(খণ্ড: ১)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: -)
نفحة الريحانة ورشحة طلاء الحانة (المحبي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: نفحة الريحانة ورشحة طلاء الحانة
المؤلف: محمد أمين بن فضل الله بن محب الدين بن محمد المحبي (ت 1111هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলা-ইল হানা (আল-মুহিব্বি)
বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণিবিভাগ
গ্রন্থ: নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলা-ইল হানা
লেখক: মুহাম্মাদ আমিন বিন ফাদলুল্লাহ বিন মুহিব্বুদ্দিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুহিব্বি (মৃত্যু ১১১১ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়ন করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيمأنزله الله وأسبحه، وأسأله التوفيق وأستمنحه. حامداً له تعالى بأسمائه، على جلائل آلائه ودقائق نعمائه. حمداً تتعطر مجاري الأنفاس بنفحةٍ من نفحاتهِ، وتتدفق بحار الأفكار برشحة من رشحاته.وأصل ذلك ما دمت أنطق بكلام بصلات صلاة وأتم سلام، على من أبدع منشئ الوجود إنشاءه على أحسن فطرة وأجملها، ونظم به عقد الدين بعد نثره فدعا لأتم ملة وأكملها. الذي أوتي جوامع الكلم، ولم ينطق عن الهوى، فاقتفى أثره عصابة ما ضل أحد منهم باتباعه ولا غوى.المبعوث في زمن هتفت فيه مصاقع العرب على منابر البلاغة، وقيدت شوارد المعاني في الأسماع بسلاسل الذهب فلم يبلغ أحد بلاغه. فأبطل سحرها المبين، متمسكاً بحبل الله المتين، وجاءها بالعقد الذي تحل به الزمان العاطل، والحق الذي لا يأتيه من بين يديه ولا من خلفه الباطل.والروض الذي تتفجر عيونُ البلاغة عن أصول معانيه، وتتدفق مياه البراعة عن فصول مبانيه. ونزه أسماعها في حديقة حميت بشوكة الإعجاز فلم تلمس ورودها أيادي إياد ولا أنامل الحجاز.فلله وبالله ذلك المفحم المعجز، الذي أعيى على الواصف المطنب والموجز. لا برحت الصلوات الناميات في كل أوان، تحيي مرقده الشريف ما تعاقب الملوان.ثم أحيي آله الكرام، وأصحابه ذوي الاحترام، بما يناسب رتبتهم السامية، من هذه التحية الزكية النامية، وعيلهم رحمة الله وبركاته.وبعد: فإني من منذ ألقيت الألواح، وميزت بين الصباح والمصباح. جعلتُ الأدب لناظري ملمحا، واتخذته لفكري من بين المعارف مطمحا. وكنتُ أعده لصحائف الشمائل عنواناً، وأرتب لبيت قصيده في بدائع المآثر ديواناً. وأشيم من آفاقه بوارق السحر، وأشم من أردانه روائح الشحر. فأرتشف منه ما هو أشف من الماء في زجاجه، وأشتف ما هو ألذ من الرحيق في مزاجه.وأنا من الابتهاج به كما التقى الغدير بالزهرة، ومن التملي به كما تقابلت الثريا بالزهرة. فطالما وردت منه ما صفى من الأمواه، وبسطت حجري لالتقاط درره من الأفواه. وعكف طرفي في محاريب دفاتره، ورشف يراعي ماء الحياة من ظلمات محابره.هذا وغصن شبابي غض وريق، وتحايا مدامي عض وريق. وأنا أجري في طلق الصبا طلق الصبا، وأذهب في نيل البغية مذهباً مذهباً. فكم ليلة نادمت فيها الأمانين ووفى لي في جنحها بالضمان زماني. فتناولت أحاديث كالأرياق، نظمتها كالعقود تلوح من الأزياق. وذلك في مسقط رأسي ومشتعل ذؤابة نبراسي. خطة السرور والفرح، وحلة القدح والقدح. ومنى الأماني، ومغنى الأغاني. وقبلة القبول، وشملة الشمول. البلدة الفيحاء دمشق، الطيبعة العرف والنشق.لا زال خفاق النسيم يلعب بعذبات واديها، وهطال السحاب يراوح دمنها ويغاديها. وحيى الله أعزاها الذين بهم التقيت ونجوم أفقها الذين بصحبتهم ارتقيت أديبهم يهز له الأدب هيف معاطفه، وأريبهم يمد به الندى بساط عواطفه.يرمون عند هدر الشقاشق في حدق البيان ويصيبون بالكلم الرواشق غرض التبيان. ويتنافسون من السحر في المناظم، وما يتصرفون فيه إلا على ذائقة الأعظم. من بدائع لو عثر عليها سحرة من موسى لتابوا، وروائع لو اطلع عليها المصورون لدلوا عن نهجهم وأنابوا.وما منهم إلا من بطش فيما انتحى بباع بسيط، ولم يزل عن موقف الصواب مقدار فسيط. وكان بقي للشعر خصاصة فاستظهروا على سدها، وأنشوطة استنهضوا هممهم لشدها. صنيعهم صير الزمان من تقصيره في وجل، وأظنه أطلع الورد في خد الربيع إشارة لما عنده من الخجل.فوسقت في بحارهم السفائن، واستخرجت من محاسنهم الدفائن. واجتنيت من ثمرات خواطرهم كل يانع مستطاب، وحشوت صدفة أذني من تلك اللآلئ الرطاب.وملأت السمع منهم كلماً … يحسد القلب عليه الأذنالكني لم أقض من رؤيتهم مطمعا، حتى غربواهم وشمس الفضل معاً.فعاينت الوجود دونهم كالنهار بلا شمس، وعاينت الأمر ولا هم كالراحة بلا خمس.وفقدت بهم الوطر الذي شايعته، والأمل الذي على الوفاء والرعى للذمم بايعته.فلم ألبث حتى كرهت الثوى وتحركت عزيمتي لداعي النوى.أنضيت لجهة الروم العزم، وأدخلت على حرف العلة عامل الجزم.فعل أمرئ جد جده، وما رأيه إلا في مفخر يستجده فإن في الانتقال تنويهاً لخامل الأقدار، ولولاه لم يكس البدر حلة الأبدار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেআল্লাহ তা’আলা এটি অবতীর্ণ করেছেন এবং আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি; আমি তাঁর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং তা যাচনা করছি। তাঁর সুমহান নামসমূহের মাধ্যমে আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর মহান দান ও সূক্ষ্ম নিআমতরাজির জন্য। এমন প্রশংসা যার সুবাসে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের পথসমূহ সুগন্ধিময় হয় এবং যার বিন্দুবৎ দানে চিন্তার সমুদ্রসমূহ উথলে ওঠে।আর এর মূলে আমি যতক্ষণ কথা বলি, ততক্ষণ পূর্ণ সালাত ও সালাম পেশ করছি তাঁর প্রতি, অস্তিত্বের স্রষ্টা যাঁকে সর্বোত্তম ও সুন্দরতম ফিতরাতের (প্রকৃতির) ওপর সৃষ্টি করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি দ্বীনের বিক্ষিপ্ত মালাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং তিনি মানুষকে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম মিল্লাতের দিকে আহ্বান করেছেন। যাঁকে 'জাওয়ামিউল কালিম' দান করা হয়েছে এবং যিনি নিজের খেয়াল-খুশিমতো কথা বলেন না। অতঃপর একদল লোক তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যাঁদের কেউই তাঁর অনুসরণের ফলে পথভ্রষ্ট বা বিপথগামী হননি।তিনি এমন এক যুগে প্রেরিত হয়েছেন যখন আরবের বাগ্মীরা অলঙ্কারশাস্ত্রের মিম্বরগুলোতে উচ্চকণ্ঠে কথা বলত এবং শ্রবণে শ্রবণে অর্থের দুর্লভ রত্নগুলোকে স্বর্ণের শিকলে বেঁধে রাখত; অথচ কেউই তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আল্লাহর মজবুত রজ্জুকে ধারণ করে তাদের সেই স্পষ্ট জাদুকে বাতিল করে দিলেন এবং এমন এক অলঙ্কার নিয়ে এলেন যা দিয়ে অলঙ্কারহীন কাল নিজেকে সজ্জিত করেছে, আর এমন এক সত্য নিয়ে এলেন যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না।এবং (তিনি সেই) উদ্যান যার অর্থের মূল থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয় এবং যার বুনিয়াদের শাখা-প্রশাখা থেকে চাতুর্যের বারিধারা প্রবাহিত হয়। তিনি মানুষের শ্রবণকে এমন এক বাগানে বিচরণ করিয়েছেন যা মুজিজার (অলৌকিকত্বের) কাঁটা দ্বারা সুরক্ষিত, ফলে ইয়াদের হাত বা হিজাজের আঙুল তার গোলাপ স্পর্শ করতে পারেনি।সুতরাং আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর মাধ্যমেই সেই নিরুত্তরকারী মুজিজা, যা সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত বর্ণনাকারী—সবার জন্যই অসাধ্য। দিবস ও রজনীর আবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি সময়ে বর্ধনশীল সালাতসমূহ সর্বদা তাঁর পবিত্র রওজাকে সঞ্জীবিত করতে থাকুক।অতঃপর আমি তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ এবং শ্রদ্ধেয় সাহাবীগণকে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার উপযোগী এই পবিত্র ও বর্ধনশীল অভিবাদনের মাধ্যমে সম্ভাষণ জানাচ্ছি; তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।অতঃপর: আমি যখন থেকে তখতী বা লেখার স্লেটগুলো রেখেছি এবং সকাল ও প্রদীপের মধ্যে পার্থক্য করতে শিখেছি, তখন থেকেই সাহিত্যকে আমার দৃষ্টির লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্যে একেই আমার চিন্তার অভীষ্ট বানিয়েছি। আমি একে সচ্চরিত্রের পৃষ্ঠাসমূহের শিরোনাম হিসেবে গণ্য করতাম এবং শ্রেষ্ঠ কীর্তিসমূহের মাঝে এর কবিতার পঙ্ক্তি দিয়ে দেওয়ান সাজাতাম। আমি এর দিগন্ত থেকে জাদুকরী বিজলি পর্যবেক্ষণ করতাম এবং এর অঞ্চল থেকে সুগন্ধি আস্বাদন করতাম। আমি তা থেকে এমন কিছু পান করতাম যা কাঁচের পাত্রের পানির চেয়েও স্বচ্ছ এবং এমন কিছু গ্রহণ করতাম যা সুরা সাকি অপেক্ষা স্বাদে অধিক লতিফ।এতে আমার আনন্দ যেন পুষ্পের সাথে জলাশয়ের মিলন, আর এতে আমার তৃপ্তি যেন শুক্র গ্রহের সাথে কৃত্তিকা নক্ষত্রের সাক্ষাৎ। কতকাল আমি এর স্বচ্ছ বারিধারা পান করেছি এবং মানুষের মুখ থেকে এর মুক্তো কুড়ানোর জন্য আমার আঁচল পেতেছি। আমার দৃষ্টি এর পাণ্ডুলিপির মিহরাবসমূহে নিবিষ্ট ছিল এবং আমার কলম এর দোয়াতের অন্ধকার থেকে আবে-হায়াত পান করেছে।এটি তখন, যখন আমার যৌবনের শাখা ছিল সতেজ ও পল্লবিত, আর আমার জীবনের অভিবাদন ছিল কোমল ও সজীব। আমি তখন শৈশবের চপলতায় বিচরণ করছিলাম এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি পথে অগ্রসর হচ্ছিলাম। কত রাত আমি কামনার সাথে অতিবাহিত করেছি এবং সেই রাতের অন্ধকারে সময় আমার কাছে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। তখন আমি লালা সদৃশ মিষ্ট কথা গ্রহণ করেছি এবং সেগুলোকে গলার হারের মতো গেঁথেছি যা জামার কলার থেকে দৃশ্যমান হয়। আর এটি ছিল আমার জন্মস্থানে এবং আমার প্রদীপের শিখা প্রজ্বলিত হওয়ার স্থানে। যা ছিল আনন্দ ও উল্লাসের ভূমি এবং আভিজাত্য ও মর্যাদার স্থান। যা ছিল আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এবং সংগীতের আবাস। যা ছিল কবুলিয়তের কিবলা এবং ব্যাপকতার চাদর। সেই প্রশস্ত নগরী দামেস্ক, যার স্বভাব হলো সুগন্ধি ও সুবাস।মৃদু সমীরণ যেন সর্বদা এর উপত্যকার প্রান্তদেশে খেলা করতে থাকে এবং মুষলধারে মেঘ যেন সকাল-সন্ধ্যায় এর প্রাঙ্গণকে সিক্ত করে। আল্লাহ সেই সম্মানিত ব্যক্তিদের দীর্ঘজীবী করুন যাঁদের সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর দিগন্তের সেই নক্ষত্রতুল্য ব্যক্তিদেরও, যাঁদের সাহচর্যে আমি উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছি; তাঁদের সাহিত্যিকগণ সাহিত্যের মাধুর্যে বিমোহিত এবং তাঁদের বুদ্ধিমানগণ দয়ার চাদরে আবেগের বিছানা বিস্তৃত করেন।যখন অলঙ্কারপূর্ণ কথা উচ্চারিত হয়, তখন তাঁরা বর্ণনার গভীরে লক্ষ্যভেদ করেন এবং তাঁদের তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ দিয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনার লক্ষ্যবস্তু বিদ্ধ করেন। তাঁরা কাব্য রচনার জাদুকরী শৈলী নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন এবং মহানুভবদের রুচি অনুযায়ী কাজ করেন। এ এমন সব বিস্ময়কর রচনা যা যদি মূসার সময়কার জাদুকররা দেখতে পেত তবে তারা তওবা করত, আর এমন সব চমৎকার শিল্প যা যদি চিত্রকররা দেখত তবে তারা তাদের পথ থেকে ফিরে আসত এবং আত্মসমর্পণ করত।তাঁদের প্রত্যেকেই যে পথ বেছে নিয়েছেন তাতে পূর্ণ সক্ষমতার সাথে অগ্রসর হয়েছেন এবং সত্যের অবস্থান থেকে এক তিল পরিমাণও বিচ্যুত হননি। কবিতার যা কিছু অভাব অবশিষ্ট ছিল, তা পূরণে তাঁরা সহায়তা করেছেন এবং এর শিথিল গ্রন্থিগুলো শক্ত করার জন্য তাঁরা তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করেছেন। তাঁদের এই কর্ম কালকে তার নিজের ত্রুটির কারণে লজ্জিত করেছে এবং আমার মনে হয় বসন্তের গালে যে গোলাপ ফুটেছে তা যেন কালের এই লজ্জারই ইঙ্গিত।তাঁদের সমুদ্রসমূহে জাহাজগুলো পূর্ণ হয়েছে এবং তাঁদের সৌন্দর্যরাজি থেকে গুপ্তধন আহরণ করা হয়েছে। আমি তাঁদের চিন্তা-ফল থেকে প্রতিটি পরিপক্ক ও সুস্বাদু ফল সংগ্রহ করেছি এবং সেই সতেজ মুক্তোগুলো দিয়ে আমার কানের ঝিনুক পূর্ণ করেছি।আর আমি তাঁদের কথায় আমার কানকে এমনভাবে পূর্ণ করেছি যে … যার জন্য হৃদয় কানকে ঈর্ষা করে।কিন্তু তাঁদের দেখার আকাঙ্ক্ষা আমি পূর্ণ করতে পারিনি, তার আগেই তাঁরা এবং তাঁদের গুণের সূর্য একসাথে অস্তমিত হয়েছে।অতঃপর আমি তাঁদের ছাড়া অস্তিত্বকে সূর্যহীন দিনের মতো এবং বিষয়টি তাঁদের অনুপস্থিতিতে আঙুলহীন হাতের তালুর মতো প্রত্যক্ষ করেছি।তাঁদের হারানোর মাধ্যমে আমি সেই লক্ষ্য হারিয়েছি যা আমি অনুসরণ করেছিলাম এবং সেই আশা যা পূর্ণ করার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য আমি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলাম।ফলে কালক্ষেপণ না করেই আমি প্রবাস যাপন অপছন্দ করতে শুরু করলাম এবং দূরযাত্রার আহ্বানে আমার সংকল্প জাগ্রত হলো।আমি রুমের উদ্দেশ্যে আমার সংকল্পকে পরিচালিত করেছি এবং দুর্বলতার অক্ষরে দৃঢ়তার প্রভাব বিস্তার করেছি।এটি এমন এক ব্যক্তির কাজ যার প্রচেষ্টা ছিল ঐকান্তিক এবং যার লক্ষ্য ছিল কেবল নতুন কোনো গৌরব অর্জন করা; কেননা স্থানান্তরে হীন ভাগ্যের অধিকারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং এটি না থাকলে চাঁদ কখনোই পূর্ণিমার রূপ পরিধান করতে পারত না।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢)
وكذا الدر ضائع الحسن في البح … ر فإن بان عنه راق جمالاومياه البحار ملح فمهما … حملتها السحاب عدن زلالافدخلت أمهات بلادها دور الخلافة، واستقريت آخراً بقسطنطينيتها، لا زالت مصونة من كل آفة.والدولة إذ ذا بالكلمة الغالبة تنطق، والدنيا تتوشح بتلك الحماية وتنتطق.والأيام مقسطة، والأنام منبسطة.والزمان كله نهار، والمنابت طراً أزهار.وملك الزمان السلطان محمد، ختم الله بتأمينه مذ صافحت آفاقها أسرة جبينه.حدثت عن الحياة الخضرة جنباتها، واستحال زمرداً وزبرجداً نباتها.والأفئدة بطاعته تدين، وقد تهنى بمانه الدنيا والدين.ورأيت أستاذي الشيخ محمد بن لطف الله الذي توجهت بكليتي إليه، وأوقفت أملي مذ أنا يافع عليه.وهو مقصد الواصف والمادح، وملج لسان الناطق والصادح. وقد استوفى من الصدارة تمام العزة، وأوفى شرفه على كل الأعزة. وكان للأدب ممن تلافى ذماه، وروى ببشره ظماه. فأصبحت حسنات الدهر به موفورة، وسيآته بوجوده مغفورة. ونفضت لديه علائق الترحال، ورفرفت عليه آمال الرجال. من كل من اتخذ الأدب مفخراً يرغم به أنوف المفاخرين، والثناء الجميل مدخراً، وهو لسان صدق في الآخرين. فحاسيتهم بحضرته كؤوس مودة أصفى من الماء، وتلقيت منهم كل نادرة تفضح نجم السماء.ثم لما قضى الله موت الأستاذ برد الله حفرته، ونور بنور الغفران غرته. قضاء منه سبق في بريته، وسوى فيله بين آدم وذريته. رأيت الدهر قد عاندني في الديار والأحباب وكساني المشيب قبل أن أعرف مقدار حق الشباب. وقد ولتني الثلاثون أذنابها، وصبت على المصائب ذنابها. وغاب هلال الصبا في مغاربه، وألقيت حبل الصبا على غاربه. بعد ما كان ذرعي عن هموم الأثر خالياً، وحالي ببرد العيش حالياً. فرميت الشام بعزمة المنتاب، وقد رضيت من الغنيمة بالإياب. فحليتها في عصر ذهب رواؤه، وفرغ من المعارف إناؤه. وعضد الأدب هيض، وثمده بعد هنيئة غيض. حتى تقلصت ذيول ظلاله، وبكت عيون المنى على أطلاله. والناس إما ساكت ألفاً، أو ناطق خلفاً. ولزمت كسر البيت، وسكنت سكون الميث. متكفكفاً بما في يدي، ومستدفعاً ليومي وغدي. وأنا في الدنيا الموصوفة بالنضارة، من جملة النظارة. أرمقها يمنة ويسرة، فلا أرى إلا هماً وحسرة. ولا أراني إلا كاسفً معنى، وكأنني لفظ بلا معنى. فرمان فرحي أقصر من التفات الحبيب، وتلفتي للسراء تلفت المريض للطبيب. في أوقات أثقل من الحديث المعاد، وأطول من عمر الانتظار لوقت الميعاد. لا سمير لي أوانه ولا جليس عندي أجانسه. سوى أوراق مزقتها الريح، وفرقت شملها التباريح. التقطتها كل واحدة من بقعة، وجمعتها من كل رق رقعة. أكثر ما فيها أشعار لأهل العصر، الذين ضاق عن الإحاطة بمفاخرهم نطاق الحصر. ممن رأيته فكانت رؤيته لعيني جلا، أو سمعت به فكانت أخباره لمسمعي حلي. وكان كتاب الريحانة للشهاب، الذي أغني عن الشمس والقمر، وأطلع الكلام ألذ من طيب المدام والسمر. وناهيك بمن استخدم الألفاظ حتى قيل: إنها له ملك، ونظمها في أجياد الطروس كأنها جواهر لها كل سطر من سطورها سلك.لم يزل من عهد صبايَ، قبل نوم سيارة شمولي وصباي. أمنية رجائي الحائم، وبغية قلبي الهائم. وشمامتي التي أشتم ومسلاتي متى أهتم. وزمزمة لساني، وعقيلة استحساني.حتى أود لو كانت أعضاي كلها نواظر تبصره، بحيث لا تمل لحظاً، وخواطر تتذكره، على ألا تسأم حفظاً، وألسنة تكرره، بشرط ألا تقنع لفظاً.فخطر لي أن أقدح في تذييله زندي، وآتى في محاكاته بما اجتمع من تلك الأشعار عندي. وقصدي بذلك إشغال الفكر، لا الانضمم إلى من فاز بألى الذكر. وإلا، فمن أنا حتى يقال، أو إذا عثرت عثرة تقال. سما إذا قرنت بمن جاريته في ميدان الكلام، أو ضممت إلى من باريته وأنا لست له باري أقلام. وإني لو تطاولت إلى الفلك، وتناولت عن الملك. واتخذت الدراري عقوداً، وزهر المجرة لفظاً منقوداً. ما بلغت مكانه، ولا أمكنت من أمر البراعة إمكانه.فأقدمت سائلاً من الله أن يجعله سهلاً، وأنا أستغفر لتطلعي لما لست له أهلا. وسدت أعياناً بيضت بهم وجه الطروس، وأحييت لهم أبيات أشعار كادت تشارف الدروس. من كل لفظ أرق من نفحة الزهر الروض للناشق، وأحسن موقعاً من تبسم المعشوق في وجه العاشق.
তেমনি মুক্তা সমুদ্রের গভীরে তার সৌন্দর্য হারায় … কিন্তু যখন তা আলাদা হয়, তখন তার সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত হয়।আর সমুদ্রের পানি লোনা; কিন্তু মেঘ যখন তা … বহন করে, তখন তা সুপেয় শুভ্র পানি হয়ে ফিরে আসে।অতঃপর আমি খেলাফতের কেন্দ্রভূমি এবং এর প্রধান শহরগুলোতে প্রবেশ করলাম এবং পরিশেষে কনস্টান্টিনোপলে বসতি স্থাপন করলাম; আল্লাহ একে সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষিত রাখুন।তৎকালীন রাষ্ট্র বিজয়ী কণ্ঠে কথা বলত এবং বিশ্ব সেই নিরাপত্তার চাদর ও অলঙ্কারে সুশোভিত ছিল।দিনগুলো ছিল ন্যায়নিষ্ঠ এবং সৃষ্টিজগত ছিল প্রফুল্ল।সমস্ত কাল যেন ছিল দিবাভাগ এবং উৎপত্তিস্থলসমূহ ছিল পুষ্পরাজিতে ভরপুর।সে সময়ের বাদশাহ ছিলেন সুলতান মুহাম্মদ; আল্লাহ তাঁর নিরাপত্তার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটান, যখন থেকে তাঁর ললাটের ঔজ্জ্বল্য দিগন্ত স্পর্শ করেছে।জীবনের চারপাশ সজীবতার কথা বলত এবং এর উদ্ভিদরাজি পান্না ও বৈদুর্যে পরিণত হয়েছিল।অন্তরসমূহ তাঁর আনুগত্যে সমর্পিত ছিল এবং তাঁর নিরাপত্তায় ইহকাল ও পরকাল ধন্য হয়েছিল।আমি আমার উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ বিন লুতফুল্লাহকে দেখলাম, যাঁর প্রতি আমি পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করেছিলাম এবং যৌবনকাল থেকেই আমার সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা তাঁর ওপর ন্যস্ত করেছিলাম।তিনি বর্ণনাকারী ও প্রশংসাকারীদের গন্তব্য এবং বক্তা ও সুকণ্ঠীদের আশ্রয়স্থল। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত মর্যাদায় পৌঁছেছেন এবং তাঁর সম্মান সকল সম্মানিত ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। তিনি ছিলেন সাহিত্যের সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা এর পতন রোধ করেছেন এবং স্বীয় প্রফুল্লতার মাধ্যমে এর তৃষ্ণা নিবারণ করেছেন। ফলে তাঁর মাধ্যমে কালের কল্যাণসমূহ পরিপূর্ণ হয়েছে এবং তাঁর উপস্থিতিতে অকল্যাণসমূহ ক্ষমাযোগ্য হয়েছে। তাঁর কাছেই আমি সফরের ক্লান্তি দূর করেছি এবং তাঁর ওপরই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভরসা করেছে। সেই সব ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা সাহিত্যকে গর্বের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে তারা অহংকারীদের নাসিকা ধূলিসাৎ করে এবং একে উত্তম প্রশংসা হিসেবে সঞ্চয় করে— যা পরবর্তীদের মধ্যে সত্যের কণ্ঠস্বর। আমি তাঁর দরবারে তাদের সাথে পানির চেয়েও স্বচ্ছ মহব্বতের পেয়ালা বিনিময় করেছি এবং তাদের কাছ থেকে এমন দুর্লভ কথা লাভ করেছি যা আকাশের নক্ষত্রকেও ম্লান করে দেয়।অতঃপর যখন আল্লাহ উস্তাদের মৃত্যু নির্ধারণ করলেন—আল্লাহ তাঁর কবরকে শীতল করুন এবং তাঁর ললাটকে ক্ষমার নূরে উদ্ভাসিত করুন—যা তাঁর সৃষ্টির জন্য পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা এবং যা আদম ও তাঁর সন্তানদের জন্য সমান করে দিয়েছেন। আমি দেখলাম যে, কাল দেশ ও প্রিয়জনদের ব্যাপারে আমার সাথে শত্রুতা করছে এবং যৌবনের হাকিকত বোঝার আগেই বার্ধক্য আমাকে গ্রাস করেছে। ত্রিশ বছর বয়স আমাকে বিদায় জানিয়েছে এবং আমার ওপর বিপদ-আপদ বর্ষণ করেছে। যৌবনের নতুন চাঁদ অস্তমিত হয়েছে এবং আমি যৌবনের লাগাম ছেড়ে দিয়েছি। অথচ আগে আমার চিন্তা-ভাবনা ছিল ভারমুক্ত এবং আমার জীবন ছিল সুখের পোশাকে সজ্জিত। অতঃপর আমি সিরিয়ার দিকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে যাত্রা করলাম এবং ফিরে আসাটাকেই গনীমত হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিলাম। আমি সেখানে এমন এক সময়ে উপনীত হলাম যখন তার জৌলুস বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং জ্ঞানের পাত্র শূন্য হয়ে পড়েছিল। সাহিত্যের বাহু ভেঙে গিয়েছিল এবং কিছুকাল পর তার সামান্য অবশিষ্টও নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি তার ছায়ার আঁচল সংকুচিত হয়ে এসেছিল এবং আকাঙ্ক্ষার চোখগুলো তার ধ্বংসাবশেষের ওপর ক্রন্দন করছিল। মানুষ হয় অভ্যাসবশত নীরব ছিল, নতুবা অসার বাক্য ব্যয়কারী ছিল। আমি ঘরের কোণে অবস্থান নিলাম এবং নিভৃতে বসবাস করতে লাগলাম। আমার হাতে যা ছিল তা দিয়ে অল্পে তুষ্ট থাকতাম এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে সামাল দিতাম। আমি জৌলুসপূর্ণ এই দুনিয়ায় কেবল একজন দর্শক হয়ে রইলাম। আমি ডানে-বামে দৃষ্টিপাত করি, কিন্তু দুঃখ ও হাহাকার ছাড়া কিছুই দেখতে পাই না। নিজেকে কেবল নিরর্থক অর্থহীন মনে হয়, যেন আমি অর্থহীন একটি শব্দ। আমার খুশির পরিমাণ প্রেমিকের দৃষ্টিপাতের চেয়েও সংক্ষিপ্ত এবং সুখের জন্য আমার ব্যাকুলতা চিকিৎসকের প্রতি রোগীর ব্যাকুলতার মতো। এমন সব সময়ে যা পুনরাবৃত্ত আলাপের চেয়েও ভারী এবং অপেক্ষার সময়ের চেয়েও দীর্ঘ। সেই সময়ে আমার কোনো গল্পসাথী নেই এবং আমার সমমনা কোনো সঙ্গী নেই। কেবল কিছু ছিন্নভিন্ন কাগজ ছাড়া যা বাতাস ছিঁড়ে ফেলেছে এবং দুঃখ-বেদনা যাকে বিক্ষিপ্ত করেছে। আমি প্রতিটি পাতা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছি এবং প্রতিটি চামড়ার টুকরো থেকে তা একত্রিত করেছি। এর অধিকাংশই সমসাময়িক কবিদের কবিতা, যাদের গৌরবের পরিধি সীমাবদ্ধ করা দুঃসাধ্য। যাদের আমি দেখেছি এবং তাদের দেখা আমার চোখের জন্য ছিল জ্যোতিস্বরূপ, অথবা যাদের সম্পর্কে আমি শুনেছি এবং তাদের সংবাদ ছিল আমার কর্ণের জন্য অলঙ্কারস্বরূপ। আর শিহাবুদ্দিনের 'রাইহানাতুল আলবাব' কিতাবটি ছিল এমন, যা সূর্য ও চন্দ্রের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয় এবং যার কথা শরাব ও সান্ধ্যকালীন গল্পের চেয়েও সুস্বাদু। এমন একজনের ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে যিনি শব্দসমূহকে এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যে বলা হয়: এগুলো যেন তাঁর মালিকানাধীন, আর কাগজের বুকে সেগুলোকে এমনভাবে গেঁথেছেন যেন সেগুলো মুক্তা, যার প্রতিটি পঙক্তি সুতার মতো।আমার শৈশবকাল থেকেই, যখন আমার বুদ্ধি ও চঞ্চলতা সুপ্ত ছিল না, তখন থেকেই এটি ছিল আমার আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এবং ব্যাকুল হৃদয়ের কাম্য বস্তু। এটি ছিল আমার সুগন্ধি যা আমি আঘ্রাণ করতাম এবং আমার সান্ত্বনা যখন আমি চিন্তিত হতাম। এটি ছিল আমার রসনার গুঞ্জন এবং আমার পছন্দের শ্রেষ্ঠ বস্তু।এমনকি আমি কামনা করতাম যদি আমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেবল চোখ হতো যা একে দেখবে—যাতে এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্তি না আসে, এবং যদি সব চিন্তা একে স্মরণে রাখত—যাতে তা মুখস্থ করতে ক্লান্তি না আসে, এবং যদি সব জিহ্বা এর পুনরাবৃত্তি করত—এই শর্তে যে কেবল শব্দ উচ্চারণে তা সন্তুষ্ট হবে না।অতঃপর আমার মনে উদয় হলো যে, আমি এর পরিশিষ্ট রচনায় সচেষ্ট হই এবং আমার কাছে সংগৃহীত সেই কবিতাগুলোর মাধ্যমে এর অনুকরণ করি। আমার উদ্দেশ্য হলো চিন্তাকে ব্যস্ত রাখা, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া নয়। নতুবা আমি কে যে আমার কথা আলোচিত হবে, কিংবা আমি হোঁচট খেলে আমাকে মার্জনা করা হবে। বিশেষ করে যখন আমি সেই ব্যক্তির সাথে তুলনীয় হই যার সাথে আমি বাকপটুতার ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছি, অথবা সেই ব্যক্তির সাথে যুক্ত হই যার সাথে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি—অথচ আমি তাঁর কলম মেরামত করারও যোগ্য নই। আমি যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাতাম এবং রাজসিংহাসন স্পর্শ করতাম, আর নক্ষত্রপুঞ্জকে অলঙ্কার হিসেবে এবং ছায়াপথের ফুলগুলোকে শব্দ হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবুও আমি তাঁর মকামে পৌঁছাতে পারতাম না এবং তাঁর নিপুণতার ধারেকাছেও যেতে পারতাম না।তাই আমি অগ্রসর হলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেন তিনি একে সহজ করে দেন, আর আমি সেই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি যার আমি যোগ্য নই। আমি এমন কিছু ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করেছি যাদের মাধ্যমে কাগজের পৃষ্ঠাসমূহ উজ্জ্বল হয়েছে এবং তাদের কবিতার পঙক্তিগুলোকে পুনর্জীবিত করেছি যা প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল। প্রতিটি শব্দ ঘ্রাণকারীর নিকট বাগানের ফুলের সুগন্ধের চেয়েও কোমল এবং প্রেমিকের সামনে প্রিয়ার হাসির চেয়েও অধিক মনোরম।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٣)
وأتيت فيهم بفصول تشهد لهم بالتفضيل، وتقضي بأن كل وصف فيهم فضول، بالإجمال والتفصيل.وإني محاسب لقلبي إذا مال، وللساني إذا قال. لا أمدح إلا ممدوحاً، ولا أقدح إلا مقدوحاً. ولا يستفزني رعد كل سحابة، ولا يستخفني طنين كل ذبابة. ورقمت من الكلام المصرع، والإنشاء السلس المرصع. ما استنبطته من ذوات الصدر، وألمعت به كالقمر ليلة البدر. فقراً ابتدعتها وسجعتها، ومعاني آدابٍ اخترعتها وألمعتها. تطرزها الأقلام، وترقم بها أردية الكلام. ولم أودع إلا ما حسن إيداعه، ولطف مساغه وإبداعه. وأقنع من القول بطرفه، وأستجلب منه بدائع طرفه. إذ لا فخر للاقط، تناول كل ساقط. ولا فضل لمتخير، هو في لم شعث ما يأتي به متحير.فكم من بيت إذا أخذ الإذن على الأذن تتجرعه ولا تكاد تسيغه، وكم من معنى إذا حاول ناظمه لم يتأت له كيف يصوغه.وكنت عزمت على ألا أترجم أحداً ممن ترجمه، ثم عدلت؛ لأني رأيت ألسنة النقاد عن زيف بعض تراجمه مترجمة.فإنه وإن نوه بحزب، إلا أنه قصر في الإطراء بشعارهم، وإن أطنب في آخرين؛ إلا أنه لم يذكر عيون أشارهم.على أنه نور الله مزاره، ومحى من صحيفته يوم العرض أوزاره أغفل من القوم حزباً نقايا، وكأنه أومأ إلى قولهم: في الزوايا خبايا.فذكرت من أغفله ذكراً شافياً، وأعدت مما فوته قدراً كافيا. ومن نظر بعين الإنصاف، واتصف من المعدلة بأحسن الأوصاف. علم بأني أتيت بما يرضى في الجملة، ولم يقصر كل التقصير في الحملة.فإن من أحسن قبلي وقبل كلامه، وقل في مثل هذا الغرض ملامه، إنما أحسن والدنيا شابة، وريح القبول هابة. والأيام مساعفة، والأوقات مساعدة. والسعود قائمة، والنحوس نائمة.وأنا قد وجدت في زمان هرمت فيه البلغة، وفترت الدعوة وكسدت السلعة، وبطلت الصنعة.وأعظم شيء في الوجود تمنعاً … نتاج مرام من عقيم زمانوقد رتبت الكتاب على ثمانية أبواب: الباب الأول: في محاسن شعراء دمشق ونواحيها.الباب الثاني: في نوادر أدباء حلب.الباب الثالث: في نوابغ بلغاء الروم.الباب الرابع: في ظرائف ظرفاء العراق والبحرين.الباب الخامس: في لطائف لطفاء اليمن.الباب السادس: في عجائب نبغاء الحجاز.الباب السابع: في غرائب نبهاء مصر.الباب الثامن: في تحائف أذكياء المغرب.وسميته نفحة الريحانة، ورشحة طلاء الحانة. والله سبحانه موفقي لما أردته، ومسدي فيما أوردته.ولما شارفت فيه التمام، ووقفت في التبييض على طرف الثمام. نظرت فرأيت بقي علي من أشعار أهل الحجاز واليمن حصة يسيرة، كانت علي في التحصيل عسيرة. فحين من الله علي، وله المنة، والمنحة التي لا يشوبها كدر المحنة. بالحج والمجاورة في بيته المحترم، وبسمت لي من أهله ثغور الفضل والكرم. حصلت على ضالتي التي أنشد، ووفقت إلى من يوصل إليها ويرشد. ورأيت ثمة ممن لم أسمع بهم قوماً دعوا الأمل فلباهم، وتصرفوا بالأدب وأهله من منذ عقدت عليهم حباهم. من كل إمام شاب رأس المصابيح وما رأت له عديلاً، وخطيب تقوس ظهر المحاريب وما وجدت له بديلاً. وحكيم يبرأ به الزمان من مرضه، وشاعر يجري حياة النفوس في غرضه. هم نشاط الدهر وشبابه، وخالصة المجد ولبابه.كأن الله قد أوحى إلى البلاغة أن تجري بمرادهم، وعهد إلى البراعة أن تكون ثنى أبرادهم.فهبت لي منهم أنفاس ندية، وتنفست أسحارهم بروائح ندية. فكانت أعطر من نشر الخزامى، وأرق من أنفاس النعامى.فتناولت من أشعارهم ما نمقته وشياً مذهباً بذكرهم، وفتقته مسكاً أذفراً بشكرهم. وراسلوني بكل حسنة تستدعي عشر أمثالها، فقابلتهم كأنني المرآة ألقى كل صورة بمثلها. وأنا ورب الكعبة أ؛ بهم ديناً وجبلة، وأتخذهم حرماً لأماني وقبلة.وأشكرهم شكر الروض للسما، وأثني عليهم من الأرض إلى السما. ولما برزت الإرادة الإلهية بمفارقتي البيت والمقام، وبعدي عن ذلك المحل الذي خيم الرضا فيه وأقام. عزمت على الرحلة إلى القاهرة، لأسبر ذلك الجمع، وأطابق ما بين العيان والسمع. فمنعني حكم القضا، الذي لا يقابل إلا بالرضا. فوجهت وجهي نحو بلادين ونزعت إلى ما تركته من طريفي وتلادي. أستهدي طرف الآثار لأودعها كتاب التحائف، وأخط نونات المنى بأيدي العيس في تلك الصحائف.
আমি তাদের সম্পর্কে এমন সব পরিচ্ছেদ উপস্থাপন করেছি যা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং সপ্রমাণ করে যে তাদের প্রতিটি গুণাবলিই—সারসংক্ষেপ ও বিস্তারিত উভয় দিক থেকেই—অত্যন্ত উচ্চমানের।আর আমি আমার হৃদয়ের কাছে জবাবদিহি করি যখন তা ঝুঁকে পড়ে, এবং আমার জিহ্বার কাছে যখন সে কথা বলে। আমি কেবল প্রশংসিত ব্যক্তিরই প্রশংসা করি এবং কেবল নিন্দিত ব্যক্তিরই নিন্দা করি। কোনো মেঘের গর্জন আমাকে বিচলিত করে না এবং কোনো মাছির ভনভনানি আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করতে বাধ্য করে না। আমি ছন্দোবদ্ধ বাক্য এবং অলংকৃত ও সাবলীল গদ্য রচনা করেছি; যা আমি আমার অন্তরের গভীর থেকে আহরণ করেছি এবং পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো উদ্ভাসিত করেছি। আমি এমন কিছু স্তবক উদ্ভাবন করেছি ও অন্ত্যমিল দিয়েছি এবং শিষ্টাচারের এমন কিছু ভাবধারা সৃষ্টি ও প্রোজ্জ্বল করেছি, যা কলম দিয়ে সূচিকর্ম করা হয়েছে এবং বাক্যের অলঙ্কার হিসেবে অঙ্কিত হয়েছে। আমি কেবল সুন্দর ও রুচিসম্মত বিষয়গুলোই এখানে গচ্ছিত রেখেছি। আমি বাক্যের শ্রেষ্ঠ অংশটুকুর ওপর তুষ্ট থাকি এবং এর অপূর্ব বৈচিত্র্যগুলো আহরণ করি। কেননা, প্রতিটি অসার কথা কুড়িয়ে নেওয়ার মধ্যে কোনো গৌরব নেই, আর যে ব্যক্তি অগোছালো কথাগুলো গুছিয়ে আনতে দ্বিধাগ্রস্ত হয় তার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।এমন অনেক পঙক্তি রয়েছে যা কানে প্রবেশ করার অনুমতি নিলেও তা পান করা কঠিন এবং হজম করা দায়; আবার এমন অনেক ভাব রয়েছে যা রচয়িতা প্রকাশ করতে চাইলেও তা রূপদান করা তার জন্য সম্ভব হয় না।আমি সংকল্প করেছিলাম যে, যাকে অন্য কেউ জীবনীগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছে তার জীবনী আমি লিখব না; কিন্তু পরে আমি সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। কারণ আমি দেখেছি যে, সমালোচকদের জিহ্বা পূর্ববর্তী কিছু জীবনীর অসারতা সপ্রমাণ করছে।কেননা তিনি যদিও একটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাদের নিদর্শনের প্রশংসায় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছেন; আবার অন্যদের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি করলেও তাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগুলো উল্লেখ করেননি।তা সত্ত্বেও—আল্লাহ তাঁর মাজারকে আলোকিত করুন এবং হাশরের ময়দানে তাঁর আমলনামা থেকে গুনাহসমূহ মুছে দিন—তিনি একদল খাঁটি মানুষকে উপেক্ষা করেছেন; যেন তিনি তাদের এই প্রবাদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে: "কোণায় কোণায় গুপ্তধন লুকিয়ে থাকে।"তাই তিনি যাদের উপেক্ষা করেছিলেন, আমি তাদের কথা সবিস্তারে উল্লেখ করেছি এবং যা তিনি ছেড়ে গিয়েছিলেন তার পর্যাপ্ত অংশ পুনরায় বর্ণনা করেছি। যে ব্যক্তি ন্যায়ের দৃষ্টিতে দেখবে এবং ইনসাফের সর্বোত্তম গুণে গুণান্বিত হবে, সে জানতে পারবে যে আমি মোটের ওপর সন্তোষজনক কিছুই উপস্থাপন করেছি এবং আমার প্রচেষ্টায় মোটেও ত্রুটি করিনি।কেননা আমার আগে যারা ভালো কাজ করেছেন এবং যাদের কথা সমাদৃত হয়েছে, তারা এমন এক সময়ে ভালো করেছিলেন যখন পৃথিবী ছিল তারুণ্যে উদ্দীপ্ত এবং গ্রহণযোগ্যতার অনুকূল বায়ু ছিল প্রবহমান। দিনগুলো ছিল সহায় এবং সময় ছিল অনুকূল। সৌভাগ্য ছিল জাগ্রত আর দুর্ভাগ্য ছিল সুপ্ত।আর আমি এমন এক সময়ে উপনীত হয়েছি যখন পাণ্ডিত্য বৃদ্ধ হয়ে গেছে, আহ্বান স্তিমিত হয়ে পড়েছে, পণ্যের চাহিদা কমে গেছে এবং শিল্পকলা বিলুপ্ত হয়েছে।অস্তিত্বের মাঝে সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু হলো... … এক বন্ধ্যা সময় থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা।আমি বইটিকে আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি: প্রথম অধ্যায়: দামেস্ক ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কবিদের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে।দ্বিতীয় অধ্যায়: আলেপ্পোর সাহিত্যিকদের দুর্লভ রচনাবলি প্রসঙ্গে।তৃতীয় অধ্যায়: রোমের বাগ্মী পণ্ডিতদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে।চতুর্থ অধ্যায়: ইরাক ও বাহরাইনের রসিক ব্যক্তিদের কৌতুকপ্রদ বিষয় প্রসঙ্গে।পঞ্চম অধ্যায়: ইয়েমেনের সজ্জন ব্যক্তিদের সূক্ষ্ম রসিকতা প্রসঙ্গে।ষষ্ঠ অধ্যায়: হিজাজের মেধাবীদের বিস্ময়কর অবদান প্রসঙ্গে।সপ্তম অধ্যায়: মিশরের বিজ্ঞজনদের অদ্ভুত বিষয়াদি প্রসঙ্গে।অষ্টম অধ্যায়: মাগরেবের বুদ্ধিমানদের উপহারসমূহ প্রসঙ্গে।আমি এর নাম দিয়েছি "নাফহাতুর রায়হানা ওয়া রাশহাতু তিলায়িল হানা"। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাকে আমার অভিপ্রায়ের পথে তাওফিক দাতা এবং যা কিছু আমি উল্লেখ করেছি তাতে সাহায্যকারী।যখন আমি এটি সমাপ্ত করার কাছাকাছি পৌঁছলাম এবং পাণ্ডুলিপিটি চূড়ান্ত করার পর্যায়ে উপনীত হলাম, তখন দেখলাম যে হিজাজ ও ইয়েমেনের কবিদের কাব্যের একটি সামান্য অংশ বাকি রয়ে গেছে, যা সংগ্রহ করা আমার জন্য কঠিন ছিল। এরপর যখন আল্লাহ আমার ওপর অনুগ্রহ করলেন—আর সকল কৃতজ্ঞতা ও অনুদান তাঁরই যিনি কোনো দুঃখ-কষ্টের কালিমা স্পর্শ করতে দেন না—পবিত্র কাবা ঘরে হজ ও অবস্থান করার সুযোগ দানের মাধ্যমে, এবং সেখানকার শ্রেষ্ঠ ও উদার ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভে আমি ধন্য হলাম, তখন আমি আমার সেই কাঙ্ক্ষিত হারানো বস্তু খুঁজে পেলাম এবং এমন একজনের পথনির্দেশ পেলাম যিনি আমাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন। সেখানে আমি এমন একদল লোককে দেখলাম যাদের সম্পর্কে আগে শুনিনি; তারা যেন আকাঙ্ক্ষাকে আহ্বান করেছেন আর আকাঙ্ক্ষাও তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। তারা সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের সান্নিধ্যে সময় অতিবাহিত করেছেন। সেখানে ছিলেন এমন সব তরুণ ইমাম যাদের জ্ঞানের প্রদীপের সামনে অন্য কিছু ম্লান হয়ে যায় এবং যাদের সমকক্ষ দেখা যায় না; এমন সব খতিব যাদের বাগ্মিতার সামনে মিম্বরগুলো নুইয়ে পড়ে এবং যাদের কোনো বিকল্প নেই। আর এমন সব বিজ্ঞজন যাদের মাধ্যমে জমানার ব্যাধি দূর হয় এবং এমন সব কবি যারা তাদের কাব্যে প্রাণের স্পন্দন সঞ্চার করেন। তারা হলেন মহাকালের উদ্যম ও তারুণ্য এবং মর্যাদার নির্যাস ও সারবত্তা।মনে হয় যেন আল্লাহ অলঙ্কারশাস্ত্রকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী চলতে এবং পারদর্শিতাকে অঙ্গীকারবদ্ধ করেছেন তাদের চাদরের ভাঁজে মিশে থাকতে।তাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে স্নিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত হয়েছে এবং তাদের প্রভাতগুলো সুগন্ধি নিয়ে শ্বাস ফেলেছে। যা ল্যাভেন্ডারের সুবাসের চেয়েও সুরভিত এবং দখিনা বাতাসের চেয়েও কোমল।সুতরাং আমি তাদের কাব্য থেকে এমন কিছু গ্রহণ করেছি যা তাদের স্মরণে স্বর্ণখচিত অলঙ্কারের ন্যায় সুশোভিত করেছি এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় কস্তুরীর সুবাসে সুবাসিত করেছি। তারা আমার কাছে প্রতিটি সুন্দরের বিনিময়ে দশগুণ সুন্দর পাঠিয়েছেন, আর আমিও আয়নার মতো তাদের প্রতিটি প্রতিচ্ছবিকে অনুরূপভাবে গ্রহণ করেছি। কাবার রবের কসম! আমি দ্বীনি খাতিরে ও স্বভাবজাতভাবেই তাদের ভালোবাসি এবং তাদের আমার নিরাপত্তার আশ্রয় ও কিবলা হিসেবে গ্রহণ করি।আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যেমন বাগান বৃষ্টির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে, আর জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত তাদের প্রশংসা করি। যখন আমাকে বায়তুল্লাহ ও মাকামে ইবরাহিম থেকে বিদায় নেওয়ার ঐশ্বরিক ইচ্ছা প্রকাশ পেল এবং সেই স্থান থেকে দূরে যাওয়ার সময় হলো যেখানে সন্তুষ্টি তাবু গেঁড়েছে, তখন আমি কায়রোর উদ্দেশ্যে সফরের সংকল্প করলাম—যাতে আমি সেই জনসমাবেশ পরীক্ষা করতে পারি এবং যা কানে শুনেছি তার সাথে চাক্ষুষ দর্শনের মিল ঘটাতে পারি। কিন্তু তাকদিরের ফয়সালা আমাকে বাধা দিল, যা কেবল সন্তুষ্টির সাথেই গ্রহণ করা যায়। ফলে আমি আমার দেশের দিকে মুখ ফেরালাম এবং আমার সেই সহায়-সম্বল ও উত্তরাধিকারের দিকে ফিরে গেলাম যা আমি ছেড়ে এসেছিলাম। আমি দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শনগুলো উপহার হিসেবে প্রার্থনা করছি যাতে সেগুলো এই উপঢৌকন গ্রন্থে গচ্ছিত রাখতে পারি এবং সেই সব পাতায় দ্রুতগামী উটের সাহায্যে কামনার অক্ষরগুলো অঙ্কিত করতে পারি।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٤)
فلما ألقيت بدمشق عصا الترحال، وحليت في ساحتها عقدة الرحال. عمدت إلى مجموعي الذي انتحيت، وطلقي الذي إليه تنحيت. فصممت إلى الأصل ما تلقيته، وأثبت ما اخترته من الأشار وانتقيته. وحبب إلي الانعزال عن الناس، فلم أخالطهم في وحشة ولا إيناس.إلى أن ورد إلى دمشق الأستاذ زين العابدين البكري، وللحياة عطفة بشة، وللجذل نعمة هشة. للهضب رجاح احتبائه، وللنور المقدس جوهر حوبائه. فاستخرجني من مطمورة المنزل، وصيرني عن الهم في معزل. وأطلق أملي وكان معقولاً، وأعاد خاطري بعد الصدأ مصقولا.ففتقت في أوقاته مبسماً، واغتنمت للعمر الهني موسما. ورأيت بشراً يطرد وصيلا، وإقبالاً يتعاقب بكرة وأصيلا.وكان أشار إلي بالرحلة معه حين أن هم الرجعة، فتخلفت لعائق خلفني لولوعي، وخلى بين الغرام وضلوعي. ذاك ولوع للمجد لا لنجد، وغرام للعليا لا للأفيا. فلولا النفائس لم يحفل بالأدراج، ولولا الكواكبُ لم تحفظ الأبراج. ولا اتخذ الغمد لولا الحسام، ولولا الأرواح لم تؤلف الأجسام. فبقيت موزع الفكر، مقسم الأناة بين التصور والذكر. على أني وإن تباعدت المدائن، فأنا بولائه وصدق مودته دائن. وإن لم تنظمنا الركاب المسئدة، فقد انتظمت منا على المودة الأفئدة. وهذه علاقة تستجد كلما تتلى، لأنها ليست لغرض يبلى. بل علقته لأخلاقه لا لأعلاقه، وتعلقت بآدابه لا بأهدابه. وصرت أود لو طرت إليه كل مطار، وكنت معه على آمالٍ وأوطار. فبينما أنا أنتظر لقربه طريقاً، وأطلب للوصول إليه فريقاً رفيقاً. إذ قدم الشام المولى الهمام الأعظم عبد الباقي المعروف بعارف، قاضياً بمصر، وهو من إذا كنت أذكره أميل كغصن البانة الناعم النضر، وإذا ما رحت أشكره، أروح كأني قد خلقت من الشكر.وأجد نسيمه إذا تنسمته، كالمسك يفتق بالندى ويعطر، وأجتلي منه كلما توسمته خلقاً كزاهي الروض بل هو أعطر. من ابتسمت به الأيام وكانت عابسة، وأورقت غصون المنى بعد ما كانت يابسة. وأنار به وجه المان، وأخذ الأنام من الدهر توقيع الأمان. فإنه أمده الله بتوفيقه، وسدد سهام رأيه بتفويقه. نفرد بجمع الكمالات فلا يشرك، وتوحد في استيعاب المعلومات فلا يدرك. فمطلب الثناء فيه هين، ومركب الإطراء فيه لين. وإن من النعمة على المثني عيله، أنه لا يحذر أن تنسب نقيصة الكذب إليه. ولا ينتهي إلى محل في ثنائه، إلا وجد له عوناً في أثنائه. ومن سعادة جده، وبلوغه في الحظ نهاية حده، أنه إذا دعا له لم يجد عنه متخلفاً، وبل يرى كل راء وسامع إليه متحلفاً.فلما ترويت من ماء بشره، ونعمت ولله الحمد بتقبيل عشره. أنهضني القيام بذمته، إلى أن أكون في خدمته. فصحبته مصاحباً به المنى والأمل، وخدمته فكساني شرف الشمس في برج الحمل. ولما حللنا القاهرة أنزلني في حماه، وأحلني حيث تدفق سيب رحماه.وتوافق مع الأستاذ - مد الله في جاهه، وجمل النوع الإنساني بحياة أشباهه - على ترويج حظي، وفتحا بنظرهما إلى الأمنية لحظي. وخصاني من برهما الممتدة أطنابه، بما يعجز عنه إسهاب القول وإطنابه. ففتقا لساني بأمداحهما، ووزناني فرجحت سائر مداحهما.وأنا الآن في ظل رعايتهما مصاحب الراحة والدعة وأينما حللت نزلت على الرحب والسعة. فلهذا صفا فكري في هذه الأيام من الشوائب، وأمنت بعون الله وصمة النوائب. وشرعت بأمرهما في نسخ ما سودته أولاً وثانياً، ولم أكن لعنان عزمي ثانياً. وأنا سائل من واهب الآمال، أن يبيض وجهي يوم عرض الأعمال. ومن هنا أشرع فيما عمدت إليه، فأقول مفوضاً أمري إلى الله ومتكلاً عليه:الجزء الأول الباب الأولفي ذكر محاسن شعراء دمشقالشام ونواحيها لا زالت طيبة العرار والبشاموهي كما علمت من عهد أن دخلتها العرب، موطن كل أدب، لك فيه الأرب. وقد أنجبت في كل وقتٍ وأوان، بقادةٍ كل كلمةٍ منهم بديوان. حتى أرانا الله بقاياهم، وأطلعنا على خبايا زواياهم.فهم أئمة الفضل المتوجون بتيجان اللطافة والملاحة، وهم مطمح أنظار الأمل، فما غيرهم قيد العيون اللماحة.بهم تفضل أهل البلاد، وتصعد إلى أفق الثريا، وبهم يمس بستان الفكر بعد ظمائه ريًّا.
