(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: -)
جذوة المقتبس في ذكر ولاة الأندلس   (أبو عبد الله الحميدي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: جذوة المقتبس في ذكر وُلاة الأندلس

المؤلف: محمد بن فتوح بن عبد الله بن فتوح بن حميد الأزدي الميورقي الحَمِيدي أبو عبد الله بن أبي نصر (ت 488 هـ)

الناشر: الدار المصرية للتأليف والنشر - القاهرة

عام النشر: 1966 م

عدد الصفحات: 414

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফি জিকর উলাতিল আন্দালুস (আন্দালুসের শাসকদের স্মরণে উদ্দীপক সংবাদ)   (আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমায়দী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফি জিকর উলাতিল আন্দালুস (আন্দালুসের শাসকদের স্মরণে উদ্দীপক সংবাদ)

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ফুতুহ বিন আব্দুল্লাহ বিন ফুতুহ বিন হুমাইদ আল-আযদি আল-মায়ুরকি আল-হুমায়দী আবু আব্দুল্লাহ বিন আবি নাসর (মৃত্যু: ৪৮৮ হিজরি)

প্রকাশক: আদ-দারুল মিসরিয়্যা লিত-তালিফ ওয়ান-নাশর - কায়রো

প্রকাশের বছর: ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على محمد نبيه الكريم وعلى آله

بحمد الله نبتدئ ونختم، وبتأييده إلى كل مراد نتقدم؛ وبالصلاة على رسوله المصطفى نتبرك، وبالسلام عليه نرجو أن يسهل علينا المسك.

فالحمد لله على ما أولانا من النعم، وذكرنا به منها ونحن في العدم، ثم والاها على الدوام، وحملنا فيها على أتم الإكرام، حمداً يوجب لنا به بلوغ الرضى، وصلاح الآخرة والأولى؛ وصلى الله على نبيه محمد المصطفى صلاة موصولة بالوصول، مقرونة بالقبول، مقتضية للبركات، قاضية بأفضل السعادات، وعلى آله وسلم عليه وعليهم تسليماً دائم الأمد، وافر العدد، ما أشرق الضياء، ودامت الأرض والسماء.

أما بعد فإن بعض من التزم واجب شكره على جميل بره، لما وصلت إلى بغداد، وحصلت من إفادته على أفضل مستفاد، نبهنى على أن أجمع ما يحضرنى من أسماء رواة الحديث بالأندلس، وأهل الفقه والأدب، وذوى النباهة والشعر، ومن له ذكر منهم، أو ممن دخل إليهم، أو خرج عنهم في معنى من معانى العلم والفضل، أو الرياسة والحرب.

فأعلمته ببعدى عن مكان هذا المطلوب، وقلة ما صحبنى من الغرض المرغوب، وأنى إن رمته على قلة ما عندى، وتعاطيته على انقطاع موادى وبعدى، لم أخل من أحد وجهين: إما أن أبخس القوم حظهم
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।

আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে আমরা শুরু করি ও শেষ করি, এবং তাঁরই সহায়তায় আমরা প্রতিটি উদ্দেশ্যের দিকে অগ্রসর হই; তাঁর মনোনীত রাসূলের ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে আমরা বরকত খুঁজি এবং তাঁর ওপর সালাম পেশের মাধ্যমে আমরা আশা করি যে আমাদের পথ চলা সহজ হবে।

অতএব, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের নেয়ামত দান করেছেন এবং যখন আমরা অস্তিত্বহীন ছিলাম তখন তিনি আমাদের স্মরণ করেছেন। অতঃপর তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে তা দান করেছেন এবং আমাদের পূর্ণ সম্মানের সাথে পরিচালিত করেছেন; এমন এক প্রশংসা যা আমাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকাল ও ইহকালের কল্যাণকে অবধারিত করে। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত নবী মুহাম্মদের ওপর—এমন রহমত যা প্রাপ্তির সাথে অবিচ্ছিন্ন, কবুলিয়াতের সাথে সম্পৃক্ত, যা বরকত বয়ে আনে এবং সর্বোত্তম সৌভাগ্য নিশ্চিত করে। আর তাঁর পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর ও তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—এমন শান্তি যা চিরস্থায়ী এবং সংখ্যায় অগণিত, যতক্ষণ পর্যন্ত আলো বিকিরিত হয় এবং পৃথিবী ও আকাশ টিকে থাকে।

অতঃপর, যখন আমি বাগদাদে পৌঁছলাম এবং তাঁর নিকট থেকে সর্বোত্তম জ্ঞান অর্জন করলাম, তখন তাঁর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা যাদের ওপর কর্তব্য ছিল, তাদের কেউ কেউ আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি আন্দালুসের হাদিস বর্ণনাকারীগণ, ফিকহ ও সাহিত্যের পণ্ডিতবর্গ, খ্যাতিমান ও কবিগণ এবং যাদের উল্লেখ রয়েছে অথবা যারা সেখানে প্রবেশ করেছেন কিংবা সেখান থেকে বের হয়েছেন—ইলম, ফজল, নেতৃত্ব বা যুদ্ধের ময়দানে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের নামসমূহ আমার কাছে যা উপস্থিত আছে তা একত্রিত করি।

তখন আমি তাঁকে অবহিত করলাম যে, আমি এই প্রার্থিত বিষয়টি থেকে দূরে অবস্থান করছি এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিলের উপকরণ আমার কাছে খুব সামান্য। আর আমার কাছে যা সামান্য আছে তা নিয়ে যদি আমি এ কাজে প্রবৃত্ত হই এবং তথ্য ও উপকরণের অভাব ও দূরত্ব সত্ত্বেও তা সম্পাদন করতে যাই, তবে আমি দুটি অবস্থার কোনো একটি থেকেও মুক্ত হতে পারব না: হয় আমি সেই মহৎ ব্যক্তিদের প্রাপ্য মর্যাদাকে খাটো করব
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢)
وأنقصهم، فأتعرض للائمتهم فيما أوردت، وأقف موقف الاعتذار فيما له قصدت؛ وإما أن أوهم من رأى قلة جمعى، ونهاية ما في وسعى أنه ليس من أهل الفضل في تلك البلاد إلا نزر من الأعداد، فأكون بعد احتفالى لهم قد قصرت بهم، وعند اجتهادى في ذكرهم قد أخللت بفخرهم، وما أرانى مع ذلك إلا متصدياً لمذمة الطائفتين، منتظماً لتتبع الفرقتين لا سيما ولعلماء أقطار ذلك البلد في أنواع هذا المعنى كتب كثيرة العدد، منها لابن حارث، ولابن عبد البر، ولأحمد بن محمد التاريخى، وابن حيان، وسائر المؤرخين هناك على تباين مراتب جمعهم واهتمامهم، مما لو حضرنى بعضه فحذفت التكرار، واقتصرت على العيون، ووصلت به ما عندى، لا ستطيل واستكثر؛ على أنى أعلم أن هذا المقصد الذي سبق إلى تقييده المؤرخون من أسلافنا، وتلاهم التابعون لهم في ضبطه من أخلافنا، جم الفائدة، عظيم العائدة، لما فيه مما لا يخفى على متميز، إلى جهة من جهات المعرفة متحيز؛ ولحرصى على قبول هذا التنبيه، وإن قل ما عندى فيه، بادرت إلى جمع المفترق الحاضر، وإخراج ما في الحفظ منه وإتعاب الخاطر، رجاء الثواب في تنويه بعالم، وتنبيه على فضل فاضل، وتوقيف على غرض، وتحقيق لنسب أو خبر؛ ولا يخلو أن يكون في أثناء ذلك زيادة علم تقتنى، أو ثمرة أدب وشعر تجتنى.

وعلينا إن بلغنا إلى المراد، في سلوك تلك البلاد، أن نستأنف الاستيفاء مع وجود المواد إن شاء الله عز وجل، وبالله تعالى نستعيذ من موارد الزلل، وإياه نستعين على إدراك الصواب في القول والعمل، وهو حسبنا في كل أمل، ونعم الوكيل.

فأول ما نبدأ به أن نذكر وقت افتتاحها، ومن فتحها، ومن وقع إلينا
এবং আমি তাদের সম্মান হ্রাস করছি; ফলে আমি যা বর্ণনা করেছি তাতে তাদের নিন্দার সম্মুখীন হব এবং যে উদ্দেশ্যে আমি অগ্রসর হয়েছি তাতে আমি ক্ষমা প্রার্থনার অবস্থানে থাকব। নতুবা, আমার সংগ্রহের স্বল্পতা এবং আমার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা দেখে কেউ হয়তো এমন ভ্রমাত্মক ধারণায় পড়বে যে, সেই অঞ্চলে গুণী ব্যক্তি কেবল হাতেগোনা কয়েকজনই ছিলেন। ফলে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও আমি তাদের অবমূল্যায়নকারী হয়ে পড়ব এবং তাদের কথা উল্লেখ করার আমার এই প্রচেষ্টায় তাদের গৌরব ক্ষুণ্ণ করার দায় আমার ওপর বর্তাবে। এমতাবস্থায় আমি নিজেকে উভয় দলের নিন্দার লক্ষ্যবস্তু এবং উভয় পক্ষের সমালোচনার সম্মুখীন ছাড়া আর কিছুই দেখছি না। বিশেষ করে, সেই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তের আলেমদের এই বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে; যেমন—ইবনে হারিস, ইবনে আব্দুল বারর, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তারিখি, ইবনে হাইয়ান এবং সেখানকার অন্যান্য ইতিহাসবিদদের গ্রন্থাবলি। তাদের সংগ্রহ ও মনোযোগের মাত্রার ভিন্নতা সত্ত্বেও, যদি সেই সবের কিছু অংশ আমার কাছে উপস্থিত থাকত এবং আমি সেখান থেকে পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে কেবল সারকথা গ্রহণ করতাম এবং আমার নিকট যা আছে তার সাথে তা যুক্ত করতাম, তবে তা দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ হতো। তবে আমি জানি যে, আমাদের পূর্বসূরি ইতিহাসবিদগণ এই যে লক্ষ্য নির্ধারণ ও লিপিবদ্ধ করার কাজ শুরু করেছিলেন এবং আমাদের উত্তরসূরিগণও তাদের অনুসরণে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের ধারা অব্যাহত রেখেছেন, তা অত্যন্ত উপকারী এবং এর সুফল অত্যন্ত ব্যাপক। এটি এমন এক বিষয় যা যেকোনো বিচক্ষণ ব্যক্তি বা জ্ঞানের কোনো একটি শাখার প্রতি অনুরাগী ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট নয়। এই সচেতনতা বা সতর্কবার্তা গ্রহণের প্রতি আমার আগ্রহের কারণে, যদিও এ বিষয়ে আমার কাছে থাকা তথ্যের পরিমাণ নগণ্য, তবুও আমি বর্তমানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্যাদি সংগ্রহ করতে এবং স্মৃতিতে রক্ষিত বিষয়গুলো প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছি এবং নিজের চিন্তাশক্তিকে খাটিয়েছি। আমার প্রত্যাশা হলো—একজন আলেমকে পরিচিত করার মাধ্যমে সওয়াব অর্জন, কোনো গুণী ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা, কোনো উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা এবং কোনো বংশপরিচয় বা সংবাদ যাচাই করা। আর এর মাঝে নতুন কোনো জ্ঞান অর্জন অথবা সাহিত্য ও কাব্যের কোনো সুমিষ্ট ফল আহরণের সুযোগ তো অবশ্যই থাকবে।

যদি আমরা সেই দেশ ভ্রমণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় প্রয়োজনীয় উপাদান বা তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা এই পূর্ণতা দানের কাজ পুনরায় শুরু করব। আমরা মহান আল্লাহর কাছে পদস্খলন থেকে আশ্রয় চাই এবং কথা ও কাজে সঠিক পথ প্রাপ্তির জন্য তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। প্রতিটি আশায় তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমরা প্রথম যা দিয়ে শুরু করছি তা হলো—এর বিজয়ের সময়কাল, কে এটি জয় করেছিলেন এবং আমাদের নিকট কাদের সংবাদ পৌঁছেছে তা উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٣)
ذكره ممن دخلها من التابعين وممن وليها من الأمراء هلم جرا، ثم نذكر سائر من قصدنا ذكره مما في الحفظ أو في حاضر الكتب، مرتباً على حروف المعجم، ونعتمد ذلك أيضاً في كل حرف إذ لم يصح لنا ترتيبهم على الأوقات، ولا على الطبقات؛ وكل ذلك على الاختصار المقصود؛ ومع ما في ذكر أمرائها وأزمانهم من المعرفة فإن فيه فائدة أخرى وهو أنا إذا لم نقف على تحديد وقت وفاة أحد ممن ذكرناه من غيرهم، نسبناه إلى أيام من عرفنا أنه كان في أيامه من الأمراء، فاستبانت بذلك طبقته، وعرف زمانه. فأما أول أوقات افتتاحها ففي سنة اثنتين وتسعين من الهجرة، في القرن الثاني الذي أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنه خير القرون بعد قرنه؛ وأما الذي تولى فتحها وكان أمير الجيش السابق إليها فطارق، قيل ابن زياد، وقيل ابن عمرو، وكان والياً على طنجة مدينة من المدن المتصلة ببر القيروان في أقصى المغرب، بينها وبين الأندلس فيما يقابلها خليج من البحر يعرف بالزقاق وبالمجاز؛ رتبه فيها موسى بن نصير أمير القيروان. وقيل إن مروان بن موسى بن نصير خلف طارقاً هناك على العساكر، وانصرف إلى أبيه لأمر عرض له، فركب طارق البحر إلى الأندلس من جهة مجاز الخضراء، منتهزاً لفرصة أمكنته، فدخلها وأمعن فيها، واستظهر على العدو بها، وكتب إلى موسى ابن نصير بغلبته على ما غلب عليه من الأندلس وفتحه، وما حصل له من الغنائم، فحسده على الانفراد بذلك، وكتب إلى الوليد بن عبد الملك بن مروان يعلمه بالفتح، وينسبه إلى نفسه، وكتب إلى طارق يتوعده إذ دخلها بغير إذنه،

যারা এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন তাদের মধ্যে হতে তাবেয়ীগণ এবং এর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আমীরদের কথা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা স্মৃতি হতে অথবা উপস্থিত কিতাবসমূহ হতে বাকি যাদের কথা উল্লেখ করার সংকল্প করেছি, তাদের কথা অভিধানের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে উল্লেখ করব। আমরা প্রতিটি বর্ণের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, কারণ তাদের সময়কাল বা স্তরের (তবকা) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা আমাদের জন্য সঠিকভাবে সম্ভব হয়নি। আর এই সবকিছুই উদ্দেশ্যমূলক সংক্ষেপণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আমীরদের এবং তাদের সময়কালের আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের পাশাপাশি এতে আরও একটি উপকারিতা রয়েছে; আর তা হলো, যখন আমরা অন্য কারো মৃত্যুর সঠিক সময় নির্ধারণ করতে সক্ষম হব না, তখন আমরা তাকে সেই আমীরের সময়কালের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করব যার সময়কালে তিনি জীবিত ছিলেন বলে আমাদের জানা আছে। ফলে এর মাধ্যমে তার স্তর (তবকা) স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং তার সময়কাল সম্পর্কে জানা যাবে। এর বিজয়ের শুরুর সময় ছিল হিজরি ৯২ সনে, দ্বিতীয় শতাব্দীতে—যেই শতাব্দী সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, তা তাঁর শতাব্দীর পর সর্বোত্তম শতাব্দী। আর যিনি এর বিজয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এর অভিমুখে প্রেরিত অগ্রগামী বাহিনীর আমীর ছিলেন, তিনি হলেন তারিক; কারো মতে তিনি ইবনে যিয়াদ, আবার কারো মতে ইবনে আমর। তিনি তানজাহ্ শহরের গভর্নর ছিলেন, যা দূর পশ্চিমের (মাগরিব) কাইরোয়ানের স্থলভাগের সাথে সংযুক্ত শহরগুলোর একটি। এর এবং আন্দালুসের মাঝখানে বিপরীতে সমুদ্রের একটি উপসাগর রয়েছে যা 'যুকাক' ও 'মাজায' নামে পরিচিত। কাইরোয়ানের আমীর মুসা ইবনে নুসাইর তাঁকে সেখানে নিযুক্ত করেছিলেন। কারো মতে মারওয়ান ইবনে মুসা ইবনে নুসাইর তারিককে সেখানে সৈন্যদের উপর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং কোনো এক বিশেষ প্রয়োজনে তাঁর পিতার নিকট ফিরে গিয়েছিলেন। অতঃপর তারিক সুযোগ বুঝে 'মাজায আল-খাদরা'র দিক থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে গমন করেন। তিনি সেখানে প্রবেশ করে এর গভীরে অগ্রসর হন এবং শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করেন। তিনি মুসা ইবনে নুসাইরের নিকট আন্দালুসের যা কিছু জয় করেছিলেন সেই বিজয় এবং অর্জিত গনীমত সম্পর্কে লিখে পাঠালেন। মুসা এই কৃতিত্ব একাকী অর্জন করার কারণে তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হলেন এবং ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে পত্র লিখলেন এবং এই বিজয়কে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করলেন। পাশাপাশি তিনি তারিককে এই মর্মে হুমকি দিয়ে পত্র লিখলেন যে, কেন তিনি তাঁর অনুমতি ব্যতীত সেখানে প্রবেশ করেছেন।

