(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: -)
الروضة الريا فيمن دفن بداريا القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الروضة الريا فيمن دفن بدريا
المؤلف: مفتي الشام، عبد الرحمن بن علي محمد العمادي (978 - 1051 هـ)
المحقق: عبده علي الكوشك [ت 1436 هـ]
الناشر: دار المأمون للتراث - دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 114
تنبيه: قد نُسِب هذا الكتاب خطأً في كثير من النسَخ الإلكترونية لعبد الرحمن بن علي العمادي (ت 1223 هـ)؛ تبعًا للزركلي؛ فلْيُصحّح
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দারাইয়ায় যারা সমাহিত হয়েছেন তাদের বর্ণনায় সুশোভিত কানন বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: দারাইয়ায় যারা সমাহিত হয়েছেন তাদের বর্ণনায় সুশোভিত কানন
লেখক: শামের মুফতি, আবদুর রহমান বিন আলী মুহাম্মদ আল-ইমadi (৯৭৮ - ১০৫১ হিজরি)
গবেষক: আবদু আলী আল-কুশাক [মৃ. ১৪৩৬ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল মামুন লিত-তুরাস - দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৪
সতর্কবার্তা: আজ-জিরিকালির অনুসরণে অনেক ডিজিটাল পাণ্ডুলিপিতে এই বইটি ভুলবশত আবদুর রহমান বিন আলী আল-ইমাদি (মৃ. ১২২৩ হিজরি)-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে; এটি সংশোধন করা আবশ্যক
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
(مُقَدّمَة)الْحَمد لله الَّذِي نوع لهَذِهِ الْأمة أَسبَاب الْخيرَات ووسع لَهُم أَبْوَاب المثوبات والبركات وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على نبيه الَّذِي بَين للْمُؤْمِنين سبل الطَّاعَات وَحسن زِيَارَة الصَّالِحين فِي الْحَيَاة وَبعد الْمَمَات وعَلى صحابته وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان على مر الدهور وكر الْأَزْمَان وَبعد
فَيَقُول الْفَقِير إِلَى لطف ربه الْخَفي وبره الوفي عبد الرحمن الْعِمَادِيّ الْحَنَفِيّ
إِن زِيَارَة الصَّالِحين من أقرب القربات وَهِي لاستمطار سحائب البركات من الْأُمُور المجربات وَقد أمرنَا بالتعرض
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (ভূমিকা)সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতের জন্য কল্যাণের নানাবিধ উপায় নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের জন্য সওয়াব ও বরকতের দ্বারসমূহ প্রশস্ত করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবীর ওপর, যিনি মুমিনদের জন্য আনুগত্যের পথসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং জীবনে ও মরণের পর পুণ্যবানদের যিয়ারতকে উত্তম সাব্যস্ত করেছেন। আরও বর্ষিত হোক তাঁর সাহাবীগণ এবং যুগ-যুগান্তরের আবর্তনে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর—
তাঁর রবের নিগূঢ় করুণা ও শাশ্বত সদাশয়তার মুখাপেক্ষী আব্দুর রহমান আল-ইমাদি আল-হানাফী বলছেন:
নিশ্চয়ই পুণ্যবানদের যিয়ারত আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং বরকতের মেঘমালা বর্ষণ কামনার ক্ষেত্রে এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা (তা লাভের) অন্বেষণ করি।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
للنفحات وَلَا شكّ أَن مواطنهم من أكبر مظنات إِجَابَة الدَّعْوَات
ثمَّ لما كَانَ من أعظم مزارات الشَّام الموصوفة مزارات داريا
ঐশ্বরিক অনুগ্রহের স্নিগ্ধ সমীরণের জন্য এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাদের অবস্থানস্থলগুলো দোয়া কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনাময় স্থানসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর যেহেতু শামের বর্ণিত সুপ্রসিদ্ধ জিয়ারতগাহগুলোর মধ্যে দারাইয়ার জিয়ারতগাহসমূহ অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
الْكُبْرَى الْقرْيَة الْمَعْرُوفَة جمعت هَذِه النبذة فِي شَأْنهَا تعريفا بِعظم قدر سكانها وتشريفا للأسماع بِذكر من دفن بمكانها وسميتها الرَّوْضَة الريا فِيمَن دفن بداريا عَسى أَن أمنح بلمحة من سنا أنوار لمحاتهم وأنفح بنفحة من شذى أسرار نفحاتهم وَمَا ذَلِك على الله بعزيز وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل
فَأَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق وَهُوَ الْهَادِي إِلَى سَوَاء الطَّرِيق قَالَ القَاضِي ابْن خلكان فِي وفيات الْأَعْيَان فِي تَرْجَمَة الشَّيْخ أبي سُلَيْمَان
সুপরিচিত সেই বৃহৎ জনপদ; আমি এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি প্রস্তুত করেছি এর অধিবাসীদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান করতে এবং সেখানে যারা সমাহিত হয়েছেন তাঁদের স্মরণের মাধ্যমে শ্রবণেন্দ্রিয়কে সম্মানিত করতে। আমি এর নামকরণ করেছি ‘আর-রওজাতুর রাইয়া ফী মান দুফিনা বি-দারাইয়া’। হতে পারে আমি তাঁদের নূরের তপ্ত আভায় সামান্য ধন্য হব এবং তাঁদের রহস্যময় সুবাসে সুরভিত হব। আল্লাহর পক্ষে এটি কোনো কঠিন কাজ নয় এবং তিনি আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।
আমি বলছি, আল্লাহর নিকটই সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী। কাযী ইবনে খাল্লিকান তাঁর ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ গ্রন্থে শায়খ আবু সুলায়মানের জীবনী আলোচনায় বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
داريا ياؤها مُشَدّدَة وَالنِّسْبَة إِلَيْهَا داراني من شواذ النّسَب وَهِي قَرْيَة فِي نَاحيَة يُقَال لَهَا وَادي الْعَجم من نواحي دمشق
انْتهى
قلت إِنَّمَا كَانَ من شواذ النّسَب لِأَنَّهَا على غير قِيَاس إِذْ الْقيَاس أَن تحذف الْألف الْأَخِيرَة لوقوعها سادسة كَمَا قَالُوا قبعثري نِسْبَة إِلَى قبعثرى ثمَّ تحذف الْيَاء الأولى وتقلب الثَّانِيَة واوا كَمَا قَالُوا قصوي نِسْبَة إِلَى قصي فَكَانَ الْقيَاس أَن يُقَال فِي النِّسْبَة إِلَيْهَا داروي
وداريا وَزنهَا فعليا وَمثلهَا من الصِّيَغ المسموعة مرحيا وبرديا
حَكَاهُمَا سِيبَوَيْهٍ
দারিয়ার ‘ইয়া’ বর্ণটি তাশদিদযুক্ত এবং এর সম্বন্ধবাচক রূপ (নিসবাহ) হলো ‘দারানি’, যা নিসবাহর নিয়মের ব্যতিক্রম সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি দামেস্কের ওয়াদিউল আজাম নামক অঞ্চলের একটি গ্রাম।
সমাপ্ত।
