(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب مستمر الأوهام على ذوي المعرفة وأولي الأفهام - ت كسروي   (ابن ماكولا)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تهذيب مستمر الأوهام على ذوي المعرفة وأولي الأفهام

المؤلف: أبو نصر علي بن هبة الله بن جعفر بن ماكولا

المحقق: سيد كسروي حسن

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م

عدد الصفحات: 339

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাউইল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - কাসরাবী সংস্করণ   (ইবনে মাকুলা)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাউইল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম

লেখক: আবু নাসর আলী বিন হিবাতুল্লাহ বিন জাফর বিন মাকুলা

সম্পাদক: সাইয়িদ কাসরাবী হাসান

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরী - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم

وَبه أستعين

قال الأمير الحافظ أبو نصر علي بن هبة الله بن جعفر بن ماكولا رحمه الله

الحمدُ لله الذي تَفَرَّدَ بالكمال فلا نقص في تمامه وتوحد بمتقن الفعال فلا خلل في أحكامه وقرر الأمور على مشيئته فلا نقض لإبرامه

وصلواته على من أرسلهُ رحمةً إلى خير أمة أخرجت للناس وظهر به القلوب الصدية من الأدناس وجعله للأنبياء صلوات الله عليه وعليهم مكملاً وخاتماً وصيره إلى الحق داعياً وبه قائماً وعلى أهل بيته وأصحابه وأزواجه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين

وبعد ذلك

فإن أبا بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي رحمه الله وكان أحد الأعيان ممن شاهدناه معرفة وإتقاناً وحفظاً وضبطاً لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وتفننا في علله وأسانيده

وخبرة برواته وناقليه وعلماً بصحيحه وغريبه وفرده ومنكره وسقيمه ومطروحه ولم يكن للبغداديين بعد أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني من يجري مجراه ولا قام بعده بهذا الشأن سواه

وقد استفدنا كثيراً من هذا اليسير الذي نحسنه وبه وعنه تعلمنا شطراً من هذا القليل الذي نعرفه بتنبيهه ومنه فجزاه الله عنا الخير ولقاه الحسنى ولجمع مشايخنا وأئمتنا ولجميع المسلمين

كان قد عمل بالشام كتاباً سماه المؤتنف تكملة المؤتلف ولما عاد إلى بغداد قرأ علي شيئاً من أوله مغرباً عليَّ به ومعرفاً لي بما ضمنه إياه ومعرفاً لي قدر ما تيسر له وأنه
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই নিকট আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আল-আমির আল-হাফিজ আবু নাসর আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মাকুলা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পূর্ণতায় অদ্বিতীয়, ফলে তাঁর পূর্ণতায় কোনো কমতি নেই; যিনি সুনিপুণ কর্মে একনিষ্ঠ, ফলে তাঁর হুকুমে কোনো ত্রুটি নেই; এবং যিনি তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সকল বিষয় নির্ধারণ করেছেন, ফলে তাঁর সিদ্ধান্তের কোনো রদবদল নেই।

এবং তাঁর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে তিনি মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মতের নিকট রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। যার মাধ্যমে তিনি মরিচাপড়া অন্তরসমূহকে কলুষতা থেকে পবিত্র করেছেন। যাকে তিনি নবীদের (আল্লাহর সালাত তাঁর ও তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) পরিপূরক ও সমাপ্তকারী করেছেন এবং যাকে সত্যের দিকে আহ্বানকারী ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিতকারী করেছেন। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী, তাঁর স্ত্রীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।

অতঃপর:

আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদী (রাহিমাহুল্লাহ)—যিনি ছিলেন আমাদের দেখা অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বিষয়ে যাঁর প্রজ্ঞা, নিপুণতা, হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ও নির্ভুলতা ছিল অবিস্মরণীয় এবং হাদিসের ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও সনদসমূহে ছিল অসাধারণ দক্ষতা।

এবং হাদিসের বর্ণনাকারী ও বাহকদের সম্পর্কে যাঁর গভীর অভিজ্ঞতা ছিল এবং সহিহ, গরিব, ফারদ, মুনকার, সাকিম (দুর্বল) ও মাতরুহ (বর্জনীয়) হাদিস সম্পর্কে যাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনীর পর বাগদাদবাসীদের মধ্যে তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিল না এবং তাঁর পরে এই মহান দায়িত্বে তিনি ছাড়া আর কেউ স্থলাভিষিক্ত হননি।

আমরা এই সামান্য জ্ঞান যা অর্জন করেছি, তার অনেকটুকুই তাঁর থেকে লাভ করেছি। আমরা যা কিছু জানি, তার একটি বড় অংশ তাঁর দিকনির্দেশনা ও অনুগ্রহের মাধ্যমেই তাঁর নিকট থেকে শিখেছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম বিনিময় দান করুন এবং তাঁকে কল্যাণের সাথে সিক্ত করুন। আর আমাদের সকল শিক্ষক, ইমাম এবং সকল মুসলিমকেও অনুরূপ দান করুন।

তিনি শাম দেশে থাকাকালীন একটি কিতাব সংকলন করেছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন ‘আল-মু’তানিফ তাকমিলাতুল মু’তালিফ’। যখন তিনি বাগদাদে ফিরে এলেন, তখন তিনি এর শুরুর কিছু অংশ আমাকে পড়ে শুনালেন, যা আমাকে চমৎকৃত করেছিল। তিনি আমাকে এর বিষয়বস্তু এবং এটি সংকলনে তিনি যতটুকু সামর্থ্য লাভ করেছিলেন সে সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন এবং তিনি যে...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
قد استدرك فيه على أئمة هذا العلم أشياء تم عليهم السهو فيها ونبه على أشياء غفلوا عنها ولم يحيطوا بها معرفة ووجدته كبيراً فظننت أنه قد استوعب ما يحتاج إليه في هذا المعنى ولم يدع بعده لمتتبع حكماً ولما دعي به فأجاب

قال لي بعض المتشاغلين والمعتنين بهذا العلم لقد تَعِبَ الخطيب وأتعب وتعب بما جمعه وأتعب من أراد أن يعرف الحقيقة في اسم لأنه يحتاج أن يطلبه في كتاب الدارقطني فإن لم يجده ففي كتابي عبد الغني فإن لم يجده ففي كتاب الخطيب ثم يحتاج أن يُفسر طبقاته أيضاً فيمضي زمانه ضياعاً ويصير ما أريد من إرشاده تضليلاً

فلو أنك جمعت شمل هذه الكتب وجعلتها كتاباً واحداً

حُزتَ الثواب ويسرت على مبغي العلم الطلاب

وراجعني في ذلك مراجعة تحرمت لها وأوجبت له فيها رعايةً لحقه ورغبة في مساعدته واغتناماً للأجر في إفادة مسترشده وتعليم جاهل ومعرفة طالب وبدأت بالنظر في كتاب الخطيب فوجدته يذكر في أوله

أنه قد جمع فيه من مؤتلف أسماء الرواة وأنسابهم ومختلفها ومما تتضمن كتب أصحاب الحديث من ذلك وإن لم يكن المذكور راوياً ما شذ عن كتابي أبي الحسن علي بن عمر وأبي محمد بن عبد الغني بن سعيد المصنفين في المؤتلف والمختلف وفي مشتبه النسبة

وأنه يذكر ما رسم فيهما أو في أحدهما على الوهم ودَخَلَ على مدونه فيه الخطأ والسهو ويبين فيه صوابه ويورد شواهده ويذكر صحيح ما اختلفوا فيه مما انتهى إليه علمه ويُقِرُّ ما أشكل عليه من ذلك لينسب كل قول إلى صاحبه وجعله خمسة فصول

أورد في الأول منها ما لم يذاكره ولا واحد منهما

وفي الثاني أوهام كتبهم

وفي الثالث ما أغفلاه مما أوردا له نظائر
এই শাস্ত্রে তিনি এই শাস্ত্রের ইমামগণের এমন কিছু ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করেছেন যা তাদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল এবং এমন কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা তারা লক্ষ্য করেননি বা যে সম্পর্কে তাদের পূর্ণ জ্ঞান ছিল না। আমি এই গ্রন্থটিকে বেশ প্রকাণ্ড পেয়েছি, তাই আমার ধারণা হয়েছিল যে, এটি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব কিছুই ধারণ করেছে এবং পরবর্তী কোনো অনুসন্ধানকারীর জন্য কোনো রায় বাকি রাখেনি। যখন তাকে এই কাজের জন্য আহ্বান করা হলো, তখন তিনি সাড়া দিলেন।

এই শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত ও যত্নবান এমন ব্যক্তিদের কেউ কেউ আমাকে বললেন যে, খতীব (আল-বাগদাদী) নিজেও কষ্ট করেছেন এবং অন্যদেরও কষ্টে ফেলেছেন। তিনি যা সংকলন করেছেন তা নিয়ে যেমন তিনি নিজে পরিশ্রান্ত হয়েছেন, তেমনি কোনো নামের প্রকৃত অবস্থা জানতে আগ্রহী ব্যক্তিকেও তিনি পরিশ্রান্ত করেছেন। কারণ, তাকে সেটি প্রথমে দারাকুতনীর কিতাবে খুঁজতে হয়; সেখানে না পেলে আবদুল গনির কিতাবদ্বয়ে খুঁজতে হয়; সেখানেও না পেলে খতীবের কিতাবে খুঁজতে হয়। এরপর তাকে সেগুলোর স্তরও ব্যাখ্যা করতে হয়, ফলে তার সময় নষ্ট হয় এবং তাকে পথ দেখানোর যে উদ্দেশ্য ছিল, তা পথভ্রষ্টতায় পরিণত হয়।

আপনি যদি এই কিতাবগুলোকে একত্রিত করে একটি কিতাবে পরিণত করতেন।

তবে আপনি সওয়াব অর্জন করতেন এবং জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্রদের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিতেন।

তিনি এই বিষয়ে আমার সাথে বারবার এমনভাবে আলোচনা করলেন যে আমি তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলাম এবং তার অধিকার রক্ষা করা, তাকে সহযোগিতা করার আকাঙ্ক্ষা এবং পথপ্রার্থীকে উপকৃত করা, অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়া ও জ্ঞানপিপাসুর জ্ঞানবৃদ্ধির মাধ্যমে সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে তা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়াল। আমি খতীবের কিতাবটি পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ শুরু করলাম এবং এর শুরুতে তাকে উল্লেখ করতে দেখলাম যে:

তিনি এতে বর্ণনাকারীদের নামের মু’তালিফ (একই রকম লিখিত রূপ) ও মুখতালিফ (ভিন্ন উচ্চারণ) এবং তাদের বংশপরিচয় এবং হাদিস বিশারদগণের কিতাবসমূহে এই সংক্রান্ত যা কিছু আছে তা সংকলন করেছেন, যদিও উল্লিখিত ব্যক্তি বর্ণনাকারী না হন। এতে তিনি এমন সব বিষয় এনেছেন যা আবুল হাসান আলী বিন উমর এবং আবু মুহাম্মদ বিন আবদুল গনি বিন সাঈদের ‘আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ এবং ‘মুশতাবিহুন নিসবাহ’ বিষয়ক গ্রন্থদ্বয় থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল।

এবং তিনি সেই কিতাবদ্বয়ে বা তার কোনো একটিতে ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে যা লেখা হয়েছে এবং যার সংকলকের কাজে ভুল ও বিস্মৃতি ঘটেছে, তা উল্লেখ করেছেন এবং এর সঠিক রূপটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এর সপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন এবং তার জ্ঞান অনুযায়ী তাদের মতভেদের মধ্য থেকে সঠিকটি উল্লেখ করেছেন। আর যা তার কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে, তা তিনি সেভাবেই রেখেছেন যাতে প্রতিটি বক্তব্য তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়। তিনি একে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন।

যার প্রথমটিতে তিনি এমন বিষয়গুলো এনেছেন যা তাদের কেউ আলোচনা করেননি।

দ্বিতীয়টিতে তাদের কিতাবসমূহের ভুল-ভ্রান্তিগুলো আলোচনা করেছেন।

এবং তৃতীয়টিতে সেই বিষয়গুলো এনেছেন যা তারা উপেক্ষা করেছেন অথচ তারা সেই জাতীয় বিষয়ের উদাহরণ প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وفي الرابع أشياء ذاكرها وقصرا في شرحها وإيضاحها فبينها وأتم نقصانها

وفي الخامس ما أورداه من الأحاديث نازلةً ووقعت له عالية

ولما أنعمت النظر فيه وجدته قد ذكر في الفصل الأول ما قد ذاكراه أو أحدهما

وفي الفصل الثاني قد غلطهما في أشياء لم يغلطا فيها و أخل بأوهام لهما ظاهرة

وفي الفصل الثالث قد كرر أشياء ذاكرها أو أحدهما و أخل بنظائر لما ذاكراه ولم يهتد إليها

وفي الفصل الرابع لم يشرح من ما ضمن بيانه إلا شيئاً يسيراً

وفي كتبهم أشياء كثيرة تحتاج إلى شرح وبيان وإيضاح وتعريف ولا سيما كاب عبد الغني فإن أكثر ما فيه غير مبين ووجدت له في تضاعيف الكتاب أوهاماً من تصحيف وإسقاط أسماء من أنساب وأغلاط غير ذلك فتركته على ما هو عليه وجمعت كتابي الذي سميته بالإكمال ولم أتعرض فيه لتغليطه ولا لتغليط غيره ورسمت ما غلط فيه واحد منهم في كتابي على الصحة ولما أعان الله على تمامه ذكرت ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال

من كتم علماً علمه ألجم يوم القيامة بلجام من نار

وما روي عن بعض السلف أنه قال

وما أوجب الله تعالى على الجهال أن يتعلموا حتى أوجب على العلماء أن يعلموا

وخشيت أن تبقى هذه الأوهام في كتبهم فيظن من يراهنا أنها الصحيح ويتبع أمرهم فيها فيضل من حيث طلب الهداية ويزل من جهة ما أراد الاستثبات وإذا رأى كتابي بما تصرو أن الغلط ما ذكرته أنا وإن أحسن الظن بي جعل قولي خلافاً وقال كذا ذكر فلان وكذا ذكر فلان

فاستخرت الله تعالى ورغبت إليه في عضدي بالتوفيق والإرشاد وسألته إلهامي القصد وتأييدي بالسداد وجمعت في هذا الكتاب أغلاط أبي الحسن علي بن عمر وعبد
চতুর্থ ভাগে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তারা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণে তারা সংক্ষেপ করেছেন; ফলে তিনি তা বর্ণনা করেছেন এবং তার অসম্পূর্ণতা পূর্ণ করেছেন।

পঞ্চম ভাগে রয়েছে এমন সব হাদিস যা তারা নিম্ন সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁর নিকট তা উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।

আমি যখন এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে তিনি প্রথম পরিচ্ছেদে এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যা তারা উভয়ে বা তাদের অন্তত একজন উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তিনি তাদের এমন কিছু বিষয়ে ভুল সাব্যস্ত করেছেন যেগুলোতে তারা ভুল করেননি, এবং তাদের কিছু প্রকাশ্য বিভ্রান্তিকর ভুল তিনি এড়িয়ে গেছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে তিনি এমন কিছু বিষয় পুনরাবৃত্তি করেছেন যা তারা উভয়ে বা তাদের অন্তত একজন উল্লেখ করেছেন, এবং তাদের উল্লেখ করা বিষয়ের অনুরূপ অন্যান্য বিষয়গুলো তিনি এড়িয়ে গেছেন যেগুলোর দিশা তিনি পাননি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদে তিনি যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার অতি সামান্য অংশই ব্যাখ্যা করেছেন।

তাদের গ্রন্থসমূহে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোর ব্যাখ্যা, বর্ণনা, স্পষ্টীকরণ ও সংজ্ঞায়নের প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে আব্দুল গণির কিতাবটি; কারণ এর অধিকাংশ বিষয়ই অস্পষ্ট। আমি কিতাবটির বিভিন্ন স্থানে পাণ্ডুলিপির ভুল পাঠ (তাসহিফ), বংশপরম্পরা থেকে নাম বাদ পড়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য ভুল দেখতে পেয়েছি। তাই আমি তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দিয়েছি এবং আমার কিতাবটি সংকলন করেছি যার নাম দিয়েছি 'আল-ইকমাল'। আমি এতে তাকে বা অন্য কাউকে ভুল সাব্যস্ত করার অবতারণা করিনি। বরং তাদের মধ্য থেকে কেউ যেখানে ভুল করেছেন, আমি আমার কিতাবে তা সঠিকরূপে লিপিবদ্ধ করেছি। যখন আল্লাহ এটি সমাপ্ত করার তাওফিক দান করলেন, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করলাম যে, তিনি বলেছেন:

যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান গোপন করবে যা সে জানে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।

এবং পূর্বসূরিদের (সালাফ) কারো কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:

মহান আল্লাহ মূর্খদের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত শেখা ফরজ করেননি, যতক্ষণ না তিনি আলেমদের ওপর শেখানো ফরজ করেছেন।

আমি আশঙ্কা করলাম যে, এই ভুলভ্রান্তিগুলো তাদের কিতাবসমূহে থেকে যাবে, ফলে যারা সেগুলো দেখবে তারা সেগুলোকে সঠিক মনে করবে এবং এ বিষয়ে তাদের অনুসরণ করবে। ফলে সে হিদায়াত খুঁজতে গিয়ে পথভ্রষ্ট হবে এবং যেখানে সে দৃঢ়তা চেয়েছিল সেখান থেকেই বিচ্যুত হবে। আর যদি সে আমার কিতাবটি দেখে এবং মনে করে যে আমার উল্লেখ করা বিষয়টিই ভুল, অথবা যদি সে আমার প্রতি সুধারণা পোষণও করে তবুও সে আমার বক্তব্যকে কেবল একটি ভিন্ন মত হিসেবে গণ্য করবে এবং বলবে, অমুক এমন বলেছেন আর অমুক এমন বলেছেন।

তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তাঁর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের নির্দেশনার মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করলাম। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে সঠিক দিশা দান করেন এবং সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন। অতঃপর আমি এই কিতাবে আবুল হাসান আলী ইবনে উমর এবং আব্দুল-এর ভুলসমূহ একত্রিত করলাম।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬০)
الغني بن سعيد مما ذكره الخطيب ومما لم يذكره لتكون أغلاطهما في مكان واحد وما غلطهما فيه وهو الغالط وأغلاط الخطيب في المؤتنف

ورتبته على حروف المعجم ليسهل طلبه على ملتمسه ويقرب وجوده من طالبه وبينت الحجة على ما ذكرته والدليل على ما أوردته واعتمدت الإيجاز والاختصار ولم أشق الطرق وأكثر بتكرير الأسانيد وتركت أغلاطاً للخطيب رحمه الله في تراجم أبواب حكاها عن الشيخين وَهِمَ عليهما أو على أحدهما فيها ورتبها على غير ما رتباه تركاً للمضايقة ولأن ذلك مما لا يضر طالب العلم جهله ولا ينفعه استفادته

