(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: -)
معجم السفر (أبو طاهر السلفي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: معجم السفر
المؤلف: صدر الدين، أبو طاهر السِّلَفي أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم سِلَفَه الأصبهاني (ت 576هـ)
المحقق: عبد الله عمر البارودي
الناشر: المكتبة التجارية - مكة المكرمة
عدد الصفحات: 465
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুজামুস সাফার (আবু তাহের আস-সালাফি)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: মুজামুস সাফার
লেখক: সদরুদ্দীন, আবু তাহের আস-সালাফি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম সিলাফাহ আল-আসবাহানি (মৃত্যু ৫৭৬ হিজরি)
সম্পাদক: আবদুল্লাহ উমর আল-বারুদি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ - মক্কা মুকাররমা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٣)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله على آلائه وصلواته على مُحَمَّد خَاتم أنبيائه وعَلى آله وَأَصْحَابه وأصفيائه وَسلم كثيرا وَبعد فَإِن جزازات من مُعْجم السّفر وَقعت بِخَط الْحَافِظ أبي طَاهِر أَحْمد بن مُحَمَّد الإصبهاني رضي الله عنه فبيضتها ورتبتها كَمَا تَجِيء لَا كَمَا يجب وَالله أسأَل النَّفْع بذلك إِنَّه رَحِيم كريم- حَرْفُ الأَلِفِ-مَنِ اسْمُهُ أَحْمَدُ 2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَلَاءِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ الطَّبَّاخِيُّ بأَبْهَرَ أَنا جَدِّي لِأُمِّي أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ الْمَالِكِيُّ سَنَةَ ثَلَاث وَعشْرين وَأَرْبَعمِائَة أَنا عَمِّي أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمٍ ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ ثَنَا وَهْبٌ يَعْنِي ابْنَ بَقِيَّةَ أَنا خَالِدٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ3 - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا أَزَالُ أُقَاتِلُ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ4 - ابْنُ عَبْدِ السَّلَامِ جَدُّ شَيْخِنَا عَالِي السَّنَدِ يَرْوِي عَنِ ابْنِ مَالِكٍ الْقطيعِي وَابْن بكر الْأَبْهَرِيّ وَآخَرُونَ مِنْ شُيُوخِ بَغْدَادَ وَمَكَّةَ وَالْجَبَلِ وَقَدْ أخبرنَا عَنْهُ أَيْضًا سِبْطُهُ سنة سِتّ عشرَة وَأَرْبَعمِائَة وَأَعَدْتُ ذِكْرَهُ لِاخْتِلافٍ فِي اسْمِهِ فِي تَرْجَمَةِ مَنِ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য এবং দরুদ বর্ষিত হোক শেষ নবী মুহাম্মাদের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁর মনোনীত ব্যক্তিদের প্রতি এবং অজস্র সালাম। অতঃপর, 'মুজাম আস-সাফার' (ভ্রমণ অভিধান)-এর কিছু পাণ্ডুলিপি হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইসফাহানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হস্তাক্ষরে পাওয়া গেছে। আমি সেগুলোকে যেভাবে পাওয়া গেছে সেভাবেই পরিষ্কারভাবে লিখে বিন্যস্ত করেছি, যেভাবে হওয়া উচিত ছিল সেভাবে নয়। আমি আল্লাহর কাছে এর মাধ্যমে উপকারের প্রার্থনা করি; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতি দাতা।-আলিফ বর্ণ-যাদের নাম আহমদ ২ - আবু আল-আলা আহমদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আহমদ আত-তাব্বাখি আবহারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মাতামহ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল সালাম আল-মালিকি ৪২৩ হিজরি সনে আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার চাচা আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল সালাম আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে সুলাইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াহাব অর্থাৎ ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:৩ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যখন তারা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও ধন-সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত।"৪ - ইবনে আব্দুল সালাম আমাদের শায়খের দাদা, তিনি উচ্চ সনদের অধিকারী। তিনি ইবনে মালিক আল-ক্বাতীঈ, ইবনে বকর আল-আবহারী এবং বাগদাদ, মক্কা ও জাবাল অঞ্চলের অন্যান্য মাশায়েখ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে তাঁর নাতিও ৪১৬ হিজরি সনে আমাদের জানিয়েছেন। আমি তাঁর কথা পুনরায় উল্লেখ করেছি কারণ ইসমাইল নামক ব্যক্তিদের জীবনীতে তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٤)
5 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَرَ الْغَسَّانِيُّ الْإِشْبِيلِيُّ وَآخَرَانِ قَالُوا أَنْشَدَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَارَةَ الشَّنْتَرِينِيُّ لِنَفْسِهِ بِالْأَنْدَلُسِ(أَوْدَتْ بِذَاتِ يَدِي فُرَيَّةُ أَرْنَبٍ … كَفُؤَادِ عُرْوَةَ فِي الضَّنَا والرِّقَّةِ)(لَوْ أنَّ مَا أَنْفَقْتُ فِي تَرْقِيعِهَا … يُحْصَى لَزَادَ عَلَى جِبَالِ الرَّقَّةِ)(إِنْ قُلْتُ بِسْمِ اللَّهِ بَيْنَ رِقَاعِهَا … قَرَأَتْ عَلَيَّ {إِذَا السَّمَاءُ انشقت} )(فَتَرَى مُرَقِّعَهَا يُقَاسِي دَهْرَهُ … بُعْدَ الْمَشَقَّة فِي قريب الشقة) // الْكَامِل //6 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ بْنِ أَشْتَةَ وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْدَوَيْهِ وَآخَرُونَ بِأصْبَهَانَ قَالَ ابْنُ أَشْتَةَ أَنا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَهْدِيِّ النَّقَّاشُ الْحَافِظُ وَقَالَ ابْنُ مَرْدَوَيْهِ وَالْآخَرُونَ أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ قَالَا أَنَا أَبُو بَكْرِ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ النَّصِيبِيُّ ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ التَّمِيمِيُّ ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ7 - سَمِعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ8 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو مَخْلَدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقَزَّازِيُّ
৫ - আবু আব্বাস আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন উমর আল-গাসসানি আল-ইশবিলি এবং আরও দুইজন আমাকে কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সারাহ আশ-শান্তারিনি আন্দালুসে স্বরচিত এই কবিতাটি আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছেন:(খরগোশের চামড়ার একটি তালি আমার হাতের সম্বল নিঃশেষ করে দিয়েছে … যা ক্ষয় ও জীর্ণতায় উরওয়ার হৃদয়ের মতো।)(এর তালি লাগাতে আমি যা ব্যয় করেছি … তা যদি গণনা করা হতো, তবে তা রাক্কার পাহাড়গুলোকেও ছাড়িয়ে যেত।)(আমি যদি এর তালিগুলোর মাঝে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করি … তবে এটি আমার সামনে ‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে’ পাঠ করতে শুরু করে।)(তুমি দেখবে এর তালিদানকারী তার কাল অতিবাহিত করছে নিদারুণ কষ্টে … গন্তব্য নিকটে হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে।) // আল-কামিল //৬ - ইসফাহানে আহমাদ বিন আব্দুল গাফফার বিন আশতাহ, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন মারদুওয়াইহ এবং অন্যান্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইবনে আশতাহ বলেন: আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আমর বিন মাহদি আন-নাক্কাশ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইবনে মারদুওয়াইহ এবং অন্যান্যরা বলেন: আবু নুয়াইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়েই বলেন: আবু বকর আহমাদ বিন ইউসুফ বিন খাল্লাদ আন-নাসিবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারিস বিন আবু উসামাহ আত-তামিমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলকামাহ বিন ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাবকে বলতে শুনেছেন:৭ - আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।”৮ - কাযী আবু মাখলাদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কাযযাযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الطَّبَرِيُّ قَاضِي الْمَدِينَةِ بسَاوَه أَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيُّ ببَغْدَادَ أَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الذَّهَبِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَالَفَ بَيْنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ فِي دَارِ أَنَسٍ بِالْمَدِينَةِ9 - أَبُو مَخْلَدٍ هَذَا كَانَ مِنْ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ مَذْهَبِيًّا خِلَافِيًّا لُغَوِيًّا نَحْوِيًّا اجْتَمَعْنَا بِبَغْدَادَ وَنُهَاوَنْدَ وَسَاوَةَ وَقَدْ وُلِّيَ قَضَاءَ مَدِينَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مُدَّةً وَحَضَرْتُ مَجْلِسَ وَعْظِهِ بِنُهَاوَنْدَ وَاسْتَحْسَنْتُ وَعْظَهُ رحمه الله10 - سَمِعت أَبَا الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنَ يُوسُفَ بْنِ عَلِيٍّ الْأَزْدِيَّ الْبَحْرِيَّ بالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ يَقُولُ رَأَيْتُ أَبَا الْحَسَنِ الزُّحَيْمِيَّ الْمُقْرِئَ بالْمَحَلَّةِ بَعْدَ مَوْتِهِ فِي الْمَنَامِ وَكَانَ مِنْ أَهْلِ كَفَرْطَابَ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ يَا أُسْتَاذُ فَقَالَ الْأَمْرُ عَظِيمٌ الْأَمْرُ عَظِيمٌ ثُمَّ رَأَيْتُ ابْنَ عَمَّارٍ الْعَشَّارَ فِي الْمَنَامِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ حَالِهِ فَقَالَ يَا أَبَا الْحُسَيْنِ الْأَمْرُ عَظِيمٌ وَالرَّبُّ رَحِيمٌ11 - أَبُو الْحُسَيْنِ هَذَا أَرْمَلِيُّ الْأَصْلِ صُورِيُّ الْمَوْلِدِ عَلَى مَا ذَكَرَهُ لِي وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاحِ وَالْخَيْرِ صَحِبَ نَصْرَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ النَّابُلُسِيَّ الْفَقِيهَ وَإِبْرَاهِيمَ الْقِبَابِيَّ الصُّوفِيَّ وَآخَرِينَسَمِعْتُهُ يَقُولُ رَأَيْتُ أَبَا إِسْحَاقَ الْقِبَابِيَّ شَيْخَ الصُّوفِيَّةِ بِصُورِ الْعَجَمِ وَعِنْدَهُ فَاكِهَةٌ فَإِذَا دَخَلَ إِلَيْهِ صَبِيٌّ صَغِيرٌ مَعَ أَبِيهِ أَوْ قَرِيبٌ لَهُ دَفَعَ إِلَيْهِ مِنْهَا وَضَحِكَ فِي وَجْهِهِ رحمه الله12 - سَمِعت أَبَا نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عُلْوَانَ التَّاجِرَ الْآمِدِيَّ بضُمَيْرٍ عَلَى مَرْحَلَةٍ مِنْ دِمَشْقَ يَقُولُ عَبَرْنَا عَلَى قَنْطَرَةٍ بِنَوَاحِي النِّيلِ وَمَعَنَا صُوفِيٌّ وَكَانَ النَّاسُ
সাওয়া নগরের তাবারী, যিনি মদীনার বিচারক ছিলেন, তিনি বলেছেন: বাগদাদে আবু নাসর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্বাস আয-যাহাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল আলা বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় আনাসের বাড়িতে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন।9 - এই আবু মাখলাদ ছিলেন মুসলিম আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, যিনি মাযহাবগত মাসায়েল, ইখতিলাফ, ভাষাবিজ্ঞান ও ব্যাকরণে পারদর্শী ছিলেন। বাগদাদ, নিহাওয়ান্দ ও সাওয়াহ-তে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহরের (মদীনার) বিচারক পদে নিয়োজিত ছিলেন। আমি নিহাওয়ান্দে তাঁর ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত হয়েছি এবং তাঁর নসীহতগুলো আমার কাছে অতি উত্তম মনে হয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।10 - আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় আবুল হুসাইন আহমাদ বিন ইউসুফ বিন আলী আল-আযদি আল-বাহরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কাফারতাবের অধিবাসী কারী আবুল হাসান আয-জুহাইমীকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "হে উস্তাদ! আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?" তিনি বললেন, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর!" এরপর আমি স্বপ্নে ইবনে আম্মার আল-আশারকে দেখলাম এবং তাঁকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, "হে আবুল হুসাইন! বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর, তবে রব অত্যন্ত দয়ালু।"11 - এই আবুল হুসাইন মূলে আরমালি এবং জন্মসূত্রে সুরি ছিলেন, যেমনটি তিনি আমাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি পুণ্যবান ও নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ফকীহ নাসর বিন ইবরাহিম আন-নাবুলুসী, সুফি ইবরাহিম আল-কিবাবি এবং অন্যদের সাহচর্য লাভ করেছিলেন।আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি পারস্যের সুরে সুফিদের শায়খ আবু ইসহাক আল-কিবাবিকে দেখেছি। তাঁর নিকট কিছু ফল ছিল। যখনই কোনো ছোট শিশু তার পিতা বা কোনো আত্মীয়ের সাথে তাঁর কাছে আসত, তিনি তাকে সেখান থেকে কিছু ফল দিতেন এবং তার চেহারার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।12 - আমি দামেস্ক থেকে এক মনজিল দূরে ধুমাইর নামক স্থানে আমেদের বণিক আবু নাসর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উলওয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমরা নীল নদের পার্শ্ববর্তী একটি সেতু অতিক্রম করছিলাম এবং আমাদের সাথে একজন সুফি ছিলেন, আর মানুষজন তখন...
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٦)
يَتَزَاحَمُونَ فَتَعْبُرُ دَابَّةً سَالِمَةً وَتَقَعُ أُخْرَى فَتَوَاجَدَ الصُّوفِيُّ ثُمَّ بَكَى وَصَاحَ إِلَى أَنْ رَحِمْنَاهُ فَلَمَّا وَصَلْنَا إِلَى الْبَلَدِ قَدَّمْنَا شَيْئًا مِنَ الْمَأْكُولِ فَامْتَنَعَ مِنْ تَنَاوُلِهِ فَخَلَوْتُ بِهِ فَنَاشَدْتُهُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُفَسِّرَ لِي حَالَهُ عَلَى جَلِيَّتِهِ فَقَالَ قَدْ ذَكَرْتُ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ قِيَامَ السَّاعَةِ وَأَهْوَالَ الصِّرَاطِ وَأَنَّ مَنْ خَفَّ نَجَا فَتَوَاجَدْتُ ثُمَّ خِفْتُ أَنْ لَا أَكُونَ مِنَ الْمُخِفِّينَ فَلَحِقَنِي مَا رَأَيْتَوَبَاتَ عَلَى الْحَالَةِ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا طَلَبْتُهُ فَمَا وَجَدْتُهُ وَبَقِيَتْ حَسْرَتُهُ إِلَى الْآنَ فِي قَلْبِي13 - سَمِعت أَبَا نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عُلْوَانَ الْآمِدِيَّ بضُمَيْرٍ عَلَى مَرْحَلَةٍ مِنْ دِمَشْقَ يَقُولُ حَضَرْتُ فِي دَعْوَةٍ بِالْعِرَاقِ وَكَانَ فِيمَنْ حَضَرَ فَقِيرٌ وَاحِدٌ فَغَنَّى الْقوَّالُ بَعْدَ غِنَائِهِ الْمَعْهُودِ صَوْتًا مِنَ الزَّكْنَشَةِ وَهُوَ(غَسَلْتُ لَهُ طُولَ اللَّيْلِ … فَرَكْتُ لَهُ طُولَ النَّهَارِ)(مَضَى يُعَاتِبُ غَيْرِي … زَلِقٌ وَقَعَ فِي الطِّينِ)فَصَاحَ الصُّوفِيُّ وَقَالَ بِئْسَ مَا فَعَلَ وَقَامَ يَتَوَاجَدُ وَيَبْكِي إِلَى أَنْ أَبْكَانَا كُلَّنَا وَقُلْنَا مَنْ كَانَتْ لَهُ عِبْرَةٌ فَفِي كُلِّ شَيْءٍ لَهُ عَبْرَةٌ14 - سَمِعت الْقَاضِيَ أَبَا نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحَنَفِيَّ أَحَدَ الْخُطَبَاءِ بِثَغْرِ آمِدَ قَالَ سَمِعت الْقَاضِي أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الدَّامَغَانِيَّ ببَغْدَادَ قَالَ سَمِعت أَبَا الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْقُدُورِيَّ قَالَ كَانَ أَبُو جَعْفَرٍ الطَّحَاوِيُّ يَقْرَأُ عَلَى الْمُزَنِيِّ فَقَالَ لَهُ يَوْمًا وَاللَّهِ لَا أَفْلَحْتَ فَغَضِبَ وَانْفَلَّ مِنْ عِنْدِهِ وَتَفَقَّهَ عَلَى مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ فَصَارَ إِمَامًا فَكَانَ إِذَا دَرَسَ أَوْ جَابَ فِي الْمُشْكِلَاتِ يَقُولُ رَحِمَ اللَّهُ أَبَا إِبْرَاهِيمَ لَوْ كَانَ حَيًّا وَرَآنِي كَفَّرَ عَنْ يَمِينِهِ
তারা ভিড় করছিল, ফলে একটি পশু নিরাপদে পার হয়ে গেল এবং অন্যটি পড়ে গেল। তখন সূফী ব্যক্তিটি ভাবাবেগে আপ্লুত হলেন, অতঃপর কাঁদতে লাগলেন এবং চিৎকার করতে থাকলেন যতক্ষণ না আমরা তার প্রতি সমব্যথী হলাম। যখন আমরা শহরে পৌঁছলাম, আমরা তাকে কিছু খাবার প্রদান করলাম, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমি তার সাথে একান্তে মিলিত হলাম এবং মহান আল্লাহর দোহাই দিয়ে তার অবস্থার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে অনুরোধ করলাম। তিনি বললেন: "সেই মুহূর্তে আমার কিয়ামতের উপস্থিতি এবং পুলসিরাতের ভয়াবহতার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল; আর এও মনে পড়েছিল যে, যার বোঝা হালকা সেই নাজাত পাবে। ফলে আমি ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি, এরপর আমার মনে ভয় জাগল যে আমি সম্ভবত সেই হালকা বোঝা বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত নই, আর তখনই আমার সেই অবস্থা হলো যা আপনি দেখলেন।"তিনি সেই অবস্থায় রাত কাটালেন। যখন ভোর হলো, আমি তাকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না, এবং তার সেই বিরহবেদনা আজ অবধি আমার হৃদয়ে রয়ে গেছে।১৩ - আমি দামেস্ক থেকে এক মঞ্জিল দূরে অবস্থিত দুমাইর নামক স্থানে আবু নাসর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উলওয়ান আল-আমিদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইরাকে একটি দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। উপস্থিতদের মধ্যে একজন মাত্র ফকির ছিলেন। গায়ক তার প্রথাগত গানের পর 'যাকনাশাহ' এর ঢঙে একটি সুর গাইলেন, তা হলো:(আমি তার জন্য সারা রাত ধুয়েছি … আমি তার জন্য সারা দিন রগড়েছি)(সে অন্য কাউকে তিরস্কার করতে চলে গেল … পিচ্ছিল পথে সে কাদায় পড়ে গেল)তখন সূফী ব্যক্তিটি চিৎকার করে উঠলেন এবং বললেন, "সে কতই না মন্দ কাজ করেছে!" এবং তিনি দাঁড়িয়ে ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে কাঁদতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের সকলকে কাঁদিয়ে দিলেন। আমরা বললাম: "যার শিক্ষা গ্রহণের ক্ষমতা আছে, তার জন্য প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই শিক্ষা রয়েছে।"১৪ - আমি আমিদ সীমান্তের অন্যতম খতিব কাজী আবু নাসর আহমদ ইবনে আব্দুল মুনইম আল-হানাফীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বাগদাদে কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামেগানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-কুদূরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু জাফর আত-তাহাবী ইমাম মুযানির নিকট পাঠ গ্রহণ করতেন। একদিন তিনি তাকে বললেন, "আল্লাহর কসম, তুমি সফল হতে পারবে না।" এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং তার নিকট থেকে চলে আসলেন। অতঃপর তিনি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করলেন এবং একজন ইমামে পরিণত হলেন। তিনি যখন পাঠদান করতেন কিংবা কোনো জটিল সমস্যার সমাধান দিতেন, তখন বলতেন, "আল্লাহ আবু ইবরাহিমের ওপর রহম করুন; তিনি যদি জীবিত থাকতেন এবং আমাকে দেখতেন, তবে অবশ্যই তিনি তার শপথের কাফফারা আদায় করতেন।"
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٧)