আমি বলি: এটি নিসবাহর নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হলো এটি ব্যাকরণগত নিয়মের পরিপন্থী। কেননা নিয়ম অনুযায়ী শব্দের ষষ্ঠ স্থানে অবস্থিত হওয়ার কারণে শেষ ‘আলিফ’ বিলুপ্ত হওয়ার কথা ছিল, যেমনটি ‘কুবআছরা’ থেকে নিসবাহর ক্ষেত্রে তারা ‘কুবআছারি’ বলেছে। এরপর প্রথম ‘ইয়া’ বিলুপ্ত হয়ে দ্বিতীয় ‘ইয়া’ বর্ণটি ‘ওয়াও’-এ রূপান্তরিত হওয়ার কথা ছিল, যেমনটি ‘কুসাই’ থেকে নিসবাহর ক্ষেত্রে তারা ‘কুসওয়ি’ বলেছে। অতএব, ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী এর নিসবাহ ‘দারওয়ি’ হওয়ার কথা ছিল।
দারিয়া শব্দটির ওজন হলো ‘ফু’লাইয়া’ এবং এর অনুরূপ শ্রুত শব্দসমূহ হলো ‘মারহায়া’ ও ‘বারদায়া’।
সিবাওয়াইহি এ দুটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَهِي مُشْتَقَّة من الدَّار وَالْيَاء للتأنيث وَإِنَّمَا زيدت هَذِه الزَّوَائِد دلَالَة على التكثير
وَزِيَادَة المبنى تدل على زِيَادَة الْمَعْنى
وَذَلِكَ كَمَا قيل إِنَّهَا كَانَت فِي الأَصْل مجمعا لدور آل جَفْنَة الغسانيين ومنازلهم
قلت وَآل غَسَّان هم مُلُوك الشَّام الَّذين يَقُول فيهم حسان بن ثَابت رضي الله عنه من جملَة مَا لَهُ فيهم من المدائح الحسان
এটি ‘আদ-দার’ শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন এবং ‘ইয়া’ বর্ণটি স্ত্রীলিঙ্গত্বের জন্য যুক্ত হয়েছে; মূলত আতিশয্য জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যেই এই অতিরিক্ত বর্ণগুলো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আর শব্দের গাঠনিক বৃদ্ধি তার অর্থের আধিক্যের প্রমাণ দেয়।
এটি এই কারণে, যেমনটি বলা হয়েছে যে, এটি মূলত গাসসানী জাফনা পরিবারের গৃহসমূহ ও তাদের আবাসস্থলের একটি সমাবেশস্থল ছিল।
আমি বলছি: গাসসান পরিবার হলো শামের সেই সব রাজা, যাদের প্রশংসায় হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর উৎকৃষ্ট স্তুতিগাঁথাগুলোর মধ্যে পঙক্তি উচ্চারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬০)
(أَوْلَاد جَفْنَة حول قبر ابيهم
… قبر ابْن مَارِيَة الْكَرِيم الْمفضل)
(يغشون حَتَّى مَا تهر كلابهم
… لايسألون عَن السوَاد الْمقبل)
(بيض الْوُجُوه كَرِيمَة أحسابهم
… شم الأنوف من الطّراز الأول)
(يسقون من ورد البريص عَلَيْهِم
… بردى يصفق بالرحيق السلسل)
(জাফনার সন্তানরা তাদের পিতার কবরের চারপাশে সমবেত
… ইবনে মারিয়ার কবর, যিনি ছিলেন মহানুভব ও শ্রেষ্ঠ দানশীল)
(তারা মেহমানদের দ্বারা এতই পরিবেষ্টিত থাকে যে তাদের কুকুরগুলো আর ঘেউ ঘেউ করে না
… তারা আগন্তুক পথিকের পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে না)
(তারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলের অধিকারী ও অত্যন্ত মর্যাদাবান বংশের
… তারা সুউচ্চ নাসিকা বিশিষ্ট এবং প্রথম সারির অভিজাত শ্রেণীভুক্ত)
(তাদেরকে বারাইসের ঝর্ণাধারা থেকে পান করানো হয়
… বারাদা নদীর স্বচ্ছ ও সুপেয় সুধা তাদের পানপাত্রে ঢেউ খেলে যায়)
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَمِنْهُم جبلة بن الْأَيْهَم الَّذِي وَفد نهر دمشق مُسلما على عمر رضي الله عنه فِي خِلَافَته بِخمْس مائَة فَارس عَلَيْهِم الديباج وَالذَّهَب وعَلى رَأسه التَّاج وقرطا مَارِيَة المشهوران ثمَّ وطئ الْفَزارِيّ إزَاره فِي الطّواف فَلَطَمَهُ
তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জাবালা ইবনুল আইহাম, যিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে পাঁচশত অশ্বারোহীসহ মুসলিম অবস্থায় দামেস্কের নহরে আগমন করেন। তাদের পরিধানে ছিল রেশম ও স্বর্ণ এবং জাবালার মস্তকে ছিল রাজমুকুট ও মারিয়ার বিখ্যাত কর্ণভূষণদ্বয়। অতঃপর তাওয়াফের সময় জনৈক ফাজারি ব্যক্তি তার ইযারের ওপর পা রাখলে তিনি তাকে চপেটাঘাত করেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬২)
فَقَالَ لَهُ عمر رضي الله عنه إِمَّا أَن ترضه أَو تقيده فَلم يرض الْفَزارِيّ إِلَّا أَن يُقَيِّدهُ بلطمة مثلهَا
فَقَالَ أتقيد مني وَأَنا ملك
فَقَالَ عمر رضي الله عنه أَنْتُمَا فِي حكم الْإِسْلَام سَوَاء
فَقَالَ أمهلني ثَلَاثَة أَيَّام فأمهله فَخرج لَيْلًا إِلَى قَيْصر فملكه فِي بِلَاده وَتَنصر
ثمَّ إِن عمر رضي الله عنه أرسل صحابيا إِلَى قَيْصر فَاجْتمع بجبلة فَرَأى عِنْده من الخدم والحشم والجواهر وأواني الذَّهَب وَالْفِضَّة مَا أذهله فَسَأَلَ عَن عمر وَعَن تِلْكَ الديار ثمَّ تأوه وَأنْشد
(تنصرت الْأَشْرَاف من أجل لطمة
… وَمَا كَانَ فِيهَا لَو صبرت لَهَا ضَرَر)
(تكنفني فِيهَا لجاج ونخوة
… وبعت بهَا الْعين الصَّحِيحَة بالعور)
(فيا لَيْت أُمِّي لم تلدني وليتني
… رجعت إِلَى القَوْل الَّذِي قَالَه عمر)
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, "হয় তুমি তাকে সন্তুষ্ট করো, নতুবা সে তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবে।" কিন্তু ফাজারি ব্যক্তিটি অনুরূপ একটি চড় মেরে প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হলো না।
সে বলল, "আপনি কি আমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন অথচ আমি একজন রাজা?"
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "ইসলামের বিধানে তোমরা উভয়েই সমান।"
সে বলল, "আমাকে তিন দিন সময় দিন।" তিনি তাকে সময় দিলেন। অতঃপর সে রাতে কায়সারের কাছে পালিয়ে গেল। কায়সার তাকে তার রাজ্যে রাজত্ব দিলেন এবং সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করল।
এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কায়সারের কাছে একজন সাহাবীকে পাঠালেন। তিনি জাবালার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। সেখানে তিনি এমন সব খাদেম, পরিচারক, মণি-মুক্তা এবং সোনা-রুপার পাত্র দেখলেন যা তাকে হতবাক করে দিল। সে (জাবালা) উমর এবং সেই দেশগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে এই কবিতা আবৃত্তি করল:
(একটি চড়ের কারণে আভিজাত্য বিসর্জন দিয়ে খ্রিষ্টান হয়ে গেলাম
… অথচ আমি যদি ধৈর্য ধারণ করতাম তবে তাতে কোনো ক্ষতি ছিল না।)
(আমাকে একগুঁয়েমি ও অহংকার ঘিরে ধরেছিল
… আর এর বিনিময়ে আমি সুস্থ চোখের বদলে অন্ধত্ব কিনে নিয়েছি।)
(হায়! আমার মা যদি আমাকে জন্ম না দিতেন এবং হায়! আমি যদি উমরের বলা সেই কথার দিকেই ফিরে যেতাম!)
