(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: -)
الضعفاء لأبي نعيم   (أبو نعيم الأصبهاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الضعفاء

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430هـ)

المحقق: فاروق حمادة

الناشر: دار الثقافة - الدار البيضاء

الطبعة: الأولى، 1405 - 1984

عدد الصفحات: 167

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু নুআইম রচিত আদ-দুয়াফা   (আবু নুআইম আল-আসফাহানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আদ-দুয়াফা

লেখক: আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুসা ইবনে মিহরান আল-আসফাহানি (মৃত ৪৩০ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ফারুক হামাদা

প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ - কাসাব্লাঙ্কা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫ - ১৯৮৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنَا الشَّيْخ الْجَلِيل أَبُو الْحسن مَسْعُود بن أبي مَنْصُور بن مُحَمَّد بن الْحسن الْخياط يعرف بالجمال بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ غير مرّة بأصبهان قلت لَهُ أخْبركُم الشَّيْخ أَبُو عَليّ الْحسن بن أَحْمد بن الْحسن الْحداد قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنت تسمع فِي الْخَامِس وَالْعِشْرين من شعْبَان سنة أَربع عشرَة وَخَمْسمِائة فَأقر بِهِ أخبرنَا الشَّيْخ الامام الْحَافِظ أَبُو نعيم احْمَد بن عبد الله بن احْمَد بن إِسْحَاق رحمه الله قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي شهر رَمَضَان سنة سبع وَعشْرين وَأَرْبَعمِائَة قَالَ الْحَمد لله الْقَدِيم الأول الدَّائِم الْبَاقِي الَّذِي لَهُ الْأَسْمَاء الْحسنى والمدائح العلى الَّذِي بتوفيقه رشد المرشدون وبخذلانه غوى الْغَاوُونَ انْفَرد عَن سمات الْحَدث وَبَان بأوصافه وأفعاله عَن مُسَاوَاة النظراء ومداناة الشُّرَكَاء فَهُوَ بِجَمِيعِ صِفَاته قديم وَهُوَ فِي جَمِيع أَفعاله حَكِيم وَهُوَ الْعَزِيز الرَّحِيم أستعين بِهِ استعانة من لَا يجد مفرا مِنْهُ الا اليه وَلَا معول لَهُ فِي دَرك بغيته الا عَلَيْهِ وأستهديه بهداه الَّذِي أنعم بِهِ على من أحب من خلقه وأستعيذ بِهِ من الضَّلَالَة الَّتِي تعمى من الْوُصُول اليه وتصد من الْمعرفَة بِهِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ আবুল হাসান মাসউদ ইবন আবি মনসুর ইবন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-খইয়াত, যিনি আল-জাম্মাল নামে পরিচিত—ইসফাহানে তাঁর নিকট আমার একাধিকবার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে কি শায়খ আবু আলী আল-হাসান ইবন আহমদ ইবনুল হাসান আল-হাদ্দাদ সংবাদ দিয়েছেন যখন পাঁচশত চৌদ্দ হিজরী সনের পঁচিশে শাবান তারিখে তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন? অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম হাফিজ আবু নুয়াইম আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ), চারশত সাতাশ হিজরী সনের রমজান মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি, আদি, চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর; যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ প্রশংসাসমূহ; যাঁর তাওফিকের মাধ্যমেই পথপ্রদর্শিতগণ সঠিক পথ পেয়েছেন এবং যাঁর লাঞ্ছিত করার কারণে পথভ্রষ্টগণ পথভ্রষ্ট হয়েছে। তিনি নশ্বরতার চিহ্নসমূহ থেকে একক ও মুক্ত এবং তাঁর গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে তিনি সদৃশদের সমকক্ষতা এবং শরীকদের সংস্পর্শ থেকে পৃথক। তিনি তাঁর সকল গুণাবলীতে অনাদি এবং তাঁর সকল কার্যে প্রজ্ঞাময়; আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। আমি তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন এক ব্যক্তির সাহায্য প্রার্থনার ন্যায়, যে তাঁর নিকট ব্যতীত অন্য কোথাও পালানোর জায়গা পায় না এবং নিজের উদ্দেশ্য অর্জনে তিনি ব্যতীত যাঁর আর কোনো ভরসা নেই। আমি তাঁর নিকট সেই হিদায়াত কামনা করছি যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাঁদের ভালোবাসেন তাঁদের ধন্য করেছেন; এবং আমি তাঁর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সেই পথভ্রষ্টতা থেকে যা তাঁর নিকট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অন্ধ করে দেয় এবং তাঁর পরিচয় লাভ থেকে বাধা প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وأسأله ان يصلى على النَّبِي صلى الْمُنْتَخب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وعَلى جَمِيع أنبيائه وَرُسُله ثمَّ انى نظرت وفقك الله فَرَأَيْت أصُول الْحق الَّتِي توصل بِأَهْلِهَا الى الْحق ثَلَاثَة أَنْوَاع كتاب وَسنة وَالْجِمَاع الْأمة فَوجدت الْكتاب آمرا بالانتهاء الى قبُول مَا وَردت بِهِ السّنة وزاجرا عَمَّا زجرت عَنهُ السّنة قَالَ الله عز وجل وَمَا كَانَ لمُؤْمِن وَلَا مُؤمنَة إِذا قضى الله وَرَسُوله أمرا ان يكون لَهُم الْخيرَة من أَمرهم وَمن يعْص الله وَرَسُوله فقد ضل ضلالا مُبينًا وَقَالَ من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله وَقَالَ يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَرَسُوله وَلَا توَلّوا عَنهُ وَأَنْتُم تَسْمَعُونَ وَقَالَ فَلَا وَرَبك لَا يُؤمنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوك فِيمَا شجر بَينهم الْآيَة وَقَالَ وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا وَقَالَ ان الَّذين يُبَايعُونَك إِنَّمَا يبايعون الله فِي
আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি মনোনীত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সকল নবী ও রাসূলের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমি লক্ষ্য করলাম—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—এবং দেখলাম যে হকের মূলনীতিসমূহ যা তার অনুসারীদেরকে সত্য পর্যন্ত পৌঁছায় তা তিন প্রকার: কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমা। ফলে আমি কিতাবকে সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে তা গ্রহণ করার নির্দেশদাতা হিসেবে পেলাম এবং সুন্নাহ যা থেকে নিষেধ করেছে তা থেকে বারণকারী হিসেবে পেলাম। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" তিনি আরও বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং শোনার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।" তিনি আরও বলেছেন: "সুতরাং আপনার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। তিনি আরও বলেছেন: "রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বায়আত গ্রহণ করে..."
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৫)
آيَات كَثِيرَة أَن مُتَابعَة الرَّسُول وطاعته طَاعَة لله قَالَ الله عز وجل من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله وَمن يعْص الله وَرَسُوله فقد ضل ضلالا مُبينًا وَقَالَ فليحذر الَّذين يخالفون عَن امْرَهْ ان تصيبهم فتْنَة أَو يصيبهم عَذَاب أَلِيم فَلَمَّا وَجب طَاعَته ومتابعته لزم كل عَاقل ومخاطب الِاجْتِهَاد فِي التَّمْيِيز بَين صَحِيح أخباره وَسَقِيم آثاره وان يبْذل مجهوده فِي معرفَة ذَلِك واقتباس سنته وشريعته من الطّرق المرضية وَالْأَئِمَّة المهدية وَكَانَ الْوُصُول الى ذَلِك مُتَعَذر الا بِمَعْرِِفَة الروَاة والفحص عَن أَحْوَالهم وأديانهم والكشف والبحث عَن صدقهم وكذبهم وإتقانهم وضبطهم وضعفهم ووهائهم وخطئهم وَذَلِكَ ان الله عز وجل جعل أهل الْعلم دَرَجَات وَرفع بَعضهم على بعض وَلم يرفع بَعضهم الا وَخص من رَفعه من دونه بِمَنْزِلَة سنية ومرتبة بهية فالمراتب والمنازل مِنْهُ مواهب اختصهم بهَا دون الآخرين فَلذَلِك وَجب التَّمْيِيز بَينهم والبحث عَن أَحْوَالهم ليُعْطى كل ذِي فضل فَضله وَينزل كل وَاحِد مِنْهُم منزلَة الَّتِي أنزلهُ بهَا الممتن عَلَيْهِ والمنعم لَدَيْهِ

