(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: -)
حديث مصعب الزبيري   (أبو القاسم البغوي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حديث مصعب بن عبد الله الزبيري

المؤلف: أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز بن المَرْزُبان بن سابور بن شاهنشاه البغوي (ت 317هـ)

المحقق: صالح عثمان اللحام

الناشر: الدار العثمانية - الأردن / عمان

الطبعة: الأولى، 1424هـ - 2003م

عدد الصفحات: 144

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসআব আল-যুবাইরীর হাদিস   (আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুসআব বিন আব্দুল্লাহ আল-যুবাইরীর হাদিস

লেখক: আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-মারযুবান বিন সাবুর বিন শাহানশাহ আল-বাগাওয়ী (মৃ. ৩১৭ হিজরি)

সম্পাদক: সালেহ উসমান আল-লাহহাম

প্রকাশক: আদ-দার আল-উসমানিয়া - জর্ডান / আম্মান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌حَدِيث مُصعب

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر برجمتك قَرَأت على الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم أبي طَاهِر أَحْمد بن عبد الله بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن عبد القاهر الْخَطِيب الطوسي الْموصِلِي أبقاه الله فِي جُمَادَى الْآخِرَة سنة تسع وَتِسْعين وَخمْس مائَة فِي منزله بالموصل قلت أخْبرك الشَّيْخ الإِمَام أَبُو نصر أَحْمد بن عبد القاهر الطوسي حمدَان رحمه الله قِرَاءَة عَلَيْهِ أخبرنَا الشَّيْخ الصائن السديد أَبُو الْفَتْح عبد السَّلَام بن أَحْمد بن إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الْمُقْرِئ الْهَرَوِيّ الْمَعْرُوف ببكيرة بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بهراة فَأقر بِهِ
মুসআবের হাদিস

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে প্রতিপালক, আপনার অনুগ্রহে সহজ করে দিন। আমি শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবু তাহির আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাহির আল-খতিব আত-তুসি আল-মাওসিলির নিকট পাঠ করেছি—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—৫৯৯ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে, মাওসিল শহরে তাঁর বাসভবনে। আমি বললাম, শায়খ ইমাম আবু নাসর আহমদ বিন আব্দুল কাহির আত-তুসি হামদান (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) কি আপনার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে? তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নিষ্ঠাবান ও সুদৃঢ় শায়খ আবুল ফাতহ আব্দুস সালাম বিন আহমদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আল-মুকরি আল-হারাউয়ি, যিনি ‘বাকীরা’ নামে পরিচিত; হেরাত শহরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, অতঃপর তিনি তা অনুমোদন করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَقَالَ نعم أَنا الشَّيْخ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أبي مَسْعُود عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد الْفَارِسِي الْفَقِيه قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنا أسمع قَالَ أَنا أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن بن أَحْمد بن مُحَمَّد الْأنْصَارِيّ الْمَعْرُوف بِابْن أبي شُرَيْح قَالَ أَنا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الْعَزِيز
এবং তিনি বললেন: হ্যাঁ, শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি মাসউদ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-ফকিহ তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি—যিনি ইবনে আবি শুরাইহ নামে পরিচিত—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الْبَغَوِيّ بِبَغْدَاد سنة سبع عشرَة وثلاثمائة نَا مُصعب بن عبد الله بن مُصعب بن ثَابت بن عبد الله ابْن الزبير بن الْعَوام بن خويلد بن أَسد إملاء فِي شعْبَان سنة ثَمَانِي وَعشْرين وَمِائَتَيْنِ
তিনশত সতেরো হিজরি সালে বাগদাদে আল-বাগভী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুসআব বিন আবদুল্লাহ বিন মুসআব বিন সাবিত বিন আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর বিন আল-আওয়াম বিন খুওয়াইলিদ বিন আসাদ দুইশত আটাশ হিজরি সালের শাবান মাসে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
1 - حَدثنَا هِشَام بن عبد الله بن عِكْرِمَة المَخْزُومِي عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ التمسوا الرزق فِي خبايا الأَرْض
১ - হিশাম বিন আব্দুল্লাহ বিন ইকরিমা আল-মাখজুমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা জমিনের লুকায়িত ভাণ্ডারে রিজিক অন্বেষণ করো।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
2 - حَدثنِي عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد الدَّرَاورْدِي عَن أُسَامَة بن زيد عَن عبد الله بن عِكْرِمَة عَن عبد الله بن عبد الله بن عمر عَن أَبِيه عَن سبيعة الأسْلَمِيَّة أَنَّهَا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من اسْتَطَاعَ أَن يَمُوت بِالْمَدِينَةِ فليمت بهَا فَإِنَّهُ لن يَمُوت بهَا أحد إِلَّا كنت لَهُ شَهِيدا أَو شَفِيعًا يَوْم الْقِيَامَة
২ - আমার নিকট আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দী বর্ণনা করেছেন উসামা বিন যায়েদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইকরিমা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুবায়আহ আল-আসলামিয়্যাহ থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম হয়, সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। কেননা, সেখানে যে ব্যক্তিই মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣١)
3 - حَدثنِي أبي عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن جَابر قَالَ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَلا أخْبركُم على من تحرم النَّار غَدا على كل هَين لين قريب سهل

 

4 - حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن سعد عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق عَن يحيى بن عباد عَن عَائِشَة قَالَت تهجد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي بَيته وتهجد عباد
৩ - আমার পিতা আমাকে হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমি কি তোমাদেরকে জানাব না যে আগামীকাল কার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করা হয়েছে? (সে হলো) প্রত্যেক এমন ব্যক্তি যে নম্র, কোমল, মানুষের ঘনিষ্ঠ এবং সহজ স্বভাবের।"

 

৪ - ইব্রাহিম ইবনে সাদ আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঘরে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং আব্বাদও তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
فِي بني الْأَشْهَل إِلَى الْمَسْجِد قَالَت فَسمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم صَوته فَقَالَ يَا عَائِشَة إِن هَذَا صَوت عباد قَالَت نعم

قَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْ عبادا

 

5 - حَدثنَا عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد عَن يزِيد بن عبد الله بن أُسَامَة بن الْهَاد عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ عَن سعيد بن الصَّلْت عَن سُهَيْل ابْن الْبَيْضَاء قَالَ بَينا نَحن نسير مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي سفر وَسُهيْل ابْن الْبَيْضَاء رَدِيف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا سُهَيْل ابْن الْبَيْضَاء وَرفع صَوته مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا فَعرف من خَلفه وَمن قدامه أَنه يريدهم فحبس من كَانَ بَين يَدَيْهِ ولحقه من كَانَ خَلفه حَتَّى اجْتَمعُوا
বনু আশহাল গোত্রে মসজিদের দিকে। তিনি বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং বললেন, হে আয়েশা! নিশ্চয়ই এটি আব্বাদের কণ্ঠস্বর। তিনি বললেন, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনি আব্বাদের প্রতি দয়া করুন।

 

৫ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসামা ইবনুল হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুস সালত থেকে, তিনি সুহাইল ইবনুল বায়দা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে চলছিলাম এবং সুহাইল ইবনুল বায়দা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে সওয়ারিতে বসা ছিলেন। তখন তিনি উচ্চস্বরে দুই বা তিনবার ডাকলেন, হে সুহাইল ইবনুল বায়দা! এতে তাঁর সামনের ও পিছনের সকলে বুঝতে পারল যে তিনি তাদেরই উদ্দেশ্য করছেন। ফলে যারা সামনে ছিল তারা থেমে গেল এবং যারা পিছনে ছিল তারা এসে তাঁর সাথে মিলিত হলো, এমনকি তারা সকলে একত্রিত হলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله حرم الله عَلَيْهِ النَّار وَأوجب لَهُ الْجنَّة

 

6 - قَالَ الْبَغَوِيّ حدّثنَاهُ يحيى بن عبد الحميد أَنا عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد عَن يزِيد بن الْهَاد عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ عَن سعيد بن الصَّلْت عَن عبد الله بن أنيس عَن سُهَيْل ابْن
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেবেন।"

 

৬ - বাগাবী বলেন, আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামীদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ, তিনি ইয়াযীদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আত-তৈমী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আস-সলত থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে...
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الْبَيْضَاء قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من مَاتَ يشْهد أَن إِلَه إِلَّا الله دخل الْجنَّة

7 - حَدثنِي مَالك بن أنس عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْوَلَاء لمن أعتق

 

8 - حَدثنِي مَالك عَن إِسْحَاق بن عبد الله بن أبي طَلْحَة عَن أنس بن مَالك أَن جدته مليكَة دعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لطعام صَنعته لَهُ فَأكل مِنْهُ ثمَّ قَالَ قومُوا فلأصلي بكم فَقُمْت إِلَى حَصِير لنا قد اسود من طول مَا لبس فنضحته بِمَاء فَقَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقمت أَنا واليتيم وَرَاءه والعجوز من وَرَائِنَا فصلى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثمَّ انْصَرف

 

9 - حَدثنَا الدَّرَاورْدِي عَن عبيد الله بن عمر عَن يُونُس بن عبيد عَن الْحسن عَن عبد الرَّحْمَن بن سَمُرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا عبد الرَّحْمَن لَا تسْأَل الْإِمَارَة فَإنَّك إِن سَأَلتهَا لم تعن عَلَيْهَا وَإِن أَخَذتهَا بِغَيْر مَسْأَلَة أعنت عَلَيْهَا وَإِذا حَلَفت على يَمِين
আল-বায়দা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

৭ - মালিক ইবনে আনাস নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: অভিভাবকত্ব (ওয়ালা) কেবল তার জন্যই যে মুক্ত করেছে।

 

৮ - মালিক ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর দাদী মুলাইকাহ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর তৈরিকৃত খাবারের দাওয়াত দিলেন। তিনি তা থেকে আহার করলেন, এরপর বললেন: তোমরা ওঠো, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। (আনাস বলেন) অতঃপর আমি আমাদের একটি পাটির দিকে দাঁড়ালাম যা দীর্ঘদিনের ব্যবহারের ফলে কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি তাতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং আমি ও একজন এতিম বালক তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম, আর বৃদ্ধা আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর প্রস্থান করলেন।

 

৯ - আদ-দারাওয়ার্দি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সামুরা থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হে আবদুর রহমান! তুমি নেতৃত্বের (ইমারাত) প্রার্থনা করো না। কারণ, তুমি যদি চাওয়ার পর তা লাভ করো, তবে তোমাকে তার ওপর একাকী ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি না চেয়েই তা লাভ করো, তবে তোমাকে তাতে সাহায্য করা হবে। আর যখন তুমি কোনো কসম করবে...
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
فَرَأَيْت خيرا مِنْهَا فَكفر عَن يَمِينك وائت الَّذِي هُوَ خير

 

10 - حَدثنِي الضَّحَّاك بن عُثْمَان بن الضَّحَّاك عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي الزِّنَاد قَالَ قَالَ هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن أَسمَاء بنت أبي بكر قَالَت قَالَ زيد بن عَمْرو بن نفَيْل عزلت الْجِنّ والجنان عني كَذَلِك يفعل الْجلد الصبور فَلَا الْعُزَّى أدين وَلَا ابنتيها وَلَا صنمي بني طسم أدير أربا وَاحِدًا أم ألف رب أدين إِذا تقسمت الْأُمُور وَلَا غنما أدين وَكَانَ رَبًّا لنا فِي الدَّهْر إِذْ حلمي حقير ألم تعلم بِأَن الله أفنى رجَالًا كَانَ شَأْنهمْ الْفُجُور وَأبقى آخَرين ببر قوم فيربو مِنْهُم الطِّفْل الصَّغِير
যদি তুমি তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখো, তবে তোমার শপথের কাফফারা দাও এবং যা উত্তম তা-ই করো।

 

১০ - দাহহাক বিন উসমান বিন দাহহাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবিয যিনাদ থেকে, তিনি বলেছেন হিশাম বিন উরওয়াহ তার পিতা থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবি বকর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইল বলেছেন: আমি জিন ও জিনদের উপাসনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেছি; ধৈর্যশীল ও সুদৃঢ় ব্যক্তি এমনই করে থাকে। আমি উযযার দ্বীন অনুসরণ করি না এবং তার দুই কন্যারও না, আর তাসম গোত্রের দুই প্রতিমার চারপাশ দিয়েও আমি আবর্তন করি না। যখন বিষয়গুলো বিভক্ত হয়ে যায়, তখন আমি কি একজন রবের আনুগত্য করব নাকি হাজারো রবের? আমি গনামের উপাসনা করি না, অথচ সুদীর্ঘ কাল সে আমাদের রব ছিল যখন আমার প্রজ্ঞা ছিল অতি নগণ্য। তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ এমন সব লোকদের ধ্বংস করেছেন যাদের স্বভাব ছিল পাপাচার? আর তিনি অন্যদের তাদের কওমের পুণ্যকর্মের কারণে অবশিষ্ট রেখেছেন, যার ফলে তাদের মাঝে ছোট শিশুরাও বড় হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَبينا الْمَرْء يفتر ثاب يَوْمًا كَمَا يتروح الْغُصْن النَّضِير قَالَت فَقَالَ ورقة بن نَوْفَل رشدت وأنعمت ابْن عَمْرو وَإِنَّمَا تجنبت تنورا من النَّار حاميا لدينك رَبًّا لَيْسَ رب كمثله وتركك جنان الخبال كَمَا هيا أَقُول إِذا هَبَطت أَرضًا مخوفة حنانيك لَا تظهر عَليّ الأعاديا حنانيك إِن الْجِنّ كَانَت رجاؤهم وَأَنت إلهي رَبنَا ورجائيا لتدركن الْمَرْء رَحْمَة ربه وَإِن كَانَ تَحت الأَرْض سبعين وَاديا أدين لرب يستجيب وَلَا أرى أدين لما لَا يسمع الدَّهْر دَاعيا أَقُول إِذا صليت فِي كل بيعَة تَبَارَكت قد أكثرت بِاسْمِك دَاعيا

11 - حَدثنِي أبي عَن مُوسَى بن عقبَة عَن أبي حَبِيبَة مولى الزبير وَهُوَ جد مُوسَى بن عقبَة من قبل أمه وَهُوَ مُوسَى بن عقبَة بن أبي عَيَّاش قَالَ أَبُو حَبِيبَة أَتَانَا ابْن عَبَّاس بِالْبَصْرَةِ فِي يَوْم شَدِيد الْحر فَلَمَّا رَآهُ الزبير قَالَ مرْحَبًا بِابْن لبَابَة أزائرا أم سفيرا
মানুষ যখন পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে, একদিন সে আবার সতেজ হয়ে ওঠে যেমন সজীব শাখা বাতাসে দোল খায়। তিনি বলেন, অতঃপর ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বললেন: হে ইবনে আমর! তুমি সঠিক পথ পেয়েছ এবং অনুগ্রহ লাভ করেছ। তুমি তোমার দ্বীনের জন্য আগুনের উত্তপ্ত চুল্লি পরিহার করেছ। এমন এক প্রতিপালকের ইবাদত করছ যার সদৃশ কোনো প্রতিপালক নেই। আর তুমি ভ্রষ্টতা ও উন্মাদনা বর্জন করেছ যেমনটি তা ছিল। আমি বলি যখন কোনো ভীতিসঙ্কুল ভূমিতে পদার্পণ করি: তোমার দয়া প্রার্থনা করি, তুমি শত্রুদের আমার ওপর জয়ী করো না। তোমার করুণা যাঞ্চা করি; জিনেরা যাদের ওপর আশা রাখত তারা আজ নেই, অথচ তুমিই আমার ইলাহ, আমাদের রব এবং আমার আশার স্থল। মানুষের প্রতি তার রবের রহমত অবশ্যই পৌঁছে যাবে, যদিও সে মাটির নিচে সত্তরটি উপত্যকা গভীরে থাকে। আমি সেই রবের আনুগত্য করি যিনি সাড়া দেন, আর আমি তার আনুগত্য করি না যে আহ্বানকারীর ডাক কখনো শুনতে পায় না। আমি যখনই কোনো ইবাদতখানায় প্রার্থনা করি তখন বলি: তুমি বরকতময়, তোমার নামে আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

১১ - আমার পিতা মূসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি জুবাইরের মুক্তদাস আবু হাবিবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি মূসা ইবনে উকবার মাতামহ এবং তিনি মূসা ইবনে উকবা ইবনে আবি আইয়াশ। আবু হাবিবাহ বলেন: অত্যন্ত উত্তপ্ত এক দিনে ইবনে আব্বাস বসরায় আমাদের কাছে আসলেন। যখন জুবাইর তাঁকে দেখলেন, তিনি বললেন: ইবনে লুবাবাকে স্বাগতম! আপনি কি দর্শনার্থী হিসেবে এসেছেন নাকি দূত হিসেবে?
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
قَالَ كل ذَلِك أَرْسلنِي ابْن خَالك يَقُول لَك مَا عدا مِمَّا بدا عَرفتنِي بِالْمَدِينَةِ وأنكرتني بِالْبَصْرَةِ قَالَ فَجعل الزبير ينقر بالمروحة فِي الأَرْض ثمَّ رفع إِلَيْهِ رَأسه فَقَالَ نرفع لكم الْمَصَاحِف غَدا فَمَا أحلّت حللنا

وَمَا حرمت حرمنا

قَالَ فَانْصَرَفت فناداني ابْن الزبير وَهُوَ فِي جَانب الْبَيْت يَا ابْن عَبَّاس أقبل عَليّ قَالَ ابْن عَبَّاس فَأَقْبَلت عَلَيْهِ وَأَنا أكره كَلَامه قَالَ مُصعب أَشك فِي قَول ابْن عَبَّاس فِي حَدِيث من هُوَ فَقَالَ عبد الله بن الزبير بَيْننَا دم خَليفَة وعهد خَليفَة وانفراد وَاحِد واجتماع ثَلَاثَة وَأم مبرورة ومشاورة الْعَامَّة أَو قَالَ الْجَمَاعَة

 

12 - حَدثنِي مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قطع فِي ثمن مجن ثمنه ثَلَاثَة دَرَاهِم
তিনি বললেন, এই সবই তোমার মামাতো ভাই আমাকে দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি তোমাকে বলছেন, কী এমন ঘটল যা পূর্বে ছিল না? তুমি আমাকে মদিনায় চিনেছিলে আর বসরায় আমাকে অস্বীকার করছ। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তখন জুবায়ের একটি পাখা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগলেন। এরপর তিনি তার দিকে মাথা তুলে বললেন, আমরা আগামীকাল তোমাদের জন্য মাসহাফসমূহ উত্তোলন করব। অতঃপর তা যা হালাল করবে আমরা তা হালাল বলে গণ্য করব

এবং তা যা হারাম করবে আমরা তা হারাম বলে গণ্য করব

তিনি বলেন, এরপর আমি ফিরে আসছিলাম, তখন ইবনে জুবায়ের ঘরের এক পাশ থেকে আমাকে ডাকলেন, হে ইবনে আব্বাস! আমার দিকে এগিয়ে আসো। ইবনে আব্বাস বললেন, আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম অথচ আমি তার সাথে কথা বলা অপছন্দ করছিলাম। মুসআব বলেন, ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় হাদীসটি কার সম্পর্কে ছিল তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের বললেন, আমাদের মাঝে রয়েছে একজন খলীফার রক্ত, একজন খলীফার প্রতিশ্রুতি, একজনের নিঃসঙ্গতা ও তিনজনের একতা এবং একজন পুণ্যবতী মা ও সাধারণ মানুষের পরামর্শ বা তিনি বলেছিলেন জামাতের পরামর্শ।

 

১২ - মালিক আমার কাছে নাফে হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি ঢালের মূল্যের কারণে (চুরির দায়ে) হাত কেটেছিলেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
13 - حَدثنِي مَالك عَن أبي الزبير الْمَكِّيّ عَن جَابر بن عبد الله قَالَ نحرنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام الْحُدَيْبِيَة الْبَدنَة عَن سَبْعَة وَالْبَقَرَة عَن سَبْعَة

 

14 - حَدثنِي مَالك عَن نَافِع عَن عبد الله بن عمر عَن حَفْصَة زوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَت للنَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا شَأْن النَّاس حلوا وَلم تحل من عمرتك فَقَالَ إِنِّي لبدت رَأْسِي وقلدت هَدْيِي فَلَا أحل حَتَّى أنحر

 

15 - حَدثنِي مَالك عَن جَعْفَر بن مُحَمَّد عَن أَبِيه عَن جَابر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نحر هَدْيه بِيَدِهِ وَنحر بعضه غَيره

 

16 - حَدثنِي مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْ المحلقين

قَالُوا والمقصرين يَا رَسُول الله قَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْ المحلقين

قَالُوا والمقصرين يَا رَسُول الله قَالَ والمقصرين
13 - মালিক আমাকে আবুয যুবায়ের আল-মাক্কী থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হুদায়বিয়ার বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছি।

 

14 - মালিক আমাকে নাফে’ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: মানুষের কী হলো যে তারা ইহরাম মুক্ত হয়ে গেল অথচ আপনি আপনার উমরা থেকে ইহরাম মুক্ত হলেন না? তখন তিনি বললেন: আমি আমার মাথার চুল জমিয়ে নিয়েছি এবং আমার কোরবানির পশুকে হার পরিয়ে চিহ্নিত করেছি, তাই পশু কোরবানি না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম মুক্ত হব না।

 

15 - মালিক আমাকে জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোরবানির পশু নিজ হাতে জবেহ করেছেন এবং এর কিছু অংশ অন্য কেউ জবেহ করেছেন।

 

16 - মালিক আমাকে নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে আল্লাহ! আপনি মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন।

তাঁরা বললেন: এবং চুল ছোটকারীদের প্রতিও, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন।

তাঁরা বললেন: এবং চুল ছোটকারীদের প্রতিও, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: এবং চুল ছোটকারীদের প্রতিও।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
17 - وبإسناده عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل الْكَعْبَة هُوَ وَأُسَامَة ابْن زيد وبلال وَعُثْمَان بن طَلْحَة الحَجبي فأغلقوا عَلَيْهِم وَمكث فِيهَا قَالَ ابْن عمر فَسَأَلت بِلَالًا حِين خرج مَاذَا صنع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ جعل عمودا عَن يسَاره وعمودين عَن يَمِينه وَثَلَاثَة أعمدة وَرَاءه وَكَانَ الْبَيْت يَوْمئِذٍ على سِتَّة أعمدة ثمَّ صلى

 

18 - حَدثنِي مَالك عَن ابْن شهَاب عَن سَالم عَن عبد الله بن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صلى الْمغرب وَالْعشَاء بِالْمُزْدَلِفَةِ جَمِيعًا

 

19 - حَدثنِي مَالك عَن مُوسَى بن عقبَة عَن كريب مولى ابْن عَبَّاس أرَاهُ عَن أُسَامَة بن زيد أَنه سَمعه يَقُول دفع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ بِالشعبِ فَنزل فَبَال ثمَّ تَوَضَّأ وَلم يسبغ الْوضُوء فَقلت لَهُ الصَّلَاة يَا رَسُول الله فَقَالَ الصَّلَاة أمامك
17 - এবং তাঁরই সূত্রে বর্ণিত, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার ভেতরে প্রবেশ করলেন; তাঁর সাথে ছিলেন উসামা বিন যায়েদ, বিলাল এবং উসমান বিন তালহা আল-হাজাবি। অতঃপর তাঁরা নিজেদের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং সেখানে অবস্থান করলেন। ইবনে উমর বলেন, বিলাল যখন বের হয়ে আসলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে কী করেছেন? তিনি বললেন, তিনি একটি স্তম্ভ তাঁর বাম দিকে, দুটি স্তম্ভ তাঁর ডান দিকে এবং তিনটি স্তম্ভ তাঁর পেছনে রাখলেন—সেই সময় কাবা ঘরটি ছয়টি স্তম্ভের ওপর ছিল—অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন।

 

18 - মালিক আমার কাছে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

 

19 - মালিক আমার কাছে মূসা বিন উকবা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস কুরাইব থেকে, আর তিনি উসামা বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রওনা হলেন, এমনকি যখন তিনি গিরিপথে পৌঁছালেন, তখন অবতরণ করে প্রস্রাব করলেন। অতঃপর তিনি ওযু করলেন কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গভাবে করলেন না। আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, সালাত! তিনি বললেন, সালাতের স্থান তোমার সামনে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
فَركب فَلَمَّا جَاءَ الْمزْدَلِفَة نزل فَتَوَضَّأ فأسبغ الْوضُوء ثمَّ أُقِيمَت الصَّلَاة فصلى الْمغرب ثمَّ أَنَاخَ كل إِنْسَان بعيره فِي منزله ثمَّ أُقِيمَت الْعشَاء فَصلاهَا وَلم يصل بَينهمَا شَيْئا

 

20 - حَدثنِي مَالك عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة زوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم ذكرت صَفِيَّة بنت حييّ فَقيل إِنَّهَا قد حَاضَت قَالَت فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَعَلَّهَا حابستنا

فَقيل يَا رَسُول الله إِنَّهَا قد أفاضت قَالَ فَلَا إِذن

 

21 - حَدثنَا مَالك عَن عبد الْكَرِيم بن مَالك الْجَزرِي عَن عبد الرَّحْمَن ابْن أبي ليلى عَن كَعْب بن عجْرَة أَنه كَانَ مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فآذاه الْقمل فِي رَأسه فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم احْلق رَأسك وصم ثَلَاثَة أَيَّام أَو أطْعم سِتَّة مَسَاكِين مَدين مَدين لكل إِنْسَان أَو انسك شَاة أَي ذَلِك فعلت أَجْزَأَ عَنْك
অতঃপর তিনি সওয়ার হলেন। যখন তিনি মুযদালিফায় পৌঁছালেন, তখন নামলেন এবং উজু করলেন। তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে উজু সম্পাদন করলেন। তারপর সালাতের ইকামত দেওয়া হলো এবং তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ উট তার অবস্থানে বসিয়ে দিল। এরপর এশার ইকামত দেওয়া হলো এবং তিনি তা আদায় করলেন। তিনি এই দুই সালাতের মাঝে অন্য কোনো সালাত আদায় করেননি।

 

২০ - মালিক আমাদের নিকট হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই-এর কথা আলোচনা করা হলো এবং জানানো হলো যে, তিনি ঋতুবতী হয়েছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সম্ভবত সে আমাদের আটকে দেবে।

বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো তাওয়াফে ইফাযাহ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বললেন: তাহলে আর নয় (অর্থাৎ আর আটকাবে না)।

 

২১ - মালিক আমাদের নিকট আব্দুল করীম ইবনে মালিক আল-জাযারি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তখন মাথার উকুনের কারণে তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি তোমার মাথা মুণ্ডন করে ফেলো এবং তিন দিন সিয়াম পালন করো অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াও—প্রত্যেক ব্যক্তিকে দুই মুদ করে, অথবা একটি বকরি কুরবানি করো। এগুলোর মধ্যে তুমি যা-ই করবে, তা তোমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤١)
22 - حَدثنَا مَالك بن أنس عَن حميد بن قيس الْمَكِّيّ عَن مُجَاهِد عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن كَعْب بن عجْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ لَعَلَّك آذَاك هوامك

فَقلت نعم يَا رَسُول الله

فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم احْلق رَأسك وصم ثَلَاثَة أَيَّام وَأطْعم سِتَّة مَسَاكِين أَو انسك شَاة

 

23 - حَدثنِي مَالك عَن عَطاء الْخُرَاسَانِي أَنه قَالَ حَدثنِي شيخ بِالْكُوفَةِ عَن كَعْب بن عجْرَة أَنه قَالَ جَاءَنِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَنا أنفخ تَحت قدر لِأَصْحَابِي وَقد أَحْسبهُ قَالَ قملت فَأخذ بجمتي ثمَّ قَالَ احْلق هَذَا وصم ثَلَاثَة أَيَّام أَو أطْعم سِتَّة مَسَاكِين

وَقد كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم علم أَن لَيْسَ عِنْدِي مَا أنسك

 

24 - حَدثنِي مَالك عَن ابْن شهَاب عَن عِيسَى بن طَلْحَة بن عبيد الله عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ أَنه قَالَ وقف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حجَّة الْوَدَاع للنَّاس يسألونه
২২ - মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট হুমাইদ ইবনে কায়েস আল-মাক্কী থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে এবং তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "সম্ভবত তোমার মাথার উকুন তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে?"

আমি বললাম, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!"

তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তোমার মাথা মুণ্ডন করে ফেলো এবং তিন দিন রোজা রাখো অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াও অথবা একটি বকরি কোরবানি করো।"

 

২৩ - মালিক আমাদের নিকট আতা আল-খুরাসানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, কুফার একজন প্রবীণ ব্যক্তি আমার নিকট কাব ইবনে উজরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যখন আমি আমার সাথীদের জন্য একটি ডেগের নিচে ফুঁ দিচ্ছিলাম, বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন আমার মাথায় উকুন হয়েছিল। তখন তিনি আমার চুলের গুচ্ছ ধরলেন এবং বললেন: "এটি মুণ্ডন করো এবং তিন দিন রোজা রাখো অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াও।"

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবগত ছিলেন যে, আমার নিকট কোরবানি করার মতো কিছু নেই।

 

২৪ - মালিক আমাদের নিকট ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: বিদায় হজের সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়ার জন্য অবস্থান করছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
فجَاء رجل فَقَالَ يَا رَسُول الله لم أشعر حلقت قبل أَن أذبح قَالَ اذْبَحْ وَلَا حرج

فَقَالَ رجل آخر يَا رَسُول الله لم أشعر نحرت قبل أَن أرمي قَالَ ارْمِ وَلَا حرج

فَمَا سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَعْنِي عَن شَيْء قدم وَلَا أخر إِلَّا قَالَ افْعَل وَلَا حرج

 

25 - حَدثنِي مَالك عَن نَافِع أَن عبد الله بن عمر قَالَ نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يُسَافر بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرض الْعَدو

 

26 - وبإسناده أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بعث سَرِيَّة فِيهَا عبد الله بن عمر قبل نجد فغنموا إبِلا كَثِيرَة فَكَانَت سُهْمَانهمْ اثْنَي عشر بَعِيرًا أَو أحد عشر بَعِيرًا ونفلوا بَعِيرًا بَعِيرًا

 

27 - حَدثنِي مَالك عَن يحيى بن سعيد عَن عمر بن كثير بن أَفْلح عَن أبي مُحَمَّد مولى أبي قَتَادَة عَن أبي قَتَادَة أَنه
এরপর এক ব্যক্তি এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি বুঝতে পারিনি, আমি যবেহ করার আগেই মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি।" তিনি বললেন, "যবেহ করো, কোনো সমস্যা নেই।"

অন্য এক ব্যক্তি বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি বুঝতে পারিনি, আমি পাথর নিক্ষেপ করার আগেই নহর (যবেহ) করে ফেলেছি।" তিনি বললেন, "পাথর নিক্ষেপ করো, কোনো সমস্যা নেই।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আগে বা পরে করা হয়েছে এমন কোনো কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেই তিনি বলতেন, "করো, এতে কোনো সমস্যা নেই।"

 

২৫ - মালিক নাফে থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুর ভূখণ্ডে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন।

 

২৬ - এবং তাঁর সনদে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজদ অভিমুখে একটি ছোট যুদ্ধাভিযান প্রেরণ করেন যাতে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা গনীমত হিসেবে প্রচুর উট লাভ করেন। তাদের ভাগে বারোটি অথবা এগারোটি করে উট পড়েছিল এবং তাদেরকে অতিরিক্ত একটি করে উট প্রদান করা হয়েছিল।

 

২৭ - মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ওমর ইবনে কাসীর ইবনে আফলাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদার মুক্তদাস আবু মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু কাতাদা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام حنين قَالَ فَلَمَّا الْتَقَيْنَا كَانَت للْمُسلمين جَوْلَة قَالَ فَرَأَيْت رجلا من الْمُشْركين قد علا رجلا من الْمُسلمين بِسَيْفِهِ فاستدرت لَهُ حَتَّى أَتَيْته من وَرَائه فضربته بِالسَّيْفِ على حَبل عَاتِقه وَأَقْبل عَليّ فضمني ضمة وجدت مِنْهَا ريح الْمَوْت ثمَّ أدْركهُ الْمَوْت فأرسلني فلحقت عمر بن الْخطاب فَقلت مَا بَال النَّاس قَالَ أَمر الله ثمَّ إِن النَّاس رجعُوا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من قتل قَتِيلا لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَة فَلهُ سلبه

قَالَ فَقُمْت ثمَّ قلت من يشْهد لي ثمَّ جَلَست ثمَّ قَالَ من قتل قَتِيلا لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَة فَلهُ سلبه

قَالَ فَقُمْت ثمَّ قلت من يشْهد لي ثمَّ جَلَست ثمَّ قَالَ ذَلِك الثَّالِثَة فَقُمْت فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا لَك يَا أَبَا قَتَادَة

قَالَ فَاقْتَصَصْت عَلَيْهِ الْقِصَّة فَقَالَ رجل من الْقَوْم صدق يَا رَسُول الله وسلب ذَلِك الْقَتِيل عِنْدِي فأرضه مِنْهُ
তিনি বললেন, আমরা হুনাইনের বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। তিনি বললেন, যখন আমাদের (উভয় পক্ষের) সাক্ষাৎ হলো, তখন মুসলিমদের মাঝে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিল। তিনি বললেন, আমি মুশরিকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে তার তলোয়ার নিয়ে একজন মুসলিম ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়েছে। তখন আমি তার দিকে ঘুরে গেলাম এবং তার পেছন দিক থেকে আসলাম। এরপর আমি তার ঘাড়ের রগের ওপর তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলাম। তখন সে আমার দিকে ফিরে আমাকে এমনভাবে জাপটে ধরল যে, আমি তার মধ্যে মৃত্যুর ঘ্রাণ পাচ্ছিলাম। এরপর মৃত্যু তাকে গ্রাস করল এবং সে আমাকে ছেড়ে দিল। অতঃপর আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে মিলিত হলাম এবং বললাম, মানুষের অবস্থা কী? তিনি বললেন, আল্লাহর ফয়সালা। তারপর মানুষ ফিরে আসলো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে এবং তার কাছে এর প্রমাণ থাকবে, সে তার (নিহত ব্যক্তির) আসবাবপত্র পাবে।

তিনি বললেন, তখন আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম, আমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? এরপর আমি বসে পড়লাম। তিনি পুনরায় বললেন, যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে এবং তার কাছে এর প্রমাণ থাকবে, সে তার আসবাবপত্র পাবে।

তিনি বললেন, আমি পুনরায় দাঁড়ালাম এবং বললাম, আমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? এরপর আমি বসে পড়লাম। তিনি তৃতীয়বারও একই কথা বললেন। তখন আমি দাঁড়ালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবু কাতাদা! তোমার কী হয়েছে?

তিনি বললেন, তখন আমি তাঁর কাছে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি সত্য বলেছেন। সেই নিহত ব্যক্তির আসবাবপত্র আমার কাছে আছে। অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ থেকে সন্তুষ্ট করে দিন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
فَقَالَ أَبُو بكر لَا هَا الله إِذا لَا نعمد إِلَى أَسد من أَسد الله يُقَاتل عَن الله عليه السلام وَعَن رَسُوله فيعطيك سلبه فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صدق فأعطه إِيَّاه

قَالَ أَبُو قَتَادَة فأعطانيه فَبِعْت الدرْع وابتعت مخرفا فِي بني سَلمَة فَإِنَّهُ لأوّل مَالِي تأثلته فِي الْإِسْلَام

28 - حَدثنِي مَالك عَن يحيى بن سعيد عَن مُحَمَّد بن يحيى بن حبَان عَن ابْن أبي عمْرَة أَن زيد بن خَالِد الْجُهَنِيّ قَالَ توفّي رجل يَوْم حنين وَأَنَّهُمْ ذَكرُوهُ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَزعم أَنه قَالَ صلى الله عليه وسلم لَهُم صلوا على صَاحبكُم فتغيرت وُجُوه النَّاس لذَلِك فَزعم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن صَاحبكُم قد غل فِي سَبِيل الله قَالَ ففتحنا مَتَاعه فَوَجَدنَا فِيهِ خرزا من خرز يهود مَا يُسَاوِي دِرْهَمَيْنِ

 

29 - حَدثنِي مَالك عَن ثَوْر بن زيد الديلِي عَن أبي الْغَيْث مولى ابْن مُطِيع عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام خَيْبَر فَلم نغنم ذَهَبا وَلَا وَرقا إِلَّا الثِّيَاب وَالْمَتَاع
আবু বকর বললেন, "আল্লাহর শপথ! কক্ষনো নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধকারী আল্লাহর সিংহদের মধ্যকার জনৈক সিংহের (পরিত্যাক্ত) মালপত্র আমরা তোমাকে দিয়ে দেব না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "সে সত্য বলেছে, তা তাকে দিয়ে দাও।"

আবু কাতাদা বলেন, "অতঃপর তিনি আমাকে তা প্রদান করলেন। আমি বর্মটি বিক্রি করলাম এবং বনু সালমা গোত্রে একটি বাগান ক্রয় করলাম। ইসলামে এটিই ছিল আমার অর্জিত প্রথম সম্পদ।"

২৮ - মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি ইবনে আবি আমরা থেকে যে, যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি বলেছেন: হুনায়নের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি মারা গেল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, "তোমাদের এই সঙ্গীর জানাজা তোমরাই পড়ো।" এতে মানুষের চেহারার রং বদলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তোমাদের এই সঙ্গী আল্লাহর পথে যুদ্ধে গণিমতের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তার আসবাবপত্র তল্লাশি করলাম এবং সেখানে ইয়াহুদিদের পুতির মালার মতো একটি পুতি পেলাম, যার মূল্য দুই দিরহামও হবে না।

 

২৯ - মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সাওর ইবনে যায়েদ আদ-দাইলি থেকে, তিনি ইবনে মুতি-এর মুক্ত দাস আবুল গাইস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে খায়বার যুদ্ধের বছর বের হলাম। আমরা সেখানে কোনো সোনা বা রূপা গনিমতে লাভ করিনি, বরং কাপড় এবং আসবাবপত্র লাভ করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
وَالْأَمْوَال قَالَ فَوجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نَحْو وَادي الْقرى وَقد أهدي لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم عبد أسود يُقَال لَهُ مدعم حَتَّى إِذا كُنَّا بوادي الْقرى بَيْنَمَا مدعم يحط رَحل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ سهم عائر فَأَصَابَهُ فَقتله فَقَالَ النَّاس هَنِيئًا لَهُ الْجنَّة

فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كلا وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن الشملة الَّتِي أَخذهَا يَوْم خَيْبَر من الْغَنَائِم لم تصبها المقاسم لتشتعل عَلَيْهِ نَارا

فَلَمَّا سمعُوا ذَلِك من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جَاءَ رجل بِشِرَاك أَو شراكين إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شِرَاك من نَار أَو شراكان من نَار

 

30 - حَدثنَا مَالك عَن أبي الزِّنَاد عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْت أَنِّي أقَاتل فِي سَبِيل الله وأقتل ثمَّ أَحْيَا فأقتل

قَالَ فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَة يَقُول ثَلَاثًا أشهد لله

 

31 - حَدثنِي مَالك عَن ابْن شهَاب عَن عبيد الله بن عبد الله بن عتبَة بن مَسْعُود عَن ابْن عَبَّاس عَن الصعب بن
এবং সম্পদসমূহ। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদি আল-কুরার দিকে মুখ করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি কৃষ্ণবর্ণের দাস উপহার দেওয়া হয়েছিল যাকে মিদ'আম বলা হতো। যখন আমরা ওয়াদি আল-কুরায় ছিলাম, তখন মিদ'আম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাওদা নামাচ্ছিল, এমন সময় একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট তীর এসে তাকে বিদ্ধ করল এবং তাকে হত্যা করল। তখন লোকেরা বলল, তার জন্য জান্নাত মুবারক হোক।

তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কখনোই নয়! সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, খায়বারের যুদ্ধের দিন গণিমতের মাল থেকে বন্টনের পূর্বেই সে যে চাদরটি গ্রহণ করেছিল, তা অবশ্যই তার উপর আগুন হয়ে জ্বলছে।"

অতঃপর তারা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এটি শুনলেন, তখন এক ব্যক্তি একটি বা দুটি জুতার ফিতা নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আগুনের একটি ফিতা" অথবা "আগুনের দুটি ফিতা"।

 

30 - মালিক আমাদের নিকট আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যে আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি এবং নিহত হই, অতঃপর পুনরায় জীবিত হই এবং পুনরায় নিহত হই।"

বর্ণনাকারী বলেন, আবু হুরায়রা তিনবার বলতেন, "আমি আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দিচ্ছি।"

 

31 - মালিক আমার নিকট ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি সা'ব ইবনে...
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
جثامة اللَّيْثِيّ أَنه أهْدى لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم حمارا وحشيا وَهُوَ بالأبواء فَرده عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رأى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا فِي وَجهه قَالَ إِنَّا لم نرده عَلَيْك إِلَّا إِنَّا حرم

 

32 - حَدثنِي مَالك عَن نَافِع عَن عبد الله بن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ خمس من الدَّوَابّ لَيْسَ على الْمحرم فِي قتلهن جنَاح الْغُرَاب والحدأة وَالْعَقْرَب والفأرة وَالْكَلب الْعَقُور

 

33 - حَدثنِي مَالك عَن عبد الله بن دِينَار عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ خمس من الدَّوَابّ من قتلهن وَهُوَ محرم فَلَا جنَاح عَلَيْهِ الْعَقْرَب والفأرة وَالْكَلب الْعَقُور والغراب والحدأة

 

34 - حَدثنِي مَالك عَن ابْن شهَاب عَن سُلَيْمَان بن يسَار عَن ابْن عَبَّاس أَنه قَالَ كَانَ الْفضل رَدِيف رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
জুসামাহ আল-লাইসী থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বুনো গাধা উপহার দিয়েছিলেন যখন তিনি আবওয়া নামক স্থানে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর চেহারায় (মনোকষ্টের) চিহ্ন দেখলেন, তখন তিনি বললেন, “আমরা এটি তোমার কাছে ফিরিয়ে দিতাম না, কেবল এ কারণে যে আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি।”

 

32 - মালেক আমাকে নাফে থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ প্রকারের প্রাণী রয়েছে যা হত্যা করাতে ইহরাম গ্রহণকারীর কোনো পাপ নেই: কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর এবং হিংস্র কুকুর।”

 

33 - মালেক আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে এবং তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ প্রকারের প্রাণী রয়েছে, ইহরাম অবস্থায় থাকা কেউ সেগুলো হত্যা করলে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই: বিচ্ছু, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর, কাক এবং চিল।”

 

34 - মালেক আমাকে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ফজল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহনের পেছনে আরোহী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
فَجَاءَت امْرَأَة من خثعم تستفتيه فَجعل الْفضل ينظر إِلَيْهَا وَتنظر إِلَيْهِ فَجعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم يصرف وَجه الْفضل إِلَى الشق الآخر فَقَالَت يَا رَسُول الله إِن فَرِيضَة الله على عباده فِي الْحَج أدْركْت أبي شَيخا كَبِيرا لَا يَسْتَطِيع أَن يثبت على الرَّاحِلَة أفأحج عَنهُ قَالَ نعم

وَذَلِكَ فِي حجَّة الْوَدَاع

 

35 - حَدثنِي مَالك عَن ابْن شهَاب عَن سَالم بن عبد الله أَن عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي بكر الصّديق أخبر عبد الله بن عمر عَن عَائِشَة زوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ ألم تري إِلَى قَوْمك حِين بنوا الْكَعْبَة اقتصروا عَن قَوَاعِد إِبْرَاهِيم

قَالَت فَقلت يَا رَسُول الله أَفلا تردها على قَوَاعِد إِبْرَاهِيم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَوْلَا حدثان قَوْمك بالْكفْر
এরপর খাসআম গোত্রের এক নারী তাঁর কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করতে আসলেন। তখন ফাযল তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং তিনিও ফাযলের দিকে তাকাচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে লাগলেন। তখন সেই নারী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের ওপর হজ পালনের যে বিধান আল্লাহ নির্ধারিত করেছেন, তা আমার পিতাকে এমন এক অতি বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়েছে যে তিনি সওয়ারির পিঠে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

আর এটি ছিল বিদায় হজের ঘটনা।

 

৩৫ - মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর সিদ্দীক আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নী আয়েশা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তুমি কি দেখনি তোমার কওম যখন কাবা নির্মাণ করল, তখন তারা ইবরাহীমের ভিত্তিসমূহ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছে?

আয়েশা বলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে পুনরায় ইবরাহীমের ভিত্তির ওপর ফিরিয়ে আনবেন না? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার কওম যদি নতুন কুফর ত্যাগকারী (অর্থাৎ নতুন মুসলিম) না হতো (তবে আমি তাই করতাম)।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
فَقَالَ عبد الله بن عمر لَئِن كَانَت عَائِشَة سَمِعت هَذَا من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَمَا أرى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ترك استلام الرُّكْنَيْنِ اللَّذين يليان الْحجر إِلَّا أَن الْبَيْت لم يتم على قَوَاعِد إِبْرَاهِيم

 

36 - حَدثنِي مَالك عَن جَعْفَر بن مُحَمَّد عَن أَبِيه عَن جَابر بن عبد الله أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا وقف على الصَّفَا يكبر ثَلَاثًا وَيَقُول لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ لَهُ الْملك وَله الْحَمد وَهُوَ على كل شَيْء قدير يصنع ذَلِك ثَلَاث مَرَّات وَيَدْعُو ويصنع على الْمَرْوَة مثل ذَلِك

37 - وبإسناده أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا نزل من الصَّفَا مَشى حَتَّى إِذا انصبت قدماه فِي بطن الْوَادي سعى حَتَّى يخرج مِنْهُ
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বললেন, "আয়েশা যদি এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনে থাকেন, তবে আমি মনে করি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজর সংলগ্ন দুই রুকন স্পর্শ করা কেবল এই কারণেই বর্জন করেছিলেন যে, বাইতুল্লাহ ইব্রাহিমের ভিত্তির ওপর পূর্ণতা পায়নি।"

 

৩৬ - মালিক জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাফা পাহাড়ে দাঁড়াতেন, তখন তিনবার তাকবির পাঠ করতেন এবং বলতেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" তিনি এটি তিনবার করতেন এবং দোয়া করতেন; আর মারওয়া পাহাড়েও অনুরূপ করতেন।

৩৭ - এবং তাঁর সনদেই বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাফা থেকে নামতেন, তখন হেঁটে চলতেন; অতঃপর যখন তাঁর পা দুটি উপত্যকার নিচু অংশে পৌঁছাত, তখন তিনি দ্রুত দৌড়াতেন যে পর্যন্ত না সেখান থেকে বের হতেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
38 - حَدثنِي مَالك عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه قَالَ قلت لعَائِشَة رضي الله عنها وَأَنا يَوْمئِذٍ حدث السن أَرَأَيْت قَول الله عليه السلام إِن الصَّفَا والمروة من شَعَائِر الله فَمن حج الْبَيْت أَو اعْتَمر فَلَا جنَاح عَلَيْهِ أَن يطوف بهما فَمَا أرى على أحد شَيْئا أَن لَا يطوف بهما فَقَالَت عَائِشَة كلا لَو كَانَت كَمَا تَقول كَانَ فَلَا جنَاح عَلَيْهِ أَن لَا يطوف بهما إِنَّمَا أنزلت هَذِه الْآيَة فِي الْكفَّار الْأَنْصَار كَانُوا يحجون لمناة وَكَانَت مَنَاة حَذْو قديد وَكَانُوا يتحرجون أَن يطوفوا بَين الصَّفَا والمروة فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَام سَأَلُوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن ذَلِك فَأنْزل الله إِن الصَّفَا والمروة من شَعَائِر الله

 

إِلَى آخر الْآيَة

 

39 - حَدثنِي مَالك عَن أبي النَّضر مولى عمر بن عبيد الله عَن عُمَيْر مولى ابْن عَبَّاس عَن أم الْفضل بنت الْحَارِث أَن نَاسا تماروا عِنْدهَا يَوْم عَرَفَة فِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعضهم هُوَ صَائِم وَقَالَ بَعضهم لَيْسَ بصائم
৩৮ - মালিক আমার নিকট হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে বললাম, আর আমি তখন নবীন ছিলাম: আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা ঘরের হজ অথবা উমরা পালন করবে, তার জন্য এই দুইয়ের মধ্যে সায়ি (প্রদক্ষিণ) করাতে কোনো গুনাহ নেই"? তাই আমি মনে করি না যে, কেউ যদি এই দুইয়ের মাঝে সায়ি না করে তবে তার কোনো দোষ হবে। তখন আয়িশা বললেন: কক্ষনো না, যদি বিষয়টি তেমনই হতো যেমনটি তুমি বলছ, তবে আয়াতটি হতো: "তার জন্য এই দুইয়ের মাঝে সায়ি না করাতে কোনো গুনাহ নেই"। মূলত এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল আনসারদের ব্যাপারে; তারা মানাত মূর্তির উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করত এবং মানাত ছিল কুদাইদ এর সমান্তরালে। তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি করাকে পাপ মনে করত। অতঃপর যখন ইসলাম আসলো, তারা এই সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত..."

 

আয়াতের শেষ পর্যন্ত

 

৩৯ - মালিক আমার নিকট উমর ইবনে উবায়দুল্লাহর মুক্তদাস আবু নাযর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস উমাইর থেকে, তিনি উম্মুল ফজল বিনতে আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আরাফাতের দিন কিছু লোক তাঁর নিকট আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর রোজা সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তাদের কেউ বলল: তিনি রোজা রেখেছেন। আর কেউ বলল: তিনি রোজা রাখেননি।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
فَأرْسلت إِلَيْهِ بقدح لبن وَهُوَ وَاقِف على بعيره بِعَرَفَة فَشرب

 

40 - حَدثنِي مَالك عَن يحيى بن سعيد قَالَ أَخْبرنِي مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم ابْن الْحَارِث التَّيْمِيّ عَن أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن عَن عبد الرَّحْمَن بن الْأسود بن عبد يَغُوث قَالَ وَكَانَ جَلِيسا لَهُم وَكَانَ أَبيض اللِّحْيَة وَالرَّأْس فغدا عَلَيْهِم ذَات يَوْم وَقد حمرها فَقَالَ لَهُ الْقَوْم هَذَا أحسن فَقَالَ إِن أُمِّي عَائِشَة أرْسلت إِلَيّ البارحة جاريتها فأقسمت عَليّ لأصبغن وأخبرتني أَن أَبَا بكر رضي الله عنه كَانَ يخضب

 

41 - حَدثنِي مَالك عَن عبد الرَّحْمَن بن الْقَاسِم عَن أَبِيه عَن عَائِشَة قَالَت خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي بعض أَسْفَاره حَتَّى إِذا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَو بِذَات الْجَيْش انْقَطع عقدي فَأَقَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه وَأقَام النَّاس مَعَه وَلَيْسوا على مَاء وَلَيْسَ مَعَهم مَاء فَأتى النَّاس أَبَا بكر فَقَالُوا أَلا ترى
অতঃপর তিনি তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠালেন, এমতাবস্থায় যে তিনি আরাফায় তাঁর উটের ওপর দণ্ডায়মান ছিলেন, অতঃপর তিনি তা পান করলেন।

 

৪০ - মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস আত-তাইমি সংবাদ দিয়েছেন আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ ইবনে আব্দ ইয়াগুস থেকে বর্ণনা করেন—যিনি তাঁদের মজলিসের সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি সাদা ছিল—তিনি একদিন সকালে তাঁদের নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি সেগুলোকে লাল বর্ণ করেছিলেন। তখন লোকেরা তাঁকে বলল, এটি অধিক সুন্দর। তিনি বললেন, আমার মা আয়েশা গত রাতে তাঁর দাসীকে আমার নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং আমাকে কসম দিয়ে বলেছিলেন যেন আমি অবশ্যই রঙ করি। আর তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রঙ (খিযাব) ব্যবহার করতেন।

 

৪১ - মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর কোনো এক সফরে বের হলাম। যখন আমরা বায়দা অথবা জাতুল জায়শ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমার হারটি ছিঁড়ে (হারিয়ে) গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি খোঁজার জন্য অবস্থান করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে অবস্থান করল। অথচ তারা কোনো পানির নিকট ছিল না এবং তাদের সাথেও কোনো পানি ছিল না। তখন লোকেরা আবু বকরের নিকট এসে বলল, আপনি কি দেখছেন না...
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٥١)
مَا صنعت عَائِشَة أَقَامَت برَسُول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس وَلَيْسوا على مَاء وَلَيْسَ مَعَهم مَاء فجَاء أَبُو بكر وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَاضع رَأسه على فَخذي قد نَام فَقَالَ حبست رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالنَّاس وَلَيْسوا على مَاء وَلَيْسَ مَعَهم مَاء قَالَت عَائِشَة فعاتبني أَبُو بكر وَقَالَ مَا شَاءَ الله أَن يَقُول قَالَت وَجعل يطعن بِيَدِهِ فِي خاصرتي وَلَا يَمْنعنِي من التحرك إِلَّا مَكَان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على فَخذي فَنَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى أصبح على غير مَاء فَأنْزل الله آيَة التَّيَمُّم فَتَيَمَّمُوا صَعِيدا طيبا

فَقَالَ أسيد بن حضير وَهُوَ أحد النُّقَبَاء مَا هَذَا بِأول بركتكم يَا آل أبي بكر

قَالَت فَبَعَثنَا الْبَعِير الَّذِي كنت عَلَيْهِ فَوَجَدنَا العقد تَحت

هَذَا معنى لفظ الحَدِيث

 

42 - حَدثنِي مَالك عَن الزُّهْرِيّ عَن عُثْمَان بن إِسْحَاق بن خَرشَة رجل من بني عَامر بن لؤَي عَن قبيصَة بن
আয়েশা যা করেছেন! তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও লোকজনকে আটকে রেখেছেন অথচ তারা কোনো পানির উৎসের সন্নিকটে নেই এবং তাদের সাথেও কোনো পানি নেই। এমতাবস্থায় আবু বকর আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন আমার উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও লোকজনকে আটকে রেখেছ অথচ তারা কোনো পানির কাছে নেই এবং তাদের কাছেও কোনো পানি নেই। আয়েশা (রা.) বলেন: তখন আবু বকর আমাকে তিরস্কার করলেন এবং আল্লাহ যা চাইলেন তিনি তাই বললেন। তিনি আরও বলেন: তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার পাঁজরের পার্শ্বদেশে খোঁচা দিতে লাগলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার উরুর ওপর থাকায় কেবল তাঁর অবস্থানের কারণেই আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে থাকলেন যতক্ষণ না পানি ছাড়াই ভোর হলো। তখন আল্লাহ তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল করলেন: "তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো"।

অতঃপর উসাইদ ইবনে হুদাইর—যিনি নকীবদের অন্যতম ছিলেন—বললেন: হে আবু বকরের পরিবার! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়।

আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর আমরা সেই উটটিকে দাড়া করালাম যার ওপর আমি সওয়ার ছিলাম এবং আমরা তার নিচেই হারটি খুঁজে পেলাম।

এটিই হাদীসের শব্দের মর্মার্থ।

 

৪২ - মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি বনু আমির ইবনে লুআই গোত্রের উসমান ইবনে ইসহাক ইবনে খারশাহ নামক এক ব্যক্তি থেকে, তিনি ক্বাবীসাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
ذُؤَيْب قَالَ أَتَت الْجدّة إِلَى أبي بكر تسأله مِيرَاثهَا فَقَالَ أَبُو بكر مَا لَك فِي كتاب الله شَيْء وَمَا أعلم لَك فِي سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شَيْئا فارجعي حَتَّى أسأَل النَّاس فَسَأَلَ النَّاس فَقَالَ الْمُغيرَة بن شُعْبَة حضرت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدس

فَقَالَ أَبُو بكر هَل مَعَك غَيْرك فَقَامَ مُحَمَّد بن مسلمة الْأنْصَارِيّ فَقَالَ مثل مَا قَالَ الْمُغيرَة فأنفذه لَهَا أَبُو بكر رضي الله عنه

 

43 - حَدثنَا الدَّرَاورْدِي عبد الْعَزِيز عَن عبيد الله عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَن عمر فرض لأسامة بن زيد أَكثر مِمَّا فرض لي يَعْنِي ابْن عمر نَفسه قَالَ فَقلت لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ إِنَّه كَانَ أحب إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مِنْك وَإِن أَبَاهُ كَانَ أحب إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أَبِيك
জুয়ায়েব বর্ণনা করেন যে, এক দাদী আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তাঁর মিরাস (উত্তরাধিকার) প্রার্থনা করতে আসলেন। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতেও তোমার জন্য কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। সুতরাং তুমি ফিরে যাও, যতক্ষণ না আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি। অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে মুগিরা ইবনে শুবা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাকে ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন।

আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে মুগিরার অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। ফলে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তা তাঁর জন্য কার্যকর করলেন।

 

৪৩ - আমাদের নিকট দারাওয়ারদী আব্দুল আজিজ উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উসামা বিন যায়েদের জন্য আমার চেয়ে বেশি (ভাতা) নির্ধারণ করেছিলেন—অর্থাৎ স্বয়ং ইবনে উমরের নিজের চেয়ে। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল এবং তার পিতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার পিতার চেয়ে অধিক প্রিয় ছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
44 - حَدثنِي مَالك عَن ابْن شهَاب عَن عُرْوَة عَن عبد الرَّحْمَن بن عبد الْقَارِي قَالَ سَمِعت عمر يَقُول سَمِعت هِشَام بن حَكِيم يقْرَأ سُورَة الْفرْقَان على غير مَا أَقرَأ قَالَ وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَنيهَا وكدت أَن أعجل عَلَيْهِ ثمَّ أمهلته حَتَّى انْصَرف ثمَّ أَظُنهُ قَالَ لببته بردائه فَجئْت بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَذكرت لَهُ ذَلِك فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الْقُرْآن أنزل على سَبْعَة أحرف

 

45 - حَدثنِي مَالك بن أنس عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من أعتق شركا لَهُ فِي عبد وَكَانَ لَهُ مَال يبلغ ثمن العَبْد قوم عَلَيْهِ قيمَة الْعدْل فَأعْطى شركاءه حصصهم وَعتق عَلَيْهِ العَبْد وَإِلَّا فقد عتق مِنْهُ مَا عتق

 

46 - حَدثنِي مَالك عَن هِلَال بن أُسَامَة عَن عَطاء بن يسَار عَن مُعَاوِيَة ابْن الحكم قَالَ أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقلت يَا رَسُول الله إِن جَارِيَة لي كَانَت ترعى غنما فقدت شَاة من الْغنم فسألتها عَنْهَا فَقَالَت أكلهَا الذِّئْب فأسفت عَلَيْهَا وَكنت من بني آدم فلطمت وَجههَا وَعلي رَقَبَة فَقَالَ لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَيْن الله
৪৪ - মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল ক্বারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, আমি হিশাম ইবনে হাকিমকে সূরা আল-ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এমন এক পদ্ধতিতে যা আমার তিলাওয়াতের পদ্ধতির থেকে ভিন্ন ছিল। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এটি তিলাওয়াত করতে শিখিয়েছিলেন। আমি প্রায় তখনই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত হয়েছিলাম, কিন্তু আমি তাঁর নামাজ শেষ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধরলাম। এরপর—আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন—আমি তাঁর চাদর দিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে ধরলাম এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসলাম। আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই কুরআন সাতটি হরফে (পদ্ধতিতে) অবতীর্ণ হয়েছে।

 

৪৫ - মালিক ইবনে আনাস নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো দাসের মধ্যে থাকা নিজের অংশটুকু মুক্ত করে দেয় এবং তার কাছে যদি সেই দাসের পূর্ণ মূল্যের সমান অর্থ থাকে, তবে দাসের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর সে তার অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ প্রদান করবে এবং দাসের পুরো অংশটি তার পক্ষ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। অন্যথায়, তার মালিকানাধীন যতটুকু অংশ ছিল ততটুকুই মুক্ত হবে।

 

৪৬ - মালিক হিলাল ইবনে উসামাহ থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক দাসী বকরি চরাচ্ছিল, সে একটি বকরি হারিয়ে ফেলল। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল যে নেকড়ে সেটি খেয়ে ফেলেছে। এতে আমি তার ওপর ক্ষুব্ধ হলাম—আর আমি তো আদম সন্তানদেরই (মানুষ) একজন—তাই আমি তার মুখে একটি চড় মারলাম। এমতাবস্থায় আমার ওপর একজন দাস মুক্ত করা আবশ্যক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কোথায়?
(খণ্ড: ১) হাদীসু মুসআব আয-যুবাইরী (পৃষ্ঠা: ٥٤)
فَقَالَت فِي السَّمَاء

فَقَالَ فَمن أَنا

فَقَالَت أَنْت رَسُول الله فَقَالَ أعْتقهَا

 

47 - حَدثنِي مَالك عَن سعيد بن أبي سعيد المَقْبُري أَنه قَالَ سُئِلَ أَبُو هُرَيْرَة عَن الرجل يكون عَلَيْهِ رَقَبَة أيعتق ابْن الزِّنَا فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة نعم يُجزئهُ ذَلِك

 

48 - حَدثنِي مَالك عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة أَنَّهَا قَالَت جَاءَتْنِي بَرِيرَة فَقَالَت لي إِنِّي كاتبت أَهلِي على سبع أَوَاقٍ فِي كل عَام أُوقِيَّة فأعينيني فَقَالَت عَائِشَة إِذا أحب أهلك أَن أعدهَا لَهُم عددتها وَيكون ولاؤك لي فَذَهَبت بَرِيرَة إِلَى أَهلهَا فَقَالَت لَهُم ذَلِك فَأَبَوا إِلَّا أَن يكون لَهُم الْوَلَاء فَجَاءَت من عِنْد أَهلهَا وَرَسُول الله
সে বলল, "আসমানে।"

তিনি বললেন, "তাহলে আমি কে?"

সে বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল।" তখন তিনি বললেন, "তাকে মুক্ত করে দাও।"

 

৪৭ - মালিক আমার নিকট সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার ওপর একজন দাস মুক্ত করা ওয়াজিব, সে কি জারজ সন্তানকে মুক্ত করতে পারবে? আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, হ্যাঁ, এটি তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।

 

৪৮ - মালিক আমার নিকট হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: বারীরাহ আমার নিকট এসে বলল, আমি আমার মালিকপক্ষের সাথে প্রতি বছর এক উকিয়া হিসেবে মোট সাত উকিয়া পরিশোধের বিনিময়ে মুক্তির চুক্তি করেছি; সুতরাং আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আয়িশা (রা.) বললেন, যদি তোমার মালিকরা পছন্দ করে যে আমি তাদের জন্য একবারে পুরো অর্থটি পরিশোধ করে দেব তবে আমি তা করে দেব, কিন্তু তোমার আনুগত্যের অধিকার (ওয়ালা) আমারই হবে। এরপর বারীরাহ তার মালিকদের নিকট গেল এবং তাদের নিকট তা ব্যক্ত করল, কিন্তু তারা আনুগত্যের অধিকার নিজেদের জন্য রাখা ব্যতীত অন্য কিছুতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর সে তার মালিকদের নিকট হতে ফিরে এল এমতাবস্থায় যে আল্লাহর রাসূল...