(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٤)
ويأمره أن لا يتجاوز مكانه حتى يلحق به؛ وخرج متوجهاً إلى الأندلس، واستخلف على القيروان ولده عبد الله وذلك في رجب سنة ثلاث وتسعين، وخرج معه حبيب ابن أبي عبيدة الفهرى ووجوه العرب والموالى وعرفاء البربر، في عسكر ضخم، ووصل من جهة المجاز إلى الأندلس، وقد استولى طارق على قرطبة دار المملكة، وقتل لذريق ملك الروم بالأندلس، فتلقاه طارق وترضاه، ورام أن يستسل ما في نفسه من الحسد له، وقال له: إنما أنا مولاك ومن قبلك وهذا الفتح لك، وحمل طارق ما كان غنم من الأموال، فلذلك نسب الفتح إلى موسى بن نصير لأن طارقا من قبله، ولأنه استزاد في الفتح ما بقى على طارق. وأقام موسى في الأندلس مجاهداً وجامعاً للأموال، ومرتباً للأمور بقية سنة ثلاث وتسعين، وسنة أربع وتسعين، وأشهراً من سنة خمس وتسعين، وقبض على طارق؛ ثم استخلف على الأندلس ولده عبد العزيز بن موسى، وترك معه من العساكر ووجوه القبائل من يقوم بحماية البلاد، وسد الثغور، وجهاد العدو؛ ورجع إلى القيروان، ثم سار منها بما حصل له من الغنائم، وأعده من الهدايا إلى الوليد بن عبد الملك، ومعه فيما يقال طارق، فمات الوليد وقد وصل موسى إلى طبرية في سنة ست وتسعين،

فحمل
এবং তিনি তাকে আদেশ করেন যেন তিনি নিজের অবস্থান অতিক্রম না করেন যতক্ষণ না তিনি তার সাথে মিলিত হন। তিনি আন্দালুসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং কায়রাওয়ানের দায়িত্বে তার পুত্র আবদুল্লাহকে স্থলাভিষিক্ত করেন, আর এটি ছিল ৯৩ হিজরীর রজব মাসে। তার সাথে এক বিশাল সেনাবাহিনীতে হাবীব ইবনে আবি উবায়দাহ আল-ফিহরি, আরবদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাওয়ালি এবং বারবারদের প্রধানগণ বের হন। তিনি প্রণালীর দিক থেকে আন্দালুসে পৌঁছান; ততক্ষণে তারিক রাজধানী কর্ডোবা দখল করে নিয়েছিলেন এবং আন্দালুসের রোমান রাজা রডারিককে হত্যা করেছিলেন। ফলে তারিক তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন; তিনি মুসার মনে তার প্রতি যে ঈর্ষা ছিল তা দূর করার সংকল্প করেন এবং তাকে বললেন: "আমি তো কেবল আপনারই দাস এবং আপনার পক্ষ থেকেই নিয়োজিত, আর এই বিজয় আপনারই।" তারিক গণিমত হিসেবে প্রাপ্ত সমস্ত সম্পদ বহন করে নিয়ে আসেন। একারণেই এই বিজয়কে মুসা ইবনে নুসাইরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, কারণ তারিক তার পক্ষ থেকেই ছিলেন এবং কারণ মুসা বিজয়ের সেই অংশটুকু সম্পন্ন করেছিলেন যা তারিকের বাকি ছিল। মুসা ৯৩ হিজরীর অবশিষ্টাংশ, ৯৪ হিজরী এবং ৯৫ হিজরীর কয়েক মাস পর্যন্ত আন্দালুসে জিহাদরত অবস্থায়, সম্পদ সংগ্রহকারী এবং বিষয়াদি সুশৃঙ্খলকারী হিসেবে অবস্থান করেন এবং তিনি তারিককে পাকড়াও করেন। এরপর তিনি আন্দালুসের দায়িত্বে তার পুত্র আবদুল আজিজ ইবনে মুসাকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং তার সাথে এমন কিছু সৈন্য ও গোত্রীয় প্রধানদের রেখে যান যারা দেশ রক্ষা, সীমান্ত পাহারা এবং শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনার কাজ আঞ্জাম দেবেন। অতঃপর তিনি কায়রাওয়ানে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত গণিমত ও ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের জন্য প্রস্তুতকৃত উপহারসামগ্রী নিয়ে রওনা হন; বলা হয়ে থাকে যে তারিকও তার সাথে ছিলেন। মুসা যখন ৯৬ হিজরীতে তাবারিয়ায় পৌঁছান, তখন ওয়ালিদ মৃত্যুবরণ করেন।

অতঃপর বহন করা হলো...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٥)
ما كان معه إلى سليمان بن عبد الملك؛ ويقال إنه وصل وأدرك الوليد حيا، فالله أعلم.

وأقام عبد العزيز بن موسى بن نصير أميراً على الأندلس، إلى أن ثار عليه من الجند جماعة فيهم حبيب بن أبي عبيدة الفهرى، وزياد بن النابغة التميمي، فقتله بعضهم، وخرجوا برأسه إلى سليمان بن عبد الملك، بعد أن أمروا على الأندلس أيوب بن أخت موسى بن نصير؛ ويقال إنهم كتبوا إلى سليمان بما أنكروا من أمره فأمرهم بما فعلوه.

ثم اختلفت الأمور هنالك، ومكث أهل الأندلس بعد ذلك زماناً لا يجمعهم وال؛ ثم ولى عليهم السمح بن مالك الخولاني قبل المائة؛ ثم ولى عليها الحر بن عبد الرحمن القيسى؛ ثم وليها عنبسة بن سحيم الكلبي، وعزل الحر بن عبد الرحمن؛ ثم وليها عبد الرحمن بن عبد الله العكى نحو العشر ومائة، وكان رجلاً صالحاً؛ ثم وليها عبد الملك ابن قطن الفهرى، ثم عقبة بن الحجاج، فهلك عقبة بالأندلس، فرد عبد الملك بن قطن، ثم جاء بلج بن بشر فادعى ولايتها، وشهد له بعض من كان معه، ووقعت فتن من أجل ذلك افترق أهل الأندلس فيها على أربعة أمراء، حتى أرسل إليهم والياً أبو الخطار حسام بن ضرار الكلبي، فحسم مواد الفتنة، وجمعهم على الطاعة بعد الفرقة؛ وفي تقديم بعضهم على بعض اختلاف، إلا أن هؤلاء المذكورين كانوا أمراءها، وولاة الحروب فيها ايام بنى أمية قبل ذهاب دولتهم من المشرق.
যা কিছু তাঁর সাথে ছিল তা নিয়ে সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিকের কাছে যান; আর বলা হয় যে তিনি পৌঁছে আল-ওয়ালীদকে জীবিত পেয়েছিলেন, আল্লাহই ভালো জানেন।

আব্দুল আজিজ ইবনে মুসা ইবনে নুসাইর আন্দালুসের আমির হিসেবে বহাল থাকেন, যতক্ষণ না সৈন্যদের একটি দল তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, যাদের মধ্যে হাবিব ইবনে আবি উবায়দাহ আল-ফিহরি এবং জিয়াদ ইবনে আন-নাবিগাহ আত-তামিমি ছিলেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ তাঁকে হত্যা করে এবং মুসা ইবনে নুসাইরের ভাগ্নে আইয়ুবকে আন্দালুসের আমির নিযুক্ত করার পর তারা তাঁর মস্তক নিয়ে সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিকের কাছে যায়। বলা হয় যে, তারা সুলায়মানের কাছে তাঁর যে সব কাজ অপছন্দ করতেন সে সম্পর্কে লিখেছিলেন, ফলে তিনি তাদের তাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যা তারা করেছিল।

এরপর সেখানে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং আন্দালুসবাসী এরপর বেশ কিছুকাল এমন অবস্থায় থাকেন যে কোনো শাসনকর্তা তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। তারপর হিজরি একশ সালের আগে সামহ ইবনে মালিক আল-খাওলানি তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। এরপর আল-হুর ইবনে আব্দুল রহমান আল-কায়সি; তারপর আমবাসা ইবনে সুহাইম আল-কালবি দায়িত্ব পান এবং আল-হুর ইবনে আব্দুল রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১১০ হিজরির দিকে আব্দুল রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আক্কি দায়িত্ব পান, তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন। এরপর আব্দুল মালিক ইবনে ক্বাতান আল-ফিহরি, তারপর উকবা ইবনে আল-হাজ্জাজ দায়িত্ব পান। উকবা আন্দালুসে মৃত্যুবরণ করলে আব্দুল মালিক ইবনে ক্বাতানকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বালজ ইবনে বিশর এসে শাসনভার দাবি করেন এবং তাঁর সাথে থাকা কেউ কেউ তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দেন। এ কারণে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যাতে আন্দালুসবাসী চারজন আমিরের অধীনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে তাদের কাছে আবু আল-খাত্তার হুসাম ইবনে দিরার আল-কালবিকে শাসনকর্তা হিসেবে পাঠানো হয়, তিনি বিশৃঙ্খলার উৎসসমূহ নির্মূল করেন এবং বিভেদের পর তাদের আনুগত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন। তাদের একজনের ওপর অন্যজনের অগ্রাধিকার বা পরম্পরার ক্ষেত্রে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে, তবে উল্লিখিত ব্যক্তিরাই ছিলেন উমাইয়া যুগে প্রাচ্যে তাদের শাসনের পতনের পূর্ব পর্যন্ত আন্দালুসের আমির এবং সেখানকার যুদ্ধবিগ্রহের পরিচালক।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٦)
وسنذكر إن شاء الله في الأبواب، ممن دخل الأندلس للجهاد من التابعين جماعة، منهم: محمد بن أوس بن ثابت الأنصاري يروى عن أبي هريرة.

ومنهم: حنش بن عبد الله الصنعاني يروى عن علي بن أبي طالب، وفضالة ابن عبيد.

ومنهم: عبد الرحمن بن عبد الله الغافقي يروى عن ابن عمر.

ومنهم: زيد بن قاصد السكسكى المصري، يروى عن عبد الله بن عمرو ابن العاص.

ومنهم: موسى بن نصير الذي ينسب الفتح إليه يروى عن تميم الدارى.

وقد جاء في فضل المغرب غير حديث؛ من ذلك ما أخرجه مسلم بن الحجاج في الصحيح. رواه عن يحيى بن يحيى، عن هشيم بن بشير الواسطى، عن داود بن أبي هند، عن أبي عثمان النهدى، عن سعد بن أبي وقاص: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا يزال أهل المغرب ظاهرين على الحق حتى تقوم الساعة، وهذا النص وإن كان عاماً لما يقع عليه، فللأندلس منه حظ وافر لدخولها في العموم، ومزية لتحققها بالغرب وانتهاء آخر المعمور فيه، وبعض ساحلها الغربي على البحر المحيط، وليس بعده مسلك.

ومن فضلها أنه لم يذكر قط على منابرها أحد من السلف إلا بخير وإلى الآن، وهي ثغر من ثغور المسلمين لمجاورتهم الروم، واتصال بلادهم ببلادهم وإنما قيل جزيرة الأندلس لأن البحر محيط بجميع جهاتها إلا ما كان الروم فيه من جهة الشمال منها، فصارت كالجزيرة بين
আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী অধ্যায়গুলোতে তাবেয়ীদের মধ্য থেকে যারা জিহাদের জন্য আন্দালুসে প্রবেশ করেছেন এমন একদলের কথা উল্লেখ করব, যাদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে আউস ইবনে সাবিত আল-আনসারী, যিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে আরও আছেন: হানাশ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সানআনী, যিনি আলী ইবনে আবি তালিব এবং ফাদালা ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-গাফেকি, যিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: যায়িদ ইবনে কাসিদ আস-সাকসাকি আল-মিসরি, যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুসা ইবনে নুসাইর, যাঁর প্রতি বিজয়ের কৃতিত্ব প্রদান করা হয়, তিনি তামীম আদ-দারি থেকে বর্ণনা করেছেন।

মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চল) শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে; তন্মধ্যে একটি ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ তার সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি হুশাইম ইবনে বাশির আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মাগরিবের অধিবাসীরা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সত্যের ওপর অটল ও বিজয়ী থাকবে। এই বর্ণনাটি যদিও এর আওতাভুক্ত সকল অঞ্চলের জন্য সাধারণ, তবে আন্দালুসের জন্য এতে এক বিশাল অংশ রয়েছে। কারণ এটি সাধারণভাবে মাগরিবের অন্তর্ভুক্ত এবং পশ্চিমের শেষ প্রান্তে ও জনবসতির সীমান্তে অবস্থিত হওয়ার কারণে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এর পশ্চিম উপকূলের কিছু অংশ মহাসাগরের তীরে অবস্থিত, যার পরে আর কোনো চলাচলের পথ নেই।

এর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো যে, আজ অবধি এর মিম্বরগুলোতে সালাফদের (পূর্বসূরীদের) কাউকেই কল্যাণ ও প্রশংসা ছাড়া অন্যভাবে স্মরণ করা হয়নি। এটি মুসলমানদের সীমান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সীমান্ত, কারণ রোমানদের সাথে তাদের নিকটবর্তী অবস্থান এবং তাদের ভূখণ্ডের সাথে রোমান ভূখণ্ডের সংযোগ। মূলত একে আন্দালুস উপদ্বীপ বলা হয় কারণ এর উত্তর দিক ছাড়া বাকি সব দিক সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত, যেখানে উত্তর দিকে রোমানরা রয়েছে। ফলে এটি একটি দ্বীপের মতো হয়ে গেছে যা...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٧)
البحر والروم، وإلا فمنها إلى القسطنطينية بر متصل من جهة بلاد الروم؛ وقد بشر النبي صلى الله عليه وسلم أهل تلك البلاد في هذا الحديث المتصل الإسناد، بظهور الإسلام فيها وثباته إلى أن تقوم الساعة بها؛ هذا مع زيادة أعداد الروم وبلادهم أضعافاً مضاعفة عليهم، وقلة المسلمين هنالك بالإضافة إليهم، وصح بخبر الصادق صلى الله عليه وسلم أنه ثغر منصور إلى قيام الساعة والحمد لله رب العالمين.
সমুদ্র ও রোম; অন্যথা সেখান থেকে কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত রোমীয় দেশগুলোর দিক থেকে অবিচ্ছিন্ন স্থলভাগ রয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিরবচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট এই হাদিসে ওইসব দেশের অধিবাসীদের সেখানে ইসলামের বিজয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত এর স্থায়িত্বের সুসংবাদ দিয়েছেন। এটি রোমীয়দের সংখ্যা এবং তাদের ভূখণ্ডের আয়তন তাদের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়া এবং তাদের বিপরীতে সেখানে মুসলমানদের স্বল্পতা সত্ত্বেও। আর সত্যবাদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সংবাদের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি কিয়ামত পর্যন্ত একটি বিজয়ী সীমান্ত; আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌فصل

وما زالت الولاة بالأندلس أيام بنى أمية تليها من قبلهم ومن قبل من يقيمونه بالقيروان أو بمصر؛ فلما اضطرب أمر بنى أمية في سنة ست وعشرين ومائة بقتل الوليد ابن يزيد بن عبد الملك، واشتغلوا عن مراعاة أقاصى البلاد، وقع الاضطراب بإفريقية، والاختلاف بالأندلس أيضاً من القبائل، ثم اتفقوا بالأندلس على تقديم قرشى يجمع الكلمة إلى أن تستقر الأمور بالشام لمن يخاطب، ففعلوا، وقدموا يوسف ابن عبد الرحمن الفهرى أميرا، فسكنت به الأمور، واتفقت عليه القلوب، واتصلت إمارته إلى سنة ثمان وثلاثين بعد ذهاب دولة بني أمية بست سنين؛ وكان ذهاب دولتهم جملة بقتل مروان بن محمد بن مروان بن الحكم في بعض نواحى الفيوم من أعمال مصر، في آخر ذي الحجة سنة اثنتين وثلاثين ومائة بعد بيعة أبي العباس السفاح بتسعة أشهر.

وكان ممن هرب إلى الأندلس من بني أمية عبد الرحمن بن معاوية، ونحن نذكر تاريخ وصوله إليها، وسبب ولايته عليها ومن وليها بعده من أولاده وغيرهم، إلى آخر ما عندنا، ثم نذكر ما بعد ذلك على ما شرطناه إن شاء الله، ولا حول لنا ولا قوة إلا بالله تعالى وجل.