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
(وَيَا لَيْتَني أرعى الْمَخَاض بقفرة
… وَكنت أَسِيرًا فِي ربيعَة أَو مُضر)
ثمَّ قَالَ جبلة للرسول إِن ضمنت لي على عمر ثَلَاثَة أَشْيَاء رجعت إِلَى الْإِسْلَام
أَن يغْفر لي مَا سلف
وَأَن يزوجني بنته
وَأَن يَجْعَلنِي ولي عَهده من بعده
فَقَالَ لَهُ أما الثنتان فَنعم وَأما الثَّالِثَة فَلَا
فَرجع الرَّسُول وَأخْبر عمر رضي الله عنه فَقَالَ لَهُ ليتك ضمنت الثَّالِثَة {وَالله يُؤْتِي ملكه من يَشَاء} الْبَقَرَة 247
وقصته مَشْهُورَة وَهِي بِطُولِهَا فِي الْكتب مسطورة
وَقَالَ الإِمَام النَّوَوِيّ رَحمَه الله تَعَالَى فِي تَهْذِيب الْأَسْمَاء
(হায়! আমি যদি নির্জন মরুভূমিতে গর্ভবতী উট চরাতাম
… আর আমি যদি রাবিয়া অথবা মুদার গোত্রের একজন বন্দী থাকতাম!)
অতঃপর জাবালা দূতকে বললেন, যদি তুমি ওমরের পক্ষ থেকে আমাকে তিনটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, তবে আমি ইসলামে ফিরে আসব—
আমার অতীত যা গত হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে,
তিনি তাঁর কন্যার সাথে আমার বিবাহ দেবেন,
এবং তিনি আমাকে তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করবেন।
দূত তাকে বললেন, প্রথম দুটির ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কিন্তু তৃতীয়টির ক্ষেত্রে না।
অতঃপর দূত ফিরে এলেন এবং ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিষয়টি জানালেন। তখন তিনি তাকে বললেন, হায়! যদি তুমি তৃতীয়টিরও নিশ্চয়তা দিতে! "আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রাজত্ব দান করেন।" (আল-বাকারাহ: ২৪৭)
তাঁর কাহিনী প্রসিদ্ধ এবং তা কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ আছে।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) ‘তাহজীবুল আসমা’ গ্রন্থে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
واللغات
داريا الْقرْيَة الْمَشْهُورَة تَحت دمشق على دون ثَلَاثَة أَمْيَال
هِيَ بِفَتْح الرَّاء وَتَشْديد الْيَاء كَانَ فضلاء السّلف يسكنونها وَمِمَّنْ سكنها من الصَّحَابَة رضي الله عنهم
(بِلَال الْمُؤَذّن)رضي الله عنه
وَبهَا قبران مشهوران يقصدان للزيارة لسيدين جليلين أبي مُسلم الْخَولَانِيّ وَأبي سُلَيْمَان الدَّارَانِي رضي الله عنهما انْتهى
শব্দতত্ত্ব ও ভাষাগত আলোচনা
দারাঈয়া হলো দামেস্কের উপকণ্ঠে তিন মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম।
এটি ‘রা’ বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং ‘ইয়া’ বর্ণে তাশদীদ সহযোগে উচ্চারিত হয়। সালাফে সালিহীনের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ এখানে বসবাস করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্য থেকে যাঁরা এখানে বসবাস করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
(মুয়াযযিন বিলাল)আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
সেখানে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে গমন করা হয় এমন দুইজন মহান ব্যক্তিত্বের প্রসিদ্ধ দুটি কবর রয়েছে; তাঁরা হলেন আবু মুসলিম আল-খাওলানী এবং আবু সুলাইমান আদ-দারাঈনী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
ولنبدأ بِذكر مَنَاقِب الإِمَام الشريف الذَّات صَاحب المناقب والكرامات التَّابِعِيّ الْجَلِيل أبي مُسلم الْخَولَانِيّ رضي الله عنه
فَنَقُول قَالَ الْحَافِظ الْكَبِير الْمُفَسّر الإِمَام ابْن كثير نزل أَبُو مُسلم الْخَولَانِيّ بداريا من غربي دمشق بعد أَن ارتحل من الْيمن إِلَى الْمَدِينَة فَوجدَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قد قبض ذَلِك الْعَام فَرَأى أَبَا بكر وَعمر رضي الله عنهما وَغَيرهمَا من الصَّحَابَة رَضِي الله
আমরা সেই মহান ইমামের গুণাবলী বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি, যিনি মর্যাদাবান সত্তা, সুমহান মর্যাদা ও অলৌকিক নিদর্শনের অধিকারী, সুমহান তাবিঈ আবু মুসলিম আল-খাওলানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।
আমরা বলছি যে, সুমহান হাফিয ও মুফাসসির ইমাম ইবনু কাসীর বলেছেন: আবু মুসলিম আল-খাওলানী ইয়েমেন থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে সফরের পর দামেস্কের পশ্চিমাঞ্চলের দারায়াতে অবতরণ করেন। তিনি সেখানে পৌঁছে দেখলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বছরই ইন্তেকাল করেছেন। অতঃপর তিনি আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং অন্যান্য সাহাবীগণকে (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) দেখলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
عَنْهُم
وَكَانَ لَا يسْبقهُ أحد إِلَى الْمَسْجِد الْجَامِع بِدِمَشْق من داريا فِي أَوْقَات الصَّلَوَات الْخمس وَلَا سِيمَا وَقت الصُّبْح
وَكَانَ ملازما للْجِهَاد فِي كل سنة يَغْزُو بِلَاد الرّوم مَعَ أَصْحَاب لَهُ خَاصَّة
وَله أَحْوَال وكرامات كَثِيرَة وقبره مَشْهُور بداريا
وَكَانَ مقَامه بهَا إِذا قفل من غَزْو الرّوم
روى الْحَافِظ ابْن عَسَاكِر عَنهُ أمرا غَرِيبا وشأنا عجيبا بِسَنَدِهِ
তাঁদের থেকে
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়ে, বিশেষত সুবহে সাদিকের সময়ে দারাঈয়া থেকে দামেস্কের জামে মসজিদে গমনের ক্ষেত্রে কেউ তাঁকে অতিক্রম করতে পারত না।
তিনি প্রতি বছর নিয়মিত জিহাদে অংশগ্রহণ করতেন এবং তাঁর বিশেষ একদল সঙ্গীর সাথে রোমীয় ভূখণ্ডে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করতেন।
তাঁর বহুবিধ আধ্যাত্মিক অবস্থা ও অলৌকিক নিদর্শন (কারামাত) রয়েছে এবং তাঁর কবর দারাঈয়ায় সুপ্রসিদ্ধ।
রোম অভিযান থেকে ফিরে আসার পর সেখানে তাঁর অবস্থান হতো।
হাফিজ ইবনু আসাকির তাঁর সম্পর্কে এক অদ্ভুত বিষয় এবং এক বিস্ময়কর ঘটনা নিজের সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
من طَرِيق إِسْحَاق بن نجيح الْمَلْطِي عَن الإِمَام الْمُجْتَهد الْأَوْزَاعِيّ التَّابِعِيّ الْجَلِيل رضي الله عنه قَالَ
أَتَى أَبَا مُسلم الْخَولَانِيّ نفر من قومه يَعْنِي الخولانيين من الْيمن فَقَالُوا يَا أَبَا مُسلم أما تشتاق إِلَى الْحَج
ইসহাক ইবনে নাজিহ আল-মালতির সূত্রে মহান তাবেয়ী ও মুজতাহিদ ইমাম আল-আওযাঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আবু মুসলিম আল-খাওলানীর নিকট তাঁর স্বগোত্রের একদল লোক, অর্থাৎ ইয়েমেনের খাওলান গোত্রের লোকেরা আসল এবং বলল, "হে আবু মুসলিম, আপনি কি হজের আকাঙ্ক্ষা করেন না?"
