(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: -)
ذكر من اختلف العلماء ونقاد الحديث فيه   (ابن شاهين)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: ذكر من اختلف العلماء ونقاد الحديث فيه

المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385 هـ)

المحقق: حماد بن محمد الأنصاري [ت 1418 هـ]

الناشر: مكتبة أضواء السلف - الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 113

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যাদের সম্পর্কে আলিমগণ এবং হাদীস সমালোচকগণ মতভেদ করেছেন তাদের আলোচনা   (ইবনে শাহীন)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: যাদের সম্পর্কে আলিমগণ এবং হাদীস সমালোচকগণ মতভেদ করেছেন তাদের আলোচনা

লেখক: আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ আল-বাগদাদী, যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হি)

গবেষক: হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারী [মৃত্যু ১৪১৮ হি]

প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াইস সালাফ - রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি - ১৯৯৯ খ্রি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر بِرَحْمَتك

 

قَالَ وَحدث القَاضِي الشريف أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بن عَليّ بن مُحَمَّد بن الْمُهْتَدي بِاللَّه إجَازَة عَن أبي حَفْص عمر بن أَحْمد بن عُثْمَان بن شاهين رحمه الله قَالَ

ذكر من اخْتلف الْعلمَاء ونقاد الحَدِيث فِيهِ فَمنهمْ من وَثَّقَهُ وَمِنْهُم من ضعفه وَمن قيل فِيهِ قَولَانِ بيّنت ذَلِك بالتراجم ليعرف إِن شَاءَ الله تَعَالَى

1 -

‌‌(ذكر أبان بن أبي عَيَّاش)

وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين بِإِسْنَادِهِ عَن شُعْبَة قَالَ لَوْلَا الْحيَاء من النَّاس مَا مَا صليت على أبان بن أبي عَيَّاش
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব, আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন।

 

তিনি বলেন: আল-কাদি আশ-শরিফ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন শাহিন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি বলেন:

এটি এমন ব্যক্তিদের আলোচনা যাদের সম্পর্কে আলিমগণ এবং হাদিস বিশারদগণ মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কাউকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন আবার কেউ তাকে দুর্বল বলেছেন। আর যাদের সম্পর্কে দুটি মতই বর্ণিত হয়েছে, আমি জীবনীর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছি যেন তা জানা যায়, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

1 -

(আবান বিন আবি আইয়াশ-এর আলোচনা)

এবং তাকে নিয়ে বিদ্যমান মতভেদ

ইবনে শাহিন তার সনদে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষের প্রতি লজ্জা না থাকলে আমি আবান বিন আবি আইয়াশের জানাজা পড়তাম না।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪০)
روى النَّضر بن شُمَيْل عَنهُ أَيْضا أَنه قَالَ لِأَن أقطع الطَّرِيق أحب إِلَيّ من أَن أروي عَن أبان

وَعَن عَليّ بن مسْهر قَالَ سَمِعت أَنا وَحَمْزَة الزيات من أبان بن أبي عَيَّاش نَحوا من ألف حَدِيث قَالَ فَأَخْبرنِي حَمْزَة أَنه رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَام فعرضها عَلَيْهِ فَمَا عرف مِنْهَا إِلَّا الْيَسِير خَمْسَة أَو أقل أَو أَكثر قَالَ فَتركت الحَدِيث عَنهُ

وَعَن أَحْمد بن حَنْبَل أَنه قَرَأَ عَلَيْهِ ابْنه عبد الله حَدِيث عباد بن عباد فَلَمَّا انْتهى إِلَى حَدِيث أبان بن أبي عَيَّاش قَالَ اضْرِب عَلَيْهَا

وَعَن يحيى بن معِين قَالَ أبان بن أبي عَيَّاش مَتْرُوك الحَدِيث

وَعَن ابْن عَائِشَة قَالَ قَالَ رجل لحماد بن سَلمَة يَا أَبَا سَلمَة تروي عَن أبان بن أبي عَيَّاش قَالَ وَمَا شَأْنه قَالَ إِن شُعْبَة لَا يرضاه قَالَ فأبان خير من شُعْبَة

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام من حَمَّاد بن سَلمَة فِي تَفْضِيل أبان على شُعْبَة فِيهِ إِسْرَاف شَدِيد وَلَيْسَ هَذَا الْكَلَام بمقبول شُعْبَة أفضل وأنقل وَأعلم
নাযর বিন শুমাইল তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, "আবান (বিন আবি আইয়াশ) থেকে হাদীস বর্ণনা করার চেয়ে ডাকাতি করাও আমার কাছে অধিক প্রিয়।"

আলী বিন মুশহির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি এবং হামযাহ আয-যাইয়াত আবান বিন আবি আইয়াশ থেকে প্রায় এক হাজার হাদীস শুনেছিলাম।" তিনি বলেন, "অতঃপর হামযাহ আমাকে জানালেন যে, তিনি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং তাঁর কাছে হাদীসগুলো পেশ করেছেন। তিনি (নবীজী) তার মধ্যে খুব সামান্যই—পাঁচটি বা তার কিছু কম-বেশি—চিনতে পেরেছিলেন।" তিনি (আলী) বলেন, "অতঃপর আমি তাঁর (আবান) থেকে হাদীস গ্রহণ করা ছেড়ে দিয়েছি।"

আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর সামনে আব্বাদ বিন আব্বাদের হাদীসগুলো পাঠ করছিলেন। যখন তিনি আবান বিন আবি আইয়াশের হাদীসে পৌঁছালেন, তখন তিনি (আহমদ) বললেন, "এগুলো কেটে দাও।"

ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আবান বিন আবি আইয়াশ পরিত্যক্ত (মাতরুক) হাদীস বর্ণনাকারী।"

ইবনে আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হাম্মাদ বিন সালামাহকে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আবু সালামাহ! আপনি কি আবান বিন আবি আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেন?" তিনি বললেন, "তাঁর সমস্যা কী?" সে ব্যক্তি বলল, "শু'বাহ তাঁকে পছন্দ করেন না।" তিনি (হাম্মাদ) বললেন, "আবান তো শু'বাহর চেয়েও উত্তম।"

আবু হাফস বলেন, "হাম্মাদ বিন সালামাহর এই উক্তি—শু'বাহর ওপর আবানকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা—চরম বাড়াবাড়ি। তাঁর এই কথা গ্রহণযোগ্য নয়; শু'বাহ (আবানের চেয়ে) অধিক শ্রেষ্ঠ, বর্ণনায় অধিক নির্ভরযোগ্য এবং অধিক জ্ঞানী।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقد روى عَن أبان نبلاء الرِّجَال فَمَا نَفعه ذَلِك وَلَا يعْتَمد على شَيْء من رِوَايَته إِلَّا مَا وَافقه عَلَيْهِ غَيره وَمَا تفرد بِهِ من حَدِيث فَلَيْسَ عَلَيْهِ عمل

مِمَّن روى عَنهُ من الثِّقَات

سُفْيَان الثَّوْريّ وَحَمَّاد بن سَلمَة والفضيل بن عِيَاض وطالب بن حُجَيْر ومهدي بن هِلَال الرَّاسِبِي والماضي بن مُحَمَّد والخليل بن مرّة ومطرف بن طريف وَحَمْزَة بن حبيب الزيات وسابق بن عبد الله الْبَرْبَرِي وَأَبُو حنيفَة وَأَبُو يُوسُف يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم القَاضِي وَمُحَمّد بن جحادة ومُوسَى بن خلف وَسَعِيد بن بشير وَنَافِع بن يزِيد وَزِيَاد بن سعد ومغيرة السراج وَدَاوُد بن الزبْرِقَان وَإِسْمَاعِيل بن عَيَّاش ومصاد بن عقبَة وَهِشَام بن الْغَاز وَأَبُو إِسْحَاق الْفَزارِيّ وَهياج بن بسطَام وَزفر بن الْهُذيْل وجعفر الْأَحْمَر وَأَبُو عُبَيْدَة مجاعَة بن الزبير

2 - أَسد بن عَمْرو البَجلِيّ قَاضِي وَاسِط وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين بِإِسْنَادِهِ عَن يزِيد بن هَارُون أَنه قَالَ لَا تحل الرِّوَايَة عَنهُ

وَعَن عُثْمَان بن أبي شيبَة أَنه قَالَ هُوَ وَالرِّيح سَوَاء لَا شَيْء فِي
আবান থেকে অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিগণ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা তাকে কোনো উপকৃত করেনি। তার বর্ণনার কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করা হয় না, কেবল সেই অংশ ব্যতীত যাতে অন্য কেউ তার সাথে একমত হয়েছে। আর তিনি এককভাবে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তার ওপর কোনো আমল নেই।

যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:

সুফিয়ান আস-সাওরি, হাম্মাদ বিন সালামাহ, আল-ফুজাইল বিন ইয়াজ, তালিব বিন হুজাইর, মাহদি বিন হিলাল আল-রাসিবি, আল-মাদি বিন মুহাম্মদ, আল-খালিল বিন মুররাহ, মুতাররিফ বিন তারিফ, হামযাহ বিন হাবিব আল-যাইয়াত, সাবিক বিন আব্দুল্লাহ আল-বারবারি, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আল-কাদি, মুহাম্মদ বিন জুহাদাহ, মুসা বিন খালাফ, সাঈদ বিন বশির, নাফি বিন ইয়াযিদ, যিয়াদ বিন সাদ, মুগিরাহ আস-সাররাজ, দাউদ বিন আল-যাবরিকান, ইসমাইল বিন আইয়াশ, মুসাদ বিন উকবাহ, হিশাম বিন আল-গায, আবু ইসহাক আল-ফাযারি, হাইয়াজ বিন বাসতাম, যুফার বিন আল-হুযাইল, জাফর আল-আহমার এবং আবু উবাইদাহ মুজাআহ বিন আল-যুবাইর।

২ - আসাদ বিন আমর আল-বাজালি, ওয়াসিতের বিচারক এবং তার ব্যাপারে যে মতভেদ বিদ্যমান।

ইবনে শাহীন তার সনদসহ ইয়াযিদ বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়।

এবং উসমান বিন আবু শাইবাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: সে এবং বাতাস সমান; তার মাঝে (বর্ণনার ক্ষেত্রে) কোনো সারবস্তু নেই।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪২)
الحَدِيث إِنَّمَا كَانَ يبصر الرَّأْي

وَقَالَ مُحَمَّد بن عبد الله بن عمار الْموصِلِي أَسد بن عَمْرو البَجلِيّ صَاحب رَأْي لَا بَأْس بِهِ

قَالَ أَبُو حَفْص وَلَيْسَ كَلَام مُحَمَّد بن عبد الله بن عمار بتزكيته حجَّة على قَول يزِيد بن هَارُون لِأَن يزِيد بن هَارُون وَعُثْمَان بن أبي شيبَة أعلم بأسد بن عَمْرو من ابْن عمار لِأَن ابْن عمار موصلي وَيزِيد بن هَارُون واسطي وَعُثْمَان بن أبي شيبَة كُوفِي فهما أعلم بِهِ وَيزِيد بن هَارُون فِي الطَّبَقَة الْعليا على ابْن عمار وَقَوله لَا بَأْس بِهِ لَيْسَ مثل قَول يزِيد لَا تحل الرِّوَايَة عَنهُ

3 - جَابر الْجعْفِيّ وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن عبد الرَّحْمَن بن مهْدي قَالَ سَمِعت سُفْيَان الثَّوْريّ
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কেবল রায়ের (নিজস্ব বিচারবুদ্ধি) অনুসরণ করতেন।

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আল-মাওসিলি বলেছেন, আসাদ বিন আমর আল-বাজালি রায়-পন্থী ছিলেন, তবে তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

আবু হাফস বলেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মারের প্রশংসাসূচক বক্তব্য ইয়াজিদ বিন হারুনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ ইয়াজিদ বিন হারুন এবং উসমান বিন আবু শায়বাহ আসাদ বিন আমর সম্পর্কে ইবনে আম্মারের তুলনায় অধিক অবগত ছিলেন। কেননা ইবনে আম্মার ছিলেন মাওসিলি, অন্যদিকে ইয়াজিদ বিন হারুন ছিলেন ওয়াসিতি এবং উসমান বিন আবু শায়বাহ ছিলেন কুফি, ফলে তারা তার সম্পর্কে অধিক বিজ্ঞ। তদুপরি ইয়াজিদ বিন হারুন স্তরের দিক থেকে ইবনে আম্মারের অনেক ঊর্ধ্বে। আর তার (ইবনে আম্মারের) উক্তি 'তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই'—ইয়াজিদের উক্তি 'তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয়'-এর সমতুল্য হতে পারে না।

৩ - জাবির আল-জু'ফি এবং তাকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান মতভেদ।

ইবনে শাহিন বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুর রহমান বিন মাহদি বলেছেন, আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
يَقُول مَا رَأَيْت أحدا أورع فِي الحَدِيث من جَابر وَلَا مَنْصُور

وَعَن سَلام بن أبي مُطِيع أَنه قَالَ قَالَ لي جَابر الْجعْفِيّ عِنْدِي خَمْسُونَ ألف حَدِيث من الْعلم مَا حدثت بِهِ أحدا فَذكرت ذَلِك لأيوب فَقَالَ أما الْآن فَهُوَ كَاذِب

وَعَن زَائِدَة أَنه قَالَ كَانَ جَابر الْجعْفِيّ كذابا يُؤمن بالرجعة

وَعَن أبي حنيفَة أَنه قَالَ مَا رَأَيْت أحدا أكذب من جَابر وَلَا أفضل من عَطاء

وَعَن يحيى بن معِين أَنه قَالَ جَابر الْجعْفِيّ لَا يكْتب حَدِيثه وَلَا كَرَامَة

وَقَالَ يحيى مرّة أُخْرَى جَابر الْجعْفِيّ لَيْسَ بِشَيْء

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذِه الرِّوَايَات فِي جَابر مُخْتَلفَة جدا
তিনি বলেন, আমি হাদিসের ক্ষেত্রে জাবির এবং মনসুরের চেয়ে অধিক পরহেজগার আর কাউকে দেখিনি।

সাল্লাম ইবনে আবি মুতি’ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: জাবির আল-জু’ফি আমাকে বললেন, "আমার কাছে ইলমের এমন পঞ্চাশ হাজার হাদিস আছে যা আমি কাউকে বর্ণনা করিনি।" আমি আইয়ুবের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, "এখন সে একজন মিথ্যাবাদী।"

যায়িদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, জাবির আল-জু’ফি একজন মিথ্যাবাদী ছিলেন এবং তিনি ‘রাজআহ’ (পুনরাবর্তন)-এ বিশ্বাস করতেন।

আবু হানিফাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি জাবিরের চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী এবং আতার চেয়ে উত্তম আর কাউকে দেখিনি।

ইয়াহইয়া ইবনে মা’ইন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, জাবির আল-জু’ফির হাদিস লেখা যাবে না এবং তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

ইয়াহইয়া অন্য এক সময় বলেন, জাবির আল-জু’ফি কিছুই নয়।

আবু হাফস বলেন, জাবির সম্পর্কে এই বর্ণনাগুলো অত্যন্ত ভিন্নধর্মী।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
يَقُول الثَّوْريّ لم أر أورع مِنْهُ فِي الحَدِيث

وَيَقُول أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ هُوَ كَذَّاب

وَيَقُول زَائِدَة وَأَبُو حنيفَة هُوَ كَذَّاب

وَيَقُول يحيى بن معِين كَذَلِك

وَأَقل مَا فِي أَمر هَذَا الرجل أَن يكون حَدِيثه لَا يحْتَج بِهِ إِلَّا أَن يروي حَدِيثا يُشَارِكهُ فِيهِ الثِّقَات فَإِذا انْفَرد هُوَ بِحَدِيث لم يعْمل بِهِ لتفضيل سُفْيَان لَهُ

4 - ذكر جَعْفَر بن سُلَيْمَان الضبعِي

روى ابْن شاهين أَن يحيى قَالَ فِي رِوَايَة يزِيد بن الْهَيْثَم عَنهُ جَعْفَر بن سُلَيْمَان الضبعِي ثِقَة يتشيع وَلَيْسَ بِهِ بَأْس

وَفِي رِوَايَة الْعَبَّاس بن مُحَمَّد عَنهُ أَنه قَالَ ثِقَة وَأَن يحيى بن سعيد كَانَ لَا يكْتب حَدِيثه

وَقَالَ مُحَمَّد بن عبد الله بن عمار هُوَ ضَعِيف

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف فِي جَعْفَر من ابْن عمار فِي ضعفه وَمن
সাওরি বলেন, হাদিসের ক্ষেত্রে আমি তার চেয়ে অধিক পরহেজগার কাউকে দেখিনি।

আইয়ুব সাখতিয়ানি বলেন, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী।

জায়িদাহ এবং আবু হানিফা বলেন, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনও অনুরূপ বলেছেন।

এই ব্যক্তির বিষয়ের ন্যূনতম অবস্থা হলো এই যে, তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না তিনি এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করেন যাতে নির্ভরযোগ্য রাবিগণও তার সাথে অংশীদার থাকেন। সুতরাং তিনি যখন কোনো হাদিস বর্ণনায় একক হয়ে যাবেন, তখন সুফিয়ান তাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেও তা আমলযোগ্য হবে না।

৪ - জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ি এর আলোচনা

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেন যে, ইয়াহইয়া (ইবনে মাঈন) তার থেকে ইয়াজিদ ইবনুল হাইসামের বর্ণনায় বলেছেন: জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ি নির্ভরযোগ্য, সে শিয়া মতাবলম্বী ছিল, তবে তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদের বর্ণনায় তার থেকে এসেছে যে, তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তার হাদিস লিখতেন না।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার বলেন, সে দুর্বল।

