(খণ্ড: ১)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: -)
عون المعبود وحاشية ابن القيم القسم: شروح الحديث
الكتاب: عون المعبود شرح سنن أبي داود، ومعه حاشية ابن القيم: تهذيب سنن أبي داود وإيضاح علله ومشكلاته
المؤلف: محمد أشرف بن أمير بن علي بن حيدر، أبو عبد الرحمن، شرف الحق، الصديقي، العظيم آبادي (ت 1329هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الثانية، 1415 هـ
عدد الأجزاء: 14
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আউনুল মাবুদ ও হাশিয়া ইবনুল কাইয়িম বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আউনুল মাবুদ শারহু সুনানে আবু দাউদ, এবং এর সাথে রয়েছে হাশিয়া ইবনুল কাইয়িম: তাহজিবু সুনানে আবু দাউদ ওয়া ইজাহু ইলালিহি ওয়া মুশকিলাতিহ
লেখক: মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আমির বিন আলি বিন হায়দার, আবু আবদুর রহমান, শরাফুল হক, আস-সিদ্দিকি, আল-আজিমাবাদী (মৃত্যু ১৩২৯ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৫ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٩)
1 - كتاب الطهارة
(بَابُ التَّخَلِّي عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ)أَيْ هَذَا بَابٌ فِي التَّخَلِّي عَنِ النَّاسِ عِنْدَ قَضَاءِ الْغَائِطِ وَالْمُرَادُ بِالتَّخَلِّي التَّفَرُّدُ
[1] (مَسْلَمَةَ) بِفَتْحِ الْمِيمِ وَسُكُونِ السِّينِ (الْقَعْنَبِيُّ) بِفَتْحِ الْقَافِ وَسُكُونِ الْعَيْنِ وَفَتْحِ النُّونِ مَنْسُوبٌ إِلَى قَعْنَبٍ جَدِّ عَبْدِ الله بن مسلمة (أبي سلمة) هو بن عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيُّ ثِقَةٌ فَقِيهٌ (الْمَذْهَبَ) مَوْضِعُ التَّغَوُّطِ أَوْ مَصْدَرٌ مِيمِيٌّ بِمَعْنَى الذَّهَابِ الْمَعْهُودِ وَهُوَ الذَّهَابُ إِلَى مَوْضِعِ التَّغَوُّطِ
قَالَ الْعِرَاقِيُّ هُوَ بِفَتْحِ الْمِيمِ وَإِسْكَانِ الذَّالِ وَفَتْحِ الْهَاءِ مَفْعَلٌ مِنَ الذَّهَابِ وَيُطْلَقُ عَلَى مَعْنَيَيْنِ أَحَدُهُمَا الْمَكَانُ
১ - পবিত্রতা অধ্যায়(প্রয়োজন পূরণের সময় নির্জনে যাওয়ার অনুচ্ছেদ)অর্থাৎ, এটি মলত্যাগকালে লোকচক্ষুর অন্তরালে নির্জনে যাওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; আর 'তাকাল্লী' (নির্জনতা অবলম্বন) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একাকী হওয়া।
[১] (মাসলামাহ) মীম বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং সীন বর্ণে সুকুন (জযম) যোগে। (আল-ক্ব’নাবী) ক্বাফ বর্ণে ফাতহাহ, আইন বর্ণে সুকুন এবং নূন বর্ণে ফাতহাহ যোগে; এটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ-এর দাদা ‘ক্ব’নাব’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (আবু সালামাহ) তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে আওফ আল-জুহরী-এর পুত্র; তিনি নির্ভরযোগ্য ও ফকীহ। (আল-মাযহাব) মলত্যাগের স্থান অথবা এটি একটি মাসদারে মিমী (ক্রিয়ামূল), যা প্রথাগত গমন অর্থাৎ মলত্যাগের স্থানে যাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত।
ইরাকী (রহ.) বলেন, এটি মীম বর্ণে ফাতহাহ, যাল বর্ণে সুকুন এবং হা বর্ণে ফাতহাহ যোগে ‘মাফ’আল’ ওজনে গঠিত, যা ‘যাহাব’ (গমন) ধাতু থেকে উৎপন্ন। এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার একটি হলো স্থান।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الَّذِي يُذْهَبُ إِلَيْهِ
وَالثَّانِي الْمَصْدَرُ يُقَالُ ذَهَبَ ذَهَابًا وَمَذْهَبًا فَيَحْتَمِلُ أَنْ يُرَادَ الْمَكَانُ فَيَكُونُ التَّقْدِيرُ إِذَا ذَهَبَ فِي الْمَذْهَبِ لِأَنَّ شَأْنَ الظُّرُوفِ تَقْدِيرُهَا بِفِي وَيَحْتَمِلُ أَنْ يُرَادَ الْمَصْدَرُ أَيْ إِذَا ذَهَبَ مَذْهَبًا وَالِاحْتِمَالُ الْأَوَّلُ هُوَ الْمَنْقُولُ عَنْ أَهْلِ الْعَرَبِيَّةِ
وَقَالَ بِهِ أَبُو عُبَيْدٍ وَغَيْرُهُ وَجَزَمَ بِهِ فِي النِّهَايَةِ وَيُوَافِقُ الِاحْتِمَالَ الثَّانِي قَوْلُهُ فِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ أَتَى حَاجَتَهُ فَأَبْعَدَ فِي الْمَذْهَبِ
فَإِنَّهُ يَتَعَيَّنُ فِيهَا أَنْ يُرَادَ بِالْمَذْهَبِ الْمَصْدَرُ (أَبْعَدَ) فِي مَوْضِعِ ذَهَابِهِ أَوْ فِي الذَّهَابِ الْمَعْهُودِ أَيْ أَكْثَرَ الْمَشْيَ حَتَّى بَعُدَ عَنِ النَّاسِ فِي مَوْضِعِ ذهابه
والحديث أخرجه الدارمي والنسائي وبن مَاجَهْ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَسَنٌ صَحِيحٌ
[2] (أَبِي الزُّبَيْرِ) هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الْمَكِّيُّ وَثَّقَهُ الْجُمْهُورُ وَضَعَّفَهُ بَعْضُهُمْ لِكَثْرَةِ التَّدْلِيسِ (الْبَرَازَ) قَالَ الْخَطَّابِيُّ مَفْتُوحَةُ الْبَاءِ اسْمٌ لِلْفَضَاءِ الْوَاسِعِ مِنَ الْأَرْضِ كَنَّوْا بِهِ عَنْ حَاجَةِ الْإِنْسَانِ كَمَا كَنَّوْا بِالْخَلَاءِ عَنْهُ يُقَالُ تَبَرَّزَ الرَّجُلُ إِذَا تَغَوَّطَ وَهُوَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الْبَرَازِ كَمَا قِيلَ تَخَلَّى إِذَا صَارَ إِلَى الْخَلَاءِ وَأَكْثَرُ الرُّوَاةِ يَقُولُونَ الْبِرَازُ بِكَسْرِ الْبَاءِ وَهُوَ غَلَطٌ إِنَّمَا الْبِرَازُ مَصْدَرُ بَارَزْتُ الرَّجُلَ فِي الْحَرْبِ مُبَارَزَةً وَبِرَازًا
وَفِيهِ مِنَ الْأَدَبِ اسْتِحْبَابُ التَّبَاعُدِ عِنْدَ الْحَاجَةِ عَنْ حُضُورِ النَّاسِ إِذَا كَانَ فِي مَرَاحٍ مِنَ الْأَرْضِ وَيَدْخُلُ فِي مَعْنَاهُ الِاسْتِتَارُ بِالْأَبْنِيَةِ وَضَرْبُ الْحُجُبِ وَإِرْخَاءُ السِّتْرِ وَأَعْمَاقُ الْآبَارِ وَالْحَفَائِرُ وَنَحْوُ ذَلِكَ مِنَ الْأُمُورِ السَّاتِرَةِ لِلْعَوْرَاتِ وَكُلُّ مَا سَتَرَ الْعَوْرَةَ عَنِ النَّاسِ
انْتَهَى
قُلْتُ وَخَطَّأَ الْخَطَّابِيُّ الْكَسْرَ وَخَالَفَهُ الْجَوْهَرِيُّ فَجَعَلَهُ مُشْتَرَكًا بَيْنَهُمَا
وَقَالَ فِي الْمِصْبَاحِ الْبَرَازُ بِالْفَتْحِ وَالْكَسْرُ لُغَةٌ قَلِيلَةٌ الْفَضَاءُ الْوَاسِعُ الْخَالِي مِنَ الشَّجَرِ ثُمَّ كُنِّيَ بِالْغَائِطِ
انْتَهَى
وَالْحَدِيثُ فِيهِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْكُوفِيُّ نَزِيلُ مَكَّةَ قَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ غَيْرُ وَاحِدٍ وَأَخْرَجَهُ أَيْضًا بن ماجه
যে স্থানে যাওয়া হয়।
এবং দ্বিতীয় অর্থটি হলো ক্রিয়ামূল; বলা হয়ে থাকে ‘জাহাবা জাহাবান ওয়া মাজহাবান’। সুতরাং এখানে স্থান উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন বাক্যটির প্রচ্ছন্ন রূপ হবে: ‘যখন তিনি গমনাগমনস্থলে গেলেন’; কেননা স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণগুলো সাধারণত ‘ফী’ (মধ্যে) অব্যয়টি উহ্য রেখে অর্থ প্রকাশ করে। আবার এখানে ক্রিয়ামূল উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, অর্থাৎ ‘যখন তিনি প্রস্থান করলেন’। প্রথম সম্ভাবনাটিই আরবি ভাষাবিদদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আবু উবায়দ ও অন্যান্যরা এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন এবং ‘আন-নিহায়াহ’ গ্রন্থে এটিকে অকাট্যভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিকে সমর্থন করে তিরমিযীর বর্ণনায় আসা এই কথাটি: “তিনি তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজনে আসলেন এবং দূরে গমন করলেন।”
কেননা এখানে ‘মাজহাব’ দ্বারা ক্রিয়ামূল উদ্দেশ্য হওয়া নির্ধারিত হয়ে যায়, অর্থাৎ তিনি তাঁর গমনের স্থানে অথবা পরিচিত গমনের পদ্ধতিতে ‘দূরত্ব অবলম্বন’ করেছেন; এর অর্থ হলো, তিনি হাঁটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যাতে করে লোকালয় থেকে দূরে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
হাদিসটি দারেমী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
[২] (আবি আয-যুবায়ের) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম আল-মাক্কী। জমহুর উলামায়ে কেরাম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং কেউ কেউ অধিক ‘তাদলিস’ করার কারণে তাঁকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। (আল-বারায) খাত্তাবী বলেছেন: এটি ‘বা’ বর্ণে যবর সহযোগে পৃথিবীর উন্মুক্ত প্রশস্ত প্রান্তরকে বোঝায়। একে রূপক অর্থে মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের স্থলে ব্যবহার করা হয়েছে, যেমনটি ‘খালা’ (নির্জন স্থান) শব্দটিকেও সে অর্থে ব্যবহার করা হয়। বলা হয় ‘তাবারাযা আর-রাজুলু’ যখন কেউ মলত্যাগ করে; আর তা মূলত ‘বারায’ বা প্রান্তরে যাওয়ার নাম। অধিকাংশ বর্ণনাকারী ‘বা’ বর্ণে যের দিয়ে ‘বিরায’ বলেন, যা ভুল। কেননা ‘বিরায’ শব্দটি হলো যুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্রিয়ামূল।
এতে এই শিষ্টাচার বিদ্যমান যে, উন্মুক্ত প্রান্তরে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় মানুষের উপস্থিতি থেকে দূরে থাকা মুস্তাহাব। এর মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত হলো দালানকোঠার আড়ালে থাকা, পর্দা টাঙানো, লটকানো কাপড় ব্যবহার করা, গভীর কূয়া বা গর্তের গভীরতা এবং সতর আবৃত করে এমন অনুরূপ বিষয়সমূহ এবং যা কিছু মানুষের সামনে সতর ঢেকে রাখে।
সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: খাত্তাবী যের দিয়ে পড়াকে ভুল বলেছেন, তবে জাওহারী তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং তিনি উভয় পাঠকেই বৈধ মনে করেছেন।
‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যবর যোগে ‘বারায’ এবং যের যোগে ‘বিরায’ (যা একটি বিরল উপভাষা) হলো গাছপালাহীন প্রশস্ত প্রান্তর। অতঃপর একে মলত্যাগের রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সমাপ্ত।
এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইসমাঈল বিন আব্দুল মালিক আল-কুফী রয়েছেন, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন। একাধিক বিজ্ঞ আলেম তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। হাদিসটি ইবনে মাজাহও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١١)
2 -
(بَاب الرَّجُلِ يَتَبَوَّأُ لِبَوْلِهِ)[3] أَيْ يَتَّخِذُ لِبَوْلِهِ مَكَانًا سَهْلًا لِئَلَّا يَرْجِعَ إِلَيْهِ رَشَاشُ الْبَوْلِ
(حماد) هو بن سَلَمَةَ قَالَ السُّيُوطِيُّ إِنَّ مُوسَى إِذَا أَطْلَقَ حمادا يريد بن سَلَمَةَ وَهُوَ قَلِيلُ الرِّوَايَةِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ حَتَّى قِيلَ إِنَّهُ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ إِلَّا حَدِيثًا (أَبُو التَّيَّاحِ) بِفَتْحِ الْمُثَنَّاةِ وَالتَّحْتَانِيَّةِ الثَّقِيلَةِ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ حُمَيْدٍ ثِقَةٌ (فَكَانَ يحدث) على بناء المجهول أي كان بن عَبَّاسٍ يُحَدَّثُ عَنْ أَبِي مُوسَى بِأَحَادِيثَ وَالْمُحَدِّثُونَ عَنْ أَبِي مُوسَى كَانُوا بِالْبَصْرَةِ لِأَنَّ فِي رِوَايَةِ الْبَيْهَقِيِّ سَمِعَ أَهْلَ الْبَصْرَةِ يَتَحَدَّثُونَ عَنْ أَبِي مُوسَى (دَمِثًا) بِفَتْحِ الدَّالِ وَكَسْرِ الْمِيمِ
قَالَ الْخَطَّابِيُّ الدَّمِثُ الْمَكَانُ السَّهْلُ الَّذِي يُجْذَبُ فِيهِ الْبَوْلُ فَلَا يَرْتَدُّ عَلَى الْبَائِلِ يُقَالُ لِلرَّجُلِ إِذَا وُصِفَ بِاللِّينِ وَالسُّهُولَةِ إِنَّهُ لَدَمِثُ الْأَخْلَاقِ وَفِيهِ دَمَاثَةٌ (فَلْيَرْتَدْ) أَيْ لِيَطْلُبْ وَلْيَتَحَرَّ مَكَانًا لَيِّنًا وَمِنْهُ الْمَثَلُ الرَّائِدُ لَا يَكْذِبُ أَهْلَهُ وَهُوَ الرَّجُلُ يَبْعَثُهُ الْقَوْمُ يَطْلُبُ لَهُمُ الْمَاءَ وَالْكَلَأَ يُقَالُ رَادَهُمْ يَرُودُهُمْ رِيَادًا
وَارْتَادَ لَهُمُ ارْتِيَادًا
وَالْحَدِيثُ فِيهِ مَجْهُولٌ لَكِنْ لَا يَضُرُّ فَإِنَّ أَحَادِيثَ الْأَمْرِ بِالتَّنَزُّهِ عَنِ الْبَوْلِ تُفِيدُ ذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
২ -
(অনুচ্ছেদ: পেশাব করার জন্য কোনো স্থান নির্বাচন করা)[৩] অর্থাৎ নিজ পেশাবের জন্য একটি সহজ ও নরম স্থান গ্রহণ করা, যাতে পেশাবের ছিটা তার দিকে ফিরে না আসে।
(হাম্মাদ) তিনি হলেন ইবনে সালামাহ। সুয়ূতী বলেন, মূসা যখন সাধারণভাবে 'হাম্মাদ' বলেন, তখন তিনি ইবনে সালামাহকেই উদ্দেশ্য করেন। হাম্মাদ ইবনে যায়িদ থেকে তাঁর বর্ণনা অত্যন্ত কম, এমনকি বলা হয় যে তিনি তাঁর থেকে মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আবুত তাইয়্যাহ) প্রথম বর্ণে ফাতহাহ এবং দ্বিতীয় বর্ণে তাসদীদসহ ফাতহাহযোগে; তাঁর নাম ইয়াযিদ ইবনে হুমায়দ, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। (বর্ণিত হতো) কর্মবাচ্যের শব্দে; অর্থাৎ ইবনে আব্বাসকে আবু মূসা থেকে হাদীসসমূহ বর্ণনা করে শোনানো হতো। আবু মূসা থেকে বর্ণনাকারীরা বসরায় ছিলেন; কেননা বায়হাকীর বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বসরার অধিবাসীদের আবু মূসা থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন। (দামিসান) দাল বর্ণে ফাতহাহ এবং মীম বর্ণে কাসরাহযোগে।
খাত্তাবী বলেন, 'দামিস' হলো এমন সহজ ও নরম স্থান যা পেশাবকে শুষে নেয়, ফলে তা পেশাবকারীর ওপর ফিরে আসে না। কোনো ব্যক্তিকে কোমলতা ও সহজ আচরণের গুণে গুণান্বিত করার ক্ষেত্রে বলা হয় যে, তিনি অত্যন্ত কোমল চরিত্রের অধিকারী এবং তাঁর মাঝে নম্রতা রয়েছে। (ফাল-ইয়ারতাদ) অর্থাৎ সে যেন অন্বেষণ করে এবং একটি নরম স্থান তালাশ করে। এ থেকেই প্রবাদটি এসেছে: "পথপ্রদর্শক তার স্বজনদের নিকট মিথ্যা বলে না।" তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে কোনো সম্প্রদায় তাদের জন্য পানি ও চারণভূমি অন্বেষণের জন্য পাঠায়। আরবী ভাষায় বলা হয়— 'রা-দাহুম ইয়ারু-দুহুম রিয়াদান'।
এবং 'ইরতা-দা লাহুম ইরতি-য়া-দান'।
হাদীসটির সনদে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন, তবে তা ক্ষতিকর নয়; কেননা পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশের সাধারণ হাদীসসমূহ একথাই প্রমাণ করে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
3 -
(بَاب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ)[4] هُوَ مَوْضِعُ قَضَاءِ الْحَاجَةِ أَيْ إِذَا أَرَادَ الدُّخُولَ
(قَالَ) مُسَدَّدٌ (عَنْ حَمَّادِ) بْنِ زَيْدٍ (قَالَ) النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ يَعْنِي أَلْجَأُ وَأَلُوذُ وَالْعَوْذُ وَالْعِيَاذُ وَالْمَعَاذُ وَالْمَلْجَأُ مَا سَكَنْتَ إِلَيْهِ تَقِيَّةً عَنْ مَحْذُورٍ (وَقَالَ) مُسَدَّدٌ (عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ قَالَ) النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ فَلَفْظُ مُسَدَّدٍ عَنْ حَمَّادٍ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ وَلَفْظُ مُسَدَّدٍ عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ قَالَ الْخَطَّابِيُّ الْخُبُثُ بِضَمِّ الْبَاءِ جَمَاعَةُ الْخَبِيثِ وَالْخَبَائِثُ جَمْعُ الْخَبِيثَةِ يُرِيدُ ذُكْرَانَ الشَّيَاطِينِ وَإِنَاثَهُمْ وَجَمَاعَةُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ يَقُولُونَ الْخُبْثُ سَاكِنَةُ الْبَاءِ وَهُوَ غَلَطٌ وَالصَّوَابُ الخبث بضم الباء
وقال بن الْأَعْرَابِيِّ أَصْلُ الْخُبُثِ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ الْمَكْرُوهُ فَإِنْ كَانَ مِنَ الْكَلَامِ فَهُوَ الشَّتْمُ وَإِنْ كَانَ مِنَ الْمِلَلِ فَهُوَ الْكُفْرُ وَإِنْ كَانَ مِنَ الطَّعَامِ فَهُوَ الْحَرَامُ وَإِنْ كَانَ مِنَ الشَّرَابِ فَهُوَ الضَّارُّ
انْتَهَى كَلَامُ الْخَطَّابِيِّ
وَقَالَ بن سَيِّدِ النَّاسِ وَهَذَا الَّذِي أَنْكَرَهُ الْخَطَّابِيُّ هُوَ الَّذِي حَكَاهُ أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ وَحَسْبُكَ بِهِ جَلَالَةً
وَقَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ أَكْثَرُ رِوَايَاتِ الشُّيُوخِ بِالْإِسْكَانِ
وَقَالَ الْقُرْطُبِيُّ رُوِّينَاهُ بِالضَّمِّ والإسكان
قال بن دقيق العيد ثم بن سَيِّدِ النَّاسِ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَدَّ مِثْلُ هَذَا غَلَطًا
انْتَهَى
قَالَ النَّوَوِيُّ وَهَذَا الْأَدَبُ مُجْمَعٌ عَلَى اسْتِحْبَابِهِ وَلَا فَرْقَ فِيهِ بَيْنَ الْبُنْيَانِ وَالصَّحْرَاءِ
وَالْحَدِيثُ أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وبن مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ حَدِيثُ أَنَسٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ
৩ -
(পরিচ্ছেদ: শৌচাগারে প্রবেশের সময় যা বলতে হয়)[৪] এটি হলো প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করার স্থান, অর্থাৎ যখন প্রবেশের ইচ্ছা করবে।
(মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন) (হাম্মাদ বিন যাইদ থেকে), (তিনি বলেন,) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অর্থাৎ আমি আপনার আশ্রয় ও সুরক্ষা কামনা করছি। 'আওয', 'ইয়ায', 'মা'আয' এবং 'মালজা' বলতে সেই সত্তাকে বোঝায় যার নিকট কোনো ক্ষতিকর বিষয় থেকে আত্মরক্ষার জন্য আশ্রয় নেওয়া হয়। (এবং মুসাদ্দাদ বলেছেন) (আবদুল ওয়ারিস থেকে), (তিনি বলেন,) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র জিন ও জিননীদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি। সুতরাং হাম্মাদ থেকে বর্ণিত মুসাদ্দাদের শব্দসমূহ হলো: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র জিন ও জিননীদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি। আর আবদুল ওয়ারিস থেকে বর্ণিত মুসাদ্দাদের শব্দসমূহ হলো: আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র জিন ও জিননীদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি। ইমাম খাত্তাবী বলেন, 'আল-খুবুছ' শব্দটি 'বা' অক্ষরে পেশ যোগে 'আল-খাবীছ' এর বহুবচন এবং 'আল-খাবায়েছ' শব্দটি 'আল-খাবীছাহ' এর বহুবচন। এর দ্বারা তিনি পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তানদের বুঝিয়েছেন। একদল হাদিস বিশারদ 'বা' অক্ষরে সুকুন দিয়ে 'আল-খুবছ' বলেন, যা ভুল। সঠিক হলো 'বা' অক্ষরে পেশ দিয়ে 'আল-খুবুছ'।
ইবনুল আরাবী বলেন, আরবদের ভাষায় 'খুবুছ' এর মূল অর্থ হলো অপছন্দনীয় বিষয়। যদি তা কথার ক্ষেত্রে হয় তবে গালিগালাজ, যদি ধর্মের ক্ষেত্রে হয় তবে তা কুফর, যদি খাবারের ক্ষেত্রে হয় তবে তা হারাম এবং যদি পানীয়র ক্ষেত্রে হয় তবে তা ক্ষতিকর।
খাত্তাবীর আলোচনা এখানে সমাপ্ত।
ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বলেন, খাত্তাবী যা অস্বীকার করেছেন তা আবু উবাইদ কাসেম বিন সাল্লাম বর্ণনা করেছেন; আর তাঁর (আবু উবাইদের) মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বই আপনার জন্য যথেষ্ট।
কাজী আইয়াজ বলেন, অধিকাংশ উস্তাদগণের বর্ণনায় এটি সুকুন (জজম) সহকারে এসেছে।
ইমাম কুরতুবী বলেন, আমরা এটি পেশ ও সুকুন উভয় পদ্ধতিতেই বর্ণনা করেছি।
ইবনে দাকীকুল ঈদ এবং পরবর্তীতে ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বলেছেন, এই জাতীয় বিষয়কে ভুল হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
সমাপ্ত।
ইমাম নববী বলেন, এই শিষ্টাচারটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ঘরবাড়ি বা মরুভূমি—সব জায়গার ক্ষেত্রেই হুকুম সমান।
হাদিসটি বুখারী ও মুসলিম (শাইখাইন), তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও দারেমী বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এই অধ্যায়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনা।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
[5] (وَقَالَ) شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ (مَرَّةً أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقَالَ وُهَيْبٌ) عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ (فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ) بِصِيغَةِ الْأَمْرِ أَرَادَ الْمُؤَلِّفُ الْإِمَامُ رضي الله عنه بَيَانَ اخْتِلَافِ الْآخِذِينَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ فَقَالَ رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ بِلَفْظِ الْمُضَارِعِ وَزِيَادَةِ بِكَ بِكَافِ الْخِطَابِ قَبْلَهَا بَاءٌ مُوَحَّدَةٌ وَرَوَى عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ بِلَفْظِ الْجَلَالَةِ بَعْدَ أَعُوذُ وَأَسْقَطَ لَفْظَ اللَّهُمَّ قَبْلَهَا وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ مِثْلَهُمَا فَقَالَ مَرَّةً كَلَفْظِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ وَقَالَ مَرَّةً كَعَبْدِ الْوَارِثِ وَرَوَى وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بِلَفْظِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِصِيغَةِ الْأَمْرِ فَعَلَى رِوَايَةِ وُهَيْبٍ هُوَ حَدِيثٌ قَوْلِيٌّ لَا فِعْلِيٌّ أَيْ إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ أَوْ أَتَى أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ أَوْ نَحْوَهُمَا فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
قَالَ الْحَافِظُ وَقَدْ رَوَى الْعُمَرِيُّ عَنْ طَرِيقِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْمُخْتَارِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ بِلَفْظِ الْأَمْرِ قَالَ إِذَا دَخَلْتُمُ الْخَلَاءَ فَقُولُوا بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
إِسْنَادُهُ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ
انْتَهَى
(بِهَذَا الْحَدِيثِ) الْمَذْكُورِ بِقَوْلِهِ إِذَا دَخَلَ
إِلَخْ وَصَرَّحَ ثانيا اختلاف لفظ شعبة للا يضاح فَقَالَ (قَالَ) شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ (اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ) مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (وَقَالَ شُعْبَةُ وَقَالَ) عَبْدُ الْعَزِيزِ (مَرَّةً أَعُوذُ بِاللَّهِ) مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
[6] (إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ) بِضَمِّ الْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ وَشِينَيْنِ مُعْجَمَتَيْنِ هِيَ الْكُنُفُ وَمَوَاضِعُ قَضَاءِ الْحَاجَةِ وَاحِدُهَا حُشٌّ
قَالَ الْخَطَّابِيُّ وَأَصْلُ الْحُشِّ جَمَاعَةُ النَّخْلِ الْمُتَكَاثِفَةِ وَكَانُوا يَقْضُونَ حَوَائِجَهُمْ إِلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تُتَّخَذَ الْكُنُفُ فِي الْبُيُوتِ وَفِيهِ لُغَتَانِ حَشٌّ وَحُشٌّ بِالْفَتْحِ وَالضَّمِّ (مُحْتَضَرَةٌ) عَلَى الْبِنَاءِ لِلْمَجْهُولِ أَيْ تَحْضُرُهَا الْجِنُّ وَالشَّيَاطِينُ وتنتابها لقصد الأذى
والحديث أخرجه بن مَاجَهْ وَالنَّسَائِيُّ فِي السُّنَنِ الْكُبْرَى
[৫] (এবং বলেছেন) শুবা আব্দুল আজিজ থেকে (একবার ‘আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ এবং উহাইব বলেছেন) আব্দুল আজিজ থেকে (সে যেন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে) আদেশসূচক ক্রিয়ার মাধ্যমে। গ্রন্থকার ইমাম (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এখানে আব্দুল আজিজ বিন সুহাইব থেকে হাদিস গ্রহণকারীদের বর্ণনার ভিন্নতা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তাই তিনি বলেছেন: হাম্মাদ বিন যায়েদ আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন— ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে’, এখানে উত্তম পুরুষ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালবাচক শব্দ এবং এর পূর্বে ‘বা’ অব্যয়যুক্ত সম্বোধনসূচক ‘কাফ’ (আপনার নিকট) অতিরিক্ত রয়েছে। আর আব্দুল ওয়ারিস আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন— ‘আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে’, এখানে ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ শব্দের পরে মহিমান্বিত আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর পূর্বে ‘হে আল্লাহ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। শুবা আব্দুল আজিজ থেকে তাদের দুজনের মতোই বর্ণনা করেছেন; তিনি একবার হাম্মাদ বিন যায়েদের শব্দের মতো এবং অন্যবার আব্দুল ওয়ারিসের মতো বলেছেন। আর উহাইব বিন খালিদ আব্দুল আজিজ থেকে আদেশসূচক শব্দে ‘সে যেন আশ্রয় প্রার্থনা করে’ মর্মে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং উহাইবের বর্ণনা অনুযায়ী এটি একটি মৌখিক হাদিস, কর্মগত হাদিস নয়। অর্থাৎ: ‘যখন তোমাদের কেউ শৌচাগারে যাওয়ার ইচ্ছা করে বা শৌচাগারে আসে অথবা অনুরূপ কিছু করে, তখন সে যেন অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে।’