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
فَقَالَ بلَى لَو أصبت لي أصحابا
فَقَالُوا نَحن أَصْحَابك
فَقَالَ لَسْتُم لي بأصحاب
إِنَّمَا أَصْحَابِي قوم لَا يردون الزَّاد وَلَا المزاد
فَقَالُوا سُبْحَانَ الله كَيفَ يُسَافر قوم بِلَا زَاد وَلَا مزاد
فَقَالَ لَهُم أَلا ترَوْنَ إِلَى الطير تَغْدُو وَتَروح بِلَا زَاد وَلَا مزاد وَالله يرزقها
قَالَ فَقَالُوا إِنَّا نسافر مَعَك
قَالَ تهيؤوا على بركَة الله تَعَالَى
قَالَ فَغَدوْا من دمشق لَيْسَ مَعَهم زَاد وَلَا مزاد فَلَمَّا أَتَوا إِلَى الْمنزل فَقَالُوا يَا أَبَا مُسلم طَعَام لنا وعلف لدوابنا
قَالَ فَقَالَ لَهُم نعم
তিনি বললেন, "হ্যাঁ, যদি আমি আমার জন্য কিছু সঙ্গী পেতাম।"
তাঁরা বললেন, "আমরাই আপনার সঙ্গী।"
তিনি বললেন, "তোমরা আমার সঙ্গী নও।"
"আমার সঙ্গী তো কেবল সেই সম্প্রদায়, যারা কোনো পাথেয় কিংবা পানির পাত্র সাথে রাখে না।"
তাঁরা বললেন, "সুবহানাল্লাহ! কোনো সম্প্রদায় পাথেয় ও পানির পাত্র ছাড়াই কীভাবে সফর করতে পারে?"
তিনি তাঁদের বললেন, "তোমরা কি পাখিদের প্রতি লক্ষ করো না যে, তারা কোনো পাথেয় ও পানির পাত্র ছাড়াই সকালে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসে, অথচ আল্লাহই তাদের রিযিক দান করেন?"
বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, "আমরা আপনার সাথেই সফর করব।"
তিনি বললেন, "আল্লাহ তাআলার বরকতের ওপর ভরসা করে তোমরা প্রস্তুত হও।"
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাঁরা দামেস্ক থেকে ভোরে যাত্রা শুরু করলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁদের সাথে কোনো পাথেয় বা পানির পাত্র ছিল না। যখন তাঁরা বিশ্রামস্থলে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা বললেন, "হে আবু মুসলিম! আমাদের জন্য খাবার এবং আমাদের পশুদের জন্য চারার প্রয়োজন।"
তিনি বললেন, অতঃপর তিনি তাঁদের বললেন, "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
فَتنحّى غير بعيد فَتَيَمم مَسْجِد أَحْجَار فصلى رَكْعَتَيْنِ فِي ذَلِك الْمَسْجِد ثمَّ جثا على رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ
إلهي قد تعلم مَا أخرجني من منزلي وَإِنَّمَا خرجت إيثارا لَك على من سواك وَقد رَأَيْت الْبَخِيل من ولد آدم تنزل بِهِ الْعِصَابَة من النَّاس فيوسعهم قرى وَأَنت الْكَرِيم الْغَنِيّ اللَّطِيف الرَّزَّاق وَإِنَّا أضيافك وزوارك فأطعمنا واسقنا وأعلف دوابنا
قَالَ فَأتي بسفرة فمدت بَين أَيّدهُم وَجِيء بِجَفْنَة من ثريد تبخر وَجِيء بقلتين من مَاء وَجِيء بالعلف لَا يدرى من يَأْتِي بذلك فَلم تزل تِلْكَ حَالهم مُنْذُ خَرجُوا من عِنْد أهلهم حَتَّى رجعُوا
لَا يتكلفون زادا وَلَا مزادا
তিনি অনতিদূরে সরে গিয়ে পাথরের একটি মসজিদের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং সেই মসজিদে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি হাঁটু গেড়ে বসে বললেন—
হে আমার ইলাহ! আপনি অবশ্যই জানেন কী আমাকে আমার ঘর থেকে বের করেছে; আমি কেবল আপনাকে অন্য সকলের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার নিমিত্তেই বের হয়েছি। আমি আদম সন্তানদের মধ্যে কৃপণ ব্যক্তিকেও দেখেছি যে, তার নিকট মানুষের কোনো দল উপস্থিত হলে সে তাদের জন্য মেহমানদারির প্রশস্ত আয়োজন করে। আর আপনি তো পরম দয়ালু, অমুখাপেক্ষী, অতি সূক্ষ্মদর্শী এবং রিযিকদাতা। আমরা আপনার মেহমান এবং দর্শনার্থী; সুতরাং আমাদের আহার করান, পান করান এবং আমাদের পশুদের খাদ্য দান করুন।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর একটি দস্তরখান আনা হলো এবং তাদের সম্মুখে প্রসারিত করা হলো। ধোঁয়া নির্গত হওয়া এক বড় পাত্র সারিদ নিয়ে আসা হলো, দুই মটকা পানি আনা হলো এবং পশুখাদ্য আনা হলো; অথচ কে এগুলো নিয়ে আসছিল তা জানা যাচ্ছিল না। তারা পরিবার-পরিজন থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের অবস্থা এভাবেই চলতে থাকল।
তারা কোনো পাথেয় বা পানির মশকের কষ্ট করত না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭০)
قَالَ ابْن كثير
فَهَذِهِ حَال ولي من أَوْلِيَاء الله تَعَالَى من هَذِه الْأمة تنزل عَلَيْهِ وعَلى أَصْحَابه كل يَوْم مائدة مرَّتَيْنِ مَعَ مَا يُضَاف إِلَيْهَا من المَاء والعلف لدواب أَصْحَابه
وَهَذَا اعتناء عَظِيم بِهَذَا الرجل الْكَبِير الْقدر وَقد شبه فِي تِلْكَ الْمَائِدَة بِعِيسَى عليه الصلاة والسلام كَمَا شبه فِي كَرَامَة أُخْرَى بإبراهيم الْخَلِيل وَفِي كَرَامَة أُخْرَى بِنوح ومُوسَى عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام
وَكم لَهُ كَرَامَة عَظِيمَة وبركة جسيمة وَإِنَّمَا نَالَ ذَلِك ببركة مُتَابَعَته لنبينا الْكَرِيم عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام
روى الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ من طَرِيق أبي النَّضر عَن سُلَيْمَان بن
ইবনে কাসীর বলেন
সুতরাং এটি এই উম্মতের মহান আল্লাহর ওলীগণের মধ্য থেকে একজন ওলীর অবস্থা, যাঁর নিকট এবং তাঁর সঙ্গীদের নিকট প্রতিদিন দুইবার দস্তরখান অবতীর্ণ হতো, সেই সাথে থাকতো পানি এবং তাঁর সঙ্গীদের পশুর জন্য প্রয়োজনীয় ঘাস ও খাদ্য।
আর এটি এই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন মহান ব্যক্তির প্রতি এক বিশাল বিশেষত্ব ও সম্মান। তাঁকে সেই দস্তরখানের ক্ষেত্রে ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেমন অন্য একটি কেরামতের ক্ষেত্রে তাঁকে ইব্রাহীম খলীল এবং আরও অন্যান্য কেরামতের ক্ষেত্রে নূহ ও মূসা আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
তাঁর কতই না মহান কেরামত এবং বিশাল বরকত রয়েছে! আর তিনি কেবল আমাদের সম্মানিত নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অনুসরণের বরকতেই এটি লাভ করেছেন।
বায়হাকী তাঁর সনদে আবু নাযরের সূত্রে সুলাইমান বিন... থেকে বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭১)
الْمُغيرَة
