(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأمالي الحلبية   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأمالي الحلبية

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)

المحقق: عواد خلف

الناشر: مؤسسة الريان - بيروت

الطبعة: الأولى، 1996م

عدد الصفحات: 53

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ   (ইবন হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ

লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)

তাহকিককারী: আওয়াদ খালাফ

প্রকাশনী: মুআসসাসাতুর রাইয়ান - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

‌‌النَّص الْمُحَقق

أمْلى علينا سيدنَا ومولانا وَشَيخنَا الإِمَام الْعَلامَة وحيد دهره وفريد عصره قَاضِي الْقُضَاة شهَاب الدّين شيخ الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين رحْلَة الْحفاظ والمحدثين أَبُو الْفضل أَحْمد بن عَليّ بن حجر الْكِنَانِي الشَّافِعِي يَوْم الثُّلَاثَاء سَابِع عشر من شَوَّال الْمُبَارك سنة سِتّ وَثَلَاثِينَ وثمان مئة فِي الْجَامِع الْكَبِير بحلب المحروسة فَقَالَ

1 - أَخْبرنِي شيخ الْإِسْلَام حَافظ الزَّمَان أَبُو الْفضل بن الْحُسَيْن رحمه الله قَالَ أَخْبرنِي أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن ابراهيم الْبزورِي قَالَ أَنا عَليّ بن أَحْمد السَّعْدِيّ عَن مُحَمَّد بن معمر قَالَ أَنا سعيد بن أبي الرجا قَالَ أَنا أَحْمد بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সম্পাদিত পাঠ

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাদের সাইয়্যেদ, আমাদের অভিভাবক এবং আমাদের শাইখ, ইমাম, আল্লামা, সমকালের অদ্বিতীয় এবং আপন যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দীন, ইসলাম ও মুসলিমদের শাইখ, হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের অন্যতম গন্তব্যস্থল, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-কিনানী আশ-শাফেয়ী; ৮৩৬ হিজরি সনের মুবারক শাওয়াল মাসের সতেরো তারিখ মঙ্গলবার, সংরক্ষিত শহর আলেপ্পোর বড় মসজিদে। তিনি বললেন—

১ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম, জামানার হাফেজ আবুল ফাদল বিন আল-হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-বাজুরি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আহমাদ আস-সাদী, মুহাম্মাদ বিন মা'মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন আবি আল-রাজা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন...
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مُحَمَّد بن النُّعْمَان قَالَ أَنا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عَليّ بن عَاصِم ثَنَا إِسْحَاق بن أَحْمد الْخُزَاعِيّ ثَنَا مُحَمَّد بن يحيى بن أبي عمر ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن أبي إِسْحَاق الْهَمدَانِي عَن الْبَراء بن عَازِب رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلا أعلمك كَلِمَات تقولهن إِذا أويت 1 ب إِلَى فراشك فَإِن مت من ليلتك مت على الْفطْرَة وَإِن أَصبَحت أَصبَحت وَقد أصبت خيرا اللَّهُمَّ أسلمت نَفسِي إِلَيْك ووجهت وَجْهي إِلَيْك وفوضت أَمْرِي إِلَيْك وألجأت ظَهْري إِلَيْك رَغْبَة وَرَهْبَة إِلَيْك لَا ملْجأ وَلَا منجا مِنْك إِلَّا إِلَيْك آمَنت بكتابك الَّذِي أنزلت وبنبيك الَّذِي أرْسلت

فَقَالَ الْبَراء فَقلت وَرَسُولك الَّذِي أرْسلت فطعن بِيَدِهِ فِي صَدْرِي ثمَّ قَالَ وبنبيك الَّذِي أرْسلت

هَذَا حَدِيث صَحِيح أخرجه التِّرْمِذِيّ عَن ابْن أبي عمر فَوَقع لنا مُوَافقَة عالية
মুহম্মদ বিন আন-নুমান বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আলী বিন আসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমদ আল-খুজায়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবু উমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, তিনি আবু ইসহাক আল-হামদানি থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শেখাব না যা তুমি যখন তোমার বিছানায় যাবে তখন বলবে? যদি তুমি সেই রাতে মারা যাও, তবে ফিতরাতের (স্বভাবজাত দ্বীনের) ওপর মৃত্যুবরণ করবে; আর যদি সকালে উপনীত হও, তবে তুমি কল্যাণ লাভ করবে। (দোয়াটি হলো:) হে আল্লাহ, আমি নিজেকে আপনার নিকট সমর্পণ করেছি, আমার মুখমণ্ডল আপনার দিকে ফিরিয়েছি, আমার সকল বিষয় আপনার কাছে ন্যস্ত করেছি এবং আমার পিঠ আপনার আশ্রয়ে সঁপেছি, আপনার প্রতি আগ্রহ এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। আপনার নিকট থেকে পালিয়ে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল আপনি ছাড়া আর কোথাও নেই। আমি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর ঈমান এনেছি।

বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তখন আমি বললাম: এবং আপনার রাসুলের ওপর যাকে আপনি প্রেরণ করেছেন। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: বরং আপনার নবীর ওপর যাকে আপনি প্রেরণ করেছেন।

এটি একটি সহিহ হাদিস, ইমাম তিরমিযী এটি ইবনে আবু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চতর সনদে (মুওয়াফাকাহ আলিয়াহ) পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقد وَقع لي من وَجه آخر عَن سُفْيَان بن عُيَيْنَة أَعلَى من هَذَا بِدَرَجَة أُخْرَى

2 - أَخْبرنِي أَبُو عَليّ مُحَمَّد بن أَحْمد بن عَليّ بن عبد الْعَزِيز الْمَهْدَوِيّ أَنا أَبُو الْحسن عَليّ بن عمر الواني أَنا عبد الرَّحْمَن بن مكي سبط السلَفِي قِرَاءَة عَلَيْهِ وَنحن نسْمع وَهُوَ آخر من حدث بِالسَّمَاعِ أَنا الْحَافِظ أَبُو طَاهِر السلَفِي وَهُوَ آخر من حدث عَنهُ بِالسَّمَاعِ أَنا مكي بن مَنْصُور أَنا أَحْمد بن الْحسن القَاضِي ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس الْأَصَم ثَنَا 2 أزكريا بن يحيى الْمروزِي ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن أبي إِسْحَاق أَنه سمع الْبَراء يَقُول سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول
সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে অন্য একটি সূত্রে আমার কাছে এটি পৌঁছেছে যা পূর্বেরটির চেয়ে আরও এক স্তর উচ্চতর।

২ - আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল আজিজ আল-মাহদাবী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আল-ওয়ানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সালাফীর দৌহিত্র আবদুর রহমান ইবনে মাক্কী তাঁর কাছে পাঠের সময় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমরা তা শুনছিলাম; তিনি শ্রুতির মাধ্যমে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন। হাফেজ আবু তাহের আস-সালাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি তাঁর থেকে শ্রুতির মাধ্যমে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন। মাক্কী ইবনে মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে হাসান আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস আল-আসাম্ম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বারা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
إِذا أَوَى إِلَى فرَاشه اللَّهُمَّ أسلمت نَفسِي إِلَيْك فَذكره دون مَا فِي أَوله وَآخره وَلَكِن قَالَ فِي آخر الدُّعَاء وبنبيك أَو برسولك على الشَّك وَلَا أثر لهَذَا الشَّك لما تقدم من رِوَايَة ابْن أبي عمر وَهَكَذَا أخرجه النَّسَائِيّ فِي الْكُبْرَى عَن قُتَيْبَة عَن سُفْيَان فَوَقع لنا بَدَلا عَالِيا بِثَلَاث دَرَجَات والْحَدِيث فِي الصَّحِيحَيْنِ من رِوَايَة شُعْبَة وَمن رِوَايَة أبي الْأَحْوَص سَلام بن سليم كِلَاهُمَا عَن أبي إِسْحَاق عَمْرو بن عبد الله السبيعِي وَأخرجه النَّسَائِيّ من رِوَايَة سُفْيَان الثَّوْريّ وَإِسْرَائِيل بن يُونُس وَغير وَاحِد كلهم عَن أبي إِسْحَاق

 

3 - أَخْبرنِي الْمسند الْعِمَاد أَبُو بكر بن إِبْرَاهِيم بن الْعِزّ الصَّالِحِي بهَا رَحمَه الله تَعَالَى أَنا أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن مُحَمَّد بن معالي الزبداني أَنا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل
যখন তিনি তাঁর বিছানায় আশ্রয় নিতেন: "হে আল্লাহ, আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম..." তিনি এটি এর শুরু ও শেষের অংশ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। তবে দোয়ার শেষে তিনি সন্দেহের সাথে বলেছেন: "আপনার নবীর প্রতি" অথবা "আপনার রাসূলের প্রতি"। ইবনে আবি ওমরের পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে এই সন্দেহের কোনো প্রভাব নেই। ইমাম নাসাঈ তাঁর 'আল-কুবরা' গ্রন্থে কুতাইবা থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য তিন স্তরের উচ্চতর 'বদল' (বিকল্প সূত্র) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। হাদিসটি শু'বাহ এবং আবু আল-আহওয়াস সালাম বিন সুলাইম —উভয় সূত্রেই সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে; তাঁরা উভয়েই আবু ইসহাক আমর বিন আব্দুল্লাহ আস-সুবাই'য়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ এটি সুফিয়ান আস-সাওরি, ইসরাঈল বিন ইউনুস এবং আরও অনেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সবাই আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

