(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
العمل بالأغلبية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: العمل بالأغلبية
المؤلف: عبد المنان التالبي
عدد الصفحات: 34
[البحث غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিভাগ: শরয়ি রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
লেখক: আব্দুল মান্নান আত-তালিবী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
[গবেষণাপত্রটি অপ্রকাশিত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
العمل بالأغلبية في النظام الانتخابي.
مقدمة:فإن مما تميز به ديننا الإسلامي عن غيره من الأديان السماوية، أنه دين يتسم بالشمول والكمال لجميع جوانب الحياة المختلفة، ويراعي الظروف المكانية والزمانية عبر العصور والسنين فقد راعى الجانب الاجتماعي في الحياة؛ نظراً لأهميته؛ ولأن كثيراً من تقلبات الحياة الإنسانية تدور عليه، ولم يغفل الجوانب الاقتصادية فتناول المال، والملكية، والبيوع، والربا وغيرها، وحدد السبل الموصلة إلى الكسب الحلال، وحذر مما سواه.
ولم يهمل الإسلام الجوانب الطبية، والحربية، والهندسية، والتربوية، والرياضية، إضافة إلى الجوانب الروحية التي تنمي وتؤثر وتشحن أكبر قدر من الطاقة الإيمانية للعبد المسلم، إضافة إلى الجوانب الاعتقادية والثابتة التي لا يمكن المساس بها، ومن هذه الجوانب التي أولاها الإسلام أهمية كبيرة الجانب السياسي، حيث تطرق إلى مفهوم الدولة، ومقوماتها، وسُلطاتها، وسياستها الداخلية والخارجية، ونظم علاقة الراعي بالرعية والعكس، وحدد المعالم الرئيسة للحكم الرشيد، ووضع القواعد العامة لشكل الدولة وهيكلها العام.
وسيتحدث الباحث من خلال هذا المطلب عن مسألة يكثر الجدل حولها في أوساط النخب السياسية، والأكاديمية، وطلبة العلم وهي مسألة "الأغلبية، أو نظام التصويت في الانتخابات بمختلف أنواعها".
(1)وسيتم تناول هذا الموضوع على النحو التالي:
--------------------------------------------
নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার (الأغلبية) প্রয়োগ।
ভূমিকা:আমাদের ইসলাম ধর্ম অন্যান্য আসমানি ধর্ম থেকে যে বৈশিষ্ট্যে অনন্য তা হলো, এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক জীবনবিধান। এটি যুগ ও সময়ের বিবর্তনে স্থান ও কালের অবস্থাকে বিবেচনায় রাখে। ইসলাম জীবনের সামাজিক দিকটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে, কারণ মানবজীবনের অধিকাংশ পরিবর্তন একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এটি অর্থনৈতিক দিকগুলোকেও উপেক্ষা করেনি; বরং অর্থ-সম্পদ, মালিকানা, ক্রয়-বিক্রয় এবং সুদ (الربا) ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এটি বৈধ (حلال) উপার্জনের পথসমূহ সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে সতর্ক করেছে।
ইসলাম চিকিৎসা, যুদ্ধবিগ্রহ, প্রকৌশল, শিক্ষা ও ক্রীড়াবিদ্যার পাশাপাশি সেই আধ্যাত্মিক দিকগুলোকেও অবহেলা করেনি যা একজন মুসলিম বান্দার ঈমানি শক্তিকে বিকশিত ও প্রভাবিত করে। এর সঙ্গে রয়েছে আকিদাগত (الاعتقادية) ও অপরিবর্তনীয় বিষয়সমূহ যেগুলোতে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই। ইসলাম যে সকল বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক দিক। এখানে রাষ্ট্রের ধারণা, এর উপাদানসমূহ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি এবং শাসক (الراعي) ও শাসিতের (الرعية) পারস্পরিক সম্পর্কের নিয়মাবলী আলোচিত হয়েছে। এটি সুশাসনের (الحكم الرشيد) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণ করেছে এবং রাষ্ট্রের ধরন ও এর কাঠামোর সাধারণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
গবেষক এই পরিচ্ছেদের মাধ্যমে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন যা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের (طلبة العلم) মাঝে বহুলালোচিত; বিষয়টি হলো "সংখ্যাগরিষ্ঠতা (الأغلبية) অথবা বিভিন্ন প্রকার নির্বাচনে ভোটাধিকার পদ্ধতি।"
(১)বিষয়টি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে উপস্থাপিত হবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
أولا: التعريف بمفهوم الأغلبية لغة واصطلاحا.
البند الأول: الأغلبية في اللغة:تدل على الكثرة، والأغلبية المطلقة - في الانتخابات أو الاقتراع - أصوات نصف الحاضرين بزيادة واحد " محدثة ".
والأغلبية النسبية: زيادة أحد المرشحين في الأصوات بالنسبة إلى غيره " محدثة ".
(1)
البند الثاني: الأغلبية في الاصطلاح:عرفت بعدة تعريفات منها:
أ. تعريف الموسوعة العربية العالمية: " قاعدة الأغلبية؛ مبدأ الحكومة الديمقراطية التي تحتاج لإجازة قرار بأغلبية المقترعين قبل أن يصبح القرار نافذ المفعول، وتتألف الأغلبية من أكثر من نصف عدد الأصوات بصوت واحد على الأقل".
(2)ب. العمل بالأغلبية أو الأكثرية يراد به: ترجيح الرأي الذي قال به أكثر المشاركين برأيهم في مسألة من المسائل المتداول بشأنها، والأخذ به.
ج. الأغلبية المطلقة: هي العدد الغالب من ذوي الرأي في المسألة أي ما زاد عن نصفهم.
(3)ومن خلال التعاريف السابقة يتبين للباحث أن التعريف الاصطلاحي للأغلبية لا يختلف كثيراً عن التعريف اللغوي، والتعاريف الاصطلاحية متقاربة المعنى؛ حيث أنها جميعاً تفيد أغلبية المشاركين برأيهم في المسائل المتداولة.
غير أن التعريف الأول والثاني اقتصرا على تعريف الأغلبية في النظام الانتخابي، والتعريف الثالث عرف الأغلبية في الاجتهاد الجماعي، وعند نقاش المسائل العلمية.
ويعرف الباحث الأغلبية بأنها:
" الأخذ بالرأي الذي قال به أكثر من نصف المشاركين فيما عرض عليهم"؛ ليشمل كل أنواع الأغلبية ومجالاتها المختلفة كما سيأتي:
--------------------------------------------
প্রথমত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সংখ্যাধিক্য (الأغلبية)-এর ধারণার পরিচিতি.
প্রথম দফা: আভিধানিক অর্থে সংখ্যাধিক্য (الأغلبية):এটি আধিক্য (الكثرة) নির্দেশ করে। আর নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য (الأغلبية المطلقة) - নির্বাচন বা ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে - উপস্থিতদের অর্ধেকের বেশি একজনের ভোট, যা একটি নব্য শব্দ (محدثة)।
আর আনুপাতিক সংখ্যাধিক্য (الأغلبية النسبية) হলো: অন্যদের তুলনায় কোনো প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের আধিক্য, যা একটি নব্য শব্দ (محدثة)।
(1) দ্বিতীয় দফা: পারিভাষিক অর্থে সংখ্যাধিক্য (الأغلبية):এটি বেশ কিছু সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
ক. আল-মাওসুয়াতুল আরাবিয়াতুল আলামিয়্যাহ-এর সংজ্ঞা: "সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম; এটি গণতান্ত্রিক সরকারের একটি মূলনীতি যার কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা মোট ভোটের অন্তত অর্ধেকের চেয়ে এক ভোট বেশি নিয়ে গঠিত হয়।"
(2)খ. সংখ্যাধিক্য (الأغلبية) বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা (الأكثرية) অনুযায়ী আমল করার অর্থ হলো: কোনো আলোচিত বিষয়ে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশের মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া এবং তা গ্রহণ করা।
গ. নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য (الأغلبية المطلقة): এটি হলো কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা বোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যাধিক্য বা বিজয়ী সংখ্যা, অর্থাৎ তাঁদের অর্ধেকের বেশি।
(3)পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ থেকে গবেষকের নিকট এটি প্রতীয়মান হয় যে, সংখ্যাধিক্য (الأغلبية)-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা আভিধানিক সংজ্ঞার থেকে খুব বেশি ভিন্ন নয় এবং পারিভাষিক সংজ্ঞাসমূহ অর্থগতভাবে কাছাকাছি; যেহেতু এগুলোর সবই আলোচিত বিষয়সমূহে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের সংখ্যাধিক্যকে বুঝিয়ে থাকে।
তবে প্রথম ও দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি নির্বাচন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্য (الأغلبية)-এর সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধ ছিল এবং তৃতীয় সংজ্ঞাটি সম্মিলিত ইজতিহাদ (الاجتهاد الجماعي) এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার ক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্য (الأغلبية)-কে সংজ্ঞায়িত করেছে।
গবেষক সংখ্যাধিক্য (الأغلبية)-কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:
"উপস্থাপিত বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি যে মত পোষণ করেছেন তা গ্রহণ করা"; যাতে সংখ্যাধিক্য (الأغلبية)-এর সকল প্রকার ও ক্ষেত্রসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়, যা সামনে বিস্তারিত আসবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
ثانيا: التأصيل الشرعي لمفهوم الأغلبية:" لابد من التسليم بأن مسألتنا هذه ليست من المسائل المنصوصة، بمعنى أنه ليس هناك نص يأمر صراحة باتباع الأغلبية ولزوم حكمها، كما أنه ليس هناك نص ينهى أو يحذر من ذلك، وإنما هي مسألة اجتهادية استنباطية، والنصوص التي تتصل بالموضوع ويمكن اعتمادها في الاستنباط كثيرة، وخصوصاً في السيرة النبوية ولكنها جميعا تحتاج إلى تدبر واستنطاق لكي تفصح عن دلالتها في الموضوع؛ ولهذا اختلفت أنظار العلماء والباحثين فيها، واختلفت استنباطاتهم منها واستدلالاتهم بها".
(1)وسيذكر الباحث أدلة المجيزين للعمل بالأغلبية ثم أدلة المانعين ومناقشتها، ويرجح ما يراه راجحاً بإذن الله تعالى.
البند الأول: أدلة القائلين بجواز العمل بالأغلبية.
الفقرة الأولى: من القرآن الكريم:1 - قوله تعالى {والذِينَ اِسْتَجَابُوا لِرَبهِمْ وَأَقَامُوا الْصلَاةَ وَأَمْروُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ}
(2).
وجه الشاهد: فهذه الآية إيحاء قوي بأن الممدوحين يُتداول أمرهم بينهم ويتقرر العمل فيه بينهم فهم فيه شركاء، وهذا لا يتحقق في صورة امتلاك فرد واحد منهم حق البت في الأمر، بل يظهر ويتحقق عندما يكون البت جماعياً، إما بالإجماع أو مع بقاء خلاف يسير قد يرتفع بالتراضي والتغاضي. وأقل ما يتحقق به ذلك: اتفاق أغلبية المشورين.
(3)قال أبو الأعلى المودودي قاعدة: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} تتطلب بذاتها خمسة أمور
… خامسها: التسليم بما يُجمع عليه أهل الشورى أو أكثريتهم .. فالله لم يقل تؤخذ آراؤهم ومشورتهم في أمورهم، وإنما قال {وأَمْرُهُمْ شُورَىَ بَيْنَهُمْ} يعني أن تسيير أمورهم بتشاورهم فيما بينهم. وتطبيق هذا الأمر الإلهي لا يتم بأخذ الرأي فقط، وإنما من الضروري لتنفيذه وتطبيقه أن تجري الأمور وفق ما يتقرر بالإجماع أو بالأكثرية ".
(4)2 - قوله تعالى في حق ملكة سبأ {قَالَتْ يَا أَيهَا الملَأُ إِني أُلْقِيَ إِلي كِتَابٌ كَرِيمٌ إِنهُ مِنْ سُلَيْمَان وَإِنهُ بِسْمِ اللهِ الُرحْمَنِ الْرحِيمِ أَلا تَعْلُوا عَلَيَ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ قَالَتْ يَا أَيهَا الملَأُ أَفْتُونِي فِي أَمْرِي مَا كُانْتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتى تَشْهَدُونَ}.
(5)--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সংখ্যাগুরুত্বের ধারণার শরয়ি ভিত্তি:"এটি স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক যে, আমাদের এই বিষয়টি সরাসরি নস (نص) দ্বারা নির্ধারিত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; অর্থাৎ এমন কোনো নস নেই যা স্পষ্টভাবে সংখ্যাগুরুত্বের অনুসরণ ও এর বিধান মেনে চলার নির্দেশ দেয়, আবার এমন কোনো নসও নেই যা এ থেকে নিষেধ করে বা এ বিষয়ে সতর্ক করে। বরং এটি একটি ইজতিহাদ ও গবেষণানির্ভর (اجتهادية استنباطية) বিষয়। এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং গবেষণার (استنباط) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হতে পারে এমন নস অনেক রয়েছে, বিশেষ করে সিরাতে নববীতে; তবে এই বিষয়ের ওপর তাদের তাৎপর্য সুস্পষ্ট করার জন্য গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন। এ কারণে এ বিষয়ে আলিম ও গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে এবং তা থেকে তাদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত ও দলিল প্রয়োগেও পার্থক্য তৈরি হয়েছে।"
(১)গবেষক এখানে সংখ্যাগুরুত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সমর্থকদের দলিলসমূহ এবং পরবর্তীতে বিরোধিতাকারীদের দলিল ও তাদের পর্যালোচনা উল্লেখ করবেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় যেটি প্রাধান্যযোগ্য (راجح) মনে করবেন, তা উপস্থাপন করবেন।
প্রথম দফা: সংখ্যাগুরুত্বের ভিত্তিতে কাজ করার বৈধতা দানকারীদের দলিলসমূহ।প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন থেকে:১ - মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা তাদের পালনকর্তার আদেশ পালন করে, নামাজ কায়েম করে, তাদের কাজ পরস্পর পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে}
(২)।
দলিল প্রয়োগের প্রেক্ষিত: এই আয়াতটি একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত যে, প্রশংসিত ব্যক্তিদের কার্যাবলি তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে আবর্তিত হয় এবং সে কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ফলে তারা তাতে অংশীদার হিসেবে গণ্য হন। এটি কোনো একক ব্যক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং তা তখনই প্রকাশিত ও অর্জিত হয় যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি সামষ্টিক হয়; চাই তা ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে হোক কিংবা সামান্য মতভেদ থাকা অবস্থায় হোক, যা পারস্পরিক সম্মতি ও ক্ষমার মাধ্যমে নিরসন সম্ভব। আর এটি অর্জিত হওয়ার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো: পরামর্শদাতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐকমত্য।
(৩)আবু আল-আলা মওদুদী একটি মূলনীতি উল্লেখ করে বলেছেন: "{তাদের কাজ পরস্পর পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়} আয়াতটি স্বয়ং পাঁচটি বিষয় দাবি করে... পঞ্চমটি হলো: পরামর্শ সভার সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত কিংবা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের কাছে আত্মসমর্পণ করা... কেননা আল্লাহ তাআলা এটি বলেননি যে তাদের কার্যাবলিতে তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে, বরং তিনি বলেছেন {তাদের কাজ পরস্পর পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়}, অর্থাৎ তাদের কার্যাবলি পরিচালনা হবে তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে। আর এই ঐশী নির্দেশ কেবল মতামত গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় না, বরং এটি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের জন্য আবশ্যক হলো বিষয়গুলো ঐকমত্য (إجماع) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া।"
(৪)২ - সাবা-এর রানীর সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {সে বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানজনক পত্র দেওয়া হয়েছে। এটি সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু। আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও। সে বলল, হে পরিষদবর্গ, আমার এই কাজে আমাকে পরামর্শ দাও, আমি কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না যতক্ষণ না তোমরা উপস্থিত থাকো}।
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وحتى يستقيم الاستشهاد بقول ملكة سبأ، ولا يبقى فيه مجال للإنكار والاعتراض لا بد من التنبيه على أمرين:
(1)الأول: ما قرره الشاطبي وهو كل حكاية وقعت في القرآن، فلا يخلو أن يقع قبلها أو بعدها وهو الأكثر رد لها أو لا، فإن وقع رد فلا إشكال في بطلان ذلك المحكي وكذبه، وإن لم يقع معها رد، فذلك دليل على صحة المحكي وصدقه .. فإن القرآن سمي فرقانا، وهدى، وبرهاناً، وتبياناً لكل شيء، وهو حجة الله على الخلق، على الجملة والتفصيل، والإطلاق والعموم.
… وهذا المعنى يأبى أن يحكى فيه ما ليس بحق، ثم لا ينبه عليه .. ".
(2)وما قالته ملكة سبأ والتزمت به من أنها لا تبرم أمراً إلا بموافقة ملئها ليس عندنا في القرآن، ولا في السنة في نفس الموضوع ولا في غيره ما يرده ويبطله فلا مجال لإبطال ما قالته المرأة والتزمت به.
(3)الثاني: وهو أعلى درجة من سابقه، وهو أن ملكة سبأ سيقت في القرآن مساق التنويه والرضى من تدبيرها وتصرفها وعاقبة أمرها.
(4)قال القرطبي معلقاً على مشاورتها ومحاورتها لملأها: " فأخذت في حسن الأدب مع قومها ومشاورتهم في أمرها، وأعلمتهم أن ذلك مطرد عندها في كل أمر يعرض بقولها فيما ذكر الله عنها {مَا كُنْتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَى تَشْهَدُونَ} فكيف في هذه النازلة الكبرى
… ".
(5)وجه الشاهد: فبناء على أن قولها {مَا كُنْتُ قَاطِعَةً أَمْرً حَتى تَشْهَدُونَ}، محكي في كتاب الله عز وجل من دون أي إبطال أو ذم.
وبناء على سياق التأييد والرضى الذي جاء فيه هذا القول، فإن قولها والتزامها وجريان العمل عندها بأنها لا تقطع في أمر من أمور الدولة، إلا بعد أن يشهده ملؤها، ويوافقوا عليه، يعتبر شرعا مثالا يُحتذى.
(6)--------------------------------------------
সাবা-র রাণীর উক্তিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার বিষয়টি সুসংগত করার জন্য এবং এ নিয়ে কোনো প্রকার আপত্তি বা অস্বীকৃতির অবকাশ না রাখার জন্য দুটি বিষয়ে আলোকপাত করা আবশ্যক:
(1)প্রথমত: ইমাম শাতিবি যা সাব্যস্ত করেছেন—আর তা হলো কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি কাহিনী বা ঘটনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় তার আগে বা পরে সেই বক্তব্যের কোনো খণ্ডন থাকে অথবা থাকে না। যদি খণ্ডন থাকে, তবে সেই বর্ণিত বিষয়টি অসার ও মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। আর যদি তার সাথে কোনো খণ্ডন না থাকে, তবে তা বর্ণিত বিষয়টি সঠিক (صحيح) ও সত্য হওয়ার দলিল। কেননা কুরআনকে ফুরকান, হেদায়েত, বুরহান এবং সবকিছুর তিবইয়ান (সুস্পষ্ট বর্ণনা) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এটি সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অকাট্য দলিল, তা সামগ্রিক ও বিস্তারিত এবং নিঃশর্ত ও সাধারণ।
… আর এই অর্থটিই দাবি করে যে, সেখানে সত্য নয় এমন কিছু বর্ণিত হবে অথচ সে বিষয়ে কোনো সতর্কতা প্রদান করা হবে না—তা অসম্ভব।
(2)সাবা-র রাণী যা বলেছিলেন এবং যে নীতি মেনে চলতেন—যে তিনি তার পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতি ও সম্মতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন না—আমাদের কাছে কুরআন বা সুন্নাহর কোথাও এই একই প্রসঙ্গে বা অন্য কোনো প্রসঙ্গে এমন কিছু নেই যা একে খণ্ডন বা বাতিল করে। সুতরাং সেই নারী যা বলেছিলেন এবং যে নীতি পালন করতেন, তাকে অসার বলার কোনো সুযোগ নেই।
(3)দ্বিতীয়ত: এটি পূর্ববর্তী বিষয়ের চেয়েও উচ্চতর স্তরের। তা হলো, কুরআনে সাবা-র রাণীর এই ঘটনাটি তার বিজ্ঞতা, কর্মতৎপরতা এবং পরিণতির প্রশংসা ও সন্তুষ্টির প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়েছে।
(4)ইমাম কুরতুবি তার পরিষদের সাথে রাণীর পরামর্শ ও আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "তিনি তার কওমের সাথে উত্তম শিষ্টাচার প্রদর্শন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের জানিয়েছিলেন যে, তার কাছে আসা প্রতিটি বিষয়েই এই নিয়ম বলবৎ থাকে, যেমনটি আল্লাহ তার সম্পর্কে উদ্ধৃত করেছেন: {তোমরা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না}। তাহলে এই মহাসংকটের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে
… ।"
(5)মূল আলোচ্য বিষয়: যেহেতু তার বক্তব্য—{তোমরা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না}—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাবে কোনো প্রকার খণ্ডন বা নিন্দা ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে; এবং যেহেতু এই বক্তব্যটি সমর্থন ও সন্তুষ্টির প্রেক্ষাপটে এসেছে, তাই রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতি ও সম্মতি ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার যে উক্তি ও প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন এবং যে কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতেন, তা শরিয়ত অনুযায়ী একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য।
(6)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
3 - أن الناظر في نصوص الكتاب العزيز، والسنة المطهرة، يجد أن الغلبة والكثرة في الأوصاف، أو في الأحوال، أو الأفعال ونحو ذلك، والتي لا تخالف الشرع، لها تأثير واعتبار في تقرير الأحكام واستنباطها، والترجيح فيما بينها ومن ذلك:
قوله تعالى {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَاُل وَهُوَ كرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنَ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُوا شَيْئًا وَهُوَ شرٌ لَكُمْ وَاللهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ}.