হাফিয (ইবনে হাজার) বলেছেন, আল-উমারি আব্দুল আজিজ বিন মুখতারের সূত্রে আব্দুল আজিজ বিন সুহাইব থেকে আদেশসূচক শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন: ‘যখন তোমরা শৌচাগারে প্রবেশ করবে তখন বলবে— আল্লাহর নামে শুরু করছি, আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে’
এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সঠিক
সমাপ্ত
(এই হাদিসের মাধ্যমে) যা উল্লিখিত হয়েছে তাঁর এই বাণীর দ্বারা— ‘যখন তিনি প্রবেশ করতেন’
ইত্যাদি। তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য দ্বিতীয়বার শুবার শব্দের ভিন্নতা বর্ণনা করে বলেছেন, (বলেছেন) শুবা আব্দুল আজিজ থেকে— (হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে। (এবং শুবা বলেছেন এবং বলেছেন) আব্দুল আজিজ (একবার— আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে।
[৬] (নিশ্চয়ই এই শৌচাগারসমূহ) ‘হা’ বর্ণে পেশ এবং দুই ‘শিন’ সহযোগে গঠিত; এর অর্থ শৌচাগার বা প্রয়োজন পূরণের স্থান, এর একবচন হলো ‘হুশ’।
খাত্তাবি বলেছেন, ‘হুশ’-এর মূল অর্থ হলো ঘন খেজুর বাগান; তারা ঘরে শৌচাগার নির্মাণের পূর্বে সেখানে গিয়ে প্রয়োজন পূরণ করত। শব্দটিতে দুটি উচ্চারণ বা লুগাত রয়েছে: ‘হাশ’ এবং ‘হুশ’, অর্থাৎ ‘হা’ বর্ণে জবর এবং পেশ উভয়ই হতে পারে। (উপস্থিত হওয়ার স্থান) এটি কর্মবাচ্যের শব্দ, অর্থাৎ এখানে জিন ও শয়তানরা উপস্থিত হয় এবং অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে সেখানে যাতায়াত করে।
হাদিসটি ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ তার ‘সুনানে কুবরা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
4 -
(باب كراهية استقبال القبلة عند الْحَاجَةِ الْقِبْلَةُ)[7] بِكَسْرِ الْقَافِ جِهَةٌ يُقَالُ أَيْنَ قِبْلَتُكَ أَيْ إِلَى أَيْنَ تَتَوَجَّهُ وَسُمِّيَتِ الْقِبْلَةُ قِبْلَةً لِأَنَّ الْمُصَلِّي يُقَابِلُهَا وَتُقَابِلُهُ وَالْحَاجَةُ تَعُمُّ الْغَائِطَ وَالْبَوْلَ
(أَبُو مُعَاوِيَةَ) هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ أَبُو مُعَوِّذٍ وَهُوَ غَلَطٌ (قِيلَ لَهُ) أَيْ لِسَلْمَانَ وَالْقَائِلُونَ بِهَذَا الْقَوْلِ الْمُشْرِكُونَ فَفِي رِوَايَةِ مُسْلِمٍ قَالَ لَنَا الْمُشْرِكُونَ (الْخِرَاءَةَ) قَالَ الْخَطَّابِيُّ هِيَ مَكْسُورَةُ الْخَاءِ مَمْدُودَةُ الْأَلِفِ أَدَبُ التَّخَلِّي وَالْقُعُودِ عِنْدَ الْحَاجَةِ وَأَكْثَرُ الرُّوَاةِ يَفْتَحُونَ الْخَاءَ وَلَا يَمُدُّونَ الْأَلِفَ فَيَفْحُشُ مَعْنَاهُ
انْتَهَى
وَقَالَ عِيَاضٌ بِكَسْرِ الْخَاءِ ممودود (مَمْدُودٌ) وَهُوَ اسْمُ فِعْلِ الْحَدَثِ وَأَمَّا الْحَدَثُ نَفْسُهُ فَبِغَيْرِ تَاءٍ مَمْدُودَةٍ وَبِفَتْحٍ لِلْخَاءِ
وَفِي المصباح خرىء يَخْرَأُ مِنْ بَابِ تَعِبَ إِذَا تَغَوَّطَ وَاسْمُ الْخَارِجِ خَرْءٌ مِثْلُ فَلْسٍ وَفُلُوسٍ
انْتَهَى (بِغَائِطٍ) قال ولي الْعِرَاقِيُّ ضَبَطْنَاهُ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ بِالْبَاءِ الْمُوَحَّدَةِ وَفِي مُسْلِمٍ بِاللَّامِ (أَوْ بَوْلٍ) قَالَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ فِي شَرْحِ الْعُمْدَةِ وَالْحَدِيثُ يدل عَلَى الْمَنْعِ مِنِ اسْتِقْبَالِهَا بِبَوْلٍ أَوْ غَائِطٍ وَهَذِهِ الْحَالَةُ تَتَضَمَّنُ أَمْرَيْنِ أَحَدُهُمَا بِخُرُوجِ الْخَارِجِ الْمُسْتَقْذَرِ وَالثَّانِي كَشْفُ الْعَوْرَةِ فَمِنَ النَّاسِ مَنْ قَالَ الْمَنْعُ لِلْخَارِجِ لِمُنَاسَبَتِهِ لِتَعْظِيمِ الْقِبْلَةِ عَنْهُ وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ الْمَنْعُ لِكَشْفِ الْعَوْرَةِ
وَيُبْنَى عَلَى هَذَا الْخِلَافِ خِلَافُهُمْ فِي جَوَازِ الْوَطْءِ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ مَعَ كَشْفِ الْعَوْرَةِ فَمَنْ عَلَّلَ بِالْخَارِجِ أَبَاحَهُ إِذْ لَا خَارِجَ
وَمَنْ عَلَّلَ بِالْعَوْرَةِ مَنَعَهُ (وَأَنْ لَا نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ) أَيْ أَمَرَنَا أَنْ لَا نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ أَوْ لَا زَائِدَةٌ أَيْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ وَالنَّهْيُ عَنِ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ عَلَى إِكْرَامِهَا وَصِيَانَتِهَا عَنِ الْأَقْذَارِ وَنَحْوِهَا لِأَنَّ الْيَمِينَ لِلْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالْأَخْذِ وَالْإِعْطَاءِ وَمَصُونَةٌ عَنْ مُبَاشَرَةِ الثُّفْلِ وَعَنْ مُمَارَسَةِ الْأَعْضَاءِ الَّتِي هِيَ مَجَارِي الْأَثْفَالِ وَالنَّجَاسَاتِ وَخُلِقَتِ الْيُسْرَى لِخِدْمَةِ أَسْفَلِ الْبَدَنِ لِإِمَاطَةِ مَا هُنَالِكَ مِنَ الْقَذَارَاتِ وَتَنْظِيفِ مَا يَحْدُثُ فِيهَا مِنَ الدنس وغيره
৪ -
(প্রয়োজন পূরণের সময় কিবলার দিকে মুখ করা অপছন্দনীয় হওয়ার অনুচ্ছেদ - কিবলা)[৭] ‘কাফ’ বর্ণে কাসরা (জের) সহ এর অর্থ হলো দিক। বলা হয়, আপনার কিবলা কোন দিকে? অর্থাৎ আপনি কোন দিকে মুখ করছেন। কিবলাকে ‘কিবলা’ বলা হয় কারণ সালাত আদায়কারী এর মুখোমুখি হয় এবং কিবলাও তার মুখোমুখি থাকে। আর ‘প্রয়োজন’ (হাজাত) শব্দটি মল এবং মূত্র ত্যাগ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
(আবু মুয়াবিয়া) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে খাযিম। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘আবু মুআউউইয’ এসেছে, যা ভুল। (তাঁকে বলা হলো) অর্থাৎ সালমান (রা.)-কে বলা হলো। এই কথাটি যারা বলেছিল তারা ছিল মুশরিকরা; সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে: "মুশরিকরা আমাদের বলেছিল।" (আল-খিরাআহ) খাত্তাবী বলেন, এটি ‘খা’ বর্ণে কাসরা এবং ‘আলিফ’ দীর্ঘ করে (আল-খিরাআহ) পড়তে হয়; যার অর্থ শৌচাগার ব্যবহারের আদব এবং প্রয়োজন পূরণের জন্য বসা। অধিকাংশ রাবী ‘খা’ বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে এবং আলিফ দীর্ঘ না করে পাঠ করেন, যা এর অর্থকে অশোভন করে তোলে।
সমাপ্ত।
কাযী ইয়ায বলেন, ‘খা’ বর্ণে কাসরা এবং দীর্ঘ করে পড়তে হবে; এটি মলত্যাগের ক্রিয়ার নাম। আর মল বুঝাতে হলে তা দীর্ঘ আলিফ ছাড়া এবং ‘খা’ বর্ণে ফাতহা দিয়ে ব্যবহৃত হয়।
‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে রয়েছে, ‘খারিআ ইয়াখরাউ’ শব্দটি ‘তাবিআ’ পরিচ্ছেদ থেকে ব্যবহৃত হয় যখন কেউ মলত্যাগ করে। আর যা নির্গত হয় তার নাম হলো ‘খারউন’, যেমন ‘ফালসুন’ ও ‘ফুলুসুন’।
সমাপ্ত। (মলত্যাগের মাধ্যমে) ওলী আল-ইরাকী বলেন, আমরা সুনানে আবু দাউদে এটি ‘বা’ বর্ণ দিয়ে (বি-গাইতিন) লিপিবদ্ধ করেছি, আর সহীহ মুসলিমে এটি ‘লাম’ বর্ণ দিয়ে (লিল-গাইতি) রয়েছে। (অথবা প্রস্রাবের মাধ্যমে) শায়খ তাকিউদ্দীন ‘শারহুল উমদাহ’ গ্রন্থে বলেন, এই হাদীসটি প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। এই অবস্থাটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমত, অপবিত্র বস্তু নির্গত হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, সতর উন্মুক্ত হওয়া। কিছু আলিম বলেছেন, কিবলার সম্মানে অপবিত্র বস্তু নির্গত হওয়া থেকে একে রক্ষা করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা। আবার কেউ বলেছেন, সতর উন্মুক্ত হওয়ার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা।
এই মতপার্থক্যের ভিত্তিতেই সতর উন্মুক্ত অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে সহবাস করা বৈধ কি না সে বিষয়ে ফকীহগণের মতভেদ তৈরি হয়েছে। যারা অপবিত্র বস্তু নির্গত হওয়াকে নিষেধাজ্ঞার কারণ মনে করেন, তারা একে বৈধ বলেছেন; যেহেতু এক্ষেত্রে কোনো অপবিত্র বস্তু নির্গত হচ্ছে না।
আর যারা সতর উন্মুক্ত হওয়াকে কারণ মনে করেন, তারা একে নিষেধ করেছেন। (এবং আমরা যেন ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা না করি) অর্থাৎ তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা না করি; অথবা এখানে ‘না’ শব্দটি অতিরিক্ত, অর্থাৎ তিনি আমাদের ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন। ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা করার নিষেধাজ্ঞা এসেছে ডান হাতের সম্মান রক্ষা এবং তাকে অপবিত্র বস্তু ইত্যাদি থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কেননা ডান হাত আহার, পানীয় গ্রহণ, কোনো কিছু গ্রহণ ও প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং তা মল স্পর্শ করা ও নাপাক নির্গত হওয়ার পথের সংস্পর্শ থেকে সংরক্ষিত। আর বাম হাত সৃষ্টি করা হয়েছে শরীরের নিম্নভাগের কাজ করার জন্য, সেখান থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং সেখানে সৃষ্ট ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
قَالَ الْخَطَّابِيُّ وَنَهْيُهُ عَنِ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ فِي قَوْلِ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ نَهْيُ أَدَبٍ وَتَنْزِيهٍ
وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الظَّاهِرِ إِذَا اسْتَنْجَى بِيَمِينِهِ لَمْ يُجْزِهِ كَمَا لَا يُجْزِيِهِ بِرَجِيعٍ أَوْ عَظْمٍ (وَأَنْ لَا يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ) أَيْ أَمَرَنَا أَنْ لَا يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِأَقَلَّ مِنْهُمَا
وَفِي رِوَايَةٍ لِأَحْمَدَ وَلَا نَكْتَفِي بِدُونِ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ
وَهَذَا نَصٌّ صَرِيحٌ صَحِيحٌ فِي أَنَّ اسْتِيفَاءَ ثَلَاثِ مَسَحَاتٍ لَا بُدَّ مِنْهُ
قَالَ الْخَطَّابِيُّ فِيهِ بَيَانٌ أَنَّ الِاسْتِنْجَاءَ بِالْأَحْجَارِ أَحَدُ الْمُطَهِّرِينَ وَأَنَّهُ إِذَا لَمْ يُسْتَعْمَلِ الْمَاءُ لَمْ يَكُنْ بُدٌّ مِنَ الْحِجَارَةِ أَوْ مَا يَقُومُ مَقَامَهَا وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ
وفي قوله وأن يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ الْبَيَانُ الْوَاضِحُ أَنَّ الِاقْتِصَارَ عَلَى أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ لَا يَجُوزُ وَإِنْ وَقَعَ الْإِنْقَاءُ بِمَا دُونَهَا وَلَوْ كَانَ بِهِ الْإِنْقَاءُ حَسْبُ لَمْ يَكُنْ لِاشْتِرَاطِ عَدَدِ الثَّلَاثِ مَعْنًى إِذْ كَانَ مَعْلُومًا أَنَّ الْإِنْقَاءَ يَقَعُ بِالْمَسْحَةِ الْوَاحِدَةِ وَبِالْمَسْحَتَيْنِ فَلَمَّا اشْتُرِطَ الْعَدَدُ لَفْظًا وَعُلِمَ الْإِنْقَاءُ فِيهِ مَعْنًى دَلَّ عَلَى إِيجَابِ الْأَمْرَيْنِ (أَوْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ عَظْمٍ) وَلَفْظُ أَوْ لِلْعَطْفِ لَا لِلشَّكِّ وَمَعْنَاهُ مَعْنَى الْوَاوِ أَيْ نَهَانَا عَنِ الِاسْتِنْجَاءِ بِهِمَا
وَالرَّجِيعُ هُوَ الرَّوْثُ وَالْعَذِرَةُ فَعِيلٌ بِمَعْنَى فَاعِلٍ لِأَنَّهُ رَجَعَ عَنْ حَالَتِهِ الْأُولَى بَعْدَ أَنْ كَانَ طَعَامًا أَوْ عَلَفًا وَالرَّوْثُ هُوَ رَجِيعُ ذَوَاتِ الْحَوَافِرِ
وَجَاءَ فِي رِوَايَةِ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ فِيمَا أَخْرَجَهُ الْمُؤَلِّفُ رَجِيعُ دَابَّةٍ
وَأَمَّا عَذِرَةُ الْإِنْسَانِ أَيْ غَائِطُهُ فَهِيَ دَاخِلَةٌ تَحْتَ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا رِكْسٌ قَالَ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ صَحِيحِ مُسْلِمٍ فِيهِ النَّهْيُ عَنِ الِاسْتِنْجَاءِ بِالنَّجَاسَاتِ وَنَبَّهَ صلى الله عليه وسلم بِالرَّجِيعِ عَلَى جِنْسِ النَّجَسِ وَأَمَّا الْعَظْمُ فَلِكَوْنِهِ طَعَامًا لِلْجِنِّ فَنَبَّهَ بِهِ عَلَى جَمِيعِ الْمَطْعُومَاتِ
انْتَهَى
[8] (النُّفَيْلِيُّ) بِضَمِّ النُّونِ مَنْسُوبٌ إِلَى نُفَيْلٍ الْقُضَاعِيِّ (وَلَا يَسْتَطِبْ بِيَمِينِهِ) أَيْ لَا يَسْتَنْجِي بِهَا
ইমাম খাত্তাবী (র.) বলেন, অধিকাংশ আলেমদের মতে ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা আদব শিক্ষা দেওয়া এবং পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য।
পক্ষান্তরে জনৈক যাহিরী আলেম বলেছেন, কেউ ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করলে তা যথেষ্ট হবে না, যেমনিভাবে গোবর বা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করলে তা যথেষ্ট হয় না। (এবং আমাদের কেউ যেন তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করে) অর্থাৎ তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করি।
ইমাম আহমাদ (র.)-এর এক বর্ণনায় এসেছে, আমরা যেন তিনটি পাথরের কমে তুষ্ট না হই।
এটি একটি স্পষ্ট এবং বিশুদ্ধ ভাষ্য যে, তিনবার মোছার বিষয়টি পূর্ণ করা অত্যাবশ্যক।
ইমাম খাত্তাবী (র.) বলেন, এতে এই বর্ণনা রয়েছে যে, পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। আর যদি পানি ব্যবহার করা না হয়, তবে পাথর অথবা পাথরের স্থলাভিষিক্ত কিছু ব্যবহার করা অপরিহার্য। এটিই সুফিয়ান সাওরী, মালিক বিন আনাস, শাফিয়ী এবং আহমাদ বিন হাম্বল (র.)-এর অভিমত।
তাঁর বাণী ‘আমাদের কেউ যেন তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করে’—এর মধ্যে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, তিনটির কম পাথরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ নয়, যদিও তার চেয়ে কম দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়ে যায়। যদি কেবল পরিচ্ছন্নতা অর্জনই উদ্দেশ্য হতো, তবে তিনের সংখ্যা শর্ত করার কোনো অর্থ থাকত না; কারণ এটি সুবিদিত যে একবার বা দুইবার মোছার মাধ্যমেই পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হতে পারে। সুতরাং যখন মৌখিকভাবে সংখ্যার শর্তারোপ করা হয়েছে এবং অর্থগতভাবে পরিচ্ছন্নতা অর্জনের বিষয়টি জানা গেছে, তখন এটি উভয় বিষয়ই ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। (অথবা আমরা যেন গোবর বা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করি) এখানে ‘অথবা’ শব্দটি সংযোগকারী অব্যয় হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে, সন্দেহের জন্য নয়। এর অর্থ হলো ‘এবং’, অর্থাৎ তিনি আমাদের এই উভয় বস্তু দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন।
‘রাজী’ (বিষ্ঠা) হলো গোবর ও মল। এটি ‘ফায়ীল’ ছন্দে ‘ফায়িল’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ এটি খাদ্য বা পশুখাদ্য হওয়ার পর তার আদি অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে ফিরে এসেছে। আর ‘রওস’ হলো খুরবিশিষ্ট প্রাণীর বিষ্ঠা।
গ্রন্থকার কর্তৃক সংকলিত রুওয়াইফি ইবনে সাবিত (রা.)-এর বর্ণনায় ‘চতুষ্পদ প্রাণীর বিষ্ঠা’ কথাটি এসেছে।
আর মানুষের মল তথা বিষ্ঠা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ‘নিশ্চয়ই তা অপবিত্র’—এর অন্তর্ভুক্ত। ইমাম নববী (র.) ‘শারহু সহীহ মুসলিম’-এ বলেন, এতে নাপাক বস্তু দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘বিষ্ঠা’ উল্লেখ করার মাধ্যমে সাধারণ নাপাক বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর হাড়ের বিষয়টি হলো, যেহেতু এটি জিনদের খাদ্য, তাই এর মাধ্যমে তিনি সমস্ত ভক্ষ্য বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
সমাপ্ত
[৮] (আন-নুফাইলি) নুন বর্ণে পেশ যোগে উচ্চারিত হবে, যা কুযাআ গোত্রের নুফাইল-এর দিকে সম্পর্কিত। (আর সে যেন ডান হাত দিয়ে পবিত্রতা অর্জন না করে) অর্থাৎ সে যেন তা দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করে।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وَسُمِّيَ الِاسْتِنْجَاءُ الِاسْتِطَابَةَ لِمَا فِيهِ مِنْ إِزَالَةِ النَّجَاسَةِ وَتَطْهِيرِ مَوْضِعِهَا مِنَ الْبَدَنِ يُقَالُ اسْتَطَابَ الرَّجُلُ إِذَا اسْتَنْجَى فَهُوَ مُسْتَطِيبٌ وَأَطَابَ فَهُوَ مطيب ومعنى الطيب ها هنا الطَّهَارَةُ (الرِّمَّةِ) بِكَسْرِ الرَّاءِ وَشِدَّةِ الْمِيمِ وَالرِّمَّةُ وَالرَّمِيمُ الْعَظْمُ الْبَالِي أَوِ الرِّمَّةُ جَمْعُ رَمِيمٍ أي العظام البالية
[9] (سفيان) هو بن عُيَيْنَةَ (وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا) قَالَ الْخَطَّابِيُّ هَذَا خِطَابٌ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَلِمَنْ كَانَ قِبْلَتُهُ عَلَى ذَلِكَ السَّمْتِ وَأَمَّا مَنْ كَانَتْ قِبْلَتُهُ إِلَى جِهَةِ الْغَرْبِ وَالشَّرْقِ فَإِنَّهُ لَا يُغَرِّبُ وَلَا يُشَرِّقُ (مَرَاحِيضَ) بِفَتْحِ الْمِيمِ وَبِالْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ وَالضَّادِ الْمُعْجَمَةِ جَمْعُ مِرْحَاضٍ بِكَسْرِ الْمِيمِ وَهُوَ الْبَيْتُ الْمُتَّخَذُ لِقَضَاءِ حَاجَةِ الْإِنْسَانِ
[10] (أَبِي زَيْدٍ) اسْمُهُ الْوَلِيدُ (الْقِبْلَتَيْنِ) الْكَعْبَةَ وَبَيْتَ الْمَقْدِسِ وَهَذَا قَدْ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ عَلَى مَعْنَى الِاحْتِرَامِ لبيت المقدس إذ كان هَذِهِ قِبْلَةً لَنَا وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ أَجْلِ اسْتِدْبَارِ الْكَعْبَةِ لِأَنَّ مَنِ اسْتَقْبَلَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ بِالْمَدِينَةِ فَقَدِ اسْتَدْبَرَ الْكَعْبَةَ
[11] (أَنَاخَ) أَيْ أَقْعَدَ يُقَالُ أَنَاخَ الرَّجُلُ الْجَمَلَ إِنَاخَةً (رَاحِلَتَهُ) الرَّاحِلَةُ الْمَرْكَبُ مِنَ الْإِبِلِ ذَكَرًا كَانَ أَوْ أنثى
ইস্তিঞ্জাকে 'ইস্তিতাবা' বলা হয় কারণ এতে নাপাকি দূর করা এবং শরীরের সেই স্থান পবিত্র করা হয়। বলা হয়, ব্যক্তি যখন ইস্তিঞ্জা করল তখন সে 'মুস্তাতীব' আর সে পবিত্রতা অর্জন করল অর্থাৎ সে 'মুতীব'। এখানে 'তীব' অর্থ হলো পবিত্রতা। (রিম্মাহ) রা-বর্ণে কাসরা এবং মীম-বর্ণে তাশদীদ সহকারে; রিম্মাহ এবং রামীম হলো জীর্ণ অস্থি, অথবা রিম্মাহ হলো রামীম-এর বহুবচন যার অর্থ জীর্ণ অস্থিসমূহ।
[9] (সুফিয়ান) তিনি হলেন ইবনে উয়ায়না। (তবে তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো) খাত্তাবী বলেছেন, এটি মদিনাবাসীদের জন্য এবং যাদের কিবলা এই অভিমুখে তাদের জন্য সম্বোধন। কিন্তু যাদের কিবলা পশ্চিম বা পূর্ব দিকে, তারা পশ্চিম বা পূর্ব দিকে মুখ করবে না। (মারাহীজ) মীম-বর্ণে ফাতহা, নুকতাহীন হা এবং দদ যোগে, এটি মীম-বর্ণে কাসরা যুক্ত 'মিরহায' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য নির্মিত কক্ষ।
[10] (আবু যায়েদ) তাঁর নাম ওয়ালিদ। (দুই কিবলা) কাবা এবং বায়তুল মাকদিস। এটি সম্ভবত বায়তুল মাকদিসের সম্মানের কারণে যেহেতু এটি আমাদের কিবলা ছিল, অথবা সম্ভবত কাবার দিকে পিঠ ফেরার বিষয়টির কারণে, কারণ মদিনায় যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করবে সে কাবার দিকে পিঠ করবে।
[11] (আনাখা) অর্থাৎ বসালেন। বলা হয়, ব্যক্তি উটটি বসালেন। (রাহিলাতাহু) রাহিলাহ হলো উটের মধ্য থেকে সওয়ারি, তা পুরুষ হোক বা স্ত্রী।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
5 -
(بَاب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ أَيْ فِي اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ)[12] عِنْدَ الْحَاجَةِ وَاسْتِدْبَارِهَا
(لَبِنَتَيْنِ) بِفَتْحِ اللَّامِ وَكَسْرِ الْمُوَحَّدَةِ وَفَتْحِ النُّونِ تَثْنِيَةُ لَبِنَةٍ وَهِيَ مَا تُصْنَعُ مِنَ الطِّينِ أَوْ غَيْرِهِ لِلْبِنَاءِ قَبْلَ أَنْ يُحْرَقَ
[13] (قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ بِعَامٍ) قَالَ الْخَطَّابِيُّ وَفِي هَذَا بَيَانٌ مِنْ صِحَّتِهِ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الْبُنْيَانِ وَالصَّحْرَاءِ غَيْرَ أَنَّ جَابِرًا تَوَهَّمَ أَنَّ النَّهْيَ كَانَ عَلَى الْعُمُومِ فَحَصَّلَ الْأَمْرَ فِي ذَلِكَ عَلَى النَّسْخِ
৫ - (পরিচ্ছেদ: সেই বিষয়ে অবকাশ প্রসঙ্গে, অর্থাৎ কিবলামুখী হওয়ার ক্ষেত্রে)[১২] প্রয়োজনের সময় এবং কিবলার দিকে পিঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে
(লাবিনাতাইন) 'লাম' বর্ণে ফাতহাহ, এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' বর্ণে কাসরাহ এবং 'নুন' বর্ণে ফাতহাহ যোগে; এটি 'লাবিনাহ' শব্দের দ্বিবচন। আর এটি হলো এমন বস্তু যা দগ্ধ করার পূর্বে দালান নির্মাণের উদ্দেশ্যে কাদা বা অন্য কিছু দ্বারা তৈরি করা হয় (অর্থাৎ কাঁচা ইট)।
[১৩] (তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে)। আল-খাত্তাবী বলেন: এর মাঝে সেই ব্যক্তির মতের বিশুদ্ধতার প্রমাণ রয়েছে যিনি দালানকোঠা ও মরুভূমির (উন্মুক্ত প্রান্তরের) মাঝে পার্থক্য করেছেন। তবে জাবির (রা.) ধারণা করেছিলেন যে, নিষেধাজ্ঞাটি সাধারণ ও ব্যাপক ছিল, তাই তিনি বিষয়টিকে রহিতকরণের (নাসখ) পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٨)
[14] 6 باب كيف
إلخ (عَنْ رَجُلٍ) قِيلَ هُوَ قَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَحَدُ الْأَئِمَّةِ الثِّقَاةِ وَقِيلَ هُوَ غِيَاثُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَحَدُ الضُّعَفَاءِ (وَهُوَ ضَعِيفٌ) قَالَ السُّيُوطِيُّ لَيْسَ مُرَادُهُ تَضْعِيفَ عَبْدِ السَّلَامِ لِأَنَّهُ ثِقَةٌ حَافِظٌ مِنْ رِجَالِ الصَّحِيحَيْنِ بَلْ تَضْعِيفُ مَنْ قَالَ عَنْ أَنَسٍ لِأَنَّ الْأَعْمَشَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَنَسٍ وَلِذَا قَالَ مُرْسَلٌ وَيُوجَدُ فِي بَعْضِ النُّسَخِ بَعْدَ قَوْلِ الْمُؤَلِّفِ وَهُوَ ضَعِيفٌ هَذِهِ الْعِبَارَةُ قَالَ أَبُو عِيسَى الرَّمْلِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بِهِ
انْتَهَى
قُلْتُ أَبُو عِيسَى هُوَ إِسْحَاقُ وَرَّاقُ أَبِي دَاوُدَ وَهَذِهِ إِشَارَةٌ مِنَ الرَّمْلِيِّ إِلَى أَنَّ الْحَدِيثَ اتَّصَلَ إِلَيْهِ مِنْ غَيْرِ طَرِيقِ شَيْخِهِ أَبِي دَاوُدَ فَهَذِهِ الْعِبَارَةُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي عِيسَى الرَّمْلِيِّ إلا مِنْ رِوَايَةِ اللُّؤْلُؤِيِّ عَنْ أَبِي دَاوُدَ فَلَعَلَّ بَعْضَ النُّسَّاخِ لِرِوَايَةِ اللُّؤْلُؤِيِّ اطَّلَعَ عَلَى رِوَايَةِ الرَّمْلِيِّ فَأَدْرَجَهَا فِي نُسْخَةِ اللُّؤْلُؤِيِّ وَمُرَادُهُ بِذَلِكَ أَنَّهُ لَمَّا كَانَتْ رِوَايَةُ عَبْدِ السَّلَامِ غَيْرَ مَوْصُولَةٍ أَشَارَ بِوَصْلِهَا بِرِوَايَةِ أَبِي عِيسَى الرَّمْلِيِّ
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] قال الشيخ شمس الدين بن القيم رحمه الله بَعْد قَوْل الْحَافِظ زَكِيُّ الدِّينِ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ حَدِيث غَرِيب وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ سَأَلَتْ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيث فَقَالَ حَدِيث صَحِيح
وَقَدْ أعل بن حَزْمٍ حَدِيث جَابِرٍ بِأَنَّهُ عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ وَهُوَ مَجْهُول وَلَا يُحْتَجّ بِرِوَايَةِ مَجْهُول
قال بن مَفُوزٍ أَبَانُ بْنُ صَالِحٍ مَشْهُور ثِقَة صَاحِب حَدِيث
وَهُوَ أَبَانُ بْنُ صَالِحِ بْنِ عُمَيْرٍ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ مَوْلَى لَهُمْ الْمَكِّيُّ
رَوَى عنه بن جريج وبن عجلان وبن إِسْحَاقَ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ
اِسْتَشْهَدَ بِرِوَايَتِهِ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحه عَنْ مُجَاهِدٍ وَالْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ وَعَطَاءٌ وَثَّقَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَأَبُو حَاتِمٍ وَأَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيَّانِ
[১৪] ৬ পরিচ্ছেদ: কিভাবে...
