(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: -)
الزهر النضر في حال الخضر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الزهر النضر في حال الخضر
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)
المحقق: صلاح مقبول أحمد
الناشر: مجمع البحوث الإسلامية - جوغابائي نيودلهي - الهند
الطبعة: الأولى، 1408هـ - 1988م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 163
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আজ-জহরুন নাদোর ফী হালিল খিদর বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: আজ-জহরুন নাদোর ফী হালিল খিদর
লেখক: আবু আল-ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত ৮৫২ হিজরি)
তাহকীক: সালাহ মকবুল আহমদ
প্রকাশক: মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ - জোগাবাই নিউ দিল্লি - ভারত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৫)
ذكر قصَّة الْخضر فِي الْقُرْآن والْحَدِيثالْخضر فِي الْقُرْآن الْكَرِيم:
سُورَة الْكَهْف (60 - 82)
কুরআন ও হাদিসে খিজিরের (আ.) কাহিনির বর্ণনাপবিত্র কুরআনে খিজির (আ.):
সূরা আল-কাহাফ (৬০ - ৮২)
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৬)
-
بَاب حَدِيث الْخضر مَعَ مُوسَى عليهما السلام: 1 - حَدثنَا عَمْرو بن مُحَمَّد حَدثنَا يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم قَالَ حَدثنِي أبي عَن صَالح عَن أبي شهَاب أَن عبيد الله بن عبد الله أخبرهُ " عَن ابْن عَبَّاس أَنه تمارى هُوَ وَالْحر بن قيس الْفَزارِيّ فِي صَاحب مُوسَى،
মুসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম)-এর হাদিসের পরিচ্ছেদ: 1 - আমর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) সালেহ থেকে (عن), তিনি আবু শিহাব থেকে (عن) যে, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبره) ইবনে আব্বাস থেকে (عن) যে, তিনি এবং হুর ইবনে কায়স আল-ফাজারি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হলেন,
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৭)
قَالَ ابْن عَبَّاس: هُوَ خضر، فَمر بهما أبي بن كَعْب، فَدَعَاهُ ابْن عَبَّاس فَقَالَ: إِنِّي تماريت أَنا وصاحبي هَذَا فِي صَاحب مُوسَى الَّذِي سَأَلَ السَّبِيل إِلَيّ لَقيته، هَل سَمِعت رَسُول الله يذكر شَأْنه؟ قَالَ: نعم، سَمِعت رَسُول الله يَقُول: بَيْنَمَا مُوسَى فِي ملإ من بني اسرائيل جَاءَهُ رجل فَقَالَ: هَل تعلم أحد أعلم مِنْك؟ قَالَ: لَا. فَأوحى الله إِلَيّ مُوسَى بلَى عَبدنَا الْخضر، فَسَأَلَ مُوسَى السَّبِيل إِلَيْهِ، فَجعل لَهُ الْحُوت آيَة، وَقيل لَهُ إِذا فقدت الْحُوت فَارْجِع فَإنَّك ستلقاه. فَكَانَ يتبع الْحُوت فِي الْبَحْر، فَقَالَ لمُوسَى فتاه: أَرَأَيْت إِذْ أوينا إِلَيّ الصَّخْرَة فَإِنِّي نسيت الْحُوت وَمَا أنسانيه إِلَّا الشَّيْطَان أَن أذكرهُ. فَقَالَ مُوسَى: ذَلِك مَا كُنَّا نبغي، فارتدا على آثارهما قصصا، فوجدا خضرًا، فَكَانَ من شَأْنهمَا الَّذِي قصّ الله فِي كِتَابه "
2 - حَدثنَا عَليّ بن عبد الله حَدثنَا سُفْيَان حَدثنَا عَمْرو بن دِينَار قَالَ أَخْبرنِي سعيد بن جُبَير قَالَ " قلت لِابْنِ عَبَّاس أَن نَوْفًا الْبكالِي يزْعم أَن مُوسَى صَاحب الْخضر لَيْسَ هُوَ مُوسَى بني اسرائيل، إِنَّمَا هُوَ مُوسَى آخر. فَقَالَ: كذب عَدو الله، حَدثنَا أبي بن كَعْب عَن النَّبِي أَن مُوسَى قَامَ خَطِيبًا فِي بني اسرائيل فَسئلَ: أَي النَّاس أعلم؟ فَقَالَ أَنا. فعتب الله عَلَيْهِ إِذْ لم يرد الْعلم اليه فَقَالَ لَهُ: بلَى، لي عبد بمجمع الْبَحْرين هُوَ أعلم مِنْك. قَالَ أَي رب وَمن لي بِهِ؟ - وَرُبمَا قَالَ سُفْيَان: أَي رب وَكَيف لي بِهِ؟ - قَالَ تَأْخُذ حوتا فتجعله فِي مكتل، حَيْثُمَا فقدت الْحُوت فَهُوَ ثمَّ - وَرُبمَا
ইবনে আব্বাস বললেন: তিনি হলেন খিজির। তখন তাঁদের পাশ দিয়ে উবাই ইবনে কাব অতিক্রম করছিলেন, ইবনে আব্বাস তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন: আমি এবং আমার এই সাথী মূসা (আ.)-এর সেই সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করেছি, যাঁর সাথে সাক্ষাতের পথ তিনি অনুসন্ধান করেছিলেন। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: একদা মূসা (আ.) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: আপনি কি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে চেনেন? তিনি বললেন: না। তখন আল্লাহ মূসা (আ.)-এর প্রতি ওহী প্রেরণ করলেন যে, হ্যাঁ, আমাদের বান্দা খিজির। মূসা (আ.) তাঁর কাছে যাওয়ার পথ জানতে চাইলেন। তখন মাছটিকে তাঁর জন্য নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করা হলো এবং তাঁকে বলা হলো, যখন আপনি মাছটিকে হারিয়ে ফেলবেন, তখন ফিরে আসবেন, কেননা তখনই আপনি তাঁর সাক্ষাৎ পাবেন। তিনি সমুদ্রে মাছটির পদচিহ্ন অনুসরণ করছিলেন। মূসা (আ.)-এর যুবক সাথী বললেন: আপনি কি দেখেছেন, যখন আমরা পাথরের নিকট আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম; আর শয়তানই আমাকে তা স্মরণ করতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মূসা (আ.) বললেন: সেটিই তো ছিল যা আমরা খুঁজছিলাম। তখন তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন। অতঃপর তাঁরা খিজিরকে খুঁজে পেলেন। তাঁদের ঘটনা সেটিই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
2 - আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমর ইবনে দীনার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বললেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني), তিনি বলেন, "আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম যে, নাওফ আল-বিকালি দাবি করেন যে, খিজিরের সাথী মূসা বনী ইসরাঈলের মূসা নন, বরং তিনি অন্য এক মূসা। তখন তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে (كذب)। উবাই ইবনে কাব আমাদের নিকট নবী (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, মূসা (আ.) বনী ইসরাঈলের মধ্যে খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তিনি বললেন: আমি। এতে আল্লাহ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন যেহেতু তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে ন্যস্ত করেননি। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে বললেন: অবশ্যই, দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে যে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনি বললেন: হে রব, আমি কীভাবে তাঁর নাগাল পাব? - সুফিয়ান সম্ভবত বলেছেন: হে রব, কীভাবে আমার জন্য তাঁর সাক্ষাৎ সম্ভব? - আল্লাহ বললেন: তুমি একটি মাছ গ্রহণ করো এবং সেটি একটি ঝুড়িতে রাখো। যেখানেই তুমি মাছটি হারাবে, সেখানেই তিনি থাকবেন। - এবং সম্ভবত...
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم بَين يَدي الْكتاب" إِن الْحَمد لله نحمده ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وسيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله. "
(يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّقوا الله حق تُقَاته، وَلَا تموتن إِلَّا وَأَنْتُم مُسلمُونَ) [آل عمرَان: 102] (يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا ربكُم الَّذِي خَلقكُم من نفس وَاحِدَة، وَخلق مِنْهَا زَوجهَا، وَبث مِنْهُمَا رجَالًا كثيرا وَنسَاء، وَاتَّقوا الله الَّذِي تساءلون بِهِ والأرحام، إِن الله كَانَ عَلَيْكُم رقيبا) [النِّسَاء: 1]
(يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّقوا الله وَقُولُوا قولا سديدا، يصلح لكم أَعمالكُم وَيغْفر لكم ذنوبكم، وَمن يطع الله وَرَسُوله فقد فَازَ فوزا عَظِيما) [الْأَحْزَاب: 70 - 71]
أما بعد: فَإِن أصدق الحَدِيث كتاب الله، وَأحسن الْهدى هدى مُحَمَّد وَشر الْأُمُور محدثاتها، وكل محدثة بِدعَة، وكل بِدعَة ضَلَالَة، وكل ضَلَالَة فِي النَّار. "
وَبعد، فَإِن الْإِسْلَام رِسَالَة إلهية وَاضِحَة، وعقيدة ربانية صَافِيَة من أدران الشّرك والإلحاد، والعادات والتقاليد، والخرافات والأوهام.
وَلَكِن - وللأسف الشَّديد - كلما ابتعد الْمُسلمُونَ من الاغتراف من المنهل الصافي الشفاف للْكتاب وَالسّنة الصَّحِيحَة، بَدَت مَوَاطِن الضعْف والوهن فِي عقيدتهم، وتسربت إِلَيْهَا كثير من الخرافات والأوهام، الَّتِي مَا أنزل الله بهَا من سُلْطَان، وَلَيْسَت عَلَيْهَا أَي مسحة من العقيدة وَالدّين، وزد إِلَى ذَلِك أَنَّهَا سببت لتفريق كلمة الْمُسلمين، وتشتيت وحدة الْأمة الإسلامية فِي كل عصر ومصر.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। গ্রন্থের ভূমিকা"নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।"
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) [আল-ইমরান: ১০২] (হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) [আন-নিসা: ১]
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে।) [আল-আহযাব: ৭০-৭১]
অতপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।"
অতঃপর, নিশ্চয়ই ইসলাম একটি স্পষ্ট ঐশী বার্তা এবং শিরক, নাস্তিক্যবাদ, রীতিনীতি, প্রথা, কুসংস্কার ও অমূলক কল্পনা হতে মুক্ত এক স্বচ্ছ রব্বানী আকিদাহ।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমরা যখনই কিতাব এবং সহিহ (صحيح) সুন্নাহর সেই স্বচ্ছ ও নির্মল উৎসধারা থেকে বিমুখ হয়েছে, তখনই তাদের আকিদাহর মধ্যে দুর্বলতা ও শিথিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে সেখানে এমন অনেক কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আকিদাহ ও দীনের সাথে যার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। তদুপরি, এই বিষয়টি প্রতিটি যুগে ও জনপদে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করার এবং মুসলিম উম্মাহর সংহতিকে খণ্ডবিখণ্ড করার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২)
وَمن الخرافات الَّتِي تطرقت إِلَى الأوساط الإسلامية من جِهَة بعض " المدعين المتهوسين للزهد الفارغ، والورع الأجوف "، وتروجت عبر التَّارِيخ الإسلامي، وآمن بهَا ضعفاء العقيدة وَالدّين: خرافة اسْتِمْرَار حَيَاة الْخضر عليه السلام.
وَلَا شكّ أَن الْعلمَاء - مُنْذُ الْقَدِيم - اخْتلفُوا فِي هَذَا الْأَمر وَلَكِن عندنَا، ميزانا دَقِيقًا لنقد مثل هَذِه القضايا الْمُخْتَلف فِيهَا هُوَ: " كتاب الله عز وجل وَسنة رَسُوله - " (يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم، فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول، إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر، ذَلِك خير وَأحسن تَأْوِيلا)
فنرد هَذِه الْقَضِيَّة إِلَى كتاب الله، وَسنة رَسُول الله، فَإِن وافقا عَلَيْهَا نعتقد بِأَن الْخضر عليه السلام حَيّ يرْزق من يَوْم وِلَادَته حَتَّى الْآن، وَلَا يزَال، إِلَى مَا شَاءَ الله. وَهَذَا من أعظم الْآيَات لربوبية الله عز وجل. (وَمَا كَانَ لمُؤْمِن وَلَا مُؤمنَة إِذا قضى الله وَرَسُوله أمرا، أَن يكون لَهُم الْخيرَة من أَمرهم) .
وَإِن لم نجد فِي الْكتاب وَالسّنة الصَّحِيحَة مَا يدل على اسْتِمْرَار حَيَاته، نرفضه وَلَا كَرَامَة، مهما ادّعى " الصُّوفِيَّة والصالحون " بلقائهم إِيَّاه فِي القفارى والفلوات، ومواطن الْخَيْر ومواضع الشّرف.
وَذَلِكَ لِأَن الْكتاب وَالسّنة الصَّحِيحَة هما الْوَسِيلَة الوحيدة للاطلاع على مثل هَذِه الْأُمُور الغيبية. وَالْإِيمَان باستمرار حَيَاة أحد من النَّاس، إِلَى مَا دَامَت السَّمَاوَات وَالْأَرْض، يحْتَاج إِلَى دَلِيل نقلي صَرِيح، لِأَنَّهُ يمس جَانب العقيدة الَّتِي لَا تثبت إِلَّا بذلك.
ইসলামী পরিমণ্ডলে কিছু "সারশূন্য কৃচ্ছ্রসাধন ও অন্তঃসারশূন্য পরহেজগারির মত্ত দাবিদারদের" পক্ষ থেকে যে সকল রূপকথা অনুপ্রবেশ করেছে এবং ইসলামী ইতিহাসের পরিক্রমায় প্রচার লাভ করেছে, আর যেগুলোর ওপর দুর্বল আকিদা ও দ্বীনদার ব্যক্তিরা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো: খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর দীর্ঘায়ু বা বেঁচে থাকার রূপকথা।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাচীনকাল থেকেই আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; তবে আমাদের নিকট এ ধরনের মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি সূক্ষ্ম মানদণ্ড রয়েছে, আর তা হলো: "আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।" (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।)
সুতরাং আমরা এই বিষয়টি আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর নিকট পেশ করি। যদি এই দুটি উৎস একে সমর্থন করে, তবে আমরা বিশ্বাস করব যে খিজির (আলাইহিস সালাম) তাঁর জন্মের দিন থেকে আজ অবধি জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত এবং আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন তা অব্যাহত থাকবে। এটি হতো আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের অন্যতম মহান নিদর্শন। (আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফায়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না।)
আর যদি আমরা কিতাব এবং সহিহ (الصحيحة) সুন্নাহতে তাঁর জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বিষয়ে কোনো প্রমাণ না পাই, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব এবং এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না; যদিও "সুফি ও নেককার ব্যক্তিরা" জনমানবহীন মরুপ্রান্তর এবং কল্যাণ ও সম্মানের স্থানগুলোতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে বলে দাবি করেন না কেন।
এর কারণ হলো, কিতাব ও সহিহ (الصحيحة) সুন্নাহই হলো এই জাতীয় গায়েবি বা অদৃশ্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার একমাত্র মাধ্যম। আর আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত কোনো মানুষের জীবন অব্যাহত থাকার ওপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য একটি সুস্পষ্ট (صريح) বর্ণিত দলিলের (دليل نقلي) প্রয়োজন। কেননা এটি আকিদার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা এ জাতীয় দলিল ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৩)
أما ادِّعَاء مبْنى على الظَّن والتخمين بِأَن الْخضر عليه السلام حَيّ وَلَا يزَال إِلَى قيام السَّاعَة، فَلَيْسَ فِيهِ دَلِيل وَلَا برهَان، بل هُوَ مُجَرّد وعاز من الْأَصَالَة وَالتَّحْقِيق وخرافة لَيست من الدّين فِي شَيْء. (إِن هِيَ إِلَّا أَسمَاء سميتموها أَنْتُم وآباؤكم مَا أنزل الله بهَا من سُلْطَان، إِن يتبعُون إِلَّا الظَّن وَمَا تهوى الْأَنْفس، وَقد جَاءَ من رَبهم الْهدى) .