(1)وجه الشاهد: أن الله عز وجل أوجب القتال والجهاد، رغم ما فيه من مشاق ومتاعب للنفس البشرية ولكن هذه المشاق والمتاعب غير معتبرة؛ لأن المنافع والمصالح المتحققة بالجهاد أعظم وأكثر وأغلب.
وقوله تعالى {يَسْأَلُوْنَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلْناسِ وَإِثْمهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا}.
(2)وجه الشاهد: أن الخمر والميسر إنما ححرمتا؛ لغلبة الإثم والمضرة؛ فكان لهما أثر في التحريم
للغلبة والمضرة والكثرة
(3)، ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم: " إذا كان الماء قلتين فإنه لا ينجس"
(4).
وفي رواية "لم يحمل الخبث".
(5)وفيها أيضا حديث أبي مسعود الأنصاري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء، فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة، فإن كانوا في الهجرة سواء فأقدمهم سلما- وفي رواية سنا - ولا يؤمن الرجل الرجل في سلطانه ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه".
(6)--------------------------------------------
৩ - মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহর নসসমূহ (نصوص) পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, গুণাবলি, অবস্থা বা কার্যাবলির আধিক্য ও প্রাধান্য (যা শরয়ি বিধানের পরিপন্থী নয়), বিধান নির্ধারণ, তা উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন মতের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ও গুরুত্ব বহন করে। তার কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:
মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর যুদ্ধ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যদিও তোমাদের কাছে তা অপ্রিয়। আর হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং হতে পারে তোমরা এমন কিছু পছন্দ করছ যা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না}।
(১)প্রামাণ্য দিক (وجه الشاهد): মহান আল্লাহ তায়ালা কিতাল ও জিহাদকে ফরজ করেছেন, যদিও এতে মানবীয় নফসের জন্য অনেক কষ্ট ও ক্লেশ রয়েছে। কিন্তু এই কষ্ট ও ক্লেশ এখানে ধর্তব্য নয়; কারণ জিহাদের মাধ্যমে অর্জিত উপকার ও কল্যাণ অনেক বেশি মহান, সুদূরপ্রসারী এবং এর প্রাধান্যই বেশি।
মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতা। তবে তাদের পাপ তাদের উপকার অপেক্ষা অনেক বড়}।
(২)প্রামাণ্য দিক (وجه الشاهد): মদ ও জুয়া হারাম করা হয়েছে পাপ ও ক্ষতির আধিক্যের কারণে। সুতরাং পাপ, ক্ষতি ও অনিষ্টের আধিক্য ও প্রাবল্য এখানে হারামের বিধান আরোপের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।
প্রধান্য, ক্ষতি এবং আধিক্যের কারণে
(৩), আর সুন্নাহ থেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "পানি যখন দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্র হয় না"।
(৪) অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "তা অপবিত্রতা বহন করে না"।
(৫)এতে আবু মাসউদ আল-আনসারী বর্ণিত একটি হাদিসও রয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "লোকদের ইমামতি করবে সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব পাঠে সবচেয়ে পারদর্শী। যদি তারা কিরাআতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ সে ইমামতি করবে। যদি তারা সুন্নাহর ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে হিজরতের দিক থেকে যে অগ্রগামী সে ইমামতি করবে। আর যদি তারা হিজরতের ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে আগে ইসলাম কবুল করেছে—অন্য বর্ণনায় (رواية): বয়সে বড়—সে ইমামতি করবে। কোনো ব্যক্তি যেন অন্য কোনো ব্যক্তির প্রভাবাধীন এলাকায় গিয়ে তার অনুমতি ব্যতীত ইমামতি না করে এবং তার বাড়িতে তার বিশেষ আসনে তার অনুমতি ছাড়া না বসে।"
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وجه الشاهد: إذا تأملنا النصوص السابقة، فإننا نجد أن الأكثرية والأغلبية في الوصف،
… أو العدد، أو الحال، كان لها أثر في تقرير الأحكام.
الفقرة الثانية: الأدلة من السنة النبوية:استدل القائلون بالأغلبية بعدة نصوص من السنة النبوية منها:
1 - حديث ابن عباس رضي الله عنه ما أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه خرج إلى الشام حتى إذا كان بسرغ لقِيه أمراء الأجناد أبو عبيدة بن الجراح وأصحابه، فأخبروه أن الوباء قد وقع بأرض الشام، قال ابن عباس: فقال عمر أدع لي المهاجرين الأولين فدعاهم فاستشارهم وأخبرهم أن الوباء قد وقع بالشام فاختلفوا، فقال: " بعضهم قد خرجت لأمر ولا نرى أن ترجع عنه"، وقال بعضهم معك بقية الناس وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا نرى أن تقدمهم على هذا الوباء فقال: "ارتفعوا عني"، ثم قال: " أُدعوا لي الأنصار"، فدعوتهم فاستشارهم فسلكوا سبيل المهاجرين واختلفوا كاختلافهم، فقال: " ارتفعوا عني: ثم قال: " أدع لي من كان هاهنا من مشيخة قريش من مهاجرة الفتح" فدعوتهم فلم يختلف منهم عليه رجلان فقالوا: "نرى أن ترجع بالناس ولا تقدمهم على هذا الوباء، فنادى عمر في الناس" إني مصبح على ظهر"، فاصبحوا عليه، فقال أبو عبيدة بن الجراح أفراراً من قدر الله؟
فقال عمر: " لو غيرك قالها يا أبا عبيدة، نعم نفر من قدر الله إلى قدر الله ".
(1)وجه الشاهد: قال ابن حجر في شرحه هذا الحديث: " وفيه الترجيح بالأكثر عدداً،
… والأكثر تجربة، لرجوع عمر لقول مشيخة قريش مع ما انضم إليهم ممن وافق رأيهم من المهاجرين والأنصار، فإن مجموع ذلك أكثر من عدد من خالفه من كل من المهاجرين والأنصار، ووازن ما عند الذين خالفوا ذلك من مزيد في العلم والدين ما عند المشيخة من السن والتجارب، فلما تعادلوا من هذه الحيثية رجح بالكثرة .. "
(2).
2 - حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: "مر بجنازة فأثني عليها خير فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم: وجبت، وجبت، وجبت، ومر بجنازة فأثني عليها شر فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم: وجبت، وجبت، وجبت "، قال عمر: فدى لك أبي وأمي مُر بجنازة فأثني عليها خير فقلت: وجبت، وجبت، وجبت، ومر بجنازة فأثني عليها شر فقلت: وجبت، وجبت، وجبت فقال صلى الله عليه وسلم: "من أثنيتم عليه خيراً وجبت له الجنة، ومن أثنيتم عليه شراً وجبت له النار، أنتم شهداء الله في الأرض، أنتم شهداء الله في الأرض، أنتم شهداء الله في الأرض".
(3)--------------------------------------------
সাক্ষ্যদানের দিক (وجه الشاهد): যদি আমরা পূর্ববর্তী পাঠ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা করি, তবে আমরা দেখতে পাব যে বর্ণনায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (الأغلبية),
… অথবা সংখ্যা, অথবা অবস্থা, বিধান নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাতে নববী থেকে দলীলসমূহ:যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার (الأغلبية) প্রবক্তা তারা সুন্নাতে নববীর বেশ কিছু পাঠ্য দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শামের উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তিনি 'সারগ' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁর সাথে বিভিন্ন বাহিনীর সেনাপতি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ও তাঁর সাথীদের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা তাঁকে খবর দিলেন যে, শাম দেশে মহামারী (প্লেগ) ছড়িয়ে পড়েছে। ইবনে আব্বাস বলেন: তখন উমর বললেন, "আমার কাছে প্রথম হিজরতকারী মুহাজিরদের ডেকে আনো।" তিনি তাঁদের ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ করলেন এবং তাঁদের জানালেন যে শামে মহামারী দেখা দিয়েছে। ফলে তাঁরা মতভেদ করলেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, "আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, আমরা মনে করি না যে আপনি তা থেকে ফিরে যাবেন।" আবার কেউ কেউ বললেন, "আপনার সাথে অবশিষ্ট মানুষজন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ রয়েছেন; আমরা সমীচীন মনে করি না যে আপনি তাঁদের এই মহামারীর মুখে ঠেলে দেবেন।" তখন তিনি বললেন, "তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও।" এরপর তিনি বললেন, "আমার নিকট আনসারদের ডেকে আনো।" আমি তাঁদের ডাকলাম, তিনি তাঁদের সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরাও মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং তাঁদের মতোই মতভেদ করলেন। তিনি বললেন, "তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও।" এরপর তিনি বললেন, "আমার নিকট এখানে কুরাইশদের মশিয়খাহ (مشيخة) বা বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে যারা ফাতহে মক্কার সময় হিজরত করেছিলেন তাঁদের ডেকে আনো।" আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁদের মধ্যে দু'জন লোকও উমরের সাথে দ্বিমত পোষণ করলেন না। তাঁরা বললেন, "আমরা মনে করি যে আপনি মানুষজনকে নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদের এই মহামারীর মুখে ঠেলে দেবেন না।" তখন উমর লোকজনের মাঝে ঘোষণা দিলেন, "আমি ভোরে সওয়ারীর পিঠে থাকব (ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেব)।" ফলে তাঁরাও সেভাবেই ভোর করলেন। তখন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ বললেন, "আপনি কি আল্লাহর তকদির থেকে পলায়ন করছেন?"
উমর বললেন, "হে আবু উবাইদাহ! তুমি ছাড়া অন্য কেউ যদি এ কথা বলত! হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তকদির থেকে আল্লাহরই তকদিরের দিকে পলায়ন করছি।"
(১)সাক্ষ্যদানের দিক (وجه الشاهد): ইবনে হাজার এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এতে সংখ্যার দিক থেকে অধিক হওয়াকে (الأكثر عدداً) প্রাধান্য (الترجيح) দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে,
… এবং যাদের অভিজ্ঞতা বেশি (الأكثر تجربة), কারণ উমর কুরাইশের বয়োবৃদ্ধদের কথা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁদের সাথে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যারা একমত হয়েছিলেন তাঁরাও যুক্ত ছিলেন। কারণ এই সমষ্টির সংখ্যা তাদের চেয়ে বেশি ছিল যারা মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভিন্ন মত পোষণ করেছিলেন। আর যারা ভিন্ন মত পোষণ করেছিলেন তাদের জ্ঞান ও দ্বীনদারীর আধিক্যের বিপরীতে বয়োবৃদ্ধদের বয়স ও অভিজ্ঞতাকে তুলনা করা হয়েছে। যখন এই উভয় দিক ভারসাম্যপূর্ণ হলো, তখন সংখ্যাধিক্যের (بالكثرة) ভিত্তিতে প্রাধান্য (رجح) দেওয়া হলো।"
(২)।
২ - আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একটি জানাজা পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার প্রশংসা করা হলো। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অবধারিত হয়ে গেল (وجبت), অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল। এরপর অন্য একটি জানাজা পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার মন্দ আলোচনা করা হলো। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল।" উমর বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! একটি জানাজা পার হলো যার প্রশংসা করা হলো, আপনি বললেন: অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল। আবার একটি জানাজা পার হলো যার মন্দ আলোচনা করা হলো, তখনো আপনি বললেন: অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা যার প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল, আর যার মন্দ আলোচনা করলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল। তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী (شهداء الله), তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।"
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وجه الشاهد: أن في الحديث الاعتداد بالكثرة في الشهادة، فشهادة الناس معتبرة في الخير أو في الشر؛ ولذا أخذ بها النبي صلى الله عليه وسلم وقررها مما يدل على تأكيد العمل بها.
3 - حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إذا بويع لخليفتين فاقتلوا الآخر منهما".
(1)قال الغزالي في معرض حديثه عن الإمامة: "إنه مهما وقع الاتفاق على نصب واحد .. فمن طمح إلى طلبها لنفسه كان باغياً، فإنهم لو اختلفوا في مبدأ الأمر وجب الترجيح بالكثرة في ذلك
عند تقابل العدد وتقاربهم".
(2)4 - الأحاديث الدالة على الجماعة ومنها:
أ. حديث النعمان بن بشير رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " .. والجماعة رحمة والفرقة
عذاب "، قال: فقال أبو أمامة الباهلي، عليكم بالسواد الأعظم ".
(3)ب. حديث ابن عباس رضي الله عنه ما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يد الله مع الجماعة".
(4)ج. حديث ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إن الله لا يجمع أمتي، أو قال أمة محمد صلى الله عليه وسلم على ضلالة، ويد الله مع الجماعة، ومن شذ شذ إلى النار".
(5)وجه الشاهد: أن الله عز وجل وصى أمته بإتباع الجماعة عند الاختلاف، وأخبر أن يد الله مع الجماعة، وأن الأمة لا تجتمع على ضلالة؛ وفسر أبو أمامة الباهلي الجماعة: " بالسواد الأعظم "؛ أي الأكثرية.
--------------------------------------------
সাক্ষ্যের ভিত্তি: এই হাদিসে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্যকে গণ্য করার বিষয়টি রয়েছে। সুতরাং মানুষের সাক্ষ্য কল্যাণ বা অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য (معتبرة); এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করেছেন এবং এটি বহাল রেখেছেন, যা এর ওপর আমল করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার প্রমাণ বহন করে।
৩ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন দুইজন খলিফার জন্য বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে পরবর্তীজনকে হত্যা করো।"
(১)ইমামত বা নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আল-গাজালী বলেন: "যখন একজনের নিয়োগের ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়... তখন যে ব্যক্তি নিজে তা লাভের আকাঙ্ক্ষা করবে সে বিদ্রোহী (باغياً) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তারা যদি বিষয়টি শুরুর দিকেই মতপার্থক্য করত, তবে সেক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্যের মাধ্যমে অগ্রাধিকার (الترجيح بالكثرة) দেওয়া আবশ্যক হতো
যখন সংখ্যার সংখ্যাসাম্য বা কাছাকাছি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসত।"
(২)৪ - জামায়াত বা ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব নির্দেশক হাদিসসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে:
ক. নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "...ঐক্যবদ্ধ থাকা (الجماعة) রহমত এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া (الفرقة)
আজাব।" বর্ণনাকারী বলেন: আবু উমামা আল-বাহিলি বলেছেন: "তোমরা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের (السواد الأعظم) সাথে থেকো।"
(৩)খ. ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জামায়াতের (الجماعة) ওপর আল্লাহর হাত (সাহায্য) রয়েছে।"
(৪)গ. ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে—অথবা তিনি বলেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে—ভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত করবেন না। আর জামায়াতের (الجماعة) ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হবে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।"
(৫)সাক্ষ্যের ভিত্তি: মহান আল্লাহ তাঁর উম্মতকে মতপার্থক্যের সময় জামায়াতকে (الجماعة) অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অবহিত করেছেন যে, জামায়াতের (الجماعة) ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে এবং উম্মত কখনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না। আর আবু উমামা আল-বাহিলি জামায়াত (الجماعة) শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন: "বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল (السواد الأعظم)" অর্থাৎ সংখ্যাধিক্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 - حديث عبد الرحمن بن غنم الأشعري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لأبي بكر وعمر: " لو اجتمعتما في مشورة ما خالفتكما ".
(1)وجه الشاهد: أنه يرجح رأي الاثنين على رأي الواحد.
الفقرة الثالثة: الأدلة من السيرة النبوية.
وردت العديد من الشواهد على الأخذ برأي الأغلبية في السيرة النبوية المطهرة إذ أنها تمثل الجانب العملي من هدي النبي صلى الله عليه وسلم ومنها:
1 - في غزوة بدر:يتجلى الأخذ برأي الأغلبية في معركة الفرقان في مشهدين:
الأول: أخذ النبي صلى الله عليه وسلم برأي أغلب الصحابة في قتال المشركين في معركة بدر، ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يخرج للقتال وإنما خرج لاعتراض عير قريش وقافلتها التجارية بقيادة أبي سفيان ابن حرب، ولما جاءت قريش بجيشها للقتال، عمد النبي صلى الله عليه وسلم لمعرفة آراء من خرجوا معه.
قال ابن إسحاق: " .. وأتاه الخبر عن قريش بمسيرهم ليمنعوا عيرهم، فاستشار الناس وأخبرهم عن قريش، فقال أبو بكر الصديق رضي الله عنه وأحسن، ثم قام عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال وأحسن، ثم قام المقداد بن عمرو، فقال: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم: امض لما أراك الله، فنحن معك، والله لا نقول لك ما قالت بنو إسرائيل لموسى {فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُكَ فَقَاتِلَا إِنا هَاهُنَا قَاعِدُونَ}
(2)، لكن اذهب أنت وربك فقاتلا، إنا معكما مقاتلون، فوالذي بعثك بالحق لو سرتَ بنا إلى برك الغماد لجالدنا معك من دونه حتى نبلغه .. "
(3).
ومع أن النبي صلى الله عليه وسلم استمع إلى رأي ثلاثة هم رؤوس المهاجرين، إلا أنه رغب في معرفة رأي الأكثرية من الأنصار فقال: " أشيروا علي أيها الناس".
(4)--------------------------------------------
৫ - আবদুর রহমান ইবনে গানম আল-আশআরী বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সা.) আবু বকর ও উমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "যদি তোমরা কোনো পরামর্শের বিষয়ে একমত হও, তবে আমি তোমাদের বিরোধিতা করব না।"
(১)প্রাসঙ্গিকতা: এটি একজনের মতের তুলনায় দুইজনের মতকে প্রাধান্য প্রদানের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সিরাত থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি।
পবিত্র সিরাতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গ্রহণের বহু প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে, যা নবী (সা.)-এর হিদায়াতের প্রায়োগিক দিককে উপস্থাপন করে। তার মধ্য থেকে কিছু হলো:
১ - বদর যুদ্ধে:সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী যুদ্ধে (বদর যুদ্ধে) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গ্রহণের বিষয়টি দুটি দৃশ্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:
প্রথমত: নবী (সা.) বদর যুদ্ধে মুশরিকদের সাথে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সাহাবীর মতামত গ্রহণ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে নবী (সা.) যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হননি, বরং তিনি আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নেতৃত্বে কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলাটি আটক করার জন্য বের হয়েছিলেন। যখন কুরাইশরা তাদের সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধের জন্য রণক্ষেত্রে উপস্থিত হলো, তখন নবী (সা.) তাঁর সাথে থাকা সাহাবীদের মতামত যাচাই করার সংকল্প করলেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: "...কুরাইশরা তাদের বাণিজ্য কাফেলা রক্ষায় অগ্রসর হচ্ছে—এই সংবাদ তাঁর নিকট পৌঁছলে তিনি লোকদের সাথে পরামর্শ করলেন এবং কুরাইশদের সম্পর্কে তাদের অবহিত করলেন। তখন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) দাঁড়ালেন এবং চমৎকার কথা বললেন, এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) দাঁড়ালেন এবং তিনিও চমৎকার কথা বললেন। অতঃপর মিকদাদ ইবনে আমর (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সেদিকে অগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথে আছি। আল্লাহর কসম, আমরা আপনাকে তা বলব না যা বনী ইসরাঈলরা মূসাকে বলেছিল—{সুতরাং আপনি এবং আপনার প্রতিপালক গিয়ে লড়াই করুন, আমরা এখানেই বসে রইলাম}
(২)। বরং আপনি এবং আপনার প্রতিপালক গিয়ে লড়াই করুন, আমরা আপনাদের সাথেই লড়াই করব। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদের নিয়ে বারকুল গিমাদ পর্যন্তও নিয়ে যান, তবুও আমরা সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত আপনার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব...।"
(৩)।
যদিও নবী (সা.) মুহাজিরদের নেতৃস্থানীয় তিন ব্যক্তির মতামত শ্রবণ করেছিলেন, তবুও তিনি আনসারদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত জানতে আগ্রহী ছিলেন। তাই তিনি বললেন: "হে লোকসকল! আমাকে পরামর্শ দাও।"
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال ابن إسحاق
(1): " وإنما يريد الأنصار، وذلك أنهم عدد الناس " أي أكثريتهم".
(2)فكان لا بد أن يسمع منهم، فقال زعيمهم سعد بن معاذ: " والله لكأنك تريدنا يا رسول الله؟ قال: أجل، قال: فقد آمنا بك، وصدقناك، وشهدنا أن ما جئت به هو الحق، وأعطيناك على ذلك عهودنا ومواثيقنا على السمع والطاعة، فامض يا رسول الله لما أردت فنحن معك، فو الذي بعثك بالحق، لو استعرضت بنا هذا البحر فخضته لخضناه معك، ما تخلف منا رجل واحد، وما نكره أن تلقى بنا عدونا غداً، إنا لصُبر في الحرب، صُدْقٌ في اللقاء، لعل الله يريك منا ما تقر به عينك، فسِر بنا على بركة الله".
(3)قال ابن إسحاق: فسر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقول سعد ونشطه ذلك ثم قال: " سيروا وأبشروا، فإن الله تعالى قد وعدني إحدى الطائفتين، والله لكأني الآن أنظر إلى مصارع القوم"
(4).
