(খণ্ড: ১)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: -)
الثقات لابن حبان القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الثقات
المؤلف: محمد بن حبان بن أحمد بن حبان بن معاذ بن مَعْبدَ، التميمي، أبو حاتم، الدارمي، البُستي (ت 354 هـ)
طبع بإعانة: وزارة المعارف للحكومة العالية الهندية
تحت مراقبة: الدكتور محمد عبد المعيد خان مدير دائرة المعارف العثمانية
الناشر: دائرة المعارف العثمانية بحيدر آباد الدكن الهند
الطبعة: الأولى، 1393 ه = 1973
عدد الأجزاء: 9
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে হিব্বানের আত-থিকাত বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আত-থিকাত
লেখক: মুহাম্মাদ বিন হিব্বান বিন আহমাদ বিন হিব্বান বিন মুআয বিন মাবাদ, আত-তামিমি, আবু হাতিম, আদ-দারিমি, আল-বুস্তি (মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি)
সহযোগিতায় মুদ্রিত: ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়
তত্ত্বাবধানে: ডক্টর মুহাম্মাদ আব্দুল মুয়ীদ খান, পরিচালক, দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া
প্রকাশক: দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া, হায়দ্রাবাদ ডেকান, ভারত
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৩ হিজরি = ১৯৭৩
খণ্ড সংখ্যা: ৯
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١)
(مُقَدّمَة)بسم الله الرحمن الرحيم
صلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَسلم تَسْلِيمًا
قَالَ أَبُو حَاتِم مُحَمَّد بْن حبَان بن أَحْمد التَّمِيمِي الْحَمد لله الَّذِي لَيْسَ لَهُ حد مَحْدُود فيتوى وَلَا لَهُ أجل مَعْدُود فيفنى وَلَا يُحِيط بِهِ جَوَامِع الْمَكَان وَلَا يشْتَمل عَلَيْهِ تَوَاتر الزَّمَان وَلَا يدْرك نعْمَته بالشواهد والحواس وَلَا يُقَاس صِفَات ذَاته بِالنَّاسِ تعاظم قدره عَن مبالغ نعت الواصفين وَجل وَصفه عَن إِدْرَاك غَايَة
(ভূমিকা)পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।
আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমদ আল-তামিমি বলেন, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই যে তিনি লয়প্রাপ্ত হবেন, আর না আছে তাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট মেয়াদ যে তিনি নিঃশেষ হয়ে যাবেন। কোনো স্থানিক পরিধি তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না এবং সময়ের পরম্পরা (تواتر) তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর অনুগ্রহসমূহকে কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ বা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না এবং তাঁর সত্তার গুণাবলিকে মানুষের সাথে তুলনা করা যায় না। তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার চরম সীমা হতেও মহান এবং তাঁর গুণাবলি কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য অনুধাবনের ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢)
الناطقين وكل دون وصف صِفَاته تحبير اللُّغَات وضل عَن بُلُوغ قَصده تصريف الصِّفَات وَجَاز فِي ملكوته غامضات أَنْوَاع التَّدْبِير وَانْقطع عَن دون بُلُوغه عميقات جَوَامِع التفكير وانعقدت دون اسْتِبْقَاء حَمده ألسن الْمُجْتَهدين وانقطعت إِلَيْهِ جَوَامِع أفكار آمال المنكرين غذ لَا شريك لَهُ فِي الْملك وَلَا نَظِير وَلَا مشير لَهُ فِي الحكم وَلَا وَزِير وَأشْهد أَن لَا غله إِلَّا الله أحصى كل شَيْء عدادًا وَضرب لكل امْرِئ ليهلك من هلك عَن بَيِّنَة وَيحيى من حييّ عَن بَيِّنَة واشهد أَن مُحَمَّدًا عَبده الْمُجْتَبى وَرَسُوله المرتضى بَعثه بِالنورِ الساطع والضياء اللامع فَبلغ عَن الله عز وجل الرسَالَة وأوضح فَمَا دَعَا إِلَيْهِ الدّلَالَة فَكَانَ فِي اتِّبَاع سنته لُزُوم الْهدى وَفِي قبُول مَا أَتَى بِهِ وجود السنا فصلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله الطيبين أما بعد فَإِن الله اخْتَار مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم من عباده واستخلصه لنَفسِهِ من بِلَاده فَبِعْته غلى خلقه بِالْحَقِّ بشيرا وَمن النَّار لمن زاغ عَن سَبيله نذيرا ليدعو الْخلق من عباده إِلَى عِبَادَته
বক্তাগণ এবং তাঁর গুণাবলি বর্ণনার প্রচেষ্টায় সকল ভাষার কারুকার্য ব্যর্থ হয় এবং গুণাবলি প্রকাশের ভাষা স্বীয় উদ্দেশ্য লাভে পথভ্রষ্ট হয়। তাঁর রাজত্বে সকল প্রকার সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনা কার্যকর এবং তাঁর মাহাত্ম্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে সকল গভীর চিন্তাধারা পরাভূত। তাঁর প্রশংসা জ্ঞাপনে একনিষ্ঠ পরিশ্রমী (مجتهدين) ব্যক্তিবর্গের রসনাও অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং অস্বীকারকারীদের আশালব্ধ সকল চিন্তা তাঁর নিকট ছিন্ন হয়ে যায়। কেননা রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই, নেই কোনো সমকক্ষ; বিচারকার্যে তাঁর কোনো পরামর্শদাতা নেই এবং নেই কোনো উজির। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি প্রতিটি বিষয়কে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে গণনা করেছেন এবং প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সুযোগ নির্ধারণ করেছেন, যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) দর্শনের পর ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) দর্শনের পর জীবিত থাকে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মনোনীত বান্দা এবং তাঁর পছন্দনীয় রাসূল; আল্লাহ তাঁকে প্রদীপ্ত নূর ও উজ্জ্বল আলো দিয়ে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং যে বিষয়ের দিকে তিনি আহ্বান করেছেন তার প্রমাণাদি (دلالة) স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণে হিদায়াতের আবশ্যকতা রয়েছে এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করার মধ্যে ঔজ্জ্বল্য বিদ্যমান। তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ (সা.)-কে চয়ন করেছেন এবং স্বীয় জনপদসমূহ থেকে তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর সৃষ্টির কাছে সত্যসহ সুসংবাদদাতা হিসেবে এবং যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের জন্য সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি বান্দাদের মধ্য থেকে সৃষ্টিজগতকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করতে পারেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣)
وَمن اتِّبَاع السَّبِيل إِلَى لُزُوم طَاعَته ثمَّ لم يَجْعَل الْفَزع عِنْد وُقُوع حَادِثَة وَلَا الْهَرَب عِنْد وجود كل نازلة إِلَّا على الَّذِي أنزل عَلَيْهِ التَّنْزِيل وتفضل على عباده بولايته التَّأْوِيل فسنته الفاصلة بَين المتنازعين وآثاره القاطعة بَين الْخَصْمَيْنِ فَلَمَّا رَأَيْت معرفَة السّنَن منأعظم أَرْكَان الدَّين وَأَن حفظهَا يجب على أَكثر الْمُسلمين وَأَنه لَا سَبِيل إِلَى معرفَة السقيم من الصَّحِيح وَلَا صِحَة إِخْرَاج الدَّلِيل من الصَّرِيح إِلَّا بِمَعْرِِفَة ضعفاء الْمُحدثين كَيْفيَّة مَا كَانُوا عَلَيْهِ من الْحَالَات أردْت أَن أملي أسامي أَكثر الْمُحدثين وَمن الْفُقَهَاء من أهل الْفضل وَالصَّالِحِينَ وَمن سلك سَبيله من الماضين بِحَذْف الْأَسَانِيد والإكثار وَلزِمَ سلوك الِاخْتِصَار ليسهل على الْفُقَهَاء حفظهَا وَلَا يصعب على الْحَافِظ وعيها وَالله أسأَل التَّوْفِيق لما أوصانا والعون على مَا لَهُ قصدنا واساله أَن يَبْنِي دَار المقامة
সঠিক পথের অনুগামিতার অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর আনুগত্যের আবশ্যিকতা রক্ষা করা। অতঃপর কোনো বিপদ আপতিত হলে বিচলিত হওয়া কিংবা কোনো সংকটের মুহূর্তে আশ্রয় লাভের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য কারো অভিমুখী না হওয়া, যাঁর প্রতি মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহস্বরূপ যাকে এর ব্যাখ্যার দায়িত্ব দান করেছেন। সুতরাং তাঁর সুন্নাহ বিবাদমানদের মাঝে মীমাংসাকারী এবং তাঁর আছারসমূহ বিবাদকারীদের মধ্যে অকাট্য ফয়সালা। যখন আমি উপলব্ধি করলাম যে, সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করা দীনের অন্যতম মহান ভিত্তি এবং এর সংরক্ষণ অধিকাংশ মুসলিমের ওপর আবশ্যক, আর সঠিক (صحيح) বর্ণনা থেকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) বর্ণনাকে পৃথক করার কোনো পথ নেই, কিংবা সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকে বিশুদ্ধভাবে দলিল উদ্ঘাটন করাও সম্ভব নয়— হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা দুর্বল (ضعفاء) তাদের অবস্থা এবং তারা যে পরিস্থিতির ওপর ছিলেন তা জানা ব্যতীত; তাই আমি অধিকাংশ হাদিস বর্ণনাকারী, পুণ্যবান ও ফযিলতপূর্ণ ফকিহগণ এবং পূর্ববর্তীদের মধ্যে যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাদের নামসমূহ লিপিবদ্ধ করার সংকল্প করেছি। এক্ষেত্রে আমি দীর্ঘ আলোচনা ও সনদসমূহ (أسانيد) বর্জন করে সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, যাতে ফকিহদের জন্য তা মুখস্থ রাখা সহজ হয় এবং হাফিজদের জন্য তা আয়ত্ত করা কঠিন না হয়। আমি আল্লাহর নিকট সেই তৌফিক প্রার্থনা করছি যা পালনের নির্দেশ তিনি আমাদের দিয়েছেন এবং সেই কাজে সাহায্য চাচ্ছি যে লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি; আর আমি তাঁর নিকট চিরস্থায়ী আবাসের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٤)