ইত্যাদি (একজন ব্যক্তি থেকে) বলা হয়েছে তিনি হলেন কাসেম ইবনে মুহাম্মদ, যিনি নির্ভরযোগ্য ইমামগণের অন্যতম। আবার বলা হয়েছে তিনি হলেন গিয়াস ইবনে ইব্রাহিম, যিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের একজন। (এবং তিনি দুর্বল) সুয়ূতী বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য আবদুস সালামকে দুর্বল বলা নয়, কারণ তিনি একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারী; বরং তাঁর উদ্দেশ্য হলো তাকে দুর্বল বলা যে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, কারণ আমাশ আনাস থেকে কোনো হাদিস শোনেননি, একারণেই তিনি একে মুরসাল বলেছেন। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থকারের উক্তি 'এবং তিনি দুর্বল'-এর পর এই ইবারতটি পাওয়া যায়: আবু ঈসা আর-রামলি বলেছেন, আমাদের নিকট আহমদ ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে আওন থেকে, তিনি আবদুস সালামের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
সমাপ্ত
আমি বলছি, আবু ঈসা হলেন আবু দাউদের লিপিকার (ওয়াররাক) ইসহাক। আর এটি রামলির পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত যে, হাদিসটি তাঁর নিকট তাঁর উস্তাদ আবু দাউদের সূত্র ব্যতিরেকে অন্য সূত্রে অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। সুতরাং এই বক্তব্যটি আবু ঈসা আর-রামলির বর্ণনা থেকে সংগৃহীত, যা আবু দাউদ থেকে বর্ণিত লু'লু'ইর বর্ণনা বহির্ভূত। সম্ভবত লু'লু'ইর বর্ণনার কোনো কোনো লিপিকার রামলির বর্ণনার সন্ধান পেয়ে তা লু'লু'ইর পাণ্ডুলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো, আবদুস সালামের বর্ণনাটি যেহেতু (আবু দাউদের নিকট) অবিচ্ছিন্ন ছিল না, তাই তিনি আবু ঈসা আর-রামলির বর্ণনার মাধ্যমে এর অবিচ্ছিন্নতা নির্দেশ করেছেন।
——
[ইবনুল কাইয়্যিমের হাশিয়া, তাহযীবুস সুনান] শায়খ শামসুদ্দীন ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) হাফেজ জাকিউদ্দীনের উক্তির পর বলেছেন: ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদিসটি গরীব। তিরমিযী আরও বলেন, আমি মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারী) এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এটি একটি সহীহ হাদিস।
ইবনে হাজম জাবেরের হাদিসটিকে এই বলে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন যে, এটি আবান ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত, অথচ তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল), আর অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণনা প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যায় না।
ইবনে মাফুয বলেছেন: আবান ইবনে সালিহ অত্যন্ত সুপরিচিত, নির্ভরযোগ্য এবং হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞ পণ্ডিত।
তিনি হলেন মক্কী বংশোদ্ভূত আবান ইবনে সালিহ ইবনে উমাইর আবু মুহাম্মদ আল-কুরাশী।
তাঁর থেকে ইবনে জুরাইজ, ইবনে আজলান, ইবনে ইসহাক এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুজাহিদ, হাসান ইবনে মুসলিম এবং আতা থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনাকে সহায়ক দলিল (শাওয়াহিদ) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু হাতিম এবং আবু যুরআ রাজী দ্বয় তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
7 -
(باب كراهية الكلام عند الخلاء)[15] (عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ) الْعِجْلِيُّ أَحَدُ الْأَئِمَّةِ وَثَّقَهُ بن مَعِينٍ وَالْعِجْلِيُّ وَتَكَلَّمَ الْبُخَارِيُّ وَأَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ وَأَحْمَدُ فِي إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ
(لَا يَخْرُجِ الرَّجُلَانِ) ذِكْرُ الرَّجُلَيْنِ فِي الْحَدِيثِ خَرَجَ مَخْرَجَ الْغَالِبِ وَإِلَّا فَالْمَرْأَتَانِ وَالْمَرْأَةُ وَالرَّجُلُ أَقْبَحُ مِنْ ذَلِكَ (يَضْرِبَانِ الْغَائِطَ) يُقَالُ ضَرَبْتُ الْأَرْضَ إِذَا أَتَيْنَا بِخَلَاءٍ وَضَرَبْتُ فِي الْأَرْضِ إِذَا سَافَرْتُ يُقَالُ وَيَضْرِبُ الْغَائِطَ إِذَا ذَهَبَ لِقَضَاءِ الْحَاجَةِ
وَالْمُرَادُ ها هنا يَقْضِيَانِ الْغَائِطَ (كَاشِفَيْنِ) مَنْصُوبٌ عَلَى الْحَالِ (يَمْقُتُ) المقت البغض ورواه بن حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ بِلَفْظِ لَا يَقْعُدِ الرَّجُلَانِ عَلَى الْغَائِطِ يَتَحَدَّثَانِ يَرَى كُلٌّ مِنْهُمَا عَوْرَةَ صَاحِبِهِ فَإِنَّ اللَّهَ يَمْقُتُ عَلَى ذَلِكَ وَسِيَاقُ اللَّفْظِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمَقْتَ عَلَى الْمَجْمُوعِ لَا عَلَى مُجَرَّدِ الْكَلَامِ (لَمْ يُسْنِدْهُ إِلَّا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ) وَعِكْرِمَةُ عَنْ يَحْيَى مُتَكَلَّمٌ فِيهِ وَمَعَ هَذَا فَهُوَ مُتَفَرِّدٌ فَلَا يَصْلُحُ إِسْنَادُهُ وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ بَعْدَ قَوْلِهِ إِلَّا عِكْرِمَةُ هَذِهِ الْعِبَارَةُ حَدَّثَنَا أَبَانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بِهَذَا يَعْنِي حَدِيثَ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ
انْتَهَى
قُلْتُ لَيْسَتْ هَذِهِ الْعِبَارَةُ لِلْمُؤَلِّفِ أَصْلًا لِأَنَّ أَبَا دَاوُدَ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يُسْنِدْهُ إِلَّا عِكْرِمَةُ فَلَمْ يَقِفْ عَلَيْهِ أَبُو دَاوُدَ مُسْنَدًا مِنْ غَيْرِ رِوَايَةِ عِكْرِمَةَ فَأَرَادَ مُلْحِقُ هَذِهِ الْعِبَارَةِ الِاسْتِدْرَاكَ عَلَى أَبِي دَاوُدَ بِأَنَّهُ قَدْ أَسْنَدَهُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ لَكِنْ لَمْ أَقِفْ عَلَى نِسْبَةِ هَذِهِ الْعِبَارَةِ لِأَحَدٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] وَالنَّسَائِيُّ وَهُوَ وَالِد مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانَ بْنِ صَالِحِ بْنِ عُمَيْرٍ الْكُوفِيِّ الَّذِي رَوَى عَنْهُ أَبُو الْوَلِيدِ وَأَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ وَحُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ وَغَيْرهمْ وَجَدُّ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُشْكَدَانَةُ شَيْخ مُسْلِمٍ وَكَانَ حَافِظًا
وَأَمَّا الْحَدِيث فَإِنَّهُ اِنْفَرَدَ بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ وَلَيْسَ هُوَ مِمَّنْ يُحْتَجّ بِهِ فِي الْأَحْكَام
فَكَيْف إِنْ يُعَارَض بِحَدِيثِهِ الْأَحَادِيث الصِّحَاح أَوْ يَنْسَخ بِهِ السُّنَن الثَّابِتَة مَعَ أَنَّ التَّأْوِيل فِي حَدِيثه مُمْكِن وَالْمَخْرَج مِنْهُ مُعْرَض
تَمَّ كَلَامه
৭ -
(মলত্যাগকালে কথা বলার অপছন্দনীয়তা বিষয়ক পরিচ্ছেদ)[১৫] (ইকরিমা বিন আম্মার) আল-ইজলি; তিনি ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে মাইন ও আল-ইজলি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে ইমাম বুখারী, আহমাদ এবং নাসাঈ ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে তাঁর বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ ইয়াস বিন সালামাহ থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনার ব্যাপারেও সমালোচনা করেছেন।
(দুই ব্যক্তি যেন না বের হয়) হাদীসে দুই ব্যক্তির উল্লেখ সাধারণ অবস্থার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে; নতুবা দুইজন নারী অথবা একজন নারী ও একজন পুরুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি ঘৃণ্য। (মলত্যাগের স্থানে গমন করে) বলা হয়ে থাকে: 'আমি জমিনে আঘাত করেছি' অর্থাৎ যখন আমরা নির্জনে আসি, এবং 'আমি জমিনে বিচরণ করেছি' অর্থাৎ যখন আমি সফর করি। বলা হয়, 'সে মলত্যাগের স্থানে যায়' যখন সে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যায়।
আর এখানে উদ্দেশ্য হলো—তারা উভয়ে মলত্যাগ করছে। (উন্মুক্ত অবস্থায়) শব্দটি অবস্থা (হাল) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে। (ক্রুদ্ধ হন) 'মাকত' শব্দের অর্থ হলো ঘৃণা ও ক্রোধ। ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "দুই ব্যক্তি যেন মলত্যাগের সময় বসে কথা না বলে, এমতাবস্থায় যে তাদের প্রত্যেকে অপরজনের সতর দেখছে; কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ এতে অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হন।" শব্দের ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত করে যে, এই ক্রোধ পুরো বিষয়টির সমষ্টির ওপর, শুধু কথার ওপর নয়। (ইকরিমা বিন আম্মার ব্যতীত অন্য কেউ এটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি) আর ইয়াহইয়া থেকে ইকরিমার বর্ণনা সমালোচিত। তদুপরি, তিনি এক্ষেত্রে একক, ফলে তাঁর সনদটি সঠিক নয়। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'ইকরিমা ব্যতীত' কথাটির পর এই বাক্যটি রয়েছে: "আবান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া আমাদের এটি শুনিয়েছেন"—অর্থাৎ ইকরিমা বিন আম্মারের হাদীসটি।
সমাপ্ত
আমি বলছি: এই বাক্যটি মূলত গ্রন্থকারের নয়। কারণ আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, ইকরিমা ব্যতীত আর কেউ এটিকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি। সুতরাং আবু দাউদ এটি ইকরিমার বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোনো মুসনাদ সূত্রে পাননি। তাই এই বাক্যটির সংযোজনকারী আবু দাউদের ওপর সংশোধনী প্রদান করতে চেয়েছেন যে, আবান বিন ইয়াজিদ আল-আত্তার এটি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমি এই উক্তিটি ইমামদের মধ্যে কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত হতে দেখিনি।
--
[ইবনুল কাইয়্যিমের টীকা, তাহযীবুস সুনান] এবং নাসাঈ; আর তিনি মুহাম্মদ বিন আবান বিন সালিহ বিন উমাইর আল-কুফীর পিতা, যাঁর নিকট থেকে আবুল ওয়ালিদ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, হুসাইন আল-জুফি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি মুসলিমের উস্তাদ আবু আবদুর রহমান মুশকদানার দাদা ছিলেন এবং তিনি হাফিজ ছিলেন।
আর হাদীসটির কথা হলো, এটি মুহাম্মদ বিন ইসহাক এককভাবে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি এমন কেউ নন যাঁর বর্ণনা দিয়ে বিধানের ক্ষেত্রে দলিল পেশ করা যায়।
সুতরাং তাঁর হাদীসের মাধ্যমে কীভাবে সহীহ হাদীসসমূহের বিরোধিতা করা যেতে পারে কিংবা সাব্যস্ত সুন্নাতসমূহকে রহিত করা সম্ভব? অথচ তাঁর হাদীসের ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব এবং তা থেকে উত্তরণের পথ স্পষ্ট।
তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
8 -
(باب في الرجل)[16] إلخ (فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ) الْجَوَابَ
وَفِي هَذَا دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّ الْمُسَلِّمَ فِي هَذَا الْحَالِ لَا يَسْتَحِقُّ جَوَابًا وَهَكَذَا فِي رِوَايَةِ مُسْلِمٍ وَأَصْحَابِ السُّنَنِ مِنْ طَرِيقِ الضَّحَّاكِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ بن عُمَرَ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فلم يرد عليه وكذا في بن مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ
وَأَمَّا فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ ثابت العبدي وبن الهاد كلاهما عن نافع عن بن عمر التي أخرجه الْمُؤَلِّفُ فِي بَابِ التَّيَمُّمِ فَفِيهَا أَنَّ السَّلَامَ كَانَ بَعْدَ الْبَوْلِ
وَفِي سَائِرِ الرِّوَايَاتِ أَنَّ السلام كان حالة البول ولهذه الروايات ترجيحة (وروى عن بن عُمَرَ وَغَيْرِهِ) كَأَبِي الْجَهْمِ بْنِ الْحَارِثِ وَوَصَلَ الْمُؤَلِّفُ هَاتَيْنِ الرِّوَايَتَيْنِ فِي بَابِ التَّيَمُّمِ فِي الْحَضَرِ
[17] (أَوْ قَالَ عَلَى طَهَارَةٍ) هَذَا شَكٌّ مِنَ الْمُهَاجِرِ أَوْ مِمَّنْ دُونَهُ وَفِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّهُ يَنْبَغِي لِمَنْ سُلِّمَ عَلَيْهِ فِي تِلْكَ الْحَالِ أَنْ يَدَعَ الرَّدَّ حَتَّى يَتَوَضَّأَ أَوْ يَتَيَمَّمَ ثُمَّ يَرُدَّ وَهَذَا إِذَا لَمْ يَخْشَ فَوْتَ الْمُسَلِّمِ وَأَمَّا إِذَا خَشِيَ فَوْتَهُ فَالْحَدِيثُ لَا يَدُلُّ عَلَى الْمَنْعِ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَمَكَّنَ مِنَ الرَّدِّ بَعْدَ أَنْ تَوَضَّأَ أَوْ تَيَمَّمَ عَلَى اخْتِلَافِ الرِّوَايَتَيْنِ فَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ تَرْكُهُ لِذَلِكَ طَلَبًا لِلْأَشْرَفِ وَهُوَ الرَّدُّ حَالَ الطَّهَارَةِ
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] وَهُوَ لَوْ صَحَّ حِكَايَة فِعْل لَا عُمُوم لَهَا وَلَا يُعْلَم هَلْ كَانَ فِي فَضَاءٍ أَوْ بُنْيَان وَهَلْ كَانَ لِعُذْرٍ مِنْ ضِيق مَكَان وَنَحْوه أَوْ اِخْتِيَارًا فَكَيْف يُقَدَّم عَلَى النُّصُوص الصَّحِيحَة الصَّرِيحَة بِالْمَنْعِ فَإِنْ قِيلَ فَهَبْ أَنَّ هَذَا الْحَدِيث مَعْلُول فَمَا يَقُولُونَ فِي حَدِيث عِرَاكٍ عَنْ عَائِشَةَ ذُكِرَ عِنْد
৮ -
(ব্যক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়)[১৬] ইত্যাদি (অতঃপর তিনি তার উত্তর প্রদান করলেন না) অর্থাৎ সালামের উত্তর দিলেন না।
এতে এই বিষয়ের দলিল রয়েছে যে, এই অবস্থায় (প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণকালে) সালাম প্রদানকারী ব্যক্তি উত্তর পাওয়ার হকদার নয়। একইভাবে ইমাম মুসলিম ও সুনান গ্রন্থকারদের বর্ণনায় যাহহাকের সূত্রে নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন; অতঃপর সেই ব্যক্তি তাঁকে সালাম প্রদান করলে তিনি তার উত্তর দেননি। একইভাবে ইবনে মাজাহ-তে আবু হুরায়রা (রা.) ও জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.)-এর হাদিসেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
আর মুহাম্মদ বিন সাবিত আল-আবদি ও ইবনুল হাদ — উভয়ই নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে যে বর্ণনা করেছেন, যা গ্রন্থকার (ইমাম আবু দাউদ) তায়াম্মুম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, তাতে বর্ণিত হয়েছে যে সালাম প্রদান করা হয়েছিল প্রস্রাব করার পর।
তবে অন্যান্য সকল বর্ণনায় এসেছে যে, সালাম প্রদান করা হয়েছিল প্রস্রাব করা অবস্থায়, আর এই বর্ণনাগুলোই অধিকতর অগ্রগণ্য। ইবনে উমর (রা.) এবং আবু জাহম বিন হারিস (রা.) প্রমুখ থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে; এবং গ্রন্থকার এই দুটি বর্ণনা ‘স্বস্থানে অবস্থানরত অবস্থায় তায়াম্মুম’ অধ্যায়ে সংযুক্ত করেছেন।
[১৭] (অথবা তিনি বললেন: পবিত্র থাকা অবস্থায়) এটি মুহাজির অথবা তাঁর পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সংশয়। এতে এই নির্দেশনা রয়েছে যে, যাকে এই অবস্থায় সালাম দেওয়া হয়েছে, তার উচিত উত্তর প্রদান স্থগিত রাখা যতক্ষণ না সে অজু বা তায়াম্মুম করে, অতঃপর সে উত্তর প্রদান করবে। এটি তখন প্রযোজ্য যখন সালাম প্রদানকারী ব্যক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে। আর যদি তাঁর চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে হাদিসটি উত্তর প্রদানে নিষেধাজ্ঞার ওপর দলিল হয় না; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অজু বা তায়াম্মুম করার পর উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছিলেন — বর্ণনার ভিন্নতা অনুযায়ী। সুতরাং হতে পারে তিনি অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থা অর্থাৎ পবিত্র অবস্থায় উত্তর প্রদানের উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিক উত্তর দেওয়া ত্যাগ করেছিলেন।
--
[ইবনুল কাইয়্যিমের হাশিয়া, তাহজিবুস সুনান] আর তা (বর্ণনাটি) যদি বিশুদ্ধও হয়, তবে সেটি একটি বিশেষ কাজের বিবরণ মাত্র যার কোনো ব্যাপকতা নেই। এবং এটিও জানা নেই যে, তা কি খোলা ময়দানে ছিল নাকি দালানের ভেতরে? আর তা কি স্থান সংকীর্ণতার মতো কোনো ওজরের কারণে ছিল নাকি স্বেচ্ছায়? সুতরাং কীভাবে একে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বর্ণিত বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট দলিলের (নস) ওপর প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব? যদি বলা হয়, ধরে নিলাম এই হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত, তবে আয়েশা (রা.) থেকে ইরাকের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে তারা কী বলবেন যাতে উল্লেখ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
9 - [18] باب في الرجل
إلخ (الْفَأْفَاءَ) لَقَبُ خَالِدٍ يُعْرَفُ بِهِ (عَنِ الْبَهِيِّ) بِفَتْحِ الْبَاءِ الْمُوَحَّدَةِ وَكَسْرِ الْهَاءِ ثُمَّ التَّحْتَانِيَّةِ الْمُشَدَّدَةِ هُوَ لَقَبٌ وَاسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَشَّارٍ (عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ) وَأَخْرَجَ التِّرْمِذِيُّ مِنْ حَدِيثِ عَلِيٍّ كَانَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا فِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّهُ إِذَا كَانَ الْحَدَثُ الْأَصْغَرُ لَا يَمْنَعُهُ عَنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَهُوَ أَفْضَلُ الذِّكْرِ كَانَ جَوَازُ مَا عَدَاهُ مِنَ الْأَذْكَارِ بِالطَّرِيقِ الْأَوْلَى وَكَذَلِكَ حَدِيثُ عَائِشَةَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ مُشْعِرٌ بِوُقُوعِ الذِّكْرِ مِنْهُ حَالَ الْحَدَثِ الْأَصْغَرِ لِأَنَّهُ مِنْ جُمْلَةِ الْأَحْيَانِ الْمَذْكُورَةِ
وَالْجَمْعُ بَيْنَ هَذَا الْبَابِ وَالْبَابِ الَّذِي قَبْلَهُ بِاسْتِحْبَابِ الطَّهَارَةِ لِذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَالرُّخْصَةِ فِي تَرْكِهَا
والحديث أخرجه مسلم والترمذي وبن ماجه
([19]
باب الخاتم)إلخ (هذا حديث) أي حديث همام عن بن جُرَيْجٍ (مُنْكَرٌ) الْمُنْكَرُ مَا رَوَاهُ الضَّعِيفُ مُخَالِفًا لِلثِّقَةِ (وَإِنَّمَا يُعْرَفُ) بِالْبِنَاءِ لِلْمَجْهُولِ هَذَا الْحَدِيثُ (عن بن جُرَيْجٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ) وَهَذَا الْحَدِيثُ هُوَ الْمَعْرُوفُ وَالْمَعْرُوفُ مُقَابِلُ الْمُنْكَرِ لِأَنَّهُ إِنْ وَقَعَتْ مُخَالَفَةُ الْحَدِيثِ القوي
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نَاسًا يَكْرَهُونَ أَنْ يَسْتَقْبِلُوا بِفُرُوجِهِمْ الْقِبْلَة فَقَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم أو قد فَعَلُوهَا اِسْتَقْبِلُوا بِمَقْعَدَتِي الْقِبْلَة
৯ - [১৮] পরিচ্ছেদ: জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে...
ইত্যাদি। (আল-ফাফফা) হলো খালিদের লকব বা উপাধি, যার মাধ্যমে তিনি পরিচিত ছিলেন। (আল-বাহি) শুরুতে এক নুকতাযুক্ত বা-এর উপর ফাতহাহ এবং এরপর হা-এর নিচে কাসরাহ এবং সবশেষে তাশদীদযুক্ত ইয়া-সহ এটি একটি উপাধি। তাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ ইবনে বাশশার। (তাঁর সকল সময়ে) ইমাম তিরমিযী আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বড় অপবিত্রতা (জানাবাত) অবস্থা ছাড়া সর্বাবস্থায় কুরআন পাঠ করতেন। এতে এই দলিল পাওয়া যায় যে, যদি ছোট অপবিত্রতা (হাদাসে আসগার) তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে বিরত না রাখে—যা শ্রেষ্ঠ জিকির—তবে কুরআন ছাড়া অন্যান্য জিকিরের বৈধতা তো আরও অগ্রগণ্য হবে। অনুরূপভাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল অবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন"—এটি নির্দেশ করে যে তিনি ছোট অপবিত্র অবস্থায়ও জিকির করতেন; কারণ এটি উল্লিখিত 'সকল সময়ের' অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিচ্ছেদ এবং পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের মধ্যে সমন্বয় হলো—আল্লাহর জিকিরের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা মুস্তাহাব (উত্তম), আর পবিত্রতা ছাড়া জিকির করা অনুমোদিত বা বৈধ।
হাদীসটি ইমাম মুসলিম, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
([১৯]
আংটি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) ইত্যাদি। (এই হাদীসটি) অর্থাৎ ইবনে জুরাইজ থেকে হাম্মামের বর্ণিত হাদীসটি হলো (মুনকার)। মুনকার হলো সেই বর্ণনা যা কোনো দুর্বল রাবী নির্ভরযোগ্য বা সিকাহ রাবীর বিপরীত বর্ণনা করেন। (আর এটি কেবল পরিচিত) কর্মবাচ্যের ক্রিয়া হিসেবে—এই হাদীসটি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি যিয়াদ বিন সা’দ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বলে পরিচিত। এই হাদীসটিই হলো 'মা'রুফ' বা সুবিদিত। আর মা'রুফ হলো মুনকারের বিপরীত; কেননা যদি কোনো শক্তিশালী হাদীসের বিপরীত বর্ণনা পাওয়া যায়...
