(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأسماء المبهمة في الأنباء المحكمة   (الخطيب البغدادي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الأسماء المبهمة في الأنباء المحكمة

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463هـ)

المحقق: د. عز الدين علي السيد

الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة / مصر

الطبعة: الثالثة، 1417 هـ - 1997م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আসমাউল মুবহামা ফিল আনবাউল মুহকামা   (আল-খতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: আল-আসমাউল মুবহামা ফিল আনবাউল মুহকামা

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)

সম্পাদক: ড. ইজজুদ্দীন আলী আল-সাইয়্যিদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি - কায়রো / মিশর

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১)
(كتاب الأسماء المبهمة في الأنباء المحكمة الجزء الأول بتجزئة المؤلف)
(সুদৃঢ় সংবাদসমূহের মধ্যে অস্পষ্ট নামসমূহের কিতাব: প্রথম খণ্ড, লেখকের নিজস্ব বিভাজন অনুযায়ী)
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت

/ أخبرنا الشيخ الإمام العالم العامل المسند المعمر، بقية السلف طراز الخلف، مسند الشام رحالة الوقت، فخر الدين أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بن عبد الواحد بن أحمد المقدسي رحمه الله قراءة عليه وأنا أسمع، في ذي الحجة سنة ثمان وثمانين وستمائة بمنزله بالصالحية ظاهر دمشق قال: أنا المشايخ الثلاثة: أبو العباس الخضر بن كامل بن سالم بن سبيع بن إبراهيم بن يوسف العبد الفلال، وأبو الفضل أحمد بن محمد بن سيدهم بن عبد الله الأنصاري، وأم الفضل زينب بنت إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ القيسية قراءة على كل منهم وأنا أسمع، قالوا ثلاثتهم: أخبرنا الفقيه الإمام أبو الفتح نصر اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ القوي المصيصي قراءة عليه ونحن نسمع حدثنا الإمام الحافظ أبو بكر أحمد ابن علي بن ثابت الخطيب من لفظه في شوال سنة ست وخمسين وأربعمائة قال:

الحمد لله إلهنا ومولانا كفاء إنعامه وإفضاله، والصلاة على أفضل البرية نبينا محمد وعلى آله.

هذا كتاب أوردت فيه أحاديث تشتمل على قصص متضمنة ذكر جماعة من الرجال والنساء أبهمت أسماؤهم وكنى عنها، وجاءت في أحاديث أخر / محكمة، فجمعت بينهما، وجعلت إثر كل حديث فيه اسم مبهم حديثا فيه بيانه، ورتبت ذلك على نسق حروف المعجم، والله تعالى أسأل توفيق العمل بطاعته، والسلامة في كل الأمور بمنه ورأفته.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করছি।

/ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, আমলকারী, মুসনিদ, দীর্ঘজীবী, উত্তরসূরিদের আদর্শ ও পূর্বসূরিদের অবশিষ্টাংশ, সিরিয়ার মুসনিদ, সমসাময়িক পর্যটক, ফখর উদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় আমি তা শুনছিলাম। এটি ছিল দামেস্কের শহরতলী সালিহিয়াতে তাঁর বাসভবনে ৬৮৮ হিজরীর জিলহজ মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তিন মাশায়েখ: আবুল আব্বাস খিজর বিন কামিল বিন সালিম বিন সুবাই বিন ইবরাহিম বিন ইউসুফ আল-আবদ আল-ফাল্লাল; আবুল ফজল আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সাইয়িদুহুম বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী; এবং উম্মুল ফজল জয়নব বিনতে ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-কায়সিয়্যাহ। তাঁদের প্রত্যেকের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম। তাঁরা তিনজনই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ ইমাম আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কউই আল-মাসিসী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম হাফিজ আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খাতিব তাঁর নিজ মুখে ৪৫৬ হিজরীর শাওয়াল মাসে, তিনি বলেন:

সকল প্রশংসা আমাদের ইলাহ ও মাওলা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর নিয়ামত ও অনুগ্রহের সমতুল্য। আর সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর সালাত বর্ষিত হোক।

এটি এমন একটি কিতাব যেখানে আমি এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছি যা এমন সব ঘটনাবলী সম্বলিত যাতে একদল পুরুষ ও নারীর কথা এসেছে যাদের নাম অস্পষ্ট রাখা হয়েছে অথবা তাঁদের উপনাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ অন্য কিছু / সুস্পষ্ট হাদিসে তাঁদের পরিচয় এসেছে। তাই আমি উভয় প্রকারের হাদিসকে একত্রিত করেছি এবং প্রত্যেকটি অস্পষ্ট নাম সম্বলিত হাদিসের পরপরই এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছি যাতে তার বর্ণনা রয়েছে। আমি একে বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর আনুগত্য অনুযায়ী আমল করার তাওফিক এবং তাঁর অনুগ্রহ ও মমতায় সকল বিষয়ে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌(باب الألف)

 

‌‌((1) أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ بِأَصْبَهَانَ [قَالَ] : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ (ح)

وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الحسن بن محمد ابن شَاذَانُ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ نِيخَابَ الطَّيْبِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ قَالَ: قَرَأَ رَجُلٌ الْكَهْفَ وَلَهُ دَابَّةٌ مَرْبُوطَةٌ فَجَعَلَتِ الدَّابَّةُ تَنْفِرُ، فَنَظَرَ الرَّجُلُ فَإِذَا سَحَابَةٌ قَدْ غَشِيَتْهُ - أَوْ ضَبَابَةٌ - فَفَزِعَ، فَذَهَبَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ - قُلْتُ: سَمَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ - ذَلِكَ الرَّجُلَ؟ قَالَ: نَعَمْ: قَالَ: " اقْرَأْ فُلانُ فَإِنَّ السَّكِينَةَ نَزَلَتْ عِنْدَ الْقُرْآنِ " أَوْ " لِلْقُرْآنِ " وَاللَّفْظُ لحديث عفان.
‌‌(আলিফ অধ্যায়)

 

‌‌((১) উসাইদ ইবনে হুদাইর)

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অসবাহানে হাফিজ আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক [তিনি বলেন]: আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ ইবনে ফারিস, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে হাবিব, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (হ)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আবি বকর আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান আল-বাযযার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে নিখা-ব আত-তয়িবি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনুল মুসান্না, আমাদের বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমি বারা’-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি সূরা আল-কাহাফ পাঠ করছিলেন এবং তাঁর একটি পশু বাঁধা ছিল। এমতাবস্থায় পশুটি চমকাতে শুরু করল। লোকটি তাকিয়ে দেখলেন যে, একটি মেঘ -অথবা কুয়াশা- তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এতে তিনি ভীত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। আমি (বর্ণনাকারী) বললাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সেই লোকটির নাম উল্লেখ করেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। নবীজি বলেছিলেন: "হে অমুক, তুমি পাঠ করতে থাকো; কেননা এটি সাকীনাহ (প্রশান্তি), যা কুরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়েছে" অথবা "কুরআনের কারণে অবতীর্ণ হয়েছে"। আর শব্দাবলি আফফানের বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الرَّجُلُ الْقَارِئُ كَانَ أُسَيدَ بْنَ حُضَيْرِ بْنِ سِمَاكِ بْنِ عَتِيكٍ الأَنْصَارِيُّ، وَيُكْنَى أَبَا عَتِيكٍ، وَيُقَالُ: أَبَا يَحْيَى، وَيُقَالُ: أَبَا حُضَيْرٍ / وَكَانَ أَحَدَ نُقَبَاءِ الأَنْصَارِ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ.

فَأَمَّا الْحُجَّةُ فِي أَنَّهُ صَاحِبُ الْقِصَّةِ الَّتِي سُقْنَاهَا فَأَخْبَرَنَا أبو عمرو عثمان ابن مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ دُوَسْتٍ الْعَلافُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بن عبد الله ابن إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمُطَرِّزُ، حَدَّثَنَا رِزْقُ بْنُ سَلامٍ أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ أَتَى النَّبِِيَّ صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: بَيْنَا أَنَا أَقْرَأُ الْبَارِحَةَ عَلَى ظَهْرِ بَيْتِي إِذْ غَشِيَتْنِي كَالْغَمَامَةِ، وَامْرَأَتِي حَامِلٌ وَفَرَسِي مُوثَقٌ، فَخَشِيتُ أَنْ يَنْفِرَ فَرَسِي وَأَنْ تَضَعَ امْرَأَتِي فَسَلَّمْتُ {فَقَالَ: " اقْرَأْ أُسَيْدُ " ثَلاثًا " فَإِنَّ ذَلِكَ مَلَكٌ يَسْمَعُ الْقُرْآنَ ".

وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ جَعْفَرٍ الإِمَامُ وَأَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الْوَاحِدِ ابن مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ جَمِيعًا بِأَصْبَهَانَ قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ بُنْدَارٍ الْمَدِينِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّايِغُ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى: أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بَيْنَا أَنَا أَقْرَأُ الْبَارِحَةَ بِسُورَةٍ، فَلَمَّا انْتَهَيْتُ إِلَى آخِرِهَا سَمِعْتُ رَجَّةً مِنْ خَلْفِي ظَنَنْتُ أَنَّ فَرَسِي أَطْلَقَ} فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " اقْرَأْ أَبَا عَتِيكٍ " مَرَّتَيْنِ، قَالَ: فَالْتَفَتُّ فنَظَرْتُ إِلَى أَمْثَالِ الْمَصَابِيحِ مِلْءَ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ {فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: / " اقْرَأْ أَبَا عَتِيكٍ " فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا اسْتَطَعْتُ أَنْ أَمْضِي} فَقَالَ: " تِلْكَ الْمَلائِكَةُ نَزَلَتْ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ! أَمَا إِنَّكَ لَوْ مَضَيْتَ لَرَأَيْتَ الأعاجيب ".
তিলাওয়াতকারী ব্যক্তিটি ছিলেন উসাইদ বিন হুদাইর বিন সিমাক বিন আতিক আল-আনসারী। তার উপনাম ছিল আবু আতিক, আবার তাকে আবু ইয়াহইয়া এবং আবু হুদাইরও বলা হতো / তিনি আকাবার রাতে আনসারদের অন্যতম নকীব ছিলেন।

আমরা যে ঘটনাটি উল্লেখ করেছি, তিনি যে তার কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন তার সপক্ষে দলিল হলো: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে দাওস্ত আল-আল্লাফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম আশ-শাফিঈ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ আল-মুতাররিয, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন রিযক বিন সালাম আবু আহমদ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, যুহরী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেন যে: উসাইদ ইবনে হুদাইর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: গত রাতে আমি যখন আমার ঘরের ছাদে তিলাওয়াত করছিলাম, তখন হঠাৎ মেঘখণ্ডের মতো কিছু একটা আমাকে ঢেকে ফেলল; এমতাবস্থায় আমার স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং আমার ঘোড়াটি বাঁধা ছিল। তখন আমি আশঙ্কা করলাম যে আমার ঘোড়াটি না জানি বিগড়ে যায় এবং আমার স্ত্রী সন্তান প্রসব করে ফেলে, তাই আমি সালাম ফিরালাম {তখন তিনি বললেন: "উসাইদ, পাঠ করো" তিনবার, "কেননা ওটি ছিল ফেরেশতা যা কুরআন শুনছিল।"

