(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
الانتصار لأصحاب الحديث   (أبو المظفر السمعاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الانتصار لأصحاب الحديث

المؤلف: أبو المظفر، منصور بن محمد بن عبد الجبار ابن أحمد المروزى السمعاني التميمي الحنفي ثم الشافعي (ت 489هـ)

المحقق: محمد بن حسين بن حسن الجيزاني

الناشر: مكتبة أضواء المنار - السعودية

الطبعة: الأولى، 1417هـ - 1996م

عدد الصفحات: 83

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আসহাবুল হাদিসের স্বপক্ষে বিজয়   (আবু আল-মুজাফফর আল-সামআনি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আসহাবুল হাদিসের স্বপক্ষে বিজয়

লেখক: আবু আল-মুজাফফর, মানসুর বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল জব্বার ইবনে আহমাদ আল-মারওয়াযি আল-সামআনি আল-তামিমি আল-হানাফি অতঃপর আল-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৩৯ হি.)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন হাসান আল-জীযানি

প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াইল মানার - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩

[কিতাবটির নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١)
1 -‌‌ الذامون لأَصْحَاب الحَدِيث صنفان

قد لهج بذم أَصْحَاب الحَدِيث صنفان أهل الْكَلَام وَأهل الرَّأْي فهم فِي كل وَقت يقصدونهم بالثلب وَالْعَيْب وينسبونهم إِلَى الْجَهْل وَقلة الْعلم وَاتِّبَاع السوَاد على الْبيَاض

وَقَالُوا غثاء وغثر وزوامل أسفار وَقَالُوا أقاصيص وحكايات وأخبار وَرُبمَا قرؤوا {كَمثل الْحمار يحمل أسفارا}
১ -‌‌ হাদীসপন্থীদের নিন্দাকারীরা দুই প্রকার

হাদীসপন্থীদের নিন্দায় দুই শ্রেণীর লোক সর্বদা লিপ্ত থাকে: আহলুল কালাম (কালাম শাস্ত্রবিদ) এবং আহলুর রায় (রায়পন্থী)। তারা প্রতিটি সময়েই তাদের কুৎসা রটনা ও ত্রুটি অন্বেষণ করার লক্ষ্য স্থির করে এবং তাদের প্রতি অজ্ঞতা, স্বল্প জ্ঞান এবং কেবল শ্বেতপত্রের ওপর কৃষ্ণবর্ণের (অক্ষরের) অন্ধ অনুসরণের অপবাদ দেয়।

তারা তাদের আবর্জনা, নির্বোধ এবং কিতাব বহনকারী বাহন বলে অভিহিত করে। তারা আরও বলে যে, (তাদের নিকট কেবল) কিছু কেচ্ছা-কাহিনী ও সংবাদ রয়েছে এবং কখনো কখনো তারা পাঠ করে: {যেমন গাধা যে কিতাব বহন করে}।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢)
وَفِي الْحَقِيقَة مَا ثلموا إِلَّا دينهم وَلَا سعوا إِلَّا فِي هَلَاك أنفسهم وَمَا للأساكفة وصوغ الْحلِيّ وصناعة الْبَز وَمَا للحدادين وتقليب الْعطر وَالنَّظَر فِي الْجَوَاهِر أما يكفيهم صدأ الْحَدِيد وَنفخ فِي الْكِير وشواظ الذيل وَالْوَجْه وغبرة فِي الحدقة وَمَا لأهل الْكَلَام وَنقد حَملَة الْأَخْبَار وَمَا أحسن قَول من قَالَ

(بلَاء لَيْسَ يُشبههُ بلَاء … عَدَاوَة غير ذِي حسب وَدين)

(ينيلك مِنْهُ عرضا لم يصنه … ويرتع مِنْك فِي عرض مصون)

لَكِن الْحق عَزِيز وكل مَعَ عزته يَدعِيهِ ودعواهم الْحق تحجبهم عَن مُرَاجعَة الْحق نعم إِن على الْبَاطِل ظلمَة وَإِن على الْحق نورا وَلَا يبصر نور الْحق إِلَّا من حشي قلبه بِالنورِ {وَمن لم يَجْعَل الله لَهُ نورا فَمَا لَهُ من نور} فالمتخبط فِي ظلمات الْهوى والمتردي فِي مهاوي الهلكة والمتعسف فِي الْمقَال لَا يوفق للعود إِلَى الْحق وَلَا يرشد إِلَى طَرِيق الْهدى ليظْهر وعورة
বস্তুত তারা নিজেদের দ্বীন ছাড়া অন্য কিছুকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি এবং নিজেদের ধ্বংস সাধন ছাড়া অন্য কোনো প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়নি। মুচিদের অলঙ্কার নির্মাণ ও বস্ত্র শিল্পের সাথে কী সম্পর্ক? আর কামারদের সুগন্ধি নাড়াচাড়া ও মণি-মুক্তা জহরত পরখ করার সাথেই বা কী কাজ? লোহার মরিচা, হাপরে ফুঁ দেওয়া, চেহারা ও পোশাকে আগুনের আঁচ এবং চোখের মণির ধুলিকণা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়? কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সাথে হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনার কী সম্পর্ক? আর কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার:

(এমন এক বিপদ যার কোনো তুলনা নেই … এমন ব্যক্তির শত্রুতা যার না আছে মর্যাদা, না আছে দ্বীন)

(সে তোমাকে এমন সম্মান বিলিয়ে দেয় যা সে নিজে রক্ষা করেনি … অথচ সে তোমার সুরক্ষিত সম্মানে আঘাত হানে)

তবে সত্য হলো অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য ও মর্যাদাপূর্ণ, আর প্রত্যেকেই সেই মর্যাদার দাবি করে। সত্যের এই মিথ্যা দাবিই তাদেরকে সত্যের পথে ফিরে আসা থেকে বাধা প্রদান করে। হ্যাঁ, মিথ্যার ওপর রয়েছে অন্ধকার আর সত্যের ওপর রয়েছে জ্যোতি। আর সত্যের সেই জ্যোতি কেবল তারাই দেখতে পায় যাদের অন্তর জ্যোতিতে পরিপূর্ণ। {আর আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেন না, তার কোনো জ্যোতি নেই।} সুতরাং যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির অন্ধকারে দিশেহারা, ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিপতিত এবং কথাবার্তায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য, সে সত্যে প্রত্যাবর্তনের তৌফিক পায় না এবং হিদায়াতের পথেও দিশা পায় না; যাতে করে তার পথের বন্ধুরতা প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٣)
مسلكه وَعز جَانِبه وتأبيه إِلَّا على أَهله {كَذَلِك زينا لكل أمة عَمَلهم ثمَّ إِلَى رَبهم مرجعهم فينبئهم بِمَا كَانُوا يعْملُونَ}
তাঁর পথ এবং তাঁর পক্ষের প্রতাপ ও গরিমা এবং এর যোগ্য ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত এটি অন্য কারো নিকট ধরা না দেওয়া। “এভাবেই আমি প্রত্যেক উম্মতের নিকট তাদের কর্মকে সুশোভিত করেছি; অতঃপর তাদের রবের নিকটেই তাদের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তাদেরকে তারা যা করত সে সম্পর্কে অবহিত করবেন।”
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٤)
- 2‌‌ بَاب الْحَث على السّنة وَالْجَمَاعَة والاتباع وَكَرَاهَة التَّفَرُّق والابتداع

-

اعْلَم أَن الله تَعَالَى أَمر خلقه بِلُزُوم الْجَمَاعَة ونهاهم عَن الْفرْقَة وندبهم إِلَى الِاتِّبَاع وحثهم عَلَيْهِ وذم الابتداع وأوعدهم عَلَيْهِ

وَذَلِكَ بَين فِي كِتَابه وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم

قَالَ تَعَالَى {واعتصموا بِحَبل الله جَمِيعًا وَلَا تفَرقُوا} وَقَالَ {شرع لكم من الدّين مَا وصّى بِهِ نوحًا وَالَّذِي أَوْحَينَا إِلَيْك وَمَا وصينا بِهِ إِبْرَاهِيم ومُوسَى وَعِيسَى أَن أقِيمُوا الدّين وَلَا تتفرقوا فِيهِ} وَقَالَ {وَأَن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ وَلَا تتبعوا السبل فَتفرق بكم عَن سَبيله ذَلِكُم وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} وَأمر تَعَالَى بِاتِّبَاع النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي آيَات من كِتَابه

وَقد وَردت الْأَحَادِيث حاثة على لُزُوم سنته وَاجْتنَاب كل بِدعَة

وَإِذا ثَبت أَنا أمرنَا بالاتباع والتمسك بأثر النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلُزُوم مَا شرعة لنا من الدّين وَالسّنة وَلَا طَرِيق لنا إِلَى الْوُصُول إِلَى هَذَا إِلَّا بِالنَّقْلِ والْحَدِيث بمتابعة الْأَخْبَار الَّتِي رَوَاهَا الثِّقَات والعدول من هَذِه الْأمة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَعَن الصَّحَابَة وَمن بعده
২ সুন্নাহ ও জামাত আঁকড়ে ধরা এবং অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান, আর বিভেদ ও বিদআত সৃষ্টির প্রতি অপছন্দনীয়তা বিষয়ক অধ্যায়

-

জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে জামাতবদ্ধ হয়ে থাকবার আদেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিভেদ থেকে নিষেধ করেছেন, অনুসরণের প্রতি আহ্বান ও উৎসাহ দিয়েছেন এবং বিদআতের নিন্দা করেছেন ও এর ওপর শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন।

আর তা তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর মধ্যে সুস্পষ্ট।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" তিনি আরও বলেছেন, "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই দিয়েছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার নিকট ওহি পাঠিয়েছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।" তিনি আরও বলেছেন, "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।" আর আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণের আদেশ দিয়েছেন।

এবং বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং প্রত্যেক বিদআত পরিহার করার প্রতি উৎসাহ দেয়।

আর যখন এটি প্রমাণিত যে, আমাদের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা, তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং তিনি আমাদের জন্য দ্বীন ও সুন্নাহর যে বিধান দিয়েছেন তা পালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে সে পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য আমাদের কাছে বর্ণনা ও হাদিস ছাড়া আর কোনো পথ নেই; যা এই উম্মতের নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, সাহাবায়ে কিরাম থেকে এবং তাঁদের পরবর্তীগণের থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٥)
فنشرح الْآن قَول أهل السّنة إِن طَرِيق الدّين هُوَ السّمع والأثر وَأَن طَريقَة الْعقل وَالرُّجُوع إِلَيْهِ وَبِنَاء السمعيات عَلَيْهِ مَذْمُوم فِي الشَّرْع ومنهي عَنهُ وَنَذْكُر مقَام الْعقل فِي الشَّرْع وَالْقدر الَّذِي أَمر الشَّرْع بِاسْتِعْمَالِهِ وَحرم مجاوزته

وَقد سلك أهل الْكَلَام فِي رد النَّاس من الْأَحَادِيث إِلَى المعقولات طَرِيقا شبهوا بهَا على عَامَّة النَّاس قَالُوا

إِن أَمر الدّين أَمر لابد فِيهِ من وُقُوع الْعلم ليَصِح الِاعْتِقَاد فِيهِ فَإِن الْمُصِيب فِي ذَلِك عِنْد اخْتِلَاف الْمُخْتَلِفين وَاحِد والمخالف فِي أَمر من أُمُور الدّين الَّذِي مرجعه إِلَى الِاعْتِقَاد إِمَّا كَافِر أَو مُبْتَدع

وَمَا كَانَ أمره على هَذَا الْوَجْه فلابد فِي ثُبُوته من طَرِيق توجب الْعلم حَتَّى لَا يتداخل من حصل لَهُ الْعلم بذلك شُبْهَة وَشك بِوَجْه من الْوُجُوه

وَالْأَخْبَار الَّتِي يَرْوِيهَا أهل الحَدِيث فِي أُمُور الدّين أَخْبَار آحَاد وَهِي غير مُوجبَة للْعلم وَإِنَّمَا توجب الإعمال فِي الْأَحْكَام خَاصَّة

وَإِذا سقط الرُّجُوع إِلَى الْأَخْبَار فلابد من الرُّجُوع إِلَى دَلِيل الْعقل وَمَا يُوجِبهُ النّظر وَالِاعْتِبَار
এখন আমরা আহলে সুন্নাতের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করছি যে, দ্বীনের পথ হলো ওহী ও আসার (পূর্বসূরীদের বর্ণনা)। আর বিবেকের পথ অবলম্বন করা, তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং ওহীনির্ভর বিষয়াবলিকে বিবেকের ওপর স্থাপন করা শরিয়তে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ। আমরা শরিয়তে বিবেকের মর্যাদা এবং শরিয়ত যতটুকু এটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে ও যতটুকু অতিক্রম করা হারাম করেছে, তা উল্লেখ করব।

আহলে কালাম মানুষকে হাদিস থেকে সরিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এমন এক পথ অবলম্বন করেছে, যার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছে:

দ্বীনের বিষয়টি এমন যে, বিশ্বাস বা আকিদা শুদ্ধ হওয়ার জন্য তাতে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। কেননা মতভেদের সময় সত্যপন্থি কেবল একজনই হয়ে থাকেন। আর দ্বীনের এমন কোনো বিষয়—যার মূল ভিত্তি আকিদা—তাতে বিরোধিতাকারী ব্যক্তি হয় কাফির, না হয় বিদআতি।

আর যে বিষয়টি এরূপ, তা প্রমাণের জন্য অবশ্যই এমন একটি পথ থাকা আবশ্যক যা নিশ্চিত জ্ঞান দান করে, যেন সেই জ্ঞান অর্জনকারীর মনে কোনোভাবেই কোনো প্রকার সংশয় বা সন্দেহ প্রবেশ করতে না পারে।

অথচ হাদিস বিশারদগণ দ্বীনের ব্যাপারে যেসব বর্ণনা প্রদান করেন, সেগুলো হলো 'আখবারে আহাদ' (একক সংবাদ), যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। এগুলো কেবল বিধানাবলির ক্ষেত্রে আমল করার জন্য প্রযোজ্য।

সুতরাং যখন বর্ণনাসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা রহিত হয়ে গেল, তখন বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল এবং বিচার-বিশ্লেষণ ও চিন্তাভাবনা যা অবধারিত করে, তার দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٦)
فَهَذَا من أعظم شبههم فِي الْإِعْرَاض عَن الْأَحَادِيث والْآثَار وَسَيَأْتِي الْجَواب عَنْهَا

وَقد قَالَ عمر بن الْخطاب إِنَّه سَيَأْتِي أنَاس يأخذونكم بشبهات الْقُرْآن فخذوهم بالسنن فَإِن أَصْحَاب السّنَن أعلم بِكِتَاب الله
হাদিস ও আছার থেকে বিমুখ হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই তাদের অন্যতম বড় সংশয় এবং অচিরেই এর উত্তর প্রদান করা হবে।

আর উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, অচিরেই এমন কিছু লোক আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্কে জড়াবে, তখন তোমরা তাদের সুন্নাহর মাধ্যমে পাকড়াও করো; কেননা সুন্নাহর অনুসারীরাই আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٧)
3 -‌‌ مَا ورد عَن الْأَئِمَّة فِي ذمّ الْكَلَام

وَنَذْكُر الْآن مَا ورد عَن الْأَئِمَّة فِي ذمّ الْكَلَام

عَن سُهَيْل بن نعيم قَالَ قَالَ الشَّافِعِي كل من تكلم بِكَلَام فِي الدّين أَو فِي شَيْء من هَذِه الْأَهْوَاء لَيْسَ لَهُ فِيهِ إِمَام مُتَقَدم من النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه فقد أحدث فِي الْإِسْلَام حَدثا

وَقد قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (من أحدث حَدثا أَو آوى مُحدثا فِي الْإِسْلَام فَعَلَيهِ لعنة الله وَالْمَلَائِكَة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ لَا يقبل مِنْهُ صرفا وَلَا عدلا)
৩ -‌‌ ইলমে কালামের নিন্দায় ইমামগণের নিকট হতে যা বর্ণিত হয়েছে

এখন আমরা ইলমে কালামের নিন্দায় ইমামগণের নিকট হতে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করছি।

সুহাইল ইবনে নুয়াইম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম শাফিঈ বলেছেন: যে ব্যক্তি দ্বীনের বিষয়ে অথবা এই সকল কুপ্রবৃত্তির কোনো বিষয়ে এমন কোনো কথা বলল, যার সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের মধ্য হতে পূর্ববর্তী কোনো ইমামের অনুসরণ নেই, তবে সে ইসলামে একটি নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করল।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল অথবা কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবনকারীকে আশ্রয় দিল, তার ওপর আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সকল মানুষের অভিসম্পাত; তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না।)
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٨)
وَيَقُول إيَّاكُمْ وَالنَّظَر فِي الْكَلَام فَإِن رجلا لَو سُئِلَ عَن مَسْأَلَة فِي الْفِقْه فَأَخْطَأَ فِيهَا أَو سُئِلَ عَن رجل قتل رجلا فَقَالَ دِيَته بَيْضَة كَانَ أَكثر شَيْء أَن يضْحك مِنْهُ وَلَو سُئِلَ عَن مَسْأَلَة فِي الْكَلَام فَأَخْطَأَ فِيهَا نسب إِلَى الْبِدْعَة

فَهَذَا كَلَام الشَّافِعِي فِي ذمّ الْكَلَام والحث على السّنة وَهُوَ الإِمَام الَّذِي لَا يجارى والفحل الَّذِي لَا يُقَاوم
এবং তিনি বলেন, “তোমরা ইলমুল কালাম পর্যালোচনা করা থেকে সাবধান থাকো। কেননা কোনো ব্যক্তিকে যদি ফিকহশাস্ত্রের কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় আর সে তাতে ভুল করে, অথবা তাকে যদি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে অন্য এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, আর সে বলল যে তার দিয়াত হলো একটি ডিম; তবে বড়জোর তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হবে। কিন্তু তাকে যদি কালামশাস্ত্রের কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় আর সে তাতে ভুল করে, তবে তাকে বিদআতের দিকে নিসবত করা হবে।”

এটি ইলমুল কালামের নিন্দা এবং সুন্নাহর অনুসরণে উদ্বুদ্ধকরণে ইমাম শাফিঈর বক্তব্য; আর তিনি হলেন এমন এক ইমাম যাঁর সমকক্ষ হওয়া যায় না এবং এমন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব যাঁকে প্রতিহত করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٩)
فَلَو جَازَ الرُّجُوع إِلَيْهِ وَطلب الدّين من طَرِيقه لَكَانَ بالترغيب فِيهِ أولى من الزّجر عَنهُ وبالندب إِلَيْهِ أولى من النَّهْي عَنهُ فَلَا يَنْبَغِي لأحد أَن ينصر مذْهبه فِي الْفُرُوع ثمَّ يرغب عَن طَرِيقَته فِي الْأُصُول

وَكَانَ سُفْيَان الثَّوْريّ يبغض أهل الْأَهْوَاء وَينْهى عَن مجَالِسهمْ أَشد النَّهْي وَيَقُول عَلَيْكُم بالأثر وَإِيَّاكُم وَالْكَلَام فِي ذَات الله

وَكَانَ أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول أَئِمَّة الْكَلَام زنادقة

عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (تَفَكَّرُوا فِي خلق الله وَلَا تَفَكَّرُوا فِي الله)
সুতরাং যদি এর দিকে ফিরে যাওয়া এবং এর পদ্ধতির মাধ্যমে দীন অন্বেষণ করা বৈধ হতো, তবে তা থেকে বারণ করার চেয়ে বরং সেদিকে উৎসাহিত করাই অধিক সঙ্গত হতো এবং তা নিষেধ করার চেয়ে বরং সেদিকে আহ্বান করাই অধিক উপযুক্ত হতো। অতএব কারও জন্য এটি সমীচীন নয় যে, সে ফিকহী শাখা-প্রশাখায় তাঁর মাযহাবকে সমর্থন করবে, আবার মূলনীতিতে তাঁর পদ্ধতি থেকে বিমুখ হবে।

সুফিয়ান আস-সাওরী প্রবৃত্তি পূজারীদের ঘৃণা করতেন এবং তাদের মজলিসে বসতে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: তোমরা আছারের (বর্ণিত নিদর্শনের) ওপর অবিচল থাকো এবং আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কালাম (যুক্তিনির্ভর বিতর্ক) থেকে বিরত থাকো।

আহমাদ বিন হাম্বল বলতেন: কালাম শাস্ত্রের ইমামগণ হলেন যিন্দিক।

আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা আল্লাহর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করো এবং আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করো না।)
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٠)
وَإِنَّمَا ترد الْبِدْعَة بالأثر لَا ببدعة مثلهَا فَإِنَّهُ رُوِيَ عَن عبد الرَّحْمَن بن مهْدي الإِمَام الْمُقدم قَالَ

إِنَّمَا يرد على أهل الْبدع بآثار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وآثار الصَّالِحين فَأَما من رد عَلَيْهِم بالمعقول فقد رد بَاطِلا بباطل

فَهَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة هم المرجوع إِلَيْهِم فِي أَمر الدّين وَبَيَان الشَّرْع وَمن سلك طَرِيقا فِي الْإِسْلَام بعدهمْ فإياهم يتبع وبهم يَقْتَدِي وموافقتهم يتحَرَّى فَلَا يجوز لمُسلم أَن يظنّ بهم ظن السوء وَأَنَّهُمْ قَالُوا ذَلِك عَن جهل وَقلة علم وخبرة فِي الدّين

وَمَا هَذَا إِلَّا من الغل الَّذِي أَمر الله بالاستعاذة مِنْهُ فَقَالَ {وَلَا تجْعَل فِي قُلُوبنَا غلا للَّذين آمنُوا}

فَتبين لنا أَن الطَّرِيق عِنْد الْأَئِمَّة الهادية اتِّبَاع السّلف والاقتداء بهم دون الرُّجُوع إِلَى الآراء

وَمن هُنَا قَالَ بَعضهم الْعلم علمَان علم نبوي وَعلم نَظَرِي

وَالْعلم النظري مُحْتَاج إِلَى الْعلم النَّبَوِيّ لِأَن الْعلم النَّبَوِيّ جَاءَ من الله وَهُوَ مقرون بِالصَّوَابِ على كل حَال
বস্তুত বিদআতকে আসারের মাধ্যমেই খণ্ডন করা হয়, তার মতো অন্য কোনো বিদআতের মাধ্যমে নয়। কারণ অগ্রগণ্য ইমাম আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন—

বিদআতিদের প্রতিবাদ করতে হবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসার এবং নেককারদের আসারের মাধ্যমে। আর যে ব্যক্তি নিছক যুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ করে, সে মূলত বাতিলের মাধ্যমে বাতিলকেই প্রতিহত করল।

এই ইমামগণই হলেন দ্বীনি বিষয় ও শরীয়তের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের পরবর্তীকালে যারা ইসলামের পথে চলবে, তারা যেন তাঁদেরই অনুসরণ করে, তাঁদেরই ইক্তিদা করে এবং তাঁদের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। কোনো মুসলিমের জন্য তাঁদের সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করা জায়েজ নয় যে, তাঁরা অজ্ঞতা বা দ্বীন সম্পর্কে ইলম ও অভিজ্ঞতার স্বল্পতার কারণে এসব বলেছেন।

এটি সেই বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নয় যা থেকে আল্লাহ তাআলা আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “আর আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রেখো না।”

সুতরাং আমাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামদের নিকট সঠিক পথ হলো সালাফদের অনুসরণ ও ইক্তিদা করা, ব্যক্তিগত রায়ের দিকে ফিরে যাওয়া নয়।

এ কারণেই তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: ইলম দুই প্রকার—নববী ইলম এবং তাত্ত্বিক ইলম।

আর তাত্ত্বিক ইলম নববী ইলমের মুখাপেক্ষী। কারণ নববী ইলম আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত এবং তা সর্বাবস্থায় নির্ভুল সত্যের সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١١)
وَالْعلم النظري مَا يستنبط وَيجوز أَن يكون صَوَابا وَيجوز أَن يكون خطأ

وَمِثَال ذَلِك مَا قيل المَاء ماآن مَاء نزل من السَّمَاء وَمَاء نبع من الأَرْض

فالماء النَّازِل من السَّمَاء على طعم وَاحِد من اللَّذَّة وَالطّيب وعَلى لون وَاحِد من الصفاء والنقاء وعَلى جَوْهَر وَاحِد من الطَّهَارَة والنظافة كَذَلِك الْعلم النَّازِل من السَّمَاء كالوحي

وَالْمَاء النابع من الأَرْض فعلى أَنْوَاع مِنْهُ صَاف طَاهِر على مُوَافقَة وَحي الله وَمِنْه خَبِيث كدر لمُخَالفَته وَحي الله

وَقَالَ بَعضهم الحَدِيث أصل والرأي فرع وَلَا يجوز أَن يكون الأَصْل وَالْفرع سَوَاء وَلَا حَالهمَا فِي الرُّتْبَة والتقدمة وَاحِدَة

أَلا ترى إِلَى قَوْله صلى الله عليه وسلم لِمعَاذ بن جبل حِين بَعثه إِلَى الْيمن (بِمَ تحكم) قَالَ بِكِتَاب الله قَالَ (فَإِن لم تَجِد) قَالَ بِسنة رَسُول الله قَالَ
আর তাত্ত্বিক জ্ঞান হলো যা গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়, এবং তা সঠিক হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে আবার ভুল হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

এর উদাহরণ হলো যা বলা হয়েছে যে, পানি দুই প্রকার: আকাশ থেকে বর্ষিত পানি এবং জমিন থেকে উৎসারিত পানি।

আকাশ থেকে বর্ষিত পানি সুস্বাদুতা ও উত্তমতার দিক থেকে অভিন্ন স্বাদের, স্বচ্ছতা ও নির্মলতার দিক থেকে অভিন্ন বর্ণের এবং পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে অভিন্ন সত্তার অধিকারী; ঠিক তেমনি ওহীর মতো আকাশ থেকে অবতীর্ণ জ্ঞানও অভিন্ন।

আর জমিন থেকে উৎসারিত পানি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে; তার মধ্যে কোনটি স্বচ্ছ ও পবিত্র যা আল্লাহর ওহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে, আবার কোনটি অপবিত্র ও ঘোলাটে যা আল্লাহর ওহীর পরিপন্থী হওয়ার কারণে।

তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, হাদীস হলো মূল আর রায় বা ব্যক্তিগত অভিমত হলো শাখা; আর মূল ও শাখা সমান হওয়া বৈধ নয় এবং মর্যাদা ও অগ্রগণ্যতার বিচারেও উভয়ের অবস্থান এক নয়।

আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেননি যা তিনি মুয়াজ বিন জাবালকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: (তুমি কিসের মাধ্যমে ফয়সালা করবে?) তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে। তিনি বললেন, (যদি তুমি তাতে না পাও?) তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমে। তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٢)
(فَإِن لم تَجِد) قَالَ أجتهد رَأْيِي قَالَ (الْحَمد لله الَّذِي وفْق رَسُول رَسُول الله)

فَكَانَ الْمصير إِلَى الحَدِيث بِمَنْزِلَة المَاء فِي الطهارات وَالْقِيَاس والرأي بِمَنْزِلَة التُّرَاب وَإِنَّمَا يُصَار إِلَى التُّرَاب عِنْد عدم المَاء كَذَلِك لَا يُصَار إِلَى الرَّأْي إِلَّا عِنْد عدم الحَدِيث فَكَانَ مثل من آثر الرَّأْي وَالْقِيَاس وقدمهما على الحَدِيث والأثر مثل من يعدل عَن الطَّهَارَة بِالْمَاءِ فِي وَقت السعَة ويؤثر التَّيَمُّم بِالتُّرَابِ الَّذِي وضع للضَّرُورَة والعدم

وَلَقَد أحسن سعيد بن حميد حِين يَقُول
(যদি আপনি তা না পান) তিনি বললেন, আমি আমার রায় বা মতানুসারে ইজতিহাদ করব। তিনি বললেন, (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে তাওফিক দান করেছেন।)

সুতরাং হাদীসের আশ্রয় গ্রহণ পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পানির মর্যাদাসম্পন্ন এবং কিয়াস ও রায় হলো মাটির মর্যাদাসম্পন্ন। আর পানির অনুপস্থিতিতেই কেবল মাটির দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়, তেমনি হাদীসের অনুপস্থিতি ব্যতীত রায়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় না। অতএব, যে ব্যক্তি রায় ও কিয়াসকে পছন্দ করে এবং হাদীস ও আছরের ওপর সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়, তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বর্জন করে এবং মাটির মাধ্যমে তায়াম্মুম করাকে বেছে নেয়, যা কেবল প্রয়োজনীয়তা ও অভাবের সময়ের জন্য রাখা হয়েছে।

সাঈদ বিন হুমায়িদ কতই না চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٣)
(فَإنَّك حِين تطرحني لقوم … هم عدم وَفِي صور الْوُجُود)

(كمن هُوَ تَارِك مَاء طهُورا … وراض بِالتَّيَمُّمِ بالصعيد)

وأنشدوا أَيْضا

(دين النَّبِي مُحَمَّد آثَار … نعم المطية للفتى الْأَخْبَار)

(لَا تغفلن عَن الحَدِيث وَأَهله … فَالرَّأْي ليل والْحَدِيث نَهَار)

(ولربما غلط الْفَتى سبل الْهدى … وَالشَّمْس بازغة لَهَا أنوار)

وأنشدوا أَيْضا

(أهل الْكَلَام وَأهل الرَّأْي قد جهلوا … علم الحَدِيث الَّذِي ينجو بِهِ الرجل)

(لَو أَنهم عرفُوا الْآثَار مَا انحرفوا … عَنْهَا إِلَى غَيرهَا لكِنهمْ جهلوا)

وأنشدوا أَيْضا

(أهل الْكَلَام دَعونَا من تعسفكم … كم تَبْتَغُونَ لدين الله تبديلا)

(مَا أحدث النَّاس فِي أديانهم حَدثا … إِلَّا جعلتم لَهُ وَجها وتأويلا)

وَلأبي بكر بن أبي دَاوُد السجسْتانِي
(কেননা আপনি যখন আমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের মাঝে নিক্ষেপ করেন … যারা অস্তিত্বের অবয়বে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্বহীন)

(যেমন সেই ব্যক্তি যে পবিত্র পানি পরিত্যাগ করে … আর শুষ্ক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করতেই সন্তুষ্ট থাকে)

তারা আরও আবৃত্তি করেছেন

(নবী মুহাম্মাদের দ্বীন হলো আসার বা বর্ণনাপরম্পরা … একজন যুবকের জন্য হাদীসসমূহ কতই না উত্তম বাহন)

(তুমি হাদীস ও এর ধারকদের থেকে বিমুখ হয়ো না … কেননা ব্যক্তিগত রায় হলো অন্ধকার রাত আর হাদীস হলো উজ্জ্বল দিন)

(অনেক সময় যুবক হেদায়াতের পথে হোঁচট খায় … অথচ সূর্য তখন উজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে উদিত থাকে)

তারা আরও আবৃত্তি করেছেন

(ইলমুল কালাম ও রায়পন্থীরা সেই হাদীসের জ্ঞান সম্পর্কে … অজ্ঞ রয়ে গেছে যার দ্বারা মানুষ মুক্তি লাভ করে)

(তারা যদি আসার বা হাদীসসমূহ চিনত তবে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে … অন্য কিছুর দিকে যেত না, কিন্তু তারা তো মূর্খ)

তারা আরও আবৃত্তি করেছেন

(হে কালামপন্থীরা! তোমাদের এই যথেচ্ছাচার ছাড়ো … তোমরা আল্লাহর দ্বীনের কতই না পরিবর্তন কামনা করো)

(মানুষ তাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন যা কিছু উদ্ভাবন করেছে … তোমরা তার জন্যই কোনো না কোনো দিক ও ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দিয়েছ)

এবং আবু বকর ইবনে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (রহ.)-এর একটি কবিতা:
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٤)
(تمسك بِحَبل الله وَاتبع الْهدى … وَلَا تَكُ بدعيا لَعَلَّك تفلح)

(ولذ بِكِتَاب الله وَالسّنَن الَّتِي … أَتَت عَن رَسُول الله تنجو وتربح)

(ودع عَنْك آراء الرِّجَال وَقَوْلهمْ … فَقَوْل رَسُول الله أزكى وأشرح)

وَأنْشد أَيْضا

(خُذ مَا أَتَاك بِهِ الْأَخْبَار من أثر … شبها بشبه وأمثالا بأمثال)

(وَلَا تميلن يَا هَذَا إِلَى بدع … تضل أَصْحَابهَا بالقيل والقال)
(আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং হিদায়াতের অনুসরণ করুন … আর বিদআতি হবেন না, যাতে আপনি সফল হতে পারেন)

(আল্লাহর কিতাব এবং সেই সকল সুন্নাহর আশ্রয় নিন যা … রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, তবেই আপনি মুক্তি পাবেন ও লাভবান হবেন)

(মানুষের রায় ও তাদের বক্তব্য বর্জন করুন … কারণ রাসূলুল্লাহর বাণী অধিকতর পবিত্র ও সুস্পষ্ট)

তিনি আরও আবৃত্তি করেছেন

(বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে আপনার কাছে যা এসেছে তা গ্রহণ করুন … সদৃশের মাধ্যমে সদৃশ এবং উদাহরণের মাধ্যমে উদাহরণকে)

(হে ব্যক্তি! আপনি কখনোই বিদআতের দিকে ঝুঁকে পড়বেন না … যা তার অনুসারীদেরকে ভিত্তিহীন বাদানুবাদের মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করে)
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٥)
4 -‌‌ فصل فِيمَا رُوِيَ عَنْهُم من ذمّ الْجِدَال والخصومات فِي الدّين وَمَا كَرهُوا من ذَلِك

عَن ابْن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (هلك المتنطعون هلك المتنطعون هلك المتنطعون)

وَعَن عَليّ بن الْحُسَيْن قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (من حسن إِسْلَام الْمَرْء تَركه مَا لَا يعنيه)

وَعَن الْحسن الْبَصْرِيّ أَنه كَانَ ينْهَى عَن الْخُصُومَة وَيَقُول إِنَّمَا يُخَاصم الشاك فِي دينه
৪ -‌‌ পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মধ্যে বিতর্ক ও বাদানুবাদের নিন্দা এবং এ বিষয়ে তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে ও তাঁরা যা অপছন্দ করেছেন সে প্রসঙ্গে

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "অহেতুক চুলচেরা বিশ্লেষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে, অহেতুক চুলচেরা বিশ্লেষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে, অহেতুক চুলচেরা বিশ্লেষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে।"

আলী ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয়সমূহ বর্জন করা।"

হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিষেধ করতেন এবং বলতেন, "নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তিই ঝগড়া করে যে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে সংশয়ে রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٦)
وَعَن ابْن سِيرِين قَالَ إِنِّي لأدع المراء وَإِنِّي لأعلمكم بِهِ

وَقد جَاءَ فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى {فَأَما الَّذين فِي قُلُوبهم زيغ} يَعْنِي حب الجدل

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ الْمُنَازعَة والجدال فِي الدّين مُحدث

وَاعْلَم أَنَّك مَتى تدبرت سيرة الصَّحَابَة وَمن بعدهمْ من السّلف الصَّالح وَجَدتهمْ ينهون عَن جِدَال أهل الْبِدْعَة بأبلغ النَّهْي وَلَا يرَوْنَ رد كَلَامهم بدلائل الْعقل
ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমি বিতর্ক বর্জন করি, অথচ আমি তোমাদের মধ্যে এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।"

আর মহান আল্লাহর বাণী—"অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে"—এর তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে যে, এর অর্থ হলো বিতর্কের প্রতি অনুরাগ।

ইমাম আওযাঈ বলেছেন, "দীনের বিষয়ে বিবাদ ও বিতর্ক করা নবউদ্ভাবিত বিষয়।"

জেনে রেখো যে, তুমি যখনই সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী সালফে সালেহীনদের জীবনী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তখন তুমি দেখতে পাবে যে তাঁরা বিদআতিদের সাথে বিতর্ক করাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং যুক্তিনির্ভর দলীলের মাধ্যমে তাদের বক্তব্যের উত্তর দেওয়া সমীচীন মনে করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٧)
وَإِنَّمَا كَانُوا إِذا سمعُوا بِوَاحِد من أهل الْبِدْعَة أظهرُوا التبري مِنْهُ ونهوا النَّاس عَن مُجَالَسَته ومحاورته وَالْكَلَام مَعَه وَرُبمَا نهوا عَن النّظر إِلَيْهِ

وَقد قَالُوا إِذا رَأَيْت مبتدعا فِي طَرِيق فَخذ فِي طَرِيق آخر

وَلَقَد ظَهرت هَذِه الْأَهْوَاء الْأَرْبَعَة الَّتِي هِيَ رَأس الْأَهْوَاء أَعنِي الْقدر والإرجاء ورأي الحرورية والرافضة فِي آخر زمَان الصَّحَابَة
বস্তুত তারা যখন বিদআতপন্থীদের মধ্য হতে কারো সম্পর্কে শুনতেন, তখন তারা তার থেকে সম্পর্কছিন্নতা প্রকাশ করতেন এবং মানুষকে তার সাথে বসা, বিতর্ক করা ও কথা বলা থেকে নিষেধ করতেন; এমনকি তারা কখনো কখনো তার দিকে তাকাতেও নিষেধ করতেন।

এবং তারা বলতেন: তুমি যদি কোনো পথে কোনো বিদআতীকে দেখ, তবে তুমি অন্য পথ অবলম্বন করো।

আর এই চারটি প্রবৃত্তিজাত মতবাদ যা যাবতীয় প্রবৃত্তিজাত মতবাদের মূল—অর্থাৎ কদর, ইরজা, হারুরিয়া এবং রাফেযীদের মতবাদ—সাহাবীগণের যুগের শেষ ভাগে প্রকাশ পেয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٨)
فَكَانَ إِذا بَلغهُمْ أَمرهم أمروا بِمَا ذكرنَا وَلم يبلغنَا عَن أحد مِنْهُم أَنه جادلهم بدلائل الْعقل أَو أَمر بذلك

وَقد كَانُوا إِلَى عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أقرب وَقد شاهدوا الْوَحْي والتنزيل وعدلهم الله فِي الْقُرْآن وَشهد لَهُم بِالصّدقِ وَشهد لَهُم النَّبِي صلى الله عليه وسلم بالخيرية فِي الدّين

وَكَانَت طاعتهم أجل وَقُلُوبهمْ أسلم وصدورهم أطهر وعلمهم أوفر وَكَانُوا من الْهوى والبدع أبعد

وَلَو كَانَ طَرِيق الرَّد على المبتدعة هُوَ الْكَلَام وَدَلَائِل الْعقل والجدال مَعَهم لاشتغلوا بِهِ وَأمرُوا بذلك وندبوا إِلَيْهِ

وَإِنَّمَا ظَهرت المجادلات فِي الدّين والخصومات بعد مُضِيّ قرن التَّابِعين وَمن يليهم حِين ظهر الْكَذِب وفشت شَهَادَات الزُّور وشاع الْجَهْل واندرس أَمر السّنة بعض الاندراس وأتى على النَّاس زمَان حذر مِنْهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالصَّحَابَة من بعده
সুতরাং যখন তাদের নিকট তাদের (বিদআতিদের) বিষয়টি পৌঁছাত, তখন তারা আমরা যা উল্লেখ করেছি তার নির্দেশ দিতেন। আমাদের কাছে তাদের কারো পক্ষ থেকে এমন সংবাদ পৌঁছেনি যে, তারা তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলের মাধ্যমে বিতর্ক করেছেন কিংবা এর নির্দেশ দিয়েছেন।

অথচ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন, তারা ওহী ও কুরআন অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন, আল্লাহ কুরআনে তাদের ন্যায়পরায়ণতার ঘোষণা দিয়েছেন ও তাদের সত্যবাদিতার সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তাদের আনুগত্য ছিল সুমহান, তাদের অন্তর ছিল অধিক নিরাপদ, তাদের বক্ষসমূহ ছিল অধিক পবিত্র, তাদের জ্ঞান ছিল অধিক পরিপূর্ণ এবং তারা প্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে ছিলেন বহুদূরে।

বিদআতিদের খণ্ডন করার সঠিক পথ যদি কালাম শাস্ত্র, বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল ও তাদের সাথে বিতর্ক হতো, তবে তারা অবশ্যই এতে ব্যাপৃত হতেন এবং এর নির্দেশ দিতেন ও এর প্রতি উৎসাহিত করতেন।

প্রকৃতপক্ষে দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক ও বিবাদ প্রকাশ পেয়েছে তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সময় অতিবাহিত হওয়ার পর; যখন মিথ্যা প্রকাশ পেয়েছে, মিথ্যা সাক্ষ্য বিস্তার লাভ করেছে, মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছে, সুন্নাহর বিষয়সমূহ অনেকাংশে বিলুপ্ত হয়েছে এবং মানুষের মাঝে এমন এক সময়ের আবির্ভাব ঘটেছে যার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ সতর্ক করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَلَقَد صدق إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ حَيْثُ يَقُول إِن الْقَوْم لم يُؤَخر عَنْهُم شَيْء خبئ لكم لفضل عنْدكُمْ وَإِنَّمَا كَانَ غايتهم التبري وَإِظْهَار المجانبة وَالْأَمر بالتباعد

وَالْمَشْهُور عَن ابْن عمر رضي الله عنهما أَنه لما بلغه قَول أهل الْقدر قَالَ أبلغوهم أَنِّي مِنْهُم بَرِيء وَلَو وجدت أعوانا لجاهدتهم

وَقَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما لَو رَأَيْت بَعضهم لضَرَبْت رَأسه

وأتى رجل عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه فَقَالَ أَخْبرنِي عَن الْقدر قَالَ طَرِيق مظلم فَلَا تسلكه قَالَ أَخْبرنِي عَن الْقدر قَالَ بَحر عميق فَلَا تلجه قَالَ أَخْبرنِي عَن الْقدر قَالَ سر الله فَلَا تكلفه

وَعَن الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن أبي بكر قَالَ يُسْتَتَاب القدري فَإِن تَابَ وَإِلَّا نفي من بِلَاد الْمُسلمين

وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز يَنْبَغِي أَن نتقدم إِلَيْهِم فِيمَا أَحْدَثُوا من الْقدر فَإِن كفوا وَإِلَّا استلت ألسنتهم من أقفيتهم استلال
ইব্রাহিম আন-নাখায়ি যথার্থই বলেছেন যখন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সেই পূর্বসূরিদের থেকে এমন কোনো বিষয় গোপন রাখা হয়নি যা তোমাদের নিকট বিদ্যমান কোনো বিশেষ গুণের কারণে তোমাদের জন্য সঞ্চিত রাখা হয়েছে। বরং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করা, বিমুখতা প্রদর্শন করা এবং দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান।

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে প্রসিদ্ধ যে, যখন তাঁর নিকট তাকদির অস্বীকারকারীদের বক্তব্য পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন, তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত। আর যদি আমি সাহায্যকারী পেতাম, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, যদি আমি তাদের কাউকে দেখতাম, তবে অবশ্যই তার মাথা চূর্ণ করতাম।

জনৈক ব্যক্তি আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বলল, আমাকে তাকদির সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, এটি একটি অন্ধকার পথ, সুতরাং তাতে চলো না। সে বলল, আমাকে তাকদির সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, এটি একটি গভীর সমুদ্র, সুতরাং তাতে অবগাহন করো না। সে বলল, আমাকে তাকদির সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, এটি আল্লাহর একটি গোপন রহস্য, সুতরাং তা নিয়ে নিজেকে কষ্টে ফেলো না।

কাসেম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাকদির অস্বীকারকারীকে তাওবা করতে বলা হবে; যদি সে তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে মুসলিমদের ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার করা হবে।

উমর বিন আব্দুল আজিজ বলেছেন, তাকদির সম্পর্কে তারা যে নতুন মতবাদ উদ্ভাবন করেছে, সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যদি তারা বিরত থাকে তবে ভালো, অন্যথায় তাদের ঘাড়ের পেছন দিক থেকে তাদের জিহ্বা সমূলে উপড়ে ফেলা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
فَهَذَا طَرِيق الْقَوْم فِي أَمر الْبدع وَأَهْلهَا

قَالَ رجل من أهل الْبدع لأيوب السّخْتِيَانِيّ يَا أَبَا بكر أَسأَلك عَن كلمة فولى وَهُوَ يَقُول وَلَا نصف كلمة

وَقَالَ ابْن طَاوس لِابْنِ لَهُ وَتكلم رجل من أهل الْبدع يَا بني أَدخل أصبعيك فِي أذنيك ثمَّ قَالَ اشْدُد اشْدُد

وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز من جعل دينه غَرضا للخصومات أَكثر التنقل
বিদআত এবং বিদআতীদের বিষয়ে এটিই হলো এই জামাতের কর্মপন্থা।

বিদআতীদের অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তি আইয়ুব সাখতিয়ানীকে বললেন, "হে আবু বকর, আমি আপনাকে একটি শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব।" তখন তিনি বিমুখ হয়ে চলে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, "না, এমনকি অর্ধেক শব্দও নয়।"

ইবনে তাউস তাঁর এক পুত্রকে বললেন—যখন বিদআতীদের এক ব্যক্তি কথা বলছিল—"হে বৎস, তোমার দুই কানে তোমার আঙুল প্রবেশ করাও।" অতঃপর তিনি বললেন, "জোরে চেপে ধরো, আরো জোরে চেপে ধরো।"

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন, "যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু বানায়, সে অধিক হারে মত পরিবর্তন করে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَقَالَ رجل للْحكم بن عتيبة مَا حمل أهل الْأَهْوَاء على هواهم

قَالَ الْخُصُومَات

وَقَالَ مُعَاوِيَة بن قُرَّة وَكَانَ أَبوهُ من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم إيَّاكُمْ وَهَذِه الْخُصُومَات إِنَّهَا تحبط الْأَعْمَال

وَقَالَ أَبُو قلَابَة وَكَانَ قد أدْرك غير وَاحِد من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تجالسوا أَصْحَاب الْأَهْوَاء أَو قَالَ أَصْحَاب الْخُصُومَات لَا تكلموهم
জনৈক ব্যক্তি হাকাম বিন উতাইবাহকে বললেন, কোন বিষয়টি প্রবৃত্তিপূজারীদের তাদের খেয়াল-খুশির অনুসারী করেছে?

তিনি বললেন, বিবাদ ও তর্ক-বিতর্ক।

মুআবিয়া বিন কুররাহ —যাঁর পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন— তিনি বলেন, তোমরা এই সকল বিবাদ ও তর্ক-বিতর্ক থেকে সাবধান থেকো, কারণ তা আমলসমূহকে বিনষ্ট করে দেয়।

আবু কিলাবাহ —যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবীর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন— তিনি বলেন, তোমরা প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে বসো না —অথবা তিনি বলেছেন বিবাদকারীদের সাথে— এবং তাদের সাথে কথা বলো না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فَإِنِّي لَا آمن أَن يغمسوكم فِي ضلالتهم أَو يلبسوا عَلَيْكُم بعض مَا تعرفُون

وَدخل رجلَانِ من أَصْحَاب الْأَهْوَاء على مُحَمَّد بن سِيرِين فَقَالَا يَا أَبَا بكر نحدثك بِحَدِيث قَالَ لَا قَالَا نَقْرَأ عَلَيْك آيَة من كتاب الله قَالَ لَا لتقومان أَو لأقومن

وَكَانُوا يَقُولُونَ إِن الْقلب ضَعِيف وَإِنَّا نَخَاف إِن استمعت مِنْهُم شَيْئا أَن يمِيل قَلْبك إِلَى قَوْلهم

وَقَالَ إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْحَنْظَلِي اعلموا أَن اتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة أسلم والخوض فِي أَمر الدّين بالمنازعة وَالرَّدّ حرَام والاجتناب عَنهُ سَلامَة

وَأَرْجُو أَن يجوز الْقيَاس على الأَصْل الثَّابِت من الْعَالم الفطن المتيقظ

وَلَا تكَاد تَجِد شَيْئا من تَأْوِيل الْكتاب مُخَالفا لسنة النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا صحت الرِّوَايَة
কেননা আমি নিরাপদ বোধ করছি না যে তারা তোমাদেরকে তাদের ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত করবে অথবা তোমরা যা সত্য বলে জানো তার কিছু অংশকে তোমাদের কাছে অস্পষ্ট করে তুলবে।

প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, "হে আবু বকর! আমরা কি আপনাকে একটি হাদিস শোনাব?" তিনি বললেন, "না।" তারা বলল, "তবে কি আমরা আপনাকে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পড়ে শোনাব?" তিনি বললেন, "না; হয় তোমরা এখান থেকে উঠে যাবে, না হয় আমিই উঠে যাব।"

তারা বলতেন, "নিশ্চয়ই অন্তর দুর্বল, আর আমরা আশঙ্কা করি যে, যদি তুমি তাদের থেকে কিছু শ্রবণ করো তবে তোমার অন্তর তাদের মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।"

ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হানজালি বলেছেন, "তোমরা জেনে রেখো যে, কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ করাই অধিক নিরাপদ। আর বিতর্ক ও খণ্ডন-প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে দ্বীনি বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া হারাম এবং তা পরিহার করাই মুক্তি।"

এবং আমি আশা করি যে, বিজ্ঞ ও সচেতন আলেমের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির ওপর কিয়াস করা বৈধ হবে।

আর যখন বর্ণনা বিশুদ্ধ হয়, তখন কিতাবের এমন কোনো ব্যাখ্যা সচরাচর পাওয়া যায় না যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَعَامة تاركي الْعلم وَالسّنة وَأَصْحَاب الْأَهْوَاء والرأي والمقاييس لثقل السّنة عَلَيْهِم

وَلَا أعرف حديثين يُخَالف أَحدهمَا الآخر وَلكُل مَا رُوِيَ من الْأَحَادِيث الْمُخْتَلفَة معَان يعلمهَا أهل الْعلم بهَا

فَهَذَا الَّذِي نَقَلْنَاهُ طَريقَة السّلف وَمَا كَانُوا عَلَيْهِ
এবং ইলম ও সুন্নাহ বর্জনকারী সাধারণ ব্যক্তিবর্গ এবং প্রবৃত্তি, ব্যক্তিগত রায় ও কিয়াসের অনুসারীদের নিকট সুন্নাহর বিধান অত্যন্ত গুরুভার হওয়ার কারণে তারা তা পরিহার করে।

আর আমি এমন কোনো দুটি হাদিস সম্পর্কে অবগত নই যার একটি অপরটির সাথে বৈপরীত্য রাখে; বরং বর্ণিত ভিন্ন ভিন্ন হাদিসসমূহের গূঢ় অর্থ ও তাৎপর্য রয়েছে যা কেবল এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলেমগণই জানেন।

সুতরাং আমরা যা উদ্ধৃত করলাম তা-ই হলো সালাফদের অনুসৃত পথ এবং যার ওপর তাঁরা প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَاعْلَم أَن الْأَئِمَّة الماضين وأولي الْعلم من الْمُتَقَدِّمين لم يتْركُوا هَذَا النمط من الْكَلَام وَهَذَا النَّوْع من النّظر عَجزا عَنهُ وَلَا انْقِطَاعًا دونه وَقد كَانُوا ذَوي عقول وافرة وأفهام ثاقبة وَقد كَانَت هَذِه الْفِتَن قد وَقعت فِي زمانهم وَظَهَرت وَإِنَّمَا تركُوا هَذِه الطَّرِيقَة وأضربوا عَنْهَا لما تخوفوه من فتنتها وعلموه من سوء عَاقبَتهَا وسيء مغبتها

وَقد كَانُوا على بَيِّنَة من أُمُورهم وعَلى بَصِيرَة من دينهم لما هدَاهُم الله بنوره وَشرح صُدُورهمْ بضياء مَعْرفَته فَرَأَوْا أَن فِيمَا عِنْدهم من علم الْكتاب وحكمته وتوقيف السّنة وبيانها غناء ومندوحة مِمَّا سواهَا وَأَن الْحجَّة قد وَقعت وتمت بهما وَأَن الْعلَّة والشبهة قد أزيحت بماكنهما

فَلَمَّا تَأَخّر الزَّمَان بأَهْله وفترت عزائمهم فِي طلب حقائق عُلُوم الْكتاب وَالسّنة وَقلت عنايتهم بهَا واعترضهم الْمُلْحِدُونَ بشبههم والطاعنون فِي الدّين
জেনে রাখুন যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ এবং অগ্রজ জ্ঞানবান ব্যক্তিবর্গ এই ধরনের বাদানুবাদ এবং এই প্রকারের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অক্ষমতার কারণে কিংবা এ বিষয়ে অপারগ হয়ে বর্জন করেননি। অথচ তাঁরা ছিলেন প্রখর বুদ্ধি এবং তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী; আর এই ফিতনাসমূহ তাঁদের সময়েও সংঘটিত হয়েছিল এবং প্রকাশ পেয়েছিল। মূলত তাঁরা এই পথ পরিহার করেছেন এবং তা থেকে বিমুখ হয়েছেন কেবল এর ফিতনার আশঙ্কায় এবং এর অশুভ পরিণতি ও মন্দ ফলাফল সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে।

তাঁরা তাঁদের কার্যাবলিতে সুষ্পষ্ট প্রমাণের ওপর এবং দ্বীনের বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন; যেহেতু আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নূর দ্বারা হিদায়াত দান করেছিলেন এবং তাঁর মারেফাতের জ্যোতি দ্বারা তাঁদের বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, তাঁদের নিকট কিতাবুল্লাহর যে জ্ঞান ও হিকমত এবং সুন্নাহর যে প্রামাণিক বর্ণনা ও ব্যাখ্যা বিদ্যমান রয়েছে, তা-ই অন্য সব কিছুর বিপরীতে যথেষ্ট এবং অমুখাপেক্ষী করার জন্য পর্যাপ্ত। আর এই দুইয়ের মাধ্যমেই দলিল প্রতিষ্ঠিত ও পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এ দুটির সুদৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমেই ত্রুটি ও সংশয় দূরীভূত হয়েছে।

অতঃপর যখন মহাকালের আবর্তনে পরবর্তী প্রজন্মের আগমন ঘটল এবং কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের প্রকৃত তত্ত্ব অনুসন্ধানে তাদের সংকল্প শিথিল হয়ে পড়ল, এবং এগুলোর প্রতি তাদের মনোযোগ কমে গেল, তখন নাস্তিকরা তাদের সংশয়সমূহ নিয়ে এবং দ্বীনের অপবাদকারীরা তাদের সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بجدلهم حسبوا أَنهم إِن لم يردوهم عَن أنفسهم بِهَذَا النمط من الْكَلَام وَدَلَائِل الْعقل لم يقووا عَلَيْهِم وَلم يظهروا فِي الْحجَّاج عَلَيْهِم

فَكَانَ ذَلِك ضلة من الرَّأْي وخدعة من الشَّيْطَان

فَلَو سلكوا سَبِيل الْقَصْد ووقفوا عِنْدَمَا انْتهى بهم التَّوْقِيف لوجدوا برد الْيَقِين وروح الْقُلُوب ولكثرت الْبركَة وتضاعف النَّمَاء وانشرحت الصُّدُور وأضاءت فِيهَا مصابيح النُّور

وَإِنَّمَا وَقَعُوا فِيمَا وَقَعُوا فِيهِ عِنْد أهل الْحق بعد مَا تدبروا وَظهر لَهُم بِتَوْفِيق الله سَبَب ذَلِك

وَهُوَ أَن الشَّيْطَان صَار الْيَوْم بلطيف حيلته يسول لكل من أحس من نَفسه زِيَادَة فهم وَفضل ذكاء وذهن يُوهِمهُ أَنه إِن رَضِي فِي عمله ومذهبه بِظَاهِر من السّنة وَاقْتصر على وَاضح بَيَان مِنْهَا كَانَ أُسْوَة الْعَامَّة وعد وَاحِدًا من الْجُمْهُور والكافة وَأَنه قد ضل فهمه واضمحل عقله وذهنه

فحركهم بذلك على التنطع فِي النّظر والتبدع لمُخَالفَة السّنة والأثر ليمتازوا بذلك عَن طبقَة الدهماء ويتبينوا فِي الرُّتْبَة عَمَّن يرونهم دونهم فِي الْفَهم والذكاء
তাদের বিতর্কের মাধ্যমে তারা ধারণা করেছিল যে, তারা যদি কালাম শাস্ত্রের এই ধরন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহের মাধ্যমে তাদেরকে নিজেদের থেকে প্রতিহত না করে, তবে তারা তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হতে পারবে না এবং বিতর্কে তাদের ওপর জয়ী হতে পারবে না।

আর এটি ছিল একটি বিভ্রান্তিকর চিন্তা এবং শয়তানের একটি প্রতারণা।

যদি তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করত এবং ওহীর নির্দেশনার সীমারেখায় থেমে যেত, তবে তারা অবশ্যই ইয়াকীনের শীতলতা এবং হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পেত; বরকত বৃদ্ধি পেত এবং সমৃদ্ধি দ্বিগুণ হতো, বক্ষসমূহ উন্মুক্ত হতো এবং সেখানে নূরের প্রদীপসমূহ প্রজ্জ্বলিত হতো।

সত্যপন্থীদের নিকট তারা যে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে, তারা তাতে নিপতিত হওয়ার পর যখন চিন্তা-গবেষণা করল, তখন আল্লাহর তাওফীকে তাদের কাছে এর কারণ স্পষ্ট হলো।

আর তা হলো এই যে, শয়তান বর্তমানে তার সূক্ষ্ম কৌশলে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্ররোচিত করে, যে নিজের মধ্যে প্রখর বুঝশক্তি, মেধা ও বুদ্ধির আধিক্য অনুভব করে। সে তাকে এই ভ্রমের মধ্যে ফেলে দেয় যে, সে যদি তার কর্ম ও মাযহাবে সুন্নাহর প্রকাশ্য বিষয়ের ওপর সন্তুষ্ট থাকে এবং সুন্নাহর সুস্পষ্ট বর্ণনার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সে সাধারণ মানুষের মতো হয়ে যাবে এবং জনসাধারণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে; আর এতে তার বুঝশক্তি বিভ্রান্ত এবং তার বুদ্ধি ও মেধা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হবে।

ফলে শয়তান এর মাধ্যমে তাদেরকে যুক্তিতর্কের গভীরে অনর্থক প্রবেশ করতে এবং সুন্নাহ ও আসারের বিরোধিতা করে বিদআত সৃষ্টি করতে প্ররোচিত করে, যাতে এর মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের স্তর থেকে আলাদা হতে পারে এবং যাদেরকে তারা বুঝ ও মেধার দিক থেকে নিজেদের চেয়ে নিচু মনে করে, তাদের থেকে উচ্চমর্যাদায় প্রকাশ পেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فاختدعهم بِهَذِهِ الْمُقدمَة حَتَّى استزلهم عَن وَاضح المحجة وأورطهم فِي شُبُهَات تعلقوا بزخارفها وتاهوا عَن حقائقها وَلم يخلصوا مِنْهَا إِلَى شِفَاء نفس وَلَا قبلوه بِيَقِين علم

وَلما رَأَوْا كتاب الله ينْطق بِخِلَاف مَا انتحلوه وَيشْهد عَلَيْهِم بباطل مَا اعتقدوه ضربوا بعض آيَاته بِبَعْض وتأولوها على مَا يسنح لَهُم فِي عُقُولهمْ واستوى عِنْدهم على مَا وضعوه من أصولهم

ونصبوا الْعَدَاوَة لأخبار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ولسنته المأثورة عَنهُ وردوها على وجوهها وأساؤوا فِي نقلتها القالة ووجهوا عَلَيْهِم الظنون ورموهم بالتزيد ونسبوهم إِلَى ضعف الْمِنَّة وَسُوء الْمعرفَة بمعاني مَا يَرْوُونَهُ من الحَدِيث

وَلَو أَنهم أَحْسنُوا الظَّن بسلفهم وآثروا متابعتهم وسلموا حَيْثُ سلمُوا وطلبوا الْمعَانِي حَيْثُ طلبُوا واجتهدوا فِي رد الْهوى وخداع الشَّيْطَان لانشرحت صُدُورهمْ وَظهر لَهُم برد الْيَقِين وروح الْمعرفَة وضياء التَّسْلِيم مَا ظهر لسلفهم وبرز لَهُم من أَعْلَام الْحق مَا كَانَ مكشوفا لَهُم

غير أَن الْحق عَزِيز وَالدّين غَرِيب وَالزَّمَان مفتن

{وَمن لم يَجْعَل الله لَهُ نورا فَمَا لَهُ من نور}
তিনি তাদের এই প্রারম্ভিকা দ্বারা প্রলুব্ধ করলেন, এমনকি তাদের সুস্পষ্ট পথ থেকে বিচ্যুত করলেন এবং তাদের এমন সব সংশয়ের আবর্তে নিপতিত করলেন যার চাকচিক্যের মোহে তারা আবিষ্ট হলো এবং তার প্রকৃত সত্য হতে বিচ্যুত হলো। তারা তা থেকে আত্মার প্রশান্তি লাভ করতে পারেনি এবং নিশ্চিত জ্ঞানের সাথে তা গ্রহণও করেনি।

আর যখন তারা দেখল যে আল্লাহর কিতাব তাদের উদ্ভাবিত মতবাদের বিপরীতে কথা বলছে এবং তাদের পোষণকৃত ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে, তখন তারা এর এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের সংঘর্ষ বাধিয়ে দিল এবং নিজেদের বুদ্ধিতে যা আসে সে অনুযায়ী সেগুলোর অপব্যাখ্যা করল। আর তাদের নিকট বিষয়টি তাদের উদ্ভাবিত মূলনীতির ওপর স্থির হলো।

তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদসমূহ এবং তাঁর থেকে বর্ণিত সুন্নাহর প্রতি শত্রুতা পোষণ করল এবং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল। তারা বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে মন্দ উক্তি করল, তাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করল এবং তাদের ওপর অতিরঞ্জনের অপবাদ দিল। তারা বর্ণনাকারীদেরকে তাদের বর্ণিত হাদিসের মর্মার্থ অনুধাবনে দুর্বল মেধা ও জ্ঞানের স্বল্পতার অধিকারী বলে সাব্যস্ত করল।

যদি তারা তাদের পূর্বসূরিদের প্রতি সুধারণা পোষণ করত এবং তাদের অনুসরণকে অগ্রাধিকার দিত, তারা যেখানে আত্মসমর্পণ করেছেন সেখানে তারাও আত্মসমর্পণ করত এবং যেখানে তারা অর্থ অন্বেষণ করেছেন সেখানে তারাও অন্বেষণ করত এবং কুপ্রবৃত্তি দমন ও শয়তানের প্রবঞ্চনা দূর করতে সচেষ্ট হতো, তবে অবশ্যই তাদের বক্ষ উন্মুক্ত হতো। তাদের নিকট বিশ্বাসের শীতলতা, মারেফাতের সজীবতা এবং আত্মসমর্পণের জ্যোতি প্রকাশিত হতো—যেমনটি তাদের পূর্বসূরিদের নিকট প্রকাশিত হয়েছিল। আর তাদের নিকট সত্যের সেই নিদর্শনাবলী প্রকাশ পেত যা তাদের নিকট উন্মোচিত ছিল।

বস্তুত সত্য অত্যন্ত দুর্লভ, দ্বীন অপরিচিত এবং বর্তমান সময় ফিতনাপূর্ণ।

“আর আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেন না, তার কোনো জ্যোতি নেই।”
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
5 -‌‌ سُؤال من أهل الْكَلَام

قَالُوا إِن قَوْلكُم إِن السّلف من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ لم يشتغلوا بإيراد دَلَائِل الْعقل وَالرُّجُوع إِلَيْهِ فِي علم الدّين وعدوا هَذَا النمط من الْكَلَام بِدعَة فَكَمَا أَنهم لم يشتغلوا بِهَذَا كَذَلِك لم يشتغلوا بِالِاجْتِهَادِ فِي الْفُرُوع وَطلب أَحْكَام الْحَوَادِث وَلم يرو عَنْهُم شَيْء من هَذِه المقايسات والآراء والعلل الَّتِي وَضعهَا الْفُقَهَاء فِيمَا بَينهم

وَإِنَّمَا ظهر هَذَا بعد زمَان أَتبَاع التَّابِعين وَقد استحسنه جَمِيع الْأمة ودونوه فِي كتبهمْ فَلَا يُنكر أَن يكون علم الْكَلَام على هَذَا الْوَجْه

وَقد قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (مَا رَآهُ الْمُسلمُونَ حسنا فَهُوَ عِنْد الله حسن وَمَا رَآهُ الْمُسلمُونَ قبيحا فَهُوَ عِنْد الله قَبِيح) وَهَذَا مِمَّا رَآهُ الْمُسلمُونَ حسنا فَهُوَ مستحسن عِنْد الله
৫ -‌‌ ইলমুল কালামপন্থীদের পক্ষ থেকে একটি প্রশ্ন

তারা বলে, আপনাদের এই দাবি—যে সাহাবী ও তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত সালাফগণ দ্বীনি ইলমের ক্ষেত্রে যৌক্তিক দলিল উপস্থাপন এবং এর দিকে প্রত্যাবর্তনের কাজে লিপ্ত হননি এবং তাঁরা এই ধরণের শাস্ত্রীয় পদ্ধতিকে বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন—তবে জেনে রাখুন, তাঁরা যেমন এসবে লিপ্ত হননি, তেমনি তাঁরা ফিকহী শাখা-প্রশাখা নিয়ে ইজতিহাদ করা এবং উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধান অন্বেষণেও ব্যাপৃত ছিলেন না। তাঁদের থেকে এমন কোনো কিয়াস, ব্যক্তিগত মত এবং ইল্লত (আইনি কারণ) বর্ণিত হয়নি যা ফকীহগণ নিজেদের মধ্যে উদ্ভাবন করেছেন।

এগুলো কেবল তাবি-তাবিঈগণের যুগের পর প্রকাশ পেয়েছে এবং উম্মতের সকল আলিম একে উত্তম বলে গ্রহণ করেছেন ও তাঁদের কিতাবসমূহে তা সংকলন করেছেন। সুতরাং ইলমুল কালামও যে এই পর্যায়ের হবে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (মুসলিমগণ যা উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম; আর মুসলিমগণ যা মন্দ মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও মন্দ)। আর এটি (ইলমুল কালাম) এমন একটি বিষয় যা মুসলিমগণ উত্তম মনে করেছেন, সুতরাং তা আল্লাহর নিকটও পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
والبدعة على وَجْهَيْن بِدعَة قبيحة وبدعة حَسَنَة

قَالَ الْحسن الْبَصْرِيّ الْقَصَص بِدعَة ونعمت الْبِدْعَة كم من أَخ يُسْتَفَاد ودعوة مجابة وسؤل معطى

وَعَن بَعضهم أَنه سُئِلَ عَن الدُّعَاء عِنْد ختم الْقُرْآن كَمَا يَفْعَله النَّاس الْيَوْم قَالَ بِدعَة حَسَنَة
বিদআত দুই প্রকার: মন্দ বিদআত এবং উত্তম বিদআত।

হাসান বসরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করা একটি বিদআত, তবে এটি কতই না চমৎকার বিদআত; এর মাধ্যমে কত ভ্রাতা উপকৃত হয়, কত দুআ কবুল হয় এবং কত প্রার্থনা মঞ্জুর করা হয়।

জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যে, বর্তমানকালে মানুষ যেভাবে কুরআন খতমের সময় দুআ করে, সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটি একটি উত্তম বিদআত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَكَيف لَا يكون هَذَا النَّوْع من الْعلم حسنا وَهُوَ يتَضَمَّن الرَّد على الْمُلْحِدِينَ والزنادقة والقائلين بقدم الْعَالم وَكَذَلِكَ أهل سَائِر الْأَهْوَاء من هَذِه الْأمة وَلَوْلَا النّظر وَالِاعْتِبَار مَا عرف الْحق من الْبَاطِل وَالْحسن من الْقَبِيح وَبِهَذَا الْعلم انزاحت الشُّبْهَة عَن قُلُوب أهل الزيغ وَثَبت قدم الْيَقِين للموحدين

আর এই প্রকার জ্ঞান কেনই বা উত্তম হবে না? অথচ এতে নাস্তিক, যিন্দিক এবং জগতের অনাদিত্বের প্রবক্তাদের খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; তদ্রূপ এই উম্মতের অপরাপর সকল প্রবৃত্তিপূজারীদের খণ্ডনও এতে রয়েছে। যদি গভীর অভিনিবেশ ও বিচার-বিশ্লেষণ না থাকত, তবে সত্যকে মিথ্যা থেকে এবং উত্তমকে মন্দ থেকে পৃথক করে চেনা যেত না। এই জ্ঞানের মাধ্যমেই পথভ্রষ্টদের অন্তর থেকে সংশয় দূরীভূত হয় এবং একত্ববাদীদের জন্য সুদৃঢ় বিশ্বাসের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।