(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: -)
المقدمة في الأصول - ابن القصار - ط العلمية   (ابن القصار)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: مقدمة في أصول الفقه

(مطبوعة غلطا في صدر الإشارة في أصول الفقه للباجي)

المؤلف: ابن القصار المالكي

المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 42

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو الحجة 1442

উসূল শাস্ত্রের ভূমিকা - ইবনুল কাসসার - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (ইবনুল কাসসার)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


গ্রন্থ: উসূল আল-ফিকহ শাস্ত্রের ভূমিকা

(ইমাম বাজির 'আল-ইশারা ফী উসূলিল ফিকহ' গ্রন্থের শুরুতে ভুলবশত মুদ্রিত)

লেখক: ইবনুল কাসসার আল-মালিকী

সম্পাদক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুলহিজ্জাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

"الحمدُ للَّه الَّذِي هَدَانَا إِلَى معرفة سبله، وأرشدنا لمتابعة رسله، وأوضح لنا ما افترضه من عبادته وطاعته، ويسَّر لنا الدلائل على شرعيته، وأجلى ذلك واضحًا في كتابه العزيز الذي: {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)} [فصلت: الآية 42]. وقرن طاعته سبحانه وتعالى بطاعة رسوله الكريم، فقال: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النساء: الآية 59]، ونهى عن مخالفة الرسول، أو جماعة المسلمين، فقال: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (115)} [النساء: الآية 115].

الحمد للَّه الذي جعلنا مؤمنين بالفرقان، متبعين آثار مَنْ مَضى بإحسان وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له شهادة مَن أَخلصَ للَّهِ الطاعة، وأفرده بالعبادة.

وصلّى اللَّه على سيدنا ونبينا محمد، إمام المرسلين، وخاتم النبيين، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد، فإن اللَّه تبارك وتعالى، لما أراد أن يَمْتَحِن عباده، وأن يبتليهم، فرَّق طرق العلم، فجعل منها ظاهرًا جليًّا وباطنًا خفيًّا، ليرفع الذين أوتُوا العلم، كما قال عز وجل: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: الآية 11].

والدليل على أن ذلك كذلك، هو أن الدلائل(1) لو كانت كلها جليَّة ظاهرة لم

--------------------------------------------

(1) جمع دليل، يطلق في اللغة على أمرين: أحدهما: المرشد للمطلوب على معنى أنه فاعل الدلالة ومظهرها، فيكون معنى الدليل الدال "فعيل" بمعنى الفاعل كعليم وقدير مأخوذ من دليل القوم لأنه يرشدهم إلى مقصودهم.

قال القاضي: والدال، ناصب الدلالة ومخترعها وهو اللَّه سبحانه ومن عداه ذاكر الدلالة وعند الباقين الدال ذاكر الدلالة واستبعد إذ الحاكي والمدرس لا يسمى دالًا وهو ذاكر =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর পথসমূহ চেনার তাওফিক দিয়েছেন, তাঁর রসূলগণের অনুসরণের পথ প্রদর্শন করেছেন, আমাদের জন্য তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যের যা কিছু ফরজ করেছেন তা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর শরিয়তের প্রমাণাদি (الدلائل) সহজ করেছেন এবং তা তাঁর মহাগ্রন্থের মাধ্যমে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যাতে: {অসত্য এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না—সামন থেকেও না, পেছন থেকেও না। এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (৪২)} [ফুসসিলাত: আয়াত ৪২]। তিনি তাঁর নিজের আনুগত্যকে তাঁর সম্মানিত রসূলের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন, তাই তিনি ইরশাদ করেছেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রসূলের আনুগত্য করো} [আন-নিসা: আয়াত ৫৯]। এবং রসূলের বিরোধিতা করা অথবা মুসলিম জামাতের বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে নিষেধ করেছেন, তাই তিনি ইরশাদ করেছেন: {কারো কাছে সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যে পথ বেছে নিয়েছে আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস। (১১৫)} [আন-নিসা: আয়াত ১১৫]।”

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ফুরকানের (আল-কুরআন) প্রতি ঈমান আনয়নকারী এবং ইহসানের (إحسان) সাথে পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এই সাক্ষ্য এমন এক ব্যক্তির, যে আল্লাহর জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করেছে এবং ইবাদতকে তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট করেছে।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি রসূলগণের ইমাম এবং নবীগণের সমাপনী; এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যখন তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা ও যাচাই করতে চাইলেন, তখন তিনি ইলমের পথগুলোকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করলেন। তিনি এর কিছু অংশকে প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট এবং কিছু অংশকে অভ্যন্তরীণ ও গোপন রাখলেন, যাতে যাদের ইলম দান করা হয়েছে তাদের মর্যাদা উন্নত করা যায়, যেমনটি মহামহিম আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চ করবেন।} [আল-মুজাদালাহ: আয়াত ১১]।

আর বিষয়টি যে এমনই তার প্রমাণ (الدليل) হলো এই যে, যদি সকল প্রমাণাদি(১) সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য হতো তবে...

--------------------------------------------

(১) এটি ‘দলিল’ (دليل)-এর বহুবচন, যা আভিধানিক অর্থে দুটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়: প্রথমটি হলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের পথপ্রদর্শক; যার অর্থ হলো সে প্রমাণের প্রবর্তক ও তা প্রকাশকারী। সুতরাং ‘দলিল’ (الدليل) শব্দের অর্থ হবে ‘দাল’ (الدال) বা নির্দেশক; যা ‘ফায়ীল’ (فعيل) ওজনে ‘ফায়েল’ (فاعل)-এর অর্থ প্রদান করে, যেমন ‘আলীম’ (عليم) ও ‘কাদীর’ (قدير) শব্দগুলো। এটি কাফেলার পথপ্রদর্শক (دليل القوم) শব্দ থেকে গৃহীত, কারণ সে তাদের গন্তব্যের দিকে পথ দেখায়।

কাজী (আইয়াজ) বলেন: ‘দাল’ (الدال) বা নির্দেশক হলেন প্রমাণের প্রবর্তক ও উদ্ভাবক, আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। তিনি ব্যতীত অন্যরা হলেন প্রমাণের বর্ণনাকারী (ذاكر الدلالة)। অন্যদের মতে, ‘দাল’ (الدال) বা নির্দেশক হলেন প্রমাণের বর্ণনাকারী। তবে এই মতটিকে দুর্বল বিবেচনা করা হয়েছে, কারণ কোনো বর্ণনাকারী বা শিক্ষককে ‘দাল’ (الدال) বা নির্দেশক বলা হয় না, বরং তিনি কেবল একজন বর্ণনাকারী (ذاكر) মাত্র। =
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
يقع التنازع، وارتفع الخلاف، ولم يحتج إلى تدبر ولا اعتمال ولا تفكر، ولبَطَل الابتِلاءَ، ولم يحضر الامتحان، ولا كان للشُّبهة مدخل ولا وَقَعَ شك ولا حسبان ولا ظن، ولا وجد ذُهُول؛ لأن العلم وإن يكون طبعًا، وهذا قياس، فبطل أن تكون العلوم كلها جليَّة، ولو كانت كلها خفيَّة لم يُتَوَصَّل إلى معرفة شيء منها، إذ الخفي لا يعلم بنفسه؛ لأنه لو عُلِم بنفسه لكان جليًّا، وهذا فاسد، أيضًا، فبطل أن تكون كلها خفيَّةَ، وقد قال اللَّه عز وجل: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ} [آل عمران: الآية 7] إلى قوله: {وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} [آل عمران: الآية 7].

وقال عز وجل: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: الآية 83].

وإذا بطل أن يكون العلم كله جليًّا، وبطل أن يكون كله خفيًّا، ثبت أن منه جليًّا ومنه خفيًّا، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ الكَلام فِي وُجُوبِ النَّظَرِ (1)

وجوب النظر والاستدلال هو مذهب مَالِكٍ -رحمه اللَّه تعالى- لأنه قد يستدلّ في المسائل بأدلة متعددة، وتقدّم أن في الدلائل خفيًّا وجليًّا، فلا بد من النظر؛ لأن

--------------------------------------------

= الدلالة فالأولى أنه يقال: الدال ذاكر الدلالة على وجه التمسك بها ويسمى اللَّه تعالى دليلًا بالإضافة، وأنكره الشيخ أبو إسحاق الشيرازي في كتاب الحدود قال: ولا حجة في قولهم للَّه تعالى يا دليل المتحيرين لأن ذلك ليس من قول النبي صلى الله عليه وسلم ولا أحد من الصحابة وإنما هو قول أصحاب العكاكيز وحكى غيره في جواز إطلاق الدليل على اللَّه وجهين مفرعين على أن الخلاف في أن أسماء اللَّه هل تثبت قياسًا أم لا؟ لكن صح عن الإِمام أحمد أنه علم رجلًا أن يدعو فيقول يا دليل الحيارى دلني على طريق الصادقين.

فالثانية: ما به الإرشاد أي العلامة المنصوبة لمعرفة الدليل ومنه قولهم العالم دليل الصانع ثم اختلفوا فقيل حقيقة الدليل: الدال وقيل بل العلامة الدالة على المدلول بناء على استعمال المعنيين في اللغة وقال صاحب الميزان من الحنفية الأصح إنه في اللغة اسم للدال حقيقة وصار في العرف اسمًا للاستعمال فيكون حقيقة عرفية وفي الاصطلاح: الموصل بصحيح النظر فيه إلى المطلوب. انظر الصحاح 2/ 1698، المحصول 1/ 1/ 106، الأحكام للآمدي 1/ 145، تيسير التحرير 1/ 33.

(1) انظر لغة الانتظار وتقليب الحدقة نحو المرئي والرحمة والتأمل ويتميز بالمعدى من حروف الجر. وفي الاصطلاح: الفكر المؤدي إلى علم أو ظن. انظر البحر المحيط 1/ 42.
বিবাদ দেখা দিত, মতপার্থক্য দূরীভূত হতো, গভীর চিন্তাভাবনা বা পরিশ্রমের প্রয়োজন হতো না, পরীক্ষা (ابتلاء) নিষ্ফল হয়ে যেত এবং কোনো যাচাই-বাছাইয়ের অবকাশ থাকত না। সংশয়ের (شبهة) কোনো স্থান থাকত না, আর কোনো সন্দেহ (شك), অনুমান (حسبান), ধারণা (ظن) কিংবা বিস্মৃতিও থাকত না। কারণ, জ্ঞান যদি স্বভাবজাত হতো—আর এটিই যুক্তি—তবে সমস্ত জ্ঞান স্পষ্ট (جلي) হওয়া অসম্ভব হতো। আবার সমস্ত জ্ঞান যদি অস্পষ্ট (خفي) হতো, তবে তার কোনো কিছুই অনুধাবন করা সম্ভব হতো না; কেননা যা অস্পষ্ট, তা নিজে নিজে জানা যায় না। কারণ তা যদি নিজে নিজে জানা যেত, তবে তা স্পষ্ট (جلي) হতো, আর এটিও ত্রুটিপূর্ণ। সুতরাং সমস্ত জ্ঞান অস্পষ্ট হওয়াও বাতিল প্রমাণিত হলো। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার মধ্যে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল; আর অন্যগুলো রূপক বা অস্পষ্ট (متشابهات)} [আলে ইমরান: আয়াত ৭] থেকে {এবং বুদ্ধিমানগণ ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না} [আলে ইমরান: আয়াত ৭] পর্যন্ত।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা যদি তা রাসূলের এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) সমীপে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণালব্ধ জ্ঞান (يستنبطونه) অর্জনে সক্ষম, তারা তা অবগত হতো} [নিসা: আয়াত ৮৩]।

আর যখন সমস্ত জ্ঞান স্পষ্ট (جلي) হওয়া বাতিল হলো এবং সমস্ত জ্ঞান অস্পষ্ট (خفي) হওয়াও বাতিল হলো, তখন প্রমাণিত হলো যে, জ্ঞানের কিছু অংশ স্পষ্ট (جلي) এবং কিছু অংশ অস্পষ্ট (خفي); আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করি।

 

‌‌গবেষণা ও অনুসন্ধানের (النظر) আবশ্যকতা সংক্রান্ত আলোচনা (১)

অনুসন্ধান (النظر) ও দলীল পেশ (استدلال) করা ওয়াজিব হওয়া হলো ইমাম মালিক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—এর মাযহাব। কারণ তিনি বিভিন্ন মাসআলায় একাধিক দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করতেন। ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, দলীলসমূহের মধ্যে কিছু অস্পষ্ট (خفي) এবং কিছু স্পষ্ট (جلي) থাকে, তাই অনুসন্ধান (النظر) করা আবশ্যক; কারণ

--------------------------------------------

= নির্দেশিকা (الدلالة) প্রসঙ্গে: প্রথমত বলা হয় যে, যিনি নির্দেশ প্রদান করেন (الدال) তিনি এর মাধ্যমে কোনো বিষয় সাব্যস্ত করেন। রূপক অর্থে আল্লাহ তাআলাকেও পথপ্রদর্শক (دليل) বলা হয়। শেখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি ‘কিতাবুল হুদুদ’-এ এটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: ‘হে বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক (دليل)’—বলা জায়েজ হওয়ার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, কারণ এটি নবী (সা.) বা কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়নি। এটি কেবল দরবেশদের উক্তি। অন্যরা আল্লাহকে ‘পথপ্রদর্শক (دليل)’ বলা জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি মত উল্লেখ করেছেন, যা মূলত আল্লাহর নামসমূহ কি কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয় কি না, সেই বিতর্কের ওপর নির্ভরশীল। তবে ইমাম আহমাদ থেকে সহিহ (صح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে এই বলে দুআ করতে শিখিয়েছিলেন: ‘হে বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক (دليل), আমাকে সত্যবাদীদের পথে পরিচালিত করুন।’

দ্বিতীয়ত: যা দ্বারা দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়, অর্থাৎ দলীল চেনার জন্য স্থাপিত চিহ্ন। যেমন বলা হয়, ‘বিশ্বজগত সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের দলীল (دليل)।’ এরপর আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন দলীল বলতে দলীল উপস্থাপনকারীকে (الدال) বোঝায়, আবার কেউ বলেছেন এটি সেই চিহ্ন যা উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিকে পথ দেখায়। ‘আল-মিযান’ গ্রন্থের হানাফি লেখক বলেন, সঠিক মত হলো এটি আভিধানিকভাবে দলীল উপস্থাপনকারীর (الدال) নাম এবং পরিভাষায় ব্যবহারের ফলে এটি একটি পারিভাষিক হাকিকত (حقيقة عرفية) হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর শাস্ত্রীয় পরিভাষায়: যার মাধ্যমে সঠিক অনুসন্ধান (صحيح النظر) করে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। দেখুন: আস-সিহাহ ২/১৬৯৮, আল-মাহসুল ১/১/১০৬, আল-আহকাম লি আল-আমিদি ১/১৪৫, তাইসিরুত তাহরির ১/৩৩।

(১) আভিধানিকভাবে প্রতীক্ষা করা, দৃষ্টিপাত করা, মমতা এবং গভীর চিন্তা করা। পারিভাষিক অর্থে: এমন চিন্তা যা জ্ঞান বা প্রবল ধারণা (ظن) লাভের দিকে নিয়ে যায়। দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত ১/৪২।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
في تركه امتناعًا من الوصول إلى معرفة الخفيّ منها، وذلك غير جائز، فدل على وجوبه، وقد دل اللَّه -تعالى- على وجوب النظر والاستدلال، والتفكر والاعتبار في آيات كثيرة من كتابه.

فقال عز وجل: {أَفَلَا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ (17)} [الغاشية: الآية 17].

وقال عز وجل: {أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا} [الأنبياء: الآية 44].

وقال تبارك وتعالى: {أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ} [يوسف: الآية 109].

وقال عز وجل: {قُلْ إِنَّمَا أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ أَنْ تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنَى وَفُرَادَى ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا مَا بِصَاحِبِكُمْ مِنْ جِنَّةٍ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ لَكُمْ} [سبأ: الآية 46].

وقالَ عز وجل محتجًّا على مَنْ أنكر البعث والإعادة: {قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ (78) قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ (79)} [يس: الآيتان 78، 79] إلى قوله: {وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ} [يس: الآية 81].

ومثل ذلك في آيات كثيرة، وفي هذا وجوب النظر وصحته، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ الكَلامِ في إِبْطَالِ التَّقْلِيدِ(1) مِنَ العَالِمِ لِلْعَالِمِ

ومذهب مَالِكٍ رحمه الله إِبطال التقليد من العالم للعالم.

وهو قول جماعة من الفقهاء، وأجازه بعضُهُم، والدليل على منعه أنه إِذا ثبت النظر، ووجب الرجوع إِلى الاستدلالات ففيه فساد من لا يعلم حقيقة قوله، ووجب الرجوع إلى الأصول، وما أودع فيه من المعاني التي تدل على الفروع، وهي الكتاب والسُّنَّة والإجماع.

قال اللهُ عز وجل: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: الآية 59].

يريد إلى كتاب اللَّه وسُنَّة نبيه صلى الله عليه وسلم، فلم يردهم عند التنازع إلى غير ذلك، فيدل على إبطال التقليد من غير حُجَّة.

--------------------------------------------

(1) انظر تعريف التقليد في تيسير التحرير 4/ 241.
এগুলো বর্জন করার ফলে এগুলোর মধ্যকার নিগূঢ় বা সূক্ষ্ম বিষয়াবলি (الخفي) জানার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, যা মোটেও কাম্য নয়। সুতরাং এটি এর আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণ করে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে গভীর পর্যবেক্ষণ (النظر), যুক্তি-প্রমাণ অন্বেষণ (الاستدلال), চিন্তা-ভাবনা (التفكر) এবং শিক্ষা গ্রহণের (الاعتبار) আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করেছেন।

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {তবে কি তারা উটের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?} [আল-গাশিয়াহ: আয়াত ১৭]।

তিনি আরও বলেছেন: {তবে কি তারা দেখে না যে, আমি যমীনকে এর প্রান্তসীমা থেকে সংকুচিত করে আনছি?} [আল-আম্বিয়া: আয়াত ৪৪]।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আরও বলেছেন: {তবে কি তারা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে না? তাহলে তারা দেখতে পেত যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।} [ইউসুফ: আয়াত ১০৯]।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে নসিহত করছি: তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই-দুই জন করে অথবা একাকী দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা (تتفكروا) করো—তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই; সে তো কেবল তোমাদের জন্য এক সতর্ককারী।} [সাবা: আয়াত ৪৬]।

পুনরুত্থান ও কিয়ামত অস্বীকারকারীদের বিপক্ষে যুক্তি (احتجاج) প্রদান করে মহান আল্লাহ বলেছেন: {সে বলে, ‘কে এই হাড়গুলোকে জীবিত করবে, যখন সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে যাবে?’ বলুন, ‘সেগুলো তিনিই জীবিত করবেন যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। আর তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।’} [ইয়া-সিন: আয়াত ৭৮-৭৯]—থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।} [ইয়া-সিন: আয়াত ৮১]।

অনুরূপ বর্ণনা আরও অনেক আয়াতে রয়েছে। এর দ্বারা গভীর পর্যবেক্ষণ (النظر)-এর আবশ্যকতা (وجوب) এবং এর যথার্থতা প্রমাণিত হয়। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক কাম্য।

 

‌‌এক আলেম কর্তৃক অন্য আলেমের অন্ধ অনুকরণ (التقليد) বাতিল ঘোষণা প্রসঙ্গে(1)

ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব হলো এক আলেম কর্তৃক অন্য আলেমের অন্ধ অনুকরণ (التقليد) বাতিল করা।

এটি একদল ফকিহ (فقهاء)-এরও অভিমত, তবে তাঁদের কেউ কেউ একে বৈধ বলেছেন। এটি নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ হলো এই যে, যখন গভীর পর্যবেক্ষণ (النظر) সাব্যস্ত হয়েছে এবং যুক্তি-প্রমাণাদির (استدلالات) দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক (وجوب) হয়েছে, তখন যে ব্যক্তি কোনো বক্তব্যের প্রকৃত স্বরূপ জানে না তার জন্য তা অনুসরণ করা বিপর্যয়ের কারণ হবে। এমতাবস্থায় মূল উৎসসমূহের (أصول) দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক (وجوب), যার মাঝে এমন সব অর্থ নিহিত রয়েছে যা শাখা-প্রশাখা বা মাসআলাসমূহের (فروع) দিকে দিকনির্দেশনা দেয়; আর সেগুলো হলো—আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع)।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [আন-নিসা: আয়াত ৫৯]।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সা.)-এর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। বিবাদের সময় তিনি এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেননি; যা কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) ছাড়া অন্ধ অনুকরণ (التقليد) বাতিলের প্রমাণ বহন করে।

--------------------------------------------

(1) তাইসিরুত তাহরির ৪/২৪১-এ অন্ধ অনুকরণ (التقليد)-এর সংজ্ঞা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
كما قال اللَّه تعالى حكاية عن قوم على طريق الذَّم لهم والإنكار عليهم: {قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ (23) قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ} [الزخرف: الآيتان 23، 24].

وقال عز وجل: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا} إلى قوله: {وَلَا يَهْتَدُونَ} [البقرة: الآية 170].

فَأَلْزَمَ اللَّه تعالى اتِّباع الحجة، وعدم التقليد بغير حجة فدل على صحة ما قلنا، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِيمَا يَجُوزُ فِيهِ التَّقْلِيدُ

فمما يجوز عند مالك في مثله التقليد للعامي(1) ما ليس للعالم فيه طريق إلا نَدَرَ أن يكون من أهله، ويجوز عند مالك أن يقلد القائف في إلحاق الولد بمن يلحقه، إذا كان القائف عدلًا في دينه بَصِيرًا بِالقِيَافَة؛ لأنه علم قد خصهم اللَّه عز وجل به.

والدليل على ذلك ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في قصة مُجَرِّزِ المدلجيِّ، وقوله صلى الله عليه وسلم لما رأى أقدام زَيْد وأُسَامَةَ أنَّ بَعْضَ هَذِهِ الأَقْدَامِ من بَعض فَسُرَّ بذلك النبي صلى الله عليه وسلم وذكره لعائشة رضي الله عنها(2) - والنبي صلى الله عليه وسلم لا يسر إلا بالحق". وقد روى ابْنُ نَافِعٍ عن مالك أنه لا يقبل إلا من قَائفَيْن ذَكَرَيْن، ويجوز تقليد الناصر في تقويم المتْلفَات، ويكفي في ذلك واحد إلا أنْ تَتعلَّق القيمة بحدٍّ، فلا بدّ من اثنين لمعرفتهم بذلك وطول دُرْبَتِهِمْ له.

قال القاضي: وقد وجدت في موضع أنه لا يجوز في كل تَقْويم إلا اثنان وإنما جاز تقليده في ذلك؛ لأنه علم يختص به، والضرورة تدعو إليه، فجاز قَبُول قولهم فيه، ويجوز تقليد القَاسِمِ إِذَا قسم شيئًا بين اثنين، على ما رواه ابْنُ نَافِعٍ عن مالك، وهذا كما يقلد المقوّم في أُروش الجنايات لمعرفته بذلك، وكان الشيخ أَبُو بكر بْنُ صَالِحِ الأَبْهريُّ يقول: يجب أن يكون بِقَيِّمَين، ثم رجع عن ذلك وروى ابْنُ القَاسِم عن مَالِكٍ: أنه لا يقبل قول القاسم فيما قسم، وإن كان معه آخر؛ لأنه يشهد على فعل نفسه كالحاكم إِلا أن يكون الحاكم أرسلها، فتقبل شهادتهما.

--------------------------------------------

(1) انظر تعريف العامي في البحر المحيط 6/ 283، 284.