الثاني: حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه وفيه: " فلما أسروا الأسارى، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأبي بكر وعمر: " ما ترون في هؤلاء الأسارى؟
فقال أبو بكر يا نبي الله هم بنو العم والعشيرة أرى أن تأخذ منهم فدية فتكون لنا قوة على الكفار، فعسى الله أن يهديهم للإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما ترى يا ابن الخطاب؟ " قلت:
… " لا والله ما أرى الذي رأى أبوبكر، ولكني أرى أن تمكنا فنضرب أعناقهم، فتمكن علياً من عقيل فيضرب عنقه، وتمكني من فلان - نسيبا لعمر- فأضرب عنقه؛ فإن هؤلاء أئمة الكفر وصناديدها، فهوى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قال أبوبكر ولم يهو ما قلت، فلما كان في الغد جئت فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبوبكر قاعدين يبكيان، قلت يا رسول الله أخبرني عن أي شيء تبكي أنت وصاحبك فإن وجدت بكاء بكيت وإن لم أجد بكاء تباكيت لبكائكما، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبكي للذي عرض علي أصحابك من أخذهم الفداء، لقد عرض علي عذابهم أدنى من هذه الشجرة وأنزل الله عز وجل {مَا كَانَ لِنَبِي أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتى يُثْخِنَ فِي الأرْض}
(5). فأحل الله الغنيمة لهم ".
(6)--------------------------------------------
ইবনে ইসহাক
(১) বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি আনসারদের উদ্দেশ্য করেছিলেন, আর তা এই কারণে যে তারা ছিল লোকসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ" অর্থাৎ "তাদের অধিকাংশ"।
(২)সুতরাং তাদের পক্ষ থেকে মতামত শোনা ছিল অপরিহার্য। তখন তাদের নেতা সাদ বিন মুয়াজ (রা.) বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি সম্ভবত আমাদেরই উদ্দেশ্য করছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সাদ (রা.) বললেন: "আমরা আপনার ওপর ঈমান এনেছি, আপনাকে সত্য বলে স্বীকার করেছি এবং সাক্ষ্য দিয়েছি যে আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা ধ্রুব সত্য। আর এর ওপর ভিত্তি করে আমরা আপনাকে শ্রবণ ও আনুগত্যের অঙ্গীকার ও সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। অতএব হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যা ইচ্ছা করেছেন সেদিকে অগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথেই আছি। সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনি যদি আমাদের নিয়ে এই সমুদ্রে ঝাঁপ দেন তবে আমরাও আপনার সাথে ঝাঁপ দেব। আমাদের একজন লোকও পেছনে থাকবে না। আর আগামীকাল আপনি আমাদের নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করবেন—এটি আমরা বিন্দুমাত্র অপছন্দ করি না। নিশ্চয়ই আমরা যুদ্ধে পরম ধৈর্যশীল এবং রণক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ। সম্ভবত আল্লাহ আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখাবেন যা দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। অতএব আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে আমাদের নিয়ে এগিয়ে চলুন।"
(৩)ইবনে ইসহাক বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদের কথায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন এবং এটি তাকে উজ্জীবিত করল। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা পথ চলো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা আল্লাহ তাআলা আমাকে দুই দলের (শত্রু বাহিনী অথবা বাণিজ্য কাফেলা) যেকোনো একটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, আমি যেন এখনই কাফের সম্প্রদায়ের পতনের স্থানগুলো সচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।"
(৪)দ্বিতীয়: ওমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে: "যখন তারা যুদ্ধবন্দীদের বন্দী করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকর ও ওমরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: 'এই যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কী?'
আবু বকর (রা.) বললেন: 'হে আল্লাহর নবী, তারা তো আমাদেরই বংশের এবং আত্মীয়-স্বজন। আমার অভিমত হলো আপনি তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করুন, যা কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের জন্য শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ইসলামের দিকে হেদায়েত দান করবেন।' অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'হে খাত্তাবের পুত্র, তোমার মতামত কী?' আমি বললাম: '...না, আল্লাহর কসম, আবু বকর যে মত দিয়েছেন আমি তা সমর্থন করি না। বরং আমার অভিমত হলো, আপনি আমাদের তাদের ওপর কর্তৃত্ব দিন যাতে আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দিতে পারি। আপনি আলীকে আকিলের ওপর ক্ষমতা দিন এবং সে তার গর্দান উড়িয়ে দিক; আর আমাকে আমার অমুক আত্মীয়ের ওপর ক্ষমতা দিন এবং আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই। কারণ এরা হলো কুফরের মূল নেতা ও তাদের প্রধান সর্দার।' কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরের অভিমতকেই পছন্দ করলেন এবং আমার কথা গ্রহণ করলেন না। পরদিন সকালে যখন আমি আসলাম, দেখি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর বসে কাঁদছেন। আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে বলুন আপনি এবং আপনার সাথী কেন কাঁদছেন? যদি কান্না আসে তবে আমি কাঁদব, আর কান্না না আসলে আপনাদের কান্নার কারণে কান্নার ভান করব।' রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'তোমার সাথীরা মুক্তিপণ গ্রহণ করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে কারণে আমি কাঁদছি। আমার কাছে তাদের জন্য নির্ধারিত আজাব এই বৃক্ষের চেয়েও নিকটবর্তী হিসেবে পেশ করা হয়েছে।' তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে তার কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে যতক্ষণ না তিনি জমিনে রক্তপাত (শত্রুর দাপট খর্ব) করেন}
(৫)। অতঃপর আল্লাহ তাদের জন্য গনীমত হালাল করে দিলেন।"
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وجه الشاهد: هذه الرواية وإن كان ظاهرها أن النبي صلى الله عليه وسلم إنما أخذ برأي الصديق رضي الله عنه فإنها صريحة في آخرها، بأن القول بأخذ الفدية من الأسرى كان قول جمهور الصحابة، بدلالة: "أبكي للذي عرض علي أصحابك .. ".
(1)وورد في التحرير والتنوير: " والخطاب في قوله " تريدون " للفريق الذي أشاروا بأخذ الفداء، وفيه إشارة إلى أن الرسول صلى الله عليه وسلم غير معاتب؛ لأنه إنما أخذ برأي الجمهور". (
2) 2 - في غزوة أحد:قال البخاري: " وشاور النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه يوم أحد في المقام والخروج، فرأوا له الخروج، فلما لبس لأمته وعزم قالوا: أقم فلم يمل إليهم بعد العزم، وقال لا ينبغي لنبي لبس لأمته فيضعها حتى يحكم الله ".
(3)وقد وردت القصة بتمامها في مستخرج أبي عوانة وفيه: " فلما نزل أبو سفيان بالمشركين أحداً قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه: إني رأيت الليلة أني في درع حصينة، وإني أولتها المدينة، فاجلسوا في صنعكم، وقاتلوا من ورائه، وكانوا قد شكوا أزقة المدينة بالبنيان، فقال رجال من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكونوا شهدوا بدراً-: " يا رسول الله، أخرج بنا إليهم، فلم يزالوا برسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لبس لأمته، فلما لبس رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمته.
فقال: أما إني أظن الصرعى مستكثر منكم ومنهم اليوم؛ إني رأيت في المنام بقراً منحرة، فأراني أقول: بقر، والله خير فتقدم الذين كانوا يدعونه إلى الخروج.
فقالوا: يا رسول الله امكث، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنه لا ينبغي لنبي أن يلبس لأمتَه، ثم ينتهي حتى يأتي البأس .. ".
(4)--------------------------------------------
সাক্ষ্যের দিক (وجه الشاهد): এই বর্ণনাটি (الرواية), যদিও এর বাহ্যিক দিক দেখে মনে হয় যে নবী (সা.) কেবলমাত্র সিদ্দীক (রা.)-এর মত গ্রহণ করেছিলেন, তবে এর শেষাংশে এটি স্পষ্ট যে যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের বিষয়টি সাহাবীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) অংশের অভিমত ছিল। এর প্রমাণ হলো: "আমি কাঁদছি তোমার সাথীরা আমার কাছে যা পেশ করেছে তার জন্য..."
(১)আত-তাহরির ওয়াত-তানভির গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "'তোমরা চাচ্ছ' বাক্যে সম্বোধন করা হয়েছে সেই দলকে যারা মুক্তিপণ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) ভর্ৎসিত নন; কারণ তিনি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের (الجمهور) মতই গ্রহণ করেছিলেন।" (
২) ২ - উহুদ যুদ্ধে:ইমাম বুখারি বলেন: "নবী (সা.) উহুদের দিন মদিনায় অবস্থান করা বা যুদ্ধের জন্য বের হওয়া সম্পর্কে তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তখন তাঁরা তাঁর জন্য বের হওয়ার পক্ষেই মত দেন। অতঃপর তিনি যখন যুদ্ধের পোশাক পরিধান করেন এবং সংকল্প করেন, তখন তাঁরা বললেন: 'আপনি অবস্থান করুন'। কিন্তু তিনি সংকল্প করার পর তাদের দিকে আর ঝুঁকলেন না এবং বললেন: 'কোনো নবীর জন্য শোভা পায় না যে, তিনি যুদ্ধের পোশাক পরার পর তা খুলে রাখবেন, যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন'।"
(৩)এই ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুস্তাখরাজ আবি আওয়ানা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে আছে: "যখন আবু সুফিয়ান মুশরিকদের নিয়ে উহুদে অবতরণ করল, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবীদের বললেন: 'আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি যে আমি একটি সুরক্ষিত বর্মের মধ্যে আছি, এবং আমি এর ব্যাখ্যা করেছি মদিনা শহর হিসেবে। অতএব তোমরা তোমাদের অবস্থানে থাকো এবং এর আড়াল থেকে যুদ্ধ করো।' তারা মদিনার অলিগলি দালানকোঠা দিয়ে সুরক্ষিত করেছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক—যারা বদরে উপস্থিত ছিলেন না—বললেন: 'হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের নিয়ে তাদের দিকে বের হোন।' তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ক্রমাগত পিড়াপিড়ি করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর যুদ্ধের পোশাক পরিধান করলেন। যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর যুদ্ধের পোশাক পরিধান করলেন,
তখন তিনি বললেন: 'সাবধান! আজ আমি তোমাদের এবং তাদের মধ্য থেকে অনেক নিহত হওয়ার আশঙ্কা করছি। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে কিছু গরু জবেহ করা হচ্ছে। আর আমি বলছি: গরু, আর আল্লাহর ফয়সালাই কল্যাণকর।' তখন যারা তাঁকে বাইরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা এগিয়ে এলেন।
তারা বললেন: 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অবস্থান করুন।' রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: 'কোনো নবীর জন্য শোভা পায় না যে তিনি যুদ্ধের পোশাক পরিধান করবেন, তারপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তা পরিহার করবেন'..."
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال ابن حجر العسقلاني: " وأبى كثير من الناس إلا الخروج "
(1)، وقال ابن كثير: " وشاروهم في أحد في أن يقعد في المدينة أو يخرج إلى العدو فأشار جمهورهم بالخروج إليه فخرج إليهم".
(2)وجه الشاهد: فهذه الروايات الحديثية والتاريخية تبين بكل وضوح أن النبي صلى الله عليه وسلم نزل على رأي الأغلبية في الخروج إلى أحد مما يدل على اعتبارها في الشرع.
3 - غزوة الأحزاب (الخندق):روى ابن إسحاق عن جماعة من الرواة: " قالوا: إنه كان من حديث الخندق أن نفراً من اليهود .. حزبوا الأحزاب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وخرجوا حتى قدموا على قريش في مكة، فدعوهم
إلى حرب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقالوا: إنا سنكون معكم عليه حتى نستأصله .. ".
(3)فدخل في حلفهم كل من: قريش، وغطفان، وبني قريظة، بالإضافة إلى بني النضير، وبني وائل.
قال ابن إسحاق: وعظم عند ذلك البلاء، واشتد الخوف، وأتاهم عدوهم من فوقهم ومن أسفل منهم، حتى ظن المؤمنون كل ظن، ونجم النفاق من بعض المنافقين ".
(4)وفي هذا الظرف العسير لجأ القائد الحكيم إلى خطوة ليخفف بها عن أصحابه، ويكسر بها طوق أعدائهم فأجرى اتصالات سرية مع قائدي غطفان: عيينة بن حسن، والحارث بن عوف وتوصل معهما إلى اتفاق يقضي بانسحاب غطفان من الحلف مقابل أن يعطيهم ثلث ثمار المدينة، وقبل أن يصبح العقد نهائياً وملزماً عرض رسول الله صلى الله عليه وسلم الأمر على زعيمي الأنصار وممثليهم: سعد بن معاذ، وسعد بن عبادة، فقالا له: يا رسول الله أمراً تحبه فنصنعه، أم شيئا أمرك الله به، لا بد لنا من العمل به أم شيء تصنعه لنا؟ قال: " بل شيء أصنعه لكم، والله ما أصنع ذلك إلا لأنني رأيت العرب قد رمتكم عن قوس واحد وكالبُوكم من كل جانب فأردت أن أكسر عنكم من شوكتهم إلى أمر ما ".
فقال له سعد بن معاذ: يا رسول الله، قد كنا نحن وهؤلاء القوم على الشرك بالله وعبادة الأوثان، لا نعبد الله ولا نعرفه، وهم لا يطمعون أن يأكلوا منها إلا قرىً أو بيعاً، أَفَحِين أكرمنا الله بالإسلام وهدانا له، وأعزنا بك وبه نعطيهم أموالنا؟ والله ما لنا بهذا من حاجة، والله لا
--------------------------------------------
ইবনে হাজার আল-আসকালানি বলেন: "অনেকেই (শহর থেকে) বের হওয়ার ব্যাপারে একমত ছিলেন"
(১), এবং ইবনে কাসির বলেন: "উহুদের যুদ্ধে তিনি তাঁদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন যে, মদিনায় অবস্থান করবেন নাকি শত্রুর মোকাবিলায় বের হবেন। তাঁদের অধিকাংশ (جمهور) বের হওয়ার পরামর্শ দেন, ফলে তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বের হন।"
(২)সাক্ষ্যের দিক (وجه الشاهد): এই হাদিস ও ইতিহাসের বর্ণনাগুলো (روايات) স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের যুদ্ধে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যাধিক্যের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা শরিয়তে এর গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।
৩ - আহজাবের যুদ্ধ (খন্দক):ইবনে ইসহাক একদল বর্ণনাকারীর (رواة) সূত্রে বর্ণনা (روى) করেছেন: "তাঁরা বলেন: খন্দকের ঘটনার বর্ণনায় রয়েছে যে, ইহুদিদের একটি দল... রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করল এবং তারা মক্কায় কুরাইশদের কাছে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানালো এবং বলল: আমরা তোমাদের সাথে থাকব যতক্ষণ না আমরা তাঁকে সমূলে উৎপাটিত করি..."।
(৩)ফলে তাদের এই জোটে কুরাইশ, গাতাফান, বনু কুরাইজা সহ বনু নাদির এবং বনু ওয়ায়েল যোগদান করল।
ইবনে ইসহাক বলেন: এ সময় পরীক্ষা বা বিপদ চরমে পৌঁছেছিল এবং আতঙ্ক তীব্র হয়েছিল। শত্রুরা তাদের ওপর থেকে এবং নিচে থেকে আক্রমণ করেছিল, এমনকি মুমিনরা নানা রকম ধারণা করতে শুরু করেছিল এবং কিছু মুনাফিকের মধ্য থেকে নিফাক প্রকাশ পেতে লাগল।"
(৪)এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রাজ্ঞ সেনাপতি তাঁর সাহাবীদের ওপর চাপ কমাতে এবং শত্রুদের বেষ্টনী ছিন্ন করতে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি গাতাফানের দুই নেতা উয়ায়না ইবনে হাসান এবং আল-হারিস ইবনে আউফের সাথে গোপন যোগাযোগ করেন এবং তাঁদের সাথে এই চুক্তিতে উপনীত হন যে, মদিনার উৎপাদিত ফলের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়ার বিনিময়ে গাতাফান এই জোট থেকে সরে যাবে। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের দুই নেতা ও প্রতিনিধি সাদ ইবনে মুয়াজ এবং সাদ ইবনে উবাদার সামনে বিষয়টি পেশ করেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এটি কি এমন কিছু যা আপনি পছন্দ করেন এবং আমরা তা করব? নাকি আল্লাহ আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন যা পালন করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক? নাকি এটি এমন কিছু যা আপনি আমাদের স্বার্থে করছেন? তিনি বললেন: "বরং এটি আমি তোমাদের স্বার্থেই করছি। আল্লাহর কসম, আমি কেবল এ কারণেই এটি করছি যে, আমি দেখেছি আরবরা একযোগে তোমাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করছে এবং সব দিক থেকে তোমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাই আমি চেয়েছি তাদের এই শক্তিমত্তাকে কিছুটা হলেও চূর্ণ করতে।"
সাদ ইবনে মুয়াজ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা এবং এই জাতি (যখন) আল্লাহর সাথে শিরক এবং মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিলাম, আমরা আল্লাহর ইবাদত করতাম না এবং তাঁকে চিনতামও না; তখনও তারা আপ্যায়ন বা ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত এখান থেকে কিছু খাওয়ার আশা করতে পারত না। এখন যখন আল্লাহ আমাদের ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের হেদায়েত দান করেছেন, আর আপনার ও ইসলামের মাধ্যমে আমাদের শক্তিশালী করেছেন, তখন কি আমরা তাদের আমাদের সম্পদ দিয়ে দেব? আল্লাহর কসম, আমাদের এর কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কসম, আমরা দেব না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
نعطيهم إلا السيف حتى يحكم الله بيننا وبينهم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " فأنت وذاك "، فتناول سعد بن معاذ الصحيفة فمحا ما فيها من الكتاب، ثم قال: ليجهدوا علينا".
(1)وجه الشاهد: أن النبي صلى الله عليه وسلم عدل عن رأيه لرأي سعد بن معاذ، وسعد بن عبادة وترك ما كان قد رغب فيه من المصالحة على ثلث ثمار المدينة مقابل الانسحاب من حلف اليهود.
4 - حصار الطائف:في حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال: " لما حاصر رسول الله صلى الله عليه وسلم الطائف فلم ينل منهم شيئا قال: " إنا قافلون إن شاء الله، فثقل عليهم وقالوا نذهب ولا نفتحه، فقال: " أغدوا على القتال
فغدوا فأصابهم جراح، فقال: إنا قافلون غداً إن شاء الله، فأعجبهم فضحك النبي صلى الله عليه وسلم ".
(2)وجه الشاهد: عمل النبي صلى الله عليه وسلم برأي الأغلبية، وعدوله عن رأيه لرأيهم؛ مما يدل على مشروعيته. وهكذا نجد السيرة النبوية مليئة بالشواهد على مشاورة النبي ص لأصحابه وأخذه برأي أغلبيتهم؛ حتى قال أبو هريرة رضي الله عنه: " ما رأيت أحدا قط كان أكثر مشورة لأصحابه من رسول الله صلى الله عليه وسلم ".
(3)
الفقرة الرابعة: عمل الفقهاء.
بالنظر في تراثنا الفقهي يجد الباحث أن العمل بالكثرة معتمد لدى الفقهاء في ترجيحاتهم عند اختلاف الأقوال الفقهية الاجتهادية، وينطبق هذا ابتداء من الصحابة.
قال ابن القيم: " فإن كان الأربعة - يقصد الخلفاء الراشدين- في شق فلا شك أنه صواب، وإن كان أكثرهم في شق فالصواب فيه أغلب ".
(4)وروي عن علي رضي الله عنه أنه قال: " استشارني عمر في أمهات الأولاد (يعني الإماء) فأجمعت أنا
… وهو على عتقهم، ثم رأيت بعد أن أُرقهم فقال له عبيدة (وهو عبيدة السلماني- تابعي-) رأي ذوي عدل أحب ألينا من رأي عدل وحده ".
(5)--------------------------------------------
"আমরা তাদের কেবল তরবারিই দেব, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের ও তাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তাহলে তুমি যা ভালো মনে করো'। তখন সাদ ইবনে মুআয (রা.) চুক্তিনামাটি হাতে নিলেন এবং সেখানে যা লেখা ছিল তা মুছে ফেললেন। অতঃপর বললেন: 'তারা আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে দেখুক'।"
(1)সাক্ষ্যের প্রেক্ষিত (وجه الشاهد): নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিজস্ব অভিমত পরিবর্তন করে সাদ ইবনে মুআয ও সাদ ইবনে উবাদার অভিমত গ্রহণ করেছিলেন। ইহুদি মিত্রবাহিনীকে প্রত্যাহার করার বিনিময়ে মদিনার এক-তৃতীয়াংশ ফল প্রদানের মাধ্যমে যে সন্ধি করার ইচ্ছা তিনি করেছিলেন, তা তিনি পরিত্যাগ করেন।
৪ - তায়েফ অবরোধ:আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, তিনি বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফ অবরোধ করলেন এবং তাদের থেকে বিশেষ কোনো বিজয় লাভ করলেন না, তখন তিনি বললেন: 'ইনশাআল্লাহ, আমরা ফিরে যাব'। বিষয়টি সাহাবীদের জন্য কষ্টকর মনে হলো এবং তারা বললেন: 'আমরা কি জয় না করেই চলে যাব?' তিনি বললেন: 'তবে তোমরা ভোরে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নাও'।"
অতঃপর তারা ভোরে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং জখম হলেন। তখন তিনি বললেন: "ইনশাআল্লাহ, আমরা আগামীকাল ফিরে যাব"। এটি তাদের ভালো লাগল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসলেন।"
(2)সাক্ষ্যের প্রেক্ষিত (وجه الشاهد): নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংখ্যাগরিষ্ঠের (الأغلبية) মতানুসারে কাজ করেছেন এবং নিজের মতের পরিবর্তে তাদের মত গ্রহণ করেছেন; যা এর বৈধতা প্রমাণ করে। এভাবে আমরা সীরাতে নববীকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করার এবং অধিকাংশের মত গ্রহণের অসংখ্য প্রমাণে ভরপুর পাই; এমনকি আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা অধিক পরামর্শকারী আর কাউকে দেখিনি।"
(3)
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ফকিহগণের আমল.