أول أمراء بنى أمية بالأندلس عبد الرحمن، بن معاوية بن هشام، بن عبد الملك، بن مروان، يكنى أبا المطرف، مولده بالشام سنة ثلاث عشرة ومائة، وأمه أم ولد اسمها راح؛ هرب لما ظهرت دولة بنى
পরিচ্ছেদ

উমাইয়াদের শাসনামলে আন্দালুসের গভর্নরগণ সরাসরি তাদের পক্ষ থেকে অথবা কায়রাওয়ান বা মিশরে তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিযুক্ত হতেন। অতঃপর যখন ১২৬ হিজরি সনে ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের হত্যাকাণ্ডের ফলে উমাইয়াদের শাসনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তারা দূরবর্তী অঞ্চলসমূহের তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ে, তখন আফ্রিকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং আন্দালুসের গোত্রগুলোর মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হয়। এরপর তারা আন্দালুসে একজন কুরাইশীকে নেতা নির্বাচনের ব্যাপারে একমত হলো, যিনি সবার অনৈক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ করবেন, যতক্ষণ না সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয় এবং কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে তা নির্ধারিত হয়। তারা তা-ই করল এবং ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান আল-ফিহরিকে আমির হিসেবে মনোনীত করল। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হলো এবং সকলে তার ওপর সন্তুষ্ট হলো। উমাইয়া রাজবংশের পতনের ছয় বছর পর ১৩৮ হিজরি সন পর্যন্ত তার শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। উমাইয়া শাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটেছিল মিশরের ফাইয়ুম প্রদেশের কোনো এক অঞ্চলে মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান ইবনে আল-হাকামের হত্যার মাধ্যমে, যা ছিল আবু আল-আব্বাস আস-সাফফাহ-এর নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণের নয় মাস পর ১৩২ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শেষ দিকে।

উমাইয়া বংশের যারা আন্দালুসে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া ছিলেন অন্যতম। আমরা সেখানে তার পৌঁছানোর ইতিহাস, তার শাসনভার গ্রহণের কারণ এবং তার পরে তার সন্তানদের মধ্য থেকে ও অন্যান্য যারা শাসন করেছেন তাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুসারে আলোচনা করব। এরপর ইনশাআল্লাহ আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী পরবর্তী বিষয়গুলো উল্লেখ করব। মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই।

আন্দালুসে উমাইয়া বংশের প্রথম আমির ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান। তার উপনাম ছিল আবু আল-মুতরিফ। তিনি ১১৩ হিজরি সনে সিরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মাতা ছিলেন রাহ নামের একজন উম্মুল ওয়ালাদ। তিনি পালিয়ে যান যখন বনু (আব্বাসীয়দের) শাসন শুরু হয়...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٩)
العباس، ولم يزل مستتراً إلى أن دخل الأندلس سنة ثمان وثلاثين ومائة في زمن أبي جعفر المنصور، فقامت معه اليمانية، وحارب يوسف ابن عبد الرحمن بن أبي عبيدة بن عقبة بن نافع الفهري الوالي على الأندلس فهزمه، واستولى عبد الرحمن على قرطبة يوم الأضحى من العام المذكور، فاتصلت ولايته إلى أن مات سنة اثنتين وسبعين ومائة. كذا قال لنا أبو محمد على بن أحمد بن سعيد الفقيه: يوسف بن عبد الرحمن بن أبي عبيدة. ورأيت في غير موضع يوسف بن عبد الرحمن بن أبي عبدة، فالله أعلم.

وكان عبد الرحمن بن معاوية من أهل العلم، وعلى سيرة جميلة من العدل. ومن قضاته: معاوية بن طليح الحضرمى الحمصى. وله أدب وشعر.

ومما أنشدونا له يتشوق إلى معاهده بالشام قوله:

أيها الراكب الميمم أرضى … أقر من بعضى السلام لبعضى

إن جسمي، كما علمت، بأرض … وفؤادى ومالكيه بأرض

قدر البين بيننا فافترقنا … وطوى البين عن جفوتى غمضى

قد قضى الله بالفراق علينا … فعسى باجتماعنا سوف يقضى
...আল-আব্বাস, এবং তিনি আত্মগোপন করে রইলেন যতক্ষণ না তিনি একশত আটত্রিশ হিজরিতে আবু জাফর আল-মানসুরের আমলে আন্দালুসে প্রবেশ করেন। তখন ইয়ামানিরা তাঁর সাথে ঐক্যবদ্ধ হলো এবং তিনি আন্দালুসের গভর্নর ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি উবায়দাহ ইবনে উকবা ইবনে নাফি আল-ফিহরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাঁকে পরাজিত করলেন। আবদুর রহমান উল্লিখিত বছরের ঈদুল আযহার দিনে কর্ডোবা জয় করেন এবং একশত বাহাত্তর হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর শাসনকাল অব্যাহত ছিল। ফকিহ আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ আমাদের এভাবেই বলেছেন: ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি উবায়দাহ। তবে আমি অন্য স্থানে ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি আবদাহ দেখেছি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং ন্যায়বিচারের চমৎকার আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর অন্যতম বিচারক (কাযী) ছিলেন মুয়াবিয়া ইবনে তুলইহ আল-হাদরামি আল-হিমসি। তাঁর সাহিত্য ও কাব্য প্রতিভা ছিল।

সিরিয়ায় তাঁর পরিচিত স্থানগুলোর প্রতি ব্যাকুলতা প্রকাশ করে তাঁর যে কবিতাগুলো আমাদের শোনানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাণী:

হে আমার ভূমির পানে ধাবমান আরোহী … আমার এক অংশের পক্ষ থেকে অন্য অংশকে সালাম পৌঁছে দিও

নিশ্চয়ই আমার দেহ, যেমনটি তুমি জানো, এক ভূমিতে … আর আমার হৃদয় ও তার অধিকারীরা অন্য এক ভূমিতে

আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ নির্ধারিত ছিল বিধায় আমরা বিচ্ছিন্ন হয়েছি … আর বিচ্ছেদ আমার চোখের পাতা থেকে ঘুম কেড়ে নিয়েছে

আল্লাহ আমাদের জন্য বিচ্ছেদ অবধারিত করেছেন … সম্ভবত অচিরেই তিনি আমাদের পুনর্মিলনের ফয়সালা করবেন
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٠)
؟ ولاية الأمير هشام بن عبد الرحمن ثم ولى بعد عبد الرحمن ابنه هشام، يكنى أبا الوليد، وسنه حينئذ ثلاثون سنة، فاتصلت ولايته سبعة أعوام إلى أن مات في صفر سنة ثمانين ومائة؛ وكان حسن السيرة متحيزاً للعدل، يعود المرضى ويشهد الجنائز، أمه حوراء.

 

‌‌ولاية الحكم بن هشام

ثم ولى بعده ابنه الحكم، وله اثنتان وعشرون سنة، يكنى أبا العاص، أمه أم ولد اسمها زخرف؛ وكان طاغياً مسرفاً، وله آثار سوء قبيحة، وهو الذي أوقع بأهل الربض الوقعة المشهورة فقتلهم، وهدم ديارهم ومساجدهم؛ وكان الربض محلة متصلة بقصره، فاتهمهم في بعض أمره، ففعل بهم ذلك، فسمى الحكم الربضى لذلك؛ واتصلت ولايته إلى أن مات في آخر ذي الحجة سنة ست ومائتين.

 

‌‌ولاية عبد الرحمن بن الحكم

ثم ولي بعده ابنه عبد الرحمن، يكنى أبا المطرف، وله ثلاثون سنة، وأمه أم ولد اسمها حلاوة، فاتصلت ولايته إلى أن مات في صفر سنة ثمان وثلاثين ومائتبن؛ وكان وادعاً محمود السيرة.
আমির হিশাম ইবনে আবদুর রহমানের শাসনকাল। অতঃপর আবদুর রহমানের পর তাঁর পুত্র হিশাম শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁর কুনিয়া ছিল আবুল ওয়ালিদ এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। তাঁর শাসনকাল একাধারে সাত বছর স্থায়ী হয় এবং তিনি ১৮০ হিজরি সনের সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অত্যন্ত সচ্চরিত্রবান ও ন্যায়ের অনুসারী ছিলেন; তিনি অসুস্থদের দেখতে যেতেন এবং জানাজায় শরিক হতেন। তাঁর মাতা ছিলেন হাওরা।

 

‌‌আল-হাকাম ইবনে হিশামের শাসনকাল

অতঃপর তাঁর পর তাঁর পুত্র আল-হাকাম ক্ষমতা লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল বাইশ বছর। তাঁর কুনিয়া ছিল আবুল আস এবং তাঁর মাতা ছিলেন যুখরুফ নাম্নী এক উম্মু ওয়ালাদ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্বৈরাচারী ও সীমালঙ্ঘনকারী; তাঁর অনেক মন্দ ও জঘন্য কীর্তি রয়েছে। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি ‘রাবায’ অধিবাসীদের ওপর সেই কুখ্যাত আক্রমণ চালিয়েছিলেন এবং তাদের হত্যা করেছিলেন এবং তাদের ঘরবাড়ি ও মসজিদসমূহ ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন। রাবায ছিল তাঁর প্রাসাদের সাথে সংযুক্ত একটি মহল্লা। তিনি কোনো একটি বিষয়ে তাদের সন্দেহ করেছিলেন এবং তাদের সাথে এই আচরণ করেন; একারণেই আল-হাকামকে ‘আর-রাবাযী’ বলা হয়। ২০৬ হিজরি সনের যিলহজ মাসের শেষ দিকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর শাসনকাল স্থায়ী ছিল।

 

‌‌আবদুর রহমান ইবনে আল-হাকামের শাসনকাল

অতঃপর তাঁর পর তাঁর পুত্র আবদুর রহমান শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁর কুনিয়া ছিল আবুল মুতাররিফ এবং তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। তাঁর মাতা ছিলেন হালাওয়া নাম্নী এক উম্মু ওয়ালাদ। তাঁর শাসনকাল ২৩৮ হিজরি সনের সফর মাসে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে স্থায়ী হয়েছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌ولاية الأمير محمد بن عبد الرحمن

ثم ولى بعده ابنه محمد يكنى أبا عبد الله، وأمه أم ولد اسمها نهتز؛ فاتصلت ولايته إلى أن مات في آخر صفر سنة ثلاث وسبعين ومائتين.

قال لنا أبو محمد علي بن أحمد: وكان محباً للعلوم، مؤثراً لأهل الحديث، عارفاً، حسن السيرة؛ ولما دخل الأندلس أبو عبد الرحمن بقى بن مخلد بكتاب مصنف أبي بكر ابن أبي شيبة: وقرىء عليه، أنكر جماعة من أهل الرأى ما فيه من الخلاف واستشنعوه، وبسطوا العامة عليه، ومنعوه من قراءته، إلى أن اتصل ذلك بالأمير محمد، فاستحضره وإياهم، واستحضر الكتاب كله، وجعل يتصفحه جزءاً، جزءا، إلى أن أتى على آخره، وقد ظنوا أنه يوافقهم في الإنكار عليه، ثم قال لخازن الكتب: هذا كتاب لا تستغنى خزانتنا عنه، فانظر في نسخه لنا؛ ثم قال لبقى بن مخلد: انشر علمك، وارو ما عندك من الحديث، واجلس للناس حتى ينتفعوا بك. أو كما قال، ونهاهم أن يتعرضوا له.

 

‌‌ولاية المنذر بن محمد

ثم ولى بعده ابنه المنذر بن محمد، ويكنى أبا الحكم. وأمه أم ولد اسمها أثل، وكان مولده في سنة تسع وعشرين ومائتين، فاتصلب ولايته سنتين غير خمسة عشر يوماً، ومات وهو على قلعة يقال لها بباشتر محاصراً لعمر بن حفصون:
আমির মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমানের শাসনামল

এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ, যাঁর উপনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ। তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ, যাঁর নাম ছিল নাহতায। তাঁর শাসনকাল ২৭৩ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবু মুহাম্মাদ আলী বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেন: তিনি ছিলেন জ্ঞানানুরাগী, মুহাদ্দিসগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিজ্ঞ এবং সচ্চরিত্রের অধিকারী। যখন আবু আবদুর রহমান বাকি ইবনে মাখলাদ আবু বকর ইবনে আবি শায়বার 'মুসান্নাফ' গ্রন্থটি নিয়ে আন্দালুসে প্রবেশ করেন এবং এটি তাঁর নিকট পাঠ করা হয়, তখন একদল রায়পন্থী (আহলে রায়) এতে বিদ্যমান মতপার্থক্যসমূহকে অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে আপত্তিকর মনে করে। তারা সাধারণ মানুষকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে এবং তাঁকে এটি পাঠ করতে বাধা প্রদান করে। বিষয়টি আমির মুহাম্মাদের কর্ণগোচর হলে তিনি তাকে এবং সেই বিরুদ্ধবাদীদের তলব করেন। তিনি সম্পূর্ণ গ্রন্থটি উপস্থিত করতে বলেন এবং একাগ্রচিত্তে এর প্রতিটি খণ্ড আদ্যোপান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। বিরুদ্ধবাদীরা ধারণা করেছিল যে আমির এটি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হবেন। অতঃপর তিনি গ্রন্থাগারিককে বললেন: "এটি এমন এক গ্রন্থ যা ছাড়া আমাদের গ্রন্থাগার অপূর্ণ, সুতরাং এটি আমাদের জন্য অনুলিপি করার ব্যবস্থা করো।" এরপর তিনি বাকি ইবনে মাখলাদকে বললেন: "তোমার জ্ঞান প্রচার করো, তোমার নিকট সংরক্ষিত হাদিসসমূহ বর্ণনা করো এবং মানুষের জন্য দরস প্রদান করো যাতে তারা তোমার দ্বারা উপকৃত হতে পারে।" অথবা তিনি এমনই কিছু বলেছিলেন এবং অন্যদেরকে তাঁর পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছিলেন।

 

মুনজির বিন মুহাম্মাদের শাসনামল

অতঃপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র মুনজির বিন মুহাম্মাদ, যাঁর উপনাম ছিল আবুল হাকাম। তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ, যাঁর নাম ছিল আসল। তাঁর জন্ম ছিল ২২৯ হিজরি সনে। তাঁর শাসনকাল পনের দিন কম দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল। তিনি উমর ইবনে হাফসুনের বিরুদ্ধে বাশতার নামক দুর্গ অবরোধরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٢)
خارجي قام هناك وتحصن. وكان موته في سنة خمس وسبعين ومائتين؛ وقد انقرض عقب المنذر.

 

‌‌ولاية عبد الله بن محمد

فولى بعده أخوه عبد الله بن محمد، وكان مولده سنة ثلاثين ومائتين؛ يكنى أبا محمد. أمه أم ولد اسمها عشار، طال عمرها إلى أن ماتت قبل موته بسنة وشهر؛ وكان وادعاً لا يشرب الخمر، وفي أيامه امتلأت الأندلس بالفتن، وصار في كل جهة متغلب، فلم يزل كذلك طول ولايته إلى أن مات مستهل ربيع الأول سنة ثلاث مائة.

 

‌‌ولاية عبد الرحمن الناصر

ثم ولى بعده ابن ابنه عبد الرحمن، بن محمد، بن عبد الله، وكان والده محمد قد قتله أخوه المطرف بن عبد الله في صدر دولة أبيهما عبد الله، وترك ابنه عبد الرحمن هذا وهو ابن عشرين يوماً، فولى الأمر وله اثنتان وعشرون سنة.

