كُلَّ مَا صَلَّى مِنْ حِينِ كَانَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يَمَسَّهُ بِالْمَاءِ لِأَنَّهُ بِمَنْزِلَةِ مَنْ بَقِيَ فِي جَسَدِهِ مَوْضِعٌ لَمْ يُصِبْهُ الْمَاءُ فِي جَنَابَةٍ اغْتَسَلَ مِنْهَا حَتَّى صَلَّى صَلَوَاتٍ أَنَّهُ يُعِيدُ الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا وَإِنَّمَا عَلَيْهِ أَنْ يَمَسَّ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ بِالْمَاءِ فَقَطْ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الظُّفُرِ يَسْقُطُ قَالَ: لَا بَأْسَ أَنْ يَكْسِيَ الدَّوَاءَ ثُمَّ يُمْسَحَ عَلَيْهِ.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: وَالْمَرْأَةُ بِهَذِهِ الْمَنْزِلَةِ؟قَالَ: نَعَمْ هِيَ مِثْلُهُ. قَالَ: ابْنُ وَهْبٍ وَقَدْ قَالَ: يَمْسَحُ عَلَى الْجَبَائِرِ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَرَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَقَالَ رَبِيعَةُ: وَالشَّجَّةُ فِي الْوَجْهِ يُجْعَلُ عَلَيْهَا الدَّوَاءُ وَيُمْسَحُ عَلَيْهَا، وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْقِرْطَاسِ أَوْ لِشَيْءٍ يُجْعَلُ عَلَى الصُّدْغِ مِنْ صُدَاعٍ أَوْ مِنْ وَجَعٍ بِهِ أَنَّهُ يُمْسَحُ عَلَيْهِ مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ وَهْبٍ. [وُضُوءِ الْأَقْطَعِ]مَا جَاءَ فِي وُضُوءِ الْأَقْطَعِ قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: قَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ قُطِعَتْ رِجْلَاهُ إلَى الْكَعْبَيْنِ قَالَ: إذَا تَوَضَّأَ غَسَلَ بِالْمَاءِ مَا بَقِيَ مِنْ الْكَعْبَيْنِ وَغَسَلَ مَوْضِعَ الْقَطْعِ أَيْضًا.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: أَيَبْقَى مِنْ الْكَعْبَيْنِ شَيْءٌ؟قَالَ: نَعَمْ إنَّمَا يُقْطَعُ مِنْ تَحْتِ الْكَعْبَيْنِ وَيَبْقَى الْكَعْبَانِ فِي السَّاقَيْنِ، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: {وَأَرْجُلَكُمْ إلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] . وَلَقَدْ وَقَفْتُ مَالِكًا عَلَى الْكَعْبَيْنِ اللَّذَيْنِ إلَيْهِمَا حَدُّ الْوُضُوءِ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ فَوَضَعَ لِي يَدَهُ عَلَى الْكَعْبَيْنِ اللَّذَيْنِ فِي أَسْفَلِ السَّاقَيْنِ فَقَالَ لِي: هَذَانِ هُمَا.قُلْتُ: فَإِنْ هُوَ قُطِعَتْ يَدَاهُ مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ أَيَغْسِلُ مَا بَقِيَ مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ وَيَغْسِلُ مَوْضِعَ الْقَطْعِ؟قَالَ: لَا يَغْسِلُ مَوْضِعَ الْقَطْعِ وَلَمْ يَبْقَ مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ شَيْءٌ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَغْسِلَ شَيْئًا مِنْ يَدَيْهِ إذَا قُطِعَتَا مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ.قُلْتُ: وَكَيْفَ لَمْ يَبْقَ مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ شَيْءٌ؟قَالَ: لِأَنَّ الْقَطْعَ قَدْ أَتَى عَلَى جَمِيعِ الذِّرَاعَيْنِ وَالْمَرْفِقَانِ فِي الذِّرَاعَيْنِ فَلَمَّا ذَهَبَ الْمَرْفِقَانِ مَعَ الذِّرَاعَيْنِ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ أَنْ يَغْسِلَ مَوْضِعَ الْقَطْعِ، قَالَ: وَأَمَّا الْكَعْبَانِ فَهُمَا بَاقِيَانِ فِي السَّاقَيْنِ فَلِذَلِكَ غُسِلَ مَوْضِعُ الْقَطْعِ، قُلْتُ: وَهَذَا قَوْلُ مَالِكٍ أَيْضًا، قَالَ: سَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الذِّرَاعَيْنِ؟قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَالتَّيَمُّمُ هُوَ فِي ذَلِكَ مِثْلُ الْوُضُوءِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: إلَّا أَنْ يَكُونَ بَقِيَ شَيْءٌ مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ فِي الْعَضُدَيْنِ يَعْرِفُ ذَلِكَ النَّاسُ وَيَعْرِفُهُ الْعَرَبُ فَإِنْ كَانَ كَذَلِكَ فَلْيَغْسِلْ مَا بَقِيَ مِنْ الْمَرْفِقَيْنِ.
ইবনে আল-কাসিম বলেন: আমি মনে করি, যদি কেউ পট্টির (জাবাইর) ওপর মাসেহ করা ছেড়ে দেয়, তবে তাকে সেই সালাত চিরতরে পুনরায় আদায় করতে হবে।তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: যদি কোনো অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তি হাড় ভাঙা বা জখমের শিকার হয় এবং পট্টির কারণে ঐ স্থানটিতে পানি পৌঁছাতে না পারে, তবে সুস্থ হওয়ার পর পট্টি বা জখমের ঐ স্থানটি ধৌত করা তার জন্য আবশ্যক।আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি সে সুস্থ হয়ে যায় এবং ঐ স্থানটি ধৌত না করেই এক বা একাধিক সালাত আদায় করে ফেলে?তিনি বললেন: যদি তা এমন কোনো স্থানে হয় যেখানে ওজুর পানি পৌঁছে না, বরং তা কাঁধে বা পিঠে হয়, তবে আমার মতে সে পানি দিয়ে ঐ স্থানটি স্পর্শ করতে সক্ষম হওয়ার পর থেকে যত সালাত আদায় করেছে, সব পুনরায় আদায় করবে। কারণ তার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মতো, যার শরীরের কোনো এক স্থানে জানাবাতের গোসলের সময় পানি পৌঁছেনি এবং সে অবস্থায় সে বেশ কিছু সালাত আদায় করেছে; এমতাবস্থায় তাকে পূর্বের সকল সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে এবং কেবলমাত্র ঐ স্থানটিতে পানি পৌঁছাতে হবে।তিনি বলেন: মালিক নখ পড়ে যাওয়া সম্পর্কে বলেছেন: নখের ওপর ঔষধ লাগানো এবং এরপর তার ওপর মাসেহ করাতে কোনো অসুবিধা নেই।আমি ইবনে আল-কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম: নারীর ক্ষেত্রেও কি একই বিধান?তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে পুরুষের মতোই। ইবনে ওয়াহাব বলেন: হাসান বসরী, ইব্রাহিম নাখয়ি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং রাবিআ ইবনে আবি আবদির রহমান বলেছেন যে, পট্টির ওপর মাসেহ করা যাবে। রাবিআ বলেন: মুখে জখম হলে তার ওপর ঔষধ লাগিয়ে মাসেহ করা যাবে। ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনায় রয়েছে যে, মালিক মাথাব্যথা বা যন্ত্রণার কারণে রগের ওপর কাগজ বা অন্য কিছু রাখা হলে তার ওপর মাসেহ করার কথা বলেছেন। [অঙ্গহানি ব্যক্তির ওজু]অঙ্গহানি ব্যক্তির ওজু সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আল-কাসিম বলেন: মালিক ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার দুই পা টাখনু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে: সে যখন ওজু করবে, তখন টাখনুর অবশিষ্ট অংশ এবং কর্তিত স্থানটি পানি দিয়ে ধৌত করবে।আমি ইবনে আল-কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম: টাখনুর কি কিছু অবশিষ্ট থাকে?তিনি বললেন: হ্যাঁ, সাধারণত টাখনুর নিচ থেকে কাটা হয় এবং টাখনু দুটি নলার হাড়ের সাথে থেকে যায়। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত} [সূরা আল-মায়িদা: ৬]। আমি মালিকের কাছে সেই দুটি টাখনু সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম, যে পর্যন্ত ওজুর সীমা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তখন তিনি নলার নিচের অংশে অবস্থিত দুটি টাখনুর ওপর হাত রেখে আমাকে বললেন: এই দুটিই হলো সেই টাখনু।আমি বললাম: যদি কারো দুই হাত কনুই থেকে কেটে ফেলা হয়, তবে কি সে কনুইয়ের অবশিষ্ট অংশ এবং কর্তিত স্থান ধৌত করবে?তিনি বললেন: সে কর্তিত স্থান ধৌত করবে না এবং কনুইয়ের কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকে না। তাই যদি দুই হাত কনুই থেকে কেটে ফেলা হয়, তবে হাতের কোনো অংশ ধৌত করা তার জন্য আবশ্যক নয়।আমি বললাম: কনুইয়ের কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকে না কেন?তিনি বললেন: কারণ কর্তন পুরো বাহু পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং কনুই দুটি বাহুরই অন্তর্ভুক্ত। যখন বাহুর সাথে কনুই দুটিও চলে যায়, তখন কর্তিত স্থান ধৌত করা তার ওপর আবশ্যক থাকে না। তিনি আরও বলেন: পক্ষান্তরে টাখনু দুটি নলার হাড়ের সাথে যুক্ত থাকে, তাই কর্তিত স্থান ধৌত করতে হয়। ইবনে আল-কাসিম বলেন: এটি মালিকেরই অভিমত। তিনি বলেন: আমি মালিককে বাহু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম।ইবনে আল-কাসিম বলেন: এ ক্ষেত্রে তায়াম্মুমের বিধানও ওজুর মতোই।ইবনে আল-কাসিম বলেন: তবে যদি বাহুর ওপরের অংশে কনুইয়ের কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকে—যা সাধারণ মানুষ ও আরবরা চেনে—তবে এমতাবস্থায় তাকে কনুইয়ের সেই অবশিষ্ট অংশটুকু ধৌত করতে হবে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣١)
[غَسْلِ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَالْغُلَامِ]فِي غَسْلِ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَالْغُلَامِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْجَارِيَةِ وَالْغُلَامِ بَوْلُهُمَا سَوَاءٌ إذَا أَصَابَ بَوْلُهُمَا ثَوْبَ رَجُلٍ أَوْ امْرَأَةٍ غَسَلَا ذَلِكَ وَإِنْ لَمْ يَأْكُلَا الطَّعَامَ، قَالَ: وَأَمَّا الْأُمُّ فَأَحَبُّ إلَيَّ أَنْ يَكُونَ لَهَا ثَوْبٌ سِوَى ثَوْبِهَا الَّذِي تُرْضِعُ فِيهِ إذْ كَانَتْ تَقْدِرُ عَلَى ذَلِكَ، وَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَقْدِرُ عَلَى ذَلِكَ فَلْتُصَلِّ فِي ثَوْبِهَا وَلْتُدَارِ الْبَوْلَ عَنْهَا جَهْدَهَا وَلْتَغْسِلْ مَا أَصَابَ مِنْ الْبَوْلِ ثَوْبَهَا جَهْدَهَا. [الَّذِي يَبُولُ قَائِمًا]مَا جَاءَ فِي الَّذِي يَبُولُ قَائِمًا قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَبُولُ قَائِمًا قَالَ: إنْ كَانَ فِي مَوْضِعِ رَمْلٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ لَا يَتَطَايَرُ عَلَيْهِ مِنْهُ شَيْءٌ فَلَا بَأْسَ بِذَلِكَ، وَإِنْ كَانَ فِي مَوْضِعِ صَفًا يَتَطَايَرُ عَلَيْهِ فَأَكْرَهُ لَهُ ذَلِكَ وَلْيَبُلْ جَالِسًا.قَالَ سَحْنُونٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زِيَادٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ عَنْ النَّبِيِّ عليه السلام: أَنَّهُ «بَالَ قَائِمًا وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ» . [الْوُضُوءُ مِنْ مَاءِ الْبِئْرِ تَقَعُ فِيهِ الدَّابَّةُ وَالْبَرْكُ]ُ قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا وَسُئِلَ عَنْ جِبَابِ إنْطَابُلْسَ الَّتِي يَكُونُ فِيهَا مَاءُ السَّمَاءِ تَقَعُ فِيهِ الشَّاةُ أَوْ الدَّابَّةُ فَتَمُوتُ فِيهِ؟قَالَ: لَا أُحِبُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَشْرَبَ مِنْهُ وَلَا يَغْتَسِلَ بِهِ، فَقِيلَ لَهُ: أَتُسْقَى مِنْهُ الْبَهَائِمُ؟قَالَ: لَا أَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْبِئْرِ مِنْ آبَارِ الْمَدِينَةِ تَقَعُ فِيهِ الْوَزَغَةُ أَوْ الْفَأْرَةُ وَقَالَ: يَسْتَقِي مِنْهَا حَتَّى تَطِيبَ وَيَنْزِفُونَ مِنْهَا عَلَى قَدْرِ مَا يَظُنُّونِ أَنَّهَا قَدْ طَابَتْ يَنْزِفُونَ مِنْهَا مَا اسْتَطَاعُوا.قَالَ مَالِكٌ: وَكُرِهَ لِلْجُنُبِ أَنْ يَغْتَسِلَ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ إذَا كَانَ غَدِيرًا يُشْبِهُ الْبِرَكَ.قُلْتُ: أَرَأَيْتَ مَا كَانَ فِي الطَّرِيقِ مِنْ الْغُدُرِ وَالْآبَارِ وَالْحِيَاضِ أَوْ فِي الْفَلَوَاتِ يُصِيبُهَا الرَّجُلُ قَدْ انْثَنَتْ وَهُوَ لَا يَدْرِي مِنْ أَيْ شَيْءٍ انْثَنَتْ أَيَتَوَضَّأُ مِنْهَا أَمْ لَا؟قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: إذَا كَانَتْ الْبِئْرُ قَدْ انْثَنَتْ مِنْ الْحَمْأَةِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ فَلَا بَأْسَ بِالْوُضُوءِ مِنْهَا.قَالَ: وَهَذَا مِثْلُ ذَلِكَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: قَالَ وَسَمِعْتُ مَالِكًا وَسُئِلَ عَنْ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ حَتَّى اسْتَنْقَعَ ذَلِكَ الْمَاءُ الْقَلِيلُ أَيَتَوَضَّأُ مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ؟قَالَ: نَعَمْ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ، قِيلَ لَهُ: فَإِنْ جَفَّ ذَلِكَ الْمَاءُ؟قَالَ: يَتَيَمَّمُ بِذَلِكَ الطِّينِ، قِيلَ لَهُ: يَخَافُ أَنْ يَكُونَ فِيهِ زَبْلٌ؟قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ، قَالَ: وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ مَوَاجِلِ أَرْضِ بَرْقَةَ تَقَعُ فِيهِ الدَّابَّةُ فَتَمُوتُ فِيهِ؟قَالَ: لَا يُتَوَضَّأُ بِهِ وَلَا يُشْرَبُ مِنْهُ، قَالَ: وَلَا بَأْسَ أَنْ تُسْقَى مِنْهُ الْمَاشِيَةُ، قَالَ: وَالْعَسَلُ تَقَعُ فِيهِ الدَّابَّةُ فَتَمُوتُ فِيهِ؟قَالَ: إنْ كَانَ ذَلِكَ ذَائِبًا فَلَا يُؤْكَلُ وَلَا يُبَاعُ وَلَا بَأْسَ أَنْ يُعْلَفَ النَّحْلُ ذَلِكَ الْعَسَلَ الَّذِي مَاتَتْ فِيهِ الدَّابَّةُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ
[কন্যাশিশু ও পুত্রশিশুর প্রস্রাব ধৌতকরণ]কন্যাশিশু ও পুত্রশিশুর প্রস্রাব ধৌতকরণ সম্পর্কে তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) কন্যাশিশু ও পুত্রশিশুর প্রস্রাবের ব্যাপারে বলেছেন যে, উভয়ের প্রস্রাবই সমান; যদি কোনো পুরুষ বা নারীর পোশাকে তাদের প্রস্রাব লাগে, তবে তারা তা ধৌত করবেন, যদিও তারা (অন্য কোনো) খাবার গ্রহণ না করে থাকে। তিনি আরও বলেন: মায়েদের ক্ষেত্রে আমার নিকট পছন্দনীয় হলো, যদি তার সামর্থ্য থাকে তবে দুধ পান করানোর পোশাকের অতিরিক্ত অন্য একটি পোশাক থাকা। আর যদি তার সেই সামর্থ্য না থাকে, তবে সে তার ওই পোশাকেই সালাত আদায় করবে এবং প্রস্রাব থেকে সাধ্যমতো বেঁচে থাকবে এবং পোশাকে যতটুকু প্রস্রাব লাগবে তা সাধ্যানুযায়ী ধৌত করে নেবে। [দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বিধান]দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) দাঁড়িয়ে প্রস্রাবকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যদি স্থানটি বালুময় বা অনুরূপ কিছু হয় যেখান থেকে প্রস্রাবের ছিটা তার গায়ে আসার সম্ভাবনা না থাকে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি স্থানটি শক্ত পাথর বা অনুরূপ কিছু হয় যা থেকে ছিটা গায়ে আসার সম্ভাবনা থাকে, তবে আমি তা অপছন্দ করি এবং এমতাবস্থায় সে যেন বসে প্রস্রাব করে।সাহনুন বর্ণনা করেন আলী ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে যে, নবী (সা.) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসাহ করেছেন। [যে কূপ বা জলাধারে চতুষ্পদ জন্তু পড়ে যায় তার পানি দিয়ে অজু করার বিধান]তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে (রহ.) ইন্তাবুলুসের সেই সব জলাধার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি যাতে বৃষ্টির পানি জমা থাকে এবং তাতে কোনো ভেড়া বা জন্তু পড়ে মারা যায়।তিনি বললেন: আমি পছন্দ করি না যে কেউ তা পান করবে বা তা দিয়ে গোসল করবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তা কি গবাদি পশুকে পান করানো যাবে?তিনি বললেন: তাতে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না।ইবনুল কাসিম বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) মদিনার কূপসমূহ সম্পর্কে বলেছেন যাতে গিরগিটি বা ইঁদুর পড়ে যায়; তিনি বলেন: তা থেকে পানি তোলা হবে যতক্ষণ না তা নির্মল হয়। তারা ওই পরিমাণ পানি সেচে ফেলবে যাতে তাদের ধারণা হয় যে এটি নির্মল হয়ে গেছে, অর্থাৎ তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পানি সেচবে।ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির জন্য আবদ্ধ পানিতে গোসল করা মাকরূহ, যখন তা হাউজের মতো ছোট ডোবা বা জলাশয় হয়।আমি বললাম: আপনার অভিমত কী—রাস্তাঘাটে বা জনশূন্য প্রান্তরে যেসব জলাশয়, কূপ বা হাউজ থাকে এবং কোনো ব্যক্তি তা এমন অবস্থায় পায় যে পানির গন্ধ বা বর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেছে, অথচ সে জানে না কী কারণে তা পরিবর্তিত হয়েছে, সে কি তা দিয়ে অজু করবে নাকি করবে না?তিনি বললেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন: যদি কূপের পানি পচা কাদা বা অনুরূপ কারণে দুর্গন্ধযুক্ত বা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে অজু করাতে কোনো অসুবিধা নেই।তিনি বলেন: এটিও (রাস্তার ধারের জলাশয়) তদ্রূপ।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি ইমাম মালিককে (রহ.) এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি যার ওপর বৃষ্টির পানি পড়েছে এবং সেই অল্প পানি জমা হয়ে রয়ে গেছে; সে কি সেই পানি দিয়ে অজু করবে?তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে তা দিয়ে অজু করবে। তাঁকে বলা হলো: যদি সেই পানি শুকিয়ে যায়?তিনি বললেন: সে ওই কাদা দিয়েই তায়াম্মুম করবে। তাকে বলা হলো: সে যদি আশঙ্কা করে যে তাতে পশুর বিষ্ঠা বা গোবর রয়েছে?তিনি বললেন: তাতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন: ইমাম মালিককে (রহ.) বারকা অঞ্চলের পানির আধার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে কোনো জন্তু পড়ে মারা যায়।তিনি বললেন: তা দিয়ে অজু করা যাবে না এবং তা পানও করা যাবে না। তবে তিনি বলেন: তা গবাদি পশুকে পান করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি আরও বলেন: মধু যাতে কোনো জন্তু পড়ে মারা যায় (তার বিধান কী)?তিনি বললেন: যদি তা তরল অবস্থায় থাকে, তবে তা খাওয়া যাবে না এবং বিক্রিও করা যাবে না; তবে যে মধুতে জন্তু মারা গেছে তা মৌমাছিকে খাবার হিসেবে দিতে কোনো বাধা নেই।ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়া থেকে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٢)
عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ أَنَّهُ سَأَلَ الْقَاسِمَ وَسَالِمًا عَنْ الْمَاءِ الَّذِي لَا يَجْرِي تَمُوتُ فِيهِ الدَّابَّةُ أَيَشْرَبُ مِنْهُ وَيَغْسِلُ مِنْهُ الثِّيَابَ، فَقَالَا أَنْزِلْهُ إلَى نَظَرِكَ بِعَيْنِكَ فَإِنْ رَأَيْتَ مَاءً لَا يُدَنِّسُهُ مَا وَقَعَ فَتَرْجُو أَنْ لَا يَكُونَ بِهِ بَأْسٌ قَالَ سَحْنُونٌ وَقَالَ عَلِيٌّ قَالَ مَالِكٌ: مَنْ تَوَضَّأَ بِمَاءٍ وَقَعَتْ فِيهِ مَيْتَةٌ تَغَيَّرَ لَوْنُهُ أَوْ طَعْمُهُ وَصَلَّى أَعَادَ، وَإِنْ ذَهَبَ الْوَقْتُ وَإِنْ لَمْ يَتَغَيَّرْ لَوْنُ الْمَاءِ وَلَا طَعْمُهُ أَعَادَ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ، وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَرَبِيعَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: كُلُّ مَاءٍ فِيهِ فَضْلٌ عَمَّا يُصِيبُهُ مِنْ الْأَذَى حَتَّى لَا يُغَيِّرَ ذَلِكَ طَعْمَهُ وَلَا لَوْنَهُ وَلَا رَائِحَتَهُ لَا يَضُرُّهُ ذَلِكَ.قَالَ رَبِيعَةُ: إنْ تَغَيَّرَ لَوْنُ الْمَاءِ أَوْ طَعْمُهُ نَزَعَ مِنْهُ قَدْرَ مَا يُذْهِبُ الرَّائِحَةَ عَنْهُ، قَالَ سَحْنُونٌ: إنَّمَا هَذَا فِي الْبِئْرِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ أَوْ يَشْرَبُ» .قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: بَلَغَنِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ ". [عَرَقِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ وَالدَّوَابِّ]فِي عَرَقِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ وَالدَّوَابِّ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِالثَّوْبِ يَعْرَقُ فِيهِ الْجُنُبُ مَا لَمْ يَكُنْ فِي جَسَدِهِ نَجَسٌ فَإِنْ كَانَ فِي جَسَدِهِ نَجَسٌ فَإِنَّهُ يُكْرَهُ ذَلِكَ لِأَنَّهُ إذَا عَرَقَ فِيهِ ابْتَلَّ مَوْضِعُ النَّجَسِ الَّذِي فِي جَسَدِهِ، وَقَالَ: لَا بَأْسَ بِعَرَقِ الدَّوَابِّ وَمَا يَخْرُجُ مِنْ أُنُوفِهَا وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: وَكَذَلِكَ الثَّوْبُ يَكُونُ فِيهِ النَّجَسُ ثُمَّ يَلْبَسُهُ أَوْ يَنَامُ فِيهِ فَيَعْرَقُ فَهُوَ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ، قَالَ: إلَّا أَنْ يَكُونَ فِي لَيَالٍ لَا يَعْرَقُ فِيهَا فَلَا بَأْسَ أَنْ يَنَامَ فِي ذَلِكَ الثَّوْبِ الَّذِي فِيهِ النَّجَاسَةُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ وَاللَّيْثُ وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سُوَيْد بْنِ قَيْسٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جُرَيْجٍ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ يَقُولُ: «إنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ سُئِلَتْ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي كَانَ يُجَامِعُ فِيهِ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ إذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى» .قَالَ مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ يُصَلِّي فِيهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ: لَا بَأْسَ بِعَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ فِي الثَّوْبِ، وَقَالَهُ مَالِكٌ.قَالَ وَكِيعٌ عَنْ جَرِيرٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ أَوْ غَيْرِهِ عَنْ إبْرَاهِيمَ: إنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بِتَنَخُّعِ الدَّابَّةِ الَّذِي يَخْرُجُ مِنْهَا بَأْسًا.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: إنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَرْكَبُ فَرَسًا عُرْيًا، وَقَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ لَا بَأْسَ بِعَرَقِ الدَّوَابِّ، وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ بِعَرَقِ الدَّوَابِّ، وَمَا يَخْرُجُ مِنْ أُنُوفِهَا. [الْجُنُبِ يَنْغَمِسُ فِي النَّهْرِ انْغِمَاسًا وَلَا يَتَدَلَّكُ]فِي الْجُنُبِ يَنْغَمِسُ فِي النَّهْرِ انْغِمَاسًا وَلَا يَتَدَلَّكُ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْجُنُبِ يَأْتِي النَّهْرَ فَيَنْغَمِسُ فِيهِ انْغِمَاسًا وَهُوَ يَنْوِي الْغُسْلَ مِنْ
খালিদ ইবনে আবি ইমরান থেকে বর্ণিত যে, তিনি কাসিম এবং সালিমকে সেই স্থির পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যাতে কোনো প্রাণী মারা গেছে; তা থেকে কি পান করা যাবে এবং তা দিয়ে কি কাপড় ধোয়া যাবে? তারা উভয়ে বললেন: আপনি আপনার দৃষ্টি দিয়ে তা বিচার করুন; যদি আপনি দেখেন যে যা পড়েছে তা পানিকে অপবিত্র করেনি, তবে আশা করা যায় যে তাতে কোনো সমস্যা নেই। সাহনুন বলেন এবং আলী বলেন যে মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি এমন পানি দিয়ে অজু করল যাতে কোনো মৃত প্রাণী পড়েছে এবং তার ফলে পানির রঙ বা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে গেছে, অতঃপর সে নামাজ পড়ল, তবে সে পুনরায় নামাজ পড়বে, যদিও নামাজের সময় পার হয়ে যায়। আর যদি পানির রঙ বা স্বাদ পরিবর্তন না হয়, তবে সময় থাকা পর্যন্ত সে পুনরায় নামাজ পড়বে। ইবনে শিহাব এবং রাবিআ ইবনে আবদুর রহমান বলেছেন: প্রত্যেক পানি যা তাতে পতিত অপবিত্রতার চেয়ে পরিমাণে অনেক বেশি হয়, ফলে তা পানির স্বাদ, রঙ বা গন্ধ কোনোটিই পরিবর্তন করে না, তবে সেই অপবিত্রতা পানির কোনো ক্ষতি করবে না।রাবিআ বলেছেন: যদি পানির রঙ বা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে তা থেকে সমপরিমাণ পানি বের করে ফেলতে হবে যা তার দুর্গন্ধ দূর করে দেয়। সাহনুন বলেন: এই বিধান কেবল কূয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।ইবনে ওয়াহাব আনাস ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আল-হারিস ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আতা ইবনে মিনা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা থেকে অজু করে অথবা তা পান করে।»ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "অতঃপর তাতে গোসল করে।" [ঋতুমতী, জুনুব এবং পশুর ঘাম প্রসঙ্গে]ঋতুমতী, জুনুব এবং পশুর ঘাম সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন: জুনুব ব্যক্তি যে কাপড়ে ঘামে তাতে কোনো সমস্যা নেই যতক্ষণ না তার শরীরে কোনো দৃশ্যমান অপবিত্রতা থাকে। যদি তার শরীরে অপবিত্রতা থাকে, তবে তা অপছন্দনীয়; কারণ যখন সে তাতে ঘামবে, তখন তার শরীরে থাকা সেই নাপাক স্থানটি ভিজে কাপড়ে লেগে যাবে। তিনি আরও বলেছেন: পশুর ঘাম এবং তাদের নাক দিয়ে যা নির্গত হয় তাতে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে ওয়াহাব এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: একইভাবে যদি কাপড়ে কোনো নাপাকি থাকে, অতঃপর কেউ তা পরিধান করে বা তাতে ঘুমায় এবং ঘামে, তবে তাও একই পর্যায়ের। তিনি বলেন: তবে যদি এমন রাত হয় যাতে সে ঘামে না, তবে সেই নাপাকিযুক্ত কাপড়ে ঘুমানোতে কোনো দোষ নেই।ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেন যে, ইবনে লাহিয়া, লাইস এবং আমর ইবনুল হারিস সূত্রে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে সুওয়াইদ ইবনে কায়স সূত্রে মুয়াবিয়া ইবনে জুরাইজ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: উম্মে হাবিবা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি সেই কাপড়ে নামাজ পড়তেন যাতে তিনি সহবাস করতেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যদি তিনি তাতে কোনো অপবিত্রতা না দেখতেন।»মালিক নাফে থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি জুনুব অবস্থায় কাপড়ে ঘামতেন এবং পরে সেই কাপড়েই নামাজ পড়তেন।ইবনে ওয়াহাব মাসলামা ইবনে আলী থেকে, তিনি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: জুনুব এবং ঋতুমতীর কাপড়ে ঘামলে কোনো সমস্যা নেই। ইমাম মালিকও একই মত পোষণ করেছেন।ওয়াকি' জারীর থেকে এবং তিনি মুগীরা বা অন্য কারো সূত্রে ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি পশুর মুখ থেকে নির্গত শ্লেষ্মাতে কোনো সমস্যা দেখতেন না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) জীন বা গদি ছাড়াই ঘোড়ায় আরোহণ করতেন। লাইস ইবনে সাদ বলেছেন: পশুর ঘামে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে ওয়াহাব বলেন যে মালিক বলেছেন: পশুর ঘাম এবং তাদের নাক দিয়ে যা বের হয় তাতে কোনো সমস্যা নেই। [জুনুব ব্যক্তির নদীতে অবগাহন করা এবং শরীর মর্দন না করা]জুনুব ব্যক্তি যদি নদীতে কেবল ডুব দেয় কিন্তু শরীর মর্দন না করে সে সম্পর্কে বলা হয়েছে: ইমাম মালিক সেই জুনুব ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে নদীতে এসে তাতে অবগাহন করে এবং সে গোসলের নিয়ত করে...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٣)