আমাদের ফিকহি ঐতিহ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করলে গবেষক দেখতে পাবেন যে, ইজতিহাদলব্ধ ফিকহি বক্তব্যের ভিন্নতার ক্ষেত্রে ফকিহগণ তাদের পছন্দের অগ্রাধিকার নির্ণয়ে সংখ্যাধিক্যের (الكثرة) ওপর নির্ভর করতেন। এটি সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই প্রযোজ্য।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "যদি চারজন—অর্থাৎ খুলাফায়ে রাশিদিন—একই পক্ষে থাকেন, তবে নিঃসন্দেহে সেটি সঠিক। আর যদি তাদের অধিকাংশ এক পক্ষে থাকেন, তবে তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।"
(4)আলী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "উমর (রা.) উম্মাহাতুল আওলাদ (অর্থাৎ দাসীদের) ব্যাপারে আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন। আমি এবং তিনি তাদের মুক্ত করে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমি তাদের দাসত্বে বহাল রাখার মত পোষণ করি। তখন উবাইদাহ (যিনি উবাইদাহ আস-সালমানি, একজন তাবেয়ি (تابعي)) তাকে বললেন: 'একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির একক মতের চেয়ে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির মত আমাদের নিকট অধিক প্রিয়'।"
(5)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي مسألة أخرى مماثلة هي مسألة المخيرة قال علي رضي الله عنه: " لأمر جامعت عليه أمير المؤمنين - عمر رضي الله عنه وتركت له رأيك، أحب ألينا من أمر تفردت به، فضحك ".
(1)وفي كشف الأسرار: " وإنما اختار أبو عبيدة أن يكون قول علي منضماً إلى قول عمر رضي الله عنه ما؛ لأنه كان يرجح قول الأكثر على قول الأقل، وعلي لا يرى الترجيح بالكثرة بل بقوة الدليل".
(2)وفي المعتمد: "والعمل بالكثرة مقرر عند عامة الفقهاء؛ لأن الأغلب أن الصواب يكون مع الأكثر".
(3)
الفقرة الخامسة: القواعد الفقهية والأصولية.
تشهد عدداً من القواعد الفقهية للعمل بالأغلبية على النحو التالي:
- العبرة بالظن الغالب.
(4)- ما قارب الشيء يعطى حكمه.
(5)- الأقل يتبع الأكثر.
(6)- معظم الشيء يقوم مقام كله.
(7)- الترجيح بالكثرة.
(8)- الترجيح بكثرة المفتين.
(9)- الترجيح بكثرة الأصول وهو مذهب الحنفية.
(10)
الفقرة السادسة: البداهة.
--------------------------------------------
অনুরূপ অন্য একটি মাসআলা, যা 'মাসআলা আল-মুখায়্যারা' নামে পরিচিত, সেখানে আলী (রা.) বলেছেন: "আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.)-এর সাথে আমি যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছি এবং যার জন্য তোমার মতামত ত্যাগ করেছি, তা আমার কাছে এমন বিষয়ের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় যে বিষয়ে তুমি একক সিদ্ধান্ত নিয়েছ; এতে তিনি (উমর) হেসে দিলেন।"
(1)এবং 'কাশফুল আসরার' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "আবু উবাইদাহ মূলত আলীর বক্তব্যকে উমর (রা.)-এর বক্তব্যের সাথে সংযুক্ত করাকেই পছন্দ করেছিলেন; কারণ তিনি সংখ্যায় কমের মতের ওপর সংখ্যায় বেশির মতকে প্রাধান্যদান (الترجيح) করতেন। আর আলী সংখ্যার আধিক্যের মাধ্যমে প্রাধান্যদান (الترجيح) সমর্থন করতেন না, বরং দলিলের শক্তির ভিত্তিতে করতেন।"
(2)এবং 'আল-মুতামাদ' গ্রন্থে রয়েছে: "সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী আমল করা সাধারণ ফকিহদের নিকট স্বীকৃত; কারণ সাধারণত সঠিক বিষয়টি সংখ্যায় বেশির সাথেই থাকে।"
(3)
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ফিকহি এবং উসুলি নীতিমালা.
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে আমল করার সমর্থনে বেশ কিছু ফিকহি নীতিমালা নিম্নরূপ সাক্ষ্য দেয়:
- প্রবল ধারণাই (الظن الغالب) ধর্তব্য।
(4)- কোনো বস্তুর নিকটবর্তী বিষয়কে সেই বস্তুরই হুকুম দেওয়া হয়।
(5)- সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরুকে অনুসরণ করবে।
(6)- কোনো জিনিসের অধিকাংশ তার পূর্ণাংশের স্থলাভিষিক্ত হয়।
(7)- আধিক্যের ভিত্তিতে প্রাধান্যদান (الترجيح)।
(8)- মুফতিদের আধিক্যের ভিত্তিতে প্রাধান্যদান (الترجيح)।
(9)- উসুলের আধিক্যের ভিত্তিতে প্রাধান্যদান (الترجيح), যা হানাফি মাযহাবের অভিমত।
(10)
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: স্বতঃসিদ্ধতা.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ميل النفس إلى تفضيل رأي الأغلبية، فطري يدرك بالبداهة من غير إعمال للفكر، ولا علم بالسبب، وهذه البداهة يدركها الناس جميعاً صغاراً وكباراً في جميع الشعوب، فحيثما كانت الكثرة في الرأي وفي الاختيار وفي المواقف فالصواب فيها أكثر.
الفقرة السابعة: أقوال المعاصرين في العمل بمبدأ الأغلبية.
وردت أقوال كثيرة للمعاصرين في العمل بمبدأ الأغلبية منها:
يقول محمد رشيد رضا: " .. ومنه يعلم أن ما شرعه الله من العمل برأي الأكثرية فسببه أنه هو الأمثل في الأمور العامة، لا لأنهم معصومين منها ".
ويقول أيضا: " فإن قيل وما حكمته تعالى في ترجيح الرسول لرأي الجمهور المرجوح ثم إنكاره تعالى ذلك عليهم، قل: إن لله في ذلك لحِكما ما ظهر لي منها، الحكمة الأولى: عمل الرسول ص برأي الجمهور الأعظم فيما لا نص فيه من الله تعالى، وهو ركن من أركان الإصلاح السياسي والمدني الذي عليه أكثر الأمم في دولها القوية في هذا العصر".
(1)ويقول عبد القادر عودة: " وربما يصح عقلاً أن رأي الأكثرية خاطئاً، ورأي الأقلية صوابا، ولكن هذا نادر، والنادر لا حكم له، والمفروض شرعا رأي الأكثرين هو الصواب ما دام كله يبدي رأيه مجرداً لله وأساس ذلك قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا تجتمع أمتي على ضلالة ويد الله مع الجماعة "
(2).
البند الثاني: أدلة القائلين بمنع العمل بالأغلبية.
وقف عدد من العلماء والدعاة المعاصرين من مبدأ الأغلبية موقف الإنكار والرفض واستدلوا بعدة أدلة منها:
الفقرة الأولى: من القرآن الكريم.
أ- أن الأكثرية وردت في القرآن الكريم مورد الذم، واقترنت بالضلال وعدم العلم في عدد من آيات القرآن منها:
قوله تعالى {وَلَكِن أَكْثَرَ الناسِ لَا يَشْكُرُونَ}.
(3)قوله تعالى {وَلَكِن أَكْثَرَ الناسِ لَا يَعْلَمُونَ}
(4).
قوله تعالى {وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِيِ الُأَرْضِ يُضِلوُكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ}
(5).
وقوله تعالى {وَلَكِن أَكْثَرَ الناسِ لَا يُؤْمِنُونَ}
(6).
وقوله تعالى {وَمَا أَكْثَرُ الناسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ}
(7)--------------------------------------------
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি মনের ঝোঁক হলো একটি সহজাত বিষয়, যা কোনো গভীর চিন্তা-ভাবনা বা কারণ জানা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুধাবন করা যায়। আর এই স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়টি সকল জাতির ছোট-বড় নির্বিশেষে সকল মানুষই উপলব্ধি করে; তাই যেখানে মতামত, নির্বাচন বা অবস্থানের ক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্য থাকে, সেখানে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: সংখ্যাগরিষ্ঠের নীতি অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে সমসাময়িকদের বক্তব্য।
সংখ্যাগরিষ্ঠের নীতি অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে সমসাময়িকদের অনেক বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
মুহাম্মদ রশীদ রিদা বলেন: "...তা থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী আমল করার যে বিধান দিয়েছেন, তার কারণ হলো এটিই জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে অধিকতর উত্তম পদ্ধতি; এটি এজন্য নয় যে তারা ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত বা নিষ্পাপ (معصوم)।"
তিনি আরও বলেন: "যদি বলা হয় যে, রাসূল (সা.) কর্তৃক তুলনামূলক দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশের (جمهور) মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং পরবর্তীতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের সেই কাজের প্রতি অসম্মতি প্রকাশের হিকমত কী? আমি বলব: এর পেছনে আল্লাহর অনেক হিকমত রয়েছে যার মধ্যে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো— প্রথম হিকমত: যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) নেই, সে বিষয়ে রাসূল (সা.)-এর সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) মত অনুযায়ী আমল করা। এটি রাজনৈতিক ও নাগরিক সংস্কারের অন্যতম একটি স্তম্ভ, যার ওপর বর্তমান যুগের শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহের অধিকাংশ জাতিই প্রতিষ্ঠিত।"
(১)আব্দুল কাদির আওদাহ বলেন: "যুক্তিগতভাবে হয়তো এটি সঠিক হতে পারে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ভুল এবং সংখ্যালঘুর মতামত সঠিক। কিন্তু এটি বিরল (نادر), আর বিরল (نادر) বিষয়ের ওপর কোনো বিধান বর্তায় না। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকেই সঠিক হিসেবে ধরা হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের মতামত প্রকাশ করে। এর ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: 'আমার উম্মত কখনও ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না এবং জামাআতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে'।"
(২).
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সংখ্যাগরিষ্ঠের নীতি অনুযায়ী আমল করতে নিষেধকারীদের দলিলসমূহ。
একদল সমসাময়িক আলেম ও দাঈ সংখ্যাগরিষ্ঠের নীতির বিরুদ্ধে অসম্মতি ও প্রত্যাখ্যানের অবস্থান নিয়েছেন এবং তারা বেশ কিছু দলিল উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন থেকে。
ক) পবিত্র কুরআনে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে নিন্দার ছলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কুরআনের বেশ কিছু আয়াতে একে পথভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না}।
(৩)মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না}
(৪)।
মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যদি জমিনের অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ করেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে}
(৫)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনে না}
(৬)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যতই চান না কেন, অধিকাংশ মানুষই ঈমান গ্রহণকারী নয়}
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فكيف نثق بالأغلبية ونلتزم بها مع ما ورد من نصوص قرآنية في ذمها؟
يجاب عن هذا الاستدلال من خمسة أوجه على النحو التالي:
1 - أن هذا الاستدلال إنما يصح عندما يتعلق بأكثريتين:
الأولى: أكثرية عموم البشر؛ لأن الله حكم عليها بالخسران واستثنى منها أهل الإيمان فقال {وَالْعَصْرِ إِن الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلا الذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِ وَتَوَاصَوْا بِالْصبْرِ}.
(1)الثانية: أكثرية الناس مجردة عن صفات الأهلية والكفاءة.
أما حين تكون الأهلية مقيدة بأوصاف الأهلية والكفاءة، كأكثرية أهل الحل والعقد، وأكثرية أهل العلم، وأكثرية أهل الإيمان، فهذه أكثرية محمودة شرعا .. وبهذا تعلم أن الأكثرية ليست مذمومة على الإطلاق، فأكثرية أهل العلم والصلاح ليست كأكثرية أهل الجهل والعصيان.
(2)2 - أن الذم المفهوم من قوله تعالى {وَمَا أَكْثَرُ الْنَاسِ وَلَوْ حَرَصْت بِمُؤْمِنِينَ} ليس راجعا إلى وصف " الكثرة " في حد ذاته، بل هو راجع إلى ارتباط الكثرة بـ " عدم الإيمان "، وحين ينتفي "عدم الإيمان"؛ ينتفي الذم المفهوم من الآية.
3 - أن القرآن الكريم إنما ذم كثرة الكفر والضلال، لا كثرة الإيمان ففي تفسير الجلالين في قوله تعالى {وَإنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الُأَرْضِ} قال: أي الكفار {يُضِلُوكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ}؛ قال: دينه"
(3).
فالكثرة مطلوبة ومرغوبة ومعتد بها، شريطة ألا تخرج عن دائرة الإيمان والصلاح، إلى دائرة الكفر والإفساد .. وعلى هذا فكثرة المؤمنين أفضل من قلتهم من حيث هم مؤمنون، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: " عليكم بالجماعة، وإياكم والفرقة، فإن الشيطان مع الواحد، وهو من الاثنين أبعد، من أراد بحبوحة الجنة فليلزم الجماعة .. ".
(4)--------------------------------------------
সুতরাং কুরআনের আয়াতসমূহে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিন্দা আসা সত্ত্বেও আমরা কীভাবে এর ওপর আস্থা রাখতে পারি এবং তা অনুসরণ করতে পারি?
এই যুক্তির উত্তর নিম্নোক্ত পাঁচটি উপায়ে দেওয়া হয়েছে:
১ - এই যুক্তিটি কেবল তখনই সঠিক হয় যখন এটি দুই ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়:
প্রথমটি: সমগ্র মানবজাতির সংখ্যাগরিষ্ঠতা; কারণ আল্লাহ তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বিচার করেছেন এবং কেবল ঈমানদারদের এর থেকে ব্যতিক্রম করেছেন। তিনি বলেন {সময়ের শপথ। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং একে অপরকে হকের উপদেশ দিয়েছে ও একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।}।
(১)দ্বিতীয়টি: যোগ্যতা ও সক্ষমতার গুণাবলীহীন সাধারণ মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
তবে যখন এই সংখ্যাধিক্য যোগ্যতা ও সক্ষমতার গুণাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, আলিম সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিংবা মুমিনদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা; তখন এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ঢালাওভাবে নিন্দনীয় নয়। কারণ জ্ঞান ও নেককার ব্যক্তিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অজ্ঞ ও পাপাচারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতো নয়।
(২)২ - মহান আল্লাহর বাণী {আর অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনয়নকারী নয়, যদিও আপনি তা প্রবলভাবে কামনা করেন} থেকে যে নিন্দা বোঝা যায়, তা স্বয়ং 'আধিক্য' বা আধিক্যের গুণের কারণে নয়; বরং তা আধিক্যের সাথে 'ঈমানহীনতা' যুক্ত থাকার কারণে। যখন 'ঈমানহীনতা' দূরীভূত হয়, তখন এই আয়াত থেকে প্রাপ্ত নিন্দাও দূরীভূত হয়।
৩ - পবিত্র কুরআন কেবল কুফর ও গোমরাহীর আধিক্যকে নিন্দা করেছে, ঈমানের আধিক্যকে নয়। 'তাফসিরে জালালাইন'-এ মহান আল্লাহর বাণী {যদি আপনি যমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করেন} এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: অর্থাৎ কাফিরদের; {তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে} এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: অর্থাৎ তাঁর দ্বীন থেকে।
(৩)সুতরাং আধিক্য কাম্য, কাঙ্ক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত হলো—তা যেন ঈমান ও নেক কাজের গণ্ডি থেকে বের হয়ে কুফর ও ফাসাদের গণ্ডিতে প্রবেশ না করে। এই ভিত্তিতে, মুমিনদের সংখ্যাধিক্য তাদের স্বল্পতার চেয়ে উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা জামাআতকে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ শয়তান একজনের সাথে থাকে এবং দুইজন থেকে সে অধিক দূরে থাকে। যে ব্যক্তি জান্নাতের সুউচ্চ স্থান কামনা করে, সে যেন জামাআতকে আঁকড়ে ধরে..."।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وتأكيداً لهذا المعنى وتطبيقاً له قال النبي صلى الله عليه وسلم: " الراكب شيطان، والراكبان شيطانان والثلاثة ركب "
(1)، فالثلاثة أفضل من الاثنين، وأبعد عن تأثير الشيطان، واعتبار الراكبين شيطانين .. يرجع - والله أعلم - إلى أنهما إذا تعرضا للخلاف والنزاع، لم يكن بينهما حكم ولا مرجح؛ لأنهما يُحرمان من تحقيق ما جاء في الحديث الآخر: " إذا خرج ثلاثة في سفر، فليؤمروا أحدهم"
(2)، والتأمير لا يتأتى مع الاثنين؛ لعدم إمكان وجود أغلبية ترجح وتأمر
… ".
(3)4 - مما يدل على أن الكثرة غير مذمومة، تنافس الأنبياء في كثرة الأتباع يوم القيامة
(4) ففي حديث سمرة قال: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لكل نبي حوضا، وإنهم يتباهون أيهم أكثر واردة، وإني أرجو أن أكون أكثرهم واردة ".
(5)وتمنى النبي صلى الله عليه وسلم أن يكون أكثر الأنبياء تابعاً يوم القيامة فقال: " ما من الأنبياء نبي إلا أعطي ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيت وحياً أوحاه الله إلي؛ فأرجوا أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة ".
(6)وفي حديث أنس رضي الله عنه قال: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر بالباءة، وينهى عنه التبتل نهياً شديداً ويقول: " تزوجوا الودود الولود؛ فإني مُكاثر بكم الأنبياء يوم القيامة ".
(7)5 - أن الآيات التي وصفت أكثر الناس بأنهم لا يعلمون كانت تتحدث بصفة خاصة عن
مجال الغيبيات، وهو المجال الذي لا يدرك حقائقه ولا يعقلها إلا أقل الناس
…(8).
--------------------------------------------
এই অর্থের তাকিদ (দৃঢ়করণ) এবং এর প্রয়োগ স্বরূপ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন আরোহী শয়তান, দুইজন আরোহী দুইজন শয়তান এবং তিনজন হচ্ছে একটি কাফেলা"
(১)। সুতরাং তিনজন দুইজনের চেয়ে উত্তম এবং শয়তানের প্রভাব থেকে অধিক দূরে। আর দুইজন আরোহীকে দুইজন শয়তান হিসেবে গণ্য করা—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—এর কারণ হলো তারা যদি মতবিরোধ ও বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে কোনো ফয়সালাকারী বা অগ্রাধিকার দানকারী থাকে না; কারণ তারা অন্য হাদিসে বর্ণিত বিষয়টি অর্জনে বঞ্চিত হয়: "যখন তিনজন সফরে বের হয়, তারা যেন তাদের একজনকে আমির (নেতা) নিযুক্ত করে"
(২)। আর দুইজনের ক্ষেত্রে আমির নিযুক্ত করা সম্ভব হয় না; কারণ সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আদেশ করার মতো সংখ্যাধিক্য (অগরিষ্ঠতা) থাকার সম্ভাবনা নেই …"।
(৩)৪ - সংখ্যাধিক্য যে নিন্দনীয় নয়, তার প্রমাণ হলো কিয়ামতের দিন অনুসারীদের আধিক্য নিয়ে নবীদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা
(৪)। সামুরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য একটি হাউজ রয়েছে এবং তাঁরা একে অপরের ওপর গর্ব করবেন যে কার কাছে আগত পানকারীর সংখ্যা বেশি হবে। আর আমি আশা করি যে, আমার কাছে আগত পানকারীর সংখ্যাই হবে সর্বাধিক।"
(৫)নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়ামতের দিন অন্য নবীদের তুলনায় সর্বাধিক অনুসারী লাভের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। তিনি বলেছেন: "এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন কিছু দেওয়া হয়নি যার ওপর মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে ওহি, যা আল্লাহ আমার প্রতি নাজিল করেছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন আমিই হব সর্বাধিক অনুসারী বিশিষ্ট নবী।"
(৬)আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহের নির্দেশ দিতেন এবং সংসারবিরাগতাকে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন এবং বলতেন: 'তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসূ নারীকে বিবাহ করো; কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে নবীদের সামনে গর্ব করব'।"
(৭)৫ - যেসব আয়াতে অধিকাংশ মানুষকে 'তারা জানে না' বলে বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলো বিশেষভাবে অদৃশ্যের (গায়েব) জগত সম্পর্কে আলোচনা করছিল; আর এটি এমন এক ক্ষেত্র যার হাকিকত বা গূঢ়তত্ত্ব খুব কম সংখ্যক লোকই উপলব্ধি করতে ও বুঝতে পারে …
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنها {وَقَالُوا لَوْلَا نُزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِهِ قُلُ إِن اللهَ قَادِرٌ أَنْ يُنَزِلَ آيَةً وَلَكِن أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ}
(1).
وقوله تعالى {فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمهِ كَيْ تَقَرَ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنْ وَلِتَعْلَمَ أَن وَعْدَ اللهِ حَقٌ وَلَكِن أَكْثَرَ الْناسِ لَا يَعْلَمُونَ} ".
(2)وقوله تعالى {وَإِن لِلذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُوْنَ ذَلِكَ وَلَكِن أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ}.
(3)ب- استدلوا كذلك بقوله تعالى {فَبِمَا رَحَمَةٍ مَنْ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُوْا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الأمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكلْ عَلَى اللهِ إِن اللهَ يُحِبُ الْمُتَوَكِلِينَ}.
(4)حيث فهموا من الآية أن الأمير إذا استشار فإنه يختار بعد ذلك ما بدا له، ويعزم عليه، ويمضي متوكلا على الله لا على أغلبية، ولا أقلية.