قال لي أبو محمد علي بن أحمد: وكانت ولايته من المستطرف، لأنه كان في هذا الوقت شاباً، وبالحضرة جماعة أكابر من أعمامه وأعمام أبيه، وذوى القعدد في النسب من أهل بيته، فلم يعترض معترض واستمر له الأمر، وكان شهماً صارما، وكل من ذكرنا من الأمراء أجداده إلى عبد الرحمن بن محمد هذا، فليس
একজন খারেজী সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং নিজেকে সুরক্ষিত করেছিল। তার মৃত্যু হয় দুইশত পঁচাত্তর হিজরি সনে; আর মুনজিরের বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

 

‌‌আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদের শাসনকাল

অতঃপর তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ। তার জন্ম হয়েছিল দুইশত ত্রিশ হিজরি সনে; তার কুনিয়াত ছিল আবু মুহাম্মাদ। তার মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী), যার নাম ছিল 'ইশার। তিনি দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন এবং তার মৃত্যুর এক বছর এক মাস পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং মদ্যপান করতেন না। তার শাসনামলে আন্দালুস ফিতনা-ফ্যাসাদে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং প্রতিটি অঞ্চলে এক একজন বিজয়ী বা বিদ্রোহী শাসক তৈরি হয়েছিল। তার পুরো শাসনকাল এভাবেই অতিবাহিত হয় যতক্ষণ না তিনি তিনশত হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌আবদুর রহমান আন-নাসিরের শাসনকাল

অতঃপর তার স্থলাভিষিক্ত হন তার নাতি আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ। তার পিতা মুহাম্মাদকে তার ভাই মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ তাদের পিতা আবদুল্লাহর শাসনকালের শুরুর দিকে হত্যা করেছিলেন। তিনি তার এই পুত্র আবদুর রহমানকে মাত্র বিশ দিন বয়সে রেখে গিয়েছিলেন। তিনি যখন শাসনভার গ্রহণ করেন তখন তার বয়স ছিল বাইশ বছর।

আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমদ আমাকে বলেছেন: তার শাসনভার গ্রহণ ছিল এক অনন্য সাধারণ ঘটনা, কারণ সেই সময়ে তিনি ছিলেন একজন যুবক, অথচ দরবারে উপস্থিত ছিলেন তার অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ চাচা, তার পিতার চাচা এবং রাজবংশের উচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ। তবুও কেউ কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি এবং তার শাসন সুদৃঢ়ভাবে চলতে থাকে। তিনি অত্যন্ত সাহসী ও দৃঢ়চেতা ছিলেন। আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ পর্যন্ত আমরা যেসব আমীরদের কথা উল্লেখ করেছি, তারা সকলেই ছিলেন তার পূর্বপুরুষ, সুতরাং...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٣)
منهم أحد تسمى بإمرة المؤمنين، وإنما كان يسلم عليهم، ويخطب لهم بالإمارة فقط؛ وجرى على ذلك عبد الرحمن بن محمد إلى آخر السنة السابعة عشر من ولايته، فلما بلغه ضعف الخلافة بالعراق في أيام المقتدر، وظهور الشيعة بالقيروان، تسمى عبد الرحمن بأمير المؤمنين، وتلقب بالناصر لدين الله، وكان يكنى أبا المطرف، وأمه أم ولد اسمها مزنة، ولم يزل منذ ولى يستنزل المتغلبين حتى استكمل إنزال جميعهم في خمس وعشرين سنة من ولايته، وصار جميع أقطار الأندلس في طاعته، ثم اتصلت ولايته إلى أن مات في صدر رمضان سنة خمسين وثلاث مائة، ولم يبلغ أحد من بني أمية من الولاية مدته فيها.

 

‌‌ولاية الحكم المستنصر

ثم ولى بعده ابنه الحكم بن عبد الرحمن، ويلقب بالمستنصر بالله، وله إذ ولى سبع وأربعون سنة، يكنى أبا العاص؛ أمه أم ولد اسمها مرجان، وكان حسن السيرة، جامعاً للعلوم، محباً لها، مكرما لأهلها، وجمع من الكتب في أنواعها ما لم يجمعه أحد من الملوك قبله هنالك؛ وذلك بإرساله عنها إلى الأقطار، واشترائه لها بأغلى الأثمان، ونفق ذلك عليه فحمل إليه، وكان قد رام قطع الخمر من الاندلس وأمر بإراقتها وتشدد في ذلك، وشاور في استئصال شجرة العنب من جميع أعماله، فقيل له إنهم يعملونها من التين وغيره، فتوقف عن ذلك. وفي أمره بإراقة الخمور في سائر الجهات يقول أبو عمر يوسف بن هارون الكندي قصيدته المشهورة فيها، متوجعاً لشاربها، وإنما أوردناها تحقيقاً لما ذكرنا عنه من ذلك، وهي قوله:
তাদের মধ্যে কেউ নিজেকে ‘আমীরুল মু'মিনীন’ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তাদেরকে কেবল সালাম দেওয়া হতো এবং তাদের শাসনের স্বপক্ষে কেবল ‘ইমারত’ বা আমীর হিসেবেই খুতবা পাঠ করা হতো। আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ তার শাসনের সতেরোতম বছরের শেষ পর্যন্ত এভাবেই অতিবাহিত করেন। অতঃপর যখন আল-মুক্তাদিরের আমলে ইরাকে খিলাফতের দুর্বলতা এবং কায়রোয়ানে শিয়াদের উত্থানের সংবাদ তার কাছে পৌঁছাল, তখন আব্দুর রহমান নিজেকে ‘আমীরুল মু'মিনীন’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ‘আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন। তার কুনিয়াত ছিল আবু আল-মুতররিফ এবং তার মা ছিলেন একজন উম্মু ওয়ালাদ (দাসী), যার নাম ছিল মুজনা। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি অবাধ্য বিজয়ীদের বশীভূত করতে থাকেন এবং তার শাসনের পঁচিশতম বছরে তিনি তাদের সকলকেই পুরোপুরি অনুগত করতে সক্ষম হন। ফলে সমগ্র আন্দালুস তার আনুগত্যের অধীনে চলে আসে। এরপর ৩৫০ হিজরি সনের রমজান মাসের শুরুতে তার মৃত্যু পর্যন্ত তার শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়। বনী উমাইয়্যার শাসকদের মধ্যে আর কেউ তার মতো দীর্ঘ সময় শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে পারেননি।

 

‌‌আল-হাকাম আল-মুসতানসিরের শাসনকাল

এরপর তার পুত্র আল-হাকাম ইবনে আব্দুর রহমান শাসনভার গ্রহণ করেন, যিনি ‘আল-মুসতানসির বিল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত হন। ক্ষমতা লাভের সময় তার বয়স ছিল সাতচল্লিশ বছর। তার কুনিয়াত ছিল আবু আল-আস; তার মা ছিলেন একজন উম্মু ওয়ালাদ, যার নাম ছিল মারজান। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও বিভিন্ন ইলমের সংগ্রাহক ছিলেন। তিনি জ্ঞানানুরাগী ও আলেমদের প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শনকারী ছিলেন। তিনি সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের কিতাবাদি এমনভাবে সংগ্রহ করেছিলেন, যা তার আগে অন্য কোনো শাসক করতে পারেননি। এজন্য তিনি বিভিন্ন প্রান্তে লোক পাঠাতেন এবং চড়া মূল্যে কিতাবসমূহ ক্রয় করতেন। ফলে তার কাছে কিতাবসমূহ বহন করে নিয়ে আসা হতো এবং তিনি এর পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন। তিনি আন্দালুস থেকে মদ্যপান নির্মূল করার সংকল্প করেছিলেন এবং মদ ঢেলে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন। তিনি তার সমগ্র রাজ্য থেকে আঙুর গাছ উপড়ে ফেলার বিষয়ে পরামর্শ করেছিলেন, কিন্তু তাকে বলা হলো যে তারা ডুমুর ও অন্যান্য ফল থেকেও মদ তৈরি করবে। তখন তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন। বিভিন্ন অঞ্চলে মদ ঢেলে ফেলে দেওয়ার নির্দেশের প্রেক্ষাপটে আবু উমর ইউসুফ ইবনে হারুন আল-কিন্দী তার বিখ্যাত কবিতাটি রচনা করেন, যাতে তিনি মদ্যপায়ীদের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরা এখানে তা উদ্ধৃত করছি এই সত্যতা প্রমাণের জন্য যে, তার সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যথার্থ ছিল। কবিতাটি হলো:
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٤)
بخطب الشاربين يضيق صدري … وترمضني بليتهم لعمري

وهل هم غير عشاق أصيبوا … بفقد حبائب ومنوا بهجر

أعشاق المدامة إن جزعتم … لفرقتها فليس مكان صبر

سعى طلابكم حتى أريقت … دماء فوق وجه الأرض تجرى

تضوع عرفها شرقاً وغرباً … وطبق أفق قرطبة بعطر

فقل للمسفحين لها بسفح … وما سكنته من ظرف بكسر

وللأبواب إحراقاً إلى أن … تركتم أهلها سكان قفر

تحريتم بذاك العدل فيها … بزعمكم فإن يك عن تحري

فإن أبا حنيفة وهو عدل … وفر عن القضاء مسير شهر

فقيه لا يدانيه فقيه … إذا جاء القياس أتى بدر

وكان من الصلاة طويل ليل … يقطعه بلا تغميض شفر

وكان له من الشراب جار … يواصل مغرباً فيها بفجر

وكان إذا انتشى غنى بصوت ال … مضاع بسجنه من آل عمرو

أضاعوني وأي فتى أضاعوا … ليوم كريهة وسداد ثغر

فغيب صوت ذاك الجار سجن … ولم يكن الفقيه بذاك يدرى

فقال، وقد مضى ليل وثان … ولم يسمعه غنى: ليت شعري!
মদ্যপায়ীদের বিপদে আমার অন্তর সংকীর্ণ হয়ে আসে … আর আমার জীবনের শপথ, তাদের মুসিবত আমাকে দগ্ধ করে।

তারা কি কেবলই এমন প্রেমিক নয় যারা … প্রিয়জনদের হারিয়েছে এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট হয়েছে?

হে শরাবের প্রেমিকগণ! যদি তোমরা এর বিচ্ছেদে … অস্থির হয়ে পড়ো, তবে সেখানে ধৈর্যের কোনো অবকাশ নেই।

তোমাদের অন্বেষণকারীরা এমন তৎপরতা চালিয়েছে যে … ভূপৃষ্ঠে প্রবাহিত হওয়ার মতো রক্ত ঝরানো হয়েছে।

তার সুগন্ধি পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে … এবং কর্ডোবার দিগন্তকে সুবাসিত করেছে।

সুতরাং তাদের বলো যারা তাকে ভূমিতে প্রবাহিত করেছে … এবং যে পাত্রে তা ছিল তা ভেঙে ফেলেছে।

এবং দরজাসমূহকে জ্বালিয়ে দিয়েছ যতক্ষণ না … তোমরা সেখানকার অধিবাসীদের জনশূন্য প্রান্তরের বাসিন্দা বানিয়েছ।

তোমাদের দাবি অনুযায়ী তোমরা এতে ইনসাফ তালাশ করেছ … যদি সত্যিই তা অনুসন্ধানের ফল হয়ে থাকে—

তবে আবু হানিফা, যিনি ছিলেন ন্যায়ের মূর্তপ্রতীক … তিনি বিচারকের পদ থেকে এক মাসের পথ দূরত্বে পলায়ন করেছিলেন।

তিনি এমন এক ফকিহ যার সমকক্ষ কেউ নেই … যখন কিয়াসের প্রসঙ্গ আসে, তখন তিনি উজ্জ্বল মুক্তা সদৃশ দলিল পেশ করেন।

সালাতের দীর্ঘ রাতগুলোতে … তিনি চোখের পলক না ফেলে সময় অতিবাহিত করতেন।

তাঁর এক মদ্যপ প্রতিবেশী ছিল … যে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তা চালিয়ে যেত।

সে যখন নেশাগ্রস্ত হতো তখন সেই ব্যক্তির গান গাইত … যাকে আমর বংশের কারাগারে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছিল—

“তারা আমাকে ধ্বংস করেছে, আর কী চমৎকার এক বীরকেই না তারা হারাল … সংকটকাল ও সীমান্ত পাহারার দিনের জন্য!”

অতঃপর কারাগার সেই প্রতিবেশীর কণ্ঠকে আড়াল করে দিল … আর ফকিহ সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

অতঃপর এক ও দ্বিতীয় রাত অতিবাহিত হওয়ার পর … যখন তিনি তার গান শুনতে পেলেন না, তখন বললেন: “হায়, যদি আমি জানতাম!”

(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٥)
أجاري المؤنسى ليلاً غناء … لخير قطع ذلك ام لشر

فقالوا إنه في سجن عيسى … أتاه به المحارس وهو يسرى

فنادى بالطويلة وهي مما … يكون برأسه لجليل أمر

ويمم جاره عيسى بن موسى … فلاقاه بإكرام وبر

وقال: أحاجة عرضت فإني … لقاضيها ومتبعها بشكر

فقال: سجنت لي جاراً يسمى … بعمر وقال: يطلق كل عمرو

بسجنى حين وافقه اسم جار ال … فقيه ولو سجنتهم بوتر

فأطلقهم له عيسى جميعاً … لجار لايبيت بغير سكر

فإن أحببت قل لجوار جار … وإن أحببت قل لطلاب أجر

فإن أبا حنيفة لم يؤب من … تطلبه تخلصه بوزر

نواقعها من أجل النهي سرا … وكم نهى نواقعه بجهر

وقد وقع لنا معنى هذا الخبر الذي نظمه يوسف بن هارون عن أبي حنيفة بإسناد؛ حدثناه الخطيب أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت البغدادي الحافظ، قراءة علينا بدمشق من كتابه قال: أخبرني علي بن أحمد الرزاز قال: نا أبو الليث نصر بن محمد الزاهد البخاري قدم علينا، قال: نا محمد بن محمد بن سهل النيسابوري، قال: نا أبو أحمد بن محمد بن أحمد الشعيبي، قال: نا أسد بن نوح، قال: نا محمد بن عباد، قال:
আমার যে প্রতিবেশী রাতে গান গেয়ে আমায় আনন্দ দিত … সে কি মঙ্গলের কারণে তা বন্ধ করল নাকি অমঙ্গলের কারণে?

তারা বলল, সে তো ঈসার কারাগারে বন্দী … পাহারাদাররা তাকে রাতের বেলা ধরে নিয়ে গেছে।

অতঃপর তিনি তাঁর দীর্ঘ টুপি চাইলেন, যা … কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্যই কেবল তাঁর মস্তকে থাকে।

এবং তিনি তাঁর প্রতিবেশী ঈসা ইবনে মুসার অভিমুখে যাত্রা করলেন … তিনি তাঁকে সম্মান ও সৌজন্যের সাথে গ্রহণ করলেন।

তিনি বললেন: আপনার কি কোনো প্রয়োজন দেখা দিয়েছে? আমি … তা পূরণ করতে এবং কৃতজ্ঞতার সাথে তা অনুসরণ করতে প্রস্তুত।

তিনি (আবু হানিফা) বললেন: আপনি আমর নামক আমার এক প্রতিবেশীকে কারারুদ্ধ করেছেন। তিনি (ঈসা) বললেন: আমর নামধারী সকলকেই মুক্তি দেওয়া হোক—

আমার কারাগারে থাকা অবস্থায়, যেহেতু ফকিহ্ (আবু হানিফা)-র প্রতিবেশীর নামের সাথে তাদের নাম মিলে গেছে … যদিও আমি তাদের অপরাধের কারণে বন্দী করেছিলাম।

অতঃপর ঈসা তাঁর খাতিরে তাদের সকলকেই মুক্তি দিলেন … এমন এক প্রতিবেশীর জন্য যে মদ্যপান ছাড়া রাত কাটাত না।

আপনি চাইলে একে প্রতিবেশীর প্রতি সদাচার বলতে পারেন … আর চাইলে সওয়াব অন্বেষণকারীদের কাজও বলতে পারেন।

নিশ্চয়ই আবু হানিফা যাকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত হননি … তাকে তিনি কোনো পাপ বা দায়ভার ছাড়াই উদ্ধার করেছেন।

নিষেধাজ্ঞার কারণেই আমরা তা গোপনে করে থাকি … আর কত না নিষিদ্ধ কাজ প্রকাশ্যে করা হয়ে থাকে!

ইউসুফ ইবনে হারুন আবু হানিফা সম্পর্কে যে ঘটনাটি পদ্যাকারে সংকলন করেছেন, তার মর্মার্থ আমাদের কাছে একটি সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছেছে; হাফেজ খতিব আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-বাগদাদি দামেস্কে তাঁর কিতাব থেকে আমাদের নিকট পাঠ করে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আহমদ আর-রাজজাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-লাইস নাসর ইবনে মুহাম্মদ আল-জাহিদ আল-বুখারি আমাদের নিকট আগমনের পর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাহল আন-নিশাপুরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আশ-শুআইবি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসাদ ইবনে নুহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٦)
نا القاسم بن غسان، قال: أخبرني أبي قال: أخبرني عبد الله بن رجاء الغداني، قال: كان لأبي حنيفة جار بالكوفة إسكاف يعمل نهاره أجمع، حتى إذا جنه الليل رجع إلى منزله، وقد حمل لحماً فطبخه، أو سمكة فشواها، ثم لا يزال يشرب حتى إذا دب الشراب فيه غزل بصوت وهو يقول:

أضاعوني واي فتى أضاعوا … ليوم كريهة وسداد ثغر

فلا يزال يشرب ويردد هذا البيت حتى يأخذه النوم، وكان أبو حنيفة يسمع جلبته كل يوم، وأبو حنيفة كان يصلي الليل كله، ففقد أبو حنيفة صوته، فسأل عنه، فقيل: أخذه العسس منذ ليال وهو محبوس، فصلى أبو حنيفة صلاة الفجر من غد، وركب بغلة واستأذن على الأمير، قال الأمير: ائذنوا له، وأقبلوا به راكباً ولا تدعوه ينزل حتى يطأ البساط، ففعل، فلم يزل الأمير يوسع له في مجلسه، وقال ما حاجتك؟ قال: لي جار إسكاف أخذه العسس منذ ليال، يأمر الأمير بتخليته، فقال: نعم وكل من أخذ في تلك الليلة إلى يومنا هذا، فأمر بتخليتهم أجمعين، فركب أبو حنيفة والإسكاف يمشي وراءه، فلما نزل أبو حنيفة مضى إليه فقال: يا فتى؟ أضعناك؟ فقال: لا. بل حفظت ورعيت، جزاك الله خيراً عن حرمة الجوار، ورعاية الحق؛ وتاب الرجل ولم يعد إلى ما كان.

