(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: -)
طبقات الحفاظ للسيوطي   (الجلال السيوطي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: طبقات الحفاظ

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1403

عدد الصفحات: 553

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সূয়ূতী রচিত তবাকাতুল হুফফাজ   (আল-জালাল আস-সূয়ূতী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


গ্রন্থ: তবাকাতুল হুফফাজ

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, জালালুদ্দীন আস-সূয়ূতী (মৃ. ৯১১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৩

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم مُقَدّمَة المُصَنّف

الْحَمد لله الَّذِي أنعم فأجزل، وَأعْطى وخول، ومنح ونول، وَفتح أَبْوَاب المعارف لمن عَلَيْهِ عول، وَأشْهد أَن لَا إِلَه أَلا الله الآخر الأول، وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الْكَامِل المبجل، صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَشرف وكمل.

أما بعد. فَهَذَا كتاب " طَبَقَات الْحفاظ " ومعدلي حَملَة الْعلم النَّبَوِيّ وَمن يرجع إِلَى اجتهادهم فِي التوثيق وَالتَّجْرِيح، والتضعيف والتصحيح. لخصتها من " طَبَقَات " إِمَام الْحفاظ أبي عبد الله الذَّهَبِيّ، وذيلت عَلَيْهِ من جَاءَ بعده.

وَالله أسأَل الْإِعَانَة، وَبِه الْعِصْمَة والاستعانة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। গ্রন্থকারের ভূমিকা।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অনুগ্রহ করেছেন এবং তা সুপ্রচুর করেছেন, দান করেছেন ও ঐশ্বর্য দিয়েছেন, অনুগ্রহ ও বদানন্যতা প্রদর্শন করেছেন এবং যার ওপর নির্ভর করা হয় তার জন্য জ্ঞানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি অনাদি ও অনন্ত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাবান। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের মর্যাদা ও পূর্ণতা দান করুন।

অতঃপর, এটি হলো 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (হাফেজগণের স্তরসমূহ) এবং নববীয় ইলমের বাহক ও ওই সকল ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের বিষয়ক গ্রন্থ যাদের ইজতিহাদের ওপর নির্ভর করা হয় বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি নিরূপণে এবং হাদিসের দুর্বলতা ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে। আমি হাফেজদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবীর 'তাবাকাত' থেকে এটি সংক্ষেপন করেছি এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে যারা এসেছেন তাদের জীবনী এতে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট সুরক্ষা ও সহায়তা কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١)
طَبَقَات الْحفاظ

الْمُؤلف للْإِمَام الْحَافِظ الشَّيْخ جلال الدّين عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر السُّيُوطِيّ

//

//
হাফেজগণের স্তরবিন্যাস

লেখক: ইমাম হাফেজ শায়খ জালালুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আস-সুয়ূতী

//

//
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌الطَّبَقَة الأولى من الصَّحَابَة

 

1 - أَبُو بكر الصّديق

2 - ثمَّ عمر بن الْخطاب

3 - وَعُثْمَان بن عَفَّان
সাহাবীদের প্রথম স্তর

 

১ - আবু বকর আস-সিদ্দিক

২ - অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব

৩ - এবং উসমান ইবনে আফফান
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٤)
4 - وَعلي بن أبي طَالب

5 - وَسعد بن أبي وَقاص

6 - وَعبد الله بن مَسْعُود

7 - وَأبي بن كَعْب
4 - এবং আলী বিন আবি তালিব

5 - এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস

6 - এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ

7 - এবং উবাই ইবনে কাব
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٥)
8 - وَأَبُو ذَر الْغِفَارِيّ

9 - ومعاذ بن جبل

10 - وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ
8 - এবং আবু যার আল-গিফারি

9 - এবং মুআজ ইবনে জাবাল

10 - এবং আবু মুসা আল-আশআরি
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٦)
11 - وَأَبُو الدَّرْدَاء

12 - وَعبد الله بن سَلام

13 - وَعَائِشَة

14 - وَعمْرَان بن حُصَيْن
১১ - এবং আবু দারদা

১২ - এবং আবদুল্লাহ বিন সালাম

১৩ - এবং আয়েশা

১৪ - এবং ইমরান বিন হুসাইন
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٧)
15 - وَزيد بن ثَابت

16 - وَأَبُو هُرَيْرَة وَهُوَ أحفظ الصَّحَابَة قَالَ الشَّافِعِي أَبُو هُرَيْرَة أحفظ من روى الحَدِيث فِي الدُّنْيَا
১৫ - এবং যায়েদ ইবনে সাবিত

১৬ - এবং আবু হুরায়রা, আর তিনি হলেন সাহাবীগণের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থকারী। ইমাম শাফেয়ী বলেন, আবু হুরায়রা দুনিয়াতে হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থকারী।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - ثمَّ عبد الله بن عمر

18 - وَعبد الله بن عَبَّاس

19 - وَعبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ

20 - وَعقبَة بن عَامر
17 - অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর

18 - এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস

19 - এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস

20 - এবং উকবা ইবনে আমির
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ١٩)
21 - وَجَابِر بن عبد الله

22 - وَأَبُو سعيد الْخُدْرِيّ

23 - وَأنس بن مَالك
21 - এবং জাবির বিন আব্দুল্লাহ

22 - এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী

23 - এবং আনাস বিন মালিক
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌الطَّبَقَة الثَّانِيَة من كبار التَّابِعين

 

24 - عَلْقَمَة بن قيس بن عبد الله بن مَالك النَّخعِيّ أَبُو شبْل الْكُوفِي قَالَ مَا حفظت وَأَنا شَاب لكَأَنِّي أنظر إِلَيْهِ فِي قرطاس

وَقَالَ عُثْمَان بن سعيد قلت ليحيى بن معِين عَلْقَمَة أحب إِلَيْك عَن عبد الله أَو عُبَيْدَة فَلم يُخَيّر

وَقَالَ عُثْمَان عَلْقَمَة أعلم بِعَبْد الله

وَقَالَ ابْن الْمَدِينِيّ أعلم النَّاس بِعَبْد الله عَلْقَمَة وَالْأسود وَعبيدَة والْحَارث وَقَالَ ابْن سِيرِين أدْركْت الْكُوفَة وَبهَا أَرْبَعَة مِمَّن يعد بالفقه فَمن بَدَأَ بِالْحَارِثِ بن قيس ثنى بعبيدة وَمن بَدَأَ بعبيدة ثنى بِالْحَارِثِ ثمَّ عَلْقَمَة الثَّالِث وَشُرَيْح الرَّابِع

وَقَالَ دَاوُد بن أبي هِنْد قلت لِلشَّعْبِيِّ أَخْبرنِي عَن أَصْحَاب عبد الله كَأَنِّي أنظر إِلَيْهِم قَالَ كَانَ عَلْقَمَة أبطن الْقَوْم بِهِ وَكَانَ مَسْرُوق قد خلط مِنْهُ وَمن غَيره وَكَانَ الرّبيع بن خَيْثَم أَشد الْقَوْم اجْتِهَادًا وَكَانَ عُبَيْدَة يوازي شريحاً فِي الْعلم وَالْقَضَاء
প্রবীণ তাবেয়ীদের দ্বিতীয় স্তর

 

২৪ - আলকামা ইবনে কায়েস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আন-নাখায়ি, আবু শিবল আল-কুফি। তিনি বলেন, "যৌবনকালে আমি যা মুখস্থ করেছি, তা যেন আমি কাগজের পাতায় তাকিয়ে দেখছি।"

উসমান ইবনে সাঈদ বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম, আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর সূত্রে আপনার নিকট আলকামা বেশি প্রিয় নাকি উবায়দাহ? তিনি কোনো একজনকে প্রাধান্য দেননি।

উসমান বলেন, আব্দুল্লাহ সম্পর্কে আলকামা অধিক জ্ঞানী ছিলেন।

ইবনুল মাদিনি বলেন, আব্দুল্লাহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলেন আলকামা, আসওয়াদ, উবায়দাহ এবং হারিস। ইবনে সিরিন বলেন, "আমি কুফায় এমন চারজন ব্যক্তিকে পেয়েছি যাঁদের ফিকহের ইমাম গণ্য করা হতো; যে ব্যক্তি হারিস ইবনে কায়েসকে দিয়ে শুরু করত সে দ্বিতীয় হিসেবে উবায়দাহকে রাখত, আর যে ব্যক্তি উবায়দাহকে দিয়ে শুরু করত সে দ্বিতীয় হিসেবে হারিসকে রাখত। এরপর তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন আলকামা এবং চতুর্থ অবস্থানে শুরাইহ।"