(2) الحديث عند البخاري 12/ 57، ومسلم 2/ 1081، وأبو داود 2/ 280، والترمذي 4/ 383.
যেমন আল্লাহ তাআলা একটি সম্প্রদায়ের কথা বর্ণনা করেছেন তাদের নিন্দা ও অস্বীকৃতি স্বরূপ: {তাদের বিলাসীরা বলেছিল: ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।’ (২৩) তিনি (রাসূল) বললেন: ‘আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উত্তম পথপ্রদর্শক নিয়ে আসি যার ওপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছিলে (তবুও কি তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?)’} [যুখরুফ: আয়াত ২৩, ২৪]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তা অনুসরণ করো, তারা বলে...} তাঁর বাণী: {এবং তারা সঠিক পথও পায় না।} পর্যন্ত। [বাকারা: আয়াত ১৭০]।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা দলীল (حجة) অনুসরণ করাকে আবশ্যক করেছেন এবং দলীলবিহীন অন্ধ অনুকরণ (تقليد) নিষিদ্ধ করেছেন, যা আমাদের বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: যে সকল বিষয়ে অন্ধ অনুকরণ (تقليد) বৈধ সে প্রসঙ্গে আলোচনা

ইমাম মালিকের মতে যে সকল বিষয়ে সাধারণ মানুষের (عامي)(১) জন্য অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা বৈধ তা হলো এমন বিষয় যাতে আলেমদের (عالم) জন্য কোনো গবেষণার পথ নেই, তবে কোনো আলেম এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিরল। ইমাম মালিকের মতে সন্তানের বংশপরিচয় নির্ণয়ে পদচিহ্ন বিশারদ (قائف) এর অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা জায়েজ, যদি সেই পদচিহ্ন বিশারদ তার দ্বীন পালনে ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং পদচিহ্ন বিদ্যায় পারদর্শী হয়; কারণ এটি এমন এক বিশেষ জ্ঞান যা আল্লাহ তাআলা তাদের দান করেছেন।

এর প্রমাণ হলো মুজারিয আল-মুদলিজি-এর ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যায়েদ ও উসামার পা দেখে বলেছিলেন যে, "নিশ্চয়ই এই পাগুলো একে অপরের অংশ", তখন তিনি এতে আনন্দিত হয়েছিলেন এবং আয়েশা (রা.)-এর কাছে তা উল্লেখ করেছিলেন(২) - আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য ব্যতীত অন্য কিছুতে আনন্দিত হন না। ইবনে নাফি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুইজন পুরুষ পদচিহ্ন বিশারদ (قائف) ব্যতিরেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মূল্য নির্ধারণে মূল্যায়নকারীর অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা বৈধ এবং এক্ষেত্রে একজনই যথেষ্ট, যদি না সেই মূল্য কোনো নির্ধারিত দণ্ডের (হদ) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে তাদের বিশেষ জ্ঞান এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে দুইজন হওয়া আবশ্যক।

কাজী বলেন: আমি কোনো কোনো স্থানে পেয়েছি যে, সকল প্রকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেই দুইজন হওয়া ব্যতিরেকে তা জায়েজ নয়। এক্ষেত্রে তাদের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা জায়েজ হওয়ার কারণ হলো— এটি একটি বিশেষায়িত জ্ঞান এবং এর আবশ্যকতা অনস্বীকার্য, তাই এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা বৈধ। ইবনে নাফি ইমাম মালিক থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী, যখন কোনো বন্টনকারী দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কিছু বন্টন করে, তখন তাকে অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা বৈধ। এটি জখমের ক্ষতিপূরণ (আরাশ) নির্ধারণে মূল্যায়নকারীর অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করার অনুরূপ, কারণ এ বিষয়ে তার সম্যক জ্ঞান রয়েছে। শায়খ আবু বকর বিন সালিহ আল-আহবারী বলতেন: দুইজন মূল্যায়নকারী হওয়া আবশ্যক, অতঃপর তিনি তা থেকে ফিরে আসেন। ইবনে কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: বন্টনকারী যা বন্টন করেছে সে বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না, এমনকি তার সাথে অন্য কেউ থাকলেও; কারণ সে বিচারকের ন্যায় নিজের কাজের সাক্ষ্য দিচ্ছে, তবে বিচারক যদি তাদের পাঠিয়ে থাকেন, তবে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুল মুহীত ৬/২৮৩, ২৮৪-এ সাধারণ মানুষের (عامي) সংজ্ঞা দেখুন।

(২) হাদিসটি বুখারী ১২/৫৭, মুসলিম ২/১০৮১, আবু দাউদ ২/২৮০ এবং তিরমিযী ৪/৩৮৩-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويجوز تقليد الخَارِصِ فيما يخرصه، ويكفي في ذلك واحد، وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يبعث ابْنَ رَوَاحَةَ على الخَرْصِ وحده، ويجوز تقليد الرَّاوي فيما يرويه إذا كان عدلًا، وكذلك الشاهد فيما يشهد به، إلا أن الشهادة باثنين عَدْلَيْن، والأخبار يقبل فيها الواحد العدل حرًّا أو عبدًا، ذكرًا أو أُنْثى، ويجوز تقليد الطَّبيب فيما يرد إليه من علم الجراح وغيرها مما لا يعلم إلا من جهته للضرورة إِلَى ذلك، ويجوز تقليد الملاح إذا خفيت الدلائل في جهة القبلة على الذين يَرْكَبُون معه إِذا كان عدلًا، وكانت عادته جارية بسَيْره في الماء والبحار للضرورة إليه، وكذلك كل من كانت صناعته في الصحراء، يجوز تقليدهم في القبلة لمعرفتهم بها وأنه لا يمكن كل أحد تعاطيه ولا معرفته، وكذلك مَنْ هو في البادية يجوز تقليده في القبلة، إذا كان عارفًا بالصلاة، وكان عدلًا في باديته لمداومتهم مشاهدة جهة القبلة ودلائلها، والضرورة إليهم في ذلك عند خفاء دلائلها.

 

‌‌بَاب الْقَوْلِ في تَقْلِيدِ الْعَامِيِّ لِلْعَالِمِ

فأما تقليد العامِّي للعالم، فجائز عند مالك في الجملة. والأصل فيه قول اللَّه عز وجل: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: الآية 43] وأيضًا قوله: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: الآية 83].

وهذا ما لا خلاف فيه نعلمه، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ في تَقْلِيدِ العَامِّيّ لِلعامِّيِّ

عند مالك رحمه الله ليس لِعَامِّيِّ أن يقلَّد عامِّيًّا بوجه إلا في أشياء: منها رؤية الهلال إذا أراد به علم التاريخ فإنه يُقْبَل قوله وحده؛ لأنه خبر وإن كان مما يتعلق به فرض في دينه، مثل صوم رمضان والفطر منه، فلا بد من اثنين عَدْلَيْن؛ لأنه من باب الشهادات، وفي كلا الأَمْرَيْنِ الأخبار، والشهادات لا بد من العدالة.

ومن ذلك قَبُول الهدية بالرسول الواحد والإذن بالواحد لعُرْف الناس واستعمالهم، وجري عادتهم به، فهو يقبل من البالغ، وغير البالغ والذكر والأُنْثَى، والمسلم والكافر والواحد والاثنين، والحر والعبد، ويقبل قول القَصَّاب في الزكاة؛ لأن الإنسان يشتريه على الظاهر أنه زكى، فلو لم يخبره لما ضرّه، فهو يقبل من الذكر والأنثى، ومن مثله يذبح، والمسلم والكتابي، واللَّه أعلم.

আর ফসল পরিমাপকারীর অনুমানে তাকে অনুসরণ করা বৈধ এবং এক্ষেত্রে একজনই যথেষ্ট। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে রাওয়াহাকে একাকী অনুমানের জন্য পাঠাতেন। একজন বর্ণনাকারী (راوي) যদি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন, তবে তিনি যা বর্ণনা করেন তাতে তাকে অনুসরণ করা বৈধ। অনুরূপভাবে সাক্ষীর সাক্ষ্যও গ্রহণীয়, তবে সাক্ষ্যের (شهادة) ক্ষেত্রে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। আর সংবাদসমূহের (الأخبار) ক্ষেত্রে একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিই যথেষ্ট, তিনি স্বাধীন হোন বা দাস, পুরুষ হোন বা নারী। চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রাপ্ত ক্ষত বা অন্য কোনো জ্ঞান যা তার মাধ্যম ছাড়া জানা সম্ভব নয়, প্রয়োজনে সেখানে চিকিৎসকের অনুসরণ করা বৈধ। একইভাবে সমুদ্রযাত্রায় কিবলার দিক নির্ণয়ের চিহ্নসমূহ অস্পষ্ট হয়ে পড়লে সেই নাবিকের অনুসরণ করা বৈধ যদি তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন এবং সমুদ্রে চলাচলে অভিজ্ঞ হন। অনুরূপভাবে মরুভূমিতে বসবাসকারী যাদের পেশাগত দক্ষতা রয়েছে, কিবলার বিষয়ে তাদের অনুসরণ করা বৈধ; কারণ কিবলা সম্পর্কে তাদের বিশেষ জ্ঞান রয়েছে যা প্রত্যেকের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। তেমনিভাবে পল্লী অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যক্তি যদি কিবলার বিষয়ে অভিজ্ঞ হন তবে কিবলার ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করা বৈধ, যদি তিনি সালাত সম্পর্কে অবগত হন এবং আপন এলাকায় ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে পরিচিত হন; কারণ তারা প্রতিনিয়ত কিবলার দিক ও এর চিহ্নসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন এবং চিহ্নসমূহ অস্পষ্ট হয়ে পড়লে তাদের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

 

‌‌আলেমের (عالم) প্রতি সাধারণ ব্যক্তির (عامي) অনুকরণের বর্ণনা

ইমাম মালিকের মতে সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য আলেমকে (عالم) অনুসরণ করা সাধারণভাবে বৈধ। এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [নাহল: ৪৩] এবং আল্লাহর বাণী: {যদি তারা তা রাসূল বা তাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের কাছে ফিরিয়ে দিত, তবে তাদের মধ্যকার যারা গবেষণা করে তারা বিষয়টি জানতে পারত} [নিসা: ৮৩]।

আমাদের জানামতে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌এক সাধারণ ব্যক্তির (عامي) অন্য সাধারণ ব্যক্তির (عامي) অনুকরণের বর্ণনা

ইমাম মালিক (রহ.)-এর নিকট কোনো সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য অন্য কোনো সাধারণ ব্যক্তিকে (عامي) অনুসরণ করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়, তবে কিছু বিষয় ছাড়া। তার মধ্যে একটি হলো ইতিহাস বা তারিখ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে চাঁদ দেখা; এক্ষেত্রে একজনের কথা গ্রহণ করা হবে কারণ এটি একটি সংবাদ (خبر)। তবে যদি তা দ্বীনের কোনো ফরজ (فرض) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় যেমন রমজানের রোজা রাখা বা ঈদ করা, তবে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির প্রয়োজন হবে; কারণ এটি তখন সাক্ষ্যের (شهادات) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর উভয় ক্ষেত্রেই—তা সংবাদ (الأخبار) হোক বা সাক্ষ্য (الشهادات)—ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থাকা অপরিহার্য।

অনুরূপভাবে একজন বাহকের মাধ্যমে উপহার গ্রহণ করা বা একজনের অনুমতির ওপর নির্ভর করা মানুষের প্রথা ও অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক, পুরুষ বা নারী, মুসলিম বা অমুসলিম, এক বা একাধিক এবং স্বাধীন বা দাস সবার কাছ থেকেই গ্রহণ করা হবে। আর কসাইয়ের বক্তব্য জবেহ (তাজকিয়াহ) করার বিষয়ে গ্রহণ করা হবে; কারণ মানুষ বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই তা ক্রয় করে যে এটি জবেহ করা হয়েছে। যদি সে তাকে সংবাদ নাও দিত তবে তার কোনো ক্ষতি হতো না। এটি পুরুষ বা নারী এবং জবেহ করতে সক্ষম এমন মুসলিম বা কিতাবধারী সবার থেকেই গ্রহণীয় হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بَابُ القَوْلِ فِيمَا يَلْزَم الْمُستفتي العَامِّيِّ

يجب عند مَالِكٍ على العامِّي إِذا أراد أن يستفتي ضربًا من الاجتهاد(1)، وهو أن يقصد إلى أهل ذلك العلم الذي يريد أن يسأل عنه ولا يسأل جميع من يلقاه، ولكنه إذا أرشد إلى فقيه نظر إلى هيئته وحذقه وصنعته، وسأل عن مبلغ علمه وأمانته، فمن كان أعلى رُتْبَةً في ذلك استفتاه، وقبل قوله وفتواه؛ لأن هذا أوفق لدينه وأحوط لما يقدم عليه من أمر شريعته، ويصير هذا بمنزلة الخبرين والقِيَاسين إذا تعارضا عند العالم، واحتاج للترجيح بينهما، وترجَّح بينهما، وكذلك العامي في المَعْنيين، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ القَوْلِ فِيمَا يَلْزَمُ فِيهِ الاجْتِهَادُ وَمَا لَا يَلْزَمُ

ومذهب مَالِكٍ إِذا دخل رجل إلى قرية خَرَاب لا أحد فيها، وحضر وقت الصلاة، فإن كان من أهل الاجْتِهَاد، ولم يَخْفَ عليه دلائلِ القبلة يرجع إلى ذلك، ولم يلتفت إلى غير ذلك، ولم يلتفت إلى محاريب يشاهدها في آثار مساجد قد خربت، فإن خفيت عليه الدلائل، أو لم يكن من أهل الاجتهاد، وكانت القَرْيَة للمسلمين، فإنه يصلِّي إلى مُصَلَّى تلك المحاريب؛ لأن الظاهر من بلاد المسلمين أن مساجدهم وآثارهم لا تَخْفَى وأنَّ قبلتهم وَمَحاريبَهُمْ على ما توجبه الشريعة، وأما إذا كانت محاريب منصوبة في بلاد المسلمين العامرة، وفي المساجد التي تكثر فيها الصلوات وتتكرَّر، ويعلم أن إمامًا للمسلمين بناها، واجتمع أهل البلد علي بنائها، فإن العالم والعامي يصلون إلى تلك القبلة، ولا يحتاجون في ذلك إلى الاجتهاد؛ لأنها معلوم أنها لم تُبْنَ إلا بعد اجتهاد العلماء في ذلك، وأما المساجد التي لا تجري هذا المجرى، فإن العالم إذا كان من أهل الاجتهاد، فسبيله أن يستدل على الجهة، فان خفيت عليه الدلائل صلى إلى تلك المحاريب إذا كان بلدًا للمسلمين عامرًا؛ لأن هذا أقوى من اجتهاده مع خفاء الدلائل عليه، فأما العامِّي فيصلي في سائر المساجد؛ إذ ليس من أهل الاجتهاد، واللَّه أعلم.

--------------------------------------------

(1) وهو لغة: افتعال من الجهد وهو المشقة وهو الطاقة. وفي الاصطلاح: بذل الوسع في نيل حكم شرعي عملي بطريق الاستنباط، انظر البرهان 2/ 1316، نهاية السول 4/ 524، المستصفى 2/ 350.
‌‌সাধারণ ফতোয়া প্রার্থী (المستفتي) সাধারণ ব্যক্তির (العامي) জন্য যা আবশ্যক সে প্রসঙ্গে

ইমাম মালিকের (রহ.) মতে, সাধারণ ব্যক্তির (العامي) জন্য যখন সে ফতোয়া গ্রহণ করতে চায়, তখন এক প্রকার গবেষণামূলক প্রচেষ্টা (اجتهاد) চালানো আবশ্যক। আর তা হলো, সে যে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চায় সেই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে যাওয়ার সংকল্প করা এবং সামনে যাকে পায় তাকেই জিজ্ঞাসা না করা। বরং তাকে যখন কোনো ফকিহ বা আইনবিদের পথপ্রদর্শক করা হয়, তখন সে তার বাহ্যিক অবস্থা, প্রজ্ঞা ও দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং তার জ্ঞানের পরিধি ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে খোঁজ নেবে। এই গুণের বিচারে যিনি সর্বোচ্চ স্তরের (رتبة) হবেন, তিনি তার নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করবেন এবং তার কথা ও ফতোয়া গ্রহণ করবেন। কারণ এটি তার দ্বীনের জন্য অধিকতর অনুকূল এবং শরিয়তের যে বিষয়ের সে সম্মুখীন হচ্ছে তার জন্য অধিকতর সতর্কতামূলক। এটি একজন আলেমের নিকট যখন দুটি সংবাদের (الخبرين) এবং দুটি সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القِيَاسين) মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) প্রয়োজন হয় এবং তিনি সেগুলোর মধ্যে একটিকে অগ্রাধিকার (ترجَّح) প্রদান করেন, ঠিক সেই পর্যায়ের। দুই বিষয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তির অবস্থাও তদ্রূপ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

 

‌‌যেসব ক্ষেত্রে গবেষণামূলক প্রচেষ্টা (الاجتهاد) আবশ্যক এবং যাতে আবশ্যক নয় সে প্রসঙ্গে

ইমাম মালিকের (রহ.) মাযহাব হলো, যদি কোনো ব্যক্তি এমন এক জনশূন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদে প্রবেশ করে যেখানে কোনো মানুষ নেই এবং নামাজের সময় উপস্থিত হয়, এমতাবস্থায় সে যদি গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (الاجتهاد) যোগ্য হয় এবং কিবলার নিদর্শনসমূহ তার কাছে অস্পষ্ট না থাকে, তবে সে সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। সে অন্য কোনো দিকে ভ্রূক্ষেপ করবে না, এমনকি ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের নিদর্শনে দেখতে পাওয়া মেহরাবগুলোর দিকেও নজর দেবে না। তবে যদি নিদর্শনসমূহ তার কাছে অস্পষ্ট থাকে অথবা সে গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (الاجتهاد) যোগ্য না হয় এবং জনপদটি মুসলমানদের হয়, তবে সে সেই মেহরাবগুলোর প্রার্থনাস্থলের দিকে মুখ করেই নামাজ পড়বে। কারণ মুসলিম ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে এটাই স্পষ্ট যে, তাদের মসজিদ ও নিদর্শনসমূহ অস্পষ্ট থাকে না এবং তাদের কিবলা ও মেহরাবসমূহ শরিয়তের কাম্য বিধান অনুসারেই হয়। আর যদি সেই মেহরাবগুলো মুসলমানদের আবাদকৃত জনপদে এবং এমন সব মসজিদে স্থাপিত হয় যেখানে প্রচুর নামাজ হয় ও নামাজের পুনরাবৃত্তি ঘটে, এবং এটি জানা থাকে যে মুসলমানদের কোনো ইমাম (নেতা) তা নির্মাণ করেছেন এবং সেই জনপদের অধিবাসীগণ তা নির্মাণের ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তবে আলেম ও সাধারণ ব্যক্তি সকলেই সেই কিবলার দিকে মুখ করেই নামাজ পড়বেন। সে ক্ষেত্রে তাদের গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (الاجتهاد) প্রয়োজন নেই। কারণ এটি সুনিশ্চিত যে, আলেমদের গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (اجتهاد) পরেই তা নির্মিত হয়েছে। আর যেসব মসজিদ এই পর্যায়ের নয়, সেখানে আলেম ব্যক্তি যদি গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (الاجتهاد) যোগ্য হন, তবে তার দায়িত্ব হলো কিবলার দিকের ব্যাপারে প্রমাণ তালাশ করা। যদি তার কাছে নিদর্শনসমূহ অস্পষ্ট থাকে, তবে সে সেই মেহরাবগুলোর দিকে মুখ করেই নামাজ পড়বে যদি তা মুসলমানদের আবাদকৃত শহর হয়। কারণ নিদর্শন অস্পষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে এটি তার নিজস্ব গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (اجتهاد) চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আর সাধারণ ব্যক্তির (العامي) ক্ষেত্রে সে সকল মসজিদেই নামাজ পড়বে; যেহেতু সে গবেষণামূলক প্রচেষ্টার (الاجتهاد) যোগ্য নয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) এটি শাব্দিকভাবে: 'আল-জুহদ' (الجهد) শব্দ থেকে গঠিত একটি রূপ, যার অর্থ কষ্ট বা সামর্থ্য। আর পরিভাষায়: মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) বা নির্যাস বের করার পদ্ধতিতে কোনো ব্যবহারিক শরয়ি হুকুম অর্জনে পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা। দেখুন: আল-বুরহান ২/১৩১৬, নিহায়াতুস সুল ৪/৫২৪, আল-মুসতাসফা ২/৩৫০।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بَابُ القَوْلِ فِيمَا لَا يَجُوزُ فِيهِ التَّقْلِيدُ وَمَا يَجُوزُ

ولا يجوز عند مالك رحمه الله لعالم ولا عامِّي أن يقلد في زوال الشَّمس، لأنه أمر يشاهد، ويصل كل واحد منهم إلى معرفته، بل العامي يقلِّد العالم في أن وقت الظهر هو إذا زالت الشمس، ويقلده في أوقات الصلوات أنها هي الأوقات التي وَقْتَهَا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؛ لأن هذا أمر يعلمه أهل العلم بالتوقيف، وليس مما يشاهد، فإن كان في العامة مَنْ يخفى عليه علم الزوال، ولا يتمكن من إدراكه، جاز أن يقلَّد فيه كما يقلد في سائر ما لا مَعْرِفَةَ له به، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي اسْتِعْمَاله العَامّيّ ما يُفْتَى بِهِ

يحتمل مذهب مَالِكِ إذا استفتى العامي العالم في نازلة، فأفتاه، ثم نزلت مثل تلك النازلة بالعامّيّ مرة أخرى، فيحتمل أن يقال: إنه يستعمل تلك الفتوى، ولا يحتاج إلى أن يسأل ثانية؛ لأنه على الظاهر قد ساغ له، ولو كلف ذلك لشقّ عليه، وهذا إذا كانت المسألة بعينها، وما لا إشكال فيه على أحد، ويحتمل أن يقال: أو عليه أن يسأل، ولعله الأصح؛ لأنه يعمل باجتهاد ذلك الفَقِيه، ولعل اجتهاده في وقت ما أفتاه قد تغيَّر عما كان أفتاه به في ذلك الوقت، وهذا مثل من يجتهد بالقبلة فَيُصَلِّي، ثم يريد أن يصلّي صلاة أخرى، فإنه يجتهد ثانية، ولا يعمل على الاجتهاد الأول.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلُ فِي تَقْلِيد مَنْ مَاتَ مِنَ الْعُلَمَاءِ

إذا حكى للعامي عن مالك رحمه الله أو عَنْ غَيره من العلماء، وهو في غير عصره فتوى في مسألته، فإنه يجوز للعامي أن يقلد مالكًا بعد موته، وكذلك غيره من العلماء الذين اشتهرت أمانتهم؛ لأن العامي إذا جاز له أن يعمل على اجتهاد بعض أصحاب مالك، كان عمله على اجتهاد مالك أولى، فإن لم يكن أولى منه، فهو مثله، ويكون مَالِك كأنه باقٍ لأن قوله بمنزلته وهو حيّ.

وتصير منزلة مَالِك مع العامِّيّ كمنزلة مَالِكٍ مع الصحابي أنه يرجع إلى قوله وإن كان ميتًا، ويكون قول الصحابي أول من أهل عصر الإِمام مالكٍ.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِيمَا يُوجَدُ في كِتَابِ الْعُلَمَاءِ

قال القَاضِيُّ: إِذا وجد الرجل كتابًا مترجمًا مثل كتاب مُوطَّأ مالك أو كتاب الثورِيِّ أو الأوْزَاعِي أو الشَّافِعيّ، فهل يجوز له أن يقال في شيء يجده فيه، قال مَالِكِ، وقال الثَّوْرِيُّ، وقال الأَوْزَاعِيُّ، وقال الشَّافِعِيُّ.
‌‌যে সকল বিষয়ে অনুকরণ (تقليد) করা জায়েজ এবং যে সকল বিষয়ে জায়েজ নয়, সেই প্রসঙ্গে আলোচনা

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে কোনো আলেম (عالم) বা সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) বিষয়ে অনুকরণ (تقليد) করা জায়েজ নয়; কারণ এটি একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয় এবং তাদের প্রত্যেকের পক্ষেই তা জানা সম্ভব। বরং সাধারণ ব্যক্তি (عامي) আলেমের (عالم) অনুকরণ (تقليد) করবে এই বিষয়ে যে, যোহরের ওয়াক্তের সময় হলো যখন সূর্য ঢলে পড়ে। আর সে নামাজের ওয়াক্তসমূহের ব্যাপারেও তাঁর অনুকরণ (تقليد) করবে যে, এগুলোই সেই ওয়াক্ত যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্ধারণ করেছেন; কারণ এটি এমন বিষয় যা আলেমগণ শরয়ি নির্দেশনা (توقيف) থেকে জানেন এবং এটি কেবল পর্যবেক্ষণের বিষয় নয়। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে যার কাছে সূর্য ঢলে পড়ার জ্ঞান অস্পষ্ট থাকে এবং তা অনুধাবন করা তার পক্ষে সম্ভব না হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে তার জন্য অনুকরণ (تقليد) করা জায়েজ হবে, যেমনটি সে অন্যান্য না জানা বিষয়ে অনুকরণ (تقليد) করে থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌সাধারণ ব্যক্তি তাকে প্রদত্ত ফতোয়া পুনরায় ব্যবহারের বিধান প্রসঙ্গে আলোচনা

ইমাম মালিকের মাজহাবে এটি সম্ভাব্য যে, যদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি (عامي) কোনো আলেমের (عالم) কাছে কোনো উদ্ভূত সমস্যার ব্যাপারে ফতোয়া চায় এবং তিনি তাকে ফতোয়া দেন, এরপর পুনরায় সেই সাধারণ ব্যক্তির (عامي) ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার উদয় হয়, তবে বলা যেতে পারে যে: সে ওই ফতোয়াটিই ব্যবহার করবে এবং দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই; কারণ বাহ্যত এটি তার জন্য বৈধ করা হয়েছে এবং তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসার দায়িত্ব দিলে তা তার জন্য কষ্টকর হবে। এটি তখন প্রযোজ্য যখন বিষয়টি হুবহু এক হয় এবং যেখানে কারো কাছে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। আবার এটিও সম্ভাব্য যে, তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করতে হবে; আর সম্ভবত এটিই অধিকতর সঠিক। কারণ সে ওই ফকিহ (فقيه)-এর গবেষণা বা ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর আমল করছে, আর হতে পারে যে সময় তিনি তাকে ফতোয়া দিয়েছিলেন, সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে তাঁর গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এটি সেই ব্যক্তির মতো যে কিবলার ব্যাপারে গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করে নামাজ পড়ল, অতঃপর সে অন্য আরেকটি নামাজ পড়তে চাইল; এমতাবস্থায় সে পুনরায় গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করবে এবং পূর্বের গবেষণার ওপর আমল করবে না।

 