الْجَنَابَةِ ثُمَّ يَخْرُجُ، قَالَ: لَا يُجْزِئُهُ إلَّا أَنْ يَتَدَلَّكَ وَإِنْ نَوَى الْغُسْلَ لَمْ يُجْزِهِ إلَّا أَنْ يَتَدَلَّكَ، قَالَ: وَكَذَلِكَ الْوُضُوءُ أَيْضًا.قُلْتُ: أَرَأَيْتَ إنْ أَمَرَّ يَدَيْهِ عَلَى بَعْضِ جَسَدِهِ وَلَمْ يُمِرَّهُمَا عَلَى جَمِيعِ جَسَدِهِ؟قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: لَا يُجْزِئُهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمِرَّهُمَا عَلَى جَمِيعِ جَسَدِهِ كُلِّهِ وَيَتَدَلَّكُ. [اغْتِسَالِ الْجُنُبِ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ]فِي اغْتِسَالِ الْجُنُبِ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَكْرَهُ لِلْجُنُبِ أَنْ يَغْتَسِلَ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ، قَالَ: وَقَدْ جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: «لَا يَغْتَسِلُ الْجُنُبُ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ» قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَغْتَسِلُ الْجُنُبُ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: فَمَا تَقُولُ فِي هَذِهِ الْحِيَاضِ الَّتِي تُسْقَى مِنْهَا الدَّوَابُّ لَوْ أَنَّ رَجُلًا اغْتَسَلَ فِيهَا وَهُوَ جُنُبٌ أَيُفْسِدُهَا فِي قَوْلِ مَالِكٍ أَمْ لَا؟قَالَ: نَعَمْ إلَّا أَنْ يَكُونَ غَسَلَ يَدَيْهِ قَبْلَ دُخُولِهِ فِيهَا وَغَسَلَ فَرْجَهُ وَمَوْضِعَ الْأَذَى مِنْهُ فَلَا يَكُونُ بِذَلِكَ بَأْسٌ لِأَنَّ الْحَائِضَ تُدْخِلُ يَدَهَا فِي الْإِنَاءِ، وَالْجُنُبَ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ فَلَا يَفْسُدُ ذَلِكَ الْمَاءُ، قَالَ: فَجَمِيعُ جَسَدِهِ بِمَنْزِلَةِ يَدِهِ قَالَ ابْنُ وَهْبٍ فِي الْحَائِضِ تُدْخِلُ يَدَهَا فِي إنَاءٍ؟قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ. قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْجُنُبِ يَدْخُلُ فِي الْقَصْرِيَّةِ يَغْتَسِلُ فِيهَا مِنْ الْجَنَابَةِ، قَالَ لَا خَيْرَ فِي ذَلِكَ، قَالَ: وَإِنْ كَانَ غَيْرَ جُنُبٍ فَلَا بَأْسَ بِذَلِكَ. قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الْبِئْرِ الْقَلِيلَةِ الْمَاءِ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ يَأْتِيهَا الْجُنُبُ وَلَيْسَ مَعَهُ مَا يَغْرِفُ بِهِ وَفِي يَدَيْهِ قَذَرٌ؟قَالَ: يَحْتَالُ لِذَلِكَ حَتَّى يَغْسِلَ يَدَهُ ثُمَّ يَغْرِفَ مِنْهَا فَيَغْتَسِلَ، قَالَ: فَأَدَرْتُهُ، فَجَعَلَ يَقُولُ لِي: يَحْتَالُ لِذَلِكَ وَكَرِهَ أَنْ يَقُولَ لِي يَغْتَسِلُ فِيهَا وَجَعَلَ لَا يَزِيدُنِي عَلَى ذَلِكَ.قَالَ: وَقَدْ جَاءَ الْحَدِيثُ: «أَنَّهُ نَهَى الْجُنُبَ عَنْ الْغُسْلِ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ» ، قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَلَوْ اغْتَسَلَ فِيهِ لَمْ أَرَ ذَلِكَ يُنَجِّسُهُ إذَا كَانَ مَاءً مُعَيَّنًا وَرَأَيْتُ ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ. قَالَ سَحْنُونٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ عِيَاضٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ أَوْ يَشْرَبُ» . قَالَ: وَبَلَغَنِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ: ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ أَبَا السَّائِبِ مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» . فَقَالُوا: كَيْفَ يَفْعَلُ أَبَا هُرَيْرَةَ؟قَالَ: يَتَنَاوَلُهُ تَنَاوُلًا.قَالَ عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ قِيلَ لِمَالِكٍ: فَإِذَا اُضْطُرَّ الْجُنُبُ؟قَالَ: يَغْتَسِلُ فِيهِ إنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لَهُ إذَا وَجَدَ مِنْهُ بُدًّا فَأَمَّا إذَا اُضْطُرَّ إلَيْهِ فَلَا بَأْسَ بِأَنْ يَغْتَسِلَ فِيهِ إذَا كَانَ الْمَاءُ كَثِيرًا يَحْمِلُ ذَلِكَ، وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ أَيْضًا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ اللَّيْثُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: سَأَلْتُهُ عَنْ الْبِئْرِ وَالْفَسْقِيَّةِ أَوْ الْحَوْضِ يَكُونُ مَاءُ ذَلِكَ كُلُّهُ كَثِيرًا رَاكِدًا غَيْرَ جَارٍ وَهُوَ يَغْتَسِلُ
জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য কেবল পানিতে প্রবেশ করে বের হয়ে আসলে তা যথেষ্ট হবে না। তিনি বললেন: শরীরে হাত বুলানো বা ঘষা (তাদাল্লুক) ব্যতীত তা যথেষ্ট হবে না; এমনকি গোসলের নিয়ত করলেও ঘষা ব্যতীত তা কবুলযোগ্য হবে না। তিনি আরও বললেন: ওযুর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনার অভিমত কী যদি সে তার শরীরের কিছু অংশে হাত বুলায় কিন্তু পুরো শরীরে না বুলায়?তিনি বললেন: ইমাম মালিক বলেছেন, শরীরের প্রতিটি অংশে হাত বুলানো এবং ঘর্ষণ করা ব্যতীত তা যথেষ্ট হবে না। [স্থির পানিতে জুনুবী ব্যক্তির গোসল করার বিধান]স্থির পানিতে জুনুবী ব্যক্তির গোসল করা প্রসঙ্গে তিনি বললেন: আমি ইমাম মালিককে স্থির পানিতে অপবিত্র ব্যক্তির গোসল করা অপছন্দ করতে শুনেছি। তিনি বললেন: হাদীসে এসেছে— ‘অপবিত্র ব্যক্তি যেন স্থির পানিতে গোসল না করে।’ তিনি আরও বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন, জুনুবী ব্যক্তি স্থির পানিতে গোসল করবে না।আমি ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম: পশুদের পানি পান করানোর জন্য ব্যবহৃত হাউজগুলো সম্পর্কে আপনার মত কী? যদি কোনো জুনুবী ব্যক্তি সেখানে গোসল করে, তবে ইমাম মালিকের অভিমত অনুযায়ী সেটি কি অপবিত্র বা নষ্ট হয়ে যাবে?তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে যদি সে পানিতে নামার আগে নিজের হাত ধুয়ে নেয় এবং লজ্জাস্থান ও অপবিত্রতা লেগে থাকা স্থানগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে নেয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ ঋতুবতী নারী বা জুনুবী ব্যক্তি যদি পাত্রে হাত দেয়, তবে সেই পানি অপবিত্র হয় না। তিনি আরও বললেন: অপবিত্র ব্যক্তির পুরো শরীর তার হাতের সমপর্যায়ের। ইবনে ওয়াহাব ঋতুবতী নারীর পাত্রে হাত দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন:এতে কোনো দোষ নেই। তিনি বললেন: ইমাম মালিক কোনো বড় পাত্রে জুনুবী ব্যক্তির গোসল করা সম্পর্কে বলেছেন যে, এতে কোনো কল্যাণ নেই। তবে সে যদি জুনুবী না হয়, তবে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বললেন: আমি ইমাম মালিককে অল্প পানি বিশিষ্ট কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, যদি কোনো জুনুবী ব্যক্তি সেখানে আসে আর তার কাছে পানি তোলার কোনো পাত্র না থাকে এবং তার হাতে নাপাকি লেগে থাকে (তখন সে কী করবে)?তিনি বললেন: সে কোনো উপায় বের করবে যাতে প্রথমে তার হাত ধুয়ে নিতে পারে, এরপর সেখান থেকে পানি তুলে গোসল করবে। তিনি বলেন: আমি বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে তিনি বারবার বলতে লাগলেন: সে কোনো উপায় বের করবে। তিনি সেখানে সরাসরি গোসল করার কথা বলতে অপছন্দ করলেন এবং এর বেশি কিছু বললেন না।তিনি বললেন: হাদীসে এসেছে— ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) জুনুবী ব্যক্তিকে স্থির পানিতে গোসল করতে নিষেধ করেছেন।’ ইবনুল কাসিম বলেন: যদি সে সেখানে গোসল করে ফেলে, তবে আমি মনে করি না যে তা পানিকে অপবিত্র করে দেবে যদি পানিটি সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত হয়; এবং আমি মনে করি তার পবিত্রতা অর্জিত হয়ে যাবে। সাহনুন আনাস ইবনে ইয়াদ হতে, তিনি হারিস ইবনে আবদুর রহমান হতে, তিনি আতা ইবনে মিনা হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, এরপর সেখান থেকে ওযু করে বা তা পান করে।’ তিনি বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: এরপর তাতে যেন গোসল না করে।ইবনে ওয়াহাব আমর ইবনুল হারিস হতে, তিনি বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, হিশাম ইবনে যুহরার মুক্তদাস আবু সায়িব তাকে জানিয়েছেন যে তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ যেন জুনুবী অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।’ তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু হুরায়রা, তবে সে কী করবে?তিনি বললেন: সে হাত দিয়ে পানি তুলে নিয়ে ব্যবহার করবে।আলী ইবনে যিয়াদ বলেন, ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করা হলো: যদি জুনুবী ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে?তিনি বললেন: সে তবে তাতেই গোসল করবে। এটি কেবল তখনই অপছন্দনীয় যখন বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু যখন সে নিরুপায় হয়ে পড়বে, তখন প্রচুর পরিমাণ পানির ক্ষেত্রে তাতে গোসল করাতে কোনো দোষ নেই। ইবনে ওয়াহাবও এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে ওয়াহাব বলেন, লাইস ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি তাকে কূপ, পানির আধার বা হাউজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যেখানে পানি প্রচুর পরিমাণে থাকে কিন্তু তা স্থির ও প্রবহমান নয়, আর সে সেখানে গোসল করবে—
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٤)
فِيهِ الْجُنُبُ أَوْ الْحَائِضُ هَلْ يُكْرَهُ لِأَحَدٍ أَنْ يَنْتَفِعَ بِمَائِهَا إنْ فَعَلَ ذَلِكَ جَاهِلٌ مِنْ جُنُبٍ أَوْ حَائِضٍ؟ قَالَ يَحْيَى: أَمَّا الْبِئْرُ الْمُعَيَّنُ فَإِنِّي لَا أَرَى اغْتِسَالَ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ فِيهَا بِمَانِعِ مَرَافِقِهَا مِنْ النَّاسِ وَأَمَّا الْفَسْقِيَّةُ أَوْ الْحَوْضُ فَإِنِّي لَا أَرَى أَنْ يَنْتَفِعَ أَحَدٌ بِمَائِهَا مَا لَمْ يَكُنْ مَاؤُهَا كَثِيرًا. [الْغُسْلِ مِنْ الْجَنَابَةِ وَالْمَرْأَةُ تُوطَأُ ثُمَّ تَحِيضُ بَعْدَ ذَلِكَ وَالْمَاءُ يَنْتَضِحُ فِي الْإِنَاءِ]فِي الْغُسْلِ مِنْ الْجَنَابَةِ، وَالْمَرْأَةُ تُوطَأُ ثُمَّ تَحِيضُ بَعْدَ ذَلِكَ، وَالْمَاءُ يَنْتَضِحُ فِي الْإِنَاءِ قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: كَانَ مَالِكٌ يَأْمُرُ الْجُنُبَ بِالْوُضُوءِ قَبْلَ الْغُسْلِ مِنْ الْجَنَابَةِ، قَالَ مَالِكٌ: فَإِنْ هُوَ اغْتَسَلَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ أَجْزَأَهُ ذَلِكَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْمُتَوَضِّئِ يَغْتَسِلُ مِنْ الْجَنَابَةِ وَيُؤَخِّرُ غَسْلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ غُسْلِهِ ثُمَّ يَتَنَحَّى وَيَغْسِلَ رِجْلَيْهِ فِي مَكَانً طَاهِرٍ، قَالَ: يُجْزِئُهُ ذَلِكَ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْمَاءِ الَّذِي يَكْفِي الْجُنُبَ، قَالَ: لَيْسَ النَّاسُ فِي هَذَا سَوَاءً.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ لَا تَنْتَقِضُ شَعْرَهَا عِنْدَ الْغُسْلِ وَلَكِنْ تَضْغَثُهُ بِيَدَيْهَا.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْجُنُبِ يَغْتَسِلُ فَيَنْتَضِحُ مِنْ غُسْلِهِ فِي إنَائِهِ، قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ وَلَا تَسْتَطِيعُ النَّاسُ الِامْتِنَاعَ مِنْ هَذَا.وَقَالَ الْحَسَنُ وَابْنُ سِيرِينَ وَعَطَاءٌ وَرَبِيعَةُ وَابْنُ شِهَابٍ مِثْلَ قَوْلِ مَالِكٍ، إلَّا ابْنَ سِيرِينَ قَالَ: إنَّا لَنَرْجُو مِنْ سَعَةِ رَحْمَةِ رَبِّنَا مَا هُوَ أَوْسَعُ مِنْ هَذَا، قَالَ: وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ الرَّجُلِ يَغْسِلُ جَسَدَهُ وَلَا يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَذَلِكَ لِخَوْفٍ مِنْ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يَدَعُ غَسْلَ رَأْسِهِ حَتَّى يَجِفَّ جَسَدُهُ ثُمَّ تَأْتِي امْرَأَتُهُ لِتَغْسِلَ رَأْسَهُ هَلْ يُجْزِئُهُ ذَلِكَ مِنْ غُسْلِ الْجَنَابَةِ؟قَالَ: وَلْيَسْتَأْنِفْ الْغُسْلَ، قَالَ. وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْمَرْأَةِ تُصِيبُهَا الْجَنَابَةُ ثُمَّ تَحِيضُ أَنَّهُ لَا غُسْلَ عَلَيْهَا حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضَتِهَا.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ رَبِيعَةَ وَأَبِي الزِّنَادِ أَنَّهُمَا قَالَا: إنْ مَسَّهَا ثُمَّ حَاضَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ فَلَيْسَ عَلَيْهَا غُسْلٌ حَتَّى تَطْهُرَ إنْ أَحَبَّتْ مِنْ الْحَيْضَةِ، وَقَالَهُ بُكَيْر وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَقَدْ قَالَ رَبِيعَةُ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ فِي تَبْعِيضِ الْغُسْلِ: إنَّ ذَلِكَ لَا يُجْزِئُهُ.قَالَ مَالِكٌ وَيَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنُ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّ هِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ أَخْبَرَهُمْ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إذَا اغْتَسَلَ مِنْ الْجَنَابَةِ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ، ثُمَّ يَغْمِسُ يَدَيْهِ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِأَصَابِعِهِ حَتَّى يَسْتَبْرِئَ الْبَشَرَةَ أُصُولَ شَعْرِ رَأْسِهِ ثُمَّ يَفِيضُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ مِنْ الْمَاءِ بِيَدَيْهِ ثُمَّ يَفِيضُ الْمَاءَ بَعْدُ بِيَدَيْهِ عَلَى جِلْدِهِ» .قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ سَلَمَةَ تَقُولُ: «جَاءَتْ امْرَأَةٌ إلَى رَسُولِ اللَّهِ عليه الصلاة والسلام فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إنِّي امْرَأَةٌ أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي فَكَيْفَ أَصْنَعُ إذَا اغْتَسَلْتُ؟ قَالَ: حَفِّنِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ ثُمَّ اغْمِزِيهِ عَلَى أَثَرِ كُلِّ حَفْنَةٍ يَكْفِيكِ» .