(ذكر الْمَأْثُور عَن سُول الله)

صلى الله عليه وسلم من أخباره بحدوث الِاخْتِلَاف وإيصائه عليه السلام بِلُزُوم سنته وَسنة المهديين من خلفائه
বহু আয়াত রয়েছে যে, রাসূলের অনুসরণ এবং তাঁর আনুগত্য করা আল্লাহরই আনুগত্য। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়।" তিনি আরও বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নেমে আসতে পারে।" যখন তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ ওয়াজিব হলো, তখন প্রত্যেক বিবেকবান ও সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য তাঁর সহীহ সংবাদসমূহ এবং দুর্বল বর্ণনাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে আপ্রাণ চেষ্টা করা অপরিহার্য হয়ে পড়ল। এবং এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে এবং সন্তোষজনক পথ ও হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের নিকট থেকে তাঁর সুন্নাহ ও শরীয়ত আহরণ করতে নিজ প্রচেষ্টা ব্যয় করা আবশ্যক হলো। আর বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা, তাঁদের অবস্থা ও দ্বীনদারী যাচাই করা এবং তাঁদের সততা, মিথ্যাচার, নির্ভুলতা, মুখস্থশক্তি, দুর্বলতা, অক্ষমতা ও ভুলভ্রান্তি উন্মোচন ও অনুসন্ধান করা ছাড়া সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ জ্ঞানীদের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন এবং তাঁদের একজনকে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি যাঁকে উন্নীত করেছেন, তাঁকে তাঁর অধস্তনদের তুলনায় এক উচ্চমর্যাদা ও মহিমান্বিত স্তরে ভূষিত করেছেন। সুতরাং এই স্তর ও পদমর্যাদাগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিশেষ অনুগ্রহ, যা দ্বারা তিনি অন্যদের বাদ দিয়ে তাঁদেরকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। এই কারণেই তাঁদের মধ্যে পার্থক্য করা এবং তাঁদের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা আবশ্যক হয়েছে, যাতে প্রত্যেক মর্যাদাশীল ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা যায় এবং তাঁদের প্রত্যেককে সেই স্তরে স্থান দেওয়া যায় যেখানে মহান অনুগ্রহকারী ও নেয়ামতদাতা আল্লাহ তাঁদেরকে আসীন করেছেন।

(আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের উল্লেখ)

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে মতভেদ সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে প্রদানকৃত সংবাদসমূহ এবং তাঁর ও তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে তাঁর করা অসিয়ত সম্পর্কিত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৬)
حَدثنَا أَبُو الْقَاسِم حبيب بن الْحسن وفاروق بن عبد الله وَسليمَان بن احْمَد فِي آخَرين قَالُوا أخبرنَا أَبُو مُسلم إِبْرَاهِيم بن عبد الله حَدثنَا أَبُو عَاصِم النَّبِيل ح وَحدثنَا أَبُو بكر عَمْرو بن حمدَان حَدثنَا بن شيرويه حَدثنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم أخبرنَا عِيسَى بن يُونُس حَدثنَا ثَوْر بن يزِيد عَن خَالِد بن معدان عَن عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو السّلمِيّ عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة قَالَ صلى بِنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صَلَاة الصُّبْح ثمَّ أقبل علينا بِوَجْهِهِ فوعظنا موعظة بليغة ذرفت مِنْهَا الاعين ووجلت مِنْهَا الْقُلُوب فَقَالَ قَائِل يَا رَسُول الله كَأَنَّهَا موعظة مُودع فأوصنا قَالَ أوصيكم بتقوى الله والسمع وَالطَّاعَة وان كَانَ عبدا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ من يَعش مِنْكُم بعدِي فسيرى اخْتِلَافا كثيرا فَعَلَيْكُم بسنتى وَسنة الْخُلَفَاء من بعدِي الرَّاشِدين المهديين وعضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل بِدعَة ضَلَالَة هَذَا حَدِيث جيد صَحِيح من حَدِيث الشاميين وَقد روى هَذَا الحَدِيث عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة ثَلَاثَة من تَابِعِيّ الشَّام

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম হাবীব ইবনুল হাসান, ফারূক ইবনু আব্দুল্লাহ এবং সুলাইমান ইবনু আহমাদ সহ আরও অনেকে। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম ইবরাহীম ইবনু আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম আন-নাবীল। (হাঁ) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আমর ইবনু হামদান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু শিরওয়াইহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনু ইবরাহীম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবনু ইউনুস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ছাওর ইবনু ইয়াযীদ, তিনি খালিদ ইবনু মা‘দান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আমর আস-সুলামী থেকে, তিনি আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমাদের দিকে তাঁর চেহারা মুবারক ফিরালেন এবং আমাদের এক অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও ফলপ্রসূ উপদেশ দিলেন, যাতে চক্ষুসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি যেন এক বিদায়ী উপদেশ, সুতরাং আমাদের অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং (নেতার কথা) শোনার ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশী ক্রীতদাসও হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে অবশ্যই আঁকড়ে ধরবে এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি বিদ‘আতই হলো পথভ্রষ্টতা। এটি শামবাসীদের বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে একটি উত্তম ও সহীহ হাদীস। আর এই হাদীসটি আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ থেকে শামের তিনজন তাবিঈ বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৭)
معروفين مشهورين عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو السّلمِيّ وَحجر بن حجر وَيحيى بن المطاع بروايات مُخْتَلفَة فتلقت الهداة الْعُقَلَاء وَصِيَّة نَبِيّهم صلى الله عليه وسلم بِالْقبُولِ ولزموا التوطين على سنته وَسنة الهداة المرشدة من الْخُلَفَاء فَلم يَرْغَبُوا عَنْهَا بل علمُوا ان الثُّبُوت عَلَيْهَا غير مُمكن الا بتتبع مَا سنه عليه السلام وسنته بعده أَئِمَّة الْهدى الَّذين هم خلفاؤه فِي أمته فتركوا الِاشْتِغَال بهواجس النُّفُوس وبخواطر الْقُلُوب وَمَا يتَوَلَّد من الشُّبُهَات الَّتِي تولده آراء النُّفُوس وقضايا الْعُقُول خوفًا من أَن يزيغوا عَن المحجة الَّتِي فارقهم عَنْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الَّذِي شبه لَيْلهَا بنهارها مَعَ مَا جَاءَهُم عَن الله عز وجل من الْوَعيد البليغ الْمُصَرّح بِنَفْي الْإِيمَان عَمَّن خَالفه أَو طعن على احكامه وَلم تطب نَفسه بِالتَّسْلِيمِ لَهُ وَذَلِكَ مَا حَدثنَا أَبُو بكر بن خَلاد حَدثنَا احْمَد بن إِبْرَاهِيم بن ملْحَان حَدثنَا يحيى بن بكير حَدثنِي اللَّيْث بن سعد عَن بن شهَاب عَن عُرْوَة بن الزبير ان رجلا من الْأَنْصَار خَاصم الزبير عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي شراج الْحرَّة الَّتِي يسقون بهَا النّخل فَقَالَ