যখন আমি দামেস্কে আমার সফরের লাঠিটি রাখলাম (সফর শেষ করলাম) এবং এর প্রাঙ্গণে মালপত্রের বাঁধন খুললাম, তখন আমি আমার সেই সংকলনের দিকে মনোনিবেশ করলাম যা আমি প্রস্তুত করেছিলাম এবং যার প্রতি আমি ঝুঁকেছিলাম। আমি যা কিছু প্রাপ্ত হয়েছি তা মূলের সাথে সংযুক্ত করলাম এবং কবিতা থেকে যা আমি নির্বাচন ও বাছাই করেছি তা সেখানে সাব্যস্ত করলাম। মানুষের থেকে নির্জনতা অবলম্বন আমার নিকট প্রিয় হয়ে উঠল, ফলে আমি তাদের সাথে একাকীত্ব বা অন্তরঙ্গতা—কোনো অবস্থাতেই মেলামেশা করলাম না।অবশেষে দামেস্কে উস্তাদ জয়নুল আবেদিন আল-বাকরী আগমন করলেন, যাঁর আবির্ভাবে জীবন এক হাস্যোজ্জ্বল মোড় নিল এবং আনন্দের সতেজ নিয়ামত লাভ হলো। তাঁর উচ্চমর্যাদা পর্বতের মতো অটল এবং তাঁর পবিত্র নূরের সারবস্তু সুমহান। তিনি আমাকে ঘরের নির্জনতা থেকে বের করে আনলেন এবং আমাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করলেন। তিনি আমার আবদ্ধ আশাকে মুক্ত করে দিলেন এবং মরচে পড়ার পর আমার চিন্তাশক্তিকে পুনরায় মসৃণ ও উজ্জ্বল করলেন।ফলে আমি তাঁর সান্নিধ্যের সময়গুলোতে হাসিমুখ উন্মোচিত করলাম এবং জীবনের এক সুখময় সুযোগকে লুফে নিলাম। আমি এমন এক প্রফুল্লতা দেখলাম যা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এমন সৌভাগ্য যা সকাল-সন্ধ্যা ধারাবাহিকভাবে আসছে।তিনি যখন ফিরে যাওয়ার সংকল্প করলেন, তখন আমাকে তাঁর সাথে সফরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এক বাধার কারণে আমি পিছিয়ে পড়লাম যা আমাকে আমার আসক্তির কারণে আটকে রেখেছিল এবং আমার প্রেম ও হৃদয়ের মাঝে ব্যবধান তৈরি করেছিল। সেই আসক্তি ছিল মর্যাদার প্রতি, কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের প্রতি নয়; এবং সেই প্রেম ছিল উচ্চাশার প্রতি, কোনো ছায়ার প্রতি নয়। যদি মূল্যবান বস্তু না থাকতো তবে সিন্দুকের গুরুত্ব থাকতো না, আর নক্ষত্র না থাকলে রাশিচক্রের গুরুত্ব থাকতো না। তলোয়ার না থাকলে খাপ তৈরি করা হতো না, আর আত্মা না থাকলে দেহগুলো একত্রিত হতো না। ফলে আমি দ্বিধান্বিত চিন্তা ও অস্থিরতা নিয়ে কল্পনা ও স্মৃতির মাঝে বিভক্ত হয়ে রইলাম। যদিও শহরগুলো দূরে সরে গেছে, কিন্তু আমি তাঁর প্রতি আনুগত্য ও অকৃত্রিম ভালোবাসার ঋণে আবদ্ধ। যদি দ্রুতগামী উটের কাফেলা আমাদের একত্রিত নাও করে থাকে, তবুও আমাদের অন্তরগুলো ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। এটি এমন এক সম্পর্ক যা প্রতিবার পাঠের সাথে সাথে নতুনত্ব লাভ করে, কারণ এটি নশ্বর কোনো উদ্দেশ্যে নয়। বরং আমি তাঁর চারিত্রিক মাধুর্যের কারণে তাঁর প্রতি আসক্ত হয়েছি, তাঁর পোশাকের চাকচিক্যের জন্য নয়; এবং আমি তাঁর শিষ্টাচারের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি, তাঁর বাহ্যিক আবরণের সাথে নয়। আমার আকাঙ্ক্ষা হলো আমি যদি প্রতিটি পথে তাঁর কাছে উড়ে যেতে পারতাম এবং তাঁর আশা ও গন্তব্যের সঙ্গী হতে পারতাম। এমতাবস্থায় আমি যখন তাঁর নৈকট্য লাভের কোনো পথ খুঁজছি এবং সেখানে পৌঁছানোর জন্য কোনো বন্ধুপ্রতিম দল তালাশ করছি, তখনই শামে মহান ও উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব আব্দুল বাকী, যিনি আরিফ নামে পরিচিত, মিসরের বিচারক হিসেবে আগমন করলেন। যখন আমি তাঁর কথা স্মরণ করি, তখন আমি কোমল ও সতেজ গাছের ডালের মতো আনত হই, আর যখন তাঁর প্রশংসা করতে যাই, তখন মনে হয় যেন আমি কৃতজ্ঞতা দিয়েই সৃষ্টি হয়েছি।আমি যখন তাঁর সুগন্ধি অনুভব করি, তখন তা শিশিরসিক্ত কস্তুরীর মতো সুবাস ছড়িয়ে দেয়। আমি যখনই তাঁর গুণাবলি প্রত্যক্ষ করি, তখন তাঁকে প্রস্ফুটিত বাগানের চেয়েও অধিক সুগন্ধময় মনে করি। তাঁর মাধ্যমে দিনগুলো হাস্যোজ্জ্বল হয়েছে যা পূর্বে বিষণ্ণ ছিল, এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর আকাঙ্ক্ষার ডালগুলো সতেজ হয়েছে। তাঁর মাধ্যমে যামানার চেহারা আলোকিত হয়েছে এবং সৃষ্টিজগত কালচক্র থেকে নিরাপত্তার পরোয়ানা লাভ করেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজ তাওফীক দ্বারা সাহায্য করুন এবং তাঁর চিন্তার তীরকে লক্ষ্যভেদী করুন। তিনি সমস্ত পূর্ণতার সমাবেশে অনন্য যে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, এবং তথ্য আহরণে তিনি এমন অদ্বিতীয় যে তাঁকে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তাঁর স্তুতি গাওয়ার পথ অত্যন্ত সহজ এবং তাঁর প্রশংসার সওয়ারি অত্যন্ত সাবলীল। প্রশংসাকারীর জন্য এটি একটি বড় নেয়ামত যে, মিথ্যাচারের অপবাদ পাওয়ার কোনো ভয় তার নেই। তাঁর প্রশংসায় এমন কোনো স্থানে পৌঁছানো যায় না, যেখানে পৌঁছানোর জন্য স্বয়ং প্রশংসিত ব্যক্তির মাঝে তার প্রমাণ পাওয়া যায় না। এটি তাঁর সৌভাগ্যের বহিঃপ্রকাশ এবং তাঁর ভাগ্যের চরম উৎকর্ষ যে, কেউ যদি তাঁর জন্য দোয়া করে তবে তার কোনো বিরোধী পাওয়া যায় না, বরং প্রত্যেক দর্শক ও শ্রোতা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।যখন আমি তাঁর সান্নিধ্যের প্রসন্নতা থেকে তৃপ্ত হলাম এবং আল্লাহর প্রশংসার সাথে তাঁর সেবা করার সৌভাগ্য লাভ করলাম, তখন তাঁর দায়িত্ব পালনের স্পৃহা আমাকে তাঁর খিদমতে নিয়োজিত হতে উদ্বুদ্ধ করল। আমি আকাঙ্ক্ষা ও আশা নিয়ে তাঁর সঙ্গী হলাম এবং তাঁর সেবা করলাম, ফলে তিনি আমাকে মেষ রাশির সূর্যের ন্যায় মর্যাদা দান করলেন। যখন আমরা কায়রোতে পৌঁছলাম, তিনি আমাকে তাঁর আশ্রয়ে স্থান দিলেন এবং তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের প্রবাহে আমাকে সিক্ত করলেন।উস্তাদ—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং মানবজাতিকে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বদের দ্বারা সুশোভিত করুন—তাঁর সাথে আমার ভাগ্যের উন্নয়নে একমত হলেন এবং তাঁরা উভয়েই তাঁদের সুদৃষ্টির মাধ্যমে আমার আকাঙ্ক্ষার দ্বার উন্মোচিত করলেন। তাঁরা আমাকে তাঁদের এমন ব্যাপক অনুগ্রহ দ্বারা ধন্য করলেন যা বর্ণনা করা দীর্ঘ বক্তব্যেও সম্ভব নয়। তাঁরা আমার জিহ্বাকে তাঁদের প্রশংসার জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন এবং আমার মূল্যায়ন করলেন, ফলে আমি অন্য সকল প্রশংসাকারীর চেয়ে অগ্রগণ্য হলাম।আমি এখন তাঁদের অভিভাবকত্বের ছায়ায় আরাম ও শান্তিতে রয়েছি এবং যেখানেই যাই না কেন, সমাদৃত ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকি। একারণে এই দিনগুলোতে আমার চিন্তা সকল প্রকার কলুষতা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং আল্লাহর সাহায্যে আমি বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ রয়েছি। আমি তাঁদের নির্দেশক্রমে আমার প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিগুলো অনুলিপি করতে শুরু করেছি এবং আমি আমার সংকল্প থেকে পিছু হটিনি। আমি আশা প্রদানকারী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমলনামা পেশ করার দিনে আমার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করেন। এখান থেকেই আমি আমার উদ্দিষ্ট বিষয়ের সূচনা করছি এবং নিজের কাজ আল্লাহর নিকট সোপর্দ করে ও তাঁর ওপর ভরসা করে বলছি:প্রথম খণ্ড প্রথম অধ্যায়দামেস্কের কবিদের গুণাবলি বর্ণনায়শাম ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ, যা সর্বদা সুগন্ধি গুল্ম ও বৃক্ষরাজি দ্বারা সুরভিত থাকুকআপনি যেমন জানেন, আরবদের আগমনের পর থেকে এটি প্রতিটি সাহিত্যের আবাসস্থল এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের স্থান। এটি প্রতিটি যুগে ও সময়ে এমন সব নেতা তৈরি করেছে যাঁদের প্রতিটি বাক্য একেকটি কাব্যগ্রন্থের সমান। এমনকি আল্লাহ আমাদের তাঁদের অবশিষ্টাংশ দেখিয়েছেন এবং তাঁদের লুক্কায়িত রত্নরাজির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।তাঁরা হলেন শ্রেষ্ঠত্বের ইমাম, যাঁরা কমনীয়তা ও সৌন্দর্য্যের মুকুটে ভূষিত। তাঁরা আশার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু, তাঁদের ব্যতীত তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অন্য কোনো আকর্ষণ নেই।তাঁদের মাধ্যমেই দেশবাসী শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে এবং সুরাইয়া নক্ষত্রের দিগন্তের দিকে আরোহণ করে, আর তাঁদের মাধ্যমেই চিন্তার বাগান পিপাসার্ত হওয়ার পর সিক্ত হয়।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٥)
فلا غرو أن قام بهم شعار الأدب وثبت، وغرس في قلوبهم شجر المحبة فسقي ذلك الغرس بمائها فنبت. وكللت حياض طروسهم الزاهية بجواهر كلامهم وكمالهم، وزينت بعقيان الدر من منطقهم المترجم عن حقائق أحوالهم وأقوالهم.فمنهم: أبو بكر بن منصور العمري قدمت هذا الشيخ رعايةً لاسمه، مع أني أعلم أن له القيام على حد الأدب ورسمه. فهو الذي خاض في لججه أتم الخوض، وتفنن في أقسامه تفنن الأزهار في سرحة الروض.إن نشط لمغازلة الغزلان فموصوف بظرف أبي عبادة، أو انتسب لنسيب قدود الغانيات فأين منه ابن ميادة. وإن انتدب لوصف الحميا والكاس، أنسى ذكر خمريات أبي نواس. وإن رثى عم مراثي أبي تمام، وأملى نياحة الفرخ على الحمام.فهو أعوم في بحور الشعر من ابن قادوس، واصلح إذ جد وهزل من ابن حجاج وابن عبد القدوس. له فكرة في النظم صافية، ما عوقت له قط قافية. فإذا أملى من نظمه قطعةً واختالها من روض الجنان مقتطعة، لم ينته له إسراع، ولم يجف له في يده براع.وليس بتزويق اللسان وصوغه … ولكنه ما خالط اللحم والدماوقد حلب الدهر أشطره، وملأ كتاب عمره أسطره. وحادث أحداثه، وبذ كهوله وأحداثه.وأخبرني والدي، قال: رأيته ولحيته أنقى من الفضة، وأيام حياته قاربت أن تصير منفضة. ومع أن السنين لاكت قواه، لم يزل مع الركب اليمانين هواه.ومضى زمنٌ وأدباء الشام به يحتفلون، ويحكم بينهم فيما هم مختلفون. وبلغني أنه كان يحضر السوق، وهو من كسب يمينه على جانبٍ من الوثوق عاملاً بالأثر: " لو كنت تاجراً لاتجرت بالطيب إن فاتني ربحه ما فاتني ريحه ".فانظر إلى ما ساقه كساد سوقه، وضيعة حقوقه. على أن له في سوقه الفضلاء أسوة، وكأنه استعار منهم لأشعاره كسوة.هاتان الفقرتان للباخرزي، احتجتهما، ففي هذا المحل أدرجتهما.قال: وهم؛ نصر بن أحمد الخبزرزي، وأبو الفرج الوأواء الدمشقي، والسري الرفاء الموصلي.قلت: وهم الذين إذا تليت آياتهم المنسوقة، كان من تقدمهم من الأدباء عندهم سوقة.أما نصر، فكان يصنع خبز الأرز بالبصرة وتجتمع الأدباء بحانوته.وأما أبو الفرج فقد كان يسعى بالفواكه رائحاً وغادياً، ويتغنى عليها منادياً.وأما السري، فقد كان يطرز الخلق، ويرفأ الخرق ويصف تلك العبرة، ويزعم أنه يسترزق الإبرة.وكيف ما كان فالحرفة لا تخلو من حرفة، والصنعة لا تنجو من صرعة، والبضاعة لا تسلم من إضاعة، والمتاع ليس لأهله به استمتاع.وأخبرت أنه كان سموحاً بما ملك، متخلياً عن الإمساك أيةً سلك. يضم يديه على النقدين، فلا يمسي إلا وهو منها صفر اليدين. وقضى عمره في بلهنيةٍ هنيةٍ، أغصان عيشها ما زالت جنية. لم يغادره بؤس، ولم يكدره يومٌ عبوس. بين رياضٍ مهزات نبتها ريانة، وغياضٍ أساجيع أطيارها مرنانة.وقد وقفت من أشعاره الغضة التحف، ما به ديباجة كتاب اللطائف والبدائع تحف. فأوردت منه ما يهز له الشيخ عطف غلام، ولا يدرى أسحرٌ هو أم كلام.فمنه قوله:لو تم لي في الحب سعدي … يا حب ما أخلفت وعديلكن مقادير القضا … ء كأنها حكمت ببعديأو حظُّ كلِّ متيمٍ … من حظه يرمَى بطرديا غائباً في القلب من … نيران فقدك أيَّ وقدِما كنت أدري قبل بع … دك أن سهم جفاك يُرديصدِيَت لرؤيتك العيو … ن علام ترميها بصدِّيا سيدي إن كان لي … ذنبٌ فقل أخطأت عبديما خنت عهدك في المحب … ة كيف حتى خنت عهديكلا ولا أفشيت سرَّ … هواك والأسرار عنديولهي بحبِّك لم يزل … ولهي ووجدي فيك وجديأرضى بأن أفنَى وتب … قى أنت يا مولاي بعديأخفيت حبك في الفؤا … د فخطه دمعي بخدِّيوعدا على جسمي النحو … لُ فعاد للأسقام يُعديمحن الهوى جمعت عليَّ … فلست أحصيها بِعَدِّفالسُّقم يشهد والدمو … ع بوحدتي في العشق وحدييا بدر سل عني السُّها … إن السُّها أدرى بسهدي
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে তাদের মাধ্যমে সাহিত্যের নিশান সমুন্নত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের অন্তরে মহব্বতের বৃক্ষ রোপিত হয়েছিল, যা সেই আধ্যাত্মিক সুধা দ্বারা সিক্ত হয়ে অঙ্কুরিত হয়েছে। তাদের উজ্জ্বল রচনাসমগ্রের জলাধারসমূহ তাদের বাচনভঙ্গি ও পূর্ণতার মণি-মুক্তা দ্বারা পূর্ণ হয়েছে এবং তাদের বাস্তব অবস্থা ও বাণীর অনুবাদক স্বরূপ বাগ্মিতার স্বর্ণোজ্জ্বল মুক্তামালা দ্বারা সুশোভিত হয়েছে।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবু বকর ইবন মানসুর আল-উমরি। আমি এই শায়খকে তার নামের সম্মানে অগ্রে স্থান দিয়েছি, যদিও আমি জানি যে সাহিত্যের সীমারেখা ও তার রীতি রক্ষায় তার বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি সাহিত্যের গভীর সমুদ্রে পূর্ণাঙ্গ অবগাহন করেছেন এবং এর বিভিন্ন শাখায় এমনভাবে বৈচিত্র্য এনেছেন যেমন বাগিচার প্রান্তরে পুষ্পরাজির বিচিত্রতা থাকে।তিনি যদি হরিণনয়নাদের সাথে প্রেমের খেলায় মেতে ওঠেন, তবে তিনি আবু উবাদাহর চতুরতায় ভূষিত হন; আর যদি তিনি সুন্দরী ললনাদের দেহের বর্ণনায় নিজেকে নিবেদন করেন, তবে ইবন মাইয়াদাহও তার কাছে তুচ্ছ। তিনি যদি মদ্য ও পানপাত্রের বর্ণনায় লিপ্ত হন, তবে আবু নুওয়াসের সুরা-সংগীতের কথা ভুলিয়ে দেন। আর যদি তিনি শোকগাঁথা রচনা করেন, তবে আবু তাম্মামের শোকগাথাকে ছাপিয়ে যান এবং কবুতরের বাচ্চার ওপর পাখির বিলাপের মতো করুণ সুর ঝরান।তিনি কাব্যসমুদ্রে ইবন কাদূসের চেয়েও দক্ষ সাঁতারু, এবং যখন তিনি গম্ভীর বা কৌতুকপূর্ণ আলোচনায় লিপ্ত হন তখন ইবন হাজ্জাজ ও ইবন আবদিল কুদ্দুসের চেয়েও অধিক সংস্কারক। তার কাব্যচিন্তা অত্যন্ত স্বচ্ছ, কোনো অন্ত্যমিল (কাফিয়া) কখনো তার পথে বাধা হতে পারেনি। তিনি যখন তার কাব্যের কোনো অংশ আবৃত্তি করেন এবং জান্নাতের বাগান থেকে ছিঁড়ে আনা কোনো সুগন্ধি ফুলের মতো তা নিয়ে গর্ব করেন, তখন তার দ্রুততায় কোনো ছেদ পড়ে না এবং তার হাতের কলমও কখনো শুকিয়ে যায় না।আর এটি কেবল জিহ্বার অলংকরণ বা কৃত্রিম গঠন নয় … বরং এটি এমন কিছু যা তার রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে গেছে।তিনি কালের সকল চড়াই-উতরাই দেখেছেন এবং তার জীবন-পুস্তকের পৃষ্ঠাগুলো অভিজ্ঞতায় পূর্ণ করেছেন। তিনি কালের নব নব ঘটনার সাথে পরিচিত হয়েছেন এবং প্রবীণ ও নবীন উভয়কেই অতিক্রম করে গেছেন।আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি তাকে দেখেছি, তার দাড়ি ছিল রূপার চেয়েও উজ্জ্বল শুভ্র, আর তার জীবনের দিনগুলো নিঃশেষিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। যদিও বার্ধক্য তার শক্তিকে গ্রাস করেছিল, তবুও তার অন্তর ইয়েমেনি কাফেলার প্রতি অনুরাগী ছিল।একটি সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন শামের সাহিত্যিকরা তাকে নিয়ে গর্ব করতেন এবং তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যে তাকেই বিচারক মানতেন। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বাজারে উপস্থিত হতেন এবং নিজ হাতের উপার্জনের ওপর অগাধ আস্থা রাখতেন। তিনি এই উক্তির ওপর আমল করতেন: "যদি আমি ব্যবসায়ী হতাম তবে সুগন্ধি দ্রব্য নিয়েই ব্যবসা করতাম; যদি তার মুনাফা নাও পাই তবে তার সুঘ্রাণ তো পাবোই।"সুতরাং লক্ষ্য করুন, বাজারের মন্দা অবস্থা এবং তার প্রাপ্য অধিকারের হানি তাকে কোথায় নিয়ে ঠেকেছে। যদিও গুণীজনদের বাজারে তার জন্য উত্তম আদর্শ বিদ্যমান ছিল, যেন তিনি তাদের থেকেই তার কাব্যগ্রন্থের আবরণ ধার করেছেন।এই অনুচ্ছেদ দুটি বাখারযির; আমার প্রয়োজন হওয়ায় আমি এখানে তা সন্নিবেশিত করেছি।তিনি বলেন: তারা হলেন নাসর ইবন আহমাদ আল-খুবযারুযযি, আবু আল-ফারাজ আল-ওয়াওয়া আল-দিমাশকি এবং আস-সারী আর-রাফ্ফা আল-মাওসিলি।আমি বলছি: তারা হলেন সেই সব ব্যক্তি যাদের সুশৃঙ্খল পঙক্তিগুলো যখন পাঠ করা হয়, তখন তাদের পূর্ববর্তী সাহিত্যিকগণও তাদের কাছে সাধারণ প্রজা বলে গণ্য হন।নাসরের ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি বসরায় চালের রুটি তৈরি করতেন এবং সাহিত্যিকরা তার দোকানে সমবেত হতেন।আবু আল-ফারাজের ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি দিনরাত ফল কেনাবেচা করতেন এবং ফেরি করার সময় ছন্দ গেয়ে ডাকতেন।আস-সারীর ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি পুরনো কাপড়ে নকশা করতেন এবং তালি দিতেন; তিনি নিজের অশ্রুর বর্ণনা দিতেন এবং দাবি করতেন যে সুইয়ের মাধ্যমেই তার রিজিক আসে।পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, পেশা বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত নয়, শিল্প বিপর্যয় থেকে নিরাপদ নয়, সম্পদ অপচয় থেকে সংরক্ষিত নয় এবং পার্থিব সামগ্রী তার মালিককে পূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারে না।আমাকে জানানো হয়েছে যে তিনি তার মালিকানাধীন সব কিছুর ব্যাপারেই অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং কৃপণতা ত্যাগ করে উদারতার পথে চলতেন। তিনি দুহাতে অর্থ দান করতেন, ফলে দিনশেষে তার হাত শূন্য হয়ে যেত। তিনি তার জীবন অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ও শান্তিতে অতিবাহিত করেছেন, যার জীবন-বৃক্ষের শাখাগুলো সর্বদা ফলবান ছিল। কোনো দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করেনি এবং কোনো বিষাদময় দিন তাকে বিচলিত করতে পারেনি। তিনি এমন এক সতেজ বাগিচায় বাস করতেন যার লতাগুল্ম ছিল রসে টইটম্বুর, এবং এমন অরণ্যে যেখানে পাখিদের কুজন ছিল অত্যন্ত সুমধুর।আমি তার সতেজ কাব্যসম্ভার ও চমৎকার উপহারগুলো পাঠ করেছি, যার মাধ্যমে 'কিতাবুল লাতায়েফ ওয়াল বাদায়ে'র মুখবন্ধ সুশোভিত হয়েছে। আমি সেখান থেকে এমন কিছু অংশ চয়ন করেছি যা বৃদ্ধের মনেও তরুণের উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে; আর বোঝা যায় না যে এগুলো যাদু নাকি নিছক কথা।তার কবিতার অংশবিশেষ নিম্নরূপ:প্রেমে যদি আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতো … হে প্রিয়, আমি কখনো তোমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতাম না।কিন্তু তকদিরের লিখন যেন … আমার বিচ্ছেদেরই ফয়সালা করেছে।অথবা প্রতিটি প্রেমিকের ভাগ্যই এমন … যে তার নসিব থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়।হে আমার হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা সত্তা … তোমার বিচ্ছেদের অগ্নি কি প্রবল শিখায় জ্বলছে!তোমার বিচ্ছেদের আগে আমি জানতাম না … যে তোমার অবহেলার তীর আমাকে এভাবে নিথর করে দেবে।তোমার দর্শনের তৃষ্ণায় আমার চোখ দুটো মরিচাপড়া শুষ্ক … কেন তুমি তবে অবজ্ঞার তীরে তা বিদ্ধ করছো?হে আমার অধিপতি, যদি আমার কোনো অপরাধ থাকে … তবে বলো "হে আমার দাস, তুমি ভুল করেছ"।আমি প্রেমে তোমার অঙ্গীকার ভঙ্গ করিনি … তবে কেন তুমি আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে?কখনো না, আমি তোমার প্রেমের রহস্য ফাঁস করিনি … যদিও সকল গোপন রহস্য আমার কাছেই গচ্ছিত।তোমার প্রতি আমার অনুরাগ এখনো অমলিন … তোমার জন্য আমার ব্যাকুলতা আগের মতোই চিরস্থায়ী।আমি বিলীন হয়ে যেতে রাজি আছি, যেন তুমি … হে আমার মওলা, আমার পরেও চিরঞ্জীব থাকো।আমি আমার অন্তরে তোমার প্রেম লুকিয়ে রেখেছি … কিন্তু চোখের পানি তা আমার গালে লিখে দিয়েছে।দুর্বলতা আমার দেহের ওপর চড়াও হয়েছে … ফলে এখন এটি ব্যাধি ছড়ানোর মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রেমের যাতনা আমার ওপর পুঞ্জীভূত হয়েছে … আমি গণনায় তা শেষ করতে পারছি না।আমার এই অসুস্থতা ও অশ্রুই সাক্ষী দিচ্ছে … প্রেমের এই একাকীত্বের ময়দানে আমি কতটা নিঃসঙ্গ।হে পূর্ণিমার চাঁদ, আমার বিনিদ্র রজনী সম্পর্কে সুহা নক্ষত্রকে জিজ্ঞেস করো … নিশ্চয়ই সুহা আমার নির্ঘুম রাত সম্পর্কে অধিক অবগত।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٦)
وابعث رسول الطيف يس … مع ما أعيد له وأبديآهاً على زمنٍ مضى … لو كان قولي آه يجديأيام وصلٍ منك لم … تقطع ولم توصل بردِّوالشمل يجمعنا على … حبٍّ يودُّ بصدق ودِّوأضمُّ منك معاطفاً … بردت جوى وجدي ببردِوتميل إذ تهوي إلى … نحوي وجيدك فوق زنديوتقول عجباً هل يرى … مثلي وأهل الحسن جنديوالشمس والبدر المني … ر سناه جاريتي وعبديوالغصن يقصف قدُّه … إن قاس قامته بقدِّيومنحتني منك الوصا … ل تبرعاً وهجرت صديفجعلت وجهك حضرتي … وحديث راح لماكَ ورديوعلمت لما بان رو … ضُ الوجه أن الخدِّ ورديوشهدت لما ذقت طع … م الريق أن الثغر شهديوالفرق يشرق صبحه … في ليل فرعٍ منه جعدفأطعت فيك صبابتي … وعصيت لوَّامي وزهديوقضيت أوطاري وقد … غفل الرقيب فنلت قصديوالخصر أتهمني بأني … بتُّ في أكناف نجدِوالردف زاد وقد تكف … ل منةً منه برفديأحبب بتلك ليالياً … قد أشرقت ببدور سعديفسقا معاهد للصبا … صوب العهاد بكلِّ عهدِوسرت بها روح الصَّبا … سحراً فأوحيت ميت بعديوقوله من قصيدة مستهلها:إن خلعنا على العذار العذارا … لم يكن ذاك في المحبة عارامنها:بأبي من جآذر التُّرك ظبياً … ترك الأُسدَ في هواه أُسارىبابليُّ اللِّحاظ منها ترى النَّا … س سكارى وما هم بسكارىقمرٌ فوق بانةٍ يتجلى … لا خسوفاً يخشى ولا إهصاراتخذ الطَّرف منهلاً عند مس … راه ولكن تبوأ القلب داراقد علمنا أن القدود غصونٌ … فلماذا أقلت الأقماراوعهدنا البدور في الليل تسري … كيف حتَّى غدت تسير نهاراوعجبنا لوجنةٍ تشبه النا … ر ضراماً وتنبت الجلَّنارايا لها وجنةٌ حكت جنة الحس … ن ومنها الفؤاد آنس ناراومنها:قدِّم الرَّاح يا نديمي لعلِّي … أعقر الهم إن شربت العقاراوأجِل كاساتها عليَّ وزمزم … باسم من صير العقول حيارىقهوةٌ مثل دمعة العين في الكا … س صفاءً فالليل زاد اعتكاراوأدرها إذا النجوم تجلت … وشهدنا من زهرها الأنواراوكأنَّ السماء روضة حسنٍ … أطلعت في مقامنا أزهاراوالثُّريا كأنها في الدُّجى غي … دٌ تلَّفعن بالشُّعور عذاراوكأن الهلال يحكي وقد لا … ح من الغرب زورقاً أو سوارافاسقني من يديك حتَّى ترى الفج … ر عن الصُّبح قد أماط الإزاراوصل الليل بالنهار فإن ال … عيش أهناه ما يكون جهارافي رياضٍ حكى بها الزَّهر والور … د النَّضيران فضَّةً ونُضاراوكأن الأقاح فيها ثغورٌ … عن غوالي الجُمان تبدي افتراراوحكى النَّهر مَعصماً وسواراً … يتلوَّى وأرقماً سيَّارافاترع الكأس لا عدمتك صرفاً … فعلى الصِّرف نصرف الأعماراثم زد ما استطعت حتى تراني … قد خلعت الوقار والبيقاراواعتقد أنها حرامٌ ووزرٌ … لا توافق يهودها والنَّصارىواسأل العفو فالكريم رحيمٌ … قابل التوب يغفر الأوزاراوله في الغزل:سيِّدي مذ غبت عن نظري … لم أفق من خمرة الكدر
এবং কল্পনার দূতকে পাঠাও যে … আমার পুনরাবৃত্তি ও প্রকাশের সাথে সাথে চলে।হায়! সেই অতীত সময়ের তরে … যদি আমার 'হায়' বলা কোনো কাজে আসত! তোমার সাথে মিলনের দিনগুলোতে যা … ছিন্ন হয়নি এবং প্রত্যাখ্যানে পর্যবসিত হয়নি।মিলন আমাদের একত্রিত করে … এমন এক ভালোবাসায় যা অকৃত্রিম বন্ধুত্বের দাবি রাখে।আর আমি তোমার অঙ্গগুলো জড়িয়ে ধরি … যা আমার বিরহ-ব্যথার দহনকে শীতলতা দিয়ে জুড়িয়ে দেয়।তুমি আমার দিকে ঝুঁকে পড়ো যখন তুমি ঢলে পড়ো … আর তোমার গ্রীবা থাকে আমার বাহুর ওপর।তুমি বিস্ময়ভরে বলো, আমার মতো কি কেউ দৃষ্ট হয়? … যখন সৌন্দর্যের অধিকারীরাই আমার সৈন্যদল।সূর্য এবং উজ্জ্বল পূর্ণিমা চাঁদ … যাদের জ্যোতি আমার দাসী ও দাসের মতো।পল্লব তার দেহবল্লরীকে তুচ্ছ জ্ঞান করে … যদি সে তার উচ্চতাকে আমার দেহবল্লরীর সাথে তুলনা করে।তুমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে মিলন দান করেছ … আর আমার বিমুখতাকে বর্জন করেছ।তাই আমি তোমার চেহারাকে আমার উপস্থিতির কেন্দ্র করেছি … আর তোমার ওষ্ঠাধরের আলোচনাকে করেছি আমার পানের উৎস।আমি জেনেছি যখন চেহারার উদ্যান প্রস্ফুটিত হলো … যে গালগুলো হলো গোলাপের মতো।আর আমি সাক্ষ্য দিয়েছি যখন লালার স্বাদ গ্রহণ করেছি … যে মুখগহ্বর হলো মধুর মতো।সিঁথির শুভ্রতা ভোরের মতো উজ্জ্বল হয় … কুঞ্চিত কেশের কালো রজনীর মাঝে।আমি তোমার প্রতি আমার অনুরাগের আনুগত্য করেছি … আর অবজ্ঞা করেছি আমার নিন্দুক ও সংসারবিরাগীদের।আমি আমার মনোবাসনা পূর্ণ করেছি যখন … প্রহরী ছিল গাফেল, ফলে আমি আমার উদ্দেশ্য হাসিল করেছি।ক্ষীণ কটি আমাকে অভিযুক্ত করেছে যে আমি … নজদ অঞ্চলের পার্শ্বদেশে রাত কাটিয়েছি।নিতম্বের গুরুভার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সে … অনুগ্রহ করে আমার সাহায্যের ভার গ্রহণ করেছে।কতই না প্রিয় সেই রাতগুলো … যা আমার সৌভাগ্যের পূর্ণিমা চাঁদে উদ্ভাসিত হয়েছিল।যৌবনের সেই স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণগুলোকে সিক্ত করুক … প্রতিটি সময়ের মুষলধারে বৃষ্টি।আর তাতে প্রবাহিত হয়েছে পুবালি বাতাসের প্রাণ … শেষ রাতে, ফলে তা আমার পরের মৃতকেও জীবিত করেছে।তার একটি কবিতা থেকে যার শুরু এমন:যদি আমরা লোকলজ্জা বিসর্জন দিই … তবে ভালোবাসায় তা কোনো কলঙ্ক নয়।তা থেকে অংশবিশেষ:আমার পিতা উৎসর্গ হোক তুর্কি হরিণ শাবকের ন্যায় সেই সুন্দরের তরে … যে সিংহদের তার প্রেমে বন্দী করে ছেড়েছে।বাবিলীয় জাদুময় দৃষ্টি তার, যার প্রভাবে মানুষকে … মাতাল দেখায়, অথচ তারা আসলে মাতাল নয়।সে যেন উইলো শাখার ওপর এক পূর্ণিমা চাঁদ যা প্রকাশিত হয় … সে না ভয় পায় গ্রহণকে, আর না কোনো ক্ষয়কে।সে তার পথচলায় দৃষ্টিকে পানের আধার করেছে … কিন্তু অন্তরকেই সে নিজের ঘর বানিয়ে নিয়েছে।আমরা জেনেছি যে মানুষের দেহবল্লরী হলো পল্লবের মতো … তবে কেন তা পূর্ণিমা চাঁদকে ধারণ করেছে? আমরা জানতাম যে পূর্ণিমা চাঁদ রাতে পরিভ্রমণ করে … তবে কীভাবে তা দিবালোকেও চলতে শুরু করল? আমরা সেই কপোল দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছি যা আগুনের … লেলিহান শিখার মতো লাল, অথচ তা ডালিম ফুল উৎপন্ন করে।অপূর্ব সেই কপোল যা সৌন্দর্যের জান্নাতের কথা বলে … আর তা থেকে অন্তর আগুনের উত্তাপ অনুভব করে।তা থেকে আরও অংশ:হে আমার সহচর, মদিরা পেশ করো যাতে আমি … এই সুরা পানের মাধ্যমে দুশ্চিন্তাকে বিনাশ করতে পারি।এর পাত্রগুলো আমার চারদিকে ঘোরাও এবং গুঞ্জন করো … তাঁর নামে যিনি বুদ্ধিমানদের দিশেহারা করে দিয়েছেন।এমন এক মদিরা যা পাত্রের মাঝে চোখের অশ্রুর মতো … স্বচ্ছ, যখন রাত তার অন্ধকার বাড়িয়ে দেয়।এটি বিতরণ করো যখন নক্ষত্ররাজি প্রকাশিত হয় … আর আমরা তার পুষ্পিত রূপ থেকে আলো প্রত্যক্ষ করি।যেন আকাশ এক সৌন্দর্যের উদ্যান … যা আমাদের আসরে ফুল ফুটিয়েছে।আর কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জ যেন অন্ধকারের মাঝে সেই … নবযৌবনা নারী যারা তাদের চুলে ঘোমটা টেনেছে।আর মনে হয় উদীয়মান অর্ধচন্দ্র যখন সে পশ্চিম আকাশে দেখা দেয় … যেন একটি ছোট নৌকা বা একটি হাতের কঙ্কন।অতএব তোমার হাত থেকে আমাকে পান করাও যতক্ষণ না তুমি ভোরকে দেখো … যে সকালের পর্দা উন্মোচন করেছে।রাতের সাথে দিনের সংযোগ ঘটাও, কারণ জীবন … তখনই সবচেয়ে আনন্দদায়ক হয় যখন তা প্রকাশ্য হয়।এমন সব উদ্যানে যেখানে ফুল এবং সজীব গোলাপ … রূপা ও স্বর্ণের উপমা হয়ে ফুটে থাকে।যেন সেখানে চন্দ্রমল্লিকাগুলো দন্তপাটি … যা মূল্যবান মুক্তার মতো স্মিত হাসি প্রকাশ করছে।আর নদীটি যেন একটি হাতের কবজি ও কঙ্কন … যা আঁকাবাঁকা হয়ে বয়ে চলা এক সর্পের মতো।অতঃপর পাত্রটি পূর্ণ করো, আমি যেন তোমাকে খাঁটি সুরাহীন না পাই … কেননা এই খাঁটি মদিরাতেই আমরা আমাদের জীবন ব্যয় করি।তারপর তোমার সাধ্যমতো আরও ঢালো যতক্ষণ না তুমি আমাকে দেখো … যে আমি গাম্ভীর্য ও পরিমিতিবোধ বিসর্জন দিয়েছি।আর বিশ্বাস রেখো যে তা হারাম এবং পাপ … ইয়াহুদি ও নাসারাদের সাথে একমত হয়ো না।এবং ক্ষমা প্রার্থনা করো, কেননা মহানুভব (আল্লাহ) পরম দয়ালু … তিনি তওবা কবুলকারী এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন।প্রেমিকাসংক্রান্ত কবিতায় তার আরও পঙ্ক্তি:হে আমার প্রিয়, যখন থেকে তুমি আমার দৃষ্টির আড়ালে হয়েছ … আমি বিষণ্ণতার মত্ততা থেকে আর সজাগ হতে পারিনি।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٧)
أحسب الصُّبح العشا أبداً … فنهاري أوَّل السَّحرلم تمل روحي إلى وطنٍ … لا ولا قلبي إلى وَطَرِسل نجوم الأفق عن قلقي … فعسى تنبيك بالخبرلا وعينٍ فيك راقدةٍ … لم تذق عيني سوى السَّهرِأيُّها البدر الذي حجبوا … نوره الوضَّاحَ عن بصريلو ترى حالي بكيت على … قلبي المسجون في سقَرِكدت أخفى من ضنَى جسدي … عن عيون الجنِّ والبشرللشعراء في وصف نحول العشاق مبالغات غالبها محمولٌ على الإغراق، ومن أبلغها قول أبي بكر الخالدي:مهدَّدٌ خانه التفريق في أمله … أضناه سيِّده ظلماً بمرتحلهفرقَّ حتى لو أنَّ الدَّهر قاد له … حيناً لما أبصرته مقلتا أجلهوأعجب منه قول أبي الطيب:ولو قلمٌ ألقيت في شقِّ رأسه … من السُّقم ما غيَّرت من خطِّ كاتبوغريب قول التمار الواسطي:قد كان لي فيما مضى خاتمٌّ … واليوم لو شئت تمنطقت بهوذبت حتى صرت لو زجَّ بي … في مقلة النَّائم لم ينتبهوقول المظفر بن كيغلغ:عبدك أمرضته فعده … أتلفته إن لم تكن تردهذاب فلو فتَّشت عليه … كفَّك في الفرش لم تجدهوقول أبي الفضل بن العميد:لو أنَّ ما أبقيت من جسدي قذًّى … في العين لم يمنع من الإغفاءوللعمري:يا من يفوِّق لحظه … سهماً بسحر الهدب راشَهْأفديك ما ريمُ الصَّري … مِ فذاك ينسب للوحاشَهْيرعى من الأرض الحشي … ش وأنت مرعاك الحشاشَهْأجاد في التنظير، وأربى على قول الآخر:يرعى القلوب وترتعي ال … غزلان بروقه وشيحهوالبروقة: شجيرة تخضر إذا رأت السحاب؛ وذلك قولهم: " أشكر من بروقة ".وعلى هذا المعنى حمل قول أبي الطيب:أغِذاءُ ذا الرَّشاءِ الأغنِّ الشِّيحُبعد قوله:جللاً كما بي فَليكُ التَّبريحُيقول: ليكن تبريح الهوى عظيماً مثل ما حل بي، أتظنون أن من فعل بي يغتذي الشِّيحَ؛ ما غذاؤه إلا قلوب العشاق! وبه يتناسب شطرا البيت.وله غلام بحنكه طابعٌ تمَّت به محاسنه، وكأنما هاروت ساكنه:غصن بانٍ بدر دجًى … يتجلَّى من أعالي فلكهقد حمى برد اللَّمى من ثغره … طابع الحسن الذي في حنكهنصبت ألحاظه لي شركاً … جلَّ من أوقعني في شركهقوله: قد حمى إلخ يحتمل أن حمايته من جهة أنه كالخاتم، ختم به على برد اللَّمى، ويحتمل أن يكون حماه لكونه كالحفرة في طريق من يريد رشف لماه، فيخاف من الوقوع؛ وهذا تخيُّلٌ حسن.وأحسن منه قولي:وطابعه جبٌّ يُرَى ألف يوسفٍ … به واقعاً من قبل رشفة ريقهوالطابع كالخاتم: في الأصل ما يطبع به، ولم أر إطلاقه على النقرة المعهودة، وإنما اسمها في اللغة: نونَة.قال ابن الأثير في نهايته: وفي حديث عثمان رضي الله عنه، أنه رأى صبيَّاً مليحاً، فقال: دسموا نونته؛ كي لا تصيبه العين. أي سودوها، وهي النقرة التي تكون في الذقن.وقد استعمل صاحبنا الأديب البارع إبراهيم بن محمد السفرجلاني النُّونة، وأجاد في تشبيهها جداً، من أبيات أنشدنيها من لفظه، وبيت النُّونة منها قوله:وإن أشبه التُّفَّاح خدِّيَ حمرةً … فلي نونةٌ تحكي مناط عروقهوالأبيات هي هذه:بروحي ساقٍ قد جلا تحت فرعه … جبيناً كبدر التِّمِّ عند شروقهسقاني بنجلاويه كأساً من الهوى … فأسكرني أضعاف سكر رحيقهوقال افترع بِكرَ المعاني تغزُّلاً … فلي منظرٌ يهديك نحو طريقهفوجهي مثل الرَّوض إذ باكر الحيا … جَنيَّ أقاحيه وغضَّ شقيقهوإن أشبه التفاح....إلخ.ثم أنشدني المذكور معنًّى اخترعه في تسويدها، وذلك قوله:خافوا من العين ترميه بنظرتها … فقلت ميلوا إلى تسويد نونته