আবু হাফস বলেন, জাফরের ব্যাপারে ইবনে আম্মারের পক্ষ থেকে তার দুর্বলতার বিষয়ে এই মতভেদ এবং...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৫)
يحيى بن سعيد فِي تَركه لعِلَّة الْمَذْهَب لِأَنَّهُ يرْوى عَنهُ أَنه قيل لَهُ تَشْتُم أَبَا بكر وَعمر قَالَ شتما لَا وَلَكِن بغضا مَا شِئْت وَهُوَ أستاذ عبد الرَّزَّاق

وَقيل لعبد الرَّزَّاق مِمَّن أخذت التَّشَيُّع فَقَالَ من جَعْفَر بن سُلَيْمَان

وَمَا رَأَيْت من طعن فِي حَدِيثه إِلَّا مُحَمَّد بن عبد الله بن عمار الْموصِلِي

5 - أَبُو الْأَشْهب جَعْفَر بن الْحَارِث

روى ابْن شاهين أَن أَحْمد بن حَنْبَل قَالَ أَبُو الْأَشْهب واسْمه جَعْفَر من الثِّقَات
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ কর্তৃক তাকে বর্জনের কারণ ছিল মাযহাবগত ত্রুটি (শিয়া মতাদর্শ); কারণ তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কি আবু বকর ও উমরকে গালি দেন?" তিনি বললেন, "গালি নয়, বরং ঘৃণা যতটুকু চান।" তিনি ছিলেন আব্দুর রাজ্জাকের শিক্ষক।

আব্দুর রাজ্জাককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি শিয়া মতাদর্শ কার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন?" তিনি বললেন, "জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে।"

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি ব্যতীত অন্য কাউকে আমি তাঁর বর্ণিত হাদিসের বিষয়ে সমালোচনা করতে দেখিনি।

৫ - আবুল আশহাব জাফর ইবনুল হারিস

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন, আবুল আশহাব—যার নাম জাফর—তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَعَن ابْن معِين أَنه قَالَ أَبُو الْأَشْهب جَعْفَر بن الْحَارِث الْكُوفِي يروي عَنهُ مُحَمَّد بن يزِيد وَغَيره لَيْسَ حَدِيثه بِشَيْء

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف فِي جَعْفَر بن الْحَارِث من أَحْمد وَيحيى وهما إِمَامًا هَذَا الشَّأْن يُوجب الْوُقُوف فِيهِ حَتَّى تَجِيء شَهَادَة أُخْرَى لثالث مثلهمَا فينسب إِلَى مَا قَالَه الثَّالِث وَالله أعلم

6 - ذكر حَمَّاد بن نجيح وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن أَحْمد بن حَنْبَل قَالَ حَمَّاد بن نجيح ثِقَة مقارب فِي الحَدِيث روى عَنهُ وَكِيع وَأَبُو عُبَيْدَة الْحداد
ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, আবুল আশহাব জাফর বিন আল-হারিস আল-কুফি, তার থেকে মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, তার হাদিস ধর্তব্য নয়।

আবু হাফস বলেন, জাফর বিন আল-হারিস সম্পর্কে আহমাদ এবং ইয়াহইয়া-এর এই মতপার্থক্য—আর তারা দুজনেই এই শাস্ত্রের ইমাম—এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা আবশ্যক করে যতক্ষণ না তাদের মতো তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য পাওয়া যায়, অতঃপর সেই তৃতীয় ব্যক্তি যা বলবেন সেদিকেই সম্বন্ধ করা হবে। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

৬ - হাম্মাদ বিন নাজহি-এর আলোচনা এবং তাকে নিয়ে মতপার্থক্য।

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন, হাম্মাদ বিন নাজহি নির্ভরযোগ্য এবং হাদিসের ক্ষেত্রে কাছাকাছি মানের, তার থেকে ওয়াকি' এবং আবু উবাইদাহ আল-হাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَعَن يحيى بن معِين أَنه قَالَ ثِقَة

وَعَن عُثْمَان بن أبي شيبَة أَنه قَالَ حَمَّاد بن نجيح ضَعِيف لَيْسَ يروي عَنهُ أحد

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام وَالْخلاف فِي حَمَّاد بن نجيح مَقْبُول من أَحْمد وَيحيى لِأَنَّهُمَا إِذا اجْتمعَا فِي الرجل بقول وَاحِد فَالْقَوْل قَوْلهمَا وَهُوَ فِي عداد الثِّقَات وَلَا يرجع إِلَى قَول أحد مَعَهُمَا

7 - ذكر الْحجَّاج بن أَرْطَأَة وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن حَمَّاد بن زيد قَالَ قدم علينا جرير بن حَازِم من الْمَدِينَة فأتيناه فَقَالَ جرير حَدثنَا قيس بن سعد عَن حجاج بن أَرْطَأَة قَالَ فلبثنا مَا شَاءَ الله ثمَّ قدم علينا حجاج ابْن ثَلَاثِينَ أَو إِحْدَى وَثَلَاثِينَ يَعْنِي
এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, "নির্ভরযোগ্য।"

এবং উসমান বিন আবু শাইবাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, "হাম্মাদ বিন নাজীহ দুর্বল, তাঁর থেকে কেউ বর্ণনা করে না।"

আবু হাফস বলেন, হাম্মাদ বিন নাজীহ সংক্রান্ত এই বক্তব্য ও মতপার্থক্য আহমাদ ও ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য। কারণ তাঁরা যখন কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে একই মত পোষণ করেন, তখন তাঁদের বক্তব্যই চূড়ান্ত। তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের উপস্থিতিতে অন্য কারো মতামতের দিকে ফিরে যাওয়া হবে না।

৭ - হাজ্জাজ বিন আরত্বাত এবং তাঁকে নিয়ে মতপার্থক্যের উল্লেখ

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, হাম্মাদ বিন যায়েদ বলেছেন, জারীর বিন হাযিম মদিনা থেকে আমাদের নিকট আসলেন এবং আমরা তাঁর নিকট গেলাম। জারীর বললেন, কাইস বিন সাদ আমাদের নিকট হাজ্জাজ বিন আরত্বাত থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ যা চেয়েছিলেন আমরা সেভাবে অবস্থান করলাম, তারপর হাজ্জাজ ত্রিশ বা একত্রিশ বছর বয়সে আমাদের নিকট আসলেন—অর্থাৎ...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৮)
سنة فَرَأَيْت عَلَيْهِ من الزحام شَيْئا لم أره على حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان وَرَأَيْت مَطَرا الْوراق وَدَاوُد بن أبي هِنْد وَيُونُس بن عبيد جثاة على ركبهمْ يَقُولُونَ يَا أَبَا أَرْطَأَة مَا تَقول فِي كَذَا مَا تَقول فِي كَذَا

وَعَن يحيى بن معِين أَنه قَالَ الْحجَّاج بن أَرْطَاة كُوفِي صَدُوق وَلَيْسَ بِالْقَوِيّ

وَعنهُ أَنه سُئِلَ مرّة أُخْرَى عَنهُ فَقَالَ ضَعِيف

وَعَن زَائِدَة أَنه قَالَ اطرحوا حَدِيث أَرْبَعَة حجاج بن أَرْطَاة وَجَابِر وَحميد والكلبي

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام فِي حجاج ابْن أَرْطَاة من قبل زَائِدَة ابْن قدامَة عَظِيم
সে বছর আমি তাঁর নিকট এমন ভিড় দেখতে পেলাম যা আমি হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের কাছেও দেখিনি। আমি মাতার আল-ওয়াররাক, দাউদ ইবনে আবু হিন্দ এবং ইউনুস ইবনে উবাইদকে তাদের হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখলাম, তারা বলছিলেন: হে আবু আরতাহ, এ বিষয়ে আপনি কী বলেন? ওই বিষয়ে আপনি কী বলেন?