هَذَا الْكتاب يحتوي على النُّصُوص الْمُوَافقَة والمخالفة المهمة، والأدلة القوية الصَّرِيحَة فِي الْمَوْضُوع، لما لمؤلفه شخصية موسوعية، وَعلم غزير، واطلاع وَاسع على كتب الْعلمَاء القدامى والمحدثين. وستنكشف حَقِيقَة اسْتِمْرَار حَيَاة الْخضر عليه السلام، تتبخر ادعاءات المدعين بذلك، خلال دراسة هَذَا الْكتاب، إِن شَاءَ الله.
الْكتب المستقلة فِي أَخْبَار الْخضر: لما كَانَ مَوْضُوع بَقَاء الْخضر عليه السلام وَعَدَمه مُخْتَلفا فِيهِ لَدَى الْعلمَاء، فاسترعى انتباههم لكشف الستار عَن وَجهه، فألفوا كتبا مُسْتَقلَّة كَثِيرَة، قد عثرت على أَسمَاء بَعْضهَا خلال مُرَاجعَة المصادر والمراجع فِي الْمَوْضُوع، وَمِنْهَا: 1. جُزْء فِي أَخْبَار الْخضر: لأبي الْحُسَيْن أَحْمد بن جَعْفَر بن الْمُنَادِي الْبَغْدَادِيّ (- 336 هـ) . 2. جُزْء فِي أَخْبَار الْخضر: لعبد المغيث بن زُهَيْر الْحَرْبِيّ الْحَنْبَلِيّ الْبَغْدَادِيّ (- 583 هـ) 3. عجالة المنتظر فِي شرح حَال الْخضر: لعبد الرَّحْمَن بن عَليّ بن
পক্ষান্তরে খিজির (আলাইহিস সালাম) জীবিত এবং কিয়ামত পর্যন্ত তিনি অবশিষ্ট থাকবেন বলে ধারণা (ظن) ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে যে দাবি করা হয়, তার স্বপক্ষে কোনো দলিল (دليل) বা প্রমাণ নেই। বরং এটি মৌলিকতা ও নিবিড় গবেষণা (تحقيق) বর্জিত নিছক একটি অসার ধারণা এবং এমন এক উপকথা যার সাথে দ্বীনের কোনো সম্পর্ক নেই। (এগুলো কেবল কিছু নাম যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছ, যেগুলোর স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তারা কেবল ধারণা (ظن) ও নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, অথচ তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের নিকট হিদায়াত এসেছে)।
এই গ্রন্থটি বিষয়টির সপক্ষে ও বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নস (نصوص) এবং এই বিষয়ে শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট দলিলাদি ধারণ করে। কারণ এর লেখকের রয়েছে বিশ্বকোষীয় পাণ্ডিত্য, অগাধ জ্ঞান এবং প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের গ্রন্থাবলির ওপর ব্যাপক পর্যবেক্ষণ। এই কিতাবটি অধ্যয়নের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর জীবন অব্যাহত থাকার দাবির প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং যারা এই দাবি করেন তাদের দাবিগুলো অসার প্রমাণিত হবে।
খিজির সংক্রান্ত সংবাদের ওপর রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলি: যেহেতু খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর বেঁচে থাকা বা না থাকা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে, তাই এই রহস্য উন্মোচনে এটি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফলে তারা এ বিষয়ে অনেক স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন। বিষয়টির উৎস ও রেফারেন্সসমূহ পর্যালোচনার সময় আমি সেগুলোর কয়েকটির নাম পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে: ১. জুজউ ফি আখবারিল খিজির: আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন জাফর বিন আল-মুনাদি আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩৩৬ হিজরি)। ২. জুজউ ফি আখবারিল খিজির: আব্দুল মুগীস বিন জুহাইর আল-হারবি আল-হানবালি আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৫৮৩ হিজরি)। ৩. উজালাতুল মুনতাযির ফি শারহি হালিল খিজির: আব্দুর রহমান বিন আলী বিন
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْجَوْزِيّ (597 هـ) (وَهَذَا فِي نقض مَا كتبه عبد المغيث الْحَرْبِيّ) . 4. مُجَلد فِي موت الْخضر: لَهُ أَيْضا. 5. مُخْتَصره: لَهُ أَيْضا. 6. " إرشاد أهل الْإِخْلَاص لحياة الْخضر وإلياس ": لمُحَمد بن أبي الْخَيْر أَحْمد الْقزْوِينِي (620 هـ) . 7. " رِسَالَة فِي الْخضر هَل مَاتَ أم هُوَ حَيّ ": لعبد الْحَلِيم أَحْمد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي (728 هـ) . 8. " جُزْء فِي وَفَاة الْخضر ": لمُحَمد بن عَليّ بن عبد الْوَاحِد الدكالي الْمَعْرُوف بِابْن النقاش (763 هـ) . 9. " جُزْء فِي حَيَاة الْخضر ": لعبد الله بن أسعد اليافعي (768 هـ) . 10. " الرَّوْض النَّضر فِي أنباء الْخضر ": لأبي الْفضل الْعِرَاقِيّ (806 هـ) . 11. " جُزْء فِي الْخضر ": للْقَاضِي عليم الدّين الْبِسَاطِيّ (842 هـ) . 12. " الزهر النَّضر فِي حَال الْخضر ": لِأَحْمَد بن عَليّ بن حجر الْعَسْقَلَانِي
আল-জাওজি (৫৯৭ হিজরি) (এটি আব্দুল মুগিস আল-হারবির লেখনীর খণ্ডন (نقض) স্বরূপ)। ৪. খিজিরের মৃত্যু বিষয়ক একটি খণ্ড (مجلد): এটিও তাঁর রচিত। ৫. এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر): এটিও তাঁর রচিত। ৬. "ইরশাদু আহলিল ইখলাস লিহায়াতি আল-খিজির ওয়া ইলিয়াস": মুহাম্মদ বিন আবিল খায়র আহমদ আল-কাজউইনি (৬২০ হিজরি)। ৭. "খিজির কি মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি তিনি জীবিত আছেন এ সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা (رسالة)": আব্দুল হালীম আহমদ বিন তাইমিয়া আল-হাররানি (৭২৮ হিজরি)। ৮. "খিজিরের মৃত্যু বিষয়ক একটি জুজ (جزء)": মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আদ-দুক্কালি, যিনি ইবনে আন-নাককাশ (৭৬৩ হিজরি) নামে পরিচিত। ৯. "খিজিরের জীবন বিষয়ক একটি জুজ (جزء)": আব্দুল্লাহ বিন আসআদ আল-ইয়াফেয়ি (৭৬৮ হিজরি)। ১০. "আর-রাওদুন নাদর ফি আনবায়ি আল-খিজির": আবুল ফজল আল-ইরাকি (৮০৬ হিজরি)। ১১. "খিজির প্রসঙ্গে একটি জুজ (جزء)": কাজি আলিমুদ্দিন আল-বিসাতি (৮৪২ হিজরি)। ১২. "আয-যাহরুন নাদর ফি হালি আল-খিজির": আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৫)
(852 هـ) . 13. " القَوْل الْمُنْتَصر على المقالات الفارغة بِدَعْوَى حَيَاة الْخضر ": للحسين بن عبد الرَّحْمَن الأهدل (855 هـ) . 14. " رِسَالَة فِي الْخضر ": لجلال الدّين السُّيُوطِيّ (911 هـ) . 15. " كشف الخدر عَن أَمر الْخضر ": لملا عَليّ الْقَارِي الْهَرَوِيّ (1014 هـ) . 16. " القَوْل المقبول فِي الْخضر، هَل نَبِي أم ملك أم رَسُول ": لِأَحْمَد بن مُحَمَّد بن عَليّ الْمَعْرُوف بالغنيمي (1034 هـ) . 17. " القَوْل الدَّال على حَيَاة الْخضر وَوُجُود الأبدال ": لنوح بن مصطفى الْحَنَفِيّ (1070 هـ) .
هَذَا، وَمَا كتبه ابْن تَيْمِية فِي فَتَاوَاهُ فِي مَوَاضِع مُتَفَرِّقَة، وَابْن الْقيم فِي الْمنَار المنيف، وَابْن كثير فِي الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة، وَابْن حجر فِي الْإِصَابَة، يعْتَبر أَيْضا رسائل مُسْتَقلَّة.
كتَابنَا هَذَا: إِن الْحَافِظ رحمه الله كتب تَرْجَمَة موسعة للخضر عليه السلام فِي " الْإِصَابَة فِي تَمْيِيز الصَّحَابَة " لما اشْترط أَنه يذكر فِيهِ كل من قيل فِيهِ إِنَّه صَحَابِيّ، وَإِن لم يرد فِي خبر ثَابت أَنه من جملَة الصَّحَابَة. ثمَّ أفرده فِي كتاب مُسْتَقل بِشَيْء من الْحَذف وَالزِّيَادَة. وَفِي هَذَا الْكتاب ناقش
(৮৫২ হি.)। ১৩. "আল-কাওলুল মুনতাসির আলাল মাকালাতিল ফারিগাহ বি দাওয়া হায়াতিল খিদির": হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আল-আহদাল (৮৫৫ হি.)-এর রচিত। ১৪. "রিসালাহ ফিল খিদির": জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (৯১১ হি.)-এর রচিত। ১৫. "কাশফুল খিদর আন আমরিল খিদির": মোল্লা আলী আল-ক্বারী আল-হারাবী (১০১৪ হি.)-এর রচিত। ১৬. "আল-কাওলুল মাকবুল ফিল খিদির, হাল নাবিয়্যুন আম মালাকুন আম রাসুল": আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী, যিনি আল-গুনাইমি (১০৩৪ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত। ১৭. "আল-কাওলুদ দাল আলা হায়াতিল খিদির ওয়া উজুদিল আবদাল": নূহ ইবনে মুস্তাফা আল-হানাফী (১০৭০ হি.)-এর রচিত।
এগুলো ছাড়াও, ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর ফাতাওয়ার বিভিন্ন স্থানে যা লিখেছেন, এবং ইবনুল কাইয়্যিম আল-মানার আল-মুনিফ গ্রন্থে, ইবনে কাসীর আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার আল-ইসাবাহ গ্রন্থে যা লিখেছেন, সেগুলোকেও স্বতন্ত্র পুস্তিকা হিসেবে গণ্য করা হয়।
আমাদের এই গ্রন্থটি সম্পর্কে: হাফিজ (الحافظ) রহিমাহুল্লাহ খিদির আলাইহিস সালাম-এর একটি বিস্তারিত জীবনী (ترجمة) 'আল-ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ' গ্রন্থে লিখেছেন, যেহেতু তিনি সেখানে এই শর্তারোপ করেছিলেন যে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তিনি সেখানে উল্লেখ করবেন যাদের সম্পর্কে সাহাবী (صحابي) হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যদিও কোনো প্রমাণিত (ثابت) সংবাদ (خبر) দ্বারা তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি না আসে। এরপর তিনি পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে একে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে রূপ দেন। আর এই গ্রন্থে তিনি আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْمُؤلف رحمه الله مَسْأَلَة مَوته وبقائه حَيا إِلَى زمن النَّبِي - خلال دراسة الرِّوَايَات الْوَارِدَة فِي ذَلِك مناقشة طيبَة، باستقصاء فريد وقراءات مستوعبة، يطمئن إِلَيْهَا الْقلب. وَذكر أَخْبَار كثير مِمَّن ينتمي إِلَى الصّلاح بِأَنَّهُم يرونه وَأَنه حَيّ {} إِلَى أَن قَالَ: " وَالَّذِي تميل إِلَيْهِ النَّفس من حَيْثُ الْأَدِلَّة القوية خلاف مَا يَعْتَقِدهُ الْعَوام من اسْتِمْرَار حَيَاته
… "
تَحْقِيق اسْم هَذَا الْكتاب: لم يذكر الْحَافِظ رحمه الله اسْم هَذَا الْكتاب فِي مقدمته لَهُ، وَاكْتفى بقوله: " وَقد أفردته الْآن ليقف كل سَائل عَنهُ، على كل مَا كنت قرأته وسمعته وَجَعَلته أبويا
… . "
وَقد طبعه الْعَلامَة مُحَمَّد مُنِير الدِّمَشْقِي رحمه الله ضمن " مَجْمُوعَة الرسائل المنيرية " بعنوان " الزهر النَّضر فِي نبأ الْخضر. "
قَالَ السخاوي (تلميذ الْمُؤلف) - وَهُوَ يذكر المؤلفات فِي أَخْبَار الْخضر _: " وَأحسن مُصَنف فِي ذَلِك كَلَام صَاحب التَّرْجَمَة (يَعْنِي ابْن حجر) الَّذِي أفرده من كِتَابه (الْإِصَابَة) وَسَماهُ (الزهر النَّضر فِي حَال الْخضر) .
وَقد أثبت مَا ذكره السخاوي عنوانا للْكتاب، لما لَهُ صلَة علمية قَوِيَّة بشخصية شَيْخه الْمُؤلف، ودور كَبِير فِي جمع شتات تراثه بعد وَفَاته. وَقد لَازمه أَشد مُلَازمَة، وَحمل عَنهُ مالم يُشَارِكهُ فِيهِ غَيره. وَالله أعلم.
