0/0
(খণ্ড: ১) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: -)
إشراقات الأصول في علم حديث الرسول - مجلة التراث النبوي   (جلال الدين القايني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: إشراقات الأصول في علم حديث الرسول - رسالة في مصطلح الحديث تنشر لأول مرة عن نسختين خطيتين -

المؤلف: أبو محمد جلال الدين بن محمد بن عبيد الله القايني البخاري الهروي

المحقق: عمرو عبد العظيم الحويني

الناشر: مجلة التراث النبوي، العدد 3، محرم 1440 هـ (مجلة إلكترونية غير مطبوعة)

عدد الصفحات: 79

[ترقيم البحث موافق للمجلة، ورقم الجزء هو رقم العدد]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442

ইশরাকাতুল উসুল ফি ইলমি হাদিসির রসূল - মাজাল্লাতুত তুরাসিন নববী   (জালালুদ্দিন আল-কাইনি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: ইশরাকাতুল উসুল ফি ইলমি হাদিসির রসূল - হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত একটি রিসালাহ যা দুটি পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হলো -

লেখক: আবু মুহাম্মদ জালালুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-কাইনি আল-বুখারি আল-হারাবি

সম্পাদক: আমরু আব্দুল আজিম আল-হুইনি

প্রকাশক: মাজাল্লাতুত তুরাসিন নববী, ৩য় সংখ্যা, মহররম ১৪৪০ হিজরি (অমুদ্রিত ইলেকট্রনিক ম্যাগাজিন)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

[গবেষণাপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা জার্নালের অনুরূপ এবং খণ্ড নম্বরটি মূলত সংখ্যা নম্বর]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ জিলকদ ১৪৪২

(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٠٩)
[رسالة في مصطلح الحديث تُنشَر لأوَّل مرَّة عن نُسختيْن خطِّيتيْن]

 

إشراقاتُ الأُصول في عِلم حديثِ الرَّسول

 

تأليف

أبي محمد جلال الدين بن محمد بن عبيد الله القايني البخاري الهروي

[تـ 838 هـ]

 

تحقيق

عمرو عبد العظيم الحُوَيْنيّ
[হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা যা প্রথমবারের মতো দুটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে প্রকাশিত হচ্ছে]

 

ইশরাকাতুল উসুল ফি ইলমি হাদিসির রাসুল (রাসুলের হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث) সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহের আলোকচ্ছটা)

 

রচনায়

আবু মুহাম্মদ জালালুদ্দীন বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-কায়িনি আল-বুখারি আল-হিরাওয়ি

[মৃত্যু: ৮৩৮ হিজরি]

 

তাহকিক (تحقيق) ও সম্পাদনায়

আমর আবদুল আজিম আল-হুওয়াইনি
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١١)
‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله الذي هدى لطاعته وألهم، وعلَّم الإنسان مالم يكن يعلم، أسأله شكر ما مَنَّ به وأنعم، وعُقبى خيرٍ يكمل بها نعماه ويختم، وصلواته على محمد نبيه صلى الله عليه وسلم وعلى آله وسلم.

وبعد …

فدونك أثرٌ من آثار أحد علماء القرن التاسع الهجري، في علم مصطلح الحديث، ذكر مؤلفه في فاتحته أنه جمع مادته من عدة كتب ذكرها؛ لكن عند التحقيق نجد أن كتابه يُعدُّ مُختصرًا لكتاب "الخلاصة في معرفة الحديث" لشرف الدين الطِّيْبِيِّ (ت 743 هـ).

نعم، نقل عن غيره؛ لكن غالب كتابه مختصرٌ عن كتاب الطِّيبي رحمه الله.

والكتاب مختصر موجز، يصلح كمتن في المصطلح، قال مؤلفه في غاشيته: "هذه الفصول متون الأصول، ومجملات كتب علوم الحديث، كتبتها على وجه الإيجاز، ليتيسر استحضارها، فإن هذا الفن قد غرُب".

وقال في مقدمته: "هذا موجز مشتمل على أقل ما لابد لطالب الحديث، بل لكل طالب نوع من العلوم الشرعية في معرفة علوم الحديث، كتبته حين وصلت إلى بلدة نيسابور، حسب اقتراح جماعة من العلماء، منقحاً موضحاً موجزاً مستصفًى من كتب الحفاظ الكبار، وأئمة الأمصار والأخبار".

أما المؤلف توفي في النصف الأول من القرن التاسع، والمعلومات عنه شحيحة، ولم أقف على من ذكره إلا المتأخرون كإسماعيل باشا البغدادي، وحاجي خليفة، فهل ترْجمه أحد العلماء الذين لم يطبع تراثهم إلى الآن؟ أم شأنه شأن
সম্পাদনার ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর আনুগত্যের প্রতি হিদায়াত দান করেছেন ও অনুপ্রাণিত করেছেন এবং মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। তাঁর দানকৃত নিআমত ও অনুগ্রহের জন্য আমি তাঁর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং এমন উত্তম পরিণাম কামনা করছি যার মাধ্যমে তিনি তাঁর নিআমতসমূহ পূর্ণ ও সমাপ্ত করবেন। আর তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর।

অতঃপর ...

আপনার সম্মুখে নবম হিজরি শতাব্দীর একজন আলেমের হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (علم مصطلح الحديث) একটি নিদর্শন বিদ্যমান। এর লেখক ভূমিকার শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর বিষয়বস্তু তাঁর বর্ণিত একাধিক কিতাব থেকে সংগ্রহ করেছেন; কিন্তু পর্যালোচনার সময় আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর এই কিতাবটি শরফউদ্দীন আত-তিবি (মৃ. ৭৪৩ হি.) রচিত 'আল-খুলাসাতু ফি মারিফাতিল হাদিস' কিতাবটির একটি সংক্ষেপিত (مختصر) সংস্করণ হিসেবে গণ্য।

হ্যাঁ, তিনি অন্যদের থেকেও উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন; তবে তাঁর কিতাবের অধিকাংশ অংশই ইমাম তিবি (রহ.)-এর কিতাব থেকে সংক্ষেপিত (مختصر)।

এই কিতাবটি অতি সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ, যা হাদিস শাস্ত্রের একটি মূলপাঠ (متن) হিসেবে পাঠ্য হওয়ার উপযোগী। লেখক এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদগুলো হলো মূলনীতির মূলপাঠ (متون الأصول) এবং হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) কিতাবসমূহের সারসংক্ষেপ। আমি এগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে লিখেছি যাতে তা স্মরণ রাখা সহজ হয়, কারণ এই শাস্ত্রটি বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়।"

তিনি তাঁর ভূমিকায় আরও বলেছেন: "এটি একটি সংক্ষিপ্তসার (موجز), যা হাদিসের শিক্ষার্থীর জন্য, বরং প্রত্যেক শরিয়াহ জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) সম্পর্কে নূন্যতম যা না জানলেই নয়, তার ওপর مشتمل। আমি যখন নিশাপুর শহরে পৌঁছলাম, তখন একদল ওলামার পরামর্শে এটি লিখেছি; যা বড় বড় হাফেজ (الحفاظ), বিভিন্ন অঞ্চলের ইমাম (الأئمة) ও ঐতিহাসিকদের কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত, পরিমার্জিত, সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত একটি সারনির্যাস।"

লেখকের ব্যাপারে বলা যায় যে, তিনি নবম হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইন্তেকাল করেন। তাঁর সম্পর্কে তথ্য খুবই অপ্রতুল। ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদী ও হাজি খলিফার মতো পরবর্তী যুগের লেখকগণ ছাড়া আর কাউকে তাঁর কথা উল্লেখ করতে দেখিনি। তবে কি এমন কোনো আলেম তাঁর জীবনী (ترجمة) লিখে গেছেন যাদের রচিত ঐতিহ্য আজও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে? নাকি তাঁর ব্যাপারটিও সেইসব...
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١٢)
بعض المُؤلّفين الذين لم يُنقَل لنا عنهم إلا أقل القليل الذي لا يشفي؟!

ولعلَّ ما لم يُطبَع من كتب أسلافنا يُميط اللثام ويجيب عن كثيرٍ من التساؤلات من هذا القبيل.

حقَّقتُ رسالته عن نسختيْن خطّيتيْن، قريبي العهد بالمؤلّف، وخطتي على النحو التالي:

نسخت النص من النسخة (أ)، ولفَّقْتُ بين النُّسختيْن.

عزوْتُ النقولات بالرسالة إلى مصادرها.

خرَّجْتُ الأحاديث مع بيان حكمها صحَّةً وضعفًا.

وصنعت فهرسًا للمصادر.

وختاماً …

ما كان من توفيقٍ فإنما هو محضُ تفضُّلٍ منه سبحانه، وما كان من زلل؛ فإن الخطأ من سيما البشر، وحسبي قول الأوَّل:

وما أُبرِّئُ نفسي إنني بشرُ … أسْهو وأُخطئُ ما لم يحمني قدَرُ

ولا ترى عُذْراً أَوْلَى بذي زَللٍ … من أن يقول مُقِرَّاً: إنني بشرُ

 

وآخر دعوانا أنِ الحمدُ لله رب العالمين، وصلّي الله وسلم وبارك على محمدٍ وآله وصحبه وسلم.

وكتب

عمرو عبد العظيم الحُوَيْني

الجمعة 15 شوال 1439 هـ

29 يونيه 2018 م

قرية حُوَيْن - مركز الرِّياض - كفرالشيخ
এমন কিছু লেখক যাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে অতি সামান্যই বর্ণিত হয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়?!

সম্ভবত আমাদের পূর্বসূরিদের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিগুলো এই রহস্য উন্মোচন করবে এবং এ জাতীয় অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করবে।

আমি লেখকের সমসাময়িক কালের কাছাকাছি দুটি পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ভিত্তিতে তাঁর এই রিসালাহটি সম্পাদনা (تحقيق) করেছি এবং আমার কর্মপদ্ধতি নিম্নরূপ:

আমি (ক) পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকে মূল পাঠটি অনুলিপি করেছি এবং উভয় পাণ্ডুলিপির পাঠের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি।

আমি রিসালাহতে উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে নিসবত (عزو) করেছি।

আমি হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং সেগুলোর শুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) সংক্রান্ত হুকুম (حكم) বর্ণনা করেছি।

এবং আমি উৎসগ্রন্থসমূহের একটি সূচিপত্র তৈরি করেছি।

পরিশেষে …

যা কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা একান্তই মহান আল্লাহর অনুগ্রহ, আর যা কিছু বিচ্যুতি ঘটেছে তা মানুষের স্বভাবজাত ভুল। এ ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের এই উক্তিটিই আমার জন্য যথেষ্ট:

আমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করি না, কারণ আমি একজন মানুষ … আমি বিস্মৃত হই এবং ভুল করি, যতক্ষণ না ভাগ্য আমাকে রক্ষা করে।

আর কোনো বিচ্যুত ব্যক্তির জন্য এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো অজুহাত নেই … যে সে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলবে: আমি একজন মানুষ।

 

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর।

লিখেছেন

আমর আব্দুল আজিম আল-হওয়াইনি

শুক্রবার, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরি

২৯ জুন ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

হওয়াইন গ্রাম - রিয়াদ কেন্দ্র - কাফরুশ শাইখ
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١٣)
‌‌ترجمة المؤلف

هو: أبو محمد جلال بن محمد بن عبيد الله القايني، البخاري، الهرويّ. المتوفي سنة 838 هـ.

لم أقف له على ترجمة؛ إلا ما ذكره إسماعيل باشا البغدادي(1)، حيث قال: "القايني محمد بن عبد الله جلال الدين القايني -قاين بعد الألف ياء مثناة والنون، بلدة بين طبس ونيسابور-، مولدا والنسفي موطنا المتوفى بهراة سنة 838 ثمان وثلاثين وثمان مئة، له: إشراقات الأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم".

وزاد في "إيضاح المكنون"(2): "الحنفي".

وقال حاجي خليفة(3): "إشراقات الأصول في أحاديث الرسول. مختصر في أصول الحديث. لجلال بن محمد القايني".

ووقع اسمه في بداية النسخة (أ): "جلال بن محمد بن عبيد الله القايني مَولِدًا، والبُخارِيّ مَحْتِدًا، والهَرَوِيّ مَسْكنًا ومَكسبًا".

وفي بداية النسخة (ب): "أبو محمد جلال بن محمد بن عبيد الله القايني مَولِدًا، والبُخارِيّ مَحْتِدًا، والهَرَوِيّ مَكسبًا ومَسْكنًا".

--------------------------------------------

(1) - "هدية العارفين" (3/ 214 ط دار إحياء التراث)

(2) - (3/ 86)

(3) - "كشف الظنون" (1/ 81 ط دار إحياء التراث)

‌লেখকের জীবনী

তিনি হলেন: আবু মুহাম্মদ জালাল বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-কায়িনী, আল-বুখারি, আল-হারাবি। তিনি ৮৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি তাঁর কোনো জীবনী বা পরিচয় খুঁজে পাইনি; তবে ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি(১) যা উল্লেখ করেছেন: "আল-কায়িনী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ জালালুদ্দিন আল-কায়িনী —কায়িন হলো আলিফ-এর পর জোড়া নুকতাযুক্ত 'ইয়া' এবং 'নুন', যা তাবাস ও নিশাপুরের মধ্যবর্তী একটি শহর— জন্মসূত্রে তিনি কায়িনী এবং নাসাফি তাঁর স্বদেশ; তিনি ৮৩৮ হিজরিতে হেরাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ: ইশরাকাতুল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।"

এবং "ইদাহুল মাকনুন"(২) গ্রন্থে অতিরিক্ত বলা হয়েছে: "আল-হানাফি"।

وقال হাজি খলিফা(৩) বলেছেন: "ইশরাকাতুল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল। এটি হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر)। এটি জালাল বিন মুহাম্মদ আল-কায়িনীর রচনা।"

পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এর শুরুতে তাঁর নাম এভাবে এসেছে: "জালাল বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-কায়িনী জন্মসূত্রে, বংশীয় মূলে বুখারি এবং আবাস ও জীবিকার সূত্রে হারাবি।"

এবং পাণ্ডুলিপি (বা)-এর শুরুতে রয়েছে: "আবু মুহাম্মদ জালাল বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-কায়িনী জন্মসূত্রে, বংশীয় মূলে বুখারি এবং জীবিকা ও আবাসের সূত্রে হারাবি।"

--------------------------------------------

(১) - "হাদিয়াতুল আরিফিন" (৩/ ২১৪, দারু ইহয়াইত তুরাস সংস্করণ)

(২) - (৩/ ৮৬)

(৩) - "কাশফুজ জুনুন" (১/ ৮১, দারু ইহয়াইত তুরাস সংস্করণ)

(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١٤)
قال أبو علي البكري(1): "القايني منسوب إلى بلدة قاين، من أعمال طَبَس، بين نيسابور وأصبهان".

أما شيوخه، فلم أقف إلا على شيخين ذكرهما في كتابنا هذا، وهما:

الإمام ابن الجزري.

والإمام حسام الدين محمد بن جلال العبيدي.

وأما مؤلّفاته، فقد ذكر في أثناء كتابنا هذا في الحديث الموضوع، كتابًا له بعنوان "لوامع الأصول".

ووقفتُ له على مُصنَّفٍ آخر غيرهما، وهو: "شرح نصاب الصبيان"، موجودٌ منه نسخة خطِّيَّة بمعهد المخطوطات، بباكو- أذربيجان.

--------------------------------------------

(1) - " الأربعين حديثًا " (صـ 128 ط دار الغرب)

قلت: ومدينة طَبَس تقع شمال شرق إيران.

ونيسابور مدينة تقع شمال شرق إيران أيضًا.

وأصبهان مدينة تقع وسط إيران حاليًا.

أما هراة، فمدينة أفغانيَّة، تقع غرب أفغانستان، على الحدود الإيرانيَّة.

أما مدينة بُخارَى، فهي إحدى مُدُن جمهورية أوزبكستان الحالِيَّة.

আবু আলী আল-বাকরি(১) বলেছেন: "কায়েনি শব্দটি কায়েন শহরের সাথে সম্পর্কিত, যা তাবারাসের অন্তর্ভুক্ত এবং নিশাপুর ও আসফাহানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।"

তাঁর শিক্ষকদের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমাদের এই গ্রন্থে উল্লিখিত মাত্র দুইজন শিক্ষক সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি, তাঁরা হলেন:

ইমাম ইবনুল জাযারি।

এবং ইমাম হুসামুদ্দিন মুহাম্মদ বিন জালাল আল-উবাইদি।

তাঁর রচনাবলির ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, আমাদের এই গ্রন্থে জাল (موضوع) হাদিস প্রসঙ্গে তাঁর 'লাওয়ামি আল-উসুল' শিরোনামের একটি গ্রন্থের কথা উল্লিখিত হয়েছে।

আমি এগুলো ছাড়া তাঁর আরও একটি রচনার সন্ধান পেয়েছি, সেটি হলো: "শারহু নিসাবিস সিবইয়ান", যার একটি পাণ্ডুলিপি আজারবাইজানের বাকুতে অবস্থিত পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত আছে।

--------------------------------------------

(১) - "আল-আরবাউন হাদিসান" (পৃ. ১২৮, দারুল গারব সংস্করণ)

আমি বলছি: তাবারাস শহরটি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

নিশাপুর শহরটিও ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

আসফাহান বর্তমানে মধ্য ইরানের একটি শহর।

হেরাত একটি আফগান শহর, যা আফগানিস্তানের পশ্চিমে ইরান সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

বুখারা শহরটি বর্তমান উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের অন্যতম একটি শহর।

(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١٥)
‌‌وصف النسخ الخطية

اعتمدت في تحقيق هذه الرسالة على نُسخَتيْن خطيتيْن، وهاك وصفهما:

النسخة الأولى: من محفوظات الخزانة الزاهدية، لصاحبها الشيخ حافظ ثناء الله الزاهدي الباكستاني، وعليها ختمه.

عبارة عن 31 ورقة، بكل ورقة وجهين، بكل وجه 15 سطر.

جاء في قيد فراغها: "نقل هذه النسخة الشريفة الموسومة بـ "إشراقات الأصول في علم حديث الرسول"، العبد الضعيف الفقير إلى الله الغني: محمد بن عبد الرحمن النجحي، غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين والمؤمنات، في يوم الجمعة الرابع عشر من جمادى الآخر سنة خمسٍ وسبعين وثمان مئة".

ورمزْتُ لها بـ (أ).

النسخة الثانية: وهي من محفوظات مكتبة غازي خسرو بسراييفو، تحت رقم (4429).

عبارة عن 26 ورقة، بكل ورقة وجهين، بكل وجه 19 سطر.

لم يُذكَر فيها اسم ناسخها، ولا تاريخ نسخها.

ورمزْتُ لها بـ (ب).
পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির সম্পাদনা (تحقيق) কার্যে আমি দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, নিচে সেগুলোর বিবরণ প্রদান করা হলো:

প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটি পাকিস্তানের শায়খ হাফিজ সানাউল্লাহ আজ-জাহিদির ব্যক্তিগত কুতুবখানা 'আল-খিজানাতুজ জাহিদিয়্যাহ' এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত এবং এর ওপর তাঁর সিলমোহর অঙ্কিত রয়েছে।

এটি ৩১টি পত্র (ورقة) সম্বলিত, যার প্রতিটি পত্রের দুই পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫টি করে লাইন রয়েছে।

এর অনুলিপি সমাপ্তির নোটে (قيد الفراغ) বর্ণিত হয়েছে: "'ইশরাকাতুল উসূল ফি ইলমি হাদিসির রাসূল' নামক এই বরকতময় পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছেন মহান ও অমুখাপেক্ষী আল্লাহর মুখাপেক্ষী দুর্বল (ضعيف) বান্দা: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আন-নাজহি—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন—শুক্রবার, ১৪ই জুমাদাল আখিরাহ, ৮৭৫ হিজরি সনে।"

আমি এটিকে (আলিফ) প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি সারায়েভোর গাজী খুসরো বে লাইব্রেরির সংরক্ষিত সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত, যার নম্বর (৪৪২৯)।

এটি ২৬টি পত্র (ورقة) সম্বলিত, যার প্রতিটি পত্রের দুই পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে।

এতে অনুলিপিকারীর নাম কিংবা অনুলিপি করার তারিখ উল্লিখিত নেই।

আমি এটিকে (বা) প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١٧)
‌‌صور من النسخ الخطية
হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢١٩)
D:\ كتبي\إشراقات الأصول للقايني\نسخة الخزانة الزاهدية\1. JPG

الورقة الأولى من النسخة (أ)
D:\ আমার কিতাবসমূহ\আল-কায়িনী বিরচিত ইশরাকাতুল উসুল\আল-খিজানাহ আল-জাহিদিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি\১. JPG

পাণ্ডুলিপি (ক)-এর প্রথম পত্র
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
D:\ كتبي\إشراقات الأصول للقايني\نسخة الخزانة الزاهدية\31. JPG

الورقة الأخيرة من النسخة (أ)
ডি:\ আমার কিতাবসমূহ\কায়িনি প্রণীত ইশরাকাত আল-উসুল\খাজানা জাহিদিয়া সংস্করণ\৩১. জেপিজি

পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢١)
D:\ كتبي\إشراقات الأصول للقايني\نسخة مكتبة غازي خسرو بسراييفو رقم 4429\ 2. JPG

صفحة العنوان في النسخة (ب)
D:\ আমার কুতুবখানা\আল-কায়িনি বিরচিত ইশরাকাতুল উসুল\সারায়েভোস্থ গাজী খুসরো বে লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নং ৪৪২৯\ ২. JPG

পাণ্ডুলিপি (খ) এর শিরোনাম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
D:\ كتبي\إشراقات الأصول للقايني\نسخة مكتبة غازي خسرو بسراييفو رقم 4429\ 3. JPG

الورقة الثانية في النسخة (ب)
D:\ আমার কিতাবসমূহ\আল-ক্বায়িনিকৃত ইশরাকাতুল উসুল\সারাজেভোর গাজী হুসরেভ-বেগ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি (نسخة) নং ৪৪২৯\ ৩. JPG

পাণ্ডুলিপি (نسخة) (খ)-এর দ্বিতীয় পত্র
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٣)
D:\ كتبي\إشراقات الأصول للقايني\نسخة مكتبة غازي خسرو بسراييفو رقم 4429\ 27. JPG

الورقة الأخيرة في النسخة (ب)
D:\ আমার কিতাবসমূহ\কায়েনীর ইশরাকাতুল উসুল\সারাজেভোর গাজী খুসরেভ বেগ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নং ৪৪২৯\ ২৭. JPG

পাণ্ডুলিপি (খ)-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٥)
النص المحقق
সম্পাদিত পাঠ
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٧)
(1/ب) بسم الله الرحمن الرحيم(1)

الحمد لله الذي رفع أعلام العلم وأعلاها، وأحلَّ أهله من الدرج(2) العليَّة أعلاها، سيَّما علماء الحديث فإن لهم من الدرجات أسناها، ومن المنازل في الفردوس وحظائر القدس أسناها، أرسل نبيه شاهداً مبشراً فبشَّرهم بأيِّ بشارة، وجعل السراج المنير الداعي إلى الله داعياً لهم بالنضارة، نزَّلهم في رتبة النباهة(3) والخلافة، موصياً صحبه بترحيبهم عند تحمل الرواية، فيالهم من رتبة الإمامة ومقام الشفاعة، ويالهم من العز والجلالة ونيل السعادة، صلى الله على معدن العلم ومنبعه، بل بحره المحيط وقلزمه، عبده ورسوله وحبيبه وخليله، محمد العربي القرشي الهاشمي مُثْعنْجِر(4)

الرسالة(5) والسيادة، [وعلى آله وأصحابه الذين فازوا بالعوائد(6) العظمى، والسعادة](7) الكبرى، في كل وقتٍ وساعة.

وبعد؛

فقال العبد الضعيف مُحب الحديث وأهله، أبو محمد(8)، جلال بن

--------------------------------------------

(1) - وقع قبل البسملة في (ب): "هذا (!) رسالة في أصول الحديث".

(2) - في (ب): "الدرجة".

(3) - في (ب): "النيابة".

(4) - المثعنجر، الدم الذي يسيل يتبع بعضه بعضًا. كما في "لسان العرب" لابن منظور (1/ 470 ط صادر).

 

وسُمِّيَ به الرجل الشجاع الفائق، كما في "المقاصد النحوية في شرح شواهد الألفية" للعيني (1/ 359).

(5) - في (ب): "الرسالة، وبرقع السيادة".

(6) - جاء تفسيرها في هامش (أ): "العوائد جمع العائدة، وهي الفائدة التي تعود مرة بعد أخرى".

(7) - من (أ).

(8) - من (ب)

(1/ب) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।(1)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইলমের ঝাণ্ডাসমূহকে সমুন্নত ও উচ্চ করেছেন এবং ইলমের অধিকারীদের সুউচ্চ মর্যাদার সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের আলেমগণকে; কারণ তাঁদের জন্য রয়েছে উজ্জ্বলতম মর্যাদা এবং জান্নাতুল ফিরদাউস ও পবিত্রতম স্থানে সুউচ্চ মাকাম। তিনি তাঁর নবীকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা হিসেবে প্রেরণ করেছেন, ফলে তিনি তাঁদেরকে এক মহা সুসংবাদ প্রদান করেছেন। আর তিনি সেই প্রদীপ্ত চেরাগকে, যিনি আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন, তাঁদের জন্য সজীবতার দোয়া করার তাওফিক দিয়েছেন। তিনি তাঁদেরকে উচ্চ খ্যাতি ও স্থলাভিষিক্ততার মর্যাদায় আসীন করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন বর্ণনা (رواية) গ্রহণের সময় তাঁরা তাঁদেরকে স্বাগত জানান। হায়! তাঁদের জন্য কতই না শ্রেষ্ঠ ইমামতের পদমর্যাদা এবং শাফায়াতের মাকাম! আর কতই না সম্মান, মহিমা এবং পরম সৌভাগ্য তাঁদের জন্য! আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক ইলমের খনি ও উৎসের ওপর, বরং ইলমের মহাসমুদ্র ও গভীর পারাবারের ওপর; যিনি তাঁর বান্দা, রসূল, প্রিয়তম এবং খলীল; মুহাম্মদ আল-আরাবি আল-কুরাশি আল-হাশিমি, যিনি রেসালাত ও নেতৃত্বের পূর্ণ আধার,

[এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাঁরা মহা কল্যাণ ও মহান সৌভাগ্যে ধন্য হয়েছেন] প্রতিটি সময় ও ক্ষণে।

অতঃপর;

হাদিস এবং হাদিসবিদদের অনুরাগী এই নগণ্য বান্দা আবু মুহাম্মদ, জালাল বিন... বলছেন:

--------------------------------------------

(1) - 'ب' পাণ্ডুলিপিতে বিসমিল্লাহর পূর্বে এসেছে: "এটি হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক একটি রিসালাহ।"

(2) - 'ب' পাণ্ডুলিপিতে: "মর্যাদা"।

(3) - 'ب' পাণ্ডুলিপিতে: "প্রতিনিধিত্ব"।

(4) - আল-মুসানজির (المثعنجر), সেই রক্ত যা একের পর এক প্রবাহিত হতে থাকে। যেমনটি ইবনে মানজুরের "লিসানুল আরব" (১/৪৭০, সাদির প্রকাশনী) গ্রন্থে রয়েছে।

 

এর দ্বারা শ্রেষ্ঠ ও সাহসী বীর পুরুষও উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, যেমনটি আল-আইনীর "আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ফি শারহি শাওয়াহিদিল আলফিয়্যাহ" (১/৩৫৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(5) - 'ب' পাণ্ডুলিপিতে: "রেসালাত ও নেতৃত্বের অবগুণ্ঠন"।

(6) - 'أ' পাণ্ডুলিপির টীকায় এর ব্যাখ্যায় এসেছে: "আল-আওয়াইদ হলো আল-আইদাহ্ এর বহুবচন, যার অর্থ এমন উপকার যা বারবার ফিরে আসে।"

(7) - 'أ' পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।

(8) - 'ب' পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।

(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٨)
محمد بن عبيد الله القائني مولداً، والبخاري محتداً، والهروي مسكناً ومكسباً(1)، عصَمَهُ الله عن الغواية (2/أ) والضلالة وسوء الخاتمة:

[هذا موجز مشتمل على](2) أقل ما لابد لطالب الحديث، بل لكل طالب نوع من العلوم الشرعية في معرفة علوم الحديث، كتبته حين وصلت إلى بلدة نيسابور، حسب اقتراح جماعة من العلماء، منقحاً موضحاً موجزاً مستصفًى من كتب الحفاظ الكبار، وأئمة الأمصار والأخبار(3)، ورتبته على: مقدمةٍ وأربعة أقسامٍ وخاتمةٍ.

أما المقدمة: ففي طليعة علم الحديث، وشرائط الرواية(4)، وبيان حكم مَنْ كذب على الرسول صلى الله عليه وسلم، وحكم كتابة الحديث، وبعض آدابها، وعدد ما يثبت من الأحاديث، وبعض آداب مجلس الحديث.

والقسم الأول: في المتون.

والقسم الثالث: في الأسانيد.

والقسم الثالث: في كيفية التحمُّل والرواية.

والقسم الرابع: في أسماء الرجال.

والمتعلق بكل قسمٍ ملحقٌ به.

وإنما رتبته على هذه الأقسام الأربعة؛ لأن الكلام في هذا العلم لا يخرج عن هذه الأربعة.

والخاتمة: في بعض الفوائد، وشيئ من فضائل هذا العلم.

--------------------------------------------

(1) - في (ب): "مكسبًا ومسكنًا".

(2) - في (أ): "هذه النسخة".

(3) - في (ب): "والأخيار في الأعصار".

(4) - في (أ): الروابط.

মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-কাইনি জন্মসূত্রে, আল-বুখারি বংশসূত্রে এবং আল-হারায়ি আবাস ও জীবিকার সূত্রে(১); আল্লাহ তাকে বিভ্রান্তি, পথভ্রষ্টতা এবং মন্দ পরিণতি থেকে রক্ষা করুন:

[এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ যা পরিবেষ্টিত](২) হাদিসের একজন ছাত্রের জন্য, বরং শরিয়াহ বিজ্ঞানের যেকোনো শাখার ছাত্রের জন্য হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) সম্পর্কে নূন্যতম যা জানা আবশ্যক তার ওপর। আমি যখন নিশাপুর শহরে পৌঁছালাম, তখন একদল ওলামায়ে কেরামের প্রস্তাবে এটি লিখেছি; যা অত্যন্ত পরিমার্জিত, সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং মহান হাফিজ (الحفاظ) ও বিভিন্ন অঞ্চলের ইমাম ও সংবাদ (الأخبار) বিশারদদের গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত(৩)। আমি একে একটি ভূমিকা, চারটি বিভাগ এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

ভূমিকা: এটি হাদিস বিজ্ঞানের সূচনা, বর্ণনার শর্তাবলি (شرائط الرواية), রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারীর বিধান, হাদিস লিপিবদ্ধ করার বিধান ও এর কিছু আদব, প্রমাণিত (ثابت) হাদিসের সংখ্যা এবং হাদিস মজলিসের কিছু আদব প্রসঙ্গে।

প্রথম বিভাগ: মতন (المتون) প্রসঙ্গে।

তৃতীয় বিভাগ: সনদ (الأسانيد) প্রসঙ্গে।

তৃতীয় বিভাগ: হাদিস গ্রহণ (التحمل) ও বর্ণনা (الرواية)-এর পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

চতুর্থ বিভাগ: বর্ণনাকারীদের নাম (أسماء الرجال) প্রসঙ্গে।

প্রতিটি বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তার সাথেই যুক্ত করা হয়েছে।

আমি একে এই চারটি বিভাগে বিন্যস্ত করেছি; কারণ এই শাস্ত্রের আলোচনা এই চারটি বিষয়ের বাইরে যায় না।

উপসংহার: কিছু প্রয়োজনীয় ফায়দা এবং এই ইলমের কিছু ফজিলত সম্পর্কে।

--------------------------------------------

(১) - (খ) পাণ্ডুলিপিতে: "জীবিকা ও বাসস্থান"।

(২) - (ক) পাণ্ডুলিপিতে: "এই সংস্করণটি"।

(৩) - (খ) পাণ্ডুলিপিতে: "এবং যুগান্তরের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ"।

(৪) - (ক) পাণ্ডুলিপিতে: যোগসূত্রসমূহ।

(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢٩)
وكلُّه مُنتَخبٌ من كتب الأئمة:

من جامع الترمذي، وعِلَله، وكتاب أصول الحديث للحاكم أبي عبد الله النيسابوري، المسمَّى (2/ب) بكتاب معرفة علوم الحديث، ومدخَله، وكفاية الخطيب أبي بكر البغدادي، وجامعه(1)، وكتاب علوم الحديث للشيخ تقي الدين ابن الصلاح [إمام الشام](2)، وكتاب منهل الروي للإمام بدر الدين ابن جماعة قاضى مصر، ومؤلفات الشيخ الإمام محي الدين النواوي مثل الإرشاد، [والتقريب والتيسير، وشرح صحيح مسلم](3) وغيره، وخلاصة العلامة شرف الدين الطيبي شارح الكشاف، وبداية شيخنا الإمام العلامة الجزري، وهدايته.

فعبارات هذه النسخة عبارات الأئمة، وليس من هذا الفقير إلا سوء(4) الترتيب، وسميته بـ:

إشراقات الاصول في علم حديث الرسول صلى الله عليه وسلم

والنية في تأليفه التسهيل على الطالبين، والرغبة في شفاعة رسول رب العالمين، والأعمال بالنيات، وأسأل الله تعالى أن ينفع به الصالحين، وهو الموفق والمعين.

--------------------------------------------

(1) - في (ب): "المسمى بجامع … ".

(2) - من (ب).

(3) - من (ب)

(4) - كذا هي في النسختين الخطيتين، ولعلَّ! صوابها: "سِوَى"

এর সবটুকুই ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকে সংকলিত:

জামি' আত-তিরমিজি ও এর ত্রুটি (علل) বিষয়ক আলোচনা থেকে, হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরীর উসুলুল হাদিস বিষয়ক কিতাব—যা (২/খ) কিতাবু মারিফাতি উলুমিল হাদিস নামে অভিহিত—এবং তাঁর আল-মাদখাল থেকে, খতিব আবু বকর আল-বাগদাদীর আল-কিফায়াহ ও তাঁর আল-জামি'(১) থেকে, [শামের ইমাম] শেখ তাকিউদ্দীন ইবনুস সালাহর কিতাবু উলুমিল হাদিস(২) থেকে, মিসরের বিচারক ইমাম বদরুদ্দীন ইবনু জামাআহর কিতাবু মানহালির রাবী থেকে, শেখ ইমাম মুহিউদ্দীন আন-নববীর রচনাবলি যেমন আল-ইরশাদ, [আত-তাকরীব ওয়াত-তায়সীর এবং শরহু সহিহ মুসলিম](৩) ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে, আল-কাশশাফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা শরফুদ্দীন আত-তিয়িবীর খুলাসাহ থেকে এবং আমাদের শিক্ষক ইমাম আল্লামা আল-জাযারীর বিদায়াহ ও হিদায়াহ থেকে।

সুতরাং এই পাণ্ডুলিপির বর্ণনাভঙ্গি ইমামগণেরই বর্ণনাভঙ্গি, আর এই অধমের পক্ষ থেকে কেবল বিন্যাসের ত্রুটি(৪) ছাড়া আর কিছুই নেই। আমি এর নামকরণ করেছি:

ইশরাকাতুল উসুল ফি ইলমি হাদিসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

এটি রচনার নিয়ত হলো শিক্ষার্থীদের জন্য সহজীকরণ এবং রাব্বুল আলামীনের রাসূলের শাফায়াতের আকাঙ্ক্ষা; আর আমলসমূহ নিয়তের ওপরই নির্ভরশীল। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে নেককারদের উপকৃত করেন; আর তিনিই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।

--------------------------------------------

(১) - (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-জামি' নামে অভিহিত..."

(২) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৩) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৪) - উভয় পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত এর সঠিক রূপ হলো: "ব্যতীত"।

(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣١)
المقدمة

وفيها فصول سبعة:

 

‌‌الفصل الأول: في طليعة كتب الحديث.

[أخبرني شيخنا (شيخ)(1) الإسلام المحقق العلّامة حسام الدين محمد بن جلال العبيدي(2)، بسنده إلى](3) الحاكم أبي عبد الله النيسابوري رحمه الله، في النوع الخمسين من كتابه في "علوم الحديث"(4)، أنه قال: "قد روينا عن جماعة من أئمة الحديث أنهم استحبوا أن (3/ا) يَبْدَأ الحديثيُّ بجمع بابَيْن: الأعمال بالنيات، ونضر الله امرأ سمع مقالتي فوعاها".

وروينا في كتاب "الأذكار"(5) للإمام محي الدين النواوي، رحمه الله تعالى، أنه قال في حديث الأعمال بالنيات: "هذا حديث صحيح متفق على صحته، مجمع على عظم موقعه وجلالته، وهو أحد الأحاديث التي عليها مدار الإسلام، وكان السلف وتابعوهم من الخلف رحمهم الله تعالى يستحبون استفتاح المصنفات بهذا الحديث، تنبيهاً للمطالع على حسن النية، واهتمامه بذلك واعتنائه به، روِّينا عن الإمام أبى سعيد عبدالرحمن بن مهدي رحمه الله قال: من أراد أن يصنف كتاباً فليبدأ بهذا الحديث.

وقال الإمام أبو سليمان الخطابي رحمه الله: كان المتقدمون من شيوخنا رحمهم

--------------------------------------------

(1) - زيادة يقتضيها السياق.

(2) - لم أقف على ترجمته.

(3) - من (ب)، ووقع مكانها في (أ): "روينا عن".

(4) - (صـ 250 ط دار الكتب العلمية).

(5) - (صـ 32 ط دار ابن حزم).
ভূমিকা

এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস গ্রন্থসমূহের প্রারম্ভিকা প্রসঙ্গে।

[আমাদের শাইখ (ইসলামের শাইখ), মহান গবেষক ও আল্লামা হুসামুদ্দিন মুহাম্মদ বিন জালাল আল-উবায়দি তাঁর সনদ (سند) সহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন] আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি রহিমাহুল্লাহ পর্যন্ত; তিনি তাঁর ‘উলুমুল হাদিস’ গ্রন্থের পঞ্চাশতম প্রকারে বলেছেন: “আমরা হাদিসের একদল ইমাম থেকে বর্ণনা (رواية) করেছি যে, তাঁরা এটি উত্তম মনে করতেন যেন হাদিসবেত্তা দুটি অধ্যায় সংকলনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন: ‘নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল’ এবং ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনল এবং তা স্মরণ রাখল’।”

ইমাম মুহিউদ্দিন আন-নববী রহিমাহুল্লাহ-এর ‘আল-আযকার’ গ্রন্থে আমরা বর্ণনা (رواية) করেছি যে, তিনি নিয়ত সংক্রান্ত হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: “এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস, যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য (متفق على صحته) রয়েছে এবং এর সুমহান মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে সকলে একমত। এটি এমন একটি হাদিস যার ওপর ইসলামের ভিত্তি আবর্তিত হয়। সালাফ এবং তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরীগণ রহিমাহুমুল্লাহ তাঁদের সংকলিত গ্রন্থসমূহ এই হাদিসের মাধ্যমে শুরু করা উত্তম মনে করতেন, যাতে পাঠককে সঠিক নিয়তের ব্যাপারে সতর্ক করা যায় এবং এই বিষয়ে সে বিশেষ গুরুত্ব ও যত্ন প্রদান করে। ইমাম আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন মাহদি রহিমাহুল্লাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত (رواية) হয়েছে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো বই সংকলন করতে চায়, সে যেন এই হাদিসটি দিয়ে শুরু করে।

ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: আমাদের পূর্ববর্তী শাইখগণ রহিমাহুমুল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) - প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে অতিরিক্ত অংশ।

(২) - তাঁর জীবনী সম্পর্কে আমি অবগত হতে পারিনি।

(৩) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে; (أ) পাণ্ডুলিপিতে এর স্থলে রয়েছে: “আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে”।

(৪) - (পৃষ্ঠা ২৫০, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ)।

(৫) - (পৃষ্ঠা ৩২, দার ইবনে হাজম সংস্করণ)।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٢)
الله يستحبون تقديم حديث "الأعمال بالنيات" أمام كل شئ ينشئ ويبتدئ من أمور الدين لعموم الحاجه إليه في جميع أنواعها". انتهى كلام النواوي رحمه الله.

وقال أبو الفتوح الطائي(1) [في أربعينه](2): "هذا حديث كبير عال متفق على صحته، مستفيض من حديث يحيى بن سعيد الأنصاري، رواه [عنه](3) أكثر من مائتي نفس، (3/ب) عامتهم أئمة معروفون".

رُوي عن الإمام الشافعي رحمه الله أنه قال: "يدخل في هذا الحديث ثلث العلم"(4).

وقال أبو داود السجستاني رحمه الله تعالى: الفقه يدور على أربعة أحاديث(5):

- الحلال بين والحرام بين [وهو ما روّينا عن النعمان بن بشير رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الحلال بيّن، وإن الحرام بيّن، وبينهما مشتبهات لا يعلمهن كثير من الناس، فمن اتقى الشبهات استبرأ لدينه وعرضه، ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام، كالراعي يرعى حول الحِمَى يوشك أن يرتع فيه، ألا وإن لكل مَلِكٍ حِمَى، ألا وإن حِمَى الله محارمه، ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب. متفقٌ عليه بين البخاري ومسلم، رَوَياه من طُرقٍ بألفاظٍ متقاربة](6).

--------------------------------------------

(1) - هو أبو الفتوح الطائي، محمد بن أبي جعفر الهمداني، توفي سنة خمسٍ وخمسين وخمس مئة.

ينظر: "تاريخ الإسلام" للذهبي (12/ 101 ط دار الغرب).

(2) - من (ب).

وكتابه عنوانه: "الأربعون في إرشاد السائرين إلى منازل المتقين"

(3) - من (ب).

(4) - أخرجه البيهقي في "الكبرى" (2/ 14 ط الهند).

(5) - أخرجه الخطيب في "الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع" (2/ 290 رقم 1887 - ط المعارف).

(6) - ليست في (أ)
তারা দ্বীনের বিষয়াবলির মধ্যে যা কিছু শুরু ও সূচিত হয় তার প্রত্যেকটির শুরুতে ‘নিয়ত অনুযায়ী সকল কাজ’ হাদিসটিকে উপস্থাপন করা পছন্দ করেন, কারণ এর সকল প্রকারের প্রতি ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।" ইমাম নববী (রহ.)-এর বক্তব্য সমাপ্ত হলো।

আবু আল-ফুতুহ আত-তাঈ(১) [তার আরবাঈন গ্রন্থে](২) বলেন: "এটি একটি মহান ও উচ্চ পর্যায়ের হাদিস যার বিশুদ্ধতার বিষয়ে ঐকমত্য (متفق على صحته) রয়েছে; এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারির বর্ণনা থেকে মুস্তাফিদ (مستفيض) হিসেবে প্রসিদ্ধ। তাঁর থেকে এটি দুই শতাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যাদের অধিকাংশ ই সুপরিচিত ইমাম।"

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "জ্ঞানের এক-তৃতীয়াংশ এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।"(৪)

আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (রহ.) বলেন: ফিকহ শাস্ত্র চারটি হাদিসের ওপর আবর্তিত হয়(৫):

- হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট [আর এটি তা-ই যা আমরা নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ যা অনেক মানুষই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে পবিত্র করল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে লিপ্ত হলো; সেই রাখালের মতো যে সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, ফলে যেকোনো সময় সেখানে তার পশু প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। জেনে রেখো, প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত সীমানা থাকে; আর আল্লাহর সংরক্ষিত সীমানা হলো তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যদি তা সংশোধিত হয় তবে পুরো শরীর সংশোধিত হয়, আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায় তবে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়; জেনে রেখো, তা হলো কলব (অন্তর)। ইমাম বুখারি ও মুসলিমের মধ্যে এটি সর্বসম্মত (متفق عليه), তারা উভয়েই এটি কাছাকাছি শব্দে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন](৬)।

--------------------------------------------

(১) - তিনি হলেন আবু আল-ফুতুহ আত-তাঈ, মুহাম্মদ ইবনে আবি জাফর আল-হামদানি, তিনি পাঁচশত পঞ্চান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দ্রষ্টব্য: যাহাবীর "তারিখুল ইসলাম" (১২/১০১, দারুল গরব সংস্করণ)।

(২) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

তাঁর বইটির শিরোনাম হলো: "আল-আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়েরিন ইলা মানাজিলিল মুত্তাকিন"

(৩) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৪) - বায়হাকি এটি "আল-কুবরা" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২/১৪, ভারত সংস্করণ)।

(৫) - খাতিব এটি "আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২/২৯০, নম্বর ১৮৮৭ - আল-মাআরিফ সংস্করণ)।

(৬) - (ক) পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٣)
- و [حديث](1) الأعمال بالنيات [وهو ما رويناه عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، أنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه. متفقٌ على صحته.

- و [حديث](2) ما نهيتكم عنه فاجتنبوه، وما أمرتكم به فأتو منه ما استطعتم.

- و [حديث](3) لا ضرر ولا ضرار، [يعني في الإسلام](4).

وفي "الأذكار"(5) [للإمام](6) النواوي رحمه الله: قيل: إنما يحفظ الرجل على قدر نيَّته، وقيل: إنما يُعطى الناس على قدر نياتهم.

 

‌‌الفصل الثاني:

في ذكر كتابة الحديث، وذكر أول من صنف في الحديث
.

اعلم أن السلف رحمهم الله اختلفوا في كتابة الحديث، فكرهها طائفة، وأباحها أخرى.

ثم أجمع أتباع التابعين على جوازه.

فقيل: أوَّل مَن صنَّف فيه ابن جريج، وقيل: مالك، وقيل: الربيع بن صبيح، [ثم انتشر تدوينه وجمعه، وظهر فوائد ذلك ونفعه](7)، وعلى كاتبه صرف الهمة إلى

--------------------------------------------

(1) - من (ب).

(2) - من (ب).

(3) - من (ب).

(4) - ليست في (أ).

(5) - (صـ 33).

(6) - ليست في (أ)

(7) - ليست في (ب)
- এবং [হাদিস](১) নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল [যা আমরা উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিদান পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। এ হাদিসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق على صحته) পোষণ করা হয়েছে।

- এবং [হাদিস](২) আমি তোমাদেরকে যা থেকে নিষেধ করেছি তা বর্জন করো এবং যা আদেশ করেছি তা যথাসাধ্য পালন করো।

- এবং [হাদিস](৩) ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না [অর্থাৎ ইসলামে](৪)।

ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি রচিত "আল-আযকার"(৫) গ্রন্থে বর্ণিত আছে: বলা হয়ে থাকে যে, মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ীই মুখস্থ করতে সক্ষম হয়। আরও বলা হয়েছে: মানুষকে তাদের নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিদান দেওয়া হয়।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

হাদিস লিপিবদ্ধকরণ এবং হাদিসের প্রথম সংকলকগণের আলোচনা প্রসঙ্গে
.

জেনে রাখুন যে, পূর্বসূরীগণ (سلف) রহমতুল্লাহি আলাইহিম হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাঁদের একদল একে অপছন্দ করেছেন এবং অন্য দল একে বৈধ সাব্যস্ত করেছেন।

অতঃপর তাবে-তাবেয়ীগণ (أتباع التابعين) এর বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন।

বলা হয়ে থাকে: হাদিস সংকলনে সর্বপ্রথম অবদান রেখেছেন ইবনে জুরাইজ। কেউ বলেন: মালিক, আবার কেউ বলেন: রাবী বিন সাবিহ। [অতঃপর হাদিসের সংকলন ও সংগ্রহ ছড়িয়ে পড়ে এবং এর উপকারিতা ও কল্যাণ প্রকাশিত হয়](৭)। আর লেখকের উচিত তার পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা...

--------------------------------------------

(১) - (ব) থেকে।

(২) - (ব) থেকে।

(৩) - (ব) থেকে।

(৪) - (আ)-এ নেই।

(৫) - (পৃষ্ঠা: ৩৩)।

(৬) - (আ)-এ নেই।

(৭) - (ব)-এ নেই।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٤)
ضبطه وتحقيقه شكلا ونقطاً، بحيث يؤمن اللبس معه، ولا يشتغل بتقييد الواضع، وقيل: يشكل الجميع لأجل المبتدي وغير المتبحر، ويكون اعتناؤه بضبط الملبَّس من أسماء الرجال أكثر؛ لأنه نقليٌّ محض، ويستحب ضبط المشكل (4/أ) في المتن، وبيانه في الحاشية؛ لأنه أبلغ، ويُحقق حروف الخط ولا يعلقه تعليقاً، ولا يدققه لتخفيف حَمْله في السفر، فإن الخط علامة، فأحسَنُه أبيَنُه(1).

 

‌‌الفصل الثالث:

في كتابة الصلاة والتسليم والترضي والترحم
.

وعلى كاتب الحديث أن يحافظ على كتابة الصلاة والتسليم على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه بعدد كلمات الله وألطافه كلما كتبه، ولا يَسأم من تكراره وإن لم يكن في الأصل، ومَن أغفل ذلك حُرِم حظًّا عظيمًا، ويُصلّي بلسانه صلى الله عليه وسلم كلما كتبه أيضاً، وكذلك الترضي والترحم على الصحابة والعلماء رضي الله عنهم، ويكره الاقتصار على الصلاة دون التسليم، أو على العكس(2).

[كذا قاله الإمام تقي الدين ابن الصلاح، وغيره](3).

قال [شيخنا الإمام رُحلة الأرض، مسنِد العالم محمد بن](4) الجزري [أدام الله تعالى بركاته](5) في "بدايته": "وفيه نظر".

وسمعته [من لفظه](6) أيضاً.

--------------------------------------------

(1) - هذا الفصل بنصه من كتاب "الخلاصة في معرفة الحديث" لشرف الدين الطيبي (صـ 174 ط المكتبة الإسلامية).

(2) - بنصه من "الخلاصة" للطيبي (صـ 175)

(3) - من (ب).

(4) - ليست في (أ)، والذي فيه: "الإمام".

(5) - من (ب).

(6) - من (ب).
হরকত ও নুকতা প্রদানের মাধ্যমে হাদিস যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও নির্ভুল করা, যাতে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি না ঘটে। সুষ্পষ্ট বিষয়গুলোতে হরকত প্রদানের আবশ্যকতা নেই। তবে কেউ কেউ বলেছেন: নবাগত এবং যারা অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী নন তাদের সুবিধার্থে সবটুকুতেই হরকত প্রদান করা উচিত। বর্ণনাকারীদের নাম (أسماء الرجال) যথাযথভাবে সংরক্ষণে অধিক যত্নবান হতে হবে; কারণ এটি সম্পূর্ণ বর্ণনানির্ভর (نقلي)। মূল পাঠের (متن) মধ্যে কঠিন শব্দগুলো (مشكل) যথাযথভাবে লিখে রাখা মুস্তাহাব (مستحب) এবং এর ব্যাখ্যা পার্শ্বটীকায় (حاشية) প্রদান করা বাঞ্ছনীয়; কারণ এটি অধিকতর অর্থবহ। হস্তাক্ষর হবে সুস্পষ্ট এবং তা অস্পষ্ট রাখা যাবে না। সফরে বহনের সুবিধার্থে লিপিকে খুব বেশি সূক্ষ্ম করা যাবে না। কেননা লিপি হলো একটি চিহ্ন, আর শ্রেষ্ঠ লিপি তাই যা অধিকতর স্পষ্ট(1).

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

দুরুদ, সালাম, রাদিআল্লাহু আনহু এবং রাহিমাহুল্লাহ লেখার নিয়মাবলী প্রসঙ্গে
.

হাদিস লেখক যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম লিখবেন, তখন তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের উপর আল্লাহর অগণিত কালাম ও মেহেরবানীর সমপরিমাণ দুরুদ ও সালাম লিখতে যত্নবান হওয়া উচিত। বার বার লিখতে গিয়ে তিনি যেন ক্লান্ত বোধ না করেন, যদিও তা মূল পাণ্ডুলিপিতে (أصل) না থাকে। যে ব্যক্তি এতে অবহেলা করবে সে এক বিশাল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে। যখনই সে তা লিখবে, মুখেও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করবে। অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কেরাম এবং উলামায়ে কেরামের নামের ক্ষেত্রে রাদিআল্লাহু আনহু এবং রাহিমাহুল্লাহ লিখতে হবে। শুধু দুরুদ লিখে সালাম বর্জন করা অথবা শুধু সালাম লিখে দুরুদ বর্জন করা মাকরূহ (مكروه)(2).

[ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনুস সালাহ এবং অন্যান্যগণ এভাবেই বলেছেন](3).

আমাদের [শাইখ, ইমাম, পৃথিবীখ্যাত পর্যটক ও বিশ্ব বরণীয় মুহাদ্দিস (مسند) মুহাম্মদ ইবনুল] জাযারি [আল্লাহ তাঁর বরকত দীর্ঘস্থায়ী করুন] তাঁর গ্রন্থ "বিদায়াহ"-তে বলেছেন: "এ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে"(5).

এবং আমি সরাসরি তাঁর মুখ থেকেও এটি শুনেছি(6).

--------------------------------------------

(1) - এই পরিচ্ছেদটি হুবহু শরফুদ্দিন তিব্বী রচিত "আল-খুলাসাহ ফি মা'রিফাতির হাদিস" গ্রন্থ (পৃ. ১৭৪, মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ) থেকে গৃহীত।

(2) - তিব্বীর "আল-খুলাসাহ" (পৃ. ১৭৫) থেকে হুবহু গৃহীত।

(3) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(4) - (ক) পাণ্ডুলিপিতে নেই, সেখানে শুধু রয়েছে: "আল-ইমাম"।

(5) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(6) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٥)
"ولكن روي ابن الصلاح، عن حمزه الكناني: كنت أكتب الحديث وأكتفي بالصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، فقال لي: مالك لا تتم الصلاة علىَّ؟، قال: فما كتبت بعد ذلك الصلاة إلا مع التسلم.

ويكره الرمز (4/ب) بالصلاة والترضي في الكتابة، بل يكتب ذلك بكماله"(1).

[كذا قاله الأئمة](2).

 

‌‌الفصل الرابع:

في التصحيح
.

ويجب عليه مقابلة كتابه بأصل شيخه، وإن كان إجازة، ويكفي [مُقابلة](3) ثقة، ولو بفرعٍ [قوبل](4) بأصل الشيخ، فإن لم يقابل به وكان الناقل صحيح النقل قليل السقط ونقل من الأصل، فقد جوَّز الرواية منه: الأستاذ أبو إسحق، والخطيب، وغيرهما(5).

 

‌‌الفصل الخامس:

في عدد ما ثبت [من الحديث]
(6).

روينا عن ابن الجوزي أنه قال(7): إن حصر الأحاديث يبعد إمكانه(8)، غير أن

--------------------------------------------

(1) - بنصه من "الخلاصة" للطيبي (صـ 175).

(2) - من (ب).

(3) - من (ب).

(4) - من (ب).

(5) - هذا الفصل بنصه من "الخلاصة" للطيبي (صـ 175).

(6) - ساقط من (ب).

(7) - ينظر "المختصر في أصول الحديث" للشريف الجرجاني (صـ 67 ط مكتبة الرشد).

(8) - في (أ): "إحكامه".
তবে ইবনে আস-সালাহ হামজা আল-কিনানি থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি হাদিস লিখতাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর কেবল দরুদ (সালাত) পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। এরপর আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, তিনি আমাকে বললেন: 'তোমার কী হয়েছে যে তুমি আমার ওপর দরুদ পূর্ণাঙ্গ করো না?' তিনি বলেন: এরপর থেকে আমি যখনই দরুদ লিখেছি, সাথে সালামও যুক্ত করেছি।"

লেখার সময় দরুদ ও তারদ্বি (রাদিয়াল্লাহু আনহু বলা) এর ক্ষেত্রে সংকেত ব্যবহার করা অপছন্দনীয় (يكره), বরং তা পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা উচিত(১).

[ইমামগণ এমনই বলেছেন](২).

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ:

পাণ্ডুলিপি সংশোধন (تصحيح) প্রসঙ্গে
.

ছাত্রের ওপর তার কিতাবকে তার শাইখের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة) আবশ্যক (يجب), যদিও তা ইজাযাহ (إجازة) এর মাধ্যমে হয়। একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির দ্বারা মিলিয়ে দেখাই (مقابلة) যথেষ্ট, এমনকি যদি তা শাইখের মূল কপির সাথে মেলানো কোনো শাখা কপির (فرع) মাধ্যমেও হয়। যদি সেভাবে মেলানো না হয়ে থাকে, অথচ নকলকারী যদি সঠিক বর্ণনাকারী (صحيح النقل) হন যার কিতাবে বিচ্যুতি (سقط) কম থাকে এবং তিনি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করে থাকেন, তবে উস্তাদ আবু ইসহাক, আল-খাতিব এবং অন্যান্যরা তা থেকে বর্ণনা (رواية) করা বৈধ (جوز) বলেছেন(৫).

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ:

সাব্যস্তকৃত (ثبت) হাদিসের সংখ্যা প্রসঙ্গে
(৬).

আমরা ইবনুল জাওজি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন(৭): হাদিসসমূহকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা অসম্ভব প্রায়(৮), তবে...

--------------------------------------------

(১) - আল-তিবি রচিত "আল-খুলাসাহ" থেকে হুবহু উদ্ধৃত (পৃ. ১৭৫)।

(২) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৩) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৪) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৫) - এই পরিচ্ছেদটি আল-তিবি রচিত "আল-খুলাসাহ" থেকে হুবহু উদ্ধৃত (পৃ. ১৭৫)।

(৬) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) - দ্রষ্টব্য: আশ-শরিফ আল-জুরজানি রচিত "আল-মুখতাসার ফি উসুলিল হাদিস" (পৃ. ৬৭, মাকতাবাতুর রুশদ সংস্করণ)।

(৮) - (أ) পাণ্ডুলিপিতে আছে: "إحكامه"।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٦)
جماعةً بالغوا في تتبعها، وحصروها في أعدادها.

قال الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى: صح [سواء كان على وجه الصحة أو الحسن أو الضعف](1) من الأحاديث سبع مئة ألف وكسر.

وقُرِئ عليه مسنده، فقال: هذا كتاب قد جمعته وانتقيته(2) من أكثر من سبع مئة ألف وخمسين ألفاً، فما اختلف المسلمون فيه من الحديث فارجعوا إليه، وما لم تجدوا فيه فليس بحجة.

فإن قيل: كل ما يحويه مسنده أربعون ألف حديث منها عشرة آلاف مكرره فكيف يقول: صح سبع مئة ألف وكسر مع هذا؟

(5/أ) فأجيب(3): بأن المراد من هذا العدد: الطرق لا المتون.

قال الشيخ أبو المكارم(4): قوله "وما [لم](5) تجدوا فيه فليس بحجة"، الظاهر أنه موضوع على أحمد رحمه الله، لأن في الصحيحين من الأحاديث مالم يوجد في المسند، مع إجماع المسلمين على صحتها وحجيّتها.

وقال: سمعت بعض أئمة الحديث يقولون: المتون الموجودة اليوم تبلغ مائة ألف، وأكثرها صحاح، فكيف يقال(6): مالم تجدوا في المسند فليس بحجة،

--------------------------------------------

(1) - من (ب).

(2) - في (ب): "أتقنته".

(3) - ينظر المرجع السابق.

(4) - لم أقف على هذا النقل إلا عند صديق حسن خان في "الحطة في ذكر الصحاح الستة" (صـ 58 ط دار الكتب العلمية)

وأبو المكارم، هو علي بن شهاب الصديقي [كما في "الحطة"]، ولم أقف على مَن ترجمه.

(5) - ساقط من (أ).

(6) - في (أ): "يقولون".
একদল (উলামা) এগুলোর (হাদিসের) অনুসন্ধানে অত্যধিক শ্রম দিয়েছেন এবং এগুলোকে নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সাত লক্ষাধিক হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হওয়া (صح) [চাই তা বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা হাসান (الحسن) অথবা দুর্বলতা (الضعف) স্তরের হোক না কেন](1) এর অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর নিকট তাঁর মুসনাদ পাঠ করা হলো, তখন তিনি বললেন: এটি এমন একটি কিতাব যা আমি সাড়ে সাত লক্ষের অধিক হাদিস থেকে সংগ্রহ ও নির্বাচন করেছি। সুতরাং মুসলিমগণ হাদিসের যে বিষয়েই মতবিরোধ করুক না কেন, তারা যেন এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর যা তোমরা এতে পাবে না, তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়।

যদি বলা হয়: তাঁর মুসনাদে যা কিছু আছে তার মোট সংখ্যা মাত্র চল্লিশ হাজার হাদিস, যার মধ্যে দশ হাজারই পুনরাবৃত্ত (مكررة); তবে এর সাথে তিনি কীভাবে বলেন যে, সাত লক্ষাধিক হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হওয়া (صح) এর অন্তর্ভুক্ত?

(5/অ) এর উত্তরে বলা হয়(3): এই সংখ্যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূত্রসমূহ (الطرق), মূল পাঠসমূহ (المتون) নয়।

শাইখ আবু আল-মাকারিম(4) বলেন: তাঁর উক্তি "আর যা [না](5) তোমরা এতে পাবে না, তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়", বাহ্যত এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর আরোপিত জাল (موضوع) কথা। কেননা সহিহাইন-এ এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা মুসনাদে নেই, অথচ সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) এবং দলিলযোগ্যতার (حجية) ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন: আমি হাদিসের একদল ইমামকে বলতে শুনেছি যে, বর্তমানে বিদ্যমান মূল পাঠসমূহ (المتون) এক লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার অধিকাংশ সহিহ (صحاح)। তবে কীভাবে বলা যায়(6) যে, যা মুসনাদে নেই তা দলিল (حجة) নয়?

--------------------------------------------

(1) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(2) - (ب) পাণ্ডুলিপিতে আছে: "আমি একে নিখুঁত করেছি"।

(3) - পূর্বোক্ত সূত্র দ্রষ্টব্য।

(4) - আমি এই উদ্ধৃতিটি সিদ্দিক হাসান খানের "আল-হিত্তাহ ফি জিকরিস সিহাহ আস-সিত্তাহ" (পৃ. ৫৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।

আর আবু আল-মাকারিম হলেন আলী ইবনে শিহাব আস-সিদ্দিকী [যেমনটি "আল-হিত্তাহ" গ্রন্থে বর্ণিত আছে], তবে আমি তাঁর জীবনীকারদের কাউকেই খুঁজে পাইনি।

(5) - (أ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(6) - (أ) পাণ্ডুলিপিতে আছে: "তাঁরা বলেন"।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٧)
والأحاديث البالغة سبعمائة ألف [وكسر، ليست هي الطرق؛ بل كانت متونًا فذهبت بموت حافظيها](1).

 

‌‌الفصل السادس:

في شرائط رواية الحديث
.

روينا في صحيح مسلم(2)، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: من كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار.

[ورُوّينا في مؤلفات ابن الجوزي هذا الحديث تسعين طريقًا مع كسر؛ لأنه رَوَى هذا الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمانية وتسعون نفرًا من الصحابة، منهم العشرة المبشرة، وبلغ إلينا متواترًا](3).

وروينا فيه(4) أيضا(5) عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: كفى بالمرء كذباً أن يحدث بكل ما سمع.

وروينا فيه أيضاً(6) عنه صلى الله عليه وسلم: يكون في أخر الزمان دجالون كذابون، يأتونكم من الأحاديث بما لم تسمعوا أنتم ولا أباءوكم، فإياكم وإياهم، لا يضلونكم ولا يفتنونكم.

روينا هذه الاحاديث الثلاثة في [أول](7) صحيح مسلم رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) - ساقط من (أ).

(2) - (1/ 10 رقم 3)

(3) - من (ب).

(4) - في (ب): "في صحيح مسلم".

(5) - (1/ 10 رقم 5)

(6) - (1/ 12 رقم 7)

(7) - ساقط من (ب)
এবং হাদিসসমূহ সাত লক্ষের অধিক [অতিরিক্তসহ, এগুলো বর্ণনাসূত্র (طرق) নয়; বরং এগুলো ছিল মূল পাঠ (متون), যা এগুলোর হাফেজদের (সংরক্ষণকারী) মৃত্যুর সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে গেছে](১)।

 

‌‌ষষ্ঠ অধ্যায়:

হাদিস বর্ণনার শর্তাবলি সম্পর্কে
।

আমরা সহিহ মুসলিমে(২) বর্ণনা করেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

[এবং ইবনুল জাওযীর রচনাবলীতে আমরা এই হাদিসটি নব্বইয়ের অধিক বর্ণনাসূত্রে (طرق) বর্ণনা করেছি; কারণ আটানব্বই জন সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আশারায়ে মুবাশশারাও (সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন) রয়েছেন। আর এটি আমাদের নিকট অবিচ্ছিন্ন ও সুনিশ্চিত (متواتر) হিসেবে পৌঁছেছে](৩)।

এবং আমরা এতে(৪) আরও(৫) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: "একজন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে।"

এবং আমরা এতে আরও(৬) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছি যে: "শেষ যামানায় এমন কিছু দাজ্জাল ও চরম মিথ্যাবাদী (كذابون) আসবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদিস নিয়ে আসবে যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণ কখনও শোনোনি। অতএব, তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকো এবং তাদের থেকে দূরে থাকো; তারা যেন তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং ফিতনায় ফেলতে না পারে।"

আমরা এই তিনটি হাদিস সহিহ মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর [শুরুতে](৭) বর্ণনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) - (ক) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) - (১/ ১০, নম্বর ৩)

(৩) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে পাওয়া।

(৪) - (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সহিহ মুসলিমে"।

(৫) - (১/ ১০, নম্বর ৫)

(৬) - (১/ ১২, নম্বর ৭)

(৭) - (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٨)
وروينا [أيضاً](1) في صحيح مسلم(2)، قال مالك رحمه الله: اعلم (5/ب) أنه ليس يسلم رجل حدَّث بكل ما سمع، ولا يكون إماماً أبداً وهو يحدِّثُ بكل ما سمع.

وقال إياس رحمه الله تعالى(3): إياك والشناعة في الحديث؛ فإنه قلَّما حملها أحدٌ إلا ذلَّ في نفسه، وكُذِّب في حديثه.

وقال ابن مسعود رضي الله عنه(4): ما أنت بمحدِّثٍ قوماً حديثاً لا يبلغه عقولهم إلا كان لبعضهم فتنة.

روى كلها مسلم رحمه الله.

قال الإمام محيي الدين النواوي رحمه الله تعالى في شرح صحيح مسلم(5): "قوله فليتبوأ [مقعده](6)، أي: فلينزله، وقيل معناه: فليتخذ منزله من النار. ثم [قيل](7): إنه دعاء بلفظ الأمر، أي: بوَّأَهُ الله ذلك، وقيل: هو خبر بلفظ الأمر، معناه: قد استوجب ذلك فليوطِّن نفسه عليه، يعنى: أن هذا جزاؤه، وقد يجازى به، وقد يعفو الله الكريم عنه، ولا يقطع عليه بدخول النار، وهذا سبيل كل ما جاء من الوعيد بالنار لأصحاب الكبائر غير الكافر، فكلها يقال فيها: هذه جزاؤه، وقد يجازي، وقد يُعفى، ثم إنْ جُوزي وأُدخل النار فلا يخلد فيها، بل لابد من خروجه منها بفضل الله ورحمته، (6/أ) ولا يخلد [في النار](8) أحدٌ مات على التوحيد.

--------------------------------------------

(1) - من (أ)

(2) - (1/ 10 رقم 5)

(3) - الموضع السابق في "صحيح مسلم".

(4) - المرجع السابق.

(5) (1/ 68 - 69 - ط دار إحياء التراث).

(6) - من (ب).

(7) - في (أ): "قال".

(8) - من "شرح صحيح مسلم".
আমরা [আরও](১) সহীহ মুসলিম-এ(২) বর্ণনা করেছি, ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: জেনে রেখো (৫/খ), যে ব্যক্তি যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে সে নিরাপদ থাকে না; আর যে ব্যক্তি যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে, সে কখনোই ইমাম হতে পারে না।

এবং ইয়াস (রহ.)(৩) বলেন: হাদিসের ক্ষেত্রে অদ্ভূত বা আপত্তিকর বিষয় (شناعة) থেকে সাবধান থেকো; কেননা খুব কম লোকই তা বহন করে নিজের কাছে লাঞ্ছিত হওয়া এবং তার হাদিসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذب) করা ছাড়া।

এবং ইবনে মাসউদ (রা.)(৪) বলেন: তুমি কোনো সম্প্রদায়ের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে না যা তাদের বোধগম্য নয়, অন্যথায় তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনা (فتنة) হয়ে দাঁড়াবে।

এই সবকটিই ইমাম মুসলিম (রহ.) বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুহিউদ্দীন আন-নববী (রহ.) শরহ সহীহ মুসলিম-এ(৫) বলেন: "তাঁর কথা 'সে যেন তার [আসন](৬) গ্রহণ করে', অর্থাৎ: সে যেন তাতে অবতরণ করে। আবার বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়। অতঃপর [বলা হয়েছে](৭): এটি নির্দেশের শব্দে একটি দুআ, অর্থাৎ: আল্লাহ তাকে সেখানে জায়গা করে দিন। আবার বলা হয়েছে: এটি নির্দেশের শব্দে একটি সংবাদ (خبر), এর অর্থ হলো: সে এর যোগ্য হয়ে গেছে, তাই সে যেন নিজেকে এর জন্য প্রস্তুত করে নেয়, অর্থাৎ: এটিই তার প্রতিফল। তাকে এর দ্বারা শাস্তি দেওয়া হতে পারে, আবার মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমাও করতে পারেন এবং তার জন্য জাহান্নামে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কাফির ব্যতীত কবিরা গুনাহগারদের জন্য জাহান্নামের শাস্তির যে সতর্কবাণী (وعيد) এসেছে, এটিই তার নীতি। এ সবগুলোর ক্ষেত্রেই বলা হয়: এটি তার প্রতিফল, তাকে শাস্তি দেওয়া হতে পারে অথবা ক্ষমা করা হতে পারে। অতঃপর যদি তাকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়, তবে সে সেখানে চিরকাল থাকবে না; বরং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাকে সেখান থেকে বের হতেই হবে। (৬/ক) আর যে ব্যক্তি তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, সে [জাহান্নামে](৮) চিরস্থায়ী (خلود) হবে না।

--------------------------------------------

(১) - (অ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(২) - (১/১০, নং ৫)।

(৩) - "সহীহ মুসলিম"-এর পূর্বোক্ত স্থান।

(৪) - পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) - (১/৬৮-৬৯ - দার ইহয়াউত তুরাস সংস্করণ)।

(৬) - (ব) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৭) - (অ) পাণ্ডুলিপিতে: "বলেছেন"।

(৮) - "শরহ সহীহ মুসলিম" থেকে।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣٩)
وهذه قاعدة متفق عليها عند أهل السنة والجماعة. وأما الكذب فهو عند المتكلمين من أصحابنا: الإخبار عن الشيئ على خلاف الواقع سهواً كان أو عمداً. هذا مذهب أهل السنة. وشَرَطَ المعتزلة: العمدية فيه".

وفي هذا الحديث فوائد وقواعد:

منها: أنَّ الحق معنا في أن العمدية ليست بشرط في كون الخبر كذباً.

[ومنها ما يجيء في الفصل الآتي](1).

 

‌‌الفصل السابع:

في أحكام الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم وبعض شرائط الرواية
.

وفيها مسائل:

المسألة الأولي:

رُوِينا في شرح صحيح مسلم(2) للإمام النواوي رحمه الله: أن الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم حرام، وفاحشة عظيمة، وموبقة كبيرة. هذا متفق عليه؛ لكن اختلفوا في أنه هل يكفر أم لا من غير أن يستحله؟

المشهور من مذاهب العلماء من الطوائف أنه لا يكفر، وقال الشيخ أبو محمد الجويني، والد إمام الحرمين أبو المعالي: إنه يكفر بتعمد الكذب عليه صلى الله عليه وسلم، وحكى إمام الحرمين عن والده هذا المذهب، وأنه يقول في دروسه كثيراً: من كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم عمداً كفر وأريق دمه، وضعَّف إمامُ الحرمين (6/ب) هذا القول،

--------------------------------------------

(1) - ساقط من (أ).

(2) - (1/ 69).
এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট একটি সর্বসম্মত (متفق عليها) মূলনীতি। আর আমাদের কালামশাস্ত্রবিদদের মতে মিথ্যা (الكذب) হলো: বাস্তবতার পরিপন্থী কোনো সংবাদ প্রদান করা, তা ভুলবশত হোক কিংবা ইচ্ছাকৃত। এটিই আহলুস সুন্নাহর মাযহাব। তবে মুতাজিলারা এতে ইচ্ছাকৃত হওয়ার বিষয়টি শর্তারোপ করেছে।

আর এই হাদিসে কিছু শিক্ষা ও মূলনীতি রয়েছে:

তন্মধ্যে একটি হলো: আমাদের পক্ষেই সত্য বিদ্যমান যে, কোনো খবর মিথ্যা (كذباً) হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত হওয়া শর্ত নয়।

[তন্মধ্যে কিছু বিষয় আগামী পরিচ্ছেদে আসবে](১).

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ (الكذب) করার বিধান এবং বর্ণনার (الرواية) কিছু শর্তাবলি প্রসঙ্গে
.

এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা:

ইমাম নববী (রহ.)-এর শারহু সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ (الكذب) করা হারাম, চরম অশ্লীলতা এবং বড় ধ্বংসাত্মক গুনাহ। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه); কিন্তু তা হালাল মনে না করে করলে সে কাফির হবে কি না, এ বিষয়ে উলামায়ে কিরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

বিভিন্ন জামাতের আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো, সে কাফির হবে না। আর ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলীর পিতা শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী বলেছেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ (الكذب) করার কারণে সে কাফির হয়ে যাবে। ইমামুল হারামাইন তাঁর পিতার এই মতটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি তাঁর দরসগুলোতে প্রায়ই বলতেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ (كذب) করবে, সে কাফির হয়ে যাবে এবং তার রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ হবে। তবে ইমামুল হারামাইন এই বক্তব্যটিকে দুর্বল (ضعَّف) সাব্যস্ত করেছেন (৬/খ),

--------------------------------------------

(১) - (ক) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) - (১/ ৬৯)।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٤٠)
وقال: إنه لم يره لأحد من الأصحاب، وإنه هفوة [عظيمة](1)، و [الصواب](2) ما قدَّمناه عن الجمهور.

قلت: هذه الجملة من شرح صحيح مسلم للإمام محي الدين النواوي رحمه الله تعالي؛ ولكن كنت في حضرة شيخنا الإمام [الجليل الحافظ الكبير رحلة الأرض، مسند العالم مولانا شمس الدين أبي الخير محمد بن محمد بن](3) الجزري الدمشقي العمري(4)

يوماً بظاهر [بلدة](5) هراة حين خرج منها عازماً على زيارة بيت الله، والمعاودة إلى شيراز، في شعبان سنة إحدى وعشرين وثمان مئة، فأعطاني(6) جزء جُمع في الكفريات، فنظرت فيه فإذا فيه مسائل كثيرة، منها أنه نقل عن الحافظ الذهبي صاحب الكاشف أنه قال في كتاب "الكبائر"(7): من كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم متعمداً، إن كان في الحلال والحرام يكفر بالإجماع، وإن كان في الترغيب والترهيب يكفر عند الجمهور.

فقلت للشيخ: هذا مخالف لما قاله الإمام النواوي [رحمه الله في شرح صحيح مسلم، فلم ينكر على هذه الرواية التي نقل عن الحافظ الذهبي، وفي ترجمة شعب الإيمان، قال: إن كان الكذب عمدًا على الرسول صلى الله عليه وسلم في الحلال والحرام، يكفر، وفي غير ذلك، قال بعض العلماء يكفر لأن الكذب

--------------------------------------------

(1) - من (ب).

(2) - من شرح صحيح مسلم.

(3) - ساقط من (أ).

(4) - هو الإمام الحافظ علم القراء شمس الدين أبو الخير محمد بن محمد بن الجزري الدمشقي ولد سنة (751 هـ)، وتوفي سنة (833 هـ).

 

ينظر "شذرات الذهب" لابن العماد (9/ 298 ط دار ابن كثير).

(5) - ساقط من (ب).

(6) - في (ب): "فأتاني".

(7) - ينظر (صـ 70 - 71 ط دار الندوة)، وليس فيها هذا النص الذي نقله المصنف عنه.
এবং তিনি বলেছেন: তিনি সাহাবীদের কারো পক্ষ থেকে এটি দেখেননি, এবং এটি একটি [বিশাল] বিচ্যুতি (هفوة)(1), আর [সঠিক] (الصواب) মত সেটিই যা আমরা ইতিপূর্বে সংখ্যাগুরু (جمهور) আলিমদের পক্ষ থেকে পেশ করেছি।

আমি বলছি: এই বাক্যটি ইমাম মহিউদ্দিন নববী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এর শরহে সহিহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে; তবে আমি আমাদের শায়খ ইমাম [মহা সম্মানিত, মহান হাফেজ (الحافظ), পৃথিবীর পর্যটক, বিশ্বের মুসনিদ (مسند) মাওলানা শামস উদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন](3) আল-জাজরি আদ-দামেশকি আল-উমরি(4) এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম।

আটশত একুশ হিজরির শাবান মাসে একদিন হেরাত [শহর](5) এর উপকণ্ঠে যখন তিনি সেখান থেকে আল্লাহর ঘর যিয়ারত এবং শিরাজ শহরে ফিরে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে বের হয়েছিলেন, তখন তিনি আমাকে(6) কুফর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে সংকলিত একটি পুস্তিকা (جزء) প্রদান করলেন। আমি সেটি নিবিড়ভাবে দেখলাম এবং তাতে অনেক মাসআলা পেলাম। তন্মধ্যে একটি হলো, তিনি আল-কাশিফ গ্রন্থের রচয়িতা হাফেজ (الحافظ) জাহাবি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি "কিতাবুল কাবায়ের"(7) গ্রন্থে বলেছেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করবে, তা যদি হালাল ও হারাম বিষয়ে হয় তবে সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) সে কাফির হয়ে যাবে, আর যদি তা উৎসাহ প্রদান (ترغيب) ও ভীতি প্রদর্শনের (ترهيب) ক্ষেত্রে হয় তবে সংখ্যাগুরু (جمهور) আলিমদের মতে সে কাফির হয়ে যাবে।

অতঃপর আমি শায়খকে বললাম: এটি ইমাম নববী [রহিমাহুল্লাহ] শরহে সহিহ মুসলিমে যা বলেছেন তার পরিপন্থী। কিন্তু তিনি হাফেজ (الحافظ) জাহাবি থেকে উদ্ধৃত এই বর্ণনার (رواية) প্রতিবাদ করেননি। আর শুআবুল ঈমান এর আলোচনায় বলা হয়েছে: যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওপর হালাল ও হারামের বিষয়ে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার করা হয় তবে সে কাফির হয়ে যাবে, আর এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে কিছু আলিম বলেছেন সে কাফির হবে, কারণ মিথ্যা...

--------------------------------------------

(1) - (ব) পান্ডুলিপি থেকে।

(2) - শরহে সহিহ মুসলিম থেকে।

(3) - (আ) পান্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(4) - তিনি হলেন ইমাম হাফেজ (الحافظ) এবং কিরাত শাস্ত্রের পণ্ডিত শামস উদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-জাজরি আদ-দামেশকি। তিনি (৭৫১ হিজরিতে) জন্মগ্রহণ করেন এবং (৮৩৩ হিজরিতে) ইন্তেকাল করেন।

 

ইবনুল ইমাদের "শাজারাতুয যাহাব" দ্রষ্টব্য (৯/২৯৮, দার ইবন কাসির সংস্করণ)।

(5) - (ব) পান্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(6) - (ব) পান্ডুলিপিতে: "তিনি আমার নিকট আসলেন"।

(7) - দেখুন (পৃষ্ঠা ৭০ - ৭১, দারুন নদওয়া সংস্করণ), তবে সেখানে এই পাঠটি নেই যা গ্রন্থকার তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٤١)
عليه إحداث شرع، ولأنه كذب على الله في الحقيقة؛ إذ هو لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى](1).

المسألة الثانية:

روينا في شرح صحيح مسلم(2): أن من كذب عليه صلى الله عليه وسلم عمداً في حديث واحد فُسِّقَ ورُدَّت [روايته](3) كلها، وبطل الاحتجاج بجميعها، (7/أ) فلو تاب وحَسُنت توبته فقد قال جماعة من العلماء منهم: أحمد بن حنبل، وأبو بكر الحميدي شيخ البخاري وصاحب الشافعي، وأبو بكر الصيرفي من فقهاء أصحاب الشافعي، وأصحاب الوجوه منهم ومتقدميهم في الأصول والفروع: لا تؤثر توبته في ذلك، ولا تقبل روايته أبداً، بل يحتم جرحه دائماً. وأطلق الصيرفي وقال: كل من أسقطنا خبره من أهل النقل بكذبٍ وجدناه [عليه](4)، لم نعد لقبوله بتوبتةٍ [تظهر](5)، ومن ضعفَّنا نقله لم نجعله قوياً بعد ذلك، وقال: ذلك مما افترقت فيه الرواية والشهادة. ولم أرَ دليلاً لمذهب هؤلاء، ويجوز أن يوجّه بأن ذلك تغليظ وزجر بليغ عن الكذب عليه صلى الله عليه وسلم لعظم مفسدته؛ فإنه يصير شرعا مستمراً إلي يوم القيامة، بخلاف الكذب على غيره والشهادة، فإن مفسدتهما قاصره ليست عامة.

قلت: والذي ذكر هؤلاء الأئمة ضعيف مخالف للقواعد الشرعية، والمختار: القطع بصحة توبته في هذا، وقبول رواياته بعدها إذا صحت توبته بشروطها المعروفة،

--------------------------------------------

(1) - من (ب)

(2) - (1/ 69 - 70).

(3) - في (ب): "رواياته".

(4) - من (ب).

(5) - من شرح صحيح مسلم.
এর মাধ্যমে একটি নতুন শরয়ি বিধান প্রবর্তন করা হয়, আর মূলত এটি আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করা; কেননা তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, বরং তা কেবল ওহী (وحي), যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়](১).

দ্বিতীয় মাসয়ালা:

আমরা শারহু সহীহ মুসলিম(২)-এ বর্ণনা করেছি যে: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর একটি হাদিসেও মিথ্যা আরোপ করবে, সে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার সকল বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যান করা হবে, এবং তার সকল বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ (احتجاج) করা বাতিল হয়ে যাবে, (৭/ক) এরপর যদি সে তওবা করে এবং তার তওবা নিষ্ঠাপূর্ণ হয়, তবে একদল উলামা বলেছেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন: আহমদ ইবনে হাম্বল, বুখারীর উস্তাদ ও শাফেয়ীর সহচর আবু বকর আল-হুমাইদী, শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত আবু বকর আস-সাইরাফী এবং তাঁদের মধ্য থেকে উসূলে দ্বীন (الأصول) ও ফিকহ শাস্ত্রের (الفروع) অগ্রগণ্য আশহাবে উজুহগণ: তার তওবা এ ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না, এবং তার বর্ণনা (رواية) কখনোই গ্রহণ করা হবে না, বরং স্থায়ীভাবে তার ওপর জারহ (جرح) করা অপরিহার্য হয়ে পড়বে। আস-সাইরাফী সবিস্তারে বলেছেন: বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যার বর্ণনা আমরা তার মিথ্যাচারের কারণে বর্জন করেছি, প্রকাশ্য তওবার মাধ্যমেও আমরা পুনরায় তা গ্রহণের দিকে ফিরে আসব না। আর আমরা যার বর্ণনাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছি, এরপর আমরা তাকে শক্তিশালী (قوي) হিসেবে গণ্য করব না। তিনি আরও বলেন: এটি সেই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যেখানে বর্ণনা (رواية) ও সাক্ষ্য প্রদানের (شهادة) মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। আর আমি তাঁদের এই মতের স্বপক্ষে কোনো দলিল দেখতে পাইনি। তবে এর ব্যাখ্যা এভাবে করা সম্ভব যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর মিথ্যাচারের ভয়াবহ অনিষ্টের কারণে এটি একটি কঠোর শাসন ও কার্যকর সতর্কবাণী; কেননা এটি কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ একটি স্থায়ী শরয়ি বিধানে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে অন্যের ওপর মিথ্যা বলা বা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি এমন নয়, কারণ সেগুলোর অনিষ্টতা সীমাবদ্ধ, সামগ্রিক নয়।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই ইমামগণ যা উল্লেখ করেছেন তা দুর্বল (ضعيف) এবং শরয়ি মূলনীতির পরিপন্থী। আর গ্রহণযোগ্য মত হলো: এ ক্ষেত্রে তার তওবা সহীহ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া এবং যদি তার তওবা সুপরিচিত শর্তাবলি অনুযায়ী সহীহ হয়, তবে এরপর তার বর্ণনা (رواية) কবুল করা।

--------------------------------------------

(১) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।

(২) - (১/ ৬৯ - ৭০)।

(৩) - (ب) পাণ্ডুলিপিতে: "رواياته"।

(৪) - (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।

(৫) - শারহু সহীহ মুসলিম থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٤٢)
وهى الإقلاع عن المعصية والندم على فعلها (7/ب) والعزم ألا يعود اليها، فهذا هو الجاري على قواعد الشرع، وقد أجمعوا على صحة رواية من كان كافراً فأسلم، فأكثر الصحابة كانوا بهذه الصفة، وأجمعوا على قبول شهادتهم، ولا فرق بين الرواية والشهادة والرواية في هذا.

هذه الجملة أيضاً من شرح صحيح مسلم، وقوله؛ قلت: وهذا الذى ذكره هؤلاء الأئمة إلى آخره من كلام النواوي [أيضًا](1).

المسألة الثالثة:

رويناه في شرح صحيح مسلم(2) أنه لا فرق في تحريم الكذب عليه صلى الله عليه وسلم بين ما كان في الأحكام وبين ما لا حكم فيه، كالترغيب والترهيب والمواعظ وغير ذلك، وكله حرام من أكبر الكبائر، وأقبح القبائح بإجماع المسلمين الذين يعتد بهم في الإجماع، خلافا للكراميَّة الطائفة المبتدعة، في زعمهم الباطل أنه يجوز وضع الحديث في الترغيب والترهيب، وتابعهم في هذا كثيرون من الجهلة الذين ينسبون أنفسهم إلى الزهد [أو ينسبهم جهلة مثلهم](3)، وشُبهَة زعمهم الباطل أنه جاء في رواية "من كذب علي متعمدا ليضل به فليتبوأ مقعده من النار"، وزعم بعضهم أن (8/أ) هذا كذب له [لا كذب عليه، وهذا الذي انتحلوه وفعلوه واستدلوا به](4) غاية الجهالة ونهاية الغفلة، وأدل الدلائل على بعدهم من معرفة شيئ من قواعد الشرع، وقد جمعوا فيه جملا من الأغاليط اللائقة

--------------------------------------------

(1) - ساقط من (أ).

(2) - (1/ 70).

(3) - من شرح صحيح مسلم.

(4) - ساقط من (ب).
আর তা হলো গুনাহ বর্জন করা, কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া (৭/খ) এবং পুনরায় তাতে লিপ্ত না হওয়ার সংকল্প করা। এটিই শরয়ি মূলনীতি অনুযায়ী প্রচলিত। ইমামগণ একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আগে কাফির ছিল অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার বর্ণনা (رواية)-এর বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত। অধিকাংশ সাহাবী এই গুণের অধিকারী ছিলেন। আর ইমামগণ তাঁদের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণের ব্যাপারেও একমত পোষণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে বর্ণনা (رواية) ও সাক্ষ্য (شهادة)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

এই বাক্যটিও শরহে সহিহ মুসলিম থেকে গৃহীত। আর তাঁর উক্তি; আমি বলছি: এই যে বিষয়টি আইম্মাগণ উল্লেখ করেছেন—শেষ পর্যন্ত—এটিও ইমাম নববীর বক্তব্য [ও](১)।

তৃতীয় মাসআলা (বিষয়):

আমরা শরহে সহিহ মুসলিমে(২) বর্ণনা করেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করার হারাম (حرام) হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই—চাই তা কোনো বিধান (أحكام) সংক্রান্ত হোক কিংবা যাতে কোনো বিধান নেই যেমন তারগিব (উৎসাহ প্রদান), তারহিব (ভীতি প্রদর্শন), নসিহত ইত্যাদি। এসবই মুসলিমদের সেই জামাতের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা—যাদের ঐকমত্য ধর্তব্য হয়—হারাম (حرام), কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে বড় এবং নিকৃষ্টতম বিষয়। তবে বিদয়াতি (مبتدعة) গোষ্ঠী কারামিয়াদের ধারণা এর ব্যতিক্রম। তাদের বাতিল ধারণা হলো যে, তারগিব ও তারহিবের ক্ষেত্রে হাদিস জালকরণ (وضع) করা বৈধ। তাদের এই পথে অনেক জাহেল (মূর্খ) অনুসারী হয়েছে যারা নিজেদেরকে যুহদ (দুনিয়া বিরাগিতা)-এর সাথে সম্পৃক্ত করে [অথবা তাদের মতোই জাহেলরা তাদেরকে সেভাবে জানে](৩)। তাদের বাতিল ধারণার সংশয়টি (شبهة) হলো যে, একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "যে ব্যক্তি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" তাদের কেউ কেউ ধারণা করেছে যে (৮/ক), এটি তো তাঁর স্বপক্ষে মিথ্যা বলা [তাঁর বিপক্ষে মিথ্যা বলা নয়। তারা যা উদ্ভাবন করেছে, যা করেছে এবং যেটির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছে তা] চরম মূর্খতা ও চরম গাফলত (উদাসীনতা)। আর এটি শরয়ি মূলনীতি সম্পর্কে তাদের সামান্যতম জ্ঞান না থাকার স্পষ্টতম প্রমাণ। এতে তারা সংগতিপূর্ণ অনেক ভুলভ্রান্তি একত্র করেছে...

--------------------------------------------

(১) - (আলিফ) পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।

(২) - (১/ ৭০)।

(৩) - শরহে সহিহ মুসলিম থেকে।

(৪) - (বা) পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।
(খণ্ড: ٣) ইশরাকাতুল উসূল ফী ইলমি হাদীছির রাসূল - মাজাল্লাতুত তুরাছিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ٢٤٣)
بعقولهم السخيفة وأذهانهم البعيدة الفاسدة، فخالفوا قول الله تعالى "ولا تقف ما ليس لك به علم إن السمع والبصر والفؤاد كل أولئك كان عنه مسئولا "، وخالفوا صريح هذه الأحاديث المتواترة، والأحاديث الصريحة المشهورة في إعظام شهادة الزور، وخالفوا [إجماع](1) [أهل](2) الحِلّ والعقد، وغير ذلك من الدلائل القطعيات في تحريم الكذب على آحاد الناس، فكيف بمن قوله شرع وكلامه وحي. وإذا نظر في قولهم وجد كذباً على الله تعالي لقوله: وما ينطق عن الهوى إن هو الا وحي يوحى. ومن أعجب الأشياء قولهم: هذا كذب له، وهذ جهل منهم بلسان العرب وخطاب الشرع، فإن كل ذلك [عندهم](3) كذب عليه، وأما [الحديث](4) الذي تعلقوا به، فأجاب العلماء عنه بأجوبة أحسنها وأخصرها:

أن قوله: ليضلّ (8/ب) الناس. زيادة باطلة، اتفق الحفاظ على إبطالها، وأنها لا تعرف صحيحة بحال.

الثاني: جواب أبى جعفر الطحاوي رحمه الله، أنها لو صحت لكانت للتأكيد، كقوله تعالى "فمن أظلم ممن افترى على الله كذباً ليضل الناس".

والثالث: أن اللام في: ليضل. ليست لام التعليل، بل هي لام الصيرورة والعاقبة،

--------------------------------------------

(1) - ساقط من (ب).

(2) - من (ب).

(3) - من شرح صحيح مسلم.

(4) - في (أ): "الأحاديث".
তাদের তুচ্ছ বিবেক ও দূরবর্তী কলুষিত চিন্তাধারার মাধ্যমে, তারা আল্লাহ তায়ালার বাণীর বিরোধিতা করেছে: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।" তারা এই স্পষ্ট অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواترة) হাদিসসমূহ এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ভয়াবহতা সম্পর্কে বর্ণিত স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ (المشهورة) হাদিসসমূহের বিরোধিতা করেছে। এছাড়া তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী ব্যক্তিবর্গের ঐক্যমত্য (إجماع) এবং সাধারণ মানুষের (آحاد) ওপর মিথ্যা আরোপ করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে অন্যান্য অকাট্য (القطعيات) প্রমাণাদিরও বিরোধিতা করেছে। সুতরাং যাঁর কথা শরয়ি বিধান এবং যাঁর বক্তব্য ওহি (প্রত্যাদেশ), তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপের বিষয়টি কতটা ভয়াবহ হতে পারে! তাদের বক্তব্যের দিকে তাকালে দেখা যায় যে তা আল্লাহ তায়ালার ওপর মিথ্যারোপের শামিল; কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "তিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।" সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো তাদের এই উক্তি: "এটি তাঁর (রাসূলের) পক্ষে মিথ্যা।" এটি মূলত আরবি ভাষা এবং শরয়ি সম্বোধন সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার পরিচয় দেয়। কারণ এসবই তাদের নিকট তাঁর (রাসূলের) ওপর মিথ্যারোপ হিসেবে গণ্য। আর তারা যে হাদিসের ওপর ভিত্তি করে এ দাবি করে, উলামায়ে কেরাম তার কয়েকটি উত্তর দিয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোত্তম ও সংক্ষিপ্ততম উত্তরগুলো হলো:

প্রথমত: "মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য" কথাটি একটি বাতিল (باطلة) সংযোজন (زيادة); হাফেজগণ (الحفاظ) এটি বাতিল হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং এটি কোনোভাবেই সহিহ (صحيحة) হিসেবে পরিচিত নয়।

দ্বিতীয়ত: আবু জাফর আল-তহাবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর উত্তর হলো—যদি এটি সহিহ (صحيحة) হতো, তবে তা গুরুত্বারোপের জন্য হতো, যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী: "তার চেয়ে বড় জালিম আর কে, যে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে।"

তৃতীয়ত: "লি ইউদিল্লা" (যাতে পথভ্রষ্ট করে)-এর মধ্যে যে 'লাম' রয়েছে, সেটি কারণ দর্শানোর জন্য নয়, বরং সেটি পরিণতি বা পরিণাম বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) - (ব) পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।

(২) - (ব) পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।

(৩) - শরহে সহিহ মুসলিম থেকে।

(৪) - (আ) পাণ্ডুলিপিতে আছে: "হাদিসসমূহ"।