ويعلم الله تعالى أن قصدي فيه تبصير المسترشد وإرشاد الحايد وتيسير الطرق على حافظي شريعة الإسلام وتقريب البعيد على ناقلي سنن الأحكام

وهو بقدرته ولطفه لا يضيع أجر من أحسن عملاً

إنه جواد كريم رؤوف رحيم
আল-গণি ইবনে সাঈদ থেকে আল-খতিব যা উল্লেখ করেছেন এবং যা তিনি উল্লেখ করেননি, তা এখানে একত্রিত করা হয়েছে যাতে তাদের ভুলগুলো এক স্থানে থাকে এবং যেখানে তিনি তাদের ভুল সাব্যস্ত করেছেন অথচ ভুলটি ছিল তাঁর নিজের, আর আল-মু’তানিফ গ্রন্থে আল-খতিবের ভুলসমূহ।

আমি এটি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি যাতে অন্বেষণকারীর জন্য এর অনুসন্ধান সহজ হয় এবং তালাশকারীর জন্য তা হস্তগত হওয়া নিকটবর্তী হয়। আমি যা উল্লেখ করেছি তার ওপর প্রমাণ এবং যা উপস্থাপন করেছি তার স্বপক্ষে দলিল বর্ণনা করেছি। আমি সংক্ষিপ্তকরণ ও সারসংক্ষেপের ওপর নির্ভর করেছি এবং সনদসমূহের পুনরাবৃত্তি করে পথ দীর্ঘ ও জটিল করিনি। আর আল-খতিব (রহিমাহুল্লাহ) পরিচ্ছেদের শিরোনামসমূহে দুই শায়খের থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তাতে তাদের উভয়ের ওপর বা তাদের একজনের ওপর তিনি যে সব ক্ষেত্রে ভ্রান্তিতে পড়েছেন এবং তারা যেভাবে বিন্যস্ত করেছিলেন তার বিপরীতে তিনি সাজিয়েছেন, এমন কিছু ভুল আমি বাদ দিয়েছি। সংকীর্ণতা পরিহারের লক্ষ্যে এবং যেহেতু এগুলো এমন বিষয় যার অজ্ঞতা ইলম অন্বেষণকারীর কোনো ক্ষতি করে না এবং এর জ্ঞান লাভও তার কোনো উপকারে আসে না, তাই আমি তা বর্জন করেছি।

আল্লাহ তাআলা জানেন যে, আমার উদ্দেশ্য হলো পথপ্রদর্শনপ্রত্যাশীকে অন্তর্দৃষ্টি দান করা, বিচ্যুতকে পথ দেখানো, ইসলামের শরিয়ত হেফজকারীদের জন্য পথ সুগম করা এবং আহকামের সুন্নাত বর্ণনাকারীদের জন্য দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করা।

তিনি তাঁর ক্ষমতা ও অনুগ্রহে উত্তম আমলকারীর প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।

নিশ্চয় তিনি মহান দাতা, অতিশয় সম্মানিত, পরম স্নেহশীল ও অসীম দয়ালু।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬১)
باب قول من بعثه الله بالبينات والهدى إنما الأعمال بالنية وإنما لامرئ ما نوى

أخبرنا أبو طالب محمد بن محمد بن إبراهيم بن غيلان قرئ عليه في دارنها أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن إبراهيم الشافعي ثنا عبد الله بن روح المدائني ومحمد بن ربح البزاز قالا ثنا يزيد بن هارون وحدثنا القاضي أبو عبد الله الحسن بن علي بن محمد الضميري بلفظه قراءة في دارنا

ثنا أبو بكر محمد بن أحمد الحافظ ثنا أحمد بن يحيى الحلواني ثنا أحمد بن يونس وثنا زهير بن معاوية قالا ثنا يحيى بن سعيد الأنصاري عن محمد بن إبراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص يقول سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول

إنما الأعمال بالنية وإنما لامرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله وإلى رسوله ومن كانت زاد عبد العزيز هجرته إلى دنيا يصيبها و إلى امرأة يتزوجها فهجرته إلى ما هاجر إليه اللفظ لابن غيلان

وهذا حديث صحيح غريب يقال ان الأنصاري تفرد به وأصحاب الحديث يجمعون طرقه ويجمعون من رواه عن الأنصاري

ويقال ان يحيى بن سعيد القطان لم يسمعه من الأنصاري قال لي أبو إسحاق الحبال بمصر أن عبد الغني بن سعيد قال جئت يوماً إلى أبي الحسن علي بن زريق فقال ألا أعجبك من أبي حامد الجرجاني ذاكرني بحديث ليحيى بن سعيد القطان عن
সেই সত্তার বাণীর পরিচ্ছেদ যাঁকে আল্লাহ সুস্পষ্ট দলিল ও হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন: "নিশ্চয়ই কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যার সে নিয়ত করে।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন গাইলান, তাঁর নিকট আমাদের ঘরে তা পাঠ করা হয়েছে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম শাফেয়ী। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন রুহ মাদায়িনী এবং মুহাম্মাদ বিন রিবহ বাজজায। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযিদ বিন হারুন। আর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাযী আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ দ্বামীরী, তাঁর নিজ শব্দে আমাদের ঘরে পাঠের মাধ্যমে।

আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ হাফেয। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন ইয়াহইয়া হুলওয়ানি। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন ইউনুস। এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যুহাইর বিন মুআবিয়া। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারী, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম তাইমী থেকে, তিনি আলকামা বিন ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি:

"নিশ্চয়ই কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যার সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হয়। আর যার—আব্দুল আযীয এখানে যোগ করেছেন—হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে হয় যা সে অর্জন করতে চায়, অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।" এই শব্দ বিন্যাস ইবনে গাইলানের।

এটি একটি সহীহ গরীব হাদীস। বলা হয়ে থাকে যে, আনসারী এটি বর্ণনায় একক ছিলেন। হাদীস বিশারদগণ এর সূত্রসমূহ সংগ্রহ করেন এবং যাঁরা আনসারী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তাঁদের সংকলন করেন।

এবং বলা হয়ে থাকে যে, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান এটি আনসারী থেকে শোনেননি। মিশরে আবু ইসহাক আল-হাব্বাল আমাকে বলেছেন যে, আব্দুল গনি বিন সাঈদ বলেছেন: আমি একদিন আবু হাসান আলী বিন যুরাইকের কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, "আমি কি তোমাকে আবু হামিদ আল-জুরজানী সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর তথ্য দেব না? তিনি আমাকে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তানের সূত্রে একটি হাদীসের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন, যা বর্ণিত হয়েছে..."
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬২)
يحيى بن سعيد الأعمال بالنية فأنكرت عليه ذلك فقلت أنا إنّ هذا الحديث أخطأ فيه الأعمش بخراسان

فقال لي أبو الحسن بن زريق سمعت أبا عبد الرحمن النسوي يقول حديث الأعمال بالنية حديث جليل تفرد به يحيى بن سعيد الأنصاري فات يحيى القطان

قال ابن ماكولا

وقد تابع يحيى بن سعيد عليه من محمد بن إبراهيم التيمي محمد بن عمرو بن علقمة الليثي من طريق فيه مقال

أخبرنا أبو الحسن بن أبي بن أبي بكر المنصوري قرأه عليه أنبأ محمد بن أحمد ثنا محمد بن منصور بن نصير بن منصور ثنا محمد بن الفرج الهمداني ثنا محمد بن عبيد بن عبد اللمك ثنا الربيع بن زياد الضبي ثنا محمد بن عمرو الليثي عن محمد بن إبراهيم التيمي عن علقمة بن وقاص الليثي سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول

إنما الأعمال بالنية وإنما لامرئ ما نوى بالحديث

قلت أنا رواه الأعمش الذي ذكره عبد الغني بن عبد الله بن هاشم عن يحيى القطان وهو وهم وقد رواه مسدد بن مسرهد عن يحيى بن سعيد القطان إن صح

أخبرنا إبراهيم بن سعيد بن عبد الله النعماني قرأه عليه بمصر فأقر به

أنبأ الحسن بن بقاء الخشاب بمصر أنبأ عبد الوهاب بن الحسن ثنا محمد بن حزيم ثنا محمد بن سليمان ثنا مسدد بن مسرهد ثنا يحيى بن سعيد القطان عن يحيى بن سعيد الأنصاري عن التيمي عن علقمة بن وقاص الليثي عن عمر بن الخطاب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم

إنما الأعمال بالنية ولكل امرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله ومن كانت هجرته إلى دينا يصيبها أو امرأة يتزوجها فهجرته إلى ما هاجر إليه قال كذا كان في أصله العتيق مسدد عن يحيى بن سعيد القطان قلت وهذا حديث غريب جداً وهو من أغرب ما يوجد وأعزّه والله أعلم () هكذا يذكر
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ নিয়ত অনুযায়ী আমল সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁর কাছে বিষয়টি অস্বীকার করলাম এবং বললাম যে, এই হাদিসটিতে আমাশ খুরাসানে ভুল করেছেন।

অতঃপর আবুল হাসান ইবনে যুরাইক আমাকে বললেন, আমি আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীকে বলতে শুনেছি যে, নিয়ত অনুযায়ী আমল সংক্রান্ত হাদিসটি একটি অত্যন্ত মহান হাদিস, যা বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী একক হয়ে গেছেন এবং ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তা বর্ণনা করতে পারেননি।

ইবনে মাকুলা বলেন:

মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে এই হাদিস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা আল-লাইসি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের অনুসরণ করেছেন এমন একটি সূত্রে যাতে সমালোচনা রয়েছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান ইবনে আবি ইবনে আবু বকর আল-মনসুরি, তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মনসুর ইবনে নুসায়ের ইবনে মনসুর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ফারাজ আল-হামদানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে আব্দুল মালিক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন রাবি ইবনে যিয়াদ আদ-দব্বি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-লাইসি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসি থেকে, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়ত অনুযায়ী এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে—হাদিসের শেষ পর্যন্ত।

আমি বললাম, এটি আমাশ বর্ণনা করেছেন যা আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাশেম ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে উল্লেখ করেছেন এবং তা একটি ভ্রম। আর যদি এটি সহিহ হয়ে থাকে তবে মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নুমানি, তাঁর নিকট মিসরে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন।

আমাদের জানিয়েছেন হাসান ইবনে বাকা আল-খাশশাব মিসরে, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আল-হাসান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হুযাইম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি আত-তাইমি থেকে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসি থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই রয়েছে যার সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সম্পদ অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হয়, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। তিনি বলেন, মুসাদ্দাদ কর্তৃক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণিত প্রাচীন মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই ছিল। আমি বললাম, এটি অত্যন্ত গরিব (অপরিচিত) হাদিস এবং এটি বিদ্যমান গরিব হাদিসগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং অত্যন্ত দুর্লভ। আল্লাহই ভালো জানেন। এভাবেই এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
الأوهام على الحروف كما شرطنا أولاً ونحن نقدم أوهاماً مجملة أطولها ولأن بعضها لا يحتاج إليه لما شرطناه في أول كتابنا ولأن بعضها قد أوردناه في الإكمال فلا فائدة من نكراره إذ كان الغرض إفادة الطالبين لا تكثير أغلاط المتقدمين

وأول ذلك أوهام لأبي الحسن علي بن عمر رضي الله عنه كان شرط في أول كتابه أن يذكر فيه ما انتهى إليه علمه ومعرفته من الأسماء المؤتلفة في الخط المختلفة في اللفظ من أسماء أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضي عنهم وكناهم وقبائلهم والتابعين ومن بعدهم من نقلة الآثار وحملة الأخبار ورواة الأشعار وغيرهم ممن له شرف أو ذكر أو رياسة أو شجاعة أو ولاية أو خبر أو لفظة من متن حديث مما ائتلف خطه واختلف لفظه أو ما قارب ذلك مما لعله أن يشكل على بعض من لم يكن العلم بذلك صناعته

ولم يف بما شرطه على نفسه لأن أخل بكثير من الأسماء والأنساب وهذا ليس عندي غلطاً لأنه قال ما انتهى إلي علمه ويجوز أن يكون ما انتهى به لم ينته إليه علمه بل أخل بما ألزمه نفسه وهو إيراد ما في لفظ الحديث ولم يورد منه إلا شيئاً يسيراً وهذا باب متسع ولو (و) سع لكان كبيراً طويلاً ولجاء منه كتاب كبير قريب من كتاب أبي الحسن رحمه الله وربما صنفت فيه كتاباً إن أمد الله تعالى بعونه في عمري

وكثرة هذا الفن يمنع من إيراد بعض أمثلته ولا يجوز إن يقال ان أبا الحسن رحمه الله لم يقف على غير ما ذكره منه لأنه بالاتفاق إمام بالمعرفة بالحديث متونه وأسانيده وعلله وسائر فنونه أوجد في جميع أنواعه وفي تصانيفه وتخريجاته منه شيء كثير فهذا شرط يلزمه ولم يف به وعذاره في تركه متعدد والله الموفق للصواب

 

‌‌فصل آخر

شرط فيه أبو الحسن رحمه الله أيضاً في مقدمة هذا الكتاب
أن من كان مكثراً اكتفى بذكره دون ذكر روايته والرواة عنه ومن كان منهم منكوراً أو مقلا ذكر عنه حكاية أو دل عليه بذكر من روى عنه ممن دونه أو فوقه ولم يف بما شرطه لأنه ذكر أحاديث لأقوام مشاهير مثل حديث
বর্ণানুক্রমিক ভুলসমূহ (অহম), যেমনটি আমরা প্রথমে শর্তারোপ করেছিলাম। আমরা একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করছি যার কিছু দীর্ঘতর হতে পারে; যেহেতু আমাদের গ্রন্থের শুরুতে করা শর্তানুযায়ী এর কিছু অংশের আর প্রয়োজন নেই এবং এর কিছু অংশ আমরা 'আল-ইকমাল'-এ উল্লেখ করেছি, তাই তা পুনরাবৃত্তি করার কোনো সার্থকতা নেই। কারণ লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের উপকৃত করা, পূর্ববর্তীদের ভুলভ্রান্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করা নয়।

আর এর প্রথমটি হলো আবুল হাসান আলী বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভুলসমূহ। তিনি তাঁর গ্রন্থের শুরুতে শর্ত করেছিলেন যে, তিনি সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), তাঁদের উপনাম, গোত্রসমূহ, তাবিঈন এবং তাঁদের পরবর্তী আসার (বর্ণনা) ও আখবার (সংবাদ) বহনকারী, কবিতার বর্ণনাকারী এবং মর্যাদা, খ্যাতি, নেতৃত্ব, বীরত্ব, শাসনভার, কোনো সংবাদ অথবা হাদীসের মতনের কোনো শব্দ—যা লেখায় এক কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন (মুতালাফ ও মুখতালিফ)—এমন সব বিষয়ের মধ্য থেকে তাঁর অর্জিত জ্ঞান ও পরিচিতি অনুযায়ী যা কিছু আছে তা উল্লেখ করবেন। অথবা এর কাছাকাছি এমন কিছু যা সম্ভবত সেই ব্যক্তির জন্য অস্পষ্ট হতে পারে যার পেশা এই ইলম নয়।

কিন্তু তিনি নিজের ওপর আরোপিত শর্ত পূরণ করেননি; কেননা তিনি অনেক নাম ও বংশপরিচয় বাদ দিয়েছেন। আর আমার নিকট এটি কোনো ভুল নয়, কারণ তিনি বলেছিলেন 'আমার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী'। এমনটি হওয়া সম্ভব যে, যা বাদ পড়েছে তা তাঁর জ্ঞানের সীমানায় পৌঁছায়নি। বরং তিনি সেই বিষয়টি বাদ দিয়েছেন যা তিনি নিজের ওপর আবশ্যক করেছিলেন, আর তা হলো হাদীসের শব্দসমূহ উল্লেখ করা; অথচ তিনি তা থেকে সামান্যই উল্লেখ করেছেন। এটি একটি প্রশস্ত অধ্যায়, যদি একে বিস্তৃত করা হতো তবে তা বিশাল ও দীর্ঘ হতো এবং আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থের সমপর্যায়ের একটি বড় কিতাব তৈরি হতো। আল্লাহ তাআলা যদি তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে আমার হায়াত দীর্ঘ করেন, তবে সম্ভবত আমি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করব।

আর এই শাস্ত্রের বিশালতা এর কিছু উদাহরণ পেশ করতে বাধা প্রদান করে। এবং এটি বলা সংগত নয় যে, আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর উল্লিখিত বিষয়ের বাইরে আর কিছুর সন্ধান পাননি। কেননা সর্বসম্মতিক্রমে তিনি হাদীস শাস্ত্র, এর মতন, সানাদ, ইলাল এবং অন্যান্য সকল শাখায় অভিজ্ঞ একজন ইমাম। তাঁর সকল প্রকার রচনা এবং তাখরীজসমূহে এ বিষয়ে প্রচুর উপাদান পাওয়া যায়। সুতরাং এটি এমন এক শর্ত যা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল কিন্তু তিনি তা পূরণ করেননি, এবং তা বর্জনের পেছনে তাঁর ওজরসমূহ নানাবিধ। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা।

 

‌‌অন্য একটি পরিচ্ছেদ

এতে আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থের ভূমিকায় আরও শর্ত করেছিলেন
যে, যিনি অধিক বর্ণনাকারী (মুকসির) হবেন, তাঁর বর্ণনা ও তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের উল্লেখ না করে কেবল তাঁর উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। আর তাদের মধ্যে যিনি অপরিচিত বা স্বল্প বর্ণনাকারী হবেন, তাঁর সম্পর্কে কোনো ঘটনা উল্লেখ করবেন অথবা তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন—চাই তাঁরা নিম্নস্তরের হোক বা উচ্চস্তরের—তাঁদের নাম উল্লেখ করে তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করবেন। কিন্তু তিনি তাঁর শর্ত পূরণ করেননি, কারণ তিনি প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের এমন সব হাদীস উল্লেখ করেছেন যেমন...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
أسيد بن صفوان فإنه ذكره من طريقين ومثل حديث أسيد بن أبي أسيد البراد وذكر قوما من المكثيرين ولم يكتف بذكرهم دون من روى عنه وروى عنهم مثل زيد بن أخزم أبي طالب فإنه قال عن يحيى القطان وابن مهدي ومعاذ بن هشام وغيرهم وقال حدثنا عنه جماعة من شيوخنا وكان من الثقات ومثل حسين بن حسن الأشقر لأنه قال الكوفي يحدث عنه شريك وقيس وجعفر الأحمر كان يتشيع حدث عنه أحمد بن حنبل ويحيى بن معين و أحمد بن عبده والناس بعده ومثل بان من بشر أبي بشر الكوفي الأحمسي فإنه قال روى عن أنس بن مالك وقيس بن أبي حازم وعبد الرحمن بن أبي ليلى وحكيم بن جابر وعامر الشعبي وعبد الرحمن بن [أبي] هلال العبسي وعبد الرحمن بن أبي الشعثاء الحجازي ووبرة بن عبد الرحمن بن أبي خزيمة المسلي وأبي جعفر محمد بن علي بن الحسين وطلحة بن مصرف وغيرهم روى عنه إسماعيل بن أبي خالد وسفيان الثوري وشعبة وزهير بن معاوية وزائدة بن قدامة وأبو عوانة وخالد بن عبد الله ويونس بن أبي إسحاق وابنه إسرائيل بن يونس وشريك بن عبد الله و مسعر بن كدام وعمرو بن أبي قيس وسفيان بن عيينة ومحمد بن فضيل وإسماعيل بن مجالد وجعفر بن أحمد ومفضل بن مهلهل وجرير بن عبد الحميد وعلي بن عاصم وغيرهم