লেখক রহিমাহুল্লাহ তার মৃত্যু এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ পর্যন্ত জীবিত থাকার বিষয়টি নিয়ে এই বিষয়ে বর্ণিত বর্ণনা (الروايات) সমূহের ওপর একটি চমৎকার আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন; যা এক অনন্য অনুসন্ধান ও ব্যাপক অধ্যয়নের ফসল, যা হৃদয়কে আশ্বস্ত করে। তিনি পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত অনেকের সংবাদ (أخبار) উল্লেখ করেছেন যে তারা তাকে দেখেছেন এবং তিনি জীবিত আছেন {}। পরিশেষে তিনি বলেছেন: "শক্তিশালী প্রমাণাদি (الأدلة القوية)-র দিক থেকে মন যেটির দিকে ঝুঁকে পড়ে তা সাধারণ মানুষের এই বিশ্বাসের বিপরীত যে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে জীবিত আছেন
… "
এই কিতাবের নামের বিশ্লেষণ (تحقيق): হাফিজ (الحافظ) রহিমাহুল্লাহ তার ভূমিকায় এই কিতাবটির নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু এই কথাটি বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন: "আমি এখন এটিকে পৃথকভাবে সংকলন করেছি যাতে প্রত্যেক জিজ্ঞাসু ব্যক্তি আমি যা কিছু পড়েছি ও শুনেছি সে সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং আমি এটিকে অধ্যায়ভিত্তিক (أبويا) বিন্যাস করেছি
… . "
আল্লামা মুহাম্মদ মুনীর আদ-দিমাশকী রহিমাহুল্লাহ এটি "মাজমুয়াতুর রাসাইল আল-মুনীরিয়্যাহ"-এর অন্তর্ভুক্ত করে "আয-যাহরুন নাদির ফী নাবায়িল খিদর" শিরোনামে ছাপিয়েছেন।
সাখাবী (লেখকের ছাত্র)—খিদর সম্পর্কিত সংবাদ (أخبار) বিষয়ক গ্রন্থগুলো আলোচনার সময়—বলেছেন: "এই বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম সংকলন (مصنف) হলো এই জীবনীকার (অর্থাৎ ইবনে হাজার)-এর বক্তব্য, যা তিনি তার কিতাব আল-ইসাবাহ থেকে পৃথক করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন (আয-যাহরুন নাদির ফী হালিল খিদর)।
সাখাবী যা উল্লেখ করেছেন সেটিকেই কিতাবের শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ তার শায়খ লেখকের ব্যক্তিত্বের সাথে তার ইলমি সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং লেখকের মৃত্যুর পর তার ইলমি ঐতিহ্য সংকলনে তার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তিনি তার সাথে নিবিড়ভাবে অবস্থান করেছেন এবং তার কাছ থেকে এমন অনেক কিছু অর্জন করেছেন যা অন্য কেউ অর্জন করতে পারেনি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৭)
قصتي مَعَ هَذَا الْكتاب: نظم قسم النشاط الثقافي بإدارة الإشراف والتوجيه الاجتماعي بالجامعة الإسلامية بِالْمَدِينَةِ الطّيبَة، مسابقة حيفيية عَامَّة لعام (1398 - 1399 هـ) وأعلن الْقسم الْمَذْكُور الْمُسَابقَة - وَكُنَّا نمر بِزَمن اختبار النَّقْل من السّنة الثَّانِيَة إِلَى الثَّالِثَة بكلية الحَدِيث الشريف والدراسات الإسلامية - وَكَانَ من بَين المواضيع الْكَثِيرَة المطروحة لَهَا، مَوْضُوع " الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي الْخضر وحياته " (جمع ودراسة وَتَخْرِيج) .
وَقد أعجبني هَذَا الْمَوْضُوع، وجمعت - بِفضل الله وَمِنْه - مَا تيَسّر لي جمعه من الْأَحَادِيث وَالْأَخْبَار والحكايات، فِي بحث مُسْتَقل بِنَحْوِ تسعين صحيفَة (فل اسكاب) وقدمته إِلَى الْقسم، وفاز بالمرتبة الأولى، بتصحيح واختبار أستاذنا الدكتور / سعدي صَالح الْهَاشِمِي الْعِرَاقِيّ / أستاذ مَادَّة التَّخْرِيج ودراسة الْأَسَانِيد بكلية الحَدِيث، وَللَّه الْحَمد.
وَكَانَ أكبر اعتمادي فِي إعداد هَذَا الْبَحْث على هَذَا الْكتاب، وَكم كنت أَتَمَنَّى مُنْذُ ذَلِك الْوَقْت أَن أحقق هَذَا الْكتاب، وَلَكِن تَأَخّر الْعَمَل إِلَى مَا شَاءَ الله، وَكَانَت أمنيتي لتحقيقه تراود نَفسِي حينا لآخر، وَهَا أَنا قد أنجزت ذَلِك الْآن، بِفضل من الله وتوفيقه.
عَمَلي فِي هَذَا الْكتاب: 1. كتبت مُقَدّمَة التَّحْقِيق: (أ - تَرْجَمَة الْمُؤلف ب - خُلَاصَة المباحث فِي أَخْبَار الْخضر) 2. عزوت الْآيَات القرآنية إِلَى موَاضعهَا من سورها. 3. خرجت الْأَحَادِيث والاثار وَالْأَخْبَار والحكايات، وعزوتها إِلَى مصادرها الَّتِي نقل الْحَافِظ عَنْهَا، مَا دمات تَحت متناول يَدي، وَإِلَّا فعزوتها إِلَى مراجع ثانوية، وَذَلِكَ لضعف حيلتي وَقلة اطلاعي. 4. قارنت النُّصُوص، وصححت الأخطاء الْوَارِدَة فِيهَا، وَإِن زِدْت عَلَيْهَا شَيْئا فَهُوَ مَا بَين المعكوفين [] . 5. رقمت الفقرات لتسهيل الرُّجُوع إِلَى الْمَطْلُوب. 6. وضعت ثَمَانِيَة فهارس متنوعة فِي آخر الْكتاب.
شكر وَتَقْدِير: أشكر الله عز وجل على مَا أنعمني من الْوَقْت وَالصِّحَّة حَتَّى تمكنت من إِكْمَال هَذَا الْعَمَل المتواضع. ثمَّ أشكر الْإِخْوَة الأفاضل الَّذين راجعوا الْكتاب، وشجعوني على إِخْرَاجه فِي أسْرع وَقت مُمكن.
وَلَا يفوتني أَن أسجل شكري لفضيلة أستاذنا الشَّيْخ عبد الحميد عبد الْجَبَّار الرحماني - حفظه الله وتولاه - الرئيس الْعَام لمركز التوعية الإسلامية، والأمين الْعَام لمعهد التَّعْلِيم الإسلامي بدهلي الجديدة - الَّذِي قَامَ بنشر هَذَا الْكتاب، وحاول أَن يخرج فِي حلَّة قشيبة فجزاه الله خير مَا يجازى بِهِ عباده الصَّالِحين.
وأدعوا الله عز وجل أَن يوفقني لخدمة كِتَابه، وَسنة رَسُوله، وَيجْعَل عَمَلي هَذَا خَالِصا لوجهه الْكَرِيم، يَوْم لَا ينفع مَال وَلَا بنُون. وَهُوَ ولي ذَلِك والقادر عَلَيْهِ وبنعمته تتمّ الصَّالِحَات.
وَصلى الله تَعَالَى على نَبينَا وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.
এই বইটির সাথে আমার গল্প: মদিনা তাইয়্যেবার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনা প্রশাসনের অধীনে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিভাগ ১৩৯৮-১৩৯৯ হিজরি শিক্ষাবর্ষের জন্য একটি সাধারণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। উক্ত বিভাগ যখন এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়—তখন আমরা হাদিস শরিফ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার পরীক্ষার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম—আর সেখানে প্রস্তাবিত বহু বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় ছিল: "খিজির (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কিত হাদিসসমূহ এবং তাঁর জীবন" (সংগ্রহ, পর্যালোচনা ও হাদিসের উৎস যাচাই (تخريج))।
এই বিষয়টি আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল এবং আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে হাদিস, বর্ণনা ও ঘটনাবলির মধ্যে যা সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, তা প্রায় নব্বই পৃষ্ঠার (ফুলস্কেপ) একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় সংকলন করেছি এবং বিভাগে জমা দিয়েছি। হাদিস অনুষদের হাদিসের উৎস যাচাই (تخريج) ও সনদ পর্যালোচনা (دراسة الأسانيد) বিষয়ের অধ্যাপক আমাদের উস্তাদ ডক্টর সা’দী সালেহ আল-হাশিমি আল-ইরাকি-এর সংশোধন ও পরীক্ষণের মাধ্যমে এটি প্রথম স্থান অর্জন করে, আলহামদুলিল্লাহ।
এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে বড় নির্ভরতা ছিল এই বইটির ওপর। তখন থেকেই আমার কতই না আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আমি এই বইটির সম্পাদনা ও পাঠ-বিশুদ্ধিকরণ (تحقيق) করব! কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় এই কাজটি বিলম্বিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করার আকাঙ্ক্ষা মাঝে মাঝেই আমার মনে উদিত হতো, আর এখন আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে আমি তা সম্পন্ন করতে পেরেছি।
এই বইটিতে আমার কাজ: ১. আমি সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকা লিখেছি: (ক - লেখকের জীবনী (ترجمة), খ - খিজির সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহের সারসংক্ষেপ)। ২. কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের স্ব-স্ব সূরার নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ধৃত করেছি। ৩. হাদিস, সাহাবিদের বর্ণনা (آثار), ঐতিহাসিক তথ্য ও ঘটনাবলির উৎস যাচাই (تخريج) করেছি এবং হাফেজ (حافظ) যে মূল উৎসগুলো থেকে এগুলো উদ্ধৃত করেছেন, যতক্ষণ সেগুলো আমার হাতের নাগালে ছিল সেগুলোর দিকেই সম্বন্ধ করেছি; নতুবা আমার সীমাবদ্ধতা ও স্বল্প পড়াশোনার কারণে আমি গৌণ উৎসসমূহের উদ্ধৃতি দিয়েছি। ৪. মূল পাঠের তুলনা করেছি এবং সেখানে বিদ্যমান ভুলগুলো সংশোধন করেছি। যদি আমি কোনো কিছু যোগ করি, তবে তা তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে রেখেছি। ৫. কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য অনুচ্ছেদগুলো নম্বরযুক্ত করেছি। ৬. বইয়ের শেষে আটটি ভিন্ন ভিন্ন সূচিপত্র যুক্ত করেছি।
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি: আমি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাকে সময় ও স্বাস্থ্য দান করেছেন, ফলে আমি এই বিনম্র কাজটি সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এরপর আমি সেই সকল সম্মানিত ভাইদের ধন্যবাদ জানাই যারা বইটি পর্যালোচনা করেছেন এবং আমাকে দ্রুত এটি প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।
আমি আমাদের উস্তাদ শায়খ আব্দুল হামিদ আব্দুল জব্বার আল-রাহমানি—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা ও তত্ত্বাবধান করুন—যিনি 'মারকাজুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়াহ'-এর সাধারণ সভাপতি এবং নতুন দিল্লির 'মা'হাদুত তালিম আল-ইসলামি'-এর সাধারণ সম্পাদক, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না; যিনি এই বইটি প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে একটি চমৎকার অবয়বে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে সেই প্রতিদান দান করুন যা তিনি তাঁর নেক বান্দাদের প্রদান করে থাকেন।
আমি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর খিদমত করার তাওফিক দান করেন এবং আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কবুল করেন, যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। তিনি এই কাজের অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তাঁরই অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ৯)
تَرْجَمَة الْمُؤلفنسبه: هُوَ شهَاب الدّين، أَبُو الْفضل أَحْمد بن عَليّ بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عَليّ بن مَحْمُود بن حجر الْكِنَانِي، الْعَسْقَلَانِي الشَّافِعِي، الْمصْرِيّ المولد والمنشأ والوفاة، القاهري.
وَقَالَ السخاوي: هَذَا هُوَ الْمُعْتَمد فِي نسبه.
مولده: ولد فِي شعْبَان سنة ثَلَاث وَسبعين وَسَبْعمائة، على شاطئ النّيل بِمصْر الْقَدِيمَة. وَاخْتلف مترجموه فِي تَحْدِيد تأريخ وِلَادَته مَا بَين (الثَّانِي عشر، وَالثَّالِث عشر، وَالثَّانِي وَعشْرين، وَالثَّانِي من الشَّهْر الْمَذْكُور) .
نشأته: نَشأ ابْن حجر يَتِيما، كَمَا عبر هُوَ عَن نَفسه، إِذْ مَاتَ أَبوهُ فِي رَجَب سنة سبع وَسبعين وَسَبْعمائة، ذَلِك وَهُوَ وَمَاتَتْ أمه قبل طِفْل صَغِير.
وَقد أوصى أَبوهُ قبل وَفَاته بِاثْنَيْنِ من الَّذين كَانَت بَينه وَبينهمْ مَوَدَّة: (أَحدهمَا) : زكي الدّين أَبُو بكر بن نور الدّين عَليّ الخروبي (787 هـ) ، وَلم يال جهدا فِي رعايته والعناية بتعليمه، وَكَانَ يستصحبه مَعَه عِنْد مجاورته فِي مَكَّة.
লেখকের জীবনীবংশপরিচয়: তিনি হলেন শিহাবুদ্দীন, আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন হাজার আল-কিনানী, আল-আসকালানী আশ-শাফিঈ। তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যু মিসরে এবং তিনি কায়রোর অধিবাসী ছিলেন।
ইমাম সাখাভী বলেন: এটিই তাঁর বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (المعتمد) তথ্য।
জন্ম: তিনি ৭৭৩ হিজরি সালের শাবান মাসে প্রাচীন মিসরের নীল নদের তীরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর জন্মতারিখ নির্ধারণে মতভেদ করেছেন, যা উক্ত মাসের ২, ১২, ১৩ অথবা ২২ তারিখের মধ্যে আবর্তিত।
বেড়ে ওঠা: ইবনে হাজার একজন এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন, যেমনটি তিনি নিজেও ব্যক্ত করেছেন। কারণ তাঁর পিতা ৭৭৭ হিজরি সালের রজব মাসে ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি ছিলেন এক স্বল্পবয়স্ক শিশু। আর তাঁর মা ইন্তেকাল করেছিলেন তাঁর পিতারও আগে।
তাঁর পিতা মৃত্যুর আগে তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে তাঁর ব্যাপারে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। তাঁদের একজন হলেন: জাকিউদ্দীন আবু বকর বিন নূরুদ্দীন আলী আল-খাররুবী (৭৮৭ হি.)। তিনি ইবনে হাজারের লালন-পালন এবং শিক্ষার প্রতি গভীর যত্ন নিতে কোনো ত্রুটি করেননি এবং তিনি যখন মক্কায় অবস্থান (مجاورة) করতেন, তখন ইবনে হাজারকেও তাঁর সাথে রাখতেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১১)
(وَالثَّانِي) : شمس الدّين مُحَمَّد بن الْقطَّان الْمصْرِيّ (813 هـ) ، لَازمه الحافط بعد وَفَاة وَصِيّه الأول زكي الدّين، وَحضر دروسه فِي الْفِقْه والعربية والحساب.
دخل الْكتاب وَهُوَ ابْن خمس سِنِين، وأكمل حفظ الْقُرْآن وَهُوَ فِي التَّاسِعَة من عمره، وَصلى بِالنَّاسِ التَّرَاوِيح فِي الْحرم الْمَكِّيّ سنة 785 هـ، وَكَانَ حِينَئِذٍ مَعَ وَصِيّه الزكي الخروبي فِي مَكَّة المكرمة.