এতে অপবিত্র ব্যক্তি বা ঋতুবতী স্ত্রীলোক যদি অজ্ঞতাবশত গোসল করে ফেলে, তবে কি অন্য কারো জন্য এর পানি ব্যবহার করা অপছন্দনীয় হবে? ইয়াহইয়া বলেন: প্রবহমান কূপের ক্ষেত্রে আমি মনে করি না যে, অপবিত্র ব্যক্তি বা ঋতুবতী স্ত্রীলোকের গোসল করা অন্যদের এর সুযোগ-সুবিধা লাভে বাধা হবে। তবে ছোট চৌবাচ্চা বা হাউজের ক্ষেত্রে, আমি মনে করি না যে এর পানি অধিক পরিমাণে না হওয়া পর্যন্ত কেউ তা ব্যবহার করবে। [জানাবাতের গোসল, সহবাসের পর ঋতুবতী হওয়া এবং পাত্রে পানির ছিটে লাগা প্রসঙ্গে]জানাবাতের গোসল, সহবাসের পর ঋতুবতী হওয়া এবং পাত্রে পানির ছিটে লাগা প্রসঙ্গে ইবনুল কাসিম বলেন: ইমাম মালিক অপবিত্র ব্যক্তিকে জানাবাতের গোসলের পূর্বে ওযু করার নির্দেশ দিতেন। ইমাম মালিক বলেন: যদি সে ওযুর আগেই গোসল করে ফেলে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই ওযুকারীর বিষয়ে বলেছেন যে জানাবাতের গোসল করে এবং পা ধোয়া বিলম্বিত করে যতক্ষণ না সে গোসল শেষ করে, এরপর সে সরে গিয়ে পবিত্র স্থানে তার পা ধৌত করে; তিনি বলেন: এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক অপবিত্র ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত পানির পরিমাণ সম্পর্কে বলেছেন: এ বিষয়ে সব মানুষ সমান নয়।তিনি বলেন: ইমাম মালিক ঋতুবতী ও অপবিত্র মহিলার ব্যাপারে বলেছেন যে, সে গোসলের সময় তার চুলের বিনুনি খুলবে না, বরং দুই হাত দিয়ে তা মর্দন করবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই অপবিত্র ব্যক্তির বিষয়ে বলেছেন যে গোসল করে এবং তার গোসলের পানির ছিটে পাত্রে পড়ে; তিনি বলেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, কেননা মানুষ এটি থেকে বেঁচে থাকতে সক্ষম নয়।হাসান, ইবনু সিরীন, আতা, রাবিআহ এবং ইবনু শিহাব ইমাম মালিকের মতের অনুরূপ মত পোষণ করেছেন। তবে ইবনু সিরীন বলেছেন: আমরা আমাদের রবের রহমতের প্রশস্ততা থেকে এর চেয়েও বেশি প্রশস্ততা আশা করি। তিনি বলেন: ইমাম মালিককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার শরীর ধৌত করে কিন্তু স্ত্রীর ভয়ে মাথা ধোয় না, অতঃপর সে মাথা ধোয়া বাদ রেখে দেয় যতক্ষণ না তার শরীর শুকিয়ে যায়, এরপর তার স্ত্রী আসে তার মাথা ধুইয়ে দিতে; জানাবাতের গোসলের ক্ষেত্রে কি এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে?তিনি বললেন: সে যেন পুনরায় নতুন করে গোসল শুরু করে। তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই মহিলার বিষয়ে বলেছেন যে জানাবাতের শিকার হয় এবং এরপর ঋতুবতী হয়ে যায়, তার ঋতু থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর গোসল ওয়াজিব নয়।ইবনু ওয়াহাব ইউনুস থেকে, তিনি রাবিআহ এবং আবুয যিনাদ থেকে বর্ণনা করেন যে তাঁরা উভয়েই বলেছেন: যদি স্বামী তাকে স্পর্শ করে এবং গোসল করার পূর্বেই সে ঋতুবতী হয়ে যায়, তবে ঋতু থেকে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তার ওপর গোসল নেই; সে চাইলে ঋতু শেষে গোসল করবে। বুকাইর এবং ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদও অনুরূপ বলেছেন। রাবিআহ কিতাবের শুরুতে গোসলের অংশবিশেষ সম্পর্কে বলেছেন যে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না।ইমাম মালিক, ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল্লাহ এবং ইবনু আবিয যিনাদ বর্ণনা করেন যে হিশাম ইবনু উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে তাঁদের জানিয়েছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন তিনি দুই হাত ধৌত করার মাধ্যমে শুরু করতেন, এরপর নামাযের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন। অতঃপর তিনি পানির পাত্রে তাঁর হাত ডুবিয়ে দিতেন এবং আঙুল দিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করতেন যতক্ষণ না নিশ্চিত হতেন যে মাথার চামড়া ভিজেছে। এরপর তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে মাথায় তিন আজলা পানি ঢালতেন এবং এরপর তাঁর সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করতেন।ইবনু ওয়াহাব উসামা ইবনু যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন যে সাঈদ ইবনু আবি সাঈদ আল-মাকবুরী তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি উম্মু সালামাহ (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন একজন নারী যে মাথার চুল শক্ত করে বেণী করি, গোসলের সময় আমি কী করব? তিনি বললেন: তোমার মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দেওয়াই যথেষ্ট হবে, এরপর প্রতি আজলা পানি ঢালার পর মাথা মর্দন করবে, তবেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٥)
قَالَ مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَاهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ الرَّجُلِ يَجْنُبُ فَيَغْتَسِلُ وَلَا يَتَوَضَّأُ؟ قَالَ: وَأَيُّ وُضُوءٍ أَطْهَرُ مِنْ الْغُسْلِ مَا لَمْ يَمَسَّ فَرْجَهُ. [مُجَاوَزَةِ الْخِتَانِ الْخِتَانَ]فِي مُجَاوَزَةِ الْخِتَانِ الْخِتَانَ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: إذَا مَسَّ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: إنَّمَا ذَلِكَ إذَا غَابَتْ الْحَشَفَةُ فَأَمَّا أَنْ يَمَسَّهُ وَهُوَ زَاهِقٌ إلَى أَسْفَلَ وَلَمْ تَغِبِ الْحَشَفَةُ فَلَا يَجِبُ الْغُسْلُ لِذَلِكَ. قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الرَّجُلِ يُجَامِعُ امْرَأَتَهُ فِيمَا دُونَ الْفَرْجِ فَيَقْضِي خَارِجًا مِنْ فَرْجِهَا فَيَصِلُ الْمَاءُ إلَى دَاخِلِ فَرْجِهَا أَتَرَى عَلَيْهَا الْغُسْلَ؟ فَقَالَ: لَا إلَّا أَنْ تَكُونَ الْتَذَّتْ يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنْزَلَتْ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيِّ وَابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: وَأَخْبَرَتْنِي أُمُّ كُلْثُومٍ عَنْ عَائِشَةَ «أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الرَّجُلِ يُجَامِعُ أَهْلَهُ ثُمَّ يَكْسَلُ هَلْ تَرَى عَلَيْهِ مِنْ غُسْلٍ؟ وَعَائِشَةُ جَالِسَةٌ فَقَالَ عليه السلام: إنِّي لَأَفْعَلُ ذَلِكَ أَنَا وَهَذِهِ ثُمَّ نَغْتَسِلُ» .قَالَ مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ ابْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَعَائِشَةَ كَانُوا يَقُولُونَ: إذَا مَسَّ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ نَبْهَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ «عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ سُئِلَ مَا يُوجِبُ الْغُسْلَ؟ فَقَالَ: إذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَغَابَتْ الْحَشَفَةُ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ أَنْزَلَ أَوْ لَمْ يُنْزِلْ» قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ: كَانَ يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ وَعَطَاءُ بْنُ دِينَارٍ وَمَشَايِخُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُونَ: إذَا دَخَلَ مِنْ مَاءِ الرَّجُلِ شَيْءٌ فِي قُبُلِ الْمَرْأَةِ فَعَلَيْهَا الْغُسْلُ وَإِنْ لَمْ يَلْتَقِ الْخِتَانَانِ، وَقَالَهُ اللَّيْثُ وَقَالَ مَالِكٌ: إذَا الْتَذَّتْ يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنْزَلَتْ. [وُضُوءُ الْجُنُبِ]ِ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ قُلْتُ: هَلْ كَانَ مَالِكٌ يَأْمُرُ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ أَوْ يَطْعَمَ إذَا كَانَ جُنُبًا بِالْوُضُوءِ؟قَالَ: أَمَّا النَّوْمُ فَكَانَ يَأْمُرُهُ أَنْ لَا يَنَامَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ جَمِيعَ وُضُوئِهِ لِلصَّلَاةِ: غَسْلِ رِجْلَيْهِ وَغَيْرِهِ مِنْ لَيْلٍ كَانَ أَوْ نَهَارٍ. قَالَ: وَأَمَّا الطَّعَامُ فَكَانَ يَأْمُرُهُ بِغَسْلِ يَدِهِ إذَا كَانَ الْأَذَى قَدْ أَصَابَهُمَا وَيَأْكُلُ وَإِنْ لَمْ يَتَوَضَّأْ؟قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: يَنَامُ الْجُنُبُ حَتَّى يَتَوَضَّأَ وَلَا بَأْسَ أَنْ يُعَاوِدَ أَهْلَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ، قَالَ: وَلَا بَأْسَ أَنْ يَأْكُلَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ. قَالَ: وَأَمَّا الْحَائِضُ فَلَا بَأْسَ أَنْ تَنَامَ قَبْلَ أَنْ تَتَوَضَّأَ وَلَيْسَ الْحَائِضُ فِي هَذَا بِمَنْزِلَةِ الْجُنُبِ. قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَيُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: «كَانَ
ইমাম মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় গোসল করে কিন্তু অযু করে না। তিনি বললেন: গোসলের চেয়ে অধিক পবিত্রকারী আর কোন অযু আছে? যতক্ষণ না সে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে। [লিঙ্গমুণ্ড ও যোনিমুখের মিলন প্রসঙ্গে]লিঙ্গমুণ্ড ও যোনিমুখের মিলনের বিষয়ে তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন, যখন দুই খতনা করা স্থান পরস্পর স্পর্শ করে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।ইবনুল কাসিম বলেন: এটি কেবল তখনই হয় যখন লিঙ্গমুণ্ড (হাশাফাহ) ভেতরে প্রবেশ করে। কিন্তু যদি তা কেবল স্পর্শ করে এবং নিচ দিয়ে সরে যায় কিন্তু লিঙ্গমুণ্ড ভেতরে প্রবেশ না করে, তবে তার কারণে গোসল ওয়াজিব হবে না। তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে তার স্ত্রীর সাথে লিঙ্গপ্রবেশ ছাড়া অন্যভাবে সহবাস করে এবং বাইরে বীর্যপাত করে, অতঃপর সেই বীর্য মহিলার যোনির ভেতরে পৌঁছে যায়; আপনার মতে কি মহিলার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না সে তৃপ্তি পায়—অর্থাৎ বীর্যপাত হয়।ইবনে ওয়াহাব ইয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কুরাশী এবং ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি আবু জুবায়ের আল-মাক্কি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে: উম্মু কুলসুম আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত ছাড়াই শিথিল হয়ে যায়, আপনার মতে কি তার ওপর গোসল ওয়াজিব? তখন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বসা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এবং এই আয়েশা এমনটি করি, অতঃপর আমরা গোসল করি।"ইমাম মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলতেন: যখন দুই খতনা করা স্থান পরস্পর স্পর্শ করে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।ইবনে ওয়াহাব হারিস ইবনে নাবহান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কী কারণে গোসল ওয়াজিব হয়? তিনি বললেন: "যখন দুই খতনা করা স্থান মিলিত হয় এবং লিঙ্গমুণ্ড ভেতরে প্রবেশ করে, তখন বীর্যপাত হোক বা না হোক, গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।" ইবনে ওয়াহাব সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, আতা ইবনে দিনার এবং ইলম অন্বেষণকারী শায়খগণ বলতেন: যদি পুরুষের বীর্যের কিছু অংশ মহিলার যোনিতে প্রবেশ করে, তবে মহিলার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে, যদিও দুই খতনা করা স্থানের মিলন না ঘটে। লাইসও একই কথা বলেছেন। ইমাম মালিক বলেছেন: যখন সে তৃপ্তি পায়—অর্থাৎ বীর্যপাত হয়। [অপবিত্র ব্যক্তির অযু]ঘুমানোর আগে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: কোনো ব্যক্তি অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় ঘুমানোর বা খাওয়ার ইচ্ছা করলে ইমাম মালিক কি তাকে অযু করার নির্দেশ দিতেন?তিনি বললেন: ঘুমানোর ক্ষেত্রে তিনি তাকে নির্দেশ দিতেন যেন সে সালাতের অযুর ন্যায় পূর্ণ অযু—পা ধোয়াসহ সবকিছু সম্পন্ন না করে না ঘুমায়, চাই তা রাতে হোক বা দিনে। তিনি বলেন: আর খাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তাকে হাত ধোয়ার নির্দেশ দিতেন যদি হাতে কোনো অপবিত্রতা লেগে থাকে, এবং অযু না করলেও সে খেতে পারবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: অপবিত্র ব্যক্তি অযু করে ঘুমাবে, তবে অযু করার আগে পুনরায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করায় কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বলেন: অযু করার আগে খাওয়ায় কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বলেন: ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে অযু করার আগে ঘুমানোয় কোনো দোষ নেই, কারণ ঋতুবতী মহিলা এ ক্ষেত্রে অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির সমপর্যায়ভুক্ত নয়। ইবনে ওয়াহাব লাইস ইবনে সাদ এবং ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ছিল...