أَن أَبَا مُسلم الْخَولَانِيّ جَاءَ إِلَى دجلة وَهِي ترمي بالخشب لشدَّة مرها فَمشى على المَاء وَتَبعهُ أَصْحَابه ثمَّ الْتفت إِلَى أَصْحَابه وَقَالَ هَل تَفْقِدُونَ من مَتَاعكُمْ شَيْئا فندعو الله أَن يردهُ
قَالَ الْبَيْهَقِيّ هَذَا إِسْنَاد صَحِيح
وَفِي رِوَايَة ابْن عَسَاكِر أَنه غزا أَرض الرّوم فَمروا بنهر وَقَالَ لأَصْحَابه أجيزوا بِسم الله وَمر بَين أَيْديهم فَمروا خَلفه على المَاء فَلم يبلغ من الدَّوَابّ إِلَّا إِلَى الركب
আল-মুগীরাহ
নিশ্চয়ই আবু মুসলিম আল-খাওলানী দজলা নদীর তীরে আসলেন, এমতাবস্থায় যে নদীটি তীব্র স্রোতের কারণে কাঠ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। অতঃপর তিনি পানির উপর দিয়ে হাঁটলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও তাঁর অনুসরণ করলেন। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে ফিরে বললেন, "তোমরা কি তোমাদের আসবাবপত্রের মধ্য থেকে কিছু হারিয়েছ? তবে আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করব যেন তিনি তা ফিরিয়ে দেন।"
বায়হাকী বলেন, এই সনদটি সহীহ।
ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি রোম ভূখণ্ডে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন। অতঃপর তাঁরা একটি নদী অতিক্রম করার উপক্রম হলেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, "আল্লাহর নামে পার হও।" তিনি তাদের সামনে দিয়ে অগ্রসর হলেন এবং সঙ্গীরাও পানির উপর দিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে চললেন। এমনকি ভারবাহী পশুগুলোর হাঁটু পর্যন্তও পানি পৌঁছাল না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭২)
قَالَ فَلَمَّا جازوا قَالَ للنَّاس من ذهب لَهُ شَيْء فَأَنا ضَامِن لَهُ
قَالَ فَألْقى بَعضهم مخلاة عمدا فَلَمَّا جازوا قَالَ الرجل مخلاتي يَا أَبَا مُسلم وَقعت فِي النَّهر
فَقَالَ لَهُ اتبعني فَإِذا المخلاة تعلّقت بِبَعْض أَشجَار النَّهر قَالَ خُذْهَا
وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد من طَرِيق أُخْرَى
وَلابْن عَسَاكِر عَن حميد بن هِلَال الْعَدوي قَالَ حَدثنِي ابْن عمي قَالَ
خرجت مَعَ أبي مُسلم الْخَولَانِيّ فِي جَيش فأتينا على نهر عجاج مُنكر فَقُلْنَا لأهل الْقرْيَة أَيْن المخاضة فَقَالُوا مَا كَانَت هَهُنَا مخاضة قطّ وَلَكِن المخاضة أَسْفَل مِنْكُم على لَيْلَتَيْنِ
فَقَالَ أَبُو مُسلم اللَّهُمَّ أجزت بني إِسْرَائِيل الْبَحْر وَإِنَّا عِبَادك
তিনি বললেন, অতঃপর যখন তারা অতিক্রম করল, তিনি লোকদের বললেন, যার কোনো কিছু হারিয়ে গেছে, আমি সেটির যিম্মাদার।
তিনি বলেন, অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ একজন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি থলে ফেলে দিল। যখন তারা পার হয়ে গেল, তখন সেই ব্যক্তি বলল, হে আবু মুসলিম, আমার থলেটি নদীতে পড়ে গেছে।
তিনি তাকে বললেন, আমার অনুসরণ করো। দেখা গেল থলেটি নদীর কোনো এক গাছের সাথে আটকে আছে। তিনি বললেন, এটি নিয়ে নাও।
আবু দাউদ এটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আসাকির হুমাইদ বিন হিলাল আল-আদাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার চাচাতো ভাই আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন:
আমি আবু মুসলিম আল-খাওলানীর সাথে এক সৈন্যদলে বের হলাম। অতঃপর আমরা এক উত্তাল ভয়ংকর নদীর কাছে পৌঁছলাম। আমরা গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করলাম, পার হওয়ার ঘাট কোথায়? তারা বলল, এখানে কখনোই কোনো ঘাট ছিল না, বরং ঘাটটি এখান থেকে দুই রাতের পথ দূরত্বে আপনাদের থেকে নিচের দিকে অবস্থিত।
তখন আবু মুসলিম বললেন, হে আল্লাহ! আপনি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করে দিয়েছিলেন, আর আমরাও আপনারই বান্দা।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
فِي سَبِيلك فأجزنا هَذَا النَّهر الْيَوْم
ثمَّ قَالَ اعبروا بِسم الله
قَالَ ابْن عمي
وَأَنا على فرس فَقلت لأقذفنه أول النَّاس خلف أبي مُسلم قَالَ فوَاللَّه مَا بلغ المَاء بطُون الْخَيل حَتَّى عبر النَّاس كلهم
ثمَّ وقف فَقَالَ يَا معشر الْمُسلمين هَل ذهب لأحدكم شَيْء فأدعوا الله تَعَالَى يردهُ
قَالَ ابْن كثير
وَهَذِه مشابة لمعجزة نوح عليه السلام فِي مسيره من فَوق السَّفِينَة وبمعجزة مُوسَى عليه السلام فِي فلق الْبَحْر وَهَذِه فِيهَا مَا هُوَ أعجب من جِهَة مَسِيرهمْ على متن المَاء من غير
আপনার পথে (রয়েছি), সুতরাং আজ আমাদের এই নদী পার করে দিন।
অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর নামে পার হও।
আমার চাচাতো ভাই বললেন,
আমি একটি ঘোড়ার পিঠে ছিলাম, তখন আমি বললাম যে আমি আবু মুসলিমের পেছনে মানুষের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে একে (ঘোড়াকে) পানিতে নামিয়ে দেব। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! সকল মানুষ পার না হওয়া পর্যন্ত পানি ঘোড়াগুলোর পেট পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! আপনাদের কারো কি কোনো কিছু হারিয়েছে? তবে আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি তা ফিরিয়ে দেন।
ইবনে কাসীর বলেন,
এটি নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার ওপর দিয়ে পথচলার মুজিজার সাথে এবং মূসা আলাইহিস সালামের সমুদ্র বিদীর্ণ করার মুজিজার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এর মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা কোনো কিছু ছাড়াই পানির উপরিভাগ দিয়ে তাদের চলাচলের দিক থেকে অধিক আশ্চর্যজনক।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
حَائِل وَمن جِهَة أَنه مَاء جَار فالمسير عَلَيْهِ أعجب من السّير على المَاء القار فَهَذَا خارق والخارق لَا فرق بَين أَن يكون فِي بَحر أَو نهر بل كَونه فِي نهر عجاج كالبرق الخاطف وَلم يصل إِلَى بطُون الْخَيل أعظم وأعجب
وَلَا شكّ أَن كرامات الْأَوْلِيَاء من جنس معجزات أَنْبِيَائهمْ فَمن طعن على الكرامات فقد طعن على المعجزات
وروى الْحَافِظ أَبُو نعيم فِي الْحِلْية والحافظ ابْن عَسَاكِر وَالْإِمَام ابْن الزملكاني والحافظ ابْن.