৩ - মুসনিদ আল-ইমাদ আবু বকর বিন ইব্রাহিম বিন আল-ইযয আস-সালিহি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সেখানে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মা'আলি আজ-জাবদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الْخَطِيب قَالَ قَرَأَ على فَاطِمَة بنت سعد الْخَيْر وَنحن نسْمع أَن زَاهِر بن طَاهِر أخْبرهُم أَنا أَبُو سعد الكنجروذي أَنا أَبُو عَمْرو بن حمدَان ثَنَا أَبُو يعلى ثَنَا إِبْرَاهِيم بن الْحجَّاج ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن حجاج الصَّواف عَن أبي الزبير عَن جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا أَوَى الرجل إِلَى فرَاشه ابتدره ملك وَشَيْطَان فَيَقُول الْملك اختم بِخَير وَيَقُول الشَّيْطَان اختم بشر فَإِن ذكر الله ثمَّ نَام بَات الْملك يكلؤه
আল-খাতীব বললেন, ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইরের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম যে, যাহির বিন তাহির তাঁদের অবহিত করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আল-কাঞ্জারুযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে হামদান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবনুল হাজ্জাজ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যখন কোনো ব্যক্তি তার বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করে, তখন একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান তার কাছে দ্রুত ছুটে আসে। ফেরেশতা বলে: ‘কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করো’, আর শয়তান বলে: ‘অকল্যাণের সাথে সমাপ্ত করো’। যদি সে আল্লাহর যিকির করে এবং অতঃপর ঘুমিয়ে পড়ে, তবে ফেরেশতা তাকে পাহারা দিয়ে রাত যাপন করে।”
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
هَذَا حَدِيث حسن أخرجه النَّسَائِيّ فِي الْكُبْرَى عَن الْحسن بن أَحْمد بن حبيب عَن إِبْرَاهِيم بن الْحجَّاج فَوَقع لنا بَدَلا عَالِيا بِثَلَاث دَرَجَات مَعَ اتِّصَال السماع وَأخرجه 2 ب النَّسَائِيّ من وَجه آخر عَن أبي الزبير مَوْقُوفا وَسَنَد الْمَرْفُوع أقوى

 

4 - وَبِه إِلَى أبي يعلى قَالَ ثَنَا عبيد الله بن معَاذ قَالَ ذكر أبي يَعْنِي معَاذ بن معَاذ الْعَنْبَري عَن يُوسُف بن مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن أَبِيه عَن جَابر رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الله حييّ كريم يستحي إِذا رفع عَبده إِلَيْهِ يَدَيْهِ أَن يردهما صفرا لَيْسَ فيهمَا شَيْء

الصفر بِكَسْر الْمُهْملَة وَسُكُون الْفَاء هُوَ الْخَالِي

هَذَا حَدِيث غَرِيب من هَذَا الْوَجْه والمتن حسن أخرجه أَبُو أَحْمد بن عدي فِي الْكَامِل فِي تَرْجَمَة يُوسُف بن مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر وَقَالَ أَرْجُو أَنه لَا بَأْس بِهِ وَقد
এটি একটি হাসান হাদিস। নাসায়ি এটি ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে হাসান বিন আহমাদ বিন হাবিব থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন আল-হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে শ্রবণ-পারস্পর্য বজায় রেখে আমাদের নিকট এটি তিন স্তরবিশিষ্ট উচ্চমানের ‘বদল’ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। নাসায়ি এটি ২-বি অংশে আবু যুবাইর থেকে অন্য সূত্রে ‘মাওকুফ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, তবে ‘মারফু’ বর্ণনার সনদটি অধিক শক্তিশালী।

 

৪ - এবং উক্ত সনদে আবু ইয়ালা পর্যন্ত: তিনি বলেন, আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন মুয়াজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা অর্থাৎ মুয়াজ বিন মুয়াজ আল-আনবারি ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল ও সম্মানিত। যখন তাঁর কোনো বান্দা তাঁর দিকে নিজের হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেগুলোকে শূন্য বা খালি অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন।"

‘সিফর’ শব্দটি সদ বর্ণে কাসরা এবং ফা বর্ণে সুকুন যোগে গঠিত, যার অর্থ হলো খালি।

এই সূত্রে হাদিসটি ‘গারিব’, তবে এর মূল পাঠ ‘হাসান’। আবু আহমাদ বিন আদি এটি তাঁর ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদিরের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "আমি আশা করি এতে কোনো সমস্যা নেই" এবং নিশ্চয়...
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ضعفه النَّسَائِيّ وَقَالَ أَبُو زرْعَة الرَّازِيّ صَالح الحَدِيث وَأخرجه أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالْحَاكِم وَصَححهُ من حَدِيث سلمَان الْفَارِسِي وَطَرِيقه أشهر من طَرِيق جَابر

 

5 - أخبر الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق بن كَامِل أَنا أَبُو الْعَبَّاس الصَّالِحِي أخبرنَا أَبُو المنجا الْبَغْدَادِيّ أَنا أَبُو الْوَقْت أَنا أَبُو الْحسن بن المظفر أَنا أَبُو مُحَمَّد بن أعين أَنا أَبُو إِسْحَاق بن قمير أَنا عبد بن حميد أَنا يزِيد بن هَارُون عَن
নাসাঈ একে দুর্বল বলেছেন এবং আবু জুরআ আর-রাজি একে হাদিসে নির্ভরযোগ্য বলেছেন; আবু দাউদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন, আর আল-হাকিম সালমান আল-ফারিসির হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন; এর সূত্রটি জাবিরের সূত্রের চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ।

 

৫ - শাইখ আবু ইসহাক বিন কামিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস আস-সালিহি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-মুঞ্জা আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ওয়াক্ত আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-হাসান বিন আল-মুজাফ্ফার আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ বিন আ'ইয়ুন আমাদের জানিয়েছেন, আবু ইসহাক বিন কুমাইর আমাদের জানিয়েছেন, আবদ বিন হুমাইদ আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের জানিয়েছেন... থেকে
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
حميد عَن أنس رضي الله عنه قَالَ عَاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رجلا قد صَار كالفرخ المنتوف فَقَالَ هَل كنت تَدْعُو بِشَيْء أَو تسأله قَالَ قلت اللَّهُمَّ مَا كنت تعاقبني بِهِ فِي الْآخِرَة فعجله لي فِي الدُّنْيَا فَقَالَ سُبْحَانَ الله إِذا لَا تطِيق ذَلِك وَلنْ تُطِيقهُ هلا قلت رَبنَا آتنا فِي الدُّنْيَا حَسَنَة وَفِي الْآخِرَة حَسَنَة وقنا عَذَاب النَّار

 

6 - هَذَا حَدِيث رِجَاله رجال الصَّحِيح لكنه مُنْقَطع بَين حميد وَأنس فِيهِ ثَابت قرأته على أم الْحسن بنت المنجا بِدِمَشْق عَن أبي بكر بن أَحْمد بن عبد الدايم أَنا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم الإربلي أَنا أَبُو بكر بن النقور أَنا أَبُو بكر بن المظفر ثَنَا أَبُو الْقَاسِم الْحرفِي ثَنَا أَبُو بكر النجاد قرىء على يحيى بن أبي
হুমাইদ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন যে (অসুস্থতার কারণে) পশম উপড়ানো পাখির বাচ্চার মতো হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন, "তুমি কি কোনো বিষয়ে দুআ করতে অথবা তাঁর কাছে কিছু প্রার্থনা করতে?" সে বলল, "আমি বলতাম: হে আল্লাহ! পরকালে আপনি আমাকে যে শাস্তি দিতেন, তা দুনিয়াতেই দ্রুত দিয়ে দিন।" তখন তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহ! তুমি তা সহ্য করতে পারবে না এবং এর সামর্থ্যও তোমার নেই। তুমি কেন এ কথা বললে না: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।"

 

৬ - এটি এমন একটি হাদিস যার বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে হুমাইদ ও আনাসের মাঝে এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘); এতে সাবিত রয়েছেন। আমি এটি দামেস্কে উম্মুল হাসান বিনতে আল-মানজা-এর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু বকর বিন আহমদ বিন আব্দুল দায়িম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ইরবিলি থেকে, তিনি আবু বকর বিন আল-নুকুর থেকে, তিনি আবু বকর বিন আল-মুজাফফর থেকে, তিনি আবুল কাসিম আল-হারফি থেকে, তিনি আবু বকর আল-নাজ্জাদ থেকে; এটি ইয়াহইয়া বিন আবু-এর নিকট পঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
طَالب وَنحن نسْمع عَن عبد الله بن بكر عَن حميد عَن ثَابت عَن أنس فَذكره وَزَاد فِي آخِره ثمَّ دَعَا الله تَعَالَى لَهُ فشفاه

3 - أَهَذا حَدِيث صَحِيح أخرجه مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه من رِوَايَة مُحَمَّد بن أبي عدي وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ من رِوَايَة خَالِد بن الْحَارِث وَالتِّرْمِذِيّ من رِوَايَة سهل بن يُوسُف ثَلَاثَتهمْ عَن حميد عَن ثَابت فَوَقع لنا عَالِيا من حَدِيث حميد من الْوَجْهَيْنِ جَمِيعًا

 

7 - أَخْبرنِي الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق التنوخي عَن أبي الْفَتْح بن النشو أَنا أَبُو مُحَمَّد بن ظافر أَنا أَبُو طَاهِر الْحَافِظ أَنا أَبُو الْحُسَيْن بن الطيوري أَنا أَبُو الْحسن الفالي أَنا أَحْمد بن إِسْحَاق أَنا الْحسن بن عبد الرَّحْمَن ثَنَا
তালিবে ইলম; এবং আমরা আব্দুল্লাহ বিন বকর থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে শুনছি। অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন এবং এর শেষে বর্ধিত করেন: "অতঃপর তিনি তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং তিনি (আল্লাহ) তাকে আরোগ্য দান করলেন।"

3 - এটি একটি সহীহ হাদিস; যা মুসলিম, নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ মুহাম্মদ বিন আবু আদি-এর বর্ণনা থেকে এবং মুসলিম ও তিরমিযী খালিদ বিন আল-হারিস-এর বর্ণনা থেকে এবং তিরমিযী সহল বিন ইউসুফ-এর বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তারা তিনজনই হুমাইদ থেকে, তিনি সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের কাছে উভয় পথেই হুমাইদের হাদিস থেকে উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।

 

7 - আমাকে শায়খ আবু ইসহাক আত-তানুখী খবর দিয়েছেন আবু আল-ফাতহ বিন আন-নাশু থেকে, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন যাফির, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু তাহির আল-হাফিয, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আত-তুয়ূরী, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হাসান আল-ফালী, আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ বিন ইসহাক, আমাদের খবর দিয়েছেন হাসান বিন আব্দুর রহমান, তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
سهل بن مُوسَى ثَنَا عبد الله بن الصَّباح ثَنَا أَبُو عَليّ الْحَنَفِيّ ثَنَا قُرَّة بن خَالِد قَالَ كَانَ الْحسن الْبَصْرِيّ يَقُول عِنْد السكتة إِذا فرغ من الحَدِيث يكون هجيراه سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ الله الْعَظِيم

آخر الْمجْلس الرَّابِع من الأمالي الحلبية

الْخَامِس ثمَّ أملا علينا أمتع الله بحياته يَوْم الثُّلَاثَاء خَامِس ذِي الْقعدَة الْحَرَام سنة سِتّ وَثَلَاثِينَ وثمان مئة بِجَامِع حلب فَقَالَ

8 - أَخْبرنِي الإِمَام شيخ الْحفاظ أَبُو الْفضل عبد الرَّحِيم بن أبي عبد الله الْعِرَاقِيّ رحمه الله قَالَ أَخْبرنِي 3 ب الإِمَام شيخ الْحفاظ أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن الْقيم أَنا أَبُو الْحسن عَليّ بن أَحْمد بن عبد الْوَاحِد أَنا يُوسُف بن خَلِيل الْحَافِظ أَنا مُحَمَّد بن أَحْمد بن نصر الصيدلاني ح قَالَ أَبُو الْحسن وَأَنا
সাহল বিন মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আস-সাব্বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হানাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুররাহ বিন খালিদ, তিনি বলেন: হাসান বসরী হাদিস বর্ণনা শেষ করে যখন বিরতি নিতেন, তখন তাঁর নিয়মিত যিকির ছিল— "আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে, মহান আল্লাহ অতি পবিত্র।"

আমালি আল-হালাবিয়্যাহ-এর চতুর্থ মজলিসের সমাপ্তি

পঞ্চম; অতঃপর তিনি আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান করেন—আল্লাহ তাঁর জীবনকে বরকতময় করুন—৮৩৬ হিজরি সনের যিলকদ মাসের পাঁচ তারিখ মঙ্গলবার, আলেপ্পোর জামে মসজিদে। তিনি বললেন—

8 - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, হাফেজদের শাইখ আবুল ফজল আবদুর রহিম বিন আবু আবদুল্লাহ আল-ইরাকি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। তিনি বলেন: আমাকে ৩ খ সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, হাফেজদের শাইখ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাইয়্যিম। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আবদুল ওয়াহিদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন খলিল আল-হাফিজ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আস-সাইদালানি। (হা) আবুল হাসান বলেন: এবং আমাকে...
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
عَالِيا الصيدلاني الْمَذْكُور إجَازَة أَنا أَبُو عَليّ الْحداد أَنا أَبُو نعيم أَنا الطَّبَرَانِيّ فِي جُزْء من إسمه عَطاء ثَنَا عَليّ بن الْمُبَارك الصَّنْعَانِيّ ثَنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن أبي الزِّنَاد عَن مُوسَى بن عقبَة عَن عَطاء بن أبي مَرْوَان عَن أَبِيه عَن كَعْب الْأَحْبَار قَالَ كَانَ دَاوُد عليه السلام إِذا انْصَرف من صلَاته قَالَ اللَّهُمَّ أصلح لي ديني الَّذِي جعلته عصمَة أَمْرِي وَأصْلح لي دنياي الَّتِي جعلت فِيهَا معاشي وَأصْلح لي آخرتي الَّتِي جعلت

উল্লিখিত আলিয়া আস-সাইদালানি ইজাজত বা অনুমতিসূত্রে আমাকে জানিয়েছেন: আবু আলী আল-হাদ্দাদ আমাকে খবর দিয়েছেন: আবু নুয়াইম আমাকে খবর দিয়েছেন: তাবারানি তাঁর 'আতা' নামক নামের একটি অংশে আমাকে খবর দিয়েছেন: আলী বিন আল-মুবারক আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আব্দুর রহমান বিন আবি আয-যিনাদ মুসা বিন উকবাহ থেকে, তিনি আতা বিন আবি মারওয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দাউদ (আলাইহিস সালাম) যখন তাঁর সালাত থেকে অবসর নিতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার সেই দ্বীনকে সংশোধন করে দিন যাকে আপনি আমার যাবতীয় বিষয়ের রক্ষাকবচ করেছেন, এবং আমার জন্য আমার সেই দুনিয়াকে সংশোধন করে দিন যাতে আপনি আমার জীবনোপকরণ রেখেছেন, আর আমার জন্য আমার সেই আখিরাতকে সংশোধন করে দিন যা আপনি নির্ধারিত করেছেন..."

(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
إِلَيْهَا معادي اللَّهُمَّ إِنِّي أعوذ برضاك من سخطك وبعفوك من نقمتك وَأَعُوذ بك مِنْك لَا مَانع لما أَعْطَيْت وَلَا معطي لما منعت وَلَا ينفع ذَا الْجد مِنْك الْجد قَالَ كَعْب وَأَخْبرنِي صُهَيْب رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ ينْصَرف بِهَذَا الدُّعَاء من صلَاته قَالَ الطَّبَرَانِيّ لَا يرْوى عَن صُهَيْب إِلَّا بِهَذَا الْإِسْنَاد

هَذَا حَدِيث حسن أخرجه النَّسَائِيّ عَن عَمْرو بن سَواد عَن عبد الله بن وهب عَن حَفْص بن ميسرَة عَن مُوسَى بن عقبَة بِهَذَا الْإِسْنَاد فَوَقع لنا عَالِيا وَأخرجه أَيْضا من طَرِيق سعد بن عبد الحميد بن جَعْفَر عَن ابْن أبي الزِّنَاد لَكِن زَاد فِيهِ بَين أبي مَرْوَان وَكَعب عبد الرَّحْمَن بن مغيث وَقد قيل أَنه اسْم أبي مَرْوَان فَإِن كَانَ كَذَلِك فَعَن زَائِدَة وَقيل اسْمه سعد وَقيل مغيث وَهُوَ تَابِعِيّ وَثَّقَهُ الْعجلِيّ وَذكره بَعضهم فِي الصحابه وَابْنه تَابِعِيّ صَغِير وثقوه وَفِي الْإِسْنَاد أَرْبَعَة من التَّابِعين فِي نسق أَوَّلهمْ مُوسَى بن عقبَة وعَلى ظَاهر رِوَايَة سعد بن عبد الحميد يكون فِيهِ خَمْسَة
...সেখানেই আমার প্রত্যাবর্তন। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট আপনার মাধ্যমেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যা দান করেন তা প্রতিহত করার কেউ নেই, আর আপনি যা প্রতিহত করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার নিকট কোনো উপকারে আসবে না। কাব বলেন, সুহাইব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে অবহিত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সালাত শেষে এই দোয়ার মাধ্যমে প্রস্থান করতেন। তাবারানি বলেন, সুহাইব থেকে এই সনদ ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়নি।

এটি একটি হাসান হাদিস। নাসাঈ এটি আমর ইবনে সাওয়াদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব হতে, তিনি হাফস ইবনে মায়সারা হতে এবং তিনি মুসা ইবনে উকবা হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চতর সনদে (আলি সনদে) পৌঁছেছে। তিনি এটি সাদ ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর হতে, তিনি ইবনে আবিয যিনাদ হতে—এই সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আবু মারওয়ান ও কাবের মাঝখানে আবদুর রহমান ইবনে মুগিসকে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে যে, এটিই আবু মারওয়ানের নাম। যদি তা-ই হয়, তবে এটি একটি অতিরিক্ত বিষয়। আর বলা হয়েছে যে তাঁর নাম সাদ, কেউ বলেছেন মুগিস। তিনি একজন তাবিঈ, আল-ইজলি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং কেউ কেউ তাঁকে সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করেছেন। আর তাঁর পুত্র একজন কনিষ্ঠ তাবিঈ, যাঁকে মুহাদ্দিসগণ নির্ভরযোগ্য বলেছেন। এই সনদে ধারাবাহিকভাবে চারজন তাবিঈ রয়েছেন, যাঁদের প্রথমজন হলেন মুসা ইবনে উকবা। আর সাদ ইবনে আব্দুল হামিদের বর্ণনার বাহ্যিক দিক অনুযায়ী এতে পাঁচজন তাবিঈ রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
9 - أَخْبرنِي الْمسند الْخَبِير أَبُو مُحَمَّد عمر بن 4 ب مُحَمَّد بن أَحْمد بن سلمَان البالسي ثمَّ الصَّالِحِي أَنا أَبُو بكر بن الرضي أَنا أَبُو عبد الله المرداوي الْخَطِيب انا يحيى بن مَحْمُود الثَّقَفِيّ أَنا عبد الْكَرِيم بن عبد الرَّزَّاق الحسناباذي فِي آخَرين قَالُوا أَنا عبد الرَّزَّاق عمر أَنا أَبُو بكر بن المقرىء فِي الْأَرْبَعين لَهُ ثَنَا جَعْفَر بن أَحْمد بن سِنَان ثَنَا عبد الحميد بن بَيَان ثَنَا
৯ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন অভিজ্ঞ মুসনিদ আবু মুহাম্মদ উমর ইবনে ৪ খ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সালমান আল-বালিসি অতঃপর আস-সালিহি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনুর রাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-মারদাউয়ি আল-খতিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুল রাজ্জাক আল-হাসনাবাদাজি এবং অন্য আরও অনেকে। তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল রাজ্জাক উমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনুল মুকরি তাঁর ‘আরবাইন’ গ্রন্থে, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর ইবনে আহমদ ইবনে সিনান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল হামিদ ইবনে বায়ান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
هشيم ثَنَا شُعْبَة عَن عدي بن ثَابت عَن سعيد بن جُبَير عَن عبد الله بن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من سمع النداء فَلم يَأْتِ فَلَا صَلَاة لَهُ إِلَّا من عذر

هَذَا حَدِيث صَحِيح أخرجه ابْن مَاجَه عَن عبد الحميد بن بَيَان بِهَذَا الْإِسْنَاد فَوَقع لنا مُوَافقَة عالية بِاعْتِبَار اتِّصَال السماع وَصَححهُ ابْن حبَان من هَذَا الْوَجْه وَأخرجه أَبُو دَاوُد من طَرِيق آخر عَن عدي بن ثَابت بِلَفْظ آخر

 

10 - أَخْبرنِي الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق التنوخي أَنا أَحْمد بن أبي طَالب وَعِيسَى بن عبد الله إجَازَة مِنْهُ وسماعا على الأول قَالَا أَنا أَبُو المنجا ابْن اللتي قَالَ عِيسَى
হুশায়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আদি ইবন সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ (জামাতে) আসলো না, তার কোনো সালাত নেই, যদি না তার কোনো ওজর থাকে।"

এটি একটি সহীহ হাদীস। ইবন মাজাহ এই সনদে আবদুল হামিদ ইবন বায়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে শ্রবণের নিরবচ্ছিন্নতার বিবেচনায় আমাদের জন্য এটি একটি উচ্চমানের সমতা (মুওয়াফাকাহ আলিয়াহ) হিসেবে গণ্য হয়েছে। ইবন হিব্বান এই সূত্রে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং আবু দাউদ আদি ইবন সাবিত থেকে ভিন্ন শব্দে অন্য একটি পথে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

১০ - শায়খ আবু ইসহাক আত-তানূখী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমাদ ইবন আবু তালিব এবং ঈসা ইবন আবদুল্লাহ (তাঁর থেকে ইজাজাত হিসেবে এবং প্রথমোক্তজনের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তারা উভয়ে বলেছেন: আবুল মুনজিয়া ইবনুল লাত্তী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ঈসা বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
سَمَاعا وَأحمد إِن لم يكن سَمَاعا فإجازة أَنا 5 أأبو الْوَقْت قَالَ قرىء على بيبى وَنحن نسْمع أَن عبد الرَّحْمَن بن أبي شُرَيْح أخْبرهُم ثَنَا أَبُو الْقَاسِم الْبَغَوِيّ ثَنَا مُصعب بن عبد الله الزبيرِي ثَنَا أبي ثَنَا هِشَام بن عُرْوَة ثَنَا مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن جَابر رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلا أخْبركُم على من تحرم النَّار على كل هَين لين قريب سهل

هَذَا حَدِيث حسن أخرجه أَبُو يعلى فِي مُسْنده عَن مُصعب بِهَذَا الْإِسْنَاد
শ্রবণকৃতভাবে এবং আহমাদ—যদি শ্রবণকৃত না হয় তবে ইজাযাহ সূত্রে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ৫; আবু আল-ওয়াক্ত বলেছেন: বিবির নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম যে, আব্দুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যুবাইরী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব না যে কার জন্য জাহান্নাম হারাম? (জাহান্নাম হারাম) এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে নম্র, কোমল স্বভাবের, মানুষের নিকটবর্তী এবং সহজ-সরল।"

এটি একটি হাসান হাদীস। আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে মুসআব থেকে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَوَقع لنا مُوَافقَة عالية وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط عَن أَحْمد بن يحيى الْحلْوانِي عَن مُصعب فَوَقع لنا بَدَلا عَالِيا قَالَ الطَّبَرَانِيّ لم يروه عَن هِشَام بن عُرْوَة إِلَّا عبد الله بن مُصعب تفرد بِهِ ابْنه قلت لَعَلَّه يُرِيد بِهَذَا الْإِسْنَاد وَإِلَّا فقد سُئِلَ أَبُو زرْعَة الرَّازِيّ عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ وهم فِيهِ عبد الله بن مُصعب فقد رَوَاهُ اللَّيْث وَعَبده بن سليم عَن هِشَام بن عُرْوَة فَقَالَا عَن مُوسَى بن عقبَة عَن عبد الله بن عَمْرو الأودي عَن عبد الله بن مَسْعُود قلت رِوَايَة عَبدة عِنْد التِّرْمِذِيّ وَلَعَلَّه عِنْد هِشَام بِإِسْنَادَيْنِ

 

11 - 5 ب قَرَأت على فَاطِمَة بنت مُحَمَّد بن عبد الْهَادِي عَن أبي نصر بن الْعِمَاد أَنا أَبُو مُحَمَّد بن بنيمان فِي كِتَابه أَنا أَبُو الْعَلَاء الْحسن بن أَحْمد أَنا أَبُو عَليّ الْحسن بن أَحْمد أَنا أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ أَنا الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط ثَنَا مطلب هُوَ ابْن شُعَيْب ثَنَا عبد الله بن صَالح ثَنَا
আমাদের নিকট এটি একটি উচ্চতর 'মুওয়াফাকাহ' (একই সূত্রে মিলন) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং ইমাম তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ এটি আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি হতে, তিনি মুসআব হতে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চতর 'বাদাল' (বিকল্প উচ্চতর সূত্র) হিসেবে পৌঁছেছে। ইমাম তাবারানি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুসআব ব্যতীত আর কেউ এটি হিশাম বিন উরওয়াহ হতে বর্ণনা করেননি, আর তার পুত্র এটি তার থেকে বর্ণনায় একক হয়েছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সম্ভবত তিনি এই সনদটিই বুঝিয়েছেন। অন্যথায়, আবু জুরআ আর-রাজিকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: আবদুল্লাহ বিন মুসআব এতে বিভ্রান্তি (ওয়াহম) করেছেন। কারণ লাইস এবং আবদাহ বিন সুলায়মান এটি হিশাম বিন উরওয়াহ হতে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মুসা বিন উকবাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর আল-আওদি হতে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ হতে। আমি বলছি: আবদাহর বর্ণনাটি তিরমিজিতে রয়েছে, আর সম্ভবত এটি হিশামের নিকট দুটি সনদে ছিল।

 

১১ - ৫ খ: আমি ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ বিন আবদুল হাদি-এর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু নাসর বিন আল-ইমাদ হতে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন বানিমান তাঁর কিতাবে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আলা আল-হাসান বিন আহমদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান বিন আহমদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুত্তালিব—যিনি ইবনে শুআইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সালিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
حَرْمَلَة بن عمرَان حَدثنِي سعيد بن أبي سعيد مولى الْمهرِي عَن أَبِيه عَن عبد الله بن عَمْرو رضي الله عنهما أَن معَاذ بن جبل رضي الله عنه قَالَ يَا رَسُول الله أوصني قَالَ اعبد الله لَا تشرك بِهِ شَيْئا قَالَ يَا رَسُول الله زِدْنِي قَالَ اسْتَقِم وليحسن خلقك

هَذَا حَدِيث حسن أخرجه الْحَاكِم من طَرِيق أبي صَالح عبد الله بن صَالح بِهَذَا الْإِسْنَاد وَرُوَاته مصريون موثوقون لَكِن فِي عبد الله بن صَالح مقَال وَلم ينْفَرد بِهِ وَله شَاهد من حَدِيث أبي ذَر أخرجه التِّرْمِذِيّ وَلَفظه اتَّقِ الله حَيْثُ كنت وَاتبع السَّيئَة الْحَسَنَة تمحها وخالق النَّاس بِخلق حسن

6 - أوفيه تعقب على ابْن عبد الْبر فِي عدَّة الْأَحَادِيث الْأَرْبَعَة من بلاغات مَالك الَّتِي ذكر أَنَّهَا لَا تُوجد إِلَّا فِي الْمُوَطَّأ مِنْهَا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أوصى معَاذ بن جبل فَقَالَ وَأحسن خلقك للنَّاس معَاذ بن جبل

وَكَأن حَدِيث عبد الله بن عَمْرو أصل هَذَا الْبَلَاغ وَالله أعلم
হারমালা বিন ইমরান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আবু সাঈদ মাওলা আল-মাহরি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, মুয়াজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে অসিয়ত করুন।" তিনি বললেন, "আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে আরও বাড়িয়ে দিন।" তিনি বললেন, "অটল থাকো এবং তোমার চরিত্রকে সুন্দর করো।"

এটি একটি হাসান হাদিস। ইমাম হাকিম এটি আবু সালেহ আবদুল্লাহ বিন সালেহর সূত্রে এই সনদে সংকলন করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য মিশরীয়, তবে আবদুল্লাহ বিন সালেহ সম্পর্কে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে; কিন্তু তিনি এটি একাকী বর্ণনা করেননি। আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত একটি হাদিসে এর স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে যা ইমাম তিরমিজি সংকলন করেছেন এবং তার শব্দমালা হলো: "তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, মন্দ কাজের পর নেক কাজ করো যা তাকে মিটিয়ে দেবে এবং মানুষের সাথে সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে মেলামেশা করো।"

৬ - আর এতে ইবনে আব্দুল বার-এর প্রতি সেই চারটি হাদিসের গণনার ক্ষেত্রে একটি পর্যালোচনা রয়েছে যা ইমাম মালিকের 'বালাগাত' (বিচ্ছিন্ন সূত্র) এর অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এগুলো 'মুয়াত্তা' ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তার মধ্যে একটি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াজ বিন জাবালকে অসিয়ত করে বলেছিলেন: "এবং মানুষের সাথে তোমার চরিত্রকে সুন্দর করো, হে মুয়াজ বিন জাবাল।"

এবং মনে হচ্ছে যেন আবদুল্লাহ বিন আমরের বর্ণিত হাদিসটিই এই 'বালাগাত' এর মূল ভিত্তি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أَنْشدني الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن أَحْمد بن عبد الْوَاحِد قَالَ أنشدنا الْحَافِظ أَبُو الْحجَّاج الْمزي لنَفسِهِ

إرض من الله مَا يقدره

أَرَادَ مِنْك الْمقَام أَو نقلك … وَحَيْثُ مَا كنت ذَا رفاهية

فاسكن فَخير الْبِلَاد مَا حملك

قَالَ المملي أبقاه الله هَذَا وزدت عَلَيْهِ فِيهَا

وَحسن الْخلق واستقم وَمَتى أَسَأْت أحسن وَلَا تطل أملك …

من يتق الله يؤته فرجا وَمن عَصَاهُ وَلَا يَتُوب هلك … آخر الْمجْلس الْخَامِس من الأمالي الحلبية

12 - ثمَّ أمْلى علينا يَوْم الثُّلَاثَاء ثَانِي عشر ذِي الْقعدَة الْحَرَام 6 ب سنة سِتّ وَثَلَاثِينَ وثمان مائَة بِجَامِع حلب فَقَالَ أَخْبرنِي أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن عَليّ بن عبد الْحق الدِّمَشْقِي بهَا وَأَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن أَحْمد البعلي بِالْقَاهِرَةِ قَالَا أَنا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن الْحُسَيْن بن أبي التائب أَنا إِبْرَاهِيم بن خَلِيل أَنا يحيى بن مَحْمُود أَنا مُحَمَّد بن أَحْمد بن أبي نزار حضورا وَفَاطِمَة بنت
শেখ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হাফেজ আবু হাজ্জাজ আল-মিযযি তাঁর নিজের রচিত কবিতা আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন

আল্লাহ যা নির্ধারণ করেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো

তিনি তোমার অবস্থান বা স্থানান্তর যা-ই চান না কেন … এবং যেখানেই তুমি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকো

সেখানেই বসবাস করো; কেননা শ্রেষ্ঠ ভূমি তা-ই যা তোমাকে ধারণ করে

শ্রুতলিপি প্রদানকারী —আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন— বলেন: এই পর্যন্ত (মিযযির কবিতা), আর আমি এতে আরও যোগ করেছি

চরিত্রকে সুন্দর করো এবং অবিচল থাকো; আর যখনই কোনো মন্দ কাজ করে ফেলবে তখন ভালো কাজ করো, এবং নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘ করো না …

যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তাকে মুক্তির পথ দান করেন; আর যে তাঁর অবাধ্য হয় এবং তাওবা করে না, সে ধ্বংস হয়ে যায় … ‘আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ’-এর পঞ্চম মজলিসের সমাপ্তি

১২ - অতঃপর তিনি ৮৩৬ হিজরি সনের জিলকদ মাসের বারো তারিখ মঙ্গলবার দিনে (পাণ্ডুলিপির ৬-বি পৃষ্ঠায়) আলেপ্পোর জামে মসজিদে আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান করেন; তিনি বলেন: আমাকে দামেস্কে আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল হক আদ-দিমাশকি এবং কায়রোতে আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-বালি সংবাদ প্রদান করেছেন; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আবু আত-তাইব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে খলিল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবু নিযার উপস্থিতির মাধ্যমে এবং ফাতিমা বিনত
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
عبد الله الجوزدانية سَمَاعا قَالَا أَنا أَبُو بكر بن ريذة أَنا الطَّبَرَانِيّ فِي الْمُنْتَقى من مُعْجَمه الصَّغِير للذهبي ثَنَا يحيى بن عُثْمَان ثَنَا نعيم بن حَمَّاد ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن أبي الزِّنَاد عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّكُم فِي زمَان من ترك مِنْكُم عشر مَا أَمر بِهِ هلك وَسَيَأْتِي على النَّاس زمَان من عمل مِنْهُم بِعشر مَا أَمر بِهِ نجا

هَذَا حَدِيث غَرِيب أخرجه التِّرْمِذِيّ عَن إِبْرَاهِيم بن يَعْقُوب عَن
আবদুল্লাহ আল-জাওযদানিয়াহ শ্রবণ করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন রিদাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আত-তাবারানি আয-যাহাবি কর্তৃক তাঁর ‘আল-মুজাম আস-সাগির’ থেকে সংকলিত ‘আল-মুনতাকা’-তে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন উসমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুয়াইম বিন হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ, আবু যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক যুগে আছ যে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাকে যা আদেশ করা হয়েছে তার এক দশমাংশ বর্জন করবে সে ধ্বংস হবে। আর মানুষের নিকট অচিরেই এমন এক যুগ আসবে যখন তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তাকে যা আদেশ করা হয়েছে তার মাত্র এক দশমাংশ আমল করবে সে মুক্তি পাবে।”

এটি একটি ‘গারিব’ হাদিস, এটি তিরমিযী ইব্রাহিম বিন ইয়াকুব থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
نعيم بن حَمَّاد وَقَالَ لَا نعرفه 7 أإلا من حَدِيث نعيم بن حَمَّاد عَن ابْن عُيَيْنَة وَفِي الْبَاب عَن أبي ذَر وَأبي سعيد

وَكَذَا قَالَ الطَّبَرَانِيّ أَن نعيما تفرد بِهِ وَقَالَ لنا شَيخنَا أَبُو إِسْحَاق قَالَ لنا الذَّهَبِيّ لم يروه إِلَّا نعيم وَلَيْسَ لَهُ أصل وَلَا شَاهد ونعيم مُنكر الحَدِيث مَعَ إِمَامَته

قلت لَعَلَّ مُرَاده بِنَفْي الأَصْل تَقْيِيد كَونه من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَهُوَ كَذَلِك وَأما نَفْيه الشَّاهِد فمتعقب بقول التِّرْمِذِيّ

وَقد وَقع لي حَدِيث أبي ذَر

13 - أَخْبرنِي الشَّيْخ الْحَافِظ أَبُو الْحسن عَليّ بن أبي بكر أَنا أَبُو الْحسن عَليّ بن أَحْمد الْبَزَّاز قَالَ قرىء على زَيْنَب المقدسية وَنحن نسْمع عَن أبي عَليّ الرصافي سَمَاعا أَنا هبة الله بن مُحَمَّد أَنا الْحسن بن عَليّ 7 ب أَنا أَحْمد
নুআইম ইবন হাম্মাদ। তিনি বলেন, নুআইম ইবন হাম্মাদের বর্ণিত ইবন উয়ায়নার হাদিস ছাড়া এটি আমাদের জানা নেই। এই বিষয়ে আবু যার এবং আবু সাঈদ থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

তদ্রূপ তাবারানি বলেছেন যে, নুআইম এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খ আবু ইসহাক আমাদের বলেছেন যে, যাহাবি আমাদের নিকট বলেছেন: নুআইম ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি, এর কোনো ভিত্তি বা সমর্থক বর্ণনা নেই। নুআইম ইমাম হওয়া সত্ত্বেও হাদিসের ক্ষেত্রে 'মুনকারুল হাদিস' (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী)।

আমি বলি, সম্ভবত ভিত্তি অস্বীকার করার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হলো এটি আবু হুরাইরার হাদিস হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা, আর বিষয়টি এমনই। কিন্তু সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) অস্বীকার করার বিষয়টি তিরমিজির বক্তব্যের মাধ্যমে খণ্ডনযোগ্য।

আমি আবু যার-এর হাদিসটি লাভ করেছি।

13 - হাফেজ শায়খ আবুল হাসান আলী ইবন আবু বকর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আবুল হাসান আলী ইবন আহমদ আল-বাযযা্য আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: যায়নব আল-মাকদিসিয়্যার সামনে তা পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম, তিনি আবু আলী আর-রুসাফির নিকট হতে সরাসরি শ্রবণ করেছেন: হিবাতুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: হাসান ইবন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
بن جَعْفَر ثَنَا عبد الله بن أَحْمد ثَنَا أبي ثَنَا مُؤَمل هُوَ ابْن إِسْمَاعِيل ثَنَا حَمَّاد هُوَ ابْن سَلمَة ثَنَا حجاج الْأسود قَالَ مُؤَمل

وَكَانَ رجلا صَالحا قَالَ سَمِعت أَبَا الصّديق يحدث ثَابتا الْبنانِيّ عَن رجل عَن أبي ذَر رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّكُم فِي زمَان خطباؤه قَلِيل وعلماؤه كثير وَمن ترك فِيهِ عشر مَا يعلم هوى أَو قَالَ هلك وَسَيَأْتِي زمَان كثير خطباؤه قَلِيل علماؤه من عمل فِيهِ بِعشر مَا يعلم نجا

وَرِجَال هَذَا الْإِسْنَاد لَا بَأْس بهم إِلَّا الرجل الْمُبْهم

 

14 - أَخْبرنِي أَبُو الْمَعَالِي عبد الله بن عمر بن عَليّ الصُّوفِي عَن زَيْنَب بنت
ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুআম্মাল (যিনি ইবনে ইসমাঈল) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ (যিনি ইবনে সালামাহ) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আল-আসওয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুআম্মাল বলেন,

এবং তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন। তিনি বলেন, আমি আবু আস-সিদ্দিককে সাবিত আল-বুনানির নিকট এক ব্যক্তির বরাতে আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা এমন এক যুগে আছ যার বক্তা কম এবং আলেম অনেক। এ যুগে যে ব্যক্তি তার জানা বিষয়ের দশভাগের একভাগ ছেড়ে দেবে সে পথভ্রষ্ট হবে (অথবা তিনি বলেছেন ধ্বংস হবে)। আর অচিরেই এমন এক যুগ আসবে যার বক্তা হবে অনেক এবং আলেম হবে কম। তখন যে ব্যক্তি তার জানা বিষয়ের দশভাগের একভাগ আমল করবে সে নাজাত পাবে।”

এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কেবল ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিটি ছাড়া।

 

১৪ - আবু আল-মাআলি আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী আস-সুফি আমাকে জায়নব বিনতের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
الْكَمَال أَن يُوسُف بن خَلِيل الْحَافِظ أخْبرهُم فِي كِتَابه قَالَ أَنا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الطرسوسي أَنا الْحسن بن 8 أأحمد المقرىء أَنا أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ أَنا سُلَيْمَان بن أَحْمد ثَنَا أَحْمد بن إِسْحَاق الخشاب ثَنَا عبد الله بن جَعْفَر الرقي ثَنَا عبيد الله بن عَمْرو عَن زيد بن أبي أنيسَة عَن أبي إِسْحَاق السبيعِي عَن عَاصِم بن عَمْرو عَن عُمَيْر مولى عمر قَالَ جَاءَ نفر من الْعرَاق إِلَى عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فَقَالَ بِإِذن جئْتُمْ قَالُوا نعم قَالَ فَمَاذَا جئْتُمْ فِيهِ قَالُوا جئْنَاك
আল-কামাল বর্ণনা করেন যে, হাফিয ইউসুফ ইবন খলীল তাঁর কিতাবে তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আত-তারসূসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবন আহমদ আল-মুকরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান ইবন আহমদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবন ইসহাক আল-খাশশাব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন জাফর আর-রাক্কী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবন আমর, যায়েদ ইবন আবী আনীসা থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি আসিম ইবন আমর থেকে, তিনি উমরের আযাদকৃত দাস উমাইর থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: ইরাকের একদল লোক উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি অনুমতি নিয়ে এসেছ?” তারা বললেন, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তাহলে তোমরা কী উদ্দেশ্যে এসেছ?” তারা বললেন, “আমরা আপনার কাছে এসেছি...”
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
لنسألك عَن ثَلَاث قَالَ مَا هن قَالُوا جِئْنَا لنسألك عَن صَلَاة الرجل فِي بَيته تَطَوّعا وَعَن مَا يحل للرجل من امْرَأَته حَائِضًا وَعَن الْغسْل من الْجَنَابَة فَقَالَ أسحرة أَنْتُم فَقَالُوا لَا وَالله مَا نَحن بسحرة قَالَ أفكهنة أَنْتُم قَالُوا لَا قَالَ مَا سَأَلَني عَنْهُن أحد قبلكُمْ مُنْذُ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَنْهُن قَالَ أما صَلَاة الرجل فِي بَيته تَطَوّعا فنور بَيْتك مَا اسْتَطَعْت وَأما الْحَائِض فلك مَا فَوق الْإِزَار وَلَيْسَ لَك مَا 8 ب تَحْتَهُ وَأما الْغسْل من الْجَنَابَة فاغسل يَديك ثَلَاثًا ثمَّ أدخلها الْإِنَاء ثمَّ اغسل فرجك وَمَا أَصَابَك وَتَوَضَّأ وضوءك للصَّلَاة ثمَّ أفرغ على رَأسك ثَلَاثًا ثمَّ اغسل سَائِر جسدك

هَذَا حَدِيث حسن أخرجه أَبُو يعلى عَن أبي خَيْثَمَة زُهَيْر بن حَرْب بِتَمَامِهِ وَأخرج ابْن مَاجَه طرفا مِنْهُ الْمُتَعَلّق بِالصَّلَاةِ عَن مُحَمَّد بن أبي الْحُسَيْن كِلَاهُمَا عَن عبد الله بن جَعْفَر بِهَذَا الْإِسْنَاد فَوَقع لنا بَدَلا عَالِيا وَأخرجه ابْن مَاجَه أَيْضا من طَرِيق طَارق عَن عَاصِم بن عَمْرو عَن عمر مُنْقَطِعًا
আমরা আপনাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য এসেছি। তিনি বললেন: সেগুলো কী? তারা বলল: আমরা এসেছি আপনাকে ব্যক্তির ঘরে নফল নামাজ সম্পর্কে, ঋতুবতী থাকাকালীন স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর জন্য যা বৈধ সে সম্পর্কে এবং নাপাকি (জানাবাত) থেকে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। তিনি বললেন: তোমরা কি জাদুকর? তারা বলল: না, আল্লাহর কসম, আমরা জাদুকর নই। তিনি বললেন: তোমরা কি গণক? তারা বলল: না। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিষয়গুলো জিজ্ঞাসা করার পর থেকে তোমাদের আগে অন্য কেউ আমাকে এগুলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনি। তিনি বললেন: ব্যক্তির তার ঘরে নফল নামাজের ব্যাপারে কথা হলো, তোমার সাধ্যমতো নিজের ঘরকে আলোকিত করো। আর ঋতুবতী স্ত্রীর ব্যাপারে কথা হলো, তোমার জন্য ইজারের (নিম্নাংশের পোশাক) উপরের অংশ বৈধ, কিন্তু এর নিচের অংশ তোমার জন্য বৈধ নয়। আর নাপাকি থেকে গোসলের ব্যাপারে কথা হলো, তুমি তোমার দুই হাত তিনবার ধৌত করবে, তারপর তা পাত্রে প্রবেশ করাবে। এরপর তোমার লজ্জাস্থান এবং যে স্থানে অপবিত্রতা লেগেছে তা ধৌত করবে। নামাজের ওযুর মতো ওযু করবে, তারপর তোমার মাথায় তিনবার পানি ঢালবে, অতঃপর তোমার শরীরের বাকি অংশ ধৌত করবে।

এটি একটি হাসান হাদিস। আবু ইয়ালা এটি আবু খাইসামা জুহাইর ইবনে হারব থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এর নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটি মুহাম্মদ ইবনে আবু আল-হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ই আবদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চতর স্থলাভিষিক্ত সনদ (বাদাল আলী) হিসেবে পৌঁছেছে। ইবনে মাজাহ এটি তারিক-এর সূত্রে আসিম ইবনে আমর থেকে এবং তিনি ওমর থেকে বিচ্ছিন্ন সনদেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَعَاصِم بن عَمْرو هُوَ البَجلِيّ لَا بَأْس بِهِ وَهُوَ من قدماء شُيُوخ شُعْبَة وَقد رَوَاهُ عَنهُ شُعْبَة فَخَالف فِي شَيْخه وَأخرجه الإِمَام أَحْمد عَن مُحَمَّد بن جَعْفَر عَن شُعْبَة عَن عَاصِم عَن رجل من الْقَوْم الَّذين سَأَلُوا عمر رضي الله عنه فَذكر مَعْنَاهُ بِطُولِهِ وَيبعد الْجمع بِأَن يكون عُمَيْر من الثَّلَاثَة وَالْعلم عِنْد الله

 

15 - أَخْبرنِي الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الدِّمَشْقِي بِالْمَسْجِدِ الْحَرَام 9 أأنا أَحْمد بن أبي طَالب أَنا أَبُو الْحسن الْقطيعِي إجَازَة أَنا أسعد بن بلدرك أَنا عَليّ بن عبد الرَّحْمَن أَنا أَبُو الْقَاسِم بن بَشرَان ثَنَا أَبُو عَليّ بن خُزَيْمَة ثَنَا أَبُو قلَابَة ثَنَا أَبُو عَاصِم ثَنَا زَكَرِيَّا بن
আসিম বিন আমর হলেন আল-বাজালি, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং তিনি শু'বার প্রাচীন উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত। শু'বা তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাঁর উস্তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ইমাম আহমাদ এটি মুহাম্মদ বিন জাফর থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি সেই দলের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যারা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রশ্ন করেছিলেন। অতঃপর তিনি এর অর্থ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। উমায়ের সেই তিনজনের একজন হওয়ার মাধ্যমে (বর্ণনা দুটির মধ্যে) সমন্বয় করা সুদূরপরাহত। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট।

 

১৫ - মাসজিদুল হারামে আমাকে শায়খ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আবু তালিব: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-কাতিয়ী ইজাজতসূত্রে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসআদ বিন বিলদারাক: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আবদুর রহমান: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম বিন বাশরান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিন খুজাইমা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবাহ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া বিন
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
إِسْحَاق عَن عَمْرو بن دِينَار عَن عَطاء عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِي اللمم قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن تغْفر اللَّهُمَّ تغْفر جما وَأي عبد لَك لَا ألما

هَذَا حَدِيث سَنَده صَحِيح فِي رَفعه نَكَارَة أخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك عَن أبي الْعَبَّاس الْأَصَم عَن مُحَمَّد بن سِنَان عَن أبي عَاصِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا وكأنهما لم يخرجَاهُ لرِوَايَة شُعْبَة عَن مَنْصُور عَن مُجَاهِد قَالَ سُئِلَ ابْن عَبَّاس عَن اللمم قَالَ هُوَ أَن تذنب ثمَّ لَا تعود ألم تسمع قَول الشَّاعِر … إِن تغْفر اللَّهُمَّ تغْفر جما … وَأي عبد لَك لَا ألما … قلت قد أخرج الشَّيْخَانِ من وَجه آخر عَن ابْن عَبَّاس فِي اللمم كلَاما آخر أَخْرجَاهُ من طَرِيق طَاوس عَن ابْن عَبَّاس قَالَ مَا رَأَيْت شَيْئا أشبه باللمم من مَا قَالَ أَبُو هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم 9 ب فَذكر الحَدِيث فِي زنا الْجَوَارِح وَفِي آخِره والفرج يصدق ذَلِك أَو يكذبهُ وَفِيه إِشَارَة إِلَى أَن اللمم هُوَ الصَّغِيرَة وَالله أعلم

آخر الْمجْلس السَّادِس من الأمالي الحلبية
ইসহাক আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে 'আল-লামাম' (ছোট পাপ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "হে আল্লাহ! যদি আপনি ক্ষমা করেন, তবে আপনি বিপুল পরিমাণ ক্ষমা করেন; আর আপনার কোন বান্দা আছে যে ছোট পাপে লিপ্ত হয়নি?"

এই হাদিসটির সনদ সহীহ, তবে এটি মারফু (রাসূলের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত) হিসেবে বর্ণনায় কিছুটা নাকারাহ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে। ইমাম হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবু আব্বাস আল-আসাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিনান থেকে, তিনি আবু আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ। আর সম্ভবত তারা এটি সংকলন করেননি শু’বাহর বর্ণনার কারণে, যিনি মানসূর থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে 'আল-লামাম' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, "তা হলো এমন যে তুমি একটি পাপ করলে এবং পুনরায় তাতে ফিরে গেলে না। তুমি কি কবির উক্তিটি শোনোনি: … হে আল্লাহ! যদি আপনি ক্ষমা করেন, তবে আপনি বিপুল পরিমাণ ক্ষমা করেন … আর আপনার কোন বান্দা আছে যে ছোট পাপে লিপ্ত হয়নি …" আমি বলছি: শাইখাইন ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অন্য একটি সূত্রে 'আল-লামাম' সম্পর্কে ভিন্ন কথা বর্ণনা করেছেন। তারা তা তাউসের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তার চেয়ে 'আল-লামাম'-এর সদৃশ আর কিছুই আমি দেখিনি—৯ খ—অতঃপর তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যিনা সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে রয়েছে: "আর লজ্জাস্থান তাকে সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে।" এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, 'আল-লামাম' মূলত সগীরা গুনাহ (ছোট পাপ)-কে বোঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ-এর ষষ্ঠ মজলিসের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم

أملا علينا سيدنَا ومولانا الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة حَافظ الْعَصْر قَاضِي الْقُضَاة شيخ الْإِسْلَام شهَاب الدّين أَبُو الْفضل أَحْمد بن حجر الْعَسْقَلَانِي الشَّافِعِي أمتع الله بحياته يَوْم الثُّلَاثَاء تَاسِع عشر ذِي الْقعدَة الْحَرَام سنة سِتّ وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة بِجَامِع حلب فَقَالَ

16 - أَخْبرنِي الْمسند الْخَبِير تَقِيّ الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبيد الله أَنا القَاضِي شرف الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن الْحسن بن الْحَافِظ إجَازَة أَن لم يكن سَمَاعا أَنا مُحَمَّد بن سعد وَمُحَمّد بن عبد الْهَادِي المقدسيان قَالَا أَنا أَبُو الْفرج الثَّقَفِيّ عَن فَاطِمَة بنت عبد الله سَمَاعا أَنا أَبُو بكر التَّاجِر أَنا أَبُو الْقَاسِم الطَّبَرَانِيّ ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن مُوسَى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

আমাদের প্রতি মঙ্গলবার, উনিশে জিলকদ হারাম মাস, আটশ ছত্রিশ হিজরী সনে আলেপ্পোর জামে মসজিদে আমাদের নেতা ও অভিভাবক, শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, যুগের হাফেজ, প্রধান বিচারপতি, শায়খুল ইসলাম শিহাবুদ্দীন আবুল ফজল আহমদ ইবনে হাজার আসকালানি শাফেয়ী—আল্লাহ তাঁর জীবনের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন—নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন:

১৬ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন পারদর্শী মুসনিদ তাকীউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উবায়দুল্লাহ; তিনি বলেন: আমাকে বিচারক শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাফেজ ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি মাকদিসীদ্বয়; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ সাকাফী ফাতিমা বিনতে আবদুল্লাহর সূত্রে শ্রবণ করে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-তাজির; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-তাবারানি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুসা।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْمروزِي ثَنَا مَحْمُود بن الْعَبَّاس صَاحب ابْن الْمُبَارك ثَنَا هشيم عَن الْأَعْمَش عَن إِبْرَاهِيم عَن عَلْقَمَة عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من أعْطى أَرْبعا أعطي أَرْبعا وَتَفْسِير ذَلِك فِي كتاب الله من أعْطى الذّكر ذكره الله تَعَالَى فَإِن الله تَعَالَى 10 ب يَقُول {اذكروني أذكركم} وَمن أعْطى الدُّعَاء أعطي الْإِجَابَة فَإِن الله تَعَالَى يَقُول {ادْعُونِي أَسْتَجِب لكم} وَمن أعْطى الشُّكْر أعطي الزِّيَادَة فَإِن الله تَعَالَى يَقُول {لَئِن شكرتم لأزيدنكم} وَمن أعْطى الاسْتِغْفَار أعطي الْمَغْفِرَة فَإِن الله تَعَالَى يَقُول {اسْتَغْفرُوا ربكُم إِنَّه كَانَ غفارًا}

هَذَا حَدِيث غَرِيب قَالَ الطَّبَرَانِيّ لم يروه عَن الْأَعْمَش إِلَّا هشيم تفرد بِهِ مَحْمُود بن الْعَبَّاس قلت وَلم أَقف لَهُ على تَرْجَمَة وَقد اتهمه بِهِ الذَّهَبِيّ وَمن فَوْقه من رجال الصَّحِيحَيْنِ وَالْأَشْبَه أَن يكون مَوْقُوفا أَو دخل لَهُ إِسْنَاد فِي إِسْنَاد
আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারকের সহচর মাহমূদ ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যাকে চারটি বস্তু প্রদান করা হয়েছে, তাকে (বিনিময়ে) আরও চারটি বস্তু প্রদান করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহর কিতাবে এর ব্যাখ্যা বিদ্যমান; যাকে যিকর (স্মরণ) করার তাওফীক দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাকে স্মরণ করেন। কেননা আল্লাহ তাআলা [১০ খ] বলেন: {তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব}। আর যাকে দুআ করার তাওফীক দেওয়া হয়েছে, তাকে কবুলিয়াত দান করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব}। আর যাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফীক দেওয়া হয়েছে, তাকে নিয়ামত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব}। আর যাকে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার তাওফীক দেওয়া হয়েছে, তাকে ক্ষমা দান করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল}।"

এটি একটি গারীব (অপরিচিত) হাদীস। তাবারানী বলেছেন: হুশাইম ব্যতীত আর কেউ এটি আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেননি এবং মাহমূদ ইবনুল আব্বাস এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমি তার কোনো জীবনী লাভ করতে পারিনি এবং ইমাম যাহাবী তাকে এই হাদীসটির ব্যাপারে অভিযুক্ত করেছেন। তবে তার ঊর্ধ্ববতন বর্ণনাকারীগণ বুখারী ও মুসলিমের (সহীহাইন) বর্ণনাকারী। অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় হলো—হাদীসটি 'মাওকৃষ্ণ' (সাহাবীর নিজস্ব উক্তি) হওয়া অথবা এতে এক সনদের তথ্য অন্য সনদে প্রবিষ্ট হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
17 - أَخْبرنِي أَبُو الْمَعَالِي الْأَزْهَرِي أَنا أَبُو الْعَبَّاس الْحلَبِي أَنا أَبُو الْفرج الْحَرَّانِي أَنا أَبُو مُحَمَّد الْحَرْبِيّ أَنا أَبُو الْقَاسِم الشَّيْبَانِيّ أَنا أَبُو عَليّ التَّمِيمِي أَنا أَبُو بكر الْقطيعِي ثَنَا عبد الله بن أَحْمد حَدثنِي أبي ثَنَا روح 11 أهوَ ابْن عبَادَة ثَنَا همام عَن عبد الله بن أبي حُسَيْن عَن شهر بن حَوْشَب عَن عبد الرَّحْمَن بن غنم عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من قَالَ قبل أَن ينْصَرف ويثني رجلَيْهِ من صَلَاة الصُّبْح وَالْمغْرب لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ لَهُ الْملك وَله الْحَمد يحيي وَيُمِيت وَهُوَ على كل شَيْء قدير
১৭ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মা‘আলী আল-আজহারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আল-হালাবী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ আল-হাররানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হারবী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আশ-শাইবানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আত-তামিমী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কুতাই‘ঈ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন রাওহ—তিনি হলেন ইবনে উবাদাহ—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাম, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ফজরের ও মাগরিবের সালাত শেষে প্রস্থান করার এবং পা ভাঁজ করা অবস্থা পরিবর্তনের আগে বলবে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সকল কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান’...”
(খণ্ড: ১) আল-আমালি আল-হালাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
عشر مَرَّات كتب لَهُ بِكُل مرّة عشر حَسَنَات ومحي عَنهُ عشر سيئات وَرفع لَهُ عشر دَرَجَات وَكن حرْزا لَهُ من كل مَكْرُوه وحرزا من الشَّيْطَان الرَّجِيم وَلم يحل لذنب أَن يُدْرِكهُ ذَلِك الْيَوْم إِلَّا الشّرك وَكَانَ من أفضل النَّاس عملا

هَذَا حَدِيث حسن أخرجه الإِمَام أَحْمد هَكَذَا وصنيعه يَقْتَضِي ثُبُوت الصُّحْبَة لعبد الرَّحْمَن بن غنم وَقد اخْتلف فِي ذَلِك فأثبتها المصريون أَبُو سعيد بن يُونُس وَمُحَمّد بن الرّبيع الجيزي وَنقل ذَلِك يحيى بن بكير عَن اللَّيْث وَابْن لَهِيعَة وَنفى ذَلِك الشاميون دُحَيْم وَأَبُو زرْعَة النصري وَغَيرهمَا وَبِه جزم ابْن عبد الْبر فَقَالَ أسلم زمن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلم يره وَصَحب 11 ب معَاذ بن جبل

قلت أخرج النَّسَائِيّ حَدِيثه هَذَا من رِوَايَته عَن معَاذ بن جبل أخرجه من طَرِيق حُصَيْن بن مَنْصُور عَن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن أبي حُسَيْن بالسند الْمَذْكُور وَأخرجه أَيْضا من رِوَايَة زيد بن أبي أنيسَة عَن ابْن أبي حُسَيْن بِهَذَا لَكِن قَالَ عَن أبي ذَر بدل معَاذ وَمن هَذَا الْوَجْه أخرجه التِّرْمِذِيّ لَكِن سقط من إِسْنَاده ابْن أبي حُسَيْن فَصَارَ عَن زيد بن أبي أنيس عَن شهر وَقَالَ حسن صَحِيح وَهُوَ مِمَّا يتعجب مِنْهُ لِأَنَّهُ اشْتَمَل على ثَلَاث علل الِاخْتِلَاف
দশবার (বললে), তার জন্য প্রত্যেকবারের বিনিময়ে দশটি নেকি লেখা হবে, তার থেকে দশটি গুনাহ মিছিয়ে দেওয়া হবে, তার জন্য দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। এটি তার জন্য প্রতিটি অপ্রীতিকর বিষয় থেকে সুরক্ষা হবে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে সুরক্ষা হবে। শিরক ব্যতীত অন্য কোনো গুনাহের পক্ষে সেই দিন তাকে পাকড়াও করা সম্ভব হবে না এবং সে আমলের দিক থেকে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

এটি একটি হাসান হাদিস, ইমাম আহমাদ একে এভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর এই বর্ণনাভঙ্গি আব্দুর রহমান ইবনে গানামের সাহাবি হওয়া সাব্যস্ত হওয়ার দাবি রাখে। তবে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে; মিশরীয় আলেমগণ যেমন আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস এবং মুহাম্মদ ইবনে রাবি আল-জিজি এটি সাব্যস্ত করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর একে লাইস ও ইবনে লাহিআহ থেকে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে সিরীয় (শাম) আলেমগণ যেমন দুহাইম, আবু যুরআহ আন-নাসরি এবং অন্যান্যরা তা অস্বীকার করেছেন। ইবনে আব্দুল বার এটি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি এবং তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের সাহচর্য লাভ করেছিলেন।

আমি বলি, ইমাম নাসাঈ তাঁর এই হাদিসটি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে তাঁর বর্ণনায় সংকলন করেছেন। তিনি এটি হুসাইন ইবনে মানসুরের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি হুসাইন থেকে উল্লিখিত সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি যায়িদ ইবনে আবি আনাইসাহ-এর বর্ণনাতেও ইবনে আবি হুসাইন থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি মুয়াজের পরিবর্তে আবু যারের কথা উল্লেখ করেছেন। এই সূত্রেই ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁর সনদে ইবনে আবি হুসাইন বাদ পড়ে গেছেন, ফলে তা যায়িদ ইবনে আবি আনাইস থেকে শাহর-এর সূত্রে হয়ে গেছে। তিনি একে হাসান সহিহ বলেছেন; এটি একটি বিস্ময়কর বিষয়, কারণ এটি মতপার্থক্যের তিনটি ত্রুটি (ইল্লাত) ধারণ করে।