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٦)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ تَوَضَّأَ لِلنَّوْمِ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ» ، قَالَ: وَأَخْبَرَنِي رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَأَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ سَأَلَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ، فَأَمَرَهُمَا بِالْوُضُوءِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَعَائِشَةُ وَابْنُ الْمُسَيِّبِ وَرَبِيعَةُ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَمَالِكٌ يَقُو لُوِّنَ: إذَا أَرَادَ الْجُنُبُ أَنْ يَطْعَمَ غَسَلَ كَفَّيْهِ فَقَطْ. [الَّذِي يَجُدُّ الْجَنَابَةَ فِي لِحَافِهِ]فِي الَّذِي يَجُدُّ الْجَنَابَةَ فِي لِحَافِهِ قَالَ وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ انْتَبَهَ مِنْ نَوْمِهِ فَرَأَى بَلَلًا عَلَى فَخِذَيْهِ، وَفِي فِرَاشِهِ، قَالَ: يُنْظَرُ فَإِنْ كَانَ مَذْيًا تَوَضَّأَ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ الْغُسْلُ وَإِنْ كَانَ مَنِيًّا اغْتَسَلَ، قَالَ: وَالْمَذْيُ فِي هَذَا يُعْرَفُ مِنْ الْمَنِيِّ، قَالَ: وَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ فِي الْيَقِظَةِ إذَا لَاعَبَ امْرَأَتَهُ إنْ أَمَذَى تَوَضَّأَ وَإِنْ أَمْنَى اغْتَسَلَ. قَالَ: وَقَدْ يَكُونُ الرَّجُلُ يَرَى فِي مَنَامِهِ أَنَّهُ يُجَامِعُ فَلَا يُمْنِي وَلَكِنَّهُ يُمْذِي وَهُوَ فِي النَّوْمِ مِثْلُ مَنْ لَاعَبَ امْرَأَتَهُ فِي الْيَقِظَةِ، قَالَ: وَقَدْ يَكُونُ الرَّجُلُ يَرَى فِي مَنَامِهِ أَنَّهُ يُجَامِعُ فِي مَنَامِهِ فَلَا يُنْزِلُ وَلَيْسَ الْغُسْلُ إلَّا مِنْ الْمَنِيِّ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَالْمَرْأَةُ فِي هَذَا بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ فِي الْمَنَامِ فِي الَّذِي يَرَى. [الْمُسَافِرِ يُرِيدُ أَنْ يَطَأَ أَهْلَهُ وَلَيْسَ مَعَهُ مَاءٌ]فِي الْمُسَافِرِ يُرِيدُ أَنْ يَطَأَ أَهْلَهُ وَلَيْسَ مَعَهُ مَاءٌ قُلْتُ: أَرَأَيْتَ الْمُسَافِرَ يَكُونُ عَلَى وُضُوءٍ وَلَا يَكُونُ عَلَى وُضُوءٍ أَرَادَ أَنْ يَطَأَ أَهْلَهُ أَوْ جَارِيَتَهُ وَلَيْسَ مَعَهُ مَاءٌ؟قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يَطَأُ الْمُسَافِرُ امْرَأَتَهُ وَلَا جَارِيَتَهُ إلَّا وَمَعَهُ مَاءٌ، قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَهُمَا سَوَاءٌ، قَالَ: فَقُلْتُ لِمَالِكٍ: فَالرَّجُلُ يَكُونُ بِهِ الشَّجَّةُ أَوْ الْجُرْحُ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَغْسِلَهُ بِالْمَاءِ أَلَهُ أَنْ يَطَأَ أَهْلَهُ؟قَالَ: نَعَمْ، وَلَا يُشْبِهُ هَذَا الْمُسَافِرَ لِأَنَّ صَاحِبَ الشَّجَّةِ يَطُولُ أَمْرُهُ إلَى أَنْ يَبْرَأَ أَوْ الْمُسَافِرُ لَيْسَ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَلَمْ يَكُنْ مَحْمَلُ الْمُسَافِرِ عِنْدَنَا وَلَا عِنْدَ مَالِكٍ إلَّا أَنَّهُ كَانَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ الَّذِي يَنْهَاهُ عَنْ الْوَطْءِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: لَا يُجَامِعُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ بِمَفَازَةٍ حَتَّى يَعْلَمَ أَنَّ مَعَهُ مَاءً.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ رِجَالٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي الْخَيْرِ الْمُرِّيِّ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَابْنِ أَبِي سَلَمَةَ وَمَالِكٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يَكْرَهُونَ ذَلِكَ. [الْجُنُبِ يَغْتَسِلُ وَلَا يَنْوِي الْجَنَابَةَ]فِي الْجُنُبِ يَغْتَسِلُ وَلَا يَنْوِي الْجَنَابَةَ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ أَصَابَتْهُ جَنَابَةٌ فَاغْتَسَلَ لِلْجُمُعَةِ وَلَمْ يَنْوِ بِهِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ أَوْ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি ঘুমানোর আগে সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করে নিতেন। তিনি বলেন: বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ আমাকে অবহিত করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁদের ওযু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আয়েশা, ইবনুল মুসাইয়িব, রাবিআ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং মালিক বলতেন: জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি যখন আহার করার ইচ্ছা করবে, তখন সে কেবল তার উভয় হাত (কবজি পর্যন্ত) ধৌত করবে। [বিছানায় জানাবাতের চিহ্ন পাওয়া প্রসঙ্গে]বিছানায় জানাবাতের চিহ্ন পাওয়া প্রসঙ্গে মালিক বলেন: যে ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে তার উরুতে ও বিছানায় আর্দ্রতা দেখতে পায়, সে তা পরীক্ষা করে দেখবে। যদি তা 'মাযী' (উত্তেজনায় নির্গত পাতলা বীর্য) হয়, তবে সে ওযু করবে কিন্তু তার ওপর গোসল করা আবশ্যক হবে না। আর যদি তা 'মণী' (গাঢ় বীর্য) হয়, তবে সে গোসল করবে। তিনি বলেন: এ ক্ষেত্রে মাযী ও মণী আলাদাভাবে চেনা যায়। তিনি আরও বলেন: এটি জাগ্রত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করার মতো; যদি মাযী নির্গত হয় তবে ওযু করবে আর যদি মণী নির্গত হয় তবে গোসল করবে। তিনি বলেন: কখনো এমন হয় যে, ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে সহবাস করতে দেখে কিন্তু তার মণী নির্গত হয় না, বরং মাযী নির্গত হয়; ঘুমের মধ্যে এর বিধান জাগ্রত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুকের বিধানের অনুরূপ। তিনি বলেন: আবার এমনও হতে পারে যে, ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে সহবাস করতে দেখে কিন্তু তার বীর্যপাত হয় না; বীর্যপাত ব্যতীত গোসল ওয়াজিব হয় না।তিনি বলেন: মালিক বলেছেন, স্বপ্নে যা দেখা যায় সে বিষয়ে নারী ও পুরুষের বিধান অভিন্ন। [মুসাফির যদি পানি না থাকা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে চায়]মুসাফির পানি না থাকা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করার ইচ্ছা করা প্রসঙ্গে আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার মতামত কী, যদি কোনো মুসাফির ওযু অবস্থায় থাকে কিংবা ওযু অবস্থায় না থাকে, এমতাবস্থায় সে তার স্ত্রী বা দাসীর সাথে সহবাস করার ইচ্ছা করে অথচ তার নিকট পানি নেই?তিনি বলেন: মালিক বলেছেন, মুসাফিরের জন্য তার স্ত্রী বা দাসীর সাথে সহবাস করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তার নিকট পানি থাকে। ইবনুল কাসিম বলেন: স্ত্রী ও দাসী উভয়ের বিধান সমান। বর্ণনাকারী বলেন: আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম, যদি কোনো ব্যক্তির মাথায় জখম বা ক্ষত থাকে যার কারণে সে তা পানি দিয়ে ধৌত করতে সক্ষম নয়, তবে কি তার জন্য স্ত্রীর সাথে সহবাস করা বৈধ?তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি মুসাফিরের অবস্থার সাথে তুলনীয় নয়। কারণ মস্তকে ক্ষত থাকা ব্যক্তির সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগে, কিন্তু মুসাফিরের অবস্থা তেমন নয়।ইবনুল কাসিম বলেন: আমাদের নিকট এবং মালিকের নিকট মুসাফিরের ক্ষেত্রে এই নিষেধের কারণ মূলত তার ওযু অবস্থায় না থাকা, যা তাকে সহবাস থেকে বিরত রাখছিল।ইবনে ওয়াহাব ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: কোনো ব্যক্তি জনমানবহীন প্রান্তরে অবস্থানকালে যতক্ষণ না পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে, ততক্ষণ স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না।ইবনে ওয়াহাব বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ থেকে এবং তাঁরা আলী ইবনে আবি তালিব, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, আবুল খাইর আল-মুররি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, ইবনে আবি সালামা এবং মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা একে অপছন্দ (মাকরূহ) করতেন। [জানাবাতের নিয়ত ব্যতিরেকে জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির গোসল করা]জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি যদি জানাবাতের নিয়ত ছাড়া গোসল করে তবে তার বিধান প্রসঙ্গে মালিক বলেন: যে ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত অবস্থায় জুমার সালাতের জন্য গোসল করল কিন্তু জানাবাতের গোসলের নিয়ত করল না অথবা...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٧)
اغْتَسَلَ مِنْ حَرٍّ يَجِدُهُ لَا يَنْوِي بِهِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ أَوْ اغْتَسَلَ عَلَى أَيْ وَجْهٍ كَانَ مَا لَمْ يَنْوِ بِهِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ لَمْ يُجْزِهِ ذَلِكَ مِنْ غُسْلِ الْجَنَابَةِ، قَالَ: وَهُوَ بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ صَلَّى نَافِلَةً فَلَا تُجْزِئُهُ مِنْ فَرِيضَةٍ، قَالَ مَالِكٌ: وَإِنْ تَوَضَّأَ يُرِيدُ صَلَاةَ نَافِلَةٍ أَوْ قِرَاءَةَ مُصْحَفٍ أَوْ يُرِيدُ بِهِ طُهْرَ صَلَاةٍ فَذَلِكَ يُجْزِئُهُ، قَالَ مَالِكٌ: وَإِنْ تَوَضَّأَ مِنْ حَرٍّ يَجِدُهُ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ وَلَا يَنْوِي الْوُضُوءُ لِمَا ذَكَرْتُ لَكَ فَلَا يُجْزِئُهُ مِنْ وُضُوءٍ لِلصَّلَاةِ وَلَا مِنْ مَسِّ الْمُصْحَفِ وَلَا النَّافِلَةِ وَنَحْوِهِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: لَا يَكُونُ الْوُضُوءُ عِنْدَ مَالِكٍ إلَّا بِنِيَّةٍ.قُلْتُ: فَإِنْ تَوَضَّأَ وَبَقِيَ رِجْلَاهُ فَخَاضَ نَهْرًا أَوْ مَسَحَ بِيَدَيْهِ رِجْلَيْهِ فِي الْمَاءِ إلَّا أَنَّهُ يَنْوِي بِتَخْوِيضِهِ غَسْلَ رِجْلَيْهِ؟قَالَ: لَا يُجْزِئُهُ هَذَا.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ عَنْ رَبِيعَةَ أَنَّهُ قَالَ: لَوْ أَنَّ رَجُلًا دَخَلَ نَهْرًا فَاغْتَسَلَ فِيهِ وَلَا يَعْمَلُ غُسْلَ الْجَنَابَةِ لَمْ يُجْزِ ذَلِكَ عَنْهُ حَتَّى يَعْمِدَ بِالْغُسْلِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ وَإِنْ صَلَّى أَرَى أَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَبَلَغَنِي عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ قَالَ: لَا يُطَهِّرُهُ ذَلِكَ حَتَّى يَذْكُرَ غُسْلَهُ مِنْ الْجَنَابَةِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَالَ مَالِكٌ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ مِثْلَهُ، وَقَالَ مَالِكٌ: وَإِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ. [مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ]فِي مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ قَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ: لَا بَأْسَ أَنْ يَمُرَّ الْجُنُبُ فِي الْمَسْجِدِ عَابِرَ سَبِيلٍ، قَالَ: وَكَانَ زَيْدٌ يَتَأَوَّلُ هَذِهِ الْآيَةَ فِي ذَلِكَ {وَلَا جُنُبًا إلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ} [النساء: 43] وَكَانَ يُوَسِّعُ فِي ذَلِكَ، قَالَ مَالِكٌ: وَلَا يُعْجِبنِي أَنْ يَدْخُلَ الْجُنُبُ فِي الْمَسْجِدِ عَابِرَ سَبِيلٍ وَلَا غَيْرَ ذَلِكَ وَلَا أَرَى بَأْسًا أَنْ يَمُرَّ فِيهِ مَنْ كَانَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ وَيَقْعُدَ فِيهِ. [اغْتِسَالِ النَّصْرَانِيَّةِ مِنْ الْجَنَابَةِ وَالْحَيْضَةِ]فِي اغْتِسَالِ النَّصْرَانِيَّةِ مِنْ الْجَنَابَةِ وَالْحَيْضَةِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يُجْبِرُ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ امْرَأَتَهُ النَّصْرَانِيَّةَ عَلَى أَنْ تَغْتَسِلَ مِنْ الْجَنَابَةِ، وَقَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ مَالِكٍ فِي النَّصْرَانِيَّةِ تَكُونُ تَحْتَ الْمُسْلِمِ فَتَحِيضُ فَتَطْهُرُ: إنَّهَا تُجْبَرُ عَلَى الْغُسْلِ مِنْ الْحَيْضَةِ لِيَطَأَهَا زَوْجُهَا مِنْ قِبَلِ أَنَّ الْمُسْلِمَ لَا يَطَأُ امْرَأَتَهُ حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ الْحَيْضِ وَأَمَّا الْجَنَابَةُ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَطَأَهَا وَهِيَ جُنُبٌ. [الرَّجُلِ يُصَلِّي وَلَا يَذْكُرُ جَنَابَتَهُ]فِي الرَّجُلِ يُصَلِّي وَلَا يَذْكُرُ جَنَابَتَهُ قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الرَّجُلِ تُصِيبُهُ الْجَنَابَةُ وَلَا يَعْلَمُ بِذَلِكَ حَتَّى يَخْرُجَ إلَى السُّوقِ فَيَرَى الْجَنَابَةَ فِي ثَوْبِهِ وَقَدْ كَانَ صَلَّى قِبَل ذَلِكَ؟قَالَ: يَنْصَرِفُ مَكَانَهُ فَيَغْتَسِلُ