――
[ইবনুল কাইয়্যিমের হাশিয়া, তাহযীবুস সুনান] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন যে, কিছু লোক তাদের লজ্জাস্থান কিবলার দিকে ফেরানোকে অপছন্দ করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তারা কি সত্যিই এমন করে? তোমরা আমার বসার জায়গাটিকে (শৌচাগার) কিবলার দিকে মুখ করে নির্মাণ করো।"
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
مَعَ الضَّعِيفِ فَالرَّاجِحُ يُقَالُ لَهُ الْمَعْرُوفُ وَمُقَابِلُهُ يُقَالُ لَهُ الْمُنْكَرُ
قُلْتُ وَالتَّمْثِيلُ بِهِ لِلْمُنْكَرِ إنما هو على مذهب بن الصَّلَاحِ مِنْ عَدَمِ الْفَرْقِ بَيْنَ الْمُنْكَرِ وَالشَّاذِّ
وَقَالَ السَّخَاوِيُّ فِي فَتْحِ الْمُغِيثِ وَكَذَا قَالَ النَّسَائِيُّ إِنَّهُ غَيْرُ مَحْفُوظٍ
انْتَهَى
وَهَمَّامٌ ثِقَةٌ احْتَجَّ بِهِ أَهْلُ الصَّحِيحِ وَلَكِنَّهُ خَالَفَ النَّاسَ وَلَمْ يُوَافَقْ أَبُو دَاوُدَ عَلَى الْحُكْمِ عَلَيْهِ بِالنَّكَارَةِ فَقَدْ قَالَ مُوسَى بْنُ هَارُونَ لَا أدفع أن يكونا حديثين ومال إليه بن حبان فصححهما معا ويشهد له أن بن سَعْدٍ أَخْرَجَ بِهَذَا السَّنَدِ أَنَّ أَنَسًا نَقَشَ فِي خَاتَمِهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ
قَالَ فَكَانَ إذا أراد الخلاء وضعه لاسيما وَهَمَّامٌ لَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ بَلْ تَابَعَهُ عَلَيْهِ يحيى بن المتوكل عن بن جُرَيْجٍ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ وَلَكِنَّهُ مُتَعَقَّبٌ فَإِنَّهُمَا لَمْ يُخَرِّجَا لِكُلٍّ مِنْهُمَا عَلَى انْفِرَادِهِ
وَقَوْلُ التِّرْمِذِيِّ إِنَّهُ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ فِيهِ نَظَرٌ وَبِالْجُمْلَةِ فَقَدْ قَالَ شَيْخُنَا إِنَّهُ لا علة له عندي إلا تدليس بن جُرَيْجٍ فَإِنْ وُجِدَ عَنْهُ التَّصْرِيحُ بِالسَّمَاعِ فَلَا مَانِعَ مِنَ الْحُكْمِ بِصِحَّتِهِ فِي نَقْدِي
انْتَهَى وقد روى بن عَدِيٍّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَيْشُونَ حَدَّثَنَا أبو قتادة عن بن جريج عن بن عَقِيلٍ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُ خَاتَمَهُ فِي يَمِينِهِ
وَقَالَ كَانَ يَنْزِعُ خَاتَمَهُ إِذَا أَرَادَ الْجَنَابَةَ وَلَكِنْ أَبُو قَتَادَةَ وَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَاقِدٍ الْحَرَّانِيُّ مَعَ كَوْنِهِ صدوقا كان يخطىء وَلِذَا أَطْلَقَ غَيْرُ وَاحِدٍ تَضْعِيفَهُ وَقَالَ الْبُخَارِيُّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ تَرَكُوهُ بَلْ قَالَ أَحْمَدُ أَظُنُّهُ كَانَ يُدَلِّسُ وَأَوْرَدَهُ شَيْخُنَا فِي الْمُدَلِّسِينَ
وَقَالَ إِنَّهُ مُتَّفَقٌ عَلَى ضَعْفِهِ وَوَصَفَهُ أَحْمَدُ بِالتَّدْلِيسِ
انْتَهَى فَرِوَايَتُهُ لَا تُعَلِّي رِوَايَةَ هَمَّامٍ
انْتَهَى
وَقَالَ السُّيُوطِيُّ فِي مِرْقَاةِ الصُّعُودِ أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ طَرِيقِ يَحْيَى بْنِ الْمُتَوَكِّلِ الْبَصْرِيِّ عَنِ بن جُرَيْجٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَبِسَ خَاتَمًا نَقْشُهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ فَكَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ وَضَعَهُ
وَقَالَ وَهَذَا شَاهِدٌ ضَعِيفٌ
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] فَالْجَوَاب أَنَّ هَذَا الْحَدِيث لَا يَصِحّ وَإِنَّمَا هُوَ مَوْقُوف عَلَى عَائِشَةَ
حَكَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي كِتَاب الْعِلَل عَنْ الْبُخَارِيِّ
وَقَالَ بَعْض الْحُفَّاظ هَذَا حَدِيث لَا يَصِحّ وَلَهُ عِلَّة لَا يُدْرِكهَا إِلَّا الْمُعْتَنُونَ بِالصِّنَاعَةِ الْمُعَانُونَ عَلَيْهَا
وَذَلِكَ أَنَّ خَالِدَ بْنَ أَبِي الصَّلْتِ لَمْ يَحْفَظ مَتْنه وَلَا أَقَامَ إِسْنَاده
خَالَفَهُ فِيهِ الثِّقَة الثَّبْت صَاحِب عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ الْمُخْتَصّ بِهِ الضابط لحديثه جعفر بن رَبِيعَةَ الْفَقِيه فَرَوَاهُ عَنْ عِرَاكٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تُنْكِر ذَلِكَ
فَبَيَّنَ أَنَّ الْحَدِيث لِعِرَاكٍ عَنْ عُرْوَةَ وَلَمْ يَرْفَعهُ وَلَا يُجَاوِز بِهِ عَائِشَةَ
وَجَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ هُوَ الْحُجَّة فِي عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ مَعَ صِحَّة الْأَحَادِيث عَنْ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَشُهْرَتهَا بِخِلَافِ ذَلِكَ
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي
كِتَاب الْمَرَاسِيل
عَنْ الْأَثْرَمِ قَالَ سَمِعْت أَبَا عَبْدِ اللَّهِ وَذَكَرَ حَدِيث خَالِدِ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيث فَقَالَ مُرْسَل
فقلت له
দুর্বল রাবীর বিপরীতে যখন অধিক গ্রহণযোগ্য কোনো রাবীর বর্ণনা থাকে, তখন অধিক গ্রহণযোগ্য বর্ণনাটিকে 'মারূফ' (সুপরিচিত) বলা হয় এবং এর বিপরীত বর্ণনাটিকে 'মুনকার' (প্রত্যাখ্যাত) বলা হয়।
আমি বলছি, এর মাধ্যমে 'মুনকার' এর উদাহরণ পেশ করা ইবনে সালাহ-এর মাযহাব বা মতানুসারে হয়েছে, যিনি 'মুনকার' ও 'শায' এর মধ্যে পার্থক্য করেন না।
সাখাবী 'ফাতহুল মুগীস'-এ এবং ইমাম নাসাঈও অনুরুপ বলেছেন যে, এটি 'গাইরে মাহফূয' (অসংরক্ষিত)।
সমাপ্ত।
আর হাম্মাম নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী, সহীহ সংকলনকারীগণ যার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তবে তিনি অন্যান্যদের বিরোধিতা করেছেন। আর মুনকার হওয়ার বিষয়ে তার ওপর যে হুকুম আবু দাউদ লাগিয়েছেন, তাতে সবাই একমত হননি। মূসা ইবনে হারুন বলেছেন, আমি এ দুটি পৃথক হাদিস হতে পারে বলে মনে করি। ইবনে হিব্বানও এ দিকেই ঝুঁকেছেন এবং তিনি উভয় হাদিসকেই সহীহ বলেছেন। এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ইবনে সাদ এই সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রা.)-এর আংটিতে খোদাই করা ছিল 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'।
তিনি বলেন, যখন তিনি শৌচাগারে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন সেটি রেখে দিতেন। বিশেষ করে হাম্মাম এই বর্ণনায় একক নন, বরং ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল ইবনে জুরাইজের সূত্রে তার অনুসরণ করেছেন। হাকিম একে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ বলেছেন, কিন্তু এতে আপত্তি রয়েছে। কেননা তারা উভয়ে (বুখারী ও মুসলিম) তাদের প্রত্যেকের একক বর্ণনা গ্রহণ করেননি।
তিরমিযীর উক্তি—এটি 'হাসান সহীহ গারীব'—এর মাঝে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সারকথা হলো, আমাদের শায়খ বলেছেন, আমার মতে ইবনে জুরাইজের তাদলীস ছাড়া এতে আর কোনো ত্রুটি (ইল্লাত) নেই। যদি তার পক্ষ থেকে সরাসরি শ্রবণের (সামা') স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে আমার গবেষণায় এটি সহীহ হিসেবে গণ্য হতে কোনো বাধা নেই।
সমাপ্ত। ইবনে আদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে সাদ আল-হাররানী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আইশুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু কাতাদা ইবনে জুরাইজের সূত্রে ইবনে আকীল অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীলের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি (নবীজি) জানাবাতের (অপবিত্রতা দূর করার গোসল) ইচ্ছা করলে আংটি খুলে রাখতেন। কিন্তু আবু কাতাদা তথা আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ আল-হাররানী সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও ভুল করতেন। এজন্য অনেকে তাকে স্পষ্টভাবে দুর্বল বলেছেন। বুখারী বলেছেন, তিনি 'মুনকারুল হাদীস' (তার হাদিস বর্জনীয়), এমনকি তারা তাকে পরিত্যাগ করেছেন। বরং আহমদ বলেছেন, আমার মনে হয় তিনি তাদলীস করতেন। আর আমাদের শায়খ তাকে মুদাল্লিসীনদের (তাদলীসকারী) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তিনি বলেছেন, তার দুর্বলতার বিষয়ে সবাই একমত এবং আহমদ তাকে তাদলীসের গুণে গুণান্বিত করেছেন।
সমাপ্ত। তাই তার বর্ণনা হাম্মামের বর্ণনাকে শক্তিশালী করতে পারে না।
সমাপ্ত।
সুয়ূতী 'মিরকাতুস সুউদ'-এ বলেছেন, বায়হাকী ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আল-বসরীর সূত্রে ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি আংটি পরতেন যাতে খোদাই করা ছিল 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'। যখন তিনি শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন তা রেখে দিতেন।
তিনি বলেছেন, এটি একটি দুর্বল সাক্ষী (শাহিদ)।
--
[ইবনুল কায়্যিমের টীকা, তাহযীবুস সুনান]উত্তর হলো, এই হাদিসটি সহীহ নয়; বরং এটি আয়েশা (রা.)-এর ওপর মওকূফ (তাঁর বক্তব্য)।
তিরমিযী এটি 'কিতাবুল ইলাল'-এ বুখারীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন।
জনৈক হাফেজ বলেছেন, এটি এমন একটি হাদিস যা সহীহ নয় এবং এতে এমন সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) রয়েছে যা হাদিস শাস্ত্রের নিপুণ বিশেষজ্ঞ ও এ বিষয়ে সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না।
আর তা হলো, খালিদ ইবনে আবিল সালত এর মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখতে পারেননি এবং এর সনদও সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারেননি।
তার বিরোধিতা করেছেন নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ইরাক ইবনে মালিকের বিশেষ সহচর এবং তার হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভুল জাফর ইবনে রবীআহ আল-ফাকীহ। তিনি ইরাক হতে, তিনি উরওয়াহ হতে, তিনি আয়েশা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আয়েশা) তা অস্বীকার করতেন।
সুতরাং এটা স্পষ্ট হলো যে, হাদিসটি ইরাক হতে উরওয়াহ-এর সূত্রে বর্ণিত এবং তিনি এটিকে মারফূ (নবীজির দিকে সম্বন্ধযুক্ত) করেননি এবং এটি আয়েশা (রা.) পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
জাফর ইবনে রবীআহ হলেন ইরাক ইবনে মালিকের বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দলিল, বিশেষ করে যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে সহীহ ও প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ এর বিপরীত।
আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতেম তাঁর
কিতাবুল মারাসীল-এ
আসরামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমদ) খালিদ ইবনে আবিল সালত কর্তৃক বর্ণিত ইরাক ইবনে মালিকের সূত্রে আয়েশা (রা.) হতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই হাদিসটি সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, এটি মুরসাল।
অতঃপর আমি তাঁকে বললাম:
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
قال الحافظ بن حجر وقد توزع أَبُو دَاوُدَ فِي حُكْمِهِ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ بِالنَّكَارَةِ مَعَ أَنَّ رِجَالَهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ
وَالْجَوَابُ أَنَّهُ حَكَمَ بِذَلِكَ لِأَنَّ هَمَّامًا انْفَرَدَ بِهِ عن بن جُرَيْجٍ وَهَمَّامٌ وَإِنْ كَانَ مِنْ رِجَالِ الصَّحِيحِ فَإِنَّ الشَّيْخَيْنِ لَمْ يُخَرِّجَا مِنْ رِوَايَةِ هَمَّامٍ عن بن جُرَيْجٍ شَيْئًا لِأَنَّهُ لَمَّا أَخَذَ عَنْهُ كَانَ بالبصرة والذين سمعوا من بن جُرَيْجٍ بِالْبَصْرَةِ فِي حَدِيثِهِمْ خَلَلٌ مِنْ قِبَلِهِ والخلل في هذا الحديث من قبل بن جُرَيْجٍ دَلَّسَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِإِسْقَاطِ الْوَاسِطَةِ وَهُوَ زِيَادُ بْنُ سَعْدٍ وَوَهِمَ هَمَّامٌ فِي لَفْظِهِ عَلَى مَا جَزَمَ بِهِ أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ وَهَذَا وَجْهُ حُكْمِهِ عَلَيْهِ بِكَوْنِهِ مُنْكَرًا قَالَ وَحُكْمُ النَّسَائِيِّ عَلَيْهِ بِكَوْنِهِ غَيْرَ مَحْفُوظٍ أَصْوَبُ فَإِنَّهُ شَاذٌّ فِي الْحَقِيقَةِ إِذِ الْمُنْفَرِدُ بِهِ مِنْ شَرْطِ الصَّحِيحِ لَكِنَّهُ بِالْمُخَالَفَةِ صَارَ حَدِيثُهُ شاذ
قَالَ وَأَمَّا مُتَابَعَةُ يَحْيَى بْنِ الْمُتَوَكِّلِ لَهُ عن بن جُرَيْجٍ فَقَدْ تُفِيدُ لَكِنَّ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ قَالَ فِيهِ لَا أَعْرِفُهُ أَيْ أَنَّهُ مَجْهُولُ العدالة وذكره بن حبان في الثقاة
وقال كان يخطىء
قَالَ عَلَى أَنَّ لِلنَّظَرِ مَجَالًا فِي تَصْحِيحِ حَدِيثِ هَمَّامٍ لِأَنَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّ أَصْلَهُ حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ فِي اتِّخَاذِ الْخَاتَمِ وَلَا مَانِعَ أَنْ يَكُونَ هَذَا مَتْنًا آخَرَ غَيْرَ ذَلِكَ الْمَتْنِ وَقَدْ مَالَ إِلَى ذَلِكَ بن حِبَّانَ فَصَحَّحَهُمَا جَمِيعًا وَلَا عِلَّةَ لَهُ عِنْدِي إلا تدليس بن جُرَيْجٍ فَإِنْ وُجِدَ عَنْهُ التَّصْرِيحُ بِالسَّمَاعِ فَلَا مَانِعَ مِنَ الْحُكْمِ بِصِحَّتِهِ
انْتَهَى كَلَامُ الْحَافِظِ في نكته على بن الصَّلَاحِ
انْتَهَى
(إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ) هَذَا الْحَدِيثُ أَخْرَجَهُ الْمُؤَلِّفُ فِي بَابِ مَا جَاءَ فِي تَرْكِ الْخَاتَمِ مِنْ كِتَابِ الْخَاتَمِ وَلَفْظُهُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عن بن شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ رَأَى فِي يَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ يَوْمًا وَاحِدًا فَصَنَعَ النَّاسُ فَلَبِسُوا وَطَرَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَطَرَحَ النَّاسُ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ وَزِيَادُ بْنُ سعد وشعيب وبن مُسَافِرٍ كُلُّهُمْ قَالَ مِنْ وَرِقٍ (وَالْوَهْمُ فِيهِ) أَيْ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فِي إِتْيَانِ هَذِهِ الْجُمْلَةِ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ وَضَعَ خَاتَمَهُ (مِنْ هَمَّامٍ وَلَمْ يَرْوِهِ) حَدِيثَ أَنَسٍ بِهَذِهِ الْجُمْلَةِ (إِلَّا هَمَّامٌ) وَقَدْ خَالَفَ هَمَّامٌ جَمِيعَ الرُّوَاةِ عن بن جُرَيْجٍ لِأَنَّهُ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ الْمَخْزُومِيُّ وَأَبُو عَاصِمٍ وَهِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَمُوسَى بن طارق كلهم عن بن جُرَيْجٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ رَأَى فِي يَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فَاضْطَرَبَ النَّاسُ الْخَوَاتِيمَ فَرَمَى بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَا أَلْبَسُهُ أَبَدًا وهذا هو المحفوظ والصحيح عن بن جُرَيْجٍ
قَالَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي كِتَابِ الْعِلَلِ
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] عِرَاكُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْت عَائِشَةَ فَأَنْكَرَهُ وَقَالَ عِرَاكُ بْنُ مَالِكٍ مِنْ أَيْنَ سَمِعَ عَائِشَةَ مَا لَهُ وَلِعَائِشَةَ إِنَّمَا يَرْوِيه عَنْ عُرْوَةَ هَذَا خَطَأ
قَالَ لِي مَنْ رَوَى هَذَا قُلْت حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ
قَالَ رَوَاهُ غَيْر وَاحِد عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ وَلَيْسَ فِيهِ سَمِعْت
وَقَالَ غَيْر وَاحِد أَيْضًا عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ لَيْسَ فِيهِ سمعت
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, ইমাম আবু দাউদ এই হাদিসের বর্ণনাকারীরা সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী হওয়া সত্ত্বেও এটি ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত) হওয়ার হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করেছেন।
এর উত্তর হলো, তিনি এই হুকুম দিয়েছেন কারণ হাম্মাম একাকী ইবনে জুরাইজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাম যদিও সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তবুও শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) ইবনে জুরাইজ থেকে হাম্মামের কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি যখন ইবনে জুরাইজ থেকে হাদিস গ্রহণ করেছিলেন তখন তিনি বসরায় ছিলেন। আর যারা বসরায় ইবনে জুরাইজ থেকে হাদিস শুনেছেন, তাদের হাদিসে ইবনে জুরাইজের পক্ষ থেকে ত্রুটি রয়েছে। আর এই হাদিসের ত্রুটিটি ইবনে জুরাইজের পক্ষ থেকেই; তিনি মধ্যস্থতাকারী জিয়াদ বিন সাদ-কে বাদ দিয়ে যুহরি থেকে ‘তাদলিস’ (অস্পষ্টতা) করেছেন। আবু দাউদ ও অন্যান্যদের নিশ্চিত মত অনুযায়ী হাম্মাম এর শব্দে ভুল করেছেন এবং এটিই হাদিসটিকে ‘মুনকার’ হিসেবে গণ্য করার কারণ। তিনি আরও বলেন, ইমাম নাসাঈর এটিকে ‘গাইরে মাহফুজ’ (অসংরক্ষিত) বলা অধিকতর সঠিক। কেননা এটি প্রকৃতপক্ষে ‘শাজ’ (ব্যতিক্রমী); কারণ এর একক বর্ণনাকারী সহিহ হাদিসের শর্ত পূরণ করলেও বিরোধিতার কারণে তার হাদিসটি ‘শাজ’ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত হওয়ার ক্ষেত্রে ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিলের সমর্থন (মুতাবায়াত) ফলপ্রসূ হতে পারত, কিন্তু ইয়াহইয়া ইবনে মাইন তার সম্পর্কে বলেছেন: "আমি তাকে চিনি না," অর্থাৎ তিনি নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে অজ্ঞাত। তবে ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি ভুল করতেন।
তিনি আরও বলেন, হাম্মামের হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করে যে, এর মূল ভিত্তি হলো আনাস (রা.)-এর আংটি পরিধান সংক্রান্ত যুহরির হাদিসটি। তবে এটি সেই বর্ণনা ছাড়া অন্য কোনো স্বতন্ত্র মূল পাঠ (মতন) হওয়া অসম্ভব নয়। ইবনে হিব্বান এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন এবং দুটিকেই সহিহ সাব্যস্ত করেছেন। আমার মতে ইবনে জুরাইজের ‘তাদলিস’ ছাড়া এতে অন্য কোনো ত্রুটি নেই। যদি তার সরাসরি শ্রবণের (সামা‘) বিষয়টি স্পষ্ট পাওয়া যায়, তবে এটি সহিহ হওয়ার হুকুম দিতে কোনো বাধা নেই।
ইবনে সালাহ-এর ওপর হাফেজের ‘নুকাত’ (সমালোচনা) এখানেই শেষ হলো।
সমাপ্ত।
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার আংটি তৈরি করেছিলেন) এই হাদিসটি গ্রন্থকার ‘কিতাবুল খাতাম’-এর ‘আংটি ত্যাগ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে’ পরিচ্ছেদে সংকলন করেছেন। এর পাঠ হলো: মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একটি রূপার আংটি দেখেছিলেন। এরপর লোকজনও আংটি তৈরি করে পরিধান করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি ফেলে দিলেন, ফলে লোকজনও তাদের আংটি ফেলে দিল। আবু দাউদ বলেন, এটি যুহরি, জিয়াদ বিন সাদ, শুয়াইব এবং ইবনে মুসাফির সবাই বর্ণনা করেছেন এবং তারা সবাই ‘রূপার তৈরি’ কথাটি উল্লেখ করেছেন।
(এবং এতে ভুল হয়েছে) অর্থাৎ এই হাদিসে “তিনি যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তার আংটি খুলে রাখতেন” এই বাক্যটি আসার ক্ষেত্রে হাম্মামের পক্ষ থেকে ভুল হয়েছে। আর (তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি) অর্থাৎ আনাস (রা.)-এর হাদিস এই বাক্যসহ হাম্মাম ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি। হাম্মাম ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনাকারী সকল রাবির বিরোধিতা করেছেন। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস আল-মাখজুমি, আবু আসিম, হিশাম ইবনে সুলাইমান এবং মুসা বিন তারিক—তারা সবাই ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি জিয়াদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে স্বর্ণের আংটি দেখেছিলেন। তখন মানুষও স্বর্ণের আংটি তৈরি করল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ফেলে দিলেন এবং বললেন: “আমি এটি কখনো পরিধান করব না।” ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সংরক্ষিত এবং সহিহ বর্ণনা।
ইমাম দারা কুতনি তার ‘কিতাবুল ইলাল’-এ এটি উল্লেখ করেছেন।
--
[ইবনুল কাইয়্যিমের হাশিয়া, তাহজিবুস সুনান] ইরাক ইবনে মালিক বলেন: “আমি আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি।” তখন তিনি (ইমাম) এটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ইরাক ইবনে মালিক কোত্থেকে আয়েশার নিকট থেকে শুনলেন? আয়েশার সাথে তার কী সম্পর্ক? তিনি মূলত এটি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন। এটি একটি ভুল।
তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: “এটি কে বর্ণনা করেছেন?” আমি বললাম: “হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, খালিদ আল-হায্ঝা থেকে।”
তিনি বললেন: “অনেকেই খালিদ আল-হায্ঝা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে ‘আমি শুনেছি’ কথাটি নেই।”
তিনি আরও বলেন: “অনেকেই হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন, সেখানেও ‘আমি শুনেছি’ কথাটি নেই।”
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
11 -
(بَاب الِاسْتِبْرَاءِ مِنْ الْبَوْلِ)[20] وَهُوَ أَنْ يَسْتَفْرِغَ بقية البول وينقي موضعه ومجراه حتى يبرءهما يُقَالُ اسْتَبْرَأْتُ مِنَ الْبَوْلِ أَيْ تَنَزَّهْتُ عَنْهُ
(وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ) وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ ثُمَّ قَالَ بَلَى أَيْ وَإِنَّهُ لَكَبِيرٌ وَهَكَذَا فِي الْأَدَبِ الْمُفْرَدِ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ مَنْصُورٍ فَقَالَ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ وَإِنَّهُ لَكَبِيرٌ وَهَذَا مِنْ زِيَادَاتِ رِوَايَةِ مَنْصُورٍ عَلَى الْأَعْمَشِ وَلَمْ يُخَرِّجْهُمَا مُسْلِمٌ
قَالَ الْخَطَّابِيُّ مَعْنَاهُ أَنَّهُمَا لَمْ يُعَذَّبَا فِي أَمْرٍ كَانَ يَكْبُرُ عَلَيْهِمَا أَوْ شَقَّ فِعْلُهُ لَوْ أراد أَنْ يَفْعَلَاهُ وَهُوَ التَّنَزُّهُ مِنَ الْبَوْلِ وَتَرْكُ النَّمِيمَةِ وَلَمْ يُرِدْ أَنَّ الْمَعْصِيَةَ فِي هَاتَيْنِ الْحَالَتَيْنِ لَيْسَتْ بِكَبِيرٍ وَأَنَّ الذَّنْبَ فِيهِمَا هَيِّنٌ سَهْلٌ (أَمَّا هَذَا فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ البول
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] فَإِنْ قِيلَ قَدْ رَوَى مُسْلِمٌ فِي صَحِيحه حَدِيثًا عَنْ عِرَاكٍ عَنْ عَائِشَةَ
قِيلَ الْجَوَاب أَنَّ أَحْمَدَ وَغَيْره خَالَفَهُ فِي ذَلِكَ وَبَيَّنُوا أَنَّهُ لَمْ يَسْمَع مِنْهَا
وَقَالَ فِي آخِر بَاب التَّكَشُّف عِنْد الْحَاجَة
بَعْد قَوْل الْحَافِظِ زَكِيِّ الدِّينِ (وَالَّذِي قَالَهُ التِّرْمِذِيُّ هُوَ الْمَشْهُور)
وَقَالَ حَنْبَلٌ ذَكَرْت لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي أَحْمَدَ حَدِيث الْأَعْمَشِ عَنْ أَنَسٍ فَقَالَ لَمْ يَسْمَع الْأَعْمَشُ مِنْ أَنَسٍ وَلَكِنْ رَآهُ زَعَمُوا أَنَّ غِيَاثًا حَدَّثَ الْأَعْمَشَ بِهَذَا عَنْ أَنَسٍ
ذَكَرَهُ الْخَلَّالُ فِي الْعِلَل
وَقَالَ الخلال أَيْضًا حَدَّثَنَا مُهَنَّا قَالَ سَأَلْت أَحْمَدَ لِمَ كَرِهْت مَرَاسِيل الْأَعْمَشِ قَالَ كَانَ لَا يُبَالِي عَمَّنْ حَدَّثَ
قُلْت كَانَ لَهُ رَجُل ضَعِيف سِوَى يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ نَعَمْ كَانَ يُحَدِّث عَنْ غِيَاثِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ
১১ -
(পেশাব থেকে ইস্তিবরা বা পবিত্রতা অর্জন পরিচ্ছেদ)[২০] আর তা হলো পেশাবের অবশিষ্ট অংশ বের করে দেওয়া এবং এর নির্গমন স্থান ও পথকে এমনভাবে পরিষ্কার করা যাতে উভয়টিই পুত-পবিত্র হয়ে যায়। বলা হয়, 'আমি পেশাব থেকে ইস্তিবরা করেছি', অর্থাৎ আমি তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করেছি।
(এবং তাদের এমন কোনো বড় বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না); বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, নিশ্চয়ই এটি একটি বড় গুনাহ'। অনুরূপভাবে 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ আবদ ইবনে হুমাইদ-এর সূত্রে মানসুরের বর্ণনায় এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন, 'তাদের কোনো বড় বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না, অথচ নিশ্চয়ই এটি বড় গুনাহ'। এটি আ'মাশ-এর বর্ণনার ওপর মানসুরের বর্ণনার অতিরিক্ত অংশ, যা ইমাম মুসলিম তাঁর গ্রন্থে সংকলন করেননি।
খাত্তাবী (র.) বলেন, এর অর্থ হলো, তাদের এমন কোনো কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল না যা পালন করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল বা যা করতে চাইলে তাদের জন্য দুঃসাধ্য হতো, আর তা হলো পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন এবং চোগলখুরি পরিত্যাগ করা। তিনি এটি বোঝাতে চাননি যে এই দুই ক্ষেত্রে পাপাচার বড় কোনো বিষয় নয় কিংবা এই গুনাহ দুটি তুচ্ছ বা সহজ বিষয়। (আর এই ব্যক্তি তো পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না...)