‌‌প্রয়াত আলেমগণের অনুকরণ (تقليد) করা প্রসঙ্গে আলোচনা

যখন কোনো সাধারণ ব্যক্তিকে (عامي) ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বা অন্য কোনো আলেমের পক্ষ থেকে কোনো ফতোয়া বর্ণনা করা হয়—যিনি তার সমসাময়িক নন—তবে সেই সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য ইমাম মালিকের ইন্তেকালের পরেও তাঁর অনুকরণ (تقليد) করা জায়েজ। একইভাবে অন্যান্য আলেমদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য যাদের বিশ্বস্ততা (أمانة) প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কেননা সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য যদি ইমাম মালিকের কোনো অনুসারীর গবেষণা বা ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর আমল করা জায়েজ হয়, তবে স্বয়ং ইমাম মালিকের গবেষণার ওপর আমল করা অধিকতর উত্তম হবে। আর যদি তা অধিকতর উত্তম নাও হয়, তবে তা অন্তত সমতুল্য হবে। ইমাম মালিক যেন এখনো বিদ্যমান আছেন; কারণ তাঁর বক্তব্য তাঁর জীবিত থাকা অবস্থার মর্যাদার স্থলাভিষিক্ত।

সাধারণ ব্যক্তির (عامي) কাছে ইমাম মালিকের মর্যাদা ঠিক তেমনই, যেমন ইমাম মালিকের কাছে কোনো সাহাবীর (صحابي) মর্যাদা; তিনি সাহাবীর বক্তব্য গ্রহণ করেন যদিও তিনি মৃত হন। আর ইমাম মালিকের যুগের আলেমদের তুলনায় সাহাবীর (صحابي) কথা অধিক অগ্রগণ্য।

 

‌‌আলেমদের কিতাবে যা পাওয়া যায় সে প্রসঙ্গে আলোচনা

কাজী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নামযুক্ত কিতাব পায় যেমন ইমাম মালিকের মুওয়াত্তা অথবা সুফিয়ান সওরীর কিতাব, কিংবা আওজাঈ বা ইমাম শাফেয়ীর কিতাব; তবে তাতে পাওয়া কোনো বিষয়ে কি তার পক্ষে এভাবে বলা জায়েজ হবে যে: মালিক বলেছেন, সওরী বলেছেন, আওজাঈ বলেছেন অথবা শাফেয়ী বলেছেন?
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
قال القَاضي: فهذا سبيله أن ينظر، فإن كان من الكتب التي قد اشتهر ذكرها مثل "الموطَّأ" لمالك، و"جامع الثوري"، وكتب الرَّبِيعِ، جاز أن يعزى ذلك للمترجم عنه إذا كان الكتاب صحيحًا مقروءًا على العلماء معارضًا بكتبهم، وإن كان من الكتب التي لم تشتهر، ولم ينشر ذكرها لم يجز ذلك حتى يروي ما فيه عمن ينسب إليه بروايات الثقات عنه، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْل فِي التَّرْجَمَةِ عَلَى المُفْتِي

مذهب مالك رحمه الله إذا كان الفقيه عربيَّ اللسان ولا يحسن بالفارسية أو غيرها من الألسن، وكان المفتي عجميًّا لا يحسن بالعربية، فجاء رجل يحسن لسان العرب والعجم، وهو عامي فترجم للفقيه عن الأعجميّ ما قاله، وترجم عن الفقيه للأعجمي ما قاله، وأفتاه به، فيجوز ذلك، ويصير طريقه طريق الخبر، ويجب أن يكون الترجمان عربيًّا كما يقول في نقل الخبر ويكون معبرًا للفتوى بلسانه حَسَبَ ما قاله الفقيه للأعجمي من غير تغيُّرٍ له عن معناه، وكذلك إذا بعث الرجل بسؤاله إلى الفقيه، فأجابه بالخط أي: بعَثَ بسؤاله في رُقْعَة إلى الفقيه، فأجابه بخطّ، فيجب أن يكون الرسول ثقة؛ لأن هذه من الأمور التي جرت العادة بها في كل عصر وزمن وإلى الناس ضرورة إليها واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْكَلام فِي وُجُوبِ أَدِلَّةِ السَّمْعِ

قال القاضِي: قَد بَيَّنَّا قول مالك رحمه الله في بُطْلانِ التَّقْلِيد، ووجوب الرجوع إلى الأصول ومعانيها، فمن الأصول السمعية عند مَالِكٍ الكتاب والسنة والإجماع واستدلالات منها والقياس عليها فصل في الكتاب. . . وكتاب اللَّه عز وجل هو الذي كان وصفه اللَّه -تَعَالَى- فقال: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ (41) لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)} [فصلت: الآيتان 41، 42].

وقال تعالى: {لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ} [البقرة: الآية 2].

وقال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: الآية 38].

فلم يفرط فيه في شيء من أمر الدين، بل جعله تبيانًا لكل شيء وشفاء وهدى.

وقال تعالى: {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (18) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ (19)} [القيامة: الآيتان 18، 19].
কাজী বলেন: এটি যাচাই করার পদ্ধতি হলো এই যে, যদি তা এমন কিতাবসমূহ থেকে হয় যার পরিচিতি সুপ্রসিদ্ধ, যেমন মালিকের "মুয়াত্তা", সাওরির "জামে" এবং রাবি'র কিতাবসমূহ; তবে তা অনুবাদকৃত ব্যক্তির (মূল লেখক) দিকে সম্বন্ধ করা জায়েজ হবে যদি কিতাবটি সঠিক (صحيح) হয়, উলামায়ে কেরামের নিকট পঠিত হয় এবং তাঁদের কিতাবসমূহের সাথে তুলনা করা থাকে। আর যদি তা এমন কিতাবসমূহ থেকে হয় যা প্রসিদ্ধ নয় এবং যার চর্চা ছড়িয়ে পড়েনি, তবে তা জায়েজ হবে না যতক্ষণ না তাতে যা রয়েছে তা নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের বর্ণনার (روايات) মাধ্যমে ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয় যার দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌মুফতির জন্য অনুবাদ করার বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব হলো, যখন কোনো ফকিহ আরবি ভাষী হন এবং ফারসি বা অন্য কোনো ভাষা ভালো না জানেন, আর ফতোয়া প্রার্থী অনারব হন যিনি আরবি ভালো জানেন না; এমতাবস্থায় এমন এক ব্যক্তি আসলেন যিনি আরবি ও অনারব উভয় ভাষা ভালো জানেন, অথচ তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তি, এরপর তিনি ফকিহ-এর জন্য অনারব ব্যক্তির বক্তব্য অনুবাদ করলেন এবং ফকিহ-এর পক্ষ থেকে অনারব ব্যক্তির কাছে তাঁর ফতোয়া অনুবাদ করে পৌঁছে দিলেন, তবে তা জায়েজ। এর পদ্ধতিটি হবে খবরের (الخبر) পদ্ধতির মতো। আর সংবাদের (الخبر) বর্ণনার ক্ষেত্রে যেমন বলা হয়, তেমনি অনুবাদককে অবশ্যই বিশ্বস্ত হতে হবে এবং ফকিহ অনারব ব্যক্তির জন্য যা বলেছেন তার অর্থ পরিবর্তন না করে নিজ ভাষায় সেই ফতোয়া ব্যক্ত করতে হবে। একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তি ফকিহ-এর কাছে তার প্রশ্ন লিখে পাঠান, অর্থাৎ এক টুকরো কাগজে ফকিহ-এর কাছে প্রশ্ন পাঠান এবং তিনি লিখিতভাবে তার উত্তর দেন, তবে বার্তাবাহককে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে হবে। কেননা এগুলো এমন বিষয় যা প্রতিটি যুগে ও সময়ে প্রচলিত এবং মানুষের এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌শ্রবণলব্ধ প্রমাণের আবশ্যকতা সংক্রান্ত আলোচনা পরিচ্ছেদ

কাজী বলেন: আমরা তাকলিদ বাতিল হওয়া এবং মূল উৎসসমূহ (الأصول) ও সেগুলোর অর্থের দিকে ফিরে আসার আবশ্যকতা সম্পর্কে ইমাম মালিক (রহ.)-এর বক্তব্য বর্ণনা করেছি। মালিকের নিকট শ্রবণলব্ধ মূল উৎসসমূহ (الأصول السمعية) হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা, এগুলোর মাধ্যমে প্রাপ্ত দলিলসমূহ এবং এগুলোর ওপর ভিত্তি করে করা কিয়াস (القياس)। কিতাব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ... আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর কিতাব হলো সেটিই যার গুণ বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় এটি এক মহিমান্বিত কিতাব। এতে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না সামনের দিক থেকে, আর না পেছন দিক থেকে; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [সূরা ফুসসিলাত: ৪১, ৪২]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত।} [সূরা আল-বাকারা: ২]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।} [সূরা আল-আনআম: ৩৮]।

সুতরাং দ্বীনি বিষয়ের কোনো কিছুই এতে বাদ দেওয়া হয়নি, বরং তিনি একে সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, আরোগ্য ও হেদায়েত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। এরপর এর বর্ণনা প্রদান করার দায়িত্ব আমারই।} [সূরা আল-কিয়ামা: ১৮, ১৯]।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال عز وجل: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا (88)} [الإسراء: الآية 88] أي: عوينًا.

فقطع عذر الخَلْق به وبإعجازه، وظهر إعجازهم عن أن يأتوا بسورة من مثله، فثبتت آياته ولزمت حجته.

 

‌‌فصل في السُّنَّة

وأما سُنَّة الرسول عليه السلام -فأصل ذلك في كتاب اللَّه- عز وجل، قال اللَّه تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: الآية 80].

وقال عز وجل: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النساء: الآية 59].

وقال تعالى: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور: الآية 63] إلى قوله: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} [النور: الآية 63].

وقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: الآية 7].

وقال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: الآية 59].

وقال: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} [النساء: الآية 65].

فأوجب اللَّه عز وجل علينا طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم كما أوجب علينا طاعته نفسه سبحانه.

وقرن طاعته بطاعته، وأمر بأخذ ما أتى به والانتهاء عما نَهَى عنه، وأخبر أنه ولاه بيان ما نزل إليهم، وقال تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم: الآيتان 3، 4]. . . إلى آيات كثيرة تدلُّ على وجوب السنة كوجوب الكتاب.

 

‌‌فصل فِي الإِجْمَاعِ

وأما الإجماع فأصله في كتاب اللَّه عز وجل -أيضًا قال اللَّه تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ} إلى قوله: {وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: الآية 115].

وقال تعالى: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: الآية 59].
মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [আল-ইসরা: আয়াত ৮৮] অর্থাৎ: সাহায্যকারী।

অতঃপর তিনি এর মাধ্যমে এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দ্বারা সৃষ্টির ওজর বা অজুহাত ছিন্ন করেছেন। এর অনুরূপ একটি সূরা আনতেও তাদের অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। ফলে এর আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর প্রমাণ (حجة) অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

 

‌‌সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

আর রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাহ (سنة)-এর ভিত্তি মহান আল্লাহর কিতাবেই বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} [আন-নিসা: আয়াত ৮০]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।} [আন-নিসা: আয়াত ৫৯]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মাঝে রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরকে ডাকার মতো গণ্য করো না...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।} [আন-নূর: আয়াত ৬৩]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: আয়াত ৭]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [আন-নিসা: আয়াত ৫৯]।

তিনি বলেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো প্রকার দ্বিধা না রাখে এবং তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: আয়াত ৬৫]।

আল্লাহ عز وجল আমাদের ওপর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করাকে তেমনি আবশ্যক করেছেন যেমন তিনি তাঁর নিজের আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন।

তিনি তাঁর আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন এবং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করার ও যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অবহিত করেছেন যে, তিনি রাসূলকে তাঁদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার বর্ণনা বা ব্যাখ্যার দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। এতো শুধু ওহী (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} [আন-নাজম: আয়াত ৩, ৪]... এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা কিতাবের বিধান পালনের আবশ্যকতা ন্যায় সুন্নাহ (سنة)-এর আবশ্যকতা নির্দেশ করে।

 

‌‌ইজমা (إجماع) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

আর ইজমা (إجماع)-এর ভিত্তিও মহান আল্লাহর কিতাবে রয়েছে—আল্লাহ তাআলা বলেন: {কারো কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর তা কত মন্দ আবাস!} [আন-নিসা: আয়াত ১১৫]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর বা আদিষ্ট কর্তৃপক্ষের (أولي الأمر) আনুগত্য করো।} [আন-নিসা: আয়াত ৫৯]।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال تعالى: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: الآية 83].

فأمر تعالى باتِّباع سبيل المؤمنين وحذر ترك اتباعهم، كما حذر في ترك اتِّباع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأمر بطاعة أُولي الأمر منهم مقرونةً بطاعة اللَّه -وطاعة رسوله- عليه السلام.

 

‌‌فَقِيلَ في "أُولى الأَمْر": إِنَّهُمُ العُلَمَاء

وقيل: أمراء السرايا، وهم من العلماء أيضًا، فيحتمل أن تكون الآية عامَّة في العلماء وأمراء السرايا على أنَّ أُمَرَاء السرايا من جملة العلماء؛ لأنه لم يكن يولى عليهم إلا من علماء الصحابة وفقهائهم، فأمر اللَّه -تعالى- بالرَّد إليهم واتباع سبيلهم، فصحَّ أنهم حجَّة لا يجوز خلافُهُم، فهذه أصول السمع وأصلها كلها في الكتاب كما قد رأيت، وهي مضافة لبيان الكتاب لقوله تعالى: {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: الآية 89] وقوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: الآية 38].

وعلى هذا إضافة ما أجمع عليه مما لا يوجد له في الكتاب نصّ، ولا في السنة ذكر؛ لأن الكتاب أمر بِقَبُول ذلك كله ووجبت حجته جميعه، وهذا تقليد من لزم تقليده من أولي الأمر وهم العلماء كما ذكرنا.

 

‌‌فصل فِي الاسْتِدْلالِ وَالْقِيَاسِ

ثم دل الكتاب على الاستنباط والاستدل الذي غير موضع قال اللَّه عز وجل: {فَاعْتَبِرُوا يَاأُولِي الْأَبْصَارِ} [الحشر: الآية 2].

وقال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ} إلى قوله: {تَأْوِيلًا} [النساء: الآية 59].

فكان في ذلك دليل على الانتزاع من الأصول وإلحاق المسكوت عنه بالمذكور على وجه الاعتبار، وهذا هو باب القياس والاجتهاد.

وأصله في الكتاب، وهو أيضًا مضاف إلى بيانه، وليس شيء من الأحكام يخرج من الكتاب نصًّا، وعن السُّنَّة والإجماع والقياس.

وقد انطوى تحت بيان الكتاب ذلك كله، وفي ذلك بيان معنى قوله: {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: الآية 89].
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তারা তা রাসূলের নিকট এবং তাদের উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিগণ) নিকট পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা গবেষণা করে বের (استنباط) করতে পারে তারা অবশ্যই তা জানত।} [সূরা আন-নিসা: ৮৩]।

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পথ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের পথ ত্যাগ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, যেমন তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ বর্জন করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি তাদের মধ্য হতে উলিল আমরের আনুগত্যকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (আলাইহিস সালাম) আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত করে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

‌‌‘উলিল আমর’ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে: তারা হলেন আলিমগণ

আরও বলা হয়েছে: তারা হলেন সমর অভিযানের সেনাপতিগণ, আর তারাও আলিমদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই আয়াতটি আলিম এবং সেনাপতি উভয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ। কেননা সেনাপতিগণ আলিমদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; কারণ সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা আলিম ও ফকিহ ছিলেন, তাদের ছাড়া কাউকে সেনাপতি নিযুক্ত করা হতো না। অতএব আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট বিষয়টি পেশ করতে এবং তাদের পথ অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, তারা একটি অকাট্য প্রমাণ (حجة), যাদের বিরোধিতা করা বৈধ নয়। এগুলোই হলো শ্রবণলব্ধ দলিলাদির মূলভিত্তি (أصول السمع) এবং এগুলোর সবকিছুর মূল কুরআন মজিদে বিদ্যমান যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন। এগুলো কুরআনের বর্ণনার সাথে সংযুক্ত, যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে} [সূরা আন-নাহল: ৮৯] এবং তাঁর বাণী: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি} [সূরা আল-আনআম: ৩৮]।

এর ভিত্তিতে সেই বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে যেগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু কুরআনে তার কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص) বা সুন্নাহতে তার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। কারণ কুরআন এই সব কিছু গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এগুলোর সামগ্রিক প্রমাণ্যতা (حجة) সাব্যস্ত হয়েছে। আর এটি হলো তাদের অনুসরণ (تقليد) করা যাদের অনুসরণ করা উলিল আমর হিসেবে আবশ্যক এবং তারা হলেন আলিমগণ, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

 

‌‌অনুচ্ছেদ: প্রামাণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (استدلال) ও সাদৃশ্যবিধান (قياس) প্রসঙ্গে

এরপর কুরআন মাজিদ বিভিন্ন স্থানে গবেষণা (استنباط) ও প্রামাণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের (استدلال) প্রতি নির্দেশ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো} [সূরা আল-হাশর: ২]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হও, তবে তা প্রত্যর্পণ করো...} আয়াত: {পরিণতির দিক দিয়ে অতি উত্তম} [সূরা আন-নিসা: ৫৯] পর্যন্ত।

এতে মূলনীতিসমূহ (أصول) থেকে নির্যাস বের করা এবং বিবেচনার (اعتبار) ভিত্তিতে অনুক্ত বিষয়কে উক্ত বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করার দলিল রয়েছে। আর এটিই হলো সাদৃশ্যবিধান (قياس) ও গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্র।

এর মূল ভিত্তি কুরআনে বিদ্যমান এবং এটিও কুরআনের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনো বিধানই কুরআনের স্পষ্ট পাঠ (نص), সুন্নাহ, ঐকমত্য (إجماع) এবং সাদৃশ্যবিধানের (قياس) বাইরে নয়।

কুরআনের বর্ণনার অধীনে এই সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর এর মধ্যেই মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ নিহিত রয়েছে: {সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে} [সূরা আন-নাহল: ৮৯]।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: الآية 38].

وقوله: {وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ} [يونس: الآية 57]، واللَّه أعلم.

 

‌‌فَصْلٌ فِي الْقِيَاسِ (1)

ومذهب مالك رحمه الله القول بالقياس، وقد بَيَّنَّا الحُجَّة له، والدليل أيضًا على صحّة القياس، وهو إجماع الصَّحابة رضي الله عنهم على تسويغ بعضهم لبعض القول بالقياس والاستعمال له في الحوادث أعلا [. . .] أن بعضهم لبعض شبه بالشجرة، وبعضهم شبه بالنَّهر في مسائل الجَدّ والأخوة.

وبقول ابْنِ عَبَّاسٍ لو لم يعتبر الإنسان في العقل إلا بالأصابع وغير ذلك مما يطول ذكره مما هو مشهور عنهم، ولم ينكر أحد منهم على الآخر ما ذهب إليه من جِهَة القياس، فَدَلَّ على إجماعهم على القول بالقياس، وعلى حُجِيَّتهِ، وأنه ممَّا يتوصل به إلى علم الحوادث مع ما ذكرناه من دلائل الكتاب والسنة والإجماع على صحته، ووجوب القول به، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ القَوْلِ فِي الْخُصُوصِ(2) وَالْعُمُومِ (3)

قال القَاضِي: من مذهب مالك رحمه الله القول بالعموم، وقد نصّ عليه في كتبه في مسائله حيث يقول محتجًّا لإيجابه اللعان(4) بين كل زوجين لعموم إيجاب اللَّه عز وجل ذلك بين الأزواج، وكذلك قال: وقد سئل عن عِدّة(5) الصغيرة من الوفاة واحتجَّ بقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ} إلى قوله: {وَعَشْرًا} [البقرة: الآية 234] وقد احتج لقوله: إن الاعتكاف لا يكون إلا في المساجد، سواء كان جامعًا أو غيره بقوله تعالى: {وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ} [البقرة: الآية 187].

--------------------------------------------

(1) انظر تعريف القياس في البرهان 2/ 743، التمهيد للأسنوي في (463)، والإحكام للآمدي 3/ 167، ونهاية السول 4/ 2.

(2) الخصوص جمع خاص وهو اللفظ الدال على مسمى واحد. انظر البحر المحيط 3/ 240.

(3) في اللغة: شمول أمر المتعدد، سواء كان الأمر لفظًا أو غيره، واصطلاحًا: اللفظ المستغرق لجميع ما يصلح له من غير حصر، انظر البرهان 1/ 318، نهاية السول 2/ 312، المستصفى 2/ 32، الإحكام للآمدي 2/ 185.

(4) انظر المصباح المنير 2/ 761.

(5) انظر الصحاح 2/ 505.
আর তাঁর বাণী: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} [আল-আন'আম: আয়াত ৩৮]।

আর তাঁর বাণী: {এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য} [ইউনুস: আয়াত ৫৭], এবং আল্লাহই সম্যক অবগত।

 

‌‌কিয়াস (القياس) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (1)

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো কিয়াস (القياس) গ্রহণ করা। আমরা এ ব্যাপারে তাঁর সপক্ষে দলিল বর্ণনা করেছি। কিয়াস (القياس)-এর সঠিক হওয়ার ব্যাপারেও প্রমাণ পেশ করেছি, আর তা হলো সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ইজমা (إجماع)। তাঁরা একে অপরের জন্য কিয়াস (القياس) করাকে এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এর ব্যবহারকে বৈধতা দিয়েছেন... তাঁদের কেউ কেউ একে অন্যের মাসআলাগুলোকে (দাদা ও ভাইয়ের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত) বৃক্ষ বা নদীর সাথে তুলনা করেছেন।

ইবনে আব্বাসের উক্তি অনুযায়ী, যদি মানুষ বিচার-বুদ্ধির ক্ষেত্রে কেবল আঙ্গুলের (দিয়ত) বিষয়গুলো এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা না করত, তবে আলোচনার দীর্ঘায়িত হতো যা তাঁদের থেকে প্রসিদ্ধ। তাঁদের কেউ কিয়াস (القياس)-এর পদ্ধতির কারণে একে অপরের প্রতি অস্বীকৃতি জানাননি। এটি কিয়াস (القياس) গ্রহণ করার ব্যাপারে এবং এর প্রমাণযোগ্যতা (حجية)-র ওপর তাঁদের ইজমা (إجماع)-কে নির্দেশ করে। এছাড়া কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা (إجماع)-এর মাধ্যমে আমরা এর সঠিকতা এবং এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি, তার পাশাপাশি এটি এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা নতুন উদ্ভূত মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক আসে।

 

‌‌খাস (الخصوص) (2) এবং আম (العموم) (3) সংক্রান্ত আলোচনার অধ্যায়

কাজী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো আম (العموم) গ্রহণ করা। তিনি তাঁর কিতাবসমূহের মাসআলাগুলোতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যেখানে তিনি সকল দম্পতির মাঝে লি'আন (اللعان)(4) ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলিল দিতে গিয়ে সকল দম্পতির মাঝে এটি ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত মহান আল্লাহর বাণীর আম (العموم) হওয়ার কথা বলেছেন। অনুরূপভাবে তিনি বলেছেন: যখন তাঁকে নাবালিকার মৃত্যুর ইদ্দত (عدة)(5) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছিলেন: {এবং তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করাবে} [আল-বাকারা: আয়াত ২৩৪]। তিনি তাঁর এই উক্তির সপক্ষেও দলিল পেশ করেছেন যে, ইতিকাফ কেবল মসজিদেই হতে হবে, চাই তা জামে মসজিদ হোক বা অন্য কিছু; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো} [আল-বাকারা: আয়াত ১৮৭]।

--------------------------------------------

(1) আল-বুরহান ২/৭৪৩, আল-ইসনাউয়ি রচিত আত-তামহিদ ৪৬৩, আল-আমিদি রচিত আল-ইহকাম ৩/১৬৭ এবং নিহায়াতুস সুল ৪/২ দেখুন।

(2) খাস (الخصوص) হলো খাস (خاص)-এর বহুবচন, আর তা হলো এমন শব্দ যা একটি নির্দিষ্ট সত্তাকে নির্দেশ করে। আল-বাহরুল মুহিত ৩/২৪০ দেখুন।

(3) আভিধানিক অর্থে: একাধিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, চাই সেটি শব্দ হোক বা অন্য কিছু। আর পরিভাষায়: এমন শব্দ যা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য সকল বিষয়কে শামিল (المستغرق) করে। আল-বুরহান ১/৩১৮, নিহায়াতুস সুল ২/৩১২, আল-মুসতাসফা ২/৩২, আল-আমিদি রচিত আল-ইহকাম ২/১৮৫ দেখুন।

(4) আল-মিসবাহুল মুনির ২/৭৬১ দেখুন।

(5) আস-সিহাহ ২/৫০৫ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال مالك: جمع اللَّه سبحانه وتعالى المساجد كلها، ولم يخص مسجدًا عن مسجد، وحكم هذا الباب عنده أن الخطاب إذا ورد باللفظ العام نظر، فإن وجد دليل يخصّ اللفظ كان مقصورًا عليه، وإن لم يوجد دليل يخصه أجرى الكلام على عمومه، ووجه ذلك أن فِطْرَة اللسان في العلم الذي وصفته، واحتمال الخصوص إذا لم يكن محتملًا لذلك كان سنة، فوجب أن يجري حكمه على جميع ما استعمل عليه، ولو كانت عينه توجب ذلك، لم يجز أن يوجد في الخطاب لفظ علم أريد به الخصوص، ولا جاز أن يقوم دليل على خصوص لفظ علم، وفي وجود ذا الأمر بخلاف ذلك دليل على أنَّ غير اللفظ لا يوجب العموم، وَإِذَا كان ذلك كذلك علم احتماله، ومتى علم أنه محتمل لم يجز الإقدام على الحُكْم به دون البَحْث والنَّظَر في المراد به، والمعنى الذِي يخرج عليه؛ لأن اللَّه عز وجل أمرنا باتِّبَاع كتابه وسنة نبيه والاعتبار بهما، والرد إليهما فذلك كله كالآية الواحدة.