দাউদ ইবনে আবি হিন্দ বলেন, আমি শা’বিকে বললাম, আমাকে আব্দুল্লাহর সাথীদের সম্পর্কে এমনভাবে বলুন যেন আমি তাঁদেরকে সচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: "আলকামা ছিলেন তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী। মাসরুক তাঁর এবং অন্যদের জ্ঞানকে মিশ্রিত করেছিলেন। রাবি ইবনে খাইসাম ছিলেন তাঁদের মধ্যে ইবাদতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী। আর উবায়দাহ ইলম এবং বিচারকার্যের ক্ষেত্রে শুরাইহ-এর সমপর্যায়ের ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَقَالَ الشّعبِيّ كَانَ الْفُقَهَاء بعد أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِالْكُوفَةِ فِي أَصْحَاب عبد الله الله بن مَسْعُود وَهَؤُلَاء عَلْقَمَة وَعبيدَة وَشُرَيْح ومسروق وَكَانَ مَسْرُوق أعلم بالفتوى من شُرَيْح وَشُرَيْح أعلم بِالْقضَاءِ وَكَانَ عُبَيْدَة يوازيه

وَقَالَ أَبُو الْهُذيْل قلت لإِبْرَاهِيم عَلْقَمَة كَانَ أفضل أَو الْأسود فَقَالَ عَلْقَمَة ولد فِي حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَمَات سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وَقيل اثْنَتَيْنِ وَقيل ثَلَاث وَقيل خمس وَقيل سنة اثْنَتَيْنِ وَسبعين وَقيل ثَلَاث وَسبعين

25 - أَبُو مُسلم الْخَولَانِيّ الْيَمَانِيّ الزَّاهِد عبد الله بن ثوب وَقيل ابْن ثَوَاب وَيُقَال ابْن أثوب وَيُقَال ابْن عبد الله وَيُقَال ابْن عَوْف وَيُقَال ابْن مشْكم وَيُقَال اسْمه يَعْقُوب بن عَوْف

رَحل إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَمَاتَ النَّبِي وَهُوَ فِي الطَّرِيق

26 - مَسْرُوق بن الأجدع الْهَمدَانِي أَبُو عَائِشَة الْكُوفِي

قَالَ الشّعبِيّ مَا علمت أحدا كَانَ أطلب للْعلم مِنْهُ وَقَالَ إِبْرَاهِيم كَا أَصْحَاب عبد الله الَّذين يقرئون النَّاس ويعلمونهم السّنة عَلْقَمَة وَالْأسود ومسروق وَعبيدَة والْحَارث بن قيس وَعمر بن شُرَحْبِيل مَاتَ سنة ثِنْتَيْنِ وَقيل ثَلَاث وَسِتِّينَ وَله ثَلَاث وَسِتُّونَ سنة
শাবি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের পরে কূফায় ফকীহগণ ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত; তাঁরা হলেন—আলকামা, উবায়দাহ, শুরাইহ এবং মাসরুক। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মাসরুক শুরাইহ অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী ছিলেন এবং শুরাইহ বিচারিক কার্যে অধিক পারদর্শী ছিলেন, আর উবায়দাহ তাঁর সমপর্যায়ের ছিলেন।

আবু আল-হুযাইল বলেন, আমি ইব্রাহিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আলকামা শ্রেষ্ঠ নাকি আল-আসওয়াদ? তিনি বললেন, আলকামা। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; তবে মতান্তরে তা ৬২, ৬৩, ৬৫, ৭২ অথবা ৭৩ হিজরিও বলা হয়েছে।

২৫ - আবু মুসলিম আল-খাওলানী আল-ইয়ামানী, প্রখ্যাত জাহিদ, (নাম) আবদুল্লাহ ইবনে সাওব; কারো মতে ইবনে সাওয়াব, ইবনে আসওয়াব, ইবনে আবদুল্লাহ, ইবনে আউফ, কিংবা ইবনে মিশকাম। আবার বলা হয় তাঁর নাম ইয়াকুব ইবনে আউফ।

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন, কিন্তু তিনি পথিমধ্যে থাকাকালীনই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন।

২৬ - মাসরুক ইবনে আল-আজিদা আল-হামদানী, আবু আয়িশা আল-কূফী।

শাবি বলেন, জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর চেয়ে অধিক আগ্রহী কাউকে আমি জানি না। ইব্রাহিম বলেন, আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর সাথীদের মধ্যে যারা মানুষকে কুরআন পাঠ এবং সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন তাঁরা হলেন—আলকামা, আল-আসওয়াদ, মাসরুক, উবায়দাহ, হারিস ইবনে কায়েস এবং উমর ইবনে শুরাহবিল। তিনি ৬২ হিজরিতে, মতান্তরে ৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সে সময় তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
27 - عُبَيْدَة بن عَمْرو وَيُقَال ابْن قيس بن عَمْرو السَّلمَانِي الْمرَادِي أَبُو عَمْرو الْكُوفِي أسلم قبل وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِسنتَيْنِ وَلم يلقه

مَاتَ سنة ثِنْتَيْنِ أَو ثَلَاث وَسبعين وَقيل أَربع

28 - عبيد بن عُمَيْر بن قَتَادَة اللَّيْثِيّ أَبُو عَاصِم الْمَكِّيّ

قَاضِي أهل مَكَّة من أبلغ النَّاس ولد فِي حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقيل لَهُ رِوَايَة مَاتَ قبل ابْن عمر

29 - الْأسود بن يزِيد بن قيس النَّخعِيّ أَبُو عَمْرو وَقيل أَبُو عبد الرَّحْمَن الْكُوفِي

أسن من عَلْقَمَة مَاتَ سنة أَربع أَو خمس وَسبعين
২৭ - উবাইদাহ ইবনে আমর; এবং বলা হয় ইবনে কায়স ইবনে আমর আস-সালমানি আল-মুরাদি, আবু আমর আল-কুফি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের দুই বছর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেননি।

তিনি বাহাত্তর বা তিয়াত্তর হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, আর কেউ কেউ চুয়াত্তর হিজরি বলেছেন।

২৮ - উবায়েদ ইবনে উমায়ের ইবনে কাতাদাহ আল-লাইসি, আবু আসিম আল-মাক্কি।

মক্কাবাসীদের কাজি, তিনি মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাগ্মী ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয় যে, তাঁর বর্ণনা রয়েছে। তিনি ইবনে উমরের পূর্বে ইন্তেকাল করেন।

২৯ - আল-আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে কায়স আন-নাখয়ি, আবু আমর; কেউ কেউ তাঁকে আবু আব্দুর রহমান আল-কুফি বলেছেন।

তিনি আলকামা অপেক্ষা অধিক বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। তিনি চুয়াত্তর বা পঁচাত্তর হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
30 - عبد الرَّحْمَن بن غنم الْأَشْعَرِيّ الشَّامي

وَقيل لَهُ صُحْبَة بَعثه عمر إِلَى الشَّام يفقه النَّاس

وَقَالَ أَبُو زرْعَة الدِّمَشْقِي قلت لعبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم رَأَيْت الطَّبَقَة الَّتِي أدْركْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلم تره وَأدْركت أَبَا بكر وَعمر وَمن بعدهمَا من أهل الشَّام من الْمُقدم مِنْهُم الصنَابحِي أَو ابْن غنم قَالَ ابْن غنم الْمُقدم عِنْدِي وَقَالَ ابْن عبد الْبر يعرف بِصَاحِب معَاذ لملازمته لَهُ وَكَانَ أفقه أهل الشَّام مَاتَ سنة ثَمَان وَسبعين

31 - كثير بن مرّة الْحَضْرَمِيّ الرهاوي أَبُو شَجَرَة وَيُقَال أَبُو الْقَاسِم الشَّامي الْحِمصِي

قَالَ أَبُو زرْعَة الدِّمَشْقِي قلت لدحيم من فِي طبقتهم يَعْنِي جُبَير بن نفير وَأَبا إِدْرِيس الْخَولَانِيّ فَقَالَ كثير بن مرّة

32 - جُبَير بن نفير بن مَالك بن عَامر الْحَضْرَمِيّ أَبُو عبد الرَّحْمَن وَيُقَال أَبُو عبد الله الشَّامي الْحِمصِي أدْرك وَلم ير

قَالَ أَبُو زرْعَة قلت لدحيم أَي الرجلَيْن عنْدك أعلم أَبُو إِدْرِيس الْخَولَانِيّ أَو جُبَير بن نفير قَالَ أَبُو إِدْرِيس عِنْدِي الْمُقدم وَرفع من شَأْن جُبَير
30 - আবদুর রহমান ইবনে গনাম আল-আশআরি আশ-শামি