পরিচিত ও প্রসিদ্ধ আব্দুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী, হুজর বিন হুজর এবং ইয়াহইয়া বিন আল-মুতা‘ হতে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনায় (উক্ত হয়েছে যে), বুদ্ধিমান পথপ্রদর্শকগণ তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়ত কবুল করে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা তাঁর সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশিদীনের (হেদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাদের) সুন্নাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকাকে আবশ্যক করে নিয়েছেন। তাঁরা এ থেকে বিমুখ হননি, বরং তাঁরা অবগত ছিলেন যে, তাঁর (রাসূলুল্লাহর) প্রবর্তিত সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী হিদায়াতের ইমামগণ—যাঁরা তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত—তাঁদের সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণ ছাড়া হকের ওপর অটল থাকা সম্ভব নয়। ফলে তাঁরা নফসের কুমন্ত্রণা, অন্তরের খেয়ালখুশি এবং মানুষের মনগড়া মত ও বুদ্ধিপ্রসূত যুক্তি থেকে উদ্ভূত সংশয়সমূহ নিয়ে লিপ্ত থাকা বর্জন করেছেন; এই ভয়ে যে, পাছে তাঁরা সেই উজ্জ্বল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যান, যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের রেখে গিয়েছিলেন এবং যার রাতও ছিল তাঁর দিনের ন্যায় (আলোকিত)। উপরন্তু তাঁদের নিকট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই কঠোর হুঁশিয়ারি পৌঁছেছিল, যেখানে তাঁর (রাসূলের) বিরুদ্ধাচরণকারী কিংবা তাঁর বিধানের সমালোচনা বা দোষত্রুটি অন্বেষণকারী এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণে বিমুখ ব্যক্তির ঈমান নাকচ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে। আর এটিই আমাদের নিকট আবু বকর বিন খাল্লাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন ইবরাহিম বিন মিলহান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট লায়স বিন সাদ বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক আনসারী ব্যক্তি হাররার সেই নালা—যা দিয়ে তাঁরা খেজুর গাছে পানি সেচ দিতেন—তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যুবাইরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৮)
للأنصارى سرح المَاء فَأبى عَلَيْهِم فاختصموا عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم للزبير اسْقِ يَا زبير ثمَّ أرسل الى جَارك فَغَضب الْأنْصَارِيّ فَقَالَ يَا رَسُول الله أَن كَانَ بن عَمَّتك فَتَلَوَّنَ وَجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ قَالَ يَا زبير اسْقِ ثمَّ احْبِسْ حَتَّى يرجع الى الْجدر فَقَالَ الزبير وَالله انى لأحسب هَذِه الْآيَة نزلت فِي ذَلِك فَلَا وَرَبك لَا يُؤمنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوك فِيمَا شجر بَينهم وَقد روى الشَّيْخ الامام هَذَا الحَدِيث من وُجُوه كَثِيرَة وَقد علمُوا علما يَقِينا ان نَبِيّهم لَا يَأْمُرهُم باتباعه وَالْإِقَامَة على مَا سنه لَهُم ولأمته حَتَّى يَأْمر بالتبليغ عَنهُ من شهده وعاينه الى من غَابَ عَنهُ وَلم يشهده وَذَلِكَ مَا حفظ عَنهُ كثير من صحابته فِي مَوَاقِف شَتَّى وخطب ذَوَات عدد من ذَلِك قَوْله فليبلغ الشَّاهِد مِنْكُم الْغَائِب بعد ان قررهم بالتبليغ لَهُم عَن الله عز وجل كلفهم الابلاغ عَنهُ وَهُوَ مَا حَدثنَا بِهِ

জনৈক আনসারীর পানির নালা ছিল, তিনি তাদের বাধা দিলেন। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিবাদ নিয়ে উপস্থিত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাইরকে বললেন, "হে জুবাইর! তুমি সেচ করো, অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর নিকট পানি ছেড়ে দাও।" এতে আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণে (আপনি কি এমন ফয়সালা দিলেন)?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারার রঙ পরিবর্তন হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, "হে জুবাইর! তুমি সেচ করো এবং পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা আইল পর্যন্ত ফিরে আসে।" জুবাইর বললেন, "আল্লাহর শপথ! আমি মনে করি এই আয়াতটি এ বিষয়েই অবতীর্ণ হয়েছে: 'না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদে তারা আপনাকে বিচারক মেনে নেয়'।" শাইখুল ইমাম এই হাদিসটি অনেক দিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা নিশ্চিতভাবে অবগত ছিলেন যে, তাদের নবী তাদের জন্য এবং তাঁর উম্মতের জন্য যা সুন্নাত করেছেন তা অনুসরণ ও তা পালন করার আদেশ দিয়েছেন, যতক্ষণ না তিনি উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের আদেশ দিয়েছেন তাঁর পক্ষ থেকে অনুপস্থিত ও যারা উপস্থিত ছিল না তাদের নিকট তা পৌঁছে দিতে। আর এটিই তাঁর অনেক সাহাবী বিভিন্ন স্থানে এবং বহু সংখ্যক ভাষণে তাঁর থেকে সংরক্ষণ করেছেন। এর মধ্যে তাঁর বাণী হলো: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের নিকট প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পণ করেছেন। আর এটিই তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৪৯)
أَبُو بكر مُحَمَّد بن جَعْفَر بن الْهَيْثَم حَدثنَا مُحَمَّد بن احْمَد بن أبي الْعَوام حَدثنَا أَبُو عَامر حَدثنَا قُرَّة بن خَالِد عَن مُحَمَّد بن سِيرِين قَالَ حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن أبي بكرَة عَن أَبِيه قَالَ خَطَبنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم النَّحْر فَقَالَ لَهُم اللَّهُمَّ هَل بلغت قَالُوا نعم قَالَ فليبلغ الشَّاهِد مِنْكُم الْغَائِب فَرب مبلغ أوعى من سامع واكد صلى الله عليه وسلم فِي أمره إيَّاهُم بالتبليغ فَقَالَ بلغُوا وَلَو آيَة وَقَالَ نضر الله امْرأ سمع منا حَدِيثا فحفظه حَتَّى يبلغهُ الى من هُوَ احفظ مِنْهُ ويبلغه من هُوَ احفظ مِنْهُ الى من هُوَ افقه مِنْهُ فَرب حَامِل فقه لَيْسَ بفقيه وَرَوَاهُ زيد بن ثَابت أَيْضا
আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-হাইসাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবি আল-আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুররাহ বিন খালিদ মুহাম্মদ বিন সিরীনের সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন আবু বাকরাহ আমার নিকট তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কুরবানির দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। অতঃপর তিনি তাঁদের বলেন: "হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" তাঁরা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ, তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক সময় যার নিকট সংবাদ পৌঁছানো হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশের বিষয়ে তাকিদ প্রদান করে বলেন: "তোমরা পৌঁছে দাও, যদি তা একটি আয়াতও হয়।" তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের নিকট থেকে কোনো হাদীস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী; আর সেই ব্যক্তি যেন তা তার চেয়েও বিজ্ঞ (ফকীহ) ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক ইলম বহনকারী নিজে ফকীহ বা বিজ্ঞ নন।" এটি যায়িদ বিন সাবিত থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫০)
وكما رغب عليه السلام فِي الابلاغ عَنهُ وحث عَلَيْهِ أَو عد كاتمي بَيَانه عَظِيم الْوَعيد وبليغ التخويف حَدثنَا أَبُو عبد الله احْمَد بن بنْدَار الْفَقِيه حَدثنَا أَبُو بكر احْمَد بن أبي عَاصِم حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الحزامى حَدثنَا عبد الله بن وهب عَن عبد الله بن عَيَّاش عَن أبي عبد الرَّحْمَن الحبلى عَن عبد الله بن عَمْرو بن العاصى ان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من كتم علما الجمه الله يَوْم الْقِيَامَة بلجام من نَار وَاعْلَم صلى الله عليه وسلم ان هَذَا الْعلم الَّذِي اوعد كاتمه هُوَ مَا يتقنه ويحفظه وَهُوَ مَا روى أَبُو هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من رجل حفظ علما فَسئلَ عَنهُ فكتمه الا جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة مُلجمًا بلجام من نَار وَهُوَ الْعلم النافع الَّذِي يسْتَدلّ بِهِ الْمَرْء على نفع دينه وَلُزُوم شَرِيعَته وَرَفعه من وُجُوه أُخْرَى غير مَا ذكرنَا وَلما ان أَقَامَهُ الله صلى الله عليه وسلم سفيرا بَينه وَبَين خلقه وَجعله أَمينا على خلقه ومؤتمنا فيهم اطلعه الله عز وجل على كثير من أَنْوَاع الغيوب والأشياء الكائنة بعده ان أعلمهم فِي أمته من يكذب عَلَيْهِ ويخبر عَنهُ بالأباطيل فَبَالغ صلى الله عليه وسلم لمن كذب عَلَيْهِ فِي حَيَاته وَبعد وَفَاته حَدثنَا أَبُو بكر بن خَلاد حَدثنَا الْحَارِث بن أبي أُسَامَة حَدثنَا