وكان الحكم المستنصر مواصلاً لغزو الروم، ومن خالفه من المحاربين، فاتصلت ولايته إلى أن مات في صفر سنة ست وستين وثلاث مائة؛ وقد انقرض عقبه.
কাসেম ইবনে গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আল-গাদানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কুফায় ইমাম আবু হানিফার এক মুচি প্রতিবেশী ছিল যে সারাদিন কাজ করত। যখন রাত ঘনিয়ে আসত, সে বাড়ি ফিরত। সে গোশত নিয়ে আসত এবং তা রান্না করত, অথবা মাছ নিয়ে আসত এবং তা ভাজত। এরপর সে মদ্যপান করতে থাকত। যখন মদের নেশা তার ওপর জেঁকে বসত, তখন সে উচ্চস্বরে বিলাপের সুরে গান গেয়ে উঠত এবং বলত:

“তারা আমাকে হারিয়েছে, আর কী চমৎকার এক যুবককেই না তারা হারিয়েছে … যুদ্ধের কঠিন দিনের জন্য এবং সীমান্ত রক্ষার জন্য।”

সে মদ্যপান করতে থাকত এবং এই কবিতাটি বারবার আওড়াত যতক্ষণ না ঘুম তাকে পেয়ে বসত। আবু হানিফা প্রতিদিন তার শোরগোল শুনতেন। আবু হানিফা সারা রাত নামাজ পড়তেন। একসময় আবু হানিফা তার কণ্ঠস্বর আর শুনতে পেলেন না, তাই তিনি তার সম্পর্কে খোঁজ নিলেন। তাকে বলা হলো: কয়েক রাত আগে টহল পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে এবং সে এখন বন্দি। পরদিন আবু হানিফা ফজরের নামাজ পড়লেন এবং একটি খচ্চরের পিঠে সওয়ার হয়ে আমিরের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। আমির বললেন: তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে সওয়ার অবস্থায় নিয়ে এসো, তাকে কার্পেটে পা রাখা পর্যন্ত নামতে দিও না। তারা তাই করল। আমির তার মজলিসে তাকে প্রশস্ত স্থান করে দিলেন এবং বললেন: আপনার প্রয়োজন কী? তিনি বললেন: আমার একজন মুচি প্রতিবেশী আছে যাকে কয়েক রাত আগে টহল পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, আমির যেন তাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং সেই রাত থেকে আজ পর্যন্ত যাদের ধরা হয়েছে তাদের সকলকেই (ছেড়ে দেওয়া হবে)। এরপর তিনি তাদের সকলকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিলেন। তখন আবু হানিফা সওয়ার হলেন এবং মুচি তার পেছনে হাঁটতে লাগল। যখন আবু হানিফা সওয়ারি থেকে নামলেন, তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে যুবক! আমি কি তোমাকে হারিয়েছি? সে বলল: না। বরং আপনি আমার মর্যাদা রক্ষা করেছেন এবং আমার খেয়াল রেখেছেন। প্রতিবেশীর মর্যাদা রক্ষা এবং হক আদায়ের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এরপর লোকটি তওবা করল এবং সে যা করত তাতে আর ফিরে গেল না।

আর আল-হাকাম আল-মুস্তানসির রোমানদের বিরুদ্ধে এবং যারা তার বিরোধিতা করত সেই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার শাসনকাল তিনশ ৬৬ হিজরির সফর মাসে তার মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল; এবং তার বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٧)
؟؟

 

‌‌ولاية هشام المؤيد

ثم ولي بعده ابنه هشام يكنى أبا الوليد، وأمه أم ولد تسمى صبح، وكان له إذ ولى عشرة أعوام وأشهر، فلم يزل متغلباً عليه، لا يظهر ولا ينفذ له أمر، وتغلب عليه أبو عامر محمد بن أبي عامر الملقب بالمنصور، فكان يتولى جميع الأمور إلى أن مات، فصار مكانه ابنه عبد الملك بن محمد الملقب بالمظفر، فجرى على ذلك أيضا إلى أن مات، فصار مكانه أخوه عبد الرحمن بن محمد الملقب بالناصر، فخلط وتسمى ولي العهد، وبقي كذلك أربعة أشهر، إلى أن قام عليه محمد بن هشام بن عبد الجبار يوم الثلاثاء لثمان عشرة ليلة خلت من جمادى الآخرة سنة تسع وتسعين وثلثمائة، فخلع هشام بن الحكم وأسلمت الجيوش عبد الرحمن بن محمد بن محمد بن أبي عامر، فقتل وصلب، وبقي كذلك إلى أن قتل محمد بن هشام بن عبد الجبار وصرف هشام المؤيد إلى الأمر، وذلك يوم الأحد السابع من ذي الحجة سنة أربع مائة، فيبقى كذلك وجيوش البربر تحاصره مع سليمان بن الحكم بن سليمان، واتصل ذلك إلى خمس خلون من شوال سنة ثلاث وأربع مائة، فدخل البربر مع سليمان قرطبة، وأخلوها من أهلها، حاشا المدينة وبعض الربض الشرقي، وقتل هشام، وكان في طول دولته متغلباً عليه لا ينفذ له أمر وتغلب عليه في هذا الحصار واحد بعد واحد من العبيد، ولم يولد له قط.
??

 

‌‌হিশাম আল-মুআইয়্যাদ-এর শাসনকাল

অতঃপর তাঁর পরে তাঁর পুত্র হিশাম স্থলাভিষিক্ত হন, যাঁর উপনাম ছিল আবু আল-ওয়ালিদ এবং তাঁর মাতা ছিলেন সুবহ নামক একজন উম্মু ওয়ালাদ। যখন তিনি শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর কয়েক মাস। তবে তাঁর উপর সর্বদা অন্যদের আধিপত্য বজায় ছিল; তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ পেতেন না এবং তাঁর কোনো আদেশ কার্যকর হতো না। আবু আমির মুহাম্মদ ইবনে আবি আমির—যিনি আল-মানসুর উপাধিতে ভূষিত ছিলেন—তাঁর উপর প্রভাব বিস্তার করেন এবং আমৃত্যু সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ, যিনি আল-মুজাফফর উপাধিতে পরিচিত ছিলেন; তিনিও মৃত্যু অবধি একই পদ্ধতিতে শাসন পরিচালনা করেন। এরপর তাঁর ভাই আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ, যাঁর উপাধি ছিল আন-নাসির, স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং নিজেকে যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা করেন। চার মাস এই অবস্থা বজায় থাকার পর ৩৯৯ হিজরির ১৮ই জুমাদাল আখিরাত অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বার তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। ফলে হিশাম ইবনে আল-হাকামকে পদচ্যুত করা হয় এবং সেনাবাহিনী আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি আমিরকে সমর্পণ করে; তাঁকে হত্যা করে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বার নিহত হওয়া এবং ৪০০ হিজরির ৭ই জিলহজ, রবিবার হিশাম আল-মুআইয়্যাদকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে। অতঃপর তিনি এভাবেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন এবং সুলায়মান ইবনে আল-হাকাম ইবনে সুলায়মানের সাথে বারবার (বার্বার) বাহিনী তাঁকে ঘেরাও করে রাখে। ৪০৩ হিজরির ৫ই শাওয়াল পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে। এরপর সুলায়মানের সাথে বারবার বাহিনী কর্ডোভায় প্রবেশ করে এবং মূল শহর ও পূর্বদিকের কিছু উপশহর ব্যতীত সমগ্র এলাকা জনশূন্য করে ফেলে। হিশামকে হত্যা করা হয়। তাঁর দীর্ঘ শাসনকাল জুড়ে তাঁর উপর অন্যরা আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল এবং তাঁর কোনো আদেশ কার্যকর হতো না। এই অবরোধের সময় একের পর এক ক্রীতদাসরা তাঁর উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিল। তাঁর কখনোই কোনো সন্তান জন্মায়নি।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌ولاية محمد بن هشام المهدي

قام محمد بن هشام، بن عبد الجبار، بن عبد الرحمن الناصر، على هشام بن الحكم في جمادى الآخرة سنة تسع وتسعين وثلاث مائة، فخلعه وتسمى بالمهدي، وبقي كذلك إلى أن قام عليه يوم الخميس لخمس خلون من شوال سنة تسع وتسعين، هشام بن سليمان ابن الناصر مع البربر، فحار به بقية يومه والليلة المقبلة، وصبيحة اليوم الثاني، وقام عليه عامة أهل قرطبة مع محمد بن هشام، فانهزم البربر، وأسر هشام بن سليمان، فأتى إلى المهدي فضرب عنقه، واجتمع البربر عند ذلك، فقدموا على أنفسهم سليمان بن الحكم بن سليمان الناصر، ابن أخي هشام القائم المذكور، ونهض بهم إلى الثغر، فاستجاش بالنصارى وأتى إلى باب قرطبة، وبرز إليه جماعة أهل قرطبة، فلم تكن إلا ساعة حتى قتل من أهل قرطبة نيف على عشرين ألف رجل في جبل هناك يعرف بجبل قنطيش، وهي الوقعة المشهورة، ذهب فيها من الخيار. وأئمة المساجد، والمؤذنين خلق عظيم، واستتر محمد بن هشام المهدي أياما ثم لحق بطليطلة، وكانت الثغور كلها من طر طوشة إلى الأشبونة باقية على طاعته ودعوته، فاستجاش بالأفرنج، وأتى بهم إلى قرطبة، فبرز إليه سليمان بن الحكم مع البربر إلى موضع بقرب قرطبة على نحو بضعة
মুহাম্মাদ বিন হিশাম আল-মাহদীর শাসনকাল

মুহাম্মাদ বিন হিশাম বিন আব্দুল জাব্বার বিন আব্দুর রহমান আন-নাসির, ৩৯৯ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে হিশাম বিন আল-হাকামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তিনি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন এবং নিজে 'আল-মাহদী' উপাধি গ্রহণ করেন। ৩৯৯ হিজরি সনের ৫ই শাওয়াল বৃহস্পতিবার হিশাম বিন সুলাইমান বিন আন-নাসির বারবারদের সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। তিনি সেই দিনের অবশিষ্টাংশ, পরবর্তী রাত এবং দ্বিতীয় দিনের সকাল পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। কর্ডোভার সাধারণ জনগণ মুহাম্মাদ বিন হিশামের পক্ষ অবলম্বন করলে বারবাররা পরাজিত হয় এবং হিশাম বিন সুলাইমান বন্দি হন। তাকে মাহদীর সামনে আনা হলে তিনি তার শিরচ্ছেদ করেন। এরপর বারবাররা একত্রিত হয়ে সুলাইমান বিন আল-হাকাম বিন সুলাইমান আন-নাসিরকে (উল্লিখিত হিশামের ভ্রাতুষ্পুত্র) নিজেদের নেতা হিসেবে মনোনীত করে এবং তিনি তাদের নিয়ে সীমান্ত অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হন। তিনি খ্রিস্টানদের সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং কর্ডোভার প্রবেশদ্বারে উপস্থিত হন। কর্ডোভার একদল অধিবাসী তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বেরিয়ে আসে, কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই কানতিশ পাহাড় নামক স্থানে কর্ডোভার বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ নিহত হয়। এটি একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ যুদ্ধ ছিল, যাতে বহুসংখ্যক সজ্জন ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন প্রাণ হারান। মুহাম্মাদ বিন হিশাম আল-মাহদী কয়েকদিন আত্মগোপন করে থাকার পর তোলেদোতে চলে যান। সে সময় তরতূশা থেকে লিশবন পর্যন্ত সমস্ত সীমান্ত অঞ্চল তার আনুগত্য ও আহ্বানের ওপর অটল ছিল। অতঃপর তিনি ফ্রঙ্কদের সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং তাদের নিয়ে কর্ডোভার দিকে অগ্রসর হন। সুলাইমান বিন আল-হাকাম বারবারদের সাথে নিয়ে কর্ডোভার নিকটবর্তী এক স্থানে তার মোকাবিলায় এগিয়ে আসেন, যা প্রায় কয়েক...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٩)
عشر ميلاً يدعى عقبة البقر، فانهزم سليمان والبربر، واستولى المهدي على قرطبة، ثم خرج بعد أيام إلى قتال جمهور البربر، وكانوا قد صاروا بالجزيرة فالتقوا بواد في آر فكانت الهزيمة على محمد ابن هشام، وانصرف إلى قرطبة فوثب عليه العبيد مع واضح الصقلبي، فقتلوه وصرفوا هشاماً المؤيد كما ذكرنا قبل، فكانت مدة ولاية محمد المهدي مذقام إلى أن قتل ستة عشر شهراً من جملتها الستة الأشهر التي كان فيها سليمان بقرطبة، وكان هو بالثغر؛ وكان يكنى أبا الوليد، أمه أم ولد تسمى مزنة، وكان له اسمه عبيد الله، انقرض ولا عقب للمهدي، وكان مولد المهدي في سنة ست وستين وثلاث مائة.

 

‌‌ولاية سليمان بن الحكم المستعين

قام سليمان بن الحكم كما ذكرنا يوم الجمعة لست خلون من شوال سنة تسع وتسعين وثلاث مائة وتلقب بالمستعين بالله، ثم دخل قرطبة كما ذكرنا في ربيع الآخر سنة أربع مائة، وتلقب حينئذ بالظافر بحول الله مضافاً إلى المستعين، ثم خرج عنها في شوال سنة أربع مائة فلم يزل يجول بعساكر البربر في بلاد الأندلس، يفسد وينهب، ويقفر المدائن والقرى بالسيف والغارة، لا تبقى البربر معه على صغير ولا كبير ولا امرأة، إلى أن دخل قرطبة في صدر شوال سنة ثلاث وأربع مائة. وكان من جملة جنده رجلان من ولد الحسن بن علي بن أبي طالب، يسميان القاسم وعلياً ابنى حمود، بن
দশ মাইল দূরে যা আকাবাতুল বাকার নামে পরিচিত, সেখানে সুলাইমান ও বার্বাররা পরাজিত হয় এবং মাহদী কর্ডোবা দখল করেন। এরপর তিনি কয়েক দিন পর বার্বারদের বিশাল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে বের হন। তারা জাজিরায় অবস্থান করছিল, অতঃপর তারা আর উপত্যকায় মুখোমুখি হয় এবং মুহাম্মদ ইবনে হিশাম পরাজিত হন। তিনি কর্ডোবায় ফিরে আসেন, এরপর ওয়াদিহ আস-সাকলাবির সাথে ক্রীতদাসরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁকে হত্যা করে। তারা হিশাম আল-মুয়াইয়্যাদকে পুনরায় ক্ষমতায় বসায় যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। মুহাম্মদ মাহদীর শাসনকাল ক্ষমতা গ্রহণ থেকে নিহত হওয়া পর্যন্ত মোট ষোল মাস ছিল, যার মধ্যে সেই ছয় মাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল যখন সুলাইমান কর্ডোবায় ছিলেন এবং তিনি সীমান্তে অবস্থান করছিলেন। তাঁর উপনাম ছিল আবুল ওয়ালিদ এবং তাঁর মা ছিলেন মুজনা নাম্নী এক উম্মুল ওয়ালাদ। তাঁর উবাইদুল্লাহ নামক এক পুত্র ছিল, কিন্তু তাঁর কোনো উত্তরসূরি ছিল না এবং মাহদীর বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। মাহদী তিনশত ছেষট্টি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

 

‌‌সুলাইমান ইবনুল হাকাম আল-মুস্তায়িনের শাসনকাল

সুলাইমান ইবনুল হাকাম, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, তিনশত নিরানব্বই হিজরির শাওয়াল মাসের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমাবারে ক্ষমতা লাভ করেন এবং 'আল-মুস্তায়িন বিল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। এরপর চারশত হিজরির রবিউস সানি মাসে তিনি কর্ডোবায় প্রবেশ করেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। তখন তিনি 'আল-মুস্তায়িন' উপাধির সাথে 'আল-জাফির বি-হাওলিল্লাহ' উপাধিটি যুক্ত করেন। অতঃপর চারশত হিজরির শাওয়াল মাসে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান এবং আন্দালুসের বিভিন্ন জনপদে বার্বার সৈন্যদের নিয়ে বিচরণ করতে থাকেন। তিনি সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুণ্ঠন চালান এবং তলোয়ার ও অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে শহর ও গ্রামসমূহকে জনশূন্য করে দেন। বার্বাররা তাঁর সাথে থেকে ছোট, বড় বা নারী কাউকেই রেহাই দেয়নি। পরিশেষে চারশত তিন হিজরির শাওয়াল মাসের শুরুতে তিনি কর্ডোবায় প্রবেশ করেন। তাঁর সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের বংশধর দুই ব্যক্তি, যাদের নাম ছিল আল-কাসিম ও আলী—হামমুদ এর দুই পুত্র।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ميمون، بن أحمد، بن علي، بن عبيد الله، بن عمر، بن إدريس، بن إدريس ابن عبد الله، بن الحسن، بن الحسن، بن علي، بن أبي طالب، رضى الله عنه، فقودهما على المغاربة ثم ولى أحدهما سبتة وطنجة، وهو علي الأصغر منها؛ وولي القاسم الجزيرة الخضراء، وبين الموضعين المجاز المعروف بالزقاق، وسعة البحر هناك اثنا عشر ميلا، وافترق العبيد، إذ دخل البربر مع سليمان قرطبة، فملكوا مدناً عظيمة، وتحصنوا فيها، فراسلهم علي بن حمود المذكور، وقد حدث له طمع في ولاية الأندلس، وكتب إليهم يذكر لهم أن هشام بن الحكم إذ كان محاصراً بقرطبة كتب إليه يوليه عهده، فاستجابوا له وبايعوه، فزحف من سبتة إلى مالقة، وفيها عامر بن فتوح الفائقي مولى فائق، مولى الحكم المستنصر، فأطاع له، وأدخله، مالقة فتملكها علي بن حمود، وأخرج عنها عامر بن فتوح، ثم زحف بمن معه من البربر، وجمهور العبيد إلى قرطبة، فخرج إليه محمد بن سليمان في عساكر البربر، فانهزم محمد ابن سليمان، ودخل علي بن حمود قرطبة، وقتل سليمان، بن الحكم صبراً؛ ضرب عنقه بيده يوم الأحد لتسع بقين من المحرم سنة سبع وأربع مائة، وقتل أباه الحكم بن سليمان بن الناصر أيضا في ذلك اليوم، وهو شيخ كبير له اثنتان وسبعون سنة، فكانت مدة سليمان مذ دخل قرطبه إلى أن قتل ثلاثة أعوام وثلاثة أشهر وأياما، وقد كان ملكها قبل ذلك ستة أشهر كما ذكرنا، وكانت مدته مذ قام مع البربر إلى أن قتل سبعة أعوام وثلاثة أشهر وأياما، وانقطعت دولة بني أمية في هذا الوقت وذكرهم على المنابر في جميع أقطار الأندلس، إلى أن عاد بعد ذلك في الوقت الذي نذكره إن شاء الله.