وَيُمكن تصور بَوَادِر نبوغه وشجاعته، فبقدر مَا كَانَت مفخرة لَهُ كصبي يتَقَدَّم إِمَامًا فَإِنَّهَا كَانَت لَحْظَة حاسمة وحرجة اجتازها بثبات وَحسن أَدَاء.
وَصلى بعد ذَلِك بالقدس أَيْضا.
مهمته العلمية: بلغ بِهِ الْحِرْص على تَحْصِيل الْعلم مبلغا جعله يسْتَأْجر أَحْيَانًا بعض الْكتب، وَفِي سنة 790 هـ أكمل السَّابِعَة عشرَة من عمره، حفظ فِيهَا الْقُرْآن، وَكتب من مختصرات الْعُلُوم وَسمع صَحِيح البُخَارِيّ على بعض الْمَشَايِخ، كَمَا سمع من عُلَمَاء عصره البارزين، واهتم بالأدب والتاريخ.
وَهَذِه حصيلة ثقافية لَا يستهان بهَا بِالنِّسْبَةِ لعمره.
وَلما بلغ فِي التَّاسِعَة عشرَة من عمره، فاق أقرانه فِي فنون الْأَدَب، وَقَالَ الشّعْر الرَّائِق والنثر الْفَائِق، ونظم المدائح النَّبَوِيَّة والمقاطيع.
(দ্বিতীয় ব্যক্তি): শামস উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল কাত্তান আল-মিসরি (৮১৩ হিজরি); হাফিজ (الحافظ) তাঁর প্রথম অভিভাবক জাকি উদ্দিনের ইন্তেকালের পর তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ, আরবি ভাষা ও গণিত শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন।
তিনি পাঁচ বছর বয়সে মক্তবে প্রবেশ করেন এবং নয় বছর বয়সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ৭৮৫ হিজরিতে তিনি মক্কার হারামে লোকদের নিয়ে তারাবিহ নামাজ পড়ান; ঐ সময় তিনি মক্কা মুকাররমায় তাঁর অভিভাবক জাকি আল-খারুবির সাথে ছিলেন।
তাঁর প্রতিভা ও সাহসিকতার প্রাথমিক লক্ষণসমূহ সহজেই অনুমেয়; একজন কিশোর হিসেবে ইমামতির জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়া যেমন তাঁর জন্য গৌরবের বিষয় ছিল, তেমনি এটি ছিল একটি চূড়ান্ত ও সংবেদনশীল মুহূর্ত যা তিনি দৃঢ়তা ও উত্তম পারদর্শিতার সাথে অতিক্রম করেন।
এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসেও নামাজ পড়ান।
তাঁর ইলমি অন্বেষণ: ইলম অর্জনের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ তাঁকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে, কখনো কখনো তিনি কিছু কিতাব ভাড়ায় সংগ্রহ করতেন। ৭৯০ হিজরিতে তাঁর বয়স যখন সতেরো বছর পূর্ণ হয়, তখন তিনি কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন, বিভিন্ন শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার রচনা করেছিলেন এবং প্রখ্যাত মাশায়েখদের নিকট সাহিহ বুখারি শ্রবণ (سمع) করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর যুগের বিশিষ্ট আলিমদের থেকেও শ্রবণ (سمع) করেছিলেন এবং সাহিত্য ও ইতিহাসের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন।
তাঁর বয়সের তুলনায় এটি ছিল এক অনবদ্য তামাদ্দুনিক অর্জন।
যখন তিনি উনিশ বছরে পদার্পণ করেন, তখন তিনি সাহিত্যশাস্ত্রে তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি চমৎকার কবিতা ও উচ্চাঙ্গের গদ্য রচনা করেন এবং নবিজির প্রশংসামূলক কবিতা ও বিবিধ কাব্যখণ্ড রচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১২)
نقطة تحول فِي حَيَاته: لما بلغ الْحَافِظ الْغَايَة القصوى فِي الْفُنُون وَالْأَدب، شَاءَ الله عز وجل أَن يصرفهُ عَنْهَا، وحبب إِلَيْهِ علم الحَدِيث النَّبَوِيّ، فَأقبل عَلَيْهِ سنة 793 هـ، غير أَنه لم يكثر إِلَّا من سنة - 796 هـ، وعلت لَهُ الشُّهْرَة واشتغل بِهِ حَتَّى صَار حَافظ عصره وَشَيخ الْإِسْلَام.
رحلاته فِي طلب الْعلم: كَانَت الرحلة فِي طلب الْعلم، فِي كل عصر من التَّارِيخ الإسلامي، سمة بارزة، ومظهرا مهما لتلقي الْعُلُوم على أَيدي الشُّيُوخ الَّذين كَانُوا فِي أنحاء بعيدَة وبلاد نائية من بلد الطَّالِب، وَكَانَ يلجأ إِلَى الرحلة إِلَيْهَا بعد استكمال ثقافته الْمَحَلِّيَّة.
وَمَا كَانَ الْحَافِظ ان يقتنع بثقافة بَلَده، بل رَحل إِلَى بِلَاد عديدة خَارج مصر. من أهمها: الْيمن، والحجاز وَالشَّام. وَأخذ علم الحَدِيث عَن مشاهير عُلَمَاء هَذِه الْبِلَاد.
شُيُوخه المعروفون: بلغ عدد شُيُوخه بِالسَّمَاعِ وبالإجازة وبالإفادة على مَا بَين بِخَطِّهِ، نَحْو أَرْبَعمِائَة وَخمسين نفسا. وَمن أَهَمَّهُمْ فِي الحَدِيث وَالْفِقْه:
عفيف الدّين عبد الله بن مُحَمَّد النَّيْسَابُورِي الْمَعْرُوف بالنشاوري (790 هـ) مُسْند الْحجاز، هُوَ أول شيخ سمع عَلَيْهِ الحَدِيث الْمسند فِيمَا اتَّصل بِعِلْمِهِ، سمع عَلَيْهِ شَيْئا من صَحِيح البُخَارِيّ سنة 785 هـ.
জীবনের মোড় পরিবর্তন: যখন হাফিজ (حافظ) সাহিত্য ও শিল্পকলায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেন, তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা চাইলেন তাকে তা থেকে বিমুখ করতে এবং তার অন্তরে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শাস্ত্রের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। ফলে তিনি ৭৯৩ হিজরি সাল থেকে এর প্রতি মনোনিবেশ করেন, তবে ৭৯৬ হিজরি সালের পর থেকেই মূলত তিনি ব্যাপকভাবে এই কাজে ব্যাপৃত হন। এরপর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি এই শাস্ত্র নিয়েই মগ্ন থাকেন, এমনকি তিনি নিজ সময়ের হাফিজ (حافظ) এবং শাইখুল ইসলামে পরিণত হন।
ইলম অন্বেষণে তার সফরসমূহ: ইসলামি ইতিহাসের প্রতিটি যুগে ইলম অন্বেষণে সফর করা ছিল একটি বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং শিক্ষার্থীর নিজ দেশ থেকে দূর-দূরান্তের জনপদে অবস্থানরত শাইখদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সাধারণত স্থানীয় জ্ঞান অর্জন সমাপ্ত করার পর তারা এই সফরের পথ বেছে নিতেন।
হাফিজ (حافظ) কেবল নিজ দেশের জ্ঞানার্জনে তৃপ্ত ছিলেন না, বরং তিনি মিসরের বাইরেও অনেক দেশ সফর করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো: ইয়ামেন, হিজাজ ও শাম। তিনি এসব দেশের প্রসিদ্ধ আলেমদের নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষা গ্রহণ করেন।
তার প্রখ্যাত শাইখগণ: সরাসরি শ্রবণ (سماع), অনুমতি (إجازة) এবং জ্ঞান অর্জন (إفادة) এর মাধ্যমে তার শাইখদের সংখ্যা—যেমনটি তিনি নিজ হাতে লিখেছেন—প্রায় সাড়ে চারশ জন। হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
আফিফ উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আন-নাইসাবুরি, যিনি আন-নাশাউরি (৭৯০ হি.) নামে পরিচিত; তিনি ছিলেন হিজাজের মুসনিদ (مسند)। তিনি হলেন প্রথম শাইখ যার নিকট তিনি তার জানা মতে সনদযুক্ত (مسند) হাদিস শ্রবণ করেছেন। ৭৮৫ হিজরি সালে তিনি তার নিকট সহিহ বুখারীর কিছু অংশ শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مُحَمَّد بن عبد الله ظهيرة، جمال الدّين الْمَكِّيّ (817 هـ) ، قَرَأَ عَلَيْهِ بحثا فِي عُلُوم الْأَحْكَام، وَهُوَ من عُلَمَاء الْحجاز.
نجم الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحِيم بن رزين بن غَالب الْمسند: سمع مِنْهُ صَحِيح البُخَارِيّ بِقِرَاءَة الْجمال الْمَذْكُور سنة 676 هـ. وَقَالَ الْحَافِظ: وَكَانَ أول من سَمِعت بقرَاءَته الحَدِيث وَذَلِكَ سنة 786 هـ بِمصْر.
عَليّ بن أبي بكر، أَبُو الْحسن الهيثمي (735 - 807 هـ) : وَكَانَ يود الْحَافِظ كثيرا، وَشهد لَهُ بالتقدم فِي الْفَنّ، وَقَرَأَ عَلَيْهِ قرينا لشيخه الْعِرَاقِيّ، ومنفردا.
عمر بن عَليّ بن أَحْمد الملقن (723 - 804 هـ) : كَانَ أَكثر أهل عصره تصنيفا.
أَبُو حَفْص عمر بن رسْلَان البُلْقِينِيّ، سراج الدّين (724 - 805 هـ) : وَهُوَ أستاذه فِي الْفِقْه ولازمه مُدَّة، وَهُوَ أول من أذن لَهُ بالتدريس والإفتاء، وَتَبعهُ غَيره، وَشهد لَهُ بِالْحِفْظِ فِي الْمجْلس الْعَام.
أَبُو الْفضل عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ (725 - 806 هـ) : الْحَافِظ الْكَبِير: لَازمه الْحَافِظ ابْن حجر عشر سنوات، وَتخرج بِهِ، وَهُوَ أول من أذن لَهُ بالتدريس فِي عُلُوم المصطلح سنة 797 هـ، ولقبه بِالْحَافِظِ، وعظمه ونوه بِذكرِهِ، وَشهد لَهُ بِأَنَّهُ أعلم أَصْحَابه بِالْحَدِيثِ.
أثنى الْحَافِظ ابْن حجر على هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة الْأَوَاخِر بِصفة خَاصَّة، وَقَالَ: إِنَّهُم أعجوبة هَذَا الْعَصْر على رَأس الْقرن (أَي التَّاسِع الهجري) .
الأول: (ابْن الملقن) فِي كَثْرَة التصانيف؛ وَالثَّانِي: (البُلْقِينِيّ) فِي التَّوَسُّع فِي معرفَة مَذْهَب الشَّافِعِي؛ وَالثَّالِث: (الْعِرَاقِيّ) فِي معرفَة الحَدِيث.
وَقدر أَن كل وَاحِد من الثَّلَاثَة ولد قبل الاخر بِسنة، وَمَات قبله بِسنة، كَمَا هُوَ ظَاهر من تأريخ مواليدهم ووفياتهم.
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ জুহাইরাহ, জামালুদ্দীন মাক্কী (৮১৭ হি.), তাঁর নিকট আহকাম সংক্রান্ত ইলমের ওপর একটি গবেষণামূলক পাঠ গ্রহণ করা হয় এবং তিনি হেজাজের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
নাজমুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহীম ইবনে রাযীন ইবনে গালিব সনদ বর্ণনাকারী (المسند): তিনি ৬৭৬ হিজরিতে উক্ত জামালুদ্দীনের পাঠের মাধ্যমে সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছিলেন। হাফিজ (الحافظ) বলেন: "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর পাঠে আমি হাদিস শ্রবণ করেছি এবং তা ছিল ৭৮৬ হিজরিতে মিশরে।"
আলী ইবনে আবু বকর, আবুল হাসান আল-হাইসামি (৭৩৫ - ৮০৭ হি.): তিনি হাফিজকে (الحافظ) অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং এ বিদ্যায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতেন। তিনি তাঁর নিকট তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকির সাথে সহপাঠী হিসেবে এবং এককভাবেও পাঠ গ্রহণ করেছেন।
উমর ইবনে আলী ইবনে আহমাদ আল-মুলাক্কিন (৭২৩ - ৮০৪ হি.): তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বাধিক গ্রন্থ রচয়িতা ছিলেন।
আবু হাফস উমর ইবনে রুসলান আল-বুলকিনী, সিরাজুদ্দীন (৭২৪ - ৮০৫ হি.): তিনি ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদ ছিলেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে শিক্ষাদান ও ফতোয়া প্রদানের অনুমতি প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে অন্যরাও তাঁর অনুসরণ করেন। তিনি সাধারণ মজলিসে তাঁর মুখস্থশক্তির (الحفظ) সাক্ষ্য দেন।
আবুল ফজল আবদুর রহীম ইবনে আল-হুসাইন আল-ইরাকি (৭২৫ - ৮০৬ হি.): মহান হাফিজ (الحافظ): হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে ৭৯৭ হিজরিতে পরিভাষা বিদ্যায় (المصطلح) শিক্ষাদানের অনুমতি প্রদান করেন। তিনি তাঁকে 'হাফিজ (الحافظ)' উপাধিতে ভূষিত করেন, তাঁকে মর্যাদা প্রদান করেন ও তাঁর সুখ্যাতি প্রচার করেন এবং সাক্ষ্য দেন যে তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার এই শেষোক্ত তিনজনের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: তাঁরা হিজরি নবম শতাব্দীর প্রারম্ভে এ যুগের বিস্ময়।
প্রথম জন: (ইবনুল মুলাক্কিন) গ্রন্থ রচনার প্রাচুর্যের ক্ষেত্রে; দ্বিতীয় জন: (আল-বুলকিনী) শাফেয়ী মাযহাবের গভীর জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে; এবং তৃতীয় জন: (আল-ইরাকি) হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানের ক্ষেত্রে।
এটি একটি বিশেষ বিষয় যে, তাঁদের তিনজনের প্রত্যেকেই অপরজনের এক বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন এবং এক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন, যা তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ থেকেই স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والهيثمي أَيْضا مَاتَ بعد الْأَخير (أَي الْعِرَاقِيّ) بِسنة، وَإِن كَانَت وِلَادَته قبله بِعشر سنوات.
وَلَا شكّ أَن الْحَافِظ - كَمَا قَالَ البقاعي - تقدم على مشايخه فِي حياتهم، ووصفوه بِالْحِفْظِ والاتقان والنقد والعرفان. مَعَ ذَلِك كَانَ احترام الْحَافِظ وَتَقْدِيره لشيوخه أعظم وَأجل.
تلامذته: استقطبت دروسه الْعلمَاء والتلاميذ سَوَاء بِسَوَاء، وَأخذ النَّاس عَنهُ طبقَة بعد طبقَة، وَألْحق الْأَبْنَاء بِالْآبَاءِ، والأحفاد، بل أَبْنَاءَهُم بالأجداد، وأكب النَّاس على التَّرَدُّد إِلَيْهِ حَتَّى اصبحوا لَا يُحصونَ كَثْرَة، وانتشروا فِي أرجاء الأقطار فَكَانَ رُؤَسَاء الْعلمَاء من كل مَذْهَب وَفِي كل قطر من تلاميذه.