কোনো ব্যক্তি যদি গরম অনুভূত হওয়ার কারণে গোসল করে এবং এর দ্বারা অপবিত্রতা (জানাবাত) থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত না করে, কিংবা যে কোনোভাবেই হোক গোসল করল অথচ জানাবাতের গোসলের নিয়ত করল না, তবে তা জানাবাতের গোসল হিসেবে গণ্য হবে না। তিনি (ইমাম মালিক) বলেন: এটি সেই ব্যক্তির মতো যে নফল নামাজ পড়ল, যা তার ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত হয় না। ইমাম মালিক বলেন: আর যদি সে নফল নামাজ বা কুরআন তিলাওয়াত কিংবা নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে অজু করে, তবে তা যথেষ্ট হবে। ইমাম মালিক বলেন: কিন্তু যদি সে কেবল গরম অনুভূত হওয়ার কারণে কিংবা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে অজু করে এবং উল্লিখিত কোনো বিষয়ের নিয়ত না করে, তবে তা নামাজের অজু হিসেবে যথেষ্ট হবে না, আর না কুরআন স্পর্শ কিংবা নফল নামাজ বা অনুরূপ কাজের জন্য যথেষ্ট হবে।ইবনুল কাসিম বলেন: ইমাম মালিকের মতে নিয়ত ছাড়া অজু হয় না।আমি বললাম: যদি সে অজু করে আর কেবল দুই পা (ধোয়া) বাকি থাকে, অতঃপর সে কোনো নদীতে নামল কিংবা পানির মধ্যে হাত দিয়ে দুই পা ঘষে ধৌত করল এই উদ্দেশ্যে যে, নদীতে নামার মাধ্যমেই সে তার পা দুটি ধৌত করছে?তিনি বললেন: এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না।ইবনে ওয়াহাব বলেন, আবদুল জাব্বার ইবনে উমর রাবিয়াহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি নদীতে নেমে গোসল করে কিন্তু জানাবাতের গোসলের নিয়ত না করে, তবে তা জানাবাতের গোসল হিসেবে যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে জানাবাতের গোসলের নিয়ত করে। আর যদি সে (এই অবস্থায়) নামাজ পড়ে ফেলে, তবে আমার মতে তাকে সেই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: এটি তাকে পবিত্র করবে না যতক্ষণ না সে জানাবাত থেকে গোসল করার কথা স্মরণ করে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইমাম মালিক এবং লাইস ইবনে সাদও অনুরূপ কথা বলেছেন। আর ইমাম মালিক বলেন: নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। [মসজিদের মধ্য দিয়ে অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির অতিক্রম করা]মসজিদের মধ্য দিয়ে জুনুব ব্যক্তির অতিক্রম করার বিষয়ে তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন যে যায়দ ইবনে আসলাম বলেছেন: জুনুব ব্যক্তি যদি পথচারী হিসেবে মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বলেন: যায়দ (রা.) এ প্রসঙ্গে এই আয়াতের ব্যাখ্যা দিতেন— “আর অপবিত্র অবস্থায় নয়, যতক্ষণ না তোমরা পথ অতিক্রমকারী হও” [সূরা নিসা: ৪৩]। তিনি এ বিষয়ে প্রশস্ততা অবলম্বন করতেন। ইমাম মালিক বলেন: জুনুব ব্যক্তি পথচারী হিসেবে কিংবা অন্য কোনোভাবে মসজিদে প্রবেশ করুক—তা আমার পছন্দনীয় নয়। তবে যার অজু নেই, তার মসজিদের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করা বা সেখানে বসার মধ্যে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না। [খ্রিস্টান স্ত্রীর জানাবাত ও হায়েজ থেকে গোসল করা]খ্রিস্টান স্ত্রীর জানাবাত ও হায়েজ থেকে গোসল করার বিষয়ে তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন— কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার খ্রিস্টান স্ত্রীকে জানাবাতের গোসল করার জন্য বাধ্য করবে না। ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেন: কোনো মুসলিমের অধীনে যদি কোনো খ্রিস্টান স্ত্রী থাকে এবং তার ঋতুস্রাব (হায়েজ) হওয়ার পর তা বন্ধ হয়, তবে তাকে হায়েজের গোসল করার জন্য বাধ্য করা হবে যেন তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারে। কেননা কোনো মুসলিম তার স্ত্রীর সাথে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সহবাস করতে পারে না। আর জানাবাতের ক্ষেত্রে কথা হলো, সে জুনুব অবস্থায় থাকলেও তার সাথে সহবাস করাতে কোনো দোষ নেই। [যে ব্যক্তি জানাবাতের কথা ভুলে গিয়ে নামাজ পড়ে ফেলে]যে ব্যক্তি জানাবাতের কথা ভুলে গিয়ে নামাজ পড়ে ফেলে সে সম্পর্কে তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার জানাবাত হয়েছে কিন্তু সে তা জানতে পারেনি; এমনকি সে বাজারে যাওয়ার পর তার কাপড়ে জানাবাতের চিহ্ন দেখতে পেল, অথচ সে এর আগেই নামাজ পড়ে নিয়েছে।তিনি বললেন: সে তৎক্ষণাৎ ফিরে যাবে এবং গোসল করবে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٨)
وَيَغْسِلُ مَا فِي ثَوْبِهِ وَيُصَلِّي تِلْكَ الصَّلَاةَ وَلْيَذْهَبْ إلَى حَاجَتِهِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْجُنُبِ يُصَلِّي بِالْقَوْمِ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ بِجَنَابَتِهِ فَيُصَلِّي بِهِمْ رَكْعَةً أَوْ رَكْعَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ يَذْكُرُ أَنَّهُ جُنُبٌ، قَالَ: يَنْصَرِفُ وَيَسْتَخْلِفُ مَنْ يُصَلِّي بِالْقَوْمِ مَا بَقِيَ مِنْ الصَّلَاةِ وَصَلَاةُ الْقَوْمِ خَلْفَهُ تَامَّةٌ، قَالَ: وَإِنْ فَرَغَ مِنْ الصَّلَاةِ وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ جُنُبٌ حَتَّى فَرَغَ فَصَلَاةُ مَنْ خَلْفَهُ تَامَّةٌ وَعَلَيْهِ أَنْ يُعِيدَ هُوَ وَحْدَهُ، وَإِنْ كَانَ الْإِمَامُ حِينَ صَلَّى بِهِمْ كَانَ ذَاكِرًا لِلْجَنَابَةِ فَصَلَاةُ الْقَوْمِ كُلُّهُمْ فَاسِدَةٌ. قَالَ: وَمَنْ عَلِمَ بِجَنَابَتِهِ مِمَّنْ خَلْفَهُ مِمَّنْ يَقْتَدِي بِهِ وَالْإِمَامُ نَاسٍ لِجَنَابَتِهِ فَصَلَاتُهُ فَاسِدَةٌ، قَالَ: وَإِنْ كَانَ صَلَّى بِالْقَوْمِ بَعْدَمَا ذَكَر الْجَنَابَةَ جَاهِلًا أَوْ مُسْتَحِيًا فَقَدْ أَفْسَدَ عَلَى الْقَوْمِ صَلَاتَهُمْ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَكُلُّ مَنْ صَلَّى بِقَوْمٍ فَدَخَلَ عَلَيْهِ مَا يَنْقُضُ صَلَاتَهُ فَتَمَادَى بِهِمْ فَصَلَاتُهُمْ مُنْتَقَضَةٌ وَعَلَيْهِمْ الْإِعَادَةُ مَتَى عَلِمُوا، وَقَدْ صَلَّى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِالنَّاسِ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ قَضَى الصَّلَاةَ وَلَمْ يَأْمُرْ النَّاسَ بِالْقَضَاءِ.قَالَ عَلِيٌّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْمُغِيرَةِ عَنْ إبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ قَالَ: إذَا صَلَّى الْإِمَامُ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ أَعَادَ وَلَمْ يُعِيدُوا. [الثَّوْبِ يُصَلِّي فِيهِ وَفِيهِ النَّجَاسَةُ]فِي الثَّوْبِ يُصَلِّي فِيهِ وَفِيهِ النَّجَاسَةُ قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا عَنْ الدَّمِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ أَوْ الدَّنَسِ فَيُصَلِّي بِهِ ثُمَّ يَعْلَمُ بَعْدَ ذَلِكَ بَعْدَ اصْفِرَارِ الشَّمْسِ؟قَالَ: إنْ لَمْ يَذْكُرْ حَتَّى اصْفَرَّتْ الشَّمْسُ فَلَا إعَادَةَ عَلَيْهِ، قَالَ: وَجَعَلَ مَالِكٌ وَقْتَ مَنْ صَلَّى وَفِي ثَوْبِهِ دَنَسٌ إلَى اصْفِرَارِ الشَّمْسِ وَفَرَّقَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الَّذِي يُسَلِّمُ قَبْلَ مَغِيبِ الشَّمْسِ، وَالْمَجْنُونِ يُفِيقُ قَبْلَ مَغِيبِ الشَّمْسِ، وَالْحَائِضِ تَطْهُرُ قَبْلَ مَغِيبِ الشَّمْسِ، كَانَ يَقُولَ: النَّهَارُ كُلُّهُ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ وَقْتٌ لِهَؤُلَاءِ، وَأَمَّا مَنْ صَلَّى وَفِي ثَوْبِهِ دَنَسٌ فَوَقْتُهُ إلَى اصْفِرَارِ الشَّمْسِ هَذَا وَحْدَهُ جَعَلَ لَهُ مَالِكٌ إلَى اصْفِرَارِ الشَّمْسِ وَقْتًا، وَاَلَّذِي يُصَلِّي إلَى غَيْرِ الْقِبْلَةِ مِثْلُهُ.قُلْتُ: فَإِنْ كَانَ الدَّنَسُ فِي جَسَدِهِ؟قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ: الدَّنَسُ فِي الْجَسَدِ وَفِي الثَّوْبِ سَوَاءٌ، وَقَدْ قَالَ مَالِكٌ: يُعِيدُ مَا كَانَ فِي الْوَقْتِ، قَالَ رَبِيعَةُ وَابْنُ شِهَابٍ مِثْلَهُ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ صَلَّى عَلَى مَوْضِعٍ نَجَسٍ عَلَيْهِ الْإِعَادَةُ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ بِمَنْزِلَةِ مَنْ صَلَّى وَفِي ثَوْبِهِ دَنَسٌ.قُلْتُ: فَإِنْ كَانَتْ النَّجَاسَةُ إنَّمَا هِيَ فِي مَوْضِعِ جَبْهَتِهِ فَقَطْ أَوْ مَوْضِعِ كَفَّيْهِ أَوْ مَوْضِعِ قَدَمَيْهِ فَقَطْ أَوْ مَوْضِعِ جُلُوسِهِ فَقَطْ؟قَالَ: أَرَى عَلَيْهِ الْإِعَادَةَ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ وَإِنْ لَمْ تَكُنِ النَّجَاسَةُ إلَّا فِي مَوْضِعِ الْكَفَّيْنِ وَحْدَهُ أَوْ مَوْضِعِ الْجَبْهَةِ وَحْدَهَا أَوْ مَوْضِعِ الْقَدَمَيْنِ أَوْ مَوْضِعِ جُلُوسِهِ وَحْدَهُ. قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ كَانَ مَعَهُ ثَوْبٌ وَاحِدٌ وَلَيْسَ مَعَهُ غَيْرُهُ وَفِيهِ نَجَسٌ، قَالَ: يُصَلِّي بِهِ وَإِذَا أَصَابَ ثَوْبًا غَيْرَهُ وَأَصَابَ مَاءً فَغَسَلَهُ أَعَادَ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ، فَإِذَا مَضَى الْوَقْتُ فَلَا إعَادَةَ عَلَيْهِ، قُلْتُ: فَإِنْ
এবং তিনি তাঁর কাপড়ে যা লেগে আছে তা ধৌত করবেন, সেই নামাজ আদায় করবেন এবং তারপর তাঁর প্রয়োজনে চলে যাবেন।তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই জুনুব (অপবিত্র) ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে লোকদের নিয়ে নামাজ পড়ছে অথচ সে নিজের অপবিত্রতার কথা জানে না; এমতাবস্থায় সে যদি তাদের নিয়ে এক রাকাত, দুই রাকাত বা তিন রাকাত পড়ার পর স্মরণ করে যে সে অপবিত্র, তবে তিনি (মালিক) বলেন: সে নামাজ ছেড়ে চলে যাবে এবং অবশিষ্ট নামাজ পূর্ণ করার জন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবে, আর তার পেছনে মুক্তাদীদের আদায়কৃত নামাজ পূর্ণাঙ্গ হবে। তিনি আরও বলেন: যদি সে নামাজ শেষ করে এবং নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার অপবিত্রতার কথা মনে না পড়ে, তবে মুক্তাদীদের নামাজ পূর্ণাঙ্গ হবে, তবে তাকে একা পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে। আর ইমাম যদি তাদের নিয়ে নামাজ পড়ার সময় নিজের অপবিত্রতার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও নামাজ পড়ান, তবে মুক্তাদী সকলের নামাজই বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বলেন: মুক্তাদীদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইমামের অপবিত্রতার কথা জানে অথচ ইমাম নিজে তা ভুলে গেছেন, তবে তার (মুক্তাদীর) নামাজও বাতিল হবে। তিনি আরও বলেন: যদি ইমাম অপবিত্রতার কথা স্মরণ হওয়ার পর অজ্ঞতাবশত বা লজ্জাবশত লোকদের নিয়ে নামাজ চালিয়ে যান, তবে তিনি লোকদের নামাজ নষ্ট করে দিলেন।ইবনে আল-কাসিম বলেন: যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করে এবং তার ওপর এমন কিছু ঘটে যা তার নামাজ ভঙ্গ করে দেয়, এরপরও সে তাদের নিয়ে নামাজ চালিয়ে যায়, তবে তাদের নামাজ বাতিল হয়ে যাবে এবং যখনই তারা তা জানতে পারবে, তাদের ওপর পুনরায় নামাজ পড়া আবশ্যক হবে। অথচ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) লোকদের নিয়ে নামাজ পড়েছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি অপবিত্র ছিলেন, এরপর তিনি নামাজ পুনরায় আদায় করেছিলেন কিন্তু লোকদের পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেননি।আলী, সুফিয়ান থেকে, তিনি মুগিরা থেকে এবং তিনি ইব্রাহিম আন-নাখায়ী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইমাম যদি অজু ছাড়া নামাজ পড়েন, তবে তিনি পুনরায় নামাজ পড়বেন, কিন্তু মুক্তাদীরা পুনরায় পড়বে না। [নাপাকিযুক্ত কাপড়ে নামাজ আদায় করা]নাপাকিযুক্ত কাপড়ে নামাজ আদায় করা সম্পর্কে তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে কাপড়ে রক্ত বা ময়লা থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া এবং এরপর সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পর তা জানতে পারা সম্পর্কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেন: যদি সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত তার মনে না পড়ে, তবে তার ওপর পুনরায় নামাজ পড়া আবশ্যক নয়। তিনি বলেন: ইমাম মালিক কাপড়ে ময়লা থাকা অবস্থায় নামাজ আদায়কারীর জন্য সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছেন এবং একে সূর্যাস্তের আগে সুস্থ হওয়া ব্যক্তি, পাগল যে সূর্যাস্তের আগে সুস্থ হয় এবং ঋতুবতী যে সূর্যাস্তের আগে পবিত্র হয়—তাদের বিধান থেকে পৃথক করেছেন। তিনি বলতেন: এদের সবার জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরো দিনটিই সময় হিসেবে গণ্য হবে; কিন্তু যে ব্যক্তি কাপড়ে ময়লা থাকা অবস্থায় নামাজ পড়েছে, তার সময় কেবল সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত। মালিক কেবল এই ব্যক্তির জন্যই সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছেন এবং কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে নামাজ আদায়কারীর বিধানও অনুরূপ।আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি ময়লাটি তার শরীরে লেগে থাকে?তিনি বললেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: শরীরে বা কাপড়ে ময়লা থাকা একই কথা। মালিক বলেছেন: সময় থাকতে জানতে পারলে সে নামাজ পুনরায় পড়বে। রাবিয়া এবং ইবনে শিহাবও একই মত পোষণ করেছেন।তিনি বলেন: মালিক বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো নাপাক জায়গায় নামাজ পড়বে, সময় থাকতে তার ওপর নামাজ পুনরায় পড়া আবশ্যক, যেমনটি কাপড়ে ময়লা থাকা অবস্থায় নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি নাপাকিটি কেবল তার কপাল ঠেকানোর জায়গায় থাকে, অথবা কেবল তার দুই হাতের জায়গায়, অথবা কেবল দুই পায়ের জায়গায়, কিংবা কেবল তার বসার জায়গায় থাকে?তিনি বললেন: আমার মতে সময় থাকতে তার ওপর নামাজ পুনরায় পড়া আবশ্যক, যদিও নাপাকি কেবল দুই হাতের জায়গায়, কিংবা কেবল কপালের জায়গায়, কিংবা কেবল দুই পায়ের জায়গায় অথবা কেবল বসার জায়গায় হয়ে থাকে। তিনি বলেন: মালিক বলেছেন, যার কাছে কেবল একটি কাপড় আছে এবং তাতে নাপাকি লেগে আছে, সে সেই কাপড়েই নামাজ পড়বে। এরপর সে যখন অন্য কোনো কাপড় পাবে অথবা পানি পাবে এবং তা ধুয়ে ফেলবে, তখন সময় থাকতে সে নামাজ পুনরায় পড়বে। তবে সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তাকে আর পুনরায় পড়তে হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তবে যদি...
