(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: -)
مشيخة ابن شاذان الصغرى   (ابن شاذان، الحسن بن أحمد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مشيخة ابن شاذان الصغرى

المؤلف: الحسن بن أحمد بن إبراهيم بن الحسن ابن محمد بن شاذان، أبو علي البَزَّاز (ت 425هـ)

المحقق: عصام موسى هادي

الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية - المدينة المنورة- السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ- 1998هـ

عدد الصفحات: 54

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে শাযানের ছোট মাশয়াখাহ   (ইবনে শাযান, আল-হাসান বিন আহমাদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে শাযানের ছোট মাশয়াখাহ

লেখক: আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন শাযান, আবু আলী আল-বাযযার (মৃত্যু ৪২৫ হিজরি)

গবেষক: ইসাম মুসা হাদি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরাবা আল-আসারিয়্যাহ - মদিনা মুনাওয়ারাহ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الأَجَلُّ أبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الله بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُثْمَانِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمِصْرَ قَدِمَ عَلَيْنَا أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الأَوْحَدُ: أبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ الْحَافِظُ، قِرَاءةً عَلَيْهِ بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِ مِئَةٍ، أَخْبَرَنَا الشُّيُوخُ أبُو سَعْدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَاشِمِي الفانيذي، وَأَبُو مُسلم عبد الرَّحْمَن ابْن عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّمْنَانِيُّ الْحَنَفِيُّ وَأبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَبْدِ الْقَاهِرِ الأَسَدِيُّ، وَأبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْقَاسِمِ الأَزْدِيُّ بِبَغْدَادَ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا أبُو عَلِيٍّ الْحَسَنْ بْنُ أَحْمَدَ ابْن إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ بْن مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّاز:

1 - أَخْبَرَنَا أبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ الدَّقَّاقُ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ الْمُنَادِي: نَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ: نَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأبي كَعْب: " إِن الله تَعَالَى أَمرنِي أَن أَقْرَائِك الْقُرْآنَ أَوْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ قَالَ: اللهُ سَمَّانِي لَكَ؟ قَالَ: [نَعَمْ] ، قَالَ: وَقَدُ ذُكِرْتُ عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ ". أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنِ ابْنِ الْمُنَادِي.

2 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ إِسْحَاق بن عَبدة بن الرّبيع ابْن صُبْحٍ الْعَبَّادَانِيُّ: نَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ: نَا سُفْيَان - يَعْنِي ابْن عُيَيْنَة - عَن
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

অত্যন্ত সম্মানিত শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-উসমানী মিশরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন; (তিনি বলেছেন) অদ্বিতীয় শাইখ হাফেজ আবু তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ৫৭৪ হিজরি সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে; (তিনি বলেছেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখগণ: আবু সা’দ আল-হুসাইন ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী আল-হাশিমী আল-ফানিযী, আবু মুসলিম আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে আব্দুর রহমান আস-সামনানি আল-হানাফি, আবু সা’দ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল কাহির আল-আসাদি এবং বাগদাদে আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ ইবনুল কাসিম আল-আযদী; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান আল-বাযযার:

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আদ-দাক্কাক: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মুনাদী: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনে উবাদাহ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উবাই ইবনে কা’বকে বললেন: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাতে অথবা তোমার নিকট কুরআন তিলাওয়াত করতে।” উবাই জিজ্ঞেস করলেন: “আল্লাহ কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন?” নবীজি বললেন: “[হ্যাঁ]।” উবাই বললেন: “রাব্বুল আলামীনের নিকট কি আমার আলোচনা হয়েছে?” নবীজি বললেন: “হ্যাঁ।” তখন উবাইয়ের দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। ইমাম বুখারী এটি ইবনুল মুনাদী থেকে বর্ণনা করেছেন।

২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আইয়ুব ইবনে ইসহাক ইবনে আবদাহ ইবনুর রাবী’ ইবনে সুবহ আল-আব্বাদানি: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হারব আত-তাঈ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান - অর্থাৎ ইবনে উয়ায়নাহ - তিনি থেকে...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌مشيخة ابْن شَاذان الصُّغْرَى
ইবনে শাযানের ক্ষুদ্র মাশয়াখাহ
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ١٦)
هِشَام بن عمروة عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو ح قَالَ عَلِيٌّ وَنَا وَكِيعٌ نَا هِشَامُ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِنَّ اللهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعَاً يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ وَلِكَنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبض الْعلمَاء فَإِذا لم يبْق عَالم اتَّخَذَ النَّاسَ رُؤُوسَاً جُهَّالاً فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا) // أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَهَ وَعَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبِي خَيْثَمَةَ عَنْ وَكِيعٍ //

3 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ إِسْرَائِيلَ بْنِ يُونُسَ الْفَقِيهُ النَّجَّادُ قَالَ قُرِىءَ عَلَي أَبِي قِلابَةَ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيِّ وَأَنا أسمع نَا يحيى ابْن كَثِيْرٍ نَا شُعْبَةُ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِذا دخل الْعشْر وَأَرَادَ أحدكُم أَنْ يُضَحِيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ) // أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ حَجَّاجِ بْنِ الشَّاعِرِ عَنْ يَحْيَى هَكَذَا //

4 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِيسَى بْنِ زَيْدٍ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ مَاتِي الْكُوفِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عبد الله الْعَبْسِي الْقصار أخبرنَا وَكِيع ابْن الْجَرَّاحِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (يُدْعَى نُوحٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قيقال لهُ هَلْ بَلَّغْتَ فَيَقُولُ نَعَمْ فَيُدْعَى قَوْمُهُ فَيُقَالُ لَهُمْ هَلْ بَلَّغَكُمْ فَيَقُولُونَ مَا أَتَانَا مِنْ نَذِيرٍ وَمَا أَتَانَا مِنْ أَحَدٍ قَالَ فيقَالَ لِنُوحٍ مَنْ يَشْهَدُ
হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। (শৃঙ্খল পরিবর্তন) আলী বলেছেন: আমাদের কাছে ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম (জ্ঞান) কবজ করবেন না, বরং তিনি আলেমদের কবজ করার (মৃত্যুর) মাধ্যমে ইলম কবজ করবেন। অতঃপর যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের কাছে ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর থেকে, তিনি ইবনে উয়াইনাহ থেকে এবং আবু বকর ইবনে আবি শাইবা ও আবু খাইসামাহ থেকে, তারা ওয়াকি থেকে।

3 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে সালমান ইবনুল হাসান ইবনে ইসরাঈল ইবনে ইউনুস আল-ফকিহ আন-নাজ্জাদ, তিনি বলেন: আবু কিলাবাহ আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আর-রাকাশি-এর সামনে (হাদিসটি) পড়া হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর, তিনি বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি আমর ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন প্রবেশ করে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে শায়ির থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, এভাবেই।

4 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ঈসা ইবনে যাইদ, যিনি ইবনে মাতি আল-কুফি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের কাছে এসেছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আবসি আল-কাসসার। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন নূহকে ডাকা হবে এবং তাকে বলা হবে: আপনি কি পৌঁছে দিয়েছেন? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। অতঃপর তার কওমকে ডাকা হবে এবং তাদের বলা হবে: তিনি কি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? তারা বলবে: আমাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি এবং আমাদের কাছে কেউ আসেনি। তিনি (রাসূল) বলেন: অতঃপর নূহকে বলা হবে: কে সাক্ষ্য দেবে?"
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ١٧)
لَكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ قَالَ فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطَاً} قَالَ وَالْوسط الْعدْل) الْبَقَرَة 143

5 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ نَجِيحٍ الْحَافِظُ مِنْ لَفْظِهِ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ النَّحْوِيُّ أبُو عَبْدِ اللهِ نَا أبُو عَاصِمٍ عَنْ أَبِي الْهِنْدِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ أُتِيَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِطَائِرٍ فَقَالَ (اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُهُ مَعِي فَجَاءَ عَلِيٌّ فَحَجَبْتُهُ مَرَّتَيْنِ فَجَاءَ فِي الثَّالِثَةِ فَأَذِنْتُ لَهُ فَقَالَ يَا عَليّ مَا حَسبك قَالَ هَذِهِ ثَلاثُ مَرَّاتٍ قَدْ جِئْتُهَا فَحَجَبَنِي أَنَسٌ قَالَ لِمَ يَا أَنَسٌ قَالَ سَمِعْتُ دَعْوَتَكَ يَا رَسُولَ اللهِ فَأَحْبَبْتُهُ أَنْ يَكُونَ رَجُلاً مِنْ قَوْمِي فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم (الرَّجُلُ يُحِبُّ قَوْمَهُ)

6 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرِ بْنِ الْقَاسِمِ الصُّوفِيُّ الْمَعْرُوفُ
তোমার জন্য, তখন মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মত বলবে। তিনি বললেন: আর এটিই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত করেছি} (সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৩)। তিনি বলেন: 'মধ্যপন্থী' অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণ।

৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস ইবনে নাজিহ আল-হাফিজ তাঁর নিজ শব্দে, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আন-নাহবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, তিনি আবু হিন্দী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি পাখি আনা হলো। তখন তিনি বললেন, (হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন, যিনি আমার সাথে এটি আহার করবেন)। এরপর আলী আসলেন, কিন্তু আমি তাঁকে দুইবার ফিরিয়ে দিলাম। তৃতীয়বার যখন তিনি আসলেন, আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আলী! কিসে তোমাকে আটকে রেখেছিল? তিনি বললেন, এই নিয়ে আমি তিনবার এসেছি, কিন্তু আনাস আমাকে বাধা দিয়েছিল। তিনি বললেন, হে আনাস! তুমি কেন এমন করলে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার দোয়া শুনেছিলাম, তাই আমি চেয়েছিলাম তিনি যেন আমার নিজ গোত্রের কোনো লোক হন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (মানুষ তার নিজ গোত্রকেই ভালোবাসে)।

৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুসায়ের ইবনুল কাসিম আস-সুফি, যিনি পরিচিত...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ١٨)
بِالْخُلْدِيِّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ الصَّائِغ نَا مُحَمَّد بْنُ بِشْرٍ التَّنِّيسِيُّ نَا الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم (بُعِثَ عَلَى رَأْسِ الأَرْبَعِينَ وَقُبِضَ عَلَى رَأْسِ السِّتِينَ وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَة بَيْضَاء صلى الله عليه وسلم

7 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الزَّبَيْرِ الْقُرَشِيُّ الْكُوفِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا نَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانٍ الْعَامِرِيُّ نَا جَعْفَرُ بن عون يَعْنِي الْعمريّ أَنا يحيى ابْن سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رضي الله عنه يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِىءٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَإِلَى رَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ) // أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ قُتَيْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ

8 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دَرَسْتُوَيْهِ النَّحْوِيُّ نَا أبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الفَسَوِيُّ نَا أبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى الْعَبْسِيُّ نَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ سَأَلْتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ فَقَالَ (إِيْمَانٌ بِاللهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ قُلْتُ فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ قَالَ أَغَلاهَا ثَمَنَاً وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا قَالَ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ قَالَ تُعِينُ صَانِعَاً أَوْ
আল-খুলদিতে আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আলী বিন জাইদ আস-সায়িগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন বিশর আত-তান্নীসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট রাবীআ বিন আবি আবদির রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট আনাস বিন মালিক বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রাপ্ত হন এবং ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, আর তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

৭ - আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আয-যুবাইর আল-কুরাশী আল-কূফী সংবাদ দিয়েছেন যখন তিনি আমাদের এখানে আগমন করেছিলেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আল-আমিরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জাফর বিন আউন অর্থাৎ আল-উমারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমী থেকে, তিনি আলকামা বিন ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে)। // এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন কুতাইবা থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে।

৮ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন দারাস্তাওয়াইহি আন-নাহবী খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আল-আবসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হিশাম বিন উরওয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু মুরাউয়িহ থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: (আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর পথে জিহাদ)। আমি বললাম, কোন গোলাম আজাদ করা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: (যার মূল্য সবচেয়ে বেশি এবং তার মালিকের নিকট যা সবচেয়ে প্রিয়)। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি যদি তা করতে না পারি? তিনি বললেন: (তবে তুমি কোনো কারিগরকে সাহায্য করবে অথবা...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ١٩)
تَصْنَعُ لأَخْرَقَ قَالَ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَفْعَلُ قَالَ تَدَعُ النَّاسَ مِنَ الشَّرِّ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقُ بِهَا عَلَى نَفْسِكَ) // أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ عبيد الله //