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ একজন কুফী, তিনি সত্যবাদী, তবে তিনি শক্তিশালী নন।

তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, অন্য একবার তাঁকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: দুর্বল।

জাইদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: চার ব্যক্তির হাদিস বর্জন করো: হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ, জাবির, হুমাইদ এবং আল-কালবী।

আবু হাফস বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ সম্পর্কে জাইদাহ ইবনে কুদামাহর এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুতর।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَقد وَافقه على ذَلِك يحيى بن معِين فِي أحد قوليه

وَأما مَا ذكره حَمَّاد بن زيد فِي حجاج وَنبهَ على مَا رأى عَلَيْهِ من الْعلمَاء يسألونه فَلَيْسَ بداخل فِي الرِّوَايَات لِأَنَّهُ حكى أَنه سمعهم يَقُولُونَ مَا تَقول فِي كَذَا يُرِيد الْفِقْه وَأَبُو حنيفَة فقد كَانَ من الْفِقْه على مَا لَا يدْفع من علمه فِيهِ وَلم يكن فِي الحَدِيث بالمرضي لِأَن للأسانيد نقادا فَإِذا لم يعرف الْإِنْسَان مَا يكْتب وَمَا يحدث بِهِ نسب إِلَى الضعْف وَالله أعلم بذلك

8 - ذكر الحكم بن ظهير وَالْخلاف فِيهِ

ذكر أَبُو حَفْص بن شاهين أَن يحيى بن معِين سُئِلَ عَن الحكم بن ظهير قَالَ لَيْسَ حَدِيثه بِشَيْء

وَقَالَ يحيى مرّة أُخْرَى يروي عَنهُ مَرْوَان يَقُول الحكم بن أبي خَالِد

وَعَن عُثْمَان بن أبي شيبَة أَنه قَالَ الحكم بن ظهير عِنْدِي صَدُوق وَلَيْسَ مِمَّن يحْتَج بِهِ وَكَانَ فِيهِ اضْطِرَاب وجفا النَّاس حَتَّى استقصي
আর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর দুই মতের একটিতে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

আর হাম্মাদ ইবনে যাইদ হাজ্জাজ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি আলেমদের তাঁকে প্রশ্ন করতে দেখে যা লক্ষ্য করেছেন, তা রেওয়ায়েতের (বর্ণনার) অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁদের বলতে শুনেছেন, "আপনি এই বিষয়ে কী বলেন?"—এর দ্বারা তিনি ফিকহ উদ্দেশ্য করেছেন। আর আবু হানিফা ফিকহের ক্ষেত্রে এমন পর্যায়ের অধিকারী ছিলেন যে তাঁর জ্ঞান অনস্বীকার্য, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি সন্তোষজনক ছিলেন না। কারণ সনদের ক্ষেত্রে পারদর্শী সমালোচক রয়েছেন। সুতরাং মানুষ যা লিখছে এবং যা বর্ণনা করছে সে সম্পর্কে যদি অবগত না থাকে, তবে তাকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়। আর আল্লাহই এই বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।

৮ - আল-হাকাম ইবনে যুহাইর এবং তাঁর সম্পর্কে মতভেদের আলোচনা।

আবু হাফস ইবনে শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে আল-হাকাম ইবনে যুহাইর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেন, "তার হাদিস কিছুই নয়।"

ইয়াহইয়া অন্য সময়ে বলেছেন, "মারওয়ান তাঁর থেকে বর্ণনা করেন এবং বলেন— আল-হাকাম ইবনে আবি খালিদ।"

উসমান ইবনে আবি শায়বা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, "আল-হাকাম ইবনে যুহাইর আমার নিকট সত্যবাদী, তবে তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন। তাঁর মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল এবং মানুষ তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, এমনকি তাঁকে বর্জন করা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫০)
قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام فِي الحكم بن ظهير قد اجْتمع عَلَيْهِ قَول من مدحه وَمن ذمه وَإِذا قَالَ من مدحه إِنَّه لَا يحْتَج بِهِ وَإِن فِي حَدِيثه اضطرابا فقد وَافق قَول يحيى بن معِين وَبِالْجُمْلَةِ فِي أمره أَنه لَا يدْخل فِي الصَّحِيح

9 - ذكر حميد بن زِيَاد أبي صَخْر وَالْخلاف فِيهِ

ذكر ابْن شاهين أَن أَحْمد بن حَنْبَل سُئِلَ عَنهُ فَقَالَ لَيْسَ بِهِ بَأْس

وَأَن يحيى بن معِين قَالَ هُوَ ضَعِيف

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف فِي حميد من أَحْمد وَيحيى يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ وَكَانَ حميد بن زِيَاد صَاحب علم بالتفسير وَلَيْسَ لَهُ حَدِيث كثير وَلَعَلَّ يحيى وقف من رِوَايَته على شَيْء أوجب هَذَا القَوْل فِيهِ وَالله أعلم
আবু হাফস বলেন, হাকাম ইবনে যুহাইর সম্পর্কে এই বক্তব্যটি তাঁর প্রশংসাকারী এবং নিন্দাকারীদের বক্তব্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে। আর যখন তাঁর প্রশংসাকারীরা বলেন যে, তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না এবং তাঁর হাদিসে বিভ্রান্তি রয়েছে, তখন তা ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। মোটের ওপর তাঁর ব্যাপারটি হলো, তিনি সহিহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নন।

৯ - হুমাইদ ইবনে যিয়াদ আবু সাখর-এর আলোচনা এবং তাঁকে নিয়ে মতভেদ

ইবনে শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, আহমদ ইবনে হাম্বলকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।"

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, "তিনি দুর্বল।"

আবু হাফস বলেন, হুমাইদ সম্পর্কে আহমদ এবং ইয়াহইয়ার এই মতভেদ তাঁর ব্যাপারে স্থগিতাদেশ বা নিরবতা অবলম্বন (তাওয়াক্কুফ) করাকে আবশ্যক করে। হুমাইদ ইবনে যিয়াদ তাফসির শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সম্ভবত ইয়াহইয়া তাঁর বর্ণনার এমন কিছু জানতে পেরেছিলেন যা তাঁর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করাকে আবশ্যক করেছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫১)
10 - ذكر خَالِد بن يزِيد بن أبي مَالك وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن أَحْمد بن صَالح وَثَّقَهُ

قيل لِأَحْمَد فَخَالِد بن يزِيد بن صبيح كَأَنَّهُ أرفع من هَؤُلَاءِ وأنبل فَشد أَحْمد يَده وَقَالَ نعم

وَعَن أَحْمد بن حَنْبَل أَنه قَالَ خَالِد بن يزِيد ثِقَة
১০ - খালিদ বিন ইয়াজিদ বিন আবু মালিক এবং তার বিষয়ে মতভেদের আলোচনা

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমদ বিন সালেহ তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন করেছেন।

আহমদকে বলা হলো, খালিদ বিন ইয়াজিদ বিন সাবিহ যেন এদের চেয়ে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং অধিকতর শ্রেষ্ঠ? তখন আহমদ তার হাত শক্ত করলেন এবং বললেন, হ্যাঁ।

এবং আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, খালিদ বিন ইয়াজিদ নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫২)
قَالَ أَبُو حَفْص وَلَا أَدْرِي أَرَادَ أَحْمد بن حَنْبَل خَالِد بن يزِيد بن أبي مَالك أَو خَالِد بن يزِيد بن صبيح

وَعَن يحيى بن معِين أَنه قَالَ خَالِد بن يزِيد بن أبي مَالك لَيْسَ بِشَيْء كَذَا قَالَ فِي رِوَايَة الْعَبَّاس بن مُحَمَّد عَنهُ

وَقَالَ فِي رِوَايَة الْمفضل بن غَسَّان عَنهُ خَالِد بن يزِيد بن عبد الرَّحْمَن ابْن أبي مَالك يحدث عَن أَبِيه عَن جده هَانِئ أبي مَالك الْهَمدَانِي فضعف يحيى هَذَا الشَّيْخ

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام فِي خَالِد بن أبي مَالك يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ لِأَن أَحْمد بن حَنْبَل وَأحمد بن صَالح إِذا اجْتمعَا على مدح رجل لم يجز أَن يذم بِضعْف وَالله أعلم

11 - ذكر الْخَلِيل بن مرّة وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن أَحْمد بن حَنْبَل سُئِلَ عَن الْخَلِيل بن مرّة فَقَالَ ثِقَة
আবু হাফস বলেন, আমি জানি না যে আহমাদ ইবন হাম্বল এর দ্বারা খালিদ ইবন ইয়াযিদ ইবন আবি মালিককে উদ্দেশ্য করেছেন নাকি খালিদ ইবন ইয়াযিদ ইবন সাবিহকে।

আর ইয়াহইয়া ইবন মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, "খালিদ ইবন ইয়াযিদ ইবন আবি মালিক উল্লেখযোগ্য কিছু নন"। আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনায় এরূপই বলেছেন।

আর মুফাদদাল ইবন গাসসান তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনায় বলেছেন যে, খালিদ ইবন ইয়াযিদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবি মালিক তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা হানি আবি মালিক আল-হামদানি থেকে বর্ণনা করেন। অতঃপর ইয়াহইয়া এই শাইখকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

আবু হাফস বলেন, খালিদ ইবন আবি মালিক সম্পর্কে এই বক্তব্যটি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরতি (তাওয়াক্কুফ) অবলম্বন করাকে আবশ্যক করে। কেননা আহমাদ ইবন হাম্বল এবং আহমাদ ইবন সালিহ যখন কোনো ব্যক্তির প্রশংসার ব্যাপারে একমত হন, তখন তাকে দুর্বলতা দিয়ে অভিযুক্ত করা বৈধ নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