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٩)
كَانَ مَعَهُ ثَوْبٌ حَرِيرٌ وَثَوْبٌ نَجِسٍ بِأَيِّهِمَا تُحِبُّ أَنْ يُصَلِّيَ؟قَالَ: يُصَلِّي بِالْحَرِيرِ أَحَبُّ إلَيَّ وَيُعِيدُ إنْ وَجَدَ غَيْرَهُ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ وَكَذَلِكَ بَلَغَنِي عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ، لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «نَهَى عَنْ لِبَاسِ الْحَرِيرِ» . [الصَّلَاة بِالْحَقْنِ]فِي الصَّلَاةِ بِالْحَقْنِ قَالَ وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الرَّجُلِ يُصِيبُهُ الْحَقْنُ؟قَالَ: إذَا أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ خَفِيفٌ رَأَيْتُ أَنْ يُصَلِّيَ، وَإِنْ أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ مَا يَشْغَلُهُ عَنْ صَلَاتِهِ فَلَا يُصَلِّي حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ ثُمَّ يَتَوَضَّأَ وَيُصَلِّيَ.قُلْتُ: فَإِنْ أَصَابَهُ غَيَثَانٌ أَوْ قَرْقَرَةٌ فِي بَطْنِهِ مَا قَوْلُ مَالِكٍ فِيهِ إذَا كَانَ يَشْغَلُهُ فِي صَلَاتِهِ؟قَالَ: لَا أَحْفَظُ مِنْ مَالِكٍ فِيهِ شَيْئًا وَالْقَرْقَرَةُ عِنْدَ مَالِكٍ بِمَنْزِلَةِ الْحَقْنِ.قُلْتُ: أَرَأَيْتَ إذَا أَعْجَلَهُ عَنْ صَلَاتِهِ أَهُوَ مِمَّا يَشْغَلُهُ؟قَالَ: نَعَمْ.قُلْتُ: فَإِنْ صَلَّى عَلَى ذَلِكَ وَفَرَغَ أَتَرَى عَلَيْهِ إعَادَةً؟قَالَ: إذَا شَغَلَهُ فَأَحَبُّ إلَيَّ أَنْ يُعِيدَ.قُلْتُ لَهُ: فِي الْوَقْتِ وَبَعْدَ الْوَقْتِ؟قَالَ: إذَا كَانَ عَلَيْهِ الْإِعَادَةُ فَهُوَ كَذَلِكَ يُعِيدُ وَإِنْ خَرَجَ الْوَقْتُ، وَقَدْ بَلَغَنِي ذَلِكَ عَنْ مَالِكٍ ثُمَّ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: لَا يُصَلِّي أَحَدُكُمْ وَهُوَ ضَامٌّ بَيْنَ وَرِكَيْهِ قَالَ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَاهِدٍ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ حَدَّثَاهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُمَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا يَقُومُ أَحَدُكُمْ إلَى الصَّلَاةِ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ وَلَا وَهُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ الْغَائِطُ وَالْبَوْلُ» .وَذَكَرَ مَالِكٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ الْغَائِطَ فَلْيَبْدَأْ بِهِ قَبْلَ الصَّلَاةِ» .وَذَكَرَ عَنْ عَطَاءٍ: إنْ كَانَ الَّذِي بِهِ شَيْءٌ لَا يَشْغَلُهُ عَنْ الصَّلَاةِ صَلَّى بِهِ، وَإِنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: مَا كُنْتُ أُبَالِي أَنْ يَكُونَ فِي جَانِبِ رِدَائِي إذَا كُنْتُ مُدَافِعًا لِغَائِطٍ أَوْ لِبَوْلٍ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ السُّدِّيِّ عَنْ التَّيْمِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَذُكِرَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ مِثْلُ قَوْلِ ابْنِ عُمَرَ. [الصَّلَاةِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ]قَالَ: فِي الصَّلَاةِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَقَالَ مَالِكٌ: لَا بَأْسَ أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلُ عَلَى وُضُوءٍ وَاحِدٍ يُصَلِّيَ بِهِ يَوْمَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ الْهُذَلِيِّ أَنَّ عَبْدَ اللَّهَ بْنَ عُمَرَ قَالَ لَهُ: إنْ كَانَ لَكَافِيَ وَضُوئِي لِصَلَاةِ الصُّبْحِ صَلَوَاتِي كُلِّهَا مَا لَمْ أُحْدِثْ، قَالَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ «عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ صَلَّى يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، فَقَالَ عُمَرُ: رَأَيْتُكَ صَنَعْتَ شَيْئًا مَا كُنْتَ تَصْنَعُهُ؟ فَقَالَ: عَمْدًا صَنَعْتُهُ يَا عُمَرُ» .
যদি কারো কাছে একটি রেশমি বস্ত্র এবং একটি অপবিত্র বস্ত্র থাকে, তবে আপনি কোনটিতে তার সালাত আদায় করাকে পছন্দ করেন?তিনি বললেন: রেশমি বস্ত্রে সালাত আদায় করা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আর ওয়াক্ত বাকি থাকতে যদি অন্য বস্ত্র পাওয়া যায়, তবে সে পুনরায় সালাত আদায় করবে। ইমাম মালিক (রহ.) থেকেও আমার নিকট অনুরূপ পৌঁছেছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেশমি পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। [মল-মূত্র চেপে রেখে সালাত আদায়]মল-মূত্র চেপে রেখে সালাত আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ইমাম মালিককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার মল-মূত্র ত্যাগের বেগ হয়েছে?তিনি বললেন: যদি বেগ সামান্য হয় তবে আমি মনে করি সে সালাত আদায় করে নেবে। আর যদি তা তাকে সালাত থেকে বিমনা করার মতো প্রবল হয়, তবে সে সালাত আদায় করবে না যতক্ষণ না সে হাজত পূরণ করে, অতঃপর অজু করে এবং সালাত আদায় করে।আমি বললাম: যদি তার বমি বমি ভাব হয় অথবা পেটে গড়গড় শব্দ হয়, তবে এ বিষয়ে ইমাম মালিকের অভিমত কী—যদি তা তাকে সালাতে বিমনা করে?তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমি ইমাম মালিক থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু মুখস্থ রাখিনি; তবে ইমাম মালিকের নিকট পেটের গড়গড়ানি মল-মূত্র চেপে রাখার পর্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত।আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন যদি তা তাকে সালাত দ্রুত শেষ করতে বাধ্য করে, তবে কি তা তাকে সালাত থেকে বিমনা করার মতো বিষয় হিসেবে গণ্য হবে?তিনি বললেন: হ্যাঁ।আমি বললাম: এমতাবস্থায় সে যদি সালাত আদায় করে শেষ করে ফেলে, তবে কি আপনি মনে করেন তার পুনরায় সালাত আদায় করা আবশ্যক?তিনি বললেন: যদি তা তাকে বিমনা করে থাকে, তবে আমার নিকট পুনরায় সালাত আদায় করা পছন্দনীয়।আমি তাকে বললাম: সালাতের ওয়াক্ত থাকাকালীন নাকি ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরও?তিনি বললেন: যদি তার ওপর পুনরায় আদায় করা বর্তায়, তবে সে একইভাবে পুনরায় আদায় করবে যদিও ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। ইমাম মালিক থেকে আমার কাছে এমনটিই পৌঁছেছে। অতঃপর তিনি বললেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন—তোমাদের কেউ যেন দুই নিতম্বের মাঝে মল-মূত্র চেপে রাখা অবস্থায় সালাত আদায় না করে। ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, ইয়াকুব ইবনে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ও আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ তাকে জানিয়েছেন যে, আয়েশা (রা.) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি—তোমাদের কেউ যেন খাবারের উপস্থিতিতে সালাতে না দাঁড়ায় এবং এমন অবস্থায়ও নয় যখন তাকে মল-মূত্র ত্যাগের বেগ তাড়িত করে।ইমাম মালিক উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যদি মলত্যাগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, তবে সালাতের পূর্বে যেন তা থেকেই শুরু করে।আতা থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি তার অবস্থা এমন হয় যা তাকে সালাত থেকে বিমনা করে না, তবে সে সেভাবেই সালাত আদায় করবে। আর ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: আমি যখন মল বা মূত্রের বেগ দ্বারা তাড়িত হই, তখন আমার চাদরের এক কোণে নাপাকি থাকলেও আমি পরোয়া করতাম না। এটি ইবনে ওয়াহাব থেকে, সুদ্দী থেকে, তায়মি থেকে, আবদুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে; ইবনে মাসউদ (রা.) থেকেও ইবনে উমরের উক্তির অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [এক অজুতে একাধিক সালাত আদায়]এক অজুতে সালাত আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন—ইমাম মালিক বলেছেন: কোনো ব্যক্তি এক অজুতে দুই দিন বা তার বেশি সময় অবস্থান করে সালাত আদায় করলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।ইবনে ওয়াহাব, আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনআম থেকে, আবু গুতাইফ আল-হুজালি সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাকে বলেছেন: যতক্ষণ আমি অজু ভঙ্গ না করি, ততক্ষণ আমার সুবহে সাদিকের অজুই আমার সমস্ত সালাতের জন্য যথেষ্ট। ইবনে ওয়াহাব, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, সুলাইমান ইবনে বুরাইদা থেকে, তার পিতার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে: মক্কা বিজয়ের দিন তিনি সমস্ত সালাত এক অজুতে আদায় করেছিলেন এবং মোজার ওপর মাসেহ করেছিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন: আমি আপনাকে এমন কিছু করতে দেখলাম যা আপনি আগে করতেন না। তিনি বললেন: হে উমর! আমি তা ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছি।
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤٠)
[الصَّلَاةِ بِثِيَابِ أَهْلِ الذِّمَّةِ]فِي الصَّلَاةِ بِثِيَابِ أَهْلِ الذِّمَّةِ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا يُصَلِّي فِي ثِيَابِ أَهْلِ الذِّمَّةِ الَّتِي يَلْبَسُونَهَا، قَالَ: وَأَمَّا مَا نَسَجُوا فَلَا بَأْسَ بِهِ، قَالَ: مَضَى الصَّالِحُونَ عَلَى هَذَا.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: لَا أَرَى أَنْ يُصَلِّيَ بِخُفَّيْ النَّصْرَانِيِّ اللَّذَيْنِ يَلْبَسُهُمَا حَتَّى يُغْسَلَا.قَالَ وَكِيعٌ عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ الْحَسَنِ: أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا بِالثَّوْبِ يَنْسِجُهُ الْمَجُوسِيُّ يَلْبِسُهُ الْمُسْلِمُ. [غُسْلِ النَّصْرَانِيِّ إذَا أَسْلَمَ]فِي غُسْلِ النَّصْرَانِيِّ إذَا أَسْلَمَ قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: قُلْتُ لِمَالِكٍ: إذَا أَسْلَمَ النَّصْرَانِيُّ هَلْ عَلَيْهِ الْغُسْلُ؟قَالَ: نَعَمْ.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: مَتَى يَغْتَسِلُ أَقْبَلَ أَنْ يُسْلِمَ أَوْ بَعْدَ أَنْ يُسْلِمَ؟قَالَ: مَا سَأَلْتُهُ إلَّا مَا أَخْبَرْتُكَ، وَلَكِنْ أَرَى إنْ هُوَ اغْتَسَلَ لِلْإِسْلَامِ وَقَدْ أَجْمَعَ عَلَى أَنْ يُسْلِمَ فَإِنَّ ذَلِكَ يُجْزِئُهُ لِأَنَّهُ إنَّمَا أَرَادَ بِذَلِكَ الْغُسْلَ لِإِسْلَامِهِ.قُلْتُ: فَإِنْ أَرَادَ أَنْ يُسْلِمَ وَلَيْسَ مَعَهُ مَاءٌ أَيَتَيَمَّمُ أَمْ لَا؟قَالَ: نَعَمْ يَتَيَمَّمُ.قُلْتُ: أَتَحْفَظُهُ عَنْ مَالِكٍ؟قَالَ: لَا وَلَكِنْ هَذَا رَأْيِي، وَالنَّصْرَانِيُّ عِنْدِي جُنُبٌ فَإِذَا أَسْلَمَ أَوْ تَيَمَّمَ ثُمَّ أَدْرَكَ الْمَاءَ فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَإِذَا تَيَمَّمَ النَّصْرَانِيُّ لِلْإِسْلَامِ نَوَى بِتَيَمُّمِهِ ذَلِكَ تَيَمُّمَ الْجَنَابَةِ أَيْضًا، قَالَ: وَكَانَ مَالِكٌ يَأْمُرُ مَنْ أَسْلَمَ مِنْ الْمُشْرِكِينَ بِالْغُسْلِ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَابْنُ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً قِبَلَ نَجْدٍ فَأَسَرُوا ثُمَامَةَ بْنَ أُثَالٍ، فَأُتِيَ بِهِ إلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يَأْتِيه كُلَّ غَدَاةٍ ثَلَاثَ غَدَوَاتٍ يَعْرِضُ عَلَيْهِ الْإِسْلَامَ فَأَسْلَمَ، ثُمَّ أَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَذْهَبَ إلَى حَائِطِ أَبِي طَلْحَةَ فَيَغْتَسِلَ» . [مَنْ صَلَّى فِي مَوْضِعٍ نَجِسٍ أَوْ تَيَمَّمَ]فِيمَنْ صَلَّى فِي مَوْضِعٍ نَجِسٍ أَوْ تَيَمَّمَ قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: مَنْ صَلَّى عَلَى الْمَوْضِعِ النَّجِسِ أَعَادَ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ.قُلْتُ لِابْنِ الْقَاسِمِ: فَلَوْ كَانَ بَوْلًا فَجَفَّ؟قَالَ: إنَّمَا سَأَلْتُهُ عَنْ الْمَوْضِعِ النَّجِسِ فَإِنْ جَفَّ أَعَادَ، فَقُلْتُ لَهُ: فَمَنْ تَيَمَّمَ بِهِ أَعَادَ؟قَالَ: يُعِيدُ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ وَهُوَ مِثْلُ مَنْ صَلَّى بِثَوْبٍ غَيْرِ طَاهِرٍ.قَالَ ابْنُ وَهْبٍ وَقَدْ قَالَ رَبِيعَةُ وَابْنُ شِهَابٍ فِي الثَّوْبِ: يُعِيدُ مَا دَامَ فِي الْوَقْتِ. [مَا جَاءَ فِي الرُّعَافِ]قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: يَنْصَرِفُ مِنْ الرُّعَافِ فِي الصَّلَاةِ إذَا سَالَ شَيْءٌ أَوْ قَطْرٌ قَلِيلًا كَانَ