وهذا من المشاهير ومن كبار أصحاب الحديث وقد شرح أمره كما ترى وذكر خلقاً من المنكورين والمقلين ولم يذكر عنهم حكاية ولا حديثاً ولا دل عليهم بمن روى عنهم من دونهم أو فوقهم فمنهم عقبة بن أبي ثبيت الراسبي قال اسمه سريج قاله يحيى بن معين ولم يزد ومنهم سماك بن عبيد قاله البخاري ولم يزد ومنهم عبد الرحمن بن حبشي بن جنادة ولم يزد ومنهم أبو الحر بن حمين المديني صاحب النوادر والملح ومنه حبان بن إسحاق قاله الدارقطني ولم يزد منهم حبان بن نافع ولم يسق نسبه ولا قال عمن روى ومنهم طلحة بن خطيط ولم يقل عمن روى ولا من روى عنه واليمان بن رئاب ولم يقل عمن روى ولا من روى وهذا كثير في كتابه لا يمكن استيعابه ها هنا

 

‌‌فصل

ضمن الخطيب أن يورد في كتابه ما أخل به الشيخان واستدراك ما شذ من كتبهم

ولم يف بذاك لأنه أخل بأبواب وتراجم أسامي شذب عن كتبهم منها ما يلزمهم وهو ما
উসাইদ ইবনে সাফওয়ান, কারণ তিনি তাকে দুটি সূত্রে উল্লেখ করেছেন। যেমন উসাইদ ইবনে আবি উসাইদ আল-বাররাদের হাদীসের ক্ষেত্রে করেছেন। তিনি অধিক হাদীস বর্ণনাকারীদের একটি দলকেও উল্লেখ করেছেন এবং কেবল তাদের উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তাদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন এবং তারা যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদেরও উল্লেখ করেছেন। যেমন যায়েদ ইবনে আখযাম আবু তালিবের ক্ষেত্রে তিনি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইবনে মাহদী, মুআয ইবনে হিশাম এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের শায়খদের একটি দল আমাদের কাছে তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একইভাবে হুসাইন ইবনে হাসান আল-আশকার সম্পর্কেও তিনি বলেছেন যে, তিনি কুফি এবং তার থেকে শারিক, কায়েস এবং জাফর আল-আহমার বর্ণনা করেছেন। তিনি শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন; তার থেকে আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমদ ইবনে আবদাহ এবং পরবর্তীকালের লোকেরা হাদীস বর্ণনা করেছেন। তেমনিভাবে বায়ান ইবনে বিশর আবু বিশর আল-কুফি আল-আহমাসীর ক্ষেত্রেও তিনি বলেছেন যে, তিনি আনাস ইবনে মালিক, কায়েস ইবনে আবি হাযিম, আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা, হাকীম ইবনে জাবির, আমের আশ-শা'বী, আবদুর রহমান ইবনে আবি হিলাল আল-আবসী, আবদুর রহমান ইবনে আবি আশ-শা'সা আল-হিজাজী, ওয়াবারাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি খুযাইমাহ আল-মুসলি, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন, তালহা ইবনে মুসাররিফ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, সুফিয়ান আস-সাওরী, শু'বা, যুহাইর ইবনে মুআবিয়া, যায়িদাহ ইবনে কুদামা, আবু আওয়ানা, খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক এবং তার ছেলে ইসরাঈল ইবনে ইউনুস, শারিক ইবনে আবদুল্লাহ, মিসআর ইবনে কিদাম, আমর ইবনে আবি কায়েস, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ, মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল, ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ, জাফর ইবনে আহমদ, মুফাদদাল ইবনে মুহালহিল, জারীর ইবনে আবদুল হামীদ, আলী ইবনে আসিম এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

এরা প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং হাদীসশাস্ত্রের বড় ইমামদের অন্যতম। আপনি যেমন দেখছেন, তিনি তাদের অবস্থা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। আবার তিনি অনেক অপরিচিত (মুনকার) এবং স্বল্প বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছেন যাদের সম্পর্কে কোনো ঘটনা বা হাদীস বর্ণনা করেননি এবং তাদের নিচে বা উপরে কারা বর্ণনা করেছেন তার কোনো ইঙ্গিতও দেননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওকবা ইবনে আবি সুবায়েত আর-রাসিবী, যার নাম সুরাইজ বলে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর বেশি কিছু বলেননি। আরও রয়েছেন সিমাক ইবনে উবায়েদ, যার সম্পর্কে বুখারী উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর বেশি কিছু বলেননি। আরও রয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে হুবশি ইবনে জুনদাহ, যার সম্পর্কেও কোনো অতিরিক্ত তথ্য নেই। আরও রয়েছেন আবু আল-হুর ইবনে হুমাইন আল-মাদানী, যিনি বিরল ও কৌতূহলী বর্ণনার সংকলক। আরও আছেন হিব্বান ইবনে ইসহাক, দারা কুতনী যার কথা বলেছেন কিন্তু অতিরিক্ত কিছু বলেননি। তাদের মধ্যে হিব্বান ইবনে নাফেও রয়েছেন যার বংশপরিচয় বা কার থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করা হয়নি। আরও রয়েছেন তালহা ইবনে খাতীত, যার সম্পর্কে বলা হয়নি তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন বা তার থেকে কে বর্ণনা করেছেন। ইয়ামান ইবনে রিয়াব সম্পর্কেও বলা হয়নি তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন বা তার থেকে কে বর্ণনা করেছেন। তার কিতাবে এ ধরনের উদাহরণ প্রচুর যা এখানে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়।

 

‌‌অনুচ্ছেদ

আল-খতিব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি তার গ্রন্থে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আসবেন যা দুই শায়খ (বুখারী ও মুসলিম) ছেড়ে দিয়েছেন এবং তাদের কিতাব থেকে যা বাদ পড়েছে তা পরিপূরণ করবেন।

কিন্তু তিনি তা পুরোপুরি পালন করতে পারেননি, কারণ তিনি এমন অনেক অধ্যায় এবং নামের শিরোনাম বাদ দিয়েছেন যা তাদের কিতাব থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু বিষয় তাদের জন্য আবশ্যক ছিল যা-
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
كان قبلهما أو في زمانهما معروفاً ومنها ما لا يلزمهم لأنه عرف بعدهم مثل برزة وبرزة والجروري والجروري ودرة ودرة وغير ذلك

وقد ذكرت ما أخل به في كتاب الإكمال فلا فائدة في إعادته ها هنا والناظر في كتابي يعرفهم لأن ما عري من المقدمات كان مما استدركه عليهم أجمعين وزدته على ما ذكروه ولأنه لم يذكر من المؤتلف والمختلف في الألفاظ شيئاً إلا يسيراً

وقد شرط الدارقطني أنه يذكر ذلك ويلزم من أراد الزيادة على ما أورد أن يلحق بكتابه ما أخل مما شرطه على نفسه فإن قال قائل إن الخطيب رحمه الله لم يرد أن يزيد عليه إلا فيما ذكره من الأسماء دون الألفاظ

فالجواب أن هذه دعوى له لم يذكرها ولا استثنى بها على أن قوله يبطلها

وذلك أنه قد أورد زيادة في باب لم يذكر فيه الدارقطني أسماء بل هو استثناه في ألفاظ وهو

باب خفير وجفير وحقير وحفيز زيادة

فقال في الفصل الثالث من كتابه وهو ما أخلا بذكره وإن كانا قد أوردا له نظائر ويلحق به خفيز بالحاء المبهمة المضمونة والفاء المفتوحة والزاي

وهو شاعر من بني عبس ذكره الزبير بن بكار في كتاب النسب وأورد أباتا نسبها إليه

أخبرنا علي بن أبي علي ثنا محمد بن عبد الرحمن المخلص وأحمد بن عبد الله الدوري قالا ثنا أحمد بن سليمان الطوسي ثنا الزبير بن بكار قال وقال حفيز العبسي ورواها بعض الناس لجرير وليست له وهي لحفيز

ان الندى في بني ذبيان قد علموا والجود في آل منظرو بن سيار

وذكر أبياتاً

قلت وهذا الباب ذكره الدارقطني ولم يذكر فيه أسماء وهو على شرطه صحيح فقال باب خفير وجفير وحقير وقال

أما خُفير فهو مذكور في حديث عدي بن حاتم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال

ليوشكن أن تخرج الظعينة من الحيرة إلى مكة بغير خفير وأما جفير فهو جفير
সেগুলো তাদের পূর্বে বা তাদের সময়ে সুপরিচিত ছিল, আর এর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল না, কারণ তা তাদের পরে পরিচিত হয়েছে; যেমন— বারযা ও বারযা, আল-জারূরী ও আল-জারূরী, দুররা ও দুররা ইত্যাদি।

তিনি যা কিছু বাদ দিয়েছেন আমি তা 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি, তাই এখানে তা পুনরায় উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই। যে ব্যক্তি আমার গ্রন্থটি দেখবেন তিনি তাদের সম্পর্কে জানতে পারবেন, কারণ ভূমিকার বাইরে যা কিছু রয়েছে তা মূলত তাদের সবার ওপর আমার করা পর্যবেক্ষণ (ইস্তিদরাক), যা আমি তাদের বর্ণিত বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করেছি। তদুপরি, তিনি শব্দের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের (মু'তালিফ ও মুখতালিফ) বিষয়ে খুব সামান্যই উল্লেখ করেছেন।

দারাকুতনী শর্ত দিয়েছিলেন যে তিনি তা উল্লেখ করবেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তার বর্ণিত বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে চান, তার জন্য আবশ্যক হলো তিনি নিজে যে শর্তারোপ করেছিলেন তাতে যা কিছু বাদ পড়েছে তা তার কিতাবে যুক্ত করা। যদি কেউ বলেন যে, খতীব (রাহিমাহুল্লাহ) কেবল নামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে চেয়েছিলেন, শব্দের ক্ষেত্রে নয়—

তবে এর উত্তর হলো— এটি একটি দাবি মাত্র যা তিনি উল্লেখ করেননি এবং একে ব্যতিক্রম হিসেবেও ধরেননি, উপরন্তু তার বক্তব্যই একে বাতিল করে দেয়।

আর তা হলো, তিনি এমন এক অধ্যায়ে অতিরিক্ত তথ্য এনেছেন যেখানে দারাকুতনী কোনো নাম উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল শব্দের ভিত্তিতে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন; আর তা হলো—

খাফীর, জাফীর, হাকীর ও হাফীয সংক্রান্ত অতিরিক্ত অধ্যায়।

তিনি তার গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে বলেছেন—যা তিনি উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছেন যদিও তারা দুজন এর অনুরূপ বিষয় উল্লেখ করেছেন—এর সাথে সংযুক্ত হবে হাফীয; যা নুকতাহীন 'হা' বর্ণের ওপর পেশ (যম্মাহ), 'ফা' বর্ণের ওপর যবর (ফাতহা) এবং শেষে 'যা' বর্ণ যোগে গঠিত।

তিনি বনী আবস গোত্রের একজন কবি, যুবাইর ইবনে বাক্কার 'কিতাবুন নাসাব'-এ তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার প্রতি আরোপিত কিছু কবিতাংশ উদ্ধৃত করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আবী আলী, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মুখলিস এবং আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দাওরী; তারা বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনে সুলাইমান আত-তূসী, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যুবাইর ইবনে বাক্কার; তিনি বলেন— হাফীয আল-আবসী বলেছেন (আর কিছু লোক এটি জারীরের কবিতা বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা তার নয় বরং হাফীযের):

নিশ্চয়ই বদান্যতা বনী যুবইয়ানদের মাঝে রয়েছে—তা তারা জানে, আর দানশীলতা রয়েছে মানযূর ইবনে সাইয়্যারের বংশধরদের মধ্যে।

অতঃপর তিনি আরও কিছু পংক্তি উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি, এই অধ্যায়টি দারাকুতনী উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাতে কোনো নাম উল্লেখ করেননি, অথচ তার শর্তানুযায়ী এটি সঠিক। তিনি বলেছিলেন: খাফীর, জাফীর ও হাকীর সংক্রান্ত অধ্যায়। তিনি বলেছেন—

'খাফীর' সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আদী ইবনে হাতিমের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে; তিনি বলেছেন—

"শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন একজন নারী হাওদায় সওয়ার হয়ে হীরা থেকে মক্কা পর্যন্ত কোনো রক্ষী (খাফীর) ছাড়াই সফর করবে।" আর 'জাফীর' সম্পর্কে তিনি বলেছেন এটি জাফীর...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
القوس وهو مذكور في حديث الربيع بن صبيح عن الحسن عن أنس من اتخذ قوساً وجفيرها

وأما حقير فبيض ما بعده وأما خُفين فهو مذكور في أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم فمنها حديث عبيد الله بن بريدة عن أبيه أن المغيرة بن شعبة أهدى إلى النبي صلى الله عليه وسلم خفين أسودين ساذجين فلبسهما ومسح عليهما وصلى

وزاد الخطيب أيضاً في باب فروخ وفروج

عبد الرحمن بن فروخ المديني عن عبد الله بن أبي قتادة روى عنه عبد الله بن يرفأ ومكعب بن فروخ الرقاشي البصري وعمر بن فروخ القتاب البصري العبدي حدث عن بسطام بن المغيرة وحبيب بن الزبير وغيرهما روى عنه كثير بن هشام وأبو نعيم الحوضي وذكر غيرهما

قلت وهذا الباب ذكره الدارقطني في باب فُروج وفروخ وذكر في فروخ جماعة ثم قال

وأما فروج فهو في حديث أبي الخير عن عقبة بن عامر خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه فروج من حرير رواه يزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير كذلك زاد الخطيب عليه في باب سرحان وشرخان وشرجان لم يذكر فيه أسماء بل قال

شرحان مذكور في حديث أبي هريرة خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ونحن شرحان صائم ومفطر

وكذلك زاد في باب خطيم وحظيم وحطيم ولم يذكر الدارقطني في الحطيم إلا أنه أحد أركان البيت

فقال الخطيب وفي باب الخطيم والحطيم والحَطيم بن نويرة المحرري شاعر استشهد أبو بكر محمد بن القاسم الأنباري بشعره في كتاب الزاهر وقد استدرك عليه في غير هذه الأبواب مما يجري مجراها فدل هذا الفعل منه على ضد ما ادعى المعارض له فإن قال قائل

فإن غرض الخطيب رحمه الله في أن يزيد على ما ذكراه في الألفاظ إذا وجد فيه أسماء وهذه الأبواب جميعاً لم يزد الخطيب فيها إلا الأسماء دون الألفاظ

قلنا هذه دعوى باطلة وقد قدمنا القول انه يلزمه أن يورد الزيادة في ما ذكره
আল-কাউস (ধনুক), যা হাসান থেকে আনাসের সূত্রে রাবি ইবনে সাবিহের বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি একটি ধনুক ও তার তূণীর গ্রহণ করল..."