যেমন তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর পক্ষ থেকে (বাণী) পৌঁছে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এর ওপর উদ্বুদ্ধ করেছেন, তেমনিভাবে তিনি এর বর্ণনা গোপনকারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি ও চরম ভীতির সংবাদ দিয়েছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন বান্দার আল-ফকিহ, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন আবি আসিম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আল-মুনযির আল-হিযামি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আইয়াশ থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবলি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ইলম গোপন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানিয়েছেন যে, এই ইলম যার গোপনকারীর প্রতি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা হলো যা সে আয়ত্ত করেছে এবং মুখস্থ করেছে। এটিই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো ইলম মুখস্থ করল, অতঃপর সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, তবে সে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হবে।" আর এটি হলো সেই উপকারী ইলম যার মাধ্যমে মানুষ তার দ্বীনের উপকারিতা এবং শরিয়তের আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রমাণ লাভ করে এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও অন্য দিক থেকেও এর মর্যাদা সমুন্নত করা হয়েছে। আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর সৃষ্টির ওপর বিশ্বস্ত ও তাদের মাঝে আমানতদার করেছেন, তাই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁকে অদৃশ্যের নানাবিধ প্রকার এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে সংঘটিতব্য বিষয়াবলী সম্পর্কে অবগত করেছেন; যেন তিনি তাঁর উম্মতকে এমন ব্যক্তিদের সম্পর্কে অবহিত করেন যারা তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করবে এবং তাঁর পক্ষ থেকে অসার ও অলীক সংবাদ প্রদান করবে। ফলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পরে যারা তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করবে তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন খাল্লাদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন আবি উসামা থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন—

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫১)
قُتَيْبَة بن سعيد حَدثنَا لَيْث بن سعد عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن يحيى بن مَيْمُون الْحَضْرَمِيّ انا أَبَا مُوسَى الغافقي حدث ان عقبَة بن عَامر الْجُهَنِيّ يحدث على الْمِنْبَر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم انه آخر مَا عهد إِلَيْنَا ان قَالَ عَلَيْكُم بِكِتَاب الله وسترجعون الى قوم يحبونَ الحَدِيث عَنى فَمن قَالَ عَنى مَا لم أقل فليبتوأ مَقْعَده من النَّار وَمن حفظ شَيْئا فليحدث بِهِ وَرفع هَذَا الحَدِيث بِأَلْفَاظ مُخْتَلفَة فَتوجه الْوَعيد على كل قَائِل مَا لم يقل عَامِدًا كَانَ أَو غير عَامِد وَامْتنع عُثْمَان بن عَفَّان عَن كَثْرَة الرِّوَايَة لهَذَا الْمَعْنى حَدثنَا أَبُو بكر بن خَلاد قَالَ حَدثنَا الْحَارِث بن أبي أُسَامَة حَدثنَا عبيد الله بن مُحَمَّد بن حَفْص التيمى حَدثنَا عبد الْوَاحِد بن زِيَاد حَدثنَا صَدَقَة بن الْمثنى حَدثنِي جدي ريَاح بن الْحَارِث قَالَ سَمِعت سعيد بن زيد يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ان

কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবনে সাদ আমাদের নিকট আমর ইবনে হারিস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুন আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু মুসা আল-গাফেকি বর্ণনা করেছেন যে, উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করছিলেন যে, তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট সর্বশেষ অঙ্গীকার ছিল এই যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো। শীঘ্রই তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাবে যারা আমার থেকে হাদিস বর্ণনা করতে পছন্দ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু মুখস্থ করবে (সঠিকভাবে স্মরণ রাখবে), সে যেন তা বর্ণনা করে।" এই হাদিসটি বিভিন্ন শব্দে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, ফলে ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, যে ব্যক্তিই এমন কিছু বলবে যা তিনি বলেননি, তার ওপর এই হুঁশিয়ারি আপতিত হবে। আর এই অর্থ অনুধাবন করেই উসমান ইবনে আফফান অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন। আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হারিস ইবনে আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাফস আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাদাকা ইবনে আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার দাদা রিয়াহ ইবনে আল-হারিস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনে যায়েদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়..."

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫২)
كذب عَليّ لَيْسَ ككذب على غيرى من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار وَرفع من طَرِيق آخر اشْتَدَّ غضب الله على من كذب عَليّ مُتَعَمدا أَو أَتَى بَهِيمَة وَرفع من طَرِيق آخر ان من أعظم الْقرى ان يدعى الرجل الى غير أَبِيه أَو يرى عَيْنَيْهِ فِي الْمَنَام مَا لم تريا أَو يقل على مَا لم أقل وَقد صَحَّ عَنهُ صلى الله عليه وسلم من روى عَنهُ شَيْئا يرى انه كذب فقد اشْترك فِي الْكَذِب مَعَ من بدأنا بِالْكَذِبِ عَلَيْهِ وَقَالَ صلى الله عليه وسلم من روى عني حَدِيثا وَهُوَ يرى أَنه كذب فَهُوَ فَهُوَ أحد الْكَاذِبين رَفعه أَو الْكَاذِبين وَقَالَ صلى الله عليه وسلم كفى بِهِ إِثْمًا يحدث بِكُل مَا سمع رَفعه وَقَالَ صلى الله عليه وسلم كَبرت خِيَانَة ان تحدث أَخَاك حَدِيثا هُوَ لَك بِهِ مُصدق وَأَنت لَهُ بِهِ كَاذِب رَفعه

আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করে অথবা পশুর সাথে কামাচারে লিপ্ত হয়, তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ অত্যন্ত কঠোর হয়। অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় মিথ্যাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তির নিজ পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করা, অথবা স্বপ্নে নিজের চোখে যা দেখেনি তা দেখার দাবি করা, অথবা আমার নামে এমন কিছু বলা যা আমি বলিনি। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবে যা মিথ্যা বলে মনে হয়, সে ওই ব্যক্তির সাথে মিথ্যায় অংশীদার হলো যে তাঁর নামে মিথ্যারোপ শুরু করেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে তা মিথ্যা, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: একজন মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: এটি অনেক বড় খিয়ানত যে, তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে এমন কোনো কথা বললে যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করল, অথচ তুমি তার কাছে মিথ্যা বলছিলে।