سرد ابْن خَلِيل الدِّمَشْقِي ثَلَاثمِائَة وَخمسين نفسا من تلاميذه والآخذين عَنهُ وأوصل عَددهمْ السخاوي إِلَى خَمْسمِائَة شخص، وَكِلَاهُمَا على حُرُوف المعجم.
وَمن أبرز هَؤُلَاءِ التلاميذ:
إِبْرَاهِيم بن عمر بن حسن البقاعي (885 هـ) صَاحب " عنوان الزَّمَان "
زَكَرِيَّا بن مُحَمَّد الْأنْصَارِيّ (926 هـ) صَاحب " شرح ألفية الْعِرَاقِيّ "
হাইসামিও শেষোক্তজনের (অর্থাৎ ইরাকি) এক বছর পরে মৃত্যুবরণ করেন, যদিও তাঁর জন্ম তাঁর দশ বছর পূর্বে ছিল।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে হাফিজ (الحافظ) — যেমনটি বিকায়ি বলেছেন — তাঁর শিক্ষকদের জীবদ্দশাতেই তাঁদের অগ্রবর্তী হয়েছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে মুখস্থশক্তি (الحفظ), নিখুঁত পারদর্শিতা (الإتقان), সমালোচনা (النقد) ও গভীর জ্ঞানের (العرفان) গুণে বিশেষিত করেছিলেন। তা সত্ত্বেও নিজ শিক্ষকদের প্রতি হাফিজের (الحافظ) শ্রদ্ধা ও সম্মান ছিল সুমহান ও অতুলনীয়।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ: তাঁর পাঠদান আলেম ও শিক্ষার্থীদের সমানভাবে আকৃষ্ট করেছিল। মানুষ তাঁর নিকট থেকে প্রজন্ম বা স্তর (طبقة) ধরে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তিনি সন্তানদের তাদের পিতাদের সাথে, নাতিদের সাথে, এমনকি সন্তানদের তাদের দাদাদের সাথে (একই সনদে) যুক্ত করেছেন। মানুষ তাঁর কাছে যাতায়াতের ব্যাপারে এতোটাই ঝুঁকে পড়েছিল যে পরিশেষে তাঁদের সংখ্যা গণনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, ফলে প্রতিটি মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং প্রতিটি ভূখণ্ডের প্রধান পণ্ডিতগণ তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি তাঁর ছাত্রদের এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ৩৫০ জনের নাম উল্লেখ করেছেন, আর সাখাভি তাঁদের সংখ্যা ৫০০ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন; তাঁরা উভয়ই বর্ণানুক্রমিকভাবে (حروف المعجم) তাঁদের নাম সাজিয়েছেন।
এই ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে হাসান আল-বিকায়ি (৮৮৫ হিজরি), 'উনওয়ানুয যামান'-এর রচয়িতা।
জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি (৯২৬ হিজরি), 'শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি'-এর রচয়িতা।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابْن تغري بردي (874 هـ) صَاحب " النُّجُوم الزاهرة "
ابْن فَهد الْمَكِّيّ (871 هـ) صَاحب " لحظ الألحاظ "
وَابْن قَاضِي شُهْبَة الدِّمَشْقِي (874 هـ) صَاحب " الطَّبَقَات "
اسماعيل بن مُحَمَّد بن أبي بكر المقريء اليمني (837 هـ) صَاحب " عنوان الشّرف الوافي "
يُوسُف بن شاهين أَبُو المحاسن الكركي (899 هـ) سبط ابْن حجر صَاحب " رونق الْأَلْفَاظ "
مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن السخاوي (902 هـ) صَاحب " الضَّوْء اللامع " والمصنفات الْكَثِيرَة.
وَقد لَازمه السخاوي أَشد مُلَازمَة، وَحمل عَنهُ مالم يُشَارِكهُ فِيهِ غَيره، وَتُوفِّي بعد وَفَاة شَيْخه، وَجمع شتات تراثه، وَكتب فِي تَرْجَمَة شَيْخه مجلدا ضخما مُسْتقِلّا باسم " الْجَوَاهِر والدرر فِي تَرْجَمَة شيخ الْإِسْلَام ابْن حجر "
تصانيفه: بَدَأَ الْحَافِظ ابْن حجر رحمه الله التصنيف فِي سنة 796 هـ، وَاسْتمرّ حَتَّى قبيل وَفَاته. وَهُوَ يعْتَبر من المكثرين فِي هَذَا الْبَاب حَتَّى صَار من الصعب حصر جَمِيع آثاره.
وَلذَلِك اكْتفى بعض مترجميه بقَوْلهمْ عَن مصنفاته أَنَّهَا تزيد على مائَة وَخمسين مصنفا.
وَقَالَ السخاوي: يزِيد على (270) مصنفا.
ইবনে তাগরি বারদি (৮৭৪ হি.), "আন-নুজুমুজ জাহিরাহ" গ্রন্থের রচয়িতা।
ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি (৮৭১ হি.), "লাহজুল আলহাজ" গ্রন্থের রচয়িতা।
এবং ইবনে কাজি শুহবা আদ-দিমাশকি (৮৭৪ হি.), "আত-তাবাকাত" গ্রন্থের রচয়িতা।
ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মুকরি আল-ইয়ামানি (৮৩৭ হি.), "উনওয়ানুশ শারাফিল ওয়াফি" গ্রন্থের রচয়িতা।
ইউসুফ বিন শাহীন আবুল মাহাসিন আল-কারাকি (৮৯৯ হি.), ইবনে হাজারের দৌহিত্র, "রওনাকুল আলফাজ" গ্রন্থের রচয়িতা।
মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভি (৯০২ হি.), "আদ-দাওউল লামি" এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
সাখাভি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে এমন অনেক কিছু অর্জন করেছেন যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার ছিল না। তিনি তাঁর শাইখের ইন্তেকালের পর জীবিত ছিলেন এবং তাঁর বিক্ষিপ্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার সংগ্রহ করেন। তিনি তাঁর শাইখের জীবনী (ترجمة) নিয়ে "আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার" শিরোনামে একটি বিশাল ও স্বতন্ত্র খণ্ড রচনা করেছেন।
তাঁর রচনাবলি: হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার (রহ.) ৭৯৬ হিজরি সালে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। অধিক গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত, যার ফলে তাঁর সকল রচনার পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এ কারণে তাঁর কোনো কোনো জীবনীকার (ترجمة) তাঁর গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে এ কথা বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন যে, এর সংখ্যা দেড়শরও অধিক।
সাখাভি বলেছেন: এর সংখ্যা ২৭০-এরও অধিক।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَقد ذكر الدكتور شَاكر مَحْمُود عبد الْمُنعم (282) كتابا مَا بَين صَغِير وكبير مطبوع ومخطوط، وموجود ومفقود.
وَكَذَلِكَ ذكر تَحت عنوان " الْكتب المنسوبة إِلَيْهِ " (38) كتابا، وَهِي الْكتب الَّتِي لم يذكرهَا إِلَّا مصدر معاصر وَاحِد، وَلَا تعضده فِي ذَلِك المصادر الْأُخْرَى،، وَنسبه إِلَيْهِ مصدر غير معاصر لَهُ، أَو وجد الْكتاب مَنْسُوبا إِلَى غَيره أَيْضا.
وَقد ذكرهَا الدكتور شَاكر تَحت هَذَا العنوان احْتِيَاطًا حَتَّى لَا ينْسب مُصَنف إِلَى مؤلف لم يعمله. وَقَالَ: إِن ذَلِك لَا يَعْنِي نفي نِسْبَة مُصَنف مَا إِلَى الْحَافِظ ابْن حجر، فَهُوَ موسوعي، وَلَا نستبعد مِنْهُ الْمَزِيد.
وَمن أهم كتبه المطبوعة:
الْإِصَابَة فِي تَمْيِيز الصَّحَابَة
فتح الْبَارِي بشرح صَحِيح البُخَارِيّ
تَهْذِيب التَّهْذِيب
تقريب التَّهْذِيب
الدُّرَر الكامنة فِي أَعْيَان الْمِائَة الثَّامِنَة
لِسَان الْمِيزَان
التَّلْخِيص الحبير
تَعْجِيل الْمَنْفَعَة
بُلُوغ المرام
نزهة النّظر فِي توضيح نخبة الْفِكر
القَوْل المسدد فِي الذب عَن مُسْند الإِمَام أَحْمد
الإمتاع فِي الْأَرْبَعين المتباينة بِشَرْط السماع (تَحت الطَّبْع)
ড. শাকের মাহমুদ আব্দুল মোনায়েম ২৮২টি ছোট-বড়, মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি, বিদ্যমান ও নিখোঁজ বইয়ের উল্লেখ করেছেন।
একইভাবে তিনি "তাঁর প্রতি আরোপিত গ্রন্থসমূহ" শিরোনামের অধীনে ৩৮টি বইয়ের উল্লেখ করেছেন। এগুলো এমন বই যা শুধুমাত্র একজন সমসাময়িক উৎস উল্লেখ করেছে এবং অন্য কোনো উৎস তা সমর্থন করেনি, অথবা তাঁর সমসাময়িক নয় এমন কোনো উৎস তাঁর প্রতি এটি আরোপ করেছে, অথবা গ্রন্থটি অন্য কারো প্রতিও আরোপিত পাওয়া গেছে।
ড. শাকের সতর্কতা হিসেবে এই শিরোনামের অধীনে সেগুলো উল্লেখ করেছেন যাতে কোনো গ্রন্থ এমন কোনো লেখকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত না হয় যা তিনি রচনা করেননি। তিনি বলেছেন: এর অর্থ এই নয় যে, হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের প্রতি কোনো রচনার সম্বন্ধকে অস্বীকার করা হচ্ছে; কারণ তিনি ছিলেন বিশ্বকোষীয় জ্ঞানের অধিকারী এবং তাঁর থেকে আরও রচনার প্রাপ্তি আমরা অসম্ভব মনে করি না।
তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:
আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ
ফাতহুল বারি বি-শারহি সহিহিল বুখারি
তাহজিবুত তাহজিব
তাকরিবুত তাহজিব
আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মিআতিল সামিনাহ
লিসানুল মিজান
আত-তালখিসুল হাবির
তাজিলুল মানফাআহ
বুলুগুল মারাম
নুজহাতুন নাজার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার
আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফিদ দাব্বি আন মুসনাদিল ইমাম আহমদ
আল-ইমতাউ ফিল আরবাঈনাল মুতাবায়িনাহ বি-শারতিস সামা' (মুদ্রণাধীন)
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أشغاله العلمية المتنوعةالتدريس والإملاء: درس فِي مدارس كَثِيرَة، وتفوق على خمس عشرَة مدرسة وَقَامَ بالإملاء الَّذِي درس بعد ابْن الصّلاح (643 هـ) إِلَى أَوَاخِر أَيَّام الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ، فافتتحه سنة 796 هـ، وَاسْتمرّ حَتَّى وَفَاته سنة 806 هـ. وَشرع ابْن حجر بالإملاء فِي سنة 808 هـ وَاسْتمرّ إِلَى أَن مَاتَ فأملى مَا يزِيد على ألف مجْلِس.
الْقَضَاء: لقد امْتنع باديء ذِي بَدْء عَن تولي منصب الْقَضَاء، ثمَّ رضى بِهِ نِيَابَة عَن البُلْقِينِيّ بعد وَفَاته، بِطَلَب القَاضِي ولي الدّين الْعِرَاقِيّ، ثمَّ مَا لبث أَن تولاه اسْتِقْلَالا فِي السَّابِع وَالْعِشْرين من محرم سنة 827 هـ وزادت مُدَّة قَضَائِهِ على إِحْدَى عشرَة سنة. وزهد فِيهِ زهدا تَاما، لِكَثْرَة مَا توالى عَلَيْهِ من التأزم والحرج بِسَبَبِهِ.
" وَصرح بِأَنَّهُ لم يبْق فِي بدنه شَعْرَة تقبل اسْمه "
الخطابة والإفتاء: تولى الخطابة فِي الْجَامِع الْأَزْهَر وجامع عَمْرو بن الْعَاصِ وَوصف السخاوي خطبَته فَقَالَ:
তাঁর বহুমুখী ইলমি ব্যস্ততাসমূহঅধ্যাপনা ও শ্রুতলিখন (إملاء): তিনি বহু মাদরাসায় পাঠদান করেছেন এবং পনেরটিরও অধিক মাদরাসায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি শ্রুতলিখন (إملاء) পদ্ধতির পুনরুজ্জীবন করেন যা ইবনে আস-সালাহ (৬৪৩ হি.)-এর পর থেকে হাফেজ (حافظ) ইরাকির শেষ সময় পর্যন্ত লুপ্তপ্রায় ছিল। তিনি ৭৯৬ হিজরিতে এটি শুরু করেন এবং ৮০৬ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে ইবনে হাজার ৮০৮ হিজরিতে শ্রুতলিখন (إملاء) শুরু করেন এবং তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তা চালিয়ে যান; তিনি এক হাজারেরও বেশি মজলিসে (مجلس) শ্রুতলিখন (إملاء) প্রদান করেছেন।
বিচারকার্য: শুরুতে তিনি বিচারকের পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, পরবর্তীতে কাজী ওয়ালিউদ্দিন ইরাকির অনুরোধে বুলকিনির ইন্তেকালের পর তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত পদ গ্রহণে সম্মত হন। এরপর ২৭শে মহরম ৮২৭ হিজরিতে তিনি স্বাধীনভাবে এই পদভার গ্রহণ করেন এবং তাঁর বিচারিক দায়িত্ব পালনের মেয়াদ এগারো বছরেরও অধিক ছিল। তবে এই পদের কারণে ক্রমাগত সংকট ও প্রতিকূলতা তৈরি হওয়ায় তিনি এর প্রতি সম্পূর্ণ বিমুখ হয়ে পড়েন।
"তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন যে, তাঁর শরীরের একটি পশমও আর এই পদবি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়।"
খুতবা প্রদান ও ফতোয়া দান: তিনি জামে আল-আযহার এবং জামে আমর ইবনুল আস-এ খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। সাখাভী তাঁর খুতবার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৮)
" أما خطبَته فَكَانَ لَهَا صدع فِي الْقُلُوب، وتزداد - وَهُوَ على الْمِنْبَر - فِي المهابة والنور
… ... مَا لَا أَسْتَطِيع وَصفه، بِحَيْثُ كنت إِذا نظرت إِلَيْهِ، وَهُوَ على الْمِنْبَر، يغلبني الْبكاء.
وَكَذَلِكَ نَهَضَ بمهمة الْفتيا بدار الْعَمَل سنة 815 هـ، وامتازت فَتَاوِيهِ بالإيجاز مَعَ حُصُول الْغَرَض مِنْهَا، وبز عُلَمَاء عصره فِيهَا، واعتنى بإخراجها محررة مستندة إِلَى الْأَدِلَّة ذَات الِاعْتِبَار، وَهُوَ فَقِيه النَّص.