প্রতিবন্ধক, এবং প্রবাহিত পানির দিক থেকে বিচার করলে এর ওপর দিয়ে পথচলা স্থির পানির ওপর দিয়ে চলার চেয়েও অধিক বিস্ময়কর। এটি একটি অলৌকিক বিষয়, আর অলৌকিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সমুদ্র বা নদীর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। বরং উত্তাল নদীতে বিদ্যুৎ চমকের ন্যায় দ্রুতগতিতে পাড়ি দেওয়া এবং ঘোড়ার পেট পর্যন্ত পানি না পৌঁছানো আরও মহান ও বিস্ময়কর।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আউলিয়াগণের কারামতসমূহ তাঁদের নবীগণের মুজেজারই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কারামত নিয়ে কটাক্ষ করল, সে মূলত মুজেজা নিয়েই কটাক্ষ করল।
হাফেজ আবু নুআইম 'হিলইয়া' গ্রন্থে, হাফেজ ইবনে আসাকির, ইমাম ইবনে যামলকানি এবং হাফেজ ইবনে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
كثير وَغَيرهم عَن إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش قَالَ حَدثنِي شُرَحْبِيل ابْن مُسلم الْخَولَانِيّ أَن الْأسود الْعَنسِي الْكذَّاب تنبأ بِالْيمن فَأرْسل إِلَى أبي مُسلم الْخَولَانِيّ فَأتى بِهِ فَلَمَّا جَاءَ قَالَ أَتَشهد أَنِّي رَسُول الله
قَالَ مَا أسمع
কাসীর ও অন্যান্যরা ইসমাঈল ইবন আইয়্যাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শুরাহবিল ইবন মুসলিম আল-খাওলানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়ামানে আল-আসওয়াদ আল-আনসী আল-কাযযাব নবুওয়াতের দাবি করল। এরপর সে আবু মুসলিম আল-খাওলানিকে ডেকে পাঠাল এবং তাকে নিয়ে আসা হলো। তিনি যখন আসলেন, তখন সে (আসওয়াদ) বলল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল?
তিনি বললেন: আমি শুনছি না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
قَالَ أَتَشهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله
قَالَ نعم
فردد عَلَيْهِ ذَلِك مرَارًا وَهُوَ يجِيبه بِمَا ذكر ثمَّ أَمر بِنَار عَظِيمَة فأججت وَأُلْقِي فِيهَا أَبُو مُسلم فَلم تضره
فَقيل للأسود انفه من بلادك وَإِلَّا أفسد عَلَيْك من اتبعك فَأمره بِالْخرُوجِ من بِلَاده فارتحل أَبُو مُسلم فَأتى الْمَدِينَة وَقد قبض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأَنَاخَ أَبُو مُسلم رَاحِلَته ثمَّ دخل الْمَسْجِد وَقَامَ يُصَلِّي إِلَى سَارِيَة من سواري الْمَسْجِد فَبَصر بِهِ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فَأَتَاهُ فَقَالَ مِمَّن الرجل
فَقَالَ من أهل الْيمن
فَقَالَ مَا فعل الرجل الَّذِي أحرقه الْكذَّاب بالنَّار
قَالَ ذَلِك عبد الله بن ثَوَاب
قَالَ أنْشدك الله أَنْت هُوَ
তিনি বললেন, "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল?"
তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"
তিনি বারবার এর পুনরাবৃত্তি করলেন এবং তিনিও তাকে উল্লিখিত উত্তরই প্রদান করলেন। অতঃপর তিনি একটি বিশাল অগ্নিকুণ্ডের নির্দেশ দিলেন এবং তা প্রজ্বলিত করা হলো। সেখানে আবু মুসলিমকে নিক্ষেপ করা হলো, কিন্তু তা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারল না।
অতঃপর আসওয়াদকে বলা হলো, "তাকে আপনার ভূখণ্ড থেকে নির্বাসিত করুন, অন্যথায় সে আপনার অনুসারীদের বিভ্রান্ত করে দেবে।" তাই তিনি তাকে দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আবু মুসলিম সেখান থেকে প্রস্থান করে মদিনায় পৌঁছালেন, আর তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন। আবু মুসলিম তাঁর সওয়ারি উটটিকে বসালেন, এরপর মসজিদে প্রবেশ করে মসজিদের একটি স্তম্ভের আড়ালে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "এই ব্যক্তিটি কোত্থেকে এসেছেন?"
তিনি বললেন, "ইয়েমেনের অধিবাসী।"
তিনি বললেন, "সেই লোকটির কী হলো, যাকে সেই মিথ্যাবাদী অগ্নিদগ্ধ করতে চেয়েছিল?"
তিনি বললেন, "তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে সাওয়াব।"
তিনি বললেন, "আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তুমিই কি সেই ব্যক্তি?"