বলা হয় যে, তাঁর সাহচর্য (সাহাবী হওয়ার মর্যাদা) রয়েছে; উমর (রা.) তাঁকে সিরিয়ায় পাঠিয়েছেন মানুষকে দ্বীন শেখানোর জন্য।

আবু জুরআ আদ-দিমাশকি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিমকে বললাম: আপনি সেই স্তর (তবকা) দেখেছেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি, এবং আবু বকর, উমর ও তাঁদের পরবর্তী সিরিয়াবাসীদের সান্নিধ্য পেয়েছেন; তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য কে? আস-সুনাবিহি নাকি ইবনে গনাম? তিনি বললেন: আমার নিকট ইবনে গনামই অগ্রগণ্য। ইবনে আব্দুল বার্র বলেন: মুয়াজ (রা.)-এর সাথে সার্বক্ষণিক লেগে থাকার কারণে তিনি 'মুয়াজের সঙ্গী' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সিরিয়াবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন। তিনি ৭৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

31 - কাসির ইবনে মুররা আল-হাদরামি আর-রুহাবি, আবু শাজারা; এবং বলা হয় আবু আল-কাসিম আশ-শামি আল-হিমসি।

আবু জুরআ আদ-দিমাশকি বলেন, আমি দুহাইমকে জিজ্ঞেস করলাম যে, তাঁদের স্তরে কে আছেন? অর্থাৎ জুবায়ের ইবনে নুফাইর এবং আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি। তিনি বললেন: কাসির ইবনে মুররা।

32 - জুবায়ের ইবনে নুফাইর ইবনে মালিক ইবনে আমির আল-হাদরামি, আবু আবদুর রহমান; এবং বলা হয় আবু আব্দুল্লাহ আশ-শামি আল-হিমসি। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ) পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি।

আবু জুরআ বলেন, আমি দুহাইমকে বললাম: আপনার নিকট এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কে বেশি জ্ঞানী? আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি নাকি জুবায়ের ইবনে নুফাইর? তিনি বললেন: আবু ইদ্রিস আমার নিকট অগ্রগণ্য; তবে তিনি জুবায়েরের মর্যাদাও উচ্চকিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَقَالَ النَّسَائِيّ لَيْسَ أحد من كبار التَّابِعين أحسن رِوَايَة عَن الصَّحَابَة من ثَلَاثَة قيس بن أبي حَازِم وَأبي عُثْمَان النَّهْدِيّ وَجبير بن نفير مَاتَ سنة خمس وَسبعين وَقيل ثَمَانِينَ

32 - أسلم مولى عمر بن الْخطاب أَبُو خَالِد

وَيُقَال أَبُو زيد حبشِي بجاوي أدْرك وَمَات سنة ثَمَانِينَ وَله أَربع عشرَة وَمِائَة سنة

34 - عَلْقَمَة بن وَقاص اللَّيْثِيّ العتواري الْمدنِي مَاتَ فِي خلَافَة عبد الْملك

35 - سُوَيْد بن غَفلَة بن عَوْسَجَة الْجعْفِيّ أَو أُميَّة الْكُوفِي

ولد عَام الْفِيل أَو بعده بِسنتَيْنِ وَقدم الْمَدِينَة حِين نفضت الْأَيْدِي من دَفنه صلى الله عليه وسلم

مَاتَ سنة ثَمَانِينَ وَقيل إِحْدَى وَقيل اثْنَتَيْنِ عَن مائَة وثمان وَعشْرين وَقيل وَثَلَاثِينَ
ইমাম নাসায়ি বলেন, সিনিয়র তাবেয়িদের মধ্যে সাহাবিদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে এই তিনজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই: কায়েস ইবনে আবি হাযেম, আবু উসমান আন-নাহদি এবং জুবায়ের ইবনে নুফাইর। তিনি পঁচাত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে আশি হিজরিতে।

৩২ - আসলাম, উমর ইবনুল খাত্তাবের মুক্তদাস, আবু খালিদ।

তাঁকে আবু যায়েদও বলা হয়; তিনি বেজা অঞ্চলের একজন হাবশি ছিলেন। তিনি সাহাবিদের যুগ পেয়েছিলেন এবং আশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল একশত চৌদ্দ বছর।

৩৪ - আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়ছি আল-আতওয়ারি আল-মাদানি। তিনি আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন।

৩৫ - সুওয়াইদ ইবনে গাফলা ইবনে আউসাজাহ আল-জু'ফি অথবা উমাইয়া আল-কুফি।

তিনি হস্তিবর্ষে অথবা তার দুই বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদিনায় এমন সময় আগমন করেন যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফনকার্য সম্পন্ন করে সাহাবিগণ মাত্র হাত ঝেড়েছিলেন।

তিনি আশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে একাশি বা বিরাশি হিজরিতে; তখন তাঁর বয়স ছিল একশত আটাশ বছর, মতান্তরে একশত ত্রিশ বছর।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
36 - أم الدَّرْدَاء هجيمة

وَيُقَال جهيمة بنت حييّ الأوصابية وَيُقَال الوصابية بطن من حمير وَهِي الصُّغْرَى رَوَت الْكثير فقيهة وَلها كَلَام فِي التفيسر والزهد وَمَاتَتْ بعد الثَّمَانِينَ

37 - سعيد بن الْمسيب بن حزن المَخْزُومِي أَبُو مُحَمَّد الْمدنِي سيد التَّابِعين ولد لِسنتَيْنِ مضتا وَقيل لأَرْبَع من خلَافَة عمر

قَالَ مُحَمَّد بن يحيى بن حبَان كَانَ رَأس من بِالْمَدِينَةِ فِي دهره الْمُقدم عَلَيْهِم فِي الْفَتْوَى سعيد وَيُقَال فَقِيه الْفُقَهَاء

وَقَالَ قَتَادَة مَا رَأَيْت أحدا قطّ أعلم بالحلال وَالْحرَام مِنْهُ وَكَذَا قَالَ مَكْحُول وَالزهْرِيّ وَسليمَان بن مُوسَى وَعنهُ إِن كنت لأرحل الْأَيَّام والليالي فِي طلب الحَدِيث الْوَاحِد

وَقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل أفضل التَّابِعين سعيد بن الْمسيب قيل لَهُ فعلقمة وَالْأسود قَالَ سعيد وعلقمة وَالْأسود

وَقَالَ يحيى بن سعيد كَانَ أحفظ النَّاس لأحكام عمر وأقضيته كَانَ يُسمى رِوَايَة عمر وَقَالَ أَبُو حَاتِم لَيْسَ فِي التَّابِعين أنبل مِنْهُ وَهُوَ أثبتهم فِي أبي هُرَيْرَة مَاتَ سنة أَربع وَتِسْعين وَقيل ثَلَاث
৩৬ - উম্মুদ দারদা হুজাইমাহ

বলা হয় জুহাইমাহ বিনতে হুয়াই আল-আউসাবিইয়াহ। আরও বলা হয় যে, আল-আউসাবিইয়াহ হলো হিমইয়ার গোত্রের একটি শাখা। তিনি ছিলেন উম্মুদ দারদা আস-সুগরা (ছোট)। তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ফকিহ (আইনজ্ঞ) ছিলেন। তাফসির ও যুহদ (বিরাগ) বিষয়ে তার বক্তব্য বিদ্যমান। তিনি আশি হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।

৩৭ - সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ইবনে হাযন আল-মাখযুমি আবু মুহাম্মাদ আল-মাদানি, যিনি তাবেঈদের সরদার। তিনি উমরের খিলাফতের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে চার বছর পর।

মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হিব্বান বলেন, তার যুগে মদিনাবাসীদের প্রধান এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন সাঈদ। তাকে 'ফকিহদের ফকিহ' বলা হয়।

কাতাদাহ বলেন, আমি হালাল ও হারাম সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে কখনও দেখিনি। মাকহুল, যুহরি এবং সুলাইমান ইবনে মুসাও অনুরূপ বলেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি মাত্র হাদিসের সন্ধানে দিনের পর দিন এবং রাতের পর রাত সফর করতাম।

আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, তাবেঈদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তবে আলক্বামাহ ও আসওয়াদ? তিনি বললেন: সাঈদ, অতঃপর আলক্বামাহ ও আসওয়াদ।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন, তিনি উমরের বিধান ও ফয়সালাসমূহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তাকে 'রাওয়িয়াতু উমর' (উমরের বর্ণনভাণ্ডার) বলা হতো। আবু হাতিম বলেন, তাবেঈদের মধ্যে তার চেয়ে মহৎ আর কেউ নেই। আবু হুরায়রার বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি চুরানব্বই হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে তিরানব্বই হিজরিতে।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
38 - أَو إِدْرِيس الْخَولَانِيّ عَائِذ الله بن عبد الله بن عَمْرو العوذي