আমি প্রভাতকে সর্বদা সন্ধ্যা মনে করি … আর আমার দিন যেন শেষ রাতের সূচনামাত্র।আমার আত্মা কোনো স্বদেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি … আর আমার অন্তর কোনো পার্থিব কামনার প্রতিও ধাবিত হয়নি।দিগন্তের নক্ষত্রপুঞ্জকে আমার উৎকণ্ঠা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো … সম্ভবত তারা তোমাকে প্রকৃত খবরটি জানাতে পারবে।না, তোমার মধ্যে থাকা সেই নিদ্রিত চোখের শপথ! … আমার চোখ অনিদ্রা ছাড়া অন্য কিছুর স্বাদ গ্রহণ করেনি।হে পূর্ণিমা চাঁদ! যার উজ্জ্বল জ্যোতি তারা … আমার দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রেখেছে।তুমি যদি আমার অবস্থা দেখতে, তবে আমার সেই হৃদয়ের জন্য ক্রন্দন করতে … যা ‘সাকার’ (জাহান্নাম)-এ বন্দি হয়ে আছে।দেহের অতিশয় জীর্ণতার কারণে আমি জিন ও মানুষের দৃষ্টি থেকে … প্রায় অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হয়েছিলাম।প্রেমিকদের ক্ষীণকায় হওয়ার বর্ণনায় কবিদের এমন সব অতিরঞ্জন রয়েছে যার অধিকাংশই অতিশয়োক্তিপূর্ণ; তার মধ্যে আবু বকর আল-খালিদির এই উক্তিটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল:সে এক হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তি, বিচ্ছেদ যার আশার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে … তার অধিপতি তার থেকে দূরে গিয়ে জুলুমের মাধ্যমে তাকে জীর্ণ করে ফেলেছে।সে এতটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে যে, কাল যদি কোনো সময় তার কাছে … তার মৃত্যুর দূতকে নিয়ে আসে, তবে ভাগ্যের দুই চোখও তাকে দেখতে পাবে না।এর চেয়েও আশ্চর্যের হলো আবু তায়্যিবের এই উক্তি:যদি আমাকে কোনো কলমের মাথার ফাটলে রাখা হতো … তবে আমার এই রুগ্ন অবস্থার কারণে লেখকের লিখনশৈলীতে কোনো পরিবর্তন আসত না।তাম্মার আল-ওয়াসিতির এই উক্তিটিও অদ্ভুত:অতীতকালে আমার একটি আংটি ছিল … আর আজ আমি চাইলে তা কোমরবন্ধনী হিসেবে পরতে পারি।আমি গলে গিয়ে এমন হয়েছি যে, আমাকে যদি কোনো … ঘুমন্ত ব্যক্তির চোখের মণিতেও নিক্ষেপ করা হয়, তবে সে টেরও পাবে না।মুজাফফর বিন কায়গালাগের উক্তি:তোমার এই দাসকে তুমি অসুস্থ করেছ, তাই তাকে দেখতে এসো … যদি তুমি তাকে ফিরিয়ে না নাও তবে তুমি তাকে ধ্বংস করে ফেলবে।সে গলে নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাই বিছানায় তোমার হাত দিয়ে … যদি তাকে খুঁজতেও যাও, তবে তাকে আর খুঁজে পাবে না।আবু আল-ফজল বিন আল-আমীদের উক্তি:আমার শরীরের যতটুকু তুমি অবশিষ্ট রেখেছ, তা যদি চোখের ভেতরে ধূলিকণা হিসেবেও থাকত … তবে তা তন্দ্রাচ্ছন্ন হতে বাধা দিতে পারত না।আল-উমরির উক্তি:ওহে সেই ব্যক্তি, যার কটাক্ষ ভ্রুর জাদুতে সজ্জিত … তীরের পালক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করে।আমি তোমার জন্য উৎসর্গিত হই; প্রান্তরের হরিণ তো … বন্যতার প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।সে তো জমিনের ঘাস খায় … আর তোমার চারণভূমি হলো (প্রেমিকের) হৃদয়ের অন্তিম অংশ।তিনি উপমায় চমৎকারিত্ব দেখিয়েছেন এবং অন্যের এই উক্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন:সে অন্তরসমূহ ভক্ষণ করে (বিচরণ করে), আর হরিণরা বিচরণ করে … 'বারূকাহ' ও 'শীহ' (মরু উদ্ভিদ) এর মাঝে।'বারূকাহ' হলো এমন এক ছোট গুল্ম যা মেঘ দেখলেই সতেজ হয়ে ওঠে; এজন্যই প্রবাদ আছে: "বারূকাহর চেয়েও বেশি কৃতজ্ঞ।"এই অর্থেই আবু তায়্যিবের উক্তিটি গৃহীত হয়েছে:এই সুমিষ্ট হরিণ শাবকের খাদ্য কি ‘শীহ’ উদ্ভিদ?তার এই উক্তির পরে:আমার ব্যথার ন্যায় বেদনা যেন প্রবল হয়।তিনি বলতে চাচ্ছেন: প্রেমের যাতনা যেন আমার ওপর আপতিত যাতনার মতোই তীব্র হয়। তোমরা কি মনে করো যে, আমার সাথে এমন আচরণ করেছে সে কি ‘শীহ’ ঘাস খেয়ে জীবন ধারণ করে? তার খাদ্য তো প্রেমিকদের হৃদয় ছাড়া আর কিছুই নয়! আর এভাবেই কাব্যের দুই চরণের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছে।তার এমন এক কিশোর রয়েছে যার চিবুকে একটি তিলক বা চিহ্ন রয়েছে, যা তার সৌন্দর্যকে পূর্ণতা দিয়েছে; মনে হয় যেন হারূত (জাদুকর) সেখানে বাস করছে:সে যেন উইলোর শাখা এবং অন্ধকারের পূর্ণিমা চাঁদ … যা তার নক্ষত্রলোকের উচ্চ শিখর থেকে প্রকাশিত হচ্ছে।তার চিবুকের সেই সৌন্দর্যের তিলকটি তার ওষ্ঠাধরের … শীতল সুধাকে রক্ষা করেছে।তার কটাক্ষ আমার জন্য এক ফাঁদ পেতেছে … মহান সেই সত্তা যিনি আমাকে তার ফাঁদে নিপতিত করেছেন।তার এই উক্তি "সে রক্ষা করেছে…" এর অর্থ হতে পারে যে, এটি একটি সীলমোহরের মতো যা তার ওষ্ঠাধরের সুধাকে সীলগালা করে রেখেছে। আবার এমনও হতে পারে যে, এটি যেন অধরের সুধা পান করতে চাওয়া পথিকের পথের একটি গর্ত, যেখানে সে পড়ে যাওয়ার ভয় পায়; এটি একটি চমৎকার কল্পনা।এর চেয়েও সুন্দর আমার এই উক্তিটি:আর তার সেই তিলকটি যেন একটি কূয়া, যেখানে তার লালারস পানের আগে … সহস্র ইউসুফকে পতিত হতে দেখা যায়।‘তাবে’ (طابع) শব্দের মূল অর্থ হলো সীলমোহর বা যা দিয়ে ছাপ দেওয়া হয়। আমি একে চিবুকের গর্তের (টোল) অর্থে প্রয়োগ হতে দেখিনি; ভাষা বিজ্ঞানে এর নাম হলো ‘নূনাহ’ (نونة)।ইবনে আল-アスীর তার 'নিহায়া' গ্রন্থে বলেছেন: হযরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একটি অত্যন্ত সুন্দর বালককে দেখে বললেন: "তার নূনাহ বা চিবুকের টোলকে কালো করে দাও, যাতে তাকে নজর না লাগে।" অর্থাৎ একে কালো করে দাও; এটি হলো চিবুকের সেই ছোট গর্ত।আমাদের বন্ধু প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আস-সাফারজালানী এই 'নূনাহ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং এর উপমায় চমৎকারিত্ব দেখিয়েছেন; তিনি নিজের মুখে আমাকে কিছু কবিতা শুনিয়েছেন, যার মধ্যে নূনাহ সম্পর্কিত চরণটি হলো:যদি আমার গালের লাল আভা আপেলের সদৃশ হয় … তবে আমার একটি চিবুকের টোল (নূনাহ) আছে যা আপেলের বৃন্তের সংযোগস্থলের মতো।কবিতাগুলো হলো এই:আমার প্রাণ সেই সাকীর (পরিবেশনকারী) জন্য উৎসর্গিত হোক, যার অলকগুচ্ছের নিচে উদিত হয়েছে … পূর্ণিমা চাঁদের ন্যায় এক ললাট।সে তার ডাগর চোখ দিয়ে আমাকে প্রেমের সুধা পান করিয়েছে … যা আমাকে সুরা পানের চেয়েও বহুগুণ বেশি মাতাল করে দিয়েছে।সে বলল, প্রেমের কাব্যে অভিনব সব ভাবধারা চয়ন করো … আমার রূপ-লাবণ্যই তোমাকে সেই পথের দিশা দেবে।আমার মুখমণ্ডল যেন সেই বাগিচা যেখানে ভোরের বৃষ্টি … সতেজ চন্দ্রমল্লিকা আর কোমল রক্তপুষ্পকে সিক্ত করেছে।যদি আমার গালের লাল আভা আপেলের সদৃশ হয় … (ইত্যাদি)।অতঃপর উল্লিখিত ব্যক্তিটি সেই টোলকে কালো করার বিষয়ে একটি নতুন ভাবধারা আমাকে শুনিয়েছেন, তা হলো:তারা ভয় পাচ্ছিল পাছে নজর তার ওপর পড়ে … তাই আমি বললাম: তার চিবুকের টোলটি কালো করার দিকে মনোযোগ দাও।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٨)
قالوا نسوِّدها بالطِّيب قلت لهم … الطِّيب من غيره أحرى بجونتهوكنت أظن أن وصف الطابع ليس بالموجود في شعر المتقدمين، حتى رأيته في شعر فخر الدولة أبي المعالي، من شعراء الخريدة، حيث قال في غلام اسمه يوسف:أيا قمراً جار في حسنه … على عاشقيه ولم ينصفِسمعنا بيوسف في جبِّه … ولم نسمع الجبَّ في يوسفِثم رأيت الخفاجي ذكر في كتابه شفاء الغليل: جبُّ يوسف مولَّد، معناه نقرة الذقن. وأنشد البيتين.ثم قال: ويقال له خاتم الحسن.وأما النقرة التي تكون في الخدين عند التبسم، فقد استعملها كشاجم في أبياته المشهورة، وهي:هذا الذي سجد القضيب لقدِّه … صنمٌ لعابد فتنةٍ لاهوتفي ناظريه إذا تبسَّم ضاحكاً … سحرٌ وجوهر خدِّه ياقوتحفر التبسُّم فيهما جُبَّين في … ذيَّاك هاروتٌّ وذا ماروتوأما اسمها فقد رأيت المقري ذكر في تاريخه ناقلاً عن ابن عليم، أنه قال في شرحه لأدب الكتاب لابن قتيبة: أغربت جاريةٌ لمجاهد العامري، أهداها إلى عباد - قلت: وهي العبادية، وكانت كاتبةً شاعرة - على علماء إشبيلية، بالنُّقرة التي تظهر في أذقان بعض الأحداث، وتعتري بعضهم في الخدين عند الضحك، فأما التي في الذقن فهي النونة، وأما التي في الخدين عند الضحك فهي الفحصة، فما كان في ذلك الوقت في إشبيلية من عرف منهما واحدة.وللعمري في دخان التبغ:مذ أحرقت نار الصَّبابة مهجتي … وأتى العذول يسلُّ عضب لسانهبادرت بالغليون تمويهاً له … وسترت عنه دخانها بدخانهومثله للحرفوشي:لعمرك لم أهو الدُّخان ولم أمل … إليه لألقى نشأةً وتطرُّباولكنني أخفي به عن مجالسي … دخان فؤادٍ بالغرام تلهَّباوقريبٌ منه قول الفتح بن النحاس:وأرى التَّولُّع بالدُّخان وشربه … عوناً لكامن لوعة الأحشاءفأديم ذلك خوف إظهار العدى … فأشيبه بتنفُّس الصعداءوله في تشبيه الثلج:انظر إلى الروض الأريض وحسنه … وموائس الأغصان مثل الخرَّدِوالثلج فوق الصُّفر من أوراقه … شبَّهته تشبيه غير مفنَّدِببرادةٍ من فضَّةٍ مبثوثةٍ … فوق الصَّحائف من نضار العسجدِولي في هذا المعنى من مقصورة:والثَّلج كالقطن أجاد ندفه … قوس السَّحاب فوق حلَّة الرُّبىكأنَّه برادة الأفلاك من … كثرة دورها بقبَّة السَّماوله في وصف جواد:ربَّ طرفٍ من العتاق كريمٍ … يسبق البرق حالة الإيماضلو جرى والجنوب في الجوِّ تسري … علَّم الرِّيح كيف قطع الأراضيأو سرى مع دعاء آصَفَ بالعر … ش لكان البشير بالأغراضوله مثله:طرفٌّ يفوت الطَّرف في لمحاته … سبقاً ويهزأ بالظَّليم النَّافربالبرق يظفر إن أراد لحاقه … والبرق ليس إذا أراد بظافروكأنه آلى ولم يك حانثاً … أن لا يمسَّ الأرض منه بحافروهذا من قول خلف الأحمر في صفة جواد:وكأنما جهدت قوائمه … أن لا تمسَّ الأرض أربعةوزاد عليه شمس الدولة بن عبدان في قوله:أبت الحوافر أن يمسَّ بها الثَّرى … فكأنَّه في جريه ومتعلِّقوهذا الباب مما بالغت فيه الشعراء كل المبالغة، فمن ذلك قول ابن نباتة السعدي:لا تعلق الألحاظ من أعطافه … إلا إذا كفكفت من غلوائهوقول ابن حمديس الصقلي:يجري فلمع البرق في آثاره … من كثرة الكبوات غير مفيقويكاد يخرج سرعةً من ظلِّه … لو كان يرغب في فراق رفيقوقد جمع ابن حجاج في مرثية فرس له فأوعى، ودعا فرسان البلاغة فأجابته طوعاً، حيث قال:قال له البرق وقالت له الرِّ … يح جميعاً وهما ما هماأأنت تجري معنا قال لا … إن شئت أضحكتكما منكما
তারা বলেছিল আমরা সুগন্ধি দ্বারা একে কালো করব, আমি তাদের বললাম … সুগন্ধি ছাড়া অন্য কিছুই এর কৌটার জন্য বেশি উপযুক্ত।আমি মনে করতাম যে তিল বা চিহ্নের বর্ণনা প্রাচীনদের কবিতায় নেই, যতক্ষণ না আমি 'আল-খারীদা'র কবিদের মধ্যে ফখরুদ দাওলা আবুল মা'আলীর কবিতায় এটি দেখলাম। তিনি ইউসুফ নামক এক কিশোর সম্পর্কে বলেছেন:হে চাঁদ যে তার সৌন্দর্যে অবিচার করেছে … তার প্রেমিকদের প্রতি এবং সে ইনসাফ করেনি।আমরা কূপে ইউসুফের কথা শুনেছি … কিন্তু ইউসুফের মাঝে কূপের কথা শুনিনি।তারপর আমি দেখলাম আল-খাফাজী তার 'শিফাউল গালীল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: 'ইউসুফের কূপ' (জুব্বু ইউসুফ) একটি নব্য পরিভাষা, যার অর্থ থুতনির গর্ত। তিনি এই দুই পংক্তি আবৃত্তি করেছেন।তারপর তিনি বলেছেন: একে 'সৌন্দর্যের মোহর'ও বলা হয়।আর হাসির সময় গণ্ডদ্বয়ে যে গর্ত তৈরি হয়, তা কুশাজিম তার বিখ্যাত পংক্তিমালায় ব্যবহার করেছেন, যা হলো:এই সেই ব্যক্তি যার সুঠাম দেহের নিকট ডাল সিজদা করেছে … সে ইবাদতকারীর জন্য একটি প্রতিমা এবং লাহুতের ফেতনা।সে যখন হাসিমুখে হাসে তখন তার চোখের দৃষ্টিতে … জাদু থাকে এবং তার গালের সারমর্ম যেন ইয়াকুত পাথর।হাসির কম্পন সেখানে দুটি গর্ত খুঁড়েছে যার একটিতে … হারূত আর অন্যটিতে মারূত থাকে।আর এর নামের ব্যাপারে আমি দেখেছি আল-মাক্বরী তার ইতিহাসে ইবনে আলীম থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন, তিনি ইবনে কুতাইবার 'আদাবুল কাতিব'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: মুজাহিদ আল-আমেরীর একজন দাসী ইশবিলিয়ার আলেমদের সামনে একটি চমৎকার বর্ণনা পেশ করেছিলেন—আমি বলছি: তিনি ছিলেন আল-আব্বাদিয়া, একজন লেখিকা ও কবি—তিনি কিছু কিশোরের থুতনিতে এবং হাসির সময় গালের গর্তের ব্যাপারে বর্ণনা দিয়েছিলেন। থুতনির গর্তকে বলা হয় 'নূনা' (Nuna) আর হাসির সময় গালের গর্তকে বলা হয় 'فحصة' (Fahsa)। সেই সময় ইশবিলিয়ার কেউ এই দুটির একটিও জানত না।আর তামাকের ধোঁয়া সম্পর্কে আল-উমরীর পংক্তি:যখন অনুরাগের আগুন আমার প্রাণ জ্বালিয়ে দিল … আর নিন্দুক তার জিবরূপী তলোয়ার কোষমুক্ত করে এগিয়ে এল।আমি তাকে বিভ্রান্ত করতে তামাকের নলের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলাম … এবং আমার হৃদয়ের ধোঁয়াকে তার ধোঁয়া দিয়ে লুকিয়ে রাখলাম।আল-হারফুশীর অনুরূপ কথা:তোমার জীবনের শপথ, আমি ধোঁয়া ভালোবাসি না এবং আমি … আনন্দ বা মাতাল হওয়ার জন্য এর দিকে ঝুঁকে পড়িনি।কিন্তু আমি এর মাধ্যমে আমার মজলিসে উপস্থিতদের থেকে আড়াল করি … প্রেমের দহনে প্রজ্বলিত হৃদয়ের ধোঁয়াকে।আল-ফাতহ ইবনুন নাহহাসের কাছাকাছি কথা:আমি দেখি ধোঁয়ার প্রতি আসক্তি এবং এর সেবন … অন্তরের সুপ্ত ব্যথার জন্য সহায়ক।শত্রুদের নিকট তা প্রকাশ হওয়ার ভয়ে আমি তা অব্যাহত রাখি … এবং একে দীর্ঘশ্বাসের সাথে মিশ্রিত করি।বরফের উপমায় তার কথা:সুশোভিত কানন ও তার সৌন্দর্যের দিকে তাকাও … এবং কুমারী তরুণীদের মতো দোদুল্যমান ডালপালার দিকে।তার হলদেটে পাতার ওপর তুষার জমেছে … আমি তাকে এমন উপমা দিয়েছি যা নিন্দনীয় নয়।যেন ছড়ানো রূপার গুঁড়ো … স্বর্ণের ফলকের ওপর।এই অর্থেই আমার 'মাকসূরা' (দীর্ঘ কবিতা) থেকে:বরফ যেন তুলোর মতো যা নিপুণভাবে ধুনন করা হয়েছে … পাহাড়ের চুঁড়ার ওপর মেঘের ধনু দিয়ে।মনে হয় যেন আসমানি মণ্ডলের ঘর্ষণে সৃষ্ট রূপালি গুঁড়ো … যা আকাশের গম্বুজে অনবরত ঘূর্ণনের ফলে ঝরছে।ঘোড়ার বর্ণনায় তার কথা:উচ্চবংশীয় কত যে ঘোড়া আছে … যারা বিদ্যুৎ চমকের চেয়েও দ্রুতগামী।সে যদি বায়ুর সাথে আকাশে উড়ত … তবে সে বাতাসকে শেখাত কীভাবে ভূমি অতিক্রম করতে হয়।অথবা যদি সে আরশ আনার জন্য আসিফের দোয়ার সাথে চলত … তবে সে নিজেই লক্ষ্য অর্জনের সুসংবাদদাতা হতো।তার অনুরূপ পংক্তি:দৃষ্টির পলকের চেয়েও সে দৃষ্টির অগোচরে চলে যায় … এবং পলায়নপর উটপাখিকে উপহাস করে।সে যদি বিদ্যুৎকে ছুঁতে চায় তবে তাকে পরাস্ত করবে … কিন্তু বিদ্যুৎ যদি তাকে ধরতে চায় তবে সে সফল হবে না।মনে হয় সে শপথ করেছে এবং তাতে সে মিথ্যেবাদী নয় যে … তার ক্ষুর দিয়ে সে মাটি স্পর্শ করবে না।ঘোড়ার বর্ণনায় খালাফ আল-আহমারের উক্তি:মনে হয় তার চার পা অনেক চেষ্টা করছে … যেন তারা মাটিকে স্পর্শ না করে।শামসুদ দাওলা ইবনে আবদান এতে আরও যোগ করে বলেছেন:তার ক্ষুরগুলো মাটিকে স্পর্শ করতে অস্বীকার করে … মনে হয় সে দৌড়ানোর সময় শূন্যে ঝুলে আছে।এটি এমন এক অধ্যায় যেখানে কবিরা অনেক বাড়াবাড়ি করেছেন, যেমন ইবনে নুবাতা আস-সাদী বলেছেন:তার দেহভঙ্গি থেকে কেউ দৃষ্টি ফেরাতে পারে না … যদি না তার তেজস্বিতা কিছুটা প্রশমিত করা হয়।ইবনে হামদিস আস-সিকিল্লীর উক্তি:সে দৌড়ায়, আর বিদ্যুতের ঝলকানি তার পেছনে … ঘন ঘন আছাড় খাওয়ার কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।সে তার দ্রুতগতির কারণে নিজের ছায়া থেকেও বের হয়ে যেত … যদি সে তার সঙ্গীকে ত্যাগ করতে আগ্রহী হতো।ইবনে হাজ্জাজ তার ঘোড়ার শোকগাথায় এমন নিপুণ বর্ণনা দিয়েছেন যা অতুলনীয়, এবং তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের বীরদের আহ্বান করেছেন আর তারা স্বতস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। তিনি বলেছেন:বিদ্যুৎ তাকে বলল এবং বাতাসও তাকে বলল … তারা দুজনেই সেই অনন্য গতি সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও—তুমি কি আমাদের সাথে দৌড়াবে? সে বলল: না … আমি চাইলে তোমাদের দুজনকে নিজেদের অবস্থা দেখে হাসাতে পারি।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٩)
هذا ارتداد الطَّرف قد فتُّه … إلى المدى سبقاً فمن أنتماوقلت على أسلوبهم في المقصورة:وفدفدٍ طويته بضامرٍ … يسابق البرق ويسبق القضايقبض رامي سهمه عنانه … خشية أن يصيبه من القفاوأجرى جواد كان للعرب أعوج، الذي يضرب به المثل، وهو فحل كريم، كان لبني هلال بن عامر، وأنه قيل لصاحبه: ما رأيت من شدة عدوه؟ فقال: ضللت في باديةٍ وأنا راكبه، فرأيت سرباً من القطا يقصد الماء، فتبعته وأنا أغض من لجامه، حتى توافينا الماء دفعة واحدة.وهذا أغرب شيءٍ يكون؛ فإن القطا شديدة الطيران، وإذا قصد الماء اشتد طيرانه أكثر من غير الماء. وأغرب من ذلك قوله: كنت أغض من لجامه، ولولا ذلك كان يسبق القطا، وهذه مبالغة عظيمة.وإنما قيل له أعوج؛ لأنه كان صغيراً، وقد جاءتهم غارة فهربوا منها، وطرحوه في خرج، وحملوه لعدم قدرته على متابعتهم لصغره، فاعوج ظهره من ذلك، فقيل له: أعوج.وللعمري، ويخرج منه اسم نعمان:لله ما عاينت من روضةٍ … غنَّاء قد قرَّت بها عينيحوتان لم يختلفا صورةً … حفَّا بماءٍ سال من عينيوله في اسم كريم:أهواه حلو الدلال ألمى … قد لذَّ في عشقه العناءريقته للرحيق تعزى … وكم بها للظما دواءوله في اسم ولي الدين:ليالٍ بُعَيْد التنائي دنت … ولانت ولي عزَّ إصلاحهاوعين العدى سكِّرت بالعمى … وعزَّ ضياها ومفتاحهاونقل له عن باقي، شاعر الروم، ومميزها بين السادة القروم. أنه نظم أبياتاً تغزل فيها بصبي صبيح، كما هو تهوى الأنفس مليٌّ مليح. فلما وعاها الغلام استبدعها، واستحفظها خزانة لبه واستودعها. وبلغ باقي، أنه قال: قبلتها، ولو ظفرت برجل قائلها قبلتها.فقال باقي: إن كان نوى جميلاً لأجلي، فليقبل فمي لأنني به نظمتها، لا برجلي.فنظم العمري هذه المقالة في قوله:قال لمَّا وصفته ببديع ال … حسن ظبيٌ يجلُّ عن وصف مثليمكِّن العبد أن يقبِّل رِجلاً … لك كَيْما يجيز فضلاً بفضلقلت أنصف فدتك روحي فإني … بفمي قد نظمته لا برِجليومن هذا قول بعضهم:شافه كفِّي رَشَأٌ … بقبلةٍ ما شفتفقلت إذ قبَّلها … يا ليت كفِّي شفتيوللشاب مظريف:ومقبِّلٍ كفِّي وددت بأنه … أومى إلى شفتيَّ بالتَّقبيلولأبي منصور عبد العزيز بن طلحة بن لؤلؤ:سألته قبلةً فبادر بالتَّق … بيل مستبشراً إلى قدميفقلت مولاي لو أردت بها … سرور قلبي جعلتها بفميفقال كلا للعبد منزلةٌ … لزومها من حراسة النِّعمإبراهيم بن محمد الأكرمي الصالحي شاعر الزمان، وشمامة الندمان. ومن إليه يصبو القلب ويحن، وبتذكره ينثني غصن البراعة ويرجحن. ففي أوصافه مشمٌّ للروح عبق، ولطف يروق به كأسه المصطبح والمغتبق. فروض وده غضٌّ، وعرضه الطاهر لا ينال منه ولا يغض.ومدامة طبعه لم يهنها عصار، وشفوف فكره لم يحتمل منة قصار. مع ماله من أخلاقٍ أقطعها الروض أنفاسه، وشيمٍ ينافس فيها رغبةً ونفاسة.وأدبٍ دار به رحيق البيان المعتق، وملأ الأكمام بزهر كمامه المفتق. ينشر منه ما هو أزكى من النشر في خلال النواسم، بل أحلى من الريق يترقرق من خلال المباسم.ومضى عليه زمن يستفيد به العيش رغدا، ويستنجز اليوم ما يوعد به غدا. بين روض من خلقه خلق، ونسيم عرفه بشمائله علق.جلاليب نشوته صفاق، وأردية شموله وصباه رقاق. لا ينتعش إلا بغرة رقراق الشباب الغرير، ولا يولع إلا بطرة الظل فوق وجه الغدير.فهنالك بين الغصن والصبا، والقطر وزهر الربى. ولَّد آدابه التي هي عبارة عنها، وأطلع أشعاره التي يستعار الحسن منها.وقد جمع شعره في ديوان سماه مقام إبراهيم، في الشعر النظيم. أكثره روضيات يغض عنها وشي الخميلة، وغزليات يتستر عندها نقش الغانية الجميلة. وخمريات صيغت مداماً فهي للمسامع مشروبة، وحكميات أبياتها أمثالٌ في الدنيا مضروبة.
এটি চোখের পলক পড়ার মতো ক্ষিপ্রতা, যা আমি অতিক্রম করেছি … গন্তব্য পর্যন্ত অগ্রগামিতায়, তবে তোমরা দুজনেই বা কে?এবং আমি তাদের শৈলী অনুসারে 'মাকসুরা' ছন্দে বলেছি:এবং কত বিজন মরুভূমি আমি পাড়ি দিয়েছি এক কৃশকায় দ্রুতগামী বাহনে … যা বিদ্যুৎকে পাল্লা দেয় এবং ভাগ্যকেও ছাড়িয়ে যায়।তিরন্দাজ তার ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে … পাছে নিক্ষিপ্ত তির তার নিজের পিঠেই বিদ্ধ হয়।এবং আরবে 'আওয়াজ' নামক ঘোড়াটি প্রবাদতুল্য ছিল, যা ছিল একটি অত্যন্ত সম্মানিত ও শক্তিশালী ঘোড়া। এটি বনী হিলাল বিন আমিরের মালিকানাধীন ছিল। তার মালিককে জিজ্ঞেস করা হলো: "তুমি তার দ্রুত গতির বিষয়ে কী লক্ষ্য করেছ?" সে বলল: "আমি একবার এক বিজন মরুভূমিতে পথ হারিয়েছিলাম এবং সেটির পিঠে সওয়ার ছিলাম। তখন একদল বালিহাঁসকে পানির সন্ধানে যেতে দেখলাম। আমি তার লাগাম টেনে ধরে তাদের অনুসরণ করলাম, শেষ পর্যন্ত আমরা ও তারা একই মুহূর্তে পানির কাছে পৌঁছালাম।"এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর একটি বিষয়; কারণ বালিহাঁস অত্যন্ত দ্রুত উড়তে পারে, আর যখন পানির সন্ধানে থাকে তখন তার গতি আরও বৃদ্ধি পায়। এর চেয়েও বিস্ময়কর হলো তার এই কথা: "আমি তার লাগাম টেনে ধরেছিলাম," কারণ তা না হলে ঘোড়াটি বালিহাঁসকে ছাড়িয়ে যেত; আর এটি এক বিশাল অতিরঞ্জন।তাকে 'আওয়াজ' (বাঁকা) বলা হতো কারণ সে যখন ছোট ছিল, তখন একটি আকস্মিক আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাকে একটি থলেতে ভরে বহন করা হয়েছিল। ছোট হওয়ার কারণে সে দলের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে পারছিল না, আর সেই থলেতে থাকার কারণে তার পিঠ কিছুটা বেঁকে গিয়েছিল। তাই তাকে 'আওয়াজ' বলা হতো।উমরীর রচিত কবিতা, যা থেকে 'নুমান' নাম নির্গত হয়:আল্লাহর কসম, আমি এমন এক সুশোভিত বাগান দেখেছি … যা দেখে আমার চোখ জুড়িয়ে গেছে।দুটি অবয়ব আকৃতিতে অভিন্ন … যা আমার চোখ থেকে প্রবাহিত জলরাশিকে ঘিরে রেখেছে।এবং 'করিম' নামের বর্ণনায় তার কবিতা:আমি তাকে ভালোবাসি যে মিষ্টি লাবণ্যময় এবং শ্যামল ওষ্ঠাধরের অধিকারী … যার প্রেমে যন্ত্রণাও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।তার মুখের লালা খাঁটি সুধার সাথে তুলনীয় … এবং তাতে পিপাসার কতই না ঔষধ রয়েছে।এবং 'ওয়ালীউদ্দীন' নামের বর্ণনায় তার কবিতা:দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর রজনীগুলো নিকটবর্তী হলো … সেগুলো কোমল হলো এবং আমার জন্য সেগুলোর সংস্কার সহজ হলো।এবং শত্রুদের চোখ অন্ধত্বে আচ্ছন্ন হলো … তাদের আলো ও চাবিকাঠি দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেল।রুমের কবি এবং শ্রেষ্ঠ গুণীজনদের অন্যতম 'বাকী' সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক সুশ্রী বালকের প্রেমে কিছু পঙ্ক্তি রচনা করেছিলেন। বালকটি যখন তা শুনল, সে অত্যন্ত মুগ্ধ হলো এবং তা হৃদয়ে গেঁথে নিল। বাকী খবর পেলেন যে সেই বালক বলেছে: "আমি এই পঙ্ক্তিগুলো চুম্বন করেছি, আর যদি এর রচয়িতাকে পেতাম তবে তাকেও চুম্বন করতাম।"তখন বাকী বললেন: "যদি সে আমার প্রতি সদয় হতে চায়, তবে যেন সে আমার মুখে চুম্বন করে। কারণ আমি তো মুখ দিয়েই তা রচনা করেছি, পা দিয়ে নয়।"উমরী এই উক্তিটি নিয়ে নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলো রচনা করেছেন:সে বলল, যখন আমি তার অতুলনীয় রূপের বর্ণনা দিলাম … সেই হরিণতুল্য সুন্দর বালক, যা আমার মতো ব্যক্তির বর্ণনার ঊর্ধ্বে।এই দাসকে আপনার পায়ে চুম্বন করার অনুমতি দিন … যাতে এক অনুগ্রহের বিনিময়ে অন্য অনুগ্রহ প্রকাশ পায়।আমি বললাম, ইনসাফ করুন, আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক, আমি তো … কবিতাটি মুখ দিয়ে রচনা করেছি, পা দিয়ে নয়।এই প্রসঙ্গে অন্য একজনের উক্তি:এক হরিণশাবক আমার হাতে এমন এক … চুম্বন করল যা আমাকে তৃপ্ত করেনি।যখন সে হাতে চুম্বন করল, তখন আমি বললাম … হায়! যদি আমার হাতটি আমার ঠোঁট হতো।আশ-শাব মাজরীফের কবিতা:আমার হাতে চুম্বনকারী ব্যক্তিকে দেখে আমি কামনা করলাম … যদি সে আমার ওষ্ঠাধরে চুম্বনের ইঙ্গিত দিত।আবু মনসুর আব্দুল আজিজ বিন তালহা বিন লুলুর কবিতা:আমি তার কাছে একটি চুম্বন প্রার্থনা করলাম, সে সানন্দে এগিয়ে এসে … আমার পায়ে চুম্বন করল।আমি বললাম, হে আমার মালিক! যদি আপনি এর মাধ্যমে … আমার হৃদয়কে আনন্দিত করতে চাইতেন, তবে তা আমার মুখেই করতেন।সে বলল, কখনই নয়; দাসের একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা আছে … যা বজায় রাখাই হলো নেয়ামতের হেফাজত করা।ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-আকরামি আস-সালিহি, সমকালের কবি এবং সুধীজনের প্রাণের স্পন্দন। যাঁর প্রতি হৃদয় আকুল হয়, যাঁর স্মরণে সাহিত্যের শাখাগুলো নুয়ে পড়ে এবং আন্দোলিত হয়। তাঁর গুণাবলিতে আত্মার জন্য এক সুবাসিত ঘ্রাণ রয়েছে এবং এমন এক লাবণ্য যা সকাল ও সন্ধ্যার পানপাত্রকে আনন্দময় করে তোলে। তাঁর বন্ধুত্বের উদ্যান চিরসবুজ এবং তাঁর পবিত্র সম্মান কোনো প্রকার কলঙ্ক বা অমর্যাদার ছোঁয়া থেকে মুক্ত।তাঁর স্বভাবজাত মদিরতা কোনো নিংড়ানোর অপেক্ষা রাখে না, এবং তাঁর চিন্তার স্বচ্ছতা কোনো ধোপার অনুগ্রহের ধার ধারে না। তাঁর এমন উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি রয়েছে যার সুবাস উদ্যানগুলো থেকেও পাওয়া যায়, এবং এমন বৈশিষ্ট্য যা ঈর্ষণীয় ও অত্যন্ত মূল্যবান।এবং তাঁর সাহিত্য প্রতিভায় অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনার পুরাতন সুধা প্রবহমান, যা তাঁর প্রস্ফুটিত কলি থেকে পুষ্পের সৌরভ ছড়িয়ে দেয়। তিনি এমন বিষয় প্রকাশ করেন যা মন্দ বাতাসের চেয়েও পবিত্র, বরং তা হাসিমাখা ঠোঁট থেকে নির্গত লালার চেয়েও মিষ্টি ও স্বচ্ছ।তাঁর জীবনের একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনে, যেখানে তিনি আগামীকালের প্রতিশ্রুতি আজই পূর্ণ হতে দেখতেন। তাঁর সৃষ্টিশীল স্বভাবের উদ্যানে এবং তাঁর চরিত্রের সুবাসিত পবনে চারিত্রিক সুষমা জড়িয়ে আছে।তাঁর আনন্দের আবরণ অত্যন্ত ঘন, কিন্তু তাঁর যৌবন ও তারুণ্যের পোশাক অত্যন্ত সূক্ষ্ম। উচ্ছল যৌবনের উজ্জ্বলতা ছাড়া তিনি উজ্জীবিত হন না এবং জলাশয়ের বুকে ছায়ার প্রলেপ ছাড়া তিনি বিমোহিত হন না।সেখানেই বৃক্ষশাখা ও পুবালী বাতাস, বৃষ্টিবিন্দু ও পাহাড়ের ফুলের মাঝে তিনি তাঁর সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর সেই কাব্যগাঁথা প্রকাশ করেছেন যা থেকে সৌন্দর্য ধার করা হয়।তিনি তাঁর কাব্যসমগ্রকে একটি দীওয়ানে সংকলিত করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'মাকামে ইব্রাহিম'। এর অধিকাংশ কবিতাই প্রাকৃতিক শোভা বিষয়ক, যার কাছে ঘন কুঞ্জবনের কারুকার্যও ম্লান হয়ে যায়; এবং কিছু প্রেমগীতি রয়েছে যার সম্মুখে সুন্দরী রমণীদের রূপ-লাবণ্যও আড়ালে চলে যায়। তাঁর সুরা-বিষয়ক কবিতাগুলো এমনভাবে রচিত যা শ্রবণে মদিরার মতো মনে হয়, আর তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতাগুলোর পঙ্ক্তিগুলো পৃথিবীতে প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وها أنا أورد منها ما يفوح نفسه، حتى كأن الحبيب يتنفسه. ويعبق روحه، حتى كأن فوح الزهر فوحه.قال في ديباجته: هذه نبذة من شعرٍ سمح به الخاطر على جموده، وتوقد به الفكر على خموده. وإن كنت في زمنٍ العاقل فيه خليقٌ بالصَّمت وإن أداه إلى المقت.ذهب جلُّ الناس، وأين الزِّعنفة من الرأس.لا يجاز فيه شاعرٌ، ولا يكرم أديبٌ ماهر.غير أن حبَّ الأدب في الطِّباع، وهو داعٍ إلى الاتِّباع.اتِّباعهم في التراكيب والبِنا، لا في الإجادة لعدم الغنا.ذهبت الإفادةُ، فكيف بالإجادة.ولعمري من لا يجيد في عصرنا معذور، وذنبه فيما أتاه مغفور.إذ أُرتِج باب البواعث والَّدواعي، بانقراض أهل الكرم والمساعي.جوائز الأُمرا، إجادة الشُّعرا.ولذلك قلت بغير امْتِرا:قالوا أجاد البحتريُّ … كما أجاد أبو نواسفأجبت كانوا في أنا … سٍ هم ولسنا في أُناسِوإذا نظرت فما أجا … د سوى المواهب في القياسومما جردته من ديوانه قوله من مقصورة مطلعها:حيِّي الحيا معهدنا باللِّوى … حيث هوى النَّفس وغيُّ الصِّباوجاده كلُّ هَطولٍ سرت … تحدو به في الأفق ريح الصِّباليلته حتى بدا صبحها … فأقلعت ديمته فانجلىوقد أشاع الخصب في أرضه … فأصبحت تزهو بزهر الرُّبىومدَّ فيها حبراً وُشِّيت … بالنَّبتِ قد كلِّل منها النَّدىوغادر الغدران في ربعها … تغصُّ بالعذب النَّمير الرَّواولا جفا نجداً ولا حاجراً … كلُّ هزيم الودق هامى الحيامنازلاً واهاً لأيَّامها … كانت مظنَّات الصِّبا والهوىحيث الأماني طوع آمالنا … والسَّعد عبدٌ طائعٌ والمنىلله أيامٌ تقضَّت لنا … بين ذرى الجزع وسفح اللوىما كان أهنأ عيشها ليته … دام وليت العمر فيه انقضىمرَّت كنجمٍ قد هوى ساقطاً … لم يعتلقه الطَّرف حتى اختفىيا هل معيدٌ لي عيشاً بها … هيهات لا يرجع شيءٌ مضىليت ليالينا وأيامنا … كانت لليلات ألالٍ فداويلاه من سرعة تفريقنا … وشَتِّ شمل الحيِّ بعد النَّوىوآه من وقفة تشييعهم … وقد شرقنا كلُّنا بالبكاوسارت العيس بأحداجهم … واستودعوا فيها بدور الدُّجىمن كلِّ هيفاء إذا ما بدت … تختال أذرت بغصون النَّقاخافقة القرطين رُعبوبةٍ … رادِ الوشاحين أناةِ الخُطىرخيمة الدَّلِّ إذا ما بدت … تسحر باللَّحظ عقول النُّهىما ظبية البان على حسنها … إذا تبَّدى جيدها والطُّلاوظبيِ إنسٍ زارني طارقاً … والبدر لا يبديه إلا الدُّجىبات يعاطي الرَّاح من ثغره … ممزوجةً بالعسل المجتنىأشتمُّ من ريحان أصداغه … وأجتني باللَّحظ ورد الحياوأجتلي غصن قوامٍ له … أهيَف يحكي بانة المنحنىلهفي على عيش التَّصابي ويا … آهة قلبي لزمان الصِّباحيث الشَّباب الرَّوق يُغري بنا … حفل الظِّبا الغرِّ وسرب المهاكانت عروس الدَّهر أيامنا … طارت بها العنقاء نحو السَّماومن ربيعياته قوله:انظر إلى فصل الربي … ع كأنَّه فصل الشَّبابوالزَّهر مثل خلائق ال … أصحاب من زهر الصِّحابوغصون بانات اللِّوى … كمعاطف الهيف الرِّطابوالورد أشبه بالخدو … د من الشِّفاه على الشَّرابأوَ ما ترى حدق الحدا … ئق كيف تغمز للتَّصابيوأصابع المنثور مس … رعةً تشير إلى الرِّقاب
এবং এখানে আমি সেগুলো থেকে এমন কিছু পেশ করছি যা নিজেই সুঘ্রাণ ছড়ায়, যেন প্রিয়তম নিজেই তাতে শ্বাস নিচ্ছেন। আর এর প্রাণ সুরভি ছড়ায়, যেন ফুলের সুবাসই তার সুবাস।তিনি তার মুখবন্ধে বলেছেন: এটি এমন কিছু কবিতার সংকলন যা স্থবিরতা সত্ত্বেও মন থেকে অবারিত হয়েছে এবং নিস্তেজতা সত্ত্বেও চিন্তা এতে প্রদীপ্ত হয়েছে। যদিও আমি এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য নীরব থাকাই শ্রেয়, যদিও তা তাকে অবজ্ঞার দিকে নিয়ে যায়।অধিকাংশ মানুষ গত হয়েছে; আর লেজুড়বৃত্তি করা সাধারণ লোক কীভাবে শীর্ষস্থানীয়দের সমান হতে পারে?এ যুগে কোনো কবি পুরস্কৃত হন না এবং কোনো দক্ষ সাহিত্যিকও সম্মান পান না।কিন্তু সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা স্বভাবজাত, আর এটিই পূর্বসূরিদের অনুসরণের দিকে আহ্বান করে।তাদের অনুসরণ কেবল বাক্য গঠন ও কাঠামোতে, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে নয়; কারণ সেই সামর্থ্য নেই।উপকারিতাই বিদায় নিয়েছে, তবে শ্রেষ্ঠত্ব আসবে কোথা থেকে?আমার জীবনের কসম, আমাদের যুগে যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে না সে ক্ষমাপ্রাপ্ত, আর তার ত্রুটিসমূহ মার্জনীয়।কারণ উদার ও সচেষ্ট ব্যক্তিদের বিলুপ্তির ফলে প্রেরণা ও উদ্দীপনার দ্বার রুদ্ধ হয়ে গেছে।আমিরদের পুরস্কারই ছিল কবিদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রেরণা।আর তাই আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলেছি:তারা বলে বুহতুবি শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন … যেমন শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন আবু নুওয়াসআমি উত্তর দিলাম, তারা এমন মানুষদের মধ্যে ছিলেন … যারা কদর জানতেন, কিন্তু আমরা সেই মানুষদের মধ্যে নেইআর যদি আপনি লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে শ্রেষ্ঠত্ব কেবল … প্রতিভার তুলনামূলক বিচারেই অর্জিত হয়তার সংকলন থেকে আমি যা নির্বাচন করেছি তার মধ্যে একটি মাকসুরা কবিতা রয়েছে যার শুরুটা এমন:বৃষ্টি যেন সিক্ত করে লিওয়াতে আমাদের সেই মিলনস্থলকে … যেখানে হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা আর যৌবনের উন্মাদনা ছিলদিগন্তে পূবালী বাতাস যাকে চালিত করে নিয়ে আসে … এমন প্রতিটি মুষলধারে বৃষ্টি সেখানে বর্ষিত হোকসারারাত ধরে বর্ষণের পর ভোর হলো … তখন সেই অবিরাম বৃষ্টি থেমে গেল এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলএটি মাটির উর্বরতাকে ছড়িয়ে দিয়েছে … ফলে টিলার ফুলগুলোতে তা সুশোভিত হয়ে উঠেছেসেখানে এক নকশা করা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে … যা উদ্ভিদে আচ্ছাদিত এবং শিশিরবিন্দুতে মুকুটের মতো শোভিতআর সেই বসতিতে জলাশয়গুলোকে রেখে গেছে … মিষ্টি ও সুপেয় পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ করেনজদ কিংবা হাজের—কোনো স্থানই বাদ যায়নি … মেঘের গর্জনসহ প্রবল বৃষ্টিধারা সবখানে ঝরে পড়েছেসেই আবাসস্থলগুলোর দিনগুলোর জন্য আফসোস … সেগুলো ছিল যৌবন ও প্রেমের চারণভূমিসেখানে কামনাগুলো আমাদের আশার অনুগত ছিল … এবং সৌভাগ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল আজ্ঞাবহ দাসের মতোআল্লাহর প্রশংসা সেই দিনগুলোর জন্য যা আমাদের অতিবাহিত হয়েছে … জাযা'-এর চূড়া আর লিওয়া-এর পাদদেশেকতই না আনন্দময় ছিল সেই জীবন! আফসোস যদি তা স্থায়ী হতো … আর আফসোস যদি সেই জীবনেই আয়ু শেষ হয়ে যেতসেগুলো খসে পড়া নক্ষত্রের মতো চলে গেছে … দৃষ্টি তাকে আঁকড়ে ধরার আগেই তা অদৃশ্য হয়ে গেছেহায়! কেউ কি আছে যে সেই জীবনকে ফিরিয়ে দেবে? … অসম্ভব! যা গত হয়েছে তা আর ফিরে আসে নাআফসোস! আমাদের রাত ও দিনগুলো যদি … আল্লাল পাহাড়ের রাতগুলোর জন্য উৎসর্গ হতোহায়! আমাদের বিচ্ছেদের তীব্রতা কত দ্রুত ছিল … এবং দূরত্বের পর গোত্রের একতা কত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলআর হায়! তাদের বিদায় জানানোর সেই মুহূর্ত … যখন আমরা সবাই কান্নায় কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলামউটগুলো তাদের পালকি নিয়ে চলতে শুরু করল … আর সেই পালকিতে অন্ধকারের পূর্ণিমা সদৃশ সুন্দরীদের সঁপে দেওয়া হলোপ্রতিটি তন্বী সুন্দরী, যখন সে আবির্ভূত হয় … এবং গর্বিত ভঙ্গিতে চলে, তখন বালুচরের নরম ডালগুলোকেও লজ্জিত করেতাদের কানের দুল দুলছিল, তারা ছিল লাবণ্যময়ী … সুগঠিত দেহবল্লরীর অধিকারী এবং ধীরস্থির পদচারণায় অভ্যস্ততাদের চলন ছিল অত্যন্ত কোমল; যখন তারা আবির্ভূত হয় … তখন চোখের ইশারায় জ্ঞানীদের বুদ্ধিকেও মোহাবিষ্ট করেবানের হরিণী তার সৌন্দর্য নিয়ে তাদের সামনে কী আর হতে পারে … যখন তাদের ঘাড় ও গ্রীবার সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়আর এক মানব-হরিণ রাতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এল … অথচ পূর্ণিমাকে তো কেবল অন্ধকারই প্রকাশ করেসে সারা রাত তার অধর থেকে সুরা পান করিয়ে দিল … যা ছিল সংগৃহীত মধুর সাথে মিশ্রিতআমি তার অলকগুচ্ছের সুঘ্রাণ নিচ্ছিলাম … এবং চোখের দৃষ্টি দিয়ে লজ্জার গোলাপ আহরণ করছিলামআমি তার সুঠাম দেহকাণ্ডের সৌন্দর্য দেখছিলাম … যা বাঁকানো বানের ডালকেও হার মানায়হায় সেই কিশোর বয়সের জীবন! আর হায় … আমার হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস সেই শৈশবের জন্যযেখানে শ্রেষ্ঠ যৌবন আমাদের প্রলুব্ধ করত … সুন্দরী নারী ও হরিণীদের সমাবেশেআমাদের সেই দিনগুলো ছিল মহাকালের নববধূর মতো … কিন্তু রূপকথার ফিনিক্স পাখি যেন তাকে নিয়ে আকাশে উড়ে গেছেবসন্ত নিয়ে তার উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:বসন্তকালের দিকে তাকাও … মনে হয় যেন এটিই যৌবনের ঋতুআর ফুলগুলো যেন বন্ধুদের চরিত্রের মতো সুন্দর … যা অকৃত্রিম বন্ধুত্ব থেকে প্রস্ফুটিতলিওয়া অঞ্চলের বানের ডালগুলো … যেন তন্বী সুন্দরীদের নমনীয় দেহের ভাঁজআর গোলাপ যেন রক্তিম গালের মতো … যা পানপাত্রের ঠোঁটের চেয়েও সুন্দরতুমি কি বাগানের আঁখিগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখছ না … কীভাবে তারা প্রেমের ইশারা দিচ্ছেআর 'মানসুর' ফুলের পাপড়িগুলো যেন দ্রুত … আঙুল উঁচিয়ে গ্রীবার দিকে ইঙ্গিত করছে
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١١)