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
قَالَ اللَّهُمَّ نعم
فاعتنقه ثمَّ بَكَى وَذهب بِهِ حَتَّى أجلسه بَينه وَبَين أبي بكر الصّديق رضي الله عنه
وَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي لم يُمِتْنِي حَتَّى أَرَانِي فِي أمة مُحَمَّد من فعل بِهِ كَمَا فعل بإبراهيم خَلِيل الرَّحْمَن
قَالَ إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش وَأَنا أدْركْت رجَالًا من الْيمن خولانيين يجتمون مَعَ العنسيين فَقَالَ الخولانيون للعنسيين صَاحبكُم الْكذَّاب أحرق صاحبنا بالنَّار فَلم تضره
وروى ابْن عَسَاكِر من غير وَجه بِسَنَدِهِ إِلَى أبي بشر جَعْفَر بن أبي وحشية أَن رجلا من خولان أسلم فأراده قومه على الْكفْر
তিনি বললেন, "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
অতঃপর তিনি তাঁকে আলিঙ্গন করলেন, তারপর কাঁদলেন এবং তাঁকে নিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তাঁকে নিজের ও আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাঝখানে বসালেন।
এবং তিনি বললেন, "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে মৃত্যু দেননি যতক্ষণ না তিনি আমাকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের মধ্যে এমন একজনকে দেখিয়েছেন যার সাথে তা-ই করা হয়েছে যা রহমানের বন্ধু ইবরাহীমের সাথে করা হয়েছিল।"
ইসমাইল ইবনে আইয়াশ বলেন, "আমি ইয়ামেনের খাওলান গোত্রের এমন কিছু লোক পেয়েছি যারা আনসিদের সাথে সমবেত হতো। তখন খাওলানিরা আনসিদের বলত, 'তোমাদের মিথ্যাবাদী সাথী আমাদের সাথীকে আগুনে পুড়িয়েছিল, কিন্তু তা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি'।"
ইবনে আসাকির একাধিক সূত্রে তাঁর সনদে আবু বিশর জাফর ইবনে আবি ওয়াহশিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খাওলান গোত্রের এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে কুফরের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فَأبى فألقوه فِي النَّار فَلم يَحْتَرِق مِنْهُ إِلَّا الْأُنْمُلَة لم يكن يُصِيبهَا الْوضُوء فَقدم على أبي بكر الصّديق رضي الله عنه فَقَالَ لَهُ اسْتغْفر لي
فَقَالَ أَبُو بكر أَنْت أَحَق أَنْت ألقيت فِي النَّار فَلم تحترق فَاسْتَغْفر لَهُ
ثمَّ خرج إِلَى الشَّام وَكَانُوا يشبهونه بإبراهيم الْخَلِيل عليه السلام وَهَذَا الرجل هُوَ أَبُو مُسلم الْخَولَانِيّ
وَهَذِه الرِّوَايَة تحقق أَنه إِنَّمَا نَالَ ذَلِك ببركة مُتَابَعَته الشَّرِيعَة المحمدية كَمَا جَاءَ فِي حَدِيث الشَّفَاعَة حرم الله على النَّار أَن تَأْكُل مَوَاضِع السُّجُود
তিনি অস্বীকার করলেন, ফলে তারা তাকে আগুনে নিক্ষেপ করল। কিন্তু তার আঙুলের অগ্রভাগ ছাড়া তার শরীরের আর কিছুই পুড়ল না, যেখানে ওযুর পানি পৌঁছাত না। অতঃপর তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন। তিনি (আবু বকর) তাকে বললেন, "আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।"
আবু বকর বললেন, "আপনিই এর অধিক হকদার; আপনাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল অথচ আপনি পুড়েননি।" অতঃপর তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।
এরপর তিনি শামের উদ্দেশ্যে বের হলেন। লোকেরা তাকে ইবরাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে তুলনা করত। আর এই ব্যক্তিটি হলেন আবু মুসলিম আল-খাওলানি।
এই বর্ণনাটি নিশ্চিত করে যে, তিনি কেবল মুহাম্মাদি শরীয়তের অনুসরণের বরকতেই এটি লাভ করেছিলেন; যেমনটি শাফাআতের হাদিসে এসেছে: "আল্লাহ আগুনের জন্য সিজদার চিহ্নসমূহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
قَالَ ابْن كثير
وَقد وَقع لِأَحْمَد بن أبي الْحوَاري مَعَ شَيْخه أبي سُلَيْمَان الدارني رضي الله عنهما الْآتِي ذكرهمَا قَرِيبا قصَّة تشبه هَذِه وَكِلَاهُمَا سَاكن داريا كَمَا رَوَاهُ ابْن عَسَاكِر فِي تَرْجَمَة أَحْمد بن أبي الْحوَاري بِسَنَدِهِ من غير وَجه
أَنه جَاءَ إِلَى أستاذه أبي سُلَيْمَان الدَّارَانِي يُعلمهُ أَن التَّنور قد سجروه وَأَهله ينتظرون مَا يَأْمُرهُم بِهِ فَوَجَدَهُ يكلم النَّاس وهم حوله فَأعلمهُ بذلك فَلم يلْتَفت إِلَيْهِ واشتغل عَنهُ بِالنَّاسِ ثمَّ أعلمهُ ثَانِيًا فَلم يلْتَفت إِلَيْهِ ثمَّ أعلمهُ ثَالِثا فَقَالَ لَهُ أَبُو سُلَيْمَان اذْهَبْ واجلس فِيهِ
واشتغل أَبُو سُلَيْمَان بِالنَّاسِ
فَذهب أَحْمد إِلَى التَّنور وَهُوَ يضطرم نَارا فَجَلَسَ فِيهِ فَكَانَ عَلَيْهِ بردا وَسلَامًا وَمَا زَالَ جَالِسا
ইবনে কাসীর বলেন
আহমদ ইবনে আবিল হাওয়ারী এবং তাঁর উস্তাদ আবু সুলাইমান আদ-দারানী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—যাঁদের আলোচনা শীঘ্রই আসছে—তাঁদের সাথে এর সদৃশ একটি ঘটনা ঘটেছিল। তাঁরা উভয়েই দারাইয়া অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। যেভাবে ইবনে আসাকির একাধিক সনদে আহমদ ইবনে আবিল হাওয়ারীর জীবনবৃত্তান্তে বর্ণনা করেছেন যে,
তিনি তাঁর উস্তাদ আবু সুলাইমান আদ-দারানীর কাছে এসে জানালেন যে, তন্দুর (চুলা) প্রজ্বলিত করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি তাঁকে লোকদের সাথে কথা বলা অবস্থায় পেলেন এবং তারা তাঁকে ঘিরে ছিল। তিনি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন, কিন্তু তিনি তাঁর দিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না এবং লোকদের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার জানালেন, তবুও তিনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তৃতীয়বার জানানোর পর আবু সুলাইমান তাঁকে বললেন, "যাও এবং তার ভেতরে গিয়ে বসো।"
আর আবু সুলাইমান লোকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
অতঃপর আহমদ সেই চুল্লির দিকে গেলেন যা অগ্নিশিখায় প্রজ্বলিত ছিল এবং তার ভেতরে গিয়ে বসলেন। ফলে তা তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে গেল এবং তিনি সেখানেই বসে থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৮০)
حَتَّى فرغ أَبُو سُلَيْمَان من كَلَامه فَقَالَ لمن حوله قومُوا بِنَا إِلَى أَحْمد فَإِنِّي أَظُنهُ قد ذهب إِلَى التَّنور فَجَلَسَ فِيهِ امتثالا لما أَمرته بِهِ فَذَهَبُوا فوجدوه جَالِسا فِيهِ فَأَخذه أبوسليمان بِيَدِهِ وَأخرجه رَضِي الله عَنْهُمَا
আবু সুলাইমান তাঁর কথা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন, অতঃপর তাঁর চারপাশের লোকদের বললেন, “তোমরা আমাদের সাথে আহমাদ-এর নিকট চলো; কেননা আমি মনে করি সে চুল্লির দিকে গিয়েছে এবং আমি তাকে যা আদেশ করেছি তা পালন করার জন্য সে তার ভেতরে গিয়ে বসেছে।” অতঃপর তাঁরা গেলেন এবং তাকে তার ভেতরে বসা অবস্থায় পেলেন। তখন আবু সুলাইমান তাকে হাত দিয়ে ধরলেন এবং বের করে আনলেন, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৮১)