من عُلَمَاء الشَّام وعبادهم وقرائهم قَالَ مَكْحُول مَا رَأَيْت أعلم مِنْهُ

وَقَالَ الزُّهْرِيّ كَانَ قاص أهل الشَّام وقاضيهم

ولد يَوْم حنين مَاتَ سنة ثَمَانِينَ

39 - زر بن حُبَيْش بن حُبَاشَة بن أَوْس الْأَسدي أَبُو مَرْيَم وَيُقَال أَبُو مطرف الْكُوفِي مخضرم كثير الحَدِيث مَاتَ سنة إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَقيل اثْنَتَيْنِ وَقيل ثَلَاث وَهُوَ ابْن مائَة وَعشْرين سنة أَو سبع وَعشْرين

40 - عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى يسَار وَيُقَال بِلَال وَيُقَال دَاوُد بن بِلَال الْأنْصَارِيّ الأوسي أَبُو عِيسَى الْكُوفِي

ولد لست بَقينَ من خلَافَة عمر قَالَ عبد الْملك بن عُمَيْر أدْركْت ابْن أبي ليلى فِي حَلقَة فِيهَا نفر من الصَّحَابَة مِنْهُم الْبَراء بن عَازِب يَسْتَمِعُون لحديثة وينصتون لَهُ

قيل مَاتَ سنة إِحْدَى وَسبعين وَالصَّوَاب سنة ثَلَاث وَثَمَانِينَ فِي وقْعَة الجماجم
৩৮ - আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি আইজুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আল-আওজি।

তিনি শামের আলেম, আবিদ (ইবাদতকারী) এবং ক্বারিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মাকহুল বলেন, আমি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।

যুহরি বলেন, তিনি শামের অধিবাসীদের উপদেশদাতা (ওয়ায়েজ) এবং তাদের বিচারক ছিলেন।

তিনি হুনায়নের যুদ্ধের দিন জন্মগ্রহণ করেন এবং আশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩৯ - জির ইবনে হুবাইশ ইবনে হুবায়শাহ ইবনে আওস আল-আসাদি আবু মারইয়াম; তাকে আবু মুতাররিফ আল-কুফিও বলা হয়। তিনি একজন মুখাদরাম (জাহিলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পাওয়া ব্যক্তি) এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি একাশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে বিরাশি বা তিরাশি হিজরিতে; তখন তার বয়স ছিল একশ বিশ অথবা একশ সাতাশ বছর।

৪০ - আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা ইয়াসার; তাকে বিলালও বলা হয়, আবার বলা হয় দাউদ ইবনে বিলাল আল-আনসারি আল-আওসি আবু ঈসা আল-কুফি।

উমরের খিলাফতের ছয় দিন বাকি থাকতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর বলেন, আমি ইবনে আবি লায়লাকে এমন এক মজলিসে পেয়েছি যেখানে একদল সাহাবী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে বারা ইবনে আযিবও ছিলেন; তারা তার হাদিস শ্রবণ করছিলেন এবং তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছিলেন।

বলা হয় যে তিনি একাত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তবে সঠিক মত হলো তিনি তিরাশি হিজরিতে জামাজিমের যুদ্ধে (ওয়াকআতুল জামাজিম) মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
41 - أَبُو عبد الرَّحْمَن عبد الله بن حبيب السّلمِيّ الْكُوفِي الْقَارئ

أقرا الْقُرْآن أَرْبَعِينَ سنة

مَاتَ سنة بضع وَسبعين وَقيل سنة ثِنْتَيْنِ وَتِسْعين وَقيل سنة خمس وَمِائَة عَن تسعين سنة

42 - القَاضِي شُرَيْح بن الْحَارِث بن قيس الْكِنْدِيّ أَبُو أُميَّة الْكُوفِي

أدْرك وَلم ير وَولي الْقَضَاء لعمر وَعُثْمَان وَعلي وَمُعَاوِيَة سِتِّينَ سنة إِلَى أَيَّام الْحجَّاج فاستعفى وَله مائَة وَعِشْرُونَ سنة فَمَاتَ بعد سنة

قَالَ ابْن سِيرِين قدمت الْكُوفَة وَبهَا أَرْبَعَة آلَاف يطْلبُونَ الحَدِيث وَإِن شُيُوخ أهل الْكُوفَة أَرْبَعَة عُبَيْدَة السَّلمَانِي والْحَارث الْأَعْوَر وعلقمة بن قيس وَشُرَيْح وَكَانَ أحْسنهم مَاتَ سنة ثَمَان وَسبعين وَقيل سنة ثَمَانِينَ وَقيل اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ وَقيل سبع وَثَمَانِينَ وَقيل سنة ثَلَاث وَتِسْعين وَقيل سِتّ وَتِسْعين وَقيل سبع وَقيل تسع

43 - شُرَيْح بن هانىء بن يزِيد بن نهيك الْحَارِثِيّ الْمذْحِجِي أَو الْمِقْدَام الْكُوفِي

أدْرك وَلم ير وَهُوَ من كبار أَصْحَاب عَليّ قتل مَعَ أبي بكرَة بسجستان سنة ثَمَان وَسبعين
৪১ - আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে হাবীব আস-সুলামী আল-কুফী আল-কারী।

তিনি চল্লিশ বছর কুরআন পাঠ দান করেছেন।

তিনি সত্তর হিজরীর কয়েক বছর পর মৃত্যুবরণ করেন। কেউ বলেছেন ৯২ হিজরীতে, আবার কেউ বলেছেন ১০৫ হিজরীতে ৯০ বছর বয়সে।

৪২ - কাজি শুরাইহ ইবনুল হারিস ইবনে কায়স আল-কিন্দি আবু উমাইয়া আল-কুফী।

তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগ) পেয়েছেন কিন্তু তাকে দেখেননি। তিনি ওমর, উসমান, আলী এবং মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর শাসনামলে হাজ্জাজের সময় পর্যন্ত ষাট বছর বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি অব্যাহতি চান; তখন তার বয়স ছিল ১২০ বছর। এর এক বছর পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে সিরীন বলেন: আমি কুফায় এসেছিলাম, তখন সেখানে চার হাজার লোক হাদিস অন্বেষণ করছিল। আর কুফাবাসীদের প্রধান শাইখ ছিলেন চারজন: উবাইদাহ আস-সালমানী, আল-হারিস আল-আ'ওয়ার, আলকামাহ ইবনে কায়স এবং শুরাইহ। আর তিনি (শুরাইহ) ছিলেন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি ৭৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আবার বলা হয়েছে ৮০ হিজরীতে, অথবা ৮২, অথবা ৮৭, অথবা ৯৩, অথবা ৯৬, অথবা ৯৭, আবার কেউ বলেছেন ৯৯ হিজরীতে।

৪৩ - শুরাইহ ইবনে হানি ইবনে ইয়াযিদ ইবনে নুহাইক আল-হারিসি আল-মাযহিজী আবু আল-মিকদাম আল-কুফী।

তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগ) পেয়েছেন কিন্তু তাকে দেখেননি। তিনি আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রবীণ সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সিজিস্তানে ৭৮ হিজরীতে আবু বাকরার সাথে (যুদ্ধে) নিহত হন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
44 - أَبُو وَائِل شَقِيق بن سَلمَة الْأَسدي أَسد خُزَيْمَة الْكُوفِي

أدْرك وَلم ير

قَالَ أَبُو عُبَيْدَة أَبُو وَائِل أعلم أهل الْكُوفَة بِحَدِيث عبد الله مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ

45 - قبيصَة بن ذُؤَيْب بن حلحلة الْخُزَاعِيّ أَبُو سعيد الْمدنِي وَيُقَال أَبُو إِسْحَاق

ولد عَام الْفَتْح وَسكن الشَّام

قَالَ الزُّهْرِيّ قبيصَة من عُلَمَاء الْأمة

وَقَالَ أَبُو الزِّنَاد كَانَ فُقَهَاء أهل الْمَدِينَة أَرْبَعَة سعيد بن الْمسيب وَقبيصَة ابْن ذُؤَيْب وَعُرْوَة بن الزبير وَعبد الْملك بن مَرْوَان