আর 'হাকীর' শব্দের ক্ষেত্রে তিনি এর পরবর্তী অংশটুকু খালি রেখেছেন। আর 'খুফফাইন' (চামড়ার মোজা) সম্পর্কে বলা যায়, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো উবায়দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ-এর হাদীস, যা তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, মুগীরাহ ইবনে শু'বাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুটি সাদাসিধে কালো চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি সেগুলো পরিধান করলেন, তার ওপর মাসাহ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন।

খতীব 'ফাররুখ' এবং 'ফারুজ' অধ্যায়েও আরও কিছু বৃদ্ধি করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে ফাররুখ আল-মাদীনী, আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাতাদাহ থেকে; তাঁর থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়ারফা বর্ণনা করেছেন। এবং মুকা’আব ইবনে ফাররুখ আল-রাকাশী আল-বসরী। এবং উমর ইবনে ফাররুখ আল-কাত্তাব আল-বসরী আল-আবদী; তিনি বিস্তাম ইবনে মুগীরাহ, হাবীব ইবনে যুবায়ের এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর থেকে কাসীর ইবনে হিশাম ও আবু নুয়াইম আল-হাওযী বর্ণনা করেছেন এবং আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি বলি, এই অধ্যায়টি দারাকুতনী 'ফারুজ' ও 'ফাররুখ' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি 'ফাররুখ' অংশে একদল বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন:

আর 'ফারুজ' সম্পর্কে বলা যায়, এটি আবু খাইর বর্ণিত উকবাহ ইবনে আমিরের হাদীসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন, তখন তাঁর গায়ে রেশমের একটি 'ফারুজ' (পোশাক) ছিল।" ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব আবু খাইরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে খতীব 'সারহান', 'শারখান' ও 'শারজান' অধ্যায়েও কিছু অংশ বৃদ্ধি করেছেন; সেখানে তিনি কোনো নাম উল্লেখ না করে বরং বলেছেন:

'শারখান' আবু হুরাইরার হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলাম, এমতাবস্থায় যে আমরা ছিলাম দুই দল (শারখান): কেউ রোজা পালনকারী এবং কেউ রোজা বিহীন।"

একইভাবে তিনি 'খাতীম', 'হাযীম' ও 'হাতীম' অধ্যায়েও বর্ধিত অংশ যোগ করেছেন। অথচ দারাকুতনী 'হাতীম' সম্পর্কে কেবল এটুকুই উল্লেখ করেছেন যে, এটি কাবা গৃহের অন্যতম রুকন বা অংশ।

অতঃপর খতীব বলেছেন: 'আল-খাতীম' ও 'আল-হাতীম' অধ্যায়ে রয়েছেন জনৈক কবি আল-হাতীম ইবনে নুয়াইরাহ আল-মুহাররারি, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-আনবারী তাঁর 'কিতাবুয যাহির' গ্রন্থে যাঁর কবিতা থেকে দলিল পেশ করেছেন। তিনি এই অধ্যায়গুলো ছাড়া অনুরূপ অন্যান্য অধ্যায়েও সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড তাঁর বিরোধিতাকারীদের দাবির বিপরীত বিষয়কেই প্রমাণ করে। এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে:

খতীব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের বর্ণিত শব্দগুলোর ওপর আরও কিছু যোগ করা যদি সেখানে তিনি কোনো নাম খুঁজে পান; অথচ এই সকল অধ্যায়ে খতীব কেবলমাত্র নাম বৃদ্ধি করেছেন, শব্দ নয়।

আমরা বলি: এটি একটি অসার দাবি। আমরা পূর্বেই বলেছি যে, তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে বর্ধিত অংশ নিয়ে আসা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
المزيد عليه بشرطه وعلى أن هذا القول الثاني يبطل رأساً لأن الخطيب قد زاد على الدارقطني في الألفاظ دون الأسماء فقال

في باب حزقة وحرفة وما معهما ذكر أبو الحسن هذا الباب فقال فيه وأما حزقة فذكره في حديث يروى ولقينا الحزقة وذكره يحيى بن معين قال الخطيب قلت

وكان الأولى بأبي الحسن أن يذكر في هذا الباب حديث سول الله صلى الله عليه وسلم وروى عن أبي نعيم عن الطبراني عن عبدان بن محمد المروزي عن قتيبة بن سعيد عن حاتم بن إسماعيل عن معاوية بن أبي مزود عن أبيه عن أبي هريرة قال سمعت أذناي وأبصرت عيناي هاتان رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو آخذ بكفيه جميعاً يعني حسناً أو حسيناً وقدماه على قدمي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يقول حزقة حزقة ترق عين بقة وذكر الحديث

قلت فقداستدرك عليه في اللفظ بلفظ مثله لا باسم فبطل ما ادعاه المعارض عنه بكل حال وكان يلزمه أن يخرج بقية الألفاظ التي أخل بها الدارقطني بذكرها إذ كان قد شرط أن يستدرك ما أخل به وقد استدرك عليه البعض منها والله تعالى الموفق

وكان يلزم الخطيب أن يستدرك على أبي الحسن أسماء البلاد لأن الدارقطني ذكر ذلك فقال همدان وهمذان وذكر همدان ثم قال وهمذان فهو البلد المشهور وإليه ينسب الهمذانيون

 

‌‌فصل

جعل الخطيب الفصل الرابع من كتابه على ما قصرا في شرحه وإيضاحه
وضمن أن يوضحه ويبينه ويتم نقصه ولم يفعل وقد أخل بأكثر مما ذكره وذكر مالا يحتاج إليه فمن ذلك أن علي بن الحسن بن أنس ذكره الدارقطني ولم يبين الخطيب أمره وسلم بن أحوز ذكره الدارقطني ولم يبين الخطيب أمره وذكر عبد الغني هارون بن دياب ولم يزد ولم يبين الخطيب كما ضمن أمره ولا عمن روى ولا من روى عنه وذكر عبد الغني زيد بن عمير ولم يقل الخطيب من هو ولا بين أمره قال الدارقطني وأبو مسلم الخولاني
তার শর্তানুসারে এটি আরও বর্ধিত করা হয়েছে এবং এই দ্বিতীয় মতটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যায়, কারণ আল-খতিব আদ-দারাকুতনির ওপর শব্দমালার ক্ষেত্রে বর্ধিত করেছেন, নামের ক্ষেত্রে নয়। তিনি বলেছেন:

‘হাযকাহ’ ও ‘হুরফাহ’ এবং এ দুটির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির পরিচ্ছেদে আবুল হাসান (আদ-দারাকুতনি) এই পরিচ্ছেদটি উল্লেখ করেছেন। তিনি এতে বলেছেন, ‘হাযকাহ’ সম্পর্কে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘আমরা হাযকাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছি’। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনও এটি উল্লেখ করেছেন। আল-খতিব বলেন, আমি বলছি:

আবুল হাসানের জন্য এই পরিচ্ছেদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি উল্লেখ করাই অধিকতর উত্তম ছিল। এটি আবু নুআইম থেকে বর্ণিত, তিনি তাবারানি থেকে, তিনি আবদান ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি থেকে, তিনি কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি হাতিম ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি মিযওয়াদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবু হুরায়রা) বলেছেন, ‘আমার দুই কান শুনেছে এবং আমার এই দুই চোখ প্রত্যক্ষ করেছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাতের তালু দিয়ে (হাসান অথবা হুসাইনকে) ধরেছিলেন এবং তার দুই পা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই পায়ের ওপর ছিল। এমতাবস্থায় তিনি বলছিলেন—হাযকাহ হাযকাহ, উপরে ওঠো, হে মশার চোখ।’ তিনি হাদিসটি পূর্ণরূপে উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি, তিনি শব্দের বিপরীতে অনুরূপ শব্দ দ্বারা সংশোধন করেছেন, নামের দ্বারা নয়। ফলে বিরোধিতাকারীর দাবি সবদিক থেকেই বাতিল হয়ে যায়। তাঁর জন্য সেই অবশিষ্ট শব্দগুলোও বের করা আবশ্যক ছিল যা উল্লেখ করতে আদ-দারাকুতনি ত্রুটি করেছিলেন, যেহেতু তিনি শর্ত করেছিলেন যে তিনি সেই ত্রুটিগুলো সংশোধন করবেন। তবে তিনি এর কিছু অংশ সংশোধন করেছেন। আর মহান আল্লাহই তাওফিকদাতা।

আল-খতিবের জন্য আরও আবশ্যক ছিল আবুল হাসানের ওপর শহরগুলোর নামের ক্ষেত্রে সংশোধন করা; কারণ আদ-দারাকুতনি সেগুলো উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ‘হামদান’ ও ‘হামাযান’ বলেছেন। প্রথমে হামদান উল্লেখ করেছেন, এরপর বলেছেন ‘হামাযান’, যা একটি প্রসিদ্ধ শহর এবং এর দিকেই ‘হামাযানি’দের সম্বন্ধ করা হয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

আল-খতিব তাঁর কিতাবের চতুর্থ পরিচ্ছেদটি এমন বিষয়াবলির ওপর নির্ধারণ করেছেন যার ব্যাখ্যা ও বর্ণনায় তারা উভয়ে ত্রুটি করেছেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি তা স্পষ্ট করবেন, বয়ান করবেন এবং অসম্পূর্ণতা পূর্ণ করবেন; কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়েও অধিক বিষয়ে ত্রুটি করেছেন এবং এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যার প্রয়োজন ছিল না। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আলি ইবনে হাসান ইবনে আনাস—যাকে আদ-দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন কিন্তু আল-খতিব তাঁর বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। সাল্লাম ইবনে আহওয়ায—যাকে আদ-দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন কিন্তু আল-খতিব তাঁর বিষয়টিও স্পষ্ট করেননি। আব্দুল গানি হারুন ইবনে দিয়াবকে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আল-খতিব তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু বলেননি বা তাঁর অবস্থা স্পষ্ট করেননি; এমনকি তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন কিংবা তাঁর থেকে কে বর্ণনা করেছেন তাও বলেননি। আব্দুল গানি যায়িদ ইবনে উমাইরকে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আল-খতিব তিনি কে তা বলেননি এবং তাঁর অবস্থা স্পষ্ট করেননি। আদ-দারাকুতনি ও আবু মুসলিম আল-খাওলানি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
عبد الله بن ثوب ولم يزد وهذا فيه اختلاف وقد كان يجب عليه بحكم ما شرطه أن يذكر عمن روى ومن روى عنه والاختلاف في نسبه

وعلى أن الخطيب قد غلط الدارقطني بأن ذكر اسماً فيه اختلاف ولم يبين الاختلاف فيه ولم يشرط الدارقطني ذلك على نفسه والخطيب قد شرط ذاك على نفسه ولم يف به

وقال عبد الغني بن سعيد هند بن أبي هالة ولم يزد ولم يبين الخطيب أمره كما ضمن وقال الغني في حرب بن السائب ولم يزد ولم يبين الخطيب أمره

وفي الكتاب من هذا شيء كثير

وقد جعل الخطيب طبقة من كتابه مقصورة على بيان أمر من لم يشرح في الكتاب أمره
আবদুল্লাহ ইবনে সাওব, এবং তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু উল্লেখ করেননি; আর এতে মতভেদ রয়েছে। তার নিজের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী তার ওপর এটি আবশ্যক ছিল যে, তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে কে বর্ণনা করেছেন, আর তার বংশপরিচয় নিয়ে বিদ্যমান মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা।

যদিও খতিব আদ-দারাকুতনিকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এই কারণে যে, তিনি এমন একটি নাম উল্লেখ করেছেন যাতে মতভেদ রয়েছে অথচ তিনি সেই মতভেদ স্পষ্ট করেননি; অথচ দারাকুতনি নিজের ওপর এমন কোনো শর্তারোপ করেননি, যেখানে খতিব নিজের ওপর এটি শর্তারোপ করেছেন কিন্তু তা তিনি পূরণ করেননি।

আবদুল গনি ইবনে সাঈদ 'হিন্দ ইবনে আবি হালা' সম্পর্কে বলেছেন এবং এর অধিক কিছু বলেননি, আর খতিবও তার অবস্থা স্পষ্ট করেননি যেমনটি তিনি দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন। তদ্রূপ আবদুল গনি 'হারব ইবনে আস-সাইব' সম্পর্কে বলেছেন এবং এর অধিক কিছু বলেননি, আর খতিবও তার অবস্থা স্পষ্ট করেননি।

আর এই কিতাবে এই জাতীয় বিষয় প্রচুর রয়েছে।

খতিব তার কিতাবের একটি স্তরকে কেবল তাদের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যাদের অবস্থা কিতাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌حرف الألف

‌‌1 - باب أبين وأبير وأثير وأبيرق

قال أبو الحسن رحمه الله

ومن ولد أبير بن نَهْشَل بن دَارِم أيضاً ليلى بنت مسعود أم ولد علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأمّ ولد عبد الرحمن بن جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه

قلت وهذا وهم وليلى هي بنت مسعود بن خالد بن مالك بن ربعي بن سَلْمَى بن جَنْدل بن نَهْشَل بن دارم أخت عباد بن مسعود وهو الذي مدحه الحطيئة وخالد بن مالك كان شريفاً فارساً وفيه يقول الهذيل الثعلبي

فما أبتغي في مالك بعد دارم … وما أبتغي في دارم بَعْد نَهشل

وما أبتغي في نهشل بعد خالد … لطارق ليل أو لضيف محوّل

وولدت لعلي بن أبي طالب عليه السلام عبيد الله وأبا بكر درجا قال ذلك ابن الكلبي

ولعل أبا الحسن رأى في نسب بني نهشل أُبير ثم رأى بعده بأنساب ومن ولده ليلى بنت مسعود ولم ينعم النظر فتصور أنها من ولد أبير لا من ولد نهشل

ومثل هذا يتم كثيراً والله تعالى يرزقنا حسن التوفيق بمنه ورحمته

وعلى أن الزبير بن بكار قد ذكر مثل ما قدمنا أخبرنا محمد بن أحمد بن عمر قرأه عليه أخبرنا محمد بن عبد الرحمن أنبأ أحمد بن سليمان ثنا الزبير بن بكار قال

و أم عبيد الله و أبي بكر ابني علي ليلي بنت مسعود بن خالد بن مالك بن ربعي بن سَلْمَى بن جَنْدل بن نَهْشَل بن دَارم ولسَلْمَى بن جندل يقول الشاعر
আলিফ বর্ণ

১ - আবইয়ান, আবীর, আসীর এবং আবাইরিক পরিচ্ছেদ

আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন

আর আবীর ইবনে নাহশাল ইবনে দারিমের বংশধরদের মধ্যে লায়লা বিনতে মাসউদও রয়েছেন, যিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্তান প্রসবকারী উম্মে ওয়ালাদ এবং জাফর ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পুত্র আবদুর রহমানের সন্তান প্রসবকারী উম্মে ওয়ালাদ।

আমি বলি, এটি একটি বিভ্রম। মূলত লায়লা হলেন মাসউদ ইবনে খালিদ ইবনে মালিক ইবনে রাবি’ ইবনে সালমা ইবনে জানদাল ইবনে নাহশাল ইবনে দারিমের কন্যা। তিনি আব্বাদ ইবনে মাসউদের বোন; আর এই আব্বাদকেই হুতাইআ প্রশংসা করেছিলেন। খালিদ ইবনে মালিক ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত অশ্বারোহী বীর, তাঁর সম্পর্কে হুযাইল আস-সা’লাবী বলেন—

দারিমের পর মালিক বংশে আমি আর কী-ই বা খুঁজব ... আর নাহশালের পর দারিম বংশে আমি আর কী-ই বা খুঁজব।

আর খালেদের পর নাহশাল বংশে আমি আর কী-ই বা খুঁজব ... রাতের কোনো আগন্তুক বা আশ্রয়প্রার্থী মেহমানের জন্য।

তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর ঔরসে উবায়দুল্লাহ এবং আবু বকরকে জন্ম দেন, যারা শৈশবেই মারা গিয়েছিলেন। ইবনুল কালবী এ কথা উল্লেখ করেছেন।

সম্ভবত আবুল হাসান বনু নাহশালের বংশলতিকায় আবীর নামটি দেখেছিলেন, এরপর পরবর্তী কোনো এক বংশপরম্পরায় দেখেছিলেন যে লায়লা বিনতে মাসউদ তাঁর বংশধর। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি, ফলে তিনি ধারণা করে নিয়েছেন যে তিনি আবীরের বংশধর, নাহশালের নয়।

এই ধরনের ভুল প্রায়ই ঘটে থাকে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের উত্তম তাওফিক দান করুন।

যদিও জুবাইর ইবনে বাক্কার আমরা যা আগে উল্লেখ করেছি তার অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে—মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে সুলাইমান আমাদের জানিয়েছেন, জুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন—

আর আলীর দুই পুত্র উবায়দুল্লাহ ও আবু বকরের মা হলেন লায়লা বিনতে মাসউদ ইবনে খালিদ ইবনে মালিক ইবনে রাবি’ ইবনে সালমা ইবনে জানদাল ইবনে নাহশাল ইবনে দারিম। আর সালমা ইবনে জানদাল সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন—
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭০)
تسود أقوام وليسوا بسادة … بل السيد الميمون سَلْمَى بن جَنْدَلِ

 

وإخوة عبيد الله وأبي بكر ابني علي لأمهما صالح وأُمُّ أبيها وأم محمد بنو عبد الله بن جعفر بن أبي طالب

خلف عليها عبد الله بن جعفر بعد علي بن أبي طالب جمع بين ابنته وزوجته

 

‌‌2 - باب أثيع و أيثع

قال أبو الحسن

باب أيثع بالياء قبل الثاء

أخبرنا طاهر بن نصر القاضي ثنا موسى بن زكريا ثنا شباب قال ومن بني غالب بن أيثع بن العون بن خزيمة بن مدركة من بني القارة بن الديش عمرو بن القاري روي عن النبي صلى الله عليه وسلم ومنهم عبد الرحمن بن عبد القاري ورهطه وأولاده قلت وهذا وهم لأن الهون بن خزيمة بن مدركة بن الياس بن مضر ليس له ولد غير مليح وييثع ويقال أثيع هو ابن مليح بن الهون فقد سقط عليه ذكر مليح

وقوله غالب بن أيثع وهم آخر وهو غالب بن عائذة بن أيثع كذلك ذكر ابن الكلبي

وقوله من بني القارة بن الدِّيْش بن مُحَلّم بن غالب بن عائذة بن أَيْثَع بن مليح بن الهَوْن وإنما سُمُّوا القارة لأن يَعْمَر الشدّاخ أراد أن يفرقهم في بطون بني كنانة فقال رجل منهم

دعونا قارة لا تنقرونا … فنُجفِل مثل إجفال الظليم

قال أبو الحسن قال الزبير قال أبو عبيد أيثع بن الهون بن خزيمة وهو القارة
জাতিসমূহ নেতৃত্ব দেয় অথচ তারা নেতা নয় … বরং কল্যাণময় নেতা হলেন সালমা ইবনে জান্দাল।

 

এবং আলীর দুই পুত্র ওবায়দুল্লাহ ও আবু বকরের মাতৃকুলের ভাইয়েরা হলেন সালিহ, উম্মু আবিহা এবং উম্মু মুহাম্মাদ; তাঁরা আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিবের সন্তান।

আলী ইবনে আবি তালিবের পর আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর তাঁকে (তাঁর বিধবাকে) বিবাহ করেন; এর মাধ্যমে তিনি আলীর কন্যা এবং তাঁর (প্রাক্তন) স্ত্রীকে (একই বিবাহাধীনে) একত্র করেন।

 

‌‌২ - অধ্যায়: আছী এবং আইছা

আবুল হাসান বলেন

অনুচ্ছেদ: আইছা—‘ছা’ বর্ণের পূর্বে ‘ইয়া’ সহ

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তাহির ইবনে নাসর আল-কাদি, তিনি বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে জাকারিয়া থেকে, তিনি শাবাব থেকে, তিনি বলেন: গালিব ইবনে আইছা ইবনে আল-হাওন ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা-এর বংশধর বনু আল-কারা ইবনে আদ-দীশভুক্ত হলেন আমর আল-কারী, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী এবং তাঁর গোত্র ও সন্তানাদি। আমি (গ্রন্থকার) বলি, এটি একটি ভ্রম; কারণ আল-হাওন ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদারের মালিহ ও ইয়াইছা ব্যতীত অন্য কোনো সন্তান নেই। আর যাকে আছী বলা হয়, সে হলো মালিহ ইবনে আল-হাওনের পুত্র; সুতরাং এখানে মালিহ-এর নাম উল্লেখ করা বাদ পড়ে গেছে।

এবং তাঁর উক্তি ‘গালিব ইবনে আইছা’ আরেকটি ভুল; মূলত তিনি হলেন গালিব ইবনে আইজাহ ইবনে আইছা। ইবনুল কালবি এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

এবং তাঁর উক্তি ‘বনু আল-কারা ইবনে আদ-দীশ ইবনে মুহাল্লিম ইবনে গালিব ইবনে আইজাহ ইবনে আইছা ইবনে মালিহ ইবনে আল-হাওন’ থেকে—মূলত তাঁদের ‘কারা’ (ছোট পাহাড়) নামকরণ করা হয়েছে কারণ ইয়াম্মার আশ-শাদ্দাখ তাঁদেরকে বনু কিনানার বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিলেন, তখন তাঁদের এক ব্যক্তি বলেছিলেন:

আমাদেরকে একটি জমাটবদ্ধ পাহাড় (কারা) হিসেবে থাকতে দাও, আমাদের ছিন্নভিন্ন করো না … নতুবা আমরা উটপাখির পলায়নের মতো দ্রুত পলায়ন করব।

আবুল হাসান বলেন, জুবাইর বলেছেন, আবু উবাইদ বলেছেন: আইছা ইবনে আল-হাওন ইবনে খুজাইমা-ই হলো ‘কারা’।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭১)
وقد بينا أن أيثع هو ابن مليح والله ولي التوفيق

قال أبو الحسن حوط بن عبد الله بن نافع ويقال ابن رافع الصدى عن تميم بن سلمة وأبي الشعثاء

نسبه مسعر والأعمش والصلت قال ذلك البخاري وذكر بعده بشير بن أبي حوط قال وحوط بن يزيد سمع تميم بن سلمة سمع سليمان بن صرد سمع علياً في الحرب قاله عبدان

أخبرنا ابن المبارك ثنا عيسى بن عمر ثنا حوط وذكر ذلك كله البخاري هذا كلام الدارقطني

وذكر الخطيب في غير كتاب التكملة أن قول ابن فارس في روايته ابن نافع تصحيف وصوابه ابن رافع بالراء

وحوط بن عبد الله بن رافع يختلف في اسم أبيه فيقال حوط بن رافع ويقال حوط بن عبد بن رافع ويقال حوط بن يزيد

أخبرنا عبد الكريم بن محمد بن أحمد المحاملي قرئ عليه ثنا علي بن عمر الحافظ ثنا إسحاق بن محمد بن الفضل الزيات ثنا علي بن شعيب ثنا علي بن إسحاق أنبأ عبد الله أنبأ عيسى بن عمر أخبرني حوط بن يزيد حدثني تميم بن سلمة أنبأ سليمان بن صرد الخزاعي قال دخلت على علي رضي الله عنه فاستبطأني في حربه فقلت إن الشرط بطين فجعلت أعده بطول الحرب وجعل ذلك يسوءه فلقيت الحسن بن علي فذكرت ذلك له فقال

لا تعد فلقد رأيته حين أخذت السيوف مأخذها من الرجال يغوث بي تغوثاً ويقول يا حسن ليتني مت قبل هذا اليوم بعشرين سنة

وروى هذا الحديث أيضاً عمرو بن مرة عن حوط فسمى أباه رافعاً أخبرنا عبد العزيز بن أحمد الكتاني قراءة عليه أنبأ عبد الرحمن بن عثمان ثنا الحسن بن
আমরা স্পষ্ট করেছি যে আয়সা হলেন মালিহের পুত্র এবং আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

আবু আল-হাসান হাওত বিন আব্দুল্লাহ বিন নাফে—তাকে ইবনে রাফে আস-সাদিও বলা হয়—তামিম বিন সালামাহ এবং আবু আশ-শা’সা থেকে বর্ণনা করেছেন।

মিসআর, আমাশ এবং সালত তার বংশধারা উল্লেখ করেছেন; ইমাম বুখারি এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর পরে বাশির বিন আবি হাওতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: হাওত বিন ইয়াজিদ তামিম বিন সালামাহ থেকে শুনেছেন, তিনি সুলায়মান বিন সুরাদ থেকে শুনেছেন, তিনি যুদ্ধের ময়দানে আলীর থেকে শুনেছেন—আবদান এটি বলেছেন।

ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ঈসা বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাওত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি এর সবটুকুই উল্লেখ করেছেন; এটি দারা কুতনির বক্তব্য।

আল-খাতিব 'আত-তাকমিলা' ব্যতীত অন্য কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ফারিসের বর্ণনায় 'ইবনে নাফে' শব্দটি লিখনপ্রমাদ (তসহিফ), আর সঠিক হবে 'রা' বর্ণ সহযোগে 'ইবনে রাফে'।

হাওত বিন আব্দুল্লাহ বিন রাফের পিতার নামের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় হাওত বিন রাফে, আবার বলা হয় হাওত বিন আব্দ বিন রাফে, এবং এও বলা হয় যে হাওত বিন ইয়াজিদ।

আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাহামিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (তার নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে), হাফেজ আলী বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আজ-জায়্যাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের অবহিত করেছেন, ঈসা বিন উমর আমাদের অবহিত করেছেন, হাওত বিন ইয়াজিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তামিম বিন সালামাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন সুরাদ আল-খুজায়ি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তিনি তার যুদ্ধে আমার ধীরগতি লক্ষ্য করলেন। আমি বললাম: যুদ্ধের প্রস্তুতি তো ব্যাপক। এরপর আমি যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে তাকে বলতে লাগলাম, যা তাকে ব্যথিত করতে লাগল। অতঃপর আমি হাসান বিন আলীর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বিষয়টি তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন:

আর এমনটি করো না। কেননা আমি তাকে দেখেছি যখন তলোয়ারগুলো পুরুষদের ওপর জেঁকে বসেছিল, তখন তিনি আমাকে ব্যাকুলভাবে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন, হে হাসান! হায়, আমি যদি আজকের দিনের বিশ বছর আগে মৃত্যুবরণ করতাম!

আমর বিন মুররাহ-ও হাওত থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তার পিতার নাম রাফে উল্লেখ করেছেন। আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আল-কাত্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (তার নিকট পাঠের মাধ্যমে), আব্দুর রহমান বিন উসমান আমাদের অবহিত করেছেন, আল-হাসান বিন...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭২)
حبيبة بن عبد الملك ثنا أنس بن السلم ثنا إسماعيل بن عبيد بن أبي كريمة ثنا محمد يعني ابن سلمة عن أبي عبد الرحيم عن زيد بن أبي أنيسة عن عمرو بن مرة عن حوط بن رافع عن تميم بن سلمة عن سليمان بن صرد قال لم أشهد مع علي رضي الله عنه يوم الجمل فلما فرغ أتيته فقال تخلفت عنا وخذلتنا وتربصت بنا فقلت تخلفت عنك إني لم أتربص بك وقد بقيت حرب بعد ثم خرجت من عنده فرأيت الكراهة في وجهه حين قلت قد بقيت حرب بعد فلقيت الحسن بن علي فاعتذرت إليه وقلت له قد عرفت نصيحتي لكن أهل البيت وقرابتي منكم وقد لامني أمير المؤمنين

قال لا تلتفت إلى لائمته فلقد رأيته حين أخذت السيوف مأخذها من الرجال وهو يتغوث يا غوثاه يا غوثاه ياحسن ليتني مت قبل هذا اليوم بعشرين سنة

فدل على أن حوط بن يزيد هو حوط بن رافع ولعل أحد أجداده يسمى رافعاً

وقد روي عن عيسى بن عمر عن حوط حديث آخر فقيل فيه حوط بن رافع أخبرنا علي بن المحسن بن علي التنوخي قراءة عليه أنبأ إبراهيم بن محمد بن الفتح ثنا محمد بن سفيان ثنا سعيد بن رحمة سمعت ابن المبارك عن عيسى بن عمر عن حوط بن رافع أن عمر بن عتبة كان يشترط على أصحابه أن يكون خادمهم

قال فخرج في الرعي في يوم حار فأتاه بعض أصحابه فإذا هو بالغمامة تظله وهو نائم فقال أبشر يا عمرو فأخذ عليه عمرو أن لا يخبر به وروي عن يحيى بن معين أنه سئل عن حوط العبدي ابن من قال هو حوط بن رافع ليس حوط العبدي هذا المذكور لأن العبدي يروي عن ابن مسعود زيد بن أرقم ولم يسم أبوه روى عنه عبد الملك بن ميسرة وعيسى بن عمر ولم يدركه ولم يرو عنه وأكبر من عنده طلحة بن مصرف وأبو عون الثقفي وعمرو بن مرة والمسيب بن عبد خير وطبقتهم ويختلف في نسبته فيقال الخزاعي ويقال العبدي والله تعالى أعلم بالصواب

فقد بَانَ وهم من قال إن حوط العبدي صاحب ابن مسعود هو الذي روى عن تميم بن سلمة وروى عنه عيسى بن عمرو والله تعالى الموفق
হাবীবা বিন আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আনাস বিন আস-সিলম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইসমাঈল বিন উবাইদ বিন আবি কারীমা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আব্দুর রহীম থেকে, তিনি যায়দ বিন আবি আনীসাহ থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি হাউত বিন রাফে' থেকে, তিনি তামীম বিন সালামাহ থেকে, তিনি সুলাইমান বিন সুরাদ থেকে বর্ণনা করেন। সুলাইমান বিন সুরাদ বলেন: আমি আলীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাথে জঙ্গে জামালে উপস্থিত হইনি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমি তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেন, "তুমি আমাদের থেকে পেছনে রয়ে গেলে, আমাদের লাঞ্ছিত করলে এবং আমাদের জন্য অপেক্ষায় থাকলে (বিপদের অপেক্ষায়)।" আমি বললাম, "আমি আপনার থেকে পেছনে রয়ে গিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু আমি আপনার কোনো বিপদের অপেক্ষায় ছিলাম না। আর সামনে এখনও যুদ্ধ অবশিষ্ট রয়েছে।" এরপর আমি তাঁর নিকট থেকে বের হলাম। আমি যখন বললাম "এখনও যুদ্ধ অবশিষ্ট রয়েছে", তখন আমি তাঁর চেহারায় অপছন্দের ছাপ দেখলাম। এরপর আমি হাসান বিন আলীর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলাম। আমি তাঁকে বললাম, "আপনি তো আহলে বাইতের প্রতি আমার শুভাকাঙ্ক্ষিতা এবং আপনাদের সাথে আমার আত্মীয়তার কথা জানেন, অথচ আমীরুল মুমিনীন আমাকে তিরস্কার করেছেন।"

তিনি (হাসান) বললেন, "তাঁর তিরস্কারের দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না। কেননা আমি তাঁকে দেখেছি যখন তরবারিগুলো পুরুষদের আঘাত করছিল, তখন তিনি আর্তনাদ করে বলছিলেন: হায় সাহায্য! হায় সাহায্য! হে হাসান, হায় যদি আমি এই দিনের বিশ বছর আগে মৃত্যুবরণ করতাম!"

এটি প্রমাণ করে যে, হাউত বিন ইয়াযীদই হলেন হাউত বিন রাফে'। সম্ভবত তাঁর পূর্বপুরুষদের কারো নাম রাফে' ছিল।

ঈসা বিন উমর থেকে হাউত সম্পর্কে অন্য একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যাতে তাঁকে হাউত বিন রাফে' বলা হয়েছে। আলী বিন আল-মুহসিন বিন আলী আত-তানূখী আমাদের কাছে তা পাঠ করে শুনিয়ে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাতহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন রাহমাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি ইবনুল মুবারককে ঈসা বিন উমর থেকে এবং তিনি হাউত বিন রাফে' থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, উমর বিন উতবাহ তাঁর সঙ্গীদের সাথে এই শর্ত দিতেন যে, তিনি তাদের খাদেম হিসেবে থাকবেন।

তিনি বলেন, একদিন তপ্ত রৌদ্রের মাঝে তিনি গবাদিপশু চরাতে বের হলেন। তাঁর কিছু সঙ্গী তাঁর কাছে এসে দেখলেন যে, তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় আছেন এবং একটি মেঘখণ্ড তাঁকে ছায়া দিচ্ছে। তখন তিনি বললেন, "হে আমর! সুসংবাদ গ্রহণ করো।" তখন আমর তাঁর থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিলেন যেন তিনি কারো কাছে এটি প্রকাশ না করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে হাউত আল-আবদী কার ছেলে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, তিনি হলেন হাউত বিন রাফে'। এখানে উল্লিখিত ব্যক্তি হাউত আল-আবদী নন। কারণ আল-আবদী ইবনে মাসউদ এবং যায়দ বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর পিতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর থেকে আব্দুল মালিক বিন মাইসারা এবং ঈসা বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তবে ঈসা তাঁকে পাননি এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। তাঁর নিকট যারা বড় ছিলেন তারা হলেন তালহা বিন মুসাররিফ, আবু আওন আস-সাক্বাফী, আমর বিন মুররাহ, আল-মুসাইয়িব বিন আবদে খাইর এবং তাঁদের সমসাময়িকগণ। তাঁর বংশপরম্পরা নিয়ে মতভেদ আছে; কেউ বলেন আল-খুযাঈ এবং কেউ বলেন আল-আবদী। আর মহান আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন।

সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যারা বলেন ইবনে মাসউদের সাথী হাউত আল-আবদী-ই সেই ব্যক্তি যিনি তামীম বিন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে ঈসা বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তাদের ধারণাটি ভুল। আর মহান আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌3 - باب أَسِيد وأُسَيْد وأسيد

قال أبو محمد

فأما أسد بفتح الألف وكسر السين أسيد بن رافع روى عنه بكير بن الأشج قاله البخاري

وهذا وهم وهو أسيد بضم الهمزة وفتح السين

وذكره أبو الحسن في باب أُسيد ثم قال

والصواب أُسَيد وقال في باب أُسَيد أُسيد بن رافع بن خديج روى عنه عبد الرحمن الأعرج ونسبه وروى عمرو بن الحارث عن بكير عن أسيد عن رافع أن أخا رافع ذكر حديث المزارعة وأخرجه البخاري في باب أسيد وفي باب أسيد في الموضعين جميعاً والصواب أُسيد بالضم

قلت وما قاله أبو الحسن رحمه الله وفي حديثه اختلاف وقد رو عنه الزهري أيضاً فسماه أسيد بن رافع وكذلك سماه مجاهد في رواية سعد بن عبد الرحمن الزبيدي واختلف على مجاهد بن جبر في روايته عنه فرواه عنه حصيف وعبد الكريم الجزري وسلم بن كهيل وعمر بن ذَر فقالوا عن مجاهد عن ابن رافع بن خديج ولم يذكروا اسمه وخالفهم سعيد بن عبد الرحمن الزبيدي فرواه عن مجاهد عن أسيد بن رافع

وخالفهم منصور بن المعتمر فرواه عن مجاهد عنه وسماه أسيد ولكن قال هو ابن ظهير ابن أخي رافع عنه

وخالفهم عبد الملك بن ميسرة وأبو حصين من رواية شريك بن عبد الله عنه والحكم بن عيينة وجابر الجعفي فرووه عن مجاهد عن رافع بن خديج

ورواه شعبة فاختلف عليه فيه فرواه عنه آدم بن أبي إياس وعمرو بن مرزوق وعلي بن الجعد عن عبد الملك بن ميسرة
৩ - আসীদ, উসাইদ এবং আসইয়াদ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

আবু মুহাম্মদ বলেন

আলিফ বর্ণে ফাতহা এবং সীন বর্ণে কাসরা যোগে গঠিত 'আসীদ' বিন রাফি সম্পর্কে ইমাম বুখারি বলেছেন যে, তার থেকে বুকাইর বিন আশাজ্জ বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি ভ্রম; বরং নামটির সঠিক রূপ হলো হামযায় দাম্মা এবং সীনে ফাতহা যোগে 'উসাইদ'।

আবু আল-হাসান একে 'উসাইদ' পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন এবং তারপর বলেছেন:

সঠিক হলো 'উসাইদ'। তিনি 'উসাইদ' পরিচ্ছেদে বলেছেন: উসাইদ বিন রাফি বিন খাদিজ; তার থেকে আব্দুর রহমান আল-আরাজ বর্ণনা করেছেন এবং তার বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন। আর আমর বিন আল-হারিস বুকাইর থেকে, তিনি উসাইদ থেকে এবং তিনি রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাফি-র ভাই মুজারাআ (বর্গা চাষ) সংক্রান্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি 'আসীদ' এবং 'উসাইদ' উভয় পরিচ্ছেদেই উল্লেখ করেছেন, তবে সঠিক হলো দাম্মা যোগে 'উসাইদ'।

আমি বলছি, আবু আল-হাসান (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা তো আছেই, তবে তার হাদিস বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। ইমাম যুহরিও তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে উসাইদ বিন রাফি হিসেবে নামকরণ করেছেন। অনুরূপভাবে মুজাহিদও সাদ বিন আব্দুর রহমান আজ-জুবাইদির বর্ণনায় তাকে উসাইদ নামে অভিহিত করেছেন। মুজাহিদ বিন জাবরের বর্ণনায় তার সূত্রে মতভেদ ঘটেছে: হুসাইফ, আব্দুল কারিম আল-জাজারি, সালাম বিন কুহাইল এবং উমর বিন যার বর্ণনা করেছেন যে—মুজাহিদ থেকে, তিনি রাফি বিন খাদিজের পুত্র থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তারা তার নাম উল্লেখ করেননি। সাঈদ বিন আব্দুর রহমান আজ-জুবাইদি তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং মুজাহিদ থেকে, তিনি উসাইদ বিন রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন।

মানসুর বিন আল-মুতামির তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং মুজাহিদ থেকে তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে উসাইদ বলে নামকরণ করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: তিনি হলেন জুহাইরের পুত্র এবং রাফি-র ভ্রাতুষ্পুত্র।

আব্দুল মালিক বিন মাইসারা এবং আবু হুসাইন (শারিক বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে), হাকাম বিন উয়াইনা এবং জাবির আল-জু'ফি তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তারা মুজাহিদ থেকে, তিনি রাফি বিন খাদিজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

শু'বাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার বর্ণনায় মতভেদ দেখা দিয়েছে; তার সূত্রে আদম বিন আবি ইয়াস, আমর বিন মারজুক এবং আলি বিন আল-জাদ আব্দুল মালিক বিন মাইসারা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
ورواه جعفر بن محمد غُندر ومعاذ بن معاذ عن شعبة عن عبد الملك عن عطاء وطاوس ومجاهد عن رافع

ورواه الأعمش وقيس بن سعد وعبد العزيز بن أبي داود عن مجاهد عن رافع بن خديج والله أعلم بالصواب

وذكره البخاري في باب أسيد وقال

قال لنا عبد الله حدثني الليث حدثني جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن بن هرمز سمع أسيد بن رافع بن خديج الأنصاري وأسيد أنهم منعوا المحاقلة ولم يجعل له ترجمة وإنما جعل الترجمة لأسيد ابن أخي رافع بن خديج الأنصاري قاله البخاري قاله لنا موسى عن عبد الواحد عن سعيد بن عبد الرحمن الزبيدي عن مجاهد عن أُسَيد عن رافع بن خديج عن الزرع وجعل البقية خلافاً لهذه الرواية والله أعلم بالصواب

قد ذكرنا قول أبي الحسن أسيد بن رافع بن خديج روى عنه عبد الرحمن الأعرج ونسبه وروى عمرو بن الحارث عن بكير عن أسيد بن رافع أن أخا رافع ذكر حديث المزارعة وهذا الكلام على ما ذكره