وَأما الشَّيْخ الْمَذْكُور الإِمَام قدوة السادات الصُّوفِيَّة صَاحب الكمالات السّنيَّة والمقامات الْعلية أَبُو سُلَيْمَان عبد الرحمن بن أَحْمد بن عَطِيَّة الدَّارَانِي نفعنا الله تَعَالَى بِهِ
فقد كَانَ الشَّيْخ الْمَذْكُور عنسي الْقَبِيلَة وَكَانَت وَفَاته سنة خمس عشرَة ومئتين من الْهِجْرَة رضي الله عنه وَكَانَ كَبِير الشَّأْن بَين مَشَايِخ الطَّرِيقَة آيَة فِي عُلُوم التصوف والحقيقة
قَالَ الإِمَام حجَّة الْإِسْلَام الْغَزالِيّ فِي الْإِحْيَاء عِنْد ذكر كَلَام أبي سُلَيْمَان على معنى بعض المقامات لله در هَذَا الإِمَام الْكَبِير الشَّأْن مَا تكلم على حَال أَو مقَام إِلَّا كَانَ كَلَامه من بَين أقرانه أنفس الْكَلَام موفيا بنهاية المرام
আর উল্লেখিত শাইখ, ইমাম, সূফী নেতৃবৃন্দের আদর্শ, উজ্জ্বল পূর্ণতা ও সুউচ্চ মাকামসমূহের অধিকারী আবু সুলাইমান আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আতিয়্যাহ আদ-দারানি, মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন।
উল্লেখিত শাইখ আনসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হিজরি ২১৫ সনে তাঁর মৃত্যু হয়, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তরীকার মাশায়েখদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং তাসাউফ ও হাকীকতের জ্ঞানসমূহে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন।
ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম আল-গাজালি তাঁর ‘ইহয়া’ গ্রন্থে আবু সুলাইমানের কিছু মাকামের অর্থের বিষয়ে বক্তব্য উল্লেখ করার সময় বলেছেন: এই মহান মর্যাদাবান ইমামের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রভূত কল্যাণ হোক, তিনি কোনো ‘হাল’ বা ‘মাকাম’ সম্পর্কে যখনই কথা বলেছেন, তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর কথাই ছিল সবচেয়ে মূল্যবান এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের চূড়ান্ত পূর্ণতাদানকারী।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৮২)
ولنذكر حِصَّة رائعة من كَلِمَاته الفائقة
قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى من لطائف المعاريض قَوْله تَعَالَى {أَلا لله الدّين الْخَالِص} الزمر 3 تهديد بلطف يَعْنِي أَنه تَعَالَى لَا يقبل إِلَّا الْخَالِص وَمَا لَيْسَ بخالص فَهُوَ لَيْسَ لَهُ كَمَا يُشِير إِلَيْهِ الحَدِيث الْقُدسِي
أَنا أغْنى الشَّرِيكَيْنِ
وَسبب تَوْبَته أَنه قَالَ رضي الله عنه اخْتلفت فِي أول أَمْرِي إِلَى مجْلِس قاص فأثر كَلَامه فِي قلبِي فَلَمَّا فارقته لم يبْق فِي قلبِي شَيْء من كَلَامه فعدت ثَانِيًا إِلَيْهِ فَسمِعت كَلَامه فَبَقيَ كَلَامه فِي قلبِي إِلَى بعض الطَّرِيق ثمَّ زَالَ عني ثمَّ عدت إِلَيْهِ ثَالِثا فَبَقيَ أثر
আসুন আমরা তাঁর সুনিপুণ বাণীসমূহের একটি চমৎকার অংশ উল্লেখ করি।
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বলেন: সূক্ষ্ম অলঙ্কারপূর্ণ ইঙ্গিতসমূহের অন্যতম হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {জেনে রেখো, খাঁটি আনুগত্য কেবল আল্লাহরই জন্য} (সূরা যুমার: ৩)। এটি একটি কোমল ধমক, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কেবল খাঁটি আমলই গ্রহণ করেন; আর যা খাঁটি নয় তা তাঁর জন্য নয়, যেমনটি একটি হাদিসে কুদসিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে:
আমি দুই অংশীদারের মধ্যে অংশীদারিত্ব থেকে সবচেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী।
তাঁর তওবার কারণ সম্পর্কে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আমার প্রারম্ভিক অবস্থায় আমি একজন নসিহতকারীর মজলিসে যাতায়াত করতাম। তাঁর কথাগুলো আমার অন্তরে প্রভাব বিস্তার করল। কিন্তু যখনই আমি তাঁর মজলিস ত্যাগ করলাম, তাঁর কথার আর কিছুই আমার অন্তরে অবশিষ্ট থাকল না। এরপর দ্বিতীয়বার আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁর কথা শ্রবণ করলাম। তখন তাঁর কথাগুলো পথের কিছু পথ পর্যন্ত আমার অন্তরে থাকল, এরপর তা আমার থেকে বিলীন হয়ে গেল। এরপর আমি তৃতীয়বার তাঁর নিকট ফিরে গেলাম, তখন তার প্রভাব স্থায়ী হলো।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওজাতুর রাইয়া ফীমান দুফিনা বি-দারায়া
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
كَلَامه فِي قلبِي حَتَّى رجعت إِلَى منزلي وَكسرت آلَات المخالفات ولزمت الطَّرِيق
قَالَ الْغَزالِيّ فِي الْإِحْيَاء قيل حكيت هَذِه لمَالِك بن دِينَار فَقَالَ عُصْفُور صَاد بازيا
وَسَأَلَهُ رجل عَن أقرب مَا يتَقرَّب بِهِ العَبْد إِلَى ربه فَقَالَ أَن يطلع على قَلْبك وَأَنت لَا تُرِيدُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة غَيره
وَقَالَ رَحمَه الله تَعَالَى كل مَا يشغلك عَن الله تَعَالَى من أهل أَو مَال أَو ولد فَهُوَ عَلَيْك مشؤوم
وَقَالَ من أحسن فِي ليله كوفئ فِي نَهَاره وَمن أحسن فِي نَهَاره كوفئ فِي ليله
وَقَالَ اخْتلف الْمَشَايِخ فِي حَقِيقَة الزّهْد وَأَنا أَقُول إِن الزّهْد ترك مَا يشغلك عَن الله تَعَالَى
তার কথাগুলো আমার অন্তরে গেঁথে রইল যতক্ষণ না আমি আমার বাড়িতে ফিরে গেলাম এবং অবাধ্যতার সরঞ্জামসমূহ ভেঙে ফেললাম ও (সঠিক) পথ অবলম্বন করলাম।
ইমাম আল-গাযালী 'আল-ইহয়া' গ্রন্থে বলেছেন যে, বর্ণিত আছে এই ঘটনাটি মালিক বিন দিনারের কাছে বলা হলে তিনি বললেন: "একটি চড়ুই পাখি বাজপাখিকে শিকার করেছে।"
জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বান্দা কোন জিনিসের মাধ্যমে তার রবের সবচেয়ে বেশি নৈকট্য লাভ করতে পারে? তিনি বললেন: "আল্লাহ যেন তোমার অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এমতাবস্থায় যে, তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে তিনি ছাড়া আর অন্য কাউকে চাও না।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: পরিবার-পরিজন, সম্পদ কিংবা সন্তান-সন্তুতির মধ্য থেকে যা কিছুই তোমাকে আল্লাহ তাআলা থেকে বিমুখ করে রাখে, তা তোমার জন্য অশুভ।
তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি তার রাতে উত্তম আমল করবে, তাকে তার দিনে প্রতিদান দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তার দিনে উত্তম আমল করবে, তাকে তার রাতে প্রতিদান দেওয়া হবে।
তিনি বলেছেন: যুহদ বা কৃচ্ছ্রসাধনের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে মাশায়েখগণ মতভেদ করেছেন; তবে আমি বলি যে, যুহদ হলো আল্লাহ তাআলা থেকে বিমুখকারী প্রতিটি বিষয় বর্জন করা।