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন ইয়াহইয়া বিন জাফর আল-ইমাম এবং আবু আল-ফারাজ আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাযযায—উভয়েই আস্পাহানে। তারা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন বুন্দার আল-মাদিনী, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আস-সাইগ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আফফান বিন মুসলিম, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত, আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে যে: উসাইদ বিন হুদাইর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, গত রাতে আমি যখন একটি সূরা পাঠ করছিলাম, যখন আমি তার শেষে পৌঁছালাম, তখন আমার পেছন থেকে একটি প্রবল শব্দ শুনতে পেলাম; আমি মনে করলাম আমার ঘোড়াটি বুঝি রশি ছিঁড়ে ফেলেছে} তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু আতিক, পাঠ করো" দুইবার। তিনি বলেন: তখন আমি ঘুরে তাকালাম এবং আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে প্রদীপের মতো কিছু বস্তু দেখতে পেলাম {তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: / "হে আবু আতিক, পাঠ করো" তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি আর পাঠ চালিয়ে যেতে সক্ষম হলাম না} তখন তিনি বললেন: "ওরা ছিল ফেরেশতা যারা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নেমে এসেছিল! জেনে রেখো, যদি তুমি পাঠ চালিয়ে যেতে, তবে অবশ্যই বিস্ময়কর সব দৃশ্য দেখতে পেতে।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌(حَدِيثٌ آخَرُ (2) أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ عَنِ الْبَرَاءِ: أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ - أَمَرَ رَجُلا إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ أَنْ يَقُولَ: " اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظهري إليك، رغبة ورهبة
(অন্য একটি হাদিস (২) উসাইদ বিন হুদাইর)

 

হাফেজ আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ ইবনে ফারেস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে মুররাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সাদ ইবনে উবাইদাহকে বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছেন, যখন সে রাতে তার শয্যা গ্রহণ করে তখন যেন সে বলে: "হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার নিকট সমর্পণ করলাম, আমার মুখমণ্ডল আপনার দিকে ফেরালাম, আমার সকল বিষয় আপনার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আপনার প্রতি অনুরাগ ও ভীতি নিয়ে আমার পিঠ আপনার আশ্রয়ে ন্যস্ত করলাম...
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إِلَيْكَ، لا مَلْجَأَ وَلا مَنجَى مِنْكَ إِلا إِلَيْكَ. آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ " فَإِنْ مَاتَ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ! .

الرجل الَّذِي أمره رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بهذه الكلمات: أسيد بْن حضير أيضًا.

الحجة في ذلك: مَا أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ ابن رِزْقٍ الْبَزَّازُ وَأَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ / قَالا: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ نِيخَابَ الطَّيْبِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْكَشَانِيُّ بِهَمْدَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا الأَجْلَحُ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " أَلا أَدُلُّكَ عَلَى شَيْءٍ تَقُولُهُ إِنْ أَنْتَ مِتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ دَخَلْتَ الْجَنَّةَ، وَإِنْ عِشْتَ عِشْتَ بِخَيْرٍ؟ إِذَا نِمْتَ فَاجْعَلْ يَدَكَ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّكَ الأَيْمَنِ، ثُمَّ قل: اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ، لا مَلْجَأَ وَلا مَنجَى مِنْكَ إِلا إِلَيْكَ. آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ ".
আপনার প্রতি, আপনি ব্যতীত আপনার থেকে কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো নাজাতের স্থান নেই। আমি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর ঈমান এনেছি।" সুতরাং সে যদি মারা যায়, তবে ফিতরাতের ওপর মারা গেল!

যেই ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাক্যগুলোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি হলেন উসাইদ বিন হুদাইরও।

এ বিষয়ে দলিল: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ ইবনে রিজক আল-বায্যায এবং আবু আলী আল-হাসান বিন আবি বকর বিন শাযান; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন ইসহাক বিন নিখাব আত-তাইবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন ইসহাক আল-কাশানি হামদানে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন তরীফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আজলাহ, হাকাম বিন উতবাহ থেকে, তিনি উসাইদ বিন হুদাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি বলবে, আর যদি তুমি সেই রাতে মারা যাও তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যদি বেঁচে থাকো তবে কল্যাণের সাথে বেঁচে থাকবে? যখন তুমি ঘুমাতে যাবে তখন তোমার ডান হাত তোমার ডান গালের নিচে রাখবে, তারপর বলবে: হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে আপনার প্রতি সমর্পণ করলাম, আমার চেহারাকে আপনার দিকে ফেরালাম, আমার যাবতীয় বিষয় আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম এবং আপনার প্রতি ভয় ও আকাঙ্ক্ষা রেখে আমার পিঠকে আপনার আশ্রয়ে সঁপে দিলাম। আপনি ব্যতীত আপনার থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো নাজাতের স্থান নেই। আমি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার প্রেরিত রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌(حديث آخر (3) أنس بْن النَّضْر وسعد بْن مُعَاذٍ)

 

أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحِيرِيُّ بِنَيْسَابُورَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُنِيبٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بن هارون، أخبرنا حميد عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ عَمَّهُ غَابَ عَنْ قِتَالِ بَدْرٍ، فَقَالَ: أَغِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالٍ قَاتَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - الْمُشْرِكِينَ؟ لَئِنْ أَشْهَدَنِي [اللَّهُ قِتَالَ] الْمُشْرِكِينَ لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ {فَلَمَّا كَانَ يَوْمَ أُحُدٍ انْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلاءِ - يَعْنِي أَصْحَابَهُ - وَأَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ هَؤُلاءِ - يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ - ثُمَّ تَقَدَّمَ، فَلَقِيَهُ سَعْدٌ / دُونَ أُحُدٍ، فَقَالَ: أُتَابِعُكَ} فَقَالَ سَعْدٌ: فَلَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أَصْنَعَ مَا صَنَعَ {قَالَ: فَوُجِدَ فِيهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةِ سَيْفٍ، وَطَعْنَةِ رُمْحٍ، وَرَمْيَةِ سَهْمٍ} قَالَ: فَكُنَّا نَقُولُ: فِيهِ وَفِي أَصْحَابِهِ نَزَلَتْ: {فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ من ينتظر} [23: الأحزاب]
‌(অন্য একটি হাদিস (৩): আনাস ইবনুন নাদর এবং সাদ ইবনু মুয়াজ)

 

নিশাপুরে কাজ্বী আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান ইবনু আহমদ আল-হীরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ হাজিব ইবনু আহমদ আত-তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহীম ইবনু মুনীব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনু হারুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে: তাঁর চাচা বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে যে প্রথম যুদ্ধটি করেছেন, তা থেকে অনুপস্থিত থাকলাম? আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে উপস্থিত করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন আমি কী করি।" অতঃপর যখন উহুদ যুদ্ধের দিন আসলো এবং মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল, তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ তাঁর সঙ্গীরা যা করেছে, তার জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা নিয়ে এসেছে, তা থেকে আমি আপনার নিকট দায়মুক্তি ঘোষণা করছি।" অতঃপর তিনি সম্মুখপানে অগ্রসর হলেন এবং উহুদ পাহাড়ের নিকট সাদে’র সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেন: "আমি আপনার সাথে আসছি।" পরবর্তীতে সাদ বললেন: "তিনি যা করতে পেরেছিলেন, আমি তা করার সামর্থ্য রাখতাম না।" বর্ণনাকারী বলেন: তাঁর দেহে তলোয়ারের আঘাত, বল্লমের খোঁচা এবং তীরের জখম মিলিয়ে আশিটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বলতাম যে, তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীদের ব্যাপারেই এই আয়াতটি নাজিল হয়েছে: "তাদের মধ্যে কেউ তার মানত পূর্ণ করেছে এবং কেউ প্রতীক্ষা করছে।" [আল-আহযাব: ২৩]
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
عَمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اسْمُهُ: أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ.

بَيْنَ ذَلِكَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الرُّوَاةِ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ.

وَسَعْدٍ الَّذِي لَقِيَهُ هُوَ: سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ.

أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ النَّضْرِ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: غَابَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ عَنْ قِتَالِ أَهْلِ بَدْرٍ، فَقَالَ: غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالٍ قَاتَلَهُ الْمُشْرِكِينَ {وَاللَّهِ لَئِنْ أَشْهَدَنِي اللَّهُ قِتَالَهُمْ لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ} فَلَمَّا كَانَ يَوْمَ أُحُدٍ انْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلاءِ - لأَصْحَابِهِ - وَأَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ هَؤُلاءِ الْمُشْرِكُونَ {ثُمَّ تَقَدَّمَ، فلقيه سعد بن معاذ فقال: أَيْنَ يَا سَعْدُ؟ وَاهًا لِرِيحِ الْجَنَّةِ} وَاللَّهِ إِنِّي لأَجِدُ رِيحَهَا دُونَ أُحُدٍ {قَالَ سَعْدٌ: فَمَا اسْتَطَعْتُ مَا صَنَعَ: مَضَى حَتَّى اسْتُشْهِدَ} قَالَ أَنَسٌ: مَا عَرَفْنَاهُ إِلا بِبَنَانِهِ؛ لأَنَّهُ مُثِّلَ بِهِ! وَجَدْنَا فِيهِ بِضْعَةً وَثَمَانِينَ أَثَرًا مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةٍ بِالسَّيْفِ، وَطَعْنَةٍ بِالرُّمْحِ، وَرَمْيَةٍ بِسَهْمٍ، فَكُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّ فِيهِ وَفِي أَصْحَابِهِ نَزَلَتْ: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عاهدوا الله عليه} [23: الأحزاب] .