15 - أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْجَزِّيُّ الصُّوفِيُّ شَيْخٌ كَبِيرٌ أَدْرَكَ أَبَا الْحَسَنِ اللُّنْبَانِيَّ وَصَحِبَ وَلَدَهُ مَعْمَرًا إِلَى أَنْ تُوُفِّيَ وَكَانَتْ وَالِدَتُهُ تَخْدُمُ فِي دَارِهِمْرَأَيْتُهُ وَقَدْ قَارَبَ التِّسْعِينَ وَسَأَلْتُهُ هَلْ سَمِعت مِنَ الْحَدِيثِ شَيْئًا عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ فَقَالَ نَعَمْوَلَمْ أَظْفَرْ بِشَيْءٍ مِنْ مَسْمُوعَاتِهِ وَكَانَ ظَرِيفَ الْجُمْلَةِ تُوُفِّيَ سَنَةَ نَيِّفٍ وَتِسْعين وَأَرْبَعمِائَة وَكَانَ مِنْ رُفَقَاءِ جَدِّي رَحِمَهُمَا اللَّهُ16 - أَنْشَدَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيُّ السَّرَقُسْطِيُّ بالثَّغْرِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبِي أَبُو الْوَلِيدِ مُحَمَّدُ بْنُ مَالِكٍ الْكَاتِبُ بالْأَنْدَلُسِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ التُّطَيْلِيُّ الْأَعْمَى لِنَفْسِهِ بِقُرْطُبَةَ يَصِفُ رُمْحًا(جَرَى الدَّمُ فِي مَتْنَيْهِ بَدْءًا وَعَوْدَةً … كَمَا كَانَ يَجْرِي فِيهِمَا الْمَاءُ مِنْ قَبْلُ)(فَأَصْبَحَ مَيَّادًا وَمَغْرِسُهُ الْكُلَى … كَمَا كَانَ ميادا ومنبته الرمل) // الطَّوِيل //17 - أَبُو بَكْرٍ هَذَا مِنْ أَهْلِ الْأَدَبِ وَيُخَاطَبُ خِطَابَ الْوُزَرَاءِ وَذَوِي الْحَسَبِ يُعَدُّ فِي قُطْرِهِ مِنَ الرُّؤَسَاءِ وَلَهُ شِعْرٌ فَائِقٌ وَتَرَسُّلٌ رَائِقٌ وَقَدْ كَتَبَ عَنِّي فَوَائِدَ وَعَلَّقْتُ عَنْهُ جُمْلَةً صَالِحَةً مِنْ شِعْرِهِ وَمِنْ شِعْرِ مَنْ رَآهُ مِنْ شُعَرَاءِ الْأَنْدَلُسِثُمَّ تَوَجَّهَ إِلَيْهَا وَانْقَطَعَ عَنِّي خَبَرُهُ18 - سَمِعت أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَرَجِ الْكَرَجِيَّ تُوُفِّيَ بِمِصْرَ يَقُولُ سَمِعت عَلِيَّ بْنَ شَنْبَذَ بْنِ الْكَرَجِيِّ بهَا وَأَشَارَ
১৫ - আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-জায্যি আস-সুফি একজন প্রবীণ শায়খ ছিলেন। তিনি আবু আল-হাসান আল-লুনবানিকে পেয়েছিলেন এবং তাঁর পুত্র মামারের সাথে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সাহচর্যে ছিলেন। তাঁর মাতা তাঁদের বাড়িতে খেদমত করতেন।আমি তাঁকে দেখেছি যখন তাঁর বয়স নব্বইয়ের কাছাকাছি ছিল এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি যে তিনি কি শায়খ আবু আল-হাসান থেকে কোনো হাদিস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।তবে তাঁর শ্রুত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে আমি কোনো কিছুই অর্জন করতে পারিনি। তিনি সামগ্রিকভাবে একজন মার্জিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি চারশ নব্বই-এর কিছু পরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আমার দাদার সহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।১৬ - আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মালিক আল-আনসারি আস-সারাগোস্তি সীমান্তে আমাকে কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন; তিনি বলেন, আন্দালুসে আমার পিতা আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে মালিক আল-কাতিব আমাকে শুনিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু আল-আব্বাস আত-তুতাইলি আল-আ'মা কর্ডোভায় নিজের রচিত একটি কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন, যাতে তিনি একটি বল্লমের বর্ণনা দিচ্ছিলেন:(তার দুই পার্শ্বে শুরুতে এবং শেষে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে... ঠিক যেমন সেখানে আগে পানি প্রবাহিত হতো।)(অতঃপর তা দোদুল্যমান হয়ে উঠল এবং তার প্রোথিত হওয়ার স্থান হলো বৃক্ক... ঠিক যেমন তা দোদুল্যমান ছিল যখন তার বেড়ে ওঠার স্থান ছিল বালু।) // তবিল ছন্দ //১৭ - এই আবু বকর সাহিত্যের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁকে উজির ও বংশমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ন্যায় সম্বোধন করা হতো। নিজ অঞ্চলে তিনি নেতৃস্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত বিবেচিত হতেন। তাঁর রয়েছে উৎকৃষ্ট কবিতা এবং চমৎকার গদ্যরীতি। তিনি আমার নিকট থেকে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় লিখে নিয়েছেন এবং আমি তাঁর নিকট থেকে তাঁর নিজের বেশ কিছু কবিতা এবং তাঁর দেখা আন্দালুসি কবিদের অনেক কবিতা সংগ্রহ করেছি।এরপর তিনি সেদিকে গমন করেন এবং তাঁর সংবাদ আমার নিকট আসা বন্ধ হয়ে যায়।১৮ - আমি আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-ফারাজ আল-কারাজিকে—যিনি মিশরে মৃত্যুবরণ করেছেন—বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি আলী ইবনে শানবায ইবনে আল-কারাজিকে সেখানে বলতে শুনেছি এবং তিনি ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٨)
إِلَى مداس لَهُفَقَالَ هَذِهِ وَهَبَهَا لِي فَقِيرٌ صَالِحٌ مِنْ فُقَرَاءِ خُرَاسَانَ مِنْ أَرْبَعِينَ سَنَةً وَهِيَ الْآنَ عِنْدِي أَلْبَسُهَا فِي أَكْثَرِ الْأَوْقَاتِ تَبَرُّكًا بِهِ وَأَرُمُّهَا إِذَا انْقَطَعَتْ19 - أَبُو الْعَبَّاس هَذَا من مشائخ الصُّوفِيَّةِ سَافَرَ وَلَقِيَ الشُّيُوخَ بِخُرَاسَانَ وَالْعِرَاقِ وَالْحِجَازِ وَالشَّامِ وَدِيَارِ مِصْرَ وَغَيْرِهَا وَصَحِبَ عَبْدَ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ بهَرَاةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ الْخَطِيبَ بمَرْوَثُمَّ تَأَهَّلَ بِمِصْرَ وَرُزِقَ أَوْلَادًا مِنْ جُمْلَتِهِمْ مُقْعَدَانِ وَبِنْتٌ عَمْيَاءُ فَسُعِيَ بِهِ غَيْرَ مَرَّةٍ وَنُفِيَ مِنْ مَوْضِعٍ إِلَى مَوْضِعٍ وَسَبَبُهُ أَنَّهُ كَانَ يَذْكُرُ بِاللَّيْلِ وَيَذْكُرُ الصَّحَابَةَ فِي أَثْنَاءِ كَلَامِهِ وَيَخُصُّهُمْ بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ وَكَانَ السُّلْطَانُ قَدْ أَبَاحَ ذَلِكَ إِلَّا أَنَّ الشِّيعَةَ يَشُقُّ عَلَيْهِمْ فِعْلُهُ وَيَسْعَوْنَ بِهِ بِمَا لَا أَصْلَ لَهُ بُغْضًا فِيهِ ثُمَّ اللَّهُ تَعَالَى يَحْمِيهِ عَنْهُمْ وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْقُرْآنِ وَالصَّلَاحِ رحمه الله20 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى الشابر خواستي بهَا أَنَا أَبِي ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ إِمْلَاءً ثَنَا أَبُو رَوْقٍ أَحْمَدُ بْنُ بَكْرٍ الْهِزَّانِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ شِبْلٍ الْبَاهِلِيُّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ سُمَيٍّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَمَنَامَهُ وَشَرَابَهُ فَإِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ نَهْمَتَهُ مِنْ وَجْهِهِ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ21 - أَبُو طَاهِرٍ هَذَا يُعْرَفُ بِالْقَاضِي الزَّاهِدِسَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ سنة ثَمَان وَثَلَاثِينَ وَأَرْبَعمِائَةوَتُوفِّي سنة اثْنَتَيْنِ وَخَمْسمِائة وَكَانَ وَرِعًا عَفِيفًا قَلَّ مَا يَتَكَلَّمُ فِي أُمُورِ الدُّنْيَا وَكَانَ كَثِيرَ الصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ ظَاهِرَ الْعِنَايَةِ بِالْغُرَبَاءِوَلِأَبِيهِ تَصَانِيفُ وَأَخُوهُ كَانَ قَاضِيَ الْبَلَدِ وَرِئَاسَتُهُمْ قَدِيمَةٌ22 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ
তার এক জোড়া পাদুকার দিকে। তিনি বললেন, “এটি আমাকে খোরাসানের একজন নেককার ফকির আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে উপহার দিয়েছিলেন। এটি এখন আমার কাছে আছে, আমি বরকত লাভের আশায় অধিকাংশ সময় এটি পরিধান করি এবং ছিঁড়ে গেলে তা মেরামত করি।”১৯ - এই আবু আল-আব্বাস ছিলেন সূফী মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সফর করেছেন এবং খোরাসান, ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া, মিশর ও অন্যান্য ভূখণ্ডের শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি হেরাতে আবদুল্লাহ আল-আনসারী এবং মার্ভে আবদুর রহমান আল-খাতিবের সাহচর্য লাভ করেছেন।এরপর তিনি মিশরে বসতি স্থাপন করেন এবং সন্তানাদি লাভ করেন, যাদের মধ্যে দুজন পঙ্গু ও এক কন্যা অন্ধ ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার কুৎসা রটানো হয়েছিল এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এর কারণ ছিল যে, তিনি রাতে জিকির করতেন এবং আলোচনার ফাঁকে সাহাবায়ে কেরামের নাম উল্লেখ করতেন এবং বিশেষভাবে তাদের জন্য রহমত ও সন্তুষ্টির দোয়া করতেন। সুলতান যদিও এর অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু শিয়াদের কাছে তার এই কাজ অত্যন্ত অপ্রিয় ছিল এবং তারা বিদ্বেষবশত তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে অপতৎপরতা চালাত। এরপর আল্লাহ তাআলা তাদের থেকে তাকে রক্ষা করতেন। তিনি কুরআনের অনুসারী ও নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু তাহের আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে মুসা আশ-শাবিরখাসতী সেখানে, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-কাসিম ইবনে আল-হাসান আল-বাসরী শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু রাওক আহমদ ইবনে বকর আল-হিজ্জানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আন-নুমান ইবনে শিবল আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি সুমাই থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সফর হচ্ছে আজাবের একটি অংশ। এটি তোমাদের আহার, নিদ্রা ও পানীয় গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্য পূরণ করবে, তখন সে যেন দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে।”২১ - এই আবু তাহের ‘কাজী জাহেদ’ নামে পরিচিত ছিলেন।আমি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: চারশ আটত্রিশ হিজরী সনে।তিনি পাঁচশ দুই হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। দুনিয়াবী বিষয়ে খুব কম কথা বলতেন। তিনি অধিক পরিমাণে সালাত আদায় ও দান-সদকা করতেন এবং মুসাফিরদের প্রতি তার বিশেষ যত্ন প্রকাশ পেত।তার পিতার অনেক রচনাবলি রয়েছে এবং তার ভাই ছিলেন শহরের কাজী। তাদের আভিজাত্য ও নেতৃত্ব ছিল প্রাচীনকাল থেকেই।২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الْمُخْتَارِ الْمُعَدِّلُ بوَاسِطَ أَنَا أَبُو الْبَرَكَاتِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ الْمُقْرِئُ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الصَّيْدَلَانِيُّ ثَنَا أَبُو الْعَلَاءِ مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ التَّمَّارُ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُقْدَةَ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْزَمٍ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يَعْمُرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ23 - هُوَ مِنْ أَهْلِ الْأَدَبِ رَوَى لَنَا عَنْ جَدِّهِ لِأُمِّهِ أَبِي الْفَتْحِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُخْتَارِ النَّحْوِيِّ وَأَبِي الْبَرَكَاتِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ نَفِيسٍ الْمُقْرِئِ وَعَلَّقْتُ عَنْهُ شَيْئًا مِنْ شِعْرِهِ وَسَأَلْتُ عَنْهُ خَمِيسَ بْنَ عَلِيٍّ الْحَافِظَ فَقَالَ هُوَ ابْنُ بِنْتِ أَبِي الْفَتْحِ قَرَأَ الْأَدَبَ عَلَى جَدِّهِ وَسَمِعَ الْحَدِيثَ مَعَنَا عَلَى جَمَاعَةٍ مِنْ أَصْحَابِنَا وَسَمِعَ بِبَغْدَادَ مِنْ عَاصِمٍ وَغَيْرِهِ وَشَهِدَ عِنْدَ أَبِي الْفَضْلِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَلَهُ شِعْرٌ جَيِّدٌ وَتَرَسُّلٌ سَدِيدٌ وَمَوْضِعٌ مِنَ النَّزَاهَةِ مَعْرُوفٌهَذَا آخِرُ كَلَامِ خَمِيسٍوَمِنْ شِعْرِهِ مَا أَنْشَدَنَا(مُدَّةُ الْعُمُرِ وَإِنْ طَالَتْ … بِلَا شَكٍّ قَصِيرَهْ)(فَاشْتَغِلْ بِالْعَمَلِ الصَّالِحِ … وَاجْعَلْهُ ذَخِيرَهْ)(لَيْسَ يُغْنِي عَنْكَ إِنْ كُنْتَ بِقَوْلِي ذَا بَصِيرَهْ … )(غَيْرُ تَقْوَى اللَّهِ مَا اسْتَطَعْت وَإِصْلَاح السريرة … ) // الرمل //24 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ سَلَامَةَ الْبَغْدَادِيُّ الْقَارئ بِدَارٍ مِنْ دُورِ دِيَارِ بَكْرٍ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مَسْعُودُ بْنُ الْمُحْسِنِ بْنِ الْبَيَاضِيِّ الْهَاشِمِيُّ لِنَفْسِهِ بِبَغْدَادَ
ওয়াসিত অঞ্চলের আল-মুখতার আল-মুআদ্দিল; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-বারাকাত আহমদ বিন উসমান বিন আহমদ আল-মুকরি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আস-সাইদালানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন ইউনুস আত-তাম্মার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন উকদাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসহাক বিন ইব্রাহিম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুস সামাদ বিন আব্দুল ওয়ারিস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মিহযাম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আল-কাসিম, তিনি তার পিতার সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, উত্তম চরিত্র এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার জনপদকে আবাদ রাখে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"২৩ - তিনি আদব (সাহিত্য) চর্চাকারী ছিলেন। তিনি আমাদের কাছে তার মাতামহ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার আন-নাহবি এবং আবু আল-বারাকাত আহমদ বিন উসমান বিন নাফিস আল-মুকরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তার থেকে তার কিছু কবিতা লিপিবদ্ধ করেছি। আমি হাফেজ খামিস বিন আলী-কে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: তিনি আবুল ফাতহ-এর দৌহিত্র, তিনি তার মাতামহের কাছে সাহিত্য পাঠ করেছেন এবং আমাদের একদল সঙ্গীর উপস্থিতিতে আমাদের সাথে হাদিস শ্রবণ করেছেন। বাগদাদে তিনি আসিম ও অন্যদের থেকে হাদিস শুনেছেন এবং আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তার চমৎকার কবিতা ও সঠিক গদ্য রচনা রয়েছে এবং তার সততা ও পরিচ্ছন্নতা সর্বজনবিদিত।এটিই খামিসের বক্তব্যের শেষ অংশ।এবং তার কবিতার মধ্য থেকে যা তিনি আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:(জীবনের মেয়াদ যতই দীর্ঘ হোক না কেন … নিঃসন্দেহে তা সংক্ষিপ্ত)(অতএব নেক আমলে আত্মনিয়োগ করো … এবং একে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করো)(তুমি যদি আমার কথায় অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন হও, তবে তোমার জন্য কোন কিছুই যথেষ্ট হবে না … )(আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং সাধ্যমত অন্তরের সংশোধন ব্যতীত … ) // আর-রামল ছন্দ //২৪ - আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মক্কি বিন সালামাহ আল-বাগদাদি আল-কারি দিয়ার বকরের একটি গৃহে আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু জাফর মাসউদ বিন আল-মুহসিন বিন আল-বায়াজি আল-হাশেমি বাগদাদে নিজের রচিত কবিতা আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
(إِنْ غَاضَ دَمْعُكَ وَالرِّكَابُ تُسَاقُ … مَعَ مَا بِقَلْبِكَ فَهْوَ مِنْكَ نِفَاقُ)(لَا تَحْبِسَنَّ مَاءَ الْجُفُونِ فَإِنَّهُ … لَك يالديغ هَوَاهُمُ دِرْيَاقُ)(وَاحْذَرْ مُصَاحَبَةَ الْعَذُولِ فَإِنَّهُ … مُغْرٍ وَظَاهِرُ عَذْلِهِ إِشْفَاقُ)(لَوْ حُمِّلَ الْعُذَّالُ أَعْبَاءَ الْهَوَى … وَتَجَرَّعُوا غُصَصَ الْمَلَامِ وَذَاقُوا)(لَتَيَقَّنُوا أَنَّ الْجِبَالَ مُطَاقَةٌ … وَالْعَذْلُ فِي المحبوب لَيْسَ يُطَاق) // الْكَامِل //25 - أَحْمَدُ هَذَا بَغْدَادِيٌّ أَقَامَ بِالْمَوْصِلِ وَتَأَهَّلَ بِهَا وَكَانَ مِنْ مُرِيدِي عَبْدِ الرَّزَّاقِ الْغَزْنَوِيِّ وَدَخَلَ الشَّامَ26 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْغَنَائِمِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ السِّدْرِيُّ الْمُقْرِئُ بوَاسِطَ أَنَا أَبُو الْبَرَكَاتِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ نَفِيسٍ الْمُقْرِئُ ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ التَّبَانِيِّ ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ السُّلَمِيُّ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُجَاشِعٍ الْبَزَّازُ ببَغْدَادَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلِ بْنِ الْمُغِيرَةِ ثَنَا عَفَّانُ ثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه يَقُولُ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُكَذَا كَانَ فِي الْأَصْلِ مُرْسَلا غَيْرَ مُسْنَدٍ27 - أَبُو الْغَنَائِمِ الْأُشْنَانِيُّ هَذَا كَانَ كَبِيرَ السِّنِّ سَمِعَ أَبَا مُحَمَّدٍ الْغَنْدَجَانِيَّ وَابْنَ نَفِيسٍ الْمُضَرِيَّ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ بِالْقِرَاءَاتِ السَّبْعِ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ غُلَامِ الْهَرَّاسِ وَمَعَهُ خَطُّهُ وَسَأَلْتُهُ عَن مولده سنة خَمْسمِائَة فَقَالَ قَدْ قَارَبْتُ الثَّمَانِينَ وَقَدْ سَأَلْتُ عَنْهُ أَبَا الْكَرَمِ الْحَوْزِيَّ الْحَافِظَ فَقَالَ شَيْخٌ صَالِحٌ مِنْ أَهْلِ الْقُرْآنِ وَسَمَاعُهُ عَلَى أُصُولِ الْغَنْدَجَانِيِّ رَأَيْتُهَا مَعَ أَبِي الْمُفَضَّلِ وَغَيْرِهِ28 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَليّ الأشناذجردي بنُهَاوَنْدَ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الطَّرَزِيُّ الْخَطِيبُ وَلَمْ يُسَمِّ مَنْ قَالَهُ وَقَالَ قَدْ أَمْهَلْتُكَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فِي نَقْلِهِ إِلَى لِسَانِنَا فَنَقَلْتُ وَأَنْشَدْتُهُ فَتَعَجَّبَ
(যদি তোমার অশ্রু শুকিয়ে যায় যখন উটের কাফেলা চালিত হচ্ছে … তোমার অন্তরে যা আছে তার সাথে (যদি অশ্রু না থাকে), তবে তা তোমার পক্ষ থেকে কপটতা।)(চক্ষুপল্লবের পানি আটকে রেখো না, কারণ তা … হে তাদের ভালোবাসায় দংশিত ব্যক্তি! তোমার জন্য প্রতিষেধক।)(নিন্দাকারীর সাহচর্য থেকে সতর্ক থাকো, কারণ সে … প্রলুব্ধকারী, অথচ তার নিন্দার বহিঃপ্রকাশ হলো মমতা।)(যদি নিন্দাকারীদের ওপর ভালোবাসার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হতো … আর তারা ভর্ৎসনার তিক্ত ঢোক গিলত ও তার স্বাদ আস্বাদন করত।)(তবে তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করত যে পাহাড় বহন করা সম্ভব … কিন্তু প্রিয়তমের বিষয়ে নিন্দা সহ্য করা সম্ভব নয়।) // আল-কামিল //২৫ - এই আহমদ বাগদাদী; তিনি মসুলে বসবাস করতেন এবং সেখানে পরিবার ও আবাস গড়ে তোলেন। তিনি আব্দুর রাজ্জাক গজনভীর মুরিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং শামে প্রবেশ করেছিলেন।২৬ - ওয়াসিতে আবু আল-গানাইম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আস-সিদরি আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আল-বারাকাত আহমদ ইবনে উসমান ইবনে নাফিস আল-মুকরি আমাদের জানিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে আত-তাবানি আমাদের বর্ণনা করেছেন: আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আল-আলা আস-সুলামি আমাদের বর্ণনা করেছেন: বাগদাদে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মুজাশে আল-বাযযায আমাদের বর্ণনা করেছেন: আলী ইবনে সাহল ইবনে আল-মুগিরা আমাদের বর্ণনা করেছেন: আফফান আমাদের বর্ণনা করেছেন: আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ আমাদের বর্ণনা করেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক আমাদের বর্ণনা করেছেন আন-নুমান ইবনে সা'দ থেকে, তিনি বলেন, আমি আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।"মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই মুরসাল হিসেবে ছিল, মুসনাদ হিসেবে নয়।২৭ - এই আবু আল-গানাইম আল-উশনানি বয়োবৃদ্ধ ছিলেন; তিনি আবু মুহাম্মদ আল-গান্দাজানি এবং ইবনে নাফিস আল-মুদারি থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি আবু আলী গুলাম আল-হাররাসের কাছে সাত কিরাআতে কুরআন পাঠ করেছেন এবং তাঁর নিকট উনার নিজ হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি ছিল। আমি পাঁচশ হিজরিতে উনার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, "আমি আশির কাছাকাছি পৌঁছেছি।" আমি উনার সম্পর্কে হাফিজ আবু আল-কারাম আল-হাউযিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, "তিনি কুরআনওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত একজন নেককার শাইখ।" আল-গান্দাজানির মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর শ্রবণকৃত অংশসমূহ আমি আবু আল-মুফাযযাল ও অন্যদের কাছে দেখেছি।২৮ - নিহাওয়ান্দে আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-আশনাজগিরদি আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আত-তারাজি আল-খতিব আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন এবং তিনি কবির নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বললেন, "এটি আমাদের ভাষায় অনুবাদ করার জন্য আমি তোমাকে তিন দিন সময় দিলাম।" অতঃপর আমি তা অনুবাদ করলাম এবং তাঁকে শুনিয়ে দেখালাম, এতে তিনি আশ্চর্য হলেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَمِمَّا أَنْشَدَنِي أَبُو إِسْحَاقَ هُوَ هَذَا(فُؤَادِي مِنْكَ مُنْصَدِعٌ جَرِيحٌ … وَنَفْسِي لَا تَمُوتُ فَتَسْتَرِيحُ)(وَفِي الْأَحْشَاءِ نَارٌ لَيْسَ تُطْفَى … كَأَنَّ وقودها قصب وريح) // الوافر //29 - هُوَ مِنْ مُرِيدِي أَبِي الْحَسَنِ النُّهَاوَنْدِيِّ وَصَحِبَ أَخَاهُ أَبَا سَعِيدٍ وَأَبَا الْحُسَيْنِ الْكَرَجِيَّ صَاحِبَ أَبِي الْعَبَّاسِ النُّهَاوَنْدِيِّ جَدِّ أَبِي الْحَسَنِ وَأَبِي سَعِيدٍقَالَ وَكَتَبْتُ الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الضَّحَّاكِ مُفْتِي نُهَاوَنْدَ غَيْرَ أَنَّ كُتُبِي كُلَّهَا مَرَّتْ فِي النَّهْبِ وَكَانَ يُشَارُ إِلَيْهِ فَهُوَ أَقْدَمُ مُرِيدٍ لِأَبِي الْحَسَنِ وُيُقْرَنُ بِابْنِ وَزَدَةَ أَبِي الْفَرَجِ30 - أَنْشَدَنِي أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَهْدِيٍّ التُّطِيلِيُّ أَنْشَدَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَرَاوَةَ الْمَالِقِيُّ لنَفسِهِ بالأندلس(وقائلة أتكلف بِالْغَوَانِي … وَقَدْ أَضْحَى بِمَفْرِقِكَ النَّهَارُ)(فَقُلْتُ لَهَا حَثَثْتِ عَلَى التَّصَابِي … أخف الْخَيل بالركض المعار) // الوافر //31 - أَحْمَدُ الْمَعْرُوفُ بِسنك آتشَ وَتَفْسِيرُهُ حَجَرُ الزِّنَادِ نَيْسَابُورِيٌّ كَبِيرُ السِّنِّ رَأَى أَبَا سَعِيدِ بْنَ أَبِي الْخَيْرِ وَنُظَرَاءَهُ بِخُرَاسَانَ ثُمَّ سَكَنَ أصْبَهَانَ وَقَدْ رَأَيْتُهُ وَسمعت كَلَامَهُ فِي الطَّامَّاتِ وَكَانَ مِمَّنْ يُشَارُ إِلَيْهِ فِي طَرِيقِ الْمَلَامَةِ وَسمعت خَلْقًا يَذْكُرُونَهُ بِالْكَرَامَاتِ وَآخَرِينَ يَرْمُونَهُ بِالزَّنْدَقَةِ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقَهُ لَا يَسْلَمُ مِنْ كَلَامٍ وَلَا ذَمِّ ذَامٍّوَأَكْثَرُ جُلُوسِهِ كَانَ فِي الْجَامِعِ الْكَبِيرِ وَيُصَلِّي الصَّلَوَاتِ فِي جَمَاعَةٍ غَيْرَ أَنَّهُ يُسَفِّهُ عَلَى النَّاسِ وَيَشْتُمُهُمْ وَعَلَى هَذَا مُعَوِّلُ طَرِيقَتِهِمْ فِي إِسْقَاطِ الْجَاهِ وَبِأصْبَهَانَ تُوُفِّيَ وَكَانَتْ لَهُ حُرْمَةٌ تَامَّةٌ عِنْدَ أَرْبَابِ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَيَزُورُونَهُ32 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَحْمَدَ التَّنُوخِيُّ الْعِرْقِيُّ
আবু ইসহাক আমাকে যা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তা হলো এই:(তোমার বিরহে আমার হৃদয় বিদীর্ণ ও ক্ষতবিক্ষত … অথচ আমার প্রাণ নির্গত হচ্ছে না যে শান্তি পাবে।)(অন্তরের গভীরে এমন এক অগ্নি জ্বলছে যা নির্বাপিত হয় না … যেন এর ইন্ধন হলো নলখাগড়া ও প্রবল বাতাস।) // ওয়াফির ছন্দ //২৯ - তিনি আবুল হাসান আন-নুহাওয়ান্দীর মুরিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর ভাই আবু সাঈদ এবং আবুল হুসাইন আল-কারাজীর সাহচর্য লাভ করেছিলেন, যিনি আবুল হাসান ও আবু সাঈদের দাদা আবুল আব্বাস আন-নুহাওয়ান্দীর সঙ্গী ছিলেন।তিনি বলেন, আমি নুহাওয়ান্দের মুফতি আবুল হাসান ইবনুল দাহহাক থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি। তবে আমার সকল কিতাব লুণ্ঠিত হয়ে গেছে। তিনি ছিলেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব; আবুল হাসানের মুরিদদের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠতম এবং তাঁকে ইবনে ওয়াযাদাহ আবুল ফরাজের সমকক্ষ গণ্য করা হতো।৩০ - আবু জাফর আহমদ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে মাহদী আত-তুদিলী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আবুল হুসাইন সুলায়মান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তরাওয়াহ আল-মালিকী আন্দালুসে নিজের রচিত এই কবিতাটি আমাদের শুনিয়েছেন:(এক রমণী বলল, তুমি কি সুন্দরীদের মোহে পড়েছ? … অথচ তোমার সিঁথিতে তো শুভ্র সকাল উদ্ভাসিত হয়েছে।)(আমি তাকে বললাম, তুমি তো যৌবনের চপলতার প্রতিই উৎসাহ দিচ্ছ … ঘোড়া তো তখনই দ্রুত ছোটে যখন তার ওপর আরোহী চড়ে।) // ওয়াফির ছন্দ //৩১ - আহমদ, যিনি 'সাংকি আতাশ' নামে পরিচিত ছিলেন (যার অর্থ চকমকি পাথর)। তিনি ছিলেন একজন নিসাবুরী প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি খোরাসানে আবু সাঈদ ইবনে আবিল খাইর এবং তাঁর সমসাময়িকদের দেখেছিলেন। অতঃপর তিনি ইসফাহানে বসবাস শুরু করেন। আমি তাঁকে দেখেছি এবং অতীন্দ্রিয় গূঢ় রহস্যালাপ (তাম্মাত) সম্পর্কে তাঁর কথা শুনেছি। তিনি 'মালামাতিয়া' তরিকার এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমি অনেককে তাঁর কারামতের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি, আবার কেউ কেউ তাঁকে যিন্দিক (ধর্মত্যাগী) বলে অভিযুক্ত করত। যে ব্যক্তি এই পথ অবলম্বন করে, সে মানুষের সমালোচনা ও নিন্দুকের নিন্দা থেকে রেহাই পায় না।তাঁর অধিকাংশ সময় জামে মসজিদে কাটত এবং তিনি জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতেন। তবে তিনি মানুষের সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করতেন এবং তাদের গালমন্দ করতেন। লোকচক্ষুতে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে নফসকে দমন করার এটাই ছিল তাঁদের তরিকার মূল ভিত্তি। তিনি ইসফাহানে মৃত্যুবরণ করেন। শাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে দেখতে আসতেন।৩২ - আবুল হাসান আহমদ ইবনে হামজা ইবনে আহমদ আত-তানুখী আল-ইরাকী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
بالإِسْكَنْدَرِيَّةِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْمُقَيْدِسِيِّ النَّحْوِيُّ بِمِصْرَ أَنْشَدَنِي ابْنُ السَّرَّاجِ الصُّورِيُّ بصُورَ لِنَفْسِهِ مِنْ قَصِيدَةٍ(وَقَدْ صَاغَ تِبْرًا نُصُولَ السِّهَامِ … وَأَوْلَى مِنَ الْمَنِّ مَا لَا يُمَنْ)(لِيَجْعَلَهَا فِي الدَّوَاءِ الْجَرِيحُ … وَيُشْرَى بِهَا لِلْقَتِيلِ الْكَفَن) // المتقارب //33 - أَبُو الْحَسَنِ هَذَا قَرَأَ عَلَيَّ كثرا مِنَ الْحَدِيثِ وَعَلَّقْتُ أَنَا عَنْهُ فَوَائِدَ أَدَبِيَّةً وَذَكَرَ أَنَّهُ رَأَى ابْن الصَّواف المقرىء وَأَبَا إِسْحَاقَ الْحَبَّالَ الْحَافِظَ وَأَبَا الْفَضْلِ الْجَوْهَرِيَّ الْوَاعِظَ وَسَمِعَ الْحَدِيثَ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ عَلَى أَبِي الْحُسَيْنِ الْخَشَّابِ وَاللُّغَةَ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ ابْن الْقَطَّاعِ وَالنَّحْوَ عَلَى الْمَعْرُوفِ بِمَسْعُودِ الدَّوْلَةِ الدِّمَشْقِيِّ وَكَانَ أَبُوهُ وَلِيَ الْقَضَاءَ بِمِصْرَ وَسمعت أَخَاهُ أَبَا الْبَرَكَاتِ يَقُولُ وُلِدَ أَخِي أَحْمَدُ سنة اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة وَتُوُفِّيَ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَحُمِلَ فِي تَابُوتٍ إِلَى مِصْرَ وَدُفِنَ بَعْدَ أَنْ صَلَّيْتُ أَنَا عَلَيْهِ وَكَانَ شَافِعِيَّ الْمَذْهَبِ بارِعًا فِي الْأَدَبِ34 - سَمِعت أَبَا مَنْصُورٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ يَنَالَ الْأصْبَهَانِيَّ الْمَعْرُوفُ بِتُرْكٍ بهَمَذَانَ وَكَانَ يَخْدُمُ الصُّوفِيَّةَ فِي رِبَاطٍ لَهُ بِأصْبَهَانَ يَقُولُ دَخَلْتُ هَمَذَانَ وَأَنَا شَابٌّ وَحَضَرْنَا فِي رِبَاطِ جَعْفَرٍ الْأَبْهَرِيِّ عِنْدَ الشَّيْخِ بِنْجِيرٍ مُرِيدِهِ فَذَكَرَ الْقَوَّالُ بَيْتًا طَابَ عَلَيْهِ وَقْتُ الْجَمَاعَةِ وَخَرَقَ فَقِيرٌ طَاقِيَّتَيْنِ كَانَتَا عَلَيْهِ فَأَمَرَنِي بِنْجِيرٌ بِتَفْرِيقِهِمَا فَقُلْتُ لَهَا فَرَاوِيزُ فَقَالَ فَرِّقْهَا وَإِنْ كَانَتْ مُفَرْوَزَةً فَهُو جَائِزٌ عِنْدَنَا فَامْتَثَلْتُ قَوْلَهُ رحمه الله وَذَلِكَ بِحَضْرَةِ جَمَاعَةٍ مِنْ مَشَائِخِ الْبَلَدِ وَالْغُرَبَاءِ35 - أَنْشَدَنِي أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَمَّامِيُّ الْمَرَنْدِيُّ بثَغْرِ خُوَيٍّ قَالَ أَنْشَدَنِي مَنْصُورُ بْنُ مَمْكَانَ الْمَرَنْدِيُّ الْكَاتِبُ بِأَرْمِيَةَ لِنَفْسِهِ(يَقُولُونَ جَمْعُ الدُّرِّ لِلْقَلْبِ قُوَّةٌ … وَهَذَا مُحَالٌ لَيْسَ يقلبه فَهْمِي)(لأَنِّي مَلأْتُ الْقَلْبَ مِنْ دُرِّ فِطْنَتِي … فَأَضْعَفَهُ حَتَّى قَوِيتُ من السقم) // الطَّوِيل //
আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি বলেন: মিশরে আবুল হাসান বিন আল-মুকাইদিসি আন-নাহবি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুর শহরে ইবনুল সাররাজ আস-সুরি তার নিজের একটি কবিতা থেকে আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন(তিনি তীরের ফলার জন্য খাঁটি স্বর্ণ গলিয়েছেন … আর খোটা না দেওয়াই হচ্ছে উপকারের চেয়েও উত্তম।)(যাতে আহত ব্যক্তি তা ওষুধের কাজে লাগাতে পারে … এবং নিহত ব্যক্তির জন্য তা দিয়ে কাফন কেনা যায়।) // আল-মুতাক্বারিব //৩৩ - এই আবুল হাসান আমার কাছে প্রচুর হাদিস পাঠ করেছেন এবং আমি তার থেকে কিছু সাহিত্যিক ফায়দা (উপকারিতা) লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ক্বারি ইবনুস সাওয়াফ, হাফেজ আবু ইসহাক আল-হাব্বাল এবং ওয়ায়েজ আবুল ফজল আল-জাওহারিকে দেখেছেন। তিনি আবুল হুসাইন আল-খাশশাব-এর কাছে হাদিস শ্রবণ করেছেন ও কুরআন পাঠ করেছেন; আবুল কাসেম ইবনুল কাত্তায়েক-এর কাছে ভাষা শিক্ষা করেছেন এবং মাসউদ আদ-দাওলা আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত ব্যক্তির কাছে নাহু (ব্যাকরণ) পড়েছেন। তার পিতা মিশরের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমি তার ভাই আবু বারাকাতকে বলতে শুনেছি: আমার ভাই আহমদ ৪৬২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে একটি কফিনে করে মিশরে নিয়ে আসা হয় এবং আমি তার জানাজা পড়ার পর তাকে দাফন করা হয়। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং সাহিত্যে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।৩৪ - হামাদানে আমি আবু মনসুর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়ানাল আল-আসফাহানিকে (যিনি 'তুর্ক' নামে পরিচিত ছিলেন) বলতে শুনেছি—তিনি আসফাহানে তার একটি খানকায় সুফিদের সেবা করতেন—তিনি বলেন: আমি যখন যুবক ছিলাম তখন হামাদানে প্রবেশ করি। আমরা জাফর আল-আবহারির খানকায় তার মুরিদ শেখ বিনজিরের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন একজন কাওয়াল (গায়ক) একটি পংক্তি আবৃত্তি করলেন যাতে উপস্থিত জামাতের সময়টা আনন্দময় হয়ে উঠল। তখন একজন ফকির তার মাথায় থাকা দুটি টুপি ছিঁড়ে ফেললেন। বিনজির আমাকে সেগুলো টুকরো করে বণ্টন করে দিতে আদেশ দিলেন। আমি বললাম, এগুলোতে তো পাড় (ঝালর) লাগানো আছে। তিনি বললেন, এগুলো ছিঁড়ে দাও, পাড় লাগানো হলেও আমাদের নিকট তা জায়েজ। আমি তার (রহিমাহুল্লাহ) কথা পালন করলাম। এটি শহরের একদল মাশায়েখ এবং প্রবাসীদের উপস্থিতিতে ঘটেছিল।৩৫ - খুওয়াই সীমান্তের দুর্গে আবু নাসর আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-হাম্মামি আল-মারান্দি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উরমিয়ায় লেখক মনসুর বিন মামকান আল-মারান্দি তার নিজের একটি কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন:(তারা বলে মুক্তা জমা করা হৃদয়ের জন্য শক্তির উৎস … কিন্তু এটি অসম্ভব, আমার বুদ্ধি তা গ্রহণ করে না।)(কেননা আমি আমার মেধা-মুক্তা দিয়ে হৃদয় পূর্ণ করেছি … ফলে তা হৃদয়কে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছে যে আমি অসুস্থতা থেকেই শক্তি লাভ করেছি।) // আত-তাবিল //
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
36 - أَبُو نَصْرٍ هَذَا أَدِيبٌ فَاضِلٌ مَرَنْدِيُّ الْمَوْلِدِ خُوَيُّ الْمَوْطِنِ وَقَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ فَوَائِدَ أَدَبِيَّةً وَكَانَ مَشْكُورَ الطَّرِيقَةِ37 - سَمِعت أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُوسَى الْمُبَاحِيَّ بالثَّغْرِ يَقُولُ كُنْتُ فِي صِغَرِي إِذَا رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ الْحُنَيْفِيَّ الرَّازِيَّ فِي طَرِيقٍ أُقَبِّلُ يَدَهُ دَائِمًا وَيَقُولُ لِي جَبَرَكَ اللَّهُ جَبَرَكَ اللَّهُ فَأَنَا فِي بَرَكَةِ دُعَائِهِ رحمه الله إِلَى الْآنَ فَقَدْ كَانَ مِنْ أَعْيَانِ الْفُقَهَاءِ وَمِنَ الصَّلَاحِ عَلَى أَعْلَى طَبَقَةٍ38 - أَبُو الْعَبَّاسِ هَذَا قَرَأَ عَلَى أَبِي زَكَرِيَّا الزَّنَاتِيِّ الْفَقِيهِ وَكَانَ يُكْرِمُهُ لِصَلَاحِهِ وَطَلَبِهِ الْحَلَالَ وَأَكْلِهِ الْمُبَاحَ وَحَجَّ مَعَهُ وَلَمْ يَكُنْ فِي الْفِقْهِ بِذَاكَ وَكَثِيرًا مَا كَانَ يَحْضُرُ عِنْدِي وَأَجِدُ بِهِ أُنْسًا لِصَلَاحِهِوَتُوُفِّيَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ وَخَمْسمِائة39 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْخَصِيبِ الْخَانِسَارِيُّ بجَرْبَاذَقَانَ أَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْكَاتِبُ بِأصْبَهَانَ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بن مُحَمَّد بن جَعْفَر ابْن حَيَّانَ الْحَافِظُ أَنَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّد بن جَعْفَر القباب ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ ثَنَا بَشِيرُ بْنُ مُهَاجِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ جَمِيعًا إِنْ كَادَتْ لَتَسْبِقُنِي40 - سَمِعَ الْبَاطِرْقَانِيَّ وَمَهْدِيَّ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ طِرَازٍ وَآخَرِينَ وَهُوَ مِنْ فُقَهَاءِ جَرْبَاذَقَانَ حَسَنُ الطَّرِيقَةِ مَحْمُودٌ فِيمَا بَيْنَ أَهْلِهَا41 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُسَبِّحِ بْنِ حَمْزَةَ الْمُقْرِئُ بمِصْرَ أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التُّجِيبِيُّ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَلِيٍّ الْحَافِظُ ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ الْمُبَارَكِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ شَيْبَةَ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ بُهْلُولٍ وَأَبُو قِلَابَةَ
৩৬ - এই আবু নাসর একজন গুণী সাহিত্যিক, মারান্দে তাঁর জন্ম এবং খুওয়াই-এ তাঁর নিবাস। আমি তাঁর নিকট থেকে কিছু সাহিত্যিক উপকারিতা লিপিবদ্ধ করেছি এবং তিনি প্রশংসনীয় পথের অনুসারী ছিলেন।৩৭ - আমি সীমান্ত অঞ্চলে আবু আব্বাস আহমদ বিন মুসা আল-মুবাহীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি ছোটবেলায় যখনই পথে আবু বকর আল-হুনাইফি আল-রাজিকে দেখতাম, সর্বদা তাঁর হাত চুম্বন করতাম। তিনি আমাকে বলতেন: "আল্লাহ তোমাকে সংশোধন করুন, আল্লাহ তোমাকে সংশোধন করুন।" আমি আজ অবধি তাঁর দোয়ার বরকতের মধ্যে রয়েছি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি ফকিহদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন এবং নেককারদের সর্বোচ্চ স্তরে ছিলেন।৩৮ - এই আবু আব্বাস ফকিহ আবু যাকারিয়া আজ-জানাতীর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর নেক আমল, হালাল অনুসন্ধান এবং বৈধ আহার গ্রহণের কারণে তাঁকে সম্মান করতেন। তিনি তাঁর সাথে হজ করেছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রে তিনি তেমন পারদর্শী ছিলেন না, তবে তিনি প্রায়ই আমার কাছে আসতেন এবং তাঁর নেককার স্বভাবের কারণে আমি তাঁর সান্নিধ্যে প্রশান্তি বোধ করতাম।তিনি পাঁচশত বাষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন আলী বিন আল-খাসীব আল-খানিসারি জারবাযাকানে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল রহীম আল-কাতিব ইস্পাহানে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর ইবনে হাইয়ান আল-হাফেজ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ওমর মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাব্বাব, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু নুআইম আল-ফজল বিন দুকাইন, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বশীর বিন মুহাজির, তিনি আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম, তখন তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি এবং কিয়ামত একসাথে প্রেরিত হয়েছি, এমনকি কিয়ামত যেন আমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।"৪০ - তিনি আল-বাতিরকানী, মাহদী বিন আহমদ বিন তিরায এবং অন্যদের থেকে শুনেছেন। তিনি জারবাযাকানের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং সেখানকার অধিবাসীদের মাঝে প্রশংসিত ছিলেন।৪১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হোসেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসাব্বিহ বিন হামজা আল-মুকরি মিশরে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুজিবি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গণি বিন সাঈদ বিন আলী আল-হাফেজ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব বিন আল-মুবারক, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন শায়বাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন উবাইদাহ এবং ইসহাক বিন বুহলুল ও আবু কিলাবাহ।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ عِيسَى النَّحَّاسُ ثَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ الْمَكِّيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ أَشْجَارِ الزَّيْتِ يَدْعُو بِبَاطِنِ كَفَّيْهِ فَلَمَّا فَرَغَ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ42 - أَبُو الْحُسَيْنِ هَذَا يُعْرَفُ بِابْنِ الْقَابِلَةِ وَكَانَ مِنْ وُجُوهِ الْقُرَّاءِ الْمُصَدَّرِينَ فِي جَامِعِ عَمْرٍو لِلْإِقْرَاءِ صَاحِبُ أَخْلاقٍ جَمِيلَةٍ43 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرِّيَاحِيُّ بالْبَصْرَةِ ثَنَا أَبُو الْحسن عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُوحٍ الْقَاضِي إِمْلَاءً ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ جَرْبَانَ النُّهَاوَنْدِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْفَرَجِ الْأَنْبَارِيُّ ثَنَا الْحَارِثُ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى ثَنَا هُشَيْمٌ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ44 - أَبُو سَعِيدٍ الرِّيَاحِيُّ هَذَا ثِقَةٌ وَقَدْ أَخْرَجَ إِلَيَّ أَجْزَاءً عَنْ أَبِي الْحسن ابْن نُوحٍ وَأَبِي الْقَاسِمِ الْمَنَادِيلِيِّ وَأَبِي مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ فَانْتَخَبْتُ مِنْهَا فَوَائِدَ وَقَرَأْتُهَا عَلَيْهِ وَذَكَرَ لِي أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ أَبِي تَمَّامٍ الْخُزَاعِيِّ وَطَبَقَتِهِ إِلَّا أَنَّهُ ذَهَبَ مِنْهُ فِي النَّهْبِ وَلَمْ يَبْقَ عِنْدَهُ مِنْهُ شَيْءٌوَسَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ سَنَةَ سَبْعٍ وَثَلَاثِينَ أَوْ تِسْعٍكَذَا ذَكَرَ لِي عَلَى الشَّكِّ رحمه الله سنة خَمْسمِائَة45 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو شُجَاعٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الشَّافِعِيُّ الْعَبَّادَانِيُّ بالْبَصْرَةِ ثَنَا أَبُو تَمَّامٍ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرٍو الْحَافِظُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مَاهَانَ ثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ ثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ ثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنِي أَبِي عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ بَنَى لِلَّهِ جَلَّ وَعَزَّ مَسْجِدًا بَنَى اللَّهُ تَعَالَى لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ46 - الْقَاضِي أَبُو شُجَاعٍ هَذَا مِنْ أَفْرَادِ الدَّهْرِ دَرَّسَ بِالْبَصْرَةِ أَزْيَدَ مِنْ أَرْبَعِينَ سَنَةً
শব্দগুলো আবদুল্লাহ বিন সাঈদের। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন ঈসা আন-নাহহাস, তিনি বর্ণনা করেছেন হানজালা বিন আবু সুফিয়ান আল-মাক্কি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাইতুন গাছের কাছে তাঁর হাতের তালুর ভেতরের দিক দিয়ে দোয়া করতে দেখেছি। যখন তিনি দোয়া শেষ করলেন, তখন তা দিয়ে তাঁর চেহারা মুছে নিলেন।৪২ - এই আবু আল-হুসাইন 'ইবনুল কাবিলা' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আমর ইবনুল আস মসজিদে কুরআন পাঠদানের জন্য নিযুক্ত প্রধান ক্বারীদের একজন ছিলেন এবং তিনি সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।৪৩ - বসরায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আর-রিয়াহি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন নুহ আল-কাজি শ্রুতিলিপি প্রদানের মাধ্যমে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন ইসহাক বিন জারবান আন-নুহাওয়ান্দী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-ফারজ আল-আনবারী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ঈসা। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, হাজ্জাজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই এবং যার কোনো অভিভাবক নেই, রাষ্ট্রপ্রধান তার অভিভাবক।"৪৪ - এই আবু সাঈদ আর-রিয়াহি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি আবুল হাসান ইবনে নূহ, আবুল কাসিম আল-মানাদিলি এবং আবু মুহাম্মদ বিন আবুল হাসানের সূত্রে আমার কাছে কিছু পাণ্ডুলিপি পেশ করেছেন। আমি সেগুলো থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ চয়ন করেছি এবং তাঁর সামনে তা পাঠ করেছি। তিনি আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু তাম্মাম আল-খুজাই এবং তাঁর সমসাময়িকদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তবে লুটের সময় তাঁর সেগুলো হারিয়ে যায় এবং তাঁর কাছে তার কিছুই অবশিষ্ট নেই।আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: (হিজরি) সাইত্রিশ বা উনচল্লিশ সালে।তিনি সংশয়সহ আমার কাছে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, পাঁচশত হিজরি সালে।৪৫ - বসরায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু শুজা আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আশ-শাফিয়ী আল-আবাদানি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাম্মাম মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আল-মুগিরা আল-খুজাই আল-বসরি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন আমর আল-হাফিজ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসমাইল বিন মাহান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদাহ বিন আবদুল্লাহ আস-সাফফার। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ। আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল হামিদ বিন জাফর, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাহমুদ বিন লাবিদ থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।"৪৬ - এই কাজি আবু শুজা ছিলেন তাঁর সময়ের একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি বসরায় চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
مَذْهَبَ الشَّافِعِيِّ ذَكَرَ لِي هَذَا سنة خَمْسمِائَة وَعَاشَ بَعْدَ ذَلِكَ مُدَّةً لَا أَتَحَقَّقُهَا وَسَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ سنة أَربع وَثَلَاثِينَ وَأَرْبَعمِائَة بِالْبَصْرَةِقَالَ ووَالِدِي مَوْلِدُهُ بِعَبَّادَانَ وَجَدِّي الْأَعْلَى أَصْبَهَانِيٌّ47 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ سُرُورِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي الرُّشْدِ الْكُتَبِيُّ السُّمُسْطَاوِيُّ بمَكَّةَ أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ بمِصْرَ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَارَسْتَانِيُّ أَنَا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ الْعَسْكَرِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَهِيلٍ الْبَصْرِيُّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ ثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَطِيَّةَ بْنِ الْمُنْذِرِ الْبَاهِلِيُّ ثَنَا هَارُونُ بْنُ كَثِيرٍ ثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ ائْتِ أُبَيًّا فأَقْرِئْهُ مِنِّي السَّلَامَ وَاقْرَأْ عَلَيْهِ الْقُرْآنَ فَأَتَى أُبَيٌّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام يُقْرِئُكَ السَّلَامَ فَقَالَ أُبَيٌّ وَعَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِفَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ جِبْرِيلَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ فَقَرَأَ عَلَيْهِ فِي تِلْكَ السَّنَةِ الَّتِي قُبِضَ فِيهَا مَرَّتَيْنِوَذَكَرَ حَدِيثَ ثَوَابِ الْقُرْآنِ48 - رَأَيْتُهُ بِمَكَّةَ سَنَةَ سَبْعٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعمِائَة وَسَمِعَ مَعَنَا عَلَى شُيُوخِهَا ثُمَّ رَأَيْته سنة إِحْدَى عشرَة وَخَمْسمِائة بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَقَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ فَوَائِدَ وَبَين اللقائين خَمْسَة عشر سَنَةًثُمَّ رَأَيْتُهُ بِمِصْرَ سَنَةَ خَمْسَ عَشْرَةَ وَكَانَ آخِرَ الْعَهْدِ بِهِسَمِعَ بِمَكَّةَ أَبَا مَعْشَرٍ الطَّبَرِيَّ وَبِمِصْرَ أَبَا إِسْحَاقَ الْحَبَّالَ وبالإسكندرية أَبَا الْعَبَّاسِ الرَّازِيَّ وَبِصُورَ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْهَاشِمِيَّ وَآخَرِينَوَكُفَّ بِآخِرِهِ وَضَعُفَ فَكَانَ فِي شَبَابِهِ مِنْ أَجْلَادِ الرِّجَالِ عَارِفًا بِالْكُتُبِ وَأَثْمَانِهَا وَتُوُفِّيَ فِي شُهُورِ سَنَةِ سَبْعَ عَشْرَةَ بِالصَّعِيدِ
শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী তিনি আমাকে এটি পাঁচশত হিজরিতে উল্লেখ করেছেন এবং এরপর তিনি এমন এক সময়কাল বেঁচে ছিলেন যা আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, চারশত চৌত্রিশ হিজরিতে বসরায় তাঁর জন্ম হয়েছে।তিনি বলেন, আমার পিতার জন্ম আবাদানে এবং আমার ঊর্ধ্বতন দাদা ইসফাহানের অধিবাসী ছিলেন।৪৭ - মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন সুরুুর ইবন সুলাইমান ইবন আলী ইবন আবির রুশদ আল-কুতুবী আস-সুমুসতাওয়ী; (তিনি বলেন) মিশরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবন সাঈদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয; (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন জাফর আল-মারাসতানী; (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবন রাশীক আল-আসকারী; আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুস সালাম ইবন আহমাদ ইবন শাহীল আল-বসরী; আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী; আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবন আতিয়্যাহ ইবনুল মুনযির আল-বাহিলী; আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হারুন ইবন কাসীর; আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবন আসলাম, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু উমামাহ উবাই ইবন কাব থেকে বর্ণনা করেন যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি উবাইয়ের নিকট যান এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিন এবং তার সামনে কুরআন তিলাওয়াত করুন। তখন উবাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, এরপর তিনি (নবী) বললেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তোমাকে সালাম জানিয়েছেন। উবাই বললেন: এবং আপনার উপরও (সালাম বর্ষিত হোক), হে আল্লাহর রাসূল।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: জিবরাঈল আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমার নিকট কুরআন তিলাওয়াত করি। সুতরাং তিনি যে বছর ইন্তেকাল করেন, সেই বছর তাঁর নিকট দুইবার তিলাওয়াত করেন।এবং তিনি কুরআনের সাওয়াব সম্পর্কিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।৪৮ - আমি তাঁকে চারশত সাতানব্বই হিজরিতে মক্কায় দেখেছি এবং তিনি আমাদের সাথে সেখানকার শায়খদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। এরপর আমি তাঁকে পাঁচশত এগারো হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় দেখেছি এবং আমি তাঁর থেকে কিছু জ্ঞানগর্ভ বিষয় লিখে নিয়েছি। আমাদের এই দুই সাক্ষাতের মাঝে পনের বছরের ব্যবধান ছিল।এরপর আমি তাঁকে পাঁচশত পনের হিজরিতে মিশরে দেখেছি এবং এটিই ছিল তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা।তিনি মক্কায় আবু মা'শার আত-তাবারী থেকে, মিশরে আবু ইসহাক আল-হাব্বাল থেকে, আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু আব্বাস আর-রাযী থেকে এবং সূর শহরে আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদুল্লাহ আল-হাশেমী ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন।জীবনের শেষভাগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং দুর্বল হয়ে পড়েন, অথচ যৌবনে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং কিতাবসমূহ ও সেগুলোর মূল্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি পাঁচশত সতেরো হিজরির মাসগুলোতে আস-সাঈদে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
49 - أَخْبَرَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَرَجِ الْبَيِّعُ وَيُعْرَفُ بِالْخَلِيلِ بِالرَّيِّ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ أَسْعَدَ الْمُزَكِّي أَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مَمَوَيْهِ الْمُقْرِئُ بالدَّيْنَوَرِ ثَنَا أَبُو أَحْمَدَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَنْبَةَ الْقَاضِي ثَنَا عُمَيْرُ بْنُ مِرْدَاسٍ ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا نَأْكُلُ لُحُومَ الْخَيْلِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم50 - أَبُو الْعَبَّاسِ هَذَا سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ مُوسَى السُّكَّرِيَّ وَعَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عَبْدِ الْغَفَّارِ الْهَمْدَانِيَّ وَظَاهِرَ بْنَ أَحْمَدَ النَّيْسَابُورِيَّ وَمُحَمَّدَ بْنَ أَبِي عَلِيٍّ الأَبْهَرِيَّ الرَّبْحِيَّ وَغَيْرَهُمْوَكَانَ مَحْمُودًا عِنْدَ أَهْلِ بَلَدِهِ وَذَكَرَ لِي أَنَّ مَوْلِدَهُ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعمِائَة51 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ الْمُقْرِئُ الطُّوسِيُّ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ أَنَا أَبُو اللَّيْثِ نَصْرُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْقَاسِمِ الشَّاشِيُّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ الرَّلْحِيُّ بنَيْسَابُورَ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَطَّانُ بآمُلِ طَبَرِسْتَانَ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَاجَهْ الْقَزْوِينِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْدَهْ الْأصْبَهَانِيُّ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ ثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ حَدَّثَ حَدِيثًا وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ52 - أَبُو الْفَضْلِ هَذَا مُحَدِّثٌ صُوفِيٌّ كَوَالِدِهِ وَيَرْوِي عَنْهُ وَعَنْ نَصْرِ بْنِ الْحَسَنِ التُّنْكَتِيِّ وَهْبَةِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ الشِّيرَازِيِّ قَدْرًا قَرِيبًاوَسَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعمِائَة وَتُوفِّي سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَخَمْسمِائة وَصَلَّيْتُ أَنَا عَلَيْهِ وَحَضَرَهُ خَلْقٌ لَا يُحْصَوْنَ كَثْرَةً فِي الْمَيْدَانِ وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْخَيْرِ وَيَؤُمُّ فِي الْمَسْجِدِ الْمَعْرُوفِ بِمَسْجِدِ الْمَوَارِيثِوَأَبُوهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَمِعَ ابْنَ طَاهِرٍ الْقُرَشِيَّ وَغَيْرَهُ بِالْقُدْسِ مَعَ أَبِي بَكْرٍ الْبَشْنَوِيِّ وَيُونُسَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ الْمُقْرِئِ الإصبهاني وَآخَرين ثمَّ استوطن الْإسْكَنْدَريَّة وَكَانَ شَافِعِيّ الْمَذْهَب وَيعرف بالشلانجردي نِسْبَةً إِلَى قَرْيَةٍ
49 - আবু আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফারাজ আল-বাইয়্যি, যিনি রাই শহরে আল-খলীল নামে পরিচিত, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল সামাদ ইবনে আসাদ আল-মুযাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে মামাওয়াইহ আল-মুক্রি দাইনওয়ার শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আহমদ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শানবাহ আল-কাজী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উমাইর ইবনে মিরদাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু নুয়াইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শারীক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল কারীম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ঘোড়ার মাংস খেতাম।"50 - এই আবু আব্বাস—আলী ইবনে মুসা আস-সুক্কারী, আবদুল মালিক ইবনে আবদুল গাফফার আল-হামদানী, যাহির ইবনে আহমদ আন-নাইসাবুরী, মুহাম্মদ ইবনে আবু আলী আল-আভহারী আর-রাব্হী এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন।তিনি নিজ শহরের অধিবাসীদের নিকট প্রশংসিত ছিলেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল চারশত সাতচল্লিশ হিজরী সালে।51 - আবু ফজল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুক্রি আত-তুসী ইস্কান্দারিয়াতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু লাইস নাসর ইবনুল হাসান ইবনুল কাসিম আশ-শাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিয আর-রাব্হী নাইসাবুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-কাত্তান আমুল তাবারস্তানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে মাজাহ আল-কাযওয়িনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মানদাহ আল-আসবাহানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হুসাইন ইবনে হাফস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাবীব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি মাইমুন ইবনে আবু শাবীব থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করল যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।"52 - এই আবু ফজল তাঁর পিতার মতো একজন মুহাদ্দিস ও সুফী ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং নাসর ইবনুল হাসান আত-তুনকাতি ও ওয়াহবাতুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়ারিস আশ-শীরাযী থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বর্ণনা করেছেন।আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "চারশত সাতচল্লিশ হিজরী সালে।" তিনি পাঁচশত তেত্রিশ হিজরী সালে মৃত্যুবরণ করেন। আমি নিজেই তাঁর জানাজার নামায পড়িয়েছি এবং সেখানে ময়দানে অগণিত মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন এবং 'মসজিদুল মাওয়ারীস' নামে পরিচিত মসজিদে ইমামতি করতেন।আর তাঁর পিতা আবু আবদুল্লাহ জেরুজালেমে ইবনে তাহির আল-কুরাশী এবং অন্যদের নিকট থেকে আবু বকর আল-বাশনাবী এবং ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-মুক্রি আল-আসবাহানী ও আরও অনেকের সাথে শ্রবণ করেছেন। অতঃপর তিনি ইস্কান্দারিয়াতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং একটি গ্রামের নামানুসারে 'আল-শাল্লানজারদী' নামে পরিচিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
مِنْ قُرَى طُوسَوَقَدْ كَتَبَ عَنْهُ عُمَرُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ الدِّهِسْتَانِيُّ وَهْبَةُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ الشِّيرَازِيُّ وَغَيْرُهُمَا مِنْ طُلَّابِ الْحَدِيثِ53 - أَنْشَدَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي النَّضْرِ السِّجِسْتَانِيُّ الْحَنِيفِيُّ مِنْ سُكَّانِ نَجْدٍ بِمَكَّةَ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو سُفْيَانَ أُسَامَةُ بْنُ سُفْيَانَ الْقَاضِي لِنَفْسِهِ بِسِجِسْتَانَ(إِنَّ الْفَتَى لَا يَقِيهِ يَوْمَهُ الْحَذَرُ … وَلَا الْفِرَارُ إِذَا مَا صَادَفَ الْقَدَرُ)(تَأْتِيهِ مِيتَتُهُ مِنْ وَجْهِ مَأْمَنِهِ … إِذَا انْقَضَى وَقْتُهُ وَاسْتُوفِيَ الْعُمُرُ) // الْبَسِيط //كَتَبْتُ عَنْهُ شَيْئًا مِنْ شِعْرِهِ وَشِعْرِ غَيْرِهِ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ وَمَعِيَ الشَّيْخُ وَالِدِي وَالْإِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْمُظَفَّرِ السَّمْعَانِيُّ وَغَيْرُهُمَا54 - سَمِعت أَبَا الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ الصَّقَلِّيُّ بدِيَارِ مِصْرَ يَقُولُ رَأَيْتُ بِجَزِيرَةِ صَقَلِّيَّةَ أَيَّلًا وَرَجُلٌ طَيِّبُ الصَّوْتِ يَحْدُو وَيُنْشِدُ وَيَقْرُبُ مِنْهُ وَهُوَ وَاللَّهِ وَاقِفٌ يَتَسَمَّعُ كَالْمُغْمَى عَلَيْهِ إِلَى أَنْ طَعَنَهُ وَوَقَعَ55 - أَبُو الْفَضْلِ هَذَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَدْ تَفَقَّهَ عَلَى مَذْهَبِ مَالِكٍ وَقَدِمَ الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ سَنَةَ وَسَمِعَ عَلَى جَمَاعَةٍ مِنْ شُيُوخِهَا عِنْدِي وَكَتَبَ كِتَابَ الْمُحَدِّثِ الْفَاصِلِ بَيْنَ الرَّاوِي وَالْوَاعِي الَّذِي أخبرنَا بِهِ ابْنُ الطُّيورِيِّ ببَغْدَادَ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْفَالِيِّ عَنِ ابْنِ جَرْبَانَ النُّهَاوَنْدِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهِ الْقَاضِي أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ خَلَّادٍ الرَّامَهُرْمُزِيِّ وَهُوَ كِتَابٌ مُفِيدٌ وَغَيْرَ ذَلِكَثُمَّ رَحَلَ بِوَلَدٍ لَهُ صَغِيرٍ يَسْمَعُهُ إِلَى الْعِرَاقِ وَانْقَطَعَ عَنَّا خَبَرُهُ
তূস এর গ্রামসমূহ থেকে।আর তাঁর নিকট থেকে উমর ইবনে আবুল হাসান আদ-দেহিস্তানী, ওয়াহাবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস আশ-শিরাজী এবং হাদীসের অন্যান্য ছাত্রগণ লিখেছেন।৫৩ - আমাদের কাছে কবিতা আবৃত্তি করেছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবিন নাদর আস-সিজিস্তানী আল-হানিফী, যিনি মক্কায় নজদ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, আবু সুফিয়ান উসামা ইবনে সুফিয়ান আল-কাজী সিজিস্তানে নিজের রচিত কবিতা আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:(নিশ্চয় যুবককে তার নির্ধারিত দিনে সতর্কতা রক্ষা করতে পারে না ... আর না পলায়ন কোনো কাজে আসে, যখন তাকদীর বা ভাগ্য সামনে এসে দাঁড়ায়।)(তার মৃত্যু তার নিরাপদ আশ্রয়ের দিক থেকেই চলে আসে ... যখন তার সময় শেষ হয়ে যায় এবং আয়ু পূর্ণ হয়ে যায়।) // আল-বাসীত ছন্দ //আমি কাবার ছায়ার নিচে বসে তাঁর নিকট থেকে তাঁর নিজের কিছু কবিতা এবং অন্যদের কিছু কবিতা লিখে নিয়েছি। সে সময় আমার সাথে ছিলেন আমার শায়খ তথা আমার পিতা এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবিল মুজাফফর আস-সামআনী ও অন্যান্যরা।৫৪ - আমি আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-হাকাম আস-সাক্বাল্লীকে মিশরে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি সিসিলি দ্বীপে একটি হরিণ দেখেছি। আর এক সুকণ্ঠী ব্যক্তি উট চালকের গান গাইছিল ও কবিতা আবৃত্তি করছিল এবং তার কাছে আসছিল। আল্লাহর কসম! হরিণটি দাঁড়িয়ে এমনভাবে শুনছিল যেন সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে, শেষ পর্যন্ত লোকটি তাকে আঘাত করল এবং সে পড়ে গেল।৫৫ - এই আবুল ফজল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত একজন শায়খ। তিনি মালেকী মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেছেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় আগমন করেন এবং সেখানে একদল শায়খের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন যা আমার নিকট সংরক্ষিত আছে। তিনি 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়ায়ী' নামক কিতাবটি লিখেছেন, যা আমাদের কাছে বাগদাদে ইবনুত তুয়ূরী বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আল-ফালী থেকে, তিনি ইবনে জারবান আন-নুহাওয়ান্দী থেকে এবং তিনি এর লেখক কাজী আবু মুহাম্মদ ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজী থেকে। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব, এছাড়াও অন্যান্য কিতাব রয়েছে।অতঃপর তিনি তাঁর এক ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে ইরাকের দিকে সফর করেন যেন তাকে হাদীস শোনাতে পারেন, এরপর থেকে তাঁর সংবাদ আমাদের কাছে আসা বন্ধ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
56 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ نَامٍ الْيَعْمُرِيُّ الْبَيَّاسِيُّ أَنْشَدَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَفَّالُ الْبَيَّاسِيُّ بهَا لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْقَيْسِيِّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الْحَدَّادِ الْمَرِيِّيِّ ابْتِدَاء قصيدة(أربرب بالكثيب الفردأم نَشأ … ومعصر فِي اللثام الوردأم رَشَأُ)(كَأَنَّ قَلْبِي سُلَيْمَانُ وهُدْهُدُهُ … لَحْظِي وَبِلْقِيسُ لُبْنَى وَالْهَوَى وَالنَّبَأُ) // الْبَسِيط //57 - أَبُو الْعَبَّاسِ هَذَا شَاعِرٌ مُفْلَقٌ وَأَدِيبٌ بَارِعٌ مُحَقِّقٌ وَكَانَ كَثِيرَ الْحِفْظِ لِشِعْرِ شُعَرَاءِ الْأَنْدَلُسِ الْمُتَأَخِّرِينَ خَاصَّةً وَلِشِعْرِ غَيْرِهِمْ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْ كُلِّ إِقْلِيمٍوَمَالَ بَعْدُ إِلَى الْآخِرَةِ وَبَاعَ كُتُبَهُ عَازِمًا عَلَى الْجِهَادِ رَاغِبًا فِي الشَّهَادَةِ فَخَرَجَ بِنِيَّةِ الْغَزْوِ وَانْقَطَعَ عَنَّا خَبَرُهُ فَسُبْحَانَ الْعَالِمِ بِحَالِهِوَقَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ مُقَطَّعَاتٍ كَثِيرَةً مِنْ شِعْرِهِ وَشِعْرِ غَيْرِهِ وَقُلْتُ لَهُ أَنْشَدْنِي مِنْ مُخْتَرَعَاتِكَ وَهَاتِ مِنْ مُخَبَّآتِكَ فَقَالَ مُرْتَجِلًا(مِنْ سيآتِي مُخَبَّآتِي … فَخَلِّ عَنِّي وَقَوْلَ هَاتِ)(فَكُلُّهَا إِنْ بَحَثْتَ عَنْهَا … مُشَبَّهَاتٌ بترهات) // الْبَسِيط //وَأَنْشَدَنِي يَوْمًا آخَرَ وَقَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ مِنْ شِعْرِهِ وَشِعْرِ غَيْرِهِ مَا يُسْتَحْسَنُ جِدًّا(فَوَائِدُ قَدْ أَتَتْكَ عَلَى ارْتِجَالِ … سَلَبْتُ بِهِنَّ أَلْبَابَ الرِّجَالِ)(فَإنْ أَنْشَدْتُهَا يَوْمًا بِحَفْلٍ … مَلَأْتُ بِهَا السِّجَالَ عَلَى السجال) // الوافر //
৫৬ - আবু আব্বাস আহমাদ ইবন ইউসুফ ইবন নাম আল-ইয়ামুরি আল-বায়্যাসি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ আল-কাফফাল আল-বায়্যাসি সেখানে আমাকে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন উসমান আল-কায়সি—যিনি ইবনুল হাদ্দাদ আল-মারিয়্যি নামে পরিচিত—তাঁর একটি কাসিদার সূচনা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:(সে কি একাকী বালিয়াড়ির কোনো হরিণী নাকি উদীয়মান মেঘমালা … আর নেকাবের আড়ালে গোলাপী আভাযুক্ত সে কি কোনো কিশোরী নাকি তরুণ হরিণ?)(আমার হৃদয়ের অবস্থা যেন সুলাইমান এবং তাঁর হুদহুদ পাখির মতো … আমার দৃষ্টি যেন সেই হুদহুদ, আর লুবনা যেন বিলকিস, আর প্রেম যেন সেই সংবাদ।) // বাসিত //৫৭ - এই আবু আব্বাস ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী কবি এবং বিজ্ঞ ও অনুসন্ধিৎসু সাহিত্যিক। তিনি বিশেষভাবে আন্দালুসের পরবর্তী যুগের কবিদের কবিতা এবং অন্য সব অঞ্চলের পূর্ববর্তী কবিদের কবিতা প্রচুর মুখস্থ রাখতেন।পরবর্তী জীবনে তিনি পরকালের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং জিহাদের সংকল্প ও শাহাদাতের লালসায় নিজের কিতাবপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন এবং তারপর থেকে তাঁর আর কোনো সংবাদ আমরা পাইনি। সুতরাং মহান আল্লাহ পবিত্র, যিনি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।আমি তাঁর থেকে তাঁর নিজের ও অন্যদের কবিতার অনেক পঙ্ক্তি সংকলন করেছি। আমি তাঁকে বলেছিলাম, "আপনার উদ্ভাবিত নতুন কবিতা থেকে আমাকে কিছু শোনান এবং আপনার ভাণ্ডারে গোপন যা আছে তা পেশ করুন।" তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আবৃত্তি করলেন:(আমার গোপন করা বিষয়গুলো আমার মন্দ কাজেরই অন্তর্ভুক্ত … সুতরাং আমাকে ছেড়ে দিন এবং 'আরও দিন' বলা বন্ধ করুন।)(যদি আপনি সেগুলো অনুসন্ধান করেন, তবে দেখবেন তার সবগুলোই … অলীক ও অসার গল্পের মতো।) // বাসিত //অন্য একদিন তিনি আমাকে আবৃত্তি করে শোনালেন—তখন আমি তাঁর নিকট থেকে তাঁর নিজের ও অন্যদের কবিতার অত্যন্ত চমৎকার পঙ্ক্তিমালা লিখে নিয়েছিলাম:(এগুলো এমন সব জ্ঞানগর্ভ কথা যা তাৎক্ষণিকভাবে তোমার কাছে এসেছে … যার দ্বারা আমি বিজ্ঞ পুরুষদের বুদ্ধি হরণ করেছি।)(যদি কোনোদিন কোনো সভায় আমি এগুলো আবৃত্তি করি … তবে আমি একের পর এক পাত্র পূর্ণ করে দেব [অর্থাৎ জ্ঞানের ভাণ্ডার ঢেলে দেব]।) // ওয়াফির //
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
58 - سَمِعت أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ يُوسُفَ بْنِ نَامٍ الْيَعْمُرِيُّ الْبَيَّاسِيُّ بالثَّغْرِ يَقُولُ سَمِعت فَاخِرَ بْنَ فَاخِرٍ الْقُرْطُبِيَّ بالْأَنْدَلُسِ يَقُولُ مَدَحَ عَبْدُ الْجَلِيلِ بْنُ وَهْبُونٍ الْمُرْسِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالدَّمْعَةِ الْمُعْتَمِدَ بْنَ عَبَّادٍ بقَصِيدَةٍ فِيهَا تِسْعُونَ بَيْتًا فَأَجَازَهُ بِتِسْعِينَ دِينَارًا فِيهَا دِينَارٌ مَقْرُوضٌ فَلَمْ يَعْرِفِ الْعِلَّةَ فِي ذَلِكَ إِلَى أَنْ تَأَمَّلَهَا وَإِذَا هُوَ قَدْ خَرَجَ مِنَ الْعَرُوضِ الطَّوِيلِ فِي بَيْتٍ إِلَى الْعَرُوضِ الْكَامِلِ فَعَرَفَ حِينَئِذٍ السَّبَبَ59 - أَخْبَرَنِي أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ التِّيغَانِيُّ الْفَرْضِيُّ بِالثَّغْرِ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الطَّرَابُلُسِيُّ بهَا ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنَمَّرِ الْفَرَائِضِيُّ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَغْدَادِيُّ بمَكَّةَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيِّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ فِي حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ هُوَ الَّذِي كَانَ أُرَى النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّا لَمْ نَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَالسَّلَامُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ60 - أَبُو الْفَضْلِ هَذَا كَانَ مِنْ أَهْلِ الْفَضْلِ وَالدِّينِ مُقَدَّمًا فِي الْفَرَائِضِ وَالْعَرَبِيَّةِ وَلَهُ شِعْرٌ حَسَنٌ وَتَرَسُّلٌ جَيِّدٌ وَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيْهِ الشَّهَادَةُ وَأَبَى وَيَجِيءُ إِلَيَّ فِي السَّنَةِ مَرَّتَيْنِ فِي الْعِيدَيْنِ وَلَمْ أَرَ أَكْثَرَ مِنْهُ حَيَاءً إِذَا كَلَّمْتُهُ احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ رحمه اللهوَتَيْغَانُ قَرْيَةٌ مِنْ قُرَى طَرَابُلُسِ الْمَغْرِبِوَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ شَيْبَةَ الْأَسَدِيُّ وَكَانَ
৫৮ - আমি আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে নাম আল-ইয়া’মুরি আল-বাইয়াসিকে সীমান্ত এলাকায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফাখির ইবনে ফাখির আল-কুরতুবিকে আন্দালুসে বলতে শুনেছি: আব্দুল জলিল ইবনে ওয়াহবুন আল-মুরসি—যিনি ‘আদ-দামআ’ নামে পরিচিত—আল-মু’তামিদ ইবনে আব্বাদের প্রশংসায় নব্বই পংক্তির একটি কাসিদা পাঠ করেন। বিনিময়ে তিনি তাকে নব্বই দিনার পুরস্কার প্রদান করেন, যার মধ্যে একটি দিনার ছিল কর্তিত (ওজনে কম)। তিনি এর কারণ বুঝতে পারছিলেন না, যতক্ষণ না তিনি কবিতাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলেন এবং দেখলেন যে, তিনি একটি পংক্তিতে ‘তবিল’ ছন্দ থেকে বিচ্যুত হয়ে ‘কামিল’ ছন্দে চলে গেছেন; তখন তিনি এর গূঢ় কারণ বুঝতে পারলেন।৫৯ - আমাকে আবু ফজল আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আলী আত-তিগানি আল-ফারজি সীমান্ত এলাকায় অবহিত করেছেন যে, আমাদের নিকট আবুল কাসিম খালাফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আত-তরাবুলুসি সেখানে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনাম্মার আল-ফারাইজি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মক্কায় আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে ইসমাইল আল-মাদানি থেকে, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুজমির থেকে যে, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আল-আনসারি আব্দুর রহমানের হাদিসে বর্ণনা করেন—আর আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ হলেন সেই ব্যক্তি যাকে স্বপ্নে নামাজের আজান দেখানো হয়েছিল—তিনি আবু মাসউদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন যখন আমরা সাদ ইবনে উবাদাহর মজলিসে ছিলাম। তখন বাশির ইবনে সাদ তাকে বললেন: আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আপনার ওপর দরুদ পাঠ করতে, সুতরাং আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব? বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন, এমনকি আমরা আকাঙ্ক্ষা করলাম যে যদি আমরা তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন না করতাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা বলো, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি বিশ্বজগতের মধ্যে ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর সালাম সেরূপই যা তোমরা ইতিপূর্বে জেনেছ।৬০ - এই আবু ফজল ছিলেন ফজল (মর্যাদা) ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, উত্তরাধিকার আইন এবং আরবি ভাষায় অগ্রগণ্য। তার সুন্দর কবিতা ও চমৎকার গদ্য শৈলী রয়েছে। তার নিকট (আদালতে) সাক্ষ্য প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বছরে দুইবার দুই ঈদে আমার কাছে আসতেন। আমি তার চেয়ে বেশি লজ্জাশীল আর কাউকে দেখিনি; আমি যখন তার সাথে কথা বলতাম, তখন তার গণ্ডদেশ লাল হয়ে যেত, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।আর তিগান হলো মাগরিবের (উত্তর আফ্রিকা) তরাবুলুস (ত্রিপোলি) অঞ্চলের গ্রামগুলোর একটি।আর তিনি হলেন আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে শাইবাহ আল-আসাদি এবং তিনি ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
يَنْفَرِدُ بِكِتَابِ أَبِي الْمُنَمَّرِ الطَّرَابُلُسِيِّ فِي الْفَرَائِضِ يَرْوِيهِ عَنْ خَلَفِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْهُ61 - تُوُفِّيَ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَطِيَّةَ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي مُوسَى التَّاجِرُ بالثَّغْرِ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ سبع وَعشْرين وَخَمْسمِائة وَصَلَّيْتُ أَنَا عَلَيْهِ وَحَضَرَهُ خَلْقٌ كَثِيرٌ بِبَابِ الْأَخْضَرِ وَدُفِنَ هُنَاكَ عِنْدَ مَحْرَسِهِ الَّذِي عَمَّرَهُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَكُنْتُ قَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ حِكَايَاتٍ وَكَانَ مِنَ الصَّالِحِينَ وَقَدْ دَخَلَ الْعِرَاقَ وَالشَّامَ وَبِلادَ خُرَاسَانَ وَالْهِنْدَ تَاجِرًا وَوَصَلَ إِلَى الصِّينِ وَكَانَ يَحْكِي عَجَائِبَ رَآهَا فِي سَفَرِهِ وَيَفْعَلُ الْخَيْرَ الْكَثِيرَ وَيَتَصَدَّقُ نَفَعَهُ اللَّهُ بِذَلِكَ فِي آخِرَتِهِ بِفَضْلِهِ وَكَرَمِهِ62 - سَمِعت أَبَا الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ هَاشِمٍ الْكُتَبِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمَوْقَفِيِّ بِمِصْرَ وَجَرَى ذِكْرُ كَرَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ فَقَالَ كَانَ فِي جِوَارِي شَيْخٌ أَنْدَلُسِيٌّ صَالِحٌ كَثِيرُ الصَّلَاةِ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ كَثِيرُ الْقِرَاءَةِ لِلْقُرْآنِ فَبَعَثَ إِلَيَّ يَوْمًا فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ وَهُوَ قَاعِدٌ لَيْسَ بِهِ مَرَضٌ شَدِيدٌ أَنَا أَمُوتُ غَدًا وَلِهَذِهِ الْمَرْأَةِ وَأَشَارَ إِلَى امْرَأْتِهِ عَلَيَّ عِشْرُونَ دِرْهَمًا بَقِيَّةِ مَهْرِهَا وَلَيْسَ لِي سِوَى هَذِهِ الْعَشْرَةِ الدَّرَاهِمِ وَهِيَ عِنْدَ رَأْسِي إِذَا نِمْتُ وَأَشَارَ إِلَيْهَا وَهَذِهِ الْأَجْزَاءُ رُبَّمَا تُسَاوِي عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَأُحِبُّ مِنْكَ أَنْ تُوَارِيَنِي وَتُوَفِّيَ مَا عَلَيَّ فَقُلْتُ مَا أَنْتَ إِلَّا بِخَيْرٍ وَاللَّهُ تَعَالَى يَهَبُ لَكَ الْعَافِيَةَ وَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتَهَاوِنٌ بِقَوْلِهِفَلَمَّا كَانَ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي جَاءَنِي مَنْ أَخْبَرَنِي بِوَفَاتِهِ فَذَهَبْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ نَزَلَ مِنْ غُرْفَتِهِ إِلَى الْمَسْجِدِ وَنَامَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَقُبِضَفَقَامَ عَلَيَّ شَعْرُ بَدَنِي وَاهْتَمَمْتُ بِغُسْلِهِ وَدَفْنِهِ وَعَلِمْتُ أَنَّ لِلَّهِ تَعَالَى أَوْلِيَاءَ لَا يَطَّلِعُ عَلَيْهِمْ وَعَلَى أَحْوَالِهِمْ إِلَّا مَنْ شَاءَ مَتَى شَاءَ63 - ابْنُ الْمَوْقِفِيِّ هَذَا كُتُبِيٌّ مَشْهُورٌ بِمِصْرَ اشْتَرَيْتُ مِنْهُ بِهَا كَثِيرًا مِنَ الْكُتُبِ وَكَانَ يَحْفَظُ شِعْرَ جَمَاعَةٍ مِنَ الْمِصْرِيِّينَ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ وُلِدْتُ بالإسكندرية سنة أَربع وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة وَعَلَّقْتُ عَنْهُ فَوَائِدَ وَذَكَرَ لِي أَبُو عَمْرٍو الْأَفْقَمُ الْأَنْدَلُسِيُّ أَنَّهُ تُوُفِّيَ بِمِصْرَ فِي ذِي الْحِجَّةِ سنة تسع وَثَلَاثِينَ وَخَمْسمِائة
তিনি আবু আল-মুনাম্মার আত-তরাবুলুসির ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ক কিতাব বর্ণনার ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যা তিনি খালাফ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইনের মাধ্যমে তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।৬১ - আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আতিয়্যাহ, যিনি ইবনে আবি মুসা আত-তাজির নামে পরিচিত, ৫২৭ হিজরির শাবান মাসে সীমান্ত শহর আস-সাগরে (আলেকজান্দ্রিয়া) মৃত্যুবরণ করেন। আমি নিজে তাঁর জানাজার নামাজ পড়িয়েছি এবং বাবুল আখদারে অসংখ্য মানুষ তাতে উপস্থিত ছিল। তাঁকে তাঁরই নির্মিত পাহারার চৌকির (মাহরাস) কাছে দাফন করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। আমি তাঁর থেকে কিছু কাহিনী লিখে রেখেছিলাম। তিনি নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বণিক হিসেবে ইরাক, শাম, খোরাসান ও হিন্দুস্তান ভ্রমণ করেছেন এবং চীনেও পৌঁছেছিলেন। তিনি সফরে দেখা বিস্ময়কর বিষয়গুলো বর্ণনা করতেন এবং প্রচুর ভালো কাজ করতেন ও সদকা করতেন। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় পরকালে এর মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করুন।৬২ - আমি মিসরে আবুল হুসাইন আহমদ বিন আলী বিন হাশিম আল-কুতুবী—যিনি ইবনুল মাওকিফী নামে পরিচিত—তাঁর নিকট শুনেছি, আউলিয়াদের কারামত প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, আমার প্রতিবেশী হিসেবে একজন সৎ আন্দালুসীয় শায়খ ছিলেন। তিনি দিনে ও রাতে প্রচুর নামাজ পড়তেন এবং প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতেন। একদিন তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন, আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি বসা ছিলেন এবং তাঁর কোনো কঠিন রোগ ছিল না। তিনি বললেন: "আমি আগামীকাল মারা যাব। এই মহিলার কাছে"—তিনি তাঁর স্ত্রীর দিকে ইশারা করলেন—"তার মোহরের অবশিষ্টাংশ হিসেবে আমার বিশ দিরহাম ঋণ আছে। আমার কাছে এই দশ দিরহাম ছাড়া আর কিছু নেই, যা ঘুমানোর সময় আমার শিয়রে থাকে"—তিনি সেদিকে ইশারা করলেন—"এবং এই (বইয়ের) খণ্ডগুলোর মূল্য সম্ভবত বিশ দিরহাম হবে। আমি চাই আপনি আমাকে দাফন করবেন এবং আমার ঋণ শোধ করবেন।" আমি বললাম, "আপনি তো ভালোই আছেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সুস্থতা দান করবেন।" আমি তাঁর কথাকে গুরুত্ব না দিয়েই বেরিয়ে এলাম।যখন দ্বিতীয় দিন হলো, তখন এক ব্যক্তি এসে আমাকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দিল। আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং দেখলাম যে, তিনি তাঁর কক্ষ থেকে মসজিদে নেমে এসেছেন এবং কিবলামুখী হয়ে শুয়ে আছেন, আর তাঁর জান কবজ করা হয়েছে।এতে আমার শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল এবং আমি তাঁর গোসল ও দাফনের ব্যবস্থা করলাম। আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ তাআলার এমন কিছু ওলী আছেন যাদের সম্পর্কে এবং যাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি যাকে ইচ্ছা যখন ইচ্ছা জানানো ছাড়া কেউ জানতে পারে না।৬৩ - এই ইবনুল মাওকিফী মিসরের একজন প্রসিদ্ধ কুতুবী (বই বিক্রেতা) ছিলেন। আমি তাঁর কাছ থেকে সেখানে প্রচুর বই কিনেছি। তিনি অনেক মিসরীয় কবির কবিতা মুখস্থ রাখতেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি ৪৬৪ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছি।" আমি তাঁর থেকে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় লিখে নিয়েছি। আবু আমর আল-আফকাম আল-আন্দালুসি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি ৫৩৯ হিজরির জিলহজ মাসে মিসরে ইন্তেকাল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣١)
64 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الزَّدِيِّ الْأَدِيبُ بالأشتر لِأَحَدِ الشُّعَرَاءِ(وَدَّعْتُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَعْلَمُوا … وَرُحْتُ وَالْقَلْبُ بِهِمْ مُغْرَمُ)(سَأَلْتُهُمْ تَسْلِيمَةً مِنْهُمُ … عَلَيَّ إِذْ وَلَّوْا فَمَا سَلَّمُوا)(وَاسْتَحْسَنُوا ظُلْمِي فَمِنْ أَجْلِهِمْ … يُحِبُّ قَلْبِي كُلَّ مَنْ يَظْلِمُ) // السَّرِيع //65 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَنْجَوَيْهِ الزَّنْجَانِيُّ الْإِمَامُ بِزَنْجَانَ أَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْفَلاكِيُّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ الْمُقْرِئُ الْقَزْوِينِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ بْنِ الْجُنَيْدِ الدَّشْتَكِيُّ ثَنَا سَجِيبُ بْنُ مُحَمَّدِ الْهَمَذَانِيُّ إِمَامُ مَسْجِدِ مُجَاهِدٍ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عِيسَى السَّجْرَبِيُّ أَنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ادْفِنُوا مَوْتَاكُمْ وَسَطَ قَوْمٍ صَالِحِينَ فَإِنَّ الْمَيِّتَ يَتَأَذَّى بِجِوَارِ السُّوءِ كَمَا يَتَأَذَّى الْحَيُّ بِجَارِ السُّوءِ66 - أَنْشَدَنِي أَبُو مَنْصُورٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ طَاهِرِ بْنِ نَبَاتَةَ أَحَدُ الْخُطَبَاءِ بِمَيَّافَارِقِينَ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو نَصْرٍ الْحَسَنُ بْنُ أَسَدٍ النَّحْوِيُّ الْفَارِقِيُّ لِنَفْسِهِ(أَيَا لَيْلَةً زَارَ فِيهَا الْحَبِيبُ … أَعِيدِي لَنَا مِنْهُ وَصْلًا وعُودِي)(فَإِنِّي شَهِدْتُكِ مُسْتَمْتِعًا … بِهِ بَيْنَ رَنَّةِ نَايٍ وَعُودِ)
৬৪ - আশতারের সাহিত্যিক আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আয-যাদী জনৈক কবির এই কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছেন(আমি তাদের থেকে বিদায় নিলাম এমনভাবে যে তারা জানলই না … আর আমি চলে এলাম অথচ অন্তর তাদের প্রেমে মগ্ন।)(তারা যখন চলে যাচ্ছিল, আমি তাদের কাছে একটি সালাম চেয়েছিলাম … কিন্তু তারা আমাকে সালাম দিল না।)(তারা আমার ওপর জুলুম করাকে পছন্দ করল, আর তাদের খাতিরে … আমার অন্তর এখন সেই প্রত্যেককে ভালোবাসে যে জুলুম করে।) // আস-সারী //৬৫ - জানজানের ইমাম আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন জানজাওয়াইহ আয-জানজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, কাযী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-ফালাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন সালিহ আল-মুকরি আল-কাযওয়িনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইমরান বিন আল-জুনাইদ আদ-দাশতাকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ মসজিদের ইমাম সাজীব বিন মুহাম্মদ আল-হামাদানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন ঈসা আস-সাজরাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের মৃতদের নেককার লোকদের মাঝে দাফন করো, কারণ জীবিত ব্যক্তি যেমন খারাপ প্রতিবেশীর কারণে কষ্ট পায়, তেমনি মৃত ব্যক্তিও মন্দ প্রতিবেশীর কারণে কষ্ট পায়।"৬৬ - মায়্যাফারিীনের জনৈক খতীব আবু মানসুর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন তাহির বিন নাবাতাহ আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু নাসর আল-হাসান বিন আসাদ আন-নাহবী আল-ফারেকী তাঁর নিজের লেখা এই কবিতাটি আমাদের শুনিয়েছেন(হে রজনী! যাতে প্রিয়তম সাক্ষাৎ করতে এসেছিল … আমাদের জন্য তার সেই মিলন ফিরিয়ে দাও এবং তুমিও ফিরে আসো।)(কেননা আমি তোমাকে প্রত্যক্ষ করেছি এমন অবস্থায় যে, বাঁশি এবং বীণার সুরের মাঝে আমি তাকে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করছিলাম।)
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
(وَطِيبِ حَدِيثٍ كَزَهْرِ الرِّيَاضِ … تَضَوَّعَ مَا بَيْنَ مِسْكٍ وَعُودِ)(سَقَتْكِ الرَّوَاعِدُ مِنْ لَيْلَةٍ … بِهَا اخْضَرَّ يَابِسُ عَيْشِي وَعُودِي)(فَلَمَّا تَقَضَّيْتِ أَمْرَضَتْنِي … فَزُورِي مَرِيضَكِ يَوْمًا وَعُودِي) // المتقارب //67 - أَبُو مَنْصُورٍ هَذَا أَحَدُ الْخُطَبَاءِ فِي جَامِعٍ مِنْ جَوَامِعِ مَيَّافَارِقِينَ وَبَيْتِهِمُ الْمَشْهُورِ وَخُطَبُ جَدِّهِمُ الْخُطَبُ الَّتِي عَلَيْهَا تَعْوِيلُ الْخُطَبَاءِ شَرْقًا وَغَرْبًا68 - أَنْشَدَنِي أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ تَمِيمٍ الْحِمْيَرِيُّ بِالثَّغْرِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو حَفْصٍ الزَّكْزَمِيُّ لِنَفْسِهِ بِالْمَهْدِيَّةِ مِنْ قَصِيدَةٍ(وَكُلُّ بِنَاءٍ قَدْ أُقِيمَ أَسَاسُهُ … عَلَى غَيْرِ أَصْلٍ ثَابِتٍ قَلَّ مَا يَبْقَى)(وَإِنْ كَانَ لَوْنُ التِّبْرِ وَالصُّفْرِ وَاحِدًا … فَقَدْ جَعَلَ الرَّحْمَن بَينهمَا فرقا) // الطَّوِيل //69 - أَحْمَدُ هَذَا مِنْ بَيْتِ الْإِمْرَةِ أَبُوهُ أَمِيرٌ وَجَدُّهُ تَمِيمٌ كَذَلِكَ وَأَبُو تَمِيمٍ هُوَ الْمُعِزُّ بْنُ بَادِيسَ الصِّنْهَاجِيُّ صَاحِبُ إِفْرِيقْيَا وَشُهْرَتُهُمْ تُغْنِي عَنِ الْإِطْنَابِ فِي ذِكْرِهِمْ وَقد انْقَطع أَحْمد إِلَى الْمدرسَة عِنْدِي وَالْقِرَاءَةِ وَقْتَ انْقِرَاضِ دَوْلَتِهِمْ وَكَسْرِ شَوْكَتِهِمْ
(সুমিষ্ট আলাপ যেন বাগানের প্রস্ফুটিত ফুল … কস্তুরী ও অগুরুর সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।)(এক রাতের গর্জনকারী মেঘমালা তোমাকে সিক্ত করেছে … যার মাধ্যমে আমার জীবনের শুষ্কতা ও ডালপালা সজীব হয়েছে।)(যখন তুমি চলে গেলে, আমায় রুগ্ন করে দিলে … তবে কোনো একদিন তোমার এই রোগীকে দেখতে এসো এবং পুনরায় ফিরে এসো।) // মুতাকারিব //৬৭ - এই আবু মনসুর ছিলেন মায়্যাফারিকিনের অন্যতম এক জামে মসজিদের খতিব এবং তাঁদের প্রসিদ্ধ পরিবারের সদস্য। তাঁর দাদার খুতবাগুলোই হলো সেই খুতবা যার ওপর পূর্ব ও পশ্চিমের খতিবগণ নির্ভর করে থাকেন।৬৮ - আবু আলী আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে তামীম আল-হিময়ারি সীমান্ত এলাকায় আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হাফস আল-জাকজামি মাহদিয়াতে তাঁর নিজের একটি কাসিদা থেকে আমাকে শুনিয়েছেন:(যে কোনো প্রাসাদ যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে … কোনো সুদৃঢ় মূল ব্যতিরেকে, তা খুব কমই টিকে থাকে।)(যদিও খাঁটি স্বর্ণ ও পিতলের বর্ণ একই হয় … তথাপি দয়াময় আল্লাহ উভয়ের মাঝে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।) // তাউইল //৬৯ - এই আহমদ ছিলেন এক রাজপরিবারের সদস্য; তাঁর পিতা ছিলেন একজন আমির এবং তাঁর দাদা তামীমও ছিলেন তদ্রূপ। আর আবু তামীম হলেন ইফ্রিকিয়ার অধিপতি আল-মুয়িজ ইবনে বাদিস আস-সিনহাজি। তাঁদের খ্যাতি তাঁদের কথা সবিস্তারে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। তাঁদের রাজবংশের পতন ও ক্ষমতা চূর্ণ হওয়ার সময় আহমদ আমার সান্নিধ্যে মাদরাসায় অবস্থান ও অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
{وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خير لكم} وَقَدْ أَنْشَدَنِي مُقَطَّعَاتٍ مِمَّا أَنْشَدَهُ أَبُوهُ الْأَمِيرُ أَبُو الطَّاهِرِ يَحْيَى بْنُ تَمِيمٍ مِنْ شِعْرِهِ وَأَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ الطَّيِّبِ الْكَلْبِيُّ الصَّقَلِّيُّ وَغَيْرُهُمَا70 - أَنْشَدَنِي أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ تَمِيمٍ الْحِمْيَرِيُّ بِالثَّغْرِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ الطَّيِّبِ الْكَلْبِيُّ لِنَفْسِهِ بِإِفْرِيقِيَا(شَدُّوا جِمَالَ الْبَيْنِ وَاعْتَقَدُوا السَّرَى … وَاحَسْرَتِي مِنْ فَقْدِهِمْ وَبَقَائِي)(أَتَرَى جُفُونِي بَعْدَهُمْ تَجْفُو الْكَرَى … وَتُكَفُّ عَنْ سَهَرٍ وَطُولِ بُكَاءِ)(لَمْ يَظْلِمُونِي بِالْفِرَاقِ لِأَنَّنِي … قَدْ كُنْتُ أَطْلُبُهُمْ بِقُبْحِ جَفَاءِ)(فَلِمَنْ أَلُومُ وَمُهْجَتِي حُكِمَتْ بِهِ … يَا لَيْتَ لَمْ يَكُنِ الْفِرَاقُ جزائي) // الْكَامِل //71 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ زُرْعَةَ الصُّورِيُّ بدِمَشْقَ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْهَاشِمِيُّ بصُورَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ مَعْرُوفٍ التَّمِيمِيُّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ الْقُرَشِيُّ أَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ الْعُذْرِيُّ ثَنِي أَبِي ثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ ثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ ثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ ثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَيْتُمُ الْجِنَازَةَ فَقُومُوا لَهَا فَمَنْ تَبِعَهَا لَا يَجْلِسُ حَتَّى تُوضَعَ72 - ابْنُ زُرْعَةَ هَذَا مَعْرُوفٌ بِالشَّيْخِ الْعَفِيفِ وَسَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ سَنَةَ سبع وَأَرْبَعين واربعمائة فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بصُورَ وَسَمِعَ أَبَا عِمْرَانَ الصَّقَلِّيَّ النَّحْوِيَّ وَنَصْرَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ الْمَقْدِسِيَّ وَأَبَا الْحَسَنِ الْهَاشِمِيَّ73 - سَمِعت أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مَرْوَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّاطِبِيَّ التَّاجِرَ
{এবং হতে পারে যে তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} আর তিনি আমাকে এমন কিছু কবিতাংশ পাঠ করে শুনিয়েছেন যা তাঁর পিতা আমির আবু তাহের ইয়াহইয়া ইবনে তামিম তাঁর নিজের কবিতা থেকে পাঠ করেছিলেন, এবং আবুল ফজল জাফর ইবনে তাইয়্যিব আল-কালবি আস-সাকল্লি ও অন্যান্যরাও তা শুনিয়েছেন।৭০ - আবু আলী আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে তামিম আল-হিময়ারি আমাকে সীমান্ত এলাকায় শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল জাফর ইবনে তাইয়্যিব আল-কালবি ইফ্রিকিয়ায় নিজের রচিত এই কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন:(তারা বিচ্ছেদের উটগুলো বেঁধে নিয়েছে এবং রাতের সফরের সংকল্প করেছে... হায়! তাদের হারিয়ে আমি কি নিদারুণ যন্ত্রণায় বেঁচে আছি।)(তুমি কি দেখছ তাদের চলে যাওয়ার পর আমার চোখের পাতাগুলো ঘুমকে বর্জন করেছে... এবং নির্ঘুম রজনী ও দীর্ঘ কান্নায় রত হয়েছে?)(তারা বিচ্ছেদের মাধ্যমে আমার প্রতি জুলুম করেনি, কারণ... আমিই তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম।)(এখন আমি কাকে দোষ দেব অথচ আমার প্রাণই এর ফয়সালা করেছে... হায়! যদি বিচ্ছেদ আমার প্রতিদান না হতো।) // কামিল ছন্দ //৭১ - আবুল ফারাজ আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে জুরআ আস-সুরি দামেস্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-হাশেমি সুর নগরীতে আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মারুফ আত-তামিমি আমাদের জানিয়েছেন, আবু হাসান খাইসামা ইবনে সুলাইমান ইবনে হায়দারা আল-কুরাশি আমাদের জানিয়েছেন, আব্বাস ইবনে ওয়ালিদ ইবনে মাজইয়াদ আল-উযরি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওযায়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা জানাজা দেখবে, তখন তার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাও; আর যে ব্যক্তি জানাজার অনুগমন করবে, সে যেন তা (মাটিতে) রাখা না হওয়া পর্যন্ত না বসে।৭২ - এই ইবনে জুরআ 'শায়খ আল-আফিফ' হিসেবে পরিচিত। আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: চারশত সাতচল্লিশ হিজরি সালের রমজান মাসে সুর নগরীতে। তিনি আবু ইমরান আস-সাকল্লি আন-নাহবি, নাসর ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসি এবং আবু হাসান আল-হাশেমির নিকট (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।৭৩ - আমি আবু আব্বাস আহমদ ইবনে মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাতিবি আল-তাজির (ব্যবসায়ী)-কে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ يَقُولُ يُقَالُ بِالْأَنْدَلُسِ لِمَنْ يَعْمَلُ الْكَمَرَّرَانَاتِ وَأَغْمِدَةَ السُّيُوفِ وَالسَّكَاكِينَ الصُّنَّاعُ74 - أَبُو الْعَبَّاسِ هَذَا أَنْدَلُسِيٌّ صَالِحٌ وَلَهُ عَلَيَّ يَدٌ لِاجْتِهَادِهِ وَفِي إِيصَالِهِ مَا حَمَلَ إِلَيَّ مِنْ أصْبَهَانَ مِنْ سَمَاعَاتِي وَأَجْزَائِي الَّتِي كَتَبْتُهَا بِكُلِّ قُطْرٍ وَأَنْفَذْتُ بِهَا إِلَى أَصْبَهَانَ طَمَعًا فِي الرُّجُوعِ إِلَيْهَا وَلَمْ يَتَّفِقْ فَأَحْبَبْتُ إِحْيَاءَ ذِكْرِهِ وَالتَّرَحُّمَ عَلَيْهِ رحمه الله وَقَدْ كَانَ مُتَمَيِّزًا وَلَهُ تَرَسُّلٌ لَا بَأْسَ بِهِ وَتُوُفِّيَ بِالْعِرَاقِ نَفَعَهُ اللَّهُ بِالْعِلْمِ75 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَقِّ بْنِ الْقَاسِمِ التَّمِيمِيُّ لِابْنِ الْحَدَّادِ الصَّقَلِّيِّ فِي أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ الرَّمَّاجِ الْمُقِيمِ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ(تَرَحَّلَ عَنَّا صَاحِبٌ وَهُوَ عَاتِبٌ … عَلَيْنَا فَزَادَ اللَّهُ مَا بَيْنَنَا بُعْدَا)(فَفَارَقَ إخْوَانًا عَلَيْهِ أَعِزَّةً … فَمَا شَقَّقُوا جَيْبًا وَلَا لَطَمُوا خَدًّا)(فلوا أَنَّ ذَا الْقَرْنَيْنِ حَيٌّ سَأَلْتُهُ … لِيَجْعَلَ مَا بَيْنِي وَمَا بَيْنَهُ سدا) // الطَّوِيل //76 - سَمِعت أَبَا نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنَ سعد بن أبي صَابِرًا الطُّرَيْثِيثِيَّ وَكَانَ مِنْ شُيُوخِ الصُّوفِيَّةِ بِوَرَاوِيَ مِنْ مُدُنِ أَذْرَبِيجَانَ يَقُولُ كَانَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ الْحَافِظُ بهَرَاةَ يَقُولُ لَمْ أَرَ فِي أَئِمَّةِ الْعِلْمِ أَقَلَّ حَسَدًا مِنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الصَّابُونِيِّ بنَيْسَابُورَ77 - أَبُو نَصْرٍ هَذَا يُعْرَفُ بِالْخَطِيبِ وَكَانَ مِنْ مُقَدَّمِي الصُّوفِيَّةِ وَمَشْهُورِي الْمُسَافِرِينَ اجْتَمَعْنَا فِي عِدَّةِ مُدُنٍ
আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি বলেন: আন্দালুসে যারা কোমরবন্ধনী, তলোয়ারের খাপ ও ছুরি তৈরি করে তাদের 'কারুশিল্পী' (সান্না') বলা হয়।৭৪ - এই আবু আল-আব্বাস একজন নেককার আন্দালুসী ব্যক্তি। আমার প্রতি তার বিশেষ অবদান (হাত) রয়েছে; কারণ তিনি ইসফাহান থেকে আমার সেই সমস্ত শ্রবণকৃত হাদীস ও পাণ্ডুলিপিগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, যা আমি প্রতিটি জনপদে লিখেছিলাম এবং পুনরায় সেখানে ফেরার আশায় ইসফাহানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই আমি তার স্মৃতিকে জীবিত রাখতে এবং তার জন্য রহমতের দোয়া করতে পছন্দ করলাম, আল্লাহ তাকে রহম করুন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং তার গদ্য রচনার শৈলী বেশ সাবলীল ছিল। তিনি ইরাকে মৃত্যুবরণ করেন; আল্লাহ তাকে ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করুন।৭৫ - আবু আল-ফাদল আহমদ বিন আব্দুল হক বিন আল-কাসিম আত-তামীমী আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা আবু মুহাম্মদ বিন আর-রাম্মাজ সম্পর্কে ইবনুল হাদ্দাদ আস-সিকিলী-এর রচিত কিছু কবিতা আমার কাছে আবৃত্তি করেছেন:(আমাদের এক সাথী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন এমতাবস্থায় যে, তিনি আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন; সুতরাং আল্লাহ আমাদের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিন।)(তিনি এমন ভাইদের ছেড়ে গেলেন যারা তার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল; অথচ তারা (তার বিচ্ছেদে) না ছিঁড়ল তাদের জামার কলার, না করল গালে চপেটাঘাত।)(যদি যুল-কারনাইন জীবিত থাকতেন, তবে আমি তাকে অনুরোধ করতাম যেন তিনি আমার ও তার মাঝে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর তৈরি করে দেন।) // আত-তাবীল //৭৬ - আমি আবু নাসর আহমদ বিন সা'দ বিন আবু সাবির আত-তুরাইথীসীকে বলতে শুনেছি—যিনি আজারবাইজানের ওরাওয়ী শহরের অন্যতম সূফী শায়খ ছিলেন—তিনি বলেন: হেরাতের হাফেয আবু ইসমাঈল আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী বলতেন, "আমি ইলমের ইমামদের মধ্যে নিশাপুরের ইসমাঈল বিন আব্দুর রহমান আস-সাবুনীর চেয়ে কম হিংসাবিদ্বেষী আর কাউকে দেখিনি।"৭৭ - এই আবু নাসর 'আল-খতীব' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সূফীদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং প্রখ্যাত পর্যটকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমাদের বেশ কয়েকটি শহরে সাক্ষাৎ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
78 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَتْحِ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ حُمَيْدَانَ الْفَارِقِيُّ التَّاجِرُ نَزِيلُ بَابِ الْأَبْوَابِ بِفُسْطَاطِ مِصْرَ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو النَّامِي صَدَقَةُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّنُوخِيُّ الْمَعَرِّيُّ لِنَفْسِهِ بِشَرْوَانَ(كَانَ النِّظَامُ أَبُو عَليٍّ لِلْوَرَى … صَدْرًا وَلِلدِّينِ الْقَوِيمِ إمَامَا)(حَتَّى إِذَا قتَلُوهُ ظُلْمًا مِنْهُم … عَادَ الضِّيَاءُ عَلَى الأَنَامِ ظَلَامَا)(لَمْ يَقْتُلُوا الشَّيْخَ الْكَبِيرَ وَإِنَّمَا … قتلوا جَمِيع الْخلق والإسلاما) // الْكَامِل //79 - أَحْمَدُ هَذَا تَاجِرٌ مِنْ أَهْلِ مَيَّافَارِقِينَ قَدْ سَافَرَ كَثِيرًا ثُمَّ أَقَامَ بِدَرْبَنْدَ وَتَأَهَّلَ بِهَارَأَيْتُهُ بِمِصْرَ وَكَانَ يَحْضُرُ عِنْدِي لِسَمَاعِ الْحَدِيثِ وَأَبُوهُ سَعِيدٌ يُكَنَّى أَبَا الْفَرَجِ80 - سَمِعت أَبَا الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مُقَاتِلٍ الْقَيْرَوَانِيَّ الْمُقْرِئَ بالثَّغْرِ يَقُولُ سَمِعت الْقَاضِيَ أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْباجي بتُونِسَ يَقُولُ سَمِعت أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ نَفِيسٍ الْمُقْرِئَ الضَّرِيرَ التُّونِسِيَّ يَقُولُ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ بِمِصْرَ بَعْدَ رُجُوعِي مِنَ الْحِجَازِ وَتَوَجُّهِي إِلَى الْمَغْرِبِ فَقَالَ أَوْحَشْتَنَا يَا أَبَا الْعَبَّاسِ وَذَلِكَ أَنِّي كُنْتُ أُكْثِرُ مِنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ عِنْدَ ضَرِيحِهِ بِالْمَدِينَةِ قَالَ الْبَاجِيُّ فَقُلْتُ لَهُ كَمْ قَرَأْتَ مِنْ خَتْمَةٍ عِنْدَ قَبْرِهِ يَا أُسْتَاذُ فَقَالَ أَلْفَ خَتْمَةٍ قَالَ وَقَالَ جُعْتُ بِالْمَدِينَةِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَجِئْتُ إِلَى الْقَبْرِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ جُعْتُ ثُمَّ نِمْتُ ضَعْفًا فَرَكَضَتْنِي جَارِيَةٌ بِرِجْلِهَا فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَقَالَتْ اعْزِمْفَقُمْتُ مَعَهَا إِلَى دَارِهَا فَقَدَّمَتْ إِلَيَّ خُبْزَ بُرٍّ وَتَمْرًا وَسَمْنًا وَقَالَتْ كُلْ أَبَا الْعَبَّاسِ فَقَدْ أَمَرَنِي بِهَذَا جَدِّي صلى الله عليه وسلم وَمَتَى
৭৮ - আবু আল-ফাতহ আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হুমাইদান আল-ফারিকী আল-তাজির, যিনি মিশরের ফুসতাতের বাবুল আবওয়াবের অধিবাসী, তিনি আমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু আল-নামী সাদাকাহ ইবনে ইবরাহিম আল-তানুখি আল-মাআররি শারওয়ানে নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন:(আবু আলি আল-নিজাম সৃষ্টির জন্য ছিলেন … এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের ইমাম।)(অবশেষে যখন তারা তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করল … তখন সৃষ্টির জন্য আলো অন্ধকারে রূপ নিল।)(তারা কেবল একজন বয়োবৃদ্ধ শাইখকে হত্যা করেনি, বরং … তারা সকল সৃষ্টি ও ইসলামকেই হত্যা করেছে।) // আল-কামিল //৭৯ - এই আহমাদ হলেন মাইয়াফারিকিনের একজন বণিক, যিনি প্রচুর সফর করেছেন। এরপর তিনি দারবান্দে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে বিবাহ করেন।আমি তাকে মিশরে দেখেছি, তিনি হাদীস শোনার জন্য আমার নিকট উপস্থিত হতেন। তার পিতা সাঈদ, যার উপনাম ছিল আবু আল-ফারাজ।৮০ - আমি সীমান্ত অঞ্চলের ক্বারী আবু আল-ফাদল আহমাদ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে মুকাতিল আল-কায়রাওয়ানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি তিউনিসে কাযী আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আল-বাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি তিউনিসের দৃষ্টিহীন ক্বারী আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে নাফিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হিজায থেকে ফিরে মাগরিবের দিকে যাওয়ার পথে মিশরে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তিনি বললেন: "হে আবু আল-আব্বাস, তুমি আমাদের বিরহে ফেলে দিয়েছ।" আর তা এই কারণে যে, আমি মদীনায় তাঁর রওযা মুবারকের নিকট প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতাম। আল-বাজি বলেন: আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "হে উস্তাদ, আপনি তাঁর কবরের নিকট কতবার খতম করেছেন?" তিনি বললেন, "এক হাজার খতম।" তিনি বলেন এবং আরও বললেন: মদীনায় আমি তিন দিন ক্ষুধার্ত ছিলাম। এরপর আমি কবরের নিকট এসে বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল, আমি ক্ষুধার্ত।" অতঃপর দুর্বলতার কারণে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। তখন এক কিশোরী তার পা দিয়ে আমাকে নাড়া দিল। আমি তার দিকে উঠে দাঁড়ালে সে বলল, "চলুন।"আমি তার সাথে তার বাড়িতে গেলাম। সে আমার সামনে গমের রুটি, খেজুর ও ঘি পেশ করল এবং বলল, "হে আবু আল-আব্বাস, আহার করুন। আমার নানা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।" আর যখনই...
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
جُعْتُ فَأْتِ إِلَيْنَاقَالَ أَبُو الْفَضْلِ وَالْبَاجِيُّ هَذَا مِنْ بَاجَةِ إِفْرِيقِيَّةِ لَا مِنْ بَاجَةِ الْأَنْدَلُسِ81 - أَبُو الْفَضْلِ هَذَا صِنْهَاجِيُّ النَّسَبِ قَدِمَ الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَأَرْبَعِينَ وَخَمْسمِائة حَاجًّا مُقْرِئٌ مُتَأَدِّبٌ وَكَانَ رحمه الله مِنْ أَهْلِ الْفَضْلِ وَالْمَعْرِفَةِ بِالْقِرَاءَاتِ وَالْآدَابِ وَقَرَأَ حَدِيثًا وَكَتَبَ بِخَطِّهِ الْمُوَطَّأَ لِمَالِكٍ وَصَحِيحَ الْبُخَارِيِّ وَصَحِيحَ مُسْلِمٍ وَسُنَنَ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرَ ذَلِكَوَكَانَ قَدْ حَجَّ قَدِيمًا وَسَمِعَ عَلَيَّ مِمَّا كَانَ يُقْرَأُ جُمْلَةً وَيَحْضُرُ الدُّرُوسَ الْفِقْهِيَّةَ أَيْضًا وَيَسْتَحْسِنُ مَا أُلْقِيهِ مِنْ مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ وَمَا أُمْلِيهِ مِنَ الْحَدِيثِ وَقَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ فَوَائِدَ فَقَدْ كَانَ حِفْظُهُ لِلنَّظْمِ وَالنَّثْرِثُمَّ خَرَجَ وَتُوُفِّيَ بِمَدِينَةِ قُوصَ مِنْ صَعِيدِ مِصْرَ فِي التَّاسِعِ مِنْ مُحَرَّمِ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ فِيمَا كَتَبَ بِهِ إِليَّ ابْنُهُ مُحَمَّدٌ وَكَانَ قَدْ ذَكَرَ لِي أَنَّ مَوْلِدَهُ سَنَةَ سِتٍّ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعمِائَة82 - وَلِوَلَدِهِ شِعْرٌ جَيِّدٌ وَعَلَّقَ عَنِّي كَثِيرًا مِنْ مَسَائِلِ الْخِلَافِ فِي الْمَدْرَسَتَيْنِ الْعَادِلِيَّةِ وَالصَّالِحِيَّةِ ثُمَّ ظَهَرَ لِلْأَصْحَابِ أَنَّهُ إِمَامِيٌّ فَذَهَبَ إِلَى مِصْرَ وَمِنْهَا إِلَى الْحِجَازِ وَانْقَطَعَ عَنَّا خَبَرُهُ وَلَهُ فِيَّ قَصَائِدُ يمدح فِيهَا الصَّحَابَة بعد مَا ظَهَرَ مِنْهُ مَا ظَهَرَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِحَالِهِ83 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مُقَاتِلٍ الصِّنْهَاجِيُّ الْمُقْرِئُ قَدِمَ عَلَيْنَا الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَمْدِيسَ الصَّقَلِّيُّ الْأَزْدِيُّ لِنَفْسِهِ بِتُونِسَ(لَمَّا كَبِرْتُ أَتَتْنِي كُلُّ دَاهِيَةٍ … وَكُلُّ مَا كَانَ مِنِّي زَائِدٌ نَقَصَا)(أُصَافِحُ الأَرْضَ إِنْ رُمْتُ الْجُلُوسَ بِهَا … وَإِنْ مَشَيْتُ فَفِي كفي الْيَمين عَصا) // الْبَسِيط //84 - سَمِعت أَبَا الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمَانَ الْأَزْدِيَّ بالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ يَقُولُ سَمِعت أَبَا الْبَرَكَاتِ بْنَ أَبِي الصَّقْرِ الْمحارسي يَقُولُ
আমি ক্ষুধার্ত হয়েছি, সুতরাং আমাদের কাছে এসো।আবুল ফাদল এবং বাজি বলেছেন: এটি ইফ্রিকিয়ার বাজা থেকে, আন্দালুসের বাজা থেকে নয়।৮১ - এই আবুল ফাদল বংশগতভাবে সিনহাজি। তিনি পাঁচশ আটচল্লিশ হিজরি সনে হাজি হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আসেন। তিনি একজন কারী এবং শিষ্টাচারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, তিনি কিরাআত ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুণী ও জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি হাদিস পাঠ করেছিলেন এবং নিজ হাতে ইমাম মালিকের মুয়াত্ত্তা, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ এবং আরও অন্যান্য কিতাব লিপিবদ্ধ করেছিলেন।তিনি অনেক আগে হজ করেছিলেন এবং আমার কাছে পঠিত বিষয়াদির একটি বড় অংশ শ্রবণ করেছিলেন। তিনি ফিকহী দরসসমূহেও উপস্থিত থাকতেন এবং শাফেয়ী মাযহাব থেকে আমি যা উপস্থাপন করতাম এবং হাদিস থেকে যা শ্রুতিলিখনের নির্দেশ দিতাম, তিনি তা পছন্দ করতেন। আমি তাঁর থেকে কিছু জ্ঞানগর্ভ কথা লিখে রেখেছিলাম, কারণ কবিতা ও গদ্য মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।অতঃপর তিনি প্রস্থান করেন এবং উচ্চ মিশরের কুস শহরে পাঁচশ ঊনপঞ্চাশ হিজরি সনের ৯ই মহররম ইন্তেকাল করেন, যেমনটি তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আমাকে লিখে জানিয়েছেন। তিনি আমাকে উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁর জন্ম চারশ ছিয়াশি হিজরি সনে।৮২ - তাঁর পুত্রের উত্তম কবিতা রয়েছে। তিনি আদিলিয়া এবং সালিহিয়া মাদরাসায় আলোচিত মতভেদপূর্ণ অনেক মাসআলা আমার থেকে লিখে নিয়েছিলেন। এরপর সাথীদের কাছে এটি প্রকাশ পেল যে তিনি ইমামিয়া মতাদর্শের অনুসারী, ফলে তিনি মিশরে চলে যান এবং সেখান থেকে হিজাজে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসায় আমার উদ্দেশ্যে কিছু কাসিদা লিখেছিলেন। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।৮৩ - কারী আবুল ফাদল আহমদ ইবনে আব্দুল কারীম ইবনে মুকাতিল আস-সিনহাজি আমাদের নিকট আলেকজান্দ্রিয়ায় এসে আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার ইবনে আবু বকর ইবনে হামদিস আস-সাকালি আল-আযদি তিউনিসে নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছিলেন:(যখন আমি বার্ধক্যে উপনীত হলাম, প্রতিটি বিপদ আমার ওপর আপতিত হলো... এবং আমার যা কিছু বাড়তি ছিল, তা কমে গেল।)(আমি যখন মাটিতে বসতে চাই, তখন মাটিকে স্পর্শ করি... আর যখন হাঁটি, তখন আমার ডান হাতে থাকে একটি লাঠি।) // আল-বাসীত ছন্দ //৮৪ - আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় আবুল ফাদল আহমদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালমান আল-আযদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবুল বারাকাত ইবনে আবু সাকর আল-মুহারিসিকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
لِوَالِدِي رَحِمَهُمَا اللَّهُ قَدْ سَمِعت الْبَارِحَةَ صَوْتًا مِنَ الْبَحْرِ يَقُولُ يَا صِيُونُ خَفِّفْ عَنْ عِبَادِكَ أَوْ يَا صِيُونُ خَفِّفْ عِبَادِي الشَّكُّ مِنْ أَبِي الْفَضْلِ قَالَ وَنَزَلْتُ مِنَ الْمَحْرَسِ فَلَمْ أَرَ فِي الْبَحْرِ مَرْكَبًا وَلَا قَارِبًا وَأَرْجُو أَنَّ الْفَرَجَ قَرِيبٌ قَالَ أَبُو الْفَضْلِ وَكَانَ النَّاسُ فِي شِدَّةٍ مِنْ قَحْطٍ وَوَبَاءٍ فَمَا مَرَّتْ أَيَّامٌ حَتَّى مَنَّ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى النَّاسِ بِالرُّخْصِ وَقِلَّةِ الْمَوْتِ85 - أَبُو الْفَضْلِ هَذَا مِنْ بَيْتٍ كَبِيرٍ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ مَشْهُورٍ وَذَكَرَ لِي أَنَّهُ حَضَرَ فِي صِغَرِهِ مَجْلِسَ الْقَاضِي أَبِي الْحُسَيْنِ السِّيرَافِيِّ لِلسَّمَاعِ عَلَيْهِ وَكَانَ يَحْفَظُ كَثِيرًا مِنَ الشِّعْرِ وَمِنْ جُمْلَةِ ذَلِكَ مَا أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ الْأَزْدِيُّ بالثَّغْرِ لِأَحَدِ الْمُتَقَدِّمِينَ(الْمَرْءُ فِي زَمَنِ الإِقْبَالِ كَالشَّجَرَهْ … من حولهَا النَّاس مادامت بِهَا ثَمَرَهْ)(حَتَّى إِذَا مَا خَلَتْ مِنْ حَمْلِهَا انْصَرَفُوا … عَنْهَا عُقُوقًا وَقَدْ كَانُوا بِهَا بَرَرَهْ)(وَحَاوَلُوا قَطْعَهَا مِنْ بَعْدِ مَا سَتَرُوا … دَهْرًا عَلَيْهَا مِنَ الأَرْيَاحِ والغبره) // الْبَسِيط //86 - أَبُو الْفَضْلِ هَذَا كَانَ مِنْ بَيت كسر بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَكَانَ شَيْخًا جَسُورًا عَلَى جَلَائِلِ الْأُمُورِ وَأَصَابَتْهُ لِذَلِكَ نَكَبَاتٌ وَفِي مَقْصَدٌ وَمَنْ قَصَدَهُ وَجَدَهُ وَكَانَ عِنْدَ ظَنِّهِ بِهِ وَكُنْتُ أَسْتَأْنِسُ بِهِ كَثِيرًا إِلَى أَنْ تُوُفِّيَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى87 - وَجَدُّهُ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ مِنْ رُوَاةِ الْحَدِيثِ رَوَى عَنِ الْقَاضِي أَبِي الطَّاهِرِ الذُّهْلِيِّ وَطَبَقَتِهِ وَكَانَ فِي السَّمَاعِ مِنْ رُفَقَاءِ الْقَاضِي أَبِي مَطَرٍ وَابْنِ أَبِي إِسْحَاقَ بْنِ الصَّبَّاغِ وَقَدْ كَتَبَ عَمُّهُ إِبْرَاهِيمُ مِنَ الْحَدِيثِ كَثِيرًا بِمِصْرَ عَنْ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ وَأَقْرَانِهِ وَعِنْدِي بِخَطِّهِ أَجْزَاءٌ وَذَكَرَ لِي أَبُو الْفَضْلِ أَنَّهُ حَضَرَ فِي صِغَرِهِ مَجْلِسَ الْقَاضِي أَبِي الْحُسَيْنِ لِلسَّمَاعِ عَلَيْهِ وَعِنْدَ غَيْرِهِ88 - أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَعْدِ بْنِ عِيسَى بْنِ وَكِيلٍ التُّجِيبِيُّ
আমার পিতা-মাতার জন্য, আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন; গতকাল রাতে সমুদ্র থেকে আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছি যা বলছিল: হে সিউন, তোমার বান্দাদের কষ্ট লাঘব করো অথবা হে সিউন, আমার বান্দাদের কষ্ট লাঘব করো - এই সন্দেহটুকু আবুল ফজলের। তিনি বললেন, আমি পাহারার স্থান থেকে নিচে নামলাম কিন্তু সমুদ্রে কোনো জাহাজ বা নৌকা দেখতে পেলাম না। আমি আশা করছি যে স্বস্তি নিকটবর্তী। আবুল ফজল বলেন, মানুষ তখন দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর চরম কষ্টে ছিল। কিন্তু কয়েক দিন অতিবাহিত না হতেই মহান আল্লাহ দ্রব্যাদির মূল্য হ্রাস এবং মৃত্যুহার কমিয়ে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করলেন।৮৫ - এই আবুল ফজল আলেকজান্দ্ৰিয়ার এক প্রসিদ্ধ ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর বাল্যকালে কাজী আবুল হুসাইন আস-সিরাফির মজলিসে তাঁর থেকে শ্রবণের (হাদিস শোনার) জন্য উপস্থিত হতেন। তিনি অনেক কবিতা মুখস্থ রাখতেন। আবুল ফজল আহমদ বিন সালমান বিন আহমদ বিন সালমান আল-আজদি সীমান্ত এলাকায় প্রাচীন কবিদের একজনের যে কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো:(সুসময়ে মানুষ একটি বৃক্ষের মতো হয় … যতক্ষণ তাতে ফল থাকে ততক্ষণ তার চারপাশে মানুষ থাকে।)(অতঃপর যখন সেটি ফলশূন্য হয়ে যায়, তখন তারা … অবাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অথচ আগে তারা অনুগত ছিল।)(তারা সেটি কেটে ফেলার চেষ্টা করে, অথচ তারা এক যুগ ধরে … বাতাস ও ধূলিবালি থেকে সেটিকে আড়াল করে রেখেছিল।) // আল-বাসীত //৮৬ - এই আবুল ফজল আলেকজান্দ্ৰিয়ার এক সাধারণ গৃহের লোক ছিলেন। তিনি বড় বড় কাজের ক্ষেত্রে একজন সাহসী শায়খ ছিলেন এবং এর ফলে তিনি বিপদেও পড়েছিলেন। তিনি ছিলেন গন্তব্যস্থল, যে ব্যক্তি তাঁর কাছে আসত তাকে পেত এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে মানুষের সুধারণা অনুযায়ী ছিলেন। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি, মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।৮৭ - তাঁর দাদা আহমদ বিন সালমান ছিলেন হাদিসের বর্ণনাকারীদের একজন। তিনি কাজী আবু তাহের আজ-জুহলি ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন। শ্রবণের মজলিসে তিনি কাজী আবু মাতার এবং ইবনে আবু ইসহাক বিন আস-সাব্বাগের সঙ্গী ছিলেন। তাঁর চাচা ইব্রাহিম মিশরে আবু মুহাম্মদ বিন আন-নাহহাস ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে অনেক হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। আমার কাছে তাঁর স্বহস্তে লিখিত কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে। আবুল ফজল আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বাল্যকালে কাজী আবুল হুসাইন ও অন্যদের মজলিসে শ্রবণের জন্য উপস্থিত হতেন।৮৮ - আবুল আব্বাস আহমদ বিন মাদ বিন ঈসা বিন ওয়াকিল আত-তুজিবি আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
الْأَنْدَلُسِيُّ بِالثَّغْرِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّيِّدِ اللُّغَوِيُّ لِنَفْسِهِ بِالْأَنْدَلُسِ(قُلْ لِقَوْمٍ لَا يَتُوبُونْ … وَعَلَى الإِثْمِ يُصِرُّونْ)(خَفِّفُوا ثِقْلَ الْمَعَاصِي … أَفْلَحَ الْقَوْمُ الْمُخِفُّونْ){لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} // الرمل //89 - أَبُو الْعَبَّاسِ هَذَا يُعْرَفُ بِالْإِقْلِيشِيِّ وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِاللُّغَاتِ وَالْأَنْحَاءِ وَالْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ مَحْمُودَ الطَّرِيقَةِ فَصِيحًا وَمِنْ أَهْلِ الْأَدَبِ وَالْوَرَعِ وَالْمَعْرِفَةِ بِعُلُومٍ شَتَّى وَمِنْ جُمْلَةِ أَسَاتِيذِهِ أَبُو مُحَمَّدٍ الْبَطَلْيُوسِيُّ وَأَبُو الْحَسَنِ بْنِ سُبَيْطَةَ الدَّانِيُّ وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْقَلَنِيُّ وَآخَرُونَوَلَهُ شِعْرٌ جَيِّدٌ وَمُؤَلَّفَاتٌ حَسَنَةٌ قَدِمَ عَلَيْنَا الْإسْكَنْدَريَّة سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَخَمْسمِائة وَقَرَأَ عَلَيَّ كَثِيرًا وَكَتَبَ عَنِّي فَوَائِدَ وَتَوَجَّهَ إِلَى الْحِجَازِ وَبَلَغَنَا أَنَّهُ تُوُفِّيَ بِمَكَّةَ رحمه الله90 - وَمِنْ شِعْرِهِ أَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَعْدِ بْنِ عِيسَى بْنِ وَكِيلٍ التُّجِيبِيُّ الْأَنْدَلُسِيُّ لِنَفْسِهِ وَكَتَبَ لِي بِخَطِّهِ(كَانَ حَقِّي أَلَّا أُذَكِّرَ غَيْرِي … وَأَنَا مَا كُفِيتُ شَرِّي وَضَيْرِي)(غَيْرَ أَنِّي بِرَحْمَةِ اللَّهِ رَبِّي … أَرْتَجِي أَنْ يفيدني كل خير) // الْخَفِيف //وَأَنْشَدَنِي لِنَفْسِهِ(تَتَحَدَّرُ الْعَبَرَاتُ مِنْ أَحْدَاقِهِ … فَتَرَى لَهَا فِي خَدِّهِ آثَارَا)(وَلَرُبَّمَا امْتَزَجَتْ دَمًا مِنْ قَلْبِهِ … حَتَّى كَأَنَّ الدَّمْعَ يَطْلُبُ ثارا) // الْكَامِل //
সীমান্তে অবস্থানকারী আন্দালুসী ব্যক্তি বলেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইয়িদ আল-লুগাভী আন্দালুসে আমাকে তাঁর নিজের রচিত এই কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন—(ঐ সম্প্রদায়কে বলুন যারা তওবা করে না … এবং পাপের ওপর অটল থাকে।)(তোমরা গুনাহের বোঝা হালকা করো … সফল হয়েছে সেই সম্প্রদায় যারা বোঝা হালকা করেছে।){তোমরা কিছুতেই পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো।} // আর-রামাল ছন্দ //৮৯ - এই আবু আব্বাস আল-ইকলিশী নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও শরীয়াহর বিভিন্ন জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। তিনি প্রশংসনীয় রীতির অধিকারী, সুবক্তা এবং সাহিত্য, পরহেজগারি ও বিভিন্ন শাস্ত্রের বিদগ্ধ পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর উস্তাদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— আবু মুহাম্মদ আল-বাতালইউসি, আবু আল-হাসান ইবনে সুবাইতাহ আদ-দানি, আবু মুহাম্মদ আল-কালানি এবং আরও অনেকে।তাঁর চমৎকার কাব্য ও উত্তম রচনাবলি রয়েছে। তিনি পাঁচশ ছেচল্লিশ হিজরি সনে আলেকজান্দ্রিয়ায় আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং আমার কাছে অনেক পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি আমার নিকট থেকে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় লিখে নিয়েছেন। এরপর তিনি হিজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।৯০ - তাঁর কবিতাসমূহের মধ্য থেকে আবু আব্বাস আহমদ ইবনে মা'দ ইবনে ঈসা ইবনে ওয়াকিল আত-তুজিবি আল-আন্দালুসি আমাকে নিজের রচিত এই কবিতাটি শুনিয়েছেন এবং স্বহস্তে আমার জন্য লিখে দিয়েছেন—(আমার জন্য এটাই সংগত ছিল যে আমি অন্যকে নসিহত করব না … যতক্ষণ আমি নিজের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে মুক্ত হতে পারিনি।)(তবে আমার রব আল্লাহর রহমতের উসিলায় … আমি আশা করি যেন তিনি আমাকে প্রতিটি কল্যাণ দান করেন।) // আল-খাফিফ ছন্দ //তিনি তাঁর নিজের রচিত আরও একটি কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন—(তাঁর চোখের মণি থেকে অশ্রুধারা ঝরছে … ফলে তুমি তাঁর গালে সেই অশ্রুর চিহ্ন দেখতে পাচ্ছ।)(কখনো কখনো তা তাঁর হৃদয়ের রক্তের সাথে এমনভাবে মিশে যায় … যেন মনে হয় অশ্রু প্রতিশোধ কামনা করছে।) // আল-কামিল ছন্দ //
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
91 - سَمِعت أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْأَمِيرِ الزَّرْهُونِيَّ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ يَقُولُ رُئِيَ الْعُتْبِيُّ فِي يَوْمٍ صَايِفٍ وَهُوَ يَتَفَصَّدُ عَرَقًا فَسُئِلَ عَنْ حَالِهِ فَقَالَ(حَوَائِجُ إِخْوَانٍ أُرِيدُ قَضَاءَهَا … كَأَنِّي إِذا لم أقضهن مَرِيض) // الطَّوِيل //وَأَنْشَدَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ لِأَبِي الْفَضْلِ جَعْفَرِ بْنِ الطَّيِّبِ الصَّقَلِّيُّ(قُلْتُ لَمَّا لَمْ أَجِدْ لِي … فِي صِفَاتِ الْحُبِّ صِدْقَا)(خَابَ مَنْ كَانَ مُحِبًّا … فَحَبِيبٌ لَيْسَ يَبْقَى) // الرمل //قَالَ وَزَرْهُونُ جَبَلٌ بِقُرْبِ فَاسٍ فِيهِ أُمَّةٌ لَا يُحْصِي عَدَدَهُمْ إلَّا الَّذِي خَلَقَهُمْ92 - أَبُو الْعَبَّاسِ الزَّرْهُونِي هَذَا مِنْ فُقَهَاءِ مِكْنَاسَةِ الزَّيْتُونِ بِالْعَدْوَةِ مِنْ أَرْضِ الْمَغْرِبِ وَكَذَاكَ أَبُوهُ وَجَدُّهُ حَافِظٌ لِمَذْهَبِ مَالِكٍ وَكَانَ أَبُو يُوسُفَ الزَّنَاتِيُّ يُثْنِي عَلَيْهِ وَيَصِفُهُ بِالْحِفْظِ قَدِمَ الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ حَاجًّا فَأَقَامَ بِهَا مُدَّةً وَقَرَأَ عَلَيَّ كَثِيرًا مِنَ الْحَدِيثِ وَكتب سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَخَمْسمِائة وَمِنْ جُمْلَةِ ذَلِكَ كِتَابُ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ لِأَبِي جَعْفَرٍ النَّحَّاسِ وَغَرِيبُ الْقُرْآنِ لِابْنِ عُزَيْرٍ وَمُسْنَدُ الْمُؤَطَّأِ لِلْجَوْهَرِيِّ وَشَرْحُ غَرِيبِ الْمُوَطَّأِ لِلْأَخْفَشِ93 - أَنْشَدَنِي أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَوْثَرٍ الْمُحَارِبِيُّ الْغَرْنَاطِيُّ بِدِيَارِ مِصْرَ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَلَفٍ النَّحْوِيُّ لِنَفْسِهِ بِالْأَنْدَلُسِ فِي كِتَابِ الْإِيضَاحِ لِأَبِي عَلَيٍّ الْفَارِسِيِّ النَّحْوِيِّ(أَضِعِ الْكَرَى لِتَحَفُّظِ الْإِيضَاحِ … وَصِلِ الْغُدُوَّ لِفَهْمِهِ بِرَوَاحِ)
৯১ - আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আলী বিন আল-আমীর আজ-জারহুনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, এক গ্রীষ্মের দিনে আল-উতবিকে দেখা গেল যে তার শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন:(ভাইদের প্রয়োজনসমূহ যা আমি পূরণ করতে চাই … মনে হয় যেন আমি অসুস্থ যদি তা পূরণ না করি) // আত-তউীল //এবং আবুল আব্বাস আমাকে আবুল ফজল জাফর বিন আত-তৈয়িব আস-সাক্বাল্লির রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন:(আমি বললাম যখন আমি ভালোবাসার গুণাবলীতে … কোনো সত্যতা খুঁজে পেলাম না)(সেই ব্যক্তি ব্যর্থ হলো যে প্রেমিক হলো … কারণ এমন এক প্রিয়তম যে চিরস্থায়ী নয়) // আর-রামাল //তিনি বললেন, জারহুন হলো ফাসের নিকটবর্তী একটি পাহাড়, যেখানে এমন এক বিশাল জনগোষ্ঠী বাস করে যাদের সংখ্যা তাদের সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারে না।৯২ - এই আবুল আব্বাস আজ-জারহুনী মরক্কো ভূখণ্ডের উপকূলীয় মিকনাসাতুজ জাইতুনের ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অনুরূপভাবে তার পিতা ও দাদাও মালেকী মাযহাবের হাফেজ (বিশারদ) ছিলেন। আবু ইউসুফ আজ-জানাতী তার প্রশংসা করতেন এবং তাকে প্রখর হেফজ শক্তির অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করতেন। তিনি হাজি হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আগমন করেন এবং সেখানে এক সময় অবস্থান করেন। তিনি আমার কাছে প্রচুর হাদিস পাঠ করেছেন এবং পাঁচশ তেত্রিশ হিজরি সনে বেশ কিছু কিতাব অনুলিপি করেছেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল আবু জাফর আন-নাহহাসের 'কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ', ইবনে উযাইরের 'গারিবুল কুরআন', জওহরীর 'মুসনাদুল মুওয়াত্তা' এবং আখফাশের 'শারহু গারিবিল মুওয়াত্তা'।৯৩ - আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কাওসার আল-মুহারিবী আল-গারনাতি মিসর দেশে আমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন খালাফ আন-নাহবী আন্দালুসে আবু আলী আল-ফারিসি আন-নাহবীর 'কিতাবুল ঈদ্বাহ' সম্পর্কে স্বরচিত এই কবিতাটি আমাদের শুনিয়েছেন:(আল-ঈদ্বাহ মুখস্থ করার জন্য তোমার নিদ্রা ত্যাগ করো … এবং এটি অনুধাবনের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরাম চেষ্টা করো)
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
(هُوَ بُغْيَةُ الْمُتَعَلِّمِينَ وَمَنْ بَغَى … حَمْلَ الْكِتَابِ يَلِجْهُ بِالْمِفْتَاحِ)(لِأَبي عَلِيٍّ فِي الْكِتَابِ إِمَامَةٌ … شَهِدَ الرُّوَاةُ لَهَا بِفَوْزِ قِدَاحِ)(يُفْضِي عَلَى أَسْرَارِهِ بِنَوَافِذٍ … مِنْ عِلْمِهِ بَهَرَتْ قُوَى الْأَمْدَاحِ)(فَيُخَاطِبُ الْمُتَعَلِّمِينَ بِلَفْظِهِ … وَيَحُلُّ مُشْكِلَهُ بِوَمْضَةِ وَاحِ)(مَضَتِ الْعُصُورُ وَكُلُّ نَحْوٍ ظُلْمَةٌ … وَأَتَى فَكَانَ النَّحْوُ ضَوْءَ صَبَاحِ)(أُوصِي ذَوِي الْإِعْرَابِ أَنْ يَتَذَاكَرُوا … بِحُرُوفِهِ فِي الصُّحُفِ وَالْأَلْوَاحِ)(فَإِذَا هُمُ سَمِعُوا النَّصِيحَةَ أَنْجَحُوا … إِنَّ النَّصِيحَة غبها لنجاح) // الْكَامِل //94 - ابْنُ كَوْثَرٍ هَذَا كَانَ مِنْ أَعْيَانِ أَهْلِ غَرْنَاطَةَ وَمُمَوِّلِيهَا بِالْأَنْدَلُسِ قَدِمَ الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ بَعْدَمَا جَرَى عَلَى بَلَدِهِ مَا يَجِلُّ عَنِ الْوَصْفِ مِنَ الْقَتْلِ وَالنَّهْبِ وَخَرَابِ أَمْلَاكِهِ وَذَهَابِ أَمْوَالِهِوَرَأَيْتُ لَهُ مَعْرِفَةً جَيِّدَةً بِالنَّحْوِ وَكَتَبَ عَنِّي شَيْئًا يَسِيرًا مِنَ الْحَدِيثِ ثُمَّ تَوَجَّهَ إِلَى الْحِجَازِ بِنِيَّةِ الْإِقَامَةِ إِلَى حِينِ الْوَفَاةِ فَبَلَغَنِي أَنَّهُ تُوُفِّيَ بِمصْر سنة خمس وَخمسين وَخَمْسمِائة بَعْدَ أَنْ حَجَّ وَزَارَ رحمه الله وَإِيَّانَا إِذَا صِرْنَا إِلَى مَا صَارَ إِلَيْهِ95 - سَمِعت أَبَا الْفَرَجِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدِ بْنِ وَرْدَةَ النُّهَاوَنْدِيَّ بِنُهَاوَنْدَ يَقُولُ سَمِعت أَبَا الْفَتْحِ الْمُظَفَّرَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الدَّرْبِيَّ يَقُولُ سَمِعت أَبَا عِمْرَانَ مُوسَى بْنَ جَعْفَرِ بْنِ مُوسَى الكازريني بِكَارَزِينَ يَقُولُ سَمِعت أَبَا الْحَسَنِ عَلِيَّ بْنَ جَعْفَرٍ السِّيرَوَانِيَّ يَقُولُ لَيْسَ لِلْمُرِيدِ فِي تَرْكِهِ الدُّنْيَا شَرَفٌ وَإِنَّمَا شَرَفُهُ فِي تَرْكِهِ نَفْسَهُ96 - أَبُو الْفَرَجِ هَذَا مِنْ أَجِلَّاءِ شُيُوخِ قُهُسْتَانَ فِي عَصْرِهِ سَافَرَ وَصَحِبَ الشُّيُوخَ وَسَمِعَ الْحَدِيثَ وَلَازَمَ بَعْدَ ذَلِكَ زَاوِيَتَهُ سِنِينَ فَصَارَ عَلَمًا فِي التَّصَوُّفِ يُرْحَلُ إِلَيْهِ وَتُؤْخَذُ مِنْ يَدِهِ الْمُرَقَّعَةَ وَيُتَبَرَّكُ بِهِ.سَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ فِي سنة سِتّ عَشَرَةٍ أَوْ سَبْعَ عَشْرَةَ أَوْ ثَمَان عشرَة وَأَرْبَعمِائَة.قَالَ وَسمعت الْحَدِيثَ بِمَكَّةَ عَلَى كريه وَأَبِي عَلِيٍّ
(তিনি শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা এবং যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে … কিতাবটি বহন করতে, সে চাবিকাঠি দিয়ে তাতে প্রবেশ করে)(কিতাবের ক্ষেত্রে আবু আলীর রয়েছে ইমামত … বর্ণনাকারীরা যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন)(তিনি এর রহস্যগুলোকে উন্মোচিত করেন এমন সব বাতায়ন দিয়ে … তাঁর সেই জ্ঞান প্রশংসার শক্তিকেও অভিভূত করেছে)(তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্বোধন করেন … এবং এর জটিলতা সমাধান করেন এক লহমার দ্যুতিতে)(যুগের পর যুগ অতিবাহিত হয়েছে যখন ব্যাকরণ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন … অতঃপর তিনি এলেন এবং ব্যাকরণ হলো ভোরের আলো)(আমি ব্যাকরণবিদদের উপদেশ দিই যেন তারা এটি নিয়ে আলোচনা করে … পাণ্ডুলিপি ও ফলকের পাতায় এর প্রতিটি অক্ষর নিয়ে)(অতঃপর যদি তারা এই উপদেশ শোনে তবে তারা সফল হবে … নিশ্চয়ই উপদেশের পরিণাম হলো সফলতা) // আল-কামিল ছন্দ //৯৪ - এই ইবনে কাওসার আন্দালুসের গ্রানাডার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধনাঢ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় এসেছিলেন তাঁর শহরের ওপর দিয়ে অবর্ণনীয় হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন, স্থাবর সম্পত্তি ধ্বংস এবং ধন-সম্পদ বিলীন হওয়ার ভয়াবহ ঘটনার পর।আমি ব্যাকরণশাস্ত্রে তাঁর উত্তম ব্যুৎপত্তি দেখেছি এবং তিনি আমার নিকট থেকে সামান্য কিছু হাদীস লিখে নিয়েছিলেন। এরপর তিনি আমৃত্যু অবস্থানের নিয়তে হিজাজের অভিমুখে রওয়ানা হন। পরবর্তীতে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছে যে, তিনি হজ ও যিয়ারত সম্পন্ন করার পর ৫৫৫ হিজরিতে মিসরে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের ওপরও, যখন আমরা সেই অবস্থায় উপনীত হব যে অবস্থায় তিনি উপনীত হয়েছেন।৯৫ - আমি নিহাওয়ান্দে আবুল ফারাজ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে সা'দ ইবনে ওয়ারদাহ আন-নিহাওয়ান্দীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল ফাতহ আল-মুজাফফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আদ-দারবিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কারজিনে আবু ইমরান মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুসা আল-কারজিনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান আলী ইবনে জাফর আস-সীরওয়ানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "মুরীদ (পথপ্রার্থী) দুনিয়া ত্যাগের মধ্যে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, বরং তার শ্রেষ্ঠত্ব হলো নিজ নফস (প্রবৃত্তি) ত্যাগের মধ্যে।"৯৬ - এই আবুল ফারাজ তাঁর সমকালীন কুহিস্তানের সুমহান শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন, বড় বড় শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং হাদীস শ্রবণ করেছেন। এরপর তিনি দীর্ঘ বছর নিজ খানকাহে অবস্থান করেন, ফলে তিনি তাসাউফের এমন এক প্রতীকে পরিণত হন যার কাছে মানুষ সফর করে আসত, তাঁর হাত থেকে খিরকা (তালিযুক্ত পোশাক) গ্রহণ করত এবং তাঁর মাধ্যমে বরকত হাসিল করত।আমি তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: ৪১৬ অথবা ৪১৭ অথবা ৪১৮ হিজরিতে।তিনি বলেন: আমি মক্কায় কারীহ্ এবং আবু আলীর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মুজামুস সাফার
(পৃষ্ঠা: ٤١)
الشَّافِعِيِّ وَسَعْدٍ الزَّنْجَانِيِّ وَهَيَّاجٍ وَآخَرِينَ وَشَيْخِي فِي التَّصَوُّفِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ حَفِيدُ أَبِي الْعَبَّاسِ النُّهَاوَنْدِيِّ وَقَدِ اقْتَدَى هُوَ بِأَبِي الْخَيْرِ الْحَبَشِيِّ بِفَارِسٍ قَالَ وَقَدْ صَحِبْتُ أَبَا سَعِيدٍ أَخَاهُ وَشَيْخه أَبُو مَنْصُورٍ الْمَعْرُوفَ بِأَمِيرِ خُرَاسَانَ وَالْحَسَنَ بْنَ دَلَّانَ الْأَشْتَرِيَّ وَعَلِيَّ بْنَ شَنْبَةَ الْكَرَجِيَّ وَعَبْدَ الْعَزِيزِ الْأَسَدَابَاذِيَّ وَأَحْمَدَ بْنَ رَاشِدٍ الْكَرَجِيَّ شَيْخَ الْحَرَمِ وَدَخَلْتُ الْيَمَنَ وَالْيَمَامَةَ وَالْبَحْرَيْنِ وَبَغْدَادَ وَالْبَصْرَةَ وَوَاسِطَ وَمُدُنِ خَوْزَسْتَانَ وَصَحِبْتُ شُيُوخَهَا وَعَدَدْتُ أَنَا وَنَصْرٌ الدَّبُّوسِيُّ الْمَشَائِخَ الَّذِينَ رَأَيْنَاهُمْ بِمَكَّةَ فَبَلَغَ عَدَدُهُمْ ثَمَانِيَةً وَعِشْرِينَ يَصْلُحُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَنْ يَكُونَ مُقْتَدَى إِقْلِيمٍ.97 - أَنْشَدَنِي الْقَاضِي أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْعَلَاءِ الْمِيمَذِيُّ بِأَهْرَ مِنْ مُدُنِ أَذْرَبِيجَانَ لِنَفْسِهِ(وَقَائِلَةٍ أَتُبْغِضُ أَهْلَ آبَهْ … وَهُمْ أَعْلَامُ نَظْمٍ وَالْكِتَابَهْ)(فَقُلْتُ إِلَيْكِ عَنِّي إِنَّ مِثْلِي … يُعَادِي كُلَّ من عادى الصَّحَابَة) // الوافر //98 - أَبُو نَصْرٍ هَذَا كَانَ مِنْ فُضَلَاءِ أَذْرَبِيجَانَ عَرِيضُ الْجَاهِ عَرِيقُ الرِّيَاسَةِ وَقَدْ عَلَّقْتُ عَنْهُ فَوَائِدَ وَسُكْنَاهُ وَرَاوِي مَدِينَةٌ قَرِيبَةٌ مِنْ أَهْرَ.99 - أَنْشَدَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَسَنٍ الْخَزْرَجِيُّ الْبَلَنْسِيُّ بِالثَّغْرِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَلَّبِ الْكَاتِبُ الْمُرْسِيُّ بِالْأَنْدَلُسِ لِخَلَفِ بْنِ فَرَجٍ اللَّبِيرِيِّ الْمَعْرُوفِ بِالسُّمَيْسَرِ الشَّاعِرِ(بَلَنْسِيَةُ بَلْدَةٌ جَنَّةٌ … وَفِيهَا عُيُوبٌ مَتَى تُخْتَبَرْ)(فَخَارِجُهَا زَهَرٌ كُلُّهُ … وَدَاخِلُهَا بِرَكٌ مِنْ قَذَرْ) // المتقارب //100 - أَبُو بَكْرٍ هَذَا مِنْ أَعْيَانِ بَلْدَةِ بَلَنْسِيَةَ مِنْ مُدُنِ الْأَنْدَلُسِ وَمِنْ كِبَارِ كُتَّابِهَا وَتُنَّاءِهَا قَدِمَ عَلَيْنَا الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ حَاجًّا سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَخَمْسمِائة وَسَمِعَ عَلَيَّ كَثِيرًا
শাফিয়ী, সাদ আয-যানজানী, হাইয়্যাজ এবং অন্যান্যদের থেকে। তাসাউউফে আমার শায়খ আবুল হাসান আলী বিন তাহির, যিনি আবুল আব্বাস আন-নাহাওয়ান্দীর পৌত্র; তিনি পারস্যে আবুল খায়ের আল-হাবাশীর অনুসরণ করতেন। তিনি বলেন: আমি তার ভাই আবু সাঈদ এবং তার শায়খ আবু মনসুর—যিনি খুরাসানের আমির হিসেবে পরিচিত—এবং হাসান বিন দালান আল-আশতারী, আলী বিন শানবাহ আল-কারাজি, আবদুল আজিজ আল-আসাদাবাদি এবং মক্কার হারাম শরিফের শায়খ আহমদ বিন রাশিদ আল-কারাজির সান্নিধ্য লাভ করেছি। আমি ইয়েমেন, ইয়ামামাহ, বাহরাইন, বাগদাদ, বসরা, ওয়াসিত এবং খুযেস্তানের শহরগুলোতে প্রবেশ করেছি এবং সেখানকার শায়খদের সাহচর্য পেয়েছি। আমি এবং নাসর আদ-দাব্বুসী মক্কায় যে শায়খদের দেখেছি তাদের সংখ্যা গণনা করেছি, তাদের সংখ্যা আটাশ জনে পৌঁছেছে, যাদের প্রত্যেকেই একেকটি অঞ্চলের আদর্শ হওয়ার যোগ্য।৯৭ - আযারবাইজানের শহরগুলোর মধ্য হতে 'আহর' নামক স্থানের কাজি আবু নাসর আহমদ বিন আল-আলা আল-মিমাযী স্বরচিত এই কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন:(একজন প্রশ্নকারী বলল: আপনি কি আবাহ-বাসীদের ঘৃণা করেন... অথচ তারা তো কাব্য ও রচনার দিকপাল?)(আমি বললাম: তুমি আমার থেকে দূরে সরো! নিশ্চয়ই আমার মতো ব্যক্তি... তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে যারা সাহাবায়ে কিরামের শত্রুতা করে।)৯৮ - এই আবু নাসর আযারবাইজানের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি ছিলেন সুউচ্চ সম্মানের অধিকারী এবং আভিজাত্যময় নেতৃত্বের বংশধর। আমি তার থেকে অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা লিপিবদ্ধ করেছি। তার বাসস্থান ছিল 'রাওয়ী' নামক একটি শহর যা 'আহর'-এর নিকটবর্তী।৯৯ - আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান আল-খাযরাজী আল-বালানসিয়ী আমাকে সীমান্ত শহরে এই কবিতা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দালুসের মুরসিয়ার লেখক আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-মুহাল্লাব আমাকে খালাফ বিন ফারাজ আল-লাবীরীর এই কবিতাটি শুনিয়েছেন, যিনি 'সুমাইসির কবি' হিসেবে পরিচিত:(বালানসিয়াহ একটি জান্নাতসম শহর... তবে পরীক্ষা করলে তাতে অনেক ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।)(এর বহিরাঙ্গন পুরোটাই পুষ্পপল্লবে শোভিত... কিন্তু এর অভ্যন্তরে রয়েছে আবর্জনার ভাগাড়।)১০০ - এই আবু বকর আন্দালুসের শহরগুলোর অন্যতম বালানসিয়াহর এক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সেখানকার অন্যতম প্রধান লেখক ও বিত্তশালী ছিলেন। তিনি ৫৩৯ হিজরি সালে হজ্জের উদ্দেশ্যে আমাদের নিকট ইসকান্দারিয়ায় আগমন করেন এবং আমার নিকট থেকে অনেক কিছু শ্রবণ করেছেন।