من نعْمَته ومنتهى الْغَايَة من كرامته فِي أَعلَى دَرَجَة الْأَبْرَار المنتخبين الأخيار إِنَّه جواد كريم رؤف رَحِيم ذِكْرُ الْحَثِّ على لُزُومِ سُنَنِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُكْرَمِ بْنِ خَالِدٍ الْبِرْتِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ثَنَا بن يَزِيدَ ثَنَا خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو السُّلَمِيُّ وَحَجَرُ بْنُ حَجَرٍ الْكَلاعِيُّ قَالا أَتَيْنَا الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ وَهُوَ مِمَّنْ نَزَلَ فِيهِ وَلا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أحملكم عَلَيْهِ فَسَلَّمْنَا وَقُلْنَا أَتَيْنَاكَ زَائِرِينَ وَعَائِدِينَ ومقتبسين فقا الْعِرْبَاضُ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ ذَات يَوْم ثمَّ اقب لعلينا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّ هَذِه موعظة مُودع فَمَاذَا تعهد غلينا قَالَ أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدَّعًا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِيشُ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلافًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ فَتَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ قَالَ الْوَلِيدُ فَذَكَرْتُ
তাঁর অনুগ্রহে এবং তাঁর মহানুভবতার চরম শিখরে, পুণ্যবান ও মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ মর্যাদায়। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দাতা, মহানুভব, পরম দয়ালু ও করুণাময়।
মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ প্রদানের বর্ণনা।
আহমদ বিন মুকরাম বিন খালিদ আল-বিরতী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আলী ইবনুল মাদীনী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), ইবনে ইয়াযিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), খালিদ বিন মা'দান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), আবদুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী এবং হজর বিন হজর আল-কালাঈ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني); তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা ইরবায বিন সারিয়াহ-র নিকট আসলাম—যিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁদের সম্পর্কে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল: "আর তাদের ওপরও কোনো গুনাহ নেই, যারা যখন আপনার কাছে সওয়ারীর জন্য এল এবং আপনি বললেন: তোমাদের দেওয়ার মতো কোনো সওয়ারী আমার কাছে নেই।" আমরা তাঁকে সালাম দিলাম এবং বললাম: আমরা আপনার নিকট যিয়ারতকারী, অসুস্থতার খোঁজখবর নিতে এবং জ্ঞান অর্জনকারী হিসেবে এসেছি। ইরবায বললেন: একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং আমাদের এক অত্যন্ত মর্মস্পর্শী উপদেশ দান করলেন, যাতে চোখগুলো অশ্রুসজল হলো এবং অন্তরগুলো ভীত-সন্ত্রস্ত হলো। তখন এক ব্যক্তি আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি যেন এক বিদায়ী উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহভীতি এবং আমীরের কথা শোনার ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে কোনো অঙ্গহানি হওয়া হাবশী দাসও হয়। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে তা কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা (দ্বীনের) নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকো; কারণ প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة) এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)।" ওয়ালিদ বলেন: অতঃপর আমি বিষয়টি উল্লেখ করলাম।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٥)
هَذَا الْحَدِيثَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَلاءِ بْنِ زَبْرٍ فَقَالَ نَعَمْ حدثني بِنَحْوٍ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ أَبُو حَاتِم إِن اللَّه جلّ وَعلا اصْطفى محمدا صلى الله عليه وسلم من بَين خلقه وَبَعثه بِالْحَقِّ بشيرا وَنَذِيرا واقترض على خلقه طَاعَته ومذكوره وَحدثنَا فَقَالَ يَا أَيهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول وَقَالَ وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أمرا الْآيَة فَأمر اللَّه بِطَاعَة رَسُوله مَعَ طَاعَته وَعند التَّنَازُع بِالرُّجُوعِ إِلَى سنته إِذْ هُوَ المفزع الَّذِي لَا مُنَازعَة لأحد من الْخلق فِيهِ
এই হাদিসটি আব্দুল্লাহ বিন আল-আলা ইবনে জাবর-এর; তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাকে এই হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (حدثني)। আবু হাতিম বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর আনুগত্য ও তাঁর স্মরণকে অপরিহার্য করেছেন। তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), অতঃপর বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন নর বা নারীর জন্য সে বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার থাকে না"—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতএব, আল্লাহ তাঁর নিজের আনুগত্যের সাথে সাথে তাঁর রাসূলের আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন এবং বিরোধের সময় তাঁর সুন্নতের (سنة) দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা এটিই হলো সেই আশ্রয়স্থল যার ব্যাপারে সৃষ্টির কারো কোনো বিরোধের অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٦)
فَمن تنَازع فِي شَيْء بعد رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجب رد أمره إِلَى قَضَاء اللَّه ثمَّ إِلَى قَضَاء رَسُوله صلى الله عليه وسلم لِأَن طَاعَة رَسُوله طَاعَته قَالَ الله تَعَالَى إِن الَّذِي يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ الله فَوق أَيّدهُم فَم نكث لاآية وَقَالَ من يطع الله فقد أعلمهم جلّ وَعلا أَن اتباعهم رَسُوله اتِّبَاعه وَأَن طاعتهم لَهُ طَاعَته ثمَّ ضمن الْجنَّة لمن أطَاع رَسُوله وَاتبع من أَجَابَهُ فَقَالَ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ الله عَلَيْهِم رَسُوله وَنفى الْإِيمَان عَن من لم يحكمه فِيمَا شجر بَينهم قَالَ فلاوربك لَا يُؤمنُونَ الْآيَة ثمَّ أعلمنَا جلّ وَعلا أَن دعاهم إِلَى رَسُوله ليحكم بَينهم إِنَّمَا دعاهم إِلَى حكم اللَّه لَا أَن الْحَاكِم بَينهم رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَّهُمْ مَتى مَا سلمُوا الحكم لرَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقد سلموه بِفَرْض اللَّه قَالَ اللَّه عز وجل إِذا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَينهم إِلَى قَوْله فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ ذَا حكم اللَّه فَرْضه بالزام خلقه طَاعَة رَسُوله وإعلامهم أَنَّهَا طَاعَته ثمَّ أعلمنَا
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিরোধানের পর কোনো বিষয়ে কেউ বিবাদে লিপ্ত হলে, সেই বিষয়টি আল্লাহর ফয়সালার দিকে এবং অতঃপর তাঁর রাসূলের ফয়সালার দিকে ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক (واجب)। কারণ তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করা। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, "নিশ্চয় যারা আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহরই বায়আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। অতঃপর যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে..." (আয়াত)। তিনি আরও বলেছেন, "যে আল্লাহর আনুগত্য করল..."। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাসূলের অনুসরণ করা মূলত তাঁরই অনুসরণ এবং রাসূলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন মূলত তাঁরই আনুগত্য। অতঃপর তিনি তাঁর রাসূলের আনুগত্যকারী এবং তাঁর আহবানে সাড়াদানকারী অনুসারীদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। তিনি এরশাদ করেছেন, "আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন..."। আর যে ব্যক্তি বিবাদমান বিষয়ে তাঁকে বিচারক হিসেবে মান্য করবে না, তার থেকে তিনি ঈমানকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেছেন, "আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না..." (আয়াত)। অতঃপর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমাদের অবহিত করেছেন যে, তাদের মধ্যে বিচার ফয়সালার জন্য তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা মূলত আল্লাহর বিধানের (حكم) দিকেই আহবান করা; বিষয়টি এমন নয় যে বিচারক কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বরং তারা যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিচার মেনে নেয়, তখন তারা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজের (فرض) কারণেই তা মেনে নেয়। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল এরশাদ করেছেন, "যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে বিচার করেন..." তাঁর বাণী "তারাই সফলকাম" পর্যন্ত। এটিই আল্লাহর বিধান (حكم), যা তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে অপরিহার্য করার মাধ্যমে ফরজ (فرض) করেছেন এবং তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে এটিই মূলত তাঁর আনুগত্য। অতঃপর তিনি আমাদের অবহিত করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٧)
أَن الْفَرْض على رَسُوله ابْتَاعَ أمره فَقَالَ اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ لَا إِلَهَ إِلا هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ وَقَالَ جلّ وَعلا ثمَّ جعلتك على شَرِيعَةٍ مِنَ الأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تتبع الْآيَة وَقَالَ يَا أَيهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللَّهَ وَلا تُطِعِ الكفرين إِلَى قَوْله خَبِيرا ثمَّ شهد اللَّه جلّ وَعلا لرَسُوله بِاتِّبَاع أمره واستمساك بأَمْره لما سبق فِي علمه من إسعاده بعصمته وتوفيقه للهدى مَعَ هِدَايَة من اتبعهُ فَقَالَ وَلَولَا فضل الله ليهك وَرَحمته لهمت طَائِفَة مِنْهُم الْآيَة ثمَّ أمره اللَّه جلّ وَعلا بتبليغ مَا أنزل إِلَيْهِ أمته مَعَ الشَّهَادَة لَهُ بالعصمة من بَين النَّاس فَقَالَ يَا أَيهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ من النَّاس ثمَّ أعلمنَا أَن الَّذِي يهدي إِلَيْهِ رَسُوله هُوَ الصِّرَاط الْمُسْتَقيم الَّذِي أمرنَا باتباعه فَقَالَ وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كنت تَدْرِي مَا الْكتب وَلَا لاإيمان غلى قَوْله وَمَا فِي الأَرْض فَفِي هَذِه الْآيَة الَّتِي طولناها مَا أَقَامَ بهاالحجة على خلقه بِالتَّسْلِيمِ لحكم رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا لَيْسَ لله فيهحكم فبحكم اللَّه سنه وَوَجَب علينا اتِّبَاعه وَفِي العنود عَن اتِّبَاعه مَعْصِيّة إِذْ لَا حكمبين اللَّه وَبَين خلقه إِلَّا الَّذِي وَصفه اللَّه جلّ وَعلا مَوضِع الْإِبَانَة لخلقه عَنهُ