واستدلوا كذلك بتفسير الطبري للآية حيث قال في تفسير قوله تعالى {فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكلْ عَلَى الله}؛ قال: " فإنه يعني: فإذا صح عزمك بتثبيتنا إياك، وتسديدنا لك فيما نابك وحز بك من أمر دينك ودنياك، فامض لما أمرناك به على ما أمرناك به، وافق ذلك آراء أصحابك وما أشاروا به عليك أو خالفها، كما حدثنا ابن حميد قال: حدثنا سلمة بن إسحاق: {فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكْلْ عَلَى اللهِ، إِن اللهَ يُحِبُ المتَوَكِلِينَ}، فإذا عزمت أي على أمر جاءك مني أو أمر دينك في جهاد عدوك، لا يصلحك ولا يصلحهم إلا ذلك، فامض على ما أمرت به على خلاف من خالفك، وموافقة من وافقك ".
(5)والجواب من وجهين:
الأول: أن كلام الطبري يتعلق بما نزل فيه وحي وحكم الله فيه يحكم، فإن الواجب أن ينفد ما حكم الله به، ولا عبرة حينئذ بالأكثر أو الأقل أو الجميع، وهذا ما لا خلاف فيه بين المسلمين، ومن تأمل كلام الطبري يجده في هذا السياق: فامض لما أمرناك به، على ما أمرناك به
… فإذا عزمت، أي على أمر جاءك مني .. فامض على ما أمرت به ".
(6)--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে: {তারা বলে, "তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার নিকট কোনো নিদর্শন কেন অবতীর্ণ করা হলো না?" বলুন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম," কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।}
(1).
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {"অতঃপর আমি তাকে তার মাতার নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখিত না হয়, আর যাতে সে জানতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।"} ".
(2)এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই যারা জুলুম করেছে তাদের জন্য এর আগে আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।}.
(3)খ- তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন; যদি আপনি কর্কশভাষী ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন; অতঃপর যখন আপনি কোনো সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর ওপর) ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।}
(4)যেখান থেকে তারা অনুধাবন করেছেন যে, আমির যখন পরামর্শ করবেন, তখন তিনি তাঁর নিকট যা সমীচীন মনে হয় তা-ই বেছে নেবেন, তার ওপর দৃঢ় সংকল্প করবেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে তা বাস্তবায়ন করবেন; কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সংখ্যালঘুত্বের ওপর ভিত্তি করে নয়।
তারা আয়াতটির ব্যাপারে তাফসিরে তাবারির বক্তব্য থেকেও দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি মহান আল্লাহর বাণী {অতঃপর আপনি যখন সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন}-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এর অর্থ হলো—যখন আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে অটল রাখা এবং আপনার দ্বীন ও দুনিয়ার যে কোনো বিপদ বা সংকটে সঠিক পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে আপনার সংকল্প সুদৃঢ় হবে, তখন আমরা আপনাকে যা করার নির্দেশ দিয়েছি তা-ই পালন করুন যেভাবে আমরা নির্দেশ দিয়েছি; তা আপনার সঙ্গীদের মতামতের বা তারা আপনাকে যে পরামর্শ দিয়েছে তার অনুকূলে হোক কিংবা প্রতিকূলে। যেমনটি ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সালামাহ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا): {অতঃপর আপনি যখন সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন}; অর্থাৎ যখন আপনি কোনো বিষয়ে সংকল্প করবেন—তা আমার পক্ষ থেকে আসা কোনো নির্দেশ হোক কিংবা আপনার দ্বীনি কোনো বিষয় যেমন শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ হোক, যা ব্যতিরেকে আপনার বা তাদের সংশোধন সম্ভব নয়—তবে আপনি যা করার আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই বাস্তবায়ন করুন; চাই কেউ আপনার বিরোধিতা করুক বা কেউ আপনার সাথে একমত হোক।"
(5)এর উত্তর দুটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
প্রথমত: তাবারির বক্তব্যটি সেই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যাতে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালা সেখানে ফয়সালা দিয়েছেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ যা ফয়সালা দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সংখ্যালঘুত্ব বা সকলের মতৈক্যের কোনো গুরুত্ব নেই। এ বিষয়ে মুসলিমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। যে কেউ তাবারির বক্তব্যটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখতে পাবেন যে এটি এই প্রেক্ষাপটে বর্ণিত: "আমরা আপনাকে যা করার নির্দেশ দিয়েছি তা-ই পালন করুন, যেভাবে আমরা নির্দেশ দিয়েছি... অতঃপর আপনি যখন সংকল্প করবেন, অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে আপনার নিকট আসা কোনো বিষয়ের ওপর... তখন আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই পালন করুন।"
(6)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الثاني: أنه من الواضح جداً، أن الآية لم تتعرض لإتباع الأغلبية، ولا لعدم إتباعها، ولا لجواز ذلك، ولا لوجوبه، ولا لمنعه، فتحميلها الدلالة على جواز تفرد الأمير الأمر ومخالفة جميع مستشاريه أو جميعهم، إنما هو تكلف وتعسف.
(1)
الفقرة الثانية: من السيرة النبوية:أـ وفيها: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يلتزم الأغلبية في أحداث متعددة منها صلح الحديبية، حيث أن الصحابة عارضوا هذا الصلح، ومع هذا فقد أمضاه النبي صلى الله عليه وسلم.
والجواب عليه من وجهين:
الأول: أن صلح الحديبية قد ثبت يقينا أنه تم بوحي من الله عز وجل، ومن الأدلة على ذلك: بروك الناقة: كما في حديث السور بن مخرمة قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم زمن الحديبية .. فذكر الحديث بطوله؛ وفيه: " وسار النبي صلى الله عليه وسلم حتى إذا كان بالثنية التي يُهبط عليهم منها بركت به راحلته فقال الناس حل حل، فألحت فقالوا: خلأت القصواء، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ما خلأت القصواء وما ذاك لها بخلق ولكن حبسها حابس الفيل .. ".
(2)وفي إكمال المعلم، عند قوله: " حبسها حابس الفيل " قال: يريد أمر الله ومراده ".
(3)الثاني: عندما اشتد الأمر بعمر بن الخطاب رضي الله عنه من الصلح مع قريش ومن شروطه، اندفع عمر يعبر عما في نفسه قال: فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم، فقلت ألست نبي الله حقاً، قال: بلى، قلت: ألست على الحق وعدونا على الباطل، قال: بلى، قلت: فلم نعطي الدنية في ديننا إذا، قال: إني رسول الله، ولست أعصيه وهو ناصري .. ".
(4)في إرشاد الساري: " وفيه تنبيه لعمر رضي الله عنه على إزالة ما حصل عنده من القلق، وأنه صلى الله عليه وسلم لم يفعل ذلك إلا لأمر أطلعه الله عليه من حبس الناقة، وأنه لم يفعل ذلك إلا بوحي من الله ".
(5)فيتضح من خلال هذه النصوص أن النبي صلى الله عليه وسلم تصرف بصفته رسولا، ينفذ أمر ربه، ولا يستطيع أن يعصيه، فلم يبق مجال لآراء الناس، ولهذا لم يستشاروا في الأمر أصلاً.
(6)--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আয়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুসরণ করা বা না করা, কিংবা এর বৈধতা, কিংবা এর আবশ্যকতা অথবা এর নিষিদ্ধতা—কোনো বিষয়েই আলোচনা করা হয়নি। সুতরাং আমীরের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তাঁর সকল উপদেষ্টা বা তাদের সকলের বিরোধিতার বৈধতার ওপর এই আয়াতের দালিলিক নির্দেশনার দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া মূলত একটি কষ্টকল্পনা ও জবরদস্তি।
(১)
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবীজীর সীরাত থেকে:ক. এতে রয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদায়বিয়ার সন্ধিসহ বিভিন্ন ঘটনায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্ত মেনে চলাকে আবশ্যক করেননি; যেখানে সাহাবীগণ এই সন্ধির বিরোধিতা করেছিলেন, তা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা কার্যকর করেছিলেন।
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, হুদায়বিয়ার সন্ধি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহীর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল। এর অন্যতম প্রমাণ হলো উটনীর বসে পড়া; যেমনটি মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ বর্ণিত হাদিসে রয়েছে। তিনি হাদিসটি দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ চললেন, অবশেষে যখন তিনি সেই গিরিপথে পৌঁছালেন যেখান দিয়ে তাদের ওপর নামতে হয়, তখন তাঁর সওয়ারি উটনীটি বসে পড়ল। মানুষ বলতে লাগল 'হাল হাল' (উট উঠানোর শব্দ), কিন্তু সে জেদ করে বসে রইল। তারা বলল: কাসওয়া (উটনীর নাম) অবাধ্য হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: কাসওয়া অবাধ্য হয়নি এবং এটি তার স্বভাবও নয়, বরং তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন যিনি হাতিকে (মক্কায় প্রবেশ থেকে) আটকে দিয়েছিলেন..."।
(২)ইকমালুল মুয়াল্লিম গ্রন্থে 'তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন যিনি হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন' বাক্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: "তিনি আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর ইচ্ছাকেই বুঝিয়েছেন।"
(৩)দ্বিতীয়ত: যখন কুরাইশদের সাথে সন্ধি এবং এর শর্তাবলির কারণে উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর ওপর বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল, তখন উমর (রা.) তাঁর মনের ভাব প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলাম এবং বললাম, আপনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন? তিনি বললেন: অবশ্যই। আমি বললাম: আমরা কি সত্যের ওপর নই এবং আমাদের শত্রুরা কি বাতিলের ওপর নয়? তিনি বললেন: অবশ্যই। আমি বললাম: তবে কেন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনম্মন্যতা দেব? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল, আমি তাঁর অবাধ্য হতে পারি না এবং তিনিই আমার সাহায্যকারী..."।
(৪)ইরশাদুস সারী গ্রন্থে রয়েছে: "এতে উমর (রা.)-এর মনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তা দূর করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উটনীর বসে পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে যে বিষয়ের ওপর অবগত করেছিলেন, কেবল সেই নির্দেশেই এমনটি করেছিলেন এবং তিনি ওহীর মাধ্যম ছাড়া এটি করেননি।"
(৫)এই পাঠ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাসুল হিসেবে কাজ করেছিলেন, যিনি তাঁর রবের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন এবং তাঁর অবাধ্য হতে পারেন না। ফলে মানুষের মতামতের কোনো সুযোগ সেখানে ছিল না; আর এ কারণেই মূলত এ বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করা হয়নি।
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ب- ما وقع منه ص من استشارات فردية لبعض أصحابه، ففي بدر أخذ برأي الحباب بن المنذر وحده، وفي أسرى بدر أخذ برأي أبي بكر رضي الله عنه، وفي الخندق أخذ برأي سلمان الفارسي وحده، وفي الحديبية قبل بروك الناقة، أخذ برأي أبي بكر الصديق، وفي حادثة الإفك لم يستشر إلا أفرادا معدودين منهم علي وأسامة، قالوا: فهذه الحالات تثبت أن للأمير أن يستشير من شاء، ويأخذ من الآراء ما شاء، ويترك ما شاء، وأنه ليس مقيداً بالأغلبية.
الجواب من وجهين:
الأول: ليس في هذه الأمثلة ما يدل على إهدار استشارة الأغلبية:
- أما ما أشار به الحباب بن المنذر فيما يخص مكان نزول بدر، فقد كان رأياً من رجل خبير بالمنطقة، عارف بآبارها، فاستحسنه النبي صلى الله عليه وسلم ولم يقع فيه خلاف ولا معارض لصوابه؛ ولذا مضى الصحابة مقتنعين به.
- ومثل ذلك يقال في رأي سلمان في حفر الخندق، ورأي الصديق في الحديبية.
- وأما رأي الصديق في أخذ الفداء من المشركين، فلم يكن هو رأيه، بل رأي جمهور الصحابة كما بينا سابقا.
- وأما استشارته علياً وأسامة في شان عائشة، وهل يطلقها أو يبقيها، بعد أن راج حديث الإفك مدة، وقبل أن ينزل القرآن بتبرئتها، فموضوع خاص ولهذا استشار صلى الله عليه وسلم خواصه
والمقربين منه، ولكل إنسان في مسائله الخاصة أن يستشير من شاء ويعمل بما شاء.
(1)الثاني: أن للنبي صلى الله عليه وسلم خصوصيته فهو المؤيد بالوحي، المعصوم من الخطأ مع كونه أفضل الخلق وأكملهم عقلاً، وأسدهم نظراً، وأحكمهم تدبيراً، وهذه المنزلة لن تكون لأحد بعده، كما لم تكن لأحد قبله. ومن هنا ندرك فداحة غلط أولئك الذين يذهبون في قياس الأمراء على الرسول ويعطوا لأمرائهم ما للنبي صلى الله عليه وسلم من التعظيم والتفويض في الحقوق والصلاحيات.
(2)روى ابن عبد البر بسنده عن ابن شهاب: أن عمر بن الخطاب قال وهو على المنبر: " أيها الناس إن الرأي إنما كان من رسول الله صلى الله عليه وسلم مصيباً؛ لأن الله كان يُريه، وإنما هو منا الظن والتكلف".
(3)--------------------------------------------
খ- আল্লাহর রাসূল (সা.) কর্তৃক তাঁর কতিপয় সাহাবীর সাথে কৃত ব্যক্তিগত পরামর্শসমূহ; যেমন—বদরের যুদ্ধে তিনি কেবল হুবাব ইবনে মুনযিরের পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন, বদরের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে আবু বকর (রা.)-এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে কেবল সালমান ফারসির পরামর্শ নিয়েছিলেন এবং হুদাইবিয়ায় উষ্ট্রী বসে পড়ার ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিকের পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। আর অপবাদের ঘটনায় তিনি আলী ও উসামার মতো গুটি কয়েক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সাথে পরামর্শ করেননি। তাঁরা বলেন: এসব দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে, আমীরের অধিকার রয়েছে যার সাথে ইচ্ছা পরামর্শ করার, তিনি যে মতটি ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করতে পারেন; তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের দ্বারা সীমাবদ্ধ নন।
উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: এসব উদাহরণের কোনোটিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠের পরামর্শকে উপেক্ষা করার প্রমাণ নেই:
- হুবাব ইবনে মুনযির বদরে অবতরণের স্থান সম্পর্কে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা ছিল ওই অঞ্চল সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং সেখানকার কূপসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত একজন ব্যক্তির বিশেষজ্ঞ মতামত। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেটি পছন্দ করেছিলেন এবং তাতে কোনো মতভেদ তৈরি হয়নি কিংবা তাঁর সঠিক সিদ্ধান্তের কোনো বিরোধী ছিল না; ফলে সাহাবীগণ তাতে সন্তুষ্টচিত্তে একমত হয়েছিলেন।
- খন্দক খননে সালমানের মত এবং হুদাইবিয়ায় সিদ্দিকের মতের ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা প্রযোজ্য।
- আর মুশরিকদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্দিকের যে মতের কথা বলা হয়েছে, তা কেবল তাঁর একক মতামত ছিল না; বরং আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি বর্ণনা করেছি—তা ছিল সাহাবীগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ বা জুমহুর এর অভিমত।
- আর আয়েশা (রা.)-এর বিষয়ে আলী ও উসামার সাথে তাঁর পরামর্শ করা—অর্থাৎ তাঁকে তালাক দেবেন নাকি রাখবেন—সেটি ছিল অপবাদের ঘটনাটি (হাদিসুল ইফক) কিছুকাল রাষ্ট্র হওয়ার পর এবং তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা। এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয় ছিল, আর একারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও নিকটবর্তীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আর প্রত্যেক মানুষের নিজ ব্যক্তিগত বিষয়ে যার সাথে ইচ্ছা পরামর্শ করার এবং নিজ ইচ্ছানুযায়ী কাজ করার অধিকার রয়েছে।
(1)দ্বিতীয়ত: নবী কারীম (সা.)-এর নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব রয়েছে; তিনি ওহী দ্বারা সমর্থিত এবং ভুলভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত (معصوم)। সেই সাথে তিনি সৃষ্টির সেরা ও বিবেক-বুদ্ধিতে পূর্ণতম, অন্তর্দৃষ্টিতে সঠিকতম এবং ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞতম। এই মর্যাদা তাঁর পরে আর কারো হবে না, যেমনটি তাঁর পূর্বেও কারো ছিল না। এখান থেকে আমরা ওইসব লোকের ভুলের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারি, যারা শাসকদের আল্লাহর রাসূলের সাথে তুলনা করেন এবং তাঁদের শাসকদের আল্লাহর রাসূলের মতো সম্মান এবং অধিকার ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ এখতিয়ার প্রদান করেন।
(2)ইবনে আবদুল বার তাঁর সনদসহ (بسنده) ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: "হে লোকসকল! আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর রায় বা সিদ্ধান্ত সর্বদা সঠিক হতো; কারণ আল্লাহ তাঁকে সঠিক বিষয়টি দেখাতেন। আর আমাদের পক্ষ থেকে যা হয় তা কেবল ধারণা (الظن) ও কষ্টসাধ্য প্রয়াস মাত্র।"
(3)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفقرة الثالثة: عمل الخلفاء الراشدين.
أ. استدلوا ببيعة عمر لأبي بكر يوم السقيفة، وأنه بالإمكان أن تتم البيعة بمبايعة شخص واحد من أهل الحل والعقد، ومن هنا فمسألة الأغلبية ليس لها لزوم في الشرع.
(1)الجواب على هذا الاستدلال من وجهين:
الأول: ما صدر عن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه عندما سمع مثل هذا في موسم الحج فعاد إلى المدينة وخطب في الناس وقال: " بلغني أن قائلاً منكم يقول والله لو قد مات عمر، بايعت فلاناً، فلا يغترن امرؤ أن يقول: إنما كانت بيعة أبي بكر فلتة وتمت، ألا وإنها قد كانت كذلك، ولكن الله وقى شرها، وليس منكم من تقطع الأعناق إليه مثل أبي بكر، من بايع رجلاً عن غير مشورة من المسلمين، فلا يبايع هو ولا الذي بايعه تغرة أن يقتلا .. ".
(2)الثاني: ما سطره الغزالي في المسألة إذ قال: لما بايع عمر أبا بكر رضي الله عنه ما انعقدت الإمامة له، لا بمجرد بيعته، ولكن لتتابع الأيدي إلى البيعة بسبب مبادرته، ولو لم يبايعه غير عمر، وبقي كافة الخلق مخالفين، أو انقسموا انقساماً متكافئاً لا يتميز فيه غالب عن مغلوب، لما انعقدت الإمامة فإن شرط ابتداء الانعقاد: قيام الشوكة، وانصراف القلوب إلى المتابعة، ومطابقة البواطن والظواهر على المبايعة؛ فإن المقصود الذي طلبنا له الإمام جمع شتات الآراء في مصطدم تعارض الأهواء، ولا تتفق الإرادات المتناقضة، والشهوات المتباينة المتنافرة على متابعة رأي واحد؛ إلا إذا ظهرت شوكته؛ وعظمت نجدته؛ وترسخت في النفوس رهبته ومهابته، ومدار جميع ذلك على الشوكة، ولا تقوم الشوكة إلا بموافقة الأكثرية من معتبري كل زمان ".
(3)ومما سبق يتبين أن بيعة الصديق رضي الله عنه لم تتم ببيعة عمر رضي الله عنه وحده وإنما بمبايعة الناس له،
… ورضاهم به، ومشايعتهم له.
ب. قتال الصديق لمانعي الزكاة رغم معارضة الصحابة له ومنهم عمر رضي الله عنه:
--------------------------------------------
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: খুলাফায়ে রাশিদীনের কর্মপন্থা.
ক. তাঁরা সাকীফার দিনে আবু বকরের প্রতি উমরের বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণকে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন; এবং এটি সম্ভব যে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد)-এর মধ্য থেকে মাত্র একজন ব্যক্তির বায়আতের মাধ্যমেই বায়আত সম্পন্ন হতে পারে। আর এখান থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, শরয়ি বিধানে সংখ্যাধিক্যের বিষয়টি অপরিহার্য নয়।
(১)এই দলীল উপস্থাপনের উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: আমীরুল মুমিনীন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; যখন তিনি হজের মৌসুমে এই জাতীয় কথা শুনতে পেলেন, তখন তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমাদের মধ্যে কেউ একজন বলছে, ‘আল্লাহর কসম! যদি উমরের মৃত্যু হয়, তবে আমি অমুকের হাতে বায়আত গ্রহণ করব।’ কোনো ব্যক্তি যেন এই বলে ধোঁকায় না পড়ে যে, আবু বকরের বায়আত তো আকস্মিক (فلتة) ছিল এবং তা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। জেনে রেখো, বিষয়টি তেমনই ছিল, কিন্তু আল্লাহ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। আর তোমাদের মধ্যে আবু বকরের মতো এমন কেউ নেই যার প্রতি মানুষের গর্দান নুইয়ে পড়ে (অর্থাৎ যার সমকক্ষ কেউ নেই)। যে ব্যক্তি মুসলমানদের পরামর্শ ব্যতীত কারো হাতে বায়আত গ্রহণ করে, তবে তার বায়আত গ্রহণ করা হবে না এবং যার হাতে বায়আত গ্রহণ করা হয়েছে তারও নয়; এই আশঙ্কায় যে তারা উভয়েই নিহত হতে পারে..."।
(২)দ্বিতীয়ত: ইমাম গাজালী এই বিষয়ে যা লিপিবদ্ধ করেছেন; তিনি বলেন: "যখন উমর আবু বকরের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন, তখন কেবল তাঁর বায়আতের কারণেই ইমামত (الإمامة) প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি, বরং তাঁর উদ্যোগের কারণে ধারাবাহিকভাবে অন্যদের বায়আত গ্রহণের ফলে তা সম্পন্ন হয়েছিল। যদি উমর ব্যতীত আর কেউ বায়আত না করত এবং অবশিষ্ট সাধারণ মানুষ বিরোধী থাকত, অথবা তারা এমন সমপর্যায়ে বিভক্ত হতো যেখানে বিজয়ী ও বিজিতের পার্থক্য করা যেত না, তবে ইমামত (الإمامة) প্রতিষ্ঠিত হতো না। কেননা, ইমামত সূচনার শর্ত হলো: শক্তিমত্তা (الشوكة) প্রতিষ্ঠিত হওয়া, আনুগত্যের প্রতি জনগণের হৃদয়ের ঝোঁক তৈরি হওয়া এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে বায়আতের ওপর একমত হওয়া। কারণ, আমরা যে উদ্দেশ্যে ইমাম খুঁজি তা হলো প্রবৃত্তির সংঘাতের সময়ে বিচ্ছিন্ন মতামতগুলোকে একত্রিত করা; আর পরস্পরবিরোধী ইচ্ছা ও ভিন্নধর্মী আকাঙ্ক্ষাগুলো একক মতের আনুগত্যে একমত হয় না, যতক্ষণ না তার শক্তিমত্তা (الشوكة) প্রকাশ পায়, তার সাহায্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং অন্তরে তার ভীতি ও গাম্ভীর্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে শক্তিমত্তা (الشوكة); আর শক্তিমত্তা (الشوكة) প্রতিটি যুগের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতি ব্যতীত প্রতিষ্ঠিত হয় না।"
(৩)উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বায়আত কেবল উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর একার বায়আতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি, বরং জনগণের বায়আত, ... তাঁদের সন্তুষ্টি এবং তাঁর প্রতি তাঁদের সমর্থনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।
খ. সাহাবীগণের—যাঁদের মধ্যে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—বিরোধিতা সত্ত্বেও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুদ্ধ ঘোষণা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والجواب عليه من وجهين:
الأول: أن الروايات الصحيحة الثابتة في ذلك تبين أن حواراً جري بين الصديق رضي الله عنه وبين عمر رضي الله عنه حول قتال مانعي الزكاة انتهى إلى الاتفاق على قتالهم بعد أن اتضح الحكم الشرعي في المسألة.