9 - أَخْبَرَنَا أبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي هَاشِمٍ الزَّاهِدُ اللُّغَوِيِّ صَاحِبِ ثَعْلَبٍ نَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ النَّرْسِيُّ نَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ نَا وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِنَّ اللهَ عز وجل يَضْحَكُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الآخَرَ كِلاهُمَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ رَجُلٌ يُقَاتِلُ فَيُقْتَلُ وَيُسْتَشْهَدُ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ ثُمَّ يَتُوبُ اللهُ تَعَالَى عَلَى قَاتِلِهِ فَيُسْلِمُ فَيُقَاتِلُ فِي سَبِيل الله عز وجل فَيقْتل فيستشهد فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ)

10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْن أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى الْعَطَشِيُّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الأدَمِيِّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ مَاهَانَ يُعْرَفُ بِزَنْبَقَةَ نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ نَا شُعْبَةُ عَنْ أَشْعَثِ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ يُحَدِّثُ عَنِ الْبَرَاءِ ابْن عَازِبٍ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعٍ وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ قَالَ فَذَكَرَ الَّذِي أَمَرَ بِهِ قَالَ (أَمَرَنَا بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَرَدِّ السَّلامِ وَإِجَابَةِ الدَّاعِي وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ وَنَهَانَا عَنْ خَاتِمِ الذَّهَبِ أَوْ حَلْقَةِ الذَّهَبِ وَعَنْ إِنَاءِ الْفِضَّةِ وَالْحَرِيرِ وَالدِّيباَجِ وَالإِسْتَبْرَقِ وَالْمِيثَرَةِ وَالْقَسِيِّ)
অক্ষম ব্যক্তিকে সাহায্য করা। তিনি বললেন, আমি বললাম, যদি আমি তা করতে না পারি? তিনি বললেন, তুমি মানুষকে অনিষ্ট করা থেকে বিরত থাকবে, কারণ এটি তোমার নিজের প্রতি তোমার পক্ষ থেকে একটি দান (সদকা)) // এটি বুখারী উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন //

৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবি হাশিম আজ-জাহিদ আল-লুগাভী যিনি ছালাব-এর সঙ্গী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আন-নারসি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ারকা ইবনে উমর, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এমন দুইজন ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে, অথচ তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। একজন আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং শহীদ হয়, ফলে জান্নাতে প্রবেশ করে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা হত্যাকারীর তাওবা কবুল করেন, ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং আল্লাহর পথে লড়াই করে শহীদ হয়, এরপর সেও জান্নাতে প্রবেশ করে।)

১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আতাশি যিনি ইবনুল আদামি নামে পরিচিত, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মাহান যিনি যানবাকা নামে পরিচিত, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বা, আশ'আস ইবনে আবুশ শা'সা থেকে, তিনি বলেন আমি মুয়াবিয়া ইবনে সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিনকে আল-বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি (বর্ণনাকারী) যা আদেশ করেছেন তা উল্লেখ করে বলেছেন, (তিনি আমাদের অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাজার পেছনে চলা, হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা এবং শপথকারীর শপথ পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদের স্বর্ণের আংটি বা স্বর্ণের বলয়, রুপার পাত্র, রেশম, দিবায, ইস্তাবরাক, মিাসারা এবং কাস্সী থেকে নিষেধ করেছেন।)
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
11 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الأدَمِيُّ الْقَارِئُ صَاحِبُ الأَلْحَانِ نَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْحَسَنِ الْهَاشِمِيُّ نَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى الأَشْيَبُ حَدَّثَنِي شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ السَّلْمَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ جَاءَ حَبْرٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَوْ يَا رَسُولَ اللهِ (إِنَّ للهَ عز وجل يَوْم الْقِيَامَة يَجْعَل السَّمَوَات على إِصْبَع والأرضينن عَلَى إِصْبَعٍ وَالْجِبَال وَالشَّجر عَلَى إِصْبَعٍ وَالْمَاءُ وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعٍ وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى إِصْبَعٍ ثُمَّ يَهُزُّهُنَّ فَيَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ قَالَ فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ تَصْدِيقَاً لِقَوْلِ الْحَبْرِ قَالَ {وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعَاً قَبْضَتُهُ يَوْم الْقِيَامَة} الآيه الزمر 67

12 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُكْرَمُ بْنُ أَحْمَد بْن مُحَمَّدِ بْنِ مُكْرَمٍ الْبَزَّازُ الْقَاضِي نَا أبُو الْحسن عَليّ ابْن الْحَسَنِ الْخَزَّازُ نَا شَاذَانُ الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ أَنا شُعْبَة عَن يحيى ابْن سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم (صَلَّى عَلَى الْمَنْفُوسِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ) تَفَرَّدَ بِرَفْعِهِ شَاذَانُ عَنْ شُعْبَة
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-আদামি আল-ক্বারি সাহেব আল-আলহান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাসান আল-হাশেমি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান ইবনে আবদুর রহমান, মানসুর ইবনে আল-মুতামির থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবিদাহ আস-সালমানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একজন পণ্ডিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ অথবা হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পাহাড় ও বৃক্ষরাজিকে একটি আঙুলের ওপর, পানি ও মাটিকে একটি আঙুলের ওপর এবং অবশিষ্ট সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন। অতঃপর তিনি সেগুলোকে নাড়া দেবেন এবং বলবেন: আমিই রাজা। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পণ্ডিতের কথার সত্যায়ন স্বরূপ এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল। তিনি পাঠ করলেন: {তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি, অথচ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর মুষ্ঠিতে} [সূরা যুমার: ৬৭]।

১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুকরাম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুকরাম আল-বাজ্জার আল-কাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলি ইবনে আল-হাসান আল-খাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাযান আল-আসওয়াদ ইবনে আমির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নবজাতক শিশুর জানাযার নামাজ পড়লেন, অতঃপর বললেন: হে আল্লাহ, তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। শু’বাহ থেকে শাযান এককভাবে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢١)
13 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ كَامِلِ بْنِ خلف بن شَجَرَة بن مَنْصُور ابْن كَعْبِ بْنِ يَزِيدَ الْقَاضِي نَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ الْعَوْفِيُّ نَا يَعْقُوبُ بن إِبْرَاهِيم بْنِ سعد ابْن إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن ابْن عَوْف الزُّهْرِيّ سنة خمس ومئتين نَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمِّهِ حَدَّثَنِي أبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَسَيَرَانِي فِي الْيَقَظَةِ أَوْ كَمَا رَآنِي فِي الْيَقَظَةِ لَا يَتَمَثَّلُ الشَّيْطَانُ بِي) قَالَ فَقَالَ أبُو سَلَمَةَ قَالَ أبُو قَتَادَةَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم (مَنْ رَآنِي فَقَدْ رَأَى الْحَقَّ) // أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي خَيْثَمَةُ عَنْ يَعْقُوبَ //

14 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَارِثِ الدَّهْقَانُ نَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ نَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ نَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّد بْنِ يحيى ابْن حَبَّانَ عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ صَلاةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ (الله أكبر كلما رفع ثُمَّ يَقُولُ السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ عَنْ يَمِينِهِ السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ عَنْ يَسَارِهِ)

15 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ إِسْحَاقَ بن إِبْرَاهِيم بن عبد الْعَزِيز ابْن
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে কামিল ইবনে খালাফ ইবনে শাজারা ইবনে মানসুর ইবনে কাব ইবনে ইয়াজিদ আল-কাদি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ আল-আউফি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আজ-জুহরি দুইশত পাঁচ হিজরি সনে, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে শিহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র তাঁর চাচার সূত্রে, তিনি বলেন আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখেছে, সে শীঘ্রই আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থাতেই দেখল; শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না)। তিনি (আবু সালামাহ) বলেন, আবু কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে, সে সত্যই দেখেছে)। // এটি ইমাম মুসলিম আবু খাইসামা থেকে, তিনি ইয়াকুব থেকে বর্ণনা করেছেন। //

১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে ফজল ইবনে হারিস আদ-দেহকান, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে জুরাইজ, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে ইয়াহইয়া মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি ইবনে হাব্বান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি (ইবনে উমর) বললেন: (তিনি প্রতিবার উঠার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন, অতঃপর তাঁর ডান দিকে আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ এবং তাঁর বাম দিকে আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলতেন)।

১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الْمَرْزُبَانِ الْبَغَوِيُّ الْمُعَدِّلُ نَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ نَاصِحٍ أبُو جَعْفَرٍ النَّحْوِيُّ نَا أبُو أُسَامَةَ حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ نَا الأَعْمَشُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (يَقُولُ اللهُ عز وجل يَا ابْنَ آدَمَ اذْكُرْنِي مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ سَاعَةً وَمِنْ آخِرِ النَّهَارِ سَاعَةً أَغْفَرُ لَكَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ إِلَاّ الْكَبَائِرَ أَوْ تَتُوبَ مِنْهَا)

16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُكْرِمِ بْنِ حَسَّانٍ الْمَعْرُوفُ بِالطُّسْتِيِّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْمَعْرُوفُ بِأَبِي الْعَيْنَاءِ نَا أبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (اطلع قوم من أهل الْجنَّة على قوم من أهل النَّار فَقَالُوا بِمَ دَخَلْتُمُ النَّارَ وَإِنَّمَا دَخَلْنَا الْجَنَّهَ بِتَعْلِيمِكُمْ قَالُوا إِنَّا كُنَّا نَأْمُرُكُمْ وَلا نَفْعَلُ) // غَرِيبٌ تَفَرَّدَ بِهِ أبُو الْعَيْنَاءِ عَنِ أَبِي عَاصِمٍ //

17 - أَخْبَرَنَا أبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرَوَيْهِ الصَّفَّارُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ عَلَمٍ نَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ نَا حَسَنُ بنُ مُوسَى نَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (مَنْ تَرَكَ الْعَصْر
আল-মারজুবান আল-বাগাভী আল-মুআদ্দিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন উবাইদ বিন নাসিহ আবু জাফর আন-নাহবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ হাম্মাদ বিন উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দিনের শুরুতে এক মুহূর্ত আমাকে স্মরণ করো এবং দিনের শেষে এক মুহূর্ত আমাকে স্মরণ করো, তবে আমি তোমার এর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব, কবিরা গুনাহসমূহ ব্যতীত অথবা যদি তুমি তা থেকে তওবা করো।)

১৬ - আবু আল-হুসাইন আবদুস সামাদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুকরিম বিন হাসান, আল-তুস্তি নামে পরিচিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আবু আল-আইনা নামে পরিচিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু আল-জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (জান্নাতবাসীদের একদল লোক জাহান্নামবাসীদের একদলের প্রতি উঁকি দিয়ে দেখবে এবং বলবে, তোমরা কিসের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করলে? অথচ আমরা তোমাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই জান্নাতে প্রবেশ করেছি। তারা বলবে, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দিতাম কিন্তু নিজেরা তা করতাম না।) // এটি একটি গারীব হাদিস, আবু আসিম থেকে আবু আল-আইনা এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। //

১৭ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আমরওয়াইহ আস-সাফফার, ইবনে আলাম নামে পরিচিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাইবান ইয়াহইয়া থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি (যে ব্যক্তি আসরের নামাজ বর্জন করল...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
حَتَّى تفوته فَكَأَنَّمَا وتر أَهله وَمَاله يَعْنِي غُلِبَ عَلَى أَهْلِهِ وَمَالِهِ)

18 - أَخْبَرَنَا أبُو سَهْلٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ الْمَتُوثِيُّ نَا أبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ التَّمْتَامُ نَا غَسَّانُ بْنُ مَالِكٍ السُّلَمِيُّ نَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بن زِيَاد نَا كُلَيْب ابْن وَائِلٍ حَدَّثَتْنَا رَبِيبَةُ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وَلا أَعْلَمُهَا إِلَاّ زَيْنَبَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم (نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ) قَالَتْ وَأُرَاهُ ذَكَرَ النَّقِيرَ قُلْتُ لَهَا أَخْبِرِينِي عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ كَانَ قَالَتْ كَانَ مِنَ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ // أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ مُوسَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ وَهُوَ حَدِيثٌ عَزِيزٌ فَرْدٌ