--
[ইবনুল কাইয়্যিমের হাশিয়া, তাহযীবুস সুনান]যদি প্রশ্ন করা হয় যে, মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইরাক-এর সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তবে উত্তর হবে এই যে, ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা এ বিষয়ে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি (ইরাক) তাঁর (আয়েশা) থেকে হাদিস শোনেননি।
এবং তিনি 'প্রয়োজন পূরণের সময় সতর উন্মোচন' অধ্যায়ের শেষে হাফেজ জাকিউদ্দিনের বক্তব্যের পর বলেন, (তিরমিযী যা বলেছেন তা-ই প্রসিদ্ধ)।
হাম্বল বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে আ'মাশের সূত্রে আনাস (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, আ'মাশ আনাস (রা.) থেকে শোনেননি, তবে তাঁকে দেখেছিলেন। তাঁরা মনে করেন যে, গিয়াস নামক এক ব্যক্তি আ'মাশকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে এই হাদিস বর্ণনা করেছিলেন।
এটি আল-খাল্লাল 'আল-ইলাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আল-খাল্লাল আরও বলেন, মুহান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি আহমাদকে জিজ্ঞেস করলাম কেন আপনি আ'মাশের মুরসাল বর্ণনাগুলো অপছন্দ করেন? তিনি বললেন, তিনি কার থেকে বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করতেন না।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়াযীদ আর-রাক্কাশি এবং ইসমাইল ইবনে মুসলিম ছাড়াও কি তাঁর অন্য কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী ছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি গিয়াস ইবনে ইব্রাহিমের সূত্রেও হাদিস বর্ণনা করতেন...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قَالَ الْخَطَّابِيُّ فِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّ الْأَبْوَالَ كُلَّهَا نَجِسَةٌ مُنَجِّسَةٌ مِنْ مَأْكُولِ اللَّحْمِ وَغَيْرِ مَأْكُولِهِ لِوُرُودِ اللَّفْظِ بِهِ مُطْلَقًا عَلَى سَبِيلِ الْعُمُومِ وَالشُّمُولِ
انْتَهَى قُلْتُ حَمْلُهُ عَلَى الْعُمُومِ فِي بَوْلِ جَمِيعِ الْحَيَوَانِ فِيهِ نظر لأن بن بَطَّالٍ قَالَ فِي شَرْحِ الْبُخَارِيِّ أَرَادَ الْبُخَارِيُّ أَنَّ الْمُرَادَ بِقَوْلِهِ فِي رِوَايَةِ الْبَابِ كَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ الْبَوْلِ بَوْلُ الْإِنْسَانِ لَا بَوْلُ سَائِرِ الْحَيَوَانِ فَلَا يَكُونُ فِيهِ حُجَّةٌ لِمَنْ حَمَلَهُ عَلَى الْعُمُومِ فِي بَوْلِ جَمِيعِ الحيوان
قال الحافظ بن حجر وكأنه أراد بن بَطَّالٍ رَدًّا عَلَى الْخَطَّابِيِّ
وَمُحَصَّلُ الرَّدِّ أَنَّ الْعُمُومَ فِي رِوَايَةِ مِنَ الْبَوْلِ أُرِيدَ بِهِ الْخُصُوصُ لِقَوْلِهِ مِنْ بَوْلِهِ وَالْأَلِفُ وَاللَّامُ بَدَلٌ مِنَ الضَّمِيرِ لَكِنْ يُلْتَحَقُ بِبَوْلِهِ بَوْلُ مَنْ هُوَ فِي مَعْنَاهُ مِنَ النَّاسِ لِعَدَمِ الْفَارِقِ
قَالَ وَكَذَا غَيْرُ الْمَأْكُولِ وَأَمَّا الْمَأْكُولُ فَلَا حُجَّةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لِمَنْ قَالَ بِنَجَاسَةِ بَوْلِهِ وَلِمَنْ قَالَ بِطَهَارَتِهِ حُجَجٌ أُخْرَى
وَقَالَ الْقُرْطُبِيُّ قَوْلُهُ مِنَ الْبَوْلِ اسْمٌ مُفْرَدٌ لَا يَقْضِي الْعُمُومَ وَلَوْ سُلِّمَ فَهُوَ مَخْصُوصٌ بِالْأَدِلَّةِ الْمَقْضِيَّةِ بِطَهَارَةِ بَوْلِ مَا يُؤْكَلُ
انْتَهَى
(يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ) هِيَ نَقْلُ الْكَلَامِ عَلَى جِهَةِ الْفَسَادِ وَالشَّرِّ (بِعَسِيبٍ رَطْبٍ) بِفَتْحِ الْعَيْنِ وَكَسْرِ السِّينِ الْمُهْمَلَتَيْنِ وَهُوَ الْجَرِيدُ وَالْغُصْنُ مِنَ النَّخْلِ يُقَالُ لَهُ الْعِثْكَالُ (فَشَقَّهُ) أَيِ الْعَسِيبَ (بِاثْنَيْنِ) هَذِهِ الْبَاءُ زَائِدَةٌ وَاثْنَيْنِ مَنْصُوبٌ عَلَى الْحَالِ (لَعَلَّهُ) الْهَاءُ ضَمِيرُ الشَّأْنِ (يُخَفَّفُ) الْعَذَابُ (عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا) الْعُودَانِ
قَالَ الْخَطَّابِيُّ هُوَ مَحْمُولٌ عَلَى أَنَّهُ دَعَا لَهُمَا بِالتَّخْفِيفِ مُدَّةَ بَقَاءِ النَّدَاوَةِ لَا أَنَّ فِي الْجَرِيدَةِ مَعْنًى يَخُصُّهُ وَلَا أَنَّ فِي الرَّطْبِ مَعْنًى لَيْسَ فِي الْيَابِسِ
انْتَهَى
قُلْتُ وَيُؤَيِّدُهُ مَا ذَكَرَهُ مُسْلِمٌ فِي آخِرِ الْكِتَابِ فِي الْحَدِيثِ الطَّوِيلِ حَدِيثِ جَابِرٍ فِي صَاحِبَيِ الْقَبْرَيْنِ فَأُجِيبَتْ شَفَاعَتِي أَنْ يُرْفَعَ ذَلِكَ عَنْهُمَا مَا دَامَ الْعُودَانِ رَطْبَيْنِ والله أعلم
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ الْحَاجَة أَبْعَد سَأَلْته عَنْ غِيَاثِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ كَانَ كَذُوبًا
وَقَالَ فِي آخِر بَاب الْخَاتَم يَكُون فِيهِ ذِكْر اللَّه يَدْخُل بِهِ الْخَلَاء بَعْد قَوْل الْحَافِظ زَكِيِّ الدِّينِ وَإِنَّمَا يَكُون غَرِيبًا كَمَا قَالَ التِّرْمِذِيُّ وَاللَّهُ عز وجل أَعْلَم قُلْت هَذَا الحديث رواه همام وهو ثقة عن بن جُرَيْجٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ
قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي
كِتَاب الْعِلَل
رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وهدبة بن خالد عن همام عن بن جُرَيْجٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَخَالَفَهُمْ عَمْرُو بْنُ عاصم فرواه عن همام عن بن جُرَيْجٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ كَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاء مَوْقُوفًا وَلَمْ يُتَابَع عَلَيْهِ
وَرَوَاهُ يَحْيَى بْنُ الْمُتَوَكِّلِ وَيَحْيَى بْنُ الضُّرَيْسِ عن بن جُرَيْجٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ نَحْو قَوْل سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ وَمَنْ تَابَعَهُ عَنْ هَمَّامٍ
وَرَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَرْثِ الْمَخْزُومِيُّ وَأَبُو عَاصِمٍ وَهِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَمُوسَى بْنُ طَارِقٍ عن بن جُرَيْجٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ رَأَى فِي يَدِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ ذَهَب فَاضْطَرَبَ النَّاس الْخَوَاتِيم فَرَمَى بِهِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَا أَلْبَسهُ أَبَدًا وهذا هو المحفوظ والصحيح عن بن جُرَيْجٍ
اِنْتَهَى كَلَام الدَّارَقُطْنِيِّ
وَحَدِيث يَحْيَى بْنِ الْمُتَوَكِّل الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ حديث يحيى بن المتوكل عن بن جُرَيْجٍ بِهِ ثُمَّ قَالَ هَذَا شَاهِد ضَعِيف
وَإِنَّمَا ضَعْفه لِأَنَّ يَحْيَى هَذَا قَالَ فِيهِ الإمام أحمد واهي الحديث وقال بن مَعِينٍ لَيْسَ بِشَيْءٍ وَضَعَّفَهُ الْجَمَاعَة كُلّهمْ
وَأَمَّا حَدِيث يَحْيَى بْنِ الضُّرَيْسِ فَيَحْيَى هَذَا ثِقَة فَيُنْظَر الْإِسْنَاد إِلَيْهِ
وَهَمَّامٌ وَإِنْ
ইমাম খাত্তাবী (র.) বলেন, এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে সকল প্রকার প্রস্রাবই অপবিত্র এবং নাপাককারী—চাই তা ভক্ষণযোগ্য পশুর হোক বা অভক্ষণযোগ্য পশুর; কারণ হাদিসের শব্দসমূহ ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতার ভিত্তিতে নিঃশর্তভাবে এসেছে।
বক্তব্য সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলি, সকল প্রাণীর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে একে ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ ইবনে বাত্তাল (র.) বুখারি শরিফের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, ইমাম বুখারি এই অধ্যায়ের বর্ণনায় ‘প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না’ কথাটি দ্বারা কেবল মানুষের প্রস্রাব উদ্দেশ্য নিয়েছেন, অন্য কোনো প্রাণীর প্রস্রাব নয়। সুতরাং যারা একে সকল প্রাণীর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে সাধারণ বা ব্যাপক অর্থ প্রদান করেন, তাদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই।
হাফেজ ইবনে হাজার (র.) বলেন, সম্ভবত ইবনে বাত্তাল (র.) ইমাম খাত্তাবীর মতখণ্ডন করতে চেয়েছেন।
এই খণ্ডনের সারকথা হলো, ‘প্রস্রাব হতে’ বর্ণনায় যে ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ অন্য রেওয়ায়েতে ‘তাহার প্রস্রাব হতে’ শব্দ এসেছে। এখানে ‘আলিফ-লাম’ মূলত সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য না থাকায় অন্যান্য মানুষের প্রস্রাবও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, অনুরূপভাবে ভক্ষণ অযোগ্য পশুর প্রস্রাবও (নাপাক)। কিন্তু ভক্ষণযোগ্য পশুর প্রস্রাব নাপাক হওয়ার বিষয়ে এই হাদিসে কোনো দলিল নেই। বরং যারা একে পবিত্র বলেন, তাদের নিকট অন্যান্য প্রমাণাদি রয়েছে।
ইমাম কুরতুবী (র.) বলেন, ‘প্রস্রাব হতে’ কথাটি একটি একবচন বিশেষ্য, যা ব্যাপকতা বা সাধারণ অর্থ প্রদান করে না। আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে ভক্ষণযোগ্য পশুর প্রস্রাব পবিত্র হওয়ার স্বপক্ষে বিদ্যমান দলিলসমূহের কারণে একে বিশেষায়িত বা সুনির্দিষ্ট ধরা হবে।
বক্তব্য সমাপ্ত।
(চোগলখুরি করে বেড়াত) ‘নামিমাহ’ বা চোগলখুরি হলো ফাসাদ বা অনিষ্ট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের নিকট স্থানান্তর করা। (খেজুরের একটি তাজা ডাল) ‘আসিব’ অর্থ খেজুরের ডাল বা শাখা, একে ‘ইতকাল’ও বলা হয়। (সেটিকে বিদীর্ণ করলেন) অর্থাৎ ডালটিকে। (দুই ভাগে) এখানে ‘বি’ বর্ণটি অতিরিক্ত এবং ‘ইসনাইনি’ শব্দটি অবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (সম্ভবত) এখানে ‘হা’ সর্বনামটি বিষয়টি বর্ণনার জন্য। (তাদের আজাব লাঘব করা হবে) (যতক্ষণ ডাল দুটি শুকিয়ে না যায়)।
ইমাম খাত্তাবী (র.) বলেন, এর অর্থ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ভেজা ভাব বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তাদের আজাব লাঘবের দোয়া করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, ওই খেজুরের ডাল বা তাজা ডালে বিশেষ কোনো গুণ রয়েছে যা শুকনো ডালে নেই।
বক্তব্য সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলি, ইমাম মুসলিম কিতাবের শেষে জাবির (রা.) হতে বর্ণিত যে দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তা এই মতকে সমর্থন করে। সেখানে রয়েছে— ‘আমার সুপারিশ কবুল করা হয়েছে যেন ডাল দুটি তাজা থাকা পর্যন্ত তাদের আজাব লাঘব করা হয়।’ আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--
[ইবনুল কাইয়্যিমের হাশিয়া, তাহজীবুস সুনান]আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেতেন, দূরে চলে যেতেন। আমি গিয়াস ইবনে ইবরাহিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, সে বড় মিথ্যাবাদী ছিল।
আংটি অধ্যায়ের শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যাতে আল্লাহর জিকির রয়েছে তা নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা সম্পর্কে হাফেজ জাকিউদ্দীন বলেন, এটি কেবল তখনই বিরল হবে যেমনটি ইমাম তিরমিজি বলেছেন। আল্লাহ তাআলা অধিক জ্ঞাত। আমি বলি, এই হাদিসটি হাম্মাম বর্ণনা করেছেন—যিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবি—ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি আনাস (রা.) হতে।
ইমাম দারা কুতনী তার
‘কিতাবুল ইলাল’-এ বলেছেন
সাঈদ ইবনে আমির ও হুদবাহ ইবনে খালিদ এটি হাম্মাম হতে, তিনি ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.)। কিন্তু আমর ইবনে আসিম তাদের বিরোধিতা করে হাম্মাম হতে এটি ‘মাওকুফ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার এই মতের কোনো অনুসারী নেই।
আর ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল ও ইয়াহইয়া ইবনে দুরুয়াইস ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি আনাস (রা.) হতে সাঈদ ইবনে আমির ও তার অনুসারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস আল-মাখজুমি, আবু আসিম, হিশাম ইবনে সুলাইমান ও মুসা ইবনে তারিক ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি জিয়াদ ইবনে সাদ হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সা.)-এর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখেছিলেন। অতঃপর লোকেরা আংটি ধারণ শুরু করলে নবী (সা.) তা নিক্ষেপ করেন এবং বলেন— আমি এটি আর কখনো পরিধান করব না। ইবনে জুরাইজ হতে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে এটিই সংরক্ষিত ও সঠিক।
দারা কুতনীর বক্তব্য সমাপ্ত।
ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল যে হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা ইমাম বায়হাকী ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিলের সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেন— এটি একটি দুর্বল সাক্ষী।
এর দুর্বলতার কারণ হলো ইয়াহইয়া সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (র.) বলেছেন যে সে ‘ওয়াহিয়ুল হাদিস’ (অতি দুর্বল) এবং ইবনে মাইন (র.) বলেছেন— সে কিছুই না। সকল মুহাদ্দিসই তাকে দুর্বল বলেছেন।
পক্ষান্তরে ইয়াহইয়া ইবনে দুরুয়াইস একজন নির্ভরযোগ্য রাবি, তাই তার সনদটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আর হাম্মাম যদিও...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
[21] (يَسْتَتِرُ مَكَانَ يَسْتَنْزِهُ) كَذَا فِي أَكْثَرِ الرِّوَايَاتِ بِمُثَنَّاتَيْنِ مِنْ فَوْقُ الْأُولَى مَفْتُوحَةٌ وَالثَّانِيَةُ مَكْسُورَةٌ وفي رواية بن عساكر يستبرىء بِمُوَحَّدَةٍ سَاكِنَةٍ مِنَ الِاسْتِبْرَاءِ فَعَلَى رِوَايَةِ الْأَكْثَرِ معنى
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] كَانَ ثِقَة صَدُوقًا اِحْتَجَّ بِهِ الشَّيْخَانِ فِي الصَّحِيح فَإِنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ كَانَ لَا يُحَدِّث عَنْهُ وَلَا يَرْضَى حِفْظه
قَالَ أَحْمَدُ مَا رَأَيْت يَحْيَى أَسْوَأ رَأْيًا مِنْهُ فِي حجاج يعني بن أرطاة وبن إِسْحَاقَ وَهَمَّامٌ لَا يَسْتَطِيع أَحَد أَنَّ يُرَاجِعهُ فِيهِمْ
وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ وَسُئِلَ عَنْ هَمَّامٍ كِتَابه صَالِح وَحِفْظه لَا يُسَاوِي شَيْئًا
وَقَالَ عَفَّانَ كَانَ هَمَّامٌ لَا يَكَاد يَرْجِع إِلَى كِتَابه وَلَا يَنْظُر فِيهِ وَكَانَ يُخَالِف فَلَا يَرْجِع إِلَى كِتَاب وَكَانَ يَكْرَه ذَلِكَ
قَالَ ثُمَّ رَجَعَ بَعْد فَنَظَرَ فِي كُتُبه فقال يا عفان كنا نخطىء كَثِيرًا فَنَسْتَغْفِر اللَّه عز وجل
وَلَا رَيْب أَنَّهُ ثِقَة صَدُوق وَلَكِنَّهُ قَدْ خُولِفَ فِي هَذَا الْحَدِيث فَلَعَلَّهُ مِمَّا حَدَّثَ بِهِ مِنْ حِفْظه فَغَلِطَ فِيهِ كَمَا قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارَقُطْنِيّ
وَكَذَلِكَ ذَكَرَ الْبَيْهَقِيُّ أَنَّ الْمَشْهُور عن بن جُرَيْجٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم اِتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِق ثُمَّ أَلْقَاهُ
وَعَلَى هَذَا فَالْحَدِيث شَاذّ أَوْ مُنْكَر كَمَا قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَغَرِيب كَمَا قَالَ التِّرْمِذِيُّ
فَإِنْ قِيلَ فَغَايَة مَا ذَكَرَ فِي تَعْلِيله تَفَرُّد هَمَّامٍ بِهِ وَجَوَاب هَذَا مِنْ وَجْهَيْنِ أَحَدهمَا أَنَّ هَمَّامًا لَمْ يَنْفَرِد بِهِ كَمَا تَقَدَّمَ
الثَّانِي أَنَّ هَمَّامًا ثِقَة وَتَفَرُّد الثِّقَة لَا يُوجِب نَكَارَة الْحَدِيث
فَقَدْ تَفَرَّدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ بِحَدِيثِ النَّهْي عَنْ بَيْع الْوَلَاء وَهِبَته وَتَفَرَّدَ مَالِكٌ بِحَدِيثِ دُخُول النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم مَكَّة وَعَلَى رَأْسه الْمِغْفَر
فَهَذَا غَايَته أَنْ يَكُون غَرِيبًا كَمَا قَالَ التِّرْمِذِيُّ وَأَمَّا أَنْ يَكُون مُنْكَرًا أَوْ شَاذًّا فَلَا
قِيلَ التَّفَرُّد نَوْعَانِ تَفَرُّد لَمْ يُخَالَف فِيهِ مَنْ تَفَرَّدَ بِهِ كَتَفَرُّدِ مَالِكٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ بِهَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ وَأَشْبَاه ذَلِكَ
وَتَفَرُّد خُولِفَ فِيهِ الْمُتَفَرِّد كَتَفَرُّدِ هَمَّامٍ بِهَذَا الْمَتْن عَلَى هَذَا الْإِسْنَاد فَإِنَّ النَّاس خَالَفُوهُ فِيهِ وَقَالُوا إِنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم اِتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِق الْحَدِيث فهذا هو المعروف عن بن جُرَيْجٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ فَلَوْ لَمْ يُرْوَ هَذَا عن بن جُرَيْجٍ وَتَفَرَّدَ هَمَّامٌ بِحَدِيثِهِ لَكَانَ نَظِير حَدِيث عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ وَنَحْوه
فَيَنْبَغِي مُرَاعَاة هَذَا الْفَرْق وَعَدَم إِهْمَاله
وَأَمَّا مُتَابَعَة يَحْيَى بن المتوكل فضعيفة وحديث بن الضُّرَيْسِ يُنْظَر فِي حَاله وَمَنْ أَخْرَجَهُ
فَإِنْ قِيلَ هَذَا الْحَدِيث كَانَ عِنْد الزُّهْرِيِّ عَلَى وُجُوه كَثِيرَة كُلّهَا قَدْ رُوِيَتْ عَنْهُ فِي قِصَّة الْخَاتَم فَرَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَلَّادِ بْنِ مُسَافِرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ كَرِوَايَةِ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ هَذِهِ أَنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم اِتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِق وَرَوَاهُ يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ كَانَ خَاتَم النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم مِنْ وَرِق فَصّه حَبَشِيّ وَرَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ وَطَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى وَيَحْيَى بْنُ نَصْرِ بْنِ حَاجِبٍ عَنْ يُونُسَ عن
[২১] ('ইয়াসতানজিহু'-এর স্থলে 'ইয়াসতাতিরু') অধিকাংশ বর্ণনায় এভাবেই এসেছে—দুটি 'তা' যোগে, প্রথমটি জবরযুক্ত এবং দ্বিতীয়টি জেরযুক্ত। ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় এসেছে 'ইয়াসতাবরিউ'—একটি সাকিন 'বা' যোগে, যা 'ইসতিবরা' থেকে উদ্ভূত। অধিকাংশের বর্ণনা অনুযায়ী অর্থ হলো—
--
[ইবনুল কাইয়িমের টীকা, তাহযীবুস সুনান] তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন, শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁদের সহীহ গ্রন্থে তাঁর থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন। তবে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না এবং তাঁর মুখস্থ শক্তির ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না।
আহমাদ বলেন, আমি ইয়াহইয়ার দৃষ্টিতে হাজ্জাজ (অর্থাৎ ইবনে আরতাহ), ইবনে ইসহাক এবং হাম্মামের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কাউকে দেখিনি; তাদের ব্যাপারে কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পেত না।
ইয়াজিদ ইবনে জুরাই'কে হাম্মাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাঁর কিতাব সঠিক, তবে তাঁর মুখস্থ শক্তি কোনো কাজের নয়।
আফফান বলেন, হাম্মাম প্রায় কখনোই তাঁর কিতাব দেখতেন না বা তাঁর দিকে ফিরে তাকাতেন না। তিনি (অন্যদের) বিরোধিতা করতেন কিন্তু কিতাবের দিকে ফিরে তাকাতেন না এবং এটি তিনি অপছন্দ করতেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে তিনি তাঁর কিতাবসমূহ দেখেন এবং বলেন, হে আফফান! আমরা অনেক ভুল করতাম, তাই আমরা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী, কিন্তু এই হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করা হয়েছে। সম্ভবত এটি তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ভুল করেছেন, যেমনটি আবু দাউদ, নাসাঈ এবং দারা কুতনী বলেছেন।
একইভাবে বায়হাকী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে জুরাইজ সূত্রে জিয়াদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি রূপার আংটি গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে তা নিক্ষেপ করেন—এটিই প্রসিদ্ধ।
এই ভিত্তিতে হাদীসটি 'শায' (বিচ্ছিন্ন) অথবা 'মুনকার' (অস্বীকৃত), যেমনটি আবু দাউদ বলেছেন; এবং 'গরীব' (একক), যেমনটি তিরমিযী বলেছেন।
যদি বলা হয়, এর ত্রুটি হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মূল কারণ হলো হাম্মামের একাকী বর্ণনা করা; তবে এর উত্তর দুভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, হাম্মাম এটি বর্ণনায় একাকী নন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, হাম্মাম নির্ভরযোগ্য এবং একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর একাকী বর্ণনা হাদীসটিকে 'মুনকার' করে তোলে না।
কেননা আবদুল্লাহ ইবনে দীনার 'ওয়ালা' বিক্রি ও দান করার নিষেধাজ্ঞার হাদীসটি একাকী বর্ণনা করেছেন। একইভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথায় লৌহবর্ম পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশের হাদীসটি মালেক একাকী বর্ণনা করেছেন।
কাজেই এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো এটি 'গরীব' (একক), যেমনটি তিরমিযী বলেছেন; কিন্তু এটি 'মুনকার' বা 'শায' নয়।
বলা হয়েছে যে, একাকী বর্ণনা (তাফাররুদ) দুই প্রকার: প্রথমত এমন একাকী বর্ণনা যেখানে বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা হয়নি, যেমন এই দুটি হাদীসে মালেক ও আবদুল্লাহ ইবনে দীনারের একাকী বর্ণনা বা এই জাতীয় অন্যান্য।
দ্বিতীয়ত এমন একাকী বর্ণনা যেখানে বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা হয়েছে, যেমন এই সনদে এই মতনটি বর্ণনায় হাম্মামের একাকীত্ব। কারণ লোকেরা তাঁর বিরোধিতা করেছে এবং তারা বর্ণনা করেছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি রূপার আংটি গ্রহণ করেছিলেন... (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)। এটিই ইবনে জুরাইজ সূত্রে যুহরী থেকে প্রসিদ্ধ। যদি ইবনে জুরাইজ থেকে এটি বর্ণিত না হতো এবং হাম্মাম তাঁর হাদীস বর্ণনায় একাকী হতেন, তবে এটি আবদুল্লাহ ইবনে দীনারের হাদীস বা তদ্রূপ হাদীসের সমপর্যায়ভুক্ত হতো।
সুতরাং এই পার্থক্যটি বিবেচনা করা উচিত এবং একে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
আর ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিলের সমর্থন (মুতাবায়াত) দুর্বল। ইবনুদ দুরাইসের হাদীসের অবস্থা এবং কে তা সংকলন করেছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে।
যদি বলা হয় যে, এই হাদীসটি যুহরীর কাছে অনেকভাবে ছিল এবং আংটির ঘটনায় সবগুলোই তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। শোয়াইব ইবনে আবি হামজা এবং আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ ইবনে মুসাফির যুহরী থেকে জিয়াদ ইবনে সা'দের বর্ণনার মতোই বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি রূপার আংটি গ্রহণ করেছিলেন। আর ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ যুহরী থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আংটিটি ছিল রূপার এবং এর পাথরটি ছিল হাবশী। সুলাইমান ইবনে বিলাল, তালহা ইবনে ইয়াহইয়া এবং ইয়াহইয়া ইবনে নাসর ইবনে হাজিব ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الِاسْتِتَارِ أَنَّهُ لَا يَجْعَلُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ بَوْلِهِ سُتْرَةً يَعْنِي لَا يَتَحَفَّظُ مِنْهُ فَتُوَافِقُ رِوَايَةَ لَا يَسْتَنْزِهُ لِأَنَّهَا مِنَ التَّنَزُّهِ وَهُوَ الْإِبْعَادُ
وَوَقَعَ عِنْدَ أَبِي نُعَيْمٍ عَنِ الْأَعْمَشِ كَانَ لَا يَتَوَقَّى وَهِيَ مُفَسِّرَةٌ لِلْمُرَادِ وَأَجْرَاهُ بَعْضُهُمْ عَلَى ظَاهِرِهِ فَقَالَ مَعْنَاهُ لَا يَسْتَتِرُ عَوْرَتَهُ
قُلْتُ لَوْ حُمِلَ الِاسْتِتَارُ عَلَى حَقِيقَتِهِ لَلَزِمَ أَنَّ مُجَرَّدَ كَشْفِ الْعَوْرَةِ كَانَ سَبَبَ الْعَذَابِ الْمَذْكُورِ
وَسِيَاقُ الْحَدِيثِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ لِلْبَوْلِ بِالنِّسْبَةِ إِلَى عَذَابِ الْقَبْرِ خُصُوصِيَّةً وَيُؤَيِّدُهُ مَا أخرجه بن خُزَيْمَةَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا أَكْثَرُ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنَ الْبَوْلِ أَيْ بِسَبَبِ تَرْكِ التحرز منه وعند أحمد وبن مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرَةَ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَيُعَذَّبُ فِي الْبَوْلِ وَمِثْلُهُ لِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ أَنَسٍ
[22] (دَرَقَةٌ) بِفَتْحَتَيْنِ التُّرْسُ مِنْ جُلُودٍ لَيْسَ فِيهِ خَشَبٌ وَلَا عَصَبٌ (انْظُرُوا إِلَيْهِ) تَعَجُّبٌ وَإِنْكَارٌ وَهَذَا لَا يَقَعُ مِنَ الصَّحَابِيِّ فَلَعَلَّهُ كَانَ قَلِيلَ الْعِلْمِ (ذَلِكَ) الْكَلَامَ (فَقَالَ) النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم (مَا لَقِيَ) مَا مَوْصُولَةٌ وَالْمُرَادُ بِهِ الْعَذَابُ (صَاحِبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ) بِالرَّفْعِ وَيَجُوزُ نَصْبُهُ أَيْ وَاحِدٌ مِنْهُمْ بِسَبَبِ تَرْكِ التَّنَزُّهِ مِنَ الْبَوْلِ حَالَ الْبَوْلِ (كَانُوا) أَيْ بَنُو إِسْرَائِيلَ (إِذَا أَصَابَهُمُ الْبَوْلُ) مِنْ عَدَمِ الْمُرَاعَاةِ وَاهْتِمَامِ التَّنَزُّهِ (قَطَعُوا مَا) أَيِ الثَّوْبَ الَّذِي (مِنْهُمْ) أَيْ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَكَانَ هَذَا الْقَطْعُ مَأْمُورًا بِهِ فِي دِينِهِمْ (فَنَهَاهُمْ) أَيْ نَهَى الرَّجُلُ الْمَذْكُورُ سَائِرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ (فعذب
ــ
[حاشية ابن القيم، تهذيب السنن] الزُّهْرِيِّ وَقَالُوا إِنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لَبِسَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّة فِي يَمِينه فِيهِ فَصّ حَبَشِيّ جَعَلَهُ فِي بَاطِن كَفّه وَرَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ بِلَفْظٍ آخَر قَرِيب مِنْ هَذَا وَرَوَاهُ هَمَّامٌ عَنْ بن جُرَيْجٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ كَمَا ذَكَرَهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
وَإِذَا كَانَتْ هَذِهِ الرِّوَايَات كُلّهَا عِنْد الزُّهْرِيِّ فَالظَّاهِر أَنَّهُ حَدَّثَ بِهَا فِي أَوْقَات فَمَا الْمُوجِب لِتَغْلِيطِ هَمَّامٍ وَحْده
قِيلَ هَذِهِ الرِّوَايَات كُلّهَا تَدُلّ عَلَى غَلَط هَمَّامٍ فَإِنَّهَا مُجْمِعَة عَلَى أَنَّ الْحَدِيث إِنَّمَا هُوَ فِي اِتِّخَاذ الْخَاتَم وَلُبْسه وَلَيْسَ فِي شَيْء مِنْهَا نَزْعه إِذَا دَخَلَ الْخَلَاء
فَهَذَا هُوَ الَّذِي حَكَمَ لِأَجْلِهِ هَؤُلَاءِ الْحُفَّاظ بِنَكَارَةِ الْحَدِيث وَشُذُوذه
وَالْمُصَحِّح لَهُ لَمَّا لَمْ يُمْكِنهُ دَفْع هَذِهِ الْعِلَّة حَكَمَ بِغَرَابَتِهِ لِأَجْلِهَا فَلَوْ لَمْ يَكُنْ مُخَالِفًا لِرِوَايَةِ مَنْ ذُكِرَ فَمَا وَجْه غَرَابَته وَلَعَلَّ التِّرْمِذِيَّ مُوَافِق لِلْجَمَاعَةِ فَإِنَّهُ صَحَّحَهُ مِنْ جِهَة السَّنَد لِثِقَةِ الرُّوَاة وَاسْتَغْرَبَهُ لِهَذِهِ الْعِلَّة وَهِيَ الَّتِي مَنَعَتْ أَبَا دَاوُدَ مِنْ تَصْحِيح مَتْنه فَلَا يَكُون بَيْنهمَا اِخْتِلَاف بَلْ هُوَ صَحِيح السَّنَد لَكِنَّهُ مَعْلُول
وَاللَّهُ أَعْلَم
আড়াল করার অর্থ হলো সে নিজের এবং তার প্রস্রাবের মধ্যে কোনো অন্তরাল রাখে না, অর্থাৎ সে তা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে না। তাই এটি 'পবিত্রতা অর্জন না করা' সংক্রান্ত বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ এটি 'তানাজ্জুহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো দূরত্ব বজায় রাখা বা পবিত্র থাকা।
আবু নুয়াইমের বর্ণনায় আমাশ থেকে এসেছে যে, "সে বিরত থাকত না।" এটি মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাখ্যা করে। আবার কেউ কেউ একে বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং বলেছেন এর অর্থ হলো, সে তার লজ্জাস্থান আবৃত করত না।
আমি বলি, যদি আড়াল করা শব্দটিকে তার প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়াবে যে, কেবল লজ্জাস্থান উন্মুক্ত রাখাই ছিল উল্লিখিত শাস্তির কারণ।
কিন্তু হাদীসের প্রাসঙ্গিকতা নির্দেশ করে যে, কবরের আযাবের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের একটি বিশেষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইবনে খুজাইমা কর্তৃক বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর মারফু হাদীসটিও একে সমর্থন করে যে, "কবরের অধিকাংশ আযাব প্রস্রাবের কারণে হয়", অর্থাৎ প্রস্রাব থেকে সতর্ক না থাকার কারণে। আহমদ এবং ইবনে মাজাহ-তে আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, "তাদের একজনের আযাব হচ্ছে প্রস্রাবের কারণে।" অনুরুপ বর্ণনা তাবারানী আনাস (রা.) থেকে উল্লেখ করেছেন।
[22] (দারাকাহ) শব্দটিতে দুটি ফাতহা রয়েছে; এর অর্থ হলো চামড়ার তৈরি ঢাল যাতে কাঠ বা তন্তু নেই। (তার দিকে তাকাও) এটি বিস্ময় ও অস্বীকৃতি প্রকাশার্থে বলা হয়েছে। কোনো সাহাবীর থেকে এমন আচরণ সাধারণত প্রকাশ পাওয়ার কথা নয়, হয়তো তাঁর ইলম কম ছিল। (সেই) কথা (অতঃপর বললেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: (যা ভোগ করেছে) এখানে 'মা' শব্দটি সংযোজক অব্যয়, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আযাব। (বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি) এটি রফ' অবস্থায় রয়েছে, তবে একে নাসব অবস্থায় পড়াও জায়েয, অর্থাৎ তাদের একজন; প্রস্রাবের সময় প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন না করার কারণে। (তারা ছিল) অর্থাৎ বনী ইসরাঈল (যখন তাদের গায়ে প্রস্রাব লাগত) প্রস্রাবের বিষয়ে সতর্কতা ও গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে (তারা কেটে ফেলত যা) অর্থাৎ সেই কাপড়টি যা (তাদের মধ্য হতে) অর্থাৎ বনী ইসরাঈলদের। তাদের শরীয়তে এই কেটে ফেলার আদেশ ছিল। (অতঃপর তিনি তাদের নিষেধ করলেন) অর্থাৎ উল্লিখিত ব্যক্তিটি অবশিষ্ট বনী ইসরাঈলদের নিষেধ করলেন। (ফলে তাকে আযাব দেওয়া হলো)
--
[ইবনুল কাইয়্যিমের টীকা, তাহযীবুস সুনান] যুহরী থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান হাতে একটি রুপার আংটি পরতেন যাতে হাবশী পাথর ছিল, তিনি পাথরের অংশটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। ইব্রাহিম বিন সাদ এটি যুহরী থেকে এর কাছাকাছি অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাম এটি ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তিরমিযী উল্লেখ করেছেন এবং সহীহ বলেছেন।
এই সব বর্ণনা যদি যুহরীর নিকট থেকে পাওয়া যায়, তবে প্রতীয়মান হয় যে তিনি বিভিন্ন সময়ে এগুলো বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় কেবল হাম্মামকে ভুল সাব্যস্ত করার কারণ কী?
বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত বর্ণনাগুলোই হাম্মামের ভুল প্রমাণ করে। কারণ এই বর্ণনাগুলো এ ব্যাপারে একমত যে, হাদীসটি কেবল আংটি গ্রহণ এবং পরিধান সংক্রান্ত। এর কোনোটিতেই শৌচাগারে প্রবেশের সময় আংটি খুলে রাখার কথা নেই।
এই কারণেই হাফেযে হাদীসগণ হাদীসটিকে অপ্রসিদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন বলে রায় দিয়েছেন।
আর যারা একে সহীহ বলেছেন, তারা যখন এই ত্রুটি নিরসন করতে পারলেন না, তখন এর কারণে একে 'গারীব' (বিরল) বলে অভিহিত করেছেন। যদি এটি উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের বিরোধী না হতো, তবে এর বিরল হওয়ার কোনো কারণ থাকত না। সম্ভবত তিরমিযীও জমহুরের সাথে একমত; কেননা তিনি রাবীদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে সনদের দিক থেকে একে সহীহ বলেছেন এবং এই ত্রুটির কারণে একে বিরল বলেছেন। এই একই কারণে আবু দাউদ এর মূল পাঠকে সহীহ বলতে বিরত থেকেছেন। সুতরাং তাঁদের উভয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; বরং এটি সনদের দিক থেকে সহীহ হলেও ত্রুটিযুক্ত।
আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بِالْبِنَاءِ لِلْمَجْهُولِ أَيِ الرَّجُلُ الْمَذْكُورُ بِسَبَبِ هَذِهِ الْمُخَالَفَةِ وَعِصْيَانِ حُكْمِ شَرْعِهِ وَهُوَ تَرْكُ الْقَطْعِ فَحَذَّرَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنْكَارِ الِاحْتِرَازِ مِنَ الْبَوْلِ لِئَلَّا يُصِيبَ مَا أَصَابَ الْإِسْرَائِيلِيَّ بِنَهْيِهِ عَنِ الْوَاجِبِ وَشَبَّهَ نَهْيَ هَذَا الرَّجُلِ عَنِ الْمَعْرُوفِ عِنْدَ الْمُسْلِمِينَ بِنَهْيِ صَاحِبِ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنْ مَعْرُوفِ دِينِهِمْ وَقَصْدُهُ فِيهِ تَوْبِيخُهُ وَتَهْدِيدُهُ وَأَنَّهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ فلما عير بالحياء وفعل النساء وبخه وأنه يُنْكِرُ مَا هُوَ مَعْرُوفٌ بَيْنَ النَّاسِ مِنَ الْأُمَمِ السَّابِقَةِ وَاللَّاحِقَةِ (قَالَ أَبُو دَاوُدَ) أَيِ الْمُؤَلِّفُ (قَالَ مَنْصُورُ) بْنُ الْمُعْتَمِرِ (عَنْ أَبِي وَائِلٍ) شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ الْأَسَدِيِّ الْكُوفِيِّ أَحَدِ سادة التابعين
قال بن معين ثقة لا يسئل عَنْ مِثْلِهِ (عَنْ أَبِي مُوسَى) الْأَشْعَرِيِّ وَاسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ بْنُ سُلَيْمٍ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (قال جِلْدَ أَحَدِهِمْ) الْقَائِلُ هُوَ أَبُو مُوسَى
وَالْحَدِيثُ وَصَلَهُ مُسْلِمٌ
قَالَ الْحَافِظُ فِي فَتْحِ الْبَارِي وَقَعَ فِي مُسْلِمٍ جِلْدَ أَحَدِهِمْ
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ مُرَادُهُ بِالْجِلْدِ وَاحِدُ الْجُلُودِ الَّتِي كَانُوا يَلْبَسُونَهَا
وَحَمَلَهُ بَعْضُهُمْ عَلَى ظَاهِرِهِ وَزَعَمَ أَنَّهُ مِنَ الْإِصْرِ الَّذِي حَمَلُوهُ
وَيُؤَيِّدُهُ رِوَايَةُ أَبِي دَاوُدَ فَفِيهَا كَانَ إِذَا أَصَابَ جَسَدَ أَحَدِهِمْ لَكِنْ رِوَايَةُ الْبُخَارِيِّ صَرِيحَةٌ فِي الثِّيَابِ فَلَعَلَّ بَعْضَهُمْ رَوَاهُ بِالْمَعْنَى (وَقَالَ عَاصِمُ) بْنُ بَهْدَلَةَ أَبُو بَكْرٍ الْكُوفِيُّ أَحَدُ الْقُرَّاءِ السَّبْعَةِ وَثَّقَهُ أَحْمَدُ وَالْعِجْلِيُّ وَأَبُو زُرْعَةَ وَيَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي حِفْظِهِ شَيْءٌ مَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ
2 -
(بَاب الْبَوْلِ قَائِمًا أَيْ مَا حُكْمُهُ)[23] (حَفْصُ بْنُ عُمَرَ) بْنِ الْحَارِثِ أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ الْبَصْرِيُّ عَنْ شُعْبَةَ وَهَمَّامٍ وَطَائِفَةٍ وَعَنْهُ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجُوزَجَانِيُّ قَالَ أَحْمَدُ ثِقَةٌ ثَبْتٌ مُتْقِنٌ (وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ) الْأَزْدِيُّ الْبَصْرِيُّ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ وَشُعْبَةَ وَخَلْقٍ قَالَ التِّرْمِذِيُّ سَمِعْتُ مُسْلِمَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ يَقُولُ كَتَبْتُ عَنْ ثَمَانِمِائَةِ شَيْخٍ رَوَى عَنْهُ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ نمير وخلق قال بن مَعِينٍ ثِقَةٌ مَأْمُونٌ وَقَالَ الْعِجْلِيُّ وَأَبُو حَاتِمٍ ثِقَةٌ زَادَ أَبُو حَاتِمٍ صَدُوقٌ (شُعْبَةُ) بْنُ الْحَجَّاجِ بْنُ الْوَرْدِ (مُسَدَّدُ) بْنُ مُسَرْهَدٍ (أَبُو عَوَانَةَ) الْوَضَّاحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ أَحَدُ الْأَئِمَّةِ قَالَ الْحَافِظُ هُوَ أَحَدُ الْمَشَاهِيرِ وَثَّقَهُ الْجَمَاهِيرُ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ كَانَ يَغْلَطُ كَثِيرًا إِذَا حَدَّثَ مِنْ حِفْظِهِ وَكَذَا قَالَ أَحْمَدُ وقال بن الْمَدِينِيِّ فِي أَحَادِيثِهِ عَنْ
কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ উল্লিখিত সেই ব্যক্তি এই অবাধ্যতা এবং তাঁর শরিয়তের বিধান অর্থাৎ (আক্রান্ত স্থান) কেটে ফেলার বিধান লঙ্ঘনের কারণে এই বিপদে পড়েছিলেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা থেকে সতর্ক করেছেন, যাতে ইসরায়েলি ব্যক্তির ওপর যা আপতিত হয়েছিল (ওয়াজিব কাজ থেকে নিষেধ করার কারণে) তাদের ওপরও তা না ঘটে। এই ব্যক্তির মুমিনদের নিকট সুপরিচিত সৎকাজ থেকে নিষেধ করার বিষয়টিকে তিনি বনী ইসরায়েলের সেই ব্যক্তির তাদের দ্বীনের সুপরিচিত সৎকাজ থেকে নিষেধ করার সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাকে তিরস্কার ও ধমক দেওয়া এবং সে যে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত তা জানানো। যখন তাকে লজ্জা এবং নারীদের আচরণের দোহাই দিয়ে লজ্জা দেওয়া হলো, তখন নবীজী তাকে তিরস্কার করলেন যে, সে এমন একটি বিষয় অস্বীকার করছে যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উম্মতের মানুষের নিকট সুপরিচিত। (আবু দাউদ বলেছেন) অর্থাৎ গ্রন্থকার। (মানসুর বলেছেন) অর্থাৎ মানসুর ইবনে আল-মুতামির। (আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত) অর্থাৎ শাকিক বিন সালামাহ আল-আসাদী আল-কুফী, যিনি তাবেয়ীগণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
ইবনে মাঈন বলেছেন, তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তাঁর মতো ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করার অবকাশ নেই। (আবু মুসা থেকে বর্ণিত) অর্থাৎ আল-আশআরী, যাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে সুলাইম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। (তিনি বলেছেন: তাদের কারো চামড়া) এখানে বক্তা হলেন আবু মুসা।
এবং হাদিসটি ইমাম মুসলিম (নিরবচ্ছিন্ন সনদে) বর্ণনা করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেছেন, মুসলিমে 'তাদের কারো চামড়া' শব্দগুলি এসেছে।
ইমাম কুরতুবী বলেছেন, চামড়া দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো সেই সব চামড়ার পোশাক যা তারা পরিধান করত।
কেউ কেউ একে এর বাহ্যিক বা শাব্দিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এটি ছিল সেই কঠিন বোঝা বা কঠোর বিধানের অংশ যা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আবু দাউদের বর্ণনা একে সমর্থন করে, যেখানে বলা হয়েছে: 'যখন তাদের কারো শরীরের কোনো অংশে প্রস্রাব লাগত'। তবে ইমাম বুখারীর বর্ণনাটি পরিষ্কারভাবে পোশাকের কথা উল্লেখ করে, সম্ভবত বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ এটি অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন। (আসেম বলেছেন) ইবনে বাহদালা আবু বকর আল-কুফী, তিনি প্রসিদ্ধ সাতজন ক্বারীর (কুরআন পাঠকারী) অন্যতম। ইমাম আহমদ, ইজলী, আবু জুরআহ এবং ইয়াকুব বিন সুফিয়ান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম দারা কুতনী বলেছেন, তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। তিনি ১২৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
২ -
(দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুচ্ছেদ, অর্থাৎ এর বিধান কী?)[২৩] (হাফস বিন উমর) ইবনে আল-হারিস আবু উমর আল-হাওদি আল-বাসরী; তিনি শু'বাহ, হাম্মাম এবং একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইমাম বুখারী, আবু দাউদ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল রহিম এবং ইবরাহিম বিন ইয়াকুব আল-জুযজানী বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও পারদর্শী। (এবং মুসলিম বিন ইবরাহিম) আল-আযদি আল-বাসরী; তিনি মালিক বিন মিগওয়াল, শু'বাহ ও বহুসংখ্যক রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন, আমি মুসলিম বিন ইবরাহিমকে বলতে শুনেছি, 'আমি আটশ শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি'। তাঁর থেকে ইমাম বুখারী, আবু দাউদ, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, মুহাম্মদ বিন নুমাইর ও এক বিশাল জনগোষ্ঠী বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। ইজলী এবং আবু হাতিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য; আবু হাতিম আরও যোগ করেছেন: তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী। (শু'বাহ) ইবনে আল-হাজ্জাজ ইবনুল ওয়ারদ। (মুসাদ্দাদ) ইবনে মুসারহাদ। (আবু আওয়ানাহ) আল-ওয়াদদাহ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতী, ইমামগণের অন্যতম। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: তিনি অত্যন্ত সুপরিচিত ব্যক্তিদের একজন, অধিকাংশ উলামা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি যখন তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন তখন প্রচুর ভুল করতেন। ইমাম আহমদও অনুরূপ বলেছেন। ইবনে আল-মাদীনী তাঁর হাদিস সম্পর্কে বলেছেন...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قَتَادَةَ لِينٌ لِأَنَّ كِتَابَهُ كَانَ قَدْ ذَهَبَ
قُلْتُ اعْتَمَدَهُ الْأَئِمَّةُ كُلُّهُمْ (وَهَذَا لَفْظُ حَفْصٍ) أَيِ اللَّفْظُ الْمَذْكُورُ فِيمَا بَعْدُ هُوَ لَفْظُ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ لَا لَفْظُ مُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ (عَنْ سُلَيْمَانَ) بْنِ مِهْرَانَ الْأَعْمَشِ أَيْ يَرْوِي شُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ كِلَاهُمَا عَنْ سُلَيْمَانَ (أَبِي وَائِلٍ) شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ (حُذَيْفَةَ) بْنِ الْيَمَانِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْكُوفِيِّ صَحَابِيٌّ جَلِيلٌ مِنَ السَّابِقِينَ (سُبَاطَةَ قَوْمٍ) بِضَمِّ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ وَبَعْدَهَا مُوَحَّدَةٌ هِيَ الْمَزْبَلَةُ وَالْكُنَاسَةُ تَكُونُ بِفِنَاءِ الدُّورِ مِرْفَقًا لِأَهْلِهَا وَتَكُونُ فِي الْغَالِبِ سَهْلَةً لَا يَرْتَدُّ فِيهَا الْبَوْلُ عَلَى الْبَائِلِ (فَبَالَ) رسول الله صلى الله عليه وسلم في الْكُنَاسَةِ (قَائِمًا) لِلْجَوَازِ أَوْ لِأَنَّهُ لَمْ يَجِدْ لِلْقُعُودِ مَكَانًا فَاضْطُرَّ لِلْقِيَامِ
قَالَ الْحَافِظُ قِيلَ السَّبَبُ فِي ذَلِكَ مَا رُوِيَ عَنِ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ أَنَّ الْعَرَبَ كَانَتْ تَسْتَشْفِي لِوَجَعِ الصُّلْبِ بِذَلِكَ فَلَعَلَّهُ كَانَ بِهِ
وَرَوَى الْحَاكِمُ وَالْبَيْهَقِيُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّمَا بَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا لِجُرْحٍ كَانَ فِي مَأْبِضِهِ وَالْمَأْبِضُ بِهَمْزَةٍ سَاكِنَةٍ بَعْدَهَا مُوَحَّدَةٌ ثُمَّ مُعْجَمَةٌ بَاطِنُ الرُّكْبَةِ فَكَأَنَّهُ لَمْ يَتَمَكَّنْ لِأَجْلِهِ مِنَ الْقُعُودِ
وَلَوْ صَحَّ هَذَا الْحَدِيثُ لَكَانَ فِيهِ غِنًى عَنْ جَمِيعِ مَا تَقَدَّمَ لَكِنْ ضَعَّفَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُ فَعَلَ ذَلِكَ لِبَيَانِ الْجَوَازِ وَكَانَ أَكْثَرَ أَحْوَالِهِ الْبَوْلُ عَنْ قُعُودٍ
وَسَلَكَ أَبُو عَوَانَةَ في صحيحه وبن شَاهِينَ فِيهِ مَسْلَكًا آخَرَ فَزَعَمَا أَنَّ الْبَوْلَ عَنْ قِيَامٍ مَنْسُوخٌ وَاسْتَدَلَّا عَلَيْهِ بِحَدِيثِ عَائِشَةَ الَّذِي قَدَّمْنَاهُ مَا بَالَ قَائِمًا مُنْذُ أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَبِحَدِيثِهَا أَيْضًا مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّهُ كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا وَالصَّوَابُ أَنَّهُ غَيْرُ مَنْسُوخٍ
وَالْجَوَابُ عَنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ أَنَّهُ مُسْتَنِدٌ إِلَى عِلْمِهَا فَيُحْمَلُ عَلَى مَا وَقَعَ مِنْهُ فِي الْبُيُوتِ وَأَمَّا فِي غَيْرِ الْبُيُوتِ فَلَمْ تَطَّلِعْ هِيَ عَلَيْهِ وَقَدْ حَفِظَهُ حُذَيْفَةُ وَهُوَ مِنْ كِبَارِ الصَّحَابَةِ وَقَدْ بَيَّنَّا أَنَّ ذَلِكَ كَانَ بِالْمَدِينَةِ فَتَضَمَّنَ الرَّدَّ عَلَى مَا نَفَتْهُ مِنْ أَنَّ ذَلِكَ لَمْ يَقَعْ بَعْدَ نُزُولِ الْقُرْآنِ
وَقَدْ ثَبَتَ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ بَالُوا قِيَامًا وَهُوَ دَالٌّ عَلَى الْجَوَازِ مِنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ إِذَا أَمِنَ الرَّشَاشَ
وَاللَّهُ أَعْلَمُ
وَلَمْ يَثْبُتْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّهْيِ عَنْهُ شَيْءٌ
انْتَهَى (فَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ) أَيْ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ مَقَامَ غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ (قَالَ) حُذَيْفَةُ (فَدَعَانِي) فَقَالَ يَا حُذَيْفَةُ اسْتُرْنِي كَمَا عِنْدَ الطَّبَرَانِيِّ مِنْ حَدِيثِ عِصْمَةَ بْنِ مَالِكٍ (حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ عَقِبِهِ) صلى الله عليه وسلم وَعَقِبٌ بِالْإِفْرَادِ وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ عَقِبَيْهِ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وبن ماجه
কাতাদাহর মধ্যে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, কেননা তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গিয়েছিল।
আমি বলি, আইম্মাহ কিরামগণ তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন। (এটি হাফসের শব্দাবলি) অর্থাৎ পরবর্তীতে উল্লিখিত শব্দাবলি হাফস ইবনে উমরের, মুসলিম ইবনে ইব্রাহিমের নয়। (সুলাইমান থেকে) অর্থাৎ সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আ'মাশ; শু'বাহ এবং আবু আওয়ানাহ উভয়েই সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন। (আবু ওয়াইল) শাকিক ইবনে সালামাহ। (হুযায়ফাহ) ইবনুল ইয়ামান আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি, যিনি প্রথম যুগের একজন মহৎ সাহাবী। (কোনো কওমের আস্তাকুঁড়) ‘সীন’ বর্ণে পেশ এবং এরপর ‘বা’ বর্ণ যোগে; এর অর্থ হলো আবর্জনা ফেলার স্থান বা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ যা বাড়ির আঙিনায় বাসিন্দাদের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত নরম হয়ে থাকে যেন প্রস্রাবকারীর ওপর প্রস্রাবের ছিটেফোঁটা ফিরে না আসে। (অতঃপর তিনি প্রস্রাব করলেন) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ময়লার স্তূপে। (দাঁড়িয়ে) এটি বৈধতা প্রকাশের জন্য অথবা বসার মতো কোনো উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় তিনি দাঁড়িয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন, বলা হয়ে থাকে যে এর কারণ হলো যা ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে— আরবরা পিঠের ব্যথার চিকিৎসার জন্য এভাবে (দাঁড়িয়ে) প্রস্রাব করত; সম্ভবত তাঁরও সেই ব্যথা ছিল।
ইমাম হাকিম ও বায়হাকী আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল তাঁর হাঁটুর পেছনের ভাঁজে (মাবিজ) ক্ষত থাকার কারণেই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছিলেন। ‘মাবিজ’ শব্দটি হামজাহ সাকিন, এরপর ‘বা’ এবং এরপর ‘জাদ’ বর্ণ যোগে গঠিত, যার অর্থ হলো হাঁটুর পেছনের অংশ। ফলে সেই ক্ষতের কারণে সম্ভবত তিনি বসতে সক্ষম ছিলেন না।
এই হাদিসটি যদি সহীহ হতো তবে পূর্ববর্তী সকল ব্যাখ্যার আর প্রয়োজন হতো না; কিন্তু দারা কুতনী ও বায়হাকী একে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন। অধিকতর স্পষ্ট মত হলো, তিনি এটি বৈধতা বর্ণনার জন্য করেছিলেন, অন্যথায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর আমল ছিল বসে প্রস্রাব করা।
আবু আওয়ানাহ তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এবং ইবনে শাহীন এই বিষয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন; তাঁরা দাবি করেছেন যে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বিধানটি মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। তাঁরা এর সপক্ষে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সেই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি— “কুরআন নাযিল হওয়ার পর থেকে তিনি কখনও দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেননি।” এবং তাঁর অন্য একটি হাদিস— “যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে বর্ণনা করে যে তিনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তাকে বিশ্বাস করো না; তিনি বসে ছাড়া প্রস্রাব করতেন না।” তবে সঠিক কথা হলো, এটি মানসুখ বা রহিত নয়।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসের উত্তর হলো, তাঁর এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং একে ঘরের ভেতরের অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হবে। ঘরের বাইরের পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি অবগত ছিলেন না। আর হুযায়ফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি সংরক্ষণ করেছেন (প্রত্যক্ষ করেছেন), যিনি একজন সিনিয়র সাহাবী। আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি যে, এই ঘটনাটি মদীনায় ঘটেছিল। এর মাধ্যমে তাঁর সেই দাবির খণ্ডন হয়ে যায় যাতে তিনি বলেছিলেন যে কুরআন নাযিলের পর এমন ঘটনা ঘটেনি।
উমর, আলী, যায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং অন্যদের থেকে এটি প্রমাণিত যে তাঁরা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। এটি কোনো প্রকার অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) ছাড়াই বৈধতার প্রমাণ বহন করে, যদি প্রস্রাবের ছিটেফোঁটা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো কিছু প্রমাণিত নয়।
ইতি (অতঃপর তিনি তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসেহ করলেন) অর্থাৎ তিনি ওযু করলেন এবং পা ধোয়ার পরিবর্তে মোজার ওপর মাসেহ করলেন। (তিনি বললেন) অর্থাৎ হুযায়ফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন— (অতঃপর তিনি আমাকে ডাকলেন) অর্থাৎ বললেন, হে হুযায়ফাহ! আমাকে আড়াল করো, যেমনটি তাবারানীতে ইসমাহ ইবনে মালিকের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (এমনকি আমি তাঁর গোড়ালির নিকট পৌঁছে গেলাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এখানে ‘আকিব’ শব্দটি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘আকিবাইহি’ (তাঁর দুই গোড়ালি) শব্দটিও এসেছে।
ইমাম মুনযিরী বলেন, এটি বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
[24] 13 باب في الرجل
إلخ (عَنْ حُكَيْمَةَ بِنْتِ أُمَيْمَةَ ابْنَةِ رُقَيْقَةَ) كُلُّهُنَّ مُصَغَّرَةٌ (قَدَحٌ) بِفَتْحَتَيْنِ آنِيَةٌ مِنْ خَشَبٍ وَالْجَمْعُ أَقْدَاحٌ (مِنْ عَيْدَانٍ) بِفَتْحِ الْعَيْنِ الْمُهْمَلَةِ وَسُكُونِ الْيَاءِ الْمُثَنَّاةِ التَّحْتِيَّةِ النَّخْلَةُ الطِّوَالُ الْمُتَجَرِّدَةُ مِنَ السَّعَفِ مِنْ أَعْلَاهُ إِلَى أَسْفَلِهِ جَمْعُ عَيْدَانَةَ
وَحَدِيثُ الْبَابِ وَإِنْ كَانَ فِيهِ مَقَالٌ لَكِنَّهُ يُؤَيِّدُهُ حَدِيثُ عَائِشَةَ الَّذِي أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ وَحَدِيثُ الْأَسْوَدِ الَّذِي أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ وَفِيهِمَا أَنَّهُ لَقَدْ دُعِيَ بِالطَّسْتِ لِيَبُولَ فِيهَا الْحَدِيثَ لَكِنْ وَقَعَ هَذَا فِي حَالِ الْمَرَضِ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَأَخْرَجَهُ النسائي
4 -
(باب المواضع)[25] إلخ (اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ) قَالَ الْحَافِظُ الْخَطَّابِيُّ يُرِيدُ الْأَمْرَيْنِ الْجَالِبَيْنِ لِلَّعْنِ الْحَامِلَيْنِ لِلنَّاسِ عَلَيْهِ وَالدَّاعِيَيْنِ إِلَيْهِ وَذَلِكَ أَنَّ مَنْ فَعَلَهُمَا لُعِنَ وَشُتِمَ يَعْنِي عَادَةُ النَّاسِ لَعْنُهُ فَلَمَّا صَارَا سَبَبًا لِذَلِكَ أُضِيفَ إِلَيْهِمَا الْفِعْلُ فَكَانَا كَأَنَّهُمَا اللَّاعِنَانِ يَعْنِي أُسْنِدَ اللَّعْنُ إِلَيْهِمَا عَلَى طَرِيقِ الْمَجَازِ الْعَقْلِيِّ وَقَدْ يَكُونُ اللَّاعِنُ أَيْضًا بِمَعْنَى الْمَلْعُونِ فَاعِلٌ بمعنى مفعول كما قالوا مر كَاتِمٌ أَيْ مَكْتُومٌ
انْتَهَى
فَعَلَى هَذَا يَكُونُ التَّقْدِيرُ اتَّقُوا الْأَمْرَيْنِ الْمَلْعُونَ فَاعِلُهُمَا (الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ) أَيْ يَتَغَوَّطُ أَوْ يَبُولُ فِي مَوْضِعٍ يَمُرُّ بِهِ النَّاسُ
قَالَ فِي التَّوَسُّطِ شَرْحِ سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ الْمُرَادُ بِالتَّخَلِّي التَّفَرُّدُ لِقَضَاءِ الْحَاجَةِ غَائِطًا أَوْ بَوْلًا فَإِنَّ التَّنَجُّسَ وَالِاسْتِقْذَارَ مَوْجُودٌ فِيهِمَا
فَلَا يَصِحُّ تَفْسِيرُ النَّوَوِيِّ بِالتَّغَوُّطِ وَلَوْ سُلِّمَ فَالْبَوْلُ يُلْحَقُ بِهِ قِيَاسًا
وَالْمُرَادُ بِالطَّرِيقِ الطَّرِيقُ الْمَسْلُوكُ لَا الْمَهْجُورُ الَّذِي لَا يُسْلَكُ إِلَّا نَادِرًا (أَوْ ظِلِّهِمْ) أَيْ مُسْتَظَلِّ النَّاسِ الَّذِي اتَّخَذُوهُ مَقِيلًا وَمَنْزِلًا يَنْزِلُونَهُ وَيَقْعُدُونَ فِيهِ وَلَيْسَ كُلُّ ظِلٍّ يَحْرُمُ
[২৪] ১৩. অনুচ্ছেদ: পুরুষ সম্পর্কে... (হাকিমাহ বিনতে উমাইমাহ বিনতে রুফাইকাহ থেকে বর্ণিত) এই নামগুলো সবই ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ। (কাদাহ) উভয় বর্ণে যবরসহ, এর অর্থ কাঠের পাত্র, এর বহুবচন হলো আকদাহ। ('আইদান) আইন বর্ণে যবর এবং নিচের দুই নুক্তাওয়ালা ইয়া বর্ণে সুকুনসহ, এর অর্থ এমন দীর্ঘ খেজুর গাছ যার ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে, এটি ‘আইদানাহ’ শব্দের বহুবচন।
এই অনুচ্ছেদের হাদিসটি নিয়ে যদিও সমালোচনা রয়েছে, তবে এটি আয়েশা (রা.)-এর হাদিস দ্বারা সমর্থিত যা আন-নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং আসওয়াদ (রা.)-এর হাদিস যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন; যাতে উল্লেখ আছে যে, তাঁর জন্য একটি গামলা আনা হয়েছিল তাতে প্রস্রাব করার জন্য। তবে এটি অসুস্থতার সময়ে ঘটেছিল।
আল-মুনযিরী বলেছেন: এটি আন-নাসাঈও বর্ণনা করেছেন।
৪ -
(অনুচ্ছেদ: স্থানসমূহ)[২৫] ইত্যাদি। (তোমরা অভিশাপদানকারী দুটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো)। হাফেজ আল-খাত্তাবী বলেন: এর দ্বারা এমন দুটি কাজ উদ্দেশ্য যা অভিশাপ ডেকে আনে, মানুষকে অভিশাপ দিতে প্ররোচিত করে এবং এর দিকে আহ্বান জানায়। আর তা এজন্য যে, যে ব্যক্তি এই কাজ দুটি করে তাকে অভিশাপ ও গালি দেওয়া হয়; অর্থাৎ মানুষের অভ্যাস হলো তাকে অভিশাপ দেওয়া। যখন এই কাজ দুটি অভিশাপের কারণ হলো, তখন অভিশাপের কাজটি এই দুটির দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হলো, যেন এই কাজ দুটিই অভিশাপ দানকারী। অর্থাৎ, 'মাজাযে আক্বলী' বা বুদ্ধিগত রূপক হিসেবে অভিশাপের বিষয়টি এই কাজ দুটির দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে যে, ‘লা’ইন’ (অভিশাপ দানকারী) শব্দটি ‘মাল’ঊন’ (অভিশপ্ত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ ‘ফাইল’ শব্দটি এখানে ‘মাফঊল’-এর অর্থে এসেছে; যেমন আরবরা বলে থাকে ‘কাতিম’ (গোপনকারী) যার অর্থ ‘মাকতূম’ (গোপনকৃত)।