ففي حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: " لما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف أبو بكر بعده، كفر من كفر من العرب، فقال عمر بن الخطاب لأبي بكر: "كيف تقاتل الناس، وقد قال صلى الله عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا اله إلا الله، ومن قال: لا إله إلا الله عصم مني ماله ونفسه إلا بحقه، وحسابه على الله؟ قال أبو بكر: والله لأقاتلن من فرق بين الزكاة والصلاة، وإن الزكاة حق المال، والله لو منعوني عقالاً- أو عناقاً- كانوا يؤدونه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه، فقال عمر بن الخطاب: فوالله ما هو إلا أن رأيت أن الله قد شرح صدر أبي بكر للقتال فعرفت أنه الحق".
(1)وفي معالم السنن: " فلما استقر عند عمر صحة رأي أبي بكر رضي الله عنه ما وبان له صوابه، تابعه على قتال القوم
… ".
(2)أما الروايات التاريخية الأخرى ففيها زيادات، وذكرت بغير إسناد، ولا ترقى إلى درجة الصحة والقبول، وبعضها يصادم الروايات الصحيحة المعتمدة في كتب الحديث، وبعضها مجمل بمعنى أنها عندما تذكر خلاف الصحابة مع الصديق، لا تذكر من هم الصحابة المخالفون له وكم عددهم وما نسبتهم.
(3)الثاني: أن الصديق رضي الله عنه لم يتمسك برأي له، أصر على أن يعارض به الصحابة وأن يفرضه عليهم، وإنما كان يتمسك بالنص، ومعلوم أنه لا اجتهاد، ولا شورى، ولا أغلبية في مورد النص.
(4)--------------------------------------------
এর উত্তর দুটি দিক থেকে:
প্রথমত: এ বিষয়ে বিদ্যমান সঠিক (صحيحة) ও সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة) বর্ণনাগুলো স্পষ্ট করে যে, সিদ্দীক (রা.) এবং উমর (রা.)-এর মধ্যে জাকাত প্রদান অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নিয়ে একটি আলোচনা হয়েছিল, যা উক্ত বিষয়ে শরয়ি বিধান স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর (রা.) খলিফা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন আরবদের মধ্যে যারা কুফরি করার তারা কুফরি করল। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আবু বকর (রা.)-কে বললেন: "আপনি কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)। আর যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে আমার পক্ষ থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ নিরাপদ করে নিল; তবে ইসলামের হকের ক্ষেত্র ভিন্ন এবং তার হিসাব আল্লাহর কাছে।' আবু বকর (রা.) বললেন: 'আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা জাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একটি উটের রশি—কিংবা একটি বকরির ছানা—দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট প্রদান করত, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।' তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন: 'আল্লাহর কসম, আমি যখন দেখলাম যে আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের জন্য আবু বকরের বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সত্য'।"
(1)
এবং মাআলিমুস সুনান-এ রয়েছে: "যখন উমর (রা.)-এর নিকট আবু বকর (রা.)-এর মতামতের সঠিকতা (صحة) সুপ্রমাণিত হলো এবং এর যথার্থতা তাঁর নিকট স্পষ্ট হলো, তখন তিনি উক্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর অনুসারী হলেন … "।
(2)
পক্ষান্তরে অন্যান্য ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোতে অতিরিক্ত কিছু তথ্য রয়েছে এবং সেগুলো সনদ (إسناد) বিহীনভাবে উল্লিখিত হয়েছে, যা সঠিকতা (صحة) ও গ্রহণযোগ্যতা (قبول) এর স্তরে পৌঁছে না। এগুলোর মধ্যে কিছু বর্ণনা হাদিসের কিতাবসমূহে বর্ণিত নির্ভরযোগ্য সহিহ (صحيحة) বর্ণনাগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক। আর কিছু বর্ণনা হলো অস্পষ্ট (مجمل); অর্থাৎ যখন সেখানে সিদ্দীকের সাথে সাহাবীদের মতবিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন সেই ভিন্নমত পোষণকারী সাহাবীরা কারা ছিলেন, তাদের সংখ্যা কত ছিল এবং তাদের অনুপাত কী ছিল তা উল্লেখ করা হয় না।
(3)
দ্বিতীয়ত: সিদ্দীক (রা.) নিজের এমন কোনো মত আঁকড়ে ধরেননি যা তিনি সাহাবীদের বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন; বরং তিনি কেবল নস (نص) বা অকাট্য পাঠকেই আঁকড়ে ধরেছিলেন। আর এটি সুবিদিত যে, নস (نص)-এর উপস্থিতিতে কোনো ইজতিহাদ (اجتهاد), পরামর্শ বা সংখ্যাধিক্যের মতামতের অবকাশ নেই।
(4)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ج. إنفاذ الصديق لجيش أسامة رغم وجود من اعترض من الصحابة:
الجواب من وجهين:
الأول: أن ما فعله الصحابة من اعتراض على إنفاذ جيش أسامة كان باجتهاد منهم عندما رأوا ارتداد العرب، واضطراب الأمور على الصديق بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم، فقد روى أبو هريرة رضي الله عنه قال: " فاجتمع إليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالوا: " يا أبا بكر: رد هؤلاء، تُوجِه هؤلاء إلى الروم، وقد ارتدت العرب حول المدينة؟ فقال: والذي لا إله غيره، لو جرت الكلاب بأرجل أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم، ما رددت جيشاً وجهه رسول الله، ولا حللت لواء عقده رسول الله، فوجه أسامة".
(1)الثاني: ما فعله الصديق، وتمسك به، هو تنفيذه لوصية رسول الله ص التي وصى بها وأكد عليها مرارا وهو على فراشه حتى مات.
روى ابن سعد بسنده، عن عروة بن الزبير قال: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد بعث أسامة وأمره أن يواطئ الخيل نحو البلقاء، حيث قتل أبوه وجعفر، فجعل أسامة وأصحابه يتجهزون، وقد عسكر بالجرف، فاشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على ذلك، ثم وجد في نفسه راحة فخرج عاصباً رأسه فقال: " يا أيها الناس، أنفذوا بعث أسامة، ثلاث مرات، ثم دخل النبي صلى الله عليه وسلم فاستعز به، فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم "
(2)جاء في فتح الباري: " ثم اشتد برسول الله صلى الله عليه وسلم وجعه فقال: أنفذوا بعث أسامة، فجهزه أبو بكر بعد أن استخلف".
(3)د. واستدلوا كذلك بموقف عمر رضي الله عنه حين امتنع عن قسمة الأراضي المفتوحة عنوة على المقاتلين، رغم مطالبتهم بها ومخالفة الصحابة له في الرأي.
والجواب على هذا الاستدلال من وجهين:
الأول: أنه ورد في الآثار أن عمر رضي الله عنه أراد في بداية الأمر أن يقسم الأراضي فشاور في ذلك فأشار عليه، علي، ومعاذ بعدم القسمة فمال إلى رأيهما، فقد روى أبو عبيد بسنده عن حارثة بن مضرب عن عمر: " أنه أراد أن يقسم السواد بين المسلمين .. فشاور في ذلك "، فقال له علي بن أبي طالب رضي الله عنه: " دعهم يكونوا مادة للمسلمين، فتركهم ".
(4)--------------------------------------------
গ. সাহাবীগণের মধ্য থেকে কেউ কেউ আপত্তি জানানো সত্ত্বেও সিদ্দীক (আবু বকর) কর্তৃক উসামার বাহিনী প্রেরণ:
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: সাহাবীগণ উসামার বাহিনী প্রেরণের বিরুদ্ধে যে আপত্তি জানিয়েছিলেন, তা ছিল তাঁদের পক্ষ থেকে একটি ইজতিহাদ (اجتهاد), যখন তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং আরবদের ধর্মত্যাগ (ارتداد) প্রত্যক্ষ করেছিলেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁর (আবু বকর) নিকট একত্রিত হলেন এবং বললেন: 'হে আবু বকর! এদের ফিরিয়ে নিন। আপনি এদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে পাঠাচ্ছেন অথচ মদিনার চারপাশে আরবরা ধর্মত্যাগী (ارتدت) হয়ে গেছে?' তিনি বললেন: 'যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই তাঁর শপথ! যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের পদযুগল কুকুর দ্বারা টানাটানিও করা হয়, তবুও আমি এমন কোনো বাহিনীকে ফিরিয়ে দেব না যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরণ করেছেন এবং এমন কোনো ঝাণ্ডা খুলব না যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেঁধেছেন।' অতঃপর তিনি উসামাকে প্রেরণ করলেন।"
(1)দ্বিতীয়ত: সিদ্দীক (আবু বকর) যা করেছেন এবং যার ওপর অটল ছিলেন, তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা, যার নির্দেশ তিনি বারবার দিয়েছিলেন এবং মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল পর্যন্ত যার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
ইবনে সাদ তাঁর সনদ (سند) সহকারে উরওয়া ইবনুল যুবায়ের থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাকে প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি বালকা অভিমুখে অশ্বারোহী নিয়ে অগ্রসর হন যেখানে তাঁর পিতা এবং জাফর শহীদ হয়েছিলেন। উসামা ও তাঁর সঙ্গীরা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগলেন এবং তাঁরা 'জুরুফ' নামক স্থানে শিবির স্থাপন করলেন। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলে মাথায় পট্টি বেঁধে বের হলেন এবং বললেন: 'হে লোকসকল! উসামার বাহিনীকে রওনা করিয়ে দাও।' - কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর অসুস্থতা বেড়ে গেল, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন।"
(2)ফাতহুল বারীতে এসেছে: "অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেদনা তীব্রতর হলো, তখন তিনি বললেন: 'উসামার বাহিনীকে রওনা করিয়ে দাও।' এরপর খলীফা হওয়ার পর আবু বকর তাঁদের প্রস্তুত করে পাঠালেন।"
(3)ঘ. একইভাবে তাঁরা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর অবস্থান দিয়ে দলিল (استدلوا) পেশ করেছেন যখন তিনি বলপ্রয়োগে বিজিত ভূমিগুলো যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করতে অস্বীকার করেছিলেন, যদিও তাঁরা তা দাবি করেছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন।
এই দলিল (استدلال)-এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: বিভিন্ন আছার (آثار)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথম দিকে ভূমিগুলো বণ্টন করতে চেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ (شاور) করলে আলী এবং মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বণ্টন না করার পরামর্শ দেন এবং তিনি তাঁদের মতের দিকেই ঝুঁকে পড়েন। আবু উবাইদ তাঁর সনদ (سند) সহকারে হারিসা ইবনে মুদাররিব থেকে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণনা (روى) করেছেন: "তিনি (উমর) মুসলমানদের মাঝে সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) বণ্টন করতে চেয়েছিলেন... অতঃপর তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ (شاور) করলেন।" তখন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: "আপনি এগুলো রেখে দিন যেন তা মুসলমানদের জন্য স্থায়ী সম্পদের উৎস হতে পারে।" অতঃপর তিনি সেগুলো বণ্টন করা ছেড়ে দিলেন।
(4)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وروى أبو عبيد أيضا بسنده عن عبد الله بن قيس أو عبد الله بن أبي قيس ـ شك أبو عبيد ـ قال: " قدم عمر الجابية فأراد قسم الأرضين بين المسلمين، فقال له معاذ: والله إذا ليكونن ما تكره، إنك إن قسمتها اليوم صار الريع العظيم في أيدي القوم يبيدون، فيصير ذلك إلى الرجل الواحد أو المرأة، ثم يأتي من بعدهم قوم يسدون من الإسلام مسداً وهم لا يجدون شيئاً، فانظر أمراً يسعهم أولهم وآخرهم "، وفي رواية: فصار عمر إلى قول معاذ ".
(1)فيتضح من خلال هذه الآثار أن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه لم يمتنع عن قسمة الأراضي ابتداء وإنما استشار الصحابة وصار إلى قول علي، ومعاذ.
- أن هذا المذهب لم يكن مذهبه وإنما هو مذهب علي، ومعاذ.
- أنه كان يوجد من الصحابة من تبنى هذا الرأي ولم يكن قول أمير المؤمنين عمر وحده.
الثاني: أن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه لما لم يصل مع المقاتلين وممثليهم إلى نتيجة متفق عليها، عرض الأمر للشورى.
قال أبو يوسف: " فاستشار المهاجرين الأولين فاختلفوا، فأما عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه، فكان رأيه أن تقسم لهم حقوقهم، ورأي علي، وطلحة، وابن عمر رضي الله عنه م، رأي عمر، فأرسل إلى عشرة من الأنصار: خمسة من الأوس، وخمسة من الخزرج من كبرائهم وأشرافهم، فلما اجتمعوا، حمد الله وأثنى عليه بما هو أهله ثم قال: " إني لم أزعجكم إلا لأن تشتركوا في أمانتي فيما حملت من أموركم، فإني واحد كأحدكم، وأنتم اليوم تقرون بالحق خالفني من خالفني،
… ووافقني من وافقني، ولست أريد أن تتبعوا هذا الذي هواي، معكم من الله كتاب ينطق بالحق فو الله لئن كنت نطقت بأمر أريده ما أريد به إلا الحق، قالوا: قل تسمع يا أمير المؤمنين، قال: قد سمعت كلام هؤلاء القوم الذين زعموا أني أظلمهم حقوقهم، وإني أعوذ بالله أن أركب ظلماً، لئن كنت ظلمتهم شيئاً هو لهم وأعطيته غيرهم لقد شقيت، ولكن رأيت أنه لم يبق شيء يفتح بعد أرض كسرى، وقد غنمنا الله أموالهم، وأرضهم، وعلوجهم، فقسمت ما غنموا من أموال بين أهله وأخرجت الخمس فوجهته على وجهه وأنا في توجيهه، وقد رأيت أن أحبس الأرضين بعلوجها وأضع عليهم فيها الخراج، وفي رقابهم الجزية يؤدونها فتكون فيئاً للمسلمين المقاتلة والذرية ولمن يأتي من بعدهم، أرأيتم هذه الثغور لا بد لها من رجال يلزمونها، أرأيتم هذه المدن العظام: كالشام، والجزيرة، والكوفة، والبصرة، ومصر- لابد لها أن تشحن بالجيوش، وإدرار العطاء عليهم، فمن أين يعطى هؤلاء إذا قسمت الأرضون والعلوج؟
فقالوا جميعاً: الرأي رأيك، فنعم ما قلت وما رأيت، إن لم تشحن هذه الثغور وهذه المدن بالرجال، وتجري عليهم ما يتقوون به رجع أهل الكفر إلى مدنهم".
(2)ويتبين من خلال هذا السياق أن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه لم يستبد برأيه، بل شاور المهاجرين والأنصار، وكان رأيه هو رأي جمهورهم الأعظم فكيف يقال أنه رأي عمر؟
(3)--------------------------------------------
আবু উবাইদ তার সূত্রে (سند) আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস অথবা আবদুল্লাহ ইবনে আবি কায়েস—আবু উবাইদ এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর (রা.) আল-জাবিয়াতে আসলেন এবং মুসলিমদের মধ্যে ভূমি বণ্টন করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন মুয়াজ (রা.) তাকে বললেন: আল্লাহর কদমে, যদি আপনি এটি করেন তবে এমন কিছু ঘটবে যা আপনি অপছন্দ করেন। যদি আপনি আজ এটি বণ্টন করে দেন, তবে বিশাল উৎপাদন ও আয় একদল লোকের হাতে চলে যাবে যারা নিঃশেষ হয়ে যাবে (মারা যাবে), ফলে তা এক সময় একজন পুরুষ বা একজন নারীর হাতে এসে পুঞ্জীভূত হবে। এরপর তাদের পরে এমন একদল লোক আসবে যারা ইসলামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে কিন্তু তারা (সম্পদ হিসেবে) কিছুই পাবে না। সুতরাং এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সকলের জন্য কল্যাণকর হবে।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "অতঃপর উমর (রা.) মুয়াজের অভিমত (رأي) গ্রহণ করলেন।"
(১)এই সকল আছার বা বিবরণ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.) শুরুতেই ভূমি বণ্টন করতে অস্বীকৃতি জানাননি; বরং তিনি সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ (شورى) করেছেন এবং আলী (রা.) ও মুয়াজ (রা.)-এর মতের দিকে ফিরে এসেছেন।
- এই মাযহাব বা মতাদর্শটি কেবল তাঁর একার ছিল না, বরং এটি ছিল আলী (রা.) ও মুয়াজ (রা.)-এরও মত।
- সাহাবীগণের মধ্যে এমন ব্যক্তিবর্গ ছিলেন যারা এই মতটি পোষণ করতেন, সুতরাং এটি কেবল আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.)-এর একক কোনো বক্তব্য ছিল না।
দ্বিতীয়ত: আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.) যখন যোদ্ধাদের এবং তাদের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারলেন না, তখন তিনি বিষয়টি পরামর্শের (شورى) জন্য পেশ করলেন।
আবু ইউসুফ বলেন: "তিনি প্রথম যুগের মুহাজিরগণের সাথে পরামর্শ (شورى) করলেন, তখন তাঁরা মতভেদ করলেন। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর অভিমত (رأي) ছিল তাদের প্রাপ্য অধিকার বণ্টন করে দেওয়া। আর আলী, তালহা এবং ইবনে উমর (রা.)-এর অভিমত (رأي) ছিল উমর (রা.)-এর মতের অনূকূলে। এরপর উমর (রা.) আনসারদের দশজন নেতার কাছে লোক পাঠালেন: আউস গোত্র থেকে পাঁচজন এবং খাযরাজ গোত্র থেকে পাঁচজন যারা তাদের নেতৃস্থানীয় ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। যখন তারা একত্রিত হলেন, তখন তিনি আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানা পাঠ করলেন এবং বললেন: 'আমি তোমাদের কেবল এ জন্য কষ্ট দিয়েছি যাতে আমি তোমাদের বিষয়াবলির যে আমানত বহন করছি, তাতে তোমরা আমার অংশীদার হও। আমি তোমাদের মতই একজন সাধারণ মানুষ। আজ তোমরা সত্যকে স্বীকার করে নিয়েছ; যারা আমার বিরোধিতা করার তারা করেছে,
… আর যারা আমার সাথে একমত হওয়ার তারা হয়েছে। আমি চাই না যে তোমরা আমার প্রবৃত্তির অনুসরণ করো। তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রয়েছে যা সত্য কথা বলে। আল্লাহর কসম, আমি যদি এমন কোনো বিষয়ে কথা বলে থাকি যা আমি করতে চাই, তবে তার মাধ্যমে আমি কেবল সত্যই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি।' তারা বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি বলুন, আমরা শুনছি।' তিনি বললেন: 'আমি ঐ লোকদের কথা শুনেছি যারা দাবি করছে যে আমি তাদের প্রাপ্য অধিকারের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি জুলুম করছি। আমি জুলুম করা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। যদি আমি তাদের প্রাপ্য কোনো কিছু তাদের না দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেই, তবে তো আমি দুর্ভাগা হয়ে যাব। কিন্তু আমি দেখছি যে, কিসরার (পারস্যের) ভূমির পর বিজিত হওয়ার মতো আর কোনো ভূখণ্ড অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ আমাদের তাদের ধন-সম্পদ, ভূমি ও অমুসলিম শ্রমিকদের (علوج) গণিমত হিসেবে দান করেছেন। আমি প্রাপ্ত ধন-সম্পদ তার হকদারদের মধ্যে বণ্টন করেছি এবং এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) আলাদা করে তার নির্ধারিত খাতে ব্যয় করেছি। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভূমি ও অমুসলিম শ্রমিকদের (علوج) বণ্টন না করে আটকে রাখব এবং তাদের ওপর ভূমি কর (خراج) ও মাথাপিছু কর (جزية) ধার্য করব যা তারা প্রদান করবে। ফলে তা যোদ্ধা, তাদের সন্তানাদি এবং পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ (فيء) হিসেবে গণ্য হবে। আপনারা কি মনে করেন না যে, এই সীমান্ত এলাকাগুলোর পাহারার জন্য একদল লোকের প্রয়োজন আছে? আপনারা কি মনে করেন না যে, সিরিয়া, আল-জাজিরা, কুফা, বসরা এবং মিসরের মতো এই বিশাল শহরগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা এবং তাদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদান করা আবশ্যক? যদি ভূমি ও শ্রমিকদের বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবে এদের জন্য কোথা থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হবে?'