فلا يجوز ترك شيء من ذلك مع القدرة عليه، وإذا لم يجز ذلك وجب أن ينظر ولا يهجم بالتنفيذ، قبل التأمل كما لا يبادر بذلك في الكلام المتصل إلى أن ينتهي إلى آخره، فينظر آخرُهُ، هل يتبعه استثناء أم لا؟ وكذلك الكتاب والسنة والأصول كلها كالآية الواحدة، ولا يجوز أن يبادر إلى التنفيذ حتى يتدبر وينظر، فإن وجد دليل يخصّ حَمَلْنا الخطاب عليه، وإن لم يجد فقد حصل الأمر، والمراد به التنفيذ، وإنما جعلت الأسماء دليلًا على المسمَّياتِ، وقد ورد اللفظ مشتملًا على مسمَّيَّات، فليس بعضها أولى من بعض، وقدم عليه فهو على عمومه، والحكم جاء على جميع ما انطوى عليه؛ لأن قضية العقول أن كل مُتَساويين، فحكمهما واحد من حيث تساويا إلا بأن يخص أحدهما معنى يوجب إجراءة عن صاحبه، وإذا عده دليل الأفراد فلا حكم إلا التسوية؛ إذ ليس أحدهما أولى من الآخر وإذا كان هكذا صحّ ما قلنا في العموم والخصوص، وباللَّهِ التوفيق.

 

‌‌بَابُ الكلامِ في الأَوَامِرِ وَالنَّوَاهِي (1)

عند مالك رحمه الله أن الأوامر على الوجوب إذا وردت من مفروض بالطاعة، وقد احتجّ حيث سئل عن تَمَام ما يدخل فيه القرب بقوله عز وجل: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} [البقرة: الآية 196] وبقوله تعالى: {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة: الآية 187].

--------------------------------------------

(1) انظر البرهان 10/ 203، الأحكام للآمدي 2/ 120، نهاية السول 2/ 226، المستصفى 1/ 81.
ইমাম মালিক বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সকল মসজিদকে শামিল করেছেন এবং কোনো একটি মসজিদকে অন্যটি থেকে নির্দিষ্ট করেননি। তাঁর নিকট এই বিষয়ের বিধান হলো, যখন কোনো সম্বোধন সাধারণ শব্দ (اللفظ العام) দ্বারা বর্ণিত হয়, তখন তা পর্যালোচনা করতে হয়। যদি এমন কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায় যা সাধারণ শব্দটিকে সুনির্দিষ্ট (يخص) করে, তবে তা সেই সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর যদি এমন কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া না যায় যা একে সুনির্দিষ্ট (يخص) করে, তবে বক্তব্যটি তার ব্যাপকতা (العموم)-র ওপর বহাল থাকবে। এর কারণ হলো, আমি যে জ্ঞানের বর্ণনা দিয়েছি তাতে ভাষার প্রকৃতি এবং সুনির্দিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা (احتمال الخصوص) বিদ্যমান; যদি তা সেটির সম্ভাবনা না রাখত তবে তা সুন্নাহ (سنة) হতো। ফলে এর বিধানটি যে সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তার সবকিছুর ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। যদি শব্দটির মূল রূপই ব্যাপকতা আবশ্যক করত, তবে সম্বোধনে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট শব্দ পাওয়া বৈধ হতো না যার দ্বারা সুনির্দিষ্টকরণ (الخصوص) উদ্দেশ্য এবং কোনো সুনির্দিষ্ট শব্দের ওপর প্রমাণ (دليل) দণ্ডায়মান হওয়াও বৈধ হতো না। আর এই বিষয়টি এর বিপরীতভাবে বিদ্যমান থাকাই একথার প্রমাণ (دليل) যে, শব্দ ছাড়া অন্য কিছু ব্যাপকতা (العموم) আবশ্যক করে না। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন এর সম্ভাব্যতা জানা গেল। আর যখনই জানা গেল যে এটি সম্ভাব্য, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী এবং কোন অর্থে তা নির্গত হয়েছে তা অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া হুকুম প্রদানের পথে অগ্রসর হওয়া বৈধ হবে না। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল আমাদের তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করতে এবং সেগুলোর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে ও সেগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এই সবকিছু একটি আয়াতের মতো।

অতএব, সক্ষমতা থাকা অবস্থায় এর কোনো কিছু বর্জন করা বৈধ নয়। আর যখন তা বৈধ নয়, তখন গভীর চিন্তা ছাড়া কেবল বাস্তবায়নের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। যতক্ষণ না কোনো পরস্পর সংলগ্ন বক্তব্যের ক্ষেত্রে যেমনটি করা হয়—শেষ পর্যন্ত দেখা হয় যে কোনো ব্যতিক্রম (استثناء) আছে কি না। অনুরূপভাবে কিতাব, সুন্নাহ এবং সকল মূলনীতি (الأصول) একটি আয়াতের মতো। সুতরাং গভীর চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া বৈধ নয়। যদি এমন কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায় যা সুনির্দিষ্ট (يخص) করে, তবে আমরা সম্বোধনটিকে সেটির ওপর প্রয়োগ করব। আর যদি পাওয়া না যায়, তবে আদেশটি বাস্তবায়নের জন্যই সাব্যস্ত হবে। নামসমূহকে মূলত নামধারীর পরিচয়জ্ঞাপক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর শব্দ যখন একাধিক নামধারীকে শামিল করে আসে, তখন একটি অপরটির চেয়ে অগ্রগণ্য নয়। যেহেতু এটি ব্যাপকতা (العموم)-র ওপর রয়েছে, তাই বিধানটি এর অন্তর্ভুক্ত সবকিছুর ওপর প্রযোজ্য হবে। কেননা যুক্তি বলে যে, দুটি সমান বিষয়ের হুকুম বা বিধান সমান হবে যে পর্যন্ত তারা সমান, যতক্ষণ না কোনো বিশেষ অর্থ একটিকে তার সাথী থেকে পৃথক করা আবশ্যক করে। আর যখন পৃথক করার কোনো প্রমাণ (دليل) না থাকে, তখন সমতা বিধান করা ছাড়া কোনো হুকুম নেই। কারণ একটি অপরটি থেকে অগ্রগণ্য নয়। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন সাধারণ (العموم) ও বিশেষ (الخصوص) সম্পর্কে আমরা যা বলেছি তা সঠিক সাব্যস্ত হলো। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়।

 

‌‌আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত আলোচনা (১)

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, আদেশসমূহ আবশ্যকতা (الوجوب)-র অর্থ প্রদান করে যখন তা আনুগত্য করা আবশ্যক এমন কারো পক্ষ থেকে আসে। তিনি দলিল পেশ করেছেন যখন তাকে ইবাদতের পূর্ণতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো} [সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৬] এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} [সূরা বাকারা: আয়াত ১৮৭]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বুরহান ১০/ ২০৩, আল-আহকাম লিল আমেদি ২/ ১২০, নিহায়াতুস সুল ২/ ২২৬, আল-মুস্তাসফা ১/ ৮১।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
والدليل على صحة ذلك أن المفروض الطاعة إذا قال لمن تلزمه طاعته: افعل، لم يعقل منه لا تفعل، ولا ما في معناه، ولا توقف، ولا ما في معناه، ولا أنت مُخَيَّر، ولا ما في معناه، فلم يبق إلا البخاري الفعل وإنجازه من المأمور به، فدل على أن الأوامر تدل على الوجوب إذا تجردت عن القرائن التي تدل على الندب(1) وغيره، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي أَفْعَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم-(2)

ومذهب مالك رحمه الله أن أفعال النبي صلى الله عليه وسلم على الوجوب، وقد أباح ذلك، والثاني: أنه لا يتبع فيه إلا بدليل، هكذا حكى الخلاف في "شرح الطريقين في العيد"، وعن الماوَرْدِي أن ما فعله النبي صلى الله عليه وسلم لمعنى فزال ذلك المعنى، فيه قال ابن القطان: ولا خلاف فيه.

قال في مواضع كثيرة احتجاجًا بقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: الآية 21] وسواء كان ذلك حظرًا أو إباحة حتى يتبيَّن أنه عليه السلام مخصوص بذلك دوننا، وقد أسقط مالك رضي الله عنه الزَّكَاة في الخضراوات اقتداء بأنها لم يأخذها النبي عليه السلام فدلّ على أن أفعاله صلى الله عليه وسلم عنده على الوجوب، وقال تعالى: {فَاتَّبِعُوهُ} [الأنعام: الآية 153].

والأمر على الوجوب، فوجب اتباعه عليه السلام في قوله وفعله، وكذلك قال عمر رضي الله عنه لَمَّا قَبَّلَ الحَجَرَ: "إِنِّي لأعلم أنك حجر لا تضر ولا تنفع ولَكنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَكَ".

وكذلك خلعت الصَّحابة رضي الله عنهم نعالهم لدخول الكعبة، وقالوا: رأينا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم خَلَعَ نَعْلَين لدخولها، فدل على أن أفعاله على الوجوب إلا أن يقوم دليل الخصوص.

 

‌‌بَابُ الكَلامِ في الأَخْبَارِ وَالقَوْلِ في التَّوَاتُرِ (3)

ومذهب مالك رحمه الله قَبُول الخبر الذي قد اشتهر واستغنى عن ذكر عدد

--------------------------------------------

(1) الندب هو في اللغة المدعو إليه. وفي الاصطلاح: الفعل الذي طلبه الشارع طلبًا غير جازم، انظر البرهان 1/ 310، الأحكام للآمدي 1/ 111، نهاية السول 1/ 77، المستصفى 1/ 75.

(2) انظر البرهان 1/ 383، الأحكام للآمدي 1/ 158، نهاية السول 3/ 64.

(3) التواتر: هو في اللغة المتتابع أو مع فترات، وفي الاصطلاح: ما رواه جمع يحيل العقل =
এর সঠিকতার প্রমাণ হলো, যাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক, তিনি যখন তাঁর অনুগত ব্যক্তিকে বলেন: 'তুমি করো', তখন তা থেকে 'করো না' বা এর সমার্থক কিছু বোঝা যায় না, আবার স্থগিত থাকাও বোঝা যায় না, কিংবা 'তোমাকে ইখতিয়ার বা পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হলো' এমনটিও বোঝা যায় না। সুতরাং আদিষ্ট বিষয়ের কাজ সম্পাদন ও তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এটি প্রমাণ করে যে, নির্দেশসমূহ আবশ্যকতা (الوجوب)-র ওপর দালালত বা প্রমাণ পেশ করে, যদি তা পছন্দনীয় (الندব)(১) বা অন্য কোনো অর্থ প্রকাশক প্রাসঙ্গিক আলামত (القرائن) থেকে মুক্ত হয়। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

‌‌অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি সম্পর্কিত আলোচনা-(২)

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি আবশ্যকতা (الوجوب)-র বিধান রাখে, আবার তিনি সেটিকে বৈধতাও দিয়েছেন। দ্বিতীয় মতটি হলো: কোনো দলিল ব্যতীত এতে তাঁর অনুসরণ করা যাবে না। 'শারহুত তরিকাইন ফিল ঈদ' গ্রন্থে এভাবেই মতভেদ বর্ণনা করা হয়েছে। আল-মাওয়ার্দি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো একটি কারণে যা করেছেন, পরবর্তীতে যদি সেই কারণটি দূরীভূত হয়ে যায়, তবে সে বিষয়ে ইবনুল কাত্তান বলেছেন: এতে কোনো মতভেদ নেই।

তিনি অনেক স্থানে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [সূরা আহযাব: আয়াত ২১]। চাই তা কোনো কিছু নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত হোক বা বৈধ হওয়া সংক্রান্ত, যতক্ষণ না স্পষ্ট হয় যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) আমাদের বাদ দিয়ে উক্ত বিষয়ের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট (مخصوص)। ইমাম মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (আলাইহিস সালাম) শাকসবজি থেকে জাকাত গ্রহণ করেননি—এই বিষয়ের অনুসরণ করে শাকসবজির জাকাত রহিত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি আবশ্যকতা (الوجوب)-র বিধান রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো} [সূরা আনআম: আয়াত ১৫৩]।

আর নির্দেশ আবশ্যকতা (الوجوب)-র দাবি রাখে; সুতরাং তাঁর (আলাইহিস সালাম) কথা ও কাজে তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। অনুরূপভাবে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেছিলেন তখন বলেছিলেন: "আমি অবশ্যই জানি যে তুমি একটি পাথর, তুমি কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারো না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি তোমাকে চুম্বন করতে।"

অনুরূপভাবে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কাবায় প্রবেশের সময় তাঁদের জুতা খুলেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি সেখানে প্রবেশের সময় দুই জুতা খুলতে।" এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর কার্যাবলি আবশ্যকতা (الوجوب)-র বিধান রাখে, যতক্ষণ না এটি তাঁর বিশেষত্ব (الخصوص) হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়।

 

‌‌অধ্যায়: বর্ণনা (الأخبار) এবং মুতাওয়াতির (التواتر) বিষয়ক আলোচনা (৩)

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো এমন খবর বা বর্ণনা (الخبر) গ্রহণ করা যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যার উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা মুক্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শাব্দিক অর্থে আন-নদব (الندب) হলো কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করা। পরিভাষায়: এমন কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা বাধ্যতামূলক নয় এমনভাবে দাবি করেছেন। দেখুন: আল-বুরহান ১/৩১০, আল-আহকাম লিল আমেদি ১/১১১, নিহায়াতুস সুল ১/৭৭, আল-মুসতাসফা ১/৭৫।

(২) দেখুন: আল-বুরহান ১/৩৮৩, আল-আহকাম লিল আমেদি ১/১৫৮, নিহায়াতুস সুল ৩/৬৪।

(৩) মুতাওয়াতির (التواتر): শাব্দিক অর্থ হলো পর্যায়ক্রমিক বা বিরতি দিয়ে আসা। পরিভাষায়: যা এমন এক বিশাল দল বর্ণনা করেছেন যাদের ক্ষেত্রে বুদ্ধি বিবেচনামতে অসম্ভব যে...
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
ناقليه لكثرتهم، كمواقيت الصلاة وأركان الحج التي لا يتم إلا بها، وتحول القبلة من بيت المقدس إلى الكعبة، وأشباه ذلك من الشرائع التي تواترت الأخبار بها عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وهذا هو الخبر المُتواتر الذي يوجب العلم، ويقطع العذر، ويشهد على مُخبره بالصدق، ويرتفع معه الرَّيْب، وهذا مما لا خلاف فيه بين فقهاء الأمصار، وسائر الأُمَّة، ولا ينكره إلا من خرج عن الجماعة ومَرَق من الدين وخالف ما عليه المسلمون، ولأنه بمثله تعرف أخبار الأنبياء والرسل والمماليك والدول والأيّام والأسلاف، وما لم نشاهد من البلدان مثل الصين، وَخُراسَانَ، فمن أنكر ذلك لزمه أن يتوقف عن معرفة هذه الأشياء، ومن توقَّف عن هذا بأن عَوَار مذهبه، وقبح طريقته وعناده ومكابرته وخروجه عن جميع ما عليه العقلاء، وكفى بهذا بطلانًا وفسادًا، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ القَوْلِ في خَبَرِ الْوَاحِدِ العَدْلِ (1)

ومذهب مالك رحمه الله قَبُول خبر الواحد العدل، وأنه يوجب العمل دون القطع على عَيْنِهِ، وبه قال جميع الفقهاء، وقد احتج مالك بذلك في الْمُتَبايعِينِ بالخيارِ مَا لَمْ يَفْتَرقَا(2)، وكَذَلِكَ في غَسْلِ الإِنَاءِ من وُلُوغ الْكَلْبِ(3)، وفي مواضع كثيرة.

والدليل على وجوب العمل به قوله عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا. . .} إلى قوله: {نَادِمِينَ} [الحجرات: الآية 6]، فدل على أن العدل لا يثبت في خبره، إذ لو كان الفاسق والعدل سواء لم يكن لتخصيص الفاسق بالذِّكْر فائدة، وإنما لم يقطع على عَيْنه؛ لأن العلم لا يحصل من جهته؛ إذ لو كان يحصل من جهته العلم لوجب أن يستوي فيه كل مَنْ سمعه كما يستوي في العلم بمخبر خبر التواتر، فلما كنا نجد أنفسنا غير عالمين بصحة مخبره، دل على أنه لا يقطع على معينه، وأنه بخلاف التَّواتر، وصار خبر الواحد، بمنزلة الشَّاهد الذي قد أمرنا بقَبُول شهادته، وإن

--------------------------------------------

= تواطأهم على الكذب عادة من أمر حسي، أو حصول الكذب منهم اتفاقًا ويعتبر ذلك في جميع الطبقات إن تعددت، انظر البحر المحيط للزركشي 4/ 231، الأحكام للآمدي 1/ 14.

(1) انظر البحر المحيط للزركشي 4/ 257، البرهان 1/ 599، نهاية السول 3/ 97، والأحكام للآمدي 2/ 30.

(2) أخرجه البخاري 4/ 382، ومسلم 3/ 1163.

(3) أخرجه مسلم 1/ 234، وأبو داود 1/ 19، والترمذي 1/ 151.
বর্ণনাকারীদের আধিক্যের কারণে (তাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব), যেমন সালাতের ওয়াক্তসমূহ এবং হজের আরকানসমূহ যা ব্যতীত হজ পূর্ণ হয় না, কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য শরিয়তের বিধানসমূহ যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) সংবাদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। এটিই হলো নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ (الخبر المُتواتر) যা সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে, ওজোর-আপত্তি নিঃশেষ করে দেয়, বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতার সাক্ষ্য দেয় এবং এর মাধ্যমে সকল সংশয় দূর হয়ে যায়। বিভিন্ন জনপদের ফকিহগণ এবং সমগ্র উম্মতের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। জামায়াত থেকে বিচ্যুত, দ্বীন থেকে ফিতনা সৃষ্টিকারী এবং মুসলিমদের ইজমার বিরোধিতাকারী ছাড়া আর কেউ একে অস্বীকার করে না। কারণ, এই প্রকার সংবাদের মাধ্যমেই নবী-রাসুলগণের সংবাদ, রাজতন্ত্র, রাষ্ট্র, ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, পূর্বপুরুষদের কথা এবং আমাদের না দেখা বিভিন্ন দেশ যেমন চীন ও খোরাসান সম্পর্কে জানা যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে, তার জন্য এই বিষয়গুলোর জ্ঞান লাভ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক হয়ে পড়বে। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করবে, তার মতবাদের অসারতা, পন্থার কদর্যতা, তার হঠকারিতা, অহংকার এবং সকল বুদ্ধিমানদের পথ থেকে বিচ্যুতি প্রকাশ হয়ে পড়বে। আর এর অসারতা ও ত্রুটি প্রমাণের জন্য এটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।

 

‌‌নির্ভরযোগ্য একক সংবাদ (خبر الواحد العدল) সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (১)

ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব হলো নির্ভরযোগ্য একক সংবাদ (خبر الواحد العدل) গ্রহণ করা। এটি আমল করাকে ওয়াজিব করে, তবে তা সুনির্দিষ্টভাবে ধ্রুব নিশ্চয়তা (القطع) প্রদান করে না। সকল ফকিহগণ একই কথা বলেছেন। ইমাম মালিক কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত ইখতিয়ার বা অধিকার থাকা সংক্রান্ত হাদিস, একইভাবে কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র ধৌত করার হাদিস এবং আরও অনেক স্থানে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।

এর দ্বারা আমল ওয়াজিব হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও...} {যাতে তোমরা লজ্জিত না হও} পর্যন্ত। [সূরা আল-হুজুরাত: আয়াত ৬]। এটি প্রমাণ করে যে, নির্ভরযোগ্য (العدল) ব্যক্তির সংবাদের ক্ষেত্রে যাচাই করার শর্ত নেই; কারণ পাপাচারী (فاسق) এবং নির্ভরযোগ্য (العدল) ব্যক্তির মর্যাদা যদি সমান হতো, তবে বিশেষভাবে পাপাচারী (فاسق)-এর কথা উল্লেখ করার কোনো সার্থকতা থাকতো না। তবে এটি সুনির্দিষ্টভাবে ধ্রুব নিশ্চয়তা (القطع) প্রদান করে না, কারণ একক সংবাদের মাধ্যমে সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم) অর্জিত হয় না। যদি এর দ্বারা সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم) অর্জিত হতো, তবে শ্রবণকারী প্রত্যেকের কাছেই তা সমান হতো, যেমনটি নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ (خبر التواتر)-এর সংবাদদাতার ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়। যেহেতু আমরা নিজেদের অবচেতন মনেই এর সত্যতা নিয়ে সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করি না, তাই প্রমাণিত হয় যে এটি সুনির্দিষ্টভাবে ধ্রুব সত্য হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না এবং এটি নিরবচ্ছিন্নতা (التواتر)-এর বিপরীত। ফলে একক সংবাদ (خبر الواحد) একজন সাক্ষীর (الشاهد) মর্যাদায় উপনীত হয়েছে, যার সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও

--------------------------------------------

= ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বিষয়ে সাধারণত তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব, অথবা দৈবক্রমে তাদের সবার পক্ষ থেকে মিথ্যা প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। এটি সমস্ত স্তরেই বিবেচনা করা হয় যদি বর্ণনাকারীর সংখ্যা একাধিক হয়। দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত লিল যারকাশি ৪/২৩১, আল-ইহকাম লিল আমিদি ১/১৪।

(১) দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত লিল যারকাশি ৪/২৫৭, আল-বুরহান ১/৫৯৯, নিহায়াতুস সুল ৩/৯৭, এবং আল-ইহকাম লিল আমিদি ২/৩০।

(২) এটি বুখারী ৪/৩৮২ এবং মুসলিম ৩/১১৬৩ বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি মুসলিম ১/২৩৪, আবু দাউদ ১/১৯ এবং তিরমিজি ১/১৫১ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
كنا لا نقطع على صدقه، فإن قيل: إن في سياق الآية ما يوجب التوقُّف عن خبره، وهو قوله عز وجل: {أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ} [الحجرات: الآية 6].

والجَهَالَة قد تدخل في خبر العدل من حيث كان خبره، ولا نقطع على غيبه، ومن حيث كان السَّهْو والغلط والكذب جائزًا عليه.

قيل: الجهالة في هذا الموضع هي السَّفَاهة وفعل ما لا يجوز فعله مما يقع التوبيخ والذم عليه، وقد جاز التوبيخُ على الجهل في بعض المواضع، ولو كانت الجهالة لا تكون إلا بمعنى الغَلط لقبح الذم والتوبيخ على فعلها، والدليل على صحّة التأويل قوله عز وجل: {فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: الآية 6] والندم إنما يكون على ارتكاب المنهي.