[জিম্মিদের পোশাকে সালাত আদায়]জিম্মিদের পোশাকে সালাত আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: জিম্মিরা যে পোশাক পরিধান করে, তা পরে সালাত আদায় করা যাবে না। তিনি বলেন: তবে তারা যা বুনেছে (নতুন কাপড়) তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি আরও বলেন: নেককার পূর্বসূরিগণ এভাবেই আমল করে গেছেন।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: আমি কোনো খ্রিস্টানের পরিহিত মোজা জোড়া ধৌত করা ব্যতীত তা পরে সালাত আদায় করা সমীচীন মনে করি না।ওয়াকি ফুদাইল ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি অগ্নিপূজকদের বোনা কাপড় মুসলিমদের পরিধান করার মধ্যে কোনো দোষ দেখতেন না। [খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করলে তার গোসল]খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করলে তার গোসলের বিষয়ে ইবনুল কাসিম বলেন: আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম: কোনো খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করলে তার ওপর কি গোসল করা আবশ্যক? তিনি বললেন: হ্যাঁ।আমি ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞাসা করলাম: সে কখন গোসল করবে—ইসলাম গ্রহণের আগে না পরে? তিনি বললেন: আমি আপনাকে যা জানিয়েছি, তার বাইরে আমি তাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করিনি। তবে আমি মনে করি, যদি সে ইসলামের জন্য গোসল করে এবং ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে; কারণ সে তো কেবল তার ইসলামের উদ্দেশ্যেই সেই গোসলের নিয়ত করেছিল।আমি বললাম: সে যদি ইসলাম গ্রহণ করতে চায় কিন্তু তার কাছে পানি না থাকে, তবে সে কি তায়াম্মুম করবে কি না? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে তায়াম্মুম করবে।আমি বললাম: আপনি কি এটি ইমাম মালিকের সূত্রে মনে রেখেছেন? তিনি বললেন: না, তবে এটি আমার নিজস্ব অভিমত। আমার নিকট খ্রিস্টান ব্যক্তি অপবিত্র (জুনুব) হিসেবে গণ্য, সুতরাং সে যখন ইসলাম গ্রহণ করবে বা তায়াম্মুম করবে এবং পরবর্তীতে পানি পাবে, তখন তাকে গোসল করতে হবে।ইবনুল কাসিম বলেন: খ্রিস্টান যখন ইসলামের উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করবে, তখন সে তার সেই তায়াম্মুমের মাধ্যমে জানাবাত বা অপবিত্রতা থেকেও পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে। তিনি আরও বলেন: ইমাম মালিক মুশরিকদের মধ্য থেকে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে গোসলের নির্দেশ দিতেন।ইবনে ওয়াহাব ও ইবনে নাফি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নজদ অভিমুখে একটি ক্ষুদ্র বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তারা সুমামাহ ইবনে উসালকে বন্দি করে নিয়ে আসে। তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আনা হলে তিনি প্রতিদিন সকালে পরপর তিন দিন তার কাছে যেতেন এবং তার সামনে ইসলাম পেশ করতেন। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আবু তালহার বাগানে গিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিলেন।’ [নাপাক স্থানে সালাত আদায় বা তায়াম্মুম করা]যে ব্যক্তি অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করে বা সেখানে তায়াম্মুম করে সে সম্পর্কে তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করবে, সে ওয়াক্ত বা সময় থাকাকালীন তা পুনরায় আদায় করবে।আমি ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞাসা করলাম: যদি প্রস্রাব শুকিয়েও যায় (তবে হুকুম কী)?তিনি বললেন: আমি তাকে অপবিত্র স্থান সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করেছি; যদি তা শুকিয়েও যায় তবে সে পুনরায় সালাত আদায় করবে। আমি তাকে বললাম: তবে যে ব্যক্তি সেখানে তায়াম্মুম করল, সে কি পুনরায় তা করবে?তিনি বললেন: সে সময় থাকাকালীন পুনরায় আদায় করবে। এটি সেই ব্যক্তির মতো, যে অপবিত্র কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করেছে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: রবীআহ ও ইবনে শিহাব কাপড়ের ক্ষেত্রে বলেছেন: সময় অবশিষ্ট থাকাকালীন সে পুনরায় সালাত আদায় করবে। [নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রসঙ্গে]তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: সালাত অবস্থায় যদি নাক দিয়ে রক্ত (রুআফ) প্রবাহিত হয় অথবা কয়েক ফোটা পড়ে, চাই তা পরিমাণে অল্পই হোক না কেন—
(খণ্ড: ١)
আল-মুদাওওয়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤١)
أَوْ كَثِيرًا فَيَغْسِلُهُ عَنْهُ ثُمَّ يَبْنِي عَلَى صَلَاتِهِ، قَالَ: وَإِنْ كَانَ غَيْرَ قَاطِرٍ وَلَا سَائِلٍ فَيَفْتِلُهُ بِأَصَابِعِهِ وَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ، قَالَ: وَقَدْ كَانَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يُدْخِلُ أَصَابِعَهُ فِي أَنْفِهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ فَيُخْرِجُهَا وَفِيهَا دَمٌ فَيَفْتِلُهَا وَلَا يَنْصَرِفُ، مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ لِأَصْحَابِهِ: مَا تَقُولُونَ فِي رَجُلٍ رَعَفَ فَلَمْ يَنْقَطِعْ عَنْهُ الدَّمُ؟ فَسَكَتَ الْقَوْمُ، قَالَ سَعِيدٌ: يُومِئُ إيمَاءً.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ رَعَفَ خَلْفَ الْإِمَامِ ثُمَّ ذَهَبَ يَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ إنَّهُ يُصَلِّي فِي بَيْتِهِ أَوْ حَيْثُ أَحَبَّ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: قَوْلُ مَالِكٍ عِنْدِي حَيْثُ أَحَبَّ أَيْ أَقْرَبَ الْمَوَاضِعِ مِنْهُ حَيْثُ يَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ، وَذَلِكَ إذَا كَانَ الْإِمَامُ قَدْ فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ إلَّا أَنْ تَكُونَ جُمُعَةً فَإِنَّهُ يَرْجِعُ إلَى الْمَسْجِدِ لِأَنَّ الْجُمُعَةَ لَا تَكُونُ إلَّا فِي الْمَسْجِدِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: فِيمَنْ رَعَفَ بَعْدَمَا رَكَعَ أَوْ بَعْدَمَا رَفْع رَأْسَهُ مِنْ رُكُوعِهِ أَوْ سَجَدَ سَجْدَةً مِنْ الرَّكْعَةِ، رَجَعَ فَغَسَلَ الدَّمَ عَنْهُ وَأَلْغَى الرَّكْعَةَ بِسَجْدَتَيْهَا وَابْتَدَأَ الْقِرَاءَةَ قِرَاءَةَ تِلْكَ الرَّكْعَةِ مِنْ أَوَّلِهَا. قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ الرَّجُلِ يَرْعَفُ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ الْإِمَامُ وَقَدْ تَشَهَّدَ وَفَرَغَ مِنْ تَشَهُّدِهِ؟قَالَ: يَنْصَرِفُ فَيَغْسِلُ الدَّمَ ثُمَّ يَرْجِعُ، فَإِنْ كَانَ الْإِمَامُ قَدْ انْصَرَفَ قَعَدَ فَتَشَهَّدَ وَسَلَّمَ، فَإِنْ رَعَفَ بَعْدَمَا سَلَّمَ الْإِمَامُ وَلَمْ يُسَلِّمْ هُوَ سَلَّمَ وَأَجْزَأَتْ عَنْهُ صَلَاتُهُ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: فِي الرَّجُلِ يَكُونُ مَعَ الْإِمَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَيَرْعَفُ بَعْدَمَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ رَكْعَةً بِسَجْدَتَيْهَا، قَالَ: يَخْرُجُ وَيَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ ثُمَّ يَرْجِعُ إلَى الْمَسْجِدِ فَيُصَلِّي مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ صَلَاةِ الْجُمُعَةِ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْهَا، قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَإِذَا رَجَعَ وَالْإِمَامُ لَمْ يَفْرُغْ لِأَنَّهُ فِي التَّشَهُّدِ جَالِسٌ جَلَسَ مَعَهُ، فَإِذَا جَلَسَ الْإِمَامُ قَضَى الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ عَلَيْهِ وَإِنْ جَاءَ وَقَدْ ذَهَبَ الْإِمَامُ صَلَّى رَكْعَةً بِسَجْدَتَيْهَا.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: فَإِنْ هُوَ صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ رَكْعَةً بِسَجْدَتَيْهَا ثُمَّ رَكَعَ أَيْضًا مَعَ الْإِمَامِ الرَّكْعَةَ الثَّانِيَةَ وَسَجَدَ مَعَهُ سَجْدَةً مِنْ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ ثُمَّ رَعَفَ، قَالَ: يَخْرُجُ فَيَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيُصَلِّي رَكْعَةً بِسَجْدَتَيْهَا وَيُلْغِي الرَّكْعَةَ الثَّانِيَةَ الَّتِي لَمْ تَتِمَّ مَعَ الْإِمَامِ بِسَجْدَتَيْهَا أَدْرَكَ الْإِمَامَ أَوْ لَمْ يُدْرِكْهُ، قَالَ: وَكَذَلِكَ لَوْ أَنَّهُ رَعَفَ بَعْدَمَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ رَكْعَةً وَسَجَدَ مَعَهُ سَجْدَةً ثُمَّ ذَهَبَ يَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ ثُمَّ يَرْجِعُ قَبْلَ أَنْ يَرْكَعَ الْإِمَامُ الرَّكْعَةَ الثَّانِيَةَ، قَالَ: يُلْغِي الرَّكْعَةَ الْأُولَى وَلَا يُعْتَدُّ بِالرَّكْعَةِ الَّتِي لَمْ يَتِمَّ سُجُودُهَا حَتَّى رَعَفَ وَلَا يَسْجُدُ السَّجْدَةَ الَّتِي بَقِيَتْ عَلَيْهِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: كُلُّ مَنْ رَعَفَ فِي صَلَاتِهِ فَإِنَّهُ يَقْضِي فِي بَيْتِهِ أَوْ حَيْثُ أَحَبَّ حَيْثُ غَسَلَ الدَّمَ عَنْهُ فِي أَقْرَبِ الْمَوَاضِعِ إلَيْهِ.قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَذَلِكَ إذَا عَلِمَ أَنَّهُ لَا يُدْرِكُ مَعَ الْإِمَامِ شَيْئًا مِمَّا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ الصَّلَاةِ إلَّا الْجُمُعَةَ فَإِنَّهُ لَا يُصَلِّي مَا بَقِيَ عَلَيْهِ إذَا هُوَ رَعَفَ إلَّا فِي الْمَسْجِدِ لِأَنَّ الْجُمُعَةَ لَا تَكُونُ إلَّا فِي الْمَسْجِدِ.قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ: وَإِنْ هُوَ افْتَتَحَ مَعَ الْإِمَامِ الصَّلَاةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَلَمْ يَرْكَعْ مَعَهُ أَوْ رَكَعَ وَسَجَدَ إحْدَى السَّجْدَتَيْنِ ثُمَّ رَعَفَ ثُمَّ
অথবা যদি অধিক হয় তবে তা ধুয়ে ফেলবেন এবং এরপর অবশিষ্ট নামাজের ওপর ভিত্তি করবেন। তিনি বলেন: আর যদি তা ফোঁটা ফোঁটা করে না পড়ে এবং গড়িয়ে না পড়ে, তবে তা আঙুল দিয়ে মুছে ফেলবেন এবং এতে তাঁর ওপর কোনো দায় থাকবে না। তিনি বলেন: সালিম ইবনে আবদুল্লাহ নামাজের মধ্যে তাঁর নাসারন্ধ্রে আঙুল প্রবেশ করাতেন, এরপর আঙুল বের করলে তাতে রক্ত থাকত, তিনি তা মুছে ফেলতেন এবং নামাজ ছেড়ে যেতেন না। মালিক বর্ণনা করেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে; তিনি তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন: "এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের মতামত কী যার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে এবং তা বন্ধ হচ্ছে না?" লোকেরা চুপ রইল। তখন সাঈদ বললেন: "তিনি ইশারায় নামাজ আদায় করবেন।"তিনি বলেন: মালিক ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার ইমামের পেছনে থাকা অবস্থায় নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়, অতঃপর সে রক্ত ধোয়ার জন্য চলে যায়—সে নিজ বাড়িতে অথবা যেখানে ইচ্ছা নামাজ আদায় করতে পারে।ইবনুল কাসিম বলেন: আমার মতে মালিকের উক্তি ‘যেখানে ইচ্ছা’ এর অর্থ হলো—তার নিকটবর্তী সেই স্থান যেখানে সে রক্ত ধৌত করেছে। আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন ইমাম নামাজ শেষ করে ফেলেছেন, তবে জুমার নামাজ হলে অবশ্যই মসজিদে ফিরে আসতে হবে, কারণ জুমা কেবল মসজিদেই সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন: ইমাম মালিক ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন যে রুকু করার পর অথবা রুকু থেকে মাথা তোলার পর কিংবা রাকাআতের কোনো সিজদা করার পর রক্তক্ষরণের শিকার হয়—সে ফিরে গিয়ে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং ঐ রাকাআতটি তার সিজদাসহ বাতিল করবে এবং ঐ রাকাআতের কিরাত পুনরায় শুরু থেকে শুরু করবে। তিনি বলেন: আমি মালিককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার ইমামের সালাম ফেরানোর পূর্বে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে, অথচ সে তাশাহহুদ পড়েছে এবং তা সমাপ্ত করেছে?তিনি বলেন: সে ফিরে গিয়ে রক্ত ধুয়ে পুনরায় আসবে; যদি ইমাম ইতিমধ্যে নামাজ শেষ করে চলে যান, তবে সে বসে তাশাহহুদ পড়বে এবং সালাম ফেরাবে। আর যদি ইমামের সালামের পর তার রক্তক্ষরণ শুরু হয় কিন্তু সে নিজে তখনো সালাম ফেরায়নি, তবে সে সালাম ফিরিয়ে দেবে এবং এতেই তার নামাজ যথেষ্ট হবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে জুমার দিনে ইমামের সাথে রয়েছে, অতঃপর ইমামের সাথে দুই সিজদাসহ এক রাকাআত নামাজ পড়ার পর তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে; তিনি বলেন: সে বের হয়ে রক্ত ধুয়ে পুনরায় মসজিদে আসবে এবং জুমার নামাজের যা বাকি রয়েছে অর্থাৎ এক রাকাআত ও তার দুই সিজদা আদায় করবে। ইবনুল কাসিম বলেন: সে যখন ফিরে আসে এবং ইমাম তখনো নামাজ শেষ করেননি বরং তাশাহহুদের জন্য বসা আছেন, তখন সে ইমামের সাথে বসবে। এরপর ইমাম যখন সালাম ফেরাবেন, সে তার অবশিষ্ট রাকাআত পূর্ণ করবে। আর যদি সে এমন অবস্থায় আসে যে ইমাম চলে গেছেন, তবে সে দুই সিজদাসহ এক রাকাআত নামাজ পড়ে নেবে।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: যদি সে ইমামের সাথে এক রাকাআত দুই সিজদাসহ আদায় করে, এরপর দ্বিতীয় রাকাআতেও ইমামের সাথে রুকু করে এবং দ্বিতীয় রাকাআতের একটি সিজদাও ইমামের সাথে করে, এরপর তার রক্তক্ষরণ হয়; তিনি বলেন: সে বের হয়ে রক্ত ধুয়ে আসবে এবং দুই সিজদাসহ এক রাকাআত নামাজ আদায় করবে। আর দ্বিতীয় রাকাআতটি যা ইমামের সাথে পূর্ণ হয়নি, তা সে বাতিল বলে গণ্য করবে, চাই সে ইমামকে পাক বা না পাক। তিনি বলেন: তদ্রূপ যদি সে ইমামের সাথে এক রাকাআত পড়ে একটি সিজদা করার পর রক্তক্ষরণের শিকার হয়, অতঃপর রক্ত ধোয়ার জন্য যায় এবং ইমাম দ্বিতীয় রাকাআতের রুকু করার পূর্বেই ফিরে আসে; তিনি বলেন: সে প্রথম রাকাআতটি বাতিল করবে এবং যে রাকাআতের সিজদা রক্তক্ষরণের কারণে পূর্ণ হয়নি তা গণ্য করবে না এবং তার যে একটি সিজদা বাকি ছিল তাও করবে না।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: নামাজের মধ্যে যারই নাক দিয়ে রক্ত ঝরবে, সে তার বাড়িতে বা যেখানে ইচ্ছা নিকটবর্তী স্থানে রক্ত ধৌত করার পর নামাজ পূর্ণ করবে।ইবনুল কাসিম বলেন: এটি তখনই প্রযোজ্য যখন সে বুঝতে পারে যে ইমামের সাথে তার অবশিষ্ট নামাজের কোনো অংশ পাওয়া সম্ভব নয়, জুমার নামাজ ব্যতিরেকে। কেননা জুমার ক্ষেত্রে তার বাকি নামাজ কেবল মসজিদেই আদায় করতে হবে, কারণ জুমা মসজিদ ছাড়া হয় না।তিনি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: যদি সে জুমার দিন ইমামের সাথে নামাজ শুরু করে কিন্তু তার সাথে রুকু করতে না পারে, অথবা রুকু করল এবং এক সিজদাও করল, এরপর তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরল, অতঃপর...