তখন তারা সকলেই বললেন: 'আপনার অভিমত (رأي) ই সঠিক। আপনি যা বলেছেন এবং যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা কতই না চমৎকার! যদি এই সীমান্ত ও শহরগুলোতে সৈন্য মোতায়েন করা না হয় এবং তাদের সামর্থ্য বজায় রাখার জন্য ভাতার ব্যবস্থা না করা হয়, তবে কুফরের অনুসারীরা পুনরায় তাদের শহরে ফিরে আসবে'।"
(২)এই প্রেক্ষাপট থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.) নিজের মত চাপিয়ে দেননি, বরং তিনি মুহাজির ও আনসারদের সাথে পরামর্শ (شورى) করেছেন এবং তাঁর অভিমত (رأي) ছিল তাদের অধিকাংশের (جمهور) মতের অনুরূপ। এমতাবস্থায় এটাকে কীভাবে কেবল উমরের একক মত বলা যেতে পারে?
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثالثا: مجالات العمل بالأغلبية.
تعددت مجالات العمل بمبدأ الأغلبية، وفيما يلي عرض موجز لأهم المجالات التي يصح فيها العمل بالأغلبية:
الفقرة الأولى: الانتخابات العامة.
ويعني بها الباحث اختيار ولي الأمر، أو رئيس الدولة، وما دونه من المجالس النيابية،
… والشورية، والبلدية، حسب تعبيرات المعاصرين.
وهذا المجال من أهم المجالات للأخذ بمبدأ الأغلبية أو الأكثرية.
وبالنظر في تراثنا الفقهي نجد أنه لا يوجد طريقة واحدة لإجراء الشورى واختيار الأمير
… أو الرئيس، بل الأمر متروك للمسلمين وداخل في قوله تعالى {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُم} فما ارتضاه أكثريتهم، وتوافقوا عليه صار إماماً معتبراً شرعاً تلزم طاعته، ولا يجوز الخروج عنه إلا إذا أتى بما يوجب الكفر البواح، واتضح منه البرهان، وأقيمت عليه الحجة فلا ولاية له.
وقد عبر عن هذا المعنى الغزالي حيث قال: " فإن شرط ابتداء الانعقاد، قيام الشوكة، وانصراف القلوب إلى المشايعة، ومطابقة البواطن والظواهر على المبايعة، فإن المقصود الذي طلبنا له الإمام جمع شتات الآراء في مصطدم تعارض الأهواء، ولا تتفق الإرادات المتناقضة، والشهوات المتباينة المتنافرة، على متابعة رأي واحد إلا إذا ظهرت شوكته، وعظمت نجدته، وترسخت في النفوس رهبته ومهابته، ومدار جميع ذلك على الشوكة، ولا تقوم الشوكة إلا بموافقة الأكثرين من معتبري كل زمان ".
(1)والمتأمل في العهد الراشدي يجد أن اختيار الخليفة كان يتم بطريقتين، كما ورد في الأحكام السلطانية: " والإمامة تنعقد من وجهين: أحدهما باختيار أهل الحل والعقد، والثاني: بعهد الإمام من قبل
… ".
(2)وقال أيضا: " وأما انعقاد الإمامة بعهد من قبله فهو مما انعقد الإجماع على جوازه، ووقع الاتفاق على صحته؛ لأمرين عمل المسلمون بهما ولم يتناكروهما.
--------------------------------------------
তৃতীয়: সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ.
সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ বহুমুখী; নিম্নে সেই প্রধান ক্ষেত্রগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বৈধ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণ নির্বাচন.
এর দ্বারা গবেষক উদ্দেশ্য নিয়েছেন—অভিভাবক (ولي الأمر) বা রাষ্ট্রপ্রধান এবং তার অধস্তন আইনসভা, পরামর্শ সভা ও সমকালীন পরিভাষায় পৌরসভা প্রভৃতির নির্বাচন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অধিকাংশের মতামতের নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র।
আমাদের ফিকহী ঐতিহ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, পরামর্শ (الشورى) পরিচালনা এবং আমির বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোনো একক পদ্ধতি নেই। বরং বিষয়টি মুসলমানদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "আর তাদের কার্যাবলী তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।" সুতরাং তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যাকে পছন্দ করবে এবং যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করবে, সে-ই শরয়ীভাবে স্বীকৃত ইমাম বা নেতা হিসেবে গণ্য হবে, যার আনুগত্য করা আবশ্যক। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে এমন কোনো কাজ করে যা সুস্পষ্ট কুফরি (الكفر البواح) সাব্যস্ত করে, এবং তার সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ পায় ও তার ওপর দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়; সেক্ষেত্রে তার আর কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না।
ইমাম আল-গাজালি এই বিষয়টি ব্যক্ত করে বলেন: "নিশ্চয়ই শাসনভার অর্পিত হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো—প্রভাব বা ক্ষমতা (الشوكة) প্রতিষ্ঠিত হওয়া, মানুষের অন্তরে আনুগত্যের ঝোঁক তৈরি হওয়া এবং বায়আত (المبايعة) গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার মিল থাকা। কেননা, যে উদ্দেশ্যে আমরা ইমাম তালাশ করি তা হলো—প্রবৃত্তিগত সংঘাতের মুখে বিক্ষিপ্ত মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করা। আর পরস্পরবিরোধী ইচ্ছা ও ভিন্নমুখী আকাঙ্ক্ষাকে কখনোই একক মতামতের অনুগামী করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তার প্রভাব (الشوكة) প্রকাশ পায়, তার সাহায্যকারী শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের অন্তরে তার প্রভাব ও গাম্ভীর্য বদ্ধমূল হয়। আর এসব কিছুর মূল ভিত্তি হলো প্রভাব বা ক্ষমতা (الشوكة); আর এই ক্ষমতা প্রতিটি যুগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় না।"
(১)খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের দিকে নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, খলিফা নির্বাচন দুটি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতো, যেমনটি আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "ইমামত বা নেতৃত্ব দুইভাবে সাব্যস্ত হয়: প্রথমত—আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد)-এর নির্বাচনের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত—পূর্ববর্তী ইমামের পক্ষ থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে...।"
(২)তিনি আরও বলেন: "আর পূর্ববর্তী ইমামের মনোনয়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এমন যা বৈধ হওয়ার ওপর ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে; এর কারণ হলো এমন দুটি বিষয় যা মুসলিমরা কার্যকর করেছেন এবং কেউ তা অস্বীকার করেননি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أحدهما: أن أبا بكر رضي الله عنه عهد بها إلى عمر رضي الله عنه، فأثبت المسلمون إمامته بعده (ولم ينكروها).
… والثاني: أن عمر رضي الله عنه عهد بها إلى أهل الشورى، فقبلت الجماعة دخولهم فيها، وهم أعيان العصر اعتقاداً؛ لصحة العهد بها وخرج باقي الصحابة منها، وقال علي للعباس رضوان الله عليهما حين عاتبه على الدخول في الشورى كان أمراً عظيماً من أمور الإسلام لم أر لنفسي الخروج منه، فصار العهد بها إجماعاً انعقاد الإمامة".
(1)ومن الدلائل على الأخذ بالأغلبية في الانتخابات ما يلي:
أ. بيعة الصديق في السقيفة والمسجد:ورد في اجتماع السقيفة أحاديث وروايات كثيرة موضوعة ومكذوبة على خير البرية صلى الله عليه وسلم، أغلبها من أبي مخنف، تنسج هذه الروايات من قصة السقيفة التي اجتمع فيها أطهر الخلق بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، حكاية مكر، وتآمر، وتشعل منها نيران فتنة، وتشكك من خلالها في عدالة الصحابة الكرام رضوان الله تعالى عليهم جميعاً، وقد أعرضت عن هذه الروايات، واعتمدت رواية البخاري في جامعه الصحيح عن أم المؤمنين عائشة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مات .. واجتمعت الأنصار إلى سعد بن عبادة في سقيفة بني ساعدة، فقالوا: "منا أمير ومنكم أمير، فذهب إليهم أبو بكر، وعمر بن الخطاب، وأبو عبيدة بن الجراح، فذهب عمر يتكلم فأسكته أبو بكر، وكان عمر يقول: والله ما أردت بذلك إلا أني قد هيأت كلاماً قد أعجبني خشيت أن لا يبلغه أبو بكر، ثم تكلم أبو بكر فتكلم أبلغ الناس فقال في كلامه: نحن الأمراء وأنتم الوزراء، فقال خباب بن المنذر: لا والله لا نفعل، منا أمير ومنكم أمير، فقال أبو بكر: لا، ولكنا الأمراء وأنتم الوزراء، وهم أوسط العرب داراً، وأعربهم أحساباً، فبايعوا عمر أو أبا عبيدة، فقال عمر: بل نبايعك أنت؛ فأنت سيدنا، وخيرنا، وأحبنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأخذ عمر بيده فبايعه، وبايعه الناس، فقال قائل: قتلتم سعد بن عبادة، فقال عمر: قتله الله ".
(2)وما كان في السقيفة كانت بيعة خاصة لأبي بكر الصديق رضي الله عنه من جماعة من المهاجرين والأنصار رضوان الله عليهم، فلما كان الغد من يوم توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت بيعته العامة في المسجد.
--------------------------------------------
একটি হলো: আবু বকর (রা.) উমর (রা.)-এর নিকট খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং মুসলমানগণ তাঁর পরে তাঁর ইমামতকে (নেতৃত্বকে) প্রতিষ্ঠিত করেন (এবং তারা একে অস্বীকার করেননি)।
… আর দ্বিতীয়টি হলো: উমর (রা.) শুরার সদস্যদের নিকট খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করেন, অতঃপর জামাত (জনসমষ্টি) তাতে তাঁদের প্রবেশকে গ্রহণ করে নেন; তাঁরা এই দায়িত্ব অর্পণের বৈধতার বিশ্বাসের কারণে সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য ছিলেন এবং অবশিষ্ট সাহাবীগণ তা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। আলী (রা.) আব্বাস (রা.)-কে বলেছিলেন—যখন তিনি তাঁকে শুরায় অংশগ্রহণের জন্য অনুযোগ করেছিলেন— "এটি ইসলামের বিষয়গুলোর মধ্যে একটি মহান বিষয় ছিল, যেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া আমি সংগত মনে করিনি।" ফলে এই দায়িত্ব অর্পণটি ইমামত (নেতৃত্ব) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐকমত্যে (إجماع) পরিণত হয়েছে।
(1)নির্বাচনে সংখ্যাধিক্য গ্রহণের প্রমাণাদির মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে:
ক. সাকিফাহ এবং মসজিদে সিদ্দীক (রা.)-এর বায়আত:সাকিফাহর সমাবেশের বিষয়ে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি আরোপ করা অনেক জাল (موضوع) এবং মিথ্যা (مكذوب) হাদিস ও বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে, যার অধিকাংশ আবু মিখনাফ থেকে আগত। এই বর্ণনাগুলো সাকিফাহর ঘটনাকে কেন্দ্র করে—যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে সৃষ্টির পবিত্রতম ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়েছিলেন—চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের আখ্যান তৈরি করে এবং এর মাধ্যমে ফিতনার আগুন প্রজ্বলিত করে এবং সম্মানিত সাহাবীগণের—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন—ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করে। আমি এই বর্ণনাগুলোকে বর্জন করেছি এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ বুখারী-র বর্ণনাটির ওপর নির্ভর করেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করলেন... এবং আনসারগণ বনু সাঈদার সাকিফাহতে সা’দ ইবনে উবাদাহর কাছে সমবেত হলেন। তারা বললেন: "আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং আপনাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবেন।" তখন আবু বকর, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ তাদের কাছে গেলেন। উমর (রা.) কথা বলতে চাইলেন, কিন্তু আবু বকর (রা.) তাঁকে থামিয়ে দিলেন। উমর (রা.) বলতেন: "আল্লাহর কসম, আমি কেবল এ উদ্দেশ্যেই কথা বলতে চেয়েছিলাম যে, আমি এমন কিছু কথা গুছিয়ে রেখেছিলাম যা আমার পছন্দ হয়েছিল এবং আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে আবু বকর হয়তো তা ব্যক্ত করতে পারবেন না।" অতঃপর আবু বকর কথা বললেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাবলীল ভাষায় বক্তব্য রাখলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বললেন: "আমরা হব আমির আর আপনারা হবেন উজির (সহযোগী)।" তখন খাব্বাব ইবনুল মুনযির বললেন: "না, আল্লাহর কসম আমরা তা করব না; আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং আপনাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবেন।" আবু বকর বললেন: "না, বরং আমরা আমির আর আপনারা উজির; কারণ কুরাইশগণ আবাসস্থলের দিক থেকে আরবদের মধ্যমপন্থী এবং বংশমর্যাদায় অধিক বিশুদ্ধ। সুতরাং আপনারা উমর অথবা আবু উবায়দাহর হাতে বায়আত গ্রহণ করুন।" উমর (রা.) বললেন: "বরং আমরা আপনার হাতেই বায়আত গ্রহণ করব; কারণ আপনি আমাদের নেতা, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়।" অতঃপর উমর (রা.) তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁর হাতে বায়আত হলেন এবং লোকেরাও তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করল। তখন কেউ একজন বলল: "তোমরা সা’দ ইবনে উবাদাহকে মেরে ফেললে।" উমর (রা.) বললেন: "আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন।"
(2)সাকিফাহতে যা ঘটেছিল তা ছিল মুহাজির ও আনসারগণের একটি দলের পক্ষ থেকে আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর জন্য বিশেষ বায়আত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পরদিন মসজিদে তাঁর সাধারণ বায়আত সম্পন্ন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال الزهري: " فأخبرني أنس بن مالك رضي الله عنه، أنه سمع خطبة عمر بن الخطاب رضي الله عنه الآخرة حين جلس على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك الغد من يوم توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: " فتشهد عمر وأبو بكر صامت لا يتكلم، ثم قال: أما بعد فإني قلت أمس مقالة وأنها لم تكن كما قلت، وإني والله ما وجدت المقالة التي قلت في كتاب أنزله الله ولا في عهد عهده إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكني كنت أرجوا أن يعيش رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يدبرنا- يريد بذلك أن يكون آخرهم - فإن يك محمد صلى الله عليه وسلم قد مات فإن الله قد جعل بين أظهركم نوراً تهتدون به، فاعتصموا به تهتدوا لما هدى الله محمدا صلى الله عليه وسلم ثم أن أبا بكر صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وثاني اثنين وإنه أولى الناس بأموركم، فقوموا فبايعوه، وكانت طائفة منهم قد بايعوه قبل ذلك في سقيفة بني ساعدة، وكانت بيعة العامة على المنبر".
(1)ويتضح من خلال هذين الحديثين أن الصديق رضي الله عنه تم انتخابه مرتين، مرة من كبار الصحابة في السقيفة، والثانية في المسجد من عامة الناس؛ ليتحقق الرضا من عامة الصحابة ولتتم البيعة منهم جميعاً، وقد كان ذلك.
قال الغزالي: " لما بايع عمر أبا بكر رضي الله عنه ما انعقدت الإمامة له، لا بمجرد بيعته، ولكن؛ لتتابع الأيدي إلى البيعة بسبب مبادرته، ولو لم يبايعه غير عمر، وبقي كافة الخلق مخالفين، أو انقسموا انقساماً متكافئاً لا يتميز فيه غالب من مغلوب، لما انعقدت الإمامة .. ".
(2)ويؤكد هذا المعنى ابن تيمية فيقول وإنما صار- أي أبو بكر- إماماً بمبايعة جمهور الصحابة الذين هو أهل القدرة والشوكة، ولم يضر تخلف سعد بن عبادة رضي الله عنه؛ لأن ذلك لا يقدح في مقصود الولاية، فإن المقصود حصول القدرة والسلطان الذين بهما تحصل مصالح الإمامة، وذلك قد حصل بموافقة الجمهور على ذلك".
(3)--------------------------------------------
জুহরী বলেন: "আনাস ইবনে মালিক (রা.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শেষ ভাষণ শুনেছেন যখন তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মিম্বারে বসেছিলেন। এটি ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাতের পরের দিন। তিনি (আনাস) বলেন: "উমর (রা.) তাশাহহুদ পাঠ করলেন আর আবু বকর (রা.) তখন নীরব ছিলেন, কোনো কথা বলছিলেন না। অতঃপর তিনি বললেন: 'আম্মা বাদ (অতঃপর), আমি গতকাল একটি কথা বলেছিলাম যা সঠিক ছিল না। আল্লাহর কসম, আমি যে কথাটি বলেছিলাম তা আল্লাহর নাযিলকৃত কোনো কিতাবে পাইনি এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও আমাকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে আমি আশা করেছিলাম যে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন এবং আমাদের পরে বিদায় নেবেন। যদি মুহাম্মদ ﷺ মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মাঝে এমন এক নূর (আলো) রেখেছেন যার মাধ্যমে তোমরা হিদায়াত লাভ করতে পারবে। অতএব তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, তবেই তোমরা সেই হিদায়াত পাবে যা দিয়ে আল্লাহ মুহাম্মদ ﷺ-কে পরিচালিত করেছেন। আর আবু বকর (রা.) হলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথী এবং 'গুহার দুইজনার দ্বিতীয় জন' (ছানি ইছনাইন)। তিনি তোমাদের বিষয়াবলি পরিচালনার জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য। সুতরাং তোমরা দাঁড়িয়ে তাঁর হাতে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করো।' তাদের একটি দল ইতিপূর্বে সাকিফাহ বনী সায়েদাহ-তে তাঁর হাতে বাইয়াত হয়েছিল, আর মিম্বারে অনুষ্ঠিত এই বাইয়াত ছিল সাধারণ জনগণের (বাইয়াতে আম্মা)"।
(১)এই দুটি হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, সিদ্দিক (রা.) দুইবার নির্বাচিত হয়েছিলেন; একবার সাকিফাহ-তে বিশিষ্ট সাহাবীদের মাধ্যমে, এবং দ্বিতীয়বার মসজিদে সাধারণ জনগণের মাধ্যমে; যাতে সাধারণ সাহাবীদের সন্তুষ্টি অর্জিত হয় এবং সবার পক্ষ থেকে বাইয়াত সম্পন্ন হয়, আর বাস্তবে তা-ই ঘটেছিল।
গাযালী বলেন: "উমর (রা.) যখন আবু বকর (রা.)-এর হাতে বাইয়াত হলেন, তখন কেবল তাঁর বাইয়াতের মাধ্যমেই ইমামত বা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি। বরং তাঁর এই পদক্ষেপের কারণে একের পর এক হাত বাইয়াতের জন্য প্রসারিত হয়েছিল। যদি উমর (রা.) ছাড়া আর কেউ বাইয়াত না হতেন এবং অবশিষ্ট সকল মানুষ বিরুদ্ধাচরণ করত, অথবা তারা সমান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর প্রাধান্য পেত না, তবে ইমামত বা নেতৃত্ব সাব্যস্ত হতো না..."।
(২)ইবনে তাইমিয়া এই অর্থের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন: "আবু বকর (রা.) মূলত সাহাবীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের বাইয়াতের মাধ্যমেই ইমাম হয়েছিলেন, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রভাবের (শওকাহ) অধিকারী। সাদ ইবনে উবাদাহ (রা.)-এর অনুপস্থিতি এতে কোনো ক্ষতি করেনি; কারণ এটি নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। নেতৃত্বের উদ্দেশ্য হলো এমন ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি অর্জন করা যার মাধ্যমে ইমামতের কল্যাণসমূহ অর্জিত হয়, আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐকমত্যের মাধ্যমে তা অর্জিত হয়েছিল"।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ب. قصة الشورى وبيعة عثمان رضي الله عنه -:
لما طُعن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه جعل الشورى في ستة نفر من الصحابة وقصة الشورى أوردها البخاري في صحيحه بطولها وفيها أن الصحابة رضي الله عنه م قالوا: " أوص يا أمير المؤمنين استخلف قال: ما أجد أحق بهذا الأمر من هؤلاء النفر، أو الرهط الذين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض، فسمى علياً، وعثمان، والزبير، وطلحة، وسعداً، وعبد الرحمن بن عوف وقال: "يشهدكم عبد الله بن عمر، وليس له من الأمر شيء، فإن أصابت الإمرة سعداً فهو ذاك، وإلا فليستغن به أيكم ما أمر، فإني لم أعزله عن عجز ولا خيانة، فلما فرغ من دفنه اجتمعوا رضي الله عنه م، فقال عبد الرحمن: اجعلوا أمركم إلى ثلاثة منكم، فقال الزبير: جعلت أمري إلى علي، وقال طلحة: جعلت أمري إلى عثمان، وقال سعد: جعلت أمري إلى عبد الرحمن بن عوف، فقال عبد الرحمن: أيكم تبرأ من الأمر فنجعله إليه، والله عليه والإسلام ليُنظرن أفضلهم في نفسه فأسكت الشيخان، فقال عبد الرحمن أفتجعلونه إلي، والله علي أن لا آلو عن أفضلكما، قالا: نعم، فأخذ بيد أحدهما، فقال: لك قرابة من رسول الله صلى الله عليه وسلم، والقدم في الإسلام ما قد علمت، فالله عليك لئن أمرتك لتعدلن، ولئن أمرت عثمان لتسمعن ولتطيعن، ثم خلا بالآخر - وهو عثمان- فقال له مثل ذلك، فلما أخذ الميثاق قال: ارفع يدك يا عثمان، فبايعه، وبايع له علي، وولج أهل الدار فبايعوه".