সমাপ্ত।
সুতরাং এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী অর্থ হবে: তোমরা এমন দুটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো যার সম্পাদনকারী অভিশপ্ত। (যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের পথে মলত্যাগ করে): অর্থাৎ মানুষের যাতায়াতের জায়গায় পায়খানা বা প্রস্রাব করে।
সুনানে আবি দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আত-তাওয়াসসুত’-এ বলা হয়েছে: ‘তখল্লী’ বলতে প্রস্রাব বা পায়খানার প্রয়োজন মেটানোর জন্য নির্জনে যাওয়া বোঝায়। কারণ অপবিত্রতা ও নোংরামি উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান।
তাই ইমাম নববীর কেবল ‘মলত্যাগ’ দিয়ে করা ব্যাখ্যাটি সঠিক নয়; আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে কিয়াসের ভিত্তিতে প্রস্রাবকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আর ‘পথ’ বলতে সচরাচর ব্যবহৃত পথ বোঝানো হয়েছে, এমন পরিত্যক্ত পথ নয় যেখানে মানুষ কদাচিৎ চলাচল করে। (অথবা তাদের ছায়া): অর্থাৎ মানুষের ছায়া নেওয়ার স্থান, যা তারা বিশ্রামস্থল ও অবস্থানস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সেখানে তারা বসে থাকে। তবে সব ধরনের ছায়াই (মলত্যাগের জন্য) নিষিদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الْقُعُودُ لِلْحَاجَةِ تَحْتَهُ فَقَدْ قَعَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ تَحْتَ حَائِشٍ مِنَ النَّخْلِ وَلِلْحَائِشِ لَا مَحَالَةَ ظِلٌّ
وَالْحَدِيثُ يَدُلُّ عَلَى تَحْرِيمِ التَّخَلِّي فِي طُرُقِ النَّاسِ أَوْ ظِلِّهِمْ لِمَا فِيهِ مِنْ إِيذَاءِ الْمُسْلِمِينَ بِتَنْجِيسِ مَنْ يَمُرُّ بِهِ وَاسْتِقْذَارِهِ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
[26] (وَحَدِيثُهُ) أَيْ حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ (أَتَمُّ) مِنْ إِسْحَاقَ (حَدَّثَهُ) أَيْ حَدَّثَ أَبُو سَعِيدٍ حَيْوَةَ بْنَ شُرَيْحٍ (الْمَلَاعِنَ) جَمْعُ مَلْعَنَةٍ وَهِيَ مَوَاضِعُ اللَّعْنِ (الْمَوَارِدِ) الْمُرَادُ بِالْمَوَارِدِ الْمَجَارِي وَالطُّرُقُ إِلَى الْمَاءِ وَاحِدُهَا مَوْرِدٌ يُقَالُ وَرَدْتَ الْمَاءَ إِذَا حَضَرْتَهُ لِتَشْرَبَ وَالْوِرْدُ الْمَاءُ الَّذِي تَرِدُ عَلَيْهِ (وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ) أَيِ الطَّرِيقَةُ الَّتِي يَقْرَعُهَا النَّاسُ بِأَرْجُلِهِمْ وَنِعَالِهِمْ أَيْ يَدُقُّونَهَا وَيَمُرُّونَ عَلَيْهَا فَهَذِهِ إِضَافَةُ الصِّفَةِ إِلَى الْمَوْصُوفِ أَيِ الطَّرِيقَةُ الْمَقْرُوعَةُ وَهِيَ وَسَطُ الطَّرِيقِ (وَالظِّلُّ) أَيْ ظِلُّ الشَّجَرَةِ وَغَيْرُهَا مِمَّا تَقَدَّمَ
وَاعْلَمْ أَنَّ الْمُؤَلِّفَ أَوْرَدَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثَيْنِ الْأَوَّلُ فِي النَّهْيِ عَنِ التَّخَلِّي فِي طَرِيقِ النَّاسِ وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ الْمُرَادَ بِالتَّخَلِّي التَّفَرُّدُ لِقَضَاءِ الْحَاجَةِ غَائِطًا أَوْ بَوْلًا وَالثَّانِي فِي النَّهْيِ عَنِ الْبَرَازِ وَأَنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ الْبَرَازَ اسْمٌ لِلْفَضَاءِ الْوَاسِعِ مِنَ الْأَرْضِ وَكَنَّوْا بِهِ عَنْ حَاجَةِ الْإِنْسَانِ يُقَالُ تَبَرَّزَ الرَّجُلُ إِذَا تَغَوَّطَ فَإِنَّهُ وَإِنْ كَانَ اسْمًا لِلْغَائِطِ لَكِنْ يُلْحَقُ بِهِ الْبَوْلُ
قُلْتُ إِيرَادُ الْحَدِيثَيْنِ لَا يَخْلُو عَنْ تَكَلُّفٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَعِلْمُهُ أَتَمُّ
قَالَ المنذري وأخرجه بن مَاجَهْ
5 -
(بَاب فِي الْبَوْلِ فِي الْمُسْتَحَمِّ)[27] الْمُسْتَحَمُّ الَّذِي يُغْتَسَلُ فِيهِ مِنَ الْحَمِيمِ وَهُوَ الْمَاءُ الْحَارُّ وَالْمُرَادُ الْمُغْتَسَلُ مُطْلَقًا وَفِي مَعْنَاهُ الْمُتَوَضَّأُ
(قال أحمد) بن حنبل في سنده (حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ) وَفِيهِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ لَمْ يَرْوِ عَلَى سَبِيلِ التَّحْدِيثِ بَلْ بِالْعَنْعَنَةِ كَمَا رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ بِصِيغَةِ الْعَنْعَنَةِ وَهِيَ فِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيِّ
كَذَا فِي غَايَةِ الْمَقْصُودِ
وَقَالَ فِي مَنْهِيَّةِ غَايَةِ الْمَقْصُودِ وَيَحْتَمِلُ أَنَّ الاختلاف بين
প্রয়োজন পূরণের জন্য তার নিচে বসা; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রয়োজনে একটি খেজুর বাগানের প্রাচীরের নিচে বসেছিলেন এবং বাগানের প্রাচীরের অবশ্যই ছায়া থাকে।
এই হাদিসটি মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের ছায়াযুক্ত স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করা হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। কারণ এতে মানুষের যাতায়াতের পথ অপবিত্র করার মাধ্যমে এবং একে ঘৃণ্য করার মাধ্যমে মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া হয়।
আল-মুনজিরি বলেন, ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
[২৬] (এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসটি) অর্থাৎ উমর ইবনুল খাত্তাবের হাদিসটি (অধিক পূর্ণাঙ্গ) ইসহাকের বর্ণনার চেয়ে। (তিনি এটি বর্ণনা করেছেন) অর্থাৎ আবু সাঈদ হাইওয়া বিন শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেছেন। (আল-মালা’ইন) এটি ‘মাল’আনাহ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ অভিশাপের স্থানসমূহ। (আল-মাওয়ারিদ) মাওয়ারিদ বলতে পানির প্রবাহ এবং পানির দিকে যাওয়ার পথসমূহ বোঝানো হয়েছে, এর একবচন হলো ‘মাওরিদ’। বলা হয়, আপনি পানির ঘাটে উপস্থিত হয়েছেন যখন আপনি পান করার জন্য সেখানে গমন করেন। আর ‘আল-উইর্দ’ হলো সেই পানি যার নিকট গমন করা হয়। (এবং রাস্তার মধ্যভাগ) অর্থাৎ এমন পথ যা মানুষ তাদের পদযুগল ও জুতো দিয়ে মাড়ায় বা পিষ্ট করে, অর্থাৎ তারা এর ওপর দিয়ে চলাচল করে। এটি গুণের সাথে গুণান্বিতের সম্বন্ধ, যার অর্থ হলো পদপিষ্ট পথ, আর তা হলো রাস্তার মধ্যভাগ। (এবং ছায়া) অর্থাৎ গাছের ছায়া এবং পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তদ্রূপ অন্যান্য জিনিসের ছায়া।
জেনে রাখুন যে, লেখক এই অধ্যায়ে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি মানুষের পথে মল-মূত্র ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে। আপনি ইতিমধ্যেই জেনেছেন যে, ‘আত-তাখাল্লি’ বলতে মল বা মূত্র ত্যাগের জন্য নির্জনে যাওয়াকে বোঝায়। দ্বিতীয়টি উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ সম্পর্কে। আপনি জানেন যে, ‘আল-বারাজ’ মূলত প্রশস্ত ও উন্মুক্ত ভূমির নাম, তবে মানুষের মলত্যাগের বিষয়টি বোঝাতে একে রূপকভাবে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, ব্যক্তিটি ‘বারাজ’ করেছে যখন সে মলত্যাগ করে। এটি মূলত মলত্যাগের নাম হলেও প্রস্রাব করাকেও এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আমি বলছি, হাদিস দুটির অবতারণা করা কিছুটা কষ্টসাধ্য প্রয়াস থেকে মুক্ত নয়। আল্লাহই ভালো জানেন এবং তাঁর জ্ঞানই অধিক পূর্ণাঙ্গ।
আল-মুনজিরি বলেন, ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
৫ -
(অনুচ্ছেদ: গোসলখানায় প্রস্রাব করা সম্পর্কে)[২৭] ‘মুস্তাহাম’ হলো এমন স্থান যেখানে ‘হামিম’ অর্থাৎ গরম পানি দিয়ে গোসল করা হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে গোসল করার স্থান এবং ওযু করার স্থানকেও এর সমার্থক ধরা হয়।
(আহমদ) ইবনে হাম্বল তাঁর সনদে বলেছেন, (আমাদের নিকট মা’মার বর্ণনা করেছেন)। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, হাসান ইবনে আলী সরাসরি শ্রবণের পদ্ধতিতে বর্ণনা করেননি, বরং ‘আন’আনা’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক মা’মার থেকে ‘আন’আনা’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন এবং এটি তিরমিজি ও নাসাঈর বর্ণনায়ও বিদ্যমান।
‘গায়াতুল মাকসুদ’ গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে।
এবং তিনি ‘মানহিয়্যাতু গায়াতিল মাকসুদ’ গ্রন্থে বলেন, সম্ভবত উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَالْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ فِي صِيغَةِ الرِّوَايَةِ عَنْ أَشْعَثَ فَقَطْ أَيْ يَقُولُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ عَنِ الْحَسَنِ وَيَقُولُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
انْتَهَى (أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ) بِصِيغَةِ الْإِخْبَارِ وَهِيَ فِي رِوَايَةِ أَحْمَدَ (وَقَالَ الْحَسَنُ) بْنُ عَلِيٍّ بِصِيغَةِ الْعَنْعَنَةِ (عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ) بْنِ جَابِرٍ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيِّ (لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّهِ) قَالَ الْحَافِظُ وَلِيُّ الدِّينِ الْعِرَاقِيُّ حَمَلَ جَمَاعَةٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى مَا إِذَا كَانَ الْمُغْتَسَلُ لَيِّنًا وَلَيْسَ فِيهِ مَنْفَذٌ بِحَيْثُ إِذَا نَزَلَ فِيهِ الْبَوْلُ شَرِبَتْهُ الْأَرْضُ وَاسْتَقَرَّ فِيهَا فَإِنْ كَانَ صُلْبًا بِبَلَاطٍ وَنَحْوِهِ بِحَيْثُ يَجْرِي عَلَيْهِ الْبَوْلُ وَلَا يَسْتَقِرُّ أَوْ كَانَ فِيهِ مَنْفَذٌ كَالْبَالُوعَةِ وَنَحْوِهَا فَلَا نَهْيَ
وَقَالَ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِهِ إِنَّمَا نَهَى عَنِ الِاغْتِسَالِ فِيهِ إِذَا كَانَ صُلْبًا يُخَافُ مِنْهُ إِصَابَةُ رَشَاشِهِ فَإِنْ كَانَ لَا يُخَافُ ذَلِكَ بِأَنْ يَكُونَ لَهُ مَنْفَذٌ أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ فَلَا كَرَاهَةَ
قَالَ الشَّيْخُ وَلِيُّ الدِّينِ وَهُوَ عَكْسُ مَا ذَكَرَهُ الْجَمَاعَةُ فَإِنَّهُمْ حَمَلُوا النَّهْيَ عَلَى الْأَرْضِ اللَّيِّنَةِ وَحَمَلَهُ هُوَ عَلَى الصُّلْبَةِ وَقَدْ لَمَحَ هُوَ مَعْنًى آخَرَ وَهُوَ أَنَّهُ فِي الصُّلْبَةِ يُخْشَى عَوْدُ الرَّشَاشِ بِخِلَافِ الرَّخْوَةِ وَهُمْ نَظَرُوا إِلَى أَنَّهُ فِي الرَّخْوَةِ يَسْتَقِرُّ مَوْضِعَهُ وَفِي الصُّلْبَةِ يَجْرِي وَلَا يَسْتَقِرُّ فَإِذَا صُبَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ ذَهَبَ أَثَرُهُ بِالْكُلِّيَّةِ
قُلْتُ الْأَوْلَى أَنْ لَا يُقَيَّدَ الْمُغْتَسَلُ بِلَيِّنٍ وَلَا صُلْبٍ فَإِنَّ الْوَسْوَاسَ يَنْشَأُ مِنْهُمَا جَمِيعًا فَلَا يَجُوزُ الْبَوْلُ فِي الْمُغْتَسَلِ مُطْلَقًا (ثُمَّ يَغْتَسِلْ فِيهِ) أَيْ فِي الْمُسْتَحَمِّ وَهَذَا فِي رِوَايَةِ الْحَسَنِ (قَالَ أَحْمَدُ) بْنُ مُحَمَّدٍ فِي رِوَايَتِهِ (ثُمَّ يَتَوَضَّأُ فِيهِ) أَيْ فِي الْمُسْتَحَمِّ
قَالَ الطِّيبِيُّ ثُمَّ يَغْتَسِلْ عَطْفٌ عَلَى الْفِعْلِ الْمَنْفِيِّ وَثُمَّ اسْتِبْعَادِيَّةٌ أَيْ بَعِيدٌ عَنِ الْعَاقِلِ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا (فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ) أَيْ أَكْثَرُهُ يَحْصُلُ مِنْهُ لِأَنَّهُ يَصِيرُ الْمَوْضِعُ نَجِسًا فَيُوَسْوَسُ قَلْبُهُ بِأَنَّهُ هَلْ أَصَابَهُ مِنْ رَشَاشِهِ
قَالَ المنذري وأخرجه الترمذي والنسائي وبن مَاجَهْ
وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
[28] (لَقِيتُ رَجُلًا) وَلَمْ يُعَرِّفِ الرَّجُلَ وَهَذَا لَا يَضُرُّ لِأَنَّ الصَّحَابَةَ كُلُّهُمْ عُدُولٌ بِتَزْكِيَةِ اللَّهِ (كَمَا صَحِبَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ) وَفِي رِوَايَةِ النَّسَائِيِّ أَرْبَعَ سِنِينَ أَيْ صَحِبَ الرَّجُلُ الْمَذْكُورُ أَرْبَعَ سِنِينَ (أَنْ يَمْتَشِطَ أَحَدُنَا كُلَّ يَوْمٍ) لِأَنَّهُ تَرَفُّهٌ وَتَنَعُّمٌ وَلَا يُعَارِضُهُ الْحَدِيثُ أَنَّهُ يُكْثِرُ دَهْنَ رَأْسِهِ وَتَسْرِيحَ لِحْيَتِهِ وَالْحَدِيثُ
আহমদ ইবনে হাম্বল এবং আল-হাসান ইবনে আলীর বর্ণনায় পার্থক্য কেবল আশআস-এর কাছ থেকে বর্ণনাভঙ্গির ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, আহমদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আশআস, তিনি আল-হাসান থেকে। অন্যদিকে আল-হাসান ইবনে আলী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, তিনি আশআস ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
সমাপ্ত। (আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আশআস) সংবাদ প্রদানের শব্দে, আর এটি আহমদের বর্ণনায় রয়েছে। (এবং আল-হাসান ইবনে আলী বলেন) 'আন' (থেকে) শব্দযোগে বর্ণনার পদ্ধতিতে (আশআস ইবনে আবদুল্লাহ থেকে) যিনি জাবেরের পুত্র এবং আবু আবদুল্লাহ আল-বসরী হিসেবে পরিচিত। (তোমাদের কেউ যেন তার গোসলখানায় প্রস্রাব না করে) হাফেজ ওলিউদ্দিন আল-ইরাকি বলেন: একদল উলামা এই হাদিসটিকে এমন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যেখানে গোসল করার স্থানটি নরম এবং সেখানে কোনো নির্গমন পথ নেই, ফলে সেখানে প্রস্রাব করলে মাটি তা শুষে নেয় এবং সেখানে তা স্থির হয়ে থাকে। কিন্তু যদি স্থানটি পাকা মেঝে বা এমন শক্ত হয় যেখানে প্রস্রাব গড়িয়ে যায় এবং স্থির থাকে না, অথবা যদি সেখানে ড্রেন বা নির্গমন পথ থাকে, তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
ইমাম নববী তাঁর শরহে (ব্যাখ্যায়) বলেন: গোসলখানায় প্রস্রাব করা থেকে তখনই নিষেধ করা হয়েছে যখন তা শক্ত হয় এবং ছিটা আসার ভয় থাকে। তবে যদি তেমন ভয় না থাকে, যেমন নির্গমন পথ থাকা বা অন্য কোনো কারণে, তবে তা মাকরূহ হবে না।
শায়খ ওলিউদ্দিন বলেন: এটি পূর্বোক্ত উলামাবৃন্দ যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত। কারণ তাঁরা নিষেধাজ্ঞাকে নরম মাটির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন, আর তিনি (নববী) একে শক্ত মাটির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। তিনি এখানে অন্য একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আর তা হলো শক্ত মাটিতে প্রস্রাবের ছিটা ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে, যা নরম মাটিতে থাকে না। অন্যদিকে পূর্বোক্ত উলামাগণ এই দিকটি বিবেচনা করেছেন যে, নরম মাটিতে প্রস্রাব স্থির হয়ে থাকে, কিন্তু শক্ত মাটিতে তা গড়িয়ে যায় এবং জমে থাকে না; ফলে যখন তার ওপর পানি ঢালা হয়, তখন তার চিহ্ন সম্পূর্ণ মুছে যায়।
আমি (গ্রন্থকার) বলি: উত্তম হলো গোসলখানাকে নরম বা শক্ত মাটি দ্বারা সীমাবদ্ধ না করা। কারণ কুমন্ত্রণা বা চিত্তবিকার উভয় প্রকার স্থান থেকেই সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং গোসলখানায় প্রস্রাব করা সর্বাবস্থায় অনুচিত। (অতঃপর সেখানে গোসল করবে) অর্থাৎ সেই গোসলখানায়; এটি আল-হাসানের বর্ণনায় রয়েছে। আহমদ ইবনে মুহাম্মদ তার বর্ণনায় বলেছেন (অতঃপর সেখানে অজু করবে) অর্থাৎ সেই গোসলখানায়।
আল-তিবি বলেন: "অতঃপর গোসল করবে" কথাটি পূর্ববর্তী নেতিবাচক ক্রিয়ার ওপর সংযোজিত হয়েছে। এখানে "অতঃপর" (থুম্মা) শব্দটি অসম্ভাব্যতা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে এই দুটি কাজ (প্রস্রাব ও গোসল) একত্রে করা সুদূরপরাহত। (নিশ্চয়ই অধিকাংশ কুমন্ত্রণা এর থেকেই হয়) অর্থাৎ এর মাধ্যমেই অধিকাংশ চিত্তবিকার ঘটে। কারণ স্থানটি অপবিত্র হয়ে যায়, ফলে তার মনে এই সন্দেহ জাগে যে প্রস্রাবের ছিটা তার শরীরে লাগল কি না।
আল-মুনজিরি বলেন: এটি তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি গরিব হাদিস।
[২৮] (আমি এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করলাম) তিনি লোকটির পরিচয় উল্লেখ করেননি, তবে এতে কোনো ক্ষতি নেই; কারণ সাহাবিগণ সকলেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে স্বীকৃত। (যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাহচর্য লাভ করেছিলেন) নাসায়ির বর্ণনায় রয়েছে চার বছর; অর্থাৎ উল্লিখিত ব্যক্তি চার বছর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। (আমাদের কেউ যেন প্রতিদিন চুল আঁচড়ানোতে লিপ্ত না হয়) কারণ এটি অতিবিলাসিতা ও আরামপ্রিয়তার অন্তর্ভুক্ত। এটি সেই হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যাতে বলা হয়েছে যে, তিনি মাথায় প্রচুর তেল দিতেন এবং দাড়ি আঁচড়াতেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
أَنَّهُ لَا يُفَارِقُهُ الْمُشْطُ فِي سَفَرٍ وَلَا حَضَرٍ لِأَنَّهُمَا ضَعِيفَانِ وَلَوْ سُلِّمَ فَلَا يَلْزَمُ مِنَ الْإِكْثَارِ أَنْ يَمْتَشِطَ كُلَّ يَوْمٍ وَصُحْبَتُهُ لِيَمْتَشِطَ عِنْدَ الْحَاجَةِ لَا كُلَّ يَوْمٍ وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ
فَإِنْ قُلْتَ وَرَدَ أَنَّهُ كَانَ يُسَرِّحُ كُلَّ يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ قُلْتُ لم أره من ذكره إلا الغزالي ولايخفى مَا فِي الْإِحْيَاءِ مِنْ أَحَادِيثَ لَا أَصْلَ لَهَا
وَيَحْتَمِلُ إِلْحَاقُ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ فِي هَذَا الْحُكْمِ إِلَّا أَنَّ الْكَرَاهَةَ فِي حَقِّهِنَّ أَخَفُّ لِأَنَّ بَابَ التَّزَيُّنِ فِي حَقِّهِنَّ أَوْسَعُ كَذَا فِي الْمُتَوَسِّطِ شَرْحِ سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ
6 -
(بَاب النَّهْيِ عَنْ الْبَوْلِ فِي الْجُحْرِ)[29] بِتَقْدِيمِ الْجِيمِ الْمُعْجَمَةِ الْمَضْمُومَةِ وَسُكُونِ الْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ مَا يَحْتَفِرُهُ الْهَوَامُّ وَالسِّبَاعُ وَجَمْعُهُ أَجْحَارٌ
(سَرْجِسَ) بِفَتْحِ أَوَّلِهِ وَسُكُونِ الرَّاءِ وَكَسْرِ الْجِيمِ وَهُوَ غَيْرُ مُتَصَرِّفٍ لِلْعُجْمَةِ وَالْعَلَمِيَّةِ (فِي الْجُحْرِ) أَيِ الثَّقْبِ لِأَنَّهُ مَأْوَى الْهَوَامِّ الْمُؤْذِيَةِ فَلَا يُؤْمَنُ أَنْ يُصِيبَهُ مَضَرَّةٌ مِنْهَا (قَالَ) هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ (مَا يُكْرَهُ) مَا اسْتِفْهَامِيَّةٌ أَيْ لِمَ يُكْرَهْ (إِنَّهَا) أَيِ الْجِحَرَةُ وَالْجِحَرَةُ جَمْعُ جُحْرٍ كَالْأَجْحَارِ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا
7 -
(بَاب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا خَرَجَ مِنْ الخلاء)[30] (غفرانك) قال بن الْعَرَبِيِّ فِي عَارِضَةِ الْأَحْوَذِيِّ غُفْرَانٌ مَصْدَرٌ كَالْغَفْرِ وَالْمَغْفِرَةِ وَمِثْلُهُ سُبْحَانَكَ وَنَصَبَهُ بِإِضْمَارِ فِعْلٍ تَقْدِيرُهُ ها هنا أطلب غفرانك
وفي طلب المغفرة ها هنا مُحْتَمَلَانِ الْأَوَّلُ أَنَّهُ سَأَلَ الْمَغْفِرَةَ مِنْ تَرْكِهِ ذِكْرَ اللَّهِ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ وَالثَّانِي وَهُوَ أَشْهَرُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
সফর কিংবা আবস্থান কোনো অবস্থাতেই চিরুনি তাঁর থেকে আলাদা হতো না, কেননা এই বর্ণনা দুটিই দুর্বল। আর যদি তা সহীহ বলেও মেনে নেওয়া হয়, তবুও এ থেকে এ কথা আবশ্যক হয় না যে তিনি প্রতিদিন চুল আঁচড়াতেন। বরং প্রয়োজনে আঁচড়ানোর জন্য চিরুনি সাথে রাখতেন, প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য নয়। এক্ষেত্রে মাথা ও দাড়ির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
যদি আপনি বলেন যে, বর্ণিত হয়েছে তিনি প্রতিদিন দুইবার চুল আঁচড়াতেন, তবে আমি বলব ইমাম গাজালী ব্যতীত আর কাউকে এটি উল্লেখ করতে দেখিনি। আর ইহয়া উলূমিদ্দীন গ্রন্থে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই—এ বিষয়টি কারোরই অজানা নয়।
এই বিধানের ক্ষেত্রে নারীদেরও পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই অপছন্দনীয়তা কিছুটা শিথিল, কারণ তাদের জন্য সাজসজ্জার বিষয়টি অধিক বিস্তৃত। সুনানে আবু দাউদের ভাষ্যগ্রন্থ 'আল-মুতাওয়াসসিত'-এ এমনই বর্ণিত হয়েছে।
আল-মুনজিরী বলেন, ইমাম নাসাঈও এটি বর্ণনা করেছেন।
৬ -
(গর্তে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ)[২৯] নুকতাযুক্ত জীমে পেশ এবং নুকতাহীন হায়ের সুকুন যোগে ‘জুহর’ বা গর্ত, যা কীটপতঙ্গ বা হিংস্র প্রাণীরা খনন করে। এর বহুবচন হলো ‘আজহার’।
(সারজিস) প্রথম অক্ষরে জবর, রা-এ সুকুন এবং জীমে যের। এটি অনারব শব্দ এবং বিশেষ্য হওয়ার কারণে ‘গাইরে মুনসারিফ’। (গর্তে) অর্থাৎ ছিদ্রপথে, কারণ এটি ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গের আবাসস্থল, তাই সেখান থেকে কোনো ক্ষতি পৌঁছানোর ব্যাপারে নিরাপদ থাকা যায় না। হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী বলেন, (কেন অপছন্দ করা হয়?) এখানে ‘মা’ অব্যয়টি প্রশ্নবোধক অর্থাৎ কেন অপছন্দ করা হবে? (নিশ্চয়ই সেগুলো) অর্থাৎ গর্তসমূহ। ‘জিহারাহ’ শব্দটি ‘জুহর’-এর বহুবচন, যেমন ‘আজহার’।
আল-মুনজিরী বলেন, ইমাম নাসাঈও এটি বর্ণনা করেছেন।
৭ -
(শৌচাগার থেকে বের হওয়ার সময় যা বলতে হয় সেই পরিচ্ছেদ)[৩০] (আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি) ইবনুল আরাবী ‘আরিজাতুল আহওয়াযী’ গ্রন্থে বলেন, ‘গুফরান’ শব্দটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল যেমন ‘গাফর’ ও ‘মাগফিরাহ’। অনুরূপ ‘সুবহানাকা’। এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে মানসুব বা যবরযুক্ত হয়েছে, যার সম্ভাব্য অর্থ হলো: এই মুহূর্তে আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এখানে ক্ষমা প্রার্থনার দুটি কারণ হতে পারে: প্রথমটি হলো, ওই সময়ে ও অবস্থায় আল্লাহর জিকির থেকে বিরত থাকার কারণে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। দ্বিতীয়টি এবং যেটি অধিক প্রসিদ্ধ, তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
سَأَلَ الْمَغْفِرَةَ فِي الْعَجْزِ عَنْ شُكْرِ النِّعْمَةِ فِي تَيْسِيرِ الْغِذَاءِ وَإِبْقَاءِ مَنْفَعَتِهِ وَإِخْرَاجِ فَضْلَتِهِ عَلَى سُهُولَةٍ فَيُؤَدِّي قَضَاءَ حَقِّهَا بِالْمَغْفِرَةِ
وَقَالَ الرَّضِيُّ فِي شَرْحِ الْكَافِيَةِ مَا حَاصِلُهُ أَنَّ الْمَصَادِرَ الَّتِي بُيِّنَ فَاعِلُهَا بِإِضَافَتِهَا إِلَيْهِ نَحْوَ كِتَابُ اللَّهِ وَوَعْدُ اللَّهِ أَوْ بُيِّنَ مَفْعُولُهَا بِالْإِضَافَةِ نَحْوَ ضَرْبَ الرِّقَابِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ أَوْ بُيِّنَ فَاعِلُهَا بِحَرْفِ جَرٍّ نَحْوَ بُؤْسًا لَكَ وَسُحْقًا لَكَ أَوْ بُيِّنَ مَفْعُولُهَا بِحَرْفِ جَرٍّ نَحْوَ غُفْرًا لَكَ وَجَدْعًا لَكَ فَيَجِبُ حَذْفُ فِعْلِهَا فِي جَمِيعِ هَذَا قِيَاسًا وَغُفْرَانَكَ دَاخِلٌ فِي هَذَا الضَّابِطِ فَعَلَى هَذَا يَكُونُ فِعْلُهُ الْمُقَدَّرُ اغْفِرْ أَيِ اغْفِرْ غُفْرَانًا
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وأخرجه الترمذي والنسائي وبن مَاجَهْ
وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَلَا يُعْرَفُ فِي هَذَا الْبَابِ إِلَّا حَدِيثُ عَائِشَةَ
هَذَا آخِرُ كَلَامِ التِّرْمِذِيِّ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَفِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي وَحَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُهُ وَفِي لَفْظٍ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْسَنَ إِلَيَّ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي كَانَ إِذَا خَرَجَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذَاقَنِي لَذَّتَهُ وَأَبْقَى فِيَّ قُوَّتَهُ وَأَذْهَبَ عَنِّي أَذَاهُ غَيْرَ أَنَّ هَذِهِ الْأَحَادِيثَ أَسَانِيدُهَا ضَعِيفَةٌ وَلِهَذَا قَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ أَصَحُّ مَا فِيهِ حَدِيثُ عَائِشَةَ
انْتَهَى كَلَامُ الْمُنْذِرِيِّ
وَالْحَدِيثُ مَا أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي السُّنَنِ المجتبىبل أَخْرَجَهُ فِي كِتَابِ عَمَلِ الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ فَإِطْلَاقُهُ مِنْ غَيْرِ تَقْيِيدٍ لَا يُنَاسِبُ
8 -
(بَاب كَرَاهِيَةِ مَسِّ الذَّكَرِ بِالْيَمِينِ فِي الِاسْتِبْرَاءِ)[31] أَيْ فِي الِاسْتِنْجَاءِ
(فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ) أَيْ حَالَ الْبَوْلِ تَكْرِيمًا لِلْيَمِينِ فَيُكْرَهُ بِهَا بِلَا حَاجَةٍ تَنْزِيهًا عِنْدَ الشَّافِعِيَّةِ وَتَحْرِيمًا عِنْدَ الْحَنَابِلَةِ وَالظَّاهِرِيَّةِ
قَالَهُ الْمُنَاوِيُّ (فَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ) أَيْ لَا يَسْتَنْجِي بِيَمِينِهِ (فَلَا يَشْرَبْ) شَرَابَهُ (نَفَسًا وَاحِدًا) بَلْ يَفْصِلُ الْقَدَحَ عَنْ فِيهِ ثُمَّ يَتَنَفَّسُ خَارِجَ الْقَدَحِ وَهُوَ عَلَى طَرِيقِ الْأَدَبِ مَخَافَةً مِنْ سُقُوطِ شَيْءٍ مِنَ الْفَمِ وَالْأَنْفِ فِيهِ وَنَحْوِ ذَلِكَ وَالْأَفْعَالُ الثَّلَاثَةُ إِمَّا مَجْزُومٌ عَلَى النَّهْيِ أَوْ مَرْفُوعٌ عَلَى النَّفْيِ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وبن مَاجَهْ مُطَوَّلًا وَمُخْتَصَرًا
খাদ্যের সহজলভ্যতা, এর উপযোগিতা অবশিষ্ট রাখা এবং অতি সহজে এর বর্জ্য নির্গমনের নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ে অক্ষমতার কারণে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ফলে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি সেই নেয়ামতের হক আদায় করেন।
ইমাম রাজি শারহুল কাফিয়াতে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: যে সকল মাসদার (ক্রিয়ামূল)-এর কর্তা সম্বন্ধপদের (ইজাফত) মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেমন: 'কিতাবুল্লাহ' (আল্লাহর কিতাব) ও 'ওয়াদুল্লাহ' (আল্লাহর ওয়াদা); অথবা যার কর্ম সম্বন্ধপদের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেমন: 'দারবার রিকাব' (গর্দান উড়ানো) ও 'সুবহানাল্লাহ' (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা); অথবা যার কর্তা অব্যয় (হারফে জার)-এর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেমন: 'বু’সান লাকা' ও 'সুহকান লাকা'; অথবা যার কর্ম অব্যয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেমন: 'গুফরান লাকা' ও 'জাদআন লাকা'— এই সকল ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত নিয়মে (কিয়াসিভাবে) এদের ক্রিয়া (ফেল) উহ্য রাখা ওয়াজিব। আর 'গুফরানাকা' শব্দটি এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। সেই অনুযায়ী এর উহ্য ক্রিয়াটি হবে 'ইগফির' (ক্ষমা করুন), অর্থাৎ 'ইগফির গুফরানান'।
ইমাম মুনজিরি বলেন, এটি তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি একটি হাসান গরিব হাদিস এবং এই অনুচ্ছেদে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস ব্যতীত অন্য কিছু পরিচিত নয়।
এখানেই ইমাম তিরমিজির বক্তব্যের সমাপ্তি।
ইমাম মুনজিরি বলেন, এই অনুচ্ছেদে আবু জার (রা.)-এর হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন’। আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসটিও অনুরূপ। অন্য শব্দে এসেছে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার প্রতি এর শুরুতে এবং শেষে অনুগ্রহ করেছেন’। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে যে, নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হওয়ার সময় বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এর স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন, এর শক্তি আমার মাঝে অবশিষ্ট রেখেছেন এবং এর কষ্টদায়ক অংশ আমার থেকে দূর করেছেন’। তবে এই হাদিসগুলোর সনদ দুর্বল। একারণেই আবু হাতিম রাজি বলেছেন, এই বিষয়ে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ।
ইমাম মুনজিরির বক্তব্য সমাপ্ত।
আর হাদিসটি ইমাম নাসাঈ তার 'সুনানে মুজতাবা'য় বর্ণনা করেননি, বরং তিনি এটি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাই কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই এটি (সুনানের দিকে) সম্বন্ধ করা সমীচীন নয়।
৮ -
(পরিচ্ছেদ: ইস্তিবরার সময় ডান হাত দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ করা অপছন্দনীয় হওয়া প্রসঙ্গে)[৩১] অর্থাৎ ইস্তিনজার সময়।
(সে যেন তার ডান হাত দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ না করে) অর্থাৎ প্রস্রাবরত অবস্থায় ডান হাতের সম্মানের খাতিরে। সুতরাং কোনো প্রয়োজন ছাড়া ডান হাত দ্বারা স্পর্শ করা শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী 'মাকরূহে তানজিহি' এবং হাম্বলি ও জাহেরি মাযহাব অনুযায়ী 'হারাম' বা 'মাকরূহে তাহরিমি'।
আল্লামা মুনাবি এটি বলেছেন। (সে যেন তার ডান হাত দিয়ে না মোছে) অর্থাৎ ডান হাত দিয়ে যেন ইস্তিনজা না করে। (সে যেন পান না করে) তার পানীয় (এক নিঃশ্বাসে), বরং সে পাত্রটি মুখ থেকে পৃথক করবে এবং পাত্রের বাইরে নিঃশ্বাস গ্রহণ করবে। মুখ বা নাক থেকে কোনো কিছু পাত্রে পড়ার আশঙ্কায় এটি শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। এই তিনটি ক্রিয়াপদ হয় নিষেধাজ্ঞাসূচক হিসেবে 'মাজজুম' (সুজুনযুক্ত) অথবা নেতিবাচক সংবাদ হিসেবে 'মারফু' (পেশযুক্ত)।
ইমাম মুনজিরি বলেন, এটি ইমাম বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত উভয়ভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
[32] (الْمِصِّيصِيُّ) بِكَسْرِ الْمِيمِ وَشِدَّةِ الصَّادِ الْمُهْمَلَةِ نِسْبَةٌ إِلَى مَصِّيصَةَ بَلَدٌ بِالشَّامِ الْإِفْرِيقِيَّ بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ وَالرَّاءِ بَيْنَهُمَا فَاءٌ سَاكِنَةٌ مَنْسُوبٌ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ وَهِيَ بِلَادٌ وَاسِعَةٌ قُبَالَةَ الْأَنْدَلُسِ (كَانَ يَجْعَلُ يَمِينَهُ لِطَعَامِهِ وَشَرَابِهِ) أَيْ كَانَ يَجْعَلُ يَدَهُ الْيُمْنَى لَهُمَا (وَثِيَابِهِ) أَيْ لِلُبْسِ ثِيَابِهِ أَوْ تَنَاوُلِهَا (وَيَجْعَلُ شِمَالَهُ لِمَا سِوَى ذَلِكَ) الْمَذْكُورِ مِنَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَالثِّيَابِ
قَالَ النَّوَوِيُّ هَذِهِ قَاعِدَةٌ مُسْتَمِرَّةٌ فِي الشَّرْعِ وَهِيَ أَنَّ مَا كَانَ مِنْ بَابِ التَّكْرِيمِ وَالتَّشْرِيفِ كَلُبْسِ الثَّوْبِ وَالسَّرَاوِيلِ وَالْخُفِّ وَدُخُولِ الْمَسْجِدِ وَالسِّوَاكِ وَالِاكْتِحَالِ وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ وَقَصِّ الشَّارِبِ وَتَرْجِيلِ الشَّعْرِ وَنَتْفِ الْإِبِطِ وَحَلْقِ الرَّأْسِ وَالسَّلَامِ مِنَ الصَّلَاةِ وَغَسْلِ أَعْضَاءِ الطَّهَارَةِ وَالْخُرُوجِ مِنَ الْخَلَاءِ وَالْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالْمُصَافَحَةِ وَاسْتِلَامِ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَمِمَّا هُوَ فِي مَعْنَاهُ يُسْتَحَبُّ التَّيَامُنُ فِيهِ
وَأَمَّا مَا كَانَ بِضِدِّهِ كَدُخُولِ الْخَلَاءِ وَالْخُرُوجِ مِنَ الْمَسْجِدِ وَالِامْتِخَاطِ وَالِاسْتِنْجَاءِ وَخَلْعِ الثَّوْبِ وَالسَّرَاوِيلِ وَالْخُفِّ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ فَيُسْتَحَبُّ التَّيَاسُرُ فِيهِ وَذَلِكَ كُلُّهُ لِكَرَامَةِ الْيَمِينِ وَشَرَفِهَا
[33] (لِخَلَائِهِ) أَيْ لِاسْتِنْجَائِهِ (وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى) أَيِ النَّجَاسَةِ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ إِبْرَاهِيمُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَائِشَةَ فَهُوَ مُنْقَطِعٌ وَأَخْرَجَهُ مِنْ حَدِيثِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ بِمَعْنَاهُ وَأَخْرَجَهُ فِي اللِّبَاسِ مِنْ حَدِيثِ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ وَمِنْ ذَلِكَ الْوَجْهِ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ والترمذي والنسائي وبن مَاجَهْ
انْتَهَى كَلَامُ الْمُنْذِرِيِّ
[32] (আল-মিসসিসি) মিমে কাসরা (জের) এবং সাদ বর্ণে তাশদিদসহ, এটি সিরিয়ার 'মিসিসা' নামক একটি শহরের সাথে সম্পৃক্ত। আল-ইফরিকি হলো হামজা ও র-এ কাসরা এবং এই দুইয়ের মাঝে ফা বর্ণে সুকুনসহ; এটি আন্দালুসের (স্পেন) বিপরীতে অবস্থিত একটি সুবিশাল ভূখণ্ড 'ইফরিকিয়া'র সাথে সম্পৃক্ত। (তিনি তাঁর ডান হাত আহার ও পানীয়ের জন্য ব্যবহার করতেন) অর্থাৎ, তিনি তাঁর ডান হাতকে এই দুটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট রাখতেন। (এবং তাঁর পোশাকের জন্য) অর্থাৎ, পোশাক পরিধান করার জন্য অথবা তা গ্রহণ করার জন্য। (এবং তিনি বাম হাত ব্যবহার করতেন তা ব্যতীত অন্য সব কাজের জন্য) অর্থাৎ, আহার, পানীয় ও পোশাকের বাইরে উল্লিখিত কাজগুলোর জন্য তিনি বাম হাত ব্যবহার করতেন।
ইমাম নববী (রহি.) বলেন, এটি শরীয়তের একটি স্থায়ী মূলনীতি যে, সম্মান ও মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত কাজগুলোর ক্ষেত্রে ডান দিক অগ্রগণ্য করা মুস্তাহাব। যেমন—পোশাক, পায়জামা ও মোজা পরিধান করা, মসজিদে প্রবেশ করা, মিসওয়াক করা, চোখে সুরমা লাগানো, নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা, চুল আঁচড়ানো, বগলের চুল উপড়ানো, মাথা মুণ্ডন করা, সালাতের সালাম ফেরানো, অজু ও গোসলের অঙ্গসমূহ ধৌত করা, শৌচাগার থেকে বের হওয়া, আহার করা, পান করা, মুসাফাহা করা, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজ।
আর এর বিপরীত কাজগুলোর ক্ষেত্রে বাম দিক ব্যবহার করা মুস্তাহাব। যেমন—শৌচাগারে প্রবেশ করা, মসজিদ থেকে বের হওয়া, নাক পরিষ্কার করা, ইস্তিঞ্জা (শৌচকার্য) করা, পোশাক, পায়জামা ও মোজা খোলা এবং এই ধরনের অন্যান্য কাজ। এই সবকিছুই ডান হাতের সম্মান ও মর্যাদার কারণে করা হয়।
[33] (তাঁর শৌচকার্যের জন্য) অর্থাৎ তাঁর ইস্তিঞ্জা করার জন্য। (এবং যা অপবিত্র ছিল) অর্থাৎ নাপাকি বা অশুচি বস্তু দূর করার জন্য।
ইমাম মুনযিরি (রহি.) বলেন, ইব্রাহিম (নাখয়ি) আয়েশা (রাযি.) থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, তাই এই বর্ণনাটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সূত্র)। তবে ইমাম আবু দাউদ এটি আসওয়াদের সূত্রে আয়েশা (রাযি.) থেকে সমার্থক শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর পোশাক অধ্যায়ে তিনি মাসরুকের সূত্রে আয়েশা (রাযি.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এই সূত্রেই ইমাম বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন।
মুনযিরির বক্তব্য সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
19 -
(بَاب الِاسْتِتَارِ فِي الْخَلَاءِ)[35] فَإِنْ قُلْتَ مَا الْفَرْقُ بَيْنَ الْبَابِ الْمُتَقَدِّمِ التَّخَلِّي عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ وَبَيْنَ هَذَا الْبَابِ قُلْتُ بَيْنَهُمَا فَرْقٌ بَيِّنٌ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ مِنَ الْبَابِ الْأَوَّلِ التَّفَرُّدُ عَنِ النَّاسِ لِلْحَاجَةِ وَلَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الِاسْتِتَارِ وَهَذَا الْبَابُ إِنَّمَا وَضَعَهُ لِلِاسْتِتَارِ عِنْدَ الْحَاجَةِ فَحَصَلَ مِنَ الْبَابَيْنِ جَمِيعًا أَنَّ التَّفَرُّدَ لِلْخَلَاءِ سُنَّةٌ وَمَعَ هَذَا التَّفَرُّدِ يَنْبَغِي الِاسْتِتَارُ أَيْضًا لِيَتَأَتَّى عَلَى وَجْهِ الْكَمَالِ حِفْظُ عَوْرَتِهِ
(الْحُبْرَانِيِّ) بِضَمِّ الْمُهْمَلَةِ وَسُكُونِ الْمُوَحَّدَةِ مَنْسُوبٌ إِلَى حُبْرَانَ بْنِ عَمْرٍو وَهُوَ أَبُو قَبِيلَةٍ بِالْيَمَنِ
كَذَا فِي الْقَامُوسِ وَالْمُغْنِي
وَقَالَ السُّيُوطِيُّ فِي اللُّبِّ اللُّبَابِ حُبْرَانُ بَطْنٌ مِنْ حِمْيَرَ
انْتَهَى (مَنِ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ) أَيْ مَنْ أَرَادَ الِاكْتِحَالَ فَلْيُوتِرْ وَالْوِتْرُ الْفَرْدُ أَيْ ثَلَاثًا مُتَوَالِيَةً فِي كُلِّ عَيْنٍ وَقِيلَ ثَلَاثًا فِي الْيُمْنَى وَاثْنَيْنِ فِي الْيُسْرَى لِيَكُونَ الْمَجْمُوعُ وِتْرًا وَالتَّثْلِيثُ عُلِمَ مِنْ فِعْلِهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ مِكْحَلَةٌ يَكْتَحِلُ مِنْهَا كُلَّ لَيْلَةٍ ثَلَاثَةً فِي هَذِهِ وَثَلَاثَةً فِي هَذِهِ
كَذَا فِي الْمِرْقَاةِ شَرْحِ الْمِشْكَاةِ (مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ) أَيْ فَعَلَ فِعْلًا حَسَنًا يُثَابُ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِأَنَّهُ تَخَلَّقَ بِأَخْلَاقِ اللَّهِ تَعَالَى فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ (وَمَنْ لَا) أَيْ لَا يَفْعَلِ الْوِتْرَ (فَلَا حَرَجَ) أَيْ لَا إِثْمَ عَلَيْهِ (وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ) الِاسْتِجْمَارُ الِاسْتِنْجَاءُ بِالْجِمَارِ وَهِيَ الْحِجَارَةُ الصِّغَارُ أَيْ فَلْيَجْعَلْ حِجَارَةَ الِاسْتِنْجَاءِ وِتْرًا وَاحِدًا أَوْ ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا (فَلَا حَرَجَ) إِذِ الْمَقْصُودُ الْإِنْقَاءُ (أَكَلَ) شَيْئًا (فَمَا تَخَلَّلَ) مَا شَرْطِيَّةٌ وَالْجَزَاءُ فَلْيَلْفِظْ أَيْ مَا أَخْرَجَهُ مِنَ الْأَسْنَانِ بِالْخِلَالِ (فَلْيَلْفِظْ) بِكَسْرِ الْفَاءِ فَلْيُلْقِ وَلْيَرْمِ وَلْيَطْرَحْ مَا يُخْرِجُهُ مِنَ الْخِلَالِ مِنْ بَيْنِ أَسْنَانِهِ لِأَنَّهُ رُبَّمَا يَخْرُجُ بِهِ دَمٌ (وَمَا لَاكَ بِلِسَانِهِ) عَطْفٌ عَلَى مَا تَخَلَّلَ أَيْ مَا أَخْرَجَهُ بِلِسَانِهِ وَاللَّوْكُ إِدَارَةُ الشَّيْءِ بِلِسَانِهِ فِي الْفَمِ يُقَالُ لَاكَ يَلُوكُ (فَلْيَبْتَلِعْ) أَيْ فَلْيَأْكُلْهُ وَإِنْ تَيَقَّنَ بِالدَّمِ حَرُمَ أَكْلُهُ (مَنْ فَعَلَ) أَيْ رَمَى وَطَرَحَ مَا أَخْرَجَهُ من الأسنان
১৯ -
(মলত্যাগকালে আবৃত থাকার পরিচ্ছেদ)[৩৫] আপনি যদি প্রশ্ন করেন, পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ তথা 'প্রয়োজন পূরণের সময় নির্জনে যাওয়া' এবং বর্তমান পরিচ্ছেদের মধ্যে পার্থক্য কী? আমি বলব, এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কারণ, প্রথম পরিচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো লোকালয় থেকে পৃথক হয়ে নির্জনে যাওয়া, সেখানে আবৃত থাকার বিষয়টি উল্লিখিত হয়নি। আর এই পরিচ্ছেদটি তিনি (ইমাম) মলত্যাগের সময় নিজেকে আবৃত রাখার বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং উভয় পরিচ্ছেদ থেকে সম্মিলিতভাবে এই বিষয়টি সাব্যস্ত হয় যে, মলত্যাগের জন্য নির্জনে যাওয়া সুন্নত এবং নির্জনে যাওয়ার পাশাপাশি পর্দার আড়ালে থাকাও উচিত, যাতে সতর বা লজ্জাস্থানের হেফাজত পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়।
(আল-হুবরানী): প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন সহকারে। এটি আমর-এর পুত্র হুবরানের দিকে সম্বন্ধিত, যিনি ইয়ামানের একটি গোত্রের আদিপিতা।
'আল-কামূস' এবং 'আল-মুগনী' গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে।
আল্লামা সুয়ূতী 'লুব্বুল লুবাব' গ্রন্থে বলেছেন, হুবরান হলো হিময়ার গোত্রের একটি শাখা।
সমাপ্ত। (যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহার করে, সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় করে): অর্থাৎ যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন তা বেজোড় সংখ্যক বার করে। আর 'বেজোড়' বলতে প্রত্যেক চোখে ধারাবাহিকভাবে তিনবার করে বুঝায়। কেউ কেউ বলেছেন, ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে দুইবার ব্যবহার করবে, যাতে মোট সংখ্যাটি বেজোড় হয়। তিনবার ব্যবহারের বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল থেকে জানা যায়; তাঁর একটি সুরমাদানি ছিল যা থেকে তিনি প্রতি রাতে এই চোখে (ডান চোখে) তিনবার এবং ঐ চোখে (বাম চোখে) তিনবার সুরমা লাগাতেন।
'মিরকাত শরহে মিশকাত' গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। (যে ব্যক্তি তা করল সে উত্তম কাজ করল): অর্থাৎ সে একটি পুণ্যময় কাজ করল যার জন্য সে প্রতিদান পাবে, কারণ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত এবং যেহেতু সে আল্লাহ তাআলার গুণে গুণান্বিত হয়েছে; কেননা আল্লাহ তাআলা এক ও বেজোড় এবং তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন। (আর যে করল না): অর্থাৎ যে বেজোড় সংখ্যা রক্ষা করল না, (তার কোন গুনাহ নেই): অর্থাৎ তার উপরে কোন পাপ বর্তাবে না। (যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে শৌচকার্য সম্পাদন করে সে যেন বেজোড় সংখ্যা অবলম্বন করে): ইস্তিজমার অর্থ হলো ছোট পাথর বা নুড়ি দিয়ে শৌচকার্য করা। অর্থাৎ সে যেন শৌচকার্যের পাথরকে বেজোড় সংখ্যায় অর্থাৎ একটি, তিনটি বা পাঁচটি করে। (এতে কোন দোষ নেই): কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। (আহার করল) কোন বস্তু (অতঃপর খিলাল করার মাধ্যমে যা নির্গত হলো): এখানে 'যা' শব্দটি শর্তবাচক এবং এর উত্তর হলো 'সে যেন তা ফেলে দেয়'। অর্থাৎ দাঁতের ফাঁক থেকে খিলাল করে যা বের করল, (সে যেন তা ফেলে দেয়): অর্থাৎ সে যেন দাঁত থেকে খিলাল করার মাধ্যমে যা বের হবে তা বাইরে নিক্ষেপ করে বা ফেলে দেয়। কারণ অনেক সময় এর সাথে রক্ত বের হতে পারে। (আর যা জিহ্বা দ্বারা সরিয়ে আনল): এটি 'খিলাল করার মাধ্যমে যা নির্গত হলো' বাক্যাংশের ওপর সংযোজিত। অর্থাৎ যা সে জিহ্বা দিয়ে বের করে আনল। 'লাউক' অর্থ হলো মুখের ভেতর জিহ্বা দিয়ে কোন কিছু ঘুরানো। (তা যেন সে গিলে ফেলে): অর্থাৎ তা যেন সে খেয়ে ফেলে। তবে যদি রক্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে তা খাওয়া হারাম হবে। (যে ব্যক্তি তা করল): অর্থাৎ দাঁতের ফাঁক থেকে যা নির্গত হয়েছে তা ফেলে দিল।
(খণ্ড: ١)
আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
بِالْخِلَالِ (وَمَنْ لَا) أَيْ لَمْ يَلْفِظْهُ بَلْ أَكَلَهُ عَلَى تَقْدِيرِ عَدَمِ خُرُوجِ الدَّمِ (فَلَا حَرَجَ) فِي ذَلِكَ (فَلْيَسْتَتِرْ) بِشَيْءٍ مِنَ الْأَشْيَاءِ السَّاتِرَةِ (فَإِنْ لَمْ يَجِدْ) شَيْئًا لِيَسْتُرَهُ (كَثِيبًا) الْكَثِيبُ هُوَ مَا يَرْتَفِعُ مِنَ الرَّمْلِ (مِنْ رَمْلٍ) بَيَانُ كَثِيبٍ (فَلْيَسْتَدْبِرْهُ) أَيْ فَلْيَجْمَعْهُ وَلْيُوَلِّهِ دُبُرَهُ (فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بِمَقَاعِدِ بَنِي آدَمَ) قَالَ الْعِرَاقِيُّ الْمَقَاعِدُ جَمْعُ مَقْعَدَةٍ وَهِيَ تُطْلَقُ عَلَى شَيْئَيْنِ أَحَدُهُمَا فِي السَّافِلَةِ أَيْ أَسْفَلِ الْبَدَنِ وَالثَّانِي مَوْضِعُ الْقُعُودِ وَكُلٌّ مِنَ الْمَعْنَيَيْنِ ها هنا مُحْتَمَلٌ أَيْ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بِأَسَافِلِ بَنِي آدَمَ أَوْ فِي مَوْضِعِ قُعُودِهِمْ لِقَضَاءِ الْحَاجَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالتَّسَتُّرِ مَا أَمْكَنَ وَأَنْ لَا يَكُونَ قُعُودُ الْإِنْسَانِ فِي مَرَاحٍ مِنْ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ أَبْصَارُ النَّاظِرِينَ فَيَتَعَرَّضُ لِانْتِهَاكِ السِّتْرِ وَتَهُبُّ الرِّيَاحُ عَلَيْهِ فَيُصِيبُ الْبَوْلَ فَيُلَوِّثُ بَدَنَهُ أَوْ ثِيَابَهُ وَكُلُّ ذَلِكَ مِنْ لَعِبِ الشَّيْطَانِ بِهِ وَقَصْدِهِ إِيَّاهُ بِالْأَذَى وَالْفَسَادِ (مَنْ فَعَلَ) أَيْ جَمَعَ كَثِيبًا وَقَعَدَ خَلْفَهُ (فَقَدْ أَحْسَنَ) بِإِتْيَانِ السُّنَّةِ (وَمَنْ لَا) بِأَنْ كَانَ فِي الصَّحْرَاءِ مِنْ غَيْرِ سِتْرٍ (فَلَا حَرَجَ) (قَالَ حُصَيْنٌ الْحِمْيَرِيُّ) أَيْ قَالَ أَبُو عَاصِمٍ الْحِمْيَرِيُّ بَدَلَ الْحُبْرَانِيِّ (فَقَالَ) أَيْ عَبْدُ الْمَلِكِ (أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ) بِزِيَادَةِ لَفْظِ الْخَيْرِ عَلَى الرِّوَايَةِ السَّابِقَةِ (قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَرَضُ الْمُؤَلِّفِ مِنْ إِيرَادِ هَذِهِ الْجُمْلَةِ أَنَّ فِي رِوَايَةِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُوسَى أَبَا سَعِيدٍ بِغَيْرِ إِضَافَةِ لَفْظِ الْخَيْرِ فَهُوَ لَيْسَ بِصَحَابِيٍّ لِأَنَّ أَبَا سَعِيدٍ هَذَا بِغَيْرِ إِضَافَةِ الْخَيْرِ لَا يُعَدُّ فِي الصَّحَابَةِ بَلْ هُوَ مَجْهُولٌ وَإِنَّمَا يُعَدُّ فِي الصَّحَابَةِ أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ
قَالَ الْمُنْذِرِيُّ وأخرجه بن مَاجَهْ فِي إِسْنَادِهِ أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ الْحِمْصِيُّ وَهُوَ الَّذِي رَوَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ لَا أَعْرِفُهُ
قُلْتُ لَقِيَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ عَلَى هَذَا يُوضَعُ
انْتَهَى
([36]
بَابُ مَا يُنْهَى عَنْهُ)إِلَخْ أَيْ هَذَا باب في بيان الأشياء التي نهى الِاسْتِنْجَاءِ بِهَا
(الْقِتْبَانِيِّ) بِكَسْرِ الْقَافِ وَسُكُونِ الْمُثَنَّاةِ
খিলাল করার মাধ্যমে (এবং যে তা করবে না) অর্থাৎ সে মুখ থেকে তা বের করে দেবে না বরং খেয়ে ফেলবে, রক্ত বের না হওয়ার শর্তে (তাতে কোনো দোষ নেই)। (সে যেন পর্দা অবলম্বন করে) আড়ালকারী কোনো বস্তুর মাধ্যমে। (অতঃপর যদি সে না পায়) আড়াল করার মতো কোনো কিছু (তবে বালুর ঢিবি) ‘কাথিব’ হলো বালুর উঁচু স্তূপ। (বালুর) এটি স্তূপ বা ‘কাথিব’ শব্দের ব্যাখ্যা। (সে যেন তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে বসে) অর্থাৎ সে যেন তা একত্রিত করে এবং সেটির দিকে নিজের পিঠ ফিরিয়ে দেয়। (কেননা শয়তান আদম সন্তানের বসার স্থান নিয়ে খেলা করে)। ইরাকি বলেন, ‘মাকায়িদ’ শব্দটি ‘মাকআদাহ’ এর বহুবচন, যা দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়—একটি হলো শরীরের নিম্নাংশ (মলদ্বার), আর দ্বিতীয়টি হলো বসার স্থান। এখানে উভয় অর্থই সম্ভাব্য। অর্থাৎ শয়তান আদম সন্তানের শরীরের নিম্নাংশ নিয়ে অথবা তাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণার্থে বসার স্থান নিয়ে খেলা করে। তাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধ্যমতো পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মানুষ যেন এমন খোলা স্থানে না বসে যেখানে পথচারীদের দৃষ্টি পড়তে পারে, ফলে পর্দার লঙ্ঘন ঘটে এবং বাতাস প্রবাহিত হয়ে প্রস্রাবের ছিটা তার গায়ে লাগে, যা তার শরীর বা পোশাককে অপবিত্র করে ফেলে। এই সব কিছুই তার সাথে শয়তানের খেলা এবং তাকে কষ্ট ও ক্ষতির সম্মুখীন করার উদ্দেশ্য। (যে ব্যক্তি এরূপ করবে) অর্থাৎ বালু জমা করে তার পিছনে বসবে (সে উত্তম কাজ করল) সুন্নাহ পালনের মাধ্যমে। (আর যে তা করবে না) অর্থাৎ খোলা মরুভূমিতে কোনো আড়াল ছাড়াই বসে পড়ল, (তার কোনো গুনাহ নেই)। (হুসাইন আল-হিময়ারি বলেন) অর্থাৎ আবু আসিম আল-হিময়ারি বলেছেন ‘আল-হুবরানি’ শব্দের পরিবর্তে। (অতঃপর তিনি বলেন) অর্থাৎ আবদুল মালিক (আবু সাঈদ আল-খাইর)। পূর্ববর্তী বর্ণনার চেয়ে এখানে ‘আল-খাইর’ শব্দটি অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে। (আবু দাউদ বলেন, আবু সাঈদ আল-খাইর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত)। এই বাক্যটি উল্লেখ করার মাধ্যমে লেখকের উদ্দেশ্য হলো যে, ইব্রাহিম ইবনে মুসার বর্ণনায় ‘আবু সাঈদ’ শব্দটি এসেছে ‘আল-খাইর’ বিশেষণটি যুক্ত করা ছাড়াই। এমতাবস্থায় তিনি সাহাবী নন, কারণ ‘আল-খাইর’ বিশেষণ ছাড়া এই আবু সাঈদকে সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না, বরং তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তি। পক্ষান্তরে ‘আবু সাঈদ আল-খাইর’ সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।
আল-মুনজিরি বলেন, এটি ইবনে মাজাহ-ও বর্ণনা করেছেন। তার সনদে আবু সাঈদ আল-খাইর আল-হিমসি রয়েছেন, যিনি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআ আর-রাজি বলেন, ‘আমি তাকে চিনি না।’
আমি (ভাষ্যকার) বলছি, তিনি আবু হুরায়রার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ভিত্তিতেই এটি গ্রহণ করা হয়।
সমাপ্ত
([৩৬] অনুচ্ছেদ: যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে) ইত্যাদি। অর্থাৎ এটি এমন সব বস্তুর বর্ণনায় একটি অনুচ্ছেদ যা দ্বারা ইস্তিঞ্জা বা শৌচকর্ম করতে নিষেধ করা হয়েছে।
(আল-কিতবানী) ‘ক্বাফ’ অক্ষরে কাসরা (জের) এবং দ্বিতীয় অক্ষরে (তা) সুকুন যোগে।