(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مجموع فيه عشرة أجزاء حديثية القسم: كتب السنة
الكتاب: مجموع فيه عشرة أجزاء حديثية
المؤلف: مجموعة من أصحاب الأجزاء
المحقق: نبيل سعد الدين جرار
الناشر: مكتبة البشائر الإسلامية - لبنان / بيروت [ضمن سلسلة مجاميع الأجزاء الحديثية (2)]
الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م
عدد الصفحات: 481
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
مصدر الكتاب/ ملفات مصححة من المحقق
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
দশটি হাদিস খণ্ডের সংকলন বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: দশটি হাদিস খণ্ডের সংকলন
লেখক: হাদিস খণ্ডসমূহের রচয়িতাবৃন্দ
সম্পাদক: নাবীল সাদউদ্দীন জাররার
প্রকাশক: মাকতাবাতুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - লেবানন / বৈরুত [হাদিস খণ্ড সংকলন সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (২)]
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮১
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
গ্রন্থের উৎস/ সম্পাদকের সংশোধিত পাণ্ডুলিপি
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مجاميع الأجزاء الحديثية (2)
مجموع فيه عشرة أجزاء حديثية
تحقيق
نبيل سعد الدين جرار
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1422 هـ - 2001 م
হাদিস বিষয়ক পুস্তিকাসমূহের সংকলন (২)
দশটি হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা সম্বলিত একটি সংকলন
তাহকিক ও সম্পাদনা
নাবিল সাদ আদ-দীন জাররার
দার আল-বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
منتخب من حديث الزهري
যুহরীর হাদীস থেকে নির্বাচিত অংশ
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
جزء فيه منتقى من منتخب حديث أبي بكر الزهري
قرأته على الشيخة الصالحة أم عبد الله زينب ابنة أحمد بن عبد الرحيم بن عبد الواحد الكمالية
عن أبي محمد عبد الخالق بن الأنجب بن المعمر النشتبري إجازة
عن وجيه بن طاهر كذلك في رمضان سنة سبع (وثلاثين؟) وسبعمئة
كتبه مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّه بْن أحمد ابن المحب المقدسي
আবু বকর আল-জুহরির নির্বাচিত হাদিস সংকলন থেকে সংগৃহীত একটি খণ্ড
আমি এটি পুণ্যবতী শাইখা উম্মে আবদুল্লাহ যাইনাব বিনতে আহমাদ ইবনে আবদুর রহিম ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-কামালিয়ার নিকট পাঠ করেছি
আবু মুহাম্মদ আবদুল খালিক ইবনুল আনজাব ইবনুল মুয়াম্মার আন-নাশতাবারীর ইজাজত বা অনুমতি সূত্রে
অনুরূপভাবে ওয়াজিহ ইবনে তাহিরের সূত্রে, সাতশত (সাইত্রিশ?) হিজরি সনের রমজান মাসে
এটি লিখেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনুল মুহিব আল-মাকদিসি।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
والحمد لله وحده
وصلى الله علي محمد وآله وسلم
أخبرنا الشيخ الإمام العالم أبو بكر القاسم بن عبد الله بن عمر بن أحمد الصفار إجازة، وأنبأنا عنه عمي الشيخ الإمام العالم ضِيَاءُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ رحمه الله: أخبركم أبو بكر وجيه بن طاهر بن محمد الشحامي قراءة: أخبرنا أبو حامد أحمد بن الحسن الأزهري قال: أخبرنا الشيخ الثقة أبو سعيد مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّه بْن حمدون التاجر قال: حدثنا أبو حامد أحمد بن محمد بن الحسن الشرقي قال: حدثنا محمد بن يحيى بن عبد الله بن خالد الذهلي:
1 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَبَنٍ قَدْ شِيبَ بِمَاءٍ، وَعَنْ يَمِينِهِ أَعْرَابِيٍّ وَعَنْ يَسَارِهِ أَبُو بَكْرٍ، فَشَرِبَ ثُمَّ أَعْطَى الأَعْرَابِيَّ، وَقَالَ: الأيمن فالأيمن.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
আল্লাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
শাইখ, ইমাম, আলিম আবু বকর আল-কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আস-সাফফার আমাদের ইজাযাহ (অনুমতি) সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের জানিয়েছেন আমার চাচা শাইখ, ইমাম, আলিম যিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মাকদিসী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন): তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ওয়াজিহ ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাহামি পঠনসূত্রে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-আযহারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শাইখ আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামদুন আত-তাজির, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হামিদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আশ-শারকি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ আদ-যুহলী:
১ - বিশর ইবনে উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পানি মিশ্রিত দুধ আনা হলো। তাঁর ডান দিকে ছিল এক গ্রাম্য ব্যক্তি এবং বাম দিকে ছিলেন আবু বকর। তিনি পান করলেন, অতঃপর সেই গ্রাম্য ব্যক্তিকে প্রদান করলেন এবং বললেন: "ডান দিকের ব্যক্তিই আগে, অতঃপর তার ডান দিকের জন।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
2 - وَبِهِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: أَنَّ رَجُلا مِنَ الأَعْرَابِ أَتَى رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُول اللَّهِ، مَتَى السَّاعَةُ؟ فَقَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهَا؟، فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ: مَا أَعْدَدْتُ لَهَا مِنْ كَبِيرٍ أَحْمَدُ عَلَيْهِ نَفْسِي، إِلا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَإِنَّكَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ.
২ - এবং তাঁর মাধ্যমেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আনাস বিন মালিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? গ্রাম্য ব্যক্তিটি বলল: আমি এর জন্য তেমন বড় কোনো প্রস্তুতি নিতে পারিনি যার জন্য আমি নিজের প্রশংসা করতে পারি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: নিশ্চয়ই তুমি তারই সাথে থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
3 - وَبِهِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تَحَاسَدُوا، وَلا تَقَاطَعُوا، وَلا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا، لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثٍ.
৩ - এবং একই সূত্রে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না এবং একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না; বরং হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে রাখা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
4 - حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَخِيهِ عَبِّد اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم / سُئِلَ عَنِ الْكَوْثَرِ، فَقَالَ: هُوَ نَهْرٌ أَعْطَانِيهِ اللَّهُ فِي الْجَنَّةِ، أَبْيَضُ مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، فِيهِ طُيُورٌ أَعْنَاقُهَا كَأَعْنَاقِ الْجُزُرِ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: يَا رَسُول اللَّهِ، إِنَّهَا لَنَاعِمَةٌ، قَالَ: أَكَلَتُهَا أَنْعَمُ مِنْهَا.
৪ - আমাদের নিকট আসিম ইবন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উওয়াইস বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি তার ভাই আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কাওসার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: "এটি একটি নদী যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন, এটি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি। এতে এমন পাখি রয়েছে যাদের ঘাড় উটের ঘাড়ের মতো।" তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো তো অবশ্যই অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট ও কোমল।" তিনি বললেন: "যারা সেগুলো খাবে তারা তাদের চেয়েও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও লাবণ্যময় অবস্থায় থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
5 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ عُفَيْرٍ الأَنْصَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ قَدْرَ حَوْضِي لِمَا بَيْنَ أَيْلَةَ وَصَنْعَاءَ مِنَ الْيَمَنِ، وَإِنَّ فِيهِ مِنَ الأَبَارِيقِ بِعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ.
৫ - সাঈদ ইবনে কাসীর ইবনে উফায়ের আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালেক আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার হাওযের আয়তন আইলা এবং ইয়ামেনের সানআর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান; আর এতে আসমানের নক্ষত্ররাজির সংখ্যার সমান পানপাত্র রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
6 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ أَنَسٌ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَوْ أَنَّ لابْنِ آدَمَ وَادِيًا مِنْ ذَهَبٍ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَادٍ آخَرُ، وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إِلا التُّرَابُ، وَاللَّهُ يَتُوبُ عَلَى مَنْ تَابَ.
৬ - এবং একই সনদে তিনি বলেন: আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: আদম সন্তানের জন্য যদি স্বর্ণের একটি উপত্যকা থাকত, তবে সে অবশ্যই কামনা করত যেন তার জন্য অপর আরেকটি উপত্যকা থাকে। আর মাটি ছাড়া অন্য কোনো কিছু তার মুখ পূর্ণ করবে না; এবং আল্লাহ তওবাকারীর তওবা কবুল করেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَحْمُودٌ: أَنَّهُ عَقَلَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَعَقَلَ مَجَّةً مجها من دلو في دارهم.
৭ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন: মাহমুদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্মরণ রেখেছেন এবং তিনি তাঁর (রাসূলের) করা একটি কুলিও স্মরণ রেখেছেন যা তিনি তাদের বাড়ির একটি বালতি থেকে নিয়ে করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
8 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: إِنِّي قَدْ أَنْكَرْتُ بَصَرِي، وَإِنَّ السُّيُولَ تَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ مَسْجِدِ قَوْمِي، وَلَوَدِدْتُ أَنَّكَ جِئْتَ فَصَلَّيْتَ فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذُهُ / مَسْجِدًا، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: أَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، قَالَ: فَمَرَّ
⦗ص: 30⦘ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَاسْتَتْبَعَهُ، فَانْطَلَقَ مَعَهُ، فَاسْتَأْذَنَ فَدَخَلَ، فَقَالَ وَهُوَ قَائِمٌ: أَيْنَ تُرِيدُ أَنْ أُصَلِّيَ؟، قَالَ: فَأَشَرْتُ لَهُ حَيْثُ أُرِيدُ. قَالَ: ثُمَّ حَبَسْتُهُ عَلَى خَزِيرٍ صَنَعْنَاهُ لَهُ، فَسَمِعَ أَهْلَ الْوَادِي - يَعْنِي أَهْلَ الدَّارِ - فَثَابُوا إِلَيْهِ حتى امتلأ البيت، فقال الرجل: أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدَّخْشَنِ؟ فَقَالَ رَجُلٌ: إِنَّ ذَلِكَ رَجُلٌ مُنَافِقٌ، لا يُحِبُّ اللَّهَ وَلا رَسُولَهُ، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: أَلا تَقُولُ هُوَ يَقُولُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ، فَقَالَ: يَا رَسُول اللَّهِ، أَمَّا نَحْنُ فَنَرَى وَجْهَهُ وَحَدِيثَهُ إِلَى الْمُنَافِقِينَ، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا: أَلا يَقُولُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ؟، قَالَ: بَلَى يَا رَسُول اللَّهِ، قَالَ: فَلَنْ يُوَافِي عَبْدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ إِلا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ.
قَالَ مَحْمُودٌ: فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ نَفَرًا فِيهِمْ أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ، فَقَالَ: مَا أَظُنُّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا قُلْتُ، قَالَ: فَآلَيْتُ إِنْ رَجَعْتُ إِلَى عِتْبَانَ أَنْ أَسْأَلَهُ، فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَوَجَدْتُهُ شَيْخًا كَبِيرًا إِمَامَ قَوْمِهِ وَقَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ، فَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَحَدَّثَنِيهِ كَمَا حَدَّثَنِيهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ. قَالَ مَعْمَرٌ: فَكَانَ الزُّهْرِيُّ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ قال: ثم نزلت
⦗ص: 31⦘ فرائض وأمور نَرَى أَنَّ الأَمْرَ انْتَهَى إِلَيْهَا، فمن استطاع أن لا يَغْتَرَّ فَلا يَغْتَرَّ.
৮ - এবং তাঁর সূত্রে তিনি বলেছেন: মাহমুদ ইবনে রবী‘ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইতবান ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললাম: আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি, আর বন্যার পানি আমার এবং আমার কওমের মসজিদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আমি একান্তভাবে কামনা করি যে আপনি যদি আমার বাড়িতে আসতেন এবং একটি স্থানে নামাজ আদায় করতেন যেটিকে আমি নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আল্লাহ চাইলে আমি তা করব।" তিনি (ইতবান) বলেন: এরপর নবী
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সাথে আসার অনুরোধ করলেন, আবু বকরও তাঁর সাথে চললেন। তিনি (নবী) অনুমতি চাইলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন। তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই বললেন: "তুমি কোথায় চাও যে আমি নামাজ আদায় করি?" তিনি (ইতবান) বলেন: আমি যে স্থানে চেয়েছিলাম সেদিকে তাঁর জন্য ইশারা করলাম। তিনি বলেন: এরপর আমরা তাঁর জন্য 'খাযির' নামক যে খাবারটি তৈরি করেছিলাম, তা খাওয়ার জন্য তাঁকে বসিয়ে রাখলাম। উপত্যকার অধিবাসীরা—অর্থাৎ সেই জনপদের লোকজন—খবর পেল এবং তারা সেখানে সমবেত হলো, এমনকি ঘরটি ভরে গেল। তখন এক ব্যক্তি বলল: "মালিক ইবনে দুখশুন কোথায়?" অন্য এক ব্যক্তি বলল: "সে তো এক মুনাফিক ব্যক্তি, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে না।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি কি দেখছো না যে সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলছে এবং এর মাধ্যমে সে আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করছে?" সে ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তার মুখ এবং তার আলাপ-আলোচনা মুনাফিকদের প্রতি নিবিষ্ট থাকতে দেখি।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবারও বললেন: "সে কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলছে না যার মাধ্যমে সে আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করছে?" সে বলল: "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "কিয়ামতের দিন এমন কোনো বান্দা উপস্থিত হবে না যে আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, অথচ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করা হয়নি।"
মাহমুদ বলেন: আমি এই হাদিসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম যাদের মধ্যে আবু আইয়ুব আনসারীও ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমার মনে হয় না যে আপনি যা বললেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বলেছেন।" মাহমুদ বলেন: আমি শপথ করলাম যে যদি আমি ইতবানের কাছে ফিরে যাই তবে তাঁকে এ বিষয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের ইমাম হিসেবে অতি বৃদ্ধ অবস্থায় পেলাম, যিনি ইতিপূর্বেই তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমি তাঁর পাশে বসলাম এবং এই হাদিসটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমার কাছে এটি সেভাবেই বর্ণনা করলেন যেভাবে প্রথমবার বর্ণনা করেছিলেন। মা'মার বলেন: যুহরী যখন এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: "এরপর
⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আরও অনেক ফরজ বিধান ও বিষয়াবলি অবতীর্ণ হয়েছে যেগুলোকে আমরা মনে করি শরীয়তের চূড়ান্ত রূপ। সুতরাং যার সামর্থ্য আছে সে যেন ধোঁকায় না পড়ে।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
9 - / وَبِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ قَالَ: مَرَرْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ جِبْرِيلُ جَالِسٌ فِي الْمَقَاعِدِ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ أَجَزْتُ، فَلَمَّا رَجَعْتُ وَانْصَرَفَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي: هَلْ رَأَيْتَ الَّذِي كَانَ مَعِي؟، قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ، وَقَدْ رَدَّ عَلَيْكَ السلام.
৯ - / এবং এই একই সূত্রে যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন আমির ইবন রাবিআ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হারিসাহ ইবনুন নুমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বসার স্থানে তাঁর সাথে বসা ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং অতিক্রম করে চলে গেলাম। অতঃপর যখন আমি ফিরে এলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হলেন, তখন তিনি আমাকে বললেন: "তুমি কি তাকে দেখেছ যে আমার সাথে ছিল?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি জিবরীল, আর তিনি তোমার সালামের উত্তর দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
10 - وبه عن الزهري، عن علي بن حسين: أن أول خبر قدم المدينة عَنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ امرأة من أهل يثرب تدعى فطيمة، كان لها تابع من الجن، فجاءها يوما فوقع على جدارها، فقالت: ما لك لا تدخل؟ قال: إنه قد بعث نبي يحرم الزنا، فحدثت بذلك المرأة عن تابعها من الجن، وكان أول خبر يحدث بالمدينة عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
১০ - এবং তাঁর সূত্রে যুহরি হতে, তিনি আলি বিন হুসাইন হতে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মদিনায় আসা সর্বপ্রথম সংবাদটি ছিল এই যে, ইয়াছরিবের অধিবাসী ফাতিমা নামে এক মহিলার জিনের মধ্য থেকে একজন অনুসারী ছিল। একদিন সে তার কাছে এসে তার দেয়ালের ওপর বসল। তখন মহিলাটি বলল: তোমার কী হলো যে তুমি ভেতরে প্রবেশ করছ না? সে বলল: নিশ্চয়ই এমন একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন যিনি ব্যভিচার হারাম করেছেন। অতঃপর মহিলাটি তার সেই জিন অনুসারীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই সংবাদটি বর্ণনা করেন। আর এটিই ছিল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মদিনায় বর্ণিত হওয়া প্রথম সংবাদ।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
11 - وَحَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا بَقْيَةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنِ الزَّبِيدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّه بْن عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُحَدِّثُ أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَرْسَلَ إِلَى نَبِيِّه مَلَكًا مِنَ الْمَلائِكَةِ مَعَهُ جِبْرِيلُ، فَقَالَ الْمَلَكُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ اللَّهَ يُخَيِّرُكَ بَيْنَ أَنْ تَكُونَ عَبْدًا نَبِيًّا، وَبَيْنَ أَنْ تَكُونَ مَلِكًا نَبِيًّا، فَالْتَفَتَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم إِلَى جِبْرِيلَ كَالْمُسْتَشِيرِ لَهُ، فَأَشَارَ / جِبْرِيلُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ أَنْ تَوَاضَعْ، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: لا، بَلْ أَكُونُ عَبْدًا نَبِيًّا، قَالَ: فَمَا أَكَلَ بَعْدَ تِلْكَ الْكَلِمَةِ طَعَامًا مُتَّكِئًا حَتَّى لَقِيَ رَبَّهُ.
১১ - ইয়াজিদ ইবনে আবদে রাব্বিহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকিয়াহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইদি থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস বর্ণনা করতেন যে, মহান আল্লাহ তাঁর নবীর নিকট ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা পাঠালেন, যাঁর সাথে জিবরীলও ছিলেন। সেই ফেরেশতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এই পছন্দ করার সুযোগ দিচ্ছেন যে, আপনি কি 'বান্দা নবী' হবেন নাকি 'বাদশাহ নবী' হবেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরামর্শপ্রার্থীর ন্যায় জিবরীলের দিকে তাকালেন। তখন জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর হাত দিয়ে বিনয়ী হওয়ার ইশারা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: না, বরং আমি 'বান্দা নবী' হব। বর্ণনাকারী বলেন: এই কথা বলার পর থেকে তিনি তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত আর কখনো হেলান দিয়ে খাবার গ্রহণ করেননি।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
12 - وَبِهِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: ⦗ص: 33⦘ سَمِعْتُ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لا يَدْخُلُ الجنة قاطع.
১২ - এবং তাঁর মাধ্যমেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
13 - وَبِهِ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ الثَّقَفِيِّ: أَنَّهُ شَكَى إِلَى رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعًا يَجِدُهُ مُنْذُ أَسْلَمَ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي تَأَلَّمَ مِنْ جَسَدِكَ فَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ ثَلاثًا، وَقُلْ: أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ سَبْعَ مَرَّاتٍ.
১৩ - এবং এই সূত্রেই: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন নাফি ইবনে জুবাইর ইবনে মুতঈম, তিনি উসমান ইবনে আবিল আস আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক ব্যথার অভিযোগ করলেন যা তিনি ইসলাম গ্রহণের সময় থেকে অনুভব করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তোমার শরীরের যে স্থানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে তোমার হাত রাখো এবং তিনবার বলো: আল্লাহর নামে। আর সাতবার বলো: আমি আল্লাহর এবং তাঁর কুদরতের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই অনিষ্ট থেকে যা আমি অনুভব করছি এবং যা হতে আমি সতর্ক থাকছি।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
14 - وَبِهِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عن الزهري قال: أخبرني القاسم بن محمد بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا وَهِيَ مُسْتَتِرَةٌ بِقِرَامٍ فِيهِ صُورَةُ تَمَاثِيلُ، فَتَلَوَّنَ وَجْهُهُ، ثُمَّ أَهْوَى إلى القرام فتهتكه بِيَدِهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُشَبِّهُونَ بِخَلْقِ الله.
১৪ - এবং তাঁর মাধ্যমেই: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মা'মার সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন: আমাকে কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর আস-সিদ্দীক সংবাদ দিয়েছেন যে, আয়েশা (রা.) তাঁকে অবহিত করেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় তিনি একটি নকশাকৃত পর্দা দিয়ে আড়াল করেছিলেন যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। তখন তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল, অতঃপর তিনি পর্দাটির দিকে হাত বাড়িয়ে তা নিজের হাত দিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে তাদের আযাবই সবচেয়ে কঠিন হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির সদৃশ তৈরি করে।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
15 - وَبِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: اجْتَمَعَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَكَعْبٌ، / فَجَعَلَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ كَعْبًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَجَعَلَ كَعْبٌ يُحَدِّثُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنِ الْكُتُبِ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: قَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: لِكُلِّ نبي دعوة مستجابة، وإني خبأت دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأُمَّتِي ⦗ص: 34⦘ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَقَالَ لَهُ كَعْبٌ: أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نَعَمْ.
১৫ - আর উক্ত সনদে যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা এবং কাব একত্রিত হলেন; / অতঃপর আবু হুরায়রা কাবকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস শোনাতে লাগলেন এবং কাব আবু হুরায়রাকে (পূর্ববর্তী) কিতাবসমূহ থেকে শোনাতে লাগলেন। আবু হুরায়রা বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নবীর জন্য একটি কবুলযোগ্য প্রার্থনা রয়েছে, আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য শাফায়াত (সুপারিশ) হিসেবে আমার প্রার্থনাটি জমা করে রেখেছি।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তখন কাব তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এটি শুনেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
16 - وَبِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: دَخَلَ رَهْطٌ مِنَ الْيَهُودِ عَلَى رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: السَّامُ عَلَيْكُمْ، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَفَهِمْتُهَا فَقُلْتُ: عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: مَهْلا يَا عَائِشَةُ، إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ، قُلْتُ: يَا رَسُول اللَّهِ، أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَدْ قُلْتُ وَعَلَيْكُمْ.
১৬ - এবং একই সনদে যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদল ইহুদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করল এবং বলল: আপনার মৃত্যু হোক। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম এবং বললাম: বরং তোমাদের ওপরই মৃত্যু এবং অভিশাপ বর্ষিত হোক। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আয়েশা! শান্ত হও; নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা যা বলেছে তা কি আপনি শোনেননি? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি তো বলেছি— এবং তোমাদের ওপরও।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
17 - وَبِهِ عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ، فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ: يَا رَسُول اللَّهِ، مَا أَكْثَرَ مَا تَتَعَوَّذُ مِنَ الْمَغْرَمِ، قَالَ: إِنَّهُ مَنْ غَرِمَ وَعَدَ فَأَخْلَفَ، وَحَدَّثَ فَكَذَبَ.
১৭ - এবং একই সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাপ ও ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তখন আয়েশা (রা.) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঋণ থেকে কত বেশিই না আশ্রয় প্রার্থনা করেন! তিনি বললেন: নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
18 - وَبِهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْفُثُ عَلَى نَفْسِهِ فِي الْمَرَضِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ. قَالَ مَعْمَرٌ: فَسَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ: كَيْفَ كَانَ يَنْفُثُ عَلَى نَفْسِهِ؟ قَالَ: كَانَ يَنْفُثُ عَلَى يَدَيْهِ ثُمَّ يمسح بهما وَجْهِهِ. قَالَتْ عَائِشَةُ: فَلَمَّا ثَقُلَ جَعَلَتْ / أَنْفُثُ عَلَيْهِ بِهِنَّ وَأَمْسَحُهُ بِيَدٍ نَفْسِهِ.
১৮ - এবং এই একই সনদে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুস্থতায় ইন্তেকাল করেন, তাতে তিনি মুআউওয়িযাত (আশ্রয় প্রার্থনার সূরাসমূহ) পাঠ করে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন। মা’মার বলেন: আমি যুহরীকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন? তিনি বললেন: তিনি তাঁর উভয় হাতের ওপর ফুঁ দিতেন, অতঃপর তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: যখন তাঁর অসুস্থতা প্রবল হলো, তখন আমি তাঁর ওপর সেগুলো পড়ে ফুঁ দিতাম এবং তাঁর নিজের হাত দিয়েই তাঁকে মাসাহ করে দিতাম।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
19 - وَبِهِ عَن عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ مَرَضٍ أَوْ وَجَعٍ يُصِيبُ الْمُؤْمِنَ إِلا كَانَ كَفَّارَةً لِذَنْبِهِ، حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا أَوِ النَّكْبَةِ يُنْكَبُهَا.
১৯ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মুমিন ব্যক্তি যে কোনো রোগ বা ব্যথায় আক্রান্ত হয়, তা অবশ্যই তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়; এমনকি তাকে বিদ্ধ করা একটি কাঁটা কিংবা তার ওপর আপতিত কোনো বিপদও (এর অন্তর্ভুক্ত)।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
20 - وَبِهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أغتسل أنا ورَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ فِيهِ قَدْرُ الْفَرْقِ.
২০ - একই সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম, যাতে প্রায় এক 'ফারাক' পরিমাণ পানি থাকত।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ ⦗ص: 36⦘ شِهَابٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ، يُحَدِّثُهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِذَا قُلْتُ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَدْ لَغَوْتَ.
২১ - আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ শিহাব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ হতে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কারিজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের হাদিস হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: জুমার দিনে ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন, তখন তুমি যদি তোমার সাথীকে বলো ‘চুপ করো’, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَبِيبٍ مَوْلَى عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ الْغِفَارِيِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النبي صلى الله عليه وسلم فسأله: أي العمل أفضل؟ قَالَ: إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَالَ: فَأَيُّ الْعِتَاقَةُ أَفْضَلُ؟ قَالَ: أَنْفَسُهَا، قَالَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ، قَالَ: فَتُعِينُ الضَّائِعَ وَتَصْنَعُ لأَخْرَقَ، قَالَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَسْتَطِعْ، قَالَ: فَدَعِ النَّاسَ مِنْ شَرِّكَ، فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقْ ⦗ص: 37⦘ بِهَا عَلَى نَفْسِكَ.
২২ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল যুবাইরের মুক্তদাস হাবিব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর থেকে, তিনি আবু মুরাবিহ আল-গিফারি থেকে এবং তিনি আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন আমলটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদ। তিনি বললেন: কোন দাস মুক্ত করা সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: যা মূল্যের দিক থেকে অধিক দামী। তিনি বললেন: আপনি কি মনে করেন যদি আমি তা (সামর্থ্য) না পাই? তিনি বললেন: তবে তুমি কোনো অসহায়কে সাহায্য করো অথবা কোনো অদক্ষ ব্যক্তির কাজ করে দাও। তিনি বললেন: আপনি কি মনে করেন যদি আমি তাও করতে সক্ষম না হই? তিনি বললেন: তবে মানুষকে তোমার অনিষ্ট থেকে বিরত রাখো, কেননা এটি একটি সাদাকা যা তুমি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ তোমার নিজের জন্য করলে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبِ بْنِ عَطِيَّةَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْزُوقُ بْنُ أَبِي الْهُذَيْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ: حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قال: قال / رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ، أَوْ وَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ، أَوْ مُصْحَفًا وَرَّثَهُ، أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ، أَوْ بَيْتًا لابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ، أَوْ نَهْرًا أَكْرَاهُ، أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ تَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ موته.
২৩ - মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াহাব ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারযূক ইবনে আবিল হুযায়েল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আয-যুহরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আবদুল্লাহ আল-আগারর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজসমূহের মধ্য থেকে যা তার নিকট পৌঁছাবে তা হলো—এমন ইলম (জ্ঞান) যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, অথবা নেক সন্তান যাকে সে রেখে গেছে, অথবা মুসহাফ (কুরআন) যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছে, অথবা কোনো মসজিদ যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা মুসাফিরের জন্য কোনো গৃহ যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা কোনো নদী যা সে খনন করেছে, অথবা এমন সদকা যা সে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় নিজের সম্পদ থেকে দান করেছে; এগুলো তার মৃত্যুর পর তার নিকট পৌঁছাবে।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ، فَلا تُحَرِّكُوا الْحَصَى.
২৪ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আবু আহওয়াস থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন রহমত তার অভিমুখী হয়; সুতরাং তোমরা কঙ্কর নাড়াচাড়া করো না।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
25 - حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ: حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ أَبَا الأَحْوَصِ يُحَدِّثُنَا فِي مَجْلِسِ سَعِيدِ بْنِ ⦗ص: 38⦘ الْمُسَيِّبِ وَابْنِ الْمُسَيِّبِ جَالِسٌ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يَزَالُ اللَّهُ مُقْبِلا عَلَى الْعَبْدِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ، فَإِذَا صَرَفَ وَجْهَهُ انْصَرَفَ عنه.
২৫ - আমাদের নিকট নুয়াইম বিন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, যুহরী থেকে, তিনি আবু আল-আহওয়াসকে সাঈদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ মুসায়্যিবের মজলিসে আমাদের নিকট বর্ণনা করতে শুনেছেন এবং ইবনুল মুসায়্যিব উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি আবু যার-কে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার প্রতি অভিমুখী থাকেন যতক্ষণ না সে অন্য কোনো দিকে ভ্রূক্ষেপ করে, অতঃপর যখন সে তার চেহারা ফিরিয়ে নেয়, তখন আল্লাহও তার থেকে বিমুখ হন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফীহি আশারাতু আজযাইন হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
26 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ قَالَ: حَدَّثَنا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزَّبِيدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يُبْعَثُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي عَلَى تَلٍّ، وَيَكْسُونِي رَبِّي حُلَّةً خَضْرَاءَ، ثُمَّ يُؤْذَنُ لِي فَأَقُولُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ أَقُولَ، فَذَلِكَ الْمَقَامُ الْمَحْمُودُ.
২৬ - ইয়াজিদ ইবনে আবদ রাব্বিহি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হারব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জুবাইদী থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক থেকে, তিনি কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামতের দিন মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন আমি এবং আমার উম্মত একটি টিলার ওপর অবস্থান করব। আর আমার পালনকর্তা আমাকে একটি সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। অতঃপর আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে, তখন আমি তা-ই বলব যা আল্লাহ ইচ্ছা করবেন আমি বলি। আর সেটিই হলো মাকামে মাহমুদ।