وأكفَّ أوراق الغصو … ن تظلُّ تدعو بالمتابفاعكف على روضاته … فالورد دان إلى الذَّهابمتمتِّعاً بنعيمه … من قبل بينٍ وانتيابفجميع ما فوق التُّرا … ب من التُّراب إلى التُّرابومن خمرياته قوله:ونديمٍ نبَّهت ليلاً فهبَّا … وهو سكراً يميل شرقاً وغرباقال لبيك قلت هات اسقنيها … فتردَّى وقال طوعاً وحبَّافسقاني ثلاثةً وتحسَّى … بعض كأسٍ فردَّها وأكبَّاقلت أفديك من نديمٍ مطيعٍ … لو رأى طاقةً بها ما تأبَّىثم بن وسَّدته وعدت إلى الشُّر … ب وحيداً فما استلذَّيت شرباإن طيب المدام بين النَّدامى … وسرور النُّدمان فيمن أحبَّالو رأوا لذَّةً بدون شريبٍ … لم يُسَمُّوا فيها ندامى وشِرباوله أيضاً:بحياتي يا بدر أو بحياتك … لا تقل لا يا قبح لا من لغاتكقم بنا نغنم الوصال وروحي … في سبيل الهوى وفي مرضاتكقم فلا غير كون شكٍّ يقيناً … من صفاتي بين الورى وصفاتكيا فَدَتك النُّفوس فيما التَّواني … ما ترى البسط عزَّ في أوقاتكهاتها بكرة النَّهار فطيب الرَّ … اح قبل الضُّحى وقبل صلاتكثم هجِّد بنا نقيل قليلاً … عند غمز الصَّهباء عود قناتكثم عد للشَّراب تفديك نفسي … واسقنيها واشرب معي بحياتكإن كلَّ الحياة كأسٌ مدارٌ … ونديمٌ وشادنٌ من سقاتكفاغتنم فرصة الزَّمان فقد قي … ل أخو اللَّذَّة الجسور الفاتكلا تؤخِّر يوماً غداة سرورٍ … لعشيٍّ وفته قبل فواتكإنَّما هذه الحياة كحلمٍ … طارقٍ تستلذُّه في سباتكوله من قصيدة مطلعها:يا ليت شعري والمنى بعد … ما حال سكَّانك يا نجدوكيف دعدٌ بعد أيَّامنا … تبقى لنا دون النِّسا دعدهل أخفرت من عهدنا في الهوى … بعد النَّوى أم عهدها العهدلا غرو أن قد غيَّرتها النَّوى … فربَّما غيَّرك البعدلله يا نجد الظِّباء التي … قيَّدها فيك لنا الودُّحيث الهوى الرَّيق لنا خادمٌ … لم يأل جهداً والمنى عبدوربعك الرَّحب لنا جنَّةٌ … لو أنها دام بها الخلدوالنَّبت جمٌّ ترتعيه حمًى … والماء لا مستكدرٌ رغدفي غمرة القصف لريق الصِّبا … نروح في العيش كما نغدواحيِّي الحيا ذاك الزمان الذي … مرَّ به من عيشنا الرَّغدأيَّام أسعى ومها حاجرٍ … يلفُّني من وصلها بردلا راقبٌ عيناً ولا مفكرٌ … في الوصل أن يعقبه الصَّدُّفي فتيةٍ مثل نجوم الدُّجى … كأنهم قد نظموا عقدُمن كل ظبيٍ قضفٌ قدُّه … لا البان يحكيه ولا الرَّندُجذلان راوي الرِّدف ظامي الحشا … يضيع ما بينهما النَّدُّيزهي على ريم الفلا جيده … ويزدهي بدر السَّما الخدُّواهاً له من زمنٍ سالفٍ … وألف آهٍ لك يا نجدومنزلٍ أخلق من نسجه … كرُّ السَّوافي فيه والشَّدُّعهدي به برداً قشيب السَّدى … فارتدَّ وهو الرَّيطة الجردمحت يد الأنواء آياته … إلا بقايا أسطرٍ تبدوأعجم من معربه شكله … إن حال عقلاً قبله بعدحتَّى اضلَاّ فيه علمي به … إذ بدِّلت من هضبه الوهد
ডালের পাতার হাতের তালুগুলো … তওবার আহ্বানে রত থাকে।তার উদ্যানসমূহে মনোনিবেশ করো … কেননা গোলাপের বিদায় নেওয়ার সময় আসন্ন।তার নেয়ামতসমূহ উপভোগ করো … বিচ্ছেদ ও দুঃখের আগমনের পূর্বেই।কারণ মাটির উপরে যা কিছু আছে … তা মাটি থেকেই এবং মাটিতেই বিলীন হবে।তার মদ্যবিষয়ক কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:এক সহচরকে আমি রাতে জাগিয়ে তুললাম, সে জেগে উঠল … নেশার ঘোরে সে ডানে-বামে হেলতে লাগল।সে বলল, 'আমি উপস্থিত', আমি বললাম, 'আমাকে পান করাও' … সে নিজেকে সঁপে দিল এবং বলল, 'আনুগত্য ও ভালোবাসার সাথে'।সে আমাকে তিনবার পান করাল এবং নিজে এক পেয়ালার … কিয়দাংশ চুমুক দিয়ে পান করল, তারপর তা ফিরিয়ে দিয়ে উপুড় হয়ে পড়ল।আমি বললাম, 'তোমার ওপর আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক হে অনুগত সহচর! … যদি তার সামান্য সামর্থ্য থাকত, তবে সে অস্বীকার করত না।'তারপর আমি তাকে বালিশ দিয়ে শুইয়ে দিলাম এবং একাকী পানে … ফিরে এলাম, কিন্তু আমি পানে কোনো স্বাদ পেলাম না।কারণ মদের তৃপ্তি তো সহচরদের মাঝেই নিহিত … আর সঙ্গীদের আনন্দ তাদের মাঝে যাদের তারা ভালোবাসে।যদি তারা পানসঙ্গী ছাড়া কোনো স্বাদ পেত … তবে তারা একে 'সহচর' বা 'পান' বলে অভিহিত করত না।তার আরও কবিতা:আমার জীবনের কসম হে পূর্ণিমা অথবা তোমার জীবনের কসম … 'না' বলো না, তোমার ভাষা থেকে 'না' শব্দটি কতই না কদর্য।চলো উঠি, মিলনের সুযোগ গ্রহণ করি; আমার প্রাণ তো … প্রেমের পথে এবং তোমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে।ওঠো, সৃষ্টির মাঝে আমার ও তোমার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে … সন্দেহ যেন নিশ্চিত বিশ্বাসে রূপ নেয়।হে প্রিয়, যার জন্য প্রাণ উৎসর্গিত, এই দীর্ঘসূত্রিতা কেন? … তুমি কি দেখছ না যে তোমার এই সময়ে আনন্দ ও প্রফুল্লতা কত বিরল?দিনের শুরুতেই তা নিয়ে এসো, কারণ দুপুরের প্রাক্কালে … এবং তোমার প্রার্থনার আগে শরাব কতই না উত্তম।তারপর আমাদের সাথে রাত্রি জাগরণ করো, আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেব … যখন লাল শরাব তোমার সত্তাকে আন্দোলিত করবে।তারপর পুনরায় পানে ফিরে এসো, আমার প্রাণ তোমার জন্য উৎসর্গ হোক … আমাকে পান করাও এবং আমার সাথে পান করো তোমার জীবনের কসম।কারণ সমগ্র জীবনই হলো একটি আবর্তিত পেয়ালা … একজন সহচর এবং তোমার পানকারীদের মধ্যে একজন সুশ্রী কিশোর।সময়ের সুযোগ লুফে নাও, কারণ বলা হয়েছে … আনন্দ ভোগ করে সেই যে সাহসী ও ক্ষিপ্র।আনন্দের কোনো দিনকে আগামী সন্ধ্যার জন্য … পিছিয়ে দিও না, বরং তা ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই পূর্ণ করো।এই জীবন তো কেবল এক রাতের স্বপ্নের মতো … যা তুমি তোমার গভীর ঘুমের ঘোরে উপভোগ করো।তার একটি কসিদা থেকে যার সূচনা হলো:হায়, যদি আমি জানতাম! আর আকাঙ্ক্ষাও তো অনেক … হে নজদ, তোমার অধিবাসীদের কী দশা?আমাদের সেই দিনগুলোর পর দা’দ কেমন আছে? … নারীদের মধ্যে কেবল দা’দ-ই কি আমাদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে?দূরত্বের পর সে কি প্রেমে আমাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে … নাকি তার অঙ্গীকার আগের মতোই অটুট আছে?বিচ্ছেদ তাকে বদলে দিয়েছে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই … কারণ সম্ভবত দূরত্ব তোমাকেও বদলে দিয়েছে।হে নজদ, আল্লাহর শপথ সেই হরিণীদের জন্য যাদের … ভালোবাসা তোমার মাঝে আমাদের জন্য বন্দি করে রেখেছে।যেখানে পবিত্র প্রেম ছিল আমাদের সেবক … সে কোনো ত্রুটি করত না এবং কামনা ছিল আমাদের অনুগত দাস।তোমার প্রশস্ত প্রাঙ্গণ ছিল আমাদের কাছে জান্নাত … যদি তা চিরস্থায়ী হতো।সেখানে উদ্ভিদ ছিল প্রচুর যেখানে গবাদিপশু বিচরণ করত … আর পানি ছিল স্বচ্ছ, সুপেয় ও অফুরন্ত।যৌবনের মাতাল হাওয়ায় আনন্দের আতিশয্যে … আমরা সকালে ও সন্ধ্যায় আনন্দময় জীবন অতিবাহিত করতাম।সেই সময়টিকে অভিবাদন জানাও যা … আমাদের বিলাসী জীবনের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।সেই দিনগুলোতে যখন আমি সুন্দরী ললনাদের সান্নিধ্য চাইতাম … এবং তাদের মিলনের শীতলতা আমাকে আবৃত করত।কোনো চক্ষু আমাদের পাহারায় ছিল না, আর মিলনের পরে … বিচ্ছেদ আসবে—এমন ভাবনাও মনে আসত না।অন্ধকার রাতের তারকারাজির মতো একদল যুবকের মাঝে … মনে হতো তারা যেন এক সুতোয় গাঁথা মুক্তার মালা।প্রত্যেকটি হরিণশাবকের মতো সুঠাম দেহের অধিকারী … যাদের রূপের উপমা কোনো বৃক্ষই হতে পারে না।প্রফুল্ল চিত্ত, পুষ্ট অবয়ব ও ক্ষীণ কটিবিশিষ্ট … যাদের মাঝে সুগন্ধিও ম্লান হয়ে যেত।
… আর তার গালের দীপ্তি আকাশের পূর্ণিমাকে হার মানাত।
সেই অতীত সময়ের জন্য আক্ষেপ! … আর তোমার জন্য হে নজদ, হাজারো দীর্ঘশ্বাস।আর সেই বসতি, যার বুনন জীর্ণ হয়ে গেছে … ধূলিঝড় ও বাতাসের প্রবল ঝাপটায়।আমার স্মৃতিতে থাকা সেই স্থানটি ছিল এক নতুন চাদরের মতো … অথচ এখন তা জীর্ণ ও মলিন বসনে পরিণত হয়েছে।ঝড়-বৃষ্টির হাত তার চিহ্নগুলো মুছে দিয়েছে … কেবল অস্পষ্ট কিছু রেখার অবশেষ ছাড়া।তার বর্তমান রূপ পূর্বের বর্ণনার চেয়েও অবোধ্য হয়ে গেছে … যদিও তা একসময় অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল।এমনকি আমার জানাশোনাও সেখানে হারিয়ে গেছে … কারণ তার টিলাগুলো এখন সমতলে বা গর্তে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وقفت عِيسي فيه مستعبراً … أقول آهاً تَعِسَ البعدإلى هنا بعد ليالٍ خلت … معدودةٍ قد بلغ الحدُّهب أن سكانك قد أجفلت … عنك فأين الغور والنجدلم يبق إلا طللٌ شاخصٌ … كالوشم محَّى جُلَّه الرَّندوله:هاتها تفديك روحي قهوةً … أدركت عاداً وأيَّام لُبدواسقني واشرب ولا تذكر لنا … خبر النَّاس ولا سعر البلدإن للعالم ربًّا إن يشأ … صلح العالم أو شاء فسدوله:اسقنيها قبل ارتفاع النَّهار … إنَّ طيب المدام في الإبكارِهي بكرٌ فاشرب ويومك بكرٌ … لم تشبه الأنام بالأكدارِالصَّبوح الصبوحَ في جدِّه الي … وم فإنَّ الصَّبوح روح العقارِيا فَدَتك النفوس وهي قليلٌ … من نديم سهل الطِّباع مدارِهاتها ضحوة النَّهار شمولاً … مثل شمس النَّهار وسط النَّهارِقهوةً مثل مقلة الدِّيك صهبا … ءَ كنار الكليم ليست بنارِذات عصرٍ أدناه عهد أنو … شروان ليست بمزَّةٍ مُصطارِلطَّفتها كرُّ السنين فلم تب … قِ سوى لمحةٍ من الأنوارِفتراءت كالشَّمس غبَّ سماءٍ … تجتلى بين حمرةٍ واصفرارِلست تخشى من لطفها بعد سكرٍ … من صداعٍ بادٍ ولا من خمارِفي رياضٍ تزهي بباكورِ وردٍ … وأقاح وسوسنٍ وبهارِذات أرضٍ موشيةٍ بربيعٍ … ذهَّبت وشيها يد الأزهارِيستفيق المخمور إن مرَّ فيها … من هواءٍ صافٍ وماءٍ جارِهذا مأخوذ من قول الوأواء الدمشقي:سقى الله ليلاً إذ زار طيفه … فأفنيته حتى الصَّباح عناقابطيب نسيمٍ فيه يستجلب الكرى … فلو رقد المخمور فيه أفاقاوفي الثاني ما يوهم التناقض: والوأواء أخذه من قول الفتح بن خاقان، في وصف جاريةٍ له، وهو ما نقل ابن حمدون، قال: كان الفتح بن خاقان يأنس بي، فقال لي مرة: شعرت يا أبا عبد الله أني انصرفت البارحة من مجلس أمير المؤمنين، فلما دخلت منزلي استقبلتني فلانة، فلم أتمالك أن قبلتها، فوجدت فيما بين شفتيها هواءً لو رقد المخمور فيه لصحا.ومنه في الغزل قول شرف الدين القابوسي:قابلني ليلة قبَّلته … ظبيٌّ من الشمس غدا أملحاطيب نسيم بين أسنانه … لو رقد المخمور فيه صحاتتمة الأبيات:قم بنا يا نديم يفديك مالي … من تلادٍ وطارفٍ وعقارِنقطع الدهر كلَّ يومٍ بزقٍّ … وغزالٍ ساقٍ وكأسٍ مدارِآن طيب الزَّمان واعتدل الجوُّ … وصار الضُّحاء كالأسحارِوأتاك الرَّبيع يضحك عجباً … وهو من نسج نوره في إزارِيا نديمي أفديك فيما التَّواني … ما ترى البسط ابن اللَّيالي القصارِفاسقنيها واشرب على زهرة الرَّو … ضِ وسجع القمري وشدو الهزارِوتغنَّم صفو الزَّمان وروق ال … عمر من قبل ضيعة الأعمارِلا تبالي إذا سكرت بوزرٍ … إن مولاك غافر الأوزارِوله من قصيدة مطلعها:نقض الجرح وكان اندملا … وامتلا القلب وقد كان خلاعاده داء الهوى من بعد ما … راح وقد أفرق عنه وسلاماله تزعجه زفرته … كلَّما استاف صباً أو شمألاوإذا شام بروقاً لمعت … غلب الدَّمع الحيا فانهملاومتى أبصر بدراً طالعاً … ظنَّه عنه الذي قد أفلاعاش في أرغد عيش برهةً … مستريحاً راق حالاً وحلاليس يدري الهمَّ حتى أن رأى … ليته لم ير تلك المقلا
আমি সেখানে অশ্রুসজল নয়নে আমার উটগুলোকে থামালাম … বলছি, আহ! বিচ্ছেদ কতই না দুর্ভাগ্যজনক।বিগত রাতগুলোর পর যা ছিল … অতি অল্প, আজ সীমা অতিক্রান্ত হলো।ধরে নাও তোমার বাসিন্দারা বিতাড়িত হয়েছে … কিন্তু তোমার সমতল ও উচ্চভূমি কোথায় গেল?একটি স্থির ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই … উল্কি চিহ্নের মতো যার অধিকাংশ ঝোপঝাড় মুছে ফেলেছে।এবং তাঁর আরও একটি কবিতা:সেটি নিয়ে এসো—আমার প্রাণ তোমার জন্য উৎসর্গ হোক—সেই পানীয়টি … যা আদ জাতি এবং লুবদের সময়কাল দেখেছে।আমাকে পান করাও এবং তুমিও পান করো, আর আমাদের কাছে উল্লেখ করো না … মানুষের সংবাদ কিংবা শহরের বাজারদর।নিশ্চয়ই জগতের একজন রব আছেন, তিনি চাইলে … জগত সংশোধিত হবে অথবা চাইলে তা ধ্বংস হবে।এবং তাঁর আরও একটি কবিতা:সূর্য ওঠার আগে আমাকে তা পান করাও … কারণ সুরা পানের মাধুর্য তো ভোরেই নিহিত।এটি অস্পৃশ্য, অতএব পান করো যখন তোমার দিনটিও নবীন … যা কলুষতার মাধ্যমে মানুষের সদৃশ হয়নি।ভোরের পানীয়, আজকের এই দিনে ঐকান্তিকতার সাথে … কারণ প্রভাতকালীন পানীয়ই হলো মদিরার প্রাণ।হে বন্ধু, তোমার জন্য প্রাণ উৎসর্গ হোক—যদিও তা তুচ্ছ—এমন এক সহচরের পক্ষ থেকে যে অমায়িক স্বভাবের এবং সদা চঞ্চল।মধ্যাহ্নের উজ্জ্বলতায় সেই শীতল সুরাটি নিয়ে এসো … যা দ্বিপ্রহরের সূর্যের মতো দীপ্তিময়।মোরগের চোখের মতো লালচে সেই সুরা … যা কলিমের আগুনের মতো কিন্তু আসলে আগুন নয়।এমন সুরা যার প্রাচীনত্ব আনুশিরওয়ানের যুগের কাছাকাছি … যা টক স্বাদের কাঁচা সুরা নয়।বহু বছরের পরিক্রমা একে কোমল করেছে, ফলে অবশিষ্ট নেই … আলোর ঝলকানি ছাড়া আর কিছুই।মেঘমুক্ত আকাশের সূর্যের মতো তাকে দেখা যায় … যা লাল ও হলুদের মাঝে প্রতিভাত হয়।এর কোমলতার কারণে নেশার পরেও তুমি ভয় পাবে না … কোনো প্রকাশ্য মাথাব্যথা বা অবসাদের।সেই বাগানে যা প্রস্ফুটিত গোলাপের শুভসূচনায় গর্বিত … এবং চন্দ্রমল্লিকা, লিলি ও বসন্তের ফুলে শোভিত।এমন এক ভূমি যা বসন্তের কারুকার্যে খচিত … যার কারুকাজকে পুষ্পরাজি স্বর্ণালি রূপ দিয়েছে।মাতাল ব্যক্তি যদি এর পাশ দিয়ে হেঁটে যায় তবে সে সচেতন হয়ে উঠবে … এর নির্মল বাতাস আর প্রবহমান জলের পরশে।এটি আল-ওয়াওয়া আদ-দিমাশকির উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে:আল্লাহ সেই রাতকে সিক্ত করুন যখন তার কল্পনা আমায় দেখা দিয়েছিল … এবং আমি তা সকাল পর্যন্ত আলিঙ্গনেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম।এমন এক সুগন্ধি বাতাসের সাথে যা তন্দ্রা ডেকে আনে … যদি কোনো মাতাল সেখানে ঘুমিয়ে পড়ত, তবে সে সচেতন হয়ে উঠত।দ্বিতীয় চরণে এমন কিছু আছে যা বৈপরীত্যের ভ্রম সৃষ্টি করে। আর আল-ওয়াওয়া এটি আল-ফাতহ ইবন খাকানের উক্তি থেকে নিয়েছেন, যা তিনি তাঁর এক দাসীর বর্ণনায় বলেছিলেন। এটি ইবন হামদুন বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ফাতহ ইবন খাকান আমার সাথে অন্তরঙ্গ ছিলেন। তিনি একবার আমাকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি জানেন যে গত রাতে আমি আমিরুল মুমিনীনের মজলিস থেকে ফিরেছিলাম? অতঃপর যখন আমি বাড়িতে প্রবেশ করলাম, তখন অমুক নারী আমাকে অভ্যর্থনা জানাল। আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে তাকে চুম্বন করলাম। তার ওষ্ঠদ্বয়ের মাঝে আমি এমন এক বাতাস অনুভব করলাম যে, যদি কোনো মাতাল সেখানে ঘুমিয়ে পড়ত তবে সে সুস্থ হয়ে যেত।প্রেমকাব্যের ক্ষেত্রে শারাফউদ্দীন আল-কাবুসীর উক্তিও এই ধারার:এক রাতে সে আমার মুখোমুখি হলো এবং আমি তাকে চুম্বন করলাম … সে ছিল সূর্যের চেয়েও দীপ্তিময় এক হরিণশাবক।তার দাঁতগুলোর মাঝে এমন এক সুগন্ধি বাতাস ছিল … যদি কোনো মাতাল তাতে ঘুমাত তবে সে সুস্থ হয়ে যেত।কবিতার অবশিষ্টাংশ:হে বন্ধু, আমাদের সাথে উঠে দাঁড়াও, তোমার জন্য আমার সম্পদ উৎসর্গ হোক … আমার পৈতৃক সম্পত্তি, উপার্জিত ধন এবং স্থাবর সম্পদ।আমরা প্রতিটি দিন অতিবাহিত করব মদের মশক … সুন্দরী সাকি এবং আবর্তিত পানপাত্রের সাথে।সময়ের মাধুর্য ঘনিয়ে এসেছে, আবহাওয়া হয়েছে নাতিশীতোষ্ণ … আর পূর্বাহ্নের রোদ হয়েছে শেষ রাতের স্নিগ্ধতার মতো।বসন্ত তোমার কাছে এসেছে বিস্ময়ে হাসতে হাসতে … যা তার আলোর বুননে তৈরি চাদরে আবৃত।হে আমার সহচর, তোমার জন্য আমি উৎসর্গ হই, কেন এই বিলম্ব? … তুমি কি দেখছ না এই আনন্দ এই হ্রস্ব রাতগুলোরই সন্তান?অতএব আমাকে পান করাও এবং তুমিও পান করো বাগানের পুষ্পরাজি … ঘুঘুর কুজন আর বুলবুলির গানের মাঝে।সময়ের নির্মলতা আর জীবনের সৌন্দর্যকে গণিমত হিসেবে গ্রহণ করো … আয়ু নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আগে।তুমি যদি মত্ত হও তবে পাপের পরোয়া করো না … নিশ্চয়ই তোমার রব গুনাহ মোচনকারী।তার অন্য একটি কবিতা থেকে যার মطلع হলো:ক্ষতটি আবার ফেটে গেল অথচ তা শুকিয়ে গিয়েছিল … এবং হৃদয় পূর্ণ হয়ে গেল অথচ তা শূন্য ছিল।প্রণয়ের ব্যাধি তার কাছে ফিরে এল … যখন তা চলে গিয়েছিল এবং সে তা থেকে মুক্ত হয়ে বিস্মৃত হয়েছিল।তার কী হয়েছে যে দীর্ঘশ্বাস তাকে অস্থির করে তোলে … যখনই পুবালি হাওয়া বা উত্তুরে বাতাসের ঘ্রাণ পায়?যখনই সে চমকানো বিদ্যুৎ দেখে … তখন চোখের জল লজ্জাকে জয় করে ঝরঝর করে ঝরে পড়ে।যখনই সে উদিত পূর্ণিমা দেখে … তখন সে তাকে সেই ব্যক্তি মনে করে যে তার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।সে দীর্ঘকাল পরম স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটিয়েছে … শান্তিতে, চমৎকার ও সুন্দর অবস্থায়।সে জানত না বিষাদ কী, যতক্ষণ না সে দেখল … হায়! সে যদি সেই চোখগুলো না দেখত।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
فعلت فيه بطرفٍ لو رمى … حجراً صلداً به لانفعلاكيف لا يجرح قلبي طرفه … وإذا السَّيف تحرَّى قتلاوالذي يصبو لأحداق المها … لم يمت إلا بها منجدلالائم الصَّبِّ على الحب الذي … سيف لحظيه يبيح الأجلاخلِّ عنك اللوم بالله فقد … سبق السَّيف إليه العذلاويح قلبي من هوى ذي صلفٍ … ظالم في حكمه لو عدلاما له حمَّله ما لم يطق … أتراه ظنَّ قلبي جبلاقال يستطرد بي ما حاله … صار للعشَّاق فينا مثلاأيُّها المعرض لا عن زلَّةٍ … أدلالاً كان ذا أم مللابأبي الرِّيم الذي من طرفه … سرق الظَّبي الكحيل الكحلاغصن البان الذي في قدِّه … سلب الليِّن القنا والأسلايا خليليَّ بلا أمرٍ سلا … عن فؤادي بعده ما فعلاأمقيمٌ بعده يصحبه … أم دعاه للردى فامتثلاوله من أخرى مطلعها:درَّ لها خلف الغمام هاطلاً … فجادها من رامةٍ منازلامنازلاً كان المنى منادماً … فيها وصرف الدَّهر عنها غافلانسبح في غمرته ولم نكن … نزايل الرَّوضات والخمائلالا نستفيق من خمار لذَّةٍ … نتبع أبكار الهوى الأصائلاجنان أنسٍ فارقتها عنوةً … نفوسنا واجدةً ثواكلاواهاً لها وآهةً لو بقيت … أو دام ربع اللَّهو منها آهلاومنها:كان الشباب الرَّوق فيها وبها … قضَّيت أيَّام الصِّبا الأوائلاحيث الحمى مسرح أسراب المها … وحيث كنت مرحاً مغازلاكلَّ غزالٍ آنسٍ لحاظه … للعاشقين لم تزل قواتلاتصمي إذا ما قصدت بأسهمٍ … نصالها لا تخطئ المقاتلاقضيب بانٍ قضفٌ على نقاً … فوقها ترقب بدراً كاملاما بانة الجزع على نظرتها … إذا ثنى منه قواماً عادلاومن غزلياته قوله:مهلاً فقد أسرعت في مقتلي … إن كان لا بد فلا تعجلِأنجزت إتلافي بلا علَّةٍ … الله في حمل دمي المثقلِلم تبق لي فيك سوى مهجةٍ … بالله في استدراكها أجملِإن كنت لا بدَّ جوًى قاتلي … فاستخر الله ولا تفعلِرفقاً بما أبقيت من مدنفٍ … ليس له دونك من معقلِيكاد من رقَّته جسمه … يسيل من مدمعه المسبلِما لك في إتلافه طائلٌ … فارعَ له عهداً ولا تهملِكم من قتيلٍ في سبيل الهوى … مثلي بلا ذنبٍ جنى فابتليأول مقتول جوًى لم أكن … قاتله جارَ ولم يعدلِيا مانعي الصَّبر وطيب الكرى … عن حالتي بعدك لا تسألِقد صرت من عشقك حيران لا … أعلم ماذا بي ولم أجهلِأغصُّ من دمعي حفاظاً لما … فارقته من ريقك السلسلِومنها:أفديك بالنَّفس وما دونها … ما قيمة الأرواح أن تقبلِيا غصناً مال إلى طبعه … من دلَّ جفنيك على مقتليورامياً أعجب من أنَّه … أصاب في الرَّمي ولم يمهلِرمى فأصمى مهجتي سهمه … فكان مثل القدر المرسلِيا ويح قلبي من هوى ظالمٍ … يأخذ بالذَّنب ولم يعملِأستغفر الله إليه وإن … لم أقل القول ولم أفعلِيا أعدل الناس على ظلمه … ويا أحقَّ النَّاس من مُبطلِوجدت تعذيبك مستعذباً … فاهجر إذا شئت وإلا صلِوله:ويومٍ فاخِتيِّ الجوِّ رطبٍ … يكاد من الغضارة أن يسيلا
সে তাতে এমন এক দৃষ্টি নিক্ষেপ করল যে, তা দিয়ে যদি … কোনো শক্ত পাথরে আঘাত করা হতো, তবে তাও বিদীর্ণ হয়ে যেত।কেনই বা তার আঁখিপল্লব আমার হৃদয়কে জখম করবে না, … যখন তলোয়ার নিজেই হত্যার সংকল্প করেছে।আর যে ব্যক্তি হরিণ-নয়নার চক্ষুর প্রতি আসক্ত হয়, … সে তো সেগুলোর দ্বারাই ভূপাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।প্রেমিকের প্রতি সেই ভালোবাসার কারণে যে তিরস্কারকারী, … যার আঁখিপল্লবের তলোয়ার মৃত্যুকে বৈধ করে নিয়েছে—আল্লাহর কসম, তুমি তোমার এই তিরস্কার পরিহার করো, কেননা … তলোয়ার তো নিন্দার আগেই তার ওপর জয়ী হয়ে গেছে।পরিতাপ আমার হৃদয়ের জন্য সেই অহংকারীর ভালোবাসার কারণে, … যে তার বিচারে অবিচারী, যদিও সে ন্যায়বিচার করতে পারত।তার কী হলো যে সে হৃদয়ের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দিল যা বহনে সে সক্ষম নয়? … সে কি আমার হৃদয়কে পাহাড় মনে করেছে? সে প্রাসঙ্গিকভাবে আমার কথা উল্লেখ করে বলল: তার অবস্থা কী? … সে তো আমাদের ব্যাপারে প্রেমিকদের জন্য এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।হে বিমুখকারী! কোনো ত্রুটির কারণে নয়— … তবে কি তা মান-অভিমান ছিল, নাকি বিরক্তি? আমার পিতা উৎসর্গ হোক সেই শ্বেত হরিণের প্রতি, যার আঁখি হতে … কজ্জল-নয়না হরিণ তার সুরমা চুরি করেছে।সেই উইলো শাখা (লাবণ্যময় দেহ), যার সুঠাম গড়ন … বর্শা ও নলখাগড়ার কোমলতাকে ছিনিয়ে নিয়েছে।হে আমার দুই বন্ধু! কোনো আদেশ ছাড়াই তোমরা জিজ্ঞেস করো … তার প্রস্থানের পর আমার হৃদয়ের অবস্থা কী হয়েছে? সে কি তার পরেই অবস্থান করছে এবং তার সহগামী হয়েছে, … নাকি সে তাকে ধ্বংসের দিকে আহ্বান করেছে আর সে তা মেনে নিয়েছে? তার অন্য একটি কবিতা যার প্রারম্ভিক অংশ হলো:মেঘমালার আড়াল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরল, … অতঃপর তা ‘রামা’ অঞ্চলের আবাসভূমিগুলোকে সিক্ত করল।এমন এক আবাসস্থল যেখানে কামনা-বাসনাগুলো ছিল সহচর, … আর কালের আবর্তন ছিল তার থেকে উদাসীন।আমরা তার প্রাচুর্যের মাঝে অবগাহন করতাম এবং আমরা … উদ্যান ও কুঞ্জবনগুলো ছেড়ে যেতাম না।আমরা আনন্দের মত্ততা থেকে সজাগ হতাম না, … আমরা সায়াহ্নে প্রেমের নবীন আনন্দগুলোর অনুগামী হতাম।নিবিড় সান্নিধ্যের সেই জান্নাত, যা আমাদের প্রাণগুলো … শোকাতুরা নারীর মতো ব্যথিত চিত্তে বাধ্য হয়ে ত্যাগ করেছে।আফসোস সেই জান্নাতের জন্য! হায়, যদি তা স্থায়ী হতো, … অথবা যদি তার আমোদ-প্রমোদের প্রাঙ্গণ চিরকাল জনাকীর্ণ থাকত।তার থেকে আরও কিছু অংশ:যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু সেখানেই ছিল এবং সেখানেই … আমি আমার শৈশবের শুরুর দিনগুলো অতিবাহিত করেছি।যেখানে সংরক্ষিত চারণভূমি ছিল হরিণ পালের বিচরণস্থল, … আর যেখানে আমি ছিলাম প্রফুল্ল ও চঞ্চল প্রেমিক।প্রত্যেকটি অনুগত হরিণ, যাদের চাহনি … প্রেমিকদের জন্য সর্বদা হন্তারক হয়ে আছে।সে অব্যর্থ আঘাত করে যখন সে তিরের লক্ষ্যভেদ করে, … যার ফলকগুলো মরণঘাতী স্থান লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।বালুকাস্তূপের ওপর একটি নমনীয় উইলো শাখা, … যার ওপরে পূর্ণিমার চাঁদের প্রতীক্ষা করা হয়।উপত্যকার সেই উইলো গাছ তার দৃষ্টির সামনে তুচ্ছ, … যখন সে তার সুঠাম দেহকে বাঁকিয়ে চলায় ছন্দ তোলে।তার প্রেমমূলক কবিতাগুলোর মধ্য হতে তার উক্তি:একটু থামো, তুমি তো আমাকে হত্যা করতে ত্বরান্বিত হয়েছ; … যদি মারতেই হয় তবে তাড়াহুড়ো করো না।তুমি কোনো কারণ ছাড়াই আমার বিনাশ সম্পন্ন করেছ; … আমার এই ভারী রক্তের বোঝা বহনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।তোমার প্রেমে আমার মাঝে কেবল প্রাণটুকুই অবশিষ্ট আছে; … আল্লাহর দোহাই, তা কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু সদয় হও।যদি বিরহ-যাতনাই আমার হন্তারক হওয়া অবধারিত হয়, … তবে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং তা করো না।এই রুগ্ন প্রেমিকের অবশিষ্টাংশের প্রতি দয়া করো, … তুমি ছাড়া যার কোনো আশ্রয়স্থল নেই।অত্যধিক ক্ষীণতার কারণে তার দেহটি যেন … তার ঝরঝর করে পড়া অশ্রুর সাথে গলে পড়ে যাচ্ছে।তাকে ধ্বংস করাতে তোমার কোনো লাভ নেই; … সুতরাং তার প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করো এবং অবহেলা করো না।প্রেমের পথে আমার মতো কত শত নিহত রয়েছে, … যারা কোনো অপরাধ না করেই পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে।বিরহ-যাতনায় আমিই প্রথম নিহত নই, … তার হন্তারক জুলুম করেছে এবং ন্যায়বিচার করেনি।হে আমার ধৈর্য ও সুখনিদ্রা হরণকারী! … তোমার বিরহে আমার অবস্থা কেমন তা জিজ্ঞেস করো না।আমি তোমার প্রেমে এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছি যে, … আমার কী হয়েছে তা জানি না, আবার আমি অজ্ঞাতও নই।তোমার সুপেয় লাবণ্য থেকে যা আমি হারিয়েছি, তা রক্ষা করতে গিয়ে … আমি নিজের অশ্রুতেই রুদ্ধকণ্ঠ হয়ে পড়ছি।তার থেকে আরও কিছু অংশ:আমি তোমার জন্য আমার প্রাণ ও তার অধিক যা আছে তা উৎসর্গ করছি; … প্রাণের আর কী মূল্য আছে যদি তা গ্রহণই করা না হয়? হে বৃক্ষশাখা! যে আপন স্বভাবের দিকে ঝুঁকে পড়ে, … কে তোমার আঁখিপল্লবকে আমাকে হত্যার পথ দেখাল? সে এক বিচিত্র শিকারি, যে … শিকার করতে গিয়ে অব্যর্থ নিশানায় বিদ্ধ করল এবং বিন্দুমাত্র বিলম্ব করল না।সে তির ছুড়ল এবং তার সেই তির আমার কলিজা বিদীর্ণ করল, … যা ছিল প্রেরিত ভাগ্যের মতো অমোঘ।পরিতাপ আমার হৃদয়ের জন্য সেই জালিম প্রেমের কারণে, … যে অপরাধ না করলেও শাস্তি প্রদান করে।আমি আল্লাহর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যদিও … আমি কোনো মন্দ কথা বলিনি এবং কোনো মন্দ কাজও করিনি।হে মানুষের মাঝে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি—তার জুলুম সত্ত্বেও, … আর হে বাতিলপন্থীদের মধ্যে মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি হকের অধিকারী! আমি তোমার দেওয়া যন্ত্রণাকেই মধুর মনে করেছি; … সুতরাং চাইলে তুমি সম্পর্ক ছিন্ন করো অথবা মিলিত হও।তার আরও কিছু পঙ্ক্তি:আকাশের বর্ণটি ঘুঘুর মতো ধূসর এবং দিনটি ছিল আর্দ্র, … যা তার সজীবতার আতিশয্যে প্রায় গলে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
نعمت به وندماني أديبٌ … وقورٌ في تعاطيه الشمولاقطعنا صبحه والظُّهر شرباً … وجاوزنا العشيَّة والأصيلالدى روضٍ عميم النَّبت يزهي … بأزهارٍ نمت عرضاً وطولايدور به سوار النَّهر طوراً … كما يتعانق الخلُّ الخليلاوساقينا رخيم الدَّلِّ يسبي … إذا ما ردَّد الطرف الكحيلاوله من قصيدة، أولها:تألَّق يقدم ركب النعامى … شروداً أبى سرعةً أن يشاماخفيَّاً كنبض ذراع المريض … ولمح ثغور الحسان ابتساماكأنَّ السَّما ريطةٌ رحِّلت … وذهِّب من طرفيها الغمامابدا والدُّجى فحمةٌ كاللَّهيب … له شررٌ بالدراري ترامىفهيَّج للقلب أشواقه … ونبه لوعته ثم ناماسرى موهناً فاستطار الفؤاد … إلى ما تذكَّر منه وهاماتذكَّر أيامه بالغميم … فحنَّ وما كنَّ إلا مناماأثار له من جواه القديم … وقلَّده الوجد طوقاً لزاماتحرَّشه فسباه جوًى … وجرَّده فقضاه غراماومذ خاله الطرف سقط الزِّناد … أمال إلى القلب منه الضرامالقد كان في راحةٍ قبله … فجرَّ إلى عاتقيه حساماوقد كان من قبله داؤه … دفيناً فهيَّج منه السقاماأيا برق كم ذا تعنِّي الحشا … أعمداً تروم أذاه على ماإلى مَ تمثل نجداً له … فيهفو وهيهات نجدٌ إلى ماتقول وأسباب هذا الغرام … ضروبٌ تحيِّر فيه الأناماأمن كبدي سيفه مصلتٌ … فيبدي الوجيب إلى أن يشامالعمرك ما ذاك لكنَّما … تذكَّر نجداً وأيام رامامنازل كان المنى خادماً … بها والزمان لدينا غلامافآهاً لأيامها لو تدوم … وآهاً لحلميَ لو كان دامانشدتك والودُّ يا صاحبي … يراه الفتى الحرُّ ديناً لزاماأعرني إن كان طرفٌ يعار … فإنسان عيني بدمعي عامايرى لي فؤادي وراء الرِّكاب … أسارَ وإلا لعجزٍ أقامافمن يوم بتنا على غرَّبٍ … نشيعهم وأشالوا الخياماأضلَّيته بين بان الكثيب … وما ثمَّ إلا ظباه قياماخف الله يا ظبيات النَّقا … أما في دمي تحملين الأثامارعى الله منكنَّ ظبياً أغر … أحلَّ بجسمي داءً عقاماأغار عليه اعتناق الصَّبا … وأحسد رشف لماه البشاماإذا ما بدى في الدُّجى خده … أحال الدُّجى من ضياه عيامايبيت على غرَّةٍ لاهياً … إذا بتُّ أجرع فيه الحماماوليلة زار على شحطه … تحاشى الضِّيا فتوارى الظَّلاماسرى والدُّجى عاكفٌ راجلاً … حذار المطيَّة تبدي البغامافوافى على عجلٍ مضجعي … ومن دونه بطن فلجٍ ورامافبتُّ أعانق منه القضيب … وأرقب منه الهلال التماماوأشتمُّ من خدِّه وردةً … وأرشف من شفتيه المداماوودَّع لو كان ذاك الوداع … وسار فودَّع جفني المناماومن مشهور شعره خمريته هذه:هاتها هات نصطبح يا نديم … قد تناهت خطوبنا والهمومليس ينفي الهموم مثل شمولٍ … كم حساها فأبرأته سقيمهي شمسٌ والهمُّ ليلٌ وليس الل … يل والشَّمس في الوجود يدومعلَّنا نقطع الزمان سكارى … لا نبالي بما جرى يا نديمفلنا أسوةٌ بهذي البرايا … كيف نخشى البلاء وهو عميمإنما الأمر للإله تعالى … وهو برٌّ بالعالمين رحيم
আমি তার সাহচর্যে ধন্য হলাম, আর আমার সহচর ছিল এক সুসংস্কৃত ব্যক্তি … মদ্যপানে সে ছিল অত্যন্ত গম্ভীর।আমরা সকাল এবং দুপুর মদ্যপানে অতিবাহিত করলাম … এবং অতিক্রম করলাম বিকেল ও সন্ধ্যাবেলা।এক সুবিস্তৃত ঘন সবুজ বাগানে তা বিকশিত হচ্ছিল … দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বেড়ে ওঠা চমৎকার সব ফুলে।নদীর বেষ্টনী তাকে কখনো এমনভাবে ঘিরে রাখে … যেমন একজন বন্ধু অপর বন্ধুকে আলিঙ্গন করে।আর আমাদের পানপাত্র পরিবেশক তার কোমল ভঙ্গিমায় মোহিত করে … যখন সে তার সুরমা-মাখানো চোখ জোড়া ঘুরিয়ে তাকায়।তার অন্য একটি কাসিদা থেকে, যার শুরু হলো:দক্ষিণ বাতাসের কাফেলার আগে আগে এটি ঝলকানি দিয়ে উঠল … এমন এক পলাতক দৃশ্য যা দ্রুত দৃষ্টিগোচর হতে অস্বীকার করল।রোগীর হাতের নাড়ির স্পন্দনের মতো অস্পষ্ট … এবং সুন্দরীদের ঠোঁটের হাসির ঝিলিকের মতো।মনে হচ্ছিল যেন আকাশ এক সূক্ষ্ম চাদর যা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে … আর মেঘের দুই প্রান্ত যেন স্বর্ণমণ্ডিত করা হয়েছে।তা প্রকাশ পেল যখন অন্ধকার ছিল আগুনের মতো কালো কয়লা … যার স্ফুলিঙ্গগুলো তারার পানে নিক্ষিপ্ত হচ্ছিল।তা হৃদয়ের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে জাগিয়ে তুলল … এর যাতনাকে সজাগ করে দিয়ে পরে স্তিমিত হয়ে গেল।নিঝুম রাতে তা যখন বয়ে চলল, হৃদয়টি উড়ে গেল … সেই সব স্মৃতির পানে যা তাকে দিওয়ানা করে তুলেছিল।গামিম প্রান্তরের দিনগুলোর কথা তার মনে পড়ল … সে আকুল হয়ে কাঁদল, অথচ সেসব ছিল কেবলই স্বপ্নের মতো।তা তার পুরনো অন্তর্নিহিত দুঃখকে উসকে দিল … আর বিরহ-বেদনাকে গলার হারের মতো স্থায়ী করে দিল।তা তাকে প্ররোচিত করল এবং তীব্র অনুরাগ তাকে বন্দি করল … তাকে নিঃস্ব করে প্রেমে বিলীন করে দিল।যখন চোখ তাকে চকমকি পাথরের স্ফুলিঙ্গ ভেবে ভুল করল … তখন তা হৃদয়ের দিকে আগুনের লেলিহান শিখা ছুড়ে দিল।এর আগে সে শান্তিতেই ছিল … কিন্তু এখন তা তার ঘাড়ে তলোয়ার টেনে আনল।ইতিপূর্বে তার রোগটি সুপ্ত ছিল … কিন্তু এটি তার সেই অসুস্থতাকে আবারও জাগিয়ে তুলল।হে বিজলি! আর কতকাল তুমি অন্তরকে এভাবে কষ্ট দেবে … তুমি কি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ক্ষতি করতে চাও? কিসের তরে?আর কতকাল তুমি তার সামনে নজদকে মূর্ত করে তুলবে … যাতে সে ব্যাকুল হয়, অথচ নজদ আজ কোথায় আর সে কোথায়!তুমি বলছ, অথচ এই প্রেমের কারণসমূহ … বহুবিধ, যা মানবজাতিকে বিভ্রান্ত করে ফেলে।তার তলোয়ার কি আমার কলিজা থেকে উন্মুক্ত করা হয়েছে … যা তার হৃদস্পন্দন প্রকাশ করছে যতক্ষণ না তা দৃষ্টিগোচর হয়?তোমার জীবনের কসম, তা নয়; বরং … তার নজদ এবং রামা প্রান্তরের দিনগুলোর কথা মনে পড়েছে।সেই সব আবাসস্থল যেখানে আকাঙ্ক্ষা ছিল আমাদের সেবক … আর সময় ছিল আমাদের অনুগত ভৃত্য।হায় সেই দিনগুলো! যদি তা চিরস্থায়ী হতো … হায় আমার সেই স্বপ্ন! যদি তা নিরবচ্ছিন্ন হতো।হে আমার বন্ধু! আমি তোমাকে আমাদের বন্ধুত্বের কসম দিচ্ছি … যা একজন স্বাধীন মানুষ অলঙ্ঘনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য করে।আমাকে তোমার চোখ ধার দাও, যদি চোখ ধার দেওয়া যায় … কারণ আমার আঁখিতারা অশ্রুজলে ডুবে গেছে।আমার হৃদয় কাফেলার পেছনে পেছনে ছুটছে … সে কি বন্দি হয়েছে, নাকি দুর্বলতার কারণে পিছিয়ে পড়েছে?সেই দিন থেকে যখন আমরা উচ্চভূমিতে রাত কাটিয়েছিলাম … তাদেরকে বিদায় জানাচ্ছিলাম আর তারা তাঁবু গুটিয়ে নিচ্ছিল।আমি তাকে বালিয়াড়ির গাছের আড়ালে হারিয়ে ফেলেছি … সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা হরিণগুলো ছাড়া আর কিছুই ছিল না।হে বালুকাময় মরুভূমির হরিণীরা! আল্লাহকে ভয় করো … তোমরা কি আমার রক্তের দায় বহন করছ না?আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে সেই উজ্জ্বল হরিণটিকে রক্ষা করুন … যে আমার দেহে এক দুরারোগ্য ব্যাধি ছড়িয়ে দিয়েছে।পুবালি বাতাসের তাকে আলিঙ্গন করাকে আমি হিংসে করি … আর তার ওষ্ঠাধর চুম্বনকারী বৃক্ষটিকে আমি ঈর্ষা করি।ঘুটঘুটে অন্ধকারে যখন তার গণ্ডদেশ দৃশ্যমান হয় … তখন সে তার জ্যোতির ছটায় অন্ধকারকে ভোরে রূপান্তরিত করে।সে উদাসীনভাবে খেলায় মত্ত হয়ে রাত কাটায় … অথচ আমি তার বিরহে মৃত্যুর বিষপান করে রাত কাটাই।আর এক রাতে দূর পথ পাড়ি দিয়ে সে এল … আলো তখন অপসৃত হলো, আর আঁধার তাকে লুকিয়ে রাখল।সে পদব্রজে ভ্রমণ করল যখন রাত ছিল নিস্তব্ধ … এই ভয়ে যে, সওয়ারি জানোয়ারটি ডাক দিয়ে না ফেলে।অতঃপর সে দ্রুতবেগে আমার শয্যাপাশে এসে পৌঁছাল … অথচ তার আর আমার মাঝখানে ছিল ফালাজ ও রামা উপত্যকা।আমি সারা রাত সেই ডালসদৃশ দেহকে জড়িয়ে ধরে কাটালাম … আর তার মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের সৌন্দর্য অবলোকন করলাম।তার গাল থেকে আমি গোলাপের সুবাস নিলাম … আর তার ওষ্ঠাধর থেকে সুধা পান করলাম।সে বিদায় নিল—হায়! সেই বিদায় যদি এমন না হতো … সে চলে গেল, আর আমার চোখের পাতা থেকে ঘুম চিরবিদায় নিল।তার প্রসিদ্ধ কবিতাগুলোর মধ্যে এই মদ্য-সংক্রান্ত কবিতাটি অন্যতম:নিয়ে এসো, ওহে সহচর, তা নিয়ে এসো; আমরা প্রভাতী সুধা পান করি … আমাদের বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তা এখন শেষ সীমায় পৌঁছেছে।এই পানীয়র মতো আর কিছুই দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে না … কতজনই না তা পান করেছে আর তা তাকে অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিয়েছে।এটি হলো সূর্য আর দুশ্চিন্তা হলো অন্ধকার রাত … আর এ জগতে রাত ও সূর্য কেউই চিরস্থায়ী নয়।হয়তো আমরা মাতাল অবস্থায় আমাদের সময়টুকু কাটিয়ে দেব … হে বন্ধু, যা ঘটে গেছে তা নিয়ে আমরা বিন্দুমাত্র পরোয়া করব না।এই সৃষ্টিজগতের মাঝে আমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে … বিপদ যখন সর্বজনীন, তখন তাকে ভয় পেয়ে কী হবে?নিশ্চয়ই সকল বিষয় মহান আল্লাহর ইখতিয়ারে … আর তিনি সৃষ্টিজগতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