19 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الشَّافِعِيُّ نَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّازِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْقَصَبِيُّ نَا عَبْدُ الْوَارِثِ نَا قَطَنٌ أَبُو الْهَيْثَمِ حَدَّثَنِي أَبُو يَزِيدَ الْمَدَنِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّ أَوَّلَ قَسَامَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لفينا بني هَاشم خرج رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ مَعَ رَجُلٍ مِنْ قُرَيْش من فَخذ آخر فِي إِبِلِهِ فَنَزَلُوا مَنْزِلاً فَعَقَلَ الْهَاشِمِيُّ إِبِلَ الْقرشِي فَمر بِهِ رجل مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَقَالَ يَا أَبَا فُلانٍ أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي لَا تنفر عَليّ الْإِبِل قَالَ فَأَعْطَاهُ عِقَالَ جَمَلٍ مِنْهَا فَجَاءَ الْقُرَشِيُّ فَنَظَرَ إِلَى إِبِلِهِ فَقَالَ أيْنُ عِقَالُ هَذَا الْجَمَلِ قَالَ مَرَّ بِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَقَالَ أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ
...পর্যন্ত যে তার তা ছুটে গেল, তবে যেন সে তার পরিবার এবং সম্পদ হারালো। অর্থাৎ, তার পরিবার ও সম্পদের ব্যাপারে সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।)

১৮ - আমাদের জানিয়েছেন আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদ আল-কাত্তান আল-মাতুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন গালিব বিন হারব আত-তামতাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন গাসসান বিন মালিক আস-সুলামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুলাইব ইবনে ওয়াইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালিতা কন্যা—আমি তাকে যয়নাব ছাড়া অন্য কেউ বলে জানি না—যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দুব্বা এবং হানতাম নামক পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন)। তিনি বলেন, আমার মনে হয় তিনি নাক্বীর-এর কথাও উল্লেখ করেছিলেন। আমি তাকে বললাম, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ পরিচয় সম্পর্কে জানান যে তিনি কাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? তিনি বললেন, তিনি ছিলেন নযর বিন কিনানার বংশধর। // এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন মূসা বিন ইসমাঈল থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ থেকে। এটি একটি আযীয ও একক (ফারদ) হাদীস।

১৯ - আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহীম বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সলিহ বিন মুহাম্মাদ আর-রাযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উমর আল-কাসাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ক্বাতান আবু হাইসাম, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াযীদ আল-মাদানী, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জাহেলিয়াত যুগে সর্বপ্রথম 'কাসামাহ' (রক্তপণ সংক্রান্ত শপথ) আমাদের বনী হাশিম গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। বনী হাশিমের এক ব্যক্তি কুরাইশের অন্য এক শাখার এক ব্যক্তির সাথে তার উটগুলো নিয়ে বেরিয়েছিল। তারা এক জায়গায় অবতরণ করলে হাশিমী ব্যক্তিটি কুরাইশী ব্যক্তির উটগুলো বেঁধে রাখল। তখন বনী হাশিমের এক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: হে অমুকের পিতা, আমাকে একটি উট বাঁধার রশি দিয়ে সাহায্য করুন যাতে আমি আমার মালপত্রের থলেটি শক্ত করে বাঁধতে পারি এবং উটগুলো আমার ওপর তেড়ে না আসে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি তাকে সেই উটগুলোর একটির রশি দিয়ে দিলেন। এরপর কুরাইশী লোকটি ফিরে এসে তার উটগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল: এই উটের রশিটি কোথায়? তিনি বললেন: বনী হাশিমের এক ব্যক্তি আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: আমাকে একটি রশি দিয়ে সাহায্য করুন যাতে আমি আমার থলের মুখটি বাঁধতে পারি...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
جُوَالِقِي لَا تَنْفِرُ عَلِيَّ الإِبِلُ فَأَعْطَيْتُهُ عِقَالَهُ قَالَ فحذه بِعَصَاً كَانَتْ فِيهَا نَفْسُهُ فَلَمَّا أَحَسَّ بِالْمَوْتِ قَالَ لِرَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ أَتُوَافِي الْمَوْسِمَ قَالَ مَا أريدُ أَنْ أَفِيهِ الْعَامَ وَرُبَّمَا وَافِيتُ قَابَلَ قَالَ فَهَلْ أَنْتَ مُبْلِغٌ عَنِّي إِنْ وَافِيْتَ الْمَوْسِمَ رِسَالَةً قَالَ نَعَمْ قَالَ إِذَا وَافِيْتَ الْمَوْسِمَ وَصِرْتَ بِمِنَىً فَنَادِ يَا آلَ قُرَيْشٍ فَإِذَا أَجَابُوكَ فَنَادِ يَا آلَ هَاشِمٍ فَإِذَا أَجَابُوكَ فَسَلْ عَنْ أَبِي طَالِبٍ فَأَخْبِرْهُ أَنَّ فُلانَاً قَتَلَنِي بِعَصَاً فِي عِقَالٍ قَالَ فَلَمْ يُوَافِ الرَّجُلُ الْيَمَانِيُّ الْمَوْسِمَ ذَلِكَ الْعَامَ وَقَدِمَ الْقُرَشِيُّ فَلَقِيَهُ أبُو طَالِبٍ فَقَالَ مَا فَعَلَ صَاحِبُنَا قَالَ مَرِضَ فَأَحْسَنْتُ الْقِيَامَ عَلَيْهِ ثُمَّ مَاتَ فَوَلِيتُ دَفْنَهُ وَأَحْسَنْتُ الْقِيَامَ فِي أَمْرِهِ فَقَالَ أبُو طَالِبٍ كَانَ أَهْلَ ذَلِك مِنْكُمْ قَالَ ثُمَّ دَخَلَ الْيَمَانِيُّ وَوَافَى الْمَوْسِمَ فَلَمَّا صَارَ بِمِنَىً نَادَى يَا آلَ قُرَيْشٍ فَجَاءَهُ رِجَالٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالُوا هَذِهِ قُرَيْشٌ فَمَا حَاجَتُكَ قَالَ يَا آلَ هَاشِمٍ فَجَاءَهُ رِجَالٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَقَالُوا هَذِهِ بَنُو هَاشِمٍ فَمَا حَاجَتُكَ قَالَ أُرِيدُ أبَا طَالِبٍ فَقَالُوا هَذَا أبُو طَالِبٍ فَقَالَ أَمَرَنِي فُلانٌ أبلغك أَنَّ فُلانَاً قَتَلَهُ بِعَصَاً فِي عِقَالٍ قَالَ فَلَقِيَ أبُو طَالِبٍ الْقُرَشِيَّ فَقَالَ قَتَلْتَ صَاحِبَنَا خطاء بِعَصَاً اخْتَرْ مِنَّا إِحْدَى ثَلاثٍ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنَا مئة مِنَ الإِبِلِ دِيَّتَهُ فَإِنْ أَبَيْتَ فَأَحْضِرْ خَمْسِينَ رَجُلاً مِنْ قَوْمِكَ يَحْلِفُونَ أَنَّكَ لَمْ تَقْتُلْ صَاحِبَنَا وَإِنَّكَ بَرِيءٌ مِنْ قَتْلِهِ وَإِلَاّ قَتَلْنَاكَ بِهِ فَأَرْسَلَ الْقُرَشِيُّ إِلَى قَوْمِهِ أَنَّ أَبَا طَالِبٍ قَدْ أَخَذَنِي بِفُلانٍ فَعَرَضَ عَلِيَّ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَجَاءَ قَوْمُهُ فَقَالُوا نَحْلِفُ قَالَ وَجَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ إِلَى أَبِي طَالِبٍ كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ فِيهِمْ وَكَانَ لَهُ مِنْهَا ابْنٌ فَقَالَتْ يَا أَبَا طَالِبٍ إِنَّمَا نَصِيبُ كُلِّ رَجُلٍ بَعِيرَانِ فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُجِيزَ ابْنِي بَعِيرَيْنِ وَلا تُصْبِرْ بِيَمِينِ صَاحِبِنَا فِيمَا تُصْبَرُ مِنَ الأَيْمَانِ قَالَ ذَاكَ لَكِ قَالَ وَجَاءَهُ رَجُلٌ مِنَ الْقَْوِم بِبَعِيرَيْنِ فَقَالَ يَا أَبَا طَالِبٍ إِنَّمَا نَصِيبُ كُلِّ رَجُلٍ بعيران هَذَا بعيران

আমার বস্তাটি (বাঁধার প্রয়োজন), যাতে উটগুলো আমার অবাধ্য হয়ে পালিয়ে না যায়। এরপর আমি তাকে তার উটের রশিটি দিয়ে দিলাম। সে বলল, এরপর সে তাকে একটি লাঠি দিয়ে আঘাত করল যাতে তার মৃত্যু হলো। যখন সে মৃত্যু আসন্ন অনুভব করল, তখন সে ইয়ামেনবাসীদের জনৈক ব্যক্তিকে বলল, তুমি কি হজের মৌসুমে উপস্থিত হবে? সে বলল, এ বছর আমার উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা নেই, তবে সম্ভবত আগামী বছর উপস্থিত হব। সে বলল, তুমি যদি হজের মৌসুমে উপস্থিত হও তবে কি আমার পক্ষ থেকে একটি বার্তা পৌঁছে দেবে? সে বলল, হ্যাঁ। সে বলল, যখন তুমি হজের মৌসুমে উপস্থিত হবে এবং মিনায় পৌঁছাবে, তখন উচ্চস্বরে ডাকবে, 'হে কুরাইশ বংশের লোকেরা!' যখন তারা সাড়া দেবে, তখন ডাকবে, 'হে হাশেম বংশের লোকেরা!' তারা সাড়া দিলে তুমি আবু তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে এবং তাকে সংবাদ দেবে যে, অমুক ব্যক্তি আমাকে একটি উটের রশির কারণে লাঠি দিয়ে হত্যা করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, সেই বছর ইয়ামেনী লোকটি হজের মৌসুমে উপস্থিত হতে পারেনি। আর কুরাইশী লোকটি ফিরে এল। তখন আবু তালিব তার সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, 'আমাদের সাথীর কী হয়েছে?' সে বলল, সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং আমি তার উত্তম সেবা-শুশ্রূষা করেছি। এরপর সে মারা গেল এবং আমি তার দাফন সম্পন্ন করেছি ও তার যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেছি। আবু তালিব বললেন, তোমাদের থেকে এরূপ আচরণই প্রত্যাশিত ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ইয়ামেনী লোকটি হজের মৌসুমে উপস্থিত হলো। যখন সে মিনায় পৌঁছাল, তখন সে উচ্চস্বরে ডাক দিল, 'হে কুরাইশ বংশের লোকেরা!' তখন কুরাইশ বংশের কিছু লোক তার কাছে এল এবং বলল, 'এই তো কুরাইশরা, তোমার কী প্রয়োজন?' সে বলল, 'হে হাশেম বংশের লোকেরা!' তখন বনু হাশেমের কিছু লোক তার কাছে এল এবং বলল, 'এই তো বনু হাশেমরা, তোমার কী প্রয়োজন?' সে বলল, আমি আবু তালিবকে খুঁজছি। তারা বলল, 'এই তো আবু তালিব।' সে বলল, 'অমুক ব্যক্তি আমাকে নির্দেশ দিয়েছে আপনাকে সংবাদ দিতে যে, অমুক ব্যক্তি তাকে একটি উটের রশির কারণে লাঠি দিয়ে হত্যা করেছে।' বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবু তালিব সেই কুরাইশ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন, 'তুমি ভুলবশত লাঠি দিয়ে আমাদের সাথীকে হত্যা করেছ। এখন আমাদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রস্তাবের যেকোনো একটি গ্রহণ করো: যদি তুমি চাও তবে তার রক্তপণ হিসেবে আমাদের একশটি উট প্রদান করো। আর যদি তা অস্বীকার করো তবে তোমার গোত্রের পঞ্চাশজন লোককে উপস্থিত করো যারা শপথ করবে যে, তুমি আমাদের সাথীকে হত্যা করোনি এবং তুমি তার হত্যাকাণ্ডে নির্দোষ। অন্যথায় আমরা এর বিনিময়ে তোমাকে হত্যা করব।' তখন কুরাইশী লোকটি তার গোত্রের লোকদের কাছে সংবাদ পাঠাল যে, আবু তালিব আমাকে অমুক ব্যক্তির হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং আমার সামনে এই এই প্রস্তাব রেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তার গোত্রের লোকেরা এসে বলল, আমরা শপথ করব। বর্ণনাকারী বলেন, এমতাবস্থায় বনু হাশেমের এক নারী আবু তালিবের কাছে এলেন, যিনি তাদের (কুরাইশদের) একজনের স্ত্রী ছিলেন এবং তার গর্ভে সেই ব্যক্তির একটি পুত্র সন্তান ছিল। তিনি বললেন, হে আবু তালিব! রক্তপণের হিসাবে প্রত্যেক ব্যক্তির ভাগে দুটি করে উট পড়ে। আপনি যদি আমার পুত্রের পক্ষ থেকে দুটি উট কবুল করেন এবং যেখানে শপথ গ্রহণ করানো হয় সেখানে তাকে শপথ করা থেকে অব্যাহতি দেন তবে ভালো হয়। আবু তালিব বললেন, তোমার জন্য তাই করা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সেই গোত্রের জনৈক ব্যক্তি দুটি উট নিয়ে তার কাছে এল এবং বলল, হে আবু তালিব! যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তির ভাগে দুটি করে উট পড়ে, তাই এই নিন দুটি উট।