والدليل أيضًا على ذلك أنه لو كانت العلّة في وجوب التوقف عنه في الجهل بخبره، لم يجز قَبُول خبر الشاهدين لهذه العلّة، فلما أجاز اللَّه -سبحانه- ذلك وأمر بِقَبُولِهِ دلَّ على فساد قول من ردّ خبر الواحد بذلك، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي الخَبَرِ الْمُرْسَلِ (1)

ومذهب مالك رحمه الله قبول الخبر المرسل إذا كان مرسله عدلًا عارفًا بما أرسل، كما يقبل المسند، وقد احتجّ به في مواضع كثيرة حيث أرسل الخبر في اليمين مع الشاهد، وعمل به، وكذلك أرسل الحديث في الشفعة وللشريك وعمل به، وكذلك أرسل الخبر في ناقة البراءِ، وسائر جنايات المواشي، فعمل بذلك، والحجة له أن المُرْسل إذا كان عدلًا متيقظًا، فقد أسقط عنا بعدالته ويقظته تعديل من لم يذكره لنا ممن روي عنه وناب منابنا، وكفانا التماس عدالة من نقل عنه، فوجب لمن وجب تقليده في عدالته أن يقلده في أنه لا يروي عن غير عدل ثقة، وقد علم أنه إذا صرح بذكر مَن روى عنه، فقد وَكَّل الاجتهاد إلينا لنعتبر حاله بأنفسنا، وأنه إذا أَضَنَّ بمن ذكره، فقد استبذ بعلم ما خقي علينا من عَدَالته، وأن يعمل على ذلك من كان مرضيًّا عندنا ضابطًا متيقظًا إلا وقد بالغ في الثقة مقن روي عنه، وأن يقول: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الأمر، حيث يصح عنده أن النبي صلى الله عليه وسلم قاله: ولم يزل أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يرسلون، ويخبر بعضهم بعضًا فيذكرون من أخبرهم تارة، ويستغنون عن ذكره أخرى، وكذلك

--------------------------------------------

(1) هو في اللغة من الإرسال وهو يقابل الإمساك وفي الاصطلاح انظر البرهان 1/ 632، الأحكام للآمدي 2/ 112، نهاية السول 3/ 197، المستصفى 1/ 169.
আমরা তাঁর সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারতাম না। যদি বলা হয়: আয়াতের প্রেক্ষাপটে এমন কিছু রয়েছে যা তাঁর সংবাদ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (التوقف) ওয়াজিব করে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত (بجهالة) কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে বসো} [হুজুরাত: আয়াত ৬]।

আর অজ্ঞতা (الجهالة) একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) বর্ণনাকারীর সংবাদের ক্ষেত্রেও অনুপ্রবেশ করতে পারে এই দিক থেকে যে, এটি তাঁর একটি সংবাদ মাত্র; আমরা তাঁর অদৃশ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি না এবং এই কারণেও যে, তাঁর ক্ষেত্রে অমনোযোগিতা (سهو), ভুল (غلط) এবং মিথ্যা (كذب) বলা সম্ভব।

বলা হয়: এই স্থানে অজ্ঞতা (الجهالة) অর্থ হলো নির্বুদ্ধিতা (سفاهة) এবং এমন কাজ করা যা করা বৈধ নয়, যার জন্য তিরস্কার ও নিন্দা প্রাপ্য হয়। কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞতার (الجهل) জন্য তিরস্কার করা বৈধ হয়েছে; আর অজ্ঞতা (الجهالة) যদি কেবল ভুল (غلط) অর্থেই হতো, তবে তাঁর ওপর নিন্দা ও তিরস্কার করা অনুচিত হতো। এই ব্যাখ্যার (التأويل) সঠিকতার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে} [হুজুরাত: আয়াত ৬]; আর অনুশোচনা (ندم) কেবল নিষিদ্ধ কাজ করার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

এর আরেকটি দলিল হলো, যদি তাঁর সংবাদ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকার (التوقف) কারণ হতো, তবে এই একই কারণে দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করাও বৈধ হতো না। যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা বৈধ করেছেন এবং তা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, তাই এটি প্রমাণ করে যে, একক সংবাদকে (خبر الواحد) এই যুক্তিতে যারা প্রত্যাখ্যান করেন তাঁদের বক্তব্য ভ্রান্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌বিচ্ছিন্ন সংবাদ (الخبر المرسل) সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ(১)

ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব হলো বিচ্ছিন্ন সংবাদ (الخبر المرسল) গ্রহণ করা, যদি এর বর্ণনাকারী এমন একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ব্যক্তি হন যিনি যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত, যেভাবে মুসনাদ হাদিস গ্রহণ করা হয়। তিনি অনেক ক্ষেত্রে এটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন যেখানে তিনি একজন সাক্ষীর সাথে কসমের বিষয়ে সংবাদটি বিচ্ছিন্নভাবে (أرسل) বর্ণনা করেছেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করেছেন। একইভাবে তিনি শুফআ (প্রাক-ক্রয়াধিকার) ও অংশীদারের ক্ষেত্রে হাদিসটি বিচ্ছিন্নভাবে (أرسل) বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপর আমল করেছেন। তদ্রূপ বারার উট এবং গবাদি পশুর অন্যান্য অপরাধের বিষয়েও তিনি সংবাদটি বিচ্ছিন্নভাবে (أرسل) বর্ণনা করেছেন এবং তদনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁর পক্ষে দলিল হলো, বিচ্ছিন্ন বর্ণনাকারী (المرسل) যদি ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও সচেতন হন, তবে তিনি তাঁর ন্যায়নিষ্ঠতা ও সচেতনতার মাধ্যমে আমাদের পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (تعديل) দায়মুক্ত করে দিয়েছেন যার নাম তিনি আমাদের কাছে উল্লেখ করেননি এবং তিনি আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। যার কাছ থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, তাঁর ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে তিনি আমাদের বাঁচিয়েছেন। সুতরাং যার ন্যায়নিষ্ঠতার (عدالة) ওপর নির্ভর করা ওয়াজিব, তাঁর ওপর এই বিষয়েও নির্ভর করা ওয়াজিব যে, তিনি কোনো ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণনা করবেন না। আর এটা জানা কথা যে, তিনি যদি স্পষ্ট করে তাঁর নাম উল্লেখ করতেন যাঁর থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাঁর অবস্থা বিবেচনার জন্য ইজতিহাদের (اجتهاد) দায়িত্ব আমাদের ওপর ছেড়ে দিতেন। আর যখন তিনি বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ না করে তা নিজের কাছে রেখেছেন, তখন তিনি সেই ব্যক্তির ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) সম্পর্কে আমাদের কাছে যা অস্পষ্ট ছিল তা জানার দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করেছেন। আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, স্মৃতিশক্তিতে প্রখর (ضابط) এবং সচেতন ব্যক্তি কেবল তখনই এমনটি করেন যখন তিনি যার থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) বিষয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং তখনই তিনি বলেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুক কথা বলেছেন', যখন তাঁর কাছে এটি প্রমাণিত হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিই তা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সর্বদা বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (ইর্সাল) করতেন এবং একে অপরকে সংবাদ দিতেন; কখনও তাঁরা কার কাছ থেকে সংবাদ পেয়েছেন তাঁর নাম উল্লেখ করতেন, আবার কখনও তা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করতেন না। একইভাবে

--------------------------------------------

(১) এটি শাব্দিক অর্থে ইর্সাল (إرسال) শব্দ থেকে এসেছে যা ইমসাক (إمساك) বা আটকে রাখার বিপরীত। পরিভাষায় (اصطلاح) দেখুন: আল-বুরহান ১/৬৩২, আল-আহকাম লিল আমেদি ২/১১২, নিহায়াতুস সূল ৩/১৯৭, আল-মুসতাসফা ১/১৬৯।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
التابعون بعدهم وتابعوهم، فدل على صحة ما قلناه، وأنه إجماع من الفقهاء، والمحدثون يستعملونه في كل عصر وزمان، فوجب أنه جهل معمول به واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْكَلام فِي إِجْمَاعِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَعِلْمِهِمْ (1)

قَدْ تقدّم أن مذهب مالك رحمه الله وسائر العلماء -القول بإجماع الأمة، ومِن مذهب مالك العمل على إجماع أهل المدينة، فيما طريقه التوقيف منه عليه السلام كإسقاط زكاة الخضراوات؛ لأنه معلوم أنها قَدْ كانت في وقت النبي صلى الله عليه وسلم، ولم ينقل أنه أخذ منها الزكاة، وإجماع أهل المدينة على ذلك، فعمل عليه، وإن خالفهم غيرهم، وقد احتجّ مَلِك رحمه الله بذلك في مَسَائِل يكثر تَعْدَادها، حيث يقول الأمر الذي لا اختلاف عندنا، وهو من خبر التواتر الَّذِي قد بَيَّنَا أَنَّه مذهبه وحجته في أنهم أَوْلَى من غيرهم فيما طريقه النقل عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن الرسول عليه السلام كانت هجرته إلى المدينة ومقامه بها، ونزول الوحي عليه فيها، واستقراء الأحكام والشَّرائع بها، وأهلها مُشَاهِدون لذلك كله، عالمون به لا يخفى عنهم شيء منه، وكانت حياته صلى الله عليه وسلم معهم إلى أن قبض- على أوجه إما أن يأمرهم بالأَمر فيفعلونه، أو يفعل الأمر، فيتبعونه، أو يشاهدهم على أمر فيقرهم عليه، فلما كانت لهم هذه المنزلة منه عليه السلام حتى انقطع التنزيل، وقبض بينهم صلى الله عليه وسلم فحال أن يذهب وَهُمْ مع هذه الصفة ما سيدركه غيرهم؛ لأن غيرهم ممَّن ظعن منهم إلى المواضع هم الأقل، والأخبار عنهم أخبار الآحاد؛ لأن أعدادهم مضبوطة، وأخبار أهل المدينة أخبار تواتر، فكانت أولى من أخبار الآحاد.

فإن قيل: فقد نقل إلى أهل المدينة أشياء كانت من النبي صلى الله عليه وسلم في مغازيه لم يكونوا علموها قبل ذلك من النبي صلى الله عليه وسلم.

قيل: الذين نقلوا إليهم ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من أهل المدينة، فلم يخرج النقل عنهم.

فإن قيل: فقد كانت منه صلى الله عليه وسلم أشياء بمكة لما حجّ لم تكن بالمدينة.

قيل: قد كان معه أهل المدينة في حجته فهم شَاهدوه أيضًا بـ "مكة"، ونقلوا عنه ما كان منه في حجه وغيره.

--------------------------------------------

(1) انظر البرهان 1/ 720، والأحكام للآمدي 1/ 720، ونهاية السول 3/ 263، والمستصفى 1/ 187.
তাবেয়ীগণ (التابعون) এবং তাঁদের পরবর্তী তাবে-তাবেয়ীগণ (تابعوهم) এটি অনুসরণ করেছেন, যা আমাদের বক্তব্যের সঠিকতাকে প্রমাণ করে এবং এটি ফকিহদের (الفقهاء) একটি ইজমা (إجماع)। মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) প্রতিটি যুগে এটি ব্যবহার করে আসছেন, তাই এটি একটি অনুসৃত কর্মপন্থা হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌মদিনাবাসীদের ইজমা (إجماع) এবং তাঁদের ইলম সংক্রান্ত আলোচনার পরিচ্ছেদ (১)

ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মালিক (রহ.) এবং অন্যান্য সকল আলিমের মাযহাব হলো উম্মাহর ইজমা (إجماع) স্বীকৃত হওয়া। আর ইমাম মালিকের মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত হলো মদিনাবাসীদের ইজমা (إجماع)-এর ওপর আমল করা, বিশেষ করে যে বিষয়গুলোর ভিত্তি হলো তাওকিফ (التوقيف) তথা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশ। যেমন শাকসবজির জাকাত মওকুফ করা; কারণ এটি সুনিশ্চিত যে নবী (সা.)-এর যুগে শাকসবজি ছিল, কিন্তু তাঁর থেকে এর জাকাত গ্রহণের কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি এবং মদিনাবাসীদের ইজমাও (إجماع) এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত। ফলে তিনি এর ওপরই আমল করেছেন, যদিও অন্য কেউ তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। ইমাম মালিক (রহ.) অসংখ্য মাসআলায় এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: "আমাদের নিকট যে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই", আর এটি মূলত মুতাওয়াতির সংবাদ (خبر التواتر)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে এটিই তাঁর মাযহাব এবং দলিল। নবী (সা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা অন্যদের তুলনায় অগ্রগণ্য হওয়ার কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরত ও অবস্থান মদিনায় ছিল, সেখানেই ওহী নাজিল হয়েছে এবং আহকাম ও শরিয়ত নির্ধারিত হয়েছে। মদিনাবাসীরা এসব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং তাঁরা এ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন, যার কিছুই তাঁদের কাছে গোপন ছিল না। তাঁর (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর জীবন মদিনাবাসীদের সাথেই অতিক্রান্ত হয়েছে—হয় তিনি তাঁদের কোনো আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁরা তা পালন করেছেন, অথবা তিনি নিজে কোনো কাজ করেছেন এবং তাঁরা তা অনুসরণ করেছেন, অথবা তিনি তাঁদের কোনো কাজ করতে দেখে তাতে মৌনসম্মতি প্রদান করেছেন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তাঁদের এই বিশেষ মর্যাদা ছিল যতক্ষণ না ওহী বন্ধ হয়েছে এবং তাঁদের মাঝেই তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে, তাই এটি অসম্ভব যে, তাঁরা এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের থেকে এমন কিছু বিলুপ্ত হয়ে যাবে যা অন্যরা অর্জন করবে। কারণ যাঁরা মদিনা থেকে অন্য স্থানে চলে গিয়েছিলেন তাঁদের সংখ্যা ছিল নগণ্য এবং তাঁদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো হলো আহাদ সংবাদ (أخبار الآحاد); কারণ তাঁদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট, অন্যদিকে মদিনাবাসীদের সংবাদগুলো হলো মুতাওয়াতির সংবাদ (خبر التواتر), যা আহাদ সংবাদ (أخبار الآحاد)-এর তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য।

যদি বলা হয়: মদিনাবাসীদের কাছে এমন কিছু বিষয়ও বর্ণিত হয়েছে যা নবী (সা.)-এর যুদ্ধাভিযানকালীন ছিল, যা তাঁরা ইতিপূর্বে নবী (সা.)-এর থেকে জানতেন না।

উত্তরে বলা হবে: যাঁরা নবী (সা.) থেকে মদিনাবাসীদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন তাঁরা মদিনাবাসীদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ফলে বর্ণনাটি তাঁদের গণ্ডির বাইরে যায়নি।

যদি বলা হয়: নবী (সা.) হজের সময় মক্কায় এমন কিছু করেছিলেন যা মদিনায় ছিল না।

উত্তরে বলা হবে: হজের সময় মদিনাবাসীরা তাঁর সাথেই ছিলেন, ফলে তাঁরাও মক্কায় সেসব প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁর হজে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বুরহান ১/৭২০, আল-আমুদীর আল-আহকাম ১/৭২০, নিহায়াতুস সুল ৩/২৬৩, এবং আল-মুস্তাসফা ১/১৮৭।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
فإن قيل: فإن اتفق لأهل مكّة مثل خبر أهل المدينة في إجماعهم؛ لأنهم قد شاهدوا النبي صلى الله عليه وسلم كما شاهد أهل المدينة، فهذا اتَّفَقُوا على شيء من توقيف، أو ما الغالب منه أن يكون عن توقيف، فهل يجب أن يقبل ذلك منهم؟

قيل: إن اتفق لهم ذلك كانوا هم وأهل "المدينة"، سواء فيما نقلوه عنه صلى الله عليه وسلم.

ولكن لا يكاد أن يتفق هذا لغير أَهْل المدينة في أن يكون خبرهم كواسطة لا يتخلله أخبار الآحاد؛ لأن أخبر غيرهم، وإن نقلها جماعة يتخللها أخبار الآحاد في طريقها، أو في وسطها، فخرجت بذلك عن أن تكون تواترًا، وأهل المدينة يحصل لهم في فعلهم صفة التواتر، فبهذا كان خبرهم مقدمًا على خبر غيرهم. واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي دَلِيلِ الْخِطَابِ (1)

ومن مذهب مالك رحمه الله أن دليل الخطاب معمول به، وقد احتجّ بذلك في مواضع منها حيث قال: من نحو هديه بالليل لم يجزه، لقول اللَّه عز وجل: {وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ} [الحج: الآية 28].

دليله: أنه لا يجزيه إذا نحر بالليل وكقوله: من دخل الدار فَأعْطه دِرْهمَا.

دليله: من لم يدخل الدار، فلا تعطه شيئًا، وهذا نص منه في القول بدليل الخطاب.

والوجه فيه أن ينظر عند ورود الخطاب بالشَّرط أو الصِّفَة إلى سياق الكلام وما تقدمه، وما يخرج عليه الخطاب، فإن وجد دليل يدلس على الجَمْع بين المسكوت عنه، وبين المذكور صير إليه، وإن لم يوجد دليل مضى الحكم على ذكره، ثم نظر في حكم المسكوت عنه للمذكور، كمن أقرَّ لرجل بألف درهم فقيل له: إن كان له عليك ألف درهم، فأخرج له منها، وكالعاصي إذا سئل عن رجل قتل ابنه، فيقول العالم: من قتل ابنه فلا قَوَد عليه، فلا يكون ذلك شرطًا في الأب وحده؛ لأنه لا ينبغي القَوَدُ في غيره، وهذا كما نقول: إنَّ سائلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن المَسْح على الخُفَّين هل يمسح المسافر ثلاثة أيام؟ فقال عليه السلام: "يَمْسَحُ المُسَافِرُ ثَلاثَةَ أَيَّامِ"(2).

--------------------------------------------

(1) انظر البرهان 1/ 449، والبحر المحيط 4/ 13.

(2) أخرجه مسلم في صحيحه 1/ 232.
যদি বলা হয়: মক্কাবাসীদের বর্ণনা যদি তাদের ঐক্যমত্যের (إجماع) ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের বর্ণনার অনুরূপ হয়; কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করেছেন যেভাবে মদিনাবাসীরা প্রত্যক্ষ করেছেন, আর তারা কোনো একটি শরয়ী নির্দেশনার (توقيف) ওপর একমত হয়েছেন, অথবা যার অধিকাংশ কোনো শরয়ী নির্দেশনা (توقيف) থেকে উৎসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কি তাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা আবশ্যক হবে?

উত্তরে বলা হয়: যদি তাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা তারা বর্ণনা করেছেন সে ক্ষেত্রে তারা এবং মদিনাবাসীরা সমান।

কিন্তু মদিনাবাসী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটা প্রায় অসম্ভব যে তাদের সংবাদ (خبر) এমন একটি মাধ্যম হিসেবে হবে যার মধ্যে কোনো একক সংবাদ (أخبار الآحاد) অনুপ্রবেশ করবে না; কারণ মদিনাবাসী ব্যতীত অন্যদের বর্ণিত সংবাদ যদিও কোনো জামাত বর্ণনা করে, তবুও তার সনদের পথে বা মধ্যভাগে একক সংবাদ (أخبار الآحاد) মিশে যায়। ফলে তা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা (تواتر) হওয়ার পর্যায় থেকে বিচ্যুত হয়। আর মদিনাবাসীদের কর্মের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (تواتر) বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়, একারণেই তাদের সংবাদ (خبر) অন্যদের সংবাদের চেয়ে অগ্রগণ্য। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌বক্তব্যের বিপরীত অর্থবোধক ইঙ্গিত (دليل الخطاب) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (১)

এবং ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব হলো যে, বক্তব্যের বিপরীত অর্থবোধক ইঙ্গিত (دليل الخطاب) আমলযোগ্য। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বক্তব্য: কেউ যদি রাতের বেলা হাদিয়া (কুরবানির পশু) জবেহ করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {যাতে তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে} [হজ: ২৮]।

এর দলিল হলো: যখন রাতের বেলা নহর (জবেহ) করা হয় তখন তা যথেষ্ট হয় না। যেমন কারো বক্তব্য: যে ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করবে তাকে এক দিরহাম দাও।

এর দলিল হলো: যে ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করেনি, তাকে কিছু দেবে না। বক্তব্যের বিপরীত অর্থবোধক ইঙ্গিত (دليل الخطاب) প্রসঙ্গে এটি তাঁর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য।

এর পদ্ধতি হলো, যখন শর্ত (شرط) বা গুণ (صفة) সম্বলিত কোনো বক্তব্য আসে, তখন বাচনভঙ্গি এবং তার পূর্বাপর বিষয় এবং কোন প্রেক্ষাপটে বক্তব্যটি এসেছে তা লক্ষ্য করতে হবে। যদি এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা অনুক্ত বিষয় এবং উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ইঙ্গিত দেয়, তবে সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যদি কোনো দলিল না পাওয়া যায়, তবে উল্লিখিত বিষয়ের ওপরই বিধান কার্যকর হবে। এরপর অনুক্ত বিষয়টির বিধান উল্লিখিত বিষয়ের বিধানের ন্যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যেমন কেউ যদি কোনো ব্যক্তির জন্য এক হাজার দিরহামের স্বীকৃতি দেয় এবং তাকে বলা হয়: "যদি তোমার নিকট তার এক হাজার দিরহাম পাওনা থাকে, তবে তা থেকে তাকে পরিশোধ করো।" আবার যেমন কোনো অবাধ্য ব্যক্তি সম্পর্কে আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তার পুত্রকে হত্যা করেছে, তখন আলেম বললেন: "যে ব্যক্তি তার পুত্রকে হত্যা করেছে তার ওপর কিসাস (قود) নেই।" এটি কেবল পিতার ক্ষেত্রেই শর্ত হবে না; কারণ পিতা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে কিসাস মওকুফ হওয়া সংগত নয়। এটি ঠিক তেমনই যেমন আমরা বলি: জনৈক প্রশ্নকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মোজার ওপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে মুসাফির কি তিন দিন মাসাহ করবে? তখন তিনি (সা.) বলেছিলেন: "মুসাফির তিন দিন মাসাহ করবে।"(২).

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ১/৪৪৯, এবং আল-বাহরুল মুহিত ৪/১৩ দেখুন।

(২) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন ১/২৩২।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولا يكون مقصورًا على السؤال، وكذلك يخرج ما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "فِي سَائِمَةٍ الغَنَمِ الزَّكَاة"(1) أَنَّهُ سَأَلَ سَائِلٍ عن هَذَا، وما أشبهه فلا يكون مقصورًا على السؤال لقيام الدَّليل على العَامِلَةِ وَالسَّائِمَةِ في وجوب الزكاة فيهما، وقد يرد الحكم في شيء مذكور ببعض أوصافه، فيكون ممَّا سكت عنه، وقد يساوي المذكور في حكمه، ويكون منه مَا يخالفه.

ألا ترى إلى قوله عز وجل: {وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ} [النساء: الآية 23].

كيف اشترط في التحريم حلائل أبناء الأصْلاب، فلم يكن في ذكر ذلك نفي حلائل أبناء البنين، ولم يكن فيه نفي لتحريم حلائل أبناء الرضَاع، واستوى حكم حلائل أبناء الأصْلاب، وحلائل أبناء الرّضَاع في التحريم، ولم يكن أَيْضًا في ذكر الحلائلِ مَنْ يخالف فيمن وطئ الأبناء من الإماء بِمِلْكِ اليمين، بل التحريم واحد.

وقد يرد الخطاب على وجوه، الظاهر منه إذا تجرَّد دلَّ على ما عداه بخلافه إلا أن يقوم دليل، والحُجَّة بقوله بدليل الخطاب إذا تجرد، هو أن ذلك لغة العرب؛ لأن الخطاب إنما يقع باللسان العربي، وبه يحصل البيان، ووجدنا أَهْل اللسان يفرقون بين المطلق والمقيد، وبين المُبْهَمِ، وما يعلّق بالشرط، فإذا قال القائل: من دخل الدار مِنْ بني تميم فأعطه درهمًا عُقِلَ منه، خلاف ما يُعْقَل من قوله: مَنْ دخل الدار فأَعْطِهِ دِرهمًا، وعُقِلَ منه، خلاف ما يُعْقَل من قوله: مَن لم يدخل الدار فأَعْطِهِ دِرْهمًا.

ولذلك تساءل أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم عن القَصْر للصلاة إذَا آمنُوا، لَمَّا سمعوا قوله عز وجل: {فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا} [النساء: الآية 101].

وإذا كان عندهم أن ما عدا الخوف من الأمْن بخلافه، فقال لهم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ بِهَا اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ"(2).

ولم يرد عليهم ما ظنوه ولا خَطَّأهُمْ فيما قدّروه، فدلّ على أن ذلك لغته صلى الله عليه وسلم ولغتهم رضي الله عنهم فدلّ على صحة القول بدليل الخطاب، واللَّه أعلم.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري 3/ 365 - 366، وأبو داود 2/ 96 - 98، والنسائي 5/ 18 - 23.

(2) أخرجه مسلم 1/ 478، والترمذي 5/ 227، وابن ماجه 1/ 339.
এটি কেবল প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তেমনিভাবে, নবী (সা.)-এর যে বাণীটি বর্ণিত হয়েছে: "তৃণভোজী চারণভূমির বকরির ওপর জাকাত ওয়াজিব," এটি কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে হতে পারে, কিন্তু তা কেবল সেই প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ শ্রমজীবী পশু এবং চারণভূমির পশু উভয়ের ওপরই জাকাত ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হুকুম এমন কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে আসতে পারে যার কিছু গুণাবলী উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে বাকি বিষয়গুলো সম্পর্কে নীরবতা পালন করা হয়েছে। কখনও বর্ণিত বিষয়টি তার হুকুমের ক্ষেত্রে নীরব থাকা বিষয়ের সমান হয়, আবার কখনও তার বিপরীতও হতে পারে।

আপনি কি মহান আল্লাহর বাণী লক্ষ্য করেন না: {এবং তোমাদের সেই ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণ (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে)} [সূরা আন-নিসা: ২৩]।

এখানে হারামের ক্ষেত্রে কীভাবে কেবল 'ঔরসজাত' পুত্রদের স্ত্রীদের শর্তারোপ করা হয়েছে তা দেখুন। তবে এই উল্লেখের অর্থ এই নয় যে, নাতিদের (পুত্রের পুত্র) স্ত্রীদের হারাম হওয়া নাকচ করা হয়েছে। আবার এতে দুগ্ধ-পুত্রের স্ত্রীদের হারাম হওয়াও নাকচ করা হয়নি। বরং হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং দুগ্ধ-পুত্রের স্ত্রীর হুকুম সমান। একইভাবে, পুত্ররা মালিকানাধীন দাসীদের সাথে মেলামেশা করলে তাদের ক্ষেত্রেও হুকুম ভিন্ন হবে না, বরং হারামের বিধান একই থাকবে।

সম্বোধন (خطاب) বিভিন্ন পদ্ধতিতে হতে পারে। এর প্রকাশ্য রূপ (ظاهر) যদি অন্য কোনো অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত থাকে, তবে তা দলিলে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না থাকলে তার বিপরীত অর্থও প্রদান করে। শর্তহীন অবস্থায় 'সম্বোধনের দলিল' (دليل الخطاب)-এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করার ভিত্তি হলো এটি আরবি ভাষার রীতি; কেননা সম্বোধন মূলত আরবি ভাষার মাধ্যমেই সংঘটিত হয় এবং এর মাধ্যমেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আমরা দেখতে পাই যে, ভাষাবিদগণ শর্তহীন (مطلق) এবং শর্তযুক্ত (مقيد)-এর মধ্যে পার্থক্য করেন। তেমনি অস্পষ্ট (مبهم) এবং যা শর্তের (شرط) ওপর নির্ভরশীল, তার মধ্যেও পার্থক্য করেন। যেমন কেউ যদি বলে: "বনু তামিম গোত্রের যে কেউ ঘরে প্রবেশ করবে তাকে এক দিরহাম দাও," তখন এর থেকে যা বোঝা যায় তা সেই ব্যক্তির বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন হবে যে বলেছে: "যে ঘরে প্রবেশ করবে তাকে এক দিরহাম দাও," আবার তা সেই ব্যক্তির বক্তব্যের চেয়েও ভিন্ন যা বোঝা যায় "যে ঘরে প্রবেশ করবে না তাকে এক দিরহাম দাও" বাক্যটি থেকে।

একারণে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ নিরাপদ অবস্থায় নামাজ কসর করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যখন তারা মহান আল্লাহর এই বাণী শুনলেন: {তোমাদের জন্য নামাজের কসর করায় কোনো গুনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে কাফেররা তোমাদের ফিতনায় ফেলবে} [সূরা আন-নিসা: ১০১]।

যেহেতু তাদের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত ছিল যে, আশঙ্কাজনক অবস্থার বিপরীতে যদি নিরাপদ অবস্থা হয় তবে বিধান ভিন্ন হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের বললেন: "এটি একটি সদকা যা মহান আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর সদকা গ্রহণ করো"(2)।

তিনি (সা.) তাদের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেননি এবং তাদের এই অনুমানে কোনো ভুল ধরেননি। এটি প্রমাণ করে যে, এটি ছিল তাঁর (সা.) এবং সাহাবীদের (রা.) ভাষা। সুতরাং এটি 'সম্বোধনের দলিল' (دليل الخطاب) অনুযায়ী মত প্রদান সঠিক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(1) এটি বর্ণনা করেছেন সহিহ বুখারি ৩/৩৬৫-৩৬৬, আবু দাউদ ২/৯৬-৯৮ এবং নাসাঈ ৫/১৮-২৩।

(2) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ১/৪৭৮, তিরমিজি ৫/২২৭ এবং ইবনে মাজাহ ১/৩৩৯।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي الأَسْبَابِ الوَارِدِ عَلَيْهَا الخِطَابُ

ومذهب مالك رحمه الله قصر الحكم على السَّبَبِ الذي خرج اللفظ عليه، مَتَى خلا ممَّا يدل على اشتراك ما تناوله اللفظ معه.

وحُكِيَ عن ابْنِ القَاضِي إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِسْحَق أن الحكم للفظ دون السبب، قال: وذلك نحو ما روي عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وقد سُئِلَ عن بِئْر بضَاعَةَ وما يلقى فيها من الكلاب، فقال: "خلَقَ اللَّهُ عز وجل الماءَ طَهُورًا لا يُنجِّسُهُ شَيْءُ إِلَّا مَا غَيَّرَهُ"(1).

فحكم على الماء بأنه طهور جنسه، دون الماء الذي سئل عنه، فدلّ على أن كل ما وصفه ما ذكره؛ لأن اللفظ يقتضي ذلك، والحجة له أنه لما كان الموجب للحكم هو اللَّفظ دون السبب، وجب أن يكون هو المراعي دونه، والحجة للوجه الآخر، وهو قول مَالِكٍ، هو: أن السؤال يَفتقِرُ إلى الجواب والجواب سبب السؤال، فقد صار كل واحد منهما سببًا لصاحبه لا بد له منه، فلما كان السؤال مقصورًا كان الجواب كذلك، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي الزَّائِد مِنَ الأخْبَارِ (2)

من مذهب مَالِك رحمه الله قَبُول الزائد من الأخبار، وصورته أن يروي أحد الراويين خبرًا يفيد معنى من المعاني، ويَرْوي آخرُ ذلك الخبر بزيادة لفظة فيه؛ لأن تلك اللفظة تدل على زيادة معاني أخرى في الحَدِيث، وتكون اللفظة الزائدة لو انفردت لاستفيد منها معنى، فيصير الخبر مع زيادته كالخبرين، فمن قَبِلَ خبر الواحد لزمه قَبُول ذلك؛ لأن الزيادة كخبر آخر، فقبولها واجب، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِيمَا يَخُصُّ بِهِ العُمُومُ

مذهب مَالِكٍ أن الآية العامة إذا كان في العقل(3) تخصيصها خُصَّت به وإن لم يكن في العقل تخصيصها؛ فإنه يجوز أن تخصّ بالآية الخَاصّة وكذلك بالسنة المتواترة، وبالإجماع، وخبر الواحد، وبالقياس.

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي 1/ 174، وابن ماجه 1/ 173، والدارقطني 1/ 31، وأخرجه أحمد في المسند 3/ 31 - 86.

(2) انظر البرهان 1/ 662، والاحكام للآمدي 2/ 154، والمحصول 2/ 1/ 677.

(3) انظر البحر المحيط 3/ 355، الأحكام للآمدي 2/ 293، ونهاية السول 2/ 451.
‌‌পরিচ্ছেদ: সম্বোধন যে সকল প্রেক্ষাপটের (الأسباب) ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কিত বক্তব্য

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো, বিধানকে সেই প্রেক্ষাপটের (السبب) ওপর সীমাবদ্ধ রাখা যার পরিপ্রেক্ষিতে শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে, যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যা শব্দটির অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের সাথে অন্য কিছুর অংশীদারিত্ব নির্দেশ করে।

কাযী ইসমাইল ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বিধান শব্দের ব্যাপকতার জন্য, প্রেক্ষাপটের (السبب) জন্য নয়। তিনি বলেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই হাদিসের মতো যেখানে তাঁকে ‘বি’রে বুযাআ’ এবং তাতে যে কুকুরের দেহাবশেষ ইত্যাদি ফেলা হয় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ তাআলা পানিকে পবিত্রকারী (طهورًا) হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, কোনো কিছুই একে অপবিত্র (لا ينجسه) করতে পারে না, তবে যা এর গুণ পরিবর্তন করে দেয় তা ছাড়া।"(1)

ফলে তিনি পানির শ্রেণির ওপর পবিত্রকারী হওয়ার বিধান দিয়েছেন, কেবল সেই নির্দিষ্ট পানির ওপর নয় যে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, বর্ণিত গুণের অধিকারী সকল পানিই এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ শব্দ তা-ই দাবি করে। তাঁর পক্ষে দলিল হলো, যেহেতু বিধানের উৎস হলো শব্দ, প্রেক্ষাপট (السبب) নয়, তাই প্রেক্ষাপটের পরিবর্তে শব্দেরই অনুসরণ করা আবশ্যক। আর অন্য মতের দলিল, যা ইমাম মালিকের বক্তব্য, তা হলো: প্রশ্ন উত্তরের মুখাপেক্ষী এবং উত্তর হলো প্রশ্নের প্রেক্ষাপট (السبب); ফলে তাদের প্রতিটিই অপরটির জন্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যা অপরিহার্য। সুতরাং প্রশ্নটি যখন সুনির্দিষ্ট ছিল, তখন উত্তরটিও তদ্রূপ হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: সংবাদের (الأخبار) অতিরিক্ত অংশ সম্পর্কে বক্তব্য(2)

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো সংবাদের (الأخبار) অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করা। এর স্বরূপ হলো, দুইজন বর্ণনাকারীর (الراويين) একজন এমন একটি সংবাদ (خبر) বর্ণনা করলেন যা একটি অর্থ প্রদান করে, আর অন্যজন সেই সংবাদটিই (خبر) একটি অতিরিক্ত শব্দসহ বর্ণনা করলেন; কারণ সেই অতিরিক্ত শব্দটি হাদিসে অন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রতি নির্দেশ করে। সেই অতিরিক্ত শব্দটি যদি এককভাবে থাকত তবে তা থেকে একটি অর্থ পাওয়া যেত, ফলে অতিরিক্ত অংশসহ সংবাদটি (الخبر) দুটি সংবাদের মতো হয়ে যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করে, তার জন্য এটি গ্রহণ করা আবশ্যক; কারণ অতিরিক্ত অংশটি অন্য একটি সংবাদের (خبر) মতো, তাই তা গ্রহণ করা ওয়াজিব (واجب)। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে ব্যাপকতাকে (العموم) সুনির্দিষ্ট করা হয় সে সম্পর্কে বক্তব্য

ইমাম মালিকের মাযহাব হলো, ব্যাপক (العامة) আয়াতকে যদি বিবেকের (العقل) মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করা সম্ভব হয়, তবে তার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হবে। আর যদি বিবেকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করার অবকাশ না থাকে, তবে সেই আয়াতকে বিশেষ (الخاصة) আয়াত দ্বারা এবং একইভাবে মুতাওয়াতির (المتواترة) সুন্নাহ, ইজমা (الإجماع), একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر الواحد) ও কিয়াস (القيাস) দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা জায়েজ।

--------------------------------------------

(1) এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি ১/১৭৪, ইবনে মাজাহ ১/১৭৩, দারাকুতনি ১/৩১ এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে ৩/৩১-৮৬ তে।

(2) দেখুন: আল-বুরহান ১/৬৬২, আল-আহকাম লিল আমেদি ২/১৫৪, আল-মাহসুল ২/১/৬৭৭।

(3) দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত ৩/৩৫৫, আল-আহকাম লিল আমেদি ২/২৯৩, নিহায়াতুস সুল ২/৪৫১।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌‌‌‌‌فصل

فما خص بالكتاب قوله عز وجل: {إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (6)} [المؤمنون: الآية 6].

فكان عامًّا في الجمع بين الأختين بِمِلْكِ اليمين، ثم خصه قوله تعالى: {وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ} [النساء: الآية 23].

وكذلك خصّ قوله عز وجل: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ} [البقرة: الآية 228] بقوله تعالى: {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: الآية 4].

فدلّ ذلك على أن قوله: {أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: الآية 3].

إلا أن تكون أختين، فلا تجمعوا بينهما في الوطء، فذلك عدتهن الأقراء إِذا كن من أهل المحيض، وأشباه ذلك كثير في الكتاب.

 

فصل

وما خصّ من الكتاب بالسنة قوله عز وجل: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا} [المائدة: الآية 38].

وهذا عموم، فبَيَّنَ النبي صلى الله عليه وسلم أن المراد من ذلك مَنْ سَرق ربع دينار فصاعدًا، وبين الرسول عليه السلام -أن السرقة من غير حِرْزٍ لا قطع فيها، وكذلك قوله عز وجل: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} [التوبة: الآية 5] عامّ وَبَيَّن الرسول عليه السلام مَنْ يَجوز قتله من أهل العَهْدِ والذِّمَّةِ، وغير ذلك مِمَّا بَيَّنه النبي صلى الله عليه وسلم بسُنَّتِهِ من عموم الكتاب مما يطول ذكره، وقال اللَّه -سبحانه في نَبِيِّه: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: الآية 44].

وقال تعالى: {فَاتَّبِعُوهُ} [الأنعام: الآية 153].

وقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} [النور: 63].

 

فصل

وما خص من الكتاب بالإجماع قوله عز وجل: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ} [النساء: الآية 11].
‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে যা সুনির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্র ছাড়া, এতে তারা তিরস্কৃত হবে না।} [আল-মুমিনুন: আয়াত ৬]।

এটি ডান হাতের মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্রে দুই বোনকে একত্র করার বিষয়ে সাধারণ (عام) ছিল, অতঃপর মহান আল্লাহর এই বাণী একে সুনির্দিষ্ট (خص) করেছে: {আর দুই বোনকে একত্র করা (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে), তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন।} [আন-নিসা: আয়াত ২৩]।

অনুরূপভাবে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে} [আল-বাকারাহ: আয়াত ২২৮]-কে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা সুনির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে: {তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে যদি তোমরা সংশয়ে থাকো, তবে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস এবং যারা এখনও ঋতুবর্তী হয়নি তাদেরও। আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।} [আত-তালাক: আয়াত ৪]।

এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর বাণী: {অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের} [আন-নিসা: আয়াত ৩]।

তবে তারা যদি দুই বোন হয়, তবে সহবাসের ক্ষেত্রে তাদের একত্র করো না। আর তাদের ইদ্দত হলো ঋতুকাল, যদি তারা ঋতুবতী নারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিতাবে (কুরআনে) এমন উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে।

 

পরিচ্ছেদ

সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের যা সুনির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {চোর পুরুষ ও চোর নারী, উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ।} [আল-মায়িদাহ: আয়াত ৩৮]।

এটি একটি সাধারণ (عموم) বিধান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার বেশি চুরি করবে। রাসূল আলাইহিস সালাম আরও স্পষ্ট করেছেন যে, নিরাপদ স্থান (حرز) ছাড়া অন্য স্থান থেকে চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটা নেই। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর মুশরিকদের হত্যা করো} [আত-তাওবাহ: আয়াত ৫] এটি একটি সাধারণ (عام) নির্দেশ। আর রাসূল আলাইহিস সালাম স্পষ্ট করেছেন যে, আহলে আহদ (চুক্তিভুক্ত) ও জিম্মিদের মধ্যে কাদের হত্যা করা বৈধ। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের সাধারণ (عموم) বিষয়গুলো থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবীর ব্যাপারে বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।} [আন-নাহল: আয়াত ৪৪]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সুতরাং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো।} [আল-আনআম: আয়াত ১৫৩]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয়।} [আন-নূর: আয়াত ৬৩]।

 

পরিচ্ছেদ

ইজমার (إجماع) মাধ্যমে কুরআনের যা সুনির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।} [আন-নিসা: আয়াত ১১]।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأجمعوا أن العبد لا يَرِثُ وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم: "أنَّ قَاتِلَ الْعَمْدِ لا يَرِثُ".

وأجمعوا على ذلك، وقال عليه السلام: "لا يَتَوَارَثُ أَهْلُ ملَّتَيْنِ"(1).

فقد دل الإجماع على تخصيص بعض، وغير ذلك مما خص بالإجماع كثير، وقد ذكرنا الدليل على حُجَّة الإجماع.

 

‌‌‌‌‌‌فصل

وممَّا خصَّ بالقياس قوله عز وجل: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور: الآية 2].

وقوله في الإماء: {فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} [النساء: الآية 25].

فدلت هذه الآية على أَن الأَمَةَ لم تدخل في عموم من أَمَرَ بجَلْدِها مائة من النساء، ثم قيس العَبْدُ على الأَمَةِ، فجعل حَده خمسين كجَلْدِهَا.

فكانت الآية مخصوصة بالأَمَة، والعبد مخصوصًا من قوله: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور: الآية 2] وبالقياس على الأَمة، وقد ذكرنا الدليل على حجّة القياس، وباللَّه التوفيق.

 

فصل

ويجوز عند مَالِكٍ تخصيص الظَّاهر يقول الصَّحَابِي الواحد إذا لم يعلم له مخالف، وظهر قَوله؛ لأن قوله يلزم، فيجب التخصيص به؛ لأنه يجري مَجْرَى الإجماع، وجميع ذلك مذهبه في تخصيص الآيِ.

 

فصل

وكذلك مذهب مَالِكٍ في السنة إذا كان اللفظ فيها عامًّا تَخُصَّ بمثل ما ذكرنا مما يخصّ به الكتاب فيخصّ السنة بالكتاب وبالسنة وبالإجماع وبالقياس وبقول الصحابي وأصل هذا الباب في البيان بالكتاب والسنة والإجماع والقياس والدليل لما قام أن الخَاصَّ يُبَيّنُ معنى العَامِّ، وجب بذلك أن يبيّن الخاصُّ من الكتاب العام منه، وإذا

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود 3/ 125، النسائي 6/ 319، (8724) وابن ماجه 2/ 912، وأحمد في مسنده 2/ 195، والدارقطني 4/ 75، 76، والحاكم 4/ 345، والدارمي 2/ 369، 370.
তারা সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছেন যে কৃতদাস উত্তরাধিকার পায় না এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী উত্তরাধিকার পায় না।"

তারা এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (الإجماع) পোষণ করেছেন এবং নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা একে অপরের উত্তরাধিকারী হয় না"(১)।

সুতরাং ইজমা (الإجماع) নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং ইজমা (الإجماع) দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে এমন বিষয় আরও অনেক আছে। আমরা ইজমার (الإجماع) প্রামাণিকতার দলিল ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি।

 

‌‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে যা নির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্তর্ভুক্ত: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশটি করে বেত্রাঘাত করো} [সূরা আন-নূর: ২]।

এবং দাসীদের ক্ষেত্রে তাঁর বাণী: {অতঃপর যখন তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে, তখন যদি তারা অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদের শাস্তি হবে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক} [সূরা আন-নিসা: ২৫]।

এই আয়াত প্রমাণ করে যে, দাসী ওই সাধারণ (عموم) নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয় যেখানে নারীদের একশ বেত্রাঘাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অতঃপর দাসকে দাসীর ওপর কিয়াস (قيس) করা হয়েছে, ফলে তার দণ্ডও দাসীর বেত্রাঘাতের ন্যায় পঞ্চাশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুতরাং আয়াতটি দাসীর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট (مخصوصة) এবং দাসও আল্লাহর এই বাণী থেকে সুনির্দিষ্ট (مخصوصًا): {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশটি করে বেত্রাঘাত করো} এবং তা দাসীর ওপর কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে। আমরা কিয়াসের (القياس) প্রামাণিকতার দলিল উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়।

 

পরিচ্ছেদ

ইমাম মালিকের নিকট কোনো বিরোধী সম্পর্কে জানা না থাকলে এবং কথাটি প্রসিদ্ধ হলে একজন সাহাবীর উক্তির মাধ্যমে বাহ্যিক সাধারণ অর্থকে (الظاهر) নির্দিষ্ট (تخصيص) করা বৈধ; কারণ তাঁর উক্তি মান্য করা জরুরি, তাই এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট (التخصيص) করা ওয়াজিব। কেননা এটি ইজমার (الإجماع) সমপর্যায়ভুক্ত। কুরআনের আয়াতের হুকুম নির্দিষ্ট (تخصيص) করার ক্ষেত্রে এই সবই তাঁর মাযহাব বা পদ্ধতি।

 

পরিচ্ছেদ

একইভাবে সুন্নাহর ক্ষেত্রেও ইমাম মালিকের মাযহাব হলো, যখন সুন্নাহর শব্দ সাধারণ (عامًّا) থাকে, তখন কুরআনকে যা দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়, তা দ্বারা সুন্নাহকেও নির্দিষ্ট (تخص) করা হবে। সুতরাং সুন্নাহকে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (الإجماع), কিয়াস (القياس) এবং সাহাবীর উক্তি দ্বারা নির্দিষ্ট (يخص) করা যায়। কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (الإجماع) ও কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে ব্যাখ্যার (البيان) মূলনীতি এই যে, বিশেষ (الخاص) শব্দ সাধারণ (العام) শব্দের অর্থকে ব্যাখ্যা করে। এর ফলে কুরআনের বিশেষ (الخاص) অংশ দ্বারা সাধারণ (العام) অংশকে ব্যাখ্যা করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। আর যখন...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৩/১২৫, নাসায়ি ৬/৩১৯, (৮৭২৪), ইবনে মাজাহ ২/৯১২, আহমাদ তাঁর মুসনাদে ২/১৯৫, দারাকুতনি ৪/৭৫, ৭৬, হাকেম ৪/৩৪৫, দারেমি ২/৩৬৯, ৩৭০।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجب ذلك في الآية وجب مثله في الآية والسنة وفي الآية والإجماع؛ لأن هذه كلها أصول قد لزم العمل بها فهي كالآية الواحدة وكالأصل الواحد؛ متى تعلق متعلق بظاهر الآية، تعلّق الآخر بخصوص السنة، فتجاذباه، فإذا رَامَ أَحدهما طَرْحَ ما تعلّق صاحبه به، وعارضه صاحبه بمثل ذلك، فيما يتعلق به، فإذا تعارض بالحُجَّةِ لزم بهما، وبكل واحد منهما فصار كالآيتين، ووجب الجمع بينهما على ما يؤدي إلى استعمالهما، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ القَوْلِ فِي الأَخبَارِ إِذَا اخْتَلَفَتْ

ومذهب مالِكٍ رحمه الله في فعل ما اختلفت الأخبار به، مثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول الإِمام: آمين وتركه.

وما رُوِيَ عنه من رَفْع اليدين في الصلاة عِند الركوع والرفع منه وتركه والتسبيح في الركوع.

وأشباه ذلك مما اختلفت الأخبار فيه عن النبي صلى الله عليه وسلم إذا لم تَقُم الدلالة على قُوَّة أحدهما على الآخر، ولا ما أوجب إسقاطهما ولا إسقاط أحدهما، والحجة في ذلك أن الخبرين إذا ثبتا جميعًا ليس أحدهما أولى من صاحبه، ولا طريق إلى إسقاطهما، ولا إلى إسقاط أحدهما، وقد استويا وتقاوما وأمكن الاستعمال، فلم يَبق إلا التَّخَيُّرُ فيهما، وإن كان كلّ واحد منهما سَدّ مَسَدّ الآخر، وصار بمنزلة الكَفَّارة التي دخلها التَّخَيُّرُ، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي خَبَرِ الوَاحِدِ وَالقِيَاسِ يَجْتَمِعَانِ

ومذهب مالك رحمه الله أن خبر الواحد إذا اجتمع مع القياس، ولم يمكن استعمالها جميعًا، قُدِّم القياس عند بعض أصحابنا، والحُجَّة له على ذلك أن خَبَرَ الواحد لما جاز عليه النَّسْخُ والغلط والسهو والكذب والتخصيص، ولم يَجُزْ على القياس من الفساد، إلا وجه واحد، وهو أن هذا الأصل مَعْلول بهذه العلة فصار أقوى من خبر الواحد، فوجب أن يقدّم عليه، وقد اختلف في ذلك، فقيل: خبر الواحد أَولى من القياس في هذا الذي ذكرناه.

وقيل: القياس أوْلَى لما ذكرناه، واختلف فيه أصحابنا، واللَّه أعلم.
যদি আয়াতে কোনো বিষয় ওয়াজিব হয়, তবে অনুরূপভাবে আয়াত ও সুন্নাহ এবং আয়াত ও ইজমার (الإجماع) ক্ষেত্রেও তা ওয়াজিব হবে। কারণ এগুলো সবই উসুল (أصول) যার ওপর আমল করা আবশ্যক। সুতরাং এগুলো একটি আয়াত বা একটি মূলনীতির (الأصل) মতোই। যখন কেউ আয়াতের জাহির (ظاهر) বা প্রকাশ্য অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, আর অন্যজন সুন্নাহর খাস (خصوص) বা বিশেষত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন তাদের মধ্যে একটি বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় যদি তাদের একজন অন্যজন যা আঁকড়ে ধরেছে তা বর্জন করতে চায় এবং অন্যজনও তার বিপরীতে অনুরূপ করে, তবে যখন প্রমাণের ভিত্তিতে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন উভয়টির ওপর এবং প্রতিটি একক অংশের ওপর আমল করা আবশ্যক হয়। ফলে তা দুটি আয়াতের মতো হয়ে যায় এবং এমনভাবে উভয়টির মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা উভয়টির ব্যবহারের দিকে নিয়ে যায়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌পরস্পরবিরোধী বর্ণনার (الأخبار) ক্ষেত্রে বক্তব্য সংক্রান্ত অধ্যায়

পরস্পরবিরোধী বর্ণনার (الأخبار) ক্ষেত্রে ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাজহাব হলো সেই আমলগুলো করা যে বিষয়ে বর্ণনাগুলোতে মতভেদ হয়েছে। যেমন নবী (সা.) থেকে ইমামের 'আমীন' বলা এবং তা বর্জন করা উভয়টিই বর্ণিত হয়েছে।

অনুরূপভাবে সালাতে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করা ও তা বর্জন করা এবং রুকুতে তাসবিহ পাঠ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

নবী (সা.) থেকে বর্ণিত এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যেগুলোতে বর্ণনার (الأخبار) ভিন্নতা রয়েছে; যখন একটির ওপর অন্যটির শ্রেষ্ঠত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না, কিংবা উভয়টিকে অথবা একটিকে বাতিল করার কোনো আবশ্যকতা দেখা দেয় না, তখন এর সপক্ষে যুক্তি হলো—যখন উভয় বর্ণনা (الخبر) সাব্যস্ত হয়, তখন একটি অপরটির চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য থাকে না। আবার উভয়টিকে কিংবা একটিকে বর্জন করারও কোনো পথ থাকে না। যখন তারা সমপর্যায়ভুক্ত ও সমশক্তিমান হয় এবং উভয়ের ওপর আমল করা সম্ভব হয়, তখন সেগুলোর মধ্য থেকে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার (التخيير) সুযোগ ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। যদিও তাদের প্রতিটিই অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং এটি সেই কাফফারার পর্যায়ভুক্ত হয় যেখানে পছন্দ করার (التخيير) সুযোগ থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌একক বর্ণনা (خبر الواحد) এবং কিয়াস (القياس) একত্রিত হলে সে ক্ষেত্রে বক্তব্য সংক্রান্ত অধ্যায়

ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাজহাব হলো—যখন একক বর্ণনা (خبر الواحد) ও কিয়াস (القياس) একত্রিত হয় এবং উভয়টির ওপর একসাথে আমল করা সম্ভব না হয়, তখন আমাদের কিছু সঙ্গীর মতে কিয়াসকে (القياس) প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর পক্ষে যুক্তি হলো—একক বর্ণনার (خبر الواحد) ক্ষেত্রে রহিত হওয়া (النسخ), ভুল, বিস্মৃতি, মিথ্যাচার এবং বিশেষত্ব প্রদানের (التخصيص) সম্ভাবনা থাকে; কিন্তু কিয়াসের (القياس) ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত হওয়ার কেবল একটি পথই থাকে, আর তা হলো—এই মূলনীতিটি (الأصل) এই নির্দিষ্ট কারণের (العلة) ওপর ভিত্তি করে ত্রুটিপূর্ণ হওয়া। ফলে এটি একক বর্ণনার (خبر الواحد) চেয়ে শক্তিশালী হয়ে যায় এবং এর ওপর কিয়াসকে প্রাধান্য দেওয়া ওয়াজিব হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ বলেছেন: আমাদের উল্লেখিত এই ক্ষেত্রে কিয়াসের (القياس) চেয়ে একক বর্ণনাই (خبر الواحد) অধিকতর অগ্রগণ্য।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: আমাদের বর্ণিত কারণে কিয়াসই (القياس) অধিকতর অগ্রগণ্য। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌بَابُ القَوْلِ في أَنَّ الحَقَّ وَاحِدٌ مِنْ أَقَاوِيلِ الْمُجْتَهِدِينَ (1)

قال القاضي: ومذهب مَالِكٍ أن الحق واحد من أقاويل المجتهدين، وذلك أنه قال لما سُئِلَ عن اختلاف أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: لَيْسَ في سعة خطأ أو صواب، وكذلك قال الليثُ لما سئل عن ذلك.

وقال مالك: قولان مختلفان لا يكونان جميعًا حقًّا، وما الحق إلا واحد، وأجمع مَالِك، وسائر الفقهاء أنَّ الأثر في الخطأ في مسائل الاجتهاد موضوع والدليل على ذلك قول النَّبِي صلى الله عليه وسلم: "إِذَا اجتهَدَ الحَاكم وأَصَابَ فَلَهُ أْجرَانَ، وإنْ أخْطَأَ فَلَهُ أجْر"(2) وهذا نصٌّ على أن مسائل الاجتهاد ما هو خطأ، فدلّ على أن الحَقَّ في واحد، لا في جميعها، وجعل له الأجر، وإن أخطأ على اجتهاده، ودفع عنه إثم خطئه.

وهناك أيضًا إجماع الصحابة رضي الله عنهم لأنهم اختلفوا في مسائل الاجتهاد، وردَّ بعضهم على بعض، ودعا بعضهم بعضًا إلى المُبَاهَلَة، وأنكر بعضهم على بعض بأغلظ نكيرٍ، وسوّغ بعضهم لبعض الرد على صاحبه، ولم يقتل بعضهم لبعض: الحق معي ومعك، فلو كان كل واحد منهم مُصِيبًا لم يكن لاخْتِلافِهِم معنى، فدل على ما قلناه، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ القَوْلِ فِي تأخِير البَيَانِ (3)

ليس يختلف مالِكُ رحمه الله وسائر الفُقَهاء في أنَّ تأخير البيان عن وقت الحاجة لا يجوز(4).

وإنما الخلاف هل يجوز أن يتأخر عن وقت النزول إلى وقت الحاجة؟ وليس عن مَالِكٍ فيه نص قول، ولا لأصحابه المتقدمين.

وكان القاضي أَبُو بكْرٍ يقول: إن البيان يجوز أن يتأخَّر عن وقت ورود الخطاب إلى وقت الحاجة، ويذكر أنَّ مَالكًا قد أشار إلى ذلك، حيث قال وقد ذكر قول

--------------------------------------------

(1) انظر البرهان 2/ 1316 - 1326، المستصفى 2/ 361، 364، البحر المحيط 6/ 326.

(2) أخرجه البخاري 13/ 330، ومسلم 3/ 1342، والشافعي 2/ 176.

(3) البيان لغة اسم مصدر بين إذا أظهر واصطلاحًا: فيطلق على الدال على المراد بخطاب ثم يستقل بإفادته. انظر الأحكام للآمدي 3/ 22، ونهاية السول 2/ 524، المستصفى 1/ 64.

(4) انظر نهاية السول 2/ 540، الأحكام للآمدي 3/ 28، والبحر المحيط 3/ 493.
‌‌পরিচ্ছেদ: মুজতাহিদগণের (المجتهدين) মতামতের মধ্যে সত্য কেবল একটিই হওয়া প্রসঙ্গে(1)

কাজী (বিচারক) বলেন: ইমাম মালিকের মাযহাব হলো মুজতাহিদগণের (المجتهدين) মতামতের মধ্যে সত্য কেবল একটি। এর কারণ হলো, যখন তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ইখতিলাফ (اختلاف) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "সেখানে প্রশস্ততার অবকাশ নেই, বরং তা ভুল অথবা সঠিক।" তদ্রূপ লাইস ইবনে সাদকেও যখন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনিও একই কথা বলেছিলেন।

ইমাম মালিক বলেন: দুটি ভিন্ন ভিন্ন মত একই সাথে সত্য হতে পারে না, বরং সত্য কেবল একটিই। মালিক এবং অন্যান্য ফকিহগণ (الفقهاء) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইজতিহাদি (الاجتهاد) মাসআলাসমূহে ভুলের স্বপক্ষে বর্ণিত বর্ণনাটি বানোয়াট (موضوع)। এর প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ (اجتهد) করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তবে তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে; আর যদি সে ভুল করে, তবে তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে।"(2) এটি একটি অকাট্য দলিল (نص) যে, ইজতিহাদি মাসআলাসমূহের মধ্যে কোনোটি ভুল হওয়া সম্ভব। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে সত্য কেবল একটির মধ্যেই নিহিত, সবগুলোতে নয়। তিনি ভুল করা সত্ত্বেও তার ইজতিহাদের (اجتهاده) কারণে তাকে সওয়াব প্রদান করেছেন এবং তার ভুলের গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে সাহাবীগণের ইজমা (إجماع) বা সর্বসম্মত ঐকমত্যও রয়েছে। কেননা তাঁরা ইজতিহাদি (الاجتهاد) মাসআলাসমূহে মতভেদ করেছিলেন এবং একে অপরের মত খণ্ডন করেছিলেন। এমনকি কেউ কেউ একে অপরকে মুবাহালার (المباهلة) আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং একে অপরের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁরা একে অপরের মত প্রত্যাখ্যান করাকে বৈধ মনে করতেন। তাঁদের কেউ অপরকে এ কথা বলেননি যে: "সত্য আমার কাছেও আছে এবং তোমার কাছেও আছে।" যদি তাঁদের প্রত্যেকের মতই সঠিক হতো, তবে তাঁদের ইখতিলাফের (اختلافهم) কোনো অর্থ থাকত না। সুতরাং আমরা যা বলেছি, এটি তাই প্রমাণ করে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বয়ান (বক্তব্য স্পষ্টীকরণ) বিলম্বে প্রকাশ করা প্রসঙ্গে(3)

ইমাম মালিক (রহ.) এবং অন্যান্য ফকিহগণের (الفقهاء) মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, প্রয়োজনের সময় হতে বয়ান (বক্তব্য স্পষ্টীকরণ) (البيان) বিলম্বিত করা জায়েজ (لا يجوز) নয়(4)।

মতভেদ কেবল এ বিষয়ে যে, ওহী অবতরণের সময় থেকে প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত কি তা বিলম্বিত করা জায়েজ? এ বিষয়ে ইমাম মালিকের কোনো অকাট্য বক্তব্য (نص) নেই এবং তাঁর পূর্বসূরি অনুসারীদেরও কোনো বক্তব্য নেই।

কাজী আবু বকর বলতেন: সম্বোধন বা খিতাব (الخطاب) আসার সময় থেকে প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত বয়ান (বক্তব্য স্পষ্টীকরণ) (البيان) বিলম্বিত করা জায়েজ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইমাম মালিক এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যখন তিনি উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

(1) দেখুন আল-বুরহান ২/১৩১৬-১৩২৬, আল-মুস্তাসফা ২/৩৬১, ৩৬৪, আল-বাহরুল মুহিত ৬/৩২৬।

(2) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ১৩/৩৩০, মুসলিম ৩/১৩৪২ এবং শাফেয়ী ২/১৭৬।

(3) শাব্দিকভাবে বয়ান (البيان) শব্দটি স্পষ্ট করা অর্থে মাসদার (ক্রিয়ামূল)। আর পরিভাষায় (اصطلاحًا): সম্বোধনের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিকে নির্দেশকারীকে বয়ান বলা হয়, যা পরবর্তীতে স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে। দেখুন আল-আহকাম লিল আমেদি ৩/২২, নিহায়াতুস সুল ২/৫২৪, আল-মুস্তাসফা ১/৬৪।

(4) দেখুন নিহায়াতুস সুল ২/৫৪০, আল-আহকাম লিল আমেদি ৩/২৮ এবং আল-বাহরুল মুহিত ৩/৪৯৩।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬)
النبي صلى الله عليه وسلم: "مَنْ قَتَلَ قَتِيلًا فَلَهُ سَلَبُهُ"(1): إن ذلك له إذا رآه الإِمام؛ لأن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قد كان قبل ذلك قسم أسْلابًا كثيرة، ولم يبلغني أنه قال ذلك إلا يوم حُنَيْن.

قال القاضي أَبُو بَكْرٍ البَاقِلاني: وقد قال مَالِكُ: لا يجوز أن يتأخر البيان عن وقت الحاجة فهذا يدل على أنه يجوز تأخيره عن وقت النزول.

وكان شيخنا أبُو بكْرٍ بْنُ صَالِح الأبهريُّ رحمه الله يمنع من ذلك، ويقول: لا يجوز أن يتأخَّر البيان عن وقت ورود الخطاب -والحجة لمن جوز تأخيره عن وقت الخطاب إلى وقت الحاجة ما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم "أَمَرَ مُعَاذًا أَنْ يُعَلِّمَ أَهْلَ اليَمَنِ أَنَّ عَلَيْهِمْ زَكَاةَ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ فِي فُقرائِهِمْ"(2).

فأعلمهم مُعاذ ذلك، ثم كان بيان شرائع الزكاة، ووجوهها يقع لهم على مقدار الحاجة، حتى سألوه عن وقَص البقر، فأخبرهم أنه لم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم فيه شيئًا، ولا معنى لمن ينكره؛ لأن ذلك لو كان ممتنعًا غير جائز لم يخل أن يكون ممتنعًا بالعقل أو بالشرع، ولسنا نعلم في العقول امتناعه ولا في الشرع أيضًا ما يمنعه.

والحجَّةُ لمن منع ذلك أن المخاطب لا يدري ما يعتقد فيه قبل ورود البيان له وأن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إذا كان البيان يجري على يديه، فقد يجوز أن تخترمه المَنِيَّة قبل البيان، وقال تعالى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: الآية 44].

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي خِطَابِ الْوَاحِدِ هَلْ يَكُونُ خِطَابًا لِلْجَمِيعِ (3)

قال القاضي أبُو بَكْرٍ إذا خاطب النبي صلى الله عليه وسلم العَيْن الواحدة، هل يكون خطابًا للجميع مع المشاركة في الجنس أم لا؟

لا نعرف عن مالك نصًّا في ذلك والذي يدل عليه في ذلك مذهبه أن الخطاب خطاب اللَّه تعالى وخطاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم العين من الأعيان خطابًا للجميع، وذلك أن مالكًا روى حديثًا عن أبي هريرة في الموطأ (أن رجلًا أفطر في رمضان في زمن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فأمره رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أن يَعْتِقَ رقبة أو يطعم ستين مسكينًا، أو يصوم شهرين متتابعين)(4) الحديث.

--------------------------------------------

(1) أخرجه مالك في الموطأ 2/ 454 - 455، والبخاري 8/ 34 - 35، ومسلم 3/ 1370.

(2) أخرجه البخاري 3/ 307، ومسلم 1/ 50، والترمذي 3/ 21.

(3) انظر البحر المحيط 3/ 189، 190.

(4) أخرجه البخاري 4/ 193، ومسلم 2/ 781، ومالك في الموطأ 1/ 297، وأبو داود 2/ 314، =
নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে, সে তার লুণ্ঠিত মালের মালিক হবে"(১): এটি তার জন্য কার্যকর হবে যখন ইমাম (শাসক) তা সমীচীন মনে করবেন; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) ইতিপূর্বে প্রচুর লুণ্ঠিত মাল বণ্টন করেছেন এবং হুনাইনের দিন ব্যতীত অন্য কোনো সময় তিনি এমনটি বলেছেন বলে আমার কাছে কোনো সংবাদ পৌঁছেনি।

কাজী আবু বকর আল-বাকিলানি বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: প্রয়োজনের সময় থেকে ব্যাখ্যা (بيان) বিলম্বিত করা জায়েজ নয়। এটি নির্দেশ করে যে, তা অবতরণের (نزول) সময় থেকে বিলম্বিত করা জায়েজ।

আমাদের শায়খ আবু বকর ইবন সালেহ আল-আবহরি (রহ.) এটি নিষেধ করতেন এবং বলতেন: সম্বোধনের (خطاب) সময় থেকে ব্যাখ্যা (بيان) বিলম্বিত করা জায়েজ নয়। আর যারা সম্বোধনের (خطاب) সময় থেকে প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা জায়েজ মনে করেন, তাদের দলিল (حجة) হলো সেই বর্ণনা যেখানে নবী (সা.) মুয়াজকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইয়েমেনবাসীকে এ শিক্ষা দিতে যে, তাদের ওপর জাকাত ফরজ যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে(২)।

অতঃপর মুয়াজ তাদের তা জানিয়েছিলেন। এরপর জাকাতের বিধানাবলি (شرائع) এবং এর বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা (بيان) তাদের নিকট প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদান করা হতো; এমনকি তারা যখন গরুর জাকাতের পরিমাণের নিম্নসীমা (وقص) সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি তাদের জানালেন যে, এ বিষয়ে তিনি নবী (সা.)-এর নিকট থেকে কিছু শোনেননি। আর যারা এটি অস্বীকার করেন তাদের যুক্তির কোনো অর্থ হয় না; কারণ এটি যদি অসম্ভব বা নাজায়েজ হতো, তবে তা হয় বিবেকের (عقل) নিরিখে অথবা শররিয়তের (شرع) নিরিখে অসম্ভব হতো। অথচ আমরা বিবেকের (عقل) নিরিখে এর অসম্ভবতা জানি না এবং শররিয়তেও (شرع) এমন কিছু নেই যা একে নিষিদ্ধ করে।

আর যারা এটি নিষেধ করেন তাদের দলিল (حجة) হলো—যাকে সম্বোধন (خطاب) করা হয়েছে সে ব্যাখ্যা (بيان) আসার আগে কী বিশ্বাস পোষণ করবে তা জানে না। তদুপরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে যেহেতু ব্যাখ্যা (بيان) প্রদান করা হয়, তাই ব্যাখ্যার (بيان) আগেই তাঁর ইন্তেকাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য যা নাযিল করা হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন} [নাহল: আয়াত ৪৪]।

 

‌‌অনুচ্ছেদ: একজনকে উদ্দেশ্য করে সম্বোধন (خطاب) করা কি সবার জন্য সম্বোধন (خطاب) হিসেবে গণ্য হবে কি না (৩)

কাজী আবু বকর বলেন: নবী (সা.) যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সম্বোধন (خطاب) করেন, তখন তা কি একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত সবার জন্য সম্বোধন (خطاب) হিসেবে গণ্য হবে কি না?

এ বিষয়ে ইমাম মালিক থেকে আমরা কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص) জানি না। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব (مذهب) যা নির্দেশ করে তা হলো—মহান আল্লাহর সম্বোধন (خطاب) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সম্বোধন (خطاب) করা সবার জন্যই সম্বোধন (خطاب)। এর কারণ হলো, মালিক মুয়াত্তা-এ আবু হুরায়রা থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, (এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করেছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে একজন দাস মুক্ত করার অথবা ষাটজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানোর অথবা একটানা দুই মাস রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন)(৪)। হাদিস।

--------------------------------------------

(১) এটি মালিক মুয়াত্তা ২/৪৫৪-৪৫৫, বুখারি ৮/৩৪-৩৫ এবং মুসলিম ৩/১৩৭০ এ বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি বুখারি ৩/৩০৭, মুসলিম ১/৫০ এবং তিরমিজি ৩/২১ এ বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-বাহরুল মুহিত ৩/১৮৯, ১৯০ দেখুন।

(৪) এটি বুখারি ৪/১৯৩, মুসলিম ২/৭৮১, মালিক মুয়াত্তা ১/২৯৭ এবং আবু দাউদ ২/৩১৪ এ বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭)
واحتج بذلك فيمن أكل في شهر رمضان متعمدًا بغير عذر، أن عليه الكفَّارة، فهذا يدل على أن مذهبه ما قلناه.

ومما يوضح ذلك أيضًا أنه روى حديث فَاطِمَةَ بِنْتِ أبِي حُبَيْش -أن النبي صلى الله عليه وسلم "قال لها: "إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْتَسِلِي عن الدَّمِ وَصَلِّي")(1).

فأحبّ مالك أن يكون الحكم في النساء كلهن مثل الحكم فيها، ودل على الحكم في الحَيْضِ على هذا الحديث، والحجة لذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: "خِطَابِي لِلْوَاحِدِ خِطَابٌ لِلْجَمِيعِ".

وهذا نص فيما ذكرناه، فوجب الحكم، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ الْقَولِ فِي الْعُمُومِ يُخَصُّ بَعْضُهُ

مذهب مالك في العموم إذا خص بعضه هل يكون ما بقي على عمومه، أو يتوقف عنه حتى يقوم دليل على خصوص أو عموم(2).

ليس يختلف أصحابنا في أن ما بقي بعد قيام الدليل على خصوصه أنه على العموم، والدليل على ذلك أن اللَّه عز وجل خاطبنا بلغة العرب، ووجدناهم يقولون إِذا أمروا مَنْ يلزمه طاعتهم، وامتثال أوامرهم: أعْطِ بني تميم كذا وكذا، أنه يلزم المأمور أن يعطيهم ما أَمَرَ به، فإذا قال له بعد ذلك: لا تعطي شيوخ بني تميم شيئًا لا يكون ذلك منعًا لإعطاء مَنْ بَقِي من الشُبَّان؛ لأن عطيته الكل ثابتة، فالأمر بخروج البعض من الجملة لا يدل على إبطال الكل، وذلك معقول عندهم ومشهور في لسانهم، فوجب ألا يخرج عن ذلك، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي الْقِياسِ عَلَى الْمَخْصُوصِ

مذهب مالك رحمه الله هل يجوز أن يقاس على المخصوص أم لا؟

المخصوص إِذا عُرِفَتْ عِلَّتُهُ جاز القياس عليه، وإِلى هذا ذهب القاضي إسماعيل بن إسحاق.

--------------------------------------------

= والدارقطني 2/ 190.

(1) أخرجه البخاري في صحيحه 1/ 396، ومسلم في صحيحه 1/ 262.

(2) انظر البرهان 1/ 410 - 412، المستصفى 2/ 54 - 56.
এবং তিনি এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির বিষয়ে দলিল পেশ করেছেন যে রমজান মাসে কোনো ওজর ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে, তার ওপর কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব। এটি প্রমাণ করে যে, তার মাযহাব বা মতাদর্শ তাই যা আমরা বলেছি।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, তিনি ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন—যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "যখন ঋতুস্রাব (حيضة) শুরু হয় তখন নামাজ ত্যাগ করো, আর যখন তার সময় অতিবাহিত হয় তখন রক্ত থেকে পবিত্র হতে গোসল করো এবং নামাজ আদায় করো।"(১).

ইমাম মালেক (র.) পছন্দ করেছেন যে সকল নারীর বিধান যেন তার (ফাতিমার) বিধানের মতোই হয়। তিনি ঋতুস্রাবের (حيض) বিধানের ক্ষেত্রে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর এর পক্ষে প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "একজনের প্রতি আমার সম্বোধন সকলের প্রতি সম্বোধন হিসেবে গণ্য।"

আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে এটি একটি অকাট্য পাঠ (نص), সুতরাং বিধানটি সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: সাধারণ (عموم) বিষয়ের কিয়দংশ নির্দিষ্ট (يخص) করার বর্ণনা

সাধারণ (عموم) শব্দের কিয়দংশ যখন নির্দিষ্ট (خص) করা হয়, তখন অবশিষ্ট অংশ কি তার সাধারণ (عموم) অর্থের ওপর বহাল থাকবে, নাকি সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে যতক্ষণ না বিশেষত্ব (خصوص) বা সাধারণত্বের (عموم) ওপর কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়—এ বিষয়ে ইমাম মালেকের মাযহাব বা মত নিম্নরূপ।(২).

আমাদের (মালেকি) ফকিহদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কোনো সাধারণ শব্দের কিয়দংশ নির্দিষ্ট (خصوص) করার দলিল পাওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ সাধারণ (عموم) অর্থের ওপরই বহাল থাকে। এর দলিল হলো—আল্লাহ তাআলা আমাদের সাথে আরবদের ভাষায় কথা বলেছেন। আমরা দেখতে পাই যে, আরবরা যখন এমন কাউকে আদেশ দেয় যার জন্য তাদের আনুগত্য ও আদেশ পালন করা আবশ্যক যে: "বনু তামিমের সন্তানদের অমুক অমুক জিনিস দাও", তখন আদিষ্ট ব্যক্তির জন্য তাদের সেই সম্পদ দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এরপর যদি সে পরে বলে: "বনু তামিমের বৃদ্ধদের কিছু দিয়ো না", তবে তা অবশিষ্ট যুবকদের প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে গণ্য হয় না। কারণ সমষ্টির জন্য প্রদানের বিষয়টি আগে সাব্যস্ত ছিল। সুতরাং সমষ্টির মধ্য থেকে কিছু অংশকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ পুরো বিষয়টিকে বাতিল করার প্রমাণ বহন করে না। এটি তাদের নিকট বোধগম্য এবং তাদের ভাষায় প্রসিদ্ধ। অতএব, এর থেকে বিচ্যুত হওয়া অনুচিত। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত (مخصوص) বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس) করার বর্ণনা

ইমাম মালেক (র.)-এর মাযহাব অনুযায়ী, যা নির্দিষ্ট (مخصوص) করা হয়েছে তার ওপর কিয়াস (قياس) করা কি জায়েজ নাকি জায়েজ নয়?

নির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত (مخصوص) বিষয়ের যদি কারণ বা ইল্লত (علة) জানা যায়, তবে তার ওপর কিয়াস (قياس) করা জায়েজ। কাজী ইসমাইল ইবনে ইসহাক এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

= এবং দারা কুতনি ২/১৯০।

(১) বুখারি তার সহিহ বুখারিতে ১/৩৯৬ এবং মুসলিম তার সহিহ মুসলিমে ১/২৬২ এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: আল-বুরহান ১/৪১০ - ৪১২, আল-মুসতাসফা ২/৫৪ - ৫৬।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৮)
والحجة لذلك أن الحكم للعلَّة إِذا وجدت علق عليها الحكم، وذلك مثل قول اللَّه عز وجل: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور: الآية 2].

وكان ذلك عامًّا في كل زانية وزان، سواء أكان عبدًا أو حرًّا ثم خُصَّ من ذلك الإماء بقوله عز وجل: {فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} [النساء: الآية 25].

ثم أُلحِقَ العبيد بالإماء في الاقتصار على نصف حدِّ الحر من طريق القياس، وكانت العلة الجامعة بين الإماء والعبيد وجود الزنا مع كونهم أَرِقَّاء، فثبت بذلك جواز القياس على المخصوص، وباللَّه التوفيق.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ في الاسْتِثْنَاءِ عَقِبَ الْجُمْلَةِ (1)

عند مالك رحمه الله الاستثناء والشرط(2) إِذا ذكر عَقِبَ جملة من الخطاب، هل يكون رجوعهما إلى ما تقدم أو يكونان راجعين إلى أقرب المذكورين، وهو الذي يليهما؟

والذي يدل عليه مذهب مَالِكٍ أن يكون الاستثناء راجعًا إِلَى جميع ما تقدم إِلا أن تُقَدَّمَ دلالة على المنع منه، وذلك أنه قال: شهادة القاذف مقبولة متى تاب، لقوله عز وجل: {وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً} إِلَى قوله: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ} [النور: الآيتان 4، 5].

فجعل الاستثناء راجعًا إلى جميع ما تقدم من الفسق وقبول الشهادة.

والدليل على حجّة ذلك هو أن الاستثناء رَفعْ الحاكم كلام متقدّم قد قيد بعضه ببعض، حتى صار كالكلمة الواحدة، فوجب أن يكون راجعًا إلى جميعه إِذْ ليس بعضه بالرجوع إليه أولى من بعض، ومما يُبَيّنُ ذلك أن اللَّه عز وجل قال: {فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا} [العنكبوت: الآية 14].

فكان الاستثناء عامًّا في جميع ما تقدم إذا لم يكن بعض السنين لرجوع ذلك إليه أولى من بعض؛ لأن جميع ذلك مرتبط ببعضه، واللَّه أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر المستصفى 2/ 174 - 180، تيسير التحرير 1/ 302 - 308.

(2) انظر الأحكام للآمدي 1/ 121.
এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে, যখনই কার্যকর কারণ (علة) বিদ্যমান থাকে, তখনই বিধান বা হুকুমটি তার ওপর নির্ভরশীল হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত করো।" [সূরা আন-নূর: আয়াত ২]।

আর এই বিধানটি প্রত্যেক ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারীর ক্ষেত্রে সাধারণ (عام) ছিল, চাই সে দাস হোক বা স্বাধীন। অতঃপর দাসীদের ক্ষেত্রে এই বিধানটিকে সুনির্দিষ্ট (خاص) করা হয়েছে মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে: "তাদের (দাসীদের) জন্য স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি নির্ধারিত।" [সূরা আন-নিসা: আয়াত ২৫]।

অতঃপর কিয়াস বা বিধিবদ্ধ অনুমানের (قياس) মাধ্যমে দাসদেরকেও দাসীদের হুকুমের সাথে যুক্ত করে স্বাধীন ব্যক্তির হদ্দের অর্ধেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। দাস ও দাসীদের মধ্যে সাধারণ যোগসূত্র বা অভিন্ন কারণ (علة جامعة) হলো তাদের দাসত্বের সাথে ব্যভিচারের সম্পৃক্ততা। এর মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হলো যে, খাস বা সুনির্দিষ্ট (مخصوص) বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس) করা বৈধ। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।

 

‌‌অধ্যায়: একাধিক বাক্যের শেষে ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রম (استثناء) ব্যবহারের আলোচনা (1)

ইমাম মালিক (রহ.)-এর নিকট, কোনো বক্তব্যের একাধিক বাক্যের পরে যদি ইস্তিসনা (استثناء) এবং শর্ত (شرط)(2) উল্লেখ করা হয়, তবে কি সেগুলোর প্রত্যাবর্তন পূর্ববর্তী সকল বাক্যের দিকে হবে, নাকি কেবল নিকটবর্তী বাক্যটির দিকে হবে—যা ঠিক তার পূর্বেই অবস্থিত?

ইমাম মালিকের মাযহাব যা নির্দেশ করে তা হলো, ইস্তিসনা (استثناء) পূর্ববর্তী সকল বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে, যদি না তা থেকে বিরত থাকার কোনো প্রমাণ বিদ্যমান থাকে। আর এ কারণেই তিনি বলেছেন: অপবাদদানকারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে যখন সে তওবা করবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না" থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "তবে যারা এরপর তওবা করে (তারা ব্যতীত)।" [সূরা আন-নূর: আয়াত ৪-৫]।

ফলে তিনি ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রমকে (استثناء) পূর্বে উল্লেখিত পাপাচার (فسق) এবং সাক্ষ্য গ্রহণের অযোগ্যতা—উভয় বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে গণ্য করেছেন।

এর সপক্ষে যুক্তি হলো যে, ইস্তিসনা (استثناء) হলো বক্তার পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী বক্তব্যের এমন কোনো অংশ রহিত করা যার এক অংশ অন্য অংশের সাথে সীমাবদ্ধ হয়ে একটি অখণ্ড বাক্যের মতো হয়ে গেছে। সুতরাং এটি সবটুকুর দিকেই ফিরে যাওয়া আবশ্যক, যেহেতু এর কোনো অংশ অন্য অংশের তুলনায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অধিক যোগ্য নয়। বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝা যায় মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন এক হাজার বছর, কিন্তু তার মধ্যে পঞ্চাশ বছর কম ছিল।" [সূরা আল-আনকাবূত: আয়াত ১৪]।

এখানে ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রমটি (استثناء) পূর্ববর্তী সমগ্র বিষয়ের ওপর কার্যকর হয়েছে, কারণ কোনো নির্দিষ্ট বছরকে বাদ দেওয়ার চেয়ে অন্য বছরকে বাদ দেওয়া অধিক সমীচীন ছিল না; যেহেতু এর সবটুকুই একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: আল-মুসতাসফা ২/১৭৪-১৮০, তায়সীরুত তাহরীর ১/৩০২-৩০৮।

(2) দেখুন: আল-আহকাম লিল-আমিদী ১/১২১।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي الأَوَامِرِ هَلْ هِيَ عَلَى الْفَوْرِ أَو على التَّرَاخِي؟

ليس عن مالك رحمه الله في ذلك نص، ولكن مذهبه يدل على أنها على الفور، ولم ذلك كذلك إلا أن الأمر اقتضاه؟، والحجة له قوله تعالى: {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ} [آل عمران: الآية 133]، وهذا عام في كل عمل، فأمر بالمسارعة والتراخي قيد المسارعة، فدلَّ على أن الأمر على الفور دون التراخي.

فإن قيل: قوله عز وجل: {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ} [آل عمران: الآية 133] يدل على وجوب المبادرة إلى ما يسقط الذنوب، ويوجب غفرانها، لأن المغفرة إنما تكون للذنب، وليس في ظاهر الآية إلا وجوب التوبة، وما يوجب التكفير للذنوب التي يستحق عليها العقاب، وهذا ما لا خلاف في وجوب المبادرة إليه، ومن زعمت أن غيره من الأفعال بمنزلته، فعليه قيام الدليل.

قيل له: سائر أفعال الطاعات والحسنات يغفر به السيئات، قال اللَّه تعالى: {إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ} [هود: الآية 114]، والمبادرة إلى فعل ما أمر اللَّه به من الطاعات والشرائع مما يغفر به السيئات، فثبت ما قلناه، واللَّه أعلم.

 

‌‌بابُ الْقَوْلِ فِي الأَوَامِرِ هَلْ تَقْضِي تِكْرَارَ الْمَأْمُورِ بِهِ أَمْ لا؟(1)

قال القاضي أَبُو بكْر البَاقِلانِيُّ: الأمر بالفعل إِذا تجرَّد هل يقتضي تكراره أم لا يقتضي ذلك إلا بدليل؟

ليس عن مالك فيه نص، ولكن مذهبه عندي يدل على تَكْرَارِهِ إِلا أن يقوم دليل.

والحجة لذلك حديث سُرَاقَةَ، لما سأل النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: أحَجَّتُنَا هَذِهِ لِعَامِنَا أَمْ لِلأَبَد؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "اترُكُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ"، وقيل في خبر الأبد(2): وسراقة عربي، فلولا أن حكم الخطاب في اللُّغة يوجب ذلك لَمَا سُئِلَ، وإلا فما وجه مَسْألتهِ عن

--------------------------------------------

(1) انظر تيسير التحرير 1/ 351، المنخول ص 108. وأصول السرخسي 1/ 20.

(2) أخرجه مسلم 4/ 2040، 2/ 975، النسائي 5/ 110، وأحمد في المسند 2/ 508.
আদেশ কি তাৎক্ষণিক পালনের (الفور) জন্য নাকি বিলম্ব (التরাخي) করার সুযোগ আছে - সেই সংক্রান্ত আলোচনার অধ্যায়?

ইমাম মালিক (রহ.) থেকে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য (نص) নেই, তবে তাঁর মাযহাব ইঙ্গিত দেয় যে আদেশ তাৎক্ষণিক পালনের (الفور) দাবি রাখে। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে আদেশই তা দাবি করে? তাঁর সপক্ষে প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার দিকে দ্রুত ধাবিত হও} [আলে ইমরান: ১৩৩]। এটি প্রতিটি আমলের ক্ষেত্রে সাধারণ (عام), তাই তিনি দ্রুততার নির্দেশ দিয়েছেন, আর বিলম্ব (التراخي) দ্রুততার বিপরীত বিষয়; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে আদেশ তাৎক্ষণিক পালনের (الفور) জন্য, বিলম্ব (التরাخي) করার জন্য নয়।

যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার দিকে দ্রুত ধাবিত হও} [আলে ইমরান: ১৩৩] সেই বিষয়ের দিকে অগ্রণী হওয়ার প্রমাণ দেয় যা গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং ক্ষমা নিশ্চিত করে। কারণ ক্ষমা কেবল গুনাহের জন্যই হয়। আয়াতের বাহ্যিক অর্থে কেবল তাওবা এবং সেই সকল গুনাহের কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু নেই যেগুলোর কারণে শাস্তির আশঙ্কা থাকে। আর এই আমলগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রণী হওয়া যে ওয়াজিব, তাতে কোনো মতভেদ নেই। তবে আপনি যে দাবি করেছেন যে অন্যান্য কাজও এর সমপর্যায়ভুক্ত, তার জন্য দলিলের প্রয়োজন।

উত্তরে বলা হবে: সকল প্রকার আনুগত্য ও নেক আমলের মাধ্যমে মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ মন্দ কাজগুলোকে মিটিয়ে দেয়} [হুদ: ১১৪]। আর আল্লাহ তাআলা যেসব আনুগত্য ও বিধানের নির্দেশ দিয়েছেন, তা পালনে অগ্রণী হওয়া এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়। সুতরাং আমরা যা বলেছি তা প্রমাণিত হলো। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

আদেশ কি আদিষ্ট বিষয়টি পুনরাবৃত্তি (تكرار) করার দাবি রাখে নাকি নয় - সেই সংক্রান্ত আলোচনার অধ্যায়? (১)

কাযী আবু বকর আল-বাকিলানি বলেন: কোনো কাজের আদেশ যখন নিঃশর্তভাবে আসে, তখন কি তা পুনরাবৃত্তি (تكرار) করার দাবি রাখে নাকি কোনো দলিল ছাড়া তা সম্ভব নয়?

ইমাম মালিক থেকে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য (نص) নেই, তবে আমার মতে তাঁর মাযহাব ইঙ্গিত দেয় যে এটি পুনরাবৃত্তি (تكرার) করার দাবি রাখে, যতক্ষণ না কোনো দলিল এর বিপক্ষে পাওয়া যায়।

এর সপক্ষে প্রমাণ হলো সুরাকার হাদিস, যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আমাদের এই হজ কি কেবল এই বছরের জন্য নাকি চিরকালের জন্য? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি যতক্ষণ তোমাদেরকে অব্যাহতি দেই, ততক্ষণ তোমরাও আমাকে অব্যাহতি দাও"। "চিরকালের জন্য" কথাটি অন্য বর্ণনায় এসেছে। সুরাকা একজন আরব ছিলেন; যদি ভাষার বিচারে সম্বোধনের বিধান এটি দাবি না করত, তবে তিনি এমন প্রশ্ন করতেন না। অন্যথায় তাঁর এই প্রশ্ন করার কী কারণ থাকতে পারে

--------------------------------------------

(১) দেখুন তায়সীরুত তাহরীর ১/৩৫১, আল-মানখুল পৃষ্ঠা ১০৮ এবং উসুলুস সারাখসি ১/২০।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৪/২০৪০, ২/৯৭৫, নাসাঈ ৫/১১০ এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে ২/৫০৮।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৪০)
ذلك؛ لأن الأمر لو كان لا يعقل منه إِلا مرة واحدة لم يسأل سراقة عن الأبد، ولا سَوَّغَه النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، ولا كان يقول له إِذا أمرت بأمر معروف، معناه في لغتك، فلم تسأل عما تعقله من الأمر؟.

فإن قال قائل: هذا ينقلب عليكم، لأنه لو كان الأمر يوجب التَّكْرار لما كان لسؤاله معنى، ولقال له النبي صلى الله عليه وسلم قد أمرت بأمر مفهوم معقول في لسانك أنه للتكرار، فَلِمَ تسأل عما تعقله بالأمر؟ (قيل): سؤاله ها هنا له فائدة أنه لما رأى الصَّلوات والصيام يتكرران، وكانت المشَقَّة العظيمة تلحق في الحج، ولا يكون مثلها في سائر العبادات ثم ورد عليه الأمر الذي يوجب التكرار خاف أن يكون بمنزلة سائر العبادات التي تتكرر، فحينئذٍ سأل النبي صلى الله عليه وسلم ولو كان الأمر يوجب فعل مرة لما كان لسؤاله معنى؛ لأنه ليس بخاف أن يتكرر فيسأل عنه.

قال القاضي: وعندي أن الصحيح هو أن الأمر إِذا أطلق اقتضى فعل مرة، وتكراره يحتاج إلى دليل، والدليل على ذلك أنَّ معنى قوله: "صَلُّوا" المراد منه فيما توجبه اللغة افعلوا صلاة.

وقوله: "صَلُّوا ثمّ صَلُّوا"، يقتضي فعل صلاتين، وكذلك لو قال: صلُّوا صلُّوا عشر صلوات أو عشرة أيّام اقتضى عددًا أكثر من ذلك، وكذلك إِذا قال: صلُّوا أبدًا، وهذه ألفاظ قد وضعها أهل اللغة للتَّكْرَار، فإِذا ورد الأمر مجردًا منها لم يدل بمجرد قوله: صلوا إلا على فعل مرة واحدة، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ الْقَوْلِ فِي نَسْخِ الْقُرْآنِ بِالسُّنَّةِ

ليس يُعْرَف عن مالك رحمه الله في هذا نص، واستدل أَبُو الفَرَجِ والقاضِي الْمَالِكِيُّ على أن مذهب مَالِكٍ أن ذلك يجوز.

قال: لأن مذهبه يدل على أن نسخ القرآن بما صحّ عن النبي صلى الله عليه وسلم وذهب عَلِي أَبُو الفَرَج أن مَالِكًا رحمه الله قال في "المُوَطَّأ": نسخت آية المواريث ألا لا وصية لوارث(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود الطيالسي في المسند ص 154، ح 1127، وأخرجه عبد الرزاق في المصنف 9/ 48 - 49، وأخرجه أحمد في المسند 5/ 267، وأخرجه أبو داود في السنن 3/ 290 - 291.
এটা এই কারণে যে; যদি আদেশ (الأمر) দ্বারা কেবল একবারই বুঝা যেত, তবে সুরাকাহ (সরাকা ইবনে মালিক) চিরস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেন না, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তা করার অনুমতি দিতেন না। তিনি তাকে বলতেন না যে, যখন আমি তোমাকে কোনো পরিচিত (معروف) বিষয়ে আদেশ করি—যার অর্থ তোমার ভাষায় স্পষ্ট—তবে তুমি যা আদেশ থেকে বুঝতে পারছ সে সম্পর্কে কেন জিজ্ঞাসা করছ?

যদি কেউ বলে: এই যুক্তিটি আপনাদের বিরুদ্ধেই যায়। কারণ যদি আদেশ (الأمر) পুনরাবৃত্তি (التكرار) দাবি করত, তবে তার এই প্রশ্নের কোনো অর্থ থাকত না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলতেন যে, তোমাকে তোমার ভাষায় বোধগম্য (مفهوم) ও বুদ্ধিগ্রাহ্য (معقول) এমন একটি বিষয়ে আদেশ করা হয়েছে যা পুনরাবৃত্তি (التكرার) বুঝায়। তবে তুমি যা আদেশের মাধ্যমে বুঝতে পারছ সে সম্পর্কে কেন জিজ্ঞাসা করছ? (উত্তরে বলা হবে): এখানে তার প্রশ্নের সার্থকতা রয়েছে। কারণ তিনি যখন দেখলেন সালাত এবং সিয়াম পুনরাবৃত্তি হয়, আর হজ্জের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্লেশ বা কষ্ট হয় যা অন্য ইবাদতের মতো নয়, এরপর যখন তাঁর কাছে এমন আদেশ এল যা পুনরাবৃত্তি (التكرار) দাবি করে, তখন তিনি আশঙ্কা করলেন যে এটিও হয়তো অন্যান্য পুনরাবৃত্তি হওয়া ইবাদতসমূহের মতো হবে। তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু যদি আদেশ (الأمر) কেবল একবার করাই আবশ্যক করত, তবে তার প্রশ্নের কোনো অর্থ থাকত না; কারণ এটি কোনো অস্পষ্ট বিষয় নয় যে এটি পুনরাবৃত্তি হবে যার ফলে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে।

কাযী (রহ.) বলেন: আমার নিকট সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, আদেশ (الأمر) যখন সাধারণভাবে (أطلق) আসে তখন তা কেবল একবার করাকেই দাবি করে এবং এর পুনরাবৃত্তি (التكرار)-এর জন্য স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন হয়। এর প্রমাণ হলো, তাঁর বাণী: "তোমরা সালাত আদায় করো"—এর ভাষাগত অর্থ হলো তোমরা একটি সালাত সম্পাদন করো।

আর তাঁর বাণী: "তোমরা সালাত আদায় করো, অতঃপর সালাত আদায় করো," এটি দুটি সালাত সম্পাদন করাকে দাবি করে। তদ্রূপ তিনি যদি বলতেন: তোমরা দশটি সালাত বা দশ দিন সালাত আদায় করো, তবে তা অধিক সংখ্যা দাবি করত। একইভাবে তিনি যদি বলতেন: তোমরা সর্বদা সালাত আদায় করো। আর এই শব্দগুলো ভাষা বিশেষজ্ঞগণ পুনরাবৃত্তি (التكرار)-এর জন্যই নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যদি আদেশ (الأمر) এগুলো থেকে মুক্ত অবস্থায় আসে, তবে কেবল তাঁর বাণী: "তোমরা সালাত আদায় করো" দ্বারা একবার করা ব্যতীত অন্য কিছু বুঝাবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সুন্নাহ দ্বারা কুরআন রহিতকরণ (نسخ) বিষয়ক অধ্যায়

ইমাম মালিক (রহ.) থেকে এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা পাঠ (نص) জানা যায় না। তবে আবু আল-ফারাজ এবং মালিকী মাযহাবের কাযীগণ প্রমাণ পেশ করেছেন যে, ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী এটি বৈধ।

তিনি বলেন: কারণ তাঁর মাযহাব একথাই প্রমাণ করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা সহিহ (صح) বা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা দ্বারা কুরআনের বিধান রহিত (نسخ) করা সম্ভব। আবু আল-ফারাজ এই মত পোষণ করেছেন যে, ইমাম মালিক (রহ.) মুওয়াত্তায় বলেছেন: মিরাসের আয়াতকে "সাবধান! উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই" (এই হাদিস দ্বারা) রহিত (نسخت) করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(1) এটি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি মুসনাদ-এ বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা ১৫৪, হাদিস নং ১১২৭; আব্দুর রাজ্জাক মুসান্নাফ-এ বর্ণনা করেছেন, ৯/৪৮-৪৯; আহমদ মুসনাদ-এ বর্ণনা করেছেন, ৫/২৬৭; এবং আবু দাউদ সুনান-এ বর্ণনা করেছেন, ৩/২৯০-২৯১।
(খণ্ড: ১) আল মুকাদ্দিমাতু ফিল উসূল - ইবনুল কাসসার - ত ইলমিয়া (পৃষ্ঠা: ৪১)
والأمر محتمل، وقد اختلف في ذلك، فمن ذهب إلى أنه يجوز، فحجته أن النبي صلى الله عليه وسلم قد ثبت صدقه، والأصل فيما جاءنا به عن اللَّه عز وجل فلا فرق إذا وردت آية عامة بَيْن أن يُبَيِّن لنا أنه أريد بها بعض الأعيان دون بعض، وبين أن يُبَيِّنَ لنا أنه أريد بها زمان دون زمان لأن هذا تخصيص الأعيان، وهذا تخصيص الأزمان، فإذا جاز أن يخص النبي صلى الله عليه وسلم ببيانه الأعيان باتِّفَاق جاز أن يخص النبي صلى الله عليه وسلم الأزمان قياسًا عليه مثله، ومن امتنع من ذلك فعلى وجهين.

أحدهما: أنه لم توجد سُنَّة نسخت قرآنًا.

والوجه الآخر: لا يجوز أن يوجد، واستدل يقول اللَّه عز وجل: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا} [البقرة: الآية 106].

يريد آيَةً خيرًا منها؛ لأن قائلًا لو قال لغيره: ما آخذ منك ثوبًا إلا أعطيك خيرًا منه، يريد ثوبًا خيرًا، لا ثوبًا مثله، هذا مفهوم من كلام العرب، وأخبر اللَّه عز وجل أنه يأتي بخير منها أو مثلها، فلو كان يجوز أن يأتي بغيرها مما ليس بقرآن لذكره، واللَّه أعلم.

 

‌‌بَابُ القَوْلِ في الزِّيَادَةِ عَلَى النَّصِّ هَلْ يَكُونُ نَسْخًا أَمْ لا (1)

الذي يدلّ عليه مذهب مالك رحمه الله أن الزيادة على النَّص لا تكون نسخًا، بل تكون زيادة حكم آخرٍ والمخالفون من أهل العراق، قالوا: الزيادة على النص نسخ.

فيقال لهم: إِذا كان أصلكم الانتزاع من دليل الخطاب، وكان قول اللَّه عز وجل: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور: الآية 2] يتضمن معنيين:

أحدهما: أن الزَّانِي يجلد مائة.

والآخر: أن ما عدا المائة على ما كان عليه في الأصل، فإذا قالوا: نعم، ولا بد من ذلك، قيل لهم: فإذا كانت المائة حكمها باقٍ بحاله، وما عداها حكمه حكم المائة قبل ورود السمع بوجوبها، ووجدنا المائة يؤثر النفي فيها شيئًا، لا بأن أبطلها ولا أبطل شيئًا منها، وكان ما عداها لا يصحّ أن يكون منسوخًا، كما لا يكون

--------------------------------------------

(1) انظر البرهان 2/ 1309 - 1311، المستصفى 1/ 117 - 118، البحر المحيط 4/ 143.
বিষয়টি সম্ভাবনার অবকাশ রাখে এবং এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যারা এটি বৈধ মনে করেন, তাদের যুক্তি হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যবাদিতা প্রমাণিত এবং আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল্লা-এর পক্ষ থেকে তিনি যা কিছু আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন তার মূল ভিত্তি এটিই। সুতরাং কোনো সাধারণ (عام) আয়াত অবতীর্ণ হলে তার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সত্তা (أعيان) উদ্দেশ্য হওয়া আর কোনো নির্দিষ্ট সময় (زمان) উদ্দেশ্য হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ, প্রথমটি হলো ব্যক্তিবর্গের বিশেষায়ন (تخصيص الأعيان) এবং দ্বিতীয়টি হলো সময়ের বিশেষায়ন (تخصيص الأزمان)। অতএব, সর্বসম্মতভাবে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সত্তাকে বিশেষায়িত (تخصيص) করতে পারেন, তবে এরই ভিত্তিতে কিয়াস (قياس) করে তাঁর জন্য সময়ের বিশেষায়ন করাও বৈধ হবে। আর যারা এটি অস্বীকার করেছেন, তাদের যুক্তি দুই প্রকার।

প্রথমটি: এমন কোনো সুন্নাহ (سنة) পাওয়া যায়নি যা কুরআনকে রহিত (نسخ) করেছে।

দ্বিতীয়টি: এটি হওয়া সম্ভব নয়। এর সপক্ষে তারা আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল্লা-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {আমি যে আয়াত রহিত (نسخ) করি অথবা তা বিস্মৃত করে দেই, আমি তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার মতো কোনো আয়াত নিয়ে আসি} [সূরা আল-বাকারাহ: ১০৬]।

এখানে তিনি 'তার চেয়ে উত্তম' বলতে একটি আয়াতকে বুঝিয়েছেন; কারণ কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে বলে: "আমি তোমার কাছ থেকে কোনো কাপড় নেব না তবে তার চেয়ে উত্তম একটি কাপড় তোমাকে প্রদান করব", তবে এর দ্বারা একটি উত্তম কাপড়ই বোঝায়, তার সমতুল্য কাপড় নয়—আরবি ভাষায় এটিই প্রচলিত অর্থ। আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল্লা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তার চেয়ে উত্তম বা তার সমতুল্য কিছু নিয়ে আসবেন। সুতরাং যদি কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা রহিত করা বৈধ হতো, তবে তিনি তা উল্লেখ করতেন। আর আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নস (نص) বা মূল পাঠের ওপর অতিরিক্ত বিধান যুক্ত করা কি রহিতকরণ (نسخ) হবে কি না (১)

ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী যা প্রমাণিত হয় তা হলো—নস (نص)-এর ওপর অতিরিক্ত বিধান যুক্ত করা রহিতকরণ (نسخ) নয়, বরং এটি অন্য একটি বিধানের সংযোজন মাত্র। তবে ইরাকের আলিমগণ এর বিরোধিতা করেছেন; তারা বলেছেন: নস-এর ওপর অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করা রহিতকরণ (نسخ)।

তাদের প্রতি উত্তরে বলা হবে: যদি আপনাদের মূলনীতি ‘দালিলুল খিতাব’ (دليل الخطاب) থেকে আহরণ করা হয় এবং আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল্লা-এর এই বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করো} [সূরা আন-নূর: ২]—দুটি অর্থ বহন করে:

প্রথমত: ব্যভিচারীকে একশত বেত্রাঘাত করা হবে।

দ্বিতীয়ত: একশতের অতিরিক্ত যা আছে তা তার মৌলিক অবস্থার ওপর বহাল থাকবে। যদি তারা বলে: হ্যাঁ, এবং এটিই অপরিহার্য, তবে তাদের বলা হবে: যখন একশতের বিধান তার নিজ অবস্থায় বহাল আছে, আর এর অতিরিক্ত অংশের বিধান হলো ওয়াজিব হওয়ার পূর্বের অবস্থার মতো, তবে আমরা দেখতে পাই যে, অতিরিক্ত অংশের বিলুপ্তি একশতের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, অর্থাৎ এটি একশতকে বাতিল করে না এবং এর কোনো অংশকেও বাতিল করে না। সুতরাং অতিরিক্ত অংশ রহিত (منسوخ) হওয়া সম্ভব নয়, যেমনটি হওয়া সম্ভব নয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বুরহান ২/ ১৩০৯ - ১৩১১, আল-মুস্তাসফা ১/ ১১৭ - ১১৮, আল-বাহরুল মুহিত ৪/ ১৪৩।