وَقَالَ مَكْحُول مَا رَأَيْت أحدا أعلم مِنْهُ

وَقَالَ الشّعبِيّ قبيصَة أعلم النَّاس بِقَضَاء زيد بن ثَابت مَاتَ سنة سِتّ أَو سبع وَثَمَانِينَ وَقيل تسع

46 - صَفْوَان بن مُحرز بن زِيَاد الْمَازِني وَيُقَال الْبَاهِلِيّ الْبَصْرِيّ

جليل فَاضل ورع من الْعباد جلس إِلَيْهِ قوم يتجادلون فَقَامَ ونفض ثِيَابه وَقَالَ إِنَّمَا أَنْتُم جرب مَاتَ سنة أَربع وَسبعين
44 - আবু ওয়াইল শাকিক বিন সালামাহ আল-আসাদি আসাদ খুজাইমাহ আল-কুফি।

তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগ) পেয়েছেন কিন্তু তাকে দেখেননি।

আবু উবাইদাহ বলেন, আবু ওয়াইল আব্দুল্লাহর হাদিস সম্পর্কে কুফাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন। তিনি বিরাশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

45 - কাবিসাহ বিন জুআইব বিন হালহালাহ আল-খুজায়ি আবু সাঈদ আল-মাদানি, তাকে আবু ইসহাকও বলা হয়।

তিনি মক্কা বিজয়ের বছর জন্মগ্রহণ করেন এবং শামে বসবাস করতেন।

যুহরি বলেন, কাবিসাহ এই উম্মতের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

আবু যিনাদ বলেন, মদিনার ফকিহ ছিলেন চারজন: সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব, কাবিসাহ বিন জুআইব, উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর এবং আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান।

মাকহুল বলেন, আমি তার চেয়ে বড় আলেম আর কাউকে দেখিনি।

শাবি বলেন, কাবিসাহ যায়েদ বিন সাবিতের বিচারিক ফয়সালা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। তিনি ছিয়াশি অথবা সাতাশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেন উননব্বই হিজরিতে।

46 - সাফওয়ান বিন মুহরিজ বিন যিয়াদ আল-মাযিনি, তাকে আল-বাহিলি আল-বাসরিও বলা হয়।

মর্যাদাবান, শ্রেষ্ঠ ও ইবাদতগুজার পরহেজগার ব্যক্তি। একদল লোক তার নিকট বসে বিতর্ক শুরু করলে তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের পরিধেয় কাপড় ঝেড়ে ফেলে বললেন, তোমরা তো কেবল চুলকানি (সংক্রামক ব্যাধি) সদৃশ। তিনি চুয়াত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
47 - قيس بن أبي حَازِم حُصَيْن بن عَوْف البَجلِيّ الأحمسي أَبُو عبد الله الْكُوفِي

أدْرك وَهَاجَر فَقبض النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيق وَتفرد بالرواية عَن الْعشْرَة

قَالَ ابْن عُيَيْنَة مَا كَانَ بِالْكُوفَةِ أحد أروى عَن الصَّحَابَة مِنْهُ

وَقَالَ أَبُو دَاوُد أَجود التَّابِعين إِسْنَادًا قيس وَمِنْهُم من جعل الحَدِيث عَنهُ أصح الْإِسْنَاد وأروى النَّاس عَنهُ إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد جَاوز الْمِائَة بسنين كَثِيرَة حَتَّى خرف مَاتَ سنة أَربع وَثَمَانِينَ أَو سبع وَتِسْعين أَو ثَمَان وَتِسْعين

48 - أَبُو الْعَالِيَة رفيع بن مهْرَان الريَاحي الْبَصْرِيّ

أدْرك وَأسلم بعد الْوَفَاة بِسنتَيْنِ

قَالَ أَبُو بكر بن أبي إِدْرِيس لَيْسَ أحد بعد الصَّحَابَة أعلم بِالْقُرْآنِ من أبي الْعَالِيَة وَبعده سعيد بن جُبَير وَبعده السّديّ وَبعده سُفْيَان الثَّوْريّ مَاتَ فِي شَوَّال سنة اثْنَتَيْنِ وَتِسْعين وَقيل ثَلَاث وَتِسْعين وَقيل سِتّ وَمِائَة وَقيل إِحْدَى عشرَة وَمِائَة

49 - عُرْوَة بن الزبير بن الْعَوام الْأَسدي أَبُو عبد الله الْمدنِي
৪৭ - কায়েস বিন আবি হাযিম হুসাইন বিন আউফ আল-বাজালি আল-আহমাসি আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি।

তিনি জাহেলি ও ইসলামি উভয় যুগ পেয়েছেন এবং হিজরত করেছিলেন; কিন্তু তিনি পথে থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। তিনি দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী) থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

ইবনে উয়ায়না বলেন, কুফায় তাঁর চেয়ে বেশি সাহাবীদের থেকে বর্ণনাকারী আর কেউ ছিলেন না।

আবু দাউদ বলেন, তাবিয়ীদের মধ্যে সনদের দিক থেকে কায়েস হলেন সর্বোত্তম। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর বর্ণিত হাদিসকে সহীহতম সনদ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁর থেকে সবচেয়ে বেশি বর্ণনাকারী হলেন ইসমাইল বিন আবি খালিদ। তিনি একশ বছর অতিক্রম করে আরও অনেক বছর বেঁচে ছিলেন, এমনকি তিনি বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন। তিনি চুরাশি অথবা সাতানব্বই অথবা আটানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪৮ - আবু আল-আলিয়া রুফাই' বিন মিহরান আর-রিয়াহি আল-বসরি।

তিনি জাহেলি ও ইসলামি উভয় যুগ পেয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের দুই বছর পর ইসলাম গ্রহণ করেন।

আবু বকর বিন আবি ইদ্রিস বলেন, সাহাবীদের পর আবু আল-আলিয়ার চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কেউ ছিলেন না; তাঁর পরে সাঈদ বিন জুবায়ের, তারপর আস-সুদ্দি এবং তারপর সুফিয়ান আস-সাওরি। তিনি বিরানব্বই হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়ে থাকে তেরানব্বই, অথবা একশ ছয়, অথবা একশ এগারো হিজরিতে তিনি মারা যান।

৪৯ - উরওয়াহ বিন আজ-জুবায়ের বিন আল-আওয়াম আল-আসাদি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
فَقِيه عَالم كثير الحَدِيث صَالح لم يدْخل فِي شَيْء من الْفِتَن

قَالَ ابْن شهَاب عُرْوَة بَحر لَا ينزف

قَالَ هِشَام مَا تعلمنا جُزْءا من ألف جُزْء من أَحَادِيثه وَهُوَ أحد الْفُقَهَاء السَّبْعَة

وَقَالَ الزُّهْرِيّ أَرْبَعَة من قُرَيْش وَجَدتهمْ بحورا سعيد بن الْمسيب وَعُرْوَة بن الزبير وَأَبُو سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن وَعبيد الله بن عبد الله

وَقَالَ ابْن عُيَيْنَة إِن أعلم النَّاس بِحَدِيث عَائِشَة ثَلَاثَة الْقَاسِم بن مُحَمَّد وَعُرْوَة وَعمرَة بنت عبد الرَّحْمَن

ولد سنة ثَلَاث وَعشْرين وَقيل تسع وَعشْرين وَمَات سنة إِحْدَى وَتِسْعين أَو اثْنَتَيْنِ وَتِسْعين أَو ثَلَاث أَو أَربع أوخمس أَو تسع أَو مائَة أَو إِحْدَى وَمِائَة

50 - أَبُو سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف الزُّهْرِيّ الْمدنِي

قيل اسْمه كنيته وَقيل عبد الله

فَقِيه كثير الحَدِيث إِمَام من الْعلمَاء مَاتَ سنة أَربع وَتِسْعين عَن اثْنَتَيْنِ وَسبعين سنة

51 - أَبُو بكر المَخْزُومِي بن عبد الرَّحْمَن بن الْحَارِث بن هِشَام بن الْمُغيرَة المخرومي الْمدنِي
তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, আলেম, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং নেককার ব্যক্তি, যিনি কোনো ফিতনার মধ্যে লিপ্ত হননি।

ইবনে শিহাব বলেছেন, উরওয়াহ হলেন এমন এক সমুদ্র যার পানি কখনও শেষ হয় না।

হিশাম বলেছেন, আমরা তাঁর হাদিসসমূহের এক হাজার ভাগের এক ভাগও শিখিনি এবং তিনি মদিনার সাত ফকিহের অন্যতম একজন।

জুহরি বলেছেন, কুরাইশদের মধ্যে আমি চারজনকে জ্ঞানসমুদ্র হিসেবে পেয়েছি: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ।

ইবনে উয়ায়না বলেছেন, আয়েশার হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন তিনজন: কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, উরওয়াহ এবং আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান।

তিনি তেইশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে উনত্রিশ হিজরিতে এবং তিনি ৯১, ৯২, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ৯৯, ১০০ অথবা ১০১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৫০ - আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আজ-জুহরি আল-মাদানি

বলা হয় যে, তাঁর উপনামই ছিল তাঁর নাম, আবার কারো মতে তাঁর নাম ছিল আব্দুল্লাহ।

তিনি ছিলেন ফকিহ, প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী এবং আলেমদের অন্যতম একজন ইমাম; তিনি ৯৪ হিজরিতে ৭২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

৫১ - আবু বকর আল-মাখজুমি ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম ইবনে মুগিরা আল-মাখজুমি আল-মাদানি
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣١)
أحد الْفُقَهَاء السَّبْعَة اسْمه كنيته وَقيل مُحَمَّد وَقيل أَبُو بكر وكنيته أَبُو عبد الرَّحْمَن

عَالم فَقِيه كثير الحَدِيث من سَادَات قُرَيْش مكفوف

ولد فِي خلَافَة عمر وَمَات سنة ثَلَاث وَتِسْعين أَو أَربع أَو خمس

52 - مطرف بن عبد الله بن الشخير العامري أَبُو عبد الله الْبَصْرِيّ من الْفُضَلَاء الثِّقَات الودعين الْعُقَلَاء الأدباء

قَالَ الْعجلِيّ لم ينج بِالْبَصْرَةِ من فتْنَة ابْن الْأَشْعَث إِلَّا رجلَانِ مطرف وَابْن سِيرِين وَلم ينج مِنْهَا بِالْكُوفَةِ إِلَّا رجلَانِ خَيْثَمَة بن عبد الرَّحْمَن وَإِبْرَاهِيم النَّخعِيّ مَاتَ سنة خمس وَتِسْعين

53 - عَمْرو بن مَيْمُون الأودي أَبُو عبد الله أَو أَبُو يحيى الْكُوفِي أدْرك وَلم ير

وَصَحب معَاذًا وَابْن مَسْعُود وتفقه بهما وَكَانَ الصَّحَابَة يرضونه مَاتَ سنة أَربع وَسبعين أَو خمس أَو سِتّ أَو سبع

54 - أَبُو عُثْمَان النَّهْدِيّ عبد الرَّحْمَن بن مل بن عَمْرو بن عدي الْكُوفِي

أدْرك وَأسلم فِي حَيَاة النُّبُوَّة وَلم ير وَهَاجَر فِي زمَان عمر وَسكن الْبَصْرَة بعد قتل الْحُسَيْن مَاتَ سنة خمس وَتِسْعين أَو سنة مائَة عَن مائَة وَثَلَاثِينَ وَقيل وَأَرْبَعين سنة
তিনি সাতজন ফকিহের একজন; তাঁর নামই তাঁর উপনাম (কুনিয়া), আবার বলা হয়েছে তাঁর নাম মুহাম্মদ, কেউ বলেছেন আবু বকর এবং তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান।

তিনি একজন আলেম, ফকিহ, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী, কুরাইশ বংশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম এবং দৃষ্টিহীন ছিলেন।

তিনি উমরের খিলাফতকালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৩, ৯৪ অথবা ৯৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৫২ - মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখির আল-আমিরি, আবু আবদুল্লাহ আল-বাসরি; তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান, নির্ভরযোগ্য, ধর্মভীরু, বুদ্ধিমান ও শিষ্টাচারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইজলি বলেন: ইবনুল আশ’আসের ফিতনা থেকে বসরায় কেবল দুইজন ব্যক্তি রক্ষা পেয়েছিলেন—মুতাররিফ ও ইবনে সিরিন। আর কুফায় তা থেকে কেবল দুইজন ব্যক্তি রক্ষা পেয়েছিলেন—খাইসামা ইবনে আবদুর রহমান ও ইবরাহিম আন-নাখায়ি। তিনি ৯৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৫৩ - আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি, আবু আবদুল্লাহ অথবা আবু ইয়াহইয়া আল-কুফি; তিনি (নবুয়তের যুগ) পেয়েছিলেন কিন্তু নবীজিকে দেখেননি।

তিনি মুয়াজ ও ইবনে মাসউদের সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। সাহাবিগণ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি ৭৪, ৭৫, ৭৬ অথবা ৭৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৫৪ - আবু উসমান আন-নাহদি, আবদুর রহমান ইবনে মুল ইবনে আমর ইবনে আদি আল-কুফি।

তিনি নবুয়তের যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন কিন্তু নবীজিকে দেখেননি; তিনি উমরের যুগে হিজরত করেন এবং হুসাইনের শাহাদাতের পর বসরায় বসবাস শুরু করেন। তিনি ৯৫ অথবা ১০০ হিজরি সনে ১৩০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেছেন ১৪০ বছর বয়সে।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
55 - أَبُو رَجَاء العطاردي عمرَان بن ملْحَان وَيُقَال ابْن تيم الْبَصْرِيّ أدْرك وَلم ير وَأسلم بعد الْفَتْح

عَالم بِالْقُرْآنِ بالرواية وعاش مائَة وَعشْرين أَو أَكثر مَاتَ سنة سِتّ وَمِائَة أَو سبع

56 - زيد بن وهب الْجُهَنِيّ أَبُو سُلَيْمَان الْكُوفِي

هَاجر فَقبض النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيق مَاتَ سنة سِتّ وَتِسْعين

57 - الْمَعْرُور بن سُوَيْد الْأَسدي أَو أُميَّة الْكُوفِي

عَاشَ مائَة وَعشْرين أَو أَكثر

58 - مرّة الطّيب لقب بِهِ لِكَثْرَة عِبَادَته ابْن شرَاحِيل الْهَمدَانِي البكيلي أَبُو إِسْمَاعِيل الْكُوفِي مَاتَ سنة سِتّ وَسبعين
৫৫ - আবু রাজা আল-আতারিদি ইমরান ইবনে মিলহান, এবং তাঁকে ইবনে তাইম আল-বাসরিও বলা হয়। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ) পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি এবং মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

তিনি রেওয়ায়েতের মাধ্যমে কুরআনের একজন বিজ্ঞ আলিম ছিলেন এবং একশত বিশ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি ১০৬ বা ১০৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৫৬ - যাইদ ইবনে ওয়াহাব আল-জুহানি আবু সুলাইমান আল-কুফি।

তিনি হিজরত করেছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। তিনি ৯৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৫৭ - আল-মারুর ইবনে সুওয়াইদ আল-আসাদি অথবা উমাইয়া আল-কুফি।

তিনি একশত বিশ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে ছিলেন।

৫৮ - মুররাহ আত-তাইয়িব—অধিক ইবাদতের কারণে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল—ইবনে শুরাহবিল আল-হামদানি আল-বুকাইলি আবু ইসমাইল আল-কুফি। তিনি ৭৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
59 - مَالك بن أَوْس بن الْحدثَان بن سعد بن يَرْبُوع النصري أَبُو سعيد الْمدنِي

قيل لَهُ صُحْبَة وَلَا يَصح مَاتَ سنة اثننين وَتِسْعين

60 - أَبُو عَمْرو الشَّيْبَانِيّ سعد بن إِيَاس الْكُوفِي

أدْرك وَلم ير

وعاش مائَة وَعشْرين سنة

61 - عبد الله بن محيريز بن جُنَادَة بن وهب الجُمَحِي أَبُو محيريز الْمَكِّيّ

سكن بَين الْمُقَدّس

قَالَ دُحَيْم هُوَ أجل أهل الشَّام بعد أبي إِدْرِيس مَاتَ فِي خلَافَة الْوَلِيد بن عبد الْملك
৫৯ - মালেক বিন আওস বিন আল-হাদাসান বিন সাদ বিন ইয়ারবু আন-নাসরি আবু সাঈদ আল-মাদানি

বলা হয় যে তার সাহচর্য (সাহাবিত্ব) ছিল, তবে তা সঠিক নয়। তিনি বিরানব্বই হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৬০ - আবু আমর আল-শায়বানী সাদ বিন ইয়াস আল-কুফি

তিনি (রাসূলুল্লাহর যুগ) পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি

এবং তিনি একশত বিশ বছর বেঁচে ছিলেন।

৬১ - আব্দুল্লাহ বিন মুহায়রিজ বিন জুনাদা বিন ওয়াহাব আল-জুমাহি আবু মুহায়রিজ আল-মাক্কি

তিনি বাইতুল মাকদিসে বসবাস করতেন

দুহাইম বলেন: তিনি আবু ইদরীসের পরে শামবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান। তিনি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের খেলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
62 - أَبُو رَافع نفيع الْمدنِي

نزيل الْبَصْرَة مولى ابْنة عمر أدْرك وَلم ير

63 - ربعي بن حِرَاش بن عَمْرو بن عبد الله الْغَطَفَانِي ثمَّ الْعَبْسِي أَبُو مَرْيَم الْكُوفِي

من خِيَار النَّاس آلى أَن لَا يضْحك حَتَّى يعلم أَفِي الْجنَّة هُوَ أَو فِي النَّار فَمَا ضحك إِلَّا بعد مَوته مَاتَ سنة مائَة أَو إِحْدَى أَو أَربع وَمِائَة
৬২ - আবু রাফি নুফাই আল-মাদানি

বসরা নিবাসী, উমরের কন্যার আযাদকৃত দাস। তিনি সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু দর্শন পাননি।

৬৩ - রিবঈ ইবনে হিরাশ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-গাতাফানি, অতঃপর আল-আবসি, আবু মারইয়াম আল-কুফি

তিনি শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি শপথ করেছিলেন যে, তিনি জান্নাতে না কি জাহান্নামে—তা নিশ্চিতভাবে না জানা পর্যন্ত হাসবেন না। ফলে মৃত্যুর পরেই কেবল তাঁকে হাসতে দেখা গিয়েছিল। তিনি ১০০ হিজরি অথবা ১০১ বা ১০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌الطَّبَقَة الثَّالِثَة الْوُسْطَى من التَّابِعين

 

64 - الْحسن بن أبي الْحسن يسَار الْبَصْرِيّ أَبُو سعيد

مولى زيد بن ثَابت وَقيل جَابر بن عبد الله وَقيل أَبُو الْيُسْر

ولد لِسنتَيْنِ بَقِيَتَا من خلَافَة عمر قَالَ أَبُو بردة أدْركْت الصَّحَابَة فَمَا رَأَيْت أحدا أشبه بهم من الْحسن

وَقَالَ خَالِد بن ريَاح الْهُذلِيّ سُئِلَ أنس بن مَالك عَن مَسْأَلَة فَقَالَ سلوا مَوْلَانَا الْحسن فَقيل لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ إِنَّه قد سمع وَسَمعنَا فحفظ ونسينا

وَقَالَ سُلَيْمَان التَّيْمِيّ الْحسن شيخ أهل الْبَصْرَة

مَاتَ فِي رَجَب سنة عشر وَمِائَة

65 - جَابر بن زيد أَبُو الشعْثَاء الْأَزْدِيّ اليحمدي الجوفي
তাবেয়ীদের মধ্যবর্তী পর্যায়ের তৃতীয় স্তর

 

৬৪ - হাসান ইবন আবিল হাসান ইয়াসার আল-বাসরী আবু সাঈদ

তিনি যায়েদ বিন সাবিতের মুক্তদাস ছিলেন, কেউ কেউ বলেন জাবের বিন আবদুল্লাহর, আবার কেউ কেউ বলেন আবুল ইয়াসারের।

তিনি উমরের খিলাফতের দুই বছর অবশিষ্ট থাকতে জন্মগ্রহণ করেন। আবু বুরদা বলেন: আমি সাহাবীগণকে পেয়েছি, কিন্তু তাদের সাথে হাসানের চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কাউকে দেখিনি।

খালিদ ইবন রিয়াহ আল-হুযালী বলেন: আনাস বিন মালিককে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, আমাদের অভিভাবক হাসানকে জিজ্ঞাসা করো। এ সম্পর্কে তাঁকে বলা হলে তিনি বললেন: তিনি শুনেছেন এবং আমরাও শুনেছি, অতঃপর তিনি তা সংরক্ষণ করেছেন আর আমরা ভুলে গেছি।

সুলাইমান আত-তাইমী বলেন: হাসান বাসরার অধিবাসীদের শায়খ।

তিনি ১১০ হিজরীর রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

৬৫ - জাবের বিন যায়েদ আবুশ শা’সা আল-আযদি আল-ইয়াহমাদি আল-জাওফী
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
قَالَ ابْن عَبَّاس لَو أَن أهل الْبَصْرَة نزلُوا عِنْد قَول جَابر بن زيد لأوسعهم علما من كتاب الله

وَقَالَ الزيات سَأَلت ابْن عَبَّاس عَن شَيْء فَقَالَ تَسْأَلُونِي وَفِيكُمْ جَابر بن زيد وَهُوَ أحد الْعلمَاء

مَاتَ سنة ثَلَاث وَتِسْعين أَو ثَلَاث وَمِائَة أَو أَربع وَمِائَة

66 - أَبُو الْخَيْر مرْثَد بن عبد الله الْيَزنِي

مفتي أهل مصر فِي زَمَانه مَاتَ سنة تسعين

67 - إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ بن يزِيد بن شريك أَبُو أَسمَاء الْكُوفِي

من الْعباد مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وَتِسْعين وَلم يبلغ أَرْبَعِينَ

68 - إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ بن يزِيد بن قيس بن الْأسود أَبُو عمرَان

فَقِيه أهل الْكُوفَة ومفتيها هُوَ وَالشعْبِيّ فِي زمانهما

قَالَ الْأَعْمَش كَانَ صيرفيا فِي الحَدِيث
ইবনে আব্বাস বলেন, যদি বসরার অধিবাসীরা জাবির ইবনে যায়িদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করত, তবে তিনি আল্লাহর কিতাব থেকে প্রাপ্ত ইলমের মাধ্যমে তাদের জন্য যথেষ্ট হতেন।

যায়্যাত বলেন, আমি ইবনে আব্বাসকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করছ অথচ তোমাদের মাঝে জাবির ইবনে যায়িদ রয়েছেন? অথচ তিনি অন্যতম বড় আলেম।

তিনি তিরানব্বই অথবা একশ তিন অথবা একশ চার হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৬৬ - আবুল খায়ের মারসাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াজানি

তিনি তাঁর সময়ে মিসরবাসীদের মুফতি ছিলেন, নব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৬৭ - ইব্রাহিম আত-তাইমি বিন ইয়াজিদ বিন শারিক আবু আসমা আল-কুফি

তিনি প্রখ্যাত ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বিরানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তখনও তিনি চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছাননি।

৬৮ - ইব্রাহিম আন-নাখয়ি বিন ইয়াজিদ বিন কায়েস বিন আল-আসওয়াদ আবু ইমরান

তিনি এবং আশ-শাবি তাঁদের সমসাময়িককালে কুফাবাসীদের ফকিহ ও মুফতি ছিলেন।

আল-আ’মাশ বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে একজন সুনিপুণ সমঝদার ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد كَانَ الشّعبِيّ وَإِبْرَاهِيم وَأَبُو الضُّحَى مُجْتَمعين فِي الْمَسْجِد يتذاكرون الحَدِيث فَإِذا جَاءَهُم شَيْء لَيْسَ عِنْدهم فِيهِ رِوَايَة رَمَوْهُ بِأَبْصَارِهِمْ

وَقَالَ الشّعبِيّ مَا ترك بعده أعلم مِنْهُ وَلَا الْحسن وَلَا ابْن سِيرِين وَلَا من أهل الْكُوفَة وَلَا الْبَصْرَة وَلَا الْحجاز وَلَا الشَّام

مَاتَ سنة سِتّ وَتِسْعين عَن تسع وَأَرْبَعين أَو ثَمَان وَخمسين

69 - عَليّ بن الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي طَالب أَبُو الْحُسَيْن وَأَبُو الْحسن أَو أَبُو مُحَمَّد أَو أَبُو عبد الله الْمدنِي زين العابدين

قَالَ الزُّهْرِيّ مَا رَأَيْت قرشيا أفضل مِنْهُ وَلَا أفقه

وَقَالَ مَالك كَانَ من أهل الْفضل

وَقَالَ ابْن الْمسيب مَا رَأَيْت أروع مِنْهُ

وَقَالَ ابْن أبي شيبَة أصح الْأَسَانِيد كلهَا الزُّهْرِيّ عَن عَليّ بن الْحُسَيْن عَن أَبِيه عَن عَليّ

ولد سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَمَات سنة اثْنَتَيْنِ وَتِسْعين أَو ثَلَاث أَو أَربع أَو خمس أَو تسع وَتِسْعين أَو سنة مائَة