(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فقبلهما مني وَلَا تصبر بيميني فِيمَا تُصْبَرُ مِنَ الأَيْمَانِ قَالَ فَقَبِلَهُمَا مِنْهُ قَالَ وَجَاءَ ثَمَانِيَةٌ وَأَرْبَعُونَ رَجُلاً مِنَ الْقَوْمِ فَحَلَفُوا لأَبِي طَالِبٍ بِاللهِ مَا قَتَلَ صَاحِبُنَا صَاحِبَكُمْ وَإِنَّهُ لَبَرِيءٌ مِنْ قَتْلِهِ قَالَ فَخَلا أبوُ طَالِبٍ سَبِيلَ الْقُرَشِيَّ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا حَالَ عَلَى الثَّمَانِيَةِ وَالأَرْبَعِينَ الَّذِينَ حَلَفُوا لأَبِي طَالِبٍ الْحَوْلَ وَفِيهِمْ عَيْنٌ تَطْرِفُ // أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ الْمِنْقَرِيِ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ سعيد التنوري //

20 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سِيمَا بْنِ عَبْدِ اللهِ الْمُجَبِّرُ نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَسَوِيُّ الْقَاضِي نَا مَكِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ نَا أبُو حَنِيفَةَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أُمِّ هَانِىءٍ أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ (وَضَعَ لأَمْتَهُ وَدَعَا بِمَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ ثُمَّ دَعَا بِثَوْبٍ وَاحِدٍ فَصَلَّى فِيهِ مُتَوَشِّحَاً)

21 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ إسْمَاعِيلَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْخَطْبِيِّ نَا مُحَمَّد ابْن عبيد الله ابْن مَرْزُوقٍ الْمَعْرُوفُ بِالْخَلَاّلِ الْقَاضِي نَا عَفَّانٌ نَا شُعْبَهُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ) // غَرِيبٌ تَفَرَّدَ بِرِوَايَتِهِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ عَفَّانَ //
তিনি বললেন: 'অতঃপর আপনি আমার পক্ষ থেকে ওই দুটি কবুল করে নিন এবং আমাকে সেই শপথ করতে বাধ্য করবেন না যা সচরাচর কসম হিসেবে করা হয়।' রাবী বলেন: অতঃপর তিনি তার থেকে ওই দুটি গ্রহণ করলেন। তিনি বলেন: অতঃপর সেই সম্প্রদায় থেকে আটচল্লিশজন লোক আসল এবং তারা আবু তালিবের নিকট আল্লাহর নামে শপথ করে বলল যে, আমাদের সাথী আপনাদের সাথীকে হত্যা করেনি এবং সে এই হত্যাকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ। রাবী বলেন: এরপর আবু তালিব সেই কুরাইশ ব্যক্তির পথ ছেড়ে দিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আবু তালিবের নিকট যারা শপথ করেছিল, সেই আটচল্লিশ ব্যক্তির ওপর এক বছর অতিক্রম হওয়ার আগেই তাদের মধ্যে চোখ পলক ফেলার মতো কেউ (বেঁচে) ছিল না। // এটি ইমাম বুখারী আবু মা’মার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আবিল হাজ্জাজ আল-মিনকারী থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ আত-তান্নুরী থেকে বর্ণনা করেছেন। //

২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আব্দুর রহমান ইবনে সিমা ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুজাব্বির, তিনি বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আল-ফাসাবী আল-কাজী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মাক্কী ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু হানিফা থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি উম্মে হানি (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন (তাঁর যুদ্ধের পোশাক রাখলেন এবং পানি চাইলেন, অতঃপর তা নিজের ওপর ঢাললেন। এরপর তিনি একটি মাত্র চাদর চাইলেন এবং তা শরীরে জড়িয়ে তাতে সালাত আদায় করলেন)।

২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে ইসমাইল আল-খাতবী, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে মারজুক থেকে, যিনি আল-খাল্লাল আল-কাজী নামে পরিচিত, তিনি বর্ণনা করেছেন আফফান থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন শু’বাহ ইবনে আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি (যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ)। // এটি একটি গরীব হাদিস, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ এটি আফফান থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। //
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
22 - أَخْبَرَنَا أبُو جَعْفَرٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عِيسَى بْنِ الْمَنْصُورِ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ بُرَيْةَ الْهَاشِمِيُّ خَطِيبُ جَامِعِ الْمَدِينَةِ نَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن يُوسُف ابْن عِيسَى الطَّبَّاعُ حَدَّثَنِي أبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى عَمِّي نَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْن دِينَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ الْوِلادَةِ)

23 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الْمَعْرُوف بالنَّقَّاشِ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ الْجُرْجَانِيُّ نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ نَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَت قَالَ رَسُول اله صلى الله عليه وسلم (أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنَ اللهِ إذَا كَانَ سَاجِدَاً)

24 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ مَيْمُونُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ الْحَسَنِ بن عَليّ بن سُلَيْمَان ابْن مَنْصُورٍ الْبَصْرِيُّ مَوْلَى مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ نَا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ الأَوْدِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ (قَالَ يَهُودِيٌّ لِعُمَرَ بْنِ الْخِطَّابِ لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ يَهُودٍ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {الْيَوْمَ}
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আব্দুল্লাহ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন ঈসা বিন আল-মানসূর, যিনি ইবনে বুরাইয়্যাহ আল-হাশিমী নামে পরিচিত এবং মদিনা জামে মসজিদের খতিব; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ ইবনে ঈসা আত-তাব্বা; আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আমার চাচা আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন ঈসা; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি সুলায়মান বিন ইয়াসার থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন (দুগ্ধপানের কারণে তা-ই হারাম হয় যা জন্মের কারণে হারাম হয়)

২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ, যিনি আন-নাক্কাশ নামে পরিচিত; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুর রাহীম বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-জুরজানী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার; তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন (বান্দা যখন সিজদারত থাকে তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়)

২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ মায়মুন বিন ইসহাক বিন আল-হাসান বিন আলী বিন সুলায়মান ইবনে মানসূর আল-বসরী, যিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর আযাদকৃত গোলাম; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইদরীস আল-আওদী; তিনি তার পিতা থেকে, তিনি কায়স বিন মুসলিম থেকে, তিনি তারিক বিন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন (একজন ইহুদি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলল, হে ইহুদি সম্প্রদায়, যদি আমাদের ওপর এই আয়াতটি নাযিল হতো {আজ}
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتَّمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لكم الْإِسْلَام دينا) الْمَائِدَة نَعْلَمُ الْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ اتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدَاً فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه قَدْ عَلِمْتُ الْمُوْضَعَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ وَالْيَوْمَ وَالسَّاعَةَ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَنحن بِعَرَفَة عشيت جَمْعٍ) // أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبِي كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ كِلاهُمَا عَنْ ابْنِ إِدْرِيسَ //

25 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السِّجْسَتَانِيُّ الْمُعَدِّلُ أنَا أبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ الصَّايغُ نَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ نَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَن عبد الرَّحْمَن ابْن الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (يُصَلِّي الصَّبْحَ فَيَنْصَرِفُ نِسَاءً الْمُؤْمِنِينَ مُتَلَفِّعَاتٌ بِمُرُوطِهِنَّ لَا يُعْرَفْنَ أَوْ لَا يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضَاً مِنَ الْغَلَس) // أخرجه البُخَارِيّ عَن يحيى ابْن مُوسَى خَتٍّ عَنْ سَعِيدٍ //

26 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحُسَيْن عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ قَانِعِ بْنِ مَرْزُوقٍ الْقَاضِي نَا مُحَمَّد بن عبد الله ابْن مِهْرَانَ نَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الأُوَيْسِيُّ نَا عَلِيُّ بن أبي عَليّ عَن جَعْفَر ابْن مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم عَمَّمَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ بِيَدِهِ ورتب الْعِمَامَةَ مِنْ وَرَائِهِ وَمِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم (أدبر فَأَدْبَرَ
(আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম) [আল-মায়েদা]। আমরা সেই দিনটি সম্পর্কে অবগত আছি যে দিন এটি নাজিল হয়েছিল, আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি সেই স্থানটি জানি যেখানে এটি নাজিল হয়েছে এবং সেই দিন ও সময়টিও জানি যখন এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর নাজিল হয়েছিল; তখন আমরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার সন্ধ্যায় অবস্থান করছিলাম। // এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ এবং আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা থেকে, তারা উভয়ই ইবনে ইদ্রিস থেকে। //

২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দালাজ বিন আহমাদ বিন দালাজ বিন আবদুর রহমান আস-সিজস্তানি আল-মুআদ্দিল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন যাইদ আস-সায়েগ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাঈদ বিন মানসুর, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ফুলাইহ বিন সুলাইমান, আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (ভোরের সালাত আদায় করতেন, অতঃপর মুমিন মহিলারা তাদের চাদর আবৃত অবস্থায় প্রস্থান করতেন, শেষ রাতের অন্ধকারের কারণে তাদের চেনা যেত না অথবা তারা একে অপরকে চিনতে পারতেন না।) // এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুসা খাত্ত থেকে, তিনি সাঈদ থেকে। //

২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আবদুল বাকি বিন কানি বিন মারজুক আল-কাজি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে মিহরান, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল আজিজ আল-উওয়াইসি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন আবি আলী, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী বিন আবি তালিবকে নিজ হাতে পাগড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন এবং পাগড়ির অবশিষ্টাংশ তার পেছন দিকে ও সামনের দিকে ঝুলিয়ে বিন্যস্ত করে দিয়েছিলেন, অতঃপর নবী (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, (পিছন ফেরো, অতঃপর তিনি পিছন ফিরলেন।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثُمَّ قَالَ لَهُ أَقْبِلْ فَأَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا تَكُونُ تِيجَانُ الْمَلائِكَةِ)

27 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ نِيخَابَ الطِّيبِيُّ نَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ الريَاحي بواسط سنة ثَلَاث وَسبعين ومئتين نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أنَا إسْمَاعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ مَا سَأَلَ أحد رَسُول الله عَنِ الدَّجَّالِ أَكْثَرَ مِمَّا سَأَلْتُ عَنْهُ قَالَ (أَيْ بُنِي مَا يُنْصِبُكَ مِنْهُ إِنَّهُ لَنْ يَضُرَّكَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ يَقُولُونَ إِنَّ مَعَهُ جِبَالَ خُبْزٍ وَأَنْهَارَ مَاءٍ فَقَالَ هُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللهِ مِنْ ذَلِكَ) // أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَن أبي بكر بن أبي شَيْبه وَعَن مُحَمَّد بن يحيى ابْن أَبِي عُمَرَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ وَلَهُ طُرُقٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَيْضَاً //

28 - أَخْبَرَنَا أبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ الصَّوَّافُ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَاشِمِ بْنِ الْحُسَيْن نَا الأَزْرَقُ بْنُ عَلِيٍّ نَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيم نَا عباد ابْن كَثِيْرٍ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ قَرَأَ
এরপর তিনি তাকে বললেন, "এগিয়ে এসো", ফলে সে এগিয়ে এল। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "ফেরেশতাদের মুকুট এভাবেই হয়ে থাকে।")

২৭ - আবু হাসান আহমদ বিন ইসহাক বিন নিখাব আত-তিবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবিল আওয়াম আর-রিয়াহি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন দুইশ তিয়াত্তর হিজরিতে ওয়াসিত নামক স্থানে, ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল আমাদের খবর দিয়েছেন কায়েস থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দাজ্জাল সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেনি। তিনি বললেন, "হে বৎস, সে তোমাকে কেন ভাবিয়ে তুলছে? নিশ্চয়ই সে তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, মানুষ বলে যে তার সাথে রুটির পাহাড় এবং পানির নদী থাকবে। তিনি বললেন, "তা আল্লাহর নিকট এর চেয়েও অতি নগণ্য।" // এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শায়বা এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর হতে, তারা ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে। আর সহিহদ্বয়ে (বুখারি ও মুসলিমে) এর আরও বিভিন্ন সূত্র রয়েছে। //

২৮ - আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান বিন ইসহাক আস-সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম বিন হাশিম বিন আল-হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-আযরাক বিন আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাসসান বিন ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে কাসীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি পাঠ করলেন
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الأيه {للَّذين أَحْسنُوا الْحسنى وَزِيَادَة} يُونُس 26 فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا الزِّيَادَةُ قَالَ (النَّظَرُ إِلَى وَجْهِ اللهِ تَعَالَى)

29 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ مقسم الْمقري نَا أبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَمْرو الْحِمصِي بن أَبِي الأَخْيَلِ نَا أَبِي نَا عُبَيْدُ اللهِ ابْن مُوسَى ناسفيان الثَّوْرِيُّ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَن عبد الله ابْن مَسْعُودٍ قَالَ أَصَابَتْ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم صبيح الْعُرْسِ رِعْدَةً فَقَالَ لَهَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يَا فَاطِمَةُ إِنِّي زَوَّجَتُكِ سَيِّدَاً فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الآخِرَةِ لِمِنَ الصَّالِحِينَ يَا فَاطِمَةُ إِنَّهُ لَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أُمَلِكَ بِعَلِيٍّ أَمَرَ الله عز وجل جِبْرِيلَ عليه السلام فَقَامَ فِي السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ فَصَفَّ الْمَلائِكَةَ صُفُوفَاً ثُمَّ خَطَبَ عَلَيْهِمْ جِبْرِيلُ فَزَوَّجَكِ مِنْ عَلِيٍّ ثُمَّ أَمَرَ شَجَرَ الْجِنَانِ فحَمَلَتِ الْحُلِيَ وَالْحُلَلَ ثُمَّ أَمَرَهَا فَنَثَرَتَهُ عَلَى الْمَلائِكَةِ فَمَنْ أَخَذَ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ أَكْثَرَ مِمَّا أَخَذَ صَاحِبَهُ أَوْ أَحْسَنَ فَخَرَ بِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فَلَقَدْ كَانَتْ فَاطِمَةُ عليها السلام تَفْخَرُ عَلَى النِّسَاءِ حِينَ كَانَتْ أَوَّلَ مَنْ خَطَبَ عَلَيْهَا جِبْرِيلُ عليه السلام)
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি {যারা কল্যাণকর কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরও অতিরিক্ত} (ইউনূস ২৬) সম্পর্কে বলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! অতিরিক্ত কী? তিনি বললেন: (মহান আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো)।

২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ইয়াকুব বিন মিকসাম আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আহমদ বিন খালিদ বিন আমর আল-হিমসি বিন আবি আল-আখইয়াল, তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা বিবাহের সকালে কাঁপছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: হে ফাতিমা! আমি তোমাকে দুনিয়াতে একজন নেতার সাথে বিবাহ দিয়েছি এবং আখেরাতেও তিনি অবশ্যই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। হে ফাতিমা! যখন আমি তোমাকে আলীর সাথে বিবাহ দিতে ইচ্ছা করলাম, তখন মহান আল্লাহ জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চতুর্থ আসমানে দাঁড়ালেন এবং ফেরেশতাদের সারিবদ্ধ করলেন। অতঃপর জিবরাঈল তাদের সামনে খুতবা পাঠ করলেন এবং আলীর সাথে তোমার বিবাহ সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি জান্নাতের বৃক্ষসমূহকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সেগুলো অলঙ্কার ও পোশাক ধারণ করল। তারপর তিনি সেগুলোকে নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো ফেরেশতাদের ওপর তা ছিটিয়ে দিল। সেই দিন ফেরেশতাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর চেয়ে বেশি বা উত্তম কিছু পেয়েছিল, সে কিয়ামত পর্যন্ত তা নিয়ে গর্ব করবে। উম্মে সালামা বলেন: ফাতিমা আলাইহাস সালাম নারীদের ওপর এই বলে গর্ব করতেন যে, তিনি প্রথম ব্যক্তি যার বিবাহের খুতবা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পাঠ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
30 - أَخْبَرَنَا أبُو عَلِيٍّ حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْهَرَوِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالرَّفَّاءِ الْمُذَكِّرُ نَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ نَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ نَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ حدَّثَنِي أَبُو نَوْفَلٍ قَالَ صَلَبَ الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ رضي الله عنه عَلَى عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ لِيُؤْذِي ذَلِكَ قُرَيْشَاً فَلَمَّا نَفَرُوا جَعَلُوا يَمُرُّونَ بِهِ وَلا يَقِفُونَ عَلَيْهِ حَتَّى مَرَّ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رضي الله عنه فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ السَّلامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ قَالَهَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ لَقَدْ نَهَيْتُكَ عَنْ ذَا قَالَهَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ لَقَدْ كُنْتَ صَوَّامَاً قَوَّامَاً تَصِلُ الرَّحِمَ فَبَلَغَ الْحَجَّاجَ مَوْقُفُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَاسْتَنْزَلَهُ فَرَمَى بِهِ فِي قُبُورِ الْيَهُودِ وَبَعَثَ إِلَى أَسْمَاءِ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أُمِّهِ أَنْ تَأْتِيَهُ وَقَدْ ذَهَبَ بَصَرُهَا فَأَبَتْ أَنْ تَأْتِيَهُ فَبَعَثَ إِلَيْهَا لَتَجِيئِينَّ أَوْ لأَبْعَثَنَّ إِلَيْكِ مَنْ يَسْحَبُكِ بِقُرُونِكِ فَقَالَتْ وَاللهِ لَا آتِيَكَ حَتَّى تَبْعَثَ إِلَيَّ مَنْ يَسْحَبُنِي بِقُرُونِي فَأَتَاهُ رَسُولُهُ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ يَا غُلامُ نَاوِلْنِي سِبْتَيَّ فَنَاوَلَهُ نَعْلَيْهِ فَقَامَ وَهُوَ يَتَوَذَّفُ حَتَّى أَتَاهَا فَقَالَ لَهَا كَيْفَ رَأَيْتِ اللهَ صَنَعَ بِعَدُوِّ اللهِ قَالَتْ رَأَيْتُكَ أَفْسَدْتَ عَلَيْهِ دُنْيَاهُ وَأَفْسَدَ عَلَيْكَ آخِرَتَكَ وَمَا كُنْتَ تُعَيِّرُهُ بِذَاتِ النِّطَاقَيْنِ أَجَلْ لَقَدْ كَانَ لِي نِطَاقَانِ نِطَاقٌ أُغَطِي بِهِ طِعَامَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم مِنَ النَّخْلِ وَنِطَاقٌ لَا بُدَّ لِلنِّسَاءِ مِنْهُ وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (إِنَّ فِي ثَقِيف مبيرا وكذابا فَأَمَّا الْكَذَّابُ فَقَدْ رَأَيْنَاهُ وَأَمَّا الْمُبِيْرُ فَأَنْتَ ذَاك فَخرج) // غَرِيبُ الإِسْنَادِ تَفَرَّدَ بِرِوَايَتِهِ الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ عَنْ أَبِي نَوْفُلٍ وَقد أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَن عقبَة بن مكرم عَنْ يَعْقُوبَ الْحَضْرَمِيِّ عَنِ الأَسْوَدِ //
৩০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হামিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাবি, যিনি আর-রাফ্ফা আল-মুযাক্কির নামে পরিচিত। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ বিন শাইবান, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাওফাল, তিনি বলেন: হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মদিনার গিরিপথে শূলে চড়ালো যাতে এর মাধ্যমে কুরাইশদের কষ্ট দেওয়া যায়। যখন লোকেরা সেখান দিয়ে যাচ্ছিল, তারা তার লাশের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল কিন্তু কেউ সেখানে থামছিল না। অবশেষে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় থামলেন এবং বললেন, "তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আবু খুবাইব!" তিনি এটি তিনবার বললেন। "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে এটি থেকে বারণ করেছিলাম," তিনি এটি তিনবার বললেন। "নিশ্চয়ই তুমি ছিলে অত্যন্ত রোজা পালনকারী, রাতে দীর্ঘ সালাত আদায়কারী এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী।" আব্দুল্লাহ বিন উমরের সেখানে দাঁড়ানোর সংবাদ হাজ্জাজের কাছে পৌঁছালে সে তার দেহ নামিয়ে আনল এবং ইয়াহুদিদের কবরস্থানে নিক্ষেপ করল। অতঃপর সে তার মা আসমা বিনতে আবু বকরের কাছে সংবাদ পাঠাল তাকে আসার জন্য, অথচ তখন তার দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল। তিনি আসতে অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় সংবাদ পাঠাল, "হয় তুমি আসবে, না হয় আমি এমন লোক পাঠাব যে তোমাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসবে।" তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ! আমি তোমার কাছে যাব না যতক্ষণ না তুমি এমন লোক পাঠাও যে আমাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়।" তার দূত ফিরে গিয়ে তাকে সংবাদ দিল। তখন সে বলল, "হে যুবক! আমার সিবতি জুতো জোড়া দাও।" সে তাকে তার জুতো দিল, অতঃপর সে দর্পিত পদক্ষেপে চলতে শুরু করল যতক্ষণ না তার কাছে পৌঁছাল। সে তাকে বলল, "তুমি দেখলে তো আল্লাহ তাঁর শত্রুর সাথে কী আচরণ করলেন?" তিনি বললেন, "আমি দেখলাম যে তুমি তার দুনিয়া ধ্বংস করেছ, আর সে তোমার আখেরাত ধ্বংস করেছে। আর তুমি তাকে 'যাতুন নিতাকাইন' বলে যে তিরস্কার করতে—হ্যাঁ, আমার সত্যই দুটি কোমরবন্ধ ছিল। একটি দিয়ে আমি খেজুর গাছ থেকে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাবার ঢেকে রাখতাম, আর অন্যটি যা নারীদের জন্য অপরিহার্য। আর আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি যে, 'সাকিফ গোত্রে একজন চরম মিথ্যুক এবং এক চরম ধ্বংসকারীর আবির্ভাব ঘটবে।' মিথ্যুককে তো আমরা দেখেছি, আর ধ্বংসকারী হলে তুমি নিজে।" অতঃপর সে বেরিয়ে গেল। // সনদটি গারিব; এটি আবু নাওফাল থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ বিন শাইবান। ইমাম মুসলিম এটি উকবা বিন মুকরাম এর সূত্রে ইয়াকুব আল-হাদরামি থেকে এবং তিনি আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন। //
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣١)
31 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلاد الْعَطَّار النصيي نَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ)

32 - أَخْبَرَنَا أبُو الْفَوَارِسِ شِجَاعُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ خَالِدٍ الأَنْصَارِيُّ الصُّوفِيُّ مِنْ وَلَدِ أَبِي أيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ مِنْ لَفْظِهِ فِي مِنْزِلِنَا نَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ نَا أبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ نَا أبُو عَامِرٍ الأَسْلمِيُّ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم (سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظلّ إِلَّا ظله إِمَام مسْقط وَرَجُلٌ لَقِيْتَهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ جَمَالٍ وَمَنْصِبٍ فَعَرَضَتْ نَفْسَهَا عَلَيْهِ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ فِي صِغَرِهِ فَهُوَ يَتْلُوهُ فِي كِبَرِهِ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ بِيَمِينِهِ فَأَخْفَاهَا عَنْ شِمَالِهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالْمَسَاجِدِ ورَجُلٌ لَقِيَ رَجُلاً فَقَالَ لهُ إِنِّي أُحِبُّكَ فِي اللهِ عز وجل وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللهَ عز وجل فِي الْبَرِيَةِ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ مِنْ خَشِيَةِ اللهِ عز وجل)
৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ আল-আত্তার আন-নাসিবি, তিনি হারিস ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি জাকারিয়া ইবনে আবি যাইদাহ থেকে, তিনি আশ-শা’বি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা পরিত্যাগ করে।"

৩২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাওয়ারিস শুজা ইবনে জাফর ইবনে আহমদ ইবনে খালিদ আল-আনসারি আস-সুফি—যিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারির বংশধর—তার স্বীয় উচ্চারণ অনুযায়ী আমাদের নিবাসে; তিনি আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি থেকে, তিনি আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন থেকে, তিনি আবু আমির আল-আসলামি থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, এমন ব্যক্তি যাকে কোনো রূপবতী ও উচ্চবংশীয় নারী আহ্বান জানিয়েছে কিন্তু সে বলেছে: 'নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি', এমন ব্যক্তি যে শৈশবে কুরআন শিখেছে এবং বার্ধক্যেও তা তিলাওয়াত করে, এমন ব্যক্তি যে তার ডান হাত দিয়ে সদকা করে এবং তা তার বাম হাত থেকে গোপন রাখে, এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে, এমন ব্যক্তি যে অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বলে: 'নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাকে ভালোবাসি', এবং এমন ব্যক্তি যে নির্জনে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আল্লাহর ভয়ে তার দু'চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।"
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٢)
33 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدٌُ بْنُ مُحْرِزِ بْنِ مُسَاوَرٍ الأَدَمِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ سَلَمَةَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ نَا الأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ شَرِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَبَنَاً فَمَضْمَضَ وَقَالَ (إِنَّ لَهُ دَسَمَاً)

34 - أَخْبَرَنَا أبُو الطَّيِّبِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ اللُّؤْلُؤيُّ نَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَعْرُوفُ بِالدَّبَرِيِّ بِصَنْعَاءِ نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (لَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مَؤْمِنٌ وَلا يَزْنِي زَانٍ حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مَؤْمِنٌ وَلا يَشْرَبُ الْحَدُودَ يَعْنِي الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا أَحَدُكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَنْتَهِبُ أَحَدُكُمْ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ إِلَيْهِ الْمُؤْمِنُونَ أَعَيْنُهُمْ فِيهَا وَهُوَ حِينَ يَنْتَهِبُهَا مُؤْمِنٌ وَلا يَغَلُّ أَحَدُكُمْ حِينَ يَغَلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ) قَالَ ثُمَّ يَقُولُ أبُو هُرَيْرَةَ إِيَّاكُمْ إِيَّاكُمْ // أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ //

35 - أَخْبَرَنَا أبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرِ بْنِ مَغَفَّلِ بْنِ حَسَّانِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيُّ صَاحِب
৩৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহরিজ ইবনে মুসাওয়ার আল-আদামি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল ইবনে সালামাহ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে নাসর, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আল-আশজায়ি, সুফইয়ান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আওযায়ি থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করলেন, অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই এতে চর্বি রয়েছে।"

৩৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আত-তৈয়িব আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-লুলুয়ি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম—যিনি আদ-দাবারি নামে পরিচিত—সানআতে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম, মামার থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন অবস্থায় চুরি করে না; কোনো ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না; এবং তোমাদের কেউ যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে যার দিকে মুমিনরা তাদের চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন লুণ্ঠন করার সময় সে মুমিন থাকে না; এবং তোমাদের কেউ যখন আত্মসাৎ করে তখন সে মুমিন অবস্থায় আত্মসাৎ করে না।" তিনি বলেন, অতঃপর আবু হুরায়রা বলতেন: "তোমরা সতর্ক থাকো, তোমরা সতর্ক থাকো।" // মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে রাফে থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে। //

৩৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশর ইবনে মাগাফফাল ইবনে হাসান ইবনে মাগাফফাল আল-মুজানি, সাহিব (সাথী)
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
رَسُول ِاللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا أبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَكَانِيُّ نَا أبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ الْحِمْصِيُّ أَخْبَرَنِي أبُو بِشْرٍ شُعَيْبُ بْنُ دِينَارٍ أبِي حَمْزَةَ الْقُرَشِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي أنَسُ بْنُ مَالِكٍ أنَّهَا حُلِبَتْ لِلنّبيِّ صلى الله عليه وسلم شَاةٌ دَاجِنٌ وَهُوَ فِي دَارِ أَنَسٍ ثُمَّ شِيبَ لَبَنُهَا بِمَاءٍ مِنَ الْبِئْرِ الَّتِي فِي دَارِ أَنَسٍ فَأَعْطَي النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم الْقَدْحَ لِيَشْرَبَ مِنْهُ حَتَّى إِذَا نَزَعَ مِنْ فِيهِ وَعَلَى يَسَارِهِ أبُو بَكْرٍ وَعَلَى يَمِينِهِ الأَعْرَابِيُّ فَقَالَ عُمَرُ وَخَافَ أَنْ يُعْطِيهِ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم الأَعْرَابِيَّ أَعْطِ أَبَا بَكْرٍ عِنْدَكَ يَا رَسُولَ اللهِ فَأَعْطَاهُ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم الأَعْرَابِيَّ الَّذِي عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (الأَيْمَنُ فَالأَيْمَنُ) // أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ //

36 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَد بْنِ مَالِكٍ الْبَزَّازُ الإِسْكَافِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا نَا أبُو الأَحْوَصِ مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ بن حَمَّاد القَاضِي العكبري نَا إِسْمَاعِيل ابْن أَبِي أُوْيَسٍ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ يُخِيلُ إِلَيْهِ فِي صَلاتِهِ أَنَّهُ قَدْ أَحْدَثَ فِي صَلاتِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ وَهُوَ فِي صَلاتِهِ حَتَّى يَفْتَحَ مَقْعَدَتَهُ وَيُخِيلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ قَدْ أَحْدَثَ وَلَمْ يُحْدِثْ فَإِذَا وَجَدَ أحدكُم ذَلِكَ فَلا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتَ ذَلِكَ بِأُذُنِهِ أَوْ يَجِدَ رِيْحَاً بِأَنْفِهِ)
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আবদুর রহমান আল-হাকানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি' আল-হিমসি, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বিশর শুআইব ইবনে দিনার আবি হামজাহ আল-কুরাশি, তিনি যুহরি থেকে, তিনি বলেন আমাকে আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য একটি পালিত ছাগল দোহন করা হলো যখন তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাড়িতে ছিলেন। অতঃপর তার দুধের সাথে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাড়িতে অবস্থিত একটি কূপের পানি মিশ্রিত করা হলো। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পান করার জন্য একটি পেয়ালা দেওয়া হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন, এমনকি যখন তিনি মুখ থেকে পেয়ালাটি সরালেন, তখন তাঁর বাম পাশে ছিলেন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং ডান পাশে ছিলেন একজন বেদুইন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ভয় পাচ্ছিলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হয়ত বেদুইনকে পেয়ালাটি দিয়ে দেবেন, তাই তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পার্শ্ববর্তী আবু বকরকে দিন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটি তাঁর ডান পাশে থাকা বেদুইনকেই দিলেন এবং বললেন: (ডান দিকের ব্যক্তিই অগ্রাধিকারযোগ্য, অতঃপর তার ডান দিকের ব্যক্তি)। // এটি বুখারি আবু আল-ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন। //

৩৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক আল-বাযযার আল-ইসকাফি, তিনি আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনে আল-হাইসাম ইবনে হাম্মাদ আল-কাদি আল-উকবরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস আল-মাদানি, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, সওর ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার মনে হয় যে সে নামাযরত অবস্থায় অযু নষ্ট করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের কারো কাছে আসে যখন সে নামাযে থাকে, এমনকি সে তার মলদ্বার উন্মুক্ত করে দেয় এবং তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে যে সে অযু নষ্ট করেছে অথচ সে অযু নষ্ট করেনি। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমনটি অনুভব করে তবে সে যেন নামায ছেড়ে না যায় যতক্ষণ না সে তার নিজের কানে আওয়াজ শোনে অথবা নিজের নাকে গন্ধ পায়)।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٤)
37 - أَخْبَرَنَا أبُو سُلَيْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَرَّانِيُّ نَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ بِبَيْتِ الْمَقْدَسِ نَا الْمَسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ نَا حَجَّاجُ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ (نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَتْلِ الضفادع وَقَالَ إِن نقيضها تَسْبِيحٌ)

38 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحَكَمِ الْوَاسِطِيُّ الْمُؤَدِّبُ حَدَّثَنِي أبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْوَاسِطِيُّ نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (أَلا أُخْبِرُكُمْ عَنِ الثَّلاثِ أَمَّا الدَّرَجَاتُ فَإِسْبَاغُ الْوُضوُءِ بِالْغَدَوَاتِ وَانْتِقَالُ الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَالصَّلاةُ بَعْدَ الصَّلاةِ وَأَمَّا الْكَفَارَاتُ فَإِفْشَاءُ السَّلامِ وَعَرْضُ الطَّعَامِ وَالصَّلاةُ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِِيَامٌ وَأَمَّا الْفَضْلُ فَلا تَظْلِمْ مَنْ ظلمك وَلَا تسىء إِلَّا مَنْ أَسَاءَ إِلَيْكَ وَلا تَقْطَعْ مَنْ حَرَمَكَ)
37 - আবু সুলাইমান মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালম বাইতুল মাকদিসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসাইয়্যাব ইবনে ওয়াদিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাজ্জাজ শু'বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে, নিশ্চয়ই এর ডাক হলো তাসবীহ)

38 - আবু মুহাম্মাদ জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাকাম আল-ওয়াসিতী আল-মুয়াদ্দিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-ওয়াসিতী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াযীদ ইবনে হারুন হুমাইদ আত-তাবীল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি কি তোমাদের তিনটি বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না? মর্যাদা বৃদ্ধিকারী বিষয়গুলো হলো—ভোরবেলায় পূর্ণরূপে উযু করা, জামাআতের দিকে পা পরিচালনা করা এবং এক নামাযের পর অন্য নামায আদায় করা। আর কাফফারা বা গুনাহ মোচনকারী বিষয়গুলো হলো—সালামের প্রসার ঘটানো, খাদ্য প্রদান করা এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায আদায় করা। আর শ্রেষ্ঠত্ব হলো—যে তোমার প্রতি যুলুম করেছে তুমি তার প্রতি যুলুম করো না, যে তোমার সাথে মন্দ আচরণ করেছে সে ব্যতীত অন্য কারো সাথে মন্দ আচরণ করো না এবং যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না)
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٥)
39 - أَخْبَرَنَا أبُو عَلِيٍّ عِيسَى بْنٌ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَد بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ جُرَيْجٍ الْمَعْرُوفُ بِالطُّومَارِيِّ نَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى نَا مُفَرِّجُ بْنُ شُجَاعٍ عَنْ يَزِيدَ بْنُ هَارُونَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (الْمَوْتُ كَفَارَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ)

40 - أَخْبَرَنَا أبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْهَمْذَانِيُّ الأَسَدِيُّ الْقَاضِي قَدِمَ عَلَيْنَا حَاجَّاً نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ دِيزِيلَ نَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ نَا شُعْبَةُ نَا قَتَادَةُ وَمُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ) تَفَرَّدَ بِقَوْلِهِ مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ آدَمُ عَنْ شُعْبَةَ وَقَدْ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ آدَمَ بِلَفْظِهِ

إِلَى هُنَا سَمَاعُ أبِي الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيِّ وهُوَ آخِرُ مَا سَمِعَهُ مِنَ الْمَشْيَخَةِ مِنَ الأَصْلِ

أَخْبَرَنَا الشُّيُوخُ أبُو سَعْدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْفَانِيدِيُّ وَأبُو مُسْلِمٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السِّمْنَانِيُّ وَأبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بن عبد الْملك ابْن
৩৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ঈসা ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন উমর ইবন আব্দুল মালিক ইবন জুরাইজ, যিনি আত-তূুমারি নামে পরিচিত। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বিশর ইবন মুসা। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুফাররিজ ইবন শুজা। তিনি ইয়াজিদ ইবন হারুন থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মৃত্যু প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কাফফারা (পাপমোচনকারী)।"

৪০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবন আল-হাসান ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ আল-হামদানি আল-আসাদি আল-কাজি, তিনি আমাদের নিকট হাজি হিসেবে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবন আল-হুসাইন ইবন ডিজিল। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আদম ইবন আবি ইয়াস। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শু'বা। তিনি কাতাদাহ এবং মুয়াবিয়া ইবন কুররাহ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো কওমের আযাদকৃত দাস তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" আদম শু'বা থেকে "কোনো কওমের আযাদকৃত দাস তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" কথাটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি আদমের সূত্রে এই শব্দেই উদ্ধৃত করেছেন।

এখান পর্যন্ত হলো আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক ইবন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফির শ্রবণকৃত অংশ, আর এটিই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে মাশয়াখদের (উস্তাদদের) নিকট হতে তাঁর শোনা শেষ অংশ।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খগণ: আবু সা’দ আল-হুসাইন ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী আল-ফানিদি, আবু মুসলিম আব্দুর রহমান ইবন আমর ইবন আব্দুর রহমান আস-সিমনানি এবং আবু সা’দ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
عَبْدِ الْقَاهِرِ الأَسَدِيُّ قَالُوا أَخْبَرَنَا أبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّازُ

41 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلِي بن الْهَيْثَم الْمقري الْمَعْرُوفُ بِابْنِ عَلُّونَ نَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى نَا أَبِي نَا أَبِي عَنْ شُعْبَةَ عَنْ فِرَاسٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (ثَلاثَةٌ يَدْعُونَ اللهَ فَلا يُسْتَجَابُ لَهُمْ رَجُلٌ كَانَ لَهُ دَيْنٌ فَلَمْ يُشْهِدُ وَرَجُلٌ أَعْطَى سَفِيهَاً مَالَهُ وَقَدْ قَالَ اللهُ عز وجل {وَلا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمْ} النَّسَائِيّ وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَهُ امْرَأَةٌ سَيْئَةُ الْخُلُقِ قَلَمْ يُطَلِّقْهَا)

42 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مَخْلَدٍ الْقَاضِي الْجَوْهَرِيِّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمُحْرِمِ نَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ عِيسَى الطَّبَّاعُ نَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ الْقَرْقَسَانِيُّ نَا الأَوْزَاعِيُّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُرَّةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ الْخِيَارِ عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ الْكِنْدِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ كَافِرَاً فَقَاتَلْتُهُ فَقَطَعَ يَدِي ثُمَّ أَهْوَيْتُ لأَقْتُلَهُ فَلاذَ بِشَجَرَةٍ فَقَالَ أَسْلَمْتُ للهِ أَقْتُلُهُ قَالَ لَا إِنَّكَ إِنْ قَتَلْتَهُ كَانَ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ وَكُنْتَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَهَا)
আব্দুল ক্বাহির আল-আসাদী, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইব্রাহীম বিন শাযান আল-বায্যায।

৪১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-আলী বিন আল-হাইসাম আল-মুক্বরি যিনি ইবনু আল্লুন নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুয়ায বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি ফিরাাস থেকে, তিনি শা'বী থেকে, তিনি আবু বুরদাহ বিন আবু মুসা আল-আশআরী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু'আ করে কিন্তু তাদের দু'আ কবুল করা হয় না: এমন ব্যক্তি যার পাওনা ঋণ ছিল কিন্তু সে সাক্ষী রাখেনি; এমন ব্যক্তি যে কোনো নির্বোধকে তার সম্পদ প্রদান করেছে অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সম্পদ তুলে দিও না} (আন-নাসায়ী); এবং এমন ব্যক্তি যার স্ত্রী দুশ্চরিত্রা কিন্তু সে তাকে তালাক দেয়নি।"

৪২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আলী বিন মাখলাদ আল-ক্বাযী আল-জাওহারী যিনি ইবনুল মুহরিম নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ঈসা আত-তাব্বা', তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুসআব আল-ক্বারকাসানী, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি ইব্রাহীম বিন মুররাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াযীদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আল-খিয়ার থেকে, তিনি মিকদাদ বিন আসওয়াদ আল-কিন্দি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন যদি আমি কোনো কাফিরের মুখোমুখি হই এবং তার সাথে যুদ্ধ করি, অতঃপর সে আমার হাত কেটে ফেলে, এরপর যখন আমি তাকে হত্যা করতে উদ্যত হই তখন সে একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে যে 'আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করলাম', তবে কি আমি তাকে হত্যা করব? তিনি বললেন: "না। কেননা তুমি যদি তাকে হত্যা করো তবে সে তোমার সেই মর্যাদায় আসীন হবে যা তাকে হত্যা করার আগে তোমার ছিল, আর তুমি তার সেই মর্যাদায় চলে যাবে যা এই কথাটি বলার আগে তার ছিল।"
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٧)
43 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ وَهْبِ بْنِ الْهَيْثَمِ بْنِ خِدَاشٍ الْبُنْدَارُ نَا أبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْبَرْبَهَارِيُّ نَا عَفَّان نَا شُعْبَة أَخْبرنِي سُلَيْمَان ابْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ موْلَىً لبني شَيبَان أَنه سَأَلَ الْبَراء عَنِ الأَضَاحِي فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِأَرْبَعٍ وَيَدِي أَقْصَرُ مِنْ يَدِهِ قَالَ (لَا يَجُوزُ الْعَوْرَاءَ الْبَيِّنَ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةَ الْبَيِّنَ مَرَضُهَا وَالْعَرْجَاءَ الْبَيِّنَ ظلعها والكسير الَّذِي لَا ينقى قَالَ قُلْتُ إِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْقَرْنِ نَقْصٌ أَوْ فِي السِّنِّ نَقْصٌ فَقَالَ مَا كرهت فَدَعْهُ وَلا تُحَرِّمْهُ عَلَى أَحَدٍ)

44 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَحْرِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ صَابِرٍ الْقَدِّيسِيُّ الزَّعْفَرَانِيُّ نَا أبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يُونُس بن مُوسَى بن سُلَيْمَان ابْن عُبَيْدٍ الْكُدَيْمِيُّ الْبَصْرِيُّ نَا يَزِيدُ بْنُ بَيَانٍ نَا أبُو الرِّحَالِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (مَا أَكْرَمَ شَابٌّ شَيْخَاً لِسِنِّهِ إِلَاّ قَيَّضَ اللهُ لَهُ مَنْ يُكْرِمْهُ)

45

- أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَيْسَانَ النَّحْوِيُّ الْحَرْبِيُّ نَا مُوسَى بْنُ هَارُونَ نَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْكَرَابِيسِيُّ نَا حَمَّادُ بْنُ سَلمَة
৪৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন ইসহাক ইবন ওয়াহব ইবন আল-হাইসাম ইবন খিদাশ আল-বুন্দার, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন আলী আল-বারবাহারী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আফফান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু’বাহ, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান ইবন আবদুর রহমান উবায়েদ ইবন ফায়রুজ থেকে, যিনি বনু শায়বানের মুক্তদাস ছিলেন; তিনি আল-বারা-কে কুরবানির পশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি (আল-বারা) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে চারটি বিষয় সম্পর্কে বললেন, এমতাবস্থায় যে আমার হাত তাঁর হাতের চেয়ে ছোট ছিল। তিনি বললেন: (স্পষ্টত অন্ধ একচোখা পশু, স্পষ্টত অসুস্থ পশু, স্পষ্টত ল্যাংড়া পশু এবং এমন জীর্ণশীর্ণ পশু যার হাড়ের মজ্জা নেই, তা কুরবানি করা বৈধ নয়)। আমি বললাম: আমি শিং বা দাঁতে খুঁত থাকাকে অপছন্দ করি। তিনি বললেন: তুমি যা অপছন্দ করো তা ছেড়ে দাও, তবে তা অন্যের জন্য হারাম করো না।

৪৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন ইবরাহিম ইবন জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন বাহর ইবন ইয়াজিদ ইবন সাবির আল-কাদ্দিসি আল-জা'ফারানি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইউনুস ইবন মুসা ইবন সুলায়মান ইবন উবায়েদ আল-কুদাইমি আল-বাসরি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবন বায়ান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-রিহাল আনাস থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কোনো যুবক যদি কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করে, তবে আল্লাহ তার জন্য এমন কাউকে নিযুক্ত করে দেবেন যে তাকে সম্মান করবে)।

৪৫

- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন কায়সান আন-নাহবী আল-হারবী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা ইবন হারুন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবন আবদুল জব্বার আল-কারাবিসি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٨)
عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِنَّ فِي الْجنَّة لسوقا تأتونها كل جُمُعَة فتهب ريح الشمَال فتحثوا فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ فَيَزْدَادُونَ حُسْنَاً وَجَمَالاً فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيهِمْ فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُوهُمْ وَاللهِ لَقَدْ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنَاً وَجَمَالاً فَيَقُولُونَ وَأَنْتُمْ وَاللهِ قد ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنَاً وَجَمَالاً) // غَرِيبٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَن سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ //

46 - أَخْبَرَنَا أبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِشْكَابَ بْنِ الْحَسَنِ الْقَاضِي الْبُخَارِيُّ الزَّعْفَرَانِيُّ نَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى الْقُمِّيُّ نَا عَبْدُ الرَّحِيم ابْن حَبِيبٍ نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللهِ التَّيْمِيُّ نَا سُفْيَانُ نَا لَيْثٌ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ أَدَّى حَدِيثَاً إِلَى أُمَّتِي لِتُقَامَ بِهِ سُنَّةٌ أَوْ تُنَامَ بِهِ بِدْعَةٌ فَلَهُ الْجَنَّةُ)

47 - أَخْبَرَنَا أبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ الْبَيِّعُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ شَنْقَةَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَرْوَانَ الْوَاسِطِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُقْبَةَ بْنِ هَرَمٍ السَّدُوسِيُّ نَا أبُو أُمَيَّةَ بْنُ يَعْلَى الثَّقَفِيُّ نَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَمْسَةٌ لَمْ يَكُنْ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَعُهُنَّ فِي سَفَرٍ وَلا حَضَرٍ (الْمِرْآةُ وَالْمِكْحَلَةُ وَالْمِشْطُ وَالْمِدْرَي والسواك)
সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে যেখানে তারা প্রতি জুমুয়াহতে আসবে। এরপর উত্তরের হাওয়া বইবে, যা তাদের মুখে ও পোশাকে (সুগন্ধি) ছিটিয়ে দেবে, ফলে তাদের রূপ-মাধুর্য ও সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা যখন তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের বলবে, 'আল্লাহর কসম! আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পর তোমাদের রূপ ও সৌন্দর্য নিশ্চয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।' তারাও বলবে, 'আর তোমরাও, আল্লাহর কসম! আমাদের থেকে আলাদা হওয়ার পর তোমাদের রূপ ও সৌন্দর্য নিশ্চয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে'।" // এটি একটি গরীব (একক সূত্রীয়) হাদিস, যা ইমাম মুসলিম সাঈদ ইবনে আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি আবু সালামাহ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। //

৪৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ ইবনে নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইশকাবে ইবনুল হাসান আল-কাদি আল-বুখারি আজ-জা'ফারানি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-কুম্মি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাহিম ইবনে হাবিব; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ আত-তাইমি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কাছে এমন কোনো হাদিস পৌঁছে দেবে যার মাধ্যমে কোনো সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত হয় অথবা কোনো বিদআত মিটে যায়, তার জন্য জান্নাত রয়েছে।"

৪৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশর আল-বাইয়ি', যিনি ইবনে শানকা নামে পরিচিত; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মারওয়ান আল-ওয়াসিতি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উকবাহ ইবনে হারাম আস-সাদুসি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমাইয়্যাহ ইবনে ইয়ালা আস-সাকাফি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: পাঁচটি জিনিস নবী (সা.) সফরে কিংবা আবস্থানে থাকাকালীন কখনোই ত্যাগ করতেন না: (আয়না, সুরমাদানি, চিরুনি, চুল বিন্যাসের কাঁটা এবং মেসওয়াক)।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
48 - أَخْبَرَنَا أبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سِنْدِيِّ بْنِ الْحسن بن بَحر الْحداد نَا مُحَمَّد ابْن الْعَبَّاسِ الْمُؤَدِّبُ نَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ نَا فُلَيْحُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ حَفْصَةَ وَعَائِشَةَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ (لَا يَحِلُّ لامْرَأَةٍ تَؤْمُنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاثٍ إِلَاّ عَلَى زَوْجٍ)

49 - أَخْبَرَنَا أبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ الأَصْبَهَانِيُّ الْمَعْرُوفُ بِزَرْوَيْهِ النَّحْوِيِّ نَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ يَعْنِي السَّقَطِيَّ نَا أبُو مَعْمَرٍ الْقَطِيعِيُّ نَا هُشَيْمٌ نَا كَوْثَرُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (أَرْحَمُ أُمَّتِي أَبُو بَكْرٍ وَأَشَدُّهُمْ فِي اللهِ عُمَرُ وَأَكْثَرُهُمْ حَيَاءً عُثْمَانُ بنُ عَفَّانَ وَأَقْضَاهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ) قَالَ أبُو جَعْفَرٍ لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ نَافِعٍ إِلَّا الْكَوْثَر بْنُ حَكِيمٍ

50 - أَخْبَرَنَا أبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَصْرٍ الْمِصْرِيُّ الشَّاعِرُ إِمْلاءً مِنْ حِفْظِهِ نَا أبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ الْبَصْرِيُّ بِمصْر سنة خمس وَسبعين ومئتين نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ ثُمَامَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ (كَانَ قيس ابْن
৪৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন সিন্দী বিন আল-হাসান বিন বাহর আল-হাদ্দাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-মুয়াদ্দীব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুরাইজ বিন নুমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুলাইহ, তিনি নাফি থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদ থেকে, তিনি হাফসাহ ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান পোষণকারী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির ওপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়।"

৪৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আহমদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-আসবাহানি, যিনি যারওয়াইহ আন-নাহবী নামে পরিচিত, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আইয়ুব অর্থাৎ আস-সাকাতি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মামার আল-কাতিয়ি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাওসার বিন হাকিম, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমার উম্মতের মধ্যে আবু বকর সবচেয়ে দয়ালু, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে উমর সবচেয়ে কঠোর, উসমান বিন আফফান সবচেয়ে লাজুক এবং আলী বিন আবি তালিব বিচারকার্যে সবচেয়ে পারদর্শী।" আবু জাফর বলেন, কাওসার বিন হাকিম ছাড়া আর কেউ নাফি থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি।

৫০ - আবু আল-হুসাইন আব্দুর রহমান বিন নাসর আল-মিসরি আশ-শা’ইর আমাদের কাছে তার স্মৃতি থেকে পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর মুহাম্মদ বিন খুজাইমাহ আল-বাসরি মিসরে ২৭৫ হিজরি সালে, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুমামাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "কাইস ইবন..."
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
سَعْدٍ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَنْزِلَةِ صَاحِبِ الشُّرْطَةِ مِنَ الأَمِيْرِ يَعْنِي يَنْظُرُ فِي أُمُورِهِ) لَمْ يَسْمَعِ ابْنُ شَاذَانَ مِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ غَيْرَ حَدِيثَيْنِ هَذَا أَحَدُهُمَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الذُّهْلِيِّ عَنِ الأَنْصَارِيِّ

51 - أَخْبَرَنَا أبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ الْفَضْلِ الْمُعِّدُل الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّقَطِيِّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ الصَّايغُ نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ نَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلالٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم (لَبَسَ خَاتِمَ فِضَّةٍ فِي يَمِينِهِ فِيهِ فَصٌّ حَبَشِيٌّ كَانَ يَجْعَلُ فَصَّهُ فِي بَطْنِ كَفِّهِ) تَفَرَّدَ بِقَوْلِهِ فِي يَمِينه إِسْمَاعِيل عَنْ سُلَيْمَانَ وَلَمْ يَذْكُرْهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ وَقَدْ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ بِلَفْظِهِ عَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ عَنْ إسْمَاعِيلَ

52 - أَخْبَرَنَا أبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي النَّيْسَابُورِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَهَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زَيْدِ إِمْلاءً عَلَيْنَا بِعَبَّادَانَ نَا عَمْرو ابْن عَاصِمٍ نَا الْحَسَنُ بْنُ رَزِينٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَا أَعْلَمُهُ إِلَاّ مَرْفُوعَاً أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (يَلْتَقِي الْخَضَرُ وَإِلْيَاسُ عليهما السلام فِي كُلِّ عَامٍ فِي الْمَوْسِمِ فَيَحْلِقُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا رَأْسَ صَاحِبِهِ وَيَتَفَرَّقَانِ عَنْ هَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ بِسْمِ اللهِ مَا شَاءَ اللهُ لَا يَسُوقُ الْخَيْرَ إلَاّ اللهُ مَا شَاءَ اللهُ لَا يَصْرِفُ السُّوءَ إِلَاّ اللهُ مَا شَاءَ اللهُ مَا كَانَ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللهِ مَا شَاءَ اللهُ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَاّ بِاللهِ) قَالَ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সা'দের অবস্থান ছিল আমিরের নিকট পুলিশ প্রধানের মর্যাদার মতো, অর্থাৎ তিনি তাঁর বিষয়সমূহ দেখাশোনা করতেন)। ইবনে শাযান আব্দুর রহমান থেকে মাত্র দুটি হাদীস শুনেছেন, এটি তাদের একটি। ইমাম বুখারী এটি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী থেকে, তিনি আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

৫১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আব্দুল মালিক ইবনুল হাসান ইবনে ইউসুফ ইবনুল ফযল আল-মুয়াদ্দিল, যিনি ইবনুল সাগতি নামে পরিচিত; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে নাসর আস-সায়িগ; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে বিলাল, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর ডান হাতে একটি রূপার আংটি পরিধান করতেন যাতে একটি হাবশী পাথর ছিল, তিনি আংটির পাথরটি তাঁর হাতের তালুর ভেতরের দিকে রাখতেন)। ইসমাইল সুলাইমান থেকে "তাঁর ডান হাতে" কথাটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং যুহরীর সাথীদের মধ্যে অন্য কেউ এটি উল্লেখ করেননি। ইমাম মুসলিম এটি তাঁর শব্দে আবু খাইসামা থেকে, তিনি ইসমাইল থেকে বর্ণনা করেছেন।

৫২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কী আন-নাইসাবুরী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমা; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে যাইদ আবাদানে আমাদের নিকট শ্রুতলিখন হিসেবে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আসিম; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে রাযীন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এটিকে মারফূ হিসেবেই জানি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (খিজির ও ইলিয়াস আলাইহিমাস সালাম প্রতি বছর হজের মৌসুমে মিলিত হন। তখন তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের মাথা মুণ্ডন করে দেন এবং এই বাক্যগুলো পাঠ করে একে অপরের থেকে পৃথক হন: আল্লাহর নামে, আল্লাহ যা চান, আল্লাহ ব্যতীত কেউ কল্যাণ আনয়ন করতে পারে না; আল্লাহ যা চান, আল্লাহ ব্যতীত কেউ অকল্যাণ দূর করতে পারে না; আল্লাহ যা চান, যে নিয়ামতই প্রাপ্ত হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আল্লাহ যা চান, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই)। তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٤١)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (مَنْ قَالَهُنَّ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي ثَلاثَ مَرَّاتٍ آمَنَهُ اللهُ مِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالسَّرَقَ قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَالَ وَمِنَ الشَّيْطَانِ وَالسُّلْطَانِ وَالْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ)

53 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ نصر السَّقطِي الْمَعْرُوف بِابْن أبي روبه الْمُعَدِّلُ نَا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَارِثِ الْوَاسِطِيُّ نَا أبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ نَا شُعْبَةُ بْنُ الْحِجَّاجِ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيْرَاً)

54 - أَخْبَرَنَا أبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أبي عُثْمَان النَّيْسَابُورِي نَا أَحْمد ابْن مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ بِسْطَامٍ نَا حِصْنُ بْنُ عَبْدِ الْحَكِيمِ أبُو قُدَامَةَ الضَّبِّيَّ نَا يحيى ابْن أَبِي الْحَجَّاجِ نَا عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ (طَافَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَاقَتِهِ الْجَدْعَاءِ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنِهِ ثُمَّ يَعْطِفُ الْمِحْجَنَ
ইবনে আব্বাস বলেন, (যে ব্যক্তি সকাল এবং সন্ধ্যায় তিনবার এই শব্দগুলো পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে ডুবে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া এবং চুরি থেকে নিরাপদ রাখবেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি এও বলেছিলেন: আর শয়তান, সুলতান, সাপ এবং বিচ্ছু থেকেও।)

৫৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল খালিক বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন নাসর আস-সাকতি, যিনি ইবনে আবি রুবাহ আল-মুয়াদদিল নামে পরিচিত; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আল-হারিস আল-ওয়াসিতি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু উমর আল-হাওদি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু’বা বিন আল-হাজ্জাজ; তিনি মূসা বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।)

৫৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি উসমান আন-নাইসাবুরি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন বিস্তাম; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিসন বিন আব্দুল হাকিম আবু কুদামাহ আদ-দাব্বি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবিল হাজ্জাজ; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উমর বিন কায়স; তিনি আমর বিন দীনার থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কান-কাটা উটনীর পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করেছেন, তিনি তাঁর বাঁকানো লাঠি দিয়ে রুকন স্পর্শ করতেন, অতঃপর লাঠিটি নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিতেন।
(খণ্ড: ১) মাশইয়খাতু ইবনু শাযান আস-সুগরা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
وَيُقَبِّلُهُ حَتَّى فَرَغَ مِنْ سَبْعِهِ ثُمَّ أَنَاخَهَا عِنْدَ الْمَقَامِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ مِنْ بَابِ الصَّفَا قَالَ وَأَخَذَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ بِخِطَامِ نَاقَتِهِ فَجَعَلَ يَرْتَجِزُ وَيَقُولُ

(يَا حَبَّذَا مَكَّةَ مِنْ وَادِي … أَرْضٌ بِهَا أَهْلِي وَعُوَّادِي)

(أَرْضٌ بِهَا أَمْشِي بِلا هَادِي … أَرْضٌ بِهَا تَرْسُخُ أَوْتَادِي)

قَالَ وَرَسُولُ اللهِ ضَاحِكٌ مِنْ قَوْلِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ حَتَّى فَرَغَ مِنْ سَبْعِهِ)

55 - أَخْبَرَنَا أبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ هَارُونَ الْمُؤَدِّبُ الدِّينَوْرِيُّ نَا عَبْدُ اللهِ ابْن مُحَمَّدِ بْنِ سِنَانٍ نَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ نَا فَايدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ نَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمْسَحُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِ يَتِيمٍ إِلَاّ كَانَتْ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ مَرَّتْ يَدُهُ عَلَيْهَا حَسَنَةٌ وَرُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطِّتْ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَة)
এবং তিনি সেটি চুম্বন করছিলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর সাত চক্কর সম্পন্ন করলেন, অতঃপর তিনি মাকামের (ইবরাহীম) নিকট উটনীটিকে বসালেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি সাফা দরজা দিয়ে বের হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আর আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম তাঁর উটনীর লাগাম ধরলেন এবং তিনি বীরত্বগাথা কবিতা আবৃত্তি করতে করতে বলছিলেন:

(উপত্যকা হিসেবে মক্কা কতই না মনোরম! … এমন এক ভূমি যেখানে আমার পরিজন ও সুহৃদরা রয়েছে)

(এমন এক ভূমি যেখানে আমি কোনো পথপ্রদর্শক ছাড়াই বিচরণ করি … এমন এক ভূমি যেখানে আমার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে)

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে উম্মে মাকতূমের কথায় হাসছিলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর সাত চক্কর পূর্ণ করলেন।

৫৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ জাফর ইবনে হারুন আল-মুয়াদ্দিব আদ-দ্বীনাওয়ারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সিনান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফায়েদ ইবনে আব্দুর রহমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে কোনো মুসলিম যখন কোনো এতিমের মাথায় তার হাত বুলিয়ে দেয়, তার হাত যতগুলো চুলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে, তার বিনিময়ে তার জন্য প্রতিটি চুলের বদলে একটি করে নেকি সাব্যস্ত হয়, তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং তার একটি পাপ মোচন করা হয়)