মায়মুন বিন আহমাদ বিন আলী বিন উবায়দুল্লাহ বিন উমর বিন ইদ্রিস বিন ইদ্রিস ইবনে আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু); তিনি তাদের মাগরিববাসীদের ওপর নেতৃত্ব দান করেন। অতঃপর তাদের একজনকে সেউতা ও তাঞ্জিয়ারের গভর্নর নিযুক্ত করেন, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে ছোট আলী। আর কাসেমকে আলজেসিরাস এর দায়িত্ব প্রদান করেন। এই দুই স্থানের মাঝখানে সুপরিচিত প্রণালী 'আয-যুকাক' অবস্থিত এবং সেখানে সমুদ্রের প্রশস্ততা বারো মাইল। ক্রীতদাস বাহিনীও বিভক্ত হয়ে পড়ল যখন বার্বাররা সুলাইমানের সাথে কর্ডোভায় প্রবেশ করল। তারা বিশাল সব শহর দখল করল এবং সেখানে দুর্ভেদ্য অবস্থান গ্রহণ করল। অতঃপর উল্লিখিত আলী বিন হাম্মুদ তাদের সাথে যোগাযোগ করেন; তার অন্তরে তখন আন্দালুসের শাসনের প্রতি লালসা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি তাদের নিকট পত্র লিখে উল্লেখ করেন যে, হিশাম বিন আল-হাকাম যখন কর্ডোভায় অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন তিনি তাকেই নিজের উত্তরসূরি মনোনীত করে পত্র লিখেছিলেন। তারা তার আহ্বানে সাড়া দিল এবং তার হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। অতঃপর তিনি সেউতা থেকে মালাগার দিকে অগ্রসর হন। সেখানে আল-হাকাম আল-মুস্তানসিরের মুক্তদাস ফাইকের মুক্তদাস আমির বিন ফুতুহ আল-ফাইকি অবস্থান করছিলেন। তিনি তার আনুগত্য স্বীকার করেন এবং তাকে মালাগাতে প্রবেশ করান। ফলে আলী বিন হাম্মুদ তা হস্তগত করেন এবং আমির বিন ফুতুহকে সেখান থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি তার সাথে থাকা বার্বার এবং ক্রীতদাসদের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে কর্ডোভার অভিমুখে যাত্রা করেন। মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বার্বার বাহিনী নিয়ে তার মোকাবিলায় বের হন। যুদ্ধে মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান পরাজিত হন এবং আলী বিন হাম্মুদ কর্ডোভায় প্রবেশ করেন। তিনি সুলাইমান বিন আল-হাকামকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করেন। চারশত সাত হিজরি সনের মহররম মাসের নয় দিন বাকি থাকতে রবিবার দিন তিনি নিজ হাতে তার শিরশ্ছেদ করেন। ওই দিনই তিনি তার পিতা হাকাম বিন সুলাইমান বিন আন-নাসিরকেও হত্যা করেন, যিনি বাহাত্তর বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ ছিলেন। সুলাইমান কর্ডোভায় প্রবেশের পর থেকে নিহত হওয়া পর্যন্ত তার শাসনকাল ছিল তিন বছর তিন মাস কয়েক দিন। যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, এর আগেও তিনি ছয় মাস শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন। বার্বারদের সাথে অভ্যুত্থান ঘটানো থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত মোট সময়কাল ছিল সাত বছর তিন মাস কয়েক দিন। এই সময়ে আন্দালুসের সকল অঞ্চলের মিম্বরগুলোতে বনু উমাইয়াদের শাসনের নামোল্লেখ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তা পুনরায় ফিরে আসার সময় পর্যন্ত এই অবস্থা স্থায়ী হয়, যা আমরা ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে বর্ণনা করব।

(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢١)
وكانت أمه أم ولد اسمها ظبية، ومولده سنة أربع وخمسين وثلاث مائة، وترك من الولد ولي عهده محمداً لم يعقب، والوليد، ومسلمة؛ وكان سليمان أديباً شاعراً أنشدني أبو محمد على بن أحمد قال: أنشدني فتى من ولد اسماعيل بن إسحاق المنادى الشاعر، كان يكتب لأبي جعفر أحمد بن سعيد بن الدب قال: أنشدني أبو جعفر قال: أنشدني أمير المؤمنين سليمان الظافر لنفسه، قال أبو محمد: وأنشدنيها قاسم بن محمد المروانى قال: أنشدنيها وليد بن محمد الكاتب لسليمان الظافر:

عجباً يهاب الليث حد سناني … وأهاب لحظ فواتر الأجفان

وأقارع الأهوال لا متهيباً … منها سوى الإعراض والهجران

وتملكت نفسي ثلاث كالدمى … زهر الوجوه نواعم الأبدان

ككواكب الظلماء لحن لناظر … من فوق أغصان على كثبان

هذى الهلال وتلك بنت المشترى … حسناً وهذى أخت غصن البان

حاكمت فيهن السلو إلى الصبا … فقضى بسلطان على سلطان

فأبحن من قلبي الحمى وثنيننى … في عز ملكى كالأسيرالعاني

لا تعذلوا ملكا تذلل للهوى … ذل الهوى عز وملك ثانى

ماضر أنى عبدهن صبابة … وبنو الزمان وهن من عبدانى

إن لم أطع فيهن سلطان الهوى … كلفاً بهن فلست من مروان

وإذا الكريم أحب أمن إلفه … خطب القلى وحوادث السلوان

وإذا تجارى في الهوى أهل الهوى … عاش الهوى في غبطة وأمان

وهذه الأبيات معارضة للأبيات التي
তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মু ওয়ালাদ (দাসী মাতা), যাঁর নাম ছিল দ্বাবিয়া। তাঁর জন্ম হয়েছিল তিনশত চুয়ান্ন হিজরি সনে। সন্তানদের মধ্যে তিনি তাঁর উত্তরসূরি মুহাম্মাদকে রেখে যান—যার কোনো বংশধর ছিল না—এবং ওয়ালিদ ও মাসলামাহকে। সুলায়মান ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও কবি। আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমাদ আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-মুনাদি কবির বংশধর জনৈক যুবক আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, যিনি আবু জাফর আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনুল দুব্বের লেখক ছিলেন; তিনি বলেছেন: আমাকে আবু জাফর আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমিরুল মু'মিনীন সুলায়মান আল-জাফির স্বরচিত এই কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছেন। আবু মুহাম্মাদ বলেন: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-মারওয়ানিও আমাকে এটি শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: সুলায়মান আল-জাফিরের লেখক ওয়ালিদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাকে এটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

বিস্ময়কর যে, সিংহ আমার বর্শার ফলার ভয়ে ভীত হয় … অথচ আমি ভীত হই অবশ চোখের পলকের ইশারায়।

আমি ভয়াবহ বিপদাপদের মোকাবিলা করি কোনো শঙ্কা ছাড়াই … তবে বিমুখতা ও বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কিছুকে আমি ভয় পাই না।

পুতুলের মতো সুন্দর তিনজন আমার অন্তরকে জয় করে নিয়েছে … যাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল এবং দেহ সুকোমল।

অন্ধকারের নক্ষত্ররাজির মতো তারা দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে … যেন বালিয়াড়ির ওপর দোদুল্যমান ডালপালার ওপর থেকে।

সৌন্দর্যের দিক থেকে এ যেন নতুন চাঁদ, ও যেন বৃহস্পতি গ্রহের কন্যা … আর এ যেন বান বৃক্ষের শাখার বোন।

তাদের বিষয়ে আমি যৌবন-চপলতার কাছে বিস্মৃতির বিচার চেয়েছিলাম … ফলে তা এক কর্তৃত্বের ওপর অন্য কর্তৃত্বের ফয়সালা প্রদান করল।

তারা আমার হৃদয়ের সুরক্ষিত চত্বরকে লুণ্ঠন করেছে এবং আমাকে নত করেছে … আমার রাজকীয় প্রতাপের মধ্যেও আমি এক ক্লিষ্ট বন্দীর মতো।

এমন রাজাকে তিরস্কার করো না যে প্রেমের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছে … প্রেমের এই হীনতা আসলে এক মর্যাদা এবং অন্য এক রাজত্ব।

এতে কী ক্ষতি যদি আমি অনুরাগের কারণে তাদের দাসে পরিণত হই … যেখানে যুগের সন্তানরা এবং তারা স্বয়ং আমারই দাসদের অন্তর্ভুক্ত?

তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে যদি আমি প্রেমের শাসনের আনুগত্য না করি … তবে আমি মারওয়ানের বংশধর নই।

কোনো সম্মানিত ব্যক্তি যখন ভালোবাসেন, তখন তিনি প্রিয়তমার কাছ থেকে … ঘৃণা ও বিস্মৃতির দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকেন।

আর যখন প্রেমিকরা একে অপরের সাথে প্রেমে মত্ত হয় … তখন প্রেম পরমানন্দে ও শান্তিতে বেঁচে থাকে।

আর এই কবিতাগুলো সেই পঙ্ক্তিগুলোর অনুকৃতি যা...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
تنسب إلى هارون الرشيد، وأنشدنيها له أبو محمد عبد الله بن عثمان ابن مروان العمري وهي:

ملك الثلاث الآنسات عناني … وحللن من قلبي بكل مكان

مالي تطاوعني البرية كلها … وأطيعهن وهن في عصيان

ما ذاك إلا أن سلطان الهوى … وبه قوين أعز من سلطانى

 

‌‌ولاية علي بن حمود الناصر

تسمى بالخلافة، وتلقب بالناصر، ثم خالف عليه العبيد الذين كانوا بايعوه وقدموا عبد الرحمن، بن محمد، بن عبد الملك، بن عبد الرحمن الناصر، وسموه المرتضى، وزحفوا إلى أغرناطة من البلاد التي تغلب عليها البربر، ثم ندموا على إقامته لما رأوا من صرامته، وخافوا عواقب تمكنه وقدرته، فانهزموا عنه، ودسوا عليه من قتله غيلة، وخفى أمره، وبقي علي بن حمود بقرطبة مستمر ألا مر، عامين غير شهرين، إلى أن قتله صقالبة له في الحمام سنة ثمان وأربع مائة. وكان له من الولد، يحيى، وإدريس.

 

‌‌ولاية القاسم بن حمود المأمون

فولى بعده أخوه القاسم بن حمود، وكان أسن منه بعشرة أعوام، وتلقب بالمأمون، وكان وادعاً أمن الناس معه، وكان يذكر عنه أنه يتشيع، ولكنه لم
এগুলো হারুন আল-রশীদের প্রতি নিসবত করা হয়, এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে মারওয়ান আল-উমারি আমাকে তাঁর এই পঙ্ক্তিগুলো শুনিয়েছেন:

তিনজন কিশোরী আমার লাগাম দখল করেছে … এবং তারা আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্থানে ঠাঁই নিয়েছে।

আমার কী হলো যে সমগ্র সৃষ্টি আমার আনুগত্য করে … অথচ আমি তাদের আনুগত্য করি, যদিও তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত!

এর কারণ কেবল এটাই যে ভালোবাসার যে কর্তৃত্ব … যার মাধ্যমে তারা শক্তিশালী হয়েছে, তা আমার রাজকীয় কর্তৃত্বের চেয়েও অধিক শক্তিশালী।

 

‌আলী ইবনে হাম্মুদ আল-নাসিরের শাসনকাল

তাকে খিলাফতের নামে অভিহিত করা হয় এবং আল-নাসির উপাধি দেওয়া হয়। এরপর সেই দাসরা তাঁর বিরোধিতা শুরু করে যারা ইতিপূর্বে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিল এবং তারা আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আবদুর রহমান আল-নাসিরকে সামনে নিয়ে আসে এবং তাকে আল-মুরতাদা উপাধি দেয়। তারা বার্বারদের পদানত শহরগুলোর মধ্য থেকে গ্রানাডার দিকে অগ্রসর হয়। এরপর যখন তারা আবদুর রহমানের কঠোরতা দেখতে পায়, তখন তাকে ক্ষমতাসীন করার জন্য তারা অনুতপ্ত হয় এবং তারা তাঁর ক্ষমতা ও সামর্থ্যের পরিণতির ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়ে। ফলে তারা তাকে ছেড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গোপনে তাকে হত্যা করার জন্য লোক নিযুক্ত করে, ফলে তাঁর বিষয়টি গোপন থেকে যায়। এদিকে আলী ইবনে হাম্মুদ কর্ডোভায় দুই বছর থেকে দুই মাস কম সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতাসীন থাকেন, যতক্ষণ না ৪০৮ হিজরি সালে স্নানাগারে তাঁর সাকালিবা (স্লেভিক) ভৃত্যরা তাকে হত্যা করে। তাঁর সন্তানদের মধ্যে ছিল ইয়াহিয়া ও ইদ্রিস।

 