নিশ্চয়ই তাঁর রাসূলের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করা ফরয ছিল। অতঃপর তিনি বলেছেন: "তোমার প্রতি তোমার রবের পক্ষ থেকে যা ওহী নাযিল করা হয়েছে তুমি তার অনুসরণ করো। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকো।" মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "অতঃপর আমি তোমাকে দ্বীনের এক বিশেষ বিধানের (شريعة) ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি; সুতরাং তুমি তা অনুসরণ করো এবং (অজ্ঞদের প্রবৃত্তির) অনুসরণ করো না।" (আয়াত শেষ পর্যন্ত)। তিনি আরও বলেছেন: "হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফিরদের আনুগত্য করবেন না..." "সম্যক পরিজ্ঞাত" পর্যন্ত। এরপর মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের জন্য তাঁর নির্দেশ অনুসরণ ও সেটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন; কারণ তাঁর অনাদি জ্ঞানে এটি নির্ধারিত ছিল যে, তিনি তাঁকে তাঁর বিশেষ সুরক্ষা (عصمة) ও হিদায়াতের তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান করবেন এবং সেই সাথে যারা তাঁর অনুসরণ করবে তাদেরও হিদায়াত দান করবেন। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমার ওপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত, তবে তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে উদ্যত হতো..." (আয়াত শেষ পর্যন্ত)। এরপর মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর উম্মতের কাছে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করার নির্দেশ দিলেন এবং একই সাথে মানুষের অনিষ্ট থেকে তাঁকে সুরক্ষার (عصمة) নিশ্চয়তা দিয়ে বললেন: "হে রাসূল! তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করো। আর যদি তুমি তা না করো, তবে তুমি তাঁর রিসালাত প্রচার করলে না। আর আল্লাহ তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।" এরপর তিনি আমাদের অবহিত করেছেন যে, তাঁর রাসূল যে পথের দিকে হিদায়াত দান করেন তা-ই হলো সরল পথ, যা আমাদের অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন: "আর এভাবেই আমি আমার নির্দেশ থেকে এক রূহকে তোমার কাছে ওহী করেছি; তুমি জানতে না কিতাব কী আর ঈমান কী..." "যমীনে যা কিছু আছে" পর্যন্ত। সুতরাং এই সুদীর্ঘ আয়াতের মাধ্যমে তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিদ্ধান্তের প্রতি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অকাট্য প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যেসব বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বিধান নেই, সেখানে তিনি আল্লাহর হুকুম (حكم) অনুযায়ীই সুন্নাহ (سنة) প্রবর্তন করেছেন এবং আমাদের জন্য তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক হয়েছে। আর তাঁর অনুসরণ থেকে বিমুখ হওয়া একটি অবাধ্যতা, কারণ আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ওই মাধ্যম ব্যতীত আর কোনো বিধান (حكم) নেই, যা তিনি তাঁর সৃষ্টির কাছে স্পষ্টভাবে বিষয়াদি বর্ণনা করার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٨)
فَالْوَاجِب على كل من انتحل الْعلم أَو نسب إِلَيْهِ حفظ سُنَنِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم والتفقه فِيهَا وَلَا حِيلَة لأحد فِي السَّبِيل إِلَى حفظهَا إِلَّا بِمَعْرِِفَة تَارِيخ الْمُحدثين وَمَعْرِفَة الضُّعَفَاء مِنْهُم من الثِّقَات لِأَنَّهُ مَتى لم يعرف ذَاك لم يحسن تَمْيِيز الصَّحِيح السقيم وَلَا عرف الْمسند من الْمُرْسل وَلَا الْمَوْقُوف من الْمُنْقَطع فَإِذا وقف على أَسْمَائِهِ وأنسابهم وَعرف أَعنِي بَعضهم بَعْضًا وميز الْعُدُول من الضُّعَفَاء وَجب عَلَيْهِ حِينَئِذٍ التفقه فِيهَا وَالْعَمَل بهَا ثمَّ إصْلَاح النِّيَّة فِي نشرها إِلَى من بعده رَجَاء استكمال الثَّوَاب العقبى بِفِعْلِهِ ذَلِك إِذْ الْعلم من أفضل مَا يخلف الْمَرْء بعده نسْأَل اللَّه الْفَوْز على يقربنا إِلَيْهِ ويزلفنا لَدَيْهِ ذكر الْحَث على نشر الْعلم إِذْ هُوَ من خير مَا يخلف الْمَرْء بعده أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ ثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ ثَنَا إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر
যারা ইলমের দাবিদার কিংবা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেকের জন্য মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোর গভীর জ্ঞান অর্জন করা অত্যাবশ্যক। আর সুন্নাহ সংরক্ষণের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য হাদিস বিশারদগণের ইতিহাস এবং তাদের মধ্য থেকে দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা ব্যতীত আর কোনো উপায় নেই। কেননা যখন এই বিষয়গুলো জানা থাকবে না, তখন সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হাদিসের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পার্থক্য করা সম্ভব হবে না; এবং মুসনাদ (مسند) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) কিংবা মাওকুফ (موقوف) থেকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিসকেও পৃথক করা যাবে না। সুতরাং যখন তিনি বর্ণনাকারীদের নাম ও বংশপরিচয় অবগত হবেন, একে অপরের থেকে বর্ণনার পারস্পরিক সম্পর্ক জানবেন এবং ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীদের দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের থেকে পৃথক করতে পারবেন, তখনই কেবল তার ওপর সেগুলোর সম্যক জ্ঞান অর্জন ও আমল করা আবশ্যক হবে। অতঃপর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা প্রচার করার ক্ষেত্রে নিয়ত সংশোধন করতে হবে, এই প্রত্যাশায় যেন এর মাধ্যমে পরকালীন পূর্ণ সওয়াব অর্জিত হয়; কারণ ইলম হলো মানুষের রেখে যাওয়া সর্বোত্তম উত্তরাধিকার। আমরা আল্লাহর কাছে এমন সাফল্য প্রার্থনা করি যা আমাদের তাঁর নিকটবর্তী করবে এবং তাঁর সান্নিধ্য দান করবে। ইলম প্রচারের প্রতি উৎসাহ প্রদান সংক্রান্ত আলোচনা, কেননা এটি মানুষের রেখে যাওয়া সর্বোত্তম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। ফজল ইবনুল হুবাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٩)
عَنِ الْعَلاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلا مِنْ ثَلاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ ذكر الْخَبَر الدَّال على اسْتِحْبَاب حفظ تَارِيخ الْمُحدثين أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ ثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ ثَنَا بن عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ذَكَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَقَفَ عَلَى بَعِيرِهِ وَأَمْسَكَ إنسن بِخِطَامِهِ أَوْ قَالَ بِزِمَامِهِ فَقَالَ أَيُّ يَوْمٍ هَذَا فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ
আলা ইবনে আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।"
হাদিস বিশারদদের (المحدثين) ইতিহাস বা জীবনকাল সংরক্ষণের মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার নির্দেশক বর্ণনা (الخبر) উল্লেখ করা হলো:
মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হামদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আ’লা আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), বিশর ইবনুল মুফাদদাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে আউন মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি বাকরাহ থেকে এবং তিনি আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উটের ওপর উপবিষ্ট ছিলেন এবং জনৈক ব্যক্তি তাঁর লাগাম ধরে ছিল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আজ কোন দিন?" আমরা নীরব থাকলাম, এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো দিনটিকে তার পরিচিত নাম ব্যতীত অন্য কোনো নামে অভিহিত করবেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
فَقَالَ الي بِيَوْمِ النَّحْرِ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَأَيُّ شَهْرٍ هَذَا فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ بِذِي الْحِجَّةِ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَأَيُّ بَلَدٍ هَذَا فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ الْبَلَدَ الْحَرَامَ قُلْنَا بَلَى فَقَالَ إِنَّ دماءكم وأمواكلم وَأَعْرَاضكُمْ بَيْنكُم حرَام عَلَيْكُم حكرمة يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ أَوْعَى لَهُ مِنْهُ قَالَ أَبُو حَاتِم فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم ليبلغ الشَّاهِد مِنْكُم الْغَائِب كالدليل على اسْتِحْبَاب حفظ تَارِيخ الْمُحدثين وَالْوُقُوف على معرفَة الثِّقَات مِنْهُم من الضُّعَفَاء إِذْ لَا يتهيأ للمرء أَن يبلغ الْغَائِب مَا شهد إِلَّا بعد الْمعرفَة بِصِحَّة مَا يُؤَدِّي إِلَى منبعده وَإنَّهُ إِذا أدّى إِلَى من بعده مَا لم يَصح عَن رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَأَنَّهُ لم يؤد عَنهُ صلى الله عليه وسلم شَيْئا وَلَا سَبَب لَهُ إِلَى معرفَة صِحَة الْأَخْبَار وسقيمها إِلَّا بِمَعْرِِفَة تَارِيخ من ذكر اسْمه من الْمُحدثين بَيَاض وكتابا أبين فِيهِ الضُّعَفَاء والمتروكين وابدأ مِنْهُمَا بالثقات فَنَذْكُر مَا كَانُوا عَلَيْهِ فِي الْحَالَات فَأول مَا أبدأ فِي كتَابنَا هَذَا ذكر الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم ومولده ومبعثه وهجرته إِلَى أَن قَبضه اللَّه تَعَالَى إِلَى جنته ثمَّ نذْكر بعده الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين بأيامهم إِلَى أَن قتل على رحمه الله عَلَيْهِ
অতঃপর তিনি বললেন, "এটি কি কুরবানির দিন নয়?" আমরা বললাম, "অবশ্যই।" তিনি বললেন, "এটি কোন মাস?" আমরা নীরব রইলাম, এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো একে তার পরিচিত নাম ছাড়া অন্য কোনো নামে অভিহিত করবেন। তখন তিনি বললেন, "এটি কি জিলহজ মাস নয়?" আমরা বললাম, "অবশ্যই।" তিনি বললেন, "এটি কোন শহর?" আমরা নীরব রইলাম, এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো একে তার পরিচিত নাম ছাড়া অন্য কোনো নামে অভিহিত করবেন। অতঃপর তিনি বললেন, "এটি কি সম্মানিত শহর নয়?" আমরা বললাম, "অবশ্যই।" তখন তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের মান-সম্মান তোমাদের পরস্পরের নিকট হারাম, যেমন হারাম তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর। সাবধান! তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট (এই বার্তা) পৌঁছে দেয়। কারণ, উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন একজনের নিকট তা পৌঁছাবে যে তার চেয়েও বেশি সংরক্ষণকারী হবে।"
আবু হাতিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়" সম্পর্কে বলেন যে, এটি মুহাদ্দিসগণের ইতিহাস সংরক্ষণ করা এবং তাদের মধ্য থেকে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের পরিচিতি লাভের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের দলীলস্বরূপ। কারণ, একজন ব্যক্তির পক্ষে যা সে প্রত্যক্ষ করেছে তা অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট যা বর্ণনা করছে তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে। আর যদি সে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট এমন কিছু বর্ণনা করে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) নয়, তবে সে যেন তাঁর পক্ষ থেকে কিছুই বর্ণনা করেনি। আর সংবাদের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং ত্রুটিযুক্ততা (سقيم) চেনার কোনো উপায় নেই মুহাদ্দিসগণের ইতিহাস জানা ব্যতীত। [এখানে পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে] এবং আমি একটি কিতাব রচনা করছি যেখানে আমি দুর্বল (ضعيف) ও বর্জনীয় (متروك) বর্ণনাকারীদের স্বরূপ বর্ণনা করব এবং তাদের আগে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের দিয়ে শুরু করব। অতঃপর আমি বিভিন্ন অবস্থায় তাদের যে অবস্থা ছিল তা উল্লেখ করব। আমাদের এই কিতাবে আমি সর্বপ্রথম নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোচনা, তাঁর জন্ম, নবুওয়াত লাভ এবং হিজরত থেকে শুরু করে আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতে তুলে নেওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করব। এরপর আমি তাঁর পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের শাসনকাল উল্লেখ করব, যতক্ষণ না আলী (রাযি.) শহীদ হন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١١)
ثمَّ نذْكر صحب رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحِدًا على المعجم إِذْ هم خير النَّاس قرنا بعد رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثمَّ نذْكر بعدهمْ التَّابِعين الَّذين شافهوا أَصْحَاب رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأقاليم كلهَا على المعجم إِذْ هم خير النَّاس بعد الصَّحَابَة قرنا ثمَّ نذْكر الْقرن الثَّالِث الَّذين رَأَوْا التَّابِعين فأذكرهم على نَحْو مَا ذكرنَا الطبقتين الْأَوليين ثمَّ نذْكر الْقرن الرَّابِع الَّذين هم أَتبَاع التَّابِعين على سبييل من قبلهم وَهَذَا الْقرن ينتهى إِلَى زَمَاننَا هَذَا وَلَا أذكر فِي هَذَا الْكتاب الأول إِلَّا الثِّقَات الَّذين يجوز الِاحْتِجَاج بخبرهم وأقنع بِهَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ المختصرين عَن كتاب التَّارِيخ الْكَبِير الَّذِي خرجناه لعلمنا بصعوبة حفظ كل مَا فِيهِ من الْأَسَانِيد والطرق والحكايات وَلِأَن مَا نمليه فِي هذَيْن الْكِتَابَيْنِ انيسر الله ذَلِك وسلهم من توصيف الْأَسْمَاء بِقصد مَا يحْتَاج إِلَيْهِ يكون أسهل على المتعلم إِذا قصد الْحِفْظ وَأنْشط لَهُ فِي وعيه إِذا أَرَادَ الْعلم من التَّكَلُّف بِحِفْظ مَا لَو أغضى عَنهُ فِي الْبِدَايَة لم يخرج فِي فعله من التَّكَلُّف لحفظ ذَلِك فَكل من أذكرهُ فِي هَذَا الكتابالأول فَهُوَ صَدُوق يجوز الِاحْتِجَاج
এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের (صحب) নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তী যুগে তাঁরাই শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম (قرن)। অতঃপর আমি তাঁদের পরবর্তী সেই তাবিঈদের (التابعين) কথা উল্লেখ করব যারা সকল অঞ্চলের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের (أصحاب) সরাসরি সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। কেননা সাহাবীদের (الصحابة) পরবর্তী যুগে তাঁরাই শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম (قرنا)। এরপর আমি তৃতীয় প্রজন্মের কথা উল্লেখ করব যারা তাবিঈদের (التابعين) দেখেছিলেন। তাঁদের আমি পূর্ববর্তী দুই স্তরের (الطبقتين) ন্যায় একইভাবে উল্লেখ করব। অতঃপর আমি চতুর্থ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করব যারা তাবি-তাবিঈ (أتباع التابعين)। তাঁদের বর্ণনাও তাঁদের পূর্বসূরিদের তরিকায় করা হবে এবং এই প্রজন্মটি আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি এই প্রথম কিতাবে কেবল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদেরই উল্লেখ করব, যাদের খবর বা বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করা বৈধ। আমি আমার সংকলিত তারিখুল কাবির কিতাবের পরিবর্তে এই সংক্ষিপ্ত কিতাব দুটির ওপরই নির্ভর করছি; কারণ আমি জানি যে, সেই কিতাবে বর্ণিত সকল সনদ (الأسانيد), সূত্র (الطرق) ও বর্ণনাসমূহ মুখস্থ রাখা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া এই কিতাব দুটিতে আমি যা বর্ণনা করব—আল্লাহ যদি তা সহজ ও সুগম করে দেন—তাতে নামগুলোর প্রয়োজনীয় বিবরণ প্রদান করা একজন শিক্ষার্থীর জন্য মুখস্থ করার ক্ষেত্রে অনেক সহজ হবে এবং ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে তাকে অধিকতর উদ্যমী করবে। এটি তাকে এমন কিছু মুখস্থ করার অহেতুক কষ্ট থেকে বাঁচাবে যা শুরুতে এড়িয়ে চললে কোনো ক্ষতি নেই। সুতরাং, এই প্রথম কিতাবে আমি যাঁদেরই উল্লেখ করব, তাঁরা সকলেই সত্যবাদী (صدوق) এবং তাঁদের বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) বৈধ।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
بِخَبَرِهِ إِذا تعرى خَبره عَن خِصَال خمس فَإِذا وجد خبر مُنكر عَن وَاحِد مِمَّن أذكرهُ فِي كتابي هَذَا فَإِن ذَلِك الْخَبَر لَا يَنْفَكّ من إِحْدَى خمس خِصَال إِمَّا أَن يكون فَوق الشَّيْخ الَّذِي ذكرت اسْمه فِي كتابي هَذَا فِي الْإِسْنَاد رجل ضَعِيف لَا يحْتَج بِخَبَرِهِ أَو يكون دونه رجل واه لَا يجوز الِاحْتِجَاج بروايته أَو الْخَبَر يكون مُرْسلا لَا يلْزمنَا بِهِ الْحجَّة أَو يكون مُنْقَطِعًا لَا يقوم بِمثلِهِ الْحجَّة أَو يكون فِي الْإِسْنَاد رجل مُدَلّس لم يبين سَمَاعه فِي الْخَبَر من الَّذِي سَمعه مِنْهُ فَإِن المدلس مَا لم يبين سَماع خَبره عَمَّن كتب عَنهُ لَا يجوز الِاحْتِجَاج بذلك الْخَبَر لِأَنَّهُ لَا يدْرِي لَعَلَّه سَمعه من إِنْسَان ضَعِيف يبطل الْخَبَر بِذكرِهِ إِذا وقف عَلَيْهِ وَعرف الْخَبَر بِهِ فَمَا لم يقل المدلس فِي خَبره وَإِن كَانَ ثِقَة سَمِعت أَو حَدثنِي فَلَا يجوز الِاحْتِجَاج بِخَبَرِهِ فَذكرت هَذِه الْمَسْأَلَة بكمالها بالعلل والشواهد والحكايات فِي كتاب شَرَائِط الْأَخْبَار فأغنى
তার সংবাদের মাধ্যমে, যখন তার সংবাদটি পাঁচটি বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হয়। সুতরাং আমি আমার এই বইয়ে যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাদের কারো পক্ষ থেকে যদি কোনো অগ্রাহ্য (منكر) সংবাদ পাওয়া যায়, তবে সেই সংবাদটি অবশ্যই এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হবে: হয় এই বইয়ে আমি যে শায়খের নাম উল্লেখ করেছি, বর্ণনাধারায় (إسناد) তার উপরের স্তরে এমন কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি রয়েছেন যার সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না; অথবা তার নিচের স্তরে এমন কোনো অতি দুর্বল (واه) ব্যক্তি রয়েছেন যার বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা বৈধ নয়; অথবা সংবাদটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হবে যার মাধ্যমে আমাদের ওপর দলিল সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয় না; অথবা সেটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) হবে যার দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না; অথবা বর্ণনাধারায় (إسناد) এমন কোনো তাদলিসকারী (مدلس) ব্যক্তি থাকবেন যিনি কার নিকট থেকে শুনেছেন সেই শ্রবণের (سماع) বিষয়টি সংবাদে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি। কেননা তাদলিসকারী (مدلس) ব্যক্তি যার থেকে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন, তার থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট না করা পর্যন্ত সেই সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়; কারণ এটি অজ্ঞাত যে, সম্ভবত তিনি এটি কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির নিকট থেকে শুনেছেন, যার কথা উল্লেখ করলে এবং বিষয়টি অবগত হলে সংবাদটি বাতিল বলে গণ্য হতো। অতএব, তাদলিসকারী (مدلس) ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হলেও তিনি যদি তার বর্ণনায় "আমি শুনেছি" অথবা "তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন" না বলেন, তবে তার সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ হবে না। আমি এই বিষয়টি এর পূর্ণাঙ্গ কারণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনাবলীসহ 'শারাইতুল আখবার' নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি, যা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ذَلِك عَن تكرارها فِي هَذَا الْكتاب وَإِنَّمَا أذكر فِي هَذَا الْكتاب الشَّيْخ بعد الشَّيْخ وَقد ضعفه بعض أَئِمَّتنَا وَوَثَّقَهُ بَعضهم فَمن صَحَّ عِنْدِي مِنْهُم أَنه ثِقَة بالدلائل النيرة الَّتِي بينتها فِي كتاب الْفَصْل بَين النقلَة أدخلته فِي هَذَا الْكتاب لِأَنَّهُ يجوز الِاحْتِجَاج بِخَبَرِهِ وَمن صَحَّ عِنْدِي مِنْهُم أَنه ضَعِيف بالبراهين الْوَاضِحَة الَّتِي ذكرتها فِي كتاب الْفَصْل بَين النقلَة لم أذكرهُ فِي هَذَا الْكتاب لكني أدخلته فِي كتاب الضُّعَفَاء بالعلل لِأَنَّهُ لَا يجوز الِاحْتِجَاج بِخَبَرِهِ فَكل من ذكرته فِي كتابي هَذَا إِذا تعرى خَبره عَن الْخِصَال الْخمس الَّتِي ذكرتها فَهُوَ عدل يجوز الِاحْتِجَاج بِخَبَرِهِ لِأَن الْعدْل من لم يفرف مِنْهُ الْجرْح ضد التَّعْدِيل فَمن لم يعلم بجرح فَهُوَ عدل إِذا لم يبين ضِدّه إِذْ لم يُكَلف النَّاس من النَّاس معرفَة مَا غَابَ عَنْهُم وَإِنَّمَا كلفوا الحكم بِالظَّاهِرِ من الْأَشْيَاء غير المغيب عَنْهُم جعلنَا اللَّه مِمَّن أسبل عَلَيْهِ جلاليب السّتْر فِي الدُّنْيَا واتصل ذَلِك بِالْعَفو عَن جناياته
এই কিতাবে তার পুনরাবৃত্তি করা থেকে বিরত থাকছি। আমি এই কিতাবে কেবল ধারাবাহিকভাবে সেই সব শায়খদের কথা উল্লেখ করছি যাদেরকে আমাদের কিছু ইমাম দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্যরা নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। অতঃপর উজ্জ্বল দলিলের মাধ্যমে যাদের ব্যাপারে আমার নিকট এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) —যা আমি ‘কিতাবুল ফাসল বাইনাল নাকিলা’ গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি— তাকে আমি এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। কারণ তার বর্ণিত সংবাদ দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করা বৈধ। আর স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে যাদের ব্যাপারে আমার নিকট প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি দুর্বল (ضعيف) —যা আমি ‘কিতাবুল ফাসল বাইনাল নাকিলা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি— তাকে আমি এই কিতাবে উল্লেখ করিনি। বরং তাকে আমি ‘কিতাবুদ দু’আফা বিল ইলাল’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছি, কারণ তার সংবাদ দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করা বৈধ নয়। সুতরাং এই কিতাবে আমি যাদের উল্লেখ করেছি, তাদের সংবাদ যদি আমার বর্ণিত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হয়, তবে তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং তার সংবাদ দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করা বৈধ। কেননা ন্যায়পরায়ণ (عدل) সেই ব্যক্তি যার মধ্যে তাদিল (التعديل)-এর বিপরীতে কোনো জরাহ (الجرح) বা ত্রুটি প্রকাশ পায়নি। অতএব, যার সম্পর্কে কোনো জরাহ (الجرح) জানা নেই, তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে গণ্য হবেন যতক্ষণ না তার বিপরীত কিছু স্পষ্ট হয়। কেননা মানুষকে একে অপরের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বরং তাদেরকে কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিধান দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে যা তাদের নিকট অস্পষ্ট নয়। আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের ওপর তিনি দুনিয়াতে গোপনীয়তার চাদর বিছিয়ে দিয়েছেন এবং বিষয়টিকে তার গুনাহসমূহের ক্ষমার সাথে সংযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
فِي العقبي إِنَّه الفعال لما يُرِيد
ذكر مولد رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلمأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ بِبَغْدَادَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ ثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَن بن عَبَّاسٍ قَالَ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفِيلِ قَالَ أَبُو حَاتِم ولد النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَام الْفِيل يَوْم الْإِثْنَيْنِ
পরিণামে নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী।
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্মবৃত্তান্ত আলোচনাবাগদাদে আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আবদিল জাব্বার আস-সুফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক থেকে (عن); তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে (عن); তিনি ইবনে আব্বাস থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন। আবু হাতিম বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তিবর্ষের সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
لاثنى عشرَة لَيْلَة مَضَت من شهر ربيع الأول فِي الْيَوْم الَّذِي بعث اللَّه طيرا أبابيل على أَصْحَاب الْفِيل وَكَانَ من شَأْن الْفِيل أَن ملكا كَانَ بِالْيمن غلب عَلَيْهَا وَكَانَ أَصله من الحديثة يُقَال لَهُ أَبْرَهَة بني كَنِيسَة بِصَنْعَاء فسماها القديس وَزعم أَنه يصرف إِلَيْهَا حج الْعَرَب
রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সেই দিবসে, যেদিন আল্লাহ তাআলা হস্তীবাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেছিলেন। হস্তীবাহিনীর বিষয়টি ছিল এই যে, ইয়ামেনে জনৈক রাজা আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং তাঁর আদি নিবাস ছিল আল-হাদীসাহ নামক স্থানে। তাঁকে আবরাহা বলা হতো। তিনি সানায় একটি গির্জা নির্মাণ করেছিলেন এবং সেটির নাম দিয়েছিলেন ‘আল-কুদ্দিস’। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তিনি আরবদের হজকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وَحلف أَنه يسير إِلَى الْكَعْبَة فيهدمها فَخرج ملك من مُلُوك حمير فِيمَن أطاعه من قومة يُقَال لَهُ ذُو نفر فقاتله أَبْرَهَة وَأَخذه فَلَمَّا أَتَى لَهُ ذُو نفر أَيهَا الْملك لَا تقتلني فَإِن استبقائي خير لَك من قَتْلِي فاستبقاه وأوثقه ثمَّ خرج سائرا يُرِيد الْكَعْبَة حَتَّى إِذا دنا من بِلَاد خشعم خرج إِلَيْهِ النفيل بْن حبيب الخشعمي وَمن اجْتمع إِلَيْهِ من قبائل الْيمن فقاتلوه فَهَزَمَهُمْ وَأخذ النفيل فَقَالَ النفيل أَيهَا الْملك إِنِّي عَالم بِأَرْض الْعَرَب فَلَا تقتلني وَهَاتَانِ يداي على قومِي بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَة فاستبقاه وَخرج مَعَه يدله حَتَّى إِذا بلغ الطَّائِف خرج مَعَه مَسْعُود بْن معتب فِي رجال من ثَقِيف فَقَالَ أَيهَا الْملك نَحن عبيد لَك لَيْسَ لَك عندنَا خلاف وَلَيْسَ بَيْننَا وَبَيْنك الَّذِي تُرِيدُ يعنون اللات إِنَّمَا تُرِيدُ الَّذِي بِمَكَّة نَحن نبعث مَعَك من يدلك عَلَيْهِ فبعثوا مَعَه مولى لَهُم يُقَال لَهُ أَبُو رِغَال فَخرج مَعَهم حَتَّى إِذا كَانَ بالمغمس مَاتَ أَبُو رِغَال
এবং তিনি শপথ করলেন যে, তিনি কাবার দিকে অগ্রসর হবেন এবং তা ধ্বংস করবেন। তখন হিমইয়ারের রাজাদের মধ্য থেকে এক রাজা তাঁর অনুগত কওমের সাথে বেরিয়ে এলেন, যাঁকে যূ নাফর বলা হতো। আবরাহা তাঁর সাথে যুদ্ধ করলেন এবং তাঁকে বন্দি করলেন। যখন যূ নাফরকে তাঁর নিকট আনা হলো, সে বলল: 'হে রাজন! আমাকে হত্যা করবেন না, কারণ আমাকে জীবিত রাখা আপনার জন্য আমাকে হত্যার চেয়েও উত্তম হবে।' সুতরাং তিনি তাকে জীবিত রাখলেন এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ করলেন। এরপর তিনি কাবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। যখন তিনি খাশআম ভূখণ্ডের নিকটবর্তী হলেন, তখন নুফায়েল বিন হাবিব আল-খাশআমি এবং তাঁর নিকট সমবেত ইয়ামেনের গোত্রসমূহ তাঁর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হলো। তিনি তাদের পরাজিত করলেন এবং নুফায়েলকে বন্দি করলেন। তখন নুফায়েল বলল: 'হে রাজন! আমি আরব ভূখণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত, তাই আমাকে হত্যা করবেন না। আমার কওমের পক্ষ থেকে শ্রবণ ও আনুগত্যের দায়ভার আমার ওপর রইল।' সুতরাং তিনি তাকে জীবিত রাখলেন এবং সে পথপ্রদর্শক হিসেবে তাঁর সাথে বের হলো। অবশেষে যখন তিনি তায়েফে পৌঁছালেন, তখন মাসউদ ইবনে মুআত্তিব সাকিফ গোত্রের একদল লোকের সাথে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: 'হে রাজন! আমরা আপনার অনুগত ভৃত্য, আপনার প্রতি আমাদের কোনো অবাধ্যতা নেই। আপনি যা ধ্বংস করতে চান তা এখানে নেই—তারা ‘লাত’ প্রতিমাকে বোঝাচ্ছিল—বরং আপনি তো মক্কায় অবস্থিত গৃহটি চাচ্ছেন। আমরা আপনার সাথে এমন একজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছি যে আপনাকে সেদিকে পথ দেখাবে।' অতঃপর তারা তাদের জনৈক মুক্তদাসকে (مولى) তাঁর সাথে পাঠাল যাকে আবু রিগাল বলা হতো। সে তাদের সাথে পথপ্রদর্শক হিসেবে চলল এবং তারা যখন মুগাম্মাস নামক স্থানে পৌঁছাল, তখন আবু রিগাল মারা গেল।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَهُوَ الَّذِي رجم قَبره وَبعث أَبْرَهَة من المغمس رجلا يُقَال لَهُ الْأسود بْن مَقْصُود على مُقَدّمَة خيله فَجمع إِلَيْهِ أهل الْحرم وَأصَاب لعبد الْمطلب مِائَتي بعير بالأراك ثمَّ بعث أَبْرَهَة حناطة الْحِمْيَرِي إِلَى أهل مَكَّة فَقَالَ سل عَن شريفها ثمَّ أبلغه أَنِّي لم آتٍ لقِتَال إِنَّمَا جِئْت لأهدم هَذَا الْبَيْت فَانْطَلق حناطة حَتَّى دخل مَكَّة فلقي عَبْد الْمطلب بْن هَاشم فَقَالَ إِن الْملك أَرْسلنِي إِلَيْك لأخبرك أَنه لم يَأْتِ لقِتَال إِلَّا أَن تقاتلوه إِنَّمَا جَاءَ لهدم هَذَا الْبَيْت ثمَّ الِانْصِرَاف فَقَالَ عَبْد الْمطلب مَا عندنَا لَهُ قتال فَقَالَ سنخلي بَينه وَبَين الْبَيْت فَإِن خلى اللَّه بَينه وَبَينه فَهُوَ الله مَا لنا بِهِ قُوَّة قَالَ فَانْطَلق معي إِلَيْهِ قَالَ فَخرج مَعَه حَتَّى قدم المعسكر وَكَانَ ذُو نفر صديقا لعبد الْمطلب فَأَتَاهُ فَقَالَ يَا ذَا نفر هَل عنْدكُمْ من غناء فِيمَا نزل بِنَا فَقَالَ مَا غناء رجل أَسِير لَا يَأْمَن أَن يقتل بكرَة وَعَشِيَّة وَلَكِن سأبعث لَك إِلَى أنيس سائس الْفِيل فَأمره أَن يضع لَك عِنْد الْملك مَا اسْتَطَاعَ
