(খণ্ড: ১)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: -)
التاريخ الأوسط القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: التاريخ الأوسط (مطبوع خطأ باسم التاريخ الصغير)
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة البخاري، أبو عبد الله (ت 256هـ)
المحقق: محمود إبراهيم زايد
الناشر: دار الوعي , مكتبة دار التراث - حلب , القاهرة
الطبعة: الأولى، 1397 - 1977
عدد الأجزاء: 2 × 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তারিখ আল-আওসাত বিভাগ: জীবনচরিত (التراجم) ও স্তরসমষ্টি (الطبقات)
গ্রন্থ: আত-তারিখ আল-আওসাত (ভুলবশত আত-তারিখ আস-সাগির নামে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগিরাহ আল-বুখারি، আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মাহমুদ ইবরাহিম জায়েদ
প্রকাশক: দার আল-ওয়া’য়ি, মাকতাবাহ দার আত-তুরাস - আলেপ্পো, কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৯৭ - ১৯৭৭
খণ্ড সংখ্যা: ২ × ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١)
1 - أخبرنَا أَبُو ذَر عبد بْن أَحْمد بْن مُحَمَّد بْن عبد اللَّه الْهَرَوِيّ الْحَافِظ قَالَ أخبرنَا أَبُو عَليّ زَاهِر بْن أَحْمد الْفَقِيه السَّرخسِيّ بهَا قِرَاءَة عَلَيْهِ سنة تسع وَثَمَانِينَ وثلاثمائة قَالَ أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد زَنْجوَيْه بْن مُحَمَّد النَّيْسَابُورِي قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ قَالَ كتاب مُخْتَصر من تَارِيخ النَّبِي صلى الله عليه وسلم والمهاجرين وَالْأَنْصَار وطبقات التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان وَمن بعدهمْ ووفاتهم وَبَعض نسبهم وَكُنَاهُمْ وَمن يرغب فِي حَدِيثه وَقد استفاض أَنْسَاب قوم عِنْد أَهْليهمْ فتداولوها وَعرفهَا النَّاس بشهرتها فَإِن تنازعوا فِي شَيْء مِنْهَا احْتج حِينَئِذٍ إِلَى الْبَيَان وَالْحجّة
2 - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الإِمَامِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي بن شهَاب قَالَ
1 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যার আব্দ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাউয়ি আল-হাফিজ (الحافظ); তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী যাহির বিন আহমাদ আল-ফকিহ (الفقيه) আস-সারখাসি, সেখানে তাঁর নিকট তিনশ উননব্বই হিজরি সনে কিরাত হিসেবে পাঠকালে তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ যানজুয়াইহ বিন মুহাম্মাদ আন-নাইসাবুরি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি। তিনি বলেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মুহাজির ও আনসারগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের স্তর (طبقات) ও তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিবর্গের ইতিহাস, তাঁদের মৃত্যু, বংশপরিচয় ও উপনাম এবং যাঁদের হাদিস গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহী হওয়া যায়, তাঁদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। কোনো সম্প্রদায়ের বংশবৃত্তান্ত তাদের উত্তরসূরিদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) থাকে, যা তারা পরম্পরায় প্রাপ্ত হয় এবং সাধারণ মানুষ তা প্রসিদ্ধির মাধ্যমেই জেনে থাকে। অতঃপর যদি তারা এর কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন বিষয়টি স্পষ্টিকরণ ও প্রমাণের (الحجة) প্রয়োজন দেখা দেয়।
2 - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-ইমামি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব, তিনি বলেন-
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢)
أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ مِنْ أَخْبَارِ مُهَاجِرَةِ الْحَبَشَةِ كُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ قَدْ سَمِعْنَا مِنْهُ نَاحِيَةً حَفِظَهَا مِنْ أخبارهم لَمْ نَسْمَعْهَا مِنْ صَاحِبِهِ فَسَمِعْنَا مِنْهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْمُهَاجِرِينَ حِينَ ابْتُلُوا وَشَطَّتْ بِهِمْ عَشَائِرُهُمْ بِمَكَّةَ تَفَرَّقُوا وَأَشَارَ قِبَلَ أَرْضِ الْحَبَشَةِ وَكَانَتْ أَرْضًا دفيئة بَريَّة يرحل إِلَيْهَا قُرَيْشٌ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ فَخَرَجَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ بِأَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ وَبِهَا وُلِدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ وَخَرَجَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ بِرُقَيَّةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بأميمة بنت خلف وَفِيهَا وَلَدَتْ أَمَةَ بِنْتَ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ وَهِيَ أُمُّ خَالِدِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَمْرِو بْنِ الزُّبَيْرِ وَخَرَجَ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الأَسَدِ بِأم سَلمَة بنت أبي أُميَّة وَخرج حَاطِب بن الْحَارِث بن مَعْمَرَ بْنُ حَبِيبٍ بِأُمِّ الْحَارِثِ وَبِهَا وُلِدَ الْحَارِث بن حَاطِب وَخرج الزبير فَتى شَاب وَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شِهَابِ بْنِ عَبْدِ الله
আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম, উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহব এবং উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ হাবশার (আবিসিনিয়া) হিজরতকারীগণের সংবাদ সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)। তাঁদের প্রত্যেকের নিকট থেকে আমি সংবাদের এমন একটি অংশ শ্রবণ করেছি (سمعنا) যা তিনি মুখস্থ রেখেছিলেন এবং আমি তা তাঁর অন্য সঙ্গীর নিকট থেকে শুনিনি। তাঁদের নিকট থেকে আমরা শ্রবণ করেছি (سمعنا) যে, যখন মুহাজিরগণ মক্কায় পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন এবং স্বগোত্রীয়দের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন, "তোমরা পৃথক হয়ে ছড়িয়ে পড়ো" এবং তিনি হাবশা ভূখণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করলেন। সেটি ছিল একটি নাতিশীতোষ্ণ ও নিরাপদ ভূখণ্ড যেখানে কুরাইশরা শীতকালীন সফর করত। অতঃপর জাফর বিন আবি তালিব আসমা বিনতে উমাইসকে সাথে নিয়ে বের হলেন এবং সেখানে আবদুল্লাহ বিন জাফর জন্মগ্রহণ করেন। উসমান বিন আফফান রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়াহকে সাথে নিয়ে বের হলেন। খালিদ বিন সাঈদ বিন আল-আস উমাইমাহ বিনতে খালাফকে সাথে নিয়ে বের হলেন এবং সেখানেই আমাহ বিনতে খালিদ বিন সাঈদ জন্মগ্রহণ করেন—যিনি খালিদ বিন যুবাইর ও আমর বিন যুবাইরের মাতা। আবু সালামা বিন আবদিল আসাদ উম্মে সালামা বিনতে আবি উমাইয়াহকে সাথে নিয়ে বের হলেন। হাতিব বিন আল-হারিস বিন মা'মার বিন হাবিব উম্মুল হারিসকে সাথে নিয়ে বের হলেন এবং সেখানে আল-হারিস বিন হাতিব জন্মগ্রহণ করেন। যুবাইর একজন তেজস্বী যুবক হিসেবে বের হলেন এবং আবদুল্লাহ বিন শিহাব বিন আবদুল্লাহও বের হলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٣)
بْنِ الْحَارِثِ بْنِ زُهْرَةَ وَخَرَجَ مَعْمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ وَخَرَجَ الْمُطَّلِبُ بْنُ أَزْهَرَ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ وَخَرَجَ سُفْيَانُ بْنُ مَعْمَرِ بْنِ حَبِيبٍ وَشُرَحْبِيلُ بْنُ حَسَنَةَ وَعَمْرُو بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ جَحْشٍ بِأُمِّ حَبِيبَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ فَتَنَصَّرَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَتُوُفِّيَ فَتَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَهَّزَهَا النَّجَاشِيُّ وَأَرْسَلَ مَعَهَا شُرَحْبِيلَ بْنَ حَسَنَةَ وَكَانَ رِجَالٌ ذَوُو عَدَدٍ سِوَى مَنْ سَمَّيْنَاهُ وَمِنْهُمْ من رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ حِينَ سَمِعُوا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ دَارَ الْهِجْرَةِ وَمِنْهُمْ من مكث بِأَرْض الْحَبَشَة فجالت الْحَرْبُ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُتِلَ أَشْرَافُ قُرَيْشٍ بِبَدْرٍ وَبَعَثُوا عَمْرو بن الْعَاصِ وَعبد الله بن ربيعَة إِلَى النَّجَاشِيّ وأهدوا لَهُ فَلم يزل مُهَاجِرَةُ أَرْضِ الْحَبَشَةِ حَتَّى كَانَ الْمُدَّةُ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَمِنُوا فِي الْمُدَّةِ ثُمَّ خَرَجُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى لَقِيَهُ من لقِيه يَوْم خَيْبَر
...ইবনে আল-হারিস ইবনে জুহরাহ এবং বনু আদি ইবনে কাব গোত্র থেকে মামার ইবনে আবদুল্লাহ বের হলেন। আর আল-মুত্তালিব ইবনে আজহার ইবনে আবদ ইয়াগুস, সুফিয়ান ইবনে মামার ইবনে হাবিব, শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ, আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আস এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ—যিনি উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ানের সাথে ছিলেন—বের হলেন। অতঃপর উবায়দুল্লাহ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বিবাহ করেন; নাজাশী তাঁর বিয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেন এবং তাঁর সাথে শুরাহবিল ইবনে হাসানাহকে পাঠান। আমরা যাদের নাম উল্লেখ করেছি তারা ছাড়াও সেখানে আরও বহু সংখ্যক লোক ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মদিনায় ফিরে আসেন যখন তারা শুনতে পান যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের ভূমির কথা উল্লেখ করেছেন। আবার তাদের কেউ কেউ আবিসিনিয়া ভূমিতে অবস্থান করেন। ইতোমধ্যে কুরাইশদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নিহত হন। তারা (কুরাইশরা) আমর ইবনুল আস এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাবিয়াহকে উপহারসামগ্রীসহ নাজাশীর নিকট প্রেরণ করেছিল। আবিসিনিয়া ভূমিতে অবস্থানকারী হিজরতকারীরা হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন এবং সেই মেয়াদে তারা নিরাপত্তা লাভ করেন। অতঃপর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং খায়বারের যুদ্ধের সময় তাঁর সাথে মিলিত হন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدثنَا عبد الله قَالَ حَدثنِي اللَّيْث قَالَ حَدثنِي يُونُس عَن بن شِهَابٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَعُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْهِجْرَةَ الأُولَى إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ هَاجَرَ جَعْفَرٌ بِامْرَأَتِهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْس الخثعمية وَعُثْمَان بن عَفَّان بِرُقَيَّةَ بِنْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الأَسَدِ بِأُمِّ سَلَمَةَ بِنْتِ أَبِي أُمَيَّةَ وَخَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بامرأته أُمَيْمَة بِنْتِ خَلَفٍ فَهَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ وَرَجَعَ رِجَالٌ مِنَ الْحَبَشَةِ حِين سمعُوا بذلك فَهَاجرُوا إِلَى الْمَدِينَة فَمنهمْ عُثْمَان بامرأته وَأَبُو سَلمَة بامرأته وَحبس بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ جَعْفَرٌ وَخَالِدٌ وَحَاطِبُ بْنُ الْحَارِثِ وَمَعْمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَدَوِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بن شهَاب
4 - حَدثنَا إِسْمَاعِيل حَدَّثَنِي أخي عَن سُلَيْمَان عَن هِشَام بْن عُرْوَة قَالَ ولد لرَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم من خَدِيجَة بِمَكَّة عبد الْعُزَّى وَالقَاسِم وَمَاتَا قبل الْإِسْلَام
5 - حَدثنَا إِسْمَاعِيل حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَ غَزْوَةٍ غَزَاهَا الأَبْوَاءِ حَتَّى إِذا كُنَّا بِالرَّوْحَاءِ نزل
6 - حَدثنِي يُوسُف بن بهْلُول حَدثنَا عبد الله بن إِدْرِيس حَدثنَا أَبُو إِسْحَاقَ قَالَ وحَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ لَمَّا اسْتَقْبَلْنَا وَادِي حُنَيْنٍ انْحَازَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ الْيَمِينِ ثُمَّ قَالَ هَلُمُّوا إِلَيَّ أَنَا رَسُولُ اللَّهِ أَنا مُحَمَّد بن عبد الله
3 - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস ইবন শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন আল-হারিস ইবন হিশাম, সাঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব এবং উরওয়াহ ইবন আল-জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, হাবাশা ভূমিতে প্রথম হিজরতের সময় জাফর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস আল-খাসআমিয়্যাহকে নিয়ে হিজরত করেছিলেন; উসমান ইবন আফফান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহকে নিয়ে; আবু সালামাহ ইবন আবদুল আসাদ উম্মে সালামাহ বিনতে আবি উমাইয়াহকে নিয়ে এবং খালিদ ইবন সাঈদ ইবন আল-আস তার স্ত্রী উমাইমাহ বিনতে খালাফকে নিয়ে হিজরত করেছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করেন এবং হাবাশা থেকে একদল লোক যখন তা শুনতে পেলেন তখন তারা ফিরে এসে মদিনায় হিজরত করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উসমান তার স্ত্রীসহ এবং আবু সালামাহ তার স্ত্রীসহ। আর জাফর, খালিদ, হাতিব ইবন আল-হারিস, মা’মার ইবন আবদুল্লাহ আল-আদাওয়ী এবং আবদুল্লাহ ইবন শিহাব হাবাশা ভূমিতে অবস্থান করেছিলেন।
4 - ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার ভাই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মক্কায় খাদিজার গর্ভে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান আবদুল উজ্জা ও আল-কাসিম জন্মগ্রহণ করেন এবং তারা ইসলামের (আবির্ভাবের) পূর্বেই মারা যান।
5 - ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসির ইবন আবদুল্লাহ তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে প্রথম যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি তা ছিল ‘আল-আবওয়া’। এমনকি যখন আমরা ‘আর-রাওহা’ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন তিনি সেখানে অবতরণ করলেন।
6 - ইউসুফ ইবন বাহলুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: এবং আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদাহ আমার নিকট আবদুর রহমান ইবন জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আমরা হুনাইন উপত্যকার মুখোমুখি হলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান দিকে সরে গেলেন। অতঃপর তিনি বললেন: “তোমরা আমার দিকে এসো, আমি আল্লাহর রাসূল, আমি মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ।”
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٥)
7 - حَدثنِي يُوسُف بن بهْلُول حَدثنَا بن إِدْرِيس عَن أبي إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ وَفْدَ هَوَازِنَ أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِالْجِعْرَانَةِ وَقَدْ أَسَلْمُوا فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَهْلٌ وَعَشِيرَةٌ وَقَدْ أَصَابَنَا مِنَ الْبَلاءِ مَا قَدْ رَأَيْتَ فَقَالَ زُهَيْرٌ يُكَنَّى بِأَبِي صُرَدَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا فِي الْحَظَائِرِ عَمَّاتُكَ وَخَالاتُكَ وَحَوَاضِنُكَ اللاتِي كُنَّ يَكْفُلْنَكَ وَلَوْ أننا مالحنا لِلْحَارِثِ بْنِ أَبِي شِمْرٍ أَوِ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ رَجَوْنَا عَطْفَهُ وَعَائِدَتَهُ وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُكَلَّفِينَ بأبنائنا ونسائنا قَالَ مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لكم
8 - حَدثنَا مُحَمَّد بن كثير حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ سَمِعْتُ يَعْنِي الْبَراء وَقيل أَبَا عُمَارَةَ قَالَ أَشْهَدُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنَا النَّبِيُّ لَا كذب أَنا بن عبد الْمطلب
৭ - ইউসুফ বিন বাহলুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, হাওয়াজিন গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন যখন তিনি জিরানা নামক স্থানে ছিলেন। তাঁরা তখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার পরিজন ও গোত্র। আমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তা তো আপনি দেখছেনই।" তখন জুহাইর—যাঁকে আবু সুরাদ উপনামে ডাকা হয়—বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! এই বেষ্টনীগুলোর মধ্যে আপনার ফুফুরা, খালারা এবং সেই ধাত্রীরা রয়েছেন যারা আপনাকে লালন-পালন করেছিলেন। আমরা যদি হারিস বিন আবি শিমর অথবা নুমান বিন মুনজিরের সাথে সখ্যতা রাখতাম, তবে আমরা তাদের অনুকম্পা ও অনুগ্রহের আশা করতাম। আর আমাদের সন্তান ও নারীদের ব্যাপারে আপনিই তো দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বোত্তম।" তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "আমার এবং বনু আব্দুল মুত্তালিবের অংশে যা আছে, তা তোমাদের জন্য।"
৮ - মুহাম্মদ বিন কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বারা-কে—অর্থাৎ বারা ইবনে আযিবকে, যাঁকে আবু উমারাও বলা হয়—বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বলেছিলেন: আমি নবী, এতে কোনো মিথ্যা নেই; আমি আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٦)
9 - حَدثنَا إِسْمَاعِيل قَالَ بن إِسْحَاق إِن بني عبد منَاف بْن قصي بن عبد شمس وهَاشِم وَالْمطلب إخْوَة وأمهم عَاتِكَة بنت مرّة وَكَانَ نَوْفَل أَخَاهُم لأبيهم
10 - حَدثنَا يحيى بن يكير حَدثنَا اللَّيْث عَن يُونُس عَن أبي شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّ جُبَيْرَ بن مطعم أخبرهُ قَالَ مشيب أَنَا وَعُثْمَانُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقلت أَعْطَيْتَ بَنِي الْمُطَّلِبِ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ وَتَرَكْتَنَا وهم وَنَحْنُ بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ مِنْكَ فَقَالَ لَهُمَا بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو الْمُطَّلِبِ شَيْءٌ وَاحِدٌ قَالَ جُبَيْرٌ وَلَمْ يَقْسِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَبَنِي نَوْفَلٍ شَيْئًا
11 - حَدثنِي سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن حَدثنَا مُحَمَّد بن حمير حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ وَسَّاجٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَنَسٍ خَادِمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ فِي أَصْحَابِهِ أَشْمَطُ غَيْرُ أَبِي بَكْرٍ فَغَلَّفَهَا بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ
9 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, তিনি বলেন, ইবনে ইসহাক বলেছেন: আবদ মানাফ ইবনে কুসাইয়ের সন্তানগণ—আবদ শামস, হাশিম ও মুত্তালিব হলেন সহোদর ভাই এবং তাদের মাতা আতিকাহ বিনতে মুররাহ। আর নাওফাল ছিলেন তাদের বৈমাত্রেয় ভাই।
10 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, জুবাইর ইবনে মুতইম তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি এবং উসমান আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। আমি বললাম, আপনি খাইবারের খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) থেকে বনু মুত্তালিবকে দান করেছেন কিন্তু আমাদের বঞ্চিত করেছেন, অথচ আপনার নিকট আমাদের এবং তাদের মর্যাদা সমান। তখন তিনি তাদের উভয়কে বললেন, “বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব একই সত্তা।” জুবাইর বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আবদ শামস ও বনু নাওফালকে কিছুই প্রদান করেননি।
11 - আমাকে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হিমইয়ার থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উকবা ইবনে ওয়াসসাজ তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে আবু বকর ব্যতীত আর কারো চুল-দাড়ি পাকা ছিল না; তিনি (আবু বকর) তা মেহেদি এবং কাতাম দ্বারা রঞ্জিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٧)
(حَدِيث أم كُلْثُوم ابْنة رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم وَكَانَت تَحت عُثْمَان بعد رقية بنت النَّبِي صلى الله عليه وسلم 12 - حَدثنِي إِسْمَاعِيل بن أبي أويس حَدَّثَنِي أَخِي عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سعيد عَن بن شِهَابٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ رَأَى عَلَى أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُرْدَ حَرِيرٍ سِيرَاءَ وَتَابَعَهُ بن أَبِي عَتِيقٍ وَشُعَيْبٌ وَالزُّبَيْدِيُّ وَيُونُسُ وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ وَالنُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ وَقَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ رَأَى عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمُّ كُلْثُومٍ أَصَحُّ
(حَدِيث زَيْنَب بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زوج أبي الْعَاصِ بْن الرّبيع الْقرشِي) 13 - حَدَّثَنَا بن أبي مَرْيَم أخبرنَا يحيى بن أَيُّوب حَدثنِي بن الْهَاد حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ خَرَجَتِ ابْنَتُهُ مَعَ كِنَانَةَ أَوِ بن كِنَانَةَ وَخَرَجُوا فِي إِثْرِهَا فَأَدْرَكَهَا هَبَّارُ بْنُ الأَسْوَدِ فَلَمْ يَزَلْ يَطْعَنُ بَعِيرَهَا بِرُمْحِهِ حَتَّى صرعها وَأَلْقَتْ مَا فِي بَطنهَا وَأَهْرَقت دَمًا فَاشْتَجَرَ فِيهَا بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو أُمَيَّةَ فَقَالَتْ بَنُو أُمَيَّةَ نَحْنُ أَحَقُّ بِهَا وَكَانَتْ تَحت بن عَمِّهِمْ أَبِي الْعَاصِ وَكَانَتْ عِنْدَ هِنْدِ بِنْتِ رَبِيعَةَ وَكَانَتْ تَقُولُ لَهَا هِنْدٌ هَذَا فِي سَبَبِ أَبِيكِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ أَلا تَجِيئُنِي بِزَيْنَبَ قَالَ بَلَى قَالَ فَخُذْ خَاتَمِي فَأَعْطِهَا فَلَمْ يَزَلْ يَتَلَطَّفُ حَتَّى لَقِيَ رَاعِيًا فَقَالَ لِمَنْ تَرْعَى فَقَالَ لأَبِي الْعَاصِ قَالَ فَلِمَنْ هَذِهِ الْغَنَمُ قَالَ لِزَيْنَبَ بِنْتِ مُحَمَّدٍ فَأَعْطَاهُ الْخَاتَمَ حَتَّى كَانَ اللَّيْلُ خَرَجَتْ إِلَيْهِ فَرَكِبَ وَرَكِبَتْ وَرَاءَهُ حَتَّى أَتَتْ فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهَا هِيَ أَفْضَلُ بَنَاتِي أُصِيبَت فِي
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা উম্মে কুলসুমের হাদিস, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা রুকাইয়ার পরে উসমানের বিবাহাধীনে ছিলেন) ১২ - ইসমাইল ইবনে আবি উয়াইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার ভাই সুলাইমানের সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে রেশমি কারুকার্যখচিত চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন। ইবনে আবি আতিক, শুআইব, যুবাইদী, ইউনুস, ইসহাক ইবনে রাশিদ এবং নুমান ইবনে রাশিদ জুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে—এই বর্ণনার অনুসরণ (تابعه) করেছেন। আর মামার জুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা যয়নবের গায়ে এটি দেখেছিলেন, তবে উম্মে কুলসুমের বর্ণনাটিই অধিক সঠিক (أصح)।
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা এবং আবুল আস ইবনে রাবি আল-কুরাশির স্ত্রী যয়নবের হাদিস) ১৩ - ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল হাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাঁর কন্যা (যয়নব) কিনানাহ অথবা কিনানাহর পুত্রের সাথে বের হলেন। কুরাইশরা তাদের পিছু নিল এবং হাব্বার ইবনে আসওয়াদ তাকে ধরে ফেলল। সে ক্রমাগত তার উটকে বর্শা দিয়ে আঘাত করতে থাকল যতক্ষণ না সে তাকে ভূপাতিত করল। এতে তাঁর গর্ভপাত ঘটল এবং রক্তক্ষরণ হলো। এ বিষয়ে বনু হাশেম ও বনু উমাইয়াহর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হলো। বনু উমাইয়াহ বলল, আমরা তাঁর অধিক হকদার, কারণ তিনি তাদের চাতাতো ভাই আবুল আসের বিবাহাধীনে ছিলেন। তিনি হিন্দ বিনতে রাবিআর কাছে ছিলেন। হিন্দ তাকে বলতেন, "এটি তোমার পিতার কারণে হচ্ছে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ ইবনে হারিসাহকে বললেন, "তুমি কি যয়নবকে আমার কাছে নিয়ে আসবে না?" তিনি বললেন, "অবশ্যই।" নবীজি বললেন, "তবে আমার এই আংটিটি নাও এবং তাকে দাও।" যায়েদ ক্রমাগত কৌশলে অগ্রসর হতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি একজন রাখালের দেখা পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কার রাখাল?" সে বলল, "আবুল আসের।" তিনি বললেন, "এই ছাগলগুলো কার?" সে বলল, "মুহাম্মদের কন্যা যয়নবের।" তখন তিনি তাকে আংটিটি দিলেন। রাত হলে তিনি (যয়নব) তাঁর কাছে বেরিয়ে এলেন এবং তিনি যয়নবকে তাঁর পিছনে বসিয়ে নিয়ে আসলেন যতক্ষণ না তাঁরা পৌঁছে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বলতেন, "তিনি আমার কন্যাদের মধ্যে অধিক মর্যাদাপূর্ণ (أفضل), যিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন (أُصِيبَت) ..."
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٨)
14 - حَدثنَا مُوسَى بن إِسْمَاعِيل حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ قَالَ قَالَ أَنَسٌ إِنِّي لأَسْعَى مَعَ الْغِلْمَانِ إِذْ قَالُوا جَاءَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم فَنَنْطَلِقُ فَلا نَرَى شَيْئًا حَتَّى أَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبُهُ فَكَمَنَّا فِي بعض حراء الْمَدِينَة وبعثنا رَجُلا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ يُؤَذِّنُ بِهِمَا الأَنْصَارَ فَجَاءَنِي البدوي فَاسْتَقْبلهُ زهاء خَمْسمِائَة مِنَ الأَنْصَارِ فَأَتَوْهُمَا فَقَالَتِ الأَنْصَارُ انْطَلِقَا آمِنِينَ مُطَاعِينَ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبُهُ مَعَهُمْ وَخَرَجَ النَّاسُ حَتَّى الْعَوَاتِقُ فَوق الأنجاد يقلن أَيهمْ هُوَ
15 - حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن مُوسَى حَدثنَا هِشَام أخبرنَا معمر عَن ثَابت عَن أنس رضي الله عنه قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ لَعِبَتِ الْحَبَشَةُ لِقُدُومِهِ الْمَدِينَةَ فَرَحًا بذلك
14 - আমাদের নিকট মূসা ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি সুলাইমান ইবনুল মুগিরা থেকে, তিনি সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, আনাস (রা.) বলেছেন: আমি বালকদের সাথে দৌড়াচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় তারা বলল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। আমরা দ্রুত সেদিকে গেলাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গী আত্মপ্রকাশ করলেন। আমরা মদিনার কোনো এক পাথুরে প্রান্তরে আত্মগোপন করলাম এবং মরুচারী এক ব্যক্তিকে আনসারদের নিকট তাঁদের আগমনের সংবাদ দিতে পাঠালাম। সেই বেদুইন ব্যক্তিটি ফিরে এল এবং প্রায় পাঁচশ আনসার তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে গেলেন। আনসারগণ বললেন, "আপনারা নিরাপদ ও মান্যবর হিসেবে অগ্রসর হোন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী তাঁদের সাথে অগ্রসর হলেন এবং সাধারণ মানুষ, এমনকি পর্দানশীন যুবতীরাও উঁচু স্থানের ওপর উঠে বলতে লাগল, "তাঁদের মধ্যে তিনি কোনটি?"
15 - আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে মূসা বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি মা’মার থেকে, তিনি সাবিত থেকে, আর তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন হাবশীরা তাঁর আগমনে আনন্দিত হয়ে খেলাধুলা প্রদর্শন করেছিল।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٩)
16 - حَدثنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا زِيَادٌ عَنْ مُحَمَّد بن يزِيد حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُوَيْمِ بْنِ سَاعِدَةَ قَالَ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مِنْ قَوْمِي مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لنا سَمِعْنَا بِمَخْرَجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
17 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَن سعيد بن جُبَير عَن أبي عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وجوهم مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ يعْنى هَذَا الَّذِي قصّ لذَلِك مثلهم فِي التَّوْرَاة وَمثلهمْ الآخر فِي الْإِنْجِيل كزرع أخرج شطأه أول مَا يخرج الزَّرْع فآزره فنبت فاستغلظ فَاسْتَوَى على سوقه نَبَاته أَو نَبَاته كُلِّهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجرا عَظِيما
18 - حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ وَشُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالا حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي شَدَّادٌ أَبُو عَمَّارٍ قَالَ حَدَّثَنِي وَاثِلَةُ بْنُ الأَسْقَعِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ وَاصْطَفَى هَاشِمًا مِنْ قُرَيْشٍ وَاصْطَفَانِي من بني هَاشم
16 - আমর ইবনে যুরারাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে উয়াইম ইবনে সাঈদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার গোত্রের রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী (أصحاب) পর্যায়ের কয়েকজন লোক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা আমাদের বলেছেন: আমরা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মপ্রকাশের সংবাদ শুনতে পেলাম...
17 - আবদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামযাহ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি আবু আব্বাস থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। তুমি তাদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের উদাহরণ এরূপ"—অর্থাৎ এখানে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা তাওরাতে তাদের উদাহরণ—"এবং ইনজীলে তাদের উদাহরণ হলো একটি চারাগাছের মতো যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্তিশালী হয়, তারপর তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সটান দাঁড়িয়ে যায় যা কৃষকদের মুগ্ধ করে যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদের ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।"
18 - সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান আদ-দিমাশকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম এবং শুআইব ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শাদ্দাদ আবু আম্মার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়াসিলা ইবনুল আসকা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের বংশধর থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٠)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ لِي أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِي الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي وَأَنَا الْعَاقِبُ
20 - حَدثنَا عبد الله بن صَالح حَدَّثَنِي اللَّيْثُ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ سعيد عَن أَبِي هِلالٍ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ فَقَالَ لَهُ أَتُحْصِي أَسْمَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّتِي كَانَ جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ يَعُدُّهَا قَالَ نَعَمْ هِيَ سِتٌّ مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَخَاتَمٌ وَحَاشِرٌ وَالْعَاقِبُ وَمَاحٍ فَأَمَّا حَاشِرٌ فَبُعِثَ مَعَ السَّاعَةِ بَيْنَ يَدَيْ عَذَاب شَدِيد وَالْعَاقِب عاقب الْأَنْبِيَاء وماح محى الله بِهِ السَّيِّئَات من اتبعهُ
21 - حَدثنَا حجاج بن منهال ثَنَا حَمَّاد عَن عَاصِم بن بَهْدَلَة عَن ذَر عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي سِكَّةٍ مِنْ سِكَكِ الْمَدِينَةِ أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَالْحَاشِرُ وَالْمُقَفِّي وَنَبِيُّ الرَّحْمَة
19 - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম আমাকে তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি— "নিশ্চয়ই আমার কতগুলো নাম রয়েছে; আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহি (বিনাশকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফর মিটিয়ে দেন, আমি আল-হাশির (একত্রিতকারী) যার কদম মুবারকের নিকট (অর্থাৎ তাঁর পরে) মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ)।"
20 - আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লায়স আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হিলাল থেকে, তিনি উতবাহ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি নাফি ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের দরবারে উপস্থিত হলেন। আবদুল মালিক তাঁকে বললেন, "জুবায়ের ইবনে মুতয়িম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে নামগুলো গণনা করতেন আপনি কি সেগুলো আয়ত্ত করেছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, সেগুলো ছয়টি: মুহাম্মাদ, আহমাদ, খাতাম, হাশির, আকিব এবং মাহি।" অতঃপর হাশির হলেন তিনি যাকে কিয়ামতের প্রাক্কালে কঠোর আজাবের পূর্বে প্রেরণ করা হয়েছে; আকিব হলেন নবীদের আগমন সমাপ্তকারী; আর মাহি হলেন তিনি যার অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহ পাপাচার মিটিয়ে দেন।
21 - হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি যার থেকে, তিনি হুজায়ফাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মদিনার একটি পথে বলতে শুনেছি— "আমি মুহাম্মাদ, আহমাদ, হাশির, মুকাফ্ফি (সর্বশেষ আগমনকারী) এবং রহমতের নবী।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١١)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ عَلَّمَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَسْمَاءَهُ فَمِنْهَا مَا نَسِينَا وَمِنْهَا مَا حَفِظْنَا فَقَالَ أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَالْمُقَفِّي وَالْحَاشِرُ وَنَبِيُّ الرَّحْمَةِ وَنَبِيُّ الْمَلْحَمَةِ حَدثنَا مُوسَى بن إِسْمَاعِيل عَن حَمَّاد حَدثنَا ثَابت وَحميد عَن أنس رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُه مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ منزلتى الَّتِي أنزلنيها الله
23 - حَدثنِي عبد الْعَزِيز بن عبد الله حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيه عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا عِبَادَ اللَّهِ انْظُرُوا كَيْفَ يَصْرِفُ اللَّهُ عَنِّي شَتْمَ قُرَيْشٍ وَلَعْنَهُمْ يَشْتُمُونَ مُذَمَّمًا ويلعنون مذمما وَأَنا مُحَمَّد
24 - حَدثنِي يحيى بن بكير حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ الْعَجْلانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَلْم تَرَوْا كَيْفَ صَرَفَ اللَّهُ عَنِّي شَتْمَ قُرَيْش ولعنهم يسبون مذمما وَأَنا مُحَمَّد
25 - حَدثنِي مُحَمَّد بن عبيد الله ثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحوه
26 - حَدثنَا سُلَيْمَان بن حَرْب حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَقِيلِ بْنِ طَلْحَة عَن مُسلم بن هيضم عَن الْأَشْعَث بن قيس قَالَ قدمت فِي وَفد كِنْدَة وَلَا يرَوْنَ إِلَّا أَنِّي أَفْضَلَهُمْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَسْتُمْ مِنَّا قَالَ لَا نَحْنُ بَنُو النَّضْرِ بْن كِنَانَةَ لَا نقفوا أمنا وَلَا نقتفي عَن أَبِينَا وَكَانَ الأَشْعَثُ يَقُولُ لَا أُوتِيَ بِرَجُلٍ نَفَى رَجُلا مِنْ قُرَيْشٍ مِنَ النَّضْرِ بْنِ كنَانَة إِلَّا ضَربته الْحَد
22 - আবদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু হামজাহ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাঁর নামসমূহ শিখিয়েছেন। তার মধ্যে কিছু আমরা ভুলে গিয়েছি এবং কিছু আমরা হিফজ করেছি। তিনি বললেন: "আমি মুহাম্মদ, আহমদ, আল-মুকাফ্ফি, আল-হাশির, রহমতের নবী এবং মহাযুদ্ধের নবী।" মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ থেকে, তিনি সাবিত ও হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ আমাকে যে মর্যাদায় (منزلتى) আসীন করেছেন, তোমরা আমাকে তার ঊর্ধ্বে উন্নীত করো—তা আমি পছন্দ করি না।"
23 - আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা কি দেখছ না, আল্লাহ কীভাবে কুরাইশদের গালিগালাজ ও অভিশাপ আমার থেকে ফিরিয়ে দেন? তারা 'মুযাম্মাম'-কে গালি দেয় এবং 'মুযাম্মাম'-কে অভিশাপ দেয়, অথচ আমি হলাম মুহাম্মদ।"
24 - ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) লাইস থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আজলান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: "তোমরা কি দেখনি কীভাবে আল্লাহ কুরাইশদের গালি ও অভিশাপ আমার থেকে সরিয়ে দিয়েছেন? তারা 'মুযাম্মাম'-কে গালি দেয়, অথচ আমি হলাম মুহাম্মদ।"
25 - মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আনাস ইবনে ইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) হারিস ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি যুবাব থেকে, তিনি আতা ইবনে মিনা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ (نحوه) বর্ণনা করেছেন।
26 - সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আকীল ইবনে তালহা থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাইজাম থেকে, তিনি আশআছ ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি কিন্দা গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সাথে উপস্থিত হলাম এবং তারা আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গণ্য করত। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা কি আমাদের বংশোদ্ভূত নন? তিনি বললেন: "না, আমরা আন-নযর ইবনে কিনানার বংশধর। আমরা আমাদের মায়ের দিকে বংশ সম্বন্ধ করে পিতাকে অভিযুক্ত করি না এবং আমাদের পিতাকে অস্বীকার করি না।" আশআছ বলতেন: "যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে আমার নিকট আনা হয়, যে কুরাইশ বংশের কোনো ব্যক্তিকে আন-নযর ইবনে কিনানার বংশ বহির্ভূত বলে দাবি করে, তবে আমি তাকে নির্ধারিত শাস্তি (الحد) প্রদান করব।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٢)
27 - حَدثنَا مُوسَى بن إِسْمَاعِيل حَدثنَا عبد الْوَاحِد حَدثنَا كُلَيْب حَدَّثَتْنِي رَبِيبَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَاسْمهَا زَيْنَب قلت لَهَا أَخْبِرِينِي عَن النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ كَانَ مِنْ مُضَرَ قَالَتْ فَمِمَّنْ كَانَ إِلا مِنْ مُضَرَ كَانَ مِنْ وَلَدِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ
28 - حَدثنِي قيس بن حَفْص حَدثنَا عبد الْوَاحِد حَدثنَا كُلَيْب بن وَائِل حَدَّثَتْنِي رَبِيبَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَيْنَب بنت أبي سَلمَة مثله
29 - حَدثنَا خَلاد بن يحيى حَدثنَا مسعر حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَيْسَرَةَ عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ قَالَ قَالَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كُنَّا نَحْنُ وَأَنْتُمْ مِنْ بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ فَنَحْنُ وَأَنْتُمُ الْيَوْمَ بَنُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مِسْعَرٌ فَنَحْنُ مِنْ بَنِي عَبْدِ مَنَافِ بْنِ هِلالِ بْنِ عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ بنى عبد منَاف من قُرَيْش
30 - حَدثنَا قُتَيْبَة حَدثنَا سُفْيَان قَالَ قَالَ رجل لعَائِشَة رضي الله عنها مَتَى أَعْلَمُ أَنِّي مُحْسِنٌ قَالَتْ إِذَا ظَنَنْتَ أَنَّكَ مُسِيءٌ قَالَ فَمَتَى أَعْلَمُ أَنِّي مُسِيءٌ قَالَت إِذا ظَنَنْت أَنَّك محسن
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুলাইব, তিনি বলেন: আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিপালিতা কন্যা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নাম যয়নাব। আমি তাঁকে বললাম, "আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অবহিত করুন, তিনি কি মুদার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?" তিনি বললেন, "তিনি মুদার গোত্র ছাড়া আর কার হতে পারেন? তিনি নযর ইবনে কিনানার বংশধর ছিলেন।"
২৮ - আমাকে বর্ণনা করেছেন কায়েস ইবনে হাফস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুলাইব ইবনে ওয়ায়িল, তিনি বলেন: আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিপালিতা কন্যা যয়নাব বিনতে আবি সালামাহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
২৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিসআর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে মায়সারাহ, তিনি নায্যাল ইবনে সাবরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছিলেন, "আমরা এবং তোমরা বনু আব্দ মানাফের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, অতএব আজ আমরা এবং তোমরা বনু আব্দুল্লাহ।" মিসআর বলেন: "আমরা বনু আব্দ মানাফ ইবনে হিলাল ইবনে আমির ইবনে সা'সাআহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ বংশের বনু আব্দ মানাফ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"
৩০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কখন জানব যে আমি সৎকর্মশীল?" তিনি বললেন, "যখন তুমি নিজেকে মন্দ মনে করবে।" তিনি বললেন, "তাহলে আমি কখন জানব যে আমি মন্দ?" তিনি বললেন, "যখন তুমি নিজেকে সৎকর্মশীল মনে করবে।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٣)
31 - حَدثنَا قُتَيْبَة حَدَّثَنَا سُفْيَان عَن عَليّ بْن زيد قَالَ كَانَ أَبُو طَالب يَقُول فشق لَهُ من اسْمه ليجله فذو الْعَرْش مَحْمُود وَهَذَا مُحَمَّد
32 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بْن أبي أويس قَالَ قَالَ مُحَمَّد بْن إِسْحَاق بْن يسَار إِنَّمَا سمي هاشما لهشمه الثَّرِيد بِمَكَّة فَقَالَ مُسَافر بْن أبي عَمْرو عَمْرو الَّذِي هشم الثَّرِيد لِقَوْمِهِ وقريش فِي سنة وَفِي إعجاف
33 - حَدثنَا عبد الله بن صَالح حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ هِلالٍ السّلمِيِّ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَخَاتم النبين وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ وَسَأُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِك فِي آخرهَا وَأَنا دَعْوَة أبي إِبْرَاهِيم وَبشَارَة عِيسَى بن مَرْيَمَ وَإِنَّ أُمَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْهُ نُورًا أَضَاءَتْ لَهُ قُصُور الشَّام
31 - কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আলী ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি বলেন, আবু তালিব বলতেন: তিনি (আল্লাহ) তাঁর সম্মানের জন্য তাঁর নাম থেকে একটি নাম বের করেছেন; সুতরাং আরশের অধিপতি হলেন মাহমুদ আর ইনি হলেন মুহাম্মদ।
32 - ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার বলেছেন: মক্কায় সারীদ (রুটি) চূর্ণ করার (হাশম) কারণেই তাঁর নাম হাশিম রাখা হয়েছে। মুসাফির ইবনে আবি আমর বলেন: আমর (হাশিম), যিনি তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য সারীদ চূর্ণ করেছিলেন, যখন কুরাইশরা দুর্ভিক্ষ ও অনাহারের মধ্যে ছিল।
33 - আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, মুয়াবিয়া সাঈদ ইবনে সুওয়াইদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন, তিনি আবদুল আ'লা ইবনে হিলাল আল-সুলামী থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ইরবাদ ইবনে সারিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি— "আমি আল্লাহর বান্দা এবং শেষ নবী (خاتم النبين), তখন আদম কেবল তাঁর কাদার মধ্যে লীন ছিলেন। আমি তোমাদের এর প্রারম্ভিক অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি: আমি আমার পিতা ইব্রাহিমের দুআ, ঈসা ইবনে মারিয়ামের সুসংবাদ এবং আমার মাতার সেই দর্শন যা তিনি আমার ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় দেখেছিলেন—একটি নূর (আলো), যার মাধ্যমে শামের প্রাসাদসমূহ তাঁর জন্য আলোকিত হয়ে উঠেছিল।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٤)
34 - حَدثنَا عبيد بن يعِيش حَدَّثَنَا يُونُس بْن بكير عَن مُحَمَّد بْن إِسْحَاق قَالَ مُحَمَّد بْن عبد اللَّه بْن عبد الْمطلب بْن هَاشم بْن عبد منَاف بْن قصي بْن كلاب بْن مرّة بْن كَعْب بن لؤَي وَهُوَ بن غَالب بْن فهر بْن مَالك بْن النَّضر بْن كنَانَة بْن خُزَيْمَة بْن مدركة بْن إلْيَاس بْن مُضر بْن نزار بْن معد بْن عدنان بْن أدد بْن الْمُقَوّم بْن ناحور بن تارح بن يعرب بن يشحب بن ثَابت بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم بن آذر
35 - حَدثنَا إِسْمَاعِيل حَدثنِي أخي عَن بن أَبِي ذِئْبٍ عَنِ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يلقى إِبْرَاهِيم أَبَاهُ آذر يَوْم الْقِيَامَة وعَلى وَجه آذر غبرة وقترة فَذكر الحَدِيث
36 - حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد حَدثنَا اللَّيْث عَن بن عجلَان عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَجْمَعَ أَحَدٌ اسْمَهُ وَكُنْيَتَهُ يُسَمِّي مُحَمَّدًا أَبَا الْقَاسِمِ وَقَالَ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ اللَّهُ يعْطى وَأَنا قَاسم
৩৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উবাইদ ইবনে ইয়াঈশ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইউনুস ইবনে বুকাইর, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই—আর তিনি হলেন গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মাআদ ইবনে আদনান ইবনে উদাদ ইবনে মুকাউওয়িম ইবনে নাহুর ইবনে তারাহ ইবনে ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে সাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আজার।
৩৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসমাঈল, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আমার ভাই, তিনি ইবনে আবি জিব থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন ইবরাহিম তাঁর পিতা আজারের সাথে সাক্ষাৎ করবেন, এমতাবস্থায় আজারের মুখমণ্ডলে থাকবে ধূলিধূসরিত (غبرة) ও কালিমাচ্ছন্ন (قترة) ভাব। এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন।
৩৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) লাইস, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তির জন্য তাঁর নাম এবং উপনাম (كنية) একত্রিত করা অর্থাৎ ‘মুহাম্মাদ আবুল কাসিম’ নাম রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: "আমিই হলাম আবুল কাসিম, আল্লাহ প্রদান করেন আর আমি বণ্টন করি।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٥)
37 - حَدثنَا أَبُو نعيم حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ عَنْ مُوسَى بْنِ يسَار أَنه سمع أَنا هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنِّي أَبُو الْقَاسِمِ سَمُّوا باسمي وَلَا تكنوا بكنيتي
38 - حَدثنَا أَبُو الْيَمَان أَنبأَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَا صَفِيَّة عمَّة رَسُول الله
39 - حَدثنَا أَبُو الْوَلِيد حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ يَا بَنِي هَاشِمٍ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّار
40 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْحَجَبِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ رَافِعٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ يَقُولُ قَالَ عُمَرُ مَتَى نَكْتُبُ التَّارِيخَ فَجَمَعَ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ مِنْ يَوْمِ هَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ فَكتب التَّارِيخ
37 - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) দাউদ ইবনে কায়স, তিনি মুসা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনতে (سمع) পেয়েছেন, তিনি বলেছেন: "আমিই আবুল কাসিম; তোমরা আমার নামে নামকরণ করো, কিন্তু আমার কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করো না।"
38 - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-ইয়ামান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) শুআইব, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব এবং আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান যে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: যখন আল্লাহ তাআলা "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দণ্ডায়মান হলেন এবং বললেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের আত্মাকে (নেক আমলের বিনিময়ে আল্লাহর নিকট থেকে) ক্রয় করে নাও; হে বনী আবদে মানাফ! আল্লাহর দরবারে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না; হে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব! হে রাসূলুল্লাহর ফুফু সাফিয়্যা!"
39 - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আওয়ানাহ, তিনি আবদুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি মুসা ইবনে তালহা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে বনী কাব ইবনে লুয়াই! হে বনী আবদে মানাফ! হে বনী হাশিম! হে বনী আবদুল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।"
40 - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আল-হাজাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে রাফি, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আমরা কবে থেকে তারিখ (বর্ষপঞ্জি) গণনা শুরু করব?" অতঃপর তিনি মুহাজিরদের একত্রিত করলেন। তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, "যেদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় হিজরত করেছেন (সেদিন থেকে)।" অতঃপর তিনি সেই সময় থেকেই তারিখ (বর্ষপঞ্জি) লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٦)
41 - حَدثنَا عبد الله بن سَلمَة حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ مَا عَدُّوا مِنْ مَبْعَثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلا مِنْ وَفَاتِهِ وَلا عَدُّوا إِلَّا من مُقَدّمَة الْمَدِينَة
42 - حَدثنِي سعيد بن أبي مَرْيَم قَالَ أَنبأَنَا يَعْقُوب بن إِسْحَاق حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ التَّارِيخُ فِي السَّنَةِ الَّتِي قَدِمَ فِيهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَفِيهَا ولد عبد الله بن الزبير
43 - حَدثنَا أَبُو نعيم ثَنَا يُونُس بن أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ إِنَّ الْمُحَرَّمَ شَهْرُ اللَّهِ وَهُوَ رَأْسُ السَّنَةِ فِيهِ يُكْسَى الْبَيْتُ وَيُؤَرَّخُ التَّارِيخُ وَيُضْرَبُ فِيهِ الْوَرِقُ وَفِيهِ يَوْمٌ كَانَ تَابَ فِيهِ قَوْمٌ فَتَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ
(قصَّة خَدِيجَة بنت خويلد) 44 - حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ مِنْ كَثْرَةِ ذِكْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَزَوَّجَنِي بَعْدَهَا بِثَلاثِ سِنِينَ
45 - حَدثنِي بن عُفَيْرٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالا حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ كَتَبَ إِلَيَّ هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ هَلَكَتْ خَدِيجَةُ قَبْلَ أَنْ يَتَزَوَّجَنِي حَدثنِي عبد الْعَزِيز الأويسي ثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُتَوَفَّى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ بِمَكَّةَ
৪১ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন সালামা বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল আজিজ বিন আবি হাজিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তারা (সাহাবীগণ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত প্রাপ্তির সময় থেকে কিংবা তাঁর ওফাত থেকে সাল গণনা করেননি, বরং তারা কেবল তাঁর মদিনায় আগমনের সময় থেকে গণনা শুরু করেছিলেন।
৪২ - আমার কাছে সাঈদ বিন আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াকুব বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন মুসলিম থেকে, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তারিখ বা বর্ষপঞ্জি সেই বছর থেকে শুরু হয়েছিল যে বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করেন এবং সেই বছরেই আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা.) জন্মগ্রহণ করেন।
৪৩ - আমাদের কাছে আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউনুস বিন আবি ইসহাক থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি উবাইদ বিন উমায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মুহাররম হলো আল্লাহর মাস এবং এটি বছরের শুরু। এতে কাবা ঘরে গিলাফ চড়ানো হয়, তারিখ গণনা শুরু করা হয় এবং এতে রৌপ্য মুদ্রা তৈরি করা হয়। আর এতে এমন একটি দিন আছে যাতে এক সম্প্রদায় তওবা করেছিল এবং আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেছিলেন।
(খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ রা.-এর ঘটনা) ৪৪ - আমাদের কাছে কুতাইবা বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো স্ত্রীর প্রতি তেমন ঈর্ষা বোধ করিনি যেমনটি খাদিজার প্রতি করতাম, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা অনেক বেশি স্মরণ করতেন। আর খাদিজার (মৃত্যুর) তিন বছর পর তিনি আমাকে বিয়ে করেছিলেন।
৪৫ - আমার কাছে ইবনে উফায়ের এবং আব্দুল্লাহ বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের কাছে লাইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হিশাম আমার কাছে তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে লিখে পাঠিয়েছেন: তিনি আমাকে বিয়ে করার পূর্বেই খাদিজা ইন্তেকাল করেছিলেন। আব্দুল আজিজ আল-উয়ায়সী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: মক্কায় খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ-এর ইন্তেকালের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٧)
46 - ويروى عَن نفيسة أُخْت يعلى بن منية تزوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَدِيجَة بنت خويلد مرجعه من الشَّام وَهُوَ بن خمس وَعشْرين سنة فَولدت الْقَاسِم والطاهر وَزَيْنَب ورقية وَأم كُلْثُوم وَفَاطِمَة
47 - حَدثنَا عُبَيْدٌ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ خَدِيجَةَ بِثَلاثِ سِنِينَ
(حَدِيث رقية بنت رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم وموتها) 48 - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الْمُطَّلِبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ دَخَلْتُ عَلَى رُقَيَّةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةِ عُثْمَانَ وَفِي يَدِهَا مُشْطٌ وَلا أَدْرِي حُفِظَ لأَنَّ رُقَيَّةَ بِنْتَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاتَتْ أَيَّامَ بَدْرٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ هَاجَرَ بَعْدَ ذَلِكَ بِنَحْوٍ مِنْ خَمْسِ سِنِينَ أَيَّامَ خَيْبَرَ وَلا يُعْرَفُ لِلْمُطَّلِبِ سَمَاعٌ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلا لمُحَمد عَن الْمطلب وَلَا تقوم بِهِ الْحجَّة
49 - حَدثنَا عَليّ بن عبد الله حَدثنَا سُفْيَان ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عِرَاكَ بن مَالك قَالَ سَمِعت أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه يَقُول قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَر
46 - ইয়ালা ইবনে মুনইয়ার বোন নাফিসা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিরিয়া থেকে ফিরে আসার পর খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদকে বিয়ে করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর। তাঁর গর্ভে কাসেম, তাহের, জয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা জন্মগ্রহণ করেন।
47 - ওবাইদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু উসামা থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন: খাদিজার (ইন্তেকালের) তিন বছর পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বিয়ে করেন।
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়া এবং তাঁর ইন্তেকাল বিষয়ক হাদিস) 48 - মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আবু আবদুর রহিম থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আবি উনাইসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি উসমানের স্ত্রী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়ার নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর হাতে চিরুনি ছিল। আমি জানি না এটি সংরক্ষিত (حفظ) হয়েছে কি না, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়া বদরের যুদ্ধের দিনগুলোতে ইন্তেকাল করেন, আর আবু হুরায়রা হিজরত করেন তার প্রায় পাঁচ বছর পর খাইবার যুদ্ধের দিনগুলোতে। আর আবু হুরায়রা থেকে মুত্তালিবের কোনো শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে জানা নেই এবং মুত্তালিব থেকে মুহাম্মদের বর্ণনাও প্রমাণিত নয়; আর এর দ্বারা দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না।
49 - আলী ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি ওসমান ইবনে আবি সুলাইমান থেকে, তিনি বলেন, আমি ইরাক ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি যখন মদিনায় পৌঁছালাম তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারে ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٨)
50 - حَدثنِي الْحُسَيْن بن حُرَيْث أَنبأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى عَنْ خُثَيْمِ بْنِ عِرَاكٍ عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه لَمَّا خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَيْبَرَ اسْتَخْلَفَ سِبَاعَ بْنَ عُرْفُطَةَ فَقَدِمْنَا فَشَهِدْنَا الصُّبْحَ مَعَهُ وَتَابَعَهُ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ خُثَيْمٍ وَقَالَ وهيب حدثتا خثيم عَن أَبِيه عَن نفر من قومه قدم أَبُو هُرَيْرَة
51 - حَدثنَا مُوسَى ثَنَا حَمَّاد أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ عُرْوَةَ قَالَ خَلَّفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانَ وَأُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ عَلَى رُقَيَّةَ ابْنَتِهِ أَيَّامَ بَدْرٍ وَهِيَ وَجِعَةٌ فَجَاءَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ عَلَى الْعَضْبَاءِ بِالْبِشَارَةِ فَسَمِعْنَا الْهَيْعَةَ فَوَاللَّهِ مَا صَدَّقْنَا حَتَّى رَأينَا الأساري
52 - حَدثنِي عبد الله المسندي ثَنَا عفير ثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمَّا مَاتَتْ رُقَيَّةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يدْخل الْقَبْر رجل قَارِفُ أَهْلِهِ اللَّيْلَةَ فَلَمْ يَدْخُلْ عُثْمَانُ الْقَبْرَ
53 - حَدثنِي مُحَمَّد بن سِنَان ثَنَا فليح بن سُلَيْمَان ثَنَا هِلالُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ أَنَسٍ شَهِدْنَا ابْنَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ عَلَى الْقَبْرِ فَرَأَيْت عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ فَقَالَ هَلْ فِيكُمْ مِنْ أَحَدٍ لَمْ يُقَارِفِ اللَّيْلَةَ قَالَ أَبُو طَلْحَةَ أَنَا قَالَ انْزِلْ فِي قبرها فَنزل فِي قبرها
50 - হুসাইন ইবনে হুরাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ফাদল ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খুসাইম ইবনে ইরাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের দিকে অভিযানে বের হলেন, তখন তিনি সিবাহ ইবনে উরফুতাহ-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করলেন। অতঃপর আমরা উপস্থিত হলাম এবং তাঁর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। আদ-দারাওয়ার্দী খুসাইম থেকে বর্ণনায় তাঁকে অনুসরণ (متابعة) করেছেন। উহাইব বলেছেন: খুসাইম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর গোত্রের একদল লোকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরাইরা উপস্থিত হলেন।
51 - মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম উরওয়াহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের যুদ্ধের দিনগুলোতে তাঁর কন্যা রুকাইয়্যাহর (শুশ্রূষার) জন্য উসমান এবং উসামাহ ইবনে যায়েদকে পিছনে রেখে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর যায়েদ ইবনে হারিসাহ ‘আল-আযবা’ নামক উষ্ট্রীর পিঠে চড়ে সুসংবাদ নিয়ে এলেন। তখন আমরা একটি শোরগোল শুনতে পেলাম। আল্লাহর কসম, আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যতক্ষণ না আমরা যুদ্ধবন্দীদের দেখলাম।
52 - আবদুল্লাহ আল-মুসনাদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উফায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: যখন রুকাইয়্যাহ ইন্তেকাল করলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "আজ রাতে নিজ স্ত্রীর সংশ্রব লাভ করেছে এমন কোনো ব্যক্তি কবরে নামবে না।" ফলে উসমান কবরে নামলেন না।
53 - মুহাম্মদ ইবনে সিনান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিলাল ইবনে আলী আনাস (রা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এক কন্যার জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের কিনারে বসা ছিলেন; আমি দেখলাম তাঁর চোখ দুটি থেকে অশ্রু ঝরছে। অতঃপর তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে আজ রাতে স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়নি?" আবু তালহা বললেন, "আমি।" তিনি বললেন, "তবে তুমি তাঁর কবরে নামো।" অতঃপর তিনি তাঁর কবরে নামলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ١٩)
54 - حَدثنِي عبيد ثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَدْرٍ وَخَلَّفَ عُثْمَانَ عَلَى ابْنَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ مَرِيضَةً وَتَخَلَّفَ مَعَهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَمَاتَتْ لَيْلا فَغَدَوْا بِهَا فَدَفَنُوهَا فَسَمِعُوا لَجَّةَ التَّكْبِيرِ فَأَرْسَلَ عُثْمَانُ أُسَامَةَ فَإِذَا هُوَ بِأَبِيهِ زَيْدٍ جَاءَ بشير على نَاقَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَمَا صَدَّقُوا حَتَّى رَأَوْهُمْ أُتِي بهم
55 - حَدثنَا عَليّ ثَنَا يَعْقُوب ثَنَا أبي عَن أبي إِسْحَاق حَدَّثَنِي نُوحُ بْنُ حَكِيمٍ الثَّقَفِيُّ وَكَانَ قَارِئًا لِلْقُرْآنِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ يُقَالُ لَهُ دَاوُدُ وَلَدَتْهُ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ لَيْلَى بِنْتِ قَانِفٍ كُنْتُ فِيمَنْ غَسَّلَ أُمَّ كُلْثُومٍ ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ وَفَاتِهَا فَكَانَ أَوَّلُ مَا أَعْطَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من كفنها الحقاء
54 - উবাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সা.) বদরের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং উসমান (রা.)-কে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কন্যার পরিচর্যার জন্য রেখে গেলেন, কারণ তিনি অসুস্থ ছিলেন। উসামা বিন যায়দও তাঁর সাথে মদিনায় অবস্থান করছিলেন। অতঃপর তিনি রাতে ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁরা সকালে তাঁর দাফন সম্পন্ন করলেন। এরপর তাঁরা তাকবীরের উচ্চধ্বনি শুনতে পেলেন। উসমান (রা.) তখন উসামাকে সংবাদ নিতে পাঠালেন; তিনি গিয়ে তাঁর পিতা যায়দকে দেখতে পেলেন যিনি নবী (সা.)-এর উষ্ট্রীর পিঠে চড়ে সুসংবাদদাতা হিসেবে এসেছেন। তাঁরা বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যতক্ষণ না তাঁদের সচক্ষে উপস্থিত হতে দেখলেন।
55 - আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নূহ ইবনে হাকিম আস-সাকাফী—যিনি কুরআনের একজন ক্বারী ছিলেন—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বনু উরওয়া ইবনে মাসউদের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাকে দাউদ বলা হয় এবং যাঁকে উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান জন্ম দিয়েছেন। তিনি লায়লা বিনতে কানিফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমের ইন্তেকালের সময় যাঁরা তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন আমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তাঁর কাফনের কাপড়ের মধ্য হতে আল্লাহর রাসূল (সা.) সর্বপ্রথম আমাদের যা প্রদান করেছিলেন তা হলো ইজার বা কোমরবন্ধ।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
(وَمِمَّنْ مَاتَ فِي عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار مِمَّن حدث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم 56 - إِيَاس بن معَاذ الْأَشْهَل الأوسي الْمدنِي وَأَبُو أُمَامَة أسعد بْن زُرَارَة الْأنْصَارِيّ الْمدنِي
57 - وَمِنْهُم الْبَراء بْن معْرور بْن صَخْر بْن خنساء الْأنْصَارِيّ شهد الْعقبَة سيد بنى سَلمَة وَكَبِيرهمْ
58 - حَدثنِي عبد الله المسندي ثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ الله يَقُول شهد خالاي عقبَة قَالَ سُفْيَانُ أَحَدُهُمَا الْبَرَاءُ بْنُ مَعْرُورٍ
59 - وَمِنْهُم عُثْمَان بْن مَظْعُون أَبُو السَّائِب الْقرشِي الجُمَحِي وَقَالَ اللَّيْث بْن سعد شهد بَدْرًا وَكَانَت بدر فِي رَمَضَان بعد مقدم النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَة بِسِتَّة وَأشهر
60 - حَدثنِي الحكم بن نَافِع أخبرنَا شُعَيْب عَن الزُّهْرِيّ حَدَّثَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ أُمَّ الْعَلاءِ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِمْ قَدْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عُثْمَانَ بن مَظْعُون كَانَ لَهُمْ فِي سَهْمِهِ السُّكْنَى حِينَ أَقْرَعَتِ الأَنْصَارُ سُكْنَى الْمُهَاجِرِينَ قَالَتْ أُمُّ الْعَلاءِ فَسَكَنَ عِنْدَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ فَاشْتَكَى فَمَرَّضْنَاهُ حَتَّى إِذَا تُوُفِّيَ وَجَعَلْنَاهُ فِي ثِيَابِهِ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقلت رَحْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ بِشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ فَقَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّ اللَّهَ أَكْرَمَهُ فَقُلْتُ لَا أَدْرِي بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أما عُثْمَانُ فَقَدْ جَاءَهُ وَاللَّهِ الْيَقِينُ وَإِنِّي لأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِهِ قَالَتْ فَوَاللَّهِ لَا أُزَكِّي بَعْدَهُ أَحَدًا أَبَدًا وَأَحْزَنَنِي ذَلِكَ قَالَتْ فَنِمْتُ فَرَأَيْتُ لِعُثْمَانَ عَيْنًا تَجْرِي فَجِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ ذَلِكَ عَمَلُهُ
(মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইন্তেকাল করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা (حدث) করেছেন) ৫৬ - ইয়াস বিন মুআয আল-আশহাল আল-আওসি আল-মাদানি এবং আবু উমামাহ আসআদ বিন যুরারাহ আল-আনসারি আল-মাদানি।
৫৭ - এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আল-বারা বিন মা’রুর বিন সাখর বিন খানসা আল-আনসারি; তিনি আকাবায় উপস্থিত ছিলেন এবং বনু সালামার নেতা ও প্রধান ছিলেন।
৫৮ - আবদুল্লাহ আল-মুসনাদি আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা (ثنا) করেছেন আমর থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন যে: "আমার দুই মামা আকাবায় উপস্থিত ছিলেন।" সুফিয়ান বলেন: "তাঁদের একজন ছিলেন আল-বারা বিন মা’রুর।"
৫৯ - এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন উসমান বিন মাজউন আবুস সাইব আল-কুরাইশি আল-জুমাহি। লাইস বিন সাদ বলেন: "তিনি বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন; আর বদর (যুদ্ধ) সংঘটিত হয়েছিল রমজান মাসে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনায় আগমনের ছয় মাস ও কয়েক মাস পরে।"
৬০ - আল-হাকাম বিন নাফি আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ (أخبرنا) দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি বলেন যে খারিজাহ বিন যায়িদ আল-আনসারি আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন যে, উম্মুল আলা—যিনি তাঁদের গোত্রের একজন নারী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন—তাকে জানিয়েছেন যে, আনসাররা যখন মুহাজিরদের বাসস্থানের জন্য লটারি করেছিল, তখন উসমান বিন মাজউন লটারিতে তাদের ভাগে পড়েছিলেন। উম্মুল আলা বলেন: "উসমান বিন মাজউন আমাদের বাড়িতে থাকতে শুরু করলেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করি। অবশেষে যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং আমরা তাঁকে তাঁর কাপড়ে (কাফন) আবৃত করলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, 'হে আবুস সাইব, আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন।' তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, 'তুমি কীভাবে জানলে যে আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন?' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি (প্রকৃতপক্ষে) জানি না।' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'উসমানের ব্যাপারে কথা হলো, আল্লাহর কসম, তাঁর নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) এসে পৌঁছেছে এবং আমি তাঁর জন্য মঙ্গলের আশা করি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না তাঁর সাথে কী করা হবে।' উম্মুল আলা বলেন, 'আল্লাহর কসম, এরপর আমি আর কখনোই কাউকে পবিত্র বা ত্রুটিমুক্ত সাব্যস্ত (أزكي) করব না।' এই বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করল। তিনি (উম্মুল আলা) বলেন, 'এরপর আমি ঘুমালাম এবং স্বপ্নে উসমানের জন্য একটি প্রবহমান ঝরনা দেখলাম। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁকে তা জানালাম। তিনি বললেন, তা ছিল তাঁর নেক আমল'।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢١)
61 - وَمِنْهُم عبد اللَّه بْن عَمْرو بْن حرَام الْأنْصَارِيّ الْمدنِي وَالِد جَابر قتل يَوْم أحد كنيته أَبُو جَابر
62 - وَمِنْهُم مُصعب بْن عُمَيْر أَخُو بني عبد الدَّار بْن قصي الْقرشِي قدم الْمَدِينَة قبل النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقتل يَوْم أحد
63 - وَمِنْهُم أَبُو سَلمَة عبد الله بن عبد الْأسد بن هِلَال بن عبد الله بن عَمْرو بن محزوم بْن يقظة بْن مرّة بْن كَعْب الْأَسدي
64 - حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس حَدَّثَنِي أَخِي عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بن أَفْلح عَن أبي سَفِينَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ حَدَّثَهَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَنْ قَالَ عِنْدَ مُصِيبَةٍ إِنَّا للَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا آجَرَهُ اللَّهُ وَأَخْلَفَ عَلَيْهِ خَيْرًا مِنْهَا قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ ذَكَرْتُ ذَلِكَ وَأَرَدْتُ أَنْ أَقُولَهُ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي وَمَنْ خَيْرٌ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ ثُمَّ أَبَتْ نَفْسِي حَتَّى قُلْتُهَا قَالَت فَأَخْلَفَ اللَّهُ لِي بِهِ رَسُولَهُ
61 - এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম আল-আনসারী আল-মাদানী, যিনি জাবিরের পিতা; তিনি উহুদের যুদ্ধে নিহত (قتل) হন, তাঁর উপনাম (كنية) আবু জাবের।
62 - এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন মুসআব ইবনে উমায়ের, বনু আবদুদ দার ইবনে কুসাই কুরাইশীর ভ্রাতা; তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের পূর্বে মদীনায় আগমন করেন এবং উহুদের যুদ্ধে নিহত (قتل) হন।
63 - এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু সালামাহ আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল আসাদ ইবনে হিলাল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মাখজুম ইবনে ইয়াকাজা ইবনে মুররাহ ইবনে কাব আল-আসাদী।
64 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস, তিনি বলেন: আমার ভাই সুলাইমান থেকে (عن) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি সাদ ইবনে সাঈদ ইবনে কায়স থেকে (عن), তিনি উমর ইবনে কাসীর ইবনে আফলাহ থেকে (عن), তিনি আবু সাফীনা থেকে (عن), তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন যে, আবু সালামাহ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (عن) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثها) যে: "বিপদের সময় যে ব্যক্তি বলে—'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী; হে আল্লাহ! আমাকে আমার বিপদে সওয়াব দান করুন এবং আমাকে এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন'—আল্লাহ তাকে সওয়াব দান করেন এবং তাকে এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান দান করেন।" উম্মে সালামাহ বলেন: যখন আবু সালামাহ ইন্তেকাল করলেন, আমি তা স্মরণ করলাম এবং তা বলতে চাইলাম, কিন্তু মনে মনে বললাম, আবু সালামাহর চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? অতঃপর আমার মন সায় দিচ্ছিল না, অবশেষে আমি তা বললাম। তিনি বলেন: ফলে আল্লাহ আমাকে এর বিনিময়ে তাঁর রাসুলকে (স্বামী হিসেবে) দান করলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
65 - وَمِنْهُم سعد بْن معَاذ أَبُو عَمْرو الأشْهَلِي الْأنْصَارِيّ الْمدنِي خرج يَوْم الخَنْدَق فَمَاتَ بعد قُرَيْظَة فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم اهتز الْعَرْش لمَوْت سعد
66 - حَدثنَا أَبُو نعيم حَدثنَا بن غَسِيلٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ قَالَ لَمَّا أُصِيبَ أَكْحَلُ سَعْدٍ يَوْمَ الْخَنْدَقِ فَثَقُلَ حَوَّلُوهُ عِنْدَ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا رُفَيْدَةُ حَتَّى كَانَتِ اللَّيْلَةُ الَّتِي نَقَلَهُ قَوْمُهُ إِلَى بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا قَدِ انْطَلَقُوا بِهِ وَخَرَجْنَا مَعَهُ فَأَسْرَعَ الْمَشْيَ حَتَّى تَقَطَّعَتْ شُسُوعُ نِعَالِنَا وَسَقَطَتْ أَرْدِيَتُنَا عَنْ أَعْنَاقِنَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَمَلْنَا مَيْتًا أَخَفَّ مِنْ سَعْدٍ فَقَالَ وَمَا يَمْنَعُكُمْ وَقَدْ هَبَطَ مِنَ الْمَلائِكَةِ كَذَا وَكَذَا عِدَّةٌ كَثِيرَةٌ حَمَلُوهُ مَعَكُمْ
67 - وَمِنْهُم جَعْفَر بْن أبي طَالب الْهَاشِمِي الْقرشِي أَخُو عَليّ قتل يَوْم مُؤْتَة قبل فتح مَكَّة وَمن الْأَنْصَار ثَعْلَبَة بْن سعية وَأسيد بْن سعية وَأسد بْن عُبَيْدَة
65 - তাঁদের মধ্যে সাদ ইবনে মুআজ আবু আমর আল-আশহালি আল-আনসারি আল-মাদানি অন্যতম। তিনি খন্দক যুদ্ধের দিন বের হয়েছিলেন এবং বনু কুরাইজা যুদ্ধের পর ইন্তেকাল করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “সাদের মৃত্যুতে আরশ প্রকম্পিত হয়েছিল।”
66 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নুআইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে গাসিল, তিনি আসিম ইবনে উমর থেকে (عن), তিনি মাহমুদ ইবনে লাবিদ থেকে (عن) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: খন্দক যুদ্ধের দিন যখন সাদের শাহ-রগ আহত হলো এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ল, তখন লোকজন তাঁকে রুফাইদাহ নাম্নী এক মহিলার নিকট স্থানান্তর করল। যে রাতে তাঁর গোত্রের লোকেরা তাঁকে বনু আবদিল আশহালের নিকট নিয়ে যাচ্ছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন। সাহাবীগণ বললেন, তারা তাঁকে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গিয়েছে। তখন আমরা নবীজীর সাথে বের হলাম এবং তিনি এত দ্রুত হাঁটছিলেন যে আমাদের জুতার ফিতা ছিঁড়ে যাচ্ছিল এবং আমাদের কাঁধ থেকে চাদর পড়ে যাচ্ছিল। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাদের চেয়ে হালকা কোনো মৃতদেহ কখনো বহন করিনি। তিনি বললেন: “তোমাদের এমনটি মনে হতে বাধা কোথায়, অথচ নির্দিষ্ট সংখ্যক বিপুল পরিমাণ ফেরেশতা অবতরণ করেছেন যারা তোমাদের সাথে তাঁকে বহন করছেন।”
67 - তাঁদের মধ্যে জাফর ইবনে আবি তালিব আল-হাশিমী আল-কুরাশি অন্যতম, যিনি আলীর ভাই। তিনি মক্কা বিজয়ের পূর্বে মুতার যুদ্ধে শহীদ হন। আর আনসারদের মধ্য থেকে ছিলেন সালাবাহ ইবনে সাইয়্যাহ, উসাইদ ইবনে সাইয়্যাহ এবং আসাদ ইবনে উবাইদাহ।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
68 - وَمِنْهُم زيد بْن حَارِثَة بْن شرَاحِيل بْن عبد الْعُزَّى مولى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَيُقَال إِنَّه من كلب من الْيمن وَالِد أُسَامَة قَالَ بن عمر مَا كُنَّا نَدْعُو زيدا إِلَّا بن مُحَمَّد حَتَّى نزلت ادعوهُمْ لِآبَائِهِمْ قتل يَوْم مُؤْتَة
69 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ وَاقِدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حميد بن هِلَال عَن أنس رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَعَى زَيْدًا وَجَعْفَرًا وَابْنَ رَوَاحَةَ لِلنَّاسِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَهُمْ خَبَرُهُمْ فَقَالَ أَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدٌ فَأُصِيبَ ثمَّ أَخذ جَعْفَر فأصيب ثمَّ أَخذ بن رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ حَتَّى أَخَذَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ الله حَتَّى فتح الله عَلَيْهِم
70 - وَمِنْهُم عبد اللَّه بْن رَوَاحَة الْأنْصَارِيّ قتل يَوْم مُؤْتَة
71 - حَدثنَا عبد الله بن صَالح حَدثنِي اللَّيْث حَدثنِي يُونُس عَن بن شهَاب حَدَّثَنِي الْهَيْثَمُ بْنُ أَبِي سِنَانٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه وَهُوَ يقص وَيَقُول فِي قَصَصِهِ وَهُوَ يَذْكُرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَخًا لَكُمْ لَا يَقُول الرَّفَث يعْنى بذلك بن رَوَاحَة قَالَ وَفينَا رَسُولُ اللَّهِ يَتْلُو كِتَابَهُ إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الصُّبْحِ سَاطِعُ أَرَانَا الْهُدَى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبنَا بِهِ مُوقِنَات إِن مَا قَالَ وَاقِعُ يَبِيتُ يُجَافِي جَنْبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ إِذَا استثقلت بالكافرين الْمضَاجِع
68 - আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন যায়দ ইবনে হারিসাহ ইবনে শুরাহীল ইবনে আবদিল উযযা, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস (مولى)। বলা হয় যে, তিনি ইয়ামানের কালব গোত্রের লোক ছিলেন। তিনি উসামার পিতা। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "আমরা যায়দকে 'যায়দ ইবনে মুহাম্মদ' ছাড়া অন্য কিছু বলে ডাকতাম না, যতক্ষণ না (কুরআনের এই আয়াত) নাজিল হলো— 'তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো'।" তিনি মুতার যুদ্ধে শহীদ হন।
69 - আহমদ ইবনে আবদিল মালিক ইবনে ওয়াকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়দ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি হুমায়দ ইবনে হিলাল থেকে এবং তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ, জাফর ও ইবনে রাওয়াহার শাহাদাতের সংবাদ লোকজনের নিকট পৌঁছানোর আগেই তাদের তা অবহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "যায়দ পতাকা গ্রহণ করল এবং সে শহীদ হলো, তারপর জাফর পতাকা নিল এবং সেও শহীদ হলো, এরপর ইবনে রাওয়াহা পতাকা নিল এবং সেও শহীদ হলো; অবশেষে আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্য থেকে এক তলোয়ার (খালিদ বিন ওয়ালিদ) তা গ্রহণ করল এবং আল্লাহ তাদের বিজয় দান করলেন।"
70 - আর তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা আল-আনসারি; তিনি মুতার যুদ্ধে শহীদ হন।
71 - আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-লাইস থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে এবং তিনি আল-হায়সাম ইবনে আবি সিনান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আলোচনা করতে শুনেছেন; তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা উল্লেখ করে বলছিলেন, "তোমাদের এক ভাই কোনো অশ্লীল কথা (الرفث) বলতেন না," এর দ্বারা তিনি ইবনে রাওয়াহাকে উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি (ইবনে রাওয়াহা) বলেছিলেন— "আমাদের মাঝে আল্লাহর রাসূল বিদ্যমান, যিনি সুবহে সাদিকের উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা প্রকাশিত হওয়ার সময় তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করেন। তিনি আমাদের অন্ধত্বের পর হেদায়েত দেখিয়েছেন, তাই আমাদের অন্তরসমূহ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, তিনি যা বলেছেন তা অবশ্যই ঘটবে। তিনি রাত অতিবাহিত করেন তাঁর পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা রেখে, যখন কাফিরদের শয্যাগুলো নিদ্রার ভারে ভারী হয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
72 - حَدثنِي إِسْحَاق بن الْعَلَاء حَدثنَا عَمْرو بن الْحَارِث حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ نَحْوَهُ
73 - وَمِنْهُم عبيد أَبُو عَامر الْأَشْعَرِيّ قتل أَيَّام حنين قبل وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِأَقَلّ من سنتَيْن
74 - حَدثنَا عَليّ حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَبْدِ الله بن نعيم حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَرْزَبٍ الأَشْعَرِيُّ أَنَّ أَبَا مُوسَى حَدَّثَهُمْ قَالَ لَمَّا هَزَمَ اللَّهُ هَوَازِنَ بِحُنَيْنٍ عَهِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأبي عَامر فَأدْرك بن دُرَيْدِ بْنِ الصِّمَّةِ أَبَا عَامِرٍ فَقَتَلَهُ وَشَدَّ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ على بن دُرَيْد فَقتله فَقَالَ اللَّهُمَّ عَبدك عبيد أَبَا عَامِرٍ اجْعَلْهُ فِي الأَكْثَرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
75 - وَمِنْهُم رَافع الزرقي وَالِد رِفَاعَة الْأنْصَارِيّ وَهُوَ قديم الْمَوْت فَلَا أَدْرِي مَتى مَاتَ
76 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَان بن حَرْب حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ مِنْ أَهْلِ الْعَقَبَةِ وَكَانَ يَقُولُ لابْنِهِ مَا يَسُرُّنِي أَنِّي شَهِدْتُ بَدْرًا بِالْعَقَبَةِ قَالَ سَأَلَ جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ أَهْلُ بَدْرٍ فِيكُم قَالَ خيارنا قَالَ كَذَلِك من شهِدت بَدْرًا هُمْ خِيَارُ الْمَلائِكَةِ
72 - আমাকে ইসহাক বিন আল-আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমর বিন আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট আবদুল্লাহ বিন সালিম বর্ণনা করেছেন, তিনি জুবাইদী থেকে, তিনি বলেন আমাকে মুহাম্মদ বিন মুসলিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব এবং আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরাইরা (রা.) থেকে এর অনুরূপ (نحوه) বর্ণিত হয়েছে।
73 - আর তাদের মধ্যে ওবাইদ আবু আমির আল-اشعরিও রয়েছেন, যিনি হুনাইনের যুদ্ধের দিনগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের দুই বছরেরও কম সময় আগে শহীদ হন।
74 - আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন নুআইম থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট দাহহাক বিন আবদুর রহমান বিন আরজাব আল-আশআরি বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা (রা.) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ যখন হুনাইনের যুদ্ধে হাওয়াজিন গোত্রকে পরাজিত করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু আমিরের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেন। অতঃপর দুরাইদ বিন আল-সিম্মার পুত্র আবু আমিরকে পেয়ে তাকে শহীদ করে। তখন আবু মুসা আল-আশআরি দুরাইদ বিন আল-সিম্মার পুত্রের ওপর আক্রমণ করেন এবং তাকে হত্যা করেন। এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ওবাইদ আবু আমিরকে কিয়ামতের দিন মকামের উচ্চতার দিক থেকে অধিক সংখ্যাগুরুদের অন্তর্ভুক্ত করুন।"
75 - এবং তাদের মধ্যে রাফি' আয-যুরাকি রয়েছেন, যিনি রিফায়া আল-আনসারির পিতা; তিনি প্রাচীনকালে মৃত্যুবরণকারী (قديم الموت), তাই আমি জানি না তিনি ঠিক কখন মৃত্যুবরণ করেছেন।
76 - আমাদের নিকট সুলাইমান বিন হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি মুয়াজ বিন রিফায়া বিন রাফি' থেকে, যিনি আকাবাবাসীদের (أهل العقبة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তার পুত্রকে বলতেন: আকাবার শপথের পরিবর্তে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া আমার নিকট অধিক আনন্দের বিষয় হতো না। তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনাদের মধ্যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মর্যাদা কেমন? তিনি বললেন: তারা আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম (خيارنا)। জিবরাঈল (আ.) বললেন: একইভাবে ফেরেশতাদের মধ্যে যারা বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তারাও সর্বোত্তম।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
77 - وَمِنْهُم أنيس الْغِفَارِيّ أَخُو أبي ذَر وَلَا أَدْرِي مَتى مَاتَ وروى سعيد بْن الصَّلْت عَن سُهَيْل بن بَيْضَاء وَهُوَ مُرْسل لم يدْرك سعيد زمن النَّبِي صلى الله عليه وسلم
78 - وَمَات سُهَيْل فِي عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْبَيْضَاء أمه الفِهري الْقرشِي
79 - حَدثنَا عَبْدَانِ أخبرنَا عبد الله أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ حَمْزَةَ أَنَّ عَبَّادَ بْنَ عَبْدِ الله بن الزبير أخبرهُ أَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَتْ مَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم على سُهَيْل بن بَيْضَاء إِلَّا فِي جَوف الْمَسْجِد
80 - وَمِنْهُم مُصعب بْن عُمَيْر الْقرشِي أَخُو بني عبد الدَّار قتل يَوْم أحد سَمِعت أَبَا مُحَمَّد الْكُوفِي يَقُول لما أَرَادَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن يُهَاجر سمعُوا صَوتا بِمَكَّة يَقُول إِن يسلم السعدان يصبح مُحَمَّد عَن الْأَمْن لَا يخْشَى خلاف الْمُخَالف قَالَ فَقَالَت قُرَيْش لَو علمنَا من السعدان لفعلنَا وَفعلنَا قَالَ فَسَمِعُوا من الْقَائِل وَهُوَ يَقُول فيا سعد سعد الْأَوْس كن أَنْت مَانِعا وَيَا سعد سعد الخزرجين الغطارف أجيبا إِلَى دَاعِي الْهدى وتمنيا على الله فِي الفردوس زلفة عَارِف
81 - يَعْنِي سعد بْن معَاذ وَسعد بْن عبَادَة والغطارف الْكِرَام
77 - তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন উনাইস আল-গিফারি, আবু যার-এর ভাই। তিনি কবে মৃত্যুবরণ করেছেন তা আমার জানা নেই। সাঈদ বিন আস-সালত সুহাইল বিন বায়দা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل); সাঈদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পাননি।
78 - সুহাইল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মৃত্যুবরণ করেন। আল-বায়দা ছিলেন তার মা। তিনি আল-ফিহরি আল-কুরাশি।
79 - আবদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা বিন উকবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ বিন হামজাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের তাকে জানিয়েছেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের ভেতর ছাড়া সুহাইল বিন বায়দার জানাজার সালাত আদায় করেননি।
80 - তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুসআব বিন উমাইর আল-কুরাশি, বনু আবদ আদ-দারের ভাই। তিনি ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। আমি আবু মুহাম্মাদ আল-কুফিকে বলতে শুনেছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করতে চাইলেন, তখন মক্কায় এক অদৃশ্য আগন্তুকের আওয়াজ শোনা গেল যা বলছিল: "যদি দুই সাদ ইসলাম গ্রহণ করে, তবে মুহাম্মদ নিরাপত্তায় থাকবেন এবং বিরোধীদের বিরোধিতাকে আর ভয় করবেন না।" বর্ণনাকারী বলেন, কুরাইশরা বলল: আমরা যদি জানতাম এই দুই সাদ কারা, তবে আমরা এই এই করতাম। তিনি বলেন, এরপর তারা সেই বক্তাকে বলতে শুনল: "হে আউস বংশের সাদ, তুমি রক্ষক হও! আর হে খাযরাজ বংশের মহান নেতা সাদ! তোমরা উভয়েই হিদায়াতের আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দাও এবং আল্লাহর নিকট জান্নাতুল ফিরদাউসে প্রাজ্ঞজনের মতো উচ্চ মর্যাদা কামনা করো।"
81 - অর্থাৎ সাদ বিন মুআয এবং সাদ বিন উবাদাহ। আর 'আল-গাতারীফ' অর্থ সম্মানিত ও মহৎ ব্যক্তিগণ।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
82 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ مَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ حَتَّى أَتَيْنَا الْمَدِينَةَ لَيْلا فَنَازَعَهُ الْقَوْمُ أَيُّهُمْ يَنْزِلُ عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنِّي أَنْزِلُ اللَّيْلَةَ عَلَى بَنِي النَّجَّارِ أُكْرِمُهُمْ بِذَلِكَ فَخَرَجَ النَّاسُ حِينَ دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ فِي الطَّرِيقِ عَلَى الْبُيُوتِ وَالْغِلْمَانُ وَالْخَدَمُ يَقُولُونَ اللَّهُ أَكْبَرُ جَاءَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ اللَّهُ أَكْبَرُ جَاءَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَبَاتَ عِنْدَ بَنِي النَّجَّارِ فَلَمَّا أَصْبَحَ انْطَلَقَ حَتَّى نَزَلَ حَيْثُ أُمِرَ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ الآيَةَ قَالَ الْبَرَاءُ وَكَانَ أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنَ الْمُهَاجِرِينَ مُصْعَبَ بْنَ عُمَيْرٍ أَخُو بَنِي عَبْدِ الدَّارِ بْنِ قُصَيٍّ فَقُلْتُ لَهُ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هُوَ مَكَانُهُ وَأَصْحَابُهُ عَلَى أَثَرِي ثُمَّ أَتَانَا بَعْدَهُ عَمْرُو بْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ أَخُو بَنِي فِهْرٍ فَقَالَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ فَقَالَ هم أولاء عَلَى أَثَرِي ثُمَّ أَتَانَا بَعْدَهُ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بن مَسْعُود وبلال ثمَّ أَتَانَا بعده عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي عِشْرِينَ رَاكِبًا ثُمَّ أَتَانَا بعدهمْ رَسُول اله صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ مَعَهُ قَالَ الْبَرَاءُ فَلَمْ يَقْدَمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ حَتَّى قَرَأْتُ سُوَرًا مِنَ الْمُفَصَّلِ ثُمَّ خَرَجْنَا نَتَلَقَّى الْعِيرَ فَوَجَدْنَا قد نذروا
82 - আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযেব থেকে এবং তিনি আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাত্রা করলেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম। অবশেষে আমরা রাতের বেলা মদিনায় পৌঁছলাম। তখন গোত্রের লোকেরা নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করতে লাগল যে, তিনি কার মেহমান হবেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি আজ রাতে বনু নাজ্জারের এখানে অবস্থান করব এবং এর মাধ্যমে আমি তাদের সম্মানিত করব।" যখন আমরা মদিনায় প্রবেশ করলাম, তখন মানুষজন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে এল এবং কিশোর ও সেবকরা বলতে লাগল: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ এসেছেন; আল্লাহু আকবার, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ এসেছেন।" তিনি বনু নাজ্জারের নিকট রাত কাটালেন। যখন সকাল হলো, তিনি রওয়ানা হলেন এবং যেখানে তাঁকে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেখানে অবতরণ করলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ষোল বা সতেরো মাস পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন: "নিশ্চয়ই আমি আকাশের দিকে আপনার বারবার মুখ ফিরানো লক্ষ্য করি" (আয়াত)। বারা (রা.) বলেন, মুহাজিরদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের নিকট আগমন করেন বনু আবদুদ দার ইবনে কুসাই গোত্রের ভাই মুসআব ইবনে উমাইর। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কী অবস্থায় আছেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর পূর্বের স্থানেই আছেন এবং সাহাবীরা আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আসছেন। এরপর আমাদের নিকট বনু ফিহর গোত্রের ভাই আমর ইবনে উম্মে মাকতুম আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীরা কী অবস্থায় আছেন? তিনি বললেন, তারা সবাই আমার পেছনেই আছেন। এরপর আম্মার ইবনে ইয়াসির, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং বিলাল আমাদের নিকট আসলেন। অতঃপর বিশজন আরোহীসহ উমর ইবনুল খাত্তাব আমাদের নিকট আসলেন। এরপর তাঁদের পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং আবু বকর (রা.) তাঁর সাথে ছিলেন। বারা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় পৌঁছানোর পূর্বেই আমি মুফাসসাল (المفصل) অংশের অনেকগুলো সূরা পড়ে ফেলেছিলাম। অতঃপর আমরা কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার সাথে সাক্ষাত করতে বের হলাম এবং দেখলাম তারা আমাদের আগমনের ব্যাপারে জানতে পেরে সতর্ক হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
(وَفَاة رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم 83 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيّ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ كَانَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي لَهُمْ فِي وَجَعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ حَتَّى كَانَ يَوْمُ الاثْنَيْنِ وَهُمْ صُفُوفٌ فِي الصَّلاةِ كَشَفَ سِتْرَ الْحُجْرَةِ وَيَنْظُرُ إِلَيْنَا وَهُوَ قَائِمٌ كَأَن وَجْهَهُ وَرَقَةُ مُصْحَفٍ فَهَمَمْنَا أَنْ نَفْتَتِنَ فِي الصَّلاةِ وَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى عَقِبَيْهِ وَظَنَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَارِجٌ إِلَيْنَا تَبَسَّمَ وَأَشَارَ إِلَيْنَا أَتِمُّوا صَلاتَكُمْ وأرخى السّتْر وَتوفى من يَوْمه
84 - حَدثنَا بن بكير حَدثنَا اللَّيْث عَن عقيل عَن بن شهَاب أَخْبَرَنِي أَنَسٌ قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي صَلاةِ الْفَجْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي كَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتْرَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ بِمَعْنَاهُ وَتوفى آخر ذَلِك الْيَوْم
85 - أخبرنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ مُوسَى بن عقبَة قَالَ بن شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بن ثَلَاث وَسِتِّينَ قَالَ بن شِهَابٍ وَحَدَّثَنِي مِثْلَ ذَلِكَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত) 83 - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, শুআইব আমাদের নিকট আয-যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে অসুস্থতায় তিনি ইন্তেকাল করেন, তাতে আবু বকর তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। অবশেষে যখন সোমবার এল এবং তারা সালাতের কাতারে দণ্ডায়মান ছিলেন, তখন তিনি হুজরার পর্দা উন্মোচন করলেন এবং আমাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর চেহারা যেন মুসহাফের একটি পাতার মতো (স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল) ছিল। এতে আমরা সালাতের মধ্যে বিভ্রান্ত (বিচ্যুতির আশঙ্কায়) হওয়ার উপক্রম হলাম। আবু বকর তাঁর গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে পিছু হঠলেন এবং তিনি মনে করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে আমাদের নিকট বের হয়ে আসছেন। তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমাদের দিকে ইশারা করলেন যে, তোমাদের সালাত পূর্ণ করো। এরপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন এবং ওই দিনই ইন্তেকাল করলেন।
84 - ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), লায়স আমাদের নিকট উকাইল থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইবনে শিহাব থেকে, আনাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যে, যখন লোকগণ ফজরের সালাতে ছিলেন এবং আবু বকর সালাত আদায় করাচ্ছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার হুজরার পর্দা উন্মোচন করলেন—একই অর্থে (بمعناه) এবং তিনি ওই দিনের শেষভাগে ইন্তেকাল করলেন।
85 - ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে উকবা আমার নিকট মুসা ইবনে উকবা থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), ইবনে শিহাব বলেন, উরওয়া ইবনে যুবাইর আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা থেকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইবনে শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিবও আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (حدثني)।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
86 - حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عقبَة عَن بن شهَاب عَن عُرْوَة عَن عَائِشَة رضي الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم توفى وَهُوَ بن ثَلَاث وَسِتِّينَ سنة
87 - حَدثنِي يحيى بن بكير حَدثنِي اللَّيْث عَن عقيل عَن بن شهَاب مثله
88 - حَدثنِي عُثْمَان بن أبي شيبَة حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى الأَنْصَارِيُّ عَنْ يُونُسَ عَن بن شهَاب مثله
89 - حَدثنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ شَيْبَانَ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ وَابْنُ عَبَّاسٍ قَالا لَبِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة عشر عَشْرَ سِنِينَ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا
90 - حَدثنَا حجاج حَدثنَا عَن أبي جبرة عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ أَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ سَنَةً يُوحَى إِلَيْهِ وَبِالْمَدِينَةِ عشر سِنِين وَمَات وَهُوَ بن ثَلَاث وَسِتِّينَ
91 - حَدثنِي مطر بن الْفضل حَدثنَا روح حَدثنَا هِشَام حَدثنَا عِكْرِمَة عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأربعين سنة وَمكث بِمَكَّة ثَلَاثَة عشر يُوحَى إِلَيْهِ ثُمَّ أَمَرَ بِالْهِجْرَةِ فَهَاجَرَ عَشْرَ سِنِين وَمَات وَهُوَ بن ثَلاثٍ وَسِتِّينَ وَعَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدثنَا عمر بن دِينَار عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما مَكَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ ثَلَاثَة عشر وَتُوفِّي وَهُوَ بن ثَلَاث وَسِتِّينَ
86 - ইব্রাহিম ইবনুল মুনযির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ্ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
87 - ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আল-লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন।
88 - উসমান ইবনে আবি শাইবাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তালহা ইবনে ইয়াহইয়া আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন।
89 - উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি শাইবান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرتني), তাঁরা উভয়ই বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন যখন তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন।
90 - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আবু জাবরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন যখন তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
91 - মাতার ইবনুল ফজল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), রাওহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইকরিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রদান করা হয় এবং তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন যখন তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতো। অতঃপর তাঁকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে তিনি দশ বছর হিজরত অবস্থায় (মদীনায়) কাটান এবং তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এবং জাকারিয়া ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনে দীনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারীখুল আওসাত
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
92 - حَدثنِي عَمْرو بن على حَدثنَا يزِيد بن زُرَيْع حَدثنَا هِشَام حَدثنِي عِكْرِمَة عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بن ثَلاثٍ وَسِتِّينَ سَنَةً
93 - وَعَن مُحَمَّد بْن أبي عدي حَدثنَا هِشَام حَدثنِي عِكْرِمَة عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بن ثَلَاث وَسِتِّينَ
94 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو قُلْتُ لِعُرْوَةَ كَمْ لَبِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ قَالَ عشر سِنِين قلت إِن عَبَّاسٍ يَقُولُ بِضْعَ عَشْرَةَ سَنَةً قَالَ شَيْئًا كَرِهْنَاهُ وَقَالَ إِنَّمَا أَخَذَ بِقَوْلِ الشَّاعِرِ فَمَقْتُهُ عَلَيْهِ
95 - وَقَالَ عمار بْن أبي عمار عَن بن عَبَّاس توفّي النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بن خمس وَسِتِّينَ وَلَا يُتَابع عَلَيْهِ وَكَانَ شُعْبَة يتَكَلَّم فِي عمار
96 - وروى الْعَلَاء بْن صَالح عَن الْمنْهَال بن سعيد عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما أنزل على النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة عشر سِنِين وَخمْس وَأكْثر وَلم يُوَافق عَلَيْهِ الْعَلَاء
92 - আমর ইবনে আলী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হিশাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইকরিমা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেষট্টি বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন।
93 - এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবি আদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইকরিমা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেষট্টি বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন।
94 - আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর বলেন, আমি উরওয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় কত বছর অবস্থান করেছিলেন? তিনি বললেন: দশ বছর। আমি বললাম, ইবনে আব্বাস তো দশ বছরের অধিক (بضع عشرة سنة) সময়ের কথা বলেন। তিনি বললেন: এটি এমন এক কথা যা আমরা অপছন্দ করেছি। তিনি আরও বললেন: তিনি মূলত একজন কবির উক্তি গ্রহণ করেছেন এবং এর কারণে তাকে ঘৃণা করা হয়েছে।
95 - এবং আম্মার ইবনে আবি আম্মার ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঁয়ষট্টি বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। তবে এই বর্ণনার কোনো সমর্থন পাওয়া যায় না (لا يتابع عليه), এবং শু'বাহ্ আম্মারের ব্যাপারে সমালোচনা করতেন (يتكلم فيه)।
96 - আলা ইবনে সালেহ্, মিনহাল ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মক্কায় দশ বছর এবং আরও পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ওহি অবতীর্ণ হয়েছে। তবে আলার এই বর্ণনার সাথে ঐকমত্য পোষণ করা হয়নি (لم يوافق عليه)।