‌আল-কাসিম ইবনে হাম্মুদ আল-মামুনের শাসনকাল

অতঃপর তাঁর পরে তাঁর ভাই আল-কাসিম ইবনে হাম্মুদ ক্ষমতাসীন হন, তিনি তাঁর চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন এবং আল-মামুন উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং তাঁর শাসনামলে মানুষ নিরাপদ ছিল। তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করা হতো যে তিনি শিয়া মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন, কিন্তু তিনি তা করেননি...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
يظهر ذلك، ولا غير للناس عادة ولا مذهبا، وكذلك سائر من ولى منهم بالأندلس، فبقى القاسم كذلك إلى شهر ربيع الأول سنة اثنتى عشرة وأربع مائة، فقام عليه ابن أخيه يحيى بن علي بن حمود بمالقة، فهرب القاسم عن قرطبة بلا قتال، وصار بإشبيلية، وزحف ابن أخيه المذكور من مالقه بالعساكر، فدخل دون مانع، وتسمى بالخلافة، وتلقب بالمعتلى، فبقي كذلك إلى أن اجتمع للقاسم أمره، واستمال البربر، وزحف بهم إلى قرطبة، فدخلها في سنة ثلاث عشرة وأربع مائة، وهرب يحيى ابن علي إلى مالقة فبقى القاسم بقرطبة شهوراً اضطرب أمره، وغلب ابن أخيه يحيى على الجزيرة المعروفة بالجزيرة الخضراء، وهي كانت معقل القاسم وبها كانت امرأته وذخائره، وغلب ابن أخيه الثاني إدريس بن علي صاحب سبتة على طنجة، وهي كانت عدة القاسم ليلجأ إليها إن رأى ما يخاف بالأندلس؛ وقام عليه جماعة أهل قرطبة في المدينة، وأغلقوا أبوابها دونه، فحاصرهم نيفاً وخمسين يوماً، وأقام الجمعة في مسجد ابن أبي عثمان؛ ثم إن أهل قرطبة زحفوا إلى البربر، فانهزم البربر عن القاسم، وخرجوا من الأرباض كلها في شعبان سنة أربع عشرة وأربع مائة، ولحقت كل طائفة من البربر ببلد غلبت عليه، وقصد القاسم إشبيلية، وبها كان ابناه محمد والحسن؛ فلما عرف أهل إشبيلية خروجه عن قرطبة، ومجيئه إليهم، طردوا بنيه ومن كان معهما من البربر، وضبطوا البلد، وقدموا على أنفسهم ثلاثة رجال من شيوخ البلد وأكابرهم؛ وهم القاضي أبو القاسم محمد بن إسماعيل بن عباد اللخمى، ومحمد بن يريم
এটিই প্রকাশ পায়, এবং মানুষের মধ্যে এর বাইরে কোনো প্রথা বা মাযহাব ছিল না। অনুরূপভাবে আন্দালুসে তাদের মধ্য থেকে যারা শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফলে কাসিম ৪১২ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাস পর্যন্ত এই অবস্থায় বহাল থাকেন। অতঃপর মালাগাতে তার ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়া বিন আলী বিন হাম্মুদ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তখন কাসিম কোনো যুদ্ধ ছাড়াই কর্ডোভা থেকে পালিয়ে সেভিলে চলে যান। উক্ত ভ্রাতুষ্পুত্র সৈন্যবাহিনী নিয়ে মালাগা থেকে অগ্রসর হন এবং কোনো বাধা ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ‘আল-মু'তালি’ উপাধি ধারণ করেন। কাসিম তার শক্তি সঞ্চয় করা এবং বার্বারদের নিজের পক্ষে আনা পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবেই ছিল। এরপর তিনি তাদের নিয়ে কর্ডোভার দিকে অগ্রসর হন এবং ৪১৩ হিজরি সালে তাতে প্রবেশ করেন। ইয়াহইয়া বিন আলী মালাগাতে পালিয়ে যান। কাসিম কয়েক মাস কর্ডোভায় অবস্থান করেন, তবে তার শাসন ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। তার ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়া ‘আল-জাজিরাতুল খাদরা’ নামে পরিচিত দ্বীপটি দখল করে নেন, যা ছিল কাসিমের প্রধান দুর্গ এবং সেখানে তার স্ত্রী ও ধনসম্পদ রক্ষিত ছিল। তার দ্বিতীয় ভ্রাতুষ্পুত্র সেউতার অধিপতি ইদ্রিস বিন আলী টাঞ্জিয়ার দখল করে নেন, যা ছিল কাসিমের জন্য সেই আশ্রয়স্থল যেখানে আন্দালুসে কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে তিনি আশ্রয় নিতেন। কর্ডোভার একদল অধিবাসী শহরের ভেতরে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তার জন্য শহরের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয়। তিনি তাদের পঞ্চাশ দিনেরও বেশি সময় অবরোধ করে রাখেন এবং ইবনে আবি উসমান মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর কর্ডোভাধিপতিরা বার্বারদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে তারা কাসিমকে ছেড়ে পরাজিত হয়ে পলায়ন করে এবং ৪১৪ হিজরি সালের শাবান মাসে তারা সমস্ত শহরতলী থেকে বেরিয়ে যায়। বার্বারদের প্রতিটি দল তাদের দখলকৃত শহরগুলোতে আশ্রয় নেয়। কাসিম সেভিলের দিকে যাত্রা করেন, যেখানে তার দুই পুত্র মুহাম্মদ ও হাসান অবস্থান করছিলেন। সেভিলবাসী যখন কর্ডোভা থেকে তার প্রস্থান এবং তাদের দিকে আগমনের সংবাদ পেল, তখন তারা তার দুই পুত্র এবং তাদের সাথে থাকা বার্বারদের তাড়িয়ে দিল এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করল। তারা শহরের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিনজনকে তাদের নেতা হিসেবে মনোনীত করল; তারা হলেন—কাজী আবুল কাসিম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আব্বাদ আল-লাখমি এবং মুহাম্মদ বিন ইয়ারিম।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الإلهاني، ومحمد بن محمد بن الحسن الزبيدي، ومكثوا كذلك أياماً مشتركين في سياسة البلد وتدبيره، ثم انفرد القاضي أبو القاسم بن عباد بالأمر، واستبد بالتدبير، وصار الآخران في جملة الناس، ولحق القاسم بشريش، واجتمع البربر على تقديم ابن أخيه يحيى، وزحفوا إلى القاسم فحصروه حتى صار في قبضة ابن أخيه يحيى، وانفرد ابن أخيه يحيى بولاية البربر، وبقى القاسم أسيراً عنده وعند أخيه إدريس بعده، إلى أن مات إدريس، فقتل القاسم خنقاً سنة إحدى وثلاثين وأربع مائة، وحمل إلى ابنه محمد ابن القاسم بالجزيرة، فدفنه هنالك؛ فكانت ولاية القاسم مذ تسمى بالخلافة بقرطبة، إلى أن أسره ابن أخيه ستة أعوام، ثم كان مقبوضاً عليه ست عشرة سنة عند ابني أخيه إلى أن قتل كما ذكرنا في أول سنة إحدى وثلاثين، ومات وله ثمانون سنة، وله من الولد محمد والحسن، أمهما أميرة بنت الحسن، بن قنون، بن إبراهيم، ابن محمد بن القاسم، بن إدريس، بن إدريس، بن عبد الله بن الحسن بن علي، ابن أبي طالب.

 

‌‌ولاية يحيى بن علي المعتلى

اختلف في كنيته فقيل أبو إسحاق، وقيل أبو محمد، وأمه لبونة، بنت محمد، بن الحسن، بن القاسم المعروف بقنون، بن إبراهيم، بن محمد، بن القاسم، ابن إدريس، بن إدريس، بن عبد الله، بن الحسن، بن الحسن، بن علي، بن أبي طالب؛ وكان الحسن بن قنون من كبار الملوك الحسنين وشجعانهم، ومردتهم، وطغاتهم المشهورين، فتسمى يحيى بالخلافة بقرطبة سنة ثلاث عشرة وأربع مائة كما ذكرنا، ثم هرب عنها إلى مالقة سنة أربع عشرة كما وصفنا، ثم سعى قوم من المفسدين في رد دعوته إلى قرطبة في
আল-ইলহানি এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আজ-জুবাইদি বেশ কয়েক দিন নগরের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অংশীদার হিসেবে অবস্থান করলেন। অতঃপর কাজি আবু আল-কাসিম বিন আব্বাদ এককভাবে শাসনভার গ্রহণ করেন এবং ব্যবস্থাপনায় স্বাতন্ত্র্য লাভ করেন। অন্য দুজন সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। কাসিম শেরিশ অভিমুখে রওয়ানা হলেন। বার্বাররা তার ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়াকে প্রধান হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে একমত হলো। তারা কাসিমের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলো এবং তাকে অবরুদ্ধ করল, এমনকি তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়ার কবজায় চলে আসলেন। ইয়াহইয়া বার্বারদের শাসনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলেন। কাসিম তার কাছে এবং পরবর্তী সময়ে তার ভাই ইদ্রিসের কাছে বন্দি হিসেবে থাকলেন, যতক্ষণ না ইদ্রিস মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর চারশত একত্রিশ হিজরি সনে কাসিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তাকে আল-জাজিরায় তার পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আল-কাসিমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সমাহিত করা হয়। কর্ডোভায় খিলাফতের নাম ধারণ করার পর থেকে ভ্রাতুষ্পুত্র কর্তৃক বন্দি হওয়ার আগ পর্যন্ত কাসিমের শাসনকাল ছিল ছয় বছর। এরপর তিনি তার দুই ভ্রাতুষ্পুত্রের কাছে ষোলো বছর বন্দি ছিলেন, যে পর্যন্ত না তাকে হত্যা করা হয় যেমনটি আমরা চারশত একত্রিশ হিজরির শুরুতে উল্লেখ করেছি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল আশি বছর। তার সন্তানদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ ও হাসান; তাদের মা ছিলেন আমীরা বিনতে আল-হাসান বিন কানুন বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন ইদ্রিস বিন ইদ্রিস বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আলী ইবনে আবি তালিব।

 

‌‌ইয়াহইয়া বিন আলী আল-মু'তালি-এর শাসনকাল

তার কুনিয়াত বা উপনাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় আবু ইসহাক, আবার বলা হয় আবু মুহাম্মদ। তার মা ছিলেন লুবুনা বিনতে মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-কাসিম (যিনি কানুন নামে পরিচিত) বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন ইদ্রিস বিন ইদ্রিস বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আল-হাসান বিন আলী ইবনে আবি তালিব। হাসান বিন কানুন ছিলেন হাসানি সম্রাটদের মধ্যে অন্যতম মহান, সাহসী, অবাধ্য এবং সুপরিচিত প্রতাপশালী শাসক। আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, ইয়াহইয়া চারশত তের হিজরি সনে কর্ডোভায় খিলাফতের উপাধি গ্রহণ করেন। অতঃপর আমরা যেমন বর্ণনা করেছি, চারশত চৌদ্দ হিজরি সনে তিনি সেখান থেকে পলায়ন করে মালাগায় চলে যান। এরপর একদল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী লোক কর্ডোভায় তার শাসনের আহ্বান পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করে...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
سنة ست عشرة فتم لهم ذلك، إلا أنه تأخر عن دخولها باختياره، واستخلف عليها عبد الرحمن بن عطاف اليفرني، فبقى الأمر كذلك إلى سنة سبع عشرة، ثم قطعت دعوته عن قرطبة، وبقى يتردد عليها بالعساكر إلى أن اتفقت على طاعته جماعة البربر، وسلموا إليه الحصون والقلاع والمدن، وعظم أمره، فصار بقرمونة محاصراً لإشبيلية طامعاً في أخذها، فخرج يوماً وهو سكران إلى خيل ظهرت من إشبيلية بقرب قرمونة، فلقيها وقد كمنوا له، فلم يكن بأسرع من أن قتل، وذلك يوم الأحد لسبع خلون من المحرم سنة سبع وعشرين وأربع مائة، وكان له من الولد: الحسن، وإدريس، لأمي ولد.

 

‌‌ولاية عبد الرحمن هشام المستظهر

ولما انهزم البرابر عن أهل قرطبة مع القاسم كما ذكرنا، اتفق رأى أهل قرطبة على رد الأمر إلى بنى أمية، فاختاروا منهم ثلاثة، وهم: عبد الرحمن، بن هشام، ابن عبد الجبار، بن عبد الرحمن الناصر، أخو المهدي المذكور آنفاً، وسليمان بن المرتضى المذكور آنفاً، ومحمد عبد الرحمن بن هشام القائم على المهدي بن سليمان بن الناصر؛ ثم استفر الأمر لعبد الرحمن بن هشام بن عبد الجبار، فبويع بالخلافة لثلاث عشرة ليلة خلت لرمضان سنة أربع عشرة وأربع مائة، وله اثنان وعشرون سنة، وتلقب بالمستظهر، وكان مولده سنة اثنين وتسعين وثلاث مائة، في ذي القعدة، يكنى أبا المطرف، وأمه أم ولد اسمها غاية.

ثم قام عليه أبو عبد الرحمن، بن عبيد الله، بن
৪১৬ হিজরি সনে তাদের জন্য তা পূর্ণ হয়েছিল, তবে তিনি নিজ ইচ্ছায় তাতে প্রবেশ করতে বিলম্ব করেছিলেন। তিনি সেখানে আবদুর রহমান ইবনে আত্তাফ আল-ইয়াফরানিকে স্থলাভিষিক্ত করেন। ৪১৭ হিজরি পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই ছিল। অতঃপর কর্ডোভা থেকে তার শাসনকর্তৃত্ব ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি সেখানে সৈন্যদের নিয়ে যাতায়াত অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না বার্বারদের একটি দল তার আনুগত্যে একমত হয় এবং তারা তার কাছে দুর্গ, কেল্লা ও শহরসমূহ সমর্পণ করে। তার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এরপর তিনি কারমোনায় অবস্থান করে সেভিল অবরোধ করেন এবং তা দখলের আকাঙ্ক্ষা করেন। একদিন তিনি মত্ত অবস্থায় কারমোরার কাছে সেভিল থেকে আসা একটি অশ্বারোহী দলের বিরুদ্ধে বেরিয়ে পড়েন। তারা তার জন্য ওত পেতে ছিল, ফলে অতি দ্রুতই তিনি নিহত হন। এটি ছিল ৪২৭ হিজরি সনের ৭ই মহররম, রবিবার। তার সন্তানদের মধ্যে ছিল হাসান এবং ইদ্রিস, যারা দুজন দাসীর গর্ভজাত।

 

‌‌আবদুর রহমান হিশাম আল-মুস্তাজহির-এর শাসনকাল

আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, কাসিমের সাথে বার্বাররা যখন কর্ডোভাবাসীদের কাছে পরাজিত হলো, তখন কর্ডোভাবাসীদের জনমত এই বিষয়ে একমত হলো যে, শাসনক্ষমতা বনু উমাইয়াদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তারা তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে নির্বাচিত করল: আবদুর রহমান ইবনে হিশাম ইবনে আবদুল জব্বার ইবনে আবদুর রহমান আন-নাসির (যিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত আল-মাহদীর ভাই), পূর্বে উল্লিখিত সুলায়মান ইবনুল মুরতাদা এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হিশাম (যিনি সুলায়মান ইবনে আন-নাসিরের পুত্র মাহদীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন)। অবশেষে আবদুর রহমান ইবনে হিশাম ইবনে আবদুল জব্বারের পক্ষে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ৪১৪ হিজরি সনের ১৩ই রমজান রাতে তাকে খিলাফতের বায়াত প্রদান করা হয়। তখন তার বয়স ছিল বাইশ বছর। তিনি 'আল-মুস্তাজহির' উপাধি গ্রহণ করেন। তার জন্ম হয়েছিল ৩৯২ হিজরি সনের জিলকদ মাসে। তার কুনিয়াত ছিল আবু মুতাররিফ এবং তার মা ছিলেন একজন উম্মু ওয়ালাদ (দাসী), যার নাম ছিল গায়াহ।

অতঃপর তার বিরুদ্ধে আবু আবদুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عبد الرحمن الناصر، مع طائفة من أراذل العوام، فقتل عبد الرحمن بن هشام، وذلك لثلاث بقين من ذي القعدة سنة أربع عشرة المؤرخ ولا عقب له.

وكان في غاية الأدب والبلاغة والفهم ورقة النفس. كذا قال أبو محمد على بن أحمد وكان خبيراً به.

وقال الوزير أبو عامر أحمد بن عبد الملك بن شهيد: كان المستظهر رحمه الله شاعراً مطبوعاً، ويستعمل الصناعة، فيجيد وهو القائل في ابنة عمه:

حمامة بيت العبشميين رفرفت … فطرت إليها من سراتهم صقرا

تقل الثريا أن تكون لها يداً … ويرجو الصباح أن يكون لها نحرا

وإنى لطعان إذا الخيل أقبلت … جوانبها حتى ترى جونها شقرا

ومكرم ضيفي حين ينزل ساحتي … وجاعل وفرى عند سائله وقرا

وهي طويلة قالها أيام خطبته لابنة عمه أم الحكم بنت المستعين. قال أبو عامر: وكان يتهم في أشعاره ورسائله، حتى كتب أمان يعلى بن أبي زيد حين وفد عليه ارتجالاً، فعجب أهل التمييز منه، وأما أنا فقد كنت بلوته؛ وكان ورود يعلى فجأة ولم يبرح من مجلسه حتى ارتجل الأمان، وأنا والله أخاف أن يزل فأجاد وزاد. هذا آخر كلام أبي عامر.