70 - يحيى بن يعمر الْبَصْرِيّ أَبُو سُلَيْمَان أَو أَبُو سعيد أَو أَبُو عدي
ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ বলেন, শা'বি, ইব্রাহিম এবং আবু আদ-দুহা মসজিদে একত্রিত হয়ে হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন। যখন তাদের কাছে এমন কোনো বিষয় আসত যার ব্যাপারে তাদের নিকট কোনো বর্ণনা থাকত না, তখন তারা (সেটির সমাধান খুঁজতে) একে অপরের দিকে তাকাতেন।

শা'বি বলেন, তিনি নিজের পরে তার চেয়ে বড় কোনো আলেম রেখে যাননি; হাসান (বসরি) নন, ইবনে সিরিনও নন, কুফা, বসরা, হিজাজ বা সিরিয়ার অধিবাসীদের মধ্যেও কেউ নন।

তিনি ছিয়ানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার বয়স ছিল উনপঞ্চাশ অথবা আটান্ন বছর।

৬৯ - আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব, আবু আল-হুসাইন এবং আবু আল-হাসান অথবা আবু মুহাম্মদ অথবা আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি যাইনুল আবেদিন।

যুহরি বলেন, আমি তার চেয়ে উত্তম এবং ফিকহশাস্ত্রে অধিক দক্ষ কোনো কুরাইশীকে দেখিনি।

মালিক বলেন, তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইবনুল মুসাইয়িব বলেন, আমি তার চেয়ে অধিক পরহেযগার কাউকে দেখিনি।

ইবনে আবি শাইবা বলেন, সমস্ত সনদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো: যুহরি, আলী ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে।

তিনি তেত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বিরানব্বই অথবা তিরানব্বই অথবা চুরানব্বই অথবা পঁচানব্বই অথবা নিরানব্বই অথবা একশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৭০ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর আল-বসরি, আবু সুলাইমান অথবা আবু সাঈদ অথবা আবু আদি।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
قَاضِي مرو أول من نقط الْمَصَاحِف

قَالَ عبد الْملك بن عُمَيْر فصحاء النَّاس ثَلَاثَة مُوسَى بن طَلْحَة وَيحيى ابْن يعمر وَقبيصَة بن جَابر

وَقَالَ ابْن حبَان كَانَ من فصحاء أهل زَمَانه وَأَكْثَرهم علما باللغة مَعَ الْوَرع الشَّديد

71 - سعيد بن جُبَير بن هِشَام الْأَسدي الْوَالِبِي أَبُو مُحَمَّد أَو أَبُو عبد الله الْكُوفِي

كَانَ ابْن عَبَّاس إِذا أَتَاهُ أهل الْكُوفَة يستفتونه يَقُول أَلَيْسَ فِيكُم ابْن أم الدهماء يعنيه

وَقَالَ عَمْرو بن مَيْمُون عَن أَبِيه لقد مَاتَ سعيد بن جُبَير وَمَا على ظهر الأَرْض أحد إِلَّا وَهُوَ مُحْتَاج إِلَى علمه

قَتله الْحجَّاج لَعنه الله فِي شعْبَان سنة اثْنَتَيْنِ وَتِسْعين هُوَ ابْن تسع وَأَرْبَعين سنة

72 - مُحَمَّد بن سِيرِين الْأنْصَارِيّ أَبُو بكر بن أبي عمْرَة الْبَصْرِيّ
মার্ভের বিচারক, যিনি প্রথম মুসহাফসমূহে নুকতা (বিন্দু) প্রদান করেন।

আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের বলেন, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বাকপটু ব্যক্তি হলেন তিনজন: মুসা ইবনে তালহা, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর এবং কাবিছা ইবনে জাবির।

ইবনে হিব্বান বলেন, তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অন্যতম বাকপটু ছিলেন এবং অত্যন্ত পরহেযগারির পাশাপাশি ভাষাজ্ঞানে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন।

৭১ - সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে হিশাম আল-আসাদি আল-ওয়ালিবি, আবু মুহাম্মাদ অথবা আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি।

ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট যখন কুফাবাসী ফতোয়া নিতে আসতেন, তখন তিনি বলতেন, "তোমাদের মধ্যে কি ইবনে উম্মে দাহমা নেই?"—এর মাধ্যমে তিনি তাকেই উদ্দেশ্য করতেন।

আমর ইবনে মাইমুন তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন জমিনের ওপর এমন কেউ ছিল না যে তাঁর ইলমের মুখাপেক্ষী ছিল না।

হাজ্জাজ—আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন—তাঁকে বিরানব্বই হিজরীর শাবান মাসে হত্যা করে; তখন তাঁর বয়স ছিল ঊনপঞ্চাশ বছর।

৭২ - মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন আল-আনসারী, আবু বকর ইবনে আবি আমরাহ আল-বাসরি।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ূতী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
مولى أنس بن مَالك

قَالَ الْعجلِيّ من أروى النَّاس عَن شُرَيْح وَعبيدَة

وَقَالَ ابْن سعد ثِقَة مَأْمُون عَال رفيع فَقِيه إِمَام كثير الْعلم والورع

وَقَالَ مُورق الْعجلِيّ مَا رَأَيْت أفقه فِي روعه وَلَا أورع فِي فقهه مِنْهُ

وَقَالَ ابْن عون لم أر فِي الدُّنْيَا مثل ثَلَاثَة ابْن سِيرِين بالعراق وَالقَاسِم ابْن مُحَمَّد بالحجاز ورجاء بن حَيْوَة بِالشَّام وَلم يكن فِي هَؤُلَاءِ مثل مُحَمَّد

وَقَالَ عُثْمَان التَّيْمِيّ لم يكن بِالْبَصْرَةِ أحد أعلم مِنْهُ بِالْقضَاءِ

وَقَالَ ابْن حبَان ثِقَة فَاضل حَافظ متقن يعبر الرُّؤْيَا رأى ثَلَاثِينَ من الصَّحَابَة

ولد لِسنتَيْنِ بَقِيَتَا من خلَافَة عُثْمَان وَمَات فِي شَوَّال سنة عشر وَمِائَة بعد الْحسن بِمِائَة يَوْم

73 - عبيد الله بن عبد الله بن عتبَة بن مَسْعُود الْهُذلِيّ أَبُو عبد الله الْمدنِي

الْأَعْمَى أحد الْفُقَهَاء السَّبْعَة بِالْمَدِينَةِ

قَالَ الْوَاقِدِيّ ثِقَة فَقِيه كثير الْعلم والْحَدِيث شَاعِر

قَالَ عُثْمَان بن سعيد قلت لِابْنِ معِين عِكْرِمَة أحب إِلَيْك عَن ابْن عَبَّاس أَو عبيد الله فَلم يُخَيّر
আনাস ইবনে মালিকের মুক্ত করা দাস

আল-আজলি বলেন: তিনি শুরাইহ ও উবাইদাহ থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন

ইবনে সাদ বলেন: তিনি বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, উন্নত স্তরের ফকিহ, ইমাম এবং প্রভূত ইলম ও তাকওয়ার অধিকারী ছিলেন

মুওয়াররিক আল-আজলি বলেন: আমি তার চেয়ে অধিক তার তাকওয়ার মধ্যে ফকিহ এবং তার ফিকহের মধ্যে অধিক মুত্তাকি কাউকে দেখিনি

ইবনে আওন বলেন: আমি পৃথিবীতে তিনজনের মতো কাউকে দেখিনি—ইরাকে ইবনে সিরিন, হিজাজে আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ এবং সিরিয়ায় রাজা ইবনে হাইওয়াহ; আর তাদের মধ্যে মুহাম্মদের মতো কেউ ছিল না

উসমান আত-তাইমি বলেন: বসরায় বিচারকার্য সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ ছিল না

ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি বিশ্বস্ত, গুণী, হাফিজ, সুনিপুণ এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যাদাতা ছিলেন; তিনি ত্রিশজন সাহাবীকে দেখেছিলেন

তিনি উসমানের খিলাফতের শেষ দুই বছর বাকি থাকতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১১০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে আল-হাসানের মৃত্যুর একশ দিন পর মৃত্যুবরণ করেন

৭৩ - উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালি, আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি

তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং মদিনার সাতজন ফকিহর অন্যতম একজন ছিলেন

আল-ওয়াকিদি বলেন: তিনি বিশ্বস্ত, ফকিহ, প্রভূত ইলম ও হাদিসের অধিকারী এবং কবি ছিলেন

উসমান ইবনে সাঈদ বলেন: আমি ইবনে মায়িনকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ইকরিমা আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি উবাইদুল্লাহ? তিনি কোনো একজনকে নির্দিষ্ট করেননি।