১১ - খলিল ইবন মুররাহ-এর আলোচনা এবং তাঁর সম্পর্কে বিদ্যমান মতভেদ

ইবন শাহিন বর্ণনা করেছেন যে, আহমাদ ইবন হাম্বলকে খলিল ইবন মুররাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৩)
مَا رَأَيْت أحدا يتَكَلَّم فِيهِ وَرَأَيْت حَدِيثه عَن قَتَادَة وَيحيى بن أبي كثير صحاحا وَإِنَّمَا اسْتغنى عَنهُ البصريون لِأَنَّهُ كَانَ خاملا وَلم أر أحدا تَركه

وَعَن يحيى بن معِين أَنه ذمّ الْخَلِيل بن مرّة

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف فِي الْخَلِيل بن مرّة يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ لِأَن الْخَلِيل بن مرّة قد روى أَحَادِيث صحاحا وروى أَحَادِيث مُنكرَة وَهُوَ عِنْدِي إِلَى الثِّقَة أقرب

12 - ذكر الْحَارِث الْأَعْوَر وَالِاخْتِلَاف فِيهِ

ذكر ابْن شاهين بِإِسْنَادِهِ عَن مُغيرَة وَجَرِير بن حَازِم عَن الشّعبِيّ أَنه
আমি কাউকে তাঁর সমালোচনা করতে দেখিনি এবং কাতাদাহ ও ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসগুলোকে সহীহ হিসেবে দেখেছি। বসরাবাসীরা কেবল তাঁর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি কারণ তিনি অখ্যাত ছিলেন এবং আমি কাউকে দেখিনি যে তাঁকে বর্জন করেছে।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি খলীল ইবনে মুররাহর নিন্দা করেছেন।

আবু হাফস বলেন, খলীল ইবনে মুররাহ সম্পর্কে এই মতভেদ তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থগিত থাকা আবশ্যক করে, কারণ খলীল ইবনে মুররাহ সহীহ হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং মুনকার হাদিসসমূহও বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি আমার নিকট নির্ভরযোগ্য হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।

১২ - হারিস আল-আওয়ারের আলোচনা এবং তাঁর সম্পর্কে মতভেদ

ইবনে শাহীন তাঁর সনদসহ মুগীরাহ ও জারীর ইবনে হাযিম থেকে, তাঁরা আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৪)
قَالَ الْحَارِث الْأَعْوَر أحد الْكَذَّابين

قَالَ أَبُو حَفْص وَفِي هَذَا الْكَلَام من الشّعبِيّ فِي الْحَارِث نظر لِأَنَّهُ قد روى هُوَ أَنه رأى الْحسن وَالْحُسَيْن يسألان الْحَارِث عَن حَدِيث عَليّ وَهَذَا يدل على أَن الْحَارِث صَحِيح الرِّوَايَة عَن عَليّ وَلَوْلَا ذَلِك لما كَانَ الْحسن وَالْحُسَيْن مَعَ علمهما وفضلهما يسألان الْحَارِث لِأَنَّهُ كَانَ وَقت الْحَارِث من هُوَ أرفع من الْحَارِث من أَصْحَاب عَليّ فَدلَّ سؤالهما لِلْحَارِثِ على صِحَة رِوَايَته

وَمَعَ ذَلِك فقد قَالَ يحيى بن معِين مَا زَالَ المحدثون يقبلُونَ حَدِيثه

وَهَذَا من قَول يحيى بن معِين الإِمَام فِي هَذَا الشَّأْن زِيَادَة لقبُول حَدِيث الْحَارِث وثقته
হারিছ আল-আওয়ার বলেছেন, যিনি অন্যতম মিথ্যাবাদী।

আবু হাফস বলেন, হারিছ সম্পর্কে আশ-শাবীর এই বক্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাসান ও হুসাইনকে হারিছের নিকট আলীর হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখেছেন। এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, আলীর সূত্রে হারিছের বর্ণনা সঠিক। অন্যথা হাসান ও হুসাইন তাঁদের প্রজ্ঞা ও মর্যাদা সত্ত্বেও হারিছকে জিজ্ঞাসা করতেন না; কারণ হারিছের সময়ে আলীর এমন অনেক সঙ্গী বিদ্যমান ছিলেন যারা হারিছের চেয়েও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সুতরাং হারিছের প্রতি তাঁদের এই প্রশ্ন করা তাঁর বর্ণনার বিশুদ্ধতাকেই প্রমাণ করে।

এর পাশাপাশি ইয়াহিয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, মুহাদ্দিসগণ সর্বদা তাঁর হাদীস গ্রহণ করে আসছেন।

এই শাস্ত্রের ইমাম ইয়াহিয়া ইবনে মাঈনের এই বক্তব্য হারিছের হাদীস কবুলযোগ্য হওয়া এবং তাঁর নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে একটি অতিরিক্ত প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَقد وَثَّقَهُ أَحْمد بن صَالح الْمصْرِيّ إِمَام أهل مصر فِي الحَدِيث فَقيل لِأَحْمَد بن صَالح قَول الشّعبِيّ حَدثنَا الْحَارِث وَكَانَ كذابا قَالَ أَحْمد ابْن صَالح لم يكن بِكَذَّابٍ إِنَّمَا كذبه فِي رَأْيه

13 - زَكَرِيَّا بن مَنْظُور وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن يحيى بن معِين قَالَ زَكَرِيَّا بن مَنْظُور لَيْسَ بِشَيْء وَأَنه رُوجِعَ مرَارًا فَقَالَ لَيْسَ بِشَيْء قَالَ وَكَانَ طفيليا

وَعَن أَحْمد بن صَالح أَنه سُئِلَ عَن زَكَرِيَّا بن مَنْظُور شيخ روى عَنهُ الْحزَامِي والترجماني فَقَالَ لَيْسَ بِهِ بَأْس قلت لِأَحْمَد هُوَ من ولد ثَعْلَبَة بن أبي مَالك الْقرظِيّ فَلم يحفظ ذَلِك
মিশরীয় হাদিস বিশারদদের ইমাম আহমদ ইবনে সালেহ আল-মিসরি তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন। আহমদ ইবনে সালেহকে শাবি-র উক্তি সম্পর্কে বলা হলো যে, "হারিস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন অথচ তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন।" আহমদ ইবনে সালেহ বললেন, "তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, মূলত তার মতামতের কারণে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে।"

১৩ - জাকারিয়া ইবনে মানজুর এবং তার সম্পর্কে মতপার্থক্য

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: জাকারিয়া ইবনে মানজুর উল্লেখযোগ্য কিছু নন। তাকে বারবার এই বিষয়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: তিনি কিছুই নন। তিনি আরও বলেন যে, তিনি একজন অনাহুত মেহমান (তুফাইলি) ছিলেন।

আহমদ ইবনে সালেহ থেকে বর্ণিত যে, তাকে জাকারিয়া ইবনে মানজুর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—যিনি এমন একজন শায়খ যার থেকে হিজামি ও তারজুমানি বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আমি আহমদকে বললাম: তিনি সালাবা ইবনে আবি মালিক আল-কুরাজি-র বংশধর। তবে তিনি তা স্মরণ রাখতে পারেননি।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৬)
قَالَ أَبُو حَفْص هُوَ زَكَرِيَّا بن مَنْظُور بن عقبَة بن ثَعْلَبَة بن أبي مَالك الْقرظِيّ

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف فِي زَكَرِيَّا بن مَنْظُور يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ لِأَن يحيى ذمه وروجع فِيهِ فذمه وَقَالَ هُوَ طفيلي والطفيلي الَّذِي لَا يُبَالِي من حَيْثُ كَانَ مطعمه وَمن كَانَت هَذِه صورته فِي الْمطعم خفت أَلا يكون مَأْمُونا فِي الْعلم وَقد مدحه أَحْمد بن صَالح فَيُوجب التَّوَقُّف فِيهِ إِن شَاءَ الله

14 - ذكر زَائِدَة بن أبي الرقاد وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين عَن يحيى بن معِين أَنه قَالَ زَائِدَة بن أبي الرقاد لَيْسَ بِشَيْء

وَعَن عبيد الله بن عمر القواريري أَنه قَالَ لم يكن بزائدة بن أبي الرقاد بَأْس كتبت كل شَيْء عِنْده وَأنكر هَذَا الحَدِيث الَّذِي حدث بِهِ مُحَمَّد بن سَلام الجُمَحِي قَالَ حَدثنَا زَائِدَة بن أبي الرقاد عَن ثَابت
আবু হাফস বলেন, তিনি হলেন যাকারিয়া বিন মানযুর বিন উকবাহ বিন সা'লাবাহ বিন আবি মালিক আল-কুরাযী।

আবু হাফস বলেন, যাকারিয়া বিন মানযুর সম্পর্কে এই মতপার্থক্য তার বিষয়ে বিরতি অবলম্বন করা (তাওয়াক্কুফ) আবশ্যক করে তোলে। কেননা ইয়াহইয়া তার নিন্দা করেছেন এবং তার সম্পর্কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পুনরায় নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, সে একজন পরভোজী (তুফায়লী)। আর পরভোজী এমন ব্যক্তি যে তার খাদ্য কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে পরোয়া করে না। যার খাদ্যের ধরন এরূপ, আমি আশঙ্কা করি যে সে ইলমের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত হবে না। অথচ আহমাদ বিন সালিহ তার প্রশংসা করেছেন, তাই ইনশাআল্লাহ তার বিষয়ে বিরতি অবলম্বন করা আবশ্যক।

১৪ - যায়িদা বিন আবি আল-রুকাদের আলোচনা এবং তার ব্যাপারে মতপার্থক্য।

ইবনে শাহীন ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যায়িদা বিন আবি আল-রুকাদ গ্রহণযোগ্য কিছু নয়।

এবং উবায়দুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: যায়িদা বিন আবি আল-রুকাদ এর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না, আমি তার নিকট হতে সবকিছু লিখেছি। আর তিনি এই হাদিসটি অস্বীকার করেছেন যা মুহাম্মাদ বিন সালাম আল-জুমাহী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট যায়িদা বিন আবি আল-রুকাদ সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৭)
عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لأم عَطِيَّة يَا أم عَطِيَّة إِذا خفضت فأشمي وَلَا تنهكي فَإِنَّهُ أسرى للْوَجْه وأحظى عِنْد الزَّوْج

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام فِي زَائِدَة بن أبي الرقاد يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ لِأَن يحيى بن معِين ذمه والقواريري وَكَانَ من نبلاء أهل الْعلم مدحه وَأنكر أَن يكون حدث بِحَدِيث ثَابت عَن أنس هَذَا الَّذِي حدث بِهِ مُحَمَّد بن سَلام وَالله أعلم بذلك

15 - ذكر دَاوُد بن فَرَاهِيجَ وَالْخلاف فِيهِ

ذكر عَن يحيى بن سعيد الْقطَّان أَنه قَالَ
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে আতিয়্যাহকে বললেন, "হে উম্মে আতিয়্যাহ! যখন তুমি খতনা করবে, তখন সামান্য কাটবে এবং গভীরভাবে কাটবে না; কেননা এটি চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য এবং স্বামীর নিকট অধিক সন্তোষজনক।"

আবু হাফস বলেন, যায়িদাহ বিন আবু আর-রাক্কাদ সম্পর্কে এই বক্তব্যটি তার বিষয়ে স্থগিতাদেশের (সতর্কতার) দাবি রাখে। কেননা ইয়াহইয়া বিন মাঈন তার সমালোচনা করেছেন, অথচ কাওয়ারীরি—যিনি বিজ্ঞ আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তার প্রশংসা করেছেন এবং মুহাম্মাদ বিন সালাম কর্তৃক বর্ণিত আনাস (রা.)-এর এই সাব্যস্ত হাদিসটি তিনি বর্ণনা করেছেন বলে অস্বীকার করেছেন। আল্লাহ তাআলাই এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

১৫ - দাউদ বিন ফারাহিজি এবং তাকে নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে তার আলোচনা

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৮)
كَانَ شُعْبَة يُضعفهُ

وَعَن شُعْبَة أَنه ذكر دَاوُد بن فَرَاهِيجَ فقصبه يَعْنِي تكلم فِيهِ

وَعَن يحيى بن معِين أَنه سُئِلَ عَنهُ فَقَالَ ضَعِيف

وروى عَن يحيى بن معِين أَيْضا أَنه سُئِلَ عَنهُ فَقَالَ روى عَنهُ شُعْبَة لَيْسَ بِهِ بَأْس

قَالَ أَبُو حَفْص لَيْسَ هُوَ فِي جملَة من رد حَدِيثه لَا سِيمَا أَن ليحيى بن معِين فِيهِ قَوْلَيْنِ فَقَوله لَا بَأْس بِهِ لَهُ مَوضِع غير أَنه لَا يدْخل فِي الصَّحِيح

16 - ذكر عَمْرو بن شُعَيْب وَالْخلاف فِيهِ

ذكر ابْن شاهين أَن عَليّ بن الْمَدِينِيّ قَالَ سَمِعت يحيى بن سعيد يَقُول حَدِيث عَمْرو بن شُعَيْب عندنَا واه

قَالَ ابْن عُيَيْنَة غَيره خير مِنْهُ وَقد روى عَنهُ ثِقَات النَّاس
শু'বাহ তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করতেন।

শু'বাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি দাউদ ইবনে ফারাহিজের কথা উল্লেখ করে তার সমালোচনা করেন, অর্থাৎ তার দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, (তিনি) দুর্বল।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: শু'বাহ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

আবু হাফস বলেন: তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, বিশেষ করে যেহেতু ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের তার সম্পর্কে দুটি মতামত রয়েছে; তাই তার 'কোনো সমস্যা নেই' উক্তিটির একটি ভিত্তি রয়েছে, তবে তার হাদিস সহীহ বর্ণনার পর্যায়ে পড়বে না।

১৬ - আমর ইবনে শুআইব এবং তাকে নিয়ে মতভেদের আলোচনা।

ইবনে শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি যে, আমাদের কাছে আমর ইবনে শুআইবের হাদিস অত্যন্ত দুর্বল।

ইবনে উইয়ায়না বলেন: অন্য কেউ তার চেয়ে উত্তম, অথচ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَعَن هَارُون بن مَعْرُوف قَالَ عَمْرو بن شُعَيْب لم يسمع من أَبِيه شَيْئا إِنَّمَا وجد فِي كتاب أَبِيه

وَسُئِلَ يحيى بن معِين عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده قَالَ لَيْسَ بِذَاكَ

قَالَ ابْن أبي خَيْثَمَة قلت ليحيى بن معِين حَدِيث عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه لم رد مَا تَقول فِيهِ لم يسمع من أَبِيه قَالَ بلَى قلت إِنَّهُم يُنكرُونَ ذَلِك فَقَالَ قَالَ أَيُّوب حَدثنِي عَمْرو بن شُعَيْب فَذكر أَبَا عَن أَب إِلَى جده وَقد سمع من أَبِيه وَلَكنهُمْ قَالُوا حِين صَارَت عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده إِنَّمَا هَذَا كتاب

وَعَن يحيى بن معِين أَيْضا قَالَ عَمْرو بن شُعَيْب ثِقَة قيل مَا روى عَن أَبِيه قَالَ كَذَا يَقُول أَصْحَاب الحَدِيث قيل لَهُ كَانَت صحيفَة قَالَ نعم

وَعَن أَحْمد بن صَالح قَالَ عَمْرو بن شُعَيْب سمع من أَبِيه عَن جده وَكله سَماع وَعَمْرو بن شُعَيْب ثَبت وَأَحَادِيثه عَن أَبِيه تقوم مقَام الثبت
হারুন ইবনে মারুফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে কিছুই শোনেননি, বরং তিনি তা তার পিতার কিতাবে পেয়েছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটি তেমন শক্তিশালী নয়।

ইবনে আবি খাইসামা বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বললাম, আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেন তা কেন প্রত্যাখ্যান করা হয়? আপনি এ বিষয়ে কী বলেন যে, তিনি তার পিতা থেকে শোনেননি? তিনি বললেন, অবশ্যই (শুনেছেন)। আমি বললাম, তারা তো এটি অস্বীকার করে। তখন তিনি বললেন, আইয়ুব বলেছেন, আমর ইবনে শুআইব আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা পর্যন্ত পরম্পরা উল্লেখ করেছেন। আর তিনি নিশ্চয়ই তাঁর পিতা থেকে শুনেছেন। তবে তারা যখন দেখেছে যে আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করছেন, তখন তারা বলেছে যে এটি কেবল একটি কিতাব মাত্র।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমর ইবনে শুআইব নির্ভরযোগ্য। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি তাঁর পিতা থেকে যা বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন, হাদিস বিশারদগণ তেমনই বলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সেটি কি কোনো সহিফা (পুস্তিকা) ছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

আহমদ ইবনে সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে শুনেছেন, আর এর পুরোটাই সরাসরি শ্রবণকৃত। আমর ইবনে শুআইব একজন সুদৃঢ় বর্ণনাকারী এবং তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণিত তাঁর হাদিসগুলো প্রামাণ্য বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬০)
قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف فِي عَمْرو بن شُعَيْب يرجع فِيهِ إِلَى أَلْفَاظ الْعلمَاء

قَالَ يحيى الْقطَّان حَدِيث عَمْرو عندنَا واه

وَقَالَ ابْن عُيَيْنَة غَيره خير مِنْهُ

وَقَالَ هَارُون لم يسمع من أَبِيه

وَقَالَ يحيى بن معِين لَيْسَ بِذَاكَ وَذكر يحيى عَن أَيُّوب أَنه ذكره أَبَا عَن أَب

وَقَالَ يحيى بن معِين سمع من أَبِيه وَقَالَ هُوَ ثِقَة

وَقَالَ أَحْمد بن صَالح قد سمع عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده وَكله سَماع وَهُوَ ثَبت

وَمن قَالَ فِيهِ أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ وَيحيى بن معِين وَأحمد بن صَالح هَذَا القَوْل وشهدوا لَهُ بِالسَّمَاعِ والثقة لَا يجوز أَن يُعلل حَدِيثه وَلَا يطْرَح وَهُوَ كَمَا قَالَا فِيهِ وشهدا لَهُ بالثقة وَالسَّمَاع

17 - ذكر عمر بن أبي سَلمَة وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن يحيى بن معِين سُئِلَ عَن عمر بن أبي سَلمَة عَن أَبِيه
আবু হাফস বলেন, আমর ইবনে শুআইব সংক্রান্ত এই মতপার্থক্য আলেমদের বক্তব্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন, আমাদের নিকট আমরের হাদিস দুর্বল।

ইবনে উয়াইনাহ বলেন, অন্যরাই তার চেয়ে উত্তম।

হারুন বলেন, সে তার পিতা থেকে শ্রবণ করেনি।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন, সে তেমন (শক্তিশালী) নয়। ইয়াহইয়া আইয়ুবের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একে ‘পিতা হতে পিতার সূত্রে’ উল্লেখ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন, সে তার পিতা থেকে শ্রবণ করেছে এবং তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

আহমাদ ইবনে সালিহ বলেন, আমর ইবনে শুআইব অবশ্যই তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে শ্রবণ করেছেন; এর সবই সরাসরি শ্রবণকৃত এবং সে সুদৃঢ়।

আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আহমাদ ইবনে সালিহ যার সম্পর্কে এই কথা বলেছেন এবং তার শ্রবণ ও নির্ভরযোগ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন, তার হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলা কিংবা বর্জন করা বৈধ নয়; বরং তিনি তেমনই যেমন তারা তার সম্পর্কে বলেছেন এবং তার নির্ভরযোগ্যতা ও সরাসরি শ্রবণের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

১৭ - উমর ইবনে আবি সালামাহর বর্ণনা এবং তাকে নিয়ে মতপার্থক্য।

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে উমর ইবনে আবি সালামাহর সূত্রে তার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬১)
عَن جده فَقَالَ ضَعِيف الحَدِيث

وَعَن شُعْبَة أَنه كَانَ يُضعفهُ

وَعَن أَحْمد بن حَنْبَل أَنه سُئِلَ عَنهُ فَقَالَ صَالح ثِقَة إِن شَاءَ الله

وَعَن يحيى بن معِين أُخْرَى أَنه قَالَ لَيْسَ بِهِ بَأْس

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْخلاف يرجع فِيهِ إِلَى قَول أَحْمد بن حَنْبَل لِأَن يحيى بن معِين قَالَ فِيهِ قَوْلَيْنِ أَحدهمَا مُوَافق لقَوْل أَحْمد فالرجوع إِلَى قَول أَحْمد وَيحيى فِي آخر قوليه أولى من الرُّجُوع إِلَى قَول يحيى وَحده فِي قَول قد قَالَ غَيره وَالله أعلم

وَمَعَ ذَلِك قد روى عَنهُ رجلَانِ جليلان أَحدهمَا هشيم وَالْآخر أَبُو عوَانَة وَإِن كَانَ شُعْبَة الْمُقدم فِي كل شَيْء

18 - ذكر عبد الله بن لَهِيعَة وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن يحيى بن معِين قَالَ عبد الله بن لَهِيعَة لَيْسَ بِشَيْء
তার দাদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (তিনি) হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল।

শু'বাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাকে দুর্বল আখ্যা দিতেন।

আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: (তিনি) সৎ ও নির্ভরযোগ্য, যদি আল্লাহ চান।

ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন থেকে অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

আবু হাফস বলেন: এই মতভেদটি আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্যের দিকেই ফিরে যায়, কারণ ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন তার সম্পর্কে দুটি উক্তি করেছেন যার একটি আহমাদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং আহমাদ এবং ইয়াহইয়ার শেষোক্ত উক্তির দিকে ফিরে আসা ইয়াহইয়ার একক সেই উক্তির দিকে ফিরে আসার চেয়ে অধিক উত্তম যা অন্যরাও বলেছেন; আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এতদসত্ত্বেও, তার থেকে দুইজন মহান ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, একজন হুশাইম এবং অন্যজন আবু আওয়ানাহ, যদিও শু'বাহ সব বিষয়েই অগ্রগণ্য।

১৮ - আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ এবং তাকে নিয়ে মতভেদের আলোচনা

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ নির্ভরযোগ্য কেউ নন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬২)
قيل ليحيى فَهَذَا الَّذِي يَحْكِي النَّاس أَنه احترقت كتبه قَالَ لَيْسَ لهَذَا أصل سَأَلت عَنْهَا بِمصْر

وَقَالَ يحيى بن معِين فِي مَوضِع آخر ابْن لَهِيعَة لَيْسَ بِشَيْء تغير أَو لم يتَغَيَّر

وَعَن أَحْمد بن صَالح أَنه سُئِلَ عَن ابْن لَهِيعَة فَقَالَ ثِقَة قيل لَهُ فَمَا روى الثِّقَات عَن ابْن لَهِيعَة وَوَقع فِيهَا تَخْلِيط ترى أَن يطْرَح ذَلِك التَّخْلِيط قَالَ نعم وَرفع بِابْن لَهِيعَة

قَالَ أَبُو حَفْص وَالْقَوْل فِي ابْن لَهِيعَة عِنْدِي قَول أَحْمد بن صَالح لِأَنَّهُ من بَلَده وَمن أعرف النَّاس بِهِ وبأشكاله من المصريين

وَقد حدث شُعْبَة بن الْحجَّاج عَن ابْن لَهِيعَة

19 - ذكر عبد الله بن سَلمَة بن الْأَفْطَس وَالْخلاف فِيهِ
ইয়াহইয়াকে বলা হলো, "লোকেরা যে বলে তার কিতাবসমূহ পুড়ে গিয়েছিল, সে সম্পর্কে আপনার মত কী?" তিনি বললেন, "এর কোনো ভিত্তি নেই, আমি মিশরে এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছি।"

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন অন্য এক স্থানে বলেছেন, "ইবনে লাহিয়া নির্ভরযোগ্য নন, তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটে থাকুক বা না-ই থাকুক।"

আহমাদ ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত যে, তাকে ইবনে লাহিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য।" তাকে বলা হলো, "তবে নির্ভরযোগ্য রাবীগণ ইবনে লাহিয়া থেকে যা বর্ণনা করেছেন এবং যাতে বিভ্রান্তি ও সংমিশ্রণ ঘটেছে, আপনি কি মনে করেন সেই বিভ্রান্তিটুকুকে বর্জন করা উচিত?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" এবং তিনি ইবনে লাহিয়ার মর্যাদাকে উচ্চে তুলে ধরলেন।

আবু হাফস বলেন, "ইবনে লাহিয়ার ব্যাপারে আমার নিকট আহমাদ ইবনে সালিহর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য, কারণ তিনি তার দেশের অধিবাসী এবং মিশরীয়দের মধ্যে তাকে ও তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।"

শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে লাহিয়া থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

১৯ - আবদুল্লাহ ইবনে সালামাহ ইবনুল আফতাস-এর আলোচনা এবং তার ব্যাপারে মতভেদ।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬৩)
روى ابْن شاهين أَن عبيد الله بن عمر القواريري قَالَ عبد الله ابْن سَلمَة الْأَفْطَس لم يكن يكذب وَلَكِن كَانَ فِي لِسَانه لِبَاس

قَالَ القواريري قَالَ لي يحيى بن سعيد معي سمع عبد الله بن سَلمَة من هِشَام بن عُرْوَة وَيحيى بن سعيد يَعْنِي الْأنْصَارِيّ وكتبت لَهُ سَمَاعه وأعطيته

وَعَن أَحْمد بن حَنْبَل أَنه قَالَ ترك النَّاس حَدِيثه

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا القَوْل فِي عبد الله بن سَلمَة مسموع من أَحْمد بن حَنْبَل لصدقه فِي الشُّيُوخ وَعلمه بِمَا رووا وَأما قَول القواريري عَن يحيى الْقطَّان وَهُوَ كَمَا قَالَ غَيره إِنَّه من سمع من الشُّيُوخ وخلط فِيمَا سمع لم
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরী বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-আফতাস মিথ্যা বলতেন না, তবে তাঁর জিহবায় জড়তা (বর্ণনায় বিভ্রান্তি) ছিল।

আল-কাওয়ারীরী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাকে বলেছিলেন, আমার উপস্থিতিতে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ হিশাম ইবনে উরওয়াহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ—অর্থাৎ আল-আনসারী—থেকে (হাদীস) শুনেছেন; আমি তাঁর জন্য তাঁর শ্রবণকৃত বিষয়গুলো লিখে দিয়েছিলাম এবং তা তাঁকে প্রদান করেছিলাম।

এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: মানুষ তাঁর হাদীস বর্জন করেছে।

আবু হাফস বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ সম্পর্কে এই বক্তব্যটি আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে শ্রুত, যা শায়খদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সত্যবাদিতা এবং তাঁদের বর্ণিত বিষয় সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কারণে গৃহীত। আর ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে আল-কাওয়ারীরীর বর্ণনাটি অন্যান্যদের বক্তব্যের মতোই যে, তিনি শায়খদের থেকে শ্রবণ করেছেন ঠিকই, কিন্তু যা শুনেছেন তাতে সংমিশ্রণ বা গোলমাল করে ফেলেছেন, তিনি...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬৪)
يسو مَا سمع شَيْئا

20 - ذكر عبد الله بن عمر الْعمريّ وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن يحيى بن معِين سُئِلَ عَن عبد الله الْعمريّ فَقَالَ ضَعِيف فِي رِوَايَة عبد الله بن أَحْمد عَنهُ

وَعَن مُحَمَّد بن عبد الله بن عمار الْموصِلِي أَن عبد الله بن عمر الْعمريّ لم يتْركهُ أحد إِلَّا يحيى يَعْنِي الْقطَّان وَزَعَمُوا أَنه كَانَ أكبر من عبيد الله إِلَّا أَنه كَانَ ضريرا وَزَعَمُوا أَنه أَخذ كتب عبيد الله فرواها

وَقَالَ يحيى بن معِين فِي رِوَايَة يزِيد بن الْهَيْثَم عَنهُ عبد الله الْعمريّ صَالح لَيْسَ بِهِ بَأْس

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام من يحيى بن معِين مُتَوَقف فِيهِ لِأَنَّهُ
সে কিছুই শোনেননি

২০ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি এবং তাঁর বিষয়ে মতভেদের উল্লেখ

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে আবদুল্লাহ আল-উমরি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদের বর্ণনায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি দুর্বল।

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহইয়া (অর্থাৎ আল-কাত্তান) ছাড়া অন্য কেউ আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরিকে বর্জন করেননি। তাঁরা দাবি করেছেন যে, তিনি উবায়দুল্লাহর চেয়ে বড় ছিলেন, তবে তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন। তাঁরা আরও দাবি করেছেন যে, তিনি উবায়দুল্লাহর পাণ্ডুলিপিগুলো নিয়েছিলেন এবং সেগুলো থেকে বর্ণনা করেছিলেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর সম্পর্কে ইয়াযিদ ইবনুল হাইসামের বর্ণনায় বলেছেন: আবদুল্লাহ আল-উমরি সৎ (সালিহ), তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

আবু হাফস বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের এই বক্তব্যের ব্যাপারে থামা প্রয়োজন (অর্থাৎ এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে), কারণ তিনি...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬৫)
ضعفه ثمَّ قَالَ هُوَ صَالح وَقد وَثَّقَهُ أَحْمد بن صَالح الْمصْرِيّ وَحدث عَنهُ وَكِيع وَغَيره وَالله أعلم

21 - ذكر عبد الله بن زيد بن أسلم وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن أَحْمد بن حَنْبَل قَالَ عبد الله بن زيد بن أسلم ثِقَة

وَأَنه سُئِلَ عَن أوثق ولد زيد بن أسلم فَقَالَ عبد الله بن زيد بن أسلم من أوثقهم

وَعَن يحيى بن معِين أَن حَدِيثه لَيْسَ بِشَيْء

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا القَوْل يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ لِأَن أَحْمد بن حَنْبَل وَثَّقَهُ وَكرر كَلَامه فِيهِ مرّة أُخْرَى وَالْقَوْل فِيهِ عِنْدِي مَا قَالَه يحيى بن معِين
তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন, অতঃপর বলেছেন তিনি সৎ (সালিহ)। আর আহমদ বিন সালিহ আল-মিসরি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তাঁর থেকে ওকি' ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

২১ - আবদুল্লাহ বিন যায়িদ বিন আসলামের আলোচনা এবং তাঁর ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদ

ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন, আবদুল্লাহ বিন যায়িদ বিন আসলাম নির্ভরযোগ্য।

আর তাঁকে যায়িদ বিন আসলামের সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন যায়িদ বিন আসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য।

ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তাঁর হাদিস কিছুই নয়।

আবু হাফস বলেন, এই বক্তব্যটি তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতা (তাওয়াক্কুফ) আবশ্যক করে, কারণ আহমদ বিন হাম্বল তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তাঁর বক্তব্যটি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন; তবে আমার নিকট তাঁর ব্যাপারে ইয়াহইয়া বিন মাঈন যা বলেছেন সেটিই অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬৬)
22 - ذكر عمر بن قيس الْمَكِّيّ وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين عَن يحيى بن معِين من رِوَايَة الْعَبَّاس بن مُحَمَّد عَنهُ أَنه قَالَ عمر بن قيس الْمَكِّيّ لقبه سندل وَهُوَ ضَعِيف

وَكَذَا قَالَ الْمفضل عَن يحيى

وَعَن عُثْمَان بن أبي شيبَة أَنه قَالَ عمر بن قيس الماصر ضَعِيف الحَدِيث

وَعَن أَحْمد بن صَالح قَالَ عمر بن قيس ثِقَة لَيْسَ فِيهِ شكّ وَإِنَّمَا طعن فِيهِ من قبل الْغَلَط وَهُوَ لَا بَأْس بِهِ
২২ - উমর বিন কায়েস আল-মাক্কী এবং তাঁর ব্যাপারে মতভেদের বর্ণনা

ইবনে শাহীন ইয়াহইয়া বিন মঈন থেকে আব্বাস বিন মুহাম্মদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (ইয়াহইয়া) বলেছেন: উমর বিন কায়েস আল-মাক্কী, তাঁর উপাধি সিন্দাল এবং তিনি দুর্বল।

আল-মুফায্যালও ইয়াহইয়া থেকে অনুরূপ বলেছেন।

উসমান বিন আবু শাইবা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: উমর বিন কায়েস আল-মাসির হাদীসে দুর্বল।

আহমদ বিন সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: উমর বিন কায়েস নির্ভরযোগ্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মূলত ভুলের কারণে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে, তবে তিনি গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মানি ইখতালাফাল উলামাউ ওয়া নুউক্কাদুল হাদীসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ৬৭)
قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا القَوْل يُوجب التَّوَقُّف فِيهِ وَهُوَ إِلَى الثِّقَة عِنْدِي أقرب لِأَنَّهُ من غلط وَرجع عَن غلطه لَا يطْرَح حَدِيثه وَهُوَ مَعَ من وَثَّقَهُ

وَقد وَافق قَول يحيى قَول عُثْمَان بن أبي شيبَة وَالله أعلم بذلك

23 - ذكر عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن دِينَار وَالْخلاف فِيهِ

روى ابْن شاهين أَن يحيى بن معِين قَالَ فِي رِوَايَة إِسْحَاق الكوسج إِنَّه صَالح

وَفِي رِوَايَة الْمفضل بن غَسَّان عَنهُ إِنَّه ضَعِيف

قَالَ أَبُو حَفْص وَهَذَا الْكَلَام من يحيى بن معِين فِيهِ يُوجب السُّكُوت عَنهُ لِأَنَّهُ لم يوثقه فَقَالَ صَالح والألفاظ فِي الشُّيُوخ منتبذة الْمعَانِي وَالله أعلم
আবু হাফস বলেন, এই বক্তব্যটি তার ব্যাপারে বিরতি (তাওয়াককুফ) অবলম্বন করা দাবি করে। তবে আমার নিকট তিনি নির্ভরযোগ্যতার (সিকাহ) অধিক নিকটবর্তী, কারণ যে ব্যক্তি ভুল করার পর তার ভুল থেকে ফিরে আসে, তার বর্ণিত হাদিস বর্জন করা হয় না। তিনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

আর ইয়াহইয়ার বক্তব্য উসমান ইবনে আবি শায়বার বক্তব্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আল্লাহ এ বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।

২৩ - আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে দিনার এবং তাকে নিয়ে মতভেদের আলোচনা

ইবনে শাহিন বর্ণনা করেছেন যে, ইসহাক আল-কাউসাজের বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাকে 'সালিহ' (যোগ্য) বলেছেন।

আর মুফাদদাল ইবনে গাসসানের বর্ণনায় তার পক্ষ থেকে এসেছে যে, তিনি 'যঈফ' (দুর্বল)।

আবু হাফস বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের এই বক্তব্যটি তার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা দাবি করে, কারণ তিনি তাকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেননি, বরং বলেছেন 'সালিহ'। আর শায়খদের (রাবিদের) ক্ষেত্রে শব্দসমূহ ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।