خلِّ عنَّا ذكر ابن سيفا ومعنٍ … إنما يطلب الغريمَ الغريمُما لنا والحروب نحن أناسٌ … ما لنا طاقةٌ بشيءٍ يضيمهمُّنا شربنا الطِّلا وهوانا … من قديمٍ هذا الشَّراب القديمُاترك النَّاس في يصير ويجري … ويجيبوا ويقعدوا ويقيمواواسقنيها واشرب ثلاثاً ثلاثاً … هكذا حكمها وأنت حكيمُلا تصل بالصَّبوح غير غبوقٍ … وتجنَّب في شربها من يلومإنَّ كلَّ الحياة كأسٌ مدارٌ … ونديمٌ حلوٌ وساقٍ كريمُوابن سيفا هو الأمير يوسف ذلك الذي بلغ السُّها بجده، وكان أخا السيف في لألائه ومضاء حده.من أسرة طلعوا كأنابيب القنا نسقاً، وفاحوا كأزاهير الرياض عبقاً.فإن غابوا عن العيان تراءوا مشاعل في السرى، وإن ظهروا رأت النواظر بهم الثريا في الثرى. ما منهم إلا جواد شهدت بسبقه ميادينه، وأديبٌ حب الأدب شرعته ودينه.وكانوا ولاة طرابلس الشام وحكامها، وبقائم سيفهم تولوا صيانتها وإحكامها.حتى وقع بين كبيرهم هذا وبين الأمير فخر الدين بن معن، ذاك الغادر الذي قتل الراعي وساق الظعن.فجرت بينهما حروبٌ لم يحصل أحدٌ منهما على وطر، وبقي الأمر بينهما مدة في تناكر مفضٍ إلى خطر.ثم خرج في أثناء ذلك ابن جانبولاذ الذي جاهد في الخلاف وجاهر، وكاشف بالانحراف على السلطنة وكاشر.فانضم إليه ابن معن وحزبه، الذين تدرعوا جلود الحيات، وأقاموا آلات حربهم مقام أنمل التحيات.وكان من أمر الله أن الأمير يوسف جهز عليهم، ووصل بجموعه التي يقدر أن يغل بها جيش المصائب إليهم.وهممه معلقة بالأثير، محلقة على فلك التدبير. غير أن يد القدر فوق التقدير، وما يصنع المرء إذا وقع في البير. فلما تقابل الجيشان تمت على ابن سيفا الهزيمة وانحلت منه تلك العزيمة. وفر من ذلك المكان إلى دمشق، فأقام بها مختفياً أياماً، وهو من وساوس وهمه لم يطعم مناماً. فقصدوه متتبعين زلة قدمه، وطالبين بسيف الاعتداء سفك دمه. فدخل بينهم أهل دمشق وأطفأوا تلك النائرة، وأخمدوا ببرد الصلح تلك الفتنة الثائرة.بمال حملوه إلى القوم، وسلموا به من المحذور واللوم. وانقلب ابن سيفا إلى وطنه، وهو شاكٌّ من ضيق عطنه. وتبدل تبسمه ذاك بالقطوب، ونال القلوب كمد خطبه الذي لا كالخطوب. ومن ثم حالت بدولة بيته الأحوال، ولم تطل أيامهم حتى أذنت شمسها بالزوال. فعلى ما تضمنهم من تلك الأريحية، أزكى السلام من الله تعالى والتحية. وهذه الجملة وقعت في الأثنا فكانت باعثةً على ما هو طلبتي من الثنا.وأرجع إلى ما أنا بصدده أمدني الله بمدده.ومن شعر الأكرمي قوله في خمريته:كم جلونا في ليلة الفطر والأض … حى على قاسيون بكر الدنانوشربنا في ليلة النصف من شع … بان صرفاً وفي دجى رمضانونهار الخميس عصراً وفي الجم … عة قبل الصلاة بعد الأذانوسقانا ظبيٌ غريرٌ وغنت … ظبيةٌ تستبيك بالألحانوسبحنا في غمرة اللهو والقص … ف على طاعة الهوى والأمانيولعمري لقد سئمنا من الغيِّ … وعفنا من كثرة العصيانلم ندع مدَّة الصِّبا للتصابي … من طريقٍ مهجورةٍ أو مكانقد أطعنا غيَّ الشَّباب بجهلٍ … فاعفُ عنَّا يا واسع الغفرانومن مقاطيعه قوله:ربَّ رامٍ عن مثل حاجبه … بمثل ألحاظه لمغرمهِسمَّى بغيري مفوِّقاً ودمي … فرحت وحدي صريع أسهمهوقوله:قلت إذ لام في العذار عذولي … وهو في الخدِّ للهوى عنوانُإنَّ ورد الرِّياض أحسن ما … كان إذ دار حوله الريحانُوقوله في دولاب الماء:ودولابٍ يئنُّ أنين صبٍّ … كئيب نازح الأهلين مضنىتذكَّر عهده بالرَّوض غصناً … ومحنة قطعه فبكى وأنَّاوما يدري أترديدٌ لمعنًى … شجاه أم حنين جوى المعنَّىوقوله معمياً باسم يوسف:وشادنٍ كالقضيب عطفاً … أطال في صبِّه عناهُ
ইবনে সাইফা এবং মানের আলোচনা আমাদের থেকে দূরে রাখো … কেননা পাওনাদার কেবল পাওনাদারকেই খোঁজে।যুদ্ধের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক, আমরা তো এমন মানুষ … যাদের কোনো কিছু সহ্য করার শক্তি নেই যা কষ্ট দেয়।আমাদের একমাত্র চিন্তা মদ্যপান এবং আমাদের ভালোবাসা … অনাদিকাল থেকেই এই পুরাতন পানীয়ের প্রতি।মানুষকে 'হয়' এবং 'ঘটে' এর মাঝে ছেড়ে দাও … তারা জবাব দিক, বসুক এবং দাঁড়াক।আমাকে তা পান করাও এবং তিনবার তিনবার করে পান করো … এটাই এর নিয়ম আর তুমি তো বিজ্ঞ।সকালের পানীয়ের সাথে সন্ধ্যার পানীয় ছাড়া অন্য কিছু যোগ করো না … এবং এটি পান করার সময় নিন্দুককে এড়িয়ে চলো।নিশ্চয়ই পুরো জীবনটা হলো একটা ঘূর্ণায়মান পেয়ালা … এক মিষ্টি সঙ্গী এবং এক দয়ালু পরিবেশক।আর ইবনে সাইফা হলেন আমির ইউসুফ, যিনি তাঁর সৌভাগ্যের মাধ্যমে সুহা নক্ষত্র পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তিনি ছিলেন তলোয়ারের উজ্জ্বলতা ও তার ধারের তীক্ষ্ণতায় তলোয়ারের ন্যায় সহোদর।তিনি এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন যারা বর্শার ফলার মতো সারিবদ্ধভাবে উদিত হয়েছে এবং বাগানের ফুলের মতো সুবাস ছড়িয়েছে।যদি তারা দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতেন, তবে রাতের অন্ধকারে মশাল হিসেবে দৃশ্যমান হতেন। আর যদি তারা আত্মপ্রকাশ করতেন, তবে তাদের মাধ্যমে দর্শকরা মাটির বুকেই সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ দেখতে পেত। তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন এমন এক অশ্বারোহী যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছে রণক্ষেত্র, এবং এমন এক সাহিত্যিক যার জীবনবিধান ও ধর্মই ছিল সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা।তারা ছিলেন সিরিয়ার ত্রিপোলির গভর্নর ও শাসক। নিজেদের তলোয়ারের শক্তিতে তারা এর সুরক্ষা ও শাসনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।শেষ পর্যন্ত তাদের এই বড় নেতার সাথে আমির ফখরুদ্দিন বিন মানের বিরোধ বাধে, সেই বিশ্বাসঘাতক যে রাখালকে হত্যা করেছিল এবং উটগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল।তাদের মধ্যে এমন যুদ্ধ সংঘটিত হলো যেখানে তাদের কেউই কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।এরপর এর মধ্যে ইবনে জানবুলাদ আবির্ভূত হলেন, যিনি বিদ্রোহে লিপ্ত হলেন এবং প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করলেন। তিনি সালতানাতের সাথে বিরোধে লিপ্ত হলেন এবং অবাধ্যতা প্রকাশ করলেন।অতঃপর ইবনে মান এবং তার দল তার সাথে যোগ দিল, যারা সাপের চামড়াকে বর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং যুদ্ধের সরঞ্জামগুলোকে অভিবাদনের আঙুলের স্থলাভিষিক্ত করেছিল।আল্লাহর ফয়সালা ছিল এই যে, আমির ইউসুফ তাদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিলেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছালেন যা দিয়ে তিনি বিপদের বাহিনীকে পরাভূত করার ক্ষমতা রাখতেন।তার সংকল্প ছিল আকাশছোঁয়া, যা কৌশলের কক্ষপথে বিচরণ করছিল। তবে তকদিরের হাত সব পরিকল্পনার উর্ধ্বে, আর মানুষ কী-ই বা করতে পারে যখন সে কূপে পতিত হয়। যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হলো, ইবনে সাইফা পরাজিত হলেন এবং তার সেই সংকল্প ভেঙে পড়ল। তিনি সেই স্থান থেকে দামেস্কে পালিয়ে গেলেন এবং সেখানে কয়েকদিন আত্মগোপন করে থাকলেন। আশঙ্কার কারণে তিনি চোখে এক মুহূর্তের জন্য ঘুমও পাননি। শত্রুরা তার পদস্খলন অনুসরণ করে এবং অন্যায়ভাবে তলোয়ার দিয়ে তার রক্ত ঝরানোর উদ্দেশ্যে তাকে খুঁজতে লাগল। তখন দামেস্কের অধিবাসীগণ তাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করলেন এবং সেই বিবাদের আগুন নির্বাপিত করলেন, এবং সন্ধির শীতলতা দিয়ে সেই জাগ্রত ফিতনা প্রশমিত করলেন।কিছু অর্থ তারা সেই গোত্রের কাছে পাঠালেন, যার মাধ্যমে তারা বিপদ ও নিন্দা থেকে রক্ষা পেলেন। ইবনে সাইফা নিজ বাসভূমিতে ফিরে গেলেন, তবে তিনি সংকীর্ণ পরিস্থিতির অভিযোগ করছিলেন। তার সেই হাসি বিষণ্ণতায় রূপান্তরিত হলো এবং তার হৃদয়কে এমন শোক গ্রাস করল যার তুলনা অন্য কোনো বিপদের সাথে হয় না। সেখান থেকেই তার বংশের রাজত্বের অবস্থা বদলে যেতে শুরু করল। তাদের দিনগুলো দীর্ঘ হয়নি, এমনকি খুব দ্রুতই তাদের সূর্য অস্তমিত হওয়ার সংকেত দিল। তাদের মধ্যে থাকা সেই মহত্ত্বের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পবিত্র সালাম ও অভিবাদন। এই কথাগুলো প্রসঙ্গের মধ্যে এসে পড়ল, যা আমার কাঙ্ক্ষিত প্রশংসার প্রেরণা হয়ে দাঁড়াল।এখন আমি আমার মূল বিষয়ে ফিরে আসছি, আল্লাহ আমাকে তাঁর সাহায্য দ্বারা পুষ্ট করুন।আকরামি-র কবিতার মধ্যে তার সুরা-সংক্রান্ত কবিতায় তিনি বলেছেন:ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার রাতে আমরা কতবার … কাসিউন পাহাড়ে আদি মদের কলসগুলো উন্মোচন করেছি।আমরা শাবান মাসের মধ্যরজনীতে খাঁটি শরাব পান করেছি … এবং রমজানের অন্ধকার রাতেও।বৃহস্পতিবার বিকেলে এবং জুমার দিনে … আজানের পর নামাজের আগে।এক সুন্দরী হরিণ-বালক আমাদের পান করিয়েছে এবং এক হরিণ-বালিকা গান গেয়েছে … যে সুর দিয়ে তোমাকে মুগ্ধ করে দেবে।আমরা আনন্দ এবং উৎসবের গভীরে ডুব দিয়েছি … খেয়ালখুশি এবং আকাঙ্ক্ষার আনুগত্যে।আমার জীবনের শপথ, আমরা বিভ্রান্তিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি … এবং পাপের আধিক্যে বিরক্ত হয়েছি।যৌবনের সময়টুকুতে আমরা প্রেম-লীলার জন্য … কোনো নির্জন পথ বা স্থান বাকি রাখিনি।অজ্ঞতাবশত আমরা যৌবনের মোহের আনুগত্য করেছি … সুতরাং হে ক্ষমাশীল! আপনি আমাদের ক্ষমা করুন।তার ছোট কবিতাগুলোর মধ্যে একটি হলো:অনেক তিরন্দাজ তার ভ্রুর মতো ধনুক থেকে … তার চোখের চাহনির তির দিয়ে প্রেমিকের দিকে নিক্ষেপ করে।সে আমার বদলে অন্য কাউকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, অথচ আমার রক্ত … ঝরে পড়ে, আমি একাই তার তিরে ভূপাতিত হই।তার অন্য একটি কবিতা:যখন আমার সমালোচক আমার গালের রেখা নিয়ে নিন্দা করছিল … অথচ তা ছিল গালের ওপর প্রেমের শিরোনাম।আমি বললাম, বাগানের গোলাপ তখনই সবচাইতে সুন্দর দেখায় … যখন তার চারপাশে সুগন্ধি রায়হান পরিবেষ্টিত থাকে।পানির চাকা সম্পর্কে তার উক্তি:এক পানির চাকা প্রেমিকের মতো বিলাপ করছে … যে বিষণ্ণ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং জীর্ণ।সে বাগানে ডাল হয়ে থাকার সময়ের কথা স্মরণ করছে … এবং তা কেটে ফেলার যন্ত্রণায় কাঁদছে ও আর্তনাদ করছে।সে জানে না এটা কি কোনো ভাবের পুনরাবৃত্তি … যা তাকে ব্যথিত করেছে, নাকি কোনো নিপীড়িত হৃদয়ের ব্যাকুলতা।ইউসুফ নামের ধাঁধা হিসেবে তার উক্তি:এক হরিণ শাবক যার নমনীয়তা ডালের মতো … সে তার প্রেমিকের কষ্টকে দীর্ঘায়িত করেছে।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
يكاد عضب اللحاظ منه … بغير ريبٍ يفري حشاهُالقاضي إسماعيل بن عبد الحق الحجازي هذا القاضي قضي له بالأدب الوافر، من منذ طلع في مهده طلوع البدر السافر. فعرف رشده قبل أوانه، وهكذا الكتاب يدرى من عنوانه.وأبوه في الصنعة من الفحول السبق، له في الريحانة ذكر أطيب من المسك وأعبق.وهو فاح فوحته، وجاء جيئته، وراح روحته. وحذا في الغراميات حذوه، فلم يبق من نار وجده ولا جذوة. فهو مخمر الطينة بالفضل المحض، مجبول الفطرة على الأدب الغض. مجده فوق الامتداح، وزنده يضيء قبل الاقتداح.ولقد برز كل التبريز، وما كل قاضٍ قاضي تبريز. فجاء بأفانين من غزلياته، تهزأ برونق الصدغ في لباته.وأطرب بألحانه، ولا إطراب الخمر بحانه. وله أغانٍ تكاد بلا مضارب تجاوبها الأوتار، ولم يبق قلبٌ أدرك مغناها إلا وثار.وكانت أريحيات غرامه تستفزه، وصبوبات مدامه تستهزه. فلا يزال هائماً بغزال، ولا يريم من عشق ريم. وشعره الذي تعلق به قلوب الأهوا، يعرب عن حاله إعراب الدمع عن مكتوم سر الهوى. وهو سائرٌ مدون، والجوهر المثمن منه أدون.فدونك ما هو ألطف من العتاب، بين الصحاب، وأوقع من الرواح، ممزوجاً بماء السحاب.فمنه قوله:لو أن بالعذَّال ما بي … ما عنَّفوني بالتَّصابيكلا ولو ذاقوا الهوى … مثلي لما ملكوا خطابيويلاه من بعد المزا … رِ فإنه شرُّ العقابِقسماً بخلوات الحبي … ب وطيب وقفات العتابِوتذلُّلي يوم النَّوى … لمنيع ذيَّاك الجنابِوبوقفتي أشكو هوا … ي له بألفاظٍ عذابِأبكي وأسرق أدمعي … خوف العواذل في ثيابيما للمحبِّ أشدُّ من … نار التَّباعد من عذابِبأبي غزالٌ ليِّن ال … أعطاف معسول الرُّضابِميَّاس غصن قوامه … يزري ببانات الرَّوابيريَّان من ماء الصِّبا … سكران من خمر الشَّبابِجعل التَّجافي دأبه … وجعلته وهواه دابيقال العواذل عندما … أبصرن بالأشواق ما بيقد كنت من أهل الفصا … حة لا تحول عن الصَّوابِفأجبتهم والقلب من … نار الصَّبابة في التهابِالحبُّ قد أعيى فصي … ح القول عن ردِّ الجوابِوتراه إن حضر الحبي … ب لديه يأخذ في اضطرابوقوله:أجرني من صدودك بعد وعدك … وخلِّص مهجتي من نار بعدكْوخصِّصني برقٍّ دون عتقٍ … لأدعى بين أقوامي بعبدكْوقصِّر طول ليلات التنائي … وما لاقيت من أيَّام صدِّكْومعصية العذول ومن نهاني … ضلالاً في الهوى عن حفظ ودِّكْوأنفاسٍ أصعِّدها إذا ما … ذكرتك والدَّياجي مثل جعدكْلأنت لديَّ مجتمع الأماني … وأكثر ما وددت بقاء ودِّكْوقد عبث الهوى بغصون قلبي … كما عبث الدَّلال بغصن قدِّكْوقوله:ولمَّا حدا الحادون بالبين والنَّوى … وشبَّ لنار الاشتياق وقودُولم يبق لي من منجدٍ غير زفرةٍ … ودمعٍ وأشواقٍ عليَّ تزيدُطلبت من القلب اصطباراً فقال لي … وللشَّوق عندي مبدئٌ ومعيدُلقد كنت صبًّا والدِّيار قريبةٌ … فكيف وعهد الدَّار عنك بعيدُوقوله:وربَّ عتابٍ بيننا جرَّه الهوى … شهيٍّ بألفاظٍ أرقَّ من السِّحرِوأحلى من الماء الزُّلال على الظَّما … وألطف من مرِّ النَّسيم إذا يسريعتابٌ سرقناه على غفلة النَّوى … وقد طرفت أيدي الهوى أعين الدَّهرِوقد أخذتنا نشوةٌ من حديثه … كأنَّا تعاطينا سلافاً من الخمرِورحنا بحالٍ ترتضيها نفوسنا … وها أنا بين الصَّحو ما زلت والسُّكرِوقوله:
তার দৃষ্টির ধার যেন কোনো সন্দেহ ছাড়াই তার কলিজা বিদীর্ণ করে ফেলে।কাজী ইসমাইল ইবনে আব্দুল হক আল-হিজাজি। এই কাজীর অনুকূলে প্রচুর সাহিত্যের রায় দেওয়া হয়েছে, যখন থেকে তিনি দোলনা থেকে প্রস্ফুটিত পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উদিত হয়েছেন। ফলে সময়ের পূর্বেই তার বিচক্ষণতা চেনা গেছে, আর এভাবেই কোনো গ্রন্থ তার শিরোনাম দেখেই বোঝা যায়।এবং তার পিতা এই শিল্পে অগ্রগামী প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; সুগন্ধি কাননে তার উল্লেখ মিশকের চেয়েও সুগন্ধিময় ও অধিক সুবাসিত।আর তিনি (পুত্র) পিতার সুবাসেই সুবাসিত হয়েছেন, পিতার পথেই চলেছেন এবং পিতার ন্যায়ই জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি প্রেমগাথায় পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, ফলে প্রেমের আগুনের কোনো ফুলকি বা অঙ্গারও অবশিষ্ট থাকেনি। তিনি খাঁটি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে খামিরকৃত মাটির তৈরি, আর কোমল সাহিত্যের ওপর তার স্বভাবজাত প্রকৃতি গঠিত। তার মর্যাদা প্রশংসার ঊর্ধ্বে, আর ঘর্ষণের পূর্বেই তার চকমকি পাথর আলোকিত হয়।তিনি পূর্ণ পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন, আর সব কাজীই তো তাবরিজের কাজী নন। তিনি তার গজলগুলোতে এমন সব বিচিত্র শিল্প নিয়ে এসেছেন যা প্রেয়সীর গ্রীবায় অলকের উজ্জ্বলতাকে উপহাস করে।তিনি তার সুরে বিমোহিত করেছেন, যা মদের আড্ডায় মদের মোহের চেয়েও অধিক। তার এমন সব সংগীত রয়েছে যা বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই যেন তারুণ্যের তারে তন্ত্রীতে বেজে ওঠে, আর এমন কোনো হৃদয় নেই যা এর অর্থ অনুধাবন করার পর আলোড়িত হয়নি।তার প্রেমের উচ্ছ্বাস তাকে উদ্বেলিত করত এবং মদের অনুরাগ তাকে আলোড়িত করত। তিনি নিরন্তর কোনো হরিণী-নয়নার প্রেমে মগ্ন থাকতেন এবং কোনো সুন্দরীর প্রেম থেকে বিচ্যুত হতেন না। তার কবিতা—যার সাথে কামনার হৃদয়গুলো আসক্ত—তা তার অবস্থার কথা প্রকাশ করে, যেমন অশ্রু প্রেমের গোপন রহস্য প্রকাশ করে। তার কাব্য সর্বত্র প্রচলিত ও লিপিবদ্ধ, আর অমূল্য রত্নও তার কাছে তুচ্ছ।সুতরাং আপনার সামনে পেশ করছি সেই কথা যা বন্ধুদের মধ্যকার অনুযোগের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং মেঘের বারিবিন্দু মিশ্রিত সান্ধ্যকালীন বায়ুর চেয়েও অধিক প্রভাব বিস্তারকারী।তন্মধ্যে তার বাণী:নিন্দুকদের যদি সেই দশা হতো যা আমার হয়েছে … তবে তারা যৌবনের প্রেমে আমাকে তিরস্কার করত না।কক্ষণো না, তারা যদি আমার মতো প্রেমের স্বাদ পেত … তবে তারা আমার কথার কোনো উত্তর দিতে সমর্থ হতো না।হায়! সাক্ষাতের দূরত্বের পর বিচ্ছেদই হলো … নিকৃষ্টতম শাস্তি।প্রিয়ার নির্জনতা এবং অনুযোগের … মুহূর্তগুলোর মাধুর্যের শপথ করছি।এবং বিচ্ছেদের দিনে সেই দুর্ভেদ্য মর্যাদার অধিকারীর … সামনে আমার বিনয় প্রদর্শনের শপথ।এবং আমার অবস্থানের শপথ, যেখানে আমি অত্যন্ত মিষ্ট ভাষায় … তার কাছে আমার প্রেমের অভিযোগ করি।আমি কাঁদি এবং নিন্দুকদের ভয়ে … কাপড়ের আড়ালে চোখের পানি লুকিয়ে ফেলি।প্রেমিকের জন্য দূরত্বের আগুনের চেয়ে … কঠিন কোনো শাস্তি নেই।আমার প্রাণের বিনিময় সেই হরিণ-সদৃশ সুন্দরীর জন্য, যার দেহ অত্যন্ত নমনীয় … এবং যার লালা অত্যন্ত মিষ্টি।তার দেহপল্লব যখন দোলে, তখন পাহাড়ের … চূড়ার বৃক্ষরাজিও তুচ্ছ হয়ে যায়।সে যৌবনের বারিতে সিক্ত … এবং তারুণ্যের মদিরায় মত্ত।সে বিমুখতাকে তার অভ্যাস বানিয়েছে … আর আমি তাকে এবং তার প্রেমকে আমার পাথেয় করেছি।যখন নিন্দুকেরা আমার মধ্যে … ব্যাকুলতা দেখল, তখন তারা বলল:তুমি তো বাগ্মী ছিলে … এবং সত্য থেকে বিচ্যুত হতে না।আমি তাদের উত্তর দিলাম এমতাবস্থায় যে, আমার হৃদয় … প্রেমের আগুনে জ্বলছে:প্রেম তো স্পষ্টভাষীকেও … উত্তর দেওয়া থেকে অক্ষম করে দেয়।আর তুমি তাকে দেখবে যখন প্রিয়া তার সামনে … উপস্থিত হয়, তখন সে অস্থিরতায় ভোগে।এবং তার বাণী:অঙ্গীকারের পর তোমার বিমুখতা থেকে আমাকে রক্ষা করো … এবং তোমার দূরত্বের আগুন থেকে আমার প্রাণকে মুক্তি দাও।আমাকে মুক্তিহীন দাসে পরিণত করো … যাতে আমার কওমের মাঝে আমি তোমার গোলাম নামে পরিচিত হই।বিচ্ছেদের দীর্ঘ রাতগুলোকে সংক্ষিপ্ত করো … এবং তোমার বিমুখতার দিনগুলোতে আমি যা সহ্য করেছি তাও।নিন্দুকের অবাধ্যতা এবং সেই ব্যক্তির অবাধ্যতা … যে আমাকে পথভ্রষ্ট হয়ে তোমার ভালোবাসা রক্ষা করতে নিষেধ করেছে।এবং সেই দীর্ঘশ্বাস যা আমি ফেলি যখন তোমাকে স্মরণ করি … আর অন্ধকার রাতগুলো যেন তোমার অলকের মতো।তুমিই আমার কাছে সকল কামনার সমষ্টি … এবং তোমার ভালোবাসার স্থায়িত্বই আমার কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত।প্রেম আমার হৃদয়ের শাখাগুলো নিয়ে খেলা করেছে … ঠিক যেমন লালিত্য তোমার দেহের শাখা নিয়ে খেলা করেছে।এবং তার বাণী:যখন উষ্ট্রচালকরা বিচ্ছেদ ও দূরত্বের গান গেয়ে উঠল … এবং আকাঙ্ক্ষার আগুনে জ্বালানি প্রজ্বলিত হলো।তখন দীর্ঘশ্বাস, অশ্রু এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া … ব্যাকুলতা ছাড়া আমার কোনো সাহায্যকারী অবশিষ্ট ছিল না।আমি হৃদয়ের কাছে ধৈর্য চাইলাম, সে বলল— … আমার কাছে প্রেমের শুরু ও শেষ উভয়ই বিদ্যমান।ঘর যখন কাছে ছিল তখনই তুমি আসক্ত ছিলে … তবে এখন ঘরের অঙ্গীকার যখন তোমার থেকে দূরে তখন অবস্থা কেমন হবে?এবং তার বাণী:আমাদের মাঝে অনেক অনুযোগ রয়েছে যা প্রেম টেনে এনেছে … যা জাদুর চেয়েও সূক্ষ্ম শব্দের মাধ্যমে অত্যন্ত লোভনীয়।এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় সুশীতল পানির চেয়েও মিষ্টি … এবং প্রবাহিত মন্দাক্রান্ত বাতাসের চেয়েও কোমল।এই অনুযোগ আমরা বিচ্ছেদের অসতর্কতায় চুরি করে নিয়েছি … যখন প্রেমের হাতগুলো কালের দৃষ্টিকে অন্ধ করে দিয়েছিল।তার কথায় আমাদের মাঝে এক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল … যেন আমরা খাঁটি মদিরা পান করেছি।এবং আমরা এমন এক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছি যা আমাদের মন পছন্দ করে … আর আমি এখনো সেই সচেতনতা ও মত্ততার মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছি।এবং তার বাণী:
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أيا قمراً من وجهه طلعة البدر … ويا رشأً من لحظه صنعة السِّحرِحكيت القنا والبيض لحظاً وقامةً … فمن أجل ذا أرتاح للبيض والسُّمرِوحقَّك لولا البدر يحكيك طلعةً … لما طمحت عيني إلى رؤية البدرِولو لم يكن للخمر في فيك نسبةٌ … لما كنت أصبو عند ذكراه للخمرِولولاك في قصر المصلَّى وحاجرٍ … لما شاقني ذكر المصلَّى ولا القصرِفيا نازحاً عن مقلتي وهو حاضرٌ … بقلبي لقد أفرطت في الصَّدِّ والهجرِويا فاتكاً عيناه قد طلًتا دمي … وأسلمتا قلبي إلى نوب الدَّهرِترفق بدمعٍ طرفه فيك مطلقٌ … وقلبٍ من الأشواق في أوثق الأسرِوقوله:قلبي من الأشواق لاهف … والدَّمع من عينيَّ ذارفْأبكي ودمعي لم يدع … أحداً بحالي غير عارفْولقد أقول لمن يرا … ني في طريق الذُّلِّ واقفْلولا المحبَّة يا رفيقي … لم يكن قلبي لعاطفْكلَاّ ولا أبصرتني … للسقم والبلوى محالفْأرعى النُّجوم ولي فؤا … دٌ من دواعي البين خائفْأصبو إذا علنَّى على … أعلى غصون الدَّوح هاتفْويشوقني برقٌ بدا … من جانب الأحباب خاطفْفَوَحَقَّ أغصان القدو … د ولين هاتيك المعاطفْوصباح مُبيَصِّ الجبي … ن وليل مسودِّ السوالفْولواحظٍ فتَّاكةٍ … في جفنها هاروت عاكفْومرشفٍ عسَّالةٍ … يا حبَّذا تلك المراشفْورقيق هاتيك الخصو … ر وتحتها ثقل الرَّوادفْومواقف الذُّلِّ التي … عرَّفني ذلَّ المواقفْأشكو الغرام وأرتجي … من متلفي حسن العواطفْما حلت عنك وليس يص … رفني عن الأشواق صارفْوإذا أسأت فإنَّها … عندي تعدُّ من اللَّطائفْفسقى الإله زماننا … ورعى ليالينا السَّوالفْأيام كنت لعاذلي … وللائمي فيها أخالفْوقوله:ورُبَّت ليلةٍ قد زار فيها … خيالٌ في الدُّجى منه طروقُوبات تشوُّقي يدنيه منِّي … ويبعده من القلب الخفوقُفلا أروى الحشا منه اعتناقٌ … ولا بلَّ الجوى لي منه ريقُوقوله مضمِّناً:أرَّقتني الأشجان والأشواق … وبسهم النَّوى رماني الفراقُونما الشَّوق في فؤادي فضاقت … فيك عن وصف ما بي الأوراقُثم أنشدت داعياً ولدمعي … فيك من لوعة الفراق انطلاقُجمع الله شمل كلِّ محبٍّ … وبدا بي لأنني مشتاقُوقوله:يا مولعاً بصدودي … أفنى الجفا مستهامكْأعرضت عنِّي دلالاً … لمَّا عرفت مقامكْضيَّعتني بالتَّجافي … لمَّا حفظت ذمامكْفلو شهدت سهادي … وهبت جفني منامكْفعاذلي مذ رآني … رثى لحالي ولامكْيكفيك لحظك سيفاً … فلا تجرِّد حسامكْطوبى لبدر الدَّياجي … لو ترتضيه غلامكْويا سعادة غصنٍ … يحكي اعتدالاً قوامكْجلَّ الذي يا حبيبي … في ذا المقام أقامكْإلى متى يا فؤادي … يذكي هواهم ضرامكْويا عذولي إلى كم … تطيل فيهم ملامكْقد كلَّ بالعذل قلبي … وملَّ سمعي مرامكْوقوله:ولي قلبٌ أليمٌ من … صدودك دائم الضَّرمِبودَّي لو أقطِّعه … فإنَّ وجوده عدميولكنَّ قطعي العضو ال … أليمَ يزيد في ألميوقوله، يصف ليلة مضت له في روضة أريضة، وساعفته بها آمالٌ من الوصال عريضة:
হে সেই চাঁদ, যাঁর চেহারায় পূর্ণিমার চাঁদের জ্যোতি … হে সেই হরিণশাবক, যাঁর দৃষ্টিতে রয়েছে জাদুর কারুকাজ।তুমি দৃষ্টি ও অবয়বে বল্লম ও তলোয়ারের সাদৃশ্য রাখো … এই কারণেই আমি শ্বেতবর্ণ ও শ্যামবর্ণের (তলোয়ার ও বল্লমের) প্রতি প্রশান্তি খুঁজে পাই।তোমার শপথ! পূর্ণিমার চাঁদ যদি তোমার রূপের সদৃশ না হতো … তবে আমার চোখ কখনো পূর্ণিমার চাঁদ দেখার আকাঙ্ক্ষা করত না।যদি তোমার ওষ্ঠাধরের সাথে সুরা বা মদের কোনো সম্বন্ধ না থাকত … তবে মদের কথা স্মরণ হলে আমি কখনো তার প্রতি আসক্ত হতাম না।তুমি যদি কাসরুল মুসাল্লা ও হাজিরে না থাকতে … তবে মুসাল্লা কিংবা কাসরের স্মৃতি আমাকে কখনো ব্যাকুল করত না।হে আমার চোখ থেকে দূরে থাকা প্রিয়তম, অথচ তুমি আমার অন্তরে উপস্থিত … তুমি বিমুখতা ও বিচ্ছেদে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছ।হে সেই ঘাতক, যাঁর দুই চোখ আমার রক্ত বিগলিত করেছে … এবং আমার অন্তরকে কালের দুর্যোগের হাতে সঁপে দিয়েছে।সেই অশ্রুর প্রতি দয়া করো যা তোমার বিরহে অবিরাম বহমান … আর সেই হৃদয়ের প্রতি যা অনুরাগের নিবিড় বন্দিত্বে আবদ্ধ।তাঁর বাণী:অনুরাগে আমার হৃদয় দগ্ধ … আর আমার দুই চোখ থেকে অশ্রু বিগলিত।আমি ক্রন্দন করি, আর আমার অশ্রু কাউকে আমার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত রাখেনি।যে ব্যক্তি আমাকে লাঞ্ছনার পথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তাকে আমি বলি—হে আমার বন্ধু! ভালোবাসা না থাকলে … আমার হৃদয় কখনো কারো প্রতি অনুরাগী হতো না।কক্ষনো না, আর তুমি আমাকে রোগ ও বিপদের সাথী হিসেবেও দেখতে পেতে না।আমি নক্ষত্ররাজি গুনি, আর আমার এমন এক হৃদয় রয়েছে যা বিচ্ছেদের ভয়ে আতঙ্কিত।বড় বৃক্ষের সর্বোচ্চ শাখায় যখন কোনো গায়ক পাখি ডাক দেয়, তখন আমি ব্যাকুল হয়ে উঠি।প্রিয়জনদের দিক থেকে চমকে ওঠা বিদ্যুৎ আমাকে উদগ্রীব করে তোলে।সেই দেহলতারূপ ডালপালা এবং দেহের সেই নমনীয় ভাঁজগুলোর শপথ! আর উজ্জ্বল ললাটের শুভ্র প্রভাত এবং কুচকুচে কালো অলকগুচ্ছের অন্ধকারের শপথ! আর সেই ঘাতক চাহনির শপথ, যার চোখের পাতায় হারুত জাদুমন্ত্র নিয়ে ধ্যানে মগ্ন! আর মধুঝরা সেই ওষ্ঠাধরের শপথ... আহা! কতই না চমৎকার সেই মিলনস্থল।আর সেই ক্ষীণ কটিদেশ এবং তার নিম্নদেশের ভারিক্কি নিতম্বের শপথ! আর অপমানের সেই মুহূর্তগুলোর শপথ, যা আমাকে দৈন্যের স্বরূপ চিনিয়েছে।আমি প্রেমের অনুযোগ করি এবং আমার বিনাশকারীর কাছ থেকে সুন্দর সহানুভূতির আশা রাখি।আমি তোমার থেকে বিচ্যুত হইনি, আর কোনো প্রতিবন্ধকই আমাকে অনুরাগ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারবে না।আর তুমি যদি আমার সাথে মন্দ আচরণও করো, তবুও আমার কাছে তা অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য হয়।আল্লাহ আমাদের সেই সময়কে সিক্ত করুন এবং আমাদের অতীত রাতগুলোকে রক্ষা করুন।সেই দিনগুলোয় আমি আমার নিন্দুক ও তিরস্কারকারীর বিরোধিতা করতাম।তাঁর বাণী:কত রজনী এমন গিয়েছে যখন অন্ধকারের মাঝে তাঁর কল্পনা অতর্কিতে হানা দিয়েছে।সারা রাত আমার অনুরাগ তাঁকে আমার কাছে টেনে এনেছে, আর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন তাঁকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।কোনো আলিঙ্গনই আমার অন্তরের তৃষ্ণা মিটাতে পারেনি, আর তাঁর ওষ্ঠের আর্দ্রতাও আমার দহনের তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি।উদ্ধৃতিসহ তাঁর বাণী:দুঃখ ও অনুরাগ আমাকে নিদ্রাহীন করে রেখেছে, আর বিচ্ছেদ আমাকে দূরত্বের তিরে বিদ্ধ করেছে।আমার হৃদয়ে আকাঙ্ক্ষা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তোমার স্মরণে আমার অবস্থা বর্ণনা করার জন্য কাগজও ফুরিয়ে গিয়েছে।অতঃপর আমি প্রার্থনা করতে করতে আবৃত্তি করলাম, আর তোমার বিরহ-বেদনায় আমার অশ্রু ছিল অবিরাম প্রবহমান।আল্লাহ যেন সকল প্রেমিকের পুনর্মিলন ঘটান, আর আমার মাধ্যমেই তা শুরু হোক; কারণ আমি অতিশয় তৃষ্ণার্ত।তাঁর বাণী:হে আমার প্রতি বিমুখতায় আসক্ত প্রিয়তম! তোমার নিষ্ঠুরতা তোমার এই পাগলপারা প্রেমিককে নিঃশেষ করে দিয়েছে।তুমি যখন নিজের উচ্চ মর্যাদা বুঝতে পারলে, তখন অভিমানভরে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে।আমি যখন তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলাম, তখন তুমি বিচ্ছেদের মাধ্যমে আমাকে ধ্বংস করে দিলে।তুমি যদি আমার নির্ঘুম রাতগুলো দেখতে, তবে তোমার ঘুম আমার চোখের পাতাকে দান করতে।আমার নিন্দুক আমাকে দেখা মাত্রই আমার অবস্থার জন্য করুণা প্রকাশ করেছে এবং তোমাকে তিরস্কার করেছে।তোমার চোখের পলকই তলোয়ার হিসেবে যথেষ্ট, তাই তোমার কৃপাণ উন্মুক্ত করো না।অন্ধকারের পূর্ণিমা ধন্য হয়ে যেত, যদি তুমি তাকে তোমার গোলাম হিসেবে গ্রহণ করতে।আর সেই বৃক্ষশাখা কতই না সৌভাগ্যবান, যা তোমার সুঠাম দেহের সাদৃশ্য রাখে।মহান সেই সত্তা, যিনি হে আমার প্রিয়! তোমাকে এই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন।হে আমার অন্তর! আর কতকাল তাদের ভালোবাসা তোমার এই আগুনকে প্রজ্বলিত রাখবে?হে আমার নিন্দুক! তাদের ব্যাপারে তুমি আর কতক্ষণ তোমার তিরস্কার দীর্ঘায়িত করবে?তোমার তিরস্কারে আমার হৃদয় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং আমার শ্রবণশক্তি তোমার এই উদ্দেশ্য নিয়ে বিরক্ত।তাঁর বাণী:তোমার বিমুখতার কারণে আমার এক ব্যথিত হৃদয় রয়েছে, যা অনবরত প্রজ্বলিত।আমার মনে হয় যদি আমি একে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারতাম! কারণ এর অস্তিত্বই আমার কাছে অনস্তিত্বের সমান।কিন্তু ব্যথিত অঙ্গকে কর্তন করা তো আমার যন্ত্রণাই আরও বৃদ্ধি করবে।তাঁর বাণী, যাতে তিনি একটি সুশোভিত উদ্যানে কাটানো এক রজনীর বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে মিলনের সুদূরপ্রসারী আশাগুলো তাঁর অনুকূলে ছিল:
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
لله ليلة أنسٍ قد ظفرت بها … قضَّيتها سهراً أحلى من الوسنِقد بتُّها وعيون الدَّهر غافلةٌ … عنِّي ولم أخش فيها حادث الزَّمنِفي روضةٍ رحبة الأكناف عاطرة ال … أنفاس قد جلِّيت في منظرٍ حسنِوالوُرقُ في دوحها باتت تطارحني … شجواً لِما عَلِمتْ في الحبِّ من شجنيفتارةً فرط أشواقي يرنِّحها … وتارةً طول مبكاها يرنِّحنيوبات ظبيٌ تناجينا لواحظه … بين الورى هي كانت منشأ الفتنِتُعزى الشُّمول إلى معنى شمائله … والَّلاذُ يشبه منه رقَّة البدنِبتنا كغصنين في روضٍ يرنِّحنا … ريح الصَّبا فَحَنا غصنٌ على غصنِوبات عندي شكٌّ في معانقتي … إياه حتى حسبت اللُّطف صاحبنييا ليلةً منه أرضاني الزَّمان بها … عنه على أنَّه ما زال يسخطنيومن مقاطيعه قوله:كلَّما حدَّثت قلبي سلوةٌ … عن هواهم قال لي لا يمكنُوإذا ذكَّرته أنَّهم … قد أساءوا قال لا بل أحسنواوقوله:قد وقفنا بعد التَّفرق يوماً … في مكانٍ فدَّيته من مكانِنتشاكى لكنْ بغير كلامٍ … نتحاكى لكنْ بغير لسانِيوسف أبي الفتح إمام الأئمة، ومن ألقت إليه مقاليد الحظوة الأزمَّة. فتميز على أترابه وأخدانه، تميُّز سميَّه على إخوانه.وذلك أنه من منذ ناست عذبة ذؤابته، وأومضت للمتفرِّس مخيلة نجابته.تطلَّع في أعلا المصلَّى كأنما … تطلَّع في محراب داودَ يوسفُفرقي منبر المسجد الجامع خطيباً، وملأه مسكاً فلم يدر أضمَّ خطيباً، أم ضَمِّخَ طيباً.وأتى بما يقرط الأسماع لؤلؤاً، ويملأ الأفواه طيباً والمحافل تلألؤاً. فطار صيته في الآفاق، ووقع على تفرُّده في أسلوبه الاتفاق.حتى تطلبه السلطان فصيَّره إمامه، وتوجه من التقدمة بتلك العمامة. فقامت الأماني خلفه صفوفاً، واستوعب من المعالي أنواعاً وصنوفاً. وما زال من حين خروجه، يتنقَّل تنقُّل القمر في بروجه. إلى أن صار ثالث القمرين، وفاز برتبة قضاء العسكرين.وكان مع ما أعطيه من الرتبة التي لا تنال إلا بالتمني، والحرمة التي ترمى لنيلها المطايا بالتعَّني. لم يبرح يحن إلى مواطن إيناسه، ويرتاح إلى مراتع غزلان صريمه وكناسه.هذا، وله الفضل الذي تليت سور أوصافه، وجليت صور اتسامه بالتفوُّق واتصافه.والتصانيف التي ما جعلت الأقلام ساجدةً إلا لمّا رأت محاريب قرطاسها، وما سميت خرساء إلا قبل أن ينفث في روعها روائع أنفاسها.وأما الأدب فهو إمامه الذي به يقتدى، وسابقه الذي بذكره يبتدى.وله الشعر الذي اقتبس ألفاظه من ذوات الأطواق، واختلس معانيه من حنين العشاق تكابد الأشواق. يطرب من لم يكن يطرب، ويكاد لفظه من العذوبة يشرب.وها أنا أورد منه ما تتباهى به حروف الرقاع، ويلذ في السمع لذة الغناء من كل شكلٍ حسنٍ على الإيقاع.فمنه قوله من قصيدة أولها:هذا الحمى أين الرَّفيق المنجد … قد يمَّم الخيف الفريق المنجدُبانوا فلا داري بجلَّق بعدهم … داري ولا عيشي لديها أرغدُوعلى الأكلَّة فتيةٌ لعبت بهم … راح السُّرى والعيس فيهم تسجدُيتهافتون على الرِّحال كأنهم … قضبٌ على كثب النقا تتأوَّدُواهاً على وادي منًى والهفتي … لو لهفتي تجدي وآهي تسعدُكانت عروس الدهر أياماً لنا … فيه ثلاثٌ ليتها لي عوَّدُعهدي به مغنى الهوى تستامه … عينٌ مسهَّدةٌ وقلبٌ مكمدُما باله بعد الثلاثة أقفرت … منه معالمه وأقوى المعهدُيا هل لليلاتٍ بجمعٍ عودةٌ … أم هل إلى جمع المعرَّف موعدُجسمي بأكناف الشآم مخيِّمٌ … وهواي بالرَّكب اليماني مصعدُتالله هاتيك الليالي أسأرت … في مهجتي ناراً تقوم وتقعدُ