(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وروى عَن عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام قَالَ ان أخر من السَّمَاء الى الأَرْض أحب اليه من ان أَبوهُ بِالْكَذِبِ على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَفعه وَذَلِكَ من عَظِيم مَنْزِلَته صلى الله عليه وسلم فِي صَدره ومعرفته بِمَا اسْتَقر فِي قلبه من قبح الْكَذِب عَلَيْهِ فَأَما الصُّدُور والأكابر يَقُولُونَ فِي التَّعْدِيل وَالْجرْح فِي الْعِلَل والتواريخ الَّذِي يكون مبناهم فِيهِ ومقصدهم إبانة أَحْوَال الروَاة فيسقطون من اسقطوه ويعدلون من عدلوه ويجرحون من جرحوه ويضعفون من ضَعَّفُوهُ ويسطون من سطوه أَلا ترى جَوَاب الْأَئِمَّة فِي المسؤولين إيَّاهُم يخْتَلف فَتَارَة يَقُولُونَ ثَبت صَدُوق وَأُخْرَى يَقُولُونَ صَالح وَمرَّة يَقُولُونَ لَا بَأْس بِهِ وَأُخْرَى يَقُولُونَ لَا شَيْء فأجوبتهم تخْتَلف على قدر معرفتهم بِحَال المسؤول فِيهِ فعلى مصنفاتهم وسؤالاتهم يعْتَمد فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل عَن حَمَّاد بن زيد قَالَ كلمنا شُعْبَة فِي أبان بن أبي عَيَّاش وسألناه الْكَفّ عَنهُ فَقَالَ انه وانه فَقُلْنَا نحب ان تمسك عَنهُ فَقَالَ نعم قَالَ حَمَّاد بَيْنَمَا انا فِي الْمنزل فِي يَوْم مطير إِذا شُعْبَة يَخُوض المَاء اسْمَع خوضه فنادانى يَا أَبَا إِسْمَاعِيل يَا أَبَا
আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আকাশ থেকে জমিনে নিক্ষিপ্ত হওয়া আমার কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মিথ্যা বলার চেয়েও অধিক প্রিয়। এটি ছিল তাঁর অন্তরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপের যে জঘন্য রূপ তাঁর হৃদয়ে প্রোথিত ছিল, তারই প্রতিফলন। আর ইমাম ও বরেণ্য পণ্ডিতগণ জারহ-তা'দিল, ইলাল এবং ইতিহাস শাস্ত্রে যা কিছু বলেন, তার মূল ভিত্তি ও উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারীদের প্রকৃত অবস্থা ফুটিয়ে তোলা। তাই তাঁরা যাদের বর্জন করার তাদের বর্জন করেন, যাদের নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করার তাদের নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করেন, যাদের দোষারোপ করার তাদের দোষারোপ করেন, যাদের দুর্বল সাব্যস্ত করার তাদের দুর্বল সাব্যস্ত করেন এবং যাদের সমালোচনা করার তাদের সমালোচনা করেন। আপনি কি দেখেন না যে, জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে ইমামগণের উত্তর ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে? কখনো তাঁরা বলেন, ‘সুদৃঢ় ও সত্যবাদী’, কখনো বলেন, ‘সৎ’, কখনো বলেন, ‘তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই’, আবার কখনো বলেন, ‘সে কিছুই নয়’। জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞানের গভীরতা অনুযায়ী তাঁদের উত্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়। মূলত জারহ-তা'দিলের ক্ষেত্রে তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলি এবং তাঁদের কাছে করা প্রশ্নোত্তরের ওপরই নির্ভর করা হয়। হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা শু'বাকে আবান ইবনে আবি আইয়াশ সম্পর্কে বললাম এবং তাঁর ব্যাপারে চুপ থাকতে অনুরোধ করলাম। তিনি তখন তাঁর নানা দোষের কথা উল্লেখ করলেন। আমরা বললাম, আমরা চাই আপনি তাঁর সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন। তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে’। হাম্মাদ বলেন: একদিন বৃষ্টির দিনে আমি যখন ঘরে ছিলাম, তখন হঠাৎ শু'বাকে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে আসতে দেখলাম—আমি তাঁর হেঁটে আসার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম—এমতাবস্থায় তিনি আমাকে ডেকে বললেন: হে আবু ইসমাইল! হে আবু...!
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৪)
إِسْمَاعِيل فَقَالَ هُوَ ذَا أمضى استعدى على أبان فَقلت لَهُ ألم تضمن لنا ان تمسك عَنهُ فَقَالَ لَا اصبر لَا اصبر وَمضى رَفعه اليه عَن بن سعيد قَالَ سَأَلت شُعْبَة وَالثَّوْري وَمَالك بن أنس وسُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن الرجل يكذب فِي الحَدِيث فَقَالَ كلهم بَين امْرَهْ رَفعه اليه عَن عَفَّان قَالَ كُنَّا عِنْد بن علية فَذكر صَالح المري فَقَالَ رجل لَيْسَ بِثِقَة فَقَالَ رجل آخر اغتبت فَقَالَ إِبْرَاهِيم اسْكُتْ فانما هَذَا دين رَفعه اليه عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق قَالَ سَأَلت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ عَن أصح الْأَسَانِيد فَقَالَ مَالك عَن نَافِع عَن بن عمر رَفعه اليه عَن مُحَمَّد بن سهل بن عَسْكَر قَالَ سَأَلت عبد الرَّزَّاق عَن أصح الْإِسْنَاد فَقَالَ الزهرى عَن عَليّ بن حُسَيْن عَن أَبِيه عَن عَليّ بن أبي طَالب كرم الله وَجهه رَفعه اليه عَن سُلَيْمَان بن حَرْب وَسُئِلَ عَن أصح الْإِسْنَاد فَقَالَ حَمَّاد بن أَيُّوب عَن مُحَمَّد عَن عُبَيْدَة عَن عَليّ
ইসমাইল বললেন: এই তো আমি আবানের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে যাচ্ছি। আমি তাঁকে বললাম: আপনি কি আমাদের নিকট প্রতিশ্রুতি দেননি যে আপনি তাঁর থেকে বিরত থাকবেন? তিনি বললেন: আমি ধৈর্য ধরতে পারছি না, আমি ধৈর্য ধরতে পারছি না; আর তিনি চলে গেলেন। ইবনে সাঈদ থেকে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি শু’বাহ, সাওরী, মালিক বিন আনাস এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে হাদীস বর্ণনায় মিথ্যা বলে। তাঁরা সকলেই বললেন: তার বিষয়টি স্পষ্ট করে দাও। আফফান থেকে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা ইবনে উলাইয়্যাহর নিকট ছিলাম, তখন সালিহ আল-মুররীর আলোচনা করা হলো। এক ব্যক্তি বলল: সে নির্ভরযোগ্য নয়। অন্য এক ব্যক্তি বলল: আপনি গীবত করলেন। তখন ইব্রাহিম বললেন: চুপ করো, কেননা এটিই হলো দ্বীন। মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: মালিক, নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। মুহাম্মদ বিন সাহল বিন আসকার থেকে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রাজ্জাককে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: যুহরী, আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) থেকে। সুলাইমান বিন হারব থেকে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে, আর তাঁকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: হাম্মাদ বিন আইয়ুব, মুহাম্মদ থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী থেকে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَأَنا بعون الله وَحسن توفيقه ذَاكر تَسْمِيَة نفر من الْمَجْرُوحين وساقطي الشَّهَادَة وَذَلِكَ على الْحُرُوف
এবং আমি আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে একদল সমালোচিত এবং সাক্ষ্যদানের অযোগ্য ব্যক্তির নামসমূহ উল্লেখ করছি, যা বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌(الْألف)

 

1 - إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن يحيى الْمدنِي الْأَسْلَمِيّ كَانَ يرى الْقدر ترك حَدِيثه لكذبه ووهائه لَا لفساد مذْهبه وَهُوَ أَخُو أنيس بن أبي يحيى وَكَانَ أنيس ثِقَة قَالَ عَليّ بن عبد الله الْمَدِينِيّ كَذَّاب يَقُول بِالْقدرِ

2 - إِبْرَاهِيم بن الحكم بن أبان الْعَدنِي قَالَ يحيى بن سعيد لَيْسَ بِشَيْء
(আলিফ)

 

১ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মাদানি আল-আসলামি। তিনি কদরের (তাকদীরের অস্বীকারের) মত পোষণ করতেন। তার মিথ্যাচার এবং দুর্বলতার কারণে তার হাদীস বর্জন করা হয়েছে, তার মতবাদের (মাযহাবের) দুর্নীতির জন্য নয়। তিনি উনাইস বিন আবি ইয়াহইয়া-এর ভাই, এবং উনাইস নির্ভরযোগ্য ছিলেন। আলী বিন আবদুল্লাহ আল-মাদিনী বলেছেন: তিনি চরম মিথ্যাবাদী এবং কদরের মতবাদ প্রচার করতেন।

২ - ইবরাহীম বিন আল-হাকাম বিন আবান আল-আদানি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য কেউ নন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৭)
3 - إِبْرَاهِيم بن أبي حَيَّة الْمَكِّيّ وَاسم أبي حَيَّة اليسع بن أسعد عرف فِي رِوَايَته عَن هِشَام بن عُرْوَة وجعفر بن مُحَمَّد الْمَنَاكِير روى عَنهُ قُتَيْبَة بن سعيد

4 - إِبْرَاهِيم بن عبد الْملك الْبَصْرِيّ لَيْسَ بِشَيْء قَالَه عَليّ بن الْمَدِينِيّ

5 - إِبْرَاهِيم بن هدبة المكتنى بِأبي هدبة يروي عَن أنس بن مَالك نُسْخَة روى عَنهُ حميد بن الرّبيع لَا شَيْء

6 - إِبْرَاهِيم بن الْبَراء بن النَّضر بن أنس بن مَالك شيخ بَصرِي حدث بِالشَّام عَن شُعْبَة وَحَمَّاد بن سَلمَة والداروردي بمناكير لَا شَيْء حدثونا عَن بكر بن
3 - ইব্রাহিম বিন আবি হাইয়্যাহ আল-মাক্কি। আর আবি হাইয়্যাহর নাম হলো আল-ইয়াসা বিন আসআদ। হিশাম বিন উরওয়াহ ও জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত তার রেওয়ায়েতসমূহ মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হিসেবে পরিচিত। কুতাইবা বিন সাঈদ তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

4 - ইব্রাহিম বিন আব্দুল মালিক আল-বাসরি। তিনি কিছুই নন (অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রে নির্ভরযোগ্য নন), এটি আলি বিন আল-মাদিনি বলেছেন।

5 - ইব্রাহিম বিন হুদবাহ, যার উপনাম আবু হুদবাহ। তিনি আনাস বিন মালিক থেকে একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেন। হুমাইদ বিন আর-রাবি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি কিছুই নন।

6 - ইব্রাহিম বিন আল-বারা বিন আন-নাদর বিন আনাস বিন মালিক। তিনি একজন বসরি শাইখ। তিনি শাম দেশে শু'বাহ, হাম্মাদ বিন সালামাহ ও আদ-দারাওয়ারদি থেকে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি কিছুই নন। আমাদের নিকট বকর বিন... থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৮)
7 - إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن همام بن أخي عبد الرزق حدث بالموضوعات عَن عَمه روى عَنهُ الشاميون حدثونا عَن بن قُتَيْبَة عَنهُ

8 - إِبْرَاهِيم بن زيد الْأَسْلَمِيّ الرَّاوِي عَن مَالك وَابْن لَهِيعَة بالموضوعات حدث عَنهُ مُحَمَّد بن يزِيد النَّيْسَابُورِي
৭ - ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাম্মাম, যিনি আব্দুর রাজ্জাকের ভ্রাতুষ্পুত্র। তিনি তাঁর চাচার সূত্রে জাল বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন। শামীগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা ইবনে কুতায়বাহর সূত্রে তাঁর থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

৮ - ইবরাহিম ইবনে যাইদ আল-আসলামি। তিনি মালিক এবং ইবনে লাহিয়াহর সূত্রে জাল বিষয়াদি বর্ণনাকারী। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ আন-নাইসাবুরি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
9 - إِبْرَاهِيم بن زَكَرِيَّا الوَاسِطِيّ يعرف بالبزاز روى عَن مَالك وَأبي بكر بن عَيَّاش أَحَادِيث مَنَاكِير روى عَنهُ إِبْرَاهِيم بن رَاشد الأدمِيّ وَابْن مضاء

10 - إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن خَالِد المصيبي روى عَن وَكِيع وحجاج بن مُحَمَّد بالموضوعات حدث عَنهُ غير وَاحِد من الشاميين سَاقِط

11 - إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم أَبُو يحيى الْكُوفِي روى عَن مُخَارق ومطرف قَالَ بن نمير ضَعِيف جدا حدّثنَاهُ أَبُو أَحْمد الغطريفي عَن أَحْمد بن مُوسَى الخواري ثَنَا البُخَارِيّ بِهِ
9 - ইব্রাহিম বিন যাকারিয়া আল-ওয়াসিতি, যিনি আল-বায্যায নামে পরিচিত। তিনি মালিক এবং আবু বকর বিন আয়্যাশ থেকে অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইব্রাহিম বিন রাশিদ আল-আদামি এবং ইবন মাদ্বা বর্ণনা করেছেন।

10 - ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-মুসাইসি। তিনি ওয়াকি এবং হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ থেকে জাল (মাওদু) বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। সিরিয়াবাসীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি পরিত্যক্ত।

11 - ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আবু ইয়াহইয়া আল-কুফি। তিনি মুখারিক এবং মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবন নুমাইর বলেছেন: তিনি অত্যন্ত দুর্বল। আমাদের নিকট এটি আবু আহমদ আল-গাতরিফি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুসা আল-খাওয়ারি থেকে, তিনি ইমাম বুখারি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬০)
12 - إِسْمَاعِيل بن يحيى بن عبيد الله التَّيْمِيّ حدث عَن مسعر وَمَالك بالموضوعات يشمئز الْقلب وينفر من حَدِيثه مَتْرُوك

13 - إِسْمَاعِيل بن أبان أَبُو إِسْحَاق الْكُوفِي لَيْسَ هُوَ بالوراق بل هُوَ الرَّاوِي عَن هِشَام بن عُرْوَة بالأحاديث الْوَاهِيَة مَتْرُوك قَالَه البُخَارِيّ

14 - إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد بن يُوسُف أَبُو هَارُون الجبريني وَيُقَال الفلسطيني روى عَن حبيب كَاتب مَالك وَعمر بن أبي سَلمَة التنيسِي وَالقَاسِم بن سَلام بالموضوعات
১২ - ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহ আত-তায়মি; তিনি মিসআর এবং মালিকের সূত্রে জাল বিষয়াবলী বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত হাদীস থেকে অন্তর সংকুচিত হয় এবং ঘৃণাভরে বিমুখ হয়ে যায়। তিনি পরিত্যক্ত।

১৩ - ইসমাঈল বিন আবান আবু ইসহাক আল-কুফি; তিনি আল-ওয়াররাক নন, বরং তিনি হিশাম বিন উরওয়ার সূত্রে অত্যন্ত দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী। ইমাম বুখারী তাকে পরিত্যক্ত বলেছেন।

১৪ - ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আবু হারুন আল-জাবরিনি, যাকে আল-ফিলিস্তিনিও বলা হয়; তিনি মালিকের লেখক হাবিব, উমর বিন আবি সালামা আত-তিন্নিসি এবং আল-কাসিম বিন সালামের সূত্রে জাল বিষয়াবলী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬১)
15 - إِسْحَاق بن نجيح الْمَلْطِي يضع الحَدِيث فاله يحيى بن سعيد حدث بِبَغْدَاد عَن يحيى أبي كثير وَابْن جريج بالموضوعات يروي عَنهُ عَليّ بن حجر وَغَيره

16 - إِسْحَاق بن بشر أَبُو حُذَيْفَة البُخَارِيّ وَيعرف بالكاهلي حدث عَن مَالك وَالثَّوْري وَابْن جريج بِالْمَنَاكِيرِ والموضوعات حدث بالعراق وبخراسان

17 - إِسْحَاق بن وهب الطهرمسي الْمصْرِيّ الرَّاوِي عَن بن وهب عَن مَالك عَن نَافِع عَن بن عمر لرد دانق حرَام لَا شَيْء

18 - إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الطَّبَرِيّ سَاكن زبيد بِالْيمن روى عَن الفضيل بن عِيَاض وَابْن ع بِأَحَادِيث واهية حدثونا عَن الْمفضل بن مُحَمَّد الجندي عَنهُ
15 - ইসহাক বিন নাজবিহ আল-মালতি হাদিস জাল করত, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ তার ব্যাপারে এমনটিই বলেছেন। সে বাগদাদে ইয়াহইয়া আবু কাসির ও ইবনে জুরাইজের সূত্রে জাল বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছে। তার থেকে আলী বিন হুজর ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

16 - ইসহাক বিন বিশর আবু হুযাইফা আল-বুখারি, সে আল-কাহিলি নামে পরিচিত। সে মালেক, সাওরি ও ইবনে জুরাইজের সূত্রে অগ্রহণযোগ্য ও জাল বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছে। সে ইরাক ও খোরাসানে হাদিস বর্ণনা করেছে।

17 - ইসহাক বিন ওয়াহাব আত-ত্বাহারামাসি আল-মিসরি। ইবনে ওয়াহাব, মালেক, নাফে ও ইবনে উমর এর সূত্রে বর্ণিত 'এক দানিং হারাম ফেরত দেওয়া...' শীর্ষক হাদিসটির বর্ণনাকারী; এটি ভিত্তিহীন।

18 - ইসহাক বিন ইবরাহিম আত-তাবারী, ইয়ামেনের জাবিদ শহরের অধিবাসী। সে ফুযাইল বিন ইয়াদ ও ইবনে উয়াইনা থেকে অত্যন্ত দুর্বল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছে। আল-মুফায্যাল বিন মুহাম্মদ আল-জুন্দি তার সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬২)
19 - أَيُّوب بن سيار الْمدنِي لَا يكْتب حَدِيثه قَالَه عَليّ بن الْمَدِينِيّ

20 - أَيُّوب بن خوط أَبُو أُميَّة الْبَصْرِيّ لَا يكْتب حَدِيثه تَركه عبد الله بن الْمُبَارك

21 - أبان بن أبي حَفْصَة أَبُو عبد الرَّحْمَن الْكُوفِي روى عَن أبي إِسْحَاق السبيعِي مُنكر الحَدِيث
১৯ - আইয়ুব বিন সাইয়্যার আল-মাদানি, তার হাদিস লেখা যাবে না; এটি আলি বিন আল-মাদিনি বলেছেন।

২০ - আইয়ুব বিন খুওয়াত আবু উমাইয়্যাহ আল-বাসরি, তার হাদিস লেখা যাবে না; আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক তাকে বর্জন করেছেন।

২১ - আবান বিন আবি হাফসাহ আবু আবদুর রহমান আল-কুফি, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি মুনকারুল হাদিস (অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৩)
22 - أبان بن نهشل أَبُو الْوَلِيد الْبَصْرِيّ روى عَن الْأَعْمَش وَإِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد الموضوعات روى عَنهُ عِيسَى بن مُوسَى غُنْجَار

23 - الْأَحْوَص بن حَكِيم الْعَنسِي شَامي قَالَ عَليّ بن الْمَدِينِيّ لَا يكْتب حَدِيثه وَكَذَلِكَ

24 - الْأسد بن عَمْرو أَبُو الْمُنْذر البَجلِيّ كُوفِي صَاحب رَأْي لَا يكْتب حَدِيثه
২২ - আবান ইবনে নাহশাল আবুল ওয়ালিদ আল-বাসরি। তিনি আল-আমাশ এবং ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে জাল হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ঈসা ইবনে মুসা গুনজার বর্ণনা করেছেন।

২৩ - আহওয়াস ইবনে হাকিম আল-আনসি, শামি। আলি ইবনুল মাদিনি বলেছেন, তাঁর হাদীস লেখা হবে না এবং একইভাবে—

২৪ - আসাদ ইবনে আমর আবুল মুনজির আল-বাজালি, কুফি; তিনি রায় (সুচিন্তিত অভিমত) পন্থী ছিলেন, তাঁর হাদীস লেখা হবে না।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৪)
25 - الْأَزْوَر بن غَالب يروي عَن سُلَيْمَان التَّيْمِيّ وَغَيره مُنكر الحَدِيث قَالَه البُخَارِيّ وَكَذَلِكَ

26 - الأصرم بن حَوْشَب الْهَمدَانِي روى عَن قُرَّة وَزِيَاد بن سعد لَا شَيْء

27 - أَحْمد بن الْحسن بن الْقَاسِم الْكُوفِي حدث عَن حَفْص بن غياث ووكيع الْمَنَاكِير حدث عَنهُ مُحَمَّد بن الْمسيب الأرغياني وَغَيره
২৫ - আল-আযওয়ার বিন গালিব। তিনি সুলাইমান আত-তাইমী ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী তাকে 'মুনকারুল হাদীস' (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী) বলেছেন এবং অনুরূপভাবে -

২৬ - আল-আছরাম বিন হাওশাব আল-হামদানী। তিনি কুররাহ ও যিয়াদ বিন সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি গুরুত্বহীন।

২৭ - আহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-কাসিম আল-কুফী। তিনি হাফস বিন গিয়াস ও ওয়াকী থেকে মুনকার (অস্বীকৃত) বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন। তার থেকে মুহাম্মাদ বিন আল-মুসাইয়িব আল-আরগিয়ানী ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৫)
28 - أَحْمد بن الْحسن بن أبان الْمصْرِيّ الآبلي روى عَن أبي عَاصِم النَّبِيل وحجاج بن الْمنْهَال وَغَيرهمَا بِالْمَنَاكِيرِ لَا شَيْء

29 - أَحْمد بن عبد الله بن خَالِد الجوباري الْهَرَوِيّ الْوَاضِع على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم غير حَدِيث سَاقِط مَتْرُوك

30 - أَحْمد بن مُحَمَّد بن غَالب الْمُذكر الْبَغْدَادِيّ غُلَام الْخَلِيل روى عَن الثِّقَات بِأَحَادِيث واهية مَوْضُوعَة لَهُ صيت فِي الصيت والورع لَا شَيْء

31 - أَحْمد بن مُحَمَّد بن الصَّلْت أَبُو الْعَبَّاس الْحمانِي يروي عَن بن أبي أويس والقعنبي وَعَن شُيُوخ لم يلقهم بالمشاهير والمناكير لَا شَيْء مَاتَ بعد الثلاثمائة
২৮ - আহমদ বিন আল-হাসান বিন আবান আল-মিসরি আল-আবেলি। তিনি আবু আসিম আন-নাবিল, হাজ্জাজ বিন আল-মিনহাল এবং অন্যদের থেকে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন।

২৯ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-জওবারি আল-হারাউই। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে একাধিক হাদিস জালকারী; তিনি ভিত্তিহীন ও পরিত্যক্ত।

৩০ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-মুজাক্কির আল-বাগদাদি, গোলাম খলিল। তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে দুর্বল ও বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করেছেন। খ্যাতি ও পরহেজগারির ক্ষেত্রে তার সুখ্যাতি থাকলেও তিনি কিছুই নন।

৩১ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সলত আবু আল-আব্বাস আল-হিমমানি। তিনি ইবনে আবি উওয়াইস, আল-কা’নবি এবং এমন সব শাইখদের থেকে প্রসিদ্ধ ও মুনকার বর্ণনা করেছেন যাদের সাথে তার কখনো সাক্ষাৎ ঘটেনি; তিনি কিছুই নন। তিনি তিনশত হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌(الْبَاء)

 

32 - بشير بن مَيْمُون أَبُو صَيْفِي الوَاسِطِيّ روى عَن مُجَاهِد وَعِكْرِمَة وَسَعِيد المَقْبُري بالمناكر لَا يكْتب حَدِيثه قَالَه يحيى بن معِين

33 - بشر بن إِبْرَاهِيم أَبُو عَمْرو الْأنْصَارِيّ وَيُقَال أَبُو سعيد روى عَن الْأَوْزَاعِيّ الموضوعات يروي عَنهُ الشاميون وَبَعض الْعِرَاقِيّين

34 - بزيع بن حسان الْخصاف أَبُو الْخَلِيل الْبَصْرِيّ روى عَن هِشَام بن عُرْوَة وَمُحَمّد بن وَاسع أَحَادِيث مَوْضُوعَة روى عَنهُ عبد الرَّحْمَن بن الْمُبَارك العيشي
(বা)

 

৩২ - বাশির বিন মাইমুন আবু সাইফি আল-ওয়াসিতি। তিনি মুজাহিদ, ইকরিমা এবং সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন; তার হাদিস লেখা যাবে না। এটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন।

৩৩ - বিশর ইবনে ইব্রাহিম আবু আমর আল-আনসারি, তাকে আবু সাঈদও বলা হয়। তিনি আওযায়ি থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তার থেকে শামের অধিবাসীগণ এবং কতিপয় ইরাকিরা বর্ণনা করেছেন।

৩৪ - বাযি ইবনে হাসসান আল-খাসসাফ আবু আল-খালিল আল-বাসরি। তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ এবং মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আবদুর রহমান ইবনে আল-মুবারক আল-আইশি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৭)
35 - بختري بن عبيد الطَّائِفِي روى عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة بِأَحَادِيث مَوْضُوعَة روى عَن هِشَام بن عمار وَغَيره لَا شَيْء

36 - بهْلُول بن عبيد روى أَحَادِيث ضَعِيفَة عَن سَلمَة بن كهيل وَإِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد وَأبي إِسْحَاق السبيعِي وَغَيرهم من الثِّقَات لَا شَيْء
৩৫ - বাখতারি বিন উবাইদ আত-তাঈফি; তিনি তার পিতার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তিনি হিশাম বিন আম্মার ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন।

৩৬ - বাহলুল বিন উবাইদ; তিনি সালামাহ বিন কুহাইল, ইসমাইল বিন আবি খালিদ, আবু ইসহাক আস-সাবিঈ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে আরও অনেকের সূত্রে দুর্বল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌(التَّاء)

 

37 - تليد بن سُلَيْمَان الْمحَاربي أَبُو إِدْرِيس ذكر بِسوء الْمَذْهَب من أَصْحَاب أبي الجحاف رُوِيَ عَنهُ بالموضوعات نسب إِلَى الْكَذِب والوضع لَا شَيْء
(ত-বর্ণ)

 

৩৭ - তালিদ ইবনে সুলায়মান আল-মুহারিবি আবু ইদ্রিস; তাকে মন্দ মাযহাবের (ভ্রান্ত আকিদার) অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আবু আল-জাহহাফের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার সূত্রে বানোয়াট বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে। তাকে মিথ্যাচার এবং হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি কিছুই নন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌(الثَّاء)

 

38 - ثَابت بن زُهَيْر أَبُو زُهَيْر رُوِيَ عَن الْحسن وَنَافِع مُنكر الحَدِيث روى أَبُو سَلمَة التَّبُوذَكِي قَالَه البُخَارِيّ
(সা)

 

৩৮ - সাবিত ইবনে যুহাইর, আবু যুহাইর। তিনি হাসান ও নাফি' থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি মুনকারুল হাদিস। আবু সালামাহ আত-তাবুযাকী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৭০)
‌‌(الْجِيم)

 

39 - جَعْفَر بن الزبير لَا يكْتب حَدِيثه لَا يُسَاوِي شَيْئا روى عَن الْقَاسِم عَن أبي أُمَامَة غير حَدِيث لَا أصل لَهُ

40 - جَعْفَر بن أبان مصري مُتَأَخّر حدث بِمصْر وبمكة عَن أبي صَالح وَابْن بكير وَابْن عفير وَابْن أبي مَرْيَم لَا شَيْء وَلَا يُسَاوِي شَيْئا

41 - جراح بن الْمنْهَال أَبُو العطوف الْجَزرِي روى عَن الزُّهْرِيّ وَالْحكم بِالْمَنَاكِيرِ والأوهام وَحدث عَنهُ يزِيد بن هَارُون وَغَيره
(জীম)

 

৩৯ - জাফর বিন আল-জুবায়ের: তার হাদিস লেখা যাবে না, তিনি কোনো মূল্যেরই নন। তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে এমন একাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

৪০ - জাফর বিন আবান: একজন পরবর্তীকালীন মিশরীয়। তিনি মিশর ও মক্কায় আবু সালিহ, ইবনে বুকাইর, ইবনে উফাইর এবং ইবনে আবি মারইয়াম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন এবং কোনো মূল্যেরই নন।

৪১ - জাররাহ বিন আল-মিনহাল আবু আল-আতুফ আল-জাজারি: তিনি জুহরি ও হাকাম থেকে মুনকার (অস্বীকৃত) ও বিভ্রান্তিকর বর্ণনা করেছেন; তার থেকে ইয়াজিদ বিন হারুন ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুয়াফা লি আবী নুয়াইম (পৃষ্ঠা: ৭১)
42 - جارود بن يزِيد النَّيْسَابُورِي أَبُو عَليّ العامري روى عَن الثَّوْريّ بِغَيْر حَدِيث مِنْك وَكَانَ أَبُو أُسَامَة يرميه بِالْكَذِبِ مَاتَ بنيسابور فَدفن فِي مَقْبرَة الْحُسَيْن فَذكر عَن بعض الْمَشَايِخ أَنه إِذا مر بقبره قَالَ لَوْلَا تِلْكَ الْأَحَادِيث الَّتِي حدثت بهَا لزرت قبرك
৪২ - জারুদ বিন ইয়াজিদ আন-নিশাপুরি আবু আলী আল-আমিরি। তিনি (সুফিয়ান) সাওরি থেকে বেশ কিছু প্রত্যাখ্যাত হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু উসামাহ তাকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করতেন। তিনি নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে হুসাইনের গোরস্তানে দাফন করা হয়। জনৈক শাইখের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন তার কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন তখন বলতেন: "তুমি যদি সেই হাদিসগুলো বর্ণনা না করতে, তবে আমি অবশ্যই তোমার কবর জিয়ারত করতাম।"