আর তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর কবরে পাথর মারা হতো। আবরাহা মুগাম্মাস থেকে আসওয়াদ ইবনে মকসূদ নামক এক ব্যক্তিকে তার অশ্বারোহী বাহিনীর অগ্রভাগে প্রেরণ করেন। তিনি হারামের অধিবাসীদের (সম্পদ) তার নিকট একত্রিত করেন এবং আরাক নামক স্থানে আবদুল মুত্তালিবের দুইশ উট হস্তগত করেন। অতঃপর আবরাহা হুনাতা আল-হিময়ারীকে মক্কাবাসীদের নিকট প্রেরণ করেন এবং তাকে বলেন, 'তাদের নেতার সম্পর্কে অনুসন্ধান করো, তারপর তাকে অবগত করো যে, আমি যুদ্ধের জন্য আসিনি; বরং আমি এসেছি কেবল এই গৃহটি ধ্বংস করতে।' অতঃপর হুনাতা রওয়ানা হয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের সাক্ষাৎ লাভ করলেন। তিনি বললেন, 'বাদশাহ আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন আপনাকে এ সংবাদ দিতে যে, তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আসেননি, যতক্ষণ না আপনারা তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি কেবল এই গৃহটি ধ্বংস করতে এসেছেন এবং তারপর তিনি প্রত্যাবর্তন করবেন।' আবদুল মুত্তালিব বললেন, 'তাঁর সাথে যুদ্ধ করার সামর্থ্য আমাদের নেই।' তিনি আরও বললেন, 'আমরা তাঁর এবং এই গৃহের মধ্যবর্তী পথ ছেড়ে দেব। যদি আল্লাহ্ তাঁর এবং ঘরের মাঝে ছেড়ে দেন, তবে তা আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন; তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি আমাদের নেই।' তিনি (হুনাতা) বললেন, 'তবে আপনি আমার সাথে তাঁর নিকট চলুন।' বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর সাথে বের হলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেনাছাউনিতে পৌঁছালেন। যূ-নাফর আবদুল মুত্তালিবের বন্ধু ছিলেন, তাই তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন, 'হে যূ-নাফর, আমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তাতে কি আপনাদের কোনো সাহায্য করার সুযোগ আছে?' তিনি বললেন, 'একজন বন্দি ব্যক্তির কী-ই বা করার আছে যে সকাল-সন্ধ্যা নিজের প্রাণের সংশয়ে থাকে? তবে আমি হাতির পরিচালক উনাইসের নিকট আপনার জন্য খবর পাঠাবো এবং তাকে নির্দেশ দেব যেন সে বাদশাহর নিকট আপনার বিষয়ে সাধ্যমতো অনুকূল অবস্থান তৈরি করে'।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
من خير ويعظم خطرك ومنزلتك عِنْده قَالَ فَأرْسل إِلَى أنيس فَأَتَاهُ فَقَالَ إِن هَذَا سيد قُرَيْش صَاحب عين مَكَّة الَّذِي يطعم النَّاس فِي السهل والوحوش فِي الْجبَال وَقد أصَاب لَهُ الْملك مِائَتي بعير فَإِن اسْتَطَعْت أَن تَنْفَعهُ عِنْده فانفعه صديق لي فَدخل أنيس على أَبْرَهَة فَقَالَ أَيهَا الْملك هَذَا سيد قُرَيْش وَصَاحب عين مَكَّة الَّذِي يطعم النَّاس فِي السهل والوحوش فِي الْجبَال يسْتَأْذن عَلَيْك وَأَنا أحب أَن تَأذن لَهُ فقد جَاءَك غير ناصب لَك وَلَا مُخَالف عَلَيْك فَأذن لَهُ وَكَانَ عَبْد الْمطلب رجلا عَظِيما جسيما وسيما فَلَمَّا رَآهُ أَبْرَهَة عَظمَة وأكرمه وَكره أَن يجلس مَعَه على سَرِيره أَن يجلس تَحْتَهُ فهبط إِلَى الْبسَاط فَجَلَسَ عَلَيْهِ مَعَه فَقَالَ لَهُ عَبْد الْمطلب أَيهَا الْملك إِنَّك قد أصبت لي مَالا عَظِيما فاردده عَليّ فَقَالَ لَهُ لقد كنت أعجبتني حِين رَأَيْتُك وَلَقَد زهدت فِيك قَالَ وَلم قَالَ جِئْت إِلَى بَيت هُوَ دينك وَدين آبَائِك وعصمتكم ومنعتكم لأهدمه فَلم تكلمني فِيهِ وتكلمني فِي مِائَتي بعير أصبتها لَك قَالَ أَنا رب هَذِه الْإِبِل وَلِهَذَا الْبَيْت رب سيمنه قَالَ ليمنعه مني قَالَ فَأَنت وَذَاكَ قَالَ فَأمر بإبله فَردَّتْ عَلَيْهِ ثمَّ خرج عَبْد الْمطلب
কল্যান হবে এবং তাঁর কাছে আপনার গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি উনাইসের নিকট সংবাদ পাঠালেন। উনাইস তাঁর কাছে এলে তিনি বললেন: "ইনি কুরাইশদের নেতা এবং মক্কার প্রস্রবণের মালিক, যিনি সমতলে মানুষকে এবং পাহাড়ে বন্যপ্রাণীদের আহার দান করেন। বাদশাহ তাঁর দুইশত উট হস্তগত করেছেন। আপনি যদি বাদশাহর নিকট তাঁর কোনো উপকার করতে পারেন তবে তা করুন, কারণ তিনি আমার বন্ধু।" এরপর উনাইস আবরাহার নিকট প্রবেশ করে বললেন: "হে বাদশাহ! ইনি কুরাইশদের নেতা এবং মক্কার প্রস্রবণের মালিক, যিনি সমতলে মানুষকে এবং পাহাড়ে বন্যপ্রাণীদের আহার দান করেন। তিনি আপনার নিকট আসার অনুমতি প্রার্থনা করছেন। আমি চাই আপনি তাঁকে অনুমতি প্রদান করুন; কারণ তিনি আপনার বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতা কিংবা বিরোধিতা নিয়ে আসেননি।" তখন আবরাহা অনুমতি দিলেন। আবদুল মুত্তালিব ছিলেন একজন প্রভাবশালী, দীর্ঘদেহী এবং সুদর্শন পুরুষ। যখন আবরাহা তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করলেন। আবরাহা তাঁকে নিজের সিংহাসনে বসাতে চাইলেন না, আবার তাঁকে নিচে বসানোও সমীচীন মনে করলেন না। তাই তিনি গালিচায় নেমে এলেন এবং তাঁর সাথে সেখানে বসলেন। তখন আবদুল মুত্তালিব তাঁকে বললেন: "হে বাদশাহ! আপনি আমার অনেক সম্পদ হস্তগত করেছেন, সেগুলো আমাকে ফিরিয়ে দিন।" আবরাহা তাঁকে বললেন: "আপনাকে দেখা মাত্রই আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু এখন আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমে গেল।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কেন?" আবরাহা বললেন: "আমি এসেছি এমন এক গৃহ ধ্বংস করতে যা আপনার এবং আপনার পূর্বপুরুষদের ধর্ম এবং আপনাদের রক্ষা ও নিরাপত্তার আধার; অথচ আপনি সে সম্পর্কে কোনো কথা না বলে আপনার হস্তগত হওয়া দুইশত উট নিয়ে কথা বলছেন!" আবদুল মুত্তালিব বললেন: "আমি তো এই উটগুলোর মালিক, আর এই গৃহের একজন মালিক রয়েছেন যিনি একে রক্ষা করবেন।" আবরাহা বললেন: "তিনি একে আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না।" তিনি বললেন: "তবে আপনি ও আপনার বিষয়।" এরপর আবরাহা উটগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তা ফেরত দেওয়া হলো। তারপর আবদুল মুত্তালিব বেরিয়ে এলেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَأخْبر قُريْشًا الْخَبَر وَأمرهمْ أَن يتفرقوا فِي الشعاب وَأصْبح أَبْرَهَة بالمغمس قد تهَيَّأ للدخول وعبى جَيْشه وَقرب فيله وَحمل عَلَيْهِ مَا أَرَادَ أَن يحمل وَهُوَ قَائِم فَلَمَّا حركه وقف وَكَاد أَن يرزم إِلَى الأَرْض فبرك فضربوه بِالْمِعْوَلِ فِي رَأسه فَأبى فأدخلوا محاجينهم تَحت أقرانه ومرافقه فَأبى فوجهوه إِلَى الْيمن فهرول فصرفوه إِلَى الْحرم فَوقف وَلحق الْفِيل بِحَبل من تِلْكَ الحبال فَأرْسل اللَّه الطير من الْبَحْر كالبلسان مَعَ كل طير ثَلَاثَة أَحْجَار حجران فِي رجله وَحجر فِي منقاره ويحملن أَمْثَال الحمص والعدس من الْحِجَارَة فَإِذا غشين الْقَوْم أرسلتها عَلَيْهِم فَلم تصب تِلْكَ الْحِجَارَة أحد إِلَّا هلك وَلَيْسَ كل الْقَوْم أَصْحَاب فَذَلِك قوم اللَّه تَعَالَى أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فعل رَبك بأصاحب الْفِيل
তিনি কুরাইশদের সংবাদ (الخبر) প্রদান করলেন এবং তাদের পাহাড়ের উপত্যকাসমূহে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিলেন। ভোরে আবরাহা মুগাম্মাস নামক স্থানে অবস্থানকালে মক্কায় প্রবেশের প্রস্তুতি গ্রহণ করল এবং তার সৈন্যবাহিনী সুবিন্যস্ত করল। সে তার হাতিটিকে নিকটে আনল এবং হাতিটি দণ্ডায়মান থাকা অবস্থায় তার ওপর যা কিছু বোঝাই করতে চেয়েছিল তা করল। কিন্তু যখনই সেটিকে চালিত করা হলো, সেটি থেমে গেল এবং ভূমিতে নুয়ে পড়ার উপক্রম হয়ে বসে পড়ল। তখন তারা কুঠার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করল, কিন্তু সে অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানাল। তারা তাদের বাঁকানো লাঠিগুলো তার কুঁচকি ও সন্ধিস্থলের নিচে প্রবেশ করাল, তবুও সে অবাধ্যতা করল। অতঃপর তারা যখন তাকে ইয়ামানের দিকে মুখ ফিরিয়ে দিল, তখন সে দ্রুতবেগে চলতে লাগল; কিন্তু যখনই তাকে পুনরায় হারামের দিকে মুখ করানো হলো, সে থমকে দাঁড়াল। এরপর হাতিটি সেই সকল পাহাড়ী পথের কোনো একটি পথ অনুসরণ করল। তখন আল্লাহ সমুদ্রের দিক থেকে ‘বালসান’ পাখির মতো একদল পাখি প্রেরণ করলেন। প্রতিটি পাখির সাথে তিনটি করে পাথর ছিল—দুটি তার পায়ে এবং একটি তার ঠোঁটে। তারা মটরশুঁটি ও মসুর ডালের ন্যায় ক্ষুদ্রাকৃতির পাথর বহন করছিল। যখন পাখিগুলো সেই বাহিনীর ওপর ছেয়ে গেল, তখন তারা তাদের ওপর পাথরগুলো নিক্ষেপ করল। সেই পাথর যার শরীরেই বিদ্ধ হয়েছে, সে-ই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে সেই বাহিনীর সকলেই আক্রান্ত হয়নি। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: “আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কী রূপ আচরণ করেছেন?”
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
السُّورَة كلهَا وَبعث اللَّه على أَبْرَهَة دَاء فِي جسده رجعُوا سرَاعًا يتساقطون فِي كل بلد وَجعل أَبْرَهَة تتساقط أنامله كلما سَقَطت أُنْمُلَة اتبعها مُدَّة من قيح وَدم فَانْتهى إِلَى الْيمن وَهُوَ مثل فرخ الطير فَمن بَقِي من أَصْحَابه ثمَّ مَاتَ فَلَمَّا هلك اسْتخْلف ابْنه يكسوم بْن أَبْرَهَة فَهَذَا مَا كَانَ من شَأْن الْفِيل وَسمعت هَذِه السّنة سنة الْفِيل ذكر نسب سيد ولد آدم وَأول من تَنْشَق الأَرْض عَنهُ يَوْم الْقِيَامَة صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن سَالم بَيت الْمَقْدِسِ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ثَنَا الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنَا شَدَّادٌ أَبُو عَمَّارٍ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ وَاصْطَفَى بَنِي هَاشِمٍ مِنْ قُرَيْشٍ وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَأَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَلا فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الأَرْضُ أَنا أول شَافِع أول مُشَفع
সম্পূর্ণ সূরাটি এবং আল্লাহ আবরাহার শরীরে একটি ব্যাধি প্রেরণ করলেন। তারা দ্রুত ফিরে যেতে লাগল এবং প্রতিটি জনপদে তারা পড়ে মরতে লাগল। আবরাহার আঙ্গুলের ডগাগুলো খসে পড়তে শুরু করল; যখনই একটি ডগা খসে পড়ত, সেখান থেকে পুঁজ ও রক্ত নির্গত হতো। শেষ পর্যন্ত সে ইয়ামানে পৌঁছালো এমতাবস্থায় যে সে ছিল পাখির ছানার মতো। তার সঙ্গীদের মধ্যে যারা বেঁচে ছিল তারাও পরে মারা গেল। যখন সে ধ্বংস হলো, তখন তার পুত্র ইয়াকসুম বিন আবরাহা তার স্থলাভিষিক্ত হলো। হাতির ঘটনার বিবরণ এটিই। আর এই বছরটিকে হাতির বছর বলা হয়েছে।
আদম সন্তানদের সর্দার এবং কিয়ামতের দিন যার কবর থেকে জমিন সর্বপ্রথম বিদীর্ণ হবে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরম্পরার উল্লেখ।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম বায়তুল মাকদিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আওজায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), শাদ্দাদ আবু আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে (عن) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের বংশধর থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং আমি আদম সন্তানদের সর্দার এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে। আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে।"
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قَالَ أَبُو حَاتِم نِسْبَة رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تصح إِلَى عدنان وَمَا وَرَاء عدنان فَلَيْسَ عِنْدِي فِيهِ شَيْء صَحِيح أعْتَمد عَلَيْهِ غير أَنِّي أذكر اخْتلَافهمْ فِيهِ بَعضهم لبَعض من لَيْسَ ذَلِك من صناعته فَهُوَ صلى الله عليه وسلم مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّه بْن عَبْد الْمطلب وَاسم عَبْد الْمطلب شيبَة بْن هَاشم وَاسم هَاشم عَمْرو بْن عَبْد منَاف الْمُغيرَة بْن قصي زيد بْن كلاب وَهُوَ الْمُهَذّب بْن مرّة بْن كَعْب بْن لؤَي بْن غَالب بْن فهر بْن مَالك بْن النَّضر وَهُوَ قُرَيْش بْن كنَانَة بْن خزيعة بْن مدركة إلْيَاس بْن مُضر بْن نزار بْن معد بْن عدنان إِلَى هُنَا لَيْسَ بَين النسابة خلاف فِيهِ وَمن عدنان هم مُخْتَلفُونَ فِيهِ إِلَى إِبْرَاهِيم
আবু হাতিম বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরম্পরা আদনান পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত (تصح)। আদনানের পরবর্তী বংশতালিকা সম্পর্কে আমার নিকট এমন কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা নেই যার ওপর নির্ভর করা যায়। তবে আমি এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো উল্লেখ করব, যা এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব; আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল শায়বাহ ইবনে হাশিম; হাশিমের নাম ছিল আমর ইবনে আব্দে মানাফ আল-মুগীরা ইবনে কুসাই যাইদ ইবনে কিলাব—যিনি আল-মুহাজ্জাব নামে পরিচিত—ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর—যিনি কুরাইশ নামে পরিচিত—ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। এ পর্যন্ত বংশবিদদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই; তবে আদনান থেকে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত বংশধারার বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
فَمنهمْ من قَالَ عدنان بْن أدد بْن مقوم بْن ناحور بْن تيرح بْن يَعْقُوب بْن نبت بْن نابت بْن أنوش بْن إِسْمَاعِيل بْن إِبْرَاهِيم خَلِيل الرَّحْمَن بْن آزر وَمِنْهُم من قَالَ عدنان بْن أدد بْن الهميسع بْن نابت بْن إِسْمَاعِيل بْن إِبْرَاهِيم بْن آزر وَمِنْهُم من قَالَ عدنان بْن سحب بْن أَيُّوب بْن قيدر بْن إِسْمَاعِيل بْن إِبْرَاهِيم بْن آزر وَمِنْهُم من قَالَ عدنان بْن أدد بْن أَمِين بْن شاجب بْن ثَعْلَبَة بْن عتر بْن يربح بْن محلم بْن الْعَوام بْن الْمُحْتَمل بْن دائمة بْن العيقان بْن عِلّة بْن شحدود بْن الظريف بْن عبقر بْن إِسْمَاعِيل بْن إِبْرَاهِيم بْن آزر
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, আদনান ইবনে আদাদ ইবনে মুকাউয়িম ইবনে নাহুর ইবনে তাইরাহ ইবনে ইয়াকুব ইবনে নাবত ইবনে নাবিত ইবনে আনুশ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম খলীলুর রহমান (خليل الرحمن) ইবনে আজার। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন, আদনান ইবনে আদাদ ইবনে আল-হামাইসা ইবনে নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আজার। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও বলেছেন যে, আদনান ইবনে সাহাব ইবনে আইয়ুব ইবনে কাইদার ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আজার। এবং তাদের মধ্যে আরও কেউ কেউ বলেছেন, আদনান ইবনে আদাদ ইবনে আমিন ইবনে শাজিব ইবনে ছালাবা ইবনে আতার ইবনে ইয়ারবাহ ইবনে মুহাল্লিম ইবনে আল-আওয়াম ইবনে আল-মুহাতামিল ইবনে দায়িমা ইবনে আল-আইকান ইবনে ইল্লাহ ইবনে শাহদুদ ইবনে আজ-জারিফ ইবনে আবকার ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আজার।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَمِنْهُم من قَالَ عدنان بْن أدد بْن عوج بْن الْمطعم بْن الطمح بْن القسود بْن العبور بْن دعدع بْن مَحْمُود بْن الزَّائِد بْن بدان بْن الدَّرْس بْن حصن بْن النزال بْن الْقَاسِم بْن المجشر بْن معد بْن صيفى بْن النبت بْن قيدر بْن إِسْمَاعِيل بْن إِبْرَاهِيم بْن آزر ثمَّ اخْتلفُوا أَيْضا فِيمَا فَوق إِبْرَاهِيم فَمنهمْ من قَالَ إِبْرَاهِيم بْن آزر بْن ناحور بْن شارغ بْن الراغ بْن الْقَاسِم الَّذِي قسم الأَرْض بَين أَهلهَا بْن معن بن السايح بْن الرافد بْن السايح وَهُوَ الوسام بن نوح نَبِي اللَّه صلى الله عليه وسلم وَمِنْهُم من قَالَ إِبْرَاهِيم بْن آزر بْن ناحور بْن صاروح بن أغو بْن فالغ بْن عَابِر بْن أرفخشد بْن سَام بْن نوح وَمِنْهُم من قَالَ إِبْرَاهِيم بْن آرز بْن تَارِيخ بْن ناحور بْن ساروح بن ارغو بن
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, আদনান বিন আদাদ বিন আওজ বিন আল-মুতয়িম বিন আত-তামহ বিন আল-কাসওয়াদ বিন আল-উবুর বিন দা’দা’ বিন মাহমুদ বিন আল-যায়েদ বিন বাদান বিন আদ-দারাস বিন হিসন বিন আন-নায্যাল বিন আল-কাসিম বিন আল-মুজাশশির বিন মা’দ বিন সাইফি বিন আন-নাবত বিন কায়দার বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন আযর। অতঃপর ইবরাহীমের ঊর্ধ্বতন বংশলতিকার ক্ষেত্রেও তারা মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: ইবরাহীম বিন আযর বিন নাহুর বিন শারিগ বিন রাগ বিন আল-কাসিম—যিনি পৃথিবীকে এর অধিবাসীদের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন—বিন মা’ন বিন আস-সায়িহ বিন আর-রাফিদ বিন আস-সায়িহ; আর তিনি হলেন আল-ওয়াসসাম বিন নূহ, আল্লাহর নবী (نبي) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: ইবরাহীম বিন আযর বিন নাহুর বিন সারুহ বিন আগু বিন ফালিগ বিন আবির বিন আরফখশাদ বিন সাম বিন নূহ। আবার কেউ কেউ বলেছেন: ইবরাহীম বিন আরয বিন তারিখ বিন নাহুর বিন সারুহ বিন আরগু বিন...
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فالج بْن عبير بْن سايح بْن أرفخشد بْن سَام بْن نوح ثمَّ اخْتلفُوا فِيمَا بعد نوح عليه السلام فَمنهمْ من قَالَ نوح بْن ملكان بْن متوشلخ بْن إِدْرِيس نَبِي اللَّه صلى الله عليه وسلم بْن الرائد بْن مهلهل بْن قنان بْن الطَّاهِر بْن هبة اللَّه بْن شِيث بْن آدم وَمِنْهُم من قَالَ نوح بْن لامك بْن متوشلخ بْن خنوخ وَهُوَ إِدْرِيس النَّبِي عليه السلام بْن يأرز بْن مهابيل بْن قبش بْن أنش بْن شِيث بْن آدم مِنْهُم من قَالَ نوح بْن لامك بْن متوشلخ بْن خنوخ بْن يأرز بْن مهلائيل بن قينان بْن أنوش بْن شِيث بْن آدم وَمِنْهُم من قَالَ نوح بْن لامك بْن متوشلخ بْن مهليل
ফালিজ ইবনে আবীর ইবনে সায়িহ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ। অতঃপর নুহ (আলাইহিস সালাম)-এর পরবর্তী বংশপরম্পরা সম্পর্কে তাঁরা মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: নুহ ইবনে মালিকান ইবনে মাতুশাল্লাখ ইবনে ইদ্রিস, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইবনে আর-রায়িদ ইবনে মুহালহিল ইবনে কানান ইবনে আত-তহির ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে শিথ ইবনে আদম। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: নুহ ইবনে লামাক ইবনে মাতুশাল্লাখ ইবনে খানুখ, আর তিনিই হলেন নবী ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম), ইবনে ইয়ারুজ ইবনে মাহাবীল ইবনে কাবাশ ইবনে আনুশ ইবনে শিথ ইবনে আদম। তাঁদের মধ্যে আরও কেউ বলেছেন: নুহ ইবনে লামাক ইবনে মাতুশাল্লাখ ইবনে খানুখ ইবনে ইয়ারুজ ইবনে মাহলাঈল ইবনে কাইনান ইবনে আনুশ ইবনে শিথ ইবনে আদম। এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: নুহ ইবনে লামাক ইবনে মাতুশাল্লাখ ইবনে মাহলীল।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
بْن قينين بْن يافش بْن شِيث بْن آدم وَأم رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آمِنَة بنت وهب بْن عَبْد منَاف بْن زهرَة بْن كلاب بْن مرّة بْن كَعْب بْن لؤَي بْن غَالب وَلم يكن لَهَا أَخ فَيكون خالا للنَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَّا عَبْد يَغُوث بْن وهب وَلَكِن بَنو زهرَة يَقُولُونَ إِنَّهُم أخوال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَن آمِنَة أم رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَت مِنْهُم وَأم آمِنَة بنت وهب بْن عَبْد منَاف بْن زهرَة اسْمهَا مرّة بنت عَبْد الْعُزَّى بْن عُثْمَان بْن عَبْد الدَّار بْن قصي وَأمّهَا أم حبيب بنت أَسد بْن عَبْد الْعُزَّى بْن قصي وَأمّهَا برة بنت عَوْف بْن عبيد بْن عويج بْن عدي بْن كَعْب بْن لؤَي هَؤُلَاءِ جدات رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من قبل أم أمه وَأما جداته صلى الله عليه وسلم من قبل أبي أمه فَإِن أم وهب بْن عَبْد منَاف بْن زهرَة اسْمهَا قيلة بنت أبي قيلة وَاسم أبي قيلة فهر بْن غَالب بْن الْحَارِث وَهُوَ غبشان وَكَانَ يعير بِأبي كَبْشَة الَّذِي نسبت قُرَيْش رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِ إِذْ كَانَ مُشْركًا فَتَنَصَّرَ لما سَافر إِلَى الشَّام وَرجع إِلَى قُرَيْش بدين غير دينهَا
...বিন কাইনিন বিন ইয়াফিশ বিন শিথ বিন আদম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহব বিন আবদ মানাফ বিন যুহরা বিন কিলাব বিন মুররা বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব। তাঁর কোনো ভাই ছিল না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মামা হতে পারত, কেবল আবদ ইয়াগুস বিন ওয়াহব ব্যতীত। তবে বনু যুহরা বলতেন যে, তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মামার বংশ, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা আমিনা তাঁদেরই বংশোদ্ভূত ছিলেন। আমিনা বিনতে ওয়াহব বিন আবদ মানাফ বিন যুহরার মায়ের নাম ছিল মুররা বিনতে আবদ আল-উজ্জা বিন উসমান বিন আবদ আদ-দার বিন কুসাই। তাঁর মাতা ছিলেন উম্মে হাবিব বিনতে আসাদ বিন আবদ আল-উজ্জা বিন কুসাই। তাঁর মাতা ছিলেন বাররা বিনতে আউফ বিন উবায়েদ বিন উইজ বিন আদি বিন কাব বিন লুয়াই। এঁরা হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতামহীগণ তাঁর মায়ের মায়ের দিক থেকে। আর তাঁর মাতামহীগণ তাঁর মায়ের বাবার দিক থেকে হলেন: ওয়াহব বিন আবদ মানাফ বিন যুহরার মায়ের নাম ছিল কায়লা বিনতে আবি কায়লা। আবু কায়লার নাম ছিল ফিহর বিন গালিব বিন আল-হারিস, এবং তিনি 'গুবশান' নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁকে আবু কাবশা উপনামে অভিহিত করা হতো, যাঁর সাথে কুরাইশরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্পর্কিত করত; তিনি একজন অংশীবাদী (مشرك) ছিলেন, অতঃপর যখন তিনি সিরিয়া সফর করলেন তখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং কুরাইশদের নিকট নিজ ধর্মের পরিবর্তে অন্য এক ধর্ম নিয়ে ফিরে আসেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فعيرت قُرَيْش رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهِ وَأما أم قيلة خالدة بنت عَابس بْن كرب بْن الْحَارِث بْن الفهر وَأم عَبْد منَاف وَأم زهرَة جدة أم رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْمهَا جمل بنت مَالك بْن سعد بْن سعد بْن مليح وَأمّهَا سلمى بنت حَيَّان بْن غنم وَأم زهرَة بْن كلاب جدة جدة رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْمهَا فَاطِمَة بنت سعد بْن سيل بْن حَرْب وَأمّهَا طريفة بنت قيس بْن ذِي الرأسين بْن عَمْرو بْن قيس بْن عيلان وَأما أُمَّهَات آبَائِهِ صلى الله عليه وسلم فَإِن أم عَبْد اللَّه بْن عَبْد الْمطلب اسْمهَا عَاتِكَة بنت أرقص بْن مَالك بْن زهرَة وَهِي أول العواتك اللَّاتِي ولدن رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأما أم عَبْد الْمطلب بْن هَاشم فَهِيَ سلمى بنت عَمْرو بْن زيد بْن لبيد بْن خِدَاش بْن عَامر بْن عدي بْن النجار لذَلِك وَأم هَاشم بْن عَبْد منَاف عَاتِكَة بنت مرّة بْن هِلَال بْن فالج
আর কুরাইশগণ এর দ্বারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিদ্রূপ করত। আর উম্মে কায়লা—খালিদাহ বিনতে আবিস ইবনে কারব ইবনে হারিস ইবনে ফিহর-এর বিষয়ে তথ্য হলো, আবদ মানাফের মাতা এবং জুহরার মাতা (যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতার নানী ছিলেন) তাঁর নাম ছিল জুমাল বিনতে মালিক ইবনে সাদ ইবনে সাদ ইবনে মালিহ। তাঁর মাতা ছিলেন সালমা বিনতে হাইয়ান ইবনে গানম। আর জুহরা ইবনে কিলাবের মাতা (যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদির দাদি ছিলেন) তাঁর নাম ছিল ফাতিমা বিনতে সাদ ইবনে সায়ল ইবনে হারব। তাঁর মাতা ছিলেন তরীফাহ বিনতে কাইস ইবনে যির রা'সাইন ইবনে আমর ইবনে কাইস ইবনে আয়লান। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিতৃপুরুষদের মায়েদের বর্ণনায়—আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের মাতার নাম ছিল আতিকাহ বিনতে আরকাস ইবনে মালিক ইবনে জুহরা। তিনি ছিলেন সেই 'আতিকা'দের মধ্যে প্রথম জন, যাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জন্ম দিয়েছেন। আর হাশিম তনয় আবদুল মুত্তালিবের মাতা হলেন সালমা বিনতে আমর ইবনে যাইদ ইবনে লাবিদ ইবনে খিদাশ ইবনে আমির ইবনে আদি ইবনে নাজ্জার; এই কারণেই (তাঁর সাথে তাদের আত্মীয়তা)। আর আবদ মানাফ তনয় হাশিমের মাতা ছিলেন আতিকাহ বিনতে মুররাহ ইবনে হিলাল ইবনে ফালিজ।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بْن ذكْوَان بْن ثَعْلَبَة وَهِي الثَّانِيَة من العواتك وَهِي أم هَاشم بْن عَبْد منَاف وَعبد شمس بْن عَبْد منَاف وَإِنَّمَا سمى هَاشم هاشما لِأَنَّهُ هشيم الثَّرِيد لِقَوْمِهِ عَمْرو العلى هشيم الثَّرِيد لِقَوْمِهِ رجال مَكَّة مسنتون عجاف وَكَانَ اسْمه عَمْرو الْعَلَاء وَأم عَبْد منَاف بْن قصي اسْمهَا حجنى بنت حليل بْن حبشية بْن سلول بْن كَعْب بْن عَمْرو بْن خُزَاعَة فَهِيَ وَالِدَة عَبْد الدَّار وَعبد الْعُزَّى أَوْلَاد قصي بْن كلاب وَأم قصي فَاطِمَة بنت سعد بْن سيل بْن حَرْب بْن حمالَة بْن عَوْف بْن الأزد وَكَانَ قصي يُسمى مجمعا لِأَن اللَّه بِهِ جمع الْقَبَائِل من فهر وَأم كلاب بْن مرّة هِنْد بنت سَرِير بْن ثَعْلَبَة بْن الْحَارِث بْن مَالك بْن كنَانَة وهى وَالِدَة بن
...বিন যাকওয়ান বিন ছালাবা। তিনি ছিলেন 'আওয়াতিক' (আতিকা নামধারী নারীগণ) দের মধ্যে দ্বিতীয়। তিনি হাশিম বিন আবদ মানাফ এবং আবদ শামস বিন আবদ মানাফের জননী ছিলেন। মূলত হাশিমকে হাশিম নামকরণ করা হয়েছিল কারণ তিনি তাঁর কওমের জন্য ছারিদ (মাংসের ঝোলে ভেজানো রুটি) চূর্ণ করতেন। উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আমর তাঁর কওমের জন্য ছারিদ চূর্ণ করতেন যখন মক্কার পুরুষরা দুর্ভিক্ষপীড়িত ও শীর্ণকায় হয়ে পড়েছিল। তাঁর নাম ছিল আমর আল-উলা। আর আবদ মানাফ বিন কুসাই-এর মাতার নাম ছিল হুজনা বিনতে হুলাইল বিন হুবশিয়া বিন সুলুল বিন কাব বিন আমর বিন খুজাআ। তিনি কুসাই বিন কিলাবের সন্তান আবদ আদ-দার এবং আবদ আল-উজ্জার জননী ছিলেন। কুসাই-এর মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে সাদ বিন সায়ল বিন হারব বিন হামালা বিন আউফ বিন আল-আযদ। কুসাই-কে 'মুজাম্মি' (একত্রকারী) বলা হতো কারণ আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে ফিহর বংশোদ্ভূত গোত্রগুলোকে একত্রিত করেছিলেন। আর কিলাব বিন মুররার মাতা ছিলেন হিন্দ বিনতে সারীর বিন ছালাবা বিন আল-হারিস বিন মালিক বিন কিনানা; এবং তিনি ছিলেন বিন... এর জননী।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
مرّة ويقظة ابْني مرّة وَأم مرّة بْن كَعْب مخشية بنت شَيبَان بْن محَارب بْن فهر وَقد قيل وحشية بنت محَارب بْن فهر وَأم كَعْب بْن لؤَي ماوية بنت كَعْب بْن الْقَيْن بْن أَسد بْن وبرة وَأم لؤَي بْن غَالب سلمى بنت عَمْرو بْن عَامر بْن حَارِثَة بْن خُزَاعَة وَأم غَالب بْن فهر عَاتِكَة بنت يخلد بْن النَّضر بْن كنَانَة وَهِي إِحْدَى العواتك اللَّاتِي ولدن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَوْم حنين أَنا بن العواتك وَأم فهر بْن مَالك جندلة بنت الْحَارِث بْن عَامر بْن الْحَارِث الجرهمي وَأم مَالك بْن النَّضر عكرشة بنت عدوان وَهُوَ الْحَارِث بْن عَمْرو بْن قيس بن عيلان
মুররাহ এবং ইয়াকাজাহ হলেন মুররাহর দুই পুত্র। মুররাহ ইবনে কা'বের মাতা ছিলেন মাখশিয়াহ বিনতে শায়বান ইবনে মুহারিব ইবনে ফিহর। মতান্তরে বলা হয়েছে (قيل), তিনি ছিলেন ওয়াহশিয়াহ বিনতে মুহারিব ইবনে ফিহর। কা'ব ইবনে লুয়াই-এর মাতা ছিলেন মাওইয়াহ বিনতে কা'ব ইবনে আল-কাইন ইবনে আসাদ ইবনে ওয়াবরাহ। লুয়াই ইবনে গালিবের মাতা ছিলেন সালমা বিনতে আমর ইবনে আমির ইবনে হারিসাহ ইবনে খুজাআহ। গালিব ইবনে ফিহর-এর মাতা ছিলেন আতিকাহ বিনতে ইয়াখলুদ ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ; তিনি ছিলেন ঐ সকল আতিকাগণের অন্যতম যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জন্ম দিয়েছিলেন, যার প্রেক্ষিতে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুনাইনের দিন বলেছিলেন: "আমি আতিকাগণের সন্তান।" ফিহর ইবনে মালিকের মাতা ছিলেন জানদালাহ বিনতে আল-হারিস ইবনে আমির ইবনে আল-হারিস আল-জোরহুমি। মালিক ইবনে আন-নাদরের মাতা ছিলেন আকরশাহ বিনতে আদওয়ান; আর তিনি (আদওয়ান) হলেন হারিস ইবনে আমর ইবনে কায়স ইবনে আয়লান।
(খণ্ড: ١)
আস-সিকাত লি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَأم النَّضر بْن كنَانَة وبرة بنت مر أُخْت تَمِيم بْن مر وَقيل إِنَّهَا فكة بنت هني بْن بلي وَالنضْر هُوَ قيس وَإِنَّمَا قيل للنضر قُرَيْش لتجمعها من تفرق من بَيتهَا لِأَن التقرش هُوَ التجمع وَأما أم كنَانَة فَهِيَ عوَانَة وَقد قيل هِنْد بنت سعد بْن قيس عيلان وَأما أم خُزَيْمَة بْن مدركة فَهِيَ سلمى بنت سعد بْن قيس بْن الحاف بْن قضاعة وَأما أم مدركة بْن إلْيَاس فَهِيَ خندف وَهِي ليلى بنت حلوان بْن عمرَان بْن الحاف بْن قضاعة وَكَانَ لإلياس بْن مُضر ثَلَاثَة من الْبَنِينَ عَمْرو وَهُوَ مدركة وعامر وَهُوَ طابخة وَعُمَيْر فَهُوَ قمعة وأمهم خندف وَإِنَّمَا سمى هَؤُلَاءِ بِهَذِهِ الْأَسْمَاء لِأَن النَّاس خَرجُوا فِي نجعة لَهُم فنفرت إبلهم من أرنب فَخرج فِي أَثَرهَا عَمْرو فأدركها فَسُمي مدركة
আন-নদর ইবনে কিনানার মাতা ছিলেন বাররা বিনতে মুরর, যিনি তামীম ইবনে মুররের ভগিনী ছিলেন। মতান্তরে বলা হয়েছে যে, তিনি ছিলেন ফাক্কাহ বিনতে হানি ইবনে বালী। আর আন-নদর হলেন কায়স। আন-নদরকে ‘কুরাইশ’ অভিহিত করা হতো কারণ তিনি তাঁর বংশের যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল তাদেরকে একত্রিত করেছিলেন; কেননা ‘তাকাররুশ’ শব্দের অর্থ হলো একত্রিত হওয়া। আর কিনানার মাতা ছিলেন আওয়ানা; আবার বলা হয়েছে যে, তিনি হিন্দ বিনতে সা’দ ইবনে কায়স আয়লান। আর খুজাইমা ইবনে মুদরিকার মাতা ছিলেন সালমা বিনতে সা’দ ইবনে কায়স ইবনুল হাফ ইবনে কুদাআ। আর মুদরিকা ইবনে ইলিয়াসের মাতা ছিলেন খিন্দিফ; তিনি হলেন লায়লা বিনতে হুলওয়ান ইবনে ইমরান ইবনুল হাফ ইবনে কুদাআ। ইলিয়াস ইবনে মুদারের তিন পুত্র ছিল: আমর—যিনি মুদরিকা, আমির—যিনি তাবিখা এবং উমায়ের—যিনি কামাআ; আর তাঁদের সকলের জননী ছিলেন খিন্দিফ। তাঁদের এই নামসমূহের কারণ হলো, একদা লোকজন চারণভূমির সন্ধানে বের হয়েছিল, তখন একটি খরগোশ দেখে তাদের উটগুলো সচকিত হয়ে পলায়ন করে। আমর সেগুলোর পশ্চাদ্ধাবন করে সেগুলোকে ধরে ফেলেন, ফলে তাঁর নাম রাখা হয় মুদরিকা।