আল্লাহর কসম, আমি এক আনন্দময় রাত লাভ করেছি … যা তন্দ্রার চেয়েও মধুর জাগরণে কাটিয়েছি।আমি সেখানে রাত কাটিয়েছি যখন কালের চোখগুলো আমার ব্যাপারে উদাসীন ছিল … এবং সেখানে আমি সময়ের কোনো দুর্ঘটনার ভয় করিনি।এক প্রশস্ত প্রান্তের সুগন্ধি উদ্যানে … যা সুন্দর দৃশ্যে উদ্ভাসিত হয়েছিল।আর গাছের ডালের কপোতগুলো আমার সাথে বিষণ্ণতা বিনিময় করছিল … প্রেমের বিরহ সম্পর্কে তারা আমার দুঃখের যা কিছু জেনেছিল তার কারণে।কখনো আমার ব্যাকুলতার আতিশয্য সেগুলোকে দুলিয়ে দিচ্ছিল … আবার কখনো তাদের দীর্ঘ ক্রন্দন আমাকে দুলিয়ে দিচ্ছিল।এক হরিণ-সদৃশ কিশোর রাত কাটাল যার আঁখিপল্লব আমাদের সাথে কথা বলছিল … মানুষের মাঝে সেই ছিল সকল ফিতনার উৎস।মদকে তুলনা করা হয় তার স্বভাবের মাধুর্যের সাথে … আর রেশমি বস্ত্র তার দেহের কোমলতার সাথে সাদৃশ্য রাখে।আমরা এক বাগানের দুটি শাখার ন্যায় রাত কাটালাম যাকে দখিনা বাতাস দুলিয়ে দিচ্ছিল … ফলে এক শাখা অন্য শাখার ওপর নুয়ে পড়ল।তাকে আলিঙ্গন করার ব্যাপারে আমার মনে সংশয় জাগছিল … এমনকি আমার মনে হলো যে দয়া ও কমনীয়তা হয়তো আমার সঙ্গী হয়েছে।হায় সেই রাত! যার মাধ্যমে সময় আমাকে সন্তুষ্ট করেছিল … যদিও সময় সর্বদা আমাকে অসন্তুষ্টই করে আসছিল।তাঁর খণ্ড কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাণী:যখনই আমার অন্তর তাদের ভালোবাসা থেকে সান্ত্বনা পাওয়ার কথা বলে … সে আমাকে বলে, এটা অসম্ভব।আর যখন আমি তাকে মনে করিয়ে দিই যে তারা মন্দ আচরণ করেছে … সে বলে, না, বরং তারা অতি উত্তম আচরণ করেছে।তাঁর আরও বাণী:বিচ্ছেদের পর একদিন আমরা এক স্থানে দাঁড়িয়েছিলাম … সেই স্থানের ওপর আমি উৎসর্গিত হই।আমরা একে অপরের কাছে অভিযোগ করছিলাম কিন্তু কোনো কথা ছাড়াই … আমরা একে অপরের সাথে গল্প করছিলাম কিন্তু কোনো জবান ছাড়াই।ইউসুফ আবুল ফাতহ আইম্মাদের ইমাম, এবং যাঁর কাছে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি সমর্পণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর সমসাময়িক ও বন্ধুদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, যেভাবে তাঁর নামধারী (ইউসুফ আ.) তাঁর ভাইদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিলেন।আর তা এই কারণে যে, যখন থেকে তাঁর মাথার চুলের ঝুঁটি দুলতে শুরু করেছে এবং তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় প্রখর হতে শুরু করেছে...তিনি মসল্লার (নামাজের স্থান) উচ্চাসনে এমনভাবে উঁকি দিলেন যেন … দাউদ (আ.)-এর মেহরাবে ইউসুফ উঁকি দিচ্ছেন।অতঃপর তিনি জামে মসজিদের মিম্বরে খতিব হিসেবে আরোহণ করলেন, এবং একে মিশক আম্বারে পূর্ণ করে দিলেন, ফলে বোঝা যাচ্ছিল না তিনি কোনো খতিবকে ধারণ করেছেন নাকি সুগন্ধি মেখেছেন।তিনি এমন সব মুক্তাসম বাণী নিয়ে আসলেন যা কানকে অলঙ্কৃত করে, মুখকে সুগন্ধে এবং মজলিসকে উজ্জ্বলতায় ভরিয়ে দেয়। ফলে দিগ দিগন্তে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর স্বতন্ত্র রচনারীতিতে সকলে একমত হলো।এমনকি সুলতান তাঁকে তলব করলেন এবং নিজের ইমাম বানালেন, আর সেই পাগড়ির মাধ্যমে তাঁকে নেতৃত্বের উচ্চাসনে আসীন করলেন। ফলে আকাঙ্ক্ষাগুলো তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল এবং তিনি উচ্চমর্যাদার নানা প্রকার ও শ্রেণী লাভ করলেন। বের হওয়ার পর থেকে তিনি সর্বদা তাঁর কক্ষগুলোতে চাঁদের মতো পরিভ্রমণ করতে থাকলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দুই চাঁদের (সূর্য ও চন্দ্র) পর তৃতীয় চাঁদে পরিণত হলেন এবং দুই সেনাবাহিনীর বিচারপতির (কাজী আল-আসকার) পদমর্যাদা লাভ করলেন।তিনি এমন পদমর্যাদা পাওয়া সত্ত্বেও যা কেবল আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব, এবং এমন সম্মান যা অর্জনের জন্য আরোহীরা ক্লান্তি সহ্য করে... তিনি সর্বদা তাঁর পরিচিত ও প্রিয় স্থানগুলোর প্রতি ব্যাকুল থাকতেন এবং তাঁর বিচরণস্থলের প্রতি আনন্দিত হতেন।এর সাথে সাথে তাঁর এমন শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যার গুণাবলির সূরাসমূহ পাঠ করা হয় এবং যার শ্রেষ্ঠত্বের বৈশিষ্ট্য ও বর্ণনার চিত্রসমূহ প্রস্ফুটিত হয়।আর তাঁর রচনাবলি—কলমগুলো তার সামনে সিজদাবনত হয়নি যতক্ষণ না সেগুলো কাগজের মেহরাবগুলো দেখেছে, আর সেগুলোকে বোবা বলা হতো না যতক্ষণ না তিনি সেগুলোর অন্তরে তাঁর চমৎকার নিঃশ্বাস ফুঁকে দিতেন।আর সাহিত্যের কথা বললে, তিনি হলেন এর ইমাম যাঁর অনুসরণ করা হয় এবং এর অগ্রগামী যাঁর আলোচনার মাধ্যমে সূচনা করা হয়।তাঁর এমন কবিতা রয়েছে যাঁর শব্দগুলো তিনি কপোতীদের থেকে গ্রহণ করেছেন এবং যাঁর অর্থগুলো বিরহী প্রেমিকদের দীর্ঘশ্বাস থেকে চুরি করেছেন। যা এমন ব্যক্তিকেও আনন্দিত করে যে কখনো আনন্দিত হয়নি এবং তাঁর শব্দের মাধুর্য যেন পান করার যোগ্য।এখানে আমি তাঁর কিছু অংশ উল্লেখ করছি যা কাগজের অক্ষরগুলোকে গৌরবান্বিত করে এবং যা প্রতিটি সুন্দর ছন্দে শ্রবণে গানের মতো মাধুর্য দান করে।তাঁর একটি কাসিদা থেকে অংশবিশেষ, যার শুরু এই শব্দে:এই সেই চারণভূমি, কোথায় সেই সাহায্যকারী বন্ধু? … সাহায্যকারী দলটি খাইফ (মিনা) অভিমুখে রওনা হয়েছে।তারা চলে গেছে, তাই তাদের পর দামেস্কে আমার কোনো ঘর নেই … এবং সেখানে আমার জীবনও স্বাচ্ছন্দ্যময় নয়।আর হাওদাহগুলোর ওপর এমন যুবকেরা রয়েছে যাদেরকে … নৈশভ্রমণ ক্লান্ত করে দিয়েছে আর উটগুলো তাদের বহন করতে করতে যেন সিজদাবনত হচ্ছে।তারা আরোহী অবস্থায় এদিক ওদিক ঢলে পড়ছে যেন তারা … বালিয়াড়ির ওপর দোদুল্যমান ডাল।আহা মিনা উপত্যকা! আমার আক্ষেপ! … যদি আমার আক্ষেপ কাজে লাগত এবং আমার দীর্ঘশ্বাস আমাকে সুখী করত।সেখানের দিনগুলো আমাদের কাছে ছিল কালের নববধূর মতো … সেখানে তিনটি দিন কাটল, হায়! সেগুলো যদি আমার কাছে বারবার ফিরে আসত।আমার স্মৃতিতে তা ছিল প্রেমের বিচরণস্থল, যেখানে … অনিদ্র চোখ এবং ব্যথিত হৃদয় তৃষ্ণার্ত ঘুরে বেড়াত।সেই তিন দিনের পর তার কী হলো যে তার … চিহ্নগুলো মুছে গেল এবং বিচরণস্থলগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ল?হায়! মুজদালিফায় কাটানো সেই রাতগুলো কি আর ফিরে আসবে? … নাকি পরিচিত সেই ময়দানে (আরাফায়) মিলিত হওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি আছে?আমার দেহ সিরিয়ার প্রান্তরে তাঁবু গেড়েছে … আর আমার প্রেম ইয়েমেনি কাফেলার সাথে উঁচুতে উঠে গেছে।আল্লাহর কসম, সেই রাতগুলো আমার হৃদয়ে … এমন এক আগুন অবশিষ্ট রেখে গেছে যা কখনো জ্বলে ওঠে আবার কখনো স্তিমিত হয়।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وكأنَّ مرمى كلِّ موقع جمرةٍ … في القلب والأحشاء منِّي موقدُلله أيامي بجرعاء الحمى … والدهر مصقول الحواشي أملدُأيام ظلُّ الدهر غير مقلَّصٍ … عنِّي وعيشي طاب فيه الموردُفي حيث ريحان الشَّبيبة باسقٌ … والخيف مغنًى للحسان وموعدُإذ منتداه مراد كلِّ خريدةٍ … يصبو إليها الخاشعون العبَّدُمرَّت كسقط الزَّند أعقب جمرةً … في القلب يذكيها الغرام ويوقدُمالي إذا برقٌ تألَّق بالحمى … أودى بمهجتي المقيم المقعدُوإذا نسمت رويحةً من طيبةٍ … جعلت زفيري بالحشا يتوقدُوإذا نسيم الروض هبَّ تبادرت … وفق الصبابة أدمعٌ تتردَّدُومتى ظفرت من الزمان بناصرٍ … أخذت تفنِّده عليَّ الحسَّدُوقوله من أخرى، أولها:سقى أثَلاثٍ بالعذيب نمير … له من أفاويق الغمام سميرُسحابٌ تزجيه الرياح وراءه … نسيمٌ له المسك الفتيق عبيرُولا برحت تسدي يد القطر فوقها … من النور موشيَّ السَّدى وتنيرُوخلنا دراري الأفق فيه تساقطت … وآن لها أن النجوم تغورُعهدنا بها غصن الشَّبيبة باسقاً … يرفُّ رفيف البان وهو نضيرُكأنَّ أزاهير الشَّقيق بدوحها … خدودٌ ونور الأقحوان ثغورُكأنَّ نديَّ النرجس الغضِّ فوقها … عيون الغواني مسَّهنَّ فتورُكأن غصون البان تندى غضارةً … معاطف غيدٍ حشوهنَّ خمورُسقتها دموعي بل سقاها على البلى … ملِثٌّ من الأنواء وهو غزيرُفآه لها كم لذةٍ تحت ظلِّها … نعمنا بها حيث الكؤوس تدورُولهفي على عيشٍ بجوِّ سُويقةٍ … تولي وعيش الغانيات قصيرُوواهاً لأيامٍ بشرقيِّ ضارجٍ … تقضَّت عشايا تحتها وبكورُفمرَّت ولم تعقب سوى جمرة الأسى … يشبُّ لها تحت الضلوع سعيرُخليليَّ مالي إن تألق بارقٌ … يكاد فؤادي كالشَّرار يطيرُوإن خطرت من سفح نجدٍ نسيمةٌ … فلي أنَّةٌ تحت الدُّجى وزفيرُوإن ذكرت أيام رامة أنثني … وفي القلب من فرط الغرام هجيرُألا يا نسيم الريح من بطن لعلعٍ … تحدَّث فقلبي بالغرام أسيرُويا برق نجدٍ هات عن أيمن الحمى … حديثاً ففي بثِّ الغرام سرورُهل الجيرة الغادون من جنبِ حاجرٍ … أناخوا لوى الجرعاء وهو مطيرُوهل أثلاث الجِزع يندى ظلالها … وأرض الحمى فيْنانُ وهو مطيرُوهل هاجعات البان نبَّه خوطها … هبوب نسيمٍ هبَّ وهو عطيرُوهل درست من بطن فجٍّ مسارحٌ … ومحَّت جنوبٌ رسمها ودبورُفما بنت غصنٍ فوق أفنان إلفها … وإلفي خليطٌ منجدٌ ومغيرُتراها إذا وُرق العشايا ترنَّمت … تهيِّج من داء الهوى وتثيرُتذكِّرني وهناً أفانين سجعها … ليالي زرودٍ والمحبُّ ذكورُبأبرح مني أن تقول بثينةٌ … لقد ضربت لي بالعقيق خدورُعذيريَ في هذا الهوى من مؤَنِّبٍ … وهيهات في هذا الغرام عذيرُيلوم فؤادي في هواه أما درى … بأن فؤاد العاشقين صبورُيقول عجيبٌ منك أنت مجرِّبٌ … فكيف وأني يعتريك غرورُفقلت له خفِّض عَدَتكَ صبابتي … فكلُّ معنًّى يهتدي ويثورُ
প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের স্থান যেন … আমার অন্তর ও নাড়িভুঁড়ির অভ্যন্তরে এক প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ড।হিমার বালুকাময় প্রান্তরে অতিবাহিত আমার দিনগুলো কেবল আল্লাহর জন্যই; … যখন মহাকাল ছিল মসৃণ ও লাবণ্যময়।সেই দিনগুলোতে যখন মহাকালের ছায়া আমার ওপর থেকে সংকুচিত হয়নি, … এবং আমার জীবনোপকরণ ছিল অতি চমৎকার।যেখানে তারুণ্যের সুগন্ধি গুল্ম ছিল দীর্ঘকায়, … এবং খাইফ ছিল রূপসীদের আবাসস্থল ও মিলনমেলা।যখন তার মজলিস ছিল প্রত্যেকটি লজ্জাবতী তরুণীর আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু, … যাদের প্রতি বিনীত ইবাদতগুজারগণও আসক্ত হতো।সেই দিনগুলো চকমকি পাথরের স্ফুলিঙ্গের ন্যায় দ্রুত অতিক্রান্ত হয়েছে, যা হৃদয়ে রেখে গেছে এক জ্বলন্ত অঙ্গার, … যাকে প্রেম সজীব ও প্রজ্জ্বলিত করে।আমার কী হলো যে, যখনই হিমার আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়, … তখনই তা আমার প্রাণকে অস্থির ও বিপর্যস্ত করে তোলে?আর যখনই তাইবা থেকে সুগন্ধির মৃদু মন্দ বাতাস প্রবাহিত হয়, … তখন তা আমার অন্তরের দীর্ঘশ্বাসকে অগ্নিগর্ভ করে তোলে।উদ্যানের সমীরণ যখনই বয়ে যায়, তখনই অনুরাগের আতিশয্যে … বারবার অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে থাকে।আর যখনই আমি কালের পরিক্রমায় কোনো সাহায্যকারীর দেখা পাই, … তখনই ঈর্ষাপরায়ণরা তার বিরুদ্ধে আমাকে নিন্দা করতে শুরু করে।তার অন্য একটি কবিতার অংশ, যার শুরুটি হলো:উজাইবের সেই তিনটি ঝাউগাছকে যেন সুপেয় বারিধারা সিক্ত করে, … যার সঙ্গী হলো মেঘমালার বর্ষিত ধারা।এমন মেঘমালা যাকে বায়ু তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়, আর তার পশ্চাতে থাকে … এমন এক মন্দ বাতাস যার সুবাস যেন বিদীর্ণ কস্তুরী।বৃষ্টির হাত যেন অবিরাম তার ওপর … নূরের কারুকাজখচিত বস্ত্র বিছিয়ে দেয় এবং তাকে আলোকিত করে রাখে।আমাদের মনে হলো আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি বুঝি সেখানে ঝরে পড়েছে, … আর নক্ষত্রদের অস্তমিত হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।আমরা সেখানে তারুণ্যের শাখাকে দেখেছিলাম সুউচ্চ, … যা উইলো গাছের ডালের মতো দুলছিল এবং ছিল সতেজ ও শ্যামল।সেই নিকুঞ্জের রক্তিম টিউলিপ ফুলগুলো যেন লাল গোলাপী গাল, … আর ডেইজি ফুলের শুভ্রতা যেন দন্তপাটি।তার ওপর সতেজ নার্গিস ফুলের শিশিরবিন্দুগুলো যেন … রূপসীদের নয়ন, যাতে কিছুটা অবসাদ স্পর্শ করেছে।উইলোর শাখাগুলো সজীবতায় সিক্ত হয়ে যেন … লাবণ্যময়ী তরুণীদের কটিদেশ, যা লাবণ্যে টইটম্বুর।আমার অশ্রু তাকে সিক্ত করেছে, বরং জীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও তাকে সিক্ত করেছে … নক্ষত্ররাজির অবিরাম ও মুষলধারে বর্ষণ।হায়! তার ছায়াতলে কতই না আনন্দ ছিল, … যা আমরা উপভোগ করেছি যখন পানপাত্রগুলো চারদিকে ঘুরছিল।সুওয়াইকার পরিবেশে সেই জীবনের জন্য আমার আক্ষেপ, … যা বিদায় নিয়েছে; আর রূপসীদের সান্নিধ্য তো ক্ষণস্থায়ী হয়।আর আফসোস যরিজের পূর্বাংশের সেই দিনগুলোর জন্য, … যার ছায়াতলে সকাল-সন্ধ্যাগুলো অতিবাহিত হয়েছিল।সেই দিনগুলো গত হয়ে গেছে এবং রেখে গেছে কেবল শোকের অঙ্গার, … পাঁজরের নিচে যার লেলিহান শিখা জ্বলছে।হে আমার দুই বন্ধু! আমার কী হলো যে, বিদ্যুৎ চমকালে … আমার হৃদয় স্ফুলিঙ্গের মতো উড়ে যেতে চায়?আর নজদের পাদদেশ থেকে যদি মৃদু বাতাস প্রবাহিত হয়, … তবে নিশীথ অন্ধকারে আমার ক্রন্দন ও দীর্ঘশ্বাস বেড়ে যায়।যখনই 'রামা'-র দিনগুলোর কথা স্মরণে আসে, তখনই আমি ব্যথিত হই, … এবং হৃদয়ে প্রেমের আতিশয্যে মধ্যাহ্নের তপ্ত দহন অনুভব করি।ওহে লালআ' উপত্যকার সমীরণ! … কিছু বলো, কারণ আমার হৃদয় প্রেমের মায়াজালে বন্দী।হে নজদের বিদ্যুৎ! হিমার দক্ষিণ দিক থেকে কোনো সংবাদ নিয়ে এসো, … কারণ প্রেম বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই তো আনন্দ।হাজিরের পার্শ্বদেশ দিয়ে সকালবেলা চলে যাওয়া সেই প্রতিবেশীরা কি … জারাআ-র বাঁকে যাত্রাবিরতি করেছে, যখন সেখানে বৃষ্টি হচ্ছিল?উপত্যকার ঝাউগাছগুলোর ছায়া কি এখনো সিক্ত হয়? … আর হিমার ভূমি কি সুজলা-সুফলা ও বৃষ্টিস্নাত?উইলোর ঘুমন্ত ডালগুলোকে কি সুগন্ধি বাতাসের … ঝাপটা জাগিয়ে দিয়েছে?গিরিপথের চারণভূমিগুলো কি বিলীন হয়ে গেছে? … দক্ষিণ ও পশ্চিম বায়ু কি তাদের চিহ্ন মুছে দিয়েছে?গাছের ডালের সেই কপোতী তার সাথীর বিরহে ব্যাকুল, … আর আমার সাথীও নজদ ও নিচু ভূমির কাফেলায় মিশে গেছে।তুমি তাকে দেখবে যখন সন্ধ্যার কপোতগুলো কূজন করে, … তখন সে প্রেমের যন্ত্রণাকে উস্কে দেয় ও জাগ্রত করে।গভীর রাতে তার ছন্দময় কূজন আমাকে … যরূদের রাতগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, আর প্রেমিক তো সর্বদাই স্মৃতিচারণকারী।বুসাইনার এই কথাটি আমার কাছে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক যে— … আকীক উপত্যকায় আমার জন্য পর্দা টাঙানো হয়েছে।এই প্রেমে নিন্দাকারীর হাত থেকে কে আমাকে রক্ষা করবে? … আর এই অনুরাগে কোনো অজুহাতই টেকে না।সে আমার হৃদয়কে তার প্রেমের জন্য ভর্ৎসনা করে; সে কি জানে না যে … প্রেমিকদের হৃদয় বড়ই ধৈর্যশীল?সে বলে, 'তোমার মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে এটি বিস্ময়কর! … কীভাবে এবং কোথা থেকে এই বিভ্রম তোমাকে আচ্ছন্ন করল?'আমি তাকে বললাম, 'আমার অনুরাগের প্রতি তোমার শত্রুতা কমাও; … কারণ প্রত্যেক ক্লিষ্ট ব্যক্তিই সঠিক পথ খুঁজে পায় অথবা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।'
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
سأركب من شوس القوافي شِمِلَّةً … تسير في النعماء حيث تسيرُأقامت بسفح الصَّالحيَّة برهةً … وحشو حشاها لوعةٌ وزفيرُبها من هواء الغوطتين نسيمةٌ … ومن عذب ماء النَّيربين غديرُإذا هبطت من ربع جِلِّقَ منزلاً … وقد نام حادٍ واستقال مثيرُأمرنا بها طوع القياد توجهت … ركائبها وهو المراد تزورُتزور فتًى من آل منجك ماجداً … على كل من يدعى الأمير أميرُوقوله من أخرى، مبتدؤها:تذكَّر من أكناف رامة مربعاً … ومغنًى به غصن الشبيبة أينعافبات على جمر الغضا يستفزُّه … غرامٌ فيذري الدمع أربعَ أربعاكئيباً لليلات الغميم متيَّماً … معنًّى بأيام الحجون مولَّعايخالف بين الراحتين على الحشا … ويلوي على القلب الضُّلوع توجُّعافمن صبواتٍ تستفزُّ فؤاده … ومن زفراتٍ أضرمت فيه أضلعاألا في سبيل الحبِّ مهجة عاشقٍ … تولَّع فيه الحبُّ حتى تولعاوعينٌ أبت بعد الأحبة سَحَّها … وفاءً بحقِّ الربع أن تتقشَّعاسقى الله من وادي منًى كل ليلةٍ … هي العمر كانت والشباب المودَّعاويا جادَ أياماً بها قد تَصرَّمت … ثلاثاً ومن لي أن أراهنَّ أربعاوحيَّى مقامي بالمقام وأربعاً … لدى عرفاتٍ يا سقاهنَّ أربُعافلله ما أبهى بمكَّة مشعراً … ولله ما أحلى لزمزم مشرعاألا ورعى دهراً تقضَّى بجلِّقٍ … ولولا الهوى ما قلت يوماً لها رعىويا عاقب الله الغرام بمثله … لكي يعذر العشاق فيمن تولَّعاخليليَّ مالي كلما لاح بارقٌ … تكاد حصاة القلب أن تتصدَّعاوإن نسمت من قاسيون رويحةٌ … أجد أدمعاً مني تساجل أدمعاوحتَّى مَ قلبي يستطيع إذا شدا … حمام اللِّوى بالرَّقمتين ورجَّعاوكم ذا أقاسي سورة البين والأسى … ولا يرحم العذَّال منِّي توجُّعاألا هكذا فعل الغرام بأهله … ومن بات في صنع الهوى ما تصنَّعاعذيرِيَ من هذا الزمان وأهله … ومن لي بمن يصغي لشكواي مسمعايخوِّفني منه العدوُّ قطيعةً … ويظهر لي منه الصديق تفجُّعاولم يدر أني للقضاء مفوِّضٌ … وما كان قلبي للقضاء ليجزعاوقوله من أخرى، راجع بها أحمد بن شاهين:حيَّتكِ يا دار الهوى بالأبرقِ … وطفاء من نوء السِّماك المغدقِوغدت تفتِّق في نواحيك الصَّبا … أرجاً يغصُّ رُباكِ مهما يعبقِوتكفَّلت أيدي الرَّبيع بمطرَفٍ … لتراك تخلعه وبردٍ مونقِحتى ترى منك المغاني جنةً … من سندسٍ تزهي ومن إستبرقِكم لذَّةٍ في جبهتيك خلسَتُها … وهناً وعين الدهر لمَّا ترمقِواهاً لها إن كان فرطُ تأوُّهي … يجدي على شحط النَّوى وتحرُّقيلله أيامي بجوِّ سويقةٍ … سلفت بمصطبحٍ ولذَّةِ مغبقِأيام ريحان الشَّبيبة باسقٌ … يندي وماء هواي غير مرنَّقِفي حيث ظلُّ اللهو ضافٍ والنَّقا … مهوًى لجارحةٍ وقلبٍ شيِّقِإذ منتداه مراد كل خريدةٍ … بسوى خيالات الهوى لم تعلقِِرودٌ يرنحها الغرام فتنثني … سكرى كخوط نقاً تأود مورقِكم ليلةٍ بتنا بأكناف اللوى … نلهو بذات الحجل ذات القرطقِبتنا على الوادي يراودنا الهوى … طوعاً وغير الطرف لمَّا يفسقِ
আমি কাব্যের তেজোদীপ্ত ছন্দসমূহ থেকে এক দ্রুতগামী উষ্ট্রীতে আরোহণ করব … যা কল্যাণের পথে পথে ধাবিত হবে।সে সালেহিয়ার পাদদেশে কিছুকাল অবস্থান করল … এমতাবস্থায় যে তার অন্তরে পুঞ্জীভূত ছিল তীব্র ব্যাকুলতা ও দীর্ঘশ্বাস।তাতে দুই গুতার বাতাসের স্নিগ্ধ সমীরণ রয়েছে … আর দুই নাইরাবাইনের সুমিষ্ট পানির সরোবর।যখন তা দামেস্কের কোনো এক জনপদে অবতরণ করল … তখন চালক ঘুমিয়ে পড়েছে এবং উদ্দীপক বিদায় নিয়েছে।আমি তাকে আদেশ করলাম, সে অনুগত হয়ে অগ্রসর হলো … তার আরোহীরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যেই জিয়ারত করতে যাচ্ছে।সে মানজাক বংশের এক মহান যুবকের জিয়ারত করছে … যিনি সকল আমিরের উপরেই আমির।এবং অন্য একটি পদ্যে তাঁর উক্তি, যার সূচনা:রামার দিগন্ত থেকে সে এক বসন্তকালীন আবাসের কথা স্মরণ করল … এবং এমন এক আবাসের কথা যেখানে যৌবনের শাখা বিকশিত হয়েছিল।অতঃপর সে গাযা কাঠের প্রজ্বলিত আঙ্গারার উপর রাত কাটাল, তাকে অস্থির করে তুলছিল … তীব্র প্রেম-অনুরাগ, ফলে সে অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগল।গামিমের রাতগুলোর বিরহে সে বিষণ্ণ ও মোহাবিষ্ট … হাজুনের দিনগুলোর স্মৃতির নেশায় কাতর ও অনুরাগী।সে বুকের উপর দুই হাতের তালু অদলবদল করছে … এবং তীব্র যন্ত্রণায় হৃদয়ের উপর পাঁজরের হাড়গুলোকে কুঁকড়ে দিচ্ছে।কখনো উদগ্র বাসনা তার অন্তরকে অস্থির করে তোলে … আবার কখনো দীর্ঘশ্বাস তার পাঁজরের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।হায়, প্রেমের পথে এক প্রেমিকের প্রাণস্পন্দন … প্রেম তাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করল যে সে বিলীন হয়ে গেল।এক চক্ষু যা প্রিয়জনদের বিচ্ছেদের পর তার প্রবাহ থামাতে অস্বীকার করেছে … সেই জনপদের হকের প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষার নিমিত্তে।আল্লাহ মিনা উপত্যকার প্রতিটি রাতকে সিক্ত করুন … যা ছিল প্রকৃত জীবন এবং সেই যৌবন যা বিদায় নিয়েছে।হায়, সেই দিনগুলো যদি ফিরে আসত যা ফুরিয়ে গিয়েছে … ছিল মাত্র তিনটি দিন, কে আমায় সেগুলোকে চারটি করে দেখাবে?তিনি মাকামে আমার অবস্থানকে এবং আরাফাতের চারটি স্থানকে অভিবাদন জানিয়েছেন … ওহে, আল্লাহ যেন সেগুলোকে চারগুণ সিক্ত করেন।আল্লাহর কসম, মক্কার পবিত্র নিদর্শনসমূহ কতই না দীপ্তিময় … আল্লাহর কসম, যমযমের পানপাত্র কতই না সুমিষ্ট।জেনে রেখো, তিনি দামেস্কে অতিবাহিত সময়কে রক্ষা করেছেন … যদি ভালোবাসা না থাকত, তবে আমি কোনোদিন তার জন্য এই প্রার্থনা করতাম না।আল্লাহ যেন প্রেমের প্রতিদান অনুরূপ প্রেম দিয়েই দেন … যাতে প্রেমিকদের সেই অনুরাগের জন্য ক্ষমা করা যায়।হে আমার দুই বন্ধু, আমার কী হলো যে যখনই বিজলি চমকায় … আমার হৃদপিণ্ডের প্রস্তরখণ্ড যেন বিদীর্ণ হতে চায়।আর যদি কাসিউন পর্বত থেকে মৃদু সমীরণ বয়ে আসে … তবে আমি দেখি আমার অশ্রুরাশি পরস্পরের সাথে পাল্লা দিচ্ছে।আর কতক্ষণ আমার হৃদয় ধৈর্য ধরতে পারবে যখন … লিওয়া প্রান্তরের কবুতরগুলো রাকমাতাইনে কুজন করে প্রতিধ্বনিত হয়।আর কতকাল আমি বিচ্ছেদ ও দুঃখের তীব্রতা সহ্য করব … অথচ নিন্দুকেরা আমার ব্যথায় সামান্য করুণাও করে না।জেনে রেখো, প্রেম তার আপনজনদের সাথে এমনই আচরণ করে … আর যে প্রেমের রাজ্যে রাত কাটায়, সে ছলনা করে না।এই যমানা ও তার অধিবাসীদের ব্যাপারে আমার ওজর কী হতে পারে … আর আমার এমন কে আছে যে কান পেতে আমার অভিযোগ শুনবে?শত্রুরা আমাকে তার পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ভয় দেখায় … আর বন্ধু আমার সামনে তার জন্য মর্মবেদনা প্রকাশ করে।সে জানে না যে আমি আমার সকল বিষয় ফয়সালার (তাকদিরের) কাছে সোপর্দ করেছি … আর আল্লাহর ফয়সালার উপর বিচলিত হওয়ার মতো হৃদয় আমার নয়।এবং অন্য একটি পদ্যে তাঁর উক্তি, যার মাধ্যমে তিনি আহমদ বিন শাহীনের উত্তর দিয়েছেন:হে আবরাকের প্রেমের আলয়, তোমাকে অভিবাদন জানাক … সিমাক নক্ষত্রের উদিত হওয়া বর্ষণমুখর মেঘমালা।আর পুবালি বাতাস তোমার দিগন্ত উন্মোচিত করতে শুরু করেছে … এমন সুঘ্রাণ নিয়ে যা তোমার টিলাগুলোকে আমোদিত করে তোলে।বসন্তের হাত এক কারুকার্যখচিত চাদরের দায়িত্ব নিল … যাতে তোমাকে তা পরিধান করতে দেখে এবং এক চমৎকার সুন্দর পোশাক।যতক্ষণ না তোমার আবাসস্থলগুলো এক জান্নাত হিসেবে পরিগণিত হয় … রেশম ও মখমলের কারুকার্যে যা শোভা পায়।তোমার সান্নিধ্যে কত আনন্দ আমি গোপনে আস্বাদন করেছি … রাতের গভীরে যখন যমানার চোখ তখনও তাকিয়ে ছিল না।হায় আফসোস! যদি আমার দীর্ঘশ্বাসের আধিক্য … বিচ্ছেদের দূরত্ব ও আমার অন্তর্দহনে কোনো উপকারে আসত।আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত সুওয়াইকার আকাশে কাটানো আমার দিনগুলো … যা গত হয়েছে প্রভাতী আর সান্ধ্যকালীন আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে।সেই দিনগুলো যখন তারুণ্যের মাধুর্য ছিল সতেজ ও দীর্ঘ … আর আমার প্রেমের বারিধারা ছিল পঙ্কিলতামুক্ত।যেখানে আমোদ-প্রমোদের ছায়া ছিল বিস্তৃত এবং বালুকাময় প্রান্তর … ছিল চঞ্চল আঁখি ও অনুরাগী হৃদয়ের বিচরণভূমি।যখন তার মিলনমেলা ছিল প্রত্যেক লাজুক সুন্দরীর কামনার বস্তু … প্রেমের কল্পনা ছাড়া অন্য কিছুতে যারা জড়ায়নি।কোমলমতি কিশোরী, প্রেম যাকে দোলা দেয়, ফলে সে হেলে পড়ে … পল্লবিত ডালের মতো মাতাল বিভঙ্গে।কত রাত আমরা লিওয়া প্রান্তরের পাশে কাটিয়েছি … নূপুর পরিহিতা ও সুন্দর পোশাকধারীর সাথে আমোদ-প্রমোদে।আমরা উপত্যকায় রাত কাটিয়েছি, প্রেম আমাদের বশীভূত করতে চেয়েছিল … স্বেচ্ছায়, অথচ দৃষ্টি ছাড়া অন্য কিছুই তখনও পাপে লিপ্ত হয়নি।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وكواكب الجوزاء ترنو حسرةً … لنظام مجلسنا بطرفٍ محدقِوالبدر في أفق السماء كزورقٍ … صافي الُّلجين على رداءٍ أزرقِوكأنما نجم الثُّريا إذ بدا … كفُّ الخريدة ضمَّ لم يتفرقِبانت وما بدَلت النَّوى … ونأت وما حلَّت عقود تفرقييا ميُّ حتى مَ الدموع تشي بنا … وإلى مَ في مضناك لم تترفَّقييا ميُّ أنفقت الغرام على النوى … إلا هواك ذخرت لما أنفقِما آن أن تتذكرين عهودنا … وليالياً سلفت بجو الأبرقِما آن أن ترعى عشيَّات الحمى … ومواسماً مرت بغوطة جلِّقِالله يا لمياء في قلب امرئٍ … لم يألُ ما عنَّ ادِّكارك يخفقِالله يا هيفاء في ذي عبرةٍ … طفقت متى في الفكر خلتِ ترقرقِهذا أما وهواك وهو أليَّتي … بأعزَّ من قسمٍ وأكرم موثقِلم تستمل طرفي رعابيب الحمى … كلا ولا أبصر سواك فأعشقِناجزت كل أخي غرامٍ فارعوى … أهل الهوى عنِّي ولست بمملقِوكتمت سرَّ هواك وهو ذخيرتي … عند اللقاء وربما أن نلتقييا ربع جلِّقَ لا أغِبَّك عارضٌ … يهمي عليك بكل أسحم مبرقِوسرت تصافح من مغانيك الصبا … ملمومةً فيها هواي ومعشقيفيها مسامرتي ومعظم صبوتي … فيها معاقرتي وفرط تشوُّقيوله يصف وادي التل: أحد متنزهات دمشق، البلدة التي صورت بها الجنان، وأضحى وقفاً على القلب والجنان. وهو وادٍ مربع النبات، ومسرحٌ مخضر الجنبات.زهرةٌ وأختها، وشجرةٌ وبنتها. وجرية ماءٍ ورنة صادح، ونشاط واصفٍ وروحة مادح.إلى رياضٍ كبرود الخمصانة الرود، وحياضٍ كورود الثغر البرود.وكان مضى له به عهدٌ فارقه وهو عليه واجد، مع فتية صدقٍ هم والحظ المرافق شيءٌ واحد.أقمنا بوادي التل نستجلب البسطا … بحيث دنا منا السرور وما شطَّاوجئنا لروضٍ فتَّقت نسماته … روائح يبعثن الألوَّة والقسطاوقد ضربت أفنان أغصانه لنا … ستائر إذ مدت خمائله بسْطايباري به الورق الهزار كراهبٍ … يحاكي بعبرانيِّ ألفاظه القبطاويعطف ما بين الغصون نسيمه … كما اجتمع الإلفان من بعد ما شطَّاوتملي أحاديث الغرام لحوظُها … فترويه لكن ربما نسيت شرطاجلسنا على الرَّضراض فيه هنيئةً … وقد نظمت كالدُّرِّ حصباؤُّه سمطابه من لجين الماء ينساب جدولٌ … تجعِّده أيدي النسيم إذا انحطَّاحكى مستقيم الخطِّ عند انسيابه … فنقَّط منه الوجه زهر الرُّبى نقطاسقى الله دهراً مرَّ في ظله لقد … أصاب بما أولى وإن طال ما أخطاوحيَّ على رغم النَّوى كل ليلةٍ … تقضَّت به لا بالغوَير وذي الأرطاليالي لا ريحانة العمر صوَّحت … ولا وجدت في أرضها الجدب والقحطاصحبت بها مثل الكواكب فتيةً … أحاديثهم في مسمعي لم تزل قرطايفضُّون مختوم الصبابة والهوى … ويرعون حب القلب لا البان والخمطاإذا نثروا من جوهر اللفظ لؤلؤاً … أودُّ ولو بالسَّمع ألقطه لقطايديرون من كأس الحديث سلافةً … وربَّما تحكي الأحاديث إسفنطاومن نتفه قوله:يا من هواه بقلبي ليس يبرح من … بين الترائب ترب الشوق والأسفِأليَّةً بليالينا التي سلفت … وبالغرام وإن أدَّى إلى تلفيوبالدموع التي أجريتها غدراً … ومدمعٍ فيك لم يطعم كرى ذرفِلأنت أنت على ما فيك حبُّك في … جوانحي كامنٌ كالدرِّ في الصدفِ
মিথুন রাশির নক্ষত্রপুঞ্জ আক্ষেপের সাথে তাকিয়ে থাকে … আমাদের মজলিসের শৃঙ্খলার দিকে অপলক নেত্রে।আকাশের দিগন্তে পূর্ণচন্দ্র যেন নীল পোশাকের ওপর … স্বচ্ছ রূপার তৈরি একটি নৌকা।কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জ যখন উদিত হয়, তখন মনে হয় যেন … কোনো লজ্জাবতী কিশোরীর হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন হয়নি।সে চলে গেছে কিন্তু দূরত্ব কিছুই পরিবর্তন করেনি … সে দূরে সরে গেছে কিন্তু আমার বিচ্ছেদের বন্ধন শিথিল হয়নি।হে মাই! আর কতকাল এই অশ্রু আমাদের গোপন কথা ফাঁস করে দেবে … আর কতকাল তোমার বিরহে কাতর ব্যক্তির প্রতি তুমি দয়া করবে না?হে মাই! দূরত্বের পেছনে আমি সব প্রেম বিলিয়ে দিয়েছি … কেবল তোমার ভালোবাসাটুকু সঞ্চয় করে রেখেছি যা আমি খরচ করিনি।এখনো কি সময় হয়নি আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো স্মরণ করার … এবং আবরাকের পরিবেশে অতিবাহিত সেই রাতগুলোর কথা?এখনো কি সময় হয়নি সংরক্ষিত এলাকার সন্ধ্যাগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়ার … এবং দামেস্কের ঘুতায় অতিবাহিত সেই সময়গুলোর প্রতি?হে আল্লাহ! তুমি দয়া করো সেই লামইয়ার প্রেমে মগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ের প্রতি … যে তোমার স্মরণে সর্বদা স্পন্দিত হতে কোনো ত্রুটি করে না।হে আল্লাহ! তুমি দয়া করো সেই হায়ফার জন্য অশ্রু বিসর্জনকারীর প্রতি … যার কথা যখনই চিন্তায় আসে তখনই অশ্রু ঝরতে শুরু করে।এটি, তোমার প্রেমের শপথ—যা আমার কাছে অতি মূল্যবান— … যেকোনো কসমের চেয়েও বেশি প্রিয় এবং যেকোনো অঙ্গীকারের চেয়েও অধিক সম্মানজনক।সংরক্ষিত এলাকার সুন্দরী রমণীরা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি … না, আমি তুমি ছাড়া আর কাউকেই দেখি না যাকে আমি ভালোবাসব।আমি প্রত্যেক প্রেমিকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, ফলে প্রেমিকরা … আমার থেকে নিবৃত্ত হয়েছে, অথচ আমি প্রেমে রিক্তহস্ত নই।আমি তোমার প্রেমের রহস্য গোপন রেখেছি এবং সাক্ষাতের সময় এটিই আমার সম্বল … আর হয়তো শীঘ্রই আমাদের সাক্ষাৎ হবে।হে দামেস্কের আবাসস্থল! কোনো মেঘ যেন তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন না হয় … যা বিদ্যুৎসহ কালো মেঘ হয়ে তোমার ওপর বর্ষিত হবে।পূর্বালি বাতাস তোমার আঙিনাগুলোকে অভিবাদন জানাতে প্রবাহিত হয়েছে … যার ভেতরে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে আমার প্রেম এবং আমার প্রিয়তমা।সেখানে রয়েছে আমার নিশিজাগরণ এবং আমার অধিকাংশ ব্যাকুলতা … সেখানে রয়েছে আমার সুহৃদসঙ্গ এবং আমার চরম আকুলতা।এবং তাঁর একটি বর্ণনা ওয়াদি আল-তাল্ল-এর ব্যাপারে: এটি দামেস্কের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র, এমন এক শহর যেখানে জান্নাতের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে এবং এটি হৃদয় ও মনের জন্য এক অনন্য স্থান হয়ে উঠেছে। এটি চতুষ্কোণ উদ্ভিদে ঘেরা একটি উপত্যকা এবং শ্যামল প্রান্তরে পূর্ণ এক বিচরণভূমি।একটি ফুল ও তার ভগিনী, একটি বৃক্ষ ও তার দুহিতা। পানির প্রবাহ ও সুমিষ্ট গায়কের সুর, বর্ণনাকারীর উদ্দীপনা এবং প্রশংসাকারীর সন্ধ্যাবেলার অবসর।এমন সব উদ্যানের দিকে যা ক্ষীণকটি সুন্দরী রমণীর বসনের মতো, আর এমন সব জলাধারের দিকে যা শীতল শুভ্র দন্তপাটির মতো।সেখানে তাঁর এক অতীত সময় কেটেছে যা তিনি বিষণ্ণ মনে ছেড়ে এসেছেন, এমন কিছু সত্যনিষ্ঠ যুবকদের সাথে যারা এবং তাদের সাথী সৌভাগ্য যেন একই সূত্রে গাঁথা।আমরা ওয়াদি আল-তাল্ল-এ অবস্থান করলাম আনন্দ অন্বেষণে … যেখানে সুখ আমাদের নিকটবর্তী হয়েছে এবং দূরে সরে যায়নি।আমরা এমন এক উদ্যানে এলাম যার মৃদুমন্দ বাতাস … আগর ও চন্দনের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয়।তার শাখা-প্রশাখাগুলো আমাদের জন্য পর্দা হয়ে দাঁড়িয়েছে … যখন তার কুঞ্জগুলো গালিচার মতো বিস্তৃত হয়েছে।সেখানে ঘুঘু পাখি বুলবুলের সাথে পাল্লা দেয় যেন এক সন্ন্যাসী … যে তার হিব্রু শব্দের মাধ্যমে কিবতিদের অনুকরণ করছে।তার বাতাস শাখাগুলোর মাঝে এমনভাবে মিলন ঘটায় … যেমন দুই প্রেমিক দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মিলিত হয়।তার চাহনি প্রেমের কথাগুলো বলে দেয় … এবং তা বর্ণনা করে, তবে হয়তো সে কোনো শর্ত ভুলে গেছে।আমরা সেখানে কিছুক্ষণ নুড়ি পাথরের ওপর বসলাম … যেখানে কাঁকরগুলো মুক্তার মতো মালায় গাঁথা ছিল।সেখানে রূপালি পানির একটি ঝরনা বয়ে চলে … যার ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যাওয়ার সময় তাতে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।প্রবাহিত হওয়ার সময় এটি যেন এক সরলরেখা … আর পাহাড়ের ফুলগুলো তার ওপর বিন্দুর মতো শোভা পাচ্ছে।আল্লাহ সেই কালকে সিক্ত করুন যা তার ছায়াতলে অতিবাহিত হয়েছে … সে যা দান করেছে তাতে সে সঠিক ছিল, যদিও তার ভুল দীর্ঘ ছিল।দূরত্ব সত্ত্বেও অভিবাদন জানাই সেই প্রতিটি রাতকে … যা সেখানে অতিবাহিত হয়েছে, যা আল-গুয়াইর বা যি আল-আরতায় কাটেনি।সেই রাতগুলো যখন জীবনের সুগন্ধি ফুল শুকিয়ে যায়নি … এবং তার ভূমিতে কোনো অনাবৃষ্টি বা আকাল দেখা দেয়নি।সেখানে আমি নক্ষত্রতুল্য কিছু যুবকের সঙ্গ পেয়েছি … যাদের কথাবার্তা আজও আমার কানে অলংকারের মতো বেজে ওঠে।তারা প্রেম ও অনুরাগের মোহর উন্মোচন করে … এবং হৃদয়ের ভালোবাসার যত্ন নেয়, বনজ বৃক্ষের নয়।তারা যখন তাদের মূল্যবান কথার মুক্তা ছড়িয়ে দেয় … তখন আমার ইচ্ছা করে তা কান দিয়ে কুড়িয়ে নিতে।তারা আলাপের পেয়ালা থেকে উত্তম সুধা পরিবেশন করে … আর কখনো কখনো সেই আলাপগুলো সুরভিত পানীয়ের মতো মনে হয়।এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত পংক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:হে সেই সত্তা যার প্রেম আমার হৃদয় থেকে সরে যায় না … যা পাঁজরের হাড়ের মাঝে তৃষ্ণা এবং আক্ষেপের সঙ্গী হয়ে আছে।শপথ আমাদের অতিবাহিত রাতগুলোর … এবং শপথ প্রেমের—যদিও তা আমাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।এবং শপথ সেই অশ্রুর যা আমি অবিরত ঝরিয়েছি … আর সেই চোখের যা তোমার বিরহে এক ফোঁটা ঘুমের স্বাদ পায়নি।তোমার মাঝে যা-ই থাকুক না কেন, তোমার ভালোবাসা আমার … পাঁজরের ভেতরে ঝিনুকের বুকে মুক্তার মতো লুকিয়ে আছে।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وكتب إلى صدر الشام وعالمها، ومن به قامت دعائم معالمها عبد الرحمن العمادي المفتي:رحمة العلم والفتاوى عليه … وصلاة الأقلام في الأوراقوقوله:القلب أصدق شاهدٍ … عدلٍ على صدق المحبهومن القلوب إلى القلو … ب مواردٌ للحب عذبهطوبى لمن يسقى بكا … س رحيقها المختوم شربهفراجعه بقوله:الحبُّ أظهر من إقا … مة شاهدٍ بين الأحبهومحبةٌ برهانها … عينٌ العيان تعدُّ حبَّهوإذا ارتضى المولى بفت … وى القلب فليستفت قلبهومن شعره ما قاله عاقداً فيه حديث: أحبب حبيبك هونامَّا فعسى أن يكون بغيضك يومامَّا، وأبغض بغيضك هونامَّا فعسى أن يكون حبيبك يومامَّا:بين المحبة والتباغض برزخٌ … فيه بقاء الود بين الناسِبخلاف أقصى الحب أو أقصى الذي … هو ضدُّه من كل قلبٍ قاسيفمآل كلٍّ منهما ندمٌ على … تفريطه ندماً بغير قياسِومن مقاطيعه قوله:إذا ما أزمع الأحباب ظعناً … وثار لدى الوداع حنين وجديفقل لهم بعبرة ذي ولوعٍ … تمتَّع من شميم عرار نجدِتتمته:فما بعد العشيَّة من عرارقال أبو هلال في كتاب المعاني: الألوان، يعني من النساء، تعتريها بالعشية صفرةٌ مستحسنة، كما قال:. . . وصف … راء العشيَّة كالعرارهقال الشهاب: أقول: العرار زهر بري أصفر، ومن هنا يفهم معنى قوله:فما بعد العشيَّة من عراروقوله مضمناً:إن هبَّ ريح التنائي … بين الرفاق عصوفافقل حشاشة نفسٍ … وقل خلقت ألوفايريد بيت المتنبي:حشاشة نفسٍ ودَّعت يوم ودَّعوا … فلم أدر أيَّ الظاعنين أشيِّعُوبيته الآخر:خلقت ألوفاً لو رجعت إلى الصِّبا … لفارقت شيبي موجع القلب باكياوقوله:إن رحَّل القوم عنا … ركابهم ظاعنينافقل لهم بانكسارٍ … يا من يعزُّ عليناتتمته:..........أن نفارقهم … وجداننا كل شيءٍ بعدكم عدمُوقوله:أحببتها هيفاء يزري قدُّها … بالغصن رنَّحه النسيم وحرَّكامرت فضاع المسك من أردانها … فوددْتُ بالأردان أن أتمسَّكاوقوله:يا ويح قلبي من هوى شادنٍ … يجرحه اللَّحظ بتكرارهأدنو فتغدو وردتا خدِّه … بنفسجاً يزهو بنوارهوقوله:أفٍّ لدُنيا لم تزل … عن وجه ذلٍّ سافرهتعميرها مستلزمٌ … تخريب دار الآخره فصلذكرت فيه مما في الأصل أربعة من الرجال، وصفهم حليٌ تتغاير فيه ربات الحجال.تحث بهم عزمها القلوص النواجي، وتستفيد منهم سحرها العيون السواجي وإني لا آمن من أن يقال: كرروا على الأسماع، والمكرر مملول بالإجماع.ومن العادات، ترك المعادات. فخبر الحبيب يطيب على الإعادة، وسجع الحمام إذا تردد أطرب بحسب العادة. ومن يمل من الأنفاس ترديداً، ويسأم من رشفات الثغور تعديداً. على أني مقتف أثر الباخرزي في دميته، حيث أعاد ذكر بعض من ذكر الثعالبي في يتيمته. وقال: لولا تكرار الكؤوس، لما استقر الإطراب في النفوس، ولا استقلت صبابة على الرؤوس، والحياة على حسن مساقها وطيب مذاقها، إذا جاوزت النفس الأول معادة، وحبها لكل من الحيوانات عادة، حتى إنها لا تمل إذا كررت عليها، ولا تكره إذا ردت إليها.والشرط إني لا أذكر من شعرهم السامي، وزهرهم الذي نبت في الروض الشامي. إلا ما لم يصل إليه، وما ذكره منه لا أحاشره عليه.والحكمة هي الضالة فأين وجدت أخذت، وحيث ما سمجت نبذت.وما بعثني على ذكرهم، إلا التلذذ بحمدهم وشكرهم. وإني لأحسب إن طالت لعهدهم السنون، أن تتعلق بمحاسنهم خطاطيف الظنون. وعلى كل حال فحقهم علي أوجب، وزيادة إلمامي بنخبهم لا تنكر ولا تحجب.فمنهم: أبو الطيب الغزِّي أوحد البلغاء العظام، وأجل من تفوه بالنثار والنظام.