وَبلغ معدل مَا كَانَ يَكْتُبهُ فِي بعض الْأَوْقَات (30) فتيا فِي الْيَوْم.
خزن الْكتب: وَلَقَد قَامَ بمهمة خزن الْكتب بالمكتبة المحمودية، وَعمل لَهَا فهرسين: أَحدهمَا على الْأَبْوَاب، وَالثَّانِي على الْحُرُوف.
وَكَانَ مِثَالا للحرص على كتبهَا، ويفتديها بكتبه، فَكَانَ يَقُول: " لَا يُؤْخَذ من كتب الخزانة إلإ مَا لَيْسَ فِي كتبي "
هَذَا، وَكَانَ يقوم بدور عَام فِي الْإِصْلَاح والإرشاد، وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر، وَدفع الظُّلم والحيف عَن النَّاس.
وَيظْهر ذَلِك من انتقائه لمادة أَمَالِيهِ - خَاصَّة الْمُطلقَة مِنْهَا - لأمور ذَات مساس بِالْحَيَاةِ الاجتماعية.
هَذِه هِيَ الصِّفَات العلمية والخلقية الَّتِي جعلته مصداقا للقب شيخ الْإِسْلَام وحافظ الْعَصْر، وخاتمة الْمُحدثين، وأمير الْمُؤمنِينَ فِي الحَدِيث.
তাঁর খুতবা (ভাষণ) হৃদয়ে রেখাপাত করত এবং মিম্বরে অবস্থানকালে তাঁর গাম্ভীর্য ও নূর বৃদ্ধি পেত
… ... যা আমি বর্ণনা করতে অক্ষম। অবস্থা এমন ছিল যে, আমি যখন মিম্বরে তাঁর দিকে তাকাতাম, তখন কান্নায় অভিভূত হয়ে পড়তাম।
একইভাবে তিনি ৮১৫ হিজরি সনে 'দারুল আমাল'-এ ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ফতোয়াসমূহ সংক্ষিপ্ত অথচ উদ্দেশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল। এই ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দলিলভিত্তিক এবং নির্ভরযোগ্য (ذات الاعتبار) প্রমাণের আলোকে ফতোয়াগুলো সুবিন্যস্তভাবে প্রকাশের ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান ছিলেন। তিনি ছিলেন নস বা মূল পাঠের ফকিহ।
কোনো কোনো সময় তিনি প্রতিদিন গড়ে (৩০) টি পর্যন্ত ফতোয়া লিখতেন।
কিতাব সংরক্ষণ: তিনি মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর জন্য দুটি সূচিপত্র তৈরি করেছিলেন: একটি অধ্যায়ভিত্তিক এবং অন্যটি বর্ণানুক্রমিক।
সেই লাইব্রেরির কিতাবগুলোর সুরক্ষায় তিনি এক দৃষ্টান্ত ছিলেন এবং নিজের কিতাব দিয়ে হলেও সেগুলো রক্ষা করতেন। তিনি বলতেন: "লাইব্রেরির সংগ্রহ থেকে কেবল সেই কিতাবই গ্রহণ করা হবে যা আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে নেই।"
এছাড়া তিনি সংস্কার, পথপ্রদর্শন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং মানুষের ওপর থেকে জুলুম ও অবিচার দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতেন।
তাঁর আমালি — বিশেষ করে সাধারণ বা মুতলাক (المطلقة) আমালিগুলোর বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি ফুটে ওঠে, যা সামাজিক জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল।
এই সকল ইলমি ও চারিত্রিক গুণাবলিই তাঁকে 'শায়খুল ইসলাম', 'সমকালীন হাফিজ (حافظ)', 'মুহাদ্দিসগণের ধারাক্রমের সমাপ্তিকারী' এবং 'হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন (أمير المؤمنين)' উপাধির প্রকৃত সার্থকতা দান করেছে।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد شرب مَاء زَمْزَم ليصل إِلَى مرتبَة الذَّهَبِيّ فِي الْحِفْظ، ثمَّ حج بعد مُدَّة تقرب عشْرين سنة، فَسَأَلَ الله تَعَالَى الْمَزِيد، وَرَجا أَن ينَال ذَلِك، فحقق الله رَجَاءَهُ، وَشهد لَهُ بذلك التعبر غير وَاحِد.
مذْهبه فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات: لَا يخفى على من يقْرَأ كتاب الْحَافِظ ابْن حجر رحمه الله بِأَنَّهُ يرى رأى المؤولين فِي أَسمَاء الله وَصِفَاته، وَهُوَ خلاف مُعْتَقد السّلف الصَّالح، وَقد عَمت هَذِه الْبلوى فَمَا عصم مِنْهَا إِلَّا من رحم ربه.
وإليكم مِثَالا من " فتح الْبَارِي " حَيْثُ يشْرَح حَدِيث " أحب الدّين اليه (أَي الله) أَي مَا دَامَ عَلَيْهِ صَاحبه " فَيَقُول:
" قَوْله (أحب) قَالَ القَاضِي أَبُو بكر بن الْعَرَبِيّ: معنى الْمحبَّة من الله تعلق الْإِرَادَة بالثواب، أَي أَكثر الْأَعْمَال ثَوابًا وأدومها.
" وَهَذَا من التَّأْوِيل الْبَاطِل. وَالْحق الَّذِي عَلَيْهِ أهل السّنة أَن معنى الْمحبَّة غير معنى الْإِرَادَة، وَالله سُبْحَانَهُ مَوْصُوف بهَا على الْوَجْه الَّذِي يَلِيق بجلاله، ومحبته لَا تشابه محبَّة خلقه، كَمَا أَن إِرَادَته لَا تشابه إِرَادَة خلقه وَهَكَذَا سَائِر صِفَاته، كَمَا قَالَ تَعَالَى: (لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير) .
وَلَيْسَ هَذَا مَوضِع التَّفْصِيل فِي هَذَا الْمَوْضُوع إِلَّا أَن عَلامَة الجزيرة الشَّيْخ عبد الْعَزِيز بن عبد الله بن باز - حفظه الله - قد علق على تَأْوِيله فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات بحوالى سِتَّة مَوَاضِع فِي الْجُزْء الأول من الْفَتْح فَقَط.
তিনি মুখস্থশক্তিতে (الحفظ) ইমাম আয-যাহাবীর স্তরে পৌঁছানোর জন্য যমযমের পানি পান করেছিলেন। অতঃপর দীর্ঘ বিশ বছর পর তিনি হজ্জ সম্পন্ন করেন এবং আল্লাহ তাআলার কাছে এ ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রার্থনা করেন এবং তা লাভের আশা পোষণ করেন। ফলে আল্লাহ তাঁর আশা পূরণ করেন এবং একাধিক ব্যক্তি এ বিষয়ে তাঁর অনুকূলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (الأسماء والصفات) সংক্রান্ত তাঁর মাযহাব বা মতাদর্শ: হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর গ্রন্থ পাঠ করেন এমন যে কারও কাছে এটি গোপন নয় যে, তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে অপব্যাখ্যাকারীদের (المؤولين) মত পোষণ করেন। আর এটি সালাফে সালেহীনদের আকিদার (المعتقد) পরিপন্থী। এই ফিতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আল্লাহ যাকে দয়া করেছেন তিনি ছাড়া কেউ এটি থেকে রক্ষা পায়নি।
‘ফাতহুল বারী’ থেকে আপনাদের জন্য একটি উদাহরণ উপস্থাপন করা হলো, যেখানে তিনি এই হাদিসটি ব্যাখ্যা করেছেন: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় (أحب) দ্বীন হলো তা-ই, যা পালনকারী নিয়মিত করেন।” তিনি বলেন:
“তাঁর কথা ‘সবচেয়ে প্রিয়’ (أحب) প্রসঙ্গে কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবী বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে মহব্বত বা ভালোবাসার (المحبة) অর্থ হলো প্রতিদান প্রদানের সাথে ইচ্ছার (الإرادة) সংশ্লিষ্টতা; অর্থাৎ যে আমল সওয়াবের দিক থেকে অধিক এবং যা অধিক স্থায়িত্বশীল।”
“আর এটি বাতিল অপব্যাখ্যার (التأويل الباطل) অন্তর্ভুক্ত। হক বা সঠিক পথ—যাতে আহলুস সুন্নাহর অনুসারীরা রয়েছেন—তা হলো, মহব্বত বা ভালোবাসার (المحبة) অর্থ ইচ্ছা বা ইরাদার (الإرادة) অর্থ থেকে ভিন্ন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্থায় এই গুণে গুণান্বিত। তাঁর ভালোবাসা তাঁর সৃষ্টির ভালোবাসার সদৃশ নয়, ঠিক যেমন তাঁর ইচ্ছা তাঁর সৃষ্টির ইচ্ছার সদৃশ নয়। তাঁর অন্যান্য গুণাবলির (الصفات) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’।”
এই বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার এটি উপযুক্ত স্থান নয়, তবে জাজিরাতুল আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (হাফিযাহুল্লাহ) কেবল ‘ফাতহুল বারী’-র প্রথম খণ্ডেই নাম ও গুণাবলি (الأسماء والصفات) সংক্রান্ত তাঁর এজাতীয় অপব্যাখ্যার (التأويل) ওপর প্রায় ছয়টি স্থানে টীকা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২০)
مذْهبه الفقهي: كَانَ الْحَافِظ رحمه الله شافعيا بِاتِّفَاق المصادر إِلَّا أَن الكتاني ذكر، نقلا عَن مَا فِي ثَبت الشهَاب أَحْمد بن الْقَاسِم الْبونِي: " إِن الْحَافِظ انْتقل فِي آخر عمره لمَذْهَب مَالك، وَقَالَ (أَي الْبونِي) : رَأَيْت ذَلِك بِخَطِّهِ فِي مَكَّة المكرمة ".
وَقَالَ الكتاني: وَلَعَلَّ رُجُوعه فِي مَسْأَلَة أَو مَسْأَلَتَيْنِ وَالله أعلم
وَلَا شكّ أَن أدوات الِاجْتِهَاد قد اجْتمعت لَدَيْهِ، وَهُوَ يَقْتَدِي بالأئمة وَلَا يقلدهم وشتان مَا بَين الِاثْنَيْنِ، فَهُوَ يوازن بَين الْأَدِلَّة وَيَأْخُذ بأرجحها، حَتَّى وَإِن لم توَافق السَّادة الشَّافِعِيَّة.
وَفَاته: قدم الْحَافِظ ابْن حجر رحمه الله خدمات جليلة للْحَدِيث النَّبَوِيّ وعلومه، أَكثر من نصف قرن. وَصَارَ أعجوبة الدُّنْيَا، ولقب بِالْحَافِظِ وَشَيخ الْإِسْلَام لعلمه الغزير، وكفاءته فِي كل ميدان من ميادين الدّين وَالْعلم.
فِي آخر حَيَاته، أُصِيب بالإمساك، وَقد دَامَ أَكثر من شهر، حَيْثُ أُصِيب بإسهال وَرمى دم (ديسانتري) غير أَن السخاوي يَقُول:
" وَلَا استبعد أَنه أكْرم بِالشَّهَادَةِ، فقد كَانَ الطَّاعُون قد ظهر
… "
ووافاه الْأَجَل وَلحق بالرفيق الْأَعْلَى فِي أَوَاخِر شهر ذِي الْحجَّة من سنة اثْنَتَيْنِ وَخمسين وثمان مائَة.
তাঁর ফিকহী মাযহাব: সকল ঐতিহাসিক সূত্রের ঐকমত্য অনুযায়ী হাফিজ (الحافظ) (রহিমাহুল্লাহ) শাফেয়ী ছিলেন। তবে আল-কিত্তানি, শিহাব আহমদ বিন আল-কাসিম আল-বুনির ‘সাবাত’ থেকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছেন যে: "হাফিজ (الحافظ) তাঁর জীবনের শেষভাগে মালেকি মাযহাবে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এবং তিনি (অর্থাৎ আল-বুনি) বলেছেন: আমি মক্কাতুল মুকাররমায় তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে এটি দেখেছি।"
আল-কিত্তানি বলেন: সম্ভবত তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ছিল একটি বা দুটি মাসআলার ক্ষেত্রে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইজতিহাদের (اجتهاد) উপকরণসমূহ তাঁর মাঝে একত্রিত হয়েছিল। তিনি ইমামদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন কিন্তু তাঁদের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করতেন না; আর এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। তিনি দলীলসমূহের মধ্যে তুলনা করতেন এবং সবচেয়ে শক্তিশালীটি গ্রহণ করতেন, এমনকি তা যদি শাফেয়ী মাশায়েখদের মতের অনুকূলে না-ও হতো।
তাঁর ইন্তেকাল: হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নববী হাদিস এবং এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের (علوم الحديث) মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি সমসাময়িক বিশ্বের এক বিস্ময়ে পরিণত হন এবং তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও দ্বীন ও ইলমের প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষতার কারণে তাঁকে হাফিজ (الحافظ) ও শায়খুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
জীবনের শেষ দিকে তিনি কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হন, যা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল। এরপর তিনি উদরাময় ও রক্ত আমাশয়ে আক্রান্ত হন। তবে আল-সাখাভি বলেন:
"আমি একে অসম্ভব মনে করি না যে তিনি শাহাদাতের (شهادة) মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন, কারণ তখন মহামারীর (طاعون) প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল
… "
তিনি ৮৫২ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শেষ দিকে ইন্তেকাল করেন এবং মহান রফিকের (আল্লাহর) সান্নিধ্যে চলে যান।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَاخْتلف مترجموه فِي تَحْدِيد تأريخ وَفَاته مَا بَين الثَّامِن وَالْعِشْرين، وَالتَّاسِع عشر وَالثَّامِن عشر من ذِي الْحجَّة.
وَكَانَ يَوْم مَوته عَظِيما على الْمُسلمين وَحَتَّى على أهل الذِّمَّة. شيعته الْقَاهِرَة إِلَى مدفنه، وَقدر أحد الأذكياء أَنه اشْترك فِيهِ نَحْو خمسين ألفا. تزاحم الْأُمَرَاء والأكابر على حمل نعشه، وَمَشى إِلَى تربته من لم يمش نصف مسافتها قطّ.
وَصلى عَلَيْهِ بمصلاة بكتمر المؤمنى حَيْثُ أَمر السُّلْطَان الظَّاهِر جقمق بِأَن يحضر إِلَى هُنَاكَ ليصلى عَلَيْهِ، وَتقدم فِي الصَّلَاة عَلَيْهِ الْخَلِيفَة بِإِذن من السُّلْطَان.
وَدفن رحمه الله تجاه تربة الديلمي بتربة بني الخروبي، بَين مقَام الشَّافِعِي ومقام سَيِّدي مُسلم السّلمِيّ. وَتَقَع تربته على بعد (1500) م من مقَام الإِمَام الشَّافِعِي.
اللَّهُمَّ اغْفِر لَهُ وارحمه واعفه واعف عَنهُ وَأكْرم نزله ووسع مدخله {}
তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণে জিলহজ মাসের আঠাশ, উনিশ এবং আঠারো তারিখের মধ্যে মতভেদ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুর দিনটি মুসলমানদের জন্য, এমনকি জিম্মিদের জন্যও ছিল অত্যন্ত শোকবহ। কায়রোবাসী তাঁর জানাজা ও দাফন কার্যে অংশগ্রহণ করেছিল এবং একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি ধারণা করেছেন যে, এতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ শরিক হয়েছিল। আমীর এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর খাটিয়া বহনের জন্য ভিড় করেছিলেন, আর তাঁর কবরের দিকে এমন সব ব্যক্তিরাও হেঁটে গিয়েছিলেন যারা ইতিপূর্বে এই দূরত্বের অর্ধেক পথও কখনও হাঁটেননি।
বকতুমুর আল-মুমিনী ঈদগাহে তাঁর জানাজা পড়া হয়, যেখানে সুলতান আল-জাহির জাকমাক তাঁর জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সেখানে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুলতানের অনুমতি নিয়ে খলিফা জানাজার ইমামতি করার জন্য সামনে অগ্রসর হন।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন; তাঁকে দাইলামির কবরের বিপরীতে বনু আল-খাররুবির গোরস্থানে দাফন করা হয়, যা ইমাম শাফিঈ এবং সাইয়্যেদি মুসলিম আল-সুলামির মাকামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তাঁর কবরটি ইমাম শাফিঈর মাকাম থেকে ১৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি দয়া করুন, তাঁকে মার্জনা ও নিরাপত্তা দান করুন, তাঁর মেহমানদারিকে সম্মানজনক করুন এবং তাঁর প্রবেশস্থলকে প্রশস্ত করুন। {}
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২২)
خُلَاصَة الْأَخْبَار فِي الْخضراسْمه وَنسبه: اخْتلف الْعلمَاء المؤرخون فِي اسْم الْخضر عليه السلام وَنسبه على أَكثر من عشرَة أَقْوَال
وَأشهر أَسْمَائِهِ: بليابن ملكان.
وكنيته أَبُو الْعَبَّاس.
وَهُوَ مَعْرُوف بلقبه الْخضر.
سَبَب تَسْمِيَته بالخضر: يُوجد فِي مصَادر التَّفْسِير والْحَدِيث والتأريخ سببان لتسميته بالخضر. 1. مَا رَوَاهُ البُخَارِيّ وَأحمد وَالتِّرْمِذِيّ وَغَيرهم، من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي - قَالَ:
" إِنَّمَا سمي الْخضر، لِأَنَّهُ جلس على فَرْوَة بَيْضَاء، فَإِذا هِيَ تهتز من خَلفه خضراء ". 2. قَالَ الْخطابِيّ: " إِنَّمَا سمي الْخضر خضرًا، لحسنه وإشراقه ".
قَالَ ابْن كثير: هَذَا لَا ينافى مَا ثَبت فِي الصَّحِيح، فَإِن كَانَ وَلَا بُد من التَّعْلِيل بِأَحَدِهِمَا، فَمَا ثَبت فِي الصَّحِيح أولى وَأقوى، بل لَا يلْتَفت إِلَى مَا عداهُ.
খিজির (আলাইহিস সালাম) সংক্রান্ত তথ্যাবলীর সারসংক্ষেপতাঁর নাম ও বংশপরিচয়: খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর নাম ও বংশপরিচয় সম্পর্কে ইতিহাসবিদ ও আলেমগণ দশটিরও অধিক মত পোষণ করেছেন।
তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম: বালয়া ইবনে মালকান।
তাঁর উপনাম (كنية) হলো আবুল আব্বাস।
তিনি তাঁর 'খিজির' উপাধিতেই সুপরিচিত।
খিজির নামকরণের কারণ: তাফসির, হাদিস এবং ইতিহাসের উৎসসমূহে তাঁকে খিজির নামকরণের দুটি কারণ পাওয়া যায়। ১. ইমাম বুখারি, আহমদ, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয়ই তাঁর নাম খিজির রাখা হয়েছে কারণ তিনি একটি সাদা শুষ্ক ঘাসের ওপর বসেছিলেন, অতঃপর সেটি তাঁর পেছন দিক থেকে সবুজ হয়ে দুলতে শুরু করেছিল।" ২. ইমাম খাত্তাবি বলেছেন: "তাঁর রূপ-লাবণ্য ও উজ্জ্বলতার কারণে তাঁকে খিজির নামকরণ করা হয়েছে।"
ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: এটি সহিহ (صحيح) বর্ণনায় যা প্রমাণিত হয়েছে তার পরিপন্থী নয়। তবে যদি কোনো একটির মাধ্যমে কারণ দর্শাতেই হয়, তবে যা সহিহ (صحيح) বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে সেটিই অধিক অগ্রগণ্য ও শক্তিশালী (أقوى); বরং তা ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْخضر الْمَعْرُوف هُوَ صَاحب مُوسَى بن عمرَان عليهما السلاموَقد ورد بعض الْخلاف فِي الْخضر، هَل صَاحبه مُوسَى بن عمرَان عليه السلام أم غَيره؟
ومنشأ هَذَا الْخلاف بَين المؤرخين هُوَ بعض الرِّوَايَات الإسرائيلية والتأريخية الَّتِي ورد فِيهَا:
" أَن مُوسَى بن مِيشَا بن يُوسُف بن يَعْقُوب، نَبِي قبل مُوسَى بن عمرَان، وَأَنه هُوَ الَّذِي طلب الْخضر بن ملكان
… "
وَهُوَ قَول سَاقِط مَرْجُوح سندا وتأريخا.
وَالصَّحِيح الرَّاجِح فِي ضوء النُّصُوص الحديثية والتأريخية الصَّحِيحَة، أَن مُوسَى بن عمرَان عليه السلام الَّذِي أنزلت عَلَيْهِ التَّوْرَاة، هُوَ صَاحب الْخضر الْمَعْرُوف الْوَارِد قصَّته مَعَ مُوسَى عليهما السلام فِي سُورَة الْكَهْف.
وَقد روى الشَّيْخَانِ - البُخَارِيّ وَمُسلم - فِي صَحِيحَيْهِمَا من طَرِيق سعيد بن جُبَير قَالَ: قلت لِابْنِ عَبَّاس: أَن نَوْفًا الْبكالِي يزْعم أَن الْخضر، لَيْسَ بِصَاحِب مُوسَى فَقَالَ: " كذب عَدو الله ".
وَلم يقل ذَلِك ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِيهِ إِلَّا على وَجه
সুপরিচিত খিজির হলেন মুসা বিন ইমরান আলাইহিমাস সালাম-এর সাথীখিজির সম্পর্কে কিছুটা মতভেদ বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর সাথী কি মুসা বিন ইমরান আলাইহিস সালাম ছিলেন নাকি অন্য কেউ?
ঐতিহাসিকদের মধ্যে এই মতভেদের উৎস হলো কিছু ইসরায়েলি বর্ণনা ও ঐতিহাসিক বিবরণ যাতে বর্ণিত হয়েছে:
"নিশ্চয়ই মুসা বিন মিশা বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব হলেন মুসা বিন ইমরান-এর পূর্ববর্তী একজন নবী, এবং তিনিই খিজির বিন মালকানকে তালাশ করেছিলেন
… "
আর এটি সনদ (سند) ও ইতিহাসের বিচারে একটি অগ্রহণযোগ্য (ساقط) ও বর্জনীয় (مرجوح) উক্তি।
সহিহ হাদিসের ভাষ্য এবং সঠিক ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে সঠিক (صحيح) ও অগ্রগণ্য (راجح) অভিমত হলো, মুসা বিন ইমরান আলাইহিস সালাম—যাঁর ওপর তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল—তিনিই হলেন সুপরিচিত খিজিরের সেই সাথী, যাঁর সাথে মুসা আলাইহিমাস সালাম-এর ঘটনা সুরা আল-কাহফে বর্ণিত হয়েছে।
শায়খাইন—বুখারি ও মুসলিম—তাঁদের সহিহ গ্রন্থে সাইদ ইবনে জুবাইর-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম যে, নাওফ আল-বিকালি দাবি করে খিজির মুসার সাথী নন। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে।"
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁর সম্পর্কে এ কথাটি কেবল এই প্রেক্ষিতেই বলেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الإغلاظ، لمُخَالفَته قَول رَسُول الله - الثَّابِت بِأَن الْخضر هُوَ صَاحب مُوسَى بن عمرَان عليهما السلام
وَقد غضب ابْن عَبَّاس على قَوْله هَذَا، وَقَالَ: " كذب عَدو الله " لشدَّة إِنْكَاره عَلَيْهِ. وَفِي حَال الْغَضَب تطلق الْأَلْفَاظ، وَلَا ترَاد بهَا حقائقها.
الْخضر: ملك أَو ولي أَو نَبِياخْتلف الْمُفَسِّرُونَ والمؤرخون فِي الْخضر عليه السلام بِهَذَا الصدد على ثَلَاثَة أَقْوَال مشهوره:
القَوْل الأول: إِنَّه ملك من الْمَلَائِكَة، يتَصَوَّر فِي صور الْآدَمِيّين مغيرا ذاتا.
قَالَ النَّوَوِيّ: " هَذَا غَرِيب بَاطِل ".
وَقَالَ ابْن كثير: " هَذَا غَرِيب جدا ".
القَوْل الثَّانِي: أَنه ولي ذهب إِلَيْهِ جمَاعَة من الصُّوفِيَّة وَغَيرهم. وَقَالَ بِهِ أَبُو عَليّ بن أبي مُوسَى من الْحَنَابِلَة، وَأَبُو بكر الْأَنْبَارِي، وَأَبُو الْقَاسِم الْقشيرِي.
কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে, কারণ তার কথা আল্লাহর রাসূলের বাণীর পরিপন্থী—যা প্রমাণিত (ثابت) যে, খিজির ছিলেন মুসা ইবনে ইমরান (আলাইহিমাস সালাম)-এর সাথী।
ইবনে আব্বাস তার এই বক্তব্যের কারণে রাগান্বিত হন এবং তার প্রতি তীব্র আপত্তির কারণে বলেন, "আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে।" আর রাগের অবস্থায় এমন শব্দ উচ্চারিত হয় যার শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য থাকে না।
খিজির: ফেরেশতা, অলি নাকি নবীএ বিষয়ে মুফাসসির ও ঐতিহাসিকগণ খিজির (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনটি প্রসিদ্ধ মত পোষণ করেছেন:
প্রথম মত: তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা, যিনি মানব আকৃতিতে নিজের সত্তাকে পরিবর্তন করে প্রকাশ পেতেন।
ইমাম নববী বলেন: "এটি অদ্ভুত (غريب) ও বাতিল (باطل)।"
ইবনে কাসীর বলেন: "এটি অত্যন্ত অদ্ভুত (غريب)।"
দ্বিতীয় মত: তিনি একজন অলি; একদল সুফি ও অন্য অনেকে এই মত পোষণ করেছেন। হাম্বলিদের মধ্যে আবু আলী ইবনে আবি মুসা, আবু বকর আল-আনবারি এবং আবু আল-কাসিম আল-কুশাইরি এই মত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويلاحظ أَن كثيرا مِنْهُم يفضلون الْوَلِيّ - فِي زعمهم - إِمَّا مُطلقًا، وَإِمَّا من بعض الْوُجُوه، على النَّبِي، زاعمين أَن فِي قصَّة الْخضر مَعَ مُوسَى عليه السلام الْوَارِدَة فِي سُورَة الْكَهْف، حجَّة لَهُم.
وَمِمَّنْ يفضل بعض الْأَوْلِيَاء، أَمْثَال الْخضر عليه السلام، على الْأَنْبِيَاء: الْحَكِيم التِّرْمِذِيّ فِي كتاب ختم الْأَوْلِيَاء.
قَالَ: " يكون فِي آخر الْأَوْلِيَاء، من هُوَ أفضل من الصَّحَابَة، " وَرُبمَا لوح بِشَيْء من ذكرالأنبياء، فَقَامَ عَلَيْهِ الْمُسلمُونَ، وأنكروا ذَلِك عَلَيْهِ، ونفوه من الْبَلَد بِسَبَب ذَلِك:
وَمِنْهُم: سعد الدّين بن حمويه
وَابْن عَرَبِيّ صَاحب الفصوص والفتوحات المكية الْقَائِل:
(مقَام النُّبُوَّة فِي برزخ
… فويق الرَّسُول وَدون الْوَلِيّ)
الرَّد على تَفْضِيل الْولَايَة على النُّبُوَّة والرسالة: وَقد رد شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رحمه الله على خزعبلات الصُّوفِيَّة فِي تَفْضِيل الْوَلِيّ على النَّبِي، ردا جميلا، وحلل النواحي الْمُتَعَلّقَة بذلك تحليلا دَقِيقًا حَيْثُ قَالَ: " قد أجمع الْمُسلمُونَ على أَن مُوسَى أفضل من الْخضر. فَمن قَالَ: إِن الْخضر أفضل، فقد كفر، وَسَوَاء قيل: إِن الْخضر نَبِي أَو ولي. وَالْجُمْهُور على أَنه لَيْسَ بِنَبِي.
بل أَنْبيَاء بني إِسْرَائِيل الَّذين اتبعُوا التَّوْرَاة، وَذكرهمْ الله تَعَالَى كداود وَسليمَان أفضل من الْخضر.
بل، على قَول الْجُمْهُور: إِنَّه لَيْسَ بِنَبِي، فَأَبُو بكر وَعمر رضي الله عنهما أفضل مِنْهُ.
লক্ষ্য করা যায় যে, তাদের মধ্যে অনেকে তাদের দাবি অনুযায়ী ওলিকে নবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে—হয়তো নিরঙ্কুশভাবে, অথবা কোনো কোনো দিক থেকে। তারা দাবি করে যে, সূরা আল-কাহফে বর্ণিত মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী তাদের স্বপক্ষে একটি দলিল (حجة)।
যারা খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর মতো কিছু ওলিকে নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: হাকিম তিরমিজি তার খাতমুল আউলিয়া গ্রন্থে।
তিনি বলেছেন: "ওলিদের শেষ যুগে এমন কেউ থাকবেন, যিনি সাহাবীদের চেয়েও উত্তম।" সম্ভবত তিনি নবীদের আলোচনার ক্ষেত্রেও এমন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে মুসলমানরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে শহর থেকে বহিষ্কার করা হয়:
তাদের মধ্যে রয়েছেন: সাদউদ্দীন ইবনে হামুউইয়া
এবং ফুসুসুল হিকাম ও আল-ফুতুহাতুল মাক্কিয়া-এর লেখক ইবনে আরাবি, যিনি বলেছেন:
(নবুওয়তের মাকাম বা অবস্থান এক অন্তরালে
… যা রাসুলের সামান্য ওপরে এবং ওলির নিচে।)
নবুওয়ত ও রিসালাতের ওপর বেলায়ত বা ওলি হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের খণ্ডন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) নবীর ওপর ওলিকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়ে সুফিদের ভিত্তিহীন কথাগুলোর চমৎকার জবাব দিয়েছেন। তিনি এ সংক্রান্ত দিকগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে বলেছেন: "মুসলমানরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمع) যে, মুসা খিজিরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে খিজির শ্রেষ্ঠ, সে কুফরি করল। খিজির নবী হোন কিংবা ওলি—উভয় ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য। তবে জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের মতে তিনি নবী নন।"
বরং বনী ইসরাঈলের সেই সব নবী যারা তাওরাতের অনুসরণ করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা যাদের কথা উল্লেখ করেছেন—যেমন দাউদ ও সুলাইমান—তারাও খিজিরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
এমনকি জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশের মতানুসারে তিনি যদি নবী না-ও হন, তবে আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَكَونه يعلم مسَائِل لَا يعلمهَا مُوسَى، لَا يُوجب أَن يكون أفضل مِنْهُ مُطلقًا. كَمَا أَن الهدهد قَالَ لِسُلَيْمَان: (أحطت بِمَا لم تحط بِهِ) لم يكن أفضل من سُلَيْمَان.
وكما أَن الَّذين كَانُوا يُلَقِّحُونَ النّخل، لما كَانُوا أعلم بتلقيحه من النَّبِي - لم يجب من ذَلِك أَن يَكُونُوا أفضل مِنْهُ -، وَقد قَالَ لَهُم: " وَأَنْتُم أعلم بِأَمْر دنياكم، وَأما مَا كَانَ من أَمر دينكُمْ فَإِلَيَّ. "
وَأَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي رضي الله عنهم كَانُوا يتعلمون مِمَّن هم دونهم علم الدّين الَّذِي هُوَ عِنْدهم.
وَقد قَالَ -: " لم يبْق بعدِي من النُّبُوَّة إِلَّا الرُّؤْيَا الصَّالِحَة. " وَمَعْلُوم أَن ذُرِّيتهمْ فِي الْعلم أفضل مِمَّن حصلت لَهُ الرُّؤْيَا الصَّالِحَة.
وَغَايَة الْخضر أَن يكون عِنْده من الْكَشْف مَا هُوَ جُزْء من أَجزَاء النُّبُوَّة، فَكيف يكون أفضل من نَبِي؟ فَكيف بالرسول؟ فَكيف بِأولى الْعَزْم "؟ ! وَقَالَ رحمه الله: " قَول الْقَائِل: إِنَّه نقيب الْأَوْلِيَاء، فَيُقَال: لَهُ من ولاه النقابة. وَأفضل الْأَوْلِيَاء أَصْحَاب مُحَمَّد - وَلَيْسَ فيهم الْخضر ". وَقَالَ: " وَمن
তাঁর (খিজিরের) এমন কিছু বিষয় জানা যা মূসা (আ.) জানতেন না, তা তাঁকে মূসা (আ.) অপেক্ষা নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ হওয়াকে আবশ্যক করে না। যেমন হুদহুদ পাখি সুলাইমান (আ.)-কে বলেছিল: "আমি এমন বিষয় অবগত হয়েছি যা আপনি হননি", তবুও সে সুলাইমান (আ.) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিল না।
আর যেমন যারা খেজুর গাছে পরাগায়ন করত, তারা যখন সেই বিষয়ে নবী (সা.) অপেক্ষা অধিক অবগত ছিল, তখন তা থেকে এটি আবশ্যক হয়নি যে তারা তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে; বরং তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "তোমরা তোমাদের দুনিয়াবি বিষয়ে অধিক অবগত, তবে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে যা কিছু আছে তা আমার নিকটেই ন্যস্ত।"
আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রা.) তাঁদের চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের নিকট থেকে সেই দ্বীনি ইলম অর্জন করতেন যা তাঁদের কাছে থাকত।
তিনি (সা.) বলেছেন: "আমার পরে নবুওয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই কেবল সৎস্বপ্ন ব্যতীত।" আর এটি সুবিদিত যে, ইলমের ক্ষেত্রে তাঁদের উত্তরসূরিগণ সেই ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যাকে কেবল সৎস্বপ্ন প্রদান করা হয়েছে।
খিজিরের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো তাঁর কাছে এমন উন্মোচন (كشف) থাকা যা নবুওয়তের অংশসমূহের একটি অংশ মাত্র; এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে একজন নবী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারেন? তাহলে একজন রসূলের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠ হবেন? আর দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ (أولو العزم) রাসুলদের ব্যাপারে তবে কী বলা যায়?! তিনি (রহ.) আরও বলেন: "বক্তব্য প্রদানকারীর এই উক্তি যে, 'তিনি (খিজির) অলিদের প্রধান (نقيب)', এর জবাবে বলা হবে: কে তাঁকে এই প্রধানের পদে (نقابة) নিযুক্ত করেছেন? অথচ সর্বোত্তম অলি (أولياء) হলেন মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবী (صحابة)গণ, আর তাঁদের মধ্যে খিজির নেই।" তিনি বলেন: "আর যে...
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قَالَ: إِنَّه نقيب الْأَوْلِيَاء، أَو إِنَّه يعلمهُمْ كلهم فقد قَالَ الْبَاطِل ". وَقَالَ بعد ذكر كَلَام الصُّوفِيَّة فِي تَفْضِيل الْولَايَة على النُّبُوَّة: " وكل هَذِه المقالات فِي أعظم الجهالات والضلالات، بل من أعظم أَنْوَاع النِّفَاق والإلحاد وَالْكفْر. "
وَقَالَ: وَقد يحْتَج بَعضهم بِقصَّة مُوسَى وَالْخضر، ويظنون أَن الْخضر خرج عَن الشَّرِيعَة. وهم فِي هَذَا ضالون من وَجْهَيْن:
أَحدهمَا: أَن الْخضر لم يخرج عَن الشَّرِيعَة، بل الَّذِي فعله كَانَ جَائِزا فِي شَرِيعَة مُوسَى، وَلِهَذَا لما بَين لَهُ الْأَسْبَاب أقره على ذَلِك.
وَلَو لم يكن جَائِزا لما أقره، وَلَكِن لم يكن مُوسَى يعلم الْأَسْبَاب الَّتِي بهَا أبيحت تِلْكَ. فَظن أَن الْخضر كالملك الظَّالِم، فَذكر ذَلِك لَهُ الْخضر.
وَالثَّانِي: أَن الْخضر لم يكن من أمة مُوسَى، وَلَا كَانَ يجب عَلَيْهِ مُتَابَعَته، بل قَالَ لَهُ: إِنِّي على علم من علم الله علمنيه الله لَا تعلمه، وَأَنت على علم من علم الله علمكه الله لَا أعلمهُ. وَذَلِكَ أَن دَعْوَة مُوسَى لم تكن عَامَّة. فَإِن النَّبِي كَانَ يبْعَث إِلَى قومه خَاصَّة، وَمُحَمّد - بعث إِلَى النَّاس كَافَّة. بل بعث إِلَى الْإِنْس وَالْجِنّ بَاطِنا وظاهرا؛ فَلَيْسَ لأحد أَن يخرج عَن طَاعَته ومتابعته، لَا فِي الْبَاطِن، وَلَا فِي الظَّاهِر، لَا من الْخَواص وَلَا من الْعَوام ".
كَلَام نَفِيس لشارح العقيدة الطحاوية: قَالَ رحمه الله: " وَأما من يتَعَلَّق بِقصَّة مُوسَى مَعَ الْخضر عليهما السلام فِي تَجْوِيز الِاسْتِغْنَاء عَن الْوَحْي بِالْعلمِ اللدني، الَّذِي يَدعِيهِ بعض من عدم التَّوْفِيق، فَهُوَ ملحد زنديق. فَإِن مُوسَى - عَلَيْهِ
তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি অলিদের প্রধান, অথবা তিনি তাদের সকলকে শিক্ষা দেন—যে ব্যক্তি এ কথা বলে সে বাতিল (باطل) কথা বলেছে।" সুফিদের নবুয়তের উপর বেলায়েতকে প্রাধান্য দেওয়ার বক্তব্য উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "এই সকল বক্তব্য চরম অজ্ঞতা ও গোমরাহীর অন্তর্ভুক্ত, বরং এগুলো মুনাফেকি, ধর্মহীনতা ও কুফরির অন্যতম জঘন্য প্রকার।"
তিনি আরও বলেন: "তাদের কেউ কেউ মুসা ও খিজিরের ঘটনা দিয়ে দলিল পেশ করে থাকে এবং তারা ধারণা করে যে, খিজির শরিয়তের ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তারা দুই দিক থেকে পথভ্রষ্ট:
প্রথমত: খিজির শরিয়তের বহির্ভূত ছিলেন না, বরং তিনি যা করেছিলেন তা মুসার শরিয়তেই বৈধ ছিল। এই কারণেই যখন তিনি মুসার কাছে কারণগুলো ব্যাখ্যা করলেন, তখন মুসা তা মেনে নিলেন।
যদি তা বৈধ না হতো তবে তিনি তা মেনে নিতেন না; কিন্তু মুসা সেই কারণগুলো জানতেন না যার ভিত্তিতে ঐ কাজগুলো বৈধ হয়েছিল। ফলে তিনি মনে করেছিলেন যে, খিজির একজন জালেম বাদশাহর মতো আচরণ করছেন, তখন খিজির তাঁর কাছে প্রকৃত বিষয়টি বর্ণনা করলেন।
দ্বিতীয়ত: খিজির মুসার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না এবং মুসার অনুসরণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল না। বরং তিনি মুসাকে বলেছিলেন: 'আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক ইলমপ্রাপ্ত যা আল্লাহ আমাকে শিখিয়েছেন কিন্তু আপনি তা জানেন না, আর আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক ইলমপ্রাপ্ত যা তিনি আপনাকে শিখিয়েছেন কিন্তু আমি তা জানি না।' এর কারণ হলো, মুসার দাওয়াত সর্বজনীন ছিল না। কেননা নবিগণ কেবল তাঁদের নিজ কওমের কাছে বিশেষ (خاص) ভাবে প্রেরিত হতেন, পক্ষান্তরে মুহাম্মদ ﷺ সমস্ত মানুষের জন্য সাধারণ (عام) ভাবে প্রেরিত হয়েছেন। বরং তিনি মানব ও জিন জাতির নিকট বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে প্রেরিত হয়েছেন। অতএব, বিশেষ (خاص) বা সাধারণ (عام) কারো জন্যই তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই, তা অভ্যন্তরীণভাবে হোক বা বাহ্যিকভাবে।"
আকিদাহ আত-তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকারীর এক মূল্যবান বক্তব্য: তিনি (রহ.) বলেন: "আর যে ব্যক্তি মুসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম)-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইলমে লাদুন্নির দোহাই দিয়ে ওহি থেকে অমুখাপেক্ষী থাকাকে বৈধ মনে করে—যে দাবি তাওফিকবঞ্চিত কিছু মানুষ করে থাকে—সে মূলত একজন নাস্তিক ও জিন্দিক (زنديق)। কেননা মুসা - আলাইহি
(খণ্ড: ১)
আয-যাহরুন নাযর ফী হালিল খাযির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
السَّلَام - لم يكن مَبْعُوثًا إِلَى الْخضر. وَلم يكن الْخضر مَأْمُورا بمتابعته وَلِهَذَا قَالَ: لَهُ: أَنْت مُوسَى بني إِسْرَائِيل؟ قَالَ: نعم.
وَمُحَمّد - مَبْعُوث إِلَى جَمِيع الثقلَيْن، وَلَو كَانَا مُوسَى وَعِيسَى حيين لكانا من أَتْبَاعه، وَإِذا نزل عِيسَى عليه السلام إِلَى الأَرْض، إِنَّمَا يحكم بشريعة مُحَمَّد [] .
فَمن ادّعى أَنه مَعَ مُحَمَّد - كالخضر مَعَ مُوسَى، أَو جوز ذَلِك لأحد من الْأمة، فليجدد إِسْلَامه، وليشهد شَهَادَة الْحق، فَإِنَّهُ مفارق لدين الْإِسْلَام بِالْكُلِّيَّةِ، فضلا عَن أَن يكون من أَوْلِيَاء الله، وَإِنَّمَا هُوَ من أَوْلِيَاء الشَّيْطَان.
وَهَذَا الْموضع مفرق بَين زنادقة الْقَوْم وَأهل الاسْتقَامَة.
القَوْل الثَّالِث: أَنه نَبِي، قَالَه جُمْهُور الْعلمَاء الْمُحَقِّقين.
قَالَ الثَّعْلَبِيّ: هُوَ نَبِي فِي جَمِيع الْأَقْوَال.
وَقَالَ الْقُرْطُبِيّ: الْخضر نَبِي عِنْد الْجُمْهُور.
وَقَالَ الْحبرِي الْمُفَسّر وَأَبُو عمر: هُوَ نَبِي. وَذكر الآلوسي نبوته عِنْد الْجُمْهُور
وَقد رجح الْحَافِظ ابْن حجر رحمه الله أَيْضا فِي هَذِه الرسَالَة أَنه نَبِي، وَقَالَ:
সালাম—তিনি খিজিরের প্রতি প্রেরিত হননি। আর খিজিরকেও তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই কারণেই তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আপনি কি বনী ইসরাঈলের মুসা?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
আর মুহাম্মদ—উভয় জগতের (মানব ও জিন) সকলের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। যদি মুসা ও ঈসা জীবিত থাকতেন, তবে তাঁরাও তাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হতেন। আর যখন ঈসা আলাইহিস সালাম জমিনে অবতরণ করবেন, তখন তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত অনুযায়ীই শাসন করবেন। [] .
সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে তার অবস্থান মুসার সাথে খিজিরের অবস্থানের মতো, অথবা উম্মতের কারো জন্য এমনটা হওয়া বৈধ মনে করে, তবে সে যেন তার ইসলাম নবায়ন করে এবং সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করে। কেননা সে সম্পূর্ণরূপে ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যুত; আল্লাহর ওলি হওয়া তো দূরের কথা, বরং সে শয়তানের ওলিদের অন্তর্ভুক্ত।
আর এই বিষয়টিই এই সম্প্রদায়ের ধর্মদ্রোহী (زنديق) এবং সত্যনিষ্ঠ (أهل الاستقامة) ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্যকারী।
তৃতীয় মত: তিনি একজন নবী; এটিই অধিকাংশ (جمهور) গবেষক (محققين) আলেমদের অভিমত।
সা'লাবী বলেছেন: সকল মতানুসারে তিনি একজন নবী।
কুরতুবি বলেছেন: অধিকাংশের (جمهور) নিকট খিজির একজন নবী।
মুফাসসির হাবরি এবং আবু ওমর বলেছেন: তিনি একজন নবী। আলূসী অধিকাংশের (جمهور) নিকট তাঁর নবুওয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন।
হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার (রহ.)-ও এই রিসালায় তাঁকে নবী হিসেবে প্রাধান্য (رجح) দিয়েছেন এবং বলেছেন: