(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: -)
انتخاب العوالي والشيوخ الأخيار من فهارس   (الكزبري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: انتخاب العوالي والشيوخ من فهارس شيخنا الامام المسند العطار أحمد بن عبيد الله العطار

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن الكزبري الشافعي (ت 1262هـ)

المحقق: محمد مطيع الحافظ

الناشر: دار الفكر المعاصر/ دار الفكر - بيروت لبنان/ دمشق سورية

الطبعة: الأولى، 1414هـ- 1994هـ

عدد الصفحات: 47

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কুযবারির ক্যাটালগ থেকে বাছাইকৃত উচ্চতর ও শ্রেষ্ঠ শাইখগণের নির্বাচন   (আল-কুযবারি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আমাদের শাইখ, ইমাম, মুসনিদ আল-আত্তার আহমাদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-আত্তারের ক্যাটালগ থেকে উচ্চতর ও শাইখগণের নির্বাচন

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-কুযবারি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ১২৬২ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ মুতি আল-হাফিয

প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুআসির/ দারুল ফিকর - বৈরুত, লেবানন/ দামেস্ক, সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি- ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَمِمَّا مدحه بِهِ أَمِين الجندي وَكَانَ طلب مِنْهُ الْإِجَازَة سؤالا فَمَا أجَاب

(يَا أَيهَا الحبر الَّذِي هُوَ لم يزل … فِي الْكَوْن بَحر فَوَائِد وعوائد)

(إِن الفصيح لديك أصبح أبكما … لم يَأْتِ من نطق بِحرف وَاحِد)

(إِذْ حجَّة الْإِسْلَام أَنْت بِلَا مرا … ولناا لدَلِيل باسم ابْنك حَامِد)

 

‌‌إجَازَة الشَّيْخ أَحْمد الْعَطَّار للشَّيْخ شَاكر العقاد

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله تَعَالَى على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ

أما بعد فقد التمس مني عُمْدَة الْعلمَاء الْمُحَقِّقين وقدوة الْفُضَلَاء المدققين وناشر لِوَاء الإفادة للطالبين مَوْلَانَا الشَّيْخ شَاكر أَفَنْدِي ابْن المرحوم الْحَاج عَليّ الشهير نسبه الْكَرِيم بالعقاد أَن أجيزه بِجَمِيعِ مقروآتي ومسموعاتي وَبِمَا يجوز لي رِوَايَته وَذَلِكَ بعد أَن سمع مني حَدِيث الرَّحْمَة وَغَيره من الْأَحَادِيث الشَّرِيفَة فأجبت ملتمسه امتثالا لَهُ وَإِلَّا فلست أَنا أَهلا لذَلِك وَلَا مِمَّن سلك هاتيك المسالك وَأَقُول أجزت مَوْلَانَا الْمَذْكُور بِمَا تضمنته هَذِه العجالة الجامعة لغالب مسموعاتي وَأَسْمَاء مشايخي وأجزته بِمَا تضمنه أثبات مشايخي ومشايخهم وبسائر كتب الحَدِيث وَغَيرهَا من الْعُلُوم النافعة وبسائر مَا يجوز لي وعني رِوَايَته كل ذَلِك بِشَرْطِهِ الْمُعْتَبر عِنْد أهل الحَدِيث والأثر وأرجوه أَن لَا ينساني من صَالح دعواته فِي خلواته وجلواته وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَه أفقر الورى أَحْمد بن عبيد الْعَطَّار

إتماما للفائدة نورد ثَبت أَحْمد بن عبيد الْعَطَّار الَّذِي جمعه الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن الكزبري الْكَبِير عَن نُسْخَة مخطوطة بِخَطِّهِ مَحْفُوظَة لدينا
আমীন আল-জুন্দি তাঁকে যে সব কবিতার মাধ্যমে প্রশংসা করেছেন এটি তার অন্তর্ভুক্ত; তিনি তাঁর কাছে অনুমতির (ইজাজত) আবেদন করেছিলেন, যার উত্তরে তিনি বলেছিলেন:

(হে সেই বিজ্ঞ আলিম, যিনি বিশ্বজগতে সর্বদা... উপকার ও দানের এক সুবিশাল সমুদ্র।)

(নিশ্চয়ই বাগ্মী ব্যক্তি আপনার সামনে বোবা হয়ে যায়... সে একটি অক্ষরও উচ্চারণ করতে পারে না।)

(কেননা আপনিই নিঃসন্দেহে হুজ্জাতুল ইসলাম... আর আমাদের কাছে দলিল হলো আপনার পুত্র হামিদের নাম।)

 

‌‌শেখ আহমদ আল-আত্তার কর্তৃক শেখ শাকের আল-আক্কাদকে প্রদত্ত ইজাজত

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং মহান আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

অতঃপর, সুপ্রতিষ্ঠিত গবেষক আলেমদের প্রধান আশ্রয়স্থল, সূক্ষ্মদর্শী গুণীজনদের আদর্শ এবং জ্ঞানপিপাসুদের মাঝে উপকারের ঝাণ্ডা উড্ডীনকারী, আমাদের মওলানা শেখ শাকের আফেন্দি ইবনে মরহুম হাজি আলী—যার সম্মানিত বংশধারা ‘আক্কাদ’ নামে সুপরিচিত—আমার কাছে এই মর্মে আবেদন করেছেন যে, আমি যেন তাঁকে আমার পঠিত ও শ্রুত সকল গ্রন্থ এবং আমার থেকে বর্ণনা করার অনুমতি আছে এমন সব বিষয়ের ইজাজত প্রদান করি। এটি তিনি করেছেন আমার কাছ থেকে ‘হাদিসুর রহমত’ এবং অন্যান্য সম্মানিত হাদিস শোনার পর। তাই তাঁর সম্মানার্থে আমি তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়েছি, যদিও আমি এর যোগ্য নই এবং আমি সেই স্তরের পথিকও নই। আমি বলছি, আমি উল্লিখিত মওলানাকে এই সংক্ষিপ্ত সংকলনে যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—যা আমার অধিকাংশ শ্রুত বিষয় ও আমার শিক্ষকদের নামের সমষ্টি—তার ইজাজত প্রদান করলাম। এছাড়াও আমার শিক্ষকগণ এবং তাঁদের শিক্ষকদের ইজাজতনামা (আসবাত), হাদিসের সকল গ্রন্থ, অন্যান্য উপকারী জ্ঞান এবং আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করা বৈধ এমন সবকিছুর ইজাজত তাঁকে প্রদান করলাম। এসবই হাদিস ও আসার শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি সাপেক্ষে। আমি তাঁর কাছে এই আশা রাখি যে, তিনি তাঁর নির্জন ও প্রকাশ্য মুহূর্তের নেক দোয়াগুলোতে আমাকে ভুলে যাবেন না। মহান আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। এটি সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে মুখাপেক্ষী আহমদ বিন উবাইদ আল-আত্তার বলেছেন।

বিষয়টি পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আহমদ বিন উবাইদ আল-আত্তারের ইজাজতনামা উল্লেখ করছি, যা শেখ আব্দুর রহমান আল-কুজবারী আল-কাবীর সংকলন করেছেন। এটি আমাদের কাছে সংরক্ষিত তাঁর স্বহস্তে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ২৮)
جَاءَ فِي أَولهَا انتخاب العوالي والشيوخ الأخيار من فهارس شَيخنَا الإِمَام الْمسند الْعَطَّار

جمع أقل تلامذته فَقير رَحْمَة ربه وأسير وصمة ذَنبه الحقير عبد الرَّحْمَن الشَّافِعِي الدِّمَشْقِي الشهير بالكزبري عُفيَ عَنهُ وَعَمن دَعَا لَهُ بالمغفرة والفتوح آمين

بسم الله الرحمن الرحيم

نحمدك يَا من أَسْبغ علينا الْمِنَّة وَجَعَلنَا منسبين لخدمة الحَدِيث الشريف النَّبَوِيّ ونقلة للسّنة وَضمن لنا على لِسَان نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم بِأَنَّهُ من سلك طَرِيقا يلْتَمس فِيهِ علما سهل الله تَعَالَى لَهُ طَرِيقا إِلَى الْجنَّة ونشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة ندخرها ليَوْم الْمعَاد جنَّة ونشهد أَن سيدنَا وَنَبِينَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله إِلَى الْإِنْس وَالْجنَّة صلى الله عليه وسلم مَا أبدى اللَّيْل نجما فغيبه النَّهَار وأجنه

أما بعد فَيَقُول العَبْد الْفَقِير لعفو الْمولى الْغفار أَحْمد بن عبيد الْعَطَّار الشَّافِعِي الدِّمَشْقِي محيت عَنهُ الْخَطَايَا والأوزار وحبي من الْكَرِيم المعارف والأسرار هَذِه نبذة يسيرَة من أَسمَاء بعض مشاهير شيوخي ومقروآتي عَلَيْهِم وإجازاتي مِنْهُم وَكَذَلِكَ بعض من أسانيدي فِي الْقُرْآن الْعَظِيم وصحيحي الْإِمَامَيْنِ البُخَارِيّ وَمُسلم وسلسلتي فِي مَذْهَب إمامنا الشَّافِعِي رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَبَعض من الْأَحَادِيث المسلسلة جمعهَا بعض أخصائي الأعزاء عَليّ المترددين إِلَيّ بإشارتي لَهُ فِي ذَلِك منح أوضح المسالك

وشيوخي بِحَمْد الله تَعَالَى كَثِيرُونَ من دمشقيين وواردين وحجازيين ومصريين وروميين عمتني بركاتهم وشملتني نفحاتهم

1 - فَمن أَجلهم وأرفعهم وأتقاهم وأورعهم وَأَعْلَاهُمْ سندا سَيِّدي وَسيد أهل زَمَانه فِيمَا أعلم الشَّيْخ عَليّ بن أَحْمد الشَّافِعِي الدِّمَشْقِي الشهير بالكزبري فقد لازمته بِحَمْد الله الْمدَّة الطَّوِيلَة والأزمان الجليلة ولي مَعَه وقائع كَثِيرَة من تَأْدِيب وإكرام وَغير ذَلِك لَا يَفِي بِذكر بَعْضهَا هَذِه العجالة وَحَضَرت عَلَيْهِ الْكثير فمما يحضرتي الْآن من ذَلِك حِصَّة وافية من صَحِيح أَمِير الْمُحدثين مَعَ مطالعته للشروح وقرأته بالحرف لشرح الإِمَام الْقُسْطَلَانِيّ الْمُسَمّى بالإرشاد وَحِصَّة كَذَلِك من تَفْسِير النَّاصِر الْبَيْضَاوِيّ مَعَ الْحَوَاشِي وَحِصَّة من الْمَوَاهِب اللدنية مَعَ
এর শুরুতে এসেছে আমাদের শাইখ ইমাম মুসনিদ আল-আত্তারের নির্ঘণ্টসমূহ থেকে উচ্চ সনদধারী ও বরেণ্য শাইখদের নির্বাচন।

এটি সংকলন করেছেন তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ, তাঁর প্রতিপালকের রহমতের মুখাপেক্ষী কাঙাল এবং নিজ পাপের গ্লানিতে বন্দী তুচ্ছ ব্যক্তি আব্দুর রহমান আশ-শাফিঈ আদ-দিমাশকি, যিনি কুজবারি নামে পরিচিত। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাকেও ক্ষমা করুন যে ব্যক্তি তাঁর জন্য ক্ষমা ও বিজয়ের দুয়া করে। আমিন।

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমরা আপনার প্রশংসা করছি হে সেই সত্তা, যিনি আমাদের ওপর অফুরন্ত অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের সম্মানিত নববী হাদিসের খেদমত ও সুন্নাহর বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে আমাদের জন্য এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের কোনো পথে চলবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা আমরা পরকালের দিনের জন্য ঢাল হিসেবে সঞ্চয় করে রাখছি। এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি মানুষ ও জিনের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করুন যতক্ষণ রাত কোনো নক্ষত্রকে প্রকাশ করে এবং দিন তাকে অদৃশ্য ও আচ্ছন্ন করে দেয়।

অতঃপর, ক্ষমাশীল প্রভুর ক্ষমার মুখাপেক্ষী কাঙাল বান্দা আহমদ ইবনে উবায়েদ আল-আত্তার আশ-শাফিঈ আদ-দিমাশকি বলছেন—আল্লাহ তাঁর ভুল-ত্রুটি ও পাপসমূহ মিটিয়ে দিন এবং পরম দয়াময় সত্তার পক্ষ থেকে তাঁকে মা’রিফাত ও গূঢ় রহস্য দান করুন—এটি আমার প্রসিদ্ধ কিছু শাইখদের নাম, তাঁদের নিকট আমার পঠিত কিতাবসমূহ এবং তাঁদের থেকে প্রাপ্ত আমার ইজাজতসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন। পাশাপাশি এটি মহান কুরআন, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের দুই সহীহ গ্রন্থ এবং আমাদের ইমাম শাফিঈ (রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু) এর মাযহাবে আমার সিলসিলা এবং কিছু মুসালসাল হাদিসেরও বর্ণনা। এটি আমার এক ঘনিষ্ঠ প্রিয় ব্যক্তি সংকলন করেছেন যারা আমার নিকট যাতায়াত করেন, এ বিষয়ে আমার ইশারায়, যাতে তিনি সহজতম পথ প্রদর্শন করেন।

আল্লাহর প্রশংসায় আমার শাইখগণ সংখ্যায় অনেক—যাদের মধ্যে দামেস্কবাসী, আগন্তুক, হিজাজি, মিশরি এবং রুমি রয়েছেন। তাঁদের বরকত আমাকে পরিবেষ্টন করেছে এবং তাঁদের সুঘ্রাণ আমাকে শামিল করেছে।

১ - তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মহান, সুউচ্চ মর্যাদাবান, মুত্তাকি, পরহেজগার এবং উচ্চ সনদের অধিকারী হলেন আমার সাইয়্যেদ এবং আমার জানামতে তাঁর সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব শাইখ আলী ইবনে আহমদ আশ-শাফিঈ আদ-দিমাশকি, যিনি কুজবারি নামে পরিচিত। আল্লাহর প্রশংসায় আমি দীর্ঘ সময় ও সুদীর্ঘ কাল ধরে তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম। তাঁর সাথে আমার আদব শিক্ষা ও সম্মান প্রদানসহ অনেক ঘটনা রয়েছে, যার কিয়দংশ বর্ণনা করার জন্যও এই সংক্ষিপ্ত পরিসর যথেষ্ট নয়। আমি তাঁর নিকট অনেক ইলম অর্জন করেছি। বর্তমানে আমার যা মনে পড়ছে তার মধ্যে রয়েছে মুহাদ্দিসকুলের শিরোমণির (ইমাম বুখারী) সহীহ গ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, সাথে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা এবং ইমাম কাসতালানি রচিত 'ইরশাদ' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থের আক্ষরিক পাঠ। একইভাবে নাসির আল-বাইযাভির তাফসীরের একটি অংশ তার টীকাসহ এবং আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহর একটি অংশও তাঁর নিকট পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ২৯)
شرحها لشيخه الإِمَام الزّرْقَانِيّ وَحِصَّة من إحْيَاء عُلُوم الدّين للْإِمَام الْغَزالِيّ وَحَضَرت ختمة لَهُ بمحفل وافي وحضرته فِي شرح الْمنْهَج مَعَ قِرَاءَته بالحرف شرح الْمُحَقق الهيتمي على الْمِنْهَاج الْمُسَمّى بتحفة الْمُحْتَاج ومطالعة النِّهَايَة والحواشي وتفقهت بِحَمْد الله تَعَالَى عَلَيْهِ وحضرته فِي حِصَّة من شرح الْمُحَقق الْمحلي على جمع الْجَوَامِع مَعَ مطالعة الْحَوَاشِي وَمُغْنِي اللبيب مَعَ حاشيتي الدماميني والشمني وقرأت عَلَيْهِ الشاطبية مَعَ حفظهَا والقراءات السَّبع إِلَى الْأَحْزَاب وأجازني بِسَائِر الْقُرْآن بشائر طرقه وَلم أظفر مِنْهُ رَحمَه الله تَعَالَى بِالْإِجَازَةِ الْخَاصَّة إِلَّا عُمُوما فِي بعض ختومه لدروسه كَبَقِيَّة الْحَاضِرين وَهُوَ يروي عَن مَشَايِخ كثيرين من دمشقيين وَغَيرهم يَأْتِي ذكر بَعضهم

2 - وَمن مشاهير مشايخي الإِمَام الْجَامِع لعلمي الْبَاطِن وَالظَّاهِر من ورث الْفضل كَابِرًا عَن كَابر وفاخرت بِهِ الْأَوَائِل الْأَوَاخِر الشَّيْخ أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّد الشَّافِعِي الدِّمَشْقِي الشهير نسبه الْكَرِيم بالغزي مفتي السَّادة الشَّافِعِيَّة بِدِمَشْق المحمية فقد صحبته مُدَّة طَوِيلَة وَكنت أراجع لَهُ فِيهَا مسَائِل كَانَ يسْأَل عَنْهَا وقرأت عَلَيْهِ صَحِيح الإِمَام البُخَارِيّ بطرفيه وَكَانَ بِيَدِهِ نُسْخَة مِنْهُ وأجازني بِهِ وببقية الْكتب السِّتَّة وبمؤلفات شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ وبمؤلفات الْجلَال السُّيُوطِيّ خُصُوصا وَبِكُل مَا يجوز لَهُ عُمُوما وَله مَشَايِخ كَثِيرُونَ ترجمهم فِي كتاب مُسْتَقل سَمَّاهُ لطائف الْمِنَّة فِي آثَار خدمَة السّنة وَله تآليف نفيسة مِنْهَا شرح على صَحِيح الإِمَام البُخَارِيّ لم يكمل

3 - وَمن كبار شيوخي مُحدث الشَّام وعالمها الزَّاهِد الْوَرع العابد الناسك الشَّيْخ إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الجراحي الشهير بالعجلوني فقد لازمته نَحوا من عشر سِنِين واكتسبت من آدابه وَحَضَرت دروسه الْعَامَّة والخاصة فَمن أجل مَا حضرت عَلَيْهِ الْجَامِع الْمسند الصَّحِيح مَعَ قِرَاءَة لشرحه عَلَيْهِ وأجازني بِكُل مَا يجوز لَهُ مَرَّات ومشايخه وَأَسَانِيده قد أفرد لَهُم بثبت سَمَّاهُ حلية أهل الْفضل والكمال باتصال الْأَسَانِيد بكمل الرِّجَال

4 - وَمن كبار شيوخي الإِمَام الْجَامِع بَين الْمَنْقُول والمعقول مُحَرر الْفُرُوع وَالْأُصُول الماهرة النَّحْوِيّ اللّغَوِيّ الْبَيَانِي الأديب الشَّيْخ أَحْمد أَفَنْدِي ابْن المرحوم الشَّيْخ على الْعَدوي العثماني الشهير بالمنيني فقد حضرت دروسه الْخَاصَّة والعامة مِنْهَا الصَّحِيح مَعَ شَرحه لَهُ وَمِنْهَا تَفْسِير النَّاصِر وشفا القَاضِي
তাঁর শিক্ষক ইমাম যারকানির তার (গ্রন্থের) ব্যাখ্যা এবং ইমাম গাজালির ইহয়াউ উলুমিদ্দিন-এর একটি অংশ। আমি তাঁর কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ মজলিসে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। আমি তাঁর নিকট মিনহাজের ব্যাখ্যা শ্রবণ করেছি, সাথে সাথে আল-মুহাক্কিক আল-হাইতামি রচিত মিনহাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তুহফাতুল মুহতাজ' আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি এবং 'নিহায়াহ' ও এর টীকাগুলো (হাওয়াশি) অধ্যয়ন করেছি। আল্লাহর প্রশংসায়, আমি তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি এবং মুহাক্কিক আল-মহল্লির 'জামউল জাওয়ামি'র ব্যাখ্যার একটি অংশে উপস্থিত ছিলাম, সাথে টীকাগুলো (হাওয়াশি) অধ্যয়ন করেছি। এছাড়াও দামামিনি ও শুমুনির টীকাসহ 'মুগনিউল লাবিব' অধ্যয়ন করেছি। আমি তাঁর কাছে শাত্বিবিয়াহ মুখস্থসহ পাঠ করেছি এবং সূরা আল-আহযাব পর্যন্ত সাত কিরাত (সাবআ কিরাত) পড়েছি। তিনি আমাকে অবশিষ্ট কুরআনের জন্য তাঁর সমস্ত পদ্ধতির (তুরুক) সাধারণ অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন। তবে তাঁর নিকট থেকে আমি কোনো বিশেষ ইজাজত পাইনি, বরং তাঁর দরসের শেষে অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিদের মতো কেবল সাধারণ ইজাজত পেয়েছি। তিনি দামেস্কের এবং অন্যান্য অঞ্চলের অসংখ্য মাশায়েখ থেকে বর্ণনা করেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের কথা সামনে আসবে।

2 - আমার সুপ্রসিদ্ধ শিক্ষকদের মধ্যে একজন হলেন সেই ইমাম যিনি যাহিরি (বাহ্যিক) ও বাতিনি (আভ্যন্তরীণ) উভয় ইলমের অধিকারী, যিনি পুরুষানুক্রমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং যাঁকে নিয়ে পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের সামনে গর্ব করতে পারে; তিনি হলেন শায়খ আবুল মাআলি মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ আদ-দিমাশকি, যাঁর সম্মানিত বংশধারা আল-গাজ্জি নামে পরিচিত। তিনি সুরক্ষিত দামেস্ক শহরের শাফিঈ মাযহাবের মুফতি ছিলেন। আমি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম এবং সেই সময়ে তাঁর কাছে আসা বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আমি তাঁর সাথে আলোচনা করতাম। আমি তাঁর কাছে ইমাম বুখারির সহীহ গ্রন্থের শুরু ও শেষাংশ পাঠ করেছি। তাঁর নিকট গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি ছিল। তিনি আমাকে এই গ্রন্থের এবং বাকি ছয়টি গ্রন্থের (কুতুবে সিত্তাহ), শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারির রচনাবলির এবং বিশেষ করে জালালুদ্দিন সুয়ুতির রচনাবলির ইজাজত প্রদান করেছেন, তদুপরি তাঁর বর্ণিত সকল বিষয়ের সাধারণ অনুমতি দিয়েছেন। তাঁর অসংখ্য শিক্ষক রয়েছেন, যাঁদের জীবনী তিনি 'লাতাইফুল মিন্নাহ ফি আসারি খিদমাতিস সুন্নাহ' নামক একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তাঁর কিছু মূল্যবান রচনাও রয়েছে, যার মধ্যে ইমাম বুখারির সহীহ গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) রয়েছে যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।

3 - আমার মহান শিক্ষকদের অন্যতম হলেন শামের মুহাদ্দিস ও আলিম, দুনিয়াত্যাগী, পরহেযগার, ইবাদতগুজার ও সাধক শায়খ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আল-জারাছি, যিনি আল-আজলুনি নামে সুপরিচিত। আমি প্রায় দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছি এবং তাঁর আদব-কায়দা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি। আমি তাঁর সাধারণ ও বিশেষ দরসসমূহে উপস্থিত হয়েছি। আমি তাঁর নিকট যে শ্রেষ্ঠ বিষয়টি পাঠ করেছি তা হলো 'আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহীহ', সাথে তাঁর লিখিত এর ব্যাখ্যাও পড়েছি। তিনি আমাকে বহুবার তাঁর বর্ণিত সকল বিষয়ের ইজাজত দিয়েছেন। তিনি তাঁর শিক্ষকগণ এবং সনদসমূহের জন্য 'হিলইয়াতু আহলিল ফাদলি ওয়াল কামাল বি-ইত্তিসালিল আসানিদি বি-কামালির রিজাল' নামে একটি স্বতন্ত্র সংকলন (সাবাত) তৈরি করেছেন।

4 - আমার মহান শিক্ষকদের মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন সেই ইমাম যিনি মানকুল (শ্রুত) ও মাকুল (যুক্তিভিত্তিক) উভয় বিদ্যায় পারদর্শী, ফুরু (শাখা) ও উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রের নিপুণ বিশ্লেষক, দক্ষ ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও সাহিত্যিক শায়খ আহমাদ এফেন্দি বিন মরহুম শায়খ আলি আল-আদাভি আল-উসমানি, যিনি আল-মানিনি নামে পরিচিত। আমি তাঁর বিশেষ ও সাধারণ দরসসমূহে উপস্থিত হয়েছি। তন্মধ্যে রয়েছে (সহীহ) বুখারী ও এর উপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং নাসিরের তাফসীর ও কাজী আইয়াযের শিফা।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩০)
عِيَاض وقرأت عَلَيْهِ شرح النقاية لِلْحَافِظِ السُّيُوطِيّ وَغير ذَلِك مِمَّا لم يحضرني الْآن وأجازني بِكُل مَا يجوز لَهُ مَرَّات عديدة وشيوخه وسلسلته قد أفردهم بثبت سَمَّاهُ القَوْل السديد فِي اتِّصَال الْأَسَانِيد

وكل من مشايخي الثَّلَاثَة الْمَذْكُورين قد شرح صَحِيح الإِمَام البُخَارِيّ شرحا نفيسا سِيمَا أوسطهم فقد شَرحه شرحا يرحل إِلَيْهِ جعله خُلَاصَة الشُّرُوح السَّابِقَة وَأطَال فِيهِ من الْفَوَائِد والنكات وَالْأَحْكَام سَمَّاهُ الْفَيْض الْجَارِي وصل فِيهِ إِلَى تَفْسِير سُورَة الْفَاتِحَة من كتاب التَّفْسِير واخترمته الْمنية قبل إكماله وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

5 - وَمن كبار مشاهير شيوخي الإِمَام الَّذِي وَإِن تَأَخّر ذكره فقد علم قدره سيد أهل التَّحْقِيق على التَّحْقِيق وَسعد أَرْبَاب التدقيق بنظره الدَّقِيق الْعَلامَة الثَّانِي الشَّيْخ على أَفَنْدِي الداغستاني قَرَأت عَلَيْهِ الْكثير وانتفعت بِهِ النَّفْع الشهير حضرت عَلَيْهِ حِصَّة وافية من الصَّحِيح مَعَ شَرحه الْإِرْشَاد وَغَيره وَتَفْسِير القَاضِي الْبَيْضَاوِيّ وَتَفْسِير الْمُحَقق أبي السُّعُود وقرأت عَلَيْهِ شرح الْقَوَاعِد والأوضح والجامي مَعَ العصام وَشرح رِسَالَة الْعَضُد للقوشجي وشروح السمرقندية وخلاصة الْحساب وَشرح العقائد مَعَ حاشيتي الْكَمَال والخيالي والمختصر الْبَيَانِي مَعَ حَاشِيَة منلا زَاده وَحِصَّة من المطول مَعَ السَّيِّد وَشرح مُخْتَصر الْمُنْتَهى للعضد مَعَ حَاشِيَة السَّيِّد عَلَيْهِ وحاشية الشَّيْخ الْمَذْكُور عَلَيْهَا وَشرح الشمسية للقطب وَشرح المواقف وَغير ذَلِك مِمَّا لم يحضرني الْآن

6 - وَمن مشاهير محققي شيوخي الإِمَام الْكَبِير والعلامة الشهير الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن جَعْفَر الْكرْدِي فقد لازمته الْمدَّة الطَّوِيلَة والأزمان الجليلة وقرأت عَلَيْهِ الكافية والشافية وَشَرحهَا وإيساغوجي وشروحه للغنري وَغَيره وَشرح الشمسية وَغير ذَلِك وَكنت مشاركا لَهُ فِي مطالعة درس شَيخنَا الكزبري فِي شرح الْمنْهَج والتحفة والحواشي ثمَّ رَحل للقاهرة وَبعد رُجُوعه حضرت عَلَيْهِ شرح الْمُحَقق الْمحلي على جمع الْجَوَامِع مَعَ الْآيَات عَلَيْهِ وَغَيرهَا من الْحَوَاشِي

7 - وَمن أكَابِر شيوخي الإِمَام الْعَلامَة الْفَقِيه المتبحر الشَّيْخ عبد الله بن زين الدّين الشهير بالبصروي حضرت دروسه الْخَاصَّة والعامة مِنْهَا صَحِيح الإِمَام مُسلم مَعَ
আইয়ায; এবং আমি তাঁর নিকট হাফেজ সুয়ূতী সংকলিত ‘শারহুন নুকাইয়াহ’ এবং আরও অন্যান্য কিতাব পাঠ করেছি যা এখন আমার স্মৃতিতে নেই। তিনি আমাকে তাঁর নিকট হতে বর্ণিতব্য সকল বিষয়ের অসংখ্যবার ইজাজত প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর উস্তাদগণ এবং নিজের সিলসিলা (পরম্পরা) নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘আল-কাওলুস সাদীদ ফী ইত্তিসালিল আসানীদ’।

আমার উল্লিখিত তিন উস্তাদের প্রত্যেকেই ইমাম বুখারীর ‘সহীহ’ গ্রন্থের চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে মধ্যম জন এমন এক ব্যাখ্যা লিখেছেন যা লাভের জন্য মানুষ সফর করে। তিনি এটিকে পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের সারমর্ম হিসেবে তৈরি করেছেন এবং এতে প্রচুর ফায়দা, সূক্ষ্ম বিষয় ও আহকাম বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘আল-ফাইযুল জারী’। কিতাবুত তাফসীরের অন্তর্গত সূরা ফাতিহার তাফসীর পর্যন্ত তিনি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বেই মৃত্যু তাঁকে গ্রাস করে নেয়। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

৫ - আমার উস্তাদদের মধ্যে বড় এবং সুপ্রসিদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত হলেন সেই ইমাম, যাঁর আলোচনা এখানে পরে আসলেও তাঁর মর্যাদা সর্বজনবিদিত; যিনি প্রকৃতপক্ষেই মুহাক্কিকদের সর্দার এবং যাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টির বদৌলতে সূক্ষ্মদর্শীগণ সৌভাগ্যমণ্ডিত হন— দ্বিতীয় আল্লামা শেখ আলী আফেন্দী আদ-দাগেস্তানী। আমি তাঁর নিকট অনেক পাঠ গ্রহণ করেছি এবং ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁর নিকট সহীহ বুখারীর একটি বড় অংশ তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ইরশাদ’ ও অন্যান্য কিতাবসহ পাঠ করেছি। এছাড়া কাযী বায়যাবীর তাফসীর, মুহাক্কিক আবুস সউদের তাফসীর, এবং তাঁর নিকট ‘শারহুল কাওয়াইদ’, ‘আল-আওযাহ’, ইছামসহ ‘জামী’, কুশজীর ‘শারহু রিসালাতিল আযুদ’, সমরকন্দীর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, ‘খুলাসাতুল হিসাব’, কামাল ও খিয়ালীর হাশিয়াসহ ‘শারহুল আকাইদ’, মোল্লাযাদাহর হাশিয়াসহ ‘আল-মুখতাসারুল বায়ানী’, সাইয়্যেদের হাশিয়াসহ ‘মুতাউওয়াল’-এর কিছু অংশ, সাইয়্যেদ ও উল্লিখিত শেখের হাশিয়াসহ আযুদের ‘শারহু মুখতাসারিল মুনতাহা’, কুতুবের ‘শারহু শামসিয়্যাহ’, ‘শারহুল মাওয়াকিফ’ এবং আরও অন্যান্য কিতাব পাঠ করেছি যা এখন আমার স্মৃতিতে নেই।

৬ - আমার মুহাক্কিক উস্তাদদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন মহান ইমাম ও সুখ্যাত আল্লামা শেখ আবদুর রহমান বিন জাফর আল-কুর্দী। আমি দীর্ঘকাল ও অনেক সময় তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেছি। আমি তাঁর নিকট ‘কাফিয়া’, ‘শাফিয়া’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ‘ঈসাগুজী’ ও এর ওপর গানরীর ব্যাখ্যাসহ অন্যান্য ব্যাখ্যা, ‘শারহুশ শামসিয়্যাহ’ এবং আরও অনেক কিছু পাঠ করেছি। আমি আমাদের উস্তাদ কুযবারীর নিকট ‘শারহুল মানহাজ’, ‘তুহফাহ’ ও এর হাশিয়াসমূহের দরসের মুতালাআয় তাঁর সহযোগী ছিলাম। অতঃপর তিনি কায়রোর উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং ফিরে আসার পর আমি তাঁর নিকট ‘আল-আয়াত’ ও অন্যান্য হাশিয়াসহ ‘জামউল জাওয়ামি’ এর ওপর মুহাক্কিক মাহাল্লীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করেছি।

৭ - আমার উস্তাদদের মধ্যে বড়দের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম, আল্লামা, গভীর জ্ঞানের অধিকারী ফকীহ শেখ আবদুল্লাহ বিন যয়নুদ্দীন, যিনি বাসরভী নামে খ্যাত। আমি তাঁর বিশেষ ও সাধারণ দরসসমূহে উপস্থিত হয়েছি, যার মধ্যে ইমাম মুসলিমের ‘সহীহ’ গ্রন্থটিসহ...
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩১)
شَرحه لَهُ وَكنت أُعِيدهُ لَهُ فِي بعض وقرأت عَلَيْهِ حِصَّة من الْفِقْه وَحِصَّة من الْعُلُوم الآلية

8 - وَمن أجلاء شيوخي الإِمَام الْكَبِير والعلامة الشهير مُوسَى المحاسني قَرَأت عَلَيْهِ شرح الأزهرية وَشرح الْقطر وَحِصَّة من التَّفْسِير وَكَانَ رَحمَه الله تَعَالَى لَا يلْتَزم قِرَاءَة تَفْسِير إِمَام بِعَيْنِه

9 - وَمن خَاصَّة شيوخي مُحَقّق عصره ومفسره الشَّيْخ مُحَمَّد بن مُحَمَّد الشهير بقلقسز زَاده قَرَأت عَلَيْهِ شرح الْقطر وَشرح الشذور لشيخ الْإِسْلَام وَشرح الْقَوَاعِد وَحِصَّة من الجامي مَعَ العصام وَغير ذَلِك

10 - وَمن خَواص شيوخي الإِمَام الْعَالم الْكَامِل التقي الذكي الألمعي الْفَاضِل الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الشهير بالصناديقي قَرَأت عَلَيْهِ شرح الإِمَام الشربيني على أبي شُجَاع وَشرح التَّحْرِير لشيخ الْإِسْلَام وَالشَّمَائِل للْإِمَام التِّرْمِذِيّ وَشَرحهَا للشَّيْخ الْمَذْكُور وَغير ذَلِك

11 - وَمن فضلاء شيوخي الإِمَام الصُّوفِي الْعَالم الْكَامِل المنلا عَبَّاس الْكرْدِي الشهير بالكوراني قَرَأت عَلَيْهِ شرح التَّحْرِير وَسمعت مِنْهُ حِصَّة من الْإِحْيَاء وَغير ذَلِك

12 - وَمِنْهُم الإِمَام الْفَاضِل الْعَالم الْكَامِل الشَّيْخ مُحَمَّد الديري قَرَأت عَلَيْهِ حِصَّة من الْعُلُوم الآلية وَحَضَرت عَلَيْهِ صَحِيح الإِمَام البُخَارِيّ

13 - وَمن خَواص أجلاء شيوخي الْعَالم العابد الناسك الزَّاهِد الفرضي الحيسوبي الشَّيْخ أَحْمد بن عبد الله الْحَنْبَلِيّ الدِّمَشْقِي الشهير بالبعلي مفتي السَّادة الْحَنَابِلَة بِدِمَشْق قَرَأت عَلَيْهِ الْكثير من الْفَرَائِض والحساب مِمَّا لم يحضرني الْآن بَيَان تَفْصِيله وصاحبته وانتفعت بِهِ

14 - وَمِنْهُم شَيْخه الإِمَام الْعَالم الناسك الشَّيْخ عواد الكوري قَرَأت عَلَيْهِ شرح الْقطر وَكَثِيرًا من الْفَرَائِض والحساب

15 - وَمِنْهُم الشَّيْخ الإِمَام النحرير الشَّيْخ مُحَمَّد التدمري قَرَأت عَلَيْهِ الْكثير من الْعَرَبيَّة ونحوا من نصف الْمُغنِي الثَّانِي وَغير ذَلِك

16 - وَمِنْهُم الإِمَام الألمعي الْفَاضِل الْكَامِل الأديب الشَّيْخ مُحَمَّد سعيد
তাঁর কাছে এর ব্যাখ্যা পড়েছি এবং কিছু ক্ষেত্রে আমি তাঁর কাছে তা পুনরাবৃত্তি করতাম। আমি তাঁর কাছে ফিকহ শাস্ত্রের একটি অংশ এবং সহায়ক বিজ্ঞানসমূহের একটি অংশ পড়েছি।

8 - এবং আমার মহান শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহান ইমাম ও প্রখ্যাত আল্লামা মুসা আল-মাহাসিনী। আমি তাঁর কাছে শারহুল আজহারিয়্যাহ, শারহুল কাত্র এবং তাফসীরের একটি অংশ পড়েছি। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো ইমামের তাফসীর পাঠে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতেন না।

9 - এবং আমার বিশেষ শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত হলেন তাঁর সময়ের মুহাক্কিক ও মুফাসসির শায়খ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, যিনি কালকাসাজ-জাদা নামে পরিচিত। আমি তাঁর কাছে শারহুল কাত্র, শায়খুল ইসলামের শারহুশ শুযূর, শারহুল কাওয়ায়েদ এবং ইসামের টীকাসহ জামী-এর একটি অংশ ও আরও অন্যান্য কিতাব পড়েছি।

10 - এবং আমার বিশিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, পূর্ণাঙ্গ মানুষ, মুত্তাকী, বুদ্ধিমান, প্রখর মেধাসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি শায়খ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ, যিনি আস-সানাদিকী নামে পরিচিত। আমি তাঁর কাছে আবু শুজা-এর ওপর ইমাম শারবীনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শায়খুল ইসলামের শারহুত তাহরীর, ইমাম তিরমিযীর আশ-শামায়েল এবং উক্ত শায়খের কৃত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও আরও অন্যান্য বিষয় পড়েছি।

11 - এবং আমার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সূফী ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও পূর্ণাঙ্গ মানুষ মোল্লা আব্বাস আল-কুর্দী, যিনি আল-কুরানী নামে পরিচিত। আমি তাঁর কাছে শারহুত তাহরীর পড়েছি এবং তাঁর কাছ থেকে ইহয়াউ উলুমিদ্দীন-এর একটি অংশ শুনেছি ও আরও অন্যান্য বিষয়।

12 - এবং তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব শায়খ মুহাম্মদ আদ-দাইরী। আমি তাঁর কাছে সহায়ক বিজ্ঞানসমূহের একটি অংশ পড়েছি এবং তাঁর নিকট ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থের পাঠে উপস্থিত থেকেছি।

13 - এবং আমার মহান শিক্ষকদের মধ্যে বিশেষ একজন হলেন বিজ্ঞ আলেম, ইবাদতকারী, পরহেজগার, দুনিয়াবিয়াগী, ফারায়িয ও গণিত শাস্ত্রে দক্ষ শায়খ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী, যিনি আল-বালী নামে পরিচিত; তিনি দামেস্কের হাম্বলী মাযহাবের মুফতী ছিলেন। আমি তাঁর কাছে ফারায়িয ও গণিত শাস্ত্রের অনেক বিষয় পড়েছি যার বিস্তারিত বর্ণনা এখন আমার স্মরণে নেই। আমি তাঁর সাহচর্য লাভ করেছি এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছি।

14 - এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর উস্তাদ ইমাম, আলেম ও ইবাদতকারী শায়খ আওয়াদ আল-কুরি। আমি তাঁর কাছে শারহুল কাত্র এবং ফারায়িয ও গণিত শাস্ত্রের অনেক অংশ পড়েছি।

15 - এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ, ইমাম ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিত শায়খ মুহাম্মদ আত-তাদমুরী। আমি তাঁর কাছে আরবী ভাষার অনেক বিষয় এবং দ্বিতীয় মুগনী গ্রন্থের প্রায় অর্ধেক ও আরও অন্যান্য কিতাব পড়েছি।

16 - এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত ইমাম, শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব এবং সাহিত্যিক শায়খ মুহাম্মদ সাঈদ।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩২)
الْجَعْفَرِي قَرَأت عَلَيْهِ شرح نظم الْخُلَاصَة للعلامة الْمرَادِي الشهير بِابْن أم قَاسم الْمُسَمّى شَرحه بالأعمى والبصير وَغير ذَلِك

فَهَذَا مَا حضرني الْآن ذكره من أَسمَاء شيوخي الدمشقيين ومقروءاتي عَلَيْهِم فَلهُ الْحَمد والْمنَّة

وَأما من أجازني الْإِجَازَة الْعَامَّة من الواردين لدمشق من الْعلمَاء للأعلام فكثيرون مِنْهُم

1 - فَقِيه الْحجاز ومحدثها وعالمها ذُو التآليف النفيسة والتحريرات الشَّرِيفَة الَّتِي لم يسْبق إِلَيْهِ الشَّيْخ مُحَمَّد بن سُلَيْمَان الْكرْدِي ثمَّ الْمدنِي السكن والوفاة فقد سَمِعت مِنْهُ أَوَائِل دواوين الحَدِيث وَغَيرهَا وَكتب لي الْإِجَازَة الْعَامَّة

2 - وَمِنْهُم الإِمَام الرحلة الفهامة المدقق الْعَالم الْعَلامَة الشَّيْخ مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد التافلاتي مفتي الْقُدس الشريف فقد حضرت بعض دروسه فِي مَسْجِد بني أُميَّة حِين قدم دمشق وأجازني عُمُوما بِكُل مَا يجوز لَهُ وخصوصا بِبَعْض أذكار وفوائد

3 - وَمِنْهُم الإِمَام خَاتِمَة الْمُحدثين والأخباريين والنسابين الشَّيْخ صفي الدّين مُحَمَّد بن أَحْمد الشهير بالبخاري الخليلي ثمَّ النابلسي فقد أجازني بِالْإِجَازَةِ الْعَامَّة بعد سَمَاعي مِنْهُ حَدِيث الرَّحْمَة وأوائل السِّتَّة وَغَيرهَا

وَأما من كتب لي بِالْإِجَازَةِ الْعَامَّة من الْبِلَاد فَمن الْحجاز

4 - الإِمَام سليل الْعلمَاء الْأَعْلَام السَّيِّد جَعْفَر البرزنجي الْمدنِي

5 - وَالْإِمَام الْعَلامَة الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن الطَّائِفِي الْمَكِّيّ الشهير بالفتني وَغَيرهمَا

وَمن الْقَاهِرَة العلامتان المسندان الشهابان

6 - الإِمَام أَحْمد بن عبد الفتاح المجيري الشهير بالملوي

7 - وَالْإِمَام أَحْمد بن عبد الْكَرِيم الخالدي الشهير بالجوهري
আল-জাফরি; আমি তাঁর কাছে আল্লামা মুরাদি—যিনি ইবনে উম্মে কাসিম নামে প্রসিদ্ধ—তার রচিত ‘নাজমুল খুলাসা’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পড়েছি, যার শিরোনাম ‘আল-আমা ওয়াল বাসির’, এছাড়াও আরও অন্যান্য কিতাব।

বর্তমানে আমার দামেস্কি শায়খদের নাম এবং তাঁদের নিকট আমার পঠিত বিষয়াবলির মধ্য থেকে যা স্মরণে এল তা উল্লেখ করা হলো; সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর জন্য।

আর দামেস্কে আগত বরেণ্য আলিমদের মধ্যে যারা আমাকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন, তাঁদের সংখ্যা অনেক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

1 - হিজাজের ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং আলিম, অনন্য ও উচ্চমানের বহু গ্রন্থ ও গবেষণার রচয়িতা শায়খ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-কুর্দি; যিনি পরবর্তীতে মদীনাবাসী হন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আমি তাঁর নিকট থেকে হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহের প্রথমাংশ এবং অন্যান্য বিষয় শ্রবণ করেছি এবং তিনি আমাকে সাধারণ ইজাজত লিখে দিয়েছেন।

2 - তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম, মহান পর্যটক, প্রজ্ঞাবান ও সূক্ষ্মদর্শী আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তাফিলাতি, যিনি পবিত্র কুদস-এর (জেরুজালেম) মুফতি ছিলেন। তিনি যখন দামেস্কে আগমন করেন, তখন আমি উমাইয়া মসজিদে তাঁর কিছু পাঠদানে উপস্থিত হয়েছিলাম। তিনি তাঁর বর্ণিতব্য সকল বিষয়ের সাধারণ ইজাজত এবং বিশেষ কিছু জিকির ও উপকারিতার বিশেষ ইজাজত আমাকে প্রদান করেছেন।

3 - তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম, মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও বংশবিদদের শেষ প্রতিনিধি শায়খ শাফি উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ, যিনি বুখারি আল-খালিলে নামে পরিচিত এবং পরবর্তীতে নাবলুসের অধিবাসী। আমি তাঁর নিকট থেকে হাদিসে রহমত এবং সিহাহ সিত্তাহর প্রথমাংশ ও অন্যান্য বিষয় শোনার পর তিনি আমাকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেন।

আর যারা বিভিন্ন দেশ থেকে আমাকে সাধারণ ইজাজত লিখে পাঠিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে হিজাজ থেকে রয়েছেন:

4 - ইমাম, প্রখ্যাত আলিমদের বংশধর সাইয়্যেদ জাফর আল-বারজানজি আল-মাদানি।

5 - এবং ইমাম আল্লামা শায়খ আব্দুর রহমান আত-তায়েফি আল-মাক্কি, যিনি আল-ফাতানি নামে পরিচিত, এবং আরও অন্যান্যরা।

আর কায়রো থেকে রয়েছেন দুই আল্লামা, উচ্চ সনদধারী এবং খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব:

6 - ইমাম আহমদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আল-মুজিরি, যিনি আল-মাল্লাউয়ি নামে পরিচিত।

7 - এবং ইমাম আহমদ বিন আব্দুল কারিম আল-খালিদি, যিনি আল-জাওহারি নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
8 -، 9 - والأخوان العلامتان العارفان المرشدان الحفنيان الشَّمْس مُحَمَّد وَالْجمال يُوسُف

10 - وَالْإِمَام الْعَلامَة النبيه الْفَقِيه الشَّيْخ عَطِيَّة الله الأَجْهُورِيّ وَغَيرهم

وعام رحلت إِلَيْهَا أخذت عَن كثير من فضلائها

11 - من أَجلهم خَاتِمَة الْمُحدثين أَبُو الْفَيْض مُحَمَّد المرتضى الزبيدِيّ فقد أجازني الْإِجَازَة الْعَامَّة ولقنني الذّكر الْخَفي وألبسني خرقته وأكرمني إِكْرَاما أَضْعَاف مَا كنت آمله رَحمَه الله تَعَالَى رَحْمَة وَاسِعَة

وَفِي هَذَا الْقدر الْكِفَايَة من أَسمَاء الشُّيُوخ رحمهم الله ورحمني بهم وحشرني فِي زمرتهم تَحت لِوَاء سيد الْمُرْسلين إِنَّه أكْرم الأكرمين وأرحم الرَّاحِمِينَ

أما بَيَان تفاصيل أسانيدي مَعَ المسلسلات وَبَعض فَوَائِد وأوراد فقد تكفلت بضبطها وترتيبها وَجَمعهَا أثبات شيوخي وشيوخهم وَعلمت من سرد أسمائهم فِيمَا سبق لَكِن لَا بَأْس بالتعرض لبَعض تتميما للفائدة واستمناحا لنزول الرحمات واستمطارا للمكرمات عِنْد ذكر رجالها الْأَئِمَّة الثِّقَات مبتدئا من ذَلِك بِذكر سندي فِي الْقُرْآن الْعَظِيم فَأَقُول

قد قَرَأت بِحَمْد الله تَعَالَى الْقُرْآن الْعَظِيم قِرَاءَة تدبر وإتقان وتجويد وإحسان على سَيِّدي مقرئ الديار الشامية الشريف السَّيِّد ذيب بن خَلِيل وَهُوَ كَذَلِك على شَيْخه الإِمَام أبي الْمَوَاهِب مُحَمَّد البعلي الْحَنْبَلِيّ وَهُوَ كَذَلِك على وَالِده الإِمَام تَقِيّ الدّين عبد الْبَاقِي البعلي الفصي وَهُوَ كَذَلِك عَن شيخ الإقراء بالديار المصرية الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن اليمني الشَّافِعِي

ح وقرأت الْقُرْآن أَيْضا كَمَا تقدم وتلقيته بالأوجه السَّبع إِلَى أثْنَاء سُورَة الْأَحْزَاب عَن شَيخنَا الكزبري وَهُوَ كَذَلِك عَن الشهَاب أَحْمد البقري القاهري الشَّافِعِي وَهُوَ عَن إِمَام الْقُرَّاء والحفاظ الشَّيْخ مُحَمَّد بن قَاسم بن إِسْمَاعِيل البقري وَهُوَ عَن الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن اليمني الْمُقدم وَهُوَ عَن وَالِده الشَّيْخ شحاذة اليمني نزيل الْمَدِينَة المنورة والمتوفى بهَا والمدفون بِجنب قبر سيدنَا إِبْرَاهِيم عليه السلام ابْن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَن الشَّيْخ نَاصِر الدّين الطبلاوي وَهُوَ عَن شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ السنيكي وَهُوَ عَن أبي النُّور عُثْمَان الزبيدِيّ وَهُوَ عَن الْحَافِظ أبي الْخَيْر شمس الدّين بن الْجَزرِي وَهُوَ عَن الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن
৮ - ও ৯ - দুই ভাই, মহান দুই আল্লামা, মারেফত লাভকারী ও পথপ্রদর্শক হাফনি বংশীয় আশ-শামস মুহাম্মদ এবং আল-জামাল ইউসুফ।

১০ - এবং ইমাম, আল্লামা, অত্যন্ত মেধাবী ফকিহ শেখ আতিয়াতুল্লাহ আল-আজহুরি এবং অন্যান্যগণ।

আমি যে বছর সেখানে (মিসর) সফর করি, তখন আমি সেখানকার অনেক গুণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছি।

১১ - তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মহান ব্যক্তিত্ব হলেন মুহাদ্দিসগণের শেষ তিলক আবু ফায়েজ মুহাম্মদ মুরতাজা আজ-জাবিদি। তিনি আমাকে সাধারণ ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেছেন এবং আমাকে 'জিকরে খাফি' (গোপন জিকির) শিখিয়েছেন। তিনি আমাকে তাঁর খিরকা পরিয়েছেন এবং আমি যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সম্মান করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।

শায়খদের নামের বর্ণনায় এই পরিমাণই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন এবং তাঁদের উসিলায় আমার ওপরও রহম করুন। আর আমাকে রাসুলগণের সরদারের পতাকাতলে তাঁদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশরে একত্রিত করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা এবং পরম দয়ালু।

আমার মুসালসাল হাদিসসমূহের সনদ এবং কিছু ফায়দা ও ওজিফার বিস্তারিত বর্ণনার দায়িত্ব আমার শায়খগণ এবং তাঁদের শায়খগণের কিতাবসমূহ গ্রহণ করেছে। যা ইতোপূর্বে তাঁদের নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে আপনি জেনেছেন। তবে আলোচনার পূর্ণতা প্রদানের জন্য এবং এই নির্ভরযোগ্য ইমামদের আলোচনার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের আশায় কিছু বিষয় উল্লেখ করায় কোনো দোষ নেই। আমি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সনদের বর্ণনার মাধ্যমে তা শুরু করছি, আমি বলছি:

আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অত্যন্ত গভীর মনোযোগ, নিপুণতা, তাজবিদ এবং সুন্দরভাবে শামের কারিগণের সরদার শরিফ সায়্যিদ জিব বিন খলিলের নিকট পড়েছি। তিনি একইভাবে তাঁর শায়খ ইমাম আবুল মাওয়াহিব মুহাম্মদ আল-বালি আল-হাম্বলির নিকট পড়েছেন। তিনি তাঁর পিতা ইমাম তাকিউদ্দীন আব্দুল বাকি আল-বালি আল-ফাসির নিকট পড়েছেন। তিনি মিসরের কেরাআত শাস্ত্রের শায়খ, শায়খ আব্দুর রহমান আল-ইয়ামানি আশ-শাফিয়ির নিকট থেকে পড়েছেন।

(সনদ পরিবর্তনের চিহ্ন ‘হা’): আমি পূর্বের ন্যায় কুরআন পড়েছি এবং সাত কেরাতে সূরা আল-আহযাবের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের শায়খ কুজবারির নিকট থেকে গ্রহণ করেছি। তিনি একইভাবে শিহাব আহমদ আল-বাকরি আল-কাহেরি আশ-শাফিয়ির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি ক্বারি ও হাফেজদের ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন কাসিম বিন ইসমাইল আল-বাকরির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি পূর্বোক্ত শায়খ আব্দুর রহমান আল-ইয়ামানির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি তাঁর পিতা শায়খ শিহাজাহ আল-ইয়ামানির নিকট থেকে পড়েছেন, যিনি মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন। তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র আমাদের সায়্যিদ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। তিনি শায়খ নাসিরুদ্দিন আত-তাবলাউয়ির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারি আস-সুনাইকির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি আবুল নূর ওসমান আজ-জাবিদির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি হাফেজ আবুল খায়ের শামসুদ্দিন ইবনুল জাযারির নিকট থেকে পড়েছেন। তিনি শায়খ আব্দুর রহমানের নিকট থেকে পড়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الْبَغْدَادِيّ وَهُوَ عَن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الشهير بِابْن الصايغ وَهُوَ عَن الشَّيْخ عَليّ ابْن شُجَاع صهر الشاطبي وَهُوَ عَن ولي الله أبي الْقَاسِم بن فيره بن خلف الرعيني الشاطبي وَهُوَ عَن الشَّيْخ عَليّ بن هُذَيْل وَهُوَ عَن أبي دَاوُود سُلَيْمَان الْأمَوِي وَهُوَ عَن الْحَافِظ أبي عَمْرو الداني صَاحب التَّيْسِير قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى فِيهِ

وَأما رِوَايَة حَفْص فقد أَخَذتهَا عَن أبي الْحسن طَاهِر بن غلبون قَالَ أَخَذتهَا عَن أبي الْحسن عَليّ الْهَاشِمِي الضَّرِير الْمُقْرِئ بِالْبَصْرَةِ قَالَ أَخَذتهَا عَن أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن سُهَيْل الأشنائي قَالَ قَرَأت على أبي عبيد بن الصَّباح قَالَ قَرَأت على الإِمَام حَفْص قَالَ قَرَأت على عَاصِم وَهُوَ قَرَأَ على كل من أبي عبد الرَّحْمَن وزر بن جَيش وهما قرأا على كل من أَمِيري الْمُؤمنِينَ سيدنَا عُثْمَان بن عَفَّان وَعلي بن أبي طَالب وَعبد الله بن مَسْعُود وَأبي بن كَعْب وَزيد بن ثَابت رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم أَجْمَعِينَ وهم قرؤوا على سيد الْأَوَّلين والآخرين سيدنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَشرف كرم وَعظم وَهُوَ قَرَأَ على أَمِين الْوَحْي سيدنَا الرّوح جِبْرِيل وَهُوَ تلقى الْقُرْآن عَن الْمُتَكَلّم بِهِ رب الْعِزَّة جل جلاله وَعظم نواله وَقد أجازني شَيخنَا الْمَذْكُور بِهَذِهِ الطَّرِيقَة وبسائر طرق الْقرَاءَات الْمَشْهُورَة عِنْد أئمتها الثِّقَات وَإِنَّمَا اخْتَرْت ذكر رِوَايَة الإِمَام حَفْص عَن عَاصِم لكَونهَا قِرَاءَة أهل الشَّام وَهِي المتلقاة انفرادا عَن الْأَئِمَّة الْأَعْلَام

وَأما صَحِيح الإِمَام البُخَارِيّ كَبَقِيَّة السّنَن وَالْمَسَانِيد والموطأ وَغير ذَلِك فأرويها خُصُوصا وعموما عَن كثير من مشايخي الْمُتَقَدِّمين فأروي الصَّحِيح الْمَذْكُور عَن شَيْخي الأول وَهُوَ عَن عدَّة من الشُّيُوخ أفردهم بكراسة من أَجلهم وَأَعْلَاهُمْ سندا الشَّيْخ الإِمَام قدوة الْعلمَاء الْأَعْلَام شيخ الْإِسْلَام مُحَمَّد بن أَحْمد الشهير بِأبي الْعِزّ العجمي القاهري قِرَاءَة لبعضه وأجازة لباقيه بروايته لَهُ عَن جمَاعَة مِنْهُم الْحجَّة الثبت الشَّيْخ مُحَمَّد بن أَحْمد الشَّوْبَرِيّ بروايته لَهُ عَن الشَّمْس مُحَمَّد الرَّمْلِيّ عَن شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ فِي الحَدِيث الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي

ح وَعَن شَيْخي الثَّانِي أَيْضا عَن جمع مِنْهُم الْعَارِف الْكَبِير والغارف الشهير الشَّيْخ عبد الْغَنِيّ بن إِسْمَاعِيل النابلسي وَهُوَ عَن جمع مِنْهُم شيخ الْإِسْلَام الْحَافِظ نجم الدّين الْغَزِّي وَهُوَ عَن وَالِده شيخ الْإِسْلَام بدر الدّين الْغَزِّي وَهُوَ عَن شيخ الْإِسْلَام القَاضِي زَكَرِيَّا السنيكي الْأنْصَارِيّ وَهُوَ عَن الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي

ح وَعَن شَيْخي الثَّالِث أَيْضا عَن جمع مِنْهُم مُحدث الشَّام الشَّيْخ مُحَمَّد
আল-বাগদাদী, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান থেকে, যিনি ইবনুস সায়েগ নামে পরিচিত। তিনি বর্ণনা করেছেন শায়খ আলী ইবনে শুজা থেকে, যিনি আশ-শাতিবীর জামাতা। তিনি বর্ণনা করেছেন আল্লাহর ওলী আবুল কাসিম বিন ফিরাহ বিন খালাফ আল-রুআইনী আশ-শাতিবী থেকে। তিনি বর্ণনা করেছেন শায়খ আলী বিন হুযাইল থেকে। তিনি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলায়মান আল-উমাবী থেকে। তিনি বর্ণনা করেছেন 'আত-তাইসীর' গ্রন্থের রচয়িতা আল-হাফিয আবু আমর আদ-দানী থেকে। তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— এতে বলেছেন:

আর হাফসের বর্ণনার ক্ষেত্রে, আমি তা গ্রহণ করেছি আবু আল-হাসান তাহির বিন গালবুন থেকে। তিনি বলেন, আমি তা গ্রহণ করেছি বসরার ক্বারী আবু আল-হাসান আলী আল-হাশিমী আল-দারীর থেকে। তিনি বলেন, আমি তা গ্রহণ করেছি আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন সুহাইল আল-উশনানী থেকে। তিনি বলেন, আমি এটি পাঠ করেছি আবু উবায়দ বিন আস-সাব্বাহ-এর নিকট। তিনি বলেন, আমি পাঠ করেছি ইমাম হাফসের নিকট। তিনি বলেন, আমি পাঠ করেছি আসিমের নিকট। আর আসিম পাঠ করেছেন আবু আবদুর রহমান এবং জির বিন হুবাইশ উভয়ের নিকট। তাঁরা উভয়ে পাঠ করেছেন আমিরুল মুমিনীন আমাদের নেতা উসমান বিন আফফান, আলী বিন আবি তালিব, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ, উবাই বিন কাব এবং যায়েদ বিন সাবিত (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর নিকট। তাঁরা পাঠ করেছেন আদি ও অন্তের নেতা, আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত ও মহান করুন। তিনি পাঠ করেছেন ওহীর আমানতদার আমাদের নেতা রূহ জিবরাঈলের নিকট। আর জিবরাঈল এটি লাভ করেছেন এর বক্তা (যিনি এটি বলেছেন) মহান রব্বুল ইজ্জত—যাঁর মহিমা সুমহান এবং যাঁর দান অপরিসীম—তাঁর নিকট থেকে। আমার উল্লিখিত শায়খ আমাকে এই পদ্ধতিতে এবং নির্ভরযোগ্য ইমামগণের নিকট প্রচলিত কিরাআতের অন্যান্য সকল পদ্ধতিতে অনুমতি প্রদান করেছেন। আমি ইমাম হাফস কর্তৃক আসিম থেকে বর্ণিত কিরাআতটি উল্লেখ করা বেছে নিয়েছি কারণ এটি শাম দেশের অধিবাসীদের কিরাআত এবং এটিই শ্রেষ্ঠ ইমামগণের নিকট থেকে এককভাবে গৃহীত হয়েছে।

আর ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থ, অন্যান্য সুনান, মাসানিদ, মুয়াত্তা ও অন্যসব গ্রন্থের ক্ষেত্রে, আমি তা বিশেষভাবে এবং সাধারণভাবে আমার অনেক পূর্ববর্তী শায়খ থেকে বর্ণনা করি। আমি উল্লিখিত সহীহ গ্রন্থটি বর্ণনা করি আমার প্রথম শায়খ থেকে, আর তিনি বর্ণনা করেছেন একদল শায়খ থেকে যাঁদের আমি একটি পুস্তিকায় পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি। তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সনদের দিক থেকে সুউচ্চ হলেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ উলামায়ে কিরামের আদর্শ, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আহমাদ—যিনি আবুল ইজ্জ আল-আজামী আল-কাহিরী নামে পরিচিত। তাঁর নিকট কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ অনুমতির মাধ্যমে প্রাপ্ত, যা তিনি একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নির্ভরযোগ্য প্রমাণস্বরূপ শায়খ মুহাম্মদ বিন আহমাদ আশ-শওবারী। তিনি বর্ণনা করেছেন আশ-শামস মুহাম্মদ আর-রামলী থেকে, তিনি শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া আল-আনসারী থেকে, আর তিনি হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনীন আল-হাফিয আল-আসকালানী থেকে।

সনদ পরিবর্তন: এবং আমার দ্বিতীয় শায়খ থেকেও, তিনি একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহান আরিফ ও সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব শায়খ আবদুল গনী বিন ইসমাইল আন-নাবুলুসী। তিনি বর্ণনা করেছেন একদল রাবী থেকে যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম আল-হাফিয নাজমুদ্দীন আল-গাযযী। তিনি তাঁর পিতা শাইখুল ইসলাম বদরুদ্দীন আল-গাযযী থেকে, তিনি শাইখুল ইসলাম আল-কাযী যাকারিয়া আস-সুনাইকী আল-আনসারী থেকে এবং তিনি আল-হাফিয আল-আসকালানী থেকে।

সনদ পরিবর্তন: এবং আমার তৃতীয় শায়খ থেকেও, তিনি একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শামের মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ...
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أَبُو الْمَوَاهِب الْحَنْبَلِيّ عَن وَالِده الْحجَّة الثَّابِت الشَّيْخ عبد الْبَاقِي البعلي وَهُوَ عَن الْحجَّة الرحلة مُحَمَّد حجازي الشهير بالواعظ وَهُوَ عَن الشَّيْخ المعمر مُحَمَّد بن مُحَمَّد الشهير بِابْن اركماس من أهل غيط الْعدة وَهُوَ عَن شيخ الْإِسْلَام والحفاظ الشهَاب ابْن حجر الْعَسْقَلَانِي فبيني وَبَين الْحَافِظ من هَذِه الطّرق الثَّلَاثَة وَغَيرهَا مِمَّا لم يَتَيَسَّر الْآن ذكره خَمْسَة رجال وأسانيد الْحَافِظ إِلَى الإِمَام البُخَارِيّ مَعْلُومَة شهيرة قد استوعبها فِي الْمُقدمَة وَغَيرهَا وَأَعْلَى مَا وَقع لَهُ مِنْهَا وأجلها عَن الْمسند أبي إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن أَحْمد بن عبد الْوَاحِد التنوخي البعلي الأَصْل الدِّمَشْقِي المنشأ نزيل الْقَاهِرَة الْمَعْرُوف بالبرهان الشَّامي عَن الْمسند المعمر أبي الْعباد أَحْمد بن طَالب الصَّالِحِي الحجار عَن الشَّيْخ سراج الدّين أبي عبد الله الْحُسَيْن ابْن الْمُبَارك بن مُحَمَّد الربعِي الزبيدِيّ الأَصْل الْبَغْدَادِيّ الدَّار والوفاة عَن الشَّيْخ أبي الْوَقْت عبد الأول بن عِيسَى السجْزِي الْهَرَوِيّ الصُّوفِي عَن الشَّيْخ أبي الْحسن عبد الرَّحْمَن بن المظفر الدَّاودِيّ عَن أبي مُحَمَّد عبد الله بن أَحْمد بن حموية الْحَمَوِيّ السَّرخسِيّ عَن أبي عبد الله مُحَمَّد بن يُوسُف الْفربرِي عَن مُؤَلفه الإِمَام الْمُجْتَهد حبر الْإِسْلَام وَشَيخ الْفَنّ الثِّقَة الْحجَّة أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل ابْن إِبْرَاهِيم البُخَارِيّ الْجعْفِيّ قدس الله تَعَالَى روحه وَنور ضريحه فَهَذَا أَعلَى سَنَد وَقع لِلْحَافِظِ الْمَذْكُور كَمَا ذكر بعض شيوخي فَإِن بَينه وَبَين الإِمَام البُخَارِيّ سَبْعَة رُوَاة وبالتأمل يعلم أَن بَين الْفَقِير وَالْبُخَارِيّ ثَلَاثَة عشر وَأَعْلَى مَا وَقع للْبُخَارِيّ كَمَا هُوَ مَعْلُوم ثلاثياته وَبهَا يتم للْفَقِير سَبْعَة عشر إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهَذَا أَعلَى سَنَد يُوجد على وَجه الأَرْض فِيمَا أعلم فِي رِجَاله الْحَافِظ وَالْبُخَارِيّ وَقد وَقع لي أَعلَى من ذَلِك من غير طَرِيق الْحَافِظ فَلهُ الْحَمد والْمنَّة على الْجَمِيع

وَأما صَحِيح الإِمَام مُسلم فأرويه بِالْإِجَازَةِ عَن الشُّيُوخ الثَّلَاثَة الْمُقدم ذكرهم بأسانيدهم الْمُقدمَة إِلَى شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا والحافظ ابْن حجر وسماعا للْبَعْض مَعَ الْإِجَازَة للْبَاقِي عَن كل من شَيْخي البصروي وَالشَّيْخ مُحَمَّد بن سُلَيْمَان الْمدنِي قَالَ الثَّانِي عَن الإِمَام فَقِيه الْعَصْر مُحَمَّد سعيد الشَّافِعِي الْمَكِّيّ الشهير بسنبل عَن مُحدث مَكَّة الشهَاب النخلي بِسَمَاعِهِ لغالبه على الشَّمْس البابلي وَالْإِجَازَة لباقيه عَن أبي النجا سَالم بن مُحَمَّد السنهوري بقرَاءَته على النَّجْم مُحَمَّد الغيطي بِسَمَاعِهِ لجميعه على شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ وَإِسْنَاده فِيهِ عَن الْحَافِظ العقبي وَغَيره مَعْلُوم شهير فَلَا نطيل بِذكرِهِ
আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বালী তাঁর পিতা প্রামাণ্য এবং সুদৃঢ় ব্যক্তিত্ব শাইখ আবদুল বাকি আল-বালি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রামাণ্য এবং বিশ্বভ্রমণকারী মুহাম্মাদ হিজাজি থেকে, যিনি আল-ওয়ায়েজ নামে পরিচিত। তিনি দীর্ঘজীবী শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, যিনি গায়ত আল-ইদ্দাহর অধিবাসী ইবনে আরকমাস নামে পরিচিত। তিনি শাইখুল ইসলাম এবং হাফেজগণের সম্রাট শিহাব ইবনে হাজার আল-আসকালানি থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাফেজ ইবনে হাজার এবং এই অধমের মাঝে এই তিনটি পথ এবং অন্যান্য যা এখন উল্লেখ করা সম্ভব হচ্ছে না তার মাধ্যমে পাঁচজন ব্যক্তির ব্যবধান। আর ইমাম বুখারির প্রতি হাফেজ ইবনে হাজারের সনদসমূহ সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ, যা তিনি মুকাদ্দিমাহ ও অন্যান্য স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছে থাকা সনদগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো মুসনিদ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আত-তানুখি থেকে, যিনি মূলে আল-বালি, দামেস্কে লালিত-পালিত এবং কায়রোতে বসবাসকারী এবং আল-বুরহান আল-শামি নামে পরিচিত। তিনি দীর্ঘজীবী মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তালিব আস-সালিহি আল-হাজ্জার থেকে। তিনি শাইখ সিরাজুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মাদ আর-রাবা'য়ি আজ-জুবাইদি থেকে, যিনি মূলে জুবাইদি কিন্তু বাগদাদে বসবাসকারী ও ইন্তেকালকারী ছিলেন। তিনি শাইখ আবুল ওয়াক্ত আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি আল-হারাউই আস-সুফি থেকে। তিনি শাইখ আবুল হাসান আবদুর রহমান ইবনে আল-মুজাফফর আদ-দাউদি থেকে। তিনি আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হামুওয়াইহ আল-হামুওয়ি আস-সারখাসি থেকে। তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারাবরি থেকে। তিনি এই কিতাবের সংকলক ইমাম মুজতাহিদ, ইসলামের বিদগ্ধ পণ্ডিত এবং এই শাস্ত্রের শাইখ, নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-বুখারি আল-জু'ফি থেকে বর্ণনা করেছেন; আল্লাহ তাআলা তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরে আলোকিত করুন। সুতরাং এটাই হলো উল্লিখিত হাফেজের জন্য প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সনদ যেমনটি আমার কোনো কোনো শাইখ উল্লেখ করেছেন, কেননা তাঁর এবং ইমাম বুখারির মাঝে সাতজন রাবি রয়েছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে জানা যায় যে, এই অধম এবং ইমাম বুখারির মধ্যে তেরোজন রাবি রয়েছেন। আর ইমাম বুখারির সর্বোচ্চ সনদ যেমনটি জানা আছে তা হলো তাঁর 'সুলাসিয়াত' (তিন রাবিবিশিষ্ট হাদিস), আর এর মাধ্যমে এই অধমের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সতেরোজন রাবি পূর্ণ হয়। আর আমি যতটুকু জানি, হাফেজ ইবনে হাজার এবং ইমাম বুখারি যে সনদের রাবিদের অন্তর্ভুক্ত, তেমন সনদের মধ্যে এটিই পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান সর্বোচ্চ সনদ। আর হাফেজের পথ ছাড়াও আমার নিকট এর চেয়েও উচ্চতর সনদ রয়েছে, সুতরাং সবকিছুর জন্য আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।

আর ইমাম মুসলিমের সহিহ-এর বর্ণনা আমি পূর্বে উল্লিখিত তিনজন শাইখের কাছ থেকে তাঁদের পূর্বে বর্ণিত সনদসমূহের মাধ্যমে শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া এবং হাফেজ ইবনে হাজার পর্যন্ত অনুমতির (ইজাজত) মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছি। এছাড়া আমার শাইখ আল-বাসরাবি এবং শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-মাদানি উভয়ের কাছ থেকে কিছু অংশ শ্রবণ এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করছি। দ্বিতীয় শাইখ (মাদানি) সমকালীন ইমাম ও ফকিহ মুহাম্মাদ সাঈদ শাফিঈ আল-মাক্কি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি সুনবুল নামে পরিচিত। তিনি মক্কার মুহাদ্দিস শিহাব আল-নাখলি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি এর অধিকাংশ অংশ শামস আল-বাবিলির নিকট শ্রবণ করেছেন এবং অবশিষ্টাংশের ইজাজত পেয়েছেন আবু আন-নাজা সালিম ইবনে মুহাম্মাদ আস-সানহুরি থেকে, যিনি নাজমুদ্দিন মুহাম্মাদ আল-গায়তি-র নিকট পাঠ করেছেন। তিনি শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারির নিকট পূর্ণ কিতাবটি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর সেখানে হাফেজ আল-উকবি ও অন্যদের মাধ্যমে তাঁর সনদ সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ, তাই এটি উল্লেখ করে দীর্ঘায়িত করছি না।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَأما بَقِيَّة السِّتَّة الْمُوَطَّأ وَالْمَسَانِيد وَسَائِر كتب السّنة وَالتَّفْسِير وَالْفِقْه فأرويها بِالْأَسَانِيدِ الْمُتَقَدّمَة إِلَى شيخ الْإِسْلَام والحافظ الْعَسْقَلَانِي وتفاصيلها وأنواعها لَا يُمكن استقصاؤها فِي هَذِه العجالة وَقد تكفلت بهَا ثُبُوت شيوخي كثبتي الْإِمَامَيْنِ الْمَذْكُورين والذكي كَمَا قيل يدْرك بمثال وَاحِد مَا لَا يُدْرِكهُ غَيره بِأَلف شَاهد

 

‌‌سَنَده فِي الْفِقْه الشَّافِعِي

لَكِن لَا بَأْس بالتعرض للسلسلة الْمُتَّصِلَة إِلَيّ من إمامنا الشَّافِعِي تبركا بِهِ وبرجالها فَأَقُول

قد تفقهت بِحَمْد الله على شُيُوخ كثيرين من أَجلهم وأفقههم من كَانَ يلقب بالشافعي الصَّغِير الشَّيْخ عَليّ الكزبري وَهُوَ تفقه على جمع مِنْهُم فَقِيه الْعَصْر الشَّيْخ عبد ربه الديوي القاهري وَهُوَ عَن الشَّمْس مُحَمَّد الشرنبابلي وَهُوَ عَن الشَّمْس البابلي وَهُوَ عَن النُّور الزيَادي وَهُوَ عَن الْجمال مُحَمَّد الرَّمْلِيّ وَهُوَ عَن شيخ الْإِسْلَام فَقِيه الدَّهْر فِي الْأَنَام من لم تخلف بعده مثله الْأَيَّام القطب زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ وَهُوَ عَن إِمَام الْمُحَقِّقين الْجلَال الْمحلي وَهُوَ عَن الزين عبد الرَّحِيم الْعِرَاقِيّ وَهُوَ عَن الْفَقِيه النبيه عَلَاء الدّين بن الْعَطَّار وَهُوَ عَن القطب الرباني والهيكل الصمداني ولي الله بِلَا نزاع ومحرر مَذْهَب الشَّافِعِي بِلَا دفاع الشَّيْخ محيي الدّين يحيى النواوي تغمده الله برحمته وَأَسْكَنَهُ أعالي جنته وَجَعَلنَا من أَتْبَاعه وشيعته وحشرنا فِي زمرته آمين

ح وأروي أَيْضا عَن شَيْخي الإِمَام الجراحي وَهُوَ عَن شَيْخه الشَّمْس مُحَمَّد الكاملي وَهُوَ عَن الْعَلامَة الشَّيْخ مُحَمَّد البطنيني وَهُوَ عَن الشَّمْس مُحَمَّد الميداني وَهُوَ عَن الشَّيْخ أَحْمد الطَّيِّبِيّ الْكَبِير وَهُوَ عَن كَمَال الدّين الْحُسَيْنِي وَهُوَ عَن الْجمال بن جمَاعَة وَهُوَ عَن الْبُرْهَان الشَّامي وَهُوَ عَن ابْن الْعَطَّار وَهُوَ عَن إِمَام الْمَذْهَب أبي زَكَرِيَّا النواوي وَسَنَده إِلَى سيدنَا الإِمَام الشَّافِعِي مَذْكُور فِي تهذيبه أَوَاخِر خطبَته ثمَّ إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فلنذكر كَلَامه فِيهِ بِاخْتِصَار

قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى أخذت الْفِقْه قِرَاءَة وتصحيحا وسماعا وتعليقا عَن جمَاعَة مِنْهُم الْكَمَال سلار الإربلي وَهُوَ عَن الشَّيْخ مُحَمَّد صَاحب الشَّامِل الصَّغِير وَهُوَ عَن الشَّيْخ عبد الْغفار الْقزْوِينِي صَاحب الْحَاوِي وَهُوَ عَن فريد عصره أبي الْقَاسِم عبد الْكَرِيم الرَّافِعِيّ وَهُوَ عَن الشَّيْخ مُحَمَّد أبي الْفضل وَهُوَ
আর সিহাহ সিত্তার অবশিষ্ট গ্রন্থসমূহ, মুয়াত্তা, মাসানিদ এবং সুন্নাহ, তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবসমূহ আমি শায়খুল ইসলাম হাফেজ আল-আসকালানি পর্যন্ত পূর্বোক্ত সনদসমূহের মাধ্যমে বর্ণনা করি। এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও প্রকারভেদ এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে শেষ করা সম্ভব নয়; আমার শায়খদের ‘ছাবাত’ (সনদ সংকলনসমূহ) যেমন উল্লিখিত ইমামদ্বয়ের ‘ছাবাত’ এসবের পূর্ণ বিবরণ ধারণ করেছে। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি—যেমনটি বলা হয়—একটি উদাহরণের মাধ্যমেই তা উপলব্ধি করতে পারেন যা অন্য কেউ হাজার সাক্ষ্য দিয়েও পারে না।

 

‌‌শাফেয়ী ফিকহশাস্ত্রে তাঁর সনদ

তবে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং এর বর্ণনাকারীদের উসিলায় আমাদের ইমাম শাফেয়ী থেকে আমার পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ধারার উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই, তাই আমি বলছি:

আল্লাহর প্রশংসায়, আমি অনেক শায়খের কাছে ফিকহ শিখেছি, যাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মহান এবং বিজ্ঞ ছিলেন ‘শাফেয়ী সগির’ (ছোট শাফেয়ী) উপাধিতে ভূষিত শায়খ আলী আল-কুজবরি। তিনি একদল আলেমের কাছে ফিকহ অর্জন করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুগের শ্রেষ্ঠ ফকিহ শায়খ আবদু রাব্বিহি আদ-দিউয়ি আল-কাহিরি; তিনি শামস মুহাম্মদ আশ-শারুনবাবিলি থেকে; তিনি শামস আল-বাবিলি থেকে; তিনি নূর আজি-জিয়াদি থেকে; তিনি জামাল মুহাম্মদ আর-রামলি থেকে; তিনি শায়খুল ইসলাম, সমকালীন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ফকিহ, যাঁর পরে মহাকাল তাঁর অনুরূপ কাউকে জন্ম দেয়নি—কুতুব জাকারিয়া আল-আনসারি থেকে; তিনি ইমামুল মুহাক্কিকিন জালাল আল-মাহাল্লি থেকে; তিনি জাইন আবদুর রহিম আল-ইরাকি থেকে; তিনি বিজ্ঞ ফকিহ আলাউদ্দীন ইবনুল আত্তার থেকে; তিনি কুতুবে রব্বানি, হাইকালে সামদানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওলি এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে শাফেয়ী মাযহাবের সংস্কারক শায়খ মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী থেকে—আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন, জান্নাতের উচ্চ মাকামে স্থান দিন, আমাদের তাঁর অনুসারী ও দলভুক্ত করুন এবং তাঁর দলের সাথে আমাদের হাশর নসিব করুন, আমিন।

সনদান্তর, আমি আমার শায়খ ইমাম আল-জাররাহি থেকেও বর্ণনা করি; তিনি তাঁর শায়খ শামস মুহাম্মদ আল-কামিলি থেকে; তিনি আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-বাতনিনি থেকে; তিনি শামস মুহাম্মদ আল-মাইদানি থেকে; তিনি শায়খ আহমদ আত-তাইয়েবি আল-কাবির থেকে; তিনি কামালুদ্দীন আল-হুসাইনি থেকে; তিনি জামাল ইবনে জামাআহ থেকে; তিনি বুরহান আশ-শামি থেকে; তিনি ইবনুল আত্তার থেকে; তিনি মাযহাবের ইমাম আবু জাকারিয়া আন-নববী থেকে। আর আমাদের ইমাম শাফেয়ী পর্যন্ত তাঁর সনদ তাঁর ‘তাহজিব’ গ্রন্থের ভূমিকার শেষে উল্লিখিত হয়েছে, অতঃপর তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; সুতরাং সংক্ষেপে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করা যাক।

তিনি (ইমাম নববী) রহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি একদল আলেমের নিকট পাঠ করা, সংশোধন করা, শ্রবণ করা এবং নোট নেওয়ার মাধ্যমে ফিকহ শিখেছি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কামাল সাল্লার আল-ইরবিলি; তিনি ‘আশ-শামিল আস-সগির’ প্রণেতা শায়খ মুহাম্মদ থেকে; তিনি ‘আল-হাভি’ প্রণেতা শায়খ আবদুল গাফফার আল-কাজউইনি থেকে; তিনি তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব আবুল কাসিম আব্দুল করিম আর-রাফেয়ি থেকে; তিনি শায়খ মুহাম্মদ আবুল ফজল থেকে এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
عَن مُحَمَّد بن يحيى وَهُوَ عَن حجَّة الْإِسْلَام الْغَزالِيّ وَهُوَ عَن أبي الْمَعَالِي إِمَام الْحَرَمَيْنِ وَهُوَ عَن وَالِده أبي مُحَمَّد الْجُوَيْنِيّ وَهُوَ عَن الشَّيْخ أبي بكر الْقفال وَهُوَ عَن أبي زيد الْمروزِي وَهُوَ عَن الشَّيْخ أبي إِسْحَاق الْمروزِي وَهُوَ عَن أبي الْعَبَّاس ابْن سُرَيج وَهُوَ عَن الشَّيْخ عُثْمَان بن سعيد الْأنمَاطِي وَهُوَ عَن أبي إِسْحَاق الْمُزنِيّ وَهُوَ عَن الإِمَام الْأَعْظَم والمجتهد الْمُقدم إِمَام الْأَئِمَّة وناصر الْكتاب وَالسّنة أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي وَهُوَ عَن جمع مِنْهُم الإِمَام مُسلم بن خَالِد الزنْجِي وَهُوَ عَن أبي الْوَلِيد بن عبد الْعَزِيز بن جريج وَهُوَ عَن عَطاء بن أبي رَبَاح وَهُوَ عَن الإِمَام عبد الله بن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا وَهُوَ عَن ابْن عَمه سيد الْمُرْسلين وَإِمَام الْمُتَّقِينَ صلى الله عليه وسلم وَبَارك وعَلى آله وَأَصْحَابه وَأَتْبَاعه أفضل صَلَاة وَأفضل بركَة وَأفضل سَلام

وَإِنَّمَا اخْتَرْت هَذِه الطَّرِيقَة من الطّرق الَّتِي ذكرهَا الإِمَام النَّوَوِيّ كبعض شيوخي لشهرة رجالها أَكثر من غَيرهَا وليكتفى بهَا عَن تفاصيل أَسَانِيد مصنفاتهم رحم الله تَعَالَى أَرْوَاحهم جَمِيعًا

 

‌‌الْأَحَادِيث المسلسلة

وَأما مَا اتّفق لي رِوَايَته من الْأَحَادِيث المسلسلة فشيء كثير بِحَمْد الله تَعَالَى ولنتبرك بِذكر نزر مِنْهَا فَمِنْهَا حَدِيث الرَّحْمَة المسلسل بالأولية فقد أَخَذته عَن شُيُوخ عدَّة إجَازَة وسماعا بِشَرْطِهِ ودونه فَمِمَّنْ سمعته عَنهُ بِشَرْطِهِ الإِمَام الْفَقِيه الشهير والعالم الْمُحدث الْكَبِير الشَّيْخ صَالح بن إِبْرَاهِيم الْحَنَفِيّ الشهير بالجنيني وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ وَهُوَ عَن السَّيِّد مُحَمَّد رَسُول البرزنجي قَالَ وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ قَالَ حَدثنَا الشَّيْخ عبد الْبَاقِي الْحَنْبَلِيّ وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ قَالَ حَدثنَا الشَّيْخ إِبْرَاهِيم البهوتي الْحَنْبَلِيّ وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ قَالَ حَدثنَا جمال الدّين يُوسُف الْأنْصَارِيّ وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ قَالَ حَدثنِي وَالِدي شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ قَالَ حَدثنَا الْحَافِظ أَبُو الْفضل أَحْمد بن حجر وَهُوَ أول حَدِيث سمعته مِنْهُ وَسَنَده إِلَى سيدنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة بِشَرْطِهِ شهير بأيدي النَّاس فَلَا نطيل بِذكرِهِ قَالَ سُفْيَان عَن عَمْرو بن دِينَار عَن أبي قَابُوس مولى عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ عَن عبد الله ابْن عَمْرو قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الراحمون يرحمهم الرَّحْمَن ارحموا من فِي الأَرْض يَرْحَمكُمْ من فِي السَّمَاء وَفِي رِوَايَة أهل الأَرْض يَرْحَمكُمْ من فِي السَّمَاء وَفِي أُخْرَى زِيَادَة تبارك وتعالى بَين قَوْله الرَّحْمَن وارحموا وَهَذَا حَدِيث عَظِيم حسن الْإِسْنَاد والمتن رَوَاهُ بِلَا تسلسل البُخَارِيّ فِي
মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি হুজ্জাতুল ইসলাম আল-গাজালী থেকে, তিনি ইমামুল হারামাইন আবু আল-মাআলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী থেকে, তিনি শায়খ আবু বকর আল-কাফফাল থেকে, তিনি আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি শায়খ আবু ইসহাক আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ থেকে, তিনি শায়খ উসমান বিন সাঈদ আল-আনমাতি থেকে, তিনি আবু ইসহাক আল-মুযানী থেকে, তিনি ইমামুল আজম, মুজতাহিদে মুকাদ্দাম, ইমামগণের ইমাম, কিতাব ও সুন্নাহর সাহায্যকারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিয়ী থেকে, তিনি একদল আলেম থেকে যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম মুসলিম বিন খালিদ আয-যানজী, তিনি আবু আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ থেকে, তিনি আতা বিন আবু রাবাহ থেকে, তিনি ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, আর তিনি তাঁর চাচাতো ভাই, রাসূলগণের সরদার ও মুত্তাকীদের ইমাম (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার, সঙ্গী ও অনুসারীদের ওপর সর্বোত্তম রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি ইমাম নববী কর্তৃক উল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর মধ্য থেকে এই পদ্ধতিটি বেছে নিয়েছি, যেমনটি আমার অনেক শিক্ষক করেছেন, এর বর্ণনাকারীদের অধিক প্রসিদ্ধির কারণে এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থসমূহের বিস্তারিত সনদের পরিবর্তে এটিকেই যথেষ্ট মনে করে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের রূহের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

‌‌পরম্পরাবদ্ধ হাদিসসমূহ (আল-আহাদিসুল মুসালসালাহ)

আমার কাছে থাকা মুসালসাল হাদিসগুলোর বর্ণনা অনেক, আল্লাহর প্রশংসা। বরকতের জন্য এর মধ্য থেকে সামান্য কিছু উল্লেখ করছি। এর মধ্যে একটি হলো 'প্রাথমিকতার পরম্পরাবদ্ধ রহমতের হাদিস' (হাদিসুর রাহমাহ আল-মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ)। আমি এটি বেশ কয়েকজন শায়খের কাছ থেকে ইজাযত ও শ্রবণের মাধ্যমে এর শর্তসহ এবং শর্তহীনভাবে লাভ করেছি। যাদের কাছ থেকে আমি এটি শর্তসহ শুনেছি তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রসিদ্ধ ফকিহ এবং মহান মুহাদ্দিস শায়খ সালিহ বিন ইব্রাহিম আল-হানাফি (যিনি আল-জুনাইনি নামে পরিচিত)। এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি সায়েদ মুহাম্মদ রাসূল আল-বারযাঞ্জি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট শায়খ আব্দুল বাকি আল-হাম্বলি বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট শায়খ ইব্রাহিম আল-বাহুতি আল-হাম্বলি বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট জামালুদ্দিন ইউসুফ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাফেজ আবু আল-ফদল আহমদ বিন হাজার বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি। আর সাইয়্যিদুনা সুফিয়ান বিন উয়াইনার পর্যন্ত এর সনদটি শর্তসহ মানুষের নিকট অতি পরিচিত, তাই এটি দীর্ঘায়িত করছি না। সুফিয়ান আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দয়াকারীদের ওপর পরম করুণাময় দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" অন্য রেওয়ায়েতে 'জমিনের অধিবাসী' শব্দ এসেছে। অন্য একটি বর্ণনায় 'পরম করুণাময়' ও 'দয়া করো' শব্দদ্বয়ের মাঝে 'তাবারাকা ওয়া তাআলা' (তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ) শব্দ যোগ করা হয়েছে। এটি একটি সুমহান হাদিস যার সনদ ও মূলপাঠ অত্যন্ত চমৎকার (হাসান)। ইমাম বুখারী এটি পরম্পরা (তাসালসুল) ছাড়াই বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْأَدَب الْمُفْرد وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حسن صَحِيح

فَوَائِد تتَعَلَّق بِهِ

الأولى فِي حِكْمَة اخْتِيَار الروَاة الِابْتِدَاء بِهَذَا الحَدِيث سَمَاعا وَكِتَابَة فِي مؤلفاتهم المسلسلة قَالَ الْبُرْهَان الكوراني الْمدنِي فِي كِتَابه مسالك الْأَبْرَار إِلَى أَحَادِيث النَّبِي الْمُخْتَار ولنستفتح بِحَدِيث الرَّحْمَة المسلسل بالأولية لوجوه أ - أَحدهَا أَن الله تَعَالَى خَاطب نبيه صلى الله عليه وسلم بقوله {وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا رَحْمَة للْعَالمين}

ونوره أول مَخْلُوق وَمِنْه خلق بَقِيَّة الكائنات فَكَانَ أول سلسلة الكائنات فَنَاسَبَ أَن يكون حَدِيث الرَّحْمَة الْعَام الْمُتَعَلّق بِمن فِي الأَرْض أول الْأَحَادِيث

ب - ثَانِيهَا مَا دلّ عَلَيْهِ الحَدِيث الْقُدسِي من سبق الرَّحْمَة بقوله سبقت رَحْمَتي غَضَبي فَنَاسَبَ أَن يسْبق حَدِيثهَا أَيْضا

ج - ثَالِثهَا تقدم كِتَابَة الْحق لسبق الرَّحْمَة بعد التَّوْحِيد فَعَن ابْن عَبَّاس كَمَا رَوَاهُ الديلمي أول شَيْء خطه الله فِي الْكتاب الأول أنني أَنا الله لَا إِلَه إِلَّا أَنا سبقت رَحْمَتي غَضَبي فَمن شهد إِلَّا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله فَلهُ الْجنَّة فَنَاسَبَ أَن يكون حَدِيث الرَّحْمَة متصفا بأولية كِتَابَة الْخلق لَهُ كَمَا كَانَت الرَّحْمَة متصفة بأولية كِتَابَة الْحق لَهَا

الثَّانِيَة قَالَ شَيخنَا العجلوني فِي ثبته قَالَ فِي الْإِسْعَاف رِوَايَة الحَدِيث بِرَفْع يَرْحَمكُمْ كَمَا قَالَ الْبُرْهَان الْعِمَادِيّ فالجملة دعائية مستأنفة وَنقل مثله عَن الْحَافِظ النَّجْم الْغَزِّي قَالَ وَلَا يمْتَنع الْجَزْم فِي جَوَاب الْأَمر أَقُول وَمُقْتَضى قَوْله وَلَا يمْتَنع الْجَزْم أَن الرِّوَايَة الثَّابِتَة بِالرَّفْع وَعدم امْتنَاع الْجَزْم إِنَّمَا هُوَ من حَيْثُ الصِّنَاعَة لَا الرِّوَايَة لَكِن أَخْبرنِي صاحبنا الشَّيْخ مُحَمَّد الْجَوْهَرِي الْمصْرِيّ أَن وَالِده شَيخنَا الشهَاب أَحْمد ألف رِسَالَة فِي هَذَا الحَدِيث وَنقل فِيهَا أَن الرِّوَايَة جَاءَت بِالْوَجْهَيْنِ انْتهى وعَلى كل فرواية الرّفْع أبلغ كَمَا يظْهر بِالتَّأَمُّلِ وَالله أعلم

الثَّالِثَة ذكر شيخ شُيُوخنَا مُسْند الشَّام الشَّيْخ عبد الْبَاقِي الْحَنْبَلِيّ فِي ثبته عقب إِيرَاد هَذَا الحَدِيث قَالَ واتصل سندنا مسلسلا كل راو يَقُول عَن شَيْخه وَهُوَ أول شعر سمعته مِنْهُ إِلَى قَائِله وَهُوَ أَبُو الْحسن عَليّ بن هبة الله ابْن عَسَاكِر

(بَادر إِلَى الْخَيْر يَا ذَا اللب مغتنما … وَلَا تكن من قَلِيل الْخَيْر محتشما)

(واشكر لمولاك مَا أولاك من نعم … فالشكر يسْتَوْجب الإفضال والكرما)
আল-আদাবুল মুফরাদ, আবু দাউদ এবং তিরমিযী; এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন এটি হাসান সহীহ।

এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা:

প্রথমত: বর্ণনাকারীদের নিজেদের মুসালসাল গ্রন্থসমূহে শ্রবণ ও লিখন উভয় ক্ষেত্রে এই হাদিসটির মাধ্যমে শুরু করার হিকমত প্রসঙ্গে। বুরহান আল-কুরানি আল-মাদানি তাঁর কিতাব 'মাসালিকুল আবরার ইলা আহাদিসিন নাবিয়্যিল মুখতার'-এ বলেছেন: আমরা রহমতের হাদিস দিয়ে শুরু করছি যা নিম্নোক্ত কয়েকটি কারণে 'মুসালসাল বিল আওয়ালিইয়াহ' (সর্বপ্রথম হওয়ার ধারাগত হাদিস): ক - প্রথমত: আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছেন, "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।"

এবং তাঁর নূর প্রথম সৃষ্টি এবং তা থেকেই অবশিষ্ট সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে তা ছিল সৃষ্টিজগত ধারার সূচনা। তাই জমিনবাসীর সাথে সংশ্লিষ্ট এই ব্যাপক রহমতের হাদিসটি সকল হাদিসের মধ্যে সর্বপ্রথম হওয়া সমীচীন।

খ - দ্বিতীয়ত: যা হাদিসে কুদসি দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহর রহমত অগ্রগামী। তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগকে ছাড়িয়ে গেছে।" সুতরাং এর হাদিসটিও অগ্রগামী হওয়া সঙ্গত।

গ - তৃতীয়ত: তাওহীদের পর রহমত অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে লিখনেও অগ্রগামী হওয়া। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, দাইলামি যেমন বর্ণনা করেছেন, "আল্লাহ তাআলা প্রথম কিতাবে প্রথম যে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেছেন তা হলো: নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আমার রহমত আমার রাগকে ছাড়িয়ে গেছে; সুতরাং যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, তার জন্য জান্নাত।" অতএব, সৃষ্টির জন্য রহমতের হাদিসটি লিপিবদ্ধকরণে সর্বপ্রথম হওয়ার গুণ থাকা সঙ্গত, যেমনটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের বিষয়টি সর্বপ্রথম লিপিবদ্ধ হওয়ার গুণে গুণান্বিত ছিল।

দ্বিতীয়ত: আমাদের শায়খ আজলুনি তাঁর 'সাবাত'-এ বলেছেন, 'আল-ইসআফ'-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাদিসটির বর্ণনা 'ইয়ারহামুকুম' শব্দটির রফ (পেশ) যোগে, যেমনটি বুরহান আল-ইমাদি বলেছেন। ফলে বাক্যটি দোয়া হিসেবে নতুন করে শুরু হয়েছে। হাফেজ নাজমুদ্দীন আল-গাজ্জি থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, একে আমরের জওয়াব (নির্দেশের উত্তর) হিসেবে জজম (সাকিন) দেওয়াও অসম্ভব নয়। আমি বলব, তাঁর 'জজম দেওয়া অসম্ভব নয়' একথার দাবি হলো যে, সাব্যস্ত রেওয়ায়েতটি রফ যোগেই, আর জজম এর বিষয়টি কেবল ব্যাকরণগত নিয়মের দিক থেকে, বর্ণনার দিক থেকে নয়। তবে আমাদের সাথী শায়খ মুহাম্মদ আল-জাওহারি আল-মিসরি আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা আমাদের শায়খ শিহাবুদ্দীন আহমদ এই হাদিসটি নিয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণনাটি উভয়ভাবেই এসেছে। সমাপ্ত। যাই হোক, রফ যোগে বর্ণনাটিই অধিক অর্থবহ, যা গভীর চিন্তাভাবনা করলে স্পষ্ট হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

তৃতীয়ত: আমাদের শায়খদের শায়খ মুসনাদুশ শাম শায়খ আব্দুল বাকী আল-হানবালী তাঁর 'সাবাত'-এ এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: আমাদের সনদটি মুসালসাল (ধারাবাহিক) হিসেবে এর প্রবক্তা আবুল হাসান আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারীই তাঁর শায়খ থেকে বলেছেন যে, এটিই তাঁর কাছ থেকে শোনা প্রথম কবিতা।

(হে বুদ্ধিমান! সুযোগ গ্রহণ করে কল্যাণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও … আর সামান্য কল্যাণ থেকেও নিজেকে গুটিয়ে রেখো না।)

(আর তোমার প্রতিপালক তোমাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তার শুকরিয়া আদায় করো … কারণ শুকরিয়া ইহসান ও মহানুভবতা লাভের হকদার করে তোলে।)
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৩৯)
(وَارْحَمْ بقلبك خلق الله وارعهم … فَإِنَّمَا يرحم الرَّحْمَن من رحما)

الرَّابِعَة ذكر شيخ شُيُوخنَا الْعَارِف الغارف الزَّاهِد الصُّوفِي الْمولى إلْيَاس الكوراني فِي إِجَازَته لشَيْخِنَا الكزبري أَن الْأَحَادِيث المسلسلة بالأولية ثَلَاثَة أَحدهَا حَدِيث عبد الله بن عَمْرو الْمَشْهُور وَثَانِيها حَدِيث أنس بن مَالك رضي الله عنه أَنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من أحب أَن يكثر خير بَيته فَليَتَوَضَّأ إِذا حضر غداه هُوَ وَإِذا رفع رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَثَالِثهَا حَدِيث عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يجمع الله الْعلمَاء يَوْم الْقِيَامَة فَيَقُول إِنِّي لم أجعَل حكمتي فِي قُلُوبكُمْ إِلَّا وَأَنا أُرِيد بكم الْخَيْر اذْهَبُوا إِلَى الْجنَّة فقد غفرت لكم على مَا كَانَ مِنْكُم رَوَاهُ الإِمَام أَبُو حنيفَة فِي مُسْنده

وَمِنْهَا الحَدِيث المسلسل بِقِرَاءَة سُورَة الصَّفّ فقد قَرَأَهَا عَليّ شَيخنَا الكزبري وَأَنا أسمع قَالَ قَرَأَهَا عَليّ سَيِّدي مُحَمَّد أَبُو الْعِزّ العجمي وَأَنا أسمع قَالَ قَرَأَهَا عَليّ الشَّيْخ سُلْطَان المزاحي وَأَنا أسمع قَالَ قَرَأَهَا عَليّ الشَّيْخ مُحَمَّد حجازي الْوَاعِظ شَارِح الْجَامِع الصَّغِير والشهاب أَحْمد بن يُونُس الشبلي قَالَا قَرَأَهَا علينا الْجمال يُوسُف قَالَ قَرَأَهَا عَليّ وَالِدي شيخ الْإِسْلَام زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ وَبَقِيَّة سَنَده إِلَى سيدنَا عبد الله بن سَلام شهير فَلَا نطيل بِهِ قَالَ رضي الله عنه قعدنا نفر من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فتذاكرنا فَقُلْنَا لَو نعلم أَي الْأَعْمَال أقرب إِلَى الله عز وجل لعملناه فَأنْزل الله سُبْحَانَهُ {سبح لله مَا فِي السَّمَاوَات وَمَا فِي الأَرْض وَهُوَ الْعَزِيز الْحَكِيم يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لم تَقولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ}

قَالَ عبد الله قَرَأَهَا علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو سَلمَة رِوَايَة وَقرأَهَا علينا عبد الله بن سَلام إِلَى آخر السَّنَد وَهَذَا الحَدِيث مُتَّصِل الْإِسْنَاد والسلسلة وَهُوَ من أصح مسلسل يرْوى أَو أَصَحهَا وَالله تَعَالَى أعلم

وَمِنْهَا الحَدِيث المسلسل بِرِوَايَة نَبينَا صلى الله عليه وسلم عَن سيدنَا إِبْرَاهِيم خَلِيل الرَّحْمَن عليه الصلاة والسلام وَقد تبِعت فِي ذكره شَيخنَا العجلوني فِي ثبته وَإِن لم يصدق عَلَيْهِ حد المسلسل المصطلح عَلَيْهِ عِنْد أهل الْفَنّ لغرابته ولطافته أرويه بِالْإِجَازَةِ عَن شَيخنَا الْغَزِّي وَهُوَ عَن شَيْخه الْعَارِف النابلسي وَهُوَ عَن النَّجْم وَهُوَ عَن وَالِده الْبَدْر عَن الْبُرْهَان زين الدّين القباخي عَن عَلَاء الدّين بن الْعَطَّار عَن الإِمَام النَّوَوِيّ قَالَ فِي تهذيبه وَقد من الله الْكَرِيم فَجعل لنا سندا
(তোমার অন্তর দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করো এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করো … কেননা দয়াময় কেবল তাদেরই দয়া করেন যারা দয়া করে।)

চতুর্থত: আমাদের শাইখদের শাইখ, আল্লাহর পরিচয় লাভকারী, ইলমের গভীরতায় অবগাহনকারী, দুনিয়াবিমুখ সুফি, আল-মাওলা ইলিয়াস আল-কুরানি তাঁর শাইখ আল-কুযবারিকে প্রদত্ত ইজাজতনামায় উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিকতার ক্রমানুসারী (আউয়ালিইয়াহ) মুসালসাল হাদিসসমূহ হলো তিনটি। এর প্রথমটি হলো আবদুল্লাহ ইবনে আমরের প্রসিদ্ধ হাদিসটি। দ্বিতীয়টি হলো আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি— যে ব্যক্তি তার ঘরের কল্যাণ বৃদ্ধি করতে পছন্দ করে, সে যেন দুপুরের খাবার উপস্থিত হওয়ার সময় এবং তা সরিয়ে নেওয়ার সময় অজু (হাত-মুখ ধৌত) করে। এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আর তৃতীয়টি হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন— কিয়ামতের দিন আল্লাহ আলেমদের একত্রিত করবেন এবং বলবেন: আমি তোমাদের অন্তরে আমার প্রজ্ঞা কেবল এজন্যই দান করেছি যে আমি তোমাদের কল্যাণ চেয়েছি। তোমরা জান্নাতে যাও, তোমাদের থেকে যা কিছু (ত্রুটি) সংঘটিত হয়েছে তার জন্য আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। এটি ইমাম আবু হানিফা তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আস-সাফ পাঠের মাধ্যমে মুসালসাল হাদিস। আমাদের শাইখ আল-কুযবারি এটি আমার সামনে পাঠ করেছেন এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, এটি আমার সামনে আমার সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আবু আল-ইয আল-আজামি পাঠ করেছেন এবং আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন, এটি আমার সামনে শাইখ সুলতান আল-মাযাহি পাঠ করেছেন এবং আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন, এটি আমার সামনে 'আল-জামি আস-সগির' এর ব্যাখ্যাকার শাইখ মুহাম্মদ হিজাজি আল-ওয়ায়েজ এবং শিহাব আহমদ বিন ইউনুস আল-শিবলি পাঠ করেছেন; তাঁরা বলেন— এটি আমাদের সামনে জামাল ইউসুফ পাঠ করেছেন। তিনি বলেন, এটি আমার সামনে আমার পিতা শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারি পাঠ করেছেন। আর আমাদের সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ ইবনে সালাম পর্যন্ত এর বাকি সনদটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, তাই আমরা এটি দীর্ঘ করছি না। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের একটি দল বসে আলোচনা করছিলাম। আমরা বললাম— যদি আমরা জানতাম কোন আমলটি মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়, তবে আমরা অবশ্যই তা করতাম। তখন সুবহানাহু ওয়া তাআলা নাযিল করলেন: {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?}

আবদুল্লাহ বলেন, এটি আমাদের সামনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করেছেন। আবু সালামাহ একটি বর্ণনায় বলেন, এটি আমাদের সামনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম পাঠ করেছেন— সনদের শেষ পর্যন্ত এভাবেই বর্ণিত। আর এই হাদিসটির সনদ ও সিলসিলা নিরবচ্ছিন্ন। এটি বর্ণিত মুসালসাল হাদিসগুলোর মধ্যে অন্যতম বিশুদ্ধ অথবা সবচেয়ে বিশুদ্ধ। আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক দয়াময় আল্লাহর বন্ধু আমাদের সাইয়্যিদ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে বর্ণিত মুসালসাল হাদিস। আমি এটি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমাদের শাইখ আল-আজলুনির অনুসরণ করেছি তাঁর সনদগ্রন্থে, যদিও ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞদের নিকট এর বিরলতা ও সূক্ষ্মতার কারণে এটি মুসালসালের সংজ্ঞায় পড়ে না। আমি এটি ইজাজতের মাধ্যমে আমাদের শাইখ আল-গাজ্জির নিকট থেকে বর্ণনা করছি, তিনি তাঁর শাইখ আল-আরিফ আল-নাবলুসি থেকে, তিনি আন-নাজম থেকে, তিনি তাঁর পিতা আল-বদর থেকে, তিনি আল-বুরহান জয়নুদ্দিন আল-কাবাখি থেকে, তিনি আলাউদ্দিন বিন আল-আত্তার থেকে, তিনি ইমাম নববী থেকে। ইমাম নববী তাঁর 'তাহযিব' গ্রন্থে বলেছেন— পরম করুণাময় আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের জন্য একটি সনদ দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪০)
مُتَّصِلا بخليله إِبْرَاهِيم صلى الله عليه وسلم كَمَا من علينا بذلك فِي حَبِيبه وخليله وَصفيه مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن بن أبي عمر مُحَمَّد بن قدامَة الْمَقْدِسِي أَنا أَبُو حَفْص بن طبرزد أَنا أَبُو الْفَتْح الْكَرْخِي أَنا القَاضِي أَبُو عَامر أَنا أَبُو مُحَمَّد الجراحي أَنا أَبُو الْعَبَّاس المحبوبي أَنا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيّ أَنا عبد الله بن أبي زِيَاد أَنا يسَار أَنا عبد الْوَاحِد بن زِيَاد عَن عبد الرَّحْمَن بن إِسْحَاق عَن الْقَاسِم بن عبد الرَّحْمَن عَن أَبِيه عَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لقِيت إِبْرَاهِيم لَيْلَة أسرِي بِي فَقَالَ يَا مُحَمَّد أَقْْرِئ أمتك مني السَّلَام وَأخْبرهمْ أَن الْجنَّة طيبَة التربة عذبة المَاء وَأَنَّهَا قيعان وَأَن غراسها سُبْحَانَ الله وَالْحَمْد لله وَلَا إِلَه إِلَّا الله وَالله أكبر

قَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن انْتهى

وَمِنْهَا المسلسل بالسادة الْأَشْرَاف وَهِي أَرْبَعُونَ حَدِيثا بِسَنَد وَاحِد وَقد ذكرهَا شَيخنَا الجنيني فِي ثبته قَالَ وَقد ذكرهَا الإِمَام الْحسن العجيمي فِي ثبته فأرويه عَن شَيخنَا الشَّيْخ إِسْمَاعِيل العجلوني وَهُوَ عَن شَيْخه مُحَمَّد بن أَحْمد عقيلة وَهُوَ عَن شَيْخه الْحسن الْمَذْكُور العجيمي قَالَ أَنا الإِمَام زين العابدين الْحُسَيْنِي عَن وَالِده عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد عَن جده يحيى بن مُحَمَّد عَن جده الْمُحب مُحَمَّد بن مُحَمَّد الرضي بن الْمُحب الْأَوْسَط مُحَمَّد عَن عَم أَبِيه الإِمَام الْعَلامَة أبي الْيمن مُحَمَّد عَن أَبِيه أَحْمد عَن أَبِيه الإِمَام رَضِي الدّين إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن أبي بكر بن مُحَمَّد قَالَ أَنا بهَا الثِّقَة الصدوق أَبُو الْقَاسِم بن عَليّ ابْن عبد الرَّحْمَن بن حرمي الْمَكِّيّ فِي الْحرم الشريف قَالَ أَنا بهَا السَّيِّد الشريف بَقِيَّة السَّادة بحلب فَخر الدّين أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد بن جَعْفَر الْحُسَيْنِي قَالَ أَنا بهَا الإِمَام الأوحد سراج الدّين مُحَمَّد بن عَليّ بن ناشر الْأنْصَارِيّ قَالَ ثَنَا بهَا السَّيِّد الأطهر بَقِيَّة السَّادة ببلخ شرف الدّين أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن عَليّ الْحُسَيْنِي الْبَلْخِي قِرَاءَة علينا من لَفظه غير مرّة فِي سنة 527 قَالَ ثني وَالِدي أَبُو الْحسن عَليّ فِي سنة 446 قَالَ حَدثنِي وَالِدي أَبُو طَالب الْحسن بن عبيد الله فِي سنة 434 قَالَ ثَنَا سَيِّدي ووالدي مُحَمَّد بن عبيد الله قَالَ ثني وَالِدي عبيد الله بن عَليّ قَالَ ثني وَالِدي عَليّ بن حسن قَالَ ثني وَالِدي الْحسن الْأَمِير أول من دخل بَلخ من هَذِه الطَّائِفَة قَالَ ثني وَالِدي جَعْفَر الملقب بِالْحجَّةِ قَالَ ثني وَالِدي
তাঁর খলীল ইবরাহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, যেমনটি তিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রিয় হাবীব, খলীল ও মনোনীত বান্দা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি ওমর মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ইবনে তাবারজাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাতহ আল-কারখি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবু আমির, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আল-মাহবুবি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি যিয়াদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াসার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মেরাজের রাতে আমি ইবরাহীমের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিন এবং তাদের সংবাদ দিন যে, জান্নাতের মাটি অত্যন্ত পবিত্র ও সুগন্ধিযুক্ত, পানি অত্যন্ত মিষ্টি এবং তা সমতল প্রান্তর। আর এর চারাগাছ হলো 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার'।

ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান হাদীস। সমাপ্ত।

এর মধ্যে একটি হলো সাদাত-ই-আশরাফদের মাধ্যমে বর্ণিত মুসালসাল হাদীসসমূহ, যা একই সনদে বর্ণিত চল্লিশটি হাদীস। আমাদের শাইখ আল-জানিনি তাঁর 'সাবত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম হাসান আল-উজাইমি তাঁর 'সাবত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আমি এটি বর্ণনা করছি আমাদের শাইখ ইসমাইল আল-আজলুনি থেকে, তিনি তাঁর শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আকীলা থেকে, তিনি তাঁর শাইখ পূর্বোক্ত হাসান আল-উজাইমি থেকে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম জয়নুল আবেদিন আল-হুসাইনি, তিনি তাঁর পিতা আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর দাদা ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর দাদা মুহিব্ব মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-রাজি ইবনে আল-মুহিব্ব আল-আওসাত মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতার চাচা ইমাম আল্লামা আবুল ইয়ামান মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আহমদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা ইমাম রাযীউদ্দীন ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ থেকে। তিনি বলেন: আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী আবুল কাসিম ইবনে আলী ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হারামি আল-মক্কি হারাম শরীফে অবস্থানকালে। তিনি বলেন: আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যেদ শরীফ, হালাবের সাদাতদের অন্যতম উত্তরসূরি ফখরুদ্দীন আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-হুসাইনি। তিনি বলেন: আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন অনন্য ইমাম সিরাজুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে নাশির আল-আনসারি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট এ বিষয়ে বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত পবিত্র সাইয়্যেদ, বলখ শহরের সাদাতদের অন্যতম উত্তরসূরি শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আলী আল-হুসাইনি আল-বালখি, ৫২৭ হিজরি সনে তাঁর উপস্থিতিতে একাধিকবার তাঁর নিজ মুখে এটি আমাদের সামনে পাঠ করা হয়েছে। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আবুল হাসান আলী ৪৪৬ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আবু তালিব হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ ৪৩৪ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার সাইয়্যেদ ও আমার পিতা মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা উবাইদুল্লাহ ইবনে আলী। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আলী ইবনে হাসান। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা হাসান আল-আমীর, যিনি এই গোষ্ঠীর মধ্যে সর্বপ্রথম বলখ শহরে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা জাফর, যাঁর উপাধি ছিল 'আল-হুজ্জাহ'। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা...
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪১)
عبد الله الزَّاهِد قَالَ ثني وَالِدي الْحُسَيْن الْأَصْغَر ثني وَالِدي عَليّ زين العابدين ثني وَالِدي الشَّهِيد أَحْمد الريحانتين الْحُسَيْن قَالَ حَدثنِي وَالِدي أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب كرم الله وَجهه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم 1 - لَيْسَ الْخَبَر كالمعاينة 2 - وَبِهَذَا الْإِسْنَاد قَالَ الْحَرْب خدعة 3 - وَبِه الْمُسلم مرْآة الْمُسلم 4 - وَبِه المستشار مؤتمن 5 - وَبِه الدَّال على الْخَيْر كفاعله 6 - اسْتَعِينُوا على الْحَوَائِج بِالْكِتْمَانِ 7 وَبِه اتَّقوا النَّار وَلَو بشق تَمْرَة 8 - وَبِه الدُّنْيَا سجن الْمُؤمن وجنة الْكَافِر 9 - وَبِه الْحيَاء خير كُله 10 - وَبِه عدَّة الْمُؤمن كأخذ الْكَفّ 11 - وَبِه لَا يحل لمُؤْمِن أَن يهجر أَخَاهُ فَوق ثَلَاثَة أَيَّام 12 - لَيْسَ منا من غَشنَا 13 - وَبِه مَا قل وَكفى خير مِمَّا كثر وألهى 14 - وَبِه الرَّاجِع فِي هِبته كالراجع فِي قيئه 15 - وَبِه الْبلَاء مُوكل بالْمَنْطق 16 - وَبِه النَّاس كأسنان الْمشْط 17 - وَبِه الْغنى غنى النَّفس 18 - وَبِه السعيد من وعظ بِغَيْرِهِ 19 - وَبِه إِن من الشّعْر لحكمة وَإِن من الْبَيَان لسحرا 20 - وَبِه عَفْو الْمُلُوك إبْقَاء للْملك 21 - وَبِه الْمَرْء مَعَ من أحب 22 - وَبِه مَا هلك امْرُؤ عرف قدره 23 - وَبِه الْوَلَد للْفراش وللعاهر الْحجر 24 - وَبِه الْيَد الْعليا خير من الْيَد السُّفْلى 25 - وَبِه لَا يشْكر الله من لَا يشْكر النَّاس 26 - وَبِه حبك للشَّيْء يعمي ويصم 27 - وَبِه جبلت الْقُلُوب على حب من أحسن إِلَيْهَا وبغض من أَسَاءَ إِلَيْهَا 28 - وَبِه التائب من الذَّنب كمن لَا ذَنْب لَهُ 29 - وَبِه الشَّاهِد يرى مَا لَا يرى الْغَائِب 30 - وَبِه إِذا جَاءَكُم كريم قوم فأكرموه 31 - وَبِه الْيَمين الْفَاجِرَة تدع الديار بَلَاقِع 32 - وَبِه من قتل دون مَاله فَهُوَ شَهِيد 33 - وَبِه الْأَعْمَال بِالنِّيَّةِ 34 - وَبِه سيد الْقَوْم خادمهم 35 - وَبِه خير الْأُمُور أوسطها 36 - وَبِه اللَّهُمَّ بَارك لأمتي فِي بكورها يَوْم الْخَمِيس 37 - وَبِه كَاد الْفقر أَن يكون كفرا 38 - وَبِه السّفر قِطْعَة من الْعَذَاب 39 - وَبِه الْمجَالِس بالأمانة 40 - وَبِه خير الزَّاد التَّقْوَى

فَهَذِهِ أَرْبَعُونَ حَدِيثا بِسَنَد وَاحِد وغالب متونها من الْأَحَادِيث الشهيرة الَّتِي هِيَ من جَوَامِع كلم خير الْبَريَّة وَإِسْنَاده ظَاهِرَة عَلَيْهِ لوائح الصدْق وَالْقَبُول وَالله تَعَالَى أعلم

ولنختم هَذَا الْمقَام بِسَنَد الحَدِيث المسلسل بالمصافحة رَجَاء أَن يكون خَاتِمَة أمرنَا الصفح والمسامحة كَمَا فعل شيخ مَشَايِخنَا الإِمَام الشَّيْخ مُحَمَّد
আবদুল্লাহ আল-যাহিদ বলেন, আমাকে আমার পিতা আল-হুসাইন আল-আসগর হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা আলী যায়নুল আবেদীন হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা শহীদ আহমদ, দুই সুগন্ধি ফুলের অন্যতম, আল-হুসাইন হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ১- সংবাদ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার মতো নয়। ২- এবং এই সনদে তিনি বলেছেন: যুদ্ধ হলো একটি কৌশল। ৩- এবং এর মাধ্যমে: মুমিন মুমিনের দর্পণ। ৪- এবং এর মাধ্যমে: পরামর্শদাতা আমানতদার। ৫- এবং এর মাধ্যমে: কল্যাণের দিকে পথপ্রদর্শক আমলকারীর সমতুল্য। ৬- গোপনীয়তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ সাধনে সহায়তা গ্রহণ করো। ৭- এবং এর মাধ্যমে: জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, সামান্য খেজুরের টুকরো দিয়ে হলেও। ৮- এবং এর মাধ্যমে: দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত। ৯- এবং এর মাধ্যমে: লজ্জা পুরোটাই কল্যাণ। ১০- এবং এর মাধ্যমে: মুমিনের প্রতিশ্রুতি হাতের তালু স্পর্শ করার মতো (অর্থাৎ সুনিশ্চিত)। ১১- এবং এর মাধ্যমে: কোনো মুমিনের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। ১২- যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ১৩- এবং এর মাধ্যমে: যা অল্প এবং যথেষ্ট, তা সেই বেশির চেয়ে উত্তম যা মানুষকে গাফেল করে দেয়। ১৪- এবং এর মাধ্যমে: দান করার পর তা ফেরত গ্রহণকারী নিজের বমি পুনরায় ভক্ষণকারীর মতো। ১৫- এবং এর মাধ্যমে: বিপদ কথার ওপর নির্ভরশীল। ১৬- এবং এর মাধ্যমে: মানুষ চিরুনির দাঁতের মতো (সমান)। ১৭- এবং এর মাধ্যমে: প্রকৃত সচ্ছলতা হলো মনের সচ্ছলতা। ১৮- এবং এর মাধ্যমে: ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে অন্যের অবস্থা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে। ১৯- এবং এর মাধ্যমে: নিশ্চয়ই কিছু কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে এবং কিছু বর্ণনায় জাদু রয়েছে। ২০- এবং এর মাধ্যমে: রাজাদের ক্ষমা রাজত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করে। ২১- এবং এর মাধ্যমে: মানুষ যার সাথে মহব্বত রাখে সে তারই সাথে থাকবে। ২২- এবং এর মাধ্যমে: যে ব্যক্তি নিজের সামর্থ্য বা মর্যাদা চিনতে পেরেছে সে ধ্বংস হয়নি। ২৩- এবং এর মাধ্যমে: সন্তান বৈধ শয্যার অধিকারীর হবে এবং ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (শাস্তি)। ২৪- এবং এর মাধ্যমে: উপরের হাত (দাতার হাত) নিচের হাত (গ্রহীতার হাত) থেকে শ্রেষ্ঠ। ২৫- এবং এর মাধ্যমে: যে মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না। ২৬- এবং এর মাধ্যমে: কোনো জিনিসের প্রতি তোমার আসক্তি তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। ২৭- এবং এর মাধ্যমে: মানুষের অন্তর সহজাতভাবেই তাকে ভালোবাসে যে তার প্রতি ইহসান করে এবং তাকে ঘৃণা করে যে তার অপকার করে। ২৮- এবং এর মাধ্যমে: গুনাহ থেকে তওবাকারী ওই ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহ নেই। ২৯- এবং এর মাধ্যমে: উপস্থিত ব্যক্তি যা দেখে অনুপস্থিত ব্যক্তি তা দেখে না। ৩০- এবং এর মাধ্যমে: যখন তোমাদের কাছে কোনো জাতির সম্মানিত ব্যক্তি আসে তখন তাকে সম্মান করো। ৩১- এবং এর মাধ্যমে: মিথ্যা শপথ ঘরবাড়িকে জনশূন্য ও উজাড় করে দেয়। ৩২- এবং এর মাধ্যমে: যে নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। ৩৩- এবং এর মাধ্যমে: সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ৩৪- এবং এর মাধ্যমে: জাতির নেতা হলেন তাদের সেবক। ৩৫- এবং এর মাধ্যমে: সর্বোত্তম কাজ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। ৩৬- এবং এর মাধ্যমে: হে আল্লাহ! বৃহস্পতিবারের ভোরের কাজে আমার উম্মতের জন্য বরকত দান করুন। ৩৭- এবং এর মাধ্যমে: দারিদ্র্য প্রায় কুফুরির কাছাকাছি নিয়ে যায়। ৩৮- এবং এর মাধ্যমে: সফর আজাবের একটি অংশ। ৩৯- এবং এর মাধ্যমে: মজলিসের কথাবার্তা আমানতস্বরূপ। ৪০- এবং এর মাধ্যমে: সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।

এগুলো হলো একই সনদে বর্ণিত চল্লিশটি হাদীস এবং এর অধিকাংশ বক্তব্যই সেই প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর অংশ। এর সনদে সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার চিহ্ন সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত।

আসুন আমরা এই বিষয়টি মুসাফাহাযুক্ত মুসালসাল হাদীসের সনদের মাধ্যমে সমাপ্ত করি, এই আশায় যে যেন আমাদের কর্মের শেষ পরিণতি ক্ষমা ও মার্জনা হয়, যেমনটি আমাদের শায়খদের শায়খ ইমাম শায়খ মুহাম্মদ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪২)
الدمياطي البديري الشهير بِابْن الْمَيِّت فَأَقُول قد صَافَحَنِي وَللَّه الْحَمد والْمنَّة جمع من الشُّيُوخ مِنْهُم شَيخنَا الشَّيْخ أَحْمد أَفَنْدِي المنيني قَالَ صَافَحَنِي إجَازَة شَيخنَا النخلي عَن شَيْخه البابلي عَن أبي بكر بن إِسْمَاعِيل عَن إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن العلقمي عَن أبي الْفضل الْجلَال عبد الرَّحْمَن السُّيُوطِيّ قَالَ فِي جِيَاد المسلسلات أَنا التقي أَحْمد بن مُحَمَّد الشمني قِرَاءَة عَلَيْهِ قَالَ أَنا أَبُو الطَّاهِر ابْن الكويك قَالَا نَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن عَليّ قَالَ أَنا أَبُو عبد الله الخوي قَالَ أخبرنَا أَبُو الْمجد بن الْحُسَيْن الْقزْوِينِي قَالَ أخبرنَا أَبُو بكر بن إِبْرَاهِيم الشحاذي قَالَ أخبرنَا أَبُو الْحسن بن أبي زرْعَة قَالَ أَنا أبومنصور عبد الرَّحْمَن بن عبد الله البزازي قَالَ أَنا عبد الْملك بن نجيد قَالَ ثَنَا أَبُو الْقَاسِم عَبْدَانِ بن حميد التَّيْمِيّ قَالَ ثَنَا عمر بن سعيد قَالَ ثَنَا أَحْمد بن دهقان قَالَ ثَنَا خلف ابْن تَمِيم قَالَ دَخَلنَا على أبي هُرْمُز نعوده فَقَالَ دَخَلنَا على أنس بن مَالك نعوده فَقَالَ صافحت بكفي هَذِه كف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَمَا مسست خَزًّا وَلَا حَرِيرًا أَلين من كَفه صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو هُرْمُز فَقُلْنَا لأنس بن مَالك صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فصافحنا قَالَ خلف بن تَمِيم فَقلت لأبي هُرْمُز صافحنا بالكف الَّتِي صافحت أنسا فصافحنا قَالَ أَحْمد بن دهقان فَقُلْنَا لخلف صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَبَا هُرْمُز فصافحنا قَالَ عمر بن سعيد قُلْنَا لِأَحْمَد بن دهقان صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا خلف بن تَمِيم فصافحنا قَالَ عَبْدَانِ قُلْنَا لعمر بن سعيد صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَحْمد بن دهقان فصافحنا قَالَ أَبُو مَنْصُور قلت لعبد الْملك صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا عمر بن سعيد فصافحنا قَالَ أَبُو الْحسن قلت لأبي مَنْصُور صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا عبد الْملك فصافحنا قَالَ أَبُو بكر الشحاذي قلت لأبي الْحسن صافحنا بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَبَا مَنْصُور فصافحنا قَالَ أَبُو الْمجد قلت لأبي بكر صَافَحَنِي بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَبَا الْحسن فصافحني قَالَ الخوي قلت لأبي الْمجد صَافَحَنِي بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَبَا بكر فصافحني قيل للخوي صَافح إِبْرَاهِيم بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَبَا الْمجد فصافحه قَالَ أَبُو الطَّاهِر قلت لإِبْرَاهِيم صَافَحَنِي بالكف الَّتِي صافحت بهَا الخوي فصافحني قَالَ الشمني قلت لأبي الطَّاهِر صَافَحَنِي بالكف الَّتِي صافحت بهَا إِبْرَاهِيم فصافحني قَالَ السُّيُوطِيّ قلت لشَيْخِنَا الشمني صَافَحَنِي بالكف الَّتِي صافحت بهَا أَبَا طَاهِر فصافحني والسيوطي صَافح إِبْرَاهِيم العلقمي إِن لم يكن فعلا فإجازة والعلقمي

আদ-দুমইয়াতি আল-বুদাইরি, যিনি ইবনুল মাইয়্যিত নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে একদল শায়খ আমার সাথে মুসাফাহা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের শায়খ, শায়খ আহমাদ আফিন্দি আল-মানিনি। তিনি বলেন: আমাদের শায়খ আল-নাখলি ইজাজাত স্বরূপ আমার সাথে মুসাফাহা করেছেন, তিনি তাঁর শায়খ আল-বাবিলি থেকে, তিনি আবু বকর বিন ইসমাইল থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-আলকামি থেকে, তিনি আবুল ফজল জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতি থেকে। তিনি (সুয়ূতি) ‘জিয়াদুল মুসালসালাত’ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আত-তাকি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শুমন্নি তাঁর নিকট পাঠকালে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের ইবনুল কুওয়াইক। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আলি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-খুওয়াইয়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাজদ বিন আল-হুসাইন আল-কাজউইনি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন ইবরাহিম আশ-শাহাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন আবি জুরআহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজজাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন নুজাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাসিম আবদান বিন হুমাইদ আত-তাইমি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন সাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন দেহকান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে তামিম।

তিনি (খালাফ) বলেন: আমরা আবু হুরমুজের অসুস্থতায় তাঁকে দেখতে গেলাম। তখন তিনি বললেন: আমরা আনাস বিন মালিকের অসুস্থতায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি (আনাস) বললেন: "আমি আমার এই হাতের তালু দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতের তালুর সাথে মুসাফাহা করেছি। আমি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো রেশম বা সিল্ক স্পর্শ করিনি।" আবু হুরমুজ বলেন: অতঃপর আমরা আনাস বিন মালিককে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। খালাফ বিন তামীম বলেন: আমি আবু হুরমুজকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আনাসের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। আহমাদ বিন দেহকান বলেন: আমরা খালাফকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আবু হুরমুজের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। উমর বিন সাইদ বলেন: আমরা আহমাদ বিন দেহকানকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে খালাফ বিন তামীমের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। আবদান বলেন: আমরা উমর বিন সাইদকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আহমাদ বিন দেহকানের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। আবু মানসুর বলেন: আমি আব্দুল মালিককে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে উমর বিন সাইদের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। আবু হাসান বলেন: আমি আবু মানসুরকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আব্দুল মালিকের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। আবু বকর আশ-শাহাজি বলেন: আমি আবুল হাসানকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আবু মানসুরের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমাদের সাথে মুসাফাহা করলেন। আবুল মাজদ বলেন: আমি আবু বকরকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আবুল হাসানের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমার সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করলেন। আল-খুওয়াইয়ি বলেন: আমি আবুল মাজদকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আবু বকরের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমার সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করলেন। আল-খুওয়াইয়িকে বলা হলো: আপনি ইবরাহিমের সাথে সেই হাত দিয়ে মুসাফাহা করুন, যার মাধ্যমে আপনি আবুল মাজদের সাথে মুসাফাহা করেছিলেন। তখন তিনি তাঁর সাথে মুসাফাহা করলেন। আবু তাহের বলেন: আমি ইবরাহিমকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আল-খুওয়াইয়ির সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমার সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করলেন। আশ-শুমন্নি বলেন: আমি আবু তাহেরকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে ইবরাহিমের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমার সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করলেন। আস-সুয়ূতি বলেন: আমি আমাদের শায়খ আশ-শুমন্নিকে বললাম, "আপনি যে হাত দিয়ে আবু তাহেরের সাথে মুসাফাহা করেছেন, সেই হাত দিয়ে আমার সাথে মুসাফাহা করুন।" তখন তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করলেন। আর আস-সুয়ূতি ইবরাহিম আল-আলকামির সাথে মুসাফাহা করেছেন—যদি তা শারীরিকভাবে না হয়ে থাকে তবে তা ছিল ইজাজাত বা অনুমতির মাধ্যমে। আর আল-আলকামি...

(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪৩)
صَافح أَبَا بكر كَذَلِك وَأَبُو بكر صَافح البابلي كَذَلِك قَالَ النخلي وَشَيخنَا البابلي صافحنا وَللَّه الْحَمد والْمنَّة وَقَالَ شَيخنَا المنيني وَقد حصلت لي المصافحة من شَيخنَا الْمَذْكُور بِالْإِجَازَةِ كَمَا حصلت للعلقمي وَمن بعده وَللَّه الْحَمد وَأَقُول قد حصلت لي المصافحة من شَيخنَا كَذَلِك وَللَّه الْحَمد والْمنَّة

خَاتِمَة فِي بعض فَوَائِد من الأوراد الْخَاصَّة أجازني بهَا بعض الشُّيُوخ

لَا بَأْس بالتعرض لشَيْء مِنْهَا فَمِنْهَا الصِّيغَة الكمالية وَهِي اللَّهُمَّ صل وَسلم وَبَارك على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله عدد كَمَال الله وكما يَلِيق بِكَمَالِهِ عقب كل فَرِيضَة وَقد قَالَ الشُّيُوخ إِنَّهَا بأَرْبعَة عشر ألفا وإشكالها وَجَوَابه أفردهما شَيخنَا التافلاني فِي رِسَالَة لَهُ سَمَّاهَا رفع الِاشْتِبَاه وَبَين مِنْهَا أَن المُرَاد بالأربعة عشر ألفا الْمُطلقَة فِي كل مِنْهُم إِنَّمَا هِيَ حَسَنَة

وَمِنْهَا الصِّيغَة المنجية وَهِي اللَّهُمَّ صلى على سيدنَا مُحَمَّد صَلَاة تنجينا بهَا من جَمِيع الْأَهْوَال والآفات وتقضي لنا بهَا جَمِيع الْحَاجَات وتطهرنا بهَا من جَمِيع السَّيِّئَات وترفعنا بهَا عنْدك أَعلَى الدَّرَجَات وتبلغنا بهَا أقْصَى الغايات من جَمِيع الْخيرَات فِي الْحَيَاة وَبعد الْمَمَات زَاد الْعَارِف الْأَكْبَر يَا أرْحم الرحمين يَا الله وَقد قَالَ الْأَشْيَاخ من قَالَهَا فِي مُهِمّ أَو نازلة ألف مرّة فرج الله عَنهُ وَأدْركَ مأموله وَمن أَكثر مِنْهَا زمن الطَّاعُون أَمن مِنْهُ وَمن أَكثر مِنْهَا عِنْد ركُوب الْبَحْر أَمن من الْغَرق وَمن قَرَأَهَا خمس مئة مرّة ينَال مَا يُرِيد فِي الجلب والغنى إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَهِي مجربة صَحِيحَة فِي جَمِيع ذَلِك وَالله تَعَالَى أعلم

وَمِنْهَا ورد السبحة فِي كل صباح وَهُوَ سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ الله الْعَظِيم مئة مرّة لَا إِلَه إِلَّا الله الْملك الْحق الْمُبين وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم مئة مرّة وَأَسْتَغْفِر الله الْعَظِيم لذنبي وَلِلْمُؤْمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات مئة مرّة وجزى الله عَنَّا نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم مَا هُوَ أَهله مئة مرّة وَيَا كَافِي يَا غَنِي يَا فتاح يَا رزاق مئة مرّة وَيَا حنان يَا منان أَنْت الَّذِي وسعت كل شَيْء رَحْمَة وعلما مئة وتسعا وَعشْرين مرّة وَبَين سنة الصُّبْح وفرضها يَا لطيف مئة وتسعا وَعشْرين مرّة وَيَا حَيّ يَا قيوم فَلَا يفوت شَيْء من علمه وَلَا يؤوده سبعا وَعشْرين مرّة بَينهمَا أَيْضا واللهم بَارك لنا فِي الْمَوْت وَفِيمَا بعد الْمَوْت خمْسا وَعشْرين مرّة بَينهمَا أَيْضا وَفِي كل لَيْلَة قِرَاءَة سُورَة السَّجْدَة وَالدُّخَان والواقعة وَالْملك والنبأ والنازعات والبروج والانشراح
একইভাবে তিনি আবু বকরের সাথে মুসাফাহাহ (করমর্দন) করেছেন এবং আবু বকর একইভাবে আল-বাবিলীর সাথে মুসাফাহাহ করেছেন। আল-নাখলী বলেন: আমাদের শাইখ আল-বাবিলী আমাদের সাথে মুসাফাহাহ করেছেন, আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। আমাদের শাইখ আল-মুনীনী বলেন: উল্লিখিত শাইখের নিকট হতে ইজাজতের মাধ্যমে আমার মুসাফাহাহ অর্জিত হয়েছে, যেমনটি আল-আলকামী ও তাঁর পরবর্তীদের ক্ষেত্রে অর্জিত হয়েছিল; আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা। আর আমি বলছি, একইভাবে আমাদের শাইখের নিকট থেকে আমার মুসাফাহাহ অর্জিত হয়েছে, আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।

সমাপ্তি: বিশেষ কিছু আওরাদের (অজিফা) উপকারিতা সম্পর্কে, যেগুলোর ইজাজত কতিপয় শাইখ আমাকে প্রদান করেছেন।

এগুলোর কিছু অংশ উল্লেখ করাতে কোনো দোষ নেই। তার মধ্যে একটি হলো 'আল-কামালিয়াহ' সূত্র; যা হলো: "হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন আল্লাহর পূর্ণতার সংখ্যা অনুযায়ী এবং যেমনটি তাঁর পূর্ণতার জন্য শোভনীয়।" এটি প্রতিটি ফরজ সালাতের পর পাঠ করতে হয়। শাইখগণ বলেছেন যে, এটি চৌদ্দ হাজার (দরুদ পাঠের) সমান। এর জটিলতা ও তার উত্তর আমাদের শাইখ আত-তাফূলানী তাঁর 'রাফউল ইশতিবাহ' নামক রিসালায় পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন এবং সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে চৌদ্দ হাজার বলতে কেবল 'হাসানাহ' বা সওয়াবই উদ্দেশ্য।

আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আল-মুনজিয়াহ' সূত্র; যা হলো: "হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যার মাধ্যমে আপনি আমাদের সকল ভয় ও আপদ হতে মুক্তি দেবেন, আমাদের সকল প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন, সকল মন্দ কাজ থেকে আমাদের পবিত্র করবেন, আপনার নিকট আমাদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করবেন এবং আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন সকল কল্যাণের সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন।" আরেফ আকবর এর সাথে "হে পরম দয়ালু, হে আল্লাহ" কথাটি বৃদ্ধি করেছেন। শাইখগণ বলেছেন যে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা বিপদে যে ব্যক্তি এটি এক হাজার বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে মুক্তি দান করবেন এবং সে তার উদ্দেশ্য লাভে সফল হবে। প্লেগ মহামারীর সময় যে এটি অধিক পাঠ করবে সে তা থেকে নিরাপদ থাকবে। সমুদ্র যাত্রার সময় যে এটি অধিক পাঠ করবে সে নিমজ্জন থেকে নিরাপদ থাকবে। আর যে এটি পাঁচশ বার পাঠ করবে সে আকর্ষণ ও সচ্ছলতার ক্ষেত্রে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ। এ সকল ক্ষেত্রেই এটি পরীক্ষিত ও সঠিক এবং আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।

আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন সকালের তসবীহ পাঠের অজিফা: "আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে, মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি" একশ বার; "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সত্য ও প্রকাশ্য মালিক" এবং "উচ্চমর্যাদাশীল মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই" একশ বার; "আমি মহান আল্লাহর নিকট আমার পাপের জন্য এবং মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি" একশ বার; "আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন প্রতিদান দিন যার তিনি যোগ্য" একশ বার; "হে অভাবমোচনকারী, হে অভাবমুক্ত, হে উন্মোচনকারী, হে রিজিকদাতা" একশ বার; "হে মমতাময়, হে অনুগ্রহকারী, আপনি সেই সত্তা যাঁর রহমত ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে" একশ ঊনত্রিশ বার; এবং ফজরের সুন্নত ও ফরজের মধ্যবর্তী সময়ে "হে সূক্ষ্মদর্শী" একশ ঊনত্রিশ বার; এবং "হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, যাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই বিচ্যুত হয় না এবং যা তাঁকে ক্লান্ত করে না" এই দোয়াটি ওই দুইয়ের মাঝখানে সাতাশ বার; এবং "হে আল্লাহ! মৃত্যুতে এবং মৃত্যুর পরবর্তী বিষয়ে আমাদের বরকত দান করুন" ওই দুইয়ের মাঝে পঁচিশ বার; এবং প্রতি রাতে সূরা আস-সাজদাহ, আদ-দুখান, আল-ওয়াকিয়াহ, আল-মুলক, আন-নাবা, আন-নাযিআত, আল-বুরুজ এবং আল-ইনশিরাহ পাঠ করা।
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَمِنْهَا مَا ذكره الْعَارِف الشعراني فِي مَتنه عَن الْخضر عليه الصلاة والسلام أَنه قَالَ سَأَلت أَرْبَعَة وَعشْرين ألف نَبِي عَن اسْتِعْمَال شَيْء يَأْمَن العَبْد فِيهِ من سلب الْإِيمَان فَلم يجبني أحد مِنْهُم حَتَّى اجْتمعت بِمُحَمد صلى الله عليه وسلم فَسَأَلته عَن ذَلِك فَقَالَ حَتَّى أسأَل جِبْرِيل عليه الصلاة والسلام عَن ذَلِك فَسَأَلَهُ فَقَالَ حَتَّى أسأَل رب الْعِزَّة عَن ذَلِك فَسَأَلَهُ فَقَالَ الله عز وجل من واظب على قِرَاءَة آيَة الْكُرْسِيّ و {آمن الرَّسُول} إِلَى آخر سور الْبَقَرَة و {شهد الله أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَة} إِلَى قَوْله {الْإِسْلَام} و {قل اللَّهُمَّ مَالك الْملك} إِلَى {بِغَيْر حِسَاب} وَالْإِخْلَاص والمعوذتين والفاتحة عقب كل صَلَاة أَمن من سلب الْإِيمَان انْتهى

وأسأل الله سبحانة وَتَعَالَى المان بفضله أَن يرحم الْمَذْكُورين برحمته الْخَاصَّة والعامة وَأَن ينجينا من أهوال الحاقة والطامة وَأَن يمن علينا بتوفيقه وَالْهِدَايَة إِلَى سَوَاء طَرِيقه ونتوسل إِلَيْهِ وَبِه وباسمه الْأَعْظَم الْأَعْظَم وَبِكُل اسْم هُوَ لَهُ اسْتَأْثر بِهِ فِي علم غيبه أَو علمه لأحد من خلقه وبشرف كتبه الْمنزلَة وأنبيائه وَرُسُله وبخاتمهم وأفضلهم مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وبملائكته المقربين أَن يخْتم لنا بِالْحُسْنَى وَأَن يبلغنَا من فَضله الْمقَام الأرفع الْأَسْنَى وَأَن يوفقنا من القَوْل وَالْعَمَل لما يُحِبهُ ويرضاه وَلما يقربنا لَدَيْهِ وَلَا يخجلنا بَين يَدَيْهِ إِنَّه الْجواد الْكَرِيم الرؤوف الرَّحِيم صلى الله عليه وسلم

تمت جمعا وَكِتَابَة بِإِذن شَيخنَا الْمُجِيز حفظه الله تَعَالَى غرَّة شعْبَان الْمُعظم سنة سبع ومئتين وَألف أحسن الله ختامنا وختامها بمنه آمين

ختم ختم ختم

أَحْمد عبيد أَحْمد عبيد أَحْمد عبيد

إِمَام الشَّافِعِيَّة إِمَام الشَّافِعِيَّة إِمَام الشَّافِعِيَّة

قَالَ الْعَلامَة مُحَمَّد أَمِين عابدين فِي رثاء الْعَلامَة أَحْمد بن عبيد الْعَطَّار

(ليقدح الْجَهْل فِي الْبلدَانِ كالشرر … وليسكن الْعلم فِي كتب وَفِي سطر)

(قد مَاتَ من كَانَ للتعليم منتدبا … يُبْدِي فروعا بِلَا كل وَلَا ضجر)

(رزء عَظِيم لكل النَّاس قاطبة … قد عمهم جوره بالبؤس وَالضَّرَر)

এর মধ্যে রয়েছে যা আরিফ শায়রানী তাঁর মূলগ্রন্থে খিজির আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি চব্বিশ হাজার নবীকে এমন একটি আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, যার মাধ্যমে বান্দা ঈমান হরণ হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। কিন্তু তাঁদের কেউ আমাকে উত্তর দেননি, যতক্ষণ না আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মিলিত হলাম। আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “যতক্ষণ না আমি জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি।” অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। জিবরাঈল বললেন, “যতক্ষণ না আমি ইজ্জতের রবের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি।” অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে মহান আল্লাহ বললেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর আয়াতুল কুরসী, ‘আমানার রাসূলু’ থেকে সূরা বাকারার শেষ পর্যন্ত, ‘শাহিদুল্লাহু আন্নাহু লা ইলাহা ইল্লাহু’ থেকে ‘আল-ইসলাম’ পর্যন্ত, ‘কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলক’ থেকে ‘বিগায়রি হিসাব’ পর্যন্ত, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করার অভ্যাস করবে, সে ঈমান হরণ হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে।” সমাপ্ত।

আর আমি তাঁর অনুগ্রহে দানকারী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন উল্লিখিত ব্যক্তিদের ওপর তাঁর বিশেষ ও সাধারণ রহমত বর্ষণ করেন; আমাদেরকে কিয়ামতের মহাবিপদ ও ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করেন; এবং তাঁর তাওফিক ও তাঁর সঠিক পথের হেদায়েত দিয়ে আমাদের ধন্য করেন। আমরা তাঁর নিকট তাঁর মাধ্যমে, তাঁর সুমহান নামের মাধ্যমে, এবং তাঁর এমন প্রতিটি নামের মাধ্যমে সুপারিশ পেশ করছি যা তিনি নিজের জন্য সংরক্ষণ করেছেন অথবা তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞানে স্বতন্ত্র রেখেছেন কিংবা তাঁর সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন; এবং তাঁর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের সম্মানে, তাঁর নবী ও রাসূলগণের সম্মানে, তাঁদের মোহর ও সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে এবং তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সম্মানে—যেন তিনি আমাদের শেষ পরিণতি উত্তম করেন, আমাদের তাঁর অনুগ্রহে সর্বোচ্চ ও সমুন্নত মাকামে পৌঁছান, এবং আমাদের এমন কথা ও কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং যা আমাদের তাঁর নিকটবর্তী করে; আর তিনি যেন তাঁর সামনে আমাদের লজ্জিত না করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, মহানুভব, অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের অনুমতি প্রদানকারী শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেফাজত করুন)-এর অনুমতিতে ১২০৭ হিজরি সনের মুয়াজ্জম শাবান মাসের শুরুতে এর সংকলন ও লিখন সম্পন্ন হলো। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের এবং এর সমাপ্তি উত্তম করুন। আমিন।

সমাপ্ত সমাপ্ত সমাপ্ত

আহমদ উবাইদ আহমদ উবাইদ আহমদ উবাইদ

শাফেয়ী মাজহাবের ইমাম, শাফেয়ী মাজহাবের ইমাম, শাফেয়ী মাজহাবের ইমাম

আল্লামা মুহাম্মাদ আমিন আবিদিন আল্লামা আহমদ ইবনে উবাইদ আল-আত্তারের শোকগাঁথায় বলেছেন:

(অজ্ঞতা শহরগুলোতে আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো প্রজ্বলিত হোক … আর জ্ঞান কিতাব ও পঙক্তির মাঝে অবস্থান করুক।)

(যিনি শিক্ষাদানে নিয়োজিত ছিলেন তিনি ইন্তেকাল করেছেন … তিনি কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই ফিকহের শাখাগত মাসআলাগুলো প্রকাশ করতেন।)

(এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক বিশাল বিপদ … তাঁর বিয়োগব্যথা তাদের দুঃখ ও ক্ষতির মাধ্যমে আচ্ছন্ন করেছে।)

(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪৫)
(يَا عين فابكي على بَحر الْعُلُوم دَمًا … يَا عين سحي وَلَا تبقي وَلَا تذري)

(يَا قلب واحزن على فقدان بدر دجى … قد قل فِيهِ دموع الْغَيْم بالمطر)

(من قد حوى الْعلم والعليا وَخير تَقِيّ … من قد رقى فِي الْمَعَالِي رُتْبَة الزهر)

(ذُو الْقدر وَالْفَخْر وَالْإِحْسَان ذُو كرم … ذُو الحزم والجزم وَالتَّدْبِير وَالنَّظَر)

(ذَاك الَّذِي فاق أهل الْعَصْر من قدم … أنعم بِهِ أَحْمد اسْم أَحْمد أَحْمد السّير)

(وَذَاكَ خَاتِمَة الْقَوْم الْكِرَام وَمن … تزهو دمشق بِهِ كَالْكَوْكَبِ السحر)

(قد كَانَ فِي علم فقه الشَّافِعِي جبلا … فيا لَهُ من فَقِيه النَّفس ذِي الْخَبَر)

(وَفِي الحَدِيث بحار لَا قَرَار لَهَا … عَن البُخَارِيّ فَحدث غير مفتكر)

(ترَاهُ فِي دارة الْإِمْلَاء بدر دجى … من حوله أنجم الطلاب للدرر)

(أشيخ ذَا الْعَصْر قد قصمت أظهرنَا … مذغبت عَنَّا وَلنْ يبْقى سوى الْأَثر)

(قد كنت بَدْرًا مضيئا فِي سَمَاء علا … فعدت منكسفا كالبدر فِي السرر)

(يَا أَيهَا الذَّاهِب الْبَاقِي مآثره … فِي الأَرْض مشرقة كَالشَّمْسِ فِي الظّهْر)

(أجريت يَوْم التنآئي مزن أدمعنا … فَلَا يرى الدمع منا غير منحدر)

(دارت كؤس المنايا والهموم على … قُلُوبنَا حِين سِرْتُمْ سير مبتدر)

(فالقلب بعْدك فِي هم وَفِي حزن … والعيش بعْدك عَيْش غير مُعْتَبر)

(والشوق مضطرم وَالصَّبْر مُنْهَزِم … والدمع منسجم والطرف ذُو سهر)

(وَالْجَامِع الرحب أضحى نائحا حزنا … يَقُول واأسفا قد انمحى قمري)

(دم فِي جنان النَّعيم مارحا أبدا … مَا دَامَ قلبِي عَلَيْكُم فِي لظى سقر)

(ودام نجلك ممدودا بمجدك مَعَ … مَا نلته من علو الْقدر وَالْفَخْر)

(من فاق أقرانه طرا بأَرْبعَة … الْعلم والحلم والتوفيق وَالظفر)

(لَا زَالَ محترسا دَوْمًا بأَرْبعَة … الطّور والنور وَالْفرْقَان وَالزمر)

(وصانه ربه من شَرّ أَرْبَعَة … الْهم والحزن والأكدار والخطر)

(يَا أَيهَا الشهم من قد طَابَ منشأه … صبرا على مَا جرى بالحكم وَالْقدر)

(فالدار دَار هموم لَيْسَ فِيهِ صفا … وَالْكل يفنى على التدريج بالأثر)

(وَالله عز علينا أَن تصاب بِهِ … فقلبنا مِنْهُ فِي هم وَفِي كدر)

(لَو كَانَ يجدي الْفِدَاء مَيتا بذلت … بِالْمَالِ وَالروح فِيهِ أنفس الْبشر)

(وَابْشَرْ فوالدكم قد جا مؤرخه … فِي رَحْمَة الله حل مائج الْفِكر)
(হে চক্ষু! ইলমের সমুদ্রের বিচ্ছেদে রক্তাশ্রু বিসর্জন দাও … হে চক্ষু! অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরাও, কোনো কিছুই অবশিষ্ট রেখো না এবং ক্ষান্ত হয়ো না)

(হে অন্তর! অন্ধকারের পূর্ণিমার চাঁদ হারানোর শোকে ব্যথিত হও … যাঁর শোকে মেঘের বৃষ্টির অশ্রুও তুচ্ছ হয়ে গিয়েছে)

(যিনি জ্ঞান, উচ্চ মর্যাদা ও সর্বোত্তম তাকওয়া অর্জন করেছিলেন … যিনি উচ্চাসনে নক্ষত্রের ন্যায় দীপ্তিময় মর্যাদায় আরোহণ করেছিলেন)

(উচ্চ মর্যাদা, গৌরব, ইহসান ও মহানুভবতার অধিকারী … সংকল্প, দৃঢ়তা, বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও দূরদৃষ্টির অধিকারী)

(তিনি সেই ব্যক্তি যিনি প্রাচীনকাল থেকেই সমকালীন সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন … কতই না উত্তম আহমাদ, যাঁর নাম আহমাদ এবং যাঁর জীবনচরিত ছিল অতি প্রশংসনীয়)

(তিনি ছিলেন সেই সম্মানিত কাফেলার শেষ অধ্যায় এবং এমন এক ব্যক্তিত্ব … যাঁকে নিয়ে দামেস্ক সুবেহ সাদিকের নক্ষত্রের ন্যায় গর্বিত হয়)

(তিনি শাফিয়ি ফিকহ শাস্ত্রে পাহাড়ের ন্যায় সুদৃঢ় ছিলেন … আহ! তিনি কতই না প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন)

(আর হাদিস শাস্ত্রে তিনি ছিলেন অতল সমুদ্র … ইমাম বুখারি থেকে বর্ণনা করার সময় তিনি ছিলেন বিন্দুমাত্র সংশয়হীন)

(আপনি তাঁকে পাঠদানের মজলিসে অন্ধকারের পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় দেখতে পেতেন … যাঁর চারপাশে মুক্তা অন্বেষী ছাত্ররা নক্ষত্রের ন্যায় ঘিরে থাকত)

(হে এই যুগের শায়খ! আপনি আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন … যখন থেকে আপনি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন, এখন কেবল আপনার স্মৃতিই অবশিষ্ট রইল)

(আপনি উচ্চাকাশে এক উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ ছিলেন … অতঃপর আপনি সেই পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় অদৃশ্য হয়ে গেছেন যা মাসের শেষে বিলীন হয়)

(হে প্রস্থানকারী! যাঁর কীর্তিসমূহ জমিনে অবশিষ্ট রয়েছে … যা দ্বিপ্রহরের সূর্যের ন্যায় দেদীপ্যমান)

(আপনার বিদায়ের দিনে আপনি আমাদের অশ্রুর মেঘমালা প্রবাহিত করেছেন … তাই আমাদের চোখে কেবল অবিরাম অশ্রুধারাই পরিলক্ষিত হয়)

(মৃত্যু ও দুশ্চিন্তার পানপাত্র আবর্তিত হয়েছে আমাদের … হৃদয়ের ওপর, যখন আপনি দ্রুত প্রস্থানের পথে যাত্রা করেছেন)

(আপনার বিচ্ছেদে এই অন্তর দুশ্চিন্তা ও শোকে নিমজ্জিত … এবং আপনার পরবর্তী জীবন কোনো উল্লেখযোগ্য জীবন নয়)

(আপনার প্রতি অনুরাগ প্রজ্জ্বলিত এবং ধৈর্য পরাজিত … অশ্রু অবিরাম এবং চক্ষু নিদ্রাহীন)

(প্রশস্ত জামে মসজিদ শোকে ক্রন্দনরত অবস্থায় উপনীত হয়েছে … সে বলছে, হায় আফসোস! আমার চাঁদ তো বিলীন হয়ে গেছে)

(আপনি নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে সর্বদা আনন্দে থাকুন … যতক্ষণ আমার হৃদয় আপনার বিরহ ব্যথায় অগ্নিশিখায় দগ্ধ হতে থাকে)

(আপনার সন্তান আপনার গৌরবের সাথে দীর্ঘজীবী হোক … আপনি যে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান লাভ করেছেন তা সহকারে)

(যিনি তাঁর সমসাময়িক সকলকে পুরোপুরিভাবে চারটি গুণে ছাড়িয়ে গিয়েছেন … জ্ঞান, সহনশীলতা, তাওফিক ও সফলতা)

(তিনি যেন সর্বদা চারটি বিষয়ের আশ্রয়ে সংরক্ষিত থাকেন … তূর, নূর, ফুরকান এবং যুমার)

(তাঁর প্রতিপালক যেন তাঁকে চারটি অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন … উদ্বেগ, বিষাদ, আবিলতা ও বিপদ)

(হে মহৎ ব্যক্তি যাঁর উৎস ও বেড়ে ওঠা অত্যন্ত পবিত্র … আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ধৈর্য ধারণ করুন)

(এই জগত হলো দুশ্চিন্তার আলয় যেখানে কোনো স্বচ্ছতা নেই … আর সবকিছুই কালক্রমে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায়)

(আল্লাহর কসম! আপনার ওপর নেমে আসা এই বিপদ আমাদের জন্য অসহনীয় … আমাদের অন্তর এতে উদ্বেগ ও মলিনতায় আচ্ছন্ন)

(যদি কোনো মৃত ব্যক্তির প্রাণ ফেরাতে মুক্তিপণ কার্যকর হতো, তবে আমি ব্যয় করতাম … সম্পদ এবং প্রাণ, যা মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান)

(সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আপনার পিতার ইন্তেকালের তারিখ এই পংক্তিতে নিহিত … 'তিনি আল্লাহর রহমতে স্থান করে নিয়েছেন', যা চিন্তার হিল্লোল জাগানিয়া)
(খণ্ড: ১) ইনতিখাবুল আউয়ালী ওয়াশ-শুয়ূখিল আখইয়ার মিন ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ৪৭)
(عَلَيْهِ رَحْمَة رَبِّي دَائِما وكسي … من سندس الْعَفو ثوبا مدهش الْبَصَر)

(واصبر تفز فالتأسي لَائِق بوفاة … أشرف الْخلق من بَدو وَمن حضر)

(صلى عَلَيْهِ إلهي دَائِما أبدا … مَا مَالَتْ الشَّمْس فِي الآصال وَالْبكْر)

(أَو فاح نشر بمسك كَانَ مختتما … أَو ناح طير على خوط من الشّجر)

تمت بعون الله وَحسن توفيقه نَهَار الْإِثْنَيْنِ لثمان وَعشْرين خلت من ذِي الْحجَّة الَّذِي هُوَ من شهور سنة 1218 هـ على يَد كاتبها أفقر المحتاجين لرحمة أرْحم الرَّاحِمِينَ مُحَمَّد أَمِين بن عمر عابدين غفر الله لَهُ ولوالديه ولمشايخه وَلِجَمِيعِ الْمُسلمين أَجْمَعِينَ آمين وَصلى الله تَعَالَى على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ
(তাঁর ওপর সর্বদা আমার রবের রহমত বর্ষিত হোক এবং তিনি পরিহিত হোন … ক্ষমার রেশমি পোশাকে যা দৃষ্টিকে বিস্ময়াভিভূত করে)

(ধৈর্য ধারণ করো, তুমি সফল হবে; কেননা বিরহ-শোক সয়ে নেওয়া শোভনীয় … মরুবাসী ও নগরবাসী সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ সত্তার ইন্তেকালে)

(আমার ইলাহ তাঁর ওপর সর্বদা ও চিরকাল রহমত বর্ষণ করুন … যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য অপরাহ্ণে ও প্রভাতে হেলে পড়ে)

(অথবা যতক্ষণ কস্তুরীর সুবাস সুগন্ধি ছড়িয়ে সমাপ্ত হয় … অথবা কোনো পাখি বৃক্ষশাখার ওপর ক্রন্দন করে)

আল্লাহর সাহায্য ও উত্তম তাওফিকে ১২১৮ হিজরী সনের জিলহজ মাসের আটাশ তারিখ সোমবার দিন এটি সমাপ্ত হলো। এর লেখকের হাতে, যিনি পরম দয়ালু আল্লাহর রহমতের অত্যন্ত মুখাপেক্ষী ও দরিদ্র, মুহাম্মাদ আমিন বিন উমর আবিদিন—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর উস্তাদগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। আমিন। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।