তিনি শামের প্রধান ও আলেম এবং যাঁর মাধ্যমে সেই অঞ্চলের জ্ঞান-চিহ্নসমূহের স্তম্ভসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই মুফতি আব্দুর রহমান আল-ইমাদির প্রতি লিখেছেন:ইলম ও ফতোয়ার রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর... এবং কাগজের বুকে কলমের প্রার্থনা।তাঁর বাণী:অন্তর হলো সবচেয়ে সত্য সাক্ষী... মহব্বতের সত্যতার ওপর এক ন্যায়নিষ্ঠ প্রমাণ।এক অন্তর থেকে অন্য অন্তরে... ভালোবাসার সুমিষ্ট প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়।সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যাকে পান করানো হয়... মোহরকৃত সুধার পেয়ালা থেকে এক চুমুক।অতঃপর তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উত্তর দেন:প্রিয়জনদের মাঝে ভালোবাসার অস্তিত্ব... কোনো সাক্ষী উপস্থাপনের চেয়েও অধিক স্পষ্ট।আর এমন এক মহব্বত যার প্রমাণ হলো... চাক্ষুষ দর্শন যা ভালোবাসা হিসেবেই গণ্য হয়।আর যখন প্রভু অন্তরের ফতোয়ায় সন্তুষ্ট হন... তবে সে যেন নিজের অন্তরের কাছেই ফতোয়া চায়।তাঁর কবিতার অংশবিশেষ যা তিনি এই হাদিসের বিষয়বস্তু নিয়ে রচনা করেছেন: "তোমার প্রিয়জনকে পরিমিতভাবে ভালোবাসো, কারণ হতে পারে সে একদিন তোমার শত্রু হয়ে যাবে; আর তোমার শত্রুকে পরিমিতভাবে ঘৃণা করো, কারণ হতে পারে সে একদিন তোমার প্রিয়জন হয়ে যাবে":মহব্বত ও বিদ্বেষের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল (বারযাখ)... যেখানে মানুষের মাঝে হৃদ্যতা অবশিষ্ট থাকে।চরম পর্যায়ের ভালোবাসা কিংবা তার বিপরীত চরম বিদ্বেষের ক্ষেত্রটি ভিন্ন... যা প্রতিটি কঠোর হৃদয়ে থাকে।তাদের প্রত্যেকের পরিণতিই হলো... সীমালঙ্ঘনের কারণে সীমাহীন অনুশোচনা।তাঁর খণ্ড কবিতার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি:প্রিয়জনেরা যখন প্রস্থানের সংকল্প করল... আর বিদায়লগ্নে আমার বিরহ-বেদনার আকুলতা জেগে উঠল।তখন অনুরাগী ব্যক্তির অশ্রুসজল চোখে তাদের বলো... নজদ অঞ্চলের 'আরার' ফুলের সুবাস থেকে আনন্দ গ্রহণ করো।তার সমাপ্তি:কেননা সন্ধ্যার পর আর কোনো 'আরার' ফুল অবশিষ্ট থাকবে না।আবু হিলাল 'কিতাবুল মাআনি'তে বলেছেন: বর্ণসমূহ, অর্থাৎ নারীদের ক্ষেত্রে, সন্ধ্যায় এক চমৎকার হলুদাভ আভা তাদের আচ্ছন্ন করে, যেমনটি বলা হয়েছে:. . . এবং সন্ধ্যার সেই হলুদাভ আভা যেন আরার ফুলের মতো।শিহাব বলেছেন: আমি বলছি: আরার হলো একটি বন্য হলুদ ফুল, আর এখান থেকেই তাঁর এই বাণীর অর্থ বোঝা যায়:কেননা সন্ধ্যার পর আর কোনো 'আরার' ফুল থাকবে না।তাঁর অন্তর্ভুক্তিকৃত পঙক্তি:বন্ধুদের মাঝে যদি বিচ্ছেদের বায়ু... প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়।তবে বলো এটি প্রাণের অবশিষ্টাংশ... এবং বলো আমি স্বভাবগতভাবেই স্নেহপ্রবণ।তিনি মুতানাব্বির এই পঙক্তিটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:প্রাণের অবশিষ্টাংশ বিদায় নিল সেদিন যেদিন তারা বিদায় নিল... আমি জানি না কোন প্রস্থানকারীদের আমি বিদায় জানাব।এবং তাঁর অন্য পঙক্তিটি হলো:আমি এমন স্নেহপ্রবণ হয়ে জন্মেছি যে, যদি আমি পুনরায় শৈশবে ফিরে যেতাম... তবে ব্যথিত হৃদয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমার বার্ধক্যকে বিদায় জানাতাম।এবং তাঁর উক্তি:কওম যদি আমাদের ছেড়ে চলে যায়... তাদের সওয়ারি নিয়ে প্রস্থানকারী হিসেবে।তবে বিনয়ের সাথে তাদের বলো... হে তারা, যারা আমাদের কাছে পরম প্রিয়।তার সমাপ্তি:..........তাদের থেকে পৃথক হওয়া... আপনাদের পরে আমাদের কাছে সবকিছুই অস্তিত্বহীন সমতুল্য।এবং তাঁর উক্তি:আমি এক ক্ষীণকটি রূপসীর প্রেমে পড়েছি যার দেহসৌষ্ঠব... মৃদুমন্দ বাতাসে দোদুল্যমান গাছের ডালকেও হার মানায়।সে যখন পাশ দিয়ে গেল, তার আঁচল থেকে কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ল... তখন আমার আকাঙ্ক্ষা হলো সেই আঁচলটিকেই আঁকড়ে ধরি।এবং তাঁর উক্তি:আফসোস আমার হৃদয়ের প্রতি এক হরিণশাবকের ভালোবাসার কারণে... যার বারংবার কটাক্ষ তাকে ক্ষতবিক্ষত করে।আমি কাছে গেলে তার গালের গোলাপদ্বয়... বেগুনি ফুলে পরিণত হয় যা তার আভায় উদ্ভাসিত।এবং তাঁর উক্তি:ধিক্কার এই দুনিয়াকে, যা সর্বদা... লাঞ্ছনার অবগুণ্ঠন উন্মোচন করে রেখেছে।এটি আবাদ করার অনিবার্য ফল হলো... পরকালীন আবাসকে ধ্বংস করা। পরিচ্ছেদআমি এখানে মূল গ্রন্থ থেকে চারজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছি, যাদের গুণাবলি পর্দানশীন ললনাদের সাজসজ্জার মতো বৈচিত্র্যময়।দ্রুতগামী উষ্ট্রীসমূহ তাদের সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলে এবং তাদের থেকে মোহময় চোখগুলো জাদু লাভ করে। আমি এ ব্যাপারে শঙ্কামুক্ত নই যে বলা হতে পারে: "শ্রোতাদের কানে একই কথা বারবার বলা হয়েছে, আর সর্বসম্মতভাবে পুনরাবৃত্তি বিরক্তিকর।"তবে সাধারণ রীতি হলো শত্রুতা বর্জন করা। প্রিয়জনের খবর বারবার বললেও তা ভালো লাগে এবং কবুতরের ডাক বারবার শোনা গেলেও স্বভাবজাতভাবে তা আনন্দ দেয়। কে আছে যে বারবার নিঃশ্বাস গ্রহণে ক্লান্ত হয় এবং বারবার অধরের সুধা পানে বিরক্ত হয়? তদুপরি আমি বাখারাযির পদাঙ্ক অনুসরণ করছি তার 'দুমইয়াতুল কাসর' গ্রন্থে, যেখানে তিনি পুনরায় এমন কিছু ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যাদের বর্ণনা ছাআলিবি তাঁর 'ইয়াতীমাতুদ দাহর'-এ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: যদি পেয়ালার পুনরাবৃত্তি না হতো, তবে হৃদয়ে আনন্দের স্থিরতা আসত না এবং মাথায় মত্ততা আসত না। জীবন তার চমৎকার প্রবাহ এবং সুস্বাদু স্বাদ নিয়ে যখন প্রাণের কাছে পুনরায় ফিরে আসে, তখন তা প্রাণীদের অভ্যাসে পরিণত হয়। এমনকি বারবার ফিরে এলেও তারা ক্লান্ত হয় না এবং পুনরায় ফিরে আসলে অপছন্দ করে না।শর্ত হলো এই যে, আমি তাদের সেই উচ্চাঙ্গের কবিতা এবং শামী বাগানে ফুটে ওঠা কাব্য-কুসুমগুলো উল্লেখ করব না যা তাঁর কাছে পৌঁছেনি, এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার জন্য আমি তাকে কোনো দোষ দেব না।প্রজ্ঞা হলো হারানো সম্পদ, যেখানেই তা পাওয়া যায় গ্রহণ করা হয় এবং যেখানেই তা কুৎসিত হয় বর্জন করা হয়।তাদের প্রশংসায় এবং কৃতজ্ঞতায় আনন্দ লাভ করাই কেবল আমাকে তাদের কথা উল্লেখ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি মনে করি, তাদের কাল দীর্ঘ হলেও সন্দেহের হুকগুলো তাদের সৌন্দর্যের সাথে লেগে থাকবে। যাই হোক, আমার ওপর তাদের অধিকার অনিবার্য এবং তাদের সেরা রচনাগুলো সম্পর্কে আমার অধিক বিচরণ অস্বীকার করা বা গোপন করা যাবে না।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবু তায়্যিব আল-গাযযী, যিনি মহান অলঙ্কারবিদদের মধ্যে অনন্য এবং গদ্য ও পদ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বাগ্মী।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
جاء أمةً وحده في الافتنان، وامتطى جواد البراعة فأجراه طلق العنان. فهو في النباهة آية، لم تفته من مطالبه غاية. فكل خاطرٍ ينفد إلا خاطره، وكل سحابٍ يضن إلا سحابٌ يسح من فكره ماطره. ومكانته في السؤدد عالية، وساعة قربه ليست بالعمر غالية. تحلى بالزهد، وبذل في التخلي الجهد.وشعره حجة متصابٍ وفتنة متناسك، إذا سمعه المشغوف لم يبق فيه إلا رمقٌ بلذاته متماسك. قالت الأصداف: الفخر لألفاظه الغر، فلذلك حشا الدهر في فمها الدر.إذا ابتدأ معنًى أبرزه كهلال العيد، وأوقعه موقع فصل الخطاب وبيت القصيد.وإن استعاره صيره خلقاً جديداً، وجعله كليله في الفكر جديدا.وأقام دعامته إن خفي رسماً، وأعطاه روحاً إذا كان جسماً.وأنا ممن ألهج به ابتهاجاً وزهواً، ولي بمحاسنه شغف المتيم بمن يهوى. تحركني إليها دواعي الوجد، فأولع بها ولوع ابن الدمينة بصبا نجد. وقد جئتك منها بما يملأ المسامع التذاذاً، ويجعل القلوب من الوجد جذاذا.قال في الغزل:رشأٌ تمكَّن من فؤاد التَّائه … في قفر حُبِّيه وفي بيدائهِأسدٌ يجول بحلية الحسن التي … فيها الأسود تكون من أُسرائهِملكٌ ترى رمحَ القوم وقوس حا … جبه وسيفَ اللَّحظ من نظرائهِقمرٌ تراءى نحو مرآة السَّما … ءِ وفيه أثَّر بدره بإزائهِأترى أرى نفسي مفكَّهةً به … ليلاً يحنُّ إليَّ في ظلمائهِفلكم تطاول نأيه عنِّي وذق … تُ به عناً لا ذقت طعم عنائهِفي ليلةٍ تلقى الكئيب مفكراً … ممَّا به يرعى نجوم سمائهِلولا غزير الدَّمع أحرقه الحشا … لولاه أصبح مغرقاً ببكائهِأمعنِّفي دع عنك تعنيفي فلي … س يطيعني سمعي على إصغائهِلم يصغِ للتَّعنيف مسمع والهٍ … رسخ الهوى والوجد في سودائهِيا صاحبيَّ سلاه هل من عودةٍ … بزمان أنسٍ تمَّ لي بلقائهِأم هل وصالٌ أرتجيه منه أو … وعدٌ فأبقى في انتظارِ وفائهِأم هل أسامر طيفه من بعد أن … قاسيتُ فرطَ نفورِهِ وإبائِهِفهواه داءٌ ضمن قلبي لا يزو … لُ وما لقلبي مَخلصٌ من دائهِفأنا المقيم على المحبَّة والوَلا … وأنا الذي في الرِّقِّ من خُدَمائهِوله من قصيدةٍ كلها درر وغرر:أما آن من نجم الشُّجون غروبُ … وحتَّى متى ريح الفتون تنوبُتكلِّفني من بعد سلوان صَبوتي … شَمالٌ تُعنِّي مهجتي وجنوبُسهرتُ لها نائي المضاجع فانبرى … لها بين أحناءِ الضُّلوع لهيبُإذا ركدت ريحٌ وقرَّ نسيمها … أبى منه إلَاّ أن يعود هبوبُوفي الصَّدر بدرٌ فيه لم تحظَ أعينٌ … ولا صوَّرته للنُّفوسِ قلوبُمحيَّاه روضٌ ناضرٌ في نثيرِهِ … نظائم منها باهرٌ وعجيبُقناةٌ عليها للشُّموس مطالعٌ … ومركزها دون الإزارِ كثيبُبعيدُ مناطِ القُرطِ سحرٌ لحاظُه … ذَهوبٌ بألبابِ الرِّجال لعوبُبديع التَّثنِّي للهواء وللهوى … نسيمٌ يباري لطفه ونسيبُيجول وِشاحٌ أو تَغصَّ دمالجٌ … إذا لاح في بردٍ وماس قضيبُيُرى منه في ريمٍ مهاةٌ وضيغمٌ … ويعرض في الأخلاء منه مهيبُيشوب الرِّضا بالصَّدِّ والوصل بالقِلى … وما هو إلَاّ مسقمٌ وطبيبُتمنُّعُ إطماعٍ وإطماعُ مانعٍ … ودرٌّ ودَلٌّ رائقٌ وخلوبُدعاني إلى الرُّجعى على حين غفلةٍ … من الحسن والأهواءُ منه تريبُدعا سائري من كلِّ عضوٍ وكلَّما … دعا منه داعيهِ أجابَ مجيبُ
তিনি সৃজনশীলতায় অনন্য এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং পাণ্ডিত্যের অশ্বে আরোহণ করে তাকে বল্গামহীনভাবে চালিত করেছেন। মেধা ও প্রজ্ঞায় তিনি এক অনুপম নিদর্শন; তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই তার অগোচরে থাকেনি। সকল চিন্তা নিঃশেষ হয়ে যায় কিন্তু তার চিন্তা অক্ষয়, সব মেঘই কৃপণতা করে কিন্তু তার চিন্তাপ্রসূত মেঘ অবিরত বারিধারা বর্ষণ করে। শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্যে তার অবস্থান সুউচ্চ, আর তার সান্নিধ্যের এক মুহূর্ত জীবনের বিনিময়েও অধিক মূল্যবান নয়। তিনি কৃচ্ছ্রসাধন দ্বারা নিজেকে অলঙ্কৃত করেছেন এবং পার্থিব মোহ ত্যাগে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।তার কবিতা প্রেমাসক্ত ব্যক্তির জন্য প্রমাণস্বরূপ এবং ইবাদতগুজারের জন্য এক পরীক্ষার ন্যায়; যখন কোনো অনুরাগী তা শ্রবণ করে, তখন তার মধ্যে কেবল সেই অবশিষ্টাংশটুকু অবশিষ্ট থাকে যা তার আনন্দকে ধরে রাখে। ঝিনুকসমূহ বলেছে: গৌরব তো তার উজ্জ্বল শব্দমালার জন্য, তাই তো মহাকাল তাদের মুখে মুক্তো পুরে দিয়েছে।তিনি যখন কোনো ভাব প্রকাশ করতে শুরু করেন, তখন তা ঈদের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে এবং তাকে তিনি অকাট্য সিদ্ধান্ত ও কবিতার মূল প্রতিপাদ্যের স্থানে স্থাপন করেন।আর যদি তিনি কোনো উপমা ধার করেন, তবে তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে রূপান্তর করেন এবং চিন্তার জগতে তাকে চিরনতুন করে তোলেন।যদি তার চিহ্ন বিলুপ্তপ্রায় হয় তবে তিনি তার ভিত্তি মজবুত করেন এবং যদি তা কেবল একটি দেহ হয় তবে তিনি তাতে প্রাণ সঞ্চার করেন।আমি তাদেরই একজন যে আনন্দ ও গর্বের সাথে তার গুণগান করে, আর তার সৌন্দর্যের প্রতি আমার অনুরাগ এক মজনু প্রেমিকের তার প্রেয়সীর প্রতি অনুরাগের ন্যায়। প্রাণের আবেগ আমাকে তার দিকে তাড়িত করে, ফলে আমি তার প্রতি তেমনই আসক্ত যেমন ইবনে দুমাইনাহ নজদের বসন্ত বাতাসের প্রতি আসক্ত ছিলেন। আমি আপনার কাছে তার এমন কিছু পঙক্তি নিয়ে এসেছি যা শ্রবণেন্দ্রিয়কে আনন্দে পূর্ণ করবে এবং অন্তরকে আবেগে বিদীর্ণ করবে।তিনি গজল বা প্রেমগীতির বর্ণনায় বলেন:এক হরিণশাবক পথভ্রান্ত প্রেমিকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে … তার ভালোবাসার জনশূন্য প্রান্তরে ও মরুভূমিতে।এক সিংহ যে সৌন্দর্যের অলঙ্কারে বিচরণ করে, যেখানে … বনের সিংহরাও তার বন্দীতে পরিণত হয়।এক সম্রাট, যার ধনুকের মতো ভ্রূ এবং তলোয়ারের মতো চাহনি … জাতির বল্লম ও ধনুকের সমকক্ষ।এক চন্দ্র যা আকাশের আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে … আর তার বিপরীতে পূর্ণিমার চাঁদ তাতে প্রভাব বিস্তার করছে।আমি কি নিজেকে তার সান্নিধ্যে আনন্দিত অবস্থায় দেখতে পাব … সেই রাতে, যে রাত তার অন্ধকারে আমার প্রতি ব্যাকুল হবে?তার দূরত্ব আমার কাছে কত দীর্ঘ হয়েছে এবং আমি তার কারণে … এমন কষ্ট ভোগ করেছি যা আপনি যেন কখনো আস্বাদন না করেন।এমন এক রাতে যখন আপনি বিষণ্ণ ব্যক্তিকে চিন্তিত অবস্থায় পাবেন … যে তার ব্যথার কারণে আকাশের নক্ষত্র গণনা করে রাত পার করে।যদি অশ্রুর প্রাচুর্য না থাকতো তবে তার পঞ্জর পুড়ে ছাই হয়ে যেত … আর যদি সেই কান্না না থাকতো তবে সে তার ক্রন্দনেই নিমজ্জিত হতো।ওহে আমার তিরস্কারকারী! আমাকে তিরস্কার করা বন্ধ করো, কারণ … তোমার কথা শোনার জন্য আমার শ্রবণেন্দ্রিয় আমার অবাধ্য।বিরহী প্রেমিকের কান কখনো তিরস্কার শোনে না … যার হৃদয়ের গভীরে প্রেম ও আবেগ গেঁথে আছে।হে আমার দুই বন্ধু! তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করো, মিলনের সেই আনন্দের দিনগুলো কি আবার ফিরে আসবে … যা তার সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছিল?অথবা আমি কি তার কাছ থেকে মিলনের কোনো আশা করতে পারি … নাকি কোনো প্রতিশ্রুতি যা পালনের অপেক্ষায় আমি বেঁচে থাকব?নাকি তার চরম বিমুখতা ও অস্বীকৃতি সহ্য করার পর … আমি কেবল তার কল্পছায়ার সাথেই নিশীথ যাপন করব?তার প্রেম আমার হৃদয়ে এক রোগ যা দূর হওয়ার নয় … আর আমার হৃদয়ের এই রোগ থেকে কোনো নিষ্কৃতি নেই।আমি ভালোবাসা ও আনুগত্যের ওপর অটল আছি … আর আমিই সেই ব্যক্তি যে তার সেবকদের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ।তার একটি কবিতা থেকে কিছু অংশ, যার পুরোটাই মুক্তো ও উজ্জ্বল রত্নরাজিতে পূর্ণ:দুঃখের নক্ষত্র কি এখনও অস্ত যাওয়ার সময় হয়নি? … আর কতকাল এই পরীক্ষার বায়ু প্রবাহিত হতে থাকবে?আমার যৌবনের সেই ব্যাকুলতা থেকে সান্ত্বনা পাওয়ার পর … উত্তর ও দক্ষিণের বাতাস পুনরায় আমার প্রাণকে ব্যথিত করছে।শয্যা ত্যাগ করে আমি তার জন্য রাত জেগেছি, আর … পাঁজরের হাড়ের মাঝখানে আগুনের লেলিহান শিখা প্রজ্বলিত হয়েছে।যখন বাতাস থেমে যায় এবং মৃদু হাওয়া স্থির হয় … তখন তার দিক থেকে পুনরায় ঝাপটা আসা ছাড়া আর কিছুই ঘটে না।বক্ষপঞ্জরে এক পূর্ণিমা বিরাজমান যা কোনো চোখ দেখেনি … এবং কোনো হৃদয় তার ছবি আঁকতে পারেনি।তার মুখমণ্ডল এক সজীব উদ্যান, যার গদ্যে ও পদ্যে … রয়েছে বিস্ময়কর ও চমৎকার সব বিষয়।সে যেন এক ঋজু লতা যার ওপর সূর্যের উদয় ঘটে … আর তার কটিদেশের নিচে রয়েছে বালুকাময় পাহাড়ের মতো উচ্চতা।তার কানের দুল ঝোলার স্থানটি দীর্ঘ, তার চাহনি জাদুকরী … যা পুরুষদের বুদ্ধি হরণকারী ও চঞ্চল।তার অঙ্গভঙ্গি বায়ু ও প্রেমের জন্য এক অভিনব বিষয় … যার মৃদু হাওয়া তার কমনীয়তা ও আভিজাত্যের সাথে পাল্লা দেয়।যখন সে অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে আবির্ভূত হয় এবং দুলতে থাকে … তখন তার কোমরবন্ধ শিথিল হয়ে ঘোরে আর বাহুবন্ধনীগুলো যেন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।হরিণের মধ্যে তার হরিণশাবক ও সিংহের রূপ দেখা যায় … আর বন্ধুদের মাঝে তার এক গম্ভীর প্রভাব প্রকাশ পায়।সে সন্তুষ্টির সাথে বিমুখতা এবং মিলনের সাথে ঘৃণা মিশ্রিত করে … সে একাধারে রোগ প্রদানকারী আবার চিকিৎসক।তার প্রত্যাখ্যান যেন আশা জাগানিয়া, আর তার আশা জাগানো যেন বাধা প্রদানকারী … সে যেন এক স্বচ্ছ মুক্তো এবং এক মনোহারী চপলতা।সে যখন সৌন্দর্যের অসতর্ক মুহূর্তে আমাকে ফিরে আসার আহ্বান জানালো … তখন আমার প্রবৃত্তি তার প্রতি সন্দিহান হয়ে পড়লো।সে আমার সত্তার প্রতিটি অঙ্গকে আহ্বান করেছে, আর যখনই … তার পক্ষ থেকে কোনো আহ্বানকারী ডেকেছে, তখনই একজন সাড়া দানকারী তাতে সাড়া দিয়েছে।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
لُسِبْتُ من الصُّدغ الجنيِّ بعقربٍ … له بين ورد الوجنتين دبيبُلئن عاد لي عيد اللَّواعج غرَّةً … فإن فؤادي للغرامِ نسيبُوعنوانُ حالي لو رأى بثَّ بعضهِ … شُحوبٌ ومن دون الشُّحوبِ وجِيبُلحا الله قلبي كم تنازعه الرَّدى … لحاظٌ لها في صفحتيه نُدوبُيلَذُّ الهوى لا دَرَّ دَرُّ أبي الهوى … وحسبك منه زفرةٌ ونحيبُأُدرِّجُ أنفاسي مخافة كاشحٍ … وأُطرق كيما لا يقال مريبُأدين بكتمان الهوى فيذيعُهُ … فؤادٌ وطرفٌ خافقٌ وسكوبُوقالوا غَوِيٌّ لا يتوب وآثمٌ … وما علموا حوباً فكيف نتوبُبحسب التَّوافي من عفافي زاجرٌ … ومن صونه عمَّا يريب قريبُأُجلُّك أن أُبدي هواك علالةً … ولكن لسان العاشقين خطيبُوله من قصيدة، أولها:نَهْنِه دوالح جفنك المقروح … وأرحْ طلائح قلبك المجروحِودع الهوى طلق العنان لأهله … وارْبَأْ بنفسك عن رباه الفيحِفلرُبَّما ضاق الفضاءُ بأهله … ولربَّما سُدَّت مهافي الرِّيحِكم ذا تبيتُ مسهَّداً ترعى السُّها … متململاً من لاعج التبريحِكم ذا تصُدُّ عن النَّصيح عمايةً … وترى وليَّ النُّصح غير نصيحِوممنِّعِ كابن الغزالة دونه … غابا حمًى من ذبَّلٍ وصفيحِلم يعتلق مضناه منه بزورةٍ … تشفي ولا فتكه بمريحِلو شئت لا شئت المعادَ إلى الهوى … لرأيتني بالروح غير شحيحِورأيت آرام الصَّريمِ سوانحاً … في مجلسي وصوادراً في سوحِيورأيتني ضمَّت على متنسِّكٍ … متعفِّفٍ حين اللقاء كشوحيوله من أخرى، مستهلها:وفتًى يرفُّ بمثل ثوب نضارِ … وعثاعثٍ ترتجُّ تحت إزارِأمَّا محيَّاه الوسيم فإنه … منح القلوب ومطمح الأنظارِشفعت ذوائبه الدُّجى وجبينه … بهر الهلال عشيَّة الإفطارِيرنو بأكحل كالجراز فيا له … من أسودٍ ذي أبيضٍ بتارِتبدو له أسد العرين ظواهراً … فيعيدها أخفى من الأسرارِصنمٌ تخرُّ له البطارق سجُّداً … ليجيرهم فيهيلهم في النَّارِإن قلت بدرٌ رابني بسفوره … أو قلت ريمٌ راعني بنفارِلو أنكرت منِّي هواه جوارحي … فشحوب جسماني به إقراريلم أنسه واللَّيل بحرٌ مزبدٌ … بنجومه وأديمه من قارِوإذا به وافى يفوح كأنَّما … زرَّت غلائله على عطَّارِصدع الدُّجنَّة فارياً ديجورها … عن بدر تمٍّ مشرق الأنوارِوافتَّر يبسم عن ثنايا وامضٍ … بلآلئٍ نسق النَّظام صغارِقلت: صغر الأسنان ممدوح، قال ابن النبيه:ولم أرَ قبل مبسمه … صغير الجوهر المثمنِواعتذر عن كبرها القائل:يفتَّرُّ عن مثل نظم الدُّرِّ أتقنه … بحسن تأليفه في النَّظم متقنهُعابوا كبار ثناياه فقلت لهم … الدُّرُّ أكبره في العين أثمنهُتتمة الأبيات:علَّت بخرطومٍ كميتٍ سلسلٍ … لا مزَّةٍ كلا ولا مصطارِروح بلا جسمٍ ولكن جوهرٌ … متصدِّفٌ بالقار والفخَّارِلو عبَّ ساقيها دجًى في كأسها … لرأيت بدراً لسَّ شمس نهارِحمراء تحسبها عقيقة بارقٍ … إن لم تكنها فهي جذوة نارِمسكيَّةٌ فكأنها دم شادنٍ … يحتَّل من كاساتها في قارِمنها في المديح:
নবজাত অলকগুচ্ছ হতে আমি দংশিত হয়েছি এক বিচ্ছু দ্বারা … যার বিচরণ রয়েছে দুই গালের রক্তিম গোলাপের মাঝে।যদি আকস্মিকভাবে দহনজ্বালার উৎসব আমার কাছে ফিরে আসে … তবে আমার অন্তর তো অনুরাগেরই আপনজন।আমার অবস্থার শিরোনাম যদি কেউ তার যৎসামান্য কষ্টের বহিঃপ্রকাশ দেখত … তবে তা হতো পাণ্ডুরতা, আর সেই পাণ্ডুরতার আড়ালে রয়েছে হৃদস্পন্দন।আল্লাহ আমার অন্তরকে ভর্ৎসনা করুন, কতই না ধ্বংস তার সাথে বিবাদে লিপ্ত … এমন সব কটাক্ষ, যার ক্ষতচিহ্ন তার দুই পার্শ্বে বিদ্যমান।অনুরাগ তো সুস্বাদু, অনুরাগের জনকের কোনো কল্যাণ না হোক … আর তোমার জন্য এর থেকে দীর্ঘশ্বাস ও বিলাপই যথেষ্ট।আমি বিদ্বেষ পোষণকারীর ভয়ে আমার নিঃশ্বাস সংযত করি … এবং আমি দৃষ্টি অবনত রাখি যাতে আমাকে সন্দেহভাজন না বলা হয়।আমি অনুরাগ গোপন রাখাকেই নিয়ম মানি, কিন্তু তা প্রকাশ করে দেয় … এক চঞ্চল হৃদয় এবং স্পন্দিত ও অশ্রুসজল চক্ষু।তারা বলল, সে পথভ্রষ্ট যে তওবা করে না এবং সে একজন পাপী … অথচ তারা কোনো পাপাচার সম্পর্কেই জানে না, তবে আমরা কীভাবে তওবা করব?আনুগত্যের বিচারে আমার পবিত্রতাই হলো নিবারক … আর একে সন্দেহজনক বিষয় হতে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তা অতি নিকটবর্তী।আপনার অনুরাগকে বাহানা হিসেবে প্রকাশ করা থেকে আমি আপনাকে উচ্চতর জ্ঞান করি … কিন্তু প্রেমিকদের জিহ্বা তো সদাসর্বদা বাগ্মী।তাঁর অন্য একটি কবিতা থেকে, যার শুরু হলো:তোমার ক্ষতবিক্ষত চোখের পাতার অশ্রুধারাকে সংবরণ করো … এবং তোমার আহত হৃদয়ের ক্লান্তিকে বিশ্রাম দাও।অনুরাগকে তার অধিকারীদের জন্য বলগাহীন ছেড়ে দাও … আর তার প্রশস্ত উচ্চভূমি হতে নিজেকে ঊর্ধ্বে রাখো।কেননা কখনো কখনো প্রশস্ত পৃথিবী তার বাসিন্দাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায় … আর কখনো বাতাসের গতিপথগুলো রুদ্ধ হয়ে পড়ে।কতকাল তুমি নিদ্রাহীন রাত কাটাবে সুহা নক্ষত্রের পানে চেয়ে … যন্ত্রণার তীব্র দহনে অস্থির হয়ে।কতকাল তুমি অন্ধ হয়ে উপদেশদাতার থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে … এবং কল্যাণকামীকে অকল্যাণকামী মনে করবে।এবং এমন এক দুর্লভ প্রিয়তম যে হরিণশাবকের মতো, যার সামনে রয়েছে … বর্শা ও তলোয়ারের এক সুরক্ষিত বনানী।তার প্রেমে জরাজীর্ণ ব্যক্তি তার পক্ষ হতে এমন কোনো সাক্ষাৎ পায়নি … যা আরোগ্য দেয়, আর না তার নিধন কোনো স্বস্তি প্রদানকারী।যদি তুমি চাইতে—আমি চাই না যে তুমি অনুরাগে ফিরে এসো— … তবে তুমি আমাকে আমার প্রাণের ব্যাপারে কৃপণ দেখতে পেতে না।আর তুমি মরুভূমির হরিণদের দেখতে পেতে আমার মজলিসে উপস্থিত হতে … এবং আমার আঙিনা থেকে প্রস্থান করতে।আর তুমি আমাকে দেখতে পেতে যে, সাক্ষাতের সময় আমার পাঁজর এক ইবাদতগুজার … ও পবিত্র ব্যক্তির সাথে মিশে আছে।তাঁর অন্য একটি কবিতা থেকে, যার প্রারম্ভ হলো:আর এক যুবক, যে স্বর্ণালি বস্ত্রের ন্যায় উজ্জ্বল … আর তার তহবন্দের নিচে চঞ্চল শরীরের দোলা।তার সুশ্রী চেহারার কথা বললে, তা তো … হৃদয়ের প্রাপ্তি এবং দৃষ্টির লক্ষ্যস্থল।তার অলকগুচ্ছ অন্ধকারের সাথে মিশে আছে, আর তার ললাট … ইফতারের সন্ধ্যায় উদিত বাঁকা চাঁদকেও হার মানায়।সে কাজলের মতো কালো চোখে তলোয়ারের ন্যায় দৃষ্টিপাত করে, হায় কী আশ্চর্য … এক কৃষ্ণাভ চক্ষু যা ধারালো সাদার অধিকারী।বনের সিংহরা তার সামনে প্রকাশ্য হয়ে আসে … অতঃপর সে তাদেরকে গোপনীয় রহস্যের চেয়েও নিগূঢ় করে দেয়।এক প্রতিমা, যার সামনে সেনাপতিরা সেজদায় লুটিয়ে পড়ে … যাতে সে তাদের আশ্রয় দেয়, কিন্তু সে তাদের আগুনের স্তূপে নিক্ষেপ করে।আমি যদি তাকে পূর্ণিমা বলি, তবে তার অবগুণ্ঠন উন্মোচন আমাকে সংশয়ে ফেলে দেয় … আর যদি বলি হরিণ, তবে তার পলায়নপর স্বভাব আমাকে বিচলিত করে।আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যদি তার প্রতি আমার অনুরাগকে অস্বীকার করে … তবে আমার শরীরের পাণ্ডুরতাই হবে তার স্বীকারোক্তি।আমি তাকে ভুলিনি যখন রাত ছিল এক ফেনিল সমুদ্র … তার নক্ষত্ররাজি নিয়ে, আর তার উপরিভাগ ছিল আলকাতরার মতো কালো।হঠাৎ সে উপস্থিত হলো সুবাস ছড়িয়ে, যেন … তার পোশাকের বোতামগুলো কোনো সুগন্ধি বিক্রেতার ওপর লাগানো হয়েছে।সে অন্ধকারের বুক চিরে তার ততিমিরকে বিদীর্ণ করল … এক উজ্জ্বল আলোকময় পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়।সে যখন হাসল, তখন চমকপ্রদ সামনের দাঁতগুলো প্রকাশিত হলো … যা ছিল সুবিন্যস্ত ক্ষুদ্র মুক্তার মতো।আমি বললাম: ছোট দাঁত প্রশংসনীয়। ইবনুন নাবীহ বলেছেন:তার হাসিমুখের আগে আমি দেখিনি … এত ক্ষুদ্র অথচ মহামূল্যবান কোনো রত্ন।আর যে ব্যক্তি দাঁতের বড় হওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:সে যখন হাসে তখন প্রকাশিত হয় সুবিন্যস্ত মুক্তার মালার ন্যায়, যা নিপুণ … তার সৌন্দর্যের বিন্যাসে কোনো এক দক্ষ কারিগর কর্তৃক।তারা তার সামনের বড় দাঁতগুলোর ত্রুটি ধরল, তখন আমি তাদের বললাম … মুক্তা যত বড় হয়, চোখের দৃষ্টিতে তা ততই মূল্যবান হয়।কবিতার অবশিষ্টাংশ:সে পান করাল লালচে রঙের সুস্বাদু শরাব … যা টক নয় এবং যা অপরিণতও নয়।দেহহীন এক আত্মা, কিন্তু তা এমন এক সারবস্তু … যা আলকাতরা মাখানো মাটির পাত্রে সংরক্ষিত।যদি তার পরিবেশনকারী সেই পানপাত্রে অন্ধকার ঢেলে দিত … তবে তুমি দেখতে পেতে এক পূর্ণিমা যা দিবালোকের সূর্যকে স্পর্শ করেছে।লাল রঙের, তুমি একে বিদ্যুতের ন্যায় রক্তিম আকিক পাথর মনে করবে … যদি তা না-ও হয়, তবে তা আগুনের এক স্ফুলিঙ্গ।কস্তুরীমাখা সুবাসিত, যেন তা কোনো হরিণশাবকের রক্ত … যা পাত্রের তলানিতে কালো বর্ণের রূপ ধারণ করেছে।প্রশংসা অংশে তার কিছু পঙক্তি:
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وهَّابُ أذوادِ المطافل يكتفي … بسقوبها بل واهب الأخطارِينسي أحاديث المكارم إنه … ملغي الوعود ومهدر الأعذارِيطفو السَّخاء على أسرَّته كما … يطفو الفرنْد على الصقيل العاريما زال في طلب العلا حتَّى انبرى … كهلاً فأدرك خمسة الأشبارِفي بردتيه أبو دؤاد لجاره … ولمن يناويه أبو الأذعارِمولاي يا كهف الأفاضل والنُّهى … ويمين بيت الله ذي الأستارِإنَّي لأُكبر منك هيبة ضيغمٍ … وأجلُّها مني عن الإكبارِسأقول فيك الشِّعر يقطر حسنه … أو يستمدُّ السِّحر من أشعارييزري بوشيِ الرَّوض نمَّق نوره … كفُّ النَّسيم وراحة الأمطارِوله من أخرى، مطلعها:أمؤنِّبي في الحبِّ لا متواني … ما أنت من ولهي ومن سلوانيلا تسقني ماء الملام فإنَّما … عيناي من ماء الهوى عينانِوله بجانحتيَّ صون حديثه … دينٌ وشأني مخبرٌ عن شانيلولا ضرامٌ شبَّ بين جوانحي … لغرقتُ من غربيَّ بالطُوفانِرفقاً فلا غير المنية والجوى … هو أوَّلٌ وهي المحلُّ الثانيليت الذي فهقت كؤوس جفونه … أنهى بهنَّ إليك ما سقَّانيإنَّ المذرَّبةَ الظُّبي ولحاظه … أنَّى اتَّجهتُ من الهوى سيَّانِلله من أجفان جؤذرِ كلَّةٍ … يرعى الحشا بدلاً عن الحوذانِيطفو النَّعيم على غرارة وجهه … فترفُّ منه شقائق النُّعمانِمتوضِّح القسمات يبرح خالباً … منِّي جناني جاذباً بعنانيوبغيضةٌ سبل الغرام إليَّ ما … لم يعتسفها ضلَّة الهجرانِوسبيَّةٍ من خمر عانة مزَّة … نظم المزاج بها عقود جمانِقتلت بصوبٍ من صبير غمامةٍ … لمعت بمثل مصابح الرُّهبانِومنها في المديح:فرعٌ تمكَّن من نصابٍ دونه … أخذُ الكميِّ بمنكبي ثهلانِيقظٌ بأعقاب الأمور كأنَّما … يدلي بجاسوسٍ إلى الكتمانِلا تطَّبيهِ مدامةٌ تجلى على … عزف القيان ورنَّة العيدانِعمَّت فضائله وذاع نوالهُ … كالشَّمس لا تخفى بكلِّ مكانِمنها:واستجلِها عذراء عُلَّ رضابُها … حمراء تهزأ بالنجيع القانيشُجَّت بذي خصرٍ يبدِّد فوقها … حبَيَاً يجول كأعين النِّينانِالنينان: جمع نونٍ، وهو الحوت. قيل هو جمعٌ غير معروف.وقد كان سيبويه لحن بشار بن برد، في قوله في صفة السفينة:تلاعب نينان البحور ورُبَّما … رأيت نفوس القوم من جريها تجريفغيره بشار بتيار البحور وقد قال أبو الطيب يصف خيلاً:فهنَّ مع السيدان في البرِّ عسَّلٌ … وهنَّ مع النينان في البحر عوَّمُقلت: وأبو الطيب، له في اللغة النظر الصيِّب، وهو ممن يميز الخبيث من الطيب. ومن نتفه ومقاطيعه قوله:عاطيته حلب العصير ولا سوى … زهر النُّجوم تجاه زهر المجلسِانظر إليه كأنَّه متبرمٌ … مما تغازله عيون النَّرجسِوكأنَّ صفحة خدِّه ياقوتةٌ … وكأنَّ عارضه خميلة سندسِهذا على أسلوب قول ابن هانئ الأندلسي:خالسته نظراً وكان مورَّداً … فاحمرَّ حتى كاد أن يتلهَّباانظر إليه كأنَّه متنصِّلٌ … بجفونه ولقد يكون المذنباوكأنَّ صفحة خدِّه وعذاره … تفَّاحةٌ رميت لتقتل عقرباوله:صادفته متبذِّلاً بصحابه … يوماً فأقصر عنهم في منزلِوتركته نهب الرِّعاع وإنَّه … أشهى إليَّ من الرَّحيق السلسلِوله:لقد علقْتَ يا فؤادي … بالحسين ذي الوسنْ
তিনি দুগ্ধবতী উটসমূহ এবং তাদের শাবক দানকারী, বরং তিনি বহুমূল্যবান উটেরও দাতা।তিনি মহানুভবতার কাহিনীসমূহ ভুলিয়ে দেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী এবং ওজর-আপত্তি নিরসনকারী।দানশীলতা তার ললাটে এমনভাবে ভেসে ওঠে, যেমন উজ্জ্বল মসৃণ তলোয়ারের ওপর দ্যুতি ভেসে ওঠে।তিনি উচ্চমর্যাদা অন্বেষণে সদা সচেষ্ট ছিলেন, অবশেষে যখন তিনি প্রৌঢ়ত্বে উপনীত হলেন, তখন তিনি পাঁচ বিঘত (মর্যাদা) অর্জন করলেন।তার চাদর আবৃত অবস্থায় তিনি তার প্রতিবেশীর জন্য আবু দুয়াদ (দানবীর), আর তার শত্রুদের জন্য তিনি বিভীষিকার জনক।হে আমার নেতা, হে গুণী ও জ্ঞানীদের আশ্রয়স্থল, এবং আবরণে ঢাকা আল্লাহর ঘরের ডান হাত।আমি আপনার মধ্যে সিংহের ন্যায় যে গাম্ভীর্য দেখি তাকে অতি মহান মনে করি, আর তা আমার পক্ষ থেকে যেকোনো মহত্ত্বের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।আমি আপনার শানে এমন কবিতা বলব যা থেকে সৌন্দর্য ঝরবে, অথবা যা আমার কাব্য থেকে জাদু গ্রহণ করবে।এটি উদ্যানের কারুকাজকেও তুচ্ছ করে দেবে, যার জ্যোতি বসন্ত বাতাসের হাত এবং বৃষ্টির তালু সুশোভিত করেছে।তার অন্য একটি কবিতা, যার প্রারম্ভিক পঙক্তি হলো:হে প্রেমে আমার নিন্দাকারী, তুমি তো নিবৃত্ত নও; আমার ব্যাকুলতা ও আমার ধৈর্য সম্পর্কে তুমি কিছুই জানো না।আমাকে ভর্ৎসনার পানি পান করিও না, কারণ আমার দু'চোখ তো প্রেমের পানি বয়ে চলা দুটি ঝরনা।আমার পাঁজরের অন্তরালে তার কথা রক্ষা করা একটি ঋণ; আর আমার অবস্থা আমার অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছে।যদি আমার পাঁজরের মাঝে আগুন প্রজ্বলিত না হতো, তবে আমি পশ্চিমাকাশের প্লাবনে ডুবে যেতাম।সহৃদয় হোন, কারণ মৃত্যু এবং তীব্র আবেগ ছাড়া আর কিছুই নেই; এটি প্রথম এবং সেটি হলো দ্বিতীয় স্থান।হায়! যার চোখের পাত্রগুলো পরিপূর্ণ ছিল, সে যদি সেগুলোর মাধ্যমে আপনার কাছে পৌঁছে দিত যা সে আমাকে পান করিয়েছে।নিশ্চয়ই শাণিত তলোয়ার এবং তার চোখের পলক—আমি প্রেমের যেদিকেই ফিরি না কেন, উভয়ই সমান।আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত হোক পর্দার অন্তরালে থাকা সেই হরিণশাবকের চোখের পাতাগুলো, যা হউজান ঘাসের পরিবর্তে কলিজাকে চরে বেড়ায়।তার কমনীয় চেহারার ওপর লাবণ্য ভেসে ওঠে, ফলে তা থেকে রক্তিম লাল ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়।সুস্পষ্ট শারীরিক অবয়বসম্পন্ন সে আমার চিত্ত হরণ করে চলেছে এবং আমার লাগাম টেনে ধরছে।প্রেমের পথসমূহ আমার কাছে অপ্রিয় ছিল, যতক্ষণ না বিচ্ছেদের ভ্রষ্টতা তাতে হানা দিয়েছে।আর 'আনা' অঞ্চলের এমন সুরা যা মুক্তার মালার ন্যায় সুবিন্যস্ত।যা মেঘের বর্ষণে সিক্ত হয়ে ধ্বংস হয়েছে, যা যাজকদের প্রদীপের ন্যায় উজ্জ্বল ছিল।প্রশস্তি গাথার অংশবিশেষ থেকে:তিনি এমন এক শাখা যা এমন এক মূল থেকে দৃঢ় হয়েছে, যার নিচে বীর যোদ্ধারাও থাহলান পাহাড়ের কাঁধ আঁকড়ে ধরে।তিনি পরিণতির বিষয়ে এতোটাই সজাগ, যেন তিনি গোপনীয়তার দিকে কোনো গোয়েন্দা পাঠাচ্ছেন।গায়িকাদের গান এবং বাদ্যযন্ত্রের ঝংকারের মাঝে পরিবেশিত সুরা তাকে বিমোহিত করতে পারে না।তার গুণাবলি ব্যাপক হয়েছে এবং তার দান সূর্যের ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা কোনো স্থানেই গোপন থাকে না।তা থেকে অংশবিশেষ:আর একে কুমারী হিসেবে অবলোকন করো যার ওষ্ঠাধর চোষা হয়েছে, এমন লাল যা গাঢ় রক্তের সাথে উপহাস করে।এটি এমন এক সরু কোমরবিশিষ্ট পাত্রে মেশানো হয়েছে যা তার ওপর জলজ বুদবুদ ছড়িয়ে দেয়, যা মাছের চোখের মতো ঘুরে বেড়ায়।নীনান: নুন-এর বহুবচন, যার অর্থ মাছ। বলা হয়ে থাকে এটি একটি অপরিচিত বহুবচন রূপ।সিবওয়াইহ বাশশার ইবনুল বুরদকে ভুল ধরেছিলেন তার নৌকার বর্ণনায় বলা এই উক্তিতে:এটি সমুদ্রের মাছগুলোর সাথে খেলা করে, আর অনেক সময় তুমি দেখবে যে মানুষের প্রাণ এর দ্রুত গতির কারণে ধাবমান।অতঃপর বাশশার তা পরিবর্তন করে 'সমুদ্রের ঢেউ' করে দিয়েছিলেন। আবু তায়্যিব আল-মুতানাব্বিও ঘোড়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:স্থলভাগে সেগুলো নেকড়েদের সাথে দ্রুতগামী, আর সমুদ্রে সেগুলো মাছদের সাথে সাতারু।আমি বলি: আবু তায়্যিবের ভাষাতত্ত্বের ওপর গভীর দৃষ্টি ছিল, আর তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ভালো ও মন্দের পার্থক্য করতে পারেন। তার খণ্ড কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:আমি তাকে আঙ্গুর রস পান করালাম যখন মজলিসের পুষ্পের বিপরীতে নক্ষত্রের ফুল ছাড়া আর কিছুই ছিল না।তার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে যেন বিষণ্ণ, কারণ নার্গিস ফুলগুলো তার দিকে অপলক তাকিয়ে প্রেম নিবেদন করছে।তার গালের উপরিভাগ যেন একটি ইয়াকুত পাথর, আর তার গালের পশম যেন রেশমি কাপড়ের একটি কুঞ্জ।এটি ইবনে হানি আল-আন্দালুসির এই কথার অনুকরণে:আমি তার দিকে আড়চোখে তাকালাম যখন সে লজ্জিত ছিল, ফলে সে এতোটা লাল হয়ে গেল যে মনে হচ্ছিল সে জ্বলে উঠবে।তার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে যেন তার চোখের পাতার মাধ্যমে নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে চাইছে, যদিও সে অপরাধী হতে পারে।তার গালের উপরিভাগ এবং গালের পশম যেন একটি আপেল, যা একটি বিচ্ছুকে মারার জন্য নিক্ষেপ করা হয়েছে।তার আরও কবিতা:আমি একদিন তাকে তার বন্ধুদের সাথে ঘরোয়া অবস্থায় পেলাম, তখন সে এক বাড়িতে তাদের কাছ থেকে দূরে সরে এল।আমি তাকে সাধারণ মানুষের লুণ্ঠনের জন্য ছেড়ে দিলাম, যদিও সে আমার কাছে স্বচ্ছ সুধাসুরার চেয়েও অধিক প্রিয়।তার আরও কবিতা:হে আমার হৃদয়, তুমি তো তন্দ্রাচ্ছন্ন সেই হুসাইনের প্রেমে পড়ে গেছ।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فإن ظمئْتَ فارشِفن … ريق الحسين والحسنْوله:ناسَقني الوصْل فهنَّيتهُ … ميقات موسى فات بالصَّدِّلا بدَّ من بينٍ على غرَّةٍ … ما أنت إلا زمن الوردِوله:لنا نفوسٌ إذا هي انصدعت … بلمح طرفٍ تقوم ساعتهاعزَّت فعاشت بفقرها رغداً … وفي اعتزال الأنام راحتهاوله:نضارة أهل الكيفِ ظلٌّ من اكتسى … به نحو شهرٍ ظلَّ في النَّاس عارياعلى وجه ميٍّ مسحةٌ من ملاحةٍ … تزول ويبقى الخزيُ من بعد بادياوله:أعدَّ لهمِّه أوراق كيفٍ … تمدُّ من السرور عليه فيئاكألسنة الشموع تضيء لكن … تذيب نفوسها شيئاً فشيئاأحمد بن شاهين عين الزمان ويمينه، لو حلف ليأتين بمثله حنثت يمينه.فهو شخصٌ كله جود، وما من فضلٍ إلا في ذاته موجود.موارد كرمه سائغة، وملابس نعمه سابغة.مورق عيدان العلا رطبها … أبلج وجه العرف بسَّامهُمع شيمةٍ لو أنَّها في الماء ما تغير، وهمةٍ لو أنَّها للنَّجم ما تغور. وأيادٍ روائحٌ غوادي، كنسيم الرياض غبَّ الغوادي.فللمزنِ فيض بنانه، وللروض حسن افتنانه. وله فكرٌ إذا اتقد تلهب منه اللهب، وخلقٌ إذا انتقد تبهرج عنده الذهب.وكان في مبدإه من الجند على طريقة والده، حتى بلغ فنزع بنفسه إلى مجدٍ أغناه مطرفه عن تالده. وحبب إليه أنواع المعارف، فاعتاض عن حمر المضارب بسود المراعف.كما قال:صبوت إلى حبِّ الفضائل بعدما … تقلَّدت خطِّيًّا وصلت بمخذمِومارست من بعد القناة يراعةً … كأبيض مصقول العوارض لهذمِوصار مدادي من سواد محاجري … وقد كان محمرًّا يسيل كعندمِفجاء من التحائف التي بيضت وجوه القراطيس، وجذبت المحاسن إلى صوبها جذب المغناطيس. بما أطلع قدود المها محفوفةً بالولائد، ولآلي الثغور كأنَّها على العقد قد نظمها للقلائد. إلى نظامٍ مثل السوالف زمَّت بالشعور، وأداءٍ كدرر البحور علِّقت في النحور. وشعره وإنشاؤه إذا رآهما الأديب، قال: ليس للبلاغة إلا ذان، يلجان السمع إلى القلب بلا أذانٍ ولا استئذان. أحاطت ببدائعه حواشي الإجادة، إحاطة الحلل بالقدود، وتوشت رياض روائعه بالملاحة توشية العذار بورد الخدود.فكل ما كتبه أوفاه به لسانه، لا سبيل لأن يجحد حسنه وينكر استحسانه. ومضى عليه زمن وهو في عيشٍ رفيه، والعز ناظر وهو نورٌ فيه.حتى أسن فوقف الدهر في تعهده دون حقوقه، وخرج إلى ما كان يهيؤه له من بره إلى عقوقه. وأخر مطالبه تأخير الغريم، لدين الكريم.وبدله عن النشاط المقيم، بالحظ العقيم.وللزمان حال لا إلى بقا، وصفوٌ لا يبقى على نقا.فسلوة الأيام موعدها الحشر، ولكتابها منتهًى هو النشر.ثم عاجله الحِمام، فسقى تربه هطَّال الغمام.وما جاده الغيثُ عن غُلَّةٍ … ولكن ليبكي النَّدى بالنَّدىوقيل فيه:قلت لما قضى ابن شاهين نحباً … وهو مولًى كلٌّ يشير إليهِرحم الله سيِّداً وعزيزاً … بكت الأرض والسَّماء عليهفمما اخترته من آثاره، وألمعت به من نظامه ونثاره. رسالة ألمع على الأسلوب البديع، وجرى فيها على أسلوب البديع.كتب بها إلى شيخه الحسن البوريني، يتعهد بها مطالعته، ويسأل مراجعته. عقب مهاجرة وقعت بينهما، واقتضت بينهما: أعز الله الشيخ الذي سكن من الجوارح أشرفها، وسلك من طرق الجفا أوعرها وأسرفها.وبالغ في العقوبة وزاد، واستغرق أوقات الوداد بالبعد والعناد.وارتكب مركباً من الخليقة صعباً، وقطع جميع الطرق إلا طريق الوفا وثباً.واستعار أذناً ليستوعي بها المثالب، وعيناً ينظر بها المصائب.ويداً يبطش بها من كل صاحب ومصاحب، ورجلاً يسعى بها إلى الأباعد دون الأقارب.ووجهاً يتصرف في أسرَّته، كتصرُّف الملك الجائر في رعيته.ويفعل بمحبيه، ما لا يفعل الدَّهر ببنيه.لا تظهر الطلاقة في وجهه إلا ريثما يخلطها بإعراض، ولا ينبسط هنيئةً من الزَّمان إلا وهو وشيك انقباض.يبدو لطفه لمعاً ثم ينقطع، ويحلو ماؤه جرعاً ثم يمتنع.
যদি তুমি তৃষ্ণার্ত হও, তবে পান করো … হুসাইন ও হাসানের লালা।তাঁর আরও কবিতা:মিলনের আকাঙ্ক্ষা আমাকে সজ্জিত করেছিল, তাই আমি তাকে অভিনন্দন জানালাম … মূসার নির্ধারিত সময় বিমুখতার সাথে উপস্থিত হলো।অতর্কিত বিচ্ছেদ অনিবার্য … তুমি তো কেবল গোলাপের ঋতু বৈ কিছু নও।তাঁর আরও কবিতা:আমাদের এমন আত্মা রয়েছে যে, যদি তা বিদীর্ণ হয় … তবে পলক ফেলতেই তার কিয়ামত কায়েম হয়।তা মর্যাদাবান হয়েছিল, ফলে নিজ দারিদ্র্যেই সচ্ছল জীবন কাটিয়েছে … আর মানুষের থেকে নির্জনতা অবলম্বনেই তার প্রশান্তি।তাঁর আরও কবিতা:মাদকাসক্তদের সজীবতা এক ছায়া মাত্র; যে ব্যক্তি এক মাস … তা দ্বারা নিজেকে আবৃত রাখে, সে মানুষের মাঝে নগ্ন হয়ে পড়ে।'মাই'-এর চেহারায় লাবণ্যের এক প্রলেপ রয়েছে … যা বিলীন হয়ে যায় এবং এরপর কেবল লাঞ্ছনাই প্রকাশমান থাকে।তাঁর আরও কবিতা:সে তার দুশ্চিন্তার জন্য নেশাজাতীয় পাতা প্রস্তুত করেছে … যা তার উপর আনন্দের ছায়া বিস্তার করে।মোমবাতির শিখার ন্যায় তা আলো দেয় ঠিকই, কিন্তু … তিলে তিলে নিজের আত্মাকে গলিয়ে ফেলে।আহমদ বিন শাহিন ছিলেন জামানার চক্ষু ও দক্ষিণ হস্ত; যদি কেউ তাঁর অনুরূপ কেউ আসার শপথ করত, তবে তার শপথ ভঙ্গ হতো।তিনি এমন এক ব্যক্তি যার পুরোটাই ছিল দানশীলতা, আর এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান ছিল না।তাঁর বদান্যতার উৎসসমূহ ছিল তৃপ্তিদায়ক এবং তাঁর অনুগ্রহের পোশাকসমূহ ছিল পূর্ণাঙ্গ।উচ্চমর্যাদার ডালপালাকে তিনি পত্রপল্লবে সিক্ত করেন … পরিচিত মহলে তাঁর প্রফুল্ল চেহারা সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল।তাঁর স্বভাব এমন ছিল যে, পানিতে থাকলেও তা পরিবর্তিত হতো না; আর তাঁর হিম্মত বা সংকল্প এমন ছিল যে, তা নক্ষত্রসম উচ্চ হলেও কক্ষচ্যুত হতো না। তাঁর দানশীল হাত ছিল সকাল-সন্ধ্যায় বর্ষণকারী মেঘের মতো, যা প্রভাতী বৃষ্টির পর বাগানের স্নিগ্ধ সমীরণের ন্যায়।তাঁর আঙুলের উপচে পড়া দানে মেঘ লজ্জিত হতো, আর বাগানের সৌন্দর্য আসত তাঁর শিল্পচাতুর্য থেকে। তাঁর এমন এক চিন্তা ছিল যা প্রজ্জ্বলিত হলে অগ্নিশিখা বিচ্ছুরিত হতো, আর তাঁর চরিত্র এমন ছিল যা যাচাই করলে খাঁটি সোনাও তাঁর কাছে মেকি মনে হতো।জীবনের শুরুতে তিনি তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সৈনিক ছিলেন। পরে যখন তিনি পূর্ণতায় পৌঁছালেন, তখন তাঁর মন এমন এক শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ঝুঁকল যা তাঁকে পৈত্রিক সম্পদ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিল। বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান তাঁর প্রিয় হয়ে উঠল, ফলে তিনি লাল বর্শার পরিবর্তে কালো কালির কলমকে গ্রহণ করলেন।যেমনটি তিনি বলেছেন:আমি শ্রেষ্ঠত্বের ভালোবাসায় অনুরক্ত হয়েছি যখন আমি … বর্শা ধারণ করেছি এবং ধারালো তলোয়ারে আঘাত করেছি।বর্শার পর আমি কলম চালনা করেছি … যা ছিল পালিশ করা উজ্জ্বল ধারালো তলোয়ারের মতো।আমার চোখের মণির কৃষ্ণতা থেকে কালি তৈরি হয়েছে … অথচ আগে তা লাল রক্তের মতো প্রবাহিত হতো।তিনি এমন সব উপহার নিয়ে এসেছেন যা কাগজপত্রের মুখ উজ্জ্বল করেছে এবং সৌন্দর্যের নান্দনিকতাকে চুম্বকের মতো নিজের দিকে আকর্ষণ করেছে। তিনি হরিণীর মতো সুঠাম দেহকে দাসীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত করে উপস্থাপন করেছেন এবং দন্তপাটির মুক্তোগুলোকে যেন গলার হারের মতো গেঁথেছেন। এমন এক ছন্দ যা চুলের গুচ্ছের মতো আবেগে জড়ানো এবং এমন এক প্রকাশভঙ্গি যা গ্রীবায় ঝুলানো সমুদ্রের মুক্তার মতো। তাঁর কবিতা ও রচনাশৈলী যখন কোনো সাহিত্যিক দেখেন, তখন তিনি বলেন: অলঙ্কারশাস্ত্র তো কেবল এ দুটির জন্যই; যা কোনো ঘোষণা বা অনুমতি ছাড়াই কান হয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে। তাঁর উদ্ভাবনী শৈলীকে শ্রেষ্ঠত্বের কারুকাজ এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যেমন পোশাক শরীরকে ঘিরে রাখে। আর তাঁর বিস্ময়কর রচনার বাগানসমূহ লাবণ্য দ্বারা এমনভাবে সুশোভিত হয়েছে যেমন গালের লালিমা দাড়ি দ্বারা শোভিত হয়।তিনি যা কিছু লিখেছেন, তাঁর বাগ্মিতা তা পূর্ণতা দিয়েছে; এর সৌন্দর্যকে অস্বীকার করার বা এর শ্রেষ্ঠত্বকে নাকচ করার কোনো অবকাশ নেই। দীর্ঘকাল তিনি এক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনে অতিবাহিত করেছেন, যেখানে মর্যাদা তাঁর দিকে দৃষ্টি রাখত এবং তিনি ছিলেন সেই মর্যাদার আলো।পরিশেষে যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন, কাল তাঁর পাওনা আদায়ে কার্পণ্য শুরু করল এবং যে সদাচরণ সে তাঁর জন্য প্রস্তুত রাখত, তা অবাধ্যতায় রূপ নিল। কাল তাঁর প্রাপ্যগুলোকে এমনভাবে পিছিয়ে দিল যেমন একজন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোনো দাতা ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করে।তাঁর দীর্ঘস্থায়ী উদ্দীপনাকে সে নিস্ফলা ভাগ্যে পরিবর্তন করে দিল।সময়ের এমন এক অবস্থা রয়েছে যা স্থায়িত্বের দিকে যায় না এবং এমন এক স্বচ্ছতা যা নির্মল থাকে না।দিনগুলোর সান্ত্বনার নির্ধারিত সময় হলো হাশর, আর এর কিতাবের সমাপ্তি হলো পুনরুত্থান।অতঃপর মৃত্যু তাঁকে ত্বরান্বিত করল, ফলে মুষলধারে বৃষ্টি তাঁর মাটিকে সিক্ত করল।বৃষ্টি তাঁকে তৃষ্ণার কারণে সিক্ত করেনি … বরং দানশীলতা যেন তাঁর দানশীলতার জন্য অশ্রু বিসর্জন করতে পারে।তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে:আমি বললাম যখন ইবনে শাহিন মৃত্যুবরণ করলেন … অথচ তিনি ছিলেন এমন এক মনিব যাঁর দিকে সবাই ইঙ্গিত করত।আল্লাহ এমন এক নেতা ও প্রিয়জনের ওপর রহম করুন … যাঁর জন্য আসমান ও জমিন রোদন করেছে।তাঁর রচনারাজি থেকে আমি যা নির্বাচন করেছি এবং তাঁর গদ্য ও পদ্য থেকে যা আলোকপাত করেছি, তা হলো এক অনন্য শৈলীতে রচিত একটি পত্র, যাতে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের চমৎকার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তিনি এটি তাঁর উস্তাদ হাসান আল-বুরিনীর কাছে লিখেছিলেন, যাতে তাঁর পাঠের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাঁর সুচিন্তিত অভিমত প্রার্থনা করেছেন। তাঁদের উভয়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক মান-অভিমানে দূরত্বের পর তিনি এটি লিখেছিলেন, যা তাঁদের মধ্যে অনিবার্য করে তুলেছিল:আল্লাহ সেই শাইখকে সম্মানিত করুন যিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝে শ্রেষ্ঠতম স্থানে বসবাস করেন, অথচ তিনি বিমুখতার অত্যন্ত কঠিন ও চরম পথ অবলম্বন করেছেন।তিনি শাস্তিদানে বাড়াবাড়ি করেছেন এবং দূরত্ব ও একগুঁয়েমির মাধ্যমে ভালোবাসার সময়গুলোকে গ্রাস করেছেন।তিনি স্বভাবের এক দুর্গম সওয়ারিতে আরোহণ করেছেন এবং আনুগত্যের পথ ব্যতীত বাকি সব পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন।তিনি ত্রুটি অনুসন্ধানের জন্য যেন এক কান ধার করেছেন এবং বিপদসমূহ দেখার জন্য এক চোখ নিয়েছেন।আর প্রত্যেক বন্ধু ও সঙ্গীকে আঘাত করার জন্য যেন এক হাত নিয়েছেন এবং আত্মীয়দের বাদ দিয়ে দূরবর্তীদের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য এক পা নিয়েছেন।আর এমন এক মুখমণ্ডল যার রেখাসমূহ প্রজাদের ওপর জালেম বাদশাহর আচরণের মতো আচরণ করে।তিনি তাঁর প্রেমাস্পদদের সাথে এমন আচরণ করেন, যা কাল তার সন্তানদের সাথেও করে না।তাঁর চেহারায় প্রফুল্লতা কেবল তখনই প্রকাশ পায় যখন তিনি তার সাথে বিমুখতা মিশিয়ে দেন। তিনি ক্ষণিকের জন্যও প্রফুল্ল হন না, যতক্ষণ না তাঁর মাঝে সংকোচ বা বিমর্ষতা ঘনিয়ে আসে।তাঁর দয়া বিজলির মতো চমকায় এবং পরক্ষণেই মিলিয়ে যায়, আর তাঁর বারিধারা এক ঢোকের জন্য মিষ্টি মনে হয়, কিন্তু পরক্ষণেই তা বন্ধ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فلا يدوم له سرور الهنا، إلا بما هو من حمانا يحلُّه، وبما هو من أعراضنا يستحلُّه.فيا ليت شعري، أيُّ مصونٍ من سرِّك أذعته، أو مفروضٍ في الخدمة رفضته، أو واجبٌ في الزِّيادة أهملته.وهل كنت إلا كما قيل: ضيفٌ أهداه بلدٌ شاسع، وأدَّاه أملٌ واسع.وحداه عقلٌ، وإن قلَّ. وهداه رأيٌ، وإن ضلَّ.ثم ما أبعدت صحبةٌ إلا أدنت مهانة، ولا زادت حرقةٌ إلا نقصت صيانة. ولا تضاعفت ذمة، إلا تراجعت منزلة.ولم تزل الغصة بنا حتى صار الوابل رذاذاً، والتشوق المفرط معاذا.وصار حسن ذلك الالتفات ازوراراً، وطويل ذلك السلام اختصاراً.وكان المهلب يقول: عجبت لمن يشتري العبيد بماله، كيف لا يملك الأحرار بمعروفه.وفي الحديث: البشاشة خيرٌ من القرى.وفي المثل: اليوم العبوس، خيرٌ من الوجه العبوس.ومن كلامهم: الحوادث الممضة مكسبةٌ لحظوظٍ جزيلة، منها: ثواب مدخر، وتطهير من ذنب، وتنبيه من غفلة، وتعريفٌ بقدر النعمة.وقد شاهدت فيها خامساً؛ وهو صون ماء الوجه عن الذل والهوان.مولاي يا من له في كلِّ جارحةٍ … لسان شكرٍ يؤدي بعض ما وجباما هذه الكراهة من فتًى خفيف الجسد والروح، ثقيل الرأس بالعقل، غضيض الجفن بالحيا، طلق الوجه، عف اللسان، رحب الصدر، باسط الكف بالجود، طويل الباع بالإحسان، صافي القلب، سليم الفطرة، محني الضلوع على الأسى، مطوي الجوانح بالهوى، قصير الخطى عن الأذى.فما محاسن شيءٍ كله حسنما فيه لَوٌّ ولا ليتٌّ تنقِّصه … وإنَّما أدركته حرفة الأدبِعلى أنني والحمد لله لم أكن … مذاداً مع الحرمان منك ولا شربُولكنني أبردت صدري بنهلةٍ … من الفضل غُصَّت دون موردها الشَّربُوذلك لأني أطلعت التردد إليك، وعولت أمري في طلبي عليك.ووردت من أنهار فضلك كل معين، وكنت لي في طلبي وأملي خير معين.والنعمة لا تجحد، والحسنة لا تكفر.والشمس لا يمكن سترها بحجاب، والبدر لا يخفى ضوؤه وإن كان تحت السحاب.والكذب شيمة المنافقين، ألا لعنة الله على الكاذبين.وأنا ما قلت ذلك إلا رائياً أن لا طيب إلا ما اختلط بترابك، وأن لا سعد إلا ما خيم ببابك.وأن لا ربيع إلا في بقعتك، وأن لا أنس إلا بطلعتك.وأن لا فرح إلا بقربك، وأن لا ترح إلا ببعدك، وأن لا نشاط إلا بحبك، وأن لا علم إلا ما استفيد منك، وأن لا فضل إلا ما أخذ عنك، وأن لا دليل إلا ما جيء به معزوًّا إليك، وأن لا سند إلا ما أخذ من فيك، ومحالٌ عليك.لعلمي بأنك البدر الكامل، والفرد الذي ليس له معادل ولا مماثل.هذا، مع مغالاتي فيك، ومنافستي عليك، ومناظرتي بك، وانتمائي بالفضيلة التامة إليك.وإنشادي مستمسكاً بحبل ودادك، ومتمسكاً بترب مهادك.ومعتقداً أن رضاك ثوابٌ، وغضبك عقاب. ورغبتك إحسان، ورهبتك خسران.وإعراضك جحيم، والتفاتك نعيم. ومثلك لا مثل يضاهيك.إن غضب تجمل، وإن تأذى ولو بوهمٍ تحمل.وإن جاء فاسقٌ بنباءٍ تبصر واستفسر، وإن ثبت لديه شيءٌ ولو دعاء اغتفر واستهتر.فهاتِ قل لي يا من مكانته … في القلب قد حلَّها بمفردهأي جوابٍ لمن يسأل عن حلمك، واستفسر عن ثمرة علمك. فإن الحلم، ثمرة العلم. وهو دالٌّ عليه، كدلالة النور على الثمر، والهالة على القمر. وقد وجد كماله فيك، وظهرت ثمرته عليك، وتذللت قطوفه دانيةً إليك.وأعود فأقول: بعض هذا الجفا يا مولاي يكفي، وجزءٌ من هذا الإعراض يجزي. وفي قليلٍ من صدودك انتقام كثير، وفي يسيرٍ من هجرك إسرافٌ وتبذير. وفي أدنى ما بلغني عنك كافٍ ومقنع، وفي أقل ما رأيته منك للقلب مؤلم وموجع. وفي المثل: من يسمع يخل، ومن يكثر يمل. وأظن أن الداعي إلى مهاجرتي نميمةٌ جاء بها فاسق، ونبأ افتراه كاشح.ومع ذلك لو ارتكبت جريرةً لما استحقيت من القطيعة المهلكة أعظم مما رأيته وقاسيته، ولو اكتسبت كبيرةً لما استوجبت من العقوبة المنهكة بعض ما عاينته وعانيته. ولو أشركت، والعياذ بالله تعالى، لمحت ذنبي التوبة والاستغفار، ولو كفرت، معاذ الله، لغطت على كفري الندامة والاعتذار.
সুখের আনন্দ তার জন্য স্থায়ী হয় না, কেবল আমাদের সুরক্ষা বলয়ে সে যা সমাধান করে এবং আমাদের সম্মানের যা সে বৈধ মনে করে তার মাধ্যমে।হায়, আমি যদি জানতাম! আপনার গোপন বিষয়ের কোন সংরক্ষিত অংশটি আমি প্রকাশ করেছি, বা খিদমতের কোন আবশ্যিক দায়িত্বটি আমি প্রত্যাখ্যান করেছি, অথবা অতিরিক্ত কাজের কোন ওয়াজিব আমলটি আমি অবহেলা করেছি।আর আমি তো ছিলাম কেবল যেমনটি বলা হয়ে থাকে: এক অতিথি, যাকে সুদূর কোনো দেশ পাঠিয়েছে এবং এক বিশাল আশা বয়ে এনেছে।তাকে পরিচালিত করেছে বুদ্ধি, যদিও তা সামান্য; এবং পথ দেখিয়েছে তার নিজস্ব রায় (অভিমত), যদিও তা পথভ্রষ্ট।অতঃপর কোনো সাহচর্য দূরত্ব তৈরি করেনি যা লাঞ্ছনাকে নিকটে আনেনি, আর কোনো দহন বাড়েনি যা সুরক্ষাকে হ্রাস করেনি। কোনো দায়বদ্ধতা দ্বিগুণ হয়নি যা মর্যাদাকে কমিয়ে দেয়নি।আমাদের এই কণ্ঠরোধকারী বেদনা চলতেই থাকল, যতক্ষণ না মুুষলধারে বৃষ্টি কেবল ইলশেগুঁড়িতে পরিণত হলো এবং অত্যধিক ব্যাকুলতা আশ্রয়ে রূপান্তরিত হলো।সেই সুন্দর মনোযোগ এখন বিমুখতায় পরিণত হয়েছে এবং দীর্ঘ সেই সালাম সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে।মুহাল্লাব বলতেন: আমি সেই ব্যক্তির প্রতি বিস্মিত হই যে নিজ ধনসম্পদ দিয়ে দাস ক্রয় করে, অথচ কেন সে তার সদাচরণ দিয়ে মুক্ত মানুষদের আপন করে নেয় না।হাদিসে আছে: হাস্যোজ্জ্বল চেহারা মেহমানদারির চেয়েও উত্তম।প্রবাদে রয়েছে: বিষণ্ন দিনও বিষণ্ন চেহারার চেয়ে উত্তম।মনীষীদের বাণীর অন্তর্ভুক্ত: যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাপ্রবাহ বিশাল সৌভাগ্যের মাধ্যম হয়, যার মধ্যে রয়েছে: জমাকৃত সওয়াব, পাপ থেকে পবিত্রতা, উদাসীনতা থেকে সতর্কতা এবং নিআমতের কদরের পরিচয়।আমি এর মধ্যে পঞ্চম একটি বিষয় প্রত্যক্ষ করেছি; আর তা হলো অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে আত্মসম্মান রক্ষা করা।হে আমার মনিব! যার প্রতিটি অঙ্গে রয়েছে … এক একটি কৃতজ্ঞতার জিহ্বা, যা আপনার হকের সামান্য কিছু আদায় করে।দেহ ও আত্মায় প্রাণবন্ত, বুদ্ধিতে প্রাজ্ঞ মস্তক সম্পন্ন, লজ্জায় অবনমিত পলকধারী, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, পবিত্র জিহ্বা, প্রশস্ত হৃদয়, বদান্যতায় উন্মুক্ত হস্ত, দানে পারদর্শী, স্বচ্ছ অন্তর, সুস্থ স্বভাব, দুঃখ-বেদনায় পিষ্ট পাঁজর, ভালোবাসায় আবৃত অন্তর এবং অনিষ্ট সাধনে বিরত পদক্ষেপের অধিকারীর প্রতি এই অনীহা কেন?এমনকি কোনো বস্তুর সৌন্দর্যই বা কী যা আগাগোড়াই সুন্দর!যাতে কোনো 'যদি' বা 'হায়' নেই যা তাকে খাটো করবে … বরং সাহিত্যের কারুকার্যই তাকে পূর্ণতা দিয়েছে।তা সত্ত্বেও, আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনার থেকে … বঞ্চিত বা বিতাড়িত হইনি।তবে আমি আমার হৃদয়কে অনুগ্রহের এক ঢোক পানীয় দিয়ে শীতল করেছি … যার উৎসের আগেই অন্য পানকারীরা তৃষ্ণার্ত হয়েছিল।আর তা এই কারণে যে, আমি আপনার কাছে যাতায়াত প্রকাশ করেছি এবং আমার উদ্দেশ্য অর্জনে আপনার ওপর ভরসা করেছি।আমি আপনার অনুগ্রহের নদনদী থেকে প্রতিটি সুপেয় ঝরনায় উপস্থিত হয়েছি এবং আপনি আমার অন্বেষণ ও প্রত্যাশায় সর্বোত্তম সাহায্যকারী ছিলেন।নিআমতকে অস্বীকার করা যায় না এবং নেক কাজকে অকৃতজ্ঞতা দিয়ে ঢাকা যায় না।সূর্যকে পর্দা দিয়ে আড়াল করা সম্ভব নয় এবং পূর্ণিমার চাঁদের আলো গোপন থাকে না, যদিও তা মেঘের নিচে থাকে।আর মিথ্যা মুনাফিকদের স্বভাব; জেনে রেখো, মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লানত।আমি কেবল একথাই বলেছি যে, আপনার মাটির সাথে যা মিশে নেই তাতে কোনো সুগন্ধ নেই, আর আপনার দুয়ারে যা অবস্থান করে না তাতে কোনো সৌভাগ্য নেই।আপনার চত্বর ছাড়া কোথাও বসন্ত নেই এবং আপনার দর্শন ছাড়া কোনো প্রশান্তি নেই।আপনার নৈকট্য ছাড়া কোনো আনন্দ নেই, আপনার দূরত্ব ছাড়া কোনো বিষাদ নেই, আপনার ভালোবাসা ছাড়া কোনো প্রাণচাঞ্চল্য নেই, আপনার থেকে আহরিত জ্ঞান ছাড়া কোনো প্রকৃত জ্ঞান নেই, আপনার থেকে গ্রহণ করা শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আপনার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ছাড়া কোনো প্রমাণ নেই এবং আপনার মুখনিঃসৃত বাণী ছাড়া কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই, যা আপনার জন্য অনস্বীকার্য।কেননা আমি জানি যে, আপনি পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ এবং এমন অনন্য সত্তা যার কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই।আর এটি আপনার প্রতি আমার অত্যধিক অনুরাগ, আপনাকে পাওয়ার প্রতিযোগিতা, আপনাকে নিয়ে আমার গর্ব এবং আপনার দিকে আমার পূর্ণাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের সম্বন্ধসহ।আমি আপনার বন্ধুত্বের রশি শক্তভাবে ধরে এবং আপনার সান্নিধ্য আঁকড়ে ধরে কবিতা আবৃত্তি করছি।আর এই বিশ্বাস পোষণ করছি যে, আপনার সন্তুষ্টিই পুরস্কার এবং আপনার ক্রোধই শাস্তি। আপনার আগ্রহই অনুগ্রহ এবং আপনার ভীতিই ক্ষতি।আপনার বিমুখতা দোজখ এবং আপনার মনোযোগ জান্নাত। আপনার মতো কেউ নেই যে আপনার সমতুল্য হতে পারে।যদি তিনি রাগান্বিত হন তবে শোভনতা বজায় রাখেন, আর যদি কল্পিত কোনো কষ্টও পান তবুও ধৈর্য ধারণ করেন।যদি কোনো পাপাচারী কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তিনি তা পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করেন। আর যদি কোনো কিছু প্রমাণিত হয়, এমনকি তা যদি কেবল দোয়াও হয়, তবে তিনি ক্ষমা করে দেন এবং উদারতা প্রদর্শন করেন।এখন বলুন হে সেই ব্যক্তি, যার স্থান … হৃদয়ে, যা তিনি একাই দখল করে নিয়েছেন।যে ব্যক্তি আপনার সহনশীলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে এবং আপনার জ্ঞানের ফল সম্পর্কে জানতে চাইবে, তার জন্য কী উত্তর রয়েছে? কেননা সহনশীলতা হলো জ্ঞানের ফল। আর তা জ্ঞানের ওপর এমনভাবে প্রমাণ বহন করে, যেমন আলো ফলের ওপর এবং জ্যোতির্বলয় চাঁদের ওপর প্রমাণ দেয়। আপনার মাঝে এর পূর্ণতা পাওয়া গেছে, আপনার ওপর এর ফল প্রকাশ পেয়েছে এবং এর অবনমিত থোকাসমূহ আপনার দিকেই ঝুঁকে পড়েছে।আমি আবারও বলছি: হে আমার মনিব! এই নিষ্ঠুরতার কিছুটা অংশই যথেষ্ট এবং এই বিমুখতার সামান্য ভাগই যথেষ্ট। আপনার সামান্য বিমুখতাতেই অনেক প্রতিশোধ নিহিত এবং আপনার সামান্য ত্যাগের মধ্যেই অনেক বঞ্চনা রয়েছে। আপনার সম্পর্কে আমার কাছে যা পৌঁছেছে তার সামান্যতম অংশই যথেষ্ট ও সন্তোষজনক, আর আপনার পক্ষ থেকে যা দেখেছি তার সামান্যতম অংশই হৃদয়ের জন্য যন্ত্রণাদায়ক ও ব্যথাতুর। প্রবাদে আছে: যে শোনে সে ধারণা করে, আর যে আধিক্য করে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আমার ধারণা, আমাকে ত্যাগ করার মূল কারণ হলো কোনো পাপাচারীর বয়ে আনা পরনিন্দা এবং কোনো বিদ্বেষী ব্যক্তির উদ্ভাবিত মিথ্যা সংবাদ।তা সত্ত্বেও, আমি যদি কোনো অপরাধ করতাম তবে এই ধ্বংসাত্মক বিচ্ছেদের উপযুক্ত হতাম না যা আমি প্রত্যক্ষ করেছি ও সয়েছি। আমি যদি কোনো কবিরা গুনাহও করতাম তবুও এই ক্লান্তিকর শাস্তির সামান্য অংশেরও হকদার হতাম না যা আমি দেখেছি ও ভোগ করেছি। আমি যদি শিরকও করতাম—আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় চাই—তবে তাওবা ও ইস্তিগফার আমার সেই গুনাহ মিটিয়ে দিত। আর আমি যদি কুফরিও করতাম—আল্লাহর পানাহ—তবে অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা আমার কুফরিকে ঢেকে দিত।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ولما أحتمل أن يسمى كبيرة، ويدعى ولو على المجاز جريرة. وهب أنني يا مولاي لا أؤاخذك بأغراضك وإعراضك، ولا أعاتبك بإسرافك وإخلاقك، ولا أقابلك بإخلافك وأخلاقك. ولا أواجهك بانقيادك وعدم انتقادك، ولا أعارضك بإعراضك، وعدم اعتراضك. ولا أطالبك بتألبك، وعدم تألمك، ولا أحاسبك بما حرمتنيه من عطفك، ولا أصادرك وإن سؤتني بما تثنيه من عطفك.أفي حكم المروءة أن تبعد من يقاربك، وتطرد من يصاحبك. وتطرح من يهابك ولا يملُّك، وتسمح بقطيعة من يجلُّك ولا يخلُّك.ومن أمثالهم: أهل الحفائظ أهل الحفاظ. والحفائظ تحلل الأحقاد، فأين من سيدي الحفيظة المأمولة لتحلِّل ما عنده وما استقصاه، وتهدم ما شاده الواشي وما بناه.والعين تعرف من عيني محدِّثها … إن كان من حزبها أو من أعاديهاوقد باغتني مقالةٌ من بعضها في القلب جروحٌ. فليت شعري، وهل ليت بنافعة، متى كان جرحاً، حتى صار قرحاً.ومتى قدح الزند حتى اضطرم هذا الوقد.ومتى تكاثف القطر وهمى، حتى اجتمع هذا البحر وطمى ومتى طنَّت الحصا، حتى بلغ مداها عنان السَّما.وبالجملة فقد شاركت الليال، في تقلب الأحوال. ووافقت الأيام، في اصطناعها اللثام.هلَاّ ألهمت أن ترد بعقلٍ وتصدَّر بتميز، " وما ذلك على الله بعزيز ".ولولا أنك أعنتها ونصرتها، وآزرتها وظاهرتها. لردَّت على أعقابها ناكصة، ورجعت على أدبارها خائبة. ولأمنت مكرها، واجتنبت إصرها.ولكنها جمرة ليل، وأثمر ثمارٍ لا سيل. وبناءٌ على شفا، وعلَّةٌ قريبة الشِّفا.وقد ثبت أن العقوبة للمسيء، والحرمان للمجرم، والخذلان للمعتدي، والقصاص للمذنب، والمؤاخذة للجاني. وأنا أبيض وجه العهد، واضح حجة الود، مصاحب التوفيق، بريء الساحة، مجانب الهفوات. ولو أنني علمت أنه أمرٌ بيت بليل، لجازيت الصانع كيلاً بكيل، ولكني سأريه ناجذي وأتجلد، وأري الشامتين أني لريب الدَّهر لا أتضعضع.ولعمرك ما علمت أن صريح الرأي في التحول عنك مطلوب، ولا تحققت أن المجاز في كل تركيب من الألفاظ العرفية متداول مرغوب. لأتبصر أن قول القائل مثلاً: اذهب الأعمى. أن يكون عبارةً عن طرد المخاطب ضمناً، وقد تقرر أن المخاطب يدخل في عموم كلامه لا أن المخاطب يدخل فيما خوطب به. ولو علمت قبل ما عدت بعد.لست أشكو من امتناعك عنِّي … يا منى النَّفس حيث عزَّ الإيابُسوء حظِّي أنالني منك هذا … فعلى الحظِّ لا عليك العتابُوأحرى بقول القائل:إذا لم تكن حاجاتنا في نفوسهم … فليس بمغنٍ عنك عقد الرتائمِحلفت ولم أترك لنفسك ريبةً … وليس وراء الله للمرء مطلبُإني لا قابلت إحسانك بكفر، ولا أسأت أدباً فيما صنعته في خدمتك بأن أتبعه بمنّ. ولك عندي اليد البيضاء التي لا أقبضها عن الدعاء لك، والأخرى التي لا أبسطها بالدعاء عليك.وها أنا أشكو إليك، جعلني الله فداك، ما لا يمكن الإيضاح به، ولا الصراحة عنه، ولا التوصل بالاستيفاء، ولا التسلط بالاستحضار عليه، ولا التجمل بالإغضاء، ولا البيان لما فيه، ولا التمحل له.وربما ذكرت البعض منه، وقلت: لعلِّي كنت شائماً سراباً، أو مستمطراً جهاماً، أو رائياً خلَّباً، أو وارداً حيث لا مراد، أو مستعيناً حيث لا معين، أو مستغيثاً حيث لا مغيث، أو مستجيراً حيث لا مجار، أو مستميحاً حيث لا سماح، ولك المثل الأعلى.لا تعجبوا ضربي له من دونه … مثلاً شروداً في النَّدى والباسِفالله قد ضرب الأقلَّ لنوره … مثلاً من المشكاة والنِّبراسِولو كان رمحاً واحداً لاتقيته … ولكنه رمحٌ وثانٍ وثالثُفهل كنت كالمقتدي بناقضة الغزل، أو كالمستصحب سراةً لملمَّةٍ فإذا عم عزل. أو كراضٍ من الغنيمة بالإياب، ومن المركب بالتعليق، أو كراجع بخفِّي حنين.هذا، وأنا أقول: لن تضر الحوار وطأة أمِّه. بيد أنه يقال، فيما تقدم ومضى من المدد الخوال:فقسا ليزدجروا ومن يكُ حازماً … فليقسُ أحياناً على من يرحمُومثلي من تهفو به نشوة الصِّبا … ومثلك من يعفو ومالك من مثلٍ
যখন একে গুরুতর বিষয় মনে হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল, এবং একে রূপক হিসেবে হলেও একটি অপরাধ বলে অভিহিত করা হলো। হে আমার মনিব! ধরে নিন আমি আপনার উদ্দেশ্য এবং বিমুখতা নিয়ে আপনাকে পাকড়াও করব না, আপনার বাড়াবাড়ি ও জীর্ণতার জন্য আপনাকে তিরস্কার করব না, এবং আপনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও আচরণের জন্য আপনার মোকাবিলা করব না। আমি আপনার আনুগত্যহীনতা ও সমালোচনার অভাব নিয়ে আপনার মুখোমুখি হব না, আপনার বিমুখতা ও আপত্তির অনুপস্থিতি নিয়ে আপনার বিরোধিতা করব না। আপনার বিরুদ্ধাচরণ ও ব্যথাহীনতার জন্য আমি আপনার কাছে কৈফিয়ত চাইব না, এবং আপনার করুণা থেকে আমাকে বঞ্চিত করার জন্য আমি আপনার হিসাব নেব না; এমনকি আপনার বিমুখতার মাধ্যমে আমাকে কষ্ট দিলেও আমি আপনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করব না।মহত্ত্বের বিধান কি এই যে, যে আপনার নিকটবর্তী হতে চায় তাকে আপনি দূরে সরিয়ে দেবেন এবং যে আপনার সাহচর্য চায় তাকে তাড়িয়ে দেবেন? আর তাকে ছুড়ে ফেলবেন যে আপনাকে শ্রদ্ধা করে অথচ আপনার প্রতি বিরক্ত হয় না, এবং যে আপনাকে সম্মান করে ও আপনার ক্ষতি করে না তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করাকে সহজ মনে করবেন?তাদের একটি প্রবাদ হলো: আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরাই অঙ্গীকার রক্ষা করে। আত্মমর্যাদাবোধ বিদ্বেষকে দূর করে দেয়। সুতরাং আমার মনিবের সেই কাঙ্ক্ষিত মর্যাদাবোধ কোথায় যা তার অন্তরের সংকীর্ণতাকে দূর করবে, এবং যা চোগলখোররা নির্মাণ ও মজবুত করেছে তা ধ্বংস করে দেবে?চক্ষু তার সাথে কথা বলা ব্যক্তির চক্ষু দেখেই চিনে নেয় … সে কি তার দলের লোক নাকি তার শত্রুদের একজন।হঠাৎ কিছু কথা আমার কাছে পৌঁছাল যাতে হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। হায়! যদি জানতাম, 'হায়' শব্দ কি কোনো উপকারে আসত? কখন এটি ক্ষত ছিল যা পরে ঘায়ে পরিণত হলো?কখন চকমকি পাথর ঘর্ষণ করা হলো যে এই দাবানল জ্বলে উঠল?কখন বৃষ্টির ফোঁটা ঘনীভূত হয়ে ঝরতে শুরু করল যে এই সমুদ্র জমা হয়ে উপচে পড়ল? আর কখন কঙ্করগুলো বেজে উঠল যে তার সীমা আকাশের দিগন্ত পর্যন্ত পৌঁছে গেল?সারকথা হলো, পরিস্থিতির পরিবর্তনে আমি রাতগুলোর সঙ্গী হয়েছি। আর দিনগুলোর সাথে একমত হয়েছি তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করার ক্ষেত্রে।আপনার মধ্যে কেন এমন প্রেরণা জাগল না যে আপনি বিচারবুদ্ধি দিয়ে উত্তর দেবেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের সাথে নিজেকে প্রকাশ করবেন? "আর আল্লাহর পক্ষে এটি মোটেও কঠিন নয়।"যদি আপনি একে সাহায্য ও সহযোগিতা না করতেন, আর একে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা না দিতেন, তবে এটি পরাজিত হয়ে পেছনে ফিরে যেত এবং ব্যর্থ হয়ে প্রস্থান করত। তবে আপনি এর ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ থাকতেন এবং এর দায় থেকে বেঁচে যেতেন।কিন্তু এটি রাতের আগুনের স্ফুলিঙ্গ, আর এটি এমন এক ফল যাতে কোনো ফলন নেই। এটি খাদের কিনারায় নির্মিত ভবন এবং এমন ব্যাধি যার আরোগ্য নিকটে।এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে শাস্তি অপরাধীর জন্য, বঞ্চনা পাপাচারীর জন্য, লাঞ্ছনা সীমালঙ্ঘনকারীর জন্য, প্রতিশোধ গুনাহগারের জন্য এবং পাকড়াও অন্যায়কারীর জন্য। অথচ আমি অঙ্গীকার রক্ষায় উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, আমার বন্ধুত্বের প্রমাণ সুস্পষ্ট, আমি তাওফিকের সাথী, সব দায় থেকে মুক্ত এবং ভুলভ্রান্তি থেকে দূরে অবস্থানকারী। যদি আমি জানতাম যে এটি রাতে করা কোনো ষড়যন্ত্র, তবে আমি কারিগরকে সমপরিমাণ প্রতিদান দিতাম। কিন্তু আমি তাকে আমার দাঁত দেখাব (দৃঢ়তা প্রকাশ করব) এবং ধৈর্য ধরব; আর যারা আমার বিপদে আনন্দিত হয় তাদের দেখিয়ে দেব যে, কালের আবর্তনে আমি বিচলিত হই না।আপনার জীবনের শপথ! আমি জানতাম না যে আপনার থেকে বিমুখ হওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট অভিমত কাম্য হতে পারে। আর আমি এটিও উপলব্ধি করিনি যে সামাজিক শব্দমালার প্রতিটি বিন্যাসে রূপক ব্যবহার এতই প্রচলিত ও পছন্দনীয় হতে পারে। যাতে আমি বুঝতে পারি যে, কারো কথা—যেমন: "অন্ধকে চলে যেতে বলো"—তা পরোক্ষভাবে সম্বোধনকৃত ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দেওয়ার নামান্তর। অথচ এটি স্থিরকৃত যে, বক্তা স্বয়ং তার সাধারণ কথার অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু সম্বোধনকৃত ব্যক্তি যা দ্বারা সম্বোধন করা হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হয় না। যদি আমি আগে জানতাম, তবে আর ফিরে আসতাম না।আমি আপনার বিমুখতা নিয়ে অভিযোগ করছি না … হে প্রাণের আকাঙ্ক্ষা, যখন ফিরে আসা কঠিন হয়ে গেছে।আমার মন্দ ভাগ্যই আমাকে আপনার কাছ থেকে এই পরিণতি এনে দিয়েছে … সুতরাং অভিযোগ ভাগ্যের ওপর, আপনার ওপর নয়।আরও যথাযথ হলো সেই কবির কথা:যদি তাদের অন্তরে আমাদের প্রয়োজন না থাকে … তবে আঙুলে সুতা বেঁধে রাখা আপনার কোনো কাজে আসবে না।আমি কসম খেয়েছি এবং আপনার মনে কোনো সংশয় রাখিনি … আর আল্লাহর পরে মানুষের আর কোনো আশ্রয় নেই।আমি কখনও আপনার অনুগ্রহকে অকৃতজ্ঞতা দিয়ে মোকাবিলা করিনি, আর আপনার খিদমতে যা করেছি তাতে খোটা দিয়ে কোনো বেআদবি করিনি। আমার নিকট আপনার পক্ষ থেকে সেই 'সাদা হাত' (অনুগ্রহ) রয়েছে যা আমি আপনার জন্য দুআ করা থেকে গুটিয়ে নিই না, আর অন্যটি যা আমি আপনার বিরুদ্ধে দুআ করার জন্য প্রসারিত করি না।এখন আমি আপনার নিকট অভিযোগ করছি—আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন—এমন বিষয়ের যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়, যা সরাসরি প্রকাশ করা যায় না, যা পুরোপুরি আয়ত্তে আনা যায় না, যার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না, যা উপেক্ষা করে সৌন্দর্য বজায় রাখা যায় না, যাতে যা আছে তা বয়ান করা যায় না এবং যার জন্য কোনো ছলনা করা চলে না।হয়তো আমি এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছি এবং বলেছি: সম্ভবত আমি মরীচিকা দেখছিলাম, অথবা বৃষ্টিহীন মেঘের কাছে বৃষ্টি চাইছিলাম, অথবা কোনো অলীক ছায়া দেখছিলাম, অথবা এমন ঘাটে যাচ্ছিলাম যেখানে কোনো উদ্দেশ্য সফল হওয়ার নয়, অথবা এমন কারো সাহায্য চাইছিলাম যে সাহায্যকারী নয়, অথবা এমন কারো উদ্ধার চাচ্ছিলাম যে উদ্ধারকারী নয়, অথবা এমন কারো আশ্রয় চাচ্ছিলাম যে আশ্রয়দাতা নয়, অথবা এমন কারো দান চাচ্ছিলাম যার উদারতা নেই। আর আপনার জন্যই তো সর্বোচ্চ উপমা।আমার তার নিম্ন পর্যায়ের উপমা পেশ করায় অবাক হবেন না … যা দানশীলতা ও বীরত্বের ক্ষেত্রে অনন্য।কেননা আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নূরের জন্য … 'মিশকাত' (প্রদীপাধার) ও 'নিবরাস' (প্রদীপ)-এর মাধ্যমে নিম্নতর উপমা পেশ করেছেন।যদি এটি একটি মাত্র বর্শা হতো তবে আমি তা প্রতিহত করতাম … কিন্তু এটি একটি বর্শা, এরপর দ্বিতীয়টি এবং এরপর তৃতীয়টি।আমি কি সেই নারীর মতো হব যে নিজের কাটা সুতা নিজেই ছিঁড়ে ফেলে? নাকি সেই ব্যক্তির মতো যে বিপদের সময় সাথী খুঁজেছিল কিন্তু বিপদ ঘনীভূত হলে তারা তাকে ত্যাগ করল? নাকি সেই ব্যক্তির মতো যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ফেলে শুধু ফিরে আসাতেই সন্তুষ্ট, অথবা আরোহী হয়ে শুধু ঝুলে থাকাতেই তুষ্ট, কিংবা হানিনের মোজা নিয়ে ফিরে আসার মতো শূন্য হাতে প্রত্যাবর্তনকারী?পরিশেষে আমি বলছি: মায়ের পায়ের চাপ উটের বাচ্চার কোনো ক্ষতি করে না। তবে গত হয়ে যাওয়া অতীতের দিনগুলোর প্রেক্ষিতে বলা হয়:তিনি কঠোর হয়েছেন যাতে তারা সংযত হয়; আর যে ব্যক্তি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ … সে যাকে দয়া করে তার প্রতিও কখনও কখনও কঠোর হয়।আমার মতো ব্যক্তির যৌবনের উন্মাদনায় ভুল হতে পারে … আর আপনার মতো ব্যক্তি ক্ষমা করেন, বস্তুত আপনার কোনো তুলনা নেই।
(খণ্ড: ١)
নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলাউল হানা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وإني لينهاني نهاي عن التي … أشاد بها الواشي ويعقلني عقليوما أنا بالمهدي إلى السؤدد الخنا … ولا بالمسيء القول في الحسن الفعلفهات جواباً عنك ترضي به العلى … إذا سألتني بعد ألسنة الحفلِفبين الرِّضا والسُّخط ظنِّي واقفٌ … وقوف الهوى بين القطيعة والوصلِولو تيسرت لي مخاطبتك مشافهةً لكان لي معك ذوقٌ من الكلام، لكن لما عزَّت المشافهة، استغنيت بالمكاتبة والمراسلة، قائلاً:لك الحمد أما من نحبُّ فلا نرى … وننظر من لا نشتهي فلك الحمدُولعمري إن ليلي عليك ليل السليم، ونهاري دونك نهار الأليم. وفكري قد صدئَ لعدم مطارحتك، وطرفي قد قذي لندرة مشاهدتك. وقلبي لعزة رضاك واجبٌ مضطرب، وصدري لعلة مؤانستك حرج ضيِّق، وفمي لبعد مصاحبتك واجمٌ ساكت، وصادف حجاي عارضٌ وعين، فغلبني الدمع بسلاسل من عسجد ولجين:أما والذي أبكى وأضحك والذي … أمات وأحيا والذي أمره الأمرُلقد صديت مرآة الخيال، وقذي طرفٌ طال ما سهر الليال. وتزلزل محلُّ سيدي من قلبي، أطال له البقاء، ومنحه سوابغ النعم والارتقاء.رفقاً بمنزلك الذي تحتلُّه … يا من يخرِّب بيته بيديهِوضاق وسع الفضا، وسكت مصقع الخطبا. وجنَّ صاحي القوم، وبكت مقلةٌ يعزُّ عليها النوم.إذا الليل أضواني بسطت يد الهوى … وأذللت دمعاً من خلائقه الكبرُمعلِّلتي بالوعد والموت دونه … إذا متُّ عطشانا فلا نزل القطرُأما تتقي الله في واقفٍ أمامك، مستغفرٍ تائب. وأرق ما يعرض على المولى قول القائل:سلي تعلمي إن كنت غير عليمةٍ … بأن ليس في حبِّي لغيرك مطمعُفأنَّ لي القلب الذي ليس خالياً … من الوجد والجفن الذي ليس يهجعُفوالله ما أنفكُّ أذكر موضعي … لديك ولا أنفك نحوك أنزعُوبالجملة:أُعيذها نظراتٍ منك صادقةً … أن تحسب الشحم فيمن شحمه ورمُوهاك هدية الوقت، وعفو الساعة، وفيض البديهة. ومسارقة القلم، ومسابقة اليد للفم. وجمرات الحدَّة، وثمرات المودَّة. ومهاداة الخاطر للناظر، ومباراة الطَّبع للسَّمع، ومجاذبة الجنان للبيان. وها هو جواد البلاغة علك الشَّكيم، حابس العنان، لم يأخذ طلقه، ولم يستوف مضماره.وهذا هو النهض فما بالك بالركض، وقد آلى لا يعرق عرق التنبيه ما لم يسمع بتصهالهِ، ويرعد بقرع نعاله. ويوصل ممتطيه غايةً لا تدرك، وغارةً بالرياح الهوج لا تنهك. ومع ذلك لو نظمت النثر كالدرر، وأتيت به رائقاً كنسيم السَّحر، وموشياً كألوان الزهر، وما كنت إلا كمهدي التمر إلى هجر، والفصاحة لأهل الوبر.وآخر ما أقول إن ودي موقوفٌ عليك، وحبيس سبيلك، وتحت رهنك. فمتى عاودته، وجدته سائغ المعبر، غضَّ المنظر، جنيَّ المخبر. يندى بشاشةً، ويقطر حسناً، ويفوح عنبراً، ويثمر لطفاً. فإن فعلت ذلك فهو حسن، وإن عدت فالعود أحمد. وإن كان الأمر كما يقال: لا ولا. فالغبن مشترك. والله يتولى السرائر، ويعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور. وإن راسلتك بما زاد أو نقص فهو منك، وبسببك والسلام.وله من كتاب كتبه، وهو بجبل الشوف، إلى بعض خواصِّه، جواباً عن كتاب كتبه إليه، يطلب بعض طرائف الجبل: وإني أراك تُهدي ولا تستهدي، وتضلُّ في رأيك ولا تستهدي.وكأنك تلوِّح بطرائف هذه الجبال، وليس فيها سوى العُقاب والوبال، عدد ما فيها من الحجارة والرمال.وما ظنِّي إلا أنَّك تسبَّبت إلى استهداء طرائف المقال، وتقنَّعت عن جرِّ الأثقال، بالقيراط من الجواهر والمثقال.وإلا فأنت أعلم بالحال، وما فيها من ضروب المحال، والاختلال، والاعتلال، والاضمحلال، والابتذال.ولقد قرأت في أخبار بعض الأخيار؛ أن بعض الأدبار الأُرباء، كتب إلى بعض الأمراء النُّجباء. يستهديه من طرائف خراسان، ويلوِّح بالإحسان من فضل ذلك الإنسان.فكتب إليه ذلك الأمير العريض الجاه، سقا الله ثراه، ورضي عنه وأرضاه: أما بعد، فقد وصل كتابك، معرِّضاً بطرائف هذه الناحية، وقد بعثت إليك بعدل صابونٍ لتغسل عني طمعك، والسلام.
আমার বিবেক আমাকে এমন কাজ থেকে বিরত রাখে যার প্রশংসা চোগলখোররা করে, আর আমার বুদ্ধি আমাকে সংযত রাখে।আমি অশ্লীলতার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে পথপ্রদর্শক নই, আর উত্তম কাজের ক্ষেত্রে কটু কথা বলা লোকও নই।সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে এমন একটি উত্তর দিন যাতে উচ্চমর্যাদা সন্তুষ্ট হয়, যখন মহতী সভার কণ্ঠসমূহ আমাকে প্রশ্ন করবে।সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির মাঝে আমার ধারণা থমকে আছে, যেমন বিচ্ছেদ ও মিলনের মাঝে ভালোবাসা থমকে থাকে।যদি আপনার সাথে মৌখিকভাবে কথা বলা আমার জন্য সহজ হতো, তবে আপনার সাথে আমার আলাপের একটি বিশেষ স্বাদ হতো। কিন্তু যখন সরাসরি আলাপ দুষ্কর হলো, তখন আমি চিঠিপত্র ও বার্তার মাধ্যমে তুষ্ট হলাম এই বলে:আপনারই প্রশংসা, তবে যাকে আমরা ভালোবাসি তাকে দেখি না; অথচ যাকে আমরা পছন্দ করি না তাকেই দেখি—তাই আপনারই প্রশংসা।আমার জীবনের শপথ, আপনার বিরহে আমার রাত দংশিত ব্যক্তির রাতের মতো, আর আপনাকে ছাড়া আমার দিন যন্ত্রণাতুর ব্যক্তির দিনের মতো। আপনার সাথে আলোচনা না হওয়ায় আমার চিন্তা মরিচা ধরা হয়ে গেছে, আর আপনাকে দেখার বিরলতায় আমার চোখে ময়লা জমেছে। আপনার সন্তুষ্টির দুষ্প্রাপ্যতায় আমার হৃদয় স্পন্দিত ও অস্থির, আপনার সাহচর্যের অভাবজনিত কারণে আমার বক্ষ সংকীর্ণ ও বিষণ্ণ, এবং আপনার সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকায় আমার মুখ স্তব্ধ ও নীরব। আমার বুদ্ধিতে এক আপদ ও কুদৃষ্টির আক্রমণ ঘটেছে, তাই অশ্রু আমাকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের শিকল দিয়ে পরাভূত করেছে:সাবধান! সেই সত্তার শপথ, যিনি হাসান ও কাঁদান, যিনি মৃত্যু দেন ও জীবন দান করেন, এবং যাঁর নির্দেশই চূড়ান্ত নির্দেশ।কল্পনার আয়না মরিচা ধরেছে, এবং সেই চোখ আজ ব্যথাতুর যা দীর্ঘ রাত জেগে থাকত। আমার হৃদয়ে আমার মনিবের স্থান টলে উঠেছে—আল্লাহ তাঁর স্থায়িত্ব দীর্ঘ করুন, এবং তাঁকে প্রচুর নিয়ামত ও উন্নতি দান করুন।আপনি যে গৃহে অবস্থান করছেন তার প্রতি সদয় হোন, হে সেই ব্যক্তি যে নিজের হাত দিয়ে নিজের ঘর ধ্বংস করছে!আকাশের বিশালতা সংকীর্ণ হয়ে গেছে, এবং বাগ্মী বক্তারা নীরব হয়ে গেছে। কওমের সচেতন ব্যক্তিরা পাগল হয়ে গেছে, আর সেই চোখ কাঁদছে যার কাছে ঘুম অতি দুর্লভ।যখন রাত আমাকে আচ্ছন্ন করে, তখন আমি অনুরাগের হাত প্রসারিত করি এবং এমন অশ্রুকে অপদস্থ করি যার স্বভাব ছিল অহংকার।আপনি আমাকে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে শান্ত করছেন অথচ তার আগেই মৃত্যু বিদ্যমান; আমি যদি পিপাসার্ত অবস্থায় মারা যাই, তবে আর যেন বৃষ্টি না ঝরে।আপনি কি আপনার সামনে দণ্ডায়মান, ক্ষমা প্রার্থনাকারী ও তওবাকারীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করেন না? আর মনিবের কাছে যা পেশ করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে কোমল হলো এই কথা:আপনি জিজ্ঞাসা করুন তবেই জানতে পারবেন যদি আপনি অজ্ঞাত থাকেন, যে আপনার প্রতি আমার ভালোবাসায় অন্য কারো প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই।কেননা আমার এমন এক হৃদয় আছে যা ব্যাকুলতা থেকে শূন্য নয়, আর এমন এক চোখের পাতা আছে যা ঘুমায় না।আল্লাহর শপথ, আপনার কাছে আমার অবস্থানের কথা আমি ভুলি না এবং আপনার প্রতি আমার টান কখনো শেষ হয় না।সংক্ষেপে:আমি আপনার সত্যনিষ্ঠ দৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি যাতে আপনি ফোলা রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে স্থূলকায় মনে না করেন।আর এই নিন সময়ের উপহার, মুহূর্তের মার্জনা এবং স্বতঃস্ফূর্ত হৃদয়ের প্রবাহ। কলমের গোপন সংগ্রহ, এবং মুখের আগে হাতের প্রতিযোগিতা। তীব্র অনুরাগের স্ফুলিঙ্গ এবং বন্ধুত্বের ফল। পাঠকের জন্য চিন্তার উপহার, শ্রুতির জন্য স্বভাবের প্রতিযোগিতা এবং বর্ণনার জন্য হৃদয়ের আকর্ষণ। আর এই যে বাগ্মিতার অশ্ব, যা লাগাম চিবোচ্ছে, যার লাগাম টেনে ধরা হয়েছে, সে তার পূর্ণ গতি পায়নি এবং তার বিচরণ ক্ষেত্র পূর্ণ করেনি।এটি তো কেবল উত্থান, তবে দ্রুত ধাবমান হওয়ার অবস্থা কেমন হবে? সে কসম খেয়েছে যে সতর্কতার ঘাম ঝরাবে না যতক্ষণ না তার হ্রেষাধ্বনি শোনা যাবে এবং তার নালের আঘাতে প্রকম্পিত হবে। সে তার আরোহীকে এমন এক গন্তব্যে পৌঁছে দেয় যা অপার্থিব, এবং প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার মতো এমন এক আক্রমণ চালায় যা কখনো ক্লান্ত হয় না। তা সত্ত্বেও, আমি যদি গদ্যকে মুক্তার মতো গাঁথতাম, এবং তাকে ভোরের সমীরণের মতো মনোরম ও ফুলের রঙের মতো সুশোভিত করে পেশ করতাম, তবে আমি ‘হাজার’ নামক স্থানে খেজুর উপহার দেওয়া এবং মরুচারী বেদুইনদের কাছে বাগ্মিতা পেশ করার মতোই হতাম।আমার শেষ কথা হলো, আমার বন্ধুত্ব আপনার জন্য সংরক্ষিত, আপনার পথের জন্য উৎসর্গকৃত এবং আপনার কাছে বন্ধক। যখনই আপনি তার দিকে ফিরে তাকাবেন, আপনি তাকে সুগম, সজীব দৃশ্যপট সম্পন্ন এবং চমৎকার ফলদায়ক হিসেবে পাবেন। তা প্রফুল্লতায় সিক্ত হয়, সৌন্দর্য ঝরায়, আম্বরের সুবাস ছড়ায় এবং দয়া উৎপাদন করে। আপনি যদি তা করেন তবে তা উত্তম, আর আপনি যদি পুনরায় ফিরে আসেন তবে পুনরাবৃত্তি অধিকতর প্রশংসনীয়। আর বিষয়টি যদি এমন হয় যেমনটি বলা হয়: ‘না এবং না’, তবে ক্ষতিটি হবে পারস্পরিক। আর আল্লাহ অন্তরের রহস্যসমূহের দেখভাল করেন, তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে তা জানেন। আমি আপনাকে যা কম বা বেশি লিখেছি তা আপনারই পক্ষ থেকে এবং আপনার কারণেই। আসসালাম।শুফ পাহাড় থেকে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে লেখা তাঁর একটি চিঠির উত্তর, যে তাঁর কাছে পাহাড়ের কিছু দুর্লভ উপহার চেয়ে চিঠি লিখেছিল: আমি দেখছি আপনি উপহার দেন কিন্তু উপহার চান না, এবং আপনি আপনার মতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন কিন্তু হেদায়েত খুঁজছেন না।মনে হচ্ছে আপনি এই পাহাড়ের দুর্লভ উপহারের প্রতি ইঙ্গিত করছেন, অথচ এতে ঈগল আর বিপদ ছাড়া আর কিছুই নেই, যার সংখ্যা এখানকার পাথর ও বালুর সমান।আমার ধারণা এই যে, আপনি আসলে চমৎকার আলোচনার উপহার পাওয়ার জন্য একটি উসিলা তৈরি করেছেন, আর মূল্যবান মণি-মুক্তার ভার বহন করা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন।অন্যথায়, আপনি তো এখানকার অবস্থা এবং এখানকার অসম্ভবতা, বিশৃঙ্খলা, অসুস্থতা, বিলুপ্তি ও তুচ্ছতা সম্পর্কে অধিক অবগত।আমি কোনো এক নেককারের সংবাদে পড়েছি যে, জনৈক বুদ্ধিমান ব্যক্তি কোনো এক অভিজাত আমিরের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। তিনি তাঁর কাছে খোরাসানের দুর্লভ উপহার চেয়েছিলেন এবং সেই ব্যক্তির অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।তখন সেই বিশাল প্রতিপত্তিশালী আমির—আল্লাহ তাঁর কবরকে সিক্ত করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন—তাঁকে লিখেছিলেন: অতপর, আপনার চিঠি পৌঁছেছে যাতে এই অঞ্চলের দুর্লভ জিনিসের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আমি আপনার কাছে এক পাল্লা সাবান পাঠিয়েছি যাতে আমার প্রতি আপনার লোভ ধুয়ে ফেলতে পারেন। আসসালাম।