(1)وقد وردت تفصيلات أخرى في الصحيح، ففي رواية المسور بن مخرمة قال: " فجعلوا ذلك إلى عبد الرحمن، فلما ولوا عبد الرحمن أمرهم فمال الناس على عبد الرحمن، حتى ما أرى أحداً من الناس يتبع أولئك الرهط، ولا يطأ عقبه ومال الناس على عبد الرحمن يشاورونه تلك الليالي، حتى إذا كانت الليلة التي أصبحنا منها فبايعنا عثمان، قال المسور: طرقني عبد الرحمن بعد هجع من الليل فضرب الباب حتى استيقظت فقال: أراك نائما، فو الله ما اكتحلت هذه الليالي بكبير نوم، انطلق فادع الزبير وسعداً، فدعوتهما له فشاورهما، ثم دعاني، فقال ادع لي علياً فدعوته فناجاه حتى أبهار الليل، ثم قام علي من عنده وهو على طمع وقد كان عبد الرحمن يخشى من علي شيئاً، ثم قال: ادع لي عثمان فدعوته فناجاه حتى فرق بينهما المؤذن بالصبح، فلما صلى الناس الصبح، واجتمع أولئك الرهط عن المنبر فأرسل إلى من كان حاضراً من المهاجرين والأنصار، وأرسل إلى أمراء الأجناد، وكانوا وافوا تلك الحجة مع عمر. فلما اجتمعوا تشهد عبد الرحمن ثم قال: أما بعد: يا علي إني قد نظرت في أمر الناس فلم أرهم يعدلون بعثمان، فلا تجعلن على نفسك سبيلاً، فقال أبايعك على سنة الله ورسوله والخليفتين من بعده، فبايعه عبد الرحمن وبايعه الناس والمهاجرون والأنصار وأمراء الأجناد والمسلمون ".
(2)--------------------------------------------
খ. শুরা (পরামর্শ সভা) এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর আনুগত্যের শপথের (বাইআত) ঘটনা -:
যখন আমীরুল মুমিনীন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আহত হলেন, তখন তিনি ছয়জন সাহাবীর মধ্যে পরামর্শের (শুরা) দায়িত্ব ন্যস্ত করলেন। শুরা-র এই ঘটনাটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে উল্লেখ আছে যে, সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি অসিয়ত করুন এবং আপনার স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করুন।" তিনি বললেন: "আমি এই খিলাফতের বিষয়ের জন্য ঐ ব্যক্তিবর্গের চেয়ে বেশি যোগ্য কাউকে দেখছি না যাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের সময় সন্তুষ্ট ছিলেন।" অতঃপর তিনি আলী, উসমান, যুবাইর, তালহা, সা’দ এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফের নাম উল্লেখ করলেন এবং বললেন: "আবদুল্লাহ ইবনে উমর তোমাদের সাথে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকবে, তবে খিলাফতের বিষয়ে তার কোনো অধিকার থাকবে না। যদি নেতৃত্ব সা’দ পায় তবে তো ভালো, অন্যথায় তোমাদের মধ্য থেকে যাকে আমীর করা হবে সে যেন তার (সা’দের) সহযোগিতা গ্রহণ করে। কেননা আমি তাকে অক্ষমতা বা খিয়ানতের কারণে পদচ্যুত করিনি।" যখন তাঁর দাফন সম্পন্ন হলো, তখন তাঁরা (মনোনীত ব্যক্তিবর্গ) একত্রিত হলেন। আবদুর রহমান (রা.) বললেন: "তোমরা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্য থেকে তিনজনের হাতে ন্যস্ত করো।" যুবাইর (রা.) বললেন: "আমি আমার বিষয়টি আলীর হাতে ন্যস্ত করলাম।" তালহা (রা.) বললেন: "আমি আমার বিষয়টি উসমানের হাতে ন্যস্ত করলাম।" আর সা’দ (রা.) বললেন: "আমি আমার বিষয়টি আবদুর রহমান ইবনে আউফের হাতে ন্যস্ত করলাম।" তখন আবদুর রহমান (রা.) বললেন: "আপনাদের দুজনের মধ্যে কে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান, যাতে আমরা খিলাফতের বিষয়টি তাঁর ওপর ন্যস্ত করতে পারি? আল্লাহ এবং ইসলামের কসম, অবশ্যই দেখা হবে আপনাদের মধ্যে কে নিজের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ।" তখন শাইখাইন (আলী ও উসমান) চুপ থাকলেন। আবদুর রহমান (রা.) বললেন: "তবে কি আপনারা বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দেবেন? আল্লাহর শপথ, আমি আপনাদের দুজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠজনকে নির্বাচন করতে কোনো ত্রুটি করব না।" তাঁরা বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি তাঁদের একজনের হাত ধরলেন এবং বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আপনার আত্মীয়তা এবং ইসলামে আপনার যে অগ্রগামিতা রয়েছে তা আপনার জানা আছে। আল্লাহর শপথ, আমি যদি আপনাকে আমীর নিযুক্ত করি তবে আপনি নিশ্চয়ই ন্যায়বিচার করবেন, আর যদি আমি উসমানকে আমীর নিযুক্ত করি তবে আপনি নিশ্চয়ই তাঁর কথা শুনবেন এবং আনুগত্য করবেন।" এরপর তিনি অপরজনের (উসমান) সাথে একান্তে কথা বললেন এবং তাঁকেও অনুরূপ কথা বললেন। যখন তিনি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন, তখন বললেন: "হে উসমান, আপনার হাত তুলুন।" অতঃপর তিনি তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলেন এবং আলীও তাঁর হাতে শপথ ন্যস্ত করলেন। এরপর গৃহের অন্য সকলে প্রবেশ করে তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ ন্যস্ত করলেন।
(1)সহীহ গ্রন্থে আরও বিস্তারিত বিবরণ (رواية) এসেছে। মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ (রা.)-এর এক বর্ণনা (رواية)-তে আছে, তিনি বলেন: "অতঃপর তাঁরা বিষয়টি আবদুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করলেন। যখন তাঁরা আবদুর রহমানকে তাঁদের দায়িত্ব অর্পণ করলেন, তখন মানুষ আবদুর রহমানের দিকেই ঝুঁকে পড়ল। এমনকি আমি দেখছিলাম না যে মানুষ ঐ দলের অন্য কারো অনুসরণ করছে বা তাঁদের পিছু চলছে। মানুষ আবদুর রহমানের কাছে এসে ঐ কয়েক রাত পরামর্শ করতে লাগল। অবশেষে যখন সেই রাত এল যার সকালে আমরা উসমানের হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলাম, মিসওয়ার বলেন: রাতের এক প্রহর অতিবাহিত হওয়ার পর আবদুর রহমান আমার দরজায় কড়া নাড়লেন। তিনি দরজায় সজোরে আঘাত করলেন যতক্ষণ না আমি জেগে উঠলাম। তিনি বললেন: 'আমি দেখছি তুমি ঘুমাচ্ছ! আল্লাহর কসম, এই কয়েক রাতে আমি খুব একটা ঘুমাতে পারিনি। যাও, যুবাইর ও সা’দকে ডেকে আনো।' আমি তাঁদের তাঁর কাছে ডেকে আনলাম এবং তিনি তাঁদের সাথে পরামর্শ করলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, 'আলীকে ডেকে আনো।' আমি তাঁকে ডেকে আনলাম, তিনি তাঁর সাথে গভীর রাত পর্যন্ত নিভৃতে কথা বললেন। অতঃপর আলী তাঁর নিকট থেকে এই আশা নিয়ে উঠে গেলেন, আর আবদুর রহমান আলীর পক্ষ থেকে কোনো কিছুর আশঙ্কা করছিলেন। এরপর তিনি বললেন: 'উসমানকে ডেকে আনো।' আমি তাঁকে ডেকে আনলাম এবং ফজর নামাজের মুয়াজ্জিন আযান দেওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর সাথে নিভৃতে কথা বললেন। যখন মানুষ ফজরের নামাজ আদায় করল এবং ঐ ব্যক্তিবর্গ মিম্বরের পাশে একত্রিত হলেন, তখন তিনি উপস্থিত মুহাজির ও আনসারদের কাছে লোক পাঠালেন। এমনকি তিনি সেনাপতিদের কাছেও লোক পাঠালেন যারা উমরের সাথে ঐ হজ্জে উপস্থিত ছিলেন। যখন সকলে সমবেত হলেন, আবদুর রহমান তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং বললেন: 'অতঃপর, হে আলী! আমি মানুষের মতামত পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি তারা উসমানের সমকক্ষ কাউকে মনে করছে না। সুতরাং আপনি নিজের জন্য (বিবাদের) কোনো পথ রাখবেন না।' তিনি বললেন: 'আমি আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) এবং তাঁর পরবর্তী দুই খলীফার অনুসৃত নীতির ওপর আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করছি।' অতঃপর আবদুর রহমান তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ ন্যস্ত করলেন এবং সাধারণ মানুষ, মুহাজির, আনসার, সেনাপতি ও মুসলিমগণও তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ ন্যস্ত করলেন।"
(2)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن خلال هذين الحديثين يتبين أن جميع المسلمين بايعوا عثمان رضي الله عنه، فكانت بيعته أوكد بيعة.
قال ابن تيمية: " عثمان لم يصر إماماً باختيار بعضهم بل بمبايعة الناس له، وجميع المسلمين بايعوا عثمان بن عفان ولم يتخلف عن بيعته أحد، قال الإمام أحمد في رواية حمدان بن علي: " ما كان في القوم أوكد بيعة من عثمان؛ كانت بإجماعهم، فلما بايعه ذوو الشوكة والقدرة صار إماماً، وإلا فلو قدر أن عبد الرحمن بايعه، ولم يبايعه علي ولا غيره من الصحابة أهل الشوكة لم يصر إماماً ".
(1)ويتضح العمل بمبدأ الأغلبية في قصة أهل الشورى وبيعة عثمان رضي الله عنه من خلال الآثار والروايات التالية:
1 - قول عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه لعلي رضي الله عنه: " إني نظرت في أمر الناس فلم أرهم يعدلون بعثمان ".
(2)2 - ما رواه عبد الله بن جعفر، عن أبيه، عن المسور بن مخرمة، عن أمه عاتكة بنت عوف أن عمر رضي الله عنه قال في شأن أهل الشورى الستة: " يا عبد الله - ابن عمر- إن اختلف الناس فكن مع الأكثر، وأن كانوا ثلاثة وثلاثة، فكن في الحزب الذي مع عبد الرحمن بن عوف".
(3)3 - ما ذكره ابن كثير حيث قال: " ثم نهض عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه يستشير الناس فيهما، ويجمع رأي المسلمين برأي رؤوس الناس وأقيادهم جميعاً وأشتاتاً، مثنى وفرادى ومجتمعين، سراً وجهراً، حتى خلص إلى النساء المخدرات في حجابهن، وحتى سأل الولدان في المكاتب، وحتى سأل من يرد من الركبان والأعراب إلى المدينة في مدة ثلاثة أيام بلياليها، فلم يجد اثنين يختلفان في تقديم عثمان بن عفان رضي الله عنه ".
(4)4 - ما جاء في غرائب مالك من طريق سعيد بن عامر عن جويرية مطولاً - في شأن أهل الشورى- وفيه: ويتبع الأقل الأكثر، ومن تأمر من غير أن يؤمر فاقتلوه ".
(5)--------------------------------------------
এই দুই হাদিসের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, সমস্ত মুসলিম উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তাঁর বায়আত ছিল সর্বাধিক সুদৃঢ় বায়আত।
ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: "উসমান কেবল কতিপয় ব্যক্তির পছন্দের কারণে ইমাম হননি, বরং জনগণের বায়আতের মাধ্যমে ইমাম হয়েছেন। সমস্ত মুসলিম উসমান ইবনে আফফানকে বায়আত দিয়েছেন এবং তাঁর বায়আত থেকে কেউ পিছিয়ে থাকেনি। ইমাম আহমাদ হামদান ইবনে আলীর বর্ণনায় বলেছেন: 'লোকদের মধ্যে উসমানের চেয়ে সুদৃঢ় বায়আত আর কারও ছিল না; এটি ছিল তাঁদের ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে। যখন প্রভাবশালী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিবর্গ তাঁকে বায়আত প্রদান করলেন, তখন তিনি ইমাম হলেন। অন্যথায়, যদি ধরা হতো যে আব্দুর রহমান তাঁকে বায়আত দিয়েছেন কিন্তু আলী বা প্রভাবশালী সাহাবীদের অন্য কেউ বায়আত দেননি, তবে তিনি ইমাম হতেন না'।"
(1)শুরা সদস্যগণের ঘটনা এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বায়আতের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি অনুসরণ করার বিষয়টি নিম্নোক্ত আসর এবং বর্ণনাগুলোর (روايات) মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
1 - আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: "আমি মানুষের অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, তারা উসমানের সমকক্ষ কাউকে মনে করে না।"
(2)2 - আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর তাঁর পিতা থেকে, তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামা থেকে, তিনি তাঁর মা আতিকা বিনতে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শুরা কমিটির ছয় সদস্য সম্পর্কে বলেছিলেন: "হে আব্দুল্লাহ (ইবনে উমর)! যদি মানুষের মধ্যে মতবিরোধ হয়, তবে তুমি সংখ্যাগরিষ্ঠের (الأكثر) সাথে থেকো। আর যদি তারা তিন-তিন ভাগে সমান হয়ে যায়, তবে তুমি সেই দলে থেকো যে দলে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রয়েছেন।"
(3)3 - ইবনে কাসীর যা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "অতঃপর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এ বিষয়ে মানুষের পরামর্শ নিতে শুরু করলেন এবং মুসলিমদের জনমতকে তাদের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে একক ও বিচ্ছিন্নভাবে, জোড়ায় জোড়ায় ও সম্মিলিতভাবে, গোপনে ও প্রকাশ্যে একত্রিত করলেন। এমনকি তিনি অন্তঃপুরবাসিনী পর্দানশীন নারী এবং মক্তবের বালকদের নিকটও জিজ্ঞেস করলেন। এমনকি মদিনায় আগত যাত্রী ও বেদুইনদের নিকটও তিন দিন তিন রাত ধরে জিজ্ঞেস করলেন। ফলশ্রুতিতে তিনি এমন দু’জন ব্যক্তিকেও পাননি যারা উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।"
(4)4 - গারাইব মালেক-এ সাঈদ ইবনে আমিরের সূত্রে জুওয়াইরিয়া থেকে দীর্ঘ পরিসরে শুরা সদস্যদের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে আছে: "...এবং সংখ্যালঘু অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের (الأكثر) অনুগামী হবে। আর যে ব্যক্তি অনুমোদন ব্যতিরেকে নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, তাকে হত্যা করো।"
(5)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আমালু বিল আগলাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
5 - ما جاء في تحرير الأحكام: " ولا يشترط في أهل البيعة عدد مخصوص، بل من تيسر حضوره عند عقدها، ولا تتوقف صحتها على مبايعة أهل الأمصار، بل متى بلغتهم لزمهم الموافقة إذا كان المعقود له أهلاً لها ".
(1)وهذه الروايات والآثار تدل على مشروعية اعتبار الأغلبية في البيعة.
الفقرة الثانية: الاجتهاد الجماعي.
ويقصد الباحث به- كما تقدم- العمل العلمي المنهجي الذي تقوم به فئة من فقهاء الأمة وعلمائها المتخصصين في مختلف العلوم، والذي تسعى من خلاله؛ لطلب الحكم الشرعي الظني بطريقة التشاور والاستنباط، عبر هيئات الإفتاء العام، ومؤسسات الاجتهاد الجماعي المعاصرة، كالمجامع الفقهية، وهيئات الرقابة الشرعية في المصارف الإسلامية، ولجان تقنين أحكام الشريعة الإسلامية، وغيرها من الجهات ذات البعد الجماعي، ولا شك أن بحث نوازل العصر
… ومستجداته، ووقائعه المختلفة بجهد جماعي، ووفق عمل مؤسسي يدعى إليه أهل الاختصاص، وتعد أبحاثه بعناية تامة، ويلقى من التدقيق والتمحيص وتداول الرأي ما يوصل إلى الصواب
… أو يقاربه، أرقى وسائل العصر، وأبعد عن الخطأ، وأقرب إلى منهج الراشدين رضوان الله تعالى عليهم فقد تعددت الآثار منهم في بيان ذلك ومنها:
أ.
… أثر المسيب بن رافع قال: " كانوا إذا نزلت بهم قضية ليس فيها من رسول الله صلى الله عليه وسلم أثر اجتمعوا لها وأجمعوا، فالحق فيما رأوا ".
(2)ب. ما رواه ميمون بن مهران أنه قال: " كان أبو بكر إذا ورد عليه الخصوم نظر في كتاب الله فإن وجد فيه ما يقضي بينهم قضى به، وإن لم يكن في الكتاب، وعلم من رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك الأمر سنة قضى بها، فإن أعياه، خرج فسأل المسلمين، وقال: أتاني كذا وكذا، فهل علمتم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى في ذلك بقضاء؟ فربما اجتمع عليه النفر كلهم يذكر فيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضاء، فإن أعياه أن يجد فيه سنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم جمع رؤوس الناس، فإذا أجمعوا على شيء قضى به".
(3)--------------------------------------------
৫ - তাহরীরুল আহকাম গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে: "বাইয়াত প্রদানকারীদের (আহলে বাইয়াত) জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা শর্ত নয়, বরং চুক্তির সময় যাদের উপস্থিতি সহজ হয় তারাই যথেষ্ট। এর বৈধতা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বাইয়াত গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং যখনই তাদের কাছে এই সংবাদ পৌঁছাবে, তখন তাদের সম্মতি প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়বে, যদি চুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এর যোগ্য হন।"
(১)এই বর্ণনাগুলো (روايات) এবং আসারসমূহ (آثار) বাইয়াতের ক্ষেত্রে সংখ্যাগুরু মতকে বিবেচনা করার বৈধতার প্রমাণ দেয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামষ্টিক ইজতিহাদ (الاجتهاد الجماعي).
গবেষক এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন—যেমনটি আগে গত হয়েছে—এমন একটি পদ্ধতিগত বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতা, যা উম্মাহর একদল ফকিহ এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ সম্পাদন করেন। এর মাধ্যমে তারা পরামর্শ এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (استنباط) মাধ্যমে শরিয়তের সম্ভাব্য বিধান (الحكم الشرعي الظني) অনুসন্ধানের চেষ্টা করেন। এটি সাধারণ ফতোয়া বোর্ড এবং সমসাময়িক সামষ্টিক ইজতিহাদ (الاجتهاد الجماعي) প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন: ফিকহ একাডেমি, ইসলামি ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ পর্যবেক্ষণ বোর্ড, ইসলামি শরিয়াহর বিধানসমূহের আইনি রূপদান কমিটি এবং অন্যান্য সামষ্টিক কাঠামোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান যুগের নব্য উদ্ভূত সমস্যা (نوازل), আধুনিক বিষয়াবলি এবং বিভিন্ন ঘটনাবলি সামষ্টিক প্রচেষ্টায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা—যেখানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আহ্বান করা হয়, গবেষণাগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা হয় এবং সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় বা তার নিকটবর্তী হওয়া যায়—তা এই যুগের সর্বোত্তম পন্থা। এটি ভুলের সম্ভাবনা থেকে দূরে এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের (رضوان الله تعالى عليهم) মানহাজের (منهج) সবচেয়ে নিকটবর্তী। তাঁদের থেকে এ বিষয়ে অসংখ্য আসার (آثار) বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
ক.
… মুসাইয়্যিব ইবনে রাফে’র আসার (أثر), তিনি বলেন: "যখন তাঁদের সামনে এমন কোনো সমস্যা আসত যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো আসার (أثر) পাওয়া যেত না, তখন তাঁরা একত্রিত হতেন এবং ঐকমত্য পোষণ করতেন; অতঃপর তাঁরা যা সঠিক মনে করতেন, হক তাতেই নিহিত থাকত।"
(২)খ. মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণিত (رواه), তিনি বলেন: "আবু বকর (রা.)-এর কাছে যখন বিবাদমান পক্ষগুলো আসত, তিনি আল্লাহর কিতাবে তা দেখতেন। যদি সেখানে তাদের ফয়সালা করার মতো কিছু পেতেন, তবে তার মাধ্যমেই ফয়সালা করতেন। আর যদি কিতাবে তা না থাকত এবং সেই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো সুন্নাহ (سنة) তাঁর জানা থাকত, তবে তার মাধ্যমে ফয়সালা করতেন। যদি তিনি অক্ষম হতেন, তবে বাইরে বের হয়ে মুসলমানদের জিজ্ঞাসা করতেন এবং বলতেন: ‘আমার কাছে অমুক অমুক বিষয় এসেছে, তোমরা কি জানো যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে কোনো ফয়সালা করেছেন?’ তখন হয়তো অনেক লোক তাঁর কাছে সমবেত হতো এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফয়সালা উল্লেখ করত। আর যদি তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো সুন্নাহ (سنة) খুঁজে পেতে অক্ষম হতেন, তবে জনগণের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একত্র করতেন। যখন তারা কোনো বিষয়ে একমত হতেন (أجمعوا), তখন তিনি তার ভিত্তিতেই ফয়সালা দিতেন।"
(৩)--------------------------------------------