ولكن قوله أخا رافع وهم وإنما هو أبوه

وهو صاحب حديث الزرع ولعله نقله من كتاب البخاري لكن البخاري أعذر منه لأنه ساق طرفاً وقال عن أبيه في رواية مسبح وقال قال لنا موسى عن عبد الواحد عن سعيد بن عبد الرحمن الزبدي عن مجاهد عن أسيد بن رافع بن خديج في الزرع وقال منصور عن مجاهد عن أسيد بن ظهير عن رافع وقال لنا عبد الله حدثني الليث حدثني جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن بن هرمز سمع أسيد بن رافع بن خديج أو أسيد أنهم منعوا المحاقلة

وقال أحمد بن وهب أخبرني عمرو سمع بكريرا أن أسيد بن رافع حدثه أن أخا رافع أتى عشيرته وقال قيس حدثنا خالد بن الحارث سمع عبد الحميد بن جعفر سمع أباه عن رافع بن أسيد بن ظهير عن أبيه نهى النبي صلى الله عليه وسلم

وقال لي محمد أنبأ عبد الله سمع سعيد بن يزيد سمع عيسى بن سهل بن رافع سمع جده رافعاً نحوه
জাফর ইবনে মুহাম্মদ গুন্দার এবং মুয়াজ ইবনে মুয়াজ এটি শু'বাহ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক থেকে, তিনি আতা, তাউস এবং মুজাহিদ থেকে, তারা রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি আ'মাশ, কায়েস ইবনে সাদ এবং আব্দুল আজিজ ইবনে আবু দাউদ মুজাহিদ থেকে, তিনি রাফে ইবনে খাদিজ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইমাম বুখারী এটি উসাইদ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:

আব্দুল্লাহ আমাদের বলেছেন, লাইস আমাকে বলেছেন, জাফর ইবনে রাবিআ আমাকে বলেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে রাফে ইবনে খাদিজ আল-আনসারী এবং উসাইদকে বলতে শুনেছেন যে, তারা মুহাকালা নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি তার জন্য কোনো আলাদা জীবনী পরিচ্ছেদ তৈরি করেননি, বরং জীবনী পরিচ্ছেদ করেছেন রাফে ইবনে খাদিজ আল-আনসারীর ভ্রাতুষ্পুত্র উসাইদের জন্য। ইমাম বুখারী এটি বলেছেন। মুসা আমাদের বলেছেন আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুবাইদি থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি উসাইদ থেকে, তিনি রাফে ইবনে খাদিজ থেকে শস্য চাষ সম্পর্কে। আর তিনি বাকি অংশকে এই বর্ণনার বিপরীত করেছেন। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

আমরা আবুল হাসান উসাইদ ইবনে রাফে ইবনে খাদিজের উক্তি উল্লেখ করেছি, যার থেকে আব্দুর রহমান আল-আ'রাজ বর্ণনা করেছেন এবং তার বংশ পরিচয় দিয়েছেন। আমর ইবনে হারিস বুকাইর থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাফের ভাই মুযারাআ সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ করেছেন; আর কথাটি তিনি যেভাবে উল্লেখ করেছেন তেমনই।

কিন্তু তার এই কথা যে 'রাফের ভাই', এটি একটি ভ্রম; বরং তিনি হলেন তার পিতা।

তিনি চাষাবাদ সংক্রান্ত হাদিসের বর্ণনাকারী। সম্ভবত তিনি এটি বুখারীর কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু বুখারী তার চেয়ে অধিক মার্জনীয় কারণ তিনি এর একাংশ বর্ণনা করেছেন এবং মুসাব্বিহ-এর বর্ণনায় 'তার পিতা থেকে' বলেছেন। তিনি বলেছেন: মুসা আমাদের বলেছেন আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুবাইদি থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে রাফে ইবনে খাদিজ থেকে চাষাবাদ সম্পর্কে। মানসুর মুজাহিদ থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে জুহাইর থেকে, তিনি রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ আমাদের বলেছেন, লাইস আমাকে বলেছেন, জাফর ইবনে রাবিআ আমাকে বলেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে রাফে ইবনে খাদিজ অথবা উসাইদকে বলতে শুনেছেন যে তারা মুহাকালা নিষিদ্ধ করেছেন।

আহমাদ ইবনে ওয়াহাব বলেছেন, আমর আমাকে অবহিত করেছেন যে তিনি বুকাইরকে বলতে শুনেছেন যে উসাইদ ইবনে রাফে তাকে বর্ণনা করেছেন যে রাফের ভাই তার গোত্রের কাছে এসেছিলেন। কায়েস বলেছেন, খালিদ ইবনে হারিস আমাদের বলেছেন যে তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে শুনেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি রাফে ইবনে উসাইদ ইবনে জুহাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন।

মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে শুনেছেন, তিনি ঈসা ইবনে সাহল ইবনে রাফে থেকে শুনেছেন, তিনি তার দাদা রাফেকে অনুরুপ বর্ণনা করতে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
فقد ذكر البخاري هذه الطرق وذكر في جميعها أن رافعاً صاحب الحديث إلا في رواية أحمد بن عيسي المصري عن ابن وهب

والدارقطني قطع بأنه أخو رافع ففحش وهمه

وعلى أن إبراهيم الحربي وهو إمام ثبت قد رواه عن أحمد بن عيسى عن ابن وهب فقال إن أباه رافعاً وكذلك رواه جماعة من قدمنا ذكره

أخرنا الحسن بن علي بن محمد قراءةً عليه أنبأ عمر بن محمد بن علي أنبأ إبراهيم بن شريك ثنا إبراهيم بن إسماعيل عن يحيى بن سلمة بن كهيل ثنا أبي عن أبيه عن سلمة عن مجاهد عن ابن رافع بن خديج قال جاءنا رافع فقال

نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أمر كان لنا نافعاً عن المزارعة والحقل وأمر الله ورسوله أحق

وهكذا رواه عن ابن رافع بن خديج جماعة منهم ابن شهاب الزهري وعبد الرحمن الأعرج وبكير بن الأشج وابو الزبر ومجاهد بن جبر

وقد تقدم الاختلاف على مجاهد ولم يقل ان أخا رافع غير البخاري عن أحمد بن عيسى وهو وهم

وقد خالفه إبراهيم الحربي عن أحمد بن عيسى والصواب معه لموافقته الرواة المذكورين والله أعلم بالصواب

قال الخطيب وحمزة بن أبي أُسَيْد الساعدي سمع الحارث بن زياد روى عنه ابن أخيه سعد بن المنذر بن أبي حميد وعبد الرحمن بن سليمان بن الغسيل

قلت وهذا وهم فاحش لأن المنذر هذا ابن أبي حميد على ما ذكره حمزة هو ابن أبي أُسَيْد فكيف يكون أخاه وليس يجمعهما شيء إلا أنهما من بني ساعدة

وأبو أسيد اسمه مالك بن ربيعة وحمزة هو مديني سمع أباه والحارث بن زياد روى
ইমাম বুখারী এই সূত্রসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং সেই সবকটিতেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাফে' হলেন এই হাদীসের বর্ণনাকারী; কেবল ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত আহমাদ ইবনে ঈসা আল-মিসরীর বর্ণনাটি ব্যতীত।

আর দারাকুতনী নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে তিনি রাফে'র ভাই, ফলে তার এই ধারণাটি একটি গুরুতর ভুল হিসেবে গণ্য হয়েছে।

যদিও ইবরাহীম আল-হারবী—যিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম—আহমাদ ইবনে ঈসা থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে তার পিতা হলেন রাফে'; আর একইভাবে আমরা ইতিপূর্বে যাদের উল্লেখ করেছি তাদের একটি দলও এটি বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে শারীক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে ইসমাঈল ইয়াহইয়া ইবনে সালামা ইবনে কুহাইল থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা তার পিতা থেকে, তিনি সালামা থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি রাফে' ইবনে খাদীজের পুত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাফে' আমাদের নিকট এলেন এবং বললেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন একটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন যা আমাদের জন্য উপকারী ছিল; আর তা হলো বর্গাচাষ ও জমি ইজারা দেয়া সংক্রান্ত। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশই অধিক হকদার।

আর রাফে' ইবনে খাদীজের পুত্র থেকে এভাবেই একটি দল বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে ইবনে শিহাব আয-যুহরী, আবদুর রহমান আল-আ'রাজ, বুকাইর ইবনুল আশাজ, আবুয যুবাইর এবং মুজাহিদ ইবনে জাবর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মুজাহিদের বর্ণনার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; আর আহমাদ ইবনে ঈসা থেকে ইমাম বুখারী ছাড়া আর কেউ তাকে রাফে'র ভাই বলেননি, যা মূলত একটি ভুল ধারণা।

ইবরাহীম আল-হারবী আহমাদ ইবনে ঈসা থেকে বর্ণিত হাদীসে তার বিরোধিতা করেছেন এবং সঠিক মতটি তারই সাথে রয়েছে, কারণ তা উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।

আল-খাতীব বলেন: হামযা ইবনে আবি উসাইদ আস-সাঈদী হারিস ইবনে যিয়াদ থেকে শুনেছেন; তার থেকে তার ভাতিজা সা'দ ইবনুল মুনযির ইবনে আবি হুমাইদ এবং আবদুর রহমান ইবনে সুলাইমান ইবনুল গাসীল বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: এটি একটি গুরুতর ভুল; কারণ হামযা যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী এই মুনযির ইবনে আবি হুমাইদ হলেন ইবনে আবি উসাইদ। সুতরাং তিনি কীভাবে তার ভাই হতে পারেন যখন বনী সাঈদা গোত্রের হওয়া ছাড়া তাদের মাঝে আর কোনো সাধারণ যোগসূত্র নেই?

আর আবু উসাইদের নাম হলো মালিক ইবনে রাবী'আ; হামযা হলেন একজন মদীনাবাসী যিনি তার পিতা ও হারিস ইবনে যিয়াদ থেকে শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
عنه ابن الغسيل وسعيد بن أبي حميد وشداد وموسى بن عمرو الزهري ومحمد بن خالد

وأبو حميد الساعدي اسمه المنذر قاله البخاري

ويقال عبد الرحمن بن سعيد بن المنذر

وفيما قال لي أبو القاسم الأحجاري بمصر أن أحمد بن محمد أخبره به عن أبي بشر محمد بن أحمد في كتاب الأسماء والكنى قال أبو حميد الساعدي عبد الرحمن بن سعيد بن المنذر

وقول الخطيب سعد بن المنذر بن أبي حميد وهم آخر

وهو سعد بن أبي حميد المنذر ذكره البخاري فيمن روى عن حمزة بن أبي أُسَيْد فقال وسعد بن أبي حميد ثم ذكره في باب سعد فقال سعد بن المنذر وهو سعد بن أبي حميد الساعدي الأنصاري فوهم أن جعله ابن المنذر بن أبي حميد

وهو المنذر أبو حميد والله أعلم بالصواب

وعلى أن لحمزة بن أبي أُسَيْد أخاً يقال له المنذر بن أبي أُسَيد ولد في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم

وسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم المنذر

روى ذلك أبو حازم عن سهل بن سعد رواه محمد بن مطرف عنه حديث المنذر عن أبيه أبي أسيد روى عنه محمد بن موسى وعبد الرحمن بن سليمان بن الغسيل ولست أعرف له ولداً يقال له سعد والله تعالى أعلم

قال أبو الحسن

وأبو محمد أسيد بن عبد الرحمن الخثعمي عن فروة بن مجاهد وابن محيريز
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনুল গাসিল, সাঈদ ইবনে আবি হুমাইদ, শাদ্দাদ, মুসা ইবনে আমর আল-জুহরি এবং মুহাম্মদ ইবনে খালিদ।

এবং আবু হুমাইদ আস-সাঈদী, তাঁর নাম হলো আল-মুনজির; ইমাম বুখারী এটি বলেছেন।

এবং বলা হয় (তাঁর নাম) আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনুল মুনজির।

আর মিশরে আবুল কাসিম আল-আহজারি আমাকে যা বলেছেন যে, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ তাঁকে আবু বিশর মুহাম্মদ ইবনে আহমদের বরাতে 'কিতাবুল আসমা ওয়াল কুনা'-তে জানিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আবু হুমাইদ আস-সাঈদী হলেন আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনুল মুনজির।

আর খতিব (আল-বাগদাদী)-এর উক্তি 'সা'দ ইবনুল মুনজির ইবনে আবি হুমাইদ' হলো আরেকটি ভুল।

তিনি হলেন সা'দ ইবনে আবি হুমাইদ আল-মুনজির। ইমাম বুখারী হামজা ইবনে আবি উসাইদ থেকে বর্ণনাকারীদের আলোচনায় তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন 'সা'দ ইবনে আবি হুমাইদ'। অতঃপর তিনি 'সা'দ' অধ্যায়ে তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: 'সা'দ ইবনুল মুনজির'। তিনি হলেন সা'দ ইবনে আবি হুমাইদ আস-সাঈদী আল-আনসারী। সুতরাং তাকে 'ইবনুল মুনজির ইবনে আবি হুমাইদ' বানিয়ে তিনি ভুল করেছেন।

আর তিনি হলেন আল-মুনজির আবু হুমাইদ; আর আল্লাহই সঠিক বিষয়টি ভালো জানেন।

এবং হামজা ইবনে আবি উসাইদের একজন ভাই আছেন যাকে আল-মুনজির ইবনে আবি উসাইদ বলা হয়, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রেখেছেন আল-মুনজির।

আবু হাজিম এটি সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে মুতাররিফ আল-মুনজিরের হাদিস তাঁর পিতা আবু উসাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে মুসা এবং আবদুর রহমান ইবনে সুলাইমান ইবনুল গাসিল বর্ণনা করেছেন। আর আমি তাঁর 'সা'দ' নামে কোনো সন্তান আছে বলে জানি না; আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

আবুল হাসান বলেছেন:

আর আবু মুহাম্মদ উসাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-খাশআমি; তিনি বর্ণনা করেছেন ফারওয়া ইবনে মুজাহিদ এবং ইবনে মুহাইরিজ থেকে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
روى عنه الأوزاعي وعولا فيه على كتاب البخاري لأنه ذكره كذلك وهو وهم لأن أُسَيْداً لايروي عن ابن محيريز وإنما يروي عن خالد بن دريك عن ابن محيريز

رواه كذلك عن الأوزاعي محمد بن مصعب القرقسائي وأبو المغيرة عبد القدوس بن الحجاج ويحيى بن عبد الله البابلتي وله عن خالد بن دريك عن ابن محيريز ثلاثة أحاديث منها حديث رواه ابن محيرز عن أبي جمعة رجل من أصحاب النبي صلى الله علية وسلم تغدينا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعنا أبو عبيدة فقال يا رسول الله هل أحد خير منا الحديث فرواه الأوزاعي عن أسيد بن عبد الرحمن عن خالد بن دريك عن بنعنن ابن محيريز عن أبي جمعة رواه عنه كذلك محمد بن مصعب وأبو المغيرة والبابلتي وخالفهم بشر بن بشر وإسماعيل بن عبد الله بن سماعة وعبد الله بن كثير الدمشقي القاري فرواه عنه عن إسيد [ابن عند الرحمن] بن صالح بن محمد عن أبي جمعة أخبرنا عبد الله بن أبي الحسن الأشعري بمصر قراءة عليه أنبأ أحمد بن محمد بن إسماعيل أنبأ محمد بن محمد هو ابن النفاح ثنا محمود بن خالد الدمشقي عن عبد الله بن كثير الدمشقي عن الأوزاعي به

وليس هذه الرواية مما يفسد الحديث لأنه يجوز أن يكون أسيد بن عبد الرحمن سمعه من خالد بن دريك عن ابن محيريز عن أبي جمعة وسمعه ابن صالح بن محمد وهو ابن زائدة يعرف بأبي واقد الليثي وهو بكنيته أشهر عن أبي جمعة وأبو جمعة كناني اسمه حبيب بن سباع وصحبته ويقال في اسمه غير ذلك وقال البخاري حبيب بن وهب وأبو جمعة ويقال حبيب بن سباع ويقال جنيد والله أعلم بالصواب
আওযাঈ তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি বুখারীর কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, কারণ তিনি তা এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তবে এটি একটি ভ্রম (ভুল), কারণ উসাইদ ইবনে মুহায়রিয থেকে বর্ণনা করেন না; বরং তিনি খালিদ ইবনে দাউরায়েক থেকে, তিনি ইবনে মুহায়রিয থেকে বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবনে মুসআব আল-কুরকুসায়ী, আবু আল-মুগীরা আব্দুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাবিলতী আওযাঈ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। খালিদ ইবনে দাউরায়েকের মাধ্যমে ইবনে মুহায়রিয থেকে তার বর্ণিত তিনটি হাদিস রয়েছে। তার মধ্যে একটি হাদিস ইবনে মুহায়রিয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী আবু জুমআহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুপুরের খাবার খেলাম এবং আমাদের সাথে আবু উবায়দাহ ছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কি কেউ আছে?..." (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। সুতরাং আওযাঈ তা উসাইদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি খালিদ ইবনে দাউরায়েক থেকে, তিনি ইবনে মুহায়রিয থেকে, তিনি আবু জুমআহ থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে মুসআব, আবু আল-মুগীরা এবং আল-বাবিলতীও তার থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বিশর ইবনে বিশর, ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সামাআহ এবং দামেস্কী ক্বারী আব্দুল্লাহ ইবনে কাসীর তাদের বিরোধিতা করেছেন। তারা এটি তার (আওযাঈ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উসাইদ থেকে, তিনি সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবু জুমআহ থেকে। আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হাসান আল-আশআরী মিশরে আমাদের কাছে পাঠ করে সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ (যিনি ইবনে আন-নাফ্ফাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ ইবনে খালিদ আদ-দিমাশকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে এই সূত্রে।

এই বর্ণনাটি হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত করে না, কারণ এটি সম্ভব যে উসাইদ ইবনে আব্দুর রহমান এটি খালিদ ইবনে দাউরায়েক থেকে, তিনি ইবনে মুহায়রিয থেকে, তিনি আবু জুমআহ থেকে শুনেছেন; আবার তিনি সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ থেকেও শুনেছেন—যিনি ইবনে যাইদাহ এবং আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী নামে পরিচিত, তবে তিনি তার উপনামেই অধিক প্রসিদ্ধ—তিনি আবু জুমআহ থেকে শুনেছেন। আর আবু জুমআহ ছিলেন কিনানী বংশীয়, তার নাম হাবীব ইবনে সিবাহ এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছিলেন (সাহাবী ছিলেন)। তার নাম সম্পর্কে অন্যান্য মতও রয়েছে। বুখারী বলেছেন, হাবীব ইবনে ওয়াহাব এবং আবু জুমআহ; আবার বলা হয় হাবীব ইবনে সিবাহ এবং জুনাইদ। আর আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
قال عبد الغني بن سعيد

أسيد بن أبي أسيد الساعدي عن أبيه روى عنه عبد الرحمن بن سليمان بن الغسيل وقال جماعة

أُسيد بن أبي أُسَيد بالضم فيهما وهو الأشهر ولكن البخاري ذكره بالفتح من باب أُسَيْد والذي بعده مثله ثم قال أُسَيد بن علي بن عبيد مولى أبي أسيد الساعدي وهما رَجُل واحد

وكذلك ذكره أبو الحسن وجعلهما رجلاً واحداً

وقال الخطيب هما رجل واحد وجعلهما البخاري اثنين

وذكرهما الخطيب قي أوهام الجمع والتفريق ولم يورد شيئاً غير أنه ذكر أحاديث عن أُسيد بن علي بن عبيد ولم يزد على هذا والله أعلم

قال الخطيب في هذا الفصل وأما حكاية أبي محمد أن جماعة قالوا فيه أُسيد بن أبي أسيد بالضم وأنه الأشهر فذلك توهم منه ولا نعلم أحداً ذكره كما قال والله أعلم وقد وهم في قوله لانعلم أحداً [ذكره] كما قال

وقد قاله محمد بن إسماعيل البخاري من باب أُسَيْد وهو الاسم الثاني فقال أسيد بن أبي أسيد الأنصاري المدني عن أبيه سمع منه ابن غسيل وقال بعضهم

أسيد بن أبي أَسِيد ومن العجب أن الخطيب ذكره من أوهام الجمع والتفريق وحكي أن البخاري قال وقال بعضهم أسيد وقال البخاري في أسيد بن علي بن عبيد أن أبا نعيم قال فيه أسيد وعلي أن الدارقطني قد قال أيضاً أسيد بن علي بن عبيد قيل هو من ولد أبي أسيد عن أبيه عن أبي أسيد وقيل فيه بالضم وروي عن البغوي عن محمد بن عبد الوهاب عن ابن الغسيل عن أسيد عن أبيه علي بن عبيد عن أبي أسيد وكان بدرياً قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فجاءه رجل من الأنصار فقال هل بقي من بر والدي من بعدهما الحديث ثم قال بعده خالفه موسى بن يعقوب الزمعي وروى حديثاً عن علي بن عبد الله بن مبشر عن أحمد بن سنان القطان عن يعقوب بن محمد القاسم بن أبي الزناد عن موسى بن يعقوب عن أسيد بن علي بن عيينة عن أبيه عن جده عن أبي أُسَيْد
আব্দুল গনি বিন সাঈদ বলেছেন

আসইদ বিন আবি আসইদ আস-সা’ঈদি তার পিতা থেকে, তার থেকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান বিন আল-গাসীল। একদল উলামা বলেছেন

উভয় ক্ষেত্রে পেশযোগে 'উসাইদ বিন আবি উসাইদ', আর এটিই অধিক প্রসিদ্ধ। কিন্তু বুখারী একে যবরযোগে 'আসইদ' পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন এবং এর পরবর্তী নামটিও তদ্রূপ। এরপর তিনি বলেছেন: উসাইদ বিন আলী বিন উবাইদ, তিনি আবু উসাইদ আস-সা’ঈদির মাওলা, এবং তারা মূলত একই ব্যক্তি।

অনুরূপভাবে আবুল হাসানও এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাদের উভয়কে একই ব্যক্তি সাব্যস্ত করেছেন।

আল-খতিব বলেছেন: তারা মূলত একই ব্যক্তি, তবে বুখারী তাদের দু’জন হিসেবে গণ্য করেছেন।

আল-খতিব তাঁর 'আওহামুল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' গ্রন্থে তাদের উভয়ের কথা উল্লেখ করেছেন এবং উসাইদ বিন আলী বিন উবাইদ থেকে কিছু হাদিস বর্ণনা করা ছাড়া আর কিছুই উল্লেখ করেননি, এবং এর অতিরিক্ত তিনি কিছু বলেননি। আল্লাহই ভালো জানেন।

আল-খতিব এই পরিচ্ছেদে বলেছেন: আবু মুহাম্মাদের সেই বর্ণনা যে, একদল উলামা এতে পেশযোগে 'উসাইদ বিন আবি উসাইদ' বলেছেন এবং এটিই অধিক প্রসিদ্ধ; তা মূলত তাঁর ভুল ধারণা। তিনি যেমনটি বলেছেন তেমনটি কেউ উল্লেখ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আল্লাহই ভালো জানেন। অথচ তাঁর এই দাবি যে, 'তেমনটি কেউ উল্লেখ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই', তা তাঁর নিজেরই একটি ভুল।

মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী একে 'আসইদ' পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন যা দ্বিতীয় নাম। তিনি বলেছেন: আসইদ বিন আবি আসইদ আল-আনসারী আল-মাদানী তার পিতা থেকে, তার থেকে ইবনুল গাসীল শুনেছেন। কেউ কেউ বলেছেন

আসইদ বিন আবি আসইদ। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, আল-খতিব একে 'আওহামুল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে বুখারী বলেছেন এবং কেউ কেউ বলেছেন 'উসাইদ'। বুখারী উসাইদ বিন আলী বিন উবাইদ সম্পর্কে বলেছেন যে আবু নুআইম একে উসাইদ বলেছেন। আর আদ-দারাকুতনীও বলেছেন উসাইদ বিন আলী বিন উবাইদ। বলা হয়েছে যে সে আবু উসাইদের বংশধর, তার পিতা থেকে, তিনি আবু উসাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। কারো মতে এটি পেশযোগে 'উসাইদ'। আল-বাগাওয়ি থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি ইবনুল গাসীল থেকে, তিনি উসাইদ থেকে, তিনি তার পিতা আলী বিন উবাইদ থেকে, তিনি আবু উসাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি বদরী সাহাবী ছিলেন। তিনি (আবু উসাইদ) বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন জনৈক আনসারী ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন, 'আমার পিতা-মাতার ইন্তেকালের পর তাদের সাথে সদাচরণ করার কি আর কিছু অবশিষ্ট আছে?' (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। এরপর তিনি বলেন: মূসা বিন ইয়াকুব আজ-জামঈ তার বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুবাশশির থেকে, তিনি আহমাদ বিন সিনান আল-কাত্তান থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন মুহাম্মাদ আল-কাসিম বিন আবিয যিনাদ থেকে, তিনি মূসা বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি উসাইদ বিন আলী বিন উয়াইনা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আবু আসইদ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
فهذا قد ذكره البخاري عن أبي نعيم بالضم وذكره الدارقطني بالضم وذكر أن موسى بن يعقوب يقوله والخطيب يقول أنه توهم من أبي محمد وأن أحداً لم يقله وفي هذا الحديث خلاف على الربيعي رواه عنه عباس بن أبي سلمة فقال عن أسيد عن أبيه عن أبي أُسَيْد وأسقط ذكر جده كرواية محمد بن عبد الوهاب عن ابن الغسيل

وكذلك رواه عنه أيضاً عبد الله بن إدريس ويحيى بن عبد الحميد الحماني [15 ب] ويونس بن محمد المؤدب وأبو نعيم الفضل بن دكين والله أعلم بالصواب

قال أبو الحسن وكلدة بن أسيد بن خلف بن وهب بن حذافة بن جمح هو أبو الأشُدَّين ومات كافراً

قال ابن الكلبي ومقاتل لما نزلت! عليها تسعة عشر!

قال أبو الأشدَّين زعم محمد أن خزنة جهنم تسعة عشر فأنا أكفيكم خمسة على ظهري وأربعة بيدي واكفوني بقيتهم ومن ولده أبو ذهيل الشاعر وهب بن وهب بن زمعة بن أسيد بن خلف وابن ابنه عبد الرحمن بن وهب بن أسيد بن خلف قتل يوم الجمل

قلت وهذان وهمان لأن أبا ذهيل من ولد زمعة بن أسيد بن خلف لا من ولد كلدة بن أسيد وكذلك عبد الرحمن ليس من ولده وإنما هو من ولد أخيه وهب لا من ولد كلدة وما يحتاج أن يبين وهمه بأكثر مما شرحه من أنسابهم والله الموفق للصواب

قال الخطيب فيما جمعه من أوهامهما من الفصل الثاني

قال أبو الحسن

يحيى بن أبي بكير بن بشير بن أسيد

وقال أبو محمد يحيى بن أبي بكير بن نسر
এটি ইমাম বুখারী আবু নুআইম থেকে পেশ (যম্মাহ) সহকারে উল্লেখ করেছেন এবং দারা কুতনীও এটি পেশ সহকারে উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে মূসা ইবনে ইয়াকুব এটি বলেন। আর আল-খাতীব বলেন যে এটি আবু মুহাম্মাদের একটি বিভ্রম এবং অন্য কেউ এটি বলেনি। এই হাদিসের ক্ষেত্রে রাবীঈর বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে; তার থেকে এটি আব্বাস ইবনে আবি সালামাহ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি উসাইদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু উসাইদ থেকে বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার দাদার নাম বাদ দিয়েছেন, যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল গাসীল থেকে বর্ণনা করেছেন।

একইভাবে তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ আল-হিম্মানী [১৫ খ], ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুআদ্দিব এবং আবু নুআইম আল-ফজল ইবনে দুকাইনও এটি বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।

আবুল হাসান বলেন: কালাদাহ ইবনে উসাইদ ইবনে খালাফ ইবনে ওয়াহাব ইবনে হুজাফাহ ইবনে জুমাহ হলো আবু আল-আশাদ্দাইন এবং সে কাফির অবস্থায় মারা গিয়েছিল।

ইবনুল কালবী এবং মুকাতিল বলেন: যখন নাযিল হলো: "এর উপর নিয়োজিত আছে ঊনিশ জন!"

আবু আল-আশাদ্দাইন বলেছিল: মুহাম্মাদ দাবি করে যে জাহান্নামের প্রহরী ঊনিশ জন। আমি তোমাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের জন্য আমার পিঠ দ্বারা এবং চারজনের জন্য আমার হাত দ্বারা যথেষ্ট হব, আর তোমরা বাকিদের সামলাও। তার বংশধরদের মধ্যে রয়েছে কবি আবু যুহাইল—ওয়াহাব ইবনে ওয়াহাব ইবনে যামআহ ইবনে উসাইদ ইবনে খালাফ—এবং তার পৌত্র আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব ইবনে উসাইদ ইবনে খালাফ, যিনি জঙ্গে জামালে নিহত হয়েছিলেন।

আমি বলছি, এই দুটিই হলো ভুল। কারণ আবু যুহাইল হলো যামআহ ইবনে উসাইদ ইবনে খালাফের বংশধর, কালাদাহ ইবনে উসাইদের বংশধর নয়। একইভাবে আব্দুর রহমানও তার সন্তান নয়, বরং সে তার ভাই ওয়াহাবের বংশধর, কালাদাহর বংশধর নয়। তাদের বংশপরম্পরা যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি করে তার ভুলটি স্পষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

আল-খাতীব তাদের উভয়ের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে যা কিছু সংগ্রহ করেছেন তার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বলেছেন:

আবুল হাসান বলেছেন:

ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর ইবনে বাশির ইবনে উসাইদ

আর আবু মুহাম্মাদ বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর ইবনে নাসর
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৮০)
وأبو الحسن ذكر بشر بالباء والسين المعجمة

وأبو محمد ذكره بالنون والسين المهملة

وقد جاءت الرواية عن هذا الرجل مختلفة بالقولين جميعاً فأما التي جاءت على ما ذكر أبو الحسن

فأخبرنا القاضي أبو بكر الجبري ثنا أبو العباس محمد بن بعقوب الأصم ثنا محمد بن سنان البصري ثنا يحيى بن أبي بكير حدثني أبو بكر بن بشر قال كان شهر بن حوشب على بيت المال فأخذ خريطة فيها دراهم فقال القائل

لقد باع شهر دينه بخريطة … فمن يأمن القراء بعدك يا شهر

وروي عن أبي حازم العبدوي عن الجوزقي عن مكي سمعت مسلم بن الحجاج يقول أبو بكير بن بشر العبدوي عن شهر بن حوشب روى عنه يحيى بن أبي بكير قال

وأما التي جاءت على ما ذكر أبو محمد

فأخبرنا الحسن بن أبي بكر ثنا أحمد بن كامل القاضي ثنا عبد الملك بن محمد ثنا يحيى بن أبي بكير بن نسر العبدي ثنا شعبة قال كنت في جنازة طلحة بن مصرف ومعنا أبو معشر فأثنى عليه خيراً وقال ما ترك أحد يشبهه هذا منتهى كلامه

قلت وجمعه هذا في أوهامهما فاحش فإذا كان قول كل واحد منهما قد قاله قبله غيره ولم يبين أن أحد القولين خطأ فما معنى تغليطهما فيه ولو كان أورد هذا من الفصل الرابع وهو بيان ما قصرا في شرحه لكان وجهاً جائزاً ولعله نسي قوله في أول كتابه بذكر صحيح ما اختلفوا فيه مما انتهى إليه علمه ورمز ما أشكل عليه من ذلك لينسب كل قول إلى صاحبه ولو ذكره لأقر هذا على ما رسماه لينسب كل قول إلى صاحبه ولم يتغلط بتغليطه لهما أو لأحدهما

وبالله تعالى التوفيق
এবং আবুল হাসান 'বিশ্‌র' নামটি 'বা' এবং 'শীন' (শীন মু'জামাহ) দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

আর আবু মুহাম্মদ একে 'নূন' এবং 'সীন' (সীন মুহমালাহ) দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

এবং এই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা উভয় মতেই ভিন্ন ভিন্নভাবে এসেছে। আবুল হাসান যা উল্লেখ করেছেন সেই বর্ণনাটি হলো:

কাযী আবু বকর আল-জাবরী আমাদের জানিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ বিন সিনান আল-বাসরী আমাদের বলেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর আমাদের বলেছেন, আবু বকর বিন বিশ্‌র আমাকে বলেছেন: শাহ্‌র বিন হাওশাব বায়তুল মালের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি দিরহাম ভর্তি একটি থলে গ্রহণ করেছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন:

শাহ্‌র তো একটি থলের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দিয়েছে … হে শাহ্‌র! তোমার পর আর কাকে ক্বারীগণ বিশ্বাস করবে?

আবু হাযিম আল-আবদুভী হতে বর্ণিত, তিনি আল-জাওযাকী হতে, তিনি মক্কী হতে; আমি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি: আবু বুকাইর বিন বিশ্‌র আল-আবদুভী শাহ্‌র বিন হাওশাব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আবু মুহাম্মদ যা উল্লেখ করেছেন সেই বর্ণনাটি হলো:

আল-হাসান বিন আবু বকর আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ বিন কামিল আল-কাযী আমাদের বলেছেন, আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ আমাদের বলেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর বিন নাস্‌র আল-আবদী আমাদের বলেছেন, শু'বাহ বলেছেন: আমি তালহা বিন মুসাররিফের জানাযায় উপস্থিত ছিলাম এবং আবু মা'শার আমাদের সাথে ছিলেন। তিনি তার প্রশংসা করলেন এবং বললেন: তিনি তার সদৃশ কাউকে রেখে যাননি। এটাই তার কথার শেষ অংশ।

আমি বলব, তাদের উভয়ের এই বর্ণনাকে তাদের 'ভ্রম' বা 'ভুল' (আওহাম) এর মধ্যে একত্রিত করা অত্যন্ত আপত্তিকর। কেননা তাদের প্রত্যেকের কথা যদি ইতিপূর্বে অন্য কেউ বলে থাকেন এবং কোনটি ভুল তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হয়, তবে তাদেরকে এক্ষেত্রে ভুল সাব্যস্ত করার কী অর্থ হতে পারে? যদি তিনি এটি চতুর্থ পরিচ্ছেদে উল্লেখ করতেন—যা বর্ণনার ব্যাখ্যায় তাদের সীমাবদ্ধতা বিষয়ক—তবে তা গ্রহণযোগ্য হতো। সম্ভবত তিনি তার কিতাবের শুরুতে প্রদত্ত সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়েছেন, যেখানে তিনি তার জানামতে মতভেদের সঠিক বিষয়গুলো উল্লেখ করার এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করার কথা বলেছিলেন, যাতে প্রতিটি বক্তব্য তার প্রকৃত বক্তার দিকে সম্পৃক্ত করা যায়। তিনি যদি এটি স্মরণ রাখতেন, তবে তাদের অঙ্কিত পদ্ধতিতেই একে বহাল রাখতেন যাতে প্রতিটি বক্তব্য তার বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং তাদের উভয়কে বা একজনকে ভুল সাব্যস্ত করার মাধ্যমে নিজে ভুল করতেন না।

আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক (সফলতা) প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌4 - باب أجمد وأحمد

قال الخطيب

ذكر هذا الباب وينبغي أن يضاف إليه أحيد بالحاء والياء المعجمة باثنتين من تحتها فإن ذلك مما يشكل ويدخل في بابه جماعة منهم أحيد بن الحسين أبو محمد البلخي البامياني حدث عن علي بن الحسن الرازي المعروف بكراع ومقاتل بن إبراهيم بن مساور وأزهر بن سليمان البلخي وأبو حرب محمد بن أحيد وعلي بن محمد بن محمد الخالدي

قلت فوهم في موضعين

أحدهما تصوره أن هذا الفصل لم يذكر وقد ذكره عبد الغني بن سعيد

ووهم في ذكره هذا الرجل وقد ذكره عبد الغني بن سعيد

وهم الخطيب رحمه الله استفتح كلامه وهو الفصل الأول بأن قال باب أبا وأبًا وقال هذان اسمان كلاهما بباء معجمة بواحدة إلا أن الأول مخفف الباء والثاني مشدد الباء فدل هذا الكلام على أن الثاني مثل الأول مقصور

ثم ذكر أبا بن جعفر وساق له حديثاً ثم قال والثاني أبا بن الصامغان الذي حفر نهر أبا

هذا صحيح وهو مقصور وذكر عن الهيثم بن عدي عن عبد الله بن عياش المنتوف أن النبط ملكوا سواد العراق ألف سنة وأكثر

ثم ذكر بعده أُبي بن الأبا وروى له خبراً أنه دخل على الحجاج وليس بهذا مثل الأول بل هو الأباء ممدود فَعّال من الإباء ويجب أن يجعل ترجمته أخرى وأما صاحب
৪ - আজমদ ও আহমদ বিষয়ক পরিচ্ছেদ

আল-খাতীব বলেন:

এই পরিচ্ছেদটি তিনি উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে 'আহ্ইয়াদ' (হা এবং নিচে দুই নুকতাযুক্ত ইয়া দিয়ে) যোগ করা উচিত ছিল। কারণ এটি বিভ্রান্তিকর নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এই পরিচ্ছেদে একদল লোক অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আহ্ইয়াদ ইবনুল হুসাইন আবু মুহাম্মাদ আল-বালখী আল-বামিয়ানী, যিনি কুরা’ নামে পরিচিত আলী বিন আল-হাসান আর-রাযী, মুকাতিল বিন ইবরাহীম বিন মুসাওয়ির এবং আযহার বিন সুলাইমান আল-বালখী থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আবু হারব মুহাম্মাদ বিন আহ্ইয়াদ ও আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খালিদী।

আমি বলি, তিনি দুটি স্থানে ভুল করেছেন।

একটি হলো তাঁর এই ধারণা যে, এই অনুচ্ছেদটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়নি, অথচ আব্দুল গনি বিন সাঈদ এটি উল্লেখ করেছেন।

আর দ্বিতীয়টি হলো এই ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর উল্লেখ করা, অথচ আব্দুল গনি বিন সাঈদ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

আল-খাতীব (রহিমাহুল্লাহ) ভুল করেছেন; তিনি তাঁর আলোচনার প্রথম অনুচ্ছেদে 'আবা ও আব্বা' পরিচ্ছেদ নামে শুরু করেছেন এবং বলেছেন যে এই দুটি নামই এক নুকতাযুক্ত 'বা' দিয়ে, তবে প্রথমটিতে 'বা' হালকা (তাশদীদহীন) এবং দ্বিতীয়টিতে 'বা' তাশদীদযুক্ত। তাঁর এই কথা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বিতীয় নামটি প্রথমটির মতোই 'মাকসুর' (সংক্ষিপ্ত আলিফযুক্ত)।

এরপর তিনি আবা বিন জা’ফরকে উল্লেখ করে তাঁর একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, দ্বিতীয়জন হলেন আব্বা বিন আস-সামগান, যিনি 'নাহর-ই-আব্বা' (আব্বা নদী) খনন করেছিলেন।

এটি সঠিক এবং তা 'মাকসুর' (সংক্ষিপ্ত)। তিনি হাইসাম বিন আদী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আইয়াশ আল-মানতুফ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবাতীরা এক হাজার বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ইরাকের 'সাওয়াদ' অঞ্চল শাসন করেছিল।

এরপর তিনি উবাই বিন আল-আবা-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে একটি বর্ণনা দিয়েছেন যে তিনি হাজ্জাজের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু এটি প্রথমটির মতো নয়, বরং এটি হলো 'আল-আবা' (দীর্ঘ আলিফযুক্ত), যা 'ইবা' (অস্বীকৃতি) ধাতু থেকে 'ফাল' ওজনে গঠিত। তাই তাঁর জন্য ভিন্ন একটি শিরোনাম নির্ধারণ করা আবশ্যক ছিল। আর যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৮২)
نهر أبا فهو مقصور وقد ذكره الخطيب في التخليص صحيحاً وجعله ممدوداً وها هنا آخر يقال له الأباء بن أبي بن نضلة بن جابر بن شجنّة بن يزيد بن شجنة ذكرناه في الإكمال والله الموفق للصواب

 

‌‌5 - باب أخرم و أخزم

قال أبو الحسن:

أخزم بن أبي أخدم الطائي من أجداد عدي بن حاتم الجواد بن عبد الله بن سعد بن الحشرج بن امرئ القيس بن عدي بن أَخْزَم بن أبي أَخْزَم بن ربيعة بن ثعل بن عمرو بن الغوث بن طيئ وكنية طيئ أبو طريف وكنية أبيه حاتم أبو سفانة وله صحبة ورواية عن النبي صلى الله عليه وسلم

قلت وهي هذا النسب وهم لأنه أسقط منه رجلاً وهو جرول ذكر ذلك أبو سعيد السكري وذكره ابن الكلبي في الجمهرة وساق النسب وقد ذكرته مختصراً

قال وولد الغوث بن طيئ عمراً ولؤيا وقيساً وذكر جماعة ثم قال وولد عمرو بن الغوث ثعلا وإليه العدد

وذكر نسباً وخرج إلى نسب آخر وقال

وولد ثعل بن عمرو سلامان وجرولاً ومعاوية

وولد جرول بن ثعل معاوية وربيعة وركيضاً بطن وعتيكاً وولد ربيعة بن جرول أبا أخزم وهو هزومة وعمراً فولد أبو أخزم بن ربيعة أخزم والجد فولد أخزم عدياً فمن بني عدي حاتم الجواد بن عبد الله بن سعد بن الحشرج بن امرئ القيس بن عدي بن
নহর আবা; এটি মকসূর (হ্রস্ব আলফযুক্ত)। খতীব একে 'আত-তাখলীস' গ্রন্থে সঠিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং একে মামদুদ (দীর্ঘ আলফযুক্ত) করেছেন। এখানে অন্য একজন ব্যক্তি আছেন যাকে আল-আবা ইবনে উবাই ইবনে নাদলা ইবনে জাবির ইবনে শাজনাহ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে শাজনাহ বলা হয়; আমরা তাকে 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। আল্লাহ-ই সঠিক পথের তাওফীকদাতা।

 

‌‌৫ - পরিচ্ছেদ: আখরাম ও আখযাম

আবুল হাসান বলেন:

আখযাম ইবনে আবি আখযাম আত-তায়ী, তিনি আদী ইবনে হাতিম আল-জাওয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ইবনে আল-হাশরাজ ইবনে ইমরুল কায়েস ইবনে আদী ইবনে আখযাম ইবনে আবি আখযাম ইবনে রাবী'আহ ইবনে সা'ল ইবনে আমর ইবনে আল-গাওস ইবনে তায়ী-এর পূর্বপুরুষদের অন্তর্ভুক্ত। তায়ী-এর কুনিয়াত (উপনাম) হলো আবু তারিফ এবং তার পিতা হাতিমের কুনিয়াত হলো আবু সাফফানা। তাঁর সাহচর্য রয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা রয়েছে।

আমি বলছি, এই বংশপরম্পরায় একটি ভুল রয়েছে, কারণ তিনি এতে একজন ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছেন, আর তিনি হলেন জারওয়াল। আবু সাঈদ আস-সুক্কারি এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আল-কালবি 'আল-জামহারা' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছেন, যা আমি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি।

তিনি বলেন: আল-গাওস ইবনে তায়ী-এর সন্তানরা হলো আমর, লুয়াই ও কায়েস। তিনি একদল লোকের নাম উল্লেখ করে অতঃপর বলেন: আমর ইবনে আল-গাওস-এর পুত্র হলো সা'ল, যার মাধ্যমেই বংশবিস্তার ঘটেছে।

তিনি একটি বংশপরম্পরা উল্লেখ করেন এবং অন্য একটি বংশপরম্পরা বর্ণনা করে বলেন:

সা'ল ইবনে আমর-এর সন্তানরা হলো সালামন, জারওয়াল ও মুয়াবিয়া।

জারওয়াল ইবনে সা'ল-এর সন্তানরা হলো মুয়াবিয়া, রাবী'আহ, রুকাইদ (একটি শাখা গোত্র) এবং আতীক। রাবী'আহ ইবনে জারওয়াল-এর পুত্র আবু আখযাম—যিনি হলেন হাযুমাহ—এবং আমর। আবু আখযাম ইবনে রাবী'আহ-এর পুত্র হলো আখযাম ও আল-জাদ্দ। অতঃপর আখযাম-এর পুত্র হলো আদী। আদী-এর বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন হাতিম আল-জাওয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ইবনে আল-হাশরাজ ইবনে ইমরুল কায়েস ইবনে আদী ইবনে...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أخزم بن أبي أخزم وهو هزومة بن ربيعة بن جرول بن ثعل بن عمرو بن الغوث بن طيئ وهذا هو الصواب وما اتفق عليه النسابون ولعله سقط على الناسخ

والله أعلم

 

‌‌6 - باب أثوب وأيوب

قال أبو محمد

الحارث بن أثوب روى حديثه عن أبي سليمان محمد بن عبد الله العبدي عن محمد بن خريم عن أحمد بن أبي الحواري عن وكيع عن شريك عن العباس بن ذريح عن الحارث بن أثوب

وهذا وهم والصحيح أنه ثوب بضم أوله وفتح ثانيه

أخبرنا عبد العزيز بن علي بن أحمد قراءةً عليه في دارنا وبلفظه أخبرنا أحمد بن إبراهيم وعبد الله بن محمد بن إسحاق قالا ثنا عبد الله بن محمد ثنا علي بن الجعد ثنا شريك عن العباس بن ذَريح عن الحارث بن ثُوَب قال

صلى بنا عَلِيّ الجمعة ركعتين ثم سلم فلما قام أقبل علينا فقال

عباد الله أتموا الصلاة ثم دخل

قال علي بن الجعد

وإنما طلب من هذا كلامه بعد الصلاة

وكذلك رواه عن شريك الهيثم بن جميل ورواه وكيع عن شريك كما رواه عنه علي بن الجعد وحدث به عن وكيع أحمد بن عمر الوكيعي ومحمد بن إسماعيل الحساني

وأما حديث عبد الغني فإني أخشى أن يكون ابن أبي الحواري لم يضبطه ومن بينه وبين عبد الغني ثقتان ثبتان وقال البخاري في تاريخه الحارث بن ثوب الأسدي رأى علياً روى عنه عباس بن ذريح يعد في الكوفيين
আখযাম বিন আবি আখযাম; তিনি হলেন হাযুমাহ বিন রাবি'আহ বিন জারওয়াল বিন সা'ল বিন আমর বিন আল-গাওস বিন তায়্যি। আর এটিই সঠিক এবং এর উপরই বংশবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সম্ভবত এটি অনুলিপিকারীর পক্ষ থেকে বাদ পড়ে গেছে।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌৬ - আসওয়াব ও আইয়ুব পরিচ্ছেদ

আবু মুহাম্মদ বলেন:

আল-হারিস বিন আসওয়াব; তাঁর হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে আবু সুলায়মান মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আবদি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন খুরইম থেকে, তিনি আহমদ বিন আবি আল-হাওয়ারি থেকে, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি শারিক থেকে, তিনি আব্বাস বিন যারীহ থেকে, তিনি আল-হারিস বিন আসওয়াব থেকে।

আর এটি একটি ভ্রম, সঠিক হলো এটি ‘সুওয়াব’—প্রথম অক্ষরে পেশ এবং দ্বিতীয় অক্ষরে যবর যোগে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আলি বিন আহমদ—আমাদের ঘরে তাঁর কাছে পাঠ করা হয়েছে এবং তাঁর শব্দাবলীতে—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন ইবরাহিম এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক; তাঁরা বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলি বিন আল-জা'দ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শারিক, তিনি আব্বাস বিন যারীহ থেকে, তিনি আল-হারিস বিন সুওয়াব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আলী আমাদের নিয়ে জুমার দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন। যখন তিনি দাঁড়ালেন, আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন:

হে আল্লাহর বান্দারা, সালাত পূর্ণ করো। এরপর তিনি প্রবেশ করলেন।

আলি বিন আল-জা'দ বলেন:

এই বর্ণনা থেকে মূলত সালাতের পরের তাঁর কথাটুকুই উদ্দেশ্য।

অনুরূপভাবে শারিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আল-হাইসাম বিন জামিল। আর ওয়াকি এটি শারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে আলি বিন আল-জা'দ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ওয়াকি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন উমর আল-ওয়াকি’ঈ এবং মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-হাসসানি।

আর আব্দুল গণির হাদিসের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা যে, সম্ভবত ইবনে আবি আল-হাওয়ারি তা সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি, অথচ তাঁর এবং আব্দুল গণির মাঝখানে যারা রয়েছেন তারা নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়। ইমাম বুখারি তাঁর তারিখে বলেছেন: আল-হারিস বিন সুওয়াব আল-আসাদি; তিনি আলীকে দেখেছেন, তাঁর থেকে আব্বাস বিন যারীহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে কুফাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
‌‌7 - باب أشعث وأشعب

قال أبو الحسن

أَشْعَب رجلان أحدهما أشعب الطامع مولى عثمان وهو ابن أم حميد قاله بضم الحاء ثم قال

أَشْعَب بن جبير مولى عبد الله بن الزبير

وقال يضرب ملحه المثل

وهذا وهم وهما واحد

أخبرنا محمد بن أحمد بن محمد قراءة عليه عن إسماعيل بن سعيد عن أبي بكر بن الأنباري قال قولهم هو أطمع من أشعب

حدثني أبي قال هو أشعب بن جُبير مولى عبد الله بن الزبير من أهل المدينة يكنى أبا العلاء وقيل في أمه أم حَميدة بفتح الحاء وقيل اسمها [أم] جعدة مولاة أسماء بنت أبي بكر الصديق واختلف في ولائه وقد ذكرنا ذلك في كتاب الإكمال وبالله التوفيق

 

‌‌8 - باب أبا وآبي

قال الدارقطني

آبي اللحم الغفاري له صحبة ورواية عن النبي صلى الله عليه وسلم ثم روى عن القاضي أبي
৭ - আশআছ ও আশআব অধ্যায়

আবুল হাসান বলেন

আশআব মূলত দুজন ব্যক্তি। তাদের একজন হলেন উসমানের আযাদকৃত দাস আশআব আত-তামি' (লোভী), এবং তিনি উম্মে হুমাইদের পুত্র। তিনি এটি 'হা' বর্ণে পেশ (যম্মাহ) দিয়ে উচ্চারণ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন

আশআব ইবনে জুবাইর, যিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের আযাদকৃত দাস

তিনি বলেন, তার রসিকতাসমূহ প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়

আর এটি একটি বিভ্রান্তি; তারা মূলত একই ব্যক্তি

মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনুল আম্বারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মানুষের কথা—"সে আশআবের চেয়েও বেশি লোভী"

আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি হলেন মদিনার অধিবাসী আশআব ইবনে জুবাইর, যিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের আযাদকৃত দাস। তার উপনাম ছিল আবুল আলা। তার মায়ের নাম উম্মে হামিদা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে 'হা' বর্ণে যবর হবে। আবার বলা হয়েছে তার নাম [উম্মে] জা'দাহ, যিনি আসমা বিনতে আবি বকর সিদ্দিকের আযাদকৃত দাসী ছিলেন। তার দাসত্ব-সম্পর্ক নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যা আমরা 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।

 

৮ - আবা ও আবি অধ্যায়

আদ-দারা কুতনী বলেন

আবি আল-লাহম আল-গিফারী, তিনি সাহাবী ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার বর্ণনা রয়েছে। অতঃপর তিনি কাজী আবি থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফাতি ওয়া উলিল আফহাম - ত কাসরাবী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
طاهر عن موسى بن زكريا عن شباب قال آبي اللحم اسمه عبد الله بن عبد الملك الغفاري قال وقال غيره اسمه الحويرث بن عبد الله بن خلف بن مالك بن عبد الله بن حارثة بن غفار شهد مع النبي صلى الله عليه وسلم وقتل يوم حنين فيما يقال وشهد معه عمير مولاه

قلت وقوله عبد الله بن حارثة بن غفار وهم لأن غفار بن مليل ولد حَزام وَحَارثة وَحَاجِب وَمبشر وَلوذَان وخفاجة وعبد الله وأحمس فمن بني حزام أبو سريحة وابنه خُفاف بن أبي سريحة وأبو ذر جندب بن جنادة وغيرهم

ومن بني حارثة بن غفار إيماء بن رحضة وابنه خُفاف بن إيماء وغيرهما ومن بني حاجب بن غفار عزة بنت حميد بن وقاص صاحبة كثيرة

ومن بني عبد الله بن غفار آبي اللحم وهو خلف بن مالك بن عبد الله بن غفار ومن ولده الحويرث بن عبد الله بن أبي اللحم

قتل مع النبي صلى الله عليه وسلم يوم حنين

وليس في ولد حارثة من اسمه عبد الله

والله ولي التوفيق

 

‌‌9 - باب أشعر وأشقر

قال أبو الحسن

أبو الأشعر عبيد العبدي مولى زيد بن صوحان عن أبيه روى سعيد بن عبيد قاله أبو الحسن بالشين المعجمة

قال الخطيب ونقل ذلك من تاريخ البخاري فإن البخاري روى عنه حديثه عن أبي نعيم عن سعيد بن عبيد
তাহের, মুসা বিন যাকারিয়া থেকে, তিনি শাবাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবি আল-লাহম-এর নাম হলো আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মালিক আল-গিফারি। তিনি বলেন, অন্য একজন বলেছেন: তার নাম আল-হুয়াইরিস বিন আব্দুল্লাহ বিন খালাফ বিন মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন হারিসা বিন গিফার। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (যুদ্ধে) উপস্থিত ছিলেন এবং যা বলা হয় তা অনুযায়ী হুনাইনের দিন নিহত হন। তার সাথে তার আযাদকৃত গোলাম উমাইরও উপস্থিত ছিলেন।

আমি বলছি, তার এই কথা যে 'আব্দুল্লাহ বিন হারিসা বিন গিফার' এটি একটি ভুল; কেননা গিফার বিন মুলাইল-এর সন্তানরা হলেন: হিযাম, হারিসা, হাজিব, মুবাশশির, লাওযান, খুফাজা, আব্দুল্লাহ এবং আহমাস। হিযাম বংশ থেকে হলেন আবু সারীহা এবং তার পুত্র খুফাফ বিন আবি সারীহা, এবং আবু যার জুনদুব বিন জুনাদা প্রমুখ।

আর হারিসা বিন গিফার বংশ থেকে হলেন ইমা বিন রাহদা এবং তার পুত্র খুফাফ বিন ইমা প্রমুখ। হাজিব বিন গিফার বংশ থেকে হলেন আজ্জা বিনতে হুমাইদ বিন ওয়াক্কাস, যিনি কাসীরের সঙ্গিনী ছিলেন।

আর আব্দুল্লাহ বিন গিফার বংশ থেকে হলেন আবি আল-লাহম; তিনি হলেন খালাফ বিন মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন গিফার। তার সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন আল-হুয়াইরিস বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি আল-লাহম।

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুনাইনের দিন নিহত হন।

আর হারিসার সন্তানদের মধ্যে আব্দুল্লাহ নামে কেউ নেই।

আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

 

‌‌৯ - পরিচ্ছেদ: আশআর ও আশকার

আবুল হাসান বলেন:

আবুল আশআর উবাইদ আল-আবদি, যিনি যায়েদ বিন সুহানের আযাদকৃত গোলাম, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে সাঈদ বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন। আবুল হাসান এটি 'শীন' বর্ণ যোগে (আশআর) বলেছেন।

খতিব বলেন, তিনি এটি বুখারির ইতিহাস গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন; কেননা বুখারি তার থেকে তার হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু নুআইমের সূত্রে, তিনি সাঈদ বিন উবাইদ থেকে।