/ وَرَوَى عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ: أَنَّ عَمَّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: النَّضْرُ بْنُ أَنَسٍ - وَذَلِكَ وَهْمٌ قَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي كِتَابِ (رَافِعِ الارْتِيَابِ فِي الْمَقْلُوبِ مِنَ الأَسْمَاءِ وَالأَنْسَابِ) .
আনাস বিন মালিকের চাচার নাম: আনাস বিন নযর।

হুমাইদ আত-তবীলের সূত্রে বর্ণনাকারীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এটি স্পষ্ট করেছেন।

এবং সাদ যাঁর সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল, তিনি হলেন: সাদ বিন মুআয।

হাসান বিন আবু বকর আমাকে খবর দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাফিয়ী আমাদের খবর দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আন-নযর আল-আযদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুআবিয়া আমর থেকে, তিনি আবু ইসহাক — অর্থাৎ আল-ফাযারী — থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আনাস বিন নযর বদর যুদ্ধে মুশরিকদের সাথে লড়াইয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: মুশরিকদের সাথে প্রথম যে লড়াই হয়েছিল তাতে আমি অনুপস্থিত ছিলাম। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ আমাকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উপস্থিত করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন আমি কী করি। এরপর যখন উহুদ যুদ্ধের দিন এল এবং মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ তাঁর সাথীরা যা করেছে তার জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর এই মুশরিকরা যা নিয়ে এসেছে তা থেকে আমি আপনার কাছে দায়মুক্ততা ঘোষণা করছি। তারপর তিনি অগ্রসর হলেন। তখন সাদ বিন মুআযের সাথে তাঁর দেখা হলো। তিনি বললেন: হে সাদ, কোথায় যাচ্ছ? জান্নাতের সুগন্ধির কতই না চমৎকার ঘ্রাণ! আল্লাহর কসম, আমি উহুদ পাহাড়ের পাদদেশেই এর সুবাস পাচ্ছি। সাদ বললেন: তিনি যা করতে পেরেছিলেন আমি তা করতে সক্ষম হইনি। তিনি অগ্রসর হলেন এমনকি শহীদ হলেন। আনাস বললেন: আমরা তাঁর আঙুলের অগ্রভাগ ছাড়া তাঁকে আর কোনোভাবে চিনতে পারছিলাম না; কারণ তাঁর দেহকে বিকৃত করা হয়েছিল। আমরা তাঁর দেহে তলোয়ারের আঘাত, বর্শার ক্ষত এবং তীরের জখম মিলিয়ে আশিরও বেশি চিহ্ন পেয়েছিলাম। আমরা বলাবলি করতাম যে, তাঁর এবং তাঁর সাথীদের ব্যাপারেই এই আয়াত নাযিল হয়েছে: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে} [সূরা আহযাব: ২৩]।

/ আর যুহাইর বিন মুআবিয়া হুমাইদ আত-তবীলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস বিন মালিকের চাচার নাম ছিল নযর বিন আনাস — আর এটি একটি ভুল, যা আমরা 'রাফিউল ইরতিয়াব ফিল মাকলুব মিনাল আসমা ওয়াল আনসাব' নামক কিতাবে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(حديث (4) أوس بْن الصامت)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْعَلَوِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى بْنِ يَحْيَى بْنِ الحسين بْنِ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ بِالرَّيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ تَمِيمٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: تَبَارَكَ الَّذِي وَسِعَ سَمْعُهُ كُلَّ شَيْءٍ: إِنِّي لأسمع كلام خولة
(হাদিস (৪) আওস বিন সামিত)

 

আবু তাহের আল-আলাভি মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে যাইদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ঈসা ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল হুসাইন ইবনে যাইদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব রায় শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাহল আল-বায্যায আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: মুসা ইবনে ইসহাক আল-আনসারী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি উবাইদাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আ'মাশ থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি তামীম থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন। উরওয়াহ বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: বরকতময় সেই সত্তা যাঁর শ্রবণ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে; নিশ্চয়ই আমি খাওলার কথা শুনতে পাচ্ছিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بِنْتِ ثَعْلَبَةَ وَيَخْفَى عَلَيَّ بَعْضُهُ، وَهِيَ تَشْتَكِي زَوْجَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَهِيَ تَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَكَلَ شَبَابِي، وَنَثَرْتُ لَهُ بَطْنِي، حَتَّى إِذَا كَبُرَتْ سِنِّي وَانْقَطَعَ وَلَدِي ظَاهَرَ مِنِّي {اللَّهُمَّ إِنِّي أَشْكُو إِلَيْكَ: قَالَتْ: فَمَا بَرِحَتْ حَتَّى نَزَلَ جِبْرِيلُ بِهَذِهِ الآَيَةِ: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ} [1: المجادلة] .

زَوْجُ هَذِهِ الْمَرْأَةِ هُوَ: أَوْسُ بْنُ الصَّامِتِ الأَنْصَارِيُّ، أَخُو عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ. الحجة في ذلك: مَا أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ / الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُؤِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ، عَنْ خُوَيْلَةَ بِنْتِ مَالِكِ بْنِ ثَعْلَبَةَ قَالَتْ: ظَاهَرَ مِنِّي زَوْجِي أَوْسُ بْنُ الصَّامِتِ، فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أَشْكُو إِلَيْهِ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - يُجَادِلُنِي فِيهِ وَيَقُولُ: " اتَّقِي اللَّهَ فَإِنَّهُ ابْنُ عَمِّكِ " فَمَا بَرِحْتُ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآَنُ: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زوجها} إِلَى الْفَرْضِ، فَقَالَ: " يَعْتِقُ رَقَبَةً " قَالَتْ: لا يَجِدُ} قَالَ: " فَيَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ شَيْخٌ كَبِيرٌ مَا بِهِ مِنْ صِيَامٍ {قَالَ: فَلْيُطْعِمْ ستين مسكينا " قالت: ما عنده من شيء يتصدق به} قالت: فأتي ساعتئذ بفرق من تمر، قلت: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنِّي أُعِينُهُ بِعَذْقٍ آخَرَ. قَالَ: " قَدْ أَحْسَنْتِ! اذْهَبِي فَأَطْعِمِي بِهَا عَنْهُ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَارْجِعِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ ". وَالْفَرْقُ سِتُّونَ صَاعًا.

قَالَ أَبُو دَاوُدَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ، إِلا أَنَّهُ قَالَ: وَالْفَرْقُ مَكِيلٌ يَسَعُ ثَلاثِينَ صَاعًا / قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ يحيى بن آدم.
সালাবা-এর কন্যা, তাঁর কথার কিছু অংশ আমার নিকট অস্পষ্ট ছিল, অথচ তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিলেন। তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার যৌবন ভোগ করেছে এবং আমি আমার গর্ভ তাঁর জন্য উজার করে দিয়েছি (সন্তান প্রসব করেছি), অবশেষে যখন আমার বয়স হয়েছে এবং সন্তান হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, তখন সে আমার সাথে 'জিহার' করেছে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অভিযোগ করছি।" আয়েশা (রা.) বলেন: তিনি সেখান থেকে সরার পূর্বেই জিবরাঈল (আ.) এই আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন: "আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর নিকট অভিযোগ করছিল।" [সূরা আল-মুজাদালাহ: ১]।

এই মহিলার স্বামী ছিলেন: আওস বিন সামিত আল-আনসারী, যিনি উবাদাহ বিন সামিতের ভাই। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো: বিচারক আবু উমর আল-কাসিম বিন জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী বসরার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আমর আল-লুলুয়ী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আমাদের বর্ণনা করেছেন, হুসাইন বিন আলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আদম আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবন ইদরিস মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মামার বিন আব্দুল্লাহ বিন হানজালা থেকে, তিনি ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালাম থেকে, তিনি খুওয়াইলা বিন্ত মালিক বিন সালাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার স্বামী আওস বিন সামিত আমার সাথে 'জিহার' করেন। ফলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর কাছে অভিযোগ করতে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে আমার সাথে কথা বলছিলেন এবং বলছিলেন: "আল্লাহকে ভয় করো, কারণ সে তোমার চাচাতো ভাই।" আমি সেখান থেকে সরার পূর্বেই কুরআন অবতীর্ণ হলো: "আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল" নির্ধারিত বিধান পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বললেন: "সে একজন দাস মুক্ত করবে।" খুওয়াইলা বললেন: "তার সে সামর্থ্য নেই।" তিনি বললেন: "তবে সে টানা দুই মাস রোজা রাখবে।" খুওয়াইলা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! সে অতি বৃদ্ধ মানুষ, তার রোজা রাখার ক্ষমতা নেই।" তিনি বললেন: "তবে সে ষাটজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে।" খুওয়াইলা বললেন: "সদকা করার মতো তার নিকট কিছুই নেই।" তিনি বলেন: ঠিক সেই মুহূর্তে এক 'ফারক' পরিমাণ খেজুর নিয়ে আসা হলো। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে আরও এক ঝুড়ি খেজুর দিয়ে সাহায্য করব।" তিনি বললেন: "তুমি উত্তম কাজ করেছ! যাও এবং তার পক্ষ থেকে ষাটজন মিসকিনকে তা খাইয়ে দাও এবং তোমার চাচাতো ভাইয়ের নিকট ফিরে যাও।" আর এক 'ফারক' হলো ষাট সা' পরিমাণ।

আবু দাউদ বলেন: হাসান বিন আলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন সালামা ইবন ইসহাক থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: 'ফারক' হলো এমন এক পরিমাপ যাতে ত্রিশ সা' ধরে। আবু দাউদ বলেন: ইয়াহইয়া বিন আদমের হাদিসের চেয়ে এটিই অধিক বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌(حديث (5) أبي بْن كعب)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ، أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِيرَوَيْهِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ - أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ الْكُوفِيُّ شَيْخٌ لَهُ قَدَمٌ، حَدَّثَنِي مِسْوَرُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - قَرَأَ فِي الصَّلاةِ فَتَعَايَا فِي آيَةٍ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ تَرَكْتَ آَيَةً {قَالَ: " فَهَلا أَذْكَرْتَنِيهَا} " قَالَ: ظَنَنْتُ أَنَّهَا قَدْ نُسِخَتْ. قَالَ: " فَإِنَّهَا لَمْ تُنْسَخْ ".

هَذَا الرَّجُلُ: أُبَيُّ بْنُ كَعْبِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ عمرو ابن مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ سَيِّدُ الْقُرَّاءِ، يُكْنَى أَبَا الْمُنْذِرِ، وَيُقَالُ: أَبَا الطُّفَيْلِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، أَخْبَرَنَا عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ: أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يُحَدِّثُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - فِي صَلاةِ الصُّبْحِ {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ} [1: الفرقان] فَأَسْقَطَ مِنْهَا آيَةً، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ: " أَفِي الْمَسْجِدِ أُبَيٌّ؟ " قَالَ: نَعَمْ. فَقَالَ لَهُ: " مَا مَنَعَكَ أَلا تَكُونَ فَتَحْتَ عَلَيَّ؟ " فَقَالَ أُبَيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّهَا نُسِخَتْ! فَقَالَ رَسُولُ / اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " لم تنسخ ".
‌(হাদিস (৫) উবাই ইবনে কাব)

 

আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুআদ্দাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দালাজ বিন আহমাদ বিন দালাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে শিরওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক — আর তিনি হলেন ইবনে ইবরাহিম আল-হানজালি — আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির আল-কুফি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যিনি একজন উচ্চমর্যাদার শায়খ ছিলেন, মিসওয়ার বিন ইয়াজিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি — তিনি সালাতে কিরাত পড়ছিলেন এবং একটি আয়াতে আটকে গেলেন, তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি একটি আয়াত ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: "তবে কেন তুমি আমাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে না?" সে বলল: আমি ভেবেছিলাম সেটি হয়তো রহিত হয়ে গেছে। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তা রহিত হয়নি।"

এই ব্যক্তি হলেন: উবাই ইবনে কাব বিন কায়স বিন উবাইদ বিন যাইদ বিন মুয়াবিয়া বিন আমর ইবনে মালিক আল-আনসারী, ক্বারীদের নেতা, তাঁর উপনাম আবু আল-মুনজির এবং এও বলা হয় আবু আত-তুফাইল।

হাফিয আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আস-সাওয়াফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, বিশর বিন মুসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-হুমাইদী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উকাইল বিন খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: তিনি ইবনে শিহাবকে হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে পাঠ করলেন "কল্যাণময় সেই সত্তা যিনি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন" [১: আল-ফুরকান], তখন একটি আয়াত বাদ পড়ে গেল। যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তখন বললেন: "উবাই কি মসজিদে আছে?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি তাকে বললেন: "কি কারণে তুমি আমাকে লোকমা দিলে না (কিরাত মনে করিয়ে দিলে না)?" উবাই বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ভেবেছিলাম নিশ্চয়ই তা রহিত হয়ে গেছে! অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তা রহিত হয়নি।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌(حديث (6) الأقرع بْن حابس)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ وَسَلامٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَجُلا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، الْحَجُّ كُلَّ عَامٍ؟ فَقَالَ: " لا، بَلْ حَجَّةٌ، فَلَوْ قُلْتُ: كُلَّ عَامٍ كَانَ كُلَّ عَامٍ ".

الرَّجُلُ السَّائِلُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - كَانَ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسِ بْنِ عِقَالٍ، مِنْ وَلَدِ زَيْدِ مَنَاةِ بْنِ تَمِيمٍ.

الحجة في ذلك: مَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بن علي بن محمد التميمي الْوَاعِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ الدُّؤَلِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ " فَقَالَ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ [أَفِي كُلِّ عَامٍ؟] قَالَ: " بَلْ حَجَّةٌ وَلَوْ قلت: نعم لوجبت ".
(হাদিস (৬) আকরা ইবনে হাবিস)

 

আবু নুয়াইম আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে ফারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে হাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শারীক ও সালাম সিমাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, হজ কি প্রতি বছর? তিনি বললেন: "না, বরং একবারই। আমি যদি বলতাম: 'প্রতি বছর', তবে তা প্রতি বছরই (ওয়াজিব) হতো।"

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্নকারী সেই ব্যক্তিটি ছিলেন আকরা ইবনে হাবিস ইবনে ইকাল, যিনি জায়দ মানাত ইবনে তামিমে-এর বংশধর।

এ বিষয়ে প্রমাণ হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি আল-ওয়ায়েজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক আল-কাতিয়ি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি রাওহ থেকে, তিনি জামআহ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সিনান আদ-দুয়ালি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন।" তখন আকরা ইবনে হাবিস বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, [তা কি প্রতি বছর?] তিনি বললেন: "বরং একবারই; আর আমি যদি বলতাম: 'হ্যাঁ', তবে তা অবশ্যই আবশ্যক হয়ে যেত।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌(حديث (7) الأقرع بن حابس)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ، أَخْبَرَنَا أبو حفص عمر ابن أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْوَاعِظُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُونَ} [4: الحجرات] قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ / صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، إِنَّ حَمْدِي زَيْنٌ وَإِنَّ ذَمِّي شَيْنٌ {قَالَ: " ذَاكَ اللَّهُ عز وجل ".

هَذَا الرَّجُلُ كَانَ: الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ أيضًا.

الحجة في ذلك: مَا أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى الْوَزِيرُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ وَابْنُ هَانِي قَالُوا: حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ الأَقْرَعِ: أَنَّهُ نَادَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، فَلَمْ يُجِبْهُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، وَاللَّهِ إِنَّ حَمْدِي لَزَيْنٌ وَإِنَّ ذَمِّي لَشَيْنٌ} فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " سُبْحَانَ اللَّهِ! ذَاكُمُ اللَّهُ عز وجل ".
(হাদিস (৭) আকরা ইবনে হাবিস)

 

আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ফাতহ আল-হারবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাফস উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আল-ওয়ায়েজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুগাল্লিস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনে হুরাইস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ফাদল ইবনে মুসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {নিশ্চয় যারা কামরাসমূহের আড়াল থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই বুঝে না} [হুজুরাত: ৪]। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয় আমার প্রশংসা সৌন্দর্য আর আমার নিন্দা কলঙ্ক। তিনি বললেন: "তা তো মহান আল্লাহ।"

এই ব্যক্তিটি ছিলেন: আকরা ইবনে হাবিস।

এর প্রমাণ হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা আল-ওয়াজির, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হারুন ইবনে আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে আলী এবং ইবনে হানি, তারা বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আফফান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উহাইব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসা ইবনে উকবা, আবু সালামা থেকে, তিনি আকরা থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি কামরাসমূহের আড়াল থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে ডাকলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! কিন্তু তিনি তাঁকে উত্তর দিলেন না। তখন তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমার প্রশংসা সৌন্দর্য আর আমার নিন্দা কলঙ্ক। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সুবহানাল্লাহ! তা তো মহান আল্লাহ।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌(حديث (8) أفلح أخو أَبِي القعيس: أَبُو جعدة)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ النَّجَّادُ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ مُعَاذٍ وَهُوَ الْمَعْرُوفُ بِذَرَّانَ الْحَلَبِيِّ: حَدَّثَكُمُ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ: جَاءَ عَمِّي مِنَ الرَّضَاعَةِ يَسْتَفْتِحُ بَعْدَ أَنْ ضُرِبَ عَلَيْنَا الْحِجَابُ، فَأَبَيْتُ حَتَّى يَأْتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - فَأَسْتَأْذِنُ. فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - فَقُلْتُ: إِنَّ عَمِّي مِنَ الرَّضَاعَةِ جَاءَ يَسْتَأْذِنُ عَلَيَّ فَأَبَيْتُ أَنْ آذن له حتى أستأذنك / فَقَالَ لَهَا: " لِيَلِجْ عَلَيْكِ " فَقَالَتْ: إِنَّمَا أَرْضَعَتْنِي الْمَرْأَةُ وَلَمْ يُرْضِعْنِي الرَّجُلُ! فَقَالَ: " إِنَّهُ عَمُّكِ فَلْيَلِجْ عليك ".
(হাদিস (৮) আফলাহ, আবু আল-কুয়াইসের ভাই: আবু জা'দাহ)

 

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল ফাযল আল-কাত্তান, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনু সালমান ইবনুল হাসান আন-নাজ্জাদ, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনু মুআযের নিকট পাঠ করেছি—যিনি যাররান আল-হালাবি নামে পরিচিত—তিনি বলেন: আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কা'নাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনু উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমাদের ওপর পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর আমার দুগ্ধ-সম্পর্কীয় চাচা আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইতে আসলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসা এবং তাঁর নিকট হতে অনুমতি গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত তাঁকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন, তখন আমি বললাম: আমার দুগ্ধ-সম্পর্কীয় চাচা আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করতে এসেছেন, কিন্তু আপনার নিকট অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছি। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "তিনি যেন তোমার নিকট প্রবেশ করেন।" আমি বললাম: আমাকে তো কেবল নারী স্তন্যদান করেছে, কোনো পুরুষ তো আমাকে স্তন্যদান করেনি! তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি তোমার চাচা, সুতরাং তিনি যেন তোমার নিকট প্রবেশ করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - @ 16 @

عَمُّ عَائِشَة هَذَا هُوَ: أَفْلَحُ أَخُو أَبِي الْقُعَيْسِ، وَيُكْنَى أَبَا الْجَعْدِ.

الحجة في ذلك: مَا أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ اللُّؤْلُؤِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبَّادٍ المعروف بالدبري، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: جَاءَ أَفْلَحُ أَخُو أَبِي الْقُعَيْسِ لِيَسْتَأْذِنَ عَلَيْهَا، فَقَالَ: إِنِّي عَمُّهَا، فَأَبَتْ أَنْ تَأْذَنَ لَهُ، فَلَمَّا دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ - ذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ -: " أَفَلا أَذِنْتِ لِعَمِّكِ {" فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا أَرْضَعَتْنِي الْمَرْأَةُ ولم يرضعني الرجل. قال: " فأذني لَهُ فَإِنَّهُ عَمُّكِ تَرِبَتْ يَمِينُكِ " قَالَ: وَكَانَ أَبُو الْقُعَيْسِ أَخَا زَوْجِ الْمَرْأَةِ الَّتِي أَرْضَعَتْ عَائِشَةَ.

وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ: اسْتَأْذَنَ عَلَيَّ عَمِّي مِنَ الرَّضَاعَةِ أَبُو الْجَعْدِ فَرَدَدْتُهُ. (قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: قَالَ لِي هِشَامٌ: إِنَّمَا هُوَ أَبُو قُعَيْسٍ) فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ - أَخْبَرَتْهُ بِذَلِكَ. قَالَ: " فَهَلا أَذِنْتِ لَهُ تَرِبَتْ يَمِينُكِ " أَوْ قَالَ: " يَدُكِ} " قُلْتُ: … وَالصَّوَابُ أَنَّهُ أَخُو أَبِي الْقُعَيْسِ، كَمَا قَالَ الزُّهْرِيُّ عن عروة والله أعلم.
৫ - @ ১৬ @

আয়েশার এই চাচা হলেন: আফলাহ, আবু আল-কুআইসের ভাই, এবং তার উপনাম আবু আল-জাদ।

এ বিষয়ে প্রমাণ হলো: আল-হাসান বিন আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-লুলুয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন আব্বাদ (যিনি আদ-দাবারি নামে পরিচিত) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আল-কুআইসের ভাই আফলাহ তাঁর কাছে আসার অনুমতি চাইতে এলেন। তিনি বললেন: আমি তাঁর চাচা। কিন্তু তিনি (আয়েশা) তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবেশ করলেন, তিনি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি কি তোমার চাচাকে অনুমতি দিবে না?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে তো ওই নারী দুধ পান করিয়েছে, ওই পুরুষ তো পান করায়নি। তিনি বললেন: "তাকে অনুমতি দাও, কেননা সে তোমার চাচা, তোমার ডান হাত ধূলিমলিন হোক।" বর্ণনাকারী বলেন: আবু আল-কুআইস ছিলেন সেই মহিলার স্বামীর ভাই যিনি আয়েশাকে দুধ পান করিয়েছিলেন।

এবং আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আতা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ বিন আজ-জুবায়ের আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দুধ-চাচা আবু আল-জাদ আমার কাছে অনুমতি চাইলেন, কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিলাম। (ইবনে জুরাইজ বলেন: হিশাম আমাকে বলেছেন: তিনি মূলত আবু কুআইস)। অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন, তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে জানালেন। তিনি বললেন: "তুমি কেন তাকে অনুমতি দিলে না? তোমার ডান হাত ধূলিমলিন হোক" অথবা তিনি বলেছেন: "তোমার হাত ধূলিমলিন হোক।" আমি বলছি: … আর সঠিক বিষয় হলো তিনি হলেন আবু আল-কুআইসের ভাই, যেমনটি যুহরি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌(حديث (9) أبان بْن سَعِيد بْن العاص)

 

أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرٍ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلَيٍّ محمد ابن أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُؤِيُّ (ح) .

وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَشَّارٍ السَّابُورِيُّ بِالْبَصْرَةِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْن عَبْدِ الرَّزَّاقِ التَّمَّارُ قَالا: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى - زَادَ اللُّؤْلُؤِيُّ: الْبَلْخِيَّ، ثُمَّ اتَّفَقَا - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ - وَسَأَلَهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ فَحَدَّثَنَاهُ الزُّهْرِيُّ - أَنَّهُ سَمِعَ عَنْبَسَةَ بْنَ سَعْدٍ الْقُرَشِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بِخَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحَهَا، فَسَأَلْتُهُ أَنْ يُسْهِمَ لِي، فَتَكَلَّمَ بَعْضُ وَلَدِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ فَقَالَ: لا تُسْهِمْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ {قَالَ: فَقُلْتُ: هَذَا قَاتِلُ ابْنِ قَوْقَلٍ} فَقَالَ سَعِيد بْنِ الْعَاصِ: يَا عَجَبًا لَوَبَرٍ قَدْ تَدَلَّى عَلَيْنَا مِنْ قُدُومِ ضَأْنٍ، يُعَيِّرُنِي بِقَتْلِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ أَكْرَمَهُ اللَّهُ عَلَى يَدَيَّ وَلَمْ يُهِنِّي عَلَى يَدَيْهِ! - كَذَا رَوَى أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَامِدِ بْنِ يَحْيَى، وَقَالَ فِيهِ: فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ، وَإِنَّمَا هُوَ: ابْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ وَاسْمُهُ أَبَانٌ، وَهُوَ الَّذِي قَالَ: لا تُسْهِمْ له يا رسول الله.
(হাদিস (৯) আবান ইবনে সাঈদ ইবনুল আস)

 

বিচারক আবু ওমর আল-কাসিম ইবনে জাফর আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আমর আল-লুলুয়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (হ)।

এবং বসরার আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে বাশার আস-সাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আত-তাম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ'আস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন—আল-লুলুয়ি বৃদ্ধি করেছেন: ‘আল-বালখি’, অতঃপর তারা উভয়ে একমত হয়েছেন—সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, যুহরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন—এবং ইসমাইল ইবনে উমাইয়াহ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অতঃপর যুহরি আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন—যে তিনি আম্বাসা ইবনে সাদ আল-কুরাশিকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি মদিনায় আসলাম এমতাবস্থায় যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারে ছিলেন যখন তিনি তা জয় করেন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে আবেদন করলাম যেন তিনি আমার জন্য (গনিমতের) অংশ বরাদ্দ করেন। তখন সাঈদ ইবনুল আসের সন্তানদের একজন বলে উঠল: হে আল্লাহর রাসূল! তাকে অংশ দেবেন না। {আবু হুরায়রা বলেন: আমি বললাম: এ তো ইবনে কওক্বলের হত্যাকারী!} তখন সাঈদ ইবনুল আস বললেন: কুদুম দ্বা’ন থেকে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া এক লোমশ জন্তুর ব্যাপারে বিস্ময় জাগছে! সে আমাকে এমন একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার জন্য তিরস্কার করছে যাকে আল্লাহ আমার হাতে সম্মানিত করেছেন এবং তার হাতে আমাকে লাঞ্ছিত করেননি! —আবু দাউদ এভাবেই হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি বলেছেন: ‘সাঈদ ইবনুল আস বললেন’। অথচ তিনি হলেন সাঈদ ইবনুল আসের পুত্র যার নাম আবান; এবং তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল, তাকে অংশ দেবেন না’।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ غَالِبٍ الْفَقِيهُ الْخَوَارِزْمِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالْبَرْقَانِيِّ قَالَ: قَرَأْنَا عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْحَسَّانِيِّ قَالَ حَدَّثَكُمْ عَبْدُ اللَّهِ ابن أَبِي الْقَاضِي، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ / عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ عَنِ الزُّهْرِيِّ: أَنَّ عَنْبَسَةَ بْنَ سَعِيدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ: أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بَعَثَ أَبَانَ بْنَ سَعِيدٍ عَلَى سَرِيَّةٍ مِنَ الْمَدِينَةِ قَبْلَ نَجْدٍ، فَقَدِمَ أَبَانُ بْنُ سَعِيدٍ وَأَصْحَابُهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بِخَيْبَرَ بَعْدَ أَنْ فَتَحَهَا، وَإِنَّ حُزُمَ خَيْلِهِمْ لَلِيفٌ، فَقَالَ أَبَانٌ: اقْسِمْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُلْتُ: لا تُقْسِمْ لَهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ: فَقَالَ أَبَانٌ: أَنْتَ بِهَا يَا وَبَرٌ تَحَدَّرَ مِنْ رَأْسِ ضَأْنٍ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " اجْلِسْ يَا أَبَانُ " وَلَمْ يُقْسِمْ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -.

ذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ الأَوَّلِ: أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ السَّائِلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أَنْ يُسْهِمَ لَهُ، وَأَنَّ ابْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ -: لا تُسْهِمْ لَهُ. وَفِي الْحَدِيثِ الثَّانِي: أَنَّ أَبَانَ بْنَ سَعِيدٍ كَانَ السَّائِلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أَنْ يُقْسِمَ، وَأَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ الْقَائِلُ: لا تُقْسِمْ لَهُ. وَالْحَدِيثُ الأَوَّلُ هُوَ الصَّحِيحُ؛ وَلِذَلِكَ ذَكَرَهُ الواقدي في كتاب المغازي.
আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন গালিব আল-ফকিহ আল-খাওয়ারিজমি, যিনি আল-বারকানি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা মুহাম্মদ বিন আলি আল-হাসসানির নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আপনাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন মানসুর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন আইয়াশ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন যে: আমবাসা বিন সাঈদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে সাঈদ বিন আসের নিকট হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছেন যে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাদজ অভিমুখে মদিনা থেকে একটি ক্ষুদ্র বাহিনীতে আবান বিন সাঈদকে প্রেরণ করেছিলেন। অতঃপর আবান বিন সাঈদ ও তার সাথীরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট খায়বারে আসলেন যখন তিনি তা জয় করেছেন, আর তখন তাদের ঘোড়ার জিনের দড়ি ছিল খেজুর গাছের আঁশের তৈরি। তখন আবান বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদেরও অংশ দিন। আবু হুরায়রা বলেন: তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তাদের অংশ দেবেন না। তখন আবান বললেন: ওহে ছোট বন্য প্রাণী (ওয়াবার), যে ভেড়ার মাথা থেকে নেমে এসেছে, তুমি আবার এর মধ্যে কথা বলছ? তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আবান, বসো।" অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য কোনো অংশ বণ্টন করেননি।

প্রথম হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে: আবু হুরায়রা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তার জন্য অংশ বরাদ্দ করার প্রার্থনা করেছিলেন এবং ইবনে সাঈদ বিন আল-আস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছিলেন: তাকে অংশ দেবেন না। আর দ্বিতীয় হাদিসে আছে যে: আবান বিন সাঈদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অংশ চেয়েছিলেন এবং আবু হুরায়রা ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: তাদের অংশ দেবেন না। প্রথম হাদিসটিই হলো সঠিক; এই কারণেই ওয়াকিদি তার 'কিতাবুল মাগাজি'-তে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌(حديث (10) الأرقم بْن أَبِي الأرقم)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَخْلَدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّلَمَاسِيُّ، وَالْقَاضِي أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْمُحْسِنِ بْنِ عَلِيٍّ التَّنُوخِيُّ، وَأَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُطَرِّزُ قَالُوا: / أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَيْسَانَ النَّحْوِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا فَائِدٌ مَوْلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ: أَنَّهُ اسْتَأَذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أَنْ يَخْرُجَ مَعَ سَاعٍ بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - مُصَدِّقًا، فَقَالَ: " لا: اجْلِسْ يَا أَبَا رَافِعٍ؛ فَإِنَّهُ لا يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَأْكُلَ الصَّدَقَةَ ".

هَذَا السَّاعِي هُوَ: الأَرْقَمُ بْنُ أَبِي الأَرْقَمِ.

الحجة فِي ذلك: مَا أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ المصري، حدثنا عبد الله
‌(হাদীস (১০) আল-আরকাম ইবনুল আরকাম)

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাখলাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ আস-সালামাসি, বিচারক আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-মুহসিন বিন আলী আত-তানুখি এবং আবু মানসুর আব্দুল কারীম বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-মুতাররিয। তাঁরা বলেছেন: / আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন কাইসান আন-নাহবী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাযী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ফুযাইল বিন সুলাইমান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন আলীর আযাদকৃত দাস ফায়িদ, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন আলী বিন আবু রাফে, তিনি আবু রাফে থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চাইলেন যেন তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক যাকাত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রেরিত একজন সংগ্রাহকের সাথে যেতে পারেন। তখন তিনি (রাসূল) বললেন: "না, হে আবু রাফে! তুমি অবস্থান করো; কেননা আমাদের জন্য সদকা ভক্ষণ করা সমীচীন নয়।"

এই যাকাত সংগ্রাহক ব্যক্তিটি ছিলেন: আল-আরকাম ইবনুল আরকাম।

এ বিষয়ের প্রমাণ হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদ্দাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মিসরী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْحَكَمِ بن مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أَرْقَمَ بْنَ أَبِي الأَرْقَمِ الزُّهْرِيَّ عَلَى الصَّدَقَةِ، فَاسْتَتْبَعَ أَبَا رَافِعٍ، وَأَتَى أَبُو رَافِعٍ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم َ - فَاسْتَشَارَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ -: " يَا أَبَا رَافِعٍ، إِنَّ الصَّدَقَةَ حَرَامٌ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَإِنَّ مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْهُمْ " أَوْ " مِنْ أَنْفُسِهِمْ ".

وَأَخْبَرَنَا ابْنُ مَخْلَدٍ الْوَرَّاقُ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ السَّلَمَاسِيُّ وَالْقَاضِي أَبُو الْقَاسِمِ التَّنُوخِيُّ وَعَبْدُ الْكَرِيمِ الْمُطَرِّزُ قَالُوا: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَيْسَانَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ الْقَاضِي / حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنْ وَلَدِ أَبِي رَافِعٍ: أَنَّ أَبَا رَافِعٍ حَدَّثَهُمْ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أَرْقَمَ سَاعِيًا عَلَى الصَّدَقَةِ، وَاسْتَتْبَعَ أَبَا رَافِعٍ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: " إِنَّ الصَّدَقَةَ حَرَامٌ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آَلِ مُحَمَّدٍ، وَإِنَّ مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ".

ذَكَّرَنِي حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ الَّذِي سُقْنَاهُ فِي هَذِهِ التَّرْجَمَةِ، أَنَّ أَرْقَمَ بْنَ أَبِي أَرْقَمٍ زُهْرِيٌّ، وَالْمَحْفُوظُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ مَخْزُومِيٌّ.

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُعَدَّل، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْن صَفْوَان، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر بْن أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن سعد قال: أرقم بن أبي الأرقم واسمه عَبْد مناف بْن أسد بْن عَبْدِ اللَّهِ بْن عُمَرَ بْن مخزوم بْن نقطة، وهو الذي كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ - مستخفيًا فِي بيته على الصفا من المشركين، وبقي إِلَى دهر مُعَاوِيَة.

أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ [قَالَ: أَنَا عِيسَى بْنُ عَلِيٍّ] حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمِّي عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ: الأَرْقَمُ بْنُ أبي الأرقم بن أسد ابن عَبْدِ اللَّهِ بْن عُمَرَ بْن مَخْزُومٍ، شَهِدَا بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - حِينَ يَغِيبُ مِنْ قُرَيْشٍ يَغِيبُ فِي دَارِهِ، وَهِيَ الَّتِي تُعْرَفُ بالخيزران عن الصفا.
ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি হাকাম ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরকাম ইবনে আবিল আরকাম আল-জুহরিকে সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত করেন। তখন আরকাম আবু রাফিকে তার সঙ্গী হিসেবে চাইলেন। তখন আবু রাফি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে পরামর্শ চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আবু রাফি, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদের জন্য সদকা হারাম, আর কোনো গোত্রের মুক্ত করা দাস সেই গোত্রেরই অন্তর্ভুক্ত" অথবা বলেছেন "তাদের নিজেদেরই অন্তর্ভুক্ত"।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মাখলাদ আল-ওয়াররাক, আবু আব্দুল্লাহ আস-সালামাসি, কাজি আবু আল-কাসিম আত-তানুখি এবং আব্দুল কারিম আল-মুতাররিজ, তাঁরা বলেছেন: আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে কায়সান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ আল-কাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আর-রবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু শিহাব ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে, তিনি আবু রাফির সন্তানদের থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু রাফি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরকামকে সদকা আদায়কারী হিসেবে প্রেরণ করেন এবং তিনি আবু রাফিকে সঙ্গে নিতে চাইলেন। আবু রাফি বিষয়টি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য সদকা হারাম, আর কোনো গোত্রের মুক্ত করা দাস তাদের নিজেদেরই অন্তর্ভুক্ত।"

ইবনে আব্বাসের যে হাদিসটি আমরা এই জীবনীর শুরুতে উল্লেখ করেছি, তা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে সেখানে আরকাম ইবনে আবিল আরকামকে 'জুহরি' বলা হয়েছে, তবে আলেমদের নিকট সংরক্ষিত ও সঠিক তথ্য হলো তিনি 'মাখজুমি'।

আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুয়াদ্দাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাদ বলেছেন: আরকাম ইবনে আবিল আরকাম, তাঁর নাম হলো আবদে মানাফ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম ইবনে নুকতাহ। তিনিই সেই ব্যক্তি যার সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী ঘরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুশরিকদের থেকে আত্মগোপন করেছিলেন, এবং তিনি মুয়াবিয়ার শাসনকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

আবু মুহাম্মাদ আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [তিনি বলেন: ঈসা ইবনে আলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন], আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আবু উবাইদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আরকাম ইবনে আবিল আরকাম ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কুরাইশদের থেকে আত্মগোপন করতেন, তখন তাঁর ঘরেই আত্মগোপন করতেন। আর এটি সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী সেই ঘর যা 'খায়জুরান' নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(حديث (11) أصحمة النجاشي)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْبَرْقَانِيُّ / حَدَّثَنِي أَبُو سَوَّارٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَاصِمٍ الْمَرْوَزِيُّ بِهَا، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الْغَازِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " إِنَّ أَخًا لَكُمْ قَدْ مَاتَ فَقُومُوا فَصَلُّوا عَلَيْهِ " قَالَ: فَصَفَّنَا عَلَيْهِ صَفَّيْنِ.

هَذَا الْمَيِّتُ كَانَ النَّجَاشِيَّ مَلِكَ الْحَبَشَةِ، وَاسْمُهُ أَصْحَمَةُ.

الْحُجَّةُ فِي ذَلِكَ: مَا أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النَّاقِدُ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ناجية، حدثنا محمد
(হাদীস (১১) আসহামা আন-নাজাশী)

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-বারকানী / আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাওয়ার মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আসিম আল-মারওয়াযী তথায়, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন আল-ফদল আল-গাযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন হুজর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবন উলাইয়্যাহ, আইয়ুব থেকে, তিনি আবু আয-যুবায়র থেকে, তিনি জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের এক ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন, সুতরাং তোমরা দাঁড়াও এবং তাঁর জানাযার সালাত আদায় করো।" তিনি বলেন: এরপর তিনি আমাদের তাঁর পেছনে দুই সারিতে কাতারবদ্ধ করলেন।

এই মৃত ব্যক্তি ছিলেন আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজাশী, এবং তাঁর নাম ছিল আসহামা।

এর প্রমাণ হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবন আলী আল-জাওহারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী আন-নাকিদ, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন নাজিয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ...
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ابن الْمُثَنَّى وَزَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ قَالا: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، ثَنَا رَبَاحُ بْنُ أَبِي مَعْرُوفٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " إِنَّ أَخَاكُمْ أَصْحَمَةَ تُوُفِّيَ فَصَلُّوا عَلَيْهِ " فَصَفَّنَا صَفَّيْنِ فَصَلَّيْنَا عَلَيْهِ.

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا مُكْرَمُ بْنُ أَحْمَدَ القاضي، حدثنا يحيى ابن أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بَلَغَهُ مَوْتُ النَّجَاشِيُّ فَقَالَ: " صَلُّوا عَلَى أَخٍ لَكُمْ مَاتَ بِغَيْرِ بِلادِكُمْ " قَالَ: فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَصَفَّنَا صُفُوفًا. قَالَ جَابِرٌ: فَكُنْتُ فِي الصَّفِّ الثَّانِي أَوِ الثَّالِثِ. قَالَ: وَكَانَ اسْمُ النَّجَاشِيِّ: أَصْحَمَةَ.
ইবনুল মুসান্না এবং যায়েদ ইবনে আখযাম বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমির আল-আকাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবাহ ইবনে আবি মা'রূফ, আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের ভাই আসহামা ইন্তেকাল করেছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর জানাজা পড়ো।" অতঃপর তিনি আমাদের দুই সারিতে দাঁড় করালেন এবং আমরা তাঁর জানাজা আদায় করলাম।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আবি বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী মুকররাম ইবনে আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নাজাশীর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের এমন এক ভাইয়ের জানাজা পড়ো যে তোমাদের দেশ ব্যতীত অন্য দেশে মারা গেছে।" তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানাজা পড়ালেন এবং আমাদের সারিবদ্ধ করলেন। জাবির (রা.) বলেন: আমি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সারিতে ছিলাম। তিনি বলেন: নাজাশীর নাম ছিল আসহামা।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌(حديث (12) أكيدر بْن عَبْدِ الملك: ملك دومة الجندل)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ / حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عن علي بن زيد ابن جُدْعَانَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أن ملك الرُّومَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ - مُسْتَقَةً [مِنْ] سُنْدُسٍ، فَلَبِسَهَا، فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يَدَيْهِ تُذَبْذِبَانِ، فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَلْمَسُونَهَا وَيَقُولُونَ: أَنَزَلَ عَلَيْكَ هَذَا مِنَ السَّمَاءِ؟ فَقَالَ: " مَا تُعْجَبُونَ مِنْهَا؟ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَلْيَنُ مِنْ هَذَا! " ثُمَّ بَعَثَ بِهَا إِلَى جَعْفَرٍ فَلَبِسَهَا ثُمَّ جَاءَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ -: " إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا " قَالَ: مَا أَصْنَعُ بِهَا؟ قَالَ: " أَرْسِلْ بِهَا إِلَى أَخِيكَ النَّجَاشِيِّ ".

كَانَ الَّذِي أَهْدَى الْمُسْتَقَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - أكيدر بن عبد الملك
‌(হাদীস (১২) উকাইদির বিন আবদিল মালিক: দুমাতুল জান্দালের রাজা)

 

আমাদের জানিয়েছেন হাফিয আবু নুআইম / আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আহমদ বিন ফারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন হাবীব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আলী বিন যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে: রোমের রাজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রেশমের তৈরি একটি দীর্ঘ হাতাবিশিষ্ট জুব্বা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি সেটি পরিধান করলেন; আমি যেন তাঁর হাত দুটির দিকে তাকাচ্ছি যা (আস্তিনের দীর্ঘতার কারণে) দুলছিল। তখন তাঁর সাহাবীগণ সেটি স্পর্শ করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: "আপনার নিকট কি এটি আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে?" তিনি বললেন: "তোমরা কি এটি দেখে বিস্মিত হচ্ছ? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, জান্নাতে সাদ বিন মুআযের রুমালগুলো এর চেয়েও বেশি নরম!" তারপর তিনি সেটি জাফরের নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি সেটি পরিধান করে আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি তোমাকে এটি পরিধান করার জন্য দিইনি।" তিনি বললেন: "আমি এটি নিয়ে কী করব?" তিনি বললেন: "এটি তোমার ভাই নাজাশীর নিকট পাঠিয়ে দাও।"

যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই দীর্ঘ হাতাবিশিষ্ট জুব্বাটি উপহার দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন উকাইদির বিন আবদিল মালিক।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن عَبْدِ الْجِنِّ بْنِ أَعْيَا بْنِ الْحَارِثِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْكِنْدِيُّ، وَكَانَ نَصْرَانِيًّا وَكَانَ مَلِكًا عَلَى دَوْمَةِ الْجَنْدَلِ ثُمَّ أَسْلَمَ بَعْدَ ذَلِكَ، وَقِيلَ: مَاتَ عَلَى النَّصْرَانِيَّةِ.

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ، وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ أُكَيْدِرَ دَوْمَةَ أَهْدَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - جُبَّةَ حَرِيرٍ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُنْهَى نَبِيُّ اللَّه صلى الله عليه وسلم َ - عَنِ الْحَرِيرِ، فَلَبِسَهَا فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ / صلى الله عليه وسلم َ -: " والذي نفس محمد بِيَدِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَحْسَنُ مِنْ هَذِهِ {".

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى الأَدَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ. وَحَدَّثَنِي وَاقِدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَكَانَ وَاقِدٌ مِنْ أَحْسَنِ ِالنَّاسِ وَأَعْظَمِهِمْ وَأَطْوَلِهِمْ - قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَقَالَ لِي: مَنْ أَنْتَ؟ قُلْتُ: وَاقِدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ. قَالَ: إِنَّكَ بِسَعْدٍ لَشَبِيهٌ} قَالَ: ثُمَّ بَكَى فَأَكْثَرَ الْبُكَاءَ {قَالَ: يَرْحَمُ اللَّهُ سَعْدًا} كَانَ مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ وَأَطْوَلِهِمْ {قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - جَيْشًا إِلَى أُكَيْدِرِ دَوْمَةَ، فَأَرْسَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ - بِجُبَّةٍ مِنْ دِيبَاجٍ مَنْسُوجٌ فِيهَا الذَّهَبُ، فَلَبِسَهَا فَقَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَجَلَسَ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ، ثُمَّ نَزَلَ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَلْمَسُونَ الْجُبَّةَ وَيَنْظُرُونَ إِلَيْهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ -: " أَتَعْجَبُونَ مِنْهَا؟ " قَالُوا: نَعَمْ. فَوَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا ثَوْبًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ} قَالَ: " لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَحْسَنُ مِمَّا ترون! ".
ইবনে আব্দিল জিন ইবনে আইয়া ইবনুল হারিস ইবনে মুয়াবিয়া আল-কিন্দি; তিনি খ্রিস্টান ছিলেন এবং দুমাতুল জান্দালের রাজা ছিলেন, এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মতান্তরে বলা হয়েছে: তিনি খ্রিস্টধর্মাবলম্বী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আল-হাসান ইবনে আলী আত-তামীমী এবং আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: দুমার অধিপতি উকাইদির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে একটি রেশমী জুব্বা উপহার দিয়েছিলেন। আর এটি ছিল আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে রেশম ব্যবহারে নিষেধ করার আগের ঘটনা। তিনি এটি পরিধান করলেন এবং মানুষ এতে বিস্ময় প্রকাশ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, অবশ্যই জান্নাতে সা'দ ইবনে মুআযের রুমালগুলো এর চেয়েও উত্তম।"

আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে রিযক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আদামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ আল-ওয়াসিতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং ওয়াকিদ ইবনে আমর ইবনে সা'দ ইবনে মুআয আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মাদ (রাবী) বলেন: ওয়াকিদ ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর, সুঠাম ও দীর্ঘকায় ব্যক্তিদের একজন—তিনি (ওয়াকিদ) বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিকের নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কে? আমি বললাম: ওয়াকিদ ইবনে আমর ইবনে সা'দ ইবনে মুআয। তিনি বললেন: আপনি তো সা'দের সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি বলেন: এরপর তিনি ক্রন্দন করলেন এবং প্রচুর কাঁদলেন। তিনি বললেন: আল্লাহ সা'দকে রহম করুন; তিনি সবচেয়ে সুঠাম ও দীর্ঘকায় মানুষের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুমাতুল জান্দালের উকাইদিরের নিকট একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট স্বর্ণখচিত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি একটি জুব্বা পাঠিয়েছিল। তিনি এটি পরিধান করলেন এবং মিম্বারে দাঁড়ালেন ও বসলেন, তবে কোনো কথা বললেন না। এরপর তিনি নিচে নেমে এলেন। তখন মানুষ জুব্বাটি স্পর্শ করতে লাগল এবং সেটির দিকে তাকাতে লাগল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমরা কি এটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছ?" তারা বলল: হ্যাঁ। আল্লাহর শপথ, আমরা এর চেয়ে সুন্দর কোনো পোশাক কখনো দেখিনি। তিনি বললেন: "জান্নাতে সা'দ ইবনে মুআযের রুমালগুলো তোমরা যা দেখছ তার চেয়েও অনেক বেশি উত্তম!"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌(حديث (13) أسامة بْن قَتَادَة)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الشَّاهِدِ بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الْمَادَرَائِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُنَادَى، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ / بْنِ عُمْيَرٍ عَنْ جَابِر بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ إِلَى عُمَرَ، فَقَالُوا: لا يُحْسِنُ أَنْ يُصَلِّىَ: فَقَالَ سَعْدٌ: أَمَّا أَنَا فَكُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ صَلاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - صَلاتَيِ الْعَشِيِّ: أَرْكُدُ فِي الأُوَلَيَيْنِ وأحذف في الأخريين {فَقَالَ عُمَرُ ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ} وَبَعَثَ رِجَالا يَسْأَلُونَ عَنْهُ فِي مَسَاجِدِ الْكُوفَةِ، قَالَ: فَلا يَأْتُونَ مَسْجِدًا مِنْ مَسَاجِدِ الْكُوفَةِ إِلا أَثْنَوْا عَلَيْهِ خَيْرًا وَقَالُوا مَعْرُوفًا، حَتَّى أَتَوْا مَسْجِدًا مِنْ مَسَاجِدِ بَنِي عَبْسٍ، فَقَالَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: أَبُو سَعْدَةَ: اللَّهُمَّ فَإِنَّهُ كَانَ لا يَعْدِلُ فِي الْقَضِيَّةِ وَلا يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ {فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ كَاذِبًا فَأَعْمِ بَصَرَهُ، وَأَطِلْ فَقْرَهُ، وَعَرِّضْهُ لِلْفِتَنِ} قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: فَأَنَا رَأَيْتُهُ يَتَعَرَّضُ لِلإِمَاءِ فِي السِّكَكِ، فَإِذَا قِيلَ لَهُ: يَا أَبَا سَعْدَةَ {يَقُولُ: مَفْتُونٌ أَصَابَتْنِي دعوة سعد}
(হাদিস (১৩) উসামা ইবনে কাতাদা)

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনুল কাসিম ইবনুশ শাহিদ বসরায়, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনু ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল বাখতারি আল-মাদারায়ি, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল-মুনাদি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনু আলী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, আব্দুল মালিক ইবনু উমায়ের থেকে, তিনি জাবির ইবনু সামুরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুফাবাসী সা'দ ইবনু মালিকের বিরুদ্ধে উমরের নিকট অভিযোগ দায়ের করল। তারা বলল: তিনি সুন্দরভাবে সালাত আদায় করতে পারেন না। তখন সা'দ বললেন: আমি তো তাদের নিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করতাম—বিশেষ করে বিকেলের দুই সালাত (যোহর ও আসর); আমি প্রথম দুই রাকাতে দীর্ঘ করি এবং শেষ দুই রাকাতে সংক্ষেপ করি। উমর বললেন: হে আবু ইসহাক, আপনার সম্পর্কে আমার এরূপ ধারণাই ছিল। অতঃপর তিনি কুফার মসজিদগুলোতে তাঁর সম্পর্কে অনুসন্ধান করার জন্য কিছু লোক পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন: তারা কুফার যে মসজিদেই যেতেন, সেখানেই সকলে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করত এবং উত্তম কথা বলত, যতক্ষণ না তারা বনু আবস গোত্রের একটি মসজিদে উপস্থিত হলেন। সেখানে আবু সা'দাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই তিনি বিচারে ইনসাফ করতেন না এবং সুষমভাবে বণ্টন করতেন না। তখন সা'দ বললেন: হে আল্লাহ, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার দৃষ্টিশক্তি অন্ধ করে দিন, তার দারিদ্র্যকে দীর্ঘায়িত করুন এবং তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। আব্দুল মালিক বলেন: এরপর আমি তাকে রাস্তার অলিগলিতে দাসীদের উত্যক্ত করতে দেখেছি। যখন তাকে বলা হতো: হে আবু সা'দাহ! সে বলত: আমি এক ফিতনাগ্রস্ত বৃদ্ধ, সা'দের বদদোয়া আমাকে স্পর্শ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
اسْمُ أَبِي سَعْدَةَ هَذَا: أُسَامَةُ بْنُ قَتَادَةِ.

الْحُجَّةُ فِي ذَلِكَ: مَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ الْحِيرِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ، وَأَبُو سَعْدٍ الْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ الْعَجْلِيُّ الشِّيرَازِيُّ قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو الهيثم محمد بن المكي الكشمهيني (ح)

وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ المؤدب، أخبرنا إسماعيل ابن مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَاجِبٍ الْكُشَانِيُّ قَالا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - أَبُو سَلَمَةَ التَّبُوذَكِيُّ، / حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ عُمْيَرٍ عَنْ جَابِر بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا إِلَى عُمَرَ - وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ، وَقَالَ فِيهِ: فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ: أُسَامَةُ بْنُ قَتَادَةَ يُكْنَى أَبَا سَعْدَةَ.
এই আবু সা’দাহর নাম হলো: উসামাহ ইবনে কাতাদাহ।

এ বিষয়ে প্রমাণ হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান ইসমাঈল ইবনে আহমাদ আল-হীরি আন-নাইসাবুরী এবং আবু সা’দ আল-হাসান ইবনে উসমান আল-ইজলি আশ-শিরাজি। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাইসাম মুহাম্মদ ইবনুল মাক্কি আল-কুশমিহিনি। (হ)

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-মুআদ্দিব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাজিব আল-কুশানি। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসা—অর্থাৎ ইবনে ইসমাঈল—আবু সালামাহ আত-তাবুযাকি। / তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর, জাবির ইবনে সামুরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কূফাবাসীগণ সা’দকে উমরের নিকট অভিযোগ করলেন—অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন: তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি, যাকে উসামাহ ইবনে কাতাদাহ বলা হয় এবং যার উপনাম আবু সা’দাহ, সে বলল।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌(حديث (14) أمامة بنت أَبِي العاص)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ الْمُقْرِي، أَخْبَرَنَا محمد ابن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ وَعَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - يَخْرُجُ وَهُوَ حَامِلٌ ابْنَةَ زَيْنَبَ عَلَى عَاتِقِهِ وَهُوَ يَؤُمُّ النَّاسَ، فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا.

زَيْنَبُ هِيَ: ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَابْنَتُهَا هَذِهِ الْمَحْمُولَةُ هِيَ: أُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، وَهِيَ الَّتِي تَزَوَّجَهَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ بَعْدَ مَوْتِ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -.

أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ السِّمْسَارُ، وَعُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْعَلافُ، وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ قَالُوا: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْجَوْزِيُّ، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ: أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - / كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ ابْنَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - لأَبِي الْعَاصِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا، وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا - كَذَا يَقُولُ مَالِكٌ فِي حَدِيثِهِ: لأَبِي الْعَاصِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَغَيْرُهُ يَقُولُ: ابن الربيع، وهو الصواب.
‌(হাদিস (১৪) উমামা বিনতে আবু আস)

 

আবুল হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে উমর ইবনে হাফস আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আশ-শাফিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াজ ইবনে মুসান্না আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুসাদ্দাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ এবং আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আমর ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হতেন যখন তিনি জয়নবের কন্যাকে তার কাঁধে বহন করছিলেন এবং তিনি মানুষের ইমামতি করছিলেন; এমতাবস্থায় যখন তিনি রুকু করতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন।

জয়নব হলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা এবং এই বহনকৃত কন্যাটি হলো: উমামা বিনতে আবু আস ইবনে রবি ইবনে আব্দু শামস। তিনি হলেন সেই নারী যাকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমার মৃত্যুর পর আলি ইবনে আবি তালিব বিবাহ করেছিলেন।

আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আস-সিমসার, উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-আল্লাফ এবং হাসান ইবনে আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে হাসান আল-জাওজি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-কানাবি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আমর ইবনে সুলাইম আজ-জুরাকি থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজ পড়তেন এমতাবস্থায় যে তিনি আবু আস ইবনে আবি রবিআ ইবনে আব্দু শামসের ঔরসজাত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা জয়নবের মেয়ে উমামাকে বহন করছিলেন। যখন তিনি সেজদা করতেন তখন তাকে রেখে দিতেন, আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন—মালিক তার হাদিসে এমনটিই বলেছেন: 'আবু আস ইবনে রবিআ', তবে অন্যরা বলেছেন: 'ইবনে রবি', আর এটাই সঠিক।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌(حديث (15) أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ)

 

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ الْبَجَلِيِّ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: أَتَتْ فُلانَةُ بِنْتُ فُلانٍ الأَنْصَارِيَّةُ فَقَالَتْ: يَا رسول الله، كَيْفَ الْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ؟ فَقَالَ: " تَبْدَأُ إِحْدَاكُنَّ فَتَتَوَضَّأُ، فَتَبْدَأُ بِشِقِّ رَأْسِهَا الأَيْمَنِ ثُمَّ الأَيْسَرِ حَتَّى تنقي شؤون رَأْسِهَا " ثُمَّ قَالَ: " أَتَدْرُونَ مَا شؤون الرَّأْسِ؟ " قَالَتِ: الْبَشْرَةُ. قَالَ: " صَدَقْتِ {ثُمَّ تُفِيضُ عَلَى بَقِيَّةِ جَسَدِهَا " قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَكَيْفَ الْغُسْلُ مِنَ الْحَيْضِ؟ قَالَ: " تَأْخُذُ إِحْدَاكُنَّ سِدْرَتَهَا وَمَاءَهَا فَتَطَّهَّرُ بِهَا فَتُحْسِنُ الطَّهُورَ، ثُمَّ تَبْدَأُ بِشِقِّ رَأْسِهَا الأَيْمَنِ ثُمَّ الأَيْسَرِ حَتَّى تنقي شؤون الرَّأْسِ، ثُمَّ تُفِيضُ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهَا، ثُمَّ تَأْخُذُ فُرْصَةً مُمْسِكَةً فَتَطَّهَّرُ بِهَا " قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ أَتَطَهَّرُ بِهَا؟ فَقُلْتُ لَهَا أَنَا: يَا سُبْحَانَ اللَّهِ} تتبعين آثار الدم ".
(হাদিস (১৫) আসমা বিনতে ইয়াজিদ ইবনে আস-সাকান)

 

আবু নুয়াইম আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কায়িস ইবনে রাবী' ইব্রাহিম ইবনুল মুহাজির আল-বাজালি থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে শাইবাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: অমুক আনসারি নারী এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, জানাবাত (নাপাকি) থেকে গোসলের পদ্ধতি কী? তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ যখন গোসল শুরু করবে, সে ওজু করবে। এরপর মাথার ডান পাশ থেকে শুরু করবে, তারপর বাম পাশ, যতক্ষণ না সে তার মাথার চামড়ার গোড়াগুলো পরিষ্কার করে।" এরপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো মাথার 'শুউন' কী?" তিনি বললেন: চামড়া। তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ {এরপর সে তার শরীরের বাকি অংশে পানি ঢালবে।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তবে ঋতুস্রাব (হায়েজ) থেকে গোসল কীভাবে? তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ তার কুলপাতা ও পানি নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে এবং উত্তমরূপে পবিত্র হবে। এরপর মাথার ডান পাশ থেকে শুরু করবে, তারপর বাম পাশ, যতক্ষণ না মাথার চামড়ার গোড়াগুলো পরিষ্কার করে। এরপর সে তার সারা শরীরে পানি ঢালবে। এরপর সে কস্তুরিমাখা একখণ্ড কাপড় নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি তা দিয়ে কীভাবে পবিত্র হব? তখন আমি তাকে বললাম: সুবহানাল্লাহ!} তুমি রক্তের চিহ্নসমূহ অনুসরণ করো।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
هَذِهِ الأَنْصَارِيَّةُ هِيَ: أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ بْنِ [رَافِعِ بْنِ امْرِئِ الْقَيْسِ] بْنِ عَبْدِ الأَشْهَلِ، وَكَانَ / يُقَالُ لَهَا: خَطِيبَةُ النِّسَاءِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الدَّقَّاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ مَاسِيٍّ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ يَزِيدَ سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم َ - عَنِ الْغُسْلِ مِنَ الْحَيْضِ فَقَالَ: " تَأْخُذُ سِدْرَتَهَا وَمَاءَهَا فَتَغْسِلُ رَأْسَهَا، وَتُدَلِّكُهُ دَلْكًا شَدِيدًا حَتَّى يَبْلُغَ الماء شؤون رَأْسِهَا، ثُمَّ تَأْخُذُ فُرْصَةً مُمْسِكَةً فتطهر بِهَا " قَالَتْ: كَيْفَ أَتَطَهُّر بِهَا؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم َ -: " سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ {تُطَهِّرِينَ} " قَالَتْ عَائِشَةُ تُشِيرُ إِلَيْهَا: تَتَّبِعِينَ آثَارَ الدم.
এই আনসারী মহিলা হলেন: আসমা বিনতে ইয়াজিদ ইবনাস সাকান ইবনে [রাফে ইবনে ইমরুল কায়স] ইবনে আবদিল আশহাল। তাকে ‘নারীদের বক্তা’ (খাতীবাতুন নিসা) বলা হতো।

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবু তাহির আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে মাসি আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-কাজী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে শু’বাহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনুল মুহাজির থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আসমা বিনতে ইয়াজিদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঋতুস্রাব পরবর্তী গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: "সে তার বরই পাতা ও পানি নেবে এবং নিজের মাথা ধোবে, আর মাথা খুব ভালোভাবে কচলাবে যাতে পানি চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর সে সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরো কাপড় নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আমি তা দিয়ে কীভাবে পবিত্র হবো? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সুবহানাল্লাহিল আযীম! তুমি তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো।" আয়েশা (রা.) তাকে ইশারায় বুঝিয়ে বললেন: রক্তের চিহ্নগুলো অনুসরণ করো (অর্থাৎ মুছে ফেলো)।
(খণ্ড: ১) আল-আসমাউল মুবহামাহ ফিল আম্বাইল মুহকামাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌(حديث (16) أروى بِنْت أويس)

 

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُعَدَّل، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ: أَنَّ امْرَأَةً خَاصَمَتْ سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ إِلَى مَرْوَانَ فِي حُدُودِ أَرْضِهِ، فَقَالَ سَعِيدٌ: أَنَا أُغَيِّرُ حُدُودَهَا وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - يَقُولُ: " مَنْ سَرَقَ مِنَ الأَرْضِ شِبْرًا طَوَّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ "؟ فَقَالَ مَرْوَانُ: فَذَاكَ إِلَيْكَ {ثُمَّ قَالَ سَعِيدٌ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَتْ كَاذِبَةً فَأَعْمِ بَصَرَهَا وَاقْتُلْهَا فِي أَرْضِهَا} قَالَ: فَعَمِيَتْ، ثُمَّ ذَهَبَتْ / تَمْشِي فِي أَرْضِهَا فَوَقَعَتْ فِي بِئْرٍ فِيهَا فَمَاتَتْ! ثُمَّ جَاءَ السَّيْلُ بَعْدَ ذَلِكَ فَخَرَجَتِ الأَعْلامُ كَمَا قَالَ سَعِيدٌ.

هَذِهِ المرأة: أروى بِنْت أويس.

الحجة فِي ذلك: ما أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمُ بْنُ الْحُسَيْنِ الشَّاهِدُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَادَرَائِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُنَادَى، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بن محمد بن عمرو ابن حَزْمٍ قَالَ: جَاءَتْ أَرْوَى ابْنَةُ أُوَيْسٍ إِلَى أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ فَقَالَتْ: يَا أَبَا عَبْدِ الْمَلِكِ، إِنَّ سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ قَدْ بَنَى صَفِيرَةً فِي حَقِّي، فَأْتِهِ فَأَعْلِمْهُ، فَوَاللَّهِ لَئِنْ لَمْ يَفْعَلْ لأَصِيحَنَّ بِهِ فِي مسجد رسول الله -
(হাদিস (১৬) আরওয়া বিনতে উওয়াইস)

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুয়াদ্দাল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মনসুর আর-রামাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: মামার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে যে: এক মহিলা সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলের বিরুদ্ধে মারওয়ানের নিকট তাঁর জমির সীমানা নিয়ে বিবাদ করল। তখন সাঈদ বললেন: "আমি কি তাঁর জমির সীমানা পরিবর্তন করব? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি আত্মসাৎ করবে, তাকে সাত স্তবক জমিন গলায় বেড়ি হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে'।" অতঃপর মারওয়ান বললেন: "তবে বিষয়টি আপনার ওপরই ন্যস্ত।" {অতঃপর সাঈদ বললেন: হে আল্লাহ! সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার চোখ অন্ধ করে দিন এবং তাকে তার জমিতেই মৃত্যু দান করুন।} বর্ণনাকারী বলেন: ফলে সে অন্ধ হয়ে গেল। এরপর সে তার জমির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেখানে থাকা একটি কূপে পড়ে গেল এবং মৃত্যুবরণ করল! এরপর এক প্লাবন এল এবং সীমানাগুলো প্রকাশিত হয়ে গেল যেমনটি সাঈদ বলেছিলেন।

এই মহিলা হলেন: আরওয়া বিনতে উওয়াইস।

এ বিষয়ে প্রমাণ হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে কাসিম ইবনে হুসাইন আশ-শাহেদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ইসহাক আল-মাদারায়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুনাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ ইয়াজিদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আরওয়া বিনতে উওয়াইস আবু মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমের নিকট এসে বলল: "হে আবু আব্দুল মালেক, সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল আমার হকের (জমির) ওপর একটি প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। আপনি তাঁর কাছে যান এবং তাঁকে বিষয়টি জানান। আল্লাহর কসম! যদি তিনি তা না করেন, তবে আমি রাসূলুল্লাহর মসজিদে তাঁর বিরুদ্ধে উচ্চস্বরে চিৎকার করে নালিশ করব।"