 

‌‌ولاية محمد بن عبد الرحمن المستكفى

وولى محمد بن عبد الرحمن المذكور، وله ثمان وأربعون سنة وأشهر، لأن مولده في سنة ست وستين وثلاث مائة، وكنيته أبو عبد الرحمن، وأمه وأم ولد اسمها حوراء، وكان أبوه قد قتله محمد بن أبي عامر في أول دولة هشام المؤيد لسعيه في القيام، وطلبه
আব্দুর রহমান আন-নাসির, সাধারণ জনগণের একদল অধম লোকের সাথে মিলে আব্দুর রহমান বিন হিশামকে হত্যা করেন। এটি ছিল ৪১৪ হিজরি সালের জিলকদ মাসের তিন দিন বাকি থাকতে। তার কোনো উত্তরসূরি ছিল না।

তিনি শিষ্টাচার, অলংকারশাস্ত্র, প্রজ্ঞা এবং হৃদয়ের কোমলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন। আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ এভাবেই বলেছেন এবং তিনি তার সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন।

উজির আবু আমির আহমদ বিন আব্দুল মালিক বিন শহীদ বলেন: আল-মুস্তাজহির (রহিমাহুল্লাহ) একজন স্বভাবজাত কবি ছিলেন এবং তিনি কাব্যশিল্প ব্যবহার করতেন ও তাতে পারদর্শিতা দেখাতেন। তিনি তার চাচাতো বোন সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতাটি বলেছিলেন:

আবশামীদের গৃহের কপোতী ডানা ঝাপটালো … আর আমি তাদের অভিজাতদের মধ্য হতে বাজপাখি হয়ে তার দিকে উড়ে গেলাম।

সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ তার হাত হওয়ার জন্য অতি সামান্য … আর ভোর তার কণ্ঠদেশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।

ঘোড়াগুলো যখন এগিয়ে আসে, তখন আমি তাদের পার্শ্বদেশে প্রচণ্ড বর্শা নিক্ষেপকারী … যতক্ষণ না তাদের কৃষ্ণবর্ণ রক্তে রঞ্জিত হয়ে লাল বর্ণে রূপ নেয়।

আর আমার আঙিনায় যখন কোনো অতিথি অবতরণ করে, আমি তাকে সম্মান করি … আর যাচনাকারীর কাছে আমার সম্পদকে বোঝার মতো অর্পণ করি।

এটি একটি দীর্ঘ কবিতা, যা তিনি তার চাচাতো বোন আল-মুসতাইন-এর কন্যা উম্মুল হাকামকে বিবাহের প্রস্তাব প্রদানের সময় বলেছিলেন। আবু আমির বলেন: তার কবিতা ও পত্রাবলির মৌলিকত্বের ব্যাপারে সন্দেহ করা হতো, যতক্ষণ না তিনি ইয়ালা বিন আবি জায়েদ তার নিকট আগমনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে একটি নিরাপত্তা পত্র লিখেছিলেন। এতে বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ বিস্মিত হয়েছিলেন। আর আমি তো তাকে পরীক্ষা করেছিলাম; ইয়ালার আগমন ছিল আকস্মিক এবং তিনি তার মজলিস ত্যাগ করার পূর্বেই নিরাপত্তা পত্রটি মুখে মুখে রচনা করে ফেলেন। আল্লাহর কসম, আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তিনি হয়তো ভুল করে বসবেন, কিন্তু তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে তা সম্পন্ন করলেন এবং অতিরিক্ত সৌন্দর্য দান করলেন। আবু আমিরের বক্তব্য এখানেই শেষ।

 

‌‌মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুস্তাকফির শাসনকাল

উল্লিখিত মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান ক্ষমতা লাভ করেন, তখন তার বয়স ছিল আটচল্লিশ বছর কয়েক মাস। কারণ তার জন্ম হয়েছিল ৩৬৬ হিজরি সালে। তার উপনাম ছিল আবু আব্দুর রহমান এবং তার মা ছিলেন একজন উম্মুল অলাদ, যার নাম ছিল হাওরা। হিশাম আল-মুয়াইয়াদের শাসনের প্রারম্ভে বিদ্রোহের চেষ্টার কারণে এবং ক্ষমতা লাভের আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত থাকায় মুহাম্মদ বিন আবি আমির তার পিতাকে হত্যা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
للأمر؛ وكان محمد بن عبد الرحمن هذا قد تلقب بالمستكفى، فولى ستة عشر شهراً وأياماً إلى أن خلع ورجع الأمر إلى يحيى بن علي الحسنى، وهرب المستكفى فلما صار بقرية يقال لها شمونت من أعمال مدينة سالم جلس ليأكل، وكان معه عبد الرحمن بن محمد ابن السليم من ولد سعيد بن المنذر القائد المشهور أيام عبد الرحمن الناصر، فكره التمادي معه، وأخذ شيئاً من البيش وهو كثير في ذلك البلد، فدهن له به دجاجة، فلما أكلها مات لوقته، فقبره هنالك، وكان هذا المستكفى في غاية التخلف وله في ذلك أخبار يقبح ذكرها، وكان متغلباً عليه طول مدته، لا ينفذ له أمر ولا عقب له.

 

‌‌ولاية هشام بن محمد المعتد

ولما قطعت دعوة يحيى بن علي الحسيني من قرطبة سنة سبع عشرة كما ذكرنا، أجمع رأى أهل قرطبة على رد الأمر إلى بني أمية، وكان عميدهم في ذلك الوزير أبو الحزم جهور، بن محمد، بن جهور، بن عبيد الله، بن محمد، بن الغمر، ابن يحيى، بن عبد الغافر، بن أبي عبدة، وقد كان ذهب كل من كان ينافس في الرياسة ويخب في الفتنة بقرطبة، فراسل جهور ومن معه من أهل الثغور والمتغلبين هنالك على الأمور، وداخلهم في هذا، فاتفقوا بعد مدة طويلة على تقديم أبي بكر؛ هشام ابن محمد، بن عبد الملك، بن عبد الرحمن الناصر، وهو أخو المرتضى المذكور؛ قيل: كان
ক্ষমতার বিষয়ে; এই মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান 'আল-মুস্তাকফি' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ষোলো মাস কয়েক দিন শাসন করেন, এরপর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ক্ষমতা ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-হাসানির কাছে ফিরে যায়। আল-মুস্তাকফি পালিয়ে মদিনা সালিম অঞ্চলের শামুন্ত নামক এক গ্রামে পৌঁছান এবং আহারের জন্য বসেন। তার সঙ্গে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুস সালিম ছিলেন, যিনি আবদুর রহমান আন-নাসিরের শাসনামলের বিখ্যাত সেনাপতি সাঈদ ইবনুল মুনযিরের বংশধর ছিলেন। তিনি (ইবনুস সালিম) তার সঙ্গে আর দীর্ঘপথ যেতে চাইলেন না। তাই তিনি সেই অঞ্চলে প্রচুর পাওয়া যায় এমন বিষাক্ত লতা 'বিশ' থেকে কিছু অংশ নিলেন এবং তা দিয়ে একটি মুরগি মাখিয়ে দিলেন। যখন তিনি (মুস্তাকফি) সেটি খেলেন, তৎক্ষণাৎ মারা গেলেন এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। এই মুস্তাকফি অত্যন্ত নিম্নমানের মানুষ ছিলেন এবং তার এমন কিছু কর্মকাণ্ডের খবর রয়েছে যা উল্লেখ করাও লজ্জাজনক। তার পুরো শাসনামলে অন্যরাই তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকত, তার কোনো আদেশ কার্যকর হতো না এবং তার কোনো উত্তরসূরি ছিল না।

 

‌‌হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-মু'তাদ্দ-এর শাসনকাল

যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি যে, যখন চারশ সতেরো হিজরি সনে কর্ডোবা থেকে ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-হুসায়নীর আনুগত্যের ঘোষণা ছিন্ন করা হয়, তখন কর্ডোবাবাসী পুনরায় উমাইয়াদের হাতে শাসনভার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হলেন। এ বিষয়ে তাদের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন উজির আবু হাজম জাহওয়ার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাহওয়ার ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল গামর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদিল গাফির ইবনে আবি আবদাহ। কর্ডোবায় যারা নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতা করত এবং ফেতনা-ফ্যাসাদে লিপ্ত হতো, তাদের সবাই তখন বিলীন হয়ে গিয়েছিল। জাহওয়ার সীমান্ত অঞ্চলের অধিবাসী এবং সেখানকার ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের কাছে পত্র পাঠালেন এবং তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। দীর্ঘ সময় পর তারা আবু বকর হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদিল মালিক ইবনে আবদুর রহমান আন-নাসিরকে মনোনীত করার ব্যাপারে একমত হলেন। তিনি ছিলেন পূর্বে উল্লেখিত আল-মুরতাদার ভাই। বলা হয়: তিনি ছিলেন-
(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
مقيما بالبونت عند أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن قاسم المتغلب بها، فبايعوه في شهر ربيع الأول سنة ثمان عشرة وأربع مائة، وتلقب بالمعتد بالله، وكان مولده سنة أربع وستين وثلاث مائة، وكان أسن من أخيه المرتضى بأربعة أعوام؛ وأمه أم ولد اسمها عاتب، فبقى متردداً في الثغور ثلاثة أعوام غير شهرين، ودارت هنالك فتن كثيرة، واضطراب شديد بين الرؤساء بها إلى أن اتفق أمرهم على أن يصير إلى قرطبة قصبة الملك، فصار ودخلها يوم منى ثامن ذي الحجة سنة عشرين وأربع مائة، ولم يبق إلا يسيراً حتى قامت عليه فرقة من الجند، فخلع، وجرت أمور يكثر شرحها، وانقطعت الذعوة الأموية من يومئذ فيها، واستولى على قرطبة جهور ابن محمد المذكور آنفاً، وكان من وزراء الدولة العامرية، قد يم الرياسة، موصوفاً بالدهاء والعقل، لم يدخل في أمور الفتن قبل ذلك، وكان يتصاون عنها؛ فلما خلا له الجو، وأمكنته الفرصة وثب عليها، فتولى أمرها، واستضلع بحمايتها، ولم ينتقل إلى رتبة الإمارة ظاهرا، بل دبرها تدبيراً لم يسبق إليه، وجعل نفسه ممسكا للموضع إلى أن يجئ مستحق يتفق عليه، فيسلم إليه ورتب البوابين والحشم على أبواب تلك القصور على ما كانت عليه أيام الدولة، ولم يتحول عن داره إليها، وجعل ما يرتفع من الأموال السلطانية بأيدي رجال

তিনি সেখানে বিজয়ী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন কাসিমের নিকট আল-পুন্তে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর চারশ আঠারো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তারা তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ (বায়াত) গ্রহণ করে এবং তিনি 'আল-মুতাদ বিল্লাহ' উপাধি ধারণ করেন। তাঁর জন্ম ছিল তিনশ চৌষট্টি হিজরিতে এবং তিনি তাঁর ভাই আল-মুরতাজা অপেক্ষা চার বছরের বড় ছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী মাতা), যাঁর নাম ছিল আতিব। এরপর তিনি দুই মাস কম তিন বছর সীমান্ত অঞ্চলসমূহে অবস্থান করেন এবং সেখানে নেতৃবর্গের মধ্যে অনেক ফিতনা ও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। পরিশেষে তারা এই বিষয়ে একমত হলো যে, তিনি রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু কর্ডোবায় গমন করবেন। অতঃপর তিনি যাত্রা করলেন এবং চারশ বিশ হিজরির ৮ই জিলহজ মিনার দিনে সেখানে প্রবেশ করলেন। তিনি সেখানে অল্পকালই অবস্থান করতে পেরেছিলেন, এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর এমন অনেক ঘটনা ঘটে যা বিস্তারিত বর্ণনার দাবি রাখে এবং সেদিন থেকেই সেখানে উমাইয়া শাসনের ধারা ছিন্ন হয়ে যায়। অতঃপর কর্ডোবার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন ইতিপূর্বে উল্লিখিত জাওহার ইবনে মুহাম্মদ। তিনি ছিলেন আমিরি রাষ্ট্রের একজন উজির, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য সুপরিচিত। ইতিপূর্বে তিনি ফিতনা-ফ্যাসাদের কোনো বিষয়ে লিপ্ত হননি, বরং তা থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলতেন। যখন পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে এলো এবং সুযোগ সৃষ্টি হলো, তখন তিনি এর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলেন, শাসনভার পরিচালনা শুরু করলেন এবং এর সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিলেন। বাহ্যিকভাবে তিনি আমিরাতের পদ গ্রহণ করেননি, বরং তিনি এমন এক অনন্য কৌশলে শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেনি। তিনি নিজেকে এই স্থানের একজন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সর্বসম্মত কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী আসে যার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। তিনি সেই সব রাজপ্রাসাদের দ্বাররক্ষী ও পরিচারকদের উমাইয়া শাসনের আদলেই বিন্যস্ত করেছিলেন, যদিও তিনি নিজের বাড়ি ছেড়ে সেই প্রাসাদে স্থানান্তরিত হননি। আর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যে সম্পদ জমা হতো, তা তিনি বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের হাতে ন্যস্ত করেছিলেন।

(খণ্ড: ১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফী যিকরি উলাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
رتبهم لذلك، وهو المشرف عليه، وصير أهل الأسواق جنداً، وجعل أرزاقهم رؤوس أموال تكون بأيديهم محصلة عليهم يأخذون ربحها فقط ورؤس الأموال باقية محفوظة يؤخذون بها، ويراعون في الوقت بعد الوقت كيف حفظهم لها، وفرق السلاح عليهم، وأمرهم بتفرقته في الدكاكين، وفي البيوت، حتى إذا دهم أمر في ليل أو نهار، كان سلاح كل واحد معه؛ وكان يشهد الجنائز، ويعود المرضى جارياً في طريقة الصالحين، وهو مع ذلك يدبر الأمور تدبير السلاطين المتغلبين؛ وكان مأموناً وقرطبة في أيامه حريماً يأمن فيه كل خائف من غيره، إلى أن مات في صفر سنة خمس وثلاثين وأربع مائة.

وتولى أمرها بعده ابنه أبو الوليد محمد بن جهور على هذا التدبير، إلى أن مات، فغلب عليها بعد أمور جرت هنالك، الأمير الملقب بالمأمون صاحب طليطلة، ودبرها مدة يسيرة، ومات فيها، ثم غلب عليها صاحب إشبيلية الأمير الظافر ابن عباد، فهي الآن بيده على ما بلغنا؛ وبقى هشام بن المعتد معتقلا، ثم هرب ولحق بابن هود بلاردة، فأقام هنالك إلى أن مات سنة سبع وعشرين وأربع مائة، ولا عقب له، وانقطعت دولة بني مروان جملة، إلا أن أهل إشبيلية ومن كان على رأيهم من أهل تلك البلاد، لما ضيق عليهم يحيى بن علي الحسني، وخافوا أمره، أظهروا أن هشام ابن الحكم المؤيد حي، وأنهم
তিনি তাদের সেই কাজের জন্য বিন্যস্ত করলেন এবং তিনি এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি বাজারবাসীদের সেনাবাহিনীতে পরিণত করলেন এবং তাদের জীবিকাকে এমন মূলধনে রূপান্তরিত করলেন যা তাদের হাতেই থাকত এবং তাদের জিম্মায় সংগ্রহ করা হতো; তারা কেবল এর লভ্যাংশ গ্রহণ করত এবং মূলধন সংরক্ষিত থাকত যার জন্য তারা দায়বদ্ধ ছিল। সময়ে সময়ে তারা এটি কীভাবে সংরক্ষণ করছে তা পর্যবেক্ষণ করা হতো। তিনি তাদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণ করলেন এবং দোকান ও ঘরবাড়িতে তা ছড়িয়ে রাখার নির্দেশ দিলেন, যাতে দিন বা রাতে কোনো আকস্মিক বিপদ আপতিত হলে প্রত্যেকের অস্ত্র তার সাথেই থাকে। তিনি জানাজায় উপস্থিত হতেন এবং অসুস্থদের দেখতে যেতেন—সৎকর্মশীলদের পথ অনুসরণ করে; অথচ এর পাশাপাশি তিনি বিজয়ী সুলতানদের ন্যায় নিপুণভাবে বিষয়াদি পরিচালনা করতেন। তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাঁর শাসনামলে কর্ডোভা ছিল এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেখানে অন্যকে ভয় পাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি নিরাপত্তা বোধ করত। অবশেষে তিনি চারশত পঁয়ত্রিশ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর পর তাঁর পুত্র আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে জাহওয়ার এই একই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত। এরপর সেখানে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পর টলেডোর অধিপতি আল-মামুন উপাধিধারী আমির তা জয় করেন এবং অল্পকাল শাসন করার পর সেখানেই মারা যান। অতঃপর সেভিলের অধিপতি আমির আল-জাফির ইবনে আব্বাদ তা জয় করেন এবং আমাদের কাছে পৌঁছানো সংবাদ অনুযায়ী তা এখন তাঁর হাতে রয়েছে। হিশাম ইবনে আল-মুতাদ বন্দী অবস্থায় ছিলেন, পরে তিনি পালিয়ে লারিদাতে ইবনে হুদের সাথে যোগ দেন। তিনি সেখানে চারশত সাতাশ হিজরিতে মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন। তাঁর কোনো উত্তরসূরি ছিল না এবং বনু মারওয়ানের শাসনের সম্পূর্ণ অবসান ঘটে। তবে সেভিলের অধিবাসী এবং ওই অঞ্চলের যারা তাদের মতাদর্শী ছিল, যখন ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-হাসানি তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেন এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত হলো, তখন তারা প্রকাশ করল যে হিশাম ইবনে আল-হাকাম আল-মুয়াইয